• ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩, বুধবার ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

UPA

দেশ

গুন্ডাদমন বিলে রাষ্ট্রপতির ‘না’! কেন ফেরত গেল শুভেন্দু সরকারের বিল?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হওয়া গুন্ডাদমন বিল নিয়ে বড় আইনি জট তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলটিতে অনুমোদন না দিয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন। কেন্দ্রের তরফে বিলের একটি অংশের সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইনের সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬ নামে এই বিলটি গত ২৯ জুন বিধানসভায় পাশ হয়েছিল। প্রস্তাবিত আইনে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে একাধিক বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে কোনও ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে সমাজবিরোধী কার্যকলাপে জড়ানোর আশঙ্কা থাকলে প্রতিরোধমূলক ভাবে আটক করার ব্যবস্থাও রয়েছে।বিল অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনও ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত আটক রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে এক বছর পর্যন্ত দূরে রাখার ক্ষমতাও প্রশাসনের হাতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।প্রস্তাবিত আইনে গুন্ডা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ-এর পরিধিও বিস্তৃত করা হয়েছে। সংগঠিত অপরাধ, তোলাবাজি, জমি বা বাড়ি দখল, বেআইনি বালি তোলা এবং অবৈধ খনির মতো কাজের পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত কিছু অপরাধকেও এই সংজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব ছিল।ঠিক এই মাদক সংক্রান্ত অংশ নিয়েই আপত্তি জানিয়েছে কেন্দ্র। রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া নোটে কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, বিলের একটি ধারায় মাদক সংক্রান্ত অপরাধকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের আওতায় এনে প্রতিরোধমূলক আটকের ব্যবস্থা করার ফলে কেন্দ্রীয় মাদক আইনের সঙ্গে একই ধরনের ক্ষমতার পুনরাবৃত্তি তৈরি হতে পারে। কেন্দ্রের মতে, এর ফলে আইনি সংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে।কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতিরোধমূলক ভাবে আটকের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় আইনি কাঠামো রয়েছে। ফলে একই ধরনের ব্যবস্থা রাজ্যের প্রস্তাবিত আইনে রাখা হলে দুই আইনের মধ্যে সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণেই সংশ্লিষ্ট অংশটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।তবে রাষ্ট্রপতি বিলটি স্থায়ী ভাবে বাতিল করেননি। প্রয়োজনীয় সংশোধন করে রাজ্য সরকার আবার বিধানসভায় বিলটি পেশ করতে পারে। সংশোধনের পর ফের তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানোর পথও খোলা রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।এর আগে এই বিলের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও কলকাতা হাই কোর্টে মামলা হয়েছিল। আগস্টে আদালত জানায়, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। ফলে সেই পর্যায়ে বিলকে চ্যালেঞ্জ করে করা জনস্বার্থ মামলাগুলিকে আগাম মামলা হিসেবে দেখা হয়েছিল।রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ করে দাবি করেছেন, সরকারের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে রিভার্স গিয়ার চলছে এবং বিলটি সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসাবেই রয়েছে।ফলে এখন মূল নজর রাজ্য সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে। রাষ্ট্রপতির আপত্তির জায়গাগুলি সংশোধন করে বিলটি ফের বিধানসভায় আনা হবে কি না, নাকি অন্য কোনও পথে বিষয়টি এগোবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। আপাতত রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়ায় প্রস্তাবিত গুন্ডাদমন আইনটি আগের অবস্থায় কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

এক রাতেই উল্লাস উপনগরীতে পাঁচ বাড়িতে চুরি! সিসিটিভির সূত্রে বিহারের ৪ দুষ্কৃতী গ্রেফতার

ফাঁকা বাড়ির রেকি করেই কি অপারেশন? চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ, ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত।রাতের অন্ধকারে একের পর এক বাড়িতে হানা। কোথাও নগদ টাকা, কোথাও সোনার গয়নাএক রাতেই বর্ধমানের উল্লাস উপনগরীর পাঁচটি বাড়িতে পরপর চুরির ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছিল আবাসিকদের মধ্যে। অবশেষে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল বর্ধমান থানার পুলিশ। এই ঘটনায় বিহারের চার বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সুরেন্দর পাওয়ার, মিত আদিবাসী, দীপক কুমার এবং বিকাশ কারে। চারজনই বিহারের ভাগলপুর জেলার হনুমান চক থানা এলাকার বাসিন্দা। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তাঁদের রবিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়।চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেছে।১৫ সেপ্টেম্বরের সেই রাতপুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে উল্লাস উপনগরীর ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় পরপর পাঁচটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনাচক্রে ওই বাড়িগুলির কয়েকটির বাসিন্দা সেদিন বাড়িতে ছিলেন না।কেউ বেড়াতে গিয়েছিলেন, আবার কেউ চিকিৎসার প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগকেই দুষ্কৃতীরা কাজে লাগিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ।আবাসিকদের অভিযোগ, পাঁচটি বাড়ির মধ্যে অন্তত দুটি বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না নিয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা।একই রাতে এতগুলি বাড়িতে পরপর চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা উপনগরীতে।সিসিটিভিতে মোড়া আবাসনে কীভাবে ঢুকল চোর?উল্লাস উপনগরীতে নিরাপত্তারক্ষী রয়েছে। গোটা এলাকাতেই রয়েছে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। তারপরেও কীভাবে দুষ্কৃতীরা নিরাপত্তার নজর এড়িয়ে একের পর এক বাড়িতে ঢুকে চুরি করল এবং নির্বিঘ্নে বেরিয়ে গেলএই প্রশ্নই ঘুরপাক খেতে শুরু করে আবাসিকদের মধ্যে।চুরির পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে বর্ধমান থানার পুলিশ। প্রথমে যে বাড়িগুলিতে চুরি হয়েছিল, সেগুলির ভিতর ও বাইরে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। দুষ্কৃতীরা কোন পথে ঢুকেছিল এবং কোন রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, তার সূত্র খোঁজা হয়।এরপর তদন্তকারীরা গোটা উল্লাস উপনগরীর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করেন।ফুটেজ থেকেই মিলল বড় সূত্রতদন্তকারীদের হাতে শেষ পর্যন্ত আসে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বিহারের চার বাসিন্দাকে চিহ্নিত করে পুলিশ।পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।পুলিশের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া বেশ কিছু সামগ্রী ইতিমধ্যেই উদ্ধার হয়েছে। তবে এখনও বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা বাকি রয়েছে।আরও বড় চক্রের খোঁজে পুলিশপুলিশের কাছে এখন মূল প্রশ্নএই চারজনই কি গোটা ঘটনায় জড়িত, নাকি তাঁদের সঙ্গে আরও কেউ রয়েছে? উল্লাস উপনগরীতে ঢোকার আগে কি এলাকায় রেকি করা হয়েছিল? কোন বাড়িতে বাসিন্দারা নেই, সেই তথ্য কীভাবে দুষ্কৃতীদের হাতে পৌঁছেছিল? নিরাপত্তারক্ষী এবং সিসিটিভির নজর এড়িয়ে কীভাবে অপারেশন চালানো হয়েছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর পেতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ।চুরি যাওয়া বাকি সামগ্রী উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের সন্ধান পেতে ধৃতদের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত যত এগোবে, উল্লাস উপনগরীর ওই রাতের চুরির নেপথ্যের পুরো ছবিটাও তত পরিষ্কার হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
দেশ

মোদীর শোকবার্তার পরই কংগ্রেসের আক্রমণ! সত্য নিকেতন বাড়ি ধস নিয়ে দিল্লিতে চাপানউতোর

দিল্লির সত্য নিকেতনে ছতলা একটি বাড়ি ভেঙে পড়ে এখনও পর্যন্ত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ছজনকে। তবে ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকতে পারেন। তবে এই সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা মানুষদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শোকবার্তায় তিনি জানান, দিল্লির সত্য নিকেতনে ভবন ধসে পড়ার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে যুক্ত আধিকারিকদের প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে কাজ করছে।এই দুর্ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেসও। দলের নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। যে কোনও পরিস্থিতিতে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এই ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। বাড়ি ধসের ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।দিল্লির বাড়ি ধসের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও। তিনি গভীর শোক প্রকাশ করে মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন রাষ্ট্রপতি।অন্যদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। দিল্লি পৌরনিগমের বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, এই দুর্ঘটনার দায় নিয়ে পৌরনিগমের কমিশনারকে পদত্যাগ করতে হবে।বিরোধীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা শুরু হওয়ার আগেই অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যদের আন্দোলনে নামানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও স্পষ্ট নয়।বাড়ি ধসের ঘটনায় মৃতদের মধ্যে শিক্ষার্থীও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, বাড়িটির নির্মাণ এবং দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। ঠিক কী কারণে ছতলা বাড়িটি ভেঙে পড়ল, তা জানতে তদন্তের দিকেও নজর রয়েছে।এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ধ্বংসস্তূপের নীচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ চালাচ্ছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি ঘিরে সত্য নিকেতন এলাকায় শোকের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

'উত্তম'কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতু! শাড়িজুড়ে মহানায়কের সোনালি দিন—ঋতুপর্ণার সাজে ফিরল উত্তম-সুচিত্রার নস্ট্যালজিয়া

৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এমন একটি দিন, যেদিন বর্তমান যেন একটু থমকে দাঁড়ায় অতীতের সামনে। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের সূচনায় তাই শুধু শ্রদ্ধা, পুষ্পস্তবক কিংবা স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ রইল না উদযাপন। টালিগঞ্জের বাতাসে এদিন মিশে ছিল এক অন্যরকম নস্ট্যালজিয়াসাদা-কালো পর্দা, পুরনো সিনেমার গান, উত্তম-সুচিত্রার অমর রসায়ন আর বাঙালির চিরচেনা মহানায়ক-কে নতুন করে আবিষ্কারের আবেগ।চার দিনব্যাপী এই বিশেষ উদযাপনের সূচনা হয় মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে। উপস্থিত ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের তারকাপ্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ। কিন্তু তারকাখচিত সেই অনুষ্ঠানে একটি শাড়িই যেন আলাদা করে হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।আর সেই শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে এসে অভিনেত্রী যেন শুধু নিজের পোশাক বেছে নেননি, সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন বাংলা সিনেমার এক বিস্মৃতপ্রায় অথচ চিরজাগ্রত সময়কে। তাঁর পরনের ঘিয়ে রঙের নগজের শাড়ির পাড় ও আঁচলজুড়ে ফুটে উঠেছিল উত্তম কুমারের সিনেমার নানা স্মৃতি। কোথাও মহানায়কের মুখ, কোথাও উত্তম-সুচিত্রার অমলিন উপস্থিতিআর আঁচলজুড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল এই পথ যদি না শেষ হয়-এর সেই চিরপরিচিত মুহূর্ত।যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজেঋতুকে কি ছুঁয়ে গিয়েছিল সেই অমর মুহূর্ত?শর্মিলার শাড়ির পাড়ে হাত রেখে উত্তমের সেই গানবাংলা সিনেমার প্রেমের এক অনন্ত দৃশ্য। সকলে হয়তো স্বীকার করবেন না, তবু বাংলা সিনেমার প্রতিটি অভিনেত্রীর কল্পনায় কোনও না কোনওভাবে উত্তমই ছিলেন সেই স্বপ্নের নায়ক। তিনি শুধু নায়ক-ই নন ছিলেন কারও দাদা, কারও বাবা, কারও বন্ধু, কারও প্রেমিকসম্পর্কের নাম বদলেছে, উত্তম বদলাননি।তিনি ছিলেন, আছেনবাঙালির চিরকালের নায়ক।একটি শাড়ি তখন আর নিছক পোশাক থাকে না। হয়ে ওঠে স্মৃতির ক্যানভাস।উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনের জুটি বাঙালির চলচ্চিত্র-স্মৃতিতে যে জায়গা দখল করে রয়েছে, তাকে নতুন প্রজন্মের সামনে অন্য ভাষায় তুলে ধরার এক অভিনব প্রয়াস যেন দেখা গেল ঋতুপর্ণার সাজে। মেরুন থ্রি-কোয়ার্টার ব্লাউজের সঙ্গে ঘিয়ে রঙের সেই শাড়ি, রং মিলিয়ে গয়নাসব মিলিয়ে সাজে ছিল সংযম, আভিজাত্য এবং আবেগের মিশেল।তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে শাড়ির আঁচল।ক্যামেরার সামনে সেই আঁচল মেলে ধরার মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, যেন কোনও পুরনো বাংলা ছবির ফ্রেম হঠাৎ করেই বর্তমানের মধ্যে ফিরে এসেছে। একদিকে ঋতুপর্ণা, অন্যদিকে আঁচলে ধরা উত্তম-সুচিত্রার সেই অমর সময়দুই প্রজন্মের দুই ভুবন যেন এক জায়গায় এসে মিলল।উত্তম কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতুএদিনের অনুষ্ঠানে এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, যাঁর চোখ ঋতুর শাড়িতে আটকে যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে সৃজিত মুখোপাধ্যায়, দেব, যিশু সেনগুপ্ত, জিৎ, পাপিয়া অধিকারী কিংবা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়মহানায়কের মূর্তির পাদদেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যেন আলাদা এক আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল ঋতুর উত্তম শাড়ি।আর এই দৃশ্য যে শুধু দর্শকের চোখেই ধরা পড়েছে, তা নয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তারকারাও কার্যত মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন সেই বিশেষ শাড়ির কাজ। ঋতুপর্ণার আঁচল টেনে তার নকশা খুঁটিয়ে দেখতে দেখা যায় দেবকে। পাশে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের চোখেও স্পষ্ট কৌতূহল ও মুগ্ধতা। জিৎ-এর নজরও আটকে যায় মহানায়কের মুখ আঁকা সেই আঁচলে। মুহূর্তটি যেন প্রতীকীবর্তমান টলিউডের জনপ্রিয় মুখেরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাংলা সিনেমার সেই সোনালি সময়ের সামনে, যার কেন্দ্রে এখনও একইভাবে উজ্জ্বল উত্তম কুমার।ফলে কয়েক মুহূর্তের জন্য তারকাদের ভিড়ও যেন পিছু হটে যায়। একফ্রেমে ঋতুপর্ণার শাড়ি হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের অতীত ও বর্তমানের সেতু।শুধু মহানায়কের সিনেমার স্মৃতিই নয়, গোটা শাড়ির নকশায় ছড়িয়ে ছিল বাংলা সিনেমার সোনালি দিনের আবহ। পুরনো পোস্টার, পরিচিত চরিত্র, সিনেমার দৃশ্যসব মিলিয়ে যেন তৈরি হয়েছিল একটি চলমান চলচ্চিত্র-অ্যালবাম। পর্দায় যে দৃশ্যগুলি একসময় বাঙালির আবেগকে স্পর্শ করেছিল, সেগুলিই এবার উঠে এসেছে কাপড়ের বুননে।এখানেই ঋতুপর্ণার এই শ্রদ্ধার্ঘ্যের বিশেষত্ব।উত্তম কুমারকে স্মরণ করার প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে অভিনেত্রী যেন তাঁর পোশাককেই করে তুললেন স্মৃতির ভাষা। সিনেমা শেষ হয়ে যায়, পোস্টার পুরনো হয়ে যায়, প্রেক্ষাগৃহ বদলে যায়কিন্তু কিছু ছবি থেকে যায় মানুষের মনে। সেই ছবিগুলিকেই যেন শাড়ির আঁচলে ধরে রাখলেন তিনি।আর সেই কারণেই তাঁর সাজ হয়ে উঠল নিছক ফ্যাশন নয়, এক ধরনের সাংস্কৃতিক বক্তব্যও।মহানায়কের জন্মশতবর্ষে এই দৃশ্য যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিলউত্তম কুমার কেবল একটি নাম নন, কেবল কয়েকটি কালজয়ী ছবির নায়কও নন। তিনি বাঙালির যৌথ স্মৃতির অংশ। তাঁর অভিনয়, তাঁর হাসি, তাঁর সংলাপ, তাঁর নায়করূপ এবং তাঁর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের রসায়নসবকিছু মিলিয়ে তিনি এমন এক আবেগ, যার বয়স বাড়ে না।শতবর্ষ পেরিয়েও সেই আবেগ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায় কখনও সিনেমার পর্দায়, কখনও গানে, কখনও স্মৃতিচারণে, আবার কখনও একটি শাড়ির আঁচলে।ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের এই অভিনব সাজ তাই মহানায়ককে শুধু শ্রদ্ধা জানানো নয়। বরং পুরনো দিনের বাংলা সিনেমাকে আজকের চোখে নতুন করে দেখার এক সুন্দর প্রয়াস। যে পথে উত্তম-সুচিত্রা একদিন বাঙালির হৃদয়ে হেঁটেছিলেন, সেই পথ যেন সত্যিই এখনও শেষ হয়নি।শুধু বদলে গেছে মাধ্যম।এবার সেই পথের গল্প লেখা হয়েছে শাড়ির আঁচলে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

রাত দুটোর কলকাতায় ক্যামেরাবন্দি বিজয়-সাই! মণি রত্নমের নতুন ছবির শুটিং ঘিরে তুমুল উন্মাদনা

কয়েক দিন আগেই কলকাতায় এসেছেন খ্যাতনামা পরিচালক মণি রত্নম। তাঁর নতুন রোম্যান্টিক তামিল ছবির শুটিং এখন জোরকদমে চলছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। শনিবার গভীর রাতে হাওড়া ব্রিজে ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিং করেন বিজয় সেতুপতি ও সাই পল্লবী। রাত হলেও সেখানে উপস্থিত কয়েক জন পথচারী তাঁদের দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন।বুধবার রাতে কলকাতায় পৌঁছেছিলেন বিজয় সেতুপতি। পরের দিন ভোরে শহরে আসেন সাই পল্লবী। বৃহস্পতিবার থেকে বেলগাছিয়া রাজবাড়িতে শুরু হয় ছবির শুটিং। টানা কয়েক দিন সেখানে কাজ করার পর শনিবার গভীর রাতে পুরো শুটিং দল পৌঁছে যায় হাওড়া ব্রিজে। রাত প্রায় দুটোর সময় শুটিং শুরু হয়। প্রথমে বিজয় সেতুপতির একক দৃশ্য ধারণ করা হয়। পরে সাই পল্লবীর সঙ্গে তাঁদের একাধিক দৃশ্যের শুটিং হয়।এই ছবিতে সম্পূর্ণ নতুন লুকে দেখা যাচ্ছে বিজয় সেতুপতিকে। তাঁর পরিচিত দাড়ি-গোঁফ নেই। কালো টি-শার্ট ও জিনস পরে তিনি ক্যামেরার সামনে হাজির হন। অন্যদিকে ইটরঙা পোশাকে নজর কেড়েছেন সাই পল্লবী। ভিজে রাস্তার উপর দুজনের হাঁটার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করা হয়। যদিও সেদিন সামান্য বৃষ্টি হয়েছিল, তবুও দৃশ্যকে আরও বাস্তব করে তুলতে কৃত্রিমভাবে পুরো রাস্তা ভিজিয়ে দেওয়া হয়।শুধু হাওড়া ব্রিজ নয়, আগামী কয়েক দিনে আবার বেলগাছিয়া রাজবাড়িতে শুটিং হবে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি পার্ক স্ট্রিট এবং কুমোরটুলিতেও ছবির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ষোলো বছর পর আবার কলকাতায় শুটিং করছেন মণি রত্নম। এর আগে তাঁর রাবণ ছবির জন্য এই শহরে কাজ করেছিলেন। ফলে নতুন ছবিতে তাঁর ক্যামেরায় কলকাতা কীভাবে ধরা পড়বে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সিনেমাপ্রেমীরা।

জুলাই ২৬, ২০২৬
রাজ্য

'২০২১ সাল থেকে জোর করে বাড়ি দখলের' অভিযোগ, রাজ্যপালের কাছে নালিশ বৃদ্ধ দম্পতির; আদালতের নির্দেশ কার্যকর না হওয়ার অভিযোগও

নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার মাজদিয়া এলাকায় একটি বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরে রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে লিখিত অভিযোগ জানালেন এক বৃদ্ধ বাসিন্দা। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০২১ সাল থেকে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জোর করে তাঁদের পৈতৃক বাড়ি দখল করে রেখেছেন এবং এখনও তাঁরা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।অভিযোগকারী দেবব্রত রায় জানিয়েছেন, তাঁর ৯৪ বছর বয়সি বাবা অজিত রায়ের মালিকানাধীন বাড়ি দখল করে তাঁদের সেখান থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর, হুমকি এবং ভয় দেখানো হয়। এ ঘটনায় কৃষ্ণগঞ্জ থানায় একাধিকবার অভিযোগ দায়ের করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সংশ্লিষ্ট মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট এবং দেওয়ানি আদালতের বিভিন্ন নির্দেশের উল্লেখ করে অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তার যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি।সংযুক্ত আদালতের নথি অনুযায়ী, WPA 11137 of 2024 (Ajit Roy Others vs The State of West Bengal Others) মামলায় আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, অ্যাডভোকেট কমিশনার বাড়িটি সম্পূর্ণভাবে পরিদর্শন করতে পারেননি, কারণ সেটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। আদালত আরও উল্লেখ করে, যদি আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে তালা লাগানো হয়ে থাকে, তবে পুলিশ প্রয়োজনে সেই তালা ভেঙে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পারে।অন্য একটি আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দেওয়ানি আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব পুলিশের থাকলেও, কোনো পক্ষ আদালতের অনুমতি ছাড়া সম্পত্তিতে তালা লাগিয়ে অপর পক্ষকে বঞ্চিত করতে পারে না। আদালত আরও জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে এলে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।অভিযোগকারীর দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও তাঁরা বাড়ির দখল ফিরে পাননি। বরং বাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী নষ্ট বা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তাঁদের বাড়ির দখল ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।অভিযোগপত্রে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে বাড়ি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধেও পরোক্ষভাবে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করা হয়েছে।তবে এই সমস্ত অভিযোগ একতরফা। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সরকারিভাবে কোনও মতামত দেওয়া হয়নি।

জুলাই ১৮, ২০২৬
কলকাতা

আর জি কর কাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল, এবার চাকরি গেল! চিকিৎসক বিরূপাক্ষকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্যাথোলজি বিভাগের প্রাক্তন সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের চাকরি বাতিল করল রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ, ফৌজদারি মামলা, এফআইআর এবং তদন্ত সংস্থার রিপোর্ট খতিয়ে দেখে অভিযোগগুলির সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। এরপরই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্যদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিরূপাক্ষ বিশ্বাস সাসপেন্ড ছিলেন। এবার তাঁর সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে থাকা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাঁকে দুই বছরের জন্য মোট ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কোনও সরকারি চাকরির সুযোগও তাঁর জন্য বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁর দাবি, নতুন প্রশাসনের অধীনে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কোনও ধরনের অনিয়ম, দালালচক্র বা প্রভাব খাটানোর জায়গা নেই। স্বাস্থ্য পরিষেবায় কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন এই পদক্ষেপ।বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের নাম প্রথম আলোচনায় আসে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক খুনের ঘটনার তদন্ত চলাকালীন। সেই সময় তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি আর জি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তদন্ত চলাকালীন একটি ভাইরাল ভিডিও নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল, যেখানে বিরূপাক্ষ বিশ্বাস এবং আরও এক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।তবে এটাই একমাত্র অভিযোগ নয়। বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ ওঠে মুর্শিদাবাদের এক ছাত্রের কাছ থেকে। অভিযোগ ছিল, ওই ছাত্রকে চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুদফায় মোট ৮ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভর্তি করানো হয়নি এবং টাকা ফেরতও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ দায়ের করা হয়।একাধিক অভিযোগ এবং তদন্তের পর স্বাস্থ্যদপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। চিকিৎসক মহলের একাংশের মতে, চাকরি বাতিল এবং ভবিষ্যতের সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞার ফলে বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের পেশাগত জীবনে বড় ধাক্কা এল।

মে ৩০, ২০২৬
কলকাতা

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চাইছে তৃণমূল, কিন্তু মিলছে না সময়! কেন তৈরি হচ্ছে নতুন জল্পনা

রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তুলে ধরতে চায় তৃণমূল। সেই কারণে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছে দলের সাংসদরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই সময় পাওয়া যায়নি। এই বিষয়টি ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে আদিবাসী সমাজের উন্নয়নের জন্য সরকার কী কী কাজ করেছে, তার একটি খতিয়ান রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন দলের সাংসদরা। সেই উদ্দেশ্যে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ভবনে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত এই বৈঠকের জন্য সময় দেওয়া সম্ভব নয়।এর পরেই আবার নতুন করে চিঠি পাঠিয়েছে তৃণমূল। দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছেন দলের সাংসদরা। জানা গিয়েছে, ওই চিঠিতে বারো থেকে পনেরো জনের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই আবেদন নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে কোনও উত্তর আসেনি।দলীয় সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহে আবারও একটি চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি হবে তৃতীয় চিঠি। সেখানে দলের পক্ষ থেকে নিজেদের অবস্থান এবং এই সাক্ষাতের প্রয়োজনীয়তার কথা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হতে পারে।এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত শনিবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী সম্মেলনে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেই সফর ঘিরেও একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।শিলিগুড়ির বিধাননগরে তাঁর একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। পরে নিরাপত্তার কারণে সেই অনুষ্ঠানস্থল বদলে দেওয়া হয়। বাগডোগরার কাছে গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাষ্ট্রপতি নিজেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।পরে বিধাননগরে পৌঁছে তিনি বলেছিলেন, তিনি ওই এলাকাতেই সভা করতে চেয়েছিলেন এবং সেখানে পর্যাপ্ত জায়গাও ছিল। কিন্তু কেন রাজ্য সরকার সেখানে সভা করার অনুমতি দিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের ছোট বোন বলে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, হয়তো কোনও কারণে তিনি তাঁর উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তাই সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।এই মন্তব্য ঘিরেই পরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রের একাধিক নেতা-মন্ত্রীও।

মার্চ ১৩, ২০২৬
রাজ্য

সত্যি কি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমান করা হয়েছে? কী বলছে নিয়ম

ভোটের আগে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য ও কেন্দ্রের সম্পর্ক। রাজ্য বনাম রাজ্যপাল, রাজ্য বনাম নির্বাচন কমিশনের সংঘাতের পর এবার সামনে এল রাজ্য ও রাষ্ট্রপতির টানাপোড়েন। শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেই সফর ঘিরেই রাজ্যের বিরুদ্ধে একাধিক বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এই ঘটনার পরেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র।সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্যের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন চিঠি লিখে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন বলে জানা গেছে।সাধারণত কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি গেলে তাঁকে স্বাগত জানাতে সেই রাজ্যের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকেন। অনেকেই বলছেন, এ বিষয়ে লিখিত নিয়ম না থাকলেও দীর্ঘদিনের একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে। যদি মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত না থাকেন, তাহলে সাধারণত প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত থাকেন। সেখানে মুখ্যসচিব বা পুলিশের সর্বোচ্চ কর্তার উপস্থিতি দেখা যায়।কিন্তু শনিবার শিলিগুড়িতে সেই ছবি দেখা যায়নি বলেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের কোনও মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি মুখ্যসচিব বা পুলিশের শীর্ষ কর্তারও দেখা মেলেনি।এদিকে কয়েকদিন আগেই রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর জায়গায় নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন আর এন রবি। তিনি আগামী বারো মার্চ শপথ নেবেন বলে জানা গেছে। ফলে এই সফরে তাঁর উপস্থিত থাকার প্রশ্নই ছিল না।এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি যদিও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, কিন্তু বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্য নন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এ প্রসঙ্গে বলেন, তিনি যখন কোনও রাজ্যে সফরে যান, তখন সাধারণত মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য তাঁকে স্বাগত জানান।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, রাজ্যের পক্ষ থেকে তিনিই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র তথা বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, রাষ্ট্রপতি বাঙালি না অবাঙালি বা কোন সরকারের আমলে নির্বাচিত হয়েছেন, সেটি বড় বিষয় নয়। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতির পদ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ এবং সেই পদকে সম্মান জানানো সব সরকারেরই দায়িত্ব।এই ইস্যুতে বিজেপিও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, রাষ্ট্রপতি কী বলেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী কী বলেছেন, দুটো বিষয় পাশাপাশি রাখলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাঁর দাবি, তাতেই বোঝা যাবে কে সংবিধানের সীমার মধ্যে কথা বলেছেন আর কে তার বাইরে গিয়েছেন।আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশও এই বিষয় নিয়ে মত প্রকাশ করেছেন। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বলেন, রাজ্যের আগের রাজ্যপাল পদত্যাগ করার ফলে একটি প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর মতে, এই ধরনের অনুষ্ঠানে প্রোটোকল অনুযায়ী কোনও মন্ত্রীর উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। কারণ রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে রয়েছেন এবং সেই পদকে সম্মান জানানো প্রথার অংশ।

মার্চ ০৮, ২০২৬
দেশ

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর শিলিগুড়ি সফরে প্রোটোকল বিতর্ক, কেন্দ্র রাজ্যকে রিপোর্ট তলব

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে রবিবার সকালে এই নির্দেশ পাঠানো হয়। বিকেল পাঁচটার মধ্যে লিখিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।শনিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে স্বাগত জানাতে যাননি মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোটবোনের মতো। আমি বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা হয়তো রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি বা কোনও মন্ত্রী আসেননি। তবে এটা বড় বিষয় নয়।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবারই প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, ওঁর (দ্রৌপদী মুর্মু) অনুষ্ঠানের কথা আমি জানতাম না। এটি কোনও সরকারি অনুষ্ঠান নয়, সম্পূর্ণ বেসরকারি। আমরা এখানে কী করব? আমি এখন ধরনায় আছি, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছি। আপনারা বিজেপির অগ্রাধিকার হতে পারেন, আমার কাছে আমার জনতাই সব। তিনি আরও যোগ করেন, রাষ্ট্রপতি একজন সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি, আমরা তাঁকে সম্মান করি। কিন্তু বিজেপি তাঁকে রাজনীতি করতে পাঠিয়েছে।রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছিল, ঘটনা শান্ত হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই রিপোর্ট তলব করেছেন। মুখ্যসচিবকে জানতে চাওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রপতির সফরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল।

মার্চ ০৮, ২০২৬
রাজ্য

বাংলায় এসে বিস্ফোরক মন্তব্য রাষ্ট্রপতির! ‘মমতা হয়তো আমার উপর রাগ করেছেন’

ভোটের আগে বাংলায় রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সভাস্থল নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর অভিযোগ, অনুষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার অনুমতি দেয়নি। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত অন্য জায়গায় সভা করতে হয়েছে।শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে তিনি মঞ্চে ওঠার পর দেখা যায় দর্শকাসনে অনেক চেয়ারই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। বিষয়টি নজরে আসতেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত চেয়ার ফাঁকা কেন। তাঁর সন্দেহ, কেউ হয়তো বাধা দিয়েছে।উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রথমে ঠিক হয়েছিল এই সম্মেলন হবে বিধাননগরে। কিন্তু পরে একাধিকবার সভাস্থল বদল করতে হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে সভা করার অনুমতি দেয় প্রশাসন। তবে আয়োজকদের অভিযোগ, অনেক আমন্ত্রিত অতিথি নিরাপত্তা পাশ না পাওয়ায় অনুষ্ঠানে ঢুকতে পারেননি। পুলিশ তাদের আটকে দেয় বলে অভিযোগ।সভা শেষে রাষ্ট্রপতি সেখানেই থেমে থাকেননি। তিনি শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগরে যান, যেখানে প্রথমে সভা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে গিয়ে গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন এবং বলেন, তিনি আসলে এখানেই সভা করতে চেয়েছিলেন। জায়গাও যথেষ্ট ছিল। তবে কেন রাজ্য সরকার অনুমতি দিল না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি তাঁর ছোট বোনের মতো। তবে হয়তো কোনও কারণে তিনি তাঁর উপর রাগ করেছেন, সেই কারণেই সভা করতে দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। এ নিয়েও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সাধারণত রাষ্ট্রপতি কোনও রাজ্যে গেলে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কেউ তাঁকে স্বাগত জানান। সেটাই নিয়ম এবং প্রোটোকল।শেষ পর্যন্ত বিধাননগরে পূর্ব নির্ধারিত জায়গায় একটি শালগাছ লাগিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন রাষ্ট্রপতি।অন্যদিকে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব জানান, রাজ্যের পক্ষ থেকে তিনিই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। জেলা শাসক এবং পুলিশ কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর কথায়, এর আগেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায় যখন এসেছিলেন, তখনও তিনি তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সভাস্থল নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা মূলত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণেই হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মার্চ ০৭, ২০২৬
দেশ

বিহার বিধানসভা ভোটে বিজেপি ও আরজেডি কটা আসনে লড়ছে? শরিকরা কতগুলি আসন পেল?

রবিবার এনডিএ আগামী মাসে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আসন ভাগাভাগিতে সম্মত হয়েছে। বিজেপি এবং জনতা দল (ইউনাইটেড) ১০১টি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সম্মত হয়েছে। জেডি(ইউ) জাতীয় কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় ঝা এবং বিজেপির নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্বারা নিশ্চিত করা এই চুক্তি অনুসারে, চিরাগ পাসওয়ানের নেতৃত্বাধীন লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিকাশ) ২৯টি আসন পাবে, যেখানে জিতন রাম মাঝির হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (ধর্মনিরপেক্ষ) এবং উপেন্দ্র কুশওয়াহার জাতীয় লোক মোর্চা (আরএলএম) ছয়টি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।১৯৯৬ সালে জোট গঠনের পর এই প্রথমবারের মতো বিজেপি এবং জেডি(ইউ) বিধানসভা নির্বাচনে সমান সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ২০২০ সালে, জেডি(ইউ) ১২২টি আসনে এবং বিজেপি ১২১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, জেডি(ইউ) তাদের ভাগ থেকে এইচএএম(এস)-কে সাতটি আসন দিয়েছিল এবং বিজেপি তাদের ভাগ থেকে ১১টি আসন মুকেশ সাহানির বিকাশশীল ইনসান পার্টি (ভিআইপি)-কে বরাদ্দ করেছিল।এই চুক্তির ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে জোটের মধ্যে আলোচনার অবসান ঘটে, যেখানে এলজেপি (আরভি) এবং এইচএএম(এস) আক্রমণাত্মকভাবে আরও বেশি আসনের জন্য চাপ দিয়েছিল। পাসওয়ানের দল প্রথমে ৪০টি এবং পরে ৩৫টি আসনের জন্য চাপ দিলেও, মাজি ১৫টি আসন দাবি করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।এনডিএ সূত্র জানিয়েছে, যে জোট প্রথমে এলজেপি (আরভি)-কে ২০-২৫টি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের নির্বাচনী প্রভাবের কারণে তা মেনে নেওয়া হয়েছিল। দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) এক বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দিল্লি ও বিহারের শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব হাজির ছিলেন।আলোচনায় এলজেপি (আরভি) এর দাবি একটি বড় বাধা ছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলটির শক্তিশালী পারফরম্যান্স, যখন তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা পাঁচটি আসনেই জয়লাভ করে এবং মোট ভোটের ৬% এরও বেশি ভোট অর্জন করে, তাদের দর কষাকষির ক্ষমতা দেয়। তবে বিজেপির সূত্র জানিয়েছে, যে দলটি রাজনৈতিক স্থায়িত্বের কারণে নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের কারণে এই আসনগুলি জিতেছে।২০২০ সালে, বিভক্ত হওয়ার এক বছর আগে, এলজেপি বিহারের ২৪৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৩৫টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, যার ফলে এনডিএকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল। ৬৪টি আসনে, যেখানে দল তৃতীয় বা তার কম স্থানে ছিল, সেখানে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিল। এই আসনগুলির মধ্যে, এটি সরাসরি ২৭টি আসনে জেডি(ইউ)কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যেখানে এটি দ্বিতীয় স্থানে ছিল।এলজেপি (আরভি) এখনও তার প্রাপ্যের চেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। আমরা প্রথমে দলের জন্য ২০টির বেশি আসনের পক্ষে ছিলাম না। পরে তা ২৩ এবং পরে ২৬-এ সংশোধন করা হয় কারণ চিরাগ ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করছিলেন। জোটকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ রাখার স্বার্থে, আমরা ২৯-এ সম্মত হয়েছি, বিহারের একজন প্রবীণ বিজেপি নেতা বলেন।আরেকজন বিজেপি নেতা বলেন, চিরাগ পাসোয়ান ছিলেন কঠোর দর কষাকষিকারী। যেহেতু তিনি কেন্দ্রে একজন গুরুত্বপূর্ণ মিত্র, তাই আমাদের তার দাবি মেনে নিতে হয়েছিল। এলজেপি ৪০টি আসন দিয়ে শুরু করে, পরে ৩৫টিতে নামিয়ে আনা হয় এবং অবশেষে ২৯টি আসন নিয়ে মীমাংসা করে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর মাঝি ছয়টি আসন নিয়ে রাজি হন। ভবিষ্যতে তিনি একটি এমএলসি পদ দাবি করবেন বলে জানা গেছে।

অক্টোবর ১৩, ২০২৫
দেশ

হঠাৎ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কারণ ঘিরে চর্চা তুঙ্গে!

রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি। শনিবার রাইসিনা হিলসে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে। বৈঠকের একটি ছবি রাষ্ট্রপতি নিজেই এক্স-এ পোস্ট করলেও, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে কোনও সরকারি ব্যাখ্যা আসেনি। ফলে জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জাপান ও চিন সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। কূটনৈতিক দিক থেকে দুই সফরই গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বিশেষ নজর কাড়ছে চিন সফর। সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর সম্মেলন ঘিরে গড়ে ওঠা অনানুষ্ঠানিক মিত্রতার সমীকরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্মেলনে শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মোদীর বৈঠককে কেন্দ্র করে বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে, যা আমেরিকাকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের অবস্থান পুনর্নির্মাণে এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।তবে শুধু বৈদেশিক সম্পর্কই নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই বৈঠকের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। কেননা, ৯ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বর্তমান উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের উত্তরসূরি কে হবেন, তা ঠিক করতে এখন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের সময়। এমন পরিস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আলাপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই বৈঠক আদৌ কি আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়ে আলোচনা, নাকি আসন্ন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত? উত্তর স্পষ্ট না হলেও, নয়াদিল্লির ক্ষমতার কেন্দ্রে নতুন সমীকরণের গুঞ্জন ইতিমধ্যেই জোরালো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৫
রাজনীতি

'দ্য বেঙ্গল ফাইলস' দেখাতে বাম্পার কৌশল বঙ্গ BJP-র! রাজ্যে আরও এক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

শুরু থেকেই নানা বিতর্কে জর্জরিত বিবেক অগ্নিহোত্রীর ছবি দ্য বেঙ্গল ফাইলস। এবার সেই সিনেমাকেই কেন্দ্র করে নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে বঙ্গ বিজেপি। জানা গিয়েছে, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমান্তরালে নিজেদের উদ্যোগে আলাদা এক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করছে তারা।সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই উৎসবে দেশি-বিদেশি, আঞ্চলিক এবং বাংলা ছবির প্রদর্শনী হবে। এর জন্য শহরের কয়েকটি কেন্দ্রীয় সরকারি অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। উৎসবে থাকবেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অভিনেতা-পরিচালকরা। পুরো দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বিজেপি নেতা-অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষ। সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও।এদিকে, ৫ সেপ্টেম্বর গোটা দেশে মুক্তি পেলেও দ্য বেঙ্গল ফাইলস এখনও পর্যন্ত বাংলার প্রেক্ষাগৃহে দেখা যায়নি। ফলে এই সমান্তরাল উৎসবেই ছবিটি দেখানো হবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। রুদ্রনীল ঘোষ অবশ্য জানাচ্ছেন, আমাদের ভুল কিংবা অন্যায় মেনে নেওয়ার জায়গা তৈরি হয় না। অথচ সেই যুক্তিতে অর্ধেক বাংলাবাসীকেই বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই একটা বিকল্প মঞ্চ দরকার। এই উৎসব সেই নিরপেক্ষ জায়গা তৈরির চেষ্টা।রুদ্রনীলের দাবি, উৎসবে এমন সব ছবি দেখানো হবে যেগুলি মানবিকতা আর গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলবে। সেখানেই থাকছে দ্য বেঙ্গল ফাইলস। তাঁর বক্তব্য, দেশজুড়ে ছবি মুক্তি পেলেও বাংলায় ব্যবসায়ীদের নানা চাপের মুখে পিছিয়ে যেতে হয়। হল মালিকরা অশান্তির ভয়ে ঝুঁকি নেন না। সবাই আসলে ২০২৬-এর রাজনৈতিক ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে। তাই দর্শকদের সামনে সেই জানলা খুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৫
কলকাতা

রণক্ষেত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি ভাঙচুর, জখম ছাত্র-অধ্যাপক

হুলস্থুল কাণ্ড যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে, শিক্ষা মন্ত্রীর গাড়ির চাকার হওয়া খুলে দিল ছাত্রছাত্রীরা একেবারে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আটকে পড়লেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বাম ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তুমুল ধস্তাধস্তি চলে। ক্যাম্পাসের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলতা। অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে দেওয়া হয়েছে। মূলত, ছাত্র সংসদের নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা। ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ভাষণ চলাকালীন সেখানে ঢুকে পড়ে বাম সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন সদস্য। তারপর চেয়ার ভাঙচুর, ধাক্কাধাক্কির জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন অধ্যাপকদের অনেকেই বলে অভিযোগ। ব্রাত্যের গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে দেওয়া হয়। চোর-চোর এবং গো ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয়। মন্ত্রীর গাড়ির বেনেটেও উঠে পড়ে ছাত্ররা। ওয়েবকুপার বার্ষিক সভা শুরুর আগে ছাত্র ভোট চেয়ে সভাগৃহের বাইরে এসএফআইয়ের সদস্যরা হোর্ডিং, পোস্টার টাঙিয়ে দিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার দাবি জানাতে থাকেন। এরপরই ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির জন্য টিএমসিপি (TMCP) প্রতিবাদ করতেই দুই ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে বচসা বেঁধে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তিন নাম্বার গেট দিয়ে ওয়েব কুপার মিটিংয়ে নিয়ে যাওয়া হয় শিক্ষামন্ত্রীকে। ছাত্র বিক্ষোভে আটকে থাকা অবস্থায় ব্রাত্য বসু বলেন, এটাই হচ্ছে এই সব (বাম-অতিবাম) ছাত্র সংগঠনের গণতন্ত্র। এরাই রাস্তায় নেমে অসভ্যতা করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধৈর্যে বিশ্বাস করেন। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। আমরা সহিষ্ণুতার পাঠ জানি। আমি ওদের বললাম আপনারা দুজন আসুন। ওরা বলল চল্লইস জন যাব। আর এতজন মিলে কথা হয়। এরপরই ওরা বাধা দেয়। আমাদের প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে যাতে পুলিশ ডাকি। কিন্তু সেটা করব না।দুপক্ষের হাতাহাতির ঘটনায় বেশ কয়েকজন পড়ুয়া ও অধ্যাপক আহত হয়েছেন বলেই খবর। এদিকে বৈঠক ছেড়ে বেরোনোর সময় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়িতে ভাংচুর চালানো হয়। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গাড়ির কাঁচ। যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড-এ অবস্থান SFI-এর। এদিকে গোটা ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী। তড়িঘড়ি তাকে নিয়ে যাওয়া হয় SSKM হাসপাতালে। সেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেঁড়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ আজকের হামলাকে প্রাণঘাতী হামলা বলে উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত বলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এক পোস্টে লিখেছেন, তৃণমূলের সৌজন্য মানে দুর্বলতা নয়। গায়ে হাত দেবে কেন? শাসক বলে সংযত নিশ্চয় থাকা উচিত। কিন্তু বাঁদরামি সীমা পার করলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া উচিত।

মার্চ ০১, ২০২৫
রাজ্য

পদ্মশ্রী তালিকায় বাংলার ৯ জন, রয়েছেন অরিজিৎ সিং, মমতা শঙ্কর, তেজেন্দ্র নারায়ণ

পদ্মশ্রী প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৯ জন পদ্মশ্রী পুরস্কার পেতে চলেছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় সরকার পদ্ম পুরস্কার ২০২৫ প্রাপকদের নাম ঘোষণা করেছে। তালিকা অনুসারে ৭ জনকে পদ্মবিভূষণ, ১১৩ জনকে পদ্মশ্রী এবং ১৯ জনকে পদ্মভূষণ প্রদান করা হয়েছে। মোট ১৩৯ জন ব্যক্তিত্বকে পদ্ম পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়েছে। এটি দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানগুলির মধ্যে একটি, যা তিনটি বিভাগে দেওয়া হয় -পদ্ম বিভূষণ, পদ্মভূষণ এবং পদ্মশ্রী।শিল্প ক্ষেত্রে এরাজ্য থেকে পদ্মশ্রী পাচ্ছেন, অরিজিৎ সিং, গোকুল চন্দ্র দাস, তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার ও মমতা শঙ্কর। সাহিত্য ও শিক্ষায় নগেন্দ্র নাথ রায়, শিল্প ও বানিজ্যে পবন গোয়েঙ্কা ও সজ্জন ভজনকা। আধ্যাত্মবাদে স্বামী প্রদীপানন্দ (কার্তিক মহারাজ), সমাজকর্মে বিনায়ক লোহানী।আগামী মার্চ বা এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দিকপালদের হাতে পদ্ম পুরষ্কার তুলে দেবেন।

জানুয়ারি ২৫, ২০২৫
রাজ্য

কাঁথির ভূপতিনগরে খুন বিজেপি কর্মীর বাবা, উত্তপ্ত এলাকা

কিছুতেই কমছে না ভোট পরবর্তী অশান্তি। কাঁথি সাংগঠনিক জেলার ভূপতি নগর থানার অন্তর্গত অর্জুননগরে বিজেপি কার্যকর্তার বাবাকে পিটিয়ে মেরে ফেলল তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। যদিও বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।অর্জুননগর অঞ্চলের ধাঁইপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা BJP র সক্রিয় কর্যকর্তা শশাঙ্ক মাইতি লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকে ঘরছাড়া। তৃণমলের পক্ষ থেকে শশাঙ্ক মাইতির নামে মিথ্যে মামলা করা হয়।তারপর থেকেই তিনি ঘরছাড়া। মঙ্গলবার রাত এগারোটায় কুড়ি থেকে ত্রিশজন সশস্ত্র তৃণমূল আশ্রিত হার্মাদ বাহিনী শশাঙ্ক মাইতির বাড়িতে চড়াও হয়, এবং তার মা, স্ত্রী ও বৌদির উপর আক্রমণ ও টানাহেঁচড়া করে। এমতাবস্থায় শশাঙ্ক মাইতির বাবা গৌরহরি মাইতি বেরিয়ে আসেন এবং এই দুষ্কৃতিদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সেই দুষ্কৃতীরা তাকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং তিনি গড়িয়ে পড়েন। গড়িয়ে পড়ার পর সেখানেই যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। পাড়ার লোক বেরিয়ে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। পাড়ার লোকজন গৌরহরিবাবুকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী মুগবেড়িয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে গৌরহরিবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

জুন ১৯, ২০২৪
রাজ্য

ভূপতিনগরের বিস্ফোরণ কাণ্ডে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ আদালত, রক্ষাকবচ এনআইএ আধিকারিককে

পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরের ২০২২ সালের বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে তল্লাশিতে গিয়ে এনআইএ আধিকারিকদের উপর নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা ধৃতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে বুধবার প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। যেখানে এনআইএ অফিসাররাই আক্রান্ত, সেখানে কীভাবে তাঁদের বিরুদ্ধেই গুরুতর ধারায় অভিযোগ- সেই প্রশ্ন করা হয়েছে? শেষ পর্যন্ত এনআইএ আধিকারিকদের রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর নির্দেশ- ওই আধিকারিকদের এখনই গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু ৭২ ঘন্টা আগে নোটিসের ভিত্তিতে ভিডিও কনফারেন্সে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে পুলিশ।এ দিন আদালতে এনআইএ-র তরফের আইনজীবী দাবি করেন, সন্দেশখালিতে যা হয়েছিল ভূপতিনগরেও তাই হয়েছে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশেই সেখানে কাজ করতে যায় এনআইএ। বিস্ফোরণ কাণ্ডে অন্তত পাঁচ জন জড়িত ছিলেন বলে দাবি করে এনআইএ, এর মধ্যে চার জনকে তলব করা হয়েছিল দুবার। তারপরও অভিযুক্তরা হাজিরা দেননি। তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উঠে থাকায় তল্লাশিতে গিয়েছিল এনআইএ।এনআইএ-র আইনজীবীর দাবি, গত ৬ এপ্রিল ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। তারপর তৃণমূল নেতা মনোব্রত জানাকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু সেই সময় অন্তত ১০০ মহিলা উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি। তারাই হামলা চালায় কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের উপর।পাল্টা পুলিশের কাছে ধৃত মনোব্রত জানা এনআইএ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। যা নিয়ে এ দিন আদালতে এনআইএ-র আইনজীবী দাবি করেছেন- মনোব্রত জানার স্ত্রীর অভিযোগ মিথ্যা। এরপরই সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ যাতে এনআইএ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না করতে পারে সেই আর্জি জানানো হয়।কেন এনআইএ অফিসারদের বিরুদ্ধে ৩২৫ ধারা যুক্ত করা হল? সেই প্রশ্ন তুলে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত পুলিশকে বলেন, কেস ডায়েরিতে আঁচড় বা গুরুতর আঘাতের কোনও উল্লেখ নেই। তাহলে কীভাবে কোনও প্রমাণ ছাড়া অফিসারের বিরুদ্ধে গুরুতর আহত করার ধারা যুক্ত করলেন? কে তদন্ত করছিলেন? প্রাথমিক তদন্তের প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন? কেন অভিযুক্তের স্ত্রীর অভিযোগ নিয়ে পুলিশ এত উদ্বিগ্ন?জবাবে রাজ্যের যুক্তি- কোনও মহিলা যদি এসে ধর্তব্যযুক্ত অভিযোগ করেন থানায়, তাহলে সেটা পুলিশ গ্রহণ করতে বাধ্য।

এপ্রিল ১০, ২০২৪
রাজ্য

এনআইএ-র গাড়িতে হামলা, সরবেড়িয়ার পর ভূপতিনগরে, বাংলাদেশী যোগের আশঙ্কা দিলীপের

ভূপতিনগর বিস্ফোরণ কান্ড ভূপতি নগর থেকে আটক দুই। তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি বালাই মাইতি ও স্থানীয় তৃণমূল নেতা মনোব্রত জানাকে গ্রেফতার করে NIA কলকাতার অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে।ভুপতি নগর বিস্ফোরনের ঘটনায় চারজনকে সমান করা হয় এনআইএর পক্ষ থেকে। তারা এনআইএ অফিসে হাজিরা না দেওয়ায় শনিবার ভোর বেলায় পূর্ব মেদিনীপুরের ভুপতি নগরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালায় NIA। সেখান থেকে বালাই মাইতি ও মনোব্রত জানা নামে দুই স্থানীয় তৃণমূল নেতাকে আটক করে এনআইএ। তাদেরকে নিয়ে আসার সময় অভিযোগ যে সেখানকার স্থানীয় মানুষ ঘিরে ফেলে এনআইয়ের গাড়ি লক্ষ্য করে চলে ইট বৃষ্টি করে।এই ঘটনায় এনআইএর গাড়ির কাঁচ ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি দুজন এনআইএ অফিসার আহত হয়। এই ঘটনায় ভূপতি নগর থানায় এন আই এর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের। দিল্লির NIA উচ্চকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেছে কলকাতার এনআইএ কর্তারা।বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি পার্থী দিলীপ ঘোষ ভূপতিনগর বিস্ফোরণকাণ্ডে এনআইএ তদন্তে গিয়ে হামলার মুখে পড়ার ঘটনায় স্বমন্ধে জানান, এই ঘটনা আমাদের আবার কান খাড়া করে দিয়েছে। এর আগে আমরা সন্দেশখালিতে দেখেছি সাধারণ মানুষকে এগিয়ে দিয়ে দুষ্কৃতীদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এখানেও আমরা একই জিনিস দেখলাম। বারবার মহিলাদের এগিয়ে দিয়ে দোষীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের হাতে লালিত পালিত সন্ত্রাসবাদীদের বাঁচানোর চেষ্টা। আমার মনে হয়, বাংলাদেশী যোগ থাকতে পারে গোটা ঘটনায়।

এপ্রিল ০৬, ২০২৪
রাজ্য

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের অন্যতম পান্ডা গ্রেপ্তার।

বিধান নগর সাইবার থানার পুলিশ থাকে নদীয়া থেকে গ্রেপ্তার করলো উচ্চ মাধ্যমিকের প্রশ্ন ফাঁস চক্রের অন্যতম পান্ডাকে। ১৮ ফেব্রুয়ারি বিধান নগর সাইবার থানায় উচ্চ মাধ্যমিক কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী একটি চক্র সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদেরকে বিভ্রান্ত করছে। অভিযোগে কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ওই চক্রটি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদেরকে ওই সোশ্যাল মিডিয়ায় জানায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তারা দিতে পারবেন অর্থের বিনিময়ে।এই অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে বিধাননগর সাইবার পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তারা দুটি ব্যাংক একাউন্টকে আইডেন্টিফাই করে। যার মধ্যে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকে। সেই অ্যাকাউন্টটি ছিল নদীয়ার বাসিন্দা প্রীতি শর্মার নামে। এরপরই বিধাননগর সাইবার থানার পুলিশ যোগাযোগ করে প্রীতি শর্মার সাথে। তিনি পুলিশকে জানায়, তার এটিএম কার্ডটি তার বন্ধু রুপম সাধুখা তার কাছ থেকে জোর করে নিয়ে গেছে। তিনি পুলিশকে আরও জানায় যে তিনিও ব্যাংকের থেকে পাঠানো এসএমএস মারফত জানতে পারেন, তার ব্যাংক একাউন্টে বেশ কিছু আর্থিক লেনদেন হয়েছে যেগুলো সে করেনি।এরপরই বিধান নগর সাইবার থানার পুলিশ নদীয়া থেকে গ্রেপ্তার করে রুপম সাধুখাকে। পুলিশ সূত্রে খবর, আদালতে পেশ করে ধৃত রূপমকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চাইবে বিধান নগর সাইবার থানার পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যদেরও খোঁজ পেতে চায় পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজনীতি

হুমায়ুন গ্রেফতার, অধীরের অবস্থান! রেজিনগর উপনির্বাচনে দিনভর তপ্ত রাজনীতি, "জিতবে বিজেপিই" - শুভেন্দু

রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচন ঘিরে দিনভর উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ। শাসক দলের বিরুদ্ধে বুথ দখল, ভোট লুট এবং বিরোধী দলের এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস। অভিযোগের প্রতিবাদে বহরমপুরে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে অবস্থান বিক্ষোভও হয়। গ্রেফতার করা হয় আজপ নেতা তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোট বাতিলের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। তবে ভোটের দিন সকালেই সবচেয়ে বেশি চর্চায় আসে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের গ্রেপ্তারি। তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ রেজিনগর উপনির্বাচনে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী। সকালে শক্তিপুরে নিজের বাড়ির কাছের বুথে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভোট দেন হুমায়ুন। বুথ থেকে বেরিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলে কুকুর বলে কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি বলেন, কুকুরকে কীভাবে মুগুর মেরে শায়েস্তা করতে হয়, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন। প্রয়োজনে পাল্টা অ্যাটাকের কথাও বলেন তিনি।এরপর রেজিনগর পার্টি অফিসে যাওয়ার পথে সেখানে পৌঁছে যায় রেজিনগর থানার আইসি। হুমায়ুনকে পার্টি অফিস ছেড়ে চলে যেতে বলা হলে পুলিশের সঙ্গে তাঁর তীব্র বচসা শুরু হয়। পরে আইসির নেতৃত্বে পুলিশ তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগেই হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোটের দিন এভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘোরাফেরা করা যায় না, একথা একজন বিধায়কের জানা দরকার বলে জানান খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে আমাদের ব্যবধান অনেকটা বাড়বে। গতবারের থেকে ৫থেকে ৬ গুন তো বাডডবেই। মার্জিন কম হলেও রেজিনগরে আমরা জিতবো। মুসলিম যুবক ও মহিলাদের বড় অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, রেজিনগরে নিশ্চুপ সন্ত্রাস ও ভোট লুট চলছে। তাঁর দাবি, পুলিশ বিজেপির ক্যাডারের ভূমিকা পালন করছে এবং কংগ্রেস এজেন্টদের বুথে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। হুমায়ুনের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে অধীর বলেন, তাঁকে দিয়ে নাটক করানো হচ্ছে এবং তিনি বিজেপির গেস্ট আর্টিস্ট।মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল ইসলাম চৌধুরীর অভিযোগ, পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে বিরোধী এজেন্টদের বের করে দিয়ে বুথ দখল করেছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লার দাবি, ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। যদিও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত রেজিনগরে ৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

বন্যপ্রাণী সপ্তাহে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে ফিটনেস ও পরিবেশ সচেতনতার পাঠ

ফিট ইন্ডিয়া থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিপদশরীরচর্চা, কুইজ ও বন্যপ্রাণী পরিচিতির মাধ্যমে দিনভর শিক্ষামূলক কর্মসূচিবর্ধমান: শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, আর পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতনতাদুই বার্তাকেই সামনে রেখে বর্ধমানের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত হল একাধিক শিক্ষামূলক কর্মসূচি। ফিট ইন্ডিয়া ভাবনায় শরীরচর্চা ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ধমান সায়েন্স সেন্টারে গিয়ে পরিবেশ, মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানল বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।বিদ্যালয়ের শিক্ষক সঞ্জীব নন্দীর উদ্যোগে প্রথমে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয় বিদ্যালয়ের মাঠে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন শারীরিক অনুশীলনে অংশগ্রহণ করানো হয় তাদের। কাঠের ডাম্বেল দিয়ে নানা ধরনের ব্যায়াম ও ক্রীড়ামূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছোটদের বোঝানো হয়, কীভাবে নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলে নিজেকে ফিট রাখা যায়।এরপর আয়োজন করা হয় বিভিন্ন দূরত্বের দৌড়। শেষপর্বে দল তৈরি করে ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেয় কাবাডি খেলায়। শরীরচর্চার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে দলগত মানসিকতা, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার বার্তাও দেওয়া হয়।বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনিমেষ বর্মন বলেন, ফিটনেস কোনও সাময়িক বিষয় নয়, এটি ধারাবাহিক কর্তব্য। ছোট বয়স থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস তৈরি করতে বিদ্যালয় বিশেষভাবে যত্নশীল।মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে সচেতনতার পাঠঅন্যদিকে, চলতি বন্যপ্রাণী সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ধমান সায়েন্স সেন্টারে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে সেখানে গিয়ে প্রথমেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনারে অংশ নেয় পড়ুয়ারা।বিজ্ঞানীরা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন, পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিস্তার কীভাবে জীবজগতের উপর প্রভাব ফেলছে। পরিবেশ দূষণ কমাতে সচেতন নাগরিক হিসেবে ছোটদের কী ভূমিকা থাকা উচিত, সেই বিষয়েও দেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।এরপর বিভিন্ন বিষয়ের উপর আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। সঠিক উত্তর দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী পুরস্কারও অর্জন করে। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অয়নাংশু পুরস্কার পেয়ে নিজের আনন্দের কথা জানায়।প্রকৃতিকে কাছ থেকে চেনার সুযোগসেমিনার ও কুইজের পর রমনার বাগানে নিয়ে যাওয়া হয় পড়ুয়াদের। সেখানে সায়েন্স সেন্টারের আধিকারিকরা বিভিন্ন পশুপাখির সঙ্গে তাদের পরিচয় করান। প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য, পরিবেশে তাদের ভূমিকা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পড়ুয়াদের বোঝানো হয়।শিক্ষক সামিম মণ্ডলের কথায়, ছোটদের কাছে আজকের শিক্ষামূলক ভ্রমণ ছিল অত্যন্ত আনন্দের। একইসঙ্গে তারা প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত সায়েন্স সেন্টারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয় এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও অর্জন করে। বন্যপ্রাণী সপ্তাহে সরকারের এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে পড়ুয়াদের সচেতন করে তোলার এই প্রচেষ্টা জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ফিটনেস, পরিবেশ সচেতনতা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণতিনটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাকে একসঙ্গে সামনে রেখে দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ পড়ুয়াদের কাছে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, হয়ে উঠল বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার এক অভিনব পাঠ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি লিপিবদ্ধ করেন দীপ্ত সুন্দরবাবু।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআরে নাম বাদ? এবার ফের ভোটার তালিকায় ওঠার সুযোগ! কী করতে হবে, জানাল কমিশন

এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য নাগরিকদের নাম ফের তোলার প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পর সিইও দফতর এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মঙ্গলবার অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগীর তরফে এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত অথবা এএসডিডি তালিকায় থাকা কারণে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের মধ্যে যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যাঁরা প্রথম বার ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চান, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন।অর্থাৎ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়লেও কেউ যদি এখনও ভোটার হওয়ার যোগ্য হন, তা হলে নতুন করে নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য অনলাইনে অথবা সংশ্লিষ্ট বিএলও-র কাছে ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যাবে। সিইও দফতরের ওয়েবসাইটে বাদ পড়া ভোটারদের তালিকাও রাখা হয়েছে। সেই তালিকায় নিজের নাম রয়েছে কি না দেখে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় আবেদন করা যাবে।পাশাপাশি যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাঁরাও নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। অনলাইন এবং অফলাইনদুই পথেই আবেদন করার সুযোগ থাকছে। অর্থাৎ এসআইআরে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পাশাপাশি প্রথম বার ভোটার হতে চলা তরুণ-তরুণীদের জন্যও এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্বে রাজ্যে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সিইও দফতরের প্রকাশিত তথ্যেও এএসডিডি তালিকা এবং বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা আলাদা করে প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তালিকা দেখে যোগ্য ভোটারদের দাবি জানানোর সুযোগ রয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, এসআইআর শেষ হয়ে যাওয়া রাজ্যগুলিতে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গও সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এসআইআর চলাকালীন যাঁদের নাম তালিকায় ওঠেনি, অথচ তাঁরা যোগ্য ভোটার, তাঁদের জন্য ফের আবেদন করার সুযোগ রাখা হচ্ছে।এদিকে বাংলায় বেশ কিছু ভোটারের নাম নিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যাঁদের নাম নিয়ে আপত্তি বা মামলা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও আদালত ও ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালগুলির কাজ চলছে।তবে নতুন প্রক্রিয়ায় আবেদন করার শেষ তারিখের কথা মঙ্গলবারের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে যাঁদের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে, তাঁদের দ্রুত নিজেদের নাম সংশ্লিষ্ট তালিকায় রয়েছে কি না দেখে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর এই নতুন প্রক্রিয়ায় এখন নজর থাকছে পরবর্তী নির্দেশের দিকে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশকে সরানোর দাবি, এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ রাহুল-মমতারা! চিঠিতে কী লিখল ইন্ডি জোট?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দ্বারস্থ হতে চাইছে ইন্ডি জোট। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন জোটের নেতারা। বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে যে কোনও সময়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে সেই চিঠির কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব বিরোধী দলগুলি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইন্ডি জোটের একাধিক নেতা। তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবিও জানানো হয়েছে। এর আগে ইন্ডি জোটের নেতারা জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে যৌথ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছিলেন।রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠিতে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, ওমর আবদুল্লা, শরদ পওয়ার, এম এ বেবি, তেজস্বী যাদব-সহ ইন্ডি জোটের একাধিক দলের শীর্ষ নেতার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছার কথা জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে তাঁদের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরতেই এই সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই চিঠি পাঠানোর ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ইন্ডি জোটের বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের মিছিল মাঝপথে আটকে দেয় পুলিশ। পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক নেতা আকাশবাণী ভবন চত্বরে ধর্নায় বসেন।মিছিল আটকে দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডের উপরে উঠে প্রতিবাদ জানান। পরে তিনি এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আকাশবাণী ভবনের ভিতরে ঢুকে গাছের তলায় বসে অবস্থান শুরু করেন। পুলিশ তাঁদের সরে যেতে বললেও তাঁরা ধর্না চালিয়ে যান। সন্ধ্যার পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ আরও কয়েক জন বিরোধী নেতা সেখানে যোগ দেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও পরে বিক্ষোভস্থলে ফিরে আসেন।প্রায় নঘণ্টা ধরে অবস্থানের পর শেষ পর্যন্ত পুলিশ আকাশবাণী ভবন চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটক করে। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্য বিরোধী নেতাদের বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে মিছিলের সময়ও একাধিক বিরোধী সাংসদকে আটক করা হয়েছিল।তবে এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফে পাল্টা বক্তব্য সামনে এসেছে। কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করার জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে আনুষ্ঠানিক আবেদন কমিশনে পৌঁছয়নি। ফলে বিরোধীরা কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন কি না, সেই প্রশ্নে দুই পক্ষের বক্তব্যে ফারাক রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য ইন্ডি জোটের আবেদন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে চিঠির জবাব কবে আসে এবং রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধী নেতাদের সাক্ষাতের সময় দেওয়া হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
দেশ

২৫ বছর একটানা সরকারের শীর্ষে মোদী! তাঁকে নিয়ে মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে উঠে এল যে ১০ বড় দিক

সরকারের প্রধান হিসেবে একটানা ২৫ বছর পূর্ণ করলেন নরেন্দ্র মোদী। এই উপলক্ষে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব পাশ করল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবারের সেই প্রস্তাবে শুধু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখই নয়, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। মন্ত্রিসভার দাবি, দেশ সবার আগে, নাগরিক সবার আগে নীতিকে সামনে রেখেই এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা এগিয়েছে।২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথম বার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মোদী। তার পর গুজরাটে টানা তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জয় এবং পরবর্তী সময়ে পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গও মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে উঠে এসেছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর নেতৃত্বে গুজরাটে নেওয়া কিছু উদ্যোগ পরে জাতীয় স্তরেও প্রয়োগ করা হয়েছে।এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে গুজরাটের স্বাগত কর্মসূচি। নাগরিকদের অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সেই অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চালু হয় প্রগতি। বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয় করে আটকে থাকা প্রকল্পের সমস্যা মেটানো এবং কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। গুজরাটের কৃষিক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পৃথক ব্যবস্থা তৈরির জ্যোতিগ্রাম প্রকল্পের অভিজ্ঞতাকেও জাতীয় স্তরে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৬০ কোটি জনধন হিসাব খোলা হয়েছে, চার কোটির বেশি বাড়ি তৈরি হয়েছে এবং প্রায় ২৫ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তবে এই পরিসংখ্যানগুলি মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।মহিলা, কৃষক, যুবসমাজ এবং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও রয়েছে প্রস্তাবে। কেন্দ্রের হিসাবে, প্রায় সাড়ে তিন কোটি মহিলা লাখপতি দিদি কর্মসূচির আওতায় আর্থিক ভাবে স্বনির্ভর হয়েছেন। আইনসভায় মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের সাংবিধানিক ব্যবস্থা এবং কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির মতো প্রকল্পের কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিশেষ ভাবে দুর্বল জনজাতি গোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী জনমন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।সংস্কারের প্রসঙ্গও বিশেষ ভাবে এসেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে। পণ্য ও পরিষেবা কর চালু, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং পুরনো ঔপনিবেশিক আইন বদলের মতো পদক্ষেপকে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, ডিজিটাল লেনদেন এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের উপর জোর দেওয়ার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।পরিকাঠামো ও উৎপাদন ক্ষেত্রের অগ্রগতির দাবিও রয়েছে মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে। কেন্দ্র জানিয়েছে, সরকারি মূলধনী ব্যয় ২০০১ সালের প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এখন ১২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ, রেলপথের বৈদ্যুতিকীকরণ এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের পরিমাণও প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৩ লক্ষ কোটি টাকার বেশি হয়েছে বলে প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে।প্রযুক্তির ব্যবহারকেও মোদীর ২৫ বছরের নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছে মন্ত্রিসভা। জনধন হিসাব, আধার এবং মোবাইল সংযোগের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা, ডিজিটাল লেনদেনে নতুন পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার প্রসঙ্গ রয়েছে প্রস্তাবে। পাশাপাশি দেশের নিজস্ব কোভিড টিকা তৈরি এবং চন্দ্রযান-৩-এর সফল অবতরণকে ভারতের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রেও কাজ এগোনোর কথা বলা হয়েছে।সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে মোদীর ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রাকে গুজরাটের প্রশাসন থেকে জাতীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক পর্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গরিব মানুষের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্প, মহিলা ও কৃষকের ক্ষমতায়ন, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান এবং প্রশাসনিক সংস্কারএই বিভিন্ন ক্ষেত্রকেই সেই দীর্ঘ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্র।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
দেশ

ব্যারিকেড টপকে আকাশবাণী ভবন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধর্না, শেষে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের আটক!

ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিনভর উত্তপ্ত থাকল রাজধানী দিল্লি। সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে বিরোধী সাংসদদের আটকে দেয় পুলিশ। এরপর একের পর এক নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত আকাশবাণী ভবনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধর্নায় বসে থাকার পর রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও অন্যান্য বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ।মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দিকে মিছিল শুরু করেছিলেন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। তাঁদের অন্যতম দাবি ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। মিছিল আটকে দেওয়া হলে রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডের উপরে উঠে প্রতিবাদ জানান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ওব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করা হয়।এর পরেও থামেননি রাহুল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কয়েক জন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আকাশবাণী ভবনের ভিতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে একটি গাছের তলায় বসেই ধর্না শুরু করেন তাঁরা। পুলিশ তাঁদের সরে যেতে বললেও রাহুল-প্রিয়াঙ্কারা তা মানেননি। নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান চালিয়ে যাবেন বলে জানান।সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধর্নার পরিসরও বাড়ে। রাতের দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন এবং মহুয়া মৈত্র-সহ আরও কয়েক জন নেতা সেখানে পৌঁছে ধর্নায় যোগ দেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও লখনউ যাওয়ার পথে ফিরে এসে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।প্রায় আট থেকে নয় ঘণ্টা ধরে অবস্থান চলার পর রাতে পুলিশ আকাশবাণী ভবন চত্বরে ঢোকে। একে একে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্য বিক্ষোভকারীদের আটক করে বাসে তোলা হয়। ডেরেক ওব্রায়েনকেও ফের আটক করা হয়। এর আগে দিনের প্রথম পর্বে নির্বাচন কমিশনের দিকে মিছিলের সময়ও তাঁকে আটক করা হয়েছিল।তবে এই বিক্ষোভের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফে আলাদা দাবি সামনে এসেছে। কমিশনের আধিকারিকদের বক্তব্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করার জন্য কোনও রাজনৈতিক দল আগাম কোনও আনুষ্ঠানিক আবেদন করেনি। ফলে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক না হওয়ার প্রশ্নে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট ফারাক তৈরি হয়েছে।দিনভর ব্যারিকেড, আটক, আকাশবাণী ভবনে ধর্না এবং পরে পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ এবং কমিশনের পাল্টা বক্তব্যদুই মিলিয়ে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ল।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট, কিন্তু উঠল ‘ভোটলুট’-এর অভিযোগ! নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে কী ঘটল?

নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছিল ভোটারদের ভিড়। ভোটের হারও নজর কেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ৭৮.৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে। দুই কেন্দ্রেই বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিতে বেরিয়েছেন। তবে ভোটের হার বেশি হলেও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে দিনভর উত্তপ্ত থেকেছে দুই কেন্দ্র। বিরোধী দলগুলির একাংশ ভোটে অনিয়ম ও রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। বিজেপি অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।রেজিনগরে ভোট শুরু হওয়ার পরই উত্তেজনা তৈরি হয়। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর পুলিশের বিরুদ্ধে ভোটে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসার পর তাঁকে আটক করা হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়। নির্বাচন কমিশনের তরফেও এই ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।হুমায়ুনের গ্রেফতারির পর রেজিনগরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ে। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, বেশ কিছু বুথে তাঁদের এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি। ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রেজিনগরে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। কংগ্রেসের তরফে এই দাবিতে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে।নন্দীগ্রামেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানের অভিযোগ, কয়েকটি বুথে দলের এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি। বিরোধীদের তরফে কোথাও কোথাও ভোটে অনিয়ম এবং এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বাম ও আইএসএফের তরফেও অভিযোগের কথা সামনে এসেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগকে বিজেপি নস্যাৎ করেছে।অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে ভোট দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এবারের ফলাফলে বড় ব্যবধান দেখা যেতে পারে। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ তাঁর আগের জয়ের ব্যবধান ছাপিয়ে যেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এই দাবি ফল প্রকাশের পরেই যাচাই হবে। নন্দীগ্রামে ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়ায় উপনির্বাচনের নিরিখে ভোটদানের হার নিয়ে বিশেষ চর্চা শুরু হয়েছে।রেজিনগরেও ভোটের হার ৭৮ শতাংশের বেশি। বিপুল ভোট পড়ার পাশাপাশি বিরোধীদের পুনর্নির্বাচনের দাবি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিজেপি পাল্টা দাবি করেছে, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে এবং বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন।এই দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন ছিল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলায় প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। নন্দীগ্রাম আসনটি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছেড়ে দেওয়ার পর এবং রেজিনগর আসনটি হুমায়ুন কবীর ছেড়ে দেওয়ার কারণে উপনির্বাচন হয়। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন নজর শুক্রবারের ফলাফলের দিকে। তার আগে দুই কেন্দ্রে বিপুল ভোটের হার এবং বিরোধীদের পুনর্নির্বাচনের দাবিদুই-ই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
কলকাতা

‘এত তাড়াহুড়ো করে নিরাপত্তা কেন তুলে নেওয়া হল?’ অভিষেকের মামলা শুনে প্রশ্ন বিচারপতির

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হল। অভিষেকের আইনজীবীর দাবি, বর্তমানে হোমগার্ড ছাড়া তাঁর সঙ্গে কোনও অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী নেই। এই মামলায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দিয়েছেন, নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তের কারণ-সহ বিস্তারিত তথ্য রাজ্যকে জানাতে হবে। আগামী ১৩ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।আদালতে অভিষেকের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী শঙ্করনারায়ণ জানান, ২০১৩ সালে অভিষেককে ওয়াই শ্রেণির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। পরের বছর তা বাড়িয়ে ওয়াই প্লাস করা হয়। ২০১৫ সালে জেড এবং ২০১৬ সালে জেড প্লাস শ্রেণির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়। আইনজীবীর দাবি, ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর ১০ মে আচমকাই অভিষেকের জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়। এই সিদ্ধান্তের আগে তাঁকে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি বলেও আদালতে দাবি করা হয়েছে।আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, জেড প্লাস নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার পরে নিরাপত্তার মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়। তাঁর দাবি, মাত্র দুজন নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হয়েছিল। এর কিছু দিনের মধ্যেই সোনারপুরে অভিষেকের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে আদালতে জানানো হয়। তার পরেও আরও কয়েকটি হামলার অভিযোগ ওঠে। বিমানবন্দর, ডায়মন্ড হারবার এবং ক্যামাক স্ট্রিটে তাঁর কার্যালয়কে ঘিরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আইনজীবী আদালতে দাবি করেন। অতীতে অভিষেকের চোখে গুরুতর আঘাতের ঘটনাও ঘটেছিল বলে সওয়ালে উল্লেখ করা হয়।শুনানির সময় নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। আদালত জানতে চায়, নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে এত দ্রুত নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একাধিক হামলার অভিযোগ ওঠার পর ভবিষ্যতে কোনও ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি। পাথর ছোড়ার মতো ঘটনায় কারও গুরুতর আঘাত লাগতে পারে বলেও আদালত সতর্ক করে।এর আগে অভিষেকের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছিল, বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির সামনে থাকা পুলিশ কিয়স্কও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পুনর্বহালের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।মঙ্গলবারের শুনানিতে রাজ্যের তরফে মামলার বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হয়। আদালত সেই রিপোর্ট তলব করেছে। আগামী ১৩ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত, তার ভিত্তি এবং পরবর্তী সময়ে অভিষেকের নিরাপত্তা নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে রাজ্যের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal