• ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, রবিবার ১২ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

TMC

কলকাতা

‘৫ জন থাকলেও ধর্মতলায় যাব’! মমতার বার্তার পরই বড় পদক্ষেপ, পুলিশের কাছে পৌঁছল আবেদন

একুশে জুলাই শহিদ স্মরণ কর্মসূচি ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে জানিয়েছিলেন, পাঁচ জন মানুষ থাকলেও তিনি ধর্মতলায় যাবেন। সেই বার্তার পরই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে একুশে জুলাইয়ের সভা করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল।দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই তৃণমূলের শহিদ স্মরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারও একই জায়গায় অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সেই আবেদন মঞ্জুর করা হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূলের অন্দরে বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দল এখন কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত। এই পরিস্থিতিতে একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি তৃণমূলের কাছে শুধু একটি রাজনৈতিক সভা নয়, সংগঠনকে শক্তিশালী করারও বড় সুযোগ। সেই কারণেই এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সম্প্রতি কর্মীদের উদ্দেশে ফোনবার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রতি বছর যেমন ধর্মতলায় শহিদ স্মরণ কর্মসূচি হয়েছে, এবারও পুলিশের অনুমতি মিললে সেখানেই অনুষ্ঠান হবে। তিনি আরও বলেন, পাঁচ জন কর্মী থাকলেও তিনি ওই সভায় উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি তিনি দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের উদ্দেশে ফিরে আসার বার্তাও দেন। তাঁর বক্তব্য, যাঁদের শুভবুদ্ধি আছে, তাঁরা যেন দলে ফিরে আসেন। অর্থ বা অন্য কোনও লোভে দলকে দুর্বল করা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মতলার সভার মাধ্যমে সংগঠনের কর্মীদের একজোট করার চেষ্টা করছে কালীঘাট তৃণমূল। একই সঙ্গে দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের প্রতিও শেষবারের মতো বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।অন্যদিকে, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন উদ্যমে একুশে জুলাই পালন করতে চলেছে প্রদেশ কংগ্রেসও। প্রায় আটাশ বছর পর তারা এই কর্মসূচির আয়োজন করছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি শুধু শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো নয়, সংবিধান রক্ষা, ছাত্র-যুবদের ভবিষ্যৎ, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মূল্যবৃদ্ধি এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলনেরও প্রতীক হবে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শহিদ মিনারে কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীকে আনার চেষ্টাও চলছে। কংগ্রেসের দাবি, একুশে জুলাইয়ের মূল উদ্দেশ্য সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়েছে এবং সেই ঐতিহাসিক গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে আনতেই তারা এবার এই কর্মসূচির আয়োজন করছে।

জুন ২৭, ২০২৬
রাজ্য

যাঁর নামে কাঁপত বারাবনি, আজ কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাল পুলিশ! সামনে যা হল, তাতে চাঞ্চল্য

একসময় বারাবনির প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন অসিত সিং। সেই অসিত সিংকে শনিবার খালি পায়ে, হাফপ্যান্ট পরা এবং কোমরে দড়ি বাঁধা অবস্থায় পুলিশের পাহারায় দেখে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গৌরান্ডি এলাকায়। ধৃত নেতাকে সামনে পেতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ। শুরু হয় বিক্ষোভ, ওঠে কঠোর শাস্তির দাবি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী সভায় হামলার মামলার তদন্তে ধৃত অসিত সিং, তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সিং এবং সহযোগী আকবর আলমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই সময়ই বহু মানুষ সেখানে জড়ো হন। ধৃতদের দেখে বিক্ষোভ শুরু হয়। অনেকে চোর চোর স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগ, ধৃতদের লক্ষ্য করে চটি ছোড়া হয়। উত্তেজিত কয়েক জন পুলিশের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ধৃতদের মারার চেষ্টাও করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই তদন্তের কাজ শেষ করে।এই মামলার সূত্রপাত দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়। অভিযোগ, গৌরান্ডিতে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী সভা ভণ্ডুল করতে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় তাঁর গাড়ি ভাঙচুর, বিজেপি কর্মীদের মারধর এবং মোটরবাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। সেই মামলার তদন্তেই এদিন ধৃতদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝাড়খণ্ড সীমান্তের ডুবুরডিহি চেকপোস্ট থেকে অসিত সিং এবং তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সিংকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময় ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে ধরা হয় আকবর আলমকে। এর আগে অসিত সিংয়ের আর এক ভাই পিন্টু সিংও গ্রেফতার হয়েছিলেন। ফলে এই মামলায় অভিযুক্ত মূল চক্রের প্রায় সকলেই এখন পুলিশের হেফাজতে।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বারাবনি এলাকায় অসিত সিং এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দাদাগিরি, অত্যাচার ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। এক সময় তাঁর প্রভাব এতটাই ছিল যে, বারাবনি থানার মধ্যেই জন্মদিন পালন নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে তৎকালীন থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়।এবার একসময়ের সেই প্রভাবশালী নেতাকে পুলিশের হেফাজতে দেখে অনেকেই স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনার চেষ্টা চলছে।

জুন ২৭, ২০২৬
রাজ্য

দীর্ঘদিন পলাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা! আদালতে নিয়ে যেতেই যা করল জনতা, তোলপাড় ক্যানিং

ভোটের পর থেকেই পলাতক ছিলেন ক্যানিংয়ের এক তৃণমূল নেতা। দীর্ঘদিন খোঁজ চালানোর পর অবশেষে তাঁকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের পর আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় যে ঘটনা ঘটল, তা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।ধৃত ইটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ইন্দ্রজিৎ সর্দারকে থানার বাইরে আনা মাত্রই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছিল। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েকটি ডিম তাঁর মাথাতেও লাগে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি, কাটমানি আদায় এবং মারধরের মতো নানা অভিযোগ ছিল ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগও ওঠে। এছাড়া একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর হিংসার ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়দের একাংশ।স্থানীয়দের দাবি, একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই ক্ষোভ থেকেই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই থানার সামনে বহু মানুষ জড়ো হন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশও। ধৃতকে থানার বাইরে আনার সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস, অস্ত্র মামলার তদন্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জুন ২৬, ২০২৬
কলকাতা

তারাতলা বিপর্যয়ের পর বড় ধাক্কা তৃণমূলে! দল ছাড়লেন কাউন্সিলর, বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি

তারাতলা গোডাউন ধসের ঘটনার পর বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল। কলকাতা পুরসভার আটচল্লিশ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন। তাঁর দাবি, তারাতলা বিপর্যয়ের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। এই ঘটনার পর আর তৃণমূলে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি।বিশ্বরূপ দে বলেন, একের পর এক ঘটনায় দলের নাম জড়িয়ে পড়ায় তিনি অত্যন্ত ব্যথিত। তাঁর কথায়, তারাতলার ঘটনায় বহু নিরীহ মানুষের প্রাণ গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছেন, অনুমোদিত নকশাতেই গুরুতর ত্রুটি ছিল। সেই কথা জানার পর তাঁর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, যে দলের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, সেই দলের আমলেই যদি এমন গুরুতর গাফিলতি হয়ে থাকে, তবে তা মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এই ঘটনার যন্ত্রণা তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না বলেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।বিশ্বরূপ দে জানান, অতীতে দলের পাশে থেকেছেন এবং দলের কঠিন সময়েও আনুগত্য বজায় রেখেছেন। কিন্তু এই ঘটনার পর তাঁর মনে হয়েছে, তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই ভুলের জন্য ভবিষ্যতে তাঁকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউনের অনুমোদিত নকশাতেই একাধিক ত্রুটি ছিল। তিনি সেই সংক্রান্ত নথিও বিধানসভায় তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই বিশ্বরূপ দে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।তারাতলা বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় একের পর এক নতুন রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসায় আগামী দিনে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জুন ২৬, ২০২৬
কলকাতা

ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখাতেই বড় শাস্তি! ফিরহাদ-অরূপদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক পদক্ষেপ

রাজ্য রাজনীতিতে আরও গভীর হল তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত। শোকজ নোটিস পাঠানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের নির্দেশ অমান্য করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আসল তৃণমূল-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক পরিচিত মুখ। বৈঠক থেকেই নতুন জাতীয় কর্মসমিতির ঘোষণা করা হয়। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও নাম রাখা হয়নি। চেয়ারম্যান করা হয় অরূপ রায়কে। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ চার নেতাকে।এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং আরও কয়েকজন নেতার নাম উঠে আসে নতুন শিবিরের সঙ্গে। এরপরই কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁদের শোকজ করে। তবে সেই শোকজের জবাবের জন্য অপেক্ষা না করেই মঙ্গলবার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বহিষ্কার শুধু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং তৃণমূলের অন্দরের ক্ষমতার লড়াইকে আরও স্পষ্ট করে দিল। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন শক্তি গড়ে উঠছে, অন্যদিকে দলীয় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কড়া বার্তা দিতে চাইছে মমতা শিবির।আগামী দিনে আরও কয়েকজন নেতা নতুন শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে। ফলে তৃণমূলের অন্দরের এই সংঘাত কোন দিকে গড়ায়, সেদিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ২৩, ২০২৬
রাজ্য

সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকার সোনা! নতুন বিতর্কে তৃণমূল

তোলাবাজি মামলার তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। পুলিশি তল্লাশিতে এক তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি থেকে প্রায় তিন কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। উদ্ধার হওয়া সোনার বাজারমূল্য চার কোটির টাকারও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল নেতা তথা বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে নদিয়ার তেহট্ট এবং করিমপুরে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ।পুলিশের দাবি, তৃণমূল নেত্রী টিনা সাহা ভৌমিকের বাপের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গয়নাগুলির মধ্যে রয়েছে হার, চুড়ি, লকেট, চূড়, শাঁখা বাঁধানো অলঙ্কার এবং অন্যান্য মূল্যবান গয়না। পাশাপাশি বেশ কিছু জমির নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় এমন কিছু তথ্য সামনে আসে, যার ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। এরপর তল্লাশিতে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ সোনা। ইতিমধ্যেই টিনা সাহা ভৌমিককে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছে।টিনা সাহা ভৌমিক নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি তিনি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদেও দায়িত্বে ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর সঙ্গে সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ছিল।তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিনা সাহা ভৌমিক। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে টার্গেট করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া গয়নাগুলি পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলেও দাবি করেছেন তিনি। আইনগত লড়াইয়ের পথেই এগোবেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে সব্যসাচী দত্তের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার নথি উদ্ধার হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা দাবি করেন। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়। আর তারপরেই এই নতুন উদ্ধার ঘিরে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

জুন ২৩, ২০২৬
কলকাতা

ঋতব্রতদের আগেই বড় চাল মমতার! নির্বাচন কমিশনে চিঠি ঘিরে তোলপাড় রাজনীতি

তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হল। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের দাবি করেছে, অন্যদিকে তার আগেই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের কর্মসমিতির তালিকা পাঠিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সূত্রের খবর, ঋতব্রত শিবিরও নিজেদের নতুন কমিটির নথি কমিশনে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই পদক্ষেপ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন শিবির। কমিশনের কাছে পাঠানো তালিকায় চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কারের ঘোষণা করেছিল। সেই আবহেই কমিশনে পাঠানো তালিকায় অভিষেকের নাম থাকা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, কমিশনে পাঠানো তালিকায় মোট চব্বিশ জন নেতার নাম রয়েছে। যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন দোলা সেন এবং ডেরেক ওব্রায়েন। সহ সভাপতি পদে রাখা হয়েছে সুব্রত বক্সীকে। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছেন শুভাশিস চক্রবর্তী। তালিকায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে। তাঁর পরিচয়ের পাশে বিধানসভার দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।এছাড়াও দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম ওই তালিকায় রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনের কাছে আগে নথি জমা দিয়ে সাংগঠনিক লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চেয়েছে মমতা শিবির।এদিকে রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু আইনি লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দলের কর্মী, সমর্থক এবং ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে যায়, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্লেষকদের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলের নাম বা প্রতীকের প্রশ্ন আদালত এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে। কিন্তু সাধারণ ভোটারদের আস্থা এবং সমর্থন কোন নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকবে, সেটি রাজনৈতিক বাস্তবতার উপর নির্ভর করবে।তাই আপাতত তৃণমূলের ভিতরে এই ক্ষমতার লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন, আদালত এবং জনমতের লড়াই তিন দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। আগামী দিনে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।

জুন ২৩, ২০২৬
কলকাতা

অভিষেককে সাসপেন্ড! তৃণমূলে বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত, মমতার নামও নেই নতুন কমিটিতে

বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিদ্রোহী শিবিরের এক সিদ্ধান্তকে ঘিরে। নতুন তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের ছবি স্পষ্ট হতে শুরু করে। একের পর এক বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার ফলে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও পরিষদীয় অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। সেই পরিস্থিতিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি হয়।সোমবার নিউ টাউনের একটি বৈঠকে নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানে চেয়ারম্যান হিসেবে অরূপ রায়ের নাম সামনে আনা হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং রথীন ঘোষ। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাবিনা ইয়াসমিন।নতুন কমিটি ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে দলের অন্যতম প্রধান মুখ এবং সংগঠনের কার্যকর নেতৃত্ব হিসেবে দেখা হতো। ফলে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে দলের পুনর্গঠন করা হচ্ছে। অন্যদিকে নতুন কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সাংগঠনিক পদ না থাকায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করতে পারে।উল্লেখযোগ্যভাবে, মাসখানেক আগেই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তারপর থেকেই দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়েছে। এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার ঘোষণার পর সেই সংঘাত আরও নতুন মাত্রা পেল।নতুন কমিটি এবং তার সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

জুন ২২, ২০২৬
কলকাতা

মমতার নামই নেই! নতুন তৃণমূলের কমিটি ঘোষণা হতেই বাংলার রাজনীতিতে তোলপাড়

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিদ্রোহী শিবিরের নব তৃণমূল। পালাবদলের পর থেকেই একাংশ বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছিলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই শিবির আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করল।সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, নব তৃণমূলের ঘোষিত কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও নাম নেই। বরং চেয়ারম্যান করা হয়েছে হাওড়া মধ্যের বিধায়ক অরূপ রায়কে। ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি বিদ্রোহী শিবিরের হাতেই চলে গেল।ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাবিনা ইয়াসমিন। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে আখতারুজ্জামানকে। ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম এবং রথীন ঘোষ। চেয়ারম্যান হয়েছেন অরূপ রায়।এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। এত দ্রুত সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার অর্থ কি ভবিষ্যতে আলাদা প্রতীকের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি? সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।এই বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়েছিল বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম পাঠানো হয়। সেই প্রস্তাবের সঙ্গে বহু বিধায়কের স্বাক্ষর ছিল বলে দাবি করা হয়। কিন্তু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন, তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানান।এরপর ধীরে ধীরে একাধিক বিধায়ক ঋতব্রতের শিবিরে যোগ দিতে শুরু করেন। রাজনৈতিক সংঘাত আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।সোমবার নিউ টাউনের একটি হোটেলে বিদ্রোহী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কয়েকজন কাউন্সিলর এবং একাধিক বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অরূপ বিশ্বাসকেও দেখা যায়। সেই বৈঠক থেকেই নব তৃণমূলের সাংগঠনিক পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করা হয়।রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে নব তৃণমূল কোন পথে এগোয় এবং তাদের রাজনৈতিক কৌশল কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ২২, ২০২৬
কলকাতা

তৃণমূলের তহবিলে বড় ধাক্কা! হিমঘরে ৪৪০ কোটি, সামনে কি আরও বড় বিপদ?

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। সূত্রের খবর, দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ জুন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে অ্যাকাউন্ট আটকে দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তবে তার আগেই, ৫ জুন তাঁকে কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে শুভাশিস চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অরূপ বিশ্বাসকে শোকজও করা হয়েছে।সূত্রের দাবি, শোকজের জবাবে অরূপ বিশ্বাস যে চিঠি পাঠিয়েছেন, তার ভাষা অত্যন্ত কড়া। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনার পর দলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।এদিকে দলীয় তহবিলের টাকার উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের তিনটি অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ আটকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল আইনি পদক্ষেপের পথেও হাঁটতে পারে বলে সূত্রের খবর।বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। তাঁদের দাবি, এই অর্থের উৎস সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে তদন্তকারীরা এখন ওই বিপুল অর্থের উৎস ও লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখছেন।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা আগামী দিনে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। ফলে তৃণমূলের তহবিল ঘিরে নজর এখন গোটা রাজ্যের।

জুন ২১, ২০২৬
কলকাতা

চার বছরে আকাশপথে উড়ল দেড়শো কোটি! অভিষেককে ঘিরে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক খরচ নিয়ে নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া দলের অডিট রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, গত চার বছরে বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়ার জন্য প্রায় দেড়শো কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের খরচ ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা।রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই হাজার বাইশ সালে বিমান ভাড়ার জন্য খরচ হয়েছিল পঁয়ত্রিশ কোটিরও বেশি টাকা। দুই হাজার তেইশ সালে সেই খরচ কিছুটা কমে প্রায় তেরো কোটিতে নেমে আসে। তবে দুই হাজার চব্বিশ সালের লোকসভা নির্বাচনের বছরে বিমান ও হেলিকপ্টার বাবদ খরচ বেড়ে যায় উল্লেখযোগ্যভাবে। সেই বছরে এই খাতে ব্যয় হয় ছেচল্লিশ কোটিরও বেশি টাকা।সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, দুই হাজার চব্বিশ সালের নির্বাচনী প্রচারে দলের মোট ব্যয়ের বড় অংশই নাকি বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের জন্য খরচ হয়েছে। দুই হাজার পঁচিশ সালে কোনও বড় নির্বাচন না থাকলেও বিমান খাতে ব্যয় হয়েছে সাঁইত্রিশ কোটিরও বেশি টাকা।এই বিপুল খরচকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দলের একাংশের মতে, যখন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে আর্থিক চাপের কথা শোনা যাচ্ছে, তখন এত বড় অঙ্কের বিমান ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর নিয়েও চার্টার্ড বিমান ব্যবহারের জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই আবহে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন, যদি দলের অর্থ খরচ করে এমন সফর হয়ে থাকে, তাহলে তা সমর্থনযোগ্য নয়। তাঁর সেই মন্তব্যও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি করে।এদিকে দলের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বিমান খরচের এই পরিসংখ্যান সামনে আসায় চাপ আরও বেড়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অডিট রিপোর্টে উল্লেখিত এই বিপুল ব্যয় আগামী দিনে আরও বড় বিতর্কের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, তখন বিমান ও হেলিকপ্টার খাতে এত বড় ব্যয় নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এখন নজর থাকবে, এই খরচ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া সামনে আসে কি না। কারণ অডিট রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

জুন ২০, ২০২৬
কলকাতা

মমতার সবচেয়ে ভরসার নেতাই কি দিলেন বড় ধাক্কা? দলীয় তহবিল ঘিরে অরূপের চিঠিতে তোলপাড়

এক সময় তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নেতাদের অন্যতম। কিন্তু এখন সেই অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাঙ্কের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তৃণমূলের অন্দরে নতুন জল্পনার জন্ম দিলেন তিনি।সূত্রের খবর, বারো জুন একটি চিঠি পাঠিয়ে অরূপ বিশ্বাস নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন। সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, দলের সংসদীয় ও পরিষদীয় শিবিরে বিভাজন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় তহবিলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কাছে অ্যাকাউন্ট স্থগিত রাখার আবেদন জানান তিনি।তবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন গ্রহণ করেনি বলেই জানা যাচ্ছে। কারণ তার আগেই দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব অরূপ বিশ্বাসের হাত থেকে সরিয়ে শুভাশিস চক্রবর্তীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ জুন সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ব্যাঙ্ককেও তা জানানো হয়েছিল।দলীয় সূত্রের দাবি, গত কয়েক মাস ধরেই অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে অস্বস্তি বাড়ছিল। কালীঘাটে একাধিক বৈঠকে তাঁর সঙ্গে মতবিরোধের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে খবর। এমনকি তাঁকে ডাকা হলেও সব সময় তিনি উপস্থিত থাকতেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।এরই মধ্যে মেসি-কাণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নও ওঠে। দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি বলে সূত্রের দাবি।রাজনৈতিক মহলে আরও একটি জল্পনা ছড়িয়েছে। অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি অরূপ।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, যখন তাঁর কাছ থেকে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তখন কেন বারো জুন তিনি ব্যাঙ্কে এই চিঠি পাঠালেন? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর পিছনে অন্য কোনও কৌশল থাকতে পারে। আবার অন্য অংশের দাবি, তিনি হয়তো দলীয় তহবিলের নিরাপত্তা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।এদিকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহাল রেখেছে কলকাতা হাই কোর্ট। সেই প্রেক্ষাপটে দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সন্দীপন সাহার বক্তব্য, অরূপ বিশ্বাস কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন মনে করেছিলেন যে অ্যাকাউন্টে কোনও অনিয়ম হতে পারে। সেই কারণেই তিনি ব্যাঙ্ককে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন।তবে এই ঘটনার পর তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন নেতা অরূপ বিশ্বাসের এই পদক্ষেপ শুধুই প্রশাসনিক উদ্বেগ, নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় রাজনৈতিক বার্তা সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

জুন ১৮, ২০২৬
রাজ্য

বিদ্রোহের ঝড়ে বিপর্যস্ত তৃণমূল, অভিজ্ঞদের হাতে সাংগঠনিক হাল! জেলা কমিটিতে বড় রদবদল মমতার

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধাক্কার মুখে পড়ার পর সংগঠনকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের ভিতরে অসন্তোষ, বিদ্রোহ এবং নেতৃত্ব সংকট ক্রমশ প্রকট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় ব্যাপক রদবদল করে নতুন জেলা সভাপতি ও চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।দলের বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টি আসন তৃণমূলের দখলে রয়েছে। কিন্তু সেই বিধায়কদলেরও বড় অংশ বর্তমানে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সূত্রের দাবি, প্রায় ৬৫ জন বিধায়ক এখন তথাকথিত ভালো তৃণমূল শিবিরে সক্রিয়। লোকসভাতেও দলের সাংগঠনিক শক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনাই এখন নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য।কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ, একাধিক জেলায় নতুন মুখনতুন সাংগঠনিক তালিকায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন কুনাল ঘোষ। তাঁকে উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্বের পাশে থেকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার পুরস্কার হিসেবেই এই দায়িত্বকে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদে আনা হয়েছে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-কে। এতদিন এই দায়িত্ব সামলাতেন দেবাশিস কুমার।শ্রীরামপুর-হুগলি সাংগঠনিক জেলায় ফের আস্থা রাখা হয়েছে প্রবীণ নেতা অসিত মজুমদার-র উপর। গত নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী না করে দেবাংশু ভট্টাচার্য-কে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন অসিত। তবে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। দেবাংশুর সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্ব বাড়ার আবহে আবারও অভিজ্ঞ অসিতের হাতেই সাংগঠনিক দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে।বিদ্রোহীদের সরিয়ে বিশ্বস্তদের গুরুত্বদলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে একাধিক জেলার দায়িত্ব বণ্টনে। ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলায় বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে নাম জড়ানো পার্থ ভৌমিক-এর পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অমিত গুপ্ত-কে।হাওড়া সদর জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকেও সরানো হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী Arup Roy-কে। বর্তমানে তিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।এছাড়াও পূর্ব বর্ধমান জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়-কে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতি হয়েছেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে গৌতম দেব-কে।অভিজ্ঞ নেতৃত্বেই ভরসারাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সংকটকালে নতুন মুখের পরিবর্তে অভিজ্ঞ ও দীর্ঘদিনের সংগঠকদের উপরেই ভরসা রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের ভিতরে অসন্তোষ সামাল দেওয়া, বিদ্রোহীদের প্রভাব কমানো এবং কর্মীদের আবার সংগঠনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার জন্যই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।তবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের পর যে হতাশা কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করা এখন তাঁদের প্রধান কাজ। একই সঙ্গে বিদ্রোহী শিবিরে চলে যাওয়া নেতা-কর্মীদের মোকাবিলা করে জেলা স্তরে দলের অস্তিত্ব মজবুত করাও বড় পরীক্ষার বিষয়।বিতর্কের কেন্দ্রে দলের ঠিকানাওরাজনৈতিক মহলে আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যে ঠিকানা থেকে নতুন সাংগঠনিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেই দলীয় কার্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, ওই ভবনের মালিক মন্টু সাহা ইতিমধ্যেই সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ফলে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি দলীয় পরিকাঠামো নিয়েও নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে তৃণমূল।সংগঠনের এই বড়সড় রদবদল আদৌ তৃণমূলকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাতে পারে কি না, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

জুন ১৭, ২০২৬
কলকাতা

একুশের আগে বড় ধাক্কার ছক? তৃণমূলের প্রতীক নিয়েই কি আদালতে যাচ্ছেন সুদীপরা!

একুশে জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। দীর্ঘদিন ধরে এই দিনটিকে দলের শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম বড় মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্ষমতা হারানোর পর দলীয় অন্দরে বিভাজন, বিদ্রোহ এবং নেতৃত্ব নিয়ে জটিলতার আবহে একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।এই আবহের মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ সম্প্রতি নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। ফলে অনেকেই মনে করেছিলেন, তাঁরা তৃণমূলের নাম, প্রতীক বা সম্পত্তির দাবি থেকে সরে এসেছেন। কিন্তু সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।দিল্লি থেকে ফেরার পর তিনি বলেন, দলের প্রতীক, সম্পত্তি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা এখনও আলোচনার বিষয়। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এই ধরনের বিষয় শেষ পর্যন্ত আদালতেই নিষ্পত্তি হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের মধ্যেই ভবিষ্যতের আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত রয়েছে।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার পরও কীভাবে তৃণমূলের প্রতীক বা সম্পত্তির দাবি তোলা সম্ভব? রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, লোকসভা ও বিধানসভার বিক্ষুব্ধ শিবিরকে একত্র করার চেষ্টা চলছে। যদি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে সমঝোতা তৈরি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক অধিকার নিয়ে নতুন দাবি উঠতে পারে।সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। কীভাবে সবাই একসঙ্গে বসবে, কীভাবে ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরি হবে এবং নতুন দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি কী হবে, তা নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। তাঁর দাবি, বিষয়টি ইতিমধ্যেই অনেক দূর এগিয়েছে এবং বিধানসভা স্তরেও একই ধরনের প্রস্তুতি চলছে।আগামী কুড়ি জুলাই সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। তার আগেই বিদ্রোহী শিবির নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে চাইছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের খবর। সুদীপ জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয়েছে। এখন পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে এবং অধিবেশন শুরুর আগেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।তবে এই জল্পনায় জল ঢেলেছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, বিদ্রোহী সাংসদরা ইতিমধ্যেই নতুন দলে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁদের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আলাদা করে কোনও তথ্য তাঁর কাছে নেই। ফলে দুই পক্ষ একসঙ্গে আসবে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ছবি সামনে আসেনি।একুশে জুলাইয়ের আগে এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েই এখন তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিশেষ করে দলীয় প্রতীক, সম্পত্তি এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন কোনও আইনি লড়াই শুরু হয় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ১৬, ২০২৬
কলকাতা

মুকুন্দপুরে তল্লাশি ঘিরে শোরগোল, অফিস থেকে কী কী মিলল তা নিয়ে জোর জল্পনা

কলকাতা পৌরনিগমের একশো নয় নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুকুন্দপুরের অফিস ঘিরে সোমবার চাঞ্চল্য ছড়ায়। তল্লাশির সময় অফিস থেকে একাধিক ডায়েরি, নথি এবং বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অফিসে থাকা কয়েকটি ডায়েরিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের পাশে টাকার অঙ্ক লেখা ছিল। তাঁদের দাবি, সেখানে কিছু প্রোমোটার, চাকরিপ্রার্থী এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের নামও উল্লেখ ছিল। তবে ওই নথির সত্যতা বা সেখানে থাকা তথ্যের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।তল্লাশির সময় উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প এবং চাকরির নামে অর্থ লেনদেনের হিসাব ওই ডায়েরিগুলিতে নথিভুক্ত ছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও যাচাই এখনও হয়নি।অফিসের উপরের তলা থেকেও বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের দাবি উঠেছে। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সেখানে প্রসাধনী সামগ্রী, পোশাক এবং আরও কিছু ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস পাওয়া গিয়েছে। এসব সামগ্রী কী কারণে সেখানে রাখা ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ দাবি করেন, এই ঘটনা দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিযোগকে আরও জোরালো করছে। তাঁর বক্তব্য, তদন্তের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সামনে আসা প্রয়োজন।অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এটি একটি সরকারি অফিস এবং সেখানে অফিস সংক্রান্ত নথি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীই রয়েছে। বর্ষাকালের ত্রাণসামগ্রী এবং উৎসব উপলক্ষে রাখা কিছু পোশাকও সেখানে থাকতে পারে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তল্লাশি চালানোর বিষয়ে তাঁকে আগে থেকে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নথি ও সামগ্রীর প্রকৃত সত্যতা কী, তা জানতে এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলেই।

জুন ১৫, ২০২৬
রাজ্য

যে দলে ভিড়ছেন ২০ সাংসদ, সেই দলের প্রতিষ্ঠাতাই এক মাস আগে ছেড়েছেন দল! সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের নাম। তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ এই দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবর ছড়াতেই শুরু হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক জল্পনা (NCPI)। বিশেষ করে সদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়ের মতো অভিজ্ঞ সাংসদদের নাম সামনে আসার পর কৌতূহল আরও বেড়েছে।তবে সবচেয়ে বড় চমক অন্য জায়গায়। যে দলটিকে ঘিরে এত আলোচনা, সেই দলের প্রতিষ্ঠাতাই নাকি এক মাস আগে দল ছেড়ে দিয়েছেন (NCPI)। জানা গিয়েছে, হাওড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় আইনজীবী শিউলি কুণ্ডু আরও দুজন সহযোগীকে নিয়ে ২০২২ সালে এই রাজনৈতিক দল গড়ে তোলেন (NCPI)। হাওড়ার সাঁকরাইলে দলের সূচনা হয়েছিল। পরের বছর ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী দেয় দলটি। একই বছরে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও অংশ নেয় তারা।দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং সভানেত্রী ছিলেন শিউলি কুণ্ডু। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন সৈকত দাস। পরে দলের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটাতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। শিউলির স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুও দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।তবে শিউলি কুণ্ডুর ( (NCPI)) দাবি, প্রায় এক মাস আগে তিনি ব্যক্তিগত কারণে দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে তিনি আইন পেশার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজে বেশি সময় দিচ্ছেন। বিশেষ করে মহিলাদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে কাজ করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।২০ জন সাংসদ এই দলে যোগ দিতে পারেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিউলি কুণ্ডু বলেন, দলটি বড় পরিসরে আলোচনায় আসছে শুনে তাঁর ভালো লাগছে। তবে কোনও সাংসদ এর আগে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলেও দাবি করেছেন তিনি।এদিকে সোমবার সকালে হাওড়ার সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ঘিরেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয়দের দাবি, সকাল থেকেই কয়েক দফায় সেখানে বাহিনীর যাতায়াত দেখা যায়। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, কুণ্ডু দম্পতি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।২০ জন সাংসদের সম্ভাব্য যোগদান এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতার পদত্যাগ এই দুই ঘটনাকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।

জুন ১৫, ২০২৬
রাজনীতি

তৃণমূল নয়, বিজেপিও নয়! ‘অস্তিত্বহীন’ এনসিপিআই-তেই কেন আশ্রয় বিদ্রোহী সাংসদদের? নেপথ্যে আইনি কৌশল, রাজনৈতিক অঙ্ক ও ভবিষ্যতের হিসাব

রাজ্যের রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় মোড়ের মধ্যেই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা শিবিরে বিদ্রোহ। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ-সহ প্রায় ২০ জন সাংসদের বিদ্রোহ ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হল তাঁরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিলেন না কেন? আবার নিজেদের আসল তৃণমূল বলেও দাবি করলেন না কেন?তার বদলে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন এমন একটি রাজনৈতিক দলে, যার নাম কয়েক দিন আগেও দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক শোনেননি। সেই দলের নাম ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)। প্রশ্ন উঠছে, এত বড় রাজনৈতিক বিদ্রোহের পর একটি প্রায় অচেনা ও অপ্রাসঙ্গিক দলের ছাতার তলায় যাওয়ার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে?রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং আইনজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে চারটি বড় কৌশলগত কারণ।বিধানসভার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষাপ্রথমত, বিধানসভায় বিদ্রোহী বিধায়কদের পরিস্থিতি লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদদের সামনে এক ধরনের সতর্কবার্তা তৈরি করেছিল।বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নেতৃত্বে বিদ্রোহী বিধায়কেরা নিজেদের তৃণমূলের প্রকৃত প্রতিনিধি বলে দাবি করেন এবং পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আদালতে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। দল থেকে বহিষ্কৃত কোনও ব্যক্তি কীভাবে বিরোধী দলনেতা হতে পারেন, তা নিয়ে মামলাও বিচারাধীন।এই পরিস্থিতি দেখে লোকসভার বিদ্রোহীরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করলে দীর্ঘ আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে সরাসরি নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে যাওয়ার পথই তাঁদের কাছে নিরাপদ বলে মনে হয়েছে।বিজেপির ছায়া, কিন্তু সরাসরি যোগ নয়দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিজেপির ভূমিকা।বিদ্রোহী সাংসদদের একাধিক বৈঠক হয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে। বিশেষ করে ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাসভবনই এই রাজনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উঠে এসেছে।তবে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বিজেপি এই সাংসদদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলে টেনে নেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায়নি। কারণ, সরাসরি দলবদল হলে দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারত। তার বদলে একটি পৃথক রাজনৈতিক সত্তা তৈরি করে এনডিএ-কে সমর্থন করানো অনেক বেশি সুবিধাজনক।ফলে বিজেপি রাজনৈতিক সমর্থন পেলেও আইনি দায় এড়িয়ে যেতে পারছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।তৃণমূলের দখল নেওয়া প্রায় অসম্ভববিদ্রোহী সাংসদদের সামনে আরেকটি বড় বাস্তবতা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো।তৃণমূলের গঠনতন্ত্র চেয়ারপার্সন-কেন্দ্রিক। অর্থাৎ দলের সাংগঠনিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংসদ বা বিধায়করা সংখ্যায় বেশি হলেও দলীয় প্রতীক, তহবিল, সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি সাংগঠনিক নেতৃত্বের হাতেই থাকে।বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পরই মমতা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কমিটি পুনর্গঠন করে নিজের অনুগতদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। ফলে বিদ্রোহী সাংসদরা সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ পেলেও দলীয় প্রতীক বা সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই তাঁরা তৃণমূলের নাম ব্যবহার না করে নতুন দলের পথে হাঁটেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।কংগ্রেসে তৃণমূলের সম্ভাব্য মিশ্রণও ছিল চিন্তার কারণরাজনৈতিক মহলে কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, ভবিষ্যতে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কংগ্রেসের বৃহত্তর সমঝোতা বা সাংগঠনিক একীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হত, তাহলে বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে যেত। কারণ, তৃণমূল এবং কংগ্রেস একত্রিত হলে লোকসভায় সাংসদ সংখ্যার হিসাব আমূল বদলে যেত। তখন দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় নিরাপদ অবস্থানে থাকতে আরও বেশি সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন হত।আইনজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, সেই সম্ভাবনাকেও মাথায় রেখেই বিদ্রোহীরা আগেভাগে আলাদা রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করার পথ বেছে নিয়েছেন।যে দলে যাচ্ছেন, সেই দল আদৌ কতটা পরিচিত?সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হল, যে এনসিপিআই-তে বিদ্রোহী সাংসদরা যোগ দিয়েছেন, সেই দলটি কার্যত রাজনৈতিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক।নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, দলটি একটি নিবন্ধিত হলেও অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। ২০২৩ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র দুটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তারা। সেই দুই প্রার্থীই পরাজিত হন এবং ভোটসংখ্যাও ছিল অত্যন্ত সীমিত।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এনসিপিআই এখানে মূলত একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা আইনি আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রকৃত লক্ষ্য হল সংসদে একটি আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে অস্তিত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এনডিএ-কে সমর্থন করা।নতুন সমীকরণের সূচনা?লোকসভায় তৃণমূলের ভাঙন শুধু দলীয় সংকট নয়, জাতীয় রাজনীতির সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সামনে এটি যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনই বিজেপির জন্যও এটি একটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।তবে শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ কতটা স্থায়ী হবে, নতুন দলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব কত দূর পর্যন্ত টিকবে এবং আইনি লড়াই কোন দিকে যাবে সেই উত্তর সময়ই দেবে। আপাতত স্পষ্ট, তৃণমূলের বিদ্রোহীরা আবেগ নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও আইনি হিসাব কষেই অপরিচিত এনসিপিআই-এর ছাতার তলায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জুন ১৫, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে বড় শক্তিপ্রদর্শন! ওম বিড়লার বাড়িতে ১৭ সাংসদ, তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে জল্পনা

দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি রবিবার আরও নাটকীয় হয়ে উঠল। বিকেলে তৃণমূলের দুই সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবন থেকে বেরিয়ে আসার কিছুক্ষণ পরই সেখানে পৌঁছন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। পরে সামনে আসে একটি ছবি, যেখানে তৃণমূলের ১৭ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদকে একসঙ্গে দেখা যায়। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও।সূত্রের খবর, সোমবার লোকসভার স্পিকারের কাছে নতুন ব্লক গঠনের দাবি জানাতে পারেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাংসদ তাঁদের পাশে রয়েছেন। সেই দাবিকে সামনে রেখেই তাঁরা নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।রবিবার সকাল থেকেই একের পর এক সাংসদ দিল্লিতে পৌঁছতে শুরু করেন। তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিক্ষুব্ধ সাংসদরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে চান। সেই কারণেই তিনি তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বলে জানান।অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবির স্পিকারের বাসভবনে পৌঁছনোর আগেই সেখানে যান তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। যদিও স্পিকারের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি। তাঁরা স্পিকারের দফতরে তৃণমূলের লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি জমা দেন। সেই চিঠিতে দাবি করা হয়, লোকসভায় একটি রাজনৈতিক দলের দুটি পৃথক ব্লক থাকতে পারে না।এর কিছুক্ষণ পরই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা স্পিকারের বাসভবনে পৌঁছন। যে ছবি সামনে এসেছে, সেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, অরূপ চক্রবর্তী, দীপক অধিকারী, ইউসুফ পাঠান, জুন মালিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শর্মিলা সরকার এবং মিতালি বাগ-সহ মোট ১৭ জন সাংসদকে দেখা গিয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে।এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। এখন সকলের নজর সোমবারের দিকে। স্পিকারের কাছে বিক্ষুব্ধ সাংসদরা কী দাবি জানান এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব কী হয়, তা নিয়েই তুঙ্গে আলোচনা।

জুন ১৪, ২০২৬
কলকাতা

রাতারাতি বড় রদবদল! সুদীপ সরতেই উত্তর কলকাতার দায়িত্বে কুণাল ঘোষ

তৃণমূল কংগ্রেসে বড় সাংগঠনিক রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের তরফে প্রকাশিত নতুন তালিকা অনুযায়ী উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণাল ঘোষকে। এতদিন এই পদে ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকেও সরানো হয়েছে সায়নী ঘোষকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়।দলের অন্দরে চলা রাজনৈতিক আলোচনা এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতির মধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিন ধরে দলের মুখপাত্র এবং অন্যতম সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত কুণাল ঘোষ। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তিনি প্রকাশ্যে তৃণমূলের হয়ে সরব ছিলেন।অন্যদিকে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নানা রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক দায়িত্ব এখন কুণাল ঘোষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যুব সংগঠনের নেতৃত্বেও নতুন মুখ আনা হয়েছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী দিনের লড়াইকে সামনে রেখে দল নতুন করে সংগঠন সাজানোর চেষ্টা করছে। সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই রদবদলের ফলে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় কী প্রভাব পড়ে এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কীভাবে কাজ করেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ১৩, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলে কি আরও এক বড় ভাঙন? দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকে সুদীপ, তুঙ্গে জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও উসকে দিল দিল্লির একটি বৈঠক। উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করায় নতুন করে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। শনিবার দিল্লিতে পৌঁছেই তিনি ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যান বলে সূত্রের খবর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অন্যতম অভিজ্ঞ সাংসদ হিসেবে পরিচিত। লোকসভায় বহু বছর তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে সেই দায়িত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছিল। যদিও তখন প্রকাশ্যে কোনও অসন্তোষ দেখাননি সুদীপ।তবে বর্তমানে তৃণমূলের অন্দরে বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ এবং সাংসদদের অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সেই পরিস্থিতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বৈঠককে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি ভবিষ্যতে কোনও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়, তবে সেখানে সুদীপ গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠতে পারেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু একজন সাংসদ নন, তিনি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন, তখন প্রথম সারির যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে সুদীপ অন্যতম। যদিও পরবর্তী সময়ে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। একসময় তিনি দল ছেড়েও বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পরে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই ফিরে আসেন।সম্প্রতি তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সুদীপের স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গিয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি। ফলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখন নানা মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।তবে এই বৈঠক শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু দিল্লির এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে এবং রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা যে নতুন মাত্রা পেয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

জুন ১৩, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 65
  • 66
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

মণিপুরে ফের আগুন! ৬০০ জনের হামলায় জ্বলল একের পর এক বাড়ি, রণক্ষেত্রে পরিণত ইম্ফল

মণিপুরে আবারও ছড়াল উত্তেজনা। পশ্চিম ইম্ফল জেলার কান্তো সাবাল এলাকায় কয়েকশো মানুষের হামলায় মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ৬০০ জনের একটি ক্ষুব্ধ জনতা মেতেই অধ্যুষিত গ্রামের দিকে এগিয়ে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাবাহিনী বাধা দিলে শুরু হয় সংঘর্ষ। উত্তেজিত জনতা একের পর এক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এখনও পর্যন্ত অন্তত ছয়টি বাড়ি পুড়ে যাওয়ার খবর মিলেছে। তবে এই ঘটনায় কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যেই পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় এগারোটা নাগাদ বড় একটি দল কান্তো সাবালের দিকে এগোতে শুরু করে। এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় নিরাপত্তাবাহিনী তাদের আটকানোর চেষ্টা করে। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং ধোঁয়ার বোমা ব্যবহার করতে হয়। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগে থেকেই হামলার আশঙ্কার খবর ছিল। তাই অনেকেই সতর্ক ছিলেন। দুপুরের দিকে প্রথমে দূরে ধোঁয়া দেখতে পান তাঁরা। শুরুতে মনে হয়েছিল টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। পরে জানা যায়, বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, সপ্তাহখানেক আগেও একই এলাকায় প্রায় একই ধরনের অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল।দীর্ঘদিন ধরেই কুকি এবং মেতেই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে উত্তপ্ত মণিপুর। ২০২৩ সাল থেকে একের পর এক হিংসার ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর উপরও একাধিকবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিদ্রোহীদের হামলায় অসম রাইফেলসের দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় জোরদার তল্লাশি চলছে। নতুন করে কান্তো সাবালের এই হামলার ঘটনায় ফের উদ্বেগ বাড়ল রাজ্যজুড়ে।

জুলাই ১১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ খেলেই মৃত্যু! মাত্র ২৫ বছরেই না ফেরার দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ফুটবলার, রহস্যে ঘেরা শেষ মুহূর্ত

বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলেছিলেন মাত্র ১৬ দিন আগে। মাঠে তাঁর দাপুটে পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। এর মধ্যেই এল হৃদয়বিদারক খবর। মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ ফুটবলার জেডেন অ্যাডামস। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল মহলে।জেডেন অ্যাডামস দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সফল ক্লাবের হয়ে খেলতেন। সম্প্রতি বিশ্বকাপে তিনি মেক্সিকো, চেক প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন। চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে বদলি হিসেবে খেলেন। তবে নকআউট পর্বে কানাডার বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি মাঠে নামেননি।দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল প্লেয়ার্স ইউনিয়ন গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, দেশের ফুটবল এক উজ্জ্বল প্রতিভাকে হারাল। তাঁর মৃত্যু শুধু পরিবার বা ক্লাবের নয়, গোটা দেশের ফুটবলের জন্য বড় ক্ষতি।কেপ টাউনে জন্ম জেডেন অ্যাডামসের। স্টেলেনবস ক্লাবের যুব অ্যাকাডেমি থেকেই তাঁর ফুটবল জীবন শুরু। পরে তিনিই সেই অ্যাকাডেমির প্রথম ফুটবলার হিসেবে পেশাদার চুক্তি পান। স্টেলেনবসের হয়ে ১৩৯টি ম্যাচ খেলার পর তিনি মামেলোদি সানডাউনসে যোগ দেন। ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের জন্যই তিনি বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন।দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রীও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের ফুটবল এক সম্ভাবনাময় তরুণ তারকাকে হারিয়েছে। তাঁর সাফল্যের পথচলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে কেপ টাউনের একটি বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সি এক যুবকের দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। কীভাবে এই মৃত্যু হল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। তরুণ এই ফুটবলারের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

জুলাই ১১, ২০২৬
কলকাতা

বিস্ফোরক অভিযোগের পর বড় পাল্টা চাল! তাপস মণ্ডলকে পাঁচ কোটি টাকার আইনি নোটিস পাঠালেন সায়নী ঘোষ

নিয়োগ দুর্নীতি মামলাকে ঘিরে আবারও নতুন বিতর্ক সামনে এল। এবার নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তাপস মণ্ডলকে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির আইনি নোটিস পাঠালেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। তাঁর দাবি, কোনও প্রমাণ ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ প্রকাশ্যে করা হয়েছে, যার ফলে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাপস মণ্ডল দাবি করেছিলেন, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষের কাছ থেকে সায়নী ঘোষ বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, কুন্তল ঘোষ সায়নী ঘোষের জন্য ফ্ল্যাট ও গাড়ির ব্যবস্থা করেছিলেন এবং বিভিন্ন খরচও বহন করতেন। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়।এই অভিযোগের জবাবেই আইনি পদক্ষেপ করেন সায়নী ঘোষ। পাঠানো নোটিসে তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই হাজার কুড়ি সালে তিনি প্রায় আশি লক্ষ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। সেই ফ্ল্যাট কেনার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে ষাট লক্ষ টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছিল বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি দুই হাজার চব্বিশ সালে কেনা একটি গাড়ি এবং তার আগের কেনা আর একটি গাড়ির সমস্ত আর্থিক তথ্যও নোটিসে তুলে ধরা হয়েছে। কীভাবে আয় করেন এবং কোন অর্থে সম্পত্তি ও গাড়ি কেনা হয়েছে, তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাপস মণ্ডলের মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তা সাংসদ হিসেবে সায়নী ঘোষের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। তাই তাঁকে অবিলম্বে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই প্রসঙ্গে সায়নী ঘোষ বলেন, তাঁর ফ্ল্যাট ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে প্রকাশ্যে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। অতীতে তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে এই বিষয়ে ডেকেছিল এবং তিনি প্রায় পাঁচশো পাতার নথি জমা দিয়েছিলেন। এরপর আর কখনও তাঁকে ডাকা হয়নি। তিনি জানান, এতদিন বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কাছে তাঁর জবাবদিহি রয়েছে। তাই কোনও প্রমাণ ছাড়া ব্যক্তিগত সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা তিনি আর মেনে নেবেন না। তাঁর আশা, তাপস মণ্ডল আইনি নোটিসের জবাব দেবেন। তা না হলে আদালতেই পরবর্তী লড়াই হবে।

জুলাই ১১, ২০২৬
কলকাতা

‘টাটা আসবে, আদানিও আসবে’! বাংলার শিল্প নিয়ে বড় ঘোষণা, চর্চায় শমীকের মন্তব্য

ডানকুনিতে নতুন শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজ্যে ছয়শো কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা করল লাক্স-কোজ়ি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই বাংলার শিল্প, বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন শমীক ভট্টাচার্য।তিনি জানান, লাক্স পরিবারের কর্ণধার নিজে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে শিল্প সম্প্রসারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর দাবি, এখন বহু শিল্পপতি নতুন করে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্পের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গে পাহাড়, নদী এবং বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে শিল্পের আরও বড় বিস্তার সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই সরকার এগোচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তিনি মুখ্যমন্ত্রী এবং শিল্পমন্ত্রীর উদ্দেশে সিঙ্গুরের বিষয়েও নজর দেওয়ার আবেদন জানান। তাঁর মতে, শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে সিঙ্গুরের গুরুত্ব এখনও অপরিসীম।বাংলার পরিচয় প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাঙালি হওয়া যায় না। যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম পশ্চিমবঙ্গে থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন এবং রাজ্যের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন, তাঁরাও বাংলারই মানুষ।তিনি আরও দাবি করেন, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ বাড়বে। দেশ-বিদেশের একাধিক সংস্থা নতুন প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে আসবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, শিল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মতো অনুকূল পরিবেশ খুব কম রাজ্যেই রয়েছে।একই সঙ্গে তিনি বলেন, এখন আর শিল্প করতে কোনও ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারও জমি দখল করে দলীয় কার্যালয় তৈরি হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

জুলাই ১১, ২০২৬
রাজ্য

বড় ঘোষণা ঋতব্রত শিবিরের! এক ঝটকায় প্রকাশ জেলা সভাপতিদের তালিকা, তৃণমূলে নতুন সমীকরণ

তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে সেই অপেক্ষা না করেই সংগঠন গঠনের কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে গেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। শনিবার তপসিয়ায় বৈঠক করে একাধিক জেলার নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের মুখপাত্রদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।শনিবার দুপুরের পর তপসিয়ার বৈঠকে তৃণমূলের বহু পুরনো নেতাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। উপস্থিত ছিলেন শান্তনু সেন, অশোক রুদ্র, নারায়ণ গোস্বামী-সহ একাধিক নেতা। বৈঠকে যোগ দেন প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষও। ভোটের পর দীর্ঘদিন তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বৈঠকে প্রবেশের আগে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর তাঁর আস্থা রয়েছে এবং তিনি এখনও মমতাকেই হৃদয়ে রাখেন। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।বৈঠকের পর কৃষ্ণনগর জেলার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেবের শেখকে। আলিপুরদুয়ারের সভাপতি করা হয়েছে বিনোদ মিঞ্জকে। জলপাইগুড়ির দায়িত্ব পেয়েছেন মহুয়া গোপ এবং দার্জিলিং জেলার সভাপতি হয়েছেন রঞ্জন সরকার।বহরমপুর জেলার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেভিডকে। মালদার সভাপতি করা হয়েছে প্রসূনকে। যাদবপুর এবং ডায়মন্ড হারবার জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন শুভাশিস দাস।দলের প্রধান মুখপাত্র করা হয়েছে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এছাড়া মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আখরুজ্জামান, ডেভিড, সুদীপ রাহা এবং কোহিনুর।নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই ঋতব্রত শিবিরের এই সাংগঠনিক ঘোষণা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রকাশ্যে তুলে ধরারই চেষ্টা করেছে ঋতব্রত শিবির।

জুলাই ১১, ২০২৬
বিদেশ

ভিয়েতনামে ভয়াবহ নৌকাডুবি! ভারতীয় পর্যটকে ভর্তি নৌকা উল্টে বহু মৃত্যু, আতঙ্কে পরিবার

ভিয়েতনামের ফুকুয়ক দ্বীপের কাছে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক ভারতীয় পর্যটক। স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় পর্যটকবাহী নৌকায় মোট বত্রিশ জন ভারতীয় পর্যটক এবং চারজন নাবিক ছিলেন। প্রবল ঢেউ ও উত্তাল সমুদ্রের মধ্যে নৌকাটি উল্টে যায়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অন্তত পনেরো জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে জোরকদমে উদ্ধার অভিযান চলছে।দুর্ঘটনার পর ভিয়েতনামে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ফুকুয়ক দ্বীপের কাছে ভারতীয় পর্যটক বহনকারী একটি নৌকা দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। ঘটনার সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে ভারতীয় দূতাবাস দ্রুত বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করেছে।হো চি মিন শহরে ভারতীয় কনস্যুলেট এবং রাজধানী হ্যানয়েও আলাদা নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল এবং আশপাশে থাকা একাধিক নৌকা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নৌকার বহু যাত্রী ভেতরে আটকে পড়ায় উদ্ধারকাজে সমস্যা তৈরি হয়। কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অনেককে আর বাঁচানো যায়নি।উল্লেখ্য, গত বছরও ভিয়েতনামের একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ফের বড় দুর্ঘটনা ঘটায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ল।

জুলাই ১১, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুরে নিহত যুবকের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী! বিস্ফোরক দাবি, ‘এটা গণপিটুনি নয়, পরিকল্পিত খুন’

বারুইপুরে গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নিহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর দাদার জন্য চাকরিরও ঘোষণা করেন তিনি। তবে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর বারুইপুরের ঘটনাকে ঘিরে একটি বড় দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এটি সাধারণ গণপিটুনির ঘটনা নয়, বরং নিহতের পরিচয় জেনেই পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক উস্কানি থাকতে পারে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজিত একটি গোষ্ঠীর প্ররোচনা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। পাশাপাশি উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর যোগ থাকার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। যদিও তদন্তের মাধ্যমে সব তথ্য সামনে আসবে বলেই তিনি জানান।নিহতের পরিবারের জন্য একাধিক সহায়তার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, নিহতের বড় দাদাকে রাজ্য পুলিশের অধীনে সিভিক ভলান্টিয়রের চাকরি দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত মেরামত করা হয়েছে। নিহতের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য বার্ধক্য ভাতা এবং খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের হাতে এককালীন পঁচিশ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন তিনি।ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না। দ্রুত বিচার করে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, তদন্তের নামে কোনও নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার রয়েছে, কিন্তু নিরপরাধ কাউকে অযথা জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেফতার করা উচিত নয়।মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) আরও জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজে যাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, পঁয়ত্রিশ বছরের এক যুবককে হাত-পা বেঁধে যেভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে, সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।উল্লেখ্য, বারুইপুরের ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা নিয়ে তদন্ত চলছে। একটি গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং অন্যটি গণপিটুনির ঘটনা। গণধর্ষণ ও হত্যার মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে গণপিটুনি এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের মামলায় এখনও পর্যন্ত সাতত্রিশ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্ত এখনও চলছে।

জুলাই ১১, ২০২৬
কলকাতা

সিঙ্গুরের ক্ষত ভুলিয়ে বড় চমক! বাংলায় ছয়শো কোটি টাকার নতুন শিল্প, হাজারো চাকরির আশা

ডানকুনিতে নতুন শিল্প প্রকল্প ঘিরে আশার আলো দেখছেন হুগলি এবং সিঙ্গুর সংলগ্ন এলাকার মানুষ। দীর্ঘদিন বড় শিল্পের অপেক্ষায় থাকা এই অঞ্চলে এবার ছয়শো কোটি টাকার বিনিয়োগে নতুন কারখানা গড়ে উঠছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস হওয়ায় শিল্পায়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে লাক্স কোজ়ির কারখানার পরিসর আরও অনেকটাই বাড়ছে। পুরনো এবং নতুন ইউনিট মিলিয়ে প্রায় কুড়ি লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে গড়ে উঠবে আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র। এর ফলে শুধু উৎপাদনই বাড়বে না, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।ডানকুনি আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য পরিচিত। জাতীয় সড়ক, রেলপথ এবং বড় বড় গুদাম ও পরিবহণ কেন্দ্র থাকার কারণে এই এলাকা শিল্পের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত। নতুন কারখানা চালু হলে হুগলি জেলার শিল্প মানচিত্রে আরও গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এই প্রকল্পকে নতুন সম্ভাবনার দরজা হিসেবে দেখছেন। কারখানার বর্তমান কর্মী মানসী ঘোষের আশা, নতুন ইউনিট চালু হলে আরও বহু মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে এবং এলাকার অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।জনাই থেকে প্রতিদিন কাজে আসা পীযূষ কান্তি ঢালিও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে আরও নতুন শিল্প গড়ে উঠুক এবং বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হোক। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম একুশ হাজার টাকা বেতনেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।দীর্ঘদিন শিল্পহীনতার অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা এই অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগকে ঘিরে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। শিল্পের সম্প্রসারণের পাশাপাশি ছোট ব্যবসা, পরিবহণ, গুদাম এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

জুলাই ১১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal