• ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bardhaman

রাজ্য

এক রেজিস্ট্রেশন নম্বর, দুই চিকিৎসক! শিশুমৃত্যুর তদন্তে ‘ভুয়ো ডাক্তারি’ নথির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

বর্ধমানের বেসরকারি নার্সিংহোমে চার বছরের শিশুর অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে সামনে এল চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন ও শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর একাধিক চিকিৎসকের নামে ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে আরও বিস্তৃত অনুসন্ধান।বর্ধমানের নবাবহাটের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চার বছরের এক শিশুর অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হতেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। শিশুটির অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক সইদুল হকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসক হিসেবে তাঁর রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে আসে বেশ কিছু অসঙ্গতি। এরপরই বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।তদন্ত সূত্রে জানা যায়, সইদুল হক চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার জন্য বিহারের একটি মেডিক্যাল কলেজের নথি পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলে জমা করেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই নথির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। মূলত ওই নথি সত্যিই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কি না, তিনি আদৌ ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পাশ করেছিলেন কি নাসেই বিষয়টিই যাচাই করার চেষ্টা শুরু হয়।কিন্তু বিহারের ওই মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের জবাব আসতেই তদন্তে তৈরি হয় নতুন মোড়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সইদুল হক নামে কোনও ব্যক্তি তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পাশ করেননি। ফলে তাঁর জমা দেওয়া শিক্ষাগত নথির সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।এরই মধ্যে আরও একটি বিষয় তদন্তকারীদের নজরে আসে। অভিযোগ, একই চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন নম্বর অন্য এক চিকিৎসকের নামেও ব্যবহৃত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার এক চিকিৎসকের নথি যাচাই করতে গিয়ে একই রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অস্তিত্ব সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়।একজন চিকিৎসকের নামে বরাদ্দ রেজিস্ট্রেশন নম্বর কীভাবে অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে, তা নিয়েই এখন মূল প্রশ্ন। কারণ, চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইন্টার্নশিপ এবং সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই যাচাই প্রক্রিয়া পেরিয়েও যদি কোনও ব্যক্তি চিকিৎসা করার সুযোগ পেয়ে থাকেন, তা হলে গোটা ব্যবস্থার নজরদারি ও যাচাই-বাছাই নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।তদন্তকারীদের আশঙ্কা, ঘটনাটি হয়তো শুধুমাত্র একটি নার্সিংহোম বা একজন চিকিৎসকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম কিংবা অন্যান্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের ভুয়ো বা জাল নথি ব্যবহার করে কেউ চিকিৎসা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।বিশেষ করে একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর একাধিক ব্যক্তির নামে ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনও ব্যক্তি যদি ভুয়ো শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি দেখিয়ে চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে থাকেন, তা হলে তিনি কোন কোন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা করেছেন, কতদিন ধরে চিকিৎসা করেছেন এবং তাঁর চিকিৎসার সঙ্গে আরও কোনও রোগীর ক্ষতি বা অনিয়মের যোগ রয়েছে কি নাসেই প্রশ্নগুলিও এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে।এই ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। কোনও চিকিৎসককে হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার আগে তাঁর ডিগ্রি, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করার কথা। সেই প্রক্রিয়ায় কোনও ফাঁক থেকে থাকলে, তা কীভাবে তৈরি হল এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।চার বছরের শিশুর মৃত্যুর মতো একটি মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তাই এখন সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্নরাজ্যে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রেজিস্ট্রেশন কতটা নির্ভুলভাবে যাচাই করা হয়?তদন্ত যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হতে পারে সইদুল হকের জমা দেওয়া নথির প্রকৃত সত্যতা, একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহারের নেপথ্যে কী রয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগ আছে কি না। আপাতত গোটা ঘটনায় তদন্তকারীদের নজর রয়েছে নথিপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার দিকে।তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। তদন্তের ফলেই স্পষ্ট হবে, এই ঘটনায় আদৌ কোনও জালিয়াতির চক্র কাজ করেছে কি না এবং থাকলে তার পরিধি কতটা।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
রাজ্য

বিশ্বকর্মা পুজো ঘিরে রণক্ষেত্র ইউআইটি, বর্ধমানের ইউআইটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ক্লাস

বিশ্বকর্মা পুজোকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রগোষ্ঠীর বিবাদ চরমে উঠল বর্ধমানের ইউআইটিতে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজের সমস্ত ক্লাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইউআইটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনীল কারফর্মার। একই সঙ্গে কলেজের ভিতরে থাকা দুটি ছাত্রাবাসও খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে তিন নির্দিষ্ট ছাত্রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন অধ্যক্ষ। ঘটনায় জখম ছাত্ররাও পৃথক অভিযোগ করেছেন। দুটি অভিযোগ একত্র করে তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ চত্বরে চলছে পুলিশি টহল।ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবি, ইউআইটিতে সরকারি ভাবে কোনও ছাত্র সংসদ নেই। তবে যে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘাত, উভয় পক্ষই নিজেদের এবিভিপি-র সঙ্গে যুক্ত বলে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজো আয়োজনের জন্য দুই পক্ষই পৃথক ভাবে আবেদন করেছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষ দুটি আবেদনই মঞ্জুর করে।অধ্যক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় এক পক্ষ তাঁকে ঘেরাও করে দাবি করে, তাদের পুজোটিই একমাত্র পুজো হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশকে খবর দেন। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কলেজ চত্বরে দুই গোষ্ঠীর শতাধিক করে সদস্য মুখোমুখি হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নিরাপত্তারক্ষীদের পক্ষে সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।এরপরই অধ্যক্ষের ঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং আক্রান্ত ছাত্রদের দাবি, দুই পক্ষের সঙ্গেই এবিভিপির যোগ রয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সংগঠনের সাংগঠনিক পদেও রয়েছেন। অভিযোগ, বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে পিস্তল, বাঁশ ও লাঠি হাতে হামলা চালানো হয়। অধ্যক্ষের ঘরের পিছনের দরজা ভেঙে ঢোকারও অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্তদের দাবি, পিস্তলের বাঁট এবং পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরিস্থিতির চাপে কয়েকজন শৌচাগারের ভিতর আশ্রয় নেন বলেও দাবি করা হয়েছে।অন্যদিকে, আক্রান্ত ছাত্রদের একাংশের দাবি, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের তরফে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করতে চাওয়া হলেও তাঁদের পুজো স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল। সেই বিষয়টি জানতে তাঁরা অধ্যক্ষের কাছে গিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, সেই সময় সপ্তম সিমেস্টারের এক সক্রিয় এবিভিপি সদস্য অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকে তাঁকে মারধরের অভিযোগ করেন। তবে মারধরের কোনও চিহ্ন দেখাতে না পারায় অধ্যক্ষ তাঁর অভিযোগকে গুরুত্ব দেননি বলে দাবি আক্রান্তদের।যদিও গোটা ঘটনায় এবিভিপির যোগ অস্বীকার করেছেন সংগঠনের বর্ধমান মহানগরের সম্পাদক সুশোভন চৌধুরী। তাঁর দাবি, ইউআইটিতে এবিভিপির কোনও সংগঠনই নেই। যে প্যাড ব্যবহার করে পুজোর অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, তার সঙ্গেও এবিভিপির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, প্যাড যে কেউ বানাতে পারে। ওই প্যাড আদৌ এবিভিপির অনুমোদিত কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন তিনি।ঘটনার জেরে ইউআইটির পঠনপাঠন আপাতত বন্ধ। কলেজ চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
স্বাস্থ্য

বর্ধমানে বি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালন

২৫ বছর পূর্তিতে দিনভর নানা কর্মসূচি, ফ্রি কনসালটেশন ক্যাম্প ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার; কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ও স্ট্রোক নিয়ে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালন।ফিজিওথেরাপির প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে বর্ধমান শহরের বি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজে পালিত হল বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। মঙ্গলবার কলেজ প্রাঙ্গণে দিনভর নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ছিল বিশেষজ্ঞদের আলোচনা, বৈজ্ঞানিক সেশন, লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন এবং রোগীদের জন্য বিনামূল্যে কনসালটেশন ক্যাম্প।অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বর্ধমান শহরের বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জেন ড. শাশ্বত দত্ত। উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান মেডিকেল কলেজের উইংস অনাময় হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্ট ড. শিলাদিত্য দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বি আই এম এল এস কলেজের এথিকাল কমিটির চেয়ারম্যান ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. অভিষেক মিশ্র এবং বেঙ্গল ফেত হাসপাতালের বিশিষ্ট ফিজিওথেরাপিস্ট ড. অরোদীপ দাশগুপ্ত -সহ অন্যান্যরা।অনুষ্ঠানে বক্তারা দৈনন্দিন জীবনে ফিজিওথেরাপির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে উঠে আসে, ফিজিওথেরাপি শুধু চোট বা অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসনের জন্য নয়; দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অস্থিসন্ধির সমস্যা, পেশির দুর্বলতা, স্নায়বিক সমস্যা, চলাফেরার অসুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।এছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন বি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ড. এম এস আনোয়ার, সহকারি অধ্যাপক ড. সত্যেন ভট্টাচার্য্য, সহকারি অধ্যাপক ড. অমর্ত্য মল্লিক, সহকারি অধ্যাপক ড.তনিমা ভট্টাচার্য্য, সহকারি অধ্যাপক ড. প্রিয়াঙ্কা দাস ও সহকারি অধ্যাপক ড. রজনী মিশ্র দাসগুপ্ত।২৫ বছর পূর্তিতে রোগী পরিষেবায় বিশেষ উদ্যোগবি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এম এস আনোয়ার জানান, বি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের ওপিডি পরিষেবার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপি পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে ওপিডিতে আয়োজন করা হয় ফ্রি কনসালটেশন ক্যাম্প। তিনি জানান দিনভর এই ক্যাম্পে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি আয়োজিত হয় বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনার।কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ও স্ট্রোক নিয়ে বিশেষ সেশনবি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজের বিশিষ্ট ফিজিওথেরাপি ডাক্তার ড. সত্যেন ভট্টাচার্য্য জানান, এবারে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে বিশেষ থিম ছিল কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ও স্ট্রোক। এদিনের বৈজ্ঞানিক সেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ এবং স্ট্রোক। স্ট্রোকের পর রোগীর স্বাভাবিক চলাফেরা, পেশিশক্তি, ভারসাম্য এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। তিনি জানান, সেমিনারের পাশাপাশি বিভিন্ন থেরাপিউটিক পদ্ধতি নিয়ে লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনও দেখানো হয়।রোগীদের সাফল্যের গল্পে উঠে এল ফিজিওথেরাপির গুরুত্বসহকারি অধ্যাপক ড. অমর্ত্য মল্লিক জনতার কথাকে জানান, আজকের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে উপকৃত হওয়া রোগীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা। বিশেষ করে ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন ধরনের ডিফর্মিটি বা ডিসঅ্যাবিলিটি নিয়ে বেড়ে ওঠা কয়েকজন রোগী কীভাবে চিকিৎসা ও নিয়মিত ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে এসেছেন, সেই অভিজ্ঞতা তাঁরা তুলে ধরেন।তাঁদের এই অভিজ্ঞতা উপস্থিতদের কাছে শুধু অনুপ্রেরণার নয়, বরং পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপির গুরুত্বের একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও উঠে আসে।কলেজের অধ্যক্ষ ড. এম এস আনোয়ার বলেন মানুষ কে জানতে হবে ফিজিওথেরাপি কেন গুরুত্বপূর্ণ?ফিজিওথেরাপির অন্যতম লক্ষ্য হল শরীরের নড়াচড়া ও কার্যক্ষমতা উন্নত করা, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা এবং রোগীকে যতটা সম্ভব স্বনির্ভর করে তোলা।স্ট্রোক-পরবর্তী পুনর্বাসন, অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা, কোমর-ঘাড়-কাঁধ বা হাঁটুর ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, স্পোর্টস ইনজুরি, শিশুদের শারীরিক বিকাশজনিত সমস্যা এবং বয়স্কদের চলাফেরার সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।তবে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও রোগের ধরন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপির পদ্ধতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন এবং প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী থেরাপি নেওয়া উচিত।বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে বি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে উঠে এল একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাফিজিওথেরাপি শুধু ব্যথা কমানোর পদ্ধতি নয়, বরং একজন মানুষকে সুস্থ, সচল ও স্বনির্ভর জীবনে ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাবে বিরাট টানাপোড়েন, কনভেনশনে ঘোষণা নয়া কমিটি, বর্তমান এক কার্যকর্তার পদত্যাগ, সরগরম সংবাদমহল

বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাব (বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব) -এর সদস্যদের এক বড় অংশের উদ্যোগে রবিবার কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছিল পারবীরহাটায় একটি হোটেলের সভাগৃহে। এই সংগঠনের বর্তমান কার্যকর্তাদের কার্যাবলী নিয়ে এই কনভেনশনে নানা প্রশ্ন ওঠে। বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব থেকে অন্যায় ভাবে ১৭ জন সদস্যকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এদিকে কনভেনশনে ২০২৬২০২৮ মেয়াদের পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। এদিকে জানা গিয়েছে, বর্তমান প্রেস ক্লাবের অন্যতম এক কার্যকর্তা কার্যকরী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। কার্যকরী কমিটির হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ থেকে লেফ্ট হয়ে গিয়েছেন সোমবার রাতে। অবশ্য এর আগেও তিনি বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। এদিনের কনভেনশন নিয়ে বিরাট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমান জেলার সংবাদ মাধ্যমে।বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা প্রেস ক্লাবের নয়া ভবন নির্মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক পার্থ চৌধুরী, জগন্নাথ ভৌমিক। ওই ভবন নির্মান করার জমি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকী জনৈক সদস্য ১০০ বস্তা সিমেন্ট দিয়েছিল, তাও সাধারণ সদস্যদের জানানো হয়নি বলে জোরালো অভিযোগ করা হয়েছে। এদিনের কনভেনশন থেকে বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব-এর ২০২৬২০২৮ মেয়াদের পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কার্যকরী কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন সদস্য মিথিলেশ রায় ও স্বরূপ মুখার্জী। প্রস্তাব সমর্থন করেন আব্দুস সবুর এবং উত্তম দাস। সভায় এই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী অভিজিৎ তা, বিধায়ক সুভাষ পাত্র এবং সৌমেন কার্ফা। ছিলেন চিকিৎসক এস আর ব্যানার্জি, সমাজসেবী পূরব সাম, দেবজ্যোতি সিংহরায়, গৌরব সমাদ্দার, বিশ্বেশ্বর চৌধুরী, আইনজীবী রমেশ সিং। নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন পার্থ চৌধুরী। কার্যকরী সভাপতি হয়েছেন সোমনাথ ভট্টাচার্য এবং সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সন্দীপ ঘোষ চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন প্রসেনজিৎ সামন্ত। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সুজাতা মেহারা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ঋষিগোপাল মণ্ডল, সহ-সম্পাদক পদে সন্তোষ দাস, ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রসূন সামন্ত, কোষাধ্যক্ষ পদে আমিনুর রহমান এবং অফিস সম্পাদক পদে কৌশিক সিনহা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও কমিটির স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তারকনাথ রায়, শ্যামল মুখার্জী ও জগন্নাথ ভৌমিক। কার্যকরী কমিটির সদস্যরা হলেন বিশ্বনাথ পাল, অরূপ লাহা, বিজন ঘোষ, রাম নারায়ণ কুণ্ডু, সুজিত দত্ত, অভিজিৎ সাহা, সুদিন মণ্ডল, সুমিত ভগত, সুমনা সামন্ত, মানস দাস, বিশ্বজিৎ হাজরা, নয়ন রায়, মনোতোষ পোদ্দার, শেখ শাহজাহান, রঞ্জিত পণ্ডিত, তনুশ্রী ব্যানার্জী, উদিত সিংহ, ধীমান রায়, রাধামাধব মণ্ডল, অসিত রাউত, অতনু হাজরা। তবে সুজাতা মেহেরা সোশাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছেন তিনি কোনও পদে থাকতে চান না।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টামণ্ডলীতে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, মন্ত্রী কলিতা মাঝি, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং বিধায়ক মানব গুহ, অরুণ হালদার, সুভাষ পাত্র, রাজু পাত্র, সৌমেন কার্ফা, অনাদি ঘোষ, শিবাশিস ঘোষ, কৃষ্ণ ঘোষ, গোপাল চট্টোপাধ্যায়, সৈকত পাঁজা, সিদ্ধার্থ মজুমদার ও প্রাণকৃষ্ণ তফাদার। এছাড়াও উপদেষ্টা মণ্ডলীতে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসাবে রয়েছেন সমাজসেবী অভিজিৎ তা, ড. এসআর ব্যানার্জী, পূরব শাম ও দেবজ্যোতি সিংহ রায়, পিপি সদন তা, এপিপি রমেশ কুমার সিং এবং শিক্ষাবিদ জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও সুদত্তা ব্যানার্জী। জেলার সব কটি মহকুমা থেকেই ১১৫ জন সাংবাদিক এই কনভেনশনে অংশ নেন। তবে নতুন কমিটি ঘোষণার পর অন্য কমিটি থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
উৎসব

ন্যাচারাল সিটিতে সাবেকিয়ানার আবাহন, মহিলা পুরোহিতের পৌরোহিত্যে দুর্গাপুজোর অভিনব উদ্যোগ

বর্ধমান: বহুতলের আধুনিক জীবনযাত্রার মাঝেও শিকড়ের টান অমলিন। শহুরে ব্যস্ততার আবরণ সরিয়ে বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্য, সাবেকিয়ানা এবং উৎসবের আবেগকে ছুঁয়ে দেখতে এবার অন্যরকম উদ্যোগ নিয়েছে বর্ধমানের বিবেকানন্দ কলেজ রোডের ন্যাচারাল সিটি আবাসন। ২০২৬ সালে আবাসনের একাধিক পুজোর বদলে সকলকে এক ছাতার তলায় এনে আয়োজিত হচ্ছে একটি মাত্র সর্বজনীন দুর্গাপুজো। আর সেই পুজোর মূল ভাবনা সাবেকিয়ানা।এবার ন্যাচারাল সিটি সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির পুজো পা দিচ্ছে অষ্টম বর্ষে। আনুমানিক ৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বাজেটের এই পুজোয় আবাসনের প্রায় ২২০টি পরিবার সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন। তবে এই পুজো শুধুমাত্র দেবীর আরাধনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়াস, সম্প্রীতির বার্তা এবং নারীশক্তির উদযাপন।সাবেকি জমিদারবাড়ির আবহে দেবীর আরাধনাএবারের পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ গ্রামীণ বাংলার জমিদারবাড়ির সাবেকি দুর্গাপুজোর আদলে আয়োজন। আধুনিক আবাসনের পরিসরেই তৈরি হবে সেই চেনা আবহযেখানে পুজোর আড়ম্বরের চেয়ে গুরুত্ব পাবে রীতি, ঐতিহ্য ও আবেগ।সনাতন রীতিনীতি মেনে হবে দেবীর আরাধনা। প্রতিমাতেও থাকবে সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। সাবেকি মূর্তি এবং ডাকের সাজে সেজে উঠবেন মা দুর্গা। আধুনিকতার ঝলমক নয়, বরং বাংলার চিরপরিচিত পুজোর স্মৃতি ও নস্টালজিয়াকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা থাকবে গোটা আয়োজনজুড়ে।তবে এবারের পুজোর সবচেয়ে অভিনব দিক নিঃসন্দেহে মহিলা পুরোহিতদের পৌরোহিত্য। বর্ধমান শহরে মহিলা পুরোহিতদের দিয়ে দুর্গাপুজো পরিচালনার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। পুজো কমিটির ভাবনা নারী শক্তির উদয় হোক। পুরুষতান্ত্রিকতার প্রচলিত ধারণাকে পাশে সরিয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেও নারীর সমান অধিকার ও সক্ষমতার বার্তা পৌঁছে দিতে চায় কমিটি।বহুতলে থাকলেও নজর সবসময় মাটির দিকেশারদ পত্রিকা উপ-কমিটির কনভেনর সুদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধনই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা আধুনিক নিশ্চয়ই হয়েছি, কিন্তু ঐতিহ্য বা সাবেকিয়ানা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারি না। আমরা যতই বহুতলে থাকি না কেন, আমাদের নজর থাকে সবসময় মাটির দিকে।মহিলা পুরোহিতদের পৌরোহিত্য প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, পুজো মানেই পুরুষ পুরোহিতএই পুরুষতান্ত্রিক ধারণার বিরুদ্ধে একটা বার্তা দিতে চাই আমরা। মহিলারাও পারেন, এই স্পিরিটটাকে সামনে আনতেই এবার মহিলা পুরোহিতদের দিয়ে পুজো করানোর সিদ্ধান্ত।শুধু পুরোহিতের ক্ষেত্রেই নয়, পুজোর আয়োজক কমিটিতেও রয়েছে মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আবাসনের মহিলাদের নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পুজো কমিটি। অর্থাৎ দেবীর আরাধনার পাশাপাশি বাস্তবেও নারীশক্তির উত্থানকে সামনে আনতে চাইছে ন্যাচারাল সিটি।এক আবাসন, এক পুজোঐক্যের নতুন বার্তাঅন্যান্য বছর ন্যাচারাল সিটি আবাসনে একাধিক দুর্গাপুজোর আয়োজন হলেও ২০২৬ সালে সেই ছবি বদলেছে। এবার সমস্ত বিভাজন ভুলে আবাসনের পরিবারগুলিকে একত্রিত করে একটি মাত্র সর্বজনীন দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে।এই সিদ্ধান্তের মধ্যেও রয়েছে সাবেকিয়ানার মূল বার্তাবৈচিত্র্যের মধ্যে একতা। ভিন্ন মত, ভিন্ন পছন্দ কিংবা ভিন্ন পারিবারিক পরিসরকে অতিক্রম করে উৎসবের আনন্দে সবাইকে একত্রিত করাই এই পুজোর অন্যতম লক্ষ্য।মিডিয়া কমিটির সেক্রেটারি সন্দীপন ঘোষ জনতার কথাকে জানান, এবারের পুজোর থিম সাবেকিয়ানা, যার মূল বার্তা বৈচিত্র্যের মধ্যে একতা। তাঁর কথায়, পুরোপুরি সনাতনী রীতিনীতি মেনে সাবেকি প্রতিমা এবং ডাকের সাজে সাজবে মা দুর্গা।তিনি জানান, পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে পঞ্চমী থেকে। পুজোর প্রতিটি দিনই আবাসিকদের জন্য থাকবে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। সন্ধ্যা নামলেই আবাসন চত্বর হয়ে উঠবে নাচ, গান, নাটক-সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ। আবাসনের বাসিন্দারাই এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ফলে উৎসবের আনন্দ যেমন থাকবে, তেমনই আবাসিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির বন্ধনও আরও দৃঢ় হবে।উৎসবের মধ্যে পুজো নয়, পুজোর মধ্যে উৎসবএই পুজোর সঙ্গে প্রকাশিত হতে চলেছে একটি শারদ পত্রিকাও। নাম অর্ঘ। আবাসনের বাসিন্দাদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত হবে এই পুস্তিকা। তাঁদের ভাবনা, লেখনী, স্মৃতি এবং অনুভূতির মধ্য দিয়ে পুজোর আবহ আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।পুজো কমিটির বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি সুন্দর দর্শন উৎসবের মধ্যে পুজো নয়, পুজোর মধ্যে উৎসবকে খুঁজে নেওয়া। অর্থাৎ দেবীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, স্মৃতি, সংস্কৃতি, আনন্দ এবং সম্মিলিত অংশগ্রহণকেই উৎসবের আসল সার্থকতা হিসেবে দেখতে চাইছে কমিটি।৪ সেপ্টেম্বর খুঁটিপুজোয় শুভ সূচনাআগামী শারদোৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ১৫ আগস্ট ২০২৬ থেকেই। আর পুজোর প্রারম্ভিক সূচনা হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর, জন্মাষ্টমীর দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে খুঁটিপুজো। সেই থেকেই ধীরে ধীরে সেজে উঠছে ন্যাচারাল সিটি আবাসন।পুজো কমিটির সম্পাদক মলয় কুমার রায়, সচিব আরিজিত দত্ত এবং কনভেনার অনিন্দিতা ব্যানার্জি দত্ত-সহ কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। প্রায় ২২০টি পরিবারের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এবারের পুজো যে শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হতে চলেছে, তার আভাস মিলছে প্রস্তুতির শুরু থেকেই।আধুনিক বহুতলের আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার মধ্যেও মাটির গন্ধ, পুরনো দিনের স্মৃতি আর বাংলার চিরচেনা পুজোর আবেগকে ফিরিয়ে আনার এই প্রয়াস তাই নিছক একটি থিমের আয়োজন নয়। সাবেকিয়ানার হাত ধরে ন্যাচারাল সিটি যেন খুঁজে নিতে চাইছে তার শিকড়কেআর সেই শিকড়ের সঙ্গে জুড়ে দিতে চাইছে আগামী প্রজন্মকে।নারীর পৌরোহিত্য, সাবেকি প্রতিমা, ডাকের সাজ, জমিদারবাড়ির পুজোর আবহ এবং ২২০ পরিবারের সম্মিলিত অংশগ্রহণসব মিলিয়ে বর্ধমানের শারদোৎসবের মানচিত্রে এবার আলাদা করে নজর কাড়তে চলেছে ন্যাচারাল সিটির এই সাবেকিয়ানার দুর্গাপুজো।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

শিক্ষক-ছাত্রের বন্ধনে উদ্‌যাপিত শিক্ষক দিবস কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে

যথাযথ মর্যাদা, আবেগ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ শিক্ষক দিবস পালিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলএকাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের সক্রিয় পরিচালনায় শিক্ষক দিবসের সম্পূর্ণ আয়োজন।দিনের শুরুতেই সমবেত প্রার্থনাসভার ঘণ্টা বাজানো থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রথম পিরিয়ডের পাঠদানসব দায়িত্বই দক্ষতার সঙ্গে সামলান পড়ুয়ারা। শিক্ষকতার দায়িত্ব এক দিনের জন্য নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে তাঁরা উপলব্ধি করেন শিক্ষকতার ভূমিকা ও দায়িত্বের গভীরতা।এরপর সরকারি নির্দেশিত কেমন হবে আমার বিদ্যালয় শীর্ষক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চম থেকে নবম এবং নবম থেকে দ্বাদশএই দুই বিভাগে প্রতিযোগিতা হয়। প্রতিটি বিভাগে সেরা প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।পরবর্তী পর্বে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সায়ন্তিকা, হেমা, শ্রেয়া, জয়ন্তিকাদের নৃত্য, সঙ্গীত ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানে ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জীবন ও কর্ম নিয়ে বক্তব্য রাখে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সুরজ কুরি।বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক কমল সাহা তাঁর বক্তব্যে শিক্ষকতার সঙ্গে জীবনের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষকতা আমাদের জীবনেরই অঙ্গ। ছাত্রজীবন থেকেই আমাদের পথচলা শুরু হয়, আর শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে জীবনের সৌরভ অনুভব করা যায়। একসময় উপলব্ধি হয়, ছাত্র থাকা আসলে চিরকালেরকারণ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই আমাদের কিছু না কিছু শিখতে হয়। বক্তব্যের পর তাঁর কণ্ঠে রানার গানটি অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডল শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে আজকের দিনে আমাদের নিজেদের মানসিকতাকে আরও একবার ফিরে দেখা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, মন আসলে একটি কল্পতরু। মনের কাছে যা চাইবে, তাই পাবে। তাই তোমাদের ঠিকভাবে চাইতে শেখা দরকার।এরপর দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী মৌসুমি ও বর্ষা বিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আবেগঘন করে তোলে অনুষ্ঠানের পরিবেশ।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। তিনি বলেন, অন্য কোনও প্রাণী প্রজাতির মধ্যে শিক্ষক দেখা যায় নাএই বৈশিষ্ট্য একমাত্র মানুষের মধ্যেই রয়েছে। একদিকে এই বৈশিষ্ট্য সভ্যতার অগ্রগতিতে মানুষের মুখ্য ভূমিকা নির্ধারণ করে, অন্যদিকে মানুষের উপর এক বিরাট দায়িত্বও অর্পণ করে।তিনি আরও বলেন, আমরা বর্তমানে যা কিছু করি, তার প্রতিটিই ভবিষ্যৎ সময়ের ভিত্তি তৈরি করে। তাই আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম জীবনের সঠিক পথ চিনতে পারে এবং সেই পথ ধরে এগিয়ে যেতে পারে।শিক্ষক দিবসের এই আয়োজন তাই শুধুমাত্র শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; শিক্ষক ও ছাত্রের পারস্পরিক ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং আগামী দিনের স্বপ্নকে একসূত্রে বেঁধে দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

“তাঁকে দেখার পথ যে শেষ হয় না”—জন্মশতবর্ষের শুরুতেই স্মৃতির পর্দায় চিরউজ্জ্বল উত্তমকুমার

তাঁকে দেখার পথ যেন কোনওদিন শেষ হওয়ার নয়। তাঁর অভিনয় দেখেও যেন কোনওদিন আশ মেটে না। সময়ের স্রোত বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি ও প্রযুক্তিতবু বাঙালির হৃদয়ের পর্দায় এক নায়ক আজও একইরকম উজ্জ্বল। তিনি অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়বাঙালির চিরপরিচিত উত্তমকুমার। সম্ভবত বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম এবং শেষ ম্যাটিনি আইডল, যাঁকে ঘিরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনা চলতেই থাকবে।আজ থেকে শুরু হল সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষের পথচলা। আগামী এক বছর জুড়ে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা, প্রদর্শনী ও শ্রদ্ধার্ঘ্যে ফিরে ফিরে আসবেন উত্তমকুমার। তবে তাঁকে স্মরণ করার জন্য কোনও বিশেষ দিন বা শতবর্ষের প্রয়োজন হয় না। কারণ উত্তমকুমার বাঙালির কাছে শুধু একজন অভিনেতার নাম নন, তিনি এক বিস্ময়কর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাএকটি সময়ের নাম, একটি আবেগের নাম।এই আবেগেরই অন্যরকম প্রকাশ দেখা গেল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। জন্মশতবর্ষের সূচনালগ্নে প্রাত্যহিক সমবেত সভায় ছাত্রছাত্রীদের সামনে উত্তমকুমারের শিল্পীসত্তা ও অভিনয়জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়।তিনি মনে করিয়ে দেন, উত্তমকুমারকে শুধুমাত্র প্রেমিক নায়ক হিসেবে দেখলে তাঁর অভিনয়-প্রতিভার বিশালতাকে ছোট করে দেখা হয়। রোম্যান্টিক নায়কের পরিচিত ছকের বাইরে গিয়ে ভৃত্য, দেশপ্রেমিক, খলনায়কবিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও কোমল, কখনও কঠিন, কখনও সংবেদনশীল, কখনও তীব্রঅভিনয়ের প্রতিটি পরিসরেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের কথায় উঠে আসে ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত অভিনয়ের চারটি ধারার প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ভরত মুনির কথিত অভিনয়ের বিভিন্ন রীতিকে যেন স্বতঃস্ফূর্ত ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভায় নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর অভিনয় শুধু চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত না, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালির আত্মবিশ্বাসকেও আরও দৃঢ় করেছিল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছবির নায়ক হয়ে উঠেছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, একসময় দশকের পর দশক ধরে সিনেমার পর্দায় ছড়িয়ে থাকা উত্তমকুমারের নাক্ষত্রিক ব্যক্তিত্বই দর্শককে টেনে নিয়ে যেত সিনেমা হলের অন্ধকারে। সেই সময় সিনেমা দেখা মানেই ছিল উৎসব, আর উত্তমকুমার ছিলেন সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।আজ সেই সময় অনেকটাই ইতিহাস। যে শহর ও মফস্সলের অলিগলিতে একসময় একের পর এক সিনেমা হল ছিল, তার অধিকাংশই আজ হারিয়ে গিয়েছে। হারিয়েছে সেই পোস্টার, হারিয়েছে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হারিয়েছে প্রজেক্টরের আলোয় পর্দা জুড়ে মহানায়কের আবির্ভাবের সেই সম্মিলিত উচ্ছ্বাস। কিন্তু হারায়নি উত্তমকুমার।বরং সিনেমা হলের অস্তিত্ব ফিকে হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছেন বাঙালির স্মৃতিতে। এই পথ যদি না শেষ হয়শুধু একটি গানের দৃশ্য নয়, তা হয়ে উঠেছে বাঙালির রোম্যান্টিক কল্পনার এক চিরন্তন প্রতীক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য দৃশ্য, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর চলনআজও অজান্তেই ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির পর্দায়।প্রযুক্তির বদল এসেছে। সিনেমা এখন মোবাইলের পর্দায়, অ্যানিমেশন ও রিলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অ্যানিমেশন, রিল এবং বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে শিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার নানা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে উত্তমকুমারের মতো সাংস্কৃতিক আইকনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও আজ আরও বিস্তৃত।তবে মাধ্যম বদলালেও উত্তমকুমারের আবেদন বদলায়নি। কারণ তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তি কোনও প্রযুক্তি নয়, কোনও নির্দিষ্ট সময়ও নয়তা মানুষের আবেগে নির্মিত।তাই জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা মানে শুধু একজন অভিনেতাকে স্মরণ করা নয়। ফিরে দেখা বাঙালির এক হারিয়ে যাওয়া সময়কে, সিনেমা হলের সেই অন্ধকারে জ্বলে ওঠা আলোকে, পর্দায় মহানায়কের আবির্ভাবে দর্শকের উচ্ছ্বাসকে এবং ভালোবাসার সেই ভাষাকে, যা প্রজন্ম পেরিয়েও পুরনো হয় না।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই নিছক এক শতবর্ষ উদ্যাপন নয়। এটি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক দীর্ঘ যাত্রা।যে যাত্রার পথ আজও শেষ হয়নি।হয়তো কোনওদিন শেষও হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানে খাদ্য দফতরের হানা, কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা?

মিষ্টির জন্য বিখ্যাত বর্ধমান। এই শহরের সীতাভোগ ও মিহিদানার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। শক্তিগড়ের ল্যাংচারও যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা? খাদ্য দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানের কঙ্কালসার চেহারা। একের পর এক দোকান মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্যসামগ্রী রাখছে। এই তালিকায় নামীদামী দোকানও আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও মিষ্টির দোকান, হোটেল ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর বর্ধমানে একাধিক নামী মিষ্টির দোকানে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির উদ্ধারের পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া আইসক্রিম ও নরম পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি।সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত বর্ধমান শহরে এদিনের অভিযান শুরু হয় বর্ধমান পুরসভার সামনের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনিরের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ওই পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পনির বিক্রি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।এরপর বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারই নয়, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ একাধিক সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। একটি দোকান থেকে ঘির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বর্ধমান শহরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চলছে এই নজরদারি। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব এবং সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বুধবারও পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আমড়া এলাকার একাধিক হোটেলে পরিদর্শন করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।আমড়ার একটি হোটেল পরিদর্শনের পর ফুড সেফটি অফিসার প্রদীপ্ত মণ্ডল জানান, সেখানে কোনও অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। তবে হোটেলের ভিতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানায় দফতর। হোটেল মালিককে নোটিশ দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং খাবারের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের রাখী উৎসব, আনন্দমুখর বিজয় তোরণ চত্বর

ভাই-বোনের ভালোবাসা, পারস্পরিক আস্থা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বর্ধমানে আয়োজিত হল রাখী উৎসব। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাখীর বন্ধনে আবদ্ধ হলেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ। উৎসবকে ঘিরে বিজয় তোরণ (কার্জনগেট) চত্বরে এদিন পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দমুখর। রাখী পরিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়।রাখী বন্ধন শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের উৎসব নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও এই উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের। পথচলতি মানুষের হাতে রাখী পরিয়ে দেন ক্লাবের সদস্যরা। একে অপরের মঙ্গল ও সুস্থ কামনায় সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সময়ে বিভাজনের নানা প্রবণতার মধ্যে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন। রাখী সেই বন্ধনেরই প্রতীক। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একসূত্রে বাঁধার বার্তা দিতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও এ ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।রাখী পরানোর পাশাপাশি এদিন শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন উপস্থিত সকলে। ছোট-বড় সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি কার্যত মিলন উৎসবে পরিণত হয়। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের এই উদ্যোগে উঠে আসে একটাই বার্তা, সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় হোক, মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমুক এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সমাজের সর্বস্তরে। বেঙ্গল প্রেস ক্লাব বছরে নানা ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান করে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

রাতে আচমকা বর্ধমানের দুই হাসপাতালে হানা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, কি বললেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়?

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে জোর দিয়ে এবার রাতে সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে নামলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাতে আচমকাই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে যান তিনি। তার আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্ধমানের বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। দুই হাসপাতালেই চিকিৎসা পরিষেবা, পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং কর্মীদের কাজের পরিবেশ খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।রাত ৯টা নাগাদ বর্ধমান ২ নম্বর ব্লকের বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। আচমকা মন্ত্রীর আগমনে হাসপাতাল চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি মেডিসিন বিভাগে গিয়ে রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। চিকিৎসা পরিষেবা ও তাঁদের সমস্যার বিষয়ে খোঁজ নেন। তবে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি তিনি। সাফাইকর্মীকে ডেকে নিয়মিত এবং আরও মন দিয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন।এরপর রাত ১০টা নাগাদ আচমকাই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জরুরি বিভাগ-সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন তিনি। রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না জানতে চান। জুনিয়র ডাক্তার, নার্সিং স্টাফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তাঁদের প্রয়োজন, অসুবিধা এবং কাজের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেন।পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে নেতিবাচক কোনও অভিযোগ তিনি পাননি। অধিকাংশ রোগীই পরিষেবা নিয়ে সন্তুষ্ট বলে দাবি তাঁর। তবে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ঘাটতি এবং মহিলা চিকিৎসকদের রেস্ট রুমের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানান। হাসপাতালের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।নার্সিং স্টাফের ঘাটতি, বিশেষত জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত নার্সের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। চিকিৎসক ও নার্সদের বসার জায়গা, লেখালেখির প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বিশ্রামের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, চিকিৎসক-নার্সরা ভালোভাবে কাজ করতে না পারলে রোগী পরিষেবাও ব্যাহত হবে। তাই তাঁদের অভাবের পাশাপাশি আবদারও শুনতে হবে।বর্ধমান মেডিকেল কলেজের সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়েও মুখ খোলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কয়েকজন ছাত্রের নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে একজনকে আপাতত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তদন্ত এখনও চলছে বলেও জানান। থ্রেট কালচার প্রসঙ্গে তাঁর বার্তা, ভয় আউট, ভরসা ইন।অভীক দে-কে ঘিরে অনাময় হাসপাতালকে গ্রামীণ হাসপাতাল হিসেবে দেখিয়ে স্নাতকোত্তরে সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ এবং হাজিরা খাতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে এবং প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত। যোগ্য পড়ুয়াদের বঞ্চিত করে কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আগস্ট ২১, ২০২৬
রাজ্য

বালি সিন্ডিকেট নিয়ে বোমা ফাটালেন ঋতব্রত, নিশানায় বর্ধমান-দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ?

রাজ্যে বালি সিন্ডিকেটকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ওই অডিওতে বালি সিন্ডিকেটের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে কথোপকথন শোনা যাচ্ছে। বুধবার সাংবাদিকদের সামনে অডিওটি শোনান তিনি। পাশাপাশি, অডিওটির সত্যতা যাচাই করতে ফরেন্সিক পরীক্ষা করানোর দাবিও জানিয়েছেন ঋতব্রত।বিরোধী দলনেতার দাবি, এই ঘটনায় তদন্তের দাবিতে ভবানী ভবনে লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ভাইরাল অডিওতে রাজ্যের এক প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, কথোপকথনে শোনা একটি কণ্ঠস্বর কোনও এক সাংসদের হতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।কোনও নাম না করে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদকেও নিশানা করেন ঋতব্রত। তাঁর দাবি, অডিওতে শোনা একটি কণ্ঠস্বরের সঙ্গে কীর্তি আজাদের কণ্ঠস্বরের অনেকটাই মিল রয়েছে। সম্প্রতি বর্ধমানে একটি সাংবাদিক বৈঠকে কীর্তি আজাদ যে বক্তব্য রেখেছিলেন, সেই রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে ভাইরাল অডিওর কণ্ঠস্বর মিলিয়ে দেখার কথাও বলেন তিনি।ঋতব্রতর অভিযোগ, গোটা ঘটনায় বালি সিন্ডিকেট, তোলা আদায়, কাটমানি এবং ভাগ-এর মতো গুরুতর বিষয় জড়িয়ে থাকতে পারে। তাঁর দাবি, তদন্তের স্বার্থে অডিওতে যাঁদের কণ্ঠস্বর রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে অডিওটির ফরেন্সিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি আসল না কারসাজি করে তৈরি, তা খতিয়ে দেখার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।ঋতব্রত আরও জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে ওই অডিও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং সিবিআইয়ের কাছেও তুলে দেওয়া হবে। এমনকি লোকসভার স্পিকারকেও অডিওটি শোনানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।তবে বিরোধী দলনেতার অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও তথ্যই নেই। পরিকল্পিতভাবে তাঁকে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।কীর্তি আজাদের আরও দাবি, ভাইরাল হওয়া অডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। ফলে অডিওটির সত্যতা যাচাই না করে কেবল কণ্ঠস্বরের মিলের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয় বলেই তাঁর বক্তব্য।অডিওটি আসল নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি, তা নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না। তবে ভাইরাল অডিওকে ঘিরে বিরোধী ও শাসক দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ফের বাড়ল।

আগস্ট ২০, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের ঐতিহ্যে দেশপ্রেমের আবহ, দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের আবহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকারই হোক স্বাধীনতা দিবসের মূল বার্তাএমনই আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, বিবিধের মাঝে মিলন মহানএই আদর্শকে সামনে রেখে দেশভাগ ও পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর উদয়পল্লীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের বাণী, দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পাঠের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডলের পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় অঙ্কন, প্রবন্ধরচনা, কুইজ, নৃত্য ও সঙ্গীত-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। শিক্ষিকা সুনীতা সাহার ব্যবস্থাপনা এবং দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় প্রতিযোগিতাগুলিতে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা। কুইজে প্রথম স্থানাধিকারী দলের সদস্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ভট্টাচার্য জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকায় বিদ্যালয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।এদিন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা স্পন্দন-এর বিশেষ রঙিন সংখ্যা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সায়ন্তিকা কর্মকারের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও সহকারীরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। সবুজ ভলেন্টিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ইকো ক্লাবের উদ্যোগে জাম গাছ রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।শেষপর্বে শিক্ষাকর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের দায়িত্বে এবং তরুণ দাসের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে লুচি, মিষ্টি-সহ নানা খাবার বিতরণ করা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানের মাটিতে জন্ম বীর বিপ্লবীর, রাসবিহারী বসুর কর্মকাণ্ডে কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ শাসন

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাসবিহারী বসু এক অনন্য নাম। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সংগঠক এই বিপ্লবীর জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-২ ব্লকের সুবলদহ গ্রামে। ১৮৮৬ সালের ২৫ মে বিনোদবিহারী বসু ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম তাঁর।সুবলদহেই কেটেছে রাসবিহারী বসুর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়। গ্রামের পাঠশালায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার শুরু। ঠাকুরদা কালীচরণ বসুর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনার পাশাপাশি লাঠিখেলা, সাঁতার ও নৌকা চালনার মতো শারীরিক কসরতেও দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে দানা বাঁধে দেশপ্রেম ও ব্রিটিশবিরোধী চেতনা। পরবর্তী সময়ে চন্দননগরে পড়াশোনা করার সময় বিপ্লবী চিন্তাধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয়।কর্মজীবনে দেরাদুনের ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্কের কাজ করলেও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা। বাংলার পাশাপাশি উত্তর ভারত ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি। ১৯১২ সালে দিল্লিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের উপর বোমা হামলার ষড়যন্ত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এরপর ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি জাপানে পালিয়ে যান।জাপানে গিয়েও থেমে থাকেননি রাসবিহারী। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগঠিত করতে তিনি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগ গড়ে তোলেন। ১৯৪২ সালে ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে সেই সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি টোকিওতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সুবলদহের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবীর দেশমুক্তির স্বপ্ন ও সংগ্রাম আজও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
শিক্ষা

সাহিত্য, বিজ্ঞানচিন্তা ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা ‘INSPIRE 2026’

সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে বর্ধমান শহরে সূচনা হল বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক প্রদর্শনী INSPIRE - 2026। নতুনকে জানার কৌতূহল, অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্নসব মিলিয়ে প্রথম দিনেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠল এক টুকরো জীবন্ত বিজ্ঞানভুবন।বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে এবং Oriental Association for Education and Research (OAER)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ১৪ আগস্ট ২০২৬ ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ ই আগস্ট পর্যন্ত।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও OAER এবং বর্ধমান মডেল স্কুলের পরিচালক ও আধিকারিকবৃন্দ। তবে অনুষ্ঠানের প্রকৃত প্রাণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের খুদে ও তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কল্পনা, অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ছড়িয়ে ছিল প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রান্তে। কোথাও বিজ্ঞানের জটিল সূত্র পেয়েছে সহজবোধ্য মডেলের রূপ, কোথাও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলেমিশে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ছবি। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাট্যচর্চার নানা আয়োজন প্রদর্শনীকে দিয়েছে আরও বহুমাত্রিক রূপ।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র INSPIRE - 2026 -এর উদ্দেশ্য এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তিনদিনের এই প্রদর্শনীর নামকরণই যেন তার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করেINSPIRE - 2026। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যায়, আগামী প্রজন্মের প্রতিভা কতটা বিস্ময়কর। শিক্ষকদের সহযোগিতা থাকলেও ভাবনার মূল উৎস যে শিক্ষার্থীরাই, তাঁদের তৈরি মডেল, তাঁদের ব্যাখ্যা এবং দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তার প্রমাণ।শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তাঁর উপলব্ধিআজকের প্রজন্মের কাছ থেকে শেখার মতো এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাঁর কথায়, একসময় ছিল আমাদের প্রজন্ম, তারপর এল কম্পিউটারের যুগ, আর এখন আমরা প্রবেশ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নতুন প্রজন্মকে শেখানো নয়, তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে এই নতুন প্রজন্মই।সাংবাদিকদের রিয়েল জেন জি প্রসঙ্গেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যৎতারা সতেজ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময়। বাংলা তথা ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যেই। তাই তাদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করাই প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের কথা শোনা এবং তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, কী চায়তা জানা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তাঁর পরবর্তী উদ্যোগআড্ডা উইথ জেন জি।মন্ত্রী বর্ধমান মডেল স্কুলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং INSPIRE - 2026 -এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল-এর বক্তব্যেও উঠে আসে সময়ের সঙ্গে পথ চলার অপরিহার্যতার কথা। তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি, সময়ের সঙ্গে তাল না মেলাতে পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের আধুনিকতম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ধমান মডেল স্কুল কখনও পিছিয়ে থাকেনি, ভবিষ্যতেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমী সকলকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার উন্মেষ প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান তিনি।OAER-এর অন্যতম সদস্য সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী সিং ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট আয়োজিত INSPIRE-এ অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া এই আয়োজন কখনও সার্থক হয়ে উঠত না।তবে INSPIRE 2026 কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং এটি যেন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার এক বর্ণময় ক্যানভাস। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাট্য ও আবৃত্তির আয়োজনও রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।নাট্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য জানান, এবারের পরিবেশনায় থাকছে প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক নরক গুলজার। ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বাস্তবতার অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সেই নাটক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসও INSPIRE - 2026 -এর সাংস্কৃতিক পরিসরকে করেছে আরও অর্থবহ।বর্ধমান মডেল স্কুলের নৃত্য বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা প্রখ্যাত ওডিশি নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জানান, এবারের তাঁদের থিম The Rhythm of Togetherness এটি Dance ও Sociology বিভাগের এক অনন্য যৌথ উপস্থাপনা, যেখানে নৃত্য ও সমাজবিজ্ঞানের নিজস্ব ভাবনাগুলি সুন্দরভাবে একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতি, খাদ্য, পোশাক ,সংস্কৃতি ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন হলেও আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়আমরা ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব।বিভিন্ন মডেল ও চার্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।নৃত্যের ছন্দ এবং সমাজবিজ্ঞানের ভাবনাদুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে The Rhythm of Togetherness আমাদের মনে করিয়ে দেয় বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়, ঐক্য আমাদের শক্তি।সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই Inspiring Thoughts, Creating Futureএই মূলমন্ত্র যেন বাস্তব রূপ পেল INSPIRE - 2026-এর প্রাঙ্গণে। এখানে বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়, প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আর সৃজনশীলতা কেবল কল্পনার জগতে বন্দি নয়। বরং তিনটির সম্মিলিত শক্তিতে শিক্ষার্থীরা আঁকছে আগামী দিনের ছবি।নতুন ভাবনার অঙ্কুর, উদ্ভাবনের সাহস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্নকে সামনে রেখে বর্ধমান মডেল স্কুলের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বার্ষিক প্রদর্শনী নয়এ যেন আগামী দিনের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের এক উজ্জ্বল মঞ্চ।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিদেশি প্রতিযোগীদের টেক্কা দিয়ে সাফল্য, আন্তর্জাতিক ক্যারাটে মঞ্চে গুসকরার জয়জয়কার

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ফের উজ্জ্বল হল পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার নাম। কলকাতার নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দশম আন্তর্জাতিক ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত সাফল্য পেল গুসকরার একটি ক্যারাটে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিযোগীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিদেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করে একসঙ্গে ৩১টি পদক জয় করেছেন এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ১৬ জন প্রতিযোগী।গত ৩১ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় গুসকরার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিযোগীরা মোট ৩১টি ইভেন্টে অংশ নেন। তাঁদের ঝুলিতে এসেছে ৫টি স্বর্ণ, ৮টি রৌপ্য এবং ১৮টি ব্রোঞ্জ পদক। এই সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে গুসকরা জুড়ে।স্বর্ণপদক জয়ীদের মধ্যে রয়েছেন শ্রেয়াঙ্ক মুর্মু, অন্যরা সাউ, সৌরদীপ অধিকারী এবং অরণ্যা দত্ত। তাঁদের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাকি প্রতিযোগীরাও বিভিন্ন ইভেন্টে সাফল্য অর্জন করে গুসকরার ক্রীড়াক্ষেত্রকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিযোগীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা-সহ সাতটিরও বেশি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। ফলে এমন একটি প্রতিযোগিতার মঞ্চে গুসকরার খেলোয়াড়দের এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন জেলার ক্রীড়ামহলের সঙ্গে যুক্তরা।প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্ণধার তথা প্রধান প্রশিক্ষক সেনসাই পার্থ সারথী পাল বলেন, গুসকরা থেকে এই প্রথম এত সংখ্যক প্রতিযোগী আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করল। তাঁর মতে, ক্যারাটেকে শুধুমাত্র পদক জয়ের খেলা হিসেবে দেখলে চলবে না। শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো, আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো, শৃঙ্খলাবোধ তৈরি, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলাই এই খেলার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।অভিভাবকরা যদি সেই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সন্তানদের ক্যারাটে প্রশিক্ষণে উৎসাহিত করেন, তাহলে আগামী দিনে আরও বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে বলেও আশাবাদী তিনি।এলাকার ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, গুসকরার এই সাফল্য কোনও একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাফল্য নয়। এটি গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলার গর্ব। আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুসকরার খেলোয়াড়দের এই নজরকাড়া পারফরম্যান্স আগামী দিনে জেলার ক্যারাটে চর্চাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন তাঁরা। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দেরও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের মেলে ধরার ক্ষেত্রে এই সাফল্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
রাজ্য

পারিশ্রমিক অনিশ্চয়তায় পূর্ব বর্ধমান জেলার ৪৫৪ জন বাংলা সহায়তা কেন্দ্র কর্মী, চরম উদ্বেগে বিএসকে কর্মীরা

রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক নির্দেশিকার জেরে সারা রাজ্যের সাথে সাথে পূর্ব বর্ধমান জেলার ২৩৯টি বাংলা সহায়তা কেন্দ্র (BSK)-এ কর্মরত মোট ৪৫৪ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর (DEO)-এর জুন ও জুলাই, ২০২৬ মাসের পারিশ্রমিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। টানা দুই মাস বেতন না পাওয়ার আশঙ্কায় কর্মীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারও চরম উদ্বেগ ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।গত ৩১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Personnel Administrative Reforms (PAR) Department-এর জারি করা এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে এবং বিভাগীয় বরাদ্দ ও অনুমোদন (Allotment-cum-Sanction) না আসা পর্যন্ত জুন ও জুলাই মাসের পারিশ্রমিকের বিল প্রসেসিং বা অর্থপ্রদানের জন্য উপস্থাপন করা যাবে না। ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক এবং সংশ্লিষ্ট ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারদের (DDO) কাছে পাঠানো হয়েছে।পূর্ব বর্ধমান জেলার গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক প্রশাসন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গ্রন্থাগার, মহকুমাশাসকের দপ্তর এবং জেলাশাসকের কার্যালয়-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে মোট ২৩৯টি বাংলা সহায়তা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলিতে কর্মরত ৪৫৪ জন বাংলা সহায়ক প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে সরকারি পরিষেবা পেতে সহায়তা করেন। অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, বার্ধক্য ভাতা, জাতিগত ও আয় শংসাপত্র, জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত আবেদন, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনলাইন আবেদন থেকে শুরু করে কর প্রদাননাগরিক পরিষেবার এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁদের কাঁধেই বর্তায়।কিন্তু সেই কর্মীরাই আজ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করলেও টানা দুই মাসের পারিশ্রমিক আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় বহু পরিবারের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনার খরচ, চিকিৎসা, ঋণের কিস্তি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারসব মিলিয়ে সংসারের ব্যয়ভার সামলানো অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক কর্মী জানিয়েছেন, মাসের শেষে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভর করেই তাঁদের পরিবার চলে। সেই আয় অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় মানসিক চাপের পাশাপাশি আর্থিক সংকটও ক্রমশ বাড়ছে।কর্মীদের বক্তব্য, তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিদিন সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন। অথচ প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তাঁদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় তাঁরা নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করছেন। তাঁদের আশা, বিষয়টির মানবিক দিক বিবেচনা করে রাজ্য সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে, যাতে বিলম্ব না করে বকেয়া পারিশ্রমিক প্রদান করা যায় এবং কর্মীদের পরিবার এই অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পায়।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সরকারি নির্দেশিকায় কোথাও পারিশ্রমিক বাতিলের কথা বলা হয়নি। বরং স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত জুন ও জুলাই মাসের পারিশ্রমিকের বিল প্রসেসিং সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। ফলে কর্মীরা তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পাবেন কি না, সেই প্রশ্ন নয়; বরং কবে সেই অর্থ হাতে পৌঁছাবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় এখন দিন গুনছেন শত শত বাংলা সহায়ক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

আগস্ট ০৬, ২০২৬
ভ্রমণ

একদিনেই ঘুরে নিন বর্ধমান, সীতাভোগ-মিহিদানার শহরের কোনায় কোনায় ইতিহাসের হাতছানি, মুঘল আমল থেকে রাজকাহিনী, মন্দির

রাজ্যের অন্যতম বর্ধিষ্ণু জেলা বর্ধমান। বর্ধমান প্রকৃতই ক্রম-বর্ধমান। একদিনের ভ্রমণে বর্ধমান শহরকে বেছে নিলে জানতে পারবেন অনেক অজানা ইতিহাস। বঙ্গের অন্য়তম প্রাচীন জনপদ বর্ধমান। দূরে ভ্রমণের আগে একবার বর্ধমান শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরলে আপনি সমৃদ্ধ হবেনই। এমনকী আপনার ভ্রমণ কাহিনীতে জুড়ে যাবে বিরাট রসদের ভান্ডার। তাই আর দেরি না করে বর্ধমান শহরে ইতিহাসকে জেনে নিন এক ঝলকে। রাজ্যের যে কোনও স্থান থেকে বর্ধমান শহরের যোগাযোগও খুব সহজ।বর্ধমানের নাম নিয়ে নানা মতবাদ আছে। বর্ধমান শব্দটি সংস্কৃত বর্ধ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো বৃদ্ধি পাওয়া, উন্নতি হওয়া বা সমৃদ্ধি লাভ করা। প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল কৃষি, বাণিজ্য ও জনবসতির দিক থেকে সমৃদ্ধ ছিল। তাই এলাকাটির নাম বর্ধমান হয়েছে বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। জৈন ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসারে, ২৪তম তীর্থঙ্কর ভগবান মহাবীরের অপর নাম ছিল বর্ধমান। বলা হয়, তাঁর জন্মের পর রাজ্য ও পরিবারের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছিল, তাই তাঁর নাম রাখা হয় বর্ধমান। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান অঞ্চলে মহাবীরের আগমন ও ধর্মপ্রচারের স্মৃতি নিয়ে বিভিন্ন জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। এই কারণে অনেকের মতে জেলার নাম বর্ধমান মহাবীর বর্ধমানের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, জেলার নামের মূল উৎস হলো এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমৃদ্ধির ধারণা, যদিও জৈন ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রভাবও স্থানীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। শহরের মধ্যস্থলে রাজবাড়ি যাওয়ার পথেই দেখা মিলবে বিখ্যাত কার্জন গেটের যা এখন বিজয় তোরণ নামেই পরিচিত। বর্ধমান রাজবাড়ি এখন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস।সর্বমঙ্গলা মন্দিরবর্ধমানের অধিষ্ঠার্থী দেবি মা সর্বমঙ্গলা। বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় শক্তিপীঠসদৃশ তীর্থস্থান। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী সর্বমঙ্গলা অত্যন্ত জাগ্রত, অর্থাৎ তিনি ভক্তদের প্রার্থনা শোনেন এবং তাঁদের মনোবাসনা পূরণ করেন। বহু মানুষ তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মানত পূরণ এবং অলৌকিক ঘটনার কাহিনি এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। ইতিহাসবিদদের মতে, সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মাহাত্ম্য মূলত বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা, দেবীর অলৌকিক কাহিনি এবং দীর্ঘকালীন লোকবিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। কথিত আছে, এক জেলের জালে দেবীর মূর্তি উঠে আসে। পরে বর্ধমানের রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই দেবী সর্বমঙ্গলার পূজা শুরু হয় এবং মন্দিরটি বিশেষ খ্যাতি লাভ করে।গড়গড়াঘাটের গুরুদোয়ারাপ্রচলিত ঐতিহাসিক ও শিখ ধর্মীয় সূত্র অনুযায়ী, **গুরু নানক দেব জি প্রায় ১৫০৫-১৫০৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর পূর্ব ভারত ভ্রমণের সময় বর্ধমানে এসেছিলেন। তিনি এখানে কিছুদিন অবস্থান করেন এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে মানবতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও এক ঈশ্বরের বাণী প্রচার করেন। এই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই পরে বর্ধমানে সর্বমঙ্গলা পাড়ার পাশেই গড়গড়া ঘাটে গুরুদোয়ারা বড়া সঙ্গত প্রতিষ্ঠিত হয়। শিখ সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। বলা হয়, গুরু নানক এখানে ধর্মীয় আলোচনা ও কীর্তন করেছিলেন এবং তাঁর পদধূলিতে স্থানটি পবিত্র বলে বিবেচিত হয়।কমলাকান্তের কালীবাড়িবর্ধমান শহরের কোটালহাটে অবস্থিত কমলাকান্তের কালীবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রসিদ্ধ কালীমন্দির। এই মন্দিরটি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য এর সাধনাক্ষেত্র হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য (প্রায় ১৭৬৯১৮২১) ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাক্ত কবি, শ্যামাসংগীত রচয়িতা ও তন্ত্রসাধক। তাঁর জন্ম পূর্ব বর্ধমানের অম্বিকা কালনায়। তিনি ছোটবেলা থেকেই মা কালীর উপাসনায় আকৃষ্ট হন এবং পরে তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন বলে ভক্তদের মধ্যে বিশ্বাস প্রচলিত। বর্ধমানের মহারাজা তেজচন্দ্র তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি ও পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে রাজগুরু ও সভাসদ হিসেবে সম্মানিত করেন। মহারাজা তেজচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বর্ধমানের কোটালহাটে মা কালীর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে সাধক কমলাকান্ত পঞ্চমুণ্ডির আসনে সাধনা করতেন। বর্তমানে এই মন্দিরই কমলাকান্তের কালীবাড়ি নামে বিখ্যাত। কথিত আছে, মহারাজা তেজচন্দ্র একবার তাঁর অলৌকিক শক্তি পরীক্ষা করতে চাইলে কমলাকান্ত অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন। বর্ধমানের মানুষের মুখে মুখে একথা প্রচলিত। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব প্রায়ই কমলাকান্তের শ্যামাসংগীত গাইতেন এবং তাঁর ভক্তিভাবের অত্যন্ত প্রশংসা করতেন। ফলে কমলাকান্তের গান ও সাধনা সমগ্র বাংলায় আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।শের আফগানের সমাধিবর্ধমান শহরের শের আফগানের সমাধি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুঘল যুগের ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। এটি বিখ্যাত মূলত শের আফগান ও মেহেরুন্নিসা (পরবর্তীকালে সম্রাজ্ঞী নূরজাহান)-এর ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে। শের আফগানের প্রকৃত নাম ছিল আলি কুলি ইস্তাজলু। তিনি ছিলেন একজন পারস্য বংশোদ্ভূত মুঘল সেনাপতি। সম্রাট আকবর তাঁর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে শের আফগান(বাঘ-বধকারী) উপাধি দেন। শের আফগানের স্ত্রী ছিলেন মেহেরুন্নিসা, যিনি পরে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী এবং বিখ্যাত সম্রাজ্ঞী নূরজাহান নামে পরিচিত হন। এই কারণে শের আফগানের জীবন ও মৃত্যু ভারতীয় ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমানের ফৌজদার কুতুবউদ্দিন খান কোকা সম্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে শের আফগানের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সংঘর্ষের সময় শের আফগান কুতুবউদ্দিনকে হত্যা করেন, কিন্তু তিনিও গুরুতর আহত হয়ে নিহত হন। পরে তাঁকে বর্ধমানে সমাহিত করা হয়। দুজনকে পাশাপাশি সমাধিস্ত করা হয়। ইতিহাস বলছে, মেহেরুন্নিসাকে নিয়ে যেতেই কুতুবুদ্দিনকে পাঠিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। শের আফগানের মৃত্যুর পর মেহেরুন্নিসাকে মুঘল দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক বছর পরে তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরকে বিবাহ করেন এবং নূরজাহান নামে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নারী হয়ে ওঠেন। তাই বর্ধমানের এই সমাধি শুধু একটি কবরস্থান নয়, বরং মুঘল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক।শুলি পুকুরবর্ধমান শহরের শুলি পুকুর একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বর্ধমান রাজাদের আমলে গুরুতর অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এই এলাকার কাছে শুলি (ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ডের এক প্রকার ব্যবস্থা) কার্যকর করা হতো। সেই কারণেই পুকুরটির নাম হয় শুলি পুকুর। বর্ধমান রাজবাড়ির গেটের উল্টোদিকের রাস্তার বাদিকেই এই শুলি পুকুরের অবস্থান। বর্ধমান রাজবংশের শাসনামলের সঙ্গে এই স্থানের নাম জড়িত।সীতাভোগ ও মিহিদানাবর্ধমানে ভ্রমণ করবেন আর মিষ্টি খাওয়া হবে না তা হয় নাকি! বর্ধমানে নানা স্বাদের মিষ্টি পাওয়া যায়। কিন্তু মূল আকর্ষণ সীতাভোগ ও মিহিদানায়। সীতাভোগ ও মিহিদানা বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্ববিখ্যাত মিষ্টি। এই দুই মিষ্টি বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হয় এবং আজও বর্ধমানের পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। মিহিদানা কী? মিহিদানা দেখতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বোঁদের মতো। বেসনের পরিবর্তে বিশেষ ধরনের চালের গুঁড়ো ও অন্যান্য উপাদান দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম দানার আকারে এটি তৈরি করা হয়। এর দানাগুলি খুবই ছোট ও নরম হওয়ায় এর নাম হয়েছে মিহি (সূক্ষ্ম) + দানা। সীতাভোগ কী? সীতাভোগ দেখতে অনেকটা সাদা ভাতের মতো। চালের গুঁড়ো, ছানা ও চিনি দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ছোট ছোট মিষ্টি দানাও মেশানো থাকে। দেখতে ভাতের মতো হলেও এটি একটি সুস্বাদু মিষ্টান্ন। জনশ্রুতি রয়েছে, ১৯০৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর-জেনারেল লর্ড কার্জন বর্ধমান সফরে এলে রাজা বিজয়চাঁদ মহতাবের উদ্যোগে ময়রা ভৈরবচন্দ্র নাগ এই দুই মিষ্টি পরিবেশন করেন। লর্ড কার্জন এর স্বাদে মুগ্ধ হন। এরপর থেকেই সীতাভোগ ও মিহিদানা সারা দেশে খ্যাতি লাভ করে।বর্ধমানের ১০৮ শিবমন্দিরবর্ধমান শহরের নবাবহাটে অবস্থিত ১০৮ শিবমন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিখ্যাত শৈব তীর্থস্থান। এটি শুধু ধর্মীয় গুরুত্বের জন্য নয়, এর অনন্য স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও প্রসিদ্ধ। ১৮শ শতাব্দীর শেষ দিকে বর্ধমান রাজবংশের মহারাণী বিষ্ণুকুমারী দেবী (কিছু সূত্রে মহারাজ তেজচন্দ্রের মাতৃকা) এই ১০৮টি শিবমন্দির নির্মাণ করান। মন্দিরগুলি প্রায় ১৭৮৮-১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়। হিন্দুধর্মে ১০৮ সংখ্যাটি অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য হয়। জপমালায় ১০৮টি দানা থাকে এবং শিবের ১০৮টি নামও প্রচলিত। সেই কারণেই এখানে ১০৮টি পৃথক শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্ধমান শহর লাগোয়া নবাবহাটে আয়তাকারে ১০৮টি শিব মন্দির আছে। এই মন্দিরগুলির বাইরে আরেকটি শিব মন্দির আছে। অন্যদিকে কালনায় আরেকটি ১০৮ শিব মন্দির আছে। এখানে বিশেষত্ব হল মন্দিরগুলি দুটি বৃত্তাকার সারিতে নির্মিত। বাইরের বৃত্তে ৭৪টি এবং ভিতরের বৃত্তে ৩৪টি মন্দির রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে একটি করে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত। কালো ও সাদা রঙের শিবলিঙ্গ পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। শ্রাবণ মাসে হাজার ভক্ত এই দুই ১০৮ শিব মন্দিরে পুজো দেন। একই জেলায় দুটি জায়গায় একই স্থানে ১০৮টা শিব মন্দির বিরল।বীরহাটা বড়মা কালীবর্ধমান শহরের অন্যতম প্রাচীন ও শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় স্থান হল বীরহাটা বড়মা কালীমন্দির। এই মন্দিরটি বর্ধমান রাজপরিবারের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। জনশ্রুতি অনুসারে, বর্ধমানের মহারাজারা তাঁদের কুলদেবী হিসেবে মা কালীর আরাধনা করতেন এবং সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বীরহাটা অঞ্চলে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবীকে অনেকে জাগ্রত মা কালী বলে মনে করেন। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে মা কালী মনোবাসনা পূরণ করেন। তাই সারা বছরই এখানে ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে, বিশেষ করে কালীপূজা, দীপাবলি ও অমাবস্যা তিথিতে। বীরহাটা একসময় বর্ধমান রাজবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিল। ফলে মন্দিরটি শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বর্ধমানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু বছর ধরে এখানে নিয়মিত পূজা, হোম-যজ্ঞ ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।কঙ্কালেশ্বরীশহরের কাঞ্চননগরে অবস্থিত কঙ্কালেশ্বরী কালীমন্দির জেলার অন্যতম প্রাচীন ও রহস্যময় তীর্থস্থান। ধারণা করা হয়, মন্দিরটির ইতিহাস কয়েকশো বছরের পুরোনো। কাঞ্চননগর একসময় গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ছিল এবং এখানেই দেবী কঙ্কালেশ্বরীর পূজা প্রতিষ্ঠিত হয়। দেবীর মূর্তি সাধারণ কালীমূর্তির মতো নয়; তাঁর রূপে কঙ্কালসদৃশ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যা তন্ত্রসাধনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।সোনার কালীবাড়িবর্ধমান শহরের মিঠাপুকুর এলাকায় অবস্থিত সোনার কালীবাড়ি (ভুবনেশ্বরী মন্দির) বর্ধমান রাজপরিবারের ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৮৯৯ সালে বর্ধমানের রাজা মহতাব চাঁদ এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন বলে প্রচলিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রী রানি নারায়ণী দেবী স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর ভুবনেশ্বরী মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথমে এখানে সোনার তৈরি দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেই কারণেই মন্দিরটি সোনার কালীবাড়ি নামে পরিচিত হয়। ১৯৭০-এর দশকে সোনার মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়। পরে সেখানে অষ্টধাতুর ভুবনেশ্বরী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়, কিন্তু সোনার কালীবাড়ি নামটি আজও রয়ে গেছে। এখানে দেবীর জিভ বাইরে বেরিয়ে নেই। দেবীর পদতলে শিব নেই, যা সাধারণ কালীমূর্তির থেকে আলাদা। প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পূজা হয়।বর্ধমান ও জৈন ধর্মের ঐতিহাসিক সম্পর্কবর্ধমান শহরের নামকরণ নিয়ে একটি সুপ্রচলিত মত হলো, এটি ২৪তম জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর বর্ধমানের নামানুসারে হয়েছে। জৈন ঐতিহ্য অনুযায়ী, তিনি এই অঞ্চলে কিছু সময় অবস্থান করেছিলেন। তাই প্রাচীনকাল থেকেই বর্ধমানে জৈন সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ছিল। সোনার কালীবাড়িতে জৈনদের ডান্ডিয়া করার কারণ ধর্মীয় নয় বরং বর্ধমানের গুজরাটি-জৈন সমাজের নবরাত্রি উদ্যাপনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় সম্প্রীতির প্রকাশ। এমনকী বর্ধমান রাজ পরিবারের কুলদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরেও ডান্ডিয়া উৎসবের প্রচলন আছে। নানা ধর্মীয় উৎসবে এই মন্দিরে হাজির হন রাজ পরিবারের সদস্যরা।বর্ধমান ভ্রমণে এলে গোলাপবাগ চত্বরে যেতে ভুলবেন না। সেখানে কৃষ্ণসায়র পার্ক, সায়েন্স সেন্টার, রমনাবাগান মিনি জু, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম ক্যাম্পাস, তারা মন্ডল নানা কিছু রয়েছে পর্যটকদের জন্য। এমন গাছগাছালির প্রাকৃতিক পরিবেশে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। তাহলে আর দেরি কেন? বর্ধমান শহরের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ুন।

আগস্ট ০১, ২০২৬
রাজ্য

চলন্ত ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে ধোঁয়া-আগুন, বর্ধমানে ২০ মিনিট থমকাল ট্রেন; অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়াল রেল

ইঞ্জিনের পরের কামরার নীচে ব্রেক বাইন্ডিং থেকে আগুন, খানা-তালিতের মাঝে দাঁড় করিয়ে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনলেন রেলকর্মীরা; নিরাপদে রওনা দিল হাওড়ার উদ্দেশেধানবাদ থেকে হাওড়াগামী ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে চলন্ত অবস্থায় আচমকাই ধোঁয়া ও আগুন দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল যাত্রীদের মধ্যে। পূর্ব বর্ধমানের খানা জংশন ও তালিত স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটে এই ঘটনা। দ্রুত ট্রেন থামিয়ে রেলকর্মীদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ থাকার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ট্রেনটি আবার হাওড়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। এই ঘটনায় কোনও যাত্রী আহত হননি বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।রেল সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ থেকে নির্ধারিত সময়েই ২২৩৮৭ ডাউন ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস হাওড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের একাংশের দাবি, পানাগড় পার হওয়ার পর থেকেই ট্রেনে যান্ত্রিক সমস্যার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। তবে পরিস্থিতি যে এতটা গুরুতর হতে পারে, তা কেউ বুঝতে পারেননি।ট্রেনটি পূর্ব বর্ধমানের দিকে এগোতে থাকলে ইঞ্জিনের ঠিক পরের কামরার নীচ থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়ার সঙ্গে আগুনের শিখাও দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসতেই ট্রেনের কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং রাত প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ খানা জংশন ও তালিত স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় ট্রেনটি জরুরি ভিত্তিতে থামিয়ে দেওয়া হয়।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রেলের প্রযুক্তিগত কর্মী ও আধিকারিকরা। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কামরার ব্রেক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য যান্ত্রিক অংশ খতিয়ে দেখা হয়। সমস্ত দিক পরীক্ষা করে ট্রেনটিকে নিরাপদ ঘোষণা করার পর রাত প্রায় ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ পুনরায় হাওড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস।পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, ইঞ্জিনের পরের কামরায় ব্রেক বাইন্ডিং-এর কারণে অতিরিক্ত ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘর্ষণ থেকেই ধোঁয়া ও আগুনের সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, রেলকর্মীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।ঘটনার সময় ওই কামরায় বহু যাত্রী উপস্থিত ছিলেন। ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত নেমে নিরাপদ দূরত্বে চলে যান। মুহূর্তের মধ্যে অন্যান্য কামরাতেও খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই উদ্বেগে বাইরে নেমে আসেন। যদিও রেলকর্মীদের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়।ধানবাদ থেকে ট্রেনে ওঠা এক যাত্রী জানান, আসানসোলের কিছু আগে থেকেই ট্রেনে একটা অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছিল। পরে তালিতের কাছে এসে দেখি কামরার নীচ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে, তারপর আগুনও দেখা যায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।এইদিনের ব্ল্যাক ডাইমন্ডের যাত্রীরা জানান, হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখে আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই। ট্রেন দাঁড়াতেই নেমে পড়ি। পরে রেলকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় স্বস্তি ফিরে আসে।এই ঘটনার জেরে ধানবাদ-হাওড়া রেলপথে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রেলের তৎপরতায় কোনও প্রাণহানি বা বড়সড় দুর্ঘটনা না ঘটায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন যাত্রীদের পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষও। তবে চলন্ত ট্রেনে এমন যান্ত্রিক ত্রুটি সামনে আসায় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

জুলাই ১৬, ২০২৬
রাজ্য

প্লাস্টিকের ভিড়ে কাঠের রথের কদর অটুট, বর্ধমানের গোলাপবাগে কচিকাঁচাদের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কাষ্ঠশিল্পী

রথযাত্রা মানেই ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে বসিয়ে টানার আনন্দে মেতে ওঠা ছোট-বড় সকলের উৎসব। আধুনিক সময়ে প্লাস্টিক, ফাইবার কিংবা বিভিন্ন কৃত্রিম উপকরণে তৈরি রথের ব্যবহার বেড়েছে ঠিকই, তবুও ঐতিহ্যবাহী কাঠের রথের আবেদন আজও অমলিন।রথযাত্রাকে সামনে রেখে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন রথ নির্মাণে যুক্ত শিল্পীরা। ছোটদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নানান আকারের কাঠের রথ তৈরি করতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন তাঁরা। রঙের ছোঁয়া, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জায় ব্যস্ত শিল্পীদের কর্মশালাগুলি যেন উৎসবের আগাম বার্তা বহন করছে।ঠিক তেমনই এক ছবি ধরা পড়ল পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরের গোলাপবাগ চত্বরে। একটি আবাসনের কচিকাঁচাদের জন্য ঐতিহ্যবাহী কাঠের রথ নির্মাণে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত এক কাষ্ঠশিল্পী। নিষ্ঠার সঙ্গে রথের প্রতিটি অংশে শেষবারের মতো হাতের ছোঁয়া দিচ্ছেন তিনি, যাতে রথযাত্রার দিন খুদেদের আনন্দে কোনও খামতি না থাকে।স্থানীয়দের মতে, প্রযুক্তি ও আধুনিকতার যুগেও কাঠের রথের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কমেনি। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার সংস্কৃতি ও আবেগকে বাঁচিয়ে রাখতেই অনেক আবাসন ও পরিবার এখনও কাঠের রথ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।রথযাত্রার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তাই গোলাপবাগের এই কাষ্ঠশিল্পীর কর্মব্যস্ততা যেন বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্য, শিল্পকলা এবং উৎসবের আবহকেই নতুন করে তুলে ধরছে।

জুলাই ১৩, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 42
  • 43
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

মাদ্রাসা নিয়ে বাংলায় বড়সড় ‘অ্যাকশন’! ২৫২টি বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০—সরকারি সমীক্ষায় চাঞ্চল্য

অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের, জেলায় জেলায় নথি যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত।মাদ্রাসা নিয়ে বাংলায় এবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। রাজ্যজুড়ে মাদ্রাসাগুলির উপর চালানো সমীক্ষার পর প্রথম দফায় ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে শোকজ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কলকাতা-সহ রাজ্যের ২২টি জেলায় মাদ্রাসাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই যাচাই-পর্বে শুধু অনুমোদন রয়েছে কি না, তা-ই নয়পরিচালন ব্যবস্থা, পড়ুয়ার সংখ্যা, শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতি, অর্থের উৎস, নথিপত্র, রেজিস্ট্রেশন এবং পরিকাঠামো-সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে।সমীক্ষার রিপোর্ট সামনে আসতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যে বিপুল সংখ্যক মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন বা নির্দিষ্ট স্বীকৃতি ছাড়াই চলছে বলে প্রশাসনের তরফে দাবি। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২,৩৯৬। এর মধ্যেই প্রথম ধাপে ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি বন্ধের নোটিস জারি করেছে সরকার।খারিজি মাদ্রাসাই কি নিশানায়?সরকারি পদক্ষেপের আওতায় আসা ২৫২টি মাদ্রাসার বড় অংশই খারিজি বা বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত মাদ্রাসা বলে খবর। এই প্রতিষ্ঠানগুলির বৈধতা, পরিচালন পদ্ধতি এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েই মূলত প্রশাসনের নজরদারি।তবে সরকারের অবস্থানও স্পষ্টকোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি স্বীকৃতির বাইরে থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চলতে পারে না। যে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই কিংবা ন্যূনতম পরিকাঠামো ও নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ, তাদের বিরুদ্ধে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শুধু বন্ধ নয়, শোকজ-এর পরেও কড়া বার্তাপ্রথম দফায় ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দেওয়া হলেও প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে আপাতত দেওয়া হয়েছে শোকজ নোটিস। অর্থাৎ, তাদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।প্রশাসনের প্রশ্নকোন আইনি অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান চলছে? কতজন পড়ুয়া রয়েছে? শিক্ষক কারা? অর্থ আসছে কোথা থেকে? পর্যাপ্ত ভবন ও শিক্ষার পরিকাঠামো রয়েছে কি না? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।জানা যাচ্ছে, সন্তোষজনক উত্তর বা প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে শোকজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও পরবর্তী ধাপে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে।২২ জেলায় নথি যাচাইতারপরই সিদ্ধান্তমাদ্রাসা নিয়ে এই অভিযান হঠাৎ করে নয়। রাজ্য সরকারের নির্দেশেই জেলায় জেলায় শুরু হয়েছিল সমীক্ষা। কলকাতা-সহ ২২টি জেলার মাদ্রাসাগুলির নথি সংগ্রহ করে যাচাই করা হয়।সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের তরফে দাবি, অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলি নিয়ম মেনেই চলছে। কিন্তু অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে সরকার আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না।মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর বক্তব্য, মাদ্রাসাগুলির যাবতীয় নথি সংগ্রহ করে যাচাই করা হয়েছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলি চালু রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।সরকারের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, প্রশ্ন তুললেন ত্বহা সিদ্দিকীতবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে পাল্টা প্রশ্নও উঠছে। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেনকেন কোনও মাদ্রাসাকে শোকজ করা হচ্ছে, কেনই বা বন্ধ করা হচ্ছে, তা আগে সাধারণ মানুষকে জানানো হোক।তাঁর বক্তব্য, বহু মাদ্রাসা সাধারণ মানুষের অনুদান ও সাহায্যের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। মাদ্রাসায় শুধু ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় না, সরকারি পাঠ্যক্রমও পড়ানো হয় বলে দাবি তাঁর।ফলে সরকারের প্রশাসনিক যুক্তির বিপরীতে উঠে আসছে অন্য প্রশ্নঅনুমোদনের মাপকাঠি কী? কোন প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূত এবং কোনটি নয়? আর বহু বছর ধরে চলা প্রতিষ্ঠানগুলির ভবিষ্যৎই বা কী?রাজনীতির ময়দানেও বাড়ছে উত্তাপমাদ্রাসা ইস্যুতে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, সংখ্যালঘু শিক্ষা এবং সরকারি অনুমোদনের প্রশ্নের সঙ্গে এবার সরাসরি যুক্ত হচ্ছে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বনাম দীর্ঘদিনের সামাজিক উদ্যোগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা।একদিকে সরকারের যুক্তিআইন ও নিয়মের বাইরে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে দেওয়া যায় না। অন্যদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের একাংশের বক্তব্যশুধু সরকারি অনুমোদনের অভাবকে কেন্দ্র করে কোনও প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।ফলে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ এখন শুধু প্রশাসনিক ফাইলের বিষয় নয়; তা ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনীতি ও সংখ্যালঘু শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।উত্তরাখণ্ডের পর বাংলাতেও কড়া পদক্ষেপঅনুমোদনহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের নজির অন্য রাজ্যেও রয়েছে। উত্তরাখণ্ডে ইতিমধ্যেই একাধিক অননুমোদিত মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলার এই পদক্ষেপকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।এখন মূল নজর শোকজ পাওয়া প্রায় ১০০টি মাদ্রাসার জবাবের দিকে। তারা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিকাঠামোর প্রমাণ দিতে পারে কি না, তার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।তবে একটি বিষয় ইতিমধ্যেই স্পষ্টমাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আর নজরদারির বাইরে রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথম দফার এই অ্যাকশন আগামী দিনে আরও বড় প্রশাসনিক অভিযানের ইঙ্গিত কি না, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
বিদেশ

পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলা! ইউক্রেন যুদ্ধ কি এবার ন্যাটোর দরজায়?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার পশ্চিম ইউক্রেনে ঘটনাটি ঘটে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। হামলায় ট্রেনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ২০৬ জন যাত্রীর কেউ আহত হননি বলে দাবি করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, পোল্যান্ডের একটি রেল সংস্থার পরিচালিত ওই ট্রেনটি কিয়েভ থেকে ওয়ারশের দিকে যাচ্ছিল। পথে আচমকাই ট্রেনটির উপর একের পর এক রুশ ড্রোন হামলা হয় বলে অভিযোগ। হামলার জেরে ট্রেনে আগুন ধরে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে।তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পর প্রায় ছঘণ্টা ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটল, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে গোটা ইউরোপেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।পোল্যান্ডের কাছে এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বেশি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ পোল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য দেশ। ন্যাটোর চুক্তি অনুযায়ী, কোনও সদস্য দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য সদস্যদেশগুলির সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে পারে।তবে রবিবারের ঘটনাটিকে সরাসরি পোল্যান্ডের উপর রুশ হামলা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাঁদের একাংশের মতে, পোল্যান্ড সীমান্তের এত কাছে এমন ঘটনা ন্যাটোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। রাশিয়ার উদ্দেশ্য ন্যাটোর প্রস্তুতি ও ঐক্য পরীক্ষা করা কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি ভবিষ্যতে পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালায়, তার প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। কারণ পোল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য। সে ক্ষেত্রে গোটা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেই বড় পরিবর্তন আসতে পারে।তবে রবিবারের হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে এই হামলার অভিযোগ নতুন করে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাইরাশিয়া যদি সত্যিই পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালায়, তখন ন্যাটো কী পদক্ষেপ করবে?

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
দেশ

একের পর এক ভূমিধসে বসে যাচ্ছে আস্ত পাহাড়! সিকিমে হড়পা বানের আতঙ্ক, সরানো হল ৩৮ পরিবার

পশ্চিম সিকিমের গিয়ালশিং জেলার সিঙ্গলিথাম গ্রাম এবং সংলগ্ন রিম্বি এলাকায় একের পর এক ভূমিধসে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রবিবার সকাল থেকে ভূমিধসের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পাহাড়ের ঢাল থেকে কাদা, পাথর ও গাছের ধ্বংসাবশেষ নেমে আসছে। এর জেরে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় সিকিম প্রশাসনের তরফে রিম্বির ৩০টি এবং সিঙ্গলিথামের ৮টি পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাহাড়ের ঢাল নরম হয়ে যাওয়ায় সিঙ্গলিথামের বেশ কয়েকটি বাড়িও ইতিমধ্যে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সিঙ্গলিথামের পাহাড়ের ঢাল থেকে ক্রমাগত কাদা, বড় পাথর এবং গাছ নেমে এসে স্থানীয় ঝোরার গতিপথ আটকে দিচ্ছে। ফলে রিম্বির নিচের দিকে আচমকা হড়পা বান নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। প্রশাসনের নজরদারিতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, রিম্বির ঠিক উপরে সিঙ্গলিথাম গ্রামের কাছে একটি টিলা ধীরে ধীরে বসে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল নরম হয়ে যাওয়ায় মাটি, কাদা এবং পাথর ক্রমাগত নিচের দিকে নেমে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, গত অগস্ট মাস থেকেই ওই এলাকায় ভূমিধস শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধস গ্রামের দিকে এগিয়ে আসছে।ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপে রিম্বি-ইউকসম এবং রিম্বি-খেচুপেরি সড়কের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ইউকসম-তাশিডিং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসনের তরফে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এবং যাত্রীদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিপদের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে শুরু করেছেন।প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। পাহাড়ের ঢাল আরও নরম হলে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে ঝোরা অবরুদ্ধ হলে নিচের এলাকায় হড়পা বান তৈরি হতে পারে কি না, সেই দিকেই এখন নজর স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে বড় চমক মমতার, আসন্ন উপনির্বাচনে ২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা তৃণমূলের

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার দলের তরফে জানানো হয়েছে, নন্দীগ্রামে প্রার্থী হচ্ছেন সঞ্চিতা প্রধান (দে)। পাশাপাশি, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য রাবিউল আলম চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জল্পনার অবসান হল।দলের এই ঘোষণা এমন সময়ে এল, যখন শনিবারই তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির জানিয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তারা ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে না। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তরফে মমতাকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করে বিধানসভায় ফেরার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।১৫ বছর পর বিধানসভার বাইরে মমতা?২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামেও শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি।২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন মমতা। ২০১৬ সালে ফের ভবানীপুর থেকে জয় পান তিনি। ২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর উপনির্বাচনে জিতে আবারও বিধানসভায় জায়গা করে নেন। তৃণমূল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা করায় এবার দীর্ঘ ১৫ বছর পর তাঁকে বিধানসভার বাইরে থাকতে হতে পারে।কেন নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন?২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরদুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম থেকে ইস্তফা দেন। সেই কারণেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। ভোটের গণনা ৯ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর।তৃণমূলে গোষ্ঠীকোন্দল অব্যাহতপ্রার্থী ঘোষণার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবাদ আরও জটিল হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীদুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। উভয় শিবিরই দলের নিয়ন্ত্রণ, নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের স্বীকৃতি দাবি করেছে।১২ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের বক্তব্য শোনে নির্বাচন কমিশন। বিদ্রোহী শিবিরের কাছে আরও কিছু নথি চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমার আগে দলের প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদের নিষ্পত্তি হয়নি।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

স্ত্রীর পুরনো হাসি ভুলতে পারেননি! ৮৮ বছর বয়সে নিজের হাতেই বানিয়ে ফেললেন তাঁর মুখ

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা ৮৮ বছরের ভূপতিরঞ্জন দেবনাথ। দীর্ঘ কর্মজীবনে মধ্যমগ্রাম হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। প্রায় তিন দশক আগে অবসর নিয়েছেন। এখন পেনশনের টাকাতেই চলে তাঁর সংসার। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংসারে একের পর এক কঠিন সময় এসেছে তাঁর জীবনে।ভূপতির স্ত্রী অঞ্জলির বয়স সত্তরের কোঠায়। তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। দুই মেয়েরই মধ্যমগ্রামে বিয়ে হয়েছে। বাড়িতে রয়েছেন পুত্রবধূ এবং নাতিও। তবে করোনা অতিমারির সময় একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছেন ভূপতি ও অঞ্জলি। ছেলের পরিবারকেও এরপর নিজেদের দায়িত্বে আগলে রেখেছেন তাঁরা।এরই মধ্যে গত ছমাস ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী অঞ্জলি। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে, এখন হাতে কলম নিয়ে সই করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব হয় না। একসময় যে স্ত্রী সংসারের নানা কঠিন পরিস্থিতিতেও হাসিমুখে সব সামলে নিতেন, আজ সেই মুখেই অসুস্থতার ছাপ স্পষ্ট।কিন্তু স্ত্রীর সেই পুরনো হাসি এখনও ভুলতে পারেননি ভূপতি। বরং সেই হাসিই তাঁর মনে আজও একই রকম উজ্জ্বল। তাই স্ত্রীর মুখের সেই পুরনো অবয়ব এবং হাসিকে ধরে রাখতে নিজের হাতেই তৈরি করেছেন একটি প্রতিকৃতি।শিক্ষকতার পাশাপাশি হাতের কাজেও যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন ভূপতি। কর্মজীবনে বিভিন্ন সময়ে মাটি, নারকেলের খোল, গাছের ডাল-সহ নানা সাধারণ উপকরণ দিয়ে নানা জিনিস তৈরি করেছেন তিনি। ফেলে দেওয়া জিনিস তাঁর হাতে নতুন রূপ পেয়েছে। সেইসব কাজ এখনও তাঁর বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় যত্ন করে রাখা রয়েছে।এ বার সেই দক্ষতাকেই কাজে লাগিয়েছেন নিজের জীবনসঙ্গীর স্মৃতি ধরে রাখতে। প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে তৈরি করেছেন অঞ্জলির হাসিমুখের একটি প্রতিকৃতি। বাড়ির একটি শোকেসে রাখা রয়েছে সেই মূর্তি। স্ত্রীর পাশে বসে থাকার সময় কখনও অসুস্থ অঞ্জলির দিকে তাকান, কখনও আবার চোখ চলে যায় সেই হাসিমুখের প্রতিকৃতির দিকে।ভূপতির কথায়, তাঁদের দাম্পত্য জীবন প্রায় ৫৯ বছরের। অঞ্জলি বরাবরই হাসিখুশি থাকতে ভালোবাসতেন। সংসারে যত সমস্যাই আসুক, তিনি কখনও তা প্রকাশ করতেন না। হাসিমুখেই কঠিন সময় পার করেছেন। সেই হাসিই ছিল ভূপতির কাছে বড় ভরসা।আজ অঞ্জলি অসুস্থ। বিছানা থেকে ওঠার শক্তিও নেই। মুখের সেই পুরনো হাসিও আর দেখা যায় না। কিন্তু ভূপতির স্মৃতিতে অঞ্জলির হাসি এখনও একই রকম জীবন্ত। সেই হাসিকে অমলিন রাখতেই স্ত্রীর মুখের আদলে তৈরি করেছেন এই প্রতিকৃতি।পুরনো দিন আর ফিরে আসবে না, তা জানেন ৮৮ বছরের ভূপতি। তবু তাঁর একটাই আশা, স্ত্রী আবার শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে উঠে একটু হাঁটাচলা করতে পারবেন, আগের মতো তাঁর পাশে বসতে পারবেন। আর সেই আশার সঙ্গেই ঘরের শোকেসে হাসিমুখে থেকে গিয়েছে অঞ্জলির সেই পুরনো মুখ।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

কেমন হওয়া উচিত গণেশের মূর্তি? কেনার আগে মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি, সঠিক নিয়মে পুজোয় পাবেন হাতে নাতে ফল

ভগবান গণেশকে উৎসর্গ করে পালিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব গণেশ চতুর্থী। বিঘ্নহর্তা, জ্ঞানদাতা এবং শুভ সূচনার দেবতা হিসেবে গণেশের আরাধনা করেন ভক্তরা। ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন থেকেই শুরু হবে দশ দিনব্যাপী গণেশ উৎসব।প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থীর দিন বাড়িতে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস, এই সময় বাপ্পাকে বাড়িতে স্বাগত জানালে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং সুখ-সমৃদ্ধি আসে। তবে মূর্তি কেনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সৌন্দর্য বা সাজসজ্জা দেখলেই হবে না। ধর্মীয় বিশ্বাস ও বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, মূর্তির উচ্চতা, ভঙ্গি, রং, শুঁড়ের দিক এবং বাহনের উপস্থিতিরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করা হয়।কেমন হওয়া উচিত গণেশের মূর্তি?বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত মত অনুযায়ী, বাড়িতে পুজোর জন্য গণেশের মূর্তি খুব বড় হওয়া উচিত নয়। সাধারণত ৯ থেকে ১১ ইঞ্চি উচ্চতার মূর্তিকে গৃহস্থের পুজোর জন্য উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। এর তুলনায় বড় মূর্তি রাখলে পুজো ও বিসর্জনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সমস্যা হতে পারে বলেও মত রয়েছে।মূর্তির ভঙ্গির দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলা হয়। বাড়িতে পুজোর জন্য উপবিষ্ট গণেশের মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই ভঙ্গি শান্তি, স্থায়িত্ব ও সুখের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, চার হাতের গণেশ মূর্তির ক্ষেত্রে উপরের বাম হাতে পাশ, ডান হাতে অঙ্কুশ, নীচের বাম হাতে মোদক এবং নীচের ডান হাত অভয় মুদ্রায় থাকা শুভ বলে মনে করা হয়।গণেশের শুঁড় কোন দিকে থাকবে?গণেশের মূর্তি কেনার সময় শুঁড়ের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাম দিকে বাঁকানো শুঁড়যুক্ত গণেশের মূর্তি বাড়িতে স্থাপনের জন্য শুভ। এই ধরনের গণেশকে বামামুখী গণেশ বলা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রূপ শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক।অন্যদিকে, ডান দিকে বাঁকানো শুঁড়ের গণেশকে সিদ্ধিবিনায়ক বলা হয়। এই রূপকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বলে মনে করা হয় এবং তাঁর পুজোয় বিশেষ নিয়মকানুন মেনে চলার প্রচলন রয়েছে। তাই বাড়ির পুজোর জন্য মূর্তি কেনার সময় শুঁড়ের দিকটি খেয়াল করার পরামর্শ দেওয়া হয়।গণেশের বাহন ইঁদুর থাকা কি জরুরি?ভগবান গণেশের বাহন ইঁদুর। তাই মূর্তি কেনার সময় গণেশের পায়ের কাছে তাঁর বাহন ইঁদুরের মূর্তি রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়ার কথা বলা হয়।প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশের মূর্তির সঙ্গে তাঁর বাহন ইঁদুরের উপস্থিতির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তাই সম্পূর্ণ মূর্তি কেনার সময় এই বিষয়টিও নজরে রাখা হয়।কোন দিকে মুখ করে থাকবে গণেশের মূর্তি?বাড়িতে গণেশের মূর্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে দিকেরও গুরুত্ব রয়েছে বলে বাস্তুশাস্ত্রে প্রচলিত মত রয়েছে। সেই অনুযায়ী, গণেশের মুখ পূর্ব বা উত্তর দিকে রেখে মূর্তি স্থাপন করা শুভ বলে মনে করা হয়। পুজোর সময়ও গণেশের মুখ যেন পূর্ব অথবা উত্তর দিকে থাকে, সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।তবে গণেশের মূর্তির আকার, ভঙ্গি, শুঁড়ের দিক কিংবা মূর্তি স্থাপনের দিক নিয়ে প্রচলিত এই ধারণাগুলি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও বাস্তুশাস্ত্রভিত্তিক মত। ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পারিবারিক রীতি এবং স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী গণেশ পুজোর নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

১৪ নাকি ১৫ সেপ্টম্বর, কবে পালিত হবে গণেশ চতুর্থী? জানুন ঠিক কোন সময়ে পুজোয় মিলবে দ্বিগুণ আর্শীবাদ?

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব গণেশ চতুর্থী। গণেশোৎসব নামেও পরিচিত এই উৎসব ভগবান গণেশের জন্মতিথি হিসেবে পালিত হয়। জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবতা গণেশের আরাধনা করে ভক্তরা সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতেই ভগবান গণেশের জন্ম হয়েছিল। সাধারণত ১০ দিন ধরে চলে এই উৎসব। অনন্ত চতুর্দশীর দিন গণেশ বিসর্জনের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি হয়।গণেশ চতুর্থী ২০২৬ কবে?দ্রিক পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর। গণেশ বিসর্জন হবে শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর। উৎসবের শুরুতে বাড়ি ও বিভিন্ন মণ্ডপে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর প্রাণপ্রতিষ্ঠা, পুজো, প্রার্থনা ও আরতির মাধ্যমে চলে বাপ্পার আরাধনা। ফুল, ধূপ, প্রদীপ, ফল, মিষ্টি এবং বিশেষ করে মোদক নিবেদন করা হয় গণেশকে।গণেশ চতুর্থী ২০২৬-এর পুজোর শুভ মুহূর্তগণেশ পুজোর ক্ষেত্রে মধ্যাহ্নকালকে বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়েই ভগবান গণেশের জন্ম হয়েছিল।১৪ সেপ্টেম্বর গণেশ পুজোর শুভ সময়:সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত।গণেশ চতুর্থীর তিথি শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে।শহরভেদে গণেশ পুজোর শুভ সময়বিভিন্ন শহরে স্থানীয় সময় অনুযায়ী গণেশ পুজোর শুভক্ষণে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।পুনে: সকাল ১১টা ১৬ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৪ মিনিটনয়াদিল্লি: সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিটচেন্নাই: সকাল ১০টা ৫১ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ১৮ মিনিটজয়পুর: সকাল ১১টা ৮ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটহায়দরাবাদ: সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটগুরগাঁও: সকাল ১১টা ৩ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিটচণ্ডীগড়: সকাল ১১টা ৪ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটকলকাতা: সকাল ১০টা ১৮ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটমুম্বই: সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটবেঙ্গালুরু: সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ২৮ মিনিটআহমেদাবাদ: সকাল ১১টা ২১ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৯ মিনিটনয়ডা: সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটকীভাবে পালিত হয় গণেশ চতুর্থী?গণেশ চতুর্থীর উৎসব শুরু হয় বাড়ি বা মণ্ডপে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এরপর প্রাণপ্রতিষ্ঠা, পুজো ও আরতি করা হয়। ভক্তরা বাপ্পাকে ফুল, ফল, দূর্বা, ধূপ এবং বিভিন্ন মিষ্টি নিবেদন করেন। এর মধ্যে গণেশের প্রিয় মিষ্টি হিসেবে মোদকের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।অনেক পরিবারে গণেশের মূর্তি বাড়িতে এনে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েক দিন ধরে পুজো করা হয়। অন্যদিকে, বিভিন্ন শহর ও এলাকায় বড় বড় মণ্ডপ তৈরি করে গণেশোৎসবের আয়োজন করা হয়। পুজোর পাশাপাশি সেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, সঙ্গীতানুষ্ঠান, খাবারের আয়োজন এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগও দেখা যায়।উৎসবের শেষ দিনে গণেশের মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জলাশয়ে বাপ্পার বিসর্জনের মাধ্যমে গণেশোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

রাশি অনুযায়ী বেছে নিন গণপতি বাপ্পার মূর্তির রং, কোন রাশির জন্য কোন রং শুভ?

গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে বাড়িতে গণপতি বাপ্পার মূর্তি স্থাপনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন ভক্তরা। মূর্তি কেনার সময় সাধারণত আকার, রূপ, ভঙ্গি এবং পুজোর নিয়মের দিকে নজর দেওয়া হয়। তবে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশের মূর্তির রঙেরও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বিভিন্ন রঙের সঙ্গে বিভিন্ন গ্রহ এবং তাদের বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। সেই বিশ্বাস অনুযায়ী, নিজের রাশি অনুসারে গণেশের মূর্তির রং বেছে নিলে শুভ ফল পাওয়া যেতে পারে।২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। প্রচলিত জ্যোতিষীয় মতে, ওই সময় চন্দ্র তুলা রাশিতে অবস্থান করবে। এবার দেখে নেওয়া যাক, কোন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য কোন রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়।মেষ ও বৃষ রাশির জন্য লাল ও হালকা গোলাপিমেষ রাশির অধিপতি গ্রহ মঙ্গল। জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গলের সঙ্গে লাল রঙের সম্পর্ক রয়েছে। তাই মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য লাল রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং সাহস, কর্মশক্তি ও সংকল্পের প্রতীক। জীবনের বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে লাল গণপতির আরাধনা ফলদায়ক হতে পারে বলে বিশ্বাস।বৃষ রাশির অধিপতি শুক্র। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ক্রিম বা হালকা গোলাপি রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং সৌন্দর্য, আরাম, সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।মিথুন ও কর্কটের জন্য সবুজ ও সাদামিথুন রাশির অধিপতি বুধ। তাই মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য সবুজ রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সবুজ রং বুদ্ধি, যোগাযোগ, শিক্ষা ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত।কর্কট রাশির অধিপতি চন্দ্র। তাই এই রাশির জন্য সাদা রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। সাদা রং শান্তি, পবিত্রতা, মানসিক স্থিরতা এবং পারিবারিক সম্প্রীতির প্রতীক বলে বিশ্বাস করা হয়।সিংহ ও কন্যার জন্য কমলা ও সবুজসিংহ রাশির অধিপতি সূর্য। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য কমলা, জাফরান বা হালকা সোনালি রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং আত্মবিশ্বাস, প্রাণশক্তি, নেতৃত্ব এবং অভ্যন্তরীণ শক্তির প্রতীক।কন্যা রাশির অধিপতিও বুধ। তাই কন্যা রাশির জন্য সবুজ রঙের গণেশ মূর্তি উপযুক্ত বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে মনে করা হয়। সবুজ রং বুদ্ধি, দক্ষতা ও যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।তুলা ও বৃশ্চিকের জন্য গোলাপি ও মেরুনতুলা রাশির অধিপতি শুক্র। তাই এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য গোলাপি এবং হালকা নীল রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং সৌন্দর্য, সম্পর্কের ভারসাম্য, সম্প্রীতি ও শান্তির প্রতীক।বিশেষ করে ২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থীর সময় চন্দ্র তুলা রাশিতে অবস্থান করার বিষয়টিকেও জ্যোতিষীয় দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য গাঢ় লাল বা মেরুন রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং শক্তি, মানসিক সাহস এবং নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।ধনু ও মীনের জন্য হলুদধনু রাশির অধিপতি বৃহস্পতি। তাই ধনু রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য হলুদ রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। হলুদ রং শিক্ষা, সমৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়।মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্যও হলুদ রঙের গণেশ মূর্তি অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বৃহস্পতির সঙ্গে হলুদ রঙের সম্পর্ক থাকায় এই রঙকে জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।মকর ও কুম্ভের জন্য মাটির রং ও নীলমকর রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ধূসর, পাথুরে বা মাটির মতো বাদামি রঙের গণেশ মূর্তি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই রং শনির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও ধীরস্থির অগ্রগতির প্রতীক বলে মনে করা হয়।অন্যদিকে, কুম্ভ রাশির জন্য নীল রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে জ্যোতিষীয় বিশ্বাস রয়েছে। নীল রং স্থিরতা, গভীরতা ও মানসিক দৃঢ়তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।তবে রাশি অনুযায়ী গণেশ মূর্তির রং বেছে নেওয়ার এই ধারণাগুলি মূলত জ্যোতিষশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে প্রচলিত। ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পারিবারিক রীতি এবং স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী গণেশ পুজোর নিয়ম ও পছন্দ ভিন্ন হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal