• ২৮ মাঘ ১৪৩২, রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

কলকাতা

কলকাতা

আতঙ্কিত মমতা? নির্বাচন কমিশনের সামনে বিস্ফোরক দাবি বিরোধী দলনেতার

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত আরও তীব্র হল। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়াকে অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিযোগ করেছিলেন। রাজ্যের দাবি না মানা হলে এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবিও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই চিঠির পাল্টা এবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। তাঁর দাবি, ভোটের স্বার্থে ভুয়ো ভোটারদের রক্ষা করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুভেন্দুর মতে, মুখ্যমন্ত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলেই এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়ে কমিশনকে চিঠি লিখেছেন। এই চিঠিতেই সব কিছু পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে রয়েছেন। সোমবার দুপুর বারোটায় কমিশনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা। ভোটের মুখে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছনো দুই চিঠিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের তরফে জমা দেওয়া নথি গ্রহণ করা হচ্ছে না। ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিলেও তা এসআইআর শুনানিতে মানা হচ্ছে না বলে দাবি তাঁর। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, একেক রাজ্যের ক্ষেত্রে একেক রকম নিয়ম চালু করছে নির্বাচন কমিশন।অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ভুয়ো ভোটারদের তালিকায় ঢোকানোর উদ্দেশ্যেই এই সব নথি ও প্রক্রিয়া চালু করতে চাইছে রাজ্য সরকার। এই অভিযোগ কোনওভাবেই মানা উচিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কোন বক্তব্যকে গুরুত্ব দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, বাংলার ক্ষেত্রেই কেন আলাদা নিয়ম করা হচ্ছে, তার উত্তর প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দিতে হবে। প্রতিদিন নিয়ম বদলানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলায় মৃত্যু মিছিলের প্রসঙ্গ তুলে তার দায় কার, সেই প্রশ্নও তোলেন জয়প্রকাশ।

জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
কলকাতা

গভীর রাতে ভয়াবহ শব্দ, তারপর নিথর দেহ—পার্ক সার্কাসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

পার্ক সার্কাসে লোহারপুলের পাশে গভীর রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। জরাজীর্ণ বাড়ির ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বৃদ্ধার ভাই এবং এক বছর দশেকের এক শিশুও।রবিবার রাত তিনটে থেকে সাড়ে তিনটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। পার্ক সার্কাসের লোহারপুল সংলগ্ন একটি পুরনো তিনতলা বাড়ির নীচের তলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন বৃদ্ধা রাবিয়া খাতুন। গভীর রাতে আচমকা বাড়ির একতলার ছাদের বড় অংশ ভেঙে পড়ে নীচের ঘরে। সেই সময় ঘুমিয়ে ছিলেন রাবিয়া খাতুন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।চাঙড়ের ভারী অংশ সরাসরি পড়ে তাঁদের উপর। গুরুতর জখম হন বৃদ্ধা, তাঁর ভাই এবং শিশুটি। তড়িঘড়ি তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, চাঙড়ের আঘাতে ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার। তাঁর ভাইয়ের পা ভেঙে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত শিশুটির নাক ও মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।এই দুর্ঘটনার পর গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। একাধিক পরিবার ভাড়া থাকলেও সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বারবার জানানো সত্ত্বেও বাড়ির মালিক কোনও গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ।এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বহুবার বাড়িওয়ালাকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কিছুই শোনেননি। উপরের তলাগুলি তুলনামূলকভাবে ঠিক থাকলেও নীচের তলায় থাকা পরিবারটি আর্থিকভাবে দুর্বল ছিল। সেই পরিবারেরই এই পরিণতি হল বলে দাবি এলাকাবাসীর।ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বাড়ির চারপাশে গার্ডরেল বসানো হয়েছে নিরাপত্তার জন্য। এখনও পর্যন্ত বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুরসভা। বাড়ির অবস্থা খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
কলকাতা

ডোমিসাইল বাতিলের অভিযোগ! ভোটার তালিকা নিয়ে বড় সংঘাত রাজ্য-কমিশনের

ডোমিসাইল বা স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র বাতিল করা হচ্ছে এই অভিযোগে চরম হয়রানির মুখে পড়ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। রাজ্য সরকারের দাবি, অনানুষ্ঠানিক ভাবে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট আর ভোটার পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত নির্দেশ বা আইনি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ ভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। রাজ্যের আপত্তি না মানা হলে এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।এর আগেও গত নভেম্বর মাসে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা। সেই চিঠিতে এসআইআর-এর প্রথম ধাপে চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং বাংলা সহায়ক কেন্দ্রের কর্মীদের ব্যবহার না করার কমিশনের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।রাজ্যের অভিযোগ, কাজের সূত্রে ভিন রাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদেরও শুনানির জন্য সশরীরে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী তাঁরা ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক চরম অসুবিধা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।এসআইআর প্রক্রিয়ায় ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় কলকাতা পুরসভায় এই শংসাপত্রের জন্য আবেদন হঠাৎ বেড়ে যায়। পুরসভার সদর দফতর ও বিভিন্ন বরো অফিসে প্রতিদিনই দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়ে প্রতিদিন অন্তত ৮০টি করে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের আবেদন জমা পড়ছে। সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দফতর থেকে কলকাতার সমস্ত কাউন্সিলরের কাছে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকাও পাঠানো হয়।এই প্রক্রিয়া ঘিরে বিভিন্ন জেলায় ক্ষোভ বাড়ছে। সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের কালনায় অভিযোগ ওঠে, পৌরসভার একটি ওয়ার্ডের ৩২ জন ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হলেও তাঁদের কাছে থাকা পুরনো বাড়ির দলিল মানা হয়নি। নতুন করে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট চাওয়া হয়। অথচ সেই শংসাপত্রই এখন বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, শুনানির কারণ না জানিয়েই ভোটারদের ডাকা হচ্ছে। প্রবীণ, অসুস্থ ও শারীরিক ভাবে অক্ষম মানুষকেও ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গিয়ে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকী ভিন রাজ্যে কর্মরত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদেরও ব্যক্তিগত ভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বানান বা বয়স সংক্রান্ত সামান্য ভুলের জন্যও নতুন করে নথি যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা কার্যত অসম্ভব। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত তালিকা উপেক্ষা করে অভিজ্ঞতাহীন কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের নির্ধারিত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ। এই ত্রুটিগুলি অবিলম্বে সংশোধন না হলে সম্পূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জানুয়ারি ০৪, ২০২৬
কলকাতা

ইডির চার্জশিটে বিস্ফোরক তথ্য, বালি পাচারে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। অভিযুক্ত অরুণ শারফ-সহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অরুণ শারফের সংস্থা জিডি মাইনিংয়ের নামেও চার্জশিট জমা পড়েছে। বিচারভবনে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।গত ৬ নভেম্বর ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন অরুণ শারফ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওয়েস্টবেঙ্গল স্যান্ড মাইনিং, ট্রান্সপোর্ট, স্টোরেজ ও সেল সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম উপেক্ষা করে বালি তোলা এবং তা বিক্রি করা হত। এই অবৈধ কারবারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ রোজগার করা হয়েছে বলে ইডির দাবি। মোট ১৪৫ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অরুণ শারফ ছাড়াও তাঁর সংস্থার চার কর্মীর বিরুদ্ধেও চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতারের ৫৭ দিনের মাথায় এই চার্জশিট পেশ করল ইডি।এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর বালি পাচার কাণ্ডের তদন্তে নামে ইডি। ওই দিন ঝাড়গ্রাম ও বেহালায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তল্লাশি চালান ইডির আধিকারিকরা। সেই সময় জিডি মাইনিংয়ের বিভিন্ন জায়গাতেও তল্লাশি হয়।ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে শেখ জহিরুল আলির বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে সুবর্ণরেখা নদী থেকে নিয়ম না মেনে দেদার বালি তোলার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরে সৌরভ রায় নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডির দাবি, এঁরা সকলেই অবৈধ বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত। শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধেই চার্জশিট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
কলকাতা

যুবভারতী কাণ্ডে স্বস্তির খবর, শুরু হচ্ছে টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া

যুবভারতী স্টেডিয়াম কাণ্ডে দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল সিট। টাকা ফেরত দিতে আদালতের অনুমতি চাইছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, দর্শকদের কাছ থেকে টিকিট বিক্রি করে আয়োজক সংস্থা প্রায় ১৯ কোটি টাকা তুলেছিল। আয়োজক সংস্থার দায়িত্বে থাকা জোমাটোর আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই তথ্য জানা গিয়েছে।ঘটনার পর রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার সাংবাদিক বৈঠক করে দর্শকদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, যাঁরা টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পাননি, তাঁদের প্রত্যেকের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার প্রক্রিয়া শুরু হল।তদন্তে নেমে আয়োজক শতদ্রু দত্তের সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে সিট। এই বিষয়টি নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতে সওয়াল-জবাবের সময় জানানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আলিপুর আদালতে শুনানির সময় আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, যুবভারতীতে মেসিকে আনার নামে প্রায় ২৩ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ টিকিট কেটেছিলেন এবং টিকিট বিক্রি থেকে প্রায় ১৯ কোটি টাকা আয় হয়েছিল।সেদিনের বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরে প্রায় ২ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয় বলেও আদালতে জানানো হয়েছে। মেসি দর্শন ঘিরে যুবভারতী স্টেডিয়াম কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও দর্শকরা মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং স্টেডিয়ামে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।ঘটনার দিনই বিকেলে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। এরপর সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার সাফ জানিয়ে দেন, টিকিট বিক্রির টাকা দর্শকদের ফেরত দিতেই হবে, না হলে আয়োজকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এই ঘটনার জেরে ডিজি রাজীব কুমারকেও শোকজ করা হয়েছিল।

জানুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

ভোটার তালিকায় বড় ছাড়! নথি না থাকলেও মিলবে ভোটাধিকার, কারা পেলেন সুবিধা?

ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনে বড় ছাড় দিল নির্বাচন কমিশন। এবার নথি দেখালেও চলবে, না দেখালেও কোনও সমস্যা নেই। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, জনজাতি, যৌনকর্মী ও রূপান্তরকামীদের জন্য এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।কমিশনের মতে, যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে নথি জোগাড় করা অনেক সময় অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই গ্রামাঞ্চল বা ভিনরাজ্য থেকে শহরে আসেন এবং সামাজিক নানা কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে না। ফলে জন্ম শংসাপত্র বা ঠিকানার প্রমাণ সংগ্রহ করা তাঁদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। আবার অনেকে পারিবারিক বা সামাজিক চাপে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। সেই সময় প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে আনা সম্ভব হয় না। অনেকেই নিজের পেশা গোপন রাখেন বলেও নথি জমা দিতে ভয় পান।একই ধরনের সমস্যার কথা তুলে ধরে আগেই নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন রূপান্তরকামীরাও। তাঁরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়ে ডেপুটেশন জমা দেন। রূপান্তরকামী সংগঠনের এক প্রতিনিধি জানান, তাঁদের মধ্যে অনেকেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। কারও নাম পুরনো ভোটার তালিকায় থাকলেও অনেকের নাম নেই। তাঁদের ক্ষেত্রে গুরু মা-র নাম ব্যবহার করার অনুমতির দাবি জানানো হয়েছিল।ইতিমধ্যেই রাজ্যে ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশিত হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় শুনানি চলছে। এই পরিস্থিতিতে যৌনকর্মী ও রূপান্তরকামীদের দাবিতে সিলমোহর দিল নির্বাচন কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে নথি দেখানো বাধ্যতামূলক নয়। রূপান্তরকামীদের ক্ষেত্রে গুরু মা-দের পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষদেরও নথি ছাড়াই শুনানিতে হাজির হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য স্থানীয় স্তরে ইআরও-দের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নথি না থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেও গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে মান্য করার জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে।ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে মানবিক ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।

জানুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

অমিত শাহের বার্তা পেয়েই অ্যাকশনে দিলীপ ঘোষ, জানুয়ারিতেই জনসভায় ফিরছেন তিনি

এদিন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দলের নির্দেশ মতোই তিনি কাজ করবেন। এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, সম্প্রতি দলে একাধিক নতুন কমিটি তৈরি হয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে আগে তিনি অবগত ছিলেন না। সেই বিষয়গুলোই তিনি বিস্তারিতভাবে জেনে নিয়েছেন।শুধু দলীয় দফতরে বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না দিলীপ ঘোষ। খুব শীঘ্রই তাঁকে জনসভাতেও দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। দিলীপ ঘোষ জানান, জানুয়ারি মাসেই দুর্গাপুরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সভাতেই তিনি উপস্থিত থাকবেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হলে, সত্যিই কি তিনি আবার মাঠে নেমে সক্রিয় রাজনীতি করবেন, উত্তরে দিলীপ বলেন, দল যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেভাবেই তিনি কাজ করবেন। এমনকি ভোটে লড়তে বলা হলে তাতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।দলের অন্দরে আদি ও নব্য নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি এড়িয়ে যান দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, নতুন নেতারা দলে এলে তাঁদের অনেক বিষয় নতুন করে বুঝিয়ে দিতে হয়। ভোটের আগে এমনটা প্রায়ই দেখা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নব্য নেতারা তাঁকে বুঝতে পারছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ বলেন, দল বুঝলেই যথেষ্ট। আর কে তাঁকে বুঝল বা বুঝল না, তা নিয়ে তিনি ভাবেন না। কাউকে বোঝানো তাঁর দায়িত্ব নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।বিজেপির ভবিষ্যৎ লড়াইয়ের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু বছর ধরে আন্দোলন ও লড়াই চালিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। বিজেপিও এবার ভিন্ন কৌশলে লড়াইয়ে নামবে বলে জানান তিনি।উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির কোনও সভা বা কর্মসূচিতে দিলীপ ঘোষকে দেখা যায়নি। দলীয় বহু অনুষ্ঠানেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছিল না। সেই দিলীপ ঘোষই এবার সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হলেন এবং জানালেন, খুব শীঘ্রই তাঁকে জনসভাতেও দেখা যাবে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

জানুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

রোহিঙ্গা তালিকা কোথায়? এসআইআর নিয়ে কমিশনকে একের পর এক প্রশ্ন অভিষেকের

বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ১০ জন সাংসদ এবং রাজ্য সরকারের একাধিক সিনিয়র ক্যাবিনেট মন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই বৈঠক মোটেও ফলপ্রসূ হয়নি।অভিষেক বলেন, আগেও ২৮ নভেম্বর তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন সঠিক কোনও উত্তর দেয়নি। এবারও তাঁরা ১০ থেকে ১১টি প্রশ্ন নিয়ে বৈঠকে গিয়েছিলেন। কিন্তু দু-তিনটি প্রশ্ন ছাড়া বাকি কোনও বিষয়েই স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন করতেই কমিশন নাগরিকত্বের প্রসঙ্গ টেনে কথা ঘুরিয়ে দেয়।অভিষেক জানান, মোট ১ কোটি ৩৬ লক্ষ কেস রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ-ছটি আলাদা ক্যাটাগরি আছে। কোথাও বাবা ও ছেলের বয়সের ফারাক ১৫ বছর, কোথাও নাম, পদবি বা ঠিকানায় ভুল। কিন্তু সেই সম্পূর্ণ তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। কিছু কেস AERO-দের লগিংয়ে আপলোড করা হয়েছে। যে অ্যাপ দিয়ে এই তথ্য আপলোড করা হচ্ছে, সেটিতেও একাধিক সমস্যা রয়েছে বলে কমিশনকে জানানো হয়েছে।তাঁর অভিযোগ, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি ক্যাটাগরিতে গেলেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে শুনানির নোটিস চলে যাচ্ছে। সব তথ্য ঠিক থাকলেও মানুষকে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে। এর ফলে বহু বয়স্ক মানুষ, যাঁদের সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হয়, তাঁদেরও আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তৃণমূলের প্রশ্ন, যখন বয়স্কদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, তখন শুনানির ক্ষেত্রেও কেন বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে না।অভিষেক জানান, কমিশন জানিয়েছে ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্কদের শুনানিতে ডাকা হবে না। তৃণমূলের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক, শারীরিকভাবে অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের যেন অযথা শুনানিতে ডেকে হেনস্থা না করা হয়। কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি তারা আলোচনা করবে।রোহিঙ্গা ইস্যুতেও নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বাংলাকে টার্গেট করে বদনাম করছে এবং বলছে রাজ্যে নাকি ১ কোটি রোহিঙ্গা রয়েছে। তিনি কমিশনের কাছে জানতে চান, খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম নেই সেই ৫৮ লক্ষ মানুষের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা, তার তালিকা প্রকাশ করা হোক। এই প্রশ্নেরও কোনও উত্তর কমিশন দিতে পারেনি বলে দাবি তাঁর।অভিষেক আরও বলেন, দেশের একাধিক রাজ্যে এসআইআর চলছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি রিভিশনের শতাংশ এসেছে বাংলায়, তা ৫.৭৯ শতাংশ। অথচ এখানেই সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে। তা সত্ত্বেও শুধু বাংলায় কেন বেছে বেছে মাইক্রো অবজারভার এবং জেলা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত অফিসার নেই। তৃণমূল পাল্টা জানায়, অনেক AERO বসে রয়েছেন, তাঁদের কাজে লাগানো হচ্ছে না।এছাড়াও ERO-দের না জানিয়ে কীভাবে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, কোনও সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফর্ম ৭ ছাড়াই কীভাবে ব্যাকএন্ড থেকে ভোটার তালিকা বদলানো হচ্ছে, তা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। তবে এই বিষয়েও কোনও স্পষ্ট জবাব মেলেনি বলে অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
কলকাতা

লক্ষীর ভাণ্ডার বন্ধের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল? সরাসরি জবাব অমিত শাহের, তীব্র রাজনৈতিক তরজা

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে চলমান কোনও সরকারি প্রকল্প বন্ধ হবে না। স্পষ্ট ভাষায় এই আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্য সরকারের যে সমস্ত প্রকল্প চলছে, বিজেপি সরকার গঠন করলেও তার একটিও বন্ধ করা হবে না। বরং তার পাশাপাশি নতুন নতুন প্রকল্পও চালু করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।অমিত শাহ বলেন, প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে বলে তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ছড়াচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির ট্র্যাক রেকর্ড গোটা দেশই জানে। যেখানে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেখানে আগের সরকারের চালু করা প্রকল্প বন্ধ করা হয়নি। পাশাপাশি বিজেপির ইস্তাহারে যে সব প্রকল্পের কথা বলা হয়, সেগুলিও বাস্তবায়িত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিজেপির বক্তব্যের পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, কেন্দ্র কেন বাংলার জন্য বরাদ্দ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে, তার জবাব বিজেপিকে দিতে হবে। তাঁর দাবি, এই টাকা বিজেপির নয়, সাধারণ মানুষের করের টাকা। জিএসটি থেকে রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ নেওয়া হলেও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা অন্যায়ভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।জয়প্রকাশ মজুমদার আরও বলেন, হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেও বিজেপি তা মানতে চায় না। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সংবিধানকে সম্মান করে না এবং নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিজেপি আবার হারবে বলেও দাবি করেন তিনি।অমিত শাহের আশ্বাস এবং তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
কলকাতা

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এফআইআর! আইনের লঙ্ঘন কি না, পাল্টা কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, যে কোনও নাগরিকের অভিযোগ জানানো গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সংসদীয় আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা যায় না। আইনের ধারা ১৬ অনুযায়ী বিষয়টি স্পষ্ট। সেই আইন অমান্য করে পুলিশ যদি এফআইআর গ্রহণ করে, তা হলে তা বেআইনি বলে গণ্য হবে।নির্বাচন কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এর আগে ভুয়ো ভোটার সংক্রান্ত অভিযোগে রাজ্যকে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি। তা হলে এখন কেন সিইও এবং কমিশনকে দায়ী করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার সংক্রান্ত শুনানির দায়িত্ব ইআরও এবং বিএলও-র। তাঁরা শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকেছিলেন। কোনও অসুবিধা থাকলে তাঁদের কাছেই জানানো যেত।কমিশনের স্পষ্ট দাবি, যদি আইন ভেঙে এফআইআর দায়ের করা হয়ে থাকে, তা হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিক এবং অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। লোকপাল আইন অনুযায়ী, কোনও সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ থাকলে তবেই এফআইআর দায়ের করা যায়। এই ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কী বলছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে কমিশন।নির্বাচন কমিশনের প্রশ্ন, এই ধরনের অভিযোগকে কেন আইনের অপব্যবহার হিসেবে দেখা হবে না। কমিশনের তরফে এই এফআইআর খারিজের আবেদন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এমনকি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কমিশনের তরফ থেকেও পাল্টা এফআইআর দায়ের হতে পারে বলে সূত্রের খবর। কমিশনের বক্তব্য, কাউকে হেয় করার জন্য যে কোনও অভিযোগ তোলা যায় না। নির্বাচন কমিশনাররা রাষ্ট্রপতির দ্বারা নিযুক্ত হন এবং তাঁদের সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে।উল্লেখ্য, গত সোমবার পুরুলিয়ার পারা ব্লকের চৌতালা গ্রামের বাসিন্দা দুর্জন মাঝির দেহ রেললাইনের ধারে উদ্ধার হয়। সেদিনই তাঁর ভোটার সংক্রান্ত শুনানির দিন ছিল। পরিবারের দাবি, শুনানিতে যাওয়ার জন্য টোটো ডাকতে বেরিয়েছিলেন দুর্জন। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, শুনানির ভয় থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার দুর্জনের ছেলে চিফ ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও রাজ্যের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগ ঘিরেই রাজ্যজুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
কলকাতা

আজই কি বদল মুখ্যসচিব? ৩১ ডিসেম্বরেই শেষ মনোজ পন্থের মেয়াদ, জল্পনা তুঙ্গে

রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যসচিব কে হতে চলেছেন, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমান মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। তিনি আগে ছমাসের এক্সটেনশনে ছিলেন। ভোটের আগে তাঁর মেয়াদ আরও ছমাস বাড়ানোর জন্য রাজ্য সরকারের তরফে কেন্দ্রের ডিওপিটি-তে আবেদন পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই আবেদনের কোনও উত্তর এখনও পাওয়া গিয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কেউই মুখ খুলতে চাইছেন না।এই পরিস্থিতিতে নানা নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রশাসনিক মহলে। সূত্রের খবর, যদি মনোজ পন্থের মেয়াদ আর না বাড়ানো হয়, তা হলে মুখ্যসচিব পদের দৌড়ে রয়েছেন নন্দিনী চক্রবর্তী, বরুণ রায়, অত্রি ভট্টাচার্য এবং প্রভাত মিশ্রের মতো অভিজ্ঞ আমলারা। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকেই তাকিয়ে রাজ্য প্রশাসন।প্রসঙ্গত, এর আগে মনোজ পন্থের মুখ্যসচিব হিসেবে থাকার কথা ছিল চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ ও কর্মিবর্গ দফতর থেকে ছাড়পত্র মিলায় তাঁর মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। ডিওপিটি-র তরফে মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছিল, রাজ্য সরকারের আবেদনের ভিত্তিতেই এই এক্সটেনশন দেওয়া হচ্ছে।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ অগস্ট ভগবতী প্রসাদ গোপালিকার জায়গায় মুখ্যসচিবের দায়িত্ব নেন মনোজ পন্থ। গোপালিকার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্যও রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেছিল, কিন্তু সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি কেন্দ্র। তারপরই মুখ্যসচিবের দায়িত্ব পান মনোজ পন্থ। এবার তাঁর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, তা নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
কলকাতা

ভোটার তালিকার আতঙ্কে মতুয়ারা, কলকাতা থেকে বড় আশ্বাস অমিত শাহের

এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই দেখা গিয়েছে, বহু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম তাতে নেই। এর ফলে নাগরিকত্ব নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে মতুয়াদের মধ্যে। সেই আতঙ্ক থেকেই একাংশ আন্দোলনের পথেও নেমেছেন। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে ওপার বাংলা থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের আশ্বস্ত করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মতুয়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। যারা শরণার্থী হয়ে বাংলায় এসেছেন, তাঁদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। সকলকেই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু হওয়াকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করে আসছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে শুরু থেকেই মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। যদিও বিজেপির তরফে বারবার বলা হয়েছিল, চিন্তার কোনও কারণ নেই। মতুয়া মহাসংঘের এক সংঘাধিপতি তথা সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে মতুয়া কার্ডও বিলি করা হয়। তবে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, বহু মতুয়ার নাম ভোটার তালিকায় নেই।এর পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর মন্তব্য করেন, যদি ভোটার তালিকা থেকে ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম বাদ যায়, সেখানে এক লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ পড়লে তা মেনে নেওয়া উচিত। এই মন্তব্যে মতুয়া সমাজে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। গাইঘাটার ঠাকুরবাড়িতে প্রতিবাদ সভার ডাক দেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের আর এক সংঘাধিপতি ও তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। তা ঘিরে উত্তেজনাও ছড়ায়। মমতাবালাপন্থী মতুয়ারা আগামী ৫ জানুয়ারি পথ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই কলকাতা থেকে মতুয়াদের আশ্বস্ত করলেন অমিত শাহ। শান্তনু ঠাকুরকে পাশে নিয়ে তিনি বলেন, মতুয়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। যারা শরণার্থী হয়ে বাংলায় এসেছেন, তাঁদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের ক্ষতি করতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, সকল শরণার্থীকেই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
কলকাতা

অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি, বাংলার সীমান্তে কী বদল আসছে?

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট হবে বলে সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতার বঙ্গভূমি মঞ্চ থেকে তিনি জানিয়ে দেন, ওই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসনে জয় পেয়ে বাংলায় ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। একই সঙ্গে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া বার্তা দেন তিনি। অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি তিনটি আসন থেকে ৭৭টি আসনে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ পরিবর্তন এবং সুশাসন চাইছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই এক রাজনৈতিক নেতার এভাবে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।এ দিন ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলায় বিজেপির রাজনৈতিক যাত্রাপথের খতিয়ান তুলে ধরেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি পেয়েছিল ১৭ শতাংশ ভোট এবং দুটি আসন। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপির ভোট শতাংশ ছিল ১০ এবং আসন ছিল তিনটি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তা বেড়ে হয় ৪১ শতাংশ ভোট এবং ১৮টি আসন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পায় ৩৮ শতাংশ ভোট ও ৭৭টি আসন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির ভোট শতাংশ ছিল ৩৯ এবং আসন ছিল ১২টি। অমিত শাহের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জিতে বাংলায় সরকার গঠন করবে বিজেপি।ভাষণে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থান নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলার সীমান্ত দিয়ে যে অনুপ্রবেশ হচ্ছে, তা শুধু পশ্চিমবঙ্গের সমস্যা নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় এমন শক্ত সরকার দরকার যারা অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হবে যাতে কোনও মানুষ তো দূরের কথা, একটি পাখিও অবৈধভাবে সীমান্ত পেরোতে না পারে।মঙ্গলবার ভাষণের শুরুতেই বাঙালির আবেগের প্রসঙ্গ টানেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, এই দিনেই ১৯৪৩ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু পোর্ট ব্লেয়ারে প্রথম স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গও তোলেন শাহ। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল বিজেপি সরকার গঠন করলে বাংলার গৌরব ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ ঘটবে। তিনি বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নের বাংলা গড়ে তোলা হবে।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
কলকাতা

টিনের ছাউনি, নেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা—ভয়াবহ পরিণতি যদুবাবুর বাজারে

চোখের সামনে পুড়ে যেতে দেখলেন জীবনের সব সম্বল। কিছুই করার ছিল না। খবর পৌঁছতে পৌঁছতেই সব শেষ। এক রাতের আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেল ২০০-রও বেশি দোকান। সর্বস্বান্ত হয়ে পড়লেন শতাধিক ব্যবসায়ী। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি স্টেশন সংলগ্ন যদুবাবুর বাজারে।সোমবার গভীর রাতে ওই বাজারে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, গোটা ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হওয়া দরকার। বাজারে দোকান করা এক ব্যবসায়ী নুপুর চক্রবর্তী বলেন, রাতে তাঁকে ফোন করে জানানো হয় দ্রুত বাজারে আসতে। বলা হয়, সব শেষ হয়ে গিয়েছে, সব পুড়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ওই বাজারে প্রায় ২০০টির মতো দোকান ছিল। তাঁর নিজের একটি ইলেকট্রিকের দোকানও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।আর এক ব্যবসায়ী চোখের সামনে নিজের দোকান জ্বলতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। অসহায় কণ্ঠে তিনি বলেন, এ যেন একেবারে শ্মশান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যদুবাবুর বাজারের সব দোকানই ছিল টিনের ছাউনি দেওয়া। সেখানে কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। সেই কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং গোটা বাজার গ্রাস করে ফেলে।দমকল বাহিনী সময় মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সাতটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ততক্ষণে সব কিছুই প্রায় পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। রাতারাতি রাস্তায় বসে পড়েছেন বহু ব্যবসায়ী। কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় তাঁরা।ঘটনাস্থলে পৌঁছন উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস। সঙ্গে ছিলেন একাধিক পুর প্রতিনিধি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি। বিধান বিশ্বাস বলেন, এই বাজার পুরসভার অন্তর্গত। ব্যবসায়ীদের পাশে রয়েছে পুরসভা। তাঁদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
কলকাতা

দুর্গাপুজোর বিশ্বস্বীকৃত ঐতিহ্যকে চিরস্থায়ী করতে নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর

ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে শুধু স্মৃতিতে নয়, স্থায়ী স্থাপত্যে ধরে রাখার লক্ষ্যেই কলকাতার নিউটাউনে গড়ে উঠতে চলেছে দুর্গা অঙ্গন। রাজ্যের দুর্গাপুজোর আবহমান ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এই ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে সোমবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি প্রকাশ্যে আনলেন প্রস্তাবিত মন্দির কমপ্লেক্সের রূপ ও পরিসর।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, দুর্গা অঙ্গন হবে বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গামন্দির। প্রায় ২ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে গড়ে উঠবে মূল মন্দির, যার চারপাশে থাকবে বিস্তীর্ণ খোলা প্রাঙ্গণ ও সবুজে মোড়া চত্বর। প্রতিদিন এক লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগমের কথা মাথায় রেখেই পরিকাঠামোর নকশা করা হয়েছে। মন্দির চত্বরে নকশা করা খিলানের মধ্যে দাঁড়াবে এক হাজার আটটি স্তম্ভ, গর্ভগৃহের উচ্চতা হবে ৫৪ মিটার। থাকবে ১০৮টি দেবদেবীর মূর্তি ও ৬৪টি সিংহমূর্তি। সিংহদুয়ার ও পবিত্র কুণ্ড এই স্থাপত্যের অন্যতম আকর্ষণ হবে।দুর্গা অঙ্গনে মূল মন্দিরের পাশাপাশি পৃথক ভাবে তৈরি হবে শিব, লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিকের মন্দির। এখানে সারা বছর, অর্থাৎ ৩৬৫ দিনই দুর্গাপুজো চলবে। গর্ভগৃহের বাইরের অংশে এক সঙ্গে প্রায় এক হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা থাকবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা, প্রসাদ ঘর এবং মন্দির সংলগ্ন পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও থাকছে।এই প্রকল্পের নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে হিডকোদিঘার জগন্নাথ মন্দিরের মতোই। প্রথমে ১২ একর জমিতে দুর্গা অঙ্গন গড়ার ভাবনা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ১৭.২৮ একরে করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা, বড় কাজ যখন করছি, তখন সেটাও বড় মাপেই হোক। ইতিমধ্যেই দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।মন্দিরের নির্মাণ ও ভবিষ্যৎ পরিচালনার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চেয়ারম্যান করে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্গা অঙ্গনের তহবিলে জমা অর্থেই দুর্গামূর্তির খরচ উঠে এসেছে।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণেশ্বর মন্দির, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ, রামকৃষ্ণ মিশন কামারপুকুরের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি চার্চ, বৌদ্ধমঠ, গুরুদ্বার ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান ক্লাবের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। মঞ্চ থেকেই সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।অনুষ্ঠানের শুরুতে নৃত্য পরিবেশন করেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। পরে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবুল সুপ্রিয়, ইমন চক্রবর্তী ও ইন্দ্রনীল সেন। বিকাল ৩টা ৫৬ মিনিটে রিমোটের বোতাম টিপে দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি ভিত্তিফলকের সামনে লাল রঙের উপর সোনালি সুতোর কাজ করা একটি শাড়ি অর্পণ করেন এবং হিডকোকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও ঘোষণা করেন, আগামী জানুয়ারি মাসে শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে স্মরণে রেখে দুর্গা অঙ্গন যে শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বরং রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক স্থায়ী প্রতীক হয়ে উঠতে চলেছেতা স্পষ্ট করে দিল এই দিন।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
কলকাতা

শুনানি বন্ধ করে দিলেন বিধায়ক, নির্বাচন কমিশনের বড় নির্দেশে নতুন মোড়

আজ, সোমবার এসআইআর শুনানির তৃতীয় দিন। সকাল থেকেই শুনানি কেন্দ্রে বিএলএ-২ দের প্রবেশাধিকার দেওয়া নিয়ে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। বিধায়ক অসিত মজুমদার শুরু থেকেই বিএলএ-২ দের ঢোকার দাবিতে সরব হন। এক পর্যায়ে তিনি শুনানি বন্ধ করে দেন বলেও অভিযোগ ওঠে।এই ঘটনার মধ্যেই নির্বাচন কমিশন কড়া নির্দেশ জারি করে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এসআইআর শুনানির সময় বিএলএ-২ রা ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী তাঁদের শুনানিকেন্দ্রের বাইরে থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে বাইরে ক্যাম্প করে বসতে পারবেন বিএলএ-২ রা।উল্লেখ্য, রবিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিএলএ-দের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তিনি বিএলএ-দের শুনানিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ের কথাও বলেন। এরপর থেকেই এই বিষয়ে তৎপরতা বাড়ে।সোমবার অসিত মজুমদার দাবি করেন, কোনও লিখিত নির্দেশ না আসা পর্যন্ত শুনানি হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, লিখিত নির্দেশ দিলে তবেই তিনি সরে যাবেন। এই নিয়ে বিডিও-র সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কি হয়। পরে শুনানি বন্ধ করে দিয়ে নিজের অফিস থেকে এসডিও-কে ফোন করে বিষয়টি জানান তিনি।বিধায়কের দাবি, সাধারণ মানুষের নাম যদি তালিকা থেকে বাদ যায়, সে ক্ষেত্রে বিএলএ-রাই সাহায্য করতে পারবেন। তাই তাঁদের উপস্থিতি জরুরি।সকালভর এই বচসা চলার পর নির্বাচন কমিশন হস্তক্ষেপ করে। কমিশনের তরফে জানানো হয়, নিয়ম অনুযায়ী বিএলএ-২ রা শুনানির ভিতরে বসতে পারেন না। সেই কারণেই তাঁদের বাইরে রেখেই শুনানি চালাতে হবে। হুগলির জেলা শাসককে অবিলম্বে শুনানি শুরু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।যদিও এই সিদ্ধান্তে অনড় তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, পুরনো সমস্ত নিয়ম ভেঙে নতুন নিয়ম তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর বক্তব্য, কোনও সমস্যা হলে বিএলএ-২ রা আপত্তি জানাবেন, সেটাই তাঁদের অধিকার। এভাবে তাঁদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।তিনি আরও বলেন, নিয়ম বদল হলে তার জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হয়। শুধু হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ পাঠিয়ে নিয়ম বদল করা যায় না বলেও দাবি করেন তিনি।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫
কলকাতা

গীতা হাতে আদালতে হাজির মেসি অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা! ফের জেল হেফাজতের নির্দেশ

হাতে গীতা নিয়ে আদালতে ঢুকলেন শতদ্রু দত্ত। রবিবার তাঁর পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে ঢোকার সময় দেখা যায়, ডান হাতে গীতা ধরে রয়েছেন তিনি। মুখ গম্ভীর, ধীর পায়ে আদালতের দিকে এগোতে দেখা যায় মেসির কলকাতা সফরের অন্যতম উদ্যোক্তাকে। তবে রবিবারও জামিন পেলেন না শতদ্রু।গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সেই দিনই বিমানবন্দর থেকে শতদ্রুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়। পাশাপাশি রিষড়ায় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। তল্লাশির পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখেন সিটের আধিকারিকরা। তদন্তের ভিত্তিতে শতদ্রুর প্রায় ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়।পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রবিবার আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবীরা তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ করা হয়, সরকারি অনুমতি পাওয়ার আগেই খাদ্য ও পানীয় সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রায় ২৩ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়। সরকারি পক্ষের দাবি, শতদ্রু যথেষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি, তাই তাঁকে জামিন দেওয়া উচিত নয়।দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও শতদ্রুর আইনজীবীর দাবি, আইনি লড়াইয়ে তাঁর মক্কেল এগিয়ে রয়েছেন। অন্যান্য শহরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কোনও সংস্থার তরফেই নিয়ম ভাঙা হয়নি। উল্লেখ্য, পুলিশি জেরায় শতদ্রু ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এবার তাঁকে পাঠানো হল জেল হেফাজতে।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫
কলকাতা

মেট্রো বন্ধ, লাইন ধরে হাঁটা! রবিবার দুপুরে টালিগঞ্জে অস্বস্তির ছবি

ট্রেনের গোলযোগ হোক বা লাইন পারাপারের তাড়া, রেললাইনের উপর দিয়ে মানুষ হাঁটছেনএমন দৃশ্য নতুন নয়। কিন্তু মেট্রোর লাইনের উপর দিয়ে যাত্রীদের হাঁটা? রবিবার দুপুরে ঠিক এমনই ছবি দেখা গেল কলকাতায়। বছরের শেষের ছুটির আমেজে বহু মানুষ ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। পিকনিক, গেট-টুগেদার আর আউটিংয়ের ভিড়ে ভরা ছিল শহর। সেই আনন্দের মাঝেই ফের একবার বিপত্তি ঘটল মেট্রো পরিষেবায়।রবিবার বারবেলায় নেতাজি মেট্রো স্টেশন ও টালিগঞ্জ স্টেশনের মাঝে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে পড়ে একটি মেট্রো। হঠাৎ থেমে যাওয়ায় মেট্রোর ভিতরেই আটকে পড়েন বহু যাত্রী। সময় গড়াতে থাকায় বাড়তে থাকে অস্বস্তি ও আতঙ্ক। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মেট্রোর ভিতরে আটকে থাকার পর যাত্রীদের টালিগঞ্জ স্টেশনে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মেট্রো লাইনের উপর দিয়েই পায়ে হেঁটে স্টেশনের দিকে এগোতে দেখা যায় যাত্রীদের।মেট্রো রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়। আপ লাইনে চলা একটি মেট্রো রেকে হঠাৎ ইমার্জেন্সি ব্রেক লেগে যায়। ফলে ওই রেকটিকে আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন ইঞ্জিনিয়াররা। নতুন একটি রেক আনা হচ্ছে বলে জানানো হয়, যাতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া যায়।মেট্রোর ভিতরে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার কারণে অনেক যাত্রীই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ আতঙ্কিতও হন। এক মহিলা যাত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, মানুষকে শুধু হয়রানি করা হল। কোনও ব্যবস্থাই নেই। এক ঘণ্টার বেশি দেরি করানো হয়েছে।মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে দক্ষিণেশ্বর থেকে ময়দান পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫
কলকাতা

খসড়া তালিকায় নাম নেই! এসআইআর শুনানির নোটিস সাংসদ কাকলির পরিবারে, ব্যাখ্যা কমিশনের

খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই। এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে বারসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দুই পুত্রকে। শুধু তাই নয়, হাজিরার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে তাঁর মা এবং বোনকেও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই মুখ খুলেছে নির্বাচন কমিশন।সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কেন সাংসদের পরিবারের সদস্যদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে। কমিশনের দাবি, এনুমারেশন ফর্মে লিঙ্কেজ সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই তাঁদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। টুইট করে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি কোনও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ নয়। পাশাপাশি কমিশন জানিয়েছে, সাংসদের বৃদ্ধা মাকে শুনানির জন্য বাইরে আসতে হবে না। বাড়িতেই গিয়ে তাঁর শুনানি সম্পন্ন করা হবে।এই নিয়ে আগে থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি জানিয়েছিলেন, খসড়া ভোটার তালিকা দেখতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর দুই ছেলের নাম নেই। তাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। কাকলির কথায়, তাঁদের বাবা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার। তিনি নিজে চারবারের সাংসদ। তাঁর দুই পুত্র সরকারি চাকুরে। তা সত্ত্বেও শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এতে এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।কাকলি আরও বলেন, তাঁর মা এবং বোন অন্য বুথের ভোটার। অথচ তাঁদের নামও খসড়া তালিকায় নেই। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার যাঁদের তেমন যোগাযোগ বা ধারণা নেই, তাঁরা শুনানির নামে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জোর করে নাম বাদ দিয়ে সমস্যায় ফেলার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তৃণমূল সাংসদের।খসড়া তালিকায় নাম না ওঠা নিয়ে প্রথম থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর বক্তব্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই বুথের ভোটার। তাঁর দুই পুত্র প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক। তা সত্ত্বেও কীভাবে একসঙ্গে পরিবারের চার জনের নাম বাদ পড়ে এবং শুনানির ডাক আসে, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর চান তিনি।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫
কলকাতা

৪৬ মৃত্যুর দায় কার? নির্বাচন কমিশনকে দুষে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ

এসআইআর-এর শুনানি শুরুর ঠিক আগেই ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, এসআইআর পর্বে রাজ্যে যে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার দায় সম্পূর্ণভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উপর বর্তায়। তৃণমূলের দাবি, এসআইআর নিয়ে তৈরি হওয়া আতঙ্কই এই মৃত্যুগুলির কারণ।তৃণমূল যখন নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলছে, তখন পাল্টা আক্রমণে নামল বিজেপি। বিজেপি নেতা তাপস রায় তৃণমূলের অভিযোগকে যুক্তিহীন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কোনও পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অনেক সময় পড়ুয়ারা আত্মহত্যা করে। তাই বলে কি পরীক্ষা নেওয়া বা ফল প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়া উচিত? তাঁর বক্তব্য, কোনও মৃত্যু যদি আকস্মিক বা অন্য কোনও কারণে হয়, তা অবশ্যই দুঃখজনক। কিন্তু তার দায় কোনও প্রক্রিয়ার উপর চাপানো যায় না।তাপস রায় আরও বলেন, পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না হলে অনেক ছাত্রছাত্রী চরম সিদ্ধান্ত নেয়। তাই বলে কি পরীক্ষা নেওয়াই বন্ধ করে দেওয়া হবে? তাঁর দাবি, একই যুক্তি এসআইআর-এর ক্ষেত্রেও খাটে।উল্লেখ্য, এসআইআর পর্বে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। সেই সব ক্ষেত্রে মৃতদের পরিবার এবং শাসকদলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত নোটিস ও আতঙ্কের জেরেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বা আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁরা।শনিবার থেকেই শুরু হচ্ছে এসআইআর-এর শুনানি। তার ঠিক আগের দিনই মুর্শিদাবাদ থেকে আসে আরও এক মৃত্যুর খবর। পরিবারের দাবি, বাবার পদবির সঙ্গে ছেলের পদবি না মেলায় এসআইআর-এর নোটিস এসেছিল। সেই বিষয়টি নিয়ে মানসিক চাপে পড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ওই যুবকের। একই রকমভাবে বীরভূমের সাঁইথিয়াতেও এক ভোটারের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।এই সমস্ত মৃত্যুর জন্য বরাবরই নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুনানি পর্ব শুরু হওয়ার আগে ফের সেই ইস্যুকেই সামনে আনল শাসকদল। তার প্রেক্ষিতেই বিজেপির তরফে এই পাল্টা যুক্তি তুলে ধরলেন তাপস রায়।

ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 7
  • ...
  • 65
  • 66
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ভোটার তালিকা থেকে ৮০ লক্ষ নাম বাদ? এসআইআর শুনানি ঘিরে চাঞ্চল্য

এসআইআর শুনানির প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। শনিবার ছিল আনুষ্ঠানিক শেষ দিন, তবে শুক্রবারই শুনানি শেষ হয়েছে। এখন চলছে তথ্য আপলোড ও যাচাইয়ের কাজ।কমিশন সূত্রে খবর, শুনানিতে নোটিস পাওয়ার পরও প্রায় ৬ লক্ষ ভোটার ইআরও-দের সামনে হাজির হননি। তাই তাঁদের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। এছাড়া লজিক্যাল ত্রুটি এবং অ্যানম্যাপড ভোটারের তালিকা থেকেও প্রায় ১০ শতাংশ নাম বাদ যেতে পারে বলে জানা গিয়েছে।খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় দেখা গিয়েছিল, প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। তার সঙ্গে শুনানিতে অনুপস্থিত ৬ লক্ষ যোগ করলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৬৪ লক্ষ। এর সঙ্গে আরও ১০ লক্ষের বেশি অ্যানম্যাপড ও লজিক্যাল ত্রুটি থাকা নাম ধরলে মোট সংখ্যা প্রায় ৮০ লক্ষ ছুঁতে পারে বলে কমিশন সূত্রের অনুমান।অনেকেই শুনানির সময় কমিশনের নির্ধারিত ১৩টি বৈধ নথির কোনওটি জমা দিতে পারেননি। তার বদলে প্যান কার্ড বা সংবাদপত্রের কাটিংয়ের মতো কাগজ জমা দিয়েছেন। সেই কারণে তাঁদের নাম বাদ যেতে পারে।কমিশন জানিয়েছে, কার নাম কেন বাদ গেল, তা নোটিস দিয়ে জানানো হবে। নাম বাদ গেলে পাঁচ দিনের মধ্যে জেলাশাসকের কাছে আবেদন করা যাবে। সেখানে সুরাহা না হলে আরও পাঁচ দিনের মধ্যে সিইও দপ্তরে আবেদন জানানো যাবে।আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। তার আগে স্ক্রুটিনি চলছে। সিইও-র ছাড়পত্র মিললেই প্রকাশিত হবে তালিকা। এখন নজর, শেষ পর্যন্ত কত নাম বাদ যায়।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
বিদেশ

জিতে পরদিনই আওয়ামি লিগের অফিসের তালা খুললেন বিএনপি সাংসদ! পঞ্চগড়ে চমক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আবু দাউদ প্রধান। নির্বাচনে জয়ের পরদিনই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামি লিগ-এর একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় জেলায়। আবু দাউদ প্রধান পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিএনপির সভাপতি এবং সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর দেশের নানা প্রান্তে দলটির দপ্তরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার ভিন্ন ছবি দেখা গেল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পরদিন চাকলাহাট ইউনিয়নে আওয়ামি লিগের একটি অফিস খুলে দেন আবু দাউদ।এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তুমুল আলোচনা। ভিডিওতে স্থানীয় আওয়ামি লিগ নেতারা বলেন, এই পদক্ষেপ মহৎ উদ্যোগ। অন্যদিকে কয়েকজন স্থানীয় নেতা শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা দেন।আবু দাউদ প্রধান বলেন, তিনি জানতে পারেন যে অফিসটি তালাবদ্ধ রয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা না বাড়ানোর জন্যই তিনি তালা খুলে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এটি দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং শান্তি বজায় রাখার উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, কোনও দলই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, অফিসটি আগে অন্য একটি গোষ্ঠী তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। এখন সেটি খুলে পরিষ্কার করা হচ্ছে। আপাতত সেখানে কোনও রাজনৈতিক কার্যক্রম হবে না বলেই জানানো হয়েছে।বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই পদক্ষেপ নতুন বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। বিরোধী দলের দপ্তর খুলে দেওয়ার ঘটনায় দেশে সহাবস্থানের নতুন ইঙ্গিত মিলছে কি না, তা নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
দেশ

মোদীর ফোন, জয়শঙ্কর কি যাচ্ছেন শপথে? কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল স্পষ্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় শেষ হতে চলেছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন তারেক রহমান।যদিও এখনও সম্পূর্ণ ফলাফল ঘোষণা হয়নি, তবু দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। তবে নিয়মের কিছু জটিলতার কারণে আজ, ১৪ ফেব্রুয়ারি শপথ নিতে পারছেন না তারেক। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার তাঁর শপথ গ্রহণ হতে পারে।শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব কে করবেন, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। সময়মতো আমন্ত্রণ এলে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত। এর আগে খালেদা জিয়া-র মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্যে যোগ দিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। তখন তাঁর সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎও হয়েছিল। দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।বাংলাদেশে ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরই অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। সূত্রের খবর, ফোনেও কথা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে।গত কয়েক বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নানা কারণে টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। শেখ হাসিনা-র সরকারের পতনের পর সেই দূরত্ব আরও বেড়েছিল বলে মনে করা হয়। এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে উন্নতির পথে হাঁটতে পারে বলে আশা কূটনৈতিক মহলের। দিল্লিও সেই দিকেই নজর রাখছে।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআর নথির নামে ডেকে খুন! বাদুড়িয়ায় দেহাংশ উদ্ধার, গ্রেফতার বিএলও

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া-য় চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। এসআইআর সংক্রান্ত নথির কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক যুবককে খুনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এক বিএলও-সহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।মৃত যুবকের নাম নাসির আলি (৩৬)। তাঁর বাড়ি পাপিলা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত বিএলও-র নাম রিজওয়ান হাসান মণ্ডল ওরফে মন্টু। তিনি পাপিলা ২২ নম্বর বুথের বিএলও। সাগর গাইন নামে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নাসিরের কাছে একটি ফোন আসে। বলা হয়, এসআইআর সংক্রান্ত কারণে আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের জেরক্স নিয়ে দেখা করতে হবে। ফোনকারী নিজেকে এইআরও বলে পরিচয় দেন। সেই ফোন পাওয়ার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নাসির। তারপর আর ফেরেননি। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। পরে পরিবার বাদুড়িয়া থানার পুলিশ-এর কাছে নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করে।পরদিন চাতরা এলাকার একটি খাল থেকে নাসিরের মোটরবাইক ও জুতো উদ্ধার হয়। কিন্তু তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। তদন্তে নেমে পুলিশ রিজওয়ান ও সাগরকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের পর বাদুড়িয়ার বিভিন্ন খাল ও সেতুর নীচে তল্লাশি চালানো হয়। সেই তল্লাশিতেই তিনটি প্যাকেটের মধ্যে নাসিরের দেহাংশ উদ্ধার হয়। তবে এখনও তাঁর মাথা উদ্ধার হয়নি।কেন এই নৃশংস খুন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। পরিবারের দাবি, নাসিরের সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। মৃতের স্ত্রী বিউটি খাতুন বিবি বলেন, রিজওয়ান তাঁদের পরিচিত ও বন্ধুই ছিলেন। তাঁর স্বামীর উপর এমন অত্যাচারের কঠোর শাস্তি চান তিনি।ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
দেশ

ঐতিহাসিক মুহূর্ত! জাতীয় সড়কে নামল প্রধানমন্ত্রীর বিমান

ঐতিহাসিক নজির গড়ল অসম। বিমানবন্দর নয়, জাতীয় সড়কের উপর জরুরি অবতরণ করল প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান। অসমের মোরানে এই ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফেসিলিটির পরীক্ষা করা হয়। একদিনের সফরে সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।চাবুয়া এয়ারফিল্ড থেকে উড়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর সি-১৩০জে বিমান ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের সম্প্রসারিত অংশে অবতরণ করে। বিমান থেকে নামার পর প্রায় ৪০ মিনিটের এয়ার শো হয়। আকাশে নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন করে তেজস, সুখোই ও রাফালের মতো যুদ্ধবিমান।প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে এই ধরনের অবতরণ পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা সামরিক প্রয়োজনের সময় উদ্ধারকাজে এটি বড় ভূমিকা নেবে। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোরান বাইপাসে ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশেষ অবতরণ পথ তৈরি হয়েছে।এই পথ অসামরিক ও সামরিকদুই ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে। জরুরি সময়ে এটি ডিব্রুগড় বিমানবন্দরের বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। ৪০ টন পর্যন্ত যুদ্ধবিমান এবং ৭৪ টন পর্যন্ত পরিবহণ বিমান এখানে অবতরণ করতে পারবে। এর আগে ২০২১ সালে রাজস্থানের বারমেরে প্রথম এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল।অসম সফরে প্রধানমন্ত্রী একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পেরও উদ্বোধন করবেন। ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর তৈরি একটি সেতুর উদ্বোধন করবেন তিনি, যা উত্তর গুয়াহাটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। এতে যানজট কমবে এবং যাতায়াতের সময়ও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।এছাড়া গুয়াহাটিতে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ১০০টি ইলেকট্রিক বাসেরও সূচনা করবেন তিনি। সফরের শেষে গুয়াহাটিতে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলার কথা রয়েছে তাঁর।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
কলকাতা

ডিএ না মেটানোয় বড় ধাক্কা! মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে আদালত অবমাননার নোটিস

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ না মেটানোয় এবার বড় আইনি চাপে রাজ্য সরকার। রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্র-কে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠালেন ডিএ মামলাকারীরা।গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশের এক সপ্তাহ পরেও বকেয়া না মেটানোয় ক্ষুব্ধ মামলাকারীরা ফের আইনি পথে হাঁটলেন।আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের মাধ্যমে পাঠানো নোটিসে বলা হয়েছে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ইচ্ছাকৃত ভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। যা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দ্রুত দিতে হবে রাজ্যকে। বাকি ৭৫ শতাংশ কী ভাবে এবং কবে দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে একটি কমিটি গঠন করার কথাও বলা হয়। তবে এবার অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, দ্রুত নির্দেশ মানতে হবে।এর আগেও গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট চার সপ্তাহের মধ্যে ২৫ শতাংশ ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হয় ২৭ জুন। পরে রাজ্য সরকার আরও ছয় মাস সময় চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়।মামলাকারীদের আইনজীবী জানান, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মানা হয়নি বলেই আদালত অবমাননার নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এখন রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
কলকাতা

উড়ান থামিয়ে নামানো হল যাত্রীদের, শৌচাগার থেকে মিলল বোমা-হুমকি

সাতসকালে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ। শিলংগামী ইন্ডিগো-র 6E-7304 নম্বর বিমানে বোমাতঙ্ক ছড়ায়। খবর ছড়াতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা।জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে শিলং যাওয়ার কথা ছিল ওই বিমানের। উড়ানের আগে বিমানের শৌচাগার থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেন এক ক্রু সদস্য। চিরকুটে লেখা ছিল, বিমানে বোমা রাখা আছে। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।বিমান কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয়। দ্রুত একে একে সব যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। সতর্কতাবশে বিমানটিকে আলাদা বে-তে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুরো বিমান জুড়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলংগামী ওই উড়ানটি দুপুর ১টা ১০ মিনিট নাগাদ রওনা দেওয়ার কথা ছিল। তবে তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত উড়ান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
রাজ্য

ফেব্রুয়ারিতেই গরমের ঝাঁজ! ৩০ ডিগ্রির পথে কলকাতা, শীত কার্যত বিদায়

বসন্তের শুরুতেই চড়া রোদের তেজ টের পাচ্ছে কলকাতা। তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ৩০ ডিগ্রির দিকে এগোচ্ছে। শীতের আমেজ প্রায় উধাও। এমনটাই জানাল আলিপুর আবহাওয়া অফিস।আগেই বলা হয়েছিল, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শীত বিদায় নেবে। এখন সেই পূর্বাভাসই মিলছে। কলকাতা সহ গোটা রাজ্যেই তাপমাত্রা বাড়ছে। পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। দিনের বেলায় গরম অনুভূত হচ্ছে, রাতেও ঠান্ডা কমে আসছে।পূর্বাভাস বলছে, আগামী সপ্তাহে কলকাতার রাতের তাপমাত্রা ১৯ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে আরও বাড়তে পারে পারদ। মার্চ মাস থেকে গরম পুরোপুরি দাপট দেখাতে শুরু করবে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিও ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা।আজ কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে প্রায় ১৬ ডিগ্রি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে। বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৩৭ শতাংশ থেকে ৮২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।দক্ষিণবঙ্গেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। আজ এবং আগামী কয়েক দিনে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা আরও বাড়বে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে। তবে সপ্তাহের শেষ দিক থেকে সেখানেও তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে।সব মিলিয়ে, ফেব্রুয়ারিতেই গরমের ইঙ্গিত স্পষ্ট। মার্চে পরিস্থিতি আরও বদলাতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal