• ৮ আশ্বিন ১৪৩৩, রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Feature

বিনোদুনিয়া

প্রকাশ হল 'আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা'-র গান

আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা ছবির গান প্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন ছবির অভিনয় ও গানের সঙ্গে জড়িত কলাকুশলীরা। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অভিনেত্রী সায়ন্তনী গুহঠাকুরতা। টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে তাঁকে স্মরণ করে দু মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।আবার কাঞ্চনজঙ্ঘার কাহিনি ও পরিচালনা রাজর্ষি দে-র। পদ্মনাভ দাশগুপ্তের চিত্রনাট্যে পাহাড়ের প্রেক্ষাপটে, সম্পর্কের জটিল রসায়ন ঘিরে এগোয় গল্প। গানগুলি গেয়েছেন রূপঙ্কর বাগচী, অনুপম রায়, জয়তী চক্রবর্তী এবং উজ্জয়িনী। ছবিতে দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত জয়তীর কণ্ঠে দেখো সখা ভুল করে ভালোবেসো না এবং রূপঙ্করের গাওয়া মেঘ বলেছে যাবো যাবো এক আলাদা স্বাদ আনে। অনুপম রায়ের কণ্ঠে টয়ট্রেন গানটি যেন দার্জিলিঙের স্মৃতি, পাহাড়-প্রেম আর ছোটবেলার জিয়নকাঠি। ছবিতে বিশেষ আকর্ষণ দূর্বা সেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা পাহাড়ের গান। এটি শোনা যাবে উজ্জয়িনী মুখার্জীর কণ্ঠে।গান প্রকাশের অনুষ্ঠানে মেঘ বলেছে যাবো যাবো গানটি গাইলেন রূপঙ্কর বাগচী। মিউজিক ডিরেক্টর আশু এদিন জানালেন, পাহাড়কে ঘিরে যেহেতু পুরো কেমিস্ট্রি তাই আমার মিউজিকটাও সেটা নিয়েই। আমার নিজের কম্পোজ করা দুটো গান রয়েছে। একটি টয়ট্রেন ও একটি পাহাড়ের গান। দুটো রবীন্দ্র সঙ্গীত একটা জয়তি দি ও একটা রূপঙ্কর দা গেয়েছেন। ছবিটায় যেভাবে গানগুলো ব্যবহার করা হয়েছে সেইভাবেই আমার অ্যারেঞ্জ করা।

মার্চ ২৬, ২০২২
বিনোদুনিয়া

পরিচালক রোহন সেনের পূর্ণদৈর্ঘ্যর ছবি "অপরাজিতা"র মুক্তি

পরিচালক রোহন সেনের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্যর ছবি অপরাজিতা, মুক্তি পেল প্রেক্ষাগৃহে। বাবা মেয়ের এক কথা না হওয়া জটিল, তাও মধুর সম্পর্ক কীভাবে একটি ডায়েরির মাধ্যমে পাতার পর পাতা আবহমান হতে থাকে, সেটাই ভেসে উঠল জীবনের বড় পর্দায়। এভাবেই গল্প হোক এর পর আরও একটি সম্পর্কের গল্প বললেন রোহন। ছবিতে অভিনয় করেছেন তুহিনা দাস, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, দেবতনু, রানা বসু ঠাকুর সহ আরও অন্যান্যরা। প্রিমিয়ারে রোহন জানালেন, ভালো তো লাগছে। আবার একটু চাপেও আছি। সম্পর্ক নিয়ে কি ছবি করতে বেশি ভালো লাগে? রোহনের উত্তর, এই গল্পটা হঠাৎ করেই মাথায় এসেছে। তাই ছবিটা করা। পরের ছবিতে সেটা ভাঙবো। দেবতনু জানালেন, আমি খুব টেন্সড আবার একসাইটেড ও। বাংলা ছবি একেই হল পায় না। বাংলা কন্টেন্ট কে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বাংলা সিনেমা গিয়ে দেখুন। এই ধরনের কন্টেন্ট ফ্যামিলি নিয়ে গিয়ে দেখা যায়। সবাই ছবিটা দেখুন।

মার্চ ১৫, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মহিলাদের সঠিক বিচারে নির্মিত '১০ নং ঝোপড়পট্টি'

এস সি প্রোডাকশনের ব্যানারে নিবেদিত স্বাতী চট্টোপাধ্যায়ের প্রযোজিত ছবি ১০ নম্বর ঝোপড়পট্টি। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন স্বাতী চট্টোপাধ্য্যায়, কন্যাশ্রী চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, তনিমা সেন, দিয়া মুখোপাধ্যায়, ছন্দা চট্টোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে। এই ছবিরই প্রিমিয়ার হয়ে গেল ছবিঘর সিনেমাহলে। ১৯৭১ সালে ওপার বাংলার স্বাধীনতার উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। দলে দলে মানুষ মিলিটারির তাড়া খেয়ে রাতের অন্ধকারে কাঁটাতারের বর্ডার পেরিয়ে ভারতে পা রেখেছে। সর্বস্ব খুইয়ে তারা দিশেহারা। এই দিশেহারা, বিভ্রান্ত ও সর্বস্বান্ত চারটি পরিবার মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে কলকাতায় চলে আসেন। এই চারটি পরিবারের দৈনন্দিন সুখ ও দুর্দশার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে ১০ নম্বর ঝোপড়পট্টি তে। এই ছবিতে ঝোপড়পট্টির এক অন্তঃসত্ত্বা বধুকে দুরাচারিদের শিকারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। জলের কলসী হাতে পালাতে গিয়ে মাটিতে পড়ে তার পেটের বাচ্চাটাই নষ্ট গেছে। অন্যদিকে আর একটি মেয়েকে গণধর্ষিত হয়ে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যেতে হয়েছে। যুগের হাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই গল্পটি লিখেছেন স্বাতী চট্টোপাধ্যায়।

মার্চ ০৬, ২০২২
বিনোদুনিয়া

নারীকেন্দ্রিক ছবিতে বনি-কৌশানী

বনি-কৌশানী জুটি মানেই দর্শকদের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। দুজনকে এবার দর্শকরা পেতে চলেছেন একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবিতে। প্রার্জুন মজুমদারের অন্তর্জাল ছবিটিতে রয়েছেন তাঁরা। নারীকেন্দ্রিক ছবির গল্প বলবেন প্রার্জুন। এখানে কৌশানীর চরিত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে কাহিনি। এই ছবিতে কৌশানীকে লহরীর চরিত্রে দর্শকরা দেখতে পাবেন। তার স্বামী অপূর্বর চরিত্রে রয়েছেন বনি। তাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকীর দিনেই হারিয়ে যায় অপূর্ব। সেই অন্তর্ধানকে কেন্দ্র করেই রহস্য ঘনীভূত হয়। প্রার্জুন তার দ্বিতীয় ফিচার ফিল্মেই বনি-কৌশানী জুটিকে নিয়ে কাজ করছেন। বনি জানিয়েছেন নারীকেন্দ্রিক ছবিতে সুযোগ পাওয়াটা তার কাছে বড় বিষয়। ছবিতে লহরী পেশায় লেখিকা। অন্য রকমের বলিষ্ঠ চরিত্র পেয়ে কৌশানীও বেশ উত্তেজিত। এই ছবিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রান্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌমাল্য দত্ত। মার্চ মাসেই অন্তর্জাল এর শুটিং শুরু হবে।

মার্চ ০১, ২০২২
নিবন্ধ

ঈশ্বরের দান- The Gift of God (ছোট গল্প)

আজ বাড়িতে সকাল থেকেই হৈচৈ, সাজ সাজ রব; সারা বাড়ি বেলুন দিয়ে সাজানো হচ্ছে। আজ পল্লব আর অঞ্জনার নয়নের মনি ওদের মেয়ে অপালার জন্মদিন।ওদের নিস্তরঙ্গ জীবন আনন্দময় করতে এইদিনেই অপালাকে কোলে পেয়েছিল অঞ্জনা। বিয়ের সাত বছর পরেও কোলে কেউ আসেনি। তাই জীবনটা ছন্দহীন হয়ে পড়েছিল। সাদামাটা জীবন ; সকালে উঠে রান্না সেরে শাশুড়িমা, শ্বশুর মশায় কে যথা সম্ভব দেখে সব সামলে অফিসে যাওয়া আবার অফিস থেকে ফিরে গতানুগতিক কাজ। এভাবেই চলছিল। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছে কিন্তু কোনো সমস্যা নাই বলেছে, বলেছে দেরি হবে। অঞ্জনা মাতৃ হৃদয় কেঁদে ওঠে বারবার । তাই সে রোজ অফিসে যাওয়ার পথে যে হনুমানজির মন্দির টা পরে রোজ সেখানে আসাযাওয়ার পথে প্রণাম করে। আর প্রতি মঙ্গলবার পুজো দেয়। বছর পাঁচ আগে সে রকম এক মঙ্গলবার অফিস থেকে সেদিন ফিরতে দেরি হয়েছিল অঞ্জনার। বাস থেকে নামলো যখন আশপাশের সব দোকান মোটামুটি বন্ধ হয়ে গেছে। অঞ্জনা অভ্যাস মতো সেদিনও পুজো দেওয়ার সামগ্রী নিয়ে ছিল। কিন্তু দেরি হয়ে যাওয়ায় মন্দির বন্ধ হয়ে গেছে দেখে মন্দিরের দরজায় জিনিস গুলো রেখে প্রণাম করে উঠে দাঁড়াতেই যেন বাচ্চার আওয়াজ পেল। মনের ভুল বলে বেরিয়ে আসার জন্য যেই পা বাড়িয়েছে আবার শুনতে পেল। না এবার স্পষ্ট শুনেছে। এদিক ওদিক দেখ্তেই মন্দিরের এক কোনে দেখল কি যেন নড়ছে। কাছে গিয়ে মুঠো ফোনের আলোয় যা দেখল তা বিশ্বাস করতে পাচ্ছিল না। প্রথম টায় হতভম্ব হয়ে গেছিল অঞ্জনা। তারপর যখন বুঝল যে সত্যি দেখ্ছে আশপাশে কেউ আছে কিনা সেজন্য চিত্কার করে জানতে চাইলে কারো আওয়াজ পেল না যখন তখন ছোট্ট প্রাণ টাকে কোলে তুলে নিল হনুমানজীর আশীর্বাদ মনে করে। মনে হলো যেন হনুমান জী এতো দিনে মুখ তুলে চেয়েছে।অঞ্জনা তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে বাড়ির দিকে চলল। দরজা খুলে পল্লব দেরির কারণ জিজ্ঞাসা করবে কোলে বাচ্চা দেখে অবাক হয়ে গেল। ভিতরে ঢুকে সব খুলে বলল সবাই কে। শাশুড়ি মাও বাচ্চা টিকে হনুমান জীর আশীর্বাদই বললেন। আদরের সঙ্গে সবাই মেনে নিল বাচ্চাটিকে। বাড়িতে খুশির বন্যা বয়ে গেল। এইভাবেই বেশ কেটে গেলো ; তিন বছর পর অঞ্জনার কোলে এলো ওদের ছেলে অদ্রিজ। দুই ভাই বোন কে নিয়ে ওদের জীবন আনন্দে ভরে উঠলো। না ছেলে হওয়ার পর কিন্তু অপালার আদর একটুও কমেনি কারো কাছে , ও যে ওদের সবার কাছে ঈশ্বরের আশীর্বাদ। আজ সবার নয়নের মনি অপালার জন্মদিন। তাই বাড়িতে হইহই রব। সে যে পাঁচ বছরের হলো।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২
বিনোদুনিয়া

'আবার বছর কুড়ি পরে' নিয়ে আবেগপ্রবণ রূদ্রনীল

মুক্তি পেল শ্রীমন্ত সেনগুপ্ত-র ছবি আবার বছর কুড়ি পরে। এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়, তনুশ্রী চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়। ছবির প্রথম লুক, ট্রেলার, গান সবকিছুই উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছিল দর্শক মহলে। সম্প্রতি শহরের এক প্রেক্ষাগৃহে ছবির প্রিমিয়ার হয়ে গেল। প্রিমিয়ারে হাজির হয়েছিলেন ছবির কলাকুশলী, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পীরাও।২০ বছর আগে ফিরে যেতে বলা হলে পরিচালক কি কি স্মৃতি মনে করবেন? উত্তরে জানালেন, অনেক স্মৃতি আছে। স্কুল লাইফের স্মৃতি আছে। কলেজ লাইফের স্মৃতি আছে। কাজের জন্য এখন যে নির্ভেজাল আড্ডার সময় পাইনা সেই আড্ডাগুলো করতে চাইব।অভিনেতা রুদ্রনীলের কি কি স্মৃতি মনে পড়ছে? উত্তরে জানালেন, এত সহজ একটা স্ক্রিপ্ট লিখেছেন পরিচালক যে আমরা নিজেদের ফেলে আসা ছেলেবেলাকে রিলেট করতে পেরেছি। বাড়ির সবথেকে ভালো টিফিন নিয়ে যেতাম সেটা বন্ধুরা খেয়ে নিত, নিজে কিছু পেতাম না। এটা ভয়ঙ্কর রকম ছিল।বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গেলে অনেক ঢপ মেরে যেতে হত। এখন সময়টা অনেকটা বদলে গেছে। সেই বেড়াতে যাওয়াটা মিস করছিলাম। এরকম আরও অনেক স্মৃতি মনে পড়ছিল। পুরো ছবিটা দেখতে দেখতে একজন দর্শক হিসাবে নিজে খুব নস্টালজ্যিক হয়ে পড়েছিলাম।

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

১১ মার্চ মুক্তি পাচ্ছে রোহন সেনের "অপরাজিতা"

আমাদের জীবনে কত না বলা কথা আমরা বলতে পারিনা। জমে থাকে স্তূপাকৃত একরাশ অভিমান। বেড়ে ওঠেনা সময়মত সম্পর্কের বাকরুদ্ধ পরিসর। সেই অব্যক্ত নিঃশব্দে আমরা হারিয়ে ফেলি কত প্রিয়জন কে। আর সেটা যদি বাবা মেয়ের মত সম্পর্ক হয়... তাহলে? এরকম এক কঠিন বাস্তবকে আবর্তিত হতে দেখবো আমরা রুপোলি পর্দায়। রোহন সেন এর এই ছবি টি আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে রীতিমতো আয়না তুলে ধরার একটি হৃদয়স্পর্শী কাহিনী। অপরাজিতা মুক্তি পাচ্ছে আগামী ১১ই মার্চ নিকটবর্তী প্রেক্ষাগৃহে। বাবা মেয়ের এক কথা না হওয়া জটিল, তাও মধুর সম্পর্ক কীভাবে একটি ডায়েরির মাধ্যমে পাতার পর পাতা আবহমান হতে থাকে, সেটাই ভেসে উঠবে জীবনের বড় পর্দায়। পরিচালক রোহন সেনের ছবি অপরাজিতা। অপরাজিতা একটি মেয়ে এবং তার বাবার সঙ্গে টানাপোড়েন এর সম্পর্কের গল্প। যেখানে মেয়ে বা তার বাবা কেউ কারোর সাথে কথা বলে না এক বাড়িতে থাকা সত্ত্বেও। কোথাও না কোথাও তাদের দুজনের মধ্যেই ইগো কাজ করে, এবং তার পেছনে যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। শুধুমাত্র একটি ডায়েরির মাধ্যমে তাদের দুজনের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। অপরাজিতা একজন স্বাধীন মহিলা যে একটি কর্পোরেট কোম্পানিতে কাজ করে। তার একজন বয়ফ্রেন্ড আছে, সাহেব। সাহেবের কাছে সে তার রাগ, দুঃখ, অভিমান ব্যক্ত করতে পারে । অপরাজিতার বড়ো দিদি USA তে থাকেন। সাহেব বা তার দিদি কেউই অপরাজিতার সঙ্গে তার বাবার সম্পর্ক ঠিক করতে পারেনা। তাদের পারিবারিক ডাক্তারও এই প্রজন্মের সামাজিক আর পারস্পরিক দূরত্বের বিষয় টি তুলে ধরেন। গল্প যত এগোয় বাবা-মেয়ের সম্পর্ক তত জটিল হয়ে উঠতে থাকে। শেষমেশ এই সম্পর্কের পরিণতি কি হয় তাই নিয়েই এই ছবি। সাধারণ ঘটনা গুচ্ছগুলি অনেকেই হয়তো চারপাশে বা নিজস্ব জীবনে অনুভব করে থাকবেন। উল্লেখ্য চরিত্রর মধ্যে অপরাজিতার চরিত্রে রয়েছেন তুহিনা দাস। তাঁর বাবার চরিত্রে শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়। বয়ফ্রেন্ডের চরিত্রে দেবতনু। পরিবারের ঘনিষ্ঠ ডাক্তার রানা বসু ঠাকুর। অমৃতা দে কে এই ছবিতে দেখা যাবে দিদি, প্রযোজক ও গায়িকার ভুমিকায়।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মুক্তি পেল সৌম্যজিত মজুমদারের প্রথম ছবি #হোমকামিং

৯০ মিনিটের মিউজিক্যাল ড্রামা #হোমকামিং দিয়ে পরিচালক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেন অভিনেতা সৌম্যজিত মজুমদার। এই ছবির চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি এবং প্রযোজনার মতো গুরুদায়িত্বও তাঁর কাঁধে। ছবিটি মূলত রিইউনিয়নের গল্প। ছবিতে অভিনয় করেছেন সায়নী গুপ্তা, তুষার পাণ্ডে, প্লবিতা বরঠাকুর, সোহম মজুমদার, হুসেইন দালাল, পূজারিণী ঘোষ সহ আরও অনেক তারকা। প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন টলিউড থেকে বলিউডের অনেকে। অভিনেতা তুষার পাণ্ডে এই ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন। কলকাতা কতটা কাছের তাঁর কাছে সেটাও বললেন। এই ছবির সবথেকে বড় দিক হল সোনি লিভ এর মতো ন্যাশানাল ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রথমবার কোনও কলকাতার ছবি মুক্তি পেল।পরিচালক জানালেন, প্রথম কোনও প্রেমে যেরকম অনুভূতি হয় সেরকমই অনুভূতি হচ্ছে। খুব ভালো লাগছে যেখানে আমার ছবি দেখতাম সেখানে আমার ছবির প্রিমিয়ার হচ্ছে। মনে হচ্ছে সবাই একসঙ্গে যেন রিইউনিয়নে এসেছি। অভিনেতা তুষার পাণ্ডে জানালেন, আমি খুব ভালো লাগছে। খুব মজা করে আমরা কাজটা করেছি। বাংলা কি কিছু শিখেছো? তুষার জানালেন, অল্প শিখেছি। শেখার চেষ্টা করছি। অভিনেত্রী প্লবিতা বরঠাকুর জানালেন, এট ভালো টিমের সঙ্গে কাজ করতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। কলকাতায় এসে খুব ভালো লাগছে। কলকাতার কোনও খাবার কি টেস্ট করা হয়েছে? প্লবিতা জানালেন, কলকাতার ফুচকা আমার খুব প্রিয়।

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মুক্তি পেল ‘যোগাযোগ’ এর প্রথম গান ব্যাকুলতা

সম্মান রায়ের পরিচালনায় যোগাযোগ। এই ছবিটি প্রথমে শর্ট ফিল্ম হিসাবে বানানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলেওপরে ফিচার ফিল্ম করার প্ল্যান করেন পরিচালক। এই ছবিতে স্বাধীনভাবে বানানো ছবির গান ব্যাকুলতা। ব্যাকুলতা কেন? আমাদের জীবনে নানান পাওয়া না পাওয়া নিয়ে আমাদের মধ্যে ব্যাকুলতা তৈরি হয়। কিন্তু সকল ব্যাকুলতাকে হয়ত ছাড়িয়ে যায় প্রেমের ব্যাকুলতা। নতুন প্রেমের হাতছানির ব্যাকুলতা, ভালোবাসার মানুষকে চেয়েও কাছে না পাওয়ার ব্যাকুলতা, প্রেম ভেঙে যাওয়ার পরের ব্যাকুলতা। এই সকল আবেগের কথাই বলা হয়েছে এই ব্যাকুলতা গানটিতে। গানটির কথা লিখেছেন দেবস্মিতা কর্মকার, যিনি পেশায় একজন ডিজাইনে স্নাতকোত্তর ধারী। গানের সুর আদর দাসের। আদর বেসরকারি চাকরির পাশাপাশি গানের সুর করেন। সাহানা বাজপেয়ীর গলায় ইতিমধ্যেই তার একটি আধুনিক গান বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ব্যাকুলতা ছাড়াও আরো একটি গান ছবিতে আছে আদরের সুরে এবং ছবির আবহ সঙ্গীত ও তাঁরই করা। ব্যাকুলতায় কন্ঠ দিয়েছেন অমৃতা এবং ছবির পরিচালক সম্মান নিজেই। অমৃতা কলকাতার সঙ্গীত মহলের পরিচিত কন্ঠ, যদিও তিনি এখন পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে আছেন। সম্মানের এটি দ্বিতীয় গান। এর আগে উচাটন মন বলে একটি নজরুল গীতি তাঁর কণ্ঠে মুক্তি পেয়েছিল। মিউজিক ভিডিও সমেত ব্যাকুলতা গানটি আপনারা দেখতে পাবেন সিনেমা আঁতেল বলে একটি ইউটিউব চ্যানেলে।

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২২
বিনোদুনিয়া

ইন্দো-বাংলাদেশ প্রযোজনায় নতুন ছবি

গ্রীন টাচ বাংলাদেশ এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মাসুম বললেন- এপার বাংলা (পশ্চিমবঙ্গ) ওপার বাংলার (বাংলাদেশ) মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা শুরু করতে চলেছি নতুন বাংলা ছবি। ছবির নাম একটা নতুন ছবি । এই ছবির পরিচালনার দায়িত্বে আছেন অরুদীপ্ত দাশগুপ্ত। উনি এর আগে হিন্দী বাংলায় এপারের বেশ কিছু ছবি পরিচালনা করলেও এপার বাংলা ওপার বাংলার মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রথম ছবি করতে চলেছেন অরুদীপ্ত। ছবির গল্প লিখেছেন সঞ্জয় দাস। এই ছবিতে অভিনেত্রী হিসাবে রয়েছেন বাংলাদেশের হ্যারিজন, ভালবাসতে মন লাগে, প্রমুখ সিনেমা খ্যাত এবং জান্তব (চ্যানেল), বন্ধু আমার নাটকের সফল অভিনেত্রী নির্জনা। এ ছাড়াও অভিনেতা হিসাবে থাকছেন আরো অনেক প্রতিথযশা এপার বাংলা ওপার বাংলার চেনা মুখ অভিনেতা অভিনেত্রী। এছাড়াও ওপার বাংলার আর একজনের নাম উল্ল্যেখ না করলেই নয়। তিনি হলেন মনিরুল ইসলাম মাসুম। যিনি এই ছবির কাস্টিং ডিরেক্টর হিসাবে থাকছেন।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২
নিবন্ধ

পুনর্মিলন (ছোট গল্প)

ভোর থেকে অন্তরাদের বাড়িতে হৈ হৈ কান্ড। আজ সরস্বতী পূজো। ওদের বাড়িতে বরাবর খুব বড় করে পূজো হয়। ওর দাদু খুব নাম করা সাহিত্যিক ও অধ্যাপক প্রিয়ব্রত সরকার। বাড়িতে পূজো উপলক্ষে অনেক নাম করা লোকজন আসেন। আসে ওনার ছাত্র ছাত্রীরা। বাড়ি গমগম করে। আজ আবার তার সাথে যুক্ত হয়েছে অন্তরার বিয়ের পাকা দেখা। পাত্র পক্ষের তরফ থেকে আজকের দিনের কথা বলা হয়েছে। অন্তরা প্রিয়ব্রত বাবুর একমাত্র নাতনী। ওনার ছোটো ছেলে দেবব্রত সরকারের একমাত্র মেয়ে। একটা পথ দুর্ঘটনায় দেবব্রত আর ওনার স্ত্রী মেয়েকে একা করে দিয়ে চলে গেল। তখন অন্তরার তখন চার। তারপর প্রিয়ব্রত বাবু আর ওনার স্ত্রী বুকে করে ওকে মানুষ করেন। সকাল থেকে অন্তরা আর ওর ছোটো বৌদি ইপ্সিতা পূজোর জোগাড় করতে ব্যস্ত। দুজনের মধ্যে সম্পর্ক খুব মধুর, যেন দুই বন্ধু। ইপ্সিতা লক্ষ্য করে অন্তরা যেন কয়েকদিন একটু অন্যমনস্ক রয়েছে; আজ তো আবার দেখে মনে হচ্ছে রাতে ঘুমায়নি।কাজ করতে করতেই বলে কদিন ধরে লক্ষ্য করছি তুই একটু যেন চাপে আছিস! কী হয়েছে? এই বিয়েতে কি তোর মত নেই? তাহলে দাদুকে বলে দে। নারে বৌমনি ঠিক বিয়ের জন্য নয় আমি চাপে আছি অন্য একটা কারনে। কি কারণে? দ্যাখ বিয়েটা যে আমি খুব খুশি হয়ে করছি তা নয়। তবে আমার চাপের কারণ অন্য। কয়েক দিন যাবৎ একজন খুব জ্বালাচ্ছে ফোনে। মানে! কীভাবে? কল করে? না না কল নয়। তাহলে? কিছু মেসেজ যেগুলো আমাকে ভাবাচ্ছে। ঠিক বুঝতে পারছি না, খুলে বল। বলবো, তোকে ছাড়া কাকে বলে বলবো; এখন কাজগুলো চটপট সেরে নিই তারপর উপরে গিয়ে সব বলছি। ঠিক আছে তাই হবে। যদি কিছু করতে পারি। এরপর দুজনে কাজে মন দেয়। প্রিয়ব্রত বাবু সরস্বতী পূজোর ব্যাপারে খুব খুঁতখুঁতে। উনি সবসময় বলেন দিদিভাই আমাদের তো দেবী সরস্বতীর দয়াতেই সব তাই দেবীর আরাধনা খুব যত্ন করে, নিষ্ঠার সাথে করতে হবে। অন্তরা সেই ছোটো থেকে দাদু ও ঠাম্মার সাথে ঠাকুরের কাজ করতে করতে সব শিখে নিয়েছে। এখন ঠাম্মা নেই; বছর তিন আগে চলে গেছে তারাদের দেশে। এখন অন্তরার দোসর ইপ্সিতা, ওর জ্যাঠতুতো দাদা শুভমের বৌ। প্রিয়ব্রত বাবুর বড়ো ছেলে ঋতব্রত সরকার পেশায় উকিল। তার দুই ছেলে প্রীতম বড়ো আর শুভম ছোট। বড়ো বাবার মতো উকিল আর ছোট দাদুর পথ বেছে নিয়েছে। ওর স্ত্রী শিক্ষিকা। বড়ো ছেলে স্থানীয় এক বড়ো লোক ব্যবসায়ীর একমাত্র মেয়েকে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়ির কাছেই থাকে। মাঝে মধ্যে আসে বাড়িতে তবে বড়ো বৌ এর সাথে ছোট জা বা ননদের তেমন ভাব নেই। বড়ো লোকের মেয়ে বলে একটু নাক উঁচু। পূজোর জন্য এখানে উপস্থিত হয়েছে সে। তবে কোনো কাজে সে নেই। তাছাড়া বড়ো দাদা হিসেবে প্রীতম কে থাকতে বলেছেন দাদু। কোনো একটা কারণে দাদু নাতির মধ্যে একটা ঠান্ডা লড়াই আছে সেটা বোঝে অন্তরা, কিন্তু জানেনা সঠিক ভাবে। দাদু কে ও খুব ভালোবাসে শুধু নয় শ্রদ্ধা ও করে খুব। দাদু কে এই সরস্বতী পূজার সময় অন্তরার মনে হয় ছোটো বাচ্চা। ওরা সব ঠিকঠাক করে গুছিয়ে বাকি দায়িত্ব ছাত্র ছাত্রীদের দিয়ে উপরে চলে যায়। উপরে গিয়েই ইপ্সিতা অন্তরাকে বলে আগে বল কি ব্যাপার? তুই তো জিৎ এর কথা জানিস, আমার বন্ধু আবীরের পিসির ছেলে। আবীরের দিদির বিয়েতে পরিচয় হয়েছিল। হ্যাঁ বলেছিলি যে তোকে ওর পছন্দ ছিল। বেশি কিছু না। হ্যাঁ তোকে তখন ওটুকুই তোকে বলেছিলাম। আসলে বলতে ইচ্ছা করেনি। কিন্তু আজ তোকে সবটুকু না বললে হবে না। বেশ সে বলবি; কিন্তু ওর কথা আসছে কেন হঠাৎ! ও তো কবেই হারিয়ে গেছে ,ইপ্সিতা বলে। তুই তো বলেছিলি ও ধুমকেতুর মতো এসেছিল আবার হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে সেইভাবেই। একদমই তাই। এরকমই এক সরস্বতী পূজোর দিন সে আমাকে প্রপোজ করে, আমাদের কলেজের সরস্বতী পূজার প্রোগ্রামে গান গাইতে গেছিলাম, আবীরের সাথে ও এসেছিল। প্রোগ্রাম শেষে সেদিন আমাকে ও প্রোপোজ করে। আমি সেদিন কোনো কথাই বলতে পারিনি, শুধু ফোন নম্বর আদানপ্রদান হয় মাত্র। ও তখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। তারপর ফোনে কথা হতো, হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন রকম কবিতা, গল্প, জ্ঞানীগুণী মানুষের উক্তি পাঠানো ছিল ওর রোজকার অভ্যাস। ওর মধ্যে কোনোদিন কোনো খারাপ কিছু পাইনি। তাই বেশ ভালো লাগতো কথা বলতে। আমরা দেখা করেছি মাত্র দু চারবার । এইভাবেই বেশ চলছিল ; কিন্তু কি যে হলো কি জানি! একবছর পর আবার সেই সরস্বতী পূজোর সময়, পূজোর পরেরদিন একটা কফি শপে যাই দেখা করতে। অনেকটা সময় কাটাই ,দুজনের জীবনের স্বপ্ন ইচ্ছা এসব নিয়ে আলোচনা হয়; পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিই পরস্পরকে। তারপর একটা সময় যে যার মত নিজের নিজের জায়গায় ফিরে যাই। সেদিন থেকেই শুরু হয় ছন্দ পতন। ফোন বন্ধ, কোনো মেসেজের উত্তর নেই, কল নেই। তারপর হঠাৎ একদিন মেসেজ করে যদি সত্যি আমাকে ভালোবেসে থাকো তাহলে অপেক্ষা করো আমি আবার ফিরে আসবো। ব্যস আর কোন সাড়া শব্দ নেই তারপর থেকে। আবীরের কাছেও কোনো খবর পাই না। প্রায় ছ বছর হতে চলল। তারপর কত কিছুই তো ঘটে গেছে সব তুই জানিস, শুনেছি ছোড়দার কাছ থেকে। আমার বিয়ে নিয়ে বড়দা আর জ্যেঠুর সাথে দাদু ভাই এর অশান্তি। তখন যদি ছোড়দা দাদু ভাই এর পাশে না থাকতো তাহলে কি যে হতো শেষ পর্যন্ত জানিনা। সব কিছু সামলে দাদু ভাই আর ছোড়দার সাহায্যে আজ আমি পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি। তার সাথে মনের মধ্যে একটা আশা ছিল তাই অপেক্ষাও করেছি। কিন্তু দাদু ভাই বিয়ের কথা বলায় এবার আর আমি কিছু বলতে পারিনি। কারন আমার কাছে আর কোনো অজুহাত নেই। আর সমস্যা শুরু সেই দিন থেকে। আবার আমার ফোনে সেইসব মেসেজ যে রকম জিৎ পাঠাতো। কাল রাতে তো আবার আমি কাল আসছি এই মেসেজ পাঠায় এই দ্যাখ বলে ফোনটা দেখায় ইপ্সিতাকে। এখন বোঝ আমি কি অবস্থায় আছি। একদিকে দাদু ভাই এর অতিথিরা আসছে এখন যদি আমি না বলি তাহলে দাদু ভাই এর সম্মানহানি হবে আবার অন্য দিকে আমার ভালোবাসাকে অস্বীকার করা হবে দাদু ভাই এর সাথে সহমত হলে। আমি কি করি এখন তুই আমাকে বলে দে বৌমনি বলে অন্তরা ইপ্সিতাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। ইপ্সিতা ওকে শান্ত করার চেষ্টা করে। বলে আজকের দিনটা দাদুর অতিথিদের সামনে চল । তারপর তোর দাদার সাথে কথা বলে দেখি কি করা যায়। দুজন এরপর ঠিকঠাক হয়ে নেমে আসে। ওদের দেখে প্রিয়ব্রত বাবু বলেন এই তো আমার দুই জীবন্ত সরস্বতী এসে আমার উৎসবের প্রান সঞ্চার করলো। পূজো হলো, ভোগ বিতরণ পর্ব শেষ হতে হতে প্রায় বিকেল হয়ে গেল। এরপর বিকেলের সেই বিশেষ পর্ব। অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রীতম আর ওর স্ত্রী সঞ্চারী থেকে গেল। দাদুর কথায় সঞ্চারী অন্তরার ঘরে গেল দেখতে ও তৈরি হয়েছে কিনা দেখতে। অন্তরা তখনও বসে আছে হাতে ফোন নিয়ে। মুখে চোখে দুশ্চিন্তার ছাপ। যদিও সঞ্চারীর চোখে সেসব পরে না। ঘরের ভিতর গিয়ে বলে কিরে এখনও তৈরি হোস নি? ওরা এলো বলে তাই দাদুর কথায় দেখতে এলাম। কেন যে তখন তোর বড়দার কথায় রাজি হলি না! আজ তাহলে কোথায় থাকতিস। অন্তরা এসব কথায় বিরক্ত হয় ও বলে তুমি গিয়ে দাদুকে বলো আমি যাচ্ছি। এখন আর এসব ভালো লাগছে না। অন্তরার কথায় সঞ্চারী রাগ করে। বলে ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি। দাদুর কথায় এসেছিলাম। আমার কি দরকার তোর ঘরে আসার। সঞ্চারী বেরিয়ে যেতেই ইপ্সিতা ঘরে ঢোকে। দিদি ভাই কি বলতে এসেছিল রে? জিজ্ঞাসা করে। দাদুর কথায় দেখতে এসে ছিল আমি তৈরি হয়েছি কিনা। আর এসে সেই পুরোনো কাসুন্দি। তুই বা এখনো তৈরি হোস নি কেন? কি করে হবো! এই দ্যাখ বলে ফোনটি দেখায় মেসেজ আমি আসছি। এবার ইপ্সিতা ও একটু যেন ঘাবড়ে যায়। কি হবে এবার? আমার এখন মরে যেতে ইচ্ছা করছে। তুই যে কি বলিস অন্তু?? একদম আজেবাজে বকবিনা।। এখন এগুলো পড়ে তৈরি হয়ে নে। এই বলে একটা ঢাকাই শাড়ি আর কিছু হালকা গয়না দেয়। বেশ শাড়িটা পড়ছি কিন্তু গয়না পড়েন না। আবার ওরকম করে! এনেছি তোর জন্য পড় না সোনা বলে ইপ্সিতা অন্তরার গাল ধরে আদর করে দেয়। ধুর তুই ও বুঝতে পারছিস না বৌমনি! সব বুঝতে পারছি কিন্তু এই মূহুর্তে কিছু করার নেই। ওনারা এসে গেছেন। দাদু তোমার জন্য অপেক্ষা করছেন। এরপর আর কিছু বলার থাকে না অন্তরার। ও তৈরি হয়ে ইপ্সিতার সাথে নিচে যায়। নীচে বসার ঘরে সবাই বসে আছে দাদু, জ্যেঠু, দাদারা বসে আছেন অতিথিদের সাথে। অন্তরা আসলে দাদু উঠে এসে ওকে সবার সামনে নিয়ে এসে বলেন দেখো তো দিদি ভাই আমার পছন্দ করা পাত্র কে তোমার মনে ধরে কিনা? তোমার পছন্দ হলে তবেই আমি কথা এগিয়ে নিয়ে যাবে। যে দিন থেকে বিয়ের কথা বলেছি সেদিন থেকেই তোমার মুখে আষাঢ় মাসের মত মেঘের ঘনঘটা দেখছি। অন্ত লজ্জা পায়। তখন ওর ছোড়দা শুভম বলে ওঠে ঠিক বলেছো দাদু মনে হচ্ছে ওকে আমরা দ্বীপান্তর করে দেব। বলে হাসতে থাকে শুভম। আর একটা হাসির আওয়াজ কানে যেতেই চমকে ওঠে অন্তরা। এ কাকে দেখছে! ওর অবস্থা দেখে দাদু মুচকি হাসে। অন্তরার অবস্থা দেখে দাদু বলে ওঠেন কি হল দিদি ভাই পাত্র কি তোমার পছন্দ হয়নি? তাহলে এখনই বলো আমি নাকোচ করে দিই। দাদুর কথায় সম্বিত ফিরে পায় অন্তরা। ও মাথা নামিয়ে নেয়। ওর চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসে। দাদু বোঝেন তাই ইপ্সিতার দিকে তাকিয়ে বলেন নাতবৌমা যাও তো ওদের দুজনকে উপরে নিয়ে যাও। ওরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে নিক। অন্তরা একথা শুনে স্বস্তি পায়। ওর তো তখন মূর্ছা যাওয়ার মতো অবস্থা। সত্যি না স্বপ্ন সেটাই ঠিক করে বুঝে উঠতে পারছে না। দাদুর কথা শুনে বাকিরা মুচকি হাসেন। অন্তরা সেদিকে না তাকিয়ে তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে উপরে ওর ঘরে চলে যায়। ও বুঝতে পারছে না কি ঘটছে! এটা কি করে সম্ভব? দাদু ওকে কোথায় পেলো? সত্যি কি ও দাদুর ছাত্রের ছেলে? এরকম অনেক প্রশ্ন অন্তরার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে, এমন সময় কী খুব অবাক হয়েছো তো? আমি কি বলেছিলাম ? আমি ঠিক ফিরে আসব। এসেছি তো ফিরে। হ্যাঁ এভাবে আসবো এটা তুমি ভাবতে পারোনি। কিন্তু আমি আমার বলা সময়ের মধ্যেই ফিরে এসেছিলেন। অবাক হয়ে ছলছল চোখে তাকিয়ে থাকে অন্তরা। আজ ওর ভাষা হারিয়ে গেছে। অথচ মন হাজার প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। কি দেখছো? কিছু বলো। আজকের এই দিনটার জন্য অনেক কষ্ট করেছি, অনেক অপেক্ষা করেছি। বলে শত্রুজিৎ। অন্তরা কিছু বলতে পারেনা। আজ চোখের জলে ওর বুক ভেসে যাচ্ছে। এমন সময় দাদু আসেন আজকের এইদিনটির জন্য আমিও অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু দিদি ভাই তোমার বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ আছে। এবার দাদুর দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকায় অন্তরা। দাদু বলেন আমি জানতাম আমিই তোমার জীবনের সব থেকে বড় বন্ধু অথচ তুমি আমাকেই কিছু জানানো। এবার কথা বলে অন্তরা আমি কি বলতাম তোমাকে? আমি নিজেই যে কিছু বুঝতে পারিনি। দাদু বলেন ঠিক আছে বোঝার জন্য সময় দেওয়া হবে এখন চলো আমরা আশীর্বাদটা সেরে নিই। আশীর্বাদ পর্বের শেষে অন্তরা আর জিৎ কে একা ছেড়ে দিয়ে সবাই নিচে যায় জলযোগের ব্যবস্থা করতে। ওরা দুজন হঠাৎ এভাবে কাছাকাছি এসে কথা খুঁজে পায়না। কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পর অন্তরা বলে ওঠে কি করে কি হলো আমাকে একটু পরিস্কার করে বলবে? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। সব বলবো বলেন তো এসেছি। বলে শত্রুজিৎ হাত ধরে অন্তরাকে পাশে বসায়। তারপর বলে আমাকে ক্ষমা করো এছাড়া আমার উপায় ছিল না। ঘটনার শুরু যেদিন আমাদের শেষ দেখা হয় সেদিন থেকেই। আমাদের একসাথে দেখে তোমার বড়দা। তুমি গাড়িতে উঠে যাওয়ার পরে ওনারা মানে তোমার বড়দা আর বৌদি আমাকে অনেক কথা বলেন। সেসব আজ আর তোমাকে শুনতে হবে না। তবে আমি সেদিন এটি বুঝতে পারি তোমার সব স্বপ্ন আশা শেষ হতে চলেছে। যে স্বপ্নের কথা তুমি তার কিছু আগেই আমাকে বললে সেসব নষ্ট হয়ে যাবে এই আশঙ্কায় আমি আবীরের কাছ থেকে তোমার দাদুকে ফোন করি এবং সবটা ওনাকে জানাই। একটা কথা বলি তোমার দাদা বৌদি আমাকে বলেছিলেন তোমার সাথে যোগাযোগ রাখলে ওনারা তোমার ক্ষতি করে দেবেন। আমি দাদুকে সব জানাই। উনিই তখন আমাকে পরামর্শ দেন যে আমি যেন তোমার সাথে আপাততঃ যোগাযোগ না রাখি। দুজন দুজনের স্বপ্ন গুলো সফল করার জন্য সময় দিই। এটা আমাদের আর একটা পরীক্ষা ছিল আমরা সত্যিই ভালোবেসে ছিলাম কিনা। যদি এই সময়ের মধ্যে আমাদের জীবনে অন্য কারো প্রবেশ ঘটত তাহলে বুঝতে হতো আমরা ভালোবাসি নিয়ে পরস্পরকে। তাছাড়া তোমার রেজাল্ট সেবছর খুব খারাপ হয়ে ছিল। দাদুর মনে যে প্রশ্ন ছিল আমার সাথে কথা বলার পর তা উনি পরিস্কার বুঝতে পারেন তোমার রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারনে। তোমাকে খুব ভালো জানতেন তাই বলেন ওকে আঘাত না দিলে ও নিজেকে তৈরি করতে পারবে না। নিজেদের তৈরি করে তবেই আবার আমাদের দেখা হবে। এটাই ছিল দাদুর শর্ত। তখন আমার খুব রাগ হয়েছিল দাদুর উপর তবু মেনে নিয়েছিলাম একটা শর্তে দাদু যেন তোমার পাশে সবসময় থাকেন আর তোমার স্বপ্ন সফল করতে সাহায্য করেন। আজ দেখো আমরা নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছি। আজ মনে হচ্ছে দাদু যদি সেদিন ওটা না করতেন তাহলে আজকের এই আনন্দের দিন টা আসত না। অন্তরা স্তব্ধ হয়ে শুনে যাচ্ছে জিৎ এর কথা। আর ভাবছ কত কিছুই না ঘটে গেছে এ কবছরে অথচ ও কিছুই জানেনা। জিৎ বলে দাদুর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আজ ওনার পরামর্শ শুনেছিলাম বলে জীবনে সফল হতে পেরেছি। আর দেখো আজও সেই সরস্বতী পূজোর দিন। এইদিন আমাদের বিচ্ছেদ ঘটে ছিল আবার আজ সরস্বতী পূজোর দিনেই আমাদের পুনর্মিলন হলো। আমরা সত্যিই মা সরস্বতীর আশীর্বাদ ধন্য। চলো এবার নীচে গিয়ে দাদুকে প্রনাম করি।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২২
নিবন্ধ

মরীচিকা (The Mirage)

নীল আকাশের বুকে পেঁজা তুলোর মতভেসে যাওয়া মেঘের পিছু-পিছু,ছুটে চলে অভিমানী মন, দূরে, বহু দূরে;যেথা শিশিরে ভেজা জোনাকির আলোআর কদমের ঘ্রাণে মেশা মিষ্টি বাতাসগড়েছে শান্তির উপনিবেশ।মধ্যাহ্নের প্রচন্ড দাবদাহে, ঝলসে যাওয়ামৃতপ্রায় মন খুঁজে পায় শিউলির শীতল পরশ।ক্ষয়িষ্ণু আয়ুর প্রহর গুনতে গুনতেআসে বসন্তের শিহরণ।তৃষ্ণার্ত হৃদয়ে কামনার হাতছানি আততায়ীর মতো।আকণ্ঠ নীলিমা পান করে, জ্যোৎস্না প্লাবিতছায়াপথ ধরে এগিয়ে যাই,কোন অনামি নক্ষত্রের কক্ষপথের দিকে।অস্তিত্ব রক্ষার প্রবল সংগ্রামের মাঝেক্ষণিকের অজ্ঞাতবাস। ক্ষীণ হয়ে আসেধমনীতে প্রবাহিত রক্তের দাপাদাপি।প্রাণভরে নিই গভীর প্রশ্বাস।তবু অবচেতন মনের কোণেউঁকি মারে ভয়।এই বুঝি ভোর হয়।পূবের আকাশে রক্তের ছিটে।অচিরেই সরে যাবে কুয়াশার চাদর।অন্ধকারের অজ্ঞাত আশ্রয় থেকে বেরিয়েআমাকে সম্মুখীন হতে হবে জ্বলন্ত সুর্যের।দারিদ্র্যের লেলিহান শিখায় দগ্ধ হবেবিবেক, মনুষত্ব আর বিশ্বাসের।প্রবঞ্চকের শানিত তরবারি নির্মমআঘাত হানবে আমার বুকে।অনৈতিকতার নির্লজ্জ চাবুক নেমে আসবেশরীরে, মনে, প্রতি রোমকূপে-রোমকূপে।প্রত্যেকদিনের যুদ্ধে জয়ী তুমিই হবে,হে দারিদ্র্য, তুমিই জয়ী নিয়তির অমোঘ বিধানে।আমি নিরস্ত্র অসহায়।অপুষ্টিতে ভোগা, ঘামে ভেজা আমার ক্লান্ত শরীরহয়ে আসবে অবসন্ন।রুধিরস্নাত শরীরের রঙ মিশে যাবেসূর্যাস্তের বর্ণচ্ছটায়।তবু আমি হাঁটব।প্রেমহীন, স্থবির সমাজের চোখে চোখ রেখে,জীবনপথের অতিভূজ ধরে,এক বুক স্বপ্ন নিয়ে হেঁটে যাবমরীচিকার পানে নবজীবনের সন্ধানে।কবিঃ দীপক কুমার মণ্ডল

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

রি-ইউনিয়নের গল্পে পরিচালক হিসাবে অভিষেক হচ্ছে সৌম্যজিতের

৯০ মিনিটের মিউজিক্যাল ড্রামা #হোমকামিং দিয়ে পরিচালক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছেন অভিনেতা সৌম্যজিত মজুমদার। এই ছবির চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি এবং প্রযোজনার মতো গুরুদায়িত্বও তাঁর কাঁধে। ছবিটি মূলত রিইউনিয়নের গল্প বলবে। ইতিমধ্যে ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে এবং বেশ ভালো সাড়া পেয়েছে। ছবিতে অভিনয় করছেন সায়নী গুপ্তা, তুষার পাণ্ডে, প্লবিতা বরঠাকুর, সোহম মজুমদার, হুসেইন দালাল, পূজারিণী ঘোষ সহ আরও অনেক তারকা। এই ছবির সবথেকে বড় দিক হল সোনি লিভ এর মতো ন্যাশানাল ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রথমবার কোনও কলকাতার ছবি মুক্তি পাচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গতবছর কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে পরিচালক জানিয়েছিলেন তিনি নার্ভাস নন। প্রথম ছবি করলেও তাঁর কোনও অসুবিধা মনে হয়নি। এছাড়া অভিনেত্রী প্লবিতা বরঠাকুর জানিয়েছিলেন প্রথমবার তিনি বাঙালি অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করলেন। তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাটা খুব ভালো।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২২
নিবন্ধ

উপলব্ধি (Perception)

সকাল থেকে কেয়া খুব ব্যস্ত। অফিসে আজ একটা প্রেসেন্টেশন আছে একটু তাড়াতাড়ি বেরোতে হবে। এখনো মালতি দি এলো না সকাল আট টা বাজলো। একটু চিন্তাই হচ্ছে ওর। আজ সৌমাল্য নেই যে ওকে বলবে একটু পরে বেরোতে মেয়েটা কে স্কুল থেকে আনতে হবে। মেয়েকে সকালে স্কুলে পাঠিয়েছে কিন্তু মালতী দি না আসলে আনবে কে? এসব চিন্তা করতে করতে নিজের ব্যাগ টিফিন সব গুছিয়ে রাখ্ছে এমন সময় বেল বাজলো।যাক বাবা শেষ পর্যন্ত এসেছে। দরজা খুলে মালতী ঢুকতেই কেয়া একটু জোরেই বলে উঠলো এতো দেরি করলে কেনো ?তোমাকে তো কাল কতবার করে বলেদিলাম তাড়াতাড়ি আসতে।মালতী মুখটা কাঁচুমাচু করে বলল কাল রাত থেকে ছেলেটার খুব জ্বর । তাই দেরি হয়ে গেল।কেয়া আর কিছু বলল না। নিজে তৈরি হয়ে বেরিয়ে গেল।মালতী কাজে লেগে পরলো । মিষ্টি এসে খাবে, ওর খাবার তৈরি করতে হবে। রাতের রান্না করে বারি যায় ,তাই সেটাও রেডি করে রাখতে হবে। আজ আবার দাদা ফিরবে। এসবের মাঝে মনটা ছেলেটার জন্য উদাস হয়ে যাচ্ছে।মিষ্টি কে আনার সময় হয়ে গেছে মালতী বেরিয়ে পরলো । মিষ্টিকে এনে স্নান করিয়ে খাইয়ে ঘুম পারাবে মিষ্টি তখন জিজ্ঞাসা করলো--ও মালু পিসি তোমার কি হয়েছে? আজ তুমি কথা বলছো না কেনো? তোমাকে মা বকেছে?মালতী মিষ্টি কে বুকে টেনে নেয়। না সোনা মা বকেনি। আসলে আমার বাড়িতে যে দাদাটি আছে তার খুব শরীর খারাপ তাই আমি তার কথা ভাবছিলাম।তুমি চুপ করে ঘুমিয়ে পর । সন্ধ্যেবেলা পড়তে বসে নাহলে ঘুমিয়ে পড়বে। মা বকবে তখন।মিষ্টি ঘুমিয়ে পরে।এরপর মালতী বিকেলের কাজ সারতে থাকে। যদি তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে পারে।কাজ করতে করতে সন্ধ্যে হয়ে এলো ঠিক সেই সময় দাদা মানে মিষ্টির বাবা বাড়ি ফিরলেন। সৌমাল্য অফিসের কাজে বাইরে গেছিল কদিনের জন্য।মালতী দাদাকে চা দিয়ে মিষ্টিকে খাইয়ে রেডি করে দিল। ওকে পড়াতে আসবে।মালতী কাজ করতে করতে ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে বারবার । সব কাজ হয়ে গেল সন্ধ্যে সাতটা বেজে গেলো কিন্তু বৌদি আসেনি তাই ও বাড়িতে যেতে পারছে না।শেষে দাদাকে বলে বাড়ি চলে গেল।কেয়া বাড়ি ফিরল রাত তখন নটা। ক্লান্ত শরীর, ফ্রেশ হয়ে বসে সৌমাল্যর অফিসের কথা বলতে বলতে রাত হয়ে গেল। মিষ্টি খেতে খেতে বলল , আচ্ছা মামমাম আমার শরীর খারাপ হলে তুমি অফিস যাবে?কেনো সোনা? তুমি একথা কেনো বলছো?বোলোনা মাম মাম ।তখন কেয়া কি করবে বুঝে উঠতে পারেনা। মেয়েটা হটাত একথা কেনো বলছে? কেয়া বলল না সোনা আমি অফিস যাব না।তাহলে মালু পিসি কেনো আসবে মাম মাম?মালু পিসির ছেলের তো খুব জ্বর । সারাদিন মালুপিসির সারাদিন মন খারাপ করছিল।মেয়ের কথা শুনে কেয়া অবাক হলো,এইটুকু মেয়ে যেটা বুঝল আমরা বুঝতে পারলাম না।ওদের মা মেয়ের কথার মাঝে বাবা এসে হাজির হলো।ঠিক আছে মামমাম কাল মালু পিসিকে আসতে বারণ করে দেবো। আর আমরা গিয়ে মালু পিসির ছেলেকে দেখে আসবো।আমিও কাল অফিস যাব না।ওরা বুঝল সত্যি স্বার্থের কারণে ওরা চোখে দেখ্তে পায়নি যেটা সেটা ওইটুকু মেয়ে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।শিশুরাই বলতে পারেরাজা তোর কাপড় কোথা?এই উপলব্ধি বড়োদের স্বার্থের দুনিয়ায় নেই।রাখি রায়-র কলমে আরও কিছু লেখাআরও পড়ুনঃ দাগ (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ কুঁড়ে ঘর থেকে ক্রিকেটের নন্দনকাননেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ মিঠির ডায়েরি (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)

জানুয়ারি ৩০, ২০২২
নিবন্ধ

আত্মপ্রকাশ - ছোটো গল্প

আজকের এই সংবর্ধনায় আমি আপ্লুত, তোমরা সকলে আমার সন্তান তুল্য। আজ তোমাদের একটা কথাই বলবো -- কোনো বিষয় কম গুরুত্বপুর্ণ নয়, যে বিষয় ভালো লাগবে সেটা ভালোবেসে পরলেই তার গভীরে ঢোকা যায়; পাওয়া যায় অমৃতের সন্ধান। -- ঐতিহাসিক ও ইতিহাসের লেখক সৌমেন বসু রায় ছলছল চোখে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে এই কথা গুলি বলে শেষ করলেন তার বক্তব্য।হলের সামনের সারিতে মুগ্ধ দৃষ্টিতে বসে আছেন তার দাদা আর বৌদি।আর এসবের উদ্ক্তা তার ভাইপো কুশাঙ্কুর।ছোটোবেলা থেকে মুখচোরা ঘরকুনো ছেলেটির মধ্যে যে এতগুন তার পরিবারের কেউ জানেনা। চার ভাই বোনের মধ্যে সে মেজো। মেধাতেও মধ্য। দাদা আর ছোটো ভাই বোন দুজন খুব ভালো পড়াশুনায়। তারা যখন স্কুলের পরীক্ষায় অঙ্ক, বিজ্ঞান বিষয়ে ভালো ভালো নম্বর নিয়ে আসত সে তখন ইতিহাসের পাতায অতীত খূঁজে বেড়াত। বাবা তো বলেই ফেলতেন ওর দ্বারা কিছু হবেনা।দাদা ডাক্তার হলো, ছোটো যমজ ভাইবোন দুটো ইঞ্জিনিয়ার। সবাই গ্রাম ছেড়ে বাইরে থাকে। আর সৌমেন বাবু গ্রামের হাই স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক।তিনি গ্রামের বাড়িতে মা বাবা কে নিয়ে থাকেন, অকৃতদার।ওনার খবর কেউ খুব একটা রাখেনা। উনিও সবার কাছথেকে নিজেকে দুরে রাখেন। শুধু মায়ের কাছে সব কথা বলেন।হটাত তার এইভাবে সামনে আসার পিছনে একটা মজার গল্প আছে। এবারে তার ডাক্তার দাদা বৌদির একমাত্র ছেলে ক্লাস নাইন এ উঠেছে। স্কুল থেকে যে বই কিনতে বলেছে সেগুলো কিনতে গিয়ে দাদা হিস্ট্রি বইএর লেখকের নাম দেখে দোকানে জিজ্ঞাসা করে বইটা কেমন হবে।এই প্রশ্ন শুনে বইয়ের দোকানের মালিক নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে বলেন -- কী বলছেন স্যার! এই লেখক যে নিচু ক্লাসের বই লিখেছেন এটাই অনেক।উনি তো গ্রাজুয়েশন লেভেলের নিচে লেখেন না। ছাত্রছাত্রীরা ওনার কাছে পড়তে পারলে নিজেদের ধন্য মনে করে।আরও বললেন যে প্রকাশক বইটা পাবলিশ করেছেন তার বিশেষ অনুরোধে উনি লিখেছেন।এতো সব শুনে দাদা রমেন ভাবছেন কে এই লেখক? ওনার ভাই নয় তো?উনি জিজ্ঞাসা করবেন কি করবেন না ভাবতে ভাবতে জিজ্ঞাসা করেই ফেললেন যে এই লেখকের বাড়ি কোথায়? উনি কি করে এতকিছু জানলেন।আবার ভদ্রলোক বলতে শুরু করলেন আমি গেছিলাম ওনার বাড়িতে। প্রকাশক যে আমার বন্ধু।গ্রাম ভালবাসেন তাই উনি গ্রামের স্কুল এ পড়ান। খুব লাজুক প্রকৃতির মানুষ।বাঁকুড়ার এক গ্রামে ওনার বাড়ি। মা বাবার সঙ্গে থাকেন।গ্রামের নাম শুনে রমেন এর কাছে সব পরিস্কার হয়ে গেল। সে তো ভাবতে পারছে না।বাড়ি এসে স্ত্রী কে সব বলল। উনিও অবাক কারণ সাদামাটা দেওরটিকে কোনোদিন সেভাবে পাত্তা দেননি অতি আধুনিকা ডাক্তার বৌদি।সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে ভাই দীপেন আর বোন দীপশিখা কেও জানলেন সব ঘটনা। সবাই তো শুনে অবাক।ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি ছুটলেন রমেনবাবু।মা বাবা তো অবাক ওদের দেখে।বাবাকে সব বললেন তার মেজো ছেলের কথা। বাবার চোখে জল;মা বললেন তোরা কোনো দিনই ওকে কাছে ডাকিস নি জানবি কি করে যে তোদের ভাইটাও তোদের থেকে কোনো অংশে কম না। বরং বেশি, কারণ ও বড় বড় কলেজে পড়ানোর কাজ ও নেয়নি শুধু মাত্র গ্রাম ছেড়ে আমাদের ছেড়ে যেতে হবে বলে।এতো সব কথার মাঝে কখন ভাইপো গিয়ে তার প্রিয় কাকাই কে হাত ধরে সবার মাঝে নিয়ে এসেছে। বাবা ছেলের মাথায় হাত রেখে বলেন ক্ষমা করে দিস বাবা।এইভাবে বাড়ির সবাই ঘরকুনো ছেলেটা কে জানল।তারপর জা করার করেছে ভাইপো কুশাঙ্কুর। ওদের স্কুলের বার্ষিক প্রোগ্রামে একজন গুনী মানুষ কে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। ও স্কুলের প্রিন্সিপ্যালকে গিয়ে সব বলে । আর উনি তো খুশি হয়ে সৌমেন বসু রায় কে আনার দায়িত্ব ওকেই দেন।এভাবেই আত্মপ্রকাশ ঘটে আড়ালে থাকা প্রতিভার। সবাই চেনে লুকিয়ে থাকা লেখক কে।রাখি রায়-র কলমে আরও কিছু লেখাআরও পড়ুনঃ দাগ (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ কুঁড়ে ঘর থেকে ক্রিকেটের নন্দনকাননেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ মিঠির ডায়েরি (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্ব

জানুয়ারি ২৩, ২০২২
নিবন্ধ

Small Story: বাণপ্রস্থ (ছোট গল্প)

শিমুলতলি গ্রামের সবাই আজ ছুটে চলেছে তাদের ভগবান কে একবার শেষ দেখা দেখ্তে। আজ গ্রামের এতো উন্নতি যার জন্য সেই বাবাঠাকুর আজ তারার দেশে পাড়ি দিয়েছেন।লোকে লোকারন্য আজ তার প্রিয় বাণপ্রস্থের মাঠ। শহর থেকেও বহুমানুষ এসেছে।কিন্তু প্রশ্ন হলো কে এই মানুষটি? কেনই বা সবাই তার জন্য এতো কষ্ট পাচ্ছে।তিনি হলেন সুবিনয় রায়চৌধুরী,কলকাতা শহরের এক নামী কলেজের অধ্যাপক । এটাই তার একমাত্র পরিচয় নয়।আজকে তার জন্য মানুষের মনে তার জন্য এই বেদনার কারণ জানতে হলে ফিরে যেতে হবে পনেরো বছর আগে------সুবিনয় বাবু তখন অবসর নিয়েছেন বেশ কিছুবছর, তার স্ত্রী চারুলতা দেবী ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা । তিনিও মাস ছয় হলো অবসর নিয়েছেন। সুবিনয় বাবু অবসর সময় কাটাতে মাঝে মাঝে গ্রামের বাড়িতে যেতেন । সেখানে গিয়ে তার মনে হয় গ্রাম টা যেন অনেক পিছিয়ে পড়েছে। এসব কথা তিনি জানান স্ত্রী চারুকে আর ঐ গ্রামেই একসঙ্গে বড়ো হয়ে ওঠা যে কজন বন্ধুর সঙ্গে এখনো যোগাযোগ আছে তাদের। তারাও সবাই কর্মসূত্রে বাইরে থাকে।স্ত্রী অবসর নেওয়ার পর তারা ভাবতে থাকেন কিভাবে অবসর জীবনটা কাটান যায়। কারণ এতদিন সংসারের যাবতীয় কর্তব্য দুজনে খুব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। ছেলে মেয়েরা আজ সুপ্রতিষ্ঠিত নিজ নিজ ক্ষেত্রে । সবার বিয়ে হয়ে গেছে। বেশ একটা সুখী পরিবার। কিন্তু তাদের মন অন্য কিছু চায়। সংসারে আর আটকে থাকতে চান না তারা। বন্ধুদের সঙ্গেও এই নিয়ে আলোচনা চলে।একদিন ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে ডেকে পাঠান বাড়িতে।সবাই হাজির কৌতূহলী হয়ে।কি কারণ হতে পারে কেউ আন্দাজ করতে পারছে না।অবশেষে বাবা মা হাজির হয়ে অপেক্ষার অবসান ঘটান। গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন তারা আগামী মাসে। ওখানেই তারা থাকবেন এবার থেকে।ছেলেরা চুপ করে শুনছে তাদের কথা অবাক চোখে।কেনো আমরা কি কোনো ভুল করেছি? জিজ্ঞাসা করে ছেলের বৌরা ।তাদের থামিয়ে দিয়ে সুবিনয় বাবু বলেন না না তোমরা আমাদের খুবই যত্নে রেখেছ।কিন্তু আমরা আর সংসারে থাকতে চাই না। এবার আমরা বাণপ্রস্থে যেতে চাই। তাই গ্রামের বাড়িতে একটা আশ্রম করছি। আমরা ছোটো বেলার কিছু বন্ধু একসঙ্গে থাকতে চাই । আবার ফিরে যেতে চাই সেই শৈশবে । আর যে গ্রামে আমরা বড়ো হয়েছি কিছু করে যেতে চাই তার জন্য।তাই আগামী মাসে আমরা আমাদের আশ্রম বাণপ্রস্থে চলে যাব।ছেলে মেয়েরা বাবার কোনো সিদ্ধান্ত কে কোনোদিন অসম্মান করেনি। কিন্তু আজ সবাই আপত্তি করলো। গ্রামের জন্য কাজ করতে চাও ভালো কথা । সেটা তো এখান থেকেই হয়।ওখানে গিয়ে থাকার কি খুব দরকার আছে? মেয়ের কথা শুনে চারুলতা দেবী বললেন সব কাজ দুর থেকে হয়না। তাছাড়া আমাদের এখন বাণপ্রস্থেরই সময়। তোমরা এখন নিজেরা সব সামলাতে চেষ্টা কর।আর কোনো কথা বাড়াল না কেউ।এর একমাস পরে তারা সবাই হাজির হলেন একে একে শিমুলতলিতে। তারা শুরু করেন ছেলে মেয়েদের পড়ানো, নানারকম হাতের কাজ শেখান। এইভাবে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল।তারপর অনেকেই এসেছেন এখানে থাকতে। অবশ্যই যারা ওনাদের মত গ্রাম ভালবাসে, সেবা করতে চায় তারাই। এখন গ্রামের ছেলেমেয়েরা অনেকেই বাইরে কাজ করে।অনেক উন্নতি হয়েছে গ্রামের।এই সবই হয়েছে যার ঐকান্তিক ইচ্ছায় আর উদ্যগে তিনি হলেন সুবিনয় রায়চৌধুরী ।আজ তার খবর পেয়ে ছেলেমেয়েরাও এসেছে। তারা অবাক চোখে দেখ্ছে বাবা মা আর তাদের বন্ধুদের কর্মকান্ড।তারা কোনোদিনই গ্রামে আসেনি। আজ তারা অভিভূত গ্রামের মানুষদের আন্তরিকতায়।বাবার এই কর্মকান্ড তারা বুঝতেই পারেনি। আজ নিজেদের খুব ছোটো লাগছে। তিন ভাইবোন বাবার পায়ের কাছে বসা মাকে ঘিরে ধরে। মা বলে আজ তোরা শুধু নয় শিমুলতলি গ্রাম পিতৃ হারা হলো। এই কথায় ওরা আর নিজেদের রুখতে পারলো না । কেঁদে ফেলল ছোট্ট বাচ্ছাদের মত। বাবার পায়ে হাত দিয়ে শপথ করলো তিন জনেই আর আমরা দুরে থাকব না। বাবার এই আশ্রমের সব দায়িত্ব আজ থেকে আমাদের।দিনটা ছিল পিতৃদিবস ,বাবার প্রতি এটাই ওদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।।লেখিকাঃ রাখি রায়রাখি রায়-র কলমে আরও কিছু লেখাআরও পড়ুনঃ দাগ (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ কুঁড়ে ঘর থেকে ক্রিকেটের নন্দনকাননেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ মিঠির ডায়েরি (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

ডিসেম্বর ২৬, ২০২১
বিনোদুনিয়া

Tonic : 'টনিক' নিয়ে জনতার কথায় পরিচালক অভিজিৎ সেন

মুক্তি পেল টনিক। ইচ্ছেপূরণের গল্প নিয়ে এই ছবি। বড়পর্দায় পরিচালক অভিজিৎ সেনের এটা প্রথম কাজ। তাই টনিক নিয়ে খুব এক্সাইটেড তিনি। প্রিমিয়ারের দিন তাঁর কথাতেই উঠে এল সেই এক্সাইটমেন্ট।জনতার কথাঃ তোমার এটা ফার্স্ট ফিচার ফিল্ম। কেমন লাগছে? অভিজিৎঃ দারুণ লাগছে। টনিক আজ সিনেমাহলে মুক্তি পেল। এটা স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো পরিচালকের বা প্রযোজকের,অভিনেতা-অভিনেত্রী বা কলাকুশলীর যারা টনিক সিনেমার সঙ্গে যুক্ত বা যেকোনো সিনেমার সঙ্গে যুক্ত তাদের ছবি রিলিজ হলে আলাদা একটা উত্তেজনা কাজ করে। মানুষ কেমনভাবে তাদের ছবিটা পছন্দ করছে সেটা ডেফিনেটলি তারা জানতে চায়। সেদিক থেকে আমিও খুব উৎসাহী। মানুষ ছবিটা কতটা ভালোবাসছে বা ছবিটা থেকে কতটা এন্টারটেন হচ্ছে সেটা দেখার জন্য। টনিক একটা ফ্যামিলি ফিল্ম। টনিক পরিবারের সবাই একসাথে বসে হইহই করে দেখার ছবি, মজার ছবি।জনতার কথাঃ পরাণ দা ও দেবের কেমিস্ট্রি নিয়ে কি বলবে?অভিজিৎঃ পরাণ দা ও দেবের অসাধারণ কেমিস্ট্রি এখানে দর্শকরা দেখতে পাবেন। সেটা সিনেমাহলে অলরেডি যে সকল দর্শক দেখেছেন এক কথায় বলছেন অসাধারণ। আমার খুবই ভালো লাগছে প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষরা অনেক এনজয় করছেন। জনতার কথাঃ আজকে কি পরিচালক তাহলে লটারি জিতে গেল?অভিজিৎঃ সাধারণ মানুষ যখন আমাদের কাজ ভালোবাসেন, আশীর্বাদ করেন তখন আমাদের পরিশ্রম আর পরিশ্রম থাকে না। সেটাই আমাদের উৎসাহিত করে আরও ভালো কিছু করার জন্য। ল্টারি তো টনিক অলরেডি জিতে গেছে। কিন্তু আমরা চাইব সবাই মিলে সিনেমাহলে আসুন, সিনেমা দেখুন। আর একটা কথা বলবো বাঙালি ভ্রমণ ভালোবাসে। সেই ভ্রমণের একটা ভালো জায়গা আমরা তুলে ধরেছি এই টনিকে।

ডিসেম্বর ২৫, ২০২১
বিনোদুনিয়া

Haami-2 : আজ থেকে শুরু হল ‘হামি-২’র শুটিং

২০১৮ সালে হামি বিপুল সাফল্য লাভ করে। সেদিক মাথায় রেখেই হামি-২ নিয়ে আসছে উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউস। পরিচালক ও অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এই খবরটি জানিয়েছেন। তিনি হামি২-র লাল্টুর ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন,তৃতীয়বার লাল্টু। পদবী ও পেশা চমক রইল। কাল থেকে শ্যুটিং শুরু। আশীর্বাদ করুন যেন আপনাদের মন রাখতে পারি। সবার জন্য রইল অনেক হামি। গতকাল এই পোস্টটি তিনি করেন। অর্থাৎ আজ থেকে শুরু হল এই ছবির শুটিং। ২০২০ সালের মার্চ মাসে হামি-২র শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার জন্য শুটিং এর তারিখ পিছিয়ে যায়। অবশেষে ২০২১ এর শেষে এই ছবির শুটিং শুরু করল উইন্ডোজ প্রোডাকশন। এর আগে হামি তে ভুতুর বাবা লাল্টু বিশ্বাস এবং রামধনু তে লাল্টু দত্তর চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিবপ্রসাদ। ছাপোষা বাঙালির চরিত্রে তাকে দর্শকরা যথেষ্ট পছন্দ করেছেন। শোনা যাচ্ছে হামি তে যারা অভিনয় করেছেন হামি-২ তেও তারাই রয়েছেন। উইন্ডোজ প্রোডাকশনের ২০২২ এ অনেকগুলো ছবি তাদের পাইপলাইনে রয়েছে। ফেব্রুয়ারি- বাবা বেবি ও, ২০ মে - বেলা শুরু, ১৭ জুন - লক্ষ্মী ছেলে এবং সব ঠিক থাকলে, আগামী বছর বড়দিনে অর্থাৎ ২৩ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে হামি ২।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২১
বিনোদুনিয়া

Dev : 'নো প্যানিক অনলি টনিক' দর্শকদের মনের টনিক হয়ে উঠতে তৈরি দেব

নো প্যানিক অনলি টনিক। অভিজিৎ সেনের পরিচালিত ছবি এবং বেঙ্গল টকিজের প্রযোজিত ও দেব এন্টারটেনমেন্ট ভেঞ্চারসের সহ-প্রযোজনায় টনিক মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২৪ ডিসেম্বর। দেবের জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বর। জন্মদিনের ঠিক আগের দিন মুক্তি পাচ্ছে টনিক। টনিক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করেছেন দেব। ছবিতে দেখা যাচ্ছে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন এই টলি স্টার। পরনে একটা টিশার্ট। যেখানে লেখা নো প্যানিক অনলি টনিক। মূলত ইচ্ছেপুরণের গল্প বলবে টনিক। এখানে দেব একজন ট্র্যাভেল এজেন্সির কর্মী। দুই বয়স্ক দম্পতির ইচ্ছেপুরণ করবেন তিনি। যে চরিত্রে দেখা যাবে পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শকুন্তলা বড়ুয়া কে। এছাড়াও রয়েছেন সুজন মুখোপাধ্যায়, কণীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, রজতাভ দত্ত, বিশ্বনাথ বসু প্রমুখ। টনিক-এ পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কে একদম অন্যভাবে দেখবেন দর্শকরা। রিভার রাফটিং,প্যারা গ্ল্যাইডিং থেকে পাহাড়ে চড়া কিছুই বাদ নেই তার। এবারের দুর্গাপুজোয় মুক্তি পেয়েছে দেবের গোলন্দাজ। যে ছবিটি দর্শকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। এবার পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণের টনিক হয়ে নতুন্রুপে দেখা যাবে দেব কে। বেশ কিছুদিন আগে ছবির ট্রেলার লঞ্চের পর মিউজিক লঞ্চও হয়ে গেছে। দেব জানিয়েছেন গল্পের দিক থেকে টনিক তার জীবনের এখনও পর্যন্ত সেরা ছবি হতে চলেছে।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২১
নিবন্ধ

The Spot : দাগ (ছোট গল্প)

একটা অস্পষ্ট কান্নার আওয়াজে হঠাৎ ঘুম টা ভেঙে গেলো রনিতের। চোখ খুলে দেখে রূপসা ঘুমের মধ্যেই কেমন করছে যেন কাঁদছে মনে হচ্ছে।ওকে ডাকে রানিত-- এই কি হলো তোমার রুশা? অমন করছো কেনো?মাত্র দুমাস হলো ওদের বিয়ে হয়েছে।রনিতের ডাক রূপসা শুনতে পেল না। ও আপন মনে ঘুমের মধ্যেই বলতে থাকে ছাড় ছাড় আমাকে। আমার লাগছে।রণিত বোঝে না কি করবে। ওরা দুজনেই থাকে আর কেউ নেই যে ডাকবে।রণিত একটু জল নিয়ে মুখে ছিটিয়ে দেয়। জলের ছিটে পেয়ে জেগে ওঠে রূপসা।কি হলো স্বপ্ন দেখছিলে? অমন করছিলে কেনো? আমি তো ভীষণ ভয় পেয়ে গেছিলাম। রনিতের এতো গুলো কথার কোনো উত্তর দেয়না রূপসা।শুধু হু আর হ্যাঁ বলে উঠে বাথরুমে যায়, চোখে মুখে জল দিয়ে এসে শুয়ে পড়ে ।রণিতও আর কিছু বলেনা। চুপচাপ শুয়ে পড়ে ।কিন্তু ভেবে পায়না কি হলো হটাত।এরপর খেয়াল করে রূপসা হটাত যেন চুপ করে গেছে। একটু যেন অন্যমনস্ক ।কাছে আসতে চায়না এড়িয়ে যায়।রণিত ওর অফিস কলিগ দেবেশ কে । সব শুনে দেবেশ বলে রূপসা কে আর একটু সময় দে। আর একটু ভালো করে ভরসা দিয়ে কথা বল।সেদিন সেই মত রণিত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরে । রাতে খেয়ে নিয়ে বলে আজ বেশ ভালো চাঁদ উঠেছে চলো আমরা ব্যালকনিতে বসি।দুজন পাশপাশি বসে। রণিত রূপসার হাত নিজের হাতে নিয়ে বলে--- আমাদের মাত্র দুমাস হলো বিয়ে হয়েছে। এখনো ভালো করে দুজন দুজনকে হয়তো চিনে উঠিনি। কিন্তু এটুকু বলতে পারি আমি তোমার ভালো বন্ধু। তুমি আমাকে ভরসা করে সব বলতে পারো।রূপসা চুপ করে বসে থাকে রনিতের হাতটা শক্ত করে ধরে; আর চোখ দিয়ে জল ঝরতে থাকে।পরদিন অফিস গিয়ে দেবেশ কে বলে --- না রে কিছু বললো না; শুধু অসহায় ভাবে কাঁদে। আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।দেবেশ বললো দাঁড়া দেখছি আমি একবার মধুমিতার সঙ্গে কথা বলি। ও খুব ভালো কাউন্সিলার। আমরা খুব ভালো বন্ধু।বলে মধুমিতাকে ফোন করে--- হ্যালো মধু আমি দেবু বলছি রে, খুব দরকার তোকে । আমার কলিগ রনিতের কথা তো তুই জানিস। কিছুদিন আগে যার বিয়ে হলো। ও একটা সমস্যায় পড়েছে ওর বৌকে নিয়ে।তুই একদিন সময় দে আমার বাড়িতে।-------ঠিক আছে তাহলে রবিবার ওদের আসতে বলছি।এই পর্যন্ত কথা বলে দেবেশ রণিত কে বলে ব্যাস আর কোনো চিন্তা নেই তুই রবিবার আমার বাড়ি চলে আয় বৌকে নিয়ে।যথারীতি রবিবার রণিত রূপসা এসে হাজির হয় দেবেশ এর বাড়িতে। মধুমিতাও আসে। মধুমিতা রূপসার সঙ্গে বেশ ভাব জমিয়ে ফেলে।ফিরে আসার সময় রূপসা মধুমিতাকে বলল আমি তোমার কাছে যাব। তোমাকে আমার খুব দরকার।এরপর এক সপ্তাহ কেটে যায়, রণিত খেয়াল করে মধুমিতকে রূপসার বেশ ভালো লেগেছে। একটু হলেও রূপসা স্বাভাবিক হয়েছে।শনিবার রাতে রূপসা রনিত্কে বলে কাল আমাকে একবার কাল মধুমিতাদির চেম্বারে নিয়ে যাবে?রণিত একটু অবাক হয়। বলে কালইযাবে?হ্যাঁ কালই যাব নাহলে যে দেরি হয়ে যাবে।রণিত কিছুটা হাল্কা হলো, কারণ নিয়ে তো যেতে হতই; কি করে ?সেটাই ভাবছিল।যাক নিজে থেকে যখন যেতে চাইল আর কোনো চিন্তা নেই।ও দেবেশ কে সব জানাল । দেবেশ ও খুশি হয়ে বলল ভালো কথা । আমি এখনই মধু কে বলে রাখছি।রবিবার সন্ধ্যাবেলায় রণিত আর রূপসা পৌঁছলো মধুমিতার চেম্বারে। মধুমিত ওদের বসালো।রবিবার সন্ধ্যায় রনিত আর রূপসা হাজির হয় মধুমিতার চেম্বারে। ওদের বসায়, তারপর এটা-সেটা কথা হয়।তারপর রুপসাকে নিয়ে পাশের ঘরে যায়। মৃদু আলোয় ঘরটা বেশ মায়াবি লাগে রূপসার।একটা হেলানো চেয়ারে বসিয়ে মধুমিতা বলে এখানেই আমি তোমার সব কথা শুনব।তারপর দেখি তোমাকে কি ভাবে সাহায্য করতে পারি।এই কথায় রূপসা আরো ভরসা পায়।মধুমিত তখন ওকে আরাম করতে বলে বাইরে আসে রনিতের কাছে।রণিত তোমাকে ভিতরে ডাকলাম না কিছু মনে করো না। আসলে ও তোমার সামনে খুলে সব বলতে পারবে না। তুমি এই হেড ফোন কানে দিয়ে সব শুনতে পারবে এখান থেকে।না না সব ঠিক আছে, তুমি ও নিয়ে কিছু ভেবো না।ও ঠিক হোক তাহলেই আমার হবে।মধুমিতা আবার রূপসার কাছে গেল। এবার ও ওর কাজ শুরু করলো।রূপসা তুমি তোমার মনের গভীরে ডুব দাও। বলো আমায় তোমার কথা......তুমি কে? কি তোমার মনের গহিনে দাগ কেটেছে সব সব বলো।রূপসা আসতে আসতে ডুব দেয় মনের অতলে--চলে যায় ছোটো বেলায়......আমি রূপসা নন্দী। মা বাবার একমাত্র মেয়ে। আমরা থাকতাম শ্রীরামপুর বাবার অফিস কোয়ার্টারে। আর আমার দাদু ঠাকুমা থাকত গ্রামের বাড়িতে। আমি খুব চঞ্চল ছিলাম ছোটো বেলায়। মায়ের কাছে তাই খুব বকুনি খেতাম।আমি যখন ক্লাস ফাইভ এ উঠলাম মা সব সময় আমাকে বলত রূপু বড়ো হচ্ছ আর খালি গায়ে বাইরে বেরোবে না। কিন্তু আমার অবোধ মন শরীরের পরিবর্তন তখনো বোঝেনি।আমি আমার মতই খেলে বেড়াই ছুটে বেড়াই।সেবার রথের মেলায় বাবা গেছিল গ্রামের বাড়ি দাদুর শরীর খারাপ তাই দেখ্তে। আমাকে কে নিয়ে যাবে রথ দেখ্তে মায়ের শরীরটাও ভালো না।অথচ আমি কান্না জুড়েছি। সেই সময় আমাদের পাশের কোয়ার্টার থেকে সুজিত কাকু এসে মাকে বলল বৌদি আমি নিয়ে যাব রুপুকে? দাদা তো বাড়ি নেই। ও যখন কাঁদছে আমি নিয়ে যাই।মা একটু ইতস্তত করছে দেখে বলে কি হবে আমি ওকে মেলায় ঘুরিয়ে নিয়েই চলে আসবো দেরি হবে না। আমিও খুব আনন্দিত হলাম এই কথা শুনে।আমার তখন মেলা দেখা নিয়ে কথা। অথচ এই কাকুকে আমি খুব একটা পছন্দ করতাম না। কাকুর আদর-টা আমার ভালো লাগত না। কিন্তু তখন সব ভুলে গেলাম মেলা দেখতে যাওয়ার আনন্দে।মেলায় গিয়ে ঘুরে ফিরে আমাকে খেলনা,পুতুল কিনে দিল। আমার শিশু মন তো ল্হুব খুশী । কাকু তখন বলল নাগরদোলা চাপবি রূপু? আমি বললাম না গো আমার ভয় করে।ভয় কি আমি আছি তো। খুব মজা লাগে চল ।কাকু আর কোনো কথা না শুনে দুটো টিকিট কেটে একটা দোলায় চেপে বসল আমাকে নিয়ে।যেই নাগরদোলা চলতে শুরু করেছে ব্যাস আমার তো ভয়ে প্রাণ শুকিয়ে যাওয়ার জোগাড় । আর তখন... তখন...তখন কি রূপসা? বলো কি হয়েছিল বলো আমায়। তোমার কোনো ভয় নেই।বলছি...... তখন কাকু আমাকে কোলে তুলে নেয়। আর তার শক্ত দুটো হাত দিয়ে আমার সদ্য প্রস্ফুটিত শরীরটা পিষতে থাকে। অদ্ভুত ভাবে কেউ কিন্তু কিছুই বুঝতে পারে না। আমি ব্যথায় ছটফট করতে থাকি কিন্তু কাকু ছাড়ে না। আবার যখন উপরে উঠি নাগরদোলায় তখন আমার কোমল ঠোঁটের সব রাস যেন শুষে নেয়। ওফ কি ভয়ংকর সে মুহুর্ত। না না আর না, আর পারছিনা আমাকে ছাড়ো ছেড়ে দাও আমাকে...... চিৎকার করে ওঠে রূপসা।রূপসা শান্ত হও শান্ত হও। আর কেউ নেই, কিছু নেই। সব মুছে গেছে, তুমি এখন মুক্ত।তারপর রূপসা আবার বলতে শুরু করে......মেলা দেখে বাড়ি এসে আমি মাকে কিছু বলার আগেই কাকু বলে খুব ভয় পেয়েছে নাগরদোলায়। কাকু চলে যাওয়ার পর আমি যখন বলি আর কক্ষনো কাকুর সঙ্গে মেলায় যাব না। কাকু খুব বাজে। মা কিন্তু বুঝতেই পারেনা। ভাবে নাগরদোলয চাপিয়েছে বলে বলছি।আমরা তারপর ওখান থেকে চলে যাই অন্য জাযগায় বাবার বদলি হয়ে যায়। কিন্তু আমি আর রথের মেলায় যেতে পারি না।এবার আমাদের নতুন বিয়ে হয়েছে। রণিতদের ওখানেও রথের মেলা বসে। রণিত আমাকে নিয়ে যেতে চাইলে আমি না করতে পারি না। কিন্তু আমার মনের গভীরে যে দাগ রয়ে গেছে তা আবার আমাকে কষ্ট দিতে থাকে।রণিত কেও বলতে পারিনি; থামে রূপসা।তারপর বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর মধুমিতা আবার বলে এবার আসতে আসতে চোখ খোল । দেখো সব ঠিক আছে একদম। তুমিও একদম ঠিক আছো।আসতে আসতে চোখ খোলে রূপসা।যেন মনের কোনে জমে থাকা মেঘ যেন হাল্কা হয়।ওদিকে রণিত রূপসার সব কথা শুনে খুব কষ্ট পায়।ভাবে কি গভীর দাগ কেটেছিল শিশু মনে যা আজও রূপসা কে কষ্ট দিচ্ছে। না ওকে আরো ভালবাসা দিয়ে আগলে রাখ্তে হবে।সেদিনের মতো ওরা ফিরে আসে। মধুমিতা আবার যেতে বলে। এই ভাবে দুচার বার যাওয়ার পর রূপসা আবার আগের মতই আবার প্রাণোচ্ছল হয়ে ওঠে।রণিতও ওকে আগলে রাখে বুক দিয়ে। রনিতের আদরে সোহাগে রূপসার মন থেকে মুছে যায় সব দাগ।আজ ওরা খুব সুখী দুজনে দুজনকে নিয়ে।রূপসা আর রনিতের নতুন পথ চলা শুরু............লেখিকাঃ রাখি রায়রাখি রায়-র কলমে আরও কিছু লেখাআরও পড়ুনঃ কুঁড়ে ঘর থেকে ক্রিকেটের নন্দনকাননেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ মিঠির ডায়েরি (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

ডিসেম্বর ১২, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

শাহবাজ রাষ্ট্রসংঘে ভারতকে কাঠগড়ায় তুলতেই পাল্টা জবাব! ওসামা প্রসঙ্গ টেনে দিল্লির কড়া বার্তা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভারতকে নিশানা করে একাধিক অভিযোগ তোলেন। কাশ্মীর, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি এবং গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। এর পরেই ভারতের তরফে জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে পাকিস্তানের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেওয়া হয়।রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব পেটল গেহলট ভারতের হয়ে বক্তব্য রাখেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধির বক্তব্যকে তিনি অদ্ভুত বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্তদের তার পরিণতি ভুগতে হবে।ভারতের পাল্টা বক্তব্যে বিশেষ ভাবে উঠে আসে আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গ। পেটল গেহলট বলেন, রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের সময় ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তির প্রসঙ্গও মনে রাখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে পাক সেনার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কাছে বসবাস করছিলেন।ভারতীয় প্রতিনিধির বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত বছর ভারত দেখিয়েছে যে সন্ত্রাসীদের পালিয়ে যাওয়ার বা লুকিয়ে থাকার জায়গা থাকবে না। সীমান্তপারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের কথাও তিনি জানান। পাকিস্তানের সন্ত্রাসনীতি নিয়ে ভবিষ্যতে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।শাহবাজ শরিফের বক্তব্যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গও ছিল। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের ওই চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। অন্যদিকে ভারত বলেছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসের পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তানের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে গত বছরের সংঘাত এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গও ফিরে আসে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওই সংঘাতের ফলাফল নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক দাবি তুলেছেন। ভারত অবশ্য সেই দাবিগুলির পাল্টা জবাব দিয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।এর আগে পাকিস্তানের এক সাংবাদিক ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। সেই সময় জয়শঙ্কর পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তান কত দিন সন্ত্রাসবাদকে মদত দিয়ে যাবে। এই মন্তব্য নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।ফলে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের পর ভারতের পাল্টা জবাব ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এল দিল্লি-ইসলামাবাদের তীব্র মতবিরোধ। সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর এবং সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির মতো একাধিক বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের অবস্থান যে এখনও পরস্পরের বিপরীত, রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চের এই বক্তব্যে তা আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, রাজ্য পুলিশেই পুরভোট? কমিশনের ভাবনায় বড় বদল

পশ্চিমবঙ্গে ফের পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কলকাতা ও হাওড়া-সহ সাতটি পুরসভায় ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈঠকে ভোটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহকে সামনে রেখে প্রস্তুতি এগোচ্ছে। তবে ভোটের দিনক্ষণ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হয়নি।এই সাতটি পুরসভা হল কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়ং। প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই বুথ, ভোটকর্মী, ভোটকেন্দ্র এবং ইভিএম সংক্রান্ত কাজ শুরু হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে ইভিএম পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।পুরভোটের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণের কাজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কলকাতা ও হাওড়ার ক্ষেত্রে সংরক্ষিত আসনের তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র নির্বাচন এবং প্রয়োজনীয় ভোটকর্মী নিয়োগ নিয়েও প্রশাসনিক স্তরে কাজ এগোচ্ছে।নিরাপত্তার বিষয়টিও কমিশনের প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিবর্তে রাজ্য পুলিশ দিয়েই পুরভোট পরিচালনার বিষয়ে কমিশনের প্রাথমিক ভাবনা রয়েছে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির রিপোর্ট পাওয়ার পরেই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা যাচ্ছে।ভোটের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোন এলাকাকে বেশি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, কোথায় কত পুলিশ মোতায়েন প্রয়োজন এবং কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়গুলিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করে রাখতে চাইছে কমিশন।এদিকে পুরভোটের জন্য ইভিএমের জোগান নিয়েও প্রস্তুতি চলছে। পর্যাপ্ত যন্ত্র পাওয়া যায় কি না, তার উপর ভোট এক দিনে হবে নাকি একাধিক দিনে আয়োজন করা হবে, সেই বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে। ফলে ভোটের দিন ঘোষণা করার আগে একাধিক প্রশাসনিক বিষয় মিটিয়ে নিতে চাইছে কমিশন।কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নিয়ে এবার বিশেষ নজর রয়েছে। হাওড়া পুরসভায় দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন হয়নি। বর্তমানে রাজ্যের মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই এবং প্রশাসকের মাধ্যমে পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় দীর্ঘদিন ভোট না হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা রয়েছে।প্রাথমিক ভাবে সাতটি পুরসভায় ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি চললেও রাজ্যের আরও একাধিক পুরসভায় নির্বাচন বকেয়া রয়েছে। সেই তালিকায় বিধাননগর, দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি, মিরিক, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পূজালি, পাঁশকুড়া, কুপার্স ক্যাম্প এবং নলহাটির মতো পুরসভাও রয়েছে। ফলে আগামী দিনে বাকি পুরসভাগুলির ভোট কী ভাবে এবং কখন আয়োজন করা হবে, তা নিয়েও নজর রয়েছে।সব মিলিয়ে পুজোর মরসুম শেষ হওয়ার পর রাজ্যে ফের ভোটের আবহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে এখনই ভোটের চূড়ান্ত দিন ঘোষণা হয়নি। কমিশনের প্রস্তুতি কোন দিকে এগোয় এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ না অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তার উপরই পরবর্তী ছবিটা স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

মমতার সভার কয়েক ঘণ্টা আগে কুণালের গাড়িতে হামলা! ভাঙল কাচ, শরীরে ঢুকল কাচের টুকরো

শনিবার শ্রীরামপুরে সভা করার কথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জমায়েতে সর্বাধিক এক হাজার মানুষের উপস্থিতির শর্তও রয়েছে। সভার কয়েক ঘণ্টা আগে মমতার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়।কুণাল ঘোষের অভিযোগ, উত্তরপাড়ার কাছে তাঁর গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। এরপর একদল মানুষ গাড়ির দিকে ডিম, পাথর এবং অন্যান্য জিনিস ছুড়তে শুরু করেন বলে তাঁর দাবি। হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে যায় বলেও জানিয়েছেন তিনি। কাচের টুকরোয় তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লেগেছে বলে কুণালের দাবি।কুণালের বক্তব্য, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, রাস্তা আটকে কিছু মানুষ লাঠি ও লোহার রড নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। গাড়ি থামিয়ে কোন গাড়িতে কোন নেতা যাচ্ছেন, তা দেখা হচ্ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।ঘটনার পর কুণাল ঘোষ পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, গাড়ির কাচ ভেঙে পাথর ঢুকে তাঁর ডান কাঁধে আঘাত লাগে। ভাঙা গাড়ি নিয়েই তিনি কলকাতার দিকে রওনা হন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর কথা বলেন।ঘটনাটি নিয়ে তৃণমূলের তরফে বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। দলের নেতাদের দাবি, পরিকল্পিত ভাবে কুণাল ঘোষের গাড়ি আটকানো হয়েছিল। অন্যদিকে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেছে। উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহও একই দাবি করেছেন।ফলে কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। হামলার পেছনে কারা ছিলেন এবং ঠিক কী কারণে গাড়ি আটকানো হয়েছিল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।এরই মধ্যে শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরেও রাজনৈতিক নজর রয়েছে। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সভাটি নির্দিষ্ট সময় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির মধ্যে করতে হবে। জিটি রোডে স্বাভাবিক যান চলাচল বজায় রাখার নির্দেশও রয়েছে।এ দিনের সভাটি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। ফলে সভা থেকে তিনি কী বার্তা দেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে।কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

সিপিএম, কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলার পরেই বড় সিদ্ধান্ত! অভিষেকের সঙ্গে দিল্লি যাচ্ছেন মমতা

রাজনৈতিক মহলে ফের বিরোধী দলগুলির সমন্বয় নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির একটি বৈঠক হতে পারে। সেই বৈঠকে যোগ দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যেতে পারেন বলেও জানা যাচ্ছে। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও থাকতে পারেন বলে সূত্রের দাবি।জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের পরেই আগামী সপ্তাহে বিরোধীদের বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার পরদিন বিরোধী দলগুলির বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।বর্তমানে বিরোধী দলগুলির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি জানিয়েছেন।বিরোধী শিবিরের সূত্রের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে ফের নোটিস দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্কে বিরোধী দলগুলির যৌথ অবস্থান কী হবে এবং আগামী দিনে কী ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।কয়েক দিন আগেই সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছিলেন। পরে দুজনের মধ্যে ফোনে কথাও হয়। বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে ওই কথোপকথন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।তবে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে এখনও সব দলের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় জানিয়েছেন, বৈঠকের চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনও স্থির হয়নি। তাঁর দাবি, এমএ বেবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। রাহুল গান্ধী-সহ অন্যান্য বিরোধী নেতার সঙ্গেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগাযোগ হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।বিরোধী শিবিরের আলোচনায় শুধু ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলিই থাকবে, নাকি জোটের বাইরে থাকা বিজেপি বিরোধী দলগুলিকেও বৈঠকে আনার চেষ্টা হবে, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। কয়েকটি আঞ্চলিক দলের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। তবে কোন কোন দল শেষ পর্যন্ত বৈঠকে যোগ দেবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তাঁর দিল্লি সফর এবং বৈঠকে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনও সূত্রনির্ভর বলেই জানা যাচ্ছে।সব মিলিয়ে এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধী দলগুলির ক্ষোভের আবহে দিল্লির সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কে বিরোধীরা যৌথ কোনও কর্মসূচি নেয় কি না, কিংবা ইন্ডিয়া জোটের বাইরে থাকা দলগুলিকে এই সমন্বয়ের মধ্যে আনা যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

নিম্নচাপ দুর্বল হলেও বৃষ্টি থামছে না! কোথায় জারি করা হল কমলা সতর্কতা?

নিম্নচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করলেও দক্ষিণবঙ্গে শনিবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দু-এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে। সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ মেঘলা এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। তবে দুপুরের পর থেকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের বেশির ভাগ জেলার কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এই বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। রবিবার থেকেও বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমবে। দক্ষিণবঙ্গে আগামী তিন থেকে চার দিনে ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপটি বর্তমানে ছত্তীসগঢ় এবং সংলগ্ন মধ্যপ্রদেশের কাছে অবস্থান করছে। এটি গভীর নিম্নচাপ হিসেবে রয়েছে এবং ধীরে ধীরে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দিকে যেতে পারে। নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গ থেকে দূরে সরে গেলেও সমুদ্রের উপর ঝোড়ো হাওয়া থাকতে পারে। তাই মৎস্যজীবীদের জন্যও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পরামর্শ রয়েছে।দক্ষিণবঙ্গে শনিবারের পর থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হলেও পুরোপুরি বৃষ্টিমুক্ত হতে কিছুটা সময় লাগবে। রবিবারও দক্ষিণবঙ্গের দু-এক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ এবং বিস্তার দুটোই ধীরে ধীরে কমবে। সেপ্টেম্বর মাসের বাকি দিনগুলিতে দক্ষিণবঙ্গে বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গে শনিবার পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই তিন জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। তবে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ির কিছু এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সোমবার থেকে আরও কমবে বৃষ্টির প্রবণতা। কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে পূর্বাভাস।ফলে আগামী কয়েক দিনে বাংলার আবহাওয়ায় দুই রকম ছবি দেখা যেতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপের প্রভাব কাটায় ধীরে ধীরে বৃষ্টি কমবে। অন্য দিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে শনিবার ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কলকাতাতেও শনিবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও রবিবার থেকে ধীরে ধীরে আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়ে ক্ষমতায় মমতা, সেই দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গেই ফোনে কথা! কেন এই বদল?

বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। সেই দুই দলের মধ্যে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের আবহে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই পক্ষের মধ্যে চিঠি বিনিময়ের পর এই ফোনালাপ হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠক হোক। এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এই যোগাযোগের নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে একাধিক বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পর বিরোধী দলগুলির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এম এ বেবি বিরোধী নেতাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই চিঠিতে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে আলোচনা এবং যৌথ কৌশল তৈরির কথা বলা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার জবাবে চিঠি দেন। এরপর দুজনের মধ্যে ফোনে কথাও হয়েছে।তবে এই যোগাযোগকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও সিপিএমের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোট হিসেবে দেখানো হয়নি। আপাতত বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্কে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয়ের প্রচেষ্টা হিসেবেই সামনে এসেছে।এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন এবং আগের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ফের ভোট নেওয়ার দাবিও তোলেন। এগুলি মমতার রাজনৈতিক দাবি; নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্কের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কমিশনের নিজস্ব বক্তব্যও রয়েছে।এদিকে মমতা ও এম এ বেবির যোগাযোগের বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে তৃণমূল ও সিপিএমের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের কারণে। পশ্চিমবঙ্গে দুই দল বহু বছর ধরে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। জাতীয় স্তরে দুদল একই বিরোধী জোটের অংশ হলেও এত দিন তাদের মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ সীমিত ছিল বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে এম এ বেবির সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলাদা করে কথাবার্তা হয়েছিল বলেও সূত্রের খবর। সেই আলোচনায় ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ সংক্রান্ত বিষয় উঠে এসেছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে মমতা-বেবির বর্তমান ফোনালাপের সঙ্গে ওই আগের কথোপকথনকে এক করে দেখার মতো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।সম্প্রতি কলকাতার মুকুন্দপুরে তৃণমূলের মিছিলে হামলার অভিযোগও ওঠে। কয়েক জন কর্মী আহত হন এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনার খবর সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তি-তেও প্রকাশিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদন রয়েছে। তবে হামলার অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য আলাদা এবং ঘটনাটির দায় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে জাতীয় স্তরের বিতর্ক নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এম এ বেবির ফোনালাপ এবং দিল্লিতে বিরোধী বৈঠকের উদ্যোগ সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামী দিনে এই যোগাযোগ কেবল নির্দিষ্ট একটি ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বিরোধী দলগুলির মধ্যে আরও সমন্বয় তৈরি হবে, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

ভোরে বাঁশ-লাঠি নিয়ে দফায় দফায় হামলা! মেদিনীপুরে বিজেপি কর্মীর মৃত্যু, প্রকাশ্যে ভয়াবহ ভিডিয়ো

পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর সদর ব্লকের হাতিহলকা এলাকায় বিজেপি কর্মী শামসের বিশ্বাসকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। বাঁশ ও লাঠি নিয়ে একদল লোক দফায় দফায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনায় আরও এক বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিকেলে। একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা হয়েছিল বলে খবর। পরে পরিস্থিতি সাময়িক ভাবে শান্ত হয়ে যায়। কিন্তু শনিবার ভোরে ফের গোলমাল শুরু হয়। সেই সময়েই শামসেরের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা গিয়েছে।প্রকাশ্যে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কয়েক জন ব্যক্তি বাঁশ ও লাঠি নিয়ে হামলা চালাচ্ছেন। এক বার নয়, একাধিক বার হামলার দৃশ্য ফুটেজে ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ওই ফুটেজ দেখে এখনও হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটির সত্যতা এবং হামলার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।হামলায় আরও এক বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই হাতিহলকা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং পুলিশি টহল চলছে।হামলাকারীরা কারা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি অজয় জানা দাবি করেছেন, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ নেই। তাঁর অভিযোগ, দুষ্কৃতীরাই হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের সম্পর্কে কিছু তথ্য পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।অন্য দিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি সৌমেন তিওয়ারি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গোলমাল এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছিল। তাঁর দাবি, সেই পরিস্থিতির জেরেই ফের উত্তেজনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে শামসের বিশ্বাস আদৌ বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন কি না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।ফলে এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। ঠিক কী কারণে শুক্রবার বিকেলে বচসা হয়েছিল, তার সঙ্গে শনিবার ভোরের হামলার কোনও যোগ রয়েছে কি না, সিসিটিভিতে দেখা ব্যক্তিরাই হামলায় জড়িত কি না এবং মৃত শামসেরের রাজনৈতিক পরিচয় কী ছিলসবই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।এখনও পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কারও নাম নিশ্চিত ভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ-সহ অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরেই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
দেশ

তিন দিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, এসবিআই গ্রাহকদের জন্য বড় ঘোষণা! এটিএম থেকে টাকা তুললে লাগবে না বাড়তি টাকা

২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে তিন দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক খোলা রাখার পরিবর্তে দুদিন সাপ্তাহিক ছুটির দাবিসহ একাধিক বিষয়ে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংগঠনগুলি। মাসের শেষে এই ধর্মঘটের কারণে শাখাভিত্তিক ব্যাঙ্ক পরিষেবায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া।স্টেট ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ধর্মঘট চলাকালীন তাদের গ্রাহকেরা দেশের যে কোনও ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারবেন এবং ওই সময় এটিএম লেনদেনের প্রযোজ্য চার্জ নেওয়া হবে না। এমনকি সাধারণ নিয়মে মাসিক বিনামূল্যে লেনদেনের সীমা পেরিয়ে গেলে যে অতিরিক্ত এটিএম চার্জ দিতে হয়, ধর্মঘটের ওই তিন দিনে সেই চার্জও মকুব থাকবে।অর্থাৎ, ধর্মঘটের কারণে ব্যাঙ্কের শাখায় পরিষেবা ব্যাহত হলেও জরুরি প্রয়োজনে এটিএম থেকে নগদ টাকা তোলার ক্ষেত্রে এসবিআই গ্রাহকদের অতিরিক্ত এটিএম চার্জ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তবে কোন এটিএমে পর্যাপ্ত নগদ রয়েছে, তা এলাকা ও সময় অনুযায়ী বদলাতে পারে। তাই একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় নগদ ব্যবস্থার বিষয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা করে নেওয়া ভাল।শুধু এটিএম নয়, ধর্মঘটের সময় এসবিআইয়ের ডিজিটাল পরিষেবাগুলিও চালু থাকবে। ইউপিআই, মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং, ওয়াই-ফাইভো অ্যাপ এবং অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় ব্যাঙ্কিং পরিষেবার মাধ্যমে নিয়মিত লেনদেন করা যাবে। ফলে টাকা পাঠানো, বিল দেওয়া বা অন্যান্য সাধারণ ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।তবে চেক জমা দেওয়া, ডিমান্ড ড্রাফট তৈরি, ঋণ সংক্রান্ত নথি জমা বা শাখায় গিয়ে করতে হয় এমন অন্য কোনও জরুরি কাজ থাকলে তা ধর্মঘটের আগে সেরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ধর্মঘটের দিনগুলিতে শাখার স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির শাখা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ওই দিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ও আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলি স্বাভাবিক ভাবে কাজ করবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কও ওই দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখা, দফতর, এটিএম-সংযুক্ত শাখা এবং নগদ ভাণ্ডার চালু রাখার অনুমোদন দিয়েছে।এর ফলে ২৬ সেপ্টেম্বরের ছুটি, ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার এবং তার পরের তিন দিনের ধর্মঘট মিলিয়ে শাখাভিত্তিক ব্যাঙ্ক পরিষেবায় টানা কয়েক দিনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই ধর্মঘটের আগে রবিবার ব্যাঙ্ক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ব্যাঙ্ক কর্মীদের সপ্তাহে দুদিন ছুটির দাবিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চলছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট হয়েছিল। এবার ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর তিন দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক পরিষেবা যাতে দীর্ঘ সময় ধরে বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সরকার ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ একাধিক বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।সব মিলিয়ে ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর শাখায় গিয়ে ব্যাঙ্কের কাজ করার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অসুবিধা হতে পারে। তবে এসবিআইয়ের ঘোষণায় ওই তিন দিন এটিএম থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে বাড়তি চার্জ মকুব থাকবে এবং ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবাও চালু থাকবে। তাই জরুরি শাখাভিত্তিক কাজ থাকলে তা ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সেরে নেওয়াই সুবিধাজনক।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal