• ৯ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Ban

রাজ্য

অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ! থানায় গিয়ে কী জানালেন বিজেপি নেতার স্ত্রী?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ উঠল। বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের স্ত্রী মৌসুমী দাস ঘোষ।অভিযোগকারিণীর দাবি, গত শনিবার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ কার্যালয় ভাঙচুরের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।মৌসুমী দাস ঘোষের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই তিনি লাগাতার হুমকি পাচ্ছেন। তাঁর দাবি, সামাজিক মাধ্যমে অভিষেকের ডিজিটাল যোদ্ধারা তাঁকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করছেন। এই কারণে গত দুদিন ধরে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন।সোমবার সকালে তিনি বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে আমতলার পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।পাশাপাশি তিনি ২০১৮ সালে তাঁর স্বামী অভিজিৎ দাসের উপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর দাবি, সেই সময় মারধরের ফলে তাঁর স্বামীর দুটি পা ভেঙে যায় এবং তিনি স্থায়ীভাবে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা পুলিশি নিরাপত্তার দাবিও জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমফানের ত্রাণ বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস নোদাখালি থানায় লিখিত অভিযোগ করে দাবি করেছিলেন, বজবজ ২ ব্লকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ত্রাণ দুর্নীতি হয়েছে এবং ভুয়ো নথি তৈরি করে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জুলাই ২০, ২০২৬
কলকাতা

অভিষেককে বিদেশ যেতে দিল না হাই কোর্ট! এসএসকেএমেই চিকিৎসার নির্দেশে তীব্র চাঞ্চল্য

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও এক বড় আইনি ধাক্কা খেলেন। তাঁকে বিদেশে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার অনুমতি দিল না কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আইনি রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়লেও আপাতত বিদেশ যেতে পারবেন না অভিষেক। তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছে আদালত।বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপিকে উদ্দেশ করে অভিষেকের ডিজে বাজানোর মন্তব্য নিয়ে মামলা হয়। সেই মামলার শুনানিতেই সোমবার বিষয়টি ওঠে। অভিষেকের আইনজীবী আদালতের কাছে আইনি রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানান। বিচারপতি সেই আবেদন মেনে আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ান।তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আগামী ২৯ জুলাই চোখের চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাওয়ার আবেদন মঞ্জুর করা হচ্ছে না। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, বিদেশেই কেন চোখের চিকিৎসা করাতে হবে? কলকাতাতেও চোখের চিকিৎসার জন্য একাধিক হাসপাতাল রয়েছে। প্রয়োজনে এসএসকেএম হাসপাতালে অভিষেকের চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য ও সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতির এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেন। তখন বিচারপতি জানান, আদালত কখনওই চান না আবেদনকারীর চিকিৎসায় কোনও সমস্যা হোক। তাই প্রথমে এসএসকেএম হাসপাতালে সমস্ত পরীক্ষানিরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্ট দেখে পরে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে, অভিষেক বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে পারবেন কি না।উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ডানকুনি হাইওয়ের কাছে এক পথ দুর্ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাঁ চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে তাঁর চিকিৎসা চলে। পরে তিনি আমেরিকাতেও চিকিৎসা করান এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেখানে চেকআপের জন্য যেতে হয়। তবে আদালতের নির্দেশ মেনে আপাতত আগামী দুমাস তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

জুলাই ২০, ২০২৬
কলকাতা

রাজ্যের আইনজীবী অনুপস্থিত, থমকে গেল অভিষেকের মামলার শুনানি! এরপর কী বলল হাইকোর্ট?

আমতলার পার্টি অফিস ভাঙা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে রাজ্যের কোনও আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় শুনানি শুরু করা যায়নি।আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলা ১২টার সময় মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্যের পক্ষ থেকে কোনও আইনজীবী হাজির না হওয়ায় বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী জানান, রাজ্যের বক্তব্য ছাড়া শুনানি সম্ভব নয়। পরে রাজ্যের আইনজীবী নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য ভার্চুয়াল মাধ্যমে এজলাসে উপস্থিত হন এবং সওয়ালের জন্য আরও সময় চান।বিচারপতি রাজ্যকে ফের নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারকেও মামলার কপি দিতে বলা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, জেলাশাসকের কাছ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে হবে। এরপর মামলার পরবর্তী শুনানির সময় ধার্য করা হয়েছে দুপুর দেড়টায়।অভিযোগ, আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি অফিস বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছিল। শনিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুলডোজার চালিয়ে অফিসের একাংশ ভেঙে দেওয়া হয়। এমনকি শাবল দিয়ে ডিজি লকারও ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ। রবিবারও বুলডোজার পার্টি অফিসের সামনে পৌঁছে যায়। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে যান অভিষেকের আইনজীবী।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, পার্টি অফিসটি বেআইনিভাবে তৈরি হয়নি। তিনি অভিযোগ করেছেন, এর পিছনে বিজেপি নেতাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত রয়েছে। শনিবার তিনি বলেন, যে আইনের যে ধারায় আপনারা এই অত্যাচার করেছেন, একই আইনের একই ধারায় ৩১ ফিরিয়ে দেব সুদ সমেত।আমতলা পার্টি অফিস ভাঙাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এখন নজর আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে, যেখানে রাজ্যের জবাবের পর মামলার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণ হতে পারে।

জুলাই ১৯, ২০২৬
দেশ

সর্বদলীয় বৈঠকে বড় বিস্ফোরণ! সুদীপদের ডাকতেই হঠাৎ ওয়াকআউট বিরোধীদের

সংসদের বাদল অধিবেশনের আগের দিন সর্বদলীয় বৈঠকে বড় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হল। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা বিদ্রোহী সাংসদদের আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়ল বিরোধী শিবির। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের বৈঠকে ডাকা হলে তৃণমূল-সহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদ প্রতীকী ওয়াকআউট করেন।রবিবার সকাল ১১টা থেকে সর্বদলীয় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে এনসিপিআইয়ের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৈঠক শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বিরোধী সাংসদরা বাইরে বেরিয়ে যান। পরে তাঁরা আবার বৈঠকে ফিরে যোগ দেন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের তরফে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৌগত রায় ও মহুয়া মৈত্র। সৌগত রায় প্রশ্ন তোলেন, সংসদের ওয়েবসাইটে যার নাম নেই, এমন একটি অস্বীকৃত দলকে কীভাবে সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকা হল। তিনি বলেন, এখনও ওই ২০ জন সাংসদকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবেই দেখানো হচ্ছে।ওয়াকআউটের পর মহুয়া মৈত্র বলেন, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, জেএমএম, সিপিআইএম, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং শিবসেনা ইউবিটি-সহ সমস্ত বিরোধী দল এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে। তাঁর দাবি, স্পিকার এখনও এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেননি। সাংসদ পদ খারিজের আবেদনও শুনানি হয়নি। তাহলে আলাদা ব্লক স্বীকৃতি কীসের ভিত্তিতে দেওয়া হল?অন্যদিকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেই তাঁরা বৈঠকে এসেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁরা নতুন দলকে প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং সংসদে বিরোধীদের যথাযথ স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। তাঁর মতে, এনসিপিআই ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের নীতিতে বিশ্বাসী।উল্লেখ্য, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ইতিমধ্যেই এনসিপিআইয়ের ২০ জন সাংসদকে বাদল অধিবেশন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের থেকে আলাদা বসার অনুমোদন দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই সংসদের আগে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

জুলাই ১৯, ২০২৬
কলকাতা

‘একজন ফিরলেই এক ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ’! বিদ্রোহীদের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

তৃণমূল ছেড়ে অন্য শিবিরে যাওয়া নেতাদের উদ্দেশে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, যদি তাঁর জন্যই কেউ তৃণমূল ছেড়ে থাকেন, তাহলে সেই নেতা ফিরে এলেই তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের একাধিক নেতা, বিধায়ক এবং সাংসদ দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দেন। তাঁদের অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, দলের পরাজয়ের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী। কেউ আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আবার কেউ অভিযোগ করেন, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অভিষেকের একচ্ছত্র প্রভাবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।এই সমস্ত অভিযোগের জবাব দিতে গিয়েই শনিবার অভিষেক বলেন, যাঁদের সমস্যা তাঁর সঙ্গে, তাঁরা ফিরে আসুন। তিনি এক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করবেন। তাঁর দাবি, যদি পরাজয়ের দায় তাঁর হয়, তাহলে অতীতে দলের জয়ের কৃতিত্বও তাঁরই হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, মানুষ সব দেখছেন এবং সব বোঝেন।এখানেই থামেননি অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, যাঁরা দল ছেড়েছেন, তাঁদের অনেকেই বিশেষ সমঝোতার ভিত্তিতে অন্য শিবিরে গিয়েছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে আক্রমণ করলেই তদন্তকারী সংস্থার চাপ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে এমন আশ্বাস দিয়েই অনেককে দলবদল করানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।উল্লেখ্য, নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের একাংশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশে অভিষেকের পদত্যাগের শর্তে ছুড়ে দেওয়া এই চ্যালেঞ্জ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু করেছে।

জুলাই ১৮, ২০২৬
কলকাতা

মমতার কড়া আক্রমণের পর প্রথম মুখ খুললেন জ্ঞানেশ! এক মন্তব্যেই তোলপাড় রাজনীতি

বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং তৎকালীন তৃণমূল সরকারের মধ্যে টানা সংঘাত তৈরি হয়েছিল। সেই সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কড়া সমালোচনা করেছিলেন। জনসভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।তবে সেই সময় জ্ঞানেশ কুমার প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। সম্প্রতি দিল্লিতে সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে এই প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি মন্তব্য করেন, তিনি ভেবেছিলেন জবাব দেবেন, কিন্তু বাংলার মানুষই সেই জবাব দিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কাছে দিদির মতো। তিনি যা বলার বলেছেন, তাই নিয়ে তাঁর আলাদা করে কিছু বলার নেই। এই মন্তব্যের সময় তাঁকে হাসতেও দেখা যায়।নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। পরে তিনি নিজে কমিশনের দপ্তরে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকও করেন। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, কমিশনের আচরণ পক্ষপাতদুষ্ট এবং অহঙ্কারী। সেই সময় কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।এবার ভোট শেষ হওয়ার পর জ্ঞানেশ কুমারের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

জুলাই ১৮, ২০২৬
কলকাতা

পার্টি অফিস ভাঙতেই বিস্ফোরক অভিষেক! ‘সুদ সমেত ফিরিয়ে দেব’, হুঁশিয়ারিতে তোলপাড় রাজনীতি

আমতলায় একটি তৃণমূল পার্টি অফিস ভেঙে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট পার্টি অফিসটি বেআইনিভাবে দখল করা জমির উপর তৈরি হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে নোটিস পাঠানো হলেও নির্ধারিত সময়ে কেউ হাজির না হওয়ায় শনিবার বুলডোজার দিয়ে ওই কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়।ঘটনার পর মুখ খুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, প্রত্যেক কাজেরই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে তাঁদের সরকার ক্ষমতায় এলে একই আইনের আওতায় সমস্ত ঘটনার জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যদি তিনি সুস্থ ও জীবিত থাকেন, তাহলে আইন মেনেই সবকিছুর উত্তর দেবেন।অভিষেকের অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে বিজেপির নেতাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তাঁর দাবি, যাঁরা রাজনৈতিকভাবে তাঁর বিরোধিতা করেছেন, তাঁদেরই প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নিয়ে গিয়ে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাস্থলে কোনও কিছু ইচ্ছাকৃতভাবে রেখে দেওয়া হলে তার দায় কার হবে, সেই প্রশ্নও উঠছে।তৃণমূল সাংসদ আরও জানান, এই ঘটনার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হবে তাঁর দল। তাঁর অভিযোগ, মুখ ঢেকে কিছু লোক পার্টি অফিস ভাঙচুরে অংশ নিয়েছে এবং পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।অন্যদিকে, প্রশাসনের দাবি, জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি প্রক্রিয়া মেনে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এখন এই ইস্যু আদালত এবং রাজনৈতিক ময়দানে কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর সকলের।

জুলাই ১৮, ২০২৬
কলকাতা

মমতার বাড়ি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে কী চলছিল? বাসিন্দাদের অভিযোগে শোরগোল

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছেই কালীঘাট মিলন সংঘ ক্লাব এবং তার পাশের বস্তি এলাকা ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই এলাকায় বসবাসকারী বহু পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাড়ার নামে টাকা নেওয়া হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, কেউ মাসে তিনশো টাকা, কেউ পাঁচশো টাকা, আবার কোনও কোনও পরিবারের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। টাকার বিনিময়ে তাঁদের হাতে কালীঘাট মিলন সংঘের নামে একটি স্লিপ দেওয়া হতো বলেও দাবি করেছেন বাসিন্দারা।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এই টাকা নেওয়ার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের দাবি, কখনও তিনি নিজে এসে টাকা নিতেন, আবার কখনও তাঁর হয়ে অন্য কেউ এসে ভাড়া সংগ্রহ করতেন। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা বিচারিক সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।এই বস্তি এলাকা আদি গঙ্গার ধারে এবং কলকাতা বন্দরের জমির উপর অবস্থিত বলে জানা গিয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, বছরের পর বছর টাকা দেওয়া হলেও তাঁরা কোনও ধরনের উন্নয়ন বা পরিষেবা পাননি। এই অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় বিধায়কের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বও এলাকা পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনেন।এক বাসিন্দার দাবি, তাঁরা শুনেছেন পুরো বিষয়টি একটি ক্লাবের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। কিন্তু নিয়মিত টাকা দেওয়ার পরও কোনও সুযোগ-সুবিধা বা পরিষেবা মেলেনি। আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই ভাড়া দেওয়ার প্রথা শুরু হয় এবং বহু বছর ধরে তা চলেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

জুলাই ১৮, ২০২৬
শিক্ষা

হারানোর বেদনা থেকে জয়ের মঞ্চে, জীববিজ্ঞানের প্রেমে সাফল্যের শিখরে—দুই কৃতীর অনন্য কাহিনি

এ সারা দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছেন পাঞ্জাবের আর্যন গুপ্ত এবং হরিয়ানার পাংশুল বনসল। দুজনেই ৭২০-এর মধ্যে ৭১৫ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক (AIR)-১ অর্জন করেছেন। তবে তাঁদের সাফল্যের পিছনের গল্প শুধুই দীর্ঘ পড়াশোনা নয়, রয়েছে ব্যক্তিগত সংগ্রাম, অনুপ্রেরণা এবং চিকিৎসক হওয়ার অদম্য স্বপ্ন।শোক থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নআর্যন গুপ্তের চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছার সূত্রপাত একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থেকে। পরিবারের এক প্রিয়জনকে হারানোর পর তিনি উপলব্ধি করেন, চিকিৎসা পরিষেবার গুরুত্ব কতটা গভীর। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। এরপর নিরলস পরিশ্রম, কঠোর রুটিন এবং ধারাবাহিক অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি দেশের অন্যতম কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জন করেন।জীববিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসাই সাফল্যের চাবিকাঠিঅন্যদিকে, পাংশুল বনসলের গল্প একেবারেই আলাদা। ছোটবেলা থেকেই জীববিজ্ঞানের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল তাঁর। মানুষের শরীর কীভাবে কাজ করে, রোগের কারণ এবং তার চিকিৎসাএসব বিষয়ে জানার প্রবল কৌতূহলই তাঁকে মেডিক্যালের পথে নিয়ে আসে। সেই ভালোবাসাকেই তিনি পরিণত করেছেন সাফল্যে।পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতাই মূল মন্ত্রদুই কৃতীরই বক্তব্য, শুধু দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করাই যথেষ্ট নয়। বরং নিয়মিত রিভিশন, ভুল বিশ্লেষণ, মক টেস্ট এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের উপর তাঁরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। পরীক্ষার আগে সিলেবাস বারবার ঝালিয়ে নেওয়া এবং আত্মবিশ্বাস বজায় রাখাই তাঁদের সাফল্যের অন্যতম কারণ।আরও পড়ুনঃ দিনে ১৭ ঘণ্টা পড়াশোনা, তবেই ৭২০-র মধ্যে ৭১৫! NEET টপার আর্যন গুপ্ত জানালেন সাফল্যের আসল মন্ত্র১১ লক্ষের বেশি পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণজাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, পুনঃপরীক্ষার পর প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১.২১ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী NEET UG 2026-এ উত্তীর্ণ হয়েছেন। এবার থেকে সফল পরীক্ষার্থীরা মেডিক্যাল কাউন্সেলিং কমিটি (MCC)-র কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে MBBS, BDS এবং অন্যান্য মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

জুলাই ১৮, ২০২৬
কলকাতা

বড় স্বস্তি অভিষেকের! সই জাল মামলায় হাইকোর্টের নতুন নির্দেশে বদলে গেল সমীকরণ

বিধানসভার সই জাল মামলায় আপাতত স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডির তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আপাতত কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। হাইকোর্ট আরও এক মাসের জন্য তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিচারপতি কৌশিক চন্দ এই নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে তদন্ত চললেও আপাতত গ্রেফতারির মতো পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। আগামী তেইশ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।তৃণমূলের কয়েকজন বিধায়ক অভিযোগ করেছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্যাড ব্যবহার করে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। সেই অভিযোগ বিধানসভার স্পিকারের সচিবালয়ে জমা পড়ে। প্রথমে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে মামলার দায়িত্ব যায় সিআইডির হাতে। তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে হাজির হয়ে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত জানিয়ে দিয়েছিল, তদন্ত চললেও তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারির মতো কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। এবার সেই অন্তর্বর্তী সুরক্ষার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়ে দিল আদালত।এর আগে এই মামলায় একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল সিআইডি। প্রথম দিকে তিনি হাজিরা এড়িয়ে গেলেও পরে ভবানীভবনে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। তদন্তকারীরা অভিযোগের নেপথ্যের ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন নথি নিয়ে তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করেন। তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ চললেও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি।হাইকোর্টের এই নতুন নির্দেশের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তদন্ত চলবে, অন্যদিকে আপাতত আইনি সুরক্ষা বহাল থাকায় সই জাল মামলার পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুলাই ১৭, ২০২৬
দেশ

‘প্রভু অহংকার সয় না, তাই সরকারও টেকেনি’! মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য পুরীর জগন্নাথদেবের মুখ্য পানিগ্রাহীর

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নামের সঙ্গে ধাম শব্দ ব্যবহার নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। বিভিন্ন মহল আপত্তি তুললেও সেই নামেই মন্দিরের উদ্বোধন হয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই ধাম শব্দ সরিয়ে দেওয়া হয়। এবার এই বিতর্কে নতুন করে মুখ খুললেন পুরীর জগন্নাথদেবের মুখ্য পানিগ্রাহী জগন্নাথ দয়িতাপতি। তাঁর দাবি, তিনি আগেই এই বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কথা শোনা হয়নি। তাঁর মন্তব্য, প্রভু কারও অহংকার সহ্য করেন না। সেই কারণেই সরকারও টেকেনি।এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জগন্নাথ দয়িতাপতি বলেন, তিনি কোনও রাজনীতি করেন না, শুধু ধর্মীয় বিধি ও শাস্ত্র অনুযায়ী মত প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, চার ধামের অন্যতম হল পুরীর জগন্নাথ ধাম। তাই অন্য কোনও মন্দিরের নামের সঙ্গে ধাম শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি জানান, দিঘার মন্দিরের নাম নিয়ে আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরামর্শ মানা হয়নি।তিনি আরও বলেন, দেশে বহু জগন্নাথ মন্দির রয়েছে। কিন্তু ধাম হিসেবে স্বীকৃতি একমাত্র পুরীরই। তাই দিঘার মন্দিরের নামের সঙ্গে ধাম শব্দ যোগ করা ধর্মীয় দৃষ্টিতে সঠিক ছিল না। তাঁর দাবি, এই বিষয়েই তিনি বারবার সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সেই কথা গুরুত্ব পায়নি।জগন্নাথ দয়িতাপতি এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও করেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার পরিবর্তনের পর দিঘার মন্দিরের নাম থেকে ধাম শব্দ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে তিনি সঠিক বলে উল্লেখ করেন।এর আগে পুরীর প্রধান পুরোহিত রাজেশ দয়িতাপতিও একই ধরনের বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, দিঘার জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার সময়ই তিনি কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে পাথরের মূর্তিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা এবং ধাম শব্দ ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিলেন। পরে নিমকাঠের মূর্তি তৈরি হলেও ধাম শব্দটি সরানো হয়নি বলে তাঁর আক্ষেপ ছিল।দিঘার জগন্নাথ মন্দির ঘিরে এই বিতর্ক ফের নতুন করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশেষ করে মুখ্য পানিগ্রাহীর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

জুলাই ১৬, ২০২৬
কলকাতা

‘জেলে থেকেও দল ভাঙিনি’! এবার কেন শিবির বদল? মুখ খুলে চাঞ্চল্যকর দাবি মদনের

বিধানসভায় গিয়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন চাঞ্চল্য তৈরি করলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। যোগদানের কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের সমাজমাধ্যমের অবস্থায় লিখলেন সরি। সেই বার্তা যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশেই, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তার থেকেও বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য। তিনি দাবি করেছেন, তদন্তকারী সংস্থার চেয়ে দলের এক শীর্ষ নেতাকেই তিনি বেশি ভয় পেতেন।মঙ্গলবার পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের পরিবারের সদস্যদের সমন পাঠানো হয়। তার পরের দিনই তিনি বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন। যোগদানের পর তিনি জানান, দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কথায়, বাবার দেওয়া নাম, পড়াশোনা এবং বিধায়কের পদ ছাড়া আর কিছুই তিনি নিজের কাছে রাখেননি।এরপরই তিনি একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। মদনের দাবি, তদন্তকারী সংস্থার ভয় নয়, দলের এক শীর্ষ নেতার আচরণই তাঁকে সবসময় আতঙ্কে রাখত। তাঁর বক্তব্য, তদন্তকারী সংস্থা অন্তত জিজ্ঞাসাবাদ করে, কিন্তু দলের ভিতরে কখন কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা আগে থেকে বোঝা যেত না। সেই কারণেই তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে দাবি করেন।একই সঙ্গে তিনি জানান, তদন্তে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ থাকলে তা সামনে আনারও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি দাবি করেন, কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে তাঁর যোগ নেই।এদিকে মদনের এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছেন দলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যদের সমন আসার পরই এই অবস্থান বদল হয়েছে। তাই গোটা ঘটনাকে তিনি রাজনৈতিক চিত্রনাট্যের অংশ বলেই মনে করছেন। অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির বদলে সম্মিলিত নেতৃত্বের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতেই মদন মিত্র তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন।

জুলাই ১৬, ২০২৬
দেশ

অবৈধভাবে ভারতে ঢোকার মাশুল! দুই বাংলাদেশি মহিলার বিরুদ্ধে আদালতের বড় রায়

অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ এবং বৈধ নথি ছাড়া দেশে বসবাসের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি মহিলাকে দুবছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল মহারাষ্ট্রের একটি আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুই মহিলার নাম শাহানাজ বিলাল সদ্দার এবং হাসিনা জব্বর খান। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত তিন ডিসেম্বর দুই হাজার চব্বিশ সালে মহারাষ্ট্রের থানে জেলার মিরা রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে পুলিশের মানব পাচার বিরোধী শাখা। এরপর থেকেই তাঁরা হেফাজতে ছিলেন।তদন্তে উঠে আসে, দুই মহিলা বৈধ নথি ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং মহারাষ্ট্রে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।আদালতে দুই মহিলার আইনজীবী জানান, তাঁরা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য। দুজনই বিবাহিত এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁদের বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধের অভিযোগও ছিল না। পাশাপাশি আদালতের কাছে দাখিল করা আবেদনে দুই মহিলা নিজেদের দোষ স্বীকার করার ইচ্ছার কথাও জানান।সমস্ত দিক বিবেচনা করে আদালত বিদেশি আইন এবং পাসপোর্ট আইনের অধীনে দুই মহিলাকে দোষী সাব্যস্ত করে। তবে গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁরা যে সময় হেফাজতে কাটিয়েছেন, সেই সময় মূল কারাদণ্ডের মেয়াদের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক।এই রায়ের পর অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বৈধ নথি ছাড়া ভারতে বসবাসের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জুলাই ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ঋতব্রত শিবিরে গিয়েই বিস্ফোরক অনুব্রত! অভিষেককে ঘিরে যা বললেন, তাতেই তোলপাড় রাজনীতি

বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠকে যোগ দিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। গরুপাচার মামলায় দীর্ঘ সময় জেলে থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, তাঁর সেই পরিস্থিতির জন্য দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় মন্তব্য করেছেন তিনি।গোলপার্কে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বৈঠকে প্রথমবার উপস্থিত হয়ে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, বীরভূম থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আসত। পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন, কয়লা সংক্রান্ত বিষয়েও প্রতিদিন বড় অঙ্কের অর্থ দিতে হতো। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ প্রকাশ করেননি।সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে তাঁর আর একটি মন্তব্য ঘিরে। অনুব্রতর দাবি, আগামী দিনে তৃণমূলে আর কেউ থাকবে না এবং দল কার্যত শেষ হয়ে যাবে। তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।এক সময় বীরভূমে তৃণমূলের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন জেলায় দলের সংগঠন শক্তিশালী ছিল। গরুপাচার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরও জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি জেলা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। শেষ লোকসভা নির্বাচনেও বীরভূমের দুই আসনে তৃণমূলের সাফল্যের পিছনে তাঁর সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে দলীয় মহলে আলোচনা হয়েছিল।পরে অবশ্য জেলার সংগঠনে পরিবর্তন আনে তৃণমূল। একক নেতৃত্বের বদলে কোর কমিটি গঠন করা হয়। অনুব্রত মণ্ডল সেই কমিটির সদস্য থাকলেও আগের মতো পূর্ণ দায়িত্ব তাঁর হাতে ছিল না। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই সময় থেকেই তাঁর অসন্তোষ বাড়তে শুরু করে।ছাব্বিশ সালের নির্বাচনের পর দলের ফলাফল খারাপ হওয়ার পর প্রথমদিকে অনুব্রত জানিয়েছিলেন, তিনি দলকে ভালোবেসে কাজ করে যাবেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর অবস্থান বদলে যায়। পরে তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গত এগারো জুলাই তাঁকে বীরভূমের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। বুধবার সেই শিবিরের বৈঠকে যোগ দিয়েই একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করে রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন অনুব্রত মণ্ডল।

জুলাই ১৫, ২০২৬
কলকাতা

‘বেইমানদের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী’! বিস্ফোরক বার্তায় নতুন লড়াইয়ের ডাক মমতার

তৃণমূলের অন্দরে একের পর এক নেতা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের ভিতরে অস্বস্তি বাড়লেও লড়াই থেকে এক ইঞ্চিও পিছিয়ে যেতে রাজি নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আবারও শূন্য থেকে দল গড়ে তুলতে প্রস্তুত তিনি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষ দলের প্রতীক দেখে ভোট দিয়েছেন। তাই যাঁরা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁদের বেইমান বলেও কড়া আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, দুই হাজার সাতানব্বই সালে একা লড়াই শুরু করেছিলেন। তখনও সফল হয়েছিলেন। তাই দুই হাজার ছাব্বিশ সালেও নতুন করে লড়াই শুরু করার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে মদন মিত্র-সহ একাধিক নেতা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, অভিষেককে অকারণে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, অভিষেক নিজের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আগামী বহু বছর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন।মদন মিত্রের দলত্যাগ প্রসঙ্গেও পরোক্ষে প্রতিক্রিয়া দেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ দেখিয়ে অনেককে দল ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নোটিস পাঠিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা দল ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁদের অনেকের পরিস্থিতি আগেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন।এরপর তৃণমূলের শুরুর দিনের কথা মনে করিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে দল গড়ে নির্বাচন লড়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছিল। পরে কঠিন সময় এলেও লড়াই থামেনি। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকেও তিনি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন।একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ নিয়েও বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ মেনে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভা হবে। প্রতি বছরের মতো সমাবেশের আগের দিন তিনি নিজে গিয়ে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।মমতা আরও বলেন, কোনও বাধা এলেও সভা বন্ধ হবে না। প্রয়োজন হলে মাইক্রোফোন ছাড়াই কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ নির্ধারিত সময়েই হবে এবং দল লড়াই চালিয়ে যাবে।

জুলাই ১৫, ২০২৬
কলকাতা

হাইকোর্টের চাপে শেষ পর্যন্ত কণ্ঠের নমুনা দিলেন অভিষেক! এবার কি বড় বিপদ?

হাইকোর্টের নির্দেশের পর শেষ পর্যন্ত কণ্ঠের নমুনা দিতে হল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিধাননগর আদালতে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে তাঁর কণ্ঠস্বর রেকর্ড করা হয়েছে। এবার সেই নমুনা যাবে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য। এই রিপোর্টকে ঘিরেই রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি পাতার লেখা দুবার পড়তে বলা হয়। একবার স্বাভাবিক গলায় এবং আর একবার ধীরে। সেই রেকর্ডিং একটি মেমোরি কার্ডে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরে সেটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, মামলার সঙ্গে যুক্ত অডিয়োর কণ্ঠস্বরের সঙ্গে এই নমুনার মিল রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা।জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে কোনও নির্দিষ্ট বক্তৃতা হুবহু পড়ানো হয়নি। অভিযোগে উল্লিখিত কিছু শব্দ ব্যবহার করে একটি নতুন লেখা তৈরি করা হয়েছিল। সেই লেখাই পড়ে শোনান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়েছে। আদালতে পৌঁছনো থেকে শুরু করে কণ্ঠের নমুনা দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ক্যামেরাবন্দি করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া নিয়ে যাতে কোনও প্রশ্ন না ওঠে, সেই কারণেই সমস্ত কিছু নথিভুক্ত করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহের পর প্রয়োজনীয় নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেকর্ডিং এবং ভিডিওর বিশেষ ডিজিটাল পরিচিতিও তৈরি করা হয়েছে, যাতে ফরেন্সিক পরীক্ষার সময় তথ্যের অখণ্ডতা বজায় থাকে।এই মামলার অভিযোগকারী রাজীব সরকারের দাবি, তদন্তের কাজ সঠিক দিকেই এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, মামলার সঙ্গে যুক্ত একটি তালিকা এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি জনসভায় জেলা, ব্লক এবং ওয়ার্ডভিত্তিক একটি তালিকার কথা বলেছিলেন। সেই তালিকাতেই বহু মানুষের নাম ছিল বলে অভিযোগকারীর দাবি। তদন্তে সেই তালিকারও খোঁজ চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।এখন সকলের নজর ফরেন্সিক রিপোর্টের দিকে। কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার ফল এই মামলার তদন্তে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

জুলাই ১৫, ২০২৬
কলকাতা

একুশের পোস্টার থেকে হঠাৎ উধাও অভিষেক! তৃণমূলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?

একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের নতুন পোস্টার প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। পোস্টারে রয়েছেন শুধু তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নেই। এই নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।কলকাতা হাইকোর্ট একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের জন্য বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভার অনুমতি দেওয়ার পর নতুন পোস্টার প্রকাশ করেন কুণাল ঘোষ। পরে সেই একই পোস্টার নিজের সামাজিক মাধ্যমেও ভাগ করে নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পোস্টারে তাঁর ছবি না থাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নানা মহলে।এর আগে প্রকাশিত প্রথম পোস্টারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল। তখন সমাবেশের নির্দিষ্ট স্থান ঠিক না হওয়ায় শুধু কলকাতায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু নতুন পোস্টারে শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রাখা হয়েছে।এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন দলের অন্দরে একের পর এক রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক জন নেতা ও বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সর্বশেষ সেই তালিকায় যোগ হয়েছে মদন মিত্রের নাম। ফলে পোস্টারে অভিষেকের ছবি না থাকাকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এই ঘটনাকে নতুন করে দেখার প্রয়োজন নেই। কারণ গত বছরও একুশে জুলাইয়ের প্রচারের পোস্টারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল না। সেই সময় দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এই সমাবেশের পোস্টারে শুধুমাত্র দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিই রাখা হবে। একই ধরনের ঘটনা দুই হাজার তেইশ সালেও দেখা গিয়েছিল।ফলে নতুন পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা যতই বাড়ুক, এটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নাকি তার পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একুশে জুলাইয়ের আগে এই পোস্টার যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

জুলাই ১৫, ২০২৬
বিদেশ

মধ্যরাতে আনন্দের আসর মুহূর্তে মৃত্যুকূপ! পানশালার আগুনে মৃত অন্তত ২৭, আতঙ্কে বিশ্ব

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল থাইল্যান্ডের রাজধানী। ব্যাঙ্ককের একটি জনপ্রিয় পানশালায় মধ্যরাতে আগুন লেগে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।রবিবার গভীর রাতে উত্তর ব্যাঙ্ককের একটি পানশালায় প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল। সেই সময় হঠাৎ আগুন লাগে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো পানশালায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারদিক। আতঙ্কে সবাই বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও অনেকেই আগুনের মধ্যে আটকে পড়েন। আগুন প্রবেশপথ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় বহু মানুষের বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যায়।খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ব্যাঙ্ককের গভর্নর এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২২ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। পানশালার পিছনের অংশ থেকেও একাধিক দেহ উদ্ধার হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে মঞ্চের কাছে একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপরই বিস্ফোরণ হয় এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পুরো পানশালা আগুনে গ্রাস হয়ে যায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

জুলাই ১৩, ২০২৬
রাজ্য

শিবির বদলেই বড় পদক্ষেপ! অফিস থেকে উধাও অভিষেকের ছবি, কিন্তু মমতার ছবি কেন রইল?

শিবির বদলের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দিয়েছেন। শনিবার তাঁকে বীরভূম জেলার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। আর তার পরের দিনই বোলপুরে তাঁর দলীয় কার্যালয়ে দেখা গেল বড় পরিবর্তন।রবিবার বোলপুরের নিচুপট্টিতে অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি আর নেই। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক ছবি আগের মতোই রাখা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিলেও কি অনুব্রত এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিজের নেত্রী হিসেবে মানছেন? আবার অভিষেকের ছবি সরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে কি বিশেষ কোনও রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইলেন তিনি? সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।শিবির বদলের পর অনুব্রত মণ্ডল প্রকাশ্যেই দলের ভরাডুবির জন্য নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থাকে দায়ী করেছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিশানা করেছিলেন। কারণ ওই সংস্থার সঙ্গে অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচিত।এ প্রসঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে তিনি বহু প্রার্থীকে জয়ী করেছেন, তখন ওই সংস্থার কোনও ভূমিকা ছিল না। তাঁর প্রশ্ন, হঠাৎ এমন কী ঘটল যে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল? একই সঙ্গে তিনি জানান, তিনি তৃণমূলকে ভালোবাসেন এবং কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে এসেছিলেন। বীরভূমে সকলকে নিয়ে দলের নির্দেশ মেনেই কাজ করবেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে দেওয়া হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি আগের জায়গাতেই থাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে। আগামী দিনে এই পরিবর্তনের আরও কোনও রাজনৈতিক তাৎপর্য সামনে আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।

জুলাই ১২, ২০২৬
রাজ্য

মমতার প্রিয় কেষ্ট এবার ঋতব্রতের পাশে! বীরভূমে বড় পালাবদলের জল্পনা

রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিল অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে বড় খবর। সূত্রের দাবি, তিনি এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আসল তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে বীরভূম জেলার সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই খবরে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।শুধু অনুব্রত মণ্ডলই নন, বীরভূমের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কাজল শেখ, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিজিৎ সিংহ এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। জানা গিয়েছে, এই নেতাদের আসল তৃণমূল-এর জাতীয় কর্মসমিতিতেও জায়গা দেওয়া হয়েছে।ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক তপসিয়ায় শুরু হয়েছে। দুই দিনের এই বৈঠকে রাজ্য এবং বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের নাম চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সেই বৈঠকেই বীরভূম জেলার সভাপতির দায়িত্ব অনুব্রত মণ্ডলের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।এই বিষয়ে অনুব্রত মণ্ডলের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তাঁর জ্বর রয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, আগামীকাল কলকাতায় যেতে পারেন। যদিও শিবির পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি।উল্লেখ্য, গরুপাচার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর অনুব্রত মণ্ডল দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। সেই সময় তাঁকে বীরভূম জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেয় দল। পরে কোর কমিটি গঠন করে তাঁকে সেই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতিতে খুব বেশি দেখা যাননি। বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, তাঁকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই অনুব্রত মণ্ডলের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বীরভূমে তাঁর প্রভাব এবং সংগঠনিক দক্ষতা আসল তৃণমূল-এর শক্তি আরও বাড়াতে পারে বলেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

জুলাই ১০, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 93
  • 94
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
দেশ

আরও বাড়তে পারে গঙ্গার জল, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফরাক্কা থেকে সামশেরগঞ্জ, সুতী, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ হয়ে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা আসায় ভয় আরও বাড়ছে স্থানীয়দের।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার ছাড়িয়ে বর্তমানে ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর আরও বেড়ে ২২.৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হড়কা বানের জেরে অতিরিক্ত জল গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। বিহারের পাটনা ও রাজমহল হয়ে সেই জল ফরাক্কায় পৌঁছনোর কারণেই দ্রুত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, আপস্ট্রিম থেকে আসা জলের মধ্যে ফরাক্কার ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছে।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আধিকারিক সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, বিকেল ৩টের সময় গঙ্গার জলস্তর ২২.৭৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমার তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তাঁর কথায়, জলস্তর এখনও ঊর্ধ্বমুখী এবং পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে তা ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। নেপালের হড়কা বানের প্রভাবেই এই জলবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শহরে জল ঢোকার কোনও রেকর্ড নেই এবং পরিস্থিতি সেফ জোনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, জলস্তর বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফরাক্কার গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা শরৎ হালদার বলেন, প্রশাসনের দফতর থেকে বারবার সাবধান থাকার মেসেজ আসছে। তাঁর আশঙ্কা, আরও এক মিটার জল বাড়লেই নালা দিয়ে গ্রামে জল ঢুকে পড়তে পারে। টিনের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী গরিব মানুষজন বন্যা হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে থাকবেনসেই চিন্তাতেই এখন রাত কাটছে তাঁদের।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানির শিল্পমহল শিল্পস্থাপনে যথেষ্ট আগ্রহী, দাবি মন্ত্রী তাপস রায়ের

রাজ্যে শিল্পায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল আগ্রহী বলে দাবি করেছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিল্পমহলে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সিঙ্গাপুর এবং জাপান, মিতসুবিশি-সহ বিভিন্ন দেশের শিল্পপতি ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা রাজ্যে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে সেমিকন্ডাক্টর হাব, ডেটা সেন্টার, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক উৎপাদন শিল্পকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে একটি শক্তিশালী শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের হারানো শিল্পগৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান। রাজ্যের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। শিল্পনীতি, ল্যান্ড ব্যাংক, ল্যান্ড পলিসি, ইনসেন্টিভ স্কিম এবং Single Window ব্যবস্থাকে কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন GoM বৈঠকের মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি জানান।রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরও কিছু ক্ষেত্রে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। এই প্রসঙ্গে তাপস রায় সরকারের Zero Tolerance নীতির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে যে কোনও ধরনের বেআইনি তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর পদক্ষেপ করবে। অতীতে এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপরও নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। আইন অমান্য করে কেউ বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত হলে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।এদিন ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে হানা দেয় কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ। ওই অফিসে বসেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও তিনি ও ডেরেক ওব্রায়েন অফিসে ছিলেন। কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। শিল্পমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের আইনানুগ দায়িত্ব পালন করবে। সেই কাজে বাধা সৃষ্টি করলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-সহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার প্রশাসনের রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
কলকাতা

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে পুরসভার হানা, ভেঙে ফেলা হল তৃণমূলের সাইনবোর্ড! ধস্তাধস্তি, আটক ১২

তৃণমূলের দ্বিতীয় ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল কলকাতায়। ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের ছাদে থাকা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডকে বেআইনি বলে অভিযোগ তুলে সেটি খুলে দিল কলকাতা পুরসভা। অভিযান ঘিরে পুরকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পুলিশ-পুরসভার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত কলকাতা পুলিশের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পুলিশ পুরসভাকে জানায়, অভিষেকের দফতরের মাথায় লাগানো ওই বড় বিলবোর্ডটি নিয়ম মেনে বসানো হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকেরা বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছন।খবর পেয়ে দফতরে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন-সহ কয়েক জন। পুরসভার আধিকারিকেরা যে নির্দেশের কপি নিয়ে এসেছিলেন, তার বৈধতা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। দীর্ঘক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর প্রথম দফায় পুরকর্মীরা ফিরে যান।কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফের পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দফতরে পৌঁছন পুরসভার আধিকারিকেরা। এ বার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ বাহিনী হেলমেট পরে দফতরের ভিতরে ঢোকে। যে অংশে সাইনবোর্ডটি ছিল, সেখানে যাওয়ার পথে বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের।অভিযোগ, তৃণমূলের কয়েক জন নেতা-কর্মী সিঁড়িতে বসে বা শুয়ে পড়ে পুলিশ ও পুরকর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির সময় কয়েক জন পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ছাদে পৌঁছন পুরকর্মীরা। সেখান থেকেই খুলে ফেলা হয় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডটি। পরে তার ভাঙা অংশ ছাদেই পড়ে থাকতে দেখা যায়।এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়। ঘটনাস্থল থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং রাজ্যের বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলকে রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যেই ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পুরসভার মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।অভিষেক বলেন, তৃণমূলকে মিটিং-মিছিলের অনুমতি না দেওয়া, দলের নেতাদের আক্রমণ করা এবং পার্টি অফিস ও বিলবোর্ড ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ঘাসফুলকে যত কাটা হবে, ততই তা বাড়বে। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই এলাকায় ফুটপাত ও বিভিন্ন দোকানের উপরে একাধিক বিলবোর্ড রয়েছে। অথচ শুধুমাত্র তাঁর দফতরের বোর্ডকেই কেন নিশানা করা হল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বেআইনি নির্মাণ ও অন্যান্য অবৈধ বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটছে তৃণমূল। অভিষেকের তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করা হবে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি আদালতে তোলার উদ্যোগ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি শুক্রবার বিষয়টি মেনশন করার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।অন্যদিকে, এর আগে ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় অভিষেকের সাংসদ কার্যালয়ের একাংশ বেআইনি নির্মাণ-এর অভিযোগে প্রশাসনের তরফে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনাও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তার পর এ বার খোদ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের দলীয় সাইনবোর্ড ভাঙাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হল।ঘটনাস্থলে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি অবশ্য তেমন ছিল না। খবর ছড়ালেও বড় কোনও জমায়েত দেখা যায়নি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সন্ধ্যার পর থেকেই ক্যামাক স্ট্রিটে বাহিনী বাড়িয়ে দেয়। উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজায় বিরোধী শিবিরও পিছিয়ে থাকেনি। অভিষেকের দফতরে পুলিশের অভিযান প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, অভিষেক উচ্চমার্গের চার্টার্ড মাফিয়া। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো সময় তাঁর নেই।সব মিলিয়ে, এক সময় তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ৯, ক্যামাক স্ট্রিট এখন নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। একটি সাইনবোর্ড অপসারণকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ১২ জনকে আটক এবং আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিসব মিলিয়ে ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

নেপাল বিপর্যয়ে নিখোঁজ বাংলার পর্যটকরা, উদ্বেগে একাধিক পরিবার

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটকের পরিবারে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালে যাওয়া রাজ্যের বহু পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে কলকাতা ছাড়াও হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, দার্জিলিং এবং উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দারা রয়েছেন।বুধবার নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান নামে। ভোটেকোশী নদীর জল আচমকা ফুলে ওঠায় বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিপর্যয়ের জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। সেই নিখোঁজদের তালিকাতেই রয়েছেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া পর্যটকেরা।কলকাতা থেকে নেপাল, তারপর আর কোনও খোঁজ নেইকলকাতার নাকতলা ও কসবার দুই বাসিন্দা রিনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুস্মিতা ভট্টাচার্যও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। দুজনেই ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন।২১ অগস্ট একটি ৩০ জনের দলের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন সুস্মিতা। কাঠমান্ডু পৌঁছে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনের পর দলটি কেরুং হয়ে তিব্বত সীমান্তের দিকে এগোয়। সেখান থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষ দিকে হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পুত্রবধূ।একই ভাবে ২১ অগস্ট নেপালে যাওয়া রিনার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবার। ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূওনিখোঁজ পর্যটকদের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। গত ২১ অগস্ট একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।স্বামী শুভ্রাংশু রায়ের দাবি, বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।সোনারপুরের লোপামুদ্রারও সন্ধান নেইদক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডুও নিখোঁজ। পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, চিন সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন।২১ অগস্ট ৩০ জনের একটি দলের সঙ্গে নেপাল যান লোপামুদ্রা। বুধবার সকালেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর থেকেই ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।দুর্গাপুরের দুই দম্পতিকে ঘিরে উৎকণ্ঠাপশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকেও একাধিক পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। অম্বুজা টাউনশিপের বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ অগস্ট কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপাল যান। দেবাশিস দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের কর্মী এবং সঙ্ঘমিত্রা শিক্ষক।একই সঙ্গে দুর্গাপুরের তপোবন সিটি এলাকার বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতিও নিখোঁজউত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের খান বাহাদুর রোডের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডলও নেপালে গিয়ে নিখোঁজ। দুজনেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁরা নেপালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের কৈলাস যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ। ফলে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।তারকেশ্বরের পর্যটকদের নিয়েও দুশ্চিন্তাহুগলির তারকেশ্বরের চাউলপট্টির বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্ত এবং একই এলাকার ভ্রমণ সংস্থার কর্মী জয়ন্ত সান্যালও ওই দলের সঙ্গে ছিলেন। পরিবারের দাবি, বুধবার তিব্বত সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল তাঁদের।স্নেহাশিসের স্ত্রী সোমা দত্ত জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা অভিবাসন দফতরের দিকে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শিলিগুড়ির সমরের খোঁজে কাঠমান্ডু পাড়ি দাদারদার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির শান্তিনগর-বউবাজার এলাকার বাসিন্দা সমর মণ্ডলও নিখোঁজ। ১৬ অগস্ট একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার শেষ বার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়।কৈলাস যাত্রার পথে তাঁর শারীরিক অসুস্থতাও হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার কাঠমান্ডু ফিরে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিপর্যয়ের পর আর কোনও খবর না মেলায় ভাইয়ের খোঁজে তাঁর দাদা ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।৬৮ বছরের অনিতাকে ঘিরেও উৎকণ্ঠাহাওড়ার আন্দুল হাটগাছা এলাকার ৬৮ বছরের অনিতা দাসও নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে নিখোঁজ বলে পরিবার জানিয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তাঁর।মঙ্গলবার সকালে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল অনিতার। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ।প্রশাসনের তৎপরতার দিকে তাকিয়ে পরিবারনেপালের বিপর্যয়ের পর একের পর এক পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলার বিভিন্ন পরিবারে। কেউ শেষ ফোনকলের অপেক্ষায়, কেউ আবার আত্মীয়ের খোঁজে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত উৎকণ্ঠা কাটছে না পরিবারগুলির। উদ্ধারকাজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরাকখন আসে বহু প্রতীক্ষিত সেই ফোন, সেই আশাতেই দিন গুনছেন স্বজনেরা।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

৩১ অগস্টের পরেও কি থাকবে চাকরি? ২৬ হাজার মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন যোগ্য প্রার্থীরা। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে। ফলে নতুন করে শুনানি এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি নিয়ে তাৎক্ষণিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে না।২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল শীর্ষ আদালত ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের নির্ভুল ভাবে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।পরবর্তী সময়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্কুলগুলিতে শিক্ষক-সংকটের কথা মাথায় রেখে যোগ্য শিক্ষকদের সাময়িক ভাবে চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল থাকার কথা ছিল। একই সঙ্গে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বক্তব্য, এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলে যোগ্য শিক্ষকরা ফের চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়বেন।এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে জানানো হয়েছে, নতুন অন্তর্বর্তী আবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। ফলে আপাতত যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হল।তবে এই নির্দেশকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে ২৬ হাজার চাকরি মামলায় যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ। ফলে আপাতত স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি অনিশ্চয়তা কাটছে না।

আগস্ট ২৫, ২০২৬
রাজ্য

লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? বিষয়টা হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী। আসল অভিমুখের সমস্যা দেখুন।

মানবিক আচরণ করুন, পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে কুণালফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পার্কস্ট্রিটের ওই ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। একই সঙ্গে পার্কস্ট্রিট থানার পুলিশের কাছেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আবেদন জানান তিনি।কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ফুটপাথে বসবাসকারী মানুষও সমাজেরই অংশ। তাঁদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনও পরিবারের শিশু, মহিলা বা অসহায় সদস্যদের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত বলেই মনে করেন তিনি।অগ্নিমিত্রা পালের আচরণ ও মন্তব্য প্রসঙ্গে কুণালের বক্তব্যের মূল সুর ছিলকোনও সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে অসহায় মানুষকে হেয় বা অপমান করা উচিত নয়। ফুটপাথে কেন কোনও পরিবারকে থাকতে হচ্ছে, সেই বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক সমস্যাটিও প্রশাসনকে দেখতে হবে। সামাজ মাধ্যমে এক ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে কুনাল ঘোষ লেখেন, দিল্লী বা লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? রাস্তায় ভিক্ষুক এ বিষয়টার থেকেও গুরুত্বপূর্ন হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী বলেন কুনাল ঘোষ।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম ও তৃণমূল শিবির থেকে অগ্নিমিত্রা পালের সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাম নেত্রী কনীনিকা ঘোষও পুরমন্ত্রীর আচরণের নিন্দা করেছেন।যদিও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই অগ্নিমিত্রা পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পুরমন্ত্রী পদক্ষেপ করেছিলেন। বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।ফলে ফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে। একদিকে ফুটপাথবাসী পরিবারের প্রতি মানবিক আচরণের দাবি, অন্যদিকে তাঁদের নিরাপত্তার যুক্তিদুই ভিন্ন অবস্থানকে ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

আগস্ট ২৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal