• ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Celebration,

রাজ্য

শতবর্ষের ঐতিহ্যে দেশপ্রেমের আবহ, দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের আবহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকারই হোক স্বাধীনতা দিবসের মূল বার্তাএমনই আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, বিবিধের মাঝে মিলন মহানএই আদর্শকে সামনে রেখে দেশভাগ ও পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর উদয়পল্লীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের বাণী, দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পাঠের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডলের পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় অঙ্কন, প্রবন্ধরচনা, কুইজ, নৃত্য ও সঙ্গীত-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। শিক্ষিকা সুনীতা সাহার ব্যবস্থাপনা এবং দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় প্রতিযোগিতাগুলিতে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা। কুইজে প্রথম স্থানাধিকারী দলের সদস্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ভট্টাচার্য জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকায় বিদ্যালয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।এদিন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা স্পন্দন-এর বিশেষ রঙিন সংখ্যা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সায়ন্তিকা কর্মকারের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও সহকারীরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। সবুজ ভলেন্টিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ইকো ক্লাবের উদ্যোগে জাম গাছ রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।শেষপর্বে শিক্ষাকর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের দায়িত্বে এবং তরুণ দাসের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে লুচি, মিষ্টি-সহ নানা খাবার বিতরণ করা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

গাজোল মহাবিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালন, মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করার আহ্বান

গাজোল মহাবিদ্যালয়ে পালিত হল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। মালদার এই মহাবিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত অধ্যাপক-অধ্যাপিকা-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রানবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের স্বাগত জানান গাজোল মহাবিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ। এই অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির কনভেনার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপিকা ডঃ অপর্ণা দেবনাথ মানবাধিকারের সার্বজনীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের ভূমিকা এবং তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজোল মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডঃ নিরঙ্কুশ চক্রবর্তী এবং বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় অধ্যাপক, অধ্যাপিকাগণ।এই অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজোল ব্লকের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস (WBCS-Exe.), গাজোল থানার ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ অশিষ কুণ্ডু এবং ইংলিশ বাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুমালা আগরওয়ালা।সুমালা আগরওয়ালা সমাজের উন্নয়নে মানবাধিকারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে বলেন, মানবাধিকার সচেতনতা সমাজে সমতা, সহমর্মিতা ও মানবিকতা গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। বিভিন্ন দৃষ্টান্তের মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে এসে এই মূল্যবোধ সমাজে ছড়িয়ে দিতে বলেন। বিডিও বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, মানবাধিকার কেবল একটি নথিভুক্ত অধিকার নয়, এটি মানুষের মর্যাদা বাঁচিয়ে রাখার একটি অবিচ্ছেদ্য শর্ত। সমাজের প্রতিটি স্তরে মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করাই আজকের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি সরকারি বিভিন্ন কল্যাণ প্রকল্পে মানবাধিকারের প্রতিফলন কীভাবে ঘটে, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।অনুষ্ঠানের শেষে শিক্ষকদের পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থীও মানবাধিকার বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মহম্মদআকিদুল হক, ডঃ সুপার্থ ঘোষ, ডঃ অমিত প্রসাদ, সহ আয়োজক কমিটি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সৌজন্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সমাজকে আরও মানবিক ও ন্যায়সম্মত করে তোলার সংকল্প গ্রহণ করা হয়।

ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
রাজ্য

দীঘায় জনজোয়ার! জানেন তো জগন্নাথ মন্দিরের বাড়তি আকর্ষণ সম্পর্কে?

টানা তিনদিনের ছুটি (১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস, ১৬ আগস্ট জন্মাষ্টমী, ১৭ আগস্ট রবিবার) ঘিরে দিঘায় পর্যটকের ভিড় বাড়ছে। এই প্রথমবার দিঘার জগন্নাথ ধামে হবে জন্মাষ্টমী উদযাপন। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে মঙ্গল আরতি, কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা ও প্রসাদ বিতরণ। সাধারণত রাত ৯টায় বন্ধ হওয়া মন্দির এদিন খোলা থাকবে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। হোটেল বুকিং প্রায় সম্পূর্ণ, নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ভক্তদের জন্য কলস অভিষেকের আয়োজনও থাকছে।দিঘা জগন্নাথ ধামের ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম কর্মকর্তা তথা কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস বলেন, প্রথমবার দিঘা জগন্নাথ ধামে জন্মাষ্টমী উদযাপন হবে। সকাল থেকে শুরু হবে মঙ্গল আরতি ও কীর্তন। দুপুরে প্রসাদ বিতরণ হবে, দিনভর থাকবে কীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনা। রাত বারোটা হবে শ্রীকৃষ্ণ জন্মোৎসব পূজা, যেখানে হাজারো ভক্ত একসঙ্গে প্রার্থনায় অংশ নেবেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্দির প্রাঙ্গণে পুলিশ টহল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত থাকবে।

আগস্ট ১৫, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

খেলার ফাঁকে দিদার হাতের খিচুড়ি-পাঁপড়! বেহালা ফ্রেন্ডসের অনুষ্ঠানে সৌরভের অজানা অধ্যায়

খিচুড়ি-পাঁপড় থেকে ফাইভ স্টারের খাবার। বাংলার ক্রিকেটের উত্তরণকে এভাবেই তুলে ধরলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এক অজানা গল্পের মধ্যে দিয়ে। আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে, বেহালা ফ্রেন্ডসের ৮৫ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে।সৌরভ বলেন, কলকাতায় রিকশ দেখা যায় ব্রহ্ম সমাজ রোডে। আমার দাদুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বেহালা ফ্রেন্ডসের কর্তাদের সঙ্গে। ছোটবেলায় গরমের ছুটিতে মামার বাড়ি যেতাম। দেখতাম আমার দিদা নিজের হাতে বড়িশা স্পোর্টিং আর বেহালা ফ্রেন্ডসের ক্রিকেটারদের জন্য রান্না করে পাঠাতেন। আমি যখন বড়িশায় খেলি তখনও দিদা রিকশ করে ডেচকিতে খিচুড়ি, পাঁপড় পাঠাতেন। আর এখন দেখি ইডেনে সিক্স বালিগঞ্জ প্লেস, বিজলি গ্রিলের খাবার ক্রিকেটারদের জন্য।বেহালা ফ্রেন্ডসের শীর্ষকর্তা তথা সিএবির অবজারভার কমিটির চেয়ারম্যান শ্রীমন্ত কুমার মল্লিকের প্রশংসা করে সৌরভ বলেন, বেহালা মানেই ফ্রেন্ডস! শ্রীমন্তদা আমার পাড়ার মানুষ, আমরা ভালো বন্ধু। ওঁর জন্যেই আজ এই ক্লাব এই জায়গায় পৌঁছেছে। দ্বিতীয় ডিভিশন চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল খেলেছে। আরও এগিয়ে চলুক।সৌরভের জন্মদিন ছিল মঙ্গলবার। তবে বুধবারেও এই অনুষ্ঠানে সৌরভকে জন্মদিনের কেক কাটতে হলো। শ্রীমন্ত কুমার মল্লিক মহারাজকে কেক খাওয়ালেন, তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন সৌরভ। এদিন ক্রিকেটারদের সংবর্ধিত করল বেহালা ফ্রেন্ডস। ছিল মনোময় ভট্টাচার্যের মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, বিধায়ক দেবাশিস কুমার, সিএবির ট্যুর ও ফিক্সচার ও টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় দাস, আম্পায়ার কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ সিএবির প্রাক্তন ও বর্তমান একাধিক পদাধিকারী।

জুলাই ০৯, ২০২৫
রাজ্য

রং তোলার ভয়ে যারা দোল খেলেন না তাদের জন্য, দোলের রং তোলার সহজ উপায়

নানারকম দোলের রং মেখে সারা মুখে এক কিম্ভুতকিমাকার দশা। স্নানের সময় বার বার সাবান দিয়ে ধুয়েও কোনও ভাবে যাচ্ছেই না, বেশী ত্বক ঘসার জন্য ত্বকে জ্বালা, অফিস যেতে সমস্যা। না! রং তোলা মোটেই খুব কঠিন বিষয় নয়। আমাদের হাতের কাছেই থাকা কয়েকটা উপাদান দিয়ে অতি সহজেই ত্বকের রং তুলে ফেলা যায়। কিন্তু এগুলির অনেকই আবার ত্বকের জন্য ততটা নিরাপদ নয়। তা হলে? দেখে নেওয়া যাক, রং তোলার কিছু সহজ প্রক্রিয়া, যারা ক্ষতি তো করবেই না, বরং এগুলিতে উপকার হবে ত্বকের।পাতিলেবুঃ একটু হালকা রং তোলার জন্য পাতিলেবুর বিকল্প নেই। লেবু, মধু, জলপাই তেল আর হলুদ আছে এমন ফেস প্যাক ব্যবহার করে রং তুললে ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসে। ত্বকের নমনীয়তাও বাড়ে। এছাড়া পাতিলেবুর রস তুলো দিয়ে ত্বকে বুলিয়ে নিয়ে ৩-৪ মিনিট রেখে জলে ধুয়ে নিয়ে রঙের প্রলেপ অনেকটা হালকা হয়।ডিমঃ রং খেলার নাম করে মাথায় ডিম ফাটানোর রেওয়াজ আজকের নয়। অনেকেরই দাবি, এতে চুলের উপকার হয়। কথাটা খুব একটা ভুলও নয়। চুলের এবং মাথার ত্বকের রং তুলতে ডিমের হলুদ অংশ খুবই পারদর্শী। ডিমের হলুদ অংশ রং লাগা জায়গাগুলিতে মাখিয়ে রেখে, পরে তা হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে তুলে ফেললেই হল। রং পরিষ্কার।বিয়ারঃ পানীয় হিসেবে দোলের দিনে এটি অনেকেরই পছন্দ। কিন্তু শুধুমাত্র পানীয় হিসেবে নয়, এটিকে রং তোলার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলের রং আর মুখের রং তুলতে বিয়ার ব্যবহার করা যেতেই পারে। এতে চুলের এবং ত্বকের উভয়েরই উপকার হয়। শুধু বিয়ার দিয়ে রং সাফ করার আগে, এক বোতল এই পানীয়ের সঙ্গে এক চামচ পাতি লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারলে ভাল হয়।হোলির বা দোলের রং সহজে তুলতে অলিভ অয়েল অতি উপকারী উপাদান। যারা আলিভ অয়েল যগার করতে পারবেন না তারা অলিভের পরিবর্তে নারকেল তেল ও ব্যবহার করতে পারেন। রং খেলার আগে তেল মেখে নিলে রং সহজে উঠে যায় এবং ত্বকের ক্ষতিও হয় না।এখানে রং খেলার পর সেটি তোলার জন্য অলিভ অয়েল ব্যবহারের কিছু উপায় দেওয়া হলোঃরং খেলার আগেরং খেলার আগে ভালো করে অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল হাতে, পায়ে, এবং মুখে লাগিয়ে নিন। রং খেলার পরঃরং খেলার পর সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার আগে, অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। ত্বকের জন্য প্যাকঃরং তোলার জন্য দই, বেসন, হলুদ গুঁড়ো, অলিভ অয়েল এবং লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে লাগাতে পারেন।চুলের জন্যঃচুলের রং তুলতে ডিমের সাদা অংশ বা নারকেলের দুধ ব্যবহার করতে পারেন।ত্বকের যত্নঃরং তোলার পর ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করতে ভুলবেন না।বিঃদ্রঃ ত্বকে এই উপাদানের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলে এই ধরনের উপকরণ ব্যবহারের করবেন না।

মার্চ ১৫, ২০২৫
রাজ্য

সল্টলেকের EZCC তে পালিত হল বঙ্গনারী শক্তি।

সল্টলেকের EZCC তে পালিত হল বঙ্গনারী শক্তি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভা নেত্রী ফাল্গুনী পাত্র। নারী নিজেই একজন শক্তি। আমরা পিছনে তাকালে দেখতে পাই বিভিন্ন নারীদের কথা যারা সমাজ পরিবর্তন করেছে। পশ্চিমবঙ্গে নারীরা শক্তি হলেও সেই শক্তিকে ভেঙে দেয়া হচ্ছে। তাদের সম্মানকে ভুলন্ঠিত করা হচ্ছে। সেই জন্য আমরা সেলফ ডিপেন্স এর উপর জোর দিচ্ছে। যে সমাজ নারীদেরকে ভুলোনিত করার চেষ্টা করছে তাদের আমরা আইডেন্টিফাই করছি। আমরা আগামী দিনে আরো বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে পা বাড়াবো। নারীদের যেভাবে সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনেক রকমের আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে

মার্চ ০৮, ২০২৫
উৎসব

বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের রাখীবন্ধন উৎসব, ব্যাপক সাড়া বর্ধমানে

রাখীবন্ধন উৎসব পালন করল বেঙ্গল প্রেস ক্লাব। সোমবার বর্ধমানের বিজয় তোরণের সামনে এই অনুষ্ঠান হয়। এদিন কার্জনগেট চত্বরে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের পক্ষে রাখী পড়ানো হয় বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাসকে। পাশাপাশি পথচলতি জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সাধারণ মানুষের হাতে রাখী পড়িয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়। এই উৎসবে বর্ধমান শহরে ব্যাপক সাড়া পড়ে। বুধবার সকাল ৮টা থেকেই উৎসবের শুরু হয়ে যায়। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিজয়প্রকাশ দাস ও সাধারণ সম্পাদক সৌগত সাঁই বলেন, রাখীবন্ধন সামাজিক বন্ধনের অঙ্গীকার। এই উৎসব জাতপাত, ধর্ম বর্ণ, প্রাদেশিকতা সব কিছুর উর্দ্ধে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখীবন্ধন উৎসবকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নয়। চাই ঐক্য। এই অনুষ্ঠানে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন।

আগস্ট ১৯, ২০২৪
কলকাতা

লেকটাউন যেন মিনি পার্কস্ট্রিট, সৌজন্যে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু

বড়দিন লেকটাউন পরিণত হয় মিনি পার্কস্ট্রিটে। রীতিমতো টেক্কা দিচ্ছে পার্ক স্ট্রিটকে। রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর তত্ত্বাবধানে শ্রীভূমি স্পোটিং ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় লেকটাউন পরিণত হল মিনি পার্কস্ট্রিটে। বছরের শেষ কটা দিন আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে শহরবাসী। পার্কস্ট্রিটে অ্যালেন পার্কে ভিড় জমান লক্ষ লক্ষ মানুষ। সেই ভিড় এবার লেকটাউন শ্রীভূমিতে।গত কয়েক বছর ধরে লেকটাউনে শুরু হয়েছে পৌষ পার্বন উৎসব। সেই উৎসব রবিবার সন্ধ্যায় উন্মোচন হল সুজিত বসুর হাত ধরে। এদিন এক বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রার মাধ্যমে উৎসবের সূচনা করেন মন্ত্রী। শোভাযাত্রায় সান্তা ক্লজ থেকে শুরু করে বাঙালিদের পিঠেপুলি সবই সামিল। এক কথায় বড়দিনের প্রাক্কালে আলোয় সেজে উঠেছে শ্রীভূমি।

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৩
রাজ্য

ঈশ্বরচন্দ্রর দেখানো পথে বাল্য বিবাহ রোধে শপথ নিল মুখ্যমন্ত্রীর মামার বাড়ির স্কুল

বাল্য বিবাহ সামাজিক অভিশাপ। এই সামাজিক অভিশাপ দূর করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছেন বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগার। মঙ্গলবার তাঁর ২০৪ তম জন্মজয়ন্তীতে তাঁরাই দেখানো পথে ফের একবার বাল্য বিবাহ রুখতে শপথ নিল স্কুলের পড়ুয়ারা। অভিনব এই অনুষ্ঠানটি হয়ে গেল বীরভূমের রামপুরহাট থানার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামার বাড়ি কুসুম্বা গ্রামের কুসুম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ে।কেন্দ্র থাকে রাজ্য সরকার বাল্য বিবাহ রোধে লাগাতার প্রচার করে চলেছে। বাল্য বিবাহের খবর পেলে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কিন্তু যে বয়সের মেয়েদের এই প্রবনতা দেখা দিচ্ছে সেই বয়সের মেয়েদেরই এবার বাল্য বিবাহ না করার শপথ গ্রহণ করালেন কুসুম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ কুমার মণ্ডল। সেই সঙ্গে বাড়ি ফিরে বাল্যবিবাহ রোধে তাদের পথে নামার পরামর্শও দেওয়া হলশুরুটা হয়েছিল গতবছর থেকে। গ্রাম্য এলাকায় কম বয়সী-ছেলে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। সেইসব দেখে বাল্য বিবাহ রুখতে উদ্যোগ গ্রহন করেন কুসুম্বা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ কুমার মণ্ডল। গতবছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রথম বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে স্কুলের পড়ুয়াদের শপথবাক্য পাঠ করার আবেদন জানান। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসে স্কুলের পড়ুয়া থেকে সহকর্মীরা।মঙ্গলবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৪ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কুসুম্বা হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের একটি আবক্ষ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় স্কুলের বাইরে। এদিন সেই মূর্তির উন্মোচন করেন রামপুরহাট বিধায়ক, ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনের পরেই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে স্কুলের পড়ুয়াদের শপথ গ্রহন করালেন প্রধান শিক্ষক সন্দীপ মণ্ডল। অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি শপথ বাক্য পাঠ করান। তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে শপথ নিলেন স্কুলের ছাত্র ও ছাত্রীরা। একই অনুষ্ঠানে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি স্কুলের ছাত্রদের মাদক দ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকারও শপথ বাক্য পাঠ করালেন বীরভূম জেলা স্কুল পরিদর্শক চন্দ্রশেখর জাউলিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য মাধ্যমিক শিক্ষার অ্যাডহক কমিটির সদস্য প্রীতম হালদার, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক নিখিল কুমার সিনহা, এ আই অফ স্কুল গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।সন্দীপবাবু বলেন, গ্রাম বাংলায় অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা ভাঙতেই আমাদের এই পদক্ষেপ। শুধু শপথবাক্য পাঠ করাই নয়, নিয়মিত ছাত্রীদের বিষয়ে খোঁজ খবর করি আমরা। সেই সঙ্গে সারা রাজ্যে বাল্য বিবাহ রোধের বার্তা পৌঁছে দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ।এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন জেলা অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক চন্দ্রশেখর জাউলিয়া। তিনি বলেন, মাধ্যমিক স্তর থেকে এই বার্তা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পৌঁছে দিতে পারলে বাল্য বিবাহ অনেকাংশে কমবে। কুসুম্বা উচ্চ বিদ্যালয় ভালো উদ্যোগ নিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৩
শিক্ষা

প্রতিটা দিনই 'শিক্ষক দিবস'; শিক্ষক দিবসে এই বার্তা-ই দিল বর্ধমানের ইংরাজি মাধ্যম স্কুল

১৫ থেকে ৫ই অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করা হয়। কিন্তু ভারতে এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয় ৫ সেপ্টেম্বর। সাধরণ রেওয়াজ অনুযায়ী সমগ্র দেশে এই বিশেষ দিনে ছাত্র ছাত্রীরা তাঁদের শিক্ষক শিক্ষিকা দের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে নানাবিধ অনুষ্ঠান অয়োজন করে। সরস্বতী পুজার মত এই দিনের অনুষ্ঠানের সকল দায়িত্ব ছাত্ররাই বহন করে। নাচ গান আবৃত্তির মাধ্যমে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানাবিধ অনুষ্ঠান হয়। আন্তর্যাতিক সংস্থা ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক শিক্ষকদের সন্মাননা জানানোর জন্য তাঁদের স্মরণে ৫ অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেক্ষেত্রে ভারতে কেন শিক্ষক দিবস এক্মাস আগে পালন হয়? এই প্রশ্নই অনেকের মনে।স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিনে ভারতের শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। একাধারে দার্শনিক, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও ভারতরত্ন প্রাপক ডঃ রাধাকৃষ্ণান ১৮৮৮ র ৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন তৎকালীন মদ্রাজ আধুনা চেন্নাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেশ কয়েকটি মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নমানের সহিত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫২ তে স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এর ঠিক ১০ বছর অতিক্রান্ত করে ১৯৬২ তে ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসাবে নিযুক্ত হন ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনে।১৯৬২ তে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগুনতি ছাত্র ছাত্রীরা তাঁর জন্মদিনটি পালনের জন্য অনুরোধ রাখেন ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের কাছে। তার প্রত্যুত্তরে তিনি জানান, তাঁর জন্মদিনকে আলাদাভাবে পালন করার চেয়ে, যদি ৫ সেপ্টেম্বর দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করা হয় তবে তাতে আমি অধিকতর খুশি হব। সে থেকেই, সারা বিশ্বে শিক্ষক দিবস ৫ অক্টোবর পালিত হলেও, ভারতে ১৯৬২ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরই শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হয়।সারা দেশ সহ পশ্চিমবঙ্গের ও বিভিন্ন বিদ্যালয়, কলেজ সহ শিক্ষা সাথে জুড়ে থাকা নানান প্রতিষ্ঠানে এই দিনটি পালিত হল মহা সমারোহে। বর্ধমানের বেসরকারি ইংরাজি মাধ্যম স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুলেও এই দিনটি খুব জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে পালিত হয়। সকাল থেকেই রঙ্গিন পোষাকে চকলেট, গোলাপ, হাতে তৈরি গ্রিটিংস কার্ড নিয়ে উপস্থিত কচিকাঁচারা। তাঁদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। ওরিয়েন্টাল এসোশিয়েশান ফর এডুকেশন এন্ড রিসার্চ সংস্থার অধিনস্ত এই স্কুলে বরাবরই পড়াশোনার সাথে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এক সুন্দর মেলবন্ধন আছে। সেই রেশ রেখেই ছাত্র ছাত্রীরা নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটকের মাধ্যমের তাঁদের শিক্ষকদের শ্রদ্ধা জ্ঞ্যাপন করেন। সকালে অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের প্রতিকৃতিতে মাল্যদাল ও পুষ্পার্ঘ প্রদান করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন সংস্থার সেক্রেটারি ও বিদ্যালের কর্নধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল।অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষক দিবস কোনও একটা বিশেষ দিন নয়, সারা বছরের প্রতিটা দিনই শিক্ষক দিবস। শিক্ষক কথাটার অর্থ ব্যপক...। শুধুমাত্র তোমাদের ক্লাসের মধ্যে যিনি ক্লাস নিচ্ছেন তিনিই একমাত্র শিক্ষক নন। পিতা, মাতা, গুরুজন, প্রতিবেশী, ক্রীড়াবিদ এরা সকলেই তোমাদের শিক্ষক। এমনকি আমরা অনেক ছোট ছোট জিনিস শিক্ষা লাভকরি এমন কিছু মানুষের থেকে যাঁদের শিক্ষক ভাবতে আমরা লজ্জা পাই তারাও এক অর্থে আমাদের শিক্ষক। তাই শিক্ষক কে অনুসরণ করে যদি চলা যায় তাঁকে যদি সারা জীবন তোমরা শ্রদ্ধা করতে পারো কোনোদিনই তোমরা তোমাদের জীবনের চলার পথে হোঁচট খাবে না।তিনি আরও বলেন, যে মানুষটি তাঁর নিজের জন্মদিনটি পালন না করে, সকল শিক্ষকদের স্মরণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞ্যাপন করার কথা বলেন, তাঁর অর্থ এটাই দাঁড়ায় যেকোনো সফল মানুষের পিছনে একগুচ্ছ সফল শিক্ষক। তোমাদের সফল দেখাটাই শিক্ষদের সফলতা, তাই তাঁদের কথা আদেশ ভেবে মেনে চললেই জীবনে সফল হওয়ার চাবিকাঠির সন্ধান পেয়ে যাবে।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৩
রাজ্য

১৮ অগাষ্ট বাংলার এই জেলায় পালিত হল স্বাধীনতা দিবস, কেন ১৫ অগাস্ট নয়?

একই দেশ। কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের দিন ভিন্ন। গত মঙ্গলবার ১৫ অগাস্ট দেশ জুড়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়েছে। কিন্তু মালদায় স্বাধীনতা দিবস পালিত হয় ১৫ নয়, ১৮ অগাস্ট। এই দিনে স্বাধীনতা পেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা। আর সেই পুরনো স্মৃতিকে সামনে রেখেই শুক্রবার মালদায় পালিত হলো স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালে ভারত যখন স্বাধীন হয়েছিল। ইংরেজরা দেশ ছেড়েছিল। ঠিক সেই সময় মালদা জেলা পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) অধীনে চলে গিয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন সর্বত্র ছিল আলোর রোশনাই তখন মালদা ডুবেছিল গাঢ় অন্ধকারে। সেই সময়কার স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং ব্যারিস্টারদের হস্তক্ষেপেই তিনদিন পর স্বাধীনতা পায় আমের জন্য খ্যাত মালদা জেলা। মালদার কালেক্টরের ভবনে পূর্ব পাকিস্তানের ঝান্ডা নামিয়ে উড়ানো হয় ভারতীয় তিরঙ্গা। আর সেই পুরনো স্মৃতিকে বজায় রেখেই আজও মালদায় ১৮ আগস্টে সাড়ম্বরে পালিত হয়ে আসছে স্বাধীনতা দিবস।শুক্রবার মালদা শহরের গ্রন্থাগারের বই বাগানে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। উত্তরবঙ্গ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের সদস্য প্রসেনজিৎ দাসের উদ্যোগে এবং মালদার বিশিষ্ট শিল্পীরা হাজির ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। অন্যদিকে ইংরেজবাজার পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়া এলাকায় স্থানীয় কাউন্সিলর অম্লান ভাদুড়ীর নেতৃত্বে ১৮ আগস্ট উপলক্ষে মালদার স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। এদিন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রবীণ মানুষদের উপস্থিতিতে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। উত্তরবঙ্গ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের সদস্য প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট যখন ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়। তখন গোটা দেশ এই স্বাধীনতার উৎসবে মেতে উঠেছিল। সেই সময় মালদা ছিল পরাধীন। পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) অধীনে চলে গিয়েছিল মালদা জেলার দশটি থানা। এই নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। মালদার কালেক্টারে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উড়েছিল। কিন্তু সেই সময় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ব্যারিস্টারদের হস্তক্ষেপেই শুরু হয় সীমানা নির্ধারণের লড়াই। এরপর ১৮ আগস্ট মালদা জেলা ভারতের অংশ বলেই ঘোষণা করা হয়। আর সেই ১৮ আগস্ট থেকেই শুরু হয় মালদার স্বাধীনতা দিবস। পূর্ব স্মৃতি ও অতীত বিজড়িত অনেক কাহিনী মালদার এই স্বাধীনতাকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে। দুটি জায়গাতেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। কচিকাঁচা থেকে বড়রা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

আগস্ট ১৮, ২০২৩
রাজ্য

বর্ধমানের বেসরকারি স্কুলের অভিনব ভাবে স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষ পুর্তি উদযাপন

ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি মহা জাঁকজমকের মধ্যে পালিত হল রাজ্য জুড়ে। ২০২১ র ১৪ আগস্ট থেকে বছরভর নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারা ভারত জুড়ে স্বাধীনতার ৭৫ বছরকে স্মরণ করা হয়। বর্ধমান শহরের এক বেসরকারি স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল এবছরের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পলন করল অভিনব ভাবে।এই বেসরকারি স্কুলের পক্ষ থেকে ৭৫বছর উদযাপন করতে এঁরা বেছে নেন এই বিশেষ দিনে জন্মগ্রহন করা নবজাতকদের। তাঁরা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৫ই অগাস্ট জন্মগ্রহণ করা সদ্য়জাতদের এক বিশেষ উপহার প্রদান করেন। এই বিশেষ দিনে উপহার পেয়ে নবজাতকদের পরিবার যারপরনাই খুশি। বর্ধমান শহর সংলগ্ন বোঁয়াইচণ্ডী গ্রামের এক বাচ্চার মা জনতার কথাকে জানান, হটাৎ করে এই উপহার পেয়ে তাঁদের খুব ভালো লাগছে। তাঁরা এই উদ্যোগের জন্য স্কুল কতৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগলসির এক পরিবার জানান, তাঁরা এই উপহার পেয়ে খুব খুশি। তিনি জানান, এই উপহারের বক্সের মধ্যে একটি তোয়ালে, শিশুর জামা, তাঁর ব্যবহারযোগ্য তেল, সাবান, শ্যাম্পু, চিরুনি, পাউডার ও মায়ের জন্য কিছু খাবার, খেলনা ও একটি জাতীয় পতাকা পেয়েছেন। স্কুলের পক্ষ থেকে কর্নধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ও উপাধক্ষ্য ডঃ তাপস ঘোষ ও শিশু এবং গাইনি ওয়ার্ডের সকলকে এই সুযোগ করে দেবার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান।অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জানান, প্রতি বছরই আমরা নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১৫ই আগস্ট পালন করি। এবছর এক বিশেষ মুহুর্ত বলে আমরা বিদ্যালয়ের সকলে মিলে আলোচনা করে আরও ভালো ভাবে এই দিনটাকে স্মরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, প্রতি বছরই আমরা বিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিয়ে এক বার্ষিক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করি। তাতে ছাত্র ছাত্রীরা তাঁদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে নানারকম মডেল ও প্রোজেক্ট বানিয়ে প্রদর্শন করে। সেই ইন্সপায়ার অনুষ্ঠানটি এবছর ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সেই সমস্ত মহাপুরুষদের স্মরণ করতে ১৪ই আগস্ট শুরু হয়েছে।মেডিক্যাল কলেজেঅচিন্ত্য কুমার মণ্ডল আরও জানান, তাঁরা এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নিয়েছিলেন, কিন্তু কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষা বোর্ড সিবিএসসি এক সার্কুলারের মাধ্যমে এই একই নির্দেশ দেয় তাঁদের অধীনস্ত স্কুল গুলিকে। তিনি খুবই আনন্দিত তাঁদের ভাবনার সাথে সিবিএসসি নির্দেশ মিলে যাওয়াতে। তিনি জানান, এবারের অনুষ্ঠানে ছাত্র ছাত্রী ও অবিভাবকদের উপস্থিতি খুবই ভালো। গত দুবছর ধরে গৃহবন্দি মানুষজন কোভিড নামক ব্যাধিকে মন থেকে দুরে সরিয়ে রেখে জড়তা ঝেড়ে পথে নেমে পরেছেন।দুদিনের এই অনুষ্ঠানে অনেক বিশিষ্ট মানুষজন উপস্থিত ছিলেন, এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য, পূর্ব-বর্ধমান মহিলা থানার আইসি বনানী রায়, ভাতারের ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার অরুণ কুমার বিশ্বাস, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যলের অধ্যাপক ডঃ খগেন চট্টোপাধ্যায়, ডঃ শিবকালি গুপ্ত, প্রজাপতি ব্রহ্মকুমারি সিস্টার রুমা, বিশিষ্ট শিল্পপতি পি এন আয়ার প্রমুখ।

আগস্ট ১৫, ২০২২
রাজ্য

আদিবাসীদের আন্দোলন স্মরণ জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলার, জানিয়ে দিলেন সরকার তাঁদের পাশে আছে

সারা রাজ্যে মহা সমারোহে পালিত হল হুল উৎসব। ইংরেজ অপশাসনের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য যে সংগ্রাম হয়েছিল তা সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত, সেই বিশেষ এই দিনটিকে স্মরণ করে পালিত হয় হুল দিবস। অলচিকি ভাষায় হুল কথার অর্থ বিদ্রোহ। ১৮৫৭ তে সিপাহী বিদ্রোহের ২ বছর আগে ১৮৫৫ তে সংগঠিত হওয়া এই বিদ্রোহ-ই আলো দেখিয়েছিলো ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে জোড়ালো করতে। একই পরিবারের ভাইবোন সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব,আর দুই বোন ফুলমনি এবং ঝানু মুর্মু-র এই আন্দোলন পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। এই ছয় ভাইবোনের ডাকা আন্দোলনে এককাট্টা হয়েছিল চারশোটি গ্রাম। সে ডাকে সাঁওতালরা ছাড়াও সারা দিয়েছিলো সমস্ত নির্যাতিত মানুষ।বৈদ্যপুর রথতলায় হুল উৎসব-এ উপস্থিত অতিথিবর্গপূর্ব বর্ধমান জেলার অনগ্রসর, শ্রেনীকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার কালনা-২ ব্লকের বৈদ্যপুর রথতলায় বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ সংলগ্ন ময়দানে হুল উৎসব পালন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি সম্পা ধারা, জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি ও পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী শাখা সংগঠনের সভাপতি দেবু টুডু, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর উজ্জ্বল প্রামানিক, কালনা মহকুমাশাসক সুরেশ কুমার জগৎ, কালনা-২ বিডিও ও জেলা অনগ্রসর শ্রেনীকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অধিকারিকগন।এদিনের এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে জাতিগত শংসাপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের আম্বেদকর মেধা পুরস্কার প্রদান করা হয়। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, আদিবাসী আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে পথ দেখিয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে আমাদের আমরা ভুলতে পারি না। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা উপস্থিত সকলকে হুল দিবসের শুভেচ্ছা জানান। জেলাশাসক বলেন, বিদ্রোহের সময় যে অবদান আদিবাসীদের ছিল, আজকের সমাজেও তাদের অবদান ভোলার নয়।জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা কে আদিবাসী প্রথায় বরন করা হচ্ছেতিনি আরও বলেন,আদিবাসী সমাজের সংস্কৃতি যত উদযাপন করতে পারি সেটা আমাদের পক্ষে মঙ্গল। তিনি আদিবাসীদের উদ্দেশ্যে জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য যা যা সুবিধা দেয় সেটা তাঁরা যেন ঠিক ঠিক সময় সরকারি দপ্তরে উপস্থিত হয়ে গ্রহণ করেন। দুয়ারে সরকার প্রকল্পে উপস্থিত হয়ে তাঁদের জাতিগত সংসাপত্র গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, জমির পাট্টা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে সরাসরি সরকারি দপ্তরে তাঁরা যেন যোগাযোগ করেন। সরকার আপনাদের পাশে আছে।কালনার-২ বৈদ্যপুর রথতলা সংলগ্ন বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ সংলগ্ন ময়দানের এই অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতির হার ছিল যথেষ্ট। এদিন নানারকম আদিবাসী সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধামসা, মাদল এর ছন্দে পা মেলান জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু।

জুন ৩০, ২০২২
নিবন্ধ

অলংকরণ কর্মশালার মাধ্যমে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী পালন

রাজার ঘরে যে ধন আছে টুনির ঘরেও সে ধন আছে - আমাদের অনেকের শৈশবের গল্পের বই পড়ার শুরু এখানেই। বরেণ্য শিশু সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী ছিল ১২ই মে। শিশু কিশোর আকাদেমি এবং তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার-এর যৌথ উদ্যোগে একদিনের একটি অলংকরণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল পুর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ে, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, পূর্ব বর্ধমান-এর সহযোগিতায়।উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী পালনকর্মশালা পরিচালনা করতে এসেছিলেন শিল্পী শ্রী আলয় ঘোষাল। সঙ্গে ছিলেন আরেক শিল্পী শ্রী বিভূতি চক্রবর্তী। সারাদিন একশ বিশ কচি-কাঁচা কে নিয়ে চলল গুপী-বাঘা, ভুতের রাজা, বাঁশ বনের টেক্সচার, গাধার উচ্চতা, রাজা মশাই এর পাগড়ির শেপ ইত্যাদি নিয়ে রঙ্গিন আলোচনা। আলয় ঘোষাল মহাশয়ের কথায় কথায় আসছিল ক্যামেরার চোখে কম্পোজিশন দেখার কথা। আঁকা আর অলংকরণের পার্থক্য। বার বার বলছিলেন ছোটদের বই পড়ার কথা। গল্প পড়ে তাঁর চিত্রকল্প তৈরী করার অভ্যেস। এক সময় আভিবাবকদের ঘরে ডেকে এনে বললেন ছোটদের মনোযোগ মোবাইল আর টেলিভিশন থেকে সরাতে তাদের হাতে বই তুলে দিতে। এক ফাঁকে ওনার সাথে কথা বলছিলাম ইলাস্ট্রেসন আর ফটোগ্রাফি নিয়ে।উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী পালনউনি বলছিলেন ওনার ছবি তোলার মজার মজার অভিজ্ঞতা। খুব ইচ্ছে করছিল ওনার হাতের কয়েকটা লাইন সংগ্রহে রাখতে। কথাটা বলতেই আমার হাতের নোট বইটা টেনে নিলেন, কয়েকটা পেনের আঁচড় দিয়ে বললেন আমায় একটু জল রঙ এনে দাও। একজনের রঙ ধার করে দিলাম। শেষে হাতে পেলাম একপাতা আনন্দ। কত বড় মাপের মানুষ কিন্তু কত কাছের। আনন্দ আর কৃতজ্ঞতায় মন ভরে গেল। অনুষ্ঠানে আরও যোগ দেন শিশু কিশোর আকাদেমির প্রকাশনা বিভাগের প্রধান ড. শর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মশালা শেষে সকলের হাতে শংসাপত্র আর বই উপহার তুলে দেওয়া হয়। সব শেষে আমার সারপ্রাইজ গিফট। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক মশাই এর কাছ থেকে আর এক খুব প্রিয় মানুষ শ্রীমতী জয়া মিত্রের বই। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক ও তাঁর দপ্তরের প্রত্যেক কর্মীকে আনেক ধন্যবাদ। শেষ কথা-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মদিনে একগুচ্ছ কচি প্রাণের সঙ্গে সারাটা দিন কাটানোর থেকে ভাল উদ্যাপন আর কিছু হয় না।

মে ১৪, ২০২২
রাজ্য

রাজ্য জুড়ে মহাসমারোহে পালিত বিশ্বকবির ১৬১ তম জন্মজয়ন্তী

সোমবার সারা রাজ্যে মহা সমারোহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মদিন পালিত হল। কবিগুরু বাংলা ও বাঙালির আবেগ। মানুষের সুখ দুঃখ হতাশা সহ যেকোনও অনুভূতিতেই তাঁর গান আমাদের প্রেরণা। আমাদের চলার পথের পাথেয়। তাঁর কবিতা / গানের ছন্দে ছন্দে বেঁচে থাকার অপার অনুপ্রেরণা। কবির কথায়ঃ- আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে॥পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে ক্যাথিড্রাল রো তে কবি প্রনামের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নাট্যকার ও মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, কবি জয় গোস্বামী, সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, আবুল বাসার, কবি সুবোধ সরকার, গায়ক ইন্দ্রনীল সেন সহ অন্যান্য বিশিষ্ঠ জনেরা। বাংলার জেলায় জেলায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে রবীন্দ্রজয়ন্তী-র আয়োজন করা হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার এক বেসরকারি স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল এবছর একটু ব্যাতিক্রমী ভাবে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালন করল। প্রতিবছর এই বিদ্যালয় সহ রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়েই প্রাতঃকালীন কবি প্রনামের আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রচন্ড দাবদাহের জন্য সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী অকাল গৃষ্মের ছুটি পরে যাওয়াতে তাঁরা কবি প্রনাম আয়োজন করেন সুর্যাস্তের পর।কবি বরণ অনুষ্ঠানসংস্থার প্রানপুরুষ তথা সভাপতি অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জনতার কথা কে জানান, দাবদাহের জন্য, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় হটাৎ করে গরমের ছুটি পড়ে যাওয়াতে আমরা প্রথমে খুব স্বাভাবিক ভাবেই হতাশ হয়ে পড়ি কচি-কাঁচাদের কথা ভেবে। বিগত দু-বছর তাঁরা করোনার চোখরাঙ্গানীতে গৃহবন্দি ছিল। তাই আমরা বিদ্যালয়ের সকলে বসে ঠিক করি, সুর্যাস্তের পর যদি আমরা অনুষ্ঠানটা করি তাহলে বাচ্চাদের আর গরমে কোনও সমস্যা হবে না।তিনি জনতার কথা কে আরও জানান, ছাত্রদের-ই জন্য বিদ্যালয়, তারা সেখানে উপস্থিত না থাকতে পারলে এ আনন্দে-র কোনও মুল্যই থাকে না। বিদ্যালয় তাঁদের পদধ্বনির অপেক্ষায় থাকে। আজকের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে জ্ঞিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, কোনও একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের কথা বলবো না। ছাত্রদের সকলের অনুষ্ঠান-ই ছিলো মনমুগ্ধকর। কবি প্রনাম আদপে গঙ্গা জলেই গঙ্গা পূজা, কবির কথাতেই বলিঃ-শিশু হবার ভরসা আবারজাগুক আমার প্রাণে,লাগুক হাওয়া নির্ভাবনার পালে,ভবিষ্যতের মুখোশখানাখসাব একটানে,দেখব তারেই বর্তমানের কালে।নৃত্য, সঙ্গীত ও নটকে সাজানো বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান ছিলো জমজমাট। এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তী-তে তাদের থিম ছিল তবু মনে রেখো...। বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্যের তত্ত্বাবধানে ছাত্রছাত্রী দের নিয়ে বিশ্বকবির অমর সৃষ্টি ডাকঘর নাটক অবলম্বনে একটি ছোট্ট উপস্থাপনা মন ছুঁয়ে যায়। অমলের ঘর থেকে বাইরে আসার আকুল আর্তি মন ছুঁয়ে যায় উপস্থিত দর্শকদের। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমন নাগ জনতার কথা কে জানান, ডাকঘর নাটকে কবিগুরুর সৃষ্ট এক অমর চরিত্র অমল। অসুস্থ অমলের গৃহবন্দী দশা-য় যে মনকষ্টে ভুগেছে, তা বিশ্ববাসী বিগত দুই বছরে মরমে মরমে বুঝতে পেরেছে। তিনি এক যুগোত্তীর্ণ কবি সাহিত্যিক, সর্বকালে তাঁর রচনা প্রাসঙ্গিক, তিনি শতবর্ষ পুর্বে লিখে গেছেনঃ- আজি হতে শতবর্ষ পরেকে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানিকৌতূহলভরে--আজি হতে শতবর্ষ পরে।

মে ১০, ২০২২
বিনোদুনিয়া

রবিঠাকুরের ১৬১ তম জন্মদিন পালন, নন্দন চত্ত্বরে বিশেষ আয়োজন

আজ ২৫ শে বৈশাখ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১ তম জন্মদিন। সারা দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে কবিগুরুর জন্মদিন। রবীন্দ্রনাথ মানে বাঙালির কাছে আবেগ। তাই বাঙালির কাছে ২৫ শের তাৎপর্য অন্যদের তুলনায় বাঙালিদের কাছে একটু বেশিই। সাধারণ মানুষ থেকে তারকা সবাই এই বিশেষ দিনটাকে নিজেদের মতো করে উদযাপন করছে। চলুন দেখে নিই কোন তারকা কিভাবে এই বিশেষ দিনটি সেলিব্রেট করলেন। অভিনেত্রী মৌলী দত্ত নববধূর সাজে কয়েকটি ফটোশুটের সাজে ছবি পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তুমি রবে নিরবে, হৃদয়ে মম। অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী রবিঠাকুরের একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, কবিপ্রণাম। সঙ্গীতশিল্পী রূপঙ্কর বাগচী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি অনুষ্ঠান করার কয়েকটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, বর্ষণমন্দ্রিত। এইভাবে বিভিন্ন তারকারা যেমন নিজের মতো করে রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন করেছেন তেমনি এদিন কলকাতার রবীন্দ্রসদন প্রাঙ্গনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া কবিগুরুর ছবি দিয়ে খুব সুন্দরভাবে নন্দন চত্ত্বরটা সাজানো হয়েছে। বাঙালির আবেগের দিনে তাই যেন পুরো পরিবেশটা রবিমুখর হয়ে উঠেছে।

মে ০৯, ২০২২
বিনোদুনিয়া

‘বাবা বেবি ও..’র ৫০ দিন উদযাপন

উইন্ডোজ প্রডাকশন হাউস থেকে প্রযোজিত পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের ছবি বাবা বেবি ও। ছবিটি মুক্তির পরই দর্শকমহলে প্রশংসা পেয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়ার পর মেঘ আর বৃষ্টির জমজমাট দাম্পত্য ৫০ দিন পার করে ফেলল । সেই আনন্দে সুইমিং পুলের পাশে উদযাপনের আয়োজন ছিল। যিশু সুপুরুষ ক্যাজুয়াল সাজে নজর কাড়লেন। গরমের জন্য তাই শোলাঙ্কি রা্যের সাদা শাড়িতে প্যাস্টেল রঙা সুতোর কাজ ছিল। উপস্থিত ছিলেন দলের প্রায় প্রত্যেকে। জিনিয়া সেন, রেশমি সেন প্রমুখ। আর ছিল পটল, পোস্ত। যিশু-শোলাঙ্কির পর্দার যমজ ছেলে। পরিচালক অরিত্র জানিয়েছেন, ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটিও মুক্তির পরে সাড়া জাগিয়েছিল। তার পরেই অতিমারির দাপটে কোণঠাসা। এই ছবির প্রচারের আগে পরেও অতিমারি ছিল। ফলে, বাবা বেবি ও নিয়েও ভয় ছিল। ৫০ দিন কাটার পরে শুধু আমি নই সবাই হাল্কা।

এপ্রিল ০২, ২০২২
কলকাতা

‘বোনেরাই বিধানসভার সম্মান রক্ষা করেছে’

মহিলা বিধায়কদের চোখের ইশারা করেছিলেন মমতা। আর তাতেই মহিলা বিধায়করা ধাক্কা মারেন রাজ্যপালকে। সোমবার বিধানসভার ঘটনা প্রসঙ্গে এমনই অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সেই মহিলা বিধায়কদের ভূমিকার প্রশংসা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উল্লেখ করেছেন, মহিলা ব্রিগেডই বিধানসভার সম্মান রক্ষা করেছেন। বিরোধী দলের তরফে মহিলাদের অপমান করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। মমতার কথায়, মহিলা বিধায়কদের ওই ভূমিকা আগামিদিনে অনেককে অনুপ্রাণিত করবে।যদিও শুভেন্দুর অভিযোগকে আগেই উড়িয়ে দেন বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর এত খারাপ অবস্থা হয়নি যে আমাদের চোখের ইশারা করবেন। পাশাপাশি, রাজ্যপালকে নিগ্রহ করার অভিযোগ প্রসঙ্গে চন্দ্রিমার বক্তব্য, আমরা শারীরিক নির্যাতন করব? উনি কি এতই দুর্বল? ঢং করতে করতে এতই দুর্বল হয়ে গিয়েছেন? অত বড় লম্বা-চওড়া একটা মানুষ! আর এবার খোদ মমতা চন্দ্রিমাদের ভূমিকার প্রশংসা করলেন। নারী দিবসে বুঝিয়ে দিলেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বা শশী পাঁজা যা করেছেন, তা গণতন্ত্র রক্ষা করতেই করা হয়েছে।মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চে দলের সাংগঠনিক বৈঠকের শুরুতে মহিলা ব্রিগেডের প্রশাংসা করেন মমতা। তিনি বলেন, মেয়েরা কাল লিড নিয়েছে। ভাইরা পিছনে ছিল, আর বোনেরা সামনে থেকে বিধানসভার সম্মান রক্ষা করেছে। মমতার দাবি, বিজেপি অনেক অপমান করেছে মহিলাদের। অনেক কু কথা বলেছে, অনেক অর্ধ সত্যও বলেছে। তা সত্ত্বেও নিয়ম মেনে গণতন্ত্রকে বাঁচিয়েছে মহিলা বিধায়কেরাই। তৃণমূল নেত্রী বলেন, এর থেকে অনেকে আগামিদিনে শিক্ষা নেবে।চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজার মতো বিধায়কদের নাম করে অভিযোগ তুলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যপালকে ধাক্কা মেরেছে তৃণমূলের গুণ্ডা বিধায়করা। শুভেন্দু সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর চোখের ইশারায়, একাধিক মহিলা বিধায়ক শারীরিক নির্যাতন করেছে রাজ্যপালকে।

মার্চ ০৮, ২০২২
রাজ্য

প্রজাতন্ত্র দিবসে শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা

নিউ মার্কেট, পার্কস্ট্রিট থেকে বড়বাজার প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে থেকেই শহরজুড়ে চলেছে পুলিশের তল্লাশি। হোটেল, গেস্ট হাউজগুলিতেও কড়া নজরদারি পুলিশের। বিভিন্ন রাস্তায় চলছে নাকা চেকিং। মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। শহরের আনাচে-কানাচে চলছে নজরদারি। মূল অনুষ্ঠানের জায়গাতেও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।রেড রোডে যেখানে প্যারেড রয়েছে, সেখানে আড়াই হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যার মধ্যে ১১০০ পুলিশ রয়েছে রেড রোডে। অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার কর্তারা রয়েছেন। রেড রোডে ১১টি জোন প্রস্তুত করা হয়েছে। দায়িত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার কর্তারা। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৬ টি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। তার মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তে নজরদারি চালানো হচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে পুলিশ পিকেটিং রয়েছে।যে যে পদক্ষেপ কলকাতা পুলিশের তরফে করা হয়েছে কোভিডের কারণে এবারও দর্শক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। ভিআইপি সংখ্যাও কমানো হয়েছে, যাতে কোভিডবিধি ভঙ্গ না হয়। রেড রোডে মূল অনুষ্ঠানের জায়গা কড়া নিরাপত্তার মোড়কে। শহরজুড়ে চলছে নজরদারি। নিরাপত্তার জন্য রেড রোড সংলগ্ন এলাকাকে ১১ টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক জোনের দায়িত্বে একজন করে ডিসি পদমর্যাদার অফিসার। প্রত্যেক জোনকে একাধিক সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। রেড রোডের চারপাশে ৫ টি স্যান্ড ব্যাংকার রয়েছে। ৯ ডিভিশনে ২৬ টি পিসিআর ভ্যান থাকছে। ১২ টি এইচআরএফএস গাড়ি থাকছে। মোটরবাইক পেট্রোল টিম রয়েছে ৮ টি। ৬ টি ওয়াচ টাওয়ার। মোতায়েন রয়েছে ৩ টি কুইক রেসপন্স টিম। রেড রোডে বিশেষ কন্ট্রোল পোস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শহরে ঢোকা বেরোনোর প্রত্যেকটি পয়েন্টে নাকা চেকিং চলছে।

জানুয়ারি ২৬, ২০২২
দেশ

নেতাজির জন্মদিবস থেকেই সাধারণতন্ত্রদিবস পালন শুরুর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

এবার ২৩ জানুয়ারি থেকেই সাধারণতন্ত্র দিবস পালন শুরু হবে, ঘোষণা কেন্দ্রের। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীকে মর্যাদা দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। গত বছর নেতাজির জন্মবার্ষিকীকে পরাক্রম দিবস হিসেবে পালন করার কথা ঘোষণা করেছিল মোদি সরকার। এবার থেকে প্রতি বছর সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠান শুরু হবে ২৩ জানুয়ারি থেকে।সাধারণত ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ২৪ জানুয়ারি থেকেই যাবতীয় উদযাপন শুরু করে কেন্দ্র। এবার তা একদিন এগিয়ে দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, নতুন করে ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলিকে বিশেষ ভাবে স্মরণ ও উদযাপন করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।অন্য বেশ কয়েকটি দিবসকেও বছরভর বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সেগুলির মধ্যে রয়েছে ১৪ অগস্ট দেশভাগের ভয়াবহতা স্মরণ দিবস। ৩১ অক্টোবর জাতীয় ঐক্য দিবস যা পালন করা হয় সর্দার প্যাটেলের জন্মদিনে। ১৫ নভেম্বর জনজাতি গৌরব দিবস যা পালন করা হয় বিরসা মুন্ডার জন্মদিনে। ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস। ২৬ ডিসেম্বর বীর বাল দিবস(এই দিনে গুরু গোবিন্দ সিংয়ের চার ছেলেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়)। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি দিবস ইতিমধ্যেই পালিত হয়ে আসছে।নেতাজির স্মৃতি বিজড়িত দেশের নানা স্থানকে আলাদা করে প্রোমোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত বছর অক্টোবরে কেন্দ্রের পর্যটক মন্ত্রক আজাদ হিন্দ সরকার গঠনের বার্ষিকীতে কিউরেটেড ট্যুরের পরিকল্পনার কথা জানায়।সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশজুড়েই নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজধানীতে চলে কুচকাওয়াজ। এবার ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মজয়ন্তী থেকেই সেসব চালু হয়ে যাবে।

জানুয়ারি ১৫, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

টুকিটাকি

যেখানে আজ লাখো ভক্তের ঢল, সেখানেই একদিন জঙ্গলের মাঝে ৭০ জনেরও কম মানুষে শুরু হয়েছিল কৃষ্ণের জন্মোৎসব

আজ মথুরার আকাশে কৃষ্ণনাম। জন্মভূমির প্রাঙ্গণে ভক্তির ঢেউ। আলো, ফুল, মন্ত্রোচ্চারণ আর অসংখ্য মানুষের পদধ্বনিতে মুখর শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান। জন্মাষ্টমীর মধ্যরাত যত এগিয়ে আসে, ততই যেন অপেক্ষার প্রহর ঘন হয়কখন জন্ম নেবেন নন্দলাল, কখন বাজবে শঙ্খ, কখন খুলবে সেই পবিত্র মুহূর্তের দ্বার!কিন্তু আজকের এই বিপুল আয়োজনের দিকে তাকালে বিশ্বাস করাই কঠিন, একদিন এই একই জন্মভূমিতে কৃষ্ণের জন্মোৎসব ছিল নিভৃত, ছোট্ট এক আয়োজন। ছিল না লক্ষ মানুষের ভিড়, ছিল না আলোর ঝলকানি, ছিল না উৎসবের এত জৌলুস। ছিল শুধু কয়েকজন মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা আর এক গভীর স্বপ্নকৃষ্ণের জন্মভূমিতে তাঁর জন্মদিনকে নতুন করে উদযাপন করার স্বপ্ন।সেই গল্পের শুরু ১৯৫৭ সালে।তখন মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান আজকের মতো সুসজ্জিত ছিল না। চারদিকে ছিল অনেকটাই অনুন্নত, জঙ্গলঘেরা পরিবেশ। অসমতল জমির সেই প্রাচীন পরিসর পরিচিত ছিল কৃষ্ণ চবুতরা নামে। ইতিহাসের স্তর আর বিশ্বাসের আবরণে ঢাকা সেই ভূমিকে ঘিরে তখনও ভবিষ্যতের বিরাট জন্মোৎসবের কোনও আভাস যেন দৃশ্যমান ছিল না।জন্মাষ্টমীর প্রায় এক সপ্তাহ আগে হাথরাসের কবি গোপাল প্রসাদ ব্যাসের নেতৃত্বে সেখানে জড়ো হলেন কয়েকজন মানুষ। কোনও বিশাল মঞ্চ নয়, কোনও বিপুল জনসমাবেশ নয়কৃষ্ণকে ঘিরে কবিতা, আলোচনা আর অনুভবের এক ছোট্ট আসর। উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল ৭০ জনেরও কম।সংখ্যার বিচারে হয়তো সামান্য। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে সেই জমায়েত ছিল অসামান্য।কারণ, কখনও কখনও বড় কোনও আন্দোলনের শুরু হয় না হাজার মানুষের গর্জনে; শুরু হয় মুষ্টিমেয় কয়েকটি মানুষের নীরব বিশ্বাসে। সেই দিনটিও যেন তেমনই এক দিন। কৃষ্ণকে নিয়ে লেখা কবিতা পাঠ করা হল, তাঁকে ঘিরে বলা হল নানা কথা। ভক্তেরা ভাগ করে নিলেন তাঁদের অন্তরের অনুভূতি। দিনের সেই আয়োজনে ছিলেন প্রায় ২৫ জন আয়োজক এবং ৪৫ জন ভক্ত।আজকের মথুরার সঙ্গে সেই ছবির কোনও মিল নেই। আজ জন্মাষ্টমীতে এখানে মানুষের ঢল নামে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তেরা ছুটে আসেন কৃষ্ণের জন্মভূমির টানে। কিন্তু সেই বিপুলতার বহু আগে, নিভৃত এক কোণে কয়েকজন মানুষ যেন ভবিষ্যতের সেই উৎসবের প্রথম প্রদীপটি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।আয়োজনটির পরিসর ছিল ছোট, কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল বড়।তখন জন্মস্থানও ছিল অন্যরকম। পদ্মশ্রী মোহন স্বরূপ ভাটিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় এই এলাকা ছিল জঙ্গলঘেরা এবং অসমতল। আধুনিক পরিকাঠামোর চিহ্ন ছিল না বললেই চলে। সেই জায়গাকেই নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার ও সমতল করার কাজে এগিয়ে এসেছিলেন শহরের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। কারও হাতে ছিল শ্রম, কারও হাতে ছিল সময়, কারও হাতে ছিল শুধু বিশ্বাসসব মিলিয়ে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল জন্মভূমির চেহারা।একটি পরিত্যক্ত, অনুন্নত পরিসর ধীরে ধীরে হয়ে উঠতে লাগল ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।১৯৫৭ সালে শুরু হল কেশবদেব মন্দির নির্মাণের কাজ। পরের বছর, ১৯৫৮ সালে, মন্দিরের উদ্বোধন হল। আর তার পর থেকেই জন্মাষ্টমীর আয়োজন ক্রমশ পেতে শুরু করল একটি নিয়মিত ও সুসংগঠিত রূপ।তারপর ইতিহাস এগিয়েছে নিজের গতিতে।একসময় যে জায়গায় কয়েকজন মানুষকে নিয়ে কৃষ্ণকে স্মরণ করে কবিতা পাঠের আসর বসেছিল, সেখানেই বছর ঘুরে জন্মাষ্টমী হয়ে উঠল বিরাট জনউৎসব। ছোট্ট সেই জমায়েতের জায়গা নিল অসংখ্য মানুষের সমাবেশ। কয়েক ডজন ভক্তের জায়গায় এল হাজার হাজার, তারপর লক্ষ মানুষের পদধ্বনি। আয়োজন বাড়ল, পরিকাঠামো বদলাল, উৎসবের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ল বহুদূর।তবু এই দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হয়তো অন্য কোথাও।উৎসব বদলেছে, সময় বদলেছে, জন্মস্থানের চেহারা বদলেছে, মানুষের সংখ্যা বেড়েছে অগণিত। কিন্তু বদলায়নি কৃষ্ণকে ঘিরে মানুষের সেই অদৃশ্য টান।সেই টানই হয়তো ১৯৫৭-এর সেই ছোট্ট আসরের প্রাণ ছিল। আর আজও সেই টানেই মানুষ রাত জেগে অপেক্ষা করেন কৃষ্ণের জন্মমুহূর্তের জন্য।মথুরার রাত যখন গভীর হয়, মন্দিরচত্বর যখন কৃষ্ণনামে মুখর হয়ে ওঠে, তখন হয়তো ইতিহাসের সেই প্রথম দিনটির কথাও মনে পড়ে। মনে হয়, এত আলো, এত ভিড়, এত আয়োজনের বহু আগে কোথাও এক ছোট্ট প্রদীপ জ্বলেছিল। সেই প্রদীপের আলোয় ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন মানুষতাঁদের হৃদয়ে ছিলেন একমাত্র কৃষ্ণ।সেই কয়েকজনের বিশ্বাস আজ লক্ষ মানুষের উৎসব।সময়ের স্রোতে আয়োজনের আকার যতই বদলাক, কৃষ্ণের জন্মভূমির মাটিতে সেই প্রথম দিনের আবেগ যেন এখনও মিশে আছে। তাই জন্মাষ্টমীর রাতে মথুরার আকাশে যখন শঙ্খধ্বনি ওঠে, ভেসে আসে হরে কৃষ্ণ নাম, তখন মনে হয়উৎসব বড় হয়েছে, মানুষ বেড়েছে, জৌলুস বেড়েছে; কিন্তু লালাকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা আজও সেই একই রকম নির্মল, একই রকম গভীর।যেন কয়েকজনের হাতে জ্বালানো সেই ছোট্ট প্রদীপ আজও জ্বলছেশুধু তার আলো পৌঁছে গিয়েছে অগণিত ভক্তের হৃদয়ে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
টুকিটাকি

বাল গোপাল থেকে দ্বারকাধীশ, কোথাও জগন্নাথ—জন্মাষ্টমীর আগে কৃষ্ণের পদচিহ্নে ভারতের ১০ তীর্থের গল্প

কোথাও তিনি ননীচোরা বালক, কোথাও মুরলীধর, কোথাও প্রেমের কৃষ্ণ, আবার কোথাও রাজাধিরাজ দ্বারকাধীশ। কোথাও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রাধার অমোঘ প্রেমকথা, কোথাও তিনি জগন্নাথকাঠের দারুবিগ্রহে অধিষ্ঠিত এক অনন্য দেবসত্তা। ভারতের মানচিত্রে কৃষ্ণ যেন একটিই নাম, অথচ তাঁর রূপের বিস্তার অসংখ্য।সামনেই জন্মাষ্টমী। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিকে ঘিরে দেশের নানা প্রান্তে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। মন্দিরে মন্দিরে সাজসজ্জা, বিশেষ পুজো, নামসংকীর্তন, ভজন এবং রাতভর উৎসবের আয়োজন। কোথাও ফুলে সেজে উঠছে গর্ভগৃহ, কোথাও আলোর মালায় বদলে যাচ্ছে মন্দিরচত্বর। মধ্যরাতে যখন শঙ্খধ্বনি আর ঘণ্টার আওয়াজে ঘোষণা হবে কৃষ্ণজন্মের, তখন ভারতের নানা প্রান্ত যেন একই সুরে উচ্চারণ করবেহরে কৃষ্ণ।কিন্তু কৃষ্ণকে জানতে গেলে শুধু পুরাণের পাতা কিংবা গীতার শ্লোকের দিকে তাকালেই হয় না। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় ভারতের নানা প্রান্তের মন্দিরে, জনশ্রুতিতে, স্থাপত্যে, উৎসবে এবং মানুষের বিশ্বাসে। বৃন্দাবনের কুঞ্জ থেকে দ্বারকার সমুদ্রতট, পুরীর রথযাত্রা থেকে কেরলের গুরুবায়ুরপ্রতিটি তীর্থে কৃষ্ণ যেন নতুন করে জন্ম নেন।জন্মাষ্টমীর আগে সেই কৃষ্ণতীর্থগুলির কয়েকটি ঘুরে দেখা যাক।রাধারমণ মন্দির, বৃন্দাবনশালগ্রাম থেকে আবির্ভূত কৃষ্ণবৃন্দাবনের সরু গলি, পুরনো দালান আর অসংখ্য মন্দিরের ভিড়ে রাধারমণ মন্দিরের অবস্থান বিশেষ। গোপাল ভট্ট গোস্বামীর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরের ইতিহাস। বৈষ্ণব পরম্পরার বিশ্বাস অনুযায়ী, শালগ্রাম শিলা থেকেই আবির্ভূত হয়েছিল রাধারমণজির বিগ্রহ।মন্দিরের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী, ১৫৪২ সালে বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে এই আবির্ভাব ঘটে। সেই কারণেই রাধারমণকে ঘিরে বৃন্দাবনের ভক্তি-পরম্পরায় রয়েছে এক বিশেষ আবেগ।এখানে কৃষ্ণ যেন বিশাল রাজকীয় আড়ম্বরের দেবতা নন; বরং ঘরের আপনজন। ছোট্ট বিগ্রহ, নিবিড় সেবা আর শতাব্দী পেরিয়ে আসা আচারসব মিলিয়ে রাধারমণ মন্দিরে কৃষ্ণভক্তির এক অন্তরঙ্গ রূপ অনুভব করা যায়।বাঁকে বিহারী মন্দিরত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় মায়াবী কৃষ্ণবৃন্দাবনের কথা উঠলে বাঁকে বিহারী মন্দিরের নাম উচ্চারণ না করলে যেন শহরের গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণের বিগ্রহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগ অপরিসীম।প্রচলিত ইতিহাসে এই মন্দিরের সঙ্গে স্বামী হরিদাসের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে। তাঁর সাধনা ও ভক্তির পরম্পরার মধ্য দিয়েই বাঁকে বিহারীর আরাধনা জনপ্রিয়তা পায়।এই মন্দিরের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য জন্মাষ্টমীকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বছরের অন্য দিনগুলির তুলনায় কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিনেই এখানে বিশেষ মঙ্গল আরতির আয়োজন করা হয়।বৃন্দাবনের অগণিত ভক্তের কাছে সেই মুহূর্ত যেন শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়কৃষ্ণের জন্মের সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ার এক বিরল অনুভূতি।মদন মোহন মন্দিরযমুনার ধারে প্রাচীন বৈষ্ণব স্মৃতিযমুনার কাছাকাছি আদিত্য টিলার উপর দাঁড়িয়ে থাকা মদন মোহন মন্দির বৃন্দাবনের প্রাচীন বৈষ্ণব ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, আদিত্য আচার্য একটি বটগাছের নীচে মদন মোহনের বিগ্রহ আবিষ্কার করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে মন্দির ও ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ পরিসর।লালচে ইটের নির্মাণ, ঊর্ধ্বমুখী শিখর এবং যমুনার কাছাকাছি অবস্থান মন্দিরটির আবহকে অন্যরকম করে তুলেছে। এখানে দাঁড়ালে মনে হয়, বৃন্দাবনের বর্তমান শহরের আড়ালে এখনও কোথাও লুকিয়ে রয়েছে কয়েক শতাব্দী আগের সেই বৈষ্ণব জনপদ।রঙ্গজি মন্দিরবৃন্দাবনে দক্ষিণ ভারতের স্থাপত্যের ছোঁয়াবৃন্দাবনের মন্দির বলতেই সাধারণত উত্তর ভারতীয় স্থাপত্যের কথা মনে আসে। কিন্তু রঙ্গজি মন্দির সেই ধারণাকে বদলে দেয়।শ্রীরঙ্গমের রঙ্গনাথ মন্দিরের আদলে নির্মিত এই মন্দিরের কাজ শুরু হয় ১৮৪৫ সালে এবং ১৮৫১ সালে তা সম্পূর্ণ হয়। দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যের প্রভাব এখানে স্পষ্ট, যদিও তার সঙ্গে মিশেছে উত্তর ভারতের স্থানীয় শিল্পরীতি।বৃন্দাবনের এই মন্দির তাই শুধু ধর্মীয় তীর্থ নয়, ভারতীয় স্থাপত্য-সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্রও। কৃষ্ণভক্তি যে কোনও একটি অঞ্চল বা ভাষার সম্পত্তি নয়রঙ্গজি মন্দির তারই এক স্থাপত্যিক প্রমাণ।দ্বারকাধীশ মন্দির, দ্বারকাবৃন্দাবনের বালক থেকে সমুদ্রতীরের রাজাবৃন্দাবনে কৃষ্ণ যেখানে গোপাল, মাখনচোর, বাঁশিওয়ালা; দ্বারকায় এসে সেই কৃষ্ণই যেন রাজাধিরাজ।গুজরাতের সমুদ্রতীরবর্তী দ্বারকা শহরের সঙ্গে কৃষ্ণের সম্পর্ক ভারতীয় পুরাণ-পরম্পরায় অত্যন্ত গভীর। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মথুরা ত্যাগের পর কৃষ্ণ সমুদ্রের কাছাকাছি দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানেই তাঁর রাজ্য গড়ে ওঠে।দ্বারকাধীশ মন্দির তাই কৃষ্ণের আর এক পরিচয়ের সামনে আমাদের দাঁড় করায়যিনি শুধু প্রেমিক বা রাখাল নন, তিনি রাষ্ট্রনায়ক, রাজা এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্মৃতির কেন্দ্র।চারধামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ হিসেবে দ্বারকার গুরুত্বও আলাদা। মন্দিরের বর্তমান কাঠামো বহু শতাব্দীর পরিবর্তন, পুনর্নির্মাণ ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে আজকের রূপ পেয়েছে। ফলে দ্বারকাধীশ শুধু একটি মন্দির নয়, পুরাণ ও ইতিহাসের দীর্ঘ সংলাপেরও সাক্ষী।পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকৃষ্ণের অনন্য দারুরূপকৃষ্ণের রূপের বৈচিত্র্য সবচেয়ে বিস্ময়করভাবে ধরা পড়ে ওড়িশার পুরীতে। এখানে তিনি জগন্নাথদাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে অধিষ্ঠিত।কাঠের তৈরি এই বিগ্রহ ভারতীয় মন্দির-সংস্কৃতির এক বিরল ঐতিহ্য। প্রতি বছর নবকলেবর-সহ নানা আচার, রথযাত্রা এবং শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় প্রথা জগন্নাথধামকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে।বর্তমান মন্দিরের নির্মাণের ইতিহাসের সঙ্গে পূর্ব গঙ্গবংশের রাজা অনন্তবর্মন চোড়গঙ্গদেবের নাম যুক্ত। তবে মন্দিরের নির্মাণ ও সম্পূর্ণতার সময়কাল নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে বিভিন্ন মত রয়েছে।পুরীতে কৃষ্ণ যেন বৃন্দাবনের কিশোর নন, দ্বারকার রাজাও নন। তিনি এখানে জগন্নাথজগতের নাথ। তাঁর রূপে আঞ্চলিক সংস্কৃতি, আদিবাসী ঐতিহ্য, বৈষ্ণব ভাবনা এবং ভারতীয় ধর্মীয় পরম্পরার এক বিস্ময়কর সমন্বয় দেখা যায়।গুরুবায়ুর মন্দিরদক্ষিণের ভূলোক বৈকুণ্ঠকেরলের ত্রিশূর জেলার গুরুবায়ুরে অবস্থিত শ্রীকৃষ্ণ মন্দির দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রসিদ্ধ কৃষ্ণতীর্থ। ভক্তদের কাছে এই স্থান ভূলোক বৈকুণ্ঠ নামে পরিচিত।মন্দিরের উৎপত্তিকে ঘিরে রয়েছে নানা পুরাণকথা ও কিংবদন্তি। গুরুবায়ুরাপ্পন নামে পূজিত কৃষ্ণের বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নিজস্ব আচার, পুজোপদ্ধতি এবং গভীর ভক্তি-সংস্কৃতি।উত্তর ভারতের বৃন্দাবনের সঙ্গে এখানকার পরিবেশের বিস্তর পার্থক্য। ভাষা আলাদা, স্থাপত্য আলাদা, পুজোর রীতিও আলাদা। কিন্তু কৃষ্ণের প্রতি মানুষের নিবেদন একই রকম গভীর।এখানেই হয়তো ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যটি ধরা পড়েঅঞ্চল বদলালেও অনুভূতিটি বদলায় না।নিকুঞ্জবনমন্দির নয়, তবু রহস্যে মোড়া এক তীর্থবৃন্দাবনের সব পবিত্র স্থান যে মন্দির, তা নয়। নিকুঞ্জবন তার সবচেয়ে রহস্যময় উদাহরণগুলির একটি।ঘন গাছপালায় ঢাকা এই স্থানকে ঘিরে প্রচলিত বিশ্বাসের শেষ নেই। বৈষ্ণব ভাবধারায় রাধা-কৃষ্ণের নিকুঞ্জলীলা ও এই স্থানের সম্পর্কের কথা বলা হয়।স্থানীয় বিশ্বাসে সূর্যাস্তের পর নিকুঞ্জবনে প্রবেশ না করার রীতি রয়েছে। এই বিশ্বাসকে ঘিরে বহু কিংবদন্তি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।দিনের আলোয় যেখানে বৃন্দাবনের আর পাঁচটি পবিত্র স্থানের মতোই মানুষের আনাগোনা, সন্ধ্যার পর সেই জায়গাটিই যেন অন্য এক আবহ ধারণ করে। ঘণ্টাধ্বনি বা আরতির বদলে সেখানে অনুভূত হয় নিস্তব্ধতাআর সেই নীরবতার মধ্যেই যেন বেঁচে থাকে বৃন্দাবনের পুরনো কাহিনি।প্রেম মন্দিরআধুনিক বৃন্দাবনে রাধাকৃষ্ণের লীলার আলোকচিত্রবৃন্দাবনের প্রাচীন মন্দিরগুলির পাশে প্রেম মন্দির তুলনায় নবীন। কিন্তু তার স্থাপত্য ও আলোকসজ্জার জাঁকজমক তাকে দ্রুতই জনপ্রিয় করে তুলেছে।জগদগুরু শ্রী কৃপালু জি মহারাজের উদ্যোগে ২০০১ সালে মন্দিরটির নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০১২ সালে এর উদ্বোধন হয়। সাদা মার্বেলের বিশাল কাঠামো, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং রাধাকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলার দৃশ্য মন্দিরটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বাইরের দেওয়ালে ৮৪টি প্যানেলে রাধাকৃষ্ণের লীলার বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।অর্থাৎ বৃন্দাবনের কয়েক শতাব্দী পুরনো স্মৃতির পাশে প্রেম মন্দির দাঁড়িয়ে রয়েছে আধুনিক সময়ের ভক্তির এক নতুন ভাষা হয়ে।বৃন্দাবনযেখানে শহরটাই যেন কৃষ্ণের গল্পএই তালিকার শেষে এসে আবারও ফিরতে হয় বৃন্দাবনে। কারণ বৃন্দাবনকে কেবল মন্দিরের শহর বলে বোঝা যায় না।এখানে গলি মানেই কোনও গল্প, ঘাট মানেই কোনও স্মৃতি, কুঞ্জ মানেই কোনও কিংবদন্তি। যমুনার জল, মন্দিরের ঘণ্টা, সন্ধ্যার আরতি, রাস্তার ভজন, ফুলের মালাসবকিছুর মধ্যেই যেন কৃষ্ণের উপস্থিতি।জন্মাষ্টমীর সময়ে সেই বৃন্দাবন আরও একবার বদলে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জমে মন্দিরে। কোথাও কীর্তন, কোথাও ভজন, কোথাও কৃষ্ণের জন্মলীলার আয়োজন। মধ্যরাত পেরিয়ে যখন কৃষ্ণজন্মের মুহূর্ত আসে, তখন মনে হয়হাজার হাজার বছর আগের কোনও পুরাণকথা বুঝি আবার বর্তমান হয়ে উঠল।ভারতের নানা প্রান্তে কৃষ্ণের নাম এক, কিন্তু তাঁর রূপ বহুরঙা। বৃন্দাবনে তিনি প্রেমের বাঁশিওয়ালা, দ্বারকায় রাজা, পুরীতে জগন্নাথ, গুরুবায়ুরে আপন গৃহদেবতা। কোথাও তিনি শালগ্রাম থেকে আবির্ভূত স্বয়ম্ভূ বিগ্রহ, কোথাও কাঠের দারুরূপ, কোথাও বা মন্দিরের গর্ভগৃহের নীরব অন্ধকারে জেগে থাকা বিশ্বাস।এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে সুন্দর সত্যটি লুকিয়ে আছেকৃষ্ণের রূপ বদলায়, মন্দির বদলায়, ভাষা বদলায়, আচার বদলায়; কিন্তু তাঁকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা বদলায় না।জন্মাষ্টমী তাই শুধু কৃষ্ণের জন্মদিন নয়। এ যেন ভারতীয় সংস্কৃতির সেই চিরন্তন উৎসব, যেখানে পুরাণ এসে মিশে যায় ইতিহাসে, ইতিহাস এসে মিশে যায় লোকবিশ্বাসে, আর বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় এক গভীর ব্যক্তিগত অনুভবে।সেই কারণেই জন্মাষ্টমীর রাতে ভারতের কোনও এক মন্দিরে যখন শঙ্খ বাজে, অন্য প্রান্তে কোনও ভক্ত যখন কৃষ্ণনাম জপ করেন, তখন দূরত্বটা আর থাকে না। বৃন্দাবন থেকে দ্বারকা, পুরী থেকে গুরুবায়ুরএকই সুরে যেন প্রতিধ্বনিত হয় একটাই নামকৃষ্ণ।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

'উত্তম'কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতু! শাড়িজুড়ে মহানায়কের সোনালি দিন—ঋতুপর্ণার সাজে ফিরল উত্তম-সুচিত্রার নস্ট্যালজিয়া

৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এমন একটি দিন, যেদিন বর্তমান যেন একটু থমকে দাঁড়ায় অতীতের সামনে। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের সূচনায় তাই শুধু শ্রদ্ধা, পুষ্পস্তবক কিংবা স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ রইল না উদযাপন। টালিগঞ্জের বাতাসে এদিন মিশে ছিল এক অন্যরকম নস্ট্যালজিয়াসাদা-কালো পর্দা, পুরনো সিনেমার গান, উত্তম-সুচিত্রার অমর রসায়ন আর বাঙালির চিরচেনা মহানায়ক-কে নতুন করে আবিষ্কারের আবেগ।চার দিনব্যাপী এই বিশেষ উদযাপনের সূচনা হয় মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে। উপস্থিত ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের তারকাপ্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ। কিন্তু তারকাখচিত সেই অনুষ্ঠানে একটি শাড়িই যেন আলাদা করে হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।আর সেই শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে এসে অভিনেত্রী যেন শুধু নিজের পোশাক বেছে নেননি, সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন বাংলা সিনেমার এক বিস্মৃতপ্রায় অথচ চিরজাগ্রত সময়কে। তাঁর পরনের ঘিয়ে রঙের নগজের শাড়ির পাড় ও আঁচলজুড়ে ফুটে উঠেছিল উত্তম কুমারের সিনেমার নানা স্মৃতি। কোথাও মহানায়কের মুখ, কোথাও উত্তম-সুচিত্রার অমলিন উপস্থিতিআর আঁচলজুড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল এই পথ যদি না শেষ হয়-এর সেই চিরপরিচিত মুহূর্ত।যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজেঋতুকে কি ছুঁয়ে গিয়েছিল সেই অমর মুহূর্ত?শর্মিলার শাড়ির পাড়ে হাত রেখে উত্তমের সেই গানবাংলা সিনেমার প্রেমের এক অনন্ত দৃশ্য। সকলে হয়তো স্বীকার করবেন না, তবু বাংলা সিনেমার প্রতিটি অভিনেত্রীর কল্পনায় কোনও না কোনওভাবে উত্তমই ছিলেন সেই স্বপ্নের নায়ক। তিনি শুধু নায়ক-ই নন ছিলেন কারও দাদা, কারও বাবা, কারও বন্ধু, কারও প্রেমিকসম্পর্কের নাম বদলেছে, উত্তম বদলাননি।তিনি ছিলেন, আছেনবাঙালির চিরকালের নায়ক।একটি শাড়ি তখন আর নিছক পোশাক থাকে না। হয়ে ওঠে স্মৃতির ক্যানভাস।উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনের জুটি বাঙালির চলচ্চিত্র-স্মৃতিতে যে জায়গা দখল করে রয়েছে, তাকে নতুন প্রজন্মের সামনে অন্য ভাষায় তুলে ধরার এক অভিনব প্রয়াস যেন দেখা গেল ঋতুপর্ণার সাজে। মেরুন থ্রি-কোয়ার্টার ব্লাউজের সঙ্গে ঘিয়ে রঙের সেই শাড়ি, রং মিলিয়ে গয়নাসব মিলিয়ে সাজে ছিল সংযম, আভিজাত্য এবং আবেগের মিশেল।তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে শাড়ির আঁচল।ক্যামেরার সামনে সেই আঁচল মেলে ধরার মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, যেন কোনও পুরনো বাংলা ছবির ফ্রেম হঠাৎ করেই বর্তমানের মধ্যে ফিরে এসেছে। একদিকে ঋতুপর্ণা, অন্যদিকে আঁচলে ধরা উত্তম-সুচিত্রার সেই অমর সময়দুই প্রজন্মের দুই ভুবন যেন এক জায়গায় এসে মিলল।উত্তম কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতুএদিনের অনুষ্ঠানে এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, যাঁর চোখ ঋতুর শাড়িতে আটকে যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে সৃজিত মুখোপাধ্যায়, দেব, যিশু সেনগুপ্ত, জিৎ, পাপিয়া অধিকারী কিংবা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়মহানায়কের মূর্তির পাদদেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যেন আলাদা এক আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল ঋতুর উত্তম শাড়ি।আর এই দৃশ্য যে শুধু দর্শকের চোখেই ধরা পড়েছে, তা নয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তারকারাও কার্যত মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন সেই বিশেষ শাড়ির কাজ। ঋতুপর্ণার আঁচল টেনে তার নকশা খুঁটিয়ে দেখতে দেখা যায় দেবকে। পাশে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের চোখেও স্পষ্ট কৌতূহল ও মুগ্ধতা। জিৎ-এর নজরও আটকে যায় মহানায়কের মুখ আঁকা সেই আঁচলে। মুহূর্তটি যেন প্রতীকীবর্তমান টলিউডের জনপ্রিয় মুখেরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাংলা সিনেমার সেই সোনালি সময়ের সামনে, যার কেন্দ্রে এখনও একইভাবে উজ্জ্বল উত্তম কুমার।ফলে কয়েক মুহূর্তের জন্য তারকাদের ভিড়ও যেন পিছু হটে যায়। একফ্রেমে ঋতুপর্ণার শাড়ি হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের অতীত ও বর্তমানের সেতু।শুধু মহানায়কের সিনেমার স্মৃতিই নয়, গোটা শাড়ির নকশায় ছড়িয়ে ছিল বাংলা সিনেমার সোনালি দিনের আবহ। পুরনো পোস্টার, পরিচিত চরিত্র, সিনেমার দৃশ্যসব মিলিয়ে যেন তৈরি হয়েছিল একটি চলমান চলচ্চিত্র-অ্যালবাম। পর্দায় যে দৃশ্যগুলি একসময় বাঙালির আবেগকে স্পর্শ করেছিল, সেগুলিই এবার উঠে এসেছে কাপড়ের বুননে।এখানেই ঋতুপর্ণার এই শ্রদ্ধার্ঘ্যের বিশেষত্ব।উত্তম কুমারকে স্মরণ করার প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে অভিনেত্রী যেন তাঁর পোশাককেই করে তুললেন স্মৃতির ভাষা। সিনেমা শেষ হয়ে যায়, পোস্টার পুরনো হয়ে যায়, প্রেক্ষাগৃহ বদলে যায়কিন্তু কিছু ছবি থেকে যায় মানুষের মনে। সেই ছবিগুলিকেই যেন শাড়ির আঁচলে ধরে রাখলেন তিনি।আর সেই কারণেই তাঁর সাজ হয়ে উঠল নিছক ফ্যাশন নয়, এক ধরনের সাংস্কৃতিক বক্তব্যও।মহানায়কের জন্মশতবর্ষে এই দৃশ্য যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিলউত্তম কুমার কেবল একটি নাম নন, কেবল কয়েকটি কালজয়ী ছবির নায়কও নন। তিনি বাঙালির যৌথ স্মৃতির অংশ। তাঁর অভিনয়, তাঁর হাসি, তাঁর সংলাপ, তাঁর নায়করূপ এবং তাঁর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের রসায়নসবকিছু মিলিয়ে তিনি এমন এক আবেগ, যার বয়স বাড়ে না।শতবর্ষ পেরিয়েও সেই আবেগ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায় কখনও সিনেমার পর্দায়, কখনও গানে, কখনও স্মৃতিচারণে, আবার কখনও একটি শাড়ির আঁচলে।ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের এই অভিনব সাজ তাই মহানায়ককে শুধু শ্রদ্ধা জানানো নয়। বরং পুরনো দিনের বাংলা সিনেমাকে আজকের চোখে নতুন করে দেখার এক সুন্দর প্রয়াস। যে পথে উত্তম-সুচিত্রা একদিন বাঙালির হৃদয়ে হেঁটেছিলেন, সেই পথ যেন সত্যিই এখনও শেষ হয়নি।শুধু বদলে গেছে মাধ্যম।এবার সেই পথের গল্প লেখা হয়েছে শাড়ির আঁচলে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
কলকাতা

উত্তমের ‘অমৃতকাল’ ফেরানোর অঙ্গীকার, বাংলা ছবির জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা

একটা সময় ছিল, বাংলা সিনেমা শুধু বাংলার দর্শকের বিনোদন ছিল নাসারা দেশের চলচ্চিত্র মানচিত্রে তার ছিল আলাদা এক মর্যাদা। অভিনয়, গল্প, সঙ্গীত, নির্মাণসব মিলিয়ে বাংলা ছবির দিকে তাকিয়ে থাকত গোটা দেশ। আর সেই সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর পর্দার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বাভাবিকতা এবং বাঙালির আবেগের সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত সংযোগ বাংলা চলচ্চিত্রকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতা।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে সেই হারানো গৌরবের কথাই যেন নতুন করে সামনে এল। নন্দনের একতারা মুক্তমঞ্চে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল বাংলা সিনেমাকে ফের দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, প্রয়োজন হলে পরিকাঠামো, বাজেট এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিল রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একসময় গোটা ভারতকে নেতৃত্ব দিত বাংলা সিনেমা। বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল টলিউডের। সেই জায়গায় আবার ফিরতে হবে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের এই সন্ধ্যাকে তাই তিনি শুধু উদ্যাপনের মুহূর্ত হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন নতুন করে সংকল্প নেওয়ার সময় হিসেবেও। তাঁর বার্তাচলচ্চিত্রশিল্পের কী প্রয়োজন, কোথায় পরিকাঠামোর ঘাটতি, কী ধরনের সরকারি সহযোগিতা দরকার, এমনকি প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দ বা আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও সরকার তা বিবেচনা করবে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই যেন প্রতিধ্বনিত হল উত্তমকুমারের সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের সেই আত্মবিশ্বাস। যে সময়ে বাংলা ছবির অভিনেতা, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছত, সেই পরিবেশই ফেরানোর ডাক উঠল জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে।অনুষ্ঠানের আবহও ছিল সেই স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার মতো। দর্শকে পরিপূর্ণ নন্দন চত্বর। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে মিঠুন চক্রবর্তী, জিৎ। সঙ্গে সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের পরিচিত মুখ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মুহূর্তে বিশাল পর্দায় ফুটে উঠল উত্তমকুমারের অভিনীত বিভিন্ন চরিত্র। নেপথ্যে ভেসে এল সন্ন্যাসী রাজার হরি ওম ধ্বনি। পর্দায় দেখা গেল মহানায়কের অবিস্মরণীয় দৃশ্য এবং সংলাপ। যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য সময় পিছিয়ে গেলফিরে এল উত্তমের সেই পর্দার জাদু।জন্মশতবর্ষের এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে আগেই আলোচনা করেছিলেন। শিল্পীদের সম্মিলিত উপস্থিতির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর মতে, উত্তমকুমার এমন এক নাম, যিনি প্রজন্মের বিভাজন মুছে সবাইকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে পারেন। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে এই মুহূর্তে একটাই পরিচয়উত্তমকুমারের উত্তরাধিকার বহন করা বাংলা চলচ্চিত্র।আর সেই জায়গাতেই অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবদার ছিল স্পষ্টদেশের অন্য রাজ্য থেকে যদি কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা চলচ্চিত্র নির্মাতা কলকাতা কিংবা বাংলায় শুটিং করতে আসেন, তাঁদের উৎসাহ দিতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।মিঠুনের প্রস্তাব ছিল, বাইরে থেকে আসা ছবির ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হোক। তবে সরাসরি নগদ অর্থ নয়, করছাড় বা এই ধরনের সরকারি সুবিধার মাধ্যমে সেই সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতির ইঙ্গিত পেয়ে মিঠুন জানান, তাঁর আবদার মেনে নেওয়া হয়েছে।এই প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এল বাংলাকে চলচ্চিত্রের শুটিং গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা। শুধু বাংলা ভাষার ছবি নয়, দেশের অন্যান্য ভাষার বড় বাজেটের ছবিও যদি বাংলায় শুটিং করতে আসে, তাহলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ, স্টুডিয়ো, লোকেশন, পরিবহণ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পসব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের আর একটি বড় আকর্ষণ ছিল পদযাত্রা। নন্দন থেকে শুরু হওয়া সেই শোভাযাত্রায় সামনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। নন্দন চত্বর ঘুরে পদযাত্রা পৌঁছয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, জওহরলাল নেহরু রোড হয়ে রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশনের পাশ দিয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়।সেই পদযাত্রায়ও যেন একসঙ্গে হাঁটল বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্ম। একটি ভিন্টেজ গাড়িতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, চিরঞ্জিত, মমতাশঙ্কর, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক ও হরনাথ চক্রবর্তী। তাঁদের পিছনে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, শুভশ্রী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী-সহ আরও অনেকে। শেষ সারিতে ছিলেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও কলাকুশলীরাহাতে উত্তমকুমারের ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড।জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তেও ছিল নানা আয়োজন। আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, ভবানীপুরের বিজলী প্রেক্ষাগৃহ থেকে কলকাতা জিপিওবিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধা জানানো হয় মহানায়ককে। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে উত্তমকুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ভবানীপুরে উদ্বোধন করা হয় তাঁর ২০ ফুটের পূর্ণাবয়ব কাটআউট। জিপিও-তে ভারতীয় ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয় উত্তম-স্মরণে বিশেষ কভার।শুধু সরকারি অনুষ্ঠানেই থেমে থাকেনি স্মরণ। শিল্পীদের একাংশ উত্তমকুমারের বাড়িতেও পৌঁছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। বাড়ির তরফে শিল্পীদের আপ্যায়নে ছিল লুচি, আলুর তরকারি এবং পায়েসযেন মহানায়কের জন্মদিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির চিরপরিচিত ঘরোয়া আবেগেরই পুনরাবৃত্তি।জন্মশতবর্ষের পরবর্তী কর্মসূচিতেও থাকছে উত্তমকুমারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ফিরে দেখার আয়োজন। রাজারহাটের নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নন্দনে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক দিয়ে শুরু হবে উত্তমকুমারের ছবির বিশেষ উৎসব। শিশির মঞ্চে হবে নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার এবং অ্যাক্টিং অফ উত্তমকুমার শীর্ষক আলোচনা। রবীন্দ্রসদনে নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাঙ্গীতিক শ্রদ্ধার্ঘ।তবে এই জন্মশতবর্ষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনও একটি অনুষ্ঠান নয়। বরং উত্তমকুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হওয়া। কারণ মহানায়ককে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর ছবি দেখানো নয়তাঁর সময়ের বাংলা সিনেমার সৃষ্টিশীল সাহস, উৎকর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনা।একদিন যে বাংলা সিনেমা গোটা দেশের চলচ্চিত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল, সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। প্রয়োজন ভালো গল্প, দক্ষ নির্মাতা, নতুন মুখ, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথাএকটি সুস্থ চলচ্চিত্র-পরিবেশ। সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একজন মহান অভিনেতার শতবর্ষ উদ্যাপন হয়ে থাকল না। তাঁর নামকে সামনে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো দিনগুলিকে ফিরে পাওয়ার একটি নতুন স্বপ্নও উচ্চারিত হল নন্দনের মঞ্চে।মহানায়ক হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের সেই সময়, বাংলা সিনেমার সেই গৌরবসেটুকু কি নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অঙ্গীকারই শোনা গেল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

“তাঁকে দেখার পথ যে শেষ হয় না”—জন্মশতবর্ষের শুরুতেই স্মৃতির পর্দায় চিরউজ্জ্বল উত্তমকুমার

তাঁকে দেখার পথ যেন কোনওদিন শেষ হওয়ার নয়। তাঁর অভিনয় দেখেও যেন কোনওদিন আশ মেটে না। সময়ের স্রোত বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি ও প্রযুক্তিতবু বাঙালির হৃদয়ের পর্দায় এক নায়ক আজও একইরকম উজ্জ্বল। তিনি অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়বাঙালির চিরপরিচিত উত্তমকুমার। সম্ভবত বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম এবং শেষ ম্যাটিনি আইডল, যাঁকে ঘিরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনা চলতেই থাকবে।আজ থেকে শুরু হল সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষের পথচলা। আগামী এক বছর জুড়ে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা, প্রদর্শনী ও শ্রদ্ধার্ঘ্যে ফিরে ফিরে আসবেন উত্তমকুমার। তবে তাঁকে স্মরণ করার জন্য কোনও বিশেষ দিন বা শতবর্ষের প্রয়োজন হয় না। কারণ উত্তমকুমার বাঙালির কাছে শুধু একজন অভিনেতার নাম নন, তিনি এক বিস্ময়কর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাএকটি সময়ের নাম, একটি আবেগের নাম।এই আবেগেরই অন্যরকম প্রকাশ দেখা গেল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। জন্মশতবর্ষের সূচনালগ্নে প্রাত্যহিক সমবেত সভায় ছাত্রছাত্রীদের সামনে উত্তমকুমারের শিল্পীসত্তা ও অভিনয়জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়।তিনি মনে করিয়ে দেন, উত্তমকুমারকে শুধুমাত্র প্রেমিক নায়ক হিসেবে দেখলে তাঁর অভিনয়-প্রতিভার বিশালতাকে ছোট করে দেখা হয়। রোম্যান্টিক নায়কের পরিচিত ছকের বাইরে গিয়ে ভৃত্য, দেশপ্রেমিক, খলনায়কবিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও কোমল, কখনও কঠিন, কখনও সংবেদনশীল, কখনও তীব্রঅভিনয়ের প্রতিটি পরিসরেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের কথায় উঠে আসে ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত অভিনয়ের চারটি ধারার প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ভরত মুনির কথিত অভিনয়ের বিভিন্ন রীতিকে যেন স্বতঃস্ফূর্ত ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভায় নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর অভিনয় শুধু চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত না, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালির আত্মবিশ্বাসকেও আরও দৃঢ় করেছিল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছবির নায়ক হয়ে উঠেছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, একসময় দশকের পর দশক ধরে সিনেমার পর্দায় ছড়িয়ে থাকা উত্তমকুমারের নাক্ষত্রিক ব্যক্তিত্বই দর্শককে টেনে নিয়ে যেত সিনেমা হলের অন্ধকারে। সেই সময় সিনেমা দেখা মানেই ছিল উৎসব, আর উত্তমকুমার ছিলেন সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।আজ সেই সময় অনেকটাই ইতিহাস। যে শহর ও মফস্সলের অলিগলিতে একসময় একের পর এক সিনেমা হল ছিল, তার অধিকাংশই আজ হারিয়ে গিয়েছে। হারিয়েছে সেই পোস্টার, হারিয়েছে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হারিয়েছে প্রজেক্টরের আলোয় পর্দা জুড়ে মহানায়কের আবির্ভাবের সেই সম্মিলিত উচ্ছ্বাস। কিন্তু হারায়নি উত্তমকুমার।বরং সিনেমা হলের অস্তিত্ব ফিকে হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছেন বাঙালির স্মৃতিতে। এই পথ যদি না শেষ হয়শুধু একটি গানের দৃশ্য নয়, তা হয়ে উঠেছে বাঙালির রোম্যান্টিক কল্পনার এক চিরন্তন প্রতীক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য দৃশ্য, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর চলনআজও অজান্তেই ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির পর্দায়।প্রযুক্তির বদল এসেছে। সিনেমা এখন মোবাইলের পর্দায়, অ্যানিমেশন ও রিলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অ্যানিমেশন, রিল এবং বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে শিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার নানা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে উত্তমকুমারের মতো সাংস্কৃতিক আইকনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও আজ আরও বিস্তৃত।তবে মাধ্যম বদলালেও উত্তমকুমারের আবেদন বদলায়নি। কারণ তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তি কোনও প্রযুক্তি নয়, কোনও নির্দিষ্ট সময়ও নয়তা মানুষের আবেগে নির্মিত।তাই জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা মানে শুধু একজন অভিনেতাকে স্মরণ করা নয়। ফিরে দেখা বাঙালির এক হারিয়ে যাওয়া সময়কে, সিনেমা হলের সেই অন্ধকারে জ্বলে ওঠা আলোকে, পর্দায় মহানায়কের আবির্ভাবে দর্শকের উচ্ছ্বাসকে এবং ভালোবাসার সেই ভাষাকে, যা প্রজন্ম পেরিয়েও পুরনো হয় না।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই নিছক এক শতবর্ষ উদ্যাপন নয়। এটি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক দীর্ঘ যাত্রা।যে যাত্রার পথ আজও শেষ হয়নি।হয়তো কোনওদিন শেষও হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদা স্টেশনে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক, বাতিল কিছু লোকাল ট্রেন, আগে পড়ুন এই খবর

শিয়ালদা স্টেশনে অত্যাবশ্যকীয় ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্য শিয়ালদা ডিভিশনে শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর এবং রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী রাতে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক থাকবে।এই ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০০:০০ ঘণ্টা থেকে ০৭:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদা স্টেশনে DN/Main লাইনের KM 0/17L থেকে KM 0/19M-এর মধ্যে পয়েন্ট নং 208A/209B-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। এর অধীনে বিদ্যমান ৫২ কেজি DSS-কে ৬০ কেজি DSS-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিং-এর ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে।যাত্রীদের অসুবিধা যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সপ্তাহান্তের গভীর রাত ও ভোরের সময় এই কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট দলগুলি সাইটে মোতায়েন থাকবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।ট্রাফিক ব্লকের সময় কিছু সিগন্যালিং ও ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্র্যাক সার্কিটে পরিবর্তন করা হবে এবং ব্লকের সময় লাইন নং ৬ ও লাইন নং ১১-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট প্রভাবিত থাকবে।পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ন্যূনতম সংখ্যক শহরতলির ট্রেন পরিষেবা বাতিল থাকবে এবং কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে শর্ট-টার্মিনেট করা হবে।*বাতিল হওয়া ট্রেন পরিষেবাগুলি হল:* শিয়ালদহাবরা: 33651, 33653 UP / 33652, 33654 DN শিয়ালদাকল্যাণী সীমান্ত: 31311 UP, 31313 UP / 31312, 31314 DN শিয়ালদাডানকুনি: 32213 UP, 32215, 32217 UP / 32214, 32216, 32218 DN শিয়ালদারানাঘাট: 31615 UP / 31620 DN শিয়ালদাহাবরা: 31213 UP / 31214 DN শিয়ালদাবারাসাত: 33431 UP / 33432 DN শিয়ালদাদত্তপুকুর: 33613 UP / 33618 DNএছাড়াও, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 53172 DN (লালগোলাসিয়ালদহ) ট্রেনটি দমদম জংশন (DDJ)-এ শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। পরবর্তীতে ট্রেনটির খালি রেক উপযুক্তভাবে শিয়ালদায় নিয়ে আসা হবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানান, কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের সংশ্লিষ্ট দলগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের পরিবর্তিত ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিয়ালদা স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পয়েন্ট কনভার্সনের এই কাজটি ট্র্যাক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। এর ফলে কিছু ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস না করে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।যাত্রীদের ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যাত্রার আগে নিজেদের যাত্রা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার এবং সর্বশেষ ট্রেন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু ট্রেন চলাচলের বৃহত্তর স্বার্থে এই কাজ করা হচ্ছে। সাময়িক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য সিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানে খাদ্য দফতরের হানা, কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা?

মিষ্টির জন্য বিখ্যাত বর্ধমান। এই শহরের সীতাভোগ ও মিহিদানার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। শক্তিগড়ের ল্যাংচারও যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা? খাদ্য দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানের কঙ্কালসার চেহারা। একের পর এক দোকান মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্যসামগ্রী রাখছে। এই তালিকায় নামীদামী দোকানও আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও মিষ্টির দোকান, হোটেল ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর বর্ধমানে একাধিক নামী মিষ্টির দোকানে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির উদ্ধারের পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া আইসক্রিম ও নরম পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি।সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত বর্ধমান শহরে এদিনের অভিযান শুরু হয় বর্ধমান পুরসভার সামনের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনিরের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ওই পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পনির বিক্রি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।এরপর বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারই নয়, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ একাধিক সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। একটি দোকান থেকে ঘির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বর্ধমান শহরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চলছে এই নজরদারি। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব এবং সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বুধবারও পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আমড়া এলাকার একাধিক হোটেলে পরিদর্শন করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।আমড়ার একটি হোটেল পরিদর্শনের পর ফুড সেফটি অফিসার প্রদীপ্ত মণ্ডল জানান, সেখানে কোনও অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। তবে হোটেলের ভিতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানায় দফতর। হোটেল মালিককে নোটিশ দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং খাবারের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

উত্তমের ঠোঁটে হেমন্তের কণ্ঠ—সুর আর অভিনয়ের সেই অলৌকিক রসায়ন

আজ ৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়। এই দিনেই জন্মেছিলেন সেই মানুষটি, যাঁকে বাঙালি আজও ভালোবেসে মহানায়ক বলে ডাকেউত্তমকুমার।রূপোলি পর্দায় তাঁর হাসি, চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি কিংবা নিছক নীরব উপস্থিতিসবকিছুই একসময় বাঙালির আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু উত্তমকুমারের সেই পর্দার জাদুকে আরও কয়েক গুণ গভীর করে তুলেছিল একটি কণ্ঠ।সে কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের।উত্তমকুমারের ঠোঁটে হেমন্তের গানবাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেখানে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগত না, কে গান গাইছেন? বরং মনে হতোউত্তমই যেন গানটি গাইছেন।এটাই ছিল উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক। একজন ছিলেন অভিনয়ের সম্রাট, অন্যজন কণ্ঠ ও সুরের জাদুকর। অথচ তাঁদের দুজনের কণ্ঠস্বরের মডুলেশন, উচ্চারণ, আবেগ এবং শব্দের ভেতরের নাটকীয়তার এমন আশ্চর্য মিল ছিল যে, পর্দায় হেমন্তের কণ্ঠ হয়ে উঠত উত্তমেরই আরেকটি পরিচয়।উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন হেমন্তবাংলা সিনেমায় প্লেব্যাক গান শুধু গান নয়। পর্দার অভিনেতার চরিত্র, আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গায়ককে একাত্ম হতে হয়। উত্তমকুমারের ক্ষেত্রে এই কাজটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এমনভাবে করেছিলেন যে, পরবর্তীকালে তাঁদের যুগলবন্দি বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব এক ঘরানা হয়ে দাঁড়ায়।শাপমোচন-এর গান থেকে শুরু করে হারানো সুর, ইন্দ্রাণী, মরুতীর্থ হিংলাজএকাধিক ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠ উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, গান শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে থেকে যেত উত্তমের মুখ আর হেমন্তের কণ্ঠদুটো আলাদা করে ভাবা যেত না।সুরের আকাশে তুমি যে গো শুকতারা, ঝড় উঠেছে বাউল বাতাসএই গানগুলির জনপ্রিয়তার পেছনে সুর বা কথা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল উত্তমের অভিনয় এবং হেমন্তের কণ্ঠের সেই অসাধারণ সামঞ্জস্য।হেমন্তের গলায় ছিল এক ধরনের গভীরতা, বিষণ্ণতা এবং সংযত আবেগ। উত্তমের অভিনয়ের মধ্যেও ছিল ঠিক সেই সংযত আবেগের প্রকাশ। তিনি কখনও অতিরিক্ত অভিনয় করতেন না; চোখের দৃষ্টি, ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়া কিংবা মুখের অভিব্যক্তিতেই অনেক কথা বলে দিতেন।ফলে হেমন্ত যখন গাইতেন, তাঁর কণ্ঠের আবেগকে উত্তম পর্দায় এমনভাবে ধারণ করতেন যে গানটি আর শুধু প্লেব্যাক থাকত নাতা হয়ে উঠত উত্তমের চরিত্রের অন্তরের ভাষা।প্রথম পরিচয় কি শাপমোচন-এ?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পরিচয় নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি আকর্ষণীয় বিতর্ক রয়েছে।সাধারণভাবে বলা হয়, ১৯৫৫ সালে শাপমোচন ছবির সময় থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্কের সূত্রপাত। কিন্তু গবেষক সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই ১৯৫১ সালের সহযাত্রী ছবিতে হেমন্ত নাকি উত্তমের জন্য গান গেয়েছিলেন। তর্কের খাতিরে ১৯৫৫ সালে শাপমোচন কেই মেনে নেওয়া যায়, তাহলে সেই সিনেমার ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস গানে যে ঝড় বাংলা সিনেমার আকাশে উঠেছে আজও তার রেশ রয়ে গেছে।সমস্যা হল, সহযাত্রী-র সমস্ত প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায় না। ফলে সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। তাই ইতিহাসের নিশ্চিত দলিল হিসেবে শাপমোচন-কেই তাঁদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ধরা হয়। আর সেই সূচনা যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তা পরবর্তী কয়েক দশকের বাংলা সিনেমাই প্রমাণ করেছে।সলিল-হেমন্ত এবং উত্তমএকই সময়ের তিন উত্থানএই গল্পের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একদিকে সলিল চৌধুরী গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের গান লিখছেন, সুর করছেন। অন্যদিকে তরুণ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের কণ্ঠের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন।১৯৪৭ সালে সলিলের লেখা ও সুর করা গাঁয়ের বধূ হেমন্তের কণ্ঠে এক ঐতিহাসিক সৃষ্টি হয়ে ওঠে।অন্যদিকে একই সময় চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য সংগ্রাম করছেন অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁকে কেউ কেউ ফ্লপ মাস্টার বলেও ঠাট্টা করছেন।কিন্তু ভাগ্য তখন অন্য গল্প লিখছিল।বসু পরিবার, সাড়ে চুয়াত্তর এবং অগ্নিপরীক্ষাপরপর তিনটি ছবির সাফল্যের পর অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন উত্তমকুমার।অর্থাৎ, বাংলা সংস্কৃতির এক অসাধারণ যুগে প্রায় একই সময়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমার।শাপমোচন: যে ছবিতে তৈরি হল ইতিহাসশাপমোচন-এর সঙ্গীত পরিচালনার জন্য প্রথমে সুধীর মুখোপাধ্যায়ের পছন্দ ছিলেন শচীন দেববর্মণ। কিন্তু তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তখন হেমন্ত ছিলেন বম্বেতে। কলকাতায় ফেরার একটি সুযোগও তিনি খুঁজছিলেন। ফলে শাপমোচন শুধু একটি চলচ্চিত্রের কাজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল হেমন্তের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আর সেই ছবিতেই তৈরি হল উত্তম-হেমন্তের সেই সুরেলা রসায়ন, যা পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত স্বাক্ষর হয়ে দাঁড়ায়। হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্ব যেন নতুন মাত্রা পেল।আশ্চর্য মিল শুধু গানে নয়, কথার কণ্ঠেও!উত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের সবচেয়ে চমকপ্রদ অজানা তথ্যগুলির একটি লুকিয়ে রয়েছে হারানো সুর ছবিতে। সাধারণত আমরা ভাবি, একজন অভিনেতার মুখের সঙ্গে গায়কের গলা মেলানোই প্লেব্যাকের সাফল্য। কিন্তু উত্তম ও হেমন্তের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। হারানো সুর-এর একটি দৃশ্যে উত্তমের চরিত্রকে সুচিত্রা সেনের চরিত্রকে নাম ধরে ডাকতে হয়। ডাবিংয়ের সময় কোনও কারণে উত্তমকুমার উপস্থিত ছিলেন না। সেই সংলাপটি দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়!ফল?দর্শকের কাছে তা আলাদা করে বোঝাই যায়নি। হেমন্তের কথা বলার গলার সঙ্গে উত্তমের কণ্ঠের এমন মিল ছিল যে, সেই সংলাপ ছবির অন্যান্য সংলাপের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়। এ যেন প্রমাণ করেশুধু গানেই নয়, কথার মডুলেশনেও হেমন্ত ছিলেন উত্তমের এক অদ্ভুত ভয়েস ডাবল।তারে বলে দিওএক যুগের শেষের ইঙ্গিত?১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া দুই ভাই ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠে তারে বলে দিও শ্রোতাদের কাছে আজও স্মরণীয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে উত্তমকুমারের প্লেব্যাকে হেমন্তের ব্যবহার কমতে শুরু করে। হেমন্ত অবশ্য উত্তমের ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন। কিন্তু উত্তমের ঠোঁটে তাঁর কণ্ঠের সেই আগের অবাধ উপস্থিতি আর থাকল না। ক্রমশ উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠলেন অন্যরাওশ্যামল মিত্র, মান্না দে প্রমুখ।তবুও উত্তমের সঙ্গে হেমন্তের কণ্ঠের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, তা এতটাই গভীর ছিল যে, অন্য গায়কের কণ্ঠ শুনলে দর্শকের একটা অংশের মনে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা চলে আসত।সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদসুরের অন্য অধ্যায়উত্তম-হেমন্ত সম্পর্ককে শুধুমাত্র প্লেব্যাকের মধ্যে আটকে রাখলে ভুল হবে। সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদ, সাথীহারা সহ উত্তমকুমারের একাধিক ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, হেমন্ত কখনও উত্তমের কণ্ঠ হয়ে গান গেয়েছেন, কখনও তাঁর ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ফলে তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক ছিল বহুমাত্রিক। একজন অভিনেতা হিসেবে উত্তম যেমন হেমন্তের কণ্ঠের শক্তিকে বুঝতেন, তেমনই একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে হেমন্তও বুঝতেন উত্তমের অভিনয়-ব্যক্তিত্বকে। এই বোঝাপড়াটিই তাঁদের কাজকে এত স্বাভাবিক করে তুলেছিল।মহিষাসুরমর্দিনীর বিকল্প অনুষ্ঠানেও হেমন্তের ভূমিকাউত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের আরও একটি কম-আলোচিত ঘটনা জড়িয়ে আছে মহালয়ার সঙ্গে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী বাঙালির মহালয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একসময় আকাশবাণী সেই অনুষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে দেবী দুর্গতিহারিণী আয়োজন করেছিল। জানা যায়, উত্তমকুমার সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে প্রথমে রাজি ছিলেন না। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনুরোধ ও আশ্বাস না দিলে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হতেন না। পেশাগত সহযোগিতার বাইরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থাও তৈরি হয়েছিল।তবে সব সম্পর্কেই কি শুধু মধুরতা থাকে?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তী সময়ে নানা গল্প ছড়িয়েছে। কোনও কোনও সূত্রে তাঁদের মধ্যে অভিমান, মনোমালিন্য কিংবা বচসার কথা বলা হয়েছে। একটি কাহিনিতে উত্তম ও গৌরী দেবীর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উঠে আসে। আবার আরও একটি বহুল প্রচলিত গল্পে অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তম ও হেমন্ত পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা বলা হয়।তবে এই কাহিনিগুলির নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে এগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। বরং তাঁদের সম্পর্কের যে অংশটি নথিবদ্ধ এবং শিল্পের ইতিহাসে অমোচনীয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান মুছে যায়নি।উত্তমের প্রয়াণহেমন্তের নীরবতার রহস্য১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তমকুমারের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বাংলা যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয় অনেকের নজরে পড়েছিলহেমন্ত মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন উত্তমের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ মন্তব্য করেননি।কেন?তার উত্তর হয়তো তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। পরবর্তী জীবনে এক সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বলেছিলেন, উত্তম তাঁর সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিজের অন্তরের একটি বিরাট অংশ। একটি সম্পর্কের গভীরতা বোঝার জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে?একই আকাশের দুই নক্ষত্রউত্তমকুমার চলে গেলেন ১৯৮০ সালে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।দুজনের জীবনের শেষ অধ্যায় আলাদা হলেও বাংলা সংস্কৃতির স্মৃতিতে তাঁরা আজও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন।উত্তমের মুখে হেমন্তের গান শুনলে আজও মনে হয় গানটি যেন হেমন্ত গাইছেন না, উত্তম নিজেই গাইছেন।আসলে এখানেই তাঁদের সম্পর্কের সাফল্য।একজনের কণ্ঠ অন্যজনের অভিনয়ের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল যে, দর্শক গায়ককে ভুলে গিয়ে চরিত্রের অনুভূতিটাকেই অনুভব করতেন।হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের প্রেম, বিরহ, অভিমান, আনন্দ কিংবা বিষণ্ণতাসবই যেন আরও সত্যি হয়ে উঠত।জন্মদিনে মহানায়ককে ফিরে দেখাআজ উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করার অসংখ্য পথ রয়েছে। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী ছবি আছে, আছে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর অমর জুটি, আছে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার ইতিহাস।কিন্তু উত্তমকে নতুন করে অনুভব করার একটি সহজ পথ এখনও আছেচোখ বন্ধ করে তাঁর ঠোঁটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনুন।তখন হয়তো বোঝা যাবে, কেন কয়েক দশক পরেও উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দি বাঙালির স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।কারণ সেটি নিছক একজন অভিনেতার জন্য একজন গায়কের গান ছিল না।সেটি ছিলঅভিনয় ও সুরের মিলন।মুখ ও কণ্ঠের মিলন।তারকা ও গায়কের মিলন।আর শেষ পর্যন্তদুই মহান শিল্পীর এক আত্মিক সংলাপ।উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মনে পড়ে যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই কণ্ঠও।যে কণ্ঠ একসময় উত্তমের ঠোঁটে প্রাণ পেয়েছিল।আর সেই কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও একটি কথা সত্যি হয়ে আছেউত্তমের মুখে হেমন্তের গানএ যেন উত্তমকুমারেরই আর-একটি কণ্ঠ।জীবন খাতার প্রতি পাতায়যতই লেখো হিসাব নিকাশকিছুই রবে নালুকোচুরির এই যে খেলায়প্রাণের যত দেয়া নেয়াপূর্ণ হবে না।পাতার পর পাতা ফুরিয়ে যায়, শব্দের পর শব্দ নিঃশেষ হয়ে আসেতবু উত্তম-হেমন্তের সেই অনন্য রসায়নকে সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করা বোধহয় অসম্ভব।কারণ তাঁদের সম্পর্ক শুধু পর্দায় গাওয়া কিছু গানের সমীকরণ ছিল না; ছিল কণ্ঠ আর অভিনয়ের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। উত্তম কুমারের ঠোঁটে যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ ভেসে উঠত, মনে হতোএকজন অভিনয় করছেন, আর অন্যজন তাঁর মনের কথাগুলো গেয়ে চলেছেন। যেন দুটি মানুষ নন, একই অনুভূতির দুই ভিন্ন প্রকাশ।তাঁদের গান লেখা যায়, গান গাওয়ার ইতিহাস বলা যায়, সিনেমার দৃশ্যের কথা বলা যায়কিন্তু সেই অনুভূতিটুকু ভাষায় ধরা যায় না।উত্তম-হেমন্তকে তাই ব্যাখ্যা করা যায় নাশুধু অনুভব করা যায়।কোনও এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় পুরনো রেকর্ডে - এই পথ যদি না শেষ হয়..., আর চোখের সামনে ভেসে উঠলে উত্তমকুমারের সেই চিরচেনা মুখতখনই বোঝা যায়, কিছু রসায়ন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না।তারা থেকে যায় মানুষের হৃদয়েসুরে, স্মৃতিতে, আর এক অমলিন ভালোবাসায়। উত্তম-হেমন্তের পথ শেষ হইয়াও শেষ হয় না।।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal