• ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২, শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Cricket

নিবন্ধ

Shree: কুঁড়ে ঘর থেকে ক্রিকেটের নন্দনকাননে

......এবার আমরা ডেকে নিচ্ছি আমাদের গর্ব, আমাদের গ্রামের রত্ন শ্রীতমা দত্তকে। ওনাকে সম্বর্ধনা জানাবেন আমাদের এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী শ্রী প্রতাপ চৌধুরী।একটি ছিপছিপে শ্যামলা মেয়ে উঠে এল মঞ্চে। মেয়ের চোখে অসম্ভব একটা আত্মবিশ্বাস। মুখে একটা আত্মপ্রসাদের হাসি।ভাবছেন তো কে এই শ্রীতমা? কেন তাকে সম্বর্ধনা দেওয়া হচ্ছে?শ্রীতমা এই পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি ছোট গ্রাম কানপুর এর মেয়ে। আজ সে জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য রূপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। তাই গ্রামের ক্লাব থেকে ওকে সম্বর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।ওকে ওর এই সাফল্যের কথা বলতে বলা হলেও একটু হাসল যেন নিজের মনে। হাসবে নাই বা কেন! কারন এখন ও যদি ওর আজকের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে ওর জীবন সংগ্রামের কথা সব বলে তাহলে উপস্থিত অনেকেই অস্বস্তিতে পরবে। তাই যতটুকু বলা যায় সেটুকুই বলে।কারন শ্রীতমার চলার পথ মোটেও সহজ হয়নি। খুব ছোট বেলায় বাবাকে হারায়। না বাবা মারা যায়নি, হারিয়ে গেছে । তাঁর স্মৃতি হারিয়ে গেছিল। কোনো একদিন অজান্তেই বেরিয়ে পড়েছিলেন বাড়ি থেকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর তখন থেকেই ওদের মা মেয়ের জীবন যুদ্ধ শুরু। মা মিনতি দেবী সাধারণ গৃহবধূ। লেখা পড়ার খুব বেশি জানতেন না। তাই জীবন টা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।কিন্তু গ্রাম হলেও বেশ বর্ধিষ্ণু। অনেক মানুষ বাস করে সে গ্রামে। চার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বিডিও অফিস, ব্যাঙ্ক, কলেজ থাকায় সেখানে বহু মানুষের বাস। সেখানে ই অনেক চেষ্টার পর দু-তিন ঘরে রান্নার কাজ পেয়ে যায়। আর তাতেই মা মেয়ের দিন চলে যায়। শ্রী গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করে। তার সাথে বাড়িতে ও ঘরের কাজ করতে হয়। মা সকালে উঠে কাজে চলে যায়। তাই ঘরের যাবতীয় কাজ ওকে করে আগের দিন করে রাখা ভাত খেয়ে স্কুলে যেতে হয় ওকে। এই ভাবে চলতে থাকে মা মেয়ের জীবন।একদিন সে মায়ের সথে মা যেখানে রান্না করে তাদের বাড়িতে যায়। সেই বাড়ির ছেলেটি বাড়ির পাশের মাঠে ক্রিকেট খেলতে যায়। শ্রী তখন ক্লাস সিক্স। ও ছোটো থেকেই খেলাধুলায় খুব ভালো। স্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বরাবরই পুরস্কার পায়। ও ক্রিকেট খেলা খুওব ভালোবাসে। ইন্ডিয়া টিমের খেলা থাকলে ও দেখবেই পাড়ায় কারও বাড়িতে। কারন টিভি কেনার মত সামর্থ তাঁদের নেই, এই ব্যাপারে অনেকে ওর মাকে নানা কথা শোনায়। ও যখন ছেলেদের সঙ্গে খেলতে যায় গ্রামের লোকেরা নানারকম কথা বলে। কিন্তু শ্রী খেলা ছেড়ে যেন থাকতে পারে না। এরপর ও মেয়েদের ক্রিকেট দলের কথা শোনার পর স্বপ্ন দেখতে থাকে। কিন্তু জানে যে সে স্বপ্ন পূরণ হবার নয়। তবুও স্বপ্ন আসে নিজের মত করে। মায়ের সঙ্গে গিয়ে ক্রিকেট কোচিং সেন্টার দেখে ওর ইচ্ছাটা প্রবল হয়। তারপর থেকে ছুটির দিনে সে মায়ের সাথে মাঠে যায়। মা রান্না করে আর ও মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে দেখে কি করে খেলা হয়।শ্রীতমাকে সপ্তাহে ওই বিশেষ দিনে মাঠের পাশের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একদিন কোচিং সেন্টারের কোচ ওকে জিজ্ঞাসা করেন ওর বাড়ি কোথায়? ও এখানে কার সাথে আসে? ও তখন সাহস করে বলে ও দাদা আমাকে ক্রিকেট শেখাবে?শুনে অবাক হয়ে যায় কোচ অনির্বাণ রায়। বলে এখানে তো মেয়েদের শেখানো হয়না। তুমি একা কি করে শিখবে?ও বলে কি হয়েছে আমি একাই শিখবো। দেখবে আমাকে দেখে অনেক মেয়ে আসবে।কথাটা বেশ ভালো লাগে অনির্বাণের। ও বলে বেশ আমি ক্লাবের সাথে কথা বলি।পরের সপ্তাহে শ্রী ঠিক হাজির হয়। সেদিন দেখে আরও কয়েকজন রয়েছে। ওকে বলেন, তুই খেলার কথা বলেছিস?হ্যাঁ!একজন বলে ওঠেন জানিস এই খেলার খরচ?ছোটো শ্রী খেলার খরচের কথা শুনে একটু অবাক হয়। ছোটো মনে সেটা ঢোকে না, শুধু অবাক চোখে তাকায়।যারা এসেছেন তাদের মধ্যে একজন বলেন ঠিক আছে ও যদি খেলতে চায় খেলুক। আমরা ক্লাবের তরফ থেকে যত টা পারব সাহায্য করবে।সেই শুরু শ্রীতমার আরেক যুদ্ধ। ওর মা অবশ্য প্রথম প্রথম রাজী ছিলেন না। কিন্তু মেয়ের ইচ্ছা আর অদম্য জেদের কাছে হেরে যান শেষ পর্যন্ত। মেয়েকে আরও একটু ভালো খাবার দেওয়ার জন্য আরও এক বাড়ি কাজ নেন মিনতি। মেয়ের খেলা নিয়ে গ্রামের অনেকে বলে,মেয়ে মানুষের আবার ওত লাফালাফি কিসের ছেলেদের সাথে?আবার অনেকে বলে কুঁজোর ও সখ হয় চিৎ হয়ে শুতেএসব কথা যত শুনে শ্রীতমার মনে জেদ আরও বেড়ে যায়। একদিন অনিদা ওকে বলে তোর স্বপ্ন পূরণ করতে হলে আরও বড়ো জায়গায় শিখতে হবে।...আমি কি করে বড়ো জায়গায় শিখবো অনি দা?দেখি একবার সুধীরদাকে বলে। সবার বিরুদ্ধে গিয়ে উনিই তো তোর খেলার ব্যবস্থা করেছিলেন। আজ পর্যন্ত তোর যাবতীয় সরঞ্জাম উনিই কিনে দিয়েছেন। উনি যদি আরও একটু সাহায্য করেন তাহলে তোকে দূর্গাপুরের একটা ক্লাবে ভর্তি করে দিতে পারব, আমার চেনা আছে।সুধীরদা সাহায্য করে, শ্রী ভর্তি হয় দূর্গাপুরের ক্লাবে। ওর মাকে ও ওখানে কাজের ব্যবস্থাও করে দেয় ওরা। তবে এসব কিছু সহজ হয়নি। গ্রামের অনেকে অনেক বাজে কথা বলেছে ওর মাকে। যারা আজ ওকে নিয়ে এত উচ্ছাস দেখাচ্ছে তারাই যে একদিন নোংরা কথা বলতেও ছাড়েনি মামেয়েকে।নিজের জেদে অটুট শ্রী মাকে শুধু বলেছে দেখবে একদিন সবাই আমাদের কাছে হেরে যাবে।এরপর শুরু হয় আরেক লড়াই। শহরের বড়ো ঘরের মেয়েদের সাথে খেলা সহজ নয়। সহজে কেউ মেনে নিতে পারে না গ্রামের গরীবের মেয়ে শ্রীতমাকে। পদে পদে হেনস্থা করতে থাকে। ঠিক যেমন কোনি গল্পে আমরা দেখতে পাই। ওর পোষাক নিয়ে হাসাহাসি করে ওখানকার মেয়েরা। এসব কিছু মাঝে মাঝে শ্রীকে একটু দুর্বল করে দেয়। কিন্তু সবাই তো সমান হয় না; শর্মিলা শ্রীতমার বন্ধু হয়ে ওঠে। শহরের মেয়ে হলেও ও একটু অন্য রকম। ও বোঝে শ্রীতমার কষ্ট। শ্রী যখন ভেঙে পরে ও বোঝায় কোনো কিছু খেলার থেকে বড়ো নয়। শর্মিলা বোঝে শ্রী এর মধ্যে একটা আগুন আছে যে টা ওকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।এর মধ্যে আসে বাংলা দলের টিম নির্বাচনের সময়। ক্লাবের হয়ে ও খুব ভালো খেলে তবু অনেক চেষ্টা চলে শ্রী কে না নেওয়ার। কিন্তু ভগবান যার সহায়তা হন তাকে কেউ হারাতে পারে না।তাই কোন কিছু পারে না ওকে থামাতে। ও বাংলা দলে নির্বাচিত হয়। খেলে খুব ভালো। এবার যেতে হয় কোলকাতায়। সেখানেও ওকে সাহায্য করে সুধীর দা। মা মেয়ের থাকার আর মায়ের কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। ওখানেও রান্নার কাজে লাগিয়ে দেয়। এখানে ক্লাব আরও বড়ো আরও ভালো ব্যবস্থা। শ্রী তো খুশিতে নেচে ওঠে। কিন্তু প্র্যাকটিস করতে গিয়ে বোঝে আরও কঠিন জায়গায় এসে পৌঁছেছে সে।কিন্তু স্বপ্নটা তো মনের মধ্যে গেঁথে গেছে জোরদার ভাবে। তবে ওখানে বাংলার দুই মহিলা ক্রিকেটারের চোখে পড়ে শ্রী। ওর একাগ্রতা ও অধ্যবসায় তাদের মুগ্ধ করে। তারা ওকে যথাসম্ভব সাহায্য করেন।এইসময় বাংলা টিমে সূযোগ না পেয়ে পূর্ব ভারতের অন্য একটি রাজ্যের হয়ে শ্রী খেলে।এখন কোনো বাধা আর যেন অন্তরায় না হয় শ্রীতমার জীবনের পথে এই প্রার্থনা করে ওর মা। কিন্তু সেটা তো সহজ নয়। তবে ওর অধ্যবসায় দেখে সুধীর দার মত সহৃদয় ব্যক্তি এখানেও এগিয়ে আসেন ওকে সাহায্য করতে। আর এই মানুষগুলো আছেন বলেই এখনও পৃথিবীর বুকে শ্রীতমার মত মেয়েরা সফলতা পায়।হাজার রকম বাধা সত্ত্বেও শ্রীতমার প্র্যাকটিস চলতে থাকে। এরপর আসে সেই দিন জাতীয় স্তরে নির্বাচনের দিন। প্রথমে তো ওকে জানানোই হয়না। কিন্তু ভাগ্য সঙ্গে থাকলে সব হয়, ও জানতে পারে নির্বাচনের কথা। ক্লাবের সেক্রেটারির কাছে যায়।স্যার আমি কি যাব না জাতীয় স্তরের নির্বাচনে? বলে শ্রীতুমি! তুমি কি করে যাবে? তুমি এই সবে কয়েক মাস হলো এসেছো।তাও... আমাকে একটা সূযোগ দিন!না না ওইভাবে হয় না। তুমি এখন যাও। বলে ওকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে।ও বেরিয়ে যাওয়ার সময় আর একটি মেয়ে ঢোকে। তাকে ঢুকতে দেখে দাঁড়িয়ে পরে শ্রী। তারপর ওদের কথোপকথন শুনে বুঝতে পারে এখানেও খেলা চলছে। ওর পরে যে মেয়েটি ক্লাবে আসে সে কোনো বড়ো ব্যক্তির আত্মীয় তাই সে যাবার সূযোগ পেয়ে যায়।এসব শুনে মন ভেঙে যায় শ্রীতমার। এমন সময় শর্মিলা ওকে বলে তুই চিন্তা করিস না আমি ব্যাপারটা দেখছি। শর্মিলা মেয়েটি খুব চটপটে। ও সব জানায় যতীন্দ্রমোহন বসুকে যে এই ক্লাবের সব বিষয়ে নিজের মতামত জোরদার ভাবে চাপাতে পারেন। ভদ্রলোক খুব অমায়িক। উনিই সেই ব্যক্তি যিনি শ্রী কে এখানে সবরকম ভাবে সাহায্য করেন। উনি আসলে খেলা টা ভালোবাসেন এবং বোঝেন। আরও বোঝেন কার দ্বারা কি হবে।তাই প্রথম দিন থেকেই উনি শ্রীতমার খেলা র অনুরাগী হয়ে ওঠেন। ওকে সবরকম সাহায্য করতে থাকেন।উনি শর্মিলার বাবার বিশেষ পরিচিত।শর্মিলা ওনাকে সব বলে। উনি সব শুনে চুপ করে যান। শুধু বলেন ঠিক আছে আমি দেখছি।ক্লাবের কমিটি যে দিন নাম নির্বাচন করবে সেদিন উনি বললেন সবার আগে শ্রীতমার নাম লেখা হোক। আজ পর্যন্ত ওর মতো কেউ খেলেনি এই ক্লাবে।দু একজন আপত্তি জানানোর চেষ্টা করেন কিন্তু ওনার ব্যক্তিত্বের কাছে চুপ করে যেতে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত শ্রীতমার নাম পাঠানো হয়। এরপর শ্রীতমা কঠিন পরিশ্রম করতে থাকে। স্বপ্ন যেন দুয়ারে এসে কড়া নাড়ছে। যত দিন এগিয়ে আসে শ্রীতমার জেদ ও বাড়তে থাকে। নিজের সাথে যেন নিজের কথা আমাকে পারতেই... হবে। আসে সেই দিন, ট্রায়াল ম্যাচ হবে। চারটি ভাগে খেলা হয়, টিম এ, বি, সি, ডি। দুটি ম্যাচে খুব ভালো বোলিং করে এবং একটিতে রানও করে ভালো। অলরাউন্ডার হিসেবে ওর পারফরম্যান্স বেশ ভালো হয়। তাছারা গ্রামের এবড়ো খেবড়ো মাঠে খেলার সুবাদে ফিল্ডিং-এ বরাবরই খুব ভালো ছিলো শ্রী। সেটাই তফাত গড়ে দিলো বাকিদের সাথে। শ্রী নিজের সবটুকু উজার করে খেলে। এত ভালো পারফরম্যান্স হবে ও ভাবতেও পারেনি। ও সিলেক্ট হয় ইন্ডিয়া-এ আন্ডার নাইনটিন এ টিমে।খবরটা সংবাদ মাধ্যমে বের হতেই গ্রামে হইচই পরে যায়। একসময় যারা বিরোধীতা করে ছিল তারা আজ শত মুখে প্রশংসা করতে থাকে।শ্রীতমা স্পোর্টস কোটায় চাকরি ও পেয়ে যায়।আজ গ্রামের মাঝে মাথা উঁচু করে মা মেয়েকে হেঁটে যেতে দেখে তারা ই আজ বাহবা দিচ্ছে যারা একদিন ওদের অপমান করতে ছাড়েনি।আজ শ্রীতমার স্বপ্ন আর তা পূরনের ইচ্ছার কাছে সব হেরে গেছে।শ্রীতমার সফলতা আমাদের গ্রামবাংলায় অনেক শ্রীতমার জন্ম দেবে।লেখিকাঃ রাখি রায়রাখি রায়-র কলমে আরও কিছু লেখাআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ মিঠির ডায়েরি (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

নভেম্বর ২০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

IND vs NZ T20 : বিশ্বকাপের ব্যর্থতা কটিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জয় ভারতের

দায়িত্ব পেয়েই প্রথম টি২০ সিরিজেই রোহিত শর্মারাহুল দ্রাবিড় জুটির কামাল। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়পুরে জয় এসেছিল। শুক্রবার রাঁচিতে কিউয়িদের ৭ উইকেটে উড়িয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই টি২০ সিরিজ জিতে নিল ভারত। দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নেমে প্রথম ম্যাচেই চমক দেখালেন হর্শল প্যাটেল। ডেথ ওভারে দুরন্ত বোলিং এই জোরে বোলারের। ব্যাট হাতে আবার জ্বলে উঠলেন রোহিত শর্মা। দ্বিতীয় ম্যাচেও টস ভাগ্য সহায় ছিল রোহিত শর্মার। টসে জিতে কিউয়িদের ব্যাট করতে পাঠান। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন মার্টিন গাপটিল। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন ড্যারিল মিচেল। ভুবনেশ্বর কুমারের প্রথম ওভারেই ১৪ রান নেন গাপটিল। দীপক চাহারের দ্বিতীয় ওভারে ১০ রান নেন ড্যারিল মিচেল। পরের ওভারে অক্ষর প্যাটেল কিছুটা কৃপণ বোলিং করলেও চতুর্থ ওভারে ভুবনেশ্বর ১৪ রান দেন। ক্রমশ বিধ্বংসী হয়ে উঠছিলেন মার্টিন গাপটিল। পঞ্চম ওভারে ভারতকে ব্রেক থ্রু এনে দেন দীপক চাহার। ১৫ বলে ৩১ রান করে তাঁর বলে উইকেটের পেছনে ঋষভ পন্থের হাতে ক্যাচ দেন গাপটিল। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান চ্যাপম্যান ও মিচেল। ১৭ বলে ২১ রান করে অক্ষর প্যাটেলের বলে আউট হন চ্যাপম্যান। অভিষেক ম্যাচেই ড্যারিল মিচেলে (২৮ বলে ৩১) তুলে নিয়ে দেশের হয়ে প্রথম উইকেট সংগ্রহ করেন হর্ষল প্যাটেল। মিচেল যখন আউট হন, নিউজিল্যান্ডের রান তখন ১১.২ ওভারে ৯০/৩। এই সময় মনে হচ্ছিল ১৭০১৮০ কাছাকাছি রান তুলে ফেলবে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু রবিচন্দ্রন অশ্বিল, ডেথ ওভারে হর্ষল প্যাটেলের দুরন্ত বোলিংয়ে ২০ ওভারে ১৫৩/৬ রানে আটকে যায় নিউজিল্যান্ড। পরের দিইলে গ্লেন ফিলিপ ২১ বলে ৩৪ রান করেন। ভারতের হয়ে হর্ষল প্যাটেল ২৫ রানে ২টি, অশ্বিন ১৯ রানে ১টি উইকেট পান। ভুবনেশ্বর কুমার, দীপক চাহার, অক্ষর প্যাটেলও ১টি করে উইকেট নেন। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন ভারতের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মা। ওপেনিং জুটিতেই ওঠে ১১৭। লোকেশ ও রোহিতই ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন। ১৪ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে লোকেশ রাহুলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন টিম সাউদি। ৬টি ৪ ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ৪৯ বলে ৬৫ রান করে আউট হন লোকেশ রাহুল। ১৬ তম ওভারে রোহিতকেও তুলে নেন সাউদি। ৩৬ বলে ৫৫ রান করে আউট হন রোহিত। তিনি ১টি ৪ ও ৫টি ৬ মারেন। সূর্যকুমার যাদব ১ রান করে সাউদির বলে বোল্ড হন। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা বেঙ্কটেশ আয়ার ১১ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১৭.২ ওভারে ১৫৫/৩ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। পরপর দুম্যাচ জিতে নেওয়ায় ইডেনের শেষ ম্যাচ কার্যত নিয়মরক্ষার হয়ে দাঁড়াল।

নভেম্বর ১৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Sourav Ganguly : ‌সামনের বছর ভারতেই আইপিএল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি সৌরভের

রবিবার ইডেনে ভারতনিউজিল্যান্ড টি২০ সিরিজের তৃতীয় তথা শেষ ম্যাচ। উত্তেজনার পারদে কাঁপছে গোটা শহর। শুরু হয়েছে টিকিটের হাহাকার। ম্যাচ ঘিরে ইডেনে ব্যস্ততা তুঙ্গে। কর্তাদের নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। যেন বিয়ে বাড়ির ব্যস্ততা। কখনও পরিদর্শনে আসছে দমকল বিভাগ, কখনও আবার পূর্ত বিভাগ। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকেও শুক্রবার ইডেনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হল। এর মধ্যেই সন্ধেয় ইডেনে হাজির ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি। দুবাই থেকে শুক্রবার সকালেই কলকাতা ফিরেছেন ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ। নিজের শহরে ভারতনিউজিল্যান্ড টি২০ সিরিজের শেষ ম্যাচ। সুতরাং বাড়িতে যে বসে থাকবেন সে উপায় নেই। তাই ম্যাচের চূড়ান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সন্ধেয় ইডেনে চলে আসেন। ইডেন ঢুকে সোজা মাঠে চলে যান। তখন মাঠ কর্মীদের নিয়ে পিচ পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত ছিলেন সিএবির কিউরেটর সুজন মুখার্জি। বেশ কিছুক্ষণ ধরে বাইশ গজ পরিদর্শন করেন। তারপর ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখার্জি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের হেড কিউরেটর আশিষ ভৌমিকের সঙ্গে কথা বলেন। দীর্ঘদিন পর আবার ইডেনে ক্রিকেট ফিরছে। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে পারবেন দর্শকরা। খুশি ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি। ইডেনের ম্যাচ প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, দীর্ঘদিন পর ইডেনে ম্যাচ হচ্ছে। দর্শকরা মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবে। এটা দারুণ ইতিবাচক দিক। রাতের ম্যাচে শিশির একটা বড় ফ্যাক্টর। জয়পুরে প্রথম টি২০ ম্যাচ ও রাঁচিতে দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচেও শিশিরের প্রভাব দেখা গেছে। ইডেনেও শিশির বড় ফ্যাক্টর হবে বলে মনে করছেন সৌরভ। যদিও সিএবি চেষ্টা করছে প্রে করে শিশিরের প্রভাব কমাতে। করোনার জন্য পরপর দুবছর আইপিএল সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও এবছর ভারতে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল। কয়েকজন ক্রিকেটার করোনায় আক্রান্ত হতেই আইপিএল স্থগিত হয়ে যায়। পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অনুষ্ঠিত হয়। সামনের বছর ভারতেই আইপিএল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান সৌরভ। তিনি বলেন, সামনের বছর আইপিএল ভারতের মাটিতেই হবে। অধিনায়ক হিসেবে রোহিত শর্মা ও কোচ হিসেবে রাহুল দ্রাবিড় প্রথম দুটি ম্যাচেই সফল। রোরা জুটির সাফল্যে অবাক নন সৌরভ গাঙ্গুলি। তিনি বলেন, জানতাম ভাল করবে। আশা করছি ভবিষ্যতেও সাফল্য পাবে। কয়েকদিন আগেই বাড়তি দায়িত্ব ঘাড়ে চেপেছে সৌরভ গাঙ্গুলির। তাঁকে ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান করেছে আইসিসি। নতুন দায়িত্ব চাপের হলেও ভালভাবে সামাল দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী সৌরভ।

নভেম্বর ১৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Syed Mustak Ali T20 : সুপার ওভারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ, কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় বাংলার

গ্রুপ লিগে পরাজয়ের মধুর প্রতিশোধ নিল কর্ণাটক। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে বাংলাকে সুপার ওভারে হারিয়ে সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল কর্ণাটক।টস জিতে কর্ণাটককে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন বাংলার অধিনায়ক সুদীপ চ্যাটার্জি। বাংলার দুই জোরে বোলার মুকেশ কুমার ও আকাশ দীপের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের সামনে সুবিধা করতে পারছিলেন না কর্ণাটকের দুই ওপেনার বিআর শরথ। রান তোলার গতি ভাল ছিল না কর্ণাটকের। তার মধ্যেই চতুর্থ ওভারে ধাক্কা খায় কর্ণাটক। ওভারের পঞ্চম বলে আকাশ দীপ তুলে নেন বিআর শরতকে (৯বলে৪)। কর্ণাটকের রান তখন ১৯। নবম ওভারের শেষ বলে উইকেটে জমে যাওয়া রোহন কদমকে (২৯ বলে ৩১) আউট করে বাংলাকে ব্রেক থ্রু দেন শাহবাজ আমেদ। বাংলার বোলারদের বিরুদ্ধে একেবারেই সাবলীল ছিলেন না কর্ণাটক অধিনায়ক মনীশ পান্ডে। ৩৪ বলে ২৯ রান করে তিনি সায়ন ঘোষের বলে প্রদীপ্ত প্রামানিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ক্রিজে এসেই ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন অভিনব মনোহর (৯ বলে ১৯)। তাঁকে থামিয়ে দেন ঋত্বিক চ্যাটার্জি। ১০ বলে ১৬ রান করে মুকেশ কুমারের বলে আউট হন অনিরুদ্ধ। করুণ নায়ারের ঝোড়ো ব্যাটিং কর্ণাটককে ২০ ওভারে ১৬০/৫ রানে পৌঁছে দেয়। করুণ নায়ার ২৯ বলে ৫৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। বাংলার হয়ে মুকেশ কুমার, আকাশ দীপ, ঋত্বিক চ্যাটার্জি, সায়ন ঘোষ ও শাহবাজ আমেদ ১টি করে উইকেট নেন।ব্যাট করতে নেমে দারুন শুরু করে বাংলা। ভি ব্যাসকের প্রথম ওভারেই ২০ রান তোলেন শ্রীবৎস গোস্বামী। দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় বাংলা। মাত্র ১ বল খেলে কোনও রান না করে বিদ্যাধর পাটিলের বলে করুণ নায়ারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন অভিষেক দাস। তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে আউট হন শ্রীবৎস গোস্বামী। ১০ বলে ২২ রান করে তিনি রান আউট হন। অধিনায়ক সুদীপ চাটার্জিও রান পাননি। ৯ বলে ২২ রান করে তিনি এমবি দর্শনের বলে মনীশ পান্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। বাংলার রান তখন ৫.৪ ওভারে ৫১। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান ঋত্ত্বিক চ্যাটার্জি ও কাইফ আমেদ। চতুর্দশ ওভারে পরপর দুবলে কাইফ আমেদ (২৬ বলে ২০) ও শাহবাজ আমেদকে (০) হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলা। পরের ওভারেই ঋত্ত্বিক চ্যাটার্জিকে তুলে নেন দর্শন। ৪০ বলে ৫১ রান করেন ঋত্ত্বিক চ্যাটার্জি। এক ঋত্ত্বিক আউট হলেও ঋত্ত্বিক রায় চৌধুরি ও প্রদীপ্ত প্রামানিক বাংলাকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। শেষ ওভারে বাংলার জয়ের জন্য দরকার ছিল ২০ রান। ভি পাটিলের প্রথম দুটি বলে ৬ মারেন ঋত্ত্বিক রায় চৌধুরি। পরের বলে ১ রান নেন তিনি। চতুর্থ বলে ৪ মারেন আকাশ দীপ। পঞ্চম বলে ২ রান নিয়ে ম্যাচ করেন। শেষ বলে ১ রান করলেই জয়। মিড অফে ঠেলে রান নিতে দৌড়েছিলেন আকাশ দীপ। মণীশ পান্ডের সরাসরি থ্রো নন স্ট্রাইকিং প্রান্তের উইকেট ভেঙে দেয়। ক্রিকেট পৌঁছতে পারেননি আকাশ দীপ। ম্যাচ টাই হয়। ঋত্ত্বিক রায় চৌধুরি ১৮ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।সুপার ওভারে বাংলার হয়ে ব্যাট করতে নামেন কাইফ আমেদ ও ঋত্ত্বিক রায় চৌধুরি। কারিয়াপ্পার প্রথম বলে ১ রান নেন কাইফ। পরের বলে তিনি আউট। কাইফ আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নামেন শ্রীবৎস গোস্বামী। একটা বাউন্ডারি মেরে পরের বলে তিনি আউট। ৪ বলে ৫ রান তোলে বাংলা। পরপর দুবলে ২ রান নিয়ে ও ৬ মেরে কর্ণাটককে সেমিফাইনালে তোলে মণীশ পান্ডে।

নভেম্বর ১৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India vs New Zealand : অভিষেকে বাজিমাত রো-রা জুটির, ৫ উইকেটে জয় ভারতের

অধিনায়ক হিসেবে দারুন শুরু রোহিত শর্মার। সিনিয়র দলের হেড স্যার হিসেবে দুর্দান্ত অভিষেক রাহুল দ্রাবিড়ের। প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত রো-রা জুটির। নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টি২০ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।চোটের জন্য ডেভন কনওয়ে আগেই সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন। টেস্ট সিরিজের কথা মাথায় রেখে টি২০ সিরিজ থেকে বিশ্রাম নিয়েছেন। তা সত্ত্বেও জয়পুরে সিরিজের প্রথম টি২০ ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় নিউজিল্যান্ড। সেই চ্যালেঞ্জ অবশ্য অবলীলায় অতিক্রম করে গেল ভারত। টস জিতে কিউয়িদের প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। ম্যাচের তৃতীয় বলে ড্যারিল মিচেলকে শূন্য রানে তুলে নেন ভুবনেশ্বর কুমার। এরপর ব্যাট হাতে দাপট দেখাতে শুরু করেন মার্টিন গাপটিল ও মার্ক চ্যাপম্যান। দুজনে মিলে জুটিতে তোলেন ১০৯ রান। গাপটিল ও চ্যাপমানের দাপটে দিশেহারা হয়ে পড়েন মহম্মদ সিরাজ, রাহুল চাহার, অক্ষর প্যাটেলরা। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রবিচন্দ্রন অশ্বিন কিউয়ি ব্যাটসম্যানদের কিছুটা আটকে রাখার চেষ্টা করেন। চতুর্দশ ওভারের দ্বিতীয় বলে মার্ক চ্যাপম্যানকে বোল্ড করেন অশ্বিন। ৫০ বলে ৬৩ রান করে চ্যাপম্যান আউট হন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৬টি ৪ এবং ২টি ৬। একই ওভারে গ্লেন ফিলিপকে (০) তুলে নেন অশ্বিন। ডিআরএস নিয়েও তিনি বাঁচতে পারেননি। ১১০ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান মার্টিন গাপটিল। বাইশ গজে ঝড় তুলে শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৭০ রান করে আউট হন তিনি। সপ্তদশ ওভারে দীপক চাহারের দ্বিতীয় বলে শ্রেয়স আয়ারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন গাপটিল। নিউজিল্যান্ডের রান তখন ১৫০। পরের ওভারেই ফিরে যান সেইফার্ট (১১ বলে ১২)। তাঁকে ফেরান ভুবনেশ্বর কুমার। ইনিংসের শেষ ওভারে মহম্মদ সিরাজের বলে আউট হন রাচিন রবীন্দ্র (৮ বলে ৭)। শেষদিকে একের পর উইকেট হারানোয় ১৬৪/৬ রানের বেশি তুলতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ভারতের হয়ে ভুবনেশ্বর কুমার ২৪ রানে ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন ২৩ রানে ২টি করে উইকেট নেন।জয়ের জন্য ১৬৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দারুন শুরু করেন ভারতের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ওপেনিং জুটিতে ৫ ওভারে ওঠে ৫০। এরপরই জুটি ভাঙে। ১৪ বলে ১৫ রান করে মিচেল স্যান্টনারের বলে চ্যাপমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন লোকেশ রাহুল। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান রোহিত শর্মা ও সূর্য্কুমার যাদব। মাত্র ২ রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন রোহিত। ৩৬ বলে ৪৮ রান করে ট্রেন্ট বোল্টের বলে আউট হন তিনি।তিন নম্বরে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরলেন সূর্য্কুমার। ঋষভ পন্থকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। ৪০ বলে ৬২ রান করে ট্রেন্ট বোল্টের বলে আউট হন সূর্য্কুমার। ৬টি ৪ ও ৩টি ৬ মারেন তিনি। সূর্য্কুমার আউট হওয়ার পর চাপে পড়ে যায় ভারত। শেষ ওভারে ভারতের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১০ রান। ২ বল বাকি থাকতে ১৬৬/৫ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।

নভেম্বর ১৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Syed Mustafa Ali T20 : গ্রুপ লিগের জয়ই বাংলার কাছে আত্মবিশ্বাসের রসদ

সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতার গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে কর্ণাটকের বিরুদ্ধে বাংলার লড়াই ছিল মরণবাঁচনের। সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার ছাড়পত্র পেতে গেলে জেতা ছাড়া রাস্তা ছিল না বাংলার সামনে। মরণবাঁচন ম্যাচে জ্বলে উঠেছিলেন বাংলার ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে বোলারদের দাপটে দুরন্ত জয় তুলে নিয়েছিল বাংলা। পেয়েছিল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ। অন্যদিকে, প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে হয়েছিল কর্ণাটককে। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে সৌরাষ্ট্রকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এসেছে কর্ণাটক। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে চেনা শত্রু সেই কর্ণাটকের বিরুদ্ধেই মাঠে নামছে বাংলা।গ্রুপ লিগে শক্তিশালী কর্ণাটকের বিরুদ্ধে জয় নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বাংলার। কিন্তু টি২০ ক্রিকেটে কখন কী হয় বলা খুব কঠিন। শক্তির বিচারে অবশ্য কর্ণাটক অনেকটাই এগিয়ে। দেবদত্ত পাড়িক্কল, মণীশ পান্ডে, করুণ নায়ার, জগদেশা সুচিথ, কেসি কারিয়াপ্পার মতো ক্রিকেটাররা রয়েছেন। তবে বাংলার কাছে বড় সুবিধা কোয়ার্টার ফাইনালে কর্ণাটক পাচ্ছে না মায়াঙ্ক আগরওয়াল। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ায় তিনি জাতীয় শিবিরে রয়েছেন। বাংলাও এই ম্যাচে পাচ্ছে ঋদ্ধিমান সাহাকে। তিনিও মায়াঙ্কের সঙ্গে রয়েছেন জাতীয় শিবিরে।গ্রুপ লিগে ছত্তিশগড়ের কাছে হারতে হয়েছিল বাংলাকে। হারিয়েছিল বরোদা, মুম্বই, কর্ণাটকের মতো শক্তিশালী দলকে। কোয়ার্টার ফাইনালেও সেই ছন্দ ধরে রাখার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলা শিবির। কর্ণাটকের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে বাংলার অধিনায়ক সুদীপ চ্যাটার্জি বলেন, প্রতিযোগিতায় নিজেদের পারফরমেন্সে আমরা আত্মবিশ্বাসী ও উচ্ছ্বসিত। গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে কর্ণাটকের বিরুদ্ধে জয় আমাদের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা এখনও পর্যন্ত যে ক্রিকেট খেলেছি, তাতে মানসিকভাবে উজ্জীবিত। সব কটা ম্যাচেই আমরা দল হিসেবে খেলেছি। দলের প্রত্যেক সদস্য বিশ্বাস করে যে আমরা ভাল ক্রিকেট খেলছি। কোয়ার্টার ফাইনালেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারব। এটাই দলের ইএসপি।গ্রুপ লিগে দলে না থাকলেও নক আউটের জন্য শ্রীবৎস গোস্বামীকে দলে ফিরিয়েছেন বাংলার নির্বাচকরা। ঋদ্ধিমান সাহা না থাকায় তিনি প্রথম একাদশে খেলবেন। শ্রীবৎস গোস্বামীকে খেলানোর প্রসঙ্গে সুদীপ বলেন, জাতীয় শিবিরে যোগ দেওয়ায় ঋদ্ধিমান সাহাকে পাব না। ঋদ্ধির পরিবর্তে শ্রীবৎস আমাদের প্রথম পছন্দ। ওর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। কর্ণাটক ম্যাচকে বড় ম্যাচ হিসেবে দেখছেন বাংলার অধিনায়ক। সুদীপ বলেন, কর্ণাটক যথেষ্ট শক্তিশালী দল। তবে তার জন্য আমাদের কোনও চাপ নেই। আর পাঁচটা ম্যাচের মতোই এটাকে দেখছি। সেরাটা দিয়ে জেতার জন্য ঝাঁপাব।

নভেম্বর ১৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Dravid-Rohit : ‌ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে এল ২০০৭ সালের স্মৃতি। কী বললেন দ্রাবিড়–রোহিত?‌

বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে ভারত। স্টপগ্যাপ হিসেবে দেশকে নেতৃত্ব দিলেও এই প্রথম স্থায়ী অধিনায়কের আর্ম ব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন রোহিত শর্মা। অন্যদিকে, সিনিয়র দলের কোচ হিসেবে অভিষেক হতে চলেছে রাহুল দ্রাবিড়। দ্রাবিড়ের নেতৃত্বেই ২০০৭ সালে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে দেশের হয়ে অভিষেক হয়েছিল রোহিত শর্মার। এবার কোচ দ্রাবিড়ের অধীনেই অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হতে চলেছে রোহিতের। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে অতীতের কথা উঠে এল দুজনের মুখে। ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে রোহিত শর্মাকে পাশে নিয়ে দ্রাবিড় বলেন, সোমবারই রোহিতের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের ওই ম্যাচের কথা আলোচনা করছিলাম। তার আগে চেন্নাইয়ে রোহিতের সঙ্গে চ্যালেঞ্জার ট্রফি খেলেছিলাম। চ্যালেঞ্জার খেলার সময়ই ওর দক্ষতা দেখে বুঝেছিলাম প্রতিভা আছে। অধিনায়ক হিসেবে রোহিত নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। রোহিত দারুণ দক্ষতার সঙ্গে মুম্বই ক্রিকেটের ঐতিহ্য বহন করে নিয়ে চলেছে। আশা করছি অধিনায়ক হিসেবে দলকে সাফল্য এনে দেবে।২০০৭এর অভিষেক ম্যাচের কথা তুলে ধরে রোহিত বলেন, বেঙ্গালুরুতে জাতীয় শিবির চলাকালীন প্রথম দ্রাবিড়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। যথেষ্ট নার্ভাস ছিলাম। আয়ারল্যান্ডের ওই ম্যাচের আগে দ্রাবিড় যখন প্রথম একাদশে থাকার কথা বলেছিল, মনে হয়েছিল যেন হাতে চাঁদ পেয়েছি। ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুম শেয়ার করতে পেরে স্বপ্নপূরণ হয়েছিল। ভারতীয় দল, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত আমার হৃদয়ে আছে। আরও অনেক স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হতে চাই। জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন রাহুল দ্রাবিড়। তিনি বলেন, সব ম্যাচ জেতার যেমন লক্ষ্য থাকবে, তেমনই ক্রিকেটারদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে সব ফরম্যাটকে গুরুত্ব দেব। সবার কোচিংয়ের বেশকিছু বিষয় এক থাকে। তবে ধরণ আলাদাআ হয়। চ্যালেঞ্জ বুঝে রণকৌশল সাজাতে হয়। তিন ধরণের ফরম্যাটের জন্য তিনি আলাদা আলাদা দল রাখার পক্ষপাতি নন, সেকথা পরিস্কার করে দিয়েছেন দ্রাবিড়। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের দিকেও নজর দিতে চান তিনি। দ্রাবিড়ের কাছে প্রথম চ্যালেঞ্জ ক্রিকেটারদের ক্লান্তির মাঝেও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে দলকে সাফল্য এনে দেওয়া।

নভেম্বর ১৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

World Cup : আবার কবে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেল ভারত?‌ জানতে পড়ুন

২০২৩ সালে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন করবে ভারত। আগে থেকেই বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে আছে। ৩ বছর পর আবার বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেল ভারত। তবে একদিনের নয়, ২০২৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে টি২০ বিশ্বকাপ। তবে এককভাবে নয়, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে টি২০ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারত। ২০৩১ সালে আবার বিশ্বকাপ আয়োজন করবে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে। তবে ২০২৯ সালে এককভাবে আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারত। ২০২৩ সাল পর্যন্ত আইসিসির ইভেন্টের সূচি আগে থেকেই চূড়ান্ত ছিল। পরবর্তী ১০ বছর অর্থাৎ ২০৩১ সাল পর্যন্ত আবার নতুন সূচি ঘোষণা করল আইসিসি। ২০২৪ সালে আবার হবে টি২০ বিশ্বকাপ। যৌথভাবে আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আমেরিকা। জুন মাসে হবে এই প্রতিযোগিতা। আমেরিকায় ক্রিকেট প্রসারের উদ্দেশ্যে আইসিসি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আমেরিকাকে জুড়ে দিয়েছে। ২০১৭ সালের পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০২৫ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতা আবার ফেরানো হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানে হবে এই প্রতিযোগিতা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে হবে টি২০ বিশ্বকাপ। পরের বছর একদিনের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়া। ২০২৮ সালে টি২০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। পরের বছর আবার ভারতে হবে আইসিসির প্রতিযোগিতা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারত। অক্টোবর মাসে হবে এই প্রতিযোগিতা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল বাদে ১১ বছর পর আবার কোনও আইসিসির প্রতিযোগিতা আয়োজন করার সুযোগ পাবে ইংল্যান্ড। ২০৩০ সালে আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে টি২০ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে। কোন দেশ প্রতিযোগিতার আয়োজনের দায়িত্ব পাবে, তা নিলামের মাধ্যমে ঠিক হয়েছে। সৌরভ গাঙ্গুলি, মার্টিন স্নেইডেন, রিকি স্কেরিটকে নিয়ে আইসিসি একটা সাবকমিটি তৈরি করেছিল। বিভিন্ন দেশ প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, সেই প্রস্তাবের যাবতীয় নথিপত্র যাচাই করে এই কমিটি আয়োজকদের নাম সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে আইসিসি আয়োজক বেছে নিয়েছে। ৮টি ইভেন্টের জন্য ১৭টি দেশের মোট ২৮টি প্রস্তাব জমা পড়েছিল।

নভেম্বর ১৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Hardik Pandya : ‘‌১০ টাকার ম্যাগি খাওয়া ক্রিকেটার ৫ কোটি টাকার ঘড়ি পরছেন!‌’‌

শেষ কবে বাইশ গজে ভাল পারফরমেন্স করে সংবাদের শিরোনামে এসেছেন হার্দিক পান্ডিয়া? তথ্যটা জানতে গেলে পরিসংখ্যানবিদদের সাহায্য নিতে হবে। মাঠের মধ্যে পারফরমেন্স না থাকলেও বাইরে কিন্তু দারুণ খেলছেন হার্দিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় সবসময় দারুণ জনপ্রিয়। টি২০ বিশ্বকাপ চলাকালীনও খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন হার্দিক। তবে পারফরমেন্স করে নয়। তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন ভারতীয় দলের এই অলরাউন্ডার। তবে মাঠে পারফরমেন্স করে নয়, দুবাই থেকে বহুমূল্যের ঘড়ি কিনে দেশে ফিরে। মুম্বই বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগের কর্তারা নাকি তাঁর ৫ কোটি টাকা মূল্যের ঘড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। হার্দিক অবশ্য এই ঘটনাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এমনিতেই হার্দিকের দামী ঘড়ির প্রতি আলাদা নেশা রয়েছে। বহুমূল্যের ঘড়ি দেখলেই সংগ্রহে রাখার ইচ্ছে জন্মায়। তাঁর সংগ্রহে প্রচুর ঘড়ি রয়েছে। যার ছবি বহুবার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন হার্দিক। দুবাইতে গিয়ে দামী ঘড়ির লোভ সামলাতে পারেননি। কিন্তু তাঁর কাছে ঘড়ির ইনভয়েস না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে। টি২০ বিশ্বকাপ খেলে সোমবার সকালে মুম্বই বিমানবন্দরে ফেরেন হার্দিক পান্ডিয়া। বিমানবন্দরে ফেরার পর শুল্ক বিভাগ তাঁর ৫ কোটি টাকা মূল্যের ঘড়ি বাজেয়াপ্ত করে বলে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হার্দিক। তাঁর দাবি, তিনি নিজেই শুল্ক বিভাগের কর্তাদের কাছে দুবাই থেকে কেনা জিনিসপত্র জমা দিয়েছেন সেগুলির শুল্ক নির্ধারণের জন্য। টুইট করে হার্দিক পান্ডিয়া জানিয়েছেন, ১৫ নভেম্বর সোমবার সকালে মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর ল্যাগেজ সংগ্রহ করি। তারপর নিজেই বিমানবন্দরে কাস্টমস কাউন্টারে গিয়েছিলাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দুবাই থেকে আমি কোন কোন জিনিস কিনেছি, তার বিস্তারিত বিবরণ কাস্টমস অফিসারদের দিয়েছি। বলেছি, এই জিনিসগুলির যতটা পরিমান শুল্ক হবে, তা দিতে আমি তৈরি। আর ঘড়িটার দাম ৫ কোটি টাকা নয়, দেড় কোটি টাকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর জানানোর পরো রীতিমতো ট্রোলড হচ্ছেন হার্দিক। কেউ কেউ লিখেছেন, ১০ টাকার ম্যাগি খেয়ে বড় হওয়া হার্দিক এখন ৫ কোটি টাকার ঘড়ি পরছেন। এটা না করে ফিটনেসে নজর দিলে দেশের লাভ হত।

নভেম্বর ১৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

David Warner : ‌সানরাইজার্সের চূড়ান্ত অসম্মানই কি বিশ্বকাপে ওয়ার্নারের জ্বলে ওঠার কারণ?‌

আইপিএলে চূড়ান্ত অসম্মান কি ধাক্কা দিয়েছিল ডেভিড ওয়ার্নারকে? না হলে মাত্র মাস খানেকের ব্যবধানে এইরকম জ্বলে উঠবেন কেন? অস্ট্রেলিয়ার টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে এই ওপেনারের অবদান কিন্তু সব থেকে বেশি। প্রতিযোগিতার সেরার পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়ে সামনের মরশুমে আইপিএলের নিলামের আগে নিজের চাহিদা অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছেন এই অস্ট্রেলীয় ওপেনার। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ যদি ক্রিকেটার ধরে রাখার নিয়মে তাঁকে যদি আটকে না রাখে, তাহলে নিলামে ওয়ার্নারকে নিয়ে আকাশছোঁয়া চাহিদা হবে। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সুনীল গাভাসকারের মুখেও তেমন কথা শোনা গেছে। গাভাসকারের যুক্তি, আইপিএলে সামনের মরশুমে দুটি দল বাড়ছে। সুতরাং ক্রিকেটারের সংখ্যাও বেশি প্রয়োজন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ যদি ক্রিকেটার ধরে রাখার নিয়মে ডেভিড ওয়ার্নারকে আটকে না রাখে, অন্য দলগুলি ওকে নেওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে। ওয়ার্নারের অভিজ্ঞতার কথা ভুললে চলবে না। ওর মধ্যে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা রয়েছে। মাঠের নেমে বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে ওস্তাদ। এবছর আইপিএলে খুব খারাপ সময়ের মধে দিয়ে গেছেন ডেভিড ওয়ার্নার। প্রথম পর্বে ৭ ম্যাচের মধ্যে ৬ ম্যাচ হারায় তাঁর হাত থেকে নেতৃত্ব কেড়ে নিয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কর্তারা। দ্বিতীয় পর্বে তো প্রথম একাদশ থেকেই ছেঁটে ফেলা হয়েছিল। এমনকি একটা ম্যাচে অন্য সাধারণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে হোটেলেই রেখে যাওয়া হয়েছিল ওয়ার্নারকে। তাঁর মতো ক্রিকেটারের এইরকম অসম্মান প্রাপ্য ছিল না বলে মনে করেন গাভাসকার। তিনি বলেন, সাধারণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে ওয়ার্নারকে হোটেলে রেখে গিয়ে ঠিক করেনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। টিম ম্যানেজমেন্টের ওটা খুব খারাপ সিদ্ধান্ত ছিল। তবে ওয়ার্নারের মতো ইতিবাচক চিন্তাধারার ক্রিকেটার ওই ঘটনা মনে রাখবেন না বলে মনে করছেন গাভাসকার। তিনি বলেন, ওয়ার্নারের চিন্তাভাবনা সবসময় ইতিবাচক। অতীতে কী ঘটেছে, তার দিকে ফিরেও তাকায় না। আমার মনে হয়, ওয়ার্নার অবশ্যই নিজেকে বলেছে যে, অতীতে যা ঘটেছে তা ঘটেছে, ভবিষ্যত আমার হাতে। এছাড়াও, ভুলে যাবেন না, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুতে প্রস্তুতি ম্যাচেও ভাল করতে পারেনি। দলে ওর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আত্মবিশ্বাসই ওয়ার্নারকে এই জায়গায়।

নভেম্বর ১৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Cricket : রাহুল দ্রাবিড়ের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ

রাহুল দ্রাবিড়ের পরিবর্ত হিসেবে জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ডিরেক্টরের দায়িত্ব কার হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা। ভিভিএস লক্ষ্মণকে এই পদে চেয়েছিলেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি। প্রাথমিকভাবে রাজি ছিলেন না ভিভিএস লক্ষ্মণ। অবশেষে তিনি রাজি হয়েছেন। রাহুল দ্রাবিড়ের স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন তিনি। ৪ ডিসেম্বর কলকাতায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বাৎসরিক সাধারণ সভায় সরকারিভাবে লক্ষ্মণের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি শিলমোহর পড়বে।একসময় রাহুল দ্রাবিড় ভারতীয় সিনিয়র দলের হেড কোচ হতে রাজি ছিলেন না। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির প্রধানের দায়িত্বে থাকতেই আগ্রহী ছিলেন। পরে সৌরভ গাঙ্গুলির অনুরোধে তিনি রবি শাস্ত্রীর পরিবর্তে বিরাট কোহলিদের দায়িত্ব নিতে রাজি হন। দ্রাবিড় ভারতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচের দায়িত্ব নেওয়ায় জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ডিরেক্টরের পদ খালি হয়েছিল। ভারতীয় বোর্ড কর্তারা প্রথম থেকেই চেয়েছিলেন ভিভিএস লক্ষ্মণকে এই পদে বসাতে। কিন্ত তিনি রাজি ছিলেন না। আসলে তিনি হায়দরাবাদ ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে আসতে ইচ্ছুক ছিলেন না। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দায়িত্ব নিলে বছরে প্রায় ২০০ দিন বেঙ্গালুরুতে তাঁকে থাকতে হবে। তাছাড়া অন্যান্য দায়িত্বও ছাড়তে হবে। যেমন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মেন্টরের পদ, টিভি কমেন্ট্রি, সংবাদপত্রে কলাম লেখা ইত্যাদি দায়িত্ব।এরপর লক্ষ্মণকে রাজি করাতে আসরে নামেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি। তিনি বারবার লক্ষ্মণের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁকে শেষ পর্যন্ত রাজি করাতে সক্ষম হয়েছেন। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দায়িত্ব নেবেন বলে ইতিমধ্যেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মেন্টরের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। টিভি চ্যানেলের সঙ্গে তাঁর ধারাভাষ্য দেওয়ার যে চুক্তি ছিল, সেই চুক্তিও ছিন্ন করেছেন। বাংলার ব্যাটিং পরামর্শদাতার দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি নিয়েছেন। শুধু জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দায়িত্ব সামলানোই নয়,। ভারতীয় এ দলের এবং ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলের দায়িত্বও সামলাতে হবে ভিভিএল লক্ষ্মণকে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা চেয়েছিলেন দেশের দুই কিংবদন্তীকে ক্রিকেটের সেরা দুটি জায়গাতে বসাতে। সেই লক্ষ্যে তাঁরা সফল।

নভেম্বর ১৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

U-19: সংসারে চরম অভাব–অনটন, দেশের হয়ে খেলার লক্ষ্যে পূর্ব বর্ধমানের তরুণীর অদম্য লড়াই

দীর্ঘদিন আগেই বাবা মারা গেছেন। মায়ের কাছে বেড়ে ওঠা। সেই মেয়ের চোখে একরাশ স্বপ্ন বড় ক্রিকেটার হওয়া। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের বড়বেলুন গ্রামের মেয়ে শ্রীলেখা রায়। স্বপ্নপূরণ হওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে বাংলার এই মহিলা ক্রিকেটার।ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময়ই স্ত্রী ও কন্যাকে ছেড়ে চলে যান শ্রীলেখা রায়ের বাবা। মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন তিনি। ৮ বছর আগে মারা গিয়েছেন। ছোট থেকেই মায়ের কাছে মানুষ হয়েছে শ্রীলেখা। বাবাকে হারানোর পর রাস্তার ধারে ঘুঘনি বিক্রি করে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। তবু খেলার নেশা তাকে কখনও ছাড়েনি। বাড়ির কাছে ছেলেদের ক্রিকেট খেলা দেখেই উৎসাহিত হয়েছিল ছোট্ট শ্রীলেখা। একদিন হাজির হয় অগ্রগামী ক্লাবে অনির্বান হাজরা ও নীলকন্ঠ পাঁজার কাছে। সেখানেই ক্রিকেটে হাতেখড়ি শ্রীলেখা রায়ের। জেলা ক্রিকেটে নজরকাড়া পারফরমেন্সের পর জায়গা হয় দমদম বিডব্লুসিসি ক্লাবে। এখানেই শ্রীলেখা রায়কে ঘষে মেজে তৈরি করেন বাংলা মহিলা ক্রিকেটের দুই মুখ মিঠু মুখার্জি ও বিনীতা রায় মৌলিক। ২০১৫ সাল থেকেই এই কোচিং সেন্টারে প্রথাগত ক্রিকেট শিক্ষা শুরু।বাংলার বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ না পেয়ে ২০১৭ সালে শ্রীলেখা পাড়ি দেয় মিজোরামে। দুটি মরশুম সেখানে কাটিয়ে আবার ফিরে আসে বাংলায়। এই মরশুমে বাংলার জার্সি গায়ে খেলছে শ্রীলেখা। তার নজরকাড়া পারফরমেন্সের সুবাদে এবছর মহিলাদের অনূর্ধ্ব ১৯ চ্যালেঞ্জার ট্রফিতে খেলার সুযোগ পায়। চ্যালেঞ্জারে মোট চারটি দল অংশ নিয়েছিল। ভারত এ, বি, সি এবং ডি। ভারত এ দলে ছিল শ্রীলেখা। দুটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। একটা ম্যাচে ৩ ওভার এবং অন্য ম্যাচে ৫ ওভার বোলিং করার সুযোগ এসেছিল। ব্যাট হাতে দ্বিতীয় ম্যাচে ১৭ রান করেছিল বাংলার এই অলরাউন্ডার।মা কলকাতায় বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে। সামান্য আয় দিয়েই মেয়ের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শ্রীলেখা রায় বলছিল, যেদিন সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পাব, সেদিনই আমার স্বপ্ন পূরণ হবে। অর্থের অভাবে খেলার সরঞ্জাম কিনতে পারে না শ্রীলেখা। চ্যালেঞ্জার্স ট্রফি খেলে ফিরে আসার পর শ্রীলেখার বাড়িতে ছুটে গেছেন ভাতার থানার ওসি। তুলে দিয়েছেন খেলার সরঞ্জাম। ভবিষ্যতে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। শ্রীলেখার জন্য গর্বিত ভাতারের বড়বেলুন গ্রামের মানুষ। গ্রামের মানুষকে আরও গর্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চায় শ্রীলেখা।

নভেম্বর ১৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Virat Kohli : একদিনের ম্যাচে কবে নেতৃত্ব ছাড়ছেন বিরাট কোহলি?‌ বড় ইঙ্গিত দিলেন রবি শাস্ত্রী

আগেই ঘোষণা করেছিলেন বিশ্বকাপের পরই টি২০ ক্রিকেটে দেশকে আর নেতৃত্ব দেবেন না। সেই মতো রোহিত শর্মার হাতে টি২০ দলের নেতৃত্ব তুলে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। একদিনের ম্যাচেও বিরাট কোহলির হাতে নেতৃত্ব থাকবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার আগেই সসম্মানে একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বিরাট কোহলি। এমনই জানিয়েছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন হেড কোচ রবি শাস্ত্রী। পাশাপাশি টি২০ বিশ্বকাপে দেশের ব্যর্থতার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে আবার কাঠগড়ায় তুলেছেন রবি শাস্ত্রী। সংবাদ মাদ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাস্ত্রী বলেছেন, দীর্ঘদিন জৈব সুরক্ষা থাকার ফলে ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে ক্লান্ত ছিল। এটাই ব্যর্থতার মূল কারণ। ঠাসা ক্রীড়াসূচির কারণে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার টানা ৬ মাস বাড়ির বাইরে। এমন অনেক ক্রিকেটার রয়েছে, যারা তিন ধরণের ফরম্যাটেই নিয়মিত খেলেছে। ফলে সব মিলিয়ে বছরে ২৫ দিনের বেশি বাড়িতে কাটানোর সময় পায়নি। মানসিক ক্লান্তি নিয়ে সেরাটা দেওয়া যায় না। যেটা হয়েছিল পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচে। সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডের উচিত, ক্রিকেটারদের মানসিক ক্লান্তির কথা মাথায় রেখে ক্রীড়াসূচি তৈরি করা। বিশ্বকাপে ভারতের ব্যর্থতার পর কপিলদেবও ঠাসা ক্রীড়াসূচি, সঠিক সূচি নির্ধারণের কথা বলেছিলেন। কপিলদেবের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন রবি শাস্ত্রী। শুধু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সমালোচনা করেই থেমে থাকেননি রবি শাস্ত্রী। বিরাট কোহলির নেতৃত্ব নিয়েও বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিরাট কোহলি খুব তাড়াতাড়িই একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছেড়ে দেবে। কোহলি টেস্ট ক্রিকেটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের কেরিয়ার আরও দীর্ঘায়িত করতে চায়। তাই টেস্ট ক্রিকেটে আরও ভালভাবে মনোনিবেশ করার জন্য একদিনের ক্রিকেটেও নেতৃত্ব ছেড়ে দেবে। তবে কবে কোহলি একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছেড়ে দেবেন, সে বিষয়ে খোলসা করে কিছু বলেননি রবি শাস্ত্রী। সামনের বছর জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ খেলবে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ খেলে নেতৃত্ব ছাড়তে পারেন কোহলি।

নভেম্বর ১২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Test Team : সাফল্য না থাকা সত্ত্বেও ৪ বছর পর টেস্ট দলে প্রত্যাবর্তন এই ক্রিকেটারের !‌ উঠছে প্রশ্ন

ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের জন্য বেছে নেওয়া হল ভারতীয় ক্রিকেট দল। প্রত্যাশামতোই নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে অজিঙ্কা রাহানের হাতে। সহঅধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে চেতেশ্বর পুজারাকে। তবে ভারতীয় দলে সবথেকে বড় চমক জয়ন্ত যাদব। প্রায় ৪ বছর পর টেস্ট দলে ফেরানো হলে এই অফস্পিনারকে।ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন: অজিঙ্কা রাহানে (অধিনায়ক), চেতেশ্বর পুজারা (সহঅধিনায়ক), লোকেশ রাহুল, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, শুভমান গিল, শ্রেয়স আয়ার, ঋদ্ধিমান সাহা, শিখর ভরত, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, অক্ষর প্যাটেল, ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব, মহম্মদ সিরাজ এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি টেস্ট খেললেও শুধুমাত্র প্রথম টেস্টের জন্য দল বেছে নেওয়া হয়েছে। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, যশপ্রীত বুমরা, মহম্মদ সামি, শার্দুল ঠাকুর, ঋষভ পন্থদের আগেই বিশ্রাম দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তাই তাঁদের কথা বিবেচনা করা হয়নি। পরের টেস্টেও রোহিতকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। তবে বিরাট কোহলি দ্বিতীয় টেস্টে দলে ফিরবেন।এদিকে, ৪ বছর পর জয়ন্ত যাদবের আবার টেস্ট দলে ফেরাটা নিঃসন্দেহে বড় চমক। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক ঘটে জয়ন্ত যাদবের। অভিষেক ম্যাচেই তুলে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে করেছিলেন ৩৫ ও ২৭ রান। পরের ম্যাচেও ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। সঙ্গে ৫৫ রান। ওই সিরিজেই ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১০৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। পরের বছর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজেও দলে ছিলেন। একটা বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। সেই টেস্টে মাত্র দুটি উইকেট নিয়েছিলেন। কোনও রান করতে পারেননি। ব্যর্থতার জন্য তাঁকে সিরিজের বাকি টেস্টে আর ভাবা হয়নি।হঠাৎ করে কেন আস্তাকুঁড় থেকে তুলে নিয়ে আসা হল জয়ন্ত যাদবকে, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। আইপিএলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পান না। সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতাতেও তেমন সাফল্য নেই। গত বচর রনজি ট্রফি হয়নি। তার আগের বছর রনজিতে হরিয়ানার হয়ে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন। তা সত্ত্বেও দলে ফেরানো হয়েছে জয়ন্ত যাদবকে। জয়ন্ত যাদবের সুযোগ পাওয়াটা যেমন বিষ্ময়ের, তেমনই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সাফল্য পাওয়া হনুমা বিহারীর সুযোগ না পাওয়াটাও অবাক করার বিষয়।

নভেম্বর ১২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Cricket : রাহুল দ্রাবিড়ের সাহায্যকারী বেছে নিল বোর্ড, কারা পেলেন দায়িত্ব?‌

কিছুদিন আগেই ভারতীয় দলের হেড কোচ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে রাহুল দ্রাবিড়কে। এবার বিরাট কোহলিদের ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং কোচও বেছে নিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ব্যাটিং কোচ হিসেবে রেখে দেওয়া হল বিক্রম রাঠোরকে। বোলিং কোচ ভরত অরুণের জায়গায় এলেন বিক্রম রাঠোর এবং ফিল্ডিং কোচ আর শ্রীধরের স্থলাভিষিক্ত হলেন টি দিলীপ। এই তিনজনই রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে কাজ করবেন। চলতি টি২০ বিশ্বকাপের পরপপরই শেষ ভারতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান সপোর্ট স্টাফদের কার্যকালের মেয়াদ। হেড কোচসহ অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফ নিয়োগের জন্য মাসখানেক আগে আবেদনপত্র আহ্বান করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। হেড কোচ পদের জন্য রাহুল দ্রাবিড়কে আগেই বেছে নিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পরামর্শদাতা কমিটি। বৃহস্পতিবার ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং কোচের জন্য ইন্টারভিউয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে বিক্রম রাঠোর, পরশ মামরে এবং টি দিলীপকে বেছে নেওয়া হয়েছে। রবি শাস্ত্রীর সঙ্গেই ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন বিক্রম রাঠোর। তাঁর কাজে যথেষ্ট খুশি ছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা। ক্রিকেটাররাও বিক্রম রাঠোরকে নিয়ে সন্তুষ্ট। তাই তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে কোনও সন্দেহ ছিল না। রাহুল দ্রাবিড় চেয়েছিলেন বোলিং কোচ হিসেবে পরশ মামরেকে। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে তিনি পরশ মামরের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। মামরেও আবেদন করেছিলেন বোলিং কোচ হওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত তাঁকেই বোলিং কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি। ফিল্ডিং কোচ হিসেবে বিরাট কোহলিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন আর শ্রীধর। তাঁর জমানায় ভারতীয় দলের ফিল্ডিংয়ে খুব একটা উন্নতি হয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারাও শ্রীধরের ওপর তেমন খুশি ছিলেন না। টি দিলীপ আগেও রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে কাজ করেছেন। জুলাইয়ে ভারতীয় দলের শ্রীলঙ্কা সফরে তিনি ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব সামলেছিলেন। আর শ্রী ধরের মতো তিনিও হায়দরাবাদের। প্রত্যেকেই জয়পুরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে হাজির হবেন।

নভেম্বর ১১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Cricket : কোহলির পরিবর্তে টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দিতে চলেছেন এই তারকা

গতবছর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর হাত ধরেই সিরিজে জয় এসেছিল। আবার সেই অজিঙ্কা রাহানের হাতেই উঠতে চলেছে ভারতীয় টেস্ট দলের নেতৃত্ব। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে কানপুরে প্রথম টেস্টে রাহানেকে অধিনায়ক করার কথা ভেবে রেখেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তবে স্থায়ীভাবে তাঁর হাতে নেতৃত্ব উঠছে না। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের বিশ্রামের জন্য তাঁকে ক্যাপ্টেন করা হচ্ছে।একটানা ক্রিকেট খেলে শারীরিকভাবে ক্লান্ত বিরাট কোহলি। দীর্ঘদিন জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকে মানসিকভাবেও ক্লান্ত। তাই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজ থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। কানপুরে প্রথম টেস্টেও খেলবেন না। এই ব্যাপারে তিনি নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলে নিয়েছেন। কোহলি আগেই ঘোষণা করেছিলেন, টি২০ বিশ্বকাপের পর তিনি আর এই ফরম্যাটে দলকে নেতৃত্ব দেবেন না। সেইমতো রোহিত শর্মাকে টি২০ ক্রিকেটের জন্য অধিনায়ক করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে রোহিত শর্মাকেও বিশ্রাম দেওয়ার কথা ভাবছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। টি২০ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জন্য বারবার উঠে এসেছে জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকার ক্লান্তির কথা। দীর্ঘদিন জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকে মানসিকভাবে ক্লান্ত ক্রিকেটাররা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও ক্রিকেটারদের ক্লান্তির দিকটা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে চাইছে। তাই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের কথা মাথায় রেখে টি২০ সিরিজ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে মহম্মদ সামি, যশপ্রীত বুমরাদের। কয়েকদিন আগেই টি২০ সিরিজের দল নির্বাচন করা হয়েছে। টি২০ দলে অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে। সামি, বুমরাদের পাশাপাশি শার্দূল ঠাকুর, ঋষভ পন্থদেরও টি২০ সিরিজ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। টেস্ট সিরিজেও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিশ্রাম দেওয়া হবে। কোহলিকে আগেই বিশ্রামের সিদ্ধান্ত হওয়ায় অজিঙ্কা রাহানে প্রথম টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেবেন। রোহিত শর্মাকেও প্রথম টেস্টে বিশ্রাম দেওয়ার কথা ভেবে রেখেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। প্রথমে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড পরিকল্পনা করেছিল টি২০ সিরিজ খেলার পর রোহিত শর্মাকে পুরো টেস্ট সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হবে। কিন্তু পরে পরিকল্পনা বদলেছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে খারাপ ফল হলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট কমে যাবে। তাই রোহিতকে একটা টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হবে। কানপুরে প্রথম টেস্টে না খেললেও ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়েতে দ্বিতীয় টেস্টে আবার রোহিতকে দেখা যাবে।

নভেম্বর ১১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Venkatesh Iyar : জাতীয় দলে এত তাড়াতাড়ি সুযোগ পাওয়ার কথা ভাবেননি বেঙ্কটেশ?‌

এবছর আইপিএলের প্রথম পর্বে সুযোগ পাননি। দ্বিতীয় পর্বে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে সকলের নজর কেড়েছিলেন। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আইপিএলের ফাইনালে তোলার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলেন বেঙ্কটেশ আয়ার। আইপিএলে ভাল খেলার পুরস্কার পেয়েছেন মধ্যপ্রদেশের এই অলরাউন্ডার। আসন্ন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজে ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন বেঙ্কটেশ। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আবেগে ভাসছেন তিনি।কেরলের বিরুদ্ধে সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতায় মধ্যপ্রদেশের ম্যাচ ছিল। গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচ খেলে হোটেলে ফিরেছেন। কেরলের কাছে হারের হতাশা ছিল। সেই সময়ই বেঙ্কটেশের হোটেলের ঘরের দরজায় সামনে এসে হাজির হন মধ্যপ্রদেশ দলের তাঁরই সতীর্থ আবেশ খান। এরপর তিনি দরজায় হালকা ধাক্কা দেন। বেঙ্কটেশ দরজা খুলে দেখেন আবেশ খান দাঁড়িয়ে। এরপর বেঙ্কটেশকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান আবেশ। বেঙ্কটেশ বুঝতে পারছিলেন না, কেন তাঁকে আবেশ অভিনন্দন জানাচ্ছেন। এরপর ঘরের ভেতর ঢুকতে ঢুকতে জাতীয় দলে বেঙ্কটেশকে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার কথা বলেন আবেশ। তখন বেঙ্কটেশ আবেগে জড়িয়ে ধরেন আবেশকে। স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আবেগে ভাসছেন বেঙ্কটেশ আয়ার। রীতিমতো তিনি আপ্লুত। বেঙ্কটেশ বলেন, আমি দারুণ খুশি। এই দিনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন দেখছিলাম জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়ার। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চেলেছে। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম। এত তাড়াতাড়ি সুযোগ পাব স্বপ্নেও ভাবিনি। জাতীয় দলের নির্বাচকদের, আমার দলের সতীর্থদের, কোচকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সকল ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানো। আমার সেই স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হল। এই আনন্দের অনুভূতি প্রকাশ করার ভাষা আমার নেই।টি২০ বিশ্বকাপে চূড়ান্ত ব্যর্থ হার্দিক পান্ডিয়া। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজে হার্দিক পান্ডিয়ার বিকল্প হিসেবে বেঙ্কটেশ আয়ারকে দলে নিয়েছেন নির্বাচকরা। প্রত্যাশাপূরণ করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। বলেন, আশা করছি আমি নির্বাচকদের আস্থার মর্যাদা দিতে পারব। যে কোনও জায়গায় খেলার জন্য আমি তৈরি। দেশের হয়ে পারফর্ম করার দিকে মুখিয়ে রয়েছি। সবসময় আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যাট করতে নামি। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।

নভেম্বর ১০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Chris Gayle : আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েও ফের মাঠে নামছেন ক্রিস গেল

আইপিএলে চূড়ান্ত ব্যর্থ। টি২০ বিশ্বকাপেও সেই ব্যর্থতার ধারা অব্যাহত। তবুও ক্রিস গেলের জনপ্রিয়তা যেন কিছুতেই কমছে না। বিশ্ব ক্রিকেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এখনও তাঁর চাহিদা যথেষ্টই। টি২০ বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচের পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অবশ্য খেলা চালিয়ে যাবেন। এবার শ্রীলঙ্কার প্রিমিয়ার লিগে খেলতে দেখা যাবে ক্রিস্টোফার হেনরি গেলকে।বুধবারই লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে ক্রিকেটারদের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলম্বো স্টারস তুলে নিয়েছে বিশ্বের এই সর্বাধিক জনপ্রিয় ক্রিকেটারকে। ক্রিস গেল ছাড়াও কলম্বো স্টারস দলে নিয়েছে মহম্মদ ইরফান, তাস্কিন আমেদ, আহমেদ শেহজাদকে। আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে নজর কাড়া ফাফ ডুপ্লেসিকেও খেলতে দেখা যাবে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই ক্রিকেটারকে ছাড়াও জাফনা কিংস নিলামে তুলে নিয়েছে পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার ওয়াহাব রিয়াজকে। আফগান ক্রিকেটার উসমান সিনওয়ারি, রহমতুল্লা গুরবাজকেও খেলতে দেখা যাবে জাফনা কিংসের হয়। তবে জাফনা কিংসের সবচেয়ে বড় চমক পাকিস্তানেক অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক।রভম্যান পাওয়েল, বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার হয়ে নজর কাড়া চরিথ আসালঙ্কাকেও খেলতে দেখা যাবে ক্যান্ডি ওয়ারিয়র্সে। প্রোটিয়া স্পিনার ইমরান তাহির, দাসুন শনাকা, রিলে রসোর মতো ক্রিকেটারকে খেলতে দেখা যাবে ডাম্বুলা জায়ান্টসের হয়ে। অন্যদিকে গল গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলতে দেখা যাবে মহম্মদ হাফিজ, তাবরেজ সামসি, মহম্মদ আমির, সরফরাজ আমেদের মতো ক্রিকেটারদের।এবছর লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে শ্রীলঙ্কার একঝাঁক তারকা ক্রিকেটারকে খেলতে দেখা যাবে না। নির্বাসনের কারণে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, কুশল পেরেরা, আকিলা ধনঞ্জয়, দীনেশ চন্ডীমাল, ধনঞ্জয় ডিসিলভাকে নিলামে তোলা হয়নি। ৫ ডিসেম্বর থেকে পাঁচটি দলকে নিয়ে শুরু হবে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ। চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। গতবছর যে দলগুলি লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে অংশ নিয়েছিল তার মধ্যে তিনটি দলের এবার মালিকানা বদল হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন জাফনা স্ট্যালিয়নস। এবছর তারা খেলবে জাফনা কিংস নামে।

নভেম্বর ১০, ২০২১
বিদেশ

Malala Yusufzai: নতুন জীবনে প্রবেশ করলেন মালালা ইউসুফজাই

২০১২ সালে তালিবানি সন্ত্রাসের চোখে চোখ রেখে লড়াই চালিয়ে নিজের জীবন গড়ে তুলেছেন তিনি। বিয়ে করলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই । বার্মিংহামে একটি ছোট ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বসল পাকিস্তানি কন্যার বিয়ের আসর। পাত্রের নাম অসর মালিক। অসর পাক ক্রিকেট বোর্ডের কর্তা।মালালার বয়স এখন ২৪ বছর। পাকিস্তানের এই কন্যা মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে আন্দোলন করেছেন। তবে মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে সরব হওয়ার জন্য তালিবানের গুলিও খেতে হয়েছে তাঁকে। এর পর ১৬ বছর বয়সে রাষ্ট্রপুঞ্জে বক্তৃতা দেন মালালা। শিক্ষার অধিকারে লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে বরাবর সরব হয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় মালালাকে। ২০২০ সালে মালালার নামে স্কুলও খোলা হয় টেক্সাসে।Today marks a precious day in my life.Asser and I tied the knot to be partners for life. We celebrated a small nikkah ceremony at home in Birmingham with our families. Please send us your prayers. We are excited to walk together for the journey ahead.📸: @malinfezehai pic.twitter.com/SNRgm3ufWP Malala (@Malala) November 9, 2021মঙ্গলবার অসরের সঙ্গে তাঁর বিয়ের খবর টুইটারে জানান নোবেলজয়ী। বিয়ের ছবি পোস্ট করে মালালা লেখেন, আমার জীবনের একটি মূল্যবান মুহূর্ত। অসর এবং আমি আজীবনের সঙ্গী হওয়ার জন্য আজ গাঁটছড়া বাঁধলাম। একে তো নোবেলজয়ীর বিয়ের আসর, তার উপর মালালা তাঁর জীবনযুদ্ধের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত। তবে বিয়ের আসরে জাঁকজমক ছিল না একেবারেই। মালালা লিখেছেন, বার্মিংহামের বাড়িতেই পরিবার-পরিজনের সামনে একটা ছোট ঘরোয়া নিকাহ অনুষ্ঠানে আমরা বিশেষ মুহূর্তটি উদ্যাপন করেছি।বিয়ের সাজপোশাকে বাহুল্য ছিল না মালালার। পিচ রঙের সালোয়ার কামিজ পরেছিলেন। মাথায় ছিল ওড়না। স্বামী এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে ছবি দিয়ে টুইটারে মালালা লিখেছেন, আপনারা আশীর্বাদ করুন। আগামীর সফরে একসঙ্গে শুরু করার এই মুহূর্তে আমরা উত্তেজিত।

নভেম্বর ১০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Syed Mustak Ali T20 : পাড়িক্কল, মায়াঙ্কদের উড়িয়ে সৈয়দ মুস্তাক আলির কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলা

সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বাংলা। মঙ্গলবার গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী কর্ণাটককে উড়িয়ে দিল ৭ উইকেটে। কর্ণাটকের বিরুদ্ধে এদিন দুর্দান্ত বোলিং করেন বাংলার বোলাররা। মুকেশ কুমারদের দাপটে কর্ণাটকের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি। বাংলাকর্ণাটক ম্যাচের আগে বরোদার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল মুম্বই। বরোদাকে মুম্বই হারানোয় বাংলাকে গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে জিততেই হত। জ্বলে উঠলেন বাংলার বোলাররা। কর্ণাটক দল রীতিমতো তারকাখচিত। অনেকেই আইপিএলে রীতিমতো দাপিয়ে বেরিয়েছেন। কে নেই দলে? দেবদত্ত পাড়িক্কল, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, মণীশ পাণ্ডে, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, কৃষ্ণাপ্পা গৌতম, জগদেশা সুচিথ, কেসি কারিয়াপ্পা, করুণ নায়ার। কর্ণাটকের যা শক্তি, বাংলার উড়ে যাওয়ার কথা। নাম দিয়ে যে ক্রিকেট হয় না, দেখিয়ে দিলেন বাংলার ক্রিকেটাররা। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্ণাটক। এদিন ম্যাচের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে (৪) তুলে নিয়ে কর্ণাটককে প্রথম ধাক্কা দিয়েছিলেন মুকেশ কুমার। ওই ওভারের শেষ বলে তুলে নেন দেবদত্ত পাড়িক্কলকে (০)। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান মণীশ পাণ্ডে এবং করুণ নায়ার। ২৭ বলে ৩২ রান করে শাহবাজ আমেদের বলে আউট হন মণীশ পাণ্ডে। করুণ নায়ার ৪৪ বলে ৪৪ রান করেন। তাঁকে ফেরান প্রদীপ্ত প্রামানিক (২/৩৩)। মণীশ পাণ্ডে ও করুণ নায়ারকে খুব বেশি আক্রমণাত্মক হওয়ার সুযোগ দেননি শাহবাজ আমেদ (১/১৫), আকাশ দীপরা (১/১৯)। ২০ ওভারে ১৩৪/৮ রানের বেশি তুলতে পারেনি কর্ণাটক। মুকেশ কুমার ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন। ব্যাট করতে নেমে বাংলার শুরুটাও ভাল হয়নি। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ তুলে নেন সুদীপ চ্যাটার্জিকে (৪)। তিন নম্বরে নেমে ঋত্ত্বিক চ্যাটার্জি ৯ বলে ১৮ রান করে আউট হন। এরপর অভিমন্যু ঈশ্বরণ ও ঋদ্ধিমান সাহা বাংলাকে টেনে নিয়ে যান। ২৩ বলে ২৭ রান করে আউট হন ঋদ্ধিমান। বাংলাকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন অভিমন্যু ও কাইফ আমেদ। অভিমন্যু ৪৯ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন। কাইফ আমেদ ২৪ বলে করেন অপরাজিত ৩৪। ২ ওভার বাকি থাকতেই ৩ উইকেটে ১৩৮ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলা। ৫ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট বাংলার। অন্যদিকে কর্ণাটকেরও পয়েন্ট ১৬। নেট রান রেটে কর্ণাটককে (০.৩৭৯) পেছনে ফেলে গ্রুপ শীর্ষে থাকে বাংলা (০.৯৯৫)। গ্রুপ শীর্ষে থাকায় সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পান সুদীপরা। আর কর্ণাটককে খেলতে হবে প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল।

নভেম্বর ০৯, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • 17
  • ...
  • 24
  • 25
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে রহস্য! গুরুতর আহত নতুন সর্বোচ্চ নেতা, নাকি গোপন রাখা হচ্ছে সত্য

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাঁর বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পরই তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বার্তা প্রকাশ পেলেও তিনি নিজে কোথাও প্রকাশ্যে দেখা দেননি।ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁর প্রথম বক্তব্য প্রচার করা হয়। তবে সেই বার্তাটি একটি সংবাদপাঠক পড়ে শোনান। খামেনেই নিজে ক্যামেরার সামনে আসেননি। কেন তিনি প্রকাশ্যে আসেননি, সে বিষয়ে ইরানের সরকারি মাধ্যম কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। এরই মধ্যে নানা মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে যুদ্ধের প্রথম হামলাতেই তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।ছাপ্পান্ন বছর বয়সী এই নতুন আয়াতোল্লা তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি তাঁর নিহত বাবার নীতিই অনুসরণ করবেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলিকে দ্রুত ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক বিমান হামলায় নিহতদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা ধরনের খবর সামনে আসছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম ধাক্কায় তিনি আহত হয়েছিলেন। সেই হামলাতেই তাঁর বাবা, মা, স্ত্রী, বোন ও ভাইঝির মৃত্যু হয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাঁকে রমজানের যোদ্ধা বলে উল্লেখ করেছে। সাধারণত দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়ে আহত হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির রিপোর্টেও তাঁর আঘাত পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি তুলনামূলকভাবে হালকা আহত হয়েছেন। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর পায়ে চোট লেগেছে, চোখের পাশে আঘাত রয়েছে এবং মুখেও সামান্য ক্ষত রয়েছে।তবে একটি বিদেশি সংবাদপত্রে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি নাকি এখন কোমায় রয়েছেন এবং হামলায় তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁর যকৃত ও পেটেও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাঁর প্রথম বার্তা প্রকাশ করা হয়েছিল মূলত তাঁর শারীরিক অবস্থা আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে। জানা গিয়েছে, রাজধানীর একটি ঐতিহাসিক এলাকায় অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তাঁর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের একটি অংশ কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ ট্রমা সার্জন মোহাম্মদ রেজা জাফারঘান্দি তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন। সূত্রের দাবি, হামলায় তাঁর একটি পা হারাতে হয়েছে এবং শরীরের ভেতরের অঙ্গেও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ইরানকে ঘিরে নানা ধরনের জল্পনা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বও ছড়াতে শুরু করেছে। কেউ কেউ বলছেন, দেশটি নাকি এখন এক অদৃশ্য আয়াতোল্লার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রথম বার্তাটি তিনিই লিখেছেন।

মার্চ ১৩, ২০২৬
বিদেশ

আমেরিকার যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের! সত্যিই কি পিছু হটল শক্তিশালী রণতরী

আরব সাগর ও ওমান সাগর সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আমেরিকার একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তবে সেই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি, যুদ্ধজাহাজটি এখনও স্বাভাবিক ভাবেই অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবিভাগ জানিয়েছে, তাদের নিক্ষেপ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আমেরিকার বিমানবাহী রণতরীতে আঘাত করেছে। তাদের দাবি, সেই আঘাতে যুদ্ধজাহাজটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং উপসাগরীয় এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়।ইরানের তরফে আরও বলা হয়েছে, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে একটি নির্ভুল সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল। ইরানের সমুদ্রসীমা থেকে প্রায় তিনশো চল্লিশ কিলোমিটার দূরে ওমান সাগরে এই হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর আমেরিকার ওই যুদ্ধজাহাজ ও তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য জাহাজ দ্রুত গতিতে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগেও ইরান দাবি করেছিল যে তারা এই যুদ্ধজাহাজে আঘাত করেছে। কিন্তু তখন মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছিল, সেই ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধজাহাজের কাছেও পৌঁছতে পারেনি।ইরানের এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পরই যুক্তরাষ্ট্র তা সরাসরি খারিজ করে দেয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের পক্ষ থেকে যুদ্ধজাহাজের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ওই রণতরী এবং তার সঙ্গে থাকা নৌবহর এখনও সমুদ্র থেকে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।এই উত্তেজনার মধ্যেই সমুদ্রে আরও একটি ঘটনার খবর সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ইরানি জাহাজ আমেরিকার বিমানবাহী রণতরীর খুব কাছাকাছি চলে আসে। তখন মার্কিন বাহিনী গুলি চালায় বলে জানা গেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজ বড় আকারের কামান ব্যবহার করে ওই ইরানি জাহাজের দিকে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। তবে ঠিক কোন জাহাজ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। গুলিগুলি সতর্কবার্তা হিসেবে ছোড়া হয়েছিল কি না, সেটাও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ওই গুলি একাধিকবার ইরানি জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হলেও কোনওটিই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ইরানের ওই জাহাজটির বর্তমান অবস্থাও এখনও পরিষ্কার নয়।পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সেখানে একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ বিমান অভিযান শুরু হওয়ার পর দুটি বড় বিমানবাহী রণতরী ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।এই মুহূর্তে অঞ্চলে আমেরিকার দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে। তাদের সঙ্গে একাধিক বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজও কাজ করছে। এর মধ্যে কয়েকটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজও রয়েছে, যেগুলি ওই সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযান পরিচালনায় অংশ নিচ্ছে।

মার্চ ১৩, ২০২৬
দেশ

ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক হলে মহিলাদের চাকরি দেবে না সংস্থা! সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক মন্তব্য প্রধান বিচারপতির

ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হওয়া এক মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। শুক্রবার এই মামলার শুনানি চলাকালীন তিনি বলেন, যদি ঋতুকালীন ছুটি আইন করে বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে অনেক সংস্থা মহিলা কর্মীদের নিয়োগ করতে চাইবে না। এই কারণ দেখিয়েই আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী নামে এক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ছাত্রী হোক বা কর্মরত মহিলা সবার জন্যই ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা উচিত। তিনি উদাহরণ হিসেবে কেরল সরকারের একটি সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন। দুই হাজার তেরো সালে রাজ্যের অধীনস্থ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য ঋতুকালীন ছুটির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। কিছু বেসরকারি সংস্থাও কর্মীদের জন্য এই ধরনের ছুটি চালু করেছে বলেও তিনি আদালতে উল্লেখ করেন।আবেদনকারীর দাবি ছিল, সব রাজ্যেই যেন এই ধরনের ছুটি আইন করে বাধ্যতামূলক করা হয়। সেই উদ্দেশ্যেই শীর্ষ আদালতে এই পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল।তবে প্রধান বিচারপতি এই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হলে তার উল্টো প্রভাবও পড়তে পারে। তাঁর মতে, এতে অনেক মহিলার মনে হতে পারে যে তাঁরা পুরুষদের তুলনায় পিছিয়ে। একই সঙ্গে অনেক সংস্থা তখন মহিলা কর্মীদের নিয়োগ করতে অনীহা দেখাতে পারে।প্রধান বিচারপতির কথায়, ঋতুস্রাব নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু যদি আইন করে এই ছুটি বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে কিছু নিয়োগকারী সংস্থা মনে করতে পারে যে মহিলাদের কাজের ক্ষেত্রে আলাদা সমস্যা রয়েছে। সেই কারণ দেখিয়ে তারা মহিলা কর্মীদের নিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে।তিনি আরও বলেন, কিছু সংস্থা ইতিমধ্যেই স্বেচ্ছায় কর্মীদের ঋতুকালীন ছুটি দেয়। কিন্তু বিষয়টি আইনের আওতায় আনা হলে তা অনেক সময় মহিলাদের কর্মজীবনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দেশের কিছু রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই ধরনের ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। কর্নাটকে গত বছর একটি আইন পাশ হয়েছে, যেখানে মহিলা কর্মীরা মাসে এক দিন সবেতন ঋতুকালীন ছুটি পাবেন। বিহারে আবার উনিশশো বিরানব্বই সাল থেকেই মাসে দুদিন ঋতুকালীন ছুটির নিয়ম চালু রয়েছে। দুই হাজার চব্বিশ সালে ওড়িশা সরকারও মহিলা কর্মীদের জন্য মাসে এক দিন ঋতুকালীন ছুটিতে সম্মতি জানিয়েছিল।

মার্চ ১৩, ২০২৬
কলকাতা

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চাইছে তৃণমূল, কিন্তু মিলছে না সময়! কেন তৈরি হচ্ছে নতুন জল্পনা

রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তুলে ধরতে চায় তৃণমূল। সেই কারণে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছে দলের সাংসদরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই সময় পাওয়া যায়নি। এই বিষয়টি ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে আদিবাসী সমাজের উন্নয়নের জন্য সরকার কী কী কাজ করেছে, তার একটি খতিয়ান রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন দলের সাংসদরা। সেই উদ্দেশ্যে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ভবনে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত এই বৈঠকের জন্য সময় দেওয়া সম্ভব নয়।এর পরেই আবার নতুন করে চিঠি পাঠিয়েছে তৃণমূল। দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছেন দলের সাংসদরা। জানা গিয়েছে, ওই চিঠিতে বারো থেকে পনেরো জনের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই আবেদন নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে কোনও উত্তর আসেনি।দলীয় সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহে আবারও একটি চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি হবে তৃতীয় চিঠি। সেখানে দলের পক্ষ থেকে নিজেদের অবস্থান এবং এই সাক্ষাতের প্রয়োজনীয়তার কথা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হতে পারে।এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত শনিবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী সম্মেলনে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেই সফর ঘিরেও একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।শিলিগুড়ির বিধাননগরে তাঁর একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। পরে নিরাপত্তার কারণে সেই অনুষ্ঠানস্থল বদলে দেওয়া হয়। বাগডোগরার কাছে গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাষ্ট্রপতি নিজেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।পরে বিধাননগরে পৌঁছে তিনি বলেছিলেন, তিনি ওই এলাকাতেই সভা করতে চেয়েছিলেন এবং সেখানে পর্যাপ্ত জায়গাও ছিল। কিন্তু কেন রাজ্য সরকার সেখানে সভা করার অনুমতি দিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের ছোট বোন বলে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, হয়তো কোনও কারণে তিনি তাঁর উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তাই সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।এই মন্তব্য ঘিরেই পরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রের একাধিক নেতা-মন্ত্রীও।

মার্চ ১৩, ২০২৬
দেশ

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবি! সংসদে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানিয়ে সংসদে প্রস্তাব জমা দিতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট। তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে এই প্রস্তাব আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।সূত্রের খবর, লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে ইতিমধ্যেই অন্তত একশো তিরানব্বই জন সাংসদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে লোকসভায় একশো তিরিশ জন এবং রাজ্যসভায় তেষট্টি জন সাংসদ রয়েছেন। এই স্বাক্ষর জোগাড়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে বলেই দাবি বিরোধী শিবিরের।বিরোধীদের অভিযোগ, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন। সংসদে জমা দেওয়া নোটিসে তাঁর বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃত ভাবে বাধা তৈরি করা এবং বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ।তৃণমূলের এক বর্ষীয়ান নেতার দাবি, সংসদের দুই কক্ষেই বহু সাংসদের মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই প্রস্তাবে স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ দ্রুত এগিয়েছে।আইন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের কোনও বিচারপতিকে অপসারণের যে প্রক্রিয়া রয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও প্রায় একই নিয়ম প্রযোজ্য। তবে এর আগে কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এ ধরনের উদ্যোগ এতদূর এগোয়নি। সেই কারণেই তৃণমূল অত্যন্ত সতর্ক ভাবে এবং আইনি দিক খতিয়ে দেখে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।নিয়ম অনুযায়ী এই প্রস্তাব সংসদের দুই কক্ষেই জমা দেওয়া হবে। এরপর লোকসভার স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ঠিক করবেন প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হবে কি না। যদি প্রস্তাবটি গৃহীত হয়, তবে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে।এই কমিটি অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখবে। কমিটির অনুমোদন মিললে বিষয়টি আবার সংসদে তোলা হবে এবং তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আলোচনার পরে প্রস্তাবটি নিয়ে ভোটাভুটি হতে পারে।তবে পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ এবং জটিল। এতে বিপুল সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। সেই সমর্থন জোগাড় করাই বিরোধীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

মার্চ ১৩, ২০২৬
দেশ

গ্যাস আতঙ্কে বড় সিদ্ধান্ত! ফের রেশন দোকানে কেরোসিন দেওয়ার অনুমতি কেন্দ্রের

দেশজুড়ে রান্নার গ্যাস নিয়ে উদ্বেগের আবহে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। এবার থেকে আবার রেশন দোকানেই কেরোসিন তেল পাওয়া যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের জেরে রান্নার গ্যাস নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় কেরোসিনের গণবণ্টনে সাময়িক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।দুই হাজার বাইশ সাল থেকে রেশন দোকানে কেরোসিন তেল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্র। পরিবেশ দূষণের কথা মাথায় রেখেই কেরোসিনের গণবণ্টন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার জেরেই আবার কেরোসিন বিতরণের অনুমতি দেওয়া হল।এই সিদ্ধান্তের আগে রেশন ডিলারদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই কেরোসিনের গণবণ্টনে ফের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন রেশন দোকানে কেরোসিন তেল বিতরণ শুরু হতে পারে। জ্বালানি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে এই অনুমতি স্থায়ী নয়। আপাতত সাময়িক ভাবে কেরোসিন বণ্টনের অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র।কত দিন এই ব্যবস্থা চালু থাকবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেশন ডিলার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের জন্য চার হাজার একশো কিলোলিটার কেরোসিন তেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের কাছে এই পরিমাণ তেল সংগ্রহ করার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী পঁয়তাল্লিশ দিনের মধ্যে এই তেল সংগ্রহ করতে হবে। এরপর রেশন ডিলারদের মাধ্যমেই তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে রেশন ডিলাররা খুশি হলেও তাঁদের আরও দাবি রয়েছে। তাঁদের মতে, এই সাময়িক অনুমতিকে স্থায়ী করে দেওয়া উচিত। কারণ রান্নার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।রেশন ডিলার সংগঠনের বক্তব্য, গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে অনেক মানুষের পক্ষে রান্নার গ্যাস ব্যবহার করা কঠিন হয়ে উঠছে। তাই কেরোসিনের এই বণ্টন ব্যবস্থা যেন আবার বন্ধ না করা হয়, সেই দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মার্চ ১৩, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে বড় বার্তা মমতার! ‘ভয় পাবেন না’, প্রশাসনকে সরাসরি আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে এখনও বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়নি। তার আগেই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা বাড়াতে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, ভয় না পেয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে।সূত্রের খবর, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে নির্বাচন সামনে আসায় নানা ভাবে চাপ তৈরি করার চেষ্টা হতে পারে। তিনি প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। সবাই যেন নিজের কাজ সঠিক ভাবে করে যান। তাঁর কথায়, নির্বাচন আসছে বলেই এখন অনেক বেশি চাপ ও ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হবে।বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সাম্প্রতিক সফরের কথাও উঠে আসে। গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে এসে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল। সেই বৈঠকে ভোটকে কেন্দ্র করে আরও সতর্ক ও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনিক আধিকারিকদের। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সেই বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দেন।এর পরেই রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, সেখানে তিনি বলেন যে ফুল বেঞ্চের বৈঠকে কী হয়েছে তা তিনি শুনেছেন। তবে প্রশাসনের কাউকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি আধিকারিকদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, সবাই যেন নিজের দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করেন।এই বৈঠকেই রাজ্যে বহিরাগতদের প্রবেশের অভিযোগও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে লোক এনে বাংলায় ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর কাছে এমন খবর রয়েছে যে এখন থেকেই বাইরে থেকে লোক বাংলায় ঢুকছে এবং তাঁদের ঢোকানো হচ্ছে। তাই প্রশাসনকে তিনি নির্দেশ দেন বিষয়টি নিয়ে কড়া নজরদারি চালাতে। প্রয়োজনে হোটেলগুলিতে অভিযান চালানো, নাকা তল্লাশি করা এবং বাইরের লোকের চলাচলের উপর নজর রাখার কথাও তিনি বলেন।এছাড়াও রাজ্যে চলতে থাকা জ্বালানি সংক্রান্ত আতঙ্ক নিয়েও প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নোডাল আধিকারিক নিয়োগ করে চব্বিশ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে এমন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।সূত্রের খবর, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি এবং ছাত্রাবাসে জ্বালানি পরিষেবা যাতে কোনও ভাবেই ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর বার্তাও দিয়েছেন।

মার্চ ১৩, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত! প্রতিটি কেন্দ্রে বসছে আলাদা নজরদার, নজিরবিহীন পদক্ষেপ কমিশনের

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, দুই হাজার ছাব্বিশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন পরিকল্পনা করেছে কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে এ বার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য আলাদা করে এক জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার ভাবনা চলছে।দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় রাজ্যে মোট একশো ষাট জন সাধারণ পর্যবেক্ষক ছিলেন। সে ক্ষেত্রে এক জন আধিকারিককে একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল। কিন্তু এ বার সেই ব্যবস্থা বদলাতে পারে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য আলাদা পর্যবেক্ষক থাকলে নজরদারি আরও শক্ত হবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।শুধু সাধারণ পর্যবেক্ষকই নয়, ভোটের খরচের হিসেব দেখার জন্য ব্যয় পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও এ বার বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও।গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মোট সাতত্রিশ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক ছিলেন। কিন্তু এ বার সেই সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে পারে। সূত্রের খবর, জেলা বা মহকুমা ভিত্তিক নিয়োগের বদলে নির্দিষ্ট এলাকা বা বিধানসভা কেন্দ্র ধরে পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হতে পারে। এমনকী কিছু স্পর্শকাতর কেন্দ্রে এক জনের বেশি পুলিশ পর্যবেক্ষকও থাকতে পারেন।কমিশনের এই সূক্ষ্ম পরিকল্পনা থেকেই স্পষ্ট, ভোটের সময় কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই ভোট ঘোষণা হওয়ার আগেই বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। তালিকায় ন্যূনতম পদমর্যাদা হিসেবে মহকুমা শাসক স্তরের আধিকারিকদের রাখা হয়েছে। যদিও সিনিয়র পদমর্যাদার আধিকারিকও থাকতে পারেন, কিন্তু সবচেয়ে নিচের স্তর হিসেবে মহকুমা শাসক পদই নির্ধারণ করা হয়েছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এতদিন ডিএমডিসি পদমর্যাদার আধিকারিকরা রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেতেন। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় সেই পদমর্যাদার কাউকে রাখা হয়নি। যাঁদের নাম রাখা হয়েছে, তাঁরা সকলেই তুলনামূলক ভাবে সিনিয়র আধিকারিক বলে জানা গেছে।

মার্চ ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal