• ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

নিবন্ধ

নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(১ম পর্ব)

বাইরে তুমুল ঝড় বৃষ্টি, ঝড়ের তোড়ে ঘরের জানলা দরজার হুরদুর শব্দ শোনা যাচ্ছে। মাঝরাতে এমন ঘটনায় ঘুমটা ভেঙে গেলো সায়নীর। সায়নী উঠে বসলো, আর বিরক্তির স্বরে বললো, উফ এই স্নেহা এতো দায়িত্ব জ্ঞানহীন না, কতবার বললাম ঘুমানোর আগে ঘরের জানলা দরজা আগে বন্ধ করে যা, না রোজ সবদিকে আমায় খেয়াল রাখতে হবে। সেই সন্ধ্যে থেকে সায়নী ঘুমাচ্ছে, শরীরটা ভালোনা খুব একটা। হটাৎ সে দেখতে পেলো কেও যেন দৌড়ে বেরিয়ে গেলো ওর পাস দিয়ে, সায়নী ভয় পেলো, কি দেখছে সে সেই সন্ধ্যে থেকে। কে আছে এই বাড়িতে ওর আশেপাশে?সায়নী সাহস করে স্নেহার ঘরের দিকে এগোলো, সামনের ডাইনিংটায় সেরকম কিছুই চোখে পড়লোনা। একটু ধাতস্ত হয়ে সে ভাবলো হয়তো অতিরিক্ত কাজের চাপে ওর এই অবস্থা। সে এবার স্নেহার ঘরের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো, স্নেহাকে নিচু স্বরেই ডাকলো, এই স্নেহা, ঘুমিয়ে গেছিস? কোনো উত্তর এলোনা, হটাৎ স্নেহার পাশে একটা ছেলেকে দেখলো সায়নী, এই আকস্মিকতায় সে যেন আঁতকে উঠলো, কে এই ছেলেটা আর এই ঘরে এলোইনা বা কখন? কোই তখন তো দেখেনি কাওকে? সায়নী কাঁপা স্বরে জিজ্ঞেস করলো, কে আপনি? এখানে কি চাই? ছেলেটা কোনো জবাব দিলোনা।সায়নী আবারও জিজ্ঞেস করলো, কে আপনি? উত্তর দিন বলছি, নাহলে কিন্তু পুলিশ ডাকবো। ছেলেটা এখনো কোনো উত্তর দিচ্ছেনা দেখে সায়নী আস্তে আস্তে ছেলেটার দিকে এগোতে থাকলো। অন্ধকারে বিশেষত চেহারাটা বোঝা যাচ্ছেনা। ছেলেটার সামনে এসে সায়নী টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে দিলো আর সঙ্গে সঙ্গে যে মুখটা সায়নী দেখলো সেটা দেখে সায়নীর পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেলো, মাথাটা যেন বনবন করে ঘুরছে, সে কি দেখছে এটা? কার মুখ?সায়নী তারস্বরে চিৎকার করে উঠলো, তুমি এখানে কিভাবে? কি চাই তোমার? চলে যাও বলছি, চলে যাও।ছেলেটা হাসছে, এবার সে উঠে সায়নীর দিকে এগোতে লাগলো আর সায়নী পিছনে, একসময় সায়নীর পিঠ দেয়ালে থেকে গেলো সায়নী দেখলো ছেলেটা আরো এগিয়ে আসছে, একসময় এগিয়ে এসে সায়নীকে জড়িয়ে ধরলো, সায়নী আবারও চিৎকার করে বলে উঠলো, ঈশান ছাড়ো আমায়, দূরে যাও আমার থেকে এই বলে সজোরে একটা থাপ্পড় মেরে বসলো, তারপরেই সে দেখলো থাপ্পরটা আসলে সে স্নেহাকে মেরেছে, স্নেহা বেচারী থাপ্পড় খেয়ে খানিকটা হতবম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তারপর বলে, কি হয়েছে কি? এরকম পাগলের মত করছিস কেন? ভুত দেখেছিস নাকি? আজব তো? আর এতো জোরে থাপ্পড় কে মারে। সায়নী, সরি সরি, আমি বুঝতে পারিনি ঠিক কি হলো।স্নেহা, আমি বেশ বুঝতে পারছি। সায়নী, কি বুঝতে পারছিস? স্নেহা, যে তোর মাথাটা একদমই গেছে কাজ করে করে। আর এই ঈশান আবার কে? এর নামতো শুনিনি কোনোদিনও। সায়নী নামটা শুনে একটু যেন অস্বস্তিতে পরে যায় তারপর আবার বলে, না না কেও না, তুই ঠিকই বলেছিস আমারই মাথাটা গেছে হয়তো। সরি রে, তুই ঘুমা। স্নেহা, তুইও ঘুমা আমার পাশে আজকে, তোকে দেখে সুস্থ লাগছেনা, আজ একা থাকতে হবেনা আমার সাথেই থাক। সায়নীর স্নেহার কথাটাই ঠিক লাগে, আজকে ওর সাথে যা হচ্ছে সেটা স্বাভাবিক ওর লাগছেনা তাই কথা না বাড়িয়ে স্নেহার পাশেই শুয়ে পরে।সকালে ঘুম ভাঙতে বেশ দেরি হলো সায়নীর, যখন চোখ খুললো তখন দেখলো স্নেহা অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরী।সায়নী, তুই ডাকিসনি আমায়? স্নেহা, ডাকিনি মানে কি? তুই তো কুম্ভকর্ণ হয়ে ঘুমাচ্ছিস, এতবার দেখলাম, অ্যালার্ম বাজলো এতবার কিন্তু মহারানির তো ঘুম ভাঙার কোনো সম্ভবনাই দেখলাম না তাই বাধ্য হয়ে নিজেই রেডি হয়ে গেলাম। তোর ব্রেকফাস্ট রেডি আছে, খেয়ে অফিস আয় আমি বেরোলাম। এই বলে স্নেহা বেরিয়ে গেলো। সায়নী বিছানা ছেড়ে তৈরী হওয়ার জন্য বাথরুমে গেলো, কালকের রাতের স্মৃতি আবছা হয়ে এসেছে। প্রতিদিনের মতোই আজও সে অফিসে এলো, একটু দেরি হয়েছে বটে তবে বেশি না। এসেই নিজের ডেস্কে বসে কাজ শুরু করলো।সারাদিনে সেভাবে আর কিছুই মনে হয়নি। দুপুরে লাঞ্চের পর আবারও সেই পুরোনো কথা মনে পড়তে শুরু করলো, নাহ ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত, ঈশান এখন আছে কোথায়? কেমন আছে সে? এইসব ভাবনা যখন জট পাকাছে ঠিক তখনই সামনে এসে বসলো রাহুল। রাহুল সিংহ, এই অফিসেই সিনিয়র পসিশনে আছে আর সায়নীর পুরোনো ক্লাসমেট।রাহুল, কি হলো এতো চুপচাপ? কি ভাবছিস? সায়নী কোনো রাখঢাক না করেই বললো, আচ্ছা ঈশান কথায় রে? রাহুল একটু যেন অবাক হলো তারপর বললো, জানিস না ও কোথায়? সবাই তো জানে, তুইই জানিস না? সায়নী একটু কম্পিত কণ্ঠে বললো, কি জানি না জেতা সবাই জানে? রাহুল, ছাড় যখন জানিস না তখন না জানাই বেটার। আমি উঠলাম আমার একটু কাজ আছে রে। আচ্ছা আমার টিফিনটা তোকে দিয়ে গেলাম শেষ করে দিস প্লিজ নাহলে আবার সৃজা খুব রাগ করে। সায়নী বুঝতে পারলো রাহুল ইচ্ছা করেই কথাটা ঘুরিয়ে দিলো, আর সায়নী খুব ভালো করেই জানে রাহুল কিছু বলতে না চাইলে তাকে দিয়ে বোলানো খুব মুশকিল।কিন্তু রাহুলই একমাত্র ওর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে তাই যেভাবেই হোক এর মুখ খোলাতেই হবে, সেটা আজ নাহোক কাল।রাহুল, কি রে আবার কি ভাবতে বসলি? আমি কিন্তু বেরোলাম। সায়নী, আচ্ছা বেশ, শেষ করে দেবো। যাচ্ছিস কোথায়? রাহুল, এখন বলা যাবেনা, বাই। রাহুল বেরিয়ে গেলো, সায়নীও খাওয়ার শেষ করে নিজের কাজে মন দিলো। আজ প্রায় একমাস হলো রাহুল এই কোম্পানিতে এসেছে, প্রথম যেদিন রাহুলকে দেখেছিলো সেদিন ভয়ই লেগেছিলো একটু কিন্তু রাহুলের ব্যবহার ওকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল। ছেলেটা কলেজও এরকমই ছিল, ইউনিয়ন লিডার বলে কথা, সবার সাথে ভাব আর বন্ধুদের জন্য ওর প্রাণ হাজির। রাহুল নিজেই ডেকে কথা বলেছিলো, বরং সায়নী ওকে জিজ্ঞেস করেছিল, তুই কথা বলবি আমার সাথে? রাহুল হেসে বলেছিলো, ছাড় না যা হওয়ার হয়ে গেছে ওটাতো আর ফেরানো সম্ভব নয়। তারপর থেকে লাঞ্চের সময় ওর সাথে বারবার দেখা হতো, রাহুলের একটা বদঅভ্যাস হলো ও নিজের বাড়ির রান্না কোনোদিনও খায়না, ওর স্ত্রী সৃজা হলো সায়নীরই বন্ধু, এখন অবশ্য আর যোগাযোগ নেই বিশেষ। রাহুল প্রতিদিন নিজের লাঞ্চ সায়নীকে দিয়ে বাইরে খেতে চলে যায়, আজকেও একই কাজ করলো। সায়নী মনে মনে একটু হাসলো এই ভেবে যে আজ যদি সৃজার সাথে সম্পর্ক সেইরকম থাকতো ওই নির্ঘাত রাহুলের নামে অভিযোগ জানাতো, তবে সৃজার হাতের খাওয়ার খেতে সায়নীর ভালোই লাগে, সৃজার রান্না এমনি যে এতে শরীর ভালো থাকে।শীত আসতে আর বেশি দেরি নেই, সন্ধ্যেটাও ঝুপ করে নেমে যায় সাথে শীতল একটা হাওয়া। সায়নী অফিস থেকে বেরিয়ে চায়ের দোকানটায় যায় আর একটা চা বলে, সৌভিক এসে বসে পাশে, কি ম্যাডাম? আজ কাজ শেষ?সায়নী একটু বিরক্তির সাথে বললো, হ্যাঁ তো কি সারারাত থাকবো নাকি? সৌভিক, কি হয়েছে, রেগে আছো মনে হচ্ছে? সায়নী, কেন রেগে থাকতে যাবো কেন আজব তো? সৌভিক, আরে বলোই না, কি হয়েছে? খুব একটা শরীরও ভালো নেই শুনলাম। সায়নী, কে বললো? স্নেহা? সৌভিক, হ্যাঁ স্নেহাই বলেছে, কি হয়েছে বলো এবারে। সায়নী, আমি নিজেই জানিনা তো কি বলবো আর শোনো তোমার যদিও কিছু বলার থাকে তো বলো না হলে আমি চললাম। এই বলে নিজের কাপের চা শেষ করে সে উঠে দাঁড়ালো।সৌভিকও নিজের চায়ের কাপ শেষ করে সায়নীর পিছু নিলো। সায়নী কিছুদূর গিয়ে অটো ডাকলো, অটোচালক থামতেই সায়নীর সাথে সাথে সৌভিকও উঠে বসলো, অটোচালক গাড়িতে স্টার্ট দেওয়ার সাথে সাথে শুরু হলো সায়নীর প্রকোপ।সায়নী, এই কি ব্যাপার কি? তুমি আমার পিছু করছো কেন? সৌভিক, আজব, তোমার পিছু করবোনা তো আর কার করবো? সায়নী, কেন তোমার ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট সোহিনীর সাথে তো বেশ লটরপটর চলছে তোমার, কত্ত গায়ে পরে হাসাহাসি, যেন এখনই জড়িয়ে ধরবে। সৌভিক, আরে ওসব কিছু না আর মেয়েটা বড্ডো গায়ে পড়া তুমিতো জানোই। সায়নী, ওই মেয়েটা এখন শুধু গায়ে পড়া আর তুমি যে সেটা নিয়ে কিছু বলোনা কোনো প্রতিরোধ করোনো সে ব্যাপারে কোনো জবাবদিহি আছে তোমার কাছে? সৌভিক, তুমি বেকারই একটা ছোট ব্যাপারকে বড়ো করছো কিন্তু এবারে, তুমি নিজেও জানো আমি এমন কিছুই করিনা যাতে তুমি আমায় এইরকম বলতে পারো।সৌভিক আর সায়নীর বাকবিতন্ডার মাঝেই অটো এসে থামলো সায়নীর আপার্টমেন্টের সামনে। সায়নী আর কথা না বাড়িয়ে অটো থেকে নেমে নিজের আপার্টমেন্টের দিকে পা বাড়াল, এদিকে সৌভিকও বেশ খারাপই পেয়েছে, এভাবে এতো কথা বলে গেলো সায়নী যে এখনো কিরকম একটা লাগছে। প্রথম প্রথম তো সায়নী এমন ছিলোনা, এখন যতদিন যাচ্ছে ততো ওর মধ্যে এইসব সন্দেহপ্রবণতা বাড়ছে আর অফিসের নীতি অনুযায়ী ওরা কোনোভাবেই নিজেদের সম্পর্ক অফিসে জানাতে পারবেনা, সে ক্ষেত্রে কোনো একজনকে তো অফিস ছাড়তেই হবে। এবার সৌভিকের অবস্থা এমন নয় যে এখনই অন্য কোথাও যেতে পারবে। সৌভিক আর মাথা ঘামায় না, বরং নিজের বাড়ির দিকেই এগিয়ে যায়।সায়নী ফ্ল্যাটের চাবি খুলতেই একটা খুব চেনা গলার আওয়াজ শুনলো, বুকটা কেমন যেন কেঁপে উঠলো, না চাইতেও মুখ ফুটে বেরিয়ে এলো, ঈশান? সায়নী চারিদিকে তাকিয়ে দেখলো, না কোথাও ঈশান নেই তবে? সায়নী ফ্ল্যাটের ভিতর ঢুকে এলো, স্নেহা অনেক আগেই ফিরে এসেছে। সায়নী ঘরে ঢুকে চেঞ্জ করে যখন বেরিয়ে এলো তখন দেখলো টেবিলে আলো আঁধারিতে কেও যেন বসে, সায়নীর বুক আবারও কাঁপতে শুরু করলো, কে তুমি? সে কোনো উত্তর দিলোনা শুধু ওর দিকে একটা চায়ের কাপ এগিয়ে দিলো, আর ইশারায় বললো চা খেতে। সায়নীর যেন নিজের ভিতরের সব প্রতিরোধ শেষ হয়ে গেছে, সে সেই লোকটার সামনে এসে বসলো তারপর আবারও বললো, কি চাই তোমার?এবার আলোয় লোকটার মুখ পরিষ্কার দেখলো সায়নী, সেই শ্যামবর্ণ মুখ, সেই হাসি সেই চোখ, ঈশান দাস।সায়নী, তুমি কেন এভাবে আমার বাড়িতে আসছো? তুমি কি সত্যিই আছো নাকি আমিই ভুল দেখছি? উত্তর দাও ঈশান ঈশান, কেন ভুলে গেলে আমায়? আমায় না তুমি বলতে আমায় বিয়ে করবে তুমি? কোই আমায় ভুলে তো বেশ সুখে আছো। সায়নী, কিন্তু তুমি আগে বলো তুমি এভাবে ঘরের ভিতরে আসছো কিভাবে? ঈশান আমি তোমায় পুলিশে দেবো। ঈশান, কি হয়েছে তোর? এরকম বলছিস কেন? আর এই ঈশান কে? ঈশানের গলাটা কেমন যেন স্নেহার মতোই, হটাৎ সায়নী বুঝলো সামনে ঈশান নয় স্নেহা বসে, কোনো অন্ধকার নেই বরং আলোর মধ্যেই বসে দুজনে।সায়নী এই নভেম্বরে নিজের ঘরে ফ্যানের তলায় বসেও ঘামছে।স্নেহা, এই ঠিক আছিস? কি হয়েছে প্লিজ বলবি? তোকে সুস্থ লাগছেনা কিন্তু। সায়নী, আমি পারছিনা স্নেহা, আমার সত্যিই ভয় করছে, ঈশানকে আমি সব জায়গায় দেখছি, আমার বোধহয় মাথাটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ঈশান কোথায় আমি জানিনা। স্নেহা, কে ঈশান সেটা আগে বলবি? সায়নী গ্লাসে রাখা জলটা খায় তারপর স্নেহাকে বলে, আচ্ছা স্নেহা আমি কি তোকে বিশ্বাস করতে পারি? স্নেহা, বিশ্বাস না করার মতো কি আছে? আমিতো সেটাই বুঝছিনা আর আজকাল তুই বড্ডো কিরকম একটা হয়ে গেছিস, আজকাল সবসময় কিরকম একটা করিস। হয়েছে কি তোর সেটা খুলে বললে আমার পক্ষেও ভালোই হয়।সায়নী, কোনোদিনও এমন কাওকে দেখেছিস চোখের সামনে যাকে জীবন্ত লাগে কিন্তু আসলে সে সামনে নেই?এই কথাটা শুনে স্নেহার কেমন যেন অস্বস্তি হলো, কি বলতে চাইছিস? কাকে দেখছিস তুই? সায়নী ডাইনিং থেকে নিজের ঘরে গিয়ে খাটের উপর বসলো।সায়নী নিজের খাটের উপর এসে বসলো আর চারিদিকে বার কয়েক তাকিয়ে দেখলো যদিও কিছু অন্যরকম তার চোখে ধরা পরে। নাহ, সেরকম কিছুই তার চোখে পড়লোনা যা তার সন্দেহ বাড়াতে পারে। এদিকে স্নেহা ক্রমশ উদগ্রীব হয়ে উঠছে এটা জানার জন্য যে সত্যিই কি সায়নী ভুত দেখছে নাকি, স্নেহা সেই ছোটবেলা থেকেই একটু ভুতে ভয় পায়, যদিও সবার সামনে কোনোদিনও প্রকাশ হতে দেয়নি, তবুও ভুতের ব্যাপার এলে স্নেহা সেই জায়গা থেকে দু পা দূরে থাকে। এখানে তার কোনো বুদ্ধি বা যুক্তি খাটেনা।স্নেহাও এসে সায়নীর পাশে বসলো আর ওর উরুতে হাত রেখে বললো, এই সায়নী বল না প্লিজ, কি দেখছিস তুই? সায়নীও ওর দিকে তাকালো, হয়তো ভাবছে বলা ঠিক হবে কিনা, তারপর আর পারলো না নিজেকে সামলাতে, অনেক বড়ো গল্প ধৈর্য লাগবে। স্নেহা, তুই বল না আমি শুনছি, আছি তোর পাশেই।সায়নী বলতে শুরু করলো-ক্রমশ.......(পরবর্তী পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী, বর্ধমান

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
নিবন্ধ

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল - 'বীণার মুর্ছনায় বিদ্রোহের মশাল'

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক সময়ের সীমা পেরিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক তেমনই এক অনন্য অধ্যায়যেখানে প্রজন্মের ব্যবধানকে ছাপিয়ে জায়গা করে নিয়েছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্নেহ, ভালোবাসা এবং এক গভীর মানবিক বন্ধন। যেমন একসময় বাংলা ছায়াছবির জগতে উত্তম না সৌমিত্রকে বড় এই বিতর্ক ছিল বাঙালির চিরন্তন আড্ডার বিষয়, তেমনই বাংলা সাহিত্যের আলোচনায় রবি না কাজী নিয়েও চলেছে নিরন্তর তর্ক-বিতর্ক। কিন্তু সাহিত্য-সমালোচকদের সেই তুলনা বা পাঠকের আবেগের লড়াইয়ের বাইরে, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের নিজেদের সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকমসেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনও স্থান ছিল না।আজকের দিনে ৭৭ বছর বয়সে, ১৯৭৬ -র ২৯ আগস্ট, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনাবসান ঘটে। তাঁর প্রয়াণদিবসে তাই ফিরে দেখা যাক বাংলা সাহিত্যের দুই মহীরুহের সেই অসম্ভব সুন্দর সম্পর্ককেযে সম্পর্কে ছিল স্নেহের আশ্রয়, শ্রদ্ধার স্বীকৃতি, সৃষ্টিশীলতার অনুপ্রেরণা এবং এক কবির প্রতি অন্য কবির অকৃত্রিম ভালোবাসা। সময়ের স্রোত পেরিয়েও তাঁদের সেই সম্পর্ক আজও বাঙালির সাহিত্য-স্মৃতিতে এক উজ্জ্বল মানবিক অধ্যায় হয়ে আছে।বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলির ব্যাখ্যা কেবল শব্দ দিয়ে করা যায় না, অনুভব করতে হয়। যেমন অনুভব করতে হয় শরতের আকাশে হঠাৎ ভেসে ওঠা মেঘ, বর্ষার প্রথম গন্ধ, কিংবা বহুদিন পর শোনা কোনো পরিচিত কণ্ঠস্বর।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্কও তেমনই এক অনুভবের বিষয়।একজন তখন বাংলা সাহিত্যের আকাশে প্রায় সূর্যের মতো দীপ্তিমান। তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে বিশ্বকবির অভিধা। অন্যজন তখনও তরুণঅস্থির, দুরন্ত, দুঃসাহসী, দুর্বার। তাঁর হাতে কলম, অথচ সেই কলমে যেন তরবারির ঝলকানি। একজনের কবিতায় শান্তির নদী, অন্যজনের কবিতায় ঝড়ের গর্জন। একজন যখন বীণার তারে আঙুল রাখেন, অন্যজন যেন বজ্রের বুক চিরে শব্দ তুলে আনেন।তবু আশ্চর্যএই দুই ভিন্ন স্রোত এসে কোনও এক মোহনায় যেন মিলেছিল!সেই মিলনের নামশ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালোবাসা।রবীন্দ্রনাথ নজরুলের মধ্যে কেবল একজন তরুণ কবিকে দেখেননি; তিনি দেখেছিলেন আসন্ন সময়ের স্পন্দন। আর নজরুল রবীন্দ্রনাথের মধ্যে শুধু একজন প্রতিষ্ঠিত মহাকবিকে দেখেননি; দেখেছিলেন এমন এক আপনজনকে, যার সামনে মাথা নত করা যায়, অথচ নিজের কণ্ঠস্বরটিও অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।এই জায়গাটিই তাঁদের সম্পর্ককে এত অনন্য করে তোলে। যে তরুণ কবির মধ্যে রবীন্দ্রনাথ চিনেছিলেন ভবিষ্যৎ। নজরুলের আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যে যেন হঠাৎ আসা এক কালবৈশাখী। তাঁর শব্দে ছিল আগুন, তাঁর ছন্দে ছিল মার্চ করার শব্দ, তাঁর কবিতায় ছিল শিকল ভাঙার আকাঙ্ক্ষা।বিদ্রোহী প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা সাহিত্য যেন এক মুহূর্তে নিজের পরিচিত আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য এক মুখ দেখতে পেল।বল বীরবল উন্নত মম শির!এই উচ্চারণ শুধু একটি কবিতার পঙ্ক্তি ছিল না। ছিল এক যুগের অবদমিত আত্মার বিস্ফোরণ।রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন সেই বিস্ফোরণের ভাষা। তিনি বুঝেছিলেন, তরুণ নজরুলকে রবীন্দ্রনাথের মতো করে লিখতে হবে না। বরং বাংলা সাহিত্যের প্রয়োজন ছিল এমন একজনের, যিনি রবীন্দ্র-প্রতিষ্ঠার বিশাল ছায়ার মধ্যেও নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র আকাশ তৈরি করবেন। তাঁদের যুগলবন্দী শুধুমাত্র দু-এক কথায় বর্ণনা করা মুর্খামী। রবি যদি বীনার আলাপ হন নজরুল ছিলেন ঝালা। দুইয়ে মিলেই একটি রাগের পূর্ণতা পায়।এই কারণেই নজরুলের প্রতি রবীন্দ্রনাথের স্নেহে ছিল না কোনো অহংকার।ছিল এক প্রবীণ স্রষ্টার আনন্দযখন তিনি দেখেন তাঁর পরের প্রজন্ম তাঁর চেনা পথ ছেড়ে আরও দূরে, আরও অজানার দিকে হাঁটতে শুরু করেছে।বসন্ত: একজন কবির হাতে আরেক কবির আশীর্বাদ, নজরুল যখন কারাগারে, তখন তাঁর শরীর বন্দি হয়েছিল, কিন্তু তাঁর কবিসত্তা নয়। রাজবন্দি তরুণ কবি অনশনে। শরীর ক্রমশ ভেঙে যাচ্ছে। এই সংবাদে উদ্বিগ্ন রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ও অস্থির হয়ে উঠেছিল।তিনি জানতেন, নজরুলের মধ্যে যে আগুন জ্বলছে, তা সহজে নেভার নয়। তবু একজন স্নেহশীল প্রবীণের মতো তাঁর মন চাইছিলএই তরুণ কবি বেঁচে থাকুন। তাঁর কণ্ঠ যেন থেমে না যায়।এই সময়েই বসন্ত গীতিনাট্য নজরুলকে উৎসর্গ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এ যেন কেবল একটি বই উৎসর্গ করা নয়। এ একজন প্রবীণ কবির তরুণ কবির হাতে নিজের আশীর্বাদের একটি প্রদীপ তুলে দেওয়া।কারাগারের অন্ধকারে বসে নজরুল যখন সেই উৎসর্গের কথা জানলেন, তখন তাঁর কাছে সেটি ছিল এক অপার স্বীকৃতি। যে সময়ে রাষ্ট্র তাঁকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে, সেই সময় বাংলা তথা বিশ্ব সাহিত্যের সর্বোচ্চ আসনে থাকা একজন মানুষ তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করছেন। এই স্বীকৃতির মূল্য কোনো পুরস্কারের চেয়ে কম ছিল না।শ্রদ্ধা ছিল, কিন্তু ভয় ছিল নানজরুলের সৌন্দর্য এখানেইতিনি রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা করতেন, কিন্তু তাঁর সামনে নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দেননি। এবং রবীন্দ্রনাথও সেটিই চেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের কাছে নজরুলের বিদ্রোহ কোনো অপরাধ ছিল না। বরং তিনি বুঝেছিলেন, যুগ বদলালে কবিতার ভাষাও বদলায়।একটি প্রজন্ম যে প্রশ্ন করতে চায়, আগের প্রজন্ম যদি সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারে, তবে নতুন কবির জন্ম হয়।নজরুল সেই নতুন কবিতিনি রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করার জন্য লেখেননি; তিনি নিজের সময়কে প্রকাশ করার জন্য লিখেছিলেন। আর রবীন্দ্রনাথ সেই স্বাধীনতাটুকু তাঁকে দিয়েছিলেন। এই উদারতাই রবীন্দ্রনাথকে শুধু বড় কবি নয়, বড় মানুষও করে তুলেছিল।এক ফ্রেমে ধরা পড়েনি দুই মহীরুহআজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবলে বিস্ময় জাগেদুই কবি দেখা করেছেন, কথা বলেছেন, পরস্পরের সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন; অথচ তাঁদের একসঙ্গে থাকা কোনো সুপরিচিত আলোকচিত্র আমাদের হাতে নেই।ইতিহাসের কাছে এ এক অদ্ভুত আফসোসএক ফ্রেমে যদি ধরা থাকত সেই দৃশ্য! এক পাশে শান্ত, শুভ্র, দীর্ঘকায় রবীন্দ্রনাথ। অন্য পাশে তারুণ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বল নজরুল। একজনের মুখে প্রশান্তি, অন্যজনের চোখে আগুন। ক্যামেরার একটি ক্লিক হয়তো ধরে রাখতে পারত বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে সুন্দর এক সম্পর্কের দৃশ্যমান স্মৃতি। কিন্তু হয়তো নিয়তি চেয়েছিল, তাঁদের সম্পর্ক ছবি হয়ে না থেকে স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকুক।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএক রসিকতার আড়ালে গভীর সত্যনজরুলের বিদ্রোহী শুধু পাঠ করা যায় না, অনুভব করতে হয়। তরুণ কবির কণ্ঠে যখন সেই কবিতা উচ্চারিত হয়েছিল, তখন তা নিছক শব্দ ছিল নাছিল এক বিস্ফোরিত আত্মপরিচয়। রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়িয়ে নজরুল তাঁর কবিতা পাঠ করছেনভাবলেই দৃশ্যটি যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।কবিতা শেষ।এক মুহূর্তের নীরবতা।তারপর প্রবীণ কবির হাসি, মুগ্ধতা, ভালোবাসা।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএই রসিকতার মধ্যে যেন লুকিয়ে আছে এক বিরাট সত্য। নজরুল রবীন্দ্রনাথকে হত্যা করেননি। তিনি হত্যা করেছিলেন সেই ধারণাকেবাংলা কবিতার একমাত্র ভাষা একটিই। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথের পাশে দাঁড়িয়েও অন্য এক কণ্ঠস্বর পৃথিবী কাঁপাতে পারে। আর রবীন্দ্রনাথ সেই নতুন কণ্ঠস্বরকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এমন উদারতা বিরল। অভিমানও ছিল, দূরত্বও ছিল।যে সম্পর্ক সত্যিকারের, সেখানে অভিমান থাকে।নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কেও হয়তো সেই মানবিক টানাপোড়েন ছিল। রাজনৈতিক উত্তেজনা, সময়ের অস্থিরতা, সাহিত্যিক মতপার্থক্যসবকিছু মিলিয়ে কখনও কখনও তাঁদের মধ্যে ভাবনার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।কিন্তু সেই দূরত্ব কখনও হৃদয়ের দূরত্ব হয়ে ওঠেনি। কারণ রবীন্দ্রনাথ নজরুলের বিদ্রোহের মধ্যে নিজের প্রতি অসম্মান দেখেননি। আর নজরুলও রবীন্দ্রনাথের উপদেশকে শেষ পর্যন্ত একজন স্নেহশীল প্রবীণের উদ্বেগ হিসেবেই অনুভব করেছিলেন। এই জায়গাতেই তাঁদের সম্পর্কের মানবিক সৌন্দর্য। তাঁরা একমত ছিলেন না সব বিষয়ে। কিন্তু একে অপরকে ভালোবাসতে তাঁদের একমত হওয়ার প্রয়োজন হয়নি।সঞ্চিতা: শিষ্যের অর্ঘ্য১৯২৮ সালে নজরুল তাঁর সঞ্চিতা রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন। নামটির মধ্যেও যেন শ্রদ্ধার এক নীরব সেতু ছিল। রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতাআর নজরুলের সঞ্চিতা। কিন্তু বইয়ের নামের এই সাদৃশ্যের চেয়েও বড় ছিল উৎসর্গের অনুভূতি। যে তরুণ কবি একদিন বিদ্রোহের ভাষায় নিজের পরিচয় ঘোষণা করেছিলেন, সেই তিনিই আবার নিজের সৃষ্টির অর্ঘ্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রবীণ কবির দরজায়। এখানে কোনো আত্মসমর্পণ ছিল না। ছিল ভালোবাসা।ছিল বলাআপনাকে অস্বীকার না করেও আমি আমার নিজের পথের কবি।রবির বিদায়: যে শোক ভাষাকে স্তব্ধ করে দেয়১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট। বাংলা আকাশ থেকে যেন একটি বিশাল আলো সরে গেল। রবীন্দ্রনাথ চলে গেলেন। এই মৃত্যু ছিল শুধু একজন কবির মৃত্যু নয়। একটি যুগের অবসান। আর সেই সংবাদ যখন নজরুলের কাছে পৌঁছেছিল, তখন তাঁর হৃদয়ের ভিতরে কী ঝড় উঠেছিল, তা কল্পনা করাও কঠিন। যে মানুষটি তাঁর প্রতিভাকে চিনেছিলেন, তাঁকে সম্মান দিয়েছিলেন, তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেনসেই মানুষটি আর নেই। নজরুলের শোক তাই ছিল আপনজন হারানোর শোক।তিনি লিখলেন, গাইলেন, কাঁদলেন।ঘুমাতে দাও শ্রান্ত রবিরেকী আশ্চর্য নিয়তি!যে তরুণ কবির কণ্ঠ একদিন রবীন্দ্রনাথের বিদায়ে বজ্রের মতো গর্জে উঠেছিল, সেই কণ্ঠই বছর ঘুরতেই অসুস্থতার অন্ধকারে স্তব্ধ হয়ে গেল।কণ্ঠ থেমে গেল।স্মৃতি মুছে যেতে লাগল।শব্দ, যে শব্দ দিয়ে তিনি সাম্রাজ্যকে কাঁপিয়েছিলেন, সেই শব্দই তাঁর নিজের জীবনে একদিন নিঃশব্দ হয়ে গেল।এ যেন ইতিহাসের নির্মমতম কবিতা।দুই কবি, এক মানবতার গানরবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে পাশাপাশি রাখলে প্রথমে চোখে পড়ে তাঁদের পার্থক্য। রবীন্দ্রনাথশান্তি, সৌন্দর্য, প্রেম, প্রকৃতি, আত্মদর্শন। নজরুলবিদ্রোহ, সাম্য, সংগ্রাম, প্রেম, মুক্তি। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই দেখা যায়, তাঁদের গন্তব্য একই। দুজনেই মানুষকে ভালোবেসেছেন। দুজনেই মানুষের মুক্তি চেয়েছেন। দুজনেই ধর্ম, জাতি, সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে মানুষকে দেখতে চেয়েছেন। তাই তাঁদের পথ আলাদা হলেও আকাশ ছিল এক।রবীন্দ্রনাথ হয়তো বলেছিলেনমানুষের হৃদয়কে সুন্দর করো।নজরুল যেন উত্তর দিয়েছিলেনমানুষের শিকলও ভেঙে দাও।একজন হৃদয়ের দরজা খুলেছেন, অন্যজন কারাগারের দরজা ভেঙেছেন। আর বাংলা সাহিত্য তাঁদের দুজনকেই গ্রহণ করেছে।দুই নক্ষত্রের দিকে তাকিয়েআজ এত বছর পরে যখন আমরা তাঁদের দিকে ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল যেন একই আকাশের দুটি নক্ষত্র।তাঁদের আলো এক নয়।তাঁদের পথ এক নয়।তাঁদের ভাষাও এক নয়।কিন্তু অন্ধকারের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রত্যয়ের জায়গাটি একই।একজনের হাতে ছিল বীণা, অন্যজনের হাতে বিদ্রোহের মশাল।একজন বলেছিলেন ভালোবাসতে।অন্যজন বলেছিলেন ভয় না পেতে।একজন মানুষের অন্তরকে মুক্ত করেছেন, অন্যজন মানুষের মেরুদণ্ডকে সোজা করেছেন।আর তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক আমাদের শিখিয়েছেশ্রদ্ধা মানে নিজের কণ্ঠ হারিয়ে ফেলা নয়; ভালোবাসা মানে একে অপরকে নিজের মতো করে বানিয়ে নেওয়া নয়। সত্যিকারের শ্রদ্ধা হল অন্যের স্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করে নেওয়া। সত্যিকারের ভালোবাসা হল অন্যের আলোকে ভয় না পাওয়া। রবীন্দ্রনাথ নজরুলের আলোকে ভয় পাননি। নজরুলও রবীন্দ্রনাথের মহিমার সামনে নিজের আলো নিভিয়ে দেননি।এই কারণেই তাঁদের সম্পর্ক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শুধু একটি অধ্যায় নয়এ এক অনন্ত মানবিক উপাখ্যান। যেখানে একজন প্রবীণ কবি তরুণ প্রতিভার মাথায় হাত রেখেছেন, আর এক তরুণ বিদ্রোহী কবি শ্রদ্ধায় সেই হাতের উষ্ণতা অনুভব করেছেন। সময় তাঁদের আলাদা করেছে।মৃত্যু তাঁদের দুজনকেই নীরব করেছে।কিন্তু তাঁদের কথারা আজও বেঁচে আছে।রবীন্দ্রনাথের গানে যখন সন্ধ্যা নামে, নজরুলের কবিতায় তখন ভোরের মিছিল শুরু হয়।একজনের সুরে মন শান্ত হয়।অন্যজনের শব্দে রক্ত গরম হয়ে ওঠে।আর আমরা বুঝতে পারিবাংলা সাহিত্যকে সম্পূর্ণ করতে দুজনেরই প্রয়োজন ছিল। একজন না থাকলে অন্যজনের মহিমা হয়তো এত স্পষ্ট হয়ে উঠত না। তাই আজও মনে হয়, দূর কোনো নক্ষত্রলোকের নীরব বারান্দায় হয়তো রবীন্দ্রনাথ বসে আছেন, হাতে তাঁর চিরপরিচিত বীণা। আর পাশে দাঁড়িয়ে নজরুলচোখে সেই দুরন্ত আগুন, হাতে তাঁর অমর মশাল। দুজনেই হয়তো একে অপরের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।কোনো অভিমান নেই।কোনো প্রতিযোগিতা নেই।শুধু গভীর এক স্বীকৃতিতুমি তোমার মতো করেই এসেছিলে।তাই বাংলা ভাষা আজ এত সমৃদ্ধ।আর সেই কারণেই, তাঁদের ভালোবাসার গল্প শেষ হয় না।প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা সেই গল্প শুনিএকজন কবির স্নেহের গল্প, একজন বিদ্রোহীর শ্রদ্ধার গল্প, আর দুই মহীরুহের মধ্যে জন্ম নেওয়া এমন এক আত্মিক বন্ধনের গল্প,যেখানে বীণার সুর আর বিদ্রোহের মশালদুটিই শেষ পর্যন্ত মানুষেরই জয়গান গায়।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
নিবন্ধ

জর্জ বিশ্বাস: রবীন্দ্রনাথের গানের ভিতর এক বিদ্রোহী মানুষের বসত

বাংলা গানের ইতিহাসে কিছু কিছু কণ্ঠ আছে, যাদের শুধু গায়ক বললে অন্যায় হয়। তাঁরা যেন একটি সময়ের কণ্ঠস্বর, একটি মননের প্রতিনিধি, কখনও বা একটি অসমাপ্ত তর্কের নাম। দেবব্রত বিশ্বাস তেমনই একজন। বাঙালির কাছে তিনি জর্জ বিশ্বাস, আরও আপন করে বললে জর্জদা।আজও তাঁর গলায় যেতে যেতে একলা পথে কিংবা এ মণিহার আমার নাহি সাজে ভেসে এলে মনে হয়একজন মানুষ গান গাইছেন না, নিজের সমস্ত জীবনটাকে খুলে রেখে গেছেন শ্রোতার সামনে। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ কখনও নিছক সুর নন; তিনি হয়ে ওঠেন অভিমান, প্রেম, প্রতিবাদ, নিঃসঙ্গতা এবং মানুষের অন্তর্গত দীর্ঘশ্বাস।দেবব্রত বিশ্বাসের জন্ম ১৯১১-র ২২ আগস্ট অবিভক্ত বাংলার বরিশাল জেলার কিশোরগঞ্জে। ছোটবেলাতেই তাঁর জীবনে গানের প্রবেশ। মায়ের কাছ থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও ভক্তিগীতি শোনা, পরে কলকাতায় এসে নানা বিশিষ্ট শিল্পী ও সুরকারের সংস্পর্শসব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছিল এক অদ্ভুত সঙ্গীতমন।কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের মুহূর্তগুলির একটি এসেছিল ১৯২৮ সালে। সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের ভাদ্রোৎসবে প্রথমবার তিনি কাছ থেকে দেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথকে। তখন কবির বয়সের ভার, শরীরের ক্লান্তিতবু দেবব্রতের চোখে তিনি ছিলেন যেন সুরের রাজা। সেই দর্শন তাঁর মনে এমনভাবে গেঁথে গিয়েছিল যে, বহু বছর পরেও রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাছে কোনও দূরের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেননি; বরং থেকে গিয়েছিলেন এক অন্তরঙ্গ অথচ অধরা মানুষ।সম্ভবত সেই কারণেই রবীন্দ্রসঙ্গীত তাঁর কাছে কখনও শুধু গান হয়ে ওঠেনি।গান, না কি মানুষের কথা?জর্জদার গলার প্রথম যে জিনিসটি শ্রোতাকে থামিয়ে দিত, তা হল তাঁর কণ্ঠস্বর। গভীর, ভারী, উদাত্তকখনও যেন মেঘের মতো, কখনও আবার শুকনো পাতার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়ার মতো বিষণ্ণ। তাঁর গলায় শব্দেরও যেন আলাদা শরীর ছিল।তিনি জ্যোৎস্না বললে জ্যোৎস্না দেখা যেত। বেদনা বললে শব্দটির মধ্যে যেন সত্যিই একটা ব্যথা জন্ম নিত। পাতায় পাতায় উচ্চারণে মনে হত, অন্ধকার বাগানে কোথাও জলবিন্দু পড়ছে।এখানেই তাঁর গায়কির আসল জাদু।রবীন্দ্রসঙ্গীতকে তিনি কেবল স্বরলিপির অনুগত সুর হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে গান ছিল কবিতার উচ্চারণ, আর সেই উচ্চারণের মধ্যে মানুষের নিঃশ্বাস থাকা চাই। তাই তাঁর গানে কোথাও দীর্ঘ টান, কোথাও শব্দের উপর বিশেষ চাপ, কোথাও বা হঠাৎ থেমে যাওয়াসবই যেন গানের কথাকে জীবন্ত করে তুলত।এই কারণেই তাঁর গান শুনলে কখনও মনে হয় তিনি গাইছেন নাকথা বলছেন। আর কখনও মনে হয়, কথা বলতে বলতে হঠাৎ গান হয়ে গেলেন।জর্জ নামটির গল্পটিও কম মজার নয়দেবব্রত নামের মানুষটি কী করে জর্জ হয়ে গেলেন?ছোটবেলায় অসুস্থতার সময়ে তাঁকে দেখাশোনা করা এক ইংরেজ নার্সের দেওয়া নাম থেকেই জর্জ নামটির সূত্রপাত বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক লেখায় উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে রাজা ছিলেন পঞ্চম জর্জ। পরে সেই নামই এমনভাবে তাঁর সঙ্গে মিশে যায় যে, দেবব্রত বিশ্বাসের চেয়ে জর্জদা নামটিই মানুষের মুখে বেশি আপন হয়ে ওঠে।অদ্ভুত ব্যাপারযে মানুষটির নামের সঙ্গে এক ব্রিটিশ রাজার ছায়া জড়িয়ে ছিল, তিনিই পরে গানের ভিতর দিয়ে ঔপনিবেশিক মানসিকতার বাইরে এক সম্পূর্ণ বাঙালি সত্তাকে প্রতিষ্ঠা করলেন।জর্জদা ছিলেন গম্ভীর, আবার বেশ মজার মানুষওতাঁকে শুধু গম্ভীর রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ভাবলে ভুল হবে। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বেশ রসিক, খানিকটা খামখেয়ালি, এবং অনেকটাই নিজের মতো করে চলা মানুষ। দক্ষিণ কলকাতার ছোট ভাড়াবাড়িতে তাঁর জীবন ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। অথচ সেই ছোট ঘরেই গান, চিঠিপত্র, পান সাজানোর সরঞ্জাম, বই আর অসংখ্য মানুষের আনাগোনাসব মিলিয়ে যেন এক আশ্চর্য সাংস্কৃতিক আড্ডা বসত।তিনি রান্না করতেও ভালবাসতেন। মশলাদার রান্নার প্রতি তাঁর বিশেষ টান ছিল বলে তাঁর সম্পর্কে লেখা স্মৃতিচারণে জানা যায়। আবার কলকাতার রাস্তায় তাঁকে মোটরবাইক চালিয়েও দেখা যেতএই দৃশ্য তাঁর গম্ভীর রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়ক ভাবমূর্তির সঙ্গে বেশ বেমানান, অথচ মানুষটি যে এমনই ছিলেন, সেটাই তাঁর চরিত্রের মজা।আর ছিল তাঁর পানপ্রেম। ছোট ঘরে বসে পান সাজছেন, সামনে হারমোনিয়াম, পাশে চিঠির ফাইলএই ছবিটি যেন তাঁর জীবনের এক অদ্ভুত প্রতিকৃতি।কেউ কেউ তাঁকে একটু পাগলাটে বলতেন। কিন্তু সেই পাগলামির মধ্যেও ছিল গভীর শৃঙ্খলাগানের প্রতি, শব্দের প্রতি, নিজের বিশ্বাসের প্রতি।রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর কাছে গণমানুষের গানজর্জদার সঙ্গীতজীবন শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীতে আটকে ছিল না। গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল মানুষের আরও কাছে। তিনি গণসঙ্গীত গেয়েছেন, রাজনৈতিক মঞ্চে গান গেয়েছেন, মানুষের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কণ্ঠের সেই বজ্রগম্ভীর শক্তি শুধু প্রেমের গানেই নয়, মানুষের অধিকারের গানেও সমানভাবে ধ্বনিত হয়েছে।দেশভাগ তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তাঁর কণ্ঠ মানুষের কাছে পৌঁছেছিল। রবীন্দ্রনাথকে তিনি তাই কেবল অভিজাত ড্রয়িংরুমের কবি বলে ভাবেননি। তাঁর কাছে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন মাঠের মানুষেরও কবি, দুঃখী মানুষেরও কবি, প্রতিবাদী মানুষেরও কবি।সেই জায়গা থেকেই হয়তো তাঁর রবীন্দ্রসঙ্গীত এতখানি মাটির গন্ধ বহন করে।আর তারপর শুরু হল বড় সংঘাতজর্জ বিশ্বাসের জীবনকে যদি একটি নদী ভাবা যায়, তবে ষাটের দশক ছিল সেই নদীর সবচেয়ে উত্তাল বাঁক।রবীন্দ্রসঙ্গীত কীভাবে গাওয়া হবেস্বরলিপি কতটা মানতে হবে, কোন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে, গানের প্রকাশভঙ্গি কতখানি স্বাধীন হতে পারেএই প্রশ্নে তাঁর সঙ্গে বিশ্বভারতী-নির্ভর প্রচলিত রীতির সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে।১৯৬৪ সালে তাঁর গাওয়া মেঘ বলেছে যাব যাব এবং এসেছিলে তবু আসো নাই নিয়ে আপত্তি ওঠে। পরে পুষ্প দিয়ে মারো যারে ও তোমার শেষের গানের মতো গান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাঁর গানে অতিনাটকীয়তা, স্বরলিপি থেকে বিচ্যুতি এবং অতিরিক্ত বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছিল।কিন্তু জর্জদা পিছিয়ে যাওয়ার মানুষ ছিলেন না।তাঁর যুক্তি ছিল সরলরবীন্দ্রনাথের গান যদি মানুষের অনুভূতির গান হয়, তবে তাকে শুধু কাগজের স্বরলিপির মধ্যে বন্দি করে রাখা যায় না। রবীন্দ্রনাথ নিজেই ভারতীয় ও পাশ্চাত্য সঙ্গীতের নানা উপাদানের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন; তাহলে তাঁর গানে নতুন বাদ্যযন্ত্র বা নতুন প্রকাশভঙ্গির দরজা বন্ধ থাকবে কেন?এই প্রশ্নই তাঁকে ক্রমশ একা করে দিয়েছিল।অবশেষে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের রেকর্ড করা প্রায় বন্ধ করে দেন। বাইরে অনুষ্ঠান করাও কমিয়ে দেন। অথচ তখন তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে যে তাঁর রয়্যালটি সমসাময়িক বহু প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর চেয়েও অনেক বেশি ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।এ যেন আশ্চর্য এক পরিহাসযে শিল্পীকে শ্রোতা আরও শুনতে চায়, সেই শিল্পীই একদিন নিজের গান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন।ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীতনিজের জীবন ও সঙ্গীতভাবনা নিয়ে তিনি লিখেছিলেন ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত। বইটি শুধু আত্মজীবনী নয়; এক অর্থে নিজের শিল্পীসত্তার পক্ষে তাঁর জবানবন্দি। রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রচলিত রীতির সঙ্গে তাঁর সংঘাত, নিজের গায়কির দর্শন এবং শিল্পীর স্বাধীনতাসবকিছু নিয়েই সেখানে তাঁর অকপট বক্তব্য রয়েছে।নামটিই যেন তাঁর জীবনকে বলে দেয়ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত।তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের একনিষ্ঠ প্রেমিক, অথচ রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রাতিষ্ঠানিক পাহারাদারদের সঙ্গে তাঁর সংঘাত। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের গানকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাওয়া এক শিল্পী, অথচ সেই পথেই তাঁকে একসময় প্রায় একঘরে হতে হয়েছিল।এই দ্বন্দ্বই জর্জদাকে এত বড় করে।তাঁর গান শুনলে আজও কেন বুকের ভিতর কেঁপে ওঠে?কারণ জর্জ বিশ্বাস গানকে সাজিয়ে দেননিতিনি গানকে বাঁচিয়েছেন।যেতে যেতে একলা পথে তাঁর গলায় নিছক একাকিত্বের গান নয়; মনে হয়, কোনও এক সন্ধ্যায় জীবনের সমস্ত পরিচিত মুখ পিছনে ফেলে একজন মানুষ সত্যিই একা পথে বেরিয়ে পড়েছেন।এ মণিহার আমার নাহি সাজে যেন আত্মসম্মানের গান।যে রাতে মোর দুয়ারগুলি হয়ে ওঠে অন্ধকার ঘরের একান্ত স্বগতোক্তি।আর এসেছিলে তবু আসো নাইসেখানে অপেক্ষা যেন জল হয়ে পাতায় পাতায় ঝরে পড়ে।হে মাধবী, দ্বিধা কেন? সে এক আকুল আহ্বান।নীল- অঞ্জনঘন পুঞ্জছায়ায় সম্বৃত অম্বর হে গভীর! জলদ গম্ভীর কণ্ঠ।তুমি তো সেই যাবেই চলে বিজয়ার বিষাদের মধ্যে আবার আসার আনন্দ।কেনো চেয়ে আছো গো মা মুখো পানে মাতৃ স্নেহের এক আকুল আবেদন।এই যে গানের মধ্যে দৃশ্য তৈরি করার ক্ষমতা, এটাই জর্জ বিশ্বাসের অনন্যতা।তিনি শব্দকে শুধু উচ্চারণ করেননি; শব্দের ভিতরে ঢুকে তার দরজা খুলে দিয়েছেন।দেবব্রতর কণ্ঠ থেকে হেমন্তর রেকর্ডেঅবাক পৃথিবী! অবাক করলে তুমিজন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমিঅবাক পৃথিবী আমরা যে পরাধীন...তৎকালীন গ্রামোফোন কোম্পানির কাছে রেকর্ড হওয়া মানেই একটি গানকে বৃহত্তর শ্রোতৃমহলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিরাট সুযোগ। কিন্তু ১৯৫০ সালের পরিস্থিতিতে দেবব্রত বিশ্বাসের পক্ষে সহজে গানটি রেকর্ড করা সম্ভব হচ্ছিল না।স্লিল চৌধুরির সুরে গানটি তখনও মূলত গণনাট্যের পরিসরে দেবব্রত বিশ্বাস ও প্রীতি সরকার গাইছেন। মঞ্চে শোনা যাচ্ছে, মানুষের মুখে মুখে ফিরছে, কিন্তু গ্রামোফোনের রেকর্ডে বন্দি না হলে তার বিস্তার সীমিতই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।এই জায়গাতেই এসে পড়েন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।দেবব্রত বিশ্বাসের সঙ্গে হেমন্তর সম্পর্ক ছিল গভীর স্নেহ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার। দেবব্রতর বাড়িতেই কোনও এক সময়ে হেমন্ত গানটি শুনেছিলেন। সেই শোনা যেন পরবর্তী ইতিহাসের দরজা খুলে দিয়েছিল।গ্রামোফোন কোম্পানির কাছে হেমন্ত তখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় শিল্পী। তাঁর কণ্ঠে কোনও গান রেকর্ড হওয়া মানে সেই গানকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হওয়া। দেবব্রতর উৎসাহ এবং স্নেহের সূত্র ধরেই হেমন্ত গানটি রেকর্ড করার উদ্যোগ নেন।শেষ পর্যন্ত তিনি একাই রইলেনজীবনের শেষ পর্বে শরীর তাঁকে ক্রমশ দুর্বল করে দিয়েছিল। ১৯৭১-এর পর তাঁর সক্রিয় সঙ্গীতজীবন কার্যত থেমে যায়। ১৯৮০ সালের ১৮ আগস্ট কলকাতায় তাঁর মৃত্যু। কিন্তু আশ্চর্যভাবে তাঁর গান থামেনি।আজও বাঙালির ঘরে যখন সন্ধে নামে, পুরনো রেডিয়ো বা রেকর্ড থেকে যখন ভেসে আসে তাঁর ভারী, গভীর কণ্ঠমনে হয়, মানুষটি বুঝি এখনও কোথাও বসে আছেন।হয়তো সামনে পান সাজা।হয়তো পাশে হারমোনিয়াম।হয়তো টেবিলের উপর ছড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি চিঠি।আর কেউ তাঁকে বলছেজর্জদা, গানটা আর একবার গাইবেন?তিনি হয়তো একটু বিরক্ত মুখে বলছেন, এক গান বারবার গাইতে হয় নাকি?তারপরই হারমোনিয়ামের রিড কেঁপে উঠছে।ঘরটা একটু অন্ধকার হয়ে আসছে।আর জর্জদার গলা ভেসে উঠছে আমার রাত পোহালোরবীন্দ্রনাথের গান।সেই গান, যার ভিতরে প্রেম আছে, অভিমান আছে, মানুষের কান্না আছে, বিদ্রোহ আছেআর আছে এক শিল্পীর নিজের মতো করে বাঁচার একগুঁয়ে স্বাধীনতা।তাই দেবব্রত বিশ্বাস শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীতের একজন গায়ক নন। তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের ইতিহাসে এক দীর্ঘ প্রশ্নচিহ্ন।রবীন্দ্রনাথের গান কীভাবে গাইতে হবে?জর্জ বিশ্বাস যেন সারাজীবন তার উত্তর খুঁজেছেন।আর তাঁর উত্তরটি ছিলগান আগে মানুষের কাছে পৌঁছবে, তারপর তার সমস্ত নিয়ম-কানুন।সেই কারণেই এত বছর পরেও জর্জদা পুরনো হননি।কারণ কিছু কণ্ঠ সময়ের সঙ্গে পুরনো হয় না।তারা সময়কে অতিক্রম করেগানের ভিতর দিয়ে, মানুষের ভিতর দিয়ে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
নিবন্ধ

গুরু–শিষ্যের মধুর বন্ধন ও যুবশক্তির আহ্বান, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে যুবদিবসের প্রাসঙ্গিকতা

ভারতীয় আধ্যাত্মিক ও মননচর্চার ইতিহাসে যে কয়েকটি সম্পর্ক যুগ যুগ ধরে মানবসভ্যতাকে পথ দেখিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ও স্বামী বিবেকানন্দের (তৎকালীন নরেন্দ্রনাথ দত্ত) মধুর গুরুশিষ্য সম্পর্ক। এই সম্পর্ক কেবল আধ্যাত্মিক সাধনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা মানবকল্যাণ, যুবসমাজের জাগরণ ও জাতিগঠনের এক শক্তিশালী ভিত্তি নির্মাণ করেছিল।সংশয়ী নরেন্দ্র থেকে অগ্নিপুরুষ বিবেকানন্দউনিশ শতকের কলকাতায় পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত, যুক্তিবাদী ও সংশয়ী যুবক নরেন্দ্রনাথ দত্ত ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দিরে তাঁর আগমন এবং সেখানেই সাক্ষাৎ শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবের সঙ্গে। নরেন্দ্রনাথের সরাসরি প্রশ্ন আপনি কি ঈশ্বরকে দেখেছেন?এর উত্তরে রামকৃষ্ণদেবের সহজ অথচ দৃঢ় ঘোষণা হ্যাঁ, যেমন তোকে দেখছি, তার থেকেও স্পষ্টভাবেএই একটি কথাই নরেন্দ্রনাথের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।ভালোবাসা, শাসন ও বিশ্বাসের অনন্য মেলবন্ধনরামকৃষ্ণদেব নরেন্দ্রনাথের মধ্যে ভবিষ্যতের এক মহান নেতার সম্ভাবনা দেখেছিলেন। কখনও স্নেহে, কখনও কঠোর শাসনে, আবার কখনও নিঃশর্ত বিশ্বাসে তিনি নরেন্দ্রনাথকে গড়ে তুলেছিলেন। নরেন্দ্রনাথও ধীরে ধীরে তাঁর সমস্ত অহং, সংশয় ও ব্যক্তিগত বেদনা গুরুদেবের চরণে সমর্পণ করেন। এই সম্পর্ক ছিল গভীর মানবিকতা ও আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণযেখানে গুরু শিষ্যকে ঈশ্বরচিন্তায় উদ্বুদ্ধ করেছেন, আবার শিষ্য গুরুর আদর্শকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছেন।রামকৃষ্ণের আদর্শ, বিবেকানন্দের বিশ্বজয়১৮৮৬ সালে রামকৃষ্ণদেবের মহাপ্রয়াণের পর সন্ন্যাস গ্রহণ করে নরেন্দ্রনাথ হলেন স্বামী বিবেকানন্দ। গুরুর বাণীকে পাথেয় করে তিনি ভারতবর্ষের পথে পথে ঘুরে দরিদ্র, নিপীড়িত মানুষের দুঃখ দেখেন এবং উপলব্ধি করেন জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। এই ভাবনাই তাঁকে শিকাগো ধর্মসভায় ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের মুখপাত্র করে তোলে এবং বিশ্বকে নতুন করে ভারতের পরিচয় দেয়।যুবদিবস ও স্বামী বিবেকানন্দের প্রাসঙ্গিকতাস্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন, ১২ জানুয়ারি, আজ পালিত হয় জাতীয় যুবদিবস হিসেবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তাঁর অদম্য বিশ্বাস আমাকে একশো উদ্যমী যুবক দাও, আমি ভারত গড়ে দেব। যুবসমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। চরিত্রগঠন, আত্মবিশ্বাস, শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তাএই গুণগুলির মধ্য দিয়েই তিনি যুবকদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথে আহ্বান জানিয়েছিলেন।বর্তমান সময়ে যখন হতাশা, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও দিশাহীনতা যুবসমাজের একাংশকে গ্রাস করছে, তখন স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ নতুন করে পথ দেখায়। তাঁর শিক্ষা বলেনিজেকে বিশ্বাস করো, দেশের জন্য ভাবো, মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করো।রামকৃষ্ণদেব ও স্বামী বিবেকানন্দের সম্পর্ক কেবল একটি গুরুশিষ্যের কাহিনি নয়; এটি এক আদর্শ উত্তরাধিকারের গল্প, যেখানে আধ্যাত্মিক সাধনা সমাজসংস্কারের রূপ নিয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে যুবদিবস পালন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়যুবশক্তিই জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সেই শক্তিকে সঠিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে পারলেই গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী, মানবিক ও আত্মনির্ভর ভারত।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
নিবন্ধ

সাপের উপদ্রব থেকে বাঁচতে রসুনের উপকারিতা জানুন

বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব সাধারণত বেড়ে যায় এটা প্রকৃতির স্বাভাবিক এক চক্র। কয়েকটি কারণে বর্ষাকালে সাপের আনাগোনা বাড়ে। সেগুলির মধ্যে অন্যতম, বন্যা ও জল জমা, সাপ সাধারণত মাটির গর্তে বাস করে। বর্ষায় সেই গর্তে জল জমে যাওয়ায় তারা শুকনো জায়গা খুঁজে বেরিয়ে আসে। আশ্রয় খোঁজা, বৃষ্টিতে সাপ আশ্রয় নিতে খোঁজে শুকনো ও উষ্ণ জায়গাযেমন: বাড়ির বারান্দা, রান্নাঘর, গ্যারেজ, বা স্টোররুম। এছাড়াও সাপ খাবারের খোঁজে বসতিতে ঢুকে পরে। ইঁদুর, ব্যাঙ ইত্যাদি জীব বর্ষাকালে উঁচু ডাঙ্গা জমি, বসত বাড়িতে উঠে আসে, তাদের অনুসরন করে সাপ মানুষের বসতিতে ঢুকে পড়ে। যেসব এলাকা বনাঞ্চল বা জলাভূমির পাশে, সেখানে বর্ষায় সাপ চলাচল বেশি হয়।সাপের উপদ্রব থেকে নিরাপদে দূরে থাকতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন রাসায়নিক স্প্রে করেন কেউ কেউ। কিন্তু আমাদের বাড়িতেই এক ভেষজ সবসমই থাকে সেই রসুন ব্যাবহার করে সাপ থেকে দূরে থাকা যায় বলে অনেকের-ই ধারণা। সাপের আসা-যাওয়ার পথে রসুন দেওয়ার পেছনে একটি প্রচলিত লোকবিশ্বাস রয়েছে। এটি মূলত প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর পেছনে কিছু সাধারণ কারণ নিচে দেওয়া হলো:কেন রসুন দেওয়া হয়?তীব্র গন্ধ: রসুনের গন্ধ অত্যন্ত তীব্র এবং এটি অনেক প্রাণীর জন্য খুবই অস্বস্তিকর। কিছু মানুষের ধারণা যে সাপ তাদের সংবেদনশীল জিহ্বা (জ্যাকবসন অঙ্গ) দিয়ে পরিবেশের গন্ধ বোঝে, আর রসুনের তীব্র গন্ধ তাদের বিরক্তি উদ্রেক করে।রসুনে অ্যালিসিনের মতো সালফার সমৃদ্ধ যৌগ থাকে, যা তীব্র গন্ধ তৈরি করে। এই গন্ধ সাপের সংবেদনশীল ইন্দ্রিয় অঙ্গগুলিকে (বিশেষ করে জ্যাকবসন অঙ্গ, যা তারা তাদের জিহ্বার মাধ্যমে পরিবেশকে ঘ্রাণ নিতে ব্যবহার করে) জ্বালাতন করতে পারে বা অভিভূত করতে পারে।লোকবিশ্বাস ও অভ্যাসঃ গ্রামাঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকেই রসুন, পেঁয়াজ, নিমম বা কর্পূর ব্যবহারের মাধ্যমে সাপ দূরে রাখার চেষ্টা চলে আসছে। যদিও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুব একটা নেই, তবুও অনেকেই এটাকে কার্যকর মনে করেন। রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে সাপ তাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে রসুন ব্যবহার একটি বিকল্প পদ্ধতি।বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে এখনও সরাসরি প্রমাণ নেই যে রসুন সাপকে নিশ্চিতভাবে তাড়াতে পারে। তবে কিছু গবেষণা বলেছে, সাপ সাধারণত তীব্র গন্ধ বা ঝাঁঝালো রাসায়নিক এড়িয়ে চলে, তাই কিছু ক্ষেত্রে রসুন কার্যকর হতে পারে।রসুন ব্যবহার পদ্ধতিঃ১। রসুন থেঁতো করে সাপের সম্ভাব্য চলাচলের রাস্তায় ছড়িয়ে দিন।২। রসুন ও লবণের মিশ্রণ একটি কাপড়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখতে পারেন।৩। রসুন তেলের সঙ্গে ন্যাপথলিন মিশিয়ে ব্যবহার করেন অনেকে (সতর্কতার সঙ্গে)।তবে মনে রাখবেনঃ১। সাপ তাড়ানোর জন্য রেসকিউ টিম বা স্থানীয় বন দপ্তরে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর উপায়।২। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার, ঘাসছাঁটা রাখা, ইঁদুর-মুরগির আনাগোনা কমানোএসব বেশি কার্যকর।সাপ তাড়ানোর জন্য কিছু নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো, যা আপনি রসুনের পাশাপাশি ব্যবহার করতে পারেন:পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন (সবচেয়ে কার্যকর উপায়)১। বাড়ির চারপাশে ঝোপঝাড়, লম্বা ঘাস, ময়লা, কাঠের গুঁড়ি বা ইটের স্তূপ থাকলে সাপ আশ্রয় নিতে পারে।২। পুরনো বা অব্যবহৃত জিনিস সরিয়ে ফেলুন।৩। ইঁদুর বা ছোট প্রাণী থাকলে সাপ আসতে পারে, এদের নিয়ন্ত্রণ করুন।প্রাকৃতিক প্রতিকারঃ১. রসুন ও পেঁয়াজঃ রসুন ও পেঁয়াজ থেঁতো করে মিশিয়ে সাপের চলাচলের পথে ছড়িয়ে দিন। আপনি চাইলে সেগুলোর রস করেও স্প্রে করতে পারেন।২. লবণ ও চুনঃ চুন ও লবণ (নুন) মিশিয়ে দেয়ালে বা জানালার আশপাশে ছিটিয়ে রাখুন৩. নিমের পাতা ও তেলঃ নিমের তেল সাপদের প্রচণ্ড অপছন্দের জিনিস। এটি জলের সঙ্গে মিশিয়ে সাপের আসা যাওয়ার পথে স্প্রে করতে পারেন।৪. সাদা ভিনিগারঃ ভিনিগার ও লবণ মিশিয়ে সাপের চলার পথে স্প্রে করুন। মাটির গন্ধ নষ্ট হওয়ায় সাপ এড়িয়ে চলে।কম্পন ও শব্দ ব্যবহারঃসাপ শব্দ-সংবেদনশীল (কম্পনে সাড়া দেয়)। মাটি কাঁপায় এমন যন্ত্র (যেমন: হাতুড়ি দিয়ে ঠোকাঠুকি), বা ব্যাটারিচালিত কম্পন-ডিভাইস সাপ দূরে রাখতে পারে।পোষা প্রাণীঃ কুকুর (দেশী বা বিদেশি) সাপের উপস্থিতি টের পেলে ঘন ঘন ডাকতে থাকে। গ্রামের অনেক বাড়িতে পোষা প্রাণী রাখার ফলে সাপ আসার সম্ভাবনা কমে যায়।যা করবেন নাঃসাপ দেখলে নিজে রিস্ক নিয়ে তাড়াতে যাবেন না।, পেট্রোল, অ্যাসিড বা আগুন ব্যবহার করবেন না। সাপটিকে না মেড়ে তারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন। আপতভাবে বিষাক্ত মনে হলেও সাপ সামাজের ভারসাম্য রাখতে বিরাট ভুমিকা নেয়। সাপ দেখলে বা সন্দেহ হলে আপনার এলাকায় বন দফতর বা স্থানীয় সাপ উদ্ধারকারী দলের (snake rescuer) সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অনেক জায়গায় হেল্পলাইন নম্বরও রয়েছে। প্রয়োজনে জেলার বনদপ্তরে ফোন করে সাহায্য নিন। এছাড়াও জেলায় জেলায় বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংস্থা আছে যাঁরা বসতি থেকে সাপ গুলিকে উদ্ধার করে নিরাপদে অরণ্যে পৌছাতে সাহায্য করেন। যেমন, বর্ধমান জেলায় তথাগত পাল আছেন, যিনি তাঁর দৈনন্দিন পেশার কঠিন চাপের ফাঁকেও এই ধরনের নোবেল জব করতে ভালবাসেন।

জুন ২৮, ২০২৫
নিবন্ধ

৮ জুন শুধুই কি একটা আন্তর্জাতিক নারী দিবস? এ লড়াই যেন অনন্তকালের

আজকের দিন শুধু একটা আন্তর্জাতিক নারী দিবস নয়, এটি নারী শক্তির জয়যাত্রা, অগ্রগতির প্রতীক এবং এক অবিরাম সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।একবিংশ শতাব্দীর এই যুগে নারী দিবস কেবল অধিকার আদায়ের স্লোগান নয়, এটি নারীদের বহুমুখী অবদানকে উদযাপন করার একটি মঞ্চ। আজকের নারী শুধু ঘরের চার দেওয়ালে আবদ্ধ নন, তিনি মহাকাশচারী, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, রাষ্ট্রনেতা, শিল্পী এবং আরও অনেক কিছু। প্রযুক্তি প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে নারীরা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন, নিজেদের দক্ষতা ও মেধা দিয়ে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো নারীদের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করেছে, তাদের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে।চ্যালেঞ্জগুলো এখনও বিদ্যমান।তবে এই অগ্রগতির মাঝেও কিছু কঠোর বাস্তবতা থেকে যায়। বিশ্বের বহু জায়গায় আজও নারীরা বৈষম্য, সহিংসতা এবং অসমতার শিকার। সাইবারবুলিং, লিঙ্গভিত্তিক ডিজিটাল বিভাজন এবং অনলাইনে হয়রানি বর্তমান যুগের নতুন চ্যালেঞ্জ। কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য, কাঁচের ছাদ ভেঙে উচ্চ পদে পৌঁছাতে না পারা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণে পিছিয়ে থাকাও এখনও বড় সমস্যা। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত, অনেক নারী এখনও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাবে ভুগছেন।আজকের নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পুরুষ ও নারী উভয়কেই এই সমতার আন্দোলনে যুক্ত হতে হবে। শিক্ষা, সচেতনতা এবং লিঙ্গ সংবেদনশীলতা বাড়াতে হবে সমাজের প্রতিটি স্তরে।এই নারী দিবসে আমাদের ভাবতে হবে: কীভাবে আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল বিশ্ব তৈরি করতে পারি, যেখানে প্রতিটি নারী নিরাপদে, স্বাধীনভাবে এবং সমানভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করতে পারবে? কীভাবে আমরা প্রযুক্তির শক্তিকে ব্যবহার করে নারীদের ক্ষমতায়ন করতে পারি এবং অনলাইন সহিংসতা থেকে তাদের রক্ষা করতে পারি? আজকের দিনে নারীর ক্ষমতায়ন মানে শুধু অফলাইনে নয়, অনলাইনেও তাদের সমানাধিকার নিশ্চিত করা।লিঙ্গ সমতা: কেবল নারীর সমস্যা নয়, সমাজের অগ্রগতির চালিকাশক্তিআমরা প্রায়শই লিঙ্গ সমতাকে কেবল নারীদের সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু আজকের দিনে এটি স্পষ্ট যে, লিঙ্গ সমতা শুধুমাত্র নারীর অধিকারের প্রশ্ন নয়, এটি একটি উন্নত, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের চাবিকাঠি। যখন নারীরা শিক্ষার সুযোগ পায়, কর্মক্ষেত্রে সমান অংশীদারিত্ব পায় এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়, তখন পুরো সমাজ লাভবান হয়।অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে জিডিপি বাড়ে, পরিবারে সচ্ছলতা আসে। শিক্ষায় নারীর বিনিয়োগ ভবিষ্যত প্রজন্মকে আরও সচেতন ও সক্ষম করে তোলে। নেতৃত্ব পদে নারীদের উপস্থিতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্যকর নীতি নির্ধারনে সহায়তা করে।আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমাদের এই বার্তাটি জোরে বলতে হবে: লিঙ্গ সমতা কোনও বিশেষ লিঙ্গের জন্য নয়, এটি মানবজাতির সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। পুরুষদেরও এই সমতার সংগ্রামে সমান অংশীদার হতে হবে। তাদের সচেতনতা, সমর্থন এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সত্যিকারের পরিবর্তন সম্ভব হয় না। আসুন, আমরা এমন একটি সমাজ গড়ি যেখানে প্রতিটি লিঙ্গ তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা নিয়ে বিকশিত হতে পারবে।মানসিক স্বাস্থ্য এবং নারী: নীরব সংগ্রাম যা দেখা জরুরিআন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমরা নারীদের বাহ্যিক অর্জন নিয়ে কথা বলি। কিন্তু প্রায়শই তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের নীরব সংগ্রামগুলো উপেক্ষিত হয়। সমাজের চাপ, কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হওয়ার কারণে নারীরা মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং বিষন্নতায় বেশি ভোগেন।অনেক সমাজে আজও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা হয় না। যা নারীদের সাহায্য চাইতে বাধা দেয়। শক্তিশালী নারী হওয়ার সামাজিক প্রত্যাশা তাদের ভেতরের কষ্টকে আড়াল করে রাখে। এই নারী দিবসে আমাদের উচিত এই নীরব সংগ্রামকে প্রকাশ্যে আনা।আমাদের এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে নারীরা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সকলের জন্য সহজলভ্য করতে হবে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। একজন নারী শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার পাশাপাশি মানসিকভাবেও যেন সুস্থ থাকেন। তা নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। কারণ একজন সুস্থ মনের নারীই একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তি।

জুন ০৭, ২০২৫
নিবন্ধ

গল্প হলেও সত্যি কি? (অন্তিম পর্ব )

ঐশী নিজের গল্প শেষ করলো, সৈকত এতক্ষন মন্ত্র মুগ্ধের মত গল্পটি শুনছিল, এবার সে বললো, ব্যাপারে, এবারের সফরটা মনে থেকে যাবে, যা একটা গল্প শোনালেন। একই গল্পে এই ধরণের অসুখ আর নরখাদক, এখনো ভাবতে পারছিনা আমি ঠিক কি শুনে নিলাম ,সেরা লেখেন আপনি। এই গল্প বেস্ট সেলার হবেই মিলিয়ে নেবেন আপনি।ঐশী: ধন্যবাদ।সৈকত: আচ্ছা । গল্পটা বই আকারে কবে পাবো ?ঐশী: আসা করি খুব তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবেন।দেখতে দেখতে কেটে গেলো সেদিনের রাত, পরেরদিন বিকালে দুরন্ত এক্সপ্রেস এসে থামলো যশবন্তপুর স্টেশনে। সবার মতোই সৈকত আর ঐশীও নিজেদের লাগেজ নিয়ে ট্রেন থেকে বেরিয়ে এলো। সৈকত: আচ্ছা আপনার বোন কই ?ঐশী: চলুন দেখা করিয়ে দি, বাইরে আছে ওরা।সৈকত ঐশী স্টেশন এর বাইরে বেরোতেই একটা মেয়ে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো ঐশীকে। ঐশী সৈকতের দিকে তাকিয়ে বললো, এই যে তিথি।সৈকত: Hi তিথি ! Nice to meet you.তিথি সৈকতের দিকে তাকিয়ে বললো, same to you, আপনি ?ঐশী: আমার নতুন বন্ধু। ট্রেনে দেখা হলো, তোর গল্প বলতে বলতে এতদূর চলে এলাম।তিথি: oo wow. New friend ! নাম কি এই নতুন বন্ধুর ?সৈকত: সৈকত সেন, পেশায় সাংবাদিক।তিথি: আমি তিথি পেশায় নার্স।সৈকত: great তিথি ম্যাম।তিথি: আমাদের বাড়ি পর্যন্ত যেতে হবে কিন্তু।সৈকত কিছু একটা বলতেই যাবে এমন সময় কেও একজন বলে উঠল, আজকে হবেনা, ওনাকে অন্যদিন আসতে বলিস।সৈকত দেখলো তিথির পিছনে বছর ৩৫ এর এক মহিলা, চেহারা দেখে মনে হচ্ছে হয় তিনি খেলাধুলার সাথে যুক্ত নাহলে পুলিশ। তিথি বললো: কিন্তু দিদি কেনো?মহিলাটি বললেন: আজকে বাড়িতে একটু অসুবিধা আছে রে।সৈকত: আচ্ছা তিথি অন্য কোনো একদিন আসা যাবে নাহয়।ঐশী: ও আমাদের তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় বোন প্রিয়া। তিথির সাথে ও চলে এসেছিল এখানে। আগে পুলিশ ছিল, এখন সেচ্ছাবসর নিয়েছে।সৈকত: আচ্ছা তাহলে এবার আমি আসি, দেখি ট্যাক্সি কোথায় পাই!ঐশী: বাই।তিথি: বাই দাদা।সৈকত: বাই ঐশী, বাই তিথি।সৈকত দেখলো প্রিয়ার চোখে যেনো তার প্রতি এক রাশ অবিশ্বাস, সৈকত অবশ্য বেশি ভাবলনা, পুলিশ ছিল হয়ত সেই জন্যই শুরুতেই কাওকে বিশ্বাস করতে পারেন না নিজেকে এই সান্তনা দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো সে।সৈকত বাইরে বেরিয়ে একটা টাক্সি করে নিল। একটা হোটেল আগেই বুক করে রাখা আছে, ওখানেই গিয়ে উঠবে সে। টাক্সিতে যেতে যেতে ঐশীর বলা গল্পটা তার মনে পড়তে থাকলো। কি সুন্দর গল্প লেখে আর বলে মেয়েটা, সত্যিই সে ফ্যান হয়ে গেছে ঐশীর। হটাৎ তার মনে একটা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো, আচ্ছা তিথী মানসিক রোগী ছিল, তিথী অনেক বছর ছিলনা এদের সাথে, সেখানে খেতেও নাকি পেতোনা ঠিক করে..... এদিকে ওর বড়দিদি একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন যিনি শ্রেয়ার মতই সেচ্চাবসর নিয়েছেন। ঐশী নিজেই গার্গীর মতই মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ। আজ থেকে কয়েক বছর আগে মালদায় একটা এইরকম সিরিয়াল কিলিং এর ঘটনাও ঘটেছিল, তাহলে কি ঐশী নিজের জীবনের গল্পই এইভাবে তাকে বলে দিলো?সৈকত ফোন করলো নিজের বন্ধু এবং বর্তমান লালবাজারের ACP সুবীরকে । সুবীর ফোন ধরতেই সৈকত প্রথম প্রশ্ন করলো, আচ্ছা সুবীর , মালদায় আজ থেকে ৫ বছর আগে যে মানুষ গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে কি ACP সুদীপ সেন নিখোঁজ হয়েছিলেন না মারা গিয়েছিলেন ?সুবীর: জানা যায়নি , তবে যতদূর শুনেছি উনিও গায়েব হয়েছিলেন বডি পাওয়া যায়নি বলেই তোদের ফ্যামিলির হাতে দাদাকে তুলে দেওয়া যায়নি। আর অস্বাভাবিক ভাবেই তোর দাদার পর আর কেও গায়েব হয়নি।সৈকত: আমি জানতে পেরে গেছি সুবীর, কে ছিলো আসলে এইসব মানুষ দের গায়েব হওয়ার পিছনে?সুবীর: কি বলছিস ?সৈকত: যা বলছি ঠিক বলছি। আমি পেয়ে গেছি ওই রাক্ষুসী তার ঠিকানা, ও মানুষ নয়, নরখাদক যে বেচেঁ গেছে তার দুই বোনের জন্য কিন্তু আমার দাদার মৃত্যুর প্রতিশোধ আমি নেবোই।হটাৎ এইসময় সৈকতের ট্যাক্সি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গিয়ে ধাক্কা মারে আর একটা গাড়িকে, সৈকত বুঝে ওঠার আগেই গাড়ির ফ্রন্ট সিটে সজোরে ধাক্কা খেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে।২ মাস পর:আদ্রিতা: ডক্টর কি বুঝছেন ? ও ঠিক হয়ে যাবে তো?ডক্টর চৌধুরী: দেখুন ম্যাম সৈকতের শারীরিক সমস্যা সমাধান তো ডক্টর উদয়ন দাস করেই দিয়েছেন কিন্তু সৈকতের মানসিক সমস্যার সমাধান হতে আরো সময় লাগবে।আদ্রিতা: ওর schizophrenia আবার ফিরে এসেছে?ডক্টর চৌধুরী: ফিরে আসার জন্য কোনোদিন সে যায়নি এইরোগ থেকে মুক্তি নেই আদ্রিতা । সে থেকেই গিয়েছিল সবার অজান্তে শুধু সময় পেতেই আবার নিজের খেলা দেখিয়েছে।আদ্রিতা: কিছু কি করা যায়না? ওকে যে এই কষ্টে আর দেখতে পারিনা আমি।ডক্টর চৌধুরী: ওর দাদাই ছিল ওর সবচেয়ে কাছের বন্ধু, ওর জীবনের যেকোনো সমস্যা ওর দাদাই সমাধান করে দিত, সুদীপ এর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর থেকেই ও নানারকম গল্প ভাবতে থাকে নিজের মাথায়, ভেবে নিতে থাকে সেই সমস্ত চরিত্র যারা হয়ত সত্যি নেই এই দুনিয়ায় কোথাও । ও সেই চরিত্রগুলোকে মেরে নিজের দাদার মৃত্যুর প্রতিশোধ তোলে। এর আগেও বহুবার ও এইরকম করেছে, এবারেও একই কাজ করলো আর ওর মধ্যে এই জিনিষ তখনই দেখা যায় যখন ও নিজেকে একা মনে করে। যেমন এবারের ট্রেন জার্নি র সময় ওই বার্থে যার আসার কথা ছিল সে আসেইনি, পুরো রাস্তা সৈকত একা একা কাটিয়েছে আর ভেবে নিয়েছে একটা গল্প। এখন ও আবার ঠিক আছে কিন্তু যখনই ও আবার নিজেকে একা মনে করবে তখনই আবার এই রোগ জাকিয়ে বসবে, আদ্রিতা, তুমি ওর স্ত্রী তোমাকেই দায়িত্ত্ব নিতে হবে যাতে ও কোনোদিন নিজেকে একা অনুভব না করে, সবসময় ওর সাথে থাকতে হবে তোমাকে। পারলে তুমিই পারবে ওকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে।আদ্রিতা: আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো স্যার, আমি চেষ্টা করবো যাতে সৈকতের মনে বেড়ে ওঠা এই মিথ্যা গল্প গুলো দূর হয়ে যায় আর ও সত্যি দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে পারে।এমনসময় কেবিনে এলো সৈকত, আদ্রিতা, তুমি আমায় যে এখানে কেন আনো, সেই সিডেটিভ দিয়ে কি কি বলিয়ে নেয় আমাকে দিয়ে।সৈকত আরো কিছু বলতেই যাচ্ছিলো, কিন্তু আদ্রিতা সুযোগ দিলো, উঠে দাঁড়িয়ে জড়িয়ে ধরলো ওকে আর কানের মধ্যে বললো, শান্ত হও সৈকত, আমি আছি তো তোমার সাথে সবসময়, তোমার বেস্টফ্রেন্ড। ~সমাপ্ত~লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী। (Sayantan Goswami)

মে ০৯, ২০২৫
নিবন্ধ

গল্প হলেও সত্যি কি? (তৃতীয় পর্ব )

তন্ময় থানায় ঢুকলো আর সোজাসুজি শ্রেয়ার কেবিনে এসে ঢুকলো, তখনও শ্রেয়া মন দিয়ে ওই কানের দুলটা দেখছিলো, তন্ময় ঢুকতেই সে সেটা টেবিলের উপরেই রেখে দিলো আর উঠে দাঁড়ালো সম্মানের খাতিরে।তন্ময়: আরে বসে পড়ো, এই মুহূর্তে তুমি লিডার।শ্রেয়া: কিন্তু স্যার আপনি তো আমার সিনিয়র।তন্ময়: সেসব পরে হবে, আগে আমার কিছু কথা আছে। বসো বলছি। শ্রেয়া চেয়ারে বসলো আর সামনেরটায় তন্ময়, তুমি হয়তো জানো না আমি তোমার দিদিকে ভালোবাসি। শ্রেয়া: জানি স্যার। ও আমায় সবই বলে।তন্ময়: জানো? তবে বলোনি কেন?শ্রেয়া: কারণ আমি চেয়েছিলাম দিদিই আমার পরিচয় দিক।তন্ময়: সব যখন জানাজানি হয়েই গেছে তখন আমি কি তোমাদের ওই দুজনের পরিবারে তৃতীয় সদস্য হতে পারি?শ্রেয়া: আমি আপনাকে নিজেই দাদার মতোই দেখি। তন্ময়: এদিকে আপনি বলে যাচ্চো। আজ থেকে তুমি বলবে আমায়।শ্রেয়া: আচ্ছা তাই হবে।তন্ময়: আর শ্রেয়া আর একটা ব্যাপার, নাহ থাক কাল বলবো, আগে আমি নিজে শিওর হই। চলো এবার নিজের ঘরে যাও, রাত হয়েছে অনেক।শ্রেয়া: আজ স্যার আবার পাহারায় বসেছে, আমি কি করে বাড়ি যাই। তন্ময়: বিগত দুদিন আমি বিশ্রাম নিয়েছি আজ তুমি নাও, বাড়ি যাও দিদির সাথে সময় কাটাও। কথা দিচ্ছি আমি ওই রাস্কেলকে ধরেই ছাড়বো।তন্ময় রাতের ডিনারটা সেরে নিলো থানার পাশের হোটেলটায়, এবার ওকে বেরোতে হবে রাতের এই শহরে টহল দিতে। ঠান্ডাটাও বেশ বেড়ে গেছে, বাইরে এখন ৬ ডিগ্রী। রাস্তায় বেরিয়ে একবার ভাবলো গার্গীকে ফোন করবে, এমন সময় তন্ময়ের ফোন নিজেই বেজে উঠলো, মৃদুল ফোন করেছে।তন্ময় ফোন ধরতেই শুনতে পেলো, স্যার বাঁচান আমায়! স্যার আমাকে মেরে ফেলবে..... স্যার!একটা প্রবল আর্তনাদে ফোন টা কেটে গেলো। তন্ময়ের বুক কাপছে, তাহলে কি মৃদুল আজকে শিকার হলো। তন্ময়ের আর ভাবার সময় নেই সে নিজের পিস্তল হাতে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে পড়লো। রাতের অন্ধকার আর নিঃস্তব্ধ হাড় হিম করা পরিবেশ যে কোনো কারোর বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিতে বাধ্য। কিন্তু আজকে তন্ময়কে ওই অপরাধীর শেষ দেখতেই হবে ,আর নয়। তন্ময়ের জীপ রাতের অন্ধকার ভেদ করে এগিয়ে চলেছে, কিন্তু কই ? কোথাও কিছু নেই। তন্ময় নিজের জীবনে এত জটিল কেস কোনোদিন দেখেনি। এই কেস টার উপর সে জীবনের সবচেয়ে সময় খরচ করে ফেলেছে। এইসব ভাবতে ভাবতে সে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল হটাৎ তার গাড়ির সামনে এসে পড়ল গার্গী। সে সজোরে ব্রেক কষে গাড়িটা কোনমতে থামলো। গার্গী প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে, সে তন্ময়কে দেখতেই তার কাছে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলো। তন্ময় জিজ্ঞেস করলো, কি হয়েছে?গার্গী: একটা বিভৎস দেখতে জন্তু আমার সামনে একটা লোককে মেরে খেয়ে ফেললো, এখন এখান থেকে তাড়াতাড়ি চলো নাহলে আমিও মরে যাবো।তন্ময়: আমি আছি তো। চলো আমিও দেখতে চাই পশুটাকে।গার্গী: প্লিজ তন্ময় চলো এখান থেকে।তন্ময়: গার্গী আমি এই কেসটার জন্য নিজের সম্মান হারিয়েছি আমি ওই জন্তুটাকে ছাড়বোনা। কোনো মতেই না।গার্গী: তন্ময় , প্লিজ তুমি পরেও তদন্ত করতে পারবে কিন্তু আজকে না। আমি দেখেছি কিরকম ভয়ানক ছিল ওর চোখ গুলো ।তন্ময়: এই জীপ টা নিয়ে এখান থেকে চলে যাও।আমি ওই পশুটাকে না দেখে যাবো না কোনোভাবেই।গার্গী: আমি তোমাকে একা ফেলে এখন থেকে কোনো ভাবেই যেতে পারিনা।তন্ময়: এটা আমার অর্ডার গার্গী। তুমি এখনই বেরিয়ে যাও এখান থেকে। আজকে আমি কোনোভাবেই যেতে পারবনা এখান থেকে।এই বলে তন্ময় এগিয়ে যেতে থাকলো সামনের দিকে, হাতে স্রেফ একটা পিস্তল। পিছনে না দেখলেও সে বুঝতে পারলো তার পিছনে পিছনে গার্গী আসছে। সে আবার বললো, গার্গী যাও এখান থেকে।কিন্তু কোনো সাড়া পেলনা। সে আবার বললো, গার্গী আমার কথা কি তুমি বুঝতে পারছনা? যাও এখান থেকে। তুমি থাকলে আমার কাজের অসুবিধা হবে। এবারেও কোনো উত্তর এলোনা। তোমার সাথে সাথে আমারও বিপদ বাড়বে, প্লিজ যাও।কিন্তু এবারেও কোনো উত্তর এলোনা।তন্ময় বিরক্ত হয়ে পিছন ফিরে তাকালো, কিন্তু যা দেখলো সেটা সে কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। হতবাক হয়ে সে শুধু দাড়িয়ে রইলো, যেনো নিজের সমস্ত শক্তি এক মুহুর্তের মধ্যে সে হারিয়ে ফেলেছে।তন্ময় দেখছে তার সামনে দাড়িয়ে শ্রেয়া, মুখে রক্ত, হাতেও রক্ত লেগে। তন্ময় বুঝতে পারলনা ব্যাপারটা। প্রথমে ভাবলো হয়তো শ্রেয়া কোনোভাবে আহত হয়েছে কিন্তু তারপরেই মনে হলো এই রক্ত শ্রেয়ার শরীরের নয় বরং এই রক্ত অন্যকারোর । তন্ময় বলে উঠলো, শ্রেয়া এটা কি?? তুমি এই অবস্থায়?? কি করেছ তুমি?শ্রেয়া বড়ই অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে তন্ময়ের দিকে,কোনো কথা বলছেনা। শুধু মুখ দিয়ে গোঙানির শব্দ হচ্ছে। হটাৎ শ্রেয়া জাপিয়ে পড়লো তন্ময়ের উপর। বড়ই হিংস্র তার দৃষ্টি, সে তন্ময়ের ঘাড়ে কামড় বসানোর চেষ্টায় রয়েছে সে, শুরু হলো ধস্তাধস্তি। দুজনেই দুজনকে সমানে সমানে পাল্লা দিয়ে চলেছে, সবে আজকের শ্রেয়াকে দেখলে চেনার উপায় নেই এই শ্রেয়াই সেই পুলিশ অফিসার যে দিনেরবেলায় সবার রক্ষাকর্তী আর রাতের অন্ধকারে আজ সে হয়ে উঠেছে এক পিশাচিনী । তন্ময় বহু কষ্টে শ্রেয়া লাথ মেরে দূরে ফেলে দিলো আর হাতড়ে নিজের পিস্তলটা মাটি থেকে হাতে তুলে নিল । আর তারপরেই সোজা উঠে দাঁড়িয়ে পিস্তল তাক করলো শ্রেয়ার দিকে, শ্রেয়া হিংস্র গর্জন করেই চলেছে।এখন শ্রেয়া তন্ময়ের গান পয়েন্টে। তন্ময় গুলি চালাতে যাবে এমন সময় কেও একজন সজোরে তন্ময়ের মাথায় পিছন থেকে মারলো কোনো রড জাতীয় পদার্থ দিয়ে। তন্ময় জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লো মাটিতে ।যখন তন্ময়ের জ্ঞান ফিরলো তখন সে একটা ঘরে আধ শোয়া অবস্থায় পড়ে আছে। সে বুঝল তার হাত পা বাঁধা। সে চিৎকার করে উঠলো, শ্রেয়া এইগুলো কি ধরনের অসভ্যতা। তুমি জানো না আমি কে! আমি কি করতে পারি তোমার সাথেএমন সময় তন্ময়কে অবাক করে দিয়ে দরজা দিয়ে ঢুকলো গার্গী।তন্ময়: গার্গী তুমি?? শ্রেয়া কি তোমার সাথেও কিছু করেছে?? উত্তর দাও গার্গী। কোথায় সেই বিশ্বাসঘাতক? আমার হাত পা টা খুলে দাও একবার তারপর ওকে দেখছি আমি।গার্গী: তন্ময় ক্ষমা করো কিন্তু শ্রেয়া বিশ্বাসঘাতক নয়।তন্ময়: মানে? কি বলছো কি তুমি ?গার্গী: তোমার সাথে বিশ্বাসঘাকতায় আমি জড়িত।তন্ময় হতবাক হয়ে গেলো, তার মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছে না। এদিকে গার্গী বলে চললো, শ্রেয়া মানসিক ভারসম্যহীন। ওর মধ্যে একধরণের অদ্ভুত অসুখ আছে যেটা দেখা দেয় কয়েক বছর আগে একটা কেস সল্ভ করতে গিয়ে।তন্ময়: তুমি কি বলতে চাইছো ? কোন কেস?গার্গী: দাড়াও আমাকে শেষ করতে দাও। আমার কথা শেষ হলেই তুমি সব বুঝে যাবে। ওটা ছিল দুর্গাপুরের কেস। ওটা সল্ভ করার পর থেকেই ওর মধ্যে একটা পরিবর্তন আমি লক্ষ্য করেছিলাম। ধীরে ধীরে পরিস্থতি এমন হয় যে ওর মধ্যে দুটো সত্তা জেগে ওঠে, ১. সারাদিন সবার চোখের সামনে একজন কর্তব্যরতা পুলিশ কর্মী যে মানুষের সেবা করে, মানুষকে সুরক্ষা প্রদান করে আর ২. রাত বাড়লেই সেই পুলিশ কর্মী হয়ে যায় একজন নরখাদক। হ্যাঁ তন্ময় তুমি ঠিকই শুনছো ওই সেই নরখাদক, সেই জন্তু। আমি জানতাম না গোটা ঘটনাটা , এই মাত্র কয়েকদিন আগেই সমস্ত জানতে পারি আর ভাবতে থাকি কিভাবে শ্রেয়া কে না জানিয়ে শ্রেয়ার মধ্যে থেকে সেই নরখাদক কে শেষ করবো। শ্রেয়া যে আমার নিজের বোন, ওকে আমি মরতে দিতে পারিনা।তন্ময়: কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব?গার্গী: সেটা আমিও বুঝিনি তন্ময়। কয়েকমাস আগে আমাদের গুদাম ঘরে যখন একটা লোকের আধ খাওয়া দেহ পেলাম তখন বুঝলাম আমার বোন রাতে পাহাড়া নয় বরং শিকারের খোঁজে বেরিয়ে যায়। আমি খোঁজ নিলাম, ডক্টর মাথুরের সাথে কনসাল্ট করলাম আর উনিই শ্রেয়ার অজান্তেই ওর অবচেতন মনের সব কথা বের করে এনে। শ্রেয়া একজন সৎ পুলিশ অফিসার কিন্তু ওর মনের কোনো এক গভীরে লুকিয়ে আছে ওই নরখাদক সত্ত্বা। ও এখনো ট্রিটমেন্টে রয়েছে। আর অবাক বিষয় গার্গী নিজেই জানেনা ও রাতের অন্ধকারে এইসব করে বেড়ায়। ও আমার কানের দুল পর্যন্ত খুঁজে পেয়েছে খুনের জায়গায় আর ভাবছে আমি নাকি খুন গুলো করছি।তন্ময়: কিছুই মাথায় ঢুকছেনা আমার ঠিক। এসব কি হচ্ছে কেন হচ্ছে? এসব সত্যিই হচ্ছে?গার্গী: হচ্ছে তন্ময়, হচ্ছে। ডক্টর মাথুর বলেছেন ওই দুর্গাপুরের কেস সলভ করতে গিয়ে যখন প্রায় ১৫ দিন শ্রেয়া ওদের হাতে বন্দি হয়েছিল তখন ওকে প্রতিরাতে এই মানুষের মাংস খেতে দেওয়া হতো। পেটের খিদে মেটাতে ওকে খেতেও হয়েছে সেসব আর অবশেষে যখন ওকে খুঁজতে খুঁজতে পুলিশ মূল অপরাধী পর্যন্ত পৌছালো ততদিনে বোন আমার মানুষের মাংসের স্বাদ পেয়ে গেছে।তন্ময়: গার্গী আমকে খুলে দাও। আমি কথা দিচ্ছি আমি তোমায় সাহায্য করবো। আর এই কথা তুমি আর আমি ছাড়া কেও জানবে না। ট্রাস্ট মি!গার্গী: আমি তোমায় বিশ্বাস করি তন্ময়, ভালোবাসি, প্লিজ আমার আর আমার বোনের পাশে থেকো। গার্গী তন্ময়ের সমস্ত বাঁধন খুলে দেয়, কিন্তু তন্ময় নিজেই ছিল বিশ্বাসঘাতক, সে নিজের সাফল্যের জন্য সব করতে পারে, নিজে বাঁধন মুক্ত হতেই সে পাশে পরে থাকা লাঠি দিয়ে গার্গীর মাথায় সজোরে আঘাত করে। গার্গী লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।তন্ময় বলে, সরি গার্গী, আমি তোমায় ভালোবাসি ঠিকই কিন্তু এই কেসটায় আমায় জিততেই হবে।তন্ময় ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে আসে আর মূল বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওই গুদাম ঘরটায় যায়, ঘরে ঢুকে দেখে সামনে দাড়িয়ে শ্রেয়া। তন্ময় বলে ওঠে, শ্রেয়া সারেন্ডার করো, নাহলে এখনই আমি কিন্তু.... এক্ষুনি ফায়ার করবো।শ্রেয়া অতি ক্রুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তন্ময়ের দিকে আর ক্রমাগত গর্জন করতেই থাকে। এরপরের শ্রেয়া ছুটে আসে তন্ময়ের দিকে, তন্ময় একটা গুলি চালায় শ্রেয়ার হাতকে লক্ষ্য করে, কিন্তু সেটা লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়। শ্রেয়া দৌড়ে এসে তন্ময়ের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। শুরু হয় আবার লড়াই, তন্ময় আপ্রাণ চেষ্টা করে শ্রেয়াকে বাগে আনার কিন্তু শ্রেয়া যেন আরো বেশি শক্তিশালী এবারে। তাও তন্ময় কোনোভাবে শ্রেয়াকে দূরে ছুড়ে ফেলে আর পিস্তল তুলে নিয়ে গুলি চালাতে যায়, কিন্তু একি গুলি কোই?শ্রেয়া আবারো উঠে ওর দিকে দৌড়ে আসে, বিপদ বুঝে তন্ময় পালাতে যায় কিন্তু পা পিছলে মাটিতে পরে যায়, সাথে সাথেই শ্রেয়া ওর উপর ঝাঁপিয়ে পরে, তবে এবার আর তন্ময় কোনো প্রতিরোধের সুযোগটুকু পায়না, শ্রেয়া তন্ময়ের নুলি ছিঁড়ে ফেলে।২ মাস পর: তন্ময়ের মৃত্যুর পর গোটা ডিপার্টমেন্ট হাল ছেড়ে দেয়, শ্রেয়া নিজের ব্যার্থতার বোঝা মাথায় নিয়ে চাকরি ছেড়ে দেয় আর চলে যায় মুম্বাই, সেখানে তার কোনো এক কাকা আছেন। অবশ্য তাকে জোর করেই মুম্বাই পাঠায় গার্গী, সেখানে শ্রেয়ার ট্রিটমেন্ট করায় তার কাকা। গার্গী চাইলে নিজের বোনের ট্রিটমেন্ট করতেই পারতো কিন্তু সে চায়নি পুলিশ কোনোভাবে তার বোনকে সন্দেহ করুক। প্রায় ৬ মাসের ট্রিটমেন্টের পর শ্রেয়ার ভিতরের নরখাদক সত্তা সম্পূর্ণরূপে লোপ পায় শ্রেয়ার অজান্তেই আর এইভাবেই শেষ হয় জলপাইগুঁড়ির আতঙ্ক।ক্রমশ...... (পরের পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী। (Sayantan Goswami)

এপ্রিল ২৭, ২০২৫
নিবন্ধ

গল্প হলেও সত্যি কি? (দ্বিতীয় পর্ব )

প্রতিদিনের মতোই আজও তন্ময় এসে বসেছে নিজের চেয়ারে আর দেখে চলেছে একের পর এক ফাইল, তার ভিতরে একই সাথে অস্বস্তি আর রাগের অনুভূতি হচ্ছে।অস্বস্তি এটা ভেবে যে সে কিছুতেই কোনো সন্দেহভাজন ধরতেই পারছেনা আর রাগ এটা ভেবে এই শ্রেয়ার আগে তার মাথায় এই গোটা এক সপ্তাহ রাত ৮টা -ভোর ৫টা কারফিউ জারি রাখার কথা। মেয়েটা এই রাতের অন্ধকারে ফাঁকা রাস্তায় নিজেরই লোক সাজিয়ে রেখেছে চারিদিকে। অপরাধী শিকার দেখে যদি লোভে পরে এগিয়ে আসে তো কিস্তিমাত।এমনসময় প্রায় হন্তদন্ত হয়ে ভিতরে এসে অমিত বাবু বললেন, ম্যাম, কাল রাত থেকে সুবীর বাবুকে পাওয়া যাচ্ছিলোনা, আজ সকালে মনিস্ট্রির সামনে ওনার জামা কাপড় আর আধ খাওয়া শরীর পাওয়া গেছে।কথা বলতে গিয়ে অমিত বাবু যেন হাপিয়ে উঠছেন, ভয় তার চোখে মুখে স্পষ্ট। ম্যাম এটা কোনো মানুষের কাজ হতেই পারেনা, এটা কোনো না কোনো জন্তুর কাজ।শ্রেয়া: জন্তু? এই শহরের মাঝে? কি করে আসবে? আর আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা কি বলছে?অমিত: ম্যাম কোনো সিসিটিভিতে কিছু ধরা পড়েনি, শুধু দেখা যাচ্ছে সুধীর একটু এগিয়ে গেলো সামনে একটা কফি সপের দিকে, তারপর হটাৎ ওর চিৎকার, ব্যাস, তারপর আর কোনো ফুটেজ নেই ম্যাম।শ্রেয়া: কোনো সিরিয়াল কিলার? কিন্তু সে মানুষের মাংস কেন খাবে?তন্ময় এবার বলে উঠলো, খেতেই পারে, হতে পারে সে ক্যানিব্যাল, বা হতে পারে তার কোনো পোষা জন্তু আছে যে মানুষের মাংস খায় রাতের অন্ধকারে।শ্রেয়া: মানে স্যার আপনি বলছেন আমাদের শহরে নরখাদক ঘুরে বেড়াচ্ছে?তন্ময়: শুধু নড়খাদক বলিনি শ্রেয়া, কোনো মানুষের পোষা হিংস্র জন্তুও হতে পারে, তুমি বোধহয় পুরোটা শুনলেনা, এভাবে কিন্তু নিজের জায়গা বেশিদিন ধরে রাখা চাপ।শ্রেয়া আর কথা বাড়ালোনা তন্ময়ের সাথে, সে জানে তন্ময় মেনেই নিতে পারেনা তার জুনিয়র তাকে লিড করছে এই কেসে, আর তাই মুহূর্তে মুহূর্তে তাকে ক্ষত বিক্ষত করে কথার বানে।তন্ময় আর দেরি না করে বেরিয়ে পড়লো ক্যাফেটেরিয়ার উদ্দেশ্যে, আজ সে ঠিক করে নিয়েছে গার্গীকে সে প্রপোজ করবে। একমাত্র গার্গীই পারে তাকে ভালোবাসতে আর ভালো রাখতে।শ্রেয়া বেরিয়ে পড়লো নিজের তদন্তের খোঁজে, সে তন্ময়কে বেরিয়ে যেতে দেখে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো, এই লোকটা থাকলে তার তদন্তের কোনো কাজই করা সম্ভব হবেনা। শ্রেয়া সুমন্তকে বললো, জিপ বের করো, ঘটনাস্থলে যাওয়া দরকার আগে।প্রায় ২০ মিনিট পর মনিস্ট্রির সামনে এসে থামলো জিপ, শ্রেয়া নেমে এলো, বডি নিয়ে যাওয়া হয়েছে পোস্টমর্টেম করতে। শ্রেয়া চারিদিক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে চলেছে, এগিয়ে যাচ্ছে সামনের সেই কফিসপের দিকে। নাহ খুনি যেন কোনো প্রমান ছেড়েই রাখেনি। এতো সুন্দরভাবে গুছিয়ে ক্রাইম কি একজনের পক্ষে সম্ভব?সুমন্ত: ম্যাম ইনি কিছু বলতে চান।শ্রেয়া নিজের খেয়াল থেকে বেরিয়ে এলো, তার সামনে দাঁড়িয়ে একজন বেশ বয়স্ক লোক এই ঠান্ডায় কেঁপে চলেছেন, শ্রেয়া, কিছু দেখেছেন?লোকটা ভয়ে কিছু বলতে পারছেন না, শুধু পকেট থেকে বের করে দিলেন একটা কানের দুল আর কাপা স্বরে বলে উঠলো, কাল রাতে ওই পুলিশ অফিসারকে......নাহ আর পারলোনা লোকটা, বোধহয় ওই ভয়ানক দৃশ্যটা মনে পরে গেলো, শ্রেয়া , সুমন্ত এনাকে নজর রেখো, আর আপনি আমার অর্ডার ছাড়া এই জায়গা ছাড়বেন না।শ্রেয়া এবার কানের দুলটা আরো ভালো করে দেখলো, চোখের মুখে একটা অন্যরকম যেন ভয়ের আভাস স্পষ্ট, তাহলে কি স্যার যেটা বললেন সেটাই ঠিক?তন্ময়ের অনেক অনুরোধে শেষমেষ নিজের কাজ শেষ করে ক্যাফেটেরিয়ায় এসেছে আজ গার্গী, কিন্তু তার মন যেন এখানে নেই। তন্ময় অবশ্য প্রতিদিনের মতোই গার্গীকে নিজের মনের কথা, ভালোবাসার কথা বলেই চলেছে, তবে একটা সময়ের পর তন্ময়ের মনে হলো সে যেন কেবলই দেয়ালের সাথে কথা বলে যাচ্ছে কারণ গার্গী তো পাত্তাই দিচ্ছেনা তার মনের অবস্থাকে।তন্ময়: গার্গী তোমাকে আজকে কিরকম আনমনা মনে হচ্ছে ! সব ঠিক আছে তো ?গার্গী: কি?তন্ময়: তুমি ঠিক আছো?গার্গী: ঠিক না থাকার কি আছে?তন্ময়: তাহলে এইরকম লাগছে কেনো তোমায় ??গার্গী: কিরকম লাগছে?তন্ময়: পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেওয়া এত সহজ নয় ম্যাম। আপনি কিছু একটা লুকাচ্ছেন মিস ডক্টর।গার্গী: এই পুলিশগিরি বাইরে করবে আমার সাথে করতে এসো না, আর তাছাড়াও আমার অনেক কাজ আছে তন্ময়, তোমার জন্য চেম্বার ছেড়ে এসেছি।তন্ময়: আহা রেগে যাও কেন, তুমি ছাড়া আর কে আছে বলো যার কাছে একটু সময় চাইতে পারি।গার্গী: দেখো তন্ময়, তোমায় আমি অবশ্যই পছন্দ করি, তুমি তোমার বাবা মা, ভাই বোন, তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড সবার ব্যাপারে নিজেই বলেছো কিন্তু আমায় জিজ্ঞেস করেছো কোনোদিনও আমার পরিবারে কে থাকে? আমি কিভাবে বড়ো হয়েছি? আমায় কি কি সহ্য করতে হয়েছে? তন্ময় তুমি বলো তুমি আমায় ভালোবাসো অথচ তুমি তোমার ভালোবাসার কোনো খবর রাখো না উল্টে তুমি এমন ব্যবহার করো যেন মনে হয় চেম্বারের বাইরেও আমি কারোর কাউন্সেলিং করছি।তন্ময়: সরি গার্গী, আমি এর আগে কখনো প্রেম করিনি, তাই আমি অনেক ভুল করেছি, কিন্তু বিশ্বাস করো, আমি তোমায় ভালোবাসি। আজ তুমি বলো তোমার পরিবারের ব্যাপারে, তোমায় বিয়ে করতে হলে তো তাদেরকে আগে চিনতে হবে, তবে না গিয়ে বলতে পারবো আমি আপনার মেয়েকে ভালোবাসি, ওকে নিজের করতে চাই।গার্গী: আমার বাবা মা কেও নেই, আজ থেকে ৫ বছর আগে একটা এক্সিডেন্টে দুজনেই....!তন্ময়: সো সরি, তাহলে তোমার পরিবার?গার্গী: আমার পরিবার একজনকে নিয়েই আমার বোন। আর আমার বোন হলো শ্রেয়া, ইন্সপেক্টর শ্রেয়া, যাকে তুমি একদমই সহ্য করতে পারোনা।তন্ময় চমকে গেলো এই কথাটা শুনে, শ্রেয়া তোমার বোন?গার্গী: আজ্ঞে হ্যাঁ, ও আমারই বোন, যতবার তোমায় বলতে গেছি তুমি কথা ঘুরিয়ে দিয়েছো। এবার বলো, শ্রেয়ার দিদির সাথে প্রেম করবে? ও ছাড়া কিন্তু আমার কেও নেই, আমি ওর কেও নেই তাই আমরা কিন্তু যেখানেই থাকবো একসাথে থাকবো। তন্ময়: আজ থেকে আছে তো, আমি আছি তোমাদের দুজনের জন্য আর তোমরা দুজন আমার জন্য।গার্গী: সত্যি বলছো তন্ময়?তন্ময়: সত্যি সত্যি সত্যি, তিন সত্যি। এবার তো একটু হাসুন ম্যাম, আপনার ওই হাসি দেখার জন্য যে আমি প্রাণও দিতে পারি। গার্গী: থাক অনেক হয়েছে, এবার যাও নিজের কাজে আর আমাকেও যেতে দাও।তন্ময়: গার্গী, তুমি আমায় যতটা খারাপ ভাবো আমি কিন্তু ততটা নয়।গার্গী: তুমি খারাপ মানুষ নয় তন্ময়, কিন্তু তোমার ছোটবেলা কেটেছে একাকিত্বে, আর তাই তুমি চাইলেও নিজের আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব বদলাতে পারোনা। আর এটা নিয়ে আবার নিজেই কষ্ট পাও। তুমি মানুষ ভালো শুধু নিজেকে চিনতে পারোনা।তন্ময়: তুমি আছো তো আমায় চেনানোর জন্য। থাকবে তো এভাবেই?গার্গী: ঠিক থাকবো। এবার বরং আসি, নাহলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।তন্ময়: আচ্ছা বেশ আর আটকাবো না।এই বলে গার্গী উঠে দাঁড়ালো এবং রেস্টুরে্নট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে এগিয়ে গেলো, এরই মাঝে হটাৎ গার্গী দাঁড়িয়ে পড়লো আর বললো, তন্ময়, সাবধানে থেকো, আমি তোমায় ভালোবাসি, পারলে নিজেকে এবং শ্রেয়াকে এই কেস থেকে দূরে নিয়ে যেও, মনে করো এটাই আমার তোমার থেকে আবদার।তন্ময়: কিন্তু, এই কেসটা শ্রেয়ার জন্য খুব জরুরী।গার্গী: কারোর প্রাণের থেকে বড়ো কিছু হতে পারেনা তন্ময়।এই বলে গার্গী বেরিয়ে গেলো। গার্গী র এইরকম আচরণ তন্ময়কে বেশ অবাক করে তুললো। যে মেয়ে সবসময হাসি খুশি থাকে, যে মেয়ে তার হাসির কারণ, যে তাকে সবসময় মোটিভেট করেছে এই তদন্তে সেই কিনা আজকে এইরকম ভাবে কেস ছেড়ে দিতে বলছে ? তন্ময় ভাবলো, কি হলো, আমাকে সরিয়ে নাহয় তাও বুঝলাম নিজের বোনকে সুযোগ করে দিতে চায় কিন্তু নিজের বোনকেও সরে যেতে বলছে ?? কেনো জানিনা মনে হচ্ছে ও কিছু বড়ো একটা লুকিয়ে ফেলছে।এমন সময় তন্ময়ের ফোন টা বেজে উঠলো, তন্ময় দেখলো স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে মৃদুলের নাম। এই মৃদুল হলো তন্ময়ের অতি বিশ্বস্ত ইনফরমার, পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গা নেই যেখান থেকে এই ছেলেটা খবর বের করতে পারেনা।আজ থেকে পাঁচ বছর আগের কথা, তখন এই মৃদুল ছিল কুখ্যাত মাফিয়া আবরারের ডানহাত। বহু চেষ্টা করেও পুলিশ আবরারকে ছুঁতে পর্যন্ত পারেনি। অবশেষে কেসটা এলো তন্ময়ের হাতে। তন্ময়ও প্রায় হাল ছেড়েই দিয়েছিলো ঠিক এমন সময়ে সামনে উপস্থিত হলো মৃদুল।দিনটা ছিল এক বর্ষার, মৃদুল পুরোই ভিজে গেছে আর হাঁপাচ্ছে। তন্ময় ওকে শান্ত করে জল দেয় খেতে। তারপর মৃদুল ধীরে ধীরে সব তথ্য দেয় আবরারের আর মৃদুলের বিশ্বাসঘাতকতাই আবরারকে ধরিয়ে দেয়।আবরার ধরা পড়ার পর অবশ্য তন্ময় জানতে চেয়েছিলো কেন সে নিজের মালিকের সাথে এইরকম করলো, উত্তরে সে বলেছিলো আবরারের স্ত্রীকে সে ভালোবাসতো আর আবরার প্রতিদিন প্রতিরাত মেয়েটার উপর অত্যাচার করে বেড়াতো তাই আর সহ্য না করতে পেরে শেষমেষ সে এই সিদ্ধান্তই নেয়। এখন অবশ্য দুজনে একসাথে সুখেই আছে। মৃদুল নিজের ব্যবসাও করছে আর সাথে তন্ময়ের খবরি সে।তন্ময় ফোনটা ধরতেই মৃদুল বলে উঠলো,স্যার একটা খবর আছে!তন্ময়: কি ?মৃদুল:আজ থেকে ২ বছর আগে রানিগঞ্জে এইরকম মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল স্যার।তন্ময়: কিন্তু সেরকম তো কোনো রিপোর্ট ফাইল হয়নি!মৃদুল: হবে কিভাবে ? কারণ যারা নিখোঁজ হয়েছিল তারা সবাই গ্যাংস্টার ছিল, একটা সময় প্রায় ৫ টা গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা দখলের জন্য লড়াই করছিল কিন্তু হটাৎ একটা গোষ্ঠী ফুলে ফেঁপে ওঠে আর আর বাকি গোষ্ঠী গুলোর লোকজন যেনো ভ্যানিশ হয়ে যায় পুরো, কেও খুঁজে পায়নি তাদের।তন্ময়: সেটাতো নিজেদের মধ্যে লড়াইতে বাকিরা মারাও যেতে পারে...মৃদুল: স্যার লোক গুলো ঠিক এইভাবেই ভ্যানিশ হতো, শুধুই রক্ত আর হাড় পাওয়া যেত মাঝে মাঝে, মাঝে মাঝে সেটাও না। পুলিশ রিপোর্ট ফাইল হয়নি কারণ ওদের পরিবারের লোকেরা ভয় পেয়েছিলো।তন্ময়: আচ্ছা যে গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত টিকে গিয়েছিল তাদের নেতার নাম কি ?মৃদুল: ওয়াসিম ! কিন্তু স্যার ওয়াসিমও বেচেঁ নেই।তন্ময়:সে কি মারা গেলো কিভাবে ?মৃদুল: ওইভাবেই, একদিন ওরও রক্ত আর হাড় পাওয়া যায়। তবে এই কেস তার ইনভেস্টিগেশন করেছিল শ্রেয়া ম্যাম !তন্ময় : কি ?মৃদুল: ইয়েস স্যার! আর শেষ পর্যন্ত রণজিৎ ধরা পড়ে ম্যামের হাতে, আর জানা যায় যে এই রণজিৎ নিজে সর্বেসর্বা হওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের সমস্ত শত্রুদের মেরে কুকুরকে খাইয়ে দিত।তন্ময়: এই রণজিৎ কোথায় এখন ?মৃদুল: যেদিন এর কেস কোর্টে ওঠে সেদিন কোর্টে যাওয়ার রাস্তায় রণজিৎ সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে আর পুলিশ এনকাউন্টার করে দেয়।তন্ময়: আচ্ছা রঞ্জিতের ডেড বডির কি হয়েছিল?মৃদুল: রঞ্জিতের কোনো ফ্যামিলি ছিলনা তাই পুলিশ ওর সৎকার করেছিল।তন্ময়: কুকুর গুলোর কি হয়েছিল?মৃদুল: পুলিশ, কুকুর গুলোকে বন বিভাগের কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছিল।তন্ময়: সব কিছুই যে শেষ হয়ে বসে। ক্রিমিনাল বেচেঁ নাই। মরণাস্ত্র মানে কুকুর গুলোর পক্ষে সম্ভব নয় তাহলে এই নতুন কিলার আমদানি হলো কিভাবে ?মৃদুল: আপাতত এইটুকুই খবর পেয়েছি স্যার।তন্ময়: আচ্ছা একটা কাজ করো, আপাতত একজনের উপর নজর রাখতে হবে। ১-২ দিনেই কাজ হয়ে যাবে মনে হয়।মৃদুল: কে স্যার?তন্ময়: গার্গী চৌধুরীক্রমশ...... (পরের পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী। (Sayantan Goswami)

এপ্রিল ২০, ২০২৫
নিবন্ধ

গল্প হলেও সত্যি কি? (প্রথম পর্ব )

নিউজ রিপোর্টার সৈকত কে কর্ম সূত্রে বহু জায়গায় ছুটে বেড়াতে হয় সারা বছর, অবশ্য তার ঘুরতেও বেশ ভালই লাগে। আর লাগবে না কেনো, যখন ঘোরার টাকা সংস্থা থেকে দেওয়া হয়। ছোটো থেকেই তার লেখালেখি আর নতুন জায়গায় ভ্রমণ এই দুই ছিল সবচেয়ে বেশি পছন্দ, তাই আজ থেকে ৪ বছর আগে যখন একটা ছোটো নিউজ চ্যানেল তাকে রিপোর্টার হিসাবে সিলেক্ট করে তখন সে মাইনের কথা না ভেবেই সেখানে কাজে ঢুকে পড়ে। আজ ৪ বছর পর ভারতের অন্যতম বৃহৎ নিউজ নেটওয়ার্ক এবিপি তে সে কর্মরত।ব্যাঙ্গালোরগামী দুরন্ত এক্সপ্রেসে সে এখন একজন যাত্রী। ব্যাঙ্গালোরে প্রধান মন্ত্রীর এক বিরাট জনসভা কভার করতে তাকে পাঠানো হচ্ছে । এসি কামড়ার সাইড আপার বার্থে সিট পেয়েছে সৈকত। আর নিচে আর একজনের আসার কথা। ট্রেন হুইসেল বাজিয়ে দিয়েছে, এবার সে তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। এমন সময় প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে এক বছর ২৫-২৬ এর মহিলা ট্রেনে উঠলেন। মহিলাটি দুদিকে তাকাতে তাকাতে অবশেষে সৈকতের বার্থের সামনে এসে দাড়ালেন আর হাঁপ ছেড়ে লাগেজ গুলো বার্থের নিচে ঢুকিয়ে দিয়ে সৈকতের সামনের সিটে বসে পড়লেন।সৈকত বললো: আপনি যদি ক্লান্ত থাকেন তো আমি উপরে চলে যাচ্ছি, আপনি রেস্ট নিতে পারেন আপনার সিটে।মহিলাটি এবার সৈকতের দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললো, আরে না না ! তার কোনো দরকার নেই। আর এখনো প্রায় ২৯ ঘণ্টার জার্নি, এইতো সবে শুরু এখনই হাঁপিয়ে গেলে হয় নাকি !সৈকত: হ্যাঁ এটা অবশ্য ঠিক। বাই দা ওয়ে আমি সৈকত সেন, এবিপি নিউজ রিপোর্টার।মহিলা: Wow, thats great. Nice to meet you. আমি ঐশী সাহা, সাইকোলজিস্ট।সৈকত: মানে আপনার কাজ মানুষের মন পড়া তাইতো?ঐশী: একদমই, মানুষের মন এই পৃথিবীতে সবচেয়ে জটিল এক জিনিস, সেটা বুঝতে আলাদা পড়াশোনাই করতে হয় । অবশ্য আমি গল্পও লিখি একটু একটু।সৈকত: বেশ ভালই তো হলো তাহলে, আপনার গল্প শুনতে শুনতে রাস্তাটা পার করেই ফেলবো নাহয়।ঐশী: ভালো বললেন তো আপনি, আমিও একটা গল্প এই আজকেই লেখা শেষ করলাম, লিখতে লিখতে এতটাই বেহুস ছিলাম শেষ ৩-৪ দিন যে খেয়ালই ছিলনা আজকে ব্যাঙ্গালোর যাওয়ার টিকিট কেটে রেখেছি।সৈকত: কোনো সেমিনার আছে নাকি ব্যাঙ্গালোরে ??ঐশী: না মশাই। সম্পূর্ন নিজেস্ব কারণে যাচ্ছি!সৈকত: ও বুঝলাম।ঐশী: তো কি বুঝলেন আপনি ?সৈকত: বুঝলাম আপনার পার্সোনাল কোনো কারণ আছে, যেটা হয়তো আপনি বলতে ইচ্ছুক নন।ঐশী: ওইরকম কোনো ব্যাপারই না। আসলে আমার বোন ২ বছর চিকিৎসাধীন ছিলো। ওর মানসিক কিছু সমস্যা ছিল যেগুলো বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে লেগেছিল, শেষ পর্যন্ত আমার কাকা ব্যাঙ্গালোরের ডক্টর, ওনার চেনা একজন বন্ধুর কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। এখন সুস্থ হয়ে গেলেও আর এখানে ফিরে আসেনি, ওখানেই থেকে গেছে। ওর সাথেই দেখা করতে যাচ্ছি।সৈকত: বাহ, ভালো অনেকদিন পর বোনের সাথে দেখা করবেন।ঐশী: হ্যাঁ খুব খুশি আমি। জানেন আমার বোন তিথি এমনিতে খুব ভালোই মেয়ে ছিল, কিন্তু ওর বয়স যখন ৯-১০ তখন একদিনের ঘটনা, আমরা সবাই আমার মামাবাড়ী যাচ্ছিলাম, রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল কিন্তু হটাৎ আমরা খেয়াল করলাম তিথি আমাদের সাথে নেই। হন্যে হয়ে ওকে খুঁজলাম আমরা কিন্তু পেলাম না। প্রায় ৬ বছর পর ওকে খুঁজে পাওয়া গেলো কলকাতার একটা বস্তিতে। ওকে কিডন্যাপ করে ভিক্ষার কাজে লাগানো হয়েছিল, ওকে খেতে পর্যন্ত দিতনা ওরা। ওকে আমরা উদ্ধার করে নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু তারপর থেকেই যেনো ওর মধ্যে একটা মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। তবে আজকে ও নিজের জীবন গুছিয়ে নিয়েছে, আর আমরাও ওর জন্য খুশি। সৈকত: সত্যি, আপনারা খুব লাকি বলতে হয়। নাহলে এইভাবে কত বাচ্চা হারিয়ে যায় কোনোদিন ফিরেও আসেনা। আপনার বোন আবার নতুন ভাবে জীবন ফিরে পেয়েছে শুনে খুব ভালো লাগলো। আচ্ছা একটা গল্প শোনা গেলে ব্যাপারটা মন্দ হতোনা, এমনিতেও সন্ধ্যে প্রায় হয়ে এসেছে।ঐশী: হ্যাঁ , তাহলে আজকেই শেষ করা ক্রাইম থ্রিলারটা শোনাই ?সৈকত: হ্যাঁ, বেস্ট হবে ।ঐশী: আপনি কিন্তু গল্প প্রকাশ হওয়ার আগেই শুনে নিচ্ছেন মশাই। সৈকত: আপনার গল্পের নিখুঁত রিভিউ দেবো ম্যাডাম, চিন্তা করবেন না, গল্প বেস্ট সেলার হবে।ঐশী: ধন্যবাদ, তাহলে শুনুনঐশী শুরু করলো তার লেখা গল্প আতঙ্ক।শীতের সন্ধ্যে ঝুপ করে নেমে পড়ে, ট্রেনে যাত্রাপথে প্রাকিতিক সৌন্দর্য যেনো আরো বেড়ে উঠেছে , এর মধ্যে ঐশীর ক্রাইম থ্রিলার যেনো একটা আলাদাই পরিবেশ গড়ে তুলতে শুরু করেছে।আতঙ্ক চারিদিকে অন্ধকার, গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, দূরে কিছুজনের আর্তনাদ। তন্ময় দেখতে পাচ্ছে পৃথ্বী তার পাশেই রয়েছে আর কিছুটা দূরে ওই চারচাকা গাড়িটা দাঁড়িয়ে। এতক্ষনে আফজাল খানের সব লোকেরা প্রায় নিহত আর আফজাল খানের গাড়িটাও গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত। তন্ময় আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে পৃথ্বীকে নির্দেশ দিলো গাড়ির দরজা খুলে আহত আফজাল খানকে বের করে আনার। পৃথ্বী সেটাই করতে গেলো কিন্তু হিতে বিপরীত হলো, দরজা খোলার সাথে সাথেই পিস্তল হাতে আফজাল খান পরপর তিনটে গুলিতে পৃথ্বীকে রক্তাক্ত করে দিলো, পৃথ্বী মাটিতে লুটিয়ে পড়লো, তন্ময় ঘটনার তীব্রতায় চমকে প্রায় চিৎকার করে উঠলো আর একটা গুলি তার কাঁধে লেগে বেরিয়ে গেলো, ততক্ষনে আরো দুটো গুলি তন্ময়ের পাশ থেকে অজিত আফজাল খানকে লক্ষ্য করে মেরেছে আর তাতেই শান্ত হয়েছে আফজাল খান। অন্ধকার, গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, দূরে কিছুজনের আর্তনাদ। তন্ময় দেখতে পাচ্ছে পৃথ্বী তার পাশেই রয়েছে আর কিছুটা দূরে ওই চারচাকা গাড়িটা দাঁড়িয়ে। এতক্ষনে আফজাল খানের সব লোকেরা প্রায় নিহত আর আফজাল খানের গাড়িটাও গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত। তন্ময় আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে পৃথ্বীকে নির্দেশ দিলো গাড়ির দরজা খুলে আহত আফজাল খানকে বের করে আনার। পৃথ্বী সেটাই করতে গেলো কিন্তু হিতে বিপরীত হলো, দরজা খোলার সাথে সাথেই পিস্তল হাতে আফজাল খান পরপর তিনটে গুলিতে পৃথ্বীকে রক্তাক্ত করে দিলো, পৃথ্বী মাটিতে লুটিয়ে পড়লো, তন্ময় ঘটনার তীব্রতায় চমকে প্রায় চিৎকার করে উঠলো আর একটা গুলি তার কাঁধে লেগে বেরিয়ে গেলো, ততক্ষনে আরো দুটো গুলি তন্ময়ের পাশ থেকে অজিত আফজাল খানকে লক্ষ্য করে মেরেছে আর তাতেই শান্ত হয়েছে আফজাল খান।তন্ময় আর ভাবতে পারছেনা ওর জ্ঞান লোপ পাচ্ছে।কয়েকমাস পর:গার্গী: দেখো তন্ময়, আজ তুমি শ্রেয়ার অধীনে কাজ করছো কিন্তু কাল শ্রেয়া তোমার অধীনে কাজ করবে হয়তো। এটা নিয়ে এত আপসেট হয়ো না। তুমি ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র অফিসার, তোমার অভিজ্ঞতা ওই মেয়েটার কাজেও লাগতে পারে, আর কেস সলভ হতে পারে, তোমার কর্তব্য এই কেস সলভ করা, তাই নয় কি?তন্ময়: আমি আপসেট নই, হ্যাঁ তিন চার মাস আগে হলে হয়তো ভীষণ আপসেট হতাম কিন্তু আজ নই।গার্গী: thats great. আমি এইরকম ভাবেই তোমাকে দেখতে চাই।তন্ময়: জিজ্ঞেসা করলেনা তো যে কেনো আপসেট নই।গার্গী: আচ্ছা বলো কেনো আপসেট নও তুমি ?তন্ময়: শুধু তোমার জন্য।ভাগ্যিস আমার ডিপ্রেসন দেখা দিয়েছিল নাহলে তো এইরকম ডাক্তারের এর সাথে দেখাই হতনা।কালিম্পঙ শহরে বেশ কয়েক মাস ধরে মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে, অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেই মানুষের হাড় , রক্ত হয়তো পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু মানুষটি গায়েব, যেনো কোনো পশু খেয়ে সাফ করে ফেলেছে। লোকাল পুলিশ যথেষ্ট স্ট্রাগল করছে এই কেস গুলো সামলাতে। অবশেষে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশের একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টীম পাঠানো হলো জলপাইগড়িতে, যে দলের নেতৃত্বে তন্ময় সেন। তন্ময় সেন নিজের ১০ বছরের চাকরি জীবনে বহু অসম্ভব কেস সলভ করেছে। এখানে এসে সে পুরোদমে কাজ শুরু করে দল নিয়ে কিন্তু বাধ সাধল তার মানসিক অবস্থা। সদ্য একটি শুট আউটে তার চোখের সামনে মারা যায় তার পরম প্রিয় বন্ধু পৃথ্বী সিংহ। পৃথ্বীর মৃত্যু তাকে এতটাই নাজেহাল করে তোলে যে তার কাজে আর মন বসেনা, সবসময় তার এটাই মনে যে সেই দায়ী, সে চাইলেই হয়তো সেদিন নিজে যেতে পারতো ওই গাড়ির দরজা খুলতে কিন্তু......ফলাফল কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে সেখানেই এক psychiatrist এর সাথে যোগাযোগ করতে হয় এবং সেখানেই শুরু হয় তার ট্রিটমেন্ট। এদিকে ১ মাসেও কেস progress সেভাবে না হওয়াতে নেতৃত্ব থেকে তন্ময়কে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং নতুন দায়িত্ব এসে পরে শ্রেয়ার কাধে। শ্রেয়া চৌধুরী এই কালিম্পঙ জায়গারই মেয়ে, অত্যন্ত সাহসী এবং ডিপার্টমেন্ট এর ভরসা তন্ময়ের পরিবর্ত হিসাবে যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য এই শ্রেয়া। ক্রমশ...... (পরের পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী। (Sayantan Goswami)

এপ্রিল ১৫, ২০২৫
নিবন্ধ

জীবন-বোধ (কবিতা)

জীবন যুদ্ধে হেরে গিয়ে যদি, নিজেকে হারিয়ে ফেল,হারিয়েছো কি তুমি? পেয়েছো বেশি, মনকে এটাই বলো, কখনও কি তুমি দেখেছো ভেবে! যা কিছু তোমার গেছে, তার থেকে তুমি পেয়েছো বেশি,এই পৃথিবীর কাছে, কি নিয়ে এসেছো?কি তোমার গেছে, এটাই যদি ভাবো! উঠবে কি করে, বাড়বে কি করে? জীবন যুদ্ধে ভাগো, সব ভুলে গিয়ে,আবার তুমি নতুন করে ভাবো, নুতন পৃথিবী ডাকছে তোমায়। এবার তুমি জাগো, ভয়টা কিসের?কিসের দুঃখ, কিসের শোক? দুই দিনের তুমি পৃথিবীর মাঝে, ভুলে যাও সব দুর্ভোগ।এসেছো যখন ধরনীর মাঝে, রেখে যাও কিছু দাগ।পৃথিবী তোমায় করবে মনে, এমন কিছু কর্ম থাক।।কবি প্রদীপ্ত সরকার

মার্চ ০২, ২০২৫
নিবন্ধ

মহাষষ্ঠীর ভোর। এবার মাতৃপূজার নির্ঘণ্ট প্রতিদিনই ঊষালগ্ন ছোঁয়া

ঝিরঝিরে হাওয়া বইছে বিশাল অশ্বত্থগাছের পাতায় পাতায় শিরশিরানি জাগিয়ে। শতাব্দী প্রাচীন গাছটার আনাচকানাচ থেকে উপচে পড়ছে কত না পাখির কলকাকলি পায়রাদের বকবকম.. ঘুঘুদের কুড়কুড়.. টিয়ার ঝাঁকের তীক্ষ্ণস্বন.. কাক-এর কর্কশ আওয়াজ .. চড়ুই-শালিকদের সমবেত কিচিরমিচির .. টুনটুনি-বুলবুলিদের সুরেলা শিস .. .. নারায়ণপুরের আকাশে ভোর জাগছে মৃদু মোলায়েম আমেজ নিয়ে।মহাষষ্ঠীর ভোর। এবার মাতৃপূজার নির্ঘণ্ট প্রতিদিনই ঊষালগ্ন ছোঁয়া। আজ সকাল সাড়ে ছয়টায় দেবীআরাধনার সূত্রপাত। পূজামণ্ডপ ধুয়ে, বেদীতে আল্পনা দিয়ে, ফুল-বেলপাতা গুছিয়ে, প্রসাদের থালা সাজিয়ে, আয়োজন চলছে তারই। আশ্বিনের এই শারদপ্রভাতে পুজোআর্চা সেরে, সন্ধ্যায় দেবীর বোধন দিয়ে শুরু হয়ে যাবে জগজ্জননীর আরাধনা।কাল সন্ধ্যায় এসেছি গ্রামের বাড়িতে। যাবতীয় পেশাগত দায়দায়িত্ব সেরে, বাড়িঘরের দেখাশোনার ভার উপযুক্ত হাতে ন্যস্ত করে, শেষ মুহূর্তের হাজারো ব্যস্ততা সরিয়ে, পিতৃপুরুষের ভিটেয় এসে পৌঁছতে সন্ধ্যা গড়িয়েছে। বর্ধমান থেকে পঁচিশ কি.মি. উজিয়ে এসে, বাসরাস্তা ছেড়ে বটগাছের ঝুরি-দোলানো গ্রামের পথে গাড়ি ঢুকে পড়েছে হেলেদুলে। ভরাশরতের টইটম্বুর পুকুরের পাশ কাটিয়ে, জোনাক-জ্বলা বাঁশঝাড়ের অন্ধকার আর্চ ফুঁড়ে, এঁকেবেঁকে আধ কি.মি. পেরিয়ে, এসে গেছি নারায়ণপুর এই সাতান্ন বছরের জীবনে পুজোর কদিন যা আমার একমাত্র ঠিকানা।এই পুজোবাড়ি, লোকমুখে যার চলতি নাম চাতোর (চত্বর-এর অপভ্রংশ ), আমাদের ছোটবেলায় ছিল এক লম্বা মাটির চারচালা। সামনে ত্রিপল-এ ছাওয়া লম্বা বাঁশের কাঠামো পুজোর কদিন ধারণ করতো উৎসাহী মানুষজনকে টলমলে কুচোকাঁচা থেকে শুরু করে ন্যুব্জ বৃদ্ধবৃদ্ধারা সকালসন্ধ্যা ঢাকঢোলকাঁসরঘণ্টার ঐকতান .. ধূপধুনোগুগগুল-এর ধূম্রজাল .. মন্ত্রমুখর পূজার্চনার শরিক হতেন এখানেই সমবেত হয়ে। সেই মাটির গাঁথনির জায়গা নিয়েছে শানবাঁধানো পাকা মণ্ডপ, শক্তপোক্ত টিনের ছাউনি, আর মর্মরমণ্ডিত পুজাবেদী সেও হয়ে গেল বেশ কয়েক দশক।ছোটোবেলায় পঞ্চমী-ষষ্ঠীর দিন যখন এসে পড়তাম, বাড়ির কর্মসহায়করা ব্যস্ত থাকতো খড় পেঁচিয়ে দীর্ঘ রজ্জু-রচনায়, যার ফাঁকে ফাঁকে গুঁজে দেওয়া হতো ছোটো ছোটো আমশাখা, প্রতিটি শাখায় চারপাঁচটি করে পাতা সেই মালায় সেজে উঠতো মন্ডপের চারপাশ আর প্রতিটি বাড়ির প্রবেশদ্বার। আজ সেই মঙ্গলমালিকারও রূপবদল হয়েছে ছোটো ছোটো আমশাখার জায়গা নিয়েছে একটি একটি করে আমের পাতা। তাতে আর কিছু না হোক, অপচয় কমেছে সবুজপত্রের।আমাদের শৈশবে এই মণ্ডপে ঠাকুর গড়তে আসতেন বটুদা। পরে তাঁর স্থান নেন জয়দেবদা। ওঁর সৃষ্টিতে মায়ের মুখ হতো অপেক্ষাকৃত কোমল, কিছুটা প্রাচীনপন্থী। সেই মুখশ্রীই রয়ে গেছে আজও, এই থীমময় পৃথিবীতে দুর্গাপ্রতিমার ছিরিছাঁদ আর মূর্তিশৈলী নিয়ে যতই পরীক্ষানিরীক্ষা-পরিবর্তনের ঢেউ উঠুক না কেন !জয়দেবদা আজ বৃদ্ধ, চোখে কম দেখেন ; চলনবলনে গ্রাস করেছে স্থবিরত্ব। তবু আজও রথযাত্রা থেকে শুরু করে তিনদফায় এসে, কদিন থেকে, তিনি গড়ে দিয়ে যান আমাদের মা হরগৌরীর মৃৎপ্রতিমা থেমে থেমে .. ঘোলাটে চোখে .. কতক আন্দাজে .. কতক কম্পিত আঙুলের অভ্যস্ততায় ড. সুজন সরকার : বর্ধমান।

অক্টোবর ০৯, ২০২৪
নিবন্ধ

এ’ কোন সকাল - রাতের চেয়েও অন্ধকার!

সেই এলোমেলো দিকহারানো সন্ধ্যা-বায়ের লুটোপুটি খাওয়া ঘর-বার-উঠোন-বাজারে, কাজলকালো রাত পেরিয়ে, আধফোটা কুসুমের মতো ফুটে ওঠা আগমনী আলো আজ আবার ছড়িয়ে দিল মাতৃপূজার সুসমাচার। বেজে উঠলো আলোর বেণু; আজ প্রভাতে সে সুর শুনে খুলে দিলাম হৃদয়ের রুদ্ধ দুয়ার। কিন্তু সবার অন্তরের পুঞ্জীভূত আঁধার কাটলো কি? মাতলো কি ভুবন? যে নিবিড় বেদনা আচ্ছন্ন করে রেখেছে বুকের মাটি, মনের আকাশ কালো করে জমে থাকা সেই মেঘ যেন রাতের চেয়েও অন্ধকার করে রেখেছে শরতের আকাশবীণায় গানের মালা বিলানো আজকের এই মহালয়ার সকালকে।অথচ, বর্ষণক্ষান্ত আশ্বিনের নীল আকাশে সাদা মেঘের বহরে অমলধবলপালে আজ লেগেছে মন্দমধুর হাওয়া; দুধসাদা কাশের গুচ্ছ বেঁধে, ঝরা শেফালীর মালা গেঁথে, নবীন ধানের অঞ্জলি দিয়ে ডালা সাজিয়ে শারদলক্ষ্মী এসে গেছেন শুভ্র মেঘের রথে সমাসীন হয়ে। ধৌতশ্যামল আলোঝলমল বনগিরিপর্বতে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর শ্বেতশতদলশোভিত করুণানয়নের আশীর্বাণী। শিউলীতলার পাশে পাশে.. ঝরা ফুলের রাশে রাশে.. শিশিরভেজা ঘাসে ঘাসে অরুণরাঙা চরণ ফেলে.. জলতরঙ্গে ঝিলমিল ঝিলমিল ঢেউ তুলে ছড়িয়ে পড়ছেন তিনি। আলোছায়ার আঁচলখানি লুটিয়ে পড়ছে বনে বনে; ফুলগুলি ঐ মুখে চেয়ে কী কথা গুনগুনোচ্ছে মনে মনে, কে খবর রাখে তার! তবু ঐটুকু ঐ মেঘাবরণ দু হাত দিয়ে সরিয়ে, মুখের ঢাকা হরণ করে, শারদলক্ষ্মীকে বরণ করে নিতে যেন কারো মন নেই আজ। এমন নিরানন্দ দেবীপক্ষের সূচনা খুব বেশী দেখা গেছে কি?একদিকে বানভাসি নদী-মাঠ-ঘর-গেরস্থালির অপার দুর্ভোগ, অন্যদিকে অগ্নিমূল্য হাটবাজার; আর সব ছাপিয়ে এক নির্যাতিতা প্রতিবাদিনীর সর্বপরিব্যপ্ত বেদনার্ত ছায়া এবারের মাতৃপক্ষকে যেন ঢেকে রেখেছে এক তিমিরঅবগুণ্ঠনে। উৎসবে মেতে ওঠার মেজাজটাই পাড়ি দিয়েছে দিকশূণ্যপুরের দিশায়।তবু এরই মধ্যে পথে-পার্কে-পল্লীপ্রান্তে শালবল্লা-বাঁশ-ত্রিপল-প্লাইউডের কাঠামো-রা সেজে উঠছে দ্রুত। দোকান-পসার-মল-মার্কেটে ভীড়ও খানিক খানিক জমে উঠছে। মহালয়ার রাতভোর অসংস্কৃত বাজী-র উদযাপন এবার কিছু কম (আজকাল পাড়ার যে যে বাড়িতে বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষ আছেন বলে খবর, তাঁদের জানালার কাছাকাছিই সাধারণতঃ বাজী ফাটানো হয় বেশী)। ইতস্ততঃ কিছু ক্লাবের মাইকে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র-ও সাড়া দিলেন বহু যুগের ওপার থেকে আজ ভোরবেলায়, যদিও কিছু স্তিমিতস্বনে। তবে পিতৃতর্পণাভিলাষীরা ছাড়া নদীর তীরে কাশের বনে মানুষের ঢল নামলো কই!মন ভালো নেই; আমাদের অনেকেরই মন ভালো নেই। আজ অখিলবিমানে দিকে দিকে সর্বস্যার্তিহরা দেবীমায়ের জয়গান। সিংহস্থা শশীশেখরা মরকতপ্রেক্ষা জগজ্জননী দূর করুন এই দুঃসহ আঁধার। ভয়ের আবহ শেষ হোক সবার ঘরের প্রতিটি দুর্গা হেসে উঠুক সুখে-সাহসে-সাফল্যে প্রতিটি অভয়া বিচার পাক!ওগো আমার আগমনী আলো, জ্বালো প্রদীপ জ্বালো, জ্বালো গো- ড. সুজন সরকার, বর্ধমান। ।

অক্টোবর ০২, ২০২৪
নিবন্ধ

মাতৃবিয়োগ উড়ান সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিক বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের, এক মহিয়সী নারীর কাহিনী

এআই এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের উচ্চপদস্থ আধিকারিক বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের মা গীতা চট্টোপাধ্যায়ের জীবনাবসান হয় গত ৩১ অগাস্ট। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। গীতাদেবী ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে তিনি শিক্ষিকতা করেছেন। গীতা চট্টোপাধ্যায়ের আরেক পুত্র বিভাস চট্টোপাধ্যায় বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদে আসীন। গীতাদেবী শিক্ষকতা করতেন বাগবাজারের আদর্শ মহিলা বিদ্যালয়ে। মৃত্যুর সময় সংসারে রেখে গিয়েছেন পুত্রদ্বয় বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় ও বিভাস চট্টোপাধ্যায়, পুত্রবধূদ্বয় গার্গী লাহিড়ী চট্টোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা চট্টোপাধ্যায়। নাতি, নাতনি মৈত্রেয়ী চট্টোপাধ্যায়, বিহান চট্টোপাধ্যায় ও রিয়ান চট্টোপাধ্যায়।১৯৪২ সালের ২৮ ডিসেম্বর এক সম্ভ্রান্ত বনেদি পরিবারে জন্ম হয় গীতা চট্টোপাধ্যায়ের। তখন তাঁরা থাকতেন তৎকালীন মধ্যপ্রদেশের(এখন ছত্তিসগড়) অম্বিকাপুরে। এক মাসের মধ্যেই মাতৃহারা হন ছোট্ট গীতা। জন্মদাত্রী মায়ের অনুভতির স্বাদ পাননি। সাত ভাইবোনের মধ্যে সব থেকে ছোট ছিলেন তিনি। বাবা ছিলেন প্রথিতযশা চিকিৎসক অনাথ বন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পড়াশুনা করেছেন। ট্রান্সফারেবল জব ছিল অনাথবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মধ্যপ্রদেশের অম্বিকাপুরে পরিবার নিয়ে বসতি স্থাপন করেছিলেন তিনি। সেই সময় নারী শিক্ষার খুব বেশি প্রচলন ছিল না। তবে চেষ্টার কোনও ত্রুটি ছিল না গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একনিষ্ঠ অধ্যাবসায় থাকায় তাঁকে কখনও থামতে হয়নি। পড়াশুনা করেছেন অম্বিকাপুরে এডওয়ার্ড সেকেন্ডারি স্কুল, তারপর গভঃ ডিগ্রি কলেজ অম্বিকাপুর। এমএ, বিএড-ও করেছেন তিনি। অনাথ বন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদি বাড়ি ছিল বর্ধমান জেলার নাড়ুগ্রামে।গীতাদেবী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ২জুন, সাল ১৯৬৬। তাঁর বিয়ে হয়েছিল মুর্শিদাবাদের গোপালপুর গ্রামে। স্বামী বিশ্বনাথ চট্টোপাধ্যায় চাকরিসূত্রে দমদমে আসেন। তিনি ছিলেন শিক্ষক। দমদমেই স্থায়ী বসবাস শুরু করেন তাঁরা। বিয়ের পর প্রথম পর্যায়ে ছেলেদের পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন গীতাদেবী। ছেলেরা একটু বড় হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে বাগবাজারের আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে চাকরি সামলেছেন, আরেক দিকে সাংসারিক লড়াই করে গিয়েছেন গীতাদেবী। ছেলেদের সুশিক্ষায় বড় করে তুলেছেন।নারী শিক্ষা প্রসারে অত্যন্ত অগ্রগন্য ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। বিশেষত নারী শিক্ষার প্রসার না ঘটলে কোনও জাতির উন্নতি হতে পারে না। ছাত্রীদের মনের মনিকোঠায় থাকতেন তাঁদের পছন্দের শিক্ষিকা। সহকারি শিক্ষিকাদের সঙ্গেও খুবই সদ্ভাব ছিল তাঁর। শিক্ষা অন্ত প্রাণ ছিলেন গীতাদেবী।এদিকে স্বামীর অকাল মৃত্যুতে ভেঙে না পড়ে ছেলেদের পড়াশুনা থেকে খাওয়া-দাওয়া, পোষাক-পরিচ্ছদ সবেতেই নজর ছিল তাঁর। সকালে স্কুল করে এসেই সাংসারিক যুদ্ধে নেমে পড়তেন। কখনও ছেলেদের বুঝতে দেননি তাঁদের বাবার অভাব। একাধারে মা ও বাবা দুই ভূমিকাই সাফল্যের সঙ্গে পালন করেছেন গীতা দেবী। তিন ছেলের মধ্যে মেজ ছেলের কঠিন অসুখে ১৯৮১ সালে অকাল প্রয়াণ ঘটে। জীবনে দুটি বড় ধাক্কা সামলে নিয়ে বজ্রহাতে সংসার ধরে রেখেছেন। আশির কোঠাতেও সবসময় খবর নিতেন ছেলেরা কী করছে? কেমন আছে? তাঁরা কি খেয়েছে? অফিস গিয়েছে কিনা? নাতি-নাতনিদের শুদ্ধ বাতাস ছিলেন তিনি। দীর্ঘ দিন শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন গীতা চট্টোপাধ্যায়।গীতা চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শুধু পারিবারিক ক্ষেত্র নয়, তাঁর অগুনতি ছাত্রী ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায় গীতা চট্টোপাধ্যায়ের স্মরণে বাগবাজার গঙ্গাতীরে ভাগবত সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরের দিন ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৫ টায় দমদম রোড, হনুমান মন্দিরের কাছে পুরাঙ্গনে স্মরণসভা হবে অবসর প্রাপ্ত এই মহিয়সী শিক্ষিকার।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৪
নিবন্ধ

২৪ বনাম ৪৮, এও আরেক অফিস প্রেম (ছোট গল্প)

(বাস্তব কাহিনি অবলম্বনে গল্পকাহিনী, তবে কেউ নিজের গায়ে মেখে দায় চাপাবেন না)প্রথম যখন অফিসে আসতো তখন আলুথালু ভাবে থাকতো। তাঁর প্রতি আকর্ষণ হওয়ার কোনও কারণ কারও থাকতে পারে না। সমাজের পুরো বিবর্ণতাই যেন তাঁকে গ্রাস করেছে। দেখলেই মনে হবে জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ে এই বয়সেই যেন পেরে উঠছে না। বিদ্ধস্তও চেহারা। কপালে হাত দিয়ে টেবিলে মাথায় রেখে কি ভারি ভারি বিষয় ভাবছে কে জানে। তবে নাতাশার পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল ঠিক মাস দুয়েক বাদেই। বস জিজ্ঞেস করছে এসাইনমেন্ট কেমন হচ্ছে? জবাব দিতেও যেন অনীহা। জোর করে যেন জবাব চাইতে হচ্ছে। এভাবেই চলছে মেরেকেটে আরও দিন পনেরো। এবার বদলাতে শুরু করল নাতাশা রায়। আসলে বদল কিছু নয়, আগেরটা ছিল ভেক। এবার ভোল বদল। তাঁকে যে পার্মামেন্ট একটা পোস্ট পেতেই হবে।জিনসের কাটা-ছেঁড়া প্যান্ট, ব্লু টি শার্ট। দুটোই ব্রান্ডেড। মুখে পালিস, ঠোঁট লালে লাল। চোখমুখের চাহনিতে জানান দিচ্ছে নতুন কিছু ঘটছে। অফিসের লোকজনও ভাবছে কাকে দেখছে তাঁরা। কি এমন হল সাজগোজের হঠাৎ এত বড় পরিবর্তন। শুধু তাই না হাঁটাচলাতেও যেন নয়া ছন্দ। অফিসের পুরনো লোকেরাও ভেবে পাচ্ছে না ব্যাপারটা। তাহলে নাতাশা কি......। হতে পারে নতুন কিছু ঘটছে।অফিসগুলোতে তন্বী কেউ এলে আলোচনার শেষ থাকে না। এমন পরিস্থিতি এখন কর্পোরেট যে কোনও অফিসের ক্ষেত্রেই বড় কিছু নয়। তবু লোকেদের মধ্যে একটা বাড়তি আগ্রহ, উৎসাহ থাকেই। কি হচ্ছে, কি হতে যাচ্ছে এই গুঞ্জন চলতেই থাকে। এক্ষেত্রেও তাঁর অন্যাথা হওয়ার কথা নয়। নাতাশার দিকে সবারই নজর। কখন অফিসে আসছে, কোন ধরনের পোষাক পরে আসছে, কার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেশি। কাজ কম, এমন পিএনপিসি করেই যেন সময় কাটছে অফিসে।সিঁড়ির পাশ দিয়ে উঠতে গিয়েই অফিস বয় রাজু ভিরমি খেয়ে পড়ছিল আর কি। এ কি দেখছে অফিসের বস রাহুল আর নাতাশা চোখে চোখ রেখে গল্পে মশগুল। রাহুল মুখোপাধ্যায় এই অফিসের সকলের বস। রাজু পাশ দিয়ে চলে গেলেও ওরা খেয়াল করেনি। দুজনে তখন আর পৃথিবীর বাকি কিছু দেখতে পাচ্ছে না, এমনই হাল। নিমিষের মধ্যেই রাজু দেখে নিয়েছে দুজনেই মুচকি হেসে কথা বলছে, চার চোখের ভাষাতেই যেন অন্য কথা। এবার রাজুর মনে হল তাহলে অফিসে কিছু একটা ঘটছে। অফিসের লনে কথা বলছিল। প্রায় ঘন্টাখানেক অন্তরের গল্প চলল দুজনের। এরইমধ্যে অফিসের আরেক কর্মী বিকাশ বাইরে বের হয়েই বেশ অবাক হল। এ কি দেখছে। মোবাইল ফোনের কোনও ছবি দেখিয়ে নাতাশা কিছু বোঝাতে চাইছে রাহুলকে। কি দেখাচ্ছে সেটা বুঝতে পারেনি বিকাশ। কিন্তু দুজনের ঘনিষ্ঠতা নজর এড়ায়নি। বরং রাহুলকে এভাবে নাতাশার দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখে বিকাশ নিজেই লজ্জা পেয়ে আর সেখানে দাঁড়ানোর কথা ভাবেনি। তড়তড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গিয়েছে।আজ, বিকাশের বড় একটা এসাইনমেন্ট আছে। রাস্তায় যেতে যেতে নাতাশা ও রাহুলের দুজনের কাছাকাছি হওয়ার দৃশ্য যেন তাঁর চোখে রয়েই গিয়েছে। বিকাশ মনে মনে ভাবছে, নাতাশার সঙ্গে ঝাড়ি মেরে কোনও লাভ হল না। তার মানে রাহুলের সঙ্গে নাতাশা কি সম্পর্কে জড়াচ্ছে? কিন্তু রাহুল তো এমন ছিল না। এমন করবেই বা কেন? ওর সংসার আছে এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ে ক্লাস ফোর-এ পড়ে। এতো সিরিয়াস ছেলেটা তাহলে কি সত্যি নাতাশার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে রাহুল? না শুধু গল্প করছে। কিন্তু লনে কখনও যে এর আগে টানা এক ঘন্টা কখনও গল্প করতে দেখেনি রাহুলকে। অফিসে মেয়ে নেই যে তাও নয়। বিকাশের চিন্তা ওদের প্রেম কাহিনী নিয়ে এমন নয়, নিজের কাজের লক্ষ্য যে এবারও পূরণ হওয়ার নয়। সেই নিয়েই অফিসের নীচের গুমটি থেকে একটা বড় সিগারেট ধরিয়ে এসাইনমেন্টের যাওয়ার জন্য ক্যাব ধরল।এদিকে নাতাশা রাহুলের এই এক ঘন্টার গল্প নিয়ে অফিসের মধ্যে ফিসফাস শুরু হয়ে গিয়েছে। বস যখন নতুন কারও প্রেমে পরে তখন অন্য কর্মীদের চাপ বাড়ে বইকি। এবার তো সমস্ত রেসপন্সিবেলিটি নাতাশার জন্য ভর করবে। তাছাড়া এই ছুড়ি যদি পার্মামেন্ট হয় তাহলে তো আর রক্ষে নেই। কাজ তো করবেই না বরং অন্যদের সর্বনাশ। এই ভেবে অফিসের বাকি কর্মীদের ঘুম ছুটেছে। এক বিকাশ চাপ নিয়ে অফিসে সেদিন আর আসেনি।নাতাশার সঙ্গে রাহুলের ঘন্টা খানেকের গল্পে থেমে থাকল না। এবার রাহুলের ভালো মন্দ বুঝতে শুরু করেছে নাতাশা। রাহুলকে বিদেশি চকোলেট চুষতে দেখে অবাক অফিসের কর্মীরা। এ কি দেখছে তারা। যাকে মিষ্টি বা লজেন্স অফার করলে মুখ ঘুরিয়ে নিত। বলতো, ওসব কেউ খায়? বিদেশি নয় এক টাকার লজেন্সও রাহুলে হাতে। ডালমে কুছ তো কালা হ্যায়। না পুরা ডালই কালা হ্যায়। এবার দিন পার হতে থাকে নয়া নয়া আলোচনায়, গমগম করতে থাকে অফিস।রাহুলের অফিস রুমে টেবিলের সামনে দুটো চেয়ার। ঘরে ঢুকে ডান দিকের কোনের চেয়ারে বসে নাতাশা। হঠাৎ করে রাহুলের ঘরের দিকে তাকালে ওই ঘরে আর কেউ আছে কিনা বোঝার উপায় নেই। সেই বিশেষ অ্যাঙ্গেলই চেয়ারে বসে নাতাশা। অফিস লনের পর এবার সরাসরি অফিসে বসের চেম্বারে। এ যে কি হচ্ছে! এই ভেবেই বাকিদের বুক ধরফর করতে শুরু করেছে। হঠাৎ অফিসে হাজির জমাটো বয়। সারা অফিস এবার জমাটো ডেলিভারি বয়ের দিকে তাকিয়ে আছে অবাক নয়নে। সাধারণত এই অফিসে জমাটো ডেলিভারি বয়দের খুব একটা দেখা যায় না। কারণ কেউ কখনও বাইরের খাবার অর্ডার করেনি। অফিস বয়রা খাবার এনে দেয়। কারও বুঝতে অসুবিধা হল না। এই অর্ডার বসের। এবার দুজন জমিয়ে লাঞ্চ করবে একসঙ্গে। নয়া দৃশ্য।যথারীতি খাবারের প্যাকেট ঢুকলো বসের চেম্বারে। অফিস বয় রাজুকে আগেই নাতাশা বলে রেখেছিল খাবার আসবে। অফিস বয়ও ভাবতে শুরু করেছে এটা কি হচ্ছে। আগে তো কখনও রাহুল স্যার কোনও খাবারের অনলাইন অর্ডার করত না। কারণ, অনলাইনের এই জগতেও রাজুর আনা খাবার ছাড়া খায় না বস। রাজুকে বলতো খাবার আনতে। এবারই প্রথমবার জোমাটো বয় অফিসে ঢুকলো রাহুলের খাবার দিতে। খিদের পেটে আর অপেক্ষা নয়। রাহুল ও নাতাশা খেতে শুরু করল। এরই মধ্যে চিৎকার করে সহকর্মী মিষ্টিকে খেতে ডাকলো বস। মিষ্টি সুরেলা কন্ঠে জানিয়ে দিল তাঁর খিদে নেই। এই না খাওয়ার আসল কারণ যে নাতাশা তা বুঝতে অসুবিধা হল না অফিসের অন্যদের। নাতাশা আর বসের ঘনিষ্ঠতায় অফিসে নিজেকে গুরুত্বহীন ভাবতে শুরু করেছে মিষ্টি। বড্ড চাপ নিয়ে ফেলেছে মিষ্টি। তাহলে কি বস আর তাঁকে পছন্দ করছে না? এবার বদ বুদ্ধি ঘুরতে থাকে মিষ্টির। যখন তখন ছুটি, মাইনে বাড়ানো এসব আর কি সহজে হবে? ভাবতে থাকে মিষ্টি। বসকে ভোলানো আর সহজ হবে না। তাহলে উপায়! নাতাশা ও বসকে বিপাকে ফেলতে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে মিষ্টি।অপেক্ষায় থেকে থেকে একদনি রাহুল ও নাতাশার অজান্তে দুজনের পাশাপাশি বসা ছবি তোলে মিষ্টি। অপ্পো মোবাইলে তোলা এই ছবিই এখন তাঁর অস্ত্র। যে করে হোক ঘায়েল করতে হবে নাতাশা ও বসকে। তাঁর মাথায় ঘুরতে থাকে কিভাবে বসকে চাপে ফেলবে। অফিসের রাজনীতি এবার পৌঁছে যায় বসের গৃহস্তের হেঁশেলে। আগুন ধরাতে কি আর দেশলাই কাঠি লাগে! এই একটা ছবিই তো দাউ দাউ করে জ্বালিয়ে দেবে সংসার। নছনছ করে দেবে রাহুল-নাতাশার মধুর সম্পর্ক। এবার সেই ছবি পৌঁছে গেল রাহুলের হোম মিনিস্টারের কাছে। না তাতেও ক্ষান্ত হয়নি মিষ্টি। এবার একের পর এক টেক্ট শুরু করল রাহুলের বউ ববিতাকে। এসব দেখে মাথায় ভুত চাপলো ববিতার।যে সময়ে এই ছবি আর টেক্সট চালাচালি হচ্ছে তখন বস পুরুলিয়ায় অফিসের কাজে প্রচন্ড ব্যস্ত। রাহুলের পুরুলিয়া যাওয়াটা কাজে লাগিয়েছে মিষ্টি। কর্তা ঘরে না থাকায় দুজনে বেশ কতক্ষণ মোবাইলে কথাও বলেছে। আগুনে ঘি পড়তেই রেগে কাইকাই করতে শুরু করে ববিতা। এক মিষ্টির দেওয়া ছবি ও তাঁর মুখে শুনেই মন খারাপের দেশে চলে যায় ববিতা। শরীরে জ্বালা শুরু হয়ে যায়। তাহলে কি সত্যি নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে নাতাশা-রাহুল? ভাবতে শুরু করে ববিতা। এর আগে প্রিয়ার কেসটা সাল্টে দিয়েছিল ববিতা। মনে সন্দেহ বাড়তে থাকে। আর অপেক্ষা না করে ববিতা রাহুলকে ফোন করে জানতে চায় নাতাশা কে? তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক কি? রাহুল অফিসের কাজের ব্যস্ততায় হোম মিনিস্টারের এই প্রশ্নের কি জবাব দেবে বুঝে উঠতে পারছে না। ববিতা এত কথা জানলোই বা কি করে? এবার এই সব মাথায় ঘুরতে থাকে রাহুলের। ববিতাকে বলে কলকাতায় ফিরে সব জানাবে। এখনই বলতে হবে বলে হাউ হাউ করতে থাকে ববিতা। কোনও ভাবে ববিকে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকে রাহুল। ববিতাকে ম্যানেজ করার সময় ববি বলে ডাকে রাহুল। একের অফিসের চাপ, তারওপর বউয়ের পাহাড় প্রমান অভিযোগ। হাপিয়ে উঠতে থাকে রাহুল।কিছু দিন পর কলকাতায় ফেরে রাহুল। তাঁর মাথায় আছে বউকে ঠান্ডা করতে হবে। কোনওরকমে ববিতাকে বুঝিয়েছে। এসব কিছু না। তোমাকে যাঁরা বলেছে তাঁরা না বুঝে বলছে। এটা তেমন কিছু নয়। কিন্তু সারা অফিস রাহুল-নাতাশার চর্চায় গমগম করছে। তাহলে অফিসের হাল কি হবে? রাহুলের সংসারের আগুন কি সত্যি লেগে গেল? সম্পর্ক নষ্ট করতে নানা চক্রান্ত চললেও নাতাশা ও রাহুলের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকল। নাতাশা লাল টপ পড়লে, রাহুল লাল টি-শার্ট পড়ছে। একজন কালো ড্রেস পড়লে, আরেকজনও তাই পড়ছে। প্রেমের গন্ধে মম করছে অফিস। এবার কাজের বদলে টেবিলে টেবিলে একটাই পিএনপিসি রাহুল ও নাতাশা।এক দিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরেছে রাহুল। বাড়িতে ফিরতেই গিন্নির মুখ ভার। এক কথা দুকথায় নাতাশাকে নিয়ে দুজনের মধ্যে খুচরো ঝগড়াও হয়ে গেল। রাহুল আর বুঝতে পারে না কি করে বিষয়টা হালকা করবে। এমন ভাব দেখায় সে যেন কিছু জানে না। ববিতাকে বলে কি যে তুমি আজকাল বলছ। নিজে মনে মনে ভাবতে থাকে অফিসের জুনিয়র স্টাফকে নিয়ে কি বলছে ববিতা। এত খবর কিভাবে পেল সে। ওর কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। এসব ভাবতে থাকে। এরপর হঠাৎ ববিতা বলে ওঠে বাড়িতে দুটি সন্তান থাকতেও নাতাশার প্রতি এতো টান কিসের। আমাকে ছাড়তে পারলেও ওদের কি করবে? অভিযোগ এবার আরও গুরুতর। রাহুল ভাবছে কি বলছে ববিতা। কি হল। কেন এসব আজে-বাজে বকছো, ববিতাকে বলে রাহুল। ববিতা একশ্বাসে বলতে থাকে আমি সব জানি। ওই নাতাশার সঙ্গে তুমি কি করছ। আমি কি জানি না ভাবছো। আমাকে ছেড়ে তুমি ওই কচি মেয়েটাকে বিয়ে করতে চাও। এসব বলতে বলতে ববিতার দুই চোখের কোনে জলও চলে আসে। রাহুল কিছুতেই বুঝতে পারে না কেন এসব বলছে ববিতা। তাছাড়া কলকাতাতেই রাহুল ছিল না ৭দিন।কয়েকবার ববিতাকে রাহুল বলে অযথা কি যে ভাবছো, বাজে চিন্তা করো না। ভাতের হাড়ির মতো মুখ করে ছিল ববিতা। কোনও জবাব না পেয়ে এবার ঝাঝানি দিয়ে ওঠে ববিতাকে। কি হয়েছে বলতে পারছো না। পাগল হয়ে গেছে নাকি। নাতাশার সঙ্গে সম্পর্ক! এসব গল্প কে বানিয়েছে। তোমাকে কে বলেছে। তুমি তো দেখছি আমার চাকরি নিয়ে টানাটানি করতে শুরু করবে। কার কথায় এসব করছো। কান দিয়ে তো ভালো দেখতে পাচ্ছো। গল্পের গরু এতক্ষণে গাছের ডগায় উঠে গিয়েছে। এবার রাহুল ববিতাকে বলে আমার আর কিছু বলার নেই। বলতে থাকো। কিন্তু তোমায় খবরটা দিল কোনও মহানুভব। আমার অফিসে খোচর লাগিয়েছো। গুড। অনেক অনেক চাপের পর মিষ্টির বলা সব কথা বলে দেয় ববিতা। মাথায় যেন বাজ পড়ে রাহুলের। সে নাকি কলকাতা ছাড়ার আগে মিষ্টির ওপর অফিসের দায়িত্ব দিয়েছিল। কাকে দিয়েছে রানির পাঠ। সেই নাকি খবরিলাল। বেইমান, গদ্দার শব্দগুলি মাথায় এলেও এতটা নীচু স্তরে ভাবে না রাহুল। শুধু এটুকু ভাবে কাদের সঙ্গে সে কাজ করছে। জুনিয়র স্টাফ তাঁকে বস হিসাবে একটু গাইড করা। যাতে অসুবিধায় না পরে সেদিকে নজর ছিল রাহুলের। আর মিষ্টি কোথাকার জল কোথায় নিয়ে গিয়েছে। ববিতা রাহুলের কথায় আস্বস্ত হল। বোঝালো এমন কিছু নয়। আর তো দিন পনেরো। তারপর তো নাতাশার চুক্তির মেয়াদ শেষ।কাজের চুক্তি শেষ হতেই নাতাশা অফিস ছাড়লো। এদিকে বসের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তোলপাড়। বিষয়টা নিয়ে কোনও মাথাব্যথা যে নাতাশার ছিল না তা কিন্তু নয়। তাঁর হাবেভাবেই তা স্পষ্ট। রাহুল অফিসে আসতেই ববিতার মুখ ফ্যাকাসে বিবর্ণ হয়ে যেত। অফিসে গেলে কিছু না ঘটে। তবে নাতাশা অফিস ছাড়লেও দেখা-সাক্ষাৎ ছাড়লো না রাহুলের সঙ্গে। এবার অনেক সতর্ক রাহুল। নাতাশার প্রতি আকর্ষণ বরং আরও বেড়ে গেল রাহুলের। অফিসে না এলেও পার্কস্ট্রিটের রেস্তোরাঁ এখন বাঁধা রাহুল ও নাতাশার। অফিস থেকে সোজা পার্কস্ট্রিট। তারপর বন্ধুদের ঠেক। তারপর বাড়ি। এই রুটিনে চলতে থাকে রাহুলের গতে বাঁধা জীবন।এখন আবার রাহুলের অফিসের টিফিন আসে বাড়ি থেকে। ববিতাই টিফিন বানিয়ে দেয়। রাহুলের প্রতি ববিতার প্রেম যেন নতুন করে উথলে পরতে শুরু করে। আপাতত সংসার টিকে গেল রাহুল ববিতার। এত কিছুর পরও নাতাশা ও রাহুলের সম্পর্কেও কোনও টানাপোড়েন নেই। চব্বিশ বর্ষীয়ার সঙ্গে আটচল্লিশের প্রেমের পড়শ চলছে। একইসঙ্গে দুই ছেলে-মেয়ে আর ববিতাকে নিয়ে চুটিয়ে সংসারও চলছে রাহুলের। এখনও এভাবেই দিন কেটে চলেছে ত্রিকোন প্রেমের সম্পর্কের। তিলোত্তমা নগরীতে এভাবেই চলছে ববিতা-রাহুল-নাতাশার মতো হাজার হাজার সম্পর্ক। অন্য বিষয়ের মতো বৈধ বা অবৈধ বিতর্ক যেমন থাকবে তেমনই প্রেম তো আর বাধা মানে না.......... টিকিয়ে রাখতে শুধু যেন কৌশলের বদল ঘটে।

জুন ২৯, ২০২৪
নিবন্ধ

হারিয়ে যাওয়া 'সকাল'

নতুন সালের চরম গ্রীষ্মকালেআম লিচুর গাছ পুড়ে যায়,শাঁস থাকেনা তালে।বৃষ্টি তো দৃষ্টির বাইরেফোঁটাও পড়েনা এসে।সূর্যকে তো জিততেই হবে,সিদ্ধ করার রেসে।।গরমকালে পান্তাভাত থাকতেই হবে পাতে,ঠান্ডা বোতল পানীয়ের একটাসদাই থাকে মোর হাতে।খেলতে যেতে পাইনা বাইরেবাড়িতে কেঁদে মরি,প্রখর রোদে রাস্তায় বেরোলেমাথা ঘুড়ে মোরা পরি।।সকালটা যেন হারিয়েই গেলোভোরের পরেই দুপুর।নিশুতি দুপুরে মানুষ তো ছারএকটাও থাকেনা কুকুর।গরমের চোটে বারে বারে স্নানদিয়ে গায়ে মাথায় পিয়ার্স,কবে দেখবো টেম্পারেচারপঞ্চাশ ডিগ্রী সেলসিয়াস।।

মে ০১, ২০২৪
নিবন্ধ

ঝাপসা পলাশ

সেই কাকভোর থেকে অগোছালো শরীরটাকে টেনে হিচড়ে, ইচ্ছে -অনিচ্ছের রাস্তা মাড়িয়ে বয়ে নিয়ে যাওয়া এখন করুণ অভ্যেস।রাতের বিছানায় নেতিয়ে না পড়া পর্যন্ত শান্তি নেই, সংসার বড় বালাই। তাই চা, বিড়ি, ফর্দ, সমালোচনা, গালাগালি, হিসেবনিকেশ।অসুখটা ঠিক শরীরে নয়। চাওয়া পাওয়ার ঘাটতি গুলো মনের ভিতর জমে বাষ্প হয়ে মেঘ হয়, কিন্তু বৃষ্টি হয়না।জীবাণুদের কোলাহল বাড়তে থাকে, বিপ্লবের টের পাই সেই অদ্ভুত নীরব অনুভূতির সাম্রাজ্যে - যেটা আজও বেশ অচেনা।কল্পনার বেনো জলে ভেসে আসে উদগ্র বাসনা - ব্যার্থ চাহিদাগুলো সার দিয়ে দাঁড়ায়, সস্তা লালসার দংশনে মন জেরবার।রাত বাড়ে, পাল্লা দিয়ে চলে গাঢ় নীলচে অন্ধকারে অগাধ সাঁতার, অন্তহীন আকাশের মতো, যেখানে শব্দ নেই আছে বিস্তার।হারতে হারতেও লড়াইটা টিকিয়ে রাখার ক্ষীণ প্রয়াস, বারোমাস। কুয়াশা মাখা ভোরের পর একঘেয়ে সকাল, ঘর্মস্রাবি দিনের শেষে চোখের কোনে জমে ঝুল।সাতচল্লিশটা বসন্ত পার করার পর পলাশ, কৃষ্ণচূড়ারা আজও শুধুই লালচে ফুল।দীপক কুমার মণ্ডলবর্ধমান

এপ্রিল ১৯, ২০২৪
নিবন্ধ

আপনি কোন ট্রেনে চাপেন EMU নাকি MEMU? জানেন তাদের পার্থক্য?

কলকাতা ও হাওড়ার শহর ও শহরতলীর বাসিন্দরা EMU লোকাল ট্রেনগুলিতে চড়েননি, এরকম যাত্রী খুব কমই আছেন। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এই যাতায়াত মাধ্যম এই অঞ্চলের দ্রুত নগরায়নের সহায়ক হিসেবেও বলা যেতে পারে। EMU ট্রেনগুলি শহরতলির অংশগুলির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধাকে ত্বরান্বিত করে। দ্রুতগতির ত্বরণ, চওড়া কোচ, চওড়া দরজা - জানালা, ফলে ভালোভাবে হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা এবং কোচের অভ্যন্তরে হাই স্পিড ফ্যানগুলি যাত্রী স্বাচ্ছন্দের সহায়ক। এই অঞ্চলে প্রথম EMU ট্রেন চলাচল শুরু হয় হাওড়া - শেওড়াফুলি সেকশনে ১৯৫৭ সালে। EMU ট্রেনে অনেকগুলি করে ইউনিট থাকে। প্রত্যেকটি unit এ থাকে দুটি ট্রেইলার কোচ এবং একটি মোটর কোচ এবং EMU ট্রেনে কোচের সংখ্যা সচরাচর তিনের গুণিতকে হয়। বর্তমানে ৯ কোচ বা ১২ কোচ EMU ট্রেনের চলাচল পূর্ব রেলের অধিক্ষেত্রে দেখা যায়। এর প্রত্যেকটি ট্রেইলার কোচে ১১৩ জন যাত্রী বসতে পারে যেখানে মোটর কোচে বসতে পারে ৯৮ জন যাত্রী। এছাড়া EMU ট্রেনগুলিতে স্থানীয় পণ্যের সহজে বাজারজাত করার জন্য vendor কোচ ও যুক্ত থাকে যেখানে ৮৬ জন যাত্রী বসতে পারে। ২৫ KV AC ট্র্যাকশন এবং কনভার্টার এর সাহায্যে এই ট্রেনের DC মোটরগুলিকে চালানো হয়। পূর্বরেলের অধিক্ষেত্রে কলকাতা, হাওড়ার শহর এবং শহরতলীর যোগাযোগব্যবস্থা বজায় রাখতে রোজ প্রায় ১২৭২ টি EMU লোকাল চলাচল করে। এর মধ্যে হাওড়া ডিভিশনে চলে ৩৮৬ টি লোকাল ট্রেন এবং শিয়ালদহ ডিভিশনে ৮৮৬ টি লোকাল ট্রেন। এছাড়াও প্রায় একইরকম দেখতে MEMU বা Mainline EMU ট্রেন চলাচল করে। এই MEMU ট্রেনগুলি সচরাচর শহরতলীর বাইরের অঞ্চলে স্বল্প এবং মাঝারি দূরত্বের ট্রেন হিসেবে চালানো হয়। EMU ট্রেন এর মতোই MEMU ট্রেনগুলিরও আলাদা কোনও ইঞ্জিন থাকে না। মোটর কোচগুলি এখানে ইঞ্জিনের কাজ করে। যদিও MEMU ট্রেনের দৈর্ঘ্য সাধারণত EMU ট্রেনের তুলনায় বেশি হয়। কারণ, MEMU ট্রেনগুলিতে কোচের সংখ্যা সচরাচর EMU ট্রেনগুলির তুলনায় বেশি হয়। বর্তমানে পূর্ব রেলে মোট ১৪১ টি MEMU ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে হাওড়া ডিভিশনে চলে ৪৫ টি, শিয়ালদহ ডিভিশনে ১৩ টি, আসানসোলে ৮৫ টি এবং মালদা ডিভিশনে ৬ টি। ১৯৯৫ সালে আসানসোল-আদ্রা বিভাগে MEMU পরিষেবা প্রথম শুরু হয়েছিল।এছাড়াও আছে DEMU ট্রেন। তবে এগুলি চলে ডিজেল মোটরে। পূর্ব রেলে এখন মোট ৫০ টি DEMU সার্ভিস চলাচল করে। এরমধ্যে ১১ টি হাওড়া ডিভিশন, ৩৯ টি মালদা ডিভিশনে চলে। এই EMU /MEMU /DEMU ট্রেনগুলি পূর্বরেলের অধিক্ষেত্রে স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বে কম খরচে যাতায়াতের জন্য সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে সমাদৃত। সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকায় লোকাল ট্রেনে চড়ে যতটা দূরত্বে যাওয়া যেতে পারে, তা অকল্পনীয়। এর পরিবর্তে যে কোনও স্থল পরিবহনের মাধ্যমে সমদূরুত্বে যাতায়াত করতে ২০ টাকা দিতে হতে পারে। বাংলার আর্থ সামাজিক উন্নতিতে পূর্ব রেল এই সাবার্বান ট্রেনগুলির পরিচালনায় অত্যন্ত তৎপর এবং গণপরিবহনের মাধ্যমের উপর সঠিক গুরুত্ব আরোপ করে যথাযতভাবে চালাতে সর্বদা সচেষ্ট।

এপ্রিল ১১, ২০২৪
নিবন্ধ

'পাখি' র, সাধ অনেক। সাধ্য অল্প। তবুও আয়োজন ছিল। যা 'না বললেই নয়"

না, পাখি-তে ফাঁকি নেই। ঠাস বুনন। সমকালীন জীবনকে তুলে ধরাই নাটকের ধর্ম। সময় তাই নাটকের প্রাণ ভোমরা। তাই মনোজ মিত্রের পাখিকে জানতে গেলে ফিরে যেতে হবে আজ থেকে প্রায় ৪৮ বছর আগে। নকশাল আন্দোলন এর অন্তিম পর্বে। কলকাতায় নুতন সরকার। গড়ের মাঠে পেলেকে রুখে দিচ্ছে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ সবুজ মেরুন বাহিনী। অন্যদিকে একে একে বন্ধ হচ্ছে শিল্প কারখানা। হারিয়ে যাচ্ছে তরুণের স্বপ্ন। উচ্চবিত্ত হচ্ছে মধ্যবিত্ত। মধ্য নিম্ন। সমাধি হচ্ছে স্বপ্নের।মনোজ মিত্রের পাখি নাটকে নীতিশ স্বপ্ন সমাধি। একদল অর্থপুষ্ট বন্ধুর সেলসম্যান সাথি। ফেরি করে। অন্যের বাড়িতে পৌঁছে দেয় হেরিকেন। তাদের বাড়িতে আলো জ্বলে। কিন্তু নিজের বাড়িতেই ঘোর অন্ধকার। স্বপ্ন বড় নয়। তবুও সমাজের চোখে তা দুঃস্বপ্ন। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকায় বড়লোক বন্ধুদের খাওয়ানোর দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা। দশম বিবাহ বার্ষিকীতে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টা। অন্যদিকে কষ্টিপাথরে যাচাই করা যোগ্য সহধর্মিনী বিলাসিতাই ভাবে নীতু র স্বপ্নকে। নুন আনতে পান্তা পুরানো সংসারের ঘানি টানতে টানতে স্বপ্নই শেষ হয়ে গেছে তার জীবনে। কঠিন বাস্তবতার মোড়কে তার জীবন দর্শন। অর্থহীনরা প্রসব করে অর্থহীন স্বপ্ন। আবিষ্কার করতে হয় আত্মসম্মানকে বাঁচিয়ে রাখার নবনব কৌশল। তবুও স্বামীর পাশে। ভালোবেসে।নীতুর সাধ অনেক। সাধ্য অল্প। তবুও আয়োজন ছিল। ছিল হৃদয়বান মাসতুতো ভাইয়ের সাহচর্য, উষ্ণ উপস্থিতি। কিন্তু বাধ সাধলো একটা চিঠি। বড়লোক বন্ধুদের করুণা মাখা একটি ছোট্ট চিঠি। নিমন্ত্রণের ইচ্ছে প্রকাশই যথেষ্ট। আয়োজন বিলাসিতা। বেমানান। ব্যর্থ উপার্জনের সঙ্গে সঙ্গতে। গরিবির নির্মমতায় নিষ্পেষিত নীতু।স্বপ্নের সমাধিতে দিশেহারা নীতুর একমাত্র অবলম্বন শ্যামা। ভালোবাসাই সমাধান। নিজেদের পর্ণ কুঠিরে দুজনে খুঁজে পায় দুজনকে। মেতে উঠে ভালোবাসার আলিঙ্গনে। সোহাগে সান্ত্বনায় উপভোগ করে পূর্ণতা প্রাপ্তির আনন্দ।গত ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বর্ধমান অনীকের সৌজন্যে সংস্কৃতি লোক মঞ্চে ফিরে এলো ১৯৭৭ সাল। শিল্প হারা রাজ্যের ঝরাজীর্ণ অর্থনীতির শিকার নীতু র চরিত্রে শিক্ষক ডক্টর দিলীপ বিশ্বাসের অসাধারণ উপস্থাপনায়। কখনো স্বপ্ন, কখনো সমাধি। কখনো আবেগময়, কখনো আবেগহীন। পরিশেষে বাস্তবতায় আত্মসমর্পণ। শ্যামার চরিত্রে সহধর্মিনী রুনু মুখোপাধ্যায়ের যোগ্য সঙ্গত। নিয়ন্ত্রিত আবেগ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে কঠিন বাস্তবের সম্মুখীন হওয়া একটি জীবনকে। যোগ্য কপতি। উকিলের চরিত্রে বাবলুদা এবং নিতুর ভাইয়ের চরিত্রে অনিমেষদার সাবলীল অভিনয়। টানটান নাটকে দর্শক মন্ডলী ক্ষণিকেই ফিরে গিয়েছিল ১৯৭৭ সালের কলকাতায়। শুনছিল সময়ের পদধ্বনি। আলোক-আবহ নিখুঁত এবং নিটোল! নেশা ছাপিয়ে যায় পেশা কে। তাই হয়তো অভিনয়ের গুণে বিভিন্ন পেশায় থাকা কুশীলবদের প্রত্যেকটি চরিত্র হয়ে উঠেছিল প্রাণশক্তিতে ভরপুর, জীবন্ত। সঠিকভাবেই আয়না ধরা হয়েছিল জীবনের প্রতি।অনন্তদেব গুহ, (শিক্ষক ও নাট্যপ্রেমী)

মার্চ ০৩, ২০২৪
নিবন্ধ

ভাষা। আমার ভাষা। আপনার ভাষা। আমাদের সবার ভাষা।

স্বাধীনতার পর ভারত কি ভাবে চলবে তা ঠিক করার জন্য একটি সংবিধানের পরিকল্পনা করা হয়। যে আইনসভা এই সংবিধানটি তৈরি করবে বলে ঠিক হয় তাকে আমরা সবাই সংবিধান সভা বলে জানি। ভারতের শাসনকার্যে কোন ভাষার ব্যবহার হবে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিবিধতায় ভরা এই দেশ আমাদের। এই বিবিধাতার মধ্যে একতা আমাদের একটি বড় বৈশিষ্ট্য। তবে মুশকিল হলো সব কটি ভাষাকেই সরকারি কাজে লাগানোর অনেক অসুবিধা আছে। ধরা গেল কেন্দ্রীয় স্তরে কোন একটি আইন তৈরি হলো। সেই আইনটির শত শত ভাষায় নোটিফিকেশন করা একটি দুঃসাধ্য ব্যাপার। এবং আজ থেকে ৭০-৭৫ বছর আগে সেটা আরো কষ্টকর ছিল। ঠিক হয় যে ভাষাটি ভারতের সবথেকে বেশি সংখ্যক লোকেজন ব্যবহার করে থাকেন সেই হিন্দি কে কেন্দ্রীয় স্তরে রাজ ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এর আগে অনেক গুণীজন হিন্দি ভাষার জন্য সওয়াল করে গেছেন। দুজন অহিন্দি ভাষী মানুষের কথা বলতেই হয়। তারা হলেন মহাত্মা গান্ধী ( মাতৃভাষা গুজরাতি) ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ( মাতৃভাষা বাংলা)। মাথায় রাখবেন কথাটি হল রাজভাষা, রাষ্ট্রভাষা নয়। এবং অবশ্যই ইংরেজির ব্যবহার অব্যাহত থাকবে। রাজ্যগুলি নিজ নিজ স্তরে ভারতের অন্যান্য ভাষাগুলিকে ব্যবহার করতে পারবেন।আরেকটু বৃহত্তর স্তরে বেশি সংখ্যক ভাষাকে ব্যবহার করার জন্য সংবিধানের অষ্টম তপশীল তৈরি হয়। এই তপশীলে অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলিতে ভারতবর্ষের সরকারি পরীক্ষাগুলি দেওয়া যায়। ধাপে ধাপে অন্তর্ভুক্তির ফলে এখন অষ্টম তপশীলে ভাষার সংখ্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাইশ। উদাহরণস্বরূপ সান্তালি ( সাঁওতালি ) ভাষা অষ্টম তপশীল অন্তর্ভুক্ত একটি ভাষা। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কোন পরীক্ষার্থী মনে করলে বেশ কিছু পেপারের পরীক্ষা সাঁওতালি মাধ্যমে দিতে পারবেন। এমনকি তিনি মনে করলে তার ইন্টারভিউ তিনি সাঁওতালি ভাষায় দিতে পারবেন। সব ভাষাকে সম্মান জানিয়ে আমাদের দেশ এগিয়ে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও আরো এগিয়ে যাবে।ভারতের সঙ্গে স্বাধীন হওয়া এবং ভারত থেকে আলাদা হওয়া দেশটি হলো পাকিস্তান। আজকের বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের অংশ ছিল এবং পূর্ব দিকে অবস্থিতির কারণে পূর্ব পাকিস্তান বলে জানা যেত। পশ্চিম পাকিস্তানের সব থেকে বেশি সংখ্যক লোকেজন উর্দু ভাষা ব্যবহার করে থাকেন। পূর্ব পাকিস্তানে মূলত বাংলা ভাষা বলা হতো। সংখ্যার দিক দিয়ে তৎকালীন পাকিস্তানে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল। তা সত্ত্বেও পাকিস্তানের সরকার সমগ্র দেশে উর্দুকে প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। বাংলা ভাষাভাষীর উপর উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ভাষাভাষী মানুষজন মেনে নিতে পারলেন না। বিক্ষোভ, বিদ্রোহ, স্বাধীনতা আন্দোলন। পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে পূর্ব পাকিস্তান একটি নতুন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেল। বাংলাদেশ। বলাবাহুল্য বাংলাদেশের স্বাধীকারের সংগ্রামে তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকেছে যে দেশ সেটি হল আমাদের দেশ ভারত।ভাষার জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন। আন্তর্জাতিক স্তরে সেই স্মৃতিকে মনে রেখে আজকের দিন একুশে ফেব্রুয়ারি কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারিআমি কি ভুলিতে পারিআবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।হিন্দি ভাষী কোন মানুষ শুধুমাত্র একটি ভাষা হিন্দি নিয়ে ভারতবর্ষের বেশিরভাগ কাজ করতে পারবেন। যদি তিনি ইংরেজি ভাষাটা শিখে নেন তবে তার কাছে এটা একটি বাড়তি পাওনা।বাংলাভাষী কোন মানুষ শুধুমাত্র বাংলা ভাষা ব্যবহার করে রাজ্যস্তরের বেশিরভাগ কাজ করতে পারবেন। তবে রাজ্যের বাইরের কাজ সমাধা করতে গিয়ে অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হবেন। এই একই কথা অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষাগুলোর জন্যও প্রযোজ্য। বলিউডের প্রভাবে ও অন্যান্য বিভিন্ন কারণে অহিন্দি ভাষা মানুষেরা অনেকেই আজ হিন্দি ভাষার সঙ্গে পরিচিতি লাভ করেছেন। আঞ্চলিক ভাষাভাষী মানুষজন যদি ইংরেজিটা শিখে নিতে পারেন তবে তারা তিন তিনটি ভাষার ব্যবহার করতে পারছেন। নিজস্ব মাতৃভাষা, হিন্দি ও ইংরেজি।ভারতবর্ষে অবস্থিত বেশিরভাগ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন মাতৃভাষার ব্যবহার শুধুমাত্র নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে করতে পারেন। একটি দুটি ব্যতিক্রম ছাড়া সরকারিস্তরে এ ভাষা গুলির ব্যবহার সাধারণত হয় না। তাই এই সম্প্রদায়ের মানুষজনদের অবধারিতভাবে সেই রাজ্যের আঞ্চলিক ভাষাটি শিখতে হয়। সর্বভারতীয় স্তরে কাজের জন্য তারা হিন্দি শিখে থাকেন। ও উচ্চতর সফলতার জন্য ইংরেজি ভাষাটি শেখাটা একরকম বাধ্যতামূলক ব্যাপার। তাই ভারতবর্ষের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ জন একাধারে ন্যূনতম চারটি ভাষা শেখেন। নিজস্ব মাতৃভাষা, আঞ্চলিক ভাষা, হিন্দি ও ইংরেজি। কিছু কিছু আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন এর বাইরে অন্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের মাতৃভাষা ব্যবহার করে থাকেন। দেখা যায় ভাষা ব্যবহারে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে।একটি শিশু তার মা-বাবাকে অনুসরণ করে প্রথম শব্দগুলি বলতে শেখে, বুঝতে শেখে। একটু একটু করে সে ছোট ছোট বাক্য বলতে শেখে। বাড়িতে ব্যবহৃত ভাষাটি হয়ে ওঠে তার মাতৃভাষা। শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে সেই ভাষাটি ব্যবহৃত হলে শিশুর পক্ষে শিক্ষা গ্রহণ করা খুব সহজ হয়। কিন্তু শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি তার মাতৃভাষার পরিবর্তে অন্য কোন অপরিচিত ভাষায় তার শিক্ষা দীক্ষা আরম্ভ হয় তবে সেটি শিশুটির পক্ষে বড্ড কষ্টকর হয়ে যায়। যদি শিশুটি তার কথা বড়দের বলতে পারতো তবে সে বলতো তাকে যেন নিজের মাতৃভাষাতেই প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়। ভারতের সংবিধান শিশুদের এই কথা ভেবেই অনুচ্ছেদ ৩৫০ এর ক তে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার কথা বলেছে। ভারতের বেশিরভাগ ভাষায় এই সুবিধা নেই এবং যে গুটিকয়েক ভাষায় এই সুবিধা আছে সেখানে আমরা অভিভাবকগণ অনেকেই মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাদান থেকে অনেক সময় সন্তানদের বঞ্চিত করে রাখি।আপনি যতো বেশি ভাষা শিখবেন ততো বেশি সমৃদ্ধ হবেন। এ কথা আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি। আমার মাতৃভাষা বাংলা। হিন্দি, ইংরেজি ও ওড়িয়া ভাষা শেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। এখন একটু একটু করে সাঁওতালি শিখছি। বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করার অনেক উপকারিতা পাই আমি ও আনন্দ অনুভব করি।ভারত বিবিধতায় ভরা দেশ। এই দেশে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা সহাবস্থান করে। আমরা সমস্ত ভাষাকে সম্মান করবো। তবে খেয়াল রাখবো মানুষের উপর যেন কোন ভাষা চাপিয়ে দেওয়া না হয়। এবং আমরাও জ্ঞানত ও অজ্ঞানত যেন তা না করি। আমার ইচ্ছা হবে আমি আমার মাতৃভাষা ব্যবহার করবো। আমার ইচ্ছা হবে আমি অন্য ভাষা ব্যবহার করবো। আমার ইচ্ছা হবে আমি সামনের জনের মাতৃভাষা ব্যবহার করবো। আমাদের ইচ্ছা হবে আমরা নিজ নিজ বা পরস্পরের মাতৃভাষা ব্যবহার করবো। আমাদের ইচ্ছা হবে আমরা অন্য একটি ভাষা ব্যবহার করবো। ভাষা ব্যবহারে আমাদের এই স্বাধীনতা আমরা রক্ষা করবো। এভাবেই সমস্ত ভাষাকে সম্মান জানিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করবো।কৃষ্ণেন্দু কুমার মন্ডল নবোদয়।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

মাদ্রাসা নিয়ে বাংলায় বড়সড় ‘অ্যাকশন’! ২৫২টি বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০—সরকারি সমীক্ষায় চাঞ্চল্য

অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের, জেলায় জেলায় নথি যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত।মাদ্রাসা নিয়ে বাংলায় এবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। রাজ্যজুড়ে মাদ্রাসাগুলির উপর চালানো সমীক্ষার পর প্রথম দফায় ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে শোকজ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কলকাতা-সহ রাজ্যের ২২টি জেলায় মাদ্রাসাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই যাচাই-পর্বে শুধু অনুমোদন রয়েছে কি না, তা-ই নয়পরিচালন ব্যবস্থা, পড়ুয়ার সংখ্যা, শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতি, অর্থের উৎস, নথিপত্র, রেজিস্ট্রেশন এবং পরিকাঠামো-সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে।সমীক্ষার রিপোর্ট সামনে আসতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যে বিপুল সংখ্যক মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন বা নির্দিষ্ট স্বীকৃতি ছাড়াই চলছে বলে প্রশাসনের তরফে দাবি। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২,৩৯৬। এর মধ্যেই প্রথম ধাপে ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি বন্ধের নোটিস জারি করেছে সরকার।খারিজি মাদ্রাসাই কি নিশানায়?সরকারি পদক্ষেপের আওতায় আসা ২৫২টি মাদ্রাসার বড় অংশই খারিজি বা বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত মাদ্রাসা বলে খবর। এই প্রতিষ্ঠানগুলির বৈধতা, পরিচালন পদ্ধতি এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েই মূলত প্রশাসনের নজরদারি।তবে সরকারের অবস্থানও স্পষ্টকোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি স্বীকৃতির বাইরে থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চলতে পারে না। যে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই কিংবা ন্যূনতম পরিকাঠামো ও নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ, তাদের বিরুদ্ধে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শুধু বন্ধ নয়, শোকজ-এর পরেও কড়া বার্তাপ্রথম দফায় ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দেওয়া হলেও প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে আপাতত দেওয়া হয়েছে শোকজ নোটিস। অর্থাৎ, তাদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।প্রশাসনের প্রশ্নকোন আইনি অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান চলছে? কতজন পড়ুয়া রয়েছে? শিক্ষক কারা? অর্থ আসছে কোথা থেকে? পর্যাপ্ত ভবন ও শিক্ষার পরিকাঠামো রয়েছে কি না? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।জানা যাচ্ছে, সন্তোষজনক উত্তর বা প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে শোকজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও পরবর্তী ধাপে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে।২২ জেলায় নথি যাচাইতারপরই সিদ্ধান্তমাদ্রাসা নিয়ে এই অভিযান হঠাৎ করে নয়। রাজ্য সরকারের নির্দেশেই জেলায় জেলায় শুরু হয়েছিল সমীক্ষা। কলকাতা-সহ ২২টি জেলার মাদ্রাসাগুলির নথি সংগ্রহ করে যাচাই করা হয়।সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের তরফে দাবি, অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলি নিয়ম মেনেই চলছে। কিন্তু অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে সরকার আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না।মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর বক্তব্য, মাদ্রাসাগুলির যাবতীয় নথি সংগ্রহ করে যাচাই করা হয়েছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলি চালু রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।সরকারের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, প্রশ্ন তুললেন ত্বহা সিদ্দিকীতবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে পাল্টা প্রশ্নও উঠছে। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেনকেন কোনও মাদ্রাসাকে শোকজ করা হচ্ছে, কেনই বা বন্ধ করা হচ্ছে, তা আগে সাধারণ মানুষকে জানানো হোক।তাঁর বক্তব্য, বহু মাদ্রাসা সাধারণ মানুষের অনুদান ও সাহায্যের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। মাদ্রাসায় শুধু ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় না, সরকারি পাঠ্যক্রমও পড়ানো হয় বলে দাবি তাঁর।ফলে সরকারের প্রশাসনিক যুক্তির বিপরীতে উঠে আসছে অন্য প্রশ্নঅনুমোদনের মাপকাঠি কী? কোন প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূত এবং কোনটি নয়? আর বহু বছর ধরে চলা প্রতিষ্ঠানগুলির ভবিষ্যৎই বা কী?রাজনীতির ময়দানেও বাড়ছে উত্তাপমাদ্রাসা ইস্যুতে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, সংখ্যালঘু শিক্ষা এবং সরকারি অনুমোদনের প্রশ্নের সঙ্গে এবার সরাসরি যুক্ত হচ্ছে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বনাম দীর্ঘদিনের সামাজিক উদ্যোগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা।একদিকে সরকারের যুক্তিআইন ও নিয়মের বাইরে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে দেওয়া যায় না। অন্যদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের একাংশের বক্তব্যশুধু সরকারি অনুমোদনের অভাবকে কেন্দ্র করে কোনও প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।ফলে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ এখন শুধু প্রশাসনিক ফাইলের বিষয় নয়; তা ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনীতি ও সংখ্যালঘু শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।উত্তরাখণ্ডের পর বাংলাতেও কড়া পদক্ষেপঅনুমোদনহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের নজির অন্য রাজ্যেও রয়েছে। উত্তরাখণ্ডে ইতিমধ্যেই একাধিক অননুমোদিত মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলার এই পদক্ষেপকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।এখন মূল নজর শোকজ পাওয়া প্রায় ১০০টি মাদ্রাসার জবাবের দিকে। তারা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিকাঠামোর প্রমাণ দিতে পারে কি না, তার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।তবে একটি বিষয় ইতিমধ্যেই স্পষ্টমাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আর নজরদারির বাইরে রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথম দফার এই অ্যাকশন আগামী দিনে আরও বড় প্রশাসনিক অভিযানের ইঙ্গিত কি না, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
বিদেশ

পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলা! ইউক্রেন যুদ্ধ কি এবার ন্যাটোর দরজায়?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার পশ্চিম ইউক্রেনে ঘটনাটি ঘটে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। হামলায় ট্রেনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ২০৬ জন যাত্রীর কেউ আহত হননি বলে দাবি করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, পোল্যান্ডের একটি রেল সংস্থার পরিচালিত ওই ট্রেনটি কিয়েভ থেকে ওয়ারশের দিকে যাচ্ছিল। পথে আচমকাই ট্রেনটির উপর একের পর এক রুশ ড্রোন হামলা হয় বলে অভিযোগ। হামলার জেরে ট্রেনে আগুন ধরে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে।তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পর প্রায় ছঘণ্টা ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটল, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে গোটা ইউরোপেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।পোল্যান্ডের কাছে এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বেশি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ পোল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য দেশ। ন্যাটোর চুক্তি অনুযায়ী, কোনও সদস্য দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য সদস্যদেশগুলির সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে পারে।তবে রবিবারের ঘটনাটিকে সরাসরি পোল্যান্ডের উপর রুশ হামলা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাঁদের একাংশের মতে, পোল্যান্ড সীমান্তের এত কাছে এমন ঘটনা ন্যাটোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। রাশিয়ার উদ্দেশ্য ন্যাটোর প্রস্তুতি ও ঐক্য পরীক্ষা করা কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি ভবিষ্যতে পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালায়, তার প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। কারণ পোল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য। সে ক্ষেত্রে গোটা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেই বড় পরিবর্তন আসতে পারে।তবে রবিবারের হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে এই হামলার অভিযোগ নতুন করে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাইরাশিয়া যদি সত্যিই পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালায়, তখন ন্যাটো কী পদক্ষেপ করবে?

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
দেশ

একের পর এক ভূমিধসে বসে যাচ্ছে আস্ত পাহাড়! সিকিমে হড়পা বানের আতঙ্ক, সরানো হল ৩৮ পরিবার

পশ্চিম সিকিমের গিয়ালশিং জেলার সিঙ্গলিথাম গ্রাম এবং সংলগ্ন রিম্বি এলাকায় একের পর এক ভূমিধসে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রবিবার সকাল থেকে ভূমিধসের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পাহাড়ের ঢাল থেকে কাদা, পাথর ও গাছের ধ্বংসাবশেষ নেমে আসছে। এর জেরে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় সিকিম প্রশাসনের তরফে রিম্বির ৩০টি এবং সিঙ্গলিথামের ৮টি পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাহাড়ের ঢাল নরম হয়ে যাওয়ায় সিঙ্গলিথামের বেশ কয়েকটি বাড়িও ইতিমধ্যে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সিঙ্গলিথামের পাহাড়ের ঢাল থেকে ক্রমাগত কাদা, বড় পাথর এবং গাছ নেমে এসে স্থানীয় ঝোরার গতিপথ আটকে দিচ্ছে। ফলে রিম্বির নিচের দিকে আচমকা হড়পা বান নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। প্রশাসনের নজরদারিতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, রিম্বির ঠিক উপরে সিঙ্গলিথাম গ্রামের কাছে একটি টিলা ধীরে ধীরে বসে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল নরম হয়ে যাওয়ায় মাটি, কাদা এবং পাথর ক্রমাগত নিচের দিকে নেমে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, গত অগস্ট মাস থেকেই ওই এলাকায় ভূমিধস শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধস গ্রামের দিকে এগিয়ে আসছে।ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপে রিম্বি-ইউকসম এবং রিম্বি-খেচুপেরি সড়কের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ইউকসম-তাশিডিং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসনের তরফে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এবং যাত্রীদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিপদের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে শুরু করেছেন।প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। পাহাড়ের ঢাল আরও নরম হলে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে ঝোরা অবরুদ্ধ হলে নিচের এলাকায় হড়পা বান তৈরি হতে পারে কি না, সেই দিকেই এখন নজর স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে বড় চমক মমতার, আসন্ন উপনির্বাচনে ২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা তৃণমূলের

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার দলের তরফে জানানো হয়েছে, নন্দীগ্রামে প্রার্থী হচ্ছেন সঞ্চিতা প্রধান (দে)। পাশাপাশি, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য রাবিউল আলম চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জল্পনার অবসান হল।দলের এই ঘোষণা এমন সময়ে এল, যখন শনিবারই তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির জানিয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তারা ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে না। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তরফে মমতাকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করে বিধানসভায় ফেরার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।১৫ বছর পর বিধানসভার বাইরে মমতা?২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামেও শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি।২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন মমতা। ২০১৬ সালে ফের ভবানীপুর থেকে জয় পান তিনি। ২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর উপনির্বাচনে জিতে আবারও বিধানসভায় জায়গা করে নেন। তৃণমূল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা করায় এবার দীর্ঘ ১৫ বছর পর তাঁকে বিধানসভার বাইরে থাকতে হতে পারে।কেন নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন?২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরদুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম থেকে ইস্তফা দেন। সেই কারণেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। ভোটের গণনা ৯ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর।তৃণমূলে গোষ্ঠীকোন্দল অব্যাহতপ্রার্থী ঘোষণার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবাদ আরও জটিল হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীদুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। উভয় শিবিরই দলের নিয়ন্ত্রণ, নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের স্বীকৃতি দাবি করেছে।১২ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের বক্তব্য শোনে নির্বাচন কমিশন। বিদ্রোহী শিবিরের কাছে আরও কিছু নথি চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমার আগে দলের প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদের নিষ্পত্তি হয়নি।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

স্ত্রীর পুরনো হাসি ভুলতে পারেননি! ৮৮ বছর বয়সে নিজের হাতেই বানিয়ে ফেললেন তাঁর মুখ

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা ৮৮ বছরের ভূপতিরঞ্জন দেবনাথ। দীর্ঘ কর্মজীবনে মধ্যমগ্রাম হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। প্রায় তিন দশক আগে অবসর নিয়েছেন। এখন পেনশনের টাকাতেই চলে তাঁর সংসার। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংসারে একের পর এক কঠিন সময় এসেছে তাঁর জীবনে।ভূপতির স্ত্রী অঞ্জলির বয়স সত্তরের কোঠায়। তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। দুই মেয়েরই মধ্যমগ্রামে বিয়ে হয়েছে। বাড়িতে রয়েছেন পুত্রবধূ এবং নাতিও। তবে করোনা অতিমারির সময় একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছেন ভূপতি ও অঞ্জলি। ছেলের পরিবারকেও এরপর নিজেদের দায়িত্বে আগলে রেখেছেন তাঁরা।এরই মধ্যে গত ছমাস ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী অঞ্জলি। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে, এখন হাতে কলম নিয়ে সই করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব হয় না। একসময় যে স্ত্রী সংসারের নানা কঠিন পরিস্থিতিতেও হাসিমুখে সব সামলে নিতেন, আজ সেই মুখেই অসুস্থতার ছাপ স্পষ্ট।কিন্তু স্ত্রীর সেই পুরনো হাসি এখনও ভুলতে পারেননি ভূপতি। বরং সেই হাসিই তাঁর মনে আজও একই রকম উজ্জ্বল। তাই স্ত্রীর মুখের সেই পুরনো অবয়ব এবং হাসিকে ধরে রাখতে নিজের হাতেই তৈরি করেছেন একটি প্রতিকৃতি।শিক্ষকতার পাশাপাশি হাতের কাজেও যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন ভূপতি। কর্মজীবনে বিভিন্ন সময়ে মাটি, নারকেলের খোল, গাছের ডাল-সহ নানা সাধারণ উপকরণ দিয়ে নানা জিনিস তৈরি করেছেন তিনি। ফেলে দেওয়া জিনিস তাঁর হাতে নতুন রূপ পেয়েছে। সেইসব কাজ এখনও তাঁর বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় যত্ন করে রাখা রয়েছে।এ বার সেই দক্ষতাকেই কাজে লাগিয়েছেন নিজের জীবনসঙ্গীর স্মৃতি ধরে রাখতে। প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে তৈরি করেছেন অঞ্জলির হাসিমুখের একটি প্রতিকৃতি। বাড়ির একটি শোকেসে রাখা রয়েছে সেই মূর্তি। স্ত্রীর পাশে বসে থাকার সময় কখনও অসুস্থ অঞ্জলির দিকে তাকান, কখনও আবার চোখ চলে যায় সেই হাসিমুখের প্রতিকৃতির দিকে।ভূপতির কথায়, তাঁদের দাম্পত্য জীবন প্রায় ৫৯ বছরের। অঞ্জলি বরাবরই হাসিখুশি থাকতে ভালোবাসতেন। সংসারে যত সমস্যাই আসুক, তিনি কখনও তা প্রকাশ করতেন না। হাসিমুখেই কঠিন সময় পার করেছেন। সেই হাসিই ছিল ভূপতির কাছে বড় ভরসা।আজ অঞ্জলি অসুস্থ। বিছানা থেকে ওঠার শক্তিও নেই। মুখের সেই পুরনো হাসিও আর দেখা যায় না। কিন্তু ভূপতির স্মৃতিতে অঞ্জলির হাসি এখনও একই রকম জীবন্ত। সেই হাসিকে অমলিন রাখতেই স্ত্রীর মুখের আদলে তৈরি করেছেন এই প্রতিকৃতি।পুরনো দিন আর ফিরে আসবে না, তা জানেন ৮৮ বছরের ভূপতি। তবু তাঁর একটাই আশা, স্ত্রী আবার শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে উঠে একটু হাঁটাচলা করতে পারবেন, আগের মতো তাঁর পাশে বসতে পারবেন। আর সেই আশার সঙ্গেই ঘরের শোকেসে হাসিমুখে থেকে গিয়েছে অঞ্জলির সেই পুরনো মুখ।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

কেমন হওয়া উচিত গণেশের মূর্তি? কেনার আগে মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি, সঠিক নিয়মে পুজোয় পাবেন হাতে নাতে ফল

ভগবান গণেশকে উৎসর্গ করে পালিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব গণেশ চতুর্থী। বিঘ্নহর্তা, জ্ঞানদাতা এবং শুভ সূচনার দেবতা হিসেবে গণেশের আরাধনা করেন ভক্তরা। ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন থেকেই শুরু হবে দশ দিনব্যাপী গণেশ উৎসব।প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থীর দিন বাড়িতে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস, এই সময় বাপ্পাকে বাড়িতে স্বাগত জানালে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং সুখ-সমৃদ্ধি আসে। তবে মূর্তি কেনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সৌন্দর্য বা সাজসজ্জা দেখলেই হবে না। ধর্মীয় বিশ্বাস ও বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, মূর্তির উচ্চতা, ভঙ্গি, রং, শুঁড়ের দিক এবং বাহনের উপস্থিতিরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করা হয়।কেমন হওয়া উচিত গণেশের মূর্তি?বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত মত অনুযায়ী, বাড়িতে পুজোর জন্য গণেশের মূর্তি খুব বড় হওয়া উচিত নয়। সাধারণত ৯ থেকে ১১ ইঞ্চি উচ্চতার মূর্তিকে গৃহস্থের পুজোর জন্য উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। এর তুলনায় বড় মূর্তি রাখলে পুজো ও বিসর্জনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সমস্যা হতে পারে বলেও মত রয়েছে।মূর্তির ভঙ্গির দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলা হয়। বাড়িতে পুজোর জন্য উপবিষ্ট গণেশের মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই ভঙ্গি শান্তি, স্থায়িত্ব ও সুখের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, চার হাতের গণেশ মূর্তির ক্ষেত্রে উপরের বাম হাতে পাশ, ডান হাতে অঙ্কুশ, নীচের বাম হাতে মোদক এবং নীচের ডান হাত অভয় মুদ্রায় থাকা শুভ বলে মনে করা হয়।গণেশের শুঁড় কোন দিকে থাকবে?গণেশের মূর্তি কেনার সময় শুঁড়ের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাম দিকে বাঁকানো শুঁড়যুক্ত গণেশের মূর্তি বাড়িতে স্থাপনের জন্য শুভ। এই ধরনের গণেশকে বামামুখী গণেশ বলা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রূপ শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক।অন্যদিকে, ডান দিকে বাঁকানো শুঁড়ের গণেশকে সিদ্ধিবিনায়ক বলা হয়। এই রূপকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বলে মনে করা হয় এবং তাঁর পুজোয় বিশেষ নিয়মকানুন মেনে চলার প্রচলন রয়েছে। তাই বাড়ির পুজোর জন্য মূর্তি কেনার সময় শুঁড়ের দিকটি খেয়াল করার পরামর্শ দেওয়া হয়।গণেশের বাহন ইঁদুর থাকা কি জরুরি?ভগবান গণেশের বাহন ইঁদুর। তাই মূর্তি কেনার সময় গণেশের পায়ের কাছে তাঁর বাহন ইঁদুরের মূর্তি রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়ার কথা বলা হয়।প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশের মূর্তির সঙ্গে তাঁর বাহন ইঁদুরের উপস্থিতির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তাই সম্পূর্ণ মূর্তি কেনার সময় এই বিষয়টিও নজরে রাখা হয়।কোন দিকে মুখ করে থাকবে গণেশের মূর্তি?বাড়িতে গণেশের মূর্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে দিকেরও গুরুত্ব রয়েছে বলে বাস্তুশাস্ত্রে প্রচলিত মত রয়েছে। সেই অনুযায়ী, গণেশের মুখ পূর্ব বা উত্তর দিকে রেখে মূর্তি স্থাপন করা শুভ বলে মনে করা হয়। পুজোর সময়ও গণেশের মুখ যেন পূর্ব অথবা উত্তর দিকে থাকে, সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।তবে গণেশের মূর্তির আকার, ভঙ্গি, শুঁড়ের দিক কিংবা মূর্তি স্থাপনের দিক নিয়ে প্রচলিত এই ধারণাগুলি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও বাস্তুশাস্ত্রভিত্তিক মত। ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পারিবারিক রীতি এবং স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী গণেশ পুজোর নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

১৪ নাকি ১৫ সেপ্টম্বর, কবে পালিত হবে গণেশ চতুর্থী? জানুন ঠিক কোন সময়ে পুজোয় মিলবে দ্বিগুণ আর্শীবাদ?

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব গণেশ চতুর্থী। গণেশোৎসব নামেও পরিচিত এই উৎসব ভগবান গণেশের জন্মতিথি হিসেবে পালিত হয়। জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবতা গণেশের আরাধনা করে ভক্তরা সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতেই ভগবান গণেশের জন্ম হয়েছিল। সাধারণত ১০ দিন ধরে চলে এই উৎসব। অনন্ত চতুর্দশীর দিন গণেশ বিসর্জনের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি হয়।গণেশ চতুর্থী ২০২৬ কবে?দ্রিক পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর। গণেশ বিসর্জন হবে শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর। উৎসবের শুরুতে বাড়ি ও বিভিন্ন মণ্ডপে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর প্রাণপ্রতিষ্ঠা, পুজো, প্রার্থনা ও আরতির মাধ্যমে চলে বাপ্পার আরাধনা। ফুল, ধূপ, প্রদীপ, ফল, মিষ্টি এবং বিশেষ করে মোদক নিবেদন করা হয় গণেশকে।গণেশ চতুর্থী ২০২৬-এর পুজোর শুভ মুহূর্তগণেশ পুজোর ক্ষেত্রে মধ্যাহ্নকালকে বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়েই ভগবান গণেশের জন্ম হয়েছিল।১৪ সেপ্টেম্বর গণেশ পুজোর শুভ সময়:সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত।গণেশ চতুর্থীর তিথি শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে।শহরভেদে গণেশ পুজোর শুভ সময়বিভিন্ন শহরে স্থানীয় সময় অনুযায়ী গণেশ পুজোর শুভক্ষণে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।পুনে: সকাল ১১টা ১৬ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৪ মিনিটনয়াদিল্লি: সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিটচেন্নাই: সকাল ১০টা ৫১ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ১৮ মিনিটজয়পুর: সকাল ১১টা ৮ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটহায়দরাবাদ: সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটগুরগাঁও: সকাল ১১টা ৩ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিটচণ্ডীগড়: সকাল ১১টা ৪ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটকলকাতা: সকাল ১০টা ১৮ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটমুম্বই: সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটবেঙ্গালুরু: সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ২৮ মিনিটআহমেদাবাদ: সকাল ১১টা ২১ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৯ মিনিটনয়ডা: সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটকীভাবে পালিত হয় গণেশ চতুর্থী?গণেশ চতুর্থীর উৎসব শুরু হয় বাড়ি বা মণ্ডপে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এরপর প্রাণপ্রতিষ্ঠা, পুজো ও আরতি করা হয়। ভক্তরা বাপ্পাকে ফুল, ফল, দূর্বা, ধূপ এবং বিভিন্ন মিষ্টি নিবেদন করেন। এর মধ্যে গণেশের প্রিয় মিষ্টি হিসেবে মোদকের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।অনেক পরিবারে গণেশের মূর্তি বাড়িতে এনে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েক দিন ধরে পুজো করা হয়। অন্যদিকে, বিভিন্ন শহর ও এলাকায় বড় বড় মণ্ডপ তৈরি করে গণেশোৎসবের আয়োজন করা হয়। পুজোর পাশাপাশি সেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, সঙ্গীতানুষ্ঠান, খাবারের আয়োজন এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগও দেখা যায়।উৎসবের শেষ দিনে গণেশের মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জলাশয়ে বাপ্পার বিসর্জনের মাধ্যমে গণেশোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

রাশি অনুযায়ী বেছে নিন গণপতি বাপ্পার মূর্তির রং, কোন রাশির জন্য কোন রং শুভ?

গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে বাড়িতে গণপতি বাপ্পার মূর্তি স্থাপনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন ভক্তরা। মূর্তি কেনার সময় সাধারণত আকার, রূপ, ভঙ্গি এবং পুজোর নিয়মের দিকে নজর দেওয়া হয়। তবে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশের মূর্তির রঙেরও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বিভিন্ন রঙের সঙ্গে বিভিন্ন গ্রহ এবং তাদের বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। সেই বিশ্বাস অনুযায়ী, নিজের রাশি অনুসারে গণেশের মূর্তির রং বেছে নিলে শুভ ফল পাওয়া যেতে পারে।২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। প্রচলিত জ্যোতিষীয় মতে, ওই সময় চন্দ্র তুলা রাশিতে অবস্থান করবে। এবার দেখে নেওয়া যাক, কোন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য কোন রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়।মেষ ও বৃষ রাশির জন্য লাল ও হালকা গোলাপিমেষ রাশির অধিপতি গ্রহ মঙ্গল। জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গলের সঙ্গে লাল রঙের সম্পর্ক রয়েছে। তাই মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য লাল রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং সাহস, কর্মশক্তি ও সংকল্পের প্রতীক। জীবনের বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে লাল গণপতির আরাধনা ফলদায়ক হতে পারে বলে বিশ্বাস।বৃষ রাশির অধিপতি শুক্র। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ক্রিম বা হালকা গোলাপি রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং সৌন্দর্য, আরাম, সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।মিথুন ও কর্কটের জন্য সবুজ ও সাদামিথুন রাশির অধিপতি বুধ। তাই মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য সবুজ রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সবুজ রং বুদ্ধি, যোগাযোগ, শিক্ষা ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত।কর্কট রাশির অধিপতি চন্দ্র। তাই এই রাশির জন্য সাদা রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। সাদা রং শান্তি, পবিত্রতা, মানসিক স্থিরতা এবং পারিবারিক সম্প্রীতির প্রতীক বলে বিশ্বাস করা হয়।সিংহ ও কন্যার জন্য কমলা ও সবুজসিংহ রাশির অধিপতি সূর্য। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য কমলা, জাফরান বা হালকা সোনালি রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং আত্মবিশ্বাস, প্রাণশক্তি, নেতৃত্ব এবং অভ্যন্তরীণ শক্তির প্রতীক।কন্যা রাশির অধিপতিও বুধ। তাই কন্যা রাশির জন্য সবুজ রঙের গণেশ মূর্তি উপযুক্ত বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে মনে করা হয়। সবুজ রং বুদ্ধি, দক্ষতা ও যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।তুলা ও বৃশ্চিকের জন্য গোলাপি ও মেরুনতুলা রাশির অধিপতি শুক্র। তাই এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য গোলাপি এবং হালকা নীল রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং সৌন্দর্য, সম্পর্কের ভারসাম্য, সম্প্রীতি ও শান্তির প্রতীক।বিশেষ করে ২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থীর সময় চন্দ্র তুলা রাশিতে অবস্থান করার বিষয়টিকেও জ্যোতিষীয় দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য গাঢ় লাল বা মেরুন রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং শক্তি, মানসিক সাহস এবং নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।ধনু ও মীনের জন্য হলুদধনু রাশির অধিপতি বৃহস্পতি। তাই ধনু রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য হলুদ রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। হলুদ রং শিক্ষা, সমৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়।মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্যও হলুদ রঙের গণেশ মূর্তি অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বৃহস্পতির সঙ্গে হলুদ রঙের সম্পর্ক থাকায় এই রঙকে জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।মকর ও কুম্ভের জন্য মাটির রং ও নীলমকর রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ধূসর, পাথুরে বা মাটির মতো বাদামি রঙের গণেশ মূর্তি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই রং শনির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও ধীরস্থির অগ্রগতির প্রতীক বলে মনে করা হয়।অন্যদিকে, কুম্ভ রাশির জন্য নীল রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে জ্যোতিষীয় বিশ্বাস রয়েছে। নীল রং স্থিরতা, গভীরতা ও মানসিক দৃঢ়তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।তবে রাশি অনুযায়ী গণেশ মূর্তির রং বেছে নেওয়ার এই ধারণাগুলি মূলত জ্যোতিষশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে প্রচলিত। ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পারিবারিক রীতি এবং স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী গণেশ পুজোর নিয়ম ও পছন্দ ভিন্ন হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal