• ১১ কার্তিক ১৪৩৩, রবিবার ০১ নভেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

TMC

রাজ্য

‘বড় চোর জেলে যাবেই’, বারুইপুরের সভা থেকে কাকে নিশানা করলেন শুভেন্দু?

বড় চোর জেলে যাবেই, চিন্তা করবেন না। ধৈর্য রাখুন। শুক্রবার বারুইপুরের সভা থেকে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কারও নাম না করেই তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন তিনি।শুভেন্দু বলেন, আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে, বড় চোর কবে যাবে? বড় চোর যাবে। আমার রাজনীতিতে সহ্য, ধৈর্য ধরি। সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক নেতার গ্রেফতারির প্রসঙ্গেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি সেই তালিকায় ইন্দ্রনীল সেন ও অজিত মাহাতোর নামও উঠে এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দুর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।এ দিনের সভা থেকে তৃণমূল ও সিপিএমের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সিপিএম ও তৃণমূল এখন একসঙ্গে কাজ করছে। দুই পক্ষকে নিশানা করে তিনি বলেন, বেবি আর আন্টি এখন একসঙ্গে চা খাচ্ছেন। তাঁর এই মন্তব্যের লক্ষ্য ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, সাহস থাকলে আপনি লড়ুন। আবার হারাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একই সঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, ওঁরা কলকাতায় না থেকে দিল্লি যাচ্ছেন। আপনি দিল্লি যান। পশ্চিমবঙ্গে আপনার আর কিছু হবে না।উল্লেখ্য, দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এবং পরবর্তী কিছু প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএমের একাংশের অবস্থানে মিল দেখা গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যের আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে দিল্লিতে কেরলের সিপিএম নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের সংসদীয় নেতৃত্বের একাংশের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই এম এ বেবির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চা খাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, হেরেই পঞ্চত্বপ্রাপ্তি একটা দলের।এ দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নাম না করে নিশানা করেন শুভেন্দু। ডিজে প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গোটা জেলায় গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দিয়েছ। ২০১৪ সালের পর থেকে একটাও ভোট করতে দাওনি। ৭ লক্ষ ভোটে জিতেছেন উনি। কিন্তু ৬ মাস কোথায়? সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন। রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন তিনি। তারই জবাবে এ দিনের সভা থেকে নাম না করে পাল্টা আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু। তবে বড় চোর বলতে কাকে বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
রাজ্য

বন দফতরে সরকারি চাকরির টোপ, ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা!

বন দফতরে স্থায়ী সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করেছে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছু দিন আগে। ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবা এলাকার বাসিন্দা সজল দাস অজিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলে বন দফতরে স্থায়ী চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন অজিত।অভিযোগ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে চার দফায় অজিতকে মোট ১০ লক্ষ টাকা দেন সজল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি পাননি তিনি। এর পর টাকা ফেরত চাইলেও তা পাননি বলে অভিযোগ।সজলের আরও দাবি, টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি, আরও ২ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। একই ভাবে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরও কয়েক জন বেকার যুবকের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে অজিতের নিজের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।তবে অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশি তদন্তের পরেই এই ঘটনায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
রাজনীতি

জেল থেকে ফিরেই হুমকির অভিযোগ! আমোদপুরে তৃণমূল নেতাকে দড়ি বেঁধে ঘোরালেন স্থানীয়রা

বীরভূমের সাঁইথিয়া থানার আমোদপুরে এক তৃণমূল নেতাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। জামিনে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফের বিভিন্ন জনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর পর পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযুক্তের নাম তাহিরুল শেখ। তিনি সাঁইথিয়া ব্লকের ভ্রমরকোল অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি। ঘটনার খবর পেয়ে আমোদপুর ফাঁড়ির পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।ঘটনার সূত্রপাত সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের দিন। অভিযোগ, ওই দিন ভ্রমরকোল অঞ্চলের ৬৮ নম্বর বুথে বিজেপির নির্বাচিত বিধায়ক দেবাশিস ওঝার ছেলে, নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ বিজেপির কয়েকজন নেতাকে মারধর করা হয়েছিল। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা তাহিরুল শেখের নাম জড়ায়। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রায় দুমাস আগে জামিনে মুক্তি পান তিনি।বিজেপির অভিযোগ, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফের দলের কর্মীদের হুমকি দিতে শুরু করেন তাহিরুল। রবিবার বেলার দিকে তিনি আমোদপুর লাগোয়া ঈশ্বরপুর গ্রামে প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রশান্ত সাধুর বাড়িতে যান। সেই খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁকে ধরে কোমরে দড়ি বেঁধে আমোদপুর বাজার এলাকায় ঘোরান। পরে তাঁকে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির হাতে তুলে দেওয়া হয়।বিজেপির ভ্রমরকোল মণ্ডল সভাপতি সুদীপ ঘোষের দাবি, ভোটের দিন তাহিরুলের নেতৃত্বে তাঁদের দলের নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়েছিল। তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলারও চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, জামিনে মুক্তির পর ফের বিজেপি কর্মীদের হুমকি দিচ্ছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। সেই খবর পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁরা তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মহম্মদ ইউনুসের বক্তব্য, বিজেপি অনেক জায়গাতেই পুলিশের মদতে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের হেনস্থা করছে। তবে আমোদপুরের এই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোটের দিন বিজেপি নেতাদের মাথা ফাটানোর অভিযোগের জেরেই তাহিরুল জনরোষের মুখে পড়েছেন। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নেতার কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন। আমোদপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং ঘটনার নেপথ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাজনীতি

পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উদ্ধার, আরও সম্পদের সন্ধানে তদন্তে পুলিশ

সরকার বদলের পর থেকে নানা অভিযোগে একের পর এক হেভিওয়েট নেতা, মন্ত্রী গ্রেফতার হয়েছেন। এখনও তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি অব্যাহত। এবার কাটোয়ায় গ্রেফতার হওয়া নেতার বাড়ি থেকে রাশি রাশি টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, সম্পত্তির হদিশও মিলেছে। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার দুই তৃণমূল নেতা সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত চক্রবর্তী কিভাবে বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এদের সঙ্গে জড়িত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।জানা গিয়েছে, সামন্য বেতনে বেসরকারী একটি মোবাইল সংস্থায় কর্মরত ছিলেন ওই দুই নেতা। পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দিয়েই কাটোয়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর সর্বসময়ের সঙ্গী দীগন্ত পালের সঙ্গে বিশেষ সখ্য়তা স্থাপন করে ফেলেন। এরপর সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত চক্রবর্তীর ধনসম্পত্তি বাড়তে বিদ্যুৎ গতিতে। ইতিমধ্যে সরকার পরিবর্তন হতেই আর্থিক দুর্নীতির মামলায় রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ দীগন্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সূত্রের খবর, এরপরই গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেরাচ্ছিল সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত চক্রবর্তী। তবে শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়ে দুজনই। এখন তাঁদের বেআইনি ধনসম্পদ নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সুপ্রিয়র বাড়ি থেকে ৯ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে তাঁরা সোনা রেখে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই সোনা কোথা থেকে এসেছে তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদের কাছে দামি চারচাকাও রয়েছে।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলের চেয়ার এবার কাকলির হাতে! দোলার জায়গায় বিজেপি, সংসদে রদবদল ঘিরে তুমুল চর্চা

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারম্যানের পদ হাতছাড়া হয়েছে। রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির থেকে বেরিয়ে যাওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অন্য দিকে, বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর জায়গায় চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীকে।শনিবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলির পুনর্গঠনের পরই এই রদবদলের কথা প্রকাশ্যে আসে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এবং লোকসভার স্পিকারের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের স্থায়ী কমিটির নতুন চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের জন্য পুনর্গঠিত কমিটিগুলির মধ্যে রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন সুধাংশু ত্রিবেদী।এই বদলকে ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে মূলত কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে কেন্দ্র করে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের একদল সাংসদ দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ায় যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়-সহ একাধিক সাংসদ। তাঁরা কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথাও জানিয়েছিলেন। পরে সংসদে তাঁদের আসনেও পরিবর্তন করা হয়।এ বার সেই বিদ্রোহী শিবিরেরই অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদের জায়গায় রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। ফলে সংসদীয় কমিটির এই রদবদলকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।অন্য দিকে, বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদে দোলা সেনের জায়গায় এসেছেন বিজেপির সুধাংশু ত্রিবেদী। অর্থাৎ একই রদবদলে তৃণমূল দুটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারম্যানের পদ হারাল। একটি পদ গেল বিজেপির হাতে, অন্যটি গেল তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রীর হাতে।তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ সাংসদপদ এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। তৃণমূলের তরফে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। লোকসভার সচিবালয় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তাঁদের সাংসদপদ বাতিল হবে কি না, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।ফলে এক দিকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে তৃণমূলের দুই চেয়ারম্যান পদ হাতছাড়া হওয়া, অন্য দিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দায়িত্ব পাওয়া এবং একই সময়ে বিদ্রোহী সাংসদদের সদস্যপদ নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকাসব মিলিয়ে সংসদে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
দেশ

চার অ্যাকাউন্টে ৮০৪ কোটি, চাওয়া হয়েছিল ব্যবহারের অনুমতি! সুপ্রিম কোর্টে কী হল তৃণমূলের?

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা বিপুল টাকা ব্যবহার করা নিয়ে ফের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের চারটি ফ্রিজ করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চালানোর অনুমতি চেয়ে করা আবেদন বৃহস্পতিবার খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। একই সঙ্গে হাই কোর্টকে মামলাটির দ্রুত শুনানি করতে অনুরোধ করেছে শীর্ষ আদালত।চারটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টগুলির টাকা ব্যবহার করার অনুমতি চেয়েছিল মমতা শিবির। দলের দৈনন্দিন কাজ চালানো এবং সামনে থাকা নির্বাচনী কর্মসূচির জন্য অর্থের প্রয়োজন রয়েছে বলে তাদের পক্ষের আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন। প্রতি মাসে প্রায় ১২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন বলেও তৃণমূল শিবিরের তরফে জানানো হয়েছিল।মমতা শিবিরের হয়ে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে দাবি করেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় দলের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কর্মীদের বেতন, দফতরের খরচ এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজ চালাতে অর্থ প্রয়োজন বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের সময় দলের আরও বেশি খরচ হয়।এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট চারটি অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি চালানোর অনুমতি দেয়নি। গত অগস্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, আগের নির্দেশ অনুযায়ী বিশেষ আধিকারিকের মাধ্যমে দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর ব্যবস্থা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে চারটি অ্যাকাউন্ট আলাদা করে চালানোর অনুমতি দিলে আগের নির্দেশই কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। তাই ওই পর্যায়ে অতিরিক্ত অন্তর্বর্তী স্বস্তি দেওয়া হয়নি।বৃহস্পতিবার সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় মমতা শিবির। কিন্তু বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এই পর্যায়ে হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। আদালত মামলার মূল অভিযোগের সত্যতা বা অ্যাকাউন্টের টাকার চূড়ান্ত অধিকার কার, সেই প্রশ্নেরও নিষ্পত্তি করেনি। বরং কলকাতা হাই কোর্টকে দ্রুত শুনানির অনুরোধ করেছে।এই মামলায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কোন পক্ষ দলটির সম্পদ ও ব্যাঙ্কের টাকার উপর অধিকার রাখবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছে, এই বিরোধের মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত টাকার অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না।অন্যদিকে, মামলায় সরকারি পক্ষের তরফে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার আগের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি সংস্থা ও ব্যক্তির কাছ থেকে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা জমা বা স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। আদালত বৃহস্পতিবার এই অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।এর আগে তিনটি অন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করে দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর ব্যবস্থা করেছিল। সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে করা আবেদনেও সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে বর্তমানে চারটি অ্যাকাউন্টের প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা সরাসরি ব্যবহার করার অনুমতি মমতা শিবির পেল না।তবে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, তারা মামলার মূল মেরিটে প্রবেশ করছে না। অর্থাৎ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ বেআইনি কি না, কার অধিকার রয়েছে বা তদন্তে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটাএসব প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এই শুনানিতে হয়নি। এখন কলকাতা হাই কোর্টে মূল মামলার দ্রুত শুনানির দিকেই নজর থাকবে।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
রাজ্য

লজেন্স কুড়োতে গিয়ে বিপত্তি! রেজিনগরে প্রচার গাড়ির সামনে পড়ে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

রেজিনগরে বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচার চলাকালীন ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত শিশুটির নাম জাসমিনা খাতুন। পরিবারের অভিযোগ, রবিবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার চলার সময় প্রচার গাড়ি থেকে ছোড়া লজেন্স কুড়োতে গিয়ে মাটিতে পড়ে গুরুতর জখম হয় জাসমিনা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।পরিবারের দাবি, প্রচারের গাড়ি এলাকায় আসার পর বাজনার শব্দ শুনে অন্যদের সঙ্গে জাসমিনাও সেখানে ছুটে গিয়েছিল। সেই সময় গাড়ি থেকে শিশুদের জন্য লজেন্স ছোড়া হচ্ছিল। লজেন্স কুড়োতে গিয়ে জাসমিনা পড়ে যায় এবং মাথায় আঘাত লাগে বলে পরিবারের অভিযোগ।আহত অবস্থায় প্রথমে জাসমিনাকে বেলডাঙা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার জানিয়েছে।মৃত শিশুটির আত্মীয় ইউসুফ শেখের দাবি, প্রচার চলাকালীন বাজনার আওয়াজ শুনে শিশুরা সেখানে গিয়েছিল। প্রচার গাড়ি থেকে ছোড়া লজেন্স কুড়োতে গিয়ে জাসমিনা পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পায়। এরপর তাকে একাধিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।ঘটনাকে ঘিরে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখের বক্তব্যও সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, শিশুদের জন্যই লজেন্স ছোড়া হয়েছিল। তবে ঠিক কী ভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাঁদের জানা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার কথাও বলেছেন প্রার্থী।অন্য দিকে, এই ঘটনায় গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। তাঁর বক্তব্য, ঘটনা ঘটার পরেই সংশ্লিষ্ট নেতাদের শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। একই সঙ্গে মৃত শিশুটির পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।রেজিনগরে উপনির্বাচনের প্রচার ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ রয়েছে। বিভিন্ন দল নিজেদের প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার চালাচ্ছে। তার মধ্যেই প্রচার চলাকালীন ছয় বছরের শিশুর জখম হওয়া এবং পরে মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।তবে জাসমিনার মৃত্যুর সঠিক কারণ, কী ভাবে সে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছিল এবং ঘটনার সঙ্গে প্রচার গাড়ির কার্যকলাপের সরাসরি সম্পর্ক কতটাতা তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই স্পষ্ট হবে। পরিবারের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
কলকাতা

সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ, আলিপুরদুয়ার পুরসভায় ফের প্রশাসক! হাই কোর্টের বড় নির্দেশ

কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে আলিপুরদুয়ার পুরসভায় ফের প্রশাসক বসানোর পথ খুলে গেল। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের আগের নির্দেশ খারিজ করে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বহাল করেছে বলে আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।পুরসভা নিয়ে এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত গত ১৮ জুন। ওই দিন আলিপুরদুয়ার পুরসভার চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। এরপর ৩০ জুন পুরসভার কাউন্সিলরদের কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়। কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল সেই নোটিসে।এর তিন দিন পর, ৩ জুলাই পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয় এবং আলিপুরদুয়ারের মহকুমাশাসককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে পুরসভার চার কাউন্সিলর আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের মধ্যে এক জন কংগ্রেস কাউন্সিলরও ছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই মামলায় পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া এবং প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের আবেদন করা হয়েছিল।প্রথমে বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। এরপর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের তরফে বৈঠক ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।সিঙ্গল বেঞ্চের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার মামলাটির শুনানির পর ডিভিশন বেঞ্চ প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। ফলে আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ফের প্রশাসকের হাতে চলে যায়।আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তটি ছয় মাসের বেশি নয়, অথবা নতুন পুরবোর্ড দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছিল। অর্থাৎ নতুন পুরবোর্ড দায়িত্ব নিলে প্রশাসকের মেয়াদ তার আগেই শেষ হতে পারে।আলিপুরদুয়ার পুরসভায় মোট ২০টি আসন রয়েছে। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৯ জন তৃণমূল কাউন্সিলর এবং এক জন কংগ্রেস কাউন্সিলর রয়েছেন। পুরবোর্ড ভাঙা এবং প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে সেই পুরসভাতেই এখন আইনি লড়াইয়ের নতুন পর্ব তৈরি হয়েছে।ডিভিশন বেঞ্চের সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে আপাতত পুরসভা পরিচালনার দায়িত্ব প্রশাসকের হাতেই থাকছে। ফলে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর যে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, আদালতের এই রায়ের পর তার পরবর্তী পর্ব শুরু হল।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
রাজ্য

‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ফ্রিজ মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, হাতছাড়া হতে চলেছে মমতার সাধের প্রতীক?

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও জোড়া ফুল প্রতীক ফ্রিজ করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা মামলায় বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। তৃণমূলের ভেতরে চলা উপদলীয় কোন্দলের জেরে দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই গোষ্ঠীর বিরোধ নিষ্পত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে (ECI) একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে উভয় পক্ষকে নিজেদের লিখিত বক্তব্য পেশ করতে হবে এবং তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে কমিশনকে।দলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এই সংক্রান্ত আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ জানায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতা বজায় রাখতে দ্রুত এই বিরোধের সমাধান হওয়া প্রয়োজন। উল্লেখ্য, দলীয় কোন্দলের জের ধরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী জোড়া ফুল (Flowers Grass) প্রতীক ফ্রিজ বা সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। দুই বিরোধী গোষ্ঠীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, বিতর্ক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিকল্প নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণার ঠিক ১০ দিন পর কমিশনের এই সিদ্ধান্ত আসে, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন দুই পৃথক গোষ্ঠীই নিজেদের প্রার্থী মনোনীত করেছিল।কমিশনের ওই নির্দেশিকায় বর্তমানে বিকল্প প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে দুই শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ফুটবলার প্রতীক নিয়ে এবং অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির নির্বাচন লড়ছে খাম (Envelope) প্রতীক নিয়ে। তবে দলের আসল মালিকানা ও নাম-প্রতীক কার দখলে যাবে, আগামী ৩ মাসের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সেই সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে দেশের রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
রাজ্য

ভয়ঙ্কর কাণ্ড! ঋতব্রত সহ ১০ বিধায়কের বিধায়ক পদ খারিজ? ৮ অক্টোবরের মধ্যেই চূড়ান্ত ফয়সালা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে ১০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল (tmc)বিধায়কের বিধায়কপদ বাতিল সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন বসু। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের (supreme Court of India)বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আদালত আশা করছে স্পিকার শীর্ষ আদালতের বেঁধে দেওয়া তিন মাসের সময়সীমা যথাযথভাবে মেনে চলবেন। তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি গ্রহণ করে সর্বোচ্চ আদালত জানায়, নির্ধারিত সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগে স্পিকার এই বিষয়ে আদালতের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলেই বিশ্বাস বলেই পর্যবেক্ষণ ডিভিশন বেঞ্চের।ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে কেন্দ্র করে। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মোট ১০ জন বিধায়ক দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে পৃথক অবস্থান গ্রহণ করলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে স্পিকারের কাছে তাদের বিধায়ক পদ বাতিলের আবেদন জানান। দীর্ঘ দিন সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। শুনানির সময় তাঁর হয়ে আইনজীবী কপিল সিবাল জানান, গত ৮ জুলাই আবেদন জমা পড়েছিল এবং সেই অনুযায়ী আগামী ৮ অক্টোবর তিন মাসের সময়সীমা পূর্ণ হচ্ছে। আদালত সব দিক পর্যালোচনা করে জানায় যে, স্পিকার আদালতের পূর্ব নির্ধারিত নীতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং তিনি সময়সীমার মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবেন এমনটা প্রত্যাশিত। এর পর শীর্ষ আদালত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেয়।বর্তমানে বিধায়কদের বিধায়কপদ বাতিলের আবেদনের পাশাপাশি বিধানসভায় তাঁদের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়েও রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা তুঙ্গে উঠেছে। ইতিপূর্বে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন জমা পড়েছিল। পাশাপাশি, লোকসভাতেও তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সাংসদপদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যদিও সেখানে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ধার্য করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে বিধানসভার স্পিকার রথীন বসু কী অবস্থান নেন এবং বিক্ষুব্ধ ১০ বিধায়কের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন গভীর নজর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
রাজ্য

প্রাক্তন বিধায়কের গাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র! বাংলার বুকে রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বিরাট গ্রেফতারি

গাড়ি থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিশ্বজিৎ দাসের গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় গাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। তবে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি কী ধরনের বা তার বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি পুলিশ।২০১১ এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিশ্বজিৎ দাস। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির টিকিটে বাগদা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। ভোটের পর অবশ্য তিনি ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন।২০২৪ সালে বিশ্বজিৎ দাসকে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি করা হয়। পরে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে ফের বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে তৃণমূল। তবে বিজেপির অশোক কীর্তনিয়ার কাছে পরাজিত হন বিশ্বজিৎ দাস। পরবর্তীতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে তিনি দলের বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে অবস্থান নেন।প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেফতারি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাবড়ার বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল। তাঁর দাবি, বিশ্বজিৎ দাসকে আরও আগেই গ্রেফতার করা উচিত ছিল।অন্যদিকে, বনগাঁ পুরসভার এক প্রাক্তন কাউন্সিলর অভিযোগ করেন, বিধায়ক থাকাকালীন বিশ্বজিৎ দাস একাধিক ব্যক্তিকে হেনস্থা করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বোমা ও বন্দুকের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকারও অভিযোগ তোলেন তিনি।ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং সেটি কীভাবে বিশ্বজিৎ দাসের গাড়িতে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও বিরাট নাটক! ভোটে না লড়ার ঘোষণার পর তড়িঘড়ি কেন অবস্থান বদল মমতা ঘনিষ্ঠ রবিউল আলমের?

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও কি প্রার্থীহীন হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির? শনিবার সকাল থেকে এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয় জল্পনা। প্রথমে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদল করলেন রেজিনগরে মমতা গোষ্ঠীর তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।শনিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রবিউল জানান, অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচনী প্রতীক ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান। তাঁর অভিযোগ, কর্মীদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না। নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।রবিউলের কথায়, নতুন নির্বাচনী প্রতীক অল্প সময়ের মধ্যে ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যে আমার সিদ্ধান্তের কথা নেত্রীকে জানিয়েছি। কর্মীদের মাঠে-ময়দানে নামানো যাচ্ছে না। সিম্বল একটা বড় ফ্যাক্টর।বেলডাঙা থানায় যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত বদলতবে বেলা বাড়তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। রবিউল জানান, একাধিক তৃণমূল নেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এরপর তিনি বেলডাঙা থানায় যান। সেখানে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর ফের নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।রবিউলের বক্তব্য, পাশে মাত্র ১০ জন কর্মী থাকলেও তিনি ভোটের লড়াই চালিয়ে যাবেন। নির্বাচনী প্রচারেও নামবেন বলে জানিয়েছেন রেজিনগরের এই প্রার্থী। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে রেজিনগরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নাটকীয় পরিস্থিতি।নন্দীগ্রামে সঞ্চিতার মনোনয়ন প্রত্যাহার, গ্রেফতার মিলন প্রধানএর আগে শুক্রবার নন্দীগ্রামে মমতা গোষ্ঠীর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। পরে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপরই ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতার হন মিলন প্রধান। তাঁর গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।নতুন নাম ও প্রতীক ঘিরে বদলেছে সমীকরণতৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রতীক অল্প সময়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সমস্যা নিয়ে রবিউলের মন্তব্যও সেই প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এখন রবিউল আলম চৌধুরী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ময়দানে থাকেন কি না, এবং প্রচারে দলের কর্মীরা কতটা সক্রিয় হন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উপনির্বাচনের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়েও চলছে জল্পনা।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

সকালে বললেন মনোনয়ন তুলবেন, দুপুরে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন! রবিউলকে ঘিরে রেজিনগরে নাটক

রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে সকাল থেকেই তৈরি হয়েছিল টানটান উত্তেজনা। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, রেজিনগরেও কি একই পথে হাঁটবেন মমতা শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী? শনিবার সকালে সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। রবিউল নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন না।শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রবিউল জানিয়েছিলেন, তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে পারেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের উপর চাপ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অনেক কর্মী সরে যাচ্ছেন বলেও জানান রবিউল। ফলে কর্মীদের ছাড়া কী ভাবে ভোটের লড়াই করবেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তিনি।রবিউলের কথায়, কর্মীরাই যদি না থাকেন, তা হলে একা ঘুরে ভোট করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। সেই কারণেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।কিন্তু বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি বদলে যায়। সাড়ে ১২টা নাগাদ রবিউল জানান, তিনি আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পরই তাঁর এই মতবদল বলে জানান তিনি। রবিউলের বক্তব্য অনুযায়ী, মমতার নির্দেশ মেনে তিনি ভোটের লড়াইয়ে থাকবেন।রবিউল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথামতো তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের যে চিন্তাভাবনা করেছিলেন, তা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নতুন পরিস্থিতিতে ভোটের প্রচারে নামার কথাও জানান তিনি। অর্থাৎ, সকালের সিদ্ধান্তের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনগরে মমতা শিবিরের প্রার্থীর অবস্থান বদলে যায়।রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর মমতা শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীকে লড়তে হচ্ছে। দুই কেন্দ্রেই আগে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে কমিশনের সিদ্ধান্তের জেরে পরিস্থিতি বদলে যায়।নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল।সেই জল্পনার মধ্যেই প্রথমে রবিউলের মনোনয়ন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত এবং পরে মমতার সঙ্গে কথা বলে লড়াইয়ে থাকার ঘোষণা নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা তৈরি করে। তবে পরবর্তী আপডেটে জানা যায়, শেষ পর্যন্ত রবিউল আলম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। ফলে সকালের সিদ্ধান্ত, দুপুরের মতবদল এবং পরে ফের মনোনয়ন প্রত্যাহারসব মিলিয়ে রেজিনগর উপনির্বাচনে রবিউলকে ঘিরে তৈরি হয় একাধিক নাটকীয় মোড়।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

‘ঝরা পাতা তৃণমূলে নয়’, কংগ্রেসের ‘বটগাছের’ ছায়ায় আসার ডাক অধীরের

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটে নামতে হয়েছে। মমতা শিবিরের জন্য ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য খাম প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জোড়াফুল প্রতীক ও দলের পুরনো নামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রক্রিয়াধীন।এই পরিস্থিতির মধ্যেই নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানান। রেজিনগর নিয়ে অবশ্য মমতার শিবিরের অবস্থান তখনও স্পষ্ট ছিল না।নন্দীগ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূল বা তৃণমূলের অন্য কোনও শিবিরের পরিবর্তে কংগ্রেসের পাশে আসা উচিত বিরোধীদের।অধীর বলেন, কংগ্রেস একটি বটগাছের মতো এবং তৃণমূল সেই বটগাছের ঝরা পাতা। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির বিরুদ্ধে যারা লড়াই করতে চান, তাঁদের কংগ্রেসের ছায়ায় আসা উচিত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপি-বিরোধী ভোটার ও রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে কংগ্রেসের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।তৃণমূলের নতুন প্রতীক নিয়েও কটাক্ষ করেন অধীর। তাঁর কথায়, মমতার শিবির ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক পেয়েছে এবং অন্য শিবির পেয়েছে খাম। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘটনাকেও তিনি তৃণমূলের জন্য রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে তুলে ধরেন। রেজিনগর নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।তবে সঞ্চিতা প্রধান দে কেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন, সেই বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ওই সাক্ষাৎ এবং তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি।এর পর নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়। মমতা জানিয়েছেন, উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন করে বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও সরব হয়েছেন অধীর। তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেন এবং কমিশনকে বিজেপির প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করেন। তবে এটি অধীররঞ্জন চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযোগ; নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী নিজেদের বৈধ প্রতিনিধি দাবি করায় উপনির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহার, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং মমতা শিবিরের কংগ্রেসকে সমর্থনএই তিনটি ঘটনা ঘিরে উপনির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রেজিনগরেও শেষ পর্যন্ত কী ছবি দেখা যাবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কলকাতা

খাম নিয়ে নতুন সংঘাত, ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে আইনি পথে আইএসএফ? কী বললেন নওশাদ

ঘাসফুল আপাতত বাইরে। নতুন নাম গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস, আর প্রতীক খাম। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরেই নতুন বিতর্কে জড়াল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। কারণ, খাম প্রতীকটি আগে থেকেই ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই ভোটে লড়ার দাবি করেছে আইএসএফ। এবার সেই প্রতীকই ঋতব্রত শিবিরকে দেওয়া হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি পথে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবার নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দুই শিবিরের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নাম হয়েছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছে খাম। অন্য দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পেয়েছে আলাদা নাম ও প্রতীক। পুরনো তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ব্যবহার করা যাবে না।কিন্তু ঋতব্রত শিবিরের নতুন প্রতীক সামনে আসার পরেই আপত্তি তোলে আইএসএফ। নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি, ২০২১ সাল থেকেই তাঁদের দল খাম প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে লড়ছে। চলতি বছরেও ওই প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, সেই পরিস্থিতিতে একই প্রতীক অন্য একটি দলকে কী ভাবে দেওয়া হল?শুক্রবার ফুরফুরা শরিফে দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নওশাদ। সেখানে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য গত ১০ মার্চ আইএসএফের খাম প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাই ঋতব্রত শিবিরকে একই প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন।নওশাদ জানিয়েছেন, প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, আইএসএফকে দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এই অভিযোগ নওশাদ সিদ্দিকীর রাজনৈতিক বক্তব্য; নির্বাচন কমিশনের তরফে এমন কোনও ষড়যন্ত্রের কথা জানানো হয়নি।অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবির অবশ্য নতুন প্রতীক নিয়ে সন্তুষ্ট। নন্দীগ্রামের ওই শিবিরের প্রার্থী এহতেশামুল হক জানিয়েছেন, তাঁরা খাম প্রতীক পেয়েছেন এবং সেই প্রতীক নিয়েই প্রচারে নামবেন। ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে একই প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন, আইএসএফের দাবি নির্বাচন কমিশন কী ভাবে বিবেচনা করবে এবং নন্দীগ্রামের ভোটে শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী কোন প্রতীকে লড়বেন। ঋতব্রত শিবিরকে খাম প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে কমিশন। এখন নওশাদ সিদ্দিকীর আপত্তির পর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

‘নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে’, তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ নিয়ে সরব শুভঙ্কর সরকার

নিজস্ব সংবাদদাতা: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ফুল-ঘাস ফ্রিজ করে দেওয়ার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করলেন, কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে টালবাহানা করে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।উল্লেখ্য, ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও সংরক্ষিত ফুল-ঘাস প্রতীক আপাতত ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুটি গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।এই পরিস্থিতিতে শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই বিতর্কের সমাধান করা। কিন্তু মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর, স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়ে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ থাকে।কংগ্রেস সভাপতির মতে, ভারতের সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রই দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি। তাঁর কথায়, এই বহুদলীয় ব্যবস্থাই ভারতের বহুত্ববাদের প্রতিফলন। কংগ্রেস বরাবরই এই বহুত্ববাদে বিশ্বাসী।শুভঙ্কর সরকার মহারাষ্ট্রে শিবসেনার দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, একই ধরনের পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গেও তৈরি করা হচ্ছে।তবে তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জায়গাটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, মতাদর্শগত লড়াই থাকবেসংসদীয় গণতন্ত্রে এটাই কাম্য। কাউকে পরাজিত করতে হলে আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই করব। কাউকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে হলে, সেটা বাংলার মানুষ তাঁদের ভোটের রায়ের মাধ্যমে করবেন।এরপরই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, আজ আমরা দেখছি নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে। তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার খেলায় নেমেছে। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক ইঙ্গিত।একইসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াই চলেছে এবং চলবে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কর্মীদের উপর হামলা, দলীয় কার্যালয় দখল এবং রাজ্যে অপশাসনের অভিযোগও তোলেন তিনি।তবে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী পরিচয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কংগ্রেস মেনে নেবে না বলেই জানিয়েছেন শুভঙ্কর সরকার।শেষে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচন কমিশনের এই দলদাসসুলভ আচরণ গণতন্ত্রের ভিতকে দুর্বল করছে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

নিজে আঁকা জোড়াফুলই এখন হাতছাড়া! মমতাকে ঘিরে বিস্ফোরক তোপ রাহুলের, পাশে কেজরিওয়াল

নিজের হাতে আঁকা সেই জোড়াফুল প্রতীকই আপাতত ব্যবহার করতে পারছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে দুই পক্ষকেই পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে। এই সিদ্ধান্তের পরেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।এই সিদ্ধান্তের পর বিরোধীদের একাংশ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দল ভাঙার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, শিবসেনা ও এনসিপির পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাঁর দাবি, একটি রাজনৈতিক দলই যদি চুরি হয়ে যেতে পারে, তা হলে কোটি কোটি মানুষের ভোট চুরি হওয়ার আশঙ্কাকেও অবিশ্বাস করার কারণ নেই।রাহুল আরও অভিযোগ করেছেন, ভোট চুরি এবং সরকার চুরির পর এবার দল চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হওয়া উচিত জনমত রক্ষা করা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, কমিশন সেই ভূমিকা পালন করছে না। উল্লেখ্য, এগুলি রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অভিযোগ; নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে সমান সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।অন্যদিকে, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব হয়েছেন আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনকে উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তকে জন্মদিনের উপহার বলে কটাক্ষ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, এই ভাবে কি নির্বাচনে জিততে চাইছে বিজেপি?বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন জানায়, আপাতত কোনও পক্ষই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। দুই গোষ্ঠীকেই বিকল্প নাম এবং কমিশনের নির্ধারিত তালিকা থেকে বিকল্প প্রতীকের প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।অর্থাৎ, আসন্ন উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকোনও পক্ষই পুরনো তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে ভোটে নামতে পারবে না। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। দলের আসল নাম ও প্রতীক কোন পক্ষ পাবে, সেই বিষয়ে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জোড়াফুল প্রতীকের ইতিহাস অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পথচলার সঙ্গেই গভীর ভাবে যুক্ত। বিভিন্ন পুরনো প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস তৈরির সময় মমতা নিজেই জোড়াফুলের নকশা এঁকেছিলেন। ১৯৯৭ সালে তিনি দলের প্রতীকের জন্য প্রথম জোড়াফুল আঁকেন বলে পুরনো সংবাদ প্রতিবেদনেও উল্লেখ রয়েছে।এই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যে প্রতীক তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে, সেই প্রতীক নিয়েই এখন দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দাবি-পাল্টা দাবি চলছে। আর নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে সেই জোড়াফুল আর দেখা যাবে না।তবে রাহুল গান্ধী বা অরবিন্দ কেজরিওয়াল মমতার পাশে দাঁড়ানোর যে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন, তা থেকে আগামী দিনে বিরোধী দলগুলির মধ্যে কী ধরনের সমন্বয় তৈরি হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। জোড়াফুল বিতর্ককে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে যে নতুন চাপানউতোর তৈরি হয়েছে, তার পরবর্তী পর্বে নজর থাকবে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আসন্ন উপনির্বাচনের দিকে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কলকাতা

জোড়াফুল গেল! ঋতব্রতদের নতুন দলের নাম কী, কমিশনে জমা পড়ল তিন প্রতীকের প্রস্তাব

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে বিকল্প নাম ও প্রতীকের আবেদন করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত শিবিরের তরফে দুটি সম্ভাব্য দলের নাম এবং তিনটি সম্ভাব্য প্রতীকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ঋতব্রত শিবিরের পছন্দের দুটি নাম হল জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। এই দুটির মধ্যে যে কোনও একটি নামে উপনির্বাচনে লড়তে চায় তারা। প্রতীক হিসেবে খাম, টর্চ এবং ব্ল্যাকবোর্ডের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলের কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সম্ভাব্য নাম ও প্রতীকের তালিকা চেয়েছিল। সেই মতো দলের তরফে দুটি নাম এবং তিনটি প্রতীকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন নাম এবং প্রতীক বরাদ্দ করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত কমিশনই নেবে।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের দাবিদার কে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে নথি জমা দিয়েছে। কমিশন দুই পক্ষের বক্তব্যও শুনেছে।এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আপাতত কোনও পক্ষকেই মূল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে দুই শিবিরকেই বিকল্প নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়তে হতে পারে।৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। দুই শিবিরই ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কিন্তু কোন নামে এবং কোন প্রতীকে প্রার্থীরা ভোটে লড়বেন, তা এখনও কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব কমিশনে পাঠিয়েছে বলে সূত্রের খবর। শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে এখন নজর রয়েছে কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং মমতা শিবিরের ঘোষণার দিকে।সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের খাম, টর্চ ও ব্ল্যাকবোর্ডের প্রস্তাব এবং সম্ভাব্য দুই দলের নাম নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন নাম এবং কোন প্রতীক বরাদ্দ হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কলকাতা

মমতার দলের নামেও এবার ‘মমতা’! কমিশনে গেল তিন প্রস্তাব, কী বদল আসছে?

ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের দুই শিবিরকেই বিকল্প নাম ও প্রতীক নিয়ে ভাবতে হয়েছে। কমিশন আপাতত কোনও পক্ষকেই মূল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনের আগে দুই শিবিরের কাছেই নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের তরফে নির্বাচন কমিশনে বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। সূত্রের খবর, সম্ভাব্য তিনটি নামের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নামগুলির মধ্যে রয়েছে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা এবং তৃণমূল কংগ্রেস মমতা। তবে এগুলির কোনওটিই এখনও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদিত নাম নয়।প্রতীক নিয়েও মমতা শিবিরে চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য প্রতীক হিসেবে ফুটবল খেলোয়াড়ের ছবি এবং ক্রিকেট ব্যাটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলের খেলা হবে স্লোগান ব্যাপক ভাবে আলোচনায় এসেছিল। সেই রাজনৈতিক স্মৃতির সঙ্গে নতুন প্রতীকের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা অবশ্য শিবিরের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি।অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও নির্বাচন কমিশনের কাছে বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের সম্ভাব্য নামের তালিকায় রয়েছে জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতীক হিসেবে খাম, টর্চ এবং ব্ল্যাকবোর্ডের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।অর্থাৎ, এক দিকে মমতা শিবিরের সম্ভাব্য নামের মধ্যে নিজের নাম রাখার চেষ্টা এবং খেলার সঙ্গে যুক্ত প্রতীকের প্রস্তাব, অন্য দিকে ঋতব্রত শিবিরের জাতীয়তাবাদী বা গণতান্ত্রিক তৃণমূলের মতো নামদুই পক্ষের প্রস্তুতিতেই আলাদা পরিচয় তৈরির চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন নাম এবং কোন প্রতীক বরাদ্দ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।এর মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক বৈঠক করার সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক মহলে নজর কেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর শিবির আপত্তি জানিয়েছে। সেই অবস্থানের মধ্যেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবিরও কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে এখন নজর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। দুই শিবিরের জমা দেওয়া নাম ও প্রতীক খতিয়ে দেখার পর কমিশন কোন পক্ষকে কোন নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের, ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং বিরোধী গোষ্ঠীকেউই আসন্ন উপনির্বাচনে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা দলের জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।দলীয় নাম ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের জেরেই এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে প্রতীক সংক্রান্ত নির্দেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিবেচনাধীন রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক পরিচয় এবং আলাদা নির্বাচনী প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই গোষ্ঠীকেই তিনটি করে পছন্দের দলের নাম এবং তিনটি করে প্রতীকের বিকল্প জানাতে বলা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে সেই তালিকা জমা দিতে হবে। এরপর কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে।নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের দলীয় পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে এই বিরোধ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করেছে। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে দলীয় নাম ও সংরক্ষিত প্রতীকের অধিকার কার হাতে থাকবে।ততদিন পর্যন্ত উপনির্বাচনে কোনও গোষ্ঠীই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 68
  • 69
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

নিজের লোকসভা কেন্দ্রেই যেতে পারতেন না রচনা! ইন্দ্রনীলকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি সাংসদের

নিজের লোকসভা কেন্দ্রের একটি বিধানসভা এলাকায় যেতে হলেও অনুমতি নিতে হত তাঁকে। এমনই দাবি করলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হওয়ার পর চন্দননগরে নিজের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। রচনার দাবি, তৃণমূলে থাকার সময় চন্দননগরে কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে ইন্দ্রনীলের অনুমতি নিতে হত। এমনকি তাঁকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর আগেও অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হত বলে জানিয়েছেন সাংসদ। তবে গায়ক হিসেবে ইন্দ্রনীলের প্রশংসাও করেছেন তিনি।চন্দননগর পুলিশের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রচনা। সেখানে তিনি জানান, রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর এই প্রথম এমন অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন। ২০২৪ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরেও কেন তাঁকে চন্দননগরের অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি, সেই প্রশ্নেরও জবাব দেন তিনি।রচনার দাবি, তৃণমূলে থাকার সময় চন্দননগরের তৎকালীন বিধায়ক তথা মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের অনুমতি ছাড়া ওই এলাকায় কোনও অনুষ্ঠানে যেতে পারতেন না তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁকে কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর আগেও ইন্দ্রনীলের অনুমতি নিতে হত বলে দাবি করেছেন রচনা।তাঁর কথায়, একই দলের সাংসদ থাকলেও ইন্দ্রনীলের সঙ্গে সেই ভাবে কাজ করা হয়নি। ওঁর বিধানসভা এলাকায় কোনও অনুষ্ঠানে যেতে হলে অনুমতি নিয়েই যেতে হত। এমনকি কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর আগে ইন্দ্রনীলের অনুমতি নিতে হত। দলের কর্মীরাই এ বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিলেন।ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারি নিয়ে অবশ্য বেশি কিছু বলতে চাননি রচনা। তিনি জানিয়েছেন, এখন তিনি অন্য দলের সাংসদ। তাই আগের দলের কোনও নেতাকে নিয়ে মন্তব্য করতে চান না। একই সঙ্গে আইনি বিষয়টি আদালতেই মীমাংসা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ইন্দ্রনীল সেনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য না করলেও গায়ক হিসেবে তাঁর প্রশংসা করেছেন রচনা। তাঁর কথায়, ইন্দ্রনীল সেন যখন গায়ক ছিলেন, তাঁর অনেক ক্যাসেট বিক্রি হয়েছে। শিল্পী ইন্দ্রনীল গায়ক হিসেবে ভালো ছিলেন।উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর দুর্গাপুজোর ই-পাস সংক্রান্ত মামলায় ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বউবাজার থানায় মাস আর্ট নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ভ্রমণ সংস্থার এজেন্ট এই অভিযোগ দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত করছে লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা।ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
কলকাতা

ফের মা উড়ালপুলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! ডিভাইডার টপকে উল্টো লেনে গাড়ি, আহত অন্তত ৪

ফের দুর্ঘটনা মা উড়ালপুলে। শনিবার সকালে দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত চার জন। দুর্ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ ব্যাহত হয় যান চলাচল। মা উড়ালপুলে যানজট তৈরি হয়। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুটি গাড়ি সরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ফের যান চলাচল শুরু হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে পার্ক সার্কাসের দিক থেকে আসছিল একটি গাড়ি। সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডার টপকে উল্টো দিকের লেনে চলে যায়। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসছিল একটি ব্যক্তিগত গাড়ি। দুটি গাড়ির মধ্যে সজোরে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের অভিঘাতে দুটি গাড়িই দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় দুটি গাড়িরই এয়ারব্যাগ খুলে যায়।দুর্ঘটনায় দুটি গাড়িতে থাকা অন্তত চার জন যাত্রী আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে এক জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বাকিদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পার্ক সার্কাসের দিক থেকে আসা গাড়িটি দ্রুত গতিতে যাচ্ছিল। সেই সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর পর গাড়িটি ডিভাইডার টপকে উল্টো দিকের লেনে ঢুকে পড়ে। তখনই উল্টো দিক থেকে আসা অন্য গাড়িটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।দুর্ঘটনার পর দুটি গাড়িই আটক করেছে পুলিশ। কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার জেরে কিছুক্ষণের জন্য মা উড়ালপুলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গাড়ি দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
দেশ

বিদেশে পড়াশোনার কথা জানতেন মা-বাবা, পুনের ফ্ল্য়াটের খাটের তলা থেকে মিলল মেয়ের দেহ

এমবিএ পড়তে লন্ডনে গিয়েছিলেন মেয়ে। অন্তত তেমনটাই জানতেন তাঁর মা-বাবা। কিন্তু তাঁদের অজান্তেই গত অগস্টে দেশে ফিরে এসেছিলেন তিনি। পুণের একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। কয়েক দিন ধরে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মা-বাবা। শেষ পর্যন্ত বন্ধ ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে উদ্ধার হল ওই যুবতীর দেহ। খাটের তলায় পড়েছিল তাঁর নিথর শরীর। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।মৃত যুবতীর নাম মুগ্ধা অবিনাশ দেশমুখ। গত বছরের জুলাই মাসে এমবিএ পড়তে ব্রিটেনে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চলতি বছরের অগস্টে কাউকে কিছু না জানিয়ে ভারতে ফিরে আসেন। এর পর পুণের একটি ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেন। তবে মেয়ের সঙ্গে ফোনে নিয়মিত কথা হত বলেই দাবি তাঁর মা-বাবার। তাই তিনি যে দেশে ফিরে এসেছেন, সে কথা তাঁরা বুঝতে পারেননি।গত ২৪ অক্টোবরের পর থেকে মুগ্ধার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। ফোনও বন্ধ ছিল। মেয়ের কোনও খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। এর পর মুগ্ধার এক বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই বান্ধবী লন্ডন পুলিশের কাছে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানাতে গেলে জানতে পারেন, মুগ্ধা ব্রিটেন থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন।এর পর লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পাশাপাশি মুগ্ধার অনলাইনে কেনাকাটা ও বিক্রির তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। সেই সূত্র ধরেই শম্ভাজিনগরের একটি ঠিকানা জানতে পারে পুলিশ। সেখানে পৌঁছে বন্ধ অ্যাপার্টমেন্টের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন তদন্তকারীরা। ঘরের ভিতরে খাটের তলায় মুগ্ধার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুগ্ধার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। আরও পরীক্ষার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা তদন্তকারীদের।কেন মুগ্ধা লন্ডন থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে ভারতে ফিরে এসেছিলেন, পুণের ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন কি না, তাঁর মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর উদ্যোগ কংগ্রেসের, তার আগেই বিরোধীদের কী চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অমিত শাহ?

বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পাবলিক ইমপিচমেন্ট কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। শনিবার এই কর্মসূচি হওয়ার কথা। তার আগেই কংগ্রেসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, এসআইআর নিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে আলোচনা করতে প্রস্তুত বিজেপি।উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে বিজেপির একটি বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, আপনাদের দুজনকে এখানেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, বিজেপি এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আসুন, সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের হট্টগোলের কারণে সংসদের কাজ বার বার ব্যাহত হয়। বিরোধীরা সংসদে আলোচনা করতে চায় না বলেও দাবি করেন তিনি।বাংলার নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা কম বুঝেই বিরোধীরা ভোট চুরির অভিযোগ তুলছে। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে বিজেপি প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরের দিনই এই মন্তব্য করেন অমিত শাহ। ওই নির্বাচনে বিজেপি ছটি এবং সমাজবাদী পার্টি পাঁচটি আসনে জয়ী হয়েছে। বিজেপি তাদের আগের আসনগুলি ধরে রেখেছে। অন্য দিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এই ফলকে বিজেপির পরাজয় বলে ব্যাখ্যা করেছেন।এদিকে, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের বৃহত্তর সমাবেশ হওয়ার কথা। তার আগে শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাড়িতে পাবলিক ইমপিচমেন্ট কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে কোন কোন বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন বিরোধী নেতারা।এই কর্মসূচিতে প্রাক্তন লোকসভা স্পিকার মীরা কুমারের উপস্থিত থাকার কথা। সাধারণ মানুষেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে বলে অভিযোগ, এমন দুজন ভোটারও সেখানে বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গিয়েছে।এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। এক দিকে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচি, অন্য দিকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার চ্যালেঞ্জএই দুইয়ের মধ্যে বিতর্ক কোন দিকে এগোয়, এখন সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
কলকাতা

পরোটা বিক্রি করতে লাইসেন্স আছে? রাজুদার দোকানে হানা দিয়ে কী জানতে চাইলেন আধিকারিকেরা?

শিয়ালদহের এনআরএস হাসপাতালের সামনে ফুটপাতে পরোটা বিক্রি করে সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন রাজুদা। শনিবার সকালে তাঁর দোকানে আচমকা হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকেরা। পরোটা বিক্রির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা জানতে চান তাঁরা। রাজুদা লাইসেন্স দেখাতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। তাঁর দোকান থেকে খাবারের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর তৈরি তরকারি উত্তীর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজুদা। নমুনাগুলি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। সাত দিন পর সেই রিপোর্ট আসার কথা।শুধু রাজুদার দোকানেই নয়, শনিবার সকালে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরের একাধিক খাবারের দোকানেও অভিযান চালান খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকেরা। বিভিন্ন দোকান থেকে সিঙারা, কচুরি, তরকারি, মাছ, মাংস-সহ নানা খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। খাবারের গুণগত মান যাচাই করতে রাসায়নিক ব্যবহার করে প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়।আধিকারিকদের দাবি, পরীক্ষায় কয়েকটি খাবারের মান সন্তোষজনক পাওয়া যায়নি। এর পর প্রায় ১০০টি সিঙারা, কচুরির ডাল, তরকারি, পচা মুরগির মাংস এবং মাছের ডিম ফেলে দেওয়া হয়। দোকানদারদের খাবারের মান বজায় রাখার বিষয়ে সতর্কও করা হয়েছে।এর পর আধিকারিকেরা যান রাজুদার দোকানে। সেখানে তাঁর কাছে পরোটা বিক্রির লাইসেন্স দেখতে চান তাঁরা। কিন্তু রাজুদা কোনও লাইসেন্স দেখাতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। তাঁর দোকান থেকে তরকারির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় সেই তরকারি উত্তীর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজুদা। তবে খাবারের চূড়ান্ত মান সম্পর্কে জানতে পরীক্ষাগারের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।এই বিষয়ে রাজুদা বলেন, লাইসেন্স সম্পর্কে কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। বাড়িতে ১০-১২ কেজি ময়দার পরোটা বানাই। ৩টে ৪৫-এর ট্রেন ধরে কলকাতায় এসে বিক্রি করি। সকাল ১১টায় আবার ফিরে যাই। স্যরেরা লাইসেন্সের কথা বললেন। এ বার লাইসেন্স নেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু খাবার নিয়ে কেউ কোনও আপত্তি জানাতে পারবেন না।আধিকারিকেরা তাঁকে সার্জিক্যাল টুপি পরার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন রাজুদা। এর পর থেকে টুপি ও দস্তানা পরে খাবার বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরের খাবারের দোকানগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাজুদার দোকানের খাবারের চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি। তাই তাঁর তৈরি খাবারের মান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য পরীক্ষাগারের রিপোর্টের অপেক্ষা করতে হবে।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
রাজ্য

বছরখানেক আগে গুলিবিদ্ধ, এ বার রেললাইনের ধারে পুলিশ আধিকারিকের দেহ! রহস্য ঘনাল বাঁকুড়ায়

বছরখানেক আগে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনা ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। এ বার সেই পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত পালের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়া শহরের কেঠারডাঙা রেলগেটের কাছে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। আরণ্যক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।জয়ন্ত পাল বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর দেহ উদ্ধারের পর পুলিশ সেটি বাঁকুড়ার সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। রেললাইন পারাপারের সময় দুর্ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃত্যুর কারণ জানতে জয়ন্তের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা।এর আগে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হাওড়ার ঘোষপাড়ার একটি পেট্রল পাম্পে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জয়ন্ত। তাঁর বাঁ হাতে গুলি লাগে। সেই সময় তিনি হুগলির চণ্ডীতলা থানার আইসি পদে কর্মরত ছিলেন। ওই গুলিকাণ্ডের পর এক তরুণীকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। জানা গিয়েছিল, ওই তরুণী হাওড়ার সাঁকরাইলের বাসিন্দা। সামাজিক মাধ্যমে জয়ন্তের সঙ্গে তাঁর আলাপ ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। জয়ন্ত এবং ওই তরুণীকে এলাকার একটি বহুতলেও একাধিক বার দেখা গিয়েছিল বলে জানা যায়। যদিও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর তরুণীর মা দাবি করেছিলেন, তিনি জয়ন্তকে চিনতেন না। এই ঘটনাকে ঘিরে তখন নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।পরবর্তী সময়ে জয়ন্তকে সাসপেন্ড করে রাজ্য পুলিশ। সেই সময় রাজ্য পুলিশের এডিজি পদে থাকা জাভেদ শামিম জানিয়েছিলেন, কাউকে কিছু না জানিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে অন্য জেলায় চলে গিয়েছিলেন জয়ন্ত। কর্তব্যরত অবস্থায় নিয়মভঙ্গের অভিযোগেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।সাসপেনশন ওঠার পর জয়ন্ত একে একে খানাকুল, চণ্ডীতলা এবং সিঙ্গুর থানায় দায়িত্ব সামলান। পরে তিনি বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে ইনস্পেক্টর পদে যোগ দেন। সেই জয়ন্তেরই এ বার মৃত্যু হল বাঁকুড়ার রেলগেটের কাছে। তাঁর মৃত্যুর পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
রাজ্য

হাসিমারা থেকে সেনা জওয়ান গ্রেফতার, আইএসআইকে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ! কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে ধৃত চিনা নাগরিকও

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে হাসিমারা থেকে এক সেনা জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম জবীর সিং। তিনি পাঞ্জাবের বাসিন্দা। পাঞ্জাব পুলিশের বিশেষ অভিযান শাখা তাঁকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার তাঁকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হলে দুদিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এর পর তাঁকে পাঞ্জাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জবীরের বিরুদ্ধে অন্যদের সঙ্গে মিলে সেনা ছাউনির গোপন তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর ফাজিলকার রাজ্য বিশেষ অভিযান শাখায় সরকারি গোপনীয়তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার তদন্তের সূত্রেই জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ধৃত জওয়ান ঠিক কী ধরনের তথ্য পাচার করেছেন, তাঁর কাছ থেকে কোন কোন গোপন তথ্য পাওয়া গিয়েছে এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কেন তিনি এই কাজ করেছেন, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন।অন্য দিকে, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার নাম করে ভারতে ঢোকার অভিযোগে এক চিনা নাগরিককে আটক করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তাঁর নাম ইউহাস লিউ। তিনি চলতি মাসে চিন থেকে নেপালে এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। নেপালে তাঁর পরিচয় হয় দীনেশ পুরি নামে এক নেপালি গাইডের সঙ্গে।শুক্রবার ভোররাতে নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে দুজনকে ভারতের দিকে আসতে দেখেন টহলরত সশস্ত্র সীমা বলের জওয়ান ও আধিকারিকেরা। তাঁদের চলাফেরা দেখে সন্দেহ হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। এর পর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে যৌথ ভাবে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীনেশ নিজেকে নেপালের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। লিউ-ও নিজেকে নেপালি বলে দাবি করেন। কিন্তু গোয়েন্দাদের সন্দেহ হয়, কারণ লিউ ভাঙা ইংরেজি ছাড়া নেপালি বা হিন্দিতে কথা বলতে পারছিলেন না। এর পর দোভাষীর সাহায্যে তাঁকে জেরা করা হয়। তখনই তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ে এবং তিনি চিনের নাগরিক বলে জানা যায়। এর পর দুজনকে আটক করেন গোয়েন্দারা।সেনা জওয়ানের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ এবং সীমান্তে চিনা নাগরিক আটকের ঘটনায় উত্তরবঙ্গের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি। দুই ক্ষেত্রেই তদন্তকারীরা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখছেন।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
কলকাতা

‘আমার খুব আনন্দ হচ্ছে’, ইন্দ্রনীল সেন জেলে যেতেই বিস্ফোরক বুদ্ধদেব-পুত্র সুচেতন!

পুজোর পাস নিয়ে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এ বার মুখ খুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সন্তান সুচেতন ভট্টাচার্য। ইন্দ্রনীলের সঙ্গীত সংস্থায় কাজ করার সময় তাঁর কী কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তা সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন সুচেতন। তাঁর অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের আচরণ ছিল অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ। প্রাক্তন মন্ত্রীর জেলবন্দি হওয়ার খবর তাঁকে খুশি করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।কলেজ পাশ করার পর ২০০৫ সালে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গীত সংস্থায় চাকরি শুরু করেন সুচেতন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত সেখানে কাজ করেছিলেন তিনি। সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এর পর ইন্দ্রনীলের সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে বলে দাবি সুচেতনের। সেই পরিস্থিতিতে সংস্থার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।সুচেতনের অভিযোগ, ২০১৩ সালে তিনি ইস্তফাপত্র পাঠালেও ইন্দ্রনীল তা গ্রহণ করেননি। ইস্তফাপত্রের কপি দেওয়ার কথা বলে তাঁকে অফিসে ডেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। সুচেতনের কথায়, তাঁর ঔদ্ধত্য এতটাই ছিল যে আমার ইস্তফাপত্র গ্রহণ পর্যন্ত করেননি। সেটা রিসিভ করে আমাকে কপি দেবেন বলে ডেকে পাঠিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসে অপেক্ষা করিয়েছেন। নিজে কথা বলেননি, বাকি কর্মীদের দিয়ে বলে পাঠাচ্ছিলেন, অপেক্ষা করতে হবে। ভাবুন কী অপমানজনক! একটা ইস্তফাপত্র সই করতে এতখানি ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন।ইন্দ্রনীলের সংস্থায় কাজ করা রেকর্ডিস্ট এবং অন্য সঙ্গীতশিল্পীদের পারিশ্রমিক পাওয়া নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন সুচেতন। তাঁর দাবি, অনেক সময় কাজ করানোর পরেও শিল্পীদের ঠিকমতো টাকা দেওয়া হত না। এক সময়ে নিজের টাকা থেকে কয়েক জন শিল্পীর পারিশ্রমিক মিটিয়ে দিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।সুচেতনের আরও দাবি, ইন্দ্রনীলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এতটাই খারাপ হয়েছিল যে বাবার অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে যেন তিনি তাঁদের বাড়ির আশপাশে না আসেন, সে কথা দলকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণের সময়েও তৎকালীন মন্ত্রীকে পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে ঢুকতে দিতে চাননি বলে জানিয়েছেন সুচেতন।ইন্দ্রনীল সেনের জেলবন্দি হওয়ার প্রসঙ্গে সুচেতন বলেন, পাপ ও কৃতকর্মের ফল ভোগ করছেন। আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। তাঁর আরও বক্তব্য, আমার মনে হয়, শুধু আমি নই, যাঁরা ওঁর দুর্নীতির পরিচয় পেয়েছেন, তাঁরা সকলে আজ খুশি।ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে আর্থিক দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে সুচেতনের বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগের ভিত্তিতে করা। অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal