• ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, রবিবার ১৬ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bangladesh

বিদেশ

ভোররাতে কমিশনের ঘোষণা, ক্ষমতার কেন্দ্রে তারেক রহমান

১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরে এলেন তিনি। আর ফিরেই দেখালেন শক্তি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২৯৯ আসনের সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জাদুসংখ্যা পেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তারেক রহমান। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, দুই আসনেই জয় পেয়েছেন তিনি। এর ফলে দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে চলেছেন এক পুরুষ নেতা। দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে নারীদের প্রাধান্যের পর এ বার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।এই নির্বাচনে বিরোধী দলের আসনে বসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। শুক্রবার ভোররাতে নির্বাচন কমিশন বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে। নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবারের ভোটে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।একটি আসনে তারেক রহমান পেয়েছেন ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বিএনপি চেয়ারম্যান।বগুড়া-৬ আসনে ১১৬টি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৬৫১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৮০ ভোট। বগুড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ২৯ জন। ভোট পড়েছে ৭১.৩৪ শতাংশ।এদিকে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট।এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৮৩টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় জামায়াত উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ভোট পড়েছে ৬০.৬৯ শতাংশ। পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়েছে ৮০.১১ শতাংশ, যার মধ্যে বৈধ হয়েছে ৭০.২৫ শতাংশ। গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৭৭.৭ শতাংশ।দেশের কোথাও বড় ধরনের সংঘাতের খবর মেলেনি। দীর্ঘ দেড় দশক পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল উৎসবের আবহ। নির্বাচনকে ঘিরে কিছু উদ্বেগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে ভোটগ্রহণ।প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত রয়েছে। সেই আসনের নতুন তফসিল পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই নির্বাচন এক নতুন অধ্যায় খুলে দিল। এখন নজর সরকার গঠন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
বিদেশ

‘সুপরিকল্পিত প্রহসন’! বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ শেখ হাসিনার

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুপরিকল্পিত প্রহসন বলে কটাক্ষ করলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আওয়ামী লিগের সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে একটি বার্তা দেন তিনি। সেখানে তাঁর দাবি, দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। মানুষ এই নির্বাচন বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেই জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।এদিকে, নির্বাচনের দিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বোমা বিস্ফোরণ এবং ব্যালট বাক্স দখলের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের তরফে ভোটকে মোটের উপর শান্তিপূর্ণ বলা হয়েছে। ভোটের পর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করেন, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর। তবে তাঁর এই দাবির সঙ্গে একমত নন শেখ হাসিনা।হাসিনার অভিযোগ, ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় ভোটকেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, টাকার বিনিময়ে ভোট কেনাবেচা, ব্যালটে জোর করে সিল মারা এবং ফলাফল শিটে এজেন্টদের সই নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তাঁর মতে, সেখান থেকেই এই প্রহসনের শুরু। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি ছিল নগণ্য বলেও দাবি করেন তিনি। রাজধানী ঢাকাসহ বহু জায়গায় ভোটকেন্দ্র কার্যত ফাঁকা ছিল বলে তাঁর অভিযোগ।নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বেলা দুটো পর্যন্ত দেশের ৩৬ হাজারের বেশি কেন্দ্রে গড়ে ভোট পড়েছে ৪৭ শতাংশ। সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের হার ছিল প্রায় ১৪.৯৬ শতাংশ।শেখ হাসিনার দাবি, আওয়ামী লিগ ছাড়া এই নির্বাচনকে দেশের মানুষ মেনে নেয়নি। গত কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লিগের সমর্থক, ভোটার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, গ্রেফতার ও ভয় দেখানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, ভয়ভীতি উপেক্ষা করেই মানুষ এই নির্বাচন বর্জন করেছে। তাই দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি ছিল না বলেই দাবি করেন তিনি।বাংলাদেশের এই নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও গভীর হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
বিদেশ

ইউনূসের বিদায় ঘণ্টা বাজল! অন্তর্বর্তী সরকারের পতন, এবার কোথায় যাচ্ছেন উপদেষ্টারা?

২০২৪ সালের অগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশ চালাতে ৮ অগস্ট গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের প্রধান করা হয় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনূসকে। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব সামলানোর পর এবার সেই অধ্যায়ের শেষ। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে চলেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এতদিন দেশের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টারা এবার কী করবেন?বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে সদস্যসংখ্যা ২১। প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও রয়েছেন বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টার চারজন বিশেষ সহকারীও ছিলেন। মঙ্গলবার ছিল এই সরকারের শেষ কর্মদিবস। বিভিন্ন মন্ত্রকে বিদায়ী অনুষ্ঠানও হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর মহম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। তবে সেই পথে একাধিক সাংবিধানিক জটিলতা রয়েছে। ইউনূস আগেই জানিয়েছেন, সরকারের দায়িত্ব শেষ হলে তিনি আগের কাজেই ফিরবেন। গ্রামীণ ব্যাঙ্ক বা সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন তিনি।অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দায়িত্ব শেষের পর তিনি আবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে মার্চ মাসে কাজে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও শিক্ষকতায় ফিরবেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি লেখালেখি ও গবেষণার কাজ করবেন। পুরনো জীবনে ফিরে যাওয়ার জন্য তিনি আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন আপাতত কিছুদিন বিশ্রাম নিতে চান। পরে লেখালেখিতে মন দেবেন বলে জানিয়েছেন।খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলি ইমাম মজুমদার আবার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হবেন। উপদেষ্টা হওয়ার আগে তিনি সংবাদপত্রে নিয়মিত কলাম লিখতেন। দায়িত্ব শেষ হলে আবার সেই কাজেই ফিরবেন।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, দায়িত্ব শেষের পরপরই রমজান মাস শুরু হবে। এই সময় তিনি ইবাদতে মন দেবেন। রমজানের পর আবার লেখালেখি ও বই পড়ায় ফিরবেন। উপদেষ্টা থাকাকালীন তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতেন এবং নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। দায়িত্ব শেষ হলে সরকারি গাড়ি ফেরত দিয়ে নতুন গাড়ি কিনবেন বলে জানিয়েছেন।পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, তিনি আবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির কাজে ফিরবেন।সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ মঙ্গলবারই শেষবারের মতো অফিস করেছেন। দায়িত্ব শেষের পর কিছুদিন শান্তভাবে সময় কাটাতে চান। পরে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখবেন। পাশাপাশি মানবাধিকার এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজেও যুক্ত থাকবেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মহিলাদের সঙ্গেও কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইতি ঘটতে চলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নির্বাচিত সরকারের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
বিদেশ

৪৮ ঘণ্টা আগে ভোট, তার আগেই কুপিয়ে হত্যা হিন্দু ব্যবসায়ীকে

ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে বাংলাদেশে ফের নৃশংস হত্যার অভিযোগ। ময়মনসিংহ জেলায় এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। মৃতের নাম সুষেন চন্দ্র সরকার, বয়স ৬২ বছর। এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণকান্দা গ্রামের বাসিন্দা সুষেন চন্দ্র সরকার পেশায় চাল ব্যবসায়ী ছিলেন। সোমবার রাত সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে তিনি নিজের দোকানেই ছিলেন। সেই সময় কয়েক জন দুষ্কৃতী দোকানে ঢুকে তাঁর সঙ্গে বচসা শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুষেনবাবুকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি দোকানের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন। এরপর দোকানের শাটার নামিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়।স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। কী কারণে এই খুন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকেই দেশজুড়ে অশান্তির ছবি সামনে আসতে শুরু করে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনুস দায়িত্ব নিলেও কট্টরপন্থীদের দাপট কমেনি বলেই অভিযোগ। এর আগেও একাধিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রনেতা ওসমান হাদি খুনের পর সংবাদমাধ্যমের অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছায়ানটেও চালানো হয় হামলা। এরপর সংখ্যালঘু হিন্দু যুবক দীপু দাসকে গণপিটুনির পর হত্যা করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়।এই পরিস্থিতিতে ভোটের ঠিক আগে ফের এক হিন্দু ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ভোটমুখী বাংলাদেশে।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
বিদেশ

ভোটের আগে বড় চুক্তি! আমেরিকার সঙ্গে ইউনুস সরকারের সমঝোতা ঘিরে জল্পনা

বাংলাদেশে সংসদীয় নির্বাচনের আগে আমেরিকার সঙ্গে একটি পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর করল মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশি পণ্যের উপর মার্কিন শুল্কের হার কমে দাঁড়াল ১৯ শতাংশে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে নিজেই এই চুক্তির কথা জানিয়েছেন ইউনুস।তিনি জানান, সোমবার বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তার ফলে আমেরিকা তাদের শুল্কের হার আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ইউনুস আরও বলেন, ভবিষ্যতে কিছু টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্যের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্কের সুবিধা দেওয়ার জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির বার্তাও দিয়েছে আমেরিকা।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মূলত টেক্সটাইল ও পোশাক রপ্তানির উপর নির্ভরশীল। দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই এই খাত থেকে আসে। ফলে মার্কিন শুল্ক কমায় বাংলাদেশের রপ্তানি ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের একাধিক দেশের বিরুদ্ধে কার্যত শুল্কযুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় প্রথমে বাংলাদেশি পণ্যের উপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়। পরে গত বছরের আগস্টে তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এবার নতুন চুক্তির ফলে সেই শুল্ক আরও কমে ১৯ শতাংশে এল।প্রায় ৯ মাস ধরে দীর্ঘ আলোচনার পর এই চুক্তি হয়েছে। তবে নির্বাচন একেবারে সামনে, আর অন্তর্বর্তী সরকারও অস্থায়ীভাবে ক্ষমতায়এই পরিস্থিতিতে এমন বড় বাণিজ্য চুক্তির অর্থ কী, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
বিদেশ

বিদায়ের আগে ঋণের বোঝা বাড়ালেন ইউনূস? নির্বাচন ঘিরে প্রশ্ন বাংলাদেশে

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশটির শাসনভার যায় অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে। সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের পথে। নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসবে নতুন সরকার। তার আগেই একের পর এক নতুন প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে।এমনিতেই ঋণের চাপে রয়েছে বাংলাদেশ। তার মধ্যেই নতুন প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অর্থের বড় অংশই ঋণ নিয়ে জোগাড় করতে হবে বলে জানা যাচ্ছে। সেই কারণেই বিদায়ের মুখে সরকারের আর্থিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি বা ওয়াসার আগেই প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। সেই ঋণ এখনও শোধ হয়নি। তার মধ্যেই নতুন একটি প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত ২৩ ডিসেম্বর ওয়াসার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি গড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। এই প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫৭১ কোটি টাকা দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়া হবে।বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে মোট ৬৪টি প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব প্রকল্পে মোট খরচ হবে ১ লক্ষ ৬ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪০টি সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প, যেগুলিতে খরচ হবে ৭৯ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। এই নতুন প্রকল্পগুলির মধ্যে কিছু প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।হাসিনা সরকারের পতনের পর গত দেড় বছরে ইউনূস সরকার মোট ১৩৫টি নতুন প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৩ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে। তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কম ছিল। শেষ দিকে আবার তিনটি নতুন স্বাস্থ্য প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা খাতেও কিছু বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে কর্মসংস্থান, যা বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা, সেই বিষয়ে তেমন জোর দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ উঠছে।এদিকে প্রকল্প বণ্টন নিয়েও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, চট্টগ্রাম এলাকায় বেশি সংখ্যক প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, অথচ ২১টি জেলায় কোনও প্রকল্পই বরাদ্দ হয়নি। কেন চট্টগ্রামেই বেশি বরাদ্দ, সে বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ প্রথম আলো-কে জানিয়েছেন, ঢাকার জল ও নিকাশি ব্যবস্থা চট্টগ্রামের তুলনায় অনেক উন্নত। রফতানি বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিকাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই ওই এলাকায় বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বিতর্কে কড়া হাইকোর্ট! রাজ্যকে বেঁধে দেওয়া হল সময়

বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘ দিন ধরেই কাঁটাতার বসানো নিয়ে সমস্যা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য সরকার জমি না দেওয়ায় সীমান্তের বড় অংশ এখনও সুরক্ষিত করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে এক প্রাক্তন সেনাকর্মীর করা মামলায় রাজ্যকে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার বসানোর জন্য জমির টাকা আগেই দিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। সেই জমি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে কেন্দ্রের হাতে তুলে দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্য কেন নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে জমি অধিগ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে জমি নেওয়া যায়। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে কেন সেই ধারা প্রয়োগ করা হবে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।বিচারপতি পার্থসারথী সেন বলেন, একটি রাজ্য যদি আন্তর্জাতিক সীমান্তের অংশীদার হয়, তা হলে তারা নিজেরা কেন উদ্যোগ নিচ্ছে না, তা সত্যিই আশ্চর্যের।আদালত জানায়, যে জমির জন্য কেন্দ্র টাকা দিয়েছে এবং অধিগ্রহণও হয়েছে, সেই জমি যত দ্রুত সম্ভব হস্তান্তর করতে হবে। এই ক্ষেত্রে এসআইআর প্রক্রিয়ার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।রাজ্য এখনও জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে ক্যাবিনেটের অনুমোদন পায়নি বলে জানিয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আইন অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ করা যায় কি না, সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত। সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি।শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় জড়িত থাকলে জেলা শাসক সরাসরি আইন অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মামলাকারীর আইনজীবীও জানান, ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ ধারায় সেই সুযোগ রয়েছে।মামলায় ২০১৬ সাল থেকে সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের প্রসঙ্গও তোলা হয়। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একাধিকবার রাজ্যকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত রাজ্য ক্যাবিনেট কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।রাজ্যের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জোর করে জমি অধিগ্রহণ রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে। অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ৪০ ধারা প্রয়োগ করা যায় না বলেই রাজ্যের অবস্থান। রাজ্য আরও জানায়, যেসব জমির টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছে, সেগুলি ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। কিছু জেলায় এক-দু মাস সময় বেশি লাগতে পারে। দক্ষিণ দিনাজপুরে মে মাসে, জলপাইগুড়িতে জুন মাসে এবং মুর্শিদাবাদে জুন মাসে জমি হস্তান্তরের কাজ শেষ হবে বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
বিদেশ

রাজনৈতিক শত্রুকে আশ্বাস! ভোটের আগে বিএনপির মুখে চমকপ্রদ বার্তা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লিগ এবং বিএনপি চিরকালই একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। সেই দুই দলের সম্পর্ক মানেই তীব্র সংঘাত। কিন্তু আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে এবার একেবারে ভিন্ন সুর শোনা গেল বিএনপির মুখে। আওয়ামী লিগের কর্মীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা কোনও অন্যায় করেননি, তাঁদের কোনও শাস্তি দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, নিরীহ আওয়ামী লিগ কর্মীদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। বিএনপি তাঁদের পাশে থাকবে।প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছরে মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। আগের রাতেই ভোট হয়ে যেত বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর সুযোগ এসেছে। তাই সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, হাসিনা ভারতে চলে গিয়েছেন। তিনি সেখানে গিয়ে ভালোই করেছেন। কিন্তু এলাকার কর্মী-সমর্থকদের বিপদের মুখে ফেলে কেন চলে গেলেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, যারা অন্যায় করেছে, তাদের শাস্তি হবে। কিন্তু যারা অন্যায় করেনি, তাদের কোনওভাবেই শাস্তি দেওয়া হবে না।নিজের বক্তব্যে আবেগের সুরে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এই এলাকারই ছেলে, এই এলাকারই ভাই। এর আগেও এই আসন থেকে ভোটে জিতেছেন, আবার হেরেছেনও। কিন্তু কখনও এলাকাবাসীকে ছেড়ে যাননি। বয়স ৭৮ হলেও এখনও নিজেকে তরুণ মনে করেন বলে জানান তিনি। সুযোগ পেলে এলাকার সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চান বলেও জানান বিএনপি প্রার্থী।একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, মুসলমান-হিন্দু সবাইকে একসঙ্গে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমান আলাদা করে থাকে না। সবাই একসঙ্গে বসবাস করে, একে অপরের উৎসবে অংশ নেয়। এই মিলন ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে চায় বিএনপি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসবাইকে সমান নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে। তবে এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লিগ। নির্বাচন কমিশনের তরফে দলটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
বিদেশ

ভয়াবহ! দোকানের ভিতরে ঘুমন্ত হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে হত্যা বাংলাদেশে

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ ফের সামনে এল। নরসিংদীতে এক হিন্দু যুবককে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত যুবকের নাম চঞ্চল ভৌমিক। বয়স ২৩ বছর। শুক্রবার রাতে তিনি একটি গাড়ির ওয়ার্কশপের ভিতরে ঘুমাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় দুষ্কৃতীরা বাইরে থেকে দোকানের শাটার নামিয়ে দেয়। এরপর ভেতরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ জানুয়ারি রাতে নরসিংদীর পুলিশ লাইন্স এলাকার খানাবাড়ি মসজিদ মার্কেট এলাকায়। চঞ্চল কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবা নেই। পরিবারের দায়িত্ব ছিল তাঁর উপরেই। মা, বিশেষভাবে সক্ষম দাদা ও ছোট ভাইকে নিয়ে সংসার চলত। গত ছয় বছর ধরে তিনি ওই ওয়ার্কশপে কাজ করতেন এবং রাতেও সেখানেই থাকতেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুন লাগার পর চঞ্চল ভেতরে আটকে পড়ে চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু বাইরে থেকে শাটার বন্ধ থাকায় তিনি বেরোতে পারেননি। প্রায় ১৫ মিনিট পরে শাটার খোলা হয়। তখন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার সময় দুষ্কৃতীরা বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল।এই ঘটনা পুলিশ লাইন্সের কাছেই হওয়ায় আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ছবি ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তরা হেঁটে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও ওয়ার্কশপের মালিকদের বক্তব্য, চঞ্চল খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিলেন। কারও সঙ্গে তাঁর কোনও শত্রুতা ছিল না। পরিবারের দাবি, পরিকল্পনা করেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং এর পিছনে ধর্মীয় বিদ্বেষ থাকতে পারে।উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর একাধিক হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের শেষের দিকে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাও আলোড়ন ফেলেছিল। এই ঘটনার পর ফের বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
বিদেশ

অবসর নয়, প্রত্যাবর্তনের ডাক! দিল্লি থেকে ইউনুসকে আক্রমণ শেখ হাসিনার

রাজনৈতিক অবসর নিয়ে চলা সব জল্পনায় কার্যত ইতি টেনে ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার বার্তা দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অডিও বার্তায় তিনি বর্তমান উপদেষ্টা সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান। ইউনুসকে সুদখোর, ফ্যাসিস্ট, খুনি ও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে আক্রমণ করার পাশাপাশি গোটা দেশে আন্দোলনের ডাক দেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে তাঁর এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।দিল্লিতে সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ শীর্ষক একটি আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত প্রাক্তন মন্ত্রী, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা। সেখানেই অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় যে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার লড়াই শুরু হয়েছিল, সেই একই চেতনায় আবারও গোটা দেশকে জেগে ওঠার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।বর্তমান প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র কার্যত নির্বাসনে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, মানবাধিকার পদদলিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, দেশে সর্বত্র খুন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও তোলাবাজি চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আবার জেগে উঠতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করতে হবে। তাঁর কথায়, মাতৃভূমির আত্মাকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। আওয়ামি লিগের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে একজোট হতে হবে। আওয়ামি লিগ একটি পুরনো দল এবং দেশকে উদ্ধার করতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।শান্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য একাধিক জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বর্তমান প্রশাসন অপসারণ, অবাধ ও ভয়মুক্ত ভোটের পরিবেশ, অবিলম্বে হিংসা বন্ধ, সংখ্যালঘু ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাংবাদিক ও বিরোধী নেতাদের ভয় দেখানো বন্ধ করা এবং বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা ফেরানোর দাবি। পাশাপাশি গত বছরের ঘটনাবলীর নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে আবেদন জানানোর কথাও বলেন তিনি।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বাংলাদেশ বাদ পড়লে নতুন দল? আইসিসির বৈঠকে বড় ইঙ্গিত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বিশ্বকাপ থেকে কার্যত ছিটকে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের বিকল্প দল খেলার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছে আইসিসি। এই টানাপড়েনের মাঝেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াল পাকিস্তান। শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, তারা চাইলে বাংলাদেশের সব ম্যাচ আয়োজন করতে প্রস্তুত।বুধবারের মধ্যে বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে সময় দিয়েছিল আইসিসি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি বিসিবি। এর মধ্যেই আইসিসির ভারচুয়াল বৈঠক বসে। সেই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপে না খেলে, সে ক্ষেত্রে বিকল্প দল নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন বেশিরভাগ সদস্য। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা নরম হয়েছে আইসিসি। বিসিবিকে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।এই বৈঠকেই বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সূত্রের খবর, পিসিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশের দাবিকে তারা যুক্তিসংগত বলেই মনে করছে। সেই দাবি মানা উচিত। যদি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব না হয়, তাহলে পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করতে। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি পাকিস্তান বোর্ড। আইসিসির বৈঠকে পাকিস্তানের হয়ে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড প্রধান মহসিন নকভি।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এতদিন ডেডলাইনের বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভারতীয় বোর্ডের দিকেও আঙুল তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তেই অনড় বাংলাদেশ। তবে বিসিবি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ না খেললে অন্য দেশকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়া হবে।এই অবস্থায় বড় প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ কি নিজের অবস্থানে অনড় থাকবে? নাকি ক্রিকেটারদের স্বার্থে ও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ বাঁচাতে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল করবে?

জানুয়ারি ২১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

২৪ ঘণ্টায় ইউ-টার্ন! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের

দিন কয়েক ধরেই জল্পনা চলছিল, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান। ক্রিকেট মহলে কানাঘুষো ছিল, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যেমন পাকিস্তান ভারতের মাটিতে খেলতে রাজি হয়নি, ঠিক তেমনই বাংলাদেশও ভারতে খেলতে না চাইলে ভাইজান-এর পাশে দাঁড়াবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনায় জল ঢালল পিসিবি। সূত্রের খবর, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করার কোনও পরিকল্পনাই নেই পাকিস্তানের।পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছিল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাকি পাকিস্তানের কাছে ক্রিকেট ও প্রশাসনিক সহায়তা চেয়েছিল। আগেও পাক বোর্ডপ্রধান মহসিন নকভি বাংলাদেশকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এমনও শোনা যায়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছিল পিসিবি। এমনকি সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ থেকে সরে যেতে পারে এমন বার্তাও নাকি দেওয়া হয়েছিল।এই আবহেই সোমবার আচমকা খবর ছড়ায়, পাকিস্তান নাকি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বন্ধ করে দিয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়ার কথা পাকিস্তানের অভিযান। সেই ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কিন্তু ম্যাচের আগে হঠাৎ করেই অনুশীলন বন্ধ করে দেয় সলমন আলি আঘা নেতৃত্বাধীন দল। পাক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে শীঘ্রই টিম ম্যানেজমেন্টকে জানাবে পিসিবি। এমনকি বিশ্বকাপ না খেললেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে দলকে।তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থান নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। পিসিবির এক প্রতিনিধি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপ বয়কট করার প্রশ্নই নেই। আগেই ঠিক করা হয়েছিল, শ্রীলঙ্কায় গিয়ে সব ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। সেই সিদ্ধান্তেই তারা অনড়। ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থানের কারণে পাক দল ভারতে খেলবে না ঠিকই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা গোটা টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়াবে। পাকিস্তান নির্ধারিত সূচি মেনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে।

জানুয়ারি ২০, ২০২৬
বিদেশ

ভোটের আগে বড় বিপদ? তারেক রহমানের গাড়িতে রহস্যময় কাগজ, আতঙ্ক ঢাকায়

মাস পেরোলেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। তার আগেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল ঢাকায়। গুলশানে তাঁর গাড়িতে সাঁটানো এক রহস্যজনক কাগজকে কেন্দ্র করে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে। ভোটের মুখে তারেক রহমানকে ঘিরে কি কোনও বড়সড় ষড়যন্ত্রের ছক কষা হচ্ছে?বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, গত বুধবার রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ ঢাকার গুলশান এলাকার ৬৫ নম্বর সড়কে ঘটে এই ঘটনা। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তখন তাঁর কনভয়ে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে ছিলেন। ঠিক সেই সময় একটি সাদা রঙের হিরো হাঙ্ক বাইকে আসা এক ব্যক্তি হঠাৎ করেই কনভয়ের ভিতরে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সে তারেক রহমানের গাড়ির গায়ে একটি কাগজ সেঁটে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।সবচেয়ে রহস্যের বিষয়, কাগজটিতে কোনও লেখা ছিল না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই কাগজ কি শুধুই কাগজ, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কোনও বার্তা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা? নাকি ভবিষ্যতের কোনও হামলার আগে তারেক রহমানের গাড়ি চিহ্নিত করার পরিকল্পনা ছিল?গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ঘটনার সময় কনভয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের নিজস্ব নিরাপত্তা দল সিএসএফ উপস্থিত ছিল। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ না জানানো হলেও, পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু ভিডিও ফুটেজ স্পষ্ট না হওয়ায় এখনও পর্যন্ত বাইক আরোহীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কী উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। তারেক রহমানের উপর কোনও প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর ইংল্যান্ডে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ৩০ ডিসেম্বর প্রয়াত হন বিএনপি নেত্রী ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। মায়ের মৃত্যুর পর বিএনপির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব এখন পুরোপুরি তারেক রহমানের হাতেই। ঠিক এমন সময় তাঁর গাড়িকে ঘিরে এই রহস্যজনক ঘটনা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
বিদেশ

বাংলাদেশে কী চলছে? হিন্দু হত্যা ও মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তাল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট

বাংলাদেশে ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার। প্রকাশ্যে হিন্দুদের খুন করা হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঘরবাড়ি ও মন্দিরএই অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হল ব্রিটেনের পার্লামেন্টে। আসন্ন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন ব্রিটেনের সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান।ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ব্ল্যাকম্যান বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্রিটেনের বিদেশ সচিবের কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাস্তায় হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মন্দিরে হামলা চালানো হচ্ছে। শুধু হিন্দুরাই নন, অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও একই ভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তার আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও গভীর উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেন ব্ল্যাকম্যান। তিনি বলেন, জনমত সমীক্ষায় আওয়ামি লিগের প্রায় ৩০ শতাংশ সমর্থন থাকা সত্ত্বেও দলটিকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি, বাংলাদেশের কট্টরপন্থী শক্তিগুলি দেশের সংবিধান বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।বাংলাদেশে নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ব্রিটিশ সাংসদ। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের সরকার কী পদক্ষেপ করবে, সে বিষয়ে বিদেশ সচিবের কাছে স্পষ্ট জবাব চান ব্ল্যাকম্যান। উল্লেখ্য, এর আগেও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন ব্রিটেনের চার জন সাংসদ। তাঁদের বক্তব্য ছিল, একটি বড় রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে তা কখনওই প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচন হতে পারে না।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
বিদেশ

বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর ফের হামলা, সিলেটে পরিচিত শিক্ষকের বাড়িতে আগুন

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা যেন থামছেই না। একের পর এক হত্যার ঘটনার মাঝেই ফের আতঙ্ক ছড়াল সিলেটে। এবার নিশানায় এক পরিচিত হিন্দু শিক্ষক ও তাঁর পরিবার। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বাহোর গ্রামে বীরেন্দ্র কুমার দে নামে এক শিক্ষকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচে গোটা পরিবার। তবে আতঙ্ক এখনও কাটেনি তাঁদের।বীরেন্দ্র কুমার দে এলাকায় ঝানু স্যার নামেই পরিচিত। পেশায় শিক্ষক। অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ভালো ছিল। তাই এমন ঘটনার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। প্রতিবেশীরাও এই ঘটনায় হতবাক। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, শিক্ষকের বাড়িতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জ্বলন্ত বাড়ি থেকে কোনওমতে প্রাণ বাঁচিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। কে বা কারা এই অগ্নিসংযোগ করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবং মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হিংসা বেড়েছে বলে অভিযোগ। গত ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তারপর থেকেই একের পর এক হিন্দু হত্যার খবর সামনে এসেছে।চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ৯ জন হিন্দু নিহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ১২ জানুয়ারি ফেনিতে সমীরকুমার দাস নামে ২৮ বছরের এক যুবককে খুন করা হয়। ১০ জানুয়ারি সিলেটে খুন হন আরেক হিন্দু যুবক। তার আগেও মিঠুন সরকার নামে এক যুবকের মৃত্যু হয় জনতার তাড়া খেয়ে। ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে দুজন হিন্দু খুন হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

নিরাপত্তার অজুহাত খারিজ, বাংলাদেশের ভারতে খেলা নিয়ে বড় বার্তা আইসিসির

মিথ্যেবাদী তকমা পাওয়ার পর ফের বড় ধাক্কার মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে না আসার যে দাবি বিসিবি করেছিল, তা মানতে নারাজ আইসিসি। ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সূত্রে খবর, বাংলাদেশকে আগের সূচি অনুযায়ীই ভারতে খেলতে হবে। অর্থাৎ কলকাতা এবং মুম্বইতেই লিটন দাসদের ম্যাচ আয়োজন করা হবে।জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের অভিযোগ নিয়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত করেছে আইসিসি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে, ভারত সফরে এলে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও বড় ঝুঁকি রয়েছে কি না। সেই মূল্যায়নের রিপোর্টে বলা হয়েছে, কলকাতা ও মুম্বইয়ে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে ঝুঁকির মাত্রা কম থেকে মাঝারি। নিরাপত্তা নিয়ে বড় কোনও সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত অতীতেও একাধিক বিশ্বমানের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তাই বাংলাদেশের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে ভারতীয় প্রশাসনের কোনও অসুবিধা হবে না। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচ সরানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে।এর আগে শোনা যাচ্ছিল, বিসিবির অনুরোধ কিছুটা মেনে কলকাতা ও মুম্বইয়ের বদলে চেন্নাই ও তিরুঅনন্তপুরমে ম্যাচ সরানো হতে পারে। কিন্তু নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইতিবাচক রিপোর্ট পাওয়ার পর সেই সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীণ। ফলে বাংলাদেশকে আগের সূচি মেনেই ভারতে খেলতে হতে পারে বলে মনে করছে ক্রিকেটমহল। যদিও আইসিসির তরফে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।উল্লেখযোগ্য ভাবে, সোমবারই আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে বাংলাদেশ ভুল তথ্য দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন, আইসিসি নাকি জানিয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান দলে থাকলে নিরাপত্তা সমস্যা বাড়বে এবং বাংলাদেশের নির্বাচনের কারণেও ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু আইসিসি সেই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানায়, এমন কোনও মন্তব্য তারা করেনি। ক্রীড়া উপদেষ্টার এই বক্তব্যে আইসিসি যথেষ্ট বিরক্ত বলেই মনে করছেন ক্রিকেট মহলের একাংশ।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
বিদেশ

থামছেই না হিন্দু খুন, ফেনিতে অটোচালক সমীর দাসকে হত্যা করে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা

বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু খুনের ঘটনা সামনে আসছে। দীপু দাসকে নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনার পর থেকেই একাধিক হিন্দু যুবকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল আরও একটি নাম। ফেনি জেলার দাগনভূঞায় খুন হল ২৮ বছরের অটোচালক সমীর কুমার দাস। অভিযোগ, তাঁকে খুন করে দুষ্কৃতীরা তাঁর অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে।মর্মান্তিক এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত সমীর দাস দাগনভূঞা উপজেলার রামানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা কার্তিক কুমার দাস ও মা রিনা রানি দাস। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছেই পরিকল্পিতভাবে সমীর দাসকে হত্যা করা হয়। খুনের পর তাঁর অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা।পরে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় পড়ে থাকা দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। দাগনভূঞা থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কড়া শাস্তি দেওয়া হোক। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতীদের খোঁজে অভিযান শুরু হয়েছে।এর আগে কয়েকদিন আগে জয় মহাপাত্র নামে এক হিন্দু যুবককে বিষ খাইয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে অশান্তির আবহ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতেই প্রথমে হিন্দু যুবক দীপু দাসকে মারধর করে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর একে একে আরও হিন্দু যুবকের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। এই নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মোট আটজন হিন্দু যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল বলে জানা যাচ্ছে।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘জাতীয় অপমান হলে বিশ্বকাপ নয়’, ভারত নিয়ে বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি বাংলাদেশের

ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল বাংলাদেশ। দেশটির সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আজিফ নজরুল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করে বিশ্বকাপে অংশ নেবে না বাংলাদেশ দল। তাঁর কথায়, জাতীয় মর্যাদার বিনিময়ে ক্রিকেট খেলা সম্ভব নয়।সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট মহলে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে আবেদন জানায়, যাতে ভারতের বদলে অন্য কোনও দেশে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করা হয়। যদিও আইসিসি সেই আবেদন খারিজ করে দেয় বলে খবর, কারণ তাদের কাছে কোনও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সতর্কতার তথ্য ছিল না।আজিফ নজরুল জানান, আইসিসি থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেলেও তারা ভারতের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির গুরুত্ব ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রেমী দেশ এবং বিশ্বকাপ খেলতে চায়। কিন্তু ক্রিকেটার, সাংবাদিক, সমর্থক এবং দেশের সম্মান যদি বিপন্ন হয়, তাহলে সেই বিশ্বকাপ খেলার কোনও মানে নেই।বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ক্রিকেটার নয়, প্রচুর সাংবাদিক, সমর্থক ও স্পনসরও ভারতে যাবেন। তাঁদের সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে কি না, তা নিয়েই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি প্রয়োজন, তাই সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতেই তাঁরা এসেছেন।বুলবুল আরও বলেন, আগে একাধিকবার হাইব্রিড বিশ্বকাপ হয়েছে শুধুমাত্র নিরাপত্তার কারণেই। তাই বাংলাদেশের দাবি অযৌক্তিক নয়। আইসিসির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে জানানো হয়েছে, সূচি ও ভেন্যু বদলানো হবে না এবং না খেললে পয়েন্ট কাটা যেতে পারে। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দাবি করেছে, এমন কোনও চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পায়নি।এর মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মোস্তাফিজ বিতর্কের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার ও প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৫ জানুয়ারি জারি করা সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইপিএল সংক্রান্ত কোনও অনুষ্ঠান বা প্রচার দেখানো যাবে না।বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের চারটি লিগ ম্যাচই ভারতের মাটিতে হওয়ার কথা। এই পরিস্থিতিতে আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ক্রিকেট দুনিয়া।

জানুয়ারি ০৭, ২০২৬
বিদেশ

বর্ষবরণের রাতে বিভীষিকা, আগুনে ঝলসে মৃত্যু হিন্দু ব্যবসায়ীর

মাথায় পেট্রোল ঢেলে তাঁকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর শুরু হয় জীবন-মৃত্যুর লড়াই। টানা তিন দিন সেই লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত হার মানলেন খোকন চন্দ্র দাস। তিনি বাংলাদেশের শরিয়তপুর জেলার ডামুড্যা এলাকার বাসিন্দা। বর্ষবরণের রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি।বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় খোকনের। তাঁর এক আত্মীয় প্রান্ত দাস জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁরা শাহবাগ থানায় যাচ্ছেন। ময়নাতদন্তের কাজ শেষ হলে দেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে।হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান বিধান সরকার জানান, খোকনের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। এই সময়ের মধ্যেই খোকন তাঁর উপর হামলা চালানো কয়েক জনের নাম পুলিশকে বলে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।পুলিশি সূত্রে খবর, খোকন দুই অভিযুক্তের নাম বলেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান এবং অন্য জন রাব্বি মোল্লা। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ২৭ ও ২১ বছর। প্রাথমিক তদন্তে পলাশ সরদার নামে আরও এক জনের নাম উঠে এসেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যায়নি।ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে। খোকন চন্দ্র দাস পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। কেউরভাঙা বাজারে তাঁর একটি ওষুধের দোকান এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের ব্যবসা ছিল। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ দোকান বন্ধ করে প্রতিদিনের মতো অটো রিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় ডামুড্যা-শরিয়তপুর সড়কে কেউরভাঙা বাজারের কাছে তাঁকে অটো থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।অভিযুক্তদের চিনে ফেলায় খোকনের মাথায় পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন এবং চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয়রা সেই চিৎকার শুনে ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল তাঁর।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
বিদেশ

শেষ নিঃশ্বাস ঢাকার হাসপাতালে, প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মঙ্গলবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছিল। দিন তিনেক আগেও তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। শেষ পর্যন্ত জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে হার মানলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী।মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তাঁর মৃত্যুর খবর জানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে লেখা হয়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।বড়দিনের দিনই মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। দেশে ফিরে অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনৈতিক কর্মসূচি সেরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। তখনও চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয়েছিল, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল। তবে সেই সময় আশার কথা শোনাতে চেয়েছিলেন তারেক রহমান। শেষ পর্যন্ত সেই আশা আর বাস্তব হল না।বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে ছিলেন ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-সহ দল ও পরিবারের একাধিক সদস্য। নির্বাচনের মুখে এই সময় খালেদা জিয়ার মৃত্যু বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় জমতে শুরু করে।উল্লেখ্য, ২০২১ সালে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তার পর থেকেই তাঁর শরীর ভেঙে পড়তে শুরু করে। একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে তাঁকে। বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাও করাতে হয়েছিল। বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা ও নানা শারীরিক জটিলতা মিলিয়ে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলেন বাংলাদেশের এই প্রবীণ নেত্রী। গত নভেম্বর মাসে ফের অসুস্থ হলে তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

গল টেস্টে ভয়াবহ মুহূর্ত! রাহুলের শটে হেলমেটে বল, হাসপাতালে শ্রীলঙ্কার ওপেনার

ভারত-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই গলে তৈরি হল উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কেএল রাহুলের জোরালো সুইপ শটের বল সরাসরি গিয়ে আঘাত করল শ্রীলঙ্কার ওপেনার নিশান মধুশকার হেলমেটে। শর্ট লেগে ফিল্ডিং করার সময় এই আঘাত পান তিনি। ঘটনার পর দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও। কনকাশন পরীক্ষা করার পর মধুশকাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়।ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দশম ওভারে। প্রভাত জয়াসূর্যের করা ওভারের পঞ্চম বলটি রাহুল সুইপ করেন। বলটি ব্যাটের মাঝখান থেকে প্রচণ্ড গতিতে শর্ট লেগ অঞ্চলের দিকে ছুটে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মধুশকা বিপদ বুঝে দ্রুত মাথা নিচু করার চেষ্টা করলেও বলের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই বলটি তাঁর হেলমেটের মাঝামাঝি অংশে সজোরে আঘাত করে।আঘাতের পর বলটি ফাইন লেগের দিকে চলে যায়। ফলে রান নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভারতের ব্যাটাররা রান সম্পূর্ণ করেন। রাহুল অবশ্য প্রথমে রান নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা যশস্বী জয়সওয়াল ইতিমধ্যেই দৌড় শুরু করে দেওয়ায় রানটি সম্পূর্ণ করতে হয়। রান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধুশকার দিকে ছুটে যান রাহুল। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।এরপর দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও এবং চিকিৎসাকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে মধুশকার কনকাশন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর তাঁকে আর মাঠে রাখা হয়নি। ফিজিওর সঙ্গে মাঠের বাইরে চলে যান তিনি। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর চোটের প্রকৃতি বা গুরুতরতা এবং তিনি পরবর্তীতে এই টেস্টে ব্যাট করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।মধুশকার চোটের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শ্রীলঙ্কা শিবিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাথায় সরাসরি বল লাগার ঘটনায় ক্রিকেটে কনকাশন প্রোটোকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।অন্যদিকে, প্রথম দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট হাতে দারুণ দাপট দেখিয়েছে ভারত। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরুতেই যশস্বী জয়সওয়াল ও কেএল রাহুলের ব্যাটে ভালো সূচনা পায় দল। প্রথম উইকেটে দুজনে ৬৬ বলে ৪৭ রান যোগ করেন।তবে ১১তম ওভারের শেষ বলে ছন্দপতন ঘটে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন জয়সওয়াল। ৩৭ বলে ৩২ রানের ইনিংসে তিনি মারেন পাঁচটি চার।জয়সওয়াল ফিরে যাওয়ার পর ভারতের ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন রাহুল ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। দুজনেই ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। পাড়িক্কল আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করার পাশাপাশি রাহুলও নিজের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। ফলে প্রথম সেশনেই ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।লাঞ্চের সময় ২৭ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১০১ রান। একদিকে ভারতীয় ব্যাটারদের দাপট, অন্যদিকে মধুশকার চোটপ্রথম দিনের প্রথম সেশন তাই দুই দলের জন্য দুই ভিন্ন ছবি তুলে ধরল। এখন সকলের নজর নিশান মধুশকার শারীরিক অবস্থার পরবর্তী আপডেটের দিকে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের ঐতিহ্যে দেশপ্রেমের আবহ, দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের আবহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকারই হোক স্বাধীনতা দিবসের মূল বার্তাএমনই আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, বিবিধের মাঝে মিলন মহানএই আদর্শকে সামনে রেখে দেশভাগ ও পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর উদয়পল্লীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের বাণী, দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পাঠের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডলের পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় অঙ্কন, প্রবন্ধরচনা, কুইজ, নৃত্য ও সঙ্গীত-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। শিক্ষিকা সুনীতা সাহার ব্যবস্থাপনা এবং দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় প্রতিযোগিতাগুলিতে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা। কুইজে প্রথম স্থানাধিকারী দলের সদস্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ভট্টাচার্য জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকায় বিদ্যালয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।এদিন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা স্পন্দন-এর বিশেষ রঙিন সংখ্যা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সায়ন্তিকা কর্মকারের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও সহকারীরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। সবুজ ভলেন্টিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ইকো ক্লাবের উদ্যোগে জাম গাছ রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।শেষপর্বে শিক্ষাকর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের দায়িত্বে এবং তরুণ দাসের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে লুচি, মিষ্টি-সহ নানা খাবার বিতরণ করা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা শুধু একটি দিন নয়, বারবার ফিরে আসে—জয়ের পতাকায়, গৌরবের মুহূর্তে

স্বাধীনতাশব্দটি উচ্চারণ করলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭-এর সেই ঐতিহাসিক সকাল। দীর্ঘ পরাধীনতার অন্ধকার পেরিয়ে ভারতবর্ষ সেদিন পেয়েছিল নিজের আকাশ, নিজের পতাকা, নিজের পরিচয়। কিন্তু স্বাধীনতা কি কেবল একটি তারিখ? কেবল একটি দিনের উদ্যাপন? কেবল লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভেসে আসা ভাষণ, জাতীয় পতাকার উত্তোলন আর জাতীয় সঙ্গীতের গর্বিত সুর?না।স্বাধীনতা আসলে ফিরে ফিরে আসে।কখনও তা আসে একটি ক্রিকেট মাঠে, কখনও অলিম্পিকের ট্র্যাকের ওপর, কখনও হকির সবুজ ঘাসে, কখনও কোনও বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে, কোনও সুরকারের সুরে। কখনও আবার আসে এমন এক ভারতীয়ের চোখের জলে, যে নিজের দেশের পতাকাকে বিশ্বের মঞ্চে উঠতে দেখে বুকের ভিতর অদৃশ্য এক ঢেউ অনুভব করে।১৯৮৩ সাল। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ভারতীয় ক্রিকেটের সামনে তখন দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কপিল দেবের নেতৃত্বে একদল তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলা সেই মুহূর্তটি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের জয় ছিল না। তা ছিল আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ। সেদিন যেন ভারত বুঝেছিলআমরাও পারি। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরাও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প লিখতে পারি। ১৯৪৭-এ যে জাতি রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছিল, ১৯৮৩-তে তার আত্মবিশ্বাস যেন আরও একবার স্বাধীনতার স্বাদ পেল।তারও বহু আগে, ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের হকিতে ভারত প্রথম সোনা জিতেছিল। ধ্যানচাঁদের জাদুকাঠিতে ভারতীয় হকি তখন বিশ্বকে দেখিয়েছিল এক অন্যরকম শিল্প। পরপর বহু অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতীয় হকি দলের সাফল্য দেশের ক্রীড়া-পরিচয়ের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। তেরঙ্গা যখন বিদেশের মাটিতে উঠত, তখন মনে হতোএই তো স্বাধীনতা! বন্দুকের গর্জন নয়, স্টিক আর বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণেও একটি জাতি তার অস্তিত্বের ঘোষণা করতে পারে।তারপর আসে অ্যাথলেটিক্সের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতের অলিম্পিক সাফল্যের ইতিহাসে নীরজ চোপড়ার সোনার পদক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। টোকিও অলিম্পিকের সেই রাতএকজন ভারতীয় যখন জ্যাভলিন ছুড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ঘরে ঘরে যেন আবার স্বাধীনতার পতাকা উড়ল। মাঠে একজন, কিন্তু গর্বে ছিল ১৪০ কোটিরও বেশি হৃদয়।ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের আর এক অমর নাম পি. টি. উষা। আশির দশকে এশিয়ান গেমসের ট্র্যাকে তাঁর দৌড় ভারতীয় মেয়েদের স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছিল। ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার-সহ একাধিক পদক জিতে তিনি প্রমাণ করেছিলেনভারতের মেয়েরাও বিশ্বের দ্রুততম ট্র্যাকের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। তাঁর পায়ের শব্দ শুধু একটি দৌড়ের শব্দ ছিল না; তা ছিল সামাজিক বাধা, সংশয় আর প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে এক তরুণীর স্বাধীনতার ঘোষণা।এরপর এল ক্রিকেটের আর একটি নতুন অধ্যায়। ২০০৭ এ প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দল যখন ট্রফি হাতে তুলল, তখন ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার স্বাদ যেন আরও একবার নতুন করে ধরা দিল। আর ২০১১ সালে ঘরের মাঠে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ধোনির সেই ছক্কাআজও ভারতীয় ক্রীড়া-স্মৃতির অন্যতম আবেগঘন ছবি। একজন অধিনায়ক ট্রফি তুলেছিলেন, কিন্তু আসলে যেন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের স্বপ্নকে তুলে ধরেছিল।স্বাধীনতার এই গল্প শুধু খেলাধুলায় থেমে নেই।ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বজয়ের কথাও তো একইভাবে বলতে হয়। সত্যজিৎ রায়ের Pather Panchali কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছিল। ১৯৯২ এ বিশ্ব চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান ও অনন্য সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সত্যজিৎ রায়কে সম্মানসূচক অনারারি অস্কার প্রদান করে অ্যাকাডেমি। এই পুরস্কার কোনো একটি নির্দিষ্ট ছবির জন্য নয়, বরং তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্র জীবন, শিল্পসত্তা এবং বিশ্বসিনেমায় তাঁর গভীর ও স্থায়ী প্রভাবের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। অসুস্থ সত্যজিতের বিছানায় শুয়ে অস্কার হাতে নিয়ে যে বক্তব্য দেন তা আজও আপামোর চলচিত্রপ্রেমীর কানে বাজে। পরে ২০০৯ সালে এ. আর. রহমান Slumdog Millionaire চলচ্চিত্রের জন্য দুটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সুরের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেন। অস্কারের মঞ্চে তাঁর সুরের প্রতিধ্বনি যখন বিশ্ব শুনেছিল, তখন সেটিও ছিল এক ধরনের স্বাধীনতানিজের মাটির সুরকে পৃথিবীর কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার স্বাধীনতা।বিজ্ঞানেও এমন অসংখ্য মুহূর্ত এসেছে। মহাকাশে ভারতের সাফল্য, চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফল অবতরণ, মঙ্গলযানের অসাধারণ অভিযানপ্রতিটি সাফল্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে থাকে সেই একই অনুভূতি। একসময় যে দেশ নিজের মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতির চিন্তায় সংগ্রাম করছিল, সেই দেশই একদিন মহাকাশের অজানা প্রান্তে নিজের পতাকা পৌঁছে দেয়। এই অগ্রযাত্রাও স্বাধীনতারই আর এক ভাষা।কারণ স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা নয়। স্বাধীনতা মানে নিজের সম্ভাবনাকে চিনতে শেখা।স্বাধীনতা মানেআমি পারব বলার সাহস।স্বাধীনতা মানেব্যর্থতার পরেও আবার উঠে দাঁড়ানো।স্বাধীনতা মানেবিশ্বের চোখে চোখ রেখে নিজের পরিচয় ঘোষণা করা।তাই ১৫ই আগস্ট এলেই আমরা শুধু ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করব কেন? আমরা মনে করব সেই সব দিনকে, যেদিন ভারত নতুন করে জিতেছিল। কোনও খেলোয়াড়ের হাতে যখন পদক উঠেছে, কোনও বিজ্ঞানীর অভিযানে যখন ভারতীয় পতাকা মহাকাশ ছুঁয়েছে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে যখন ভারত বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, কোনও তরুণ-তরুণী যখন অসম্ভবকে সম্ভব করেছেসেই প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীনতা নতুন করে জন্ম নিয়েছে।স্বাধীনতার বয়স আজ ৭৯ বছর। কিন্তু স্বাধীনতা বৃদ্ধ হয়নি। বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে তার বয়স কমে আসে। কোনও শিশুর হাতে ক্রিকেট ব্যাটে, কোনও কিশোরীর দৌড়ের জুতোয়, কোনও তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর তুলিতে, কোনও সুরকারের যন্ত্রেস্বাধীনতা প্রতিদিন নতুন হয়ে ওঠে।১৫ই আগস্ট তাই শুধু অতীতের স্মৃতির দিন নয়। এটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিনও।যে তেরঙ্গা ১৯৪৭ সালে পরাধীনতার আকাশে স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে উঠেছিল, সেই তেরঙ্গাই আজও ওঠেলর্ডসের মাঠে, অলিম্পিকের মঞ্চে, বিশ্বকাপের আসরে, অস্কারের মঞ্চে, মহাকাশযানের অভিযানে, কিংবা কোনও অচেনা ভারতীয়ের ছোট্ট সাফল্যের মুহূর্তে।সেখানেই স্বাধীনতার আসল সৌন্দর্য।স্বাধীনতা একবার অর্জন করা কোনও স্মারক নয়স্বাধীনতা এমন এক অনুভূতি, যা প্রতিটি প্রজন্ম নিজের সাফল্য দিয়ে নতুন করে অর্জন করে।তাই ১৫ই আগস্ট শুধু একটি দিন নয়।স্বাধীনতা বারবার ফিরে আসে।জয়ের পতাকায়, অশ্রুসিক্ত চোখে, করতালির শব্দে, স্বপ্নপূরণের হাসিতেআর কোটি কোটি ভারতীয়ের বুকের ভিতর নিঃশব্দে উচ্চারিত একটি শব্দেভারত।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ক্ষুদিরামের ফাঁসির মঞ্চ থেকে মাতঙ্গিনীর রক্তাক্ত পতাকা, বাঙালির হৃদয়ে অমর এই পাঁচ স্বাধীনতা সংগ্রামী

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বাংলার অবদান অনস্বীকার্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলার মাটি যেমন জন্ম দিয়েছে ক্ষুদিরাম বসুর মতো কিশোর বিপ্লবীকে, তেমনই তাম্রলিপ্তের মাটিতে উঠে এসেছে মাতঙ্গিনী হাজরা, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো সংগ্রামী নেতৃত্ব। তাঁদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সাংগঠনিক দক্ষতা স্বাধীনতার লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসির মঞ্চে উঠে ইতিহাসে অমর হয়ে যান ক্ষুদিরাম বসু। ১৯০৮ সালে মুজফ্ফরপুরে ব্রিটিশ বিচারক ডগলাস কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে প্রফুল্ল চাকীর সঙ্গে বোমা হামলার ঘটনায় তিনি গ্রেফতার হন। ১১ আগস্ট ১৯০৮ তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মৃত্যুর মুখেও তাঁর নির্ভীকতা ও হাসিমুখ বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে।অন্যদিকে, ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে পূর্ব মেদিনীপুরের মাতঙ্গিনী হাজরা হয়ে ওঠেন সাহসের প্রতীক। গান্ধীবুড়ি নামে পরিচিত এই বৃদ্ধা ২৯ সেপ্টেম্বর তমলুক থানার দিকে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়েই তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর আত্মবলিদান বাংলার নারীশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুশীল ধারা-র। ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেন। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের যুদ্ধ ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে বিদ্যুৎ বাহিনী, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।সতীশচন্দ্র সামন্ত ছিলেন তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রথম সর্বাধিনায়ক। ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর গঠিত এই সমান্তরাল সরকার তমলুক ও কাঁথি মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ত্রাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী সংগঠন, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সরকারের কার্যক্রম ছিল উল্লেখযোগ্য।এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের নেতৃত্বে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্বাধীনতার পরও তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেমে থাকেনি। পরবর্তীকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান থেকে মাতঙ্গিনীর পতাকা হাতে মৃত্যুবরণ, আর তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের সংগঠিত প্রতিরোধ, এই সমস্ত অধ্যায় প্রমাণ করে, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু কয়েকজন বিপ্লবীর কাহিনি নয়। এটি ছিল অসংখ্য মানুষের সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানের মাটিতে জন্ম বীর বিপ্লবীর, রাসবিহারী বসুর কর্মকাণ্ডে কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ শাসন

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাসবিহারী বসু এক অনন্য নাম। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সংগঠক এই বিপ্লবীর জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-২ ব্লকের সুবলদহ গ্রামে। ১৮৮৬ সালের ২৫ মে বিনোদবিহারী বসু ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম তাঁর।সুবলদহেই কেটেছে রাসবিহারী বসুর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়। গ্রামের পাঠশালায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার শুরু। ঠাকুরদা কালীচরণ বসুর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনার পাশাপাশি লাঠিখেলা, সাঁতার ও নৌকা চালনার মতো শারীরিক কসরতেও দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে দানা বাঁধে দেশপ্রেম ও ব্রিটিশবিরোধী চেতনা। পরবর্তী সময়ে চন্দননগরে পড়াশোনা করার সময় বিপ্লবী চিন্তাধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয়।কর্মজীবনে দেরাদুনের ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্কের কাজ করলেও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা। বাংলার পাশাপাশি উত্তর ভারত ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি। ১৯১২ সালে দিল্লিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের উপর বোমা হামলার ষড়যন্ত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এরপর ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি জাপানে পালিয়ে যান।জাপানে গিয়েও থেমে থাকেননি রাসবিহারী। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগঠিত করতে তিনি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগ গড়ে তোলেন। ১৯৪২ সালে ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে সেই সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি টোকিওতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সুবলদহের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবীর দেশমুক্তির স্বপ্ন ও সংগ্রাম আজও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
শিক্ষা

সাহিত্য, বিজ্ঞানচিন্তা ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা ‘INSPIRE 2026’

সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে বর্ধমান শহরে সূচনা হল বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক প্রদর্শনী INSPIRE - 2026। নতুনকে জানার কৌতূহল, অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্নসব মিলিয়ে প্রথম দিনেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠল এক টুকরো জীবন্ত বিজ্ঞানভুবন।বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে এবং Oriental Association for Education and Research (OAER)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ১৪ আগস্ট ২০২৬ ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ ই আগস্ট পর্যন্ত।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও OAER এবং বর্ধমান মডেল স্কুলের পরিচালক ও আধিকারিকবৃন্দ। তবে অনুষ্ঠানের প্রকৃত প্রাণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের খুদে ও তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কল্পনা, অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ছড়িয়ে ছিল প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রান্তে। কোথাও বিজ্ঞানের জটিল সূত্র পেয়েছে সহজবোধ্য মডেলের রূপ, কোথাও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলেমিশে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ছবি। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাট্যচর্চার নানা আয়োজন প্রদর্শনীকে দিয়েছে আরও বহুমাত্রিক রূপ।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র INSPIRE - 2026 -এর উদ্দেশ্য এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তিনদিনের এই প্রদর্শনীর নামকরণই যেন তার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করেINSPIRE - 2026। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যায়, আগামী প্রজন্মের প্রতিভা কতটা বিস্ময়কর। শিক্ষকদের সহযোগিতা থাকলেও ভাবনার মূল উৎস যে শিক্ষার্থীরাই, তাঁদের তৈরি মডেল, তাঁদের ব্যাখ্যা এবং দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তার প্রমাণ।শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তাঁর উপলব্ধিআজকের প্রজন্মের কাছ থেকে শেখার মতো এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাঁর কথায়, একসময় ছিল আমাদের প্রজন্ম, তারপর এল কম্পিউটারের যুগ, আর এখন আমরা প্রবেশ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নতুন প্রজন্মকে শেখানো নয়, তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে এই নতুন প্রজন্মই।সাংবাদিকদের রিয়েল জেন জি প্রসঙ্গেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যৎতারা সতেজ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময়। বাংলা তথা ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যেই। তাই তাদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করাই প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের কথা শোনা এবং তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, কী চায়তা জানা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তাঁর পরবর্তী উদ্যোগআড্ডা উইথ জেন জি।মন্ত্রী বর্ধমান মডেল স্কুলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং INSPIRE - 2026 -এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল-এর বক্তব্যেও উঠে আসে সময়ের সঙ্গে পথ চলার অপরিহার্যতার কথা। তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি, সময়ের সঙ্গে তাল না মেলাতে পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের আধুনিকতম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ধমান মডেল স্কুল কখনও পিছিয়ে থাকেনি, ভবিষ্যতেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমী সকলকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার উন্মেষ প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান তিনি।OAER-এর অন্যতম সদস্য সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী সিং ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট আয়োজিত INSPIRE-এ অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া এই আয়োজন কখনও সার্থক হয়ে উঠত না।তবে INSPIRE 2026 কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং এটি যেন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার এক বর্ণময় ক্যানভাস। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাট্য ও আবৃত্তির আয়োজনও রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।নাট্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য জানান, এবারের পরিবেশনায় থাকছে প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক নরক গুলজার। ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বাস্তবতার অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সেই নাটক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসও INSPIRE - 2026 -এর সাংস্কৃতিক পরিসরকে করেছে আরও অর্থবহ।বর্ধমান মডেল স্কুলের নৃত্য বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা প্রখ্যাত ওডিশি নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জানান, এবারের তাঁদের থিম The Rhythm of Togetherness এটি Dance ও Sociology বিভাগের এক অনন্য যৌথ উপস্থাপনা, যেখানে নৃত্য ও সমাজবিজ্ঞানের নিজস্ব ভাবনাগুলি সুন্দরভাবে একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতি, খাদ্য, পোশাক ,সংস্কৃতি ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন হলেও আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়আমরা ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব।বিভিন্ন মডেল ও চার্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।নৃত্যের ছন্দ এবং সমাজবিজ্ঞানের ভাবনাদুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে The Rhythm of Togetherness আমাদের মনে করিয়ে দেয় বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়, ঐক্য আমাদের শক্তি।সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই Inspiring Thoughts, Creating Futureএই মূলমন্ত্র যেন বাস্তব রূপ পেল INSPIRE - 2026-এর প্রাঙ্গণে। এখানে বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়, প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আর সৃজনশীলতা কেবল কল্পনার জগতে বন্দি নয়। বরং তিনটির সম্মিলিত শক্তিতে শিক্ষার্থীরা আঁকছে আগামী দিনের ছবি।নতুন ভাবনার অঙ্কুর, উদ্ভাবনের সাহস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্নকে সামনে রেখে বর্ধমান মডেল স্কুলের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বার্ষিক প্রদর্শনী নয়এ যেন আগামী দিনের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের এক উজ্জ্বল মঞ্চ।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
কলকাতা

নির্মলকে ঘিরে থানা চত্বরে তুমুল উত্তেজনা, ডিম-জুতোর মালা! অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দিতে কী উঠে এল?

ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই থানার বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্মলকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ থানার সামনে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে এবং গান বাজিয়ে নাচতেও দেখা যায়।বারাকপুর মহকুমা আদালতে নির্মল ঘোষকে পেশ করার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিল পুলিশ। সেই কারণে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে থানা থেকে বের করা হয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। থানার বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক জন নির্মলকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। তাঁর দিকে জুতোর মালাও ছোড়া হয়। এমনকি তাঁকে চড় এবং লাথি মারার অভিযোগও উঠেছে।অন্যদিকে, শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ওই রাতের ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখছেন।গত ৯ অগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর পর শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের পরই অভয়ার বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগ দায়েরের মাত্র দুদিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হন নির্মল ঘোষ। পুলিশ সূত্রে খবর, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে মোবাইলের টাওয়ারের অবস্থান খতিয়ে দেখে তাঁর সন্ধান পায় রাজ্য পুলিশ। সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে ওই হোটেলে পৌঁছে নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়।এরপর তাঁকে ওড়িশার আদালতে পেশ করা হয়। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে নির্মল ঘোষকে খড়দহে নিয়ে আসা হয়। শ্মশানঘাটের ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ। শুক্রবার নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভয়ার মা। সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে নির্মল ঘোষের গ্রেফতারের পর অভয়ার বাবা ও মায়ের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। শ্মশানঘাটে সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী ছিল, তদন্তের পরেই তা স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
দেশ

বেরনোর সুযোগও পেলেন না! চামোলির সুড়ঙ্গে আচমকা জলস্রোত, মৃত্যু ৭ শ্রমিকের, আটকে আরও ২

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আচমকা তীব্র জলস্রোত ঢুকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও দুই শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে জোরদার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ চামোলির পিপলকোটির মায়াপুরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শিফট বদলের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবল জলস্রোত ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে জল ও ধ্বংসাবশেষে ভরে যায় সুড়ঙ্গের একটি অংশ।ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ২২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রাতেই বেশ কয়েক জন শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত হয়েছে।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সেনার উদ্ধারকারী দল। সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল বের করতে পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।আহত শ্রমিকদের স্থানীয় গোপেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা গুরুতর, তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।উদ্ধারকারী দল আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভিতরে তল্লাশি চালাচ্ছে। জলস্তর কমিয়ে আটকে থাকা দুই শ্রমিককে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসাই এখন প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই তাঁদের পরিবারের উৎকণ্ঠা বাড়ছে।ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা প্রত্যেক শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনার জন্য সমস্ত রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং ঠিক কী ভাবে এত বিপুল জল সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal