• ৭ বৈশাখ ১৪৩৩, বৃহস্পতি ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

নিবন্ধ

নিবন্ধ

Friends: একা এবং বন্ধুরা

জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে/ বন্ধু হে আমার রয়েছ দাঁড়ায়ে।। এই পংক্তিটা প্রথম পড়ি কৈশোরে। রবীন্দ্রনাথ হয়তো ঈশ্বরকেই বুঝিয়েছেন বা কোন ঈশ্বরপ্রতিম মানুষকে। কিন্তু আমার মনে পড়ত কতগুলো স্কুল ইউনিফর্ম পরা, এলোমেলো চুল, বা দুই বিনুনি, দুষ্টু হাসির মুখগুলোকে। আর মনে হত, ওরে বাবা! সারাজীবন থাকবে আবার মরার পরেও? কী সাংঘাতিক কান্ড। পৃথিবীতে অবতীর্ণ হওয়ার বছর তিনেক পরেই তাঁরা আমার জীবনে পদার্পণ করেছেন। (জনান্তিকে বলে রাখি এখনও অক্লেশে হাড়মাস ভাজা করে চলেছেন)।পড়তাম এক মিশনারি স্কুলে যেখানে বহুবিধ পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল। জানিয়ে পরীক্ষা, না জানিয়ে পরীক্ষা। কিন্তু চাপ ছিল না। মানে চাপ শব্দটা জানলে তো চাপে পড়বে। আমরা কিছু দুষ্টু ছেলে-মেয়ে হইহই করে উঠে যেতাম পরের ক্লাসে। কড়া নজরদারির মধ্যে দুষ্টুমির নিত্য নতুন উদ্ভাবন। সেই জন্যই বোধ হয় কখনও আমরা কেউ ক্লাসরুম প্রেমের স্বাদ পেলাম না। অধরা থেকে গেল সেই রোমাঞ্চ আমাদের কাছে। একসময় স্কুল শেষ, কিন্তু কলেজেও বন্ধু হলো না সেভাবে। পুরোনো হ্যাংওভার কাটলে তবেই না নতুন বন্ধু?ইউনিভার্সিটিতে এসে দুটো পাখা জুড়লো পিঠে। মনে হলো এলেম নতুন দেশে। আহা! সবই কি সুন্দর। কত নতুন নতুন জিনিস। মুগ্ধ মোহিত আমি-র জুটলো নতুন বন্ধু। চললো নতুন অভিযান। সারা রাতের ক্লাসিক্যাল গানের সুরে ভেসে যাওয়া, কখনও ফটোগ্রাফি এক্সিবিশন-এ ঘুরে ঘুরে ছবি দেখা, সব মিলিয়ে সে এক সব পেয়েছির দেশ। মধ্যিখানে বেশ কিছু বছর যোগাযোগ বিহীন। নেই তো নেইই.. । কি যেন নেই। হঠাৎ অভিমানে নাকের ডগা লাল হয়ে, গলার কাছে ব্যথা করে উঠলেও বলার লোক নেই। দুষ্টুমি করার লোক নেই। খোঁজ নেওয়ার লোকও তো নেই। অতঃপর, হঠাৎ একদিন মিলিল তারা মিলিল সে মেলা কি যে মেলা.... রাত ১২টায় ফোন করে জানান দেওয়া যে আমরা আছি,/তোর কাছাকাছি।আরও পড়ুনঃ প্পিতৃদিবসে বাবাকে খোলা চিঠি এক কন্যার আবার শুরু নরক গুলজার, বেড়াতে যাওয়া, পিকনিক করা, সে তো আছেই। এতটুকু মনখারাপেও ফোন বা লিখে লিখে তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ শিকেই তোলা। অন্য কোথাও রাগ হলে, তাদের ওপর সেই রাগ ঝাড়া। সেখানে বলতে পারব না মানে কি কোথাওই পারব না? দোস্তলোগ হ্যায় না! এর মধ্যেই আবার সেই সুপ্ত বাসনা লেখালেখি করার মাদকতা ফিরিয়ে দিল এক বন্ধু। সে কি ছিনেজোঁক! প্রায়ই ফোনে উস্কানি দেয়। কিঞ্চিৎ লোভও দেখায়। অতএব মাঠে নেমে পড়া। এখন সবাই মিলে বেঁধে বেঁধে আছি। পৃথিবীতে এত বছর কাটানোর পরে বুঝেছি, জীবন-মরণের সীমানা ছাড়িয়ে বন্ধুই তো থাকে। ওরা আছে তাই আমি আছি।সুদেষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

জুন ২৩, ২০২১
নিবন্ধ

পিতৃদিবসে বাবাকে খোলা চিঠি এক কন্যার

আজ পিতৃদিবস। আমাদের ছোটবেলায় এরকম কিছুর নাম শুনিনি । বোধহয় কারও জানা ছিল না যে বছরের বিশেষ কোন দিন বাবাদের জন্যও হয়। আমাদের শৈশব ছিল পিতৃময়। সংসারের সিদ্ধান্ত সব বাবাই নেবে, আমরা কি করব, কোথায় পড়ব, কি ভাবে সংসার চলবে সব কিছু। খুব ছোটতে বাবা আমাকে ভোরবেলা উঠিয়ে জল খাইয়ে নিয়ে যেত বাথরুমে। সকাল ৭টায় রিকশা আসবে স্কুলে নিয়ে যেতে।স্কুল থেকে ফিরে বাবাকে দেখতে পেতাম না, বাবার তখন অফিস। কিন্তু দুপুরগুলো চলতো বাবার করে দেওয়া রুটিনে। অঙ্ক দেওয়া থাকত খাতাতে। অঙ্ক কষে একটু ঘুমিয়ে নেওয়া। সেটাও আগাম বলে দিত বাবা। সন্ধ্যেয় এসে পড়াতে বসা। যখন একটু বড় হলাম, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সাইকেল চালানো শিখতে হবে। আমাদের মফস্বল শহরে কোন বাস সার্ভিস ছিল না। আর রিকশা ভাড়া দিয়ে টানা যাচ্ছে না। তখন তেরো বছরের কিশোরীর চোখে ভয়, লজ্জা সব। সাইকেল আর শেখা হয় না। মাঠে বিকেলে অনেকে খেলছে, কিশোর থেকে কিছু যুবকও। তাদের চোখের সামনে পিঠে পড়লো বিরাশি সিক্কার এক থাপ্পড়। সদ্য কিশোরী আমার মুখ চোখ লাল হয়ে চোখে জল। মারলো তো বাবাই , কিন্তু এত ছেলের সামনে? মুগ্ধ দৃষ্টি গুলো কেমন বদলে গেল ব্যঙ্গের হাসিতে। কিন্তু ওমা! দিব্যি সাইকেল টাও চলতে থাকলো গরগড়িয়ে। একটু হাত সরগর হতেই বাবার সঙ্গে সাইকেল চালিয়ে হাজারদুয়ারী। বাবা বড় সাইকেল-এ সামনে, আমি পিছনে লেডিস ছোট লাল সাইকেল আমার। বোর্ড-এর পরীক্ষা, ভোরে ওঠা নিয়ে আমি নাজেহাল। ভোরে উঠতে পারি না, বাবা এলো কফির কাপ হাতে। গরম গরম কফি খেয়ে আমি আবার ঘুমে। এইভাবেই কেটে চলে দিন। ইউনিভার্সিটিতে এডমিশন। বাবা পৌঁছাতে গেল আমাকে, সেদিনটা টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছিল। বাবা আমাকে পৌঁছে টুকিটাকি জিনিস কিনে ফিরে যাচ্ছে, আমি দাঁড়িয়ে আছি দরজায়। বাবা বারবার বলছে তুই ভেতরে না গেলে আমি যাই কি করে আর আমি বলছি, তুমি যাও তারপরে তো যাব আমি। এই পহলে তুম-পহলে তুম এর টানাপোড়েনে কে যে জিতেছিল আজ আর মনেও নেই। বিয়ের পরে আমার ঘুম থেকে উঠে সর্বপ্রথম কাজ ছিল বাবাকে ফোন করা। ততদিনে বাবা অনেকটাই অসুস্থ, তবু ঘড়ির কাঁটা ৭টা ছুঁলেই ফোন আসত, তুমি কি আমাকে ফোন করতে ভুলে গেলে? তুই নয় তুমি, সম্বোধনেই ধরা পড়ত উষ্মা। তারও পরে তখন আমি মা, সন্তান পালনের টুকিটাকি বাবা আমাকে শিখিয়েছিল। বিশেষত, বাচ্চার খাওয়া-দাওয়া। আমার অতি দুরন্ত মেয়েকেও সামলেছে অপটু হাতে। তখন আমি জীবন যুদ্ধে পাগলপ্রায়। যখন একটু গুছিয়ে বসেছি, কন্যা আমার কাছেই। অফিস থেকে ফেরার পথে বিউটি পার্লার এ বসে আছি। উদ্দেশ্য, কিঞ্চিৎ সৌন্দর্য বৃদ্ধি। বাবার ফোন আসতেই কেটে দিলাম, দ্বিতীয় ফোনটা আসতে ধরলাম। নাহলে রিং করা থামাবেন না উনি। বললাম পার্লার এ আছি, পরে করছি ফোন ঘন্টা খানেক পরে আবার ফোন, বাধ্য হয়ে ধরে বললাম, এখনও হয়নি, শেষ হলে করছি আমার বাবার রাগে ক্ষোভে উক্তি, এখনও ওই পার্লার-এ বসে আছিস, ছোট থেকে এত মন দিয়ে যদি অঙ্কটা করতিস তাহলে কোথায় যে থাকতিস আজ! এবং হতভম্ব আমার প্রত্যুত্তর, এটা কি এইসময় ই মনে এলো তোমার! বাবা চলে গেছে, না বলেই। যে বাবা কিছু আমাকে না বলে করত না, কিরকম যেন এই সিদ্ধান্তটা একাই নিয়ে নিল। বাবাকে কোনদিন বলা হলো না তোমাকে ভালোবাসি। কোনওদিন জীবনে যা ভুল করেছি নতজানু হয়ে স্বীকার করা হল না। বলা হলো না বাবা তোমাকে ছেড়ে থাকা এখনও ভালো করে শেখা হয়নি আমার। অসমাপ্ত শিক্ষা নিয়ে কি করে চলবো আমি। কিছুই তো বলা হল না। তাহলে এতগুলো বছরে কি কথা বললাম আমি বাবার সঙ্গে? এতগুলো জরুরি কথা কি করে বাকি থেকে গেল? কবে শেষ করব এই অসমাপ্ত কথোপকথন আমি আর আমার বাবা? সুদেষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

জুন ২০, ২০২১
নিবন্ধ

ম'নের ঘরের স্বজন

দেবনন্দন ব্যানার্জী সারাজীবনেও আমার মনের সংসারের স্বজনদের সঙ্গে মিতালী হয় না! তাঁদের সঙ্গে আমার পরিচয় নিবিড় হয় না। আত্মার-আত্মীয় হয়ে ওঠে না তাঁরা। দেহটাকে আপন ভাবলেও অধরা থেকে যায় সত্তার অস্তিত্ব। আমার ঘরে বসত করে মন কয় জনা?--এ, জানা হয়ে ওঠে না সারা জীবনেও। কাম-ক্রোধ-লোভ-মোহ যা-যা নিয়ে আমার এই সত্তা---তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক মধুর হয় না। কখনও অপব্যবহার বা কখনও ব্যবহারহীনতায় যাপিত হয় জীবন! এটা সত্যি যে সংসারের অভিভাবকটিকেই আমরা চিনতে পারি না। যিনিই চিনিয়ে দিতে পারেন ঐ ক-জনাকে। তিনিই বোলে দিতে পারেন কার সঙ্গে কী ব্যবহার হলে আমার উপভোগ আমার মনুষ্যত্বকে উপঢৌকন দেবে। এই সামান্য সহজ সোজা-সাপ্টা বোধটা থাকে না বলেই দুর্বুদ্ধি উপভোগের বদলে ভোগ করিয়ে অসুস্থ করে তোলে আমাকে। যারা আমার মিত্র হতে পারতো তারাই শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। কখনও কখনও মনে হয়, তবে কি বৈরাগ্য সন্ন্যাসই সঠিক পন্থা! রবীন্দ্রনাথের অনুভব ভাবিত করে--বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়/ অসংখ্য বন্ধন মাঝে লভিব মুক্তির স্বাদ। ত্যাগ কাকে করবো, সে তো আমার পরাজয়! আমি অযোগ্য তাই পারলাম না, আমার ছোটো-ছোটো আমিদের নিয়ে চলতে। আর তাতেই তো ব্যর্থতা। জীবনে মল-মূত্র ত্যাগ ছাড়া, আর কোনো ত্যাগ আছে বোলে তো মনে হয় না! কাম কখন প্রেমের বন্ধু হয়ে যায়, ক্রোধ কখন তেজ বিক্রম হয়ে অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়ায়, লোভ কখন তৃপ্ত করে আপনাকে--সে তো আমারই ঐ অভিভাবক প্রেষ্ঠের আলিঙ্গনেই অসম্ভব সম্ভব হয়ে ওঠে। মনের সন্ন্যাসই আরও বৃহত্তর সংসারের জনক। আর সেখানেই আমার প্রবৃত্তিরূপ স্বজনদের সাথে সুন্দরের আরাধনা। নিশ্চিন্ত হতে পারি, একটা নির্ভরতা থাকলে। অনুরাগ-প্রেম বিল্লমঙ্গলকে প্রকৃত চিন্তামনিকে চেনালো, চণ্ডাশোককে ধর্মাশোক করলো, রত্নাকরকে বাল্মীকি করলো। সন্ন্যাসী শ্রেষ্ঠ মহাপ্রভু বললেন--সন্ন্যাস লইনু যবে ছন্ন হইলো মন/ কি কাজ সন্ন্যাসে মোর প্রেম প্রয়োজন। একজন মালিক থাকলে আমি নির্ভাবনায় বলতে পারি, অন্ধকারের আগেই আমি গৃহে ফিরবো। একজন মাহুত থাকলেই আমি নিঃসংশয় হতে পারি, স্বেচ্ছাচার আমার উপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না। আর সেটি হওয়া চাই কোনো Living personality । আকাশের ভগবান হলে হবে না, কারণ তিনি আমায় ভাল-মন্দ , ন্যায়-অন্যায় কিছু বলতে পারেন না। আমার স্বেচ্ছাচারে নীরব থাকেন। প্রবৃত্তি তো সেই অতন্দ্র ঈশ্বর , জীবনটাকে উপভোগ করার জন্য। তাই তাঁকে বড্ড প্রয়োজন, ওদের(বৃত্তিগুলি) নিয়ে চলতে, শিখতে, জানতে। আর এই বৃত্তিই ছোট্ট বৃত্ত থেকে অনন্তে নিয়ে যায় একজন friend, guide, master-এর হাত ধরে। আমার মনের পরিচালনার ভারটি তাঁর হাতে সপলে মনের ঘরের সদস্যরা আমার আপন হয়ে উঠতে সময় লাগবে না। যেমন অতি মূর্খ শিবাজী রামদাস স্বামীর হাত ধরে অনন্ত জীবনের অধিকারী হয়ে উঠেছিলেন। অনেককেই বলতে শুনেছি--অহংকার ত্যাগ না হলে কিছুই হবে না। ফলিত বিজ্ঞান বলে অহং যায় না, দেহ থাকতে। তাই তো আমার প্রভু আমায় শিখিয়ে দেন , কিভাবে তার (অহং-এর) প্রভু হয়ে ওঠা যায়। অহংটা করতে হয় তাঁকে(আপন ইষ্ট) নিয়ে। আমার সব কৃতিত্বের মালিক তাঁকে ভাবতে হয়। আর তখুনি অহং আমার ক্রীতদাস হয়। আমি তাঁর সন্তান--এই বোধই আমার শত্রু অহংকে মিত্র করে তোলে। আমি পূর্ণ হই, পবিত্র হই।

ডিসেম্বর ১২, ২০২০
নিবন্ধ

নদী কে জায়গা দিনঃ প্রসঙ্গ গঙ্গা ভাঙ্গন

বর্ষা শুরু হলেই আতঙ্কের প্রহর গোনা শুরু হয় মানুষ গুলোর। ঝুপ ঝাপ নদী পাড়ের মাটি খসে পড়া নতুন নয় এদের কাছে। তবে বর্ষার বিপুল জলরাশির যোগানে উন্মত্ত নদী যখন বিঘের পর বিঘে জমি, বাস্তু ভিটে, রাস্তা থেকে শুরু করে সভ্যতার সব নিদর্শন মুছে দিতে উদ্যত হয়, তার প্রলয়ঙ্করী রূপে মানুষ আতঙ্কিত হয়, জীবন হানিও ঘটে। নদী ভাঙন এক অতি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়ম, কিন্ত এই ভাঙনের কবলে পড়ে যখন মানুষ বিপর্যস্ত হয় তখন তা বিপর্যয় রূপে দেখা দেয়। দিশেহারা, সর্বহারা মানুষের হাহাকারে ভারী হয়ে যায় ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাতাস। এরা সেই মানুষ গুলো যাদের সাথে নদীর যুগযুগ ধরে আত্মীয়তার সম্পর্ক। নদীর তীরে বসবাসকারী কোটি কোটি মানুষের জীবনে নদী যেমন আশীর্বাদ স্বরূপ ঠিক তেমনই আতঙ্কের কারণ। নদীমাতৃক ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গে প্রাচীন কাল থেকেই নদীর তীরবর্তী অঞ্চল মানুষের বসবাসের স্থান হিসাবে খুব জনপ্রিয়।তার অন্যতম কারণ গুলি হলো সুলভ উর্বর জমি, পরিবহনের সুবিধা, বানিজ্যিক আদান প্রদান, মাছ ধরা সহ নানা রকমের জীবিকার সুযোগ। গাঙ্গেয় সভ্যতা সংস্কৃতি অতি প্রাচীন, সেটা সন্দেহাতীত, কিন্ত ব-দ্বীপে গঙ্গার প্রাচীন প্রবাহ পথ নিয়ে যথেষ্ঠ মত পার্থক্য আছে। রাধাকমল মুখার্জি, কাননগোপাল বাগচী এবং ওল্ডহ্যাম, রিকস, শেরউইল প্রমূখ ব্রিটিশ নদী বিশেষজ্ঞরা ভাগীরথী কেই গঙ্গার প্রাচীন প্রবাহ পথ বলে তাঁদের লেখায় উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীকালে সেচ বিশেষজ্ঞ উইলককস তাঁর ধারণার কথা বলতে গিয়ে ভাগীরথী কে সেচের জন্য কাটা খাল বলে উল্লেখ করেছিলেন, বিভিন্ন মানচিত্র বিশ্লেষণ করে অনেকেই তাঁর মত সমর্থন করেন এবং পদ্মাকেই গঙ্গার আদি প্রবাহ পথ বলে তাঁদের লেখায় উল্লেখ করেন। প্রাচীনত্বের দিক থেকে গঙ্গা বা ভাগীরথী যেটিই হোক কিন্ত জনবসতি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্র হিসেবে ভাগীরথীর উপত্যকা বেশি প্রাচীণ তা এর তীরে ছড়িয়ে থাকা তাম্রলিপ্ত, কর্ণ সুবর্ণ, চন্দ্রকেতুগড় ইত্যাদি স্থান গুলি প্রমাণ করে।গগঙ্গা নদী বাংলায় প্রবেশ করেছে রাজমহল পাহাড়ের পাশ দিয়ে। প্রাচীণ যুগে গারো-রাজমহল গ্যাপ নামক ভূপ্রাকৃতিক খাতটি পলি সঞ্চয়ের ফলে বর্তমানে এই সমভূমিতে পরিণত হয়েছে। এই পলি শুধুমাত্র হিমালয় থেকে নিয়ে আসা সূক্ষ্ গঙ্গা বাহিত পলি নয়। দামোদর, অজয় সহ একাধিক নদ নদী, ছোটনাগপুরের মালভূমি থেকে মোটা দানার বালি মিশ্রিত পলি নিয়ে এসে প্রাথমিক ব- দ্বীপ গঠনের কাজ করেছিলো যাকে বলে প্যারা ডেল্টা। এর উপর সঞ্চিত হয়েছে গঙ্গার পলি। বালি মিশ্রিত নিম্নভাগে র পলির অভ্যন্তরীণ বাঁধন আলগা হওয়ার জন্য নদীর জলের প্রবল চাপে তা সহজেই আলগা হয়ে ধুয়ে যায়।উপরের কাদা মিশ্রিত পলি স্তর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকতে না পেরে খসে পড়ে। এটিই পাড় ভাঙার প্রক্রিয়া। নদীর প্রস্থ বরাবর একটি নির্দিষ্ট অংশে পর্যা়ক্রমিকভাবে এই ভাঙাগড়ার কাজ চলে, ভূগোলের পরিভাষায় যাকে বলে meander belt বা রিচ পয়েন্ট। এর মধ্যে নদীর চলাচল এক অতি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়ম।এটা ঘটবেই।রাজমহল থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত ৭২ কিমি পথে বামদিক থেকে অনেক শাখানদী এসে মিশেছে, যেমন কালিন্দী, ফুলহার, মহানন্দা, ছোট ভাগীরথী ইত্যাদি। সম্ভবত ১৫৭৫ এ গৌড় এর ধ্বংসের আগে পর্যন্ত কালিন্দী, মহানন্দা, ছোট ভাগীরথী বরাবর ছিল গঙ্গার প্রবাহ পথ। কিন্ত ১৫৭৫ এর পর গঙ্গার গতিপথ পরিবর্তন ঘটে যার প্রমাণ পাওয়া যায় ১৭৭৯ এর J. D. Rennell এর মানচিত্রে যেখানে গঙ্গার অবস্থান গৌড়ের অনেকটা দক্ষিণে। রাধাকমল মুখোপাধ্যায় তাঁর The Changing Face of Bengal গ্রন্থে এই কালিন্দী কেই গঙ্গার মূলস্রোত বলে উল্লেখ করেছিলেন। যদুনাথ সরকারের রচনা The History of Bengal (Muslim Period) থেকে ধারণা করা যায় যে সেই সময় রাজমহলের পর গঙ্গা একাধিক শাখায় বিভক্ত হতো। একটি কালিন্দী- মহানন্দার পথে, অপরটি গঙ্গা -পদ্মার খাত ধরে। বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলার মিঠিপুর গ্রামের কাছে গঙ্গা দুটি শাখায় ভাগ হয়েছে, একটি পদ্মা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, আর ভাগীরথী দক্ষিণমুখী হয়ে প্রায় ৫০০কিমি পথ অতিক্রম করে মায়াপুরের কাছে জলঙ্গী র সাথে মিলিত হওয়ার পর হুগলী নদী নাম নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। গঙ্গার থেকে ভাগীরথীর যে উৎস মুখ তা বিগত কয়েক শতাব্দী তে বার বার পরিবর্তীত হয়েছে, বিভিন্ন গবেষণা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রমান পাওয়া যায়। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভাগীরথীর খাতটি পদ্মার তুলনায় কম বেশি এক মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এরফলে একমাত্র বর্ষা কাল ছাড়া ভাগীরথী তে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ আসা সম্ভব নয়। ফিডার ক্যানেল এর মাধ্যমে সারা বছর জলের ধারা অব্যাহত রাখা ও কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখার জন্য ফারাক্কা বাঁধের পরিকল্পনা করা হয়। প্রকৃতিকে আয়ত্তে আনতে গিয়ে হিমালয় থেকে নিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ পলি সঞ্চয়ের ব্যাপারটা পরিকল্পনার ফাঁক হিসাবে থেকেই যায়। সূত্র বলছে প্রতি বছর আনুমানিক প্রায় ৬৪ কোটি টন পলি রাজমহল ও ফারাক্কার মাঝে গঙ্গা বক্ষে জমা হয়। গঙ্গা নদী প্রবাহ পথ আঁকাবাঁকা এবং ফারাক্কা ব্যারেজ নদীটির গতিশীল ভারসাম্য বিঘ্নিত করেছে এবং নদীটির স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত করেছে। ফারাক্কা বাঁধের উজানে বাম দিকে এবং ফারাক্কা বাঁধের নিচের ডান প্রান্তের দিকে নদী প্রবাহের একটি সাধারণ প্রবণতা রয়েছে। ফারাক্কা বাঁধের উজানে পলিতে আবদ্ধ গঙ্গা পাড় ভেঙে নতুন পথের সন্ধান করছে।বাঁধ নির্মাণের পূর্বে এই ভাগীরথী তে জলের যোগান যা ছিল, পরবর্তীকালে তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পলি উজানে সঞ্চিত হয়ে যাওয়ার ফলে ভার মুক্ত নদী প্রবাহ নিচের অংশেও ভাঙন ঘটাচ্ছে। নদী প্রবাহিত হয় প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে। গাঙ্গেয় ব -দ্বীপের যে অংশে গঙ্গা ও ভাগীরথী বয়ে চলেছে সেটি মূলত মৃতপ্রায় ব -দ্বীপের অন্তর্গত। এই পর্যায়ে নদীর কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় বলে অত্যন্ত আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়। জলের চাপে অবতল দিকের পাড় ভাঙতে থাকে, অপর দিকে নতুন ভূমি জেগে ওঠে উত্তল দিকে। ক্রমাগত পলি সঞ্চয়ের ফলে ভূমিভাগের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী তার পুরোনো খাত পরিত্যাগ করে নতুন পথে চলে। এসবের ফলশ্রুতি হিসেবে দেখা যাই এক বৃহৎ অংশের মানুষ এই নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়েন প্রতি বছর। এবছরও তার ব্যাতীক্রম ঘটে নি।পাড় ভাঙনের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে গঙ্গা বক্ষে গজিয়ে ওঠা চরের ভাঙ্গনের করুণ অধ্যায়। গঙ্গার ভাঙনের সাথে চর সৃষ্টি, অবলুপ্তি, পুনরাই জেগে ওঠার সম্পর্ক বেশ যে প্রাচীন তার প্রমান কিছুটা পাওয়া যায় Major Henry Thomas Colebrooke, W. W. Hunter (1876), Captain W. Sherwill দের বর্ণনায়। ভূতনির চর ও নিরমল চরে মানুষের জীবনযাপন চলে আবাস তৈরি, বাস্তুচুতি ও আবাস পুনর্নির্মাণের চক্রাকার আবর্তে।নদী মানুষের দ্বন্দ্বে অনেক ক্ষেত্রেই গঙ্গা বক্ষের চর গুলি হয়ে উঠেছিল মানুষের আশ্রয়ের ঠিকানা ও জীবনযাপনের রসদ।কিন্ত নদীর পাড় ভাঙ্গনের সুবাদে এবছর সেগুলিও সঙ্কটে।গঙ্গা তথা ভাগীরথীর তীরে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলী, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার এক বৃহৎ অংশের মানুষের বাস যারা প্রতি বছর নদীর পাড় ভাঙ্গনের কবলে পড়ে চরম দুর্দশার সম্মুখীন হন। ফি বছর নদীর পাড় ভাঙ্গনে গড়ে ৮ বর্গ কিমি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যায় আমাদের রাজ্যে। ফারাক্কা ব্যারেজের প্রবাহের উজানে ১৯৬৯ থেকে ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মালদা জেলায় গঙ্গার বাম তীরের ভাঙনের ফলে ৪.৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মনিচাকের ২২ মৌজা, কালিয়াচক-১ এবং কালিয়াচক-২, কালিয়াচক-৩, রতুয়া-১ এবং রতুয়া-২ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নদী গর্ভে চলে গেছে। কালিয়াচক-২ ব্লকের ভূতনির চর ও পঞ্চানন্দপুরের মধ্যে নদীর বাম তীরের অঞ্চলটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। এই বছর ভাঙনের কবলে মালদার রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের বিলাইমারি ও মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা বিপর্যস্ত। ওই দুই পঞ্চায়েতের নয়া বিলাইমারি, খাকচাবনা, টিকলিচর ও জঞ্জালিটোলা গ্রামগুলিতে গঙ্গা ভাঙন শুরু হয়েছে।মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গার তীরেও প্রায় কয়েক কোটি মানুষ বাস করেন। ফারাক্কা ব্যারাজের নীচ থেকে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার ডান তীরে ৯৪ কিমি ব্যাঙ্কলাইন রয়েছে এবং ফারাক্কা, সামশেরর গঞ্জ, সুতি-১, সুতি-২, রঘুনাথগঞ্জ-২, লালগোলা, ভগবানগোলা-১, ভগবানগোলা-২, রাণী নগর-১, রাণী নগর-২ এবং জলঙ্গী প্রভৃতি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের এই সমস্ত এলাকায় তীব্র পাড় ভাঙন ঘটে। ফারাক্কার কুলদিয়ার চর সহ হোসেনপুর চর এই বছরে ইতিমধ্যেই ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। গঙ্গা ও ফুলহার নদী দিয়ে ঘেরা এই দুই পঞ্চায়েত এলাকার দুই নদীর মধ্যবর্তী অংশে রয়েছে উর্বর কৃষিভূমি ও বিশাল গো চারণ এলাকা। তাই জীবন জীবিকা নির্বাহে গঙ্গা তীরের এই জায়গা ছেড়ে কেউ যেতে চান না। যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব কষ্টসাধ্য, বন্যা ও ভাঙনে প্রতি বছর হাজার হাজার বিঘা জমি, ভিটে মাটি হারানো সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দারা বংশানুক্রমে এখানেই থাকতে চান। অনেকেই আবার পরিনত হন নথিহীন নব্য শরণার্থী বা রুটি রুজির তাগিদে মুম্বাই গুজরাতের কোন পরিযায়ী শ্রমিকে।গঙ্গা নদী ভাগীরথী নাম নিয়ে দক্ষিণ বাহিনী হয়ে মায়াপুরের কাছে জলঙ্গী র সাথে মিলিত হয়ে, হুগলী নদী নাম নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। এই অংশেও নদী আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত। এর ফলে নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমানের পুর্বস্থলী ১ ও ২, কালণা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। পুর্বস্থলী ১নম্বর ব্লকের নসরতপুর, জালুইডাঙা সবচয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। নসরত পুরের কিশোরীগঞ্জ, মনমোহনপুরের বাসিন্দাদের অনেকের বাড়ি, চাষের জমি নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে এই বছরেই। পুর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লকের মেরতলা, কুটুরিয়া, গোপীপুর, তামাঘাটা এবং অগ্রদ্বীপ এর বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গনের কারণে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীয়ার শান্তিপুর থানার বেলঘড়িয়া-2 নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মঠপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভাগীরথী নদীর ভাঙ্গনে এই বছর বহু মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।কালনার ধাত্রীগ্রাম পঞ্চায়েতের কালিনগর, যার কাবাডি গ্রাম হিসেবে খ্যাতি রয়েছে দেশ জুড়ে। গ্রামের অনেকেই কাবাডিতে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এলাকার বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিনের ভাঙ্গনের জেরে বহু ঘরবাড়ি, জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। মানুষ যখন ভেবে ফেলে নদী কেবল তার বেঁচে থাকার খোরাক জোগানোর উপকরণ মাত্র মুশকিলটা হচ্ছে ঠিক তখনই। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথেসাথে, বাস্তু জমি, চাষের উপযোগী জমি সব কিছুর চাহিদা বেড়েছে বিপুল পরিমাণে। শুধু তাই নয়, মানুষ উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা কে জয় করতে চেষ্টা করছে। ঠিক যেমন হয়েছে ফারাক্কা ব্যারেজের ক্ষেত্রে। উত্তর বঙ্গের সাথে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ থেকে শুরু করে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা স্বাভাবিক রাখা, ব্যবসা বানিজ্য সবকিছুই ফারাক্কা ব্যারেজের প্রস্তাবনা বা রূপায়ণের মাধ্যমে কিছুটা হলেও বাস্তবায়িত হয়েছে বা হচ্ছে। এর সাথে আছে বিপুল সংখ্যক মানুষ, যারা নদীর তীরে বসবাস করেন, নদীর বুকে জেগে ওঠা চর গুলিও বাদ থাকে না। অপরিকল্পিত ভাবে নদীর পাড়ের মাটি কেটে নিয়ে দিনের পর দিন চলে মাটি পাচার, গজিয়ে ওঠে ইট-ভাটা। এই সবের সাথেই নদী হারিয়ে ফেলেছে তার চলার স্বাভাবিক ছন্দ। কিন্ত নদীকেও তো তার স্বাভাবিক গতিপথ বজায় রাখতে জায়গা দিতে হবে। এর মধ্যে মানুষ তার সভ্যতা গড়ে তুললে, নদীর দোষ দিয়ে লাভ নেই। দোষ যদি থাকে সেটা আমাদের সুদূরপ্রসারী চিন্তা ভাবনার।বছর দুয়েক আগে ট্রেনে যাবার পথে পরিচয় হওয়া এক সাধারণ মালদা বাসীর সাথে এই নদী ভাঙ্গনের কথা, ফারাক্কা ব্যারেজের কথা প্রসঙ্গে তার দেওয়া একটা সাধারন উপমার কথা বেশ ভালো লেগেছিল।তিনি বলেন নদীর চলার পথ ঠিক সাপের মতো, আর সাপ কে যদি তার মাথার কাছে চেপে ধরে সে গোটা শরীর আরো বেশী আঁকাবাঁকা করে নিজেকে মুক্ত করার জন্য। এই ফারাক্কা বাঁধ হলো সেই সাপের মাথার মতো, যা চেপে ধরেছে গঙ্গার স্বচ্ছন্দ গতিকে। আর নদী ক্রমশ চেষ্টা করে চলেছে তার মুক্তির পথ খোঁজার। নদীর তীরে বসবাসের সুযোগ যেমন অনেক, তেমনই ঝুঁকির কথাটাও ভুলে গেলে চলবেনা। স্রোতের সঠিক ঘাত প্রতিঘাত বিশ্লেষণ না করে অবৈজ্ঞানিক বাঁধ নির্মাণ, বোল্ডার ফেলা, বিদেশী ঘাসের চাষ, গাছ লাগানো, তার জালির ব্যবস্থা ইত্যাদি হয়তো সাময়িক ভাবে ক্ষতের মলম দিতে পারে কিন্ত তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হতে পারে না। নদীর পাড়ে বসবাসকারী বিপুল মানুষের পুনর্বাসন করা হয়েতো কঠিন কাজ, কিন্ত দূরসংবেদন ও ভৌগলিক তথ্য ব্যবস্থা (GIS) র সঠিক প্রয়োগ এর কিছুটা সমাধান করতে পারে। ভাঙন প্রবন নদীর তীর গুলির মানচিত্র প্রস্তুত করে, কত বছরের মধ্যে সম্ভাব্য ভাঙন কবলিত হতে পারে তার ভিত্তিতে যদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় তাহলে প্রতি বছর নদী ভাঙনের ফলে হাজার হাজার পরিবেশ-গত উদ্বাস্তু মানুষের যন্ত্রণা কিছুটা হলেও হয়তো কমানো যাবে।তথ্য সূত্রঃ১। বাংলার নদীকথা কল্যাণ রুদ্র, ২০০৮২। বাংলাদেশের নদ নদী ও পরিকল্পনা কপিল ভট্টাচার্য, ১৯৫৯৩। The Changing Face of Bengal রাধাকমল মুখোপাধ্যায়, ১৯৩৮৪। Rivers of Bengal(সঙ্কলিত) কুমুদ রঞ্জন বিশ্বাস, ২০০১৫। https://bn.m.wikipedia.org৬। No voice, no choice: Riverine changes and human vulnerability in the chars of Malda and Murshidabad, জিনিয়া মুখার্জী, ২০১১(http://idsk.edu.in/wp-content/uploads/2015/07/OP-28.pdf)৭। Time Streams: History and Rivers in Bengal, Graham P. Chapman Kalyan Rudra, ২০১৫ ডঃ কুণাল চক্রবর্তী, সহকারী অধ্যাপকশম্ভুনাথ কলেজ, লাভপুর, বীরভূম ওডঃ ইন্দ্রাণী মুখার্জী, সহকারী অধ্যাপকচন্দ্রপুর কলেজ, পূর্ব বর্ধমান

নভেম্বর ০২, ২০২০
নিবন্ধ

যারা অদৃশ্য রয়ে গেলেনঃ শ্রমিক ঠিকাদার বা দালালতন্ত্র!

গ্রামীণ ভারতে গরীব মানুষের জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতি পরিব্রাজনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে সম্পর্ক যুক্ত। ছদ্ম বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক দুর্বলতার চাপে অনন্যোপায় হয়ে আন্তঃরাজ্য পরিব্রাজনই হয়ে ওঠে তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র জীয়ন কাঠি। গ্রাম থেকে শহরে কাজ করতে গরীব মানুষের যাওয়াটা নতুন কিছু নয়, চিরন্তন কাল ধরেই সেটা হয়ে এসেছে। কিন্তু যেটা নতুন তা হল নব্য-উদারবাদের ভারতে তার সংখ্যাটা। পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে গত শতাব্দির নব্বই এর দশক থেকে বাড়তে শুরু করে ২০১১ সালে দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ কোটি যা দেশের মোট জনসখ্যার ৩৭ শতাংশ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির নিরিখে ২০২১ সালে যা আনুমানিক ৫৫ কোটিতে পৌঁছনোর কথা। প্রয়োজনীয়তা বা পছন্দের দ্বৈত কারণে গ্রামের গরীব মানুষের একমাত্র উপায় হলো বছরের বিভিন্ন সময় চক্রাকার বা ক্ষণস্থায়ী আন্তঃরাজ্য পরিব্রাজন। এত দিন সব মোটের উপর ঠিকঠাক চলছিল। বাদ সাধল অতিমারি, যাদের আমরা কোনওদিন দেখতে পেতাম না, তারা এখন দৃশ্যমান। কাতারে কাতারে ঝকঝকে ভারতের সুবর্ণ চতুর্ভুজ ধরে হাঁটছে এবং মরছে। আমরা তো জানতামই না, লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক কি ভাবে শহরের অসংগঠিত অর্থনীতিকে সচল রেখে ছিল তা না কী দেশের সরকারও জানত না। আসলে তারা ছিল, ঠিক প্রদীপের তলায় যেমন অন্ধকার থাকে বড় বড় শহরের ঘিঞ্জি বস্তিতে বা অস্থায়ী ছাউনিতে। তাদের আমরা এখন ফিরে আসতে দেখছি, কিন্ত জানি কী তারা গিয়েছিল কী ভাবে? কে নিয়ে গিয়েছিল তাদের। না জানি না, কারণ যারা নিয়ে গিয়েছিল, তারা কিন্তু অদৃশ্য। তারা শ্রমিক ঠিকাদার বা শ্রমিকদের নিজের ভাষায় দালাল। পরিযায়ী শ্রমিক নির্ভর অসংগঠিত অর্থনীতির মূল তিনটি স্তম্ভঃ পরিযায়ী শ্রমিক, পূঁজিবাদী মালিক বা শিল্পপতি এবং এই দুই পক্ষের মাঝখানে সংযোজক হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন স্তম্ভ হল শ্রমিক ঠিকাদার বা দালাল।তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিযায়ী শ্রমিকদের শোষণ যন্ত্রনার কথা বুঝতে গেলে নব্য-উদারবাদের ভারতে শ্রমিক ঠিকাদারদের ভূমিকার পর্যালোচনা জরুরি। দিল্লি, কেরালা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশে সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সারা বছর ধরে অসংগঠিত শ্রমিকদের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। তাই কম খরচে কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে এমনকি শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ও অধিকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের জোগান ও সরবরাহ বিভিন্ন দেশী-বিদেশী সংস্থার কাছে বেশ লাভজনক একটি ব্যবস্থা। আর এখানেই পারস্পারিক বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে গ্রামে গ্রামে শ্রমিক ঠিকাদার বা দালালদের আবির্ভাব ঘটে। খাদ্য, বস্ত্র বাসস্থান সহ দৈনন্দিন সামাজিক চাহিদা মেটাতে ও বিনা সুদে টাকা ধার সহ কাজ জোগানোর ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের জুড়ি মেলা ভার। সংবিধান প্রদত্ত কাজের অধিকারের কথা যতই বলি না কেন টালমাটাল অবস্থায় জীবন জীবিকার সংকটময় সময়ে এই ঠিকাদারের ভূমিকা গ্রামের মানুষের কাছে ত্রাতার থেকে কোনো অংশে কম নয়। তাই টাকা ধারের ক্ষেত্রে মহাজনদের মাত্রাতিরিক্ত সুদ এড়াতে তারা ঠিকাদারদের কাছে অগ্রিম টাকা ধার নেয়। শর্ত একটাই চাষের কাজ শেষ হলে ভিন রাজ্যে পরিব্রাজন ও দিন মজুর হিসাবে কাজে নিযুক্তি। প্রথমবার শ্রমিকদের সঙ্গে গন্তব্যে গিয়ে তারা শ্রমিকদের শহরের ঠিকাদারদের হাতে সঁপে দিয়ে গ্রামে ফিরে আসে।পরিযায়ীদের অনেকেরই ব্যাংক একাউন্ট না থাকায় এরা রোজগারের টাকা এই সমস্ত ঠিকাদারদের মাধ্যমে বাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা করে। সেক্ষেত্রে কিছু টাকা কেটে নিয়ে বাকি পাঠানো টাকা ঠিকাদাররা পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সংকটের সময় দরকার হলে ঠিকাদাররা পরিযায়ীদের বাড়িতে টাকা সাহায্য করে পারস্পরিক বিশ্বাস ও নির্ভরতার পরিবেশ তৈরি করে তাদের লাভের তাগিদে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই ধরনের ঠিকাদাররা হয় সেই গ্রামের অথবা নিকটবর্তী গ্রামের বাসিন্দা। কখনও কখনও অভিজ্ঞ পরিযায়ীদের মধ্যে কেউ কেউ আবার ঠিকাদারে পরিণত হয় শহরে তাদের নিজস্ব চেনাজানার নেটওয়ার্ক তৈরি হলে। সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় যখন প্রাপ্য টাকা এবং শেষ পর্যন্ত যা পরিযায়ীদের হাতে আসে তার মধ্যে বিস্তর ফারাক হয়। এছাড়া নুন্যতম সুরক্ষা সরঞ্জাম, অসুস্থকর পরিবেশে থাকা, কোম্পানির বৈধ কাগজপত্রের অভাব যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সহজে চাপা দেওয়া যায় এসব তো আছেই। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো Inter State Migrant Workmen Act 1979, অনুসারে শ্রমিক শোষণ প্রতিরোধে সঠিক নথিভুক্তি করন, ঠিকাদারদের লাইসেন্স, পরিবহণ ভাতা সহ একাধিক নিয়ম নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে এসব খুঁজে পাওয়া মুস্কিল। একবার পরিযায়ীরা বাইরে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলে পরবর্তী কালে তারা সেই ঠিকাদারদের অধীন কাজে যেতে অরাজি হন। কিন্তু পারিবারিক দায়বদ্ধতার কথা ভেবে যাওয়া বন্ধ করতেও পারেন না, শুরু হয় বিকল্প ঠিকাদারের সন্ধান। আবার কিছু অগ্রীম টাকা, একটু সুযোগের প্রলোভন এবং একসঙ্গে কমদিনে বেশ কিছু টাকা উপার্জনের সুযোগ বেকার পরিযায়ীরা ঠেলে দিতে পারেন না। এভাবেই দিনের পর দিন চলতে থাকে পরিব্রাজনের ফাঁদ, যার থেকে দুর্ভাগ্যবশত নিজেদেরকে দূরে রাখতে পারাটা মুশকিল। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো আমাদের দেশে পরিযায়ীদের সংখ্যা, তাদের অবস্থান, প্রকৃতি, কাজে যাবার প্রবণতা ইত্যাদির সঠিক সরকারি হিসাব না থাকলেও এই সমস্ত ঠিকাদার ও তাদের মালিক দের কাছে যে যথেষ্ঠ নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে বললে খুব একটা অতিরঞ্জিত হবে না। অনেকটা পুরীর পাণ্ডাদের মত। শারীরিক নিপীড়ন, অধিক সময় ধরে কাজ করানো, দৈহিক অত্যাচার, রোগগ্রস্ত হওয়া এবং তার ফল স্বরূপ অর্জিত মজুরীর অনেকাংশ ব্যয় এসবের ফলে পরিব্রাজনের মূল্য ও লাভের অঙ্কে শেষ পর্যন্ত পড়ে থাকে সামান্যই অবশিষ্ট।কোভিড অতিমারির প্রভাবে দেশ জুড়ে পরিযায়ীদের অস্থি মজ্জায় জর্জরিত নির্মম অবস্থার কথা আজ সবার জানা। ভারতের মোট জিডিপির প্রায় দশ শতাংশ প্রত্যক্ষ ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এই পরিযায়ীদের দ্বারা। ILO-এর সমীক্ষা বলছে সম্ভবত ভারতের প্রাই চল্লিশ কোটি মানুষ গ্রামে ফিরে এসে দারিদ্রতার শিকার হবেন। কিন্তু প্রশ্ন হল এই অবস্থার দায় কার? রাষ্ট্রের দায়িত্ব কতটা ছিল বা কতটা হওয়া উচিত ছিল সেই নিয়ে অনেক যুক্তি তক্ক চলছহে। কিন্তু রাষ্ট্র কে বাদ দিয়ে যারা এই শোষণ যন্ত্রের আড়ালে থেকে এই ব্যাবস্থা কে ছদ্মবেশে অল্প শিক্ষিত অভাবী ঠিকাদারদের দ্বারা পরিচালনা করে এতদিন নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন তারা কোথায় গেলেন? মনে রাখতে হবে যে এই বিপুল সংখ্যার পরিযায়ী মানুষ যদি পরিব্রজনের প্রচলিত ব্যাবস্থার প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে আগামী দিনে তা শিল্পপতিদের জন্য খুব একটা সুখকর হবে না। মালিক এবং ঠিকাদার পক্ষ ভালো করেই জানে দেশে করেনা অতিমারির প্রকোপ কমলেই ওরা আবার শহরে আসতে বাধ্য হবে। আপাত ভাবে দেখলে মনে হবে মাইলের পর মাইল হেঁটে ফেরা পরিযায়ীদের অনেকেই আর এ জীবনে ফিরতে চাইবে না। কিন্তু যে দেশে মোট কর্মক্ষম জনসংখ্যার প্রায় তিরানব্বই শতাংশ মানুষ এখনো অসংগঠিত ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত সেখানে সত্যিই কি এই বিপুল সংখ্যক মানুষের গ্রামে কাজ পাওয়া সম্ভব নয়। অতএব কিছু দিনের অপেক্ষার পর আবার গরীব মানুষদের বিশ্বাস অর্জনের পালা শুরু হবে ঠিকাদারদের গ্রাম ও শহর উভয় জায়গাতেই এবং পরিব্রাজনের দুষ্ট চক্রের মাধ্যমে কোনও নতুন রূপে হয়ত শ্রমিক শোষণ চলতেই থাকবে।ডঃ কুণাল চক্রবর্তীসহকারী অধ্যাপকশম্ভুনাথ কলেজ, লাভপুর,ওপ্রফেসার গোপা সামন্তভূগোল বিভাগবর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
নিবন্ধ

হরসিমরতের ইস্তফার নেপথ্যে

কয়েকদিন আগেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন কৃষিনীতির সমর্থন করেছিলেন। এমন কী হলো হঠাৎ সুর বদলে কৃষিনীতিরই বিরোধিতা করে ইস্তফা দিলেন হরসিমরত কউর বাদল? এ নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে জল্পনা। মোদী মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফার কারণ হিসেবে প্রধানত তিনটি বিষয়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন কউর। কৃষি পরিষেবা ও কৃষিপণ্যের মূল্য নিশ্চয়তার বিষয় যেমন আছে, তেমনই আছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়টিও। একই সঙ্গে পদত্যাগী মন্ত্রী বিরোধিতা করেছেন কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সংক্রান্ত অধ্যাদেশও। এই তিনটি বিষয় কউর পদত্যাগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অধ্যাদেশে কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, কৃষকরা নিজেদের এলাকা ছাড়াও অন্যত্র উৎপাদিত পণ্য বিপণনের সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ বাংলার কৃষক তাঁর পণ্য যেমন অন্য রাজ্যে বিপণন করতে পারবেন, তেমন উল্টোটাও সত্য। তবে চাল, গম-সহ বেশ কিছু পণ্য নোটিফায়েড এলাকার বাইরে বিক্রি করতে পারবেন না। এ ছাড়া বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চাষিরা চুক্তি করে কৃষিপণ্যের উৎপাদনের সংস্থানের বিষয় রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে। কিন্তু গোল বেঁধেছে অন্যত্র। যদি অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয় সেক্ষেত্রে কৃষকরা কী করবেন? অন্যত্র বিপণনের সুযোগ তো থাকছেই না, সেই সঙ্গে সরকারের যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য তা থেকে বঞ্চিত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই-ই নয়, বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করলে সেক্ষেত্রেও কৃষক তাঁর জমি তথা ফসলের অধিকার হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হতে পারেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা। যদিও অধ্যাদেশ নিয়ে সাফাই দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। সরকারি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার অধ্যাদেশ উড়িয়ে দিয়ে আশ্বস্ত করেছেন কৃষকদের। সেই সঙ্গে সমর্থন করেছেন বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তির বিষয়টিও। এতে কৃষি ও কৃষিপণ্যের আধুনিকীকরণ সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তোমর। একই সঙ্গে চুক্তির সুফল হিসেবে একদিকে যেমন কৃষিপণ্যের বেশি দাম পড়বে, তেমনই উন্নতমানের বীজ ও সার মিলবে বলে জানিয়েছেন তোমর। শেষ পর্যন্ত অধ্যাদেশ অর্ডিন্যান্সে পরিণত হলে ফোঁড়েরা সবচেয়ে অসুবিধায় পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তেমনই এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেকেরই কাজ হারানোর আশঙ্কা। যদিও নতুন কৃষিনীতি নিয়ে বসে নেই সরকারও। পাঞ্জাব, হরিয়ানায় নতুন কৃষিনীতির বিরোধিতা করে শুরু হয়েছে আন্দোলন। এক্ষেত্রে বিরোধীরা আন্দোলনকে উস্কানি দিচ্ছে বলে রেকর্ড বাজাচ্ছে। তবে নয়া নীতির পক্ষে যতই সওয়াল করা হোক না কেন, হরসিমরতের ইস্তফা চাপে ফেলেছে মোদী সরকারকে। সামনে বিহার নির্বাচন। কৃষিনীতি জনদরদী হলে, কেন প্রথমে সমর্থন করে পরে সরে দাঁড়ালেন হরসিমরত, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

ইডির তলব এড়িয়ে গেলেন ডিসি! শান্তনুকে নিয়ে নতুন রহস্য

ইডির তলব থাকা সত্ত্বেও আজও দফতরে হাজির হলেন না কলকাতা পুলিশের ডিসি স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। তাঁর আইনজীবী ইডি দফতরে গিয়ে জানান, আপাতত তিনি কাজে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারছেন না। সেই কারণে তদন্তকারী সংস্থার কাছে কিছু সময় চাওয়া হয়েছে।প্রসঙ্গত, কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল ইডি। শুধু তিনি নন, তাঁর দুই ছেলেকেও তলব করা হয়েছিল। সোনা পাপ্পুর বেআইনি জমি জালিয়াতি মামলার তদন্তেই তাঁর নাম সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এর আগে বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে তাঁর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। একই এলাকায় তাঁর নামে থাকা আরও কয়েকটি ফ্ল্যাটেও অভিযান চালানো হয়।সূত্রের খবর, এই মামলার সূত্রে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করে ইডি। সেই সূত্র ধরেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।এই মামলায় ইতিমধ্যেই এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ইডি। এর আগেও একাধিক মামলায় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে তলব করা হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর ছেলে সায়ন্তনের নামও এই মামলায় জড়িয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। অভিযোগ, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বারবার তলব সত্ত্বেও হাজিরা না দেওয়ায় তদন্তে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই নজর এখন।

এপ্রিল ২২, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে বাইক বন্ধ! কমিশনের সিদ্ধান্তে হাই কোর্টে মামলা

ভোটের দুদিন আগে স্পর্শকাতর এলাকায় বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিতর্কে জড়াল নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলা দায়েরের অনুমতি চাওয়া হলে তিনি সেই অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। মামলাকারীর দাবি, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি হতে পারে এবং তা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোট রয়েছে। তার আগে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে বাইক র্যালি ও মোটরসাইকেল মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানোও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি চিকিৎসা বা পারিবারিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে।এছাড়া বাইকে আরোহী বসানো নিয়েও কড়া নিয়ম জারি করেছে কমিশন। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইকের পিছনে কাউকে বসানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। যদিও স্কুল পড়ুয়াদের যাতায়াত, চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনে এই নিয়মে কিছু ছাড় রয়েছে।এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তৃণমূলের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের অসুবিধা বাড়বে। বিশেষ করে যাঁরা ডেলিভারি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের উপর এর বড় প্রভাব পড়বে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

এপ্রিল ২২, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের মাঝেই বড় ঘোষণা! কবে প্রকাশ উচ্চ মাধ্যমিকের ফল জানুন

ভোটের আবহের মধ্যেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন ঘোষণা করল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। বুধবার জানানো হয়েছে, আগামী ১৪ মে প্রকাশিত হবে ফল। ওই দিন সকাল সাড়ে দশটায় সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে ফল ঘোষণা করা হবে।সংসদের তরফে জানানো হয়েছে, সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবনে এই সাংবাদিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ফল ঘোষণার আধ ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল ১১টা থেকে পরীক্ষার্থীরা অনলাইনে নিজেদের ফল জানতে পারবেন। তবে কোন কোন ওয়েবসাইটে ফল দেখা যাবে, তা এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। পরে সংসদের তরফে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে খবর।প্রতি বছরের মতো এবারও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ফল প্রকাশ নিয়ে উৎসাহ তুঙ্গে। ভোটের আবহের মধ্যেই এই ঘোষণা আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন সবার নজর ১৪ মে-র দিকে।

এপ্রিল ২২, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগের রাতেই বড় চাল! দ্বিতীয় দফা নিয়ে গোপন বৈঠক শাহের

রাত পোহালেই প্রথম দফার ভোট, আর তার আগেই দ্বিতীয় দফা নিয়ে জোর প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি। মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে দীর্ঘ বৈঠক হল, যেখানে ভিন রাজ্য থেকে আসা বিজেপি নেতাদের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। এই নেতারাই বাংলার দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনের দায়িত্বে রয়েছেন।প্রথম দফায় বৃহস্পতিবার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। মোট ১৬টি জেলায় এই ভোট চলছে। মঙ্গলবারই প্রথম দফার প্রচার শেষ হয়েছে। সেই দিন একাধিক জনসভা করেন অমিত শাহ। প্রচার শেষ হতেই রাতেই তিনি দ্বিতীয় দফার রণকৌশল ঠিক করতে বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা, যাঁরা দ্বিতীয় দফার আসনগুলির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।রাজনৈতিক মহলের মতে, দ্বিতীয় দফার যে ১৪২টি আসনে ভোট হবে, সেখানে আগের নির্বাচনে বিজেপির ফল খুব ভালো ছিল না। এমনকি সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনেও প্রত্যাশামতো ফল পায়নি দল। তাই প্রথম দফার প্রচার শেষ হতেই দ্বিতীয় দফা নিয়ে আলাদা করে কৌশল তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছেন অমিত শাহ।সূত্রের খবর, দ্বিতীয় দফার প্রচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যেই থাকতে পারেন অমিত শাহ। সব ঠিক থাকলে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত তাঁর রাজ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব বারবার দাবি করছে, এবারের নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় আসবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গেলে দ্বিতীয় দফার আসনগুলিতে ভালো ফল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখন থেকেই সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে বিজেপি।

এপ্রিল ২২, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে কবি শ্রীজাত গ্রেফতারি! কাঁপছে রাজনৈতিক ও সাহিত্য মহল, কমিশনের দাবি ভুয়ো খবর

বিধানসভা ভোটের আগে নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু করল নির্বাচন কমিশন। কবি শ্রীজাতের বিরুদ্ধে পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কমিশনের তরফে পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর লেখালেখি বা বক্তব্য থেকে ভোটের সময় উত্তেজনা ছড়াতে পারে, সেই আশঙ্কাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূলের তরফে জয়প্রকাশ মজুমদার অভিযোগ করেছেন, বাংলার সংস্কৃতি ও কৃষ্টির উপর আঘাত হানার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, বিজেপির প্ররোচনায় কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে দেবজিৎ সরকার পাল্টা বলেন, আদালতের নির্দেশেই এই গ্রেফতারির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই এর সঙ্গে রাজনীতির যোগ খোঁজা ভুল বলে দাবি করেন তিনি। বিজেপির অভিযোগ, ভোটের আগে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই এই ধরনের মন্তব্য করছে তৃণমূল।ঘটনাটি নিয়ে সাহিত্য মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বিশিষ্ট সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও বিনোদ ঘোষাল প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একজন কবির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তাঁদের মতে, এতে সংস্কৃতি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।ভোটের মুখে এই ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপানউতোরসব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।

এপ্রিল ২২, ২০২৬
কলকাতা

ফ্ল্যাট কেলেঙ্কারিতে নুসরত! সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা ঘিরে তোলপাড়

ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় ফের ইডির তলব পেয়ে বুধবার সকালে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হলেন অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ নুসরত জাহান। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ তিনি ইডি দফতরে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন যশ দাশগুপ্তও। সূত্রের খবর, ইডি যে সব নথি চেয়েছিল, সেগুলিও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন নুসরত।এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালে রাজারহাটের একটি ফ্ল্যাট প্রতারণা অভিযোগকে ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, ২০১৪-১৫ সালে একটি সংস্থা চারশোর বেশি প্রবীণ নাগরিকের কাছ থেকে মাথাপিছু সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা নেয়। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এক হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ, কেউই সেই ফ্ল্যাট পাননি এবং টাকাও ফেরত মেলেনি। ওই সংস্থার ডিরেক্টর পদে নুসরত জাহানের নাম ছিল বলে দাবি ওঠে, যদিও তিনি শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।এর আগেও এই মামলায় তাঁকে তলব করেছিল ইডি। প্রথমে নুসরত আবেদন করেছিলেন, যেন তাঁকে দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয় এবং কলকাতাতেই হাজিরা দিতে বলা হয়। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন।জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন মহিলা আধিকারিক উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি তদন্তকারী আধিকারিক এবং সহকারী ডিরেক্টর স্তরের এক আধিকারিকও থাকবেন। নুসরতের বয়ান রেকর্ড করা হবে এবং সেই ভিত্তিতেই তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে ইডি।এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মামলার অগ্রগতি এখন কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর সবার।

এপ্রিল ২২, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে তাণ্ডব! ট্যাংরায় ৫০ জনের হামলায় রণক্ষেত্র এলাকা

ভোটের আবহে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতা। গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে ট্যাংরা এলাকায় ভয়াবহ অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে। মঙ্গলবার রাত প্রায় সোয়া নটা নাগাদ পুলিন খাটিক রোডে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, একই পরিবারের তিন সদস্যকে বেধড়ক মারধর করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বাসিন্দা বিক্রম খাটিক প্রতিদিনের মতো নিজের বাড়ির সামনে গাড়ি পার্ক করতে যান। কিন্তু সেদিন সেখানে অন্য একটি গাড়ি রাখা ছিল। সেই গাড়ি সরাতে বলতেই দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় এবং প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ জন একসঙ্গে বিক্রম খাটিক ও তাঁর পরিবারের উপর চড়াও হয়।এই হামলায় গুরুতর আহত হন বিক্রম খাটিক, সাবিত্রী খাটিক ও সানি খাটিক। তাঁদের লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুধু মারধরই নয়, অভিযুক্তরা বাড়ির ভিতর ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলেও দাবি পরিবারের।বিক্রমবাবুর স্ত্রী প্রীতি খাটিক অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা এলাকার শাসক দলের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এর আগেও থানায় অভিযোগ জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।পরিবারের দাবি, তারাও ওই দলের সমর্থক হিসেবেই পরিচিত। বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে খাটিক পরিবার। বিক্রম খাটিকের আর্জি, তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক, কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন ফের হামলার শিকার হতে পারেন।এই ঘটনায় ট্যাংরা থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভোটের আগে এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এপ্রিল ২২, ২০২৬
দেশ

“ভুলবে না দেশ!” পহেলগাম হামলা নিয়ে আবেগঘন বার্তা মোদীর

পহেলগাম জঙ্গি হামলার এক বছর পূর্তিতে নিহত নিরীহ মানুষদের স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানিয়েছেন, সেই ভয়াবহ ঘটনার শিকারদের কোনও দিন ভুলবে না দেশ। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারগুলির প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে রয়েছে গোটা দেশ। তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, ভারত কখনও সন্ত্রাসবাদের কাছে মাথা নত করবে না এবং জঙ্গিদের কোনও চক্রান্তই সফল হবে না।প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, গত বছরের এই দিনে পহেলগামে যে নৃশংস হামলা হয়েছিল, তা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, এই শোকের মুহূর্তে দেশ একজোট রয়েছে এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগামের বৈসরণ উপত্যকায় পর্যটকদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায় জঙ্গিরা। এই হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জঙ্গিরা নাম ও ধর্ম জিজ্ঞাসা করে তারপর নারী ও শিশুদের সামনেই গুলি চালায়। এই ঘটনা দেশজুড়ে ক্ষোভ ও শোকের সঞ্চার করেছিল।হামলার পর উদ্ধারকাজ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। দুর্গম রাস্তার কারণে দ্রুত সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে অনেক আহত ব্যক্তি রক্তক্ষরণেই প্রাণ হারান। পহেলগাম থেকে বৈসরণ যাওয়ার পথ ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং যানবাহন চলাচলের উপযোগী ছিল না।এই ঘটনার পর ভারত কড়া পদক্ষেপ নেয়। অপারেশন সিঁদুর-এর মাধ্যমে সেনাবাহিনী জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে অভিযান চালায় এবং বহু জঙ্গিকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে অপারেশন মহাদেব-এর মাধ্যমে হামলার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিদের খুঁজে বের করে নির্মূল করা হয় বলে জানানো হয়।তবে এক বছর পরেও পহেলগামের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। নিরাপত্তার কারণে বহু পর্যটন কেন্দ্র এখনও বন্ধ রয়েছে। এর ফলে পর্যটনে বড় ধাক্কা লেগেছে এবং পর্যটকের সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছে। স্থানীয়দের জীবিকাতেও এর গভীর প্রভাব পড়েছে, অনেকেই চরম আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছেন।

এপ্রিল ২২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal