• ৩ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Durga

রাজ্য

স্কুলপড়ুয়াদের হাসপাতালে নিয়ে রক্ত সংগ্রহ! অভিযোগ ঘিরে তোলপাড়, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

দুর্গাপুরে নাবালক স্কুলপড়ুয়াদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্ত সংগ্রহের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ সামনে আসতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অভিযোগ, দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীর একটি বেসরকারি স্কুলের তিন নাবালক পড়ুয়াকে টাকার লোভ দেখিয়ে বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক রোগীর আত্মীয় পরিচয়ে তাঁদের রক্তদান করানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, সরকারি নথিতে তাঁদের প্রকৃত বয়স পরিবর্তন করে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছিল।এই ঘটনার নেপথ্যে ওই স্কুলেরই এক প্রাক্তন ছাত্রের নাম উঠে এসেছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে সে দুর্গাপুরের একটি স্কুলে পড়াশোনা করে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে আরও বড় কোনও চক্র জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।ঘটনা জানাজানি হতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ করে। অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্কুলের অধ্যক্ষা দেবযানী বোস জানান, বিষয়টি জানার পরই পুলিশকে সব তথ্য জানানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এজেন্টের মাধ্যমে নাবালকদের রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।অভিভাবকদের অভিযোগ, টাকার লোভ দেখিয়ে নাবালকদের রক্ত নেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেছেন। পুলিশকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা নাবালকদের প্রলোভন দেখিয়ে এই কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও। তিনি জানান, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং ইতিমধ্যেই রাজ্যের রক্তভান্ডারগুলির উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু অসঙ্গতির তথ্য সামনে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই প্লাজমা অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়েছে এবং কোথাও কোথাও নাবালকদের কাছ থেকেও রক্ত সংগ্রহের অভিযোগ মিলেছে। এমনকি নির্ধারিত মাত্রার চেয়েও বেশি রক্ত নেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আগস্ট ০৫, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুরের একাধিক বহুতলে সতর্কতা! সেখানেই লুকিয়ে থাকতে পারে হামিমরা

জঙ্গি কার্যকলাপে ভাড়া বাড়ির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রাজ্যে। পূর্ব বর্ধমান থেকে জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগের অভিযোগে হামিম মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিভিন্ন আবাসনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ভাড়া ফ্ল্যাটকে ব্যবহার করে কোনও নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছিল কি না।হামিম মণ্ডলকে পূর্ব বর্ধমানের একটি আবাসনের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই ঘটনার পর দুর্গাপুর ও কাঁকসা এলাকার বড় বড় আবাসনগুলিতেও সতর্কতা জারি হয়েছে। প্রশাসনের মতে, ভাড়াটিয়াদের পরিচয় যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা রাখা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।দুর্গাপুরের অন্যতম বড় আবাসন তপোবন সিটিতে বহু পরিবার বসবাস করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মসূত্রে বহু মানুষ এখানে ভাড়া থাকেন। সেই কারণে আবাসনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় আবাসনের বাসিন্দাদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছেন, কেউ ফ্ল্যাট ভাড়া দিলে ভাড়াটিয়ার আধার, ভোটার পরিচয়পত্র-সহ প্রয়োজনীয় নথির অনুলিপি স্থানীয় থানায় জমা দিতে হবে। পাশাপাশি কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ নজরে এলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে।উল্লেখ্য, এর আগেও কাঁকসা এলাকা থেকে বাংলাদেশভিত্তিক একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল এসটিএফ। সেই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। এবার হামিম মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার পর আবারও ভাড়া আবাসনগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ভাড়া বাড়িকে ব্যবহার করে কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল কি না।

আগস্ট ০২, ২০২৬
কলকাতা

দুর্গাপুজোর আগেই আলোচনায় চোরবাগান! একই পুজোয় দু'বার খুঁটিপুজো কেন?

রথযাত্রার পর থেকেই দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বহু পুজো কমিটি খুঁটিপুজো সেরে ফেলেছে। তবে কলকাতার এক ঐতিহ্যবাহী পুজো এবার অন্য কারণে আলোচনায়। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় একই বছরে দ্বিতীয়বার খুঁটিপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে।পুজো কমিটির বর্তমান সম্পাদক রাজকুমার সেওদার দাবি, কয়েক বছর আগে ক্লাব সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় পুরসভার জমি দখল করে ক্লাব তৈরি করা হয়েছিল। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক নোটিস দেওয়া হলেও কোনও পরিবর্তন হয়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই কাঠামো ভাঙার জন্য নোটিস জারি করা হয় বলে তাঁর দাবি।রাজকুমার সেওদার আরও দাবি, সেই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রথম খুঁটিপুজো করা হয়েছিল। তবে তাঁর মতে, প্রচলিত নিয়ম মেনে সেই খুঁটিপুজো হয়নি। সাধারণত নির্দিষ্ট দিক মেনে খুঁটিপুজো করা হয়। শিল্পীর পরামর্শ এবং ধর্মীয় নিয়ম মেনে তাই নতুন করে দ্বিতীয়বার খুঁটিপুজোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বর্তমান পুজো কমিটির আরও অভিযোগ, প্রথম খুঁটিপুজোর সময় মণ্ডপের দেওয়ালে এমন কিছু চিত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এই অভিযোগের জন্য তাঁরা আগের কমিটির ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।এবার পুজো কমিটিতে একাধিক পরিবর্তন হয়েছে। নতুন শিল্পী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সুশান্ত শিবানী পাল। মণ্ডপের মূল ভাবনা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। উদ্যোক্তাদের আশা, এ বছরের আয়োজনও কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হবে।

জুলাই ২৯, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর আগেই বেতন, সঙ্গে ২০% অতিরিক্ত ডিএ! উৎসবের মরশুমে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বড় সুখবর

পুজোর আনন্দের আগেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা। উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই অক্টোবর মাসের বেতন হাতে পাওয়ার পাশাপাশি মিলবে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ)। মঙ্গলবার ভবানী ভবনে আয়োজিত এক সরকারি কর্মসূচিতে এমনই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে বর্ধিত ডিএ পাওয়ার কথা ছিল নভেম্বর মাসে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নতুন ঘোষণায় সেই সময়সীমা এগিয়ে আনার ইঙ্গিত মিলেছে। অর্থাৎ, পুজোর মাসে উৎসবের আগেই সরকারি কর্মচারীদের হাতে পৌঁছতে পারে অক্টোবরের বেতন এবং ঘোষিত অতিরিক্ত ডিএ।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই অর্থসচিব এবং অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাঁর নির্দেশ, পুজোর মাসে যাতে কর্মচারীরা উৎসবের আগেই অক্টোবর মাসের বেতন পান এবং একই সঙ্গে ঘোষিত ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিএ-ও তাঁদের দেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতার যে ব্যবধান রয়েছে, তা একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে সেই ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যেই সরকার এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিনের এই ব্যবধান একদিনে মেটানো সম্ভব নয়, তবে কর্মচারীদের বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে।চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান ছিল ৪২ শতাংশ বলে দাবি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিএ দেওয়ার ঘোষণা করেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে নভেম্বর মাসে বর্ধিত ডিএ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর মঙ্গলবারের ঘোষণায় সেই অর্থপ্রদানের সময় এগিয়ে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।ফলে পুজোর আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের হাতে একসঙ্গে বেতন ও বর্ধিত ডিএ পৌঁছলে উৎসবের মরশুমে তাঁদের আর্থিক স্বস্তি অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পুজোর আগে বাড়তি খরচের সময়ে এই অতিরিক্ত অর্থ কর্মচারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।তবে শুধু ডিএ নয়, সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবিবেতন কমিশন নিয়েও এদিন সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, অন্যান্য রাজ্যে অষ্টম বেতন কমিশন চালুর প্রক্রিয়া শুরু হলেও রাজ্যে এখনও সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হয়নি। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের রিপোর্ট সরকারের হাতে এলেই তা কার্যকর করার বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ফলে একদিকে পুজোর আগেই অক্টোবরের বেতন ও ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিএ পাওয়ার সম্ভাবনা, অন্যদিকে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার আশ্বাসদুই ঘোষণাকে ঘিরেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন নজর থাকবে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী পুজোর আগেই বেতন ও বর্ধিত ডিএ প্রদানের বিষয়ে অর্থ দফতর কী নির্দেশিকা জারি করে।

জুলাই ২৯, ২০২৬
রাজ্য

টায়ার সারাইয়ের কর্মীর বাড়িতে হঠাৎ তল্লাশি, তারপর যা জানা গেল তাতেই স্তম্ভিত গোটা এলাকা

সোমবার সকালে দুর্গাপুরের নিউ স্টিল পার্ক এলাকায় হঠাৎ কয়েকটি সাদা গাড়ি এসে থামে। গাড়ি থেকে নেমে কয়েকজন আধিকারিক স্থানীয়দের কাছে গোলাম জামার বাড়ির খোঁজ জানতে চান। প্রথমে কেউ বুঝতে পারেননি তাঁরা তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক। পরে বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছান বহু মানুষ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও।এরপর গোলাম জামার ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি শুরু করে তদন্তকারী সংস্থা। বাড়ির বাইরে মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তা বাহিনী। তদন্তকারী দলের সঙ্গে একজন মহিলা আধিকারিকও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিন বছর ধরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন গোলাম জামা। তিনি অন্ডাল এলাকায় একটি টায়ার সারাইয়ের দোকানে কাজ করতেন। প্রতিবেশীদের কথায়, তিনি খুব বেশি মেলামেশা করতেন না। তবে এলাকাবাসীর দাবি, মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ার কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। সেই যোগাযোগের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে গোলাম জামার যোগ থাকতে পারে। পাশাপাশি জাল পাসপোর্ট চক্রের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাল নথির সাহায্যে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানো হত এবং সেখানে তাঁদের নাশকতামূলক কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল।এর আগে একই মামলায় ছত্তীসগঢ় থেকে দুই জনকে গ্রেফতার করেছিলেন তদন্তকারীরা। সেই তদন্তেই গোলাম জামার নাম সামনে আসে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তদন্তকারীদের দাবি, বেশ কিছু দিন ধরেই তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। তবে এই সমস্ত অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে এবং এ বিষয়ে আদালতে চূড়ান্ত রায় এখনও হয়নি।

জুলাই ২৭, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর অনুদান নিয়ে বড় ঘোষণা! কারা পাবেন টাকা, কারা পাবেন না জানালেন শুভেন্দু

দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে এবার অনুদান দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমলে প্রতি বছর পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হত। গত বছর সেই অনুদানের পরিমাণ ছিল এক লক্ষ দশ হাজার টাকা। সরকার পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, নতুন সরকারের আমলেও কি সেই অনুদান চালু থাকবে?এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। খুব শীঘ্রই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে বৈঠক হবে। সেই বৈঠকেই অনুদান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, যেসব ক্লাব আর্থিক সমস্যার কারণে পুজো আয়োজন করতে অসুবিধায় পড়ে, মূলত তাদেরই সাহায্য করা উচিত। যেসব বড় ক্লাবের নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাদের সরকারি অনুদানের প্রয়োজন নাও হতে পারে।শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যাঁদের সত্যিই অর্থের প্রয়োজন, তাঁরাই অনুদান পাবেন। যাঁদের প্রয়োজন নেই, তাঁদের অনুদান দেওয়ার প্রয়োজনও নেই। ফলে এবার অনুদান বণ্টনের ক্ষেত্রে নতুন নীতি নেওয়া হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এ বছর রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যায় দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁর আশা। সেই কারণেই পুজোকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় সব বিষয় নিয়ে সরকার গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করবে।উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে প্রথমবার দুর্গাপুজোর অনুদান চালু হয়েছিল দুই হাজার আঠারো সালে। তখন প্রতিটি ক্লাবকে দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতি বছর সেই অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত গত বছর তা বেড়ে এক লক্ষ দশ হাজার টাকায় পৌঁছায়। পুজোর আগে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ক্লাব প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে অনুদানের ঘোষণা করা হত। নতুন সরকারের আমলে সেই প্রথা বজায় থাকবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের হাজার হাজার পুজো কমিটির।

জুন ১২, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপূজার অনুদানে আমূল বদল! ‘সবার জন্য নয়’, নতুন নীতির ইঙ্গিত শুভেন্দুর

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই দুর্গাপূজার সরকারি অনুদান নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার স্পষ্ট বার্তা দিল নতুন বিজেপি সরকারের নেতৃত্ব। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, দুর্গাপূজার সরকারি অনুদান পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না, তবে আগের মতো সমস্ত পুজো কমিটিকে এক ছাঁচে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নীতি থেকে সরে আসতে চলেছে সরকার।শুক্রবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নতুন সরকার আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণ করতে চায়। সেই কারণেই দুর্গাপূজার অনুদান ব্যবস্থার উপর শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন এবং সেখানেই চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।প্রসঙ্গত, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্গাপূজার অনুদান প্রতি বছরই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ২০২৫ সালে রাজ্যের প্রতিটি নিবন্ধিত দুর্গাপূজা কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তার আগের বছর এই অনুদানের পরিমাণ ছিল ৮৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়, ফায়ার লাইসেন্সের ফি মকুব এবং একাধিক প্রশাসনিক সুবিধাও দেওয়া হয়েছিল পুজো কমিটিগুলিকে।তবে নতুন সরকার সেই মডেলকে পুনর্বিবেচনা করতে চাইছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর এবং বড় বাজেটের পুজোগুলিকে সরকারি অনুদানের আওতার বাইরে রাখা হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পুজো কমিটি কর্পোরেট স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য উৎস থেকে পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম, তাদের ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব পুজো কমিটি নিজেদের সামর্থ্যে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারে, তাদের সরকারি অর্থ দেওয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে কি না, তা সরকার বিবেচনা করবে। কিন্তু যেসব কমিটি আর্থিকভাবে পিছিয়ে, যাদের এই সহায়তা ছাড়া পুজো আয়োজন কঠিন হয়ে পড়বে, তাদের পাশে সরকার অবশ্যই থাকবে।সরকারি সূত্রে খবর, সম্ভাব্য নতুন নীতিতে পুজো কমিটির আর্থিক অবস্থা, বাজেট, স্পনসরশিপের পরিমাণ এবং স্থানীয় সামাজিক ভূমিকার মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে অনুদান পেতে গেলে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হতে পারে পুজো কমিটিগুলিকে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন সরকার একদিকে যেমন সরকারি ব্যয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে চাইছে, অন্যদিকে সরকারি সাহায্য প্রকৃত প্রয়োজনমাফিক বণ্টনের বার্তাও দিতে চাইছে। বিরোধীদের মতে, এটি জনপ্রিয় একটি প্রকল্পের পরিধি সংকুচিত করার পদক্ষেপ হতে পারে, যদিও সরকারের দাবিএটি সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থ ও আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন।এখন নজর তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আসন্ন বৈঠকের দিকে। সেখান থেকেই স্পষ্ট হবে, ২০২৬ সালের দুর্গাপূজায় কোন ধরনের কমিটিগুলি সরকারি অনুদানের আওতায় থাকবে এবং নতুন নীতির চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক কী হতে চলেছে।কর্পোরেট স্পনসর পাওয়া বড় পুজোগুলির জন্য অনুদান অনিশ্চিত, আর্থিকভাবে দুর্বল কমিটিগুলির পাশে থাকার আশ্বাস সরকারের।

জুন ১২, ২০২৬
রাজ্য

অসুস্থ যাত্রীর পাশে ভারতীয় রেল, মানবিক উদ্যোগে মুগ্ধ পরিবার

যাত্রী পরিষেবার পাশাপাশি মানবিকতার অনন্য নজির গড়ল ভারতীয় রেল। পরিবারের বিশেষ আবেদনে সাড়া দিয়ে দিল্লি-হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেসে যাত্রারত এক গুরুতর অসুস্থ যাত্রীর নিরাপদ অবতরণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করল রেল কর্তৃপক্ষ।জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলার বাসিন্দা সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি নয়াদিল্লির এইমস (AIIMS) হাসপাতালে মেরুদণ্ডের জটিল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর চলাফেরা সম্পূর্ণভাবে সীমিত ছিল এবং তাঁকে শুয়ে থেকেই যাত্রা করতে হয়। তিনি ১২৩১৪ শিয়ালদহ রাজধানী এক্সপ্রেসে নয়াদিল্লি থেকে দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ২জুন ২০২৬।গুরুতর অসুস্থ যাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর দাদা স্নেহাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় আগাম রেল মদত (Railmadad) হেল্প লাইনে দূর্গাপুর স্টেশনে দুই মিনিটের অতিরিক্ত সময় থামার জন্য আবেদন জানান। সেই মোতাবেক দুর্গাপুর স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজারের কাছে স্ট্রেচার ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয় রেল মদত। নির্দেশ পাওয়ার পরই পূর্ব রেলের দুর্গাপুর স্টেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন। ট্রেনটি দুর্গাপুর স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই প্ল্যাটফর্মে স্ট্রেচার, রেলকর্মী এবং রেল পুলিশকে প্রস্তুত রাখা হয়।বুধবার সকালে রাজধানী এক্সপ্রেস দুর্গাপুর স্টেশনে পৌঁছালে মাত্র দুই মিনিটের নির্ধারিত স্টপেজের মধ্যেই রেলকর্মী ও রেল পুলিশের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অসুস্থ যাত্রী সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্রেন থেকে নামানো হয়। এরপর তাঁকে স্ট্রেচারের সাহায্যে নিরাপদে স্টেশন থেকে বের করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দুর্গাপুর রেল স্টেশনের ডেপুটি স্টেশন মাস্টার শ্রী অর্ণব ব্যানার্জি এবং আরপিএফ পোস্ট, দুর্গাপুরের এএসআই টি কে লাহা স্বয়ং উপস্থিত থেকে অসুস্থ যাত্রী সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়কে শিয়ালদহ রাজধানী এক্সপ্রেস থেকে অত্যন্ত দ্রুততা, দক্ষতা ও সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে নিরাপদে নামানোর ব্যবস্থা করেন।অসুস্থ যাত্রী সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়-র দাদা স্নেহাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁদের মানবিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, তৎপরতা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব বিশেষভাবে প্রশংসার দাবিদার। যাত্রীর নিরাপত্তা ও সুস্থতার প্রতি তাঁদের আন্তরিক দায়িত্ববোধ উপস্থিত দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং ভারতীয় রেলের সেবামূলক মানসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেস্নেহাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে ভারতীয় রেলের এই দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, স্টেশন কর্তৃপক্ষ, রেল পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আন্তরিক সহযোগিতা না পেলে এত স্বল্প সময়ে রোগীকে নিরাপদে নামানো সম্ভব হত না। ভারতীয় রেলের মানবিক মুখ আমাদের সত্যিই মুগ্ধ করেছে।যাত্রীসেবার পাশাপাশি মানবিক দায়বদ্ধতার এই দৃষ্টান্ত আবারও প্রমাণ করল, বিপদের সময় যাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে ভারতীয় রেল সর্বদাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে রেলের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় করবে বলেই মনে করছেন যাত্রী মহলের একাংশ।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সরকারি গাড়ি ছেড়ে বাসে চড়লেন জেলাশাসক! মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যেতে পুরুলিয়ার অভিনব সিদ্ধান্ত

জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা মেনে এবার অভিনব উদ্যোগ নিল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে সরকারি গাড়ির বদলে বাসে চড়ে দুর্গাপুর রওনা দিলেন জেলার আমলা ও পুলিশ কর্তারা। বৃহস্পতিবার সকালে এই ছবি ঘিরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন, যতটা সম্ভব জ্বালানি বাঁচাতে হবে এবং যাতায়াতে গণপরিবহনকে গুরুত্ব দিতে হবে। তারই মধ্যে চলতি মাসের ১৮ তারিখ রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালও সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মেনেই এবার একসঙ্গে বাসে চড়ে দুর্গাপুরে রওনা দিল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন।বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে দশটা নাগাদ জেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে দুটি বাসে করে রওনা দেন জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক এবং বিডিওরা। একইভাবে পুলিশের আধিকারিকরাও গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে বৈঠকে যোগ দিতে যান।পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা অনুযায়ী জ্বালানির খরচ কমাতে হবে। পাশাপাশি রাজ্যের তরফেও সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমানোর নির্দেশ রয়েছে। আমরা সেই নির্দেশ মেনেই বাসে করে দুর্গাপুর যাচ্ছি।তিনি আরও বলেন, এটা শুধু সরকারি নির্দেশ পালন নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা। কম খরচে এবং কম জ্বালানিতে কীভাবে কাজ করা যায়, সেটাই দেখাতে চাইছি।দুপুর দুটো নাগাদ দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ জেলা পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। বিডিওদের পাশাপাশি থাকবেন ওসি, আইসি, বিধায়ক এবং সাংসদরাও।প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই বৈঠক থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব প্রশাসনিক খরচ কমানো নিয়ে সাত দফা নির্দেশ জারি করেছেন। সেই অনুযায়ী প্রতিটি জেলা প্রশাসন এবং সরকারি দফতরকে আগামী অর্থবর্ষের জন্য তাৎক্ষণিক, মধ্যবর্তী এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের মধ্যে সেই রিপোর্ট মুখ্যসচিবের দপ্তরে জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতি মাসে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ রয়েছে।

মে ২১, ২০২৬
রাজ্য

দেওয়াল মুছতেই হামলা! ভোটের আগে দুর্গাপুরে কমিশনের কর্মীদের উপর চড়াও অভিযোগ

ভোটের আগে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেই দুর্গাপুরে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মীকে মারধরের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়াল। সরকারি দেওয়ালে লেখা রাজনৈতিক প্রচার মুছতে গিয়ে আক্রান্ত হন তাঁরা।নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সরকারি কোনও দেওয়াল বা জায়গায় রাজনৈতিক প্রচার করা যাবে না। সেই নির্দেশ মেনেই এসডিও দপ্তরের নির্দেশে কমিশনের কর্মীরা এলাকায় পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। দুর্গাপুরের কলোনিপাড়ায় পোস্ট অফিসের দেওয়ালে লেখা প্রার্থীর নাম মুছতে যান তাঁরা। অভিযোগ, সেই কাজ শেষ করে গাড়িতে ওঠার পর আচমকাই তাঁদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।আক্রান্ত এক কর্মীর দাবি, তাঁরা সরকারি নির্দেশ মেনেই কাজ করছিলেন। নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁদের কথা শোনা হয়নি। স্থানীয় কিছু মানুষ নিজেদের শাসকদলের সমর্থক বলে দাবি করে তাঁদের উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ।যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, মারধরের ঘটনা ঘটেনি। বরং বিরোধী দলের কর্মীরাই বাইরে থেকে লোক এনে নিজেরাই দেওয়াল মুছছিল এবং উত্তেজনা তৈরি করছিল।ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মার্চ ২২, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুরের মেডিক্যাল কলেজে ফের চাঞ্চল্যকর ঘটনা, একই কলেজে ছাত্রের রহস্যমৃত্যু

দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ফের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। হস্টেলের বাথরুম থেকে উদ্ধার হল দ্বিতীয় বর্ষের এক চিকিৎসক পড়ুয়ার দেহ। মৃতের নাম লাবণ্য প্রতাপ, বয়স ২২। তিনি বিহারের পাটনার বাসিন্দা। শনিবার রাতে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতের বাবা জানিয়েছেন, তাঁদের কেউ আগে কিছু জানায়নি। দরজা খুলে তিনি দেখেন, তাঁর ছেলে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। এরপরই প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে।মৃতের পরিবারের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাবা বলেন, অভিভাবকেরা টাকা দেন পড়াশোনার জন্য, কিন্তু ছাত্রদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কলেজেরই।সম্প্রতি কলেজে পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। সেই ফল ভাল না হওয়ায় মানসিক চাপে এই ঘটনা কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর এই একই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে মেডিক্যাল কলেজের বাইরে জঙ্গলে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন স্থানীয় যুবক এবং একজন সহপাঠী। বর্তমানে তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই কলেজে ছাত্রের মৃত্যু ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
রাজ্য

সাতসকালেই পশ্চিম বর্ধমানে ইডির হানা, বালি-কয়লা পাচারে বড় নাম উঠে আসছে?

রাজ্যে ফের অ্যাকশন মোডে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার সাতসকালেই পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইডি। বালি ও কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে এই অভিযান বলে জানা গিয়েছে। নবগ্রাম, দুর্গাপুর ও পাণ্ডবেশ্বর-সহ জেলার একাধিক এলাকায় একসঙ্গে হানা দেন ইডির আধিকারিকরা।৩ ফেব্রুয়ারি সকালেই প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পশ্চিম বর্ধমানে পৌঁছয় ইডির দল। তদন্তকারীরা ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের কয়লা বেআইনিভাবে উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন বলে সূত্রের খবর। নবগ্রামে প্রথম তল্লাশি শুরু হয়, পরে দুর্গাপুর ও পাণ্ডবেশ্বরেও অভিযান ছড়িয়ে পড়ে।দুর্গাপুরে বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত প্রবীর দত্তের বাড়িতে পৌঁছন ইডির আধিকারিকরা। দীর্ঘদিন ধরেই বালির ব্যবসার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। আগে তিনি পানাগড়ে থাকতেন। প্রায় দুই বছর আগে দুর্গাপুরে একটি বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করে সেখানে থাকতে শুরু করেন। সম্প্রতি তাঁর দুবাই সফরের খবরও সামনে এসেছে।ভোরের দিকে ইডির তিন সদস্যের একটি দল ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তল্লাশি চালাতে গেলে প্রথমে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় ইডি আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন। বালি পাচারের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, এই চক্র কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে। প্রবীর দত্তের ভাইয়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।এর আগে কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। তার পর এবার দুর্গাপুরে এই অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুর থেকে তৃণমূলে আক্রমণ নিতিন নবীনের, ‘এবার বাংলার পালা’

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর ভোটের রাজ্য বাংলায় এসে পৌঁছলেন বিজেপি নেতা নিতিন নবীন। মঙ্গলবার দুর্গাপুরে আসেন তিনি। বুধবার সেখান থেকেই জনসভা করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানান বিজেপির নতুন সভাপতি। সভামঞ্চ থেকে রাজ্যের দুর্নীতি, ধর্মীয় ইস্যু, প্রশাসনের ভূমিকা ও অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে একের পর এক কড়া মন্তব্য করেন তিনি।নিতিন নবীন বলেন, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে তৃণমূলের একাধিক নেতা জেলে রয়েছেন, আবার অনেকে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যাঁরা এখনও বাইরে আছেন, তাঁরাও জেলে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর দাবি, দুর্নীতির সঙ্গে যাঁরাই যুক্ত, কাউকেই ছাড়া হবে না।দুর্গাপুজো প্রসঙ্গে নিতিন নবীন বলেন, শক্তির আরাধনা দুর্গাপুজো থেকেই শুরু হয় এবং বাংলা থেকেই তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ এই রাজ্যেই মায়ের পুজোয় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আজান চলার সময় কোনও সমস্যা হয় না, কিন্তু দুর্গার আরাধনায় বাধা তৈরি করা হয়। বিজেপি নেতা বলেন, কোনও হিন্দুই এই পরিস্থিতি মেনে নেবে না এবং পরম্পরা রক্ষায় বিজেপি সব রকম ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক চরিত্র বদলের চেষ্টা চলছে। তামিলনাড়ুতে দীপম উৎসবে পুজো করতে বাধা দেওয়া হয়েছে আজানের কারণে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই রাজ্যের সরকার ইন্ডি জোটে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নিতিন নবীন। আদালত পুজোর অনুমতি দেওয়ার পর বিচারপতিকে সরাতে ইমপিচমেন্টের চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, সনাতনী সংস্কৃতি বাঁচানোর লড়াই শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের।প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে নিতিন নবীন বলেন, এটি চার দিনের সরকার। তৃণমূলের কথায় নাচবেন না। কাঠের পুতুল হয়ে থাকবেন না। প্রশাসনের কাজ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঘরে ঘরে গিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতির কথা মানুষকে জানাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, রাজ্যে যে অরাজকতা তৈরি হয়েছে, তার উল্টো গোনা শুরু করে দিয়েছে বাংলার মানুষ। খুব শিগগিরই বিজেপি বাংলার বিকাশের দায়িত্ব নেবে বলে দাবি করেন তিনি।এসআইআর ইস্যুতেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেন নিতিন নবীন। তাঁর বক্তব্য, দিল্লিতে গিয়ে কান্নাকাটি করা হবে, অথচ রাজ্যে এসপি ও ডিএমদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, কমিশন অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে চাইছে। যাঁদের জন্ম বাংলায়, যাঁরা এই মাটির মানুষ, তাঁরাই বাংলার অধিকার পাবেন। বাংলাদেশ থেকে আসা কোনও অনুপ্রবেশকারীকে বাংলায় থাকার অধিকার দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন বিজেপি সভাপতি।তৃণমূলের বিধায়ক ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুলে নিতিন নবীন বলেন, একসময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু এখন তার থেকেও বড় দুর্নীতির কারখানা তৈরি হয়েছে। বিজেপি আগেও উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো রাজ্যে তথাকথিত জঙ্গলরাজ শেষ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, এবার বাংলার পালা। বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই, প্রত্যেক কর্মীর পিছনে পুরো বিজেপি পরিবার রয়েছে। লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
কলকাতা

দুর্গাপুজোর বিশ্বস্বীকৃত ঐতিহ্যকে চিরস্থায়ী করতে নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর

ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে শুধু স্মৃতিতে নয়, স্থায়ী স্থাপত্যে ধরে রাখার লক্ষ্যেই কলকাতার নিউটাউনে গড়ে উঠতে চলেছে দুর্গা অঙ্গন। রাজ্যের দুর্গাপুজোর আবহমান ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এই ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে সোমবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি প্রকাশ্যে আনলেন প্রস্তাবিত মন্দির কমপ্লেক্সের রূপ ও পরিসর।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, দুর্গা অঙ্গন হবে বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গামন্দির। প্রায় ২ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে গড়ে উঠবে মূল মন্দির, যার চারপাশে থাকবে বিস্তীর্ণ খোলা প্রাঙ্গণ ও সবুজে মোড়া চত্বর। প্রতিদিন এক লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগমের কথা মাথায় রেখেই পরিকাঠামোর নকশা করা হয়েছে। মন্দির চত্বরে নকশা করা খিলানের মধ্যে দাঁড়াবে এক হাজার আটটি স্তম্ভ, গর্ভগৃহের উচ্চতা হবে ৫৪ মিটার। থাকবে ১০৮টি দেবদেবীর মূর্তি ও ৬৪টি সিংহমূর্তি। সিংহদুয়ার ও পবিত্র কুণ্ড এই স্থাপত্যের অন্যতম আকর্ষণ হবে।দুর্গা অঙ্গনে মূল মন্দিরের পাশাপাশি পৃথক ভাবে তৈরি হবে শিব, লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিকের মন্দির। এখানে সারা বছর, অর্থাৎ ৩৬৫ দিনই দুর্গাপুজো চলবে। গর্ভগৃহের বাইরের অংশে এক সঙ্গে প্রায় এক হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা থাকবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা, প্রসাদ ঘর এবং মন্দির সংলগ্ন পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও থাকছে।এই প্রকল্পের নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে হিডকোদিঘার জগন্নাথ মন্দিরের মতোই। প্রথমে ১২ একর জমিতে দুর্গা অঙ্গন গড়ার ভাবনা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ১৭.২৮ একরে করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা, বড় কাজ যখন করছি, তখন সেটাও বড় মাপেই হোক। ইতিমধ্যেই দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।মন্দিরের নির্মাণ ও ভবিষ্যৎ পরিচালনার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চেয়ারম্যান করে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্গা অঙ্গনের তহবিলে জমা অর্থেই দুর্গামূর্তির খরচ উঠে এসেছে।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণেশ্বর মন্দির, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ, রামকৃষ্ণ মিশন কামারপুকুরের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি চার্চ, বৌদ্ধমঠ, গুরুদ্বার ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান ক্লাবের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। মঞ্চ থেকেই সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।অনুষ্ঠানের শুরুতে নৃত্য পরিবেশন করেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। পরে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবুল সুপ্রিয়, ইমন চক্রবর্তী ও ইন্দ্রনীল সেন। বিকাল ৩টা ৫৬ মিনিটে রিমোটের বোতাম টিপে দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি ভিত্তিফলকের সামনে লাল রঙের উপর সোনালি সুতোর কাজ করা একটি শাড়ি অর্পণ করেন এবং হিডকোকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও ঘোষণা করেন, আগামী জানুয়ারি মাসে শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে স্মরণে রেখে দুর্গা অঙ্গন যে শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বরং রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক স্থায়ী প্রতীক হয়ে উঠতে চলেছেতা স্পষ্ট করে দিল এই দিন।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
রাজ্য

দুর্গাপুরে ডাক্তারি ছাত্রী গণ.ধর্ষণ কাণ্ডে মুখ খুললেন পুলিশ কমিশনার, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রীর উপর গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। সোমবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী বলেন, পুলিশ নির্যাতিতার পরিবারের পাশে আছে। প্রথম দিন থেকেই আমরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তাঁরা যেন নিরাপদে থাকেন, তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।কমিশনার আরও বলেন, পুলিশ এই মামলায় নির্যাতিতার পরিবারের সদস্য হিসেবেই কাজ করছে। তাঁরা যেন ন্যায়বিচার পান, সেই লক্ষ্যে দ্রুত তদন্ত চলছে। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই একাধিক দল গঠন করে অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান শুরু করা হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলের পুনর্নির্মাণ (crime scene reconstruction) করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ব্যবহৃত জামাকাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, তদন্তের প্রতিটি ধাপে নির্যাতিতার পরিবারকে অবহিত করা হচ্ছে।তবে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে কমিশনার বলেন, মেডিক্যাল রিপোর্ট ও প্রাথমিক ফরেনসিক বিশ্লেষণে জানা যাচ্ছে, ধর্ষণের ঘটনায় মূলত একজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। বাকিদের ভূমিকা এখনও তদন্তাধীন। ফলে গণধর্ষণ অভিযোগের পরিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কমিশনার স্পষ্ট জানান, যে দোষী হবে, তাকে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। আইনের পথে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই ঘটনার পর দুর্গাপুর জুড়ে উত্তেজনা ছড়ালেও পুলিশ কমিশনার সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনাকে কেউ রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করলে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিন পুলিশ কমিশনার ব্যক্তিগতভাবে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তাঁর কথায়, মেয়েটির সাহসকে আমরা স্যালুট জানাই। এমন অপরাধ যেন আর কেউ করার সাহস না পায়, তার জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে।

অক্টোবর ১৪, ২০২৫
রাজ্য

দুর্গাপুরে ডাক্তারি ছাত্রীর ‘গণধর্ষণ’, তিন অভিযুক্ত গ্রেফতার — সহপাঠীর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে

দুর্গাপুরে কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে তিন অভিযুক্তকে। তাঁদের রবিবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।ঘটনাস্থল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মাত্র ৭০০ মিটার দূরে, ঘন ঝোপঝাড়ে ঘেরা এলাকায়। পুলিশ জানায়, সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই বসে নেশার ঠেকমদ ও গাঁজা বিক্রির আড্ডা। শনিবার রাতে ওই ঠেকেই ছিলেন তিন অভিযুক্ত। তখনই তাঁরা কলেজের ডাক্তারি ছাত্রী এবং তাঁর এক সহপাঠীকে রাস্তায় হাঁটতে দেখে প্রথমে তরুণীকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন। এর পর তাঁকে জোর করে টেনে নিয়ে গিয়ে জঙ্গলে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাকালীন তরুণীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। পরে তদন্তে ধৃতদের কাছ থেকেই তরুণীর ফোন উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, তিন জনের বিরুদ্ধেই প্রত্যক্ষ প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, সহপাঠীকে পালিয়ে যেতে দেখে তরুণী কলেজের বন্ধুদের ফোন করেছিলেন। পরে তাঁর বন্ধুরাই ওই সহপাঠীকে ঘটনাস্থলে ফের যেতে বলেন। এই সময়েই নির্যাতিতাকে ধর্ষণ করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পুলিশের।ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই পুলিশ ওই সহপাঠীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তাঁর বয়ানেই পুরো ঘটনার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে বলে সূত্রের খবর। তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট রঞ্জনা রায়।কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, রাত ৭টা ৫৮ মিনিটে সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়েছিলেন তরুণী। ৮টা ৪২ মিনিটে সহপাঠী একা ফিরে আসেন, গেটের কাছে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে ফের বাইরে যান। পরে রাত ৯টা ২৯ মিনিটে দুজন একসঙ্গে কলেজে ফেরেন। ৯টা ৩১ মিনিটে তরুণী নিজের হস্টেলে ফিরে যান।অভিযোগ, তরুণীর বাবার দাবি অনুযায়ী, তাঁর মেয়েকে বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন সেই সহপাঠীই, এবং ধৃত তিন জন ওই ছাত্রেরই বন্ধু। তাঁর কথায়, রাত ১০টার দিকে ওর বন্ধু ফোন করে জানায়, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওর এক বন্ধু ওকে খেতে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যখন দু-তিন জন মেয়েকে ঘিরে ধরে, তখন ওর বন্ধুটি পালিয়ে যায়।এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পুলিশ মনে করছে, ঘটনায় আরও কয়েক জন যুক্ত থাকতে পারে। তাঁদের খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান

অক্টোবর ১২, ২০২৫
উৎসব

চোটখন্ড উন্নয়নী সংঘ দুর্গোৎসব ঘিরে চার দিনের আয়োজনে আনন্দমুখর পরিবেশ

চোটখন্ড উন্নয়নী সঙ্ঘের আয়োজিত দুর্গোৎসব এ বছরও যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো। টানা চারদিন ধরে শিষ্টাচার মেনে পূজা-পার্বণ, বিবিধ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাতৃ আরাধনায় সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা।প্রথামত ষষ্টী-তে দেবীর বোধনের মাধ্যমে পুজারম্ভ হয়। সপ্তমী তিথিতে নবপত্রিকার স্নান, অষ্টমী তিথিতে সন্ধিপূজা ও বলিদান, ও নবমী তিথিতে হোম যজ্ঞ-র আয়োজন কর হয়। দশমী তিথিতে দেবী অপরাজিতার পুজার মাধ্যমে সাঙ্গ হয় এবছরের আরাধনা, অপেক্ষা আরেকটি বছরের।দশমী তিথিতে দেবী দুর্গার পূজা-পর্ব শেষে আয়োজিত হয় সান্ধ্যকালীন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এলাকার কচিকাঁচা থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ কৃতী শিল্পীরাও এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। এর পাশাপাশি চারদিন ধরে চলতে থাকা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ক্লাবের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয় স্মারক পুরস্কার।একাদশীর দিনে প্রথা অনুযায়ী দিনের বেলা ঢাক-ঢোল বাদ্যি সহযোগে এলাকার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা দেবী প্রতিমা নিরঞ্জনে অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যার পর চোটখন্ড উন্নয়নী সঙ্ঘের পক্ষ থেকে প্রায় ২০০০ জন ভক্তের মাঝে চোটখন্ড বারোয়ারী তলায় খিচুড়ি ভোগ বিতরণ করা হয়। ভোগ প্রাপ্তির আনন্দে চারিদিক মুখরিত হয়ে ওঠে।চোটখন্ড উন্নয়নী সঙ্ঘের সম্পাদক সান্তনু চট্টোপাধ্যায় জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও সকলে মিলেমিশে দুর্গোৎসব পালন করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। স্থানীয় মানুষজনের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে ওঠে। ক্লাবের অপর এক সদস্য চঞ্চল মোহন্ত জনতার কথাকে জানান, সারাবছরই আমরা প্রত্যেকেই নানাবিধ কাজে ব্যস্ত থাকি। এই চারটে দিন পজোর ব্যস্ততায় বারোয়ারী তলায় কি ভাবে কেটে যায় বুঝতেই পারিনা। পাড়ার মা, বোন ও ছোটছোট ছেলেমেয়েরা প্রচুর আনন্দ করে/করেন। তিনি জানান, আবার আরেকটি বছরের অপেক্ষা, তিনি আরও বলেন তাঁরা সামনের বছর আরও ভালো কিছু করার পরিকল্পনা করবেন। সকলে মিলে বসেই সেই পরিকল্পনা করবেন বলে জানান।

অক্টোবর ০৩, ২০২৫
রাজ্য

কালনায় আস্ত নন্দন! মহানায়ক উত্তমকুমারকে ঘিরে দুর্গাপুজোয় অভিনব উদ্যোগ

জন্মশতবর্ষের সূচনায় মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমার পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাবের অভিনব থিম বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমার পীঠস্থান এক সিনেমা হলের আবহে মণ্ডপ, বাজবে মহানায়ক উত্তম কুমারের জনপ্রিয় গানের সুর।পূর্ব বর্ধমানের কালনা এবার দুর্গাপুজোয় দেখবে অন্য রকম চমক। আস্ত নন্দন-এর আবহ টেনে আনা হচ্ছে প্যান্ডেলে, আর সেই আবহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক উত্তমকুমার। জন্মশতবর্ষের সূচনায় মহানায়ককে ঘিরে বছরভর নানা আয়োজন চলছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, আর সেই আবহকেই এ বার থিমে প্রতিষ্ঠা করেছে পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব।মণ্ডপজুড়ে থাকবে উত্তমকুমারের সিনেমার অমর মুহূর্ত, পর্দায় চলবে তাঁর অভিনীত ছবির ক্লিপিংস, আর চারপাশে বাজবে কালজয়ী গান। এক কথায়, তৈরি হচ্ছে সিনেমা হলের মতো পরিবেশ। প্রতিমা আসছে কোলড়ার শিল্পী অভিজিৎ রায়ের হাত ধরে। স্থানীয় শিল্পীরা তৈরি করছেন সাজসজ্জা ও আলোকব্যবস্থা।ক্লাব সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক সুরজিৎ বক্সী বলেন, নন্দনের আদলে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। মাল্টিপ্লেক্সের দাপটে সিঙ্গল স্ক্রিন হারিয়ে গেলেও নন্দন এখনও গর্বের জায়গা। সেই নন্দনের আবহেই মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে চাই।থিমের রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছেন এলাকার বিশু সাহা। যদিও মাঠ ছোট, ফলে নন্দনের হুবহু অনুকরণ সম্ভব নয়, তবে পরিবেশ তৈরির দিকেই জোর দিচ্ছেন তিনি। ক্লাবের সচিব সুকল্যাণ কুণ্ডুর কথায়, বর্তমান প্রজন্মের কাছেও মহানায়কের কীর্তি পৌঁছে দিতে চাই, যাতে তারাও বুঝতে পারে, মহানায়ক কাকে বলে।ক্লাবের এক সদস্য জানান, প্রতি বছরের মতো এ বছরও সংহতি ক্লাব দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত করবে সামাজিক উদ্যোগ। দুই শতাধিক মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হবে।সব মিলিয়ে, কালনার এই অভিনব থিম শুধু পুজোর আনন্দই বাড়াবে না, বরং মহানায়ক উত্তমকুমারের প্রতি বাঙালির চিরন্তন শ্রদ্ধাকেই আরও গভীর করবে।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজ্য

কলকাতায় দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে ২০২৬-এ সোনার বাংলা গড়ার ডাক অমিত শাহর, গেলেন মমতার পাড়ায়

ফের সোনার বাংলা গড়ার ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন কলকাতায় দুর্গাপুজো উদ্বোধনের পাশাপাশি, কালীঘাটে পুজো দেন অমিত শাহ। অমিত শাহ বলেন, আমাদের এই নবরাত্রিতে পূজা মহোৎসব শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতেই নয় সমগ্র বিশ্বে প্রসিদ্ধ। বাংলার এই মহান পরম্পরাকে সমগ্র বিশ্ব স্বীকারও করেছে দেখেওছে।বক্তব্য রাখতে গুয়ে সোনার বাংলা গড়ার ডাক দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, আমি এই প্যান্ডেল এ কিছুক্ষণ আগেই মায়ের পুজো করে এসেছি। আমি মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি, নির্বাচনের পর এই বাংলায় এমন একটি সরকার আসুক যেটি সোনার বাংলার নির্মাণ করতে পারে। আমাদের বাংলা পুনরায় সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ, শান্ত, সুজলা, সুফলা হোক। এখানে কবিগুরুর কল্পনার বাংলার নির্মাণ যাতে আমরা করতে পারি। আজ মহান শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জয়ন্তী। তিনি কেবলমাত্র বাংলা নয় বরং সারা দেশ যখন পরাধীন ছিল তখন শিক্ষার জন্য যা করেছিলেন তা কেউ ভুলতে পারবেন না। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ব্যাকরণ তথা মহিলাদের শিক্ষার জন্য তিনি নিজের সমগ্র জীবন সমর্পিত করেছেন। আমি হৃদয়পূর্বক নিজের তরফ থেকে তথা ভারতীয় জনতা পার্টি এর তরফ থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর চরণে প্রণাম জানাই।এদিন অমিত শাহর ভাষনে ভারী বর্ষার কথাও উঠে আসে। তিনি বলেন, দুর্গাপুজোর আগে এখানে ভারী বর্ষণ হয়েছে। তার জেরে ১০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছে। আমি তাঁদের সকলের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। আমি তাঁদেরও শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে চাই। এই পুজো আমাদের শুভের দিকে নিয়ে যাক, বাংলার বিকাশের মাধ্যমে বিকশিত ভারতের স্বপ্ন যা দেখেছেন আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদী তা সিদ্ধ যেন করতে পারি। বাংলার মানুষকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানাই।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজনীতি

অভিষেক কিসের জবাব চাইলেন অমিত শাহর কাছে? বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গেও কটাক্ষ বিজেপিকে

কলকাতায় দুর্গাপুজো উদ্বোধন করতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। আজ, বিদ্যাসাগরের জন্মদিন। এদিন বিদ্যাসাগর কলেজে মনীষীর মূর্তিতে মাল্যদানের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে এক হাত নেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বলোন, আমার অত্যন্ত খারাপ লেগেছে, কারণ কেউ (অমিত শাহ) যিনি মাত্র ১০ মিনিট দূরে একটি পুজো প্যান্ডেল উদ্বোধন করতে এসেছিলেন, এতটুকু বিবেকবোধ নেই যে, আজ বিদ্যাসাগরের ২০৫তম জন্মজয়ন্তী। তাঁর মনেও হয়নি বিদ্যাসাগরের বাড়ি বা বিদ্যাসাগর কলেজে এসে শ্রদ্ধা জানানোর। একারণেই আমরা বলি ওরা বাংলা-বিরোধী। মানুষ আগেও দেখেছে, আগামীতে আবারও দেখবে।নানা ভাবে বাংলার মনীষীদের অপমান করা হয়েছে বলে তোপ দেগেছেন অভিষেক। তিনি বলোন, আমাদের রাজনৈতিক লড়াই চলতে থাকবে, কিন্তু বাংলার মনীষীদের যেভাবে অপমান করা হয়েছিল, তা ভোলা যাবে না। ওরা জানে না রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোথায় জন্মেছিলেন। ওরা পঞ্চানন বর্মার নামও ভুল উচ্চারণ করে। ওরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায় বা ক্ষুদিরাম বসুর অবদান সম্পর্কেও অজ্ঞ। আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে ওদের থেকে শেখার দরকার নেই।দুর্গাপুজো নিয়েও বিজেপি দ্বিচারিতা করছে বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তিনি বলেন, আজ যিনি দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল উদ্বোধন করছেন, তিনিই পাঁচ বছর আগে বলেছিলেন বাংলায় কোনও দুর্গাপুজো হয় না। আজ সেই দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ স্বীকৃতি পেয়েছে। বিজেপি-শাসিত কোনও রাজ্যের উৎসব বা উদযাপন এধরনের স্বীকৃতি পায়নি। আমাদের কন্যাশ্রীও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ওদের আমাদের বাংলার থেকে শেখা উচিত।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর মন্তব্যের জবাবে অভিষেকের বক্তব্য, ওদের আগে প্রশ্ন করুন: বাংলার প্রাপ্য ২ লক্ষ কোটি টাকা কবে ছাড়বে? কেন এই টাকা আটকে রাখা হয়েছে? যদি বলে আমরা মিথ্যা বলছি, তবে তারা চ্যানেল ও সময় বেছে নিক। আমি নথি-প্রমাণ নিয়ে হাজির হব, এমনকি তাদের নিজেদের চ্যানেল হলেও। বাংলার টাকা আটকে রাখা হয়েছে কোন অধিকারে?অভিষেক বলেন, আমার প্রশ্ন, কেন উনি সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার থেকে এখানে আসলেন না? গাড়িতে ১০ মিনিটের রাস্তা। কারণ, উনি বাংলা-বিরোধী। বাংলার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে অস্বীকার করে। বাংলার বিপ্লবীরা ব্রিটিশদের হারিয়েছিল, বিজেপি কোন ছাড়? বাংলার মানুষের দৃঢ়তার সামনে ওরা কিছুই নয়।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজনীতি

বীরভূম জেলা পরিষদে অনাস্থায় বিপাকে, ভোটের একদিন আগে ইস্তফা কাজল শেখের

শেষ পর্যন্ত পদত্যাগই করলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়েজুল হক ওরফে কাজল শেখ। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণও করা হয়েছে। জেলা পরিষদের এক্সিকিউটিভ অফিসারকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে সভাধিপতির দায়িত্বভার বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তবে কাজল শেখের পদত্যাগের নেপথ্যে রয়েছে জেলা পরিষদে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব। বীরভূম জেলা পরিষদে মোট আসন ৫২টি। তার মধ্যে একটি আসন রয়েছে কংগ্রেসের দখলে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই কাজল শেখ সভাধিপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের হাঁসন কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তিনি।এর পরেই অবশ্য পরিস্থিতির বদল শুরু হয়। সরকার পরিবর্তনের পর জেলা পরিষদের সঙ্গে কাজল শেখের দূরত্ব বাড়ে বলে দাবি। জেলা পরিষদে তাঁর যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষমতায় থাকার সময় ঋতব্রত তৃণমূলে যোগ দিলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।গত ৪ আগস্ট কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন জেলা পরিষদের ১৯ জন সদস্য। তাঁরা বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে সেই প্রস্তাব জমা দেন। আগামী ২১ আগস্ট অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটির দিন নির্ধারিত ছিল। তার ঠিক একদিন আগেই সভাধিপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন কাজল শেখ।তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য নবগোপাল বাউরির অভিযোগ, সভাধিপতি হওয়ার পর জেলা পরিষদের অফিসকে হজ অফিসে পরিণত করেছিলেন কাজল শেখ। তাঁর দাবি, সেই কারণে অধিকাংশ সদস্য তাঁর চেম্বারে যেতেন না। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে জেলা পরিষদের কাজকর্মও কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেই পরিস্থিতিতেই বাধ্য হয়ে অনাস্থা আনা হয়েছিল বলে জানান নবগোপাল।অন্যদিকে, বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় কাজল শেখের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ভাই-ভাইপোদের টেন্ডার পাইয়ে দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দলের সদস্যরাই যখন অনাস্থা এনেছেন, তখন অভিযোগের গুরুত্ব রয়েছে। জেলা পরিষদে বিজেপির কোনও সদস্য না থাকলেও আগামী দিনে সরকারকে দিয়ে কাজল শেখের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, পরবর্তী সভাধিপতি যিনিই হন, তাঁর নেতৃত্বে দুর্নীতিমুক্ত জেলা পরিষদ গড়ার কথাও বলেছেন উদয় শঙ্কর।

আগস্ট ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

টাই-ব্রেকারে বাজিমাত সবুজ-মেরুনের, যুবভারতীতে ফাইনালে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান

ডুরান্ড কাপ ফাইনাল ফের মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। বৃহস্পতিবার শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ গোলে হারিয়ে খেতাব লড়াইয়ে জায়গা করে নিল সবুজ-মেরুন। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে। টানা বৃষ্টির জেরে মাঠের হালও ছিল বেহাল।ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। নর্থইস্টের আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যায় মোহনবাগান। তবে নির্ধারিত সময়ে গোলের মুখ খুলতে পারেনি কোনও দল। ফলে ম্যাচ গড়ায় সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে।টাইব্রেকারে মোহনবাগানের হয়ে সফলভাবে গোল করেন রাহুল ভেকে, শুভাশিস বসু, লিস্টন কোলাসো এবং জেমি ম্যাকলারেন। অন্যদিকে নর্থইস্টের দুই পেনাল্টি আটকে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। তাঁর দুর্দান্ত সেভই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের অন্যতম বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।এই জয়ের ফলে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ফের উঠল মোহনবাগান। আর ফাইনালেই অপেক্ষা করছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল। বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে এসসি দিল্লিকে পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল লাল-হলুদ। অর্থাৎ ২০২৬ ডুরান্ড কাপের ফাইনাল হতে চলেছে একেবারে কলকাতা ডার্বি। রবিবারের ম্যাচের অপেক্ষায় কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা।0টুর্নামেন্টের শুরুটাও হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ডার্বি দিয়ে। এবার ২৩ অগস্টের ফাইনালেও মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে ডুরান্ড কাপের মঞ্চে আরও একবার দেখা যাবে বহু প্রতীক্ষিত সবুজ-মেরুন বনাম লাল-হলুদের মহারণ।

আগস্ট ২০, ২০২৬
রাজ্য

হেলিকপ্টারে সবংয়ের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী, জলবন্দি মানুষের পাশে প্রশাসন

টানা বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির জেরে পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সবং, নারায়ণগড়, মোহনপুর, দাঁতন ও কেশিয়াড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে সবংয়ের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোট পাঁচটি পঞ্চায়েত এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আকাশপথে খতিয়ে দেখেন তিনি। পরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সবংয়ের ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতেরই কমবেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কেলেঘাই ও সুবর্ণরেখা নদীর জলস্তর বাড়ায় বহু গ্রামে জল ঢুকে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ জলবন্দি হয়ে রয়েছেন। বন্যায় সবংয়ে পৃথক ঘটনায় তিন বছরের এক শিশুসহ দুজনের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় মৃতদের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। রিলিফ সেন্টারে থাকা মানুষদের পাঁচ দিনের রেশন দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কেলেঘাই নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বন্যার মধ্যে সাপের কামড়ের ১০টি ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রত্যেকেই চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্য দফতরের কাজেরও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।বন্যায় প্রায় ৩,০০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার থেকেই প্রধানমন্ত্রী শস্য বিমার শিবির শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। টানা বৃষ্টিতে দুই মেদিনীপুর মিলিয়ে প্রায় ১,৬০০টি গ্রাম জলমগ্ন হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর, ময়না, ভগবানপুর ও পটাশপুরের পরিস্থিতি বিশেষভাবে খারাপ। জেলায় ৭১টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে এবং প্রায় ৪৫ হাজার ত্রিপল বিতরণ করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে NDRF, SDRF এবং প্রায় ৪০০ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী কাজ করছেন।অন্যদিকে, কেলেঘাই নদীর জলস্তর বাড়ায় ভগবানপুর ও পটাশপুরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বাঁশ ও কাঠের সেতু ভেসে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রশাসনের নজরদারি ও ত্রাণকাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে ফের রণক্ষেত্র! মুখোমুখি এসএফআই-এবিভিপি, ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা, উত্তেজনা চরমে

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের অশান্তির আঁচ এ বার ছড়িয়ে পড়ল বাইরেও। বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই এবং এবিভিপির পৃথক মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা এলাকা। দুই সংগঠনের মিছিল মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে দুদিকের মিছিল আটকে দেয়। তাতেও অবশ্য উত্তেজনা কমেনি।এইট বি-র সামনে এসএফআইয়ের জমায়েতে আটকে পড়েন রাজ্য সভাপতি দেবাঞ্জন দে এবং যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধর। অন্য দিকে, ঢাকুরিয়া সেতুর কাছে এবিভিপির মিছিলও আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সংগঠনের কয়েক জন সদস্য।এর মধ্যেই এইট বি-র কাছে সকাল থেকে জমায়েত করা এবিভিপির কয়েক জন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে পৌঁছে যান। সেখানে তাঁরা সংগঠনের পতাকা ওড়ান। বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা তার প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের জমায়েত ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।বুধবার রাত থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বাম ছাত্র সংগঠন ফেটসুর গভর্নিং বডির বৈঠককে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, অরবিন্দ ভবনে বৈঠক চলাকালীন এবিভিপির কয়েক জন সদস্য সেখানে ঢুকে হামলা চালান। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও ছাত্র সংসদ না থাকলে গভর্নিং বডির বৈঠক ডাকা হল কেন।এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়। পালটা অভিযোগ ওঠে, ফেটসুর সদস্যরা এবিভিপির সদস্যদের মারধর করেছেন। ঘটনায় কয়েক জন আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।বুধবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কর্মসূচির ডাক দেয় এসএফআই। পালটা মিছিলের ডাক দেয় এবিভিপিও। দুপুরে দুই পক্ষের জমায়েত ও মিছিল শুরু হতেই যাদবপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট, এইট বি, ঢাকুরিয়া সেতু-সহ একাধিক এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুই মিছিল যাতে সরাসরি মুখোমুখি না হয়, সে জন্য ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। কিন্তু একাধিক জায়গায় ব্যারিকেডের সামনে সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।বুধবার রাতের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার ফের দুই ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি যাতে আর না ঘোরালো হয়, সে দিকে নজর রাখছে পুলিশ।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

এসি থেকেই আগুন, তারপর বিষাক্ত ধোঁয়া! নিউ মার্কেটের হোটেলে ৯ মৃত্যুর ফরেনসিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রাথমিক ভাবে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তিনতলার রিসেপশন এলাকায় থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তার বা সংযোগস্থল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। সেই আগুনের সঙ্গে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। আর সেই ধোঁয়াতেই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় হোটেলের ৯ জন আবাসিকের।ফরেনসিক সূত্রে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র যেখানে ছিল, সেই অংশ কিছুটা ফুলে উঠেছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে একের পর এক তার ফাটতে শুরু করে। আগুনের সঙ্গে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভবনে। মুহূর্তের মধ্যে ঘর ও করিডর কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। ঘুমন্ত আবাসিকেরা শ্বাসকষ্টে পড়ে যান। অনেকেই বাইরে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি।১৯ তারিখ গভীর রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কালো ধোঁয়া। হোটেলের বিভিন্ন ঘরে আটকে পড়েন আবাসিকেরা। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে বেরোনোর চেষ্টা করলেও ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।ওই হোটেলেই ছিলেন বাংলাদেশের এক সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, শিশু সন্তান এবং বাবা। সাংবাদিকের বাবা আলাদা একটি ঘরে ছিলেন। অন্য ঘরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ছিলেন তিনি। আগুন লাগার পর পরিবারের সদস্যেরা প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে দুজনের দেহ প্যাসেজ থেকে উদ্ধার হয় বলে জানা গিয়েছে।ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ানও হোটেলের রিসেপশনের পাশের ঘরে ছিলেন। বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। তাঁর বুকেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।বুধবার সব মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ময়নাতদন্ত করা যায়নি। বৃহস্পতিবার দেহগুলির ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।এই ঘটনায় হোটেলের লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হোটেলের ম্যানেজার এবং এক কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হোটেলের পলাতক মালিকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।উল্লেখ্য, তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার ভোররাতে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইন-এ ভয়াবহ আগুন লাগে। গভীর রাতে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় আটকে পড়েন বহু আবাসিক। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েক জন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে তাঁরা ওই হোটেলে উঠেছিলেন।অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আবাসিকদের একাংশের অভিযোগ, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে আগুন লাগার পর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এখন ফরেনসিক পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্যের পর হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তদন্ত আরও জোরদার হতে পারে।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে রাতের সংঘর্ষের পরই হাই কোর্টে মামলা! আবেদন ফিরিয়ে দিল আদালত, আজ ফের রণক্ষেত্রের আশঙ্কা

ফেটসুর সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে রাতভর উত্তেজনা ছিল ক্যাম্পাসে। দুপক্ষেরই কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার দুই পক্ষই পৃথক প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হয়। বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। নতুন করে মামলা দায়ের করে আসার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।জানা গিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি মামলা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে বিচারাধীন। বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনাকে সেই মামলার সঙ্গে যুক্ত করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই আবেদন গ্রহণ না করে পৃথক মামলা করার পরামর্শ দেয়।বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ সভার বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে অশান্তির সূত্রপাত বলে অভিযোগ। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যদের দাবি, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র সংসদ নেই। তা হলে সাধারণ সভার বৈঠক ডাকা হল কীভাবে, সেই প্রশ্ন তুলেই তাঁরা প্রতিবাদ করেছিলেন।অভিযোগ, সেই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তাঁদের উপর হামলা হয়। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের দাবি, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন তাঁদের উপর চড়াও হয়েছিলেন। পাল্টা বাম ছাত্র সংগঠনগুলির তরফেও অভিযোগ রয়েছে। দুপক্ষের সংঘর্ষে রাতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।বৃহস্পতিবার সেই ঘটনার প্রতিবাদে পৃথক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দুই পক্ষই। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মী-সমর্থকেরা যাদবপুর থানার সামনে জমায়েত করছেন। গোলপার্ক থেকে মিছিল করে যাওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে, আট বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জমায়েত করছে বাম ছাত্র সংগঠন।ফলে বৃহস্পতিবার ফের দুপক্ষ মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, আট বি, গোলপার্ক-সহ সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও পক্ষের একতরফা কর্তৃত্ব তাঁরা মেনে নেবেন না। অন্যদিকে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও নিজেদের কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসেনি। ফলে রাতের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার যাদবপুরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।আদালত বুধবারের ঘটনার বিষয়ে আপাতত সরাসরি হস্তক্ষেপ না করায় এখন নজর থাকছে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতির দিকে। দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে কোনও সংঘর্ষ হয় কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

সুপ্রিম কোর্টে বিদেশযাত্রার অনুমতি, তারপরই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ! অভিষেকের মামলায় ব্যাঙ্ককে কড়া ভর্ৎসনা হাই কোর্টের

সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই নতুন সমস্যায় পড়লেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার অভিযোগ ঘিরে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হল। অনলাইনে যখন কেওয়াইসি করা সম্ভব, তখন অভিষেককে কেন সশরীরে ব্যাঙ্কে যেতে বলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে কেওয়াইসি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ফলে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।এর আগে মামলার শুনানিতে প্রশ্ন উঠেছিল, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১০৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ না করে কীভাবে কোনও ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা যায়। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চেয়েছিলেন, অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত চলছে কি না। জবাবে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছিলেন, আদালতের নির্দেশ মেনে অভিষেক তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তবে সেই তদন্তের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করা হয়।এর পরেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নোটিস দিয়েছিল আদালত। বৃহস্পতিবার ছিল সেই মামলার পরবর্তী শুনানি। এ দিন অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলের ডেবিট কার্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও নোটিস না দিয়েই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।আইনজীবী আরও জানান, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি ২০১৭ সাল থেকে রয়েছে। সম্প্রতি আচমকাই সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সুপ্রিম কোর্ট অভিষেককে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। ফলে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, কেওয়াইসি-র মতো সাধারণ প্রক্রিয়া যখন অনলাইনেই করা সম্ভব, তখন অভিষেককে কেন সশরীরে ব্যাঙ্কে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। আদালতের প্রশ্নের পরই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে কেওয়াইসি আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা নিয়েও এর আগে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে তিনি প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। শীর্ষ আদালত শর্তসাপেক্ষে তাঁকে বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়।সেই অনুমতি পাওয়ার পরেই ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ফলে বিদেশযাত্রার অনুমতির পর অভিষেকের সামনে তৈরি হওয়া এই নতুন আইনি ও আর্থিক জটিলতা এখন আদালতের নজরে। বৃহস্পতিবারের নির্দেশে আপাতত কেওয়াইসি নিয়ে সমস্যার সমাধানের পথ খুলল বলেই মনে করা হচ্ছে।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

সংঘর্ষের পর যাদবপুরে কি বদলাচ্ছে নিয়ম? পুলিশের ফাঁড়ি নিয়ে উপাচার্যের বার্তা

বুধবার থেকে ফের উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বামপন্থী ছাত্রদের সঙ্গে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে বুধবার রাত থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। অভিযোগ, সংঘর্ষে কয়েক জন ছাত্র আক্রান্ত হয়েছেন। রাতের দিকে আরও একদল বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকেছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় বামপন্থী ছাত্রদের একাংশ অরবিন্দ ভবনের ভিতরে নিজেদের আটকে রাখেন বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি যদি বারবার বিঘ্নিত হয়, তা হলে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানোর কথা ভাবতে হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এমন ব্যবস্থা যাদবপুরের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। কখনও ছাত্রদের উপর হামলার অভিযোগ, কখনও রাজনৈতিক মতবিরোধ, আবার কখনও র্যাগিংয়ের অভিযোগে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে ক্যাম্পাস। প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব উঠেছিল। সেই সময় ছাত্রদের একাংশের আপত্তির কারণে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।এর মধ্যেই বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় ফের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্ত পরিবেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশি নজরদারি কতটা প্রয়োজন, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে উপাচার্যের বক্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে নিরাপত্তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দেশের আইনশৃঙ্খলার বাইরে নয়। তাই দেশের প্রচলিত আইন ক্যাম্পাসেও কার্যকর হবে। তাঁর কথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, যাদবপুরের মুক্ত ও খোলামেলা পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষেই তাঁরা।উপাচার্য আরও জানান, আগে আদালতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য চব্বিশ ঘণ্টার পুলিশ ফাঁড়ির প্রসঙ্গ উঠেছিল। তবে যাদবপুরের নিজস্ব সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে সেই ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি ছিল। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটে, তা হলে ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানোর প্রয়োজন হতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।এদিকে বুধবারের অশান্তির ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি সুরক্ষা আইনের ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে বলে খবর। এখনও পর্যন্ত অপর পক্ষের তরফে পাল্টা অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গিয়েছে।যাদবপুরে ফের অশান্তির পর এখন মূল প্রশ্ন, পরিস্থিতি সামাল দিতে কি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানো হবে? উপাচার্যের মন্তব্যে সেই সম্ভাবনাই নতুন করে সামনে এসেছে।

আগস্ট ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal