• ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

CS

খেলার দুনিয়া

N‌eeraj Chopra : নীরজ চোপড়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় স্টক ভ্যালু ৪২৮ কোটি টাকা!‌ কলকাতায় মজে গেলেন বাঙালী খানায়

কিছুদিন আগে পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ারের সংখ্যা সেভাবে দেখা যায়নি। অলিম্পিকে একটা সোনা জয়ই বদলে দিয়েছে ছবিটা। ভারতের প্রথম অ্যাথলিট হিসেবে অলিম্পিকে সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করেছেন। তারপর থেকেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে গেছেন নীরজ চোপড়া। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন মাধ্যমে যতবার তাঁর নাম খোঁজা হয়েছে, তা বিশ্ব রেকর্ড। শুধু তাই নয়, নীরজ চোপড়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় স্টক ভ্যালুর পরিমান জানলে চোখ কপালে উঠবে। ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে ৪২৮ কোটি টাকায়। সম্প্রতি নীরজ চোপড়ার জনপ্রিয়তা নিয়ে একটা সমীক্ষা করে হয়েছে। সেই সমীক্ষার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, টোকিও অলিম্পিক থেকে সোনা জেতার পর এই ভারতীয় অ্যাথলিটের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ৭ অগাস্টের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ১৪ লক্ষ ব্যবহারকারী ২৯ লক্ষ বার নীরজের নাম কোথাও না কোথাও উল্লেখ করেছেন বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। যা বিশ্ব রেকর্ড। ওই রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে নীরজ চোপড়ার নামের উল্লেখের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪০৫ ও ২০৫৫ শতাংশ হারে। এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় নীরজ চোপড়ার ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছন এবং প্রভাব একলপ্তে বেড়ে ৪১.২ কোটি ছুঁয়ে ফেলেছে। ওই সমীক্ষার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নীরজ চোপড়ার সোশ্যাল মিডিয়া ভ্যালুয়েশন ৪২৮ কোটি টাকা। নীরজের নিজের পোস্ট করা বা অন্যান্য নেটিজেনদের ভিডিওতে ৪০.৫ বার দেখা হয়েছে এই ভারতীয় সোনাজয়ী অ্যাথলিটকে। এমনই দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুগামীর সংখ্যা একধাপে অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছেন নীরজ চোপড়া। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার্স সংখ্যা প্রায় ৪৫ লক্ষ। অলিম্পিকে যাওয়ার আগের তুলনায় এক্ষেত্রে ২২৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ইন্টারাকশান ৮৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.২৭৯ কোটিতে পৌঁছে গিয়েছে।টোকিও অলিম্পিকে জ্যাভলিনে সোনাজয়ী নীরজ চোপড়া এই মুহূর্তে কলকাতায়। বুধবার বিকেলে তাঁকে জমকালো সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে সাইয়ে এসেছিলেন ট্রেনিংয়ের জন্য। মঙ্গলবার দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর হোটেলে যাওয়ার পথে কলকাতা দেখে বলেছিলেন, এই শহর খুবই আবেগপ্রবণ। এদিন ডিনারে বাঙালী খানায় মুগ্ধ নীরজ। মেনুতে ছিল ভাত, ডাল, লুচি, আলুর দম, চিংড়িমাছের মালাইকারি, ইলিশ মাছের পদ, মটন কষা, জলভরা সন্দেশ, নলেনগুড়ের আইসক্রিম, দই। বুধবার সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিন বিশিষ্ট ব্যক্তি, দ্রোণাচার্য কোচ সৈয়দ নঈমউদ্দিন, চন্দ্রশেখর কুণ্ডু ও মহেন্দ্র প্রসাদ জালানকে নীরজের হাত দিয়েই সংবর্ধিত করা হয়।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

A‌lvito D'Cunha : বাংলার ক্রীড়াবিদদের দেখে অনুপ্রানিত হয়ে রাজনীতিতে সামিল আলভিটো‌

ক্রীড়াবিদদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়াটা নতুন নয়। খেলা ছাড়ার পর বহু ক্রীড়াবিদ রাজনৈতিক নেতার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। সর্ব ভারতীয় ক্ষেত্রে যদি আমরা দেখি, কীর্তি আজাদ থেকে শুরু করে মহম্মদ আজহারউদ্দিন, নভজ্যোত সিং সিধু, আরও অনেকে রয়েছে। আর আমাদের বাংলায় তালিকাটা তো বেশ লম্বা। অমল দত্ত থেকে শুরু করে প্রসূন ব্যানার্জি, দীপেন্দু বিশ্বাস, রহিম নবি, বাইচুং ভুটিয়া, কল্যান চৌবে, ষষ্ঠী দুলে, অরিন্দম ভট্টাচার্য, বিদেশ বসু, লক্ষ্মীরতন শুক্লা, মনোজ তেওয়ারি। আরও অনেকেই রয়েছেন। কেউ সরাসরি যুক্ত, কেউ আবার পরোক্ষভাবে। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন আলভিটো ডিকুনহা। সোমবার দুপুরে গোয়ার পানাজিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি সর্বভারতীয় কংগ্রেসে যোগ দিলেন।আরও পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে এলাহি আয়োজন বঙ্গ বিজেপিরদীর্ঘদিন হল ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন। খেলার পাঠ চুকিয়ে দিলেও বাংলাকে ভোলেননি। কলকাতাতেই থেকে গিয়েছেন। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। এরাজ্যে থাকতে থাকতে বাংলা ভাষাটাও দারুণ রপ্ত করেছেন। আর পাঁচটা বাঙালীর মতো খুব ভাল বাংলা বলতে পারেন। এখন কখনও কলকাতা, কখনও গোয়াতে থাকেন। যেহেতু গোয়ার ছেলে, তাই বাংলাতে রাজনীতিতে নামার তেমন সুযোগ ছিল না। তাই গোয়া কংগ্রেসেই যোগ দিলেন আলভিটো।আরও পড়ুনঃ ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট না খেলার প্রতিশোধ? আইপিএল থেকে সরলেন বেয়ারস্টোরাকেন হঠাৎ করে রাজনীতিতে যোগ দিলেন? গোয়া থেকে ফোনে আলভিটো বলছিলেন, বাংলাতে অনেক ক্রীড়াবিদকে দেখেছি তারা দিদির কর্মযজ্ঞে সামিল হয়েছে। দারুণ কাজ করছে। ওদের দেখেই আমি অনুপ্রানিত হয়েছি। বাংলার ক্রীড়াবিদরা যদি ওখানে ভাল কাজ করতে পারে, আমি কেন পারব না? দিদির কর্মযজ্ঞে সামিল হতে পারলে তো ভালই হত। কিন্তু গোয়াতে তো সেই সুযোগ নেই। এই মুহূর্তে গোটা দেশে বিজেপির রমরমা। হঠাৎ করে কংগ্রেসকে বেছে নিলেন কেন? আলভিটো বলছিলেন, কংগ্রেস আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিল ওদের খেলাধুলা সংক্রান্ত সব বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য। খেলার জগতেই আমাকে বেশি করে চায়। আমি চেষ্টা করব যতটা সম্ভব সাহায্য করা। রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নতি করাই আমার প্রধান লক্ষ্য হবে। বাংলার ক্রীড়ার উন্নয়নে যেমন অনেক ক্রীড়াবিদ এগিয়ে এসেছে।আরও পড়ুনঃ বাতিল টেস্ট ম্যাচ নিয়ে আইসিসিকে চিঠি ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডেরআলভিটো আরও বলেন, আমাকে গোয়া কংগ্রেসে ক্রীড়া আইকন হিসাবে দলে নেওয়া হচ্ছে। চেষ্টা করব খেলাকে আরও উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আমি ফুটবলার হলেও অন্য খেলাকেও একই গুরুত্ব দেব। আলভিটো ডিকুনহাকে দলে পেয়ে উচ্ছ্বসিত গোয়ার কংগ্রেস নেতা এলিন গোমস। তিনি বলেছেন, আলভিটোর কংগ্রেসে যোগদান দলকে আরও উদ্বুদ্ধ করবে। আমি চাই কংগ্রেসে আরও ক্রীড়াবিদ নাম লেখান।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Neeraj Chopra : ১০০০ শতাংশ বেড়ে গেল নীরজ চোপড়ার দাম!‌ কোহলিদের সঙ্গে এক আসনে

ক্রিকেট না খেলেও বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনি, রোহিত শর্মাদের সঙ্গে এক আসনে বসতে চলেছেন নীরজ চোপড়া? অলিম্পিকে একটা সোনা জয়ই বদলে দিয়েছে ছবিটা। অলিম্পিক যাওয়ার আগে নীরজ চোপড়ার ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট যা ছিল, তা থেকে বেড়েছে ১০০০ শতাংশ। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই বাস্তব। আশা করা হচ্ছে ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট থেকে প্রতি বছর নীরজ চোপড়ার এখন আয় হবে প্রায় আড়াই কোটি টাকা।নীরজ চোপড়ার এই আয় বৃদ্ধি কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। অলিম্পিকে ব্যক্তিগত বিভাগে তিনি দ্বিতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে সোনা জিতেছেন। আর ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে প্রথম। সুতরাং তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার যে কাড়াকাড়ি পড়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে নীরজ চোপড়ার ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়িয়ে নিয়েছে তাঁর জনসংযোগ বিষয় দেখাশোনাকারী সংস্থা JSW। এই সংস্থাটিই সোনাজয়ী অ্যাথলিটের জনসংযোগ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে।দেশে ক্রিকেটের বাইরে নীরজ চোপড়াই প্রথম ক্রীড়াবিদ, যার ব্র্যান্ড ভ্যালু দ্রুত এতটা বেড়েছে। অলিম্পিকে সোনাজয়ী এই অ্যাথলিটের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য আরও পাঁচছটি সংস্থা অপেক্ষা করে আছে। নীরজের জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা জেএসডব্লুর এক কর্তা বলেছেন, নীরজ চোপড়ার এনডোর্সমেন্ট ফি ১০ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। যে সংস্থাগুলির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, তার বাইরে আরও পাঁচছটি সংস্থা নীরজ চোপড়াকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর করতে চায়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিলাসবহুল অটো এবং পোশাক ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। অলিম্পিকে সোনাজয়ী এই অ্যাথলিট ইতিমধ্যেই বাইজু, টাটা এআইএ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং একটি শীর্ষ ফার্মাসিউটিকালের সাথে চুক্তি করেছেন। এছাড়া জিলেট, এক্সন মোবাইল এবং মাসল ব্লেজেরও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নীরজ চোপড়া।নতুন সংস্থাগুলির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে নীরজ চোপড়ার এনডোর্সমেন্ট থেকে বছরে আয় হবে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। যা তাঁকে বিরাট কোহলিই, মহেন্দ্র সিং ধোনি, রোহিত শর্মাদের সঙ্গে এই আসনে বসাবে। এই মুহূর্তে কোহলি প্রতি বছর ১ থেকে ৫ কোটি টাকা এনডোর্সমেন্ট থেকে আয় করেন। ধোনির এনডোর্সমেন্ট থেকে আয় প্রায় তেমনই। এদের দুজনের থেকে অবশ্য কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন রোহিত শর্মা। ক্রিকেটের বাইরে অন্য কোনও খেলার ক্রীড়াবিদ এনডোর্সমেন্ট থেকে এত অর্থ উপার্জন করেননি। অলিম্পিকে একটা সোনাই বদলে দিয়েছে নীরজ চোপড়ার জীবন। কোহলিদের পাশাপাশি এখন তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে আইকন।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌Paralympics : প্যারালিম্পিক্সে বাঁ হাতেই খেল মণীশ নারওয়ালের

জন্ম থেকে ডান হাত একেবারে অকেজো। বাঁ হাতেই সবকিছু করতে হয়। টোকিও প্যারালিম্পিক্সে সেই বাঁ হাতেই খেল দেখালেন মণীশ নারওয়াল। শনিবার ৫০ মিটার পিস্তল ইভেন্টে দেশকে সোনা এনে দিলেন। শুধু সোনা জেতাই নয়, ২১৮.২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে নতুন প্যারালিম্পিক্স রেকর্ডও গড়েছেন মণীশ। এই ইভেন্ট থেকেই দেশকে রুপো এনে দিয়েছেন সিংহরাজ আধানা। টোকিও অলিম্পিকে মানু ভাকের, সৌরভ চৌধুরিদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু প্রত্যাশাপূরণ করতে পারেননি ভারতীয় শুটাররা। মানু ভাকর ও সৌরভ চৌধুরীদের ব্যর্থতা ঢেকে দিলেন অবনী লেখারা, মণীশ নারওয়াল, সিংহরাজ আধানারা। টোকিও প্যারালিম্পিক্সে দুটি সোনা সহ মোট পাঁচটি পদক জিতে ইতিহাস তৈরি করল ভারত। শনিবার মনীশ নারওয়াল ও সিংহরাজ আধানার হাত ধরে এক বৃত্ত সম্পন্ন হল। একই প্যারালিম্পিক্সে দুটি পদক জিতে এলিট ক্লাবের সদস্য হলেন সিংহরাজ। ১৯৮৪ প্যারালিম্পিক্স থেকে একটি সোনা ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন যোগিন্দর সিং সোধি। চলতি প্যারালিম্পিকের শুটিং ইভেন্ট থেকে সোনা ও ব্রোঞ্জ জিতেছেন অবনী লেখারা।পি ৪ মিক্সড ৫০ মিটার পিস্তল এসএইচ ওয়ান ইভেন্টের ফাইনালে মণীশের থেকে ভাল শুরু করেছিলেল সিংহরাজ আধানা। প্রথম ১০টি শটের পর ৯২.১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ স্থানে ছিলেন। মণীশের স্কোর ছিল ৮৭.২ পয়েন্ট। একসময় তাঁকে টপকে যান রাশিয়ান প্যারালিম্পিক্স কমিটির সার্গেই মালিসেভ। পঞ্চম সিরিজ পর্যন্ত মালিসেভই সোনা জয়ের দাবিদার ছিলেন। শেষ দুই সিরিজে জ্বলে ওঠেন ভারতের দুই শুটার। সিংহরাজ আধানাকেও টপকে যান মণীশ। প্রথম ১০ শটে অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন। ১৮ নম্বর শটের পর ৪ নম্বরে ছিলেন মণীশ। শেষ দুই সিরিজে ১০.৮ ও ১০.৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ২১৮.২ পয়েন্টে পৌঁছে যান ১৯ বছর বয়সী এই প্যারা শুটার। বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন। অন্যদিকে, সিংহরাজ আধানা সংগ্রহ করেন ২১৬.৭। ১৯৬.৮ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন সার্গেই মালিসেভ। পি ৪ মিক্সড ৫০ মিটার পিস্তল এসএইচ ওয়ান ইভেন্টের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ৫৩৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ হয়েছিলেন সিংহরাজ আধানা। ৫৩৩ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম হয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন মনীশ। তবে চূড়ান্ত পর্বে দুই ভারতীয় প্যারা শুটারদের পারফরমেন্স সকলকে চমকে দিয়েছে। শৈশবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন মনীশ নারওয়াল। লক্ষ্য ছিল দেশের হয়ে খেলবেন। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নপূরণ হয়নি। প্যারালিম্পিক্স থেকে দেশকে সোনা জিতে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন হরিয়ানার এই প্যারা শুটার।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Paralympics : সোনা জিতেও ৩ মিনিট দেরির জন্য পদক হাতছাড়া!‌ আজব ব্যাপার প্যারালিম্পিক্সে

ভারতের বিনোদ কুমারের পর টোকিও প্যারালিম্পিক্সে জিতেও পদক হারালেন আরও এক অ্যাথলিট। এফ২০ বিভাগে শটপুটে সোনা জিতেছিলেন মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ জিয়াদ জোলকেফ্লি। কিন্তু ৩ মিনিট দেরিতে প্রতিযোগিতার ইভেন্ট স্থলে পৌঁছনোয় তাঁর পদক কেড়ে নেওয়া হয়েছে।কেন মুহাম্মদ জিয়াদ জোলকেফ্লির পদক কেড়ে নেওয়া হয়েছে? সেই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটির (আইপিসি) মুখপাত্র ক্রেইগ স্পেন্স বলেন, জোলকেফ্লি এবং আরও দুজন প্রতিযোগী সময়মতো ইভেন্টস্থলে উপস্থিত হতে পারেনি। সময়মতো উপস্থিত হতে না পারার জন্য হয়তো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল। তাই ওদের প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময়মতো উপস্থিত না হওয়ায় জোলকেফ্লি এবং অন্য দুজনের বিরুদ্ধে পরে প্রতিবাদপত্র জমা পড়েছিল।বিশ্ব প্যারা অ্যাথলিটিক্সের যারা ট্র্যাক এন্ড ফিল্ড পরিচালনা করেন, সেই রেফারি ইভেন্টের পর জানান, অ্যাথলিটদের সময়মতো রিপোর্ট না করার পেছনে কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল না। রেফারির রিপোর্টের ভিত্তিতেও সোনা কেড়ে নেওয়া হল মুহাম্মদ জিয়াদ জোলকেফ্লির। এই বিভাগে রুপো জিতেছিলেন ইউক্রেনের ম্যাক্সিম কোভাল। তাঁকে সোনাজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেছে প্যারালম্পিক্স কমিটি। ম্যাক্সিম কোভালের সতীর্থ ইউক্রেনেরই ওলেক্সান্দার ইয়ারোভি ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। তাকে রুপো দেওয়া হল। আর ব্রোঞ্জ জিতলেন গ্রিসের এফস্ট্রাটিওস নিকোলাইডিস।এই ঘটনার পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার তীব্র ঝড় উঠেছে। প্যারালিম্পিক্স কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে চারিদিক তোলপাড়। এই ব্যাপারে স্পেন্স বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মন্তব্যগুলো আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। মালয়েশিয়ানরা তীব্র নিন্দা করছে ইউক্রেন প্যারালিম্পিক্স কমিটির। আমাদের কিছু করার নেই। আমরা তো আর নিয়মের বাইরে যেতে পারব না। সবাইকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। এটা ইউক্রেনের ব্যর্থতা নয়, মালয়েশিয়ানদের ব্যর্থতা। কেন ওরা দেরিতে পৌঁছেছিল। স্পেন্স আরও বলেন, অন্য প্রতিযোগীরা ইভেন্ট শুরুর ৫ মিনিট আগে পৌঁছে গিয়েছিল। আর সেখানে ৩ জন তিন মিনিট দেরিতে এসেছিল। মালয়েশিয়ান অ্যাথলিট একটা অজুহাত দিয়েছিল। আর বাকি দুজন বলেছিল যে তারা ঘোষণা শুনতে পায়নি কিংবা ভাষা বুঝতে পারেনি।এর আগেও মালয়েশিয়ান প্যারা অ্যাথলেটিক্স সংস্থাকে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। ২০১৯ সালে বিশ্ব প্যারা সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে মালয়েশিয়াকে বাতিল করেছিল আন্তর্জাতিক প্যারা অ্যাথলেটিক্স সংস্থা।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Para Olympics : নীরজে উদ্বুদ্ধ দেবেন্দ্র প্যারালিম্পিকে দেশকে এনে দিলেন রুপো

জ্যাভেলিনে দেশ যে অনেকটাই এগিয়েছে, অলিম্পিক গেমসেই তার প্রমাণ মিলছে। টোকিও অলিম্পিকে জ্যাভেলিন থ্রোতে সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন নীরজ কুমার। প্যারালিম্পিকেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখলেন ভারতের জ্যাভেলিন থ্রোয়াররা। টোকিও প্যারালিম্পিকের পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রো ইভেন্ট থেকে দুটি পদক জিতল ভারত। দেশকে রুপো এনে দিয়েছেন দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া। একই ইভেন্ট থেকে ব্রোঞ্জ জিতেছেন সুন্দর সিং গুর্জর। ২০১৬ সালের রিও প্যারালিম্পিকে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া। তাঁকে নিয়ে দেশবাসীর অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু টোকিও প্যারালিম্পিকে রুপো জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হল দেবেন্দ্রকে। পুরুষদের এফ ৪৬ বিভাগে রুপো জিতেছেন তিনি। রুপো জেতার পথে দেবেন্দ্র বর্শা নিক্ষেপ করেন ৬৪.৩৫ মিটার। এটাই তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ দুরত্ব অতিক্রম করা। অন্যদিকে ৬২.৫৮ মিটার ছুঁড়ে ব্রোঞ্জ জেতেন সুন্দর সিং গুর্জর। এটা তাঁর মরশুমের সেরা দুরত্ব অতিক্রম করা। তিনজন ভারতীয় প্যারা অ্যাথলিট টোকিও গেমসে যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। দেবেন্দ্র, সুন্দর ছাড়াও ছিলেন অজিত। এদিন প্রতিযোগিতায় প্রথম প্রচেষ্টায় দেবেন্দ্র ছোঁড়েন ৬০.২৮ মিটার। অন্যদিকে সুন্দর সিং গুর্জর ছোঁড়েন ৬২.৫৮ মিটার। এই দুজনের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন অজিত। তিনি ছোঁড়েন ৫৬.১৫ মিটার। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় দেবেন্দ্র ছোঁড়েন ৬০.৬২ মিটার। তৃতীয় প্রচেষ্টায় নিজের রেকর্ড ছাপিয়ে তিনি ছোঁড়েন ৬৪.৩৫ মিটার। কিন্তু শ্রীলঙ্কার প্রতিযোগী দীনেশ প্রিয়ান হেরাথ মুদিয়ানসেলাজে বিশ্বরেকর্ড ভেঙে তাঁর তৃতীয় প্রচেষ্টায় ছোঁড়েন ৬৭.৭৯ মিটার।আরও পড়ুনঃ প্যারালিম্পিকে ডিসকাস থ্রোতে রুপো জিতলেন যোগেশ কাথুনিয়াঅন্যদিকে, প্রথম প্রচেষ্টায় ভাল ফল করলেও তৃতীয় ও চতুর্থ প্রচেষ্টায় ফাউল করেন সুন্দর সিং গুর্জর। তাঁর পঞ্চম থ্রোতে ৬৪.০১ মিটার ছুঁড়ে ব্রোঞ্জ জয় নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে অজিত প্রথম প্রচেষ্টায় যে দুরত্বে বর্শা নিক্ষেপ করেছিলেন, বাকি প্রচেষ্টায় তাকে ছাপিয়ে যেতে পারেননি। শেষ প্রচেষ্টায় তিনি ছোঁড়েন ৫২.৩৬ মিটার। টোকিও অলিম্পিকে নীরজ কুমারে সোজা জয় তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিল বলে দাবি করেছেন দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া। প্যারালিম্পিকে রুপো জেতার পর তিনি বলেন, নীরজের সোনা জয় দেশের জ্যাভেলিন থ্রোয়ারদের প্রচারের আলোয় নিয়ে এসেছে। আমাকেও দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল। টোকিও প্যারালম্পিকের পর আশা করছি জ্যাভেলিন থ্রো দেশের দ্বিতীয় জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হবে।

আগস্ট ৩০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌Para Olympics :প্যারালিম্পিকে ডিসকাস থ্রো–তে রুপো জিতলেন যোগেশ কাথুনিয়া

টোকিও প্যারালিম্পিকে চমক দিয়েই চলেছেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। টেবিল টেনিসে রুপো জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন ভাবনাবেন প্যাটেল। নিশাদ কুমার, বিনোদ কুমাররাও দেশকে পদক এনে দিয়েছেন। তবে সোমবার সবথেকে বড় চমক দেখিয়েছেন অবনী লেখারা। মহিলাদের ব্যক্তিগত শুটিং ইভেন্টে বিশ্ব রেকর্ড করে সোনাআ জিতে ইতিহাস রচনা করেন তিনি। অন্য অ্যাথলিটদের পদাঙ্ক অনুসরন করে দেশকে পদক এনে দিয়েছেন যোগেশ কাথুনিয়া। পুরুষদের ডিসকাস থ্রোতে রুপো জিতেছেন তিনি। আগের দিনই ডিসকাস থ্রোতে দেশকে ব্রোঞ্জ এনে দিয়েছিলেন বিনোদ কুমার। ডিসকাস থ্রো থেকে দ্বিতীয় পদক এল ভারতের।পুরুষদের এফ ৫৬ বিভাগে জীবনের সেরা থ্রো করেও অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া হয়েছে যোগেশ কাথুনিয়ার। ফাইনালে তিনি ৪৪.৩৮ মিটার দুরে ডিসকাস ছোঁড়েন। ৪৫.৫৯ মিটার দুরে ডিসকাস ছুঁড়ে এই বিভাগে সোনা জিতেছেন ব্রাজিলের বাতিস্তা ডস স্যান্টোস ক্লাউডিনে। ব্রাজিলের এই প্যারা অ্যাথলিট বিশ্ব রেকর্ডেরও অধিকারী। এদিন প্রতিযোগিতায় প্রথম প্রয়াস ফাউল করেন যোগেশ কাথুনিয়া। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তিনি ছোঁড়েন ৪২.৮৪ মিটার। তৃতীয় প্রচেষ্টায় নিজের পারফরমেন্স আরও উন্নত করেন ভারতের এই প্যারা অ্যাথলিট। তিনি ছোঁড়েন ৪৩.৩৮ মিটার। ফাইনাল থ্রোতে ৪৪.৩৮ মিটার দুরে ডিসকাস ছুঁড়ে রুপো নিশ্চিত করেন যোগেশ কাথুনিয়া। প্যারালিম্পিক থেকে তিনি দেশকে পঞ্চম পদক এনে দেন। প্যারালিম্পিক অভিষেকে রুপো জিতে দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন কাথুরিয়া। এই বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন কিউবার প্যারা অ্যাথলিট। আন্তর্জাতিক মঞ্চে যোগেশের এই পদক প্রথম নয়। এর আগেও তিনি দেশের মান উজ্জ্বল করেছেন। ২০১৯ সালে দুবাইতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব প্যারা অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন যোগেশ কাথুনিয়া। যোগেশের আগে সোমবার সোনা জিতে ইতিহাস গড়েন অবনী লেখারা। মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল স্ট্যান্ডিং এসএইচ ওয়ান ইভেন্টে ২৪৯.৬ স্কোর করে সোনা জেতেন অবনী। চলতি গেমস থেকে ভারতের হয়ে চতুর্থ পদক জিতলেন এই মহিলা প্যারা শুটার। প্যারালিম্পিকের শুটিং ইভেন্টে এর আগে কোনও ভারতীয় মহিলা সোনা জিততে পারেননি। ১৯ বছরের অবনী লেখারা টোকিওয় নিজের কেরিয়ারের প্রথম গেমস খেলতে নেমেই অসাধ্য সাধন করেছেন। মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল স্ট্যান্ডিং এসএইচ ওয়ান ইভেন্টে ২৪৯.৬ স্কোর করে দেশের জন্য সোনা জেতার পাশাপাশি বিশ্ব রেকর্ড ছুঁয়েছেন ভারতীয় প্যারা শুটার। যা প্যারালিম্পিক রেকর্ডও বটে। ইভেন্টে রুপো জিতেছেন চিনের কুইপিং ঝাং। ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন ইউক্রেনের ইরিয়ানা স্কেটনিক।

আগস্ট ৩০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Silver Medal: সোনার স্বপ্ন অধরা, ভাবনাবেনকে ৩ কোটি টাকা আর্থিক পুরস্কার দেবে গুজরাট সরকার

টোকিও অলিম্পিক দেশের টেবিল টেনিস তারকারা ব্যর্থ। শরৎ কমল, মনিকা বাত্রাদের সেই ব্যর্থতা প্যারালিম্পিকে ঢেকে দিয়েছেন ভাবনাবেন হাসমুখভাই প্যাটেল। প্রতিযোগিতা থেকে রুপো জিতে ইতিহাস রচনা করেছেন দেশের প্যারা অ্যাথলিট। ফাইনালে চীনের ইং ঝউয়ের কাছে স্ট্রেট সেটে হেরে রুপো জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। ম্যাচের ফলাফল ৭-১১, ৫-১১, ৬-১১। সোনা অধরা থেকে গেলেও তাঁর সেই সাফল্যকে স্বীকৃতি জানিয়ে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করল ভারতীয় টেবিল টেনিস ফেডারেশন। গুজরাট সরকারের পক্ষ থেকেও আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ভাবনাবেনকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছে ভারতীয় টেবিল টেনিস ফেডারেশন।আরও পড়ুনঃ কাবুল বিমানবন্দরে আবারও হতে পারে সন্ত্রাসবাদী হামলা!গুজরাটের মেহসানা জেলার সন্ধিয়াতে থাকেন ভাবনাবেন প্যাটেল। তাঁর সাফল্যে গর্বিত গুজরাট সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি অভিনন্দন জানিয়েছেন এই প্যারা আথলিটকে। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ভাবনাবেনের সাফল্যে খুশি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি ৩ কোটি টাকা আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।আরও পড়ুনঃ ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যে প্রথম, নদিয়া থেকে গ্রেপ্তার ২ভারতীয় টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি দুশ্যন্ত চৌতালাও ভাবনাবেনকে পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, টোকিও প্যারালিম্পিকে রুপোজয়ী ভাবনা প্যাটেলকে আর্থিক পুরস্কার হিসেবে ৩১ লক্ষ টাকা দেবে ফে়ডারেশন। ভারতীয় প্যারা টেবিল টেনিস তারকার ইচ্ছাশক্তি, মানসিকতা ও মনের জোরের প্রশংসা করেছেন দুশ্যন্ত। ভাবনার আগামী দিনের সফলতাও কামনা করেছেন তিনি। টোকিও অলিম্পিকে সাফল্য পাননি টেবিল টেনিস তারকারা। শরথ কমল, মনিকা বাত্রা, জি সাথিয়ান, সুতীর্থা মুখোপাধ্যায় মিক্সড ও সিঙ্গলস ইভেন্টে সবাই ব্যর্থ। সেই ব্যর্থতা ভুলিয়ে টোকিও প্যারালিম্পিকে ভাবিনার রুপো দেশের অন্যান্য টেবিল টেনিস তারকার কাছে দৃষ্টান্ত বলে মনে করে দেশের ক্রীড়া মহল।আরও পড়ুনঃ পুলিশে আস্থা নেই, সিআইডি তদন্তের দাবি অপহৃত ব্যবসায়ী ও তাঁর গাড়ি চালকের পরিবারেরটোকিও প্যারালিম্পিকে মহিলাদের সিঙ্গলস ক্লাস ফোর ইভেন্টের ফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর তারকা পাঁচটি প্যারালিম্পিক সোনাজয়ী চিনের ইং ঝউয়ের কাছে স্ট্রেট সেটে হেরেও দেশের জন্য রুপো নিশ্চিত করেছেন ভাবিনা প্যাটেল। ম্যাচের ফলাফল ৭-১১, ৫-১১, ৬-১১। ম্যাচ হারলেও ভাবিনার লড়াইয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুথ হয়েছে দেশের ক্রীড়া মহল।আরও পড়ুনঃ কয়লা-কাণ্ডে সস্ত্রীক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে তলব ইডি-রটোকিও প্যারালিম্পিক থেকে পাওয়া পদক দেশকে উৎসর্গ করেছেন ভাবনাবেন প্যাটেল। তবে তিনি স্বীকার রে নিয়েছেন, রবিবার তিনি নিজের সেরা ফর্মে ছিলেন না। ম্যাচ শুরুর আগে তিনি মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলেও জানিয়েছেন ভাবনাবেন। তাঁর কথায়, ফাইনালে নিজের গেমপ্ল্যান অনুযায়ী খেলতে পারিনি। আগামী দিনে দেশের হয়ে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেব।আরও পড়ুনঃ এজেন্সি লেলিয়ে না দিয়ে, রাজনৈতিকভাবে লড়াই করার হুংকার মমতারটোকিও প্যারালিম্পিকে রুপোজয়ী ভাবনাবেন প্যাটেলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। নিজের রাজ্য গুজরাতের পাডলারকে অনুপ্রেরণা বলে সম্বোধন করেছেন তিনি। ভাবনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, শচী তেন্ডুলকর, অভিনব বিন্দ্রা সহ গোটা দেশ।

আগস্ট ২৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

P‌ara Athlete Bhabnaben : ইতিহাস গড়েও নিজেকে বিশেষভাবে সক্ষম ভাবেন না ভাবনাবেন

টোকিও প্যারালিম্পিকের টেবিল টেনিসের ব্যক্তিগত ইভেন্টে সেমিফাইনালে উঠে পদক নিশ্চিত করে ইতিহাস রচনা করেছিলেন ভাবনাবেন প্যাটেল। চীনের প্রতিপক্ষকে হারিয়ে পৌঁছে গেছেন ফাইনালে। সামনে সোনা জয়ের হাতছানি। সোনা জিততে পারলে আরও এক ইতিহাস রচনা করবেন ভারতের এই প্যারা অ্যাথলিট। জীবনের প্রথম প্যারালিম্পিক্সের ফাইনালে উঠতে পারবেন, স্বপ্নেও ভাবেননি ভাবনাবেন। ইচ্ছে শক্তির জোরেই এই জায়গায় পৌঁছেছেন বলে তিনি দাবি করেছেন। কোনও প্রত্যাশা নিয়ে টোকিও যাননি ভাবনাবেন। লক্ষ্য ছিল প্যারালম্পিক্সে নিজের সেরাটা দেওয়া। আর তাতেই ফাইনালে উঠে রুপো নিশ্চিত করে ফেলেছেন এই ভারতীয় প্যারা অ্যাথলিট। সেমিফাইনালে চিনের ঝাং মিয়াওকে হারিয়েছেন ৩-২ ব্যবধানে।চীনের প্রতিপক্ষর বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে জেতার পর ভাবনাবেন বলেন, কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে যেরকম খেলছি, ফাইনালে তেমন খেলতে পারলে সোনা জিতবই। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় কখনও ফাইনালে ওঠার কথা ভাবিনি। ১০০ শতাংশ দেওয়ার কথাই ভেবেছিলাম। ফাইনালে ১০০ শতাংশ দিতে পারলে পদক জিততে অসুবিধা হবে না। মানসিক ভাবে ফাইনালে সেরাটা দেওয়ার জন্য আমি তৈরি। শনিবার টোকিও প্যারালিপিক্সে মহিলা সিঙ্গলসের সেমিফাইনালে প্রথম গেমে ৭১১ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন ভাবনা। তারপর দুরন্তভাবে ফিরে আসেন। দ্বিতীয় গেম জিতে নেন ১১৭ ব্যবধানে। পরের গেম জেতেন ১১৪ ব্যবধানে। যদিও হাল ছাড়েননি বিশ্বের তিন নম্বর মিয়াও। ১১৯ ব্যবধানে চতুর্থ গেম জেতেন। পঞ্চম গেমে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত ১১৮ ব্যবধানে পঞ্চম গেম জিতে প্যারালিম্পিক্সের ফাইনালে পৌঁছে যান ভাবনা। সঙ্গে তৈরি করে ফেলেন ইতিহাস। প্রথম ভারতীয় হিসেবে টেবিল টেনিসে পদক নিশ্চিত করেছেন তিনি। মিয়াও জাংয়ের কাছে এর আগে টানা ১১ বার হেরেছিলেন ভাবনাবেন। সেই পরিসংখ্যানে দমে যাননি। বরং নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চিনের মিয়াও জাংকে হারিয়ে দিয়েছেন ভাবনাবেন প্যাটেল। দুর্দান্ত জয়ের পর ভাবনা বলেন, কোনও কিছু অসম্ভব নয়, সেটা প্রমাণ করে দিয়েছি। অনেকেই মনে করেন, চীনা খেলোয়াড়দের হারানো অসম্ভব। সেটাকেও সম্ভব করে দেখালেন ভাবনা। ম্যাচের পর বললেন, চীনা খেলোয়াড়কে হারানো অনেকেই অসম্ভব বলে মনে করেন। সেটা করতে পেরে আমি গর্বিত। যদি ইচ্ছা থাকে তাহলে সবকিছুই সম্ভব। নিজেকে কখনও বিশেষভাবে সক্ষম মনে করি না।

আগস্ট ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Neeraj Chopra : সেনাবাহিনী থেকে অনন্য সম্মান পেতে চলেছেন অলিম্পিকে সোনাজয়ী নীরজ চোপড়া

টোকিও অলিম্পিকে সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করেছেন নীরজ চোপড়া। টোকিও থেকে দেশে ফেরার পর সংবর্ধনার জোয়ারে ভেসেই চলেছেন। বাড়ছে স্বীকৃতির তালিকাওয। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি, সবাই কুর্নিশ জানিয়েছেন। এবার আরও বড় সম্মান দিতে চলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। নীরজের নামে একটি স্টেডিয়ামের নামকরণ করতে চলেছে।আরও পড়ুনঃ তালিবান জমানায় আফগান ক্রিকেটের ভবিষ্যত কী?পুণেতে সাদার্ন কমান্ডের আর্মি স্পোর্টস ইন্সটিটিউটের নামকরণ করা হবে নীরজের নামে। আগামী ২৩ অগস্ট, সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে আসবেন। সেনাবাহিনির প্রধান এমএম নরাবণে এবং সাদার্ন আর্মি কমান্ডারের লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএস নৈনেরও হাজির থাকার কথা। নীরজ নিজেও হাজির থাকবেন।আরও পড়ুনঃ বড় ঘোষণা নির্মলা সীতারামনেরঅলিম্পিকের অ্যাথলেটিক্সে ভারতের হয়ে প্রথম সোনা জেতা নীরজ চোপড়া শুধু দেশ নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীকেও গর্বিত করেছেন। তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত। রাজপুতানা রাইফেলসে সুবেদার পদে কাজ করেন। ২৩ বছরের অ্যাথলিটকে নিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গর্বের শেষ নেই। তারই স্বীকৃতি স্বরূপ পুনের সেনা স্টেডিয়াম নীরজের নামে চিহ্নিত হতে চলেছে। এর আগে টোকিও অলিম্পিকে সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করা নীরজ চোপড়ার সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাৎ করেছিলেন সেনাপ্রধান নারাভানে। ২৩ বছরের অ্যাথলিটের পরিবার সদস্যের সঙ্গে তিনি কথা বলেছিলেন। এবার উন্নত পরিকাঠামোর আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামটি নীরজের নামে নামাঙ্কিত করে তাঁকে অনন্য সম্মান দিতে চলছে ভারতীয় সেনা। পুনের এই আর্মি স্টেডিয়ামটি ২০০৬ সালে তৈরি করা হয়েছিল। স্টেডিয়ামে সিন্থেটিক ট্র্যাকের পাশাপাশি দর্শকদের বসার জায়গাও রয়েছে।আরও পড়ুনঃ সেনাবাহিনী থেকে অনন্য সম্মান পেতে চলেছেন অলিম্পিকে সোনাজয়ী নীরজ চোপড়াটোকিও অলিম্পিকের পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রো ইভেন্টের ফাইনালে ৮৭.৫৮ মিটার দূরত্ব বর্শা নিক্ষেপ সক্ষম হয়েছিলেন নীরজ চোপড়া। সোনা জিতে দেশের মুখ তিনি উজ্জ্বল করেছিলেন। টোকিও অলিম্পিকের ওই ইভেন্টের যোগ্যতা অর্জন পর্বেও প্রথম হয়েছিলেন নীরজ। ওই রাউন্ডে ৮৬.৬৫ দূরত্বে বর্শা ছুঁড়েছিলেন ভারতের গর্ব। ১৩ বছর পর অলিম্পিকের ব্যক্তিগত ইভেন্ট থেকে সোনা জেতা অ্যাথলিটের পরবর্তী লক্ষ্য ৯০ মিটার দূরত্বে বর্শা নিক্ষেপ করা। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপেও দেশের হয়ে সোনা জিততে চান নীরজ চোপড়া।আরও পড়ুনঃ বড় ঘোষণা নির্মলা সীতারামনেরভারতের প্রথম অ্যাথলিট হিসেবে অলিম্পিকের অ্যাথলেটিক্সে সোনা জিতেছেন নীরজ চোপড়া। একই সঙ্গে ১২১ বছর বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া ইভেন্টের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ইভেন্টে পদক জিততে সক্ষম হয়েছে ভারত। ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিকের ব্যক্তিগত ইভেন্ট থেকে সোনা জিতেছিলেন শুটার অভিনব বিন্দ্রা। নীরজের হাত ধরে ১৩ বছর পর ফের একই রকম সফলতার স্বাদ পেল দেশ।

আগস্ট ২১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Lovelina : ‌‌অসুস্থ মায়ের কাছে যেতে পারলেন না লাভলিনা বরগোঁহাই

টোকিও অলিম্পিক থেকে দেশে ফিরেছেন। নিজের রাজ্য আসামে পৌঁছেও অসুস্থ মায়ের কাছে যেতে পারলেন না অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী বক্সার লাভলিনা বরগোঁহাই। গুয়াহাটিতে সংবর্ধনার জোয়ারে ভেসে গেলেন।মেরি কমের পর দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা বক্সার হিসেবে অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছেন লাভলিনা। টোকিও থেকে বেশ কয়েকদিন আগেই দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার প্রথম নিজের রাজ্য অসমে পা রাখলেন। এদিন সকালে গুয়াহাটি বিমানবন্দরে পৌঁছন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী বক্সার লাভলিনা বরগোঁহাই। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে হাজির ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। অসমের রীতি মেনে গামছা, জাপি ও ফুলের তোড়া দিয়ে অলিম্পিকে ৬৯ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জজয়ী লাভলিনাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানো হয় । বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে লাভলিনাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী বিমল বোরা। বিমানবন্দর থেকে লাভলিনাকে নিয়ে যাওয়া হয় শহরেরই একটি হোটেলে। তাঁকে স্বাগত জানাতে রাস্তা বড় বড় কাটআউট দিয়ে সাজানো ছিল।আরও পড়ুনঃ ৩১ অগস্ট পর্যন্ত চলবে না লোকাল ট্রেনলাভলিনাকে এদিন অসম সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা প্রদানের অনুষ্ঠানটি হয় শ্রীমন্ত শঙ্করদেব কলাক্ষেত্রে। লাভলিনার হাতে ১ কোটি টাকার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এছাড়া প্যারিস অলিম্পিক অবধি প্রতি মাসে লাভলিনাকে ১ লক্ষ টাকা করে স্কলারশিপ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে অসম সরকার। তাঁকে অসম পুলিশের ডিএসপি পদেও নিযুক্ত করা হয়েছে।আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ মেডেল পাচ্ছেন বঙ্গের ৪ পুলিশ অফিসারএদিনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন লাভলিনার পিতা টিকেন বরগোঁহাই। ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে লাভলিনার গ্রামের কাছেই সরুপাথরে একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের পর তাঁদের প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিতেই এই উদ্যোগ। এর পাশাপাশি গুয়াহাটির একটি রাস্তার নামও লাভলিনার নামাঙ্কিত হবে বলে জানিয়েছেন মু্খ্যমন্ত্রী। সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী বিমল বোরা, বিধায়করা এবং প্রাক্তন অ্যাথলিট ও কোচ অর্জুন ভোগেশ্বর বড়ুয়া প্রমুখ।আরও পড়ুনঃ স্পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার ডামাডোল, বোর্ডের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বাবর আজমদেরনিজের রাজ্যে ফিরলেও এদিন বাড়িতে অসুস্থ মায়ের কাছে যাওয়া হল না লাভলিনার। রাজ্যপাল জগদীশ মুখীর সঙ্গে দেখা করে দিল্লি ফিরবেন। লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে টোকিও অলিম্পিকের পদকজয়ীদের সঙ্গে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই অনুষ্ঠানে হাজির থাকার জন্য লাভলিনাকে ফের দিল্লিতে যেতে হবে। কিডনি প্রতিস্থাপনের পর মা এখন আরোগ্য লাভের পথে। মায়ের অপারেশনের সময় জাতীয় শিবিরে থাকার জন্য পাশে থাকতে পারেননি লাভলিনা। দিল্লিতে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের পর লাভলিনা বাড়িতে এসে থাকবেন।

আগস্ট ১২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌Neeraj Chopra : নীরজ চোপড়ার ইনস্টাগ্রামে অনুগামীর সংখ্যা দেখলে অবাক হবেন, সংখ্যাটা কত?‌

তিনি কোনও বলিউডি তারকা নন। দেশের কোনও রাজনৈতিক নেতাও নন। কিংবা ক্রিকেট, ফুটবলের কোনও সুপারস্টারও নন। সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে তাঁর যে অনুরাগীর সংখ্যা বেশি থাকবে এমন প্রত্যাশা করাটাই অন্যায়। অলিম্পিকে একটা সোনা জয়ই বদলে দিয়েছে আবহ। নীরজ চোপড়ার অনুরাগীর সংখ্যা একলাফে পৌঁছে গেছে আড়াই লক্ষর বেশি।আরও পড়ুনঃ লর্ডস টেস্টে হাজির থাকলেও কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না সৌরভ গাঙ্গুলিকে, কেন? জানতে পড়ুনঅলিম্পিকে যাওয়ার আগে ইনস্টাগ্রামে নীরজ চোপড়ার অনুরাগীর সংখ্যা ছিল ৫০এরও কম। টোকিও অলিম্পিকে যাওয়ার পর ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের এই পোস্টার বয়কে ফলো করতে শুরু করেন অনেকেই। আর সেই সংখ্যাটাআ রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো জায়গায় পৌঁছে গেছে। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামে নীরজ চোপড়ার অনুরাগীর সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষর কাছাকছি পৌঁছে গেছে।আরও পড়ুনঃ অলিম্পিকের আগে ২৫ দিন অনুশীলন করতে পারেননি বজরং পুনিয়া। কারন জানেন?সোনা জয়ী এই অ্যাথলিট অবশ্য অনুসরণ করেন মাত্র ১৬০ জনকে। এর মধ্যে অন্যতম হলেন বলিউডের দুই অভিনেতা অক্ষয় কুমার ও রনদীপ হুডা। রুপোলি পর্দার এই দুই তরকাকে ফলো করার বড় কারণ হল দুজনেই খেলাধুলা ও শরীরচর্চা ভালবাসেন। পঞ্চাশ বছর পার করলেও অক্ষয় কুমার এখনও নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। রনদীপ হুডাও সময় পেলেই সাঁতার এবং ঘোড়সওয়ারি নিয়ে সময় কাটান। এক সময় জাতীয় স্তরে সাঁতার ও ঘোড়সওয়ারিতে পদকও জিতেছিলেন রনদীপ হুডা। তাই নীরজের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন এই দুই অভিনেতা। নীরজ চোপড়ার অনুসরনের তালিকায় এই দুজন ছাড়াও রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পিভি সিন্ধু, সাইনা নেহওয়াল, বীজেন্দ্র সিংহ, দীপক পুনিয়া, বক্সার মনোজ কুমার, মীরাবাই চানুর মতো ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও।

আগস্ট ০৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌Bajrang Punia : অলিম্পিকের আগে ২৫ দিন অনুশীলন করতে পারেননি বজরং পুনিয়া। কারন জানেন?‌

অলিম্পিকের আগে প্রস্তুতি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন। ২৫ দিন অনুশীলন করতে পারেননি। তা সত্ত্বেও টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতে চমকে দিয়েছেন বজরং পুনিয়া।টোকিও অলিম্পিকের আগে পোল্যান্ডে র্যাঙ্কিং ইভেন্টে খেলতে গিয়েছিলেন বজরং পুনিয়া। লক্ষ্য ছিল অলিম্পিকের প্রস্তুতি। পোল্যান্ড থেকে তারপর চলে যান রাশিয়ায়। ২৫ জুন রাশিয়ায় আলি আলিয়েভ নামে একটা প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন প্রস্তুতির জন্য। সেমিফাইনালে ইওরোপীয়ান অনূর্ধ্ব ২৩ চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জয়ী আবুলমাঝিদ কুদিয়েভের বিরুদ্ধে বাউটের সময় ডানপায়ের হাঁটুতে চোট পান বজরং পুনিয়া। সেই চোটের জন্য প্রায় ২৫ দিন অনুশীলন করতে পারেননি। রাশিয়ার এক ছোট গ্রামে মস্কোর ভারতীয় দূতাবাসের সৌজন্যে রিহ্যাব করতে পেরেছিলেন।আরও পড়ুনঃ বার্সিলোনায় শেষ সাংবাদিক সম্মেলনে কেঁদে ফেললেন লিওনেল মেসিসেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে বজরং বলেন, চোটের জন্য আমি প্রায় ২৫ দিন ট্রেনিং করতে পারিনি। এমনকি ঠিকভাবে দৌড়তেও পারছিলাম না। অলিম্পিকের আগে এতদিন অনুশীলন করতে না পারাটা একজন অ্যাথলিটের কাছে খুবই ক্ষতিকর। রাশিয়ার একটা প্রত্যন্ত গ্রামে রিহ্যাব করেছিলাম। মস্কোর ভারতীয় দূতাবাস অনুশীলনের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামের ব্যবস্থা করেছিল।আরও পড়ুনঃ আবেগে কেঁদে ফেললেন, মিলখা সিংকে সোনা উৎসর্গ নীরজ চোপড়ারঅলিম্পিকে ব্রোঞ্জ লড়াইয়ের আগে তাঁর কোচ ও ফিজিও বজরংকে পরামর্শ দিয়েছিলেন হাঁটুতে টেপ বেঁধে খেলতে। তাঁদের পরামর্শ উপেক্ষা করে বাউটে নেমেছিলেন বজরং। সেই কথা তুলে ধরে বজরং বলেন, আমার কোচ ও ফিজিও পরামর্শ দিয়েছিলেন ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে হাঁটুতে টেপ বেঁধে নামার। কিন্তু স্বস্তি পাব না বলে টেপ বাঁধিনি। টেপ বাঁধলে মনে হয় কেউ যেন শক্ত করে আমার পা ধরে রেখেছে। তাই কোচকে বলেছিলাম, চোট পেলে পরে বিশ্রাম নিতে পারব। কিন্তু পদক না পেলে সব পরিশ্রম বৃথা হয়ে যাবে। তাই ওদের পরামর্শ শুনিনি। দেশে ফিরে রিহ্যাব করবেন। তারপর বিশ্ব চাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি শুরু করবেন এই ভারতীয় কুস্তিগীর। ২ থেকে ১০ অক্টোবর নরওয়ের ওসলোতে হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ।

আগস্ট ০৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Neeraj Chopra : ‌আবেগে কেঁদে ফেললেন, মিলখা সিংকে সোনা উৎসর্গ নীরজ চোপড়ার

মাস দেড়েক আগে প্রয়াত হয়েছেন কিংবদন্তী অ্যাথলিট মিলখা সিং। খুব অল্পের জন্য তিনি স্বপ্নপূরণ করতে পারেননি। ১৯৬০ রোম অলিম্পিকে এগিয়ে থেকেও ২০০ মিটার দৌড়ে ফটো ফিনিশে চতুর্থ হয়েছিলেন। অলিম্পিক পদকের স্বপ্ন হাতছাড়া হয়েছিল। জীবনের শেষবেলায় চেয়েছিলেন টোকিও অলিম্পিকে তাঁর সেই অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ হোক। মৃত্যুর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, টোকিও অলিম্পিকে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতীয় অ্যাথলিটদের গলায় সোনার পদক দেখতে চান। তাঁর ইচ্ছে পূরণ হল। কিন্তু দেখে যেতে পারলেন না মিলখা সিং। অলিম্পিকে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে দেশকে সোনা এনে দিয়ে সেই মিলখা সিংকেই উৎসর্গ করলেন নীরজ চোপড়া।আরও পড়ুনঃ টোকিওতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন পোস্টার বয় নীরজ চোপড়া১২১ বছর পর অলিম্পিকের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে জ্যাভেলিনে দেশকে সোনা এনে দিয়েছেন নীরজ চোপড়া। ইতিহাস রচনাকারী জ্যাভলিন থ্রোয়ারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ গোটা দেশ। ১৩ বছর পর অলিম্পিকের ব্যক্তিগত ইভেন্ট থেকে সোনা জয়ের আবেগে ভেসেছেন দেশের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। আবেগতাড়িত হয়েছেন নীরজ নিজেও। শুধু মিলখা সিংকে নিজের সোনা উৎসর্গ করে থেমে থাকেননি, জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন আবেগে কেঁদে ফেলেন এই ভারতীয় অ্যাথলিট।আরও পড়ুনঃ বাবাকে দেওয়া কথা রেখে ব্রোঞ্জ জিতলেন বজরং পুনিয়াঅলিম্পিকের নিয়ম অনুযায়ী কোনও ইভেন্টের পুরস্কার বিতরণীতে কেবলমাত্র সোনাজয়ী দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। তিন পদকজয়ী দেশের মধ্যে সবার ওপরে থাকে সোনাজয়ী দেশের জাতীয় পতাকা। পুরস্কার বিতরণীর ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় নীরজ নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন এই ভারতীয় অ্যাথলিট।আরও পড়ুনঃ বাভারতীয় হকির পুনর্জন্মে নেপথ্য নায়ক নবীন পট্টনায়েকটোকিও অলিম্পিকের জ্যাভলিন থ্রো-র ফাইনালে কেবল সোনা জেতাই লক্ষ্য ছিল না নীরজ চোপড়ার। শনিবার তিনি দেশের হয়ে আলাদা কিছু করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অলিম্পিক রেকর্ড ভাঙতে চেয়েছিলেন। তা না হলেও বিশ্বমঞ্চে ভারতকে সম্মানিত করতে পেরে নিজেকে গর্বিত বলে মনে করছেন নীরজ চোপড়া। নীরজের দুর্দান্ত জয়ে উচ্ছ্বসিত হন স্টেডিয়ামে হাজির তাঁর কোচ সহ অন্যান্য ভারতীয়রা। সেখান থেকেই এক তেরঙা সংগ্রহ করে তা গায়ে জড়িয়ে এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটে বেড়ান আনন্দে আপ্লুত নীরজ। জড়িয়ে ধরেন প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও। ভারতীয় অ্যাথলিটকে এগিয়ে এসে শুভেচ্ছা জানান একে একে সব দেশের জ্যাভলিন থ্রোয়াররা।

আগস্ট ০৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Bajrang Punia : বাবাকে দেওয়া কথা রেখে ব্রোঞ্জ জিতলেন বজরং পুনিয়া

সেমিফাইনালে হাজি আলিয়েভের কাছে হারের পর টোকিও থেকে বাবার সঙ্গে কথা বলেছিলেন বজরং পুনিয়া। বাবা বলবন সিংকে কথা দিয়েছিলেন ব্রোঞ্জ জিতেই টোকিও থেকে দেশে ফিরবেন। কথা রাখলেন ভারতের এই কুস্তিগীর। পুরুষদের কুস্তিতে ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগে কাজাখস্তানের দাউলেত নিয়াজবেকভকে ৮০ ব্যবধানে উড়িয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন বজরং পুনিয়া। সোনা কিংবা রুপো হাতছাড়া হলেও অবশেষে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে সফল এই ভারতীয় কুস্তিগীর।সেমিফাইনালে হাজি আলিয়েভের বিরুদ্ধে ডিফেন্সের ভুলে হারতে হয়েছিল বজরংকে। বেশি ওপেন খেলতে গিয়ে ডিফেন্সের দিকে তেমন নজর দেননি। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে কাজাখস্তানের দাউলেত নিয়াজবেকভের বিরুদ্ধে নিজের সেরাটা উজার করে দেন বজরং পুনিয়া। দুর্দান্ত আক্রমনাত্মক রণনীতিতে বাজিমাত করে দেন। বজরংয়ের আক্রমনাত্মক খেলার সামনে এদিন দাঁড়াতেই পারেননি দাউলেত নিয়াজবেকভ।আরও পড়ুনঃ টোকিওতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন পোস্টার বয় নীরজ চোপড়ানিয়াজবেকভের বিরুদ্ধে এদিন প্রথম পর্বেই ২০ ব্যবধানে এগিয়ে যান। পরে ডান পা দিয়ে আক্রমণের পাশাপাশি হেডলক করেন। এই মুভই বজরংকে ৬০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। পরে পরিকল্পনা বদলে বাঁ পা দিয়ে আক্রমণ করে ২ পয়েন্ট তুলে নিয়ে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন বজরং। সেমিফাইনালে সেভাবে ছন্দে পাওয়া যায়নি বজরংকে। ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উজার করে দিয়েছিলেন। চলতি অলিম্পিকে দেশের হয়ে তিনি চতুর্থ ব্রোঞ্জ জিতলেন।২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে সর্বকালের সেরা পারফরমেন্স করেছিল ভারত। দুটি রুপো ও চারটি ব্রোঞ্জ সহ মোট ৬টি পদক জিতেছিল দেশ। বজরং পুনিয়ার ব্রোঞ্জের পর নীরজ চোপড়ার সোনার হাত ধরে পদক জয়ের নিরিখে টোকিও অলিম্পিকে নতুন রেকর্ড গড়ল টিম ইন্ডিয়া। একটি সোনা, দুটি রুপো এবং চারটি ব্রোঞ্জ সহ চলতি অলিম্পিকে ভারতের সর্বমোট পদক সংখ্যা সাতে পৌঁছে গেল।আরও পড়ুনঃ প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থেকে চালকের আসনে ভারতসেমিফাইনালে হারের পর বাবার সঙ্গে কথা বলেছিলেন বজরং। বলবন ছেলেকে বলেছিলেন, ফোকাস না হারিয়ে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ের জন্য তৈরি হতে। বজরং বাবাকে কথা দিয়েছিলেন, ব্রোঞ্জ জিতেই দেশে ফিরবেন। বাবাকে দেওয়া কথা রেখেছেন এই ভারতীয় কুস্তিগীর। বলবন সিং বলেন, বজরং আমার স্বপ্নের কথা হয়তো বুঝতে পেরেছিল। আমার হৃদয় বলছিল ও ব্রোঞ্জ জিতবে আমি সকালেই সবাইকে সেকথা বলেছিলাম। আমার সেই স্বপ্নটাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হল। ছেলে দেশকে গর্বিত করেছে। আমি কতটা খুশি বোঝাতে পারব না। সেমিফাইনালে হারের পর আমাকে বলেছিল ব্রোঞ্জ নিয়েই দেশে ফিরবে। কথা রেখেছে বজরং।

আগস্ট ০৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Gold Medal:টোকিওতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন পোস্টার বয় নীরজ চোপড়া

প্রথমবার অলিম্পিকে নেমেই বাজিমাত নীরজ চোপড়ার। টোকিওতে পুরুষদের জ্যাভেলিন থ্রোতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন এই ভারতীয় অ্যাথলিট। ১২১ বছর পর ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে পদক এল ভারতের। ১৩ বছর পর ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিতলেন কোনও ভারতীয়। টোকিও অলিম্পিকে পোস্টার বয় হলেন নীরজ চোপড়া।আরও পড়ুনঃ ভারতীয় হকির পুনর্জন্মে নেপথ্য নায়ক নবীন পট্টনায়েকপদক জয়ের সম্ভাবনা নিয়েই টোকিও অলিম্পিকে অংশ নিয়েছিলেন জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়া। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। নীরজ চোপড়াকে ঘিরে সোনা জয়ের স্বপ্ন দেখছিল গোটা দেশ। প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল যোগ্যতা অর্জন পর্বের পারফরমেন্স। গ্রুপ এর যোগ্যতা অর্জন পর্বে তিনি ৮৬.৬৫ মিটার ছুঁড়ে ফাইনালের ছাড়পত্র পেয়েছিলেন। ফাইনালে যোগ্যতা অর্জনের জন্য মাপকাঠি ছিল ৮৩.৫০ মিটার। প্রথম প্রচেষ্টাতেই ৮৬.৬৫ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করেন নীরজ চোপড়া। প্রথম থ্রো করার পরই তিনি নিশ্চিত হয়ে যান ফাইনালের ব্যাপারে। তারপরই প্রতিযোগিতার এরিনা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।আরও পড়ুনঃ প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থেকে চালকের আসনে ভারতশনিবার ফাইনালে প্রথম প্রচেষ্টাতেই ৮৭.০৩ মিটার ছোঁড়েন নীরজ। দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতে তিনি ৮৭.৫৮ মিটার ছোঁড়েন। টোকিও অলিম্পিকে সোনা জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছিল জার্মানির জোহানেস ভেটেরকে। তিনি নীরজের ধারেকাছে পৌঁছতে পারেননি। ভেটের ছোঁড়েন ৮২.৫২ মিটার। ৮৬.৬৭ মিটার ছুঁড়ে রুপো পেয়েছেন চেক প্রজাতন্ত্রের জ্যাকুব ভালদেজ। ব্রোঞ্জ জিতেছেন চেক প্রজাতন্ত্রেই ভিটেস্লাভ ভেসেল। তিনি ছুঁড়েছেন ৮৫.৪৪ মিটার।আরও পড়ুনঃ টোকিও অলিম্পিকে কে হবেন ভারতের পোস্টার বয়? জানতে পড়ুনঅলিম্পিকে সোনা জিতলেও নিজের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছতে পারেননি নীরজ কুমার। এই বছরই পাতিয়ালায় অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান গ্রাঁ প্রিতে ৮৮.০৭ মিটার ছুঁড়ে টোকিও অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। বছর চারেক আগেই ভারতের এই অ্যাথলিট বড় আসরে সাড়ম্বরে আগমনের বার্তা দিয়েছিলেন। ২০১৬তে অনূর্ধ্ব ২০ আইএএএফ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে চমকে দিয়েছিলেন। শুধু সোনা জেতাই নয়, ৮৬.৪৮ মিটার ছুঁড়ে জুনিয়র বিশ্বরেকর্ডও গড়েছিলেন নীরজ। প্রথম ভারতীয় হিসেবে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড বিভাগে সোনা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই ভারতীয় জ্যাভলিন থ্রোয়ারকে। ২০১৭ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা। সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমস ও এশিয়ান গেমসেও দেশকে সোনা এনে দিয়েছিলেন নীরজ চোপড়া।আরও পড়ুনঃ সোনা হাতছাড়া হলেও রুপো জিতে দেশকে গর্বিত করলেন রবি১৯০০ সালে শেষবার অ্যাথলেটিক্সে পদক জিতেছিল ভারত। সেবার দুটি রুপো জিতে দেশকে গর্বিত করেছিলেন নর্মান প্রিচার্ড। তারপর অলিম্পিকের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড থেকে ভারতের কোনো পদক আসেনি। ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিকে ব্যক্তিগত ইভেন্টের প্রথম সোনা এসেছিল। শুটিংয়ে সোনা জিতে নজির গড়েছিলেন অভিনব বিন্দ্রা। ১৩ বছর পর আবার অলিম্পিকের ব্যক্তিগত ইভেন্ট থেকে সোনা এল। টোকিওতে ইতিহাস রচনা করলেন ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের পোস্টার বয় নীরজ চোপড়া।ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করেছেন।History has been scripted at Tokyo! What @Neeraj_chopra1 has achieved today will be remembered forever. The young Neeraj has done exceptionally well. He played with remarkable passion and showed unparalleled grit. Congratulations to him for winning the Gold. #Tokyo2020 https://t.co/2NcGgJvfMS Narendra Modi (@narendramodi) August 7, 2021

আগস্ট ০৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Bajrang Punia : ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইলের সেমিফাইনালে হেরে গেলেন বজরং পুনিয়া

সোনার স্বপ্ন দেখিয়েও শেষরক্ষা হল না। টোকিও অলিম্পিকে পুরুষদের কুস্তিতে ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগের সেমিফাইনালে আজারবাইজানের হাজি আলিয়েভের কাছে হেরে গেলেন বজরং পুনিয়া। ১২৫ ব্যবধানে উড়ে গেলেন এই ভারতীয় কুস্তিগীর। তবে পদক জয়ের সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়নি বজরং পুনিয়ার। রেপেসেজের মাধ্যমে তাঁর এখনও ব্রোঞ্জ জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সেমিফাইনালে আক্রমণাত্মক মেজাজেই বাউট শুরু করেছিলেন বজরং। কিন্তু শুরু থেকে হাজি আলিয়েভের বিরুদ্ধে একের পর এক ভুল করতে থাকেন। বজরংকে দুদুবার ট্যাকেল করে এবং লেগ অ্যাটাক করে ৮ পয়েন্ট তুলে নেন রিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী আজারবাইজানের আলিয়েভ। একসময় ৯২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তিনি। এই অবস্থায় আর লড়াইয়ে ফেরা সম্ভব হয়নি বজরং পুনিয়ার। যখন তিনি পয়েন্ট সংগ্রহ করেন, ততক্ষণে বাউট প্রায় পকেটে ভরে ফেলেছেন আলিয়েভ। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালের দুর্দান্ত লড়াই করেছিলেন বজরং পুনিয়া। ইরানের মোর্তাজা ঘিয়াসিকে ২১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন। শুরু থেকেই ইরানের কুস্তিগীরের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্মুখীন হতে হয়। বিশ্ব ক্রমতালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা বজরংয়ের সব আক্রমণই দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক রণনীতিতে নির্বিষ করে দেন প্রতিপক্ষ। উল্টে এক পয়েন্টে এগিয়ে যান ইরানের মোর্তেজা। সেই পয়েন্টের ব্যবধান মিটিয়ে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা করেন পুনিয়া। সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের পাতা ফাঁদ থেকেও নিজেকে রক্ষা করেন ভারতীয় কুস্তিগীর। একদম শেষ মুহুর্তে বজরং পুনিয়ার কাছে দুর্দান্ত সুযোগ আসে। তার সদ্ব্যবহার করেন ভারতীয় কুস্তিগীর। ২ পয়েন্ট অর্জন করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে উল্টে ম্যাচ জিতে নেন পুনিয়া। ফল পয়েন্টের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচ। অন্যদিকে মহিলাদের ৫০ কেজি ফ্রিস্টাইল ক্যাটেগরির প্রথম রাউন্ডেই হারের মুখ দেখতে হয় ভারতের সীমা বিসলাকে। ১-৩ ফলাফলে ম্যাচ হারেন এই মহিলা কুস্তিগীর। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা থেকেও ছিটকে গিয়েছেন এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জজয়ী কুস্তিগীর। প্রথম রাউন্ডে সীমাকে হারানো কুস্তিগীর কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়ায় রেপেচেজ রাউন্ডেও খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছেন ভারতীয় তারকা।

আগস্ট ০৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Women Hockey : ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে গ্রেট ব্রিটেনের কাছে হেরে ইতিহাসে নাম তুলতে ব্যর্থ রানিরা

মনদীপ সিংরা পারলেও, রানি রামপালরা ব্যর্থ। ইতিহাসে নাম তুলতে পারল না ভারতীয় মহিলা হকি দল। টোকিও অলিম্পিকে তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচে গ্রেট ব্রিটেনের কাছে ৪৩ ব্যবধানে হেরে ব্রোঞ্জ জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল রানি রামপলদের। যদিও তাঁদের এই পরাজয় অগৌরবের নয়। দুর্দান্ত লড়াই করে হারতে হয়েছে। গ্রেট ব্রিটেনকে এদিন বিনা লড়াইয়ে জমি ছাড়েনি ভারত। যদিও ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টায়ে নিজেদের সেভাবে গুছিয়ে নিতে পারেননি রানিরা। সেই সুযোগে ভারতীয় ডিফেন্সে একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসে ব্রিটেন। বেশ কয়েকটি পেনাল্টি কর্ণার আদায় করলেও গোল করতে পারেনি। ভারতীয় দলের গোলকিপার সবিতা পুনিয়া তিন কাঠির নীচে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। তিনি বেশ কয়েকটি গোল বাঁচিয়ে দলের নিশ্চিত পতন রোধ করেন। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরু থেকেও ভারতের ওপর আধিপত্য ছিল গ্রেট ব্রিটেনের। ১৬ মিনিটে এলিনা রেয়ারের পুশ ভারতীয় ডিফেন্ডার গ্রেস এক্কার স্টিকে লেগে গোলে যায়। ২২ মিনিটে ভারতীয় দলের মিডফিল্ডার নিশা গ্রিন কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যান। ভারতীয় দলের ১০ জন হয়ে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৪ মিনিটে ২০ করে গ্রেট ব্রিটেন। ১ মিনিট পরেই পেনাল্টি কর্ণার থেকে ব্যবধান কমান গুরজিৎ কাউর। ব্যবধান কমিয়ে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে ভারত। ২৬ মিনিটে আবার পেনাল্টি কর্ণার আদায় করে। পেনাল্টি কর্ণার থেকে ম্যাচে সমতা ফেরান সেই গুরজিৎ কাউর। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শেষদিকে আরও নাটক অপেক্ষা করছিল। ২৯ মিনিটে বন্দনা কাটারিয়া গোল করে ভারতকে ৩২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে ওঠে গ্রেট ব্রিটেন। একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসতে থাকে ভারতীয় রক্ষণে। চাপে পড়ে ভুল করতে থাকে ভারতীয় রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। সেই সুযোগে ৩৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার আদায় করে গ্রেট ব্রিটেন। পেনাল্টি কর্ণার থেকে ইসাবেলে পিটারের নেওয়া শট সবিতা পুনিয়া বাঁচালেও ফিরতি বল থেকে গোল করে সমতা ফেরান হোলি ওয়েব। চতুর্থ কোয়ার্টারে ম্যাচ দারুণ জমে ওঠে। আক্রমণ প্রতিআক্রমণে দুই দল একে অপরকে টেক্কা দিতে থাকে। ৪৮ মিমিটের মাথায় পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোল করে গ্রেট ব্রিটেনকে ৪৩ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গ্রেস ব্যালসডন। বাকি সময় চেপে ধরলেও সমতা ফেরাতে পারেনি ভারত। হারলেও রানি রামপালদের এই লড়াইকে কুর্ণিশ করছে গোটা দেশ। এর আগে ১৯৮০ ও ২০১৬ সালের অলিম্পিকে খেললেও নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছিল ভারত। এবারই প্রথম অলিম্পিকের সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস রচনা করলেন রানি রামপালরা।

আগস্ট ০৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

R‌avi Kumar : সোনা হাতছাড়া হলেও রুপো জিতে দেশকে গর্বিত করলেন রবি

দুর্দান্ত লড়াই করেও সোনা স্পর্শ করতে পারলেন না রবি কুমার দাহিয়া। পুরুষদের ফ্রিস্টাইল কুস্তির ৫৭ কেজি বিভাগের ফাইনালে রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটির জাউর উগুয়েভের কাছে হেরে রুপো জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হল এই ভারতীয় কুস্তিগীরকে। দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জাউর উগুয়েভের কাছে ৭৪ ব্যবধানে হারতে হয়েছে রবি কুমারকে। যদিও তাঁর হাত ধরেই টোকিও অলিম্পিকে ভারতের পঞ্চম পদকটি নিশ্চিত হয়েছে। সোনা হাতছাড়া হলেও রুপো জিতে দেশকে গর্বিত করলেন রবি। ভারোত্তোলক মীরাবাঈ চানুর পর টোকিও অলিম্পিক থেকে দেশকে দ্বিতীয় রুপো উপহার দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন হরিয়ানার এই কুস্তিগীর। সুশীল কুমারের পর দ্বিতীয় ভারতীয় কুস্তিগীর হিসেবে অলিম্পিকে রুপো জিতলেন রবি কুমার দাহিয়া। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ৬৬ কেজির ফ্রিস্টাইল ইভেন্ট থেকে রুপো জিতেছিলেন সুশীল। ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিকেও একই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন সুশীল। দুই অলিম্পিকে পদক জয়ের বিরল নজির যে দুই ভারতীয় ক্রীড়াবিদের রয়েছে, সুশীল তার মধ্যে অন্যতম। রবি দাহিয়ার সেই নজির স্পর্শ করতে পারবেন কিনা, তা তো সময় বলবে। তার আগে টোকিও অলিম্পিক থেকে রুপো জিতে তিনি ইতিহাস গড়লেন। কোয়ার্টার ফাইনালে অনায়াস জয় হাসিল করা রবি কুমার সেমিফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। ভারতীয় কুস্তিগীরের বিরুদ্ধে ওই ম্যাচের প্রথম থেকেই পয়েন্ট অর্জন করতে শুরু করেছিলেন কাজাখস্তানের নুরিসলাম সানায়েভ। একটা ৩৯ পয়েন্টে পিছিয়ে গিয়েছিলেন রবি কুমার। সেখান থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল। ম্যাচের একদম শেষ মুহুর্তে দুর্দান্ত দক্ষতায় পয়েন্ট হাসিল করেন দাহিয়া। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১০ সেকেন্ড আগে রবিকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। রবি কুমার দাহিয়া রুপো জিতলেও পদক হাতছাড়া করলেন আর এক কুস্তিগীর দীপক পুনিয়া। ৮৬ কেজির ফ্রিস্টাইল বিভাগে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে সান মারিনোর মিলেস আমিনের বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহুর্তে পয়েন্ট হারিয়ে পদক হাতছাড়া করেন দীপক পুনিয়া। ৪২ ব্যবধানে তিনি হেরে যান।

আগস্ট ০৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Tokyo Olympics : ‌৪১ বছরের শাপমুক্তি ঘটল টোকিওতে, জার্মানিকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতল ভারত

অবশেষে শাপমুক্তি। ৪১ বছরের খরা কাটিয়ে অলিম্পিকে পদক জিতল ভারত। ১৯৮০ মস্কো অলিম্পিকের পর টোকিও। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে জার্মানিকে ৫৪ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতল ভারত। ভারতীয় হকির গৌরব আবার ফিরিয়ে নিয়ে এলেন মনদীপ সিংরা। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল জার্মানরা। তারপর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন মনদীপ সিংদের। শেষ পর্যন্ত জয় হাসিল। ম্যাচের ২ মিনিটে ভারতীয় ডিফেন্সের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে দিয়েছিল টিমুর ওরুজ। শুরুতে এগিয়ে গিয়ে জার্মানরা বাড়তি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল। একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিল ভারতীয় ডিফেন্সে। ১০ ও ১২ মিনিটে পরপর দুটি গোল বাঁচিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি শ্রীজেশ।আরও পড়ুনঃ বধূকে ধর্ষণের পর সোনার গয়না ও টাকা হাতানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবকদ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরু থেকেই মরিয়া হয়ে ওঠে ভারত। ১৭ মিনিটে প্রতি আক্রমণে উঠে এসে নীলকান্ত শর্মার পাস থেকে সমতা ফেরান সিমরনজিৎ সিং। ২০ মিনিটে জার্মানির ফ্লোরিয়ান ফুচসের প্রয়াস রুখে দেন শ্রীজেশ। ২৪ মিনিটে নিকলাস ওয়েলেন জার্মানিকে ২১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। পরের মিনিটেই বেনেডিক্ট ফুর্ক ৩১ করেন। ৩১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সম্বিত ফেরে মনদীপদের। ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ভারত। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শেষদিকে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। ২৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে ব্যবধান কমান হার্দিক সিং। ২ মিনিট পরে আবার পেনাল্টি কর্ণার পায় ভারত। পেনাল্টি কর্ণার থেকে সমতা ফেরান হরমনপ্রীত সিং।আরও পড়ুনঃ বুমরা, সামির ঝড়ে বেসামাল ইংল্যান্ড, গুটিয়ে গেল ১৮৩ রানেদ্বিতীয়ার্ধে আরও নাটক অপেক্ষা করছিল। জার্মানির ওপর জাঁকিয়ে বসেন মনপ্রীতরা। ৩১ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে ভারতকে এগিয়ে দেন রুপিন্দার পাল সিং। ৩ মিনিট পর গুরজন্ত সিং ডানদিক থেকে উঠে এসে বল বাড়ান সিমরনজিৎ সিংকে। খুব কাছ থেকে বল জালে পাঠান সিমরনজিৎ। ৫৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। ৪২ মিনিটে পরপর বেশ কয়েকটা পেনাল্টি কর্ণার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি রুপিন্দাররা।আরও পড়ুনঃ বুপুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোর ফাইনালে পৌঁছলেন নীরজ কুমারম্যাচের চতুর্থ কোয়ার্টারে চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্স। ব্রোঞ্জ ধরে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানরা। অন্যদিকে ৪১ বছরের খরা কাটাতে মরিয়া মনদীপরা। ম্যাচের পরতে পরতে উত্তেজন। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার পায় জার্মানি। পেনাল্টি কর্ণার থেকে ব্যবধান কমান লুকাস উইন্ডফেডার। ৫২ মিনিটে জার্মান গোলকিপার স্ট্যাডলারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি মনদীপ। শেষদিকে মরিয়া হলেও সমতা ফেরাতে পারেনি জার্মানি। অবশেষে ৪১ বছরের শাপমুক্তি ঘটিয়ে অলিম্পিকে পদক জিতল ভারত।

আগস্ট ০৫, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

চোরবাগানে দুর্গাপুজোর ভিড়ে মর্মান্তিক বিপর্যয়! পদপিষ্টের আশঙ্কা, একাধিক মৃত্যুর দাবি সূত্রের, হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল আতঙ্কে। প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে ঢোকার হুড়োহুড়ি, তার সঙ্গে বিপুল দর্শনার্থীর চাপসব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে তৈরি হল ভয়াবহ পরিস্থিতি। মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আনন্দবাজার সুত্রে জানা যায় এই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর এই সংখ্যা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তাদের থানায় ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। বন্ধ করে দেওয়া হয় মণ্ডপের আলো এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথ।প্রবল বৃষ্টির জেরেই কি বিপত্তি?সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পুজো মণ্ডপগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। সেই সময় কয়েক জন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁদের পিছনে থাকা ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, মণ্ডপের ভিতরের একটি বৃত্তাকার পথে এই বিপত্তি ঘটে। ওই পথে দর্শনার্থীদের ঘুরে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একসঙ্গে বহু মানুষের জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কাঠামোর কোনও অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।হাসপাতালে আহতদের ভিড়, চলছে চিকিৎসাঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কলকাতা পুলিশের সূত্রে প্রথমে ৩৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, পরে মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্রে দাবি করা হয়, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, কয়েক জনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে আহতদের চিকিৎসা চলছে। কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও।হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মহিলা, তিন জন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এই মৃত্যুসংখ্যা বা মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।উদ্ধারকাজে জোর, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নদুর্ঘটনার পর মণ্ডপ চত্বরে উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে উদ্ধারকাজে অসুবিধা না হয়।অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি যখন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন পর্যাপ্ত পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী সময়মতো সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সাহায্যের আবেদন জানিয়েও তাঁরা সাড়া পাননি বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ততা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। আপাতত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পদপিষ্ট হয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।৩৬০ ডিগ্রির মণ্ডপে কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের পুজোর ভাবনা অরব, যার ইংরেজি ব্যাখ্যা বিয়ন্ড সাউন্ড। শব্দের পরিচিত সীমা ছাড়িয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল মণ্ডপ। সৃজনশীল পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ দেখার ব্যবস্থা। সেরা পুজোর তালিকায়ও এই পুজো তৃতীয় স্থান পেয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য তৈরি বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর ঘিরেই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক সূত্রের খবর। ওই পথে একসঙ্গে কত জনের চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, ভিড়ের সময় প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা হচ্ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বেরোনোর পথ ছিল কি নাএই প্রশ্নগুলি এখন গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী, যিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। তবে দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ হবে।হেল্পলাইন চালু রাজ্য সরকারেরঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নম্বরটি হল ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। দুর্ঘটনায় আহতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে বা সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য এই নম্বর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আবহে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় ফের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। তবে কত জনের মৃত্যু হয়েছে, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি নাতার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে সরকারি বিবৃতি ও তদন্তের পরেই।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
উৎসব

দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের উন্মাদনা! ফুটবলের টানে মাঠে ফিরুক কচিকাঁচারা, অভিনব থিম পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির

পূর্ব বর্ধমান: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এ বার ফুটবল বিশ্বকাপের আবহ। কোথাও বিশ্বজয়ী স্পেনের উল্লাস, কোথাও ভারতীয় ফুটবলের ছবি, আবার কোথাও লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে পুজোর মণ্ডপেই যেন তৈরি হচ্ছে এক টুকরো বিশ্বকাপের আসর। বাঙালির চিরন্তন ফুটবলপ্রেমকে উদ্যাপন এবং নতুন প্রজন্মকে মোবাইলের পর্দা থেকে মাঠে ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব।পুজোর থিম মানেই এখন শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ সচেতনতা কিংবা নানা অভিনব ভাবনার মেলবন্ধন। সেই ধারাতেই এ বার ফুটবলকে সঙ্গী করেছে পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি। ক্লাবের ২৯তম বর্ষের পুজোয় তাদের থিম ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড। অর্থাৎ, ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ফুটবল যে গোটা বিশ্বকে একই সুতোয় বেঁধে রাখতে পারে, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে।মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ার আয়োজন। সামনে রাখা হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের সরকারি বল ট্রিয়োন্ডা। বলটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের আবহ। মণ্ডপের এক দিকে রয়েছে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি, অন্য দিকে স্থান পেয়েছে ভারতীয় ফুটবল দলের ছবি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গৌরবের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।এই থিমের অন্যতম আকর্ষণ ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। তাঁদের ফুটবলজীবনের স্মৃতি ও জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ। পাশাপাশি থাকছে আরও কয়েক জন তারকা ফুটবলারের প্রতিকৃতি। বিশ্বকাপের নানা স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে মাঠের উত্তেজনা, গোলের উল্লাস এবং সমর্থকদের আবেগে ভরা সেই সব মুহূর্তে।মণ্ডপের অন্দরসজ্জাতেও থাকছে চমক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া ৭০টি উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের ছবি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে সেখানে। ভারতীয় ফুটবলের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ জায়গা। দেশের ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। ফলে এই মণ্ডপ শুধু পুজো দেখার জায়গা নয়, ফুটবলের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনাকেও বিশেষ ভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। মণ্ডপের এক পাশে গ্যালারির আদলে তৈরি অংশে থাকবে ফাইনালের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। দুর্গাপ্রতিমার পাশেও স্থান পাচ্ছে ফাইনালের স্মরণীয় দৃশ্য এবং ফুটবল তারকাদের ছবি। মণ্ডপের একেবারে উপরের দিকে থাকবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের পতাকা। আলোর কারুকার্যে সেই সব পতাকার রং ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে দর্শকদের সামনে ফুটবল বিশ্বকাপের একটি দৃশ্যমান আবহ তৈরি করাই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য।এখানেই শেষ নয়। মণ্ডপে থাকবে একটি বড় পর্দা, যেখানে দেখানো হবে বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচের হাইলাইটস। ফলে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীরা ফিরে দেখতে পারবেন মাঠের সেরা মুহূর্তগুলি। গোল, সেভ, দুরন্ত পাস কিংবা ট্রফি জয়ের উল্লাসবিশ্বকাপের নানা স্মৃতি মণ্ডপের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।তবে এই আয়োজনের পিছনে শুধুই দর্শকদের আকর্ষণ করার ভাবনা নেই। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য, ছোটদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের মাঠমুখী করে তোলা। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি শিশু-কিশোরদের আকর্ষণ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে খেলাধুলার আনন্দ, দলগত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খলা এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফুটবলকে মাধ্যম করেছে ক্লাব।ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে জয়ের আনন্দের পাশাপাশি থাকে পরাজয় মেনে নেওয়া, সতীর্থের পাশে দাঁড়ানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা। ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড থিমের মাধ্যমে সেই সামাজিক ও মানবিক বার্তাও দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি।দুর্গাপুজোর উৎসবের সঙ্গে ফুটবলের আবেগকে মিলিয়ে এই উদ্যোগ কতটা দর্শকপ্রিয় হয়, তা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে বিশ্বকাপের স্মৃতি, আন্তর্জাতিক তারকা থেকে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসসব কিছুকে এক ছাতার তলায় এনে পুজোর আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছে ক্লাব। উদ্যোক্তাদের আশা, মণ্ডপে এসে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে ওঠার পাশাপাশি ছোটদের মনে জাগবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের টানেই হয়তো এক দিন তারা মোবাইল সরিয়ে রেখে আবার ছুটবে গ্রামের মাঠে, পায়ে বল নিয়ে।দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের আবহ, আর সেই আবহ থেকেই মাঠে ফেরার ডাকপূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির এ বারের পুজোর ভাবনায় ফুটবল তাই শুধু খেলা নয়, নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলারও এক বার্তা।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বড় চমক! কবে নিজের গর্ভগৃহে ফিরবেন তারাপীঠের মা তারা?

মহালয়ার আগেই তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে মা তারাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ষষ্ঠীর দিনও তাঁকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী। ওই দিন রাজরাজেশ্বরী রূপে তাঁর বিশেষ পুজো হবে।তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। দেবীর আসনের বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। এই সংস্কারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে বিশেষ রেলিং তৈরি করানো হচ্ছে। তবে দিল্লি হয়ে সেই রেলিং তারাপীঠে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় সংস্কারের কাজও পিছিয়ে যায়। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সব ধর্মীয় আচার মেনে মা তারাকে নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে।মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শন চলবে। সন্ধ্যারতির পর দেবীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মূল গর্ভগৃহে। নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে পুজো করা হবে।সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে রাখা হলেও তাঁর নিত্যপুজো ও দর্শন বন্ধ হয়নি। সেখানেই নিয়মিত পুজো চলছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার দুদিন পর সংস্কারের কাজের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরানো হয়েছিল। মহালয়া অমাবস্যার ঠিক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকটি সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ষষ্ঠীর দিন তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সংস্কারের কাজ বাকি থাকায় সেই পরিকল্পনাও কার্যকর করা যায়নি।পুলক চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চতুর্দশীর দিন ভোরে মা তারাকে শিবমন্দির থেকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। ২৫ অক্টোবর সারাদিন সেখানেই থাকবেন দেবী। সন্ধ্যারতির পর তাঁকে আবার নিজের মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মা তারার এই বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে এখন প্রস্তুতি চলছে তারাপীঠ মন্দিরে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দু সরকারের বিচারে কলকাতার সেরা পুজো কোনটি? প্রথম স্থান পেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার!

রাজ্যে পালাবদলের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। তার মধ্যেই কলকাতার সেরা পুজোগুলির নাম ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ২৩টি পুজো কমিটিকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মান জানানো হয়েছে। সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সমাজ সচেতনতার মতো বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।সরকারের বিচারে এ বারের সেরার সেরা হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো সমিতি। তৃতীয় হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম হয়েছে মুদিয়ালি ক্লাব। দ্বিতীয় স্থানে টালা বারোয়ারি, তৃতীয় স্থানে বেহালা অরুণোদয় সমিতি এবং চতুর্থ স্থানে আহিরীটোলা সর্বজনীন। অন্য দিকে, সেরা মণ্ডপের পুরস্কার পেয়েছে খিদিরপুর ২৫ পল্লি। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে আমরা কজন কল্যাণ সমিতি।আলোকসজ্জার বিভাগেও ঘোষণা করা হয়েছে পুরস্কারজয়ীদের নাম। এই বিভাগে প্রথম হয়েছে সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তৃতীয় হয়েছে শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব।পরিবেশবান্ধব পুজোর বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে নলিন সরকার স্ট্রিট। দ্বিতীয় হয়েছে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের পুজো। তৃতীয় স্থান পেয়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।সমাজ সচেতনতার বিভাগে প্রথম হয়েছে কাশীবোস লেন। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। তৃতীয় হয়েছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে অজেয় সংহতি।এ ছাড়াও চারটি পুজো কমিটিকে বিশেষ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বি জি লাইন্স আবাসিক দুর্গাপুজো কমিটি, শ্যাম স্কোয়্যার, ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক এবং সমাজসেবী সংঘ।সব মিলিয়ে, দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এ কলকাতার একাধিক পরিচিত পুজো কমিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। সেরার সেরা হিসেবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম উঠে আসার পাশাপাশি প্রতিমা, মণ্ডপ, আলো, পরিবেশ এবং সমাজ সচেতনতার বিভাগেও আলাদা করে সেরাদের বেছে নিয়েছে সরকার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

হাই কোর্টে ধাক্কা, এ বার সুপ্রিম কোর্টে সুজিত বসু! পুজোর আগে কি মিলবে স্বস্তি?

কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে এখনই এই মামলার শুনানি হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে জামিন মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলবন্দি তৃণমূলের এই নেতা।গত ১২ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তার পর থেকে তিনি জেলে রয়েছেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েও স্বস্তি পাননি প্রাক্তন মন্ত্রী। এ বার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন তিনি।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। পুরসভায় নিয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগের মতো একাধিক মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। সেই তদন্তের সূত্রেই সুজিতের বিরুদ্ধে পুর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। গত ১২ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তের সময় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ছেলের রেস্তরাঁকে ঘিরেও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সব অভিযোগের তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হওয়ায় সুজিতের আইনি লড়াই আরও জটিল হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আবেদন কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। পুজোর আগে শীর্ষ আদালতে শুনানি না হলে আপাতত জেলেই থাকতে হতে পারে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দেশ

এক সপ্তাহে দু’বার আটক অভিজিৎ দীপকে! দিল্লিতে তিরঙ্গা মিছিলের আগেই কেন কড়া পদক্ষেপ পুলিশের?

ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে দলের তিরঙ্গা মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই মিছিলে বড় জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবারই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ১১ জনের একটি দলকে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর পর শুক্রবার সকালে মিছিল শুরুর ঠিক আগে অভিজিৎ দীপকের দিল্লির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁকে কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে একটি নোটিস দেওয়া হয়। তার পরেই তাঁকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আটক হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি এসেছিলেন অভিজিৎ। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরেই তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। এ বার জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা মিছিল শুরুর আগেই ফের তাঁকে আটক করা হল।বৃহস্পতিবারই সিজেপিকে মিছিলের অনুমতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। জানানো হয়েছিল, ১১ জনের একটি দল জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারে। শুক্রবার সকালে মিছিলের আগে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে নোটিস দেয় পুলিশ। কনট প্লেসে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয় তাঁকে।তবে অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অভিজিৎ। সেই সময় তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ। তার আগে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিতের দাবি, তিনি কোনও আইন ভাঙেননি।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

টেবিল-ছাতা পেতেও মিলল না ছাড়! সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে কড়া নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে নতুন করে জট তৈরি হল কলকাতা হাই কোর্টে। একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার সেই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের রায় খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আগামী ২১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে জানতে চান, বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল কি না। তাঁর প্রশ্ন, আবেদন করেও অনুমতি না পেলে পুলিশ কী করবে? সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, অনুমতি চেয়ে গণপূর্ত দফতর এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ইমেল করা হয়েছিল। পুলিশকেও আবেদনের কথা জানানো হয়েছিল বলে জানান মামলাকারীর আইনজীবী।এর পরেই রাস্তার ধারে থাকা স্টলগুলি নিয়ে কড়া অবস্থান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, অনুমতি না থাকলে কোনও স্টলই রাখা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সিপিএমের বুকস্টল কোথায় রয়েছে, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে শামিম আহমেদ জানান, বুকস্টলটি দলের কার্যালয়ের সামনে। রাস্তার ধারে অন্য স্টলগুলির সঙ্গে একই লাইনে রয়েছে কি না, নাকি রাস্তার উপরে এগিয়ে এসেছে, সেই প্রশ্নও করেন প্রধান বিচারপতি। সিপিএমের আইনজীবী দাবি করেন, বুকস্টলটি অন্য স্টলগুলির মতো একই লাইনে রয়েছে।রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, অন্য স্টলগুলির অনুমতি রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এর পর প্রধান বিচারপতি বলেন, অনুমতি না থাকলে সব স্টলই সরিয়ে দিতে হবে। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন।সিপিএমের আইনজীবী জানান, একক বেঞ্চও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছিল। অন্য দিকে, অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, অনুমতি ছাড়া কী ভাবে বুকস্টল চালানো সম্ভব? সিপিএমের তরফে পাল্টা জানানো হয়, দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতে আর তিন-চার দিন রয়েছে। তাই মাইক বা মাইক্রোফোন ব্যবহার না করে বুকস্টল চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।শেষ পর্যন্ত আরও একটি প্রস্তাব দেন সিপিএমের আইনজীবী। তিনি জানান, দলের কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ফুট লম্বা একটি টেবিল পেতে, কোনও ছাউনি ছাড়াই শুধু ছাতা ব্যবহার করে বুকস্টল চালাতে চান তাঁরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও রাজি হয়নি আদালত। পাল্টা সওয়ালে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, বনগাঁ থানার আইসি আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। এর পরেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

পঞ্চমীর পর ষষ্ঠীতেও কলকাতার মেট্রোয় জনপ্লাবন! দরজা বন্ধ করতেই হিমশিম কর্মীরা

পঞ্চমী থেকেই ভিড়ে ঠাসা কলকাতা। মেট্রো স্টেশনে পা রাখার জায়গা নেই। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে অনেক সময় বন্ধ করা যাচ্ছে না মেট্রোর দরজা। ফলে একের পর এক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে ট্রেন। ষষ্ঠীতেও পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি। মেট্রোর পাশাপাশি লোকাল ট্রেনেও যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোর পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা। ভিড়ের কথা মাথায় রেখেও অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন প্রতিমা দর্শনে। এখন তো তৃতীয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় ঠাকুর দেখা। ফলে পঞ্চমী আসতেই শহরের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পঞ্চমীর রাতে চাঁদনি চক, এসপ্ল্যানেড-সহ একাধিক স্টেশনে কার্যত জনস্রোত দেখা যায়। বিকেল থেকেই মেট্রোয় ঠাসাঠাসি ভিড় ছিল।তার উপর একাধিক মেট্রো বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে দরজা বন্ধ করতে সমস্যা হয়। কোথাও কোথাও ভিড় সামলাতে পুলিশকর্মীদের যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয় বলেও জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পঞ্চমীর রাতেই মেট্রোয় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।ষষ্ঠীতেও ছবিটা প্রায় একই। সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস, ট্রেন এবং মেট্রোয় যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়ে। মেট্রোর তরফে বারবার একই ট্রেনে ওঠার জন্য তাড়াহুড়ো না করতে বলা হলেও তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। পুজোর ভিড়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে চাইছেন সকলেই। কারণ, যাতায়াতে সময় কম লাগলে আরও বেশি প্রতিমা দেখার সুযোগ মিলবে।শিয়ালদহমুখী লোকাল ট্রেনেও ভিড়ের ছবিটা আলাদা নয়। ট্রেনের ভিতরে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড় থাকায় সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। পুজোর সময়ে শহর ও শহরতলির যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। আগামীকাল, অর্থাৎ সপ্তমী থেকে অতিরিক্ত ট্রেন চললে ভিড় কিছুটা সামলানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুজোর বাকি দিনগুলিতে মেট্রো ও লোকাল ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal