• ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, রবিবার ২৬ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Ban

কলকাতা

অভিষেকের বাড়িতে কাকভোরে পুলিশের হানা! তালা ভেঙে তল্লাশি, কী খুঁজছিল তদন্তকারীরা?

কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়িতে ভোররাতে পুলিশের তল্লাশিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহকারী সুমিত রায়ের খোঁজে এই অভিযান চালিয়েছে শালবনি থানার পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শালবনির এক তৃণমূল নেতার অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ, নির্বাচনী টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে সুমিত রায়ের মোবাইলের অবস্থান খতিয়ে দেখে পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়ির ঠিকানা পায় বলে দাবি করা হয়েছে।সূত্রের খবর, শনিবার গভীর রাতে শালবনি থানার একটি বড় পুলিশ দল ডিএসপির নেতৃত্বে কলকাতায় আসে। প্রথমে কালীঘাট থানায় প্রয়োজনীয় নথিভুক্তির কাজ সম্পন্ন করা হয়। এরপর ভোর তিনটে নাগাদ অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা। অভিযানে মহিলা পুলিশ আধিকারিকও ছিলেন। বাড়ির বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।পুলিশের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির সদস্যদের ডাকা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। এরপর তালা ভেঙে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বাড়ির বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হয়। সকাল সাতটার কিছু পরে তদন্তকারী দল সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।এদিকে তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়তেই দ্রুত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়িতে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন এবং অভিষেকের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন বলে সূত্রের দাবি। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেও সংবাদমাধ্যমের সামনে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।তল্লাশি প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পুলিশ তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে সম্পূর্ণ তল্লাশি চালিয়েছে। তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনার নথি ও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।উল্লেখ্য, সম্প্রতি একাধিক মামলাকে কেন্দ্র করে চাপে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার সই জাল সংক্রান্ত মামলায় ইতিমধ্যেই তাঁকে দীর্ঘ সময় জেরা করেছে সিআইডি। সেই মামলায় আবারও তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলাতেও তাঁকে তলব করা হয়েছে। এর মধ্যেই ঘনিষ্ঠ সহকারীকে খুঁজতে তাঁর বাড়িতে পুলিশের এই অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা বাড়িয়ে দিল।

জুন ১৩, ২০২৬
রাজ্য

ভোররাতে কালীঘাটে ‘পুলিশি অভিযান’! তালা ভেঙে অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি, ছুটে গেলেন মমতা

কলকাতার কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িকে ঘিরে শনিবার ভোররাতের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী, সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান সব মিলিয়ে কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে ঘিরে ফেলা হয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বাসভবন।স্থানীয় সূত্রের দাবি, শনিবার রাত প্রায় ৩টা নাগাদ একাধিক পুলিশ গাড়ি কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার ওই বাড়ির সামনে এসে পৌঁছয়। শালবনি থানার পুলিশ, কলকাতা পুলিশের আধিকারিক এবং মহিলা পুলিশকর্মীরাও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি করা হলেও দরজা না খোলায় শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন পুলিশ আধিকারিকেরা।এরপর শুরু হয় বাড়ির বিভিন্ন অংশে বিস্তৃত তল্লাশি অভিযান। প্রায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই তৎপরতা। বাড়ির বাইরে অবস্থান নেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। গোটা এলাকা কার্যত নিরাপত্তা বেষ্টনীতে পরিণত হয়।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকালে দ্রুত কালীঘাটে পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন এবং পুলিশি তল্লাশির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশ বাহিনী বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনিও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।সকাল ৮টার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে পুরো বাড়ি সার্চ করা হয়েছে। সমস্ত কিছু রেকর্ড করা রয়েছে। তবে ঠিক কোন মামলার তদন্তে এই অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েকদিন ধরেই একাধিক তদন্তমূলক মামলায় অভিষেককে ঘিরে চাপ বাড়ছে। বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে সম্প্রতি সিআইডির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। ভবানী ভবনে টানা প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গভীর রাতে তিনি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান।এদিকে শুক্রবারও তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছেছিল সিআইডি। একটি সাইবার অভিযোগের তদন্তে তাঁকে নোটিস দিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল গোয়েন্দাদের। পরে অভিষেক বাড়ি ফিরলে তাঁর হাতে নোটিস তুলে দেওয়া হয়। সেই মামলায় আগামী ১৬ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর পাশাপাশি সই জাল-কাণ্ডে ১৪ জুন ফের সিআইডির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আবার ১৫ জুন প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে তলব করেছে ইডি। ফলে একের পর এক তদন্তকারী সংস্থার নোটিস ও জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে শনিবার ভোরের এই পুলিশি অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।তদন্তের প্রকৃত কারণ ও অভিযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না মিললেও, কালীঘাটের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতির পারদ যে আরও চড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

জুন ১৩, ২০২৬
কলকাতা

আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় সিআইডি, তারপর যা করলেন অভিষেক জানলে চমকে যাবেন

সিআইডির নোটিস ঘিরে শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা তাঁর কালীঘাটের বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করার পরও সরাসরি তাঁর হাতে নোটিস তুলে দিতে পারেননি তদন্তকারীরা। শেষ পর্যন্ত নোটিস গ্রহণ করেন তাঁর অফিসের এক কর্মী।শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, তিনি কখনও তদন্ত থেকে পালিয়ে যাননি এবং সবসময় তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর কথায়, দিল্লি থেকে ফিরে বৃহস্পতিবারই তিনি সিআইডি দফতরে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি। আগামী চৌদ্দ তারিখ আবারও সিআইডি দফতরে হাজিরা দেবেন বলেও জানান তৃণমূল সাংসদ।সিআইডিকে এতক্ষণ অপেক্ষা করানোর কারণ ব্যাখ্যা করে অভিষেক বলেন, সেদিন দলীয় বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। বৈঠক চলাকালীন তদন্তকারীরা নোটিস দিতে এসেছিলেন। তিনি তাঁর সহকারীকে নোটিস গ্রহণ করার জন্য বলেছিলেন। তবে যদি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর হাতেই নোটিস দিতে হয়, তাহলে অপেক্ষা করতেই হবে বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, তদন্তে সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত এবং তদন্ত এড়ানোর কোনও প্রশ্নই নেই।এদিন সিআইডির ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, ভবানীভবনে তাঁকে কী কী প্রশ্ন করা হয়েছে, সেই তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর দাবি, তিনি নিজে কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি। ফলে তদন্তকারী সংস্থার তরফ থেকেই সেই তথ্য বাইরে এসেছে বলে তাঁর সন্দেহ। বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি।জানা গিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের সময় করা ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলার তদন্তে শুক্রবার বিকেলে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে যায় সিআইডির একটি দল। কিন্তু সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ফলে তদন্তকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বাড়ির সামনে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ও জমতে শুরু করে।সূত্রের খবর, ওই সময় কালীঘাটে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক। পরে সন্ধ্যা সাতটার পর তিনি বাড়িতে ফেরেন। সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখার পর বাড়ির ভিতরে চলে যান। তবে তদন্তকারীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি। কিছুক্ষণ আরও অপেক্ষা করার পর সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর অফিসের এক কর্মীর হাতে নোটিস তুলে দেন।জানা গিয়েছে, এই মামলায় আগামী ষোলো জুন সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার আগে সই জালিয়াতি মামলায় চৌদ্দ জুন তাঁকে আবার ভবানীভবনে হাজিরা দিতে হবে।

জুন ১২, ২০২৬
কলকাতা

কল্যাণের বিস্ফোরক আক্রমণের পর অভিষেকের জবাব! যা বললেন, তা শুনে চমকে গেলেন সবাই

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা আরও তীব্র হয়েছে। একদিন আগেই দলের হেভিওয়েট সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, অভিষেকের আচরণ এবং সিদ্ধান্তের কারণেই দলের বড় ক্ষতি হয়েছে। এমনকি তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একসময় সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কল্যাণকে রাখবেন, নাকি অভিষেককে।এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হলেও পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে অনেকটাই সংযত এবং সম্মানজনক অবস্থান নিলেন তিনি।শুক্রবার নিজের বাড়িতে সিআইডির নোটিস পৌঁছনোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাঁর সম্পর্কে কথা বলার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার রয়েছে আমাকে নিয়ে কথা বলার। অধিকার রয়েছে চারটে কটূ কথা বলার। ছোট থেকে মানুষ করেছেন, বড় হতে দেখেছেন।এরপর আরও নরম সুরে অভিষেক জানান, তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে ব্যক্তিগতভাবে খারাপভাবে নেননি। তাঁর কথায়, হয়তো কোনও বিষয় ওনার খারাপ লেগেছে, তাই বলেছেন। আমার কোনও ব্যক্তিগত রাগ বা ক্ষোভ নেই। আমি তাঁকে আগেও সম্মান করতাম, এখনও করি এবং ভবিষ্যতেও করব।প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আদালতে সওয়াল করা থেকে সরে দাঁড়ান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তিনি অভিষেকের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যের অভিযোগও তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতার পরেও তিনি প্রাপ্য সম্মান পাননি।এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের সংযত প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তৃণমূলের অন্দরের এই মতপার্থক্য আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

জুন ১২, ২০২৬
কলকাতা

মমতার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ! উস্কানিমূলক মন্তব্য ঘিরে থানায় মামলা

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি চাপ আরও বাড়ল। বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার তাঁর নামে নতুন করে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ করেছেন এক ব্যবসায়ী। জানা গিয়েছে, হেয়ারস্ট্রিট থানায় জমা পড়া ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তও শুরু করেছে।এর আগেই গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের একটি সভায় করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় শিলিগুড়ি সাইবার থানায় এক আইনজীবী অভিযোগ জানান। এবার আরও একটি বক্তব্যকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।চলতি বছরের শুরুতে ভোটের প্রচারের সময় ধর্মতলার একটি জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি মন্তব্য করেছিলেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধীদের দাবি, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার মুখে এ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।তবে কয়েক মাস পর ফের সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটলেন এক ব্যবসায়ী। তাঁর অভিযোগ, ওই মন্তব্য সমাজে উত্তেজনা ছড়াতে পারে এবং তা জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। তার মধ্যেই নতুন এই অভিযোগ রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল। এখন নজর রয়েছে তদন্তের অগ্রগতির দিকে। পুলিশ এই মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠাবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।এদিকে, রানি রাসমণি রোডের সভায় করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া অভিযোগ নিয়েও চাপের মুখে রয়েছে তৃণমূল শিবির। দুই মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের প্রধান আলোচনার বিষয়।

জুন ১২, ২০২৬
কলকাতা

৬৩৫ কোটি টাকার ‘বিজ্ঞাপন কেলেঙ্কারি’! মমতা জমানার খরচ ঘিরে বিস্ফোরক শুভেন্দু

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে আয়োজিত শিল্প সম্মেলনকে ঘিরে এবার দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট আয়োজনের জন্য একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে ৬৩৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, মানুষের করের টাকা কীভাবে খরচ হয়েছে, তার পূর্ণ হিসাব সামনে আনতেই তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তকারী কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছেও বিষয়টি পাঠানো হবে। তাঁর দাবি, জনগণ তাঁদের দায়িত্ব দিয়েছে বলেই কোনও অভিযোগকে উপেক্ষা করা হবে না।একই সুর শোনা যায় রাজ্যের নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের গলায়। তিনি বলেন, সরকারি অর্থ অপচয় বা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিজিবিএস নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। কতগুলি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, কতটা প্রকৃত লগ্নি এসেছে এবং শিল্পের ক্ষেত্রে তার বাস্তব ফল কী হয়েছে, সেই তথ্য আগামী সপ্তাহে সরকারের হাতে পৌঁছাবে বলে জানান তিনি।তাপস রায়ের বক্তব্য, শিল্প সম্মেলন হওয়া প্রয়োজন এবং সেখানে দেশ-বিদেশের শিল্পপতিরা আসবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তবে কোনও অনুষ্ঠানের জন্য এত বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ খরচের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি বলেন, বাংলায় নতুন শিল্প আনার জন্য বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।টাটা গোষ্ঠীর প্রসঙ্গও ওঠে সাংবাদিক বৈঠকে। তাপস রায়ের দাবি, ভবিষ্যতে টাটা-সহ একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠী বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাবে। শিল্পায়নের জন্য জমি নীতি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।এদিন নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বারো বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং অবকাঠামোগত সাফল্য তুলে ধরতেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্বোধনের পর প্রদর্শনী ঘুরেও দেখেন তিনি।এদিকে, বিজিবিএসকে ঘিরে ৬৩৫ কোটি টাকার ব্যয়ের অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

জুন ১২, ২০২৬
কলকাতা

রক্ষাকবচ মিলেছে, কিন্তু বিপদ কাটেনি! এবার নতুন মামলায় অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি

সই জালিয়াতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে ১৪ দিনের রক্ষাকবচ পেলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি অস্বস্তি কমছে না। এবার তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিআইডি। সেই মামলার নোটিস দিতেই শুক্রবার কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা।বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের নির্দেশে ভবানীভবনে হাজিরা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সই জালিয়াতি মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তবে সেই মামলায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও অন্য একটি মামলায় তদন্তের গতি বাড়িয়েছে সিআইডি।জানা গিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তাঁর বক্তব্যে উত্তেজনা ছড়ানোর সম্ভাবনা ছিল। প্রথমে এই মামলার তদন্ত করছিল বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার শাখা। পরে সেই তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়।শুক্রবার দুপুরে সিআইডির একটি দল কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায়। তবে সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ফলে নোটিস সরাসরি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি।ঘটনাস্থলে পরে পৌঁছন অভিষেকের আইনজীবীরা। তাঁদের বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইন মেনেই চলছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি ইতিমধ্যেই হাজিরা দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়েই তিনি পদক্ষেপ করবেন বলে দাবি আইনজীবীদের।উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের সময় দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর দাবি, একজন জনপ্রতিনিধির এমন মন্তব্য করা উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে।অন্যদিকে সই জালিয়াতি মামলাতেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সেই মামলায় একাধিকবার তলবের পর সম্প্রতি সিআইডির সামনে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ১২, ২০২৬
রাজ্য

পুলিশের ঘেরাটোপে হাফপ্যান্ট পরে ফলতার রাস্তায় জাহাঙ্গির, বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ

ফলতার রাজনীতিতে একসময় যাঁর দাপট ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, সেই জাহাঙ্গির খান এখন পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যে। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকে ফলতার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে ফলতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও অতীতে অন্যান্য অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে যেমন কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছিল, এ ক্ষেত্রে সেই ছবি দেখা যায়নি। তবুও পুলিশের সদস্যরা তাঁকে হাত ধরে নিয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে জনতার কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো।তদন্তকারীরা প্রথমে জাহাঙ্গিরকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নথি ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রমাণের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়েও নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, অভিযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার সূত্র খুঁজে বের করতেই এই পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তাঁর উপস্থিতিতে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারি নিজেই ছিল নাটকীয়। গত ৮ জুন নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর এসটিএফ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে এবং পরে কলকাতায় নিয়ে আসে।ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের সময় থেকেই জাহাঙ্গিরকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। ২১ মে অনুষ্ঠিত পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে তিনি হঠাৎ নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেছিলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ভোটের ব্যালট বা ইভিএমে তাঁর নাম ও দলীয় প্রতীক বহাল ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি ৭,৭৮৩টি ভোটও পান।নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের তল্লাশি অভিযান, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এবং ঝুকেগা নেহি মন্তব্যসব মিলিয়ে জাহাঙ্গিরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বেড়েছিল। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারের পর সেই বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে।এদিকে অভিযুক্তদের এলাকায় ঘোরানো নিয়ে রাজ্য জুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবও এই ঘটনায় পড়েছে। এর আগে একাধিক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতারের পর কোমরে দড়ি বেঁধে জনসমক্ষে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টও উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আইন অনুযায়ী পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর সামাজিক সম্মানহানি করার অধিকার তাদের নেই।সেই প্রেক্ষাপটে জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে পুলিশের এই পদক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাপুনর্নির্মাণ নাকি জনসমক্ষে বার্তা দেওয়ার চেষ্টাতা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

জুন ১১, ২০২৬
কলকাতা

শেষ মুহূর্তে ভবানীভবনে অভিষেক! সিআইডির সামনে কী বললেন তৃণমূল নেতা?

কলকাতা হাই কোর্টের কাছ থেকে ১৪ দিনের রক্ষাকবচ পেলেও সিআইডির হাজিরা এড়াতে পারলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভবানীভবনে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। নির্ধারিত সময়ের আগেই সিআইডি দফতরে পৌঁছে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।বিকেল সাড়ে চারটার কিছু আগে দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে প্রথমে তিনি কালীঘাটে নিজের বাড়িতে যান। সেখানে অল্প সময় অবস্থান করার পর সোজা ভবানীভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিট নাগাদ সিআইডি দফতরে পৌঁছন তিনি।সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান রেকর্ড করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীরা যে প্রশ্ন করবেন, তার উত্তর তাঁকে নিজের হাতেই লিখে দিতে হতে পারে। পরে সেই বয়ানে স্বাক্ষরও করতে হতে পারে। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদ্ধতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।তদন্তকারীদের মতে, ভবিষ্যতে বয়ান নিয়ে কোনও বিতর্ক বা অভিযোগ এড়াতেই এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে এই মামলার তদন্তে সিআইডি একটি বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করছে বলেই মনে করা হচ্ছে।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরাকে ঘিরে দিনভর ভবানীভবনে ছিল কড়া নিরাপত্তা। মূল প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে দফতরের চারপাশে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী। নিরাপত্তার স্বার্থে একাধিক স্তরে নজরদারি চালানো হয়।মূল গেটের পাশাপাশি অন্যান্য প্রবেশপথেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন ছিল বিশেষ বাহিনী এবং অতিরিক্ত পুলিশ। ভবানীভবনের আশপাশে কোনও ধরনের জমায়েত যাতে না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হয়।এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে। সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান থেকে নতুন কোনও তথ্য বা সূত্র সামনে আসে কি না, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

জুন ১১, ২০২৬
কলকাতা

একের পর এক মামলা, বাড়ছে চাপ! অভিষেককে ঘিরে সিআইডির বড় পদক্ষেপ

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি আরও বাড়ল। ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলার তদন্তভার এবার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এতদিন এই মামলার তদন্ত করছিল বিধাননগর সাইবার থানার পুলিশ। তবে সম্প্রতি তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার সমস্ত নথি, তথ্যপ্রমাণ, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট লিঙ্ক ইতিমধ্যেই সিআইডির তদন্তকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কেস ডায়েরিও হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে তদন্তে নতুন গতি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। সেই বক্তব্যকে ঘিরেই বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছিল এবং এখন সেই তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি।অন্যদিকে, বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলাতেও চাপের মুখে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে ভবানীভবনে সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতে হবে। আদালত তাঁকে সাময়িক রক্ষাকবচ দিলেও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকেলে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরেন অভিষেক। এর মধ্যেই একদিকে আদালতের নির্দেশ মেনে হাজিরার প্রস্তুতি, অন্যদিকে নতুন মামলায় সিআইডির সক্রিয়তা সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।উল্লেখ্য, সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে সিআইডি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি এবং কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়েও তদন্তকারীরা গিয়েছিলেন। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এর আগে তিনবার সিআইডির তলব এড়িয়ে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত তাঁকে সাময়িক রক্ষাকবচ দিলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তে কোনওভাবেই অসহযোগিতা করা যাবে না। ফলে আগামী কয়েক দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

জুন ১১, ২০২৬
কলকাতা

‘ওর জন্য দলের সর্বনাশ’! নাম না করে অভিষেককে তীব্র আক্রমণ কল্যাণের

তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের নেতা এবং প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বহু বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আদালতে সওয়াল করেছেন তিনি। কিন্তু এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তাঁর একাধিক মন্তব্যে দলের অন্দরের অস্বস্তি প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) জানিয়েছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিষয়ে তাঁকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, তিনি চেম্বারে বসে থাকার সময় অন্য এক আইনজীবীর মাধ্যমে জানতে পারেন যে একটি নতুন আবেদন দায়ের করা হয়েছে। অথচ বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। এই ঘটনায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এরপর আর মামলাটি লড়বেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন।তিনি আরও দাবি করেন, পরে তাঁকে জানানো হয় যে মামলায় অন্য একজন আইনজীবী সওয়াল করবেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং দলের হয়ে লড়াই করার পরও তাঁর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া কঠিন।রাজ্যের নানা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছে। বিরোধী আমল থেকে শুরু করে ক্ষমতায় থাকার সময়েও তৃণমূলের হয়ে একাধিক আলোচিত মামলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সেই কারণেই তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে কল্যাণ বলেন, দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, দলের ভিতরে কিছু সিদ্ধান্ত এবং আচরণই বর্তমান সংকটকে আরও গভীর করেছে।সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর সমর্থন আগের মতোই রয়েছে। তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর মন্তব্যের পর তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রবীণ এই নেতার বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, দলের ভিতরের বৃহত্তর অসন্তোষেরও ইঙ্গিত হতে পারে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর এখন নজর তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়ার দিকে। কারণ তাঁর বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।

জুন ১১, ২০২৬
কলকাতা

হাইকোর্টে বড় ধাক্কা! আজই সিআইডি দফতরে হাজিরার নির্দেশ অভিষেককে

সই জাল মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ নির্দেশ দেন, অভিষেককে এদিন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই সিআইডির সদর দফতর ভবানীভবনে হাজিরা দিতে হবে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে।উল্লেখ্য, এর আগে সিআইডির তিনটি তলব এড়িয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেই প্রেক্ষিতে আদালত জানায়, তদন্ত প্রক্রিয়াকে আর বিলম্বিত করা যাবে না। বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজন মনে করলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নিতে পারবে।তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) জন্য সাময়িক স্বস্তির খবরও রয়েছে। আদালত তাঁকে আগামী ১৪ দিনের জন্য রক্ষাকবচ দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে সেই সুরক্ষার শর্ত হিসেবে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুনানির সময় সিআইডির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই মামলায় অভিযোগ সাধারণ কোনও সূত্র থেকে আসেনি। সংশ্লিষ্ট বিধায়করাই অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্তে ইতিমধ্যেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলেও আদালতে জানানো হয়। তাই এই পর্যায়ে কোনও বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া উচিত নয় বলে সওয়াল করেন তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী (Abhishek Banerjee)।অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল হাজিরা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। তবে তিনি বর্তমানে কলকাতার বাইরে থাকায় কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছিল। আদালতে তাঁর আইনজীবী জানান, প্রয়োজন হলে পরদিনও হাজিরা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, তদন্তে সহযোগিতা করতে হলে আজই হাজিরা দিতে হবে।বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, যেহেতু অভিষেক নিজেই তদন্তে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তাই তাঁকে হাজিরা দিতেই হবে। সেই কারণেই একদিকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে তদন্তে সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।এদিকে এই মামলার আইনি লড়াই নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথম দিকে মামলায় অভিষেকের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পরে তিনি সরে দাঁড়ান। এরপর বৃহস্পতিবার আদালতে অভিষেকের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য।হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর এখন নজর ভবানীভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরা এবং তদন্তের পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকে।

জুন ১১, ২০২৬
রাজ্য

অভিষেকের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ! সাড়ে সাত বছর পর ডায়মন্ড হারবারে দায়ের এফআইআর

বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে সিআইডির সমন ঘিরে বিতর্কের মাঝেই নতুন করে চাপে পড়লেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস, যিনি ববি নামেও পরিচিত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, জাহাঙ্গির খান-সহ চল্লিশের বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।অভিজিৎ দাসের দাবি, দুই হাজার আঠারো সালের একুশ ডিসেম্বর ডায়মন্ড হারবারের কপাটহাট মোড়ে একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন। সেই সময় তিনি বিজেপির জেলা সভাপতি ছিলেন। অভিযোগ, পরিকল্পনা করে তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল।হামলায় গুরুতর জখম হন অভিজিৎ। কোমর থেকে পা পর্যন্ত আঘাত লাগে তাঁর। অভিযোগ, মারধরের ফলে তাঁর মেরুদণ্ডেও চিড় ধরে। মাথাতেও গুরুতর আঘাত করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছিল তাঁকে।অভিজিৎ দাসের অভিযোগ, সেই সময় তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি আবার এই ঘটনার বিচার চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডায়মন্ড হারবার থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, জাহাঙ্গির খান-সহ একচল্লিশ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় দেড়শো জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে অভিজিৎ দাস বলেন, হামলার আগে তিনি সম্ভাব্য আক্রমণের খবর পেয়েছিলেন এবং পুলিশকেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, হামলার পর তাঁকে প্রায় মৃত অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল এবং আজও সেই আঘাতের শারীরিক প্রভাব বহন করছেন।এতদিন পরে কেন অভিযোগ নিয়ে ফের সামনে এলেন, সেই প্রশ্নের জবাবে অভিজিৎ বলেন, সে সময় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করেনি। তাই তিনি ন্যায়বিচার পাননি। এখন তিনি আশা করছেন, ঘটনার সঠিক তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অভিযোগপত্রে নাম থাকা জাহাঙ্গির খানকে ইতিমধ্যেই অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিযোগে নাম থাকা অন্যদের বিরুদ্ধে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।সাড়ে সাত বছর আগের একটি রাজনৈতিক হামলার অভিযোগ নতুন করে সামনে আসায় রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

জুন ১০, ২০২৬
কলকাতা

মমতার বাড়ির পাশের তৃণমূল কার্যালয়ে সিআইডি হানা, এবার সরাসরি হাই কোর্টে মামলা!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছেই অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিআইডি তল্লাশি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা। অভিযোগ, কোনও নিরপেক্ষ সাক্ষী ছাড়াই তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং বেআইনিভাবে দলীয় নথি স্ক্যান করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছে।অন্যদিকে সই জাল কাণ্ডে নিজের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের আশঙ্কায় ফের হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আবেদন নিয়ে আগামীকাল শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে সই জাল কাণ্ডের তদন্তে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছন সিআইডি আধিকারিকরা। কার্যালয়টি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত। ঘটনাস্থলে একটি মহিলা দল-সহ সিআইডির আধিকারিকরা পৌঁছন। পাশাপাশি কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।সিআইডির দাবি, সই জাল কাণ্ডের তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তারা ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় তল্লাশি পরোয়ানাও ছিল বলে জানানো হয়।সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে ছিলেন। ফলে কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা দলের কোষাধ্যক্ষ এবং রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিষ চক্রবর্তীর সঙ্গেই সিআইডি আধিকারিকদের কথা হয়। তিনি প্রথমে তল্লাশির অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে কিছু সময় বাগ্বিতণ্ডা চলে। তবে শেষ পর্যন্ত সিআইডি আধিকারিকরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে তল্লাশি চালান।এই তল্লাশিকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টে মামলা করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে তল্লাশি করা হয়নি। তাঁদের দাবি, কোনও সাক্ষীর উপস্থিতি ছিল না এবং সেই সুযোগে দলীয় নথি স্ক্যান করা হয়েছে। যদিও সিআইডির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে তাদের কাছে বৈধ তল্লাশি পরোয়ানা ছিল।তল্লাশি শেষে সিআইডি আরও জানিয়েছিল, কার্যালয় থেকে কোনও নথি বা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। তা সত্ত্বেও গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের দিকে। আদালত এই অভিযোগগুলিকে কীভাবে দেখছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানিতে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

জুন ১০, ২০২৬
সম্পাদকীয়

ক্ষমতার শীর্ষ থেকে অনিশ্চয়তার কিনারায়, মমতা-অভিষেকের সামনে কঠিন প্রশ্ন

দেহপট সনে নট সকলি হারায় মঞ্চে বা পর্দায় যে নট-নটিরা অসংখ্য মানুষের চোখের পর্দায় বিচরণ করেন তাঁদের সম্পর্কে কবির এই নিদান। গ্ল্যামারের ছটায় যে সাফল্য আসে নট-নটিদের, তার জনমোহিনী আকর্ষণ শরীরে বয়স থাবা বসানোর সঙ্গে সঙ্গে অতি দূরের নির্জন দ্বীপের চেহারা নেয়। তবে, রাজনীতির মঞ্চে কালের এই নিয়ম আলাদা। সেখানে বয়স নয়, ক্ষমতার মসনদ ই মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষমতার মসনদের উপরে ও নিচে কোথায় অবস্থান তা নির্দিষ্ট করে দেয় খেলার নিয়ম। এই মুহূর্তে এই অনুভব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে বেশি কেউ বুঝছেন না। শুধু ক্ষমতা হারানো নয় ১৯৯৮ সালে যে দলটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই দলটাই তাঁর মুঠোয় আর থাকবে কি না সেই প্রশ্ন ই এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে মমতার। ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাস বলছে ব্যক্তি নির্ভর দলের বোধহয় এটাই ভবিতব্য। ইংরেজিতে একটা কথা আছে nothing succeeds like success। নতুন দল তৈরির পর থেকেই সাফল্যের মুখ দেখেননি মমতা। ধীরে ধীরে রাজ্যের বিরোধী পরিসরে তিনি জায়গা পেয়েছেন। অবশেষে, সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম পর্ব পেরিয়ে ২০০৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ক্ষমতার বিন্দুর দিকে যাত্রা শুরু হয় মমতার। ২০০৯ এর লোকসভা, ২০১০ এর পুরসভা ও পৌরসভার নির্বাচন এর পরপর ২০১১ এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই বিন্দুর স্পর্শ পেয়েছেন তিনি। তারপরে তো দল এবং সরকারে তিনিই ছিলেন শেষকথা। ক্ষমতায় থাকার জন্য দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে মজবুত করতে নিচুতলার কর্মী থেকে নেতা - মন্ত্রীদের বেপরোয়া ক্ষমতার ব্যবহার ও দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। অন্যদিকে, দলে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে একের পর এক ঘুঁটি সাজিয়েছেন। এই সবই ছিল ক্ষমতার মসনদে বসে থাকাকালীন সময়ের ঘটনা প্রবাহ। কিন্তু, ২০২৬ সালের ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরে পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। দলের টিকিটে ল্যাম্পপোস্ট দাঁড় করালেও মমতার নামে তিনি বৈতরণী পেরিয়ে যাবেন - দলের মধ্যে এই যে myth তৈরি হয়েছিল তা আজ অতীত। এখন তো তাঁর নামে একটি কর্মসূচিতেও দলের নেতা কর্মীদের দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় মমতার থেকে ও অনেক অনেক বেশি কঠিন কঠোর বাস্তব এসে দাঁড়িয়েছে অভিষেকের সামনে। মমতার পক্ষে তাঁকে ব্রাত্য করা অসম্ভব হলেও দলের নেতা, বিধায়ক, কর্মীদের কাছে নয়। কারণ অভিষেক দলের মধ্যে যেখানে ছিলেন তা তাঁর রাজনৈতিক পরিশ্রমের ফল নয়। ক্ষমতার সোপানে পা রেখেই তাঁর যাত্রা শুরু। দলের নেতা, বিধায়ক ও কর্মীদের তা অজানা নয়। ফলে এখন পরীক্ষা অভিষেকের। এতদিন তিনি digital space এ রাজনীতি করে এসেছেন, এবার নামতে হবে রাজনীতির রুক্ষ মাঠে, রাস্তায়। এই রাস্তা, মাঠে তাঁর জন্য কোন বাস্তব অপেক্ষা করে আছে তা তিনি আঁচ পেয়েছেন সোনারপুরের রাস্তায়। তিনি কি দলের ভাঙন ঠেকাতে পারবেন? সাফল্যের নিচে যে অন্ধকার থাকে তার সঙ্গে কি মানিয়ে চলতে পারবেন? দলের মধ্যে যাঁরা মাঠে - ময়দানে লড়াইতে, অভিজ্ঞতায় তাঁর থেকে এগিয়ে রয়েছেন তাঁদের সঙ্গে পা মেলাতে পারবেন? এইগুলোই এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে কালীঘাট ও হরিশ মুখার্জি রোডের দরজায়।

জুন ০৯, ২০২৬
কলকাতা

আর জি কর নিয়ে বিস্ফোরক কল্যাণ! “সত্যি জানলে সিবিআইকে বলুন”, কাকলি-শর্মিলাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ

আর জি কর কাণ্ড এবং অভয়া ইস্যুকে ঘিরে ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের বিদ্রোহী সাংসদ-বিধায়কদের তীব্র আক্রমণ করেন। সেই সঙ্গে আর জি কর কাণ্ড নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।ছাব্বিশের নির্বাচনে আর জি কর কাণ্ড এবং অভয়ার মৃত্যুর ঘটনা বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছিল। মেয়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েছিলেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। ভোটারদের সমর্থনও পেয়েছেন তিনি। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী নেতা ও সাংসদের মুখে বারবার উঠে এসেছে আর জি করের প্রসঙ্গ।এই আবহেই দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহীদের একহাত নেন। তিনি বলেন, আর জি কর ইস্যুতে চিকিৎসক সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শর্মিলা সরকারকে কখনও আন্দোলনের পথে দেখা যায়নি। এরপরই তিনি তাঁদের উদ্দেশে বলেন, আর জি করে কী হয়েছিল, পারলে সিবিআইকে গিয়ে সত্যি বলুন।কল্যাণের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই আর জি কর কাণ্ডে তৎকালীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। কল্যাণের মন্তব্য সেই বিতর্ককেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে।এদিন বিদ্রোহী নেতাদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, দলের অধিকাংশ বিদ্রোহী নেতা দীর্ঘদিন ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার সুবিধা ভোগ করেছেন। এখন পরিস্থিতি বদলাতেই তাঁরা অন্য পথে হাঁটছেন। তাঁদের বিশ্বাসঘাতক এবং সুখের পায়রা বলেও কটাক্ষ করেন কল্যাণ।তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি শেষ পর্যন্ত এই নেতাদের গ্রহণ করবে না। কারণ তাঁদের অতীতের নানা তথ্য বিজেপির কাছেও রয়েছে। পাশাপাশি অভিনেত্রী-রাজনীতিকদেরও নিশানা করে তিনি বলেন, অনেকেই দলের পুরনো কর্মীদের অবদান ভুলে গিয়েছেন।অভয়ার মায়ের বিজেপিতে যোগদান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকার পরেও কেন অভয়ার মা বিজেপিতে যোগ দিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া প্রয়োজন।তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, তিনি অতীতেও দলের নেত্রীর পাশে ছিলেন, এখনও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তাঁর কথায়, অন্যদের কাছে টাকা, ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক প্রভাব থাকতে পারে, কিন্তু তাঁর কাছে রয়েছে মা-মাটি-মানুষের আদর্শ।

জুন ০৯, ২০২৬
দেশ

বাংলাদেশকে কড়া বার্তা ভারতের! দিল্লির বৈঠকে ‘পুশব্যাক’ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

অনুপ্রবেশ এবং পুশব্যাক নীতি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হতে চলেছে। আজ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে বিএসএফ এবং বিজিবির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে সূত্রের খবর।বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে ভারত স্পষ্টভাবে জানাতে পারে যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশকে গ্রহণ করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে কোনও ধরনের অজুহাত গ্রহণ করা হবে না বলেও বার্তা দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বেড়া তৈরির বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। একই সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে চলেছে।এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন বিএসএফ প্রধান প্রবীণ কুমার।সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, কয়েক হাজার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেই আবহেই এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।সূত্রের খবর, অনুপ্রবেশ রোধ, অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারীদের শনাক্তকরণ এবং তাঁদের বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের বিষয়গুলি বৈঠকে উঠে আসতে পারে। পাশাপাশি সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেশ কিছু অংশে দীর্ঘদিন ধরে কাঁটাতার নির্মাণের সমস্যা ছিল। জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক এলাকায় কাজ এগোচ্ছিল না। তবে সেই সমস্যার একটি বড় অংশের সমাধান হয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় জমিও বিএসএফকে দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর এই বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে নয়াদিল্লির। কেন্দ্রীয় সরকারের একাংশ মনে করছে, সীমান্ত এবং অনুপ্রবেশের মতো জটিল সমস্যা শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে নয়, কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক স্তরেও সমাধান করতে হবে।বিএসএফ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীদের রাখার জন্য বিভিন্ন জেলায় বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধও জানাতে পারে ভারত।ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় চার হাজার ছিয়ানব্বই কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় আটশো ষাট কিলোমিটার এলাকায় এখনও কাঁটাতার নেই। আবার প্রায় একশো চুয়াত্তর কিলোমিটার সীমান্তে ভৌগোলিক এবং অন্যান্য কারণে কাঁটাতার নির্মাণ করা সম্ভব নয়। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে দুই দেশের এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

জুন ০৮, ২০২৬
কলকাতা

ডিম আতঙ্কে শেষ মুহূর্তে বাতিল বৈঠক! তৃণমূল ভবন নিয়ে জোর জল্পনা

কলকাতা পুরসভার নতুন মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। এর মধ্যেই রবিবার বিকেলে তৃণমূল ভবনে ডাকা কাউন্সিলরদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।তৃণমূলের অন্দরের দাবি, বৈঠককে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। পাশাপাশি কিছু কাউন্সিলরের মধ্যেও বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে অনীহা দেখা গিয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। সেই পরিস্থিতির কথা উচ্চ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছনোর পর বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।দলীয় সূত্রের আরও দাবি, নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অন্য কোনও স্থানে কাউন্সিলরদের ডেকে প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর করানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।এদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরেরও কথা রয়েছে। বিরোধী জোটের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে কোনও বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা দল চাইছে না বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।উল্লেখ্য, ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর কলকাতা পুরসভায় প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রাজ্য সরকারের তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার জবাবও দিতে হবে।এই পরিস্থিতিতে নতুন মেয়র নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের তৎপরতা বেড়েছে। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই একাধিক নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নামও জল্পনায় উঠে এসেছে। তবে শেষ পর্যন্ত দল কাকে দায়িত্ব দেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ০৭, ২০২৬
কলকাতা

১৮ সাংসদ দল ছাড়তে পারেন! হঠাৎ দিল্লি উড়ে গেলেন অভিষেক, জোর জল্পনা

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা বেড়েছে। বিধানসভায় পরিষদীয় দলে বড় ভাঙনের পর এবার সংসদীয় দল নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বেশ কয়েকজন সাংসদ দল ছাড়তে পারেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ দিল্লি উড়ে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।দলীয় সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই দিল্লি গিয়েছেন অভিষেক। আগামী ৮ জুন বিজেপি-বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিষেকেরও যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁর দিল্লি যাত্রা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।ইতিমধ্যেই বিধানসভায় তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক আলাদা গোষ্ঠী গড়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবেও নতুন নাম ঘোষণা হয়েছে। এবার লোকসভাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, কয়েকজন সাংসদ একজোট হয়ে নতুন ব্লক গঠনের পরিকল্পনা করছেন। দলবদল বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনীয় সংখ্যার সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টাও চলছে বলে খবর।এই আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকের মতে, দলের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি সামাল দিতেই তাঁকে রাজধানীতে পাঠানো হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।অন্যদিকে, সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় আগামী ৮ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে সিআইডি। এর আগে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চাওয়া হলেও সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত দিনেই তাঁকে হাজিরা দিতে হবে।ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। দিল্লি সফরের নেপথ্যে কি শুধুই রাজনৈতিক কারণ, নাকি তদন্ত সংস্থার তলবও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত? এই নিয়ে জল্পনা ক্রমশই বাড়ছে। এখন নজর আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে।

জুন ০৬, ২০২৬
দেশ

হোটেলে আগুন, তদন্তে বিস্ফোরক মোড়! বাংলাদেশিদের জাল আধার-পাসপোর্ট বানানোর অভিযোগ মালিকের বিরুদ্ধে

দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক গাফিলতির অভিযোগের মধ্যেই এবার উঠে এসেছে জাল পরিচয়পত্র চক্রের অভিযোগ। তদন্তে জানা গিয়েছে, হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জাল নথি তৈরিতে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার পর দিল্লির সমস্ত হোটেল, রেস্তরাঁ, ব্যাঙ্কোয়েট হল এবং সিনেমা হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।পুলিশ সূত্রে খবর, টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজের ছত্তরপুরের আবাসিক ঠিকানা ব্যবহার করার অনুমতি দিতেন লাভকেশ বাজাজ। অভিযোগ, সেই ঠিকানা ব্যবহার করে আধার কার্ড, পাসপোর্ট-সহ একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হত। অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত চলাকালীন এই পুরনো মামলার তথ্যও ফের সামনে এসেছে।জানা গিয়েছে, গত বছরের জানুয়ারিতে দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকায় জাল নথি ব্যবহার করে এক বাংলাদেশি পরিবারের থাকার খবর পায় পুলিশ। তদন্তে একটি বাড়ি থেকে এক মহিলা এবং তাঁর নাতিকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একাধিক পাসপোর্ট, আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন পরিচয়পত্রে আলাদা নাম ও ঠিকানা থাকলেও ছবিটি ছিল একই ব্যক্তির।পুলিশের দাবি, ওই জাল নথিগুলির মধ্যে থাকা একটি ঠিকানা দক্ষিণ দিল্লির ছত্তরপুর এলাকার। তদন্তে সেই ঠিকানার সূত্র ধরেই লাভকেশ বাজাজের নাম উঠে আসে। পরে জেরায় তিনি নাকি স্বীকার করেন যে, অর্থের বিনিময়ে নিজের ঠিকানা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিলেন।এর আগে জালিয়াতি চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। কিছুদিন জেলে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এবার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নতুন করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।দিল্লি পুলিশের তদন্ত এখন দুই দিকেই এগোচ্ছে। একদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নিরাপত্তা গাফিলতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে জাল পরিচয়পত্র চক্রের সঙ্গে অভিযুক্তের সম্ভাব্য যোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও সংযোগ রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুন ০৬, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 91
  • 92
  • ›

ট্রেন্ডিং

ভ্রমণ

কম খরচে কেরালা ভ্রমণ: ব্যাকওয়াটার থেকে পাহাড়, সবই হাতের নাগালে স্বর্গীয় সৌন্দর্য

ভারতের মানচিত্রে কেরালাকে বলা হয় Gods Own Country। আর এই উপাধির সবচেয়ে বড় কারণ তার অনন্য ব্যাকওয়াটার, সবুজ নারকেল বন, শান্ত গ্রাম আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। অনেকেই মনে করেন কেরালা ভ্রমণ মানেই প্রচুর খরচ, বিলাসবহুল হাউসবোট আর দামি রিসর্ট। কিন্তু একটু পরিকল্পনা করলেই খুব কম খরচেও উপভোগ করা যায় কেরালার মনোমুগ্ধকর ব্যাকওয়াটার এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।ভোরবেলা আলাপ্পুঝা (Alappuzha) বা আলেপ্পির ঘাটে দাঁড়িয়ে মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই একটি জলরঙের ছবি এঁকেছে। চারদিকে শান্ত জলরাশি, তার মাঝে ভেসে চলেছে ছোট ছোট নৌকা। দূরে দেখা যাচ্ছে নারকেল গাছের সারি, মাঝে মাঝে গ্রামের মানুষ নৌকায় করে বাজারে যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখার জন্য লাখ লাখ পর্যটক কেরালায় আসেন। অনেকেই হাউসবোট ভাড়া করেন, যার খরচ বেশ বেশি। কিন্তু কম খরচে ব্যাকওয়াটার উপভোগ করতে চাইলে সরকারি ফেরি বা স্থানীয় নৌকায় চড়া সবচেয়ে ভালো উপায়। মাত্র কয়েকশো টাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাকওয়াটারের বুক চিরে ভ্রমণ করা যায়। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গল্প করতে করতে প্রকৃত কেরালাকে কাছ থেকে দেখা যায়।নৌকা যখন ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে, তখন দুপাশে চোখে পড়ে সবুজ ধানক্ষেত, ছোট্ট চার্চ, মন্দির এবং নদীর ধারে গড়ে ওঠা গ্রাম। কোথাও জেলেরা মাছ ধরছেন, কোথাও আবার শিশুরা জলে খেলছে। শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে এই শান্ত পরিবেশ মনকে এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। কেরালার প্রকৃতির সৌন্দর্য শুধু ব্যাকওয়াটারেই সীমাবদ্ধ নয়। মুন্নারের পাহাড়ি অঞ্চলে গেলে দেখা যায় অসীম বিস্তৃত চা-বাগান। পাহাড়ের গায়ে সবুজের কারুকাজ যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা। সকালের কুয়াশা আর ঠান্ডা হাওয়া মুহূর্তেই মন জয় করে নেয়। কম খরচে থাকার জন্য এখানে অনেক হোমস্টে ও বাজেট হোটেল পাওয়া যায়।এছাড়া ভরকালা ও কোভালামের সমুদ্রসৈকতও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সূর্যাস্তের সময় আরব সাগরের বুকে লাল আভা ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য জীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়ে থাকতে পারে। সৈকতে বসে শুধু প্রকৃতিকে উপভোগ করলেও কোনও অতিরিক্ত খরচ হয় না। কেরালার স্থানীয় খাবারও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। কলাপাতায় পরিবেশিত ভাত, সাম্বর, থোরান, মাছের কারি কিংবা আপ্পাম ও স্ট্যু স্বাদে যেমন অনন্য, তেমনি দামেও সাধ্যের মধ্যে। স্থানীয় রেস্তোরাঁয় খেলে খাবারের খরচ অনেকটাই কমে যায়।কম খরচে কেরালা ভ্রমণের জন্য ট্রেন সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। কোচি বা আলাপ্পুঝা পর্যন্ত ট্রেনে পৌঁছে স্থানীয় বাস ও ফেরি ব্যবহার করলে যাতায়াতের খরচ অনেক কম হয়। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টি ভ্রমণের জন্য আদর্শ, কারণ তখন আবহাওয়া মনোরম থাকে।কেরালার ব্যাকওয়াটারে সূর্যাস্তের সময় যখন আকাশের রং জলের ওপর প্রতিফলিত হয়, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন নিজের সেরা রূপটি মেলে ধরেছে। শান্ত জল, নারকেল গাছের ছায়া, পাখির ডাক আর গ্রামের সরল জীবনসব মিলিয়ে কেরালা শুধু একটি পর্যটনস্থল নয়, বরং এক অনুভূতির নাম। তাই যদি কম খরচে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কয়েকটি স্মরণীয় দিন কাটাতে চান, তাহলে কেরালার ব্যাকওয়াটার আপনার জন্য এক অসাধারণ গন্তব্য। একবার ঘুরে এলে মন বারবার ফিরে যেতে চাইবে সেই শান্ত, সবুজ আর জলময় স্বর্গরাজ্যে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
দেশ

‘ককরোচ’-এর আন্দোলনে বড় ধাক্কা কেন্দ্রের! তৃতীয় বৈঠকের আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, নতিস্বীকার কি সরকারের?

নিজস্ব সংবাদদাতা: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পালাবদলের ইঙ্গিত। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র লাগাতার আন্দোলন এবং দেশজুড়ে তৈরি হওয়া প্রতিবাদের আবহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে প্রথম থেকেই সরব ছিল সিজেপি। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিলশিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনও সমঝোতাই সম্ভব নয়।এই পরিস্থিতিতে শনিবার কেন্দ্রের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর সামনে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এল কেন্দ্র?ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজেই সমাজমাধ্যমে তাঁর পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। জানা গিয়েছে, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয় এবং রাষ্ট্রপতি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে সূত্রের খবর।নিট পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি সামনে এনেছিল সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের দাবি, পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে এর জন্য রাজনৈতিক দায় স্বীকার করতে হবে।এই দাবিকে কেন্দ্র করেই গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সিজেপির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে মোট তিনটি প্রধান দাবি রাখা হয়েছিল। প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা এবং নিটের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।সরকারের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের ইতিমধ্যে দুদফা বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবির বিষয়ে সরকারের তরফে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে কোনও সমঝোতা হচ্ছিল না। বরং কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ ফের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রের তরফে আলোচনায় থাকার কথা ছিল জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের। কিন্তু বৈঠকের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা হয়ে যায়। এর ফলে আন্দোলনকারীদের প্রথম এবং মূল দাবিই কার্যত পূরণ হয়ে গেল।শনিবার সকালেই সিজেপির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে কেন্দ্র যদি কোনও সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে তৃতীয় দফার বৈঠকেরও কোনও অর্থ নেই। এমনকি আন্দোলনকারীদের তরফে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষোভের পরিধি আরও বাড়তে পারে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলতে পারে।এই আবহেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তাঁর নিজের বক্তব্যে পদত্যাগকে সরাসরি আন্দোলনের চাপের ফল হিসেবে তুলে ধরা হয়নি। বরং তিনি গত কয়েকদিনের পরিস্থিতির জন্য দুঃখপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তাঁর দাবি, কোনও মেধাবী পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নষ্ট হোক, তা তিনি কখনও চাননি।পদত্যাগের ঘোষণা করে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত ৩ মে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই তিনি বিষয়টির দায় নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কখনও তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মেধাবী পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা এবং কোনও শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্যায় না হওয়া।গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাঁকে ব্যথিত করেছে বলেও জানিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ যাতে কোনও দেশবিরোধী শক্তি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যাতে অটুট থাকে এবং আন্দোলনে যুক্ত কোনও পড়ুয়া যাতে আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়েএই বিষয়গুলিও তিনি বিবেচনায় রেখেছেন।ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশার প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তাঁর মতে, তরুণদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, গোটা সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থারও।তাঁর পদত্যাগের ঘোষণার পর এখন নজর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আন্দোলনকারীরা কি এই সিদ্ধান্তকে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পথ হিসেবে দেখবেন, নাকি তাঁদের বাকি দাবিগুলি নিয়ে আন্দোলন আরও জোরদার হবেতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।তবে একটি বিষয় স্পষ্টনিট পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন আর শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আস্থা পুনরুদ্ধার, পরীক্ষার নিরাপত্তা, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সেই বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালেও, বৃহত্তর প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও বাকি। আগামী দিনে কেন্দ্র কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং শিক্ষাব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

জুলাই ২৫, ২০২৬
স্বাস্থ্য

ঋতুস্রাবের দিনগুলিতে মন খারাপ কেন? শরীরের যন্ত্রণার পাশে থাকুক মন ও পরিবারও

নিজস্ব প্রতিবেদন: মাসের কয়েকটি দিন। ক্যালেন্ডারের পাতায় হয়তো নিছক কয়েকটি তারিখ, কিন্তু একজন নারীর শরীর ও মনের কাছে এই দিনগুলির অর্থ অনেক গভীর। কখনও তলপেটের অসহ্য ব্যথা, কখনও কোমর ও পিঠে টান, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমি বমি ভাবতার সঙ্গে অকারণ মন খারাপ, বিরক্তি, কান্না পেতে থাকা, একা হয়ে যাওয়ার ইচ্ছে কিংবা অদ্ভুত এক মানসিক অবসাদ। ঋতুস্রাবের সময় অনেক নারীর কাছেই শরীর যেন নিজের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে ফেলে। আর সেই শারীরিক অস্বস্তির সঙ্গে যখন মিশে যায় মানসিক চাপ, তখন কয়েকটি দিন হয়ে ওঠে এক দীর্ঘ, ক্লান্তিকর পথচলা।এই সময়টিকে তাই শুধু মেয়েদের মাসিকের সমস্যা বলে হালকা করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। কারণ ঋতুস্রাব কেবল একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নয়; হরমোনের ওঠানামা, ব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত, কর্মক্ষেত্রের চাপ, সামাজিক অস্বস্তি এবং নিজের শরীর নিয়ে নানা সংকোচসব মিলিয়ে এটি অনেকের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।কখনও মনে হয়, পৃথিবীটা যেন একটু বেশি শব্দ করছে। সামান্য কথাতেও বিরক্তি আসে। যে মানুষটি প্রতিদিন হাসিমুখে সংসার সামলান, অফিস করেন, সন্তানকে স্কুলে পাঠান কিংবা জীবনের নানা দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন, তিনিই হয়তো সেই কয়েকটি দিনে নিঃশব্দে নিজের ভিতরের ক্লান্তির সঙ্গে লড়াই করেন।এই লড়াইকে বুঝতে হবে। বিচার নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা।কেন ঋতুস্রাবের সময় মন খারাপ হয়?ঋতুচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মতো হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন ঘটে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মেজাজের ওঠানামা, উদ্বেগ, বিরক্তি, মনোযোগে ঘাটতি কিংবা বিষণ্ণতার অনুভূতি দেখা দিতে পারে। এর পাশাপাশি ঋতুস্রাবের সময় ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা পরোক্ষভাবে মানসিক ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।কারও ক্ষেত্রে উপসর্গগুলি তুলনামূলক হালকা। আবার কারও ক্ষেত্রে তা এতটাই তীব্র হতে পারে যে দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা, চাকরি কিংবা সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়ে। ঋতুস্রাবের আগে ও আশপাশের সময়ে যদি প্রতি মাসেই তীব্র মানসিক পরিবর্তনযেমন গভীর বিষণ্ণতা, প্রচণ্ড খিটখিটে মেজাজ, উদ্বেগ বা আবেগের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো সমস্যা দেখা দেয় এবং তা জীবনযাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত করে, তবে প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (PMS) বা আরও গুরুতর ক্ষেত্রে প্রিমেনস্ট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিসঅর্ডার (PMDD)-এর সম্ভাবনা বিবেচনা করা প্রয়োজন।তবে প্রতিটি মন খারাপই যে PMS বা PMDD, তা নয়। আবার প্রতিটি শারীরিক কষ্টকেও স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়াও ঠিক নয়।শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে মানসিক অবসাদের যোগসূত্রঋতুস্রাবের সময় তলপেটের ব্যথা বা ক্র্যাম্প অনেক নারীর দৈনন্দিন জীবনকে থামিয়ে দিতে পারে। কারও ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে বিছানা ছেড়ে ওঠাও কঠিন হয়ে পড়ে। মাথাব্যথা, দুর্বলতা, পেটের সমস্যা কিংবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণও শারীরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।এই শারীরিক অস্বস্তির সঙ্গে যখন কর্মক্ষেত্র বা পরিবারের প্রত্যাশা একই থাকে, তখন মানসিক চাপ আরও বাড়তে পারে।আজ শরীরটা ভালো নেইএই কথাটি বলার অধিকার একজন নারীর আছে।শরীর যখন বিশ্রাম চায়, তখন বিশ্রাম নেওয়া দুর্বলতা নয়। বরং নিজের শরীরের সংকেতকে সম্মান করা সুস্থ থাকারই একটি অংশ।মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করবেন নামানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতুস্রাবের সময় মেজাজের পরিবর্তন হলে প্রথমেই নিজের অনুভূতিকে অযৌক্তিক বা নাটক বলে দমন না করে তা স্বীকার করা জরুরি। যদি প্রতি মাসে একই ধরনের সমস্যা ফিরে আসে, তাহলে অন্তত দুই-তিনটি ঋতুচক্র ধরে নিজের উপসর্গের একটি ডায়েরি রাখা যেতে পারে।কোন দিনে মন খারাপ হচ্ছে, কতটা ব্যথা হচ্ছে, ঘুম কেমন হচ্ছে, ক্ষুধার পরিবর্তন হচ্ছে কি না, কাজকর্মে কতটা সমস্যা হচ্ছেএসব লিখে রাখলে সমস্যার ধরন বোঝা সহজ হয়। প্রয়োজন হলে গাইনোকলজিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করেও উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়া যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং স্ট্রেস কমানোর অভ্যাস অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে উপসর্গ গুরুতর হলে শুধু মন শক্ত করুন বলা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অনুসারে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং বা ওষুধের সাহায্যও লাগতে পারে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথানিজে থেকে কোনও ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা উচিত নয়।কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন এই কঠিন সময়?১. শরীরকে বিশ্রাম দিনঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে নিজের উপর অযথা চাপ দেবেন না। কাজের মধ্যে ছোট বিরতি নিন। পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করুন। শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া মানে দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়; বরং পরবর্তী দিনগুলির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।২. হালকা শরীরচর্চা করুনশরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটা, স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম অনেকের ক্ষেত্রে মুড ভালো করতে এবং অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে তীব্র ব্যথা বা অসুস্থতা থাকলে জোর করে ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই।ঋতুস্রাবের দিনগুলিতে মন খারাপ কেন? শরীরের যন্ত্রণার পাশে থাকুক মনও, পরিবারওঋতুস্রাবের দিনগুলিতে মন খারাপ কেন? শরীরের যন্ত্রণার পাশে থাকুক মনও, পরিবারওসুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান। পর্যাপ্ত জল পান করুন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন, লবণ বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তবে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।৪. নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুনবই পড়া, গান শোনা, প্রিয় সিনেমা দেখা, ছবি আঁকা, বাগান করা কিংবা কোনও বন্ধুর সঙ্গে কথা বলাযে কাজটি মনকে শান্ত করে, সেটি করার চেষ্টা করুন। মনকে ভালো রাখার জন্য সবসময় বড় কোনও আয়োজন প্রয়োজন হয় না। কখনও এক কাপ গরম চা আর জানালার পাশে কয়েক মিনিট নীরবতাও যথেষ্ট হতে পারে।৫. অনুভূতি প্রকাশ করুনআমি ভালো নেইএই কথাটি বলতে ভয় পাবেন না। মন খারাপ হলে বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। নিজের কষ্টকে গোপন করে রাখলে অনেক সময় মানসিক চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।পরিবার ও বন্ধুরা কী করবেন?একজন নারীর ঋতুস্রাবের সময় তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সবচেয়ে বড় উপায় সবসময় কোনও বড় সমাধান নয়অনেক সময় শুধু তাঁকে বোঝার চেষ্টা করাটাই যথেষ্ট।পরিবারের সদস্যরা যদি বলেন, তোমার শরীর খারাপ? তুমি একটু বিশ্রাম নাও, আজকের কাজটা আমি করে দিচ্ছিতাহলে সেই কথাটিই হয়তো একজন ক্লান্ত নারীর কাছে হয়ে উঠতে পারে এক মুঠো স্বস্তি।তাঁর মেজাজ খারাপকে উপহাস করবেন না। এগুলো সব মাসিকের অজুহাতএই ধরনের মন্তব্য এড়িয়ে চলুন। তাঁর কথা শুনুন। প্রয়োজন হলে ঘরের কাজ ভাগ করে নিন। তাঁকে একা থাকতে চাইলে সেই ব্যক্তিগত পরিসরটুকু দিন, আবার তিনি কথা বলতে চাইলে মন দিয়ে শুনুন।বন্ধুরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। বন্ধুর মন খারাপ বুঝলে জোর করে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা না করে পাশে থাকা, ফোন করা, একটু গল্প করা কিংবা প্রয়োজন হলে শুধু নীরবে শুনে যাওয়াএসবই অনেক সময় কার্যকর সহায়তা হয়ে ওঠে।মনে রাখতে হবে, মানসিক অবসাদ কোনও মেয়েলি দুর্বলতা নয়। এটি মানুষের অনুভূতিরই একটি অংশ। আর অনুভূতির যত্ন নেওয়া যেমন ব্যক্তিগত দায়িত্ব, তেমনই সামাজিক দায়িত্বও।কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?যদি প্রতি মাসে ঋতুস্রাবের আগে বা সময়ে তীব্র বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, রাগ, হতাশা বা আবেগের পরিবর্তন দেখা দেয় এবং তা কাজ, পড়াশোনা, সম্পর্ক বা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অসহ্য ব্যথা, বারবার মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ কিংবা এমন শারীরিক সমস্যা যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে থামিয়ে দেয়এসবকেও অবহেলা করা উচিত নয়।আর যদি কখনও গভীর হতাশা, নিজেকে আঘাত করার চিন্তা বা বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলার মতো অনুভূতি তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি জরুরি হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।নারীর শরীরকে বোঝার পাশাপাশি নারীর মনকেও বুঝতে হবেঋতুস্রাব কোনও লজ্জার বিষয় নয়। এটি জীবনের স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। অথচ এখনও সমাজের বহু স্তরে এই বিষয়টি নিয়ে সংকোচ, কুসংস্কার ও নীরবতা রয়েছে। সেই নীরবতাই অনেক সময় নারীর শারীরিক ও মানসিক কষ্টকে আরও একা করে দেয়।প্রখ্যাত লেখিকা ভার্জিনিয়া উলফ লিখেছিলেন, I would venture to guess that Anon, who wrote so many poems without signing them, was often a woman.নারীর অদৃশ্য কণ্ঠস্বরের প্রসঙ্গে তাঁর এই কথাটি যেন আজও প্রাসঙ্গিক। কারণ বহু নারী এখনও নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ না করে নীরবে সহ্য করে যান।ঋতুস্রাবের দিনগুলিতে তাই প্রয়োজন একটু বেশি মানবিকতা। প্রয়োজন প্রশ্নের বদলে বোঝাপড়া, উপহাসের বদলে সহানুভূতি, নির্দেশের বদলে পাশে থাকা।একজন নারী সেই কয়েকটি দিনে যদি বলেন, আজ আমার একটু বিশ্রাম দরকারতবে তাঁর পাশে দাঁড়ানো মানে তাঁকে দুর্বল করে দেওয়া নয়। বরং তাঁর শক্তিকে সম্মান করা।কারণ প্রতিটি মাসে শরীরের ভিতর দিয়ে যে পরিবর্তনের স্রোত বয়ে যায়, তার সঙ্গে লড়াই করে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন অসংখ্য নারী। তাঁদের এই নীরব লড়াইকে স্বীকৃতি দেওয়া, তাঁদের কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোএটাই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে মানবিক দায়িত্ব।ঋতুস্রাবের দিনগুলি হয়তো মাসের কয়েকটি দিন। কিন্তু সেই কয়েকটি দিনে একজন নারীর পাশে থাকাতাঁর কাছে হয়ে উঠতে পারে সারা জীবনের এক গভীর আশ্বাস।

জুলাই ২৫, ২০২৬
দেশ

'ককরোচ'দের চাপেরই জের! অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী

অবশেষে ককরোচদের প্রধান দাবি মেনে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আগেই ককরোচ জনতা পার্টির বেশিরভাগ দাবি মেনে নিয়েছিল কেন্দ্র। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিজেপির কাছ থেকে কেন্দ্র সময় নিয়ে নেয়। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি মেনে অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় করা দীর্ঘ পোস্টে নিজের পদত্যাগের কারণ জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ইতিমধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত সেই পদত্যাগ গৃহীত হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীকে নিজের ইস্তফা পাঠানোর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজের দায়িত্ব থেকে কোনও সময় মুখ ফিরিয়ে নিইনি। প্রথম দিন থেকে নিটে প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়েছি, কোনওসময় মুখ লুকোয়নি। তাঁর দাবি, ছাত্র আন্দোলনের নামে কিছু দেশবিরোধী কুচক্রী ষড়যন্ত্র করছে। সেই কুচক্রীরা যাতে কোনওভাবেই পরিস্থিতির সুবিধা তুলতে না পারে, সেজন্যই আমার ইস্তফা। আমার এই পদত্যাগপত্র দেশের জন্য।যন্তর মন্তরে একাধিক দাবি নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন শুরু করে। তারমধ্যে প্রধান দাবি ছিল, নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র লিকের জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। প্রথম দিকে শুধু মাত্র ককরোচ জনতা পার্টি সেই আন্দোলন করে। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র সংগঠন সেই আন্দোলনে যুক্ত হয়। দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সেই আন্দোলনে যুক্ত হতে থাকে। সেলিব্রেটি, খেলোয়াররাও আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। কার্যত চাপে পড়েই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন বলেই বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
রাজ্য

সেবাশ্রয় ঘিরে নতুন বিস্ফোরণ! কোটি টাকার নয়, এবার সামনে এল লক্ষ লক্ষ টাকার বকেয়ার অভিযোগ

প্রায় দুই বছর আগে সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্প খরচে চিকিৎসার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল সেবাশ্রয় শিবির। সেই উদ্যোগকে ঘিরে তখন ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রকল্প নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। এবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের হয়েছে নতুন অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি রিসর্ট ভাড়া নেওয়া এবং লক্ষ লক্ষ টাকার বকেয়া বিল।অভিযোগকারী রিসর্ট মালিক জানিয়েছেন, সেবাশ্রয় শিবিরের কাজ পরিচালনার জন্য এক সময় তাঁর রিসর্ট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রায় দেড়শো জন কর্মী থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে দাবি তাঁর। অভিযোগ, দীর্ঘদিন কেটে গেলেও প্রায় তিরিশ লক্ষ টাকার বিল এখনও পরিশোধ করা হয়নি।রিসর্ট মালিকের দাবি, সেই সময় বারবার টাকা চাওয়া হলেও কোনও অর্থ দেওয়া হয়নি। বরং তাঁকে জানানো হয়েছিল, ব্যবসা করতে হলে এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে। তাঁর আরও অভিযোগ, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি তখন থানায় অভিযোগ করার সাহস পাননি। বর্তমানে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, রিসর্টে সেবাশ্রয়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা থাকতেন। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, সেই সময় এই ব্যবস্থার সঙ্গে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীদের নামও জড়িত ছিল বলে তাঁর দাবি। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।শনিবার বিধানসভায় সেবাশ্রয় নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও প্রকল্পটি নিয়ে একাধিক অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সেবাশ্রয় সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গোটা বিষয়টি অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
রাজ্য

নলহাটিতে হানা দিতেই চক্ষু চড়কগাছ! একসঙ্গে উদ্ধার বিপুল বিস্ফোরক, বড় রহস্যের গন্ধ

বীরভূমের নলহাটিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। উদ্ধার হয়েছে বিশ বস্তা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং প্রচুর ডিটোনেটর। ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিপুল বিস্ফোরক কী উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। কলকাতা থেকে তদন্তকারী দল নলহাটিতে পৌঁছে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ তল্লাশির পর একটি জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকেই এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক কী কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল, তা এখন তদন্তের মূল বিষয়। কোনও নাশকতার ছক ছিল কি না, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও ডিটোনেটর পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হতে পারে বলেও তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, এই বিস্ফোরক কোনও বৈধ শিল্পকারখানা বা খনির কাজে ব্যবহার করার জন্য রাখা হয়েছিল কি না। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তাঁদের খোঁজেও তল্লাশি শুরু হতে পারে। গোটা ঘটনায় তদন্ত চলেছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বাবা বিক্রি করতেন সবজি, ছেলে জিতল দেশের প্রথম পদক! ঝন্ডুর লড়াই জানলে চোখে জল আসবে

কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক অভিযান শুরু হল দারুণ সাফল্যের মধ্য দিয়ে। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ার লিফটিং বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের ঝুলিতে প্রথম পদক তুলে দিলেন বিহারের ঝন্ডু কুমার। তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত গোটা দেশ।ঝন্ডু কুমারের জীবন সংগ্রামের গল্প অনুপ্রেরণার। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে পোলিও আক্রান্ত হন তিনি। ছোটবেলা থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি আর্থিক সমস্যার সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে। তাঁর বাবা রাস্তার ধারে সবজি বিক্রি করেন। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ঝন্ডুও একসময় ই-রিকশা চালিয়েছেন। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিও তাঁর স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন এবং দেশের হয়ে খেলার লক্ষ্য থেকে কখনও সরে যাননি।পরবর্তীতে তাঁর প্রতিভা নজরে আসে জাতীয় কোচ রাজিন্দর সিং রাহেলুর। তাঁর উদ্যোগেই ঝন্ডু জাতীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুশীলনের সুযোগ পান। সেই সুযোগই বদলে দেয় তাঁর জীবন। এরপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য পেতে শুরু করেন তিনি।কমনওয়েলথ গেমসে ঝন্ডু মোট একশো নব্বই কেজি ওজন তুলে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন। শেষ প্রচেষ্টায় আরও বেশি ওজন তোলার চেষ্টা করলেও সফল হননি। তবুও তাঁর পারফরম্যান্সই ভারতের প্রথম পদক এনে দেয়।পদক জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ঝন্ডু বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে তিনি যেন আকাশে উড়ছেন। এই পদক শুধু তাঁর নয়, যাঁরা কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং অনুশীলনের সুযোগ করে দিয়েছেন, তাঁদের সকলেরও। ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য আনার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চান তিনি।এর আগেও জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন ঝন্ডু। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও একাধিক পদক জিতেছেন। এবার কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক জিতে তিনি প্রমাণ করে দিলেন, কঠোর পরিশ্রম, ইচ্ছাশক্তি এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনও বাধাই সাফল্যের পথে শেষ কথা হতে পারে না।

জুলাই ২৫, ২০২৬
কলকাতা

মিছিলে ঢুকেছিল বহিরাগত? সত্তর জন চিহ্নিত, কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

ধর্মতলায় সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে বিধানসভায় বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের নামে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন হিসেবে ঘোষণা করা হলেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, আন্দোলনে এমন বহু ব্যক্তি যোগ দিয়েছিলেন, যাঁদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলন বা নিট ইস্যুর কোনও সরাসরি সম্পর্ক ছিল না। বিভিন্ন এলাকা থেকে বহিরাগতদের আনা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় পুলিশ ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল, জুতো এবং অন্যান্য বস্তু ছোড়া হয়। তাঁর দাবি, উদ্দেশ্য ছিল পুলিশকে উসকে দিয়ে বড় সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করা। তবে পুলিশ সংযম দেখিয়েছে বলেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়নি।তিনি আরও জানান, ঘটনায় আহত হয়েছেন একাধিক সাংবাদিক। ইতিমধ্যেই সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তে এখনও পর্যন্ত প্রায় সত্তর জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কয়েকজনের নামও বিধানসভায় উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।প্রশাসনের দাবি, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্মতলার অশান্তির প্রকৃত কারণ এবং কারা এর নেপথ্যে ছিল, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জুলাই ২৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal