• ২ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bardhaman

রাজ্য

বর্ধমানে রবিবার জনসভা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের, সংগঠন মজবুত করার ওপর জোর

মধ্যবঙ্গ সফরে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। শুক্রবার বর্ধমান শহরের উল্লাসে আরএসএস মধ্যবঙ্গ প্রান্তের কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন মোহন ভাগবত। আগামিকাল তালিত সাঁই কমপ্লেক্সে জনসভা করবেন আরএসএস প্রধান। তাঁর এই জনসভার দিকে নজর রয়েছে প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক মহলের। মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন জনসভা প্রথমে পুলিশ প্রশাসনের অনুমোদন পায়নি। শর্ত সাপেক্ষে এই জনসভা করার অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট।সামনেই ২০২৬ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ১০ দিনের বাংলা সফরে এসেছেন মোহন ভাগবত। বিগত কয়েকদিন ধরেই পুরনো সংঘ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের পর এবার মধ্যবঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করছেন মোহন ভাগবত। গ্রামীণ ক্ষেত্রে সংগঠন মজবুত করে উদ্যোগী সংঘ। একই সঙ্গে পুরসভায় ওয়ার্ড ভিত্তিক ইউনিট গড়র পরিকল্পনা নিয়েছে আরএসএস।বিগত কয়েক মাস ধরেই উত্তপ্ত বাংলাদেশ। সেখানে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের ওপর অত্য়াচার করা হচ্ছে। সেই আবহে বাংলা সফর করছেন মোহন ভাগবত। বাংলায় কি প্রতিক্রিয়া তা পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। জনসভায় মোহন ভাগবত বাংলাদেশ ইস্যু নিয়ে কোনও বক্তব্য় রাখেন কিনা, সেদিকে নজর রয়েছে অভিজ্ঞ মহলের।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৫
রাজ্য

পেনের ঢাকনা গিলে শিশুর জীবন সংশয়, প্রাণরক্ষা করলেন বর্ধমান হাসপাতালের চিকিৎসকরা

খেলতে গিয়ে পেনের বড় ঢাকনা গিলে বড় বিপদে পড়েছিল বছর সাতের শিশু। হুগলির দেবখন্ডের বাবুলাল হোসনের ফুসফুসের বা দিকে আটকে যায় পেনের ঢাকনাটা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় আরামবাগ হাসপাতালে। সেখান থেকে আনা হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করে মুশকিল আসান করেন চিকিৎসকরা। পাণে রক্ষা পায় শিশুটি।শিশুটির ফুসশুসের পাশে পেনের ঢাকনা আটকে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নেজাল এন্ডোস্কোপির সাহায্য় নেন চিকিৎসকরা। বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে সেই পেনের ঢাকনা শিশুর গলা থেকে বের করে শিশুটির প্রাণ রক্ষা করলেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের চিকিৎসকরা। শিশুটি এখন বিপন্মুক্ত।বর্ধমান হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় শিশুর বাম ফুসফুস ক্রমশই অকেজো হয়ে পড়ছিল। তাঁরা প্রথম ব্রঙ্কোস্কোপি করেন। কিন্তু পেনের ঢাকনাটি আকারে বড় হওয়ায় এটি বেরিয়ে আসেনি। এরপর তাঁরা ট্র্যাকিওস্টোমি করেন এবং ট্র্যাকিওস্টোমির মাধ্যমে অনুনাসিক এণ্ডোস্কোপি এবং এফ.বি. অপসারণ পদ্ধতিতে ঢাকনাটি বার করে আনতে সক্ষম হন। বর্তমানে শিশুটি বিপদমুক্ত এবং সুস্থ রয়েছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।হাসপাতালের সুপার ডাক্তার তাপস ঘোষ জানিয়েছেন, পেনের ঢাকনাটি শিশুটির ফুসফুসে যে ভাবে আটকে ছিল তাতে তার জীবন সংশয় হতে পারত। ফুসফুস ওপেন করে অপারেশন না করে গলায় একটি ছোট ছিদ্র করে বিকল্প পদ্ধতিতে অপারেশন করে পেনের ঢাকনাটি বার করেছেন চিকিৎসকরা। তিনজন শল্যচিকিৎসক এবং দুজন অজ্ঞান করার চিকিৎসক মিলে এই কাজটি করেছেন। এই অভিজ্ঞতার কথা আরও ছড়িয়ে দিয়ে আরও জীবন বাঁচানো সম্ভব বলে তাঁদের ধারণা।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৫
রাজ্য

ভয়ংকর বিস্ফোরণ কেতুগ্রামে, উড়লো ছাদ - ভাঙলো ইটের দেওয়াল

গুলি, বিষ্ফোরণের পালা চলছে। এবার ভয়ংকর বিস্ফোরণ পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের চেঁচুড়া গ্রামে। বিস্ফোরণে উড়ে গেল পরিত্যক্ত বাড়ির শৌচাগারের কংক্রিটের ছাদ। গুড়িয়ে গিয়েছে শৌচাগারের ইটের দেওয়ালের একাংশ। গতকাল, রবিবার সন্ধ্যায় এই বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে চেঁচুড়া গ্রামে। খবর পেয়ে কেতুগ্রাম থানার আই সি ও কাটোয়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক কিশিনাথ মিস্ত্রির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে যায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কেউ গোপনে ওই পরিত্যক্ত বাড়ির শৌচাগারে প্রচুর বোমা বা বিস্ফোরক পদার্থ মজুত করে রেখেছিল। কারা কি উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত ওই শৌচাগার শক্তিশালী বোমা মজুত রেখেছিল তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে । উল্লেখ্য, দুদিন আগে কল্যাণীতে বেআইনি বাজির কারখানায় বিষ্ফোরণে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যে বাড়ির শৌচাগারে এদিন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে সেই বাড়িতে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কেউ থাকেন না। বাড়ির মালিকরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। বছরে একবার তাঁরা আসেন। ঘটনাস্থল মুর্শিদাবাদের বর্ডার সংলগ্ন। ঘটনাস্থলের আশপাশের বাড়ির বাসিন্দারা বলেন, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে তাঁদের বাড়ি পর্যন্ত কেপে উঠেছিল। তাই ঘটনার পর থেকেই চরম আতঙ্কে তটস্থ ঘুম ছুটেছে চেঁচুড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের।বিগত লোকসভা ভোটের আগের রাতেই বাইকে চড়ে বাড়ি ফেরার সময় দুস্কৃতি হামলায় খুন হন চেঁচুড়ি গ্রামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি মিন্টু শেখ। বোমা মেরে ও কুপিয়ে তাঁকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছিল। ওই হামলায় মিন্টুর এক সঙ্গী মিশির শেখ ওরফে নজরুল ইসলাম গুরুতর জখম হয়েছিল। আজও ওই খুনের হামলাকারী দুস্কৃতীদের নাগাল পায়নি পুলিশ। সেই আতঙ্ক আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি চেঁচুড়ি গ্রামবাসী। তারই মাঝে ভয়ংকর বিস্ফোরণে একটা পরিত্যক্ত বাড়ির শৌচাগারের কংক্রিটের ছাদ উড়ে যাওয়ার ঘটনায় সিঁদূরে মেঘ দেখছে গ্রামবাসীরা।কাটোয়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) কাশিনাথ মিস্ত্রি জানিয়েছেন,ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। যে বাড়ির শৌচাগারে বিস্ফোরণ ঘটেছে ওটি পোড়ো বাড়ি। ১৫-১৬ বছর ধরে ওই বাড়িতে কেউ থাকেন না। আমারা সুয়োমোটো মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি ।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৫
রাজ্য

সরকারি উদ্যোগে বর্ধমানে শুরু 'সাঁওতালি' ভাষায় একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতা

দেশের বৃহত্তম ভাষার অন্যতম বাংলা ভাষা যখন ইংরাজি ও হিন্দির চাপে এক সন্মিলিত ভাষায় পরিণত হওয়ার প্রহর গুনছে, ঠিক সেই সময় সাঁওতালি ভাষায় একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা সত্যিই প্রশংসনীয়। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগর উদ্যোগে পূর্ব বর্ধমান জেলা অনগ্রসর শ্রেণী উন্নয়ন দপ্তরের তত্ত্বাবধানে পূর্ব বর্ধমান জেলায় বর্ধমান শহরের অদূরে দেওয়ানদিঘী প্রীতিলতা মঞ্চে মহাসমারোহে শুরু হল তিনদিন ব্যাপী ৩০তম আদিভাষায় জেলা ও আঞ্চলিক স্তরের আদিবাসী একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতা। বুধবার দেওয়ানদিঘীর প্রীতিলতা মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সহকারি সভাধিপতি গার্গী নাহা, ও কর্মাধ্যক্ষ মিঠু মাঝি। উপস্থিত ছিলেন জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) প্রতীক সিং (আইএএস), সদর উত্তর মহুকুমাশাসক তির্থঙ্কর বিশ্বাস, পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু টুডু। উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারপার্সন কাকলি তা গুপ্ত, স্থানীয় ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক রজনীশ কুমার যাদব সহ আরও বিশিষ্ট মানুষজন।এই সুবিশাল কর্মকান্ডের প্রধান উদ্যোগী পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রকল্প আধিকারিক ও অনগ্রসর শ্রেনী উন্নয়ন দপ্তর। ওই দপ্তরের আধিকারিক কৃষ্ণেন্দু কুমার মণ্ডল সকলকে অবাক করে দিয়ে তাঁর স্বাগত ভাষণ শুরু করেন অলচিকী ভাষায়। কোনওরকম স্ক্রিপ্ট ছাড়াই অনর্গল ভাবে সাঁওতালি ভাষায় তাঁর বক্তব্য এই অনুষ্ঠানে পরম প্রাপ্তি। তিনি তাঁর স্বাগত ভাষণে সকলকে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জানান। এই ভাষার প্রচার প্রসার করার শুভ উদ্যোগের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানান।অথিতিবর্গের সকলেই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। মাতৃভাষার রক্ষণাবেক্ষণে এই উদ্যোগ সত্যিই প্রসংসার দাবি রাখে, জানালেন পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের মেন্টর মহঃ ইসমাইল। পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রকল্প আধিকারিক ও অনগ্রসর শ্রেণী উন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিক কৃষ্ণেন্দু কুমার মণ্ডল জানান, প্রীতিলতা মঞ্চ, দেওয়ানদীঘিতে বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনের জেলা পর্যায়ের এবং শুক্রবার জোনাল লেভেল একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতা (সাঁওতালি ভাষা) অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জনতার কথা মাধ্যমে সকল নাট্যপ্রেমী মানুষজনকে নাটকের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানান।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৫
রাজ্য

বর্ধমানে দুই সন্তানের সামনে নৃশংস খুন স্ত্রীকে, তারপর মেঝেতে পুঁতে........ এ কেমন গৃহকর্তা?

দুই সন্তানের সামনে নৃশংস খুন স্ত্রীকে, মেঝেতে পুঁতে শুয়ে পড়ল বাবাএ কেমন বাবা? এ কোন স্বামী? কি এমন হল এমন ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড ঘটলেন বর্ধমানের আউশগ্রামের যদুগড়িয়া গ্রামের সোম হাঁসদা। অভিযোগ, দুই শিশু কন্যার সামনে মাকে নৃশংস ভাবে খুন করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে দিয়েছে বাবা। শুধু তাই নয় এই ঘৃন্যতম কাণ্ড ঘটানোর পর সেই ঘরেই দুই কন্যাকে নিয়ে রাতের ঘুমিয়ে পড়ে বাবা। গৃহবধূ খুনের এমন রোমহর্ষক ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে জঙ্গলমহলে। সোম হাঁসদাকে গ্রেফতার করেছে আউশগ্রাম থানার পুলিশ। বুধবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে পুলিশ।পুলিশ সূত্রের খবর, সোম হাঁসদার সঙ্গে ভাব ভালোবাসা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল লক্ষ্মীর। বছর সাতেক আগে তাঁরা বিয়ে করেন। দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে দম্পতি বেশ সংসার জীবন কাটাচ্ছিলেন। বড় মেয়ের বয়স ছয় বছর, ছোট মেয়ে তিন বছর বয়স, সে হামাগড়ি দেওয়া ছেড়ে হাঁটতে শিখেছে। সোম হাঁসদার মা পানমনি হাঁসদা এদিন বলেন, আমার ছেলে মদের নেশায় ভীষণ ভাবে আশক্ত হয়ে পড়েছিল । প্রতিদিন মদ খেতো। কাজকর্ম সেরকমর করতো না। নেশা করা নিয়ে বৌমা মা আপত্তি করলে ছেলে অশান্তি করতো। তারই মধ্যে হঠাৎ করেই মঙ্গলবার সকাল থেকে বৌমাকে বাড়িতে আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল না। বৌমা কোথায় তা আমি আমার ছেলের কাছে জানতে চাই । তখন ছেলে জানায়, তাঁর মার খেয়ে বৌমা পালিয়ে গেছে। এরপর সন্ধ্যায় দেখি বাড়িতে পুলিশ এসে ছেলের ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ছে। বেশ খানিকটা মাটি খোঁড়া হতেই বেরিয়ে আসে বৌমার মৃতদেহ। পুলিশ বৌমার মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আমার ছেলে সোমকেও ধরে নিয়ে গিয়েছে আউশগ্রাম থানার পুলিশ। বড় নাতনী পুলিশের কাছে তাঁর বাবার সব কীর্তি ফাঁস করে দিয়েছে। সে পুলিশকে জানায়, ছোট বোন ও তাঁর সামনেই তাঁদের মাকে হত্যা করেছে বাবা। তারপর তাঁর বাবাই ঘরের মাটি খুড়ে তাঁদের মায়ের মৃতদেহ পুঁতে দিয়ে ওই ঘরে তাঁদেরকে নিয়ে শুয়ে পড়ে। এই ঘটনা সোমবার রাতে ঘটেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে শিশুকন্যাটি। পানমনি হাঁসদা বলেন, নাতনির কাছে জেনেছি ঘটনার দিন শাবল দিয়ে বৌমার মাথায় আঘাত করেছিল আমার ছেলে সোম। তাতেই বৌমার মৃত্যু হয়। তারপর ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে ছেলে বৌমার মৃতদেহ মাটি চাপা দিয়ে রাখে। এই ঘটনা বাইরে থেকে কেউ যাতে বুঝতে না পারে তার জন্য ছেলে সোম তার ঘরের দরজায় তালা দিয়ে রাখে।

জানুয়ারি ১৫, ২০২৫
রাজ্য

আইপিএস পদে রদবদল, বদলি হচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার

রাজ্যে আইপিএস পদে রদবদল। বদলি হলেন বর্ধমান ও বীরভূমের পুলিশ সুপার। সোমবার রাজ্য পুলিশ এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন আইপিএস অফিসারের বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ট্রেনিং থেকে এবার ফিরে বীরভূমের পুলিশ সুপারের দায়িত্ব নিতে চলেছেন আমনদীপ। এসএস সিআইডি সায়ক দাসই এবার অফিসিয়ালি পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ সুপার হিসাবে যোগ দিচ্ছেন। তিনি অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। বর্ধমানের পুলিশ সুপার আমনদীপ ট্রেনিংয়ে ছিলেন। এদিকে বীরভূমের পুলিশ সুপার রাজনারায়ন মুখোপাধ্যায় সরছেন। তার জায়গায় বর্ধমানের পুলিশ সুপার আমনদীপ যোগ দিচ্ছেন বীরভূমের পুলিশ সুপার পদে। অন্যদিকে রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায় এসপি ট্রাফিক পদে যোগ দিচ্ছেন।

জানুয়ারি ১০, ২০২৫
রাজ্য

বর্ধমানের জঙ্গলমহলে নেকড়ের হানা, পিটিয়ে মারল গ্রামবাসী

রাজ্যের পশ্চিমের জঙ্গলমহেল বাঘের আতঙ্কে মানুষ সিঁটিয়ে আছে। ঠিক তখন পূর্ব বর্ধমানে হেরোলের আক্রমণে দখম হয়েছে প্রায় ১৫ জন গ্রামবাসী। তবে ইতিমধ্যে ওই হেরোলটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হল। জনরোষ আছড়ে পডল বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণীটির ওপর।পূর্ব বর্ধমানের বুদবুদ থানার গোবিন্দপুর গ্রামে হিংস্র হেরোল- বেশ কয়েকজনকে কামড়ে দেয়। এই ঘটনায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়ায় আশেপাশে গ্রামেও। শেষমেশ উত্তেজিত জনতা ওই বন্য প্রাণীটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। জানা গিয়েছে, খাবারের খোঁজে ক্রমাগত গ্রামে গ্রামে হেরোলের হানা চলছিল। ছোট ছোট গবাদি প্রাণীদের রক্ষার জন্য সচেষ্ট হলেই ওই হেরোল আক্রমণ করত। তাতেই জখম হত সাধারণ গ্রামবাসী।হেরোলের আসল নাম ইন্ডিয়ান গ্রে উলফ। ভারতীয় উপমহাদেশে এর দেখা পাওয়া যায়। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকবছর ধরে হেরোলের সংখ্যা বেড়েছে। পূর্ব বর্ধমানের কাঁকসা, আউশগ্রাম ও জেলার বিভিন্ন ছোট ছোট জঙ্গলে এদের বসবাস। সংখ্যায় বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে এদের খাবারেও অভাব দেখা যাচ্ছে। তাই লোকালয়ে হানা দিয়ে ছাগল, মুরগি শিকারের চেষ্টা করছে তারা। যার জন্য বাড়ছে মানুষের সঙ্গে সংঘাত।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২৪
রাজ্য

বর্ধমানে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান, মদ্যপ চালককে আটক করে কলকাতায় নিরাপদে নার্সিংহোমে পৌঁছাল শিক্ষক দম্পতি

মদ্যপানরত চালকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু বর্ধমান থানায়, শিক্ষক দম্পতিকে নিরাপদে নাইটিংগেল হাসপাতালে পৌঁছে দিল বীরহাটা ট্রাফিক। শুক্রবার কার্জনগেট থেকে একটি পাবলিক গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যাল ভেঙ্গে ওভারস্পিডে যাচ্ছিল তখন হঠাৎ সন্দেহের ভিত্তিতে ট্রাফিকে ডিউটিরত অফিসার এবং কনস্টেবলেরা গাড়িটিকে ধাওয়া করে। গাড়িটি বড়-নীলপুরের কাছে আটক করে। সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখা যায়, গাড়ির চালক মাদ্যপানরত অবস্থায় পেশায় শিক্ষক এক দম্পতিকে কলকাতায় নাইটিংগেল হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অ্যালকোহল মাপক যন্ত্র দিয়ে চেক আপ করে চালকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। বর্ধমান থানার কাছে ওই চালককে তুলে দেয়। এমনকি দম্পতির জন্য আরেকটি গাড়ির ব্যবস্থা করে সুস্থ অবস্থায় নাইটিংগেল হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার নিরাপদ ব্যবস্থাও করে পুলিশ।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২৪
রাজনীতি

জামালপুরে মিঠুন চক্রবর্তীর সভায় বিশৃঙ্খলা, বর্ধমানে বিজেপির সংগঠন নিয়ে প্রশ্ন মুম্বাইয়ের সুপারস্টারের

বাংলায় বিজেপির সদস্যতা অভিযান চলছে। সদস্যকরণ অভিযান কর্মসূচি সফল করলে ঘুরে বেরাচ্ছেন বিজেপি নেতা মুম্বাইয়ের সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতাকে আসরে নামিয়ে বাজিমাত করতে চায় কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। সেই কর্মসূচি অংশ নিতে সোমবার দুপুরে মিঠুন চক্রবর্তী প্রথমে পৌঁছান পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে পাঁচরা এলাকার একটি সভাগৃহে । সেখানে সভা শুরু হতে না হতে বিশৃঙ্খলা দেখে বিতশ্রদ্ধ মিঠুন চক্রবর্তী ১০ মিনিটের মধ্যে সভাঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে পড়েন। সেখান থেকে তিনি সোজা রওনা দেন বর্ধমানের জেলা দলীয় কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে। জেলা অফিসে সাংবাদিক বৈঠকেও বিজেপির আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে ক্ষোভের কথা উগরে দেন মিঠুন। তিনি বলেন, আমি বিজেপির সংগঠন নিয়ে ১০০ শতাংশ সন্তুষ্ট নই। এটা বলতে আমি ভয় পাই না। আমি খোলাখুলি বলছি, বঙ্গ বিজেপিকে আরো শক্তিশালী হতে হবে।। নিজেদের মধ্যে খিটিমিটি যা আছে, তা সব মিটিয়ে নিয়ে সবাইকে এক হয়ে লড়তে হবে। মিঠুন চক্রবর্তীর কথায়, এখন দেখা যাচ্ছে বিজেপির লোকজনের পার্টিকে ভালোবাসা কম, পাওয়ারের ইচ্ছেটা বেশি দেখাচ্ছে। তবে এসব ঠিক হয়ে যাবে বলে মিঠুন চক্রবর্তী আশা প্রকাশ করেছেন।বাংলাদেশের ভারত বিদ্বেষ এবং বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর হয়ে চলা নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন মিঠুন চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একের পর এক জঙ্গি ধরা পড়া নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতো মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, বাংলা জঙ্গিদের স্বর্গ রাজ্য হয়ে গিয়েছে, এটাতো আমাদের জন্য বিশাল গর্বের ব্যাপার! কাশ্মীরের জঙ্গি এখানেই আসবে, এখানেই ট্রেনিং নেবে। ট্রেনিং নিয়ে আবার অন্য কোথাও হামলা করবে। সকলকে এক হয়ে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন মিঠুন।

ডিসেম্বর ২৩, ২০২৪
রাজ্য

বর্ধমানে টেলারিং কারবারির বাড়িতে ইডির হানা, রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ১০ লক্ষ টাকা লেনদেন

কারবার বলতে সামান্য টেলারিং। মঙ্গলবার সাত সকালে বর্ধমান শহরের লস্করদিঘিতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা। টেলারিং কারবারির বাড়িতে ইডির হানায় রীতিমতো চাঞ্চল্য় ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও রীতিমতো হতবাক। জানা গিয়েছে,এই টেলারিংয়ের কাজ করা মইনুল হাসানের বাড়িতে দিনভর তল্লাশি চালায় সিবিআই। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। রহস্য দেখা দিয়েছে ১০ লক্ষ টাকা লেনদেন নিয়ে।জানা গিয়েছে, মইনুল হাসানের একটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে এক দিনে ১০ লক্ষ টাকা জমা হয়েছে। আবার দেরি না করে ওই দিনই সেই টাকা তুলে আবার অন্য একজনকে দিয়েও দিয়েছেন তিনি। এই নিয়েই ইডির পাঁচ জনের একটি দল এদিন সকাল ৭ টা থেকে সন্ধ্যা ৫ পর্যন্ত ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালায় মইনুল হাসান মল্লিক ও তাঁর পরিবার সদস্যদের। কি কারণে ইডির হানা? তা অবশ্য সংবাদ মাধ্যমের কাছে গোপন রাখেননি মইনুল। তিনি বলেন,গত ২১ নভেম্বর তাঁর একাউন্টে ১০ লক্ষ টাকা দেয় সুকান্ত ব্যানার্জী নামে একজন পরিচিত। সুকান্তর বাড়ি দক্ষিণেশ্বরে। ওই দিনই সুকান্তর কথা মত তিনি অপর একজনকে ওই ১০ লক্ষ টাকা তুলে দেন। বর্ধমানের ভাঙাকুঠি এলাকার একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় অ্যাকাউন্ট রয়েছে মইনুলের। এখন ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সিজ করা আছে। যদিও টাকা তুলে যে ব্যক্তির হাতে তিনি ওই টাকা তুলে দিয়েছেন সেই ব্যক্তি তাঁর অপরিচিত বলে মইনুল হাসান মল্লিক দাবি করেছেন। তাঁকে তিনি চেনেন না বলেই জানিয়েছেন মইনুল। ওই ১০ লক্ষ টাকার লেনদেনের পরিপেক্ষিতেই তাঁর বাড়িতে ইডির আধিকারিকরা হানা দেয়।মইনুলের বক্তব্য়, সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বলছেন ওই ১০ লক্ষ টাকার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। কেন তিনি এই টাকা নিয়ে মাঝে থেকে লেনদেন করেছেন তাঁর সদুত্তর দিতে পারেননি মইনুল হাসান। তদন্তকারীদের অনুমান, কোনও কারণ ছাড়া কেউই নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ লক্ষ টাকার লেনদেন করবে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাছাড়া কিছু সময়ের ব্যবধানে কে টাকা দিল অ্যাকাউন্টে, আর কাকে মইনুল টাকা তুলে দিল তা নিজেই জানেন না, এতে রহস্য দেখতে পাচ্ছে তদন্তকারীরা।এদিকে মইনুল জানিয়েছেন, ইডি আধিকারিকরা তাঁকে সাত দিন সময় দিয়েছেন। এই সাতদিনের মধ্যে ওই ১০ লক্ষ টাকা লেনদেনের বিষয়ে সঠিক তথ্য তুলে দিতে হবে। প্রশ্ন উঠেছে, কারও কথা মতো তিনি কি করে ১০ লক্ষ টাকার এমন তড়িঘড়ি লেনদেনের দায়িত্ব নিলেন? সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কাউকে চিনতেও পারছেন না মইনুল! তাঁকে সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ফাঁসিয়েছে বলে মইনুলের দাবি।

ডিসেম্বর ১১, ২০২৪
রাজ্য

তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মেলনী ঘিরে ভাতারে বিশৃঙ্খলা, কোনওরকমে সামলালেন বিধায়ক

পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনীকে কেন্দ্র করে তুলকালাম পরিস্থিতি। গন্ডগোলের রেশ গড়িয়েছে বর্ধমান-কাটোয়া রাজ্য় সড়কে। রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিজয়ার অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত অশান্তি ও দ্বন্দ্বে চলতে থাকে বিশৃঙ্খলা। ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী নিজে পরিস্থিতি সামলাতে নাজেহাল হয়ে যান। নিজে পথে নেমে কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দেন। শেষমেশ ভাতার হাউজিং মাঠে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। কোনওপ্রকারে অনুষ্ঠান শুরু হলেও উত্তেজনা চলতেই থাকে। ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অশোক হাজরাকে উত্তেজিত হতে দেখা যায়। ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাসুদেব যশ অশোকবাবুকে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকেন। সেই সময় মঞ্চের আশপাশে কর্মীদের একাংশ চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন। মঞ্চে অশান্তি চলতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে দিয়ে বিজয়া সম্মিলনী শেষ করে দিতে বাধ্য হন নেতারা। ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী বলেন, বিজয়া সম্মিলনী একটা মিলনের অনুষ্ঠান। আনন্দের বিষয়। তাই আমরা প্রথম থেকেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব বলে ঠিক করেছিলাম। বক্তৃতা পর্ব রেখে অনুষ্ঠান দীর্ঘায়িত করতে চাইনি। বিশৃঙ্খলার বিষয়টি অবশ্য বিধায়ক এড়িয়ে যান। এ নিয়ে তাঁর সাফাই, বাইরে কি ঘটেছে সঠিক জানি না। অনুষ্ঠান সুষ্ঠ ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই ভাতারে দলের সহ সভাপতি অশোক হাজরার সঙ্গে দলের একাংশের মনোমালিন্য চলছে। বিশেষ করে ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অশোকবাবুর প্রভাব রয়েছে। দলের অভ্যন্তরের কিছু সমস্যা এমনিতেই চলছিল। বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে তা প্রকাশ্যে চলে আসে। যদিও অশোক হাজরার দাবি, বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে প্রচুর জনসমাগম হয়েছিল। অত্যাধিক ভিড়ের কারণে সামান্য বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। তবে তারপর সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠান হয়েছে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৪
রাজ্য

বর্ধমানে চক্ষু হাসপাতালের উদ্বধোনে নজর কাড়লো দৃষ্টিহীন ছাত্র-ছাত্রী

বর্ধমানে পার-বীরহাটার আরজি ভবনে বর্ধমান আই কেয়ার-এর উদ্যোগে বিনা মূল্যে চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। আর পাঁচটা সংস্থার মত শুধুমাত্র চক্ষু পরীক্ষা করেই দায় সারেননি তাঁরা। যে সমস্ত মানুষেরা আজ চক্ষু পরীক্ষা করাতে এসেছিলেন তাঁদের বিনামূল্যে ঔষধ-ও প্রদান করা হয় সংস্থার পক্ষ থেকে। এছাড়াও আজ যাঁরা চক্ষূ পরীক্ষা করাতে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে ১০ জনের বিনা মূল্যে চক্ষূ অপারেশনের দায়িত্ব নিয়েছে বর্ধমান আই কেয়ার নার্সিং হোম।বুধবার ৩রা আগস্ট বর্ধমান আই কেয়ার নার্সিং হোম বহু মানুষ এসে তাঁদের চক্ষু পরীক্ষা করান। বুধবার যারা চক্ষু পরীক্ষা করাতে এসেছিলেন পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব স্মরণ করাতে প্রত্যেককে একটি করে চারাগাছ উপহার দেওয়া হয়। তাঁদের এই মহৎ উদ্যোগের উদ্বোধনেও ছিল চমক। বর্ধমান আই কেয়ার-এ আজকের অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের জন্য কোনও নামি-দামিদের পিছনে না ছুটে আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন বর্ধমান ব্লাইন্ড একাডেমী দৃষ্টিহীন ছাত্র-ছাত্রীদের।বর্ধমান ব্লাইন্ড একাডেমী দৃষ্টিহীন ছাত্র-ছাত্রীরা তাঁদের বিশেষ ক্ষমতায় মুগ্ধ করেন উপস্থিত সকলকে। তাঁদের নাচ, গান ও আবৃত্তিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ। মহালয়ার পূণ্য লগ্নে এক দৃষ্টিহীন ছাত্রীর বাজলো তোমার আলোর বেণু সত্যি-ই যেন বেণূর সুরে সন্মোহিত করে দিলো উপস্থিত সকলকে।সংস্থার কর্নধার বিশিষ্ঠ চক্ষু বিশারদ ড. সৌরভ ঘোষ জানান, আজ তাঁরা তাঁদের নতুন চক্ষূ পরীক্ষা কেন্দ্র বর্ধমান আই কেয়ার নার্সিং হোম উদ্বোধনী দিনে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষার আয়োজন করেছেন। এবং বর্ধমান ব্লাইন্ড একাডেমী দৃষ্টিহীন ছাত্র-ছাত্রীরা তাঁদের নুতন চক্ষু পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্বোধন করছেন। ভবিষ্যতেও এই ধরনের নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

অক্টোবর ০৩, ২০২৪
উৎসব

নগরবাসীর মঙ্গল কামনায় ঘট উত্তোলনের মাধ্যমে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে দুর্গা পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ল রাঢ় বঙ্গে

বর্ধমান রাজ পরিবারের প্রথামতই প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরেও মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে বর্ধমান শহরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলা ঘট উত্তোলন ও প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়েই বর্ধমানে আনুষ্ঠানিকভাবে শারদ উৎসবের সূচনা হল। আজ বৃহস্পতিবার প্রতিপদে রূপোর ঘটে রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠিত জলাশয় কৃষ্ণসায়ের থেকে জল ভরে নিয়ে আসা হয়। সর্বমঙ্গলা ট্রাস্টি বোর্ডের আয়োজনে বিবিধ বাদ্যযন্ত্রের সমবেত পরিবেশনায় এক্কাগাড়িতে করে ঘট নিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে মঙ্গল ঘট মন্দিরে এনে তা প্রতিষ্ঠা করা হয়। বৃহস্পতিবার বর্ধমানে মা সর্বমঙ্গলার ঘট উত্তোলন শোভাযাত্রায় বিভিন্ন জায়গার অসংখ্য মানুশ অংশগ্রহ্নন করেন।কৃষ্ণসায়রের চাঁদনী ঘাট থেকে ঘটে জল ভরে সুসজ্জিত এক্কাগাড়ি করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে শুরু হয় শোভাযাত্রা, সেই ঘট রাঢ়বঙ্গের অন্যত্যম অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে আনা হয় তারপর সেই ঘট প্রতিষ্ঠা করে শুরু হয় দেবী সর্বমঙ্গলার দূর্গা পুজোর আবাহন।জানায়ায় ১৭০২ সালে স্বপ্নাদেশ পেয়ে চুনুরীদের কাছে থাকা দেবীর মুর্তীটি বর্ধমান শহরের অদুরে দামোদর নদের পার থেকে উদ্ধার করে বর্ধমানের মহারাজ কীর্তিচাঁদ মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকেই বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলার পুজা শুরু হয়। রাঢ়বঙ্গের প্রথম নবরত্ন মন্দির এটি। এই মন্দিরের দুটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। পূর্ব দিকের প্রবেশদ্বারটি অধিক পুরাতন। মন্দিরের দক্ষিণ দিকে আরও একটি প্রবেশ দ্বার আছে সেটিকেই প্রধান প্রবেশদ্বার বলা হয়ে থাকে। দক্ষিণ দিকের প্রবেশদ্বারের সামনেই রয়েছে দুটি শিবমন্দির। একটির নাম চন্দ্রেশ্বর। অপরটির ইন্দ্রেশ্বর। কথিত আছে এই দুটি মন্দির-ই বর্ধমানের রাজা চিত্রসেন রায়ের দুই রানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সামনেরদিকে আরও তিনটি উত্তরমুখী শিবের মন্দির আছে। যেগুলির নাম যথাক্রমে রামেশ্বর, কমলেশ্বর এই দুটি মন্দিরের গায়ে টেরাকোটার কাজ লক্ষিত করায়ায়। মন্দিরের শ্বেতপাথরের শিবলিঙ্গ আছে। এই দি মন্দিরের মধ্যে রয়েছে মিত্রেশ্বর শিব মন্দির। যার শিবলিঙ্গ কালো পাথরের।প্রতি বছরই প্রথা মেনে মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে দেবীর ঘট উত্তলোন হয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাজপরিবারের প্রথা মেনে দশমি অবধি নয় (৯) দিন ধরে চলবে মা সর্বমঙ্গলার পুজো। দৈনন্দিন প্রথা মেনে দুর্গা পুজার দিনগুলিতেও মায়ের নিত্যপুজার কোনও হেরফের হয় না। দেবী অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী কষ্টিপাথরের খোদাই করা মূর্তি। সুবিশাল রুপোর সিংহাসনে তিনি অধিষ্টাত্রী থাকেন। আগে মহাঅষ্টমীর সন্ধি পুজোয় কামান দাগা হতো, মেষ, মহিষ ও ছাগ বলি হতো বলে জানা যায়। কামান ব্লাস্ট হয়ে বহু মানুষের হতাহতের কারণে বর্তমানে আর কামান দাগানো হয় না। কথিত আছে, সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সন্ধিপুজোর কামানের আওয়াজ শুনে আশেপাশের গ্রামগুলির সমস্ত জমিদার বাড়িতে সন্ধিপুজো শুরু হতো। সর্বমঙ্গলা মন্দিরে নবমী তিথিতে নবকুমারী পুজো হয়। নবদুর্গার বিভিন্ন রুপকে নব কুমারী রুপে পুজোর প্রচলন আছে এই মন্দিরে।

অক্টোবর ০৩, ২০২৪
খেলার দুনিয়া

'ছকে' বাঁধা চিন্তার বাইরে গিয়ে 'কিস্তিমাত' বর্ধমানের স্কুলের

বর্তমান প্রজন্মের কাছে ইন্ডোর গেম কথার অর্থ যেখানে PUBG: Battlegrounds, Minecraft, Grand Theft Auto, সমকালীন সেই চাহিদা/ধারনার বিরুদ্ধে গিয়ে অন্য ভাবনার মানুষ অচিন্ত্য মন্ডলের ঐকান্তিক উদ্যোগে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম ইংরাজি মাধ্যমের স্কুল আয়োজন করলো দুই দিন ব্যাপী দাবা প্রতিযোগীতার। অক্টোবরের ১ ও ২ তারিখ যথা মঙ্গল ও বুধবার বর্ধমান মডেল স্কুল প্রাঙ্গণে দুই দিন ব্যাপী এই সুবিশাল কর্মকান্ড চলে।১লা অক্টোবর মঙ্গলবার প্রতিযোগিতার প্রথম দিন বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান সহোদয়া স্কুল কমপ্লেক্স সিবিএসসি (CBSE) অধীনস্থ বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র - ছাত্রীদের জন্য আন্ত স্কুল দাবা আয়োজন করা হয়। দুই জেলার স্কুল ভিত্তিক এই প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অর্জন করে -বার্নপুর রিভারসাইড স্কুল, বার্নপুর, পশ্চিম বর্ধমান। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে আয়োজক স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল, বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও যথাক্রমে তৃতীয় স্থান অর্জন করে পূর্ব বর্ধমান জেলারই মেমারি ক্রিস্টাল মডেল স্কুল, মেমারি।বয়স ভিত্তিক স্কুল দাবায় বিভিন্ন বিভাগে রেজাল্ট হলঃ অনুর্ধ-১১- বর্ধমান মডেল স্কুল (প্রথম), বার্নপুর রিভারসাইড স্কুল (দ্বিতীয়)। অনুর্ধ-১৪- ডিএভি মডেল স্কুল দুর্গাপুর (প্রথম) ও বার্নপুর রিভারসাইড স্কুল (দ্বিতীয়)। অনুর্ধ-১৭- বার্নপুর রিভারসাইড স্কুল (প্রথম) ও বর্ধমান মডেল স্কুল (দ্বিতীয়)। অনুর্ধ-১৯- বার্নপুর রিভারসাইড স্কুল (প্রথম) ও পুর্ব ইন্টারন্যাশানাল স্কুল (দ্বিতীয়)। সহোদয়া স্কুল কমপ্লেক্স সিবিএসসি (CBSE) এর মস্তিস্ক প্রসূত একটি উদ্যোগ, যাহা সংশ্লিষ্ট জেলার সকল সিবিএসসি (CBSE) অনুমোদিত স্কুলগুলির একটি যৌথ মঞ্চ। যেখানে উক্ত জেলার স্কুলের শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে ভাই-বোনের সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সমাজে একটা বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেয়। সেই নিমিত্তে CBSE এর সমস্ত স্কুল সহোদয়া কমপ্লেক্সের ঘরানা অনুযায়ী আন্তঃস্কুল বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। তারই অঙ্গ হিসাবে বর্ধমান মডেল স্কুল এই দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।এছাড়াও বর্ধমান মডেল স্কুল কর্তৃপক্ষে নানাবিধ খেলার প্রচার ও প্রসারে সারাবছরই নানাবিধ উদ্যোগ নেয়। তাঁরা দাবাপ্রেমী শিক্ষার্থীদের দাবা খেলায় অনুপ্রাণিত করার উদ্যোগে ২রা অক্টোবর ২০২৪ বুধবার সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের দাবারুদের নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ১৭৫ জন পেশাদার দাবা খেলোয়ার অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান লাভ করেন অম্বরীশ শর্মা এবং দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন শঙ্খদীপ মাইতি। বর্ধ্মান মডেল স্কুলের কর্নধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জনতার কথা কে জানান, এতবড় কর্মকান্ড আয়োজন করার পিছনে একটাই উদ্দেশ্য একজন-ও যদি খেলাটার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে জীবনের দিশা খুজে পায়! তিনি আরও জানান, নবীন প্রজন্ম কে পথ না দেখিয়ে শুধু দোষারোপ করলে চলবে না। আমাদের সেই পথে চলে লক্ষ্যে পৌছালেই আমাদের কাজের সার্থকতা। আমার আশা এই দাবা টুর্নামেন্ট দেখে অনুপ্রানিত হয়ে একজনও বিশ্বনাথন আনন্দ বা দিব্যেন্দু বড়ুয়া হওয়ার স্বপ্ন দেখবে।এই টুর্নামেন্ট দেখতে প্রচুর ছাত্র ছাত্রী ও অভিভাবকেরা ভিড় জমান স্কুল প্রাঙ্গণে। সকাল ৯ টা থেকে শুরু হওয়া সারা দিন ব্যাপী চলা টুর্নামেন্টে টানটান উত্তেজনায় ভরা খেলা চুড়ান্ত রাউন্ড শেষ হতে প্রায় সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়। এই প্রতিযোগীতার অন্যতম আকর্ষণ ছিলো কমনওয়েলথ গেমস সহ একাধিক আন্তঃর্জাতীক প্রতিযোগীতায় দাবায় স্বর্ন পদক বিজয়ী স্নেহা হালদার। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া প্রশাসক ও আইনজীবী পিরদাস মন্ডল। প্রতিযোগীতাটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিডে (FIDE) নিয়মানুসারে খেলা হয়।

অক্টোবর ০৩, ২০২৪
রাজ্য

কয়েকশো মহিলাকে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের পুজোর উপহার প্রদান, মুখপত্র প্রকাশ ও ওয়েবসাইটের সূচনা

বেঙ্গল প্রেস ক্লাব কয়েকশো মহিলাকে পুজোর উপহার প্রদান করলো। রবিবার বিজয় তোরণের সামনে বস্ত্র উপহার কর্মসূচি পালন করে সাংবাদিকদের এই সংগঠন। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপার্সন কাকলি তা গুপ্ত, বিশিষ্ট সমাজসেবী অচিন্ত্য মন্ডল প্রমুখ। পুজোর মুখে এই উপহার পেয়ে খুশি মহিলারা।বিধায়ক খোকন দাস বলেন, প্রতি বছর দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে বেঙ্গল প্রেস ক্লাব অসহায় মহিলাদের হাতে বস্ত্র উপহার হিসাবে তুলে দেয়। সারা বছর মানুষের পাশে থাকে সাংবাদিকদের এই সংগঠন। বর্ষমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপার্সন কাকলি তা গুপ্ত বস্ত্র উপহার কর্মসূচির প্রশংসা করেন। সমাজসেবী অচিন্ত্য মন্ডল বলেন, বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের জনদরদী কর্মসূচির ভূয়সী প্রসংশা করেন। অনুষ্ঠানে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের মুখপত্র জনমন প্রকাশিত হয়। ক্লাবের নিজস্ব ওয়েবসাইট এদিন যাত্রা শুরু করে। সাধারন মানুষের মধ্যে এই অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৪
রাজ্য

বানভাসি বাংলার একাংশ, বর্ধমানে গিয়েও তোপ দাগলেন ডিভিসির বিরুদ্ধে

বাংলা বানভাসি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় সেই ডিভিসি। ইতিমধ্যে রাজ্যের দুই প্রতিনিধির ডিভিসির কমিটি থেকে সরে এসেছেন। সোমবার বর্ধমানে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, স্বপন দেবনাথ, হাজির ছিলেন।মূলত পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডে প্রবল বৃষ্টির জেরে সেখানকার জলাধারগুলি থেকে বিপুল পরিমাণে জল ছাড়া হয়েছে। ডিভিসির ছাড়া জলেই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছেন বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। জলমগ্ন পরিস্থিতি নিয়ে ফের একবার কেন্দ্রকে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কি বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সক্রিয় হতে হবেক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা শস্য বীমার টাকা পাবেন। বাংলার দুর্ভাগ্য যে এখানে এবং অসমে যে পরিমাণ বন্যা হয় সেটা অন্য কোথাও হয় না। বাংলা নদী মাতৃকার দেশ। বাংলার অবস্থান নৌকার মতো। একটুকুতেই জলে ডুবে যায়। ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি হলে আমাদের চিন্তা হয়। নিজেদের বাঁচাতে জল ছেড়ে দেয় ঝাড়খণ্ড। নিজেদের বাঁচাতে বাংলায় জল ছেড়ে দেয়আবার বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। সবাই নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেবেন। জল সরে গেলে চাষিরা শস্য বীমার টাকা পাবেন। ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি হলে নিজেদের বাঁচাতে বাংলার উপর জল ছেড়ে দেয়। DVC কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন। কিন্তু কেন্দ্র কিছু না করার জন্য মানুষের বাড়ি ঘর ডুবে যাচ্ছে। ভোটের জন্য যে টাকা খরচ করা হয় তার একাংশ দিলেও বন্যা আটকাতে ব্যবস্থা করতে পারতাম।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৪
রাজ্য

আজ বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কোথায় কি নিয়ে বৈঠক?

ডিভিসির ছাড়া জলে পুজোর আগে প্লাবিত হয়েছে পূর্ব বর্ধমান সহ বাংলার আটটি জেলা। তাই বেজায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বন্যা কবলিত বিভিন্ন জেলায় পৌছে গিয়ে পরিস্থিতি সরজমিনে চাক্ষুষ করে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিকল্পনা করে বন্যা করা হয়েছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন। এমনকী ডিভিসির কমিটি থেকে রাজ্যের দুই আধিকারিক পদত্যাগ করেছেন। এই জল ছাড়া নিয়ে ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গন্ডগোলের জল গড়িয়েছিল বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমান্ত পর্যন্ত। জানা গিয়েছে, আজ, সোমবার বর্ধমানে বন্যা পরিস্থিতি সংক্রান্ত ও প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তা নিয়েই জেলা পুলিশ ও প্রশানের তৎপরতা এখন তুঙ্গে উঠেছে।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ কর্মসূচী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পূর্ব বর্ধমান জেলায় আসছেন। এই খবর রবিবার বেলায় জেলা প্রশাসনের সদর দপ্তরে এসে পৌঁছায়। তারপরই শুরু হয়ে যায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি। জরুরী বৈঠকে বসেন জেলাশাসক, পুলিশ সুপার সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। বিকেলে জেলাপ্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ। বিদুৎ দপ্তরের আঞ্চলিক অধিকর্তা গৌতম দত্তও বৈঠক করেন। সম্প্রতি, ডিভিসি জল ছাড়ায় পূর্ব বর্ধমানের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৪
রাজ্য

অভয়া ক্লিনিক বন্ধে হুঁশিয়ারি তৃণমূলের, তবুও রোগী দেখলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা

আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল সার বাংলা। বিচারের দাবিতে অনড় বর্ধমান সহ রাজ্যের সমস্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র ও সিনিয়র ডাক্তাররা। তাঁরা লাগাতার অন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই আন্দোলনের সঙ্গী হওয়া রাজ্যের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পেতে যাতে কোন অসুবিধায় পড়তে না হয় তাই চালু হয়েছে অভয়া ক্লিনিক। বর্ধমান টাউনহলে চলা সেই অভয়া ক্লিনিক বন্ধ করার জন্য শাসক দলের কয়েকজনের ফরমান জরি নিয়ে বৃহস্পতিবার ব্যাপক ক্ষোভ বিক্ষোভ ছড়ায়। পরে যদিও বর্ধমান পুরসভার পুর প্রধান পরেশ সরকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও মাইকে প্রচার বন্ধ রেখেই অভয়া ক্লিনিক চালাতে হয় প্রতিবাদী চিকিৎসকদের। রাজ্যের অন্য হাসপাতালের মতো বর্ধমান হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তাররা পাঁচটি দাবি নিয়ে আন্দোলন জারি রেখেছেন। তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন সিনিয়র ডাক্তাররা। হাসপাতালে জরুরি পরিষেবা চালু থাকলেও অভয়াকে খুনের বিচারের দাবিতে আউটডোর করছেন না জুনিয়র চিকিৎসকরা। পরিবর্তে রোগী স্বার্থে বর্ধমান হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তাররা চালু করেছেন অভয়া ক্লিনিক। বর্ধমান টাউনহলে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টো অবধি ওই ক্লিনিক চলে। সেই ক্লিনিকে জুনিয়রদের সঙ্গে রোগী দেখেন সিনিয়র ডাক্তার বাবুরা। এ বিষয়ে ডা: সুবর্ণ গোস্বামী জানান, সংগত কারণেই জুনিয়ররা আন্দোলন করছেন।তাই তাঁদের পাশে সিনিয়ররা ডাক্তাররাও আছে। এদিকে এদিন বর্ধমান টাউন হলে অভয়া ক্লিনিক নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়।তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষক দিবসের একটি কর্মসূচি একই জায়গায় চলাকালীন শাসকদলের কয়েকজন ব্যক্তি গিয়ে তাড়াতাড়ি ক্লিনিক বন্ধের ফরমান জারি করেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে বাক বিতন্ডা তৈরি হলে বর্ধমান পুরসভার পুরপ্রধান পরেশ চন্দ্র সরকার চিকিৎসকরা পুর প্রধানকে সাফ জানিয়ে দেন, অভয়া ক্লিনিক বন্ধ হবে না। রোগীরা যতক্ষণ আসবেন তারা পরিষেবা দিয়ে যাবেন। তবে পুর প্রধানের অনুরোধ মেনে শুধুমাত্র মাইকে প্রচার বন্ধ রাখেন অভয়া ক্লিনিক পরিচালনায় থাকা চিকিৎসকরা।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৪
রাজ্য

আর জি কর-এর প্রতিবাদে এবার পথে নামলো বর্ধমানের স্কুল ছাত্ররা

আর জি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদে আজ পথে নামল বর্ধমান শহরের এক স্কুল। শহরের উত্তর প্রান্তে কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আজ ওই ঘটনার প্রতিবাদে বর্ধমান শহরে শোভাযাত্রা আয়োযন করে। ছাত্রছাত্রীদের সাথে সাথে এদিন পথে নামেন ডিএনদাস স্কুলের পরিচালন সমিতির সদস্য সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীবৃন্দরা। তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতিতে শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর রথতলা উদয়পল্লীর বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে। অপরাধের বিচার চেয়ে এবং চিকিৎসক তথা মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবীতে শ্লোগান দিয়ে সোচ্চার হয় অংশগ্রহণকারীরা। ডিএনদাস স্কুলের শিক্ষক কমল সাহার পরিচালনায় ছাত্রী সোনালি সোহিনী হেমাদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় আমরা করব জয় গানটি। শিক্ষিকা আঁখি চক্রবর্তী বললেন, মঙ্গলবার নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীরা আবেদন করে আর জি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদে শোভাযাত্রার জন্য। তাদের অনুরোধেই মূলত আজকের এই প্রতিবাদ কর্মসূচী। আঁখি চক্রবর্তী আরো বলেন, চিকিৎসকের কাছে যেতে হয় আমাদের সবাইকে। ফলে তাঁরা যাতে কোনভাবে হেনস্থার শিকার না হন তা দেখার দায়িত্ব আমাদের সবাইকার।রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত জনতার কথা কে জানান, আমাদের ছাত্রছাত্রীরা বরাবরই সমাজসচেতন। প্রতিদিন সকালের সমবেত সঙ্গীতের পর ওরা সংবাদপত্র থেকে রোজকার খবর পাঠ করে। তারা পাঠ করে মনীষীদের বাণী। ওরা আরজি করের দুর্ঘটনা সম্বন্ধে যঠেষ্ট অবহিত। মূলত ওদের আগ্রহেই আজকের এই প্রতীবাদ কর্মসূচী। আমরাও চাই দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সমাপ্ত হোক এবং আসল দোষী / দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। কারণ এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয় জড়িত।

আগস্ট ২২, ২০২৪
রাজ্য

"আরজিকরে কি হয়েছে জানেন তো?", ভাতারে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে হুমকি দিয়ে গ্রেপ্তার সিভিক ভলেন্টিয়ার

আরজিকর মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে নৃশংস ভাবে খুনের ঘটনায় তোলপাড়। রাজ্যজুড়ে চলছে প্রতিবাদ। তারই মাঝে এবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতার স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ঘটনায় আরেক হুমকির ঘটনা। অভিযোগ, হাসপাতালের কর্তব্যরত এক মহিলা ডাক্তারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মদ্যপ অবস্থায় থাকা এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। তা নিয়ে শনিবার ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়ায় ভাতার হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে। ভাতার থানায় চলে বিক্ষোভ। দাবি করা হয় অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারকে গ্রেপ্তারের। তাতে জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক(২) সূবর্ণ গোস্বামী, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সংঘমিত্রা ভৌমিক এবং মহিলা চিকিৎসকও বিক্ষোভে সামিল ছিলেন। এর পরেই অভিযুক্ত ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার আমন দীপ জানান,অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার সুশান্ত রায়কে ভাতার থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাঁকে রবিবারর বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে ।সূত্রের খবর, কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে হুমকি দেওয়ায় ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত প্রায় ২-১৫ নাগাদ। ওইসময় হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলেন শিশু বিশেষজ্ঞ সুতপা নস্কর। ওইদিন বিকেল থেকেই বর্ধমান কাটোয়া সড়কে পুন্যার্থীদের প্রচুর ভিড় ছিল। কাটোয়া থেকে গঙ্গাজল নিয়ে হাজার হাজার পুন্যার্থী বর্ধমানেশ্বর মন্দিরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। প্রচুর বাইক ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছিল। ওই রাতে ভাতার এলাকায় একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটে। তখন সেইসব দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীদের নিয়ে নাস্তানাবুদ হচ্ছিলেন হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ডাক্তার সুতপা নস্করের বক্তব্য়,রাতে তখন হাসপাতালে দুর্ঘটনাগ্রস্থ রোগীদের ভিড় ছিল। তাদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তখন সুশান্ত রায় নামে ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার হাসপাতালে আসেন। পেটে অস্বস্তি ও মাথা ঘুরছিল বলে তিনি জানান। আমি ওই ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম। তবুও ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার আমার সাথে চুড়ান্ত দুর্ব্যবহার করতে থাকেন। তাঁর অভিযোগ, আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন,আর জি করে কি হয়েছে জানেন তো?জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক(২) সূবর্ণ গোস্বামী বলেন. আরজিকরে কি হয়েছে আমরা সবাই জানি। ওই ঘটনা নিয়ে সারা দেশ উত্তাল। বিভিন্ন রাজ্যে চিকিৎসকরা এই ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করছেন। এই আবহে ভাতারে এক সিভিক ভলেন্টিয়ার মদ্যপবস্থায় আমাদের এক মহিলা চিকিৎসকের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেছে। ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

আগস্ট ১০, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 42
  • 43
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্কুল আছে, শিক্ষকও আছেন, কিন্তু পড়ুয়া শূন্য! রাজ্যের ৪১৩৩ স্কুল নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত

স্কুল রয়েছে, শিক্ষকও রয়েছেন। কিন্তু সেই স্কুলে পড়ুয়া নেই একজনও। রাজ্যে এমন পড়ুয়াশূন্য সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের সংখ্যা ৪১৩৩। এবার এই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ফাঁকা স্কুলবাড়িগুলি যাতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, তার জন্য বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, শিক্ষা সচিবের নির্দেশে ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে এই কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলাস্তরে একটি কমিটি কাজ করবে। স্কুলগুলির ভবনের অবস্থা, পরিকাঠামো, অবস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট স্কুলবাড়ি ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করবে কমিটি।শিক্ষা দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এমন ৪১৩৩টি স্কুল চিহ্নিত হয়েছে যেখানে বর্তমানে একজনও পড়ুয়া নেই। অথচ এই স্কুলগুলির সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির পরিকাঠামো এবং শিক্ষক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।এই স্কুলবাড়িগুলিকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও স্কুলবাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। কোথাও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার প্রস্তাব আসতে পারে। আবার কোনও ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিপিপি মডেলে স্কুল চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হতে পারে।তবে কোনও স্কুলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনই চূড়ান্ত হয়নি। জেলাস্তরের কমিটি পরিকাঠামো ও স্থানীয় প্রয়োজন যাচাই করার পর প্রস্তাব পাঠাবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই পর্যালোচনা এবং প্রস্তাব তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যের ৪১৩৩ পড়ুয়াশূন্য স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির ভবন যাতে দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই বিকল্প ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন স্কুলে কী পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন, ভবনের পরিকাঠামো এবং জেলাস্তরের কমিটির রিপোর্টের উপর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই ভোগান্তি, ১০ ঘণ্টা পথেই! এশিয়ান গেমসে কেন এমন পরিণতি বরুণের?

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্যের পুত্র বরুণ সান্যাল এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে মিক্সড মার্শাল আর্টে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় নামার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে।এবারই এশিয়ান গেমসে মিক্সড মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৭৭ কেজি বিভাগে ভারতের প্রথম পুরুষ প্রতিনিধি হিসেবে নামার কথা ছিল বরুণের। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এশিয়ান গেমসে সুযোগ পান তিনি। তবে প্রথমে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। পরে সংশোধিত তালিকায় জায়গা পান বরুণ।রবিবার প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল তাঁর। তার আগে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সনায় যান বরুণ। ওজনভিত্তিক লড়াইয়ে নামার আগে অনেক প্রতিযোগীই সনায় গিয়ে শরীরের অতিরিক্ত জল কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু সনায় যাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বরুণ।জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছিল। এর পর তাঁর পেশিতে টান ধরে এবং শরীরে জলের পরিমাণও আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যায়। রাত একটা নাগাদ সনাতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এক নেপালি ক্রীড়াবিদ বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর বরুণকে প্রতিযোগিতার জন্য অনুপযুক্ত বলে জানান। ফলে ৭৭ কেজি বিভাগে আর লড়াইয়ে নামার অনুমতি পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস থেকেই নাম প্রত্যাহার করতে হয় তাঁকে।তবে বরুণের অসুস্থতার পিছনে শুধু সনার ঘটনাই নয়, জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই একাধিক সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে। জানা গিয়েছে, এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনায় তাঁর নাম নথিভুক্ত করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে একের পর এক দফতরে গিয়ে নথিভুক্তির কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।এর পর থাকার ঘর নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। বরুণ যে ঘর পেয়েছিলেন, সেখানে আরও দুজন ক্রীড়াবিদকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতেও বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় চলে যায়।এই সমস্ত সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও কমে যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওজন ঠিক রাখতে সনায় যেতে হয়েছিল বরুণকে।কিন্তু সনায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেননি। ফলে এশিয়ান গেমসে ইতিহাস তৈরির সুযোগ পেয়েও লড়াইয়ে নামতে পারলেন না বরুণ। তাঁর এই পরিস্থিতির জন্য এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
দেশ

সপ্তাহে দু’দিন ছুটির দাবিতে ফের ধর্মঘট, মাসের শেষে টানা পাঁচ দিন বিপাকে গ্রাহক?

দেশজুড়ে ফের ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালু এবং শনি ও রবিবার ছুটির দাবিতে ব্যাঙ্ক কর্মীদের যৌথ মঞ্চ ফের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা।ধর্মঘটের আগে এবং পরে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন পরিষেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা ব্যাঙ্কভেদে আলাদা হতে পারে।ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হল সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করা। অর্থাৎ শনি ও রবিবার নিয়মিত ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন কর্মীরা। সেই দাবির পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের প্রভাব কমাতে আগেভাগেই তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে ২১ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং নাবার্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।ধর্মঘটের সময়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা কী ভাবে যতটা সম্ভব সচল রাখা যায়, সেই বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। ধর্মঘটের জেরে যাতে আর্থিক লেনদেন ও জরুরি পরিষেবায় বড় ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং ব্যাঙ্কের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ও মিলে যাচ্ছে। ফলে ওই সময়ে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত জরুরি কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।অন্য দিকে, কর্মী সংগঠনগুলির কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালুর দাবি ঘিরে কর্মী সংগঠন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে আলোচনা কোন দিকে যায়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বড় ধাক্কা! আদালতের নির্দেশে বন্ধ পোষ্য বিক্রি

উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বেআইনি পাখি, মাছ, কুকুরছানা-সহ বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার আদালতের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করার কথা ছিল। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকেই গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে নজরদারি শুরু হয়। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরের আধিকারিকেরা বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বাজারের সংগঠনের তরফেও মাইকিং করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারের সদস্যদের কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।গ্যালিফ স্ট্রিটের এই সখের হাট দীর্ঘদিনের পুরনো। বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এক সময় সরকারই তাঁদের এখানে বসার অনুমতি দিয়েছিল। এখন ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম সামনে আসায় বহু ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়েছেন।সখের হাটের সদস্য অমর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বাজারে সাতশোরও বেশি সদস্য রয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি শতাব্দীপ্রাচীন বাজার এবং বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। কিন্তু কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে ব্যবসা চালানো নিয়ে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।অমর বলেন, যত দিন এই রাস্তার উপর ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি মীমাংসা না হচ্ছে, তত দিন ব্যবসা চালানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই সেই লাইসেন্স নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আদালতের নির্দেশ তাঁরা মেনে নিয়েছেন বলে স্পষ্ট করেছেন সখের হাটের ওই সদস্য।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে পাখি ও বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশীয় পাখি কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় এই বাজারে নজরদারি চালিয়েছে বন দফতর। অতীতে এই বাজারে বেআইনি পাখি বিক্রির অভিযোগে অভিযান এবং পাখি উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।এ বার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। রবিবার থেকেই বাজারে পুলিশ ও শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর করা যায় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে কত জন প্রয়োজনীয় নথি ও লাইসেন্স দেখাতে পারেন, সে দিকেই এখন নজর।তবে এই নির্দেশের ফলে বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাতশোর বেশি সদস্যের এই পুরনো বাজারে কত জন বৈধ ভাবে ব্যবসা চালাতে পারবেন, কত জনকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় দুটিআদালতের নির্দেশ মেনে বেআইনি পোষ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স নিশ্চিত করা। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর বাজারের চেহারা কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রাজ্য

কিষানজির ছায়াসঙ্গী মঙ্গল, সঙ্গে স্ত্রী মালতী! জঙ্গলমহলে বড় সাফল্যের দাবি এসটিএফের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল মাহাতো ও তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মুকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। শনিবার দুপুরে শালবনি থানার সরবেড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের এসটিএফের হাতে আসার খবর ছড়ায়। তবে তাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, নাকি আত্মসমর্পণ করেছেন, তা নিয়ে রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।মঙ্গল মাহাতো পুলিশের খাতায় পতিত মাহাতো, পাপ্পু, সমীর এবং পান্ডে নামেও পরিচিত। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনি সিপিআই মাওবাদীর সাব জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে তাঁর মাথার দাম পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মু সংগঠনের এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁর বিরুদ্ধেও দুই লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।পুলিশের দাবি, মঙ্গলের হাতে একে-৪৭ এবং মালতীর হাতে ইনসাস রাইফেল থাকত। তবে তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।মঙ্গল মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে তিনি মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত হন। প্রথমে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার পর স্কোয়াডের সদস্য হন। ২০০৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সশস্ত্র সংগঠনে যোগ দেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।লালগড় আন্দোলনের সময় মঙ্গলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। পরে তিনি মাওবাদী নেতা কিষানজির দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিষানজির মৃত্যুর সময় সুচিত্রা মাহাতো ছাড়া মঙ্গলই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় বাহিনীর ঘেরাটোপ পেরিয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।মালতী মুর্মুর জীবনও অল্প বয়সেই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মালতী ছোটবেলাতেই মাকে হারান। পরে জ্যাঠার বাড়িতে বড় হন। প্রায় ১৫ বছর বয়সে তিনি মাওবাদী স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে মঙ্গল ও মালতীর মধ্যে সহকর্মী হিসেবে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাঁরা বিয়ে করেন।২০১১ সালের পর দুজনেই ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী নেতা আকাশের স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। প্রথমে বাংলা লাগোয়া পূর্ব সিংভূমের জঙ্গলে, পরে দলমা ও সারান্ডার জঙ্গলে তাঁদের ঘোরাফেরা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।এর মধ্যে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের জেরে আকাশ-সহ কয়েক জন মাওবাদী বাংলার দিকে ফিরেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আগস্ট মাসে মদন মাহাতো, বীরেন সিং এবং মীরা পাহাড়িয়াকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে অনিতা কায়েম আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়।সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়ার পর আকাশও জঙ্গল ছেড়ে শহরের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জনের বিরুদ্ধেও পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।এই পরিস্থিতিতেও মঙ্গল ও মালতী জঙ্গলেই ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পারেন বলে খবর। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের লালাট গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আকাশকে এসটিএফ গ্রেফতার করে।আকাশকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গল মাহাতোর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকারীরা তথ্য পান বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আকাশের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গল জঙ্গলে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে চলে আসেন বলেও তদন্তকারীদের দাবি।এর পরেই শালবনির সরবেড়িয়া গ্রামে মদন মাহাতোর এক আত্মীয়ের বাড়িতে তাঁদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। সেখান থেকেই শনিবার দুজনকে এসটিএফ নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে সূত্রের খবর।তবে এই ঘটনায় এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। মঙ্গল ও মালতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নাকি তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। এসটিএফের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে এলে গোটা ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

মমতাকে হারানোর ছক নাকি ক্যামাক স্ট্রিটে! ঋতব্রতর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই দাবির স্বপক্ষে তাঁর কাছে নাকি প্রমাণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের ভিতরে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এক দিকে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্য দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তরুণ নেতাদের একটি অংশ। ভোটের আগে প্রকাশ্যে সেই দ্বন্দ্ব খুব বেশি দেখা না গেলেও দলের ভিতরে টানাপোড়েন চলছিল বলে দাবি ঋতব্রতর।তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই তালিকার প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তালিকায় আরও কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতার নাম ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে ওই ১৪ জনের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি।ঋতব্রত আরও দাবি করেছেন, যাঁদের হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের সমস্যায় ফেলার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের নির্দেশ দলের ভিতর থেকেই দেওয়া হয়েছিল।এই দাবির সঙ্গে ভবানীপুরের নির্বাচনী ঘটনাকেও জুড়ে দেখার চেষ্টা করছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুরে ভোটগণনার সময় তৃণমূলের এক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও গণনাকেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সেই সময় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ঋতব্রতর বর্তমানে করা অভিযোগের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা প্রমাণিত নয়।ঋতব্রতর দাবি, তাঁর কাছে এই অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আদালতেও সেই প্রমাণ পেশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও জবাব এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তালিকার প্রথমে থাকা এবং ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নির্দেশ যাওয়ার অভিযোগসবই আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য হিসাবেই থাকছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলের ভিতরে-বাইরে বিতর্কও হয়েছে। ফলে ঋতব্রতর এই নতুন দাবি সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।এখন প্রশ্ন, ঋতব্রত যে ১৪ জনের তালিকার কথা বলছেন, সেখানে আর কারা ছিলেন এবং তিনি যে সাক্ষ্যপ্রমাণের কথা বলেছেন, সেগুলি কী। সেই তথ্য প্রকাশ্যে এলে তাঁর অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে তাণ্ডব! প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ, নিশানায় একাধিক তৃণমূল কার্যালয়

শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের বিজয়গড়-সহ একাধিক এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার, যিনি মলয় মজুমদার নামেও পরিচিত, তাঁর বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশাপাশি তাঁর কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।মলয় মজুমদারের অভিযোগ, হামলাকারীদের একটি দল তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাঁর দাদা ও বউদিকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ক্ষতি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।প্রাক্তন বিধায়কের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির দুই নেতা অনুপম তালুকদার ও সজল বসুর নেতৃত্ব রয়েছে। তাঁদের দলবলই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি মলয়ের। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে বিজেপির যোগের বিষয়টি এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।মলয় আরও অভিযোগ করেছেন, পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় খোলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলের কর্মীদেরও নানা ভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।শুধু মলয় মজুমদারের বাড়ি নয়, ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, বাড়িতে ঢুকে দলের মহিলা কর্মীদের মারধর করা হয়। তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে এসেছে।এর পর যাদবপুরের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। আনন্দপল্লি, বিজয়গড়, বাঘাযতীন ডি ব্লক-সহ কয়েকটি জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে পরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা পুরভোটের আগে পর্যন্ত ওই কার্যালয় ব্যবহার করা যাবে না বলে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।সীমা ঘোষের অভিযোগ, তাঁকেও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না এবং বিজেপি বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও কথা বলা যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।ঘটনার পর যাদবপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু তৃণমূলের কার্যালয় বা মলয় মজুমদারের বাড়িই নয়, এলাকার একাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ফলে শনিবার সন্ধ্যার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।অন্য দিকে, মলয় মজুমদারের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বা জনরোষের জেরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পালটা দাবি করেছে বিজেপি।ফলে যাদবপুরের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন, হামলার পিছনে কারা ছিল এবং কেন একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় কার্যালয়কে নিশানা করা হল। মলয় মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগ এবং অন্যান্য পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(অন্তিম পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বের পরঃসৌভিক, কিছু দরকার? স্নেহা, না সেরকম কিছু না, তোমার আর সায়নীর মধ্যে সব ঠিক আছে? সৌভিক, কেন বলোতো? স্নেহা, শেষ দুদিন দেখলাম সায়নী তোমায় খুব বাজে ভাবে এড়িয়ে চলছে। সৌভিক এবার নড়েচড়ে বসলো, স্নেহাও লক্ষ্য করেছে মানে এটা সৌভিকের মনের ভুল মোটেও নয় আর সায়নীর কি হয়েছে সেটা স্নেহার থেকে ভালো কেও বলতেও পারবেনা সুতরাং যখন সুযোগ নিজে হেঁটে এসেছে তখন সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।সৌভিক, হ্যাঁ, সেটা ওই করছে, কিন্তু কেন করছে তার কোনো সদুত্তর আমার কাছে নেই, তোমার কাছে যদিও থাকে তবে তুমি বলতে পারো, আমি চেষ্টা করে দেখবো যদিও কিছু করতে পারি তো। স্নেহা, কি হয়েছে সেটা আমিও ঠিক জানিনা তবে তোমায় এটুকু বলতে পারি ওর মাথায় কিছু একটা চলছে আর আমাদের সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ঘটছে, তোমার সাহায্য লাগবে। সৌভিক, কিরকম সাহায্য লাগবে? আর কি ঘটছে সেটা বললে ভালো হতো। স্নেহা, সব জানার দরকার নেই, শুধু তুমি আজ রাতের তৈরী থেকো। আমি যাকে সন্দেহ করছি সেই যদিও এসবের পিছনে থেকে থাকে তবে তাকে আজকেই আমরা হাতেনাতে ধরবো। এই বলে স্নেহা সৌভিকের কেবিন থেকে বাইরে বেরোয়, আজকেও রাহুল হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন একটা বেরিয়ে গেলো।তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, সৌভিকের ভাড়া করে দেওয়া ট্যাক্সিটা এসে থামলো সায়নীদের এপার্টমেন্টটার সামনে।ট্যাক্সির ডানদিকের দরজাটা খুলে প্রথমে স্নেহা নামলো, তারপর সায়নী নামতে গেলো,কিন্তু সায়নী দেখলো আশেপাশের পরিবেশটা কেমন যেন আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। ড্রাইভার সায়নীকে বললো, ম্যাম আপনি ঈশানের সাথে এরকম কেন করলেন? সায়নী ভয় পেলো ড্রাইভারের এই আকস্মিক প্রশ্নের সামনে, সায়নী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এপার্টমেন্টর দিকে পা বাড়ালো কোনোদিকে না তাকিয়ে, কিন্তু আজ ঈশান যেন ওর পিছু ছাড়ছেনা, সায়নী যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে সেখানে আশেপাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে ওকে একই প্রশ্ন করছে, তুমি এটা ঈশানের সাথে কেন করলে? প্রথমে সিকিউরিটি গার্ড, তারপর পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা, মাঠে খেলতে থাকা বাচ্চারা, আর বহুদূরে দাঁড়িয়ে ঈশান ওই একই হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ওর চোখে মুখে রক্ত লেগে, কি বীভৎস লাগছে ওকে। সায়নী এবার আর হাঁটলো না, ওই সোজাসুজি দৌড় দিলো, একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে ওই উপরে উঠে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো কিন্তু ওর কাছে চাবি ছিলোনা, পাশে স্নেহাও নেই, ওই কোথায় গেলো?সিঁড়ি দিয়ে কেও একজন উপরে উঠে আসছে, পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে শরীরটাও স্পষ্ট হচ্ছে। একি এটা যে ঈশান, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, সায়নী আরো জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো, ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো কিন্তু এই দুনিয়ায় যেন কেও নেই ওর আর্তনাদ শোনার মতো, কেও যেন নেই ওকে বাঁচানোর মতো। ঈশান হাঁটতে পারছেনা, ওর পা দুটো ভাঙ্গা আর একটা হাত নেই এখন দৃশ্যমান। সে এসে সায়নীর সামনে দাঁড়ালো আর মুখের ওই সরল হাসিটা এখন আর সরল লাগছেনা বরং ভয়ানক পৈশাচিক লাগছে। ঘরঘরে গলায় ঈশান বললো, সায়নী, কেমন আছো? শুনলাম তুমি নাকি প্রথম হয়েছো? সায়নী কাঁদতে কাঁদতে বললো, সরি ঈশান, আমি ভুল করেছি, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো প্লিজ। ঈশান এবার আরো বিকৃত হাসি হাসলো, সরি? মনে আছে সেইদিনের কথা? ঠিক কিভাবে তুমি আমায় কিছু না করেও আমার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল? কিভাবে একটা মধ্যবিত্ত বাড়ির বড়ো ছেলেকে তুমি শেষ করে দিয়েছিলে? তোমার বাবার তো অঢেল সম্পত্তি ছিল তোমার কি সত্যিই কিছু ক্ষতি হতো সায়নী? হতোনা, কিন্তু আমার হয়েছে, আমার পর আমার ভাইকে দেখার কেও ছিলোনা, মা অসুস্থ এখনো অপেক্ষা করে আমার ফেরার। তোমায় আমি ছাড়বোনা সায়নী, এভাবেই তুমিও শেষ হবে আর তোমার ওই অহংকারী বাবার কোল শূন্য হবে তবেই আমার প্রতিশোধ পূরণ হবে। সায়নী আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো, তারপর বুঝলো ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে স্নেহা, ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে আর সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল।সায়নী যখন ওদের দেখলো তখন আরো কান্নায় ভেঙে পড়লো, রাহুল ও আমায় শেষ করে দেবে বলেছে প্লিজ বাঁচা আমায়। সায়নী রাহুলের পায়ে পরে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিলো।সায়নীর এই অবস্থা দেখে রাহুল ওকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে বললো, ঘরে চল আমি আছি, আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো ও এলে, তুই চিন্তা করিসনা। স্নেহা দরজা খুললো তারপর ওরা দুজনে সায়নীকে নিয়ে গিয়ে ঘরে শোয়ালো। কিছুক্ষণ দুজনেই সায়নীর পাশে বসে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো, সায়নী ঘুমাতে রাহুল ডাইনিংএ এসে বসলো আর সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো স্নেহা।রাহুল, আমার মনে হয় এবার আমার যাওয়া উচিত, সৃজা অপেক্ষা করছে হয়তো । স্নেহা, না রাহুলদা, তোমায় তো এখানে থাকতেই হবে।রাহুল স্নেহার দিকে একবার তাকায়, চোখে প্রশ্ন দৃশ্যমান।স্নেহা, থাকতে হবে তার কারণ এতক্ষন আমি ভাবছিলাম এই গল্প ঈশান আর সায়নীর প্রেমের কিন্তু ভুল ছিলাম, আসলে এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তো তুমি, ওরাতো ব্যাস দুটো পার্শ্ব চরিত্র। তাই নয় কি?স্তম্ভিত রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো, কি বলতে চাও তুমি? স্নেহা কোনো কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়েছো রাহুলকে প্রশ্ন করে, এটাই তোমার ঈশান তাই না? রাহুল এবার আরো অবাক হয়,স্নেহা রাহুলকে বলে, কি রাহুলদা তুমি কি ভেবেছিলে, খেলা খেলতে শুধুই তুমি পারো? আমি পারিনা? আমি আগেই সৌভিককে পাঠিয়েছিলাম তোমার পিছনে। সন্দেহ আমার হয়েছিল তারও দুদিন আগে যখন আমি নিজে তোমায় ওই পাগলাগারদে ঢুকতে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ পুরো তৈরী হয়নি কিন্তু পরে হয়েছে, পরে হয়েছে এটা ভেবে যে যেদিন থেকে তুমি এসেছো তারপর থেকেই কেন ঈশানের আত্মা ওকে তাড়া করছে? আত্মার প্রতিশোধের ব্যাপার হলে তো সে অনেক আগেই আসতে পারতো। এই কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার মনে পড়লো তুমি ঠিক কিভাবে নিজের লাঞ্চবক্স বারবার সায়নীকে দিয়ে যেতে খাওয়ার জন্য। কেও সন্দেহ করতোনা কিন্তু আমি করেছি, কি ওষুধ মেশাতে ওতে?রাহুল স্নেহাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে যা ভাবছে তা সত্যি নয় কিন্তু স্নেহা যেন বোঝার ইচ্ছাতেই নেই।স্নেহা বলে চলে, চুপ করো রাহুলদা, আমার কাছে সব প্রমান আছে, আর ঈশান তো কোনোদিনও মরেই নি, ওই আছে ওই পাগলাগারদে যাকে তুমি রোজ দেখতে যাও, যাকে তোমার স্ত্রী সৃজাও দেখতে যায়, এসব তোমাদের প্ল্যান। আমি বিগত দুদিনে বারবার ওই জায়গায় গেছি, তোমাদের দেখেছি। একটা জীবিত মানুষের কিভাবে ভুত হয়ে কাওকে ভয় দেখায়? কেন করছো মেয়েটার সাথে এরকম? রাহুল এবার টেবিল চাপড়ে বলে, হ্যাঁ আমাদের প্ল্যান আর যা করেছি বেশ করেছি, আর সায়নীকে যতদিন না ওই বেডের পাশে এনে ফেলতে পারছি ততদিন আমি থামবোনা। ওর মতো ডাইনির সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।স্নেহা, মুখ সামলে রাহুলদা, কে ডাইনি? তোমার বন্ধুকে না করেছিল বলে ডাইনি হয়ে গেলো? বাহ্ রে বাহ্ এইতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ পুরুষ। বলি ঘেন্না হয়না নিজের উপর?রাহুলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, সাথে যখন এই ঘৃণা শব্দটা সে শুনলো যেন তার কান লাল হয়ে ধোঁয়া বেরোবে, সে বললো , ঠিক আছে তুমি যখন এতদূর বললে তবে পুরোটা শোনো আর তারপর যদি তোমার মনে হয় আমি দোষী তবে পুলিশ ডেকো আমি নিজে ধরা দেবো। এই বলে রাহুল নিজের ফোনে 101 ডায়েল করে স্নেহার হাতে দিয়ে বলে, যদি মনে হয় আমি ভুল আমার কথা শোনার পরেও তবেই ফোন করো। স্নেহা, ঠিক আছে বলো, সব অপরাধীকেই শেষবারের নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।রাহুল বলতে শুরু করে - ফার্স্ট ইয়ারে যখন ঈশান আসে তখন ও খুবই সহজ সরল একটা ছেলে ছিল তবে প্রতিবাদে কোনোদিনও পিছু হাটতো না। ওর ওই গুন ওকে ইউনিয়নের অনেকের কাছেই পছন্দের পাত্র করে তুলেছিল। তো এই ঈশান ছিল পড়াশোনায় দুর্দান্ত, ওর বাবা ছিলোনা। মা আর ভাইয়ের দায়িত্ব ওর উপরেই ছিল আর সেই জন্য দিনরাত খেতে পড়াশোনা করতো। প্রথম সেমেস্টারের রেজাল্ট যখন আসে তখন ওই প্রথম হয় আর অবাক করা বিষয়ে সায়নী যে কিনা বিক্রমের সাথে সবসময় ঘুরতো সে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় ঈশানের দিকে। মাঝে মাঝেই নিজের চারচাকায় নিয়ে ওকে ঘুরতে যেত, বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্টে দুজনকে একসাথে দেখতে পেতাম। আমি অতটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে, ক্রমে বছর ঘুরলো দুজনে এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বললেও কেও বিশ্বাস করতোনা আর উল্টোদিকে বিক্রমও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতোনা যে সায়নী ঈশানের সাথে সবসময় থাকে।মাঝে মাঝে বুঝতে পারতাম ঈশান সায়নীকে শুধু বন্ধু আর ভাবেনা।রাহুল একটু থামে ওর গলা ধরে এসেছে, টেবিলের উপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খায় তারপর বলে, তখন লাস্ট সেমিস্টার, পরীক্ষা শুরুর আগেরদিন ঈশানকে নিয়ে সায়নী কোথায় একটা গেলো। বেশ কিছুক্ষন পর যখন ঈশান ফিরলো ওই খুব খুশি ছিল, ও নিজের মাকে পর্যন্ত ফোন করে সায়নীর ব্যাপারে বললো আর আমায় বললো সায়নী নাকি বলেছে সায়নী ওকে বিয়ে করতে চায়। ব্যাপারটায় আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম, যাক শেষ পর্যন্ত সব ভালো হচ্ছে।কিন্তু বুঝিনি এটা সবে শুরু, পরেরদিন থেকে সায়নী কেমন যেন বদলে গেলো, ঈশানকে পাত্তা দিতোনা, কথা বলার সুযোগটুকু দিতোনা আর রাতে বাড়ি ফিরে ঈশান মেসেজ করার চেষ্টা করলে সেখানেও ওকে পেতোনা।এভাবে দুটো পরীক্ষা শেষ হলো, পরীক্ষার শেষে ঈশান আমায় ওর হোয়াটস্যাপ দেখিয়ে বললো একটাও মেসেজ সায়নীর কাছে নাকি ডেলিভার হচ্ছেনা। আমি দেখলাম আর বুঝলাম সায়নী ওকে ব্লক করেছে, এটা জানতে পেরে ওই বেচারা আর থাকতে পারেনি তখনই ক্লাসের মাঝে গিয়ে সায়নীকে প্রশ্ন করে যে ওই এমন কেন করলো। সায়নীর ব্যবহার আরো খারাপ ছিল, ও সেসময় হাসে আর ঈশানকে বলে যে ঈশান কখনো নিজের ক্লাস নিয়ে ভেবেছে? কোথায় ঈশানের কুঁড়েঘর আর কোথায় সায়নীর বাবার রাজপ্রাসাদ, ঈশানের কোনো যোগ্যতা নেই সায়নীর পাশে। তারপর বিক্রমের হাত ধরে সায়নী ঈশানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ঈশান ভেঙে পরে, ওর মধ্যে আর ক্ষমতা ছিলোনা পড়াশোনা করার। পরের একটা পরীক্ষাও সে দিতে আসতে পারেনি, ঘরে বসে থাকতো চুপচাপ। যেদিন রেজাল্ট এলো সেদিন ও শুধু দেখেছিলো কিভাবে সায়নী ওর জায়গাটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিভাবে একটা নোংরামি ওকে এতটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে যে ওর একটা বছর নস্ট হয়ে গেছে। ঈশানের চোখ দিয়ে যে জলের ফোটা সেদিন পড়েছিল সেটাই সায়নীর ধ্বংসের কারণ আজ। ঈশান তারপর আর কোনোদিনও সুস্থ হতে পারেনি, ওই নিজের উপর ভরসা রাখতে পারেনি, সব ভুলে গেছে শুধু সায়নীর নামটা মনে আছে আজও। সায়নীর সাথে ওর কোনো পুরোনো বন্ধুর যোগাযোগ নেই কেন জানো? ঠিক এই কারণে, কারণ কেওই এটা মেনে নিতে পারেনি যেটা সায়নী ঈশানের সাথে খেলেছে। এরপরও তুমি বলবে সায়নী ঠিক আর আমি ভুল?স্নেহা এতদূর শুনে বললো, মিথ্যা সব মিথ্যা রাহুলদা, সায়নীকে আমি চিনি ওই এরকম মেয়ে মোটেও না। পিছনে কখন সৌভিক এসে দাঁড়িয়েছে রাহুল বুঝতে পারেনি, সেও বলে উঠলো, রাহুলদা সব শেষ, তুমি ধরা পরে গেছো এবার কোর্টে তোমার সাথে দেখা হবে। সৌভিক স্নেহার থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন করতেই যাচ্ছিলো পুলিশে এমন সময় সায়নীর গলার স্বর শোনা গেলো। সায়নী ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আর সৌভিকের দিকে তাকিয়ে হাসছে উন্মাদের মতো।স্নেহা গিয়ে সায়নীকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা, সায়নী হেসেই চললো তারপর ওই হাসির মাঝেই বললো, ঈশান তুমি মরেও আমার পিছন ছাড়লে না? ঠিকই বলেছিলাম সেদিন, তুমি আসলে কুকুরেরও অধম, তোমার সাথে প্রেম করবো আমি? ছিঃ, ঘেন্না হয় তোমার মতো ছেলেগুলোকে। কোনো ক্লাস নেই এদিকে নাকি বড়োলোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করবে। বেশ করেছি, তুমি এই কোম্পানিতে চাকরি করার যোগ্য নও ঈশান, ওটার যোগ্য শুধু আমি, ওই গোল্ড মেডেলের যোগ্য শুধুই আমি। বোকা ছেলে, তোমার মতো ছেলেগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সোজা।এই জানো এখনো আবার একটা ছেলে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে, ওটাকেও শেষ করবো ঠিক তোমার মতো। আমায় অনেক উঁচুতে যেতে হবে ঈশান, যেখানে পৌঁছাতে তোমার দুজন্ম আরো লাগবে। নিজেকে দেখো, না আছে একটা হাত, না ঠিক করে হাঁটতে পারছো, মরে ভুত হয়েও সেই আমার পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছ, হোয়াট আ লুসার। সৌভিককেও তোমার মতোই শিখিয়ে পরিয়ে দিও যাতে ভুত হয়ে ভয় দেখিয়ে বেড়াতে পারে।সায়নী এই বলে উন্মাদের মতোই হেসে চলেছে, ওর হাসি আজ বাঁধ মানছেনা।দুদিন পর শহরের এক নামি পাগলাগারদে: সায়নী নিজের বেডে বসে পাশের ছেলেটাকে বলে, এই ছেলে তোমার নাম কি?ছেলেটার মুখে একটা সরল হাসি ফুটে ওঠে, সে বলে, আমি ঈশান।সায়নী, তুমি ঈশান? জানো ঈশান বলে একটা ভুত আমায় খুব জ্বালায়, ওকে একটু বকে দেবে গো?ঈশান বলে, ভুত? সে কি মানুষের থেকেও বেশি ভয়ানক?বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো সৌভিক, সামনে স্নেহা আর রাহুল এককাপ চা নিয়ে দাঁড়িয়ে।সৌভিকই প্রথম মৌনতা ভেঙে বললো, সরি দাদা, আর একটু হলে আমিও এই পাগলাগারদেই হয়তো থাকতাম। খারাপ লাগছে ঈশানকে দেখে, ওর পরিবার....রাহুল, চিন্তা করোনা, ওর ভাইয়ের দায়িত্ব আমার আর সৃজার। ওর ভাই এখন লাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছে, ওই ছেলেটাও ঈশানের মতোই পড়াশোনায়, ঠিক একটা কিছু করেই নেবে।স্নেহা, দাদা একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো। রাহুল, কি প্রশ্ন? স্নেহা, সায়নীকে তুমি পাগল করলে কিভাবে? রাহুল একটু হাসলো তারপর বললো, amphitamin, ওকে দিনের পর দিন এটারই ডোস দিয়েছি আর শেষদিন যখন ও পাগলের মতো হাসছিলো তখন ওকে যে বোতলের জলটা তুমি দিয়েছিলে ওটাতে শেষ ডোস ছিল, আমি জল খাওয়ার সময়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার অলক্ষ্যে। ব্যাস, আমি জানতাম আমি যদি আজ পুলিশের কাছে ধরা পরেও যাই তবুও তোমরা সায়নীকে বাঁচাতে পারবেনা। ভাগ্য সহায় ছিল যে সায়নী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তোমরা আর আমায় জেলে পাঠাওনি, বদলে ওকে পাগল হতে দেখেছো আর ভয়ে ওর থেকে দূরে সরে গেছো । স্নেহা, জেলে তো ওরই যাওয়া উচিত, যে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো নিজের স্বার্থে। রাহুল, পরজন্মে দুজন যেন সুস্থ মানুষের মতো বাঁচতে পারে এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। ওরা নিজেদের চা শেষ করে নিজেদের গোঁন্ত্যব পথে পা বাড়ালো। তখন সূর্য ডুবে গেছে, বাইরেটা অন্ধকার গ্রাসঃ করেছে আর ভিতরে?তখনও সায়নী নিজের খেয়ালে ঈশানের সাথে বকবক করে চলেছে, যেন দুজন দুজনকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারবেনা। ওদের মধ্যে কি সত্যিই কোনোদিনও ভালোবাসা তৈরী হয়নি? বোঝা মুশকিল। কারণ দৃশ্যত উন্মাদদের থেকে অনেক বেশি উন্মাদ হয় সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরা।সমাপ্তসায়ন্তন গোস্বামী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal