• ১২ ভাদ্র ১৪৩৩, রবিবার ৩০ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

SA

রাজ্য

মমতার প্রকল্পে নাম লিখালেন বিজেপি নেত্রী, সামনে আসতেই তোলপাড় রাজনীতি

ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত যুব সাথী প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভাতার রাজনীতি করে ভোটে প্রভাব ফেলতে চাইছে সরকার। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই হুগলির আরামবাগ এলাকায় যুব সাথীর ফর্ম জমা দেওয়ার লাইনে দেখা গেল বিজেপি নেত্রী সুদেষ্ণা অধিকারী মোহান্তকে। শুক্রবার গোঘাট দুই নম্বর ব্লক অফিসে লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম পূরণ করতে দেখা যায় তাঁকে। তিনি জানান, ছেলের জন্য ফর্ম জমা দিচ্ছেন, তবে নথিতে গ্রাহক হিসেবে তাঁর নিজের নামই দেখা যায়। ক্যামেরার সামনে তিনি বলেন, বহু শিক্ষিত যুবক এখনও বেকার, তাঁদের তথ্য নথিভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। এই অর্থ কোনও দলের নয়, সরকারের, তাই সকলের প্রাপ্য বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকল্প চালুর জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অনেক বেকার যুবকযুবতীর চাকরির আবেদন করতে অর্থের অভাব থাকে, তাঁদের জন্য এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। গোঘাট দুই ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সৌমেন দিগার বলেন, সব স্তরের মানুষের জন্য কাজ করার ফলেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্পে বিরোধীরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। যদিও বিজেপির তরফে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ভোটের আগে এই ছবি নতুন বার্তা দিচ্ছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬
কলকাতা

বিধানসভা ভোটের আগেই বড় ঘোষণা! বাংলায় রাজ্যসভার ৫ আসনে ভোট, বদলাতে পারে সমীকরণ

বিধানসভা নির্বাচন এখনও ঘোষণা হয়নি, তবে তার আগেই বড় রাজনৈতিক ঘোষণা। Election Commission of India দেশজুড়ে রাজ্যসভার ৩৭টি আসনে ভোটের দিনক্ষণ জানিয়ে দিল। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রয়েছে ৫টি আসন।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৫ মার্চ। ৬ মার্চ মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি হবে। ৯ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। ভোটগ্রহণ হবে ১৬ মার্চ, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সেদিনই বিকেল ৫টায় গণনা হবে।বাংলা থেকে যাঁদের রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের সাকেত গোখলে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সী। এছাড়া মৌসম নুর ইস্তফা দেওয়ায় তাঁর আসনও খালি রয়েছে। বামফ্রন্টের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। ফলে মোট পাঁচটি আসনে ভোট হবে।রাজ্যসভার নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ভোট দেন না, বিধায়করা ভোট দেন। বর্তমান বিধানসভায় সংখ্যার বিচারে ৪টি আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের জয় প্রায় নিশ্চিত। একটি আসন বিজেপির দখলে যেতে পারে। সেই হিসাবে এবার বাংলা থেকে রাজ্যসভায় বামেদের কোনও প্রতিনিধি নাও থাকতে পারেন।এখন প্রশ্ন, তৃণমূল কাদের প্রার্থী করবে? বিজেপির প্রার্থী কে হবেন? তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে এই রাজ্যসভা নির্বাচন রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন নজর ১৬ মার্চের দিকে।

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
দেশ

কংগ্রেসে বড় ভাঙন! ১৫ মিনিট কথা বলেও আটকাতে পারলেন না রাহুল, ২২ ফেব্রুয়ারি বিজেপিতে ভূপেন?

অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে ধরে রাখা গেল না। কংগ্রেস নেতৃত্বের একাধিক বৈঠক, শীর্ষ নেতাদের অনুরোধ, এমনকি ফোনে প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলেন রাহুল গান্ধী। তবু শেষরক্ষা হল না। অসম কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ভূপেন বোরা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর কথায়, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাবেন ভূপেন।ভূপেন বোরা অসম কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন। তবে ভোটের এক বছর আগে তাঁকে সরিয়ে প্রদেশ সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় গৌরব গগৈ-কে। এই সিদ্ধান্তে তিনি অপমানিত বোধ করেন বলে দলীয় সূত্রের খবর। অভিযোগ, পরে তাঁর অনুগামীদেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এর জেরেই তিনি সোমবার পদত্যাগ করেন।পদত্যাগের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয় কংগ্রেস নেতৃত্ব। গৌরব গগৈ এবং দলের পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্র সিং তাঁর বাড়িতে গিয়ে কথা বলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। ফোন করেন রাহুল গান্ধীও। একই সময়ে বিরোধী শিবিরের নেতা অখিল গগৈ-ও প্রকাশ্যে জানান, কোনওভাবেই ভূপেনকে বিজেপিতে যেতে দেওয়া হবে না।এই টানাপোড়েনের মধ্যেই হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ভূপেন বিজেপিতে যোগ দিলে তাঁকে স্বাগত জানানো হবে। তাঁর দাবি, ভূপেন কংগ্রেসের শেষ জনপ্রিয় হিন্দু নেতা এবং বিজেপিতে এলে তিনি যোগ্য সম্মান পাবেন। একদিকে কংগ্রেসের অনুরোধ, অন্যদিকে বিজেপির খোলা আমন্ত্রণএই পরিস্থিতিতে দোটানায় পড়েন ভূপেন। পরে শোনা যায়, তিনি নাকি ইস্তফাপত্র প্রত্যাহার করতে পারেন।তবে মঙ্গলবার হিমন্তের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা আরও বাড়ে। বৈঠকের পরই অসমের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ২২ ফেব্রুয়ারি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন ভূপেন বোরা। তিনি আরও বলেন, বিজেপিতে অনেক নেতা আছেন যারা পারিবারিক প্রভাব নয়, নিজের যোগ্যতায় জায়গা করে নিয়েছেন। দলের সভাপতি নীতীন নবীনও নাকি ভূপেনের যোগদানে সায় দিয়েছেন বলে দাবি করেন হিমন্ত।যদিও ভূপেন বোরার তরফে এখনও সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে হিমন্তের দাবি সত্যি হলে ভোটের আগে অসম কংগ্রেস বড় ধাক্কা খেতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজ্যের রাজনীতিতে এই পালাবদল নতুন সমীকরণ তৈরি করবে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

হাই ভোলটেজ ম্যাচে ৬ স্পিনার! কৌশল না বাধ্যবাধকতা?

এক সময় বিশ্ব ক্রিকেটে পেস ফ্যাক্টরি হিসেবে পরিচিত ছিল পাকিস্তান। ইমরান খান, ওয়াসিম আক্রম, ওয়াকার ইউনুস,আকিব জাভেদ, শোয়েব আখতার থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রজন্মে মহম্মদ আমির দাপুটে পেসারদের ধারাবাহিকতায় বিশ্ব কাঁপিয়েছে তারা। কিন্তু সেই পাকিস্তানই আজকের ম্যাচে একসঙ্গে ৬ জন স্পিনার খেলানোয় বিস্মিত ক্রিকেটবিশ্ব ও বিশেষজ্ঞ মহল। আজকের ম্যাচে একসঙ্গে ছয় জন স্পিনার খেলিয়ে পাকিস্তান গড়ল অনন্য বিশ্বরেকর্ড আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচে এক দলে সর্বাধিক স্পিন বোলার বল করানোর নজির গড়ল পাকিস্তান।নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০০-এর দশক পাকিস্তানের শক্তির মূল স্তম্ভ ছিল আগ্রাসী পেস আক্রমণ। রিভার্স সুইং ছিল তাদের অস্ত্র। ব্যাটসম্যানদের আতঙ্কিত করা, শর্ট বলের চাপে ভুল করানো এটাই ছিল পাকিস্তানি ক্রিকেটের পরিচয়। তাই আজকের দলগঠনে হঠাৎ স্পিননির্ভর কৌশল অনেককেই অবাক করেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে সম্ভাব্য কারণগুলো হতে পারে১. পিচের চরিত্রযদি উইকেট শুষ্ক ও ধীরগতির হয়, তাহলে স্পিনারদের জন্য সহায়ক হতে পারে। টি-টোয়েন্টিতে মাঝের ওভারগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক স্পিনার কার্যকর হতে পারে।২. প্রতিপক্ষের ব্যাটিং কম্বিনেশনপ্রতিপক্ষ দলে যদি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেশি থাকে বা স্পিনে দুর্বলতা থাকে, তাহলে স্পিন আক্রমণ বাড়ানো হতে পারে পরিকল্পিত কৌশল।৩. পেস আক্রমণে আস্থার ঘাটতিসাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের পেস বোলিং ধারাবাহিকভাবে আগের মতো ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলতে পারছে না এমন মতও রয়েছে বিশ্লেষকদের একাংশের।বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়াঅনেকেই মনে করছেন, পাকিস্তান নিজেদের ঐতিহ্য থেকে সরে এসে অতিরিক্ত পরীক্ষানিরীক্ষায় যাচ্ছে। টি-টোয়েন্টিতে বৈচিত্র্য জরুরি হলেও ৬ জন স্পিনার কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। পাওয়ারপ্লেতে গতি না থাকলে প্রতিপক্ষ দ্রুত রান তুলতে পারে।আবার অন্য একদল বলছেন, আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী দল গঠনই আসল নামের চেয়ে কৌশল গুরুত্বপূর্ণ।পেসের দেশ পাকিস্তানের স্পিনমুখী কৌশল সময়ই বলবে সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল। তবে এতদিনের ঐতিহ্য মাথায় রাখলে আজকের দলগঠন যে ক্রিকেটবিশ্বে আলোচনার ঝড় তুলেছে, তা বলাই যায়।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ভারত-পাকিস্তান: মহারণ নয়, একতরফা বার্তা, পেস বলের দেশ -৬ জন স্পিনার!

ফেব্রুয়ারির শুরুতেই বয়কটের হুঁশিয়ারি, তারপর হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদলএই নাটকীয়তার আবহেই নামতে হয়েছিল ভারত-পাকিস্তানকে। কিন্তু মাঠে যে লড়াই দেখা গেল, তাতে মহারণ শব্দটা কেবল নামেই রয়ে গেল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি পরিসংখ্যান ৭১ থেকে বেড়ে ৮১ভারতের পক্ষে।কলম্বোর মন্থর উইকেটে টসে হেরে আগে ব্যাট করে ভারত তোলে ১৭৫/৭। জবাবে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ১১৪ রানে। শেষদিকে শাহিন আফ্রিদির ঝড়ো কয়েকটি শট না থাকলে তিন অঙ্কও হয়তো ছোঁয়া হত না। ম্যাচের প্রথম দুওভারেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, অলৌকিক কিছু না ঘটলে ফলাফল কোন দিকে যাবে।ঈশানের আগুনে ইনিংস: মন্থর পিচে আলাদা আলোকলম্বোর পিচ ধীরগতিরএই ধারণা ম্যাচের আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সেই পিচে যেভাবে ব্যাট করলেন ঈশান, তা শুধু ম্যাচ নয়, টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শুরুতেই শাহিনকে ছয় মেরে বার্তা দেন তিনিআত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি নেই।স্পিনারদের বিরুদ্ধে তাঁর পায়ের ব্যবহার, ফাঁকা জায়গা খুঁজে বাউন্ডারি বের করার দক্ষতাসব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন অন্য ট্র্যাকে খেলছেন। ভারতীয় দল দীর্ঘদিন পর এমন এক ইনিংস পেল, যা স্কোরবোর্ডে শুধু রান যোগ করেনি, মানসিক দিক থেকেও পাকিস্তানকে চাপে ফেলেছে। ঈশানের এই ইনিংস না থাকলে ১৭৫ রান নাগালের বাইরে থাকত।সূর্য-তিলকের মাপা ব্যাটিং: ঝুঁকি নয়, বুদ্ধির খেলাঈশানের আগ্রাসনের পর পরিস্থিতি বুঝে খেলেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও তিলক বর্মা। তাঁরা জানতেন, একই ছন্দে চালালে উইকেট পড়তে পারে দ্রুত। তাই বেছে নেন খুচরো রান ও স্ট্রাইক রোটেশনের পথ। তৃতীয় উইকেটে ৩৮ রানের জুটি ম্যাচের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সূর্য আবারও দায়িত্বশীল ইনিংস খেললেনঅধিনায়কের মতোই। রানের গতি খানিক কমলেও স্কোরবোর্ড কখনও থামেনি। এই মাপা ব্যাটিং শেষ পর্যন্ত বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়।শেষের ঝড়: শিবম-রিঙ্কুর কাঁধে বাড়তি ২৫-৩০ রান১৫০ পার হওয়াই যেখানে চ্যালেঞ্জ ছিল, সেখানে শেষ তিন ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শিবম দুবে ও রিঙ্কু সিংহ। শিবমের ১৭ বলে ২৭ ও রিঙ্কুর ৪ বলে ১১এই দ্রুত রানই ভারতের স্কোর ১৭৫-এ পৌঁছে দেয়। শেষ ওভারে শাহিনের হাতে বল তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য ব্যুমেরাং হয়ে যায়। অতিরিক্ত ১৫-১৬ রানই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।প্রথম চার ওভারেই ধস: সূর্যের কৌশলে কাবু পাকিস্তানপাকিস্তানের ইনিংস শুরু হতেই সূর্যের কৌশল নজর কাড়ে। স্পিনে ভরসা না করে প্রথম চার ওভার বল করান জোরে বোলারদের দিয়ে। ফল? আট বলের মধ্যে দুই উইকেট। হার্দিকের বলে ফারহানের বিদায়, তারপর বুমরাহর নিখুঁত ইয়র্কারে সাইম আয়ুবের স্টাম্প উড়ে যাওয়াপাকিস্তান চাপে পড়ে যায় শুরুতেই।সলমনের একটি ঢিলেঢালা শট ধরে নেন হার্দিক। তিন উইকেট পড়ে গেলে মন্থর পিচে ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব। পাকিস্তান আর সেই অলৌকিক প্রত্যাবর্তন দেখাতে পারেনি।স্পিন-ঝুঁকি ও সিদ্ধান্তের ফারাকপাঁচ স্পিনার নিয়ে নামা পাকিস্তান ইতিহাসে নজির গড়লটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক ইনিংসে ছজন স্পিনার ব্যবহার। কিন্তু পরিকল্পনা আর বাস্তবের ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে গেল।অন্যদিকে সূর্যের সিদ্ধান্ত ছিল পরিস্থিতি-ভিত্তিক। প্রথমে পেসে আঘাত, তারপর স্পিনে চেপে ধরাএই কৌশলই ম্যাচের রাশ টেনে নেয় ভারতের হাতে। ফিল্ডিং সেটআপেও দেখা যায় আক্রমণাত্মক মানসিকতা, যা পাকিস্তানকে আরও চাপে ফেলে।নামেই মহারণ, মাঠে একতরফাদুই দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ, বয়কটের নাটকসবকিছুর পরেও ক্রিকেটপ্রেমীরা চেয়েছিলেন সমানতালে লড়াই। কিন্তু কলম্বোয় দেখা গেল একতরফা আধিপত্য। ভারত শুধু জিতল না, কৌশল, মানসিকতা ও কার্যকারিতায় প্রতিপক্ষকে অনেক পিছনে ফেলে দিল।টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের ঐতিহাসিক আবেগ থাকলেও, এদিনের ম্যাচ প্রমাণ করলমহারণ হতে হলে দুই পক্ষের সমান প্রস্তুতি ও স্থিরতা দরকার। কলম্বোয় সেই সমতা দেখা যায়নি। ফলাফল তাই শুধু স্কোরলাইনে নয়, খেলায়ও স্পষ্ট।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
রাজ্য

১৫০০ টাকার আশায় লম্বা লাইন! যুবসাথী ক্যাম্পে ভিড়, তবু মুখে একটাই দাবি—চাকরি চাই

১ এপ্রিল চালু হবে যুবসাথী প্রকল্প। তার আগে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে ক্যাম্প। ২১-৪০ বছরের বেকার যুবক-যুবতীদের আবেদন, তবে অনেকেরই দাবিভাতা নয়, চাকরি চাই।রবিবার থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন শিবির। আগামী ১ এপ্রিল থেকে প্রকল্প চালু হবে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পে মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। তার আগে আবেদন গ্রহণের জন্য টানা এগারো দিন ধরে চলবে ক্যাম্প।কলকাতা-সহ জেলায়-জেলায় একই ছবি দেখা গেল। ক্যাম্পের সামনে লম্বা লাইন। তরুণ-তরুণীরা দাঁড়িয়ে আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন। অনেকেই উচ্চশিক্ষিত। বিএ, বিকম, বিএসসি এমনকি এমএ পড়ুয়ারাও এসেছেন ভাতার আবেদন করতে।এক তরুণী বলেন, কলকাতায় চাকরি নেই, তাঁর পড়াশোনার ক্ষেত্রেও সুযোগ খুব কম। এক যুবক জানান, ভাতা দেওয়ার বদলে যদি চাকরির সুযোগ তৈরি করা হতো, তা হলে ভালো হতো। আর এক যুবতীর কথায়, আপাতত ভাতা ঠিক আছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হল চাকরি। কেউ কেউ বলছেন, যে টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে, সেই টাকাতেই যদি চাকরি দেওয়া যায়, তাতেও রাজি।মালদহে বারোটি বিধানসভা এলাকায় ব্লকভিত্তিক ক্যাম্প বসেছে। সকাল থেকেই সেখানে আবেদনকারীদের ভিড়। এক স্নাতক স্তরের পড়ুয়া বলেন, ১৫০০ টাকায় কিছুই হয় না, তাঁর দরকার চাকরি। ইতিহাসে এমএ পড়ুয়া এক তরুণী জানান, ভাতা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট থাকতে পারেন না, বাধ্য হয়েই আবেদন করতে এসেছেন।আর এক যুবক বলেন, তিনি প্রতিদিন দুলিটার তেল ভরেন, সামান্য সাহায্য হলেও কাজে লাগবে। সাক্ষী নামে এক তরুণী জানান, চাকরি আছে কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না, তাই আপাতত ভাতার আশ্রয়।যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ যেমন রয়েছে, তেমনই শোনা যাচ্ছে ক্ষোভ ও হতাশার সুর। এখন দেখার, ১ এপ্রিল থেকে ভাতা চালু হলে কতটা স্বস্তি পান রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
দেশ

ঐতিহাসিক মুহূর্ত! জাতীয় সড়কে নামল প্রধানমন্ত্রীর বিমান

ঐতিহাসিক নজির গড়ল অসম। বিমানবন্দর নয়, জাতীয় সড়কের উপর জরুরি অবতরণ করল প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান। অসমের মোরানে এই ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফেসিলিটির পরীক্ষা করা হয়। একদিনের সফরে সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।চাবুয়া এয়ারফিল্ড থেকে উড়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর সি-১৩০জে বিমান ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের সম্প্রসারিত অংশে অবতরণ করে। বিমান থেকে নামার পর প্রায় ৪০ মিনিটের এয়ার শো হয়। আকাশে নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন করে তেজস, সুখোই ও রাফালের মতো যুদ্ধবিমান।প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে এই ধরনের অবতরণ পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা সামরিক প্রয়োজনের সময় উদ্ধারকাজে এটি বড় ভূমিকা নেবে। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোরান বাইপাসে ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশেষ অবতরণ পথ তৈরি হয়েছে।এই পথ অসামরিক ও সামরিকদুই ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে। জরুরি সময়ে এটি ডিব্রুগড় বিমানবন্দরের বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। ৪০ টন পর্যন্ত যুদ্ধবিমান এবং ৭৪ টন পর্যন্ত পরিবহণ বিমান এখানে অবতরণ করতে পারবে। এর আগে ২০২১ সালে রাজস্থানের বারমেরে প্রথম এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল।অসম সফরে প্রধানমন্ত্রী একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পেরও উদ্বোধন করবেন। ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর তৈরি একটি সেতুর উদ্বোধন করবেন তিনি, যা উত্তর গুয়াহাটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। এতে যানজট কমবে এবং যাতায়াতের সময়ও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।এছাড়া গুয়াহাটিতে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ১০০টি ইলেকট্রিক বাসেরও সূচনা করবেন তিনি। সফরের শেষে গুয়াহাটিতে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলার কথা রয়েছে তাঁর।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
বিদেশ

মোদী বিরোধী আগুনঝরা ভাষণ, তবু ভোটে হার! সারজিস আলমকে ফিরিয়ে দিল পঞ্চগড়

বাংলাদেশের নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেলেন ছাত্রনেতা সারজিস আলম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত তিনি। অতীতে ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় মন্তব্য করেছিলেন এবং সরাসরি নরেন্দ্র মোদি-র নাম করে সমালোচনা করেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র দেশত্যাগ নিয়েও কটাক্ষ করেছিলেন তিনি।পঞ্চগড়-১ আসনে জামাত জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন সারজিস। তাঁর মন্তব্য ঘিরে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি হাসিনার দেশছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে ঐতিহাসিক তুলনাও করেছিলেন। সেইসব বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলেছিল।কিন্তু ভোটের ফল অন্য কথা বলল। শেষ পর্যন্ত তিনি বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোটের বড় জয়। সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে এগিয়ে বা জয়ী হয়েছে বিএনপি জোট।ঢাকা-৩ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী গয়েশ্বরচন্দ্র রায়। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন।বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া-র পুত্র তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ দুই আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে দুদশক পর সরকার গঠনের পথে বিএনপি। তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।মূল প্রতিপক্ষ জামাত জোট ১০০-র নীচে থেমে গেছে বলে জানা গিয়েছে। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা এনসিপিও বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি।সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল জয়ের পর কি বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে? অরাজকতার অভিযোগে উত্তাল সময়ের পর পদ্মাপারের দেশে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
দেশ

সংসদে দেশবিরোধী মন্তব্য? রাহুলের পদ বাতিল চেয়ে বড় পদক্ষেপ বিজেপির

অপরাধমূলক মানহানির মামলায় আগে একবার রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ বাতিল হয়েছিল। পরে আদালতের নির্দেশে তিনি সেই পদ ফিরে পান। এবার ফের তাঁর সাংসদ পদ বাতিলের দাবি তুলল বিজেপি। বৃহস্পতিবার বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে জানিয়েছেন, তিনি লোকসভায় রাহুলের বিরুদ্ধে একটি সাবস্ট্যান্টিভ মোশন জমা দিয়েছেন।নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী সংসদে দাঁড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে দেশবিরোধী ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। তাঁর বক্তব্যে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি বিজেপি সাংসদের। দুবে বলেন, আমি লোকসভায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে প্রস্তাব জমা দিয়েছি। জর্জ সোরসের মতো দেশবিরোধী শক্তির মদতে এই সদন থেকে গোটা দেশকে বিভ্রান্ত করেছেন তিনি। সবটাই দেশের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশে। আমার দাবি, রাহুলের সাংসদ পদ বাতিল করা হোক এবং তাঁকে আজীবন নির্বাচনে লড়তে না দেওয়া হোক। তাঁর দাবি, এই প্রস্তাব নিয়ে লোকসভায় আলোচনা হওয়া উচিত।বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। প্রথমে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের অপ্রকাশিত আত্মজীবনী নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। পরে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন। লোকসভায় দাঁড়িয়ে রাহুল বলেন, আপনারা ভারতকে বিক্রি করে দিয়েছেন, আপনাদের লজ্জা হয় না? আপনারা ভারত মাতাকে বিক্রি করেছেন। আপনারা আমেরিকার কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করেছেন। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছেন। কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করেছেন।রাহুল আরও দাবি করেন, যদি ইন্ডিয়া জোট সরকার আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা করত, তাহলে তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলত ভারতকে সমান মর্যাদা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রাক্তন সেনাপ্রধান নারাভানের বইয়ের প্রসঙ্গ তুলেও তিনি সরকারকে আক্রমণ করে চলেছেন।রাহুলের এই বক্তব্যের পর থেকেই বিজেপির একাংশ ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, সংসদে দাঁড়িয়ে ভিত্তিহীন মন্তব্য করছেন বিরোধী দলনেতা। কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ মোশন আনার কথাও বলেন। তবে নিশিকান্ত দুবে সরাসরি রাহুলের সাংসদ পদ বাতিলের দাবি তুলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন।এখন দেখার, লোকসভায় এই প্রস্তাব নিয়ে আদৌ আলোচনা হয় কি না এবং এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

লোকসভায় বিস্ফোরণ! স্পিকারের ঘরে ঢুকে গালিগালাজ? কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

বাজেট অধিবেশন ঘিরে লোকসভায় শাসক ও বিরোধীদের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস সহ ইন্ডিয়া জোট লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছে। তার মাঝেই স্পিকারকে গালিগালাজ করার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেসের ২০ থেকে ২৫ জন সাংসদ একসঙ্গে স্পিকারের ঘরে ঢুকে তাঁকে গালিগালাজ করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। সংসদে দাঁড়িয়ে রিজিজু বলেন, কংগ্রেস সাংসদদের আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং তা বর্ণনা করার মতো নয়। তাঁর কথায়, স্পিকার নরম স্বভাবের মানুষ বলেই তিনি কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেননি।রিজিজু আরও অভিযোগ করেন, যখন কংগ্রেস সাংসদরা স্পিকারের ঘরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তখন সেখানে মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর মতো সিনিয়র নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁরা পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে উল্টে আরও উসকানি দিচ্ছিলেন। বিজেপির অভিযোগ, সংসদের মর্যাদা নষ্ট করা হয়েছে।অন্যদিকে, কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়তে চলেছে, তা স্পষ্ট।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
দেশ

কৃষি চুক্তির আড়ালে বড় বিপদ? লোকসভায় সতর্কবার্তা অভিষেকের

মঙ্গলবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেটের কড়া সমালোচনা করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই বাজেটে সাধারণ মানুষ থেকে কৃষক কেউই স্বস্তি পাননি। বরং প্রত্যেকেই আরও বেশি বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি আমেরিকা ও ভারতের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন।অভিষেক বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভারতের কৃষকরা। তাঁর দাবি, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির পর ভারতীয় কৃষকরা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি মার্কিন কৃষি সচিবের একটি মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন।অভিষেক জানান, বাণিজ্য চুক্তির পর মার্কিন কৃষি সচিব ব্রুক রলিনস এক্স মাধ্যমে একটি বার্তা দেন। সেখানে তিনি লেখেন, এই চুক্তির ফলে আমেরিকার কৃষকরা আরও বেশি পণ্য ভারতে রফতানি করতে পারবেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এর ফলে আমেরিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও বেশি অর্থ ঢুকবে এবং ভারতের সঙ্গে কৃষি-বাণিজ্যের ঘাটতি কমবে।এই মন্তব্যের পরেও ভারত সরকার কেন কোনও প্রতিক্রিয়া জানাল না, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ভারতে প্রতিদিন কৃষকদের মৃত্যু হচ্ছে। একের পর এক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও সুরাহা হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, আমেরিকার সঙ্গে এই চুক্তিতে লাভবান হচ্ছেন সে দেশের কৃষকরা, আর ভারতীয় কৃষকরা আরও দুর্বল হয়ে পড়ছেন।অভিষেকের প্রশ্ন, মার্কিন কৃষি সচিব প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করার পরেও ভারত সরকার কেন সেই বক্তব্য খারিজ করল না? কেন কোনও জবাব দেওয়া হল না? সংসদে এই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের নীরবতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
দেশ

৮৫ মিনিটের বাজেটে একবারও বাংলার নাম নয়! সংসদে বিস্ফোরক অভিষেক

লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ৮৫ মিনিটের বাজেট বক্তৃতায় একবারও বাংলার নাম উচ্চারণ করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, এত দীর্ঘ বক্তব্যেও রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার ছবিটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।অভিষেকের দাবি, কেন্দ্র যে ফ্রেট করিডরের কথা বাজেটে ঘোষণা করেছে, সেই প্রস্তাব অনেক আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবুও বাংলাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই সরকার সমতায় নয়, পক্ষপাতেই বিশ্বাস করে।এদিন অভিষেক বলেন, অর্থমন্ত্রী দাবি করছেন দেশের অর্থনীতি দ্রুত এগোচ্ছে। অথচ বাংলা বছরে প্রায় ৬.৫ লক্ষ কোটি টাকা কর দেওয়ার পরেও কেন্দ্রীয় বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত। মনরেগায় নতুন কাজ বন্ধ, গ্রামীণ সড়ক যোজনা থেকে জল জীবন মিশন সব ক্ষেত্রেই বাংলাকে টাকা দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পানীয় জলের মতো মৌলিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও রাজ্যকে দরাদরি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এরপর অভিষেক ট্রিপল ট্যাক্স ট্র্যাপ-এর কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ মনে করেন তাঁরা একবার কর দিচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে তিনবার কর দিতে হচ্ছে। প্রথমে বেতন থেকে আয়কর কাটা হয়। দ্বিতীয়ত জিএসটি বিস্কুট, স্কুলের খাতা, হাসপাতালের বিল, এমনকি সাবানেও কর দিতে হয়। তৃতীয় কর হল মূল্যবৃদ্ধি, যা অনুমতি ছাড়াই বাড়ে। অভিষেকের কথায়, এটিই হল নীরব কর।মধ্যবিত্তদের অবস্থার কথাও তুলে ধরেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, মাসের মাঝপথেই অনেকের বেতন শেষ হয়ে যায়। একটি গাড়ি কিনলেও তিনবার কর দিতে হয় আয়কর, রোড ট্যাক্স এবং টোল ট্যাক্স।এসআইআর থেকে শুরু করে বাংলা ভাষা ইস্যুতেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, জয় বাংলা বলা বা সোনার বাংলা গান গাইলেই অনুপ্রবেশকারী তকমা দেওয়া হচ্ছে। সেনাকর্মী, নোবেলজয়ী কিংবা হাইকোর্টের বিচারপতিকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বাংলায় প্রায় ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক কোটি মানুষকে সন্দেহভাজন তালিকায় রাখা হয়েছে।সবশেষে অভিষেক বলেন, কেন্দ্র যদি তহবিল বন্ধ করতে চায়, তা করতেই পারে। কিন্তু বাংলার মেরুদণ্ড কখনও ভাঙবে না। সব কিছু কেড়ে নেওয়া গেলেও মানুষের স্মৃতি মুছে ফেলা যায় না। মানুষ জেগে উঠলে শেষ কথা বাংলাই বলবে।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
কলকাতা

আগস্ট নয়, এপ্রিল থেকেই ১৫০০ টাকা! যুবসাথীতে বড় চমক মমতার

আগস্টের অপেক্ষা আর নয়। এপ্রিল থেকেই চালু হচ্ছে যুবসাথী প্রকল্প। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, আগামী এপ্রিল মাস থেকেই রাজ্যের বেকার যুবক ও যুবতীরা প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে পাবেন।কয়েক দিন আগে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের সময় শিক্ষিত বেকারদের জন্য যুবসাথী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন জানানো হয়েছিল, অগস্ট মাস থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। কিন্তু এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই প্রকল্পটি কার্যকর করা হচ্ছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক ও যুবতীরা, যাঁরা মাধ্যমিক পাশ করার পর এখনও বেকার। কেউ যদি স্কলারশিপ পেয়ে থাকেন, তাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে কোনও বাধা নেই। তবে স্কলারশিপ ছাড়া রাজ্য সরকারের অন্য কোনও জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা যদি কেউ নিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে যুবসাথীর টাকা মিলবে না।প্রাথমিকভাবে টানা পাঁচ বছর প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাঁচ বছর পরেও কেউ যদি বেকার থাকেন, সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, দুয়ারে সরকার কর্মসূচির আদলে বিধানসভা ভিত্তিক ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। ১৫ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত এই ক্যাম্প চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে সরকারি আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে সেখানেই আবেদন করা যাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে আবেদনপত্রের রসিদও দেওয়া হবে।যুবসাথী প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য জানিয়ে শীঘ্রই সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
দেশ

আরএসএস প্রধানের টেবিলে আদনান শামি, ‘দেশদ্রোহিতা’ তকমা দিল কংগ্রেস

জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ও সুরকার আদনান শামির সঙ্গে নৈশভোজ করেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে আরএসএস। পাকিস্তানি বায়ুসেনার প্রাক্তন আধিকারিকের পুত্র আদনানের সঙ্গে ভাগবতের নৈশভোজকে দেশবিরোধী বলে কটাক্ষ করেছে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস। এই ঘটনাকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।আরএসএস-এর শতবর্ষ উপলক্ষে মুম্বইয়ে দুদিনের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে বলিউডের একাধিক শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আদনান শামিও। তাঁর সঙ্গে মোহন ভাগবতের নৈশভোজের ছবি সামনে আসতেই কংগ্রেসের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডেল থেকে লেখা হয়, আদনান শামির বাবা আরশাদ শামি খান ছিলেন পাকিস্তানি বায়ুসেনার পাইলট। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে তিনি পাঠানকোটের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিলেন। সেই ব্যক্তির ছেলের সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাওয়াদাওয়া করা আরএসএস-এর পক্ষ থেকে দেশদ্রোহিতার সামিল বলে দাবি কংগ্রেসের।তবে এই মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ আরএসএস এবং পদ্মশ্রী প্রাপক আদনান শামি। সোশাল মিডিয়ায় ভাগবতের সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, তাঁর সঙ্গে একটি চমৎকার দিন কাটিয়েছেন। দীর্ঘ আলোচনায় ভাগবত তাঁর অনেক ভুল ধারণা দূর করে দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন শামি। তিনি ভাগবতকে অত্যন্ত ভদ্র ও ব্যক্তিত্ববান মানুষ বলেও প্রশংসা করেন।ওই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন ভাগবত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১.২৫ কোটি হিন্দু বাস করেন। তাঁরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করেন, তবে বিশ্বের সব হিন্দু তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন এবং সাহায্য করবেন।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

সূর্যের আলোয় জয়, কিন্তু ভারতের ব্যাটিংয়ের ছায়া প্রকট বিশ্বকাপ শুরুতেই

ওয়াংখেড়েতে প্রত্যাশিত অঘটন ঘটেনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আমেরিকাকে হারিয়েই অভিযান শুরু করল ভারত। তবে ২৯ রানের এই জয়ের আড়ালে লুকিয়ে রইল একাধিক প্রশ্নচিহ্নবিশেষ করে ভারতের ব্যাটিং নিয়ে।টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ১৬১ রান। নামের ভারে শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের থেকে যা অনেকটাই কম। সূর্যকুমার যাদব ছাড়া কার্যত ব্যর্থ সবাই। একাই লড়াই করে ৪৯ বলে অপরাজিত ৮৪ রান করেন ভারত অধিনায়ক। তাঁর ইনিংস না থাকলে ভারতের পরিস্থিতি যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা সহজেই অনুমেয়।ম্যাচের শুরু থেকেই অস্বস্তিতে পড়ে ভারত। দ্বিতীয় ওভারেই শূন্য রানে ফেরেন অভিষেক শর্মা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম বলেই আউট হওয়ার প্রবণতা আবারও চোখে পড়ল। ঈশান কিশন ও তিলক বর্মা কিছুটা আশার আলো দেখালেও এই মন্থর পিচে দৌড়ে রান নেওয়ার বদলে বড় শটের উপর নির্ভর করাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। শ্যাডলে ফান শকউইকের দুরন্ত স্পেলে মুহূর্তে ভেঙে পড়ে ভারতের ইনিংস। ৪৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল।পাওয়ার প্লে-র পর সূর্য ও রিঙ্কু সিংহ জুটি বাঁধার চেষ্টা করলেও রান তোলার গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। এক সময় টানা ২৭ বল কোনও বাউন্ডারি আসেনি। রিঙ্কু, হার্দিককেউই তাল কাটাতে পারেননি। ৭৭ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ওয়াংখেড়ে কার্যত স্তব্ধ।সেই কঠিন মুহূর্তেই দায়িত্ব নেন সূর্যকুমার যাদব। পিচ বুঝে, ঝুঁকি কমিয়ে, দৌড়ে রান আর সঠিক সময়ে বড় শটএই মিশ্রণেই ইনিংস সাজান তিনি। স্কোয়্যার অঞ্চলে শট, সুইপ, উইকেটের চারদিকে খেলেই প্রমাণ করেন কেন তাঁকে ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটার বলা হয়। অক্ষর পটেলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৪১ রানের জুটি গড়ে তোলেন তিনি। শেষ পাঁচ ওভারে ভারত তোলে ৬৯ রান।আমেরিকার বোলিংয়ে শকউইক নজর কাড়েন ৪ উইকেটে। তবে সৌরভ নেত্রভলকর ভুলে যাওয়ার মতো দিন কাটান৪ ওভারে ৬৫ রান, উইকেটশূন্য।১৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আমেরিকাও এই পিচে যে সমস্যায় পড়বে, তা শুরুতেই বোঝা যায়। সিরাজ ও অর্শদীপের আগ্রাসী বোলিংয়ে ১৩ রানেই ৩ উইকেট হারায় তারা। মাঝখানে মিলিন্দ কুমার ও সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তির জুটি কিছুটা লড়াইয়ের রসদ জোগালেও প্রয়োজনীয় রানরেটের চাপ সামলাতে পারেনি আমেরিকা।শেষ দিকে বড় শট মারার চেষ্টা করতে গিয়ে দ্রুত উইকেট হারায় তারা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩২ রানেই থামে আমেরিকার ইনিংস। সিরাজ নেন ৩টি উইকেট, অক্ষর ২টি, বরুণ ও অর্শদীপ পান ১টি করে।ম্যাচ জিতলেও ভারতের শিবিরে স্বস্তির হাসি নেই। ডাগআউটে গম্ভীর মুখে বসে থাকা গৌতম গম্ভীরই যেন তার ইঙ্গিত। জলপানের বিরতিতে মাঠে নেমে পরামর্শ দিলেও, ব্যাটিংয়ের এই ছবি নিশ্চয়ই কোচিং স্টাফকে ভাবাচ্ছে।বিশ্বকাপ শুরু হল জয়ে, কিন্তু ভারতের সামনে বার্তাটা স্পষ্টশুধু সূর্যের উপর ভর করে অনেক দূর যাওয়া যাবে না।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬
দেশ

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূলকে তুলোধোনা, রাজ্যসভায় বিস্ফোরক মোদী

রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর রাজ্যসভায় জবাবি ভাষণ দিতে উঠে উত্তাল পরিস্থিতির মুখে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভাষণ শুরু হতেই বিরোধী সাংসদদের তুমুল স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে রাজ্যসভা। তবে সেই অবস্থার মধ্যেই নিজের বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। স্লোগান তোলাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে খোঁচা দিয়ে মোদী বলেন, বয়সের কথা মনে রেখে তিনি যেন বসে থেকেই স্লোগান দেন।প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই একাধিক বিরোধী সাংসদ রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করেন। সেই বিষয়টিকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মোদী। তিনি বলেন, কিছু মানুষ এত তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, কিন্তু তাঁদেরও একদিন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। একই সঙ্গে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী।মোদীর বক্তব্যে উঠে আসে কংগ্রেস আমলের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, লালকেল্লা থেকে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রীদের দেওয়া ভাষণগুলি বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যাবে যে তাঁদের কোনও দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা ছিল না। সেই কারণেই দেশ বহু বছর পিছিয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। মোদীর দাবি, কংগ্রেসের ভুল সংশোধন করতেই বর্তমান সরকারকে অনেক শক্তি ব্যয় করতে হয়েছে। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার ভবিষ্যতের কথা ভেবেই নীতি তৈরি করেছে এবং আজ দেশ নীতির ভিত্তিতেই চলছে।জবাবি ভাষণের সময় বাংলার প্রসঙ্গও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে নির্মম সরকার বলে কটাক্ষ করেন তিনি। রাজ্যসভায় উপস্থিত তৃণমূল সাংসদদের উদ্দেশে মোদীর মন্তব্য, নির্মমতার যত রেকর্ড ছিল, সবকিছুই তারা ভেঙে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বাংলার মানুষের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, অথচ ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সেই নির্মমতাকেই প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদীর বক্তব্য, সারা পৃথিবীর দেশ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। অথচ তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে আদালতে যাচ্ছে এবং আদালতের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাঁর দাবি, এই অনুপ্রবেশকারীরাই যুব সমাজের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে এবং আদিবাসীদের জমি দখল করছে। অথচ এসব বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে তৃণমূল সরকার কেন্দ্রকে উপদেশ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬
কলকাতা

লক্ষ্মীর ভান্ডার বাড়ল, যুবদের মাসে ১৫০০ টাকা—বাজেটে একের পর এক চমক মমতার

৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করলেন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই বাজেটে একের পর এক জনমুখী ঘোষণা করে কার্যত কল্পতরুর মতোই ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলাদের জন্য একাধিক প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যের যুব সমাজের জন্যও বড় ঘোষণা করা হয়েছে।এই বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে বড়সড় সুখবর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা মাসে ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। ফলে যাঁরা এতদিন মাসে ১ হাজার টাকা করে পেতেন, তাঁরা এবার থেকে পাবেন ১ হাজার ৫০০ টাকা। আর তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিভুক্ত মহিলারা পাবেন মাসে ১ হাজার ৭০০ টাকা করে। কন্যাশ্রী প্রকল্পও আগের মতোই চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।এবার রাজ্যের বেকার যুবদের পাশে দাঁড়াতে নতুন যুব-সাথী প্রকল্প চালুর কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং কাজ না পাওয়া যুবদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া। আগামী ১৫ অগস্ট, স্বাধীনতা দিবস থেকেই এই নতুন প্রকল্প চালু হবে বলে জানানো হয়েছে।জানা গিয়েছে, মাধ্যমিক পাশ করা যুবক-যুবতীরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। যাঁরা এখনও কোনও চাকরি পাননি, তাঁদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেবে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুব-সাথী প্রকল্পে টানা পাঁচ বছর ধরে এই টাকা দেওয়া হবে এবং প্রায় ৩০ লক্ষ যুবক-যুবতী এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন।এছাড়াও এবারের বাজেটে আশা কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। তাঁদের মাসিক ভাতা ১ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই অন্তর্বর্তী বাজেটে মহিলা, যুব সমাজ এবং প্রান্তিক মানুষের জন্য একাধিক আর্থিক সুবিধার ঘোষণা করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬
কলকাতা

ভুল নাকি অপরাধ? গোমাংস কাণ্ডে অলি পাবের ক্ষমা চাওয়ায় প্রশ্ন

সায়ক চক্রবর্তীর গোমাংস বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলল পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ অলি পাব। পাঁঠার মাংসের বদলে গোমাংস পরিবেশনের অভিযোগে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার দায়ে গত চব্বিশ ঘণ্টায় তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে এই ঐতিহ্যবাহী পাব। রবিবার সোশাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি জারি করে রেস্তরাঁর তরফে জানানো হয়েছে, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। এই ঘটনার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।অলি পাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩০ জানুয়ারি রাতে রেস্তরাঁর এক কর্মী ভুলবশত একটি গুরুতর ভুল করে ফেলেন। কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। ওই কর্মীর ভুলের জন্য রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চেয়েছে এবং জানিয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্রেতার ভাবাবেগে আঘাত লাগায় তারা গভীরভাবে দুঃখিত।এদিকে সায়ক চক্রবর্তীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার পুলিশ অলি পাবের বেয়ারা শেখ নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেপ্তারি ঘিরে শহরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একাংশ ওই কর্মীর পাশে দাঁড়ান, আবার অনেকে সেলেব ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে রেস্তরাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ তোলেন। সোশাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠতে থাকে, ভুল খাবার পরিবেশন করা কি অপরাধ, না কি কর্মীর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে বিষয়টিকে অন্য খাতে বইয়ে দেওয়া হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে অলি পাবের তরফে জানানো হয়, জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতেই রেস্তরাঁটি পরিচালিত হয়। আট দশকের ঐতিহ্য নিয়ে তারা গর্বিত বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রেস্তরাঁর সমস্ত কর্মী ও সহযোগীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বার্তাও দেওয়া হয়।এর মাঝেই গুজব ছড়ায় যে এই ঘটনার জেরে অলি পাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই খবরে বহু নিয়মিত অতিথির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে রবিবারের বিবৃতিতে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, অলি পাব বন্ধ হচ্ছে না। বরং এই কঠিন সময়ে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগের মতোই পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এদিকে শুক্রবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে পরপর ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন সায়ক চক্রবর্তী। যদিও বর্তমানে সেই পোস্টগুলি আর পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, সেদিন রাতে সায়ক তাঁর দুই বন্ধু অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডুর সঙ্গে অলি পাব যান। তাঁরা মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন। খাবার পরিবেশনের পর প্রথমে খিদের চোটে বিষয়টি বুঝতে পারেননি তাঁরা। পরে টেবিলে আরও একটি স্টেক আসতেই সন্দেহ হয়।সায়কের দাবি, তাঁরা একটি মাত্র স্টেক অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু বেয়ারা জানান, দুটি স্টেক অর্ডার করা হয়েছেএকটি মাটন এবং একটি বিফ। তখনই সায়ক প্রতিবাদ করেন। তাঁর কথায়, অজান্তে গরুর মাংস খাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। বচসার মধ্যেই বেয়ারা স্বীকার করেন যে তিনি ভুল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে রেস্তরাঁর মধ্যেই উত্তেজনা ছড়ায়। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সায়ক। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার ওই বেয়ারাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

গোমাংস বিতর্কে ইউটার্ন! বেয়ারার বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহার সায়কের

রবিবার সোশাল মিডিয়ায় বিবৃতি জারি করে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ অলি পাব। তাদের বক্তব্যে জানানো হয়েছে, কোনও ক্রেতার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। এই ক্ষমা প্রার্থনার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তরাঁ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেন অভিনেতা ও ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী।অলি পাবের বিবৃতি প্রকাশের পরই সায়ক সোশাল মিডিয়ায় জানান, তিনি জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেন। তাঁর কথায়, তিনি জনগণের উপর নির্ভরশীল এবং মানুষ যা বলবেন, সেটাই তিনি মেনে নেবেন। সেই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি চাপের মুখেই নিজের অবস্থান বদল করলেন অভিনেতা।গত ২৪ ঘণ্টায় গোমাংস বিতর্ক ঘিরে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয় সোশাল মিডিয়ায়। ঘটনার সূত্রপাত একটি ভ্লগকে কেন্দ্র করে। সেই ভ্লগে রেস্তরাঁর এক বেয়ারার ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েন সায়ক। পরে অলি পাব এবং ওই কর্মীর বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে গ্রেপ্তার হন রেস্তরাঁর কর্মী শেখ নাসির উদ্দিন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। আদালতে তোলা হলেও শনিবার তিনি জামিন পাননি বলে খবর।এদিকে শনিবার রাতেই সায়কের বিরুদ্ধেও পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাট্যব্যক্তিত্ব জয়রাজ ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ ছিল, সায়কের বক্তব্য থেকে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠার মধ্যেই রবিবার অলি পাব প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়। তার পরই সায়ক নিজে থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।সায়ক চক্রবর্তী তাঁর পোস্টে লেখেন, অলি পাব শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চেয়েছে, তাই নতুন করে কোনও গল্প বানানোর প্রয়োজন নেই। তিনি স্বীকার করেন, রাগের মাথায় থানায় গিয়েছিলেন এবং সেই সময় তাঁর মাথা ঠিক ছিল না। তিনি জানান, তিনি কোনওদিন গোমাংস খাননি এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন। অলি পাব ও সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তিনি প্রত্যাহার করছেন বলেও স্পষ্ট করে দেন।অভিনেতা আরও লেখেন, রেস্তরাঁর ভুল নিয়ে তাঁর সমস্যা ছিল, কিন্তু তাঁর প্রতিক্রিয়াও হয়তো ভুল ছিল। সে জন্য তিনি দুঃখিত। ভবিষ্যতে ভ্লগ বা ইনস্টাগ্রাম কনটেন্ট বানাতে গিয়ে এই ধরনের বিতর্কে জড়াতে চান না বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর হিন্দু-মুসলিম কোনও সমস্যা নেই। তিনি কেবল নিজের কিছু ব্যক্তিগত আচার মেনে চলতে চান। তাঁর কনটেন্ট আগেও মানুষের মধ্যে ঐক্যের কথা বলেছে, ভবিষ্যতেও বলবে। পুরো ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আবারও দুঃখপ্রকাশ করেন সায়ক।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ঈশান কোনে মেঘ দেখছেন সঞ্জু! তিরুঅনন্তপুরমে কিউয়িদের উড়িয়ে ৪-১ সিরিজ় জয় ভারতের

বিশ্বকাপের আগে বোলার ও ফিল্ডিংয়ের বাস্তব পরীক্ষা নিতে টস জিতে আগে বোলিং বেছে নিয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শিশির বাড়লে অর্শদীপ সিংহ, বরুণ চক্রবর্তীরা রান সামলাতে পারেন কি না, সেটাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু পরিকল্পনার মাঝেই দৃশ্যপট বদলে দিলেন ঈশান কিশন। ব্যাট হাতে ঝড় তুলে তিরুঅনন্তপুরমে নিউ জ়িল্যান্ডকে ৪৬ রানে হারিয়ে ৪-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ় জিতে নিল ভারত।ভারত তোলে ৫ উইকেটে ২৭১ রানটি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। জবাবে কিউয়িদের ইনিংস থামে ১৯.৪ ওভারে ২২৫ রানে। ম্যাচে দুদল মিলিয়ে ওঠে ৪৯৬ রান ও ৩৬টি ছক্কাটি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে যা নতুন নজিরের শামিল।দুবছরের বেশি সময় পর জাতীয় দলে ফেরা ঈশান কিশন যেন প্রমাণ করতেই নেমেছিলেন। তিন নম্বরে নেমে ৪৩ বলে নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক শতরান পূর্ণ করেন তিনি। ৬টি চার ও ১০টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে কিউয়ি বোলারদের কার্যত ছেলেখেলা বানান ঈশান। তাঁকে দুর্দান্ত সঙ্গ দেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ৩০ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা মারেন সূর্য। তৃতীয় উইকেটে দুজনে ৫৭ বলে ১৩৭ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন।এর পর পাঁচ নম্বরে নেমে হার্দিক পাণ্ড্য করেন ১৭ বলে ৪২। শেষ দিকে রিঙ্কু সিংহ ও শিবম দুবে নামেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা সারতে। কিউয়ি বোলারদের মধ্যে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন লকি ফার্গুসন (৪১ রানে ২ উইকেট), বাকিরা ভারতীয় ব্যাটিং তাণ্ডবের সামনে অসহায় দেখিয়েছেন।লক্ষ্য তাড়ায় নিউ জ়িল্যান্ডের শুরুটা নড়বড়ে হলেও ফিন অ্যালেন (৩৮ বলে ৮০) এবং রাচিন রবীন্দ্র (১৭ বলে ৩০) লড়াই জিইয়ে রাখেন। অ্যালেন আউট হওয়ার পরই ভেঙে পড়ে কিউয়িদের ইনিংস। মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট তুলে ম্যাচ ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেন অর্শদীপ ও অক্ষর পটেল।চাপের মুখে ড্যারেল মিচেল চেষ্টা করলেও একা কিছু করার ছিল না। শেষ পর্যন্ত ভারতের বোলারদের মধ্যে উজ্জ্বলতম পারফরম্যান্স অর্শদীপের৫১ রানে ৫ উইকেট। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে এটাই তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেট। অক্ষর নেন ৩৩ রানে ৩ উইকেট। হার্দিক কার্যকর হলেও বুমরাহ ও বরুণ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হন, যা বিশ্বকাপের আগে ভাবনার জায়গা রেখে গেল।সব মিলিয়ে, ঈশানের শতরান আর অর্শদীপের পাঁচ উইকেটদুটোই একসঙ্গে এনে দিল ভারতের বড় জয় এবং আত্মবিশ্বাসী সিরিজ় সমাপ্তি।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 80
  • 81
  • ›

ট্রেন্ডিং

সম্পাদকীয়

বিদ্রোহের আগুন থেকে সাম্যের গান—নজরুলের যে জীবন আজও আমাদের বিস্মিত করে

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা চিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে। চিনি সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, মানবতার কবি হিসেবে। তাঁর কবিতা আবৃত্তি হয়েছে মঞ্চে, তাঁর গান বেজেছে ঘরে ঘরে, তাঁর বিদ্রোহের বার্তা উচ্চারিত হয়েছে দশকের পর দশক। কিন্তু নজরুলকে যতটা আমরা জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি অজানা রয়ে গিয়েছে তাঁর বিস্ময়কর জীবনের নানা অধ্যায়।নজরুলের জীবন যেন এক চলমান উপন্যাসযেখানে একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে বিদ্রোহ; একদিকে সৈনিকের পোশাক, অন্যদিকে কবির কলম; একদিকে ইসলামী সংগীত ও গজল, অন্যদিকে শ্যামা সংগীত ও ভজন; একদিকে রাজনৈতিক সংগ্রাম, অন্যদিকে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দা। তিনি কোনও একটি পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে বন্দি রাখেননি। বরং তাঁর জীবনই হয়ে উঠেছিল বহুত্বের এক অসাধারণ উদাহরণ।লেটো দলের মঞ্চ থেকেই শুরুকৈশোরেই দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন নজরুল। সংসারের অভাব তাঁকে স্কুলের গণ্ডি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। তিনি যুক্ত হন বাংলার লোকনাট্যের জনপ্রিয় ধারা লেটো দলে। সেখানে শুধু অভিনয়ই করেননিগান লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, নাটকের সংলাপ ও পালা রচনা করেছেন, সুর দিয়েছেন, সেই গান গেয়েছেন।এই লেটো-পর্বকে নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণক্ষেত্র বলা যায়। লোকভাষা, ছন্দ, সুর, নাটকীয়তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণাসবকিছুর সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটে এই সময়েই। পরবর্তী নজরুল-কাব্যে যে সহজ অথচ তীব্র ভাষা, তার শিকড় অনেকটাই এই লোকজ অভিজ্ঞতায়।সৈনিক নজরুল: যুদ্ধের ময়দান থেকে কবিতার পৃথিবী১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪৯তম বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন নজরুল। করাচিতে তাঁর দীর্ঘ সেনাজীবন কাটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্বের এই অভিজ্ঞতা তাঁর মানসজগতে গভীর ছাপ ফেলে।সেনাবাহিনীতে থাকাকালীনই তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করেন। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বসে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, গল্প-কবিতা লেখাসবই চলত। যুদ্ধ তাঁকে শুধু অস্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করায়নি; মানুষের জীবন, মৃত্যু, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বাস্তবতাকেও নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছিল।পরবর্তীকালে তাঁর লেখায় যে যুদ্ধবিরোধী মানবিকতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়, তার পেছনে এই অভিজ্ঞতার ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।বিদ্রোহীএক কবিতার বিস্ফোরণ১৯২১ সালের শেষদিকে রচিত বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর বাংলা সাহিত্যে যেন এক ভূমিকম্প ঘটে। এতদিনের কাব্যভাষার বাইরে দাঁড়িয়ে এক তরুণ কবি ঘোষণা করলেন নিজের অদম্য আত্মপরিচয়।কিন্তু বিদ্রোহী কেবল রাজনৈতিক বিদ্রোহের কবিতা নয়। এখানে আছে পুরাণ, ইসলামি ঐতিহ্য, হিন্দু দেবদেবী, প্রকৃতি, প্রেম, ধ্বংস ও সৃষ্টির এক বিস্ময়কর মিশ্রণ। নজরুল যেন বলতে চেয়েছিলেনমানুষকে কোনও একটি ধর্ম, জাতি বা পরিচয়ের খাঁচায় আটকে রাখা যায় না।ধূমকেতু: কলম যখন অস্ত্রনজরুলের সাংবাদিক সত্তাটিও কম বিস্ময়কর নয়। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু। পত্রিকাটির নামের মধ্যেই যেন ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত।ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর লেখাগুলি দ্রুতই প্রশাসনের নজরে আসে। আনন্দময়ীর আগমনে কবিতাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাঁকে কারাবন্দি করা হয়।কারাগারেও তিনি নীরব থাকেননি। বন্দিদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক নিপীড়নের প্রতিবাদে তিনি অনশন করেন। দীর্ঘ অনশনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বার্তাও পাঠিয়েছিলেন।এই ঘটনা প্রমাণ করে, নজরুলের কাছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান ছিল নাএটি ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাস।খিলাফত প্রশ্নে নজরুলের অবস্থাননজরুলের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর খিলাফত আন্দোলন সম্পর্কে অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও গভীর হতে পারেএই আশঙ্কা তাঁর চিন্তায় প্রতিফলিত হয়েছিল।নজরুলের মূল অবস্থান ছিল মানুষের মুক্তি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের বদলে তিনি চেয়েছিলেন শ্রমজীবী, কৃষক, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের ঐক্য।তাই তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে বারবার ফিরে এসেছে মানুষহিন্দু বা মুসলমান নয়, প্রথমত মানুষ।লেবার স্বরাজ পার্টি: কবির রাজনৈতিক সংগঠন১৯২৫ সালে নজরুল শ্রমিক-কৃষকের অধিকারের প্রশ্নে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা নেন। হেমন্তকুমার সরকার ও অন্যান্য বামপন্থী নেতাদের সঙ্গে তিনি লেবার স্বরাজ পার্টি অব দ্য ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।এই সংগঠনের ভাবনায় ছিল শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।নজরুলের রাজনৈতিক লেখায় যে শ্রেণি সচেতনতা দেখা যায়, তার সঙ্গে এই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের গভীর সম্পর্ক ছিল।নির্বাচনের ময়দানেও নজরুলশুধু কবিতা বা বক্তৃতার মধ্যেই তাঁর রাজনীতি সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯২৬ সালে তিনি আইনসভার নির্বাচনে প্রার্থীও হন। অর্থবল ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে তিনি পিছিয়ে ছিলেন। ফলে নির্বাচনী রাজনীতিতে সফলতা আসেনি।কিন্তু এই পর্বটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, নজরুল নিজেকে কেবল সাহিত্যিক হিসেবে দেখেননি। সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেও তিনি অংশ নিতে চেয়েছিলেন।হিন্দু-মুসলমানের মিলনের এক বিরল শিল্পীনজরুলের সৃষ্টির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলির একটি তাঁর ধর্মীয় বহুত্ববাদ।তিনি লিখেছেন ইসলামী গান, হামদ, নাত, গজল। আবার লিখেছেন শ্যামাসংগীত, ভজন, কীর্তন ও হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে অসংখ্য গান।মা, শ্যামা, কালী, কৃষ্ণ যেমন তাঁর গানে এসেছে, তেমনই এসেছে আল্লাহ, নবী, রমজান, ঈদ ও ইসলামী আধ্যাত্মিকতার নানা অনুষঙ্গ।এখানে কোনও কৃত্রিম সমন্বয় ছিল না। নজরুলের কাছে ধর্ম ছিল মানুষের আত্মিক অনুভূতির ভাষা; বিভেদের অস্ত্র নয়।তাঁর এই অবস্থান আজকের সময়েও অসাধারণ প্রাসঙ্গিক।চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় আর এক নজরুলনজরুলকে আমরা কবি ও গীতিকার হিসেবে যতটা মনে রাখি, চলচ্চিত্রের মানুষ নজরুলকে ততটা মনে রাখি না।কলকাতার চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তিনি চলচ্চিত্রে গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন। নির্বাক যুগ থেকে সবাক চলচ্চিত্রের উত্তরণের সময় বাংলা সিনেমার সংগীতে নতুন মাত্রা আনার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।১৯৩৪ সালের ধ্রুব চলচ্চিত্রে তিনি দেবর্ষি নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন। একই সঙ্গে ছবিটির সংগীত পরিচালনা ও গীতরচনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হাতে একতারা, পায়ে খড়ম, মুখে নারদের সাজরুপালি পর্দায় নজরুলের এই উপস্থিতি আজ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক মূল্যবান অধ্যায়। এটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনয়।রবীন্দ্রনাথের কবিতায় নজরুলের সুররবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সম্পর্ক বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সুন্দর অধ্যায়।বয়সে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনেক বড়। সাহিত্যিক পথও ছিল আলাদা। তবু দুজনের মধ্যে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ।চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথের রচনায় নজরুলের সুরারোপের ঘটনাটি এই সম্পর্কের এক চমৎকার দৃষ্টান্ত। রবীন্দ্রনাথের রচনায় প্রচলিত সুরের বাইরে গিয়ে নজরুল নতুন সুর নির্মাণ করেছিলেন। সেই সুর কবিগুরুকে শুনিয়ে তাঁর অনুমোদন পাওয়ার ঘটনাটি শুধু দুজন শিল্পীর পারস্পরিক শ্রদ্ধার নয়, সৃষ্টিশীল স্বাধীনতারও একটি সুন্দর উদাহরণ।নারীদের কণ্ঠে নতুন যুগবাংলা গান ও চলচ্চিত্রে নারী কণ্ঠশিল্পীদের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নজরুলের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আঙ্গুরবালা দেবী, ইন্দুবালা দেবী, কানন দেবীসহ তৎকালীন বহু শিল্পীর সঙ্গে তাঁর পেশাগত ও সৃষ্টিশীল সম্পর্ক ছিল।বিশেষ করে নারীদের সামাজিক অবস্থান যখন নানা বিধিনিষেধে আবদ্ধ, তখন তাঁদের কণ্ঠকে বৃহত্তর শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নজরুলের গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।তাঁর সৃষ্ট নারীচরিত্রও ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরেস্বাধীন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং প্রতিবাদী।হাফিজ ও ওমর খৈয়াম থেকে নজরুলের বাংলানজরুলের সাহিত্যিক পরিসর বাংলা ভাষার গণ্ডিতে আটকে ছিল না। ফারসি সাহিত্য, আরবি সংস্কৃতি এবং ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর পরিচয় ছিল।হাফিজ ও ওমর খৈয়ামের রচনার অনুবাদে তিনি বাংলা ভাষায় নিয়ে এসেছিলেন এক অন্যরকম সুর, ভাব ও রোমান্টিকতা। তাঁর অনুবাদে কেবল ভাষান্তর নয়, অনেক সময় দেখা যায় সৃষ্টিশীল পুনর্নির্মাণের প্রবণতা।এই কাজগুলির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্যের সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে।হাজার গানের স্রষ্টা, অথচ কত গান হারিয়ে গেল!নজরুলের গান নিয়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় তাঁর জীবনের শেষ পর্ব। নজরুলের অসুস্থতার কারণে পরবর্তী সময়ে তাঁর বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তাঁর অসংখ্য গানের সঠিক সুর, স্বরলিপি ও পরিবেশনরীতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।আজ আমরা নজরুলগীতির বিপুল ভাণ্ডারের কথা বলি। কিন্তু সেই ভাণ্ডারের কত অংশ হারিয়ে গেছে, কত গান ভুল সুরে বা অসম্পূর্ণভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছেতার সম্পূর্ণ হিসাব করা কঠিন।এই জায়গাতেই নজরুল গবেষণার সামনে এখনও বিশাল কাজ পড়ে রয়েছে।শুধু বিদ্রোহী নন, তিনি ছিলেন সৃষ্টির কবিওনজরুলকে শুধু বিদ্রোহের কবি হিসেবে দেখলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। তিনি প্রেমের কবি। তিনি প্রকৃতির কবি। তিনি আধ্যাত্মিকতার কবি। তিনি হাস্যরসের কবি। তিনি শিশুদের কবি। তিনি শ্রমিকের কবি, কৃষকের কবি, নারীর কবি, নিপীড়িত মানুষের কবি।তাঁর সাম্যবাদী উচ্চারণ যেমন রাজনৈতিক, তেমনই গভীর মানবিক। তাঁর নারী কবিতা যেমন নারীমুক্তির কথা বলে, তেমনই তাঁর প্রেমের গান ব্যক্তিমানুষের হৃদয়ের গোপন দরজাও খুলে দেয়।নজরুলের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষানজরুলের জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেতিনি কখনও নিজের পরিচয়কে সংকীর্ণ হতে দেননি।দারিদ্র্য তাঁকে থামাতে পারেনি। সেনাজীবন তাঁকে কবিতা থেকে দূরে সরাতে পারেনি। কারাগার তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারেনি। রাজনৈতিক ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দেয়নি। ধর্মীয় বিভাজন তাঁকে কোনও একপক্ষের কবি বানাতে পারেনি।তিনি একই সঙ্গে মসজিদের আজান শুনেছেন, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি শুনেছেন; ইসলামী গজল লিখেছেন, আবার শ্যামাসংগীতে মাতৃসাধনার ভাষা সৃষ্টি করেছেন।এই কারণেই নজরুল কেবল একটি জাতির, একটি ধর্মের বা একটি সময়ের কবি নন। তিনি বাংলা ভাষার এক অনন্ত মানবিক কণ্ঠ।আজ তাঁর প্রয়াণের এত বছর পরেও যখন সমাজে বিভাজন বাড়ে, যখন মানুষের পরিচয় ধর্ম ও সম্প্রদায়ের খোপে আটকে যেতে চায়, যখন অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার প্রবণতা তৈরি হয়তখন নজরুলের কণ্ঠ আবার ফিরে আসে।সে কণ্ঠ বলেমানুষের চেয়ে বড় কোনও পরিচয় নেই।বিদ্রোহ মানে শুধু অস্ত্র তুলে নেওয়া নয়; অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করাও বিদ্রোহ।আর সাম্য মানে শুধু রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়; অন্যের ধর্ম, ভাষা, পরিচয় ও মর্যাদাকে নিজের মতোই সম্মান করাও সাম্য।তাই নজরুলকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান নয়। তাঁর গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি করা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি আবেগঘন বাক্য লেখা নয়।নজরুলকে সত্যিকার অর্থে স্মরণ করতে হলে তাঁর প্রশ্নগুলিকে নিজেদের জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।মানুষ কি সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে?অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কি এখনও কথা বলি?ধর্মের নামে বিভেদের বদলে ভালোবাসার সেতু গড়তে পারি কি?এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলেই বোঝা যায়নজরুল আজও অমর।তিনি আছেন আমাদের প্রতিবাদে, আমাদের প্রেমে, আমাদের গানে, আমাদের সাম্যের স্বপ্নে।আর যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি কণ্ঠ উচ্চারিত হবে, ততদিন সেই কণ্ঠের ভিতরে কোথাও না কোথাও বেঁচে থাকবেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

অভিষেকের বাড়িতে কালীঘাট থানার পুলিশ, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় হাজিরার নোটিশ সাংসদকে

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ৯ টার পর কালীঘাট থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ১ সেপ্টেম্বর সেকশপিয়ার থানায় তাঁকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে গেলে জোর করে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেদিন তৃণমূল কংগ্রেস লেখা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে। সেদিনই পুলিশ এফআইআর করে। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোট তিনটে কেস করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু কাজে বাধা নয় শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে ওই বাড়ির দুটি ঘর জোড় করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা দখল করে নিয়েছে বলে মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

হাইকোর্টের শর্ত উড়িয়ে রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, শুভেন্দুর নির্দেশে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসের সভাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে আয়োজিত ওই সভায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দিষ্ট শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরই কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার কথা জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আদালত অবমাননার অভিযোগে হাইকোর্টে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তারপরই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হেস্টিংস থানায় এফআইআর করেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গতকাল ক্যাথিড্রাল রোডে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার অনুমতি দেওয়ার সময় কলকাতা হাইকোর্টের তরফে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সভা চলাকালীন ক্যাথিড্রাল রোডের অন্তত একটি ফ্ল্যাঙ্ক সচল রাখার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা। কিন্তু সভা চলাকালীন সেই নির্দেশ কার্যকর ছিল না বলেই অভিযোগ উঠেছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির সময় পরিস্থিতি আচমকাই বদলে যায়। মঞ্চ থেকে তাঁর ইশারার পর রাস্তার অপর পাশে গাছের নিচে অপেক্ষারত বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থক ব্যারিকেড অতিক্রম করে সভাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার দুদিকেই মানুষের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ক্যাথিড্রাল রোডের উভয় ফ্ল্যাঙ্ক কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। যান চলাচলও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বাস, ট্যাক্সি এবং ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। ব্যস্ত ওই এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যানজট তৈরি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।ঘটনার পরই সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নির্দেশে রাস্তার একটি অংশ খোলা রাখার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তাঁর কথায়, দেখলেন তো আজকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে হাইকোর্টের অর্ডার ভাঙলেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল রাস্তার একটি ফ্ল্যাঙ্ক সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু একেবারে গাছের নিচে থাকা লোকজনদের ডেকে রাস্তা বন্ধ করিয়ে তিনি কী করলেন?এর পরেই পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি অবিলম্বে এফআইআর রেজিস্টার করতে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এ ধরনের বেআইনি কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ এবং তা লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার আইনি লড়াইও নতুন মাত্রা পেতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মমলা করে পুলিশ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদহে রাতভর ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক! একাধিক লোকাল বাতিল, বদল ট্রেন পরিষেবায়

শিয়ালদহ স্টেশনে গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজের জন্য টানা সাত ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক নিতে চলেছে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। পয়েন্ট কনভার্সন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজের জন্য শনিবার, ২৯ আগস্ট এবং রবিবার, ৩০ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে এই ব্লক নেওয়া হবে। এর জেরে ৩০ আগস্ট, রবিবার সকালে শিয়ালদহ শাখায় একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল এবং একটি ট্রেনকে নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই থামিয়ে দেওয়া হবে।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ আগস্ট রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদহ স্টেশনের DN/Main Line-এর KM 0/19 থেকে KM 0/20 অংশে Point No. 208B/219A-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান 52 Kg DSS-কে 60 Kg DSS-এ রূপান্তর করা হবে। ট্র্যাকের ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্টও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হবে।শুধু ট্র্যাক পরিবর্তন নয়, এই বৃহৎ পরিকাঠামোগত কাজের অংশ হিসেবে গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিংয়ের প্রয়োজনীয় ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিয়ালদহ স্টেশনের সংশ্লিষ্ট লাইনে ট্রেন চলাচল এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।রেলের তরফে জানানো হয়েছে, Track Circuit পরিবর্তনের কাজও ব্লকের সময় করা হবে। একই সঙ্গে Line No. 6 এবং Line No. 11-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট এই সময় প্রভাবিত থাকবে। এত বড় মাপের কাজ যাতে যাত্রী পরিষেবায় তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে, সে কারণেই সপ্তাহান্তের গভীর রাত থেকে ভোরের সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।বাতিল একাধিক লোকালএই পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ৩০ আগস্ট বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন বাতিল থাকবে। রেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ীশিয়ালদহহাবড়া: 33651 UP / 33652 DNশিয়ালদহকল্যাণী সীমান্ত: 31313 UP / 31316 DNশিয়ালদহডানকুনি: 32217 UP / 32218 DNশিয়ালদহরানাঘাট: 31615 UP / 31620 DNশিয়ালদহহাবড়া: 33653 UP / 33654 DNএছাড়াও Train No. 53172 DN (লালগোলাশিয়ালদহ)-কে ৩০ আগস্ট দমদম জংশনে (DDJ) শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। অর্থাৎ ওই দিন ট্রেনটি শিয়ালদহ পর্যন্ত না গিয়ে দমদম জংশনেই যাত্রা শেষ করবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেনটির খালি রেক শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়ে আসা হবে।যাত্রীদের জন্য বিশেষ বার্তারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যাত্রীদের দুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমানোর লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে এই কাজ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দ্রুত স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির কর্মীদের সাইটে মোতায়েন রাখা হবে।শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, কাজটি নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং এবং কমার্শিয়াল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সাময়িক পরিবর্তন সম্পর্কে জানাতে শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।রেলের দাবি, এই পয়েন্ট কনভার্সন ও ট্র্যাক নবীকরণের ফলে শিয়ালদহ স্টেশনের ট্র্যাক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং দক্ষতা আরও বাড়বে। যদিও কাজের সময়সূচির কারণে রবিবার কিছু ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত করতেই এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক জরুরি বলে জানিয়েছে রেল।তাই ৩০ আগস্ট যাঁদের শিয়ালদহমুখী বা শিয়ালদহ থেকে বিভিন্ন শাখায় যাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি ও পরিষেবার সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন। সাময়িক এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতার আবেদনও জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের রাখী উৎসব, আনন্দমুখর বিজয় তোরণ চত্বর

ভাই-বোনের ভালোবাসা, পারস্পরিক আস্থা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বর্ধমানে আয়োজিত হল রাখী উৎসব। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাখীর বন্ধনে আবদ্ধ হলেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ। উৎসবকে ঘিরে বিজয় তোরণ (কার্জনগেট) চত্বরে এদিন পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দমুখর। রাখী পরিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়।রাখী বন্ধন শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের উৎসব নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও এই উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের। পথচলতি মানুষের হাতে রাখী পরিয়ে দেন ক্লাবের সদস্যরা। একে অপরের মঙ্গল ও সুস্থ কামনায় সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সময়ে বিভাজনের নানা প্রবণতার মধ্যে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন। রাখী সেই বন্ধনেরই প্রতীক। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একসূত্রে বাঁধার বার্তা দিতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও এ ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।রাখী পরানোর পাশাপাশি এদিন শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন উপস্থিত সকলে। ছোট-বড় সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি কার্যত মিলন উৎসবে পরিণত হয়। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের এই উদ্যোগে উঠে আসে একটাই বার্তা, সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় হোক, মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমুক এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সমাজের সর্বস্তরে। বেঙ্গল প্রেস ক্লাব বছরে নানা ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান করে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
নিবন্ধ

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল - 'বীণার মুর্ছনায় বিদ্রোহের মশাল'

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক সময়ের সীমা পেরিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক তেমনই এক অনন্য অধ্যায়যেখানে প্রজন্মের ব্যবধানকে ছাপিয়ে জায়গা করে নিয়েছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্নেহ, ভালোবাসা এবং এক গভীর মানবিক বন্ধন। যেমন একসময় বাংলা ছায়াছবির জগতে উত্তম না সৌমিত্রকে বড় এই বিতর্ক ছিল বাঙালির চিরন্তন আড্ডার বিষয়, তেমনই বাংলা সাহিত্যের আলোচনায় রবি না কাজী নিয়েও চলেছে নিরন্তর তর্ক-বিতর্ক। কিন্তু সাহিত্য-সমালোচকদের সেই তুলনা বা পাঠকের আবেগের লড়াইয়ের বাইরে, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের নিজেদের সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকমসেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনও স্থান ছিল না।আজকের দিনে ৭৭ বছর বয়সে, ১৯৭৬ -র ২৯ আগস্ট, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনাবসান ঘটে। তাঁর প্রয়াণদিবসে তাই ফিরে দেখা যাক বাংলা সাহিত্যের দুই মহীরুহের সেই অসম্ভব সুন্দর সম্পর্ককেযে সম্পর্কে ছিল স্নেহের আশ্রয়, শ্রদ্ধার স্বীকৃতি, সৃষ্টিশীলতার অনুপ্রেরণা এবং এক কবির প্রতি অন্য কবির অকৃত্রিম ভালোবাসা। সময়ের স্রোত পেরিয়েও তাঁদের সেই সম্পর্ক আজও বাঙালির সাহিত্য-স্মৃতিতে এক উজ্জ্বল মানবিক অধ্যায় হয়ে আছে।বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলির ব্যাখ্যা কেবল শব্দ দিয়ে করা যায় না, অনুভব করতে হয়। যেমন অনুভব করতে হয় শরতের আকাশে হঠাৎ ভেসে ওঠা মেঘ, বর্ষার প্রথম গন্ধ, কিংবা বহুদিন পর শোনা কোনো পরিচিত কণ্ঠস্বর।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্কও তেমনই এক অনুভবের বিষয়।একজন তখন বাংলা সাহিত্যের আকাশে প্রায় সূর্যের মতো দীপ্তিমান। তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে বিশ্বকবির অভিধা। অন্যজন তখনও তরুণঅস্থির, দুরন্ত, দুঃসাহসী, দুর্বার। তাঁর হাতে কলম, অথচ সেই কলমে যেন তরবারির ঝলকানি। একজনের কবিতায় শান্তির নদী, অন্যজনের কবিতায় ঝড়ের গর্জন। একজন যখন বীণার তারে আঙুল রাখেন, অন্যজন যেন বজ্রের বুক চিরে শব্দ তুলে আনেন।তবু আশ্চর্যএই দুই ভিন্ন স্রোত এসে কোনও এক মোহনায় যেন মিলেছিল!সেই মিলনের নামশ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালোবাসা।রবীন্দ্রনাথ নজরুলের মধ্যে কেবল একজন তরুণ কবিকে দেখেননি; তিনি দেখেছিলেন আসন্ন সময়ের স্পন্দন। আর নজরুল রবীন্দ্রনাথের মধ্যে শুধু একজন প্রতিষ্ঠিত মহাকবিকে দেখেননি; দেখেছিলেন এমন এক আপনজনকে, যার সামনে মাথা নত করা যায়, অথচ নিজের কণ্ঠস্বরটিও অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।এই জায়গাটিই তাঁদের সম্পর্ককে এত অনন্য করে তোলে। যে তরুণ কবির মধ্যে রবীন্দ্রনাথ চিনেছিলেন ভবিষ্যৎ। নজরুলের আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যে যেন হঠাৎ আসা এক কালবৈশাখী। তাঁর শব্দে ছিল আগুন, তাঁর ছন্দে ছিল মার্চ করার শব্দ, তাঁর কবিতায় ছিল শিকল ভাঙার আকাঙ্ক্ষা।বিদ্রোহী প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা সাহিত্য যেন এক মুহূর্তে নিজের পরিচিত আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য এক মুখ দেখতে পেল।বল বীরবল উন্নত মম শির!এই উচ্চারণ শুধু একটি কবিতার পঙ্ক্তি ছিল না। ছিল এক যুগের অবদমিত আত্মার বিস্ফোরণ।রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন সেই বিস্ফোরণের ভাষা। তিনি বুঝেছিলেন, তরুণ নজরুলকে রবীন্দ্রনাথের মতো করে লিখতে হবে না। বরং বাংলা সাহিত্যের প্রয়োজন ছিল এমন একজনের, যিনি রবীন্দ্র-প্রতিষ্ঠার বিশাল ছায়ার মধ্যেও নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র আকাশ তৈরি করবেন। তাঁদের যুগলবন্দী শুধুমাত্র দু-এক কথায় বর্ণনা করা মুর্খামী। রবি যদি বীনার আলাপ হন নজরুল ছিলেন ঝালা। দুইয়ে মিলেই একটি রাগের পূর্ণতা পায়।এই কারণেই নজরুলের প্রতি রবীন্দ্রনাথের স্নেহে ছিল না কোনো অহংকার।ছিল এক প্রবীণ স্রষ্টার আনন্দযখন তিনি দেখেন তাঁর পরের প্রজন্ম তাঁর চেনা পথ ছেড়ে আরও দূরে, আরও অজানার দিকে হাঁটতে শুরু করেছে।বসন্ত: একজন কবির হাতে আরেক কবির আশীর্বাদ, নজরুল যখন কারাগারে, তখন তাঁর শরীর বন্দি হয়েছিল, কিন্তু তাঁর কবিসত্তা নয়। রাজবন্দি তরুণ কবি অনশনে। শরীর ক্রমশ ভেঙে যাচ্ছে। এই সংবাদে উদ্বিগ্ন রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ও অস্থির হয়ে উঠেছিল।তিনি জানতেন, নজরুলের মধ্যে যে আগুন জ্বলছে, তা সহজে নেভার নয়। তবু একজন স্নেহশীল প্রবীণের মতো তাঁর মন চাইছিলএই তরুণ কবি বেঁচে থাকুন। তাঁর কণ্ঠ যেন থেমে না যায়।এই সময়েই বসন্ত গীতিনাট্য নজরুলকে উৎসর্গ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এ যেন কেবল একটি বই উৎসর্গ করা নয়। এ একজন প্রবীণ কবির তরুণ কবির হাতে নিজের আশীর্বাদের একটি প্রদীপ তুলে দেওয়া।কারাগারের অন্ধকারে বসে নজরুল যখন সেই উৎসর্গের কথা জানলেন, তখন তাঁর কাছে সেটি ছিল এক অপার স্বীকৃতি। যে সময়ে রাষ্ট্র তাঁকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে, সেই সময় বাংলা তথা বিশ্ব সাহিত্যের সর্বোচ্চ আসনে থাকা একজন মানুষ তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করছেন। এই স্বীকৃতির মূল্য কোনো পুরস্কারের চেয়ে কম ছিল না।শ্রদ্ধা ছিল, কিন্তু ভয় ছিল নানজরুলের সৌন্দর্য এখানেইতিনি রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা করতেন, কিন্তু তাঁর সামনে নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দেননি। এবং রবীন্দ্রনাথও সেটিই চেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের কাছে নজরুলের বিদ্রোহ কোনো অপরাধ ছিল না। বরং তিনি বুঝেছিলেন, যুগ বদলালে কবিতার ভাষাও বদলায়।একটি প্রজন্ম যে প্রশ্ন করতে চায়, আগের প্রজন্ম যদি সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারে, তবে নতুন কবির জন্ম হয়।নজরুল সেই নতুন কবিতিনি রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করার জন্য লেখেননি; তিনি নিজের সময়কে প্রকাশ করার জন্য লিখেছিলেন। আর রবীন্দ্রনাথ সেই স্বাধীনতাটুকু তাঁকে দিয়েছিলেন। এই উদারতাই রবীন্দ্রনাথকে শুধু বড় কবি নয়, বড় মানুষও করে তুলেছিল।এক ফ্রেমে ধরা পড়েনি দুই মহীরুহআজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবলে বিস্ময় জাগেদুই কবি দেখা করেছেন, কথা বলেছেন, পরস্পরের সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন; অথচ তাঁদের একসঙ্গে থাকা কোনো সুপরিচিত আলোকচিত্র আমাদের হাতে নেই।ইতিহাসের কাছে এ এক অদ্ভুত আফসোসএক ফ্রেমে যদি ধরা থাকত সেই দৃশ্য! এক পাশে শান্ত, শুভ্র, দীর্ঘকায় রবীন্দ্রনাথ। অন্য পাশে তারুণ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বল নজরুল। একজনের মুখে প্রশান্তি, অন্যজনের চোখে আগুন। ক্যামেরার একটি ক্লিক হয়তো ধরে রাখতে পারত বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে সুন্দর এক সম্পর্কের দৃশ্যমান স্মৃতি। কিন্তু হয়তো নিয়তি চেয়েছিল, তাঁদের সম্পর্ক ছবি হয়ে না থেকে স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকুক।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএক রসিকতার আড়ালে গভীর সত্যনজরুলের বিদ্রোহী শুধু পাঠ করা যায় না, অনুভব করতে হয়। তরুণ কবির কণ্ঠে যখন সেই কবিতা উচ্চারিত হয়েছিল, তখন তা নিছক শব্দ ছিল নাছিল এক বিস্ফোরিত আত্মপরিচয়। রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়িয়ে নজরুল তাঁর কবিতা পাঠ করছেনভাবলেই দৃশ্যটি যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।কবিতা শেষ।এক মুহূর্তের নীরবতা।তারপর প্রবীণ কবির হাসি, মুগ্ধতা, ভালোবাসা।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএই রসিকতার মধ্যে যেন লুকিয়ে আছে এক বিরাট সত্য। নজরুল রবীন্দ্রনাথকে হত্যা করেননি। তিনি হত্যা করেছিলেন সেই ধারণাকেবাংলা কবিতার একমাত্র ভাষা একটিই। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথের পাশে দাঁড়িয়েও অন্য এক কণ্ঠস্বর পৃথিবী কাঁপাতে পারে। আর রবীন্দ্রনাথ সেই নতুন কণ্ঠস্বরকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এমন উদারতা বিরল। অভিমানও ছিল, দূরত্বও ছিল।যে সম্পর্ক সত্যিকারের, সেখানে অভিমান থাকে।নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কেও হয়তো সেই মানবিক টানাপোড়েন ছিল। রাজনৈতিক উত্তেজনা, সময়ের অস্থিরতা, সাহিত্যিক মতপার্থক্যসবকিছু মিলিয়ে কখনও কখনও তাঁদের মধ্যে ভাবনার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।কিন্তু সেই দূরত্ব কখনও হৃদয়ের দূরত্ব হয়ে ওঠেনি। কারণ রবীন্দ্রনাথ নজরুলের বিদ্রোহের মধ্যে নিজের প্রতি অসম্মান দেখেননি। আর নজরুলও রবীন্দ্রনাথের উপদেশকে শেষ পর্যন্ত একজন স্নেহশীল প্রবীণের উদ্বেগ হিসেবেই অনুভব করেছিলেন। এই জায়গাতেই তাঁদের সম্পর্কের মানবিক সৌন্দর্য। তাঁরা একমত ছিলেন না সব বিষয়ে। কিন্তু একে অপরকে ভালোবাসতে তাঁদের একমত হওয়ার প্রয়োজন হয়নি।সঞ্চিতা: শিষ্যের অর্ঘ্য১৯২৮ সালে নজরুল তাঁর সঞ্চিতা রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন। নামটির মধ্যেও যেন শ্রদ্ধার এক নীরব সেতু ছিল। রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতাআর নজরুলের সঞ্চিতা। কিন্তু বইয়ের নামের এই সাদৃশ্যের চেয়েও বড় ছিল উৎসর্গের অনুভূতি। যে তরুণ কবি একদিন বিদ্রোহের ভাষায় নিজের পরিচয় ঘোষণা করেছিলেন, সেই তিনিই আবার নিজের সৃষ্টির অর্ঘ্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রবীণ কবির দরজায়। এখানে কোনো আত্মসমর্পণ ছিল না। ছিল ভালোবাসা।ছিল বলাআপনাকে অস্বীকার না করেও আমি আমার নিজের পথের কবি।রবির বিদায়: যে শোক ভাষাকে স্তব্ধ করে দেয়১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট। বাংলা আকাশ থেকে যেন একটি বিশাল আলো সরে গেল। রবীন্দ্রনাথ চলে গেলেন। এই মৃত্যু ছিল শুধু একজন কবির মৃত্যু নয়। একটি যুগের অবসান। আর সেই সংবাদ যখন নজরুলের কাছে পৌঁছেছিল, তখন তাঁর হৃদয়ের ভিতরে কী ঝড় উঠেছিল, তা কল্পনা করাও কঠিন। যে মানুষটি তাঁর প্রতিভাকে চিনেছিলেন, তাঁকে সম্মান দিয়েছিলেন, তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেনসেই মানুষটি আর নেই। নজরুলের শোক তাই ছিল আপনজন হারানোর শোক।তিনি লিখলেন, গাইলেন, কাঁদলেন।ঘুমাতে দাও শ্রান্ত রবিরেকী আশ্চর্য নিয়তি!যে তরুণ কবির কণ্ঠ একদিন রবীন্দ্রনাথের বিদায়ে বজ্রের মতো গর্জে উঠেছিল, সেই কণ্ঠই বছর ঘুরতেই অসুস্থতার অন্ধকারে স্তব্ধ হয়ে গেল।কণ্ঠ থেমে গেল।স্মৃতি মুছে যেতে লাগল।শব্দ, যে শব্দ দিয়ে তিনি সাম্রাজ্যকে কাঁপিয়েছিলেন, সেই শব্দই তাঁর নিজের জীবনে একদিন নিঃশব্দ হয়ে গেল।এ যেন ইতিহাসের নির্মমতম কবিতা।দুই কবি, এক মানবতার গানরবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে পাশাপাশি রাখলে প্রথমে চোখে পড়ে তাঁদের পার্থক্য। রবীন্দ্রনাথশান্তি, সৌন্দর্য, প্রেম, প্রকৃতি, আত্মদর্শন। নজরুলবিদ্রোহ, সাম্য, সংগ্রাম, প্রেম, মুক্তি। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই দেখা যায়, তাঁদের গন্তব্য একই। দুজনেই মানুষকে ভালোবেসেছেন। দুজনেই মানুষের মুক্তি চেয়েছেন। দুজনেই ধর্ম, জাতি, সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে মানুষকে দেখতে চেয়েছেন। তাই তাঁদের পথ আলাদা হলেও আকাশ ছিল এক।রবীন্দ্রনাথ হয়তো বলেছিলেনমানুষের হৃদয়কে সুন্দর করো।নজরুল যেন উত্তর দিয়েছিলেনমানুষের শিকলও ভেঙে দাও।একজন হৃদয়ের দরজা খুলেছেন, অন্যজন কারাগারের দরজা ভেঙেছেন। আর বাংলা সাহিত্য তাঁদের দুজনকেই গ্রহণ করেছে।দুই নক্ষত্রের দিকে তাকিয়েআজ এত বছর পরে যখন আমরা তাঁদের দিকে ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল যেন একই আকাশের দুটি নক্ষত্র।তাঁদের আলো এক নয়।তাঁদের পথ এক নয়।তাঁদের ভাষাও এক নয়।কিন্তু অন্ধকারের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রত্যয়ের জায়গাটি একই।একজনের হাতে ছিল বীণা, অন্যজনের হাতে বিদ্রোহের মশাল।একজন বলেছিলেন ভালোবাসতে।অন্যজন বলেছিলেন ভয় না পেতে।একজন মানুষের অন্তরকে মুক্ত করেছেন, অন্যজন মানুষের মেরুদণ্ডকে সোজা করেছেন।আর তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক আমাদের শিখিয়েছেশ্রদ্ধা মানে নিজের কণ্ঠ হারিয়ে ফেলা নয়; ভালোবাসা মানে একে অপরকে নিজের মতো করে বানিয়ে নেওয়া নয়। সত্যিকারের শ্রদ্ধা হল অন্যের স্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করে নেওয়া। সত্যিকারের ভালোবাসা হল অন্যের আলোকে ভয় না পাওয়া। রবীন্দ্রনাথ নজরুলের আলোকে ভয় পাননি। নজরুলও রবীন্দ্রনাথের মহিমার সামনে নিজের আলো নিভিয়ে দেননি।এই কারণেই তাঁদের সম্পর্ক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শুধু একটি অধ্যায় নয়এ এক অনন্ত মানবিক উপাখ্যান। যেখানে একজন প্রবীণ কবি তরুণ প্রতিভার মাথায় হাত রেখেছেন, আর এক তরুণ বিদ্রোহী কবি শ্রদ্ধায় সেই হাতের উষ্ণতা অনুভব করেছেন। সময় তাঁদের আলাদা করেছে।মৃত্যু তাঁদের দুজনকেই নীরব করেছে।কিন্তু তাঁদের কথারা আজও বেঁচে আছে।রবীন্দ্রনাথের গানে যখন সন্ধ্যা নামে, নজরুলের কবিতায় তখন ভোরের মিছিল শুরু হয়।একজনের সুরে মন শান্ত হয়।অন্যজনের শব্দে রক্ত গরম হয়ে ওঠে।আর আমরা বুঝতে পারিবাংলা সাহিত্যকে সম্পূর্ণ করতে দুজনেরই প্রয়োজন ছিল। একজন না থাকলে অন্যজনের মহিমা হয়তো এত স্পষ্ট হয়ে উঠত না। তাই আজও মনে হয়, দূর কোনো নক্ষত্রলোকের নীরব বারান্দায় হয়তো রবীন্দ্রনাথ বসে আছেন, হাতে তাঁর চিরপরিচিত বীণা। আর পাশে দাঁড়িয়ে নজরুলচোখে সেই দুরন্ত আগুন, হাতে তাঁর অমর মশাল। দুজনেই হয়তো একে অপরের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।কোনো অভিমান নেই।কোনো প্রতিযোগিতা নেই।শুধু গভীর এক স্বীকৃতিতুমি তোমার মতো করেই এসেছিলে।তাই বাংলা ভাষা আজ এত সমৃদ্ধ।আর সেই কারণেই, তাঁদের ভালোবাসার গল্প শেষ হয় না।প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা সেই গল্প শুনিএকজন কবির স্নেহের গল্প, একজন বিদ্রোহীর শ্রদ্ধার গল্প, আর দুই মহীরুহের মধ্যে জন্ম নেওয়া এমন এক আত্মিক বন্ধনের গল্প,যেখানে বীণার সুর আর বিদ্রোহের মশালদুটিই শেষ পর্যন্ত মানুষেরই জয়গান গায়।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
দেশ

আরও বাড়তে পারে গঙ্গার জল, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফরাক্কা থেকে সামশেরগঞ্জ, সুতী, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ হয়ে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা আসায় ভয় আরও বাড়ছে স্থানীয়দের।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার ছাড়িয়ে বর্তমানে ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর আরও বেড়ে ২২.৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হড়কা বানের জেরে অতিরিক্ত জল গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। বিহারের পাটনা ও রাজমহল হয়ে সেই জল ফরাক্কায় পৌঁছনোর কারণেই দ্রুত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, আপস্ট্রিম থেকে আসা জলের মধ্যে ফরাক্কার ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছে।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আধিকারিক সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, বিকেল ৩টের সময় গঙ্গার জলস্তর ২২.৭৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমার তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তাঁর কথায়, জলস্তর এখনও ঊর্ধ্বমুখী এবং পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে তা ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। নেপালের হড়কা বানের প্রভাবেই এই জলবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শহরে জল ঢোকার কোনও রেকর্ড নেই এবং পরিস্থিতি সেফ জোনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, জলস্তর বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফরাক্কার গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা শরৎ হালদার বলেন, প্রশাসনের দফতর থেকে বারবার সাবধান থাকার মেসেজ আসছে। তাঁর আশঙ্কা, আরও এক মিটার জল বাড়লেই নালা দিয়ে গ্রামে জল ঢুকে পড়তে পারে। টিনের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী গরিব মানুষজন বন্যা হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে থাকবেনসেই চিন্তাতেই এখন রাত কাটছে তাঁদের।

আগস্ট ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal