• ২২ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Kolkata

কলকাতা

‘গল্প নয়, সবই সত্যি!’ — আদালতে ইডির বিস্ফোরক দাবি, দুর্নীতি ও জমি-চক্রে শান্তনুকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু সিংহ বিশ্বাস-কে ঘিরে আর্থিক দুর্নীতি, জমি দখলচক্র, পুলিশি প্রভাব খাটানো এবং অপরাধীদের সঙ্গে আঁতাঁতের একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এনে আদালতে বিস্ফোরক দাবি করল ইডি (Enforcement Directorate)। তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীর দাবি, ঘটনাপ্রবাহ শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও তদন্তে উঠে আসা প্রতিটি তথ্যই প্রমাণসাপেক্ষ এবং চার্জশিট পেশের সময় তার সত্যতা স্পষ্ট হয়ে যাবে।শুক্রবার বিশেষ আদালতে পেশ করা হয় শান্তনুকে। সওয়াল-জবাবের শেষে আদালত তাঁকে ১৪ দিনের ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতার জমি দখল এবং বেআইনি সম্পত্তি কারবারে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কুখ্যাত সমাজবিরোধী সোনা পাপ্পু-র সঙ্গে শান্তনুর গভীর যোগাযোগ ছিল। শুধু যোগাযোগই নয়, পুরো চক্র পরিচালনায় তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলেই দাবি ইডির।কী ভাবে চলত জমি দখলের কারবার?আদালতে ইডি জানিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট জমি চিহ্নিত করার পর প্রথমে মালিকপক্ষের সঙ্গে চুক্তির আলোচনা শুরু হত। এরপর পুলিশি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মালিককে চাপে ফেলা হত। যদি মালিক জমি কম দামে বিক্রি করতে রাজি না হতেন, তবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো কিংবা দুষ্কৃতীদের দিয়ে ভয় দেখানোর মতো কৌশল নেওয়া হত।ইডির বক্তব্য, এই চক্রে পুলিশের ক্ষমতা এবং অপরাধী জগতদুই দিককেই ব্যবহার করা হত। জমি মালিকদের ভয় দেখানো, চাপ সৃষ্টি করা এবং শেষে জমি হাতিয়ে নেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত সোনা পাপ্পু। আর প্রশাসনিক স্তরে সমস্ত প্রভাব খাটানোর অভিযোগ শান্তনুর বিরুদ্ধে।পুলিশ বদলি থেকে ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বিস্তৃত অভিযোগের তালিকাতদন্তকারী সংস্থা আদালতে দাবি করেছে, শান্তনুর প্রভাব এতটাই বিস্তৃত ছিল যে কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন থানায় অফিসার বদলির ক্ষেত্রেও তাঁর মতামত কার্যকর হত। বিশেষত কালীঘাট ও হেয়ার স্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে তিনি প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন।ইডির আরও অভিযোগ# স্ত্রী ও পুত্রের নামে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করতেন শান্তনু# রাজ্যের পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিল তাঁর পরিবার# ওই ব্যবসায় পুলিশের আরও কিছু কর্তার অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে# কান্দিতে বাড়ি সংস্কারের নামে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে# একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে# মোবাইল চ্যাটে প্রতিদিন পরিকল্পনার প্রমাণ মিলেছে# তদন্ত চলাকালীন ইচ্ছাকৃত ভাবে তথ্য গোপন এবং অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে# ইডির দাবি, জয় কামদারের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথি এবং ডিজিটাল ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এই যোগসাজশের প্রমাণ বহন করছে।সিন্ডিকেট না দিলে এক জন মেথরও কাজ করতে পারতেন নাসবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় নতুন নির্মাণ প্রকল্প শুরু করতে গেলে স্থানীয় কাউন্সিলর এবং সিন্ডিকেটকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হত। ইডির ভাষায়, এই অর্থ না দিলে এলাকায় এক জন মেথরও কাজ শুরু করতে পারতেন না।তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রে স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগও ব্যবহার করা হত। উদ্ধার হওয়া নথিতে আগের সরকারের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রও মিলেছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।শান্তনুর পাল্টা দাবি আমি উত্তরাধিকারসূত্রে ধনীসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শান্তনু। আদালতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।তাঁর বক্তব্যজয় কামদার আমাকে টাকা দেয়নি, বরং আমি ওকে ফ্ল্যাট কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলাম। পরে সেই ফ্ল্যাট কেনা হয়নি।তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর পরিবার দীর্ঘদিনের সম্ভ্রান্ত ও সম্পদশালী। জয় কামদারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল পারিবারিক সূত্রে। স্ত্রী ও ছেলেকে দেওয়া উপহারকে দুর্নীতি বলে দেখানো হচ্ছে, অথচ সেগুলি নিছক সৌজন্য বিনিময়।সোনা পাপ্পুকে চেনেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি। এমনকি ইডির দাবি করা বিপুল মূল্যের উপহার প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ওগুলোর মোট দাম ৬৫ লক্ষ টাকার মতো হতে পারে, এক কোটি নয়।আমার ছেলেকেও টানা হচ্ছেশান্তনুর অভিযোগ, ইডি তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে অন্যায় ভাবে চাপে ফেলছে।তিনি আদালতে বলেনঃসমন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ইডিকেও জানিয়েছিলাম কখন হাজির হব। তবুও অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এখন আমার মেধাবী ছেলেকেও তদন্তে টানা হচ্ছে।এই মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই কলকাতা পুলিশের অন্দরের অস্বস্তি বাড়ছে। প্রশাসনিক ক্ষমতা, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং অপরাধচক্র সব মিলিয়ে এই মামলার জাল কত দূর বিস্তৃত, সেটাই এখন দেখার।

মে ১৬, ২০২৬
কলকাতা

ম্যারাথন জেরার পর ইডির জালে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাস, ‘সোনা পাপ্পু’ মামলায় বড় পদক্ষেপ

কলকাতা: দীর্ঘ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করল ইডি। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টার টানা জেরার শেষে বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই পদক্ষেপ করে। বহুবার নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও এতদিন হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে ইডি দফতরে পৌঁছন তিনি। এরপরই শুরু হয় দফায় দফায় জেরা।ইডি সূত্রের দাবি, জেরার শুরুতে কিছুটা সহযোগিতা করলেও পরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান শান্তনু। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বেশ কিছু নথি এবং ডিজিটাল তথ্য সামনে রাখা হলেও তিনি তা সম্পর্কে অজ্ঞতার দাবি করেন এবং তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। এর পরেই তাঁকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয় ইডি।জানা গিয়েছে, সোনা পাপ্পু তোলাবাজি ও প্রতারণা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও এনআরআই কোটায় মেডিক্যাল ভর্তি দুর্নীতি এবং বালি পাচার এই দুই মামলাতেও তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল।তদন্তে উঠে এসেছে বেহালার ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের নাম। ইডির অভিযানে তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ডায়েরি ও নথিতে শান্তনু সিন্হার নাম মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই সূত্র ধরেই ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেনামে একাধিক সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে ইডি।ব্যাঙ্কশাল আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে ইডির দাবি, কলকাতা শহরে একটি প্রভাবশালী জমি দখল ও তোলাবাজির সিন্ডিকেট চালানো হত, যেখানে জয় এস কামদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগ ছিল শান্তনু সিন্হার। অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়ো এফআইআর দায়ের করে থানায় ডেকে চাপ সৃষ্টি করা হত, এরপর জমি দখলের পথ প্রশস্ত করা হতো। এই চক্রের মাধ্যমে বেআইনি আর্থিক লেনদেনও হয়েছে বলে অভিযোগ।তদন্তকারীদের হাতে আসা জয় এস কামদারের মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে একাধিক এফআইআর নম্বরের উল্লেখ মিলেছে। সেই তথ্য থেকেই ভুয়ো মামলার জাল বিস্তৃত ছিল বলে অনুমান ইডির।সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দাবি, এই চক্রে কলকাতা পুলিশের অন্তত ১২ জন আধিকারিকের নাম উঠে এসেছে। ফলে তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।বারবার নোটিস উপেক্ষা করায় শান্তনুর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করার প্রস্তুতিও নিয়েছিল ইডি। এমনকি তাঁর খোঁজে ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিকেও চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এরপরই বৃহস্পতিবার হাজিরা দেন তিনি।ইডির অভিযোগ, শান্তনু সিন্হা শুধু প্রভাব খাটিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি, এই সিন্ডিকেট থেকে আর্থিকভাবেও লাভবান হয়েছেন। তদন্তকারীদের ধারণা, হেফাজতে নিয়ে জেরা করলে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে।শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। এখন নজর আদালতে আর কী কী বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনে ইডি, সেটাই দেখার।

মে ১৪, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতায় আর রাস্তার ধারে গাড়ি রাখা যাবে না! কড়া নির্দেশ পুরমন্ত্রীর

কলকাতার রাস্তায় দুধারে গাড়ি দাঁড় করানোর ছবি নতুন নয়। বড় রাস্তা থেকে ছোট গলি, সর্বত্রই রাস্তার ধারে সারি সারি গাড়ি পার্ক করা দেখা যায়। অনেক সময় গাড়ি রাখার সঙ্গে সঙ্গেই হাতে স্লিপ নিয়ে হাজির হন কিছু মানুষ। অভিযোগ, এই ধরনের বহু পার্কিং সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে চলছে। সেই সঙ্গে ভুয়ো স্লিপ দেখিয়ে টাকা তোলার অভিযোগও বহুদিনের।এবার সেই বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। পুরমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অগ্নিমিত্রা পল। এবার তাঁর নজর পড়েছে কলকাতার রাস্তার পার্কিং ব্যবস্থার উপর।বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অগ্নিমিত্রা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাস্তার দুধারে আর অবৈধভাবে গাড়ি রাখা যাবে না। তিনি বলেন, আজই নোটিস দেওয়া হবে। যেখানে পার্কিং করার অনুমতি নেই, সেখানে কোনও গাড়ি রাখা যাবে না। এতে সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে।শুধু পার্কিং নয়, ভুয়ো স্লিপ দেখিয়ে টাকা তোলার বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে পুরসভা। পুরমন্ত্রীর অভিযোগ, বহু জায়গায় ভুয়ো পার্কিং স্লিপ দিয়ে টাকা তোলা হয়, অথচ সেই টাকা সরকারি রাজস্বে জমা পড়ে না। এবার থেকে এই ধরনের স্লিপ ব্যবহার করে আর টাকা তোলা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।অগ্নিমিত্রা আরও জানান, যে কেউ নিজের ইচ্ছামতো পার্কিং ফি নিতে পারবেন না। খুব শীঘ্রই একটি নির্দিষ্ট রেট চার্ট তৈরি করা হবে। সেই নির্ধারিত হার মেনেই টাকা নেওয়া যাবে।উল্লেখ্য, এর আগে তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও রাস্তার ধারের পার্কিং নিয়ে পদক্ষেপ করেছিলেন। গত বছর কলকাতা পুরনিগম সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত রাস্তার ধারে পার্কিং বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। মূলত শহর পরিষ্কার রাখার কাজের সুবিধার জন্যই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এবার আরও কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে নতুন প্রশাসন।

মে ১৪, ২০২৬
কলকাতা

তপসিয়ার আগুনের পর কড়া বার্তা, রাতারাতি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বেআইনি বহুতল

তপসিয়ার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনার পরেই প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে কলকাতায় নেমেছে বুলডোজার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিলজলা থানা এলাকার ওই চামড়া কারখানার বহুতল ভাঙার কাজ শুরু হয়। প্রশাসনের দাবি, ভবনটি সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে নির্মিত হয়েছিল এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থারও কোনও অস্তিত্ব ছিল না।মঙ্গলবারের ভয়াবহ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুজন। গুরুতর আহত অবস্থায় একাধিক ব্যক্তি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর পুলিশ কারখানার মালিক জাফর নিশার-সহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, বহুতলটি কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে নিরাপত্তার ন্যূনতম মানদণ্ডও মানা হয়নি।বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নেবে। তাঁর নির্দেশেই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর, বিদ্যুৎ দফতর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। শুধু ওই কারখানাই নয়, কলকাতার কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, একবালপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা বেআইনি কারখানা ও ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ চিহ্নিত করে বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।নির্দেশের পরেই বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বুলডোজার। বিশাল পুলিশবাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে বহুতল খালি করে ভাঙার কাজ শুরু হয়, যা রাত পর্যন্ত চলেছে। যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়।রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, যেসব ভবনের ফায়ার লাইসেন্স বা এনওসি নেই, সেগুলিকে নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে। প্রথমে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে, কিন্তু তাতেও নিয়ম না মানলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, তপসিয়ার ভবনটির সিঁড়ি এতটাই সরু ছিল যে, অনেকেই দ্রুত বেরোতে পারেননি। বিকল্প জরুরি নির্গমন পথ থাকলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত।এদিকে এই ঘটনায় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি অভিযোগ করেছেন, যথাযথ নোটিস ও পুনর্বাসনের সুযোগ না দিয়ে এভাবে বহুতল ভেঙে ফেলা অসাংবিধানিক। তাঁর দাবি, ভবনের অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবা উচিত ছিল। পাশাপাশি এই বেআইনি কারখানা চালু রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তারও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।তপসিয়ার এই ঘটনার পর রাজ্যের পুর এলাকা ও শিল্পাঞ্চলে নজরদারি বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিধানসভায় ঘোষণা করা হয়েছে, রাজ্যের সাতটি পুরনিগম, ১২১টি পুরসভা এবং তিনটি শিল্পাঞ্চলকে ধাপে ধাপে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হবে। প্রশাসনের মতে, এতে বেআইনি নির্মাণ ও নিরাপত্তাহীন শিল্পকারখানার উপর আরও কড়া নজর রাখা সম্ভব হবে।

মে ১৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

সবুজ-মেরুনের অভিভাবকের বিদায়: প্রয়াত টুটু বসু, শোকে স্তব্ধ ময়দান

কলকাতার ফুটবল মহলে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন স্বপন সাধন বসু (টুটু বসু)। মঙ্গলবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মোহনবাগানের এই প্রাক্তন সভাপতি ও প্রাক্তন সাংসদ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।সোমবার সন্ধ্যায় আচমকাই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন টুটু বসু। দ্রুত তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। মঙ্গলবার গভীর রাতে চিরবিদায় নিলেন সবুজ-মেরুনের এক স্বর্ণযুগের নির্মাতা।ময়দানের ইতিহাসে টুটু বসুর নাম উচ্চারিত হবে শ্রদ্ধার সঙ্গে। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan Super Giant)-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আত্মার মতো গভীর। ১৯৯১ সালে ক্লাবের সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে বদলে দেন মোহনবাগানের ভবিষ্যৎ। তাঁর হাত ধরেই ক্লাবে প্রথম বিদেশি ফুটবলার হিসেবে এসেছিলেন নাইজিরিয়ান ফুটবলার চিমা ওকেরি কে যা সে সময় ছিল সাহসী এবং ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।পরবর্তীতে সভাপতির আসনে বসে আরও বড় পরিবর্তনের পথ খুলে দেন তিনি। শিল্পপতি সাঞ্জীব গোয়েঙ্কা-র হাতে ক্লাবের মালিকানার দায়িত্ব তুলে দিয়ে ভারতীয় ফুটবলের কর্পোরেট যুগে প্রবেশ করান মোহনবাগানকে। যদিও এটিকে-মোহনবাগান (ATK Mohun Bagan) নামকরণ ঘিরে বিতর্ক হয়েছিল প্রবল, তবু ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।শুধু ক্রীড়া প্রশাসক নন, টুটু বসুর পরিচয় বিস্তৃত ছিল রাজনীতি ও ব্যবসার জগতেও। তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress)-এর হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। সংবাদমাধ্যম ও ব্যবসায়ও ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি।দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন তিনি। হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ফলে সক্রিয় প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও, মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে তিনিই ছিলেন ক্লাবের অভিভাবক।মাত্র গত বছরই মোহনবাগান দিবসে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল ক্লাবের সর্বোচ্চ সম্মান মোহনবাগান রত্ন। উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি, বাইচুং ভুটিয়া, আই.এম. বিজয়ন, হোসে রামিরেজ ব্যারেটো-সহ বহু তারকা। সেই মঞ্চেই যেন শেষবারের মতো সবুজ-মেরুন পরিবার তাঁকে জানিয়েছিল শ্রদ্ধা।বর্ষীয়ান সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কথায়, টুটু বসুর প্রয়াণে শুধু একজন প্রশাসকের মৃত্যু নয়, শেষ হল মোহনবাগানের এক গৌরবময় অধ্যায়। তাঁর বিদায়ে আজ শোকে স্তব্ধ গোটা ময়দান।

মে ১৩, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের ফলের পর রক্তাক্ত খুন! এন্টালিতে তৃণমূল কর্মী হত্যায় আরও এক গ্রেপ্তার

এন্টালিতে তৃণমূল কর্মী তাপস নস্কর খুনের ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে হাসনাবাদ থেকে অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতের নাম ভোলা কর। রবিবার তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবরবিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরের দিন, মঙ্গলবার গভীর রাতে খুন হন তাপস নস্কর। ঘটনার পরই একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই আরও এক অভিযুক্তের খোঁজ মেলে। এরপর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাসনাবাদের মিঠুন মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই ভোলা করকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাপস খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরে ভোলা করের নাম ছিল। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনার পিছনের কারণ জানার চেষ্টা চলছে। যদিও পুলিশের দাবি, এই খুনের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ নেই।স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাপস নস্কর। সেই সূত্রে এলাকায় প্রোমোটিংয়ের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অবৈধ কাজের অভিযোগ ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় থানায় তাপসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছিল।নির্বাচনের আগে পুলিশ তাঁকে সতর্ক করেছিল বলেও জানা গিয়েছে। এমনকি ভোটের আগে তাঁকে নজরবন্দিও রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান তাপস। ভোট শেষ হওয়ার পর ফের এন্টালিতে ফিরে আসেন তিনি।তারপরই ৫ তারিখ গভীর রাতে এন্টালির চৌধুরী লেনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। স্থানীয় মানুষ পুলিশে খবর দিলে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাপসের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়, যার মধ্যে ভোলা করের নামও ছিল।এই খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ালেও কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা জানিয়েছেন, এটি রাজনৈতিক খুন নয়। তাঁর দাবি, নির্মাণ ব্যবসা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। বেশ কিছুদিন বাইরে থাকার পর সম্প্রতি এলাকায় ফিরেছিলেন তাপস। তারপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

ফের রক্তাক্ত শহর! এন্টালিতে প্রোমোটার খুন, ধারাল অস্ত্রের পর গুলির অভিযোগে চাঞ্চল্য

বেলেঘাটার পর এবার এন্টালিতে নৃশংস খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পটারি রোড এলাকায় এক প্রোমোটারকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু ধারাল অস্ত্রই নয়, গুলিও চালানো হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম তাপস নস্কর। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ ছিল। গুলি চালানোসহ নানা অপরাধের কারণে তিনি দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি এলাকায় ফেরেন।পরিবারের দাবি, তাপসের সঙ্গে এলাকার তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত দীপক দাস ওরফে নেটুর দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। মূলত প্রোমোটিং সংক্রান্ত ঝামেলা থেকেই এই বিরোধ চরমে ওঠে। অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যায় নেটুর লোকজন তাপসকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। বলা হয়, পুরনো সমস্যা মিটিয়ে ফেলা হবে। কিন্তু পরে পটারি রোডের একটি গলিতে তাঁকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়।তাপসের মেয়ে সায়নী নস্করের অভিযোগ, তাঁর বাবাকে শুধু কুপিয়েই নয়, গুলিও করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাপস এক তৃণমূল কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। অন্যদিকে, তিনি সদ্য নির্বাচিত এক তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতেন। এলাকার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল বলে অভিযোগ। সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই খুন হয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রোমোটিং ব্যবসা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল।এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রোমোটিং নিয়ে এলাকায় অশান্তি চলছিল এবং সেই কারণেই তাপসকে পাড়ায় ঢুকতে দেওয়া হত না। অন্যদিকে, মৃতের মেয়ে অভিযোগ করেছেন, মিটমাটের নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাঁর বাবাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।

মে ০৬, ২০২৬
কলকাতা

নতুন মাসেই বড় ধাক্কা, অটো গ্যাসের দামে লাফ—আবার কি বাড়বে ভাড়া?

নতুন মাস শুরু হতেই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা অনুভব করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি অটোতে ব্যবহৃত গ্যাসের দামও বেড়েছে। লিটার প্রতি অটো গ্যাসের দাম বেড়েছে ৬ টাকা ৪৪ পয়সা। ফলে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে লিটার প্রতি ৮৯ টাকা ৪০ পয়সা। এর ফলে অটো ভাড়া আবার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।কিছুদিন আগেও এই গ্যাসের দাম অনেক কম ছিল। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে জ্বালানির দামে বৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এক মাস আগেও জ্বালানি পাওয়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অটোর দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছিল।এর আগে জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে বিভিন্ন রুটে অটো ভাড়া ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এখন আবার দাম বাড়ায় নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।অটোচালকদের একাংশ জানিয়েছেন, আপাতত ভাড়া বাড়ানোর কথা ভাবছেন না, তবে গ্যাসের দাম কমলে তাঁদের সুবিধা হবে। অন্যদিকে কিছু চালক বলছেন, ইতিমধ্যেই ভাড়া বেড়েছে এবং পরিস্থিতির কারণে আরও বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে।রাজনৈতিক মহলেও এই বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা জানিয়েছেন, ভোটের পরেই গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়বে এবং খরচ আরও বাড়বে।

মে ০১, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে বড় দাবি মোদির! ৪ মে-র পর বাংলায় সরকার গঠনের ইঙ্গিত

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রচারের শেষ দিনে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সভা থেকে তিনি দাবি করেন, গত কয়েকদিন রাজ্য ঘুরে তিনি বুঝতে পেরেছেন, আগামী ৪ মে-র পর রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হবে। সেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁকে আবার বাংলায় আসতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।রাজ্যের মানুষকে নিজের মানুষ বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, বাংলায় এলে তিনি মানসিক শান্তি অনুভব করেন। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে এখন জঙ্গলরাজ চলছে। একের পর এক জুট মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের অভাব তৈরি হয়েছে। এর ফলে যুব সমাজ কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে এবং বয়স্করা একা হয়ে পড়ছেন।প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, রোজগার মেলার মাধ্যমে যুবকদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে এবং শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা হবে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশনের সম্পূর্ণ সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।তিনি আরও জানান, রাজ্যে ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি চালু করা হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে কন্টেন্ট তৈরির কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজেপি সরকার এলে কলকাতা মেট্রোর দ্রুত সম্প্রসারণ করা হবে।মহিলা নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্ব দেন মোদি। তিনি বলেন, এমন সরকার দরকার যেখানে বাড়ির মেয়েরা নিশ্চিন্তে রাস্তায় বেরোতে পারেন। পাশাপাশি তিনি ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা পেতে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।কলকাতার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে মোদি বলেন, কলকাতাকে অন্য শহরের মতো বানাতে গিয়ে তার নিজস্ব ঐতিহ্য নষ্ট করা হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে বলেও তিনি দাবি করেন।উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটে মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের আগে এই সভার মাধ্যমে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গেল।

এপ্রিল ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বিকেলেই তাণ্ডবের আশঙ্কা! কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা

দাবদাহের মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর জন্য কমলা সতর্কতা জারি করল আবহাওয়া দপ্তর। রবিবার বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় আগামী কয়েকদিন ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।আবহাওয়াবিদদের মতে, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং উত্তর চব্বিশ পরগনায় প্রবল ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় প্রায় ষাট কিলোমিটার বা তারও বেশি গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সোমবারও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে।কলকাতার আবহাওয়ায় জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গরম ও অস্বস্তি বজায় থাকবে। রোদের তেজও থাকবে তীব্র। তবে বিকেলের দিকে আকাশে পরিবর্তন আসতে পারে এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার গতিতে দমকা হাওয়া বইতে পারে।দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই আগামী মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঝড়বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বুধবারের মধ্যে তাপমাত্রা তিন থেকে চার ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে।উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় সত্তর থেকে একশো দশ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
কলকাতা

জেলায় একমাস পর কলকাতায় ফিরলেন মমতা! আজ থেকেই শুরু ঝড়ো প্রচার

প্রায় একমাস জেলায় জেলায় ঘোরার পর আজ থেকে কলকাতায় প্রচার শুরু করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২৩ মার্চ থেকে তিনি লাগাতার জেলা সফরে ছিলেন। সেই পর্ব শেষ করে সোমবার মুরারই এবং উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহে সভা সেরে শহরে ফিরছেন তিনি। বিকেলে বেলেঘাটায় প্রথম সভা করার কথা রয়েছে। সেখানে প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং মানিকতলার প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডের সমর্থনে জনসভা করবেন তিনি। এরপর সন্ধ্যার দিকে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে মিছিল ও সভার কর্মসূচি রয়েছে। শেক্সপিয়র সরণি থেকে মিছিল শুরু হয়ে অ্যালেন পার্কে গিয়ে শেষ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।গত একমাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন তৃণমূল নেত্রী। দলীয় সূত্রে দাবি, মাঠে নেমে মানুষের সমর্থনের ইতিবাচক বার্তা পেয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই এবার কলকাতায় জোরদার প্রচারে নামছেন মমতা। আগামী কয়েক দিনে একাধিক সভা ও পদযাত্রার মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।প্রতিবারের মতো এবারও মমতার মিছিল ও সভায় ব্যাপক ভিড় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তীব্র গরম সত্ত্বেও তাঁর কর্মসূচিতে মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো হয়। ফলে শহরে আবারও বড় জনসমাগমের ছবি দেখা যেতে পারে।এর মাঝেই হলদিয়ায় একটি কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। সেখান থেকে ফিরে আবার ২৭ তারিখ পর্যন্ত কলকাতায় টানা সভা করবেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর দক্ষিণ কলকাতার একাধিক কেন্দ্রে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।২৩ এপ্রিল যাদবপুর এবং টালিগঞ্জে প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করার কথা রয়েছে। শ্রীকলোনি যুব সংঘের মাঠে সেই সভা হবে বলে জানা গিয়েছে। তার পরের দিন সুলেখা মোড় থেকে গড়িয়াহাট হয়ে হাজরা পর্যন্ত একটি বড় মিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে।ভোটের আগে মমতার এই কর্মসূচি ঘিরে কলকাতার রাজনৈতিক পরিবেশ আরও চাঙ্গা হয়ে উঠছে।

এপ্রিল ২০, ২০২৬
কলকাতা

সকাল সকাল ইডির চমক! কালীঘাটের প্রাক্তন ওসির বাড়িতে রবিবার সকালেই ইডির হানা

ভোটের মুখে আবারও সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রবিবার সকালেই কলকাতায় ইডির হানায় চাঞ্চল্য ছড়াল। এবার ইডির নজরে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি তথা বর্তমানে কলকাতা পুলিশের ডিসি পদে থাকা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। সকালে গোলপার্কে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যায় ইডির একটি দল। সূত্রের খবর, তাঁর বাড়ির পাশেই থাকা একটি সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও তল্লাশি চালানো হয়। তবে সেখানে সকাল থেকে তালা থাকায় তা খুলে তদন্ত শুরু করতে কিছুটা সময় লাগে।ঠিক কোন মামলায় এই তল্লাশি চলছে, তা এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে এর আগেও কয়লা পাচার মামলায় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে তলব করেছিল ইডি। সেই তলবের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিলেন। এছাড়াও মেডিক্যাল এনআরআই কোটায় ভর্তির দুর্নীতির অভিযোগেও তাঁকে ডাকা হয়েছিল। এবার সরাসরি তাঁর বাড়িতে হানা দেওয়ায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।এর মধ্যেই সাম্প্রতিক আরেকটি ঘটনার কথা উঠে আসছে। রাসবিহারীতে তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর দফতরের তল্লাশি ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজ্য রাজনীতি। তাঁর বাড়ির পাশাপাশি দলীয় কার্যালয় ও নির্বাচনী অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সেই অভিযানে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এলাকায়। দেবাশিসের সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখান এবং অভিযোগ তোলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই অভিযান চলছে। তৃণমূলের তরফেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়।এই পরিস্থিতিতে আবারও ইডির হানায় ভোটের আগে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তদন্ত কতদূর গড়ায় এবং নতুন কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর সবার।

এপ্রিল ১৯, ২০২৬
রাজ্য

বৈশাখেই আগুন ঝরাবে আকাশ! বাংলায় ৪০ ছুঁতে চলেছে পারদ, বড় সতর্কবার্তা মৌসম ভবনের

চৈত্র মাসে তেমন গরম অনুভূত হয়নি বাংলায়। মাঝে কয়েকদিন তাপমাত্রা বাড়লেও বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া বেশ আরামদায়কই ছিল। কিন্তু বৈশাখ মাস শুরু হতেই পরিস্থিতি বদলাতে চলেছে। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা অনেকটাই বাড়বে।শুধু গরমই নয়, এবার বর্ষাতেও স্বস্তির বৃষ্টি কম হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে এল নিনো পরিস্থিতি। জুন মাসের মধ্যে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যার ফলে গোটা দেশে প্রায় ৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হতে পারে। যদিও কিছু কিছু রাজ্যে স্বাভাবিকের থেকে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সার্বিকভাবে বৃষ্টির পরিমাণ কমই থাকবে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও একই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।মৌসম ভবন জানিয়েছে, বৈশাখের শুরুতেই গরমের দাপট বাড়বে বাংলায়। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। পুরুলিয়ায় তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে। কলকাতাতেও তাপমাত্রা বেড়ে ৩৭ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।তবে চলতি সপ্তাহে কিছু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। পয়লা বৈশাখের দিন পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমানসহ কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। পরের দিনও দক্ষিণবঙ্গের কিছু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।তবে কলকাতার ক্ষেত্রে এখনই বৃষ্টির তেমন সম্ভাবনা নেই। বরং নববর্ষের দিন থেকেই তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও গরম থেকে খুব একটা স্বস্তি মিলবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ১৪, ২০২৬
কলকাতা

রাতের শহরে চাঞ্চল্য, গাড়ি থেকে উদ্ধার প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা! ভোটের আগে বড় প্রশ্ন

ভোটের আগে রাতের শহরে বড়সড় চাঞ্চল্য ছড়াল। নেতাজি নগর থানা এলাকায় নাকা চেকিং চলাকালীন একটি গাড়ি থেকে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে পুলিশ এবং নজরদারি দলের যৌথ তল্লাশিতে এই বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার হয়। ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে নিয়মিত নাকা চেকিং চলছিল। সেই সময় আলিপুর দিক থেকে একটি গাড়ি আসতে দেখে সন্দেহ হয় কর্তব্যরত আধিকারিকদের। গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে সেখান থেকে ৩৭ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা উদ্ধার হয়।গাড়িতে থাকা আশুতোষ আগরওয়াল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু এত বড় অঙ্কের টাকা কোথা থেকে এল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তার কোনও স্পষ্ট উত্তর তিনি দিতে পারেননি। ফলে এই টাকা পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।ঘটনার পরেই বিষয়টি জানানো হয় আয়কর বিভাগকে। নিয়ম মেনে উদ্ধার হওয়া টাকা তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তারা ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।পুলিশ জানিয়েছে, টাকার প্রকৃত মালিককে তলব করা হবে। তিনি যদি বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন, তাহলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। অন্যথায় সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা পড়বে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।

এপ্রিল ০৫, ২০২৬
কলকাতা

রাতারাতি বদলি একাধিক ওসি, নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপে চাঞ্চল্য

ভোটের আগে কলকাতা পুলিশের অন্দরে আবার বড়সড় রদবদল হল। এতদিন ধরে প্রশাসনিক মহলে একের পর এক আমলার বদলি নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই সঙ্গে পুলিশের উপরতলায় বদলি নিয়েও জল্পনা ছিল। এবার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কলকাতা পুলিশে একাধিক আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে।শনিবার লালবাজারের তরফে কমিশনারের ১৮১ এবং ১৮২ নম্বর নির্দেশ জারি করা হয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। এই রদবদলে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সরিয়ে অন্য দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে।পার্ক স্ট্রিট থানার ওসি হীরক দলাপতি এবং বিজয়গঞ্জ বাজার থানার ওসি অংশুমান রায়কে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। চেতলা থানার ওসি অমিতাভ সরকারকে বিশেষ টাস্ক ফোর্সে বদলি করা হয়েছে।অন্যদিকে, নতুন করে বেশ কয়েকটি থানায় নতুন ওসি নিয়োগ করা হয়েছে। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে নীলকান্ত রায়কে পার্ক স্ট্রিট থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্যামপুকুর থানার অতিরিক্ত ওসি রাজ কুমার মিশ্রকে গড়িয়াহাট থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এন্টালি থানার অতিরিক্ত ওসি মনীশ সিংকে বিজয়গঞ্জ বাজার থানায় পাঠানো হয়েছে। বিশেষ টাস্ক ফোর্স থেকে মনোজ দত্তকে ফিরিয়ে এনে চেতলা থানার নতুন ওসি করা হয়েছে।এছাড়াও হেয়ার স্ট্রিট এবং ঠাকুরপুকুর থানার ওসিদের মধ্যেও বদলি হয়েছে। এই দুই থানার বর্তমান ওসি লোপসাং তশেরিং ভুটিয়া এবং রাজীব সাহুর মধ্যে দায়িত্ব বিনিময় করা হয়েছে।এদিকে, ট্রাফিক বিভাগের আধিকারিক প্রশান্ত মজুমদারের আগের বদলির নির্দেশ বাতিল করা হয়েছে। তাঁকে আগের দায়িত্বেই বহাল রাখা হয়েছে। নতুন এই নির্দেশিকায় গত ২৯ মার্চের আগের কিছু নির্দেশেও আংশিক পরিবর্তন ও সংশোধন আনা হয়েছে।ভোটের আগে হঠাৎ এই রদবদল ঘিরে কলকাতা পুলিশের অন্দরে এবং প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এপ্রিল ০৫, ২০২৬
বিদেশ

কলকাতাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি! পাক মন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্যে চাঞ্চল্য

ভবিষ্যতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যদি কোনও সংঘাত তৈরি হয়, তবে তা আর সীমান্তে আটকে থাকবে না, বরং ভারতের ভিতরেও ছড়িয়ে পড়বেএমনই হুমকি দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। তিনি সরাসরি কলকাতার নাম নিয়ে আক্রমণের কথাও বলেন, যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।শনিবার সিয়ালকোটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে খোয়াজা আসিফ বলেন, ভারত যদি কোনও মিথ্যা অজুহাতে অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে তার ফল ভালো হবে না। তিনি দাবি করেন, সেই সংঘাত সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা কলকাতা পর্যন্ত গড়াবে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে শীঘ্রই একটি ভুয়া হামলা হতে পারে। তাঁর দাবি, ভারত নিজেই এমন হামলার পরিকল্পনা করছে এবং পরে সেটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে তুলে ধরবে। যদিও এই দাবির পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ দেননি।পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যদি ভারত এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়, তাহলে গত বছরের থেকেও বড় অপমানের মুখে পড়তে হবে। তাঁর কথায়, সংঘাত আর সীমান্তবর্তী কয়েকশো কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তারা ভারতের ভিতরে ঢুকে হামলা চালাতে পারে।অন্যদিকে, সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই মাসেই পাকিস্তানের ভিতরে এক বা একাধিক হামলা হতে পারে। সেই হামলার পিছনে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে দেশে অস্থিরতা তৈরি করে তার দায় ভারতের উপর চাপানোর পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে সমর্থন পেতে বা কূটনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য এমন কৌশল নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতেও বাইরের শত্রু তত্ত্ব সামনে আনা হতে পারে।এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াল পাকিস্তান।

এপ্রিল ০৫, ২০২৬
কলকাতা

ফর্ম নিয়ে তুমুল সংঘর্ষের পরও থামছে না উত্তেজনা! সিইও দপ্তরের সামনে আবার অবস্থান

ফর্ম নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। মঙ্গলবারের সংঘর্ষের পর বুধবার সকালেও নির্বাচন দফতরের সামনে চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। সকাল থেকেই সেখানে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ধর্না ও অবস্থান শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বিপুল সংখ্যায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।অভিযোগ, এক ব্যক্তি ব্যাগভর্তি ফর্ম নিয়ে নির্বাচন দফতরে ঢুকেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রচুর ফর্ম জমা দেওয়ার অভিযোগে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।মঙ্গলবার নির্বাচন দফতরের সামনে দুই রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মধ্যে বচসা চরমে ওঠে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এরপর রাতেও দফতরের সামনে তৃণমূল কর্মীদের জমায়েত ও বিক্ষোভ চলতে থাকে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ আধিকারিকরা এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে বিক্ষোভকারীরা কিছুটা সরে যান।এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, এ ধরনের অসামাজিক কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। বুধবার সকাল থেকেই আবার দফতরের সামনে জমায়েত শুরু হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।এদিকে রাতের ঘটনাকে ঘিরে নির্বাচন দফতরের শীর্ষ আধিকারিক ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে বৈঠক হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।ফর্ম জমা দেওয়া নিয়ে এই বিতর্কে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
কলকাতা

সিইও দফতরে তাণ্ডব! ফর্ম ৬ ঘিরে মুখোমুখি তৃণমূল-বিজেপি, হাতাহাতি চরমে

ভোটের মুখে ফর্ম ৬ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল সিইও দফতর চত্বরে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অশান্তিতে উসকানির অভিযোগ জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বেরিয়ে আসার কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।অভিযোগ, ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার মাধ্যমে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের নাম বাংলার ভোটার তালিকায় তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ ঘিরেই বিক্ষোভে নামেন তৃণমূলপন্থী বিএলওরা। ঘটনাস্থলে জড়ো হন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরাও। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়ে তা দ্রুত ধস্তাধস্তিতে পৌঁছয়।পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের সঙ্গেও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।সূত্রের খবর, শুভেন্দু অধিকারী সিইও দফতর ছেড়ে বেরোনোর পর কয়েকজন যুবক ব্যাগভর্তি ফর্ম ৬ জমা দেন। এই ঘটনাকে ঘিরেই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।এর আগে সোমবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ভোটার তালিকায় কারচুপি হচ্ছে। তাঁর দাবি, বাইরের রাজ্যের ভোটারদের নাম বাংলার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে।মঙ্গলবারও সেই অভিযোগ সামনে এনে সোশাল মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে তৃণমূল। সেখানে দাবি করা হয়েছে, প্রথমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, তারপর অন্যদের নাম তোলা হচ্ছে, যারা নির্দিষ্ট একটি দলের হয়ে ভোট দেবে।এই ঘটনার পর ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মার্চ ৩১, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

ফুলে ঢাকা দেহ ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল বিজয়গড়! শেষবারের মতো ‘বাবিন’কে দেখে স্তব্ধ পাড়া

গোটা বিজয়গড় এখন শোকে স্তব্ধ। চারদিকে শুধু কান্নার শব্দ। কেউই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না, তাঁদের প্রিয় বাবিন আর নেই। এমন দৃশ্য যে দেখতে হবে, তা কোনওদিন কল্পনাও করেননি পাড়ার মানুষ। গত রাত থেকেই ভারী হয়ে ছিল পরিবেশ। আজ সেই নীরবতা ভেঙে চারদিকে শুধুই শোক আর আর্তনাদ।আজ সকালে রাহুলের নিথর দেহ ফিরল তাঁর নিজের বাড়িতে। ফুল দিয়ে সাজানো শববাহী গাড়িতে করে নিজের পাড়ায় ফিরে এলেন তিনি। জীবনের মঞ্চে যিনি নায়ক ছিলেন, তিনি আজ নীরব হয়ে শুয়ে রইলেন সবার সামনে।সকাল থেকেই রাহুলের বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন অনুরাগীরা। একে একে পৌঁছে যান তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সহকর্মী এবং টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, উষসী চক্রবর্তী, রূপাঞ্জনা মৈত্র, চৈতী ঘোষাল, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, রুকমা রায়ের মতো অনেকেই এসে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সকলের চোখে জল, মুখে একটাই কথাএভাবে বিদায় জানাতে হবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি।রবিবার আচমকা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকে ডুবে যায় টলিউড। ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কীভাবে সবার সামনে তিনি জলে তলিয়ে গেলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সবাই।ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। যদিও এখনও সরকারি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, তাঁর ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণে নোনাজল ঢুকে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে বালিও ঢুকে যায় শরীরে। এর ফলে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং হৃদস্পন্দন থেমে যায়। এই কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।পুরো ঘটনাকে ঘিরে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। পরিবার, বন্ধু এবং অনুরাগীরা উত্তর খুঁজছেন, কীভাবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল। শোকের মধ্যেই এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে সবার মনে।

মার্চ ৩০, ২০২৬
রাজ্য

চমকে দেবে আবহাওয়া! ঝড় কমতেই তাপের দাপট, দক্ষিণবঙ্গে ফের তীব্র গরমের আশঙ্কা

আকাশ এখন মেঘলা থাকলেও ধীরে ধীরে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। তবে এর মধ্যেই বাড়তে শুরু করবে তাপমাত্রা। পশ্চিমের জেলাগুলিতে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া তৈরি হতে চলেছে।তবে বৃষ্টির হাত থেকে পুরোপুরি রেহাই মিলবে না। মঙ্গলবার গোটা দক্ষিণবঙ্গেই হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।সোমবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম-সহ পশ্চিমের কিছু জেলায় হালকা ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তবে বুধবার থেকে ধীরে ধীরে ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ কমবে এবং তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে।শুক্র ও শনিবারের মধ্যে কলকাতার তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আগের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৫৩ থেকে ৯২ শতাংশের মধ্যে থাকছে, ফলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি বেশ অস্থির। মঙ্গলবার সেখানে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়িতে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। মালদহ-সহ অন্যান্য জেলাতেও ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।তবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার থেকে উত্তরবঙ্গেও ধীরে ধীরে ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

মার্চ ২৯, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 28
  • 29
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

সোনার দামে ভূমিকম্প! কৌশিকী অমাবস্যার দিনে হলুদ ধাতুর দরে বাজারে সুনামি

Gold Price Today: ফের বাড়ল সোনা-রুপোর দাম। ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৫৪২ টাকা বেড়ে প্রায় ১.৫৪ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। একইসঙ্গে এক কেজি রুপোর দামও বেড়েছে ৩,৩০৭ টাকা। ফলে প্রতি কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৩৯ লক্ষ টাকা।চলতি বছরে সোনা ও রুপোর দামে একাধিকবার ওঠানামা দেখা গিয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল প্রায় ১.৩৩ লক্ষ টাকা। সেখান থেকে বর্তমানে দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ১.৫৪ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ বছরের শুরু থেকে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ২১ হাজার টাকা বেড়েছে।অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রতি কেজি রুপোর দাম ছিল প্রায় ২.৩০ লক্ষ টাকা। বর্তমানে সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৩৯ লক্ষ টাকা।জানুয়ারিতে তৈরি হয়েছিল রেকর্ডএর আগে ২৯ জানুয়ারি সোনা ও রুপোর দামে সর্বকালীন রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৭৬ লক্ষ টাকা এবং প্রতি কেজি রুপোর দাম প্রায় ৩.৮৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। পরে অবশ্য দুই মূল্যবান ধাতুর দাম কিছুটা কমে যায়।বাজার বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৭০ লক্ষ টাকা এবং প্রতি কেজি রুপোর দাম প্রায় ৩ লক্ষ টাকায় পৌঁছতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদার মতো একাধিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে সোনা ও রুপোর প্রকৃত দাম পরিবর্তিত হতে পারে।আজ শহরভেদে ২৪ ক্যারেট সোনার দামগুডরিটার্নসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ দেশের বিভিন্ন শহরে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দামে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।দিল্লি ও লখনউয়ে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৪,৪৫০ টাকা। ভোপাল ও আহমেদাবাদে একই পরিমাণ সোনার দাম ১,৫৪,৩৫০ টাকা। কলকাতা, মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং রায়পুরে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৪,৩০০ টাকা।২২ ক্যারেট সোনার দাম২২ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রেও শহরভেদে সামান্য ফারাক রয়েছে। দিল্লি ও লখনউয়ে ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪১,৫৯০ টাকা। ভোপাল ও আহমেদাবাদে দাম ১,৪১,৪৯০ টাকা।অন্যদিকে, কলকাতা, মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং রায়পুরে ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪১,৪৪০ টাকা।১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত?১৮ ক্যারেট সোনার দামেও শহরভেদে পার্থক্য রয়েছে। দিল্লি ও লখনউয়ে ১০ গ্রাম ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১,১৫,৮৭০ টাকা। ভোপাল ও আহমেদাবাদে দাম ১,১৫,৭৭০ টাকা।মুম্বই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং রায়পুরে ১০ গ্রাম ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১,১৫,৭২০ টাকা। তবে চেন্নাইয়ে ১৮ ক্যারেট সোনার দাম তুলনামূলক বেশি, ১,১৯,১৪০ টাকা।অর্থাৎ, ২৪ ও ২২ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রে আজ দিল্লি ও লখনউয়ে দাম সবচেয়ে বেশি। আর ১৮ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রে চেন্নাইয়ে দাম সর্বোচ্চ।গয়না কেনার আগে কী কী দেখবেন?সোনার গয়না কেনার সময় প্রথমেই তার বিশুদ্ধতা যাচাই করা জরুরি। BIS বা ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের হলমার্কযুক্ত সোনা কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়। হলমার্কের মাধ্যমে সোনার বিশুদ্ধতা ও ক্যারেট সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।গয়না কেনার আগে একাধিক উৎস থেকে সেই দিনের সোনার দাম যাচাই করে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ২৪, ২২ এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম আলাদা হওয়ায় কোন ক্যারেটের গয়না কিনছেন, তা নিশ্চিত করুন। পাশাপাশি গয়নার ওজনও ভালোভাবে যাচাই করে নিন।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে মেকিং চার্জ। সোনাকে গয়নায় রূপান্তরের জন্য নেওয়া এই অতিরিক্ত চার্জ দোকানভেদে আলাদা হতে পারে। তাই গয়না কেনার আগে মেকিং চার্জ কত, তা জেনে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে দরদাম করে নেওয়া ভালো।এছাড়া সোনার দামের সঙ্গে GST, মেকিং চার্জ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ যোগ হতে পারে। ফলে দোকানে গিয়ে গয়নার চূড়ান্ত দাম অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচ ঘিরে হঠাৎ অনিশ্চয়তা! কেন সূচি বদলের আবেদন দিল্লি পুলিশের?

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলন হওয়ার কথা। সেই সম্মেলনের মধ্যেই ১৩ সেপ্টেম্বর অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারত ও আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে ম্যাচটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।ব্রিকস সম্মেলনে বিদেশি প্রতিনিধি এবং ভিভিআইপি-দের যাতায়াত থাকবে। তাঁদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য দিল্লিতে বিশেষ ট্র্যাফিক ব্যবস্থা করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে একই দিনে কয়েক হাজার দর্শককে নিয়ে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ।এই কারণেই ম্যাচের দিন বদলের জন্য দিল্লি ক্রিকেট সংস্থাকে অনুরোধ করেছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ। শুক্রবার কেন্দ্রীয় রেঞ্জের উপ-পুলিশ কমিশনার ডিডিসিএ-কে একটি চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থা থাকবে।পুলিশের আশঙ্কা, ১৩ সেপ্টেম্বরের ম্যাচ দেখতে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ হাজার দর্শক অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আসতে পারেন। ফলে বিদেশি প্রতিনিধি এবং ভিভিআইপি-দের যাতায়াতের সঙ্গে সাধারণ দর্শকদের বিপুল ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম এবং তার আশপাশের এলাকাতেও এমনিতেই যানবাহন ও পথচারীদের চাপ থাকে। ম্যাচের সময় অতিরিক্ত গাড়ি চলাচল এবং বিভিন্ন জায়গায় পার্কিংয়ের চাপ বাড়লে রাস্তার জায়গা আরও কমে যেতে পারে। ফলে যানজটের আশঙ্কাও বাড়বে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বিশেষ করে বিএসজেড মার্গ, মাতা সুন্দরী কলেজ, রাজঘাট এবং বাল ভবনের আশপাশে অতিরিক্ত পার্কিং হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। পাশাপাশি অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, ডিডিইউ মার্গ, মিন্টো রোড, কমলা মার্কেট এবং সংলগ্ন এলাকাতেও যান চলাচলের উপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।শুধু যানজট নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পুলিশের কাছে বড় চিন্তার বিষয়। ব্রিকস সম্মেলনের কারণে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের বহু কর্মীকে বিদেশি প্রতিনিধি এবং ভিভিআইপি-দের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা পরিষ্কার রাখা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন জায়গায় পথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা সামলাতে হবে। তার মধ্যে হাজার হাজার দর্শকের ক্রিকেট ম্যাচ হলে বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছে পুলিশ।এই পরিস্থিতিতে ডিডিসিএ-কে ১৩ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ব্রিকস সম্মেলন শেষ হওয়ার পর সুবিধামতো অন্য কোনও দিনে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, ম্যাচের সূচি বদলানো হলে সীমিত সংখ্যক কর্মী দিয়েই নিরাপত্তা ও যান চলাচল আরও ভালো ভাবে সামলানো সম্ভব হবে।এখন ডিডিসিএ এই অনুরোধে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর ক্রিকেটমহলের। ম্যাচের দিন বদলাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ব্রিকস সম্মেলনের কারণে ১৩ সেপ্টেম্বরের ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচ ঘিরে যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

স্ত্রীর উৎকণ্ঠায় আকুল মুকুল পুত্র, ভ্রমণ সংস্থার ভূমিকা নিয়েও এবার সরব শুভ্রাংশু

নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে এখনও বহু পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। সেই নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা তথা প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার আশায় দুই সন্তানকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। এই পরিস্থিতিতে নেপালে নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধান এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে ভ্রমণ সংস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে শুভ্রাংশু রায় দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায় চলো যাই নামে একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে নেপালে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নেপালে পৌঁছনোর পর পর্যটকদের দায়িত্ব নেয় সম্রাট ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস। এরপর তিব্বত সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বে ছিল লাসা নামে একটি চিনা ভ্রমণ সংস্থা।ভ্রমণ সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নশুভ্রাংশুর অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যম এবং ভ্রমণ সংস্থা নিখোঁজ পর্যটকদের জীবিত না থাকার বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছে। যদিও এই দাবি সত্যি ধরে নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।বিশেষ করে সম্রাট ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস এবং লাসা সংস্থার মধ্যে শেষ কী কথোপকথন হয়েছিল, তা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন শুভ্রাংশু। পাশাপাশি যে বাসে নিখোঁজ পর্যটকদের থাকার কথা বলা হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়োর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বাসে থাকা প্রত্যেক পর্যটকের পাসপোর্ট ও ছবি প্রকাশ করে তাঁদের পরিচয় যাচাই করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিনিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে ভারত সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের আবেদন করেছেন শুভ্রাংশু রায়। তাঁর দাবি, চিন-তিব্বত সীমান্তে ওই দিন কতজন ভারতীয় পর্যটক ইমিগ্রেশন করেছিলেন, সেই তথ্য প্রকাশ করা হোক। এ বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।শুভ্রাংশুর আশঙ্কা, ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় ঘটনাটিকে হয়তো যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দুর্গাপুজোর মরশুম সামনে রেখে পর্যটন ব্যবসার ক্ষতি এড়াতে যাতে ঘটনার প্রকৃত তথ্য কোনওভাবে চাপা না পড়ে, সেই বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।ডিএনএ পরীক্ষা নিয়েও উদ্বেগনিখোঁজ পর্যটকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে তা নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবিও তুলেছেন শুভ্রাংশু। তাঁর বক্তব্য, পরীক্ষা হলে তা অন্তত দুবার এবং ভারত সরকারের উদ্যোগে করা উচিত। চিন ও নেপালের ব্যবস্থাপনায় ডিএনএ পরীক্ষা হলে প্রক্রিয়াটি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।এর পাশাপাশি, বিপর্যয়ের সঠিক সময় নিয়েও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন শুভ্রাংশু। ভারত, নেপাল না কি তিব্বত সীমান্ত কোন সময় ও কোথায় মূল ঘটনা ঘটেছিল, তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। চিনে ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার সীমিত থাকায় সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সামনে আনারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।৩২ জনই সুস্থ আছেন, আশাবাদী শুভ্রাংশুসমস্ত অনিশ্চয়তার মধ্যেও স্ত্রী-সহ নিখোঁজ ৩২ জন পর্যটককে নিয়ে আশাবাদী শুভ্রাংশু রায়। তাঁর বিশ্বাস, নিখোঁজ ৩২ জনই হয়তো চীন-তিব্বত সীমান্তের কোনও অজানা এলাকায় নিরাপদে রয়েছেন।নিজের পরিবারের পাশাপাশি নিখোঁজ বাকি পরিবারগুলির কথাও উল্লেখ করে সকলের কাছে তাঁদের জন্য প্রার্থনা করার আবেদন জানিয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
কলকাতা

শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় যাত্রী পরিষেবায় রেলের বিরাট উদ্যোগ, একাধিক স্টেশনে সম্পূর্ণ নয়া কাজ

দৈনন্দিন যাত্রীদের যাত্রা আরও আরামদায়ক, সুবিধাজনক ও ঝঞ্ঝাটমুক্ত করতে শিয়ালদহ ডিভিশন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন যাত্রী পরিষেবার উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। এরই অংশ হিসেবে শিয়ালদহ দক্ষিণ সেকশনের বিভিন্ন স্টেশনে সম্প্রতি একাধিক যাত্রীবান্ধব উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।বাঘাযতীন স্টেশনে বুকিং অফিসের সামনে একটি নতুন যাত্রী শেড স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে টিকিটের জন্য লাইনে অপেক্ষারত যাত্রীরা বিশেষ করে বৃষ্টি ও প্রবল রোদের সময় যথেষ্ট স্বস্তি পাবেন। এছাড়াও, প্ল্যাটফর্ম নং ১ ও ২-এ স্পষ্ট ও সুদৃশ্য প্ল্যাটফর্মের নামের বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে যাত্রীরা সহজেই তাঁদের নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম চিহ্নিত করতে পারবেন।সুভাষগ্রাম স্টেশনে ফুট ওভার ব্রিজ (FOB)-এর শেড নির্মাণের কাজও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে আরও ভালো সুরক্ষা পাবেন এবং দৈনন্দিন যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে।এই সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ স্টেশনগুলিতে যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে শিয়ালদহ ডিভিশনের নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রতিফলন। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নত আশ্রয়, সহজ পথনির্দেশ এবং আরও সুবিধাজনক যাত্রার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবরকম প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

বিশ্বকর্মা পুজো ঘিরে রণক্ষেত্র ইউআইটি, বর্ধমানের ইউআইটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ক্লাস

বিশ্বকর্মা পুজোকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রগোষ্ঠীর বিবাদ চরমে উঠল বর্ধমানের ইউআইটিতে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজের সমস্ত ক্লাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইউআইটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনীল কারফর্মার। একই সঙ্গে কলেজের ভিতরে থাকা দুটি ছাত্রাবাসও খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে তিন নির্দিষ্ট ছাত্রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন অধ্যক্ষ। ঘটনায় জখম ছাত্ররাও পৃথক অভিযোগ করেছেন। দুটি অভিযোগ একত্র করে তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ চত্বরে চলছে পুলিশি টহল।ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবি, ইউআইটিতে সরকারি ভাবে কোনও ছাত্র সংসদ নেই। তবে যে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘাত, উভয় পক্ষই নিজেদের এবিভিপি-র সঙ্গে যুক্ত বলে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজো আয়োজনের জন্য দুই পক্ষই পৃথক ভাবে আবেদন করেছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষ দুটি আবেদনই মঞ্জুর করে।অধ্যক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় এক পক্ষ তাঁকে ঘেরাও করে দাবি করে, তাদের পুজোটিই একমাত্র পুজো হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশকে খবর দেন। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কলেজ চত্বরে দুই গোষ্ঠীর শতাধিক করে সদস্য মুখোমুখি হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নিরাপত্তারক্ষীদের পক্ষে সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।এরপরই অধ্যক্ষের ঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং আক্রান্ত ছাত্রদের দাবি, দুই পক্ষের সঙ্গেই এবিভিপির যোগ রয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সংগঠনের সাংগঠনিক পদেও রয়েছেন। অভিযোগ, বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে পিস্তল, বাঁশ ও লাঠি হাতে হামলা চালানো হয়। অধ্যক্ষের ঘরের পিছনের দরজা ভেঙে ঢোকারও অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্তদের দাবি, পিস্তলের বাঁট এবং পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরিস্থিতির চাপে কয়েকজন শৌচাগারের ভিতর আশ্রয় নেন বলেও দাবি করা হয়েছে।অন্যদিকে, আক্রান্ত ছাত্রদের একাংশের দাবি, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের তরফে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করতে চাওয়া হলেও তাঁদের পুজো স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল। সেই বিষয়টি জানতে তাঁরা অধ্যক্ষের কাছে গিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, সেই সময় সপ্তম সিমেস্টারের এক সক্রিয় এবিভিপি সদস্য অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকে তাঁকে মারধরের অভিযোগ করেন। তবে মারধরের কোনও চিহ্ন দেখাতে না পারায় অধ্যক্ষ তাঁর অভিযোগকে গুরুত্ব দেননি বলে দাবি আক্রান্তদের।যদিও গোটা ঘটনায় এবিভিপির যোগ অস্বীকার করেছেন সংগঠনের বর্ধমান মহানগরের সম্পাদক সুশোভন চৌধুরী। তাঁর দাবি, ইউআইটিতে এবিভিপির কোনও সংগঠনই নেই। যে প্যাড ব্যবহার করে পুজোর অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, তার সঙ্গেও এবিভিপির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, প্যাড যে কেউ বানাতে পারে। ওই প্যাড আদৌ এবিভিপির অনুমোদিত কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন তিনি।ঘটনার জেরে ইউআইটির পঠনপাঠন আপাতত বন্ধ। কলেজ চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

শেষ বার কথা হয়েছিল ২৫ আগস্ট রাতে, তারপরই নিখোঁজ! শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে বড় দাবি শুভ্রাংশুর

নেপালের বিপর্যয়ের পর প্রায় পনেরো দিন কেটে গেলেও এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি মুকুল রায়ের পুত্রবধূ এবং শুভ্রাংশুর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের। তাঁকে নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। তবে শুভ্রাংশুর দাবি, শর্মিষ্ঠা সুস্থই রয়েছেন। তাঁর অনুমান, চিন-তিব্বত সীমান্তের কোনও এলাকায় হয়তো রয়েছেন তাঁর স্ত্রী। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় নিখোঁজদের পরিবারগুলির মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।গত ২১ আগস্ট হাওড়া থেকে একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। নেপালে পৌঁছনোর পর কয়েক বার স্বামীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ আগস্ট রাতে শেষ বার শুভ্রাংশুর সঙ্গে কথা হয়েছিল শর্মিষ্ঠার। তার পরের দিন, ২৬ আগস্ট সকাল থেকেই হড়পা বানের কারণে নেপালের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। খবর পাওয়ার পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন শুভ্রাংশু। কিন্তু আর কোনও ভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শর্মিষ্ঠার খোঁজে পরিবারের তরফে থানায় যোগাযোগ করা হয়। ভবানী ভবন, বিদেশ মন্ত্রক এবং দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালানো হলেও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। এর মধ্যেই শর্মিষ্ঠার ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফলে পরিবারের মধ্যে আরও বড় দুশ্চিন্তা তৈরি হয়।এর মধ্যেই গত সোমবার রাতে শুভ্রাংশুর ফেসবুকের ডিসপ্লে ছবি ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। দেখা যায়, স্ত্রী শর্মিষ্ঠার সঙ্গে নিজের একটি ছবি ব্যবহার করেছেন তিনি। তবে ছবিটি ছিল সাদা-কালো। নিখোঁজ শর্মিষ্ঠার কোনও খবর না পাওয়ার মধ্যে এমন ছবি কেন ব্যবহার করা হল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেকে এটিকে অশুভ ইঙ্গিত বলেও মনে করতে থাকেন।এই বিষয়ে শুভ্রাংশুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস বলেন, এখনও শর্মিষ্ঠার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। কেন শুভ্রাংশু ওই ছবি দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না বলেও জানান।এর পর অবশ্য শুভ্রাংশু আবার তাঁর ডিসপ্লে ছবি বদলে দেন। ফলে শর্মিষ্ঠাকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা আরও বেড়ে যায়। যদিও পরিবারের তরফে এখনও কোনও দুঃসংবাদের কথা নিশ্চিত করা হয়নি।শুভ্রাংশুর বক্তব্য অনুযায়ী, শর্মিষ্ঠা সুস্থ রয়েছেন এবং চিন-তিব্বত সীমান্তের কোনও এলাকায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর দাবি, নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার কারণেই নিখোঁজদের পরিবারগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তাই দিয়েছেন তিনি। শর্মিষ্ঠার প্রকৃত অবস্থান কোথায়, তিনি নিরাপদে রয়েছেন কি না এবং কবে তাঁর সন্ধান মিলবে, এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে পরিবার।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
দেশ

ফের পাহাড় ভাঙল সিকিমে! রিম্বি-ইউকসম সড়কে নামল বিশাল ধস, ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে আতঙ্ক

সিকিমের পাহাড়ে যেন বিপদ কাটতেই চাইছে না। রবিবার সকালে উত্তর সিকিমে ভূমিধসের জেরে চ্যাকুং চু এবং তিস্তা নদীর গতিপথ আটকে গিয়ে হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই আতঙ্ক পুরোপুরি কাটার আগেই পশ্চিম সিকিমের রিম্বিতে ফের বড়সড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটল। রিম্বি-ইউকসম প্রধান সড়কের উপর পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ায় ওই পথে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যেই শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। ফলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউকসম-তাশিডিং এলাকার রিম্বি গ্রামে বিশাল ভূমিধস নেমেছে। পাহাড় থেকে মাটি ও পাথর নেমে এসে রিম্বির সঙ্গে ইউকসম এবং খেচুপরিকে যুক্ত করা প্রধান সড়কটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। রাস্তার উপর দিয়ে কাদার স্রোতও বয়ে যায়। বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর এবং ধ্বংসস্তূপে রাস্তার একটি বড় অংশ ঢেকে গিয়েছে।ভূমিধসের জেরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে ওই এলাকা দিয়ে হেঁটেও যাতায়াত করা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের পাদদেশ এবং আশপাশের কয়েকটি বাড়িও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৃষ্টি আরও বাড়লে নতুন করে ভূমিধস হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।রিম্বি-ইউকসম সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, ধস নামার পরও পাহাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত ঢাল পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। তাই রাস্তার কাছাকাছি থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢাল পরীক্ষা করা হোক এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই এই এলাকায় একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই শুধু ধসের মাটি-পাথর সরিয়ে রাস্তা খুলে দিলেই স্থায়ী সমাধান হবে না।স্থানীয়দের মতে, ভবিষ্যতে ভূমিধসের ঝুঁকি কমাতে পাহাড়ের ঢাল সুরক্ষিত করা, পাহাড় সংরক্ষণ এবং স্থায়ী নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। প্রশাসন বর্তমানে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের ঢাল নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত ওই এলাকায় যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ থাকতে পারে।অন্যদিকে রবিবার সকালে চ্যাকুং চু-তে ভূমিধসের কারণে তিস্তা নদীর গতিপথ যে অংশে আটকে গিয়েছিল, সেটি পরে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে তাতেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। আরও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার ওই এলাকা পরিদর্শন করে প্রশাসনের একটি দল।চুংথাংয়ের মহকুমা শাসক অরুণ ছেত্রীর নেতৃত্বে ওই দলটি এলাকা ঘুরে দেখে। পরিদর্শনের সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সীমান্ত সড়ক সংস্থার আধিকারিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রবিশ অত্রি, ক্যাপ্টেন সুরজ এবং রাজস্ব বিভাগের কর্মীরা। দলটি ভূমিধসের উৎসস্থল এবং ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের ঢাল পরীক্ষা করে। পাশাপাশি ওই এলাকায় আরও ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে কি না এবং টুং-পারটেম সড়ক নির্মাণের কাজে এর প্রভাব পড়তে পারে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।ফলে উত্তর সিকিমে তিস্তার গতিপথ আটকে যাওয়ার আতঙ্কের পর পশ্চিম সিকিমে রিম্বির ভূমিধস নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তার উপর চলছে ভারী বৃষ্টি। ফলে পাহাড়ের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আরও ধস নামার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
বিদেশ

গালওয়ানের ক্ষত এখনও তাজা, তার মধ্যেই দিল্লিতে শি! মোদির সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে চর্চা

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শির ভারত সফরের কথা নিশ্চিত করেছে বেজিং।ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে পৌঁছনোর কথা রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্টের। ফলে সাত বছর পর ফের ভারতে আসছেন শি জিনপিং। তাঁর এই সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এটাই হতে চলেছে শির প্রথম ভারত সফর।সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দিকে। যদিও এমন বৈঠক হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক দূরত্ব এবং অর্থনৈতিক টানাপড়েনের পর দুই দেশই সম্পর্কের উন্নতির রাস্তা খুঁজতে পারে।ভারত ও চিনের সম্পর্কে অবিশ্বাসের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন রয়েছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ সেই সম্পর্কে আরও বড় ধাক্কা দেয়। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিনও তাদের বাহিনীর চার জনের মৃত্যুর কথা সরকারি ভাবে স্বীকার করেছিল।গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের সম্পর্কে দ্রুত অবনতি ঘটে। সীমান্তে সেনা মোতায়েন, অরুণাচল প্রদেশ সংলগ্ন এলাকা নিয়ে টানাপড়েন এবং একাধিক কূটনৈতিক বিরোধ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এখন প্রশ্ন, ব্রিকসের মঞ্চে কি মোদি এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে? যদি বৈঠক হয়, তবে সীমান্ত সমস্যা, সামরিক উত্তেজনা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তবে বৈঠকের বিষয়বস্তু বা তার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।এর আগে কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছিল মোদি এবং শি জিনপিংকে। সেখানে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে করমর্দন হয়েছিল। তবে তাঁদের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি।এবার দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে পরিস্থিতি কতটা বদলায়, সেদিকেই নজর থাকবে। গালওয়ানের পর প্রথম বার ভারতে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি এবং তাঁর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠক ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনও বার্তা দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal