• ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার ০৬ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bangladesh

বিদেশ

ভয়াবহ! দোকানের ভিতরে ঘুমন্ত হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে হত্যা বাংলাদেশে

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ ফের সামনে এল। নরসিংদীতে এক হিন্দু যুবককে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত যুবকের নাম চঞ্চল ভৌমিক। বয়স ২৩ বছর। শুক্রবার রাতে তিনি একটি গাড়ির ওয়ার্কশপের ভিতরে ঘুমাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় দুষ্কৃতীরা বাইরে থেকে দোকানের শাটার নামিয়ে দেয়। এরপর ভেতরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ জানুয়ারি রাতে নরসিংদীর পুলিশ লাইন্স এলাকার খানাবাড়ি মসজিদ মার্কেট এলাকায়। চঞ্চল কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবা নেই। পরিবারের দায়িত্ব ছিল তাঁর উপরেই। মা, বিশেষভাবে সক্ষম দাদা ও ছোট ভাইকে নিয়ে সংসার চলত। গত ছয় বছর ধরে তিনি ওই ওয়ার্কশপে কাজ করতেন এবং রাতেও সেখানেই থাকতেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুন লাগার পর চঞ্চল ভেতরে আটকে পড়ে চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু বাইরে থেকে শাটার বন্ধ থাকায় তিনি বেরোতে পারেননি। প্রায় ১৫ মিনিট পরে শাটার খোলা হয়। তখন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার সময় দুষ্কৃতীরা বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল।এই ঘটনা পুলিশ লাইন্সের কাছেই হওয়ায় আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ছবি ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তরা হেঁটে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও ওয়ার্কশপের মালিকদের বক্তব্য, চঞ্চল খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিলেন। কারও সঙ্গে তাঁর কোনও শত্রুতা ছিল না। পরিবারের দাবি, পরিকল্পনা করেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং এর পিছনে ধর্মীয় বিদ্বেষ থাকতে পারে।উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর একাধিক হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের শেষের দিকে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাও আলোড়ন ফেলেছিল। এই ঘটনার পর ফের বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
বিদেশ

অবসর নয়, প্রত্যাবর্তনের ডাক! দিল্লি থেকে ইউনুসকে আক্রমণ শেখ হাসিনার

রাজনৈতিক অবসর নিয়ে চলা সব জল্পনায় কার্যত ইতি টেনে ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার বার্তা দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অডিও বার্তায় তিনি বর্তমান উপদেষ্টা সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান। ইউনুসকে সুদখোর, ফ্যাসিস্ট, খুনি ও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে আক্রমণ করার পাশাপাশি গোটা দেশে আন্দোলনের ডাক দেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে তাঁর এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।দিল্লিতে সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ শীর্ষক একটি আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত প্রাক্তন মন্ত্রী, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা। সেখানেই অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় যে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার লড়াই শুরু হয়েছিল, সেই একই চেতনায় আবারও গোটা দেশকে জেগে ওঠার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।বর্তমান প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র কার্যত নির্বাসনে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, মানবাধিকার পদদলিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, দেশে সর্বত্র খুন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও তোলাবাজি চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আবার জেগে উঠতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করতে হবে। তাঁর কথায়, মাতৃভূমির আত্মাকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। আওয়ামি লিগের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে একজোট হতে হবে। আওয়ামি লিগ একটি পুরনো দল এবং দেশকে উদ্ধার করতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।শান্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য একাধিক জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বর্তমান প্রশাসন অপসারণ, অবাধ ও ভয়মুক্ত ভোটের পরিবেশ, অবিলম্বে হিংসা বন্ধ, সংখ্যালঘু ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাংবাদিক ও বিরোধী নেতাদের ভয় দেখানো বন্ধ করা এবং বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা ফেরানোর দাবি। পাশাপাশি গত বছরের ঘটনাবলীর নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে আবেদন জানানোর কথাও বলেন তিনি।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বাংলাদেশ বাদ পড়লে নতুন দল? আইসিসির বৈঠকে বড় ইঙ্গিত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বিশ্বকাপ থেকে কার্যত ছিটকে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের বিকল্প দল খেলার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছে আইসিসি। এই টানাপড়েনের মাঝেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াল পাকিস্তান। শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, তারা চাইলে বাংলাদেশের সব ম্যাচ আয়োজন করতে প্রস্তুত।বুধবারের মধ্যে বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে সময় দিয়েছিল আইসিসি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি বিসিবি। এর মধ্যেই আইসিসির ভারচুয়াল বৈঠক বসে। সেই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপে না খেলে, সে ক্ষেত্রে বিকল্প দল নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন বেশিরভাগ সদস্য। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা নরম হয়েছে আইসিসি। বিসিবিকে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।এই বৈঠকেই বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সূত্রের খবর, পিসিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশের দাবিকে তারা যুক্তিসংগত বলেই মনে করছে। সেই দাবি মানা উচিত। যদি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব না হয়, তাহলে পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করতে। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি পাকিস্তান বোর্ড। আইসিসির বৈঠকে পাকিস্তানের হয়ে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড প্রধান মহসিন নকভি।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এতদিন ডেডলাইনের বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভারতীয় বোর্ডের দিকেও আঙুল তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তেই অনড় বাংলাদেশ। তবে বিসিবি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ না খেললে অন্য দেশকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়া হবে।এই অবস্থায় বড় প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ কি নিজের অবস্থানে অনড় থাকবে? নাকি ক্রিকেটারদের স্বার্থে ও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ বাঁচাতে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল করবে?

জানুয়ারি ২১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

২৪ ঘণ্টায় ইউ-টার্ন! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের

দিন কয়েক ধরেই জল্পনা চলছিল, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান। ক্রিকেট মহলে কানাঘুষো ছিল, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যেমন পাকিস্তান ভারতের মাটিতে খেলতে রাজি হয়নি, ঠিক তেমনই বাংলাদেশও ভারতে খেলতে না চাইলে ভাইজান-এর পাশে দাঁড়াবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনায় জল ঢালল পিসিবি। সূত্রের খবর, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করার কোনও পরিকল্পনাই নেই পাকিস্তানের।পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছিল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাকি পাকিস্তানের কাছে ক্রিকেট ও প্রশাসনিক সহায়তা চেয়েছিল। আগেও পাক বোর্ডপ্রধান মহসিন নকভি বাংলাদেশকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এমনও শোনা যায়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছিল পিসিবি। এমনকি সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ থেকে সরে যেতে পারে এমন বার্তাও নাকি দেওয়া হয়েছিল।এই আবহেই সোমবার আচমকা খবর ছড়ায়, পাকিস্তান নাকি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বন্ধ করে দিয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়ার কথা পাকিস্তানের অভিযান। সেই ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কিন্তু ম্যাচের আগে হঠাৎ করেই অনুশীলন বন্ধ করে দেয় সলমন আলি আঘা নেতৃত্বাধীন দল। পাক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে শীঘ্রই টিম ম্যানেজমেন্টকে জানাবে পিসিবি। এমনকি বিশ্বকাপ না খেললেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে দলকে।তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থান নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। পিসিবির এক প্রতিনিধি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপ বয়কট করার প্রশ্নই নেই। আগেই ঠিক করা হয়েছিল, শ্রীলঙ্কায় গিয়ে সব ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। সেই সিদ্ধান্তেই তারা অনড়। ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থানের কারণে পাক দল ভারতে খেলবে না ঠিকই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা গোটা টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়াবে। পাকিস্তান নির্ধারিত সূচি মেনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে।

জানুয়ারি ২০, ২০২৬
বিদেশ

ভোটের আগে বড় বিপদ? তারেক রহমানের গাড়িতে রহস্যময় কাগজ, আতঙ্ক ঢাকায়

মাস পেরোলেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। তার আগেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল ঢাকায়। গুলশানে তাঁর গাড়িতে সাঁটানো এক রহস্যজনক কাগজকে কেন্দ্র করে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে। ভোটের মুখে তারেক রহমানকে ঘিরে কি কোনও বড়সড় ষড়যন্ত্রের ছক কষা হচ্ছে?বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, গত বুধবার রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ ঢাকার গুলশান এলাকার ৬৫ নম্বর সড়কে ঘটে এই ঘটনা। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তখন তাঁর কনভয়ে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে ছিলেন। ঠিক সেই সময় একটি সাদা রঙের হিরো হাঙ্ক বাইকে আসা এক ব্যক্তি হঠাৎ করেই কনভয়ের ভিতরে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সে তারেক রহমানের গাড়ির গায়ে একটি কাগজ সেঁটে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।সবচেয়ে রহস্যের বিষয়, কাগজটিতে কোনও লেখা ছিল না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই কাগজ কি শুধুই কাগজ, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কোনও বার্তা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা? নাকি ভবিষ্যতের কোনও হামলার আগে তারেক রহমানের গাড়ি চিহ্নিত করার পরিকল্পনা ছিল?গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ঘটনার সময় কনভয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের নিজস্ব নিরাপত্তা দল সিএসএফ উপস্থিত ছিল। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ না জানানো হলেও, পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু ভিডিও ফুটেজ স্পষ্ট না হওয়ায় এখনও পর্যন্ত বাইক আরোহীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কী উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। তারেক রহমানের উপর কোনও প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর ইংল্যান্ডে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ৩০ ডিসেম্বর প্রয়াত হন বিএনপি নেত্রী ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। মায়ের মৃত্যুর পর বিএনপির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব এখন পুরোপুরি তারেক রহমানের হাতেই। ঠিক এমন সময় তাঁর গাড়িকে ঘিরে এই রহস্যজনক ঘটনা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
বিদেশ

বাংলাদেশে কী চলছে? হিন্দু হত্যা ও মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তাল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট

বাংলাদেশে ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার। প্রকাশ্যে হিন্দুদের খুন করা হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঘরবাড়ি ও মন্দিরএই অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হল ব্রিটেনের পার্লামেন্টে। আসন্ন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন ব্রিটেনের সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান।ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ব্ল্যাকম্যান বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্রিটেনের বিদেশ সচিবের কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাস্তায় হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মন্দিরে হামলা চালানো হচ্ছে। শুধু হিন্দুরাই নন, অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও একই ভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তার আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও গভীর উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেন ব্ল্যাকম্যান। তিনি বলেন, জনমত সমীক্ষায় আওয়ামি লিগের প্রায় ৩০ শতাংশ সমর্থন থাকা সত্ত্বেও দলটিকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি, বাংলাদেশের কট্টরপন্থী শক্তিগুলি দেশের সংবিধান বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।বাংলাদেশে নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ব্রিটিশ সাংসদ। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের সরকার কী পদক্ষেপ করবে, সে বিষয়ে বিদেশ সচিবের কাছে স্পষ্ট জবাব চান ব্ল্যাকম্যান। উল্লেখ্য, এর আগেও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন ব্রিটেনের চার জন সাংসদ। তাঁদের বক্তব্য ছিল, একটি বড় রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে তা কখনওই প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচন হতে পারে না।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
বিদেশ

বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর ফের হামলা, সিলেটে পরিচিত শিক্ষকের বাড়িতে আগুন

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা যেন থামছেই না। একের পর এক হত্যার ঘটনার মাঝেই ফের আতঙ্ক ছড়াল সিলেটে। এবার নিশানায় এক পরিচিত হিন্দু শিক্ষক ও তাঁর পরিবার। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বাহোর গ্রামে বীরেন্দ্র কুমার দে নামে এক শিক্ষকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচে গোটা পরিবার। তবে আতঙ্ক এখনও কাটেনি তাঁদের।বীরেন্দ্র কুমার দে এলাকায় ঝানু স্যার নামেই পরিচিত। পেশায় শিক্ষক। অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ভালো ছিল। তাই এমন ঘটনার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। প্রতিবেশীরাও এই ঘটনায় হতবাক। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, শিক্ষকের বাড়িতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জ্বলন্ত বাড়ি থেকে কোনওমতে প্রাণ বাঁচিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। কে বা কারা এই অগ্নিসংযোগ করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবং মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হিংসা বেড়েছে বলে অভিযোগ। গত ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তারপর থেকেই একের পর এক হিন্দু হত্যার খবর সামনে এসেছে।চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ৯ জন হিন্দু নিহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ১২ জানুয়ারি ফেনিতে সমীরকুমার দাস নামে ২৮ বছরের এক যুবককে খুন করা হয়। ১০ জানুয়ারি সিলেটে খুন হন আরেক হিন্দু যুবক। তার আগেও মিঠুন সরকার নামে এক যুবকের মৃত্যু হয় জনতার তাড়া খেয়ে। ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে দুজন হিন্দু খুন হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

নিরাপত্তার অজুহাত খারিজ, বাংলাদেশের ভারতে খেলা নিয়ে বড় বার্তা আইসিসির

মিথ্যেবাদী তকমা পাওয়ার পর ফের বড় ধাক্কার মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে না আসার যে দাবি বিসিবি করেছিল, তা মানতে নারাজ আইসিসি। ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সূত্রে খবর, বাংলাদেশকে আগের সূচি অনুযায়ীই ভারতে খেলতে হবে। অর্থাৎ কলকাতা এবং মুম্বইতেই লিটন দাসদের ম্যাচ আয়োজন করা হবে।জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের অভিযোগ নিয়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত করেছে আইসিসি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে, ভারত সফরে এলে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও বড় ঝুঁকি রয়েছে কি না। সেই মূল্যায়নের রিপোর্টে বলা হয়েছে, কলকাতা ও মুম্বইয়ে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে ঝুঁকির মাত্রা কম থেকে মাঝারি। নিরাপত্তা নিয়ে বড় কোনও সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত অতীতেও একাধিক বিশ্বমানের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তাই বাংলাদেশের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে ভারতীয় প্রশাসনের কোনও অসুবিধা হবে না। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচ সরানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে।এর আগে শোনা যাচ্ছিল, বিসিবির অনুরোধ কিছুটা মেনে কলকাতা ও মুম্বইয়ের বদলে চেন্নাই ও তিরুঅনন্তপুরমে ম্যাচ সরানো হতে পারে। কিন্তু নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইতিবাচক রিপোর্ট পাওয়ার পর সেই সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীণ। ফলে বাংলাদেশকে আগের সূচি মেনেই ভারতে খেলতে হতে পারে বলে মনে করছে ক্রিকেটমহল। যদিও আইসিসির তরফে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।উল্লেখযোগ্য ভাবে, সোমবারই আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে বাংলাদেশ ভুল তথ্য দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন, আইসিসি নাকি জানিয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান দলে থাকলে নিরাপত্তা সমস্যা বাড়বে এবং বাংলাদেশের নির্বাচনের কারণেও ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু আইসিসি সেই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানায়, এমন কোনও মন্তব্য তারা করেনি। ক্রীড়া উপদেষ্টার এই বক্তব্যে আইসিসি যথেষ্ট বিরক্ত বলেই মনে করছেন ক্রিকেট মহলের একাংশ।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
বিদেশ

থামছেই না হিন্দু খুন, ফেনিতে অটোচালক সমীর দাসকে হত্যা করে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা

বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু খুনের ঘটনা সামনে আসছে। দীপু দাসকে নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনার পর থেকেই একাধিক হিন্দু যুবকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল আরও একটি নাম। ফেনি জেলার দাগনভূঞায় খুন হল ২৮ বছরের অটোচালক সমীর কুমার দাস। অভিযোগ, তাঁকে খুন করে দুষ্কৃতীরা তাঁর অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে।মর্মান্তিক এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত সমীর দাস দাগনভূঞা উপজেলার রামানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা কার্তিক কুমার দাস ও মা রিনা রানি দাস। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছেই পরিকল্পিতভাবে সমীর দাসকে হত্যা করা হয়। খুনের পর তাঁর অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা।পরে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় পড়ে থাকা দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। দাগনভূঞা থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কড়া শাস্তি দেওয়া হোক। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতীদের খোঁজে অভিযান শুরু হয়েছে।এর আগে কয়েকদিন আগে জয় মহাপাত্র নামে এক হিন্দু যুবককে বিষ খাইয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে অশান্তির আবহ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতেই প্রথমে হিন্দু যুবক দীপু দাসকে মারধর করে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর একে একে আরও হিন্দু যুবকের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। এই নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মোট আটজন হিন্দু যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল বলে জানা যাচ্ছে।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘জাতীয় অপমান হলে বিশ্বকাপ নয়’, ভারত নিয়ে বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি বাংলাদেশের

ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল বাংলাদেশ। দেশটির সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আজিফ নজরুল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করে বিশ্বকাপে অংশ নেবে না বাংলাদেশ দল। তাঁর কথায়, জাতীয় মর্যাদার বিনিময়ে ক্রিকেট খেলা সম্ভব নয়।সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট মহলে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে আবেদন জানায়, যাতে ভারতের বদলে অন্য কোনও দেশে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করা হয়। যদিও আইসিসি সেই আবেদন খারিজ করে দেয় বলে খবর, কারণ তাদের কাছে কোনও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সতর্কতার তথ্য ছিল না।আজিফ নজরুল জানান, আইসিসি থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেলেও তারা ভারতের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির গুরুত্ব ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রেমী দেশ এবং বিশ্বকাপ খেলতে চায়। কিন্তু ক্রিকেটার, সাংবাদিক, সমর্থক এবং দেশের সম্মান যদি বিপন্ন হয়, তাহলে সেই বিশ্বকাপ খেলার কোনও মানে নেই।বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ক্রিকেটার নয়, প্রচুর সাংবাদিক, সমর্থক ও স্পনসরও ভারতে যাবেন। তাঁদের সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে কি না, তা নিয়েই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি প্রয়োজন, তাই সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতেই তাঁরা এসেছেন।বুলবুল আরও বলেন, আগে একাধিকবার হাইব্রিড বিশ্বকাপ হয়েছে শুধুমাত্র নিরাপত্তার কারণেই। তাই বাংলাদেশের দাবি অযৌক্তিক নয়। আইসিসির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে জানানো হয়েছে, সূচি ও ভেন্যু বদলানো হবে না এবং না খেললে পয়েন্ট কাটা যেতে পারে। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দাবি করেছে, এমন কোনও চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পায়নি।এর মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মোস্তাফিজ বিতর্কের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার ও প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৫ জানুয়ারি জারি করা সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইপিএল সংক্রান্ত কোনও অনুষ্ঠান বা প্রচার দেখানো যাবে না।বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের চারটি লিগ ম্যাচই ভারতের মাটিতে হওয়ার কথা। এই পরিস্থিতিতে আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ক্রিকেট দুনিয়া।

জানুয়ারি ০৭, ২০২৬
বিদেশ

বর্ষবরণের রাতে বিভীষিকা, আগুনে ঝলসে মৃত্যু হিন্দু ব্যবসায়ীর

মাথায় পেট্রোল ঢেলে তাঁকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর শুরু হয় জীবন-মৃত্যুর লড়াই। টানা তিন দিন সেই লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত হার মানলেন খোকন চন্দ্র দাস। তিনি বাংলাদেশের শরিয়তপুর জেলার ডামুড্যা এলাকার বাসিন্দা। বর্ষবরণের রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি।বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় খোকনের। তাঁর এক আত্মীয় প্রান্ত দাস জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁরা শাহবাগ থানায় যাচ্ছেন। ময়নাতদন্তের কাজ শেষ হলে দেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে।হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান বিধান সরকার জানান, খোকনের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। এই সময়ের মধ্যেই খোকন তাঁর উপর হামলা চালানো কয়েক জনের নাম পুলিশকে বলে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।পুলিশি সূত্রে খবর, খোকন দুই অভিযুক্তের নাম বলেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান এবং অন্য জন রাব্বি মোল্লা। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ২৭ ও ২১ বছর। প্রাথমিক তদন্তে পলাশ সরদার নামে আরও এক জনের নাম উঠে এসেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যায়নি।ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে। খোকন চন্দ্র দাস পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। কেউরভাঙা বাজারে তাঁর একটি ওষুধের দোকান এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের ব্যবসা ছিল। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ দোকান বন্ধ করে প্রতিদিনের মতো অটো রিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় ডামুড্যা-শরিয়তপুর সড়কে কেউরভাঙা বাজারের কাছে তাঁকে অটো থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।অভিযুক্তদের চিনে ফেলায় খোকনের মাথায় পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন এবং চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয়রা সেই চিৎকার শুনে ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল তাঁর।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
বিদেশ

শেষ নিঃশ্বাস ঢাকার হাসপাতালে, প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মঙ্গলবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছিল। দিন তিনেক আগেও তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। শেষ পর্যন্ত জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে হার মানলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী।মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তাঁর মৃত্যুর খবর জানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে লেখা হয়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।বড়দিনের দিনই মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। দেশে ফিরে অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনৈতিক কর্মসূচি সেরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। তখনও চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয়েছিল, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল। তবে সেই সময় আশার কথা শোনাতে চেয়েছিলেন তারেক রহমান। শেষ পর্যন্ত সেই আশা আর বাস্তব হল না।বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে ছিলেন ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-সহ দল ও পরিবারের একাধিক সদস্য। নির্বাচনের মুখে এই সময় খালেদা জিয়ার মৃত্যু বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় জমতে শুরু করে।উল্লেখ্য, ২০২১ সালে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তার পর থেকেই তাঁর শরীর ভেঙে পড়তে শুরু করে। একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে তাঁকে। বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাও করাতে হয়েছিল। বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা ও নানা শারীরিক জটিলতা মিলিয়ে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলেন বাংলাদেশের এই প্রবীণ নেত্রী। গত নভেম্বর মাসে ফের অসুস্থ হলে তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
বিদেশ

প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান

দীর্ঘ রোগভোগের পর অবশেষে জীবনযুদ্ধে হার মানলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বিগত কয়েক দিন ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সঙ্কটজনক।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় ধরা পড়ে ফুসফুসে সংক্রমণ ও নিউমোনিয়া। বয়সজনিত জটিলতার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। কিডনির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাওয়ায় নিয়মিত ডায়ালিসিস চলছিল। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় শেষপর্যন্ত তাঁকে সিসিইউ-তে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।সোমবারই খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল বোর্ড জানিয়েছিল, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। একাধিক রোগে আক্রান্ত শরীরে একটি চিকিৎসা শুরু করলে অন্য সমস্যার অবনতি হচ্ছিলফলে চিকিৎসকেরা কার্যত কঠিন সমীকরণের মুখে পড়েছিলেন। সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান মাকে দেখতে হাসপাতালে যান। এর আগে তিনি বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে মায়ের আরোগ্যকামনায় প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছিলেন।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসাবেই প্রথমে পরিচিত হলেও, স্বামীর মৃত্যুর পর নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টির হাল ধরে ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে আরও এক দফা, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।নারীশিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর সরকারের কিছু উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও, শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগও উঠে আসে। ২০১৮ সালে একটি দুর্নীতি মামলায় তাঁর ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়। সেই সময় থেকেই একের পর এক শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হলেও, শেষপর্যায়ে ফের বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে বাস্তবায়িত করা যায়নি।একদিকে শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা, অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া, এই দুই নেত্রীর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে দীর্ঘদিন আবর্তিত হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতি। খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সেই অধ্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের অবসান ঘটল।দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্টজনেরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
বিদেশ

জামাতের সঙ্গে হাত মেলাতেই ভাঙনের শুরু, এনসিপিতে একের পর এক পদত্যাগ

রবিবার প্রকাশ্যেই জামাতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটের ঘোষণা করেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। কিন্তু সেই ঘোষণার পরদিনই দলটির অন্দরে শুরু হয়ে গেল প্রবল অশান্তি। জামাতের সঙ্গে জোট মানতে না পেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি, জামাতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে প্রায় ৩০ জন নেতা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।রবিবার জামাতের আমির শফিকুর রহমান জানান, গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল এনসিপি এবং কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি জামাতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে। পরে এনসিপির তরফ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এই ঘোষণার পরেই দলের ভিতরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে এবং একের পর এক নেতা পদত্যাগ করেন।যদিও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, এই পদত্যাগে এনসিপির উপর বড় কোনও প্রভাব পড়বে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে নাহিদ ইসলাম বলেন, জামাতের সঙ্গে জোট নিয়ে দল অনড় অবস্থানেই রয়েছে। তাঁর দাবি, দলের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা এই জোটকে সমর্থন করছেন।এদিকে পদত্যাগ করা নেতাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমঝোতা দলের আদর্শ ও নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই কারণেই তারা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথমে পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মির আরশাদুল হক। এরপর ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনুভা জাবিন, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং ফেনি-৩ আসনের প্রার্থী আবুল কাশেম দল ছাড়েন। যদিও তাসনিম জারা জানিয়েছেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।এনসিপির প্রাক্তন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবিন ফেসবুকে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে জানিয়েছেন, জামাতের সঙ্গে জোট কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ধাপে ধাপে সাজানো একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।এর মধ্যেই নতুন দল গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মাহফুজ আলম। ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এনসিপি-জামাত জোটের সঙ্গে তিনি থাকবেন না। পাশাপাশি বিকল্প রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।প্রসঙ্গত, কয়েক মাস ধরেই নাহিদ ইসলাম দাবি করে আসছিলেন যে এনসিপি এককভাবে নির্বাচন লড়বে। সেই অনুযায়ী প্রথমে ১২৫টি আসনে প্রার্থীও ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গঠনের কথা জানানো হয় এবং জামাতের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এনসিপি জামাতের কাছে ৫০টি আসন দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত ৩০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি জামাত। এই পরিস্থিতিতে দলের বহু ছাত্রনেতার মধ্যেই ক্ষোভ তৈরি হয়। জোট ঘোষণার পর সেই ক্ষোভই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫
বিদেশ

ফের ভারতকে নিশানা! শাহবাগ থেকে ২৪ দিনের আল্টিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের

আবার ভারতকে লক্ষ্য করে কড়া সুরে সরব হল বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চ। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ওসমান হাদির স্বপ্ন পূরণ করতেই তারা এই পথে নেমেছে বলে দাবি সংগঠনের। রবিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ঢাকার শাহবাগ মোড়ে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি থেকে একাধিক দাবি ঘোষণা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাব। সেই সঙ্গে এই দাবিগুলি পূরণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ২৪ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান দাবি, হাদির হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রত্যেককে অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আবদুল্লাহ আল জাবের বক্তব্য, যারা হাদিকে খুন করেছে, যারা এই হত্যার পরিকল্পনা করেছে কিংবা যারা সহায়তা করেছে, তাদের সকলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।এই দাবির পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে ভারতবিরোধী অবস্থান। ঢাকার বুকে নিহত ওসমান হাদি তাঁর বক্তব্যে যেভাবে বারবার ভারতবিরোধিতা তুলে ধরতেন, ঠিক সেই সুরই শোনা গিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের দাবির মধ্যেও। সংগঠনের দাবি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে দেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি বাতিল করতে হবে।তৃতীয় দাবিতে আরও একধাপ এগিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দাবি জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লিগের যেসব নেতা-কর্মী বর্তমানে নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের যদি ফেরত না দেওয়া হয়, তা হলে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হবে।চতুর্থ দাবিতে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে থাকা হাসিনা-পন্থীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে সংগঠনটি। এই চার দফা দাবি পূরণের জন্য ইউনূস সরকারকে মোট ২৪ দিনের সময় দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।উল্লেখ্য, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে গত শুক্রবার দুপুর থেকেই শাহবাগ মোড়ে টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ইনকিলাব মঞ্চ। শনিবার রাতে আবদুল্লাহ আল জাব এই আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ডাক দেন। সেই আহ্বানের জেরে সোমবার দুপুর দুটো থেকে শাহবাগের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫
বিদেশ

হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড়, সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয়ে আশ্রয় অভিযুক্তদের

হাদি হত্যাকাণ্ডে বড় তথ্য সামনে আনল ঢাকা মহানগর পুলিশ। রবিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠকে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এন এন মহম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, এই মামলার মূল দুই অভিযুক্ত ফয়জ়ল করিম ওরফে দাউদ এবং আলমগীর শেখ বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে তারা মেঘালয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে।ঢাকা পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পালানোর পুরো ঘটনায় আরও দুই জন সহযোগিতা করেছিল। তাদের নাম পুত্তি এবং সামী। এই দুজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতে ঢোকার পর পুত্তি প্রথমে ফয়জ়ল ও আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর সামী নামে আর এক সহযোগীর ট্যাক্সিতে ওঠে তারা। সেই ট্যাক্সিতেই তারা মেঘালয়ের তুরা পৌঁছয়।প্রশ্ন উঠছে, হাদি হত্যার পর সারা বাংলাদেশে হাই অ্যালার্ট জারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পুলিশের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে গেল অভিযুক্তরা। এই প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম জানান, একাধিক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে যে হত্যার পরেই ফয়জ়ল ও আলমগীর প্রথমে আমিনবাজারে যায়। সেখান থেকে তারা মানিকগঞ্জের কালামপুরে পৌঁছয়। সেখানে আগে থেকেই একটি ট্যাক্সি তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। সেই গাড়িতেই তারা হালুয়াঘাট সীমান্তের দিকে রওনা দেয়।পুলিশের দাবি, সীমান্তের কাছে ফয়জ়ল ও আলমগীরের সঙ্গে পরিচয় হয় ফিলিপ ও সঞ্জয়ের। তারাই দুই অভিযুক্তকে ভারতে অনুপ্রবেশ করতে সাহায্য করে। এরপর তারা মেঘালয়ের দিকে চলে যায়।এই হত্যাকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা পুলিশ। তাদের মধ্যে ছজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মূল দুই অভিযুক্ত এখন ঠিক কোথায় রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।এদিকে, ভারতের মাটিতে হাদি হত্যার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ঢাকা পুলিশ। মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে বলে দাবি। যদিও ফয়জ়ল ও আলমগীর এখনও পলাতক। পুলিশের অনুমান, মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের কোথাও তারা লুকিয়ে রয়েছে।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫
বিদেশ

ঢাকার কেরানিগঞ্জে মাদ্রাসা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নারী-শিশুসহ চারজন আহত

ঢাকার কেরানিগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকায় উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনে শুক্রবার দুপুরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে নারী ও শিশু-সহ চারজন আহত হন। মুহূর্তের মধ্যে ভবনের কয়েকটি কক্ষের দেয়াল উড়ে যায়। দুই কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং ছাদ ও বিমে ফাটল দেখা দেয়। পাশের ভবনের দেয়াল ও জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মাদ্রাসায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় কোনও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না, ফলে প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো গেছে।বিস্ফোরণে মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন (৩২), তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং দুই ছেলে উমায়েত (১০) ও আবদুল্লা (৭) আহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, বিস্ফোরণে তাদের ভবনের কিছু অংশ ফেটে গেছে এবং ঘরের আসবাবপত্রও ভেঙে পড়েছে। এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি গাড়ি গ্যারেজে রাখার সময় ইটের আঘাতে অজ্ঞান হয়ে যান।ভবনের মালিক পারভীন বেগম জানিয়েছেন, তিন বছর ধরে মাদ্রাসাটি ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করতেন মুফতি হারুন। তিনি মাঝে মাঝে মাদ্রাসায় আসতেন, কিন্তু ভবনের আড়ালে কী ঘটছিল, তা বুঝতে পারেননি। পুলিশ ভবনের ভেতর থেকে ককটেল, দাহ্য পদার্থ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।দক্ষিণ কেরানিগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম জানিয়েছেন, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ক্রাইম সিন ইউনিট ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট তদন্ত চালাচ্ছে।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫
বিদেশ

রকস্টার জেমসের শোয়ে তাণ্ডব, স্কুলের অনুষ্ঠানে আচমকা হামলায় আহত বহু

শুধু ভারতীয় শিল্পী নয়, এ বার বাংলাদেশি শিল্পীরাও হামলার মুখে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় রকস্টার জেমসের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার ফরিদপুর জেলার এক স্কুলের ১৮৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন জেমস ও তাঁর ব্যান্ড। সেই অনুষ্ঠান চলাকালীনই আচমকা হামলা চালায় একদল লোক।আয়োজকদের দাবি, কয়েকজন বহিরাগত জোর করে স্কুল চত্বরে ঢুকে অনুষ্ঠান দেখার চেষ্টা করছিল। বাধা দেওয়া হলে তারা ইট ও পাথর ছুড়তে শুরু করে। এর পর হামলাকারীরা মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে জেমসের স্টেজ দখল করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।ইট-পাথরের হামলার মধ্যে কোনও রকমে রক্ষা পান জেমস। তবে ঘটনায় অন্তত ১৫ জন পড়ুয়া আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহতরা সবাই অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিল। হামলার পর পড়ুয়াদের বিক্ষোভ শুরু হলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসনের তরফে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া হয়। যদিও গায়ক জেমস আহত হননি বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ছায়ানট ও উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার জেমসের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫
দেশ

দীপু দাস খুনের পর অমৃত মণ্ডল, বাংলাদেশের জটিল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে ভারত

ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পদ্মাপারের দেশে। এই পরিস্থিতিতে আবারও আক্রান্ত হচ্ছেন সংখ্যালঘুরা। একের পর এক হিন্দু যুবককে খুনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। ইউনূস প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।২০২৪ সালের অগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। পরে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। সেই সময়েও হিন্দু-সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। তখনই ভারত বাংলাদেশ সরকারকে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে সতর্ক করেছিল।এবার ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ফের নতুন করে হিংসা ছড়িয়েছে। ময়মনসিংহে দীপু দাস নামে এক হিন্দু যুবককে মারধরের পর জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ভারতে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজবাড়ি জেলায় অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট নামে আরও এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, ওই যুবক তোলাবাজি ও সন্ত্রাস চালাত। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সেই ক্ষোভ থেকেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়।বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর চলতে থাকা হিংসা নিয়েই বৃহস্পতিবার সরব হয় নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, হিন্দু যুবক দীপু দাসের হত্যার তীব্র নিন্দা করছে ভারত। তিনি জানান, বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ-সহ সংখ্যালঘুদের উপর একের পর এক হিংসার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই সমস্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে বলে ভারত আশা করছে।বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আরও জানান, বাংলাদেশের পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে ভারত। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে এখনও পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের উপর প্রায় ২ হাজার ৯০০টির বেশি হিংসার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচন যেন অবাধ ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছে ভারত।

ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫
রাজ্য

বাংলাদেশে হিন্দু খুনের প্রতিবাদে কড়া সিদ্ধান্ত, হোটেলে ‘নো এন্ট্রি’ বাংলাদেশিদের

বাংলাদেশে অশান্ত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। দেশজুড়ে নৈরাজ্যের আবহে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর একের পর এক হামলার অভিযোগ উঠছে। দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার পর এবার অমৃত মণ্ডল নামে আরও এক হিন্দু যুবককে খুন করা হয়েছে বলে খবর। প্রতিবেশী দেশের এই ঘটনায় আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত সরকার। এবার সেই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হল সাধারণ মানুষও।বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে কড়া সিদ্ধান্ত নিলেন মালদহ ও শিলিগুড়ির হোটেল ব্যবসায়ীরা। তাঁদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নো এন্ট্রি বোর্ড ঝুলবে হোটেলগুলিতে। দেশের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হোটেল মালিকেরা।হোটেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে ঘর দেওয়া হবে না। তবে মানবিকতার কারণে যাঁরা মেডিক্যাল ভিসায় চিকিৎসার জন্য ভারতে আসছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছিল। এবার সেই ছাড়ও তুলে নেওয়া হল। মেডিক্যাল ভিসা বা স্টুডেন্ট ভিসায় আসা বাংলাদেশিদেরও আর হোটেলে জায়গা দেওয়া হবে না।হোটেল মালিক সংগঠনগুলির দাবি, বাংলাদেশে যেভাবে সংখ্যালঘুদের উপর নির্মম অত্যাচার চলছে এবং কিছু মহল থেকে শিলিগুড়ি করিডর ও সেভেন সিস্টার্স নিয়ে হুমকির মতো মন্তব্য করা হচ্ছে, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সেই কারণেই আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। শিলিগুড়ির একাধিক হোটেলে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এই বিষয়ে হোটেল মালিক সংগঠনের এক প্রতিনিধি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেখানে যা ঘটছে এবং যে ধরনের মন্তব্য সামনে আসছে, তার প্রতিবাদ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত। সংগঠনের অধীনে থাকা ১৮২টি হোটেল ছাড়াও আরও ৩০ থেকে ৪০টি হোটেল একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।উল্লেখ্য, গত বছরও বাংলাদেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে এবং হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর কলকাতা ও শিলিগুড়ি-সহ একাধিক জায়গায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে ঘর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এবার ফের সেই একই পথে হাঁটলেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।

ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্থায়ীকরণ ও ‘সমকাজে সমবেতন’-এর দাবিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দ্বারস্থ SACTWA, ইতিবাচক আশ্বাসে বাড়ল প্রত্যাশা

উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে কর্মরত রাজ্য-সহায়তা প্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক কল্যাণ সমিতি (State Aided College Teachers Welfare Association - SACTWA)-এর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ হরেকৃষ্ণ বেরা-র সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র ঘোষ-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে SACT শিক্ষকদের কর্মজীবনের বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বৈঠকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে সমকাজে সমবেতন নীতি কার্যকর করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত SACT শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোরালো দাবি তোলা হয়। সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের দায়িত্ব পালন করলেও SACT শিক্ষকদের বেতন ও পরিষেবা সংক্রান্ত একাধিক বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেই কারণেই তাঁদের ন্যায্য অধিকার দ্রুত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়।এছাড়াও প্রতিনিধি দল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র নির্বাচনী সংকল্প পত্রে SACT শিক্ষকদের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানায়। সংগঠনের দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব রূপ দেওয়া উচিত।সংগঠনের দাবি ও বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর প্রতিমন্ত্রী ডাঃ হরেকৃষ্ণ বেরা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দেন যে, আগামী দিনে বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যদিও নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, তবুও মন্ত্রীর এই আশ্বাসে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।এই প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল দাস, জেলা সভাপতি নন্দন মান্না, মনোজ কুমার মাইতি, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সভাপতি অমিতাভ পাহাড়ি, পীযূষ দাস মহাপাত্র, সুব্রত ভট্টাচার্য-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, SACT শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ! মুখ্যমন্ত্রীর ফোনের পরই সিট গঠন, একের পর এক গ্রেপ্তার

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার ভোরে দেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল বারুইপুর জেলা পুলিশ। দ্রুত তদন্তের স্বার্থে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।রবিবার দুপুরে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে ভবানীভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের পরই তদন্তে আরও গতি আসে। সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের এগারো বছরের এক নাবালিকা। রবিবার ভোরে বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। কুলপি রোডে নাবালিকার দেহ রেখে পথ অবরোধ করা হয়। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলে। এর জেরে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পাশাপাশি শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন চলাচলও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ, অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালানো হয় এবং একাধিক পুলিশ গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়।এই ঘটনার জেরে বারুইপুর থানায় মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। একটি মামলা নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে। এছাড়া সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশকে আক্রমণ, অবরোধ, ভাঙচুর এবং এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেন্সিক রিপোর্ট, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
স্বাস্থ্য

বর্ষায় ত্বক ও চুলের যত্নে প্রসাধনী বাছাইয়ে সতর্কতা, কী রাখবেন বিউটি কিটে?

এ বছর বর্ষার আগমন কিছুটা দেরিতে হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। তবে এখন বর্ষা সক্রিয় হওয়ায় একদিকে যেমন মিলেছে স্বস্তি, অন্যদিকে বেড়েছে বাতাসের আর্দ্রতা। এই পরিবর্তিত আবহাওয়ায় ত্বক ও চুলের ওপরও পড়ছে বিশেষ প্রভাব। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলো এবং আর্দ্রতার কারণে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বর্ষাকালে সঠিক প্রসাধনী নির্বাচন এবং নিয়মিত ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়া শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, সুস্থ থাকার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বর্ষা মানেই একদিকে স্বস্তির বৃষ্টি, অন্যদিকে ত্বক ও চুলের নানাবিধ সমস্যা। অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ঘাম, ধুলো এবং বৃষ্টির জল মিলিয়ে এই সময়ে ত্বক হয়ে উঠতে পারে তৈলাক্ত, আবার অনেকের ক্ষেত্রে দেখা দেয় ব্রণ, র্যাশ বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের আশঙ্কা। তাই বর্ষাকালে প্রসাধনী ব্যবহারে প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে ভারী বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত প্রসাধনীর বদলে হালকা, নন-কমেডোজেনিক (যা সহজে রোমছিদ্র বন্ধ করে না) এবং জলভিত্তিক পণ্য ব্যবহার করাই ভালো। এতে ত্বক সতেজ থাকে এবং ব্রণের ঝুঁকিও কমে।বর্ষার বিউটি কিটে কী কী রাখবেন?১. মৃদু ফেসওয়াশ:দিনে অন্তত দুবার মুখ পরিষ্কার করলে ত্বকে জমে থাকা ঘাম, ধুলো ও অতিরিক্ত তেল দূর হয়। তবে অতিরিক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করাও ঠিক নয়, এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে।২. হালকা ময়েশ্চারাইজার:অনেকেই মনে করেন বর্ষায় ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখতে হালকা জেল বা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।৩. সানস্ক্রিন:মেঘলা আকাশ থাকলেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে উপযুক্ত এসপিএফ-যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।৪. ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ:বর্ষায় সাধারণ মেকআপ সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ওয়াটারপ্রুফ কাজল, মাসকারা, আইলাইনার ও লং-লাস্টিং ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ঠিক থাকে।৫. হালকা লিপ বাম:বৃষ্টির সময়েও ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করলে ঠোঁট নরম ও সুরক্ষিত থাকে।চুলের যত্নেও নজর দিনবর্ষায় চুলে আর্দ্রতার প্রভাব বেশি পড়ে। ফলে খুশকি, চুল পড়া বা স্ক্যাল্পে সংক্রমণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা কন্ডিশনার ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। ভেজা চুল দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখা বা অপরিষ্কার রাখা উচিত নয়।প্রসাধনী ব্যবহারে যেসব ভুল এড়াবেন* মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না।* অন্যের মেকআপ বা প্রসাধনী ভাগ করে ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।* ভেজা হাতে প্রসাধনীর পাত্রে বারবার হাত দেবেন না।* ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া হলে সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রসাধনী ব্যবহার বন্ধ করুন।* সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণপ্রসাধনী ব্যবহার যতই হোক, পর্যাপ্ত জল পান, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুমই ত্বক ও চুল ভালো রাখার অন্যতম চাবিকাঠি। বর্ষায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনী নির্বাচন করলেই এই মৌসুমেও সৌন্দর্য থাকবে অটুট।মনে রাখবেন: বাজারে নতুন কোনও প্রসাধনী কেনার আগে তার উপাদান, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নিন। প্রয়োজন হলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তবেই নতুন পণ্য ব্যবহার করুন।

জুলাই ০৫, ২০২৬
রাজ্য

১৪ বছর পরও মেলেনি বিচার! বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় নতুন তদন্তের দাবিতে বড় পদক্ষেপ পরিবারের

আরও একটি পাঁচ জুলাই। প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে হত্যার চৌদ্দ বছর পূর্ণ হলেও এখনও প্রকৃত বিচার মেলেনি বলে অভিযোগ তুলছে তাঁর পরিবার। দীর্ঘদিনের তদন্তেও মূল ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা যায়নি বলে দাবি তাঁদের। তাই নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, ঘটনার সম্পূর্ণ সত্য সামনে আসুক এবং প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাক।দুই হাজার বারো সালের পাঁচ জুলাই স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গোবরডাঙা স্টেশনের বাইরে গুলিতে নিহত হন উত্তর চব্বিশ পরগনার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। তিনি কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়ের বাংলা ভাষার শিক্ষক ছিলেন। সুটিয়া গণধর্ষণ মামলায় তিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই হত্যাকাণ্ড গোটা রাজ্যকে নাড়া দিয়েছিল।ঘটনার এত বছর পরেও মামলার পূর্ণ নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে পরিবার ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তে এখনও পর্যন্ত প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসেনি। রাজনৈতিক মহলেও এই মামলাকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। তবে সেই সব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবার এবং সুটিয়ার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, মামলাটি আবার তদন্ত করে সমস্ত সত্য প্রকাশ্যে আনতে হবে। একই সঙ্গে হত্যার নেপথ্যে যারা ছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।বরুণ বিশ্বাসের মৃত্যুবার্ষিকীতে এদিন সুটিয়ার বিভিন্ন জায়গায় তাঁর স্মরণে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এলাকাজুড়ে তাঁর স্মৃতিতে ব্যানার ও শ্রদ্ধার্ঘ্য দেওয়া হয়। প্রতিবাদ মিছিল, শোকসভা এবং তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন স্থানীয় মানুষ। উপস্থিত বক্তারা একটাই দাবি তোলেন, এত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চের সদস্য প্রমানন্দ কবিরাজ বলেন, দীর্ঘদিন কেটে গেলেও প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হয়নি। তাই নতুন করে তদন্ত করে সমস্ত সত্য সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মঞ্চের সভাপতি ননীগোপাল পোদ্দারের বক্তব্য, নতুন সরকার বিভিন্ন পুরনো ঘটনার তদন্তের উদ্যোগ নিচ্ছে। তাই বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলাতেও নতুন তদন্ত শুরু হবে বলে তাঁদের আশা।বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমিলা রায় বিশ্বাস জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন করে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি তাঁর।অন্যদিকে বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন, প্রতিবাদী মঞ্চের উদ্যোগে বসানো আবক্ষ মূর্তিটি বরুণ বিশ্বাসের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি নয়। এই বিষয় নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জুলাই ০৫, ২০২৬
দেশ

দানবাক্সের চুরি বন্ধ হতেই অবিশ্বাস্য বদল! প্রতিদিন কোটি টাকার বেশী বাড়ছে রাম মন্দিরের

pরাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে নিয়মিত চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর বদলে গিয়েছে ছবিটা। তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে দানবাক্সের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা বন্ধ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর তার পরেই মন্দিরের দৈনিক নগদ আয়ে চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি হয়েছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ষোলো থেকে আঠারো লক্ষ টাকা সরকারি হিসাবে জমা পড়ত, এখন সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে চব্বিশ থেকে ছাব্বিশ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় আট লক্ষ টাকা বেশি জমা পড়ছে।সূত্রের দাবি, বিশেষ উৎসব বা বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিনে অনুদানের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। তবে সাধারণ দিনগুলিতেও এতদিন যে পরিমাণ অর্থ জমা পড়ত, এখন তার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। মন্দিরের অনুদান গ্রহণের কাউন্টারগুলিতেও আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ষাট হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা জমা পড়ত, এখন সেই অঙ্কও বেড়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্স থেকে নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল বলেই সরকারি হিসাবে কম টাকা জমা পড়ছিল।শুধু নগদ অর্থ নয়, দানে পাওয়া সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়েও তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এখনও পর্যন্ত চুরি যাওয়া সোনার কোনও খোঁজ মেলেনি। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই সোনা গলিয়ে সোনার বিস্কুটে পরিণত করা হয়ে থাকতে পারে, যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায় এবং লুকিয়ে রাখা যায়।বিশেষ তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই মন্দিরে গিয়ে পরিদর্শন করেছে। মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দানে পাওয়া গয়না, মূল্যবান সামগ্রী, সংরক্ষণের নথি এবং সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি সরকারি টাঁকশালের সঙ্গে মন্দির কর্তৃপক্ষের লেনদেনের নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাঙ্ক এবং সরকারি টাঁকশালে পাঠানো সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর পূর্ণাঙ্গ হিসাবও চাওয়া হয়েছে।তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দানে পাওয়া সমস্ত সোনা ও মূল্যবান ধাতু নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংরক্ষণ বা জমা করা হয়নি। এর একটি অংশ নগদ অর্থের সঙ্গে আত্মসাৎ করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও তদন্তাধীন।তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ভক্তদের দানের মাধ্যমে প্রাপ্ত আয়ের হিসাব প্রতি তিন মাস অন্তর পর্যালোচনা করত শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। তবে সেই বৈঠকগুলিতে সোনা, রুপো এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর পরিমাণ ও সংরক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হত না বলেই তদন্তে উঠে এসেছে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
কলকাতা

অবশেষে পুলিশের জালে কুখ্যাত মিনি ফিরোজ! মাথায় ৩৭টি মামলা, ভোরে নাটকীয় গ্রেপ্তার

দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে গ্রেপ্তার হল গুলশন কলোনির কুখ্যাত দুষ্কৃতী মিনি ফিরোজ ওরফে মহম্মদ ফিরোজ খান। তাঁর সঙ্গে ধরা পড়েছে ঘনিষ্ঠ সহযোগী মহম্মদ সাজিদও। রবিবার ভোরে ডানকুনি টোল প্লাজার কাছ থেকে গুন্ডাদমন শাখার বিশেষ অভিযানে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের তপসিয়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদ ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে মোট সাঁইত্রিশটি মামলা রয়েছে। গুলিচালনা, বেআইনি অস্ত্র রাখা, ভয় দেখানো, দুষ্কৃতী কার্যকলাপ এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মামলা দায়ের হয়েছে। বহুবার পুলিশের নজরে এলেও তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে গিয়েছিলেন।গত প্রায় এক দশক ধরে মধ্য কলকাতার গুলশন কলোনিতে মিনি ফিরোজের দাপট ছিল বলে অভিযোগ। গত বছর গুলিচালনার একটি ঘটনায় তাঁর নাম সামনে আসে। সেই সময় অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয় এবং পরে দিল্লি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও পরে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পরও তাঁর দাপট কমেনি বলেই অভিযোগ।তদন্তে উঠে এসেছে, মিনি ফিরোজ একা নয়, নিজের একটি দল নিয়েই এলাকায় সক্রিয় ছিল। সেই দলে মহম্মদ সাজিদ, মুস্তাফা-সহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। কসবার প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের সঙ্গেও তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। এতদিন সবাই গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও পুলিশের নজরদারি থেকে শেষ পর্যন্ত রেহাই মেলেনি।রাজ্যে সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে চলা বিশেষ অভিযানের মধ্যেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ডানকুনি টোল প্লাজার কাছে অভিযান চালায় গুন্ডাদমন শাখা। সেখান থেকেই মিনি ফিরোজ এবং সাজিদকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে তপসিয়া থানায় একাধিক মামলা থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া মেনে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, এই গ্রেপ্তারের পর আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
উৎসব

রথযাত্রায় ঐতিহ্যের পাশে রাজ্য, ১০০-১৫০ বছরের প্রাচীন রথ কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান; জেলাজুড়ে বিশেষ প্রস্তুতির নির্দেশ নবান্নের

রথযাত্রা উপলক্ষে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রথ উৎসবগুলিকে আরও সুষ্ঠু ও জাঁকজমকপূর্ণ করে তুলতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ১০০ থেকে ১৫০ বছর বা তারও বেশি পুরনো ঐতিহ্যশালী রথযাত্রা কমিটিগুলিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই জেলার প্রশাসনের মাধ্যমে এই ধরনের ঐতিহাসিক রথযাত্রা কমিটিগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী ১৩ জুলাই এই অনুদানের চেক সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদিত প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে রাজ্যের বিভিন্ন রথযাত্রা কমিটির প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে পারেন বলেও নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, রাজ্যজুড়ে রথযাত্রা এবং উল্টোরথকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলাশাসক (ডিএম)-দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, রথযাত্রা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতি বছর রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত ও পর্যটক এই উৎসবে অংশ নেন। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।এই উদ্দেশ্যে প্রতিটি জেলায় রথযাত্রার রুট এবং প্রধান জনসমাগমস্থলে সেবা শিবির (ফ্যাসিলিটেশন ক্যাম্প) গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের শিবির উল্টোরথের দিনও চালু রাখতে হবে। প্রতিটি জেলার জন্য এই শিবির পরিচালনার উদ্দেশ্যে ১ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি সেবা শিবিরে বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস প্যাকেট, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা, তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র, প্রবীণ নাগরিক, মহিলা, শিশু এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ভক্তবান্ধব পরিষেবাও চালু করা যাবে।এছাড়াও, কোনও জেলার প্রশাসনের মতে যদি কোনও রথযাত্রা কমিটি তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বিপুল জনসমাগম বা উৎসবের ব্যাপ্তির কারণে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার যোগ্য হয়, তবে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কাছে সুপারিশ পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।রথযাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে উৎসবের আগেই জেলা প্রশাসনকে পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর, দমকল, পূর্ত দপ্তর, পুরসভা, পঞ্চায়েত, পরিবহণ দপ্তর, রথযাত্রা কমিটি, জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকগুলিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে।নবান্ন আরও জানিয়েছে, রথযাত্রার রুট ও সেবা শিবিরে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রচার নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনেই করতে হবে। পাশাপাশি, ভক্তদের সুবিধার জন্য শিবিরে কী কী পরিষেবা পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কেও প্রচারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।উৎসব শেষ হওয়ার পরে প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে গৃহীত পদক্ষেপ, বরাদ্দ অর্থের ব্যবহার, কর্মসূচির আলোকচিত্র এবং সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন দ্রুত তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে জমা দিতে হবে। প্রশাসনের মতে, পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাগুলিকে সংরক্ষণ, উৎসাহ প্রদান এবং ভক্তদের আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে প্রাচীন রথযাত্রা হিসেবে সর্বাধিক স্বীকৃত হল মাহেশ রথযাত্রা।মাহেশ রথযাত্রা (হুগলি),স্থান: মাহেশ,জেলা: হুগলী,শ্রীরামপুর মহকুমা,শুরু: আনুমানিক ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ,প্রতিষ্ঠাতা: ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী (Dhrubananda Brahmachari)-এর মাধ্যমে জগন্নাথদেবের পূজার প্রচলন হয়েছে বলে ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করা হয়।বয়স: প্রায় ৬৩০ বছরেরও বেশি (২০২৬ সালের হিসেবে)।বিশেষত্ব: এটি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, India-র অন্যতম প্রাচীন এবং Puri-র বাইরে সবচেয়ে বিখ্যাত জগন্নাথ রথযাত্রাগুলির একটি।ইতিহাসমাহেশের জগন্নাথ মন্দিরে বহু শতাব্দী ধরে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমান বিশাল কাঠের রথটি ১৯শ শতকে নতুনভাবে নির্মিত হলেও রথযাত্রার ঐতিহ্য কয়েক শতাব্দী পুরোনো। প্রতি বছর লক্ষাধিক ভক্ত এই উৎসবে অংশ নেন।উল্লেখযোগ্য প্রাচীন রথযাত্রামহেশ রথযাত্রা, শ্রীরামপুর (হুগলী জেলা)(Mahesh Rath Yatra) প্রায় ৬৩০+ বছরের ঐতিহ্য।গুপ্তিপাড়া রথযাত্রা (হুগলী জেলা) Guptipara Rath Yatra প্রায় ২৭০৩০০ বছরের ঐতিহ্য; ভাণ্ডার লুঠ উৎসবের জন্য বিখ্যাত।ময়না রথযাত্রা, চিরঞ্জীবপুর (পূর্ব মেদিনীপুর) Moyna Rath Yatra কয়েক শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য।মহিষাদল রথযাত্রা, (পূর্ব মেদিনীপুর) Mahishadal Rath Yatra রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক রথযাত্রা।পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক ঐতিহাসিক রথযাত্রা হিসেবে হুগলির মাহেশ রথযাত্রা-ই স্বীকৃত। এর ইতিহাস প্রায় ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু হয়েছে বলে ঐতিহ্যগতভাবে ধরা হয়, ফলে এটি ৬০০ বছরেরও বেশি পুরোনো।

জুলাই ০৫, ২০২৬
রাজ্য

পলাতক সুমিতকে খুঁজতে এবার বড় পদক্ষেপ! রাতভর জেরায় উঠে এল কোন নতুন সূত্র?

জমি কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় এখনও অধরা। তাঁকে খুঁজে বের করতে তদন্তে গতি বাড়িয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে সুমিতের সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্র ধরে দেবরাজ চক্রবর্তীকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বেঙ্গল বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তকারীদের আশা, এই জেরার সূত্র ধরেই পলাতক সুমিতের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রাতে দেবরাজ চক্রবর্তীকে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, দেবরাজের সঙ্গে সুমিত রায়ের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সেই কারণেই দেবরাজের কাছ থেকে সুমিতের বর্তমান অবস্থান এবং তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।তদন্তে জানা গিয়েছে, জমি কেলেঙ্কারি মামলায় গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় প্রথম সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ। তাঁকে খুঁজতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় পুলিশ। পাশাপাশি সুমিতের শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি করা হলেও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।অন্যদিকে, সম্প্রতি তোলাবাজি, হুমকি এবং প্রতারণার অভিযোগে দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল বিশেষ তদন্তকারী দল। বর্তমানে তিনি তদন্তকারীদের হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাত সাড়ে দশটা থেকে বাগুইআটি থানায় তাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।তদন্তকারীদের সন্দেহ, দেবরাজের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সুমিত রায়ের কোনও যোগ ছিল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তোলাবাজির মাধ্যমে আদায় হওয়া টাকা সুমিতের কাছে পৌঁছত কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। পুলিশ মনে করছে, দেবরাজের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে এই মামলার আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। সেই কারণেই আগামী দিনেও তাঁকে ফের জেরা করা হতে পারে।

জুলাই ০৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal