• ৩ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

নিবন্ধ

নিবন্ধ

মধ্যবিত্ত

অষ্টপ্রহর কষ্ট করা কেষ্ট লাভের তরে,আড়ষ্ট মনে ইষ্ট জপা ভ্রষ্ট হওয়ার ভয়ে।আষ্টেপৃষ্ঠে দায়-দায়িত্ব কর্তব্যের বোঝা বয়ে,নিত্য ঘটে চিত্ত বিকার পকেট রিক্ত হয়ে।মাঝে মধ্যে মন কষাকষি মনের মানুষের সাথে,মতানৈক্যের ছাপ পড়ে তাই মধ্যাহ্নের পাতে।ঝন্ঝন্ রবে আন্দোলনে রান্নাঘরের বাসন,শালগাছের রাগ তালগাছে, ছলছল দুনয়ন।বারিধির কত পরিধি এবার পরিমাপ প্রয়োজন,নানা অজুহাতে, ছেঁড়া সংলাপে মধ্যস্থতার আয়োজন।বিলাপ-প্রলাপ শেষে অভুক্ত শরীর এলায় শয্যাপাশে,ঘুমন্ত মুখে রাতের প্রশান্তি ভেসে ওঠে অনায়াসে।ঘুটঘুটে রাতে বিদ্ঘুটে সব চিন্তার আনাগোনা,ভাঙা জানালা দিয়ে চাঁদের সাথে আসে হাসনুহানা।ওই বাতায়নপথে সুখ-দুঃখের নিত্য আসা-যাওয়া,হাসি-কান্নার মোড়কে বাঁধা মধ্যবিত্তের রোজনামচা।প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির সূচক ব্যস্তানুপাতে ছোটে,আঁকা-বাঁকা পথে ত্রস্ত জীবন কাঁপা কাঁপা পায়ে হাঁটে।দীপক কুমার মণ্ডলবর্ধমান

জানুয়ারি ১৬, ২০২২
নিবন্ধ

New Years Eve: বর্ষশেষ যাপন - পুরানো সেই দিনের কথা

পঁচিশে ডিসেম্বর সেন্ট জোসেফস চার্চের রাত ভরানো ডিং ডং -এর রেশ মেলাতে না মেলাতেই জল্পনাকল্পনার শুরু ; কে হবেন অনুষ্ঠানের সূত্রধার এবার ---শেখর সুমন, নাকি রাকেশ বেদী? মজহর খান, নাকি জয়ন্ত কৃপালনী? রঙ্গতামাশায় দুলিয়ে দেবেন কে --- শফি ইনামদার, সতীশ শাহ, যশপাল ভাট্টি, নাকি টুনটুন? ইন্ডিপপের ধুম মচাবেন কে কে --- আলিশা শেনয়, শ্যারন প্রভাকর, প্রীতি সাগর, পিনাজ মাসানি, পার্বতী খান? নাকি নব্যতারকা বাবা সায়গল, ইলা অরুণ,আনাইদা-- এরা কেউ? স্টার অ্যাট্রাকশন হচ্ছেন কে এবার? আশা ভোঁসলে বা শাহরুখ খানের মতো কেউ?আরও পড়ুনঃ কন্যা রুপেন সংস্থিতাসেই নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় দূরদর্শনের বর্ষশেষ যাপন অনুষ্ঠান যে কী পরিমাণ ঔৎসুক্য আর সাসপেন্স জাগাতো, আজকের প্রজন্মকে তা বোঝানো মুশকিল! বোকাবাক্সের জনপ্রিয় কুশীলবদের, আর বলিউডের একটু প্রান্তবাসী শিল্পীদের নিয়ে এই ধামাকা বর্ষশেষের রাত্তিরে আমোদপ্রত্যাশীদের এনে দিত বিনে পয়সায় দুশো মজা!একানব্বইয়ের একত্রিশে ডিসেম্বর, মেডিক্যাল কলেজের শিশুবিভাগে হাউসস্টাফশিপ চলছে তখন। কেমন অনুষ্ঠান হবে এবার? বছরখানেক আগে দূরদর্শনের মেট্রো চ্যানেল শুরু হওয়ায় বর্ষশেষের রাতে দু দুটো সমান্তরাল অনুষ্ঠান তখন। রীতিমতো সাসপেন্স-- কোন চ্যানেল জমিয়ে দেবে বেশি! চ্যানেল বদলানো নিয়ে ঝাড়পিট না লেগে যায়!আরও পড়ুনঃ পুজো শুরু হয়ে গেলবনফুল হস্টেলে ডাইনিং হলের পাশেই টি.ভি -র ঘর। শদেড়েক আবাসিকের কজনই বা দুটি ন্যাড়া লোহার খাটে বসতে পায়! বাকিরা সব গান্ধী ক্লাস, মানে সামনের মেঝেয় চটের বস্তায় লম্বমান। তাদের মধ্যে তালেবর কেউ কেউ হাতে নয়, লগার মতো বাড়ানো পায়ের আঙুল দিয়েই টি.ভি. চালাতে অভ্যস্ত। রিমোট -টিমোটের গল্পই নেই তখন!সেদিন আমার অ্যাডমিশন ডে। সারা দিন শিশুবিভাগে ভুতের খাটুনি খেটে, ছুটতে ছুটতে বনফুলে ফিরলাম রাত সাড়ে দশটা নাগাদ। হস্টেলের ঘরে ঘরে তখন বর্ষশেষের রঙ জমজমাট।আরও পড়ুনঃ তোমাদের মনের মতো রঙীন পূজাবার্ষিকী -- আনন্দমেলা ---হস্টেলের আশেপাশে সেন্ট্রাল এভিন্যু-ইডেন হসপিটাল রোড-কলেজ স্ট্রিট থেকে মাইকের অমায়িক আর্তনাদ তখন পাল্লা দিচ্ছে শব্দবাজির সঙ্গে। হস্টেলের কিছু কিছু ঘরে ততক্ষণে জলবিহার শুরু করেছে রসিকজন (মাত্র সতেরোশ টাকা মাসিক স্টাইপেন্ডের সে যুগে সুধা খাই জয় কালী বলে গাওয়ার ক্ষমতা কম হাউসস্টাফেরই ছিল; ব্যতিক্রম সেইসব মুষ্টিমেয় কয়েকজন, যাদের ঘরে প্রাক্তন কোনো আবাসিক দাদা ভাইবেরাদরি উদযাপন করতে আবির্ভূত হয়েছে এই সন্ধ্যায়, বা যারা মাঝেসাঝে নার্সিং হোমে স্যারকে অ্যাসিস্ট করে দুপয়সা বাড়তি উপায় করে, বা যাদের বাবার ব্যাঙ্কের বদান্যতা বজায় আছে তখনো!ঝটপট নৈশাহার সেরে টি.ভি.র সামনে চিৎপাত হওয়া গেল (সেদিন মাংসের ঝোলে বাড়তি খুদে দুটুকরো কুক্কুট-মাস, সঙ্গে একটি সৌজন্যমূলক রসগোল্লা!) দুরদর্শন এক / দুই মিলিয়ে জমিয়ে দিয়েছে মন্দ নয়। হঠাৎ বাইরে হই চই।আরও পড়ুনঃ শারদঅর্ঘ্যবেরিয়ে দেখি, মেসের চাকর হরিকে জাপটে ধরে সামলানোর চেষ্টা করছে কয়েকজন। বছর একুশের হরি অতিশয় চৌখশ ছোকরা; মেস ম্যানেজার অবন্তীবাবুর বিশ্বস্ত ম্যান ফ্রাইডে সে। তার প্রাইভেট প্র্যাকটিসও আছে --- ধুমপায়ী বাবুদের সুলভে সময় অসময়ে সিগারেট বেচার একচেটিয়া বেওসা করে বেশ দু পয়সা কামাই আছে তার। বলা বাহুল্য, সে ব্যবসায় ধারবাকির কারবার বেশ ভালোই!সেদিন সন্ধ্যে থেকেই বিশেষ বিশেষ কয়েকটি ঘরে দফায় দফায় তরল ও বায়বীয় রসদ সরবরাহে ব্যস্ত ছিল হরি-- সে সব ঘরেই বাবুরা ভালোবেসে তাকে দু চার চুমুক করে সেবার সুযোগ দিয়েছে! ফলতঃ ঘড়ির কাঁটা যখন নতুন বছর ছুঁই ছুঁই, হরির মগজেরও প্রতিটি কোষ টগবগ করে ফুটতে লেগেছে। ভয়ানক উত্তেজিত ও দিগ্বিদিক জ্ঞানশূণ্য হরিকে ধরে রাখা যাচ্ছে না। কে একজন বললো, হরি, ওই ধনুবাবু আসছে!ধনুদা আমাদের এক ব্যাচ সিনিয়র, গম্ভীর প্রকৃতির দাপুটে আবাসিক। এহেন নামোল্লেখ হরির উত্তপ্ত চিত্তপটে কোনো ছায়াবিস্তার করলো না। হুংকার দিল সে , কে ধনুবাবু? নিয়ে আয়; অনেক টাকা বাকি! সেই রক্তচক্ষু আস্ফালন শুনে চোখ গোল গোল হয়ে গেল ধনুদার, আর বাকিরা বুঝলো -- বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে হরি, এখনই কিছু না করলে এবার জ্ঞান হারাতে পারে!আরও পড়ুনঃ বাজলো তোমার আলোর বেণুজনাপাঁচেক তাকে অতি কষ্টে চেপে ধরলো মেঝেতে; আর দুজন দুবালতি জল এনে হুড়হুড় করে ঢেলে দিল তার মাথায়! জলাভিষেকের ফলে সেই মাঝ-পৌষের মধ্য রাতে কাক-ভেজা হয়ে হি হি করে কাঁপতে কাঁপতে নেতিয়ে পড়ল হরি।তাকে জামাকাপড় ছাড়িয়ে সাবধানে শুইয়ে আসা হলো। ততক্ষণে টি.ভি.র পর্দায় কাউন্টডাউন হতে হতে এসে গেছে বিরানব্বই সাল। রঙিন বাজির রোশনাই পর্দা জুড়ে। পরস্পর কোলাকুলি, হাত মেলানো চললো বেশ কিছুক্ষণ ধরে।ওদিকে উনিশ নম্বর ঘরে জমে গেছে আরেক নাটক। আমার ব্যাচের চার বন্ধু সন্ধ্যে থেকেই পানি -গ্রহণে ব্যস্ত ছিল। মোটাসোটা সন্দীপ সাড়ে এগারোটা নাগাদ বাহ্যজ্ঞানলুপ্ত হয়ে খাটে চিৎপাত হয়ে পড়ে। তার বিশাল ভুঁড়ি ওঠানামা করছিল সশব্দ শ্বাসপ্রশ্বাসের তালে তালে। সেই বিকট শ্বাসলীলা শুনে হঠাৎই বাকি তিন সুরা-সিক্তের মনে হয়, সন্দীপ নির্ঘাৎ অ্যাসপিরেট করেছে (অর্থাৎ তার পাকস্থলীর মালপত্র খাদ্যনালী দিয়ে উঠে এসে শ্বাসনালী মারফত সেঁধিয়ে গেছে ফুসফুসে -- যা অনেক সময়েই দ্রুত প্রাণঘাতী হয় !) সুতরাং তৎক্ষনাৎ সন্দীপের প্রাণ বাঁচাতে বাকিরা খাটে উঠে পড়ে, ও মরীয়া হয়ে সন্দীপের হার্ট ম্যাসাজ করতে শুরু করে। টলটলায়মান হাতে ও বেপথু শরীরে সেই উদ্দাম ম্যাসাজ চলে বেশ কিছুক্ষণ। তারপর ক্লান্তিতেই হোক বা সন্দীপ বিপন্মুক্ত হয়েছে এই বিচারেই হোক, তারা রণে ভঙ্গ দেয়!এই শুভ সন্দেশ টি.ভি. রুমে পৌঁছোতেই সবার আক্কেল গুড়ুম; কারণ হার্ট ম্যাসাজ করতে গিয়ে দুচারটে পাঁজর ভাঙা সে যুগে ছিল খুবই সাধারণ ঘটনা, আর এক্ষেত্রে জীবনদাতারা কেউই ঠিক সজ্ঞানে নেই। এক দৌড়ে উনিশ নম্বরে ঢুকে দেখা গেল, দশাসই চেহারার সন্দীপ স্বামী ঘুটঘুটানন্দের মতো মইপাট হয়ে শুয়ে, তার ভুঁড়ি নাচছে ফররফোঁৎ.. ফররফোঁৎ...পরদিন নতুন বছরের সকালে স্নান-প্রাতরাশ সেরে শিশুবিভাগে যাচ্ছি; ইডেন হাসপাতালের তলার রাস্তায় দেখি ফিটফাট সন্দীপ হাতব্যাগ নিয়ে ওয়ার্ডে ঢুকছে। বাব্বা! ক্যালি আছে তো ছেলের! ভয়ে ভয়ে শুধোলাম, কি রে, ঠিক আছিস তো? জবাব এলো,একদম ফিট গুরু! হ্যাপী নিউ ইয়ার! তারপর ঈষৎ গলা নামিয়ে--- খালি বুকে খুব ব্যথা হয়েছে। কেন বুঝতে পারছি না!লেখকঃ ডঃ সুজন সরকার (বর্ধমান)

ডিসেম্বর ৩১, ২০২১
নিবন্ধ

Small Story: বাণপ্রস্থ (ছোট গল্প)

শিমুলতলি গ্রামের সবাই আজ ছুটে চলেছে তাদের ভগবান কে একবার শেষ দেখা দেখ্তে। আজ গ্রামের এতো উন্নতি যার জন্য সেই বাবাঠাকুর আজ তারার দেশে পাড়ি দিয়েছেন।লোকে লোকারন্য আজ তার প্রিয় বাণপ্রস্থের মাঠ। শহর থেকেও বহুমানুষ এসেছে।কিন্তু প্রশ্ন হলো কে এই মানুষটি? কেনই বা সবাই তার জন্য এতো কষ্ট পাচ্ছে।তিনি হলেন সুবিনয় রায়চৌধুরী,কলকাতা শহরের এক নামী কলেজের অধ্যাপক । এটাই তার একমাত্র পরিচয় নয়।আজকে তার জন্য মানুষের মনে তার জন্য এই বেদনার কারণ জানতে হলে ফিরে যেতে হবে পনেরো বছর আগে------সুবিনয় বাবু তখন অবসর নিয়েছেন বেশ কিছুবছর, তার স্ত্রী চারুলতা দেবী ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা । তিনিও মাস ছয় হলো অবসর নিয়েছেন। সুবিনয় বাবু অবসর সময় কাটাতে মাঝে মাঝে গ্রামের বাড়িতে যেতেন । সেখানে গিয়ে তার মনে হয় গ্রাম টা যেন অনেক পিছিয়ে পড়েছে। এসব কথা তিনি জানান স্ত্রী চারুকে আর ঐ গ্রামেই একসঙ্গে বড়ো হয়ে ওঠা যে কজন বন্ধুর সঙ্গে এখনো যোগাযোগ আছে তাদের। তারাও সবাই কর্মসূত্রে বাইরে থাকে।স্ত্রী অবসর নেওয়ার পর তারা ভাবতে থাকেন কিভাবে অবসর জীবনটা কাটান যায়। কারণ এতদিন সংসারের যাবতীয় কর্তব্য দুজনে খুব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। ছেলে মেয়েরা আজ সুপ্রতিষ্ঠিত নিজ নিজ ক্ষেত্রে । সবার বিয়ে হয়ে গেছে। বেশ একটা সুখী পরিবার। কিন্তু তাদের মন অন্য কিছু চায়। সংসারে আর আটকে থাকতে চান না তারা। বন্ধুদের সঙ্গেও এই নিয়ে আলোচনা চলে।একদিন ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে ডেকে পাঠান বাড়িতে।সবাই হাজির কৌতূহলী হয়ে।কি কারণ হতে পারে কেউ আন্দাজ করতে পারছে না।অবশেষে বাবা মা হাজির হয়ে অপেক্ষার অবসান ঘটান। গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন তারা আগামী মাসে। ওখানেই তারা থাকবেন এবার থেকে।ছেলেরা চুপ করে শুনছে তাদের কথা অবাক চোখে।কেনো আমরা কি কোনো ভুল করেছি? জিজ্ঞাসা করে ছেলের বৌরা ।তাদের থামিয়ে দিয়ে সুবিনয় বাবু বলেন না না তোমরা আমাদের খুবই যত্নে রেখেছ।কিন্তু আমরা আর সংসারে থাকতে চাই না। এবার আমরা বাণপ্রস্থে যেতে চাই। তাই গ্রামের বাড়িতে একটা আশ্রম করছি। আমরা ছোটো বেলার কিছু বন্ধু একসঙ্গে থাকতে চাই । আবার ফিরে যেতে চাই সেই শৈশবে । আর যে গ্রামে আমরা বড়ো হয়েছি কিছু করে যেতে চাই তার জন্য।তাই আগামী মাসে আমরা আমাদের আশ্রম বাণপ্রস্থে চলে যাব।ছেলে মেয়েরা বাবার কোনো সিদ্ধান্ত কে কোনোদিন অসম্মান করেনি। কিন্তু আজ সবাই আপত্তি করলো। গ্রামের জন্য কাজ করতে চাও ভালো কথা । সেটা তো এখান থেকেই হয়।ওখানে গিয়ে থাকার কি খুব দরকার আছে? মেয়ের কথা শুনে চারুলতা দেবী বললেন সব কাজ দুর থেকে হয়না। তাছাড়া আমাদের এখন বাণপ্রস্থেরই সময়। তোমরা এখন নিজেরা সব সামলাতে চেষ্টা কর।আর কোনো কথা বাড়াল না কেউ।এর একমাস পরে তারা সবাই হাজির হলেন একে একে শিমুলতলিতে। তারা শুরু করেন ছেলে মেয়েদের পড়ানো, নানারকম হাতের কাজ শেখান। এইভাবে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল।তারপর অনেকেই এসেছেন এখানে থাকতে। অবশ্যই যারা ওনাদের মত গ্রাম ভালবাসে, সেবা করতে চায় তারাই। এখন গ্রামের ছেলেমেয়েরা অনেকেই বাইরে কাজ করে।অনেক উন্নতি হয়েছে গ্রামের।এই সবই হয়েছে যার ঐকান্তিক ইচ্ছায় আর উদ্যগে তিনি হলেন সুবিনয় রায়চৌধুরী ।আজ তার খবর পেয়ে ছেলেমেয়েরাও এসেছে। তারা অবাক চোখে দেখ্ছে বাবা মা আর তাদের বন্ধুদের কর্মকান্ড।তারা কোনোদিনই গ্রামে আসেনি। আজ তারা অভিভূত গ্রামের মানুষদের আন্তরিকতায়।বাবার এই কর্মকান্ড তারা বুঝতেই পারেনি। আজ নিজেদের খুব ছোটো লাগছে। তিন ভাইবোন বাবার পায়ের কাছে বসা মাকে ঘিরে ধরে। মা বলে আজ তোরা শুধু নয় শিমুলতলি গ্রাম পিতৃ হারা হলো। এই কথায় ওরা আর নিজেদের রুখতে পারলো না । কেঁদে ফেলল ছোট্ট বাচ্ছাদের মত। বাবার পায়ে হাত দিয়ে শপথ করলো তিন জনেই আর আমরা দুরে থাকব না। বাবার এই আশ্রমের সব দায়িত্ব আজ থেকে আমাদের।দিনটা ছিল পিতৃদিবস ,বাবার প্রতি এটাই ওদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।।লেখিকাঃ রাখি রায়রাখি রায়-র কলমে আরও কিছু লেখাআরও পড়ুনঃ দাগ (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ কুঁড়ে ঘর থেকে ক্রিকেটের নন্দনকাননেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ মিঠির ডায়েরি (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

ডিসেম্বর ২৬, ২০২১
নিবন্ধ

The Spot : দাগ (ছোট গল্প)

একটা অস্পষ্ট কান্নার আওয়াজে হঠাৎ ঘুম টা ভেঙে গেলো রনিতের। চোখ খুলে দেখে রূপসা ঘুমের মধ্যেই কেমন করছে যেন কাঁদছে মনে হচ্ছে।ওকে ডাকে রানিত-- এই কি হলো তোমার রুশা? অমন করছো কেনো?মাত্র দুমাস হলো ওদের বিয়ে হয়েছে।রনিতের ডাক রূপসা শুনতে পেল না। ও আপন মনে ঘুমের মধ্যেই বলতে থাকে ছাড় ছাড় আমাকে। আমার লাগছে।রণিত বোঝে না কি করবে। ওরা দুজনেই থাকে আর কেউ নেই যে ডাকবে।রণিত একটু জল নিয়ে মুখে ছিটিয়ে দেয়। জলের ছিটে পেয়ে জেগে ওঠে রূপসা।কি হলো স্বপ্ন দেখছিলে? অমন করছিলে কেনো? আমি তো ভীষণ ভয় পেয়ে গেছিলাম। রনিতের এতো গুলো কথার কোনো উত্তর দেয়না রূপসা।শুধু হু আর হ্যাঁ বলে উঠে বাথরুমে যায়, চোখে মুখে জল দিয়ে এসে শুয়ে পড়ে ।রণিতও আর কিছু বলেনা। চুপচাপ শুয়ে পড়ে ।কিন্তু ভেবে পায়না কি হলো হটাত।এরপর খেয়াল করে রূপসা হটাত যেন চুপ করে গেছে। একটু যেন অন্যমনস্ক ।কাছে আসতে চায়না এড়িয়ে যায়।রণিত ওর অফিস কলিগ দেবেশ কে । সব শুনে দেবেশ বলে রূপসা কে আর একটু সময় দে। আর একটু ভালো করে ভরসা দিয়ে কথা বল।সেদিন সেই মত রণিত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরে । রাতে খেয়ে নিয়ে বলে আজ বেশ ভালো চাঁদ উঠেছে চলো আমরা ব্যালকনিতে বসি।দুজন পাশপাশি বসে। রণিত রূপসার হাত নিজের হাতে নিয়ে বলে--- আমাদের মাত্র দুমাস হলো বিয়ে হয়েছে। এখনো ভালো করে দুজন দুজনকে হয়তো চিনে উঠিনি। কিন্তু এটুকু বলতে পারি আমি তোমার ভালো বন্ধু। তুমি আমাকে ভরসা করে সব বলতে পারো।রূপসা চুপ করে বসে থাকে রনিতের হাতটা শক্ত করে ধরে; আর চোখ দিয়ে জল ঝরতে থাকে।পরদিন অফিস গিয়ে দেবেশ কে বলে --- না রে কিছু বললো না; শুধু অসহায় ভাবে কাঁদে। আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।দেবেশ বললো দাঁড়া দেখছি আমি একবার মধুমিতার সঙ্গে কথা বলি। ও খুব ভালো কাউন্সিলার। আমরা খুব ভালো বন্ধু।বলে মধুমিতাকে ফোন করে--- হ্যালো মধু আমি দেবু বলছি রে, খুব দরকার তোকে । আমার কলিগ রনিতের কথা তো তুই জানিস। কিছুদিন আগে যার বিয়ে হলো। ও একটা সমস্যায় পড়েছে ওর বৌকে নিয়ে।তুই একদিন সময় দে আমার বাড়িতে।-------ঠিক আছে তাহলে রবিবার ওদের আসতে বলছি।এই পর্যন্ত কথা বলে দেবেশ রণিত কে বলে ব্যাস আর কোনো চিন্তা নেই তুই রবিবার আমার বাড়ি চলে আয় বৌকে নিয়ে।যথারীতি রবিবার রণিত রূপসা এসে হাজির হয় দেবেশ এর বাড়িতে। মধুমিতাও আসে। মধুমিতা রূপসার সঙ্গে বেশ ভাব জমিয়ে ফেলে।ফিরে আসার সময় রূপসা মধুমিতাকে বলল আমি তোমার কাছে যাব। তোমাকে আমার খুব দরকার।এরপর এক সপ্তাহ কেটে যায়, রণিত খেয়াল করে মধুমিতকে রূপসার বেশ ভালো লেগেছে। একটু হলেও রূপসা স্বাভাবিক হয়েছে।শনিবার রাতে রূপসা রনিত্কে বলে কাল আমাকে একবার কাল মধুমিতাদির চেম্বারে নিয়ে যাবে?রণিত একটু অবাক হয়। বলে কালইযাবে?হ্যাঁ কালই যাব নাহলে যে দেরি হয়ে যাবে।রণিত কিছুটা হাল্কা হলো, কারণ নিয়ে তো যেতে হতই; কি করে ?সেটাই ভাবছিল।যাক নিজে থেকে যখন যেতে চাইল আর কোনো চিন্তা নেই।ও দেবেশ কে সব জানাল । দেবেশ ও খুশি হয়ে বলল ভালো কথা । আমি এখনই মধু কে বলে রাখছি।রবিবার সন্ধ্যাবেলায় রণিত আর রূপসা পৌঁছলো মধুমিতার চেম্বারে। মধুমিত ওদের বসালো।রবিবার সন্ধ্যায় রনিত আর রূপসা হাজির হয় মধুমিতার চেম্বারে। ওদের বসায়, তারপর এটা-সেটা কথা হয়।তারপর রুপসাকে নিয়ে পাশের ঘরে যায়। মৃদু আলোয় ঘরটা বেশ মায়াবি লাগে রূপসার।একটা হেলানো চেয়ারে বসিয়ে মধুমিতা বলে এখানেই আমি তোমার সব কথা শুনব।তারপর দেখি তোমাকে কি ভাবে সাহায্য করতে পারি।এই কথায় রূপসা আরো ভরসা পায়।মধুমিত তখন ওকে আরাম করতে বলে বাইরে আসে রনিতের কাছে।রণিত তোমাকে ভিতরে ডাকলাম না কিছু মনে করো না। আসলে ও তোমার সামনে খুলে সব বলতে পারবে না। তুমি এই হেড ফোন কানে দিয়ে সব শুনতে পারবে এখান থেকে।না না সব ঠিক আছে, তুমি ও নিয়ে কিছু ভেবো না।ও ঠিক হোক তাহলেই আমার হবে।মধুমিতা আবার রূপসার কাছে গেল। এবার ও ওর কাজ শুরু করলো।রূপসা তুমি তোমার মনের গভীরে ডুব দাও। বলো আমায় তোমার কথা......তুমি কে? কি তোমার মনের গহিনে দাগ কেটেছে সব সব বলো।রূপসা আসতে আসতে ডুব দেয় মনের অতলে--চলে যায় ছোটো বেলায়......আমি রূপসা নন্দী। মা বাবার একমাত্র মেয়ে। আমরা থাকতাম শ্রীরামপুর বাবার অফিস কোয়ার্টারে। আর আমার দাদু ঠাকুমা থাকত গ্রামের বাড়িতে। আমি খুব চঞ্চল ছিলাম ছোটো বেলায়। মায়ের কাছে তাই খুব বকুনি খেতাম।আমি যখন ক্লাস ফাইভ এ উঠলাম মা সব সময় আমাকে বলত রূপু বড়ো হচ্ছ আর খালি গায়ে বাইরে বেরোবে না। কিন্তু আমার অবোধ মন শরীরের পরিবর্তন তখনো বোঝেনি।আমি আমার মতই খেলে বেড়াই ছুটে বেড়াই।সেবার রথের মেলায় বাবা গেছিল গ্রামের বাড়ি দাদুর শরীর খারাপ তাই দেখ্তে। আমাকে কে নিয়ে যাবে রথ দেখ্তে মায়ের শরীরটাও ভালো না।অথচ আমি কান্না জুড়েছি। সেই সময় আমাদের পাশের কোয়ার্টার থেকে সুজিত কাকু এসে মাকে বলল বৌদি আমি নিয়ে যাব রুপুকে? দাদা তো বাড়ি নেই। ও যখন কাঁদছে আমি নিয়ে যাই।মা একটু ইতস্তত করছে দেখে বলে কি হবে আমি ওকে মেলায় ঘুরিয়ে নিয়েই চলে আসবো দেরি হবে না। আমিও খুব আনন্দিত হলাম এই কথা শুনে।আমার তখন মেলা দেখা নিয়ে কথা। অথচ এই কাকুকে আমি খুব একটা পছন্দ করতাম না। কাকুর আদর-টা আমার ভালো লাগত না। কিন্তু তখন সব ভুলে গেলাম মেলা দেখতে যাওয়ার আনন্দে।মেলায় গিয়ে ঘুরে ফিরে আমাকে খেলনা,পুতুল কিনে দিল। আমার শিশু মন তো ল্হুব খুশী । কাকু তখন বলল নাগরদোলা চাপবি রূপু? আমি বললাম না গো আমার ভয় করে।ভয় কি আমি আছি তো। খুব মজা লাগে চল ।কাকু আর কোনো কথা না শুনে দুটো টিকিট কেটে একটা দোলায় চেপে বসল আমাকে নিয়ে।যেই নাগরদোলা চলতে শুরু করেছে ব্যাস আমার তো ভয়ে প্রাণ শুকিয়ে যাওয়ার জোগাড় । আর তখন... তখন...তখন কি রূপসা? বলো কি হয়েছিল বলো আমায়। তোমার কোনো ভয় নেই।বলছি...... তখন কাকু আমাকে কোলে তুলে নেয়। আর তার শক্ত দুটো হাত দিয়ে আমার সদ্য প্রস্ফুটিত শরীরটা পিষতে থাকে। অদ্ভুত ভাবে কেউ কিন্তু কিছুই বুঝতে পারে না। আমি ব্যথায় ছটফট করতে থাকি কিন্তু কাকু ছাড়ে না। আবার যখন উপরে উঠি নাগরদোলায় তখন আমার কোমল ঠোঁটের সব রাস যেন শুষে নেয়। ওফ কি ভয়ংকর সে মুহুর্ত। না না আর না, আর পারছিনা আমাকে ছাড়ো ছেড়ে দাও আমাকে...... চিৎকার করে ওঠে রূপসা।রূপসা শান্ত হও শান্ত হও। আর কেউ নেই, কিছু নেই। সব মুছে গেছে, তুমি এখন মুক্ত।তারপর রূপসা আবার বলতে শুরু করে......মেলা দেখে বাড়ি এসে আমি মাকে কিছু বলার আগেই কাকু বলে খুব ভয় পেয়েছে নাগরদোলায়। কাকু চলে যাওয়ার পর আমি যখন বলি আর কক্ষনো কাকুর সঙ্গে মেলায় যাব না। কাকু খুব বাজে। মা কিন্তু বুঝতেই পারেনা। ভাবে নাগরদোলয চাপিয়েছে বলে বলছি।আমরা তারপর ওখান থেকে চলে যাই অন্য জাযগায় বাবার বদলি হয়ে যায়। কিন্তু আমি আর রথের মেলায় যেতে পারি না।এবার আমাদের নতুন বিয়ে হয়েছে। রণিতদের ওখানেও রথের মেলা বসে। রণিত আমাকে নিয়ে যেতে চাইলে আমি না করতে পারি না। কিন্তু আমার মনের গভীরে যে দাগ রয়ে গেছে তা আবার আমাকে কষ্ট দিতে থাকে।রণিত কেও বলতে পারিনি; থামে রূপসা।তারপর বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর মধুমিতা আবার বলে এবার আসতে আসতে চোখ খোল । দেখো সব ঠিক আছে একদম। তুমিও একদম ঠিক আছো।আসতে আসতে চোখ খোলে রূপসা।যেন মনের কোনে জমে থাকা মেঘ যেন হাল্কা হয়।ওদিকে রণিত রূপসার সব কথা শুনে খুব কষ্ট পায়।ভাবে কি গভীর দাগ কেটেছিল শিশু মনে যা আজও রূপসা কে কষ্ট দিচ্ছে। না ওকে আরো ভালবাসা দিয়ে আগলে রাখ্তে হবে।সেদিনের মতো ওরা ফিরে আসে। মধুমিতা আবার যেতে বলে। এই ভাবে দুচার বার যাওয়ার পর রূপসা আবার আগের মতই আবার প্রাণোচ্ছল হয়ে ওঠে।রণিতও ওকে আগলে রাখে বুক দিয়ে। রনিতের আদরে সোহাগে রূপসার মন থেকে মুছে যায় সব দাগ।আজ ওরা খুব সুখী দুজনে দুজনকে নিয়ে।রূপসা আর রনিতের নতুন পথ চলা শুরু............লেখিকাঃ রাখি রায়রাখি রায়-র কলমে আরও কিছু লেখাআরও পড়ুনঃ কুঁড়ে ঘর থেকে ক্রিকেটের নন্দনকাননেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ মিঠির ডায়েরি (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

ডিসেম্বর ১২, ২০২১
নিবন্ধ

Sweet Memory: রোমন্থন (কবিতা)

জল আনতে আর যায় না খুকুপদ্মদীঘি গেছে মজে,তোতাপাখী আজও ফিরে ফিরে আসেআতাগাছটির খোঁজে।চাঁদও ওঠে, ফুলও ফোটেশুধু কদমতলা ফাঁকা,হাতি, ঘোড়া নেইকো সেথানেইকো সোনামনির দেখা।খুকি আর বলেনা কথাকাঠবেড়ালির সাথে,পড়া,আঁকা,নাচের পরেখুকির সময় কোথায় হাতে।দামোদর শেঠ, নুটুবাবুরাবিদায় নিয়েছেন কবে,ভৃগুর দাদু থাকলে কেঁদে ভাসাতেনএ প্রজন্মের বাংলা বলা দেখে।চাঁদামামা আজও উঁকি মারেবাঁশবাগানের মাথায়,শ্লোক শুনতে আর পায় না সেকাজলা দিদির গলায়।বদলে গেছে অনেক কিছুসব হারানোর খেলায়,জমাট বেঁধে শুধু থাকবে স্মৃতিমনের মণিকোঠায়।এখন আমি অনেক বড়,অনেক কিছু বুঝি,জীবন মানে গড়িয়ে চলামেনে সময়সূচী।সময়ের সাথে পাল্লা দিতেচাহিদা ঊর্দ্ধগামী,হাজার ভাবনার ভিড়ের মাঝেহারিয়ে যাচ্ছি আমি।ঘুমপাড়ানি মাসি-পিসিএকবারটি এসো ফিরে,ঘুমের দেশে যাব আমিরাতের ছায়াপথটি ধরে।লেখকদীপক কুমার মণ্ডলআরও পড়ুনঃ পাবলিকআরও পড়ুনঃ বিকল্পআরও পড়ুনঃ প্রতীক্ষা

ডিসেম্বর ০৫, ২০২১
নিবন্ধ

Shree: কুঁড়ে ঘর থেকে ক্রিকেটের নন্দনকাননে

......এবার আমরা ডেকে নিচ্ছি আমাদের গর্ব, আমাদের গ্রামের রত্ন শ্রীতমা দত্তকে। ওনাকে সম্বর্ধনা জানাবেন আমাদের এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী শ্রী প্রতাপ চৌধুরী।একটি ছিপছিপে শ্যামলা মেয়ে উঠে এল মঞ্চে। মেয়ের চোখে অসম্ভব একটা আত্মবিশ্বাস। মুখে একটা আত্মপ্রসাদের হাসি।ভাবছেন তো কে এই শ্রীতমা? কেন তাকে সম্বর্ধনা দেওয়া হচ্ছে?শ্রীতমা এই পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি ছোট গ্রাম কানপুর এর মেয়ে। আজ সে জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য রূপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। তাই গ্রামের ক্লাব থেকে ওকে সম্বর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।ওকে ওর এই সাফল্যের কথা বলতে বলা হলেও একটু হাসল যেন নিজের মনে। হাসবে নাই বা কেন! কারন এখন ও যদি ওর আজকের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে ওর জীবন সংগ্রামের কথা সব বলে তাহলে উপস্থিত অনেকেই অস্বস্তিতে পরবে। তাই যতটুকু বলা যায় সেটুকুই বলে।কারন শ্রীতমার চলার পথ মোটেও সহজ হয়নি। খুব ছোট বেলায় বাবাকে হারায়। না বাবা মারা যায়নি, হারিয়ে গেছে । তাঁর স্মৃতি হারিয়ে গেছিল। কোনো একদিন অজান্তেই বেরিয়ে পড়েছিলেন বাড়ি থেকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর তখন থেকেই ওদের মা মেয়ের জীবন যুদ্ধ শুরু। মা মিনতি দেবী সাধারণ গৃহবধূ। লেখা পড়ার খুব বেশি জানতেন না। তাই জীবন টা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।কিন্তু গ্রাম হলেও বেশ বর্ধিষ্ণু। অনেক মানুষ বাস করে সে গ্রামে। চার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বিডিও অফিস, ব্যাঙ্ক, কলেজ থাকায় সেখানে বহু মানুষের বাস। সেখানে ই অনেক চেষ্টার পর দু-তিন ঘরে রান্নার কাজ পেয়ে যায়। আর তাতেই মা মেয়ের দিন চলে যায়। শ্রী গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করে। তার সাথে বাড়িতে ও ঘরের কাজ করতে হয়। মা সকালে উঠে কাজে চলে যায়। তাই ঘরের যাবতীয় কাজ ওকে করে আগের দিন করে রাখা ভাত খেয়ে স্কুলে যেতে হয় ওকে। এই ভাবে চলতে থাকে মা মেয়ের জীবন।একদিন সে মায়ের সথে মা যেখানে রান্না করে তাদের বাড়িতে যায়। সেই বাড়ির ছেলেটি বাড়ির পাশের মাঠে ক্রিকেট খেলতে যায়। শ্রী তখন ক্লাস সিক্স। ও ছোটো থেকেই খেলাধুলায় খুব ভালো। স্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বরাবরই পুরস্কার পায়। ও ক্রিকেট খেলা খুওব ভালোবাসে। ইন্ডিয়া টিমের খেলা থাকলে ও দেখবেই পাড়ায় কারও বাড়িতে। কারন টিভি কেনার মত সামর্থ তাঁদের নেই, এই ব্যাপারে অনেকে ওর মাকে নানা কথা শোনায়। ও যখন ছেলেদের সঙ্গে খেলতে যায় গ্রামের লোকেরা নানারকম কথা বলে। কিন্তু শ্রী খেলা ছেড়ে যেন থাকতে পারে না। এরপর ও মেয়েদের ক্রিকেট দলের কথা শোনার পর স্বপ্ন দেখতে থাকে। কিন্তু জানে যে সে স্বপ্ন পূরণ হবার নয়। তবুও স্বপ্ন আসে নিজের মত করে। মায়ের সঙ্গে গিয়ে ক্রিকেট কোচিং সেন্টার দেখে ওর ইচ্ছাটা প্রবল হয়। তারপর থেকে ছুটির দিনে সে মায়ের সাথে মাঠে যায়। মা রান্না করে আর ও মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে দেখে কি করে খেলা হয়।শ্রীতমাকে সপ্তাহে ওই বিশেষ দিনে মাঠের পাশের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একদিন কোচিং সেন্টারের কোচ ওকে জিজ্ঞাসা করেন ওর বাড়ি কোথায়? ও এখানে কার সাথে আসে? ও তখন সাহস করে বলে ও দাদা আমাকে ক্রিকেট শেখাবে?শুনে অবাক হয়ে যায় কোচ অনির্বাণ রায়। বলে এখানে তো মেয়েদের শেখানো হয়না। তুমি একা কি করে শিখবে?ও বলে কি হয়েছে আমি একাই শিখবো। দেখবে আমাকে দেখে অনেক মেয়ে আসবে।কথাটা বেশ ভালো লাগে অনির্বাণের। ও বলে বেশ আমি ক্লাবের সাথে কথা বলি।পরের সপ্তাহে শ্রী ঠিক হাজির হয়। সেদিন দেখে আরও কয়েকজন রয়েছে। ওকে বলেন, তুই খেলার কথা বলেছিস?হ্যাঁ!একজন বলে ওঠেন জানিস এই খেলার খরচ?ছোটো শ্রী খেলার খরচের কথা শুনে একটু অবাক হয়। ছোটো মনে সেটা ঢোকে না, শুধু অবাক চোখে তাকায়।যারা এসেছেন তাদের মধ্যে একজন বলেন ঠিক আছে ও যদি খেলতে চায় খেলুক। আমরা ক্লাবের তরফ থেকে যত টা পারব সাহায্য করবে।সেই শুরু শ্রীতমার আরেক যুদ্ধ। ওর মা অবশ্য প্রথম প্রথম রাজী ছিলেন না। কিন্তু মেয়ের ইচ্ছা আর অদম্য জেদের কাছে হেরে যান শেষ পর্যন্ত। মেয়েকে আরও একটু ভালো খাবার দেওয়ার জন্য আরও এক বাড়ি কাজ নেন মিনতি। মেয়ের খেলা নিয়ে গ্রামের অনেকে বলে,মেয়ে মানুষের আবার ওত লাফালাফি কিসের ছেলেদের সাথে?আবার অনেকে বলে কুঁজোর ও সখ হয় চিৎ হয়ে শুতেএসব কথা যত শুনে শ্রীতমার মনে জেদ আরও বেড়ে যায়। একদিন অনিদা ওকে বলে তোর স্বপ্ন পূরণ করতে হলে আরও বড়ো জায়গায় শিখতে হবে।...আমি কি করে বড়ো জায়গায় শিখবো অনি দা?দেখি একবার সুধীরদাকে বলে। সবার বিরুদ্ধে গিয়ে উনিই তো তোর খেলার ব্যবস্থা করেছিলেন। আজ পর্যন্ত তোর যাবতীয় সরঞ্জাম উনিই কিনে দিয়েছেন। উনি যদি আরও একটু সাহায্য করেন তাহলে তোকে দূর্গাপুরের একটা ক্লাবে ভর্তি করে দিতে পারব, আমার চেনা আছে।সুধীরদা সাহায্য করে, শ্রী ভর্তি হয় দূর্গাপুরের ক্লাবে। ওর মাকে ও ওখানে কাজের ব্যবস্থাও করে দেয় ওরা। তবে এসব কিছু সহজ হয়নি। গ্রামের অনেকে অনেক বাজে কথা বলেছে ওর মাকে। যারা আজ ওকে নিয়ে এত উচ্ছাস দেখাচ্ছে তারাই যে একদিন নোংরা কথা বলতেও ছাড়েনি মামেয়েকে।নিজের জেদে অটুট শ্রী মাকে শুধু বলেছে দেখবে একদিন সবাই আমাদের কাছে হেরে যাবে।এরপর শুরু হয় আরেক লড়াই। শহরের বড়ো ঘরের মেয়েদের সাথে খেলা সহজ নয়। সহজে কেউ মেনে নিতে পারে না গ্রামের গরীবের মেয়ে শ্রীতমাকে। পদে পদে হেনস্থা করতে থাকে। ঠিক যেমন কোনি গল্পে আমরা দেখতে পাই। ওর পোষাক নিয়ে হাসাহাসি করে ওখানকার মেয়েরা। এসব কিছু মাঝে মাঝে শ্রীকে একটু দুর্বল করে দেয়। কিন্তু সবাই তো সমান হয় না; শর্মিলা শ্রীতমার বন্ধু হয়ে ওঠে। শহরের মেয়ে হলেও ও একটু অন্য রকম। ও বোঝে শ্রীতমার কষ্ট। শ্রী যখন ভেঙে পরে ও বোঝায় কোনো কিছু খেলার থেকে বড়ো নয়। শর্মিলা বোঝে শ্রী এর মধ্যে একটা আগুন আছে যে টা ওকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।এর মধ্যে আসে বাংলা দলের টিম নির্বাচনের সময়। ক্লাবের হয়ে ও খুব ভালো খেলে তবু অনেক চেষ্টা চলে শ্রী কে না নেওয়ার। কিন্তু ভগবান যার সহায়তা হন তাকে কেউ হারাতে পারে না।তাই কোন কিছু পারে না ওকে থামাতে। ও বাংলা দলে নির্বাচিত হয়। খেলে খুব ভালো। এবার যেতে হয় কোলকাতায়। সেখানেও ওকে সাহায্য করে সুধীর দা। মা মেয়ের থাকার আর মায়ের কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। ওখানেও রান্নার কাজে লাগিয়ে দেয়। এখানে ক্লাব আরও বড়ো আরও ভালো ব্যবস্থা। শ্রী তো খুশিতে নেচে ওঠে। কিন্তু প্র্যাকটিস করতে গিয়ে বোঝে আরও কঠিন জায়গায় এসে পৌঁছেছে সে।কিন্তু স্বপ্নটা তো মনের মধ্যে গেঁথে গেছে জোরদার ভাবে। তবে ওখানে বাংলার দুই মহিলা ক্রিকেটারের চোখে পড়ে শ্রী। ওর একাগ্রতা ও অধ্যবসায় তাদের মুগ্ধ করে। তারা ওকে যথাসম্ভব সাহায্য করেন।এইসময় বাংলা টিমে সূযোগ না পেয়ে পূর্ব ভারতের অন্য একটি রাজ্যের হয়ে শ্রী খেলে।এখন কোনো বাধা আর যেন অন্তরায় না হয় শ্রীতমার জীবনের পথে এই প্রার্থনা করে ওর মা। কিন্তু সেটা তো সহজ নয়। তবে ওর অধ্যবসায় দেখে সুধীর দার মত সহৃদয় ব্যক্তি এখানেও এগিয়ে আসেন ওকে সাহায্য করতে। আর এই মানুষগুলো আছেন বলেই এখনও পৃথিবীর বুকে শ্রীতমার মত মেয়েরা সফলতা পায়।হাজার রকম বাধা সত্ত্বেও শ্রীতমার প্র্যাকটিস চলতে থাকে। এরপর আসে সেই দিন জাতীয় স্তরে নির্বাচনের দিন। প্রথমে তো ওকে জানানোই হয়না। কিন্তু ভাগ্য সঙ্গে থাকলে সব হয়, ও জানতে পারে নির্বাচনের কথা। ক্লাবের সেক্রেটারির কাছে যায়।স্যার আমি কি যাব না জাতীয় স্তরের নির্বাচনে? বলে শ্রীতুমি! তুমি কি করে যাবে? তুমি এই সবে কয়েক মাস হলো এসেছো।তাও... আমাকে একটা সূযোগ দিন!না না ওইভাবে হয় না। তুমি এখন যাও। বলে ওকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে।ও বেরিয়ে যাওয়ার সময় আর একটি মেয়ে ঢোকে। তাকে ঢুকতে দেখে দাঁড়িয়ে পরে শ্রী। তারপর ওদের কথোপকথন শুনে বুঝতে পারে এখানেও খেলা চলছে। ওর পরে যে মেয়েটি ক্লাবে আসে সে কোনো বড়ো ব্যক্তির আত্মীয় তাই সে যাবার সূযোগ পেয়ে যায়।এসব শুনে মন ভেঙে যায় শ্রীতমার। এমন সময় শর্মিলা ওকে বলে তুই চিন্তা করিস না আমি ব্যাপারটা দেখছি। শর্মিলা মেয়েটি খুব চটপটে। ও সব জানায় যতীন্দ্রমোহন বসুকে যে এই ক্লাবের সব বিষয়ে নিজের মতামত জোরদার ভাবে চাপাতে পারেন। ভদ্রলোক খুব অমায়িক। উনিই সেই ব্যক্তি যিনি শ্রী কে এখানে সবরকম ভাবে সাহায্য করেন। উনি আসলে খেলা টা ভালোবাসেন এবং বোঝেন। আরও বোঝেন কার দ্বারা কি হবে।তাই প্রথম দিন থেকেই উনি শ্রীতমার খেলা র অনুরাগী হয়ে ওঠেন। ওকে সবরকম সাহায্য করতে থাকেন।উনি শর্মিলার বাবার বিশেষ পরিচিত।শর্মিলা ওনাকে সব বলে। উনি সব শুনে চুপ করে যান। শুধু বলেন ঠিক আছে আমি দেখছি।ক্লাবের কমিটি যে দিন নাম নির্বাচন করবে সেদিন উনি বললেন সবার আগে শ্রীতমার নাম লেখা হোক। আজ পর্যন্ত ওর মতো কেউ খেলেনি এই ক্লাবে।দু একজন আপত্তি জানানোর চেষ্টা করেন কিন্তু ওনার ব্যক্তিত্বের কাছে চুপ করে যেতে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত শ্রীতমার নাম পাঠানো হয়। এরপর শ্রীতমা কঠিন পরিশ্রম করতে থাকে। স্বপ্ন যেন দুয়ারে এসে কড়া নাড়ছে। যত দিন এগিয়ে আসে শ্রীতমার জেদ ও বাড়তে থাকে। নিজের সাথে যেন নিজের কথা আমাকে পারতেই... হবে। আসে সেই দিন, ট্রায়াল ম্যাচ হবে। চারটি ভাগে খেলা হয়, টিম এ, বি, সি, ডি। দুটি ম্যাচে খুব ভালো বোলিং করে এবং একটিতে রানও করে ভালো। অলরাউন্ডার হিসেবে ওর পারফরম্যান্স বেশ ভালো হয়। তাছারা গ্রামের এবড়ো খেবড়ো মাঠে খেলার সুবাদে ফিল্ডিং-এ বরাবরই খুব ভালো ছিলো শ্রী। সেটাই তফাত গড়ে দিলো বাকিদের সাথে। শ্রী নিজের সবটুকু উজার করে খেলে। এত ভালো পারফরম্যান্স হবে ও ভাবতেও পারেনি। ও সিলেক্ট হয় ইন্ডিয়া-এ আন্ডার নাইনটিন এ টিমে।খবরটা সংবাদ মাধ্যমে বের হতেই গ্রামে হইচই পরে যায়। একসময় যারা বিরোধীতা করে ছিল তারা আজ শত মুখে প্রশংসা করতে থাকে।শ্রীতমা স্পোর্টস কোটায় চাকরি ও পেয়ে যায়।আজ গ্রামের মাঝে মাথা উঁচু করে মা মেয়েকে হেঁটে যেতে দেখে তারা ই আজ বাহবা দিচ্ছে যারা একদিন ওদের অপমান করতে ছাড়েনি।আজ শ্রীতমার স্বপ্ন আর তা পূরনের ইচ্ছার কাছে সব হেরে গেছে।শ্রীতমার সফলতা আমাদের গ্রামবাংলায় অনেক শ্রীতমার জন্ম দেবে।লেখিকাঃ রাখি রায়রাখি রায়-র কলমে আরও কিছু লেখাআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ মিঠির ডায়েরি (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

নভেম্বর ২০, ২০২১
নিবন্ধ

Diary of a young girl: মিঠির ডায়েরি (বাংলা ছোট গল্প)

ফোনটা পেয়ে আই পি এস অফিসার সুকৃতী রায় নিজেই গেলেন ঘটনাস্থলে,সঙ্গে দুজন অধস্তন সহকর্মীকে নিয়ে।বুঝলেন মেয়েটার শরীরে তখনও প্রাণ আছে।নিজের গাড়িতেই তুলে নিয়ে ছুটলেন হাসপাতাল রেখে গেলেন সহকর্মীদের।ঘটনাস্থলে চারজনকে ধরা হয়েছে।হাসপাতাল পৌঁছে মেয়েটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আবার গেলেন ঘটনাস্থলে যদি কিছু পাওয়া যায়,মেয়েটির পরিচয়,আপনজন কারো কোনো খোঁজ।ঘরে চারিদিক খূঁজে একটা সেল ফোন পেলেন ।কিন্তু কেনো জানিনা আরো কিছু পাওয়ার আশায় খূঁজে দেখ্তে লাগলেন । পেয়েও গেলেন একটা ডায়েরি।দুটো জিনিস নিয়ে ফেরেন নিজের অফিসে।বারবার মেয়েটার মুখটা মনে পড়ছে; কতই বা বয়স হবে কুড়ি একুশ।মুখে যেন একটা অব্যক্ত কষ্ট আর আতঙ্ক ছিলো মেশানো।ভাবতে....ভাবতে মেয়েটার ফোনটা বের করে অন করলেন। বাহ নামটা বেশ ভালো মিঠি।লাস্ট কয়েকবার বাবাকে ফোন করেছিল।বোধহয় ফোনটা রিসিভ হয়নি।কিন্তু কেনো? কে এই মেয়ে? কেনো এতবার বাবাকে ফোন করেছিল? কি বলতে চেয়েছিল?এইসব নানান প্রশ্ন আসছে মাথায়।নিজের ফোন থেকেই বাবার নং টা ডায়াল করলেন--দু তিন বার রিং হওয়ার পরহ্যালো,কে?আমি লালবাজার থেকে বলছি।লালবাজার? কে কেনো? গলাটা যেন কেঁপে গেল মনে হলো সুকৃতীরহ্যাঁ , আপনার মেয়ে মিঠি দাস?মিঠি? কে মিঠি? আমি কোনো মিঠিকে চিনিনা। বলে ফোনটা কেটে দিল।সুকৃতী অবাক হয়ে কিছুক্ষণ বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল; সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে।বেয়ারা কে ডেকে এক কাপ চা দিতে বলল।চা খেতে খেতে ডাযেরি টা খুলল...না রোজ লেখা নয়, হয়তো যে ঘটনা লিখে রাখতে মন হয়েছে সেটাই লিখে রেখেছে। মানে যে ঘটনা মিঠির মনে দাগ কেটেছে সেটা ও ওর লেখায় বন্দি করে রেখেছে।লেখা শুরু করেছে তখন ও ক্লাস নাইন। স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে নতুন নতুন জানা বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনার কথা লিখেছে।সুকৃতী পড়তে লাগল পাতা উল্টে, মিঠি নিজের প্রথম প্রেমের কথা লিখেছে।১২/০৮/২০০৯আমি এখন ক্লাস ইলেভেন এ পড়ি ।পড়ার বাইরে নাচ গান করতে আমার ভালো লাগে।স্কুলের স্বাধীনতা দিবসে একটা প্রগ্রাম হবে। সেইজন্য এখন রোজ রিহার্সাল চলছে। কদিন থেকেই খেয়াল করছিলাম ক্লাস টুয়েলভের সুজয় কিছু বলতে চাইছে ।আজ ও বলেই ফেলল। খারাপ না ছেলেটা। আমারও ভালই লাগে।যদিও আজ আমি কোনো উত্তর দিই নি।আবার ১২/০৮/২০০৯আজ সুজয় কে হ্যাঁ বলেছি।কিন্তু ভয় করছে খুব। মা তো আমাকে দেখেই বুঝবে তখন আমি মা কে কি বলবো। মা যে আমার মুখ দেখেই সব বুঝতে পারে ।আমার পড়া নষ্ট করলে হবে না। তাহলে মা কষ্ট পাবে।এরপর আবার বেশ কিছুদিন কিছুই লেখেনি । তারপর হঠাত্ লিখেছে মায়ের কি যেন হচ্ছে আমাকে ঠিক বলছে না। শরীরটা দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বাবাও কদিন থেকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলছে।বাবা মায়ের সম্পর্কটা খুব ভালো লাগে।সুজয়কে বললাম মায়ের কথা।ও যেন একটু অন্যরকম। মায়ের কথাটা গুরুত্ব দিলনা । আমার ভালো লাগেনি ওর এই ব্যবহার।এরপর বেশ কিছু পাতায় রয়েছে মিঠির সঙ্গে মায়ের সম্পর্কের কথা।মা মেয়ের মধ্যে যে একটা বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক সেটা বোঝা যায় ওর লেখায়।সুজয়ের সঙ্গে ওর ঝগড়া হয়ে গেছে।ছেলেটা খুব স্বার্থপর । ওর সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না।এরপর ওর মায়ের অসুস্থতার কথা লেখা আছে।বাড়িতে ঝড় চলছে। ও বাবা মা কে যতটা পারছে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে।এই ভাবে ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলো। খুব আনন্দ সেদিন ওদের । বাবা তো ভীষণ খুশি ওর রেজাল্ট এ। ও যে ওর বাবার স্কুলেই পড়ে ।এরপর ওর জীবনের সব থেকে কষ্টের ঘটনাটা ঘটে। ওর মা পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। তার প্রায় একমাস পরে ও আবার লেখে...মা চলে গেছে একমাস হয়ে গেল।আমি খুব একা হয়ে গেছি। বাবার দিকে তাকানো যাচ্ছে না। মানুষটা যেন কেমন হয়ে গেছে। আমার তো এখং কলেজে যাওয়া আছে অনেকটা সময় কেটে যায় ওখানে। বাবা স্কুল যাচ্ছে না এখনো ।খুব চিন্তা হচ্চে বাবার জন্য।বাবা মেয়ের সংসার চলছে কোনোরকমে। কলেজে যাওয়ার পথে সুনন্দর সঙ্গে পরিচয় হয় মিঠির ।খুব helpful ছেলে টা । বেশ ভালো কথা বলে।এরপর আবার চোখ আটকে যায় সুকৃতীর... ১২/০৩/২০১২বাবা কাল বিয়ের কথা বলছিল কাকে যেন। মনে হলো কোনো বন্ধুর সঙ্গেই কথা বলছিল।আজ সুনন্দ কে সে কথা বললাম। ও বলল ভয় কি আমি তো আছি। কি জানি কি হবে আমার তো খুব ভয় করছে। মা এর পর একমাত্র সুনন্দর সঙ্গে সব কথা বলতে পারি । ও আমাকে বোঝে খুব ভালো।দেখ যাক কি হয়। নাহলে বাবা কে বলতেই হবে।জীবন বয়ে চলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে মানুষের মধ্যে।মিঠির মাতৃহারা একাকী জীবনেও সেরকম জুড়ে যায় সুনন্দ।বেশ কিছু পাতায় লেখা ওর আর সুনন্দর কাটান অনেক ভালো মুহূর্তের কথা। সেগুলো পড়ে সুকৃতী ভাবে বেশ ভালো একটা সঙ্গ পায় মিঠি।এরপর বেশ কিছুদিন কিছুই লেখেনি। তারপর হটাত লেখে২৫/১২/২০১২আজ একটু বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছি বলে সুনন্দর সঙ্গে বেরিয়ে ছিলাম। বেশ ভালই কাটলো দিনটা; কিন্তু সন্ধ্যে বেলা বাড়ি ফিরে দেখি বাবার বন্ধু তিমির কাকু এসে বসে আছেন।তিমির কাকুর ছেলের সঙ্গেই আমার বিয়ের কথা হচ্ছে । ওনাকে দেখে আমার তো ভুত দেখার অবস্থা।যাই হোক রাতে কাকু আমাদের বাড়িতে থাকলেন আজ।২৬/১২/২০১২না আজ আর থাকতে পারলাম না। বাবাকে সব বললাম। সুনন্দর কথা শুনে বাবা তো কোনো কথা না বলে ঘরে চলে গেল। আর রাতে খেতেও উঠল না। আমি একটু আগে সুনন্দকে ফোনে সব বললাম ও দুদিন পর দেখা করবে বলল। এদিকে আমার পড়া মাথায় উঠেছে।আবার দুদিন পরে লেখা... ২৮/১২/২০১২আজ সুনন্দর সঙ্গে দেখা করলাম। ও যেটা বলছে আমি মানতে পারছিনা। ও বলছে বিয়ে করে নিতে। তারপর বাবা ঠিক মেনে নেবে। কিন্তু আমি এভাবে কিছু করতে চাই না। এদিকে সেদিনের পর থেকে বাবাও আমার সঙ্গে কথা বলা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। আমি তবু বাবাকে বললাম একবার কথা বলতে সুনন্দর সঙ্গে। কিন্তু বাবা কোনো সাড়া দিল না। আজ মায়ের অভাব টা বড্ড বেশী করে অনুভব করছি।এভাবে বেশ কিছু দিন ওর মনের উদ্বেগের কথা লেখা। বাবার সঙ্গে এইনিযে দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। একা কি করবে ঠিক করতে পারছে না। সেরকম কোনো বন্ধুও ওর নেই যার সঙ্গে পরামর্শ করবে।তারপর প্রায় মাস খানেক পরে লেখা ১৩/০২/২০১৩আজ এক সপ্তাহ হলো আমি আর সুনন্দ বিয়ে করেছি । বাবা মেনে নেয়নি। আমরা ওর এক মাসির বাড়িতে আছি। ও এই মাসির কাছেই মানুষ হয়েছে। কারণ ছোটবেলায় ওর মা বাবা মারা যান। মাসি বেশ ভালো । আমাকে মায়ের মতই আগলে রাখেন।বেশ কাটছে দিন গুলো।কিন্তু বাবার জন্য খুব মন খারাপ হয়। সুনন্দ তখন বোঝায় আমাকে।এরপর বেশ কিছুদিন গ্যাপ দিয়ে দিয়ে ওদের সুখের কথাই লেখা।আবার... ১৫/০৮/২০১৩আমরা কলকাতার একটা ছোট্ট ফ্ল্যাটে উঠে এলাম। সুনন্দর কাজের সুবিধার জন্য।মাসি এলেন না ওনার বাড়ি ছেড়ে।আমাদের দিন গুলো বেশ কাটছে। আমার ভিতর কিছু একটা পরিবর্তন হচ্ছে মনে হয়। মাকে আমার খুব মনে পরে। মা থাকলে আজ বাবা ঠিক মেনে নিত। বাবা কে ফোনে চেষ্টা করেছি, বাবা ধরেনি।আমি কনফার্ম না হয়ে সুনন্দ কে কোনো কিছু বলতে পারছিনা। ঠিক এর দুদিন পরের লেখা পরে সুকৃতী চমকে ওঠে......মানুষের জীবনে কার সঙ্গে কিভাবে পরিচয় হয় আর কাকে কখন কিভাবে কাজে লেগে যায় কেউ মনে হয় জানে না।সুকৃতীর ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হলো।যেখান টা পড়তে গিয়ে চমকে গেলো সেই ঘটনা মনে পরে গেল ওর---- মাস দু তিন আগে একদিন খুব প্রয়োজনে একটি শপিং মলে যায় সুকৃতী ।একদম অন্য ভাবে কাস্টমার হিসাবেই যায়।কিন্তু অবাক হয় একটি অল্পবয়সি বিবাহিত মেয়ে ওর কাছে এসে যখন ওর সঙ্গে কথা বলতে চাইল এবং বলল ও সুকৃতীর কথা পড়েছে কাগজে । সুকৃতীর বেশ ভালো লাগল। ঐ বয়সী মেয়েরা সাধারণত সিনেমার জগতের খবর রাখে । এই মেয়েটা যেন একটু আলাদা । তারপর ওর ফোন নং চাইলে সেটা দেয় মেয়েটা কে।এই যে সেই মেয়ে বুঝতেই পারেনি।ডায়েরি তে সেদিনের কথা লেখা আছে সব।এরপর চমক আর চমকনা কোনো তারিখ নেইআজ লিখছি যদিও ঘটনা কাল ঘটেছে,জা আমাকে আহত করেছে মানসিক ভাবে ।কাল একটা কিট এনে টেস্ট করি এবং খুব আনন্দের সঙ্গে সুনন্দকে রাতে খবরটা যখন দিলাম ও তো রীতিমত বিরক্ত হলো। আমি আকাশ থেকে পড়লাম ওর ব্যবহার দেখে। ও চায় না আমি মা হই। যেভাবে ও সেটা বলল মনে হলো যেন সব ভুল আমার। তারপর অবাক হলাম বেশ অনেকটা রাতে কার সঙ্গে যেন ফোনে কথা বলছিল,মনে হলো যেন এই ব্যাপারেই বলছে।পরের লেখার তারিখ ২০/০৮/২০১৩আজ আমার জীবনের এমন একটা দিন যা আমাকে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আজ মনে হচ্ছে এরকম ভুল কেউ মনে হয় করে না। আমার ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। আমি আমার বাবাকে কষ্ট দিয়েছি । আজ ঈশ্বর আমাকে সেই শাস্তি দিচ্ছে।।সুনন্দর মনে কি আছে বুঝতে পারছি বলে মনে হচ্ছে; কিন্তু কোনো প্রমান না পেলে আমি কাকে কি বলবো?? আজ আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। জোর করে অ্যাবরেশন (abortion) টা করিয়ে দিল।সুনন্দ যে কোনো অফিসে কাজ করে না সেটা আমি বুঝতেই পারিনি। ও যে জঘন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত বুঝলাম ওর রাতে ফোনে কথা শুনে। ও বুঝতেই পারেনি যে আমি জেগে আছি।তাই ওর দলের কাউকে বলছিল আর না মালটা কে অনেকদিন সহ্য করলাম এবার দিয়ে দিতে হবে। শালা ভেবেছিলাম বাপটা মেনে নিলে কিছু মালকড়ি ঝেড়ে তারপর মালটাকে বিক্রী করবো। ধুর বাপটা শালা এখনো ডাকল না। এবার তো একদম সংসার করে ফেললাম। আর না এবার মালটা কে পথে নামাতে হবে। এসব শোনার পর আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেল। কিছুক্ষণ ভাবলাম কি করবো এখন? কি ভাবে বাঁচব এবার এর হাত থেকে? হটাত মনে পরলো সুকৃতী ম্যাডামের কথা। মেসেজ করলাম ওনাকে ।এবার শুরু হয়েছিল সুকৃতীর সঙ্গে মিঠির যোগযোগ। না বেশিদিন না কারণ সুনন্দর তাড়া ছিল। আর আজ সেটাই ঘটল।মিঠি সুকৃতীর কথা মতোই সুনন্দর কথা গুলো রেকর্ড করে পাঠিয়ে দেয় ।এগুলো কিছুই সুনন্দ জানতে পারে না। আজ যে সুনন্দ মিঠিকে ওদের মতো করে ব্যবহার করতে চলেছে মিঠি সেটা বুঝে সুকৃতী কে জানায় আর এটাও বলে যে দেরি হলে ওর জীবন সংশয়।আজ সুনন্দ বন্ধুর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার নাম করে মিঠিকে নিয়ে বের হয়। তারপর নিয়ে যায় বেশ কিছুটা দুরে একট বাগান বাড়িতে । সেখানে তিন চার জন ছিলো। বেরনোর ঠিক আগে সুযোগ বুঝে ফোনটা নিয়ে নিয়েছিল মিঠি। ওখানে গিয়ে সব বুঝতে পারে তারপর কোনো ভাবে সুকৃতীকে ফোনটা করেছিল।শেষ মুহুর্তে ওরা পৌঁছে সব কটাকে হাতে নাতে ধরে।সুকৃতী মেয়েটার সাহস দেখে সত্যি অবাক হয়েছিল।বারবার এই কাজে যে কতটা রিস্ক আছে বুঝিয়ে ছিলো । বলেছিল ওখান থেকে বেরিয়ে আসতে। কিন্তু মেয়েটার একটা কথা ওকে চুপ করিয়ে দিয়েছিল-- ম্যাডাম আর যেন কেউ আমার মতো ওদের কাছে বোকা না হয়। আমাকে পারতেই হবে।তখন সুকৃতী ওকে একটা জিনিস দেয় জুতোর নিচে পরে রাখতে বাইরে যাবার সময়। সেই মতো মিঠি সব করেছিল। কিন্তু ও যে সঙ্গে করে মারাত্বক বিষটা সঙ্গে নেবে ভাবেনি। সুকৃতীর পৌঁছাতে একটু দেরি হয়ে যায় রাস্তায় জ্যাম থাকায়।আর তাতেই মেয়েটা শেষে এই পদক্ষেপ নিয়ে নেয়।সুকৃতী নিজেকেই দায়ী করে কিছুটা।মিঠির ডায়েরির কথা শেষ। তারপরেও কিছু ঘটনা থেকে যায় যেটা না বললে ডায়েরিটা যে কি ভাবে কাজে আসলো সেটা না বললে সম্পূর্ণ হয়না।ডায়েরিটা পড়ে সুকৃতীর মনটা বড়োই উতলা হয়ে উঠলো। পড়া হয়ে গেলে আবার ফোন করে মিঠির বাবাকে।হ্যালো প্লিস ফোনটা কাটবেন না। কিছু কথা আছে আপনার সঙ্গে।ও বলুনআপনার মেয়ে মিঠি মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। ও শেষ মুহুর্তে আপনার কাছে ক্ষমা চাইবার জন্য ফোন করেছিল।ওদিকে কোনো সাড়া না পেয়েহ্যালো শুনতে পাচ্ছেন??......হ্যাঁ বলুন বলুন,কোথায় আছে ও? আমাকে ঠিকানা তা দিন।সুকৃতী তখন ওনাকে ঠিকানা দিলেও ওখানকার পুলিশ স্টেশনে ফোন করে ।সেখানে ওর চেনা একজন অফিসার আছে। তাকে বলে মিঠির বাবা কে পৌঁছে দিতে ।আর ওনাকে ঐ অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে বলে রেখে দেয়।এরপর আবার হাসপাতাল যায়, মিঠির খবর নিতে।তখনো জ্ঞান ফেরেনি।ডাক্তার বাহাত্তর ঘন্টা সময় দিয়েছে।সুকৃতী বারবার ভাবে আর একটু যদি আগে পৌঁছাতে পারত তাহলে আজ মেয়েটার এই অবস্থা হতো না।এবার ফোনে খবর নেয় ধরা পড়া দলের। এই দলটা কে বেশ কিছুদিন ধরেই ধরার চেষ্টা চলছিল কিন্তু কিছুতেই পারছিল না ।আজ মিঠির সাহসের কারণে সম্ভব হল।অথচ মেয়েটাকে রক্ষা করতে পারল না।এইসব ভাবছে হসপিটাল করিডোরে দাঁড়িয়ে এমন সময় উদ্বেগপুর্ণ কন্ঠ কানে এলো।মিঠির বাবা চলে এসেছেন।আমার মেয়েটা কেমন আছে? কোথায় সে? কি হয়েছে? বলতে বলতে এগিয়ে আসে সুকৃতীর দিকে।সুকৃতী বলে আপনি শান্ত হয়ে বসুন।ও এখন এখানেই আছে ।চিন্তা করবেন না ।সব ঠিক হয়ে যাবে।সুকৃতীর হাতটা ধরে কেঁদে ফেলেন । আমায় মেয়ের প্রাণ টা ফিরিয়ে দাও ।আর আমি কিছু চাই না মা।তুমি শুধু আমার মেয়েটাকে ফিরিয়ে দাও।তুমিও আমার মেয়ের মতো ।আমি খুব ভুল করেছি । আমি যে বাবা, আমার দরজা ওর জন্য চিরকাল খোলা সেটা বলতে ভুলে গেছিলাম।সুকৃতীর মনে পরে গেলো নিজের বাবার কথা।আজ বাবা নেই,কিন্তু বাবাও ঠিক এই কথাটাই বলতেন।আমাদের অভিভাবকদের কাজ ভালো মন্দ টা বলে দেওয়া।তারপর সন্তান কোনটা বেছে নেবে সেটা তার ব্যাপার। ভুল করে যদি ভুল পথে যায় ও আমাদের দরজা সব সময় খোলা সন্তানের জন্য।আমরা যে বাবা মা।ভুল বুঝে যদি ফিরে আসতে চায় তাকে সাদরে গ্রহণ করা বাবা মায়ের কাজ।সুকৃতীর চোখটা ভিজে গেলো ।পুলিশ হলেও মনটা তো আছে ।এরপর মিঠি সুস্থ হয়ে বাবার সঙ্গে বাড়ি গেলো আর সুনন্দ আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা জেলে।জামিন অযোগ্য ধারায় কেস দিয়েছে সুকৃতী।শাস্তি ওরা পাবেই।পরিশেষে বলি মিষ্টি কথায় ভুলতে নেই। ভুল ধরা পড়লে এইভাবে সাহসের সঙ্গে এগোতে হয়।লেখিকাঃ রাখি রায়রাখি রায়-র কলমে আরও কিছু লেখাআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

নভেম্বর ০৭, ২০২১
নিবন্ধ

Soap: সাবানের সালতামামি - চঞ্চলা ঝরনায় উচ্ছল স্নানের উল্লাসে উচ্ছ্বসিত মডেল

ভীষণ তিতকুটে স্বাদ ঢুকে যাচ্ছে মুখের ভেতর... চোখের ফাঁকে সাবানজলের তীব্র জ্বালা... চোখ আরো টিপে বন্ধ করতে গিয়ে দরবিগলিত অশ্রুধারা... ঝরছে... মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে নাকের জলে-চোখের জলে-মগের জলে... সর্বাঙ্গে ধুঁধুলের ছোবড়ার কর্কশ দৌড়দৌড়ি...চলছে প্রবল দলাইমলাই... আমার পরিত্রাহি চিৎকারে একটু দুরের ছাত্রাবাস থেকে ছুটে আসছে বাবার ছাত্ররা কেউ কেউ... কোয়ার্টারের কলতলায় বিপর্যস্ত আমাকে কেউ যোগাচ্ছে সাহস, কেউ দিচ্ছে সান্ত্বনা...আমার ছোটবেলায় সবচেয়ে ভয়াবহ দুটি কর্তব্যকর্মের মধ্যে একটি ছিল এই সাবানজলে স্নান করা, রবিবারের সকালগুলো আজো যার জন্য দাঁতখিঁচোনো স্মৃতি হয়ে আছে; আর সেই নিদারুন নির্যাতনের প্রধান কুশীলব ছিল একটি সাবান , যার নাম মার্গো I নিমের তেল ও নির্যাস দিয়ে তৈরী এই সাবান নামক আতঙ্কটি বানিয়ে ক্যালকাটা কেমিক্যাল কোম্পানি আমার মতো লক্ষ লক্ষ অপোগন্ড বাঙালী বালকবালিকার কোটি কোটি অভিশাপের ভাগী হয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস। কালচে-সবুজ ইষ্টক-সম একটি খুদে অ্যাটম বোম, উগ্র কষায় স্বাদে গন্ধে যা জিনা হারাম করে ছেড়ে দিত... তার প্রতি আমাদের বিরাগ ও বাঙালী বাপ মায়েদের অনুরাগ সমানুপাতে চলাফেরা করতো। আমার সারা স্কুলজীবনে আমাদের বাড়িতে মার্গো ভিন্ন অন্য কোনো সাবান প্রবেশাধিকার পায় নি। কম দাম, বেশী উপকারিতা আর নিমের সর্বরোগহর গ্ল্যামার তো আছেই; ত্বকের স্বাস্থ্যরক্ষায়ও নাকি তার জুড়ি মেলা ভার! ব্যাস, আর কী চাই! একেবারে প্লেন লিভিং হাই থিঙ্কিং-এর চূড়ান্ত!আরও পড়ুনঃ পুজো শুরু হয়ে গেলষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় একবার রেশন দোকান থেকে মিলেছিল একটি ফিকে সবুজ সাবান (তখন শুধু চিনি-কেরোসিন-গমই সাধারনতঃ মিলত সেখানে)I একটু নরমসরম, মিষ্টি মিষ্টি গন্ধে বিগলিত হয়ে দীর্ঘ স্নান সারলাম তার সাহচর্যে। ফলাফল হলো ভয়াবহ... ঘন্টাখানেক বাদে সর্বাঙ্গে খড়ি উঠে হাফ-সাহেব বনে গেলাম। ভুরভুরে সুবাসের আড়ালে সেই রেশন-শোভন সাবানের নিম্নমান গোটা পরিবারকে আরো ঠেলে দিল মার্গো-র মৃত্যু-মার্গে!আরও পড়ুনঃ তোমাদের মনের মতো রঙীন পূজাবার্ষিকী-- আনন্দমেলাআমার শৈশবের রবিবারগুলি তাই মার্গো-ময়! সেই হাকুচ -তিতো স্নান-বিপাককে পরিহাস করতেই বুঝি বা তিরাশি সালে আকাশবাণীর বিজ্ঞাপনে শুরু হয়েছিল মার্গো-র এই নাম-সংকীর্তন...পথেঘাটে ভিড়ভাট্টা মেজাজটা তাই খাট্টা,গাড়ি লরী ধুলোবালি ঝকমারী সব একা তালগোল;নাকেমুখে ধোঁয়ার ধাক্কা, করবো কি তার তোয়াক্কা?মাখি তাই রোজ ভাইআদি নিম খাঁটি নিম মার্গো।ফুরফুরফুর স্নানের ফুর্তি জীবাণুর হবে ছুটি,মাখি তাই রোজ ভাইআদি নিম খাঁটি নিম মার্গো।সাদামাটা চেহারাটা, তবুও যে চাই প্রতি বার গো...মার্গো!পঁচাশি-র মাঝামাঝি বন্ধু নির্মাল্য-র বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পন্ডস ড্রিমফ্লাওয়ার সাবানের প্রেমে পড়ে গেলাম। আশৈশবের ব্র্যান্ড লয্যালটিকে দূরছাই করে দিয়ে ভিড়ে গেলাম পন্ডস ক্যাম্পে। ততদিনে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলে গিয়ে কিঞ্চিত স্বাবলম্বী হয়েছি, সাবান-স্নানও বিভীষিকা থেকে স্নান-বিলাসে বদলে গেছে। এরপর ঘুরেফিরে পন্ডস-এর তিনটি ব্র্যান্ডই স্থান পেতে লাগলো সাবান-কেসেI যেমন সুন্দর মোড়ক তাদের, তেমনই খোশবাই আর মখমলী মোলায়েম স্পর্শ!আরও পড়ুনঃ বাজলো তোমার আলোর বেণুনেশা লেগে গেল একের পর এক নতুন নতুন সাবান ব্যবহার, ও তাদের সুন্দর সুন্দর মোড়ক সংগ্রহের। রঙ-রূপ-গন্ধ-স্পর্শের মেলায় ভরে উঠতে থাকলো ছোট্ট সেল্ফ। সাবানের দুনিয়ায় কি বৈচিত্র্যই না ছিল সেই আশি-নব্বইয়ের দশকে। সস্তা আকাশী ফ্রেসকা বা রেক্সোনা থেকে শুরু করে রুচিশীল মাইশোর স্যান্ডাল সোপ, মার্গো-র জ্ঞাতি-ভাই হামাম, সুগন্ধী সিন্থল, লাইফবয় থেকে অভিজাত অ্যারামাস্ক (অনেকে মজা করে বলতেন আরামসুখ) বা হালকা বেগুনী মনমাতানো সৌরভের ল্যাভেন্ডার ডিউ... গঙ্গাজল দিয়ে তৈরী গঙ্গা সাবান...আরও পড়ুনঃ শারদঅর্ঘ্য...আটের দশকের শেষদিকে আবির্ভূত পামোলিভ সাবান বা নিরমা বিউটি সোপ (নিউ এম্পায়ারে যে সাবানের বিজ্ঞাপনে সোনালী বেন্দ্রে-র লাস্য দেখতে বহু যুবক এমনিই দশ মিনিটের জন্য টিকিট কেটে ঢুকত বলে শোনা যায়!)... শীতের শুরুতে পিয়ার্স, চেসমি, সোনালী গিসারিন সাবানের হুজুগ... বলিউডের সমকালীন শীর্ষস্থানীয়া নায়িকার কৃপাধন্য ঝলমলে লাক্স... সুরভিত নরম ডাভ-এর শৌখিনতা... চন্দনগন্ধী মোতি... এ বলে আমায় দেখ ও বলে আমায়!হস্টেলে এক বন্ধুর প্রবাসী আত্মীয় বেড়াতে এসে তাকে উপহার দিয়ে গেলেন একটি ক্যামে সাবান। সেই প্রথম আমাদের সবার ড্যাবডেবিয়ে বিদেশী সাবান দেখা। মহার্ঘ্য বস্তুটির ওপর হারামী শকুনিদের চক্ষুদান এড়াতে বাক্সে তালাচাবি দিয়ে রাখত তার মালিক! ততদিনে দূরদর্শনের তুমুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক বুনিয়াদ-এর ফাঁকে ফাঁকে নতুন এক সাবানের মনোহর শরীরী বিজ্ঞাপন হয়ে দেখা দিয়েছেন স্বপ্নসুন্দরী ডিম্পল। সাঁতারের পোশাকে জলে ঝাঁপ, ও জলকেলির শেষে মাথা তুলে চুলের ঢেউ ঈষৎ দুলিয়ে সেই মোহময়ীর ইটস মাই ক্রাউনিং গ্লোরি! শুনে সারা দেশে কত যে নাবুঝ লড়কা মর্দ হয়ে উঠলো!আরও পড়ুনঃ কন্যা রুপেন সংস্থিতাতবু আমাদের শৈশবে একটি সাবানের বিজ্ঞাপন যে ভাবে আসমুদ্রহিমাচলকে দুলিয়ে দিয়েছিল,তার তুলনা বিরল! দুহাজার সালে খান্ডালা বেড়াতে গিয়ে দূরে পাহাড়ের গায়ে এক তরলিতচন্দ্রিকাচম্পকবর্ণা জলপ্রপাত দেখিয়ে গাইড বলেছিলেন,ওই দেখুন, লিরিল সাবানের বিজ্ঞাপনের সেই বিখ্যাত ঝর্ণা। আমার চোখের সামনে সময়ের কাঁটা কয়েক দশক পিছিয়ে গিয়েছিল এক ধাক্কায়... চঞ্চলা ঝরনায় উচ্ছল স্নানের উল্লাসে উচ্ছ্বসিত মডেল কারেন লুনেল... লা-আ-আ লা লা লা লা-আ-আ ....লেখকঃ ডঃ সুজন সরকারবর্ধমান।

অক্টোবর ২৭, ২০২১
নিবন্ধ

Ascension: উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)

ম্যাগাজিনের কভার পেজে নিজের ছবি দেখতে দেখতে সোহিনী হারিয়ে গেলো অনেক দিন আগে...প্রায় পাঁচবছর আগে মফস্বল থেকে কলকাতা শহরে এসেছিল পড়াশুনা করতে। তবে ছোট থেকেই তার ইচ্ছা ছিলো মডেলিং করার। মা বাবার চোখের আড়ালে সে ব্যাপারে নিজেকে তৈরি করতে থাকে। পড়াশুনা খারাপ করে না, নব্বই শতাংশ নম্বর পেয়ে 12 পাস করে চোখে অনেক স্বপ্ন নিয়ে শহরে এসেছে সোহিনী। কলকাতায় আসার একটা কারন অবশ্যই মডেলিং। তাই এই কলেজে পড়ার সুযোগ টা সে ছাড়ল না। কলেজের থেকে একটু দুরে পিজি পেল। ঐ কলেজ এর অনেক মেয়েই থাকে। মা বাবা তাকে রেখে ফিরে গেলো বাড়ি।বেশ চলছে দিন গুলো পড়াশুনা নিয়ে। দু একজন বন্ধু ও হয়েছে এর মধ্যে।কলেজে সোহিনীর বন্ধুত্ব হয় ঋষিকার সঙ্গে; বড়লোকের মেয়ে, মডেলিং করে, অনেক বন্ধু নিয়ে সারাদিন ঘুরে বেরায়। সোহিনী ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে একটাই কারনে। তবু সোহিনীর মনে একটা প্রশ্ন থেকে যায় কী কারনে ঋষিকা ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে?সোহিনী পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওর স্বপ্ন কেও রূপ দিতে চায় বাস্তবে;চেষ্টা চলতে থাকে। ঋষিকা ওকে সাহায্য করবে বলে।প্রাথমিক অনেক কিছু শেখায় ও। এভাবে দুজন অনেক সময় কাটায়।এর মধ্যেই একদিন পরিচয় হয় ঋষিকার বন্ধু সিধ এর সঙ্গে; আসল নাম সিদ্ধার্থ। ওরা এরকম অদ্ভুত ভাবেই নাম গুলোকে ছোট করে। ছেলেটা কে ভালো লাগেনা সোহিনীর। তবু সহ্য করতে হয় ঋষিকার জন্য।কেনো জানি না ওকে খুব প্রশ্রয় দেয় সবাই।এভাবেই কাটছিল , হটাত সেদিন ঋষিকা যে প্রস্তাব দিল তা শুনে তো সোহিনীর মাথা ঘুরে গেলো। বুঝল কেনো ঋষিকা সোহিনীর মতো মফস্বলের মেয়েকে এতো গুরুত্ব দেয়। নিজের কেরিয়ারের সিঁড়ি বানাবে ভেবেছিল সোহিনিকে সেটা বুঝতে পারে সোহিনী। সে তো এভাবে মডেলিং করতে চায় না। সে এসব কথা শুনেছিল স্কুলের এক বন্ধুর কাছে তখন ও মানতে রাজি হয়নি। আজ ঋষিকার কথা শুনে মনে পড়ে গেলো । না আর ওসব ভাববে না মন দিয়ে পড়াশুনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। না তারপর থেকে আর সোহিনী কথা বলেনি ঋষিকার সঙ্গে।তিন চারদিন হয়ে গেলো সোহিনী কথা বলেনি ঋষিকার সঙ্গে...এভাবে একসপ্তাহ কেটে গেলো। তারপর ঘটল সেই ঘটনা...প্রায় সাতদিন হয়ে গেল সোহিনী ঋষিকার সঙ্গে কোনো যোগযোগ রাখেনা। নিজের পড়া নিয়েই ব্যস্ত। না এর মধ্যে কলেজ ও যায়নি। সামনে পরীক্ষা তাই পড়ায় মন দিয়েছে। একদিন পায়েল ফোন করে কী যেন বলতে গিয়েও থেমে গেল শুধু বলল সাবধানে থাকিস। কিছু বুঝতে পারল না।সোহিনী সব ভুলে শুধু পড়া নিয়ে আছে। সে দিনটা ছিল শুক্রবার; ব্যাচের অন্য বন্ধু যারা ওর সঙ্গে ফেরে আজ পড়তে আসেনি কেউ। তাই সোহিনী একাই ছিলো। আজ ঋষিকা ফোন করে সরি বলল আর সোমবার কলেজ যেতে বলল।সোহিনীর খুব আশচর্য লাগল। কিন্তু বেশি কিছু ভাবল না। রাতে পড়ে একা ফিরছে। রাত প্রায় 10 টা। কলকাতা হলেও পাড়ার রাস্তাটা ফাঁকা ই। ও তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগল। এমন সময় উল্টো দিক থেকে একটা বাইক আসতে দেখে ও একদম রাস্তার ধারে সরে গেলো। নাঃ! পারল না নিজেকে বাঁচাতে। মাথায় হেলমেট পড়ে ছেলে দুটো কী যেন ছুড়ে দিল। উঃ বাবারে! জ্বলে গেলো জ্বলে গেলো বলে রাস্তায় শুয়ে পরলো সোহিনী। তারপর সব অন্ধকার।জ্ঞান ফিরল যখন তখন ও হাসপাতালের বিছানায়। মা বাবা শুকনো মুখে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আবার জ্ঞান হারাল। এভাবে বেশ কিছুদিন কাটলো। আস্তে আস্তে উঠে বসল। না এই তিন মাস তার কাছের কোনো বন্ধু আসেনি ওর খোঁজ নিতে। ঋষিকা বা অন্য কেউ অদী গ্রুপের। শুধু পায়েল রোজ আসত। তিনমাস পর ছাড়া পেল সে; বাড়ি ফিরল। শুরু হলো নতুন লড়াই। না সব যেন কেমন হয়ে গেল। কে এমন করল বুঝেও বুঝতে পারছে না। সেদিন গলাটা খুব চেনা লেগেছিল। কোনো প্রমান নেই। নিজেকেই দোষারোপ করতে লাগল। ঘর বন্দি করে ফেলল নিজেকে। মা বাবা কী করবে কিছুই বুঝতে না পেরে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলেন। হাসপাতালে এই ডাক্তারবাবু খুব কেয়ার নিয়েছেন। তাই ওনার কাছেই গেলেন সোহিনীর বাবা।একদিন ডাক্তারবাবু হাজির হলেন ওদের বাড়িতে। প্রথম থেকেই উনি সোহিনীর প্রতি একটু স্নেহশীল।উনি মাঝে মাঝে আসতে লাগলেন ওদের বাড়িতে। একটু একটু করে ওকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে লাগলেন; সঙ্গে ছিল সোহিনীর এক বন্ধু পায়েল যাকে ও পাত্তাই দিত না। কিন্তু বিপদে সেই ওর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।সোহিনীর একটা গুনের কথা যেটা কেউ জানত না পায়েল সেটা আবিষ্কার করে জানায় ডাক্তারবাবুকে। শুরুহয় অন্যভাবে সোহিনীর স্বপ্ন পুরণ করার চেষ্টা। সোহিনী অনেক স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।এবার পায়েল আর ডাক্তারবাবু দুজনে মিলে বোঝাতে থাকে পরীক্ষা দিতে হবে। রাজি হয় সোহিনী। প্রাইভেটে গ্রাজুয়েশন শেষ করে। এবার শুরু অন্য কাজ। পায়েল আর অরুদার সাহায্যে সোহিনী নিজের আঁকার গুণ কাজে লাগায়। ড্রেস ডিজাইন করতে থাকে। খোলা হয় বুটিক। এখানে বলি অরুদা আর কেউ না ঐ ডাক্তারবাবু। হ্যাঁ সোহিনীর নিজের দাদা হয়ে উঠেছে। আজ সেই দাদার হাতধরেই সোহিনীর স্বপ্ন পূরণ। সোহিনীর বানানো ড্রেস এখন চারদিকে খুব নাম করেছে। সাতদিন আগে ওর বানানো ড্রেস পড়ে র্যাম্পে হেঁটেছে ওর মতই অ্যাসিড আক্রন্তরা। অনেক নাম করা ব্যক্তিত্ব এসেছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। ঋষিকাকেও নিমন্ত্রণ করেছিল সোহিনী।সবাই সোহিনীর এই উদ্যম কে সাধুবাদ জানিয়েছে। সব থেকে বড়কথা আজ সেই র্যাম্পের ছবি নাম করা ম্যাগাজিনর কভার পেজ এ।আজ সোহিনী অনেককিছু যেমন হারিয়েছে পেয়েছেও অনেককিছু। অরুণাভ আর পায়েল তার জীবনের দুই নক্ষত্র। আজ এদের দুজনের জন্য সোহিনী হারিয়ে যায়নি। সোহিনীর দুচোখে আজ আনন্দধারা।লেখিকাঃ রাখি রায়রাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

অক্টোবর ২৫, ২০২১
নিবন্ধ

প্রতীক্ষা (Wait)

কর্তব্য আর দায়িত্বের চৌম্বকবলয়েরআকর্ষণকে উপেক্ষা করে, কখনোডানা মেলতে পারেনি স্বপ্নালু মন।একরাশ হতাশাকে সঙ্গী করেবিমর্ষ বসন্ত ফিরে গেছে বারবার;দারিদ্র্যের অকৃত্রিম মাধুর্যে ভরেছে জীবন।প্রকাণ্ড বৃক্ষের গা বেয়ে ওঠা বেজন্মাগুল্মের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নকেনিমেষে শুকিয়ে দেয় গ্রীষ্মের আঁচ।নৈরাশ্যের চাদরের আড়ালে,বিপ্লবী মনের বিদ্রোহের আগুনের ধোঁয়ায়ঝাপসা হয় জানলার কাঁচ।বাষ্পীভূত অশ্রু মেঘ হয়েফিরে আসে না আর,অপেক্ষায় কালবৈশাখী।উদ্ভ্রান্ত প্রেম সুদূর সাহারাররংচটা তপ্ত বালুর মতোই নিঃসঙ্গ, একাকী।আশা নিরাশার দোলাচলে,চাওয়া-পাওয়ার চোরাস্রোতনেমে আসে শহরে, নগরে,ধূলি-ধুসরিত গ্রামের প্রান্তরে,সমাজের অভ্যন্তরে, লক্ষ লক্ষমানুষের অন্তরে।খসে পড়া নক্ষত্রের পাশে,ছায়াপথ ধরে হেঁটে আসে অপূর্ণইচ্ছার ক্লান্ত মিছিল।দীর্ঘশ্বাসে ভরা চার দেওয়ালেরচৌহদ্দি ডিঙিয়ে, অসীম নীল সামীয়ানারনীচে পৌঁছানোর পথ বড় বন্ধুর, বড় পিচ্ছিল।তবু টের পাই বুকের মাঝে,পদ্মপাতায় টলমল করা শিশিরেরমত একটা সুপ্ত আশা।শেষ থেকে শুরু করারক্ষীণ প্রয়াস বাড়িয়ে দেয়এক মুঠো আয়ু, জাগে প্রত্যাশা।সূর্যের আদরে রাঙানো,উদ্দীপনায় ভরপুর, সুস্থ, প্রাণোচ্ছল,একটা তাজা সকালের অপেক্ষা।হৃদয়ের আলোকপ্রাপ্তির পর,অনুভবে অসীম শুন্যতায়বিলীন হওয়ার প্রতীক্ষা।লেখকদীপক কুমার মণ্ডলআরও পড়ুনঃ পাবলিকআরও পড়ুনঃ বিকল্প

অক্টোবর ১৯, ২০২১
নিবন্ধ

Daughter: কন্যা রুপেন সংস্থিতা

নীল আকাশের মহাসাগরে যখন সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে দিত কেউ, শরৎ তার অরুণ আলোর অঞ্জলি দিয়ে ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায় খেলতো লুকোচুরির খেলা, শিউলিবনের বুক উঠতো চঞ্চল হয়ে--- তখনই একদিন খবরকাগজে পাতাজোড়া পুজোয় চাই নতুন জুতো, আর শারদীয়া আনন্দমেলার আনকোরা নতুন বিজ্ঞাপনে প্রফেসর শঙ্কু বয়ে আনতেন দেবীপক্ষের প্রথম আলোর চরণধ্বনি।সেই মোলায়েম পূজো পূজো গন্ধ বাড়তে বাড়তে একসময় ম ম করতো চরাচর। স্কুল ঝাঁপ ফেললেই জলপাইগুড়ির বন্ধুমহল, সেজে ওঠা পাড়ার মন্ডপ, নিতাই পালের আস্তানায় অপরূপা মৃণ্ময়ী মাতৃপ্রতিমাদের ফেলে রেখে-- পর্যায়ক্রমে ট্রেন-বাস-গোযান বাহিত হয়ে, পঞ্চমী কি ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় পৌঁছে যেতাম বর্ধমান থেকে গোটা তিরিশ কি.মি. দূরে নারায়ণপুর গ্রামে।আরও পড়ুনঃ শারদঅর্ঘ্যপরের চারদিন কোথা দিয়ে যে কেটে যেত আরতি-অঞ্জলি-পূজো-প্রসাদের পৌনঃপুনিকতায়! গ্রামের গুটিকয় বন্ধুর সাথে সেরে ফেলতাম ফেলে আসা বারো মাসের সালতামামি; আর এই সব করতে করতেই কোথা দিয়ে পূজো শেষ। ঢাকিরা বোল তুলত -- ঠাকুর থাকবি কতক্ষণ ঠাকুর যাবি বিসর্জন! দশমীর নিশুতি রাতে বিসর্জনের পর বুকটা সত্যি খাঁ খাঁ করতো অজয় নদের শূণ্য চরের মতো, খেতে বসে বার বার ঢোঁক গিলে সামলে নিতাম উপচে আসা চোখের জল।বড় হয়ে পূজো শেষের এই মনখারাপটা কেটে গেল। মনকে সহজেই বোঝাতে পারতাম-- মা তো যাননি কোথাও; আছেন তো সারাক্ষণ আমার পাশেই!তুমি যে চেয়ে আছো আকাশ ভরে,নিশিদিন অনিমেষে দেখছো মোরে...চলমান জীবনের প্রতি পলে আজ অনুভব করি তাঁর কল্যাণময়ী স্পর্শ। মণ্ডপের মৃণ্ময়ী মাতৃমূর্তি চিন্ময়ীরূপে অনুক্ষণ আচ্ছন্ন করে রাখেন চেতন ও মনন।আরও পড়ুনঃ বাজলো তোমার আলোর বেণুপূজো আসে, পূজো যায়..... ২০০২ -এ তিস্তা এলো আমাদের ঘরে। তার পৃথিবীর আলো দেখার আগে নানা জটিলতার জন্য চারবার আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে হয়েছিল রূপার; কিন্তু আগেভাগে অনাগত সন্তানের লিঙ্গ জেনে ফেলতে ব্যাকুল হইনি আমরা কেউই। মেয়ের মুখ প্রথম দেখার শুভক্ষণটি মনে হয়েছিল জীবনের সেরা মুহূর্ত, যে স্বাদের ভাগ হবে না কোন দিনও!পূজোমন্ডপ হরগৌরীতলায় হামাগুড়ি দিয়ে... হোমের কৃষ্ণতিলক হাতের তেলো দিয়ে কপালময় লেপে নিয়ে... বাবার কাঁধে চড়ে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় সামিল হয়ে... ঢাকের গায়ে ছোট্ট হাতের এলোমেলো চাঁটি মেরে... নবমীর দুপুরে হোমাগ্নির ধোঁয়ায় চোখ কচলে লাল করে... ভোরের শিউলি বিছানো গাছতলায় ফুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে, একটু একটু করে পাপড়ি মেললো আমার ছোট্ট তিস্তা।আরও পড়ুনঃ তোমাদের মনের মতো রঙীন পূজাবার্ষিকী-- আনন্দমেলাসন্ধ্যারতির সময়, ঢাক-কাঁসর-ঘণ্টা-সানাই-র ঐকতানে, ফুলের মালা-দীপের আলো-ধুপের ধোঁয়ার প্রেক্ষাপটে, আত্মজার মধ্যে যেন আজ ফুটে উঠতে দেখি জগন্মাতার অগ্নিময়ী রূপকল্পেরই এক প্রোজ্জ্বল খন্ডাংশ। মনে হয় মা উমা যেন ঘরের মেয়েটি হয়ে খেলে বেড়াচ্ছেন আমাদের ছোট্ট ঘরে। শরনাগতদীনার্তপরিত্রাণপরায়ণা সর্বস্যার্তিহরা দেবী নারায়ণী যেন ভালবাসার টানে আলো করছেন আমাদের আতুর আঙিনা.... তাই তোমার আনন্দ আমারপর, তুমি তাই এসেছ নীচে....আরও পড়ুনঃ পুজো শুরু হয়ে গেলঅবাক হয়ে দেখি, কাকতালীয়ই হবে নিশ্চয়, আমার স্কুল-কলেজ-কর্মস্থলের বেশীর ভাগ সমবয়সী বন্ধুরই ঘর আলো করছে এক একটি কন্যাসন্তান। তাদের মেয়েবেলার উজ্জ্বল সংকেত ভেসে আসে আন্তর্জালে। এদের সব্বার মধ্যে জ্যোতির্ময়ী মহামায়ার পরমা শক্তির উদ্বোধন হোক, মেধা-প্রতিভা-সাফল্যের পবিত্র হুতাশনে পূব আকাশ উঠুক রাঙা হয়ে!লেখকঃ ডঃ সুজন সরকারবর্ধমান।

অক্টোবর ১৬, ২০২১
নিবন্ধ

Durga Puja: পুজো শুরু হয়ে গেল

আধো ঘুমের মধ্যে ঢ্যাম কুড়কুড় ঢাকের আওয়াজ কানে আসছিল অনেকক্ষণ ধরেই, শেষ পর্যন্ত চোখ খুলতেই হোলো। আধখোলা জানালার ওপারে ফর্সা আকাশ... সামান্য ফুরফুরে হাওয়া... মনে পড়ে গেল আজ সপ্তমী --- সাড়ে ছটার মধ্যে স্নান সেরে তৈরী হয়ে নেওয়া চাই, সোয়া সাতটায় কলাবউ স্নান করিয়ে ঘট আনতে যেতে হবে।দাঁত মাজা ... মুখ ধোওয়া... বাথরুমে চার পাঁচ মগ জল ঢেলে কাকস্নান ... তারপর নতুন কাপড় পড়ে নিয়ে সোজা চাতোর-এ। চাতোর হোলো চত্বর-এর অপভ্রংশ, আমাদের পারিবারিক পুজোর ঠাকুরতলা ও সংলগ্ন খোলা জায়গাটুকু। শতাব্দীপ্রাচীণ এক বিরাট অশ্বথ্থ গাছের ছায়ায় (আমার নব্বই-ছুঁইছুঁই বাবাও শৈশবে একে এই চেহারাতেই দেখেছেন) এই দেবীমন্ডপে মা হরগৌরী পূজিত হয়ে চলেছেন --- ঠিক কত বছর কেউ জানে না, শদুয়েক বছর আগে পর্যন্ত পাওয়া গেছে লিখিত প্রমাণ।আরও পড়ুনঃ শারদঅর্ঘ্যসবুজ-গোলাপী কাঠের পালকি ( এরও বয়সের গাছপাথর নেই , কারণ আমি জ্ঞান হওয়া ইস্তক ঠিক এমনটিই দেখছি একে) পুকুরে চুবিয়ে এনে নামানো হয়েছে মন্ডপের সামনে। পাড়ার দুই কিশোর স্নান সেরে ফর্সা কাপড়ে গামছা-সহ তৈরী তাকে কাঁধে নিতে। আমার কৈশোরে বছর ছয়েক আমিও বাহক হয়েছি এই চতুর্দোলার। এক প্রজন্ম থেকে দোলা বওয়ার দায়িত্ব বর্তাচ্ছে পরের প্রজন্মে, যুগ যুগ ধরে।নানা বয়সী কাকীমা-মাসিমা-বৌ-ঝি-কাচ্চাবাচ্চায় জমে উঠেছে চাতোর। পুরোহিত বুড়োদা ও তন্ত্রীধারক নুপুরদা ধরাধরি করে কলাবউকে শুইয়ে দিল দোলায়। তারপর ঢাকের বাদ্যি আর কাঁসরঘন্টার ঝনঝনাৎকারের মধ্যে রওনা হলাম সবাই --- শুরুতেই ধুনুচি হাতে এক দাদা, তার পর পালকিতে কলাবউ, তার পিছে আম্রপল্লবসহ শূণ্য পিতলের কলসী কাঁখে আমরা তিনজন, পিছু পিছু বাজনদার-পুরোহিত-ছেলেমেয়ে-এঁড়িগেঁড়ির দল।আরও পড়ুনঃ বাজলো তোমার আলোর বেণুগ্রামের পথে সাতসকালের এই শোভাযাত্রা এঁকেবেঁকে এগিয়ে চললো কারো সাষ্টাঙ্গ প্রণাম, কারো জোড়হাতের নমস্কার নিতে নিতে। মাঝপথে সিংহবাড়ির মন্ডপের সামনে থেমে গিয়ে পালকিতে তুলে নেওয়া হোলো তাঁদের কলাবউকেও। পদযাত্রা শেষ হোলো গ্রামের মাধ্যমিক স্কুলের পাশে বাঁধাপুকুরে গিয়ে।পুরোনো দিনে গ্রামের পানীয়জল ও পুজোর ক্রিয়াকর্মের জন্য ব্যবহৃত হতো এই চতুষ্কোণ পুকুরটি; একমাত্র এটিতেই ছিল শাণবাঁধানো ঘাট --- তাই এর নাম বাঁধাপুকুর। ঘাটের শানে পালকি ও ঘট নামানো হোলো; কলাবউ ও পুজোর সামগ্রী নিয়ে চার পুরোহিত নেমে গেলেন হাঁটুজলে; চলতে লাগলো মন্ত্রোচ্চারণ; ধুনুচির ধোঁয়া পাক খেতে খেতে উঠতে লাগলো উপরপানে।বাজিয়ে-রা ঢাক মাটিতে নামিয়ে হাঁফ ছাড়ছে, ঘাম শুকোচ্ছে গামছা নেড়ে নেড়ে। মাঝবয়সী পুরুষেরা চেয়ে আছে পুজোপাঠের দিকে, কেউ কেউ ধোঁয়া ওড়াতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। কুচোকাঁচাগুলো বেশীরভাগই বেঢপ মাপের রঙবেরঙের পোশাকে ছুটোছুটিতে মত্ত ... খেলনাপিস্তলে ক্যাপ ফাটছে চটরপটর... একটু বড় মেয়েরা চুড়িদার-স্কার্ট-ঘাগরা সামলাতে ব্যস্ত... চড়া লিপস্টিক-ঝুটো গয়না-শিরোভূষণে গরবিনী... কারো কারো চোখে রহস্যময়ী হাসির ঝিলিক.... নবীন কিশোরের দল জটলা করে আছে একটু দূরে, তাদের মনোযোগ মূলতঃ এদিকপানেই...আরও পড়ুনঃ তোমাদের মনের মতো রঙীন পূজাবার্ষিকী-- আনন্দমেলাবাঁধাপুকুর থইথই করছে; সেই আটাত্তরের বন্যার পর এতো জল দেখি নি আর কখনো। দফায় দফায় প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে এবার, ঘাটের প্রথম পৈঠে অবধি ডুবে আছে তাই। চারদিক সবুজে সবুজ; কচুরিপানা-পাতাঝাঁঝি-শাপলা-ঢোলকলমীরা দখল নিয়ে নিয়েছে অনেকখানি জলের। দুটো শালুক ফুটে রয়েছে খুব কাছেই। আর পাতাঝাঁঝির ছোটো ছোটো সাদা ফুলে সমাচ্ছন্ন ঘাটের সামনেটা। ভীমরুল-মৌমাছি-প্রজাপতি ঘুরছে ফুলে ফুলে; জল ছুঁয়ে ছুঁয়ে উড়ছে লাল-হলুদ-নীল জলফড়িং। পুকুরের ওপাশে ভেসে আছে জলচর পাখি অনেকগুলো। কটা ফিঙে আর বাঁশপাতি উড়ছে ফরফরিয়ে। জলের ওপর জেগে থাকা শুকনো ডালে এত কলরবের মধ্যেও অটল স্থৈর্যে বসে আছে উজ্জ্বল নীল একটা মাছরাঙা।এইসব দেখছি, আর চোখ চলে যাচ্ছে পুকুরের পাশে একটা পাকুড়গাছের দিকে। একসময় ঐ গাছটি নাকি এ গ্রামের প্রিয় আত্মাহুতিস্থল ছিল--- অনেক মানুষ (তার মধ্যে ছোটোবেলায় দেখা আমাদের এক পুরোহিতঠাকুরও ছিলেন) ঐ গাছের ডাল থেকে ঝুলে পড়ে ভবসংসারের মায়া কাটিয়েছেন। ওঁরা কি দেখছেন, অদৃশ্য থেকে, আজকের এই প্রাণের মেলা?এসবের মধ্যেই পুজোপাঠ শেষ। কলাবউরা উঠে এলেন পালকিতে; পেতলের কলসিতে জল ভরে নিয়ে আম্রপল্লব স্থাপন করে মাথায় তুলে নেওয়া হোলো। গামছার ওপর ভারী কলসি সামলাতে সামলাতে পা মেলালাম পদযাত্রায়। ঠাকুরপুকুরের পাশ দিয়ে, পথের পাশে ঘাস চিবোতে থাকা গরু-ভেড়া-ছাগলদের কৌতুহল উদ্রেক করে, নবপত্রিকা চললেন মন্ডপের দিকে। পথের ওপর ভীষণ মন খারাপ করে শুয়ে বসে থাকা নেড়িগুলো সচকিত হয়ে ছুটলো সামনে সামনে। বাগ্দীপাড়ার মুখে দুটি বৌ পথে জলের ঘটি রেখে উপুর হয়ে প্রণাম করলো কলাবউদের--- এই ক্ষণিকের বিরতিটুকু ছাড়া চতুর্দোলা ফিরে এলো তরতরিয়ে।পুজো শুরু হয়ে গেল।লেখকঃ ডঃ সুজন সরকারবর্ধমান।

অক্টোবর ১৪, ২০২১
নিবন্ধ

Magazine: 'তোমাদের মনের মতো রঙীন পূজাবার্ষিকী -- আনন্দমেলা ' ---

খবরকাগজের প্রথম পাতার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে তিন কলম জোড়া বিজ্ঞাপনটা দেখা দিলেই বুকের ভেতর ঢ্যাম কুড় কুড় ঢাকের বাদ্যি। তখনো মেঘমল্লারে সারা দিনমান বাজে ঝরণার গান... সন্ধ্যায় কাছেপিঠে জলজমা মাঠ-ঝোপ-নয়ানজুলি থেকে ব্যাঙেদের ঐকতান ... কখনো আকাশ অংশতঃ মেঘাচ্ছন্ন... ভিজে জুতোর ভ্যাপসা গন্ধে বারান্দা লুকোচ্ছে জলে ভেজা মুখ--- তবু প্রফেসর শঙ্কু-র নতুন কাহিনীর ঘোষণা দেখলেই মনের আকাশে মেঘ জমা শেষ হতো, বুকের মাটিতে ঝরে পড়তো একরাশ শিউলিফুল।আর দুচারদিন পরেই শারদীয়া দেশ পত্রিকার কার্টেন-রেজার। প্রধান আকর্ষণ ফেলুদা-র নতুন উপন্যাস-- প্রথমদিকে প্রতি বছর, পরের দিকে এক বছর অন্তর দেখা দিতেন গোয়েন্দা প্রদোষচন্দ্র মিত্র। বাকি নীললোহিত-কালকূট-রমাপদ চৌধুরী-দিব্যেন্দু পালিত-দের নিয়ে ঔৎসুক্য ছিল না সেই অমল কৈশোরে; ফেলুদা একাই একশো!তারপর শুধুই দিন গোনা-- একসময় বর্ষারাণীর বিদায়... শরৎ তার অরুণআলোর অঞ্জলি নিয়ে মোহন অঙ্গুলি ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়তো চরাচর জুড়ে... মহালয়ায় আলোর বেণু বেজে উঠলেই আত্মপ্রকাশ করতো একঝাঁক শারদীয়া-- আনন্দমেলা-শুকতারা-কিশোর ভারতী...আরও পড়ুনঃ শারদঅর্ঘ্যআমার শারদীয়া সাহিত্যের প্রথম শৈশবস্মৃতি ১৯৭৫-এর শারদীয়া আনন্দমেলা। তখনো আনন্দমেলা মাসিক পত্রিকা হয়ে দেখা দেয় নি, সপ্তাহের এক বিশেষ দিনে দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার শেষ পাতাতেই শুধু দেখা যেত তার হাসিমুখ। সেবারের সেই শারদীয়াটিতে ছিল মতি নন্দীর স্ট্রাইকার, গৌরকিশোর ঘোষের দুষ্টুর দুপুর, সত্যজিত রায়ের কর্ভাস,দুর্দান্ত একখানি রহস্যকাহিনী লা(লেখকের নাম মনে নেই )... শেষদিকে চমৎকার একটি ধাঁধার পাতা।এই শারদীয়া আনন্দমেলাতেই আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলা কিশোরসাহিত্যের কতো মণিকণা। বিশেষতঃ আজো ভুলতে পারি না ১৯৮০ সালের বইটি-- মনরো দ্বীপের রহস্য (সত্যজিত রায় ).. গজ উকিলের হত্যারহস্য (আশাপূর্ণা দেবী ).. গোঁসাইবাগানের ভূত (শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়).. গুগুনোগুম্বারের দেশে (বুদ্ধদেব গুহ).. ডুঙ্গা (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়).. টোরা আর বাদশা (শৈলেন ঘোষ)!!ভোলা যাবে না শারদীয়া কিশোর ভারতী-ও I আটটি উপন্যাসের সমাহারে অষ্টবজ্রসম্মেলন..নয়টি বড়গল্প নিয়ে নবরত্নসমাবেশ... কয়েকটি বিভাগে গাঁথা থাকত তার মালা। সুদূর মফস্বলে থেকে প্রতিবছর হাতে না পেলেও শারদীয়া কিশোর ভারতী-ই আমায় দিয়েছিল ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান-এর জীবন নিয়ে বাজাও আমারে বাজাও-এর মতো মহৎ কাহিনী.. ভালুক-বালক ভাবা-কে নিয়ে সুখপাঠ্য উপন্যাসগুলি..বিন্তির চাল...আরও পড়ুনঃ বাজলো তোমার আলোর বেণুতবে আমাদের ছোটবেলার পুজোসাহিত্যের অন্যতম সেরা আকর্ষণ ছিল দেব সাহিত্য কুটির -প্রকাশিত হার্ড-বাঁধাই পূজাসংকলনটি। কোনোবার তার নাম হতো মণিহার, কোনোবার অলকানন্দা ..বলাকা .. উত্তরায়ন .. উদ্বোধন ...। বাংলাভাষার জনপ্রিয় লেখকলেখিকাদের একগুচ্ছ উপন্যাস-গল্প-প্রবন্ধ-ছড়া-কার্টুন উপচে পড়তো তার পাতায় পাতায়। বগলামামার গল্পগুলি পড়ার জন্য প্রতিবছর অপেক্ষায় রইতাম অধীর আগ্রহে। এখানেই পড়েছিলাম সমরেশ বসুর অদ্বিতীয় গোগোল-গাথা সোনালী পাড়ের রহস্য বা থর হেইয়েরডাল-এর বালসা কাঠের ভেলায় চড়ে অতলান্তিক মহাসাগর পেরোনোর অবিশ্বাস্য বৃত্তান্ত কনটিকি এক্সপিডিশন।স্কুলের গন্ডী ছাড়াতে ছাড়াতে আগ্রহ সরে আসতে শুরু করলো বড়দের পত্রিকায়; তবে প্রথমদিকে তা আটকে ছিল শারদীয়া দেশ-এই। পরে একে একে দেখা দিল শারদীয়া আনন্দবাজার পত্রিকা ..আজকাল ..বর্তমান ..প্রতিদিন ..পত্রিকা ..ভ্রমণ ..সানন্দা ..দক্ষিণী বার্তা ...। শারদীয়া নবকল্লোল বা প্রসাদ সে ভাবে পড়া হয়ে ওঠে নি কোনোদিন, কিন্তু বাকিগুলির জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকি এখনো। এবছর নতুন করে ধরলাম কৃত্তিবাসী শারদীয়া--চমৎকার হয়েছে।১৮৭২ সালে, অর্থাৎ প্রায় দেড়শো বছর আগে নাকি সাপ্তাহিক পত্রিকা সুলভ সমাচার প্রথম প্রকাশ করেছিল শারদ সংখ্যা, নাম ছুটির সুলভ --- সম্পাদক কেশবচন্দ্র সেন। রবীন্দ্রনাথও উৎসাহী ছিলেন শারদসাহিত্য নিয়ে। পুজো উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, তাঁর নিজের সম্পাদনার সাধনা পত্রিকায় আমরা পেয়েছি ল্যাবরেটরি ,রবিবার , মেঘ ও রৌদ্র , তিনসঙ্গী, অতিথি ইত্যাদি গল্প, ও বেশ কিছু কবিতা। একেবারে শুরুতে আলাদা সংখ্যা নয়, বরং বিশেষ ক্রোড়পত্র হিসেবেই আসত শারদ প্রকাশনা। তারপর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে তার নিজস্ব মহিমা; শারদপত্রগুলি হয়ে ওঠে বাংলা সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।আজকের বঙ্গীয় সাহিত্য শারদসংখ্যা ছাড়া ভাবা যায় কি? অনেক অভিযোগ আছে বিদগ্ধমহলে এদের বিরুদ্ধে -- বেশির ভাগই নাকি অর্ডারি লেখা... তেমন কালোত্তীর্ণ সৃষ্টি নয়... অনেক লেখাই রগরগে, সুড়সুড়ি দেওয়া... বানিয়ামনোভাবাপন্ন ... ইত্যাদি ইত্যাদি। বাজার ধরতে শারদসংখ্যা প্রকাশ আজকাল শুরু হয়ে যায় আগস্ট মাস থেকেই! দামও বাড়তে বাড়তে আজ কালের নিয়মেই দুশো ছুঁই ছুঁই। তবু সাধ আর সাধ্যের মধ্যে সাযুজ্য রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পত্রিকা...বর্তমান ( ৬০/-)... এই সময় ( ৫০/-)... I মনে পড়ে যায় আট ও নয়ের দশকে প্রথম প্রকাশের দিন কুড়ি শতাংশ ছাড়ে শারদসংখ্যা কেনার জন্য আনন্দবাজার পত্রিকার অফিসের সামনে ভোর থেকে শয়ে শয়ে মানুষের সেন্ট্রাল এভিনিউ ছোঁয়া লাইন!আজকের বাণিজ্যসফল লেখকদের অনেকের সৃষ্টিই আমায় তেমন টানে না। বরং ভালো লাগে তাঁদের লেখা, যাঁদের যাতায়াত মূলতঃ গল্পের দুনিয়ায়। এঁদের কেউ কেউ আমার কমবেশি বন্ধুস্থানীয়-- শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়-ইন্দ্রনীল সান্যাল-সাত্যকি হালদার -মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য -দোলনচাঁপা দাসগুপ্ত -প্রাবন্ধিক দেবাঞ্জন সেনগুপ্ত ও শুভায়ু বন্দ্যোপাধ্যায়...। প্রতি পুজোয় পথ চেয়ে থাকি এই বন্ধুরা কোথায় কী লিখলেন; কী নতুন সৃষ্টি করলেন বাণী বসু-প্রফুল্ল রায়-হর্ষ দত্ত -স্বপ্নময় চক্রবর্তী-ভগীরথ মিশ্র-তপন বন্দ্যোপাধ্যায়-ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়-আবুল বাশার-আফসার আমেদ-নলিনী বেরা-অমর মিত্র-জয়া মিত্র-রমানাথ রায়-প্রচেত গুপ্ত -অভিজিত তরফদার -সিজার বাগচী -উল্লাস মল্লিক ...। পরিণত বয়সেও থেমে নেই শংকর-বুদ্ধদেব গুহ-সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়-সমরেশ মজুমদার-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়-এর কলম। প্রবন্ধ-সম্ভারও শারদসাহিত্য মেলায় এখন অঢেল। পুজোয় জামাকাপড় যাই কেনা হোক না হোক, শারদীয়া জোটাই যতগুলি পারি! এই অধমের লেখাও (মূলতঃ ভ্রমণকথা) ক্ষমাঘেন্না করে প্রকাশ করেন কিছু লিটল ম্যাগাজিন, সেইসব নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিই প্রাণভরে।সব নিয়ে বেশ আছি। প্রতি বছর বইগুলি হাতে পেয়ে প্রথমেই শেষ করি শারদীয়া ভ্রমণ, আমার হৃদয়তন্ত্রীতে মিশে যাওয়া ভ্রমণপিপাসার টানে। তারপর কাজকম্মের ফাঁকে ফাঁকে গোগ্রাসে গেলা একটার পর একটা শারদীয়া! ছোটবেলায় দুএকটি বই নিয়ে টানাটানি ছিল ভাই বোনেদের মধ্যে, বন্ধুদের কত না ভজিয়ে জোগাড় করে পড়তাম আরো কিছু। আজ সহজেই কিনে ফেলতে পারি যাবতীয় শারদসম্ভার, কিন্তু হায়, এখন আর সময় জোটে না তাদের মধ্যে ডুবে থাকার! শুধু স্বপ্ন দেখি--অনেকদিনের পর মিলে যাবে অবসর, আশা রাখি পড়ে ফেলবো নিঃশেষে, যা যা বাকি রয়ে গেল!লেখকঃ ডঃ সুজন সরকারবর্ধমান।

অক্টোবর ১১, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace : রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

গল্পের মাঝে এসে হাজির চা আর পকোড়া। কারোর সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই,সবাই বিভোর হয়ে রয়েছে গল্পে।মামা থেমে বললেন নে সবাই চা টা খেয়ে নে তারপর আবার শুনবি।সবাই একসাথে বলে উঠলো চা খেতে খেতেই শুনি।তুমিও চা খেতে খেতে বলে যাও।বেশ বাবা বেশ তাই হবে, বলে মামা হাসলেন।আবার শুরু করলেন---এরপর কেটে গেছে অনেক গুলো বছর, হয়েছে অনেক পরিবর্তন।জমিদার বাবু নেই,বড়ো ছেলেও নেই সব কিছু তখন আমার দাদুর ঘাড়ে। আর শক্ত হাতে হাল ধরে রয়েছেন গিন্নি মা।একদিন হটাত ধূমকেতুর মতো একমুখ দাড়ি গোঁফ নিয়ে হাজির ছোট চন্দ্র আর ঘটনা চক্রে সেদিন গ্রামের প্রায় শেষ সীমানায় একটা মরা পুকুর থেকে পাওয়া যায় একটা কঙ্কাল। পুকুরটা এখন মজে গেছে ঠিকই কিন্তু একসময় এর গভীরতা ছিলো অনেক। গ্রামের যারা এখন মধ্যবয়স্ক তারা চাপা গুঞ্জন তুলল যে ওটা সেই ভবানী ঠাকুরের মেয়ের, যে হটাত করেই হারিয়ে গেছিল।এ খবর জমিদার বাড়িতেও পৌঁছালো, কিন্তু সেখানে তখন ছোটোবাবুর আসার আনন্দ।তবু গিন্নিমা বলে উঠলেন মহাদেবের মনে কি আছে তিনিই জানেন আজই আমার চন্দ্রও ফিরে এলো।চন্দ্র এসে কিন্তু চুপচাপই রয়েছে।মায়ের সঙ্গে টুকটাক কথা বলছে। এর মাঝে যখন গ্রামের পুকুরের খবরটা এলো সে হটাত অস্থির হয়ে উঠলেন। তারপর নিজের ঘরে গিয়ে সেই যে দরজা দিলেন আর খুললেন না।হরিয়া তো ছোটো বাবু কে দেখে খুব খুশী হয়ে তাকে বললো দেখো ছোটবাবু হামি সব ঠিক রেখেছি।তুমার উয়ো ছবি সব একদম ঠিক আছে।হরিয়ার দিকে তাকিয়ে হেসে ঘরে ঢুকে গেছিলেন তিনি।রাতে কিছু খায়নি সে।দরজাও খোলেনি।সকালবেলা অনেকবেলা পর্যন্ত দরজা না খোলায় আর ভিতর থেকে কোনো আওয়াজ না পেয়ে দরজা ভেঙে ঢুকে দেখা গেলো শ্যামার ছবি বুকে নিয়ে চন্দ্রশেখরের নিথর দেহ শুয়ে আছে।গিন্নিমা শুধু বললেন ও শান্তি পেল, ভবানী ঠাকুরের অভিশাপ ফলতে লেগেছে।এরপর সত্যি কোনো ছেলে তিরিশ পেরোয়নি।শুধু আমি টিকে আছি। যখন আমার চাঁদ এলো তখন আমি বুঝলাম এবার হয়তো আমাদের অপেক্ষার অবসান হবে।কিন্তু সেটা যে উজানের বন্ধু হয়ে আমার বাড়িতে আসবে ভাবিনি।ভাবনা একটা হতো যে কিভাবে সে আসবে।চাঁদ ও ছোটো থেকে মানে তরুন বয়স থেকে স্বপ্নে ওর মুখ আবছা দেখতে থাকে।এবার মা রাশি আমাকে বলতো তোর এখানে এসে কি মনে হয়েছে?রায়া বলে ওঠে ও তো এসে থেকেই বলে যাচ্ছে আমি আগে এসেছি, এখানে এটা আছে, ওখানে ওটা ছিলো।মামা বললেন যেমনবাগানে ঘুরতে ঘুরতে পিছন দিকে এক জায়গায় বলল এখানে একটা আম গাছ ছিলো ।তারপর ছাদের ঘরে যাওয়া তো আমরা সবাই দেখলাম ।এরপর আর কোনো সন্দেহ থাকার জায়গাই নেই যে ও শ্যামা।রাশি আর চাঁদ এবার দুজনেই একে একে বলল যে আমরা তো দুজনে দুজনকে দেখেই চিনেছি এ স্বপ্ন তে দেখা সেই মুখ যা আমাদের জীবনকে রহস্যে মুড়ে রেখেছিল।এবার মামা বললেন একবার রাশির মা বাবার সঙে কথা বলতে হবে, আমাকে ওনাদের ফোন নম্বর টা দে।আচ্ছা রাশি তোকে ছাদে কে নিয়ে গেছিল?একজন বয়স্ক লোক ।হ্যাঁ মনে পড়ছে না ঠিক----- হ্যাঁ হ্যাঁ হরিয়া।হ্যাঁ হরিয়া ছাড়া আর কে হবে? ওই নাকি দীর্ঘদিন ঐ ঘর দেখে শুনে রাখত আর ঐ ঘরের সামনেই নাকি মরে পড়েছিল ।যাক মহাদেবের অসীম কৃপায় আজ আবার যে দুজন কে পেয়েছি, এবার আর কোনো ভুল করতে চাই না। আমি আজই রাশির বাবা মা কে ফোন করবো। সেরকম হলে ওনাদের এখানে আসতে বলবো।সবাই কিন্তু চুপচাপ হয়ে গেছে সেই সময়ের এই বেদনা বিধুর প্রেমের কাহিনী শুনে।রাশির চোখে জল, চাঁদ কখন যেন রাশির পাশে এসে বসেছে।যেন দুজনে ফিরে যেতে চাইছে সেই সুদূরে যেখানে ওদের প্রেম প্রকাশ পাওয়ার আগেই মুছে গেছিল।সমাপ্তলেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

অক্টোবর ১০, ২০২১
নিবন্ধ

Saradarghya: শারদঅর্ঘ্য

উত্তাল তরঙ্গভঙ্গ হেলায় তুচ্ছ করে এগিয়ে চলেছে রঙবেরঙের এক ময়ূরপঙ্খী, তাতে সওয়ার ঢাক -ঢোল -সানাই নিয়ে এক দল গাইয়ে বাজিয়ে... মাথার ওপর উজ্জ্বল সূর্য... এক কোণে সেই পরিচিত দুলাইনের লোগো --- শারদঅর্ঘ্য!আটাত্তরের এইচ.এম.ভি.-র পুজোর গানের বইয়ের প্রচ্ছদ, যদ্দূর মনে পড়ে, ছিল এমনই। বিধ্বংসী বন্যায় সেবার রক্তাক্ত হয়েছিল সারা বাংলা; তবু তার মধ্যেও পূজো এসেছিল, মা এসেছিলেন অনিঃশেষ বৃষ্টিতে শ্যাওলা পড়ে যাওয়া গ্রামের আটচালায়.. লাশ ভাসার ছবি সরে গিয়ে খবরের কাগজের পাতায় শেষ পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল নৌকোয় রওনা দিয়েছে মাতৃপ্রতিমা... কলা-পেয়ারা -ভেজা মটর -পানিফলের সামান্য উপচার দিয়েই সাজানো হয়েছিল ফল প্রসাদের থালা... আর লতা মঙ্গেশকরকে দিয়ে সলিল চৌধুরী গাইয়েছিলেন আজ নয় গুণগুণ গুঞ্জন প্রেমের / চাঁদ ফুল জোছনার গান আর নয় / ওগো প্রিয় মোর খোলো বাহুডোর / পৃথিবী তোমারে যে চায়...সেই শারদঅর্ঘ্য! দেশ-আনন্দমেলা-কিশোরভারতী-শুকতারা-নবকল্লোলের পুজোবার্ষিকীর চাইতে তার আকর্ষণ কি ছিল কিছু কম? মোটা দামী কাগজে ঝকঝকে ছাপা তকতকে ছবি মোড়া গোটা পঞ্চাশ পাতার বইটি নিয়ে কাড়াকাড়ি করতাম মামাতো দিদিদের সঙ্গে (তারা সবাই ছিল কম বেশি গাইয়ে, কাজেই সে বইয়ের অধিক হকদার!) পুজোর কদিন আগে জলপাইগুড়ি থেকে এসে পড়তাম বর্ধমানে মামার বাড়ি। সবার প্রিয় সেজমামা ততদিনে দূর্গাপুর থেকে তার এইচ.এম.ভি ফিয়েস্টা রেকর্ডপ্লেয়ার আর নতুন কেনা এক গুচ্ছ এল.পি ও ই.পি রেকর্ড নিয়ে এসে পড়েছে--- তারপর সারাদিন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেই সব হেমন্ত -কিশোর -মান্না - লতা - আশা - সন্ধ্যা - আরতি নিয়েই ওঠা বসা!শারদঅর্ঘ্য নেই আজ অনেক দিনপ্রতি পাতায় শিল্পীর সাদা কালো ছবি, রেকর্ডের নম্বর ও টেকনিক্যাল খুঁটিনাটি,গীতিকার -সুরকার -যন্ত্রানুসঙ্গীর নাম, গানের সম্পূর্ণ কথা। আমার ছোটমামা লম্বা খাতায় গোটা গোটা অক্ষরে লিখে রাখত সেই সব গান-- দেখে দেখে আর শুনে শুনে মনে গেঁথে যেত আমাদেরও। দ্বিজেন - পিন্টু -শ্যামল - মানবেন্দ্র, প্রতিমা - জপমালা - সবিতা - বনশ্রী, পূর্ণদাস - নির্মলেন্দু - রুণা লায়লা - স্বপ্না চক্রবর্তী - মিন্টু দাশগুপ্ত ছাপার অক্ষর থেকে বেরিয়ে এসে আবিষ্ট করে রাখতেন।শারদঅর্ঘ্যের পাতায় পাতায় অন্য এক জগতের হাতছানি--- কৃষ্ণচূড়া শোন শোন শোন, সারা বেলা গেল খেলে খ্যাপা হাওয়াতে...কৃষ্ণচূড়া আগুন তুমি ফাগুন ভরা গানে... ..কৃষ্ণচুড়ার বন্যায় চৈতালি ভেসে গেছে ... কৃষ্ণচুড়ার বনে ছায়াঘন পথ --- সব রহস্য যেন চেনা হয়ে যেত, গানে গানে সব বন্ধন যেত টুটে। অদ্ভুত কান্ডও হতো মাঝে মধ্যে। আটাত্তরে লতা মঙ্গেশকর আজ তবে এইটুকু থাক গানে কেন না তাকাতে ভোর হয়ে যাবে না গেয়ে না গাবাতে ভোর হয়ে যাবে গেয়েছিলেন, তা আজো বুঝতে পারি নি, যেমন বুঝে উঠতে পারি নি সেই ভুল গানই এইচ .এম.ভি রেকর্ড হিসেবে প্রকাশ করে দিল কী করে!সাতাত্তরেই সম্ভবতঃ, শারদঅর্ঘ্যের পাতায় প্রথম দেখা দিয়েছিলেন অসামাব্য সুন্দরী এক তরুণী গায়িকা, অরুন্ধতী হোম চৌধুরী--- ইংরেজীতে লেখা হয়েছিল Holme। তাঁর একটি গান ছিল ও পদ্মকলি গো, কার ঢেউয়ে অঙ্গ তোমার দোলে। সে গানের কথার চাইতেও অবাক লেগেছিল এই Holme বানানে। সবাই ভেবেছিলাম নির্ঘাত বিলেত -প্রবাসিনী কেউ হবেন! অনেক পরে, উননব্বই সালে, মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক সচিব থাকাকালীন কলেজ সোস্যালে গাওয়ার অনুরোধ জানাতে গিয়েছিলাম সল্ট লেকে অরুন্ধতী -শিবাজীর ফ্ল্যাটে। চমৎকার মানুষটির সঙ্গে কথাবার্তার সুবাদে জেনেছিলাম, বিলেত নয়, আদতে উনি শিলচরের মানুষ।শারদঅর্ঘ্য নেই আজ অনেক দিন। যশোর রোডে এইচ.এম.ভি.-র বন্ধ কারখানায় এখন প্রোমোটারের থাবা। সন্গীতালয়ের গা বেয়ে ওঠা অশ্বথ্ব -বট -যজ্ঞডুমুরের পাতা দুলিয়ে হাওয়া বয়ে আনে শুধুই সঙ্গীতপ্রেমীদের দীর্ঘশ্বাস। শারদঅর্ঘ্য বয়ে আনা সেজমামাও অকালে চলে গেছে ক বছর হলো।লেখকঃ ডঃ সুজন সরকারবর্ধমান।আরও পড়ুনঃ বাজলো তোমার আলোর বেণু

অক্টোবর ০৯, ২০২১
নিবন্ধ

Public: পাবলিক

পাবলিকপাণ্ডিত্য আমার সব বিষয়েইসে বিজ্ঞান হোক বা ইতিহাস,ফুটবল-ক্রিকেট থেকে শুরু করেরাজনীতি কিংবা মহাকাশ।সরকারের গলদ কোথায়?মুদ্রাস্ফীতি কমবে কিসে?বিড়িতে সুখের টানটি দিয়েবাতলে দি এক নিমেষে।কিভাবে শিল্প হবে কৃষির সাথেবেকার ছেলে চাকরি পাবে,কোথায় পাঁচশ টাকা বেশী দিলেবশীকরণ আরও তীব্র হবে।কোন টোটকায় চাঙ্গা হবেলটকে পড়া অর্থনীতি,তিনশ সত্তর ধারা অবলোপনেকাদের লাভ কাদের ক্ষতি।চন্দ্রযানের বিফলের কারণ?আমপানে কাদের ক্ষতিপূরণ?এন আর সি কেন প্রয়োজন?করোনার কবে টীকাকরণ?হাজার কোটির ঋণখেলাপী,লাদাখ কিংবা গালওয়ান ঘাঁটি,রেশনশপের কেলেঙ্কারি,সেনিটাইজার কোনটা খাঁটি?চিনের সাথে বাণিজ্য নীতি,রামমন্দিরের জমির লড়াই,সুশান্তের মৃত্যুর কারণ,চায়ের আসর তপ্ত কড়াই।আলোচনা, সমালোচনা,যুক্তি, তর্ক, গালমন্দ,সিঙারার সাথে চাটনি পেলেদুহাত তুলে নিত্যানন্দ।আমার ভোটে জেতার পরেএসি গাড়িতে ঘুরছে নেতা।দিনের শেষে আমার হাতেমুদিখানার ধারের খাতা।সংসারতরী বইছে ভাটায়দারিদ্র্যতা মাত্রাছাড়া,সুখপাখী ঐ মগডালেতেজীবনটাই আজ ছন্নছাড়া।লেখকদীপক কুমার মণ্ডল

অক্টোবর ০৮, ২০২১
নিবন্ধ

Durga Puja: বাজলো তোমার আলোর বেণু

বেলা এগারোটা। চেম্বার থেকে বেরিয়ে একটু হেঁটে যাচ্ছিলাম কাছেই। পথে রিক্সা -টোটো-গাড়ি -স্কুটার -বাইক মিলে সে এক হৈ হৈ কান্ড। কান ফাটানো হর্ন ..পথচারীর ক্যাঁচর ম্যাচর ..অ্যাম্বুলেন্সের ঢেউখেলানো আর্তনাদ ..হ্যান্ডমাইকে ইঁদুরমারা বিষ-বটতলার বই -দাদের মলম ....পথের সব গ্যাঞ্জাম সরীসৃপের মতো এপাশ ওপাশ কাটিয়ে এগোচ্ছি। পিঠে মাখামাখি হয়ে আছে মোলায়েম রোদ। ভারী মিঠে তার ছোঁয়া সারা গায়ে এক সুখানুভূতি ছড়িয়ে দিচ্ছে , ছোটবেলার মায়ের আদরের মতো। লহমায় মিলিয়ে যাচ্ছে চারপাশের সব কোলাহল। সকাল থেকে আজ নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ... বাতাসে কেমন একটা পুজো পুজো গন্ধ, ভাদ্রের শুরু থেকেই যে গন্ধে মন উড়ু উড়ু বাঙালীর, শিলচর থেকে শিকাগো.. এডিলেড থেকে এডিনবরা....বাঙালী এক বিদঘুটে জাত, বছরের শুরুতে ক্যালেন্ডার পেয়েই সবার আগে যারা দেখে নেয় এবার পুজো কবে... যাদের অর্থনীতি জাগে বছরে একবারই, এই পুজোকে ঘিরে ... যাদের বার্ষিক দিনপঞ্জী দুভাগে ছড়ানো, পুজোর আগে আর পরে... যাদের মন উসখুস করতে শুরু করে যখনি শ্রাবনের ভরা নদীর কোলে হাসতে শুরু করে শুভ্র কাশের গুচ্ছ! ক্ষান্তবর্ষণ ভোরে পুজোর গন্ধ ভাসতে থাকে মৃদুমন্দ... সে সুবাস দিগদিগন্ত ছেয়ে ফেলে দেখতে দেখতে... যে দিকে চাই পুজো পুজো গন্ধে আকুল করে... চোখের সামনে যেন বদলে যায় মাঠ -ঘাট -ঘরগেরস্তালী... প্রেমেন মিত্তিরের ভাষায়--সব কিছু তার অন্যরকমমানুষ-মাটি-জল,চোখ দিয়ে যে দেখতে জানেতার কাছে কেবল!বছর তিরিশ আগে যখন আমাদের বাস শুরু হয়েছিল বর্ধমানের এই পাড়ায়, কাকডাকা ভোরে রোজ ঘুম ভাঙিয়ে যেত পথের এক গাইয়ে-- জাগো নগরবাসীমুখ করো হাসি হাসিজাগিয়া লও কৃষ্ণনাম রে..।কোনো দিন মুখ দেখি নি তার। আশ্বিনের গোড়ায় সে গান বদলে যেত আগমনীতে--- এবার আমার উমা এলে আর ঘর পাঠাব না বলে বলুক লোকে মন্দ...। আধো ঘুমে সে গান শুনে গলার কাছে কী একটা যেন আটকে যেত... মা আসছেন..পুজো আসছে!মা দুর্গা তো বাঙালীর ঘরের মেয়ে-- সারা বছর উড়নচন্ডী ভুলো স্বামীর ছন্নছাড়া সংসার দশ হাতে সামলে রাখা অসামান্যা, ছেলেপিলে বগলে নিয়ে কটা দিনের জন্য বাপের বাড়িতে হাঁফ ছাড়তে আসা ছাপোষা বউটি! সিংহবাহিনী দশপ্রহরণধারিনী তো নামেই, বাঙালীর কল্পনায় তো আজন্মকাল-- উমারে রাখিয়া বুকেচুমা দিয়া চাঁদমুখেগিরিরানী কেঁদে কেঁদে কয়মা তোরে বিদায় দিতেকাতর আতুর চিতেসদা ভয় কি জানি কী হয়!ভোরের হাওয়ায় আগমনীর সুরে যখন ভেসে আসে-- যাও যাও গিরি আনিতে গৌরী, উমা নাকি বড় কেঁদেছে / দেখেছি স্বপন নারদবচন মা মা বলে কেঁদেছে-- বাঙালীর ঘরে ঘরে মাঝবয়সিনী মায়েদের চোখের পাতা বুঝি আজো ভিজে আসে, পাশে শুয়ে ঘুমে কাদা আত্মজার অনাগত দিনের কথা ভেবে!বাঙালী হরপার্বতী পরিবারকে কোনদিনই সোনার সিংহাসনে হীরের গয়না পরিয়ে সাজিয়ে রাখে নিI আশুতোষ মহেশ্বরকে ভিখারী শিব বলে অনুযোগ করতে, বা সিদ্ধিদাতা বিনায়ককে নাদাপেটা গনশা বলে মস্করা করতে বাঙালীর বাধে নি কোনো দিনI আটপৌরে মলিন বাঙালী মা নির্দ্বিধায় উচ্চারণ করতে পারে-- যদি আসে মৃত্যুঞ্জয় / উমা নেবার কথা কয় / মায়ে ঝিয়ে করব ঝগড়া...মা দুর্গা তাই আমাদের এ খেলাঘরে ছড়িয়ে থাকেন অনুক্ষণ! তিনি আমাদের প্রানের দেবতা। মহালয়ার ভোরের আলোকধারায় যখন মেতে ওঠে ভুবন, বেজে ওঠে তাঁর আলোর বেণু.. অরুণবীনায় সে সুর বাজে.. অন্তরে সে সুর ছেয়ে যায়...বিশ্বকর্মাপুজোয় বিসর্জনের বাজনা মিলিয়ে যেতে না যেতেই বাঙালী শুনতে পায় ঢাকের বোল, আমাদের সবার ছোটবেলা মাখামাখি হয়ে আছে যে ঢ্যাম কুড় কুড় বাদ্যিতে। ভোরবেলা হাঁটতে বেরিয়ে দেখি উঠতি বয়সের গাছ পথের ধারে ছড়িয়ে রেখেছে একরাশ কমলাহৃদয় শুভ্র শেফালী। সে শিউলিগাছ আরেকটু লায়েক হলে তার গুঁড়ি নিঃশেষে ঢেকে যায় সাদা রোমের হাজারো শুঁয়োপোকায়। শহর ছাড়ালেই ক্ষেতের আলে - নদীর কোলে - পথের কার্নিশে ঢেউখেলানো কাশের সমুদ্র... ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরির খেলা... ভ্রমর মধু ফেলে উড়ে বেড়ায় সেই আলোয় মেতে... শেষবর্ষার ভরন্ত মেঠো নদীর বুকে চখাচখির মেলা! বুকের মাঝে ছুটির পাখিটা ছটফট করে রোজ। খাঁচায় বন্দী, পালাতে পারে না তাই। পেশাগত জীবন যতই দানাপানি দিক না তাকে, এ পাখির তবু ছুটির আকাশ চাইই চাই! ছেলেবেলা ফিরে আসে যেন-- ওরে যাব না আজ ঘরে রে ভাই যাব না আজ ঘরে... আজ বিনা কাজে বাজিয়ে বাঁশি কাটবে সকল বেলা...! আর এই মায়াবী মন হারানো খেয়ালী হাওয়ার ভোরেই চিন্ময়ীকে মৃন্ময়ীরূপে আবাহন!যতই তিনি সৃষ্টিস্থিতিবিনাশানাং শক্তিরূপে সনাতনী হোন, আসলে বাঙালীর চোখে তিনি শুধুই গুনাশ্রয়ে গুনময়ী নারায়ণী মা-টি আমাদের-- আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে যাঁর মহিমা থাকে উদ্ভাসিত হয়ে, বিশ্বজগৎ মণিভূষণ হয়ে ঘিরে রাখে যাঁর চরণ! পরীক্ষার ফলপ্রকাশের দিন ... বিদেশমুখী বিমান মাটির মায়া কাটানোর মুহুর্তে... মধ্যরাতে শত্রুমনোভাবাপন্ন নেড়ি-সংকুল আঁধার পথ পাড়ি দেওয়ার সময়... এমনকি ভিড়বাসে ভয়ানক প্রকৃতির ডাকের সাথে লড়াই -এর মতো প্রাকৃত পটভূমিকায়ও আকুলভাবে যাঁকে ডাকা চলে!!জগজ্জননী মহামায়ার সাথে বাঙালীর সম্পর্ক কী বুঝবে তারা, যারা বানিজ্যিক বিজ্ঞাপনে মাল্টি-টাস্কিং আধুনিকা-র রূপকল্পে মা দুর্গার ছবি দেখে হুলুস্থুল বাধায়... যারা পুজোয় বাঙালীর আমিষভোজন দেখে নাক সিঁটকোয় আর ম্লেচ্ছ বর্বর ভাবে... যারা বিকাশ ভট্টাচার্যের দুর্গা সিরিজ দেখে নি... যাদের কোনদিন এইচ.এম.ভি. শারদঅর্ঘ্য ছিল না... ছিল না পুজোয় চাই নতুন জুতো... অনিঃশেষ শারদীয়া সাহিত্য... অতুলনীয় মন্ডপ-সৌকর্য... ডাকের সাজে ঝলমলে সাবেকী প্রতিমা... সাঁঝবাতির আলোয় সিঁদুরখেলা....মহালয়ার রাত পেরোলেই অখিল বিমানে তাঁর জয়গান... নিশার শেষে আগমনীর আলোয় শরতের আকাশবীনা গানের মালা বিলাবে চরাচর জুড়ে...আজি শংখে শংখে মঙ্গল গাওজননী এসেছে দ্বারে ... !লেখকঃ ডঃ সুজন সরকারবর্ধমান।

অক্টোবর ০৫, ২০২১
নিবন্ধ

Poem: বিকল্প (কবিতা)

বিকল্পকোলাহল মুখরিত নাগরিক জনপদ থেকেঅনেক দূরে, যখন আমি নিঃসঙ্গ,একাকীত্বের ভারে অবনত;তখনই বাতায়ন পথে এক মুঠোদমকা বাতাস কানে কানে বলে -আমি আছি, তোমার সাথে অবিরত।মনের নিভৃতে পোষিত গোপন আশাশুকিয়ে যাওয়া কুঁড়ির মতো ঝরে,অবজ্ঞার চোরাস্রোতে ভাঙে বুক।অকস্মাৎ আকাশের বুকে মেঘরাশি বলে,আমিও পারিনি এখনও বৃষ্টি হয়ে ঝরতে,আছি উন্মুখ।সাদা কালো মন হয়না রঙিন,আবিরের পরশ পায় না হৃদয়,বসন্ত চলে যায়।বৃষ্টির পরে পুবের আকাশেরামধনু বলে, আমি তো আছি,সাতরঙে রাঙাবো তোমায়।স্বজন হারানো ব্যথায় কাতর,শরীরে মনে আসে অনাদর,বৈরাগ্যের ভাব জাগে।বৃক্ষরাজি বলে চুপিসারে,শুষ্ক পাতা ঝরিয়ে দিয়ে,কিশলয় আনতে হবে।সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত্রি জাগে,নিভে যায় দীপ তেলের অভাবে,আঙিনা আঁধার কালো।জ্যোৎস্না বলে, আমরা তো আছি,তোমার উঠানে নিত্য জ্বালাবোনক্ষত্ররাজির আলো।প্রখর তপন তাপে তপ্ত কুটির,ঘর্মস্রাবি দিন নিংড়ে নেয় আয়ু,দেহের সাথে মনও জ্বলে যায়।বৃষ্টি বলে হেসে, আমি তো আছি,সিক্ত করব তোমার শরীর,আমার ফল্গুধারায়।লেখকদীপক কুমার মণ্ডল

অক্টোবর ০৪, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace : রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্ব

মামা গল্প বলতে বলতে থেমে গিয়ে বললেন এই দাঁড়া দাঁড়া আমার তো ভুল হযে যাচ্ছে। ঘটনাটা আমরা দাদুর দাদুর আমলের।আমার দাদুর বাবারা ছিলেন তিন ভাই।বয়স হচ্ছে রে, তাই সব গুলিয়ে ফেলছি।সে যার আমলেই হোক তোমার দাদুর বাবার বা দাদুর দাদুর তুমি বলে যাও।মামা আবার শুরু করলেন....বেশ কয়েক বছর কেটে গেলো । এর মধ্যে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে; বড়ো ছেলের ছেলে মানে আমার দাদুর বাবার আগমন ঘটেছে, মেজো ছেলে বাঙলা দেশের তালুকের দায়িত্ব নিয়ে সেখানে বৌ নিয়ে আছে। আর ছোটো পড়াশুনার পাট চুকিয়ে গ্রামে ফিরে মন দিয়েছে আঁকায়। কলকাতায় সে আঁকার ট্রেনিং নিয়ে এসেছে যে ।আর এখানকার জমিদারির দায়িত্ব দেখাশোনা করতে লেগেছে বড় ছেলে।এমন সময় গিন্নিমার কানে গেলো একটা কথা। আসলে ঠিক কানে গেল বল চলে না। ওনাদের ভবানী ঠাকুর নিজে কদিন পুজো করতে না এসে অন্য একজনকে পাঠিয়ে ছিলেন।তাই তার খবর নিতে পাঠান গিন্নিমা । যদিও তার কানে একটা কথা এসেছে। তাই আরো উতলা হয়ে তিনি তার বিশেষ কাজের লোক শঙ্করী কে পাঠান খবর নিতে।সে এসে বলে যা শুনেছেন সব সত্যি। শ্যামা ফিরে এসেছে বাপের বাড়ি। তার ঠাঁই হয়নি সেখানে, তার স্বামী মারা গেছে আর সন্তান ও নেই।তাই তাকে আর কেউ রাখতে চায়নি শ্বশুর বাড়িতে।একথা শুনে গিন্নিমার মনটা খুব খারাপ হলো। তিনি বললেন ভবানী ঠাকুরকে খবর দাও।ভবানী ঠাকুর গিন্নিমার ডাকে তার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। খুব কান্নাকাটি করতে লাগলেন।একে তো মা-মরা মেয়ে তায় আবার এই অবস্থা,কি যে করবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না।গিন্নিমা বললেন -- কোনো চিন্তা করবেন না আমি তো আছি। আপনি শ্যামা মা কে আমার কাছে নিয়ে আসুন।গিন্নিমার এইকথা শুনে ভবানী ঠাকুর অনেকটা যেন হাল্কা হলেন।তিনি বললেন তাই হবে গিন্নিমা । আমি কালই ওকে আপনার কাছে নিয়ে আসবো। আপনি ওকে একটু আপনার পায়ে ঠাঁই দিলে আমি বেঁচে যাই গিন্নিমা।এই বলে ভবানী ঠাকুর চোখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে গেলেন।পরদিন মেয়েকে সঙ্গে করে এলেন জমিদার বাড়ি। গিন্নিমা শ্যামাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।বড়মার কথা তোর মনে পড়েনি? আমি কি তোর মা নই? এরকম অনেক মান অভিমানের কথা চলল।এর মধ্যে বড়ো বৌ ও এসে দাঁড়িয়েছে ঘরে, সেও শ্যামাকে খুব ভালোবাসত।তার ছেলেকে কোলে তুলে নিল শ্যামা । গিন্নিমা বললেন আজ থেকে ওর সব দেখাশোনার দায়িত্ব তোর । তুই তো ওর পিসিমা। এই বলে শ্যামার হাতে নিজের নাতি মানে আমার দাদুর দায়িত্ব তুলে দিলেন।আর অন্যদিকে ছোটো চন্দ্র বিয়ে থা না করে সারাদিন কলকাতা থেকে নিয়ে আসা এক বিহারি চাকর কে সঙ্গে নিয়ে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আঁকার সরঞ্জাম নিয়ে।তার কানেও শ্যামার কথাটা গেছে, কিন্তু সে কিছু বলেনি।এইভাবেই দিন যেতে থাকে.....বড়ো বৌদির ছেলেকে নিয়ে বেশ কাটে শ্যামার সারাদিন ।তর মাঝে বড়মাকেও সাহায্য করে।বড়ো বৌদির সঙ্গে টুকটাক গল্প করে দিন কেটে যায় । শ্যমাকে বাড়ির কাজের লোকেরাও ওর মিষ্টি স্বভাবের জন্য খুব ভালোবাসে।এর মধ্যে চন্দ্র এর সঙ্গে দেখা হয়েছে। কেমন আছো ছোটদা? জিজ্ঞাসা করে শ্যামা ।ভালই আছি রে। তোর কি চেহারা হয়েছে রে শ্যামা?আমার আবার চেহারা; তুমি এবার একটা বিয়ে থা করো ।তুইও এসেই শুরু করে দিলি? মা বলেছে নিশ্চয়?শ্যামা চুপ করে রইল।এভাবে টুকটাক কথা হয় শ্যামা আর চন্দ্রের মধ্যে। আগের থেকে শ্যামা অনেক চুপচাপ হয়ে গেছে।একদিন চন্দ্রের বিহারী কাজের লোক হরিয়ার খুব জ্বর হয় সেদিন বড়মা শ্যামার উপর দায়িত্ব দেন ছোটদার ঘর পরিষ্কার করে দেওয়ার এবং খাওয়ার নিয়ে দিয়ে আসার। সেদিন শ্যামাকে একটা ছবি দেখায় চন্দ্র, সেটা শ্যামার বিয়ের পর এঁকেছিল সে।তোর বিয়ের পর তো আমার সঙ্গে আর তোর দেখা হয়নি তাই তোকে দেখাতেও পারিনি।খুব সুন্দর হয়েছে গো ছোটদা । তবে এখন তুমি আরো অনেক ভালো আঁকো ।চন্দ্রের ঘরে কেউ ঢোকে ও পছন্দ করতো না। কিন্তু শ্যামাকে কিছু বলেনি।শ্যামা দেখে শোওয়ার ঘরের পাশে একটা বড়ো ঘরে ছবি আঁকত চন্দ্র।শ্যামা দেখেছে যে সেখানে কিছু ছবি ঢাকা দেওয়া আছে।কৌতূহলী হয়েছে ঠিক কিন্তু কোনোদিন হাত দেয়নি। আর চন্দ্র এখন খুব চুপচাপ নিজের মনে থাকে ওকেও জিজ্ঞাসা করার সাহস হয়নি।যে ছবি গুলো দেওয়ালে টাঙানো আছে সেগুলো মুগ্ধ হয়ে দেখে যখন ঐ ঘরে যায়। যদিও খুব একটা যায়না বড়মা না পাঠালে।এদিকে হরিয়ার মাঝে মাঝেই শরীর ভালো যাচ্ছে না তাই শ্যামার উপর সেইদিন গুলোতে দায়িত্ব পরে শ্যামার উপর।এরকমই একদিন সন্ধ্যাবেলায় ছোটদার ঘরে আলো দিয়ে আসার সময় চন্দ্র বলে একটু কিছু খাবার নিয়ে আয় তো রে ক্ষিদে পেয়েছে।এটা আবার ওর স্বভাব মাঝেমাঝেই ক্ষিদে পায়।বেশ এনে দিচ্ছি বলে চলে যায় শ্যামা।একটু পরে বাটি করে নারকেল আর মুড়ি নিয়ে এসে দেখে ঘরে কেউ নেই।ছোটদা বলে ডাকতেই আঁকার ঘর থেকে আওয়াজ আসে এঘরে দিয়ে যা ।ওঘরে যেতেই দমকা হাওয়ার জোরে ঢাকা দেওয়া ছবি গুলো থেকে ঢাকা সরে যায় আর শ্যামা চমকে যায় এ যে তার ছবি।চন্দ্রও অপ্রস্তুত হয়ে যায়, আবার নিজেকে সামলে নিয়ে তাড়াতাড়ি ঢাকা দিতে যায় ।কি করেছো এগুলো? কেনো করেছো? কেউ এগুলো দেখলে কি ভাববে জানো?চন্দ্র চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ তারপর বলে কেনো তুই কি কিছুই বুঝিসনা?আমার বোঝার দরকার নেই। লোকে তোমাকে কিছুই বলবে না, যতো দোষ হবে আমার।তোকে এভাবে দেখ্তে আমার একদম ভালো লাগেনা যে, তাই তো আমার স্বপ্ন দিয়ে তোকে এঁকেছি।শ্যামা কাঁদতে থাকে, কেনো কেনো করলে এমন?শ্যামাকে কাঁদতে দেখে চন্দ্র আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না শ্যামাকে জড়িয়ে ধরে, আর ঠিক সেইসময় একজন কাজের মেয়ে শ্যামা কে ডাকতে আসে আর ওদের দেখে ছুটে নেমে যায় ।এইপর্যন্ত বলে মামা একটু থামলেন।বলো বলো তাড়াতাড়ি বলো, চাঁদ বলেতারপরের ঘটনা খুব ছোটো করে বলি, একথা শেষে ওঠে গিন্নিমার কানে,গিন্নিমা বিশ্বাস করেন না। কিন্তু জমিদার মশায়ের কানেও উঠে যায় ।ব্যাস আর যায় কোথায় ।শুরু হয়ে যায় জমিদারি খেলা। ভবানী ঠাকুরকে পাঠানো হলো শহরে কিছু একটা কাজে। তারপর দিন ভবানী ঠাকুর এসে শ্যামার খোঁজ করাতে অবাক হয়ে যান গিন্নিমা ।কি শ্যামা বাড়ি ফেরেনি কাল?না, আমি ভাবলাম আমার আসতে দেরি হবে ভেবে আপনি তাকে রেখে দিয়েছেন আপনার কাছে।গিন্নিমা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। চারদিকে খুঁজতে বলেন, কিন্তু কোথাও পাওয়া যায় না।তখন কিছু লোক হাহুতাশ করে আর কিছু লোক বাজে কথা বলে, যেমন সবসময় হয়।কাঁদতে কাঁদতে চলে যান ভবানী ঠাকুর। আর পুজো করতে আসেন না।সেদিন রাতে জমিদার গিন্নি ধরেন শশীশেখর বাবুকে কি করলে মেয়েটাকে? জমিদার বাবু মেজাজে বলেন আমি কি করে জানব?তুমি কিছু না জেনে কেনো এমন করলে? একথা চন্দ্র জানলে তাকে তুমি বেঁধে রাখতে পারবে তো?এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে দরজায় টোকা পরে। দরজা খুলে তো চমকে যান গিন্নিমা।চন্দ্র তুই! কিছু বলবি বাবা?মায়ের কথায় কোনো উত্তর না দিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল কিছু না বুঝেই এতোবড়ো একটা কাজ করে ফেললেন? আমাকে একবার জিজ্ঞাস করলেন না?চুপ করে রইলেন শশীশেখর বাবু।চলে গেলো চন্দ্র ঘর থেকে।একদিন চন্দ্র আবার কোথাও উধাও হয়ে গেলো,কাউকে কিছু না বলে।হরিয়া কিন্তু রয়ে গেলো ছোটো বাবুর ঘরটা আগলে।গ্রামেও এর মধ্যে প্রচার হয়ে গেলো যে জমিদারবাবুই শ্যামাকে গুম করে দিয়েছেন।একদিন ভবানী ঠাকুর পাগলের মতো এসে কাছরিতে ঢুকে পড়লেন,সেখানে তখন জমিদারবাবু নিজে উপস্থিত।ভবানী ঠাকুর বললেন আমার মেয়েটা কি ক্ষতি করেছিল যে তাকে মেরে দিলেন? আমি অভিশাপ দিচ্ছি তোমাদের বংশে ছেলেরা বেশিদিন বাঁচবে না,যতদিন না আমার মেয়ে ফিরে আসছে। আর এও বলে রাখলাম যদি সত্যি চন্দ্র তাকে ভালোবেসে থাকে সেও ফিরবে।এরপর কেউ আর ঐ গ্রামে ভবানী ঠাকুরকে দেখেনি।তারপর সত্যি এই বংশের ছেলেরা বেশিদিন বাঁচে না। আমিই রয়েছি শুধু ওদের মিলিয়ে দেবার জন্য বোধহয়। কারণ আমার দাদুর মাও যে শ্যামা কে বড্ড ভালবাসতেন। উনি বলেছিলেন যেন আমার বংশেই আবার চন্দ্র ফিরে আসে।তিনি যতদিন জীবিত থেকেছেন ছোটো দেওরের খোঁজ করে গেছেন। কিন্তু যে নিজে হারিয়ে যায় তাকে কি আর খূঁজে পাওয়া যায়?ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

অক্টোবর ০৩, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace :রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্ব

অবশেষে সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চাঁদ অর্থাত চন্দ্রশেখর রায়চৌধুরী উজানের মামাতো দাদা বাড়ি এলো দুপুর তখন প্রায় একটা। কিন্তু তখন আর কে গল্প শুনবে আর কেই বা শোনাবে?সুতরাং দুপুরের খাবার পর সবাই কে বিশ্রাম করে বিকেলে ঠিক পাঁচটার সময় চায়ের টেবিলে হাজির হতে বললেন মামা।সবাই ঘরে গেল ঠিকই কিন্তু কেউ ঘুমোতে পারলো না। রাশি কে দেখে তো মনে হচ্ছে কি যেন খূঁজে বেড়াচ্ছে মনে মনে।পাঁচটা বাজতেই সবাই হাজির চায়ের টেবিলে। চাঁদ বলল কি ব্যাপার বলতো হটাত ডেকে পাঠালে , আবার এইভাবে বিকেলে হাজির হতে বললে? কিছুই তো বুঝতে পারছিনা। মামা বললেন চা খেয়ে নাও তারপর একটা জিনিস দেখাব। যদিও চাঁদ চট বেলায় একবার দেখেছিল।চা খাওয়া হয়ে গেলে মামা ওদের একটা ঘরের সামনে নিয়ে গিয়ে দাঁড়ালেন। চাঁদ বলল এই ঘরে আবার কি দেখাবে? কোনো দিন তো খোলাই হয়না। দরজা খুলে চাঁদের বাবা মানে মামা বাবু ঘরে ঢুকে আলো জ্বেলে সবাই কে ভিতরে ডাকলেন। ঘরটায় পরপর সব পুরুষের এবং মহিলাদের ছবি আছে এই বংশের । সব একে একে মামা দেখাচ্ছেন এবং পরিচয় দিচ্ছেন; আর রাশি পায়ে পায়ে একটা ছবির সামনে এসে দাঁড়িয়ে কি যেন বিড় বিড় করছে সেটা খেয়াল করে চাঁদ । ও অবাক হয়ে সেদিকে যায়, গিয়ে তো আরো অবাক । জোরে বলে ওঠে-- বাবা আমার এই বেশে ছবি এখানে কিভাবে এলো? আমি তো কখন তুলিনি।সবাই সেই দিকে ছুটে গেলো । দেখে তো সবাই অবাক। উপরের ঘরে রাশির মতো দেখতে একটি মেয়ের ছবি, আবার নিচে চাঁদের মতো এ কার ছবি? উজান বলল মামা কি ব্যাপার গো কিছুই তো মাথায় ঢুকছে না। কোনোদিন কোনো গল্পও শুনিনি মায়ের কাছে। কি গল্প আছে আমাদের বলো ।মামা বললেন বেশ বেশ চল এঘর থেকে , বাইরে গিয়ে বসি তারপর সব বলছি। বলতে তো আমাকে হবেই।এই বলে সবাই কে বের করে নিয়ে ঘরে চাবি লাগিয়ে সবাই গিয়ে বৈঠকখানা ঘরে গিয়ে বসল।মামীমাও এসে বসলেন।এরপর মামা শুরু করলেন গল্প......মামা গল্প শুরু করলেন-- কাহিনী তখনকার যখন জমিদার ছিলেন আমার দাদুর বাবা শশীশেখর রায়চৌধুরী ।তার তিন ছেলে বড় ইন্দুশেখর, মেজো বিধুশেখর, আর ছোট চন্দ্রশেখর।এদের মধ্যে বড় আমার দাদু আর মেজো দাদু তখন কলকাতায় পড়াশুনা করছেন । আর বাড়িতে আমার ঠাকুমা আছেনআর ছোটো দাদু। সে দাদাদের থেকে বেশ ছোট ; তখন সে গ্রামের স্কুলেই পড়ছে। এমন সময় আমাদের কুলদেবতা মহাদেবের পুজোয় নিযুক্ত হন আমাদের কুল পুরোহিত বামাচরণ ভট্টাচার্য মশায়ের ছেলে ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচর্য মানে আমাদের ভবানী দাদু।ওনার মেয়ে শ্যামা সুন্দরী ছিলেন প্রায় আমাদের ছোট দাদুর বয়সী,বছর পাঁচের ছোট ।বাবার সঙ্গে মাঝে মাঝে ফুল নিয়ে আসত আমাদের বাড়িতে। মা মরা মেয়ে,আমাদের বড়মা খুব স্নেহ করতেন শ্যমাকে । একে নিজের কোনো মেয়ে নেই তায় আবার শ্যামার মা ছিলো না।সবাই বড়মা কে গিন্নীমা ডাকত। শ্যামাও তাই ডাকত।কিন্তু বড়মা তাকে বলে তুই আমাকে গিন্নিমা বলবি না,বড়মা বলবি,তারপর থেকে শ্যামা বড়মা ডাকতে থাকে। তখনো গ্রামের দিকে মেয়েদের পড়ার সেরকম চল ছিল না। কিন্তু শ্যামা পাঠশালায় যেত।মাঝে মধ্যে আসত জমিদার বাড়িতে।ছোট চাঁদের সঙ্গে তার বেশ বন্ধুত্ব হয়েছে,প্রায় সমবয়সী দুজন।ওদের খেলতে দেখে বড়মা খুব আনন্দ পেতেন।ছোট দাদু খুব আঁকতে ভালোবাসতেন, তাই দাদারাও শহর থেকে আদরের ভাইকে নানান সরঞ্জাম এনে দিত। ছোটদাদার অত জিনিস শ্যামা অবাক চোখে দেখত। এইভাবে দুজনে বেশ থাকতো,কখন ঝগড়া করে বড়মাকে নালিশ জানাতো আবার কখন কচড়ে কাঁচা আম, তেঁতুল,বা বাড়ির তৈরী আচার এনে ছোট দাদাকে খাওয়াতো।দেখ্তে দেখ্তে শ্যামা বারো বছরের হলো যখন আর ঘরে রাখা যাবে না। এবার ওর বিয়ে দিতে হবে। এর মধ্যে আমার বাবার আগমন হয়ে গেছে। বড়ো বৌদিও শ্যামাকে বেশ ভালবাসে কারণ শ্যামা ছাড়া কথা বলার মতো কেই বা আছে ছোট দেওরটি ছাড়া।শ্যামার বিয়ে হয়ে গেলো ।শ্যামার বিয়ে হয়ে যাওয়াতে সব চেয়ে বেশি একা হয়ে গেল চন্দ্র; কারণ সবসময় হুকুম তো শ্যামাই শুনত।অবশ্য বেশিদিন তাকেও একা থাকতে হয়নি,কলকাতায় পড়তে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। ওখানে সে পড়ার সঙ্গে আঁকার চর্চায় মনোনিবেশ করলো। এদিকে কিছুদিনের মধ্যে মেজদাদুরও বিয়ে হয়ে গেলো ।আমার দাদুএখানকার জমিদারি দেখাশোনায় দাদুর সঙে লেগে পড়ল ।আর মেজদাদু তখনো পড়া শেষ হয়নি বলে কলকাতায় থাকতে লাগল ছোট ভাই কে নিয়ে।এইভাবে বেশ কয়েক বছর কেটে গেলো ।শ্যামার কথা প্রায় সবাই ভুলতে বসেছে এমন সময় ঘটল সেই ঘটনা...ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

সেবাশ্রয় দুর্নীতি মামলায় বড় স্বস্তি অভিষেকের, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপে হাইকোর্টের নিষেধ

সেবাশ্রয় দুর্নীতি-সহ তিনটি মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর মামলাগুলির পরবর্তী শুনানি হবে।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। সেই এফআইআরগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। এর আগে পাঁচটি মামলায় রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। এবার আরও তিনটি মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেলেন তিনি। ফলে এখনও পর্যন্ত মোট আটটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে আদালতের সুরক্ষা রয়েছে।নতুন করে যে তিনটি মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে দুটি বিষ্ণুপুর থানায় এবং একটি রবীন্দ্রনগর থানায় দায়ের হয়েছিল। জমি সংক্রান্ত দুর্নীতি এবং সেবাশ্রয় দুর্নীতির অভিযোগে ওই মামলাগুলি করা হয়েছিল। সেই মামলাতেই আপাতত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।শুক্রবার শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাজ্যের তরফে অভিষেককে রক্ষাকবচ দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়। রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, মামলার নথি খতিয়ে না দেখে এই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া উচিত নয়।এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জানান, অভিষেকের বিষয়ে শুধু এই এজলাসেই নয়, হাইকোর্টের অন্য এজলাসেও বিভিন্ন নির্দেশ হয়েছে। এমনকি বিদেশে যাওয়ার অনুমতিও তাঁকে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, গত মে মাস থেকে অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি শুনতে গিয়ে অন্য মামলার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হল।এর আগে সই জাল সংক্রান্ত মামলাতেও অভিষেকের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সুরক্ষা আগামী নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। পাশাপাশি আমতলায় অভিষেকের দলীয় কার্যালয় ভাঙার ক্ষেত্রেও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি নিয়েও অভিষেককে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু তার পরেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়। সেই বিষয়েও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন অভিষেক।ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল হাইকোর্ট। অনলাইনে কেওয়াইসি করা সম্ভব হলে অভিষেককে কেন সশরীরে ব্যাঙ্কে যেতে হবে, সেই প্রশ্ন করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। পরে বাড়িতে গিয়ে কেওয়াইসি আপডেট করার নির্দেশও দেওয়া হয়।সব মিলিয়ে একের পর এক মামলায় আদালতের রক্ষাকবচ পাওয়ায় আপাতত স্বস্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বাকি মামলাগুলির আইনি লড়াই এখনও জারি রয়েছে।

আগস্ট ২১, ২০২৬
দেশ

ছররা গুলির ঘটনায় এফআইআর চেয়ে থানার সামনে রাহুল, কয়েক ঘণ্টার নাটকীয়তার পর বড় মোড়

রাজধানী দিল্লিতে ছররা গুলি চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হল। আহত এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হাজির হন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি ছিল, গত ২০ জুলাই ছাত্রদের সংসদ চলো অভিযানের সময় র্যাফের ছররা গুলি চালানোর ঘটনায় এফআইআর দায়ের করতে হবে।শুক্রবার সকালে আহত যুবক সাহিল লোচাবকে সঙ্গে নিয়ে থানায় পৌঁছন রাহুল। আচমকা তাঁকে থানায় দেখে আধিকারিকদের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। রাহুলের অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলনের সময় ছররা গুলি চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় কার নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল, তা তদন্ত করে প্রকাশ্যে আনার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছেন তিনি।থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করার দাবি জানান রাহুল। অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ এফআইআর দায়ের করতে রাজি হয়নি। এর পর থানার বাইরে আহত যুবককে সঙ্গে নিয়ে ধর্নায় বসে পড়েন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর বক্তব্য ছিল, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের না হওয়া পর্যন্ত তিনি ধর্না চালিয়ে যাবেন।এই ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে। ওই দিন সংসদ অভিযানের সময় র্যাফের ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। প্রথমে দিল্লি পুলিশ ছররা গুলি চালানোর ঘটনা অস্বীকার করেছিল বলে অভিযোগ। পরে কেন্দ্রীয় রিজ়ার্ভ পুলিশ বাহিনীর তদন্তে ছররা গুলি ব্যবহারের তথ্য উঠে আসে বলে দাবি করা হয়েছে।এর পর থেকেই রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলছিলেন, আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপর ছররা গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল। তাঁর দাবি, এই ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসা প্রয়োজন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।এ দিন পুলিশ রাহুলকে জানায়, বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু তাতেও নিজের দাবিতে অনড় থাকেন রাহুল। তিনি জানান, ছাত্রদের পাশে তাঁরা রয়েছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি থেকে পিছিয়ে যাবেন না।দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা থানার সামনে ধর্না চলার পর অবশেষে সাহিল লোচাবের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়। ফলে ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ নিয়ে দিল্লিতে তৈরি হওয়া টানাপড়েনে আপাতত নতুন মোড় এল।

আগস্ট ২১, ২০২৬
কলকাতা

ক্লাস নাকি জনগণনা? শিক্ষকদের নিয়ে বড় নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের, কী বললেন বিচারপতি

শিক্ষকদের জনগণনার কাজে ব্যবহার নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়। স্কুলের পঠনপাঠন এবং জনগণনার কাজদুইয়ের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা হবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, জনগণনার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়, দিন ও জায়গা জানিয়ে দিতে হবে। একই সময়ে স্কুলের পঠনপাঠন যাতে ব্যাহত না হয়, তার ব্যবস্থাও করতে হবে।শিক্ষকদের জনগণনার কাজে দায়িত্ব দেওয়া হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই কাজই তাঁদের কর্তব্য হিসেবে গণ্য হবে। সেই সময়ে তাঁদের শিক্ষকতার কাজ করতে হবে না। তবে জনগণনার দায়িত্ব পাওয়া শিক্ষকরা সেই কাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারবেন না।এর আগে রাজ্য সরকারের একটি নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, স্কুলের পঠনপাঠন যাতে কোনও ভাবেই ব্যাহত না হয়, সেজন্য স্কুলের সময়ের পরে অথবা সপ্তাহান্তে শিক্ষকদের দিয়ে জনগণনার কাজ করানো যেতে পারে। সেই নির্দেশিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। আদালতের প্রশ্ন ছিল, স্কুল ছুটির পর অন্য জায়গায় গিয়ে জনগণনার কাজ করতে হলে শিক্ষকদের বাড়ি ফিরতে কত রাত হবে?এই পরিস্থিতিতে পুরনো নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্কুল শিক্ষা দফতর। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জনগণনার কাজকেও শিক্ষকদের সরকারি দায়িত্ব বা কর্তব্যের অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফেও আগে জানানো হয়েছিল, শিক্ষকদের এমন ভাবে কাজে লাগাতে হবে যাতে স্কুলের পঠনপাঠন কোনও ভাবেই ব্যাহত না হয়।শুক্রবারের রায়ে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট করে দেন, জনগণনার কাজে শিক্ষকদের ব্যবহার করতে হলে আগে থেকেই তাঁদের নির্দিষ্ট সময়, দিন এবং কাজের জায়গা জানাতে হবে। সেই অনুযায়ী স্কুল কর্তৃপক্ষকে পঠনপাঠন চালু রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ জনগণনার কাজের জন্য শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হলেও স্কুলের স্বাভাবিক পড়াশোনা বন্ধ রাখা যাবে না।জনগণনার দায়িত্ব পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের দায়িত্বকেই তাঁদের কর্তব্য হিসেবে গণ্য করা হবে। সেই সময় তাঁদের জনগণনার কাজই করতে হবে। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর কোনও শিক্ষক তা অস্বীকার করতে পারবেন না। ফলে শিক্ষকদের জনগণনার কাজে ব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতায় হাই কোর্টের এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

আগস্ট ২১, ২০২৬
কলকাতা

৩৭ ঘণ্টা পর যাদবপুরে এফআইআর! বুধবার রাতের ঘটনায় ঠিক কী অভিযোগ জানাল বিশ্ববিদ্যালয়?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় অবশেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করল কর্তৃপক্ষ। বুধবার রাতের ঘটনার প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে যাদবপুর থানায় এফআইআর করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবারের অশান্তির ঘটনায় তদন্তের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। সেই মতো শুক্রবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তিন সদস্যই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, বাবা সাহেব আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং আরও এক আধিকারিক।যাদবপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১২টার পর কয়েক জন বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকেছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের সিসিটিভি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। এরপর অরবিন্দ ভবনের কোলাপসেবল গেটের সামনে আগুন ধরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এফআইআরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া নাকি বহিরাগত, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।অন্য দিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতীকী ফলক নিয়ে কর্মবিরতিতে বসেছেন অধ্যাপকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঠিক তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এফআইআর দায়েরের সিদ্ধান্তকে তাঁরা প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।তাঁর দাবি, ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও পড়ুয়া ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার বহিরাগতরা জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।ফলক ভাঙার ঘটনাতেও পৃথক তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার দাবিও জানিয়েছেন অধ্যাপকদের একাংশ। ফলে এফআইআর দায়ের এবং তদন্ত কমিটি গঠনের পর যাদবপুরের অশান্তির ঘটনায় এবার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ২১, ২০২৬
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে নিয়ে অমিত শাহের মুখে এমন কথা! কী বদলেছে বাংলায়, মঞ্চে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এই আবহেই উত্তরবঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য জমি দেওয়াএকাধিক বিষয় তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সমন্বয়ের কথা জানান শাহ।মঞ্চে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বলেন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা পাওয়া সহজ হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রয়োজন হলে ফোন করলেই অনুমতি পাওয়া যায়, চিঠি পরে যায়। এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।শাহ আরও জানান, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফ এবং এসএসবির জন্য ১১২৯ একর জমি দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এই জমি ২০১৪ সাল থেকেই চাওয়া হচ্ছিল। আরও ২৯ একর জমি দেওয়ার বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব রয়েছে। বাংলার উন্নয়ন এবং রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, অনুপ্রবেশ বন্ধ না হলে বাংলা বা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সেই কারণে সীমান্তে কাঁটাতারের প্রয়োজন রয়েছে।এই প্রসঙ্গেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময়ের কথাও টেনে আনেন শাহ। তাঁর দাবি, বিএসএফের জন্য জমি দেওয়ার বিষয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বারবার আবেদন করা হয়েছিল। এমনকি তিনি নিজে তাঁর দফতরেও গিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মতি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত জমি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহ।শাহের কথায়, এসএসবি বা বিএসএফ কোনও রাজনৈতিক দল নয়। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই দল-মত নির্বিশেষে জওয়ানদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর ১০০ দিনের সময়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরে অমিত শাহের এই বক্তব্য রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য জমি দেওয়ার প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে।

আগস্ট ২১, ২০২৬
রাজ্য

রাতে আচমকা বর্ধমানের দুই হাসপাতালে হানা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, কি বললেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়?

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে জোর দিয়ে এবার রাতে সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে নামলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাতে আচমকাই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে যান তিনি। তার আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্ধমানের বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। দুই হাসপাতালেই চিকিৎসা পরিষেবা, পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং কর্মীদের কাজের পরিবেশ খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।রাত ৯টা নাগাদ বর্ধমান ২ নম্বর ব্লকের বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। আচমকা মন্ত্রীর আগমনে হাসপাতাল চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি মেডিসিন বিভাগে গিয়ে রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। চিকিৎসা পরিষেবা ও তাঁদের সমস্যার বিষয়ে খোঁজ নেন। তবে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি তিনি। সাফাইকর্মীকে ডেকে নিয়মিত এবং আরও মন দিয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন।এরপর রাত ১০টা নাগাদ আচমকাই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জরুরি বিভাগ-সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন তিনি। রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না জানতে চান। জুনিয়র ডাক্তার, নার্সিং স্টাফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তাঁদের প্রয়োজন, অসুবিধা এবং কাজের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেন।পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে নেতিবাচক কোনও অভিযোগ তিনি পাননি। অধিকাংশ রোগীই পরিষেবা নিয়ে সন্তুষ্ট বলে দাবি তাঁর। তবে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ঘাটতি এবং মহিলা চিকিৎসকদের রেস্ট রুমের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানান। হাসপাতালের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।নার্সিং স্টাফের ঘাটতি, বিশেষত জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত নার্সের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। চিকিৎসক ও নার্সদের বসার জায়গা, লেখালেখির প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বিশ্রামের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, চিকিৎসক-নার্সরা ভালোভাবে কাজ করতে না পারলে রোগী পরিষেবাও ব্যাহত হবে। তাই তাঁদের অভাবের পাশাপাশি আবদারও শুনতে হবে।বর্ধমান মেডিকেল কলেজের সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়েও মুখ খোলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কয়েকজন ছাত্রের নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে একজনকে আপাতত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তদন্ত এখনও চলছে বলেও জানান। থ্রেট কালচার প্রসঙ্গে তাঁর বার্তা, ভয় আউট, ভরসা ইন।অভীক দে-কে ঘিরে অনাময় হাসপাতালকে গ্রামীণ হাসপাতাল হিসেবে দেখিয়ে স্নাতকোত্তরে সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ এবং হাজিরা খাতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে এবং প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত। যোগ্য পড়ুয়াদের বঞ্চিত করে কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আগস্ট ২১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের প্রস্তুতি কতটা? কলকাতার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখল ব্রাজিল

কলকাতায় ব্রাজিল ফুটবল দলের সম্ভাব্য সফর ঘিরে প্রস্তুতি আরও জোরদার। অক্টোবরের শুরুতে ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ম্যাচের আগে বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসে বিভিন্ন পরিকাঠামো সরেজমিনে খতিয়ে দেখল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকে অনুশীলনের মাঠ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে ফুটবলারদের থাকার সম্ভাব্য হোটেলসবকিছুই পরিদর্শন করেন তাঁরা।বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিট নাগাদ সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পৌঁছয় ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত, প্রাক্তন ভারতীয় গোলকিপার সুব্রত পাল এবং রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। প্রথমে অনুশীলনের মাঠ ঘুরে দেখেন প্রতিনিধিরা। এরপর তাঁরা মূল স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যাচ আয়োজনের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন।স্টেডিয়াম পরিদর্শনের সময় একাধিক বিষয়ে বিশেষ নজর দেন ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা। প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড, ড্রেসিংরুম, বাথরুম, গোলপোস্ট এবং মাঠের ঘাসের মান পরীক্ষা করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খুঁটিয়ে দেখা হয়। অর্থাৎ শুধু ম্যাচ আয়োজনের মাঠ নয়, গোটা পরিকাঠামোই তাঁদের পরিদর্শনের আওতায় ছিল।এর আগে নিউটাউনে ফেডারেশনের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সেও যান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সেখানে সম্ভাব্য অনুশীলন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন তাঁরা। এরপর যুবভারতী সংলগ্ন একটি পাঁচতারা হোটেলও পরিদর্শন করা হয়। সেখানে ব্রাজিল দলের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়।ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাতীয় দলের জেনারেল সুপারভাইজার Srgio Dimas de Oliveira, প্রশাসনিক আধিকারিক Vinicius Barrozo Costa, মার্কেটিং ও অপারেশন ম্যানেজার Jos Vitor Senatore de Paula Lima, ফিজিওলজিস্ট Guilherme Passos Ramos এবং নিরাপত্তা বিভাগের প্রতিনিধি Bruno Mazzei Reis। কলকাতার বিভিন্ন ব্যবস্থা পরিদর্শনের পর তাঁরা ব্রাজিলে ফিরে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন।সূত্রের খবর, ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের আগে ৩০ সেপ্টেম্বরের আশপাশে ব্যক্তিগত বিমানে কলকাতায় আসতে পারে ব্রাজিল দল। অক্টোবরের শুরুতেই যুবভারতীতে টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নে সবরকম ব্যবস্থা করা হবে। দর্শকদের বিশ্বকাপ স্তরের ম্যাচের অভিজ্ঞতা দেওয়াই লক্ষ্য। ফলে ব্রাজিলের সম্ভাব্য সফর ঘিরে কলকাতার ফুটবলমহলে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ।

আগস্ট ২১, ২০২৬
রাজ্য

রেললাইনের পাশে মাঠে পড়ে যুবকের দেহ, রহস্য ঘিরে বিরাট চাঞ্চল্য

রঘুনাথগঞ্জের গদাইপুর এলাকায় রেললাইনের ধারের একটি মাঠ থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই এলাকায় যুবকের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতের নাম ছোটু রবিদাস (২৯)। তাঁর বাড়ি রঘুনাথগঞ্জের বালিঘাটা এলাকায়।স্থানীয়দের নজরে বিষয়টি আসার পর দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে বহু মানুষ জড়ো হন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।তবে রেললাইনের ধারের ওই মাঠে ছোটু রবিদাস কীভাবে পৌঁছলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়েও তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। যুবকের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হয়েছে, নাকি ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। মৃত যুবকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা। ছোটু রবিদাস কখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন এবং কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছেছিলেন, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।পুলিশের তরফে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।এদিকে, রেললাইনের ধারের মাঠে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গদাইপুর এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ২৯ বছরের যুবকের মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা জানতে তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আগস্ট ২১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal