• ৩ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

FIFA

খেলার দুনিয়া

ফিফায় বড় বিদ্রোহ! ইনফান্তিনোর প্রস্তাব মানতে নারাজ আরও এক মহাদেশ, বিশ্বকাপ ঘিরে তীব্র জল্পনা

বিশ্বকাপ এবং ফিফার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উয়েফার আপত্তির পর এবার উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। এর ফলে ফিফার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফুটবল মহলের একাংশের আশঙ্কা, এই বিরোধ আরও বাড়লে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও এখনও কোনও দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা করেনি।জানা গিয়েছে, ইনফান্তিনো ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নতুন সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফিফার দাবি, এই উদ্যোগ সফল হলে সদস্য দেশগুলি উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পাবে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এর ফলে বিশ্বকাপের সম্প্রচার, স্পনসরশিপ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে বেসরকারি সংস্থার প্রভাব বাড়তে পারে।এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে উয়েফা জানিয়েছে, ফুটবল কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এবং এই খেলার নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি স্বার্থের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। একই সুরে কনকাকাফও জানিয়েছে, প্রস্তাবটি নিয়ে আরও স্বচ্ছ আলোচনা এবং নিয়ম মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।এশিয়ার ফুটবল মহল থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এশিয়ান ফুটবল সংস্থার সভাপতি শেখ সলমন বিন ইব্রাহিম আল খলিফা জানিয়েছেন, সব মহাদেশের সম্মতি ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা কঠিন হবে।ফলে ফিফার এই প্রস্তাব ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে সদস্য দেশগুলির অবস্থান কী হয় এবং ভোটাভুটিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে গোটা ফুটবল বিশ্বের।

জুলাই ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ জিতেই গোলপোস্টের নেট কেটে নেন কেন ফুটবলাররা? জানুন রীতির নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ট্রফি জয়ের উচ্ছ্বাসে যখন গোটা দল মেতে উঠেছে, তখন একটি পরিচিত দৃশ্য আবারও ধরা পড়ল। স্পেনের একাধিক ফুটবলার কাঁচি হাতে গোলপোস্টের নেট কেটে নিজেদের কাছে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রেখে দিলেন। একই দৃশ্য প্রায় প্রতি বিশ্বকাপ, ইউরো কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের পর দেখা যায়।অন্যদিকে ক্রিকেটেও বড় টুর্নামেন্ট জেতার পর বিজয়ী দলের ক্রিকেটারদের পিচের দুই প্রান্তের স্টাম্প বা উইকেট খুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রশ্ন উঠতেই পারেএই রীতি কোথা থেকে এল? কেনই বা চ্যাম্পিয়নরা মাঠের এই অংশগুলো নিজেদের কাছে স্মৃতি হিসেবে তুলে রাখেন?স্মৃতিকে ধরে রাখার এক অনন্য ঐতিহ্যক্রীড়াজগতের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হলো বিশ্বকাপ বা আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়। একজন খেলোয়াড়ের জীবনে এমন মুহূর্ত হয়তো একবারই আসে। তাই সেই ঐতিহাসিক দিনের একটি বাস্তব স্মৃতি সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চান অনেকেই।ফুটবলে গোলপোস্টের নেট এবং ক্রিকেটে স্টাম্পএই দুটি জিনিসই সেই ম্যাচের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যে নেটে জয়ের গোল জড়িয়েছে কিংবা যে উইকেটের সামনে দাঁড়িয়ে ইতিহাস লেখা হয়েছে, সেটিই হয়ে ওঠে সাফল্যের প্রতীক।ফুটবলে নেট কাটার রীতি কবে থেকে?ফুটবলে গোলপোস্টের নেট কেটে নেওয়ার রীতির নির্দিষ্ট কোনও আনুষ্ঠানিক সূচনা নেই। তবে ক্রীড়া ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশক থেকে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন কলেজ ও পেশাদার খেলাধুলায় এই সংস্কৃতির প্রচলন শুরু হয়।বিশেষ করে বাস্কেটবলে এনসিএএ (NCAA) চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর খেলোয়াড় ও কোচেরা সিঁড়ি বেয়ে উঠে বাস্কেটের জাল কেটে নেওয়ার যে ঐতিহ্য গড়ে ওঠে, তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাতেও একই ধরনের আবেগঘন স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহের সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে।বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় টুর্নামেন্টে অনেক সময় খেলোয়াড়রা গোলপোস্টের নেটের ছোট একটি অংশ কেটে পরিবারের সদস্যদের উপহার দেন কিংবা নিজেদের ট্রফি কেবিনেটে সংরক্ষণ করেন।ফিফা কি এতে আপত্তি করে?না। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরে খেলোয়াড়রা নেটের ছোট অংশ কেটে নিতে পারেন। তবে সেটি অবশ্যই আয়োজকদের অনুমতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থেকে করা হয়। অনেক সময় মাঠকর্মীরাই খেলোয়াড়দের নেট কেটে দিতে সাহায্য করেন।ক্রিকেটে স্টাম্প নিয়ে যাওয়ার শুরু কীভাবে?ক্রিকেটে ম্যাচ শেষে স্টাম্প তুলে নেওয়ার ইতিহাস আরও পুরনো। ঊনবিংশ শতাব্দী থেকেই বিশেষ ম্যাচ বা ঐতিহাসিক জয়ের স্মারক হিসেবে স্টাম্প সংরক্ষণের রেওয়াজ ছিল।ধীরে ধীরে এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে বিশ্বকাপ, অ্যাশেজ, আইপিএল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি কিংবা অন্য বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল জয়ের পর বিজয়ী দলের ক্রিকেটারদের স্টাম্প খুলে নিতে দেখা যায়।অনেক খেলোয়াড় সেই স্টাম্পে পুরো দলের স্বাক্ষর করিয়ে ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখেন। কেউ আবার তা নিজের ক্রিকেট অ্যাকাডেমি, জাদুঘর বা পরিবারের কাছে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণ করেন।শুধু আবেগ নয়, ইতিহাসেরও অংশগোলপোস্টের নেট কিংবা স্টাম্পএগুলি আসলে কোনও সাধারণ সরঞ্জাম নয়। এগুলি সেই মুহূর্তের সাক্ষী, যখন একটি দল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তাই ট্রফির পাশাপাশি এই ছোট্ট স্মৃতিচিহ্নও খেলোয়াড়দের কাছে অমূল্য সম্পদ হয়ে ওঠে।হয়তো বহু বছর পরে কোনও জাদুঘরে কিংবা নিজের ঘরের ট্রফি কেবিনেটে রাখা সেই নেটের টুকরো বা স্টাম্প দেখে আবার ফিরে আসবে সেই বিশ্বজয়ের রাত, দর্শকদের গর্জন আর সাফল্যের অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তিনিউ জার্সির ফাইনালে স্পেনের ফুটবলারদের গোলপোস্টের নেট কেটে নিতে দেখা যাওয়ায় আবারও প্রমাণ মিললসময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু চ্যাম্পিয়নদের আবেগ বদলায়নি। ট্রফি জয়ের আনন্দের সঙ্গে মাঠের একটি ছোট্ট অংশকে স্মৃতি হিসেবে বয়ে নিয়ে যাওয়ার এই ঐতিহ্য আজও বিশ্ব ক্রীড়ার অন্যতম সুন্দর ও আবেগঘন অধ্যায়

জুলাই ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

যুবভারতী থেকেই শুরু হয়েছিল ফেরানের উড়ান! বিশ্বজয়ের পর সামনে এল পুরনো গল্প

দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতল। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়। গোটা ফুটবল বিশ্ব এখন এই স্প্যানিশ তরুণকে নিয়ে আলোচনা করছে। অনেকেই মনে করছেন, খুব দ্রুতই তিনি স্পেনের জাতীয় নায়ক হয়ে উঠবেন এবং তাঁর নাম উচ্চারিত হবে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সঙ্গে।তবে অনেক ফুটবলপ্রেমী জানেন না, ফেরান তোরেসের আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় মঞ্চে পরিচিতি শুরু হয়েছিল ভারতের মাটিতে, আর সেই শুরু হয়েছিল খাসকলকাতায়। ২৬ বছর বয়সী ফেরান বর্তমানে এফসি বার্সেলোনার হয়ে খেলেন। তাঁর ফুটবলে হাতেখড়ি ভ্যালেন্সিয়া সিএফ-এর অ্যাকাডেমিতে। সেখান থেকেই বয়সভিত্তিক স্পেন দলে সুযোগ পান। ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে খেলতে ভারতে আসেন তিনি।সেই বিশ্বকাপে স্পেনের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় তারা। কিন্তু এরপর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে স্প্যানিশ দল। গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচ জিতে তারা নকআউটে ওঠে। সেখানেও পরপর জয় পেয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় ফেরানদের দল।ততদিনে ফেরান দুটি গোল করেছিলেন এবং দুটি গোল করতেও সাহায্য করেছিলেন। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে তিনি কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফাইনাল খেলতে নামেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্পেন ২-০ গোলে এগিয়েও গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৫-২ গোলে হেরে রানার্স হয় স্পেন।জীবনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে অবশ্য আর ভুল করেননি ফেরান। অতীতে গোল নষ্ট করার অভিযোগে তাঁকে বহুবার সমালোচিত হতে হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি নিজেকে প্রমাণ করলেন। নিকো উইলিয়ামসের বাড়ানো বল জালে জড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতালেন।বিশ্বকাপ ফাইনালের একমাত্র গোলদাতা হিসেবে এখন ইতিহাসে লেখা থাকবে ফেরান তোরেসের নাম। আর ফুটবলপ্রেমীদের মনে পড়বে, এই নায়কের স্বপ্নের উড়ান শুরু হয়েছিল কলকাতার যুবভারতীর মাঠ থেকেই।

জুলাই ২০, ২০২৬
দেশ

‘ধন্যবাদ, ভারত!’ বিশ্বকাপ হারলেও ভারতীয় সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে স্পেনের কাছে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পরও ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউচিনো। সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ এক আবেগঘন বার্তায় তিনি ভারতীয় সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, আর্জেন্টিনা দলের প্রতি এই বিশ্বকাপ জুড়ে ভারতীয় মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আবারও ধন্যবাদ, ভারত!বিশ্বকাপে শিরোপাধারী হিসেবে অভিযান শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে স্পেনের কাছে পরাজিত হয় লিওনেল মেসির দল।ম্যাচের একমাত্র এবং জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস, অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে। এই জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জেতে স্পেন।পুরো ম্যাচে বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে বহুবার রক্ষা করেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, যিনি একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন।Deeply grateful to the Indian People for the endless displays of support for the Argentine team during this latest World Cup. Thank you, India, once again! pic.twitter.com/kd9hmTBnON Mariano Caucino (@CaucinoMariano) July 20, 2026তবে ম্যাচের শেষদিকে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ, ফলে অতিরিক্ত সময়ে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় মেসিদের।অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে নিকো উইলিয়ামস গোল করলেও ফাউলের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই উইলিয়ামসের পাস থেকে ফেরান তোরেস জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে বিশ্বকাপ এনে দেন।এই জয়ের ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের অপরাজিত থাকার রেকর্ড বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ ম্যাচে, যা ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে নতুন নজির। একইসঙ্গে ৬৪ বছর পর বিশ্বকাপ শিরোপা সফলভাবে ধরে রাখার আর্জেন্টিনার স্বপ্নও ভেঙে যায়।তবুও গোটা টুর্নামেন্টে ভারতীয় সমর্থকদের বিপুল ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে ঘিরে ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ বরাবরের মতোই নজর কেড়েছে। সেই ভালোবাসার স্বীকৃতি দিতেই বিশ্বকাপ শেষ হতেই ভারতীয় সমর্থকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতার বার্তা দেন রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউচিনো।বিশ্বকাপ জয় হাতছাড়া হলেও, ভারত ও আর্জেন্টিনার ফুটবল-সম্পর্ক যে আরও গভীর হয়েছে, রাষ্ট্রদূতের এই বার্তাই যেন তারই প্রমাণ।

জুলাই ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন মেসি, আর্জেন্টিনার আবেগঘন পোস্টে কি লুকিয়ে অবসরের ইঙ্গিত?

ফাইনালে আর্জেন্টিনার হার শুধু সমর্থকদেরই হতাশ করেনি, কাঁদিয়েছে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও। একপেশে ম্যাচে পরাজয়ের পর মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেখা যায় সম্পূর্ণ নীরব অবস্থায়। তাঁর চোখে জল ছিল স্পষ্ট, কিন্তু মুখে কোনও কথা ছিল না। সাংবাদিক সম্মেলনেও তিনি হাজির হননি। এরপর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটাই কি মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ?এই জল্পনায় নতুন করে আগুন জ্বালিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন -এর একটি আবেগঘন পোস্ট। সেখানে দেখা যায়, গলায় রানার্স-আপের পদক ঝুলিয়ে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন মেসি। তাঁর চোখে জল স্পষ্ট ধরা পড়েছে। সেই ছবির সঙ্গে সংস্থাটি লিখেছে, অধিনায়ক, তোমার কান্না আমাদেরও কাঁদায়। তুমি আমাদের জীবনের সেরা আনন্দ দিয়েছ। দেশের জন্য তোমার নিষ্ঠা, জাদু এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইকে সেলাম। তোমাকে সারা জীবন ভালোবাসব, লিও। সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ।এই বার্তাকে ঘিরেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, সংস্থার এই পোস্টে যেন মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ইতি টানার ইঙ্গিত রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত মেসি নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেননি।এদিকে আরেকটি সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, আর্জেন্টিনার মাটিতে একটি বিশেষ প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হতে পারে। সেই ম্যাচেই দেশের সমর্থকদের সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে পারেন মেসি। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।ফাইনালের পর মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ। তিনি বলেন, এখন ওর বয়স উনচল্লিশ। অবিশ্বাস্য। ওর থেকে নতুন কিছু বার করার নেই। আগেও বলেছি, আজও বলছি, মেসি যত দিন চাইবে তত দিন খেলতে পারে। সমর্থক, সতীর্থ, সবাই ওর পাশে থাকবে। ও যা অর্জন করেছে, তাতে নিঃসন্দেহে সে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন।এখন ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে, মেসি অবসর নিয়ে মুখ খোলেন কি না। আর যদি সত্যিই দেশের মাটিতে বিদায়ী প্রীতি ম্যাচ হয়, তবে সেটিই হতে পারে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

জুলাই ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

স্পেনের সোনালি রাত, মেসিদের নিস্তেজ বিদায়! একচ্ছত্র আধিপত্যে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতল লা রোজা

১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বফুটবলের শিখরে উঠে এল স্পেন। নিউ জার্সির দর্শকাসনে অধিকাংশ সমর্থক আর্জেন্টিনার হলেও মাঠের লড়াইয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছে লা রোজা। অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় মুহূর্তে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের করে নেয় স্পেন।এই পরাজয়ের মধ্য দিয়েই সম্ভবত বিশ্বকাপ মঞ্চে শেষ অধ্যায় লিখলেন লিওনেল মেসি। তবে বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে কার্যত খুঁজেই পাওয়া যায়নি। স্পেনের দুর্দান্ত প্রেসিং, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের নিখুঁত পরিকল্পনার সামনে অসহায় দেখিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।শুরু থেকেই স্পেনের দখলে ম্যাচফাইনালের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে আক্রমণের পর আক্রমণ শানাতে থাকে স্পেন। রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠ থেকে একের পর এক আক্রমণ গড়ে ওঠে। দুই প্রান্তে লামিন ইয়ামাল, মার্ক কুকুরেয়া ও আলেক্স বায়েনার গতি আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বারবার বিপাকে ফেলে।অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা যেন শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েই মাঠে নেমেছিল। বলের দখল হারিয়ে প্রায় পুরো ম্যাচ জুড়েই নিজেদের অর্ধে ডিফেন্ড করতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় স্কালোনির দলকে। মেসির কাছে বল পৌঁছে দেওয়ার মতো কার্যকর কোনও পরিকল্পনাই চোখে পড়েনি।মেসিকে ঘিরে স্পেনের নিখুঁত পরিকল্পনাবিশ্বকাপের বড় ম্যাচে বহুবার একাই দলের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু এই ফাইনালে তাঁকে কার্যত ম্যাচের বাইরে রেখেছিল স্পেন।প্রথম ২০ মিনিটে মেসি মাত্র দুবার বল স্পর্শ করেন। গোটা প্রথমার্ধেও তাঁর কাছে বল খুব কমবার পৌঁছায়। এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দি পল কিংবা লিয়ান্দ্রো পারেদেস কেউই মাঝমাঠে স্পেনের চাপে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেননি। ফলে আক্রমণ গড়ার আগেই থেমে যাচ্ছিল আর্জেন্টিনার প্রতিটি প্রচেষ্টা।পরিসংখ্যানই বলছে কার দাপট ছিলম্যাচের পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে, স্পেন কতটা প্রভাব বিস্তার করেছিল।বলের দখল: স্পেন ৬৮%, আর্জেন্টিনা ৩২%মোট শট: স্পেন ২০, আর্জেন্টিনা ৩গোলমুখে কার্যকর আক্রমণেও ছিল স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্যকর্নার, সফল পাস ও আক্রমণ প্রায় সব বিভাগেই এগিয়ে ছিল ইউরোপের দলটি।সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিট পর্যন্ত স্পেনের গোল লক্ষ্য করে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা।লাল কার্ডে আরও কঠিন হয়ে ওঠে পরিস্থিতিঅতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার আশা আরও ফিকে হয়ে যায় এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডে। প্রথম হলুদ কার্ড দেখার পরও নিজেকে সংযত রাখতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয়বার ফাউল করায় রেফারি তাঁকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।দশ জনে নেমে যাওয়ার পর স্পেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।১১৬ মিনিটে এল বিশ্বজয়ের মুহূর্তম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে ফাইনালের সিদ্ধান্ত।ডান দিক থেকে পেদ্রো পোরোর দীর্ঘ ক্রস গোললাইনের কাছে নিয়ন্ত্রণে নেন নিকো উইলিয়ামস। তাঁর নিখুঁত হেডে বল পৌঁছে যায় ফেরান তোরেসের সামনে। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা মুহূর্তের জন্য অবস্থান হারিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তোরেস।স্টেডিয়াম স্তব্ধ। আর স্পেনের বেঞ্চে শুরু হয় উচ্ছ্বাস।স্কালোনির কৌশল ব্যর্থফাইনালে তিনটি পরিবর্তন করেছিলেন লিওনেল স্কালোনি। গঞ্জালো মন্তিয়েল, রদ্রিগো দি পল ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে শুরু থেকেই নামানো হয়েছিল মাঝমাঠ ও প্রান্তের লড়াই শক্তিশালী করতে।কিন্তু পরিকল্পনার কোনওটাই সফল হয়নি। মন্তিয়েলকে প্রান্তে ওঠার সুযোগ দেয়নি স্পেন। দি পল মাঝমাঠে বল ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। পারেদেসও ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারেননি। ফলে গোটা দলই ছন্দ হারিয়ে ফেলে।বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মর্যাদা প্রমাণ করল স্পেনপুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই আক্রমণাত্মক, দ্রুতগতির ও পজেশন-ভিত্তিক ফুটবল খেলেছে স্পেন। ফাইনালেও সেই একই দর্শন বজায় রেখে তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের কোনও সুযোগই দেয়নি।অন্যদিকে, নকআউটে একাধিকবার পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানো আর্জেন্টিনা ফাইনালে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পায়নি। রক্ষণে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা শেষ পর্যন্ত তাদেরই সর্বনাশ ডেকে আনে।১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপ জিতে স্পেন প্রমাণ করে দিল, আধুনিক ফুটবলে কেবল তারকা নয়, দলগত ছন্দ, পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিকতাই সাফল্যের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। আর আর্জেন্টিনার কাছে এই হার শুধু একটি ট্রফি হারানোর কষ্ট নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসির স্বপ্নযাত্রারও এক বেদনাময় সমাপ্তি হয়ে রইল।

জুলাই ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপের সবচেয়ে পাগলাটে ম্যাচ! ১০ গোলের রোমাঞ্চে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয়

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীরা পেলেন এক অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চ। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের লড়াইয়ে হল মোট ১০টি গোল। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলে জিতে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই ফ্রান্সের কোচ হিসেবে শেষ হল দিদিয়ের দেশঁর অধ্যায়।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। তৃতীয় মিনিটেই ডেকলান রাইস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ১৮ মিনিটে এজরি কোনসা ব্যবধান বাড়ান। এরপর বুকায়ো সাকা প্রথমার্ধে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। বিরতির সময় মনে হচ্ছিল, ইংরেজরা সহজেই ম্যাচ জিতে নেবে।কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের ছবি। ৪৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপে গোল করে ফ্রান্সকে ম্যাচে ফেরান। ৬৬ মিনিটে তিনি আরও একটি গোল করেন। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসিকে স্পর্শ করেন। ফ্রান্স একসময় ব্যবধান কমিয়ে ৪-৩ করে দেয় এবং ম্যাচে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়।শেষ দিকে আবার আক্রমণে ঝাঁপায় ইংল্যান্ড। ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সাকা নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। অতিরিক্ত সময়ে উসমান দেম্বেলে ফ্রান্সের হয়ে গোল করলেও জুড বেলিংহ্যামের গোল ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে। বেলিংহ্যাম এই বিশ্বকাপে ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে সর্বাধিক গোলের নতুন নজিরও গড়লেন।১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করল ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, এমবাপের রেকর্ড গড়া রাতেও হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হল ফ্রান্সকে। দেশঁর কোচিং জীবনের শেষ ম্যাচ তাই স্মরণীয় হয়ে রইল এক নাটকীয় পরাজয়ের জন্য।

জুলাই ১৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মেসিকে নিয়ে বড় রহস্য! কোচের দুই শব্দে তোলপাড় ফুটবল দুনিয়া

বিশ্বকাপের আগে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে (Fifa World Cup)। কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেসি শুধু খেলেনই না, নিজের নেতৃত্বে আর্জেন্টিনাকে আরও একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে আনেন। এবার নতুন প্রশ্ন, স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনাল কি দেশের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ?ফাইনালের আগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির কাছে এই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। তবে তিনি সরাসরি কোনও উত্তর দেননি। শুধু বলেন, লিওকে জিজ্ঞাসা করুন। এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে ফুটবল মহলে (Fifa World Cup)।এরপর অবশ্য মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেন স্কালোনি। তাঁর কথায়, মেসি এখন শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি ফুটবল ইতিহাসের অংশ। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব। স্কালোনি বলেন, যতদিন মেসি মাঠে আছেন, ততদিন তাঁর খেলা উপভোগ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এই দলের সঙ্গে মেসি যা অর্জন করেছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে (Fifa World Cup)।ফাইনালের আগে প্রতিযোগিতার সূচি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। তাঁর অভিযোগ, নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর পর পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না দিয়েই দুপুরের গরমে অনুশীলনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দলের প্রস্তুতিতে সমস্যা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। স্কালোনির মতে, টুর্নামেন্টের শেষ দিকে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলেও বাস্তবে উল্টো পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে।এদিকে, ব্রাজিলের কাফুর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামছেন মেসি। ফাইনালের আগে চাপ অনুভব করছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আগের বিশ্বকাপ ফাইনাল এখন অতীত। সেই স্মৃতি নিয়ে আর ভাবছেন না তিনি। বরং দলকে নিয়ে নতুন লড়াইয়ের দিকেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন। মেসির বিশ্বাস, ফুটবল সবসময় উপভোগ করার খেলা। ছোটবেলার মতো আজও সেই আনন্দ নিয়েই তিনি মাঠে নামতে চান।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

প্রতি জেলায় জায়ান্ট স্ক্রিনে বিশ্বকাপ ফাইনাল! ফুটবলপ্রেমী বাংলার জন্য নতুন রাজ্য সরকারের বড় উদ্যোগ, ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে ধন্যবাদ ক্রীড়াপ্রেমীদের

ফুটবলপ্রেমী বাঙালির আবেগকে সম্মান জানিয়ে এক অভিনব ও জনমুখী উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। আগামী ২০ জুলাই ২০২৬, রাত ১২টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হতে চলা ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জায়ান্ট স্ক্রিনে সরাসরি সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।রাজ্যের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পাণ্ডে, আইএএস-এর স্বাক্ষরিত ১৭ জুলাই ২০২৬-এর একটি সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, সমস্ত জেলার জেলা শাসকদের (District Magistrate) এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আগাম প্রচার ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।সরকারি নির্দেশে আরও জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রতি জেলার জন্য ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হবে।ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় উপহাররাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। বহু মানুষের মতে, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, বাংলার সংস্কৃতি ও আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সাধারণ মানুষ যাতে একসঙ্গে বিশ্বকাপ ফাইনালের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারেন, সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।সামাজিক মাধ্যমে ক্রীড়াপ্রেমীর বক্তব্য,বাঙালির ফুটবল আবেগ এবার পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে যাবে। প্রতি জেলায় জায়ান্ট স্ক্রিনে বিশ্বকাপের লাইভ স্ক্রিনিংয়ের এই উদ্যোগ সত্যিই অভিনব। ক্রীড়াপ্রেমী আপামর রাজ্যবাসীর পক্ষ থেকে রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ডা. ইন্দ্রনীল খাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ।আরও একাংশের মত,সকল ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে সুখবর। জেলার জেলায় বিশ্বকাপ ফাইনাল একসঙ্গে দেখার সুযোগ করে দেওয়ায় রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী তথা যুব মোর্চার সভাপতি ডা. ইন্দ্রনীল খাঁকে অসংখ্য ধন্যবাদ।ক্রীড়ামন্ত্রীর বার্তানিজের সামাজিক মাধ্যমেও ক্রীড়ামন্ত্রী ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেনপশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় জায়ান্ট স্ক্রিনে ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ জনসাধারণের হিতে সম্প্রচারিত হবে।ফুটবল উৎসবের আবহে বাংলাবিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে শহরের পাশাপাশি জেলা ও গ্রামীণ এলাকার মানুষও একসঙ্গে বিশ্বকাপের মহারণ উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। অনেকের মতে, এই উদ্যোগ শুধু খেলা দেখার আয়োজন নয়, বরং ফুটবলকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতি, উৎসবের আবহ এবং জনসম্পৃক্ততার এক নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ফুটবলপ্রেমী মানুষের কাছে এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখন নজর ২০ জুলাই গভীর রাতের দিকে, যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনে বসে বিশ্বকাপ ফাইনালের রোমাঞ্চ উপভোগ করবেন।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘লিও, দয়া করে থেকো…’ মেসির উদ্দেশে ১৫ বছরের এনজোর আবেগঘন চিঠি ফের ভাইরাল, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

স্পোর্টস ডেস্ক | জনতার কথা২০১৬ সালে লিওনেল মেসিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল না ছাড়ার অনুরোধ জানিয়ে আবেগঘন চিঠি লিখেছিলেন কিশোর এনজো ফার্নান্দেজ। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই চিঠি ফের ভাইরাল।২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। সেই সময় গোটা আর্জেন্টিনার মতোই ভেঙে পড়েছিলেন এক কিশোর ফুটবলারএনজো ফার্নান্দেজ। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজের ফুটবল-আইডল মেসিকে উদ্দেশ্য করে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছিলেন। দশ বছর পর, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই চিঠিই আবার ভাইরাল হয়েছে।চিঠিতে এনজো লিখেছিলেন, লিও, দয়া করে থেকে যাও। আমাদের ক্ষমা করে দাও। খেলাটা শুধু আনন্দের জন্য খেলো। তুমি আমাদের অসীম আনন্দ দিয়েছ। তোমার মতো কাউকে আর কখনও পাব না। সেই সময় তিনি অনুরোধ করেছিলেন, সমালোচকদের জন্য নয়, বরং কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের জন্য যেন মেসি জাতীয় দলে থেকে যান।আরও পড়ুনঃ ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম! বিশ্বকাপজয়ী দলকে ট্রফির সঙ্গে দেওয়া হবে বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং, ফিফার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তভাগ্যের কী আশ্চর্য পরিহাস! যে কিশোর একদিন মেসিকে অবসর না নিতে অনুরোধ করেছিল, আজ সেই এনজোই আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম স্তম্ভ। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মেসির তৈরি করা সুযোগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে ফাইনালে তুলেছেন এনজো। এখন দুজনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে নামতে চলেছেন।মেসি শেষ পর্যন্ত অবসরের সিদ্ধান্ত বদলেছিলেন। এরপর আর্জেন্টিনা জেতে কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং আরও একাধিক আন্তর্জাতিক সাফল্য। সেই ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন এনজো ফার্নান্দেজও। ফলে ২০১৬ সালের সেই আবেগময় চিঠি এখন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে শুধুই একটি পোস্ট নয়, বরং স্বপ্ন, বিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের প্রতীক।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ফাইনালে যাচ্ছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, সামনে এল চমকপ্রদ কারণ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে রবিবার স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই মহারণে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতি প্রত্যাশিত। তবে সবার নজর কেড়েছে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-এর সিদ্ধান্ত।ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তিনি বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না।কুসংস্কারই সিদ্ধান্তের মূল কারণআর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মিলেই বিশ্বাস করেন যে তিনি যেভাবে পুরো বিশ্বকাপ চলাকালীন বুয়েনস আইরেসের সরকারি বাসভবন থেকেই প্রতিটি ম্যাচ দেখেছেন, সেই রীতি ভাঙলে দলের ভাগ্যে প্রভাব পড়তে পারে।তিনি নিজের এই ম্যাচ-ডে রুটিনকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন। এমনকি একটি নির্দিষ্ট জ্যাকেটও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পরেন, যা তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী আর্জেন্টিনার জন্য শুভ। তাই ফাইনালের মতো ঐতিহাসিক ম্যাচের আগে সেই অভ্যাস বদলাতে নারাজ তিনি।আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে কাবালাআর্জেন্টিনায় ফুটবলকে ঘিরে কাবালা (Cbala) বা সৌভাগ্যের কুসংস্কার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। সমর্থক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করেন।আরও পড়ুনঃ ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম! বিশ্বকাপজয়ী দলকে ট্রফির সঙ্গে দেওয়া হবে বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং, ফিফার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তবিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট মিলেইও সেই সংস্কৃতিরই অংশ। তাঁর বিশ্বাস, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলবেন, ততক্ষণ আর্জেন্টিনার সৌভাগ্য অটুট থাকবে।ঐতিহাসিক ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্বরবিবারের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একদিকে লামিনে ইয়ামালদের স্পেন, অন্যদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টিনা।বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন এই মহারণের দিকে। আর সেই সময় দেশের প্রেসিডেন্ট মাঠে না থাকলেও, নিজের লাকি রুটিন বজায় রেখে টেলিভিশনের সামনে থেকেই দলের জন্য শুভকামনা জানাবেন হাভিয়ের মিলেই।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম! বিশ্বকাপজয়ী দলকে ট্রফির সঙ্গে দেওয়া হবে বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’, ফিফার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত

স্পেন-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ঐতিহ্য ভেঙে নতুন পুরস্কার ঘোষণা ফিফার, আমেরিকান ক্রীড়া সংস্কৃতির ছোঁয়া বিশ্ব ফুটবলেফিফা বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার বদলাতে চলেছে চ্যাম্পিয়নদের পুরস্কার প্রদানের ঐতিহ্য। ১৯৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপজয়ী দল ট্রফি ও স্বর্ণপদক পেয়েই সম্মানিত হয়ে এসেছে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে এক নতুন সম্মানফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং।রবিবার নিউ জার্সির নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলা ফাইনালের বিজয়ী দল শুধু বিশ্বকাপ ট্রফিই নয়, ব্যক্তিগতভাবে বিশেষভাবে নকশা করা চ্যাম্পিয়নশিপ রিংও পাবে।ফিফা জানিয়েছে, মোট ৩০টি কাস্টমাইজড রিং তৈরি করা হবে বিজয়ী দলের ফুটবলার, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জন্য। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক ও প্রধান কোচকে প্রতীকী রিং তুলে দেওয়া হবে। পরে প্রতিটি রিং সংশ্লিষ্ট সদস্যের পরিচয় অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুত করে দেওয়া হবে। রিংয়ের এক পাশে থাকবে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীক, অন্য পাশে থাকবে বিজয়ী দেশের নাম, টুর্নামেন্টের বিবরণ ও বিশেষ নকশা।আমেরিকান ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রভাবচ্যাম্পিয়নশিপ রিংয়ের প্রচলন মূলত মার্কিন ক্রীড়াজগতে বহুদিনের। এনবিএ, এনএফএল, এমএলবি-সহ বিভিন্ন পেশাদার লিগে চ্যাম্পিয়ন দলকে এই রিং প্রদান করা হয়। এবার সেই সংস্কৃতিকেই বিশ্ব ফুটবলে নিয়ে এল ফিফা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় আয়োজিত ২০২৬ বিশ্বকাপে দর্শক আকর্ষণ ও বাণিজ্যিক আবেদন আরও বাড়াতেই এই উদ্যোগ।শুধু রিং নয়, আরও নতুনত্বএবারের বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। ফাইনালে থাকছে সুপার বোলের আদলে হাফটাইম শো, পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে হাইড্রেশন ব্রেক-এর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই সব পরিবর্তনের মাধ্যমে বিশ্বকাপকে আরও বিনোদনমূলক করে তুলতে চাইছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।নজর এখন মহারণেএকদিকে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন, অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মাঠে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের পাশাপাশি ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর সুযোগও রয়েছে দুই দলের সামনে। কারণ, যে দলই জিতুক, তারাই হবে বিশ্বকাপের প্রথম চ্যাম্পিয়নশিপ রিং প্রাপ্ত দল।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ইংল্যান্ডকে হারিয়েই মাঠে যুদ্ধের বার্তা! আর্জেন্টিনার কাণ্ডে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়, শাস্তির মুখে মেসির দল?

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচ শেষের পর ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে মাঠের এক বিতর্কিত ঘটনাকে ঘিরে। জয়ের আনন্দে আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে একটি ব্যানার হাতে মাঠে উদযাপন করেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী মাঠে রাজনৈতিক বার্তা বা ব্যানার প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তাই এই ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। কিছুক্ষণ দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও চলে। সেই সময়ই আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার একটি ব্যানার হাতে মাঠে নামেন। সেখানে লেখা ছিল, মালভিনাস আমাদেরই। আর্জেন্টিনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে মালভিনাস নামে ডাকা হয়। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতেও একই স্লোগান ও ব্যানার দেখা গিয়েছিল।ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা বহু বছর ধরে সেটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। এই বিরোধ থেকেই উনিশশো বিরাশিতে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। দীর্ঘ যুদ্ধের শেষে আর্জেন্টিনা পরাজিত হয় এবং দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ ব্রিটেনের হাতেই থেকে যায়। সেই যুদ্ধে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি ফুটবল ইতিহাসেও জড়িয়ে রয়েছে। যুদ্ধের কয়েক বছর পর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। সেই আবেগ এখনও আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে গভীরভাবে রয়ে গেছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।তবে এবার মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনা সমস্যায় পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী খেলার মাঠে কোনও রাজনৈতিক বা ভূখণ্ড সংক্রান্ত বার্তা প্রকাশ করা যায় না। তাই ফিফা এই ঘটনার তদন্ত করে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

জুলাই ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

শেষ মুহূর্তে মেসির জাদু! ইতিহাস গড়ে টানা দ্বিতীয় বার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

মেসির জাদু যেন এখনও শেষ হয়নি। একসময় যাঁকে নিয়ে সমালোচনা, ট্রোল আর কটাক্ষে ভরে উঠেছিল সমাজমাধ্যম, আজ তিনিই আবার আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দিলেন বিশ্বকাপের ফাইনালে। শেষ মুহূর্তে তাঁর অসাধারণ পাস থেকেই আসে জয়সূচক গোল। লাউতারো মার্টিনেজের নিখুঁত হেডে ২-১ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা।ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায়। অ্যান্টনি গর্ডন দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর একের পর এক আক্রমণ করেও গোল পাচ্ছিল না আর্জেন্টিনা। দুবার বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে।ম্যাচ যখন শেষের পথে, তখনই শুরু হয় মেসির জাদু। প্রথমে তাঁর তৈরি সুযোগ থেকে বক্সের বাইরে দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। অতিরিক্ত সময়ে আবার ডান দিক দিয়ে অসাধারণ ক্রস বাড়ান মেসি। সেই বল হেড করে জালে জড়িয়ে দেন লাউতারো মার্টিনেজ। শেষ মুহূর্তের এই গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।এই বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্সও নজরকাড়া। এখনও পর্যন্ত তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৮টি গোল এবং ৪টি গোল করানোর পাস। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করানোর তালিকাতেও আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন তিনি। ফলে সেরা ফুটবলারের দৌড়েও রয়েছেন অনেকটাই এগিয়ে।এবার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে স্পেন। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দুই দলের লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই বাড়ছে উত্তেজনা। মেসি কি আরও একবার বিশ্বকাপ জিতে নিজের ফুটবল জীবনের সেরা অধ্যায়ে নতুন ইতিহাস লিখবেন, এখন সেই উত্তর খুঁজছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।

জুলাই ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসিকে আটকে রেখেও রক্ষা পেল না ইংল্যান্ড! স্কালোনির মাস্টারস্ট্রোকে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা, টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশলেই ভাঙল স্বপ্ন

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। গোল না করেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি। স্কালোনির আক্রমণাত্মক পরিবর্তন ও টমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশলই গড়ে দিল ম্যাচের ভাগ্য।বিশ্বকাপের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, লিওনেল মেসিকে আটকে দিতে পারলেই আর্জেন্টিনাকে থামানো সম্ভবএই ধারণা অনেক দলেরই ছিল। কিন্তু বর্তমান আর্জেন্টিনা সেই ধারণাকে একেবারে ভুল প্রমাণ করে দিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মেসিকে কার্যত গোলশূন্য রেখেও ২-১ ব্যবধানে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল লিওনেল স্কালোনির দল।এই ম্যাচ শুধু একটি জয় নয়, বরং আর্জেন্টিনার দলগত শক্তি, কৌশলগত পরিপক্বতা এবং মানসিক দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।মেসিকে আটকে রাখার পরিকল্পনা সফল, তবুও হার ইংল্যান্ডেরম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল স্পষ্টমেসিকে যতটা সম্ভব খেলার বাইরে রাখা। মাঝমাঠে জায়গা না দিয়ে একাধিক ফুটবলারকে তাঁর উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে গোটা ম্যাচে খুব কমবারই ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সে ঢুকতে পেরেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।তবে মেসি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরি করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ডান প্রান্তে সরে গিয়ে আক্রমণের নতুন রাস্তা খুলে দেন। গোল করতে না পারলেও ম্যাচের দুই গোলের সূচনায় তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মেসি নয়, দলই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তিএই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আর্জেন্টিনার মানসিকতায়। আগে দলের প্রায় সব আক্রমণ মেসিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও এখন দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজদের মতো ফুটবলাররা।৮৪ মিনিটে এঞ্জো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরে। সেই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় আর্জেন্টিনার হাতে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই মেসির নিখুঁত ক্রসে অসাধারণ হেড করে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।খাতায়-কলমে দুটি অ্যাসিস্ট মেসির হলেও গোল দুটির কৃতিত্ব সমানভাবে প্রাপ্য গোলদাতাদের। এই সমষ্টিগত শক্তিই বর্তমান আর্জেন্টিনাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।স্কালোনির সাহসী সিদ্ধান্ত বদলে দিল ম্যাচপ্রথম এক ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যাচে আধিপত্য ছিল ইংল্যান্ডের। দ্রুতগতির আক্রমণ এবং সংগঠিত ফুটবলে বারবার সমস্যায় পড়ছিল আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ।কিন্তু গোল হজম করার পরেও স্কালোনি ভয় পাননি। বরং আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। রক্ষণভাগ থেকে একজন ফুটবলার তুলে অতিরিক্ত স্ট্রাইকার নামিয়ে দেন। ফলে ইংল্যান্ডের বক্সে ক্রমাগত চাপ তৈরি হতে থাকে।স্কালোনির এই সাহসী সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।টুখেলের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক মানসিকতাই কাল হলোইংল্যান্ডের হারের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে কোচ টমাস টুখেলের কৌশলগত ভুল।গোল করার পর আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি দলকে প্রায় পুরোপুরি নিজেদের অর্ধে নামিয়ে আনেন। অতিরিক্ত ডিফেন্ডার নামিয়ে ৫-৪-১ ফরমেশনে চলে যান। এমনকি হ্যারি কেনকেও রক্ষণ সামলাতে দেখা যায়।এই সিদ্ধান্তের ফলে ইংল্যান্ডের আক্রমণ পুরোপুরি থেমে যায়। বলের দখল, ম্যাচের গতি এবং আত্মবিশ্বাসসবকিছুই ধীরে ধীরে আর্জেন্টিনার দিকে চলে যেতে থাকে।আধুনিক ফুটবলে এক গোলের ব্যবধান কখনও নিরাপদ নয়। অথচ দ্বিতীয় গোলের খোঁজে না গিয়ে শুধুমাত্র লিড ধরে রাখার চেষ্টা করেই বড় মূল্য চুকাতে হলো টুখেলকে।ফাইনালের আগে বড় বার্তা দিল আর্জেন্টিনাম্যাচ শেষে সেন্টার সার্কেলে হাঁটু গেড়ে বসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন লিওনেল মেসি। সতীর্থরা তাঁকে ঘিরে উদযাপনে মেতে ওঠেন। সেই দৃশ্য যেন একটি বার্তাই দেয়এই দল শুধু একজন সুপারস্টারের নয়, বরং ১১ জনের সম্মিলিত লড়াইয়ের প্রতীক।মেসি গোল না করলেও আর্জেন্টিনা জিততে পারেএই বিশ্বাস এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। নকআউট পর্বে একের পর এক ম্যাচে বিভিন্ন ফুটবলার দায়িত্ব নিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। সেমিফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়, বরং প্রতিপক্ষের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তামেসিকে আটকালেই আর্জেন্টিনাকে থামানো যাবে, সেই ধারণার দিন শেষ।

জুলাই ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে বড় আতঙ্ক! দুর্গে পরিণত আটলান্টা, কেন এত কড়া নিরাপত্তা?

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ঘিরে এখন শুধু ফুটবল নয়, নিরাপত্তাও বড় আলোচনার বিষয়। দুই হাজার দুই সালের পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে ইতিহাস, আবেগ এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন করে সামনে এসেছে। সেই কারণেই আটলান্টার স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।মার্কিন প্রশাসনের মতে, চলতি বিশ্বকাপে এটাই সবচেয়ে স্পর্শকাতর ম্যাচগুলির একটি। সেই কারণে স্থানীয় পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি একাধিক বৈঠক করে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।স্টেডিয়ামে বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সমর্থকদের নিরাপদে প্রবেশ নিশ্চিত করতে দুই দলের দর্শকদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট কিছু ব্যানার বা রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী সামগ্রী স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহু পুরনো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের একাধিক ম্যাচ বিতর্ক, উত্তেজনা এবং নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী। সেই কারণেই এই লড়াইকে ঘিরে সমর্থকদের আবেগও সব সময় তুঙ্গে থাকে।শুধু অতীতের ইতিহাস নয়, সাম্প্রতিক ঘটনাও প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের জয়য়ের পর দুই দলের কিছু সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে আসে। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্ক হয়েছে প্রশাসন।সব মিলিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা চরমে। একদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে হ্যারি কেনের ইংল্যান্ড। তবে খেলার পাশাপাশি এবার নজর থাকবে মাঠের বাইরের পরিস্থিতির দিকেও। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি থেকেই স্পষ্ট, কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় আয়োজকরা।

জুলাই ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগেই মেসিদের ঘিরে বিস্ফোরক দাবি! বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের ডাক কেন?

বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দুই হাজার দুই সালের পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই ফুটবল শক্তির লড়াই ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে লিওনেল মেসির দল।সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সেই আবহেই সামাজিক মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে একটি অনলাইন আবেদন ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। ওই আবেদনের সমর্থকেরা অভিযোগ করেছেন, রেফারির সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ ওই অনলাইন আবেদনে সমর্থন জানিয়েছেন। আবেদনকারীদের বক্তব্য, বিশ্বকাপে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত। তবে এই দাবির বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।এই বিতর্কের মাঝেই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই দুই দলের লড়াই বহু স্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী। দিয়েগো মারাদোনার বিতর্কিত গোল থেকে শুরু করে একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ এখনও ফুটবলপ্রেমীদের মনে রয়েছে। তাই এবারও এই ম্যাচ ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেশি।ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনও ম্যাচের আগে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনা খুব অভিজ্ঞ দল। তারা জানে কীভাবে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হয়। তাই এই ম্যাচ সহজ হবে না বলেই মনে করছেন তিনি।অন্যদিকে গোলদাতাদের তালিকাতেও নজর রয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। লিওনেল মেসি আটটি গোল করে শীর্ষে রয়েছেন। কিলিয়ান এমবাপেও আট গোল করেছিলেন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনের ঝুলিতে রয়েছে ছয় গোল। ফলে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই ম্যাচে মেসি যেমন দলকে জেতানোর লক্ষ্য নিয়ে নামবেন, তেমনই গোলদাতাদের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগও থাকবে তাঁর সামনে।সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের এই মহারণ শুধু দুই দলের লড়াই নয়, মাঠের বাইরের বিতর্কও এই ম্যাচকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে।

জুলাই ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

আবারও স্পেনের কাছে অসহায় ফ্রান্স! বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে দিল ইয়ামালের দল

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে যে ফ্রান্সকে দেখে শিরোপার অন্যতম দাবিদার মনে হয়েছিল, নকআউটে সেই দলকে যেন চিনতেই পারল না ফুটবল বিশ্ব। স্পেনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ছন্দহীন ফুটবল খেলল দিদিয়ের দেশঁর দল । আক্রমণে এমবাপে, বার্কোলা ও ওলিসে থাকলেও তাঁদের খেলায় ছিল না ধার, ছিল না পরিকল্পনা। অন্যদিকে বল দখল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে আবারও ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল স্পেন।ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্সের আক্রমণ আটকে দেয় স্পেনের মাঝমাঠ। এমবাপেরা বারবার আক্রমণে উঠলেও শেষ মুহূর্তে থেমে যায় সব চেষ্টা। ম্যাচের কুড়ি মিনিটে বক্সের মধ্যে ইয়ামালকে ফাউল করেন দিগনে। পেনাল্টি থেকে নিশ্চিত গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল।এর কিছুক্ষণ পরই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন উইলিয়াম সালিবা। এতে ফ্রান্সের রক্ষণ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধে স্পেন একের পর এক আক্রমণ করলেও ঝুল কুন্ডে ও উপামেকানো কয়েকবার বিপদ সামাল দেন। কিন্তু ফ্রান্সের আক্রমণভাগ পুরো ম্যাচেই কার্যত নিষ্প্রভ ছিল। এমবাপে ঠিকমতো বলই পেলেন না, আর যে কটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেগুলিও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ফরাসি ফুটবলাররা।দ্বিতীয়ার্ধে আটান্ন মিনিটে পেদ্রো পোরোর গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ফ্রান্স আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। মাঝমাঠে বারবার বল হারায় তারা। যে কটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেগুলিও অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। তাঁর একের পর এক দুর্দান্ত সেভ স্পেনকে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে রাখে।এই জয়ের মাধ্যমে টানা তিনটি বড় প্রতিযোগিতায় ফ্রান্সকে হারাল স্পেন। দুই হাজার চব্বিশ সালের ইউরো কাপ, দুই হাজার পঁচিশ সালের নেশন্স লিগের পর এবার দুই হাজার ছাব্বিশ সালের বিশ্বকাপেও ফ্রান্সকে হারিয়ে দিল তারা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই, কেন বারবার স্পেনের কৌশলের সামনে অসহায় হয়ে পড়ছে ফ্রান্স? তিন বছরেও কেন সেই সমস্যার সমাধান করতে পারলেন না দেশঁ?দীর্ঘ ষোলো বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। এবার কি ইয়ামাল, রদ্রি এবং তাঁদের সতীর্থরা বিশ্বকাপ জিতে নতুন ইতিহাস গড়বেন? সেই উত্তর মিলবে ফাইনালের মঞ্চেই।

জুলাই ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ফুয়েন্তের কৌশলের কাছে অসহায় ফ্রান্স, এমবাপেকে নিষ্ক্রিয় করে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইয়ামালের স্পেন

স্পেনের আধিপত্য, লুই দে লা ফুয়েন্তের নিখুঁত কৌশল এবং দুর্দান্ত দলগত ফুটবলের সামনে দাঁড়াতেই পারল না ফ্রান্স। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ২-০ গোলে জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল লামিনে ইয়ামালদের স্পেন। ম্যাচজুড়ে কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলের মতো তারকাদের কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রেখে প্রমাণ করে দিল স্প্যানিশরা কেন এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল।ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই বোঝা যাচ্ছিল স্পেন আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছে। বলের দখল, দ্রুত পাসিং এবং মাঝমাঠে চাপ তৈরি করে ফরাসিদের নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখার চেষ্টা করেন লুই দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। অন্যদিকে দিদিয়ের দেশঁর দল কাউন্টার অ্যাটাকের অপেক্ষায় থাকলেও স্পেনের সুচিন্তিত অফসাইড ট্র্যাপ সেই পরিকল্পনাকে বারবার ব্যর্থ করে দেয়।পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তে এবং পেদ্রো পোরোর নেতৃত্বে স্পেনের রক্ষণভাগ এমনভাবে লাইন ধরে খেলছিল যে এমবাপে ও দেম্বেলে একাধিকবার অফসাইডে ধরা পড়েন। বিশেষ করে এমবাপেকে প্রায় সারাক্ষণ নজরবন্দি করে রাখেন কুবারসি। ফলে ফরাসি অধিনায়ক নিজের স্বাভাবিক গতিতে খেলাই গুছিয়ে উঠতে পারেননি।প্রথম দশ মিনিটেই স্পেন একটি বিপজ্জনক ফ্রিকিক পেলেও গোল আসেনি। তবে ২০ মিনিটে ঘটে ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত লামিনে ইয়ামালের গায়ে লাথি মেরে বসেন লুকাস ডিগনে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে অনায়াসে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজ়াবাল। দেশের জার্সিতে চলতি মৌসুমে এটি তাঁর ১৪তম গোল, যা স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বাধিক গোলের নতুন নজির।গোল হজম করার পর ফ্রান্স কিছুটা ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে। মাঝমাঠে বলের দখল বাড়ালেও শেষ তৃতীয়াংশে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হতে থাকে। এমবাপে ও দেম্বেলে কয়েকটি সম্ভাবনা তৈরি করলেও স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন অসাধারণ দক্ষতায় দুবার নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন। বিপরীতে ইয়ামাল, ওয়ারজ়াবাল এবং আলেক্স বায়েনা নিয়মিতভাবে ফরাসি রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।এরই মধ্যে ৩০ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফ্রান্সের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়াম স্যালিবা। তাঁর পরিবর্তে ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া নামলেও রক্ষণে স্থিতি ফেরাতে পারেনি ফরাসিরা।দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং অফ দ্য বল মুভমেন্ট বারবার ফরাসিদের হতাশ করে। অন্যদিকে প্রতি আক্রমণে ধার বজায় রাখে স্পেন।৫৮ মিনিটে সেই পরিকল্পনাই সফল হয়। দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ফরাসি রক্ষণে তৈরি হওয়া ফাঁক কাজে লাগিয়ে বল পান পেদ্রো পোরো। ডান পায়ের জোরালো শটে গোলরক্ষক মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করে স্পেনের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।দুই গোলে পিছিয়ে পড়তেই দেশঁ একের পর এক পরিবর্তন করেন। ব্র্যাডলি বার্কোলার জায়গায় নামানো হয় ডেজ়িরে ডুয়েকে। পরে মাইকেল ওলিসে ও লুকাস ডিগনের পরিবর্তে মাঠে আসেন রায়ান চেরকি ও থিয়ো হার্নান্দেজ়। কিন্তু পরিবর্তনেও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। বরং স্পেনের রক্ষণ আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফরাসি আক্রমণ সামাল দেয়।৬৪ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল জালে বল জড়ালেও সামান্য অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। তবুও তরুণ স্প্যানিশ তারকা পুরো ম্যাচজুড়ে নিজের গতি, ড্রিবলিং এবং সৃজনশীলতায় ফরাসি রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন।ম্যাচের শেষ দিকে মরিয়া চেষ্টা চালায় ফ্রান্স। ৮৭ মিনিটে বক্সের সামনে ফ্রিকিক পেলেও এমবাপের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সংযুক্ত সময়েও উসমান দেম্বেলের জোরালো শট অসাধারণ সেভ করে দেন উনাই সিমন। শেষ পর্যন্ত আর গোল শোধ করতে না পেরে ২-০ ব্যবধানেই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল স্পেন। পাশাপাশি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে দাপটও বজায় রাখল লুই দে লা ফুয়েন্তের দল। অন্যদিকে, বড় মঞ্চে দলকে উদ্ধার করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েও লিওনেল মেসির মতো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারলেন না কিলিয়ান এমবাপে। পুরো ম্যাচে স্পেনের পরিকল্পিত ফুটবল, রক্ষণশৈলী এবং দলগত সমন্বয়ই ছিল জয়ের মূল চাবিকাঠি।

জুলাই ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপের আগে বড় চমক! ইংল্যান্ড ম্যাচে মেসিদের বিশেষ অস্ত্রে সায়, তোলপাড় ফুটবল বিশ্ব

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। এবার সেমিফাইনালের আগে নতুন করে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। জানা গিয়েছে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে নিজেদের সৌভাগ্যের গাঢ় নীল জার্সি পরার অনুমতি চেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে ফিফা। ফলে বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পরিচিত নীল-সাদা জার্সির বদলে গাঢ় নীল জার্সিতেই মাঠে নামতে পারে লিওনেল মেসিদের দল।এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ফুটবল মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে গাঢ় নীল জার্সি পরে খেলতে নেমে অতীতে একাধিকবার জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। সেই কারণেই এই জার্সিকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন অনেক সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমী।উনিশশো ছিয়াশি সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনার নেতৃত্বে ইংল্যান্ডকে হারানোর সময়ও আর্জেন্টিনার গায়ে ছিল গাঢ় নীল জার্সি। পরে উনিশশো আটানব্বই সালের বিশ্বকাপেও একই রঙের জার্সি পরে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল তারা। অন্যদিকে, দুই হাজার দুই সালের বিশ্বকাপে নীল-সাদা জার্সি পরে মাঠে নেমে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যেতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।এই কারণেই সেমিফাইনালের আগে আবার সেই গাঢ় নীল জার্সি পরার আবেদন জানায় আর্জেন্টিনা। অনুমতি মেলায় অনেকেই মনে করছেন, এটি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। যদিও ম্যাচের ফল শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে মাঠের পারফরম্যান্সের উপরই।আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিশেষ জার্সি বা নির্দিষ্ট রীতিনীতি মানার প্রচলন রয়েছে। এই বিশ্বাসকে তারা কাবালা নামে চেনে। সেই বিশ্বাস থেকেই এবারও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গাঢ় নীল জার্সি বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা এর আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। তার মধ্যে তিনটি ছিল নকআউট ম্যাচ। এবার চতুর্থ নকআউট লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি দুই ফুটবল শক্তি। এখন দেখার, ইতিহাসের সৌভাগ্য নাকি মাঠের লড়াই শেষ পর্যন্ত কোনটি জয় এনে দেয় মেসিদের।

জুলাই ১৪, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজনীতি

বীরভূম জেলা পরিষদে অনাস্থায় বিপাকে, ভোটের একদিন আগে ইস্তফা কাজল শেখের

শেষ পর্যন্ত পদত্যাগই করলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়েজুল হক ওরফে কাজল শেখ। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণও করা হয়েছে। জেলা পরিষদের এক্সিকিউটিভ অফিসারকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে সভাধিপতির দায়িত্বভার বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তবে কাজল শেখের পদত্যাগের নেপথ্যে রয়েছে জেলা পরিষদে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব। বীরভূম জেলা পরিষদে মোট আসন ৫২টি। তার মধ্যে একটি আসন রয়েছে কংগ্রেসের দখলে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই কাজল শেখ সভাধিপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের হাঁসন কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তিনি।এর পরেই অবশ্য পরিস্থিতির বদল শুরু হয়। সরকার পরিবর্তনের পর জেলা পরিষদের সঙ্গে কাজল শেখের দূরত্ব বাড়ে বলে দাবি। জেলা পরিষদে তাঁর যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষমতায় থাকার সময় ঋতব্রত তৃণমূলে যোগ দিলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।গত ৪ আগস্ট কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন জেলা পরিষদের ১৯ জন সদস্য। তাঁরা বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে সেই প্রস্তাব জমা দেন। আগামী ২১ আগস্ট অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটির দিন নির্ধারিত ছিল। তার ঠিক একদিন আগেই সভাধিপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন কাজল শেখ।তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য নবগোপাল বাউরির অভিযোগ, সভাধিপতি হওয়ার পর জেলা পরিষদের অফিসকে হজ অফিসে পরিণত করেছিলেন কাজল শেখ। তাঁর দাবি, সেই কারণে অধিকাংশ সদস্য তাঁর চেম্বারে যেতেন না। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে জেলা পরিষদের কাজকর্মও কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেই পরিস্থিতিতেই বাধ্য হয়ে অনাস্থা আনা হয়েছিল বলে জানান নবগোপাল।অন্যদিকে, বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় কাজল শেখের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ভাই-ভাইপোদের টেন্ডার পাইয়ে দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দলের সদস্যরাই যখন অনাস্থা এনেছেন, তখন অভিযোগের গুরুত্ব রয়েছে। জেলা পরিষদে বিজেপির কোনও সদস্য না থাকলেও আগামী দিনে সরকারকে দিয়ে কাজল শেখের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, পরবর্তী সভাধিপতি যিনিই হন, তাঁর নেতৃত্বে দুর্নীতিমুক্ত জেলা পরিষদ গড়ার কথাও বলেছেন উদয় শঙ্কর।

আগস্ট ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

টাই-ব্রেকারে বাজিমাত সবুজ-মেরুনের, যুবভারতীতে ফাইনালে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান

ডুরান্ড কাপ ফাইনাল ফের মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। বৃহস্পতিবার শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ গোলে হারিয়ে খেতাব লড়াইয়ে জায়গা করে নিল সবুজ-মেরুন। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে। টানা বৃষ্টির জেরে মাঠের হালও ছিল বেহাল।ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। নর্থইস্টের আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যায় মোহনবাগান। তবে নির্ধারিত সময়ে গোলের মুখ খুলতে পারেনি কোনও দল। ফলে ম্যাচ গড়ায় সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে।টাইব্রেকারে মোহনবাগানের হয়ে সফলভাবে গোল করেন রাহুল ভেকে, শুভাশিস বসু, লিস্টন কোলাসো এবং জেমি ম্যাকলারেন। অন্যদিকে নর্থইস্টের দুই পেনাল্টি আটকে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। তাঁর দুর্দান্ত সেভই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের অন্যতম বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।এই জয়ের ফলে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ফের উঠল মোহনবাগান। আর ফাইনালেই অপেক্ষা করছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল। বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে এসসি দিল্লিকে পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল লাল-হলুদ। অর্থাৎ ২০২৬ ডুরান্ড কাপের ফাইনাল হতে চলেছে একেবারে কলকাতা ডার্বি। রবিবারের ম্যাচের অপেক্ষায় কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা।0টুর্নামেন্টের শুরুটাও হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ডার্বি দিয়ে। এবার ২৩ অগস্টের ফাইনালেও মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে ডুরান্ড কাপের মঞ্চে আরও একবার দেখা যাবে বহু প্রতীক্ষিত সবুজ-মেরুন বনাম লাল-হলুদের মহারণ।

আগস্ট ২০, ২০২৬
রাজ্য

হেলিকপ্টারে সবংয়ের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী, জলবন্দি মানুষের পাশে প্রশাসন

টানা বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির জেরে পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সবং, নারায়ণগড়, মোহনপুর, দাঁতন ও কেশিয়াড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে সবংয়ের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোট পাঁচটি পঞ্চায়েত এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আকাশপথে খতিয়ে দেখেন তিনি। পরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সবংয়ের ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতেরই কমবেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কেলেঘাই ও সুবর্ণরেখা নদীর জলস্তর বাড়ায় বহু গ্রামে জল ঢুকে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ জলবন্দি হয়ে রয়েছেন। বন্যায় সবংয়ে পৃথক ঘটনায় তিন বছরের এক শিশুসহ দুজনের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় মৃতদের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। রিলিফ সেন্টারে থাকা মানুষদের পাঁচ দিনের রেশন দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কেলেঘাই নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বন্যার মধ্যে সাপের কামড়ের ১০টি ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রত্যেকেই চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্য দফতরের কাজেরও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।বন্যায় প্রায় ৩,০০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার থেকেই প্রধানমন্ত্রী শস্য বিমার শিবির শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। টানা বৃষ্টিতে দুই মেদিনীপুর মিলিয়ে প্রায় ১,৬০০টি গ্রাম জলমগ্ন হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর, ময়না, ভগবানপুর ও পটাশপুরের পরিস্থিতি বিশেষভাবে খারাপ। জেলায় ৭১টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে এবং প্রায় ৪৫ হাজার ত্রিপল বিতরণ করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে NDRF, SDRF এবং প্রায় ৪০০ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী কাজ করছেন।অন্যদিকে, কেলেঘাই নদীর জলস্তর বাড়ায় ভগবানপুর ও পটাশপুরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বাঁশ ও কাঠের সেতু ভেসে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রশাসনের নজরদারি ও ত্রাণকাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে ফের রণক্ষেত্র! মুখোমুখি এসএফআই-এবিভিপি, ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা, উত্তেজনা চরমে

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের অশান্তির আঁচ এ বার ছড়িয়ে পড়ল বাইরেও। বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই এবং এবিভিপির পৃথক মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা এলাকা। দুই সংগঠনের মিছিল মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে দুদিকের মিছিল আটকে দেয়। তাতেও অবশ্য উত্তেজনা কমেনি।এইট বি-র সামনে এসএফআইয়ের জমায়েতে আটকে পড়েন রাজ্য সভাপতি দেবাঞ্জন দে এবং যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধর। অন্য দিকে, ঢাকুরিয়া সেতুর কাছে এবিভিপির মিছিলও আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সংগঠনের কয়েক জন সদস্য।এর মধ্যেই এইট বি-র কাছে সকাল থেকে জমায়েত করা এবিভিপির কয়েক জন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে পৌঁছে যান। সেখানে তাঁরা সংগঠনের পতাকা ওড়ান। বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা তার প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের জমায়েত ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।বুধবার রাত থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বাম ছাত্র সংগঠন ফেটসুর গভর্নিং বডির বৈঠককে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, অরবিন্দ ভবনে বৈঠক চলাকালীন এবিভিপির কয়েক জন সদস্য সেখানে ঢুকে হামলা চালান। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও ছাত্র সংসদ না থাকলে গভর্নিং বডির বৈঠক ডাকা হল কেন।এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়। পালটা অভিযোগ ওঠে, ফেটসুর সদস্যরা এবিভিপির সদস্যদের মারধর করেছেন। ঘটনায় কয়েক জন আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।বুধবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কর্মসূচির ডাক দেয় এসএফআই। পালটা মিছিলের ডাক দেয় এবিভিপিও। দুপুরে দুই পক্ষের জমায়েত ও মিছিল শুরু হতেই যাদবপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট, এইট বি, ঢাকুরিয়া সেতু-সহ একাধিক এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুই মিছিল যাতে সরাসরি মুখোমুখি না হয়, সে জন্য ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। কিন্তু একাধিক জায়গায় ব্যারিকেডের সামনে সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।বুধবার রাতের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার ফের দুই ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি যাতে আর না ঘোরালো হয়, সে দিকে নজর রাখছে পুলিশ।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

এসি থেকেই আগুন, তারপর বিষাক্ত ধোঁয়া! নিউ মার্কেটের হোটেলে ৯ মৃত্যুর ফরেনসিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রাথমিক ভাবে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তিনতলার রিসেপশন এলাকায় থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তার বা সংযোগস্থল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। সেই আগুনের সঙ্গে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। আর সেই ধোঁয়াতেই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় হোটেলের ৯ জন আবাসিকের।ফরেনসিক সূত্রে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র যেখানে ছিল, সেই অংশ কিছুটা ফুলে উঠেছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে একের পর এক তার ফাটতে শুরু করে। আগুনের সঙ্গে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভবনে। মুহূর্তের মধ্যে ঘর ও করিডর কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। ঘুমন্ত আবাসিকেরা শ্বাসকষ্টে পড়ে যান। অনেকেই বাইরে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি।১৯ তারিখ গভীর রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কালো ধোঁয়া। হোটেলের বিভিন্ন ঘরে আটকে পড়েন আবাসিকেরা। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে বেরোনোর চেষ্টা করলেও ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।ওই হোটেলেই ছিলেন বাংলাদেশের এক সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, শিশু সন্তান এবং বাবা। সাংবাদিকের বাবা আলাদা একটি ঘরে ছিলেন। অন্য ঘরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ছিলেন তিনি। আগুন লাগার পর পরিবারের সদস্যেরা প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে দুজনের দেহ প্যাসেজ থেকে উদ্ধার হয় বলে জানা গিয়েছে।ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ানও হোটেলের রিসেপশনের পাশের ঘরে ছিলেন। বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। তাঁর বুকেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।বুধবার সব মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ময়নাতদন্ত করা যায়নি। বৃহস্পতিবার দেহগুলির ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।এই ঘটনায় হোটেলের লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হোটেলের ম্যানেজার এবং এক কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হোটেলের পলাতক মালিকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।উল্লেখ্য, তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার ভোররাতে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইন-এ ভয়াবহ আগুন লাগে। গভীর রাতে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় আটকে পড়েন বহু আবাসিক। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েক জন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে তাঁরা ওই হোটেলে উঠেছিলেন।অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আবাসিকদের একাংশের অভিযোগ, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে আগুন লাগার পর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এখন ফরেনসিক পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্যের পর হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তদন্ত আরও জোরদার হতে পারে।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে রাতের সংঘর্ষের পরই হাই কোর্টে মামলা! আবেদন ফিরিয়ে দিল আদালত, আজ ফের রণক্ষেত্রের আশঙ্কা

ফেটসুর সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে রাতভর উত্তেজনা ছিল ক্যাম্পাসে। দুপক্ষেরই কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার দুই পক্ষই পৃথক প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হয়। বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। নতুন করে মামলা দায়ের করে আসার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।জানা গিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি মামলা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে বিচারাধীন। বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনাকে সেই মামলার সঙ্গে যুক্ত করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই আবেদন গ্রহণ না করে পৃথক মামলা করার পরামর্শ দেয়।বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ সভার বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে অশান্তির সূত্রপাত বলে অভিযোগ। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যদের দাবি, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র সংসদ নেই। তা হলে সাধারণ সভার বৈঠক ডাকা হল কীভাবে, সেই প্রশ্ন তুলেই তাঁরা প্রতিবাদ করেছিলেন।অভিযোগ, সেই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তাঁদের উপর হামলা হয়। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের দাবি, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন তাঁদের উপর চড়াও হয়েছিলেন। পাল্টা বাম ছাত্র সংগঠনগুলির তরফেও অভিযোগ রয়েছে। দুপক্ষের সংঘর্ষে রাতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।বৃহস্পতিবার সেই ঘটনার প্রতিবাদে পৃথক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দুই পক্ষই। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মী-সমর্থকেরা যাদবপুর থানার সামনে জমায়েত করছেন। গোলপার্ক থেকে মিছিল করে যাওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে, আট বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জমায়েত করছে বাম ছাত্র সংগঠন।ফলে বৃহস্পতিবার ফের দুপক্ষ মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, আট বি, গোলপার্ক-সহ সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও পক্ষের একতরফা কর্তৃত্ব তাঁরা মেনে নেবেন না। অন্যদিকে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও নিজেদের কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসেনি। ফলে রাতের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার যাদবপুরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।আদালত বুধবারের ঘটনার বিষয়ে আপাতত সরাসরি হস্তক্ষেপ না করায় এখন নজর থাকছে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতির দিকে। দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে কোনও সংঘর্ষ হয় কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

সুপ্রিম কোর্টে বিদেশযাত্রার অনুমতি, তারপরই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ! অভিষেকের মামলায় ব্যাঙ্ককে কড়া ভর্ৎসনা হাই কোর্টের

সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই নতুন সমস্যায় পড়লেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার অভিযোগ ঘিরে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হল। অনলাইনে যখন কেওয়াইসি করা সম্ভব, তখন অভিষেককে কেন সশরীরে ব্যাঙ্কে যেতে বলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে কেওয়াইসি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ফলে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।এর আগে মামলার শুনানিতে প্রশ্ন উঠেছিল, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১০৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ না করে কীভাবে কোনও ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা যায়। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চেয়েছিলেন, অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত চলছে কি না। জবাবে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছিলেন, আদালতের নির্দেশ মেনে অভিষেক তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তবে সেই তদন্তের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করা হয়।এর পরেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নোটিস দিয়েছিল আদালত। বৃহস্পতিবার ছিল সেই মামলার পরবর্তী শুনানি। এ দিন অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলের ডেবিট কার্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও নোটিস না দিয়েই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।আইনজীবী আরও জানান, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি ২০১৭ সাল থেকে রয়েছে। সম্প্রতি আচমকাই সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সুপ্রিম কোর্ট অভিষেককে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। ফলে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, কেওয়াইসি-র মতো সাধারণ প্রক্রিয়া যখন অনলাইনেই করা সম্ভব, তখন অভিষেককে কেন সশরীরে ব্যাঙ্কে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। আদালতের প্রশ্নের পরই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে কেওয়াইসি আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা নিয়েও এর আগে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে তিনি প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। শীর্ষ আদালত শর্তসাপেক্ষে তাঁকে বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়।সেই অনুমতি পাওয়ার পরেই ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ফলে বিদেশযাত্রার অনুমতির পর অভিষেকের সামনে তৈরি হওয়া এই নতুন আইনি ও আর্থিক জটিলতা এখন আদালতের নজরে। বৃহস্পতিবারের নির্দেশে আপাতত কেওয়াইসি নিয়ে সমস্যার সমাধানের পথ খুলল বলেই মনে করা হচ্ছে।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

সংঘর্ষের পর যাদবপুরে কি বদলাচ্ছে নিয়ম? পুলিশের ফাঁড়ি নিয়ে উপাচার্যের বার্তা

বুধবার থেকে ফের উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বামপন্থী ছাত্রদের সঙ্গে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে বুধবার রাত থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। অভিযোগ, সংঘর্ষে কয়েক জন ছাত্র আক্রান্ত হয়েছেন। রাতের দিকে আরও একদল বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকেছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় বামপন্থী ছাত্রদের একাংশ অরবিন্দ ভবনের ভিতরে নিজেদের আটকে রাখেন বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি যদি বারবার বিঘ্নিত হয়, তা হলে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানোর কথা ভাবতে হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এমন ব্যবস্থা যাদবপুরের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। কখনও ছাত্রদের উপর হামলার অভিযোগ, কখনও রাজনৈতিক মতবিরোধ, আবার কখনও র্যাগিংয়ের অভিযোগে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে ক্যাম্পাস। প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব উঠেছিল। সেই সময় ছাত্রদের একাংশের আপত্তির কারণে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।এর মধ্যেই বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় ফের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্ত পরিবেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশি নজরদারি কতটা প্রয়োজন, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে উপাচার্যের বক্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে নিরাপত্তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দেশের আইনশৃঙ্খলার বাইরে নয়। তাই দেশের প্রচলিত আইন ক্যাম্পাসেও কার্যকর হবে। তাঁর কথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, যাদবপুরের মুক্ত ও খোলামেলা পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষেই তাঁরা।উপাচার্য আরও জানান, আগে আদালতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য চব্বিশ ঘণ্টার পুলিশ ফাঁড়ির প্রসঙ্গ উঠেছিল। তবে যাদবপুরের নিজস্ব সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে সেই ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি ছিল। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটে, তা হলে ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানোর প্রয়োজন হতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।এদিকে বুধবারের অশান্তির ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি সুরক্ষা আইনের ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে বলে খবর। এখনও পর্যন্ত অপর পক্ষের তরফে পাল্টা অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গিয়েছে।যাদবপুরে ফের অশান্তির পর এখন মূল প্রশ্ন, পরিস্থিতি সামাল দিতে কি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানো হবে? উপাচার্যের মন্তব্যে সেই সম্ভাবনাই নতুন করে সামনে এসেছে।

আগস্ট ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal