• ১১ আশ্বিন ১৪৩৩, বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

ED

কলকাতা

ইডি হানার পরই রাজ্যে বিশেষ বাহিনী! RAF নামল কলকাতায়

ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যে পাঠানো হল সিআরপিএফের বিশেষ বাহিনী। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের অফিস এবং আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই সময় সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তিনি কিছু নথি ও হার্ডডিস্ক সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। এই ঘটনার পরেই রাজ্যে আসে সিআরপিএফের এক কোম্পানি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা RAF।সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে এই এক কোম্পানি RAF বাংলায় পাঠানো হয়েছে। আপাতত বাহিনীটিকে রাজারহাটের সিআরপিএফ ক্যাম্পে রিজার্ভে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে, অথবা কোনও বড় আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে এই RAF বাহিনীকে কাজে লাগানো হবে।বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে কোনও রাজনৈতিক উত্তেজনা বা হিংসার ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হতে পারে এই বিশেষ বাহিনীকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় RAF-এর কাছে রয়েছে বিশেষ গাড়ি ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, যা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।এদিকে আইপ্যাক-কাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরাপত্তা নিয়েও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে রয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দফতর। সিবিআই সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ওই কমপ্লেক্সে কোনও আধাসেনা মোতায়েন ছিল না। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল একটি বেসরকারি সংস্থা। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর সিজিও কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।আইপ্যাক-কাণ্ড ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাতের আবহে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার বিরুদ্ধে ‘চুরি-ডাকাতি’র তুলনা ইডির

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। একটি পিটিশন দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নিজে। অন্যটি দায়ের করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। এই দুই মামলাতেই রাজ্য সরকারের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি দক্ষিণ প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে।ইডির দায়ের করা পিটিশনে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, পিটিশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইডি অভিযানের সময় অযাচিত প্রবেশ এবং একটি ফাইল নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করেছে তদন্তকারী সংস্থা। শুধু তাই নয়, ইডির কাজে যে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে পিটিশনে।এই মামলায় নিজেদের যুক্তি জোরদার করতে ইডি অতীতের তিনটি ঘটনার উল্লেখ করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।পিটিশনে প্রথম যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তা ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারির। সারদা মামলায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির। কয়লা পাচার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই তাঁদের বাড়িতে পৌঁছনোর আগেই সেখানে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ১৭ মে-র। নারদ মামলায় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর নিজাম প্যালেসে গিয়ে সিবিআইয়ের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই দাবি ইডির।এতেই শেষ নয়। কলকাতা হাইকোর্টে একটি শুনানি ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যেও তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, শাসকদলের কর্মী-সমর্থকেরা হোয়াটসঅ্যাপ মারফত বার্তা পাঠিয়ে জমায়েত করেছিলেন।এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে একাধিক আবেদন জানিয়েছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী যে বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে কোনও তথ্য যেন ডিলিট বা ক্লোন না করা হয়, সেই নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়লা পাচার তদন্তে যুক্ত কোনও কেন্দ্রীয় আধিকারিকের বিরুদ্ধে যেন কলকাতা বা বাংলার কোনও থানায় এফআইআর গ্রহণ না করা হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। শেক্সপিয়ার সরণী থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর স্থগিত রাখার আর্জিও জানানো হয়েছে। সবশেষে আইপ্যাক-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবিও তুলেছে ইডি।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা নিয়ে নতুন মোড়! এবার আবাসনের বাসিন্দাদের তলব পুলিশের

আই-প্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একদিকে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইডি মামলা দায়ের করেছে এবং সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারও আগাম সতর্কতা হিসেবে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে। এই পরিস্থিতিতে এবার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশির ঘটনা খতিয়ে দেখতে আবাসনের বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের তলব করল পুলিশ।গত বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ভোর ছটা নাগাদ লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছয় ইডি। শুরু হয় দীর্ঘ তল্লাশি। সেই খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছু সময় পর তাঁকে একটি সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে দেখা যায়। সেই ফাইলে কী ছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।এই ঘটনার তদন্তে নামিয়ে লাউডন স্ট্রিটের ওই আবাসনের একাধিক বাসিন্দা এবং আশপাশের প্রতিবেশীদের নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। ইডি তল্লাশির সময় তাঁরা কী শুনেছিলেন, অফিসাররা বাড়িতে ঢোকার পর কীভাবে চলাফেরা করছিলেন, তল্লাশির সময় কোনও অশান্তি হয়েছিল কি নাএই সব বিষয়েই তাঁদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ সংগ্রহ করতে চাইছে পুলিশ।জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মামলা দায়ের করেছিলেন এবং পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে যে মামলা রুজু করা হয়েছে, এই দুই মামলার ক্ষেত্রেই প্রতীক জৈনের আবাসনের বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের তলব করা হয়েছে।ইডি সূত্রে খবর, তল্লাশির সময় প্রতীক জৈনের বাড়ি বা অফিস থেকে উল্লেখযোগ্য কোনও নথি বা প্রমাণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তাদের হাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এসেছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। ইডির হাতে থাকা দুটি সিসিটিভি ফুটেজে একটিতে দেখা যাচ্ছে, এক পুলিশ অফিসার সিআরপিএফ জওয়ানকে ধাক্কা দিচ্ছেন। অন্য ফুটেজে প্রতীক জৈনের বাড়ির সামনে বচসার দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত আরও তীব্র আকার নিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

‘মোদি ফোন করেননি বলেই চুক্তি ভেস্তে!’ ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চু্ক্তি নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনীহার কারণেই ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন হয়নিএমন দাবি সম্প্রতি করেছিলেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক। তাঁর বক্তব্য ছিল, চুক্তির শেষ ধাপে পৌঁছতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করা প্রয়োজন ছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি সেই ফোন করেননি। তার ফলেই ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।তবে এই অভিযোগ একেবারেই খারিজ করে দিল ভারত সরকার। বিদেশমন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে কোনও মিল নেই।শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়স্বাল বলেন, গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তারপর থেকে দুই দেশ একাধিকবার বৈঠকে বসেছে এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাবি, দুদেশের মধ্যে একটি পারস্পরিক লাভজনক চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং আলোচনা এখনও চলছে।রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, মার্কিন বাণিজ্য সচিব যে মন্তব্য করেছেন, তা সঠিক নয় এবং বিভ্রান্তিকর। ভারত আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করতে আগ্রহী এবং এমন একটি চুক্তি চায়, যাতে দুই দেশেরই লাভ হয়।প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে হাওয়ার্ড লুটনিক দাবি করেন, ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে শর্ত ছিল, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ট্রাম্পকে ফোন করতে হবে। সেই ফোন না আসাতেই চুক্তি ভেস্তে যায় বলে দাবি করেন তিনি। এবার সেই বক্তব্যকে সরাসরি নাকচ করে দিল নয়াদিল্লি।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
রাজ্য

আইপ্যাকের মাধ্যমে গোয়ায় খরচ কোটি কোটি টাকা! মেদিনীপুর থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

মেদিনীপুরে বিজেপির সংকল্প যাত্রা থেকে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়ে একটি ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়েই সরব হন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আইপ্যাকের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা গোয়ার নির্বাচনে খরচ করা হয়েছে।শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বাংলায় ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অথচ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের পর ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর বক্তব্য, খসড়া তালিকার পরে আর তৃণমূলের সঙ্গে কোনও পার্থক্য নেই। এই নির্বাচন বাংলাকে বাঁচানোর নির্বাচন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সভা থেকে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, রাজ্যে আদিবাসীদের উপর নানা ভাবে অত্যাচার চলছে। তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ১৯ হাজার স্কুল বন্ধ করেছেন এবং ৬,৮৮৮টি শিল্প রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, শেষ এসএসসি নিয়োগ হয়েছিল ২০১৫ সালে এবং ৫১টি কর্মসংস্থান কেন্দ্রে তালা ঝুলছে।কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী একশো দিনের কাজে ৫৪ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ তা পাননি। একই ভাবে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ৩০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে ৪০ লক্ষ বাড়ি তৈরির কথা বলা হলেও সেই টাকা কোথায় গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু।২০২২ সালের কয়লা কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, ওই দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা আইপ্যাকের মাধ্যমে গোয়ার নির্বাচনে খরচ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইডির কাজে বাধা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন যে তাঁর আর এক মুহূর্তও মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে থাকা উচিত নয়। শুভেন্দু বলেন, আইপ্যাক একটি কর্পোরেট সংস্থা, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে কয়লা কেলেঙ্কারির টাকা তৃণমূলের তহবিলে ঢুকেছে এবং হাওয়ালার মাধ্যমে বিপুল অর্থের লেনদেন হয়েছে।সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হওয়ার সময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ ছিল। তখন পরিবর্তনের জন্য বিজেপির সাহায্য নেওয়া হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, তখন তিনি দিদি ছিলেন, এখন পিসি হয়ে গিয়েছেন।আগামী দিনে সনাতনী ও আদিবাসীদের একজোট হয়ে তৃণমূলকে সরানোর ডাক দেন শুভেন্দু। ইডি হাইকোর্টে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলা এখন অ্যাকশন দেখতে চায়। চোরদের নির্মূল করতে হবে। আইপ্যাক ও ইডি সংক্রান্ত ঘটনায় বিজেপি এক ইঞ্চিও ছাড়বে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শেষমেশ নন্দীগ্রাম ও নেতাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই আন্দোলন না হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও দিন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

ফোন না ধরতেই সন্দেহ! প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছনোর পুরো কাহিনি বললেন মমতা

বৃহস্পতিবার ভোর ছটা নাগাদ আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। একই সঙ্গে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসেও অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই সময়েই সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ইডির অভিযোগ, তদন্তের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করতেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।এই ঘটনার পরদিন ফের মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কীভাবে তিনি পুরো ঘটনার খবর পেলেন এবং ঠিক কী হয়েছিল, তা নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার দাবি, শুরুতে তিনি কিছুই জানতেন না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে একটি বার্তা পাঠালেও সেটি তিনি তখন দেখেননি। পরে টেলিভিশনের খবর দেখে জানতে পারেন যে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি পৌঁছে গিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন তদন্তকারীরা হয়তো কথা বলতে এসেছেন। মমতা বলেন, সকালে কিছু একটা হচ্ছে এমন খবর পেয়েছিলেন, কিন্তু বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেননি। তিনি বলেন, মাথায় আঘাত পাওয়ার পর থেকে ভোর চারটের আগে ঘুমোতে পারেন না। সেই কারণে অভিষেকের পাঠানো বার্তাটিও নজরে আসেনি।এরপর তিনি জানান, খবর পেয়ে প্রতীক জৈনকে ফোন করেছিলেন, কিন্তু ফোন ধরেননি তিনি। তখনই তাঁর সন্দেহ হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, তাঁর মনে হয়েছিল দলের সমস্ত তথ্য নিয়ে কেউ পালিয়ে যাচ্ছে কি না, সেটাই আগে দেখা দরকার। মমতা বলেন, তিনি যেমন মানুষকে ভালবাসেন, তেমনই দলের প্রতীক জোড়া ফুলের পাশেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান। তাঁর বক্তব্য, দলকে রক্ষা না করলে মানুষের জন্য লড়াই করা সম্ভব নয়।মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অসহায় মানুষ বিপদে পড়লে তাঁর কাছেই আসে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় বিজেপির হয়েও আইপ্যাক কাজ করেছিল। তখন প্রশান্ত কিশোর ছিলেন, এখন তিনি নেই। বর্তমানে প্রতীক জৈন সংস্থার দায়িত্বে রয়েছেন। মমতার অভিযোগ, তৃণমূলের একমাত্র আইটি সেল এবং যাবতীয় তথ্যই লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবেই সেখানে গিয়েছিলেন এবং কোনও অন্যায় করেননি। তাঁর অভিযোগ, ইডি সকাল ছটা থেকে তল্লাশি চালাচ্ছিল এবং তিনি পৌঁছন সাড়ে এগারোটার সময়। এই পাঁচ ঘণ্টায় দলের সমস্ত তথ্য চুরি করার চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

ইডি হানার আগুনে ঘি! জল জীবন মিশনের টাকা নিয়ে বড় অভিযোগ বিরোধী দলনেতার

আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শুক্রবার দুপুরে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। তার আগেই এই ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশিকে ঘিরে দিনভর উত্তেজনা ছড়ায়। তল্লাশির মাঝেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার ছবি ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। সেই অভিযোগেই ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে ইডি।শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী আইপ্যাকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের জল জীবন মিশন প্রকল্পে বাংলাকে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। শুভেন্দুর অভিযোগ, ২০২১ সালে এই প্রকল্পের কাজের বরাত পেয়েছিল একটি সংস্থা, যার মোট বরাতের অঙ্ক ছিল ১৭০ কোটি টাকা।বিরোধী দলনেতার দাবি, ওই সংস্থার কাছ থেকে কাকদ্বীপের একটি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ১৬ কোটি টাকা আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। এমনকি ওই লেনদেনের চেক নম্বরও প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এই টাকা দুর্নীতির টাকা।একই সঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী আদতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি বা তথ্য নিয়ে যেতে পারেননি। তাঁর মতে, যে প্রস্তাবিত প্রার্থী তালিকা মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে গিয়েছেন বলে বলা হচ্ছে, তার কপি অনেকের কাছেই রয়েছে। আর যে ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাতে কী তথ্য ছিল, তা কেউই জানে না।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
রাজ্য

আইপ্যাক রেড ইস্যুতে আগুন ঝরালেন অভিষেক! মতুয়াগড় থেকে মোদী-শাহকে খোলা চ্যালেঞ্জ

আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে একদিন আগেই তল্লাশি চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই তল্লাশির সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সংস্থা ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। এবার একই ইস্যুতে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।শুক্রবার নদিয়ার তাহেরপুরে মতুয়াগড়ের সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ করেন অভিষেক। আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানা নিয়ে তিনি বলেন, ভোটার লিস্ট সংক্রান্ত একটি অ্যাপ তৈরি করেছিল আইপ্যাক, যাতে সাধারণ মানুষের সুবিধা হয়। তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে বলেই সেই সংস্থার উপর ইডি নামানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেকের বক্তব্য, গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শাস্তি হিসেবে একদিকে ইডি পাঠানো হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটাকেই বিজেপির রাজনীতির ফর্মুলা বলে কটাক্ষ করেন তিনি।সভা মঞ্চ থেকে আরও চড়া সুরে অভিষেক বলেন, বিজেপির কাছে ক্ষমতা, টাকা ও কেন্দ্রীয় সংস্থা আছে, কিন্তু মানুষের সমর্থন নেই। তৃণমূলের কাছে কিছু না থাকলেও মানুষের ভালোবাসা আছে। শেষ কথা বলবে সাধারণ মানুষই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা মিডিয়া ভোট দেয় না। ভোট দেয় শ্রমিক, কৃষক, মা-বোনেরা। বাংলার মানুষ এমন জবাব দেবে যে বিজেপির অহংকার চূর্ণ হয়ে যাবে।এই সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং ইডি, সিবিআই দিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যত কেন্দ্রীয় সংস্থা, যত টাকা, যত ক্ষমতাই ব্যবহার করা হোক না কেন, বাংলার মানুষ দিল্লির শাসকদের কাছে মাথা নত করবে না।এসআইআর ও নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিতে হবে। না হলে মোদী, শাহ ও শান্তনু ঠাকুরকে সরে যাওয়ার দাবি জানায় তৃণমূল। তাঁর বক্তব্য, এখন আওয়াজ তোলার সময়, পিছিয়ে থাকার সময় নয়।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

হাই প্রোফাইল মামলার মাঝেই বিস্ফোরণ! আদালতে দাঁড়িয়ে ফোন হ্যাকের অভিযোগ ইডি আইনজীবীর

আদালতে ছিল অত্যন্ত উচ্চপ্রোফাইল মামলা। একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশিকে কেন্দ্র করেই এই মামলার সূত্রপাত। শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালতকক্ষে অতিরিক্ত ভিড়ের জেরে শেষ পর্যন্ত শুনানি স্থগিত হয়ে যায়।তবে শুনানি স্থগিত হওয়ার আগেই আদালতের ভিতরেই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী। কেন্দ্রের ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী এই মামলায় ইডির হয়ে সওয়াল করছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দুপুর ২টো ৩০ মিনিটে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা ছিল। তার ঠিক আগে, দুপুর দেড়টা নাগাদ আচমকাই তাঁর মোবাইল ফোন হ্যাক হয়ে যায়।আদালতকক্ষে দাঁড়িয়ে ধীরজ ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, তাঁর ফোন সম্পূর্ণভাবে হ্যাক করা হয়েছে। ফোন করার চেষ্টা করলেও কাউকে ধরতে পারছিলেন না। হোয়াটসঅ্যাপ থেকেও তিনি হঠাৎ লগ আউট হয়ে যান। পরে আবার লগ ইন করতে গেলে দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্ট অন্য একটি নম্বরে চলে গেছে। তিনি আরও জানান, যাঁদের ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন, সেই কল অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছিল। এমনকি কেউ কেউ ফোনের ওপার থেকে তাঁর কাছে টাকা দাবি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এই অভিযোগ বিচারপতির নজরে আনতে গেলে আদালতে উপস্থিত অপরপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে থামান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, আগে মামলার শুনানি শুরু হোক, তার পরে এসব বিষয় বলা যেতে পারে। এর মধ্যেই আদালতকক্ষে ভিড় বাড়তে থাকে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ একাধিকবার কক্ষ ফাঁকা করার নির্দেশ দেন এবং কিছুটা সময়ও দেন। কিন্তু ভিড় না কমায় শেষ পর্যন্ত শুনানি স্থগিত করে এজলাস ছেড়ে ওঠেন তিনি।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
রাজ্য

হাইকোর্টে তুলকালাম! আইপ্যাক মামলার শুনানিতে বিশৃঙ্খলা, এজলাস ছেড়ে উঠলেন বিচারপতি

আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আইপ্যাকের দফতরে ইডি-র তল্লাশি ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জোড়া মামলার শুনানির দিনেই আদালতে তৈরি হল চরম বিশৃঙ্খলা। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইডি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। পাল্টা ইডি-র বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসও মামলা করে। বৃহস্পতিবার এই দুই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এজলাসে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার জেরে শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাস ছেড়ে উঠে যান। আগামী ১৪ জানুয়ারি ইডি ও তৃণমূলের মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে।এদিন আদালত কক্ষে আইনজীবীদের পাশাপাশি প্রচুর মানুষের ভিড় জমে যায়। শুরু হয় হইচই ও চেঁচামেচি। শুধু এই মামলা নয়, তালিকাভুক্ত অন্যান্য মামলার শুনানিও ঠিকমতো চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। আদালতের বাইরেও আইনজীবীদের ভিড় ছিল। ভিতরে থাকা অনেক আইনজীবী বেরোতে চাইছিলেন না, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।এই অবস্থায় বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ অনুরোধ করেন, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত নন এমন সবাই যেন এজলাস ছেড়ে বাইরে চলে যান। কিন্তু বিচারপতির নির্দেশের পরও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকায় শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে বিচারপতি এজলাস ছেড়ে উঠে যান। এর জেরে দিনের মতো শুনানি স্থগিত হয়ে যায়।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই ইডি-র তরফে একটি বিবৃতি জারি করে দাবি করা হয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছনোর আগ পর্যন্ত তল্লাশি প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে চলছিল। ইডি-র দাবি, মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়িতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আইপ্যাকের দফতরে পৌঁছয়। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর সহযোগী এবং রাজ্য পুলিশের কর্মীরা জোর করে নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ সরিয়ে নেন। এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় বলে দাবি ইডি-র।ইডি আরও জানায়, এই তল্লাশি অভিযান সম্পূর্ণ প্রমাণের ভিত্তিতে এবং আইন মেনেই করা হয়েছে। কোনও রাজনৈতিক দল বা দলীয় দফতরকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়নি। নির্বাচনের সঙ্গে এই তল্লাশির কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। তাদের বক্তব্য, এটি আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলারই অংশ।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

প্রতীকের বাড়ি থেকে আইপ্যাক—ED অভিযানে কেন এত ক্ষুব্ধ মমতা?

ভোটের মুখে বাংলা জুড়ে চরম উত্তেজনা। তৃণমূল কংগ্রেসের গোপন নির্বাচনী নথি হাতিয়ে নিতেই আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দিল্লির একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে অবস্থিত আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।এই খবর পেয়ে প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে সরাসরি তিনি যান সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে। সেখানে দাঁড়িয়েই মমতা অভিযোগ করেন, তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশল, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং এসআইআর সংক্রান্ত নথি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ট্রান্সফার করে নিয়েছে। তাঁর কথায়, ইডির এই অভিযান সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অপরাধমূলক।মমতা জানান, রাজ্যে যখন এসআইআর সংক্রান্ত কাজ চলছে, ঠিক সেই সময় এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজি ভেস্তে দিতেই এই পদক্ষেপ। এরপর আইপ্যাকের অফিসেই মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়, নথি চুরির অভিযোগে ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করবে বিধাননগর পুলিশ।আইপ্যাকের অফিসেই দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন মুখ্যমন্ত্রী। একের পর এক বৈঠক সারেন তিনি। দফতর যে ভবনে রয়েছে, তার বেসমেন্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা জানান, প্রতীক জৈন না আসা পর্যন্ত এবং অফিসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই থাকবেন।মমতা বলেন, আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করা হয়েছে। পার্টির কাগজ, তথ্য, হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতিক নথি সব লুট করা হয়েছে। লড়াই করার সাহস নেই বলেই এখন লুট করতে নেমেছে। সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত আমি জীবনে দেখিনি।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোর থেকেই এই অভিযান শুরু হয়। সকাল ছটা নাগাদ আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে চিটিং করলে, জুয়া খেললে আমরা মেনে নেব না। আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে হানা দিই, সেটা কি ঠিক হবে?এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে আন্দোলনের ডাকও দেন মমতা। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকালেই রাজ্যের সব ব্লক এবং ওয়ার্ডে মিছিল হবে। তাঁর কথায়, এই লুটের বিরুদ্ধে তৃণমূল পথে নামবে।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

তল্লাশিতে বাধা না ক্ষমতার অপব্যবহার? হাইকোর্টে বড় অভিযোগ ইডির

আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন ও সংস্থার দফতরে তল্লাশি চলাকালীন বাধা দেওয়া হয়েছেএই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে সেই আবেদন মঞ্জুরও হয়।ইডির তরফে জানানো হয়, নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চলাকালীন ইডির কাজে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ, বেআইনি ভাবে ফাইল ও নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, তল্লাশির সময় জোর করে একাধিক নথি বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে যাতে কেন্দ্রীয় সংস্থা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে, তার জন্য অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবি জানায় ইডি।বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলার অনুমতি দেন এবং প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে, এই মামলার শুনানি আগামী দিনেই শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনী কৌশল রচনাকারী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার ও অফিসে তল্লাশি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সংগঠনের খুঁটিনাটি, প্রার্থিতালিকা এবং এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিতেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ইডিকে দিয়ে এই অভিযান চালিয়েছে। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।ইডির বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়নি। সংস্থার দাবি, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চলছে। কলকাতার ছটি এবং দিল্লির চারটি জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। নগদ টাকা, হাওয়ালার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন-সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি। নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই বলেও স্পষ্ট করে জানায় ইডি। পাশাপাশি, সাংবিধানিক পদে থাকা এক ব্যক্তি বেআইনি ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির ফরেন্সিক টিমের বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথা ঘোষণা করেন। পাল্টা আইনি পদক্ষেপের কথা জানায় ইডিও। তার পরেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।উল্লেখ্য, কয়লাকাণ্ডের একটি পুরনো মামলায় দীর্ঘদিন পর ফের সক্রিয় হয়েছে ইডি। প্রায় দু-তিন বছর ধরে কার্যত স্থগিত থাকা ওই মামলায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতার তিনটি জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়। একটি দল পৌঁছয় লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে, অন্য দলটি সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে এবং তৃতীয় দলটি পোস্তায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে যায়।এই পরিস্থিতিতে প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ঢোকার সময় খালি হাতে গেলেও, বেরনোর সময় একটি সবুজ ফাইল হাতে দেখা যায় তাঁকে। সেই ফাইলে নথিপত্রের পাশাপাশি একটি হার্ড ডিস্কও ছিল বলে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁদের নির্বাচনী পরিকল্পনা, সংগঠনের তথ্য, প্রার্থিতালিকা এবং এসআইআর সংক্রান্ত কাজের খুঁটিনাটি হাতিয়ে নিতেই ইডিকে দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে।এর পরে তিনি সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে যান। সেখান থেকেও কয়েকটি নথিপত্র গাড়িতে তোলা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেগুলি তৃণমূলের দলীয় কাগজপত্র। তাঁর অভিযোগ, ইডি সব তথ্য ট্রান্সফার করে নিয়ে গিয়েছে। এই আবহেই ইডি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি দেয় এবং পরে আদালতের দ্বারস্থ হয়।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

প্রতীক জৈন না আসা পর্যন্ত অফিসের সামনেই থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী! বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

আইপ্যাকের অফিসে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। তৃণমূলের নির্বাচনী তথ্য, প্রার্থিতালিকা এবং ভোটের কৌশল হাতিয়ে নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে ব্যবহার করে এই অভিযান করিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইডি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলে দেন।ইডি হানার খবর পেয়ে এ দিন সকালে প্রথমে আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে সোজা চলে যান সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে। ইডি অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রীর সেখানে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে অফিস থেকে বেরিয়ে মমতা স্পষ্ট করে জানান, আইপ্যাক কোনও সাধারণ বেসরকারি সংস্থা নয়। এটি তৃণমূলের স্বীকৃত টিম। সেই টিমের কাছ থেকে কাগজপত্র ও তথ্য নিয়ে যাওয়া বেআইনি কাজ বলেই তাঁর দাবি।মমতা জানান, ইডি নির্বাচনের সম্পূর্ণ রণকৌশল নিয়ে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, লড়াই করতে না পারলে এজেন্সি ব্যবহার করে দলের তথ্য লুঠ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ভাবে ডেটা, কৌশল এবং ভোটার সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তাঁর বার্তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করুন।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ইডির ফরেন্সিক টিম অফিসে এসে হার্ড ডিস্ক ও বিভিন্ন তথ্য ট্রান্সফার করেছে। পরে তা অস্বীকার করা হলেও তিনি নিজে তা দেখেছেন বলে দাবি করেন। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নথি নিয়েও যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার বক্তব্য, তৃণমূল একটি নথিভুক্ত রাজনৈতিক দল, নিয়মিত আয়কর দেয়, অডিট হয়। প্রয়োজনে নোটিস দেওয়া যেত। কিন্তু ভোট এলেই এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোর ছটা থেকে এই অভিযান শুরু হয়, যখন অফিসে প্রায় কেউই ছিল না। তখনই দলের সমস্ত ল্যাপটপ, ডেটা, নির্বাচনী কৌশল ও এসআইআর সংক্রান্ত নথি ট্রান্সফার করা হয়। তাঁর মতে, এটি সরাসরি অপরাধ। অফিসের টেবিল ফাঁকা করে সব নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নতুন করে নথি তৈরি করতে গেলে নির্বাচনই শেষ হয়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।এসআইআর প্রসঙ্গেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি মহিলা ও তরুণদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে লক্ষ লক্ষ নাম মুছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে বলেও অভিযোগ তোলেন মমতা।এর আগেও প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সল্টলেকের অফিস থেকে বেরিয়ে ফের বলেন, বাংলায় জিততে চাইলে নির্বাচনে লড়াই করুন। ডেটা চুরি করে বা ভোটারের নাম বাদ দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। তাঁর বক্তব্য, বাংলা দেশের গেটওয়ে। বাংলা ঠিক না থাকলে কিছুই ঠিক থাকবে না।মমতা আরও প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির অফিস বা তাদের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় এই ধরনের অভিযান চালানো হলে কি তা মেনে নেওয়া হবে। তাঁর মতে, এটি গণতন্ত্র ও কাজ করার অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত। তিনি জানান, ইডির ফরেন্সিক টিমের বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথাও ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির চুরি, ডাকাতি ও লুঠের বিরুদ্ধে পথে নামার আহ্বান জানান তিনি।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

দলের সমস্ত ডেটা ট্রান্সফার করে নিয়েছে ইডি! বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

আইপ্যাকের অফিসে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। তৃণমূলের নির্বাচনী তথ্য, প্রার্থিতালিকা ও ভোটের কৌশল হাতিয়ে নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে ব্যবহার করা হয়েছে। এই আবহেই একেবারে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা যায় তৃণমূলনেত্রীকে।ED হানার খবর পেয়ে এদিন সকালে প্রথমে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে বেরিয়েই তিনি সোজা চলে যান সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুললেও, সল্টলেকের অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে মমতা স্পষ্ট করে দেন, আইপ্যাক কোনও সাধারণ বেসরকারি সংস্থা নয়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের স্বীকৃত ভোটকুশলী টিম। সেই টিমের অফিসে ঢুকে সব নথি নিয়ে যাওয়া বেআইনি কাজ বলেই দাবি করেন তিনি।মমতা বলেন, ভোর ছটা থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে, যখন অফিসে প্রায় কেউই ছিলেন না। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় দলের সমস্ত ডেটা, ল্যাপটপ, নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত নথি, এমনকি SIR সংক্রান্ত কাজের কাগজও ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে ঢুকে এ ভাবে কাগজপত্র তুলে নেওয়া সরাসরি অপরাধ। অফিসের টেবিল ফাঁকা হয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নতুন করে সব নথি তৈরি করতে গেলে নির্বাচনই পেরিয়ে যাবে, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।এর পর কেন্দ্রীয় সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, তৃণমূল একটি রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দল। নিয়মিত আয়কর দেয়, অডিট হয়। প্রয়োজন হলে নোটিস দেওয়া যেত। কিন্তু ভোট এলেই শুধু বিরোধীদের নিশানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপিকে কখনও এই ভাবে নোটিস দেওয়া হয় না। টাকা ও পেশীশক্তির জোরে গণতন্ত্র ধ্বংস করা হচ্ছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।SIR প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলায় লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মহিলা ও তরুণরা। তিনি দাবি করেন, যুক্তিহীন অজুহাতে নাম কাটা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশন বিজেপির ইশারায় কাজ করছে। এখনও ন্যায়বিচারের আশায় তাঁরা চুপ করে রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন মমতা।সল্টলেকের অফিস থেকে বেরিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, নিজের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, ED নির্বাচনের সমস্ত রণকৌশল, দলের তথ্য, প্রার্থিতালিকা কেড়ে নিয়ে গেছে। ভোটারদের ডেটা লুঠ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তৃণমূলের সঙ্গে প্রতারণা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।এর আগে প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সল্টলেকের অফিসের বাইরে দাঁড়িয়েও তিনি বলেন, বাংলায় জিততে চাইলে নির্বাচনে লড়াই করে জিততে হবে। দলের তথ্যপ্রযুক্তি দফতরে হানা দিয়ে ডেটা হাতিয়ে নেওয়া কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

সব লুঠ হয়ে গেছে! আইপ্যাকের অফিস থেকে বেরিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী

তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে বৃহস্পতিবার তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সল্টলেক সেক্টর ফাইভে অবস্থিত ওই অফিসে সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা তল্লাশি শুরু করেন। একই সঙ্গে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। এই ঘটনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে যান আইপ্যাকের অফিসে। অফিসটি আবাসনের এগারো তলায় অবস্থিত। এর আগে তিনি প্রতীক জৈনের বাড়িতেও যান। সেখান থেকে বেরিয়েই তিনি সোজা সল্টলেকে আসেন। পরে রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুও সেখানে পৌঁছন।সকাল থেকেই এলাকা ঘিরে রাখে কেন্দ্রীয় বাহিনী। নিরাপত্তার জন্য পরে পৌঁছয় সিআরপিএফ। পাল্টা রাজ্য পুলিশের র্যাফও মোতায়েন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট আইপ্যাকের অফিসে ছিলেন। পরে নীচে নেমে এসে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোররাত থেকেই তল্লাশি চলছিল। আইপ্যাক তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা। তাঁর অভিযোগ, এভাবে সব কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া লুঠের সামিল। তিনি বলেন, নতুন করে আবার ফাইল তৈরি করতে করতেই ভোট পেরিয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দলের সব ডেটা, ল্যাপটপ, আইফোন এবং যাবতীয় পার্টির তথ্য নিয়ে গেছে ইডি। এমনকি এসআইআর সংক্রান্ত নথিও ফরেন্সিক টিম এনে ট্রান্সফার করা হয়েছে। অফিসের সব টেবিল খালি হয়ে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।এসআইআর প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, অমর্ত্য সেন এবং জয় গোস্বামীকেও এসআইআর-এর নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে বুঝে-বুঝে হেনস্থা করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ল্যাপটপ থেকে এসআইআর ডেটা, রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি এবং প্রার্থী তালিকা সব নিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতীক জৈনের বাড়িতেও একইভাবে সব নথি সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।মমতার অভিযোগ, ভোটে জেতার কৌশলই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, সব সীমা ছাপিয়ে গেছে এই অভিযান। টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ইডি হানার পর কেন্দ্রের আসন শূন্য হবে। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অমিত শাহকে নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানান।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ! মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি শুভেন্দু অধিকারীর

আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে বৃহস্পতিবার রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। দিল্লির একটি আর্থিক প্রতারণা মামলার সূত্র ধরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে আসে। তল্লাশি চলাকালীন প্রথমে সেখানে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। তাঁর কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মুখ্যমন্ত্রী তল্লাশির মধ্যেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢোকেন। কিছুক্ষণ পর তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন হাতে একটি সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে। বেরিয়েই তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর দলের স্ট্র্যাটেজি, প্রার্থী তালিকা এবং রাজনৈতিক পরিকল্পনার হার্ড ডিস্ক হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই তল্লাশি চালিয়েছেন।প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রওনা দেন গডরেজ ওয়াটারসাইডে আইপ্যাকের অফিসের দিকে। সেই সময়ই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ইডির উচিত আইন মেনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই এবার পদক্ষেপ করা।শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২১ সালে নিজাম প্যালেসে ইডির দফতরের সামনে মুখ্যমন্ত্রী ধরনায় বসেছিলেন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায় ও মদন মিত্রদের গ্রেফতারির প্রতিবাদে। সারদা মামলায় রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশির সময়ও কলকাতায় ধর্মতলায় ধরনায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর বক্তব্য, একজন মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এই ধরনের আচরণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপ এবং তদন্তে সরাসরি বাধা দেওয়ার শামিল। তাঁর দাবি, ইডির কাছে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এবং সেই ক্ষমতাবলেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিত। মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ কমিশনারের তল্লাশির সময় সেখানে যাওয়াকে তিনি অসাংবিধানিক ও অনৈতিক বলেও মন্তব্য করেন।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

আইপ্যাক তল্লাশিতে রাজনীতির ঝড়, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নতুন মোড়

আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি চলাকালীন রাজ্য দেখল এক নজিরবিহীন ছবি। তল্লাশির মাঝেই প্রথমে সেখানে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। তাঁর কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কোনও রকম দেরি না করে তিনি তড়িঘড়ি বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েন।প্রায় পনেরো মিনিট পরে মুখ্যমন্ত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন হাতে একটি সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে। সেই ফাইলে কী রয়েছে এবং কেন এই তল্লাশি, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই বক্তব্য রাখেন তিনি। কথা বলতে গিয়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নটি হোম মিনিস্টার, ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার। তাঁর অভিযোগ, প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি পাঠানো হয়েছে দলের আইটি ইনচার্জের সব হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত করার জন্য। প্রার্থী তালিকা, দলের পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক কৌশল হাতিয়ে নেওয়াই এই অভিযানের উদ্দেশ্য বলে তিনি দাবি করেন।মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, এটাই কি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ তাঁর দলের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে নেওয়া? তিনি আরও বলেন, যিনি দেশ রক্ষা করতে পারেন না, তিনিই এই ধরনের কাজ করছেন।প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান আইপ্যাকের গডরেজ ওয়াটারসাইডের অফিসে। সেখানে দেখা যায়, একের পর এক ফাইল বের করে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে তোলা হচ্ছে। সেই সব ফাইল ঘিরেই নতুন করে রহস্য দানা বাঁধে।সূত্রের খবর, কয়লা পাচার সংক্রান্ত কিছু নথি খতিয়ে দেখতেই ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে পুলিশের বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে সেখানে পৌঁছন ডিসি সাউথ এবং পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
দেশ

দিল্লি দাঙ্গা মামলায় কড়া বার্তা, উমর খালিদকে জামিন নয়

মুক্তি পেলেন না উমর খালিদ। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ ও সার্জিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তাঁদের যুক্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ রয়েছে বলে মনে করেছে শীর্ষ আদালত। এই যুক্তিতেই দুই ছাত্রনেতার জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়েছে। উমর খালিদ ও সার্জিল ইমামের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএপিএ-র আওতায় মামলা চলছে। এই বিষয়টিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আদালত।যদিও একই মামলায় অভিযুক্ত অন্য পাঁচজনকে এদিন জামিন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। গুলফিশা ফতিমা, মিরান হায়দর, শিফা উর রহমান, মহম্মদ সালিম খান এবং শাদাব আহমেদকে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। উমর খালিদ-সহ মোট সাতজন দিল্লি হাই কোর্টের জামিন সংক্রান্ত রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন।সোমবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। রায় ঘোষণার আগে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ পাঠ করেন বিচারপতিরা। আদালতের মতে, প্রসিকিউশনের পেশ করা নথি ও তথ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে উমর খালিদ ও সার্জিল ইমাম অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই কারণেই তাঁদের জামিন দেওয়া যাচ্ছে না।তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় সব প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান রেকর্ড হয়ে গেলে অথবা এক বছর পর উমর খালিদ ও সার্জিল ইমাম ফের জামিনের আবেদন করতে পারবেন।দিল্লি পুলিশ তাদের চার্জশিটে দাবি করেছে, এই ঘটনা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। পরিকল্পিতভাবে গোটা রাজ্যে অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং দেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়। দিল্লি পুলিশের আরও দাবি, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় এই পরিকল্পনা কার্যকর করার লক্ষ্য ছিল, যাতে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের দিকে নজর যায় এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে বিতর্ক আরও উসকে ওঠে।

জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
কলকাতা

ভোটার তালিকার শুনানিতে শামি! এসআইআরে ডাক পেলেন ভারতীয় দলের তারকা

এসআইআর শুনানিতে এবার ডাক পেলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার মহম্মদ শামি। কলকাতার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌসুমী দাস জানিয়েছেন, শামি ইতিমধ্যেই শুনানির নোটিস পেয়েছেন। উত্তর প্রদেশে জন্ম হলেও দীর্ঘদিন ধরে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছেন তিনি।সূত্রের খবর, শামির এনুমারেশন ফর্ম সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের অংশ হিসেবে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে এসআইআর-এর শুনানি। যেসব ক্ষেত্রে ফর্মে তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে, ঠিকভাবে ম্যাপিং হয়নি বা প্রয়োজনীয় নথিতে সমস্যা আছে, মূলত সেই সব ভোটারদেরই শুনানিতে ডাকা হচ্ছে।এই শুনানির আওতায় ইতিমধ্যেই একাধিক পরিচিত নাম সামনে এসেছে। প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবারের সদস্যদেরও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। সোমবার কাটজুনগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠে শুনানিতে হাজির হন অভিনেতা কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী লাবনী সরকার।এরপরই কাউন্সিলর মৌসুমী দাস জানান, শুধু মহম্মদ শামি নন, সাংসদ দেবও এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়েছেন। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
কলকাতা

ইডির চার্জশিটে বিস্ফোরক তথ্য, বালি পাচারে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। অভিযুক্ত অরুণ শারফ-সহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অরুণ শারফের সংস্থা জিডি মাইনিংয়ের নামেও চার্জশিট জমা পড়েছে। বিচারভবনে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।গত ৬ নভেম্বর ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন অরুণ শারফ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওয়েস্টবেঙ্গল স্যান্ড মাইনিং, ট্রান্সপোর্ট, স্টোরেজ ও সেল সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম উপেক্ষা করে বালি তোলা এবং তা বিক্রি করা হত। এই অবৈধ কারবারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ রোজগার করা হয়েছে বলে ইডির দাবি। মোট ১৪৫ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অরুণ শারফ ছাড়াও তাঁর সংস্থার চার কর্মীর বিরুদ্ধেও চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতারের ৫৭ দিনের মাথায় এই চার্জশিট পেশ করল ইডি।এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর বালি পাচার কাণ্ডের তদন্তে নামে ইডি। ওই দিন ঝাড়গ্রাম ও বেহালায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তল্লাশি চালান ইডির আধিকারিকরা। সেই সময় জিডি মাইনিংয়ের বিভিন্ন জায়গাতেও তল্লাশি হয়।ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে শেখ জহিরুল আলির বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে সুবর্ণরেখা নদী থেকে নিয়ম না মেনে দেদার বালি তোলার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরে সৌরভ রায় নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডির দাবি, এঁরা সকলেই অবৈধ বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত। শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধেই চার্জশিট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • ...
  • 91
  • 92
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

পুজোর পাসে ৬০ কোটির অভিযোগ! রাত ১১টা পর্যন্ত ইন্দ্রনীলের বাড়িতে ইডি, এরপর কী?

প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়িতে মঙ্গলবার দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রায় সাড়ে ১৫ ঘণ্টা পর রাত ১১টা নাগাদ তদন্তকারীরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর বুধবার সকাল ১০টায় ইডির দপ্তরে ইন্দ্রনীল সেনকে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্দ্রনীল (Indranil Sen) । অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।ইডি সূত্রে অভিযোগ, কলকাতার দুর্গাপুজোর পুজো পরিক্রমা বা প্রিভিউ শো-এর নামে ইউনেস্কোর নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে প্রবেশপত্র বিক্রি করা হয়েছিল। সেই প্রবেশপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নামও উঠে এসেছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে (Indranil Sen) ।চলতি বছরের জুন মাসে এই সংক্রান্ত অভিযোগ বউবাজার থানায় দায়ের হয়েছিল। অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে পরে আর্থিক তছরূপের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা শুরু হয়। সেই মামলার সূত্র ধরেই মঙ্গলবার ইডি কলকাতার একাধিক জায়গায় একসঙ্গে তল্লাশি চালায়।ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়ি ছাড়াও কলকাতার আরও কয়েকটি ঠিকানায় তদন্তকারীরা পৌঁছন। হিন্দুস্তান পার্ক এবং হাইল্যান্ড পার্কের ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইভেন্ট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কয়েক জনের বাড়িতেও অভিযান চলে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়িতেও তদন্তকারীরা গিয়েছিলেন বলে খবর।প্রতিটি ঠিকানায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ছিল। একাধিক দলে ভাগ হয়ে ইডির আধিকারিকেরা এই অভিযান চালান। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল অভিযোগে উঠে আসা আর্থিক লেনদেন এবং পুজোর প্রবেশপত্র বিক্রির সঙ্গে যুক্ত নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখা।এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মাস আর্ট নামে একটি সংগঠন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর ওই সংগঠনটি তৈরি হয়। সংগঠনটির তরফে নিজেদের ইউনেস্কোর সঙ্গে যুক্ত বা অনুমোদিত উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই পরিচয় ব্যবহার করে পুজো পরিক্রমার জন্য চড়া দামে প্রবেশপত্র বিক্রি করা হত বলেও তদন্তকারীদের দাবি।ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) স্ত্রী মধুছন্দা সেন ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, পাস বিক্রি এবং ওই সংস্থার আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত নয়।প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, পুজোর প্রিভিউ শো বা পুজো পরিক্রমার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে এই পাস বিক্রির অনুমতি আদৌ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাসের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগ্রহের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে।ইন্দ্রনীল সেন অবশ্য শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার দীর্ঘ তল্লাশির পরও তিনি অভিযোগ মানেননি বলে জানা গিয়েছে। বরং প্রয়োজন হলে আইনি পথে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।এখন বুধবার সকাল ১০টায় ইডির দপ্তরে হাজির হওয়ার পর ইন্দ্রনীল সেনকে কী কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। পুজোর প্রবেশপত্র বিক্রি, সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং অভিযোগে উঠে আসা টাকার অঙ্কসবই তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ইডির মঙ্গলবারের তল্লাশিতে কী কী নথি বা তথ্য পাওয়া গেল, তা এখনও প্রকাশ্যে বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়নি। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর মুখে চাকরি নিয়ে বড় আশ্বাস! বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান তুলে নিলেন ৩৭১৯ কম্পিউটার শিক্ষক

পুজোর মুখে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেছিলেন রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া সেই অবস্থান ও বিক্ষোভ মঙ্গলবার পর্যন্ত চলে। পরে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠকের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষকদের সংগঠন আইসিটি ঐক্য মঞ্চ।বৈঠকে শিক্ষকদের একাধিক দাবি বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। আপাতত যাতে চাকরিতে কোনও ছেদ না পড়ে, সেই ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। টেন্ডারে নির্বাচিত সংস্থার অধীনেই ৩৭১৯ জন শিক্ষক কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানা গিয়েছে।শিক্ষকদের দাবি পূরণের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ছমাস সময় চেয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন এবং অন্যান্য বিষয় শ্রম আইন মেনে কী ভাবে করা যায়, তা নিয়ে চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।সোমবার থেকেই একাধিক দাবি নিয়ে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানে বসেছিলেন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। রাতভর সেখানে বিক্ষোভ চলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকার পর শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেই বৈঠকের পরেই আপাতত আন্দোলন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।শিক্ষক রাহুল দাসের দাবি, প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যায়ে নিযুক্ত প্রায় পাঁচ হাজার কম্পিউটার প্রশিক্ষকের সঙ্গে সরকারের যে ভাবে সরাসরি চুক্তি রয়েছে, একই ধরনের ব্যবস্থা তাঁদের ক্ষেত্রেও করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর তরফে এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।এই সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে চুক্তি নিয়ে জটিলতা। ২০২২ সাল বা তার আশপাশের সময়ে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ৩৭১৯ জন কম্পিউটার শিক্ষককে পাঁচ বছরের চুক্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অনেকের চুক্তির মেয়াদ আরও কিছুদিন থাকার কথা থাকলেও, হঠাৎ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চুক্তি শেষ করার নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, আগের কয়েকটি পর্যায়ে নিযুক্ত কম্পিউটার প্রশিক্ষকদের দীর্ঘমেয়াদি কাজের সুযোগ দেওয়া হলেও ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের বেতন কমানোর অভিযোগও উঠেছে।চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শুধু শিক্ষক ও তাঁদের পরিবার নয়, স্কুল কর্তৃপক্ষও সমস্যায় পড়তে পারেন বলে শিক্ষক সংগঠনের দাবি। কারণ সরকারি বিভিন্ন ডিজিটাল শিক্ষা প্রকল্পে এই কম্পিউটার শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ-এর সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, কম্পিউটার শিক্ষকদের নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করা কঠিন এবং স্কুলের কাজে এই শিক্ষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।আপাতত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহার হলেও তাঁদের মূল দাবি পূরণ কতটা দ্রুত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি সরকারি চুক্তি, বেতন কাঠামো এবং চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে আগামী ছমাসে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

যশোভূমিতে ফিজিওথেরাপির মহামিলন: ১০ হাজারের মঞ্চে বাংলার গর্ব, সম্মানে IAP Bengal

২,০০০ কিলোমিটারের Physio Baton যাত্রা থেকে দিল্লির বর্ণাঢ্য মহাযাত্রাআন্তর্জাতিক সম্মেলনে উজ্জ্বল বাংলার উপস্থিতিনয়াদিল্লি: ফিজিওথেরাপির জগতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল নয়াদিল্লির যশোভূমি কনভেনশন সেন্টার। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত World Physiotherapy Asia Western Pacific (AWP) Regional Conference 2026-এ দেশ-বিদেশের ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক, ছাত্রছাত্রী ও পেশাজীবীদের মিলন ঘটল এক বিশাল আন্তর্জাতিক মঞ্চে। Fitness for Allএই বার্তাকে সামনে রেখে আয়োজিত সম্মেলনে ফিজিওথেরাপির ভবিষ্যৎ, আধুনিক চিকিৎসা-পদ্ধতি, গবেষণা, জনস্বাস্থ্য এবং পেশাগত বিকাশ নিয়ে হয় একাধিক আলোচনা।সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ১০ হাজারেরও বেশি ফিজিওথেরাপিস্টের একসঙ্গে উপস্থিতি। এই বিপুল অংশগ্রহণকে World Record হিসেবে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। ফলে সম্মেলনটি শুধু একটি পেশাগত অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আন্তর্জাতিক ফিজিওথেরাপি জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়।বিশেষ সম্মান IAP Bengal Branch-এরএই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের জন্য আসে আরও একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি। IAP Bengal Branch-কে দেশের সেরা শাখা হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, পেশাগত উন্নয়ন এবং ফিজিওথেরাপি সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মানকে দেখা হচ্ছে।দিল্লির আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিদের হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। পশ্চিমবঙ্গের ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের কাছে এটি নিঃসন্দেহে এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে ওঠে।বর্ধমান থেকে শুরু Physio Baton-এর ঐতিহাসিক যাত্রাসম্মেলনের আগে বাংলার সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের যোগসূত্র আরও দৃঢ় করে Physio Baton বা মশাল যাত্রা। ২২ সেপ্টেম্বর বর্ধমানের ঐতিহাসিক কার্জন গেট হয়ে সেই মশাল যাত্রার সূচনা হয়।কার্জন গেটে Physio Baton-কে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭০ জন ফিজিওথেরাপিস্ট। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডাঃ সত্যেন ভট্টাচার্য, ডাঃ শুভেন্দু দ্বিবেদী (PT), ডাঃ আদিত্য পাল ডাঃ অতনু রায়, ডাঃ অনিন্দ দে (PT), ডাঃ শুকদেব মুখার্জী (PT)-সহ আরও অনেকে। উপস্থিত ছিলেন গোলাপবাগ ফিজিওথেরাপি কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ এম. এস. আনোয়ার (PT)।ঐতিহাসিক বর্ধমানের মাটি থেকে শুরু হয়ে প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার সড়কপথ পেরিয়ে Physio Baton পৌঁছে যায় দিল্লিতে। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যের ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, মতবিনিময় এবং পেশাগত সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়।বাংলার ঐতিহ্য ধরা পড়ল দিল্লির মহাযাত্রায়দিল্লিতে পৌঁছনোর পর Physio Baton-কে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য মহাযাত্রা। সেখানে বাংলার প্রতিনিধিরা নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে তুলে ধরেন।পুরুষ প্রতিনিধিদের অনেকেই ধুতি-পাঞ্জাবি এবং মহিলা প্রতিনিধিরা শাড়ি পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলাদা মাত্রা যোগ করে।বর্ধমান থেকে শুরু হওয়া মশাল যাত্রার সেই ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় World Physiotherapy-এর সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের মঞ্চে।ডাঃ রুচি ভার্শনে (PT) (Dr. Ruchi Varshney) এবং ডাঃ সঞ্জীব ঝা (PT) (Dr. Sanjeev Jha)-এর হাত ধরে Physio Baton তুলে দেওয়া হয় World Physiotherapy-এর President-এর হাতে। মুহূর্তটি উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে বিশেষ আবেগ ও গর্বের সৃষ্টি করে।যাত্রার নেতৃত্বে ডাঃ কৌশিক মল্লিক (PT)এই দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ যাত্রার পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ডাঃ কৌশিক মল্লিক (PT), Vice President, IAP West Bengal Branch।প্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের এই সড়কযাত্রা শুধুমাত্র একটি মশাল বহনের কর্মসূচি ছিল না। পথে বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যের ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও এই যাত্রার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে ওঠে।ফলে Physio Baton-এর যাত্রা কার্যত বাংলার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের মধ্যে একটি সংযোগের সেতু তৈরি করে।১৩টি হলে একসঙ্গে বৈজ্ঞানিক কর্মসূচি২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর যশোভূমি কনভেনশন সেন্টারের বিশাল পরিসরে সম্মেলনের বিভিন্ন পর্ব পরিচালিত হয় ১৩টি হলে। একই সঙ্গে চলে একাধিক বৈজ্ঞানিক ও পেশাগত অধিবেশন।পেপার ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন, বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা, ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ফিজিওথেরাপিস্টদের অংশগ্রহণে সম্মেলন কার্যত পরিণত হয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক বিশাল প্ল্যাটফর্মে।এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বর্ধমানের ফিজিওথেরাপিস্ট ডাঃ সত্যেন ভট্টাচার্য (PT) ও বক্তা হিসেবে অংশ নেন। বাংলার একটি জেলা শহর থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে বক্তব্য রাখার বিষয়টিও স্থানীয় পেশাজীবীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।শুধু চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রেই নয়, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব উপলব্ধি করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, পডকাস্টার এবং ডিজিটাল মিডিয়ার জন্যও বিশেষ পরিসর রাখা হয় সম্মেলনে।ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীসম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তাঁর বক্তব্যে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপির গুরুত্বের বিষয়টি উঠে আসে।এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তা এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও ভিডিও বার্তা সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এর ফলে ফিজিওথেরাপি যে শুধুমাত্র পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসার একটি অংশ নয়, বরং বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গএই বার্তাটিও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।বাংলার জন্য একাধিক গর্বের মুহূর্তএকদিকে ১০ হাজারেরও বেশি ফিজিওথেরাপিস্টের ঐতিহাসিক উপস্থিতি, অন্যদিকে IAP Bengal Branch-এর বিশেষ সম্মাননা। তার সঙ্গে বর্ধমানের কার্জন গেট থেকে শুরু হওয়া Physio Baton-এর প্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের যাত্রা এবং দিল্লির মহাযাত্রায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাকে প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণসব মিলিয়ে সম্মেলনে বাংলার উপস্থিতি হয়ে ওঠে বিশেষভাবে স্মরণীয়।এই যাত্রা দেখিয়ে দিল, ফিজিওথেরাপি এখন আর শুধুমাত্র চিকিৎসাক্ষেত্রের একটি নির্দিষ্ট শাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গবেষণা, জনস্বাস্থ্য, ফিটনেস, পুনর্বাসন, প্রযুক্তি এবং সামাজিক সচেতনতার বৃহত্তর পরিসরে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।যশোভূমির আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন দেখা গেল। আর সেই মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিত্ব, IAP Bengal Branch-এর স্বীকৃতি এবং বর্ধমান থেকে শুরু হওয়া Physio Baton-এর ঐতিহাসিক যাত্রা পশ্চিমবঙ্গের ফিজিওথেরাপি মহলের জন্য তৈরি করল এক স্মরণীয় অধ্যায়।বর্ধমানের কার্জন গেট থেকে দিল্লির যশোভূমিপ্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের সেই যাত্রা তাই কেবল একটি মশাল বহনের গল্প নয়; এটি বাংলার ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের ঐক্য, উদ্যোগ, পেশাগত সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার এক অনন্য কাহিনি।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
কলকাতা

রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা কবে ফিরবে? হাই কোর্টের নির্দেশে সামনে এল নির্দিষ্ট সময়

রোজভ্যালি চিটফান্ড মামলায় আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরানোর কাজ চললেও তার গতি যথেষ্ট নয় বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। এবার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতির হিসাব আদালতে জমা দিতে হবে।বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ এবং বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করাই সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটির মূল দায়িত্ব। এর বাইরে কমিটির কোনও অতিরিক্ত আইনি ক্ষমতা নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকা সহযোগী সংস্থা তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে হোটেল পরিচালনার যে চুক্তি করেছিল, তার অনুমোদনের ক্ষমতা কমিটির ছিল না। ফলে ওই ধরনের অনুমোদনহীন চুক্তিগুলিকে শুরু থেকেই বাতিল বলে ঘোষণা করেছে আদালত।আমানতকারীদের পক্ষের আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে কমিটির হাতে বিপুল সম্পত্তি থাকলেও সেই তুলনায় টাকা ফেরানোর কাজ খুব ধীর গতিতে হয়েছে। আদালতে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তাতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৫৫ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে দাবি। গত ১১ বছরে মাত্র ১০টি সম্পত্তির নিলাম এবং ৮০টি সম্পত্তির মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়।অন্যদিকে, রোজভ্যালি সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত একাধিক দফায় এক লক্ষেরও বেশি দাবিদারকে টাকা দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৩২ লক্ষ দাবি নথিভুক্ত হয়েছিল। ফলে আগের বছরগুলিতে কাজের গতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়াটিও আদালতের নজরে রয়েছে।হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা মুলতুবি থাকা দাবিগুলির ভিত্তিতে যোগ্য আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। আদালতের নির্দেশে ৩২ লক্ষ ৪৩ হাজার ২২০টি মুলতুবি দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি সম্পত্তি বিক্রি এবং সেই অর্থ আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুধু সময়সীমা বেঁধে দিয়েই থামেনি আদালত। প্রতি মাসে সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটিকে আদালতে কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অর্থাৎ কতগুলি সম্পত্তি বিক্রি হল, কত টাকা বণ্টন করা হল এবং কতগুলি দাবি এখনও বাকি রয়েছে, সেই সংক্রান্ত অগ্রগতির হিসাব আদালতের নজরে থাকবে।আদালত আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার পরেও যদি কাজ বাকি থাকে, তা হলে অবশিষ্ট সম্পত্তি, অর্থ এবং অন্যান্য অসম্পূর্ণ বিষয় বিচারপতি এস পি তালুকদারের নেতৃত্বাধীন এক সদস্যের কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।রোজভ্যালি মামলায় জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও যুক্ত রয়েছে। এবার বাজেয়াপ্ত না হওয়া বাকি সম্পত্তি চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইডিকে নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তে চিহ্নিত নতুন সম্পত্তির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।এ ছাড়া সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফরেনসিক অডিট শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এর ফলে রোজভ্যালির সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়ায় আরও নজরদারি বাড়তে চলেছে।রোজভ্যালি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বহু আমানতকারী। আদালতের এই নির্দেশে এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শেষ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে সম্পত্তি বিক্রি, দাবির যাচাই এবং টাকা বণ্টনের কাজ কতটা দ্রুত এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

হাসপাতাল থেকে সরাসরি এশিয়ান গেমস! বৃষ্টির মধ্যেই সোনা জিতে ইতিহাস নীরুর

এই কাহিনী শুনলে যে কারও মন ভালো হতে বাধ্য। লক্ষ্য যদি অবিচল থাকে তাহলে যে কোনও কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেন, কেউ তাঁকে হারাতে পারবে না। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার মাত্র ১০ দিন আগেও তাঁর কেরিয়ার নিয়ে তৈরি হয়েছিল বড় অনিশ্চয়তা। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ভারতীয় ট্র্যাপ শুটার নীরু ধান্ডা। সংক্রমণের কারণে শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, জাপানের নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসে আদৌ অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই অসুস্থতাকেই পিছনে ফেলে মঙ্গলবার ইতিহাস গড়লেন ২৬ বছরের এই ভারতীয় শুটার।জাপানের গ্রামীণ টয়োটার উরেনোচো শুটিং রেঞ্জে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই ট্র্যাপ শুটিংয়ের ফাইনালে ৩০টির মধ্যে ২৮টি লক্ষ্যভেদ করেন নীরু। এর ফলে এশিয়ান গেমসের নতুন রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন তিনি। চিনের সুন ইউনং ২৬টি লক্ষ্যভেদ করে রুপো পান। এশিয়ান গেমসে এটিই ভারতের পঞ্চম সোনা। তবে নীরুর সাফল্যের গুরুত্ব শুধু পদকের হিসাবেই নয়। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও ভারতীয় মহিলা ট্র্যাপ শুটিংয়ে ব্যক্তিগত সোনা জিতলেন। একইসঙ্গে ১৯৭৮ সালের পর এই ইভেন্টে কোনও ভারতীয় শুটারের ব্যক্তিগত সোনার অপেক্ষাও শেষ হল। ১৯৭৮ সালে রণধীর সিং ট্র্যাপ শুটিংয়ে সোনা জিতেছিলেন।এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল কঠিন এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। নয়াদিল্লিতে জাতীয় শিবিরে প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহ অনুশীলন করতে পারেননি নীরু। অসুস্থতার সময় টানা পাঁচ দিন খাবারও খাননি, শুধু জল খেয়ে ছিলেন। হাসপাতালেও তিন দিন কাটাতে হয় তাঁকে। এই কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন তাঁর কোচ অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত মনশের সিং। প্রতিদিন ফোন করে নীরুকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতেন তিনি। নীরুর কথায়, কোচ তাঁকে বলতেন কয়েক দিন অনুশীলন না করলেও কিছু যায় আসে না, তিনি প্রতিভাবান এবং তারকা হয়েই থাকবেন। প্রাক্তন সাংসদ তথা ক্রীড়ামন্ত্রী যশোধরা রাজের কাছ থেকেও সমর্থনের বার্তা পেয়েছিলেন নীরু।ভারতের ট্র্যাপ শুটিং কোচ পিটার উইলসন জানান, হাসপাতালে থাকার মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই নীরু প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সাড়ে তিন সপ্তাহ অনুশীলন না করেও জাপানে মাত্র দুদিন শুটিং করে ফাইনালে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। নীরুর শুটিংয়ে আসার গল্পও বেশ চমকপ্রদ। ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে তাঁর খুড়তুতো ভাই লক্ষ্য শেওরান ট্র্যাপ শুটিংয়ে রুপো জেতার পর এই খেলায় আগ্রহী হন তিনি। পরে ভোপালের মধ্যপ্রদেশ স্টেট শুটিং অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ শুরু করেন।গত বছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা এবং চলতি বছরের জুলাইয়ে ISSF বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত ট্র্যাপ সোনা জেতার পর এবার এশিয়ান গেমসেও সাফল্য পেলেন নীরু। তার উপর মঙ্গলবার ছিল প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টির জল শুটারদের হাতে পড়ছিল, মনোযোগও নষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু নিজেকে বারবার প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে এনে লক্ষ্যভেদ করেন নীরু। হাসপাতালের বিছানা থেকে এশিয়ান গেমসের মঞ্চ, এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের শেষে তাঁর হাতেই উঠল ঐতিহাসিক সোনা।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
রাজ্য

জেএমবি-যোগের সন্দেহে মঙ্গলকোটের মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার এনআইএ-র, বাজেয়াপ্ত ডায়েরি ও মোবাইল

পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সন্দেহেই পালিশ গ্রামের পূর্বপাড়ার মসজিদের ইমাম পিয়ার মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে মঙ্গলকোট থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে অভিযান চালায় এনআইএ। সেখান থেকেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিয়ার মোহাম্মদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার কুলুট গ্রামে। গত প্রায় তিন-চার বছর ধরে তিনি মঙ্গলকোটের পালিশ গ্রামের পূর্বপাড়ার মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তদন্তকারীরা তাঁর পাসপোর্ট পরীক্ষা করে জানতে পেরেছেন, একাধিকবার বাংলাদেশে গিয়েছেন তিনি।এনআইএ সূত্রে খবর, মসজিদে ইমাম থাকার জন্য যে ঘরটি পিয়ার মোহামদ ব্যবহার করতেন, সেখান থেকে একটি ডায়েরি এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই ডায়েরিতে বাংলাদেশের কয়েকজনের ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে বলেও তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই যোগাযোগগুলির সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।চলতি বছরের জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতকেন্দ্রিক কথিত সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই পিয়ার মোহাম্মদের নাম তদন্তকারীদের নজরে আসে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তাবলিগ জামাতের কাজে বৈধভাবে প্রায় ৪০ দিন বাংলাদেশে ছিলেন পিয়ার মোহাম্মদ। তবে সেই সফরের সময়ে তিনি জেএমবির কোনও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, কোনও বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন কি না, কিংবা বাংলাদেশের কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর আদৌ কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, এই সব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।পিয়ার মোহাম্মদের সঙ্গে আরও কারও যোগাযোগ ছিল কি না, তাঁর মাধ্যমে কোনও বৃহত্তর জঙ্গি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায় কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ ও স্থানীয় পুলিশ।ইমামকে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পালিশ গ্রামে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, পিয়ার মোহাম্মদকে তাঁরা বরাবরই শান্ত এবং সাধারণ স্বভাবের মানুষ হিসেবেই জানতেন। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারের খবর তাঁদের বিস্মিত করেছে।এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ধৃত ইমামকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয় এনআইএ। তাঁকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।পিয়ার মোহাম্মদের আইনজীবী কাজি সাহাবাব জামান জানিয়েছেন, টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে বার্তালাপের অভিযোগে তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর মক্কেল নির্দোষ বলে দাবি করেছেন আইনজীবী।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

২৭০০ থেকে ২৭ হাজার! ক্যানসারের ওষুধে দশ গুণ দাম দেখে সুপ্রিম কোর্টে তোলপাড়

ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় ওষুধের খরচ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। একটি ক্যানসারের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা খুচরো বিক্রেতাকে যে দামে ওষুধ দিচ্ছে, তার তুলনায় সর্বোচ্চ খুচরো দামের ব্যবধান দশ গুণ পর্যন্ত হতে পারেএমন তথ্য শুনানিতে উঠে আসে। উদাহরণ হিসেবে আদালত জানতে পারে, ২৭০০ টাকায় খুচরো বিক্রেতার কাছে পৌঁছনো একটি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো দাম ২৭ হাজার টাকা। এই বিপুল ব্যবধান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত।বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ, জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের দাম সংক্রান্ত মামলার শুনানি করছিল। সেখানেই ক্যানসারের ওষুধের দামে খুচরো বিক্রেতার জন্য নির্ধারিত দাম এবং রোগীর জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরো দামের মধ্যে এত বড় ফারাক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আদালত জানতে চায়, ২৭০০ টাকায় যে ওষুধ বিক্রেতার কাছে যাচ্ছে, সেটির সর্বোচ্চ খুচরো দাম কেন ২৭ হাজার টাকা হবে।আদালতের প্রশ্ন ছিল, এই অতিরিক্ত টাকার বড় অংশ কোথায় যাচ্ছে এবং এর ফলে কারা লাভবান হচ্ছে। বিচারপতিরা এমন দামের ব্যবধানকে রোগীদের উপর গুরুতর আর্থিক চাপ হিসেবে দেখেছেন। বিশেষ করে ক্যানসারের মতো রোগে চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় ওষুধের দাম বেড়ে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে রোগী এবং পরিবারের উপর।শীর্ষ আদালত বেসরকারি হাসপাতালের ওষুধ বিক্রির ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেছে। শুনানিতে এমন অভিযোগের প্রসঙ্গ ওঠে যে, কিছু কর্পোরেট হাসপাতাল রোগীদের নিজেদের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করে। বাইরে থেকে একই ওষুধ কিনে আনলে চিকিৎসা নিয়ে সমস্যার আশঙ্কাও রোগীদের সামনে থাকে বলে আদালতে বিষয়টি উঠে আসে।সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ওষুধের বাড়তি দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। কারণ কোনও সরকারি প্রকল্পে চিকিৎসা বা ওষুধের খরচ বেশি হলে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের একটা অংশ সরকারি অর্থ থেকে মেটানো হয়। ফলে এর আর্থিক প্রভাব সাধারণ মানুষের উপরও পড়তে পারে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে।শুনানিতে ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় এবং অনত্যাবশ্যকীয়এই ভাগ করে আলাদা নিয়ম রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতিরা জানতে চান, সব ধরনের ওষুধের ক্ষেত্রেই কি নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশের সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না। আদালতের তরফে ১৬ শতাংশ লভ্যাংশের সীমার কথাও আলোচনায় আসে।কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের অবস্থান আদালতকে জানানো হবে। কেন্দ্র আরও সময় চেয়েছে বলেও সাম্প্রতিক শুনানির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর হওয়ার কথা।তবে ১৬ শতাংশ লভ্যাংশের সীমা এখনই কার্যকর কোনও নতুন নিয়ম নয়। এটি শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব বা প্রশ্ন। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ক্যানসারের ওষুধের দাম নিয়ে এই শুনানি তাই রোগীদের চিকিৎসার খরচ, ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালের ওষুধ বিক্রির পদ্ধতিতিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেই সামনে এনেছে। এখন কেন্দ্রের বক্তব্য এবং পরবর্তী শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থানের দিকে নজর রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি! কাঠুয়ায় সিআইএসএফ শিবিরে ভয়াবহ ঘটনায় মৃত্যু ৪ জওয়ানের

জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় সিআইএসএফের একটি শিবিরে ভয়াবহ গুলিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ডিউটি পরিবর্তনের সময় বচসার পর এক সহকর্মী কয়েকজন জওয়ানকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় চার সিআইএসএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সিআইএসএফ সূত্রে খবর, বিকেলে ডিউটি পরিবর্তনের সময় হেড কনস্টেবল অবধেশ সিংয়ের সঙ্গে কয়েকজন জওয়ানের বচসা হয়। প্রথমে বিষয়টি কথা কাটাকাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে সেই বচসা বড় আকার নেয়।অভিযোগ, এক পর্যায়ে অবধেশ সিং নিজের রাইফেল তুলে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। গুলিতে চার জওয়ান গুরুতর আহত হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনেরই মৃত্যু হয়।নিহত জওয়ানদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পাণ্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং, কনস্টেবল সঞ্জীব কুমার এবং কনস্টেবল মহম্মদ রফিক।ঘটনার পর কাঠুয়া সিআইএসএফ শিবিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। কী কারণে ডিউটি পরিবর্তনের সময় বচসা শুরু হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিআইএসএফ সদর দপ্তরের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি সিআইএসএফের মহাপরিচালক গোটা পরিস্থিতি এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেফতার করার পর তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। চার সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় কাঠুয়া সিআইএসএফ শিবিরে এখন তদন্তের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal