• ১২ ভাদ্র ১৪৩৩, রবিবার ৩০ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

DA

রাজ্য

শিয়ালদহে রাতভর ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক! একাধিক লোকাল বাতিল, বদল ট্রেন পরিষেবায়

শিয়ালদহ স্টেশনে গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজের জন্য টানা সাত ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক নিতে চলেছে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। পয়েন্ট কনভার্সন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজের জন্য শনিবার, ২৯ আগস্ট এবং রবিবার, ৩০ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে এই ব্লক নেওয়া হবে। এর জেরে ৩০ আগস্ট, রবিবার সকালে শিয়ালদহ শাখায় একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল এবং একটি ট্রেনকে নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই থামিয়ে দেওয়া হবে।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ আগস্ট রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদহ স্টেশনের DN/Main Line-এর KM 0/19 থেকে KM 0/20 অংশে Point No. 208B/219A-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান 52 Kg DSS-কে 60 Kg DSS-এ রূপান্তর করা হবে। ট্র্যাকের ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্টও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হবে।শুধু ট্র্যাক পরিবর্তন নয়, এই বৃহৎ পরিকাঠামোগত কাজের অংশ হিসেবে গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিংয়ের প্রয়োজনীয় ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিয়ালদহ স্টেশনের সংশ্লিষ্ট লাইনে ট্রেন চলাচল এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।রেলের তরফে জানানো হয়েছে, Track Circuit পরিবর্তনের কাজও ব্লকের সময় করা হবে। একই সঙ্গে Line No. 6 এবং Line No. 11-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট এই সময় প্রভাবিত থাকবে। এত বড় মাপের কাজ যাতে যাত্রী পরিষেবায় তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে, সে কারণেই সপ্তাহান্তের গভীর রাত থেকে ভোরের সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।বাতিল একাধিক লোকালএই পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ৩০ আগস্ট বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন বাতিল থাকবে। রেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ীশিয়ালদহহাবড়া: 33651 UP / 33652 DNশিয়ালদহকল্যাণী সীমান্ত: 31313 UP / 31316 DNশিয়ালদহডানকুনি: 32217 UP / 32218 DNশিয়ালদহরানাঘাট: 31615 UP / 31620 DNশিয়ালদহহাবড়া: 33653 UP / 33654 DNএছাড়াও Train No. 53172 DN (লালগোলাশিয়ালদহ)-কে ৩০ আগস্ট দমদম জংশনে (DDJ) শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। অর্থাৎ ওই দিন ট্রেনটি শিয়ালদহ পর্যন্ত না গিয়ে দমদম জংশনেই যাত্রা শেষ করবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেনটির খালি রেক শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়ে আসা হবে।যাত্রীদের জন্য বিশেষ বার্তারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যাত্রীদের দুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমানোর লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে এই কাজ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দ্রুত স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির কর্মীদের সাইটে মোতায়েন রাখা হবে।শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, কাজটি নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং এবং কমার্শিয়াল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সাময়িক পরিবর্তন সম্পর্কে জানাতে শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।রেলের দাবি, এই পয়েন্ট কনভার্সন ও ট্র্যাক নবীকরণের ফলে শিয়ালদহ স্টেশনের ট্র্যাক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং দক্ষতা আরও বাড়বে। যদিও কাজের সময়সূচির কারণে রবিবার কিছু ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত করতেই এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক জরুরি বলে জানিয়েছে রেল।তাই ৩০ আগস্ট যাঁদের শিয়ালদহমুখী বা শিয়ালদহ থেকে বিভিন্ন শাখায় যাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি ও পরিষেবার সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন। সাময়িক এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতার আবেদনও জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

আবার নিম্নচাপের চোখরাঙানি! রবিবার থেকে মঙ্গলবার ভিজবে বাংলা, কোথায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা?

রবিবার থেকেই বাংলার আবহাওয়ায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। উপকূলের দিকে ইতিমধ্যেই মেঘ ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে রবিবার থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলতে পারে।গত সপ্তাহে নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ। কলকাতা-সহ প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টি হয়েছিল। বহু জায়গায় জল জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। অগস্ট মাসে এটি তৃতীয় নিম্নচাপ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নতুন এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নতুন নিম্নচাপটি বাংলা ও ওড়িশা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বেশি হতে পারে। কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে নিম্নচাপের মূল প্রভাব পড়তে পারে ওড়িশা এবং ছত্তীসগঢ়ে।দক্ষিণবঙ্গের পর মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।বৃহস্পতিবারও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে সপ্তাহের শুরু থেকেই ফের বৃষ্টির দাপট দেখা দিতে পারে বাংলায়। নতুন নিম্নচাপের গতিপথ এবং শক্তি বদলালে বৃষ্টির পূর্বাভাসেও পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

মহাকাশে বদলে যাচ্ছে ভারতের ছবি! স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে কী বললেন মোদী?

জাতীয় মহাকাশ দিবসে দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার দেশের প্রথম সারির মহাকাশ স্টার্টআপগুলির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে স্টার্টআপগুলির উদ্যম, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নতুন ভাবনার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন আরও সহজ করতে মহাকাশ প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার খুঁজে বার করার পরামর্শ দেন তিনি।মোদী বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তিকে শুধু প্রচলিত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেই বিষয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেন তিনি।ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি সরকারি নীতির ধারাবাহিকতার উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের সিদ্ধান্তের উপর মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজ করা সংস্থাগুলির যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।বিশ্বের মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন মোদী। তাঁর আশা, আগামী দিনে মহাকাশ ক্ষেত্রে কোনও বড় প্রযুক্তিগত সাফল্য এলেই বিশ্বের নজর ভারতের স্টার্টআপগুলির দিকে ঘুরবে। ভারতীয় সংস্থাগুলি যেন বিশ্ব মহাকাশ ক্ষেত্রে নিজেদের শক্তিশালী পরিচয় তৈরি করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগোতে হবে বলে বার্তা দেন তিনি।মহাকাশ স্টার্টআপ, মহাকাশ সংস্থা এবং বৃহত্তর প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে কাজ করা ভারতীয় দক্ষ পেশাদারদের দেশে ফিরে আসার প্রবণতাকেও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতে এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ মানুষ মহাকাশ ক্ষেত্রে কেরিয়ার গড়ার জন্য ভারতকে অন্যতম সেরা ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন।মোদীর বক্তব্য, ভারতীয় মহাকাশ স্টার্টআপগুলির দ্রুত বৃদ্ধি আগামী দিনে বিশ্বের প্রতিভাবান পেশাদারদের আকৃষ্ট করতে পারে। শুধু দেশের প্রতিভা নয়, গোটা বিশ্বের দক্ষ মানুষকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এগোতে হবে। জাতীয় মহাকাশ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
নিবন্ধ

জর্জ বিশ্বাস: রবীন্দ্রনাথের গানের ভিতর এক বিদ্রোহী মানুষের বসত

বাংলা গানের ইতিহাসে কিছু কিছু কণ্ঠ আছে, যাদের শুধু গায়ক বললে অন্যায় হয়। তাঁরা যেন একটি সময়ের কণ্ঠস্বর, একটি মননের প্রতিনিধি, কখনও বা একটি অসমাপ্ত তর্কের নাম। দেবব্রত বিশ্বাস তেমনই একজন। বাঙালির কাছে তিনি জর্জ বিশ্বাস, আরও আপন করে বললে জর্জদা।আজও তাঁর গলায় যেতে যেতে একলা পথে কিংবা এ মণিহার আমার নাহি সাজে ভেসে এলে মনে হয়একজন মানুষ গান গাইছেন না, নিজের সমস্ত জীবনটাকে খুলে রেখে গেছেন শ্রোতার সামনে। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ কখনও নিছক সুর নন; তিনি হয়ে ওঠেন অভিমান, প্রেম, প্রতিবাদ, নিঃসঙ্গতা এবং মানুষের অন্তর্গত দীর্ঘশ্বাস।দেবব্রত বিশ্বাসের জন্ম ১৯১১-র ২২ আগস্ট অবিভক্ত বাংলার বরিশাল জেলার কিশোরগঞ্জে। ছোটবেলাতেই তাঁর জীবনে গানের প্রবেশ। মায়ের কাছ থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও ভক্তিগীতি শোনা, পরে কলকাতায় এসে নানা বিশিষ্ট শিল্পী ও সুরকারের সংস্পর্শসব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছিল এক অদ্ভুত সঙ্গীতমন।কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের মুহূর্তগুলির একটি এসেছিল ১৯২৮ সালে। সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের ভাদ্রোৎসবে প্রথমবার তিনি কাছ থেকে দেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথকে। তখন কবির বয়সের ভার, শরীরের ক্লান্তিতবু দেবব্রতের চোখে তিনি ছিলেন যেন সুরের রাজা। সেই দর্শন তাঁর মনে এমনভাবে গেঁথে গিয়েছিল যে, বহু বছর পরেও রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাছে কোনও দূরের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেননি; বরং থেকে গিয়েছিলেন এক অন্তরঙ্গ অথচ অধরা মানুষ।সম্ভবত সেই কারণেই রবীন্দ্রসঙ্গীত তাঁর কাছে কখনও শুধু গান হয়ে ওঠেনি।গান, না কি মানুষের কথা?জর্জদার গলার প্রথম যে জিনিসটি শ্রোতাকে থামিয়ে দিত, তা হল তাঁর কণ্ঠস্বর। গভীর, ভারী, উদাত্তকখনও যেন মেঘের মতো, কখনও আবার শুকনো পাতার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়ার মতো বিষণ্ণ। তাঁর গলায় শব্দেরও যেন আলাদা শরীর ছিল।তিনি জ্যোৎস্না বললে জ্যোৎস্না দেখা যেত। বেদনা বললে শব্দটির মধ্যে যেন সত্যিই একটা ব্যথা জন্ম নিত। পাতায় পাতায় উচ্চারণে মনে হত, অন্ধকার বাগানে কোথাও জলবিন্দু পড়ছে।এখানেই তাঁর গায়কির আসল জাদু।রবীন্দ্রসঙ্গীতকে তিনি কেবল স্বরলিপির অনুগত সুর হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে গান ছিল কবিতার উচ্চারণ, আর সেই উচ্চারণের মধ্যে মানুষের নিঃশ্বাস থাকা চাই। তাই তাঁর গানে কোথাও দীর্ঘ টান, কোথাও শব্দের উপর বিশেষ চাপ, কোথাও বা হঠাৎ থেমে যাওয়াসবই যেন গানের কথাকে জীবন্ত করে তুলত।এই কারণেই তাঁর গান শুনলে কখনও মনে হয় তিনি গাইছেন নাকথা বলছেন। আর কখনও মনে হয়, কথা বলতে বলতে হঠাৎ গান হয়ে গেলেন।জর্জ নামটির গল্পটিও কম মজার নয়দেবব্রত নামের মানুষটি কী করে জর্জ হয়ে গেলেন?ছোটবেলায় অসুস্থতার সময়ে তাঁকে দেখাশোনা করা এক ইংরেজ নার্সের দেওয়া নাম থেকেই জর্জ নামটির সূত্রপাত বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক লেখায় উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে রাজা ছিলেন পঞ্চম জর্জ। পরে সেই নামই এমনভাবে তাঁর সঙ্গে মিশে যায় যে, দেবব্রত বিশ্বাসের চেয়ে জর্জদা নামটিই মানুষের মুখে বেশি আপন হয়ে ওঠে।অদ্ভুত ব্যাপারযে মানুষটির নামের সঙ্গে এক ব্রিটিশ রাজার ছায়া জড়িয়ে ছিল, তিনিই পরে গানের ভিতর দিয়ে ঔপনিবেশিক মানসিকতার বাইরে এক সম্পূর্ণ বাঙালি সত্তাকে প্রতিষ্ঠা করলেন।জর্জদা ছিলেন গম্ভীর, আবার বেশ মজার মানুষওতাঁকে শুধু গম্ভীর রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ভাবলে ভুল হবে। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বেশ রসিক, খানিকটা খামখেয়ালি, এবং অনেকটাই নিজের মতো করে চলা মানুষ। দক্ষিণ কলকাতার ছোট ভাড়াবাড়িতে তাঁর জীবন ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। অথচ সেই ছোট ঘরেই গান, চিঠিপত্র, পান সাজানোর সরঞ্জাম, বই আর অসংখ্য মানুষের আনাগোনাসব মিলিয়ে যেন এক আশ্চর্য সাংস্কৃতিক আড্ডা বসত।তিনি রান্না করতেও ভালবাসতেন। মশলাদার রান্নার প্রতি তাঁর বিশেষ টান ছিল বলে তাঁর সম্পর্কে লেখা স্মৃতিচারণে জানা যায়। আবার কলকাতার রাস্তায় তাঁকে মোটরবাইক চালিয়েও দেখা যেতএই দৃশ্য তাঁর গম্ভীর রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়ক ভাবমূর্তির সঙ্গে বেশ বেমানান, অথচ মানুষটি যে এমনই ছিলেন, সেটাই তাঁর চরিত্রের মজা।আর ছিল তাঁর পানপ্রেম। ছোট ঘরে বসে পান সাজছেন, সামনে হারমোনিয়াম, পাশে চিঠির ফাইলএই ছবিটি যেন তাঁর জীবনের এক অদ্ভুত প্রতিকৃতি।কেউ কেউ তাঁকে একটু পাগলাটে বলতেন। কিন্তু সেই পাগলামির মধ্যেও ছিল গভীর শৃঙ্খলাগানের প্রতি, শব্দের প্রতি, নিজের বিশ্বাসের প্রতি।রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর কাছে গণমানুষের গানজর্জদার সঙ্গীতজীবন শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীতে আটকে ছিল না। গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল মানুষের আরও কাছে। তিনি গণসঙ্গীত গেয়েছেন, রাজনৈতিক মঞ্চে গান গেয়েছেন, মানুষের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কণ্ঠের সেই বজ্রগম্ভীর শক্তি শুধু প্রেমের গানেই নয়, মানুষের অধিকারের গানেও সমানভাবে ধ্বনিত হয়েছে।দেশভাগ তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তাঁর কণ্ঠ মানুষের কাছে পৌঁছেছিল। রবীন্দ্রনাথকে তিনি তাই কেবল অভিজাত ড্রয়িংরুমের কবি বলে ভাবেননি। তাঁর কাছে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন মাঠের মানুষেরও কবি, দুঃখী মানুষেরও কবি, প্রতিবাদী মানুষেরও কবি।সেই জায়গা থেকেই হয়তো তাঁর রবীন্দ্রসঙ্গীত এতখানি মাটির গন্ধ বহন করে।আর তারপর শুরু হল বড় সংঘাতজর্জ বিশ্বাসের জীবনকে যদি একটি নদী ভাবা যায়, তবে ষাটের দশক ছিল সেই নদীর সবচেয়ে উত্তাল বাঁক।রবীন্দ্রসঙ্গীত কীভাবে গাওয়া হবেস্বরলিপি কতটা মানতে হবে, কোন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে, গানের প্রকাশভঙ্গি কতখানি স্বাধীন হতে পারেএই প্রশ্নে তাঁর সঙ্গে বিশ্বভারতী-নির্ভর প্রচলিত রীতির সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে।১৯৬৪ সালে তাঁর গাওয়া মেঘ বলেছে যাব যাব এবং এসেছিলে তবু আসো নাই নিয়ে আপত্তি ওঠে। পরে পুষ্প দিয়ে মারো যারে ও তোমার শেষের গানের মতো গান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাঁর গানে অতিনাটকীয়তা, স্বরলিপি থেকে বিচ্যুতি এবং অতিরিক্ত বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছিল।কিন্তু জর্জদা পিছিয়ে যাওয়ার মানুষ ছিলেন না।তাঁর যুক্তি ছিল সরলরবীন্দ্রনাথের গান যদি মানুষের অনুভূতির গান হয়, তবে তাকে শুধু কাগজের স্বরলিপির মধ্যে বন্দি করে রাখা যায় না। রবীন্দ্রনাথ নিজেই ভারতীয় ও পাশ্চাত্য সঙ্গীতের নানা উপাদানের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন; তাহলে তাঁর গানে নতুন বাদ্যযন্ত্র বা নতুন প্রকাশভঙ্গির দরজা বন্ধ থাকবে কেন?এই প্রশ্নই তাঁকে ক্রমশ একা করে দিয়েছিল।অবশেষে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের রেকর্ড করা প্রায় বন্ধ করে দেন। বাইরে অনুষ্ঠান করাও কমিয়ে দেন। অথচ তখন তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে যে তাঁর রয়্যালটি সমসাময়িক বহু প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর চেয়েও অনেক বেশি ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।এ যেন আশ্চর্য এক পরিহাসযে শিল্পীকে শ্রোতা আরও শুনতে চায়, সেই শিল্পীই একদিন নিজের গান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন।ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীতনিজের জীবন ও সঙ্গীতভাবনা নিয়ে তিনি লিখেছিলেন ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত। বইটি শুধু আত্মজীবনী নয়; এক অর্থে নিজের শিল্পীসত্তার পক্ষে তাঁর জবানবন্দি। রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রচলিত রীতির সঙ্গে তাঁর সংঘাত, নিজের গায়কির দর্শন এবং শিল্পীর স্বাধীনতাসবকিছু নিয়েই সেখানে তাঁর অকপট বক্তব্য রয়েছে।নামটিই যেন তাঁর জীবনকে বলে দেয়ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত।তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের একনিষ্ঠ প্রেমিক, অথচ রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রাতিষ্ঠানিক পাহারাদারদের সঙ্গে তাঁর সংঘাত। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের গানকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাওয়া এক শিল্পী, অথচ সেই পথেই তাঁকে একসময় প্রায় একঘরে হতে হয়েছিল।এই দ্বন্দ্বই জর্জদাকে এত বড় করে।তাঁর গান শুনলে আজও কেন বুকের ভিতর কেঁপে ওঠে?কারণ জর্জ বিশ্বাস গানকে সাজিয়ে দেননিতিনি গানকে বাঁচিয়েছেন।যেতে যেতে একলা পথে তাঁর গলায় নিছক একাকিত্বের গান নয়; মনে হয়, কোনও এক সন্ধ্যায় জীবনের সমস্ত পরিচিত মুখ পিছনে ফেলে একজন মানুষ সত্যিই একা পথে বেরিয়ে পড়েছেন।এ মণিহার আমার নাহি সাজে যেন আত্মসম্মানের গান।যে রাতে মোর দুয়ারগুলি হয়ে ওঠে অন্ধকার ঘরের একান্ত স্বগতোক্তি।আর এসেছিলে তবু আসো নাইসেখানে অপেক্ষা যেন জল হয়ে পাতায় পাতায় ঝরে পড়ে।হে মাধবী, দ্বিধা কেন? সে এক আকুল আহ্বান।নীল- অঞ্জনঘন পুঞ্জছায়ায় সম্বৃত অম্বর হে গভীর! জলদ গম্ভীর কণ্ঠ।তুমি তো সেই যাবেই চলে বিজয়ার বিষাদের মধ্যে আবার আসার আনন্দ।কেনো চেয়ে আছো গো মা মুখো পানে মাতৃ স্নেহের এক আকুল আবেদন।এই যে গানের মধ্যে দৃশ্য তৈরি করার ক্ষমতা, এটাই জর্জ বিশ্বাসের অনন্যতা।তিনি শব্দকে শুধু উচ্চারণ করেননি; শব্দের ভিতরে ঢুকে তার দরজা খুলে দিয়েছেন।দেবব্রতর কণ্ঠ থেকে হেমন্তর রেকর্ডেঅবাক পৃথিবী! অবাক করলে তুমিজন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমিঅবাক পৃথিবী আমরা যে পরাধীন...তৎকালীন গ্রামোফোন কোম্পানির কাছে রেকর্ড হওয়া মানেই একটি গানকে বৃহত্তর শ্রোতৃমহলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিরাট সুযোগ। কিন্তু ১৯৫০ সালের পরিস্থিতিতে দেবব্রত বিশ্বাসের পক্ষে সহজে গানটি রেকর্ড করা সম্ভব হচ্ছিল না।স্লিল চৌধুরির সুরে গানটি তখনও মূলত গণনাট্যের পরিসরে দেবব্রত বিশ্বাস ও প্রীতি সরকার গাইছেন। মঞ্চে শোনা যাচ্ছে, মানুষের মুখে মুখে ফিরছে, কিন্তু গ্রামোফোনের রেকর্ডে বন্দি না হলে তার বিস্তার সীমিতই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।এই জায়গাতেই এসে পড়েন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।দেবব্রত বিশ্বাসের সঙ্গে হেমন্তর সম্পর্ক ছিল গভীর স্নেহ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার। দেবব্রতর বাড়িতেই কোনও এক সময়ে হেমন্ত গানটি শুনেছিলেন। সেই শোনা যেন পরবর্তী ইতিহাসের দরজা খুলে দিয়েছিল।গ্রামোফোন কোম্পানির কাছে হেমন্ত তখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় শিল্পী। তাঁর কণ্ঠে কোনও গান রেকর্ড হওয়া মানে সেই গানকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হওয়া। দেবব্রতর উৎসাহ এবং স্নেহের সূত্র ধরেই হেমন্ত গানটি রেকর্ড করার উদ্যোগ নেন।শেষ পর্যন্ত তিনি একাই রইলেনজীবনের শেষ পর্বে শরীর তাঁকে ক্রমশ দুর্বল করে দিয়েছিল। ১৯৭১-এর পর তাঁর সক্রিয় সঙ্গীতজীবন কার্যত থেমে যায়। ১৯৮০ সালের ১৮ আগস্ট কলকাতায় তাঁর মৃত্যু। কিন্তু আশ্চর্যভাবে তাঁর গান থামেনি।আজও বাঙালির ঘরে যখন সন্ধে নামে, পুরনো রেডিয়ো বা রেকর্ড থেকে যখন ভেসে আসে তাঁর ভারী, গভীর কণ্ঠমনে হয়, মানুষটি বুঝি এখনও কোথাও বসে আছেন।হয়তো সামনে পান সাজা।হয়তো পাশে হারমোনিয়াম।হয়তো টেবিলের উপর ছড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি চিঠি।আর কেউ তাঁকে বলছেজর্জদা, গানটা আর একবার গাইবেন?তিনি হয়তো একটু বিরক্ত মুখে বলছেন, এক গান বারবার গাইতে হয় নাকি?তারপরই হারমোনিয়ামের রিড কেঁপে উঠছে।ঘরটা একটু অন্ধকার হয়ে আসছে।আর জর্জদার গলা ভেসে উঠছে আমার রাত পোহালোরবীন্দ্রনাথের গান।সেই গান, যার ভিতরে প্রেম আছে, অভিমান আছে, মানুষের কান্না আছে, বিদ্রোহ আছেআর আছে এক শিল্পীর নিজের মতো করে বাঁচার একগুঁয়ে স্বাধীনতা।তাই দেবব্রত বিশ্বাস শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীতের একজন গায়ক নন। তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের ইতিহাসে এক দীর্ঘ প্রশ্নচিহ্ন।রবীন্দ্রনাথের গান কীভাবে গাইতে হবে?জর্জ বিশ্বাস যেন সারাজীবন তার উত্তর খুঁজেছেন।আর তাঁর উত্তরটি ছিলগান আগে মানুষের কাছে পৌঁছবে, তারপর তার সমস্ত নিয়ম-কানুন।সেই কারণেই এত বছর পরেও জর্জদা পুরনো হননি।কারণ কিছু কণ্ঠ সময়ের সঙ্গে পুরনো হয় না।তারা সময়কে অতিক্রম করেগানের ভিতর দিয়ে, মানুষের ভিতর দিয়ে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
কলকাতা

৩৭ ঘণ্টা পর যাদবপুরে এফআইআর! বুধবার রাতের ঘটনায় ঠিক কী অভিযোগ জানাল বিশ্ববিদ্যালয়?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় অবশেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করল কর্তৃপক্ষ। বুধবার রাতের ঘটনার প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে যাদবপুর থানায় এফআইআর করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবারের অশান্তির ঘটনায় তদন্তের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। সেই মতো শুক্রবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তিন সদস্যই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, বাবা সাহেব আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং আরও এক আধিকারিক।যাদবপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১২টার পর কয়েক জন বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকেছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের সিসিটিভি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। এরপর অরবিন্দ ভবনের কোলাপসেবল গেটের সামনে আগুন ধরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এফআইআরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া নাকি বহিরাগত, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।অন্য দিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতীকী ফলক নিয়ে কর্মবিরতিতে বসেছেন অধ্যাপকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঠিক তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এফআইআর দায়েরের সিদ্ধান্তকে তাঁরা প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।তাঁর দাবি, ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও পড়ুয়া ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার বহিরাগতরা জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।ফলক ভাঙার ঘটনাতেও পৃথক তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার দাবিও জানিয়েছেন অধ্যাপকদের একাংশ। ফলে এফআইআর দায়ের এবং তদন্ত কমিটি গঠনের পর যাদবপুরের অশান্তির ঘটনায় এবার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ২১, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে ফের রণক্ষেত্র! মুখোমুখি এসএফআই-এবিভিপি, ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা, উত্তেজনা চরমে

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের অশান্তির আঁচ এ বার ছড়িয়ে পড়ল বাইরেও। বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই এবং এবিভিপির পৃথক মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা এলাকা। দুই সংগঠনের মিছিল মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে দুদিকের মিছিল আটকে দেয়। তাতেও অবশ্য উত্তেজনা কমেনি।এইট বি-র সামনে এসএফআইয়ের জমায়েতে আটকে পড়েন রাজ্য সভাপতি দেবাঞ্জন দে এবং যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধর। অন্য দিকে, ঢাকুরিয়া সেতুর কাছে এবিভিপির মিছিলও আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সংগঠনের কয়েক জন সদস্য।এর মধ্যেই এইট বি-র কাছে সকাল থেকে জমায়েত করা এবিভিপির কয়েক জন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে পৌঁছে যান। সেখানে তাঁরা সংগঠনের পতাকা ওড়ান। বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা তার প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের জমায়েত ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।বুধবার রাত থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বাম ছাত্র সংগঠন ফেটসুর গভর্নিং বডির বৈঠককে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, অরবিন্দ ভবনে বৈঠক চলাকালীন এবিভিপির কয়েক জন সদস্য সেখানে ঢুকে হামলা চালান। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও ছাত্র সংসদ না থাকলে গভর্নিং বডির বৈঠক ডাকা হল কেন।এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়। পালটা অভিযোগ ওঠে, ফেটসুর সদস্যরা এবিভিপির সদস্যদের মারধর করেছেন। ঘটনায় কয়েক জন আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।বুধবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কর্মসূচির ডাক দেয় এসএফআই। পালটা মিছিলের ডাক দেয় এবিভিপিও। দুপুরে দুই পক্ষের জমায়েত ও মিছিল শুরু হতেই যাদবপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট, এইট বি, ঢাকুরিয়া সেতু-সহ একাধিক এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুই মিছিল যাতে সরাসরি মুখোমুখি না হয়, সে জন্য ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। কিন্তু একাধিক জায়গায় ব্যারিকেডের সামনে সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।বুধবার রাতের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার ফের দুই ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি যাতে আর না ঘোরালো হয়, সে দিকে নজর রাখছে পুলিশ।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে রাতের সংঘর্ষের পরই হাই কোর্টে মামলা! আবেদন ফিরিয়ে দিল আদালত, আজ ফের রণক্ষেত্রের আশঙ্কা

ফেটসুর সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে রাতভর উত্তেজনা ছিল ক্যাম্পাসে। দুপক্ষেরই কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার দুই পক্ষই পৃথক প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হয়। বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। নতুন করে মামলা দায়ের করে আসার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।জানা গিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি মামলা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে বিচারাধীন। বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনাকে সেই মামলার সঙ্গে যুক্ত করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই আবেদন গ্রহণ না করে পৃথক মামলা করার পরামর্শ দেয়।বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ সভার বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে অশান্তির সূত্রপাত বলে অভিযোগ। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যদের দাবি, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র সংসদ নেই। তা হলে সাধারণ সভার বৈঠক ডাকা হল কীভাবে, সেই প্রশ্ন তুলেই তাঁরা প্রতিবাদ করেছিলেন।অভিযোগ, সেই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তাঁদের উপর হামলা হয়। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের দাবি, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন তাঁদের উপর চড়াও হয়েছিলেন। পাল্টা বাম ছাত্র সংগঠনগুলির তরফেও অভিযোগ রয়েছে। দুপক্ষের সংঘর্ষে রাতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।বৃহস্পতিবার সেই ঘটনার প্রতিবাদে পৃথক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দুই পক্ষই। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মী-সমর্থকেরা যাদবপুর থানার সামনে জমায়েত করছেন। গোলপার্ক থেকে মিছিল করে যাওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে, আট বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জমায়েত করছে বাম ছাত্র সংগঠন।ফলে বৃহস্পতিবার ফের দুপক্ষ মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, আট বি, গোলপার্ক-সহ সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও পক্ষের একতরফা কর্তৃত্ব তাঁরা মেনে নেবেন না। অন্যদিকে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও নিজেদের কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসেনি। ফলে রাতের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার যাদবপুরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।আদালত বুধবারের ঘটনার বিষয়ে আপাতত সরাসরি হস্তক্ষেপ না করায় এখন নজর থাকছে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতির দিকে। দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে কোনও সংঘর্ষ হয় কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

সংঘর্ষের পর যাদবপুরে কি বদলাচ্ছে নিয়ম? পুলিশের ফাঁড়ি নিয়ে উপাচার্যের বার্তা

বুধবার থেকে ফের উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বামপন্থী ছাত্রদের সঙ্গে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে বুধবার রাত থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। অভিযোগ, সংঘর্ষে কয়েক জন ছাত্র আক্রান্ত হয়েছেন। রাতের দিকে আরও একদল বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকেছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় বামপন্থী ছাত্রদের একাংশ অরবিন্দ ভবনের ভিতরে নিজেদের আটকে রাখেন বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি যদি বারবার বিঘ্নিত হয়, তা হলে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানোর কথা ভাবতে হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এমন ব্যবস্থা যাদবপুরের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। কখনও ছাত্রদের উপর হামলার অভিযোগ, কখনও রাজনৈতিক মতবিরোধ, আবার কখনও র্যাগিংয়ের অভিযোগে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে ক্যাম্পাস। প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব উঠেছিল। সেই সময় ছাত্রদের একাংশের আপত্তির কারণে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।এর মধ্যেই বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় ফের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্ত পরিবেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশি নজরদারি কতটা প্রয়োজন, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে উপাচার্যের বক্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে নিরাপত্তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দেশের আইনশৃঙ্খলার বাইরে নয়। তাই দেশের প্রচলিত আইন ক্যাম্পাসেও কার্যকর হবে। তাঁর কথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, যাদবপুরের মুক্ত ও খোলামেলা পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষেই তাঁরা।উপাচার্য আরও জানান, আগে আদালতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য চব্বিশ ঘণ্টার পুলিশ ফাঁড়ির প্রসঙ্গ উঠেছিল। তবে যাদবপুরের নিজস্ব সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে সেই ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি ছিল। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটে, তা হলে ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানোর প্রয়োজন হতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।এদিকে বুধবারের অশান্তির ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি সুরক্ষা আইনের ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে বলে খবর। এখনও পর্যন্ত অপর পক্ষের তরফে পাল্টা অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গিয়েছে।যাদবপুরে ফের অশান্তির পর এখন মূল প্রশ্ন, পরিস্থিতি সামাল দিতে কি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানো হবে? উপাচার্যের মন্তব্যে সেই সম্ভাবনাই নতুন করে সামনে এসেছে।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে জিবি মিটিং ঘিরে রাতভর রণক্ষেত্র! এসএফআই - এবিভিপি সংঘর্ষে আহত একাধিক পড়ুয়া, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের ছাত্র রাজনীতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা। ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (FETSU)-এর সাধারণ সভা বা জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে বুধবার গভীর রাতে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। এসএফআই-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি-র সদস্যদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় দুপক্ষেরই একাধিক পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, ফেটসু (FETSU)-এর সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করেই প্রথমে উত্তেজনার সূত্রপাত। সভায় কারা উপস্থিত থাকতে পারবেন, বহিরাগতদের প্রবেশ এবং সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের আকার নেয়।ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওগুলিতে কয়েকজনকে তালা ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করতে এবং স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসের একাধিক জায়গায় আগুন জ্বালানো, ইট-পাথর ছোড়া এবং হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। যদিও ভিডিওগুলির সত্যতা ও ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট পৃথকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। এরপর যাদবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। রাতভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বজায় থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। এবিভিপি-র দাবি, সাধারণ সভার নাম করে এসএফআই, DSO-DSF-সহ বামপন্থী সংগঠনের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে তাঁদের উপর হামলা চালান। সংগঠনের অভিযোগ, তাঁদের বেশ কয়েকজন সদস্যকে মারধর করা হয়েছে।অন্যদিকে, DSO-র পাল্টা অভিযোগ, এবিভিপি-ই বহিরাগতদের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নিয়ে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। Revolutionary Students Front বা RSF-এর সদস্য অভিনব দাসের অভিযোগ, FETSU-এর সাধারণ সভায় এবিভিপি এবং NSF বেশ কয়েকজন বহিরাগতকে নিয়ে এসেছিল। সেই নিয়েই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে তাঁর দাবি।DSO রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়ও এবিভিপি এবং RSS-এর একাংশের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় পতাকা ছিঁড়ে ফেলা, আগুন লাগানো এবং পড়ুয়াদের গালিগালাজ ও হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে।সংঘর্ষে আহত পড়ুয়াদের কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের দেখতে KPC মেডিক্যাল কলেজে যান বিধায়ক শার্বরী মুখোপাধ্যায়। অন্যদিকে, এবিভিপি-র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শুভব্রত অধিকারী জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।ঘটনার পর যাদবপুর থানার সামনেও বিক্ষোভ দেখান এবিভিপি-র কয়েকজন সদস্য। সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে রাতভর সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসে যাতে আর কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় ঠিক কীভাবে পরিস্থিতির অবনতি হল, কারা প্রথম হামলা চালিয়েছিল এবং বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে ওঠা অভিযোগ কতটা সত্যতা নিয়ে এখনও পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে আসছে।

আগস্ট ২০, ২০২৬
দেশ

নীতিন নবীনের ‘নয়া টিম’-এ বাংলার দুই মুখ! জাতীয় সংগঠনে বড় দায়িত্ব এই দুই জনের

ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সংগঠনে বড়সড় রদবদল। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো জাতীয় স্তরের সংগঠনকে ঢেলে সাজালেন নীতিন নবীন। নতুন কমিটিতে যেমন একাধিক নতুন মুখকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনই অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন নেতাকেও ফেরানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে। আর এই রদবদলে বিশেষ নজর কেড়েছে পশ্চিমবঙ্গ।রাজ্য বিজেপির দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখকে এবার জাতীয় সংগঠনে জায়গা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ডাঃ মধুছন্দা করকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি এবং আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গাকে সর্বভারতীয় সম্পাদক করা হয়েছে। ফলে রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় দুই নেতার দায়িত্ব এবার ছড়িয়ে পড়ল জাতীয় স্তরে।জাতীয় সংগঠনে বড় দায়িত্ব বাংলার দুই নেতারবিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় সংগঠনে ডাঃ মধুছন্দা করের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। এবার তাঁকে সরাসরি সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন চিকিৎসক নেত্রীকে দলের জাতীয় স্তরের শীর্ষ সাংগঠনিক পদে নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব নতুন ধরনের সাংগঠনিক সমীকরণের বার্তা দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পরিচিত আদিবাসী মুখ মনোজ টিগ্গার দায়িত্বও বেড়েছে। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ হিসেবে ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। এবার তাঁকে সর্বভারতীয় সম্পাদক করা হল। উত্তরবঙ্গের আদিবাসী সমাজের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং রাজ্য সংগঠনে কাজের অভিজ্ঞতাকে জাতীয় স্তরে কাজে লাগাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।শুধু নতুন মুখ নয়, অভিজ্ঞদেরও প্রত্যাবর্তননীতিন নবীনের নতুন টিমে শুধুমাত্র সাংগঠনিক পরিবর্তন নয়, অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে ফেরানোর দিকটিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় থাকা কয়েকজন নেতাকে ফের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা গেল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অমেঠি থেকে পরাজয়ের পর জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয়তা আগের তুলনায় কমেছিল। এবার তাঁকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফলে দলের কেন্দ্রীয় সংগঠনে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ফের বাড়তে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবও পেলেন জাতীয় স্তরে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাঁকেও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। পূর্বোত্তর ভারতের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা ছিল। ফলে জাতীয় সংগঠনে তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।ফিরলেন রাম মাধবওবিজেপির সাংগঠনিক রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ রাম মাধবের প্রত্যাবর্তনও এই রদবদলের অন্যতম বড় দিক। দলীয় সংগঠন এবং ভোটকৌশল নিয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাম মাধবকে ফের কেন্দ্রীয় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পরিসরে আনা হয়েছে।সব মিলিয়ে নীতিন নবীনের নতুন কেন্দ্রীয় টিমে একদিকে যেমন নতুন প্রজন্ম ও রাজ্যস্তরের নেতৃত্বকে জাতীয় মঞ্চে তুলে আনা হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই অভিজ্ঞ এবং পরীক্ষিত নেতাদেরও ফের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।বাংলার জন্য কী বার্তা?বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় সংগঠনে পশ্চিমবঙ্গের দুই নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা, উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে নজর দেওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে দলের সাংগঠনিক বিস্তার বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।তবে একটি বিষয় স্পষ্টনীতিন নবীনের নতুন টিমে বাংলা এবার যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। মধুছন্দা কর ও মনোজ টিগ্গার জাতীয় সংগঠনে উত্থান শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক গুরুত্বই বাড়াল না, একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কৌশল নিয়েও তৈরি করল নতুন জল্পনা।

আগস্ট ১৮, ২০২৬
কলকাতা

বাংলার আকাশে গভীর নিম্নচাপ, সোমবারই ভয়ঙ্কর বৃষ্টি! ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সতর্কতা, এরপর কোন পথে যাবে?

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে বহু জায়গায় জল জমেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীরা। রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে দুর্যোগের পরিস্থিতি। এর মধ্যেই ধীরে ধীরে ঝাড়খণ্ডের দিকে এগোচ্ছে গভীর নিম্নচাপ।আবহাওয়া দফতরের সোমবার বিকেলের খবর অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে কলকাতা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছে। বর্ধমান থেকে সেটি প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে। বাঁকুড়া থেকে দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে। ওড়িশার বালেশ্বর থেকে গভীর নিম্নচাপটি রয়েছে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপটি ক্রমশ ঝাড়খণ্ড ও বিহারের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। ফলে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টির প্রভাব আরও কিছুটা সময় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।সোমবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে চরম বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই তিন জেলায় ২০০ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা রয়েছে। সেখানে ১১০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।প্রবল বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় জল জমেছে। রাস্তার পাশাপাশি নিচু এলাকাগুলিতেও জল ঢুকেছে। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন অফিসযাত্রী এবং অন্যান্য নিত্যযাত্রীরা।মঙ্গলবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা থাকবে। এই জেলাগুলির কিছু এলাকায় ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।অর্থাৎ, গভীর নিম্নচাপটি বাংলার পশ্চিমাঞ্চল ছেড়ে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের দিকে এগিয়ে গেলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত তার প্রভাব পুরোপুরি কাটছে না। ফলে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকা জেলাগুলির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ১৭, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের ঐতিহ্যে দেশপ্রেমের আবহ, দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের আবহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকারই হোক স্বাধীনতা দিবসের মূল বার্তাএমনই আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, বিবিধের মাঝে মিলন মহানএই আদর্শকে সামনে রেখে দেশভাগ ও পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর উদয়পল্লীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের বাণী, দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পাঠের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডলের পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় অঙ্কন, প্রবন্ধরচনা, কুইজ, নৃত্য ও সঙ্গীত-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। শিক্ষিকা সুনীতা সাহার ব্যবস্থাপনা এবং দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় প্রতিযোগিতাগুলিতে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা। কুইজে প্রথম স্থানাধিকারী দলের সদস্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ভট্টাচার্য জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকায় বিদ্যালয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।এদিন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা স্পন্দন-এর বিশেষ রঙিন সংখ্যা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সায়ন্তিকা কর্মকারের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও সহকারীরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। সবুজ ভলেন্টিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ইকো ক্লাবের উদ্যোগে জাম গাছ রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।শেষপর্বে শিক্ষাকর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের দায়িত্বে এবং তরুণ দাসের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে লুচি, মিষ্টি-সহ নানা খাবার বিতরণ করা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা শুধু একটি দিন নয়, বারবার ফিরে আসে—জয়ের পতাকায়, গৌরবের মুহূর্তে

স্বাধীনতাশব্দটি উচ্চারণ করলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭-এর সেই ঐতিহাসিক সকাল। দীর্ঘ পরাধীনতার অন্ধকার পেরিয়ে ভারতবর্ষ সেদিন পেয়েছিল নিজের আকাশ, নিজের পতাকা, নিজের পরিচয়। কিন্তু স্বাধীনতা কি কেবল একটি তারিখ? কেবল একটি দিনের উদ্যাপন? কেবল লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভেসে আসা ভাষণ, জাতীয় পতাকার উত্তোলন আর জাতীয় সঙ্গীতের গর্বিত সুর?না।স্বাধীনতা আসলে ফিরে ফিরে আসে।কখনও তা আসে একটি ক্রিকেট মাঠে, কখনও অলিম্পিকের ট্র্যাকের ওপর, কখনও হকির সবুজ ঘাসে, কখনও কোনও বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে, কোনও সুরকারের সুরে। কখনও আবার আসে এমন এক ভারতীয়ের চোখের জলে, যে নিজের দেশের পতাকাকে বিশ্বের মঞ্চে উঠতে দেখে বুকের ভিতর অদৃশ্য এক ঢেউ অনুভব করে।১৯৮৩ সাল। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ভারতীয় ক্রিকেটের সামনে তখন দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কপিল দেবের নেতৃত্বে একদল তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলা সেই মুহূর্তটি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের জয় ছিল না। তা ছিল আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ। সেদিন যেন ভারত বুঝেছিলআমরাও পারি। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরাও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প লিখতে পারি। ১৯৪৭-এ যে জাতি রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছিল, ১৯৮৩-তে তার আত্মবিশ্বাস যেন আরও একবার স্বাধীনতার স্বাদ পেল।তারও বহু আগে, ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের হকিতে ভারত প্রথম সোনা জিতেছিল। ধ্যানচাঁদের জাদুকাঠিতে ভারতীয় হকি তখন বিশ্বকে দেখিয়েছিল এক অন্যরকম শিল্প। পরপর বহু অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতীয় হকি দলের সাফল্য দেশের ক্রীড়া-পরিচয়ের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। তেরঙ্গা যখন বিদেশের মাটিতে উঠত, তখন মনে হতোএই তো স্বাধীনতা! বন্দুকের গর্জন নয়, স্টিক আর বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণেও একটি জাতি তার অস্তিত্বের ঘোষণা করতে পারে।তারপর আসে অ্যাথলেটিক্সের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতের অলিম্পিক সাফল্যের ইতিহাসে নীরজ চোপড়ার সোনার পদক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। টোকিও অলিম্পিকের সেই রাতএকজন ভারতীয় যখন জ্যাভলিন ছুড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ঘরে ঘরে যেন আবার স্বাধীনতার পতাকা উড়ল। মাঠে একজন, কিন্তু গর্বে ছিল ১৪০ কোটিরও বেশি হৃদয়।ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের আর এক অমর নাম পি. টি. উষা। আশির দশকে এশিয়ান গেমসের ট্র্যাকে তাঁর দৌড় ভারতীয় মেয়েদের স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছিল। ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার-সহ একাধিক পদক জিতে তিনি প্রমাণ করেছিলেনভারতের মেয়েরাও বিশ্বের দ্রুততম ট্র্যাকের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। তাঁর পায়ের শব্দ শুধু একটি দৌড়ের শব্দ ছিল না; তা ছিল সামাজিক বাধা, সংশয় আর প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে এক তরুণীর স্বাধীনতার ঘোষণা।এরপর এল ক্রিকেটের আর একটি নতুন অধ্যায়। ২০০৭ এ প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দল যখন ট্রফি হাতে তুলল, তখন ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার স্বাদ যেন আরও একবার নতুন করে ধরা দিল। আর ২০১১ সালে ঘরের মাঠে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ধোনির সেই ছক্কাআজও ভারতীয় ক্রীড়া-স্মৃতির অন্যতম আবেগঘন ছবি। একজন অধিনায়ক ট্রফি তুলেছিলেন, কিন্তু আসলে যেন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের স্বপ্নকে তুলে ধরেছিল।স্বাধীনতার এই গল্প শুধু খেলাধুলায় থেমে নেই।ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বজয়ের কথাও তো একইভাবে বলতে হয়। সত্যজিৎ রায়ের Pather Panchali কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছিল। ১৯৯২ এ বিশ্ব চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান ও অনন্য সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সত্যজিৎ রায়কে সম্মানসূচক অনারারি অস্কার প্রদান করে অ্যাকাডেমি। এই পুরস্কার কোনো একটি নির্দিষ্ট ছবির জন্য নয়, বরং তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্র জীবন, শিল্পসত্তা এবং বিশ্বসিনেমায় তাঁর গভীর ও স্থায়ী প্রভাবের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। অসুস্থ সত্যজিতের বিছানায় শুয়ে অস্কার হাতে নিয়ে যে বক্তব্য দেন তা আজও আপামোর চলচিত্রপ্রেমীর কানে বাজে। পরে ২০০৯ সালে এ. আর. রহমান Slumdog Millionaire চলচ্চিত্রের জন্য দুটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সুরের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেন। অস্কারের মঞ্চে তাঁর সুরের প্রতিধ্বনি যখন বিশ্ব শুনেছিল, তখন সেটিও ছিল এক ধরনের স্বাধীনতানিজের মাটির সুরকে পৃথিবীর কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার স্বাধীনতা।বিজ্ঞানেও এমন অসংখ্য মুহূর্ত এসেছে। মহাকাশে ভারতের সাফল্য, চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফল অবতরণ, মঙ্গলযানের অসাধারণ অভিযানপ্রতিটি সাফল্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে থাকে সেই একই অনুভূতি। একসময় যে দেশ নিজের মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতির চিন্তায় সংগ্রাম করছিল, সেই দেশই একদিন মহাকাশের অজানা প্রান্তে নিজের পতাকা পৌঁছে দেয়। এই অগ্রযাত্রাও স্বাধীনতারই আর এক ভাষা।কারণ স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা নয়। স্বাধীনতা মানে নিজের সম্ভাবনাকে চিনতে শেখা।স্বাধীনতা মানেআমি পারব বলার সাহস।স্বাধীনতা মানেব্যর্থতার পরেও আবার উঠে দাঁড়ানো।স্বাধীনতা মানেবিশ্বের চোখে চোখ রেখে নিজের পরিচয় ঘোষণা করা।তাই ১৫ই আগস্ট এলেই আমরা শুধু ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করব কেন? আমরা মনে করব সেই সব দিনকে, যেদিন ভারত নতুন করে জিতেছিল। কোনও খেলোয়াড়ের হাতে যখন পদক উঠেছে, কোনও বিজ্ঞানীর অভিযানে যখন ভারতীয় পতাকা মহাকাশ ছুঁয়েছে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে যখন ভারত বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, কোনও তরুণ-তরুণী যখন অসম্ভবকে সম্ভব করেছেসেই প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীনতা নতুন করে জন্ম নিয়েছে।স্বাধীনতার বয়স আজ ৭৯ বছর। কিন্তু স্বাধীনতা বৃদ্ধ হয়নি। বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে তার বয়স কমে আসে। কোনও শিশুর হাতে ক্রিকেট ব্যাটে, কোনও কিশোরীর দৌড়ের জুতোয়, কোনও তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর তুলিতে, কোনও সুরকারের যন্ত্রেস্বাধীনতা প্রতিদিন নতুন হয়ে ওঠে।১৫ই আগস্ট তাই শুধু অতীতের স্মৃতির দিন নয়। এটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিনও।যে তেরঙ্গা ১৯৪৭ সালে পরাধীনতার আকাশে স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে উঠেছিল, সেই তেরঙ্গাই আজও ওঠেলর্ডসের মাঠে, অলিম্পিকের মঞ্চে, বিশ্বকাপের আসরে, অস্কারের মঞ্চে, মহাকাশযানের অভিযানে, কিংবা কোনও অচেনা ভারতীয়ের ছোট্ট সাফল্যের মুহূর্তে।সেখানেই স্বাধীনতার আসল সৌন্দর্য।স্বাধীনতা একবার অর্জন করা কোনও স্মারক নয়স্বাধীনতা এমন এক অনুভূতি, যা প্রতিটি প্রজন্ম নিজের সাফল্য দিয়ে নতুন করে অর্জন করে।তাই ১৫ই আগস্ট শুধু একটি দিন নয়।স্বাধীনতা বারবার ফিরে আসে।জয়ের পতাকায়, অশ্রুসিক্ত চোখে, করতালির শব্দে, স্বপ্নপূরণের হাসিতেআর কোটি কোটি ভারতীয়ের বুকের ভিতর নিঃশব্দে উচ্চারিত একটি শব্দেভারত।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
দেশ

গুরুদ্বারের সামনেই সুখবীর বাদলকে কোপ! পেটে হামলার চেষ্টা, রক্তাক্ত প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী

মহারাষ্ট্রের নন্দেদে অকালি দল প্রধান তথা পঞ্জাবের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলের উপর আচমকা হামলার অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় তাঁর উপর ছুরি নিয়ে হামলা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। হামলায় হাতে চোট পেয়েছেন সুখবীর বাদল। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।জানা গিয়েছে, নন্দেদের একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। গুরুদ্বারের সামনেই আচমকা এক ব্যক্তি সুখবীর বাদলের দিকে এগিয়ে এসে হামলা করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, হামলাকারী তাঁর পেটে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশকর্মীদের তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। হামলার সময় সুখবীর বাদলের হাতে চোট লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন।ঘটনার পর দ্রুত তাঁকে নন্দেদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে। হামলার সময় তাঁর স্ত্রী তথা অকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর সুখবীর বাদলকে ধরে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে তাঁর ডান হাতে কাপড় বাঁধা দেখা যায়।হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর নাম যশপাল সিং বলে জানা গিয়েছে। তিনি নিহাঙ্গ শিখ বলে সূত্রের দাবি। হামলায় কৃপাণ ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। যশপাল সিং গত দুই বছর ধরে তখত শ্রী হাজুর সাহিব গুরুদ্বারে কাজ করছিলেন বলে সূত্রের খবর। তবে হামলার প্রকৃত কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।সুখবীর বাদলের উপর এই প্রথম হামলার চেষ্টা নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের বাইরে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়েছিল। সেই ঘটনায়ও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।ফলে নন্দেদের এই হামলার পর নতুন করে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঠিক কী কারণে সুখবীর বাদলকে লক্ষ্য করে হামলা করা হল এবং এর পিছনে অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
রাজ্য

বৃহস্পতিবারই ভয়ঙ্কর রূপ নেবে নিম্নচাপ! দক্ষিণবঙ্গে লাল সতর্কতা, কোথায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি?

সকাল থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আকাশের মুখ ভার। মহানগরের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিও হয়েছে। এর মধ্যেই আরও শক্তিশালী হচ্ছে নিম্নচাপ। বৃহস্পতিবার তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এর জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় জারি করা হয়েছে লাল, কমলা ও হলুদ সতর্কতা।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে গাঙ্গেয় বঙ্গের উপর দিয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে এগোবে। মৌসুমী অক্ষরেখাও জামশেদপুর হয়ে কলকাতার উপর দিয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই পরিস্থিতির জেরেই বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে।পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ায় বৃহস্পতিবার লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই দুই জেলার কিছু এলাকায় ২০০ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টি হতে পারে। পুরুলিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান এবং হুগলিতে অতিভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। ওই জেলাগুলির কয়েকটি এলাকায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ফলে সমুদ্র ও উপকূলবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট থাকবে। পুরুলিয়ায় অতিভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে হলুদ সতর্কতা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পরিস্থিতি চিন্তা বাড়াচ্ছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পংয়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।রবিবার থেকে পাহাড়ে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতিভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কায় ১৫ অগস্ট শনিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। নিম্নচাপের গতিপথ ও শক্তি আরও বাড়ে কি না, এখন সেদিকেই নজর আবহাওয়াবিদদের।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

সৌরভের বাড়িতে পুলিশ কেন? জিজ্ঞাসাবাদের অভিযোগের পর সরাসরি কেন্দ্রের দিকে আঙুল

পুদুচেরিতে সৌরভ দাসের বাড়িতে পুলিশের যাওয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির অন্যতম মুখপাত্র সৌরভের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাঁর পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই ঘটনার পিছনে বিজেপি সরকারের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে।সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সৌরভ জানান, কয়েক ঘণ্টা আগে পুদুচেরি পুলিশ তাঁর বাড়িতে যায়। সেখানে পরিবারের সদস্যদের নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর। কেন পুলিশ বাড়িতে এসেছিল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।সৌরভের অভিযোগ, পুদুচেরি পুলিশ কেন এ ভাবে হয়রানি করছে? কে নির্দেশ দিয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে? এটাই কি আইনি প্রক্রিয়া? তাঁর দাবি, শুধুমাত্র তাঁকে ভয় দেখানোর জন্যই পরিবারের সদস্যদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে।ককরোচ জনতা পার্টির এই মুখপাত্রের আরও অভিযোগ, পুদুচেরির বিজেপি সরকার তাঁর পরিবারকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও তাঁর এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি সৌরভ।সৌরভ আরও বলেন, তাঁকে চুপ করানোর জন্য পরিবারের উপর চাপ তৈরি করা হলেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না। ভয় দেখিয়ে তাঁর বক্তব্য বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, এই ধরনের ঘটনা বরং আইন মেনে চলা এবং আরও উন্নত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে।তবে সৌরভের অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত পুদুচেরি প্রশাসন বা বিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে কেন পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল এবং সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

আগস্ট ১২, ২০২৬
কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীর বড় ডাক! স্বাধীনতা দিবসে রাজ্যজুড়ে তেরঙ্গা উৎসব, জেনে নিন পুরো কর্মসূচি

স্বাধীনতার মাস উপলক্ষে এবার রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে হর ঘর তেরঙ্গা কর্মসূচি। এতদিন এই কর্মসূচি বাংলায় সরকারি উদ্যোগে পালিত হয়নি। এবার প্রথমবার রাজ্য সরকার কেন্দ্রের এই উদ্যোগে সামিল হচ্ছে। আগামী ৯ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবানীপুর থেকেই শুরু হবে তেরঙ্গা যাত্রা এবং তিনি নিজেও সেই মিছিলে অংশ নেবেন।বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুক্রবার ভবানীপুরের সার্ভে বিল্ডিং থেকে হাজরা পর্যন্ত বিশাল তেরঙ্গা মিছিল হবে। রাজ্যের সব মানুষের কাছে তিনি আবেদন করেছেন, প্রত্যেকে যেন নিজের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। রাজ্যজুড়ে প্রায় সত্তর লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ করা হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে কেন এই কর্মসূচি পালন করা হয়নি, তা তিনি জানেন না। তবে এবার থেকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর এই কর্মসূচি পালন করা হবে। রাজ্যের প্রতিটি মহকুমা, ব্লক, পুরসভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ভবন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোকসজ্জায় সেজে উঠবে। প্রবন্ধ লেখা, অঙ্কন প্রতিযোগিতা, সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ১০ আগস্ট বিকেল তিনটায় নেতাজির মূর্তির পাদদেশ থেকে আরও একটি বড় তেরঙ্গা মিছিল বের হবে। সরকারি কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই এই মিছিলে অংশ নেবেন। ইতিমধ্যেই প্রায় তিরিশ হাজার মানুষ অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এবারের উদযাপন রাজ্যজুড়ে বিশেষ মাত্রা পাবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

আগস্ট ০৬, ২০২৬
কলকাতা

গুণ্ডাদমন বিল নিয়ে আদালতে বড় মোড়! আবেদনকারীদের জন্য রইল নতুন সুযোগ

কলকাতা হাইকোর্টে গুণ্ডাদমন বিলের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা আপাতত খারিজ হয়ে গেল। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই বিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়নি। তাই এই পর্যায়ে মামলার শুনানি সম্ভব নয়।আদালত জানিয়েছে, বিলটি এখনও আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। সেই কারণে এখনই তার বৈধতা নিয়ে বিচার করার সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে আবেদনকারীরা নতুন করে জনস্বার্থ মামলা করতে পারবেন। সেই সুযোগ খোলা রয়েছে বলেও আদালত স্পষ্ট করেছে।সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভায় গুণ্ডাদমন বিল পাশ হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, পুলিশ সুপার বা তাঁর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার প্রয়োজন মনে করলে কোনও ব্যক্তিকে গুণ্ডা হিসেবে চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে পারবে। প্রয়োজনে তাঁকে এক বছর পর্যন্ত কোনও এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা যেতে পারে।এই বিল ঘিরে শুরু থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এটি ব্যবহার করা হতে পারে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের দাবি, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করা এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যেই এই বিল আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতেই এই আইন প্রস্তাব করা হয়েছে।

আগস্ট ০৬, ২০২৬
কলকাতা

পুলিশের খোঁজ চলছে, তবু আদালতে টুলুর মামলা! নতুন মোড়ে বীরভূমের বহুচর্চিত তদন্ত

বীরভূমের বহুচর্চিত পাথর ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলকে ঘিরে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা যখন তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন, ঠিক সেই সময় কলকাতা হাই কোর্টে একটি আবেদন করেছেন টুলু। এই ঘটনাকে ঘিরেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। ইতিমধ্যেই তাঁর প্রায় একশো চুয়াল্লিশ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, তাঁর নামে বা সংশ্লিষ্ট সূত্রে দুই শতাধিক গাড়ি, প্রায় তিনশো বিঘা জমি এবং একাধিক সম্পত্তির হদিশ মিলেছে।সম্প্রতি টুলুর আত্মীয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, সোনা এবং অন্যান্য সম্পদের খোঁজ পাওয়ার দাবি করেছে তদন্তকারীরা। তবে এত কিছু উদ্ধার হলেও এখনও পর্যন্ত টুলুর অবস্থান জানা যায়নি। তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।এই পরিস্থিতিতেই কলকাতা হাই কোর্টে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন টুলু মণ্ডল। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে সেই মামলা দায়ের হয়েছে। আর এই ঘটনাই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, দীর্ঘদিন ধরে যার খোঁজ মিলছে না, তিনি কীভাবে আদালতে আবেদন করলেন।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, সরকার পরিবর্তনের পর টুলু মণ্ডল বিদেশে চলে গিয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কোনও ব্যক্তি পলাতক থাকলেও আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করা সম্ভব। অতীতেও এমন নজির রয়েছে। তবে এই মামলায় আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।এদিকে টুলু মণ্ডলের আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার হচ্ছে। বেআইনি সম্পদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একই সঙ্গে বুধবার টুলুর শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে তদন্তকারীরা। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এখন সকলের নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে।

আগস্ট ০৫, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 95
  • 96
  • ›

ট্রেন্ডিং

সম্পাদকীয়

বিদ্রোহের আগুন থেকে সাম্যের গান—নজরুলের যে জীবন আজও আমাদের বিস্মিত করে

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা চিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে। চিনি সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, মানবতার কবি হিসেবে। তাঁর কবিতা আবৃত্তি হয়েছে মঞ্চে, তাঁর গান বেজেছে ঘরে ঘরে, তাঁর বিদ্রোহের বার্তা উচ্চারিত হয়েছে দশকের পর দশক। কিন্তু নজরুলকে যতটা আমরা জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি অজানা রয়ে গিয়েছে তাঁর বিস্ময়কর জীবনের নানা অধ্যায়।নজরুলের জীবন যেন এক চলমান উপন্যাসযেখানে একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে বিদ্রোহ; একদিকে সৈনিকের পোশাক, অন্যদিকে কবির কলম; একদিকে ইসলামী সংগীত ও গজল, অন্যদিকে শ্যামা সংগীত ও ভজন; একদিকে রাজনৈতিক সংগ্রাম, অন্যদিকে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দা। তিনি কোনও একটি পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে বন্দি রাখেননি। বরং তাঁর জীবনই হয়ে উঠেছিল বহুত্বের এক অসাধারণ উদাহরণ।লেটো দলের মঞ্চ থেকেই শুরুকৈশোরেই দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন নজরুল। সংসারের অভাব তাঁকে স্কুলের গণ্ডি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। তিনি যুক্ত হন বাংলার লোকনাট্যের জনপ্রিয় ধারা লেটো দলে। সেখানে শুধু অভিনয়ই করেননিগান লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, নাটকের সংলাপ ও পালা রচনা করেছেন, সুর দিয়েছেন, সেই গান গেয়েছেন।এই লেটো-পর্বকে নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণক্ষেত্র বলা যায়। লোকভাষা, ছন্দ, সুর, নাটকীয়তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণাসবকিছুর সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটে এই সময়েই। পরবর্তী নজরুল-কাব্যে যে সহজ অথচ তীব্র ভাষা, তার শিকড় অনেকটাই এই লোকজ অভিজ্ঞতায়।সৈনিক নজরুল: যুদ্ধের ময়দান থেকে কবিতার পৃথিবী১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪৯তম বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন নজরুল। করাচিতে তাঁর দীর্ঘ সেনাজীবন কাটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্বের এই অভিজ্ঞতা তাঁর মানসজগতে গভীর ছাপ ফেলে।সেনাবাহিনীতে থাকাকালীনই তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করেন। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বসে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, গল্প-কবিতা লেখাসবই চলত। যুদ্ধ তাঁকে শুধু অস্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করায়নি; মানুষের জীবন, মৃত্যু, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বাস্তবতাকেও নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছিল।পরবর্তীকালে তাঁর লেখায় যে যুদ্ধবিরোধী মানবিকতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়, তার পেছনে এই অভিজ্ঞতার ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।বিদ্রোহীএক কবিতার বিস্ফোরণ১৯২১ সালের শেষদিকে রচিত বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর বাংলা সাহিত্যে যেন এক ভূমিকম্প ঘটে। এতদিনের কাব্যভাষার বাইরে দাঁড়িয়ে এক তরুণ কবি ঘোষণা করলেন নিজের অদম্য আত্মপরিচয়।কিন্তু বিদ্রোহী কেবল রাজনৈতিক বিদ্রোহের কবিতা নয়। এখানে আছে পুরাণ, ইসলামি ঐতিহ্য, হিন্দু দেবদেবী, প্রকৃতি, প্রেম, ধ্বংস ও সৃষ্টির এক বিস্ময়কর মিশ্রণ। নজরুল যেন বলতে চেয়েছিলেনমানুষকে কোনও একটি ধর্ম, জাতি বা পরিচয়ের খাঁচায় আটকে রাখা যায় না।ধূমকেতু: কলম যখন অস্ত্রনজরুলের সাংবাদিক সত্তাটিও কম বিস্ময়কর নয়। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু। পত্রিকাটির নামের মধ্যেই যেন ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত।ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর লেখাগুলি দ্রুতই প্রশাসনের নজরে আসে। আনন্দময়ীর আগমনে কবিতাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাঁকে কারাবন্দি করা হয়।কারাগারেও তিনি নীরব থাকেননি। বন্দিদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক নিপীড়নের প্রতিবাদে তিনি অনশন করেন। দীর্ঘ অনশনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বার্তাও পাঠিয়েছিলেন।এই ঘটনা প্রমাণ করে, নজরুলের কাছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান ছিল নাএটি ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাস।খিলাফত প্রশ্নে নজরুলের অবস্থাননজরুলের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর খিলাফত আন্দোলন সম্পর্কে অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও গভীর হতে পারেএই আশঙ্কা তাঁর চিন্তায় প্রতিফলিত হয়েছিল।নজরুলের মূল অবস্থান ছিল মানুষের মুক্তি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের বদলে তিনি চেয়েছিলেন শ্রমজীবী, কৃষক, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের ঐক্য।তাই তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে বারবার ফিরে এসেছে মানুষহিন্দু বা মুসলমান নয়, প্রথমত মানুষ।লেবার স্বরাজ পার্টি: কবির রাজনৈতিক সংগঠন১৯২৫ সালে নজরুল শ্রমিক-কৃষকের অধিকারের প্রশ্নে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা নেন। হেমন্তকুমার সরকার ও অন্যান্য বামপন্থী নেতাদের সঙ্গে তিনি লেবার স্বরাজ পার্টি অব দ্য ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।এই সংগঠনের ভাবনায় ছিল শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।নজরুলের রাজনৈতিক লেখায় যে শ্রেণি সচেতনতা দেখা যায়, তার সঙ্গে এই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের গভীর সম্পর্ক ছিল।নির্বাচনের ময়দানেও নজরুলশুধু কবিতা বা বক্তৃতার মধ্যেই তাঁর রাজনীতি সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯২৬ সালে তিনি আইনসভার নির্বাচনে প্রার্থীও হন। অর্থবল ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে তিনি পিছিয়ে ছিলেন। ফলে নির্বাচনী রাজনীতিতে সফলতা আসেনি।কিন্তু এই পর্বটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, নজরুল নিজেকে কেবল সাহিত্যিক হিসেবে দেখেননি। সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেও তিনি অংশ নিতে চেয়েছিলেন।হিন্দু-মুসলমানের মিলনের এক বিরল শিল্পীনজরুলের সৃষ্টির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলির একটি তাঁর ধর্মীয় বহুত্ববাদ।তিনি লিখেছেন ইসলামী গান, হামদ, নাত, গজল। আবার লিখেছেন শ্যামাসংগীত, ভজন, কীর্তন ও হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে অসংখ্য গান।মা, শ্যামা, কালী, কৃষ্ণ যেমন তাঁর গানে এসেছে, তেমনই এসেছে আল্লাহ, নবী, রমজান, ঈদ ও ইসলামী আধ্যাত্মিকতার নানা অনুষঙ্গ।এখানে কোনও কৃত্রিম সমন্বয় ছিল না। নজরুলের কাছে ধর্ম ছিল মানুষের আত্মিক অনুভূতির ভাষা; বিভেদের অস্ত্র নয়।তাঁর এই অবস্থান আজকের সময়েও অসাধারণ প্রাসঙ্গিক।চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় আর এক নজরুলনজরুলকে আমরা কবি ও গীতিকার হিসেবে যতটা মনে রাখি, চলচ্চিত্রের মানুষ নজরুলকে ততটা মনে রাখি না।কলকাতার চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তিনি চলচ্চিত্রে গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন। নির্বাক যুগ থেকে সবাক চলচ্চিত্রের উত্তরণের সময় বাংলা সিনেমার সংগীতে নতুন মাত্রা আনার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।১৯৩৪ সালের ধ্রুব চলচ্চিত্রে তিনি দেবর্ষি নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন। একই সঙ্গে ছবিটির সংগীত পরিচালনা ও গীতরচনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হাতে একতারা, পায়ে খড়ম, মুখে নারদের সাজরুপালি পর্দায় নজরুলের এই উপস্থিতি আজ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক মূল্যবান অধ্যায়। এটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনয়।রবীন্দ্রনাথের কবিতায় নজরুলের সুররবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সম্পর্ক বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সুন্দর অধ্যায়।বয়সে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনেক বড়। সাহিত্যিক পথও ছিল আলাদা। তবু দুজনের মধ্যে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ।চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথের রচনায় নজরুলের সুরারোপের ঘটনাটি এই সম্পর্কের এক চমৎকার দৃষ্টান্ত। রবীন্দ্রনাথের রচনায় প্রচলিত সুরের বাইরে গিয়ে নজরুল নতুন সুর নির্মাণ করেছিলেন। সেই সুর কবিগুরুকে শুনিয়ে তাঁর অনুমোদন পাওয়ার ঘটনাটি শুধু দুজন শিল্পীর পারস্পরিক শ্রদ্ধার নয়, সৃষ্টিশীল স্বাধীনতারও একটি সুন্দর উদাহরণ।নারীদের কণ্ঠে নতুন যুগবাংলা গান ও চলচ্চিত্রে নারী কণ্ঠশিল্পীদের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নজরুলের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আঙ্গুরবালা দেবী, ইন্দুবালা দেবী, কানন দেবীসহ তৎকালীন বহু শিল্পীর সঙ্গে তাঁর পেশাগত ও সৃষ্টিশীল সম্পর্ক ছিল।বিশেষ করে নারীদের সামাজিক অবস্থান যখন নানা বিধিনিষেধে আবদ্ধ, তখন তাঁদের কণ্ঠকে বৃহত্তর শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নজরুলের গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।তাঁর সৃষ্ট নারীচরিত্রও ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরেস্বাধীন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং প্রতিবাদী।হাফিজ ও ওমর খৈয়াম থেকে নজরুলের বাংলানজরুলের সাহিত্যিক পরিসর বাংলা ভাষার গণ্ডিতে আটকে ছিল না। ফারসি সাহিত্য, আরবি সংস্কৃতি এবং ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর পরিচয় ছিল।হাফিজ ও ওমর খৈয়ামের রচনার অনুবাদে তিনি বাংলা ভাষায় নিয়ে এসেছিলেন এক অন্যরকম সুর, ভাব ও রোমান্টিকতা। তাঁর অনুবাদে কেবল ভাষান্তর নয়, অনেক সময় দেখা যায় সৃষ্টিশীল পুনর্নির্মাণের প্রবণতা।এই কাজগুলির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্যের সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে।হাজার গানের স্রষ্টা, অথচ কত গান হারিয়ে গেল!নজরুলের গান নিয়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় তাঁর জীবনের শেষ পর্ব। নজরুলের অসুস্থতার কারণে পরবর্তী সময়ে তাঁর বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তাঁর অসংখ্য গানের সঠিক সুর, স্বরলিপি ও পরিবেশনরীতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।আজ আমরা নজরুলগীতির বিপুল ভাণ্ডারের কথা বলি। কিন্তু সেই ভাণ্ডারের কত অংশ হারিয়ে গেছে, কত গান ভুল সুরে বা অসম্পূর্ণভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছেতার সম্পূর্ণ হিসাব করা কঠিন।এই জায়গাতেই নজরুল গবেষণার সামনে এখনও বিশাল কাজ পড়ে রয়েছে।শুধু বিদ্রোহী নন, তিনি ছিলেন সৃষ্টির কবিওনজরুলকে শুধু বিদ্রোহের কবি হিসেবে দেখলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। তিনি প্রেমের কবি। তিনি প্রকৃতির কবি। তিনি আধ্যাত্মিকতার কবি। তিনি হাস্যরসের কবি। তিনি শিশুদের কবি। তিনি শ্রমিকের কবি, কৃষকের কবি, নারীর কবি, নিপীড়িত মানুষের কবি।তাঁর সাম্যবাদী উচ্চারণ যেমন রাজনৈতিক, তেমনই গভীর মানবিক। তাঁর নারী কবিতা যেমন নারীমুক্তির কথা বলে, তেমনই তাঁর প্রেমের গান ব্যক্তিমানুষের হৃদয়ের গোপন দরজাও খুলে দেয়।নজরুলের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষানজরুলের জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেতিনি কখনও নিজের পরিচয়কে সংকীর্ণ হতে দেননি।দারিদ্র্য তাঁকে থামাতে পারেনি। সেনাজীবন তাঁকে কবিতা থেকে দূরে সরাতে পারেনি। কারাগার তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারেনি। রাজনৈতিক ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দেয়নি। ধর্মীয় বিভাজন তাঁকে কোনও একপক্ষের কবি বানাতে পারেনি।তিনি একই সঙ্গে মসজিদের আজান শুনেছেন, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি শুনেছেন; ইসলামী গজল লিখেছেন, আবার শ্যামাসংগীতে মাতৃসাধনার ভাষা সৃষ্টি করেছেন।এই কারণেই নজরুল কেবল একটি জাতির, একটি ধর্মের বা একটি সময়ের কবি নন। তিনি বাংলা ভাষার এক অনন্ত মানবিক কণ্ঠ।আজ তাঁর প্রয়াণের এত বছর পরেও যখন সমাজে বিভাজন বাড়ে, যখন মানুষের পরিচয় ধর্ম ও সম্প্রদায়ের খোপে আটকে যেতে চায়, যখন অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার প্রবণতা তৈরি হয়তখন নজরুলের কণ্ঠ আবার ফিরে আসে।সে কণ্ঠ বলেমানুষের চেয়ে বড় কোনও পরিচয় নেই।বিদ্রোহ মানে শুধু অস্ত্র তুলে নেওয়া নয়; অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করাও বিদ্রোহ।আর সাম্য মানে শুধু রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়; অন্যের ধর্ম, ভাষা, পরিচয় ও মর্যাদাকে নিজের মতোই সম্মান করাও সাম্য।তাই নজরুলকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান নয়। তাঁর গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি করা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি আবেগঘন বাক্য লেখা নয়।নজরুলকে সত্যিকার অর্থে স্মরণ করতে হলে তাঁর প্রশ্নগুলিকে নিজেদের জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।মানুষ কি সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে?অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কি এখনও কথা বলি?ধর্মের নামে বিভেদের বদলে ভালোবাসার সেতু গড়তে পারি কি?এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলেই বোঝা যায়নজরুল আজও অমর।তিনি আছেন আমাদের প্রতিবাদে, আমাদের প্রেমে, আমাদের গানে, আমাদের সাম্যের স্বপ্নে।আর যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি কণ্ঠ উচ্চারিত হবে, ততদিন সেই কণ্ঠের ভিতরে কোথাও না কোথাও বেঁচে থাকবেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

অভিষেকের বাড়িতে কালীঘাট থানার পুলিশ, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় হাজিরার নোটিশ সাংসদকে

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ৯ টার পর কালীঘাট থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ১ সেপ্টেম্বর সেকশপিয়ার থানায় তাঁকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে গেলে জোর করে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেদিন তৃণমূল কংগ্রেস লেখা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে। সেদিনই পুলিশ এফআইআর করে। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোট তিনটে কেস করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু কাজে বাধা নয় শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে ওই বাড়ির দুটি ঘর জোড় করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা দখল করে নিয়েছে বলে মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

হাইকোর্টের শর্ত উড়িয়ে রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, শুভেন্দুর নির্দেশে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসের সভাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে আয়োজিত ওই সভায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দিষ্ট শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরই কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার কথা জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আদালত অবমাননার অভিযোগে হাইকোর্টে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তারপরই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হেস্টিংস থানায় এফআইআর করেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গতকাল ক্যাথিড্রাল রোডে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার অনুমতি দেওয়ার সময় কলকাতা হাইকোর্টের তরফে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সভা চলাকালীন ক্যাথিড্রাল রোডের অন্তত একটি ফ্ল্যাঙ্ক সচল রাখার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা। কিন্তু সভা চলাকালীন সেই নির্দেশ কার্যকর ছিল না বলেই অভিযোগ উঠেছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির সময় পরিস্থিতি আচমকাই বদলে যায়। মঞ্চ থেকে তাঁর ইশারার পর রাস্তার অপর পাশে গাছের নিচে অপেক্ষারত বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থক ব্যারিকেড অতিক্রম করে সভাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার দুদিকেই মানুষের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ক্যাথিড্রাল রোডের উভয় ফ্ল্যাঙ্ক কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। যান চলাচলও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বাস, ট্যাক্সি এবং ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। ব্যস্ত ওই এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যানজট তৈরি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।ঘটনার পরই সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নির্দেশে রাস্তার একটি অংশ খোলা রাখার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তাঁর কথায়, দেখলেন তো আজকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে হাইকোর্টের অর্ডার ভাঙলেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল রাস্তার একটি ফ্ল্যাঙ্ক সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু একেবারে গাছের নিচে থাকা লোকজনদের ডেকে রাস্তা বন্ধ করিয়ে তিনি কী করলেন?এর পরেই পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি অবিলম্বে এফআইআর রেজিস্টার করতে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এ ধরনের বেআইনি কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ এবং তা লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার আইনি লড়াইও নতুন মাত্রা পেতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মমলা করে পুলিশ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদহে রাতভর ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক! একাধিক লোকাল বাতিল, বদল ট্রেন পরিষেবায়

শিয়ালদহ স্টেশনে গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজের জন্য টানা সাত ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক নিতে চলেছে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। পয়েন্ট কনভার্সন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজের জন্য শনিবার, ২৯ আগস্ট এবং রবিবার, ৩০ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে এই ব্লক নেওয়া হবে। এর জেরে ৩০ আগস্ট, রবিবার সকালে শিয়ালদহ শাখায় একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল এবং একটি ট্রেনকে নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই থামিয়ে দেওয়া হবে।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ আগস্ট রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদহ স্টেশনের DN/Main Line-এর KM 0/19 থেকে KM 0/20 অংশে Point No. 208B/219A-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান 52 Kg DSS-কে 60 Kg DSS-এ রূপান্তর করা হবে। ট্র্যাকের ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্টও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হবে।শুধু ট্র্যাক পরিবর্তন নয়, এই বৃহৎ পরিকাঠামোগত কাজের অংশ হিসেবে গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিংয়ের প্রয়োজনীয় ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিয়ালদহ স্টেশনের সংশ্লিষ্ট লাইনে ট্রেন চলাচল এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।রেলের তরফে জানানো হয়েছে, Track Circuit পরিবর্তনের কাজও ব্লকের সময় করা হবে। একই সঙ্গে Line No. 6 এবং Line No. 11-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট এই সময় প্রভাবিত থাকবে। এত বড় মাপের কাজ যাতে যাত্রী পরিষেবায় তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে, সে কারণেই সপ্তাহান্তের গভীর রাত থেকে ভোরের সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।বাতিল একাধিক লোকালএই পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ৩০ আগস্ট বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন বাতিল থাকবে। রেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ীশিয়ালদহহাবড়া: 33651 UP / 33652 DNশিয়ালদহকল্যাণী সীমান্ত: 31313 UP / 31316 DNশিয়ালদহডানকুনি: 32217 UP / 32218 DNশিয়ালদহরানাঘাট: 31615 UP / 31620 DNশিয়ালদহহাবড়া: 33653 UP / 33654 DNএছাড়াও Train No. 53172 DN (লালগোলাশিয়ালদহ)-কে ৩০ আগস্ট দমদম জংশনে (DDJ) শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। অর্থাৎ ওই দিন ট্রেনটি শিয়ালদহ পর্যন্ত না গিয়ে দমদম জংশনেই যাত্রা শেষ করবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেনটির খালি রেক শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়ে আসা হবে।যাত্রীদের জন্য বিশেষ বার্তারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যাত্রীদের দুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমানোর লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে এই কাজ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দ্রুত স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির কর্মীদের সাইটে মোতায়েন রাখা হবে।শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, কাজটি নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং এবং কমার্শিয়াল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সাময়িক পরিবর্তন সম্পর্কে জানাতে শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।রেলের দাবি, এই পয়েন্ট কনভার্সন ও ট্র্যাক নবীকরণের ফলে শিয়ালদহ স্টেশনের ট্র্যাক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং দক্ষতা আরও বাড়বে। যদিও কাজের সময়সূচির কারণে রবিবার কিছু ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত করতেই এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক জরুরি বলে জানিয়েছে রেল।তাই ৩০ আগস্ট যাঁদের শিয়ালদহমুখী বা শিয়ালদহ থেকে বিভিন্ন শাখায় যাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি ও পরিষেবার সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন। সাময়িক এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতার আবেদনও জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের রাখী উৎসব, আনন্দমুখর বিজয় তোরণ চত্বর

ভাই-বোনের ভালোবাসা, পারস্পরিক আস্থা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বর্ধমানে আয়োজিত হল রাখী উৎসব। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাখীর বন্ধনে আবদ্ধ হলেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ। উৎসবকে ঘিরে বিজয় তোরণ (কার্জনগেট) চত্বরে এদিন পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দমুখর। রাখী পরিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়।রাখী বন্ধন শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের উৎসব নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও এই উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের। পথচলতি মানুষের হাতে রাখী পরিয়ে দেন ক্লাবের সদস্যরা। একে অপরের মঙ্গল ও সুস্থ কামনায় সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সময়ে বিভাজনের নানা প্রবণতার মধ্যে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন। রাখী সেই বন্ধনেরই প্রতীক। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একসূত্রে বাঁধার বার্তা দিতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও এ ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।রাখী পরানোর পাশাপাশি এদিন শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন উপস্থিত সকলে। ছোট-বড় সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি কার্যত মিলন উৎসবে পরিণত হয়। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের এই উদ্যোগে উঠে আসে একটাই বার্তা, সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় হোক, মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমুক এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সমাজের সর্বস্তরে। বেঙ্গল প্রেস ক্লাব বছরে নানা ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান করে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
নিবন্ধ

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল - 'বীণার মুর্ছনায় বিদ্রোহের মশাল'

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক সময়ের সীমা পেরিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক তেমনই এক অনন্য অধ্যায়যেখানে প্রজন্মের ব্যবধানকে ছাপিয়ে জায়গা করে নিয়েছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্নেহ, ভালোবাসা এবং এক গভীর মানবিক বন্ধন। যেমন একসময় বাংলা ছায়াছবির জগতে উত্তম না সৌমিত্রকে বড় এই বিতর্ক ছিল বাঙালির চিরন্তন আড্ডার বিষয়, তেমনই বাংলা সাহিত্যের আলোচনায় রবি না কাজী নিয়েও চলেছে নিরন্তর তর্ক-বিতর্ক। কিন্তু সাহিত্য-সমালোচকদের সেই তুলনা বা পাঠকের আবেগের লড়াইয়ের বাইরে, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের নিজেদের সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকমসেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনও স্থান ছিল না।আজকের দিনে ৭৭ বছর বয়সে, ১৯৭৬ -র ২৯ আগস্ট, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনাবসান ঘটে। তাঁর প্রয়াণদিবসে তাই ফিরে দেখা যাক বাংলা সাহিত্যের দুই মহীরুহের সেই অসম্ভব সুন্দর সম্পর্ককেযে সম্পর্কে ছিল স্নেহের আশ্রয়, শ্রদ্ধার স্বীকৃতি, সৃষ্টিশীলতার অনুপ্রেরণা এবং এক কবির প্রতি অন্য কবির অকৃত্রিম ভালোবাসা। সময়ের স্রোত পেরিয়েও তাঁদের সেই সম্পর্ক আজও বাঙালির সাহিত্য-স্মৃতিতে এক উজ্জ্বল মানবিক অধ্যায় হয়ে আছে।বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলির ব্যাখ্যা কেবল শব্দ দিয়ে করা যায় না, অনুভব করতে হয়। যেমন অনুভব করতে হয় শরতের আকাশে হঠাৎ ভেসে ওঠা মেঘ, বর্ষার প্রথম গন্ধ, কিংবা বহুদিন পর শোনা কোনো পরিচিত কণ্ঠস্বর।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্কও তেমনই এক অনুভবের বিষয়।একজন তখন বাংলা সাহিত্যের আকাশে প্রায় সূর্যের মতো দীপ্তিমান। তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে বিশ্বকবির অভিধা। অন্যজন তখনও তরুণঅস্থির, দুরন্ত, দুঃসাহসী, দুর্বার। তাঁর হাতে কলম, অথচ সেই কলমে যেন তরবারির ঝলকানি। একজনের কবিতায় শান্তির নদী, অন্যজনের কবিতায় ঝড়ের গর্জন। একজন যখন বীণার তারে আঙুল রাখেন, অন্যজন যেন বজ্রের বুক চিরে শব্দ তুলে আনেন।তবু আশ্চর্যএই দুই ভিন্ন স্রোত এসে কোনও এক মোহনায় যেন মিলেছিল!সেই মিলনের নামশ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালোবাসা।রবীন্দ্রনাথ নজরুলের মধ্যে কেবল একজন তরুণ কবিকে দেখেননি; তিনি দেখেছিলেন আসন্ন সময়ের স্পন্দন। আর নজরুল রবীন্দ্রনাথের মধ্যে শুধু একজন প্রতিষ্ঠিত মহাকবিকে দেখেননি; দেখেছিলেন এমন এক আপনজনকে, যার সামনে মাথা নত করা যায়, অথচ নিজের কণ্ঠস্বরটিও অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।এই জায়গাটিই তাঁদের সম্পর্ককে এত অনন্য করে তোলে। যে তরুণ কবির মধ্যে রবীন্দ্রনাথ চিনেছিলেন ভবিষ্যৎ। নজরুলের আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যে যেন হঠাৎ আসা এক কালবৈশাখী। তাঁর শব্দে ছিল আগুন, তাঁর ছন্দে ছিল মার্চ করার শব্দ, তাঁর কবিতায় ছিল শিকল ভাঙার আকাঙ্ক্ষা।বিদ্রোহী প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা সাহিত্য যেন এক মুহূর্তে নিজের পরিচিত আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য এক মুখ দেখতে পেল।বল বীরবল উন্নত মম শির!এই উচ্চারণ শুধু একটি কবিতার পঙ্ক্তি ছিল না। ছিল এক যুগের অবদমিত আত্মার বিস্ফোরণ।রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন সেই বিস্ফোরণের ভাষা। তিনি বুঝেছিলেন, তরুণ নজরুলকে রবীন্দ্রনাথের মতো করে লিখতে হবে না। বরং বাংলা সাহিত্যের প্রয়োজন ছিল এমন একজনের, যিনি রবীন্দ্র-প্রতিষ্ঠার বিশাল ছায়ার মধ্যেও নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র আকাশ তৈরি করবেন। তাঁদের যুগলবন্দী শুধুমাত্র দু-এক কথায় বর্ণনা করা মুর্খামী। রবি যদি বীনার আলাপ হন নজরুল ছিলেন ঝালা। দুইয়ে মিলেই একটি রাগের পূর্ণতা পায়।এই কারণেই নজরুলের প্রতি রবীন্দ্রনাথের স্নেহে ছিল না কোনো অহংকার।ছিল এক প্রবীণ স্রষ্টার আনন্দযখন তিনি দেখেন তাঁর পরের প্রজন্ম তাঁর চেনা পথ ছেড়ে আরও দূরে, আরও অজানার দিকে হাঁটতে শুরু করেছে।বসন্ত: একজন কবির হাতে আরেক কবির আশীর্বাদ, নজরুল যখন কারাগারে, তখন তাঁর শরীর বন্দি হয়েছিল, কিন্তু তাঁর কবিসত্তা নয়। রাজবন্দি তরুণ কবি অনশনে। শরীর ক্রমশ ভেঙে যাচ্ছে। এই সংবাদে উদ্বিগ্ন রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ও অস্থির হয়ে উঠেছিল।তিনি জানতেন, নজরুলের মধ্যে যে আগুন জ্বলছে, তা সহজে নেভার নয়। তবু একজন স্নেহশীল প্রবীণের মতো তাঁর মন চাইছিলএই তরুণ কবি বেঁচে থাকুন। তাঁর কণ্ঠ যেন থেমে না যায়।এই সময়েই বসন্ত গীতিনাট্য নজরুলকে উৎসর্গ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এ যেন কেবল একটি বই উৎসর্গ করা নয়। এ একজন প্রবীণ কবির তরুণ কবির হাতে নিজের আশীর্বাদের একটি প্রদীপ তুলে দেওয়া।কারাগারের অন্ধকারে বসে নজরুল যখন সেই উৎসর্গের কথা জানলেন, তখন তাঁর কাছে সেটি ছিল এক অপার স্বীকৃতি। যে সময়ে রাষ্ট্র তাঁকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে, সেই সময় বাংলা তথা বিশ্ব সাহিত্যের সর্বোচ্চ আসনে থাকা একজন মানুষ তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করছেন। এই স্বীকৃতির মূল্য কোনো পুরস্কারের চেয়ে কম ছিল না।শ্রদ্ধা ছিল, কিন্তু ভয় ছিল নানজরুলের সৌন্দর্য এখানেইতিনি রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা করতেন, কিন্তু তাঁর সামনে নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দেননি। এবং রবীন্দ্রনাথও সেটিই চেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের কাছে নজরুলের বিদ্রোহ কোনো অপরাধ ছিল না। বরং তিনি বুঝেছিলেন, যুগ বদলালে কবিতার ভাষাও বদলায়।একটি প্রজন্ম যে প্রশ্ন করতে চায়, আগের প্রজন্ম যদি সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারে, তবে নতুন কবির জন্ম হয়।নজরুল সেই নতুন কবিতিনি রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করার জন্য লেখেননি; তিনি নিজের সময়কে প্রকাশ করার জন্য লিখেছিলেন। আর রবীন্দ্রনাথ সেই স্বাধীনতাটুকু তাঁকে দিয়েছিলেন। এই উদারতাই রবীন্দ্রনাথকে শুধু বড় কবি নয়, বড় মানুষও করে তুলেছিল।এক ফ্রেমে ধরা পড়েনি দুই মহীরুহআজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবলে বিস্ময় জাগেদুই কবি দেখা করেছেন, কথা বলেছেন, পরস্পরের সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন; অথচ তাঁদের একসঙ্গে থাকা কোনো সুপরিচিত আলোকচিত্র আমাদের হাতে নেই।ইতিহাসের কাছে এ এক অদ্ভুত আফসোসএক ফ্রেমে যদি ধরা থাকত সেই দৃশ্য! এক পাশে শান্ত, শুভ্র, দীর্ঘকায় রবীন্দ্রনাথ। অন্য পাশে তারুণ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বল নজরুল। একজনের মুখে প্রশান্তি, অন্যজনের চোখে আগুন। ক্যামেরার একটি ক্লিক হয়তো ধরে রাখতে পারত বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে সুন্দর এক সম্পর্কের দৃশ্যমান স্মৃতি। কিন্তু হয়তো নিয়তি চেয়েছিল, তাঁদের সম্পর্ক ছবি হয়ে না থেকে স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকুক।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএক রসিকতার আড়ালে গভীর সত্যনজরুলের বিদ্রোহী শুধু পাঠ করা যায় না, অনুভব করতে হয়। তরুণ কবির কণ্ঠে যখন সেই কবিতা উচ্চারিত হয়েছিল, তখন তা নিছক শব্দ ছিল নাছিল এক বিস্ফোরিত আত্মপরিচয়। রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়িয়ে নজরুল তাঁর কবিতা পাঠ করছেনভাবলেই দৃশ্যটি যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।কবিতা শেষ।এক মুহূর্তের নীরবতা।তারপর প্রবীণ কবির হাসি, মুগ্ধতা, ভালোবাসা।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএই রসিকতার মধ্যে যেন লুকিয়ে আছে এক বিরাট সত্য। নজরুল রবীন্দ্রনাথকে হত্যা করেননি। তিনি হত্যা করেছিলেন সেই ধারণাকেবাংলা কবিতার একমাত্র ভাষা একটিই। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথের পাশে দাঁড়িয়েও অন্য এক কণ্ঠস্বর পৃথিবী কাঁপাতে পারে। আর রবীন্দ্রনাথ সেই নতুন কণ্ঠস্বরকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এমন উদারতা বিরল। অভিমানও ছিল, দূরত্বও ছিল।যে সম্পর্ক সত্যিকারের, সেখানে অভিমান থাকে।নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কেও হয়তো সেই মানবিক টানাপোড়েন ছিল। রাজনৈতিক উত্তেজনা, সময়ের অস্থিরতা, সাহিত্যিক মতপার্থক্যসবকিছু মিলিয়ে কখনও কখনও তাঁদের মধ্যে ভাবনার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।কিন্তু সেই দূরত্ব কখনও হৃদয়ের দূরত্ব হয়ে ওঠেনি। কারণ রবীন্দ্রনাথ নজরুলের বিদ্রোহের মধ্যে নিজের প্রতি অসম্মান দেখেননি। আর নজরুলও রবীন্দ্রনাথের উপদেশকে শেষ পর্যন্ত একজন স্নেহশীল প্রবীণের উদ্বেগ হিসেবেই অনুভব করেছিলেন। এই জায়গাতেই তাঁদের সম্পর্কের মানবিক সৌন্দর্য। তাঁরা একমত ছিলেন না সব বিষয়ে। কিন্তু একে অপরকে ভালোবাসতে তাঁদের একমত হওয়ার প্রয়োজন হয়নি।সঞ্চিতা: শিষ্যের অর্ঘ্য১৯২৮ সালে নজরুল তাঁর সঞ্চিতা রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন। নামটির মধ্যেও যেন শ্রদ্ধার এক নীরব সেতু ছিল। রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতাআর নজরুলের সঞ্চিতা। কিন্তু বইয়ের নামের এই সাদৃশ্যের চেয়েও বড় ছিল উৎসর্গের অনুভূতি। যে তরুণ কবি একদিন বিদ্রোহের ভাষায় নিজের পরিচয় ঘোষণা করেছিলেন, সেই তিনিই আবার নিজের সৃষ্টির অর্ঘ্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রবীণ কবির দরজায়। এখানে কোনো আত্মসমর্পণ ছিল না। ছিল ভালোবাসা।ছিল বলাআপনাকে অস্বীকার না করেও আমি আমার নিজের পথের কবি।রবির বিদায়: যে শোক ভাষাকে স্তব্ধ করে দেয়১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট। বাংলা আকাশ থেকে যেন একটি বিশাল আলো সরে গেল। রবীন্দ্রনাথ চলে গেলেন। এই মৃত্যু ছিল শুধু একজন কবির মৃত্যু নয়। একটি যুগের অবসান। আর সেই সংবাদ যখন নজরুলের কাছে পৌঁছেছিল, তখন তাঁর হৃদয়ের ভিতরে কী ঝড় উঠেছিল, তা কল্পনা করাও কঠিন। যে মানুষটি তাঁর প্রতিভাকে চিনেছিলেন, তাঁকে সম্মান দিয়েছিলেন, তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেনসেই মানুষটি আর নেই। নজরুলের শোক তাই ছিল আপনজন হারানোর শোক।তিনি লিখলেন, গাইলেন, কাঁদলেন।ঘুমাতে দাও শ্রান্ত রবিরেকী আশ্চর্য নিয়তি!যে তরুণ কবির কণ্ঠ একদিন রবীন্দ্রনাথের বিদায়ে বজ্রের মতো গর্জে উঠেছিল, সেই কণ্ঠই বছর ঘুরতেই অসুস্থতার অন্ধকারে স্তব্ধ হয়ে গেল।কণ্ঠ থেমে গেল।স্মৃতি মুছে যেতে লাগল।শব্দ, যে শব্দ দিয়ে তিনি সাম্রাজ্যকে কাঁপিয়েছিলেন, সেই শব্দই তাঁর নিজের জীবনে একদিন নিঃশব্দ হয়ে গেল।এ যেন ইতিহাসের নির্মমতম কবিতা।দুই কবি, এক মানবতার গানরবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে পাশাপাশি রাখলে প্রথমে চোখে পড়ে তাঁদের পার্থক্য। রবীন্দ্রনাথশান্তি, সৌন্দর্য, প্রেম, প্রকৃতি, আত্মদর্শন। নজরুলবিদ্রোহ, সাম্য, সংগ্রাম, প্রেম, মুক্তি। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই দেখা যায়, তাঁদের গন্তব্য একই। দুজনেই মানুষকে ভালোবেসেছেন। দুজনেই মানুষের মুক্তি চেয়েছেন। দুজনেই ধর্ম, জাতি, সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে মানুষকে দেখতে চেয়েছেন। তাই তাঁদের পথ আলাদা হলেও আকাশ ছিল এক।রবীন্দ্রনাথ হয়তো বলেছিলেনমানুষের হৃদয়কে সুন্দর করো।নজরুল যেন উত্তর দিয়েছিলেনমানুষের শিকলও ভেঙে দাও।একজন হৃদয়ের দরজা খুলেছেন, অন্যজন কারাগারের দরজা ভেঙেছেন। আর বাংলা সাহিত্য তাঁদের দুজনকেই গ্রহণ করেছে।দুই নক্ষত্রের দিকে তাকিয়েআজ এত বছর পরে যখন আমরা তাঁদের দিকে ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল যেন একই আকাশের দুটি নক্ষত্র।তাঁদের আলো এক নয়।তাঁদের পথ এক নয়।তাঁদের ভাষাও এক নয়।কিন্তু অন্ধকারের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রত্যয়ের জায়গাটি একই।একজনের হাতে ছিল বীণা, অন্যজনের হাতে বিদ্রোহের মশাল।একজন বলেছিলেন ভালোবাসতে।অন্যজন বলেছিলেন ভয় না পেতে।একজন মানুষের অন্তরকে মুক্ত করেছেন, অন্যজন মানুষের মেরুদণ্ডকে সোজা করেছেন।আর তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক আমাদের শিখিয়েছেশ্রদ্ধা মানে নিজের কণ্ঠ হারিয়ে ফেলা নয়; ভালোবাসা মানে একে অপরকে নিজের মতো করে বানিয়ে নেওয়া নয়। সত্যিকারের শ্রদ্ধা হল অন্যের স্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করে নেওয়া। সত্যিকারের ভালোবাসা হল অন্যের আলোকে ভয় না পাওয়া। রবীন্দ্রনাথ নজরুলের আলোকে ভয় পাননি। নজরুলও রবীন্দ্রনাথের মহিমার সামনে নিজের আলো নিভিয়ে দেননি।এই কারণেই তাঁদের সম্পর্ক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শুধু একটি অধ্যায় নয়এ এক অনন্ত মানবিক উপাখ্যান। যেখানে একজন প্রবীণ কবি তরুণ প্রতিভার মাথায় হাত রেখেছেন, আর এক তরুণ বিদ্রোহী কবি শ্রদ্ধায় সেই হাতের উষ্ণতা অনুভব করেছেন। সময় তাঁদের আলাদা করেছে।মৃত্যু তাঁদের দুজনকেই নীরব করেছে।কিন্তু তাঁদের কথারা আজও বেঁচে আছে।রবীন্দ্রনাথের গানে যখন সন্ধ্যা নামে, নজরুলের কবিতায় তখন ভোরের মিছিল শুরু হয়।একজনের সুরে মন শান্ত হয়।অন্যজনের শব্দে রক্ত গরম হয়ে ওঠে।আর আমরা বুঝতে পারিবাংলা সাহিত্যকে সম্পূর্ণ করতে দুজনেরই প্রয়োজন ছিল। একজন না থাকলে অন্যজনের মহিমা হয়তো এত স্পষ্ট হয়ে উঠত না। তাই আজও মনে হয়, দূর কোনো নক্ষত্রলোকের নীরব বারান্দায় হয়তো রবীন্দ্রনাথ বসে আছেন, হাতে তাঁর চিরপরিচিত বীণা। আর পাশে দাঁড়িয়ে নজরুলচোখে সেই দুরন্ত আগুন, হাতে তাঁর অমর মশাল। দুজনেই হয়তো একে অপরের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।কোনো অভিমান নেই।কোনো প্রতিযোগিতা নেই।শুধু গভীর এক স্বীকৃতিতুমি তোমার মতো করেই এসেছিলে।তাই বাংলা ভাষা আজ এত সমৃদ্ধ।আর সেই কারণেই, তাঁদের ভালোবাসার গল্প শেষ হয় না।প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা সেই গল্প শুনিএকজন কবির স্নেহের গল্প, একজন বিদ্রোহীর শ্রদ্ধার গল্প, আর দুই মহীরুহের মধ্যে জন্ম নেওয়া এমন এক আত্মিক বন্ধনের গল্প,যেখানে বীণার সুর আর বিদ্রোহের মশালদুটিই শেষ পর্যন্ত মানুষেরই জয়গান গায়।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
দেশ

আরও বাড়তে পারে গঙ্গার জল, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফরাক্কা থেকে সামশেরগঞ্জ, সুতী, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ হয়ে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা আসায় ভয় আরও বাড়ছে স্থানীয়দের।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার ছাড়িয়ে বর্তমানে ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর আরও বেড়ে ২২.৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হড়কা বানের জেরে অতিরিক্ত জল গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। বিহারের পাটনা ও রাজমহল হয়ে সেই জল ফরাক্কায় পৌঁছনোর কারণেই দ্রুত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, আপস্ট্রিম থেকে আসা জলের মধ্যে ফরাক্কার ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছে।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আধিকারিক সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, বিকেল ৩টের সময় গঙ্গার জলস্তর ২২.৭৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমার তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তাঁর কথায়, জলস্তর এখনও ঊর্ধ্বমুখী এবং পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে তা ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। নেপালের হড়কা বানের প্রভাবেই এই জলবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শহরে জল ঢোকার কোনও রেকর্ড নেই এবং পরিস্থিতি সেফ জোনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, জলস্তর বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফরাক্কার গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা শরৎ হালদার বলেন, প্রশাসনের দফতর থেকে বারবার সাবধান থাকার মেসেজ আসছে। তাঁর আশঙ্কা, আরও এক মিটার জল বাড়লেই নালা দিয়ে গ্রামে জল ঢুকে পড়তে পারে। টিনের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী গরিব মানুষজন বন্যা হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে থাকবেনসেই চিন্তাতেই এখন রাত কাটছে তাঁদের।

আগস্ট ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal