• ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩, রবিবার ০২ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bardhaman

রাজ্য

"আরজিকরে কি হয়েছে জানেন তো?", ভাতারে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে হুমকি দিয়ে গ্রেপ্তার সিভিক ভলেন্টিয়ার

আরজিকর মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে নৃশংস ভাবে খুনের ঘটনায় তোলপাড়। রাজ্যজুড়ে চলছে প্রতিবাদ। তারই মাঝে এবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতার স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ঘটনায় আরেক হুমকির ঘটনা। অভিযোগ, হাসপাতালের কর্তব্যরত এক মহিলা ডাক্তারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মদ্যপ অবস্থায় থাকা এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। তা নিয়ে শনিবার ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়ায় ভাতার হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে। ভাতার থানায় চলে বিক্ষোভ। দাবি করা হয় অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারকে গ্রেপ্তারের। তাতে জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক(২) সূবর্ণ গোস্বামী, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সংঘমিত্রা ভৌমিক এবং মহিলা চিকিৎসকও বিক্ষোভে সামিল ছিলেন। এর পরেই অভিযুক্ত ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার আমন দীপ জানান,অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার সুশান্ত রায়কে ভাতার থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাঁকে রবিবারর বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে ।সূত্রের খবর, কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে হুমকি দেওয়ায় ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত প্রায় ২-১৫ নাগাদ। ওইসময় হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলেন শিশু বিশেষজ্ঞ সুতপা নস্কর। ওইদিন বিকেল থেকেই বর্ধমান কাটোয়া সড়কে পুন্যার্থীদের প্রচুর ভিড় ছিল। কাটোয়া থেকে গঙ্গাজল নিয়ে হাজার হাজার পুন্যার্থী বর্ধমানেশ্বর মন্দিরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। প্রচুর বাইক ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছিল। ওই রাতে ভাতার এলাকায় একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটে। তখন সেইসব দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীদের নিয়ে নাস্তানাবুদ হচ্ছিলেন হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ডাক্তার সুতপা নস্করের বক্তব্য়,রাতে তখন হাসপাতালে দুর্ঘটনাগ্রস্থ রোগীদের ভিড় ছিল। তাদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তখন সুশান্ত রায় নামে ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার হাসপাতালে আসেন। পেটে অস্বস্তি ও মাথা ঘুরছিল বলে তিনি জানান। আমি ওই ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম। তবুও ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার আমার সাথে চুড়ান্ত দুর্ব্যবহার করতে থাকেন। তাঁর অভিযোগ, আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন,আর জি করে কি হয়েছে জানেন তো?জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক(২) সূবর্ণ গোস্বামী বলেন. আরজিকরে কি হয়েছে আমরা সবাই জানি। ওই ঘটনা নিয়ে সারা দেশ উত্তাল। বিভিন্ন রাজ্যে চিকিৎসকরা এই ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করছেন। এই আবহে ভাতারে এক সিভিক ভলেন্টিয়ার মদ্যপবস্থায় আমাদের এক মহিলা চিকিৎসকের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেছে। ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

আগস্ট ১০, ২০২৪
রাজ্য

পূর্ব বর্ধমানে কই মাছ প্রাণ কাড়লো যুবকের! কি ভাবে ঘটল এই বিরাট বিপত্তি?

ভরা বর্ষায় রাস্তায় কই মাছ ধরতে গিয়ে বড় বিপত্তি। মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো পূর্ব বর্ধমানে। অসাবধনতা বসত গলায় কই মাছ আটকে প্রাণ গেল যুবকের। মৃতের নামে সাগর রায়, বয়স ৩৫। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানে জামালপুরের তেলে গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। সাগরের বাড়ি হুগলির পান্ডুয়ায়। তেলে গ্রামে ভাড়া বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন সাগর। বৃহস্পতিবার রাতে বর্ধমানে স্ত্রীকে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। জৌগ্রাম স্টেশনে নামর পর স্ত্রীর সঙ্গে হেঁটেই ফিরছিলেন তেলে গ্রামে। তখন সময় প্রায় রাত ৮টা। কর্ম সূত্রে এই গ্রামে থাকতেন সাগর। অতি বৃষ্টির জেরে চারিদিকে জল থই থই। স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই নজরে আসে জলের মধ্যে কই মাছ ঘুরছে। কই মাছ হাতের সামনে পেয়ে স্থির থাকতে পারেননি সাগর। ধরতে শুরু করেন কই মাছ। জানা গিয়েছে, প্রথমে দুই হাতে দুটি কই মাছ ধরে সাগর। রাস্তায় আরও কই মাছ দেখতে পান সাগর। তখন হাতের একটি মাছ দাঁতে চিপে রেখে অন্য একটি কই ধরতে যায়। এতেই ঘটে যায় চরম বিপত্তি। মুখের কই মাছটি ঢুকে গলায় গিয়ে আটকে যায়। এই পরিস্থিতি দেখে চিৎকার করতে শুরু করেন সাগরের স্ত্রী। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন সেখানে ছুটে আসে। তৎখনাৎ সাগরকে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় সাগরের। এই ঘটনায় এলাকার শোকের ছায়া নেমে আসে।পরিবার সূত্রে খবর, সাগর অন্তঃসত্বা স্ত্রীকে চিকিৎসক দেখাতে বর্ধমানে এসেছিলেন। হুগলির পান্ডুয়ার রামবোয়া গ্রামে তাঁর বাড়ি। পাশে ঝাপানডাঙ্গা এলাকায় সাগরের শ্বশুড় বাড়ি। ছেলের মৃত্যু সংবাদে ভেঙে পড়েছেন সাগরের মা লক্ষ্মী রায়। কই মাছ ধরতে গিয়ে ছেলের প্রাণ চলে গেল, বলতে বলতে হাউ হাউ করে কাঁদছেন লক্ষ্মীদেবী।

আগস্ট ০২, ২০২৪
রাজ্য

তরতাজা যুবককে পিটিয়ে হত্যা বর্ধমান শহরে, অভিযুক্ত তোলাবাজ গাবু বেপাত্তা

বাংলায় ঘটে চলেছে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায়। বাদ গেল না বর্ধমান শহরও। পিটিয়ে মারা হয়েছে রবি পাশোয়ানকে (৩৪)। তার বাড়ি বর্ধমান পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে সদরঘাটের সুকান্তপল্লীতে। অভিযোগ, এলাকার শেখ ইনসান ওরফে গাবু বাঁশ দিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে খুন করেছে রবিকে। রবি পাশোয়ান মারা যাওয়ার পরই ঘটনার পর গা ঢাকা দিয়েছে গাবু। মৃতর পরিবার বর্ধমান থানায় গাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। গাবুকে খুঁজে বেরাচ্ছে পুলিশ। মৃতের স্ত্রী রাধা পাশোয়ান বৃহস্পতিবার জানান, শেখ ইনসান ওরফে গাবু দিন দশেক আগে বাঁশ দিয়ে তাঁর স্বামী রবি পাশোয়ানকে নির্মম ভাবে পেটায়। তাতে রবি মারাত্মক জখম হয়। তার ঘাড়ে ও পেটে গুরুতর আঘাত লাগে। গুরুতর আহত রবি পাশোয়ানকে ভর্তি করা হয় বর্ধমান হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন আজ, বৃহস্পতিবার ভোরে রবি মারা যান। রবিকে মারধরের কি কারণ ছিল তা জানে না রবির পরিবারের লোকজন। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছে, গাবু অসামাজিক কাজকর্মে করে বেরাত। এলাকাতেও অসামাজিক কাজকর্ম লিপ্ত ছিল, তোলাবাজি চলত সমানতালে। মৃত রবি পাশোয়ানের দাদা প্রেমনাথ পাশোয়ান জানান, রবি ভ্যান গাড়ি চালাতো। বাড়িতে তাঁর একটি বাচ্চা মেয়ে আছে। আর গাবু কাঠের কাজ করার পাশাপাশি পাড়ায় একটি চায়ের দোকান আছে। এহেন গাবু তৃণমূল কংগ্রেস দলেও যুক্ত ছিল। এর আগে দলীয় কোন্দলে মারধোরও খেয়েছে গাবু। লবি বদলে এই দাদা ওই দাদা করে বেড়াতে গাবু। কিন্তু কখনও অসামাজিক কর্মকাণ্ড ছাড়তে পারেনি গাবু।মৃতের দিদি গীতা পাশোয়ান বলেন, গাবুর মারধোরে আমার ভাই রবি জখম হওয়ার পর বাড়িতেই ভাইয়ের চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু রবি সুস্থ হচ্ছিল না। অসুস্থতা বেড়ে যায়। এমত অবস্থায় ৮ জুলাই ভাই রবিকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদিন ভোরে আমার ভাই হাসপাতালেই মারা যায়। গাবুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন মৃতর দিদি। রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, কে কোন রাজনৈতিক দল করে সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। কেউ অন্যায় করলে পুলিশ আইনে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ তদন্ত করেছে। অপরাধী শাস্তি পাবে। বর্ধমান থানার এক অফিসার জানান, মৃতর পরিবার থানায় অভিযোগ জমা করেছে। তার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

জুলাই ১১, ২০২৪
রাজ্য

এবার জঙ্গি-যোগ পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের যুবকের, চেন্নাই থেকে গ্রেফতার এসটিএফের

পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার পানাগড় ও নদীয়ার নবদ্বীপ থানার মায়াপুর মোল্লাপাড়া থেকে জঙ্গি যোগে গ্রেফতারের পর চেন্নাই থেকে এদের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে আরেকজনকে গ্রেফতার করল এসটিএফ। মঙ্গলকোটের ভালুক গ্রামের বাসিন্দা শেখ আনোয়ারকে বেঙ্গল এসটিএফ-এর দল খবর পেয়ে চেন্নাই থেকে গ্রেপ্তার করে আনা হয় দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে। দুর্গাপুর মহকুমা আদালত এই জঙ্গিকে ১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। সূত্র মারফত জানা যায়, ৪ বছর ধরে এই নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ ছিল তার। শেখ আনোয়ার কর্মসূত্রে চেন্নাইয়ে একটি লন্ড্রিতে কাজ করতো। আর জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই কাঁকসার পানাগড় ও নবদ্বীপ থেকে যে দুজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছিল এসটিএফ তাদেরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে পর চেন্নাইয়ে শেখ আনোয়ারের খোঁজ পায়। বেঙ্গল এসটিএফ-এর একটি দল শেখ আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করে দুর্গাপুরে নিয়ে আসে এবং আনোয়ারকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্তের গতি আরও বাড়িয়ে নিয়ে যেতে চায় এসটিএফ। এই নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে শেখ আনোয়ার যুক্ত হয়ে কি কাজ করত সেটাও জানার চেষ্টা করছে এসটিএফ।

জুন ২৯, ২০২৪
রাজ্য

দিলীপ ঘোষ ও কীর্তি আজাদের কোলাকুলিই সার, শেষমেশ গাড়ির কাচও ভাঙলো বিজেপি প্রার্থীর

দিনভর হামলার মুখে পড়ছেন বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। বর্ধমানের কালনা গেট কপিবাগান এলাকায় দিলীপের গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সংঘর্ষে মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক জওয়ানের। দিলীপের দাবি, মোট দুজন জওয়ান আহত হয়েছেন। পাল্টা তাদের চার তৃণমূল কর্মীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দিলীপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জওয়ানদের বিরুদ্ধে।বিকেলের দিকে একটি বুথে যাওয়ার সময় দিলীপের গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। কপিবাগানে দিলীপের গাড়িতে ইট ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। দেখা যায়, দিলীপের গাড়ির পিছনের দিকের কাচ ভেঙে গিয়েছে। বিজেপি প্রার্থী জানান, তিনি বুথে গোলমালের খবর পেয়ে কপিবাগানে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অশান্তির জেরে বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। গন্ডগোলেট খবর পেয়ে বেশ কিছু ক্ষণ পরে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী যায় ঘটনাস্থলে। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। আপাতত ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে খবর।বিজেপি এজেন্টকে বুথ থেকে বার করে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তুমুল অশান্তি হয় মন্তেশ্বরের তুল্ল্যা গ্রামে। বিজেপি প্রার্থী দিলীপকে ঘিরে বিক্ষোভ, ইট ছোড়া এমনকি তাড়া করারও অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুর হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। শুশুনিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় ওই গন্ডগোল নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের এক কর্মীকে বিজেপির লোকেরা মেরে রক্তাক্ত করেছে। তার পরেই বিক্ষুদ্ধ তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা দিলীপের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন। তখন গো ব্যাক, জয় বাংলা স্লোগানও দেওয়া হয় দিলীপকে ঘিরে। ওই ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন দিলীপ। যদিও তৃণমূল তাদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করে।ভোট শুরুর পর থেকেই বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভার নানা জায়গায় অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে। দুই যুযুধান প্রার্থী, বিজেপির দিলীপ এবং তৃণমূলের কীর্তি আজ়াদ দুজনই কোলাকুলি করে সৌজন্য বিনিময় করেন। তবুও দুই দলের কর্মীদের মধ্যে সেই সৌজন্যের ছোঁয়া মেলেনি। যত বেলা গড়িয়েছে, ততই একের পর এক গন্ডগোলের খবর সামনে আসছে। কীর্তির অভিযোগ, যেখানেই দিলীপ ঘোষ যান, সেখানেই উত্তেজনা ছড়ায়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে আমরা অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেনি।

মে ১৩, ২০২৪
রাজ্য

১২ বছর বয়সে অঙ্কে স্নাতক! বর্ধমানে হাজির 'গণিতের বিষ্ময় বালক'

অঙ্ক নিয়ে জাগলারি দেখল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থেকে নবীন পড়ুয়ারা। গণিতের বিষ্ময় বলককে চাক্ষুশ করতে প্রেক্ষাগৃহ ছিল কনাই কানাই পূর্ণ। মিট দা জিনিয়াস শীর্ষক দুই ঘণ্টার এই কর্মশালায় মূলত নাম্বার থিওরি আলোচনা করেন গণিতের বিস্ময় বালক সুবর্ণ আইজ্যাক বারি। বিশুদ্ধ ও ফলিত গণিতের বিভিন্ন জটিল তত্ত্ব-র আলোচনাতেও সুবর্ণের সরল ব্যাখ্যা সুবর্ণ গোলকের মতই তেজস্বী।অনুষ্ঠানটিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথমার্ধ মূলত সুবর্ণ বক্তব্য রাখেন গণিতের বিভিন্ন বিষয়ে, দ্বিতীয়ার্ধে শিক্ষাবিদ থেকে ছাত্রছাত্রীদের গণিত সমন্ধীয় নানা প্রশ্নের উত্তর বা সমাধান করেন সুবর্ণ। সুবর্ণে র ছটায় মোহিত দর্শককূল বসার জায়গা না পেয়েও মনখারাপ না করে মোহিত হয়ে প্রেক্ষাগৃহের ফ্লোরে বসেই অঙ্কের রসাস্বদন করতে থাকেন।সুবর্ণ-র অনুষ্ঠাটির আয়োজন করে বর্ধমান বিশ্ব বিদ্যালয়ের আইকিউএসি (IQAC) সেল। এইদিনের অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি, বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ গৌতম চন্দ্র, রেজিস্টার ডঃ সুজিত কুমার চৌধুরী, বিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক সুনীল কারফর্মা, হিউম্যানিটি বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডঃ প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও অন্যান্য বিভাগের অধ্যাপকেরাও উপস্থিত ছিলেন। বর্ধমান বিশ্ব বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপাচার্য ডঃ গৌতম চন্দ্র উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন বিস্ময় বালক সুবর্ণ আইজ্যাক বারী কে।অনুষ্ঠানের স্বাগত ভাষণে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মন্টু সাহা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স ডিন-র অদম্য প্রয়াসে ও প্রচেষ্টার ফলেই সুবর্ণকে আমাদের বিশ্ব বিদ্যালয়ে নিয়ে আসার মত এক অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে। সুবর্ণ কে চাক্ষুষ দেখে বহু গণিত প্রেমী বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়েছেন। সুবর্ণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, ২০১২-র ৯ এপ্রিল আমেরিকার নিউইয়ার্কে বিষ্ময় বালক সুবর্ণর জন্ম। সুবর্ণ তাঁর বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান। তাঁর দাদাও অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। সুবর্ণ মাত্র চার বছর বয়স থেকে তার অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।সুবর্ণের পিতা রাশেদুল বারী জানান, ছোটবেলা থেকেই সুবর্ণ-র এই বিস্ময় প্রতিভা আমেরিকার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান ও গণিতের প্রথিতযষা প্রতিষ্ঠাগুলির পক্ষ থেকে সংবর্ধিত করে চলেছে। সুবর্ণকে বিভিন্ন সরকারি সংস্থাও তাঁদের নানা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত করেছে। নানাবিধ পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছে অঙ্কের এই ক্ষুদে যাদুকর। পেয়েছে বহু স্কলারশিপ। রাশেদুল বারী জানান, সুবর্ণ মাত্র সাত বছর বয়সে বিভিন্ন কলেজে গেস্ট লেকচারার হিসেবে গণিত শাস্ত্রের উপর বক্তব্য রেখেছেন। ইতিমধ্যে সুবর্ণ বিশ্বের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর এই বিস্ময় প্রতিভার প্রমান দিয়ে এসেছেন। ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও সুবর্ণ-র প্রতিভাকে সন্মাননা জানানো হয়।রাশিদুল বারী আরো জানান, এর আগে আইআইটি খড়্গপুরে ব্যাক হোল (কৃষ্ণ গহ্বর) থিওরি র উপর বক্তব্য রেখেছে সুবর্ণ। গণিতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেশ কয়েকবার পুরস্কৃত হয়েছে সুবর্ণ। গণিত শাস্ত্রে তার বিশ্বরেকর্ড আছে বলেও তাঁর পিতা দাবী করেন। সুবর্নের পিতা আরো জানান, গণিতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র এবং নিজের লেখা দুটি বই-ও ইতিমধ্যে প্রকাশ করে ফেলেছে সুবর্ণ আইজ্যাক বারী। সুবর্নের বর্তমান বয়স ১২, এই বয়সেই সে দ্বাদশ শ্রেণী উত্তীর্ণ হয়ে আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা ও গণিত এই দুইটি বিষয়ের উপর স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করছে বলে জানান তার পিতা।সুবর্নের পিতা রাশেদুল বারী জানান, নিউইয়র্ক বিশ্বিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এর ১৯০ বছরের ইতিহাসের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছাত্র হিসেবে ব্যাচেলর অফ সায়ন্স (BS) পড়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, এই কৃতিত্ত্ব আমেরিকার ইতিহাসে বিরল। সুবর্ণের বিরল প্রতিভার খবর দিকে দিকে ছড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সে এখ অত্যন্ত ব্যস্ত আক মানুষ। নিজের পড়াশোনা ও গবেষণার ফাঁকে ফাঁকে বিশ্বের নানা জায়গার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে ও স্কুলে গণিতের নাম্বারর থিওরি ও বিভিন্ন ধরনের জটিল তথ্য ও সমস্যা সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে ছুটছেন বিস্ময় বালক সুবর্ণ আইজ্যাক বারী।সুবর্ণর বাবা রাশিদুল বারী ও মা শাহেদা বেগম। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে-এ উপস্থিত আয়োজক অধ্যাপকদের অনুরোধে সুবর্ণ-র পিতা রাশিদুল বারী তাঁর পুত্রের বিষ্ময়কর প্রতিভা সম্পর্কে আলোকপাত করতে মঞ্চে আসেন। তিনি বলেন, মাত্র দুবছর বয়স থেকে তার এই প্রতিভা লক্ষিত হয় ওর মায়ের কাছে পড়ার সময়। আমি নিজে গনিত ও পদার্থবিদ্যা ছাত্র হওয়া স্বত্তেও বেশিদিন সুবর্ণকে পড়াতে পারিনি, হয়রান হয়ে পড়তাম তাকে পড়াতে গিয়ে। তার বিভিন্ন প্রশ্ন বানে জর্জরিত হতাম বারবার। বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা গণিতের অধ্যাপকের কাছে সুবর্ণ-কে নিয়ে যায় তার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরের সমাধানের জান্য। সে নিত্য নূতন ফর্মুলা ও পদ্ধতি আবিস্কার করে অংক কষে থাকে। আসলে সুবর্ণ অংক নিয়ে খেলা করে।সুবর্ণর বাবা রাশিদুল বারী জানান, শিক্ষকদের কাছ থেকে কোনও পশ্নের উত্তর যদি যথাযথ ভাবে না পায়, তাহলে সে নিজে নিজেই সেয়ার সমাধান করে নেয়। সুবর্নের পিতা বলেন ভারত এবং বাংলাদেশ আমার ও সুবর্ণের কাছে খুব প্রিয়। তাই আপনাদের প্রত্যেকের কাছে আশীর্বাদ পার্থনা করি সে যেন প্রকৃত মানুষ হয়। কৰি নজরুলের মত আদর্শ ব্যক্তিত্ত্ব-র অনুসারী হয়। মহাত্মা গান্ধী, কাজী নজরুল ইসলাম এবং বিজ্ঞানী আব্দুল কালাম দের মত মনীষীরা সুবর্ণের খুব শ্রদ্ধেয়। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম চন্দ্র বলেন লিটিল মাস্টার সুবর্ণ হল ওয়ান অফ দা ওয়ান্ডার্স অফ দা ওয়ার্ল্ড। সারা বিশ্বের অন্যতম বিষ্ময়!উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ১২ টায় অনুষ্ঠান শুরুতে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। সুবর্ণ প্রিয় কাজী নজরুল ইসলামের গান পরিবেশন করেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকর্মী দেবাশীষ ব্যানার্জি। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে উপচে পড়া ভিড় ধন্য ধন্য করেন সুবর্ণ-র বিস্ময় প্রতিভা দেখে। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত মানুষজন প্রত্যেকেই সুবর্ণ-কে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। তার গুন্মুগ্ধ ছাত্রছাত্রীরা অনেকেই সুবর্নের সঙ্গে করমর্দন করতে এগিয়ে আসেন। অনেককে অটোগ্রাফ নিতেও দেখা গেল। সেলিব্রিটির সাথে নিজস্বী তোলা তো অনেকটা কর্তব্যের মধ্যে পরে। অনুষ্ঠানের একেবারে শেষদিকে কয়েকজন গণিত প্রেমী ছাত্র-ছাত্রী সুবর্ণের কাছে তাঁদের কিছু প্রশ্ন নিয়ে আসেন, একেবারে মঞ্চের সামনে প্রায় শুয়ে পড়ে সেই সমস্ত প্রশ্নের সমাধান করতে দেখা গেল বিস্ময় বালক-কে। পরিশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইকিউএসি সেল এর চেয়ারম্যান।

এপ্রিল ২৬, ২০২৪
রাজ্য

অভিষেককে খুন করার চেষ্টা, অভিযোগ মমতার, এসএসসি নিয়োগ বাতিল নিয়েও চরমে সুর

নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুন করার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। এই অভিযোগে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। তবে এপ্রসঙ্গে নাম না করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেই নিশানা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বিজেপির এক গদ্দার বললেন বোমা ফাটাব। আরে বোমা ফাটিয়ে মমতা ব্যানার্জির ওপর রাগ হয় তো মেরে দে। অভিষেককেও তো খুন করতে গিয়েছিলি, ধরে ফেলেছিলাম আমরা। তার বাড়ি পর্যন্ত রেইকি করেছে। ফেসটাইমে ফোন করেছে। আপকা সাথ বাত করনা চাহতা হু। সময় দিলেই গুলি করে দিয়ে পালিয়ে যেত। এরা চায়, যাঁরা ওঁদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাঁদের মেরে দাও, জেলে ভরে দাও। তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দাও। মানুষের ভোটে জিতবেন যদি মনে করেন তাহলে এত ভয় দেখানোর কী দরকার ছিল।দিন কয়েক আগেই চলতি সপ্তাহে রাজ্যে বড় কিছু ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যা নিয়ে রীতিমতো চর্চা ছড়িয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে তাই অভিষেকের বাড়ির রেইকি করায় অভিযুক্তের গ্রেফতারিতে শুভেন্দুকেই নিশানা করেছেন বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।এরপর তিনি অভিষেকের বাড়ি ও অফিসের সামনের এলাকার রেইকি করেছিলেন বলেও খবর মেলে। এই ঘটনার খবর মিলতেই নড়েচড়ে বসে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। মুম্বই থেকে তাকে গ্রেফতার করে আনে লালবাজার। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও অফিসের কেন রেইকি করেছিলেন রাজারাম? তা এখনও স্পষ্ট না হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু এর পিছনে গভীর রহস্যের গন্ধ পেয়েছেন।মঙ্গলবার ভাতারে লোকসভা ভোটের প্রচারে এসএসসির চাকরি বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে ফের মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশকে এ দিন একতরফা বলে সোচ্চার হন মমতা।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২ কোটি লোককে চাকরি দেবেন বলেছিলেন। একটা লোককে চাকরি দেননি। আর আমরা বাংলায় যখন চাকরি চাকরি দি, তখন আপনারা কোর্টেকে দিয়ে সেগুলো খেয়ে নেন। ওরা তো আমাদের আন্ডারে নয়, আপনাদের আন্ডারে।এরপরই মমতা বলেন, আমি রায় নিয়ে বলছি, বিচারকের নাম নিয়ে বলছি না, আমার প্রয়োজন পড়ে না। যদি বলতেন এখানে অসুবিধা আছে, ভুল হয়েছে, সংশোধন করে নাও। করে নিতাম আমরা। ভুল হতেই পারে। যে কেউ করতে পারেন। সবটাতো আর আমি চালাই না। শিক্ষা দফতর স্বতন্ত্র। আজকে বলুন তো যাঁরা একতরফা রায় দিয়ে ২৬ হাজার ছেলেমেয়ের চাকরি খেয়ে নিলেন, আর বললেন এক মাসের মধ্যে আট বছরের মাইনে সুদ সহ টাকা ফেরৎ দিতে হবে, পারবেন?

এপ্রিল ২৩, ২০২৪
উৎসব

অষ্টমীর ভোগে 'চা' নিবদন করা হয়ে থাকে 'সর' এর মা অন্নপূর্ণাকে

কথিত আছে, বিবাহের পর কৈলাশ শিখরে দেবাদিদেব মহাদেব ও তাঁর সহধর্মিণী পার্বতী বেশ সুখেই দাম্পত্যজীবন কাটাচ্ছিলেন। শিব ছিলেন হত-দরিদ্র। বিবাহের কিছুকাল কাটতে না কাটতেই আর্থিক অনটনের জেরবার হয়ে ওঠে তাঁদের সংসার। শুরু হয় দাম্পত্যকলহ। পার্বতীর তিরস্কারে গৃহ ত্যাগ করে মাধুকরী শুরু করেন দেবাদিদেব। কিন্তু কোথাও ভিক্ষে না ব্যর্থ মনোরথে কৈলাশে ফিরে আসেন। কৈলাশে ফিরে বাড়িতে সঘৃত পালান্ন, পায়েস, পিঠে প্রভৃতি খান। তারপর দেবাদিদেব দেবীর মহিমাবৃদ্ধির জন্য কাশী শহরে অন্নপূর্ণার মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। লোকাচার, চৈত্রমাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে সেই মন্দিরে দেবী অন্নপুর্ণা কৈলাশে পদার্পন করেন। সেই থেকেই দেবী অন্নপূর্ণার পূজার প্রচলন বাড়ে। কাশী ভ্রমণকারীদের কাছে দেবী অন্নপুর্ণার মন্দির খুবই আকর্ষনীয়। এই মন্দিরে অন্নকূট উৎসব বিখ্যাত।চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে দেবী অন্নপূর্ণার পূজা করা হয়। এই পুজা নিয়ে নানাবিধ মিথ ছড়িয়ে আছে, কেউ কেউ মনে করেন, দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা করলে গৃহে অন্নাভাব থাকে না। উত্তরপ্রদেশের কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণার একটি বিখ্যাত মন্দির আছে, এই মন্দিরে অন্নপূর্ণা পূজা ও অন্নকূট উৎসব প্রসিদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গেও অন্নপূর্ণা পূজার বিশেষ প্রচলন রয়েছে।পূর্ব বর্ধমান জেলার পশ্চিম প্রান্তের জাতীয় সড়ক ধরে প্রায় ২৪ কিলমিটার গিয়ে গলসি থেকে গ্রাম সড়ক যোজনা-র রাস্তা ধরে আরো ৭ কিলমিটার গেলেই সর বলে একটি গ্রাম আছে। বর্ধিষ্ণু এই গ্রামে জনবসতি সরকারি হিসাবে প্রায় ৫ হাজার। সর গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের অন্নপূর্ণা পুজা এই বছরে ৯৮ তম বৎসরে পদার্পণ করল। বাংলার ১৩৩৩ সালে সর গ্রামে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পুজা সূচনা হয়। মহাধুমধাম ও নিষ্ঠা সহকারে দেবীর আরাধনা করা হয় এখানে। পরিবারের বেশীরভাগ মানুষজন কর্মসূত্রে বাইরে থাকলেও এই পুজোর টান উপেক্ষা করে কেউই সর-এ না এসে পাড়েন না।বাড়ির বর্ষিয়ান সদস্যা আরতি বন্দ্যোপাধ্যায় জনতার কথাকে জানান, তাঁর শাশুড়ি মা অন্নপূর্ণা কে মেয়ে রূপে পুজা করতেন বলে আমরা নবমীর দিনটিকে মেয়ের বিয়ের দিন বলে গন্য করি। তিনি জানান, নবমীর দিন প্রায় ৫০০ মানুষ মায়ের অন্নভোগ গ্রহণ করেন। ওইদিন খিচুড়ি ভোগ নিবেদন করা হয় মাকে। সাথে বিভিন্ন রকম ভাজা পদ দেওয়া হয়। সাথে পরমান্ন বা পায়স ও দেওয়া হয় দেবীকে। নবমীর রাতে শীতল আরতি র পর মণ্ডপেই গান বাজনার আসর বসে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, যেরকম কোনও মেয়ের বিয়েতে বিয়ের রাতে বাসর বসে ঠিক সেই রকমই আমাদের এখানেও দেবীর বাসর বসে, তাতে পরিবারের যে যার মত আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক পরিবেসন করে। মূল ব্যাপার সকলে মিলে একটা জমাটি আনন্দ হয় বলে তিনি জানান।আরতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দশমীর সকালে যেহেতু মাকে দধিকর্মার (চিঁড়ে ভোগ) দেওয়া হয় এই কারনে বাড়িতে অন্ন রান্না হয় না। সেদিন বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে ভাতের হাঁড়ি চাপবেনা বলে জানান। ওইদিন দুপুরে লুচি, তরকারি, চিরে, দই খাওয়া হয়। তিনি আরও জানান, দশমীর সন্ধ্যায় মাকে বরণ করে বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। পরিবারের লোক ব্যতীত পড়শীরাও সেই বিদায়বেলায় মাকে বিদায় জানাতে উপস্থিত থাকেন। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করা সকলে রাতে ফিরে এসে এখানে মাছ-ভাত খান। সেদিনের আয়োজনে কোনও হিসাব থাকে না। যেরকম মানুষ থাকবে তাঁদের সকলকেই খাওয়ানো হয়। এইদিন রাতে ভাত, কলাইয়ের ডাল, কুমরোর তরকারি, আলুপোস্ত ও মাছের টক রান্না হয়। তিনি বলেন এটা আমাদের কাছে একটা মিলন উৎসবের মত।আরতি বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সরএর বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যেরা এই কটি দিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। বিরাট পরিবার আমাদের ছোট থেকে বুড়ো এই পুজোর অপেক্ষায় দিন গুণী সকলে। পরিবারের আরো এক সদস্য জ্যেষ্টপুত্র অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সর-এর রাধাগোবিন্দ জিউ মন্দির থেকে প্রথমে নারায়ণকে মা অন্নপূর্নার মণ্ডপে আনা হয়, তারপর নারায়ণ কে প্রতিষ্টা করে পুজা আরম্ভ করা হয়। তিনি জানান প্রথামত প্রতিপদের দোলের দিন মায়ের গায়ে মাটি দেওয়া হয়। তারপরই মায়ের মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হয়। তিনি জানান, মায়ের মূর্তি স্থানীয় মৃতশিল্পীতেই বানান। তিনি বলেন তাঁদের এখানে এই পুজো মূলত অষ্টমী, নবমী ও দশমী এই তিন দিন-ই হয়।এই পরিবারের সদস্য মুম্বাই প্রবাসী বহুজাতিক সংস্থার কর্মকর্তা অলোক বন্দ্যোপাধ্যায় জনতার কথা কে জানান, তাঁদের এই পুজোয় অষ্টমীর দিন থেকে ভোগ খাওয়ানো হয়। অষ্টমীর দিন পরিবারের সদস্য সহ প্রায় ৪০০ জনের মত মানুষ মায়ের ভোগ গ্রহণ করেন। এছাড়াও নবমীর দিন ৫০০-র মত মানুষ ভোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু দশমীর রাতে তাঁদের সেরকম কোনও নির্দিষ্ট হিসাব থাকে না। সকলেরই আমন্ত্রণ থাকে। যত মানুষ প্রতিমা নিরঞ্জনে আসেন তাঁদের সকলেকেই খাওয়ানো হয়ে থাকে।অলোক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই পুজো কোনমতেই এতটা সুষ্টভাবে সুসম্পন্ন হতোনা, যদি না আমাদের অগ্রজ অশেষ বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে (সর) থাকতেন। পরিবারের বেশীরভাগ সদস্য বাইরে থাকার কারনে এই পুজো প্রারম্ভিক সকল ব্যবস্থা তিনি মোটামুটি একার হাতেই সামলান। এছাড়াও আরো একটি পরিবারের কথা না বললেই ন্য, সেটি হল সর এর চট্টোপাধ্যায় পরিবার। বংশপরাম্পরায় এই পরিবার মা অন্নপূর্ণার পুজার সাথে সেই সৃষ্টি লগ্ন থেকে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। পরিবারের সদস্য জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর মার অবদান আমাদের এই পুজোয় বিশেষ প্রসংসার দাবী রাখে।আরতি বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের বাড়ির পুজোর প্রতিষ্টা নিয়ে বলতে গিয়ে জানান, তাঁর শশুড় ও শাশুড়ি দুজনেই স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজো শুরু করেন। এই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা অশ্বিনী বন্দ্যোপাধ্যায় স্বপ্নে দেখেন মা তাঁকে তাঁর বাড়িতে আসবে বলে জানাচ্ছে। তিনি আর্থিক কারনে ইতস্তত করছেন, ঠিক সেই রাতেই তাঁর সহধর্মিনী গুণমঞ্জরী বন্দ্যোপাধ্যায় যিনি কন্যা সন্তানে ব্যাকুল ছিলেন, তিনি ও স্বপ্নে দেখেন মা অন্নপূর্না তাঁর কাছে মেয়ে রূপে আসতে চাইছেন। জানা যায় স্বপ্নাদেশে মা অন্নপূর্ণা অশ্বিনী বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানান, তিনি তাঁর জন্য কোনোরূপ আরম্ভর না করে দৈনন্দিন রান্নার জন্য যা জুটবে তাই দিয়েই ভোগ নিবেদন করার কথা। পরিবারের সদস্য অলোক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সেইমত আমরা যেভাবে বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করি সেই সমস্ত পদ-ই মাকে ভোগ রূপে রেঁধে দেয়ে থাকি। তিনি জানান, মাকে কলাইয়ের ডাল, মুগের ডাল, ছোলার ডাল, আলু পোস্ত, ঝিঙ্গে পোস্ত, বাটি পোস্ত, এঁচোর, শুক্ত, আঞ্জা শাক (কচু শাক), মোচা, থোর এই সমস্ত অতি সাধারণ নিত্যদিনের যে পদ আমরা বাড়িতে রাধেঁ থাকি, সেই পদগুলিই মাকে এই পুজোতে ভোগ নিবেদন করা করা হয়। এবং বাজারে সাধারণত যে যে ফল পাওয়া যায় সেই সকল ফলই মায়ের পুজোতে নিবেদন করার রীতি। আলোক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান সর-এর মা অন্নপুর্ণাকে চা ভোগ দেওয়া কথা। তিনি বলেন, নিত্যদিনের পানীয় চা কে ভোগ হিসাবে নিবেদন করতে সচারচর দেখতে পাওয়া যায় না। সেটা একমাত্র সরর পুজোতেই পাবেন।অলোক বন্দ্যোপাধ্যায় আরো জানান, তাঁদের প্রথা মত, বাড়ির জ্যেষ্ঠপুত্রের উপস্থিতিতে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় মা অন্নপূর্ণার বোধন ও চক্ষুদান হয়। এবং বাড়ির জ্যেষ্ঠবধু (শিখা বন্দ্যোপাধ্যায়)মায়ের সকল লোকাচার পালন করেন। সেই কারনে বাড়ির জ্যেষ্ঠবধু শিখা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে পুজার দিনগুলি শুদ্ধাচারে থাকেন। তিনি কোনও রূপ প্রসাধনী ব্যবহার এমনকি কেশ সজ্জা ও করতে পারবেন না ওই দিনগুলিতে।

এপ্রিল ১৭, ২০২৪
রাজ্য

রামনবমীতে অযোধ্যার 'রামলালা' বর্ধমানে, পুজোয় ভিড় জমাচ্ছেন ভক্তরা

রামনবমী উপলক্ষ্যে অযোধ্যার রামলালা বর্ধমানে অবস্থান করছেন। একেবারে শহর বর্ধমানের মধ্যস্থল বিজয় তোরণের সামনে মন্ডপে পুজিত হচ্ছেন রামলালা। অযোধ্যার রামমন্দিরের রামলালার আদলে মূর্তি গড়ে রামনবমী উৎসব পালিত হল বর্ধমানে। বিজয় তোরণের সামনে রামলালার পুজো হয়েছে। এই পুজোর উদ্যোক্তা শ্রীরামনবমী উদযাপন সমিতি। আজ, বুধবার, সকাল ৯টায় বিজয় তোরণ চত্বরে ভগবান শ্রী শ্রী রামচন্দ্রের পুজো শুরু হয়। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বিকাল ৪টায় বর্ধমান নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে এই পুজো স্থলে মিলিত হবে। সন্ধ্যা ৬টায় সন্ধ্যারতি এবং প্রসাদ বিতরনের পর কার্যক্রমের পরিসমাপ্তি হইবে। বর্ধমানে রামলালার মূর্তি দেখতে ভীড় জমাচ্ছে ভক্তগন। রাজ্যজুড়ে এদিন রামনবমী উৎসব পালিত হচ্ছে।

এপ্রিল ১৭, ২০২৪
রাজ্য

প্রকাশ্য দিবালোকে অফিসে ঢুকে কুলটিতে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতী

আসানসোলের কুলটি থানার চিনাকুড়িতে শুট আউট। প্রকাশ্য দিবালোকে অফিসে ঢুকে একজনকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতী।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলেই পুলিশ। মৃতের নাম উমা শঙ্কর চৌহান। অফিসের কর্মীরা বলেন এক দুষ্কৃতী এসে উমা শঙ্কর চৌহান কে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি করে খুন করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়াল।দুষ্কৃতী হানায় মৃতের অফিসের কর্মীরা জানান, গতকাল রবিবার পয়লা বৈশাখ চেন্নাই থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফিরেছিলেন উমা শঙ্কর চৌহান। আজ সোমবার সকালে অফিসে এসে কর্মীদের সঙ্গে ব্যবসা সংক্রান্ত নানাবিধ আলোচনা বলছিলেন। ঠিক সেই সময় আতর্কিতে মুখে গামছা বাঁধা এক দুষ্কৃতী ওই অফিসে ঢুকে পড়ে। ঢুকেই উমা শঙ্করকে লক্ষ্য করে পর পর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। ওই আতর্কিত হানায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান উমা শঙ্কর চৌহান।উমা শঙ্কর চৌহান-র অফিসের এক কর্মী রাজকুমার জানান, গতকালকেই উমাশঙ্কর চেন্নাই থেকে এখানে ফিরেছেন। সকালে আমাদের সাথে ব্যবসা সংক্রান্ত আলোচনায় বসেছিলাম। এমন সময় এক জন হটাৎ এক ব্যক্তি এসে বলে যে, সে উমা শঙ্করকে টাকা দিতে এসেছে। যে তাঁকে পাঠিয়েছে বলল, তাঁর নাম আমরা আগে কখনও শুনিনি। তারপর ওই ব্যক্তি মোবাইলে কথা বলতে বলতে অফিসের বাইরে বেরিয়ে যায়। আমরা আমাদের গাড়ির চালককে ওঁর পিছনে পাঠিয়েছিলাম দেখতে যে, লোক্টি কোথায় যাচ্ছে। কিছুক্ষন পর আমাদের গাড়ির চালক এসে আমাদের বলে যে, ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি সেখান থেকে চলে গিয়েছে। তার কিছুক্ষণ পরেই সেই অজ্ঞাত ব্যক্তি মুখে গামছা বেঁধে আবার আসে। অফিসে ঢুকেই উমাশঙ্করকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি চার-পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায়। তারপরই সেই অজ্ঞাত ব্যক্তি দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।চিনাকুড়িতে ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় আলোড়ন পরে গেছে। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আকুস্থলে পৌঁছেছে কুলটি থানার পুলিশ। তারা তদন্ত শুরু করেছে। ব্যবসায়ী উমা শঙ্কর চৌহান-র দেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ময়না তদন্তের জন্য। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিস জানিয়েছে সিসি টিভি ফুটেজ দেখে জানা চেষ্টা হচ্ছে, কে বা কারা সেই সময় ওখানে এসেছিল।

এপ্রিল ১৫, ২০২৪
খেলার দুনিয়া

অপরাজিত জেলা চাম্পিয়ান হয়ে রাজ্যস্তরে 'বর্ধমান মডেল স্কুল', ফাইনালে হারাল 'বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল' কে

দত্তু ফড়কর অনুর্ধ ১৫-র জেলা ভিত্তিক ক্রিকেটে নকআউট পর্বের ম্যাচ জিতে রাজ্যস্তরে খেলার ছাড়পত্র পেল বর্ধমান শহরের ইংরাজি মাধ্যম স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল-র উদ্যোগে বর্ধমান জেলা ক্রীড়া সংস্থা-র পরিচালনায় পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার অনুর্ধ ১৫ র এই ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ২৫ ওভারের এই খেলায় আজ আগাগোড়া প্রাধান্য রেখে বর্ধমান মডেল স্কুল ৬ উইকেটে বিপক্ষ দল বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল কে পরাজিত করে।সোমবার সকালে রাধারানী স্টেডিয়াম মেঘাচ্ছন পরিবেশে টসে জিতে বর্ধমান মডেল স্কুল প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয়। কয়েকদিন যাবৎ অত্যাধিক গরম থাকায় বর্ধমান জেলা ক্রীড়া সংস্থা খেলোয়াড়দের কথা ভেবে আজকের খেলাটি সকাল ৯ টায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। দুই দলের অভিভাবকদেরই এই সিদ্ধান্তের প্রসংশা করতে দেখা যায়। এলোমেলো হাওয়ায় প্রথমদিকে নতুন বল অত্যাধিক সুইং করছিল। পরের দিকে পরিস্থিতি উন্নতি হয়।প্রথমে ব্যাট করে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেটের পতন হওয়ায় বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল কোনও জুটি-ই সেই ভাবে স্থিতি হয়নি। তারা তাদের সমস্ত উইকেট হারিয়ে ২৫ ওভারে মাত্র ১১৩ রান তোলে। জয়ের জন্য বর্ধমান মডেল স্কুলকে তারা ১১৪ রানের লক্ষ মাত্রা দেয়। বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল-র শ্রেয়ান ঘোষ ২১ রান ও সৌম্যজিত ঘোষ এবং মির্জা আতিফ হোসেন দুই ব্যাটার-ই ১৫ রান করে। বর্ধমান মডেল স্কুল র সেখ সাবিউদ্দীন ১৫ রান দিয়ে ২ উইকেট ও অরিত্র দাস ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট লাভ করে। এই ম্যচে বর্ধমান মডেল স্কুল র হয়ে উল্লেখযোগ্য বোলিং পারফরমেন্স করে আয়ুষ চট্টোপাধ্যায়। ডানহাতি এই লেগ স্পিনার মাত্র ১৬ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নিয়ে বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল-র মিডিলঅর্ডার কে একেবারে পঙ্গু করে দেয়। ডানহাতি ব্যাটারের লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে থেকে ঘুরে তাঁর বলে দু-দুটি বোল্ড আউট হয়। উল্লেখ্য এর আগের দুটি ম্যাচেও আয়ুষ-র বোলিং পারফরমেন্স ছিল লক্ষণীয়।১১৪ রান তারা করতে নেমে, প্রথম থেকেই বর্ধমান মডেল স্কুল গোড়াপত্তনকারী ব্যাটাররা খুব সাবধানী খেলা শুরু করে। মূলত তারা খুচরো রানের ওপরই জোড় দেয়। দলের ৫০ রান অতিক্রম করে তাদের প্রথম উইকেটের পতন হয়। বর্ধমান মডেল স্কুল-র অনীশ দাস মহাপাত্র ২৬ রান করে, সেখ সাবিউদ্দিন ২৮ রান ও চতুর্থ উইকেট পতনের পর ব্যাট করতে নেমে আয়ুষ চট্টোপাধ্যায় ২টি চার ও ১টি ছয় মেরে ঝোড়ো ১৯ রান করে অপরাজিত থেকে দলের জয়ে বিরাট অবদান রাখে। মাত্র ২১.৪ ওভারেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় বর্ধমান মডেল স্কুল। বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল-র জোড়ে বোলার স্নেহাশিস মাহালী খুব ভালো বল করেন। তাঁর বিষাক্ত ইনসুইং বারবার বিব্রত করছিল বর্ধমান মডেল স্কুল-র ব্যাটারদের। বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলর শ্রেয়ান ঘোষ ব্যাটিঙ্গের সাথে সাথে বল হাতেও নজর কারেন। তিনি মডেল স্কুলের ৪টি উইকেটের মধ্যে ৩ টি উইকেট তুলে নেন।আজকের জেলা স্তরের ফাইনাল খেলায় রাধারানী স্টেডিয়াম-র গ্যালারী ভরে ওঠে বর্ধমান মডেল স্কুল-র ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের দের আগমনে। তারা সারাক্ষণ তাঁদের প্রিয় স্কুলকে ফাইনালে সাপোর্ট করতে থাকে। উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান মডেল স্কুল-র প্রিন্সিপ্যাল বিপিন বিহারী সিং ও। এছাড়াও দুই দলের অভিভাবকদের উৎসাহও ছিল চোখে পড়ার মত।বর্ধমান মডেল স্কুল-র প্রিন্সিপ্যাল বিপিন বিহারী সিং জনতার কথা মাধ্যমে দুই দলকেই অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন খেলাতে অংশগ্রহণ করাই সবচেয়ে বড় কথা, হারজিত তো আছেই। ছেলেরা যত বেশী মাঠমুখী হবে তারা তত বেশী কর্মমুখী হবে। বর্ধমান মডেল স্কুল-র কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল তাঁর নিজের স্কুলের বিজয়ী দলের সদস্যদের সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি জনতার কথার মাধ্যমে বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল এর ছাত্রদেরও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বর্ধমান মডেল স্কুল আমার তৈরি স্কুল আর বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল আমায় তৈরি করেছে। তাই ওটাও আমার স্কুল, তাই তাঁদের কেও জেলা পর্বের এই খেলায় ফাইনালে পৌছানোর জন্য বিশেষ অভিনন্দন।বর্ধমান মডেল স্কুল-র ক্রীড়া প্রশিক্ষক চিন্ময় পাঁজা জনতার কথা কে জানান, ছেলেরা চূড়ান্ত খেলায় দাপটের সাথে জেতায় আমি খুশি, কিন্তু দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেলো। সামনে রাজ্য স্তরের খেলা। অন্য জেলায় গিয়ে আমাদের খেলতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক কঠিন হবে। ছেলেদের নিয়ে অনেক খাটতে হবে। তবে তিনি আশাবাদী রাজ্যস্তরেও বর্ধমান মডেল স্কুল ভালো পারফরমেন্স করবে।বর্ধমান মডেল স্কুলের হয়ে আজকের ম্যাচে আজ প্রথম একাদশ ছিল এই প্রকারঃ অরিত্র দাস, ঋদ্ধিমান হালদার (অধিনায়ক),অনীশ দাস মহাপাত্র (উইকেট রক্ষক), সমৃদ্ধা মন্ডল, অরিন্দম ভকত, আয়ুষ চট্টোপাধ্যায়, সোহম চক্রবর্তী, সেখ সাবিউদ্দিন, বানিব্রত রুদ্র, শিবম কুমার সিং, চন্দ্রজিৎ গোস্বামী।উল্লেখ্য, বর্ধমান শহরের ইংরাজি মাধ্যমের স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল এই টুর্নামেন্টে এর আগে টানা তিনটি খেলায় জয়লাভ করে। লিগ পর্যায়ের খেলায় বি গ্রুপের তিনটি দলের সাথেই তারা খুব সহজেই জয়লাভ করে।

এপ্রিল ০৮, ২০২৪
রাজনীতি

"রোদে এমন চেহারা হবে বাড়ির বউ চিনতে পারবে না", কেন বললেন দিলীপ ঘোষ

যারা কলকাতার বাইরে যায় না, তারা রাজনীতির কি বোঝে? যারা বলছে তারা একটু বাইরে বেরিয়ে দেখুক। রোদে এমন চেহারা হবে বাড়ির বউ চিনতে পারবে না। অনেকে সারা বছর স্টেটমেন্ট দেয়। আমি একবার দিলে তাদের বরাবর হয়ে যায়। আমি প্রেস মিট করি না, আমি ডিবেট শো তে যাই না। দিলীপ ঘোষ কি রাজনীতি করে এটা বাংলার মানুষ জানে। ওরাও আসুক। দেখা যাবে কাকে দেখতে লোক বেরোয়।তিনি আরও বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রীকে ফলো করি। সংস্কৃতে একটা কথা আছে মহাজনো যেন গতঃ সঃ পন্থাঃ। উনি নিজে, ওনার পার্টির নেতা, মন্ত্রী, আগে যারা নেতা ছিল, তাদের কমেন্টগুলো শুনুন। বাংলায় এটাই ট্রেন্ড। এটাই লোকে সহজে বোঝে। ওনারা যে এগুলো হজম করতে পারবেন না, ওদের যে হজম শক্তি এতো কম, এটা আমি জানতাম না।*ময়নাগুড়ি তে ত্রাণ নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠছে। কি বলবেন?সরকার ফুটো হয়ে গেছে। তারা ভালো হাঁড়ি দেবে কীভাবে? রাজ্যকে রেকর্ড টাকা দিয়েছি: মোদী। রাজ্য তো বলছে কেন্দ্র টাকা দেয় না।কেন্দ্র কি দিয়েছে সেটা ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন। এই সরকার সেই টাকা দিয়ে কি করছে সেটাও সিএজি রিপোর্টে পেয়ে যাবেন। ফলে মিথ্যা কথা বলে পার পাওয়া যাবে না। এমন ভাব করছে যেন টাকা ওখানে জমা রেখেছে। চাইলেই দিয়ে দেবে আর লুঠ করে খাবে। এই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অধিকার কেউ দেয়নি। বোস বনাম ব্রাত্য। বেশ বিতর্ক দেখা দিয়েছে।মজার ব্যাপার। এরা রাজ্যপালকে আর কমিশনকে গালাগাল দেবে। ওগুলো নাকি বিজেপি অফিস। আবার ঠেলায় পড়লে সকাল বিকেল এরা কাকা বা মেসোর বাড়ি দৌড়াবে। রাজ্যপালের সঙ্গে ভাব করলেন। অ আ ক খ শেখালেন। তারপর আবার সেটা মাটি হয়ে গেল। আবার সেটিং করলেন। গিয়ে চা খেলেন। আবার কি হল? আসলে আপনারা এমন লোক যে আপনাদের সঙ্গে কোনও ভদ্রলোক বেশিদিন থাকতে পারে না। রোজ ঝগড়া হবে। আবার ঠেলায় পড়লে দৌড়াবেন। এটাই দেখে আসছি আমরা। বাহিনী আরও ৩ মাস?আমরা বিধানসভার সময় একই দাবি জানিয়েছিলাম। ফল পাইনি। গুণ্ডারা ওপেন বেরিয়ে এসে খুন খারাপি করছিল। মানুষের মনে হয়েছে বাহিনী থাকলে কিছু করলেও করতে পারে। বাহিনী ব্যাবহার করে এখানকার পুলিশ। পুলিশের যেমন ভূমিকা বাহিনীর তাই-ই ভূমিকা হয়ে দাঁড়ায়। প্রশাসন না চাইলে কি ভাবে হিংসা বন্ধ হবে?আমি না থাকলেই সব বন্ধ: মুখ্যমন্ত্রী!উনি তো এটাও বলেছেন যে সব জায়গায় উনিই মুখ। ওনার মুখ মানে তো সন্দেশখালি। কেউ তো মুখ দেখতে চায় না। তাই ব্যান্ডেজ বেঁধে এদিক সেদিক ঘুরতে হয়। আমিও চলাসার ছবি দেখে চিনতে পারছি না। এটা পুরনো ছবি না নতুন ছবি। উনিও বুঝেছেন ছবি পাল্টাতে হবে। এই ছবি দিয়ে আর চলছে না। দেখা যাক ভোটের আগে আর কি কি হয়।ইউনিফর্ম সিভিল কোড নিয়ে আপত্তি মমতার। কেন এমব বলছেন?উনি বলেছিলেন জিএসটি করতে দেব না। শেষে মেনে নিলেন। দেখলেন লাভ পাচ্ছেন। উনি বলেছিলেন সিএএ করতে দেব না। এরকম উনি বলেন। উনি ওনার সরকারটাই ভালো করে চালাতে পারেন না। মানুষও আজকাল ওনার কথা সিরিয়াসলি নেয় না। গ্যারান্টি মোদী দেবেন। মোদীর গ্যারান্টি এখন দেশে চলছে। কাকে বিয়ে করতে হবে বিজেপি ঠিক করে দেবে নাকি? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন।যেটা উনি নিজের ক্ষেত্রে ব্যবহার করুন। যেটা উনি নিজে সারাজীবন ঠিক করতে পারেননি। সেটা ঠিক করতে হবে তো। বিজেপি কোনও ধর্মীয় বা ব্যাক্তিগত আক্রমণ করে না। উনি মিথ্যা বলে এতদিন লোক ক্ষেপিয়ে এসেছেন। এখন সেটা ধরা পরে গেছে। নওশাদ এর ইউ টার্ন। ফের বিতর্ক।এই সব সেটিং। শুধু ডায়লগ। লোকে এখন এদিক ওদিক তাকাচ্ছে না। গো স্ট্রেট। গো ফর বিজেপি।

এপ্রিল ০৫, ২০২৪
খেলার দুনিয়া

সিএবি-র টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচ জিতে নজির 'বর্ধমান মডেল স্কুলের'

ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল-র অনুর্ধ ১৫ ক্রিকেট খেলায় অনন্য নজির বর্ধমানের স্কুলের। বর্ধমান শহরের ইংরাজি মাধ্যমের স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল এই টুর্নামেন্টে টানা তিনটি খেলায় জয়লাভ করল। লিগ পর্যায়ের খেলায় বি গ্রুপের তিনটি দলের সাথেই তারা খুব সহজেই জয়লাভ করে।বৃহস্পতিবার বর্ধমানের মোহনবাগান মাঠে ডিপিএস বেলগ্রাম এর সাথে খেলায় ডিপিএস টসে জয়লাভ করে বর্ধমান মডেল স্কুল কে ব্যাট করতে পাঠায়। ২৫ ওভারের খেলায় ব্যাট করতে নেমে বর্ধমান মডেল স্কুল মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান করে। বর্ধমান মডেল স্কুলের ব্যাটার আরিত্র দাস ৬২ রান ও ব্যাটার অনিশ দাস মহাপাত্র ৫০ রান করেন।বর্ধমান মডেল স্কুল ১৫০ রান তারা করতে নেমে ডিপিএস বেলগ্রাম নির্ধারিত ২৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান করে। মডেল স্কুল -র বোলার সমৃদ্ধ মণ্ডল ২ উইকেট ও ডানহাতি লেগ স্পিনার আয়ুষ চট্টোপাধ্যায় ১ উইকেট তুলে নিয়ে মডেল স্কুল কে এই ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করে। এই ম্যাচে বর্ধমান মডেল স্কুল ৩ রানে জয়লাভ করে সিএবি অনুর্ধ-১৫ স্কুল ক্রিকেটে পরবর্তী পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল।এর আগে, ১লা এপ্রিল লিগের প্রথম খেলায় বর্ধমান মডেল স্কুল বর্ধমান টাউন স্কুল-কে বিশাল রানের ব্যবধানে (১৭৮ রানে) পরাজিত করে। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে বর্ধমান মডেল স্কুল ৮ উইকেট হারিয়ে ২২৬ রান (পেনাল্টি সহ) সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যট করতে নেমে টাউন স্কুল ২৫ ওভারে মাত্র ৪৮ রানে অলাউট হয়ে যায়। বর্ধমান মডেল স্কুলের অরিত্র দাস ৫টি ও ঋদ্ধিমান হালদার ৪টি উইকেট সংগ্রহ করে।২রা এপ্রিল লিগের অন্য এক খেলায় দুর্গাপুরের পিটার্স স্কুল টশে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। পিটার্স স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল এর বোলারদের বোলিঙের দাপটে ১০ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৫ রান সংগ্রহ করে। মডেল স্কুলের সেখ সাবিউদ্দিন ৫ ওভার বল করে মাত্র ১৭ রান দিয়ে তিনটি উইকেট সংগ্রহ করে। জবাবে বর্ধমান মডেল স্কুল ৬ ওভার ব্যাট করে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান সংগ্রহ করে নেয়।বর্ধমান মডেল স্কুল-র ক্রিকেট কোচ চিন্ময় পাঁজা জনতার কথা কে জানান, ছেলেরা অফ সিজিনে প্রচুর অনুশীলন করেছে, যার ফল তারা পেয়েছে। তিনি জানান, এই টুর্নামেন্টের জন্য তারা ফাইনাল পরীক্ষা পর থেকে টানা অনুশীলন করিয়েছেন। যদিও এপ্রিলের চড়া তাপে দুপুরে ক্রিকেট খেলাও খুব চাপের, সেকথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। চিন্ময় পাঁজা জানান, পরবর্তী পর্যায়ের খেলা আরো কঠিন হবে, তাই প্রস্তুতিও আরো বেশী নিতে হবে।

এপ্রিল ০৪, ২০২৪
উৎসব

বাংলায় ব্যতিক্রম: রাজ ঐতিহ্যের রীতি মেনে আজ, মঙ্গলবার রঙের উৎসবে মেতেছে বর্ধমান

দোল পূর্ণিমার দিন অর্থাৎ গতকাল, সোমবার সারা বাংলা রঙের উৎসবে মেতেছে। লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থীরা এই উৎসবের আবহে ভোট প্রচারও করেছেন। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিল একদা রাজাদের শহর বর্ধমান। ঐতিহ্যের পরম্পরা বজায় রেখে আজ, মঙ্গলবার রঙের উৎসবে মেতেছে বর্ধমান। অবশ্য হাল আমলের দুএকটি হাউসিং কমপ্লেক্সে ও কিছু কলা ও সংস্কৃতি শিক্ষাকেন্দ্র গতকাল সোমবার হোলি বা দোল পূর্ণিমা পালন করেছে। যা বর্ধমানের ঐতিহ্যের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।রাঢ়বঙ্গের অন্যতম প্রাচীন নগর বর্ধমানের বাসিন্দারা দোল উৎসব পালন করেন দোল পূর্ণিমার পরের দিন। রাজাদের আমল চলে গেলেও সেই রীতিনীতি মেনেই রঙের উৎসব পালন করে চলেছেন বর্ধমানবাসী। শুধু শহর বর্ধমান নয় সাবেকি রীতি মেনে অম্বিকা কালনা সহ আরও বেশ কয়েক জায়গায় আজ চলছে রঙের উৎসব।কথিত আছে বর্ধমানের মহারাজা বিজয় চাঁদ মহতাব এই প্রথা চালু করেন। প্রথম দিন অর্থাৎ দোল পূর্ণিমার দিনটি বর্ধমানের অধিষ্টাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলা দেবীর দোল। এও কথিত আছে বর্ধমানে দোল পূর্ণিমা তিথিটি হল কূল দেবতার দোল উৎসবের দিন। লক্ষ্মী নারায়ণ জিউ মন্দিরে দোল পালন হয়েছে গতকাল। সেদিন শুধুমাত্র দেব-দেবীর রাঙা চরণ আবির ও কুমকুমে চর্চিত হবে। সেই উপলক্ষে রাজবাড়ির অন্দর মহলে দোল খেলা হয়ে থাকে। পরের দিন অনুষ্ঠিত হবে সাধারণের রঙের উৎসব। সেই রীতির আজও চালু রয়েছে।

মার্চ ২৬, ২০২৪
রাজনীতি

দ্বিতীয় দফায় ৪ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে ঘটা করে সাংবাদিক বৈঠক সিপিএমের

প্রথম দফায় ১৭ আসনের পর দ্বিতীয় দফায় বামেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। মাত্র চারটি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয় শনিবার। এই ঘোষণা করা হয় ঘটা করে সাংবাদিক বৈঠক করে।এদিন, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান-দুর্গাপুর, বোলপুর এবং রানাঘাট কেন্দ্রের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান।একনজরে চার কেন্দ্রের বামেদের প্রার্থী?মুর্শিদাবাদ- মহঃ সেলিমবর্ধমান-দুর্গাপুর- ডঃ সুকৃতি ঘোষালবোলপুর- শ্যামলী প্রধানরানাঘাট- অলোকেশ ঘোষশনিবার যে চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে এঁরা সকলেই সিপিআইএম প্রার্থী। সবমিলিয়ে এখনও বামেরা ২১ আসনে প্রার্থী দিল। প্রথম দফার তালিকায় মতুন মুখ, অপেক্ষাকৃত নবীনদের উপর ভরসা রেখেছিল সিপিআইএম। তবে, দ্বিতীয় পর্বের তালিকায় তরুণ মুখ নেই।এরকম ধাপে ধাপে প্রার্থী ঘোষণা বামফ্রন্টে আগে খুব একটা ঘটেনি। তাহলে কী শরিকি চাপ, কংগ্রেস-আইএসএফের সঙ্গে আসন সমঝোতায় চাপে বামেরা? শনিবার প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গেই সব পক্ষের সহমতে না হওয়ার বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন বিমানবাবু। এ দিন বিমান বসু বলেছেন, সব কেন্দ্রের প্রার্থী নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে এখনও কিছু আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সেটি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে পারছি না। একটু সময় লাগবে।আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর, বেশ কয়েকটি আসন নিয়ে বাম শরিকদের সঙ্গে সিপিআইএমের ও কংগ্রেসের জট রয়েছে। যেমন, উত্তর চব্বিশ পরগণার বসিরহাট আসটির দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস৷ আবার ওই আসনে বরাবরই সিপিআই প্রার্থী দিয়েছে৷ কিন্তু, এবার বসিরহাটে প্রার্থী দিয়েছে সিপিআইএম। বসিরহাট লোকসভা আসনটি কংগ্রেসকে ছাড়া নিয়ে বামেদের মধ্যেও জটিলতা রয়েছে৷ সিপিআইএম চাইছে বসিরহাটের পরিবর্তে বনগাঁ কেন্দ্রটি কংগ্রেসকে ছাড়তে৷ পুরুলিয়া আসনে এবার কংগ্রেসের প্রার্থী নেপালদেব মাহাতো৷ এই আসনটিতে লড়াই করে ফরওয়ার্ড ব্লক। ফলে অসন্তোষ রয়েছে ফ্রন্ট শরিক দলের নেতৃত্বের। আইএসএফ-ও এমন বেশ কয়েকটি আসন দাবি করেছে যেগুলোতে ইতিমধ্যেই বাম বা কংগ্রেস প্রার্থী ঘোষণা করেছে বা করতে পারে। তাই এইসব জটিলতা মিটিয়েই বাকি কয়েকটি লোকসভা আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে চাইছে বামফ্রন্ট।আইএসএফ-এর সঙ্গে এখনও জোট হয়নি বলে এ দিন সাফ বলে দিয়েছেন বিমান বসু। তাঁর দাবি, আইএসএফের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত আমাদের কোনও বোঝাপড়া হয়নি। ওরা আন্তরিক থাকলে আলোচনা হবে। আলোচনা হলে আমরা সংবাদ মাধ্যমকে সব জানাব।

মার্চ ২৩, ২০২৪
রাজনীতি

বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী সুকৃতি ঘোষাল

শনিবার বামেদের দ্বিতীয় দফায় পার্থী ঘোষণা করা হল। বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) পার্থী করা হয় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ সুকৃতি ঘোষাল কে। বর্ধমান শহরেরই মানুষ সুকৃতি ঘোষাল, শহরের বোরহাট অঞ্চলে থাকেন ৬৩ বছর বয়সী সুকৃতি। পিতা: চিত্তরঞ্জন ঘোষাল।তিনি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজিতে এমএ ও পিএইচডি (MA, PhD , English)। হুগলীর রবীন্দ্র মহাবিদ্যালইয় ও হাওড়া বিজয়কৃষ্ণ গার্লস কলেজে অধ্যাপনা করেন এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। এবং ২০০২ থেকে ২০২০, মোট ১৮ বছর জেলার স্বনামন্য কলেজ বর্ধমান শহরে অবস্থিত মহারাজাধিরাজ উদয়চাঁদ মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন যা বর্ধমান উইমেন্স কলেজ নামে অধিক পরিচিত। সুকৃতি ঘোষাল ২০২০ সালে ওই পদ থেকে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ করেন। কিছু কাল রি-এমপ্লয়মেন্ট স্কিমের অধীনে হাওড়ায় নবগঠিত হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক (Register) হিসেবে কর্মপ্রদান করেন। বর্তমানে তিনি সেই পদ থেকেও অবসর গ্রহণ করেন।ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে সুকৃতি ঘোষালের বাম রাজনীতিতে প্রবেশ, পরে অধ্যাপক আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত হন, অবস্র কালে নতুন চিঠি পত্রিকার প্রকাশনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

মার্চ ২৩, ২০২৪
রাজ্য

বর্ধমানের নয়া জেলাশাসক কে রাধিকা আয়ার, আরও তিন জেলায় পরিবর্তন

নির্বাচন কমিশন রাজ্যের চার জেলায় নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করল। মুখ্যসচিব বিপি গোপালিকাকে চিঠি দিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূমের জেলাশাসক পদে চার জনের নাম অনুমোদন করল কমিশন। বৃস্পতিবার ওই চার জেলার জেলাশাসককে পদ থেকে সরায় নির্বাচন কমিশন।২০১০ ব্যাচের আইএএস জয়শী দাশগুপ্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নতুন জেলাশাসক হলেন। ঝাড়গ্রামের নতুন জেলাশাসক পদে বসানো হয়েছে মৌমিতা গোদারা বসুকে। মৌমিতা ২০০৭ ব্যাচের আইএএস। পূর্ব বর্ধমান জেলায় কে রাধিকা আয়ারের নাম জেলাশাসক হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে, এবং বীরভূমে শশাঙ্ক শেঠিকে নতুন জেলাশাসক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাধিকা ২০১১ এবং শশাঙ্ক ২০১০ ব্যাচের আইএস। চার নয়া জেলাশাসকই পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের এবং তারা প্রত্যকেই একাধিক বার জেলাশাসকের দায়িত্বভার পালন করেছেন। কমিশন নির্দেশ দিয়েছেন, আগামিকাল, শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে নবনিযুক্ত জেলাশাসকদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে কমিশনকে জানাতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে।বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম ও ঝাড়গ্রামের জেলাশাসকদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেয় কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, ওই চার জেলার জেলাশাসকেরা কেউই আইএএস ক্যাডারের অফিসার নন। ৪ জনই ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক। সেই কারণেই তাঁদের জেলাশাসক পদ থেকে সরানো হয়েছে। এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দেয় পশ্চিমবঙ্গের সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) আধিকারিকদের সংগঠন। সেই আবেদনে চার জেলার জেলাশাসকের অপসারণের যে কারণ নির্বাচন কমিশন দেখিয়েছেন সেই বিষয়ে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) আধিকারিকদের সংগঠন দাবি করেছে এই অপসারণ বৈষম্যমূলক। তাঁদের বক্তব্য যে কারণ দেখিয়ে ওই চার জেলার জেলাশাসকদের অপসারণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং আধিকারিকদের আবেগ, নীতিতে ধাক্কা দিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

মার্চ ২২, ২০২৪
রাজ্য

বর্ধমানের ছোট রাজকুমারের প্রয়াণে শোকের ছায়া

প্রয়াত প্রণয়চাঁদ মহাতাব। তিনি বর্ধমানের ছোট রাজকুমার নামেই অধিক পরিচিত। মৃত্যুর সময় বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতার আলিপুরের ডায়মণ্ড হারবার রোডের বিজয় মঞ্জিলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে রাজকুমারের শেষকৃত্য হয়। প্রণয়চাঁদ মহতাবের প্রয়াণে বর্ধমানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শোকসভা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।জানা গিয়েছে, ১৯৪০ সালের ১৭ এপ্রিল বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন প্রণয়চাঁদ। জমিদারি প্রথা বিলোপ হয়ে যাওয়ার পরে প্রণয়চাঁদের বাবা উদয়চাঁদ তিন সন্তান নিয়ে বর্ধমান ছাড়েন। দার্জিলিংয়ের দুন স্কুলে পড়াশোনা করতেন ছোট রাজকুমার। জানা গিয়েছে, তারপর ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন থেকে স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিসে ডক্টরেট করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি বিয়ে করেন নন্দিনী মহতাবকে। তাঁদের একমাত্র ছেলে অজয়চাঁদ একটি বহুজাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিক হয়ে আমেরিকায় রয়েছেন।বর্ধমানের লক্ষী নারায়ণ জিউ মন্দির, সোনার কালী, বিজয় বিহার, রাধা বল্লভ মন্দির ছাড়াও জামালপুর, কালনা, পূর্ব মেদিনীপুরে বেশ কিছু মন্দিরের দায়িত্বে রয়েছে মহতাব ট্রাষ্ট। বর্ধমানে ছোট রাজকুমার বা রানী এলে তাঁরা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউ মন্দিরের দোতলায় থাকতেন। শহরের কোন নামীদামী হোটেলে থাকতেন না।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪
নিবন্ধ

রাজ্য স্তরে সন্মানিত বর্ধমানের নাট্যদলের নাটক 'ভৌতিক'

নাটকে অবদানের জন্য বিভিন্ন বিভাগে নাট্য একাডেমির তরফে পুরষ্কার প্রদান করা হয়। শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটকের শিরোপা পেলো পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের ময়না অন্যভবনা নাট্য ও সংস্কৃত চর্চার প্রযোজনা ভৌতিক। পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাডেমী পুরস্কার ২০২৪- সম্মানে ভূষিত হলো ময়না অন্যভাবনার শত-রজনী মঞ্চায়ন অতিক্রান্ত এই নাটক। ভৌতিক নাটকটি রচনা করেন সৌমিত্র বসু এবং নাটকটির নির্দেশনা দেন প্রখ্যাত নাট্যকার স্বরাজ ঘোষ। ভৌতিক নাটকটি-কে ১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার কলকাতার শিশির মঞ্চে সম্মানিত করা হলো। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী তথা বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ব্রাত্য বসু, পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাডেমীর সভাপতি, অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদার, নাট্য একাডেমীর সদস্যা অর্পিতা ঘোষ, সদস্য সচিব দেবকুমার হাজরা, পশ্চিমবঙ্গের সেচ ও জলসম্পদ মন্ত্রী তথা নাট্য ব্যক্তিত্ব পার্থ ভৌমিক প্রমুখ। রাজধানী শহর দিল্লি সহ পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলায় একাধিক বার এই নাটক মঞ্চস্থ ও সমাদৃত হয়েছে। বেশ কিছু প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চেও পুরস্কৃত হয়েছে ভৌতিক নাটকটি।রেলপথে বর্ধমান-হাওড়া কর্ড লাইনের নবগ্রাম স্টেশনের পাশে এক ছোট্ট গ্রামের নাট্য দল ময়না অন্য ভাবনা কয়েকদিন আগেই মহাসমারোহে শততম দিনের নাটক উপস্থাপনা করলো বর্ধমান শহরের সংস্কৃতির প্রানকেন্দ্র সংস্কৃতি লোকমঞ্চে। সেদিন তাঁদের প্রযোজনা সত্যিই মুগ্ধ করে দেয় উপস্থিত দর্শকদের। এক গা ছমছম মঞ্চ সজ্জা দেখে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জেগেছিল হয়ত বা কোনও গায়ে কাঁটা দেওয়া ভুতের কাহিনী নিয়ে আবর্তিত হবে এদিনের নাটক।ময়না অন্য ভাবনার ভোতিক নাটকটি রচনা করেন সৌমিত্র বসু, নির্দেশনা স্বরাজ ঘোষের। এই নাটকের উৎস জানতে চাইলে, ভৌতিক নাটকের মূল চরিত্র ভুতের ভূমিকার অভিনেতা সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় জনতার কথা কে জানান, তাঁরা দূরদর্শনে একটি নাট্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, সেখানে তাঁরা প্রথম স্থান লাভ করেন। গ্রাম থেকে আসা একদল তরুণ ছেলের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে সেই প্রতিযোগিতার বিচারক সৌমিত্র বসু তাঁদের তাঁর লেখা ভৌতিক নাটকটি মঞ্চস্থ করার জন্য দেন।তাঁদের দলের প্রান ভোমরা সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, ২০১৭ সালে ময়না অন্য ভাবনা সৃষ্টি হয়। অনেকের আমাদের কাছে দাবী ছিল করলে ভালো কিছু কর, নাহলে বন্ধ করে দাও। সেই ভালো করে করার জেদ থেকেই অন্য ভাবনার যাত্রা শুরু। তিনি জানান ভৌতিক ছাড়াও তাঁদের এই মুহুর্তে তিনটি নাটক চলছে, যথাক্রমে প্রতিঘাত, আযান্ত্রিক, ও কর্মফল। তিনি জানান তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের সবকটি জেলা সহ রাজধানী শহর দিল্লীতেও ভৌতিক নাটকটি মঞ্চস্থ করেছেন। তিনি আরও জানান, নাটককে ভালোবেসে আমরা নাটক করি। নাটক থেকে কোনও আয় আমরা করিনা। আমদের প্রত্যকেই কিছু না কিছু কাজ করি, সেখান থেকে সময় বার করেই আমাদের নাট্য চর্চা।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৪
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে ঢুকল ২০০ কিমি বেগে গাড়ি! মাথায় আঘাত মমতার

বুধবার বর্ধমানের সভা সেরে সড়কপথে কলকাতায় আসার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি। চোট পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্ধ্যায় রাজ্যপালের সহ্গে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত করেছেন। দাবি করেন, যে ভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তাতে তাঁর মৃত্যুও হতে পারত! মমতা জানান, একটি গাড়ি ২০০ কিলোমিটার বেগে তাঁর কনভয়ে ঢুকে পড়েছিল। যে কারণে তাঁর গাড়ির চালক জোরে ব্রেক কষেন। তাতেই তাঁর মাথায় আঘাত লেগেছে।আঘাতের কারণে বর্তমানে তাঁর শীতকরছে, মাথাও ব্যথা করছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী। জ্বর আসতে পারে বলে আশঙ্কা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।কীভাবে আঘাত পেলেন তিনি? কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, জানি না ঠিক কী হল। আমরা একটা গলি দিয়ে বেরচ্ছি। সামনে একটা গাড়ি প্রায় ২০০ স্পিডে যাচ্ছে। পুরো মরেই যেতাম। যে ড্রাইভার ছিল, ও সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক কষে। তখন ড্যাশবোর্ডটা আমার মাথায় এসে লাগে। রক্তও বেরিয়েছিল। তাই নিয়ে কাজ করে গেলাম।দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর গাড়ির কাচটা খোলা ছিল তাঁর। জনসংযোগের জন্যই ওই কাচ খোলা রেখেছিলেন তিনি। বলেন, যদি কাচটা বন্ধ থাকত তাহলে কাচ-ড্যাশবোর্ড সব শুদ্ধ আমার সারা শরীরের ওপর পড়ত। মানুষের আশীর্বাদে বেঁচেছি।শেষে তিনি বলে যান, আমার মাথা টনটন করছে। গা বমি বমি করছে। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি।ওই গাড়িতে কে ছিলেন? তা জানেন না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, আইন আইনের পথে চলবে। পুলিশ সবটা দেখছে।বুধবার কলকাতা থেকে হেলিকপ্টারে বর্ধমানে গিয়ে প্রশাসনিক সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ফেরার পথে আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় আর কপ্টারে নয়, গাড়িতে চেপে কলকতার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। সড়ক পথে ফেরার পথেই চোট পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি জিটি রোডে ওঠার সময়ে চালক আচমকা জোরে ব্রেক কষেন। তাতেই মুখ্যমন্ত্রীর কপাল গাড়ির উইন্ড স্ক্রিনে ঠুকে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে অন্য একটি গাড়ি ঢুকে পড়াতেই এই বিপত্তি বলে সেই সময়ই জানা গিয়েছিল।

জানুয়ারি ২৪, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 41
  • 42
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ইটাহারের বিডিওর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ বিজেপির; পাল্টা অভিযোগ বিডিওর

উত্তর দিনাজপুর: ইটাহার ব্লকের বিডিও দিব্যেন্দু সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, সরকারি কাজের আড়ালে ব্যক্তিগত খরচের বিল সরকারি খাতে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। পাশাপাশি নিরপেক্ষ অডিট ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে দল।বিজেপির অভিযোগ, ২০২৪ সালে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার নির্মাণ ও সংস্কারের বিভিন্ন কাজের জন্য এক ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দলের দাবি, সরকারি টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে কিছু কাজ হলেও, তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেনের কার্যালয়ের সৌন্দর্যায়ন এবং বিডিওর ব্যক্তিগত কিছু কাজ সরকারি নিয়ম না মেনে মৌখিক নির্দেশে করানো হয়।অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, খাসির মাংস, বাড়ির রাঁধুনি ও গৃহকর্মীর বেতন, ট্রলিব্যাগ, এমনকি বাড়ির ছাদের দোলনার খরচও সরকারি বিল হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা সরকারি অর্থের চরম অপব্যবহারের নজির হতে পারে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।বুধবার বিকেলে বিজেপি নেতা নিমাই সিংহের নেতৃত্বে দলের এক প্রতিনিধি দল এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার হুমায়ুন রহমান ইটাহার বিডিও অফিসে গিয়ে বকেয়া বিল মেটানোর দাবি জানান। অভিযোগ, এ নিয়ে বিডিওর সঙ্গে বচসা শুরু হয়। বিজেপি কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে লাইভ সম্প্রচার শুরু করলে বিডিও আপত্তি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এরপর ঠিকাদার হুমায়ুন রহমান ও বিজেপি নেতারা ইটাহার থানায় বিডিওর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।ঠিকাদার হুমায়ুন রহমানের দাবি, আমি লক্ষ লক্ষ টাকার কাজ করেছি। কিন্তু এখন বিডিও সমস্ত কাজ অস্বীকার করছেন এবং বিল মেটাতে অস্বীকার করছেন। তাই বাধ্য হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিডিও দিব্যেন্দু সরকার। তাঁর বক্তব্য, সরকারি কোনও কাজই মৌখিক নির্দেশে করা হয় না। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ভুয়ো বিল জমা দিয়ে বৈধ নথি ছাড়াই টাকা দাবি করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তাঁকে তিন বছরের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করার সুপারিশ করেছি।ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আর্থিক নিরীক্ষার দাবি উঠেছে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের পরই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে।

আগস্ট ০১, ২০২৬
কলকাতা

বড় সিদ্ধান্ত, ছাব্বিশ অগস্টের মধ্যে খালি করতে হবে ময়দান মার্কেট! এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পে নতুন নির্দেশ

এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত শেষ করতে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ময়দান মার্কেটের পাঁচশো আটাশ জন ব্যবসায়ীকে আগামী ছাব্বিশ অগস্টের মধ্যে দোকান খালি করে অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পূর্ত দফতরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই নোটিস জারি করা হয়েছে (Dharmatala)।জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড (Dharmatala) পর্যন্ত মেট্রো প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল এসপ্ল্যানেড স্টেশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই স্টেশনটি তৈরি হবে বর্তমান ময়দান মার্কেটের নিচে। সেই কারণেই নির্মাণকাজ শুরু করার আগে পুরো বাজার এলাকা খালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যবসায়ীদের সাময়িকভাবে কলকাতা পুলিশের মাউন্টেড প্যাডক মাঠে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।এই বাজার স্থানান্তর নিয়ে অতীতে একাধিকবার বিতর্ক ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ স্থানান্তরে সম্মতি জানিয়েছেন। এবার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রশাসন নির্মাণকাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে (Dharmatala)।এদিকে জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে (Dharmatala)। ভিক্টোরিয়া স্টেশনের নির্মাণকাজ জোরকদমে চলছে। টানেল বোরিং যন্ত্র ইতিমধ্যেই ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। ফলে এসপ্ল্যানেড স্টেশনের কাজও দ্রুত শুরু করতে চাইছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজার খালি হলে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ শুরু করা আরও সহজ হবে বলে প্রশাসনের আশা।

আগস্ট ০১, ২০২৬
কলকাতা

আজ থেকেই শুরু ডিজিটাল জনগণনা! মাত্র দশ মিনিটে ঘরে বসেই করুন কাজ, জানুন পুরো নিয়ম

রাজ্যজুড়ে আজ থেকে শুরু হল ষোড়শ জনগণনার কাজ। এবার প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা হচ্ছে। পাশাপাশি চালু হয়েছে স্বগণনার সুবিধাও। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ চাইলে নিজেরাই অনলাইনে তথ্য জমা দিতে পারবেন। শনিবার নবান্নে বসে নিজেই অনলাইনে স্বগণনা সম্পন্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সকলকে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের জনগণনার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থা এবং স্বগণনার সুযোগ। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ চাইলে নিজেরাই অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনকল্যাণ এবং উন্নত ভারতের লক্ষ্য পূরণে এই আধুনিক জনগণনাকে সফল করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, জনগণনার কাজে রাজ্যজুড়ে তিন হাজার চারশো জন সুপারভাইজার এবং মোট চৌদ্দ হাজার তিনশো নিরানব্বই জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তবে যাঁরা অনলাইনে আবেদন করবেন, তাঁরা বাড়ির তথ্যের পাশাপাশি পরিবারের তথ্যও নিজেরাই জমা দিতে পারবেন।এই জনগণনায় অনলাইনে মোট চৌত্রিশটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। বাড়ি এবং পরিবারের বিভিন্ন তথ্য জমা দেওয়ার জন্য বিশেষ পোর্টাল চালু করা হয়েছে। সেখানে খুব অল্প সময়েই ফর্ম পূরণ করা সম্ভব।স্বগণনার প্রথম পর্ব চলবে পনেরোই আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ষোলোই আগস্ট থেকে চৌদ্দই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে আগামী আটাশে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সরকার আশা করছে, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে জনগণনার কাজ আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নির্ভুল হবে।

আগস্ট ০১, ২০২৬
রাজ্য

আজ থেকে আর আধার বা ভোটার কার্ড নয়! সরকারি বাসে ফ্রি যাতায়াতের জন্য বাধ্যতামূলক এই নতুন কার্ড

আজ থেকে রাজ্যে চালু হল মহিলাদের জন্য বিশেষ গোলাপি কার্ড। সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে এখন থেকে এই কার্ড দেখাতে হবে। গত পয়লা জুন থেকে রাজ্যের মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে ভ্রমণের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। এতদিন পর্যন্ত আধার কার্ড বা ভোটার পরিচয়পত্র দেখিয়ে সেই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছিল। তবে আজ থেকে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে গোলাপি কার্ডই হবে প্রধান পরিচয়পত্র।রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শহর, শহরতলি এবং দূরপাল্লার সরকারি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও সাধারণ সব বাসেই এই সুবিধা মিলবে। পরিবহণ দপ্তর জানিয়েছে, গোলাপি কার্ডের জন্য অনলাইন এবং অফলাইনদুই পদ্ধতিতেই আবেদন করা যাবে।অনলাইনে আবেদন করতে হলে প্রথমে রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে গোলাপি কার্ডের আবেদন লিঙ্কে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে নিজের নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে আবেদন জমা দিলেই একটি রসিদ পাওয়া যাবে। সেই রসিদ সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।আবেদনের জন্য প্রয়োজন হবে আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম থাকার প্রমাণ, স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র, এক কপি পাসপোর্ট মাপের ছবি এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর।যাঁরা অফলাইনে আবেদন করতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের বিডিও কার্যালয়ে এবং পুরসভা এলাকার বাসিন্দাদের সংশ্লিষ্ট পুরসভায় গিয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। সমস্ত নথি যাচাইয়ের পর আবেদনকারীর হাতে গোলাপি কার্ড তুলে দেওয়া হবে।পরিবহণ দপ্তরের আশা, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে মহিলাদের বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ হবে।

আগস্ট ০১, ২০২৬
দেশ

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, শেষমেশ কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা! ভাইরাল ভিডিওতে কী বললেন তরুণী?

দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে আলোচনায় উঠে আসা এক তরুণীর একটি ভিডিও এখন সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে তাঁকে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা যাচ্ছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।পুলিশের দায়ের করা শূন্য নম্বর এফআইআরে ওই তরুণীর বয়স পঁচিশ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভাইরাল ভিডিওতে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বয়স মাত্র পনেরো বছর। তিনি বলেন, কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কনট প্লেস থেকে যন্তর মন্তরের আন্দোলনে গিয়েছিলেন। সেখানে আশপাশের মানুষের বক্তব্যে প্রভাবিত হয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।ভিডিওতে ওই তরুণী বলেন, তিনি বড় ভুল করেছেন এবং তাঁর মন্তব্য ক্ষমার অযোগ্য। তিনি গোটা দেশের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানান, এই ভুল আর কোনও দিন করবেন না। নিজের আচরণের জন্য তিনি লজ্জিত বলেও দাবি করেন।এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় কয়েকজন তাঁর এবং তাঁর মাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে তিনি তাঁদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর কাছে আবেদন জানান, তরুণ প্রজন্মকে শুধুমাত্র শাস্তি নয়, সঠিক পথও দেখানো উচিত।উল্লেখ্য, গত তেইশে জুলাইয়ের বিক্ষোভে আপত্তিকর স্লোগান ও মন্তব্যের অভিযোগে ঊনত্রিশে জুলাই নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ে থানায় শূন্য নম্বর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। ভাইরাল ভিডিও এবং তরুণীর দাবির সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

আগস্ট ০১, ২০২৬
রাজ্য

ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার অর্পিতা! হামিমের গোপন চক্রে নতুন বিস্ফোরক মোড়

জঙ্গি সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনী। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে অর্পিতা সরকার নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামিমের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।তদন্তকারী সূত্রের দাবি, হামিমের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখে অর্পিতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। হোয়াটসঅ্যাপে তাঁদের একাধিক কথোপকথনের তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে দাবি। সেই সূত্র ধরেই অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, হামিম বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। সেই কাজে অর্পিতাকে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তবে এই সমস্ত তথ্য এখনও তদন্তাধীন এবং সরকারি ভাবে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামিমের পরিবারের আদি বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর এলাকায়। পরে তার পরিবার হাওড়ার পিলখানায় বসবাস শুরু করে। কয়েক মাস আগে তারা বর্ধমানের একটি আবাসনে ভাড়া থাকতে শুরু করে। সেখান থেকেই হামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর আবাসনের বাসিন্দারা জানান, তাঁরা কখনও বুঝতেই পারেননি তাঁদের পাশেই এমন একজন থাকতেন, যাকে নিয়ে এত বড় তদন্ত চলছে।এসটিএফ এখন হামিম, অর্পিতা এবং তাঁদের সম্ভাব্য যোগাযোগের পুরো নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, চ্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত একাধিক বিষয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলে তদন্তকারী মহলের বক্তব্য।

আগস্ট ০১, ২০২৬
কলকাতা

আজ থেকেই স্কুলে বড় বদল! পড়ুয়াদের পাতে নতুন খাবার, নিজেই রান্নাঘরে মুখ্যমন্ত্রী

আজ থেকে সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য নতুনভাবে মিড ডে মিল সরবরাহ শুরু হল। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী পাইলট প্রকল্পের আওতায় বড় রান্নাঘরের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনের আগে যজ্ঞে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং প্রতীকীভাবে খাবার তৈরির কাজেও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকেরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকটি স্কুলের পড়ুয়ারাও উপস্থিত ছিল। পরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য বৈদ্যুতিক গাড়িরও উদ্বোধন করা হয়।অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আজ থেকেই সরকারি স্কুলে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগের ফলে স্বাস্থ্যসম্মত, পরিচ্ছন্ন এবং উন্নত মানের খাবার পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের স্কুলমুখী করা এবং তাদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখেই বহু বছর আগে মিড ডে মিল প্রকল্প চালু হয়েছিল। বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় সেই উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হচ্ছে।সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আধুনিক রান্নাঘরে তৈরি খাবার বৈদ্যুতিক গাড়িতে করে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিটি খাবারের পাত্র সিল করা থাকবে যাতে খাবারের মান ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। স্কুলে পৌঁছে কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সেই সিল খোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার কাছে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মিড ডে মিলের বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।মিড ডে মিল নিয়ে সমালোচনার জবাবও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমালোচনা থাকবেই। তবে সরকারের লক্ষ্য পড়ুয়াদের উন্নত মানের খাবার পৌঁছে দেওয়া। তিনি আরও জানান, অন্যান্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা খতিয়ে দেখে রাজ্যের স্কুলগুলিতেও সপ্তাহে দুই দিন ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মিড ডে মিল প্রকল্পে যুক্ত রাঁধুনিদের নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাঁধুনি কাজ হারাবেন না। নতুন ব্যবস্থাতেও তাঁদের যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি তাঁদের মাসিক সম্মানী দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আগস্ট ০১, ২০২৬
কলকাতা

বিশ বছর পর কলকাতায় ফিরেই আবেগে ভাসলেন তসলিমা! বললেন, ‘মনে হচ্ছে নিজের দেশেই ফিরেছি’

প্রায় দুই দশক পর আবার কলকাতায় ফিরলেন বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘদিন পর এই শহরে পা রেখে নিজের আবেগ লুকিয়ে রাখতে পারেননি তিনি। বিমানবন্দরে পৌঁছেই জানান, কলকাতায় ফিরে তাঁর মনে হচ্ছে যেন নিজের দেশেই ফিরে এসেছেন। বহু বছর পর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে সাহিত্য মহলেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।কলকাতায় এসে তসলিমা বলেন, তিনি বাংলা ভাষা এবং এই শহরের টানেই একসময় এখানে থাকতে এসেছিলেন। ইউরোপের স্বচ্ছন্দ জীবন ছেড়ে বাংলা ভাষার জন্যই কলকাতাকে বেছে নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি এবং এই শহরের মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।বাংলাদেশে ফিরতে না পারার কষ্টের কথাও তুলে ধরেন তসলিমা। তিনি বলেন, নিজের দেশে ফিরতে না পারার যন্ত্রণা কিছুটা কমে যায় যখন তিনি পশ্চিমবঙ্গে আসেন। তাঁর অনুভূতি, বাংলার এই অংশে এলেই মনে হয় তিনি নিজের মাটির কাছাকাছি চলে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর কলকাতায় ফিরে সেই অনুভূতিই আবার নতুন করে ফিরে এসেছে বলে জানান তিনি।দুই হাজার সাত সালে তাঁর লেখা একটি বইকে ঘিরে বিতর্কের পর কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তসলিমাকে। সেই সময়কার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাঁকে অস্থায়ীভাবে অন্যত্র যাওয়ার কথা বলা হলেও পরে আর কলকাতায় ফিরে আসার সুযোগ পাননি। সেই সময়ের নানা কঠিন অভিজ্ঞতা আজও তাঁর মনে দাগ কেটে রয়েছে। তবে অতীতের সেই কষ্টের স্মৃতি আর মনে করতে চান না বলেও জানিয়েছেন তিনি।দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কলকাতায় ফিরে তসলিমার এই সফর ঘিরে সাহিত্যপ্রেমী এবং পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আগস্ট ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal