• ২ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

TMC

কলকাতা

রাতারাতি বড় রদবদল! সুদীপ সরতেই উত্তর কলকাতার দায়িত্বে কুণাল ঘোষ

তৃণমূল কংগ্রেসে বড় সাংগঠনিক রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের তরফে প্রকাশিত নতুন তালিকা অনুযায়ী উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণাল ঘোষকে। এতদিন এই পদে ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকেও সরানো হয়েছে সায়নী ঘোষকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়।দলের অন্দরে চলা রাজনৈতিক আলোচনা এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতির মধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিন ধরে দলের মুখপাত্র এবং অন্যতম সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত কুণাল ঘোষ। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তিনি প্রকাশ্যে তৃণমূলের হয়ে সরব ছিলেন।অন্যদিকে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নানা রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক দায়িত্ব এখন কুণাল ঘোষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যুব সংগঠনের নেতৃত্বেও নতুন মুখ আনা হয়েছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী দিনের লড়াইকে সামনে রেখে দল নতুন করে সংগঠন সাজানোর চেষ্টা করছে। সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই রদবদলের ফলে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় কী প্রভাব পড়ে এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কীভাবে কাজ করেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ১৩, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলে কি আরও এক বড় ভাঙন? দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকে সুদীপ, তুঙ্গে জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও উসকে দিল দিল্লির একটি বৈঠক। উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করায় নতুন করে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। শনিবার দিল্লিতে পৌঁছেই তিনি ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যান বলে সূত্রের খবর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অন্যতম অভিজ্ঞ সাংসদ হিসেবে পরিচিত। লোকসভায় বহু বছর তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে সেই দায়িত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছিল। যদিও তখন প্রকাশ্যে কোনও অসন্তোষ দেখাননি সুদীপ।তবে বর্তমানে তৃণমূলের অন্দরে বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ এবং সাংসদদের অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সেই পরিস্থিতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বৈঠককে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি ভবিষ্যতে কোনও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়, তবে সেখানে সুদীপ গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠতে পারেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু একজন সাংসদ নন, তিনি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন, তখন প্রথম সারির যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে সুদীপ অন্যতম। যদিও পরবর্তী সময়ে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। একসময় তিনি দল ছেড়েও বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পরে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই ফিরে আসেন।সম্প্রতি তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সুদীপের স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গিয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি। ফলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখন নানা মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।তবে এই বৈঠক শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু দিল্লির এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে এবং রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা যে নতুন মাত্রা পেয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

জুন ১৩, ২০২৬
রাজ্য

ভোররাতে কালীঘাটে ‘পুলিশি অভিযান’! তালা ভেঙে অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি, ছুটে গেলেন মমতা

কলকাতার কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িকে ঘিরে শনিবার ভোররাতের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী, সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান সব মিলিয়ে কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে ঘিরে ফেলা হয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বাসভবন।স্থানীয় সূত্রের দাবি, শনিবার রাত প্রায় ৩টা নাগাদ একাধিক পুলিশ গাড়ি কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার ওই বাড়ির সামনে এসে পৌঁছয়। শালবনি থানার পুলিশ, কলকাতা পুলিশের আধিকারিক এবং মহিলা পুলিশকর্মীরাও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি করা হলেও দরজা না খোলায় শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন পুলিশ আধিকারিকেরা।এরপর শুরু হয় বাড়ির বিভিন্ন অংশে বিস্তৃত তল্লাশি অভিযান। প্রায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই তৎপরতা। বাড়ির বাইরে অবস্থান নেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। গোটা এলাকা কার্যত নিরাপত্তা বেষ্টনীতে পরিণত হয়।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকালে দ্রুত কালীঘাটে পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন এবং পুলিশি তল্লাশির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশ বাহিনী বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনিও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।সকাল ৮টার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে পুরো বাড়ি সার্চ করা হয়েছে। সমস্ত কিছু রেকর্ড করা রয়েছে। তবে ঠিক কোন মামলার তদন্তে এই অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েকদিন ধরেই একাধিক তদন্তমূলক মামলায় অভিষেককে ঘিরে চাপ বাড়ছে। বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে সম্প্রতি সিআইডির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। ভবানী ভবনে টানা প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গভীর রাতে তিনি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান।এদিকে শুক্রবারও তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছেছিল সিআইডি। একটি সাইবার অভিযোগের তদন্তে তাঁকে নোটিস দিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল গোয়েন্দাদের। পরে অভিষেক বাড়ি ফিরলে তাঁর হাতে নোটিস তুলে দেওয়া হয়। সেই মামলায় আগামী ১৬ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর পাশাপাশি সই জাল-কাণ্ডে ১৪ জুন ফের সিআইডির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আবার ১৫ জুন প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে তলব করেছে ইডি। ফলে একের পর এক তদন্তকারী সংস্থার নোটিস ও জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে শনিবার ভোরের এই পুলিশি অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।তদন্তের প্রকৃত কারণ ও অভিযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না মিললেও, কালীঘাটের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতির পারদ যে আরও চড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

জুন ১৩, ২০২৬
রাজ্য

পুলিশের ঘেরাটোপে হাফপ্যান্ট পরে ফলতার রাস্তায় জাহাঙ্গির, বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ

ফলতার রাজনীতিতে একসময় যাঁর দাপট ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, সেই জাহাঙ্গির খান এখন পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যে। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকে ফলতার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে ফলতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও অতীতে অন্যান্য অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে যেমন কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছিল, এ ক্ষেত্রে সেই ছবি দেখা যায়নি। তবুও পুলিশের সদস্যরা তাঁকে হাত ধরে নিয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে জনতার কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো।তদন্তকারীরা প্রথমে জাহাঙ্গিরকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নথি ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রমাণের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়েও নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, অভিযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার সূত্র খুঁজে বের করতেই এই পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তাঁর উপস্থিতিতে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারি নিজেই ছিল নাটকীয়। গত ৮ জুন নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর এসটিএফ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে এবং পরে কলকাতায় নিয়ে আসে।ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের সময় থেকেই জাহাঙ্গিরকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। ২১ মে অনুষ্ঠিত পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে তিনি হঠাৎ নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেছিলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ভোটের ব্যালট বা ইভিএমে তাঁর নাম ও দলীয় প্রতীক বহাল ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি ৭,৭৮৩টি ভোটও পান।নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের তল্লাশি অভিযান, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এবং ঝুকেগা নেহি মন্তব্যসব মিলিয়ে জাহাঙ্গিরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বেড়েছিল। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারের পর সেই বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে।এদিকে অভিযুক্তদের এলাকায় ঘোরানো নিয়ে রাজ্য জুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবও এই ঘটনায় পড়েছে। এর আগে একাধিক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতারের পর কোমরে দড়ি বেঁধে জনসমক্ষে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টও উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আইন অনুযায়ী পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর সামাজিক সম্মানহানি করার অধিকার তাদের নেই।সেই প্রেক্ষাপটে জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে পুলিশের এই পদক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাপুনর্নির্মাণ নাকি জনসমক্ষে বার্তা দেওয়ার চেষ্টাতা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

জুন ১১, ২০২৬
কলকাতা

মমতার বাড়ির পাশের তৃণমূল কার্যালয়ে সিআইডি হানা, এবার সরাসরি হাই কোর্টে মামলা!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছেই অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিআইডি তল্লাশি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা। অভিযোগ, কোনও নিরপেক্ষ সাক্ষী ছাড়াই তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং বেআইনিভাবে দলীয় নথি স্ক্যান করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছে।অন্যদিকে সই জাল কাণ্ডে নিজের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের আশঙ্কায় ফের হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আবেদন নিয়ে আগামীকাল শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে সই জাল কাণ্ডের তদন্তে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছন সিআইডি আধিকারিকরা। কার্যালয়টি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত। ঘটনাস্থলে একটি মহিলা দল-সহ সিআইডির আধিকারিকরা পৌঁছন। পাশাপাশি কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।সিআইডির দাবি, সই জাল কাণ্ডের তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তারা ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় তল্লাশি পরোয়ানাও ছিল বলে জানানো হয়।সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে ছিলেন। ফলে কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা দলের কোষাধ্যক্ষ এবং রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিষ চক্রবর্তীর সঙ্গেই সিআইডি আধিকারিকদের কথা হয়। তিনি প্রথমে তল্লাশির অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে কিছু সময় বাগ্বিতণ্ডা চলে। তবে শেষ পর্যন্ত সিআইডি আধিকারিকরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে তল্লাশি চালান।এই তল্লাশিকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টে মামলা করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে তল্লাশি করা হয়নি। তাঁদের দাবি, কোনও সাক্ষীর উপস্থিতি ছিল না এবং সেই সুযোগে দলীয় নথি স্ক্যান করা হয়েছে। যদিও সিআইডির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে তাদের কাছে বৈধ তল্লাশি পরোয়ানা ছিল।তল্লাশি শেষে সিআইডি আরও জানিয়েছিল, কার্যালয় থেকে কোনও নথি বা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। তা সত্ত্বেও গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের দিকে। আদালত এই অভিযোগগুলিকে কীভাবে দেখছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানিতে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

জুন ১০, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলে আরও বড় ধাক্কা! সুখেন্দুর পর এবার ইস্তফা সুস্মিতা দেবের, বাড়ছে জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেসে অস্বস্তি আরও বাড়ল। এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দলের এক সদস্য। সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এবার পদত্যাগ করলেন সুস্মিতা দেব। বুধবার তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন।রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষের খবর সামনে আসছে। বিভিন্ন স্তরে মতভেদের আলোচনা চলার মধ্যেই একের পর এক সাংসদের পদত্যাগ দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।দলীয় সূত্রে জল্পনা, আরও কিছু নেতা ও সাংসদ ভবিষ্যতে একই পথে হাঁটতে পারেন। রাজনৈতিক মহলে এমনও আলোচনা চলছে যে সদ্য রাজ্যসভার সদস্য হওয়া কোয়েল মল্লিকও পদত্যাগ করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।সুস্মিতা দেব দীর্ঘদিন কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অসমের শিলচর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে দুই হাজার উনিশ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর কংগ্রেস ছাড়েন তিনি। পরে দুই হাজার একুশ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন।দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সুস্মিতা দেবকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি দলের জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। পরে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদও করা হয়। পাশাপাশি অসমে দলের সংগঠন বিস্তারের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছিল।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুস্মিতা দেবের পদত্যাগ শুধুমাত্র সংসদীয় রাজনীতিতেই নয়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সংগঠনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের বিস্তারের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এদিকে সংসদের দুই কক্ষেই এখন নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। লোকসভায় দলের কিছু সাংসদ আলাদা অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে রাজ্যসভায়ও তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমছে। সুখেন্দু শেখর রায় ও সুস্মিতা দেবের ইস্তফার ফলে দলের শক্তি আগের তুলনায় কমেছে। ভবিষ্যতে আরও কোনও পদত্যাগ হলে সেই চাপ আরও বাড়তে পারে।সব মিলিয়ে একের পর এক ইস্তফা এবং দলীয় অন্দরের অসন্তোষের খবরে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তীব্র হয়েছে। আগামী দিনে দলের নেতৃত্ব পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ১০, ২০২৬
সম্পাদকীয়

ক্ষমতার শীর্ষ থেকে অনিশ্চয়তার কিনারায়, মমতা-অভিষেকের সামনে কঠিন প্রশ্ন

দেহপট সনে নট সকলি হারায় মঞ্চে বা পর্দায় যে নট-নটিরা অসংখ্য মানুষের চোখের পর্দায় বিচরণ করেন তাঁদের সম্পর্কে কবির এই নিদান। গ্ল্যামারের ছটায় যে সাফল্য আসে নট-নটিদের, তার জনমোহিনী আকর্ষণ শরীরে বয়স থাবা বসানোর সঙ্গে সঙ্গে অতি দূরের নির্জন দ্বীপের চেহারা নেয়। তবে, রাজনীতির মঞ্চে কালের এই নিয়ম আলাদা। সেখানে বয়স নয়, ক্ষমতার মসনদ ই মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষমতার মসনদের উপরে ও নিচে কোথায় অবস্থান তা নির্দিষ্ট করে দেয় খেলার নিয়ম। এই মুহূর্তে এই অনুভব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে বেশি কেউ বুঝছেন না। শুধু ক্ষমতা হারানো নয় ১৯৯৮ সালে যে দলটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই দলটাই তাঁর মুঠোয় আর থাকবে কি না সেই প্রশ্ন ই এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে মমতার। ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাস বলছে ব্যক্তি নির্ভর দলের বোধহয় এটাই ভবিতব্য। ইংরেজিতে একটা কথা আছে nothing succeeds like success। নতুন দল তৈরির পর থেকেই সাফল্যের মুখ দেখেননি মমতা। ধীরে ধীরে রাজ্যের বিরোধী পরিসরে তিনি জায়গা পেয়েছেন। অবশেষে, সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম পর্ব পেরিয়ে ২০০৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ক্ষমতার বিন্দুর দিকে যাত্রা শুরু হয় মমতার। ২০০৯ এর লোকসভা, ২০১০ এর পুরসভা ও পৌরসভার নির্বাচন এর পরপর ২০১১ এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই বিন্দুর স্পর্শ পেয়েছেন তিনি। তারপরে তো দল এবং সরকারে তিনিই ছিলেন শেষকথা। ক্ষমতায় থাকার জন্য দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে মজবুত করতে নিচুতলার কর্মী থেকে নেতা - মন্ত্রীদের বেপরোয়া ক্ষমতার ব্যবহার ও দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। অন্যদিকে, দলে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে একের পর এক ঘুঁটি সাজিয়েছেন। এই সবই ছিল ক্ষমতার মসনদে বসে থাকাকালীন সময়ের ঘটনা প্রবাহ। কিন্তু, ২০২৬ সালের ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরে পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। দলের টিকিটে ল্যাম্পপোস্ট দাঁড় করালেও মমতার নামে তিনি বৈতরণী পেরিয়ে যাবেন - দলের মধ্যে এই যে myth তৈরি হয়েছিল তা আজ অতীত। এখন তো তাঁর নামে একটি কর্মসূচিতেও দলের নেতা কর্মীদের দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় মমতার থেকে ও অনেক অনেক বেশি কঠিন কঠোর বাস্তব এসে দাঁড়িয়েছে অভিষেকের সামনে। মমতার পক্ষে তাঁকে ব্রাত্য করা অসম্ভব হলেও দলের নেতা, বিধায়ক, কর্মীদের কাছে নয়। কারণ অভিষেক দলের মধ্যে যেখানে ছিলেন তা তাঁর রাজনৈতিক পরিশ্রমের ফল নয়। ক্ষমতার সোপানে পা রেখেই তাঁর যাত্রা শুরু। দলের নেতা, বিধায়ক ও কর্মীদের তা অজানা নয়। ফলে এখন পরীক্ষা অভিষেকের। এতদিন তিনি digital space এ রাজনীতি করে এসেছেন, এবার নামতে হবে রাজনীতির রুক্ষ মাঠে, রাস্তায়। এই রাস্তা, মাঠে তাঁর জন্য কোন বাস্তব অপেক্ষা করে আছে তা তিনি আঁচ পেয়েছেন সোনারপুরের রাস্তায়। তিনি কি দলের ভাঙন ঠেকাতে পারবেন? সাফল্যের নিচে যে অন্ধকার থাকে তার সঙ্গে কি মানিয়ে চলতে পারবেন? দলের মধ্যে যাঁরা মাঠে - ময়দানে লড়াইতে, অভিজ্ঞতায় তাঁর থেকে এগিয়ে রয়েছেন তাঁদের সঙ্গে পা মেলাতে পারবেন? এইগুলোই এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে কালীঘাট ও হরিশ মুখার্জি রোডের দরজায়।

জুন ০৯, ২০২৬
কলকাতা

ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকার কারবার? প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বড় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল সঙ্গীতশিল্পী ও প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে প্রিপুজো প্রদর্শনীর টিকিট বিক্রি করে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ঘটনায় বউবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যটন সংক্রান্ত পরামর্শদাতা জয়দীপ মুখোপাধ্যায়।অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, দুই হাজার বাইশ সালে একটি সংস্থা তৈরি করা হয়, যার প্রধান ছিলেন মধুছন্দা সেন। সেই সংস্থার পক্ষ থেকে প্রচার করা হয় যে ইউনেস্কো তাদের সহযোগী সংস্থা হিসেবে যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়, কলকাতার চব্বিশটি দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কো বিশেষভাবে নির্বাচন করেছে। কিন্তু পরে জানা যায়, এই দাবির কোনও সত্যতা নেই।জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইউনেস্কোর প্যারিস এবং দিল্লি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ইউনেস্কোর পক্ষ থেকেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা হয়। সেখানে তাঁকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট কোনও সংস্থার সঙ্গে ইউনেস্কোর কোনও চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিল না।দুই হাজার একুশ সালে বাংলার দুর্গাপুজো আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পরের বছর থেকেই এই কার্যক্রম শুরু হয় বলে অভিযোগ। ওই সংস্থা কলকাতার নির্বাচিত কিছু দুর্গাপুজোর থিম এবং শিল্পকর্ম আগেভাগে প্রদর্শনের আয়োজন করত। সেই প্রদর্শনী দেখার জন্য দর্শকদের কাছ থেকে টিকিটের বিনিময়ে অর্থ নেওয়া হত। অভিযোগ, এই পুরো আয়োজনকে ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগ বলে প্রচার করা হয়েছিল।জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের আরও দাবি, গত তিন বছরে এই টিকিট বিক্রি থেকে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন পুজো কমিটি খুব সামান্য অংশ পেয়েছে, আর বাকি অর্থ সংস্থার কাছে গিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যেসব পুজোকে এই সংস্থা বেছে নিত, সেগুলিই পরে বিভিন্ন পুরস্কার এবং বড় স্পনসরশিপ পেত।তবে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগকারীকে তিনি চেনেন না এবং তাঁর সঙ্গে কোনও পরিচয়ও নেই। তিনি বলেন, তিনি কোনওদিন কোনও দুর্গাপুজো কমিটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তাঁর মতে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি আরও জানান, তাঁর স্ত্রী একজন শিল্পী ও আলোকচিত্রী। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থার সঙ্গে তাঁর কাজের সম্পর্ক রয়েছে। প্রয়োজন হলে তিনি আইনি পদক্ষেপও করবেন বলে জানিয়েছেন।অন্যদিকে অভিযোগকারী জানিয়েছেন, কলকাতা পুলিশের কমিশনার, রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক এবং বউবাজার থানার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে একাধিক নথি এবং তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। তবে প্রাক্তন মন্ত্রীকে ঘিরে ওঠা এই নতুন বিতর্ক ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

জুন ০৯, ২০২৬
কলকাতা

গভীর রাতে আবাসনে পুলিশের হানা! গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত

তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হল তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে। সোমবার গভীর রাতে রাজারহাটের রাইগাছি এলাকার একটি অভিজাত আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সব্যসাচী দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই পুরনো একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে সল্টলেকের এক ব্যবসায়ী সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছিল এবং টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তোলাবাজির অভিযোগও তোলা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।তদন্তের সূত্র ধরে সোমবার গভীর রাতে রাইগাছির একটি আবাসনে পৌঁছয় পুলিশের বড় দল। সেখান থেকেই সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।একসময় রাজারহাট-নিউটাউন এলাকার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন সব্যসাচী। তিনি দীর্ঘদিন তৃণমূলের হয়ে রাজনীতি করেছেন। দুই হাজার এগারো সাল থেকে দুই হাজার উনিশ সাল পর্যন্ত রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন তিনি।পরবর্তীতে দুই হাজার উনিশ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। দলবদলের পর দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিধাননগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থীও হন। তবে সেই নির্বাচনে তৃণমূল নেতা সুজিত বসুর কাছে পরাজিত হন।এরপর আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন সব্যসাচী দত্ত। দুই হাজার বাইশ সালের বিধাননগর পুরসভা নির্বাচনে একত্রিশ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরে তাঁকে পুরবোর্ডের চেয়ারম্যানও করা হয়।সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বারাসত কেন্দ্র থেকে তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী করেছিল। তবে সেই নির্বাচনে জয় পেতে পারেননি তিনি। পরে তাঁকে বারাসত সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।এই পরিস্থিতিতে সব্যসাচীর গ্রেফতারিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে পুলিশের দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে সব্যসাচীর অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জুন ০৯, ২০২৬
দেশ

লোকসভায় তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন! ২৮-এর দলে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের দাপট, অভিষেককে ঘিরে সঙ্কুচিত মমতার অনুগত বলয়

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে নজিরবিহীন ভাঙনের জেরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিধানসভায় সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এবার লোকসভাতেও দলের ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন। দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য বিদ্রোহী অবস্থান নেওয়ায় সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।দলীয় সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরেই সাংসদদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। সেই অসন্তোষেরই প্রকাশ ঘটে দিল্লিতে একাধিক বৈঠকে। প্রথমে রবিবার গভীর রাতে গোপন বৈঠক এবং পরে সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। এরপরই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র প্রতি সমর্থন জানাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।এই বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। কাকলির দাবি, প্রায় ২০ জন সাংসদ তাঁর সঙ্গে রয়েছেন এবং তাঁরা সম্মিলিতভাবে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, খলিলুর রহমান, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী, শর্মিলা সরকার, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, আবু তাহের, কালীপদ সোরেন, জুন মালিয়া, সাজদা আহমেদ, ইউসুফ পাঠান, দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার এবং পার্থ ভৌমিক। এছাড়াও শত্রুঘ্ন সিংহ, প্রতিমা মণ্ডল ও মিতালি বাগের অবস্থান নিয়েও জল্পনা চলছে।অন্যদিকে, তৃণমূলের মূল নেতৃত্বের পাশে আপাতত যাঁরা রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাশাপাশি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, সায়নী ঘোষ, মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজ়াদের নামও দলনেত্রীর অনুগত শিবিরে শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মালা রায়ও এখনও নেতৃত্বের দিকেই ঝুঁকে রয়েছেন।এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত লোকসভায় তৃণমূলের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন। এক সময় যে সংসদীয় দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্তৃত্ব ছিল নিরঙ্কুশ, সেখানে এখন সংখ্যার বিচারে তাঁর অনুগত শিবির অনেকটাই সঙ্কুচিত বলে দাবি বিরোধী মহলের।বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যদি কেউ এনডিএ-তে যোগ দিতে চান, তবে তাঁদের আগে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁরা তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়েছেন এবং সেই জনাদেশকে অন্য রাজনৈতিক শিবিরের পক্ষে ব্যবহার করা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।একইভাবে কীর্তি আজ়াদও গোটা ঘটনাকে বিজেপির পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০ জন সাংসদের সমর্থনের যে দাবি করা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং বৈঠকে উপস্থিত সাংসদের সংখ্যা অনেক কম ছিল এবং অধিকাংশ সাংসদ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি।তবে দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের ধারাবাহিক বৈঠক এবং বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ক্রমশ জটিল করে তুলছে। লোকসভায় তৃণমূলের ভবিষ্যৎ অবস্থান, দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সামনে তৈরি হওয়া এই নতুন চ্যালেঞ্জ আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জুন ০৯, ২০২৬
রাজ্য

রাতের অন্ধকারে পুলিশের জাল, গ্রেফতার মুখ সব্যসাচী দত্ত ! তোলাবাজি-কাণ্ডে নতুন রাজনৈতিক ঝড়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্নীতি ও তোলাবাজি বিরোধী অভিযানের আবহে ফের বড়সড় পদক্ষেপ। এ বার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত নেতা ও বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে তাঁর রাজারহাটের রাইগাছি এলাকার বাসভবনে অভিযান চালায় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা সব্যসাচীর বিরুদ্ধে সল্টলেকের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন যে, তাঁর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, টাকা না দিলে বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।সোমবার রাতে হঠাৎ করেই রাইগাছিতে সব্যসাচীর বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ বাহিনী। তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, প্রাথমিক তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে পর্যাপ্ত কারণ পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।মঙ্গলবার সকালে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হবে বলে জানা গিয়েছে। এরপর তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারীরা আদালতে হেফাজতের আবেদন জানাতে পারেন বলেও সূত্রের খবর।রাজনৈতিক মহলে এই গ্রেফতারি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সব্যসাচী দত্ত দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বারাসত কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।উল্লেখ্য, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই পূর্বতন শাসকদলের একাধিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগ কেলেঙ্কারি, তোলাবাজি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত জোরদার হয়েছে। গত কয়েক মাসে একাধিক গ্রেফতারির ঘটনা রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে।মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই পুলিশের বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ফলতার বহুচর্চিত নেতা জাহাঙ্গির খানকে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি নেপাল সীমান্ত হয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতারি নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের জন্ম দিয়েছে।এর আগে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন কাউন্সিলরকেও বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে একের পর এক গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।এখন নজর আদালতের দিকে। সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে এবং এই মামলার রাজনৈতিক অভিঘাত কত দূর গড়ায়, সেটাই দেখার।

জুন ০৯, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে তৃণমূলে মহাভাঙন! শতাব্দীর বাড়িতে শুভেন্দুর গোপন বৈঠক ঘিরে তুমুল জল্পনা

সোমবার সকাল থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে ছিল চরম উত্তেজনা। একের পর এক বৈঠক, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি এবং তৃণমূলের একাধিক সাংসদের অবস্থান ঘিরে তৈরি হয় জোর জল্পনা। দিনের শেষে সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিল শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাসভবনে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক।সূত্রের খবর, সন্ধ্যায় শতাব্দী রায়ের বাড়িতে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একে একে সেখানে পৌঁছন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশ বাসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী-সহ একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ।এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, লোকসভার পর এবার রাজ্যসভাকেও লক্ষ্য করে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা হতে পারে। যদিও বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক বৈঠক নয়, বরং শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং চা-চক্র।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন বিদ্রোহী সাংসদরা। সেখানে শতাব্দী রায়, আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং অসিত মাল নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। পরে সেই বিষয়গুলি নিয়ে আরও আলোচনা করতেই শতাব্দীর বাড়িতে সন্ধ্যার বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে জানা গিয়েছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠকে সাংসদদের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কথা হয়ে থাকতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।এর আগেই বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন। সেই চিঠিতে তাঁরা বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে সূত্রের খবর। মোট ২০ জন সাংসদ এই চিঠিতে সমর্থন জানিয়েছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় ব্যবস্থা এড়াতে কোনও দলের আইনসভার সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন হয়। তৃণমূলের লোকসভায় মোট ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। তার মধ্যে ২০ জন বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে থাকায় এই সংখ্যাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে দিল্লির ধারাবাহিক বৈঠক এবং বিদ্রোহী সাংসদদের সক্রিয়তা ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট নেতাদের একাংশ এখনও এটিকে শুধুই সৌজন্যমূলক বৈঠক বলেই দাবি করছেন।

জুন ০৮, ২০২৬
কলকাতা

‘ভাইপোর লোক’, ‘ডাকাত’, ‘জেল নিশ্চিত’— শুভেন্দুর মন্তব্যের পর বিস্ফোরক তরুণজ্যোতি

রাজারহাট গোপালপুরে এক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে ডাকাত শব্দ ব্যবহার করে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও তিনি কারও নাম নেননি, তবে তাঁর মন্তব্যের পর সেই ডাকাত আসলে কে, তা নিয়ে শুরু হয় জোর রাজনৈতিক জল্পনা। পরে রাজারহাট গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সেই রহস্যের পর্দা সরানোর দাবি করেন।রবিবার সন্ধ্যায় রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভার উদ্যোগে আয়োজিত একটি রক্তদান শিবিরে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রথমে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির প্রশংসা করেন। এরপর তিনি বলেন, ২০২৬ সালে রাজ্যের মানুষ কার্যত দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছেন। সেই কারণেই খারাপ আবহাওয়া সত্ত্বেও মানুষ ঘরে বসে না থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।তরুণজ্যোতির প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, তাঁকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে মানুষ এমন একজনকে পরাজিত করেছেন, যাকে তিনি ডাকাত বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়েছেন, ছোট ছোট কাজ কেড়ে নিয়েছেন এবং বহু মামলা দিয়ে বিরোধীদের হয়রানি করেছেন। একুশের পর রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।তবে একই সঙ্গে তিনি কর্মী-সমর্থকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দেন। শুভেন্দুর বক্তব্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনই ব্যবস্থা নেবে। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, যে ডাকাত-এর কথা তিনি বলছেন, তার বিষয়টি পুলিশমন্ত্রীর উপর ছেড়ে দিতে।মুখ্যমন্ত্রী নাম না বললেও পরে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারী আসলে দেবরাজ চক্রবর্তীর কথাই বলেছেন। তরুণজ্যোতির অভিযোগ, দেবরাজ এক সময় প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সেখান থেকে তাঁর বিপুল সম্পত্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন বিজেপি বিধায়ক।তরুণজ্যোতি আরও বলেন, তিনি কখনও দেবরাজের স্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাঁর প্রশ্ন, স্ত্রীর নামে এত সম্পত্তি এল কোথা থেকে? দেবরাজ চক্রবর্তী এখন কোথায়, কেন তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, আজ না হোক কাল, দেবরাজ চক্রবর্তীকে জেলে যেতেই হবে।শুভেন্দুর মন্তব্য এবং তরুণজ্যোতির এই দাবিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে দেবরাজ চক্রবর্তী বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

জুন ০৮, ২০২৬
রাজ্য

পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে হানা, উদ্ধার পুলিশের পোশাক ও গুলির খোল! ডায়মন্ড হারবারে তীব্র চাঞ্চল্য

ডায়মন্ড হারবারে এক পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সরিষার কামারপোল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মইদুল ইসলামের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ, ত্রিপল, কম্বল এবং পুলিশের পোশাক উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি গুলির খোল ও বাক্সও পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে কয়েক জন গ্রামবাসী খবর পান যে প্রধানের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী মজুত রয়েছে। এরপর তাঁরা সেখানে গিয়ে বিভিন্ন ঘরে তল্লাশি চালান বলে দাবি। অভিযোগ, সেখান থেকে হাজার হাজার ত্রিপল, শিশুদের খাদ্যসামগ্রী, পোশাক, কম্বল এবং প্রচুর ওষুধ উদ্ধার হয়।স্থানীয়দের আরও দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিচালিত সেবাশ্রয় শিবিরের চিহ্নযুক্ত ওষুধও ছিল। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ঘটনার সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হল, প্রধানের বাড়ি থেকে পুলিশের পোশাক এবং গুলির খোল উদ্ধার হওয়ার অভিযোগ। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে এই সামগ্রী সেখানে পৌঁছল, তা নিয়ে কৌতূহল ও উদ্বেগ দুই-ই বাড়ছে।খবর পেয়ে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ এবং পারুলিয়া উপকূল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সমস্ত সামগ্রীর উৎস এবং সেগুলি কীভাবে ওই বাড়িতে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই অভিযুক্ত প্রধান এলাকায় নেই। ফলে তাঁর বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে বণ্টন না করে মজুত রাখা হয়েছিল।ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিজেপি। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, সাধারণ মানুষের প্রাপ্য ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের পোশাক উদ্ধারের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে তারা। তাঁদের অভিযোগ, এই পোশাক ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার বা ভয় দেখানোর মতো কাজ করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও সরকারি প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।এদিকে, এই ঘটনার বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, তার উপরই নির্ভর করবে এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ।

জুন ০৭, ২০২৬
কলকাতা

তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকল পুলিশ, ঘর থেকে টেনে বের করা হল তৃণমূল কাউন্সিলরকে

কলেজ স্ট্রিটে রবিবার ভোর থেকে চলে টানটান উত্তেজনা। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টার নাটকীয় অভিযানের পর অবশেষে গ্রেপ্তার করা হল ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ কাউন্সিলরের বাড়িতে পৌঁছে যায় জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরেও তিনি দরজা খোলেননি।পুলিশের দাবি, কাউন্সিলর বাড়ির ভিতরেই ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আধিকারিকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। তবুও দরজা না খোলায় শেষ পর্যন্ত চাবিওয়ালাকে ডাকা হয়। সদর দরজা ও একাধিক কোলাপসিবল গেটের তালা খুলে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ। এরপর ঘর থেকে কাউন্সিলরকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।কাউন্সিলরকে বাড়ি থেকে বের করার সময় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সমর্থকেরা বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিক্ষোভে সামিল হন। কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং জমায়েত সরাতে বাহিনী তৎপর হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে এক নাবালিকাকে নির্যাতনের অভিযোগে পকসো আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় কাউন্সিলর এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জনের নাম ছিল। অভিযোগ, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিতার পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।শনিবার নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ওই তরুণীকে একা পেয়ে কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ কয়েক জন প্রথমে কটূক্তি করে। প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আক্রান্ত তরুণী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘটনার পর আশপাশের একাধিক নজরদারি ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই রবিবার সকালে পুলিশ কাউন্সিলরের বাড়িতে অভিযান চালায়।দীর্ঘ সাড়ে ৫ ঘণ্টার টানাপোড়েনের পর কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় কাউন্সিলরসহ মোট দুই জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

জুন ০৭, ২০২৬
কলকাতা

১৮ সাংসদ দল ছাড়তে পারেন! হঠাৎ দিল্লি উড়ে গেলেন অভিষেক, জোর জল্পনা

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা বেড়েছে। বিধানসভায় পরিষদীয় দলে বড় ভাঙনের পর এবার সংসদীয় দল নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বেশ কয়েকজন সাংসদ দল ছাড়তে পারেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ দিল্লি উড়ে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।দলীয় সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই দিল্লি গিয়েছেন অভিষেক। আগামী ৮ জুন বিজেপি-বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিষেকেরও যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁর দিল্লি যাত্রা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।ইতিমধ্যেই বিধানসভায় তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক আলাদা গোষ্ঠী গড়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবেও নতুন নাম ঘোষণা হয়েছে। এবার লোকসভাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, কয়েকজন সাংসদ একজোট হয়ে নতুন ব্লক গঠনের পরিকল্পনা করছেন। দলবদল বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনীয় সংখ্যার সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টাও চলছে বলে খবর।এই আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকের মতে, দলের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি সামাল দিতেই তাঁকে রাজধানীতে পাঠানো হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।অন্যদিকে, সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় আগামী ৮ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে সিআইডি। এর আগে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চাওয়া হলেও সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত দিনেই তাঁকে হাজিরা দিতে হবে।ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। দিল্লি সফরের নেপথ্যে কি শুধুই রাজনৈতিক কারণ, নাকি তদন্ত সংস্থার তলবও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত? এই নিয়ে জল্পনা ক্রমশই বাড়ছে। এখন নজর আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে।

জুন ০৬, ২০২৬
কলকাতা

মমতার ঘনিষ্ঠ নেতা এবার বিদ্রোহী শিবিরে! জাভেদ খানের পদক্ষেপে তোলপাড় রাজনীতি

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিলেন জাভেদ খান। রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশই তিনি কাটিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি তাঁকে দেখা গিয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠকে।গত সোমবার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা যায় জাভেদ খানকে। শুক্রবারও বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের সম্পত্তি নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাব দেন জাভেদ খান। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার অনেকটাই ভিত্তিহীন। তাঁর বক্তব্য, পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তিকে ঘিরে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সব সম্পত্তি তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে তৃণমূল ভবনের জমি নিয়ে তাঁর মন্তব্য। জাভেদ খানের দাবি, ওই জমি তাঁদের পরিবারের ছিল এবং পরে তা দান করা হয়েছিল। তবে সেই জমি ফেরত নেওয়ার কোনও ইচ্ছা তাঁদের নেই বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না।রাজনৈতিক জীবনে জাভেদ খানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় নেতা হিসেবে কাজ শুরু করেন। কলকাতা পুরসভায় একাধিকবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন। কলকাতা পুর প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন জাভেদ খান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের দায়িত্বে থেকে তিনি দীর্ঘ সময় প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই কারণেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হওয়ার ঘটনা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।বিদ্রোহী শিবিরে তাঁর উপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।

জুন ০৫, ২০২৬
রাজ্য

পুলিশ যেতেই খাটের তলায় লুকিয়ে তৃণমূল নেতা! কাটমানি মামলায় গ্রেপ্তার হতেই বিক্ষোভ

আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন মাথাভাঙার জোরপাটকি এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শহিদুল মিঞা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পলাতক ছিলেন। বুধবার বিকেলে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে খাটের তলা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযুক্তকে বাড়ি থেকে বের করার সময় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহিদুল মিঞার স্ত্রী জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। অন্যদিকে শহিদুল নিজেও মাথাভাঙা থানার সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব থাকায় তিনি নিজেকে তৃণমূল নেতা হিসেবেই পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ।গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে উপভোক্তাদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার, দশ হাজার থেকে শুরু করে কুড়ি হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর গত পঁচিশ মে এলাকাবাসীরা তাঁর গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। তারপর থেকেই তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের।কাটমানির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তাঁকে সিভিক ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। কিন্তু এতদিন তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার গোপনে নিজের বাড়িতে ফিরেছিলেন শহিদুল। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ পৌঁছনোর খবর পেয়েই তিনি বাড়ির খাটের তলায় লুকিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে বের করে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখিয়ে দাবি করেন, যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের সমস্ত টাকা দ্রুত ফেরত দিতে হবে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জুন ০৪, ২০২৬
কলকাতা

‘মমতা আমাদের পরামর্শদাতা হোন’! বিধানসভা কাঁপানো মন্তব্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের

দাবি করা একদল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় উপস্থিত হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে দেখতে চান। তাঁর কথায়, মমতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং পরামর্শ তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তিনি জানান, গঠনমূলক বিরোধী রাজনীতি করতে গেলে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পরামর্শ প্রয়োজন এবং সেই জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমান বিধানসভার কার্যক্রমের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই বলে তাঁদের মত। ঋতব্রতের দাবি, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত বহু বিধায়কের সমর্থন তাঁদের সঙ্গে রয়েছে এবং সেই কারণেই তাঁরা নিজেদের প্রকৃত পরিষদীয় প্রতিনিধিত্বকারী গোষ্ঠী বলে মনে করছেন।সাংবাদিক বৈঠকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কথা বলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তাঁরা বিধানসভার ভিতরে গঠনমূলক বিরোধিতার পথেই হাঁটবেন। কোনও বিল বা প্রস্তাবের সঙ্গে মতভেদ থাকলে তাঁরা তার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন, তবে শুধুমাত্র প্রতিবাদের জন্য সভা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথে হাঁটবেন না।ঋতব্রতের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করতে চান তাঁরা। মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সরকারের সমালোচনা যেমন করবেন, তেমনই ভালো উদ্যোগকে সমর্থনও জানাবেন।এই মন্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হিসেবে চাওয়ার বার্তা এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন রূপরেখা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজ্য

'হেভিওয়েট'-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের 'কাকা'

বর্ধমানের রাজনীতিতে একসময় যাঁর নাম উচ্চারণ করতেই বিরোধী শিবিরে চাপা উত্তেজনা তৈরি হতো, সেই খোকন দাসের বর্তমান পরিস্থিতি যেন একেবারেই ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে। তোলাবাজি, হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মঙ্গলবার বর্ধমান আদালতে তাঁকে এমন এক অবস্থায় দেখা গেল, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। জনরোষের আশঙ্কায় মাথায় হেলমেট পরে, পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আদালতে হাজির হতে হল বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে।একসময় বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় খোকন দাসের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাঁকে তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী মুখ হিসেবে ধরা হতো। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে শুরু করে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।গত ২৯ মে বর্ধমান থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো, মোটা অঙ্কের টাকা তোলা দাবি করা, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর ঘটনাতেও খোকন দাসের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি আত্মগোপন করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।তদন্তে নেমে বর্ধমান থানার পুলিশ উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে তাঁর অবস্থানের খোঁজ পায়। এরপর গত ৩১ মে সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ট্রানজিট রিমান্ডে সোমবার রাতে তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়, যাতে অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা যায়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগটি ২০২৫ সালের ৮ জুনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, বর্ধমানের কাঞ্চননগর এলাকায় একটি বাড়িতে বিজেপি কর্মীরা বৈঠক করছিলেন। সেই সময় খোকন দাসের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি সেখানে গিয়ে হামলা চালায় এবং কয়েকজন কর্মীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে পরবর্তী ঘটনাকে ঘিরে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরা চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানেও তাঁদের উপর পুনরায় হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। শুধু মারধরই নয়, ১০ লক্ষ টাকা তোলা দাবি এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভয় দেখাতে আগ্নেয়াস্ত্রও প্রদর্শন করা হয়েছিল।এই সমস্ত অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারীদের মতে, অভিযোগগুলির গুরুত্ব বিচার করে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অন্যদিকে, খোকন দাসের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে আদালতে এখনও চূড়ান্ত রায় হয়নি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান।মঙ্গলবার আদালতে তাঁকে পেশ করা ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য আদালত চত্বর ও বর্ধমান থানা এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। আদালত চত্বরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো।সব মিলিয়ে, যে নেতা একসময় এলাকায় নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন, আজ তাঁকেই জনরোষের আশঙ্কায় মাথায় হেলমেট পরে আদালতে যেতে হওয়ায় বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর সকলের।

জুন ০৩, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 66
  • 67
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজনীতি

বীরভূম জেলা পরিষদে অনাস্থায় বিপাকে, ভোটের একদিন আগে ইস্তফা কাজল শেখের

শেষ পর্যন্ত পদত্যাগই করলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়েজুল হক ওরফে কাজল শেখ। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণও করা হয়েছে। জেলা পরিষদের এক্সিকিউটিভ অফিসারকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে সভাধিপতির দায়িত্বভার বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তবে কাজল শেখের পদত্যাগের নেপথ্যে রয়েছে জেলা পরিষদে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব। বীরভূম জেলা পরিষদে মোট আসন ৫২টি। তার মধ্যে একটি আসন রয়েছে কংগ্রেসের দখলে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই কাজল শেখ সভাধিপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের হাঁসন কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তিনি।এর পরেই অবশ্য পরিস্থিতির বদল শুরু হয়। সরকার পরিবর্তনের পর জেলা পরিষদের সঙ্গে কাজল শেখের দূরত্ব বাড়ে বলে দাবি। জেলা পরিষদে তাঁর যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষমতায় থাকার সময় ঋতব্রত তৃণমূলে যোগ দিলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।গত ৪ আগস্ট কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন জেলা পরিষদের ১৯ জন সদস্য। তাঁরা বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে সেই প্রস্তাব জমা দেন। আগামী ২১ আগস্ট অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটির দিন নির্ধারিত ছিল। তার ঠিক একদিন আগেই সভাধিপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন কাজল শেখ।তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য নবগোপাল বাউরির অভিযোগ, সভাধিপতি হওয়ার পর জেলা পরিষদের অফিসকে হজ অফিসে পরিণত করেছিলেন কাজল শেখ। তাঁর দাবি, সেই কারণে অধিকাংশ সদস্য তাঁর চেম্বারে যেতেন না। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে জেলা পরিষদের কাজকর্মও কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেই পরিস্থিতিতেই বাধ্য হয়ে অনাস্থা আনা হয়েছিল বলে জানান নবগোপাল।অন্যদিকে, বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় কাজল শেখের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ভাই-ভাইপোদের টেন্ডার পাইয়ে দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দলের সদস্যরাই যখন অনাস্থা এনেছেন, তখন অভিযোগের গুরুত্ব রয়েছে। জেলা পরিষদে বিজেপির কোনও সদস্য না থাকলেও আগামী দিনে সরকারকে দিয়ে কাজল শেখের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, পরবর্তী সভাধিপতি যিনিই হন, তাঁর নেতৃত্বে দুর্নীতিমুক্ত জেলা পরিষদ গড়ার কথাও বলেছেন উদয় শঙ্কর।

আগস্ট ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

টাই-ব্রেকারে বাজিমাত সবুজ-মেরুনের, যুবভারতীতে ফাইনালে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান

ডুরান্ড কাপ ফাইনাল ফের মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। বৃহস্পতিবার শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ গোলে হারিয়ে খেতাব লড়াইয়ে জায়গা করে নিল সবুজ-মেরুন। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে। টানা বৃষ্টির জেরে মাঠের হালও ছিল বেহাল।ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। নর্থইস্টের আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যায় মোহনবাগান। তবে নির্ধারিত সময়ে গোলের মুখ খুলতে পারেনি কোনও দল। ফলে ম্যাচ গড়ায় সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে।টাইব্রেকারে মোহনবাগানের হয়ে সফলভাবে গোল করেন রাহুল ভেকে, শুভাশিস বসু, লিস্টন কোলাসো এবং জেমি ম্যাকলারেন। অন্যদিকে নর্থইস্টের দুই পেনাল্টি আটকে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। তাঁর দুর্দান্ত সেভই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের অন্যতম বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।এই জয়ের ফলে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ফের উঠল মোহনবাগান। আর ফাইনালেই অপেক্ষা করছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল। বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে এসসি দিল্লিকে পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল লাল-হলুদ। অর্থাৎ ২০২৬ ডুরান্ড কাপের ফাইনাল হতে চলেছে একেবারে কলকাতা ডার্বি। রবিবারের ম্যাচের অপেক্ষায় কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা।0টুর্নামেন্টের শুরুটাও হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ডার্বি দিয়ে। এবার ২৩ অগস্টের ফাইনালেও মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে ডুরান্ড কাপের মঞ্চে আরও একবার দেখা যাবে বহু প্রতীক্ষিত সবুজ-মেরুন বনাম লাল-হলুদের মহারণ।

আগস্ট ২০, ২০২৬
রাজ্য

হেলিকপ্টারে সবংয়ের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী, জলবন্দি মানুষের পাশে প্রশাসন

টানা বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির জেরে পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সবং, নারায়ণগড়, মোহনপুর, দাঁতন ও কেশিয়াড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে সবংয়ের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোট পাঁচটি পঞ্চায়েত এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আকাশপথে খতিয়ে দেখেন তিনি। পরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সবংয়ের ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতেরই কমবেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কেলেঘাই ও সুবর্ণরেখা নদীর জলস্তর বাড়ায় বহু গ্রামে জল ঢুকে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ জলবন্দি হয়ে রয়েছেন। বন্যায় সবংয়ে পৃথক ঘটনায় তিন বছরের এক শিশুসহ দুজনের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় মৃতদের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। রিলিফ সেন্টারে থাকা মানুষদের পাঁচ দিনের রেশন দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কেলেঘাই নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বন্যার মধ্যে সাপের কামড়ের ১০টি ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রত্যেকেই চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্য দফতরের কাজেরও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।বন্যায় প্রায় ৩,০০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার থেকেই প্রধানমন্ত্রী শস্য বিমার শিবির শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। টানা বৃষ্টিতে দুই মেদিনীপুর মিলিয়ে প্রায় ১,৬০০টি গ্রাম জলমগ্ন হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর, ময়না, ভগবানপুর ও পটাশপুরের পরিস্থিতি বিশেষভাবে খারাপ। জেলায় ৭১টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে এবং প্রায় ৪৫ হাজার ত্রিপল বিতরণ করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে NDRF, SDRF এবং প্রায় ৪০০ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী কাজ করছেন।অন্যদিকে, কেলেঘাই নদীর জলস্তর বাড়ায় ভগবানপুর ও পটাশপুরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বাঁশ ও কাঠের সেতু ভেসে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রশাসনের নজরদারি ও ত্রাণকাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে ফের রণক্ষেত্র! মুখোমুখি এসএফআই-এবিভিপি, ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা, উত্তেজনা চরমে

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের অশান্তির আঁচ এ বার ছড়িয়ে পড়ল বাইরেও। বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই এবং এবিভিপির পৃথক মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা এলাকা। দুই সংগঠনের মিছিল মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে দুদিকের মিছিল আটকে দেয়। তাতেও অবশ্য উত্তেজনা কমেনি।এইট বি-র সামনে এসএফআইয়ের জমায়েতে আটকে পড়েন রাজ্য সভাপতি দেবাঞ্জন দে এবং যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধর। অন্য দিকে, ঢাকুরিয়া সেতুর কাছে এবিভিপির মিছিলও আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সংগঠনের কয়েক জন সদস্য।এর মধ্যেই এইট বি-র কাছে সকাল থেকে জমায়েত করা এবিভিপির কয়েক জন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে পৌঁছে যান। সেখানে তাঁরা সংগঠনের পতাকা ওড়ান। বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা তার প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের জমায়েত ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।বুধবার রাত থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বাম ছাত্র সংগঠন ফেটসুর গভর্নিং বডির বৈঠককে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, অরবিন্দ ভবনে বৈঠক চলাকালীন এবিভিপির কয়েক জন সদস্য সেখানে ঢুকে হামলা চালান। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও ছাত্র সংসদ না থাকলে গভর্নিং বডির বৈঠক ডাকা হল কেন।এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়। পালটা অভিযোগ ওঠে, ফেটসুর সদস্যরা এবিভিপির সদস্যদের মারধর করেছেন। ঘটনায় কয়েক জন আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।বুধবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কর্মসূচির ডাক দেয় এসএফআই। পালটা মিছিলের ডাক দেয় এবিভিপিও। দুপুরে দুই পক্ষের জমায়েত ও মিছিল শুরু হতেই যাদবপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট, এইট বি, ঢাকুরিয়া সেতু-সহ একাধিক এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুই মিছিল যাতে সরাসরি মুখোমুখি না হয়, সে জন্য ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। কিন্তু একাধিক জায়গায় ব্যারিকেডের সামনে সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।বুধবার রাতের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার ফের দুই ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি যাতে আর না ঘোরালো হয়, সে দিকে নজর রাখছে পুলিশ।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

এসি থেকেই আগুন, তারপর বিষাক্ত ধোঁয়া! নিউ মার্কেটের হোটেলে ৯ মৃত্যুর ফরেনসিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রাথমিক ভাবে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তিনতলার রিসেপশন এলাকায় থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তার বা সংযোগস্থল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। সেই আগুনের সঙ্গে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। আর সেই ধোঁয়াতেই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় হোটেলের ৯ জন আবাসিকের।ফরেনসিক সূত্রে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র যেখানে ছিল, সেই অংশ কিছুটা ফুলে উঠেছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে একের পর এক তার ফাটতে শুরু করে। আগুনের সঙ্গে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভবনে। মুহূর্তের মধ্যে ঘর ও করিডর কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। ঘুমন্ত আবাসিকেরা শ্বাসকষ্টে পড়ে যান। অনেকেই বাইরে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি।১৯ তারিখ গভীর রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কালো ধোঁয়া। হোটেলের বিভিন্ন ঘরে আটকে পড়েন আবাসিকেরা। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে বেরোনোর চেষ্টা করলেও ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।ওই হোটেলেই ছিলেন বাংলাদেশের এক সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, শিশু সন্তান এবং বাবা। সাংবাদিকের বাবা আলাদা একটি ঘরে ছিলেন। অন্য ঘরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ছিলেন তিনি। আগুন লাগার পর পরিবারের সদস্যেরা প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে দুজনের দেহ প্যাসেজ থেকে উদ্ধার হয় বলে জানা গিয়েছে।ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ানও হোটেলের রিসেপশনের পাশের ঘরে ছিলেন। বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। তাঁর বুকেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।বুধবার সব মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ময়নাতদন্ত করা যায়নি। বৃহস্পতিবার দেহগুলির ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।এই ঘটনায় হোটেলের লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হোটেলের ম্যানেজার এবং এক কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হোটেলের পলাতক মালিকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।উল্লেখ্য, তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার ভোররাতে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইন-এ ভয়াবহ আগুন লাগে। গভীর রাতে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় আটকে পড়েন বহু আবাসিক। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েক জন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে তাঁরা ওই হোটেলে উঠেছিলেন।অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আবাসিকদের একাংশের অভিযোগ, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে আগুন লাগার পর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এখন ফরেনসিক পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্যের পর হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তদন্ত আরও জোরদার হতে পারে।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে রাতের সংঘর্ষের পরই হাই কোর্টে মামলা! আবেদন ফিরিয়ে দিল আদালত, আজ ফের রণক্ষেত্রের আশঙ্কা

ফেটসুর সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে রাতভর উত্তেজনা ছিল ক্যাম্পাসে। দুপক্ষেরই কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার দুই পক্ষই পৃথক প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হয়। বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। নতুন করে মামলা দায়ের করে আসার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।জানা গিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি মামলা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে বিচারাধীন। বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনাকে সেই মামলার সঙ্গে যুক্ত করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই আবেদন গ্রহণ না করে পৃথক মামলা করার পরামর্শ দেয়।বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ সভার বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে অশান্তির সূত্রপাত বলে অভিযোগ। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যদের দাবি, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র সংসদ নেই। তা হলে সাধারণ সভার বৈঠক ডাকা হল কীভাবে, সেই প্রশ্ন তুলেই তাঁরা প্রতিবাদ করেছিলেন।অভিযোগ, সেই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তাঁদের উপর হামলা হয়। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের দাবি, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন তাঁদের উপর চড়াও হয়েছিলেন। পাল্টা বাম ছাত্র সংগঠনগুলির তরফেও অভিযোগ রয়েছে। দুপক্ষের সংঘর্ষে রাতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।বৃহস্পতিবার সেই ঘটনার প্রতিবাদে পৃথক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দুই পক্ষই। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মী-সমর্থকেরা যাদবপুর থানার সামনে জমায়েত করছেন। গোলপার্ক থেকে মিছিল করে যাওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে, আট বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জমায়েত করছে বাম ছাত্র সংগঠন।ফলে বৃহস্পতিবার ফের দুপক্ষ মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, আট বি, গোলপার্ক-সহ সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও পক্ষের একতরফা কর্তৃত্ব তাঁরা মেনে নেবেন না। অন্যদিকে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও নিজেদের কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসেনি। ফলে রাতের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার যাদবপুরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।আদালত বুধবারের ঘটনার বিষয়ে আপাতত সরাসরি হস্তক্ষেপ না করায় এখন নজর থাকছে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতির দিকে। দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে কোনও সংঘর্ষ হয় কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

সুপ্রিম কোর্টে বিদেশযাত্রার অনুমতি, তারপরই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ! অভিষেকের মামলায় ব্যাঙ্ককে কড়া ভর্ৎসনা হাই কোর্টের

সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই নতুন সমস্যায় পড়লেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার অভিযোগ ঘিরে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হল। অনলাইনে যখন কেওয়াইসি করা সম্ভব, তখন অভিষেককে কেন সশরীরে ব্যাঙ্কে যেতে বলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে কেওয়াইসি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ফলে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।এর আগে মামলার শুনানিতে প্রশ্ন উঠেছিল, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১০৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ না করে কীভাবে কোনও ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা যায়। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চেয়েছিলেন, অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত চলছে কি না। জবাবে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছিলেন, আদালতের নির্দেশ মেনে অভিষেক তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তবে সেই তদন্তের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করা হয়।এর পরেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নোটিস দিয়েছিল আদালত। বৃহস্পতিবার ছিল সেই মামলার পরবর্তী শুনানি। এ দিন অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলের ডেবিট কার্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও নোটিস না দিয়েই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।আইনজীবী আরও জানান, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি ২০১৭ সাল থেকে রয়েছে। সম্প্রতি আচমকাই সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সুপ্রিম কোর্ট অভিষেককে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। ফলে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, কেওয়াইসি-র মতো সাধারণ প্রক্রিয়া যখন অনলাইনেই করা সম্ভব, তখন অভিষেককে কেন সশরীরে ব্যাঙ্কে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। আদালতের প্রশ্নের পরই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে কেওয়াইসি আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা নিয়েও এর আগে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে তিনি প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। শীর্ষ আদালত শর্তসাপেক্ষে তাঁকে বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়।সেই অনুমতি পাওয়ার পরেই ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ফলে বিদেশযাত্রার অনুমতির পর অভিষেকের সামনে তৈরি হওয়া এই নতুন আইনি ও আর্থিক জটিলতা এখন আদালতের নজরে। বৃহস্পতিবারের নির্দেশে আপাতত কেওয়াইসি নিয়ে সমস্যার সমাধানের পথ খুলল বলেই মনে করা হচ্ছে।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

সংঘর্ষের পর যাদবপুরে কি বদলাচ্ছে নিয়ম? পুলিশের ফাঁড়ি নিয়ে উপাচার্যের বার্তা

বুধবার থেকে ফের উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বামপন্থী ছাত্রদের সঙ্গে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে বুধবার রাত থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। অভিযোগ, সংঘর্ষে কয়েক জন ছাত্র আক্রান্ত হয়েছেন। রাতের দিকে আরও একদল বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকেছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় বামপন্থী ছাত্রদের একাংশ অরবিন্দ ভবনের ভিতরে নিজেদের আটকে রাখেন বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি যদি বারবার বিঘ্নিত হয়, তা হলে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানোর কথা ভাবতে হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এমন ব্যবস্থা যাদবপুরের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। কখনও ছাত্রদের উপর হামলার অভিযোগ, কখনও রাজনৈতিক মতবিরোধ, আবার কখনও র্যাগিংয়ের অভিযোগে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে ক্যাম্পাস। প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব উঠেছিল। সেই সময় ছাত্রদের একাংশের আপত্তির কারণে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।এর মধ্যেই বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় ফের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্ত পরিবেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশি নজরদারি কতটা প্রয়োজন, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে উপাচার্যের বক্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে নিরাপত্তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দেশের আইনশৃঙ্খলার বাইরে নয়। তাই দেশের প্রচলিত আইন ক্যাম্পাসেও কার্যকর হবে। তাঁর কথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, যাদবপুরের মুক্ত ও খোলামেলা পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষেই তাঁরা।উপাচার্য আরও জানান, আগে আদালতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য চব্বিশ ঘণ্টার পুলিশ ফাঁড়ির প্রসঙ্গ উঠেছিল। তবে যাদবপুরের নিজস্ব সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে সেই ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি ছিল। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটে, তা হলে ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানোর প্রয়োজন হতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।এদিকে বুধবারের অশান্তির ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি সুরক্ষা আইনের ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে বলে খবর। এখনও পর্যন্ত অপর পক্ষের তরফে পাল্টা অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গিয়েছে।যাদবপুরে ফের অশান্তির পর এখন মূল প্রশ্ন, পরিস্থিতি সামাল দিতে কি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানো হবে? উপাচার্যের মন্তব্যে সেই সম্ভাবনাই নতুন করে সামনে এসেছে।

আগস্ট ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal