• ১৮ কার্তিক ১৪৩৩, শনিবার ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bangladesh

বিদেশ

ঢাকায় ছাত্রনেতা ওসমান হাদী হত্যা, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অন্তর্বর্তী সরকারের একাংশের বিরুদ্ধে

ঢাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশি ছাত্রনেতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পরই ওসমান হাদীর পরিবার সরাসরি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অংশের বিরুদ্ধে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে এই হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ তুলেছে।২০২৪ সালের জুলাই মাসের বিদ্রোহের পর গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চএর মুখপাত্র ছিলেন শরীফ ওসমান হাদী। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বিমানে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এই মৃত্যুর পর ঢাকায় সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। একাধিক জায়গায় জনতা বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অফিস লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।ওসমান হাদীর ভাই শরীফ ওমর হাদী ঢাকার শাহবাগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, আপনারাই ওসমান হাদীকে হত্যা করেছেন, আর এখন সেই হত্যাকাণ্ডকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছেন।ওমর হাদী জানান, তার ভাই ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন চেয়েছিলেন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নয় বরং একটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে ছিলেন। তিনি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, খুনিদের শাস্তি না হলে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হবে। সরকার এখনও পর্যন্ত আমাদের কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ন্যায়বিচার না হয়, তবে বর্তমান ক্ষমতাসীনদেরও একদিন দেশ ছাড়তে হতে পারে। যেমনটি গত বছর গণবিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে ঘটেছিল। ওমর অভিযোগ করেন, কোনও সংস্থা বা বিদেশি প্রভুদের কাছে মাথা নত না করায় ওসমান হাদীকে হত্যা করা হয়েছে।দ্য ডেইলি স্টারএর প্রতিবেদনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের দাবি করেছেন, এই হত্যাকাণ্ড জুলাইয়ের বিদ্রোহের অর্জন ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের উদ্দেশ্যে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা শক্তি ও দেশের ভেতরের ফ্যাসিবাদী সহযোগীরা এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত।বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তবে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা স্পষ্ট করেছেন, ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার দিন তারা কোনও কর্মসূচি নেবেন না। একইসঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তারেক রহমান তাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাবেন।

ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫
কলকাতা

বাংলাদেশে হিন্দু খুনের প্রতিবাদে উত্তাল কলকাতা, বাংলা হাইকমিশনের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিক্ষোভ, ধুন্ধুমার

কলকাতার রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠল মঙ্গলবার। বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিক্ষোভ ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতেই পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনায় একাধিক বিক্ষোভকারী আহত এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।বিক্ষোভকারীদের দাবি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন-সহ একাধিক ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি দীপুচন্দ্র দাসকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নৃংশস ভাবে হত্যা করে বাংলাদেশের মৌলবাদীরা। তাঁকে মারধর করে পোস্টে বেঁধে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী বাংলাদেশ পুলিশ স্বীকার করে দীপু কোনওরকম সাম্প্রদায়িক কথা বলেনি। সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকী বাংলাদেশ পুলিশ তাঁকে না রক্ষা করে হত্যাকারীদের হাতে তুলে দেয় বলে অভিযোগ।বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্য়াচারের প্রতিবাদেই এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থকরা হাইকমিশনের সামনে জমায়েত হতে শুরু করেন। প্রথমদিকে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বেগবাগান এলাকায় একাধিক পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা।পুলিশ সূত্রে খবর, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের মূল গেটের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বারবার মাইকে সতর্কবার্তা দিয়ে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা অমান্য করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর ধস্তাধস্তি শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। লাঠিচার্জের পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ এবং মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত বাহিনী। সাময়িকভাবে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতি না ঘটে, সেই কারণেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী সংগঠনগুলির বক্তব্য, তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানিয়ে তাঁরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫
বিদেশ

প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে হামলার পরও অকুতোভয় কর্তৃপক্ষ, সন্ত্রাসের নিন্দার ঝড় বিশ্বের সর্বত্র

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল ঢাকায় প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। দেশের দুটি প্রথম সারির সংবাদপত্রের দফতরে এই হামলার অভিযোগ সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে সাংবাদিক মহল, নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির মধ্যে। বাংলাদেশ ছাড়িয়ে নিন্দার ঝড় বয়েছে অন্যত্র।ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে আসার পর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ। পরবর্তীতে হিংসা ছড়িয়ে পরে নানা জায়গায়। নৃশংস ভাবে হিন্দু যুবক খুন থেকে সংস্কৃতি সংগঠনের ওপর হামাল। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর ক্রমাগত হামলা চলতে থাকে।প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকায় অবস্থিত প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায়। তারা অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মীদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। আগুন লাগিয়ে দেয় এই অফিসদুটিতে। যদিও এই ঘটনায় বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতির খবর নেই, তবে আচমকা হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য সংবাদকর্ম ব্যাহত হয়। সংবাদপত্র প্রকাশনা বন্ধ রাখতে হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অনলাইন পোর্টালেও আর খবর আপলোড করা যায়নি।হামলার ঘটনার পরপরই বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সম্পাদকীয় মহল একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি, আর সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা গভীর উদ্বেগজনক। এই দুই সংবাদপত্র গোষ্ঠীও জানিয়ে দেয় তারা ভয় পায় না। খবর প্রকাশ করতে কোনও পরোয় তারা করবে না। এমনকী দফতরের সামনে মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করে।ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।এই ঘটনার পর প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হুমকি বা হামলার মাধ্যমে সত্য প্রকাশ থামানো যাবে না। তারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসনের কাছে।আন্তর্জাতিক স্তরেও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে হামলার ঘটনা শুধু দুটি সংবাদপত্রের ওপর আঘাত নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিল। এখন দেখার, প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫
বিদেশ

হিন্দু যুবককে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা, বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনার নিন্দা বিএনপির

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করল বিএনপি। একই সঙ্গে এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জুড়ে যে হিংসা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর অভিযোগ, একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করে তোলার ষড়যন্ত্র চলছে।শুক্রবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে বিএনপি। একই সঙ্গে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, হাদির মৃত্যুর পর যেভাবে সারা দেশে হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিছক স্বতঃস্ফূর্ত নয়, বরং পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে।হাদির মৃত্যুর পর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের দফতরে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনাও তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এই হামলার ফলে কর্মরত সাংবাদিকদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। পাশাপাশি নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীরকে মারধর ও হেনস্থার ঘটনা, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি বিজড়িত ৩২ ধানমন্ডি, ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উপর হামলারও নিন্দা করেন তিনি। ভারতীয় হাই কমিশনে হামলার প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।এই সব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে নৃশংস বলে একটি ঘটনার উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এক হিন্দু যুবককে গাছে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ভয়াবহ, ঘৃণ্য ও ন্যাক্কারজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সমস্ত ঘটনা প্রমাণ করে যে পুরনো একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। তাদের লক্ষ্য বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নস্যাৎ করা এবং দেশে ফ্যাসিবাদের নতুন রূপ প্রতিষ্ঠা করা।বর্তমান ইউনূস সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সরকারের নাকের ডগাতেই এই সব ঘটনা ঘটছে, অথচ সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের ভূমিকা সন্তোষজনক বলে মনে হচ্ছে না। এর ফলে দেশের ভিতরে ও বাইরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই হত্যাকাণ্ড ও হিংসার বিরুদ্ধে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং দোষীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি তুলেছে। তবুও হিংসা থামছে না, যা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।শেষে তিনি বলেন, শান্তিকামী ও গণতান্ত্রিক দেশবাসীর পক্ষ থেকে এই অপশক্তিকে সতর্ক করে দিতে চায় বিএনপি। এত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশকে ধ্বংস করতে দেওয়া যাবে না। ঐক্যবদ্ধভাবেই এই ষড়যন্ত্র ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

ডিসেম্বর ২০, ২০২৫
বিদেশ

ওসমান হাদির মৃত্যুর পর আগুনে পুড়ছে বাংলাদেশ? একের পর এক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা

বাংলাদেশ জুড়ে ফের অশান্তির আগুন। শিল্প ও সংস্কৃতির দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশে একের পর এক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সামনে এসেছে। এর আগে ছায়ানট, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের দফতরেও হামলার ঘটনা ঘটে। প্রশ্ন উঠছে, এই সব তাণ্ডব কি শুধুই ওসমান হাদির মৃত্যুর ক্ষোভ, না কি এর পিছনে রয়েছে সংগঠিত কোনও শক্তি?শুক্রবার রাতে ঢাকার তোপখানা সড়কে অবস্থিত উদীচীর কার্যালয়ে প্রথমে ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দমকলের চারটি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে জানিয়েছেন, এটি পরিকল্পিত হামলা। তাঁর দাবি, ছায়ানট, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার ধারাবাহিকতার মধ্যেই উদীচীর উপর আঘাত এসেছে।উদীচী কার্যালয়ে হামলার খবর পেয়ে সেখানে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির একটি প্রতিনিধি দল। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও তাসনিম জারা-সহ দলের নেতৃত্ব। সেখানে ইউনূস সরকার দরকার নেই স্লোগান ওঠে বলে জানা গেছে।এই অশান্তির সূত্রপাত হয় এক সপ্তাহ আগে। ঢাকার রাজপথে গুলিবিদ্ধ হন জুলাই অভ্যুত্থানের মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলি লাগার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বাড়তে থাকে।ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আগুন জ্বলে ওঠে। হামলা হয় দেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের দফতরে। একই সঙ্গে আক্রমণ চালানো হয় বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ৩২ ধানমন্ডি এবং প্রখ্যাত সংস্কৃতি কেন্দ্র ছায়ানটেও। ভাঙা হয় বাদ্যযন্ত্র, ছিঁড়ে ফেলা হয় বই। শিল্প ও সংস্কৃতির উপর এই লাগাতার হামলায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ থেকে বুদ্ধিজীবী মহল।যে বাংলাদেশ এক সময় গান, নাটক, কবিতা আর মুক্তচিন্তার জন্য পরিচিত ছিল, আজ সেখানে মৌলবাদী হিংসার ছায়া আরও গাঢ় হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

ডিসেম্বর ২০, ২০২৫
দেশ

সংবাদমাধ্যমে আগুন, ভারত-বিরোধী স্লোগান—ঢাকা পরিস্থিতিতে কড়া নজর দিল্লির

ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ফের তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ঢাকাসহ একাধিক শহরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের অফিসে আগুন লাগানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে এবং কট্টরপন্থীদের একাংশ প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধী মন্তব্য করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে কড়া নজর রাখছে ভারত।সূত্রের খবর, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় যেখানে ভারতীয় হাইকমিশনের অফিস রয়েছে, সেখানে কর্মরত ভারতীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে নয়া দিল্লি। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জেরে একাধিক জায়গায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র ইতিমধ্যেই বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে কট্টরপন্থীদের বিক্ষোভ চলে। কয়েকটি ক্ষেত্রে সেই বিক্ষোভ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ চট্টগ্রামে ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারের বাসভবন ঘিরে ধরার ডাক দেওয়া হয়েছে বলে খবর আসে। বিভিন্ন দিক থেকে অফিস ঘেরাওয়ের আহ্বান জানানো হয়। এই পরিস্থিতিতে গোটা ঘটনার উপর নজর রাখছে ভারত সরকার। সূত্রের খবর, নিরাপত্তার কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় আজও ভিসা কেন্দ্র বন্ধ থাকতে পারে।উল্লেখ্য, এর আগেও বাংলাদেশের এক রাজনৈতিক মিছিলে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে আলাদা করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন এনসিপি নেতা হাসনাত। সেই মন্তব্যের পরই দিল্লি কড়া অবস্থান নেয়। বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে স্পষ্ট জানানো হয়, এই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য ভারত কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনার পর স্পষ্ট, সেই বার্তা এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫
বিদেশ

কে এই ওসমান হাদি? যাঁর মৃত্যুতে গোটা বাংলাদেশে আগুন জ্বলছে

কয়েক মাস আগেও যাঁকে প্রায় কেউ চিনতেন না, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। রাজনীতিতে আচমকা উত্থান, আবার সেই কাহিনি পূর্ণতা পাওয়ার আগেই থেমে গেল। শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। দেশজুড়ে ছড়িয়েছে উত্তেজনা, বহু জায়গায় আগুন ও বিক্ষোভ। যাঁকে ঘিরে এত আলোচনা, আন্দোলন ও বিতর্ক, সেই ওসমান হাদি আসলে কে ছিলেন?অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছিলেন ওসমান হাদি। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। সেই আন্দোলনের মাধ্যমেই জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি পান হাদি। বিতর্কিত গ্রেটার বাংলাদেশ-এর মানচিত্র তৈরির সঙ্গেও তাঁর নাম জড়ায়, যেখানে ভারতের সেভেন সিস্টার্স-সহ একাধিক অঞ্চলকে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।১৯৯৩ সালের ৩০ জুন বরিশালে জন্ম ওসমান হাদির। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। ঢাকার রামপুরা এলাকায় থাকতেন। পেশায় শিক্ষক ছিলেন হাদি। জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে স্থানীয় সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রামপুরা এলাকার সমন্বয়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান এবং পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ করার দাবিতে যারা সরব হন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হাদি। সেই সময়েই গড়ে ওঠে ইনকিলাব মঞ্চ। এই মঞ্চের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ন্যায়বিচারের দাবি। ইনকিলাব মঞ্চের তরফে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, অভিযুক্তদের বিচার, আহত ও নিহতদের স্বীকৃতি এবং জুলাই চার্টার ঘোষণার দাবি তোলেন হাদি। এর ফলে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি।ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায়ও হাদির নাম জড়ায়। বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে হাদি বারবার আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন ও হত্যার অভিযোগ তুলে দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। দাবি মানা না হলে সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় হাদি জানিয়েছিলেন, তাঁকে ফোন ও মেসেজ করে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবুও তিনি পিছিয়ে যাননি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ঘোষণা দেন। চা-সিঙ্গারা আড্ডার মাধ্যমে প্রচারও শুরু করেছিলেন। ঠিক সেই সময়ই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।গত ১২ ডিসেম্বর জুম্মার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকা দিয়ে ফেরার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুলি মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুরে মৃত্যু হয় ওসমান হাদির। আজ তাঁর দেহ বাংলাদেশে আনা হবে।

ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫
কলকাতা

রোহিঙ্গা ভোটার নিয়ে বিজেপির দাবি ভুয়ো? কমিশনের নাম করে পাল্টা অভিষেক

অনুপ্রবেশকারী ভোটার ইস্যুতে ফের বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, বিজেপির তোলা অভিযোগ নির্বাচন কমিশন নিজেই খারিজ করে দিয়েছে। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ভোটার তালিকার সামারি রিভিশন বা এসএসআর প্রক্রিয়ায় সাধারণত দেড় থেকে দুই শতাংশ মৃত ভোটারের নাম বাদ যায়, এটা নতুন কিছু নয়।অভিষেকের বক্তব্য, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ক্লেম অ্যান্ড অবজেকশন পর্ব শেষ হওয়ার পরে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। তখনই স্পষ্ট হবে কার নাম থাকছে আর কার নাম বাদ যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি যে এক কোটি বা দেড় কোটি রোহিঙ্গা ভোটারের গল্প ছড়াচ্ছে, তা নির্বাচন কমিশনই নাকচ করে দিয়েছে।তিনি আরও বলেন, যদি সত্যিই কোথাও অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা ভোটার থাকে, বিজেপি সেই তালিকা প্রকাশ করুক। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব যাঁর হাতে, সেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তাঁর অধীনে থাকা বিএসএফ ও সিআরপিএফ তখন কী করছিল? সীমান্তে নজরদারি যদি ঠিকমতো হয়, তা হলে এত অনুপ্রবেশ ঘটছে কীভাবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।অনুপ্রবেশ ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই সরব। বিজেপির দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করা হবে। সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকায় এমন ছবি সামনে এসেছে, যেখানে একাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে বাক্স-প্যাটরা নিয়ে সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। তাঁরা বিএসএফ-এর অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।এই আবহেই এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সেই তালিকা থেকে প্রায় ৫৪ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫
রাজ্য

বাংলাদেশি জাহাজের ধাক্কা! ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে মিলল দুই মৎস্যজীবীর দেহ

বাংলাদেশি নৌসেনার জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের পর গভীর সমুদ্রে ডুবে যাওয়া মৎস্যজীবীদের ট্রলার থেকে মিলল আরও দুজনের দেহ। নামখানার উপকূলে টেনে আনা দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলার থেকে ভোররাতে উদ্ধার হয় নিখোঁজ দুই মৎস্যজীবীর দেহ। তাঁদের নাম রঞ্জন দাস ও সঞ্জীব দাস। এখনও তিন জন মৎস্যজীবীর কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁদের নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।উদ্ধার হওয়া দেহ দুটি পাওয়া গিয়েছে ট্রলার এফবি পারমিতা-১১-এর কেবিনের ভিতর থেকে। মৎস্যজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত রঞ্জন দাসের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানে। সঞ্জীব দাস কাকদ্বীপের বাসিন্দা। ট্রলারের কেবিনে আর কোনও নিখোঁজ মৎস্যজীবী আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হলেও আর কোনও দেহ পাওয়া যায়নি।গত রবিবার ১৬ জন মৎস্যজীবী নিয়ে ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিল। ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলসীমানার কাছে আচমকাই ট্রলারটি ডুবে যায়। সেই সময় ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী এবং আশপাশের অন্য ট্রলারের মৎস্যজীবীদের তৎপরতায় ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, একটি বাংলাদেশি নৌসেনার জাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের ট্রলারে ধাক্কা মারে এবং তারপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। যদিও এই অভিযোগ বাংলাদেশ নৌসেনার পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে।দুর্ঘটনার পর পাঁচ জন মৎস্যজীবী নিখোঁজ ছিলেন। তাঁদের খোঁজে গতকাল গভীর রাতে ডুবে যাওয়া ট্রলারটিকে নামখানার উপকূলে টেনে আনা হয়। সেখান থেকেই এদিন উদ্ধার হয় দুজনের দেহ। প্রিয়জনের দেহ ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতদের পরিবার। এখনও নিখোঁজ তিন মৎস্যজীবীর খোঁজে দ্রুত তল্লাশির দাবি জানিয়েছেন তাঁদের পরিজনরা।

ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫
দেশ

বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি! ওড়িশায় বর্ধমানের চার যুবককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেনস্তা

ওড়িশায় ফুলগাছের চারা বিক্রি করতে গিয়ে অপমান ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর চার যুবক। অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে তাঁদের বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কে পরিবারগুলি।পাণ্ডবপাড়ার বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন শেখ, বাপন শেখ, সাগর শেখ ও শাহজাহান শেখ নিয়মিত ভিনরাজ্যে গিয়ে ফুলগাছের চারা বিক্রি করেন। এ বার ওড়িশার খুরদা রোডে পৌঁছতেই বিপত্তি। স্থানীয় কিছু লোক বাংলায় কথা বলতে শুনেই তাঁদের বাংলাদেশি বলে দাবি করে। চারজনের কাছেই বৈধ পরিচয়পত্র থাকলেও তাতে কর্ণপাত হয়নি। অভিযোগ, তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেব, এমন হুমকিও দেওয়া হয়।সাহাবুদ্দিনের ভাই সিরু শেখ বলেন, পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানকার বিজেপি-সমর্থক কয়েকজন চেপে ধরে দাদাদের নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করতে থাকে। প্রচণ্ড হেনস্তা করা হয়।এই খবর পূর্বস্থলী পৌঁছতেই তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় স্থানীয় থানার মাধ্যমে খুরদা রোড থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরেই যুবকদের মুক্তি মেলে। বিধায়ক বলেন, বাঙালি দেখলেই বিজেপির নেতৃত্বে হেনস্তা করা হচ্ছে। যোগাযোগ করে ওদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে।ঘটনার পর ভিনরাজ্যে যেতে ভয় পাচ্ছেন এখানকার চারা বিক্রেতারা। নার্সারি মালিকদের বক্তব্য, ওড়িশায় ফুলের চারা ভালো বিক্রি হয়। কিন্তু এ ঘটনার পর কেউ আর যেতে রাজি নন। ফুলচাষি হেকমত আলি খাঁ বলেন, বাংলা বললেই অপমান। তাই বিজেপি-শাসিত রাজ্যে যেতে ভয় লাগছে। এতে আমাদের বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব বলছে, অভিযোগ সত্যি কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, এমন ঘটনা সম্পর্কে কোনও তথ্য তাঁদের কাছে নেই।

ডিসেম্বর ১২, ২০২৫
বিদেশ

এক রাতেই দূতাবাসে উধাও রাষ্ট্রপতির ছবি! সাহাবুদ্দিনের বিস্ফোরক অভিযোগ—‘আমাকে কোণঠাসা করা হয়েছে’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল। অপমান সহ্য করতে না পেরে নিজের পদ ছেড়ে দিতে চাইছেন দেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরই তিনি ইস্তফা দিতে চান বলে জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস তাঁকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেছেন এবং কোণঠাসা করে রেখেছেন।রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, তিনি দায়িত্ব পালন করছেন শুধুমাত্র সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে। কিন্তু তিনি পদ ছাড়তে আগ্রহী। তাঁর কথায়, গত সাত মাসে ইউনূস একবারও তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। রাষ্ট্রপতির জনসংযোগ বিভাগও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় অপমান, গত সেপ্টেম্বর হঠাৎই বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়।সাহাবুদ্দিন বলেন, এক রাতেই সব দূতাবাস থেকে আমার ছবি উধাও হয়ে গেল। মানুষ ভুল বার্তা পেল যে হয়তো রাষ্ট্রপতিকে সরানো হচ্ছে। এটা ভীষণ অপমানের। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি লিখিতভাবে জানালেও ইউনূস কোনও ব্যবস্থা নেননি। তাঁর অভিযোগ, তাঁর কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতির পদে আসেন সাহাবুদ্দিন। যদিও এই পদটি মূলত প্রতীকী, প্রকৃত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র-গণ অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর, রাষ্ট্রপতিই ছিলেন একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে তাঁকে পাশ কাটানোর অভিযোগ উঠছে।তবে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সেনাপ্রধান স্পষ্ট বলেছেন, তাঁর সামরিক ক্ষমতা নেওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই। বরং তিনি চান দেশে গণতন্ত্র ফিরুক।বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই বক্তব্য যে নতুন ঝড় তুলেছে, তা বলাই যায়।

ডিসেম্বর ১২, ২০২৫
রাজ্য

তিন থেকে চার বছর ধরে লক্ষীর ভাণ্ডারের সুবিধা! এবার বাক্সবন্দি সংসার নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পালা

ব্যাগে বন্দি গোটা সংসার। আর দুচোখে আতঙ্ক। SIR শুরু হওয়ার পর থেকেই এই দৃশ্য বারবার দেখা গিয়েছে সীমান্তে। বৃহস্পতিবার ছিল SIR-এর ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন, আর সেই দিনও বদলাল না স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তের ছবি। আবারও দেখা গেল বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার হুড়োহুড়ি।বাংলাদেশের বাসিন্দা সামাদ গাজি ৩৪ বছর আগে ভারতে ঢুকেছিলেন ধামাখালি দিয়ে। আগে নোংরা কুড়ানোর কাজ করতেন, পরে কাঁটাতার টপকে চলে আসেন এ দেশে। এবার SIRএর আতঙ্কে তিনি ফিরছেন নিজের দেশে। তাঁর মতোই সীমান্তে ভিড় করেছেন আরও অনেকে।স্বরূপনগরেরই আরেক অনুপ্রবেশকারী মহম্মদ মইদুল শেখ তিন বছর আগে এসেছিলেন কাজের খোঁজে। ভাঙাচোরা কাজ, মাটি খোঁড়াএইসব কাজেই দিন চলত। মাঝেমধ্যেই ধরপাকড় হওয়ায় তাঁর বাবা দেশে ফিরে যান। মইদুল বললেন, এখানে আর একা কী করব? তাই আমিও ফিরে যাচ্ছি।এর আগে এই সীমান্তেই বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি জানিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে আধার কার্ড আছে। কেউ কেউ আবার নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে তাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সাহায্যও পেয়েছেন। যেমন বাংলাদেশ থেকে আসা রোকেয়া বিবি জানিয়েছেন, তিন-চার বছর ধরে তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। দুয়ারে সরকার-এর ক্যাম্পে গিয়ে নাকি তাঁর নাম করে দেওয়া হয়েছিল।আরেক বাংলাদেশি, আনোয়ারা বিবি জানিয়েছেন, তিনি দুই-তিন বার ভোটও দিয়েছেন। স্বরূপনগরে অপেক্ষায় থাকা আল আমিন মোল্লা বলেন, তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর আধার কার্ডও ছিল। যাওয়ার সময় নাকি নিউটাউনে দিয়ে এসেছেন।আট দিন মিলিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলেছে SIR-এর ফর্ম জমা। বৃহস্পতিবার, শেষ দিনেও হাকিমপুর সীমান্তে দেখা গেল একই আতঙ্কদেশ ছাড়তে মরিয়া অনুপ্রবেশকারীদের লম্বা লাইন এবং পরপর পাওয়া স্বীকারোক্তি।

ডিসেম্বর ১২, ২০২৫
রাজ্য

বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর পর অবশেষে দেশে ফেরা! অন্তঃসত্ত্বা সোনালির বিস্ফোরক অভিযোগ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে

বাংলাদেশের সীমান্ত পেরিয়ে অবশেষে নিজের দেশে ফিরলেন মালদহের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন এবং তাঁর আট বছরের ছেলে। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা এখনও বাংলাদেশেই আটকে রয়েছেন। দেশে ফিরেই সোনালি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশে আট মাসেরও বেশি সময় তাঁরা চরম কষ্টে ছিলেন এবং দিল্লি পুলিশের হাতে অমানবিক অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। তাঁর কথায়, আমরা বহুবার অনুরোধ করেছিলাম। তবুও বিএসএফ দিয়ে আমাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হল।সোনালি এখনও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। জানিয়েছেন, আর কোনওদিনও দিল্লি ফিরতে চান না। স্বামী-সহ বাকিরা ফিরতে না পারায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সোনালির পরিবারের বাকি সদস্যদেরও দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনা উচিত।উল্লেখ্য, কাজের খোঁজে দিল্লিতে গিয়েছিলেন বীরভূমের পাইকর এলাকার সোনালি বিবি ও সুইটি বিবিদের পরিবার। অভিযোগ, তাঁদের কাছে বৈধ ভারতীয় নথি থাকা সত্ত্বেও ১৭ জুন দিল্লি পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। কারণতাঁরা বাংলা ভাষায় কথা বলছিলেন, এবং সেই কারণেই তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হয়। ঠিক সেই সন্দেহের জেরেই ২৬ জুন ছজনকে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়।সেই সময় সোনালি ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। বাংলাদেশে ঢোকার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী বলে ধরে এবং মামলা রুজু করে। একশোরও বেশি দিন তাঁরা স্থানীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। অবশেষে সোমবার ওই মামলায় জামিন পান সকলেই।ঘটনা পৌঁছে যায় সুপ্রিম কোর্টে। আদালত স্পষ্ট জানায়, যেহেতু অন্তঃসত্ত্বা সোনালিকে দিল্লি থেকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাই তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে দেশে ফিরিয়ে আনতেই হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী কপিল সিব্বাল ও সঞ্জয় হেগড়ে আরও জানান, সোনালির স্বামী ও পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশে রয়েছেনতাঁদেরও ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা জরুরি। সিলিসিটর জেনারেল এ বিষয়ে আলাদা নির্দেশ চাইতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন। তবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তুষার মেহতা দাবি করেন, সোনালি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশি, মানবিক কারণেই শুধু সোনালি ও তাঁর ছেলেকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও জটিলই রয়ে গিয়েছে। সোনালি দেশে ফিরলেও তাঁর স্বামী ও পরিবার কবে ফিরবেন, সেই দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫
দেশ

উত্তর প্রদেশে বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা ঢোকার আশঙ্কা! রাতারাতি অ্যাকশন যোগী প্রশাসনের

উত্তর প্রদেশে যাতে কোনও বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা ঢুকতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই আরও কঠোর পদক্ষেপ নিল যোগী আদিত্যনাথের সরকার। কেন্দ্রীয়ভাবে ভোটার তালিকার পরিমার্জন চললেও, একই সঙ্গে রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করতে আলাদা নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন। কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী সব জেলার প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই জেলাস্তরে শুরু হয়েছে অভিযান।প্রশাসন জানিয়েছে, এই বাংলাদেশি উচ্ছেদ অভিযানে কোনও আবেগের জায়গা নেই। সরকারের বিবৃতিতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়, যেখানে কোনও ছাড় দেওয়া যাবে না। আরও জানানো হয়েছে, সংগঠিত বাংলাদেশি চক্রের খোঁজ মিলেছে এবং রাজ্যের নানা জেলায় বহু বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেককে আটক করেছে এটিএস।তবে এখানেই অভিযান শেষ নয়। যোগী সরকারের বক্তব্য, রাজ্যের সর্বস্তর থেকে এই চক্রগুলিকে নির্মূল করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতেও কোনও অনুপ্রবেশকারী সংগঠিত হয়ে উঠতে না পারে।সম্প্রতি অনুপ্রবেশ রুখতে ডিটেনশন সেন্টার তৈরির ঘোষণাও করেছে উত্তর প্রদেশ সরকার। ধরা পড়লেই বিদেশি নাগরিকদের রাখা হবে এই ক্যাম্পে। এই বিষয়ে সব জেলার জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ আটকাতে নতুন করে কড়াকড়ি চালু হলেও, এসআইআর-এর কাজের ক্ষেত্রে উত্তর প্রদেশ এখনও যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫
বিদেশ

‘ভারত না ভাঙলে শান্তি নেই’— বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনা কর্তার মন্তব্যে নতু করে চাঞ্চল্য

ভারত ভেঙে টুকরো টুকরো না হলে বাংলাদেশে কখনও পুরোপুরি শান্তি আসবে নাএমনই উসকানিমূলক মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কে জড়ালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনাকর্তা আবদুললাহি আমান আজমি। তিনি এক সময় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।সম্প্রতি তিনি ঢাকা প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ভারত নাকি বরাবরই Bangladesh-এর ভিতরে অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে যে অশান্তি হয়েছিল, তার জন্যও তিনি সরাসরি ভারতকে য়ী করেন।প্রাক্তন এই সেনাকর্তার আরও অভিযোগ, শেখ মুজিবর রহমান সরকারের সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠিত হয়েছিল। তাদের সশস্ত্র শাখা শান্তি বাহিনীকে ভারত আশ্রয়, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, সেই কারণেই ওই দীর্ঘ সময় জুড়ে পাহাড়ি এলাকায় রক্তপাত চলেছিল।জানা গিয়েছে, আবদুল্লাহিল আমান আজমি বরাবরই ভারতবিরোধী মন্তব্যের জন্য পরিচিত। সমাজমাধ্যমেও তিনি নিয়মিত ভারতবিরোধী পোস্ট করেন। তাঁর এই বিতর্কিত বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিক হওয়ার পথে।উল্লেখ্য, তিনি প্রয়াত জামাত প্রধান গুলাম আজমের ছেলে। গুলাম আজম ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫
রাজ্য

SIR-এর আতঙ্কের মাঝেই বড় স্বস্তি! নদিয়ায় বাংলাদেশি দম্পতির হাতে ভারতীয় নাগরিকত্ব

কেন্দ্র সরকার আগেই জানিয়েছিল, বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম শরণার্থী ছাড়া হিন্দু-সহ অন্যান্য ধর্মের শরণার্থীরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলে নাগরিকত্ব পাবেন। ভোটার তালিকার বিশেষ পরিমার্জন বা SIR ঘিরে যখন রাজ্য জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ, ঠিক সেই সময় নদিয়ার রানাঘাটে এক বাংলাদেশি দম্পতির হাতে এসে পৌঁছল ভারতীয় নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট। তা পেয়ে স্বস্তিতে বুক ভরেছে তাঁদের।নদিয়ার তাহেরপুর থানার কামগাছি জয়পুর এলাকার বাসিন্দা লাতুরাম সিকদার ও তাঁর স্ত্রী পদ্ম সিকদার কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন। লাতুরাম বাংলাদেশের সনাতনপুরে থাকতেন, আর পদ্ম থাকতেন পন্ডিতপুর এলাকায়। কট্টরপন্থীদের অত্যাচারের ভয়ে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে নদিয়ায় চলে এসে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের কাছে আগে থেকেই আধার কার্ড ছিল।চলতি বছরে বাংলায় SIR শুরু হলে তাঁরা চিন্তায় পড়ে যান, কারণ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁরা Citizenship Amendment Act অনুযায়ী ক্যাম্পে গিয়ে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। তাঁরা ১০ অক্টোবর আবেদন করেছিলেন এবং ১৯ নভেম্বর হাতে পান নাগরিকত্বের শংসাপত্র।নাগরিকত্ব পেয়ে পদ্ম সিকদার বলেন, তাঁরা খুব খুশি এবং কেন্দ্র যে পদ্ধতিতে আবেদন করতে বলেছে, সকলকে সেই নিয়ম মেনে আবেদন করার অনুরোধ জানান। লাতুরাম সিকদার বলেন, তাঁরা এক কাপড়ে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে এসেছিলেন প্রায় ৩৫-৩৬ বছর আগে। এখানেই বড় হয়েছেন, এখানেই তাঁদের সংসার। SIR শুরু হওয়ার পর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন, তবে কেন্দ্রীয় সরকার যে আশ্বাস দিয়েছিল, সেই অনুযায়ী আবেদন করেই তাঁরা নাগরিকত্ব পেয়ে গেলেন। এখন ভোট দেওয়ার অধিকারও পেলেন তাঁরা।এই বিষয়ে রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক পার্থসারথী চ্যাটার্জি বলেন, শুরু থেকেই তাঁরা জানিয়েছিলেন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই দম্পতি নাগরিকত্ব পেয়েছেন, ভবিষ্যতে যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁরাও নাগরিকত্ব পাবেন।উল্লেখ্য, এর আগেও জঙ্গি হামলায় নিহত বিতান অধিকারীর স্ত্রী ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। নদিয়ার এই দম্পতির নাগরিকত্ব পাওয়ার ঘটনায় নতুন করে আশা দেখছেন অনেক শরণার্থী পরিবার।

ডিসেম্বর ০১, ২০২৫
রাজ্য

২০০২ সালের মৃত ভোটারের ফর্মে নিজের নাম তুলতে গিয়ে গ্রেফতার বাংলাদেশী যুবক

হুগলির ডানকুনি পৌরসভার মাথুরডাঙি এলাকায় প্রকাশ্যে ধরা পড়ল ভোটার তালিকায় ভয়ঙ্কর গণ্ডগোলের ঘটনা। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা মৃত ব্যক্তি মহসিন খানের এনুমারেশন ফর্ম ব্যবহার করে নিজের নাম তালিকায় তুলতে চেয়েছেন বাংলাদেশি যুবক নাদিম। ২০১৫ সালে মারা যাওয়া মহসিন খানের ফর্ম নিয়েই ভোটার কার্ড বানানোর চেষ্টা এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করেন নাদিম। ঘটনার সত্যতা জেনে মহসিন খানের আত্মীয় মইদুল খান নাদিমকে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেন।বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নাদিমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। নাদিম দাবি করেছেন, তিনি ১৫ বছর ধরে ডানকুনিতে বসবাস করছেন। চার হাজার টাকার বিনিময়ে মৃত মহসিন খানের এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করে নিজে ছবি লাগিয়ে জমা দিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তারা খুঁজছে, এই কেলেঙ্কারিতে আর কারা জড়িত এবং কীভাবে মৃত ব্যক্তির ভোটার কার্ড ব্যবহার করে এসআইআর তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল।এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে রীতিমতো ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভোটার তালিকায় অনৈতিক হস্তক্ষেপ, বিদেশি নাগরিকদের হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গে ফের ভোট সংক্রান্ত এ ধরনের প্র্যাকটিস নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নভেম্বর ২৭, ২০২৫
বিদেশ

সজীব-পুতুলও দণ্ডিত! তিন মামলায় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে জেল

ঢাকার আদালত বুধবার একটি চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করে। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির তিনটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ২১ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় তাঁকে ৭ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর কন্যা সায়েমা ওয়াজেদ পুতুলও একটি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করবেন।এই তিন মামলায় মোট ৪৭ জনকে আসামি করা হলেও ব্যক্তি হিসেবে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩। এই তালিকায় শুধু শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুলই নয়, রয়েছেন হাসিনার শাসনকালের বিভিন্ন মন্ত্রী ও আমলারা। প্রাক্তন গৃহ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং গৃহ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সহকারী সচিব পূরবী গোলদারও এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।মামলার সূত্র অনুযায়ী, ঢাকার পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি এবং সম্পদের অবৈধ ব্যবহারই মূল অভিযোগ। এছাড়া দেশ ছাড়ার পরও নানা গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়েছেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র আন্দোলনের ওপর গুলি চালানো, মানবতাবিরোধী কার্যকলাপ এবং আয়নাঘর সংক্রান্ত দুর্নীতি। কিছু অভিযোগে তথ্য গোপন করে কর ফাঁকির কথাও বলা হয়েছে।বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী এই রায়ে মন্তব্য করেন যে, দোষ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। তবে আওয়ামি লীগ ইতিমধ্যেই এই বিচারের বিরোধিতা করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, ক্যাঙারু আদালতের নামে বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ প্রভাবিত এবং যেখানে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই, তা কখনই ন্যায়বিচার হতে পারে না।এই রায় ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায়ের ফলে রাজনৈতিক মহলে দুশ্চিন্তা এবং বিতর্ক আরও বাড়বে।

নভেম্বর ২৭, ২০২৫
রাজ্য

FIP–এ বায়োমেট্রিক ধরে ফেলল সব! বহু বাংলাদেশির কাছে মিলল ভারতীয় নথিও

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকা জুড়ে ফের তীব্র হল BSFএর নজরদারি। গত মাত্র সাতআট দিনের মধ্যেই স্বরূপনগরের হাকিমপুর ও তারালি সীমান্ত থেকে অন্তত ১৭২০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অবৈধভাবে ভারত প্রবেশের অভিযোগেই তাঁদের প্রত্যাবর্তন। সীমান্ত জুড়ে এই সংখ্যাটি প্রশাসনকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।BSF এবং পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক। কেউ কাজের সন্ধানে, কেউ আত্মীয়ের কাছে, আবার কেউ পাচারকারীর মাধ্যমে দালাল চক্রের হাত ধরে অবৈধভাবে এইপারে এসেছিলেন। ধরা পড়ার পর তাঁদের প্রত্যেককে নিয়ে যাওয়া হয় নির্দিষ্ট সুরক্ষা কেন্দ্রে, যেখানে প্রথমেই ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টালে তাঁদের বায়োমেট্রিক, ফেসিয়াল ও ডেমোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই সমস্ত তথ্য পাঠানো হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের কাছে, যেখানে খতিয়ে দেখা হচ্ছেভারতে এসে কেউ কোনও অপরাধে যুক্ত ছিলেন কি না।পুলিশি ক্লিয়ারেন্স মেললেই তাঁদের বাংলাদেশে ফেরানো হচ্ছে। আর সেখানেই সামনে আসছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের কাছ থেকে একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়েছেআধার, ভোটার আইডি, এমনকি প্যান কার্ডও। ফলে সীমান্তের দালাল নেটওয়ার্ক ঠিক কতটা গভীরভাবে কাজ করছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এসব নথির উৎস খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আধার কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হচ্ছে তথ্য।BSFএর দাবি, হাকিমপুর ও তারালি এলাকায় গত কয়েক দিনে নজিরবিহীনভাবে বেড়ে গিয়েছে অনুপ্রবেশের ঘটনা। একদিকে অসম, অন্যদিকে নদীপথ ও সবুজ সীমানাসব মিলিয়ে সীমান্তের অনেক অংশে নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে BSFএর ধারাবাহিক অভিযানেই মাত্র এক সপ্তাহে ১৭২০ জনকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে।কেন এত বড় সংখ্যায় বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছেনতার কারণ খুঁজতে এখন মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থাও। প্রশাসনের আশঙ্কা, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি পাচারকারী ও মানবব্যবসায়ী চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

নভেম্বর ২২, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

৫০ রান শেষ দুই ওভারে! ভয়ংকর মেহরব, তারপর সুপার ওভার ড্রামা—তবু জয় বাংলাদেশের

দোহায় রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে শুক্রবার এমন এক ম্যাচ দেখা গেল, যা শেষ বল পর্যন্ত দর্শকদের নাড়িয়ে দিল। ভারত A এবং বাংলাদেশ Aদুটি দলই ১৯৪ রান করায় ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে। কিন্তু সুপার ওভারের শেষ বলেই ভারত A-র কপালে জুটল পরাজয়। আর ফাইনালের টিকিট তুলে নিল বাংলাদেশ A।পুরো ম্যাচে নাটক যেন থামতেই চাইছিল না। শেষ ওভারের শুরুতে ভারতকে প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। এর আগে ১৯তম ওভারে বাংলাদেশের রিপন মন্ডল মাত্র পাঁচ রান দিয়ে রামনদীপ সিং-কে ফিরিয়ে ম্যাচে দারুণ চাপ তৈরি করেন। শেষ তিন বলে প্রয়োজন আট রান। তখনই ঘটে ম্যাচের প্রথম বড় ভুললং-অফ থেকে জিশান আলম একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেন, আর সেটি ছুঁয়ে চারও হয়ে যায়। সেই চারেই ম্যাচে ফের আশা জাগে ভারত শিবিরে। কিন্তু আশুতোষ শর্মা পরের বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন।শেষ বলে চার না তুললে হার নিশ্চিততবু ভারত অলৌকিকভাবে পেয়ে যায় টাই করার সুযোগ। হর্ষ দুবে লং-অনে বল পাঠিয়ে ইতিমধ্যেই এক রান নিয়েছিলেন, দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে প্রায় থেমে যান। কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়ক আকবর আলির অবিশ্বাস্য ভুলস্টাম্পে দৌড়োতে না গিয়ে তিনি নরম আন্ডার-আর্ম থ্রো মারতে গিয়ে মিস করেন, পিছনে কেউ ছিল না ব্যাক-আপে। ভারত সেই সুযোগে নিয়ে নেয় তিন রান, আর তাতেই ম্যাচ টাই।সুপার ওভারে আবার অচেনা সিদ্ধান্ত ভারত শিবিরে। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারা বৈভব সূর্যবংশীকে ওপেন করানো হল না। ব্যাট করতে নামেন জিতেশ শর্মা। রিপন মন্ডল দুরন্ত ইয়র্কার ফেলে তাঁকে প্রথম বলেই বোল্ড করেন। অন্য ব্যাটার আশুতোষের ব্যাটেও ইয়র্কার সামলানো গেল নাসোজা উঠল এক্সট্রা কভারের হাতে। সুপার ওভারে ভারত তুলল মাত্র এক রান।বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল মাত্র দুই রান। প্রথম বলেই সুয়াশ শর্মা উইকেট নিলেও, দ্বিতীয় বলটি গুগলি ভুল লেন্থে হয়ে ওয়াইডসেই এক রানেই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়। ভারত A-র জন্য শেষ হয় এক ব্যর্থ প্রচারণাযেখানে তারা পাকিস্তান A-এর কাছে হারার পর ওমানের বিরুদ্ধেও সমস্যায় পড়েছিল।এর আগেই ভারত A বোলিংয়ে বড় ভুল করে ফেলে। বাংলাদেশের শেষ দুই ওভারে ওঠে ৫০ রান! মেহরব মাত্র ১৮ বলে ৪৮* করেনএর মধ্যে নামন ধিরের বলে এক ওভারে ২৮ রান। হাবিবুর রহমানের ৬৫ রান দলকে মজবুত ভিত্তি দেয়।চেজে বৈভব সূর্যবংশীর ১৫ বলে ৩৮ রানে ভারতের আশা জাগলেও মাঝপথে ছন্দ হারাতে থাকে দল। প্রিয়াংশ আর্য (৪৪) ও জিতেশ শর্মা (৩৩) চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ ওভারের সেই চাপ, ভুল সিদ্ধান্ত আর সুপার ওভারে দুর্বল ব্যাটিংসব মিলিয়ে ভারত A ছিটকে যায় টুর্নামেন্ট থেকে।এমন নাটকীয় লড়াইয়ের শেষে বাংলাদেশ A-র জয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন থাকবে। আর ভারত A হয়তো ভাবতেই থাকবেসেই মিসড থ্রো আর সুপার ওভারের ভুল সিদ্ধান্তই কিনা শেষ পর্যন্ত বড় দাম চুকিয়ে দিল।

নভেম্বর ২১, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

আমেরিকার ভোটে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের জয়জয়কার! লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র হলেন কেরলের নিত্যা

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল রিপাবলিকান শিবির। কংগ্রেসের দুই কক্ষ, সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল। অন্য দিকে, বিভিন্ন জায়গায় জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এই নির্বাচনে বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিকেরা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম কেরলে জন্ম নেওয়া নিত্যা রমন। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তিনি। এই জয়ের ফলে শহরটির প্রথম এশীয়-আমেরিকান মেয়র হলেন নিত্যা। প্রতিদ্বন্দ্বী কারেন বাসকে হারিয়ে ৫১.১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি। বাস পেয়েছেন ৪৮.৩৩ শতাংশ।এই নির্বাচনে শুধু নিত্যাই নন, জয় পেয়েছেন আরও কয়েক জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অরুণা মিলার। ১৯৬৪ সালের ৬ নভেম্বর হায়দরাবাদে জন্ম তাঁর। মাত্র সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় চলে যান অরুণা। পরে মিসৌরি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৯ সালে স্নাতক হওয়ার পর দীর্ঘ দিন সরকারি চাকরি করেন তিনি। পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০১০ সালে মেরিল্যান্ডের আইনসভায় নির্বাচিত হন অরুণা। ২০২২ সালে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসাবে মেরিল্যান্ডের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হন তিনি। এ বারও নির্বাচনে জয় পেয়েছেন অরুণা।এ বারের নির্বাচনে আরও এক নতুন মুখ পিয়া ডান্ডিয়া। ফ্লোরিডার ২২ নম্বর কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। প্রায় ৫১.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন পিয়া। পেশায় শিক্ষাবিদ এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করতেন তিনি। পরে নিউ ইয়র্কের হারলেম এলাকার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হন। এই জয়ের ফলে ওই কেন্দ্র থেকে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হিসাবে মার্কিন কংগ্রেসে জায়গা করে নিলেন পিয়া।আমেরিকার রাজনীতিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের এই সাফল্য নতুন করে নজর কেড়েছে। চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী কিংবা শিক্ষাবিদ নানা পেশা থেকে উঠে এসে রাজনীতির ময়দানে নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন তাঁরা। জন্ম বা বেড়ে ওঠা আমেরিকায় হলেও তাঁদের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে ভারতের সঙ্গে।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
দেশ

২০২১ সালে বেকসুর খালাস, পরে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত! তেজপালের সাজা নিয়ে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

২০১৩ সালের ধর্ষণ মামলায় আপাতত কোনও স্বস্তি পেলেন না তেহেলকা পত্রিকার প্রাক্তন প্রধান সম্পাদক তরুণ তেজপাল। তাঁর ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা স্থগিত করতে রাজি হল না সুপ্রিম কোর্ট। ফলে সাজা ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে তাঁর আবেদন বিচারাধীন থাকলেও আপাতত জেলেই থাকতে হবে তাঁকে।বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। বম্বে হাই কোর্টের ৬ অগস্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন তেজপাল।২০১৩ সালে নিজের এক জুনিয়র সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল তেজপালের বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে এই মামলায় বেকসুর খালাস করেছিল। কিন্তু সেই রায় খারিজ করে বম্বে হাই কোর্ট তাঁকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেয়।হাই কোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তেজপাল। তাঁর আবেদন ছিল, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিত রাখা হোক। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই আর্জিতে সাড়া দেয়নি শীর্ষ আদালত। ফলে ধর্ষণ মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা আপাতত বহাল থাকল।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
দেশ

বোমাতঙ্ক বম্বে হাই কোর্টে! নিশানায় অমিতাভ বচ্চনের ‘জলসা’ও, তল্লাশি চালিয়ে কী পেল পুলিশ?

বম্বে হাই কোর্টে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ইমেল পাঠানোকে কেন্দ্র করে শুক্রবার মুম্বইয়ে চাঞ্চল্য ছড়াল। ওই ইমেলে আদালত চত্বর, মহালক্ষ্মী রেসকোর্স এবং বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের বাংলো জলসায় হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হয়। খবর পেয়েই তিনটি জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে কোথাও সন্দেহজনক কিছু মেলেনি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।এই হুমকি ইমেলটি কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইমেল পাঠানোর পিছনে কারা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও বিপজ্জনক বস্তু বা সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।এর আগে গত ২ নভেম্বর, সোমবার মহারাষ্ট্রের একাধিক জেলা ও দায়রা আদালতেও বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ইমেল পাঠানো হয়েছিল। আদালত চত্বরে বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। সেই খবর পাওয়ার পরেই সংশ্লিষ্ট আদালতগুলিতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।বোমা শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়কারী দলও তল্লাশিতে অংশ নেয়। তবে দীর্ঘক্ষণ ধরে পরীক্ষা চালানোর পরেও কোথাও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। পর পর আদালতে বোমা হামলার হুমকি এবং এ বার বম্বে হাই কোর্টের পাশাপাশি অমিতাভ বচ্চনের বাড়ির নাম উঠে আসায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

প্রাক্তন হকি অধিনায়কের বাড়িতে চুরি! নগদ-গয়নার সঙ্গে উধাও ১৯৮০ সালের অলিম্পিকের সোনার পদক

নগদ টাকা, সোনা-রুপোর গয়না তো ছিলই। এ বার চোরেদের হাত থেকে রেহাই পেল না অলিম্পিকের সোনার পদকও! প্রাক্তন ভারতীয় হকি অধিনায়ক এম এম সোমায়ার বাড়িতে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে ভারতীয় দলের জেতা সোনার পদক-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পদক চুরি গিয়েছে। পাশাপাশি নগদ টাকা এবং মূল্যবান গয়নাও নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও ধরা পড়েনি অভিযুক্তেরা। উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া সামগ্রীও।বেঙ্গালুরুর হ্যাল থার্ড স্টেজ এলাকায় থাকেন সোমায়া। এলাকাটি ইন্দিরানগর থানার অধীনে। গত ২৮ অক্টোবর রাতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। সেই সময় পরিবারের সঙ্গে কোডাগুতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন হকি তারকা। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে চোরেরা সেখানে ঢুকে পড়ে। পরে প্রতিবেশীরা বাড়ির দরজা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। তাঁরাই ফোন করে সোমায়াকে বিষয়টি জানান। এর পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।পুলিশ সূত্রে খবর, চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে পাওয়া সোনার পদক। এ ছাড়াও ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমসে পাওয়া রুপোর পদক এবং ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমস ও ১৯৮২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ব্রোঞ্জ পদকও চুরি গিয়েছে। অর্থাৎ, সোমায়ার দীর্ঘ ক্রীড়াজীবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক এখন চোরেদের হাতে।এ ছাড়া বাড়ি থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা, সোনা ও রুপোর গয়নাও নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা।ঘটনার তদন্তে এলাকার বিভিন্ন বাড়ির নজরদারি ক্যামেরার ছবি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সোমায়ার বাড়ির উল্টো দিকের একটি বাড়ির ক্যামেরায় দুজন সন্দেহভাজনের ছবি ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ২৮ অক্টোবর রাত ২টো ৩৪ মিনিট নাগাদ ওই দুজন সোমায়ার বাড়িতে ঢুকেছিল। একজনের পরনে ছিল নীল রঙের জামা, অন্য জনের লাল।অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং চুরি যাওয়া সমস্ত সামগ্রী উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন সোমায়া। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্তের জন্য দুটি বিশেষ দল তৈরি করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৩১(৪) এবং ৩০৫ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।ভারতীয় হকির ইতিহাসে পরিচিত নাম এম এম সোমায়া। দীর্ঘ দিন দলের হাফ ব্যাক হিসেবে খেলেছেন তিনি। তিনটি অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভারতীয় দলের অধিনায়কত্বও সামলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৮৮ সালে নাইরোবিতে পুজো কাপ জেতে ভারত। ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৯৮৫ সালে তাঁকে অর্জুন পুরস্কার দেওয়া হয়।দেশের হয়ে অলিম্পিকে সোনা জেতা এক ক্রীড়াবিদের বাড়ি থেকে সেই পদকই চুরি যাওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন ক্রীড়ামহল। যে পদক এক সময় দেশের সাফল্যের স্মারক ছিল, সেটি এখন কোথায়, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
দেশ

প্রথমে স্ত্রীকে খুন, পরের দিন পার্টির নামে বাড়িতে ডেকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড! কীভাবে সামনে এল ঘটনা?

স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের অশান্তি। সেই রাগ থেকেই স্ত্রী-সহ তাঁর পরিবারের সাতজনকে খুনের অভিযোগ উঠল এক গাড়িচালকের বিরুদ্ধে। বেঙ্গালুরুতে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাত বছরের এক শিশুও। অভিযুক্তের নাম ইন্দুশেখর। দুদিন ধরে পরিকল্পনা করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে নিজের স্ত্রী সুনীতাকে খুন করেন ইন্দুশেখর। তার পর তাঁর দেহ কাপড়ে মুড়ে নন্দী পাহাড়ের কাছে ফেলে আসেন। স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি যাতে কারও সন্দেহ না হয়, তার জন্য তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন অভিযুক্ত। প্রতিবেশীদের জানান, স্ত্রী বেড়াতে গিয়েছেন।এর পরের দিন আরও ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্করকে নিজের বাড়িতে পার্টির জন্য আমন্ত্রণ জানান ইন্দুশেখর। তাঁরা স্ত্রীদের নিয়ে বাড়িতে আসেন। অভিযোগ, সেখানেই তাঁদের উপর হামলা চালান অভিযুক্ত। একে একে খুন করা হয় দুই শ্যালক, তাঁদের স্ত্রী দিব্যা ও নলিনী, শাশুড়ি রূপবতী এবং শিবকুমারের সাত বছরের ছেলে পুনীতকে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শ্যালক ও শাশুড়ির সঙ্গে সুনীতার ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া সাহায্য পছন্দ করতেন না ইন্দুশেখর। এই বিষয়টি নিয়েই তাঁর মনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমেছিল। সেই আক্রোশ থেকেই পরিবারের সকলকে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, স্ত্রী সুনীতাকে শিলবাটার পাথর দিয়ে আঘাত করে খুন করেন অভিযুক্ত। পরে সেই একই পাথর ব্যবহার করে শ্যালক ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরও খুন করা হয় বলে অভিযোগ। হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ির রক্তের দাগ মুছে ফেলতে রাসায়নিক ব্যবহার করেন তিনি। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই এই কাজ করা হয়েছিল বলে মনে করছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার নলিনীর মা শ্রীরামপুরা থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে। এর পরেই গ্রেফতার করা হয় ইন্দুশেখরকে।অভিযুক্তের ব্যবহৃত গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ওই গাড়িতে করেই দেহগুলি অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। খুনে ব্যবহৃত শিলবাটার পাথরও উদ্ধার করা হয়েছে।এ দিকে নন্দী পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়ে সাত বছরের শিশু পুনীতের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সেটিই প্রথম উদ্ধার হওয়া দেহ বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের দাবি, জেরায় ইন্দুশেখর সাতজনকে খুনের কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁর সমস্ত দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাকি দেহগুলির খোঁজেও তল্লাশি চলছে।এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ সাহায্য করেছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এমনকি অভিযুক্তের মেয়ের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি বাড়িতে এতগুলি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও প্রতিবেশীরা কেন কিছু বুঝতে পারলেন না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক অশান্তি থেকে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আপাতত অভিযুক্তের বয়ান, উদ্ধার হওয়া তথ্যপ্রমাণ এবং নিখোঁজদের খোঁজের উপরেই নির্ভর করছে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

১৮ বছরের অপেক্ষা শেষ করতে মরিয়া ভারত! নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামছেন বুমরাহ-জাদেজা, পন্থকে নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে শেষ বার টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ভারত ২০০৮-০৯ মরসুমে। তার পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১৮ বছর। এ বার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে মরিয়া ভারতীয় দল। আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্য প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাই চোটের ঝুঁকি থাকলেও দলের প্রথম সারির ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি ম্যাচে নামানো হচ্ছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়েও এই সিরিজ ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ড এ দলের বিরুদ্ধে দুটি চার দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন ভারতীয় টেস্ট দলের কয়েক জন নিয়মিত ক্রিকেটার। এ বার সেই প্রস্তুতি ম্যাচের তৃতীয়টিতে খেলতে নামবেন জসপ্রীত বুমরাহ ও রবীন্দ্র জাডেজা। শনিবার থেকে শুরু হতে চলা এই ম্যাচের জন্য ভারত এ দলে যোগ দিয়েছেন দুজনেই। তাঁদের সঙ্গে দলে রয়েছেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণও।দীর্ঘ দিন মাঠের বাইরে থাকার পর ম্যাচের ছন্দ ফিরে পেতেই বুমরাহ ও জাডেজাকে এই ম্যাচে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজের আগে দুজনের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি বলে মনে করছে ভারতীয় শিবির। অন্য দিকে, চোটের কারণে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজে খেলতে পারবেন না প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। তাই তিনিও এই প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।তবে ভারতীয় শিবিরে স্বস্তির পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে। তৃতীয় প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলতে পারছেন না ঋষভ পন্থ। এখনও পুরোপুরি চোটমুক্ত হতে পারেননি ভারতীয় দলের এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। বর্তমানে তিনি রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে। তাঁর পরিবর্তে ভারত এ দলে জায়গা পেয়েছেন তিলক বর্মা।শেষ বার অগস্ট মাসে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলেছিলেন পন্থ। সেই ম্যাচেই তাঁর পাঁজরের পাশের পেশিতে চোট লাগে। নিউজিল্যান্ড এ দলের বিরুদ্ধে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচেই পন্থের খেলার কথা ছিল। কিন্তু চোটের কারণে প্রথম দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। তৃতীয় ম্যাচ থেকেও ছিটকে গেলেন।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলা প্রথম টেস্টের আগে পন্থ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন কি না। তাঁকে নিয়ে চিন্তায় রয়েছে ভারতীয় শিবির। শুধু চোট সারলেই হবে না, নিউজিল্যান্ডের পরিবেশ ও পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্যও কিছুটা সময় প্রয়োজন। প্রথম টেস্টের আগে কতটা ম্যাচ অনুশীলন করতে পারবেন পন্থ, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চাইছে ভারত। সেই লক্ষ্যেই বুমরাহ, জাডেজাদের প্রস্তুতি ম্যাচে নামানো হচ্ছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে পন্থের চোট কতটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
দেশ

এসআইআর বিতর্কের মাঝেই নির্বাচন কমিশনে বড় রদবদল! সীমা খন্নার ক্ষমতায় কাটছাঁট, নয়া নির্দেশ জারি

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের অন্দরে ফের বড় পরিবর্তন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাজের দায়িত্ব বণ্টনে নতুন নির্দেশ জারি হয়েছে। এ বার থেকে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্নার অধীনে থাকা বিভিন্ন বিভাগের ফাইল সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পবন কুমার শর্মার মাধ্যমে পাঠাতে হবে। গত ৪ নভেম্বর এই সংক্রান্ত নতুন নির্দেশ জারি করেছে কমিশন। নির্দেশটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের সময় বার বার উঠে এসেছিল সীমা খান্নার নাম। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশনের কাজে তিনি অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছেন। এমনকি ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের ক্ষমতা কমিয়ে দিল্লি থেকে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে নতুন নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। অনেকের প্রশ্ন, তবে কি সীমা খান্নার ক্ষমতা কিছুটা কমানো হল?যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশের ফলে সীমা খান্নার পদমর্যাদা বা রিপোর্ট করার নিয়মে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, সীমা খান্না আগেও ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পর্যায়ের আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট করতেন। এখনও সেই ব্যবস্থাই থাকছে। কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নতুন করে কাজের দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছে।কেন বার বার বিতর্কে নির্বাচন কমিশনের কাজের দায়িত্ব বণ্টন? গত কয়েক মাস ধরে এই বিষয়টি নিয়ে কমিশনের অন্দরেই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে খবর। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও কমিশনের অন্য দুই সদস্য বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিং সান্ধু কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে কাজের দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত একটি নির্দেশও ছিল।এর আগে চলতি বছরের ২৮ জুলাই কাজের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নতুন নির্দেশ জারি হয়েছিল। সেই নির্দেশে তৎকালীন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমারের কাছ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব সরিয়ে সীমা খান্নার হাতে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তিনি সরাসরি রিপোর্ট করার সুযোগ পান। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান কমিশনের দুই সদস্য।নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ডেপুটেশনে থাকা অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এক আইএএস আধিকারিক ওই নির্দেশ জারি করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি কার্যকর হয়নি। ২৯ জুলাই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দুই নির্বাচন কমিশনার আলাদা ভাবে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি দেন। পরের দিন, অর্থাৎ ৩০ জুলাই, তাঁদের যৌথ নির্দেশের পর ২৮ জুলাইয়ের নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি বলে জানিয়েছে কমিশন।এ দিকে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নতুন উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যাঁদের নাম এসআইআর চলাকালীন ভোটার তালিকায় ওঠেনি এবং যাঁরা নতুন করে ভোট দেওয়ার যোগ্য হয়েছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন ভোটারদের নাম তোলা এবং ভোটার তালিকায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। ওই তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ দিন ১২ ডিসেম্বর। জমা পড়া দাবি ও আপত্তির নিষ্পত্তি করতে হবে ২০২৭ সালের ১৬ জানুয়ারির মধ্যে। তার পর ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। এই নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর অভিযোগেও উঠে এসেছিল সীমা খান্নার নাম।অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৭ মে-র নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর প্রক্রিয়া বহাল রেখেছে। ফলে এক দিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ এগোচ্ছে, অন্য দিকে কমিশনের অন্দরে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নতুন নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতা-সহ ৭ পুরসভায় এখনই ভোট নয়! হাই কোর্টের নির্দেশে বড় ধাক্কা, কবে হবে নির্বাচন?

কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের সাতটি পুরসভায় এখনই হচ্ছে না নির্বাচন। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে পুরভোট নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কবে নির্বাচন হবে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। সেখানেই আদালত জানিয়ে দেয়, এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরসভাগুলির নির্বাচন নিয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না। অর্থাৎ, আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত আইনি জট কাটাতে হবে। তার পরেই ভোটের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু করে সরকার। কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রথম থেকেই সরব হয়েছিল বিরোধী দলগুলি। তাদের আপত্তি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়।পুজোর ছুটির মধ্যে মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে ওঠে। শুক্রবার সেই মামলার শুনানির পর আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের মামলা মিটে যাওয়ার আগে পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যাবে না। ফলে নভেম্বরের শেষ দিকে নির্বাচন হতে পারে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের একাধিক পুরসভা ও পুরনিগমে নির্বাচন হয়নি। কোথাও পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে, কোথাও আবার পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর প্রশাসকেরা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দ্রুত নির্বাচন করানোর পক্ষে সওয়াল করে আসছিল রাজ্য সরকারও।আদালতের নির্দেশের পর এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশের পর এ বিষয়ে তাঁদের কিছু বলার থাকতে পারে না। তবে দীর্ঘদিন ভোট না হলে সাধারণ মানুষকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।হাই কোর্টের এই নির্দেশের পর কলকাতা, হাওড়া-সহ সাতটি পুরসভায় কবে নির্বাচন হবে, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আপাতত ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal