• ১২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার ২৯ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Burdwan

রাজনীতি

'অর্পিতা, মোনালিসা, সুকণ্যারাই রিয়েল কন্যাশ্রী'- মীনাক্ষী

পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাধা দিলে তীব্র প্রতিবাদ হবে। ঝাণ্ডার সঙ্গে ডাণ্ডা নিয়ে যাবে বলে শাষকদলকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদিকা মীনাক্ষী মুখার্জি। সোমবার বর্ধমানে একটি মিছিল হয় ডিওয়াইএফআইয়ের। বর্ধমান স্টেশন থেকে মিছিল শুরু হয়ে কার্জনগেট চত্বরে শেষ হয়ে জমায়েত হয়। সেখানে সভায় উপস্থিত ছিলেন মীনাক্ষী মুখার্জি। তিনি বলেন, এখন আর কোনও পোস্টারে সততার প্রতিক লেখা নেই। কারণ তৃণমূল নেতারা একে একে জেলে যাচ্ছে দুর্নীতির দায়ে। ইডি ও সিবিআই আধিকারিকরা তৃণমূল নেতাদের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার করছেন। তাদের একাউন্টেও বহু টাকার হদিস পাচ্ছেন তদন্তকারীরা।তিনি বলেন, এখন রাজ্যে চাকরি পেতে মেধা লাগেনা, যোগ্যতা লাগেনা, অর্পিতা লাগে- পার্থ লাগে। অর্পিতা, মোনালিসা, সুকণ্যারাই রিয়েল কন্যাশ্রী। পার্থ চট্টোপাধ্যায় ইদ্যুতে এইভাবেই রাজ্য সরকারকে নিশানা করলেন ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদিকা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন তিনি।সোমবার বিকালে স্বাধীনতা বাঁচাও, কাজের অধিকার দাও এই দাবীতে বর্ধমান ষ্টেশন থেকে মিছিল করে ডিওয়াইএফআই পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটি। কার্জনগেট পর্যন্ত এই মিছিলের সামনে ছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে দেশের স্বাধীনতা এসেছে। স্বপ্ন দেখলাম আর রাজারাণীর মুর্তি এনে কার্জনগেটে বসিয়ে দিলাম, এইভাবে স্বাধীনতা আসেনি। সেই স্বাধীনতা, দেশের গণতন্ত্র, সংবিধানের অধিকার আজ নষ্ট হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখতে হবে। স্বাধীনতা সংগ্রামে বিজেপির ভূমিকা নেই। হিন্দু মুসলমান, শিখ, খ্রিষ্টানরা লড়াই করে স্বাধীনতা এনেছে।মীনাক্ষী বলেন, আমরা অনুব্রত নিয়ে কিছু বলবো না। কারণ, গরু চোর নিয়ে আমরা কেন কিছু বলবো? শুধু এটা বলবো, যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, অনুব্রতরা তাঁর মেয়ের ভবিষ্যৎ, চিন্তা ভাবনাকে নষ্ট করেছে। তাঁকে বোঝানো হয়েছে চাকরি পেতে গেলে দিদি ও টাকা লাগে-পার্থ-ও লাগে আর তাঁর বান্ধবী অর্পিতা লাগে। এরাই রিয়েল কন্যাশ্রী। পাশাপাশি, অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে যে স্কুলে চাকরি করত, সেই স্কুলের পরিচালনা সমিতি, প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতারের দাবি তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা, রেল, ডাক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শূন্য পদ রয়েছে। কিন্তু মেধা বঞ্চিত হচ্ছে, এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার মিথ্যে মামলা দিয়ে বামপন্থীদের গ্রেফতার করে রেখেছে। কিন্তু ২১৮ দিন হয়ে গেলেও আনিশ খানের খুনিরা সাজা পায়না। তাই আমরা ২১৮টা সভা করব। চোরদের জেলে ভরার সভা। চোরদের বিরুদ্ধে এক কোটি সই সংগ্রহ করা হবে। কর্মসূচীতে কোনও বাধা মানা হবে না। পাশাপাশি শাসকদলের হয়ে কাজ করা পুলিশদেরও সতর্ক করেন তিনি। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে দূর্নীতি, বিশ্ববিদ্যালয়য়ের দূরশিক্ষা তুলে দেওয়া। কাজের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিচারের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখার আহ্বান জানান মীনাক্ষী।

আগস্ট ২২, ২০২২
রাজ্য

জামিন মিলল বর্ধমানের তৃণমূল নেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়ের, হাজতবাসে খবর নেননি দলের একাংশ

জামিন পেলেন বর্ধমান পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রশাসক তথা তৃণমূল নেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়(ক্ষুদু)। আসানসোলের সিবিআই আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। সূত্রের খবর, একটি চিটফান্ড সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। মামলায় চার্জশিটও জমা পড়েছে।বর্ধমান পুরসভায় প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল প্রবীণ তৃণমূল নেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়কে। আদি তৃণমূল নেতাকে পুরপ্রশাসক পদে বসানোয় অনেকেই ভুরু কুঁচকেছিলেন। বর্ধমান শহরে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে নানা ইকুয়েশন তৈরি হয়ে যায়। এই সময়ে পুরসভা নানা জনমুখী প্রকল্প হাতে নেয়। অনলাইন ব্যবস্থাও নানা ক্ষেত্রে চালু হয়। পুর নির্বাচনের আগে তাঁকে সিবিআই গ্রেফতার করে। হইচই পড়ে যায় জেলা রাজনৈতিক মহলে। প্রণব চট্টোপাধ্যায় জামিন পাওয়ার পর ফের শোরগোল পড়ে গিয়েছে বর্ধমানে তৃণমূলের অন্দরমহলে। জানা গিয়েছে, এদিন তিনি বর্ধমানে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন। তাঁর হাজতবাস কালে দলের কেউ কেউ পাশে থাকলেও অনেক নেতাই কোনও খবর রাখার কথা মনেও রাখেনি।

আগস্ট ১৭, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআইয়ের আন্দোলনে ধুন্ধুমার, ভাঙল মেইন গেটের তালা

রেজাল্ট সহ একাধিক দূর্নীতির প্রতীবাদে মঙ্গলবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের। মেন গেটের তালা ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে আন্দোলন ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের। মঙ্গলবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে ডেপুটেশন দিতে যায় এসএফআই। শহরের বাদামতলা এলাকা থেকে এদিন মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় সংগঠনের ছাত্রছাত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে গিয়ে মেন গেট তালা বন্ধ দেখা যায়। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা প্রথমে গেট টপকানোর চেষ্টা এবং পরে লাঠি ও পাথর দিয়ে গেটের তালা ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে প্রবেশ করে। চলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধে স্লোগান। এরপর উপাচার্যের ঘরে যেতে গেলে সেখানেও তালা দেওয়া হয়। এরপর উপাচার্যের অফিসে ঢোকার মুখে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে ছাত্রছাত্রীরা।বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কশিট তৈরির বরাত দেওয়ায় দুর্নীতি অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার আন্দোলনে সুর চরাই এসএফআই। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল সমর্থিত কর্মচারী ইউনিয়নের সম্পাদক শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা ব্লার জন্য গেলে তাঁর সাথে কোনোরকম কথা বলতে চাননি। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল জুড়ে ছবি এঁকে তাঁদের প্রতিবাদ জানান।

আগস্ট ১৬, ২০২২
রাজ্য

গভীররাতে বর্ধমানের দু'টি দোকানে আগুন

গভীররাতে বর্ধমানের কার্জনগেটের পাশে বৈদ্যনাথকাটরায় দুটি দোকানে আগুন লাগে। দমকলের দুটি ইঞ্জিন প্রায় ১ ঘন্টা পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দোকান মালিক প্রবীর চৌধুরী বলেন, এটা আগে গ্রহরত্নের (জ্যোতিষ) দোকান ছিলো কয়েকমাস আগে দোকানটা তিনি কেনেন। ব্যাগের দোকান করবেন বলে নতুন করে ইন্টিরিয়ার করাচ্ছিলেন। তাঁর দাবী ইলেক্ট্রিকের মেন লাইন কাটা ছিলো। ভিতরে এ সি-সহ বেশ কিছু সরঞ্জাম ছিলো। কাঠের দোকান, সামনে দুটি সাটার আছে। দোকান মালিকের দাবী, দোকানের বাইরে পরে থাকা কাগজের আগুন থেকে আগুন ভিতরে ঢুকেছে। যদিও পুলিশের অনুমান এসি থেকে আগুন লেগেছে।

আগস্ট ১৫, ২০২২
রাজ্য

র‍্যালির পর পূ্র্ব বর্ধমানের প্রথমিক বিদ্যালয়ের ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী অসুস্থ, অবরোধ- বিক্ষোভ

পূর্ব বর্ধমানের আউশা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে আউশা প্রাথমিক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের একটি শোভাযাত্রা বের হয়। সেই র্যালির পর পড়ুয়াদের কেক ও গ্লুকোজ জল দেওয়া হয়। এরপরই পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে যায়। মাথাঘোরা, ঘা বমি শুরু হয়। অচেতন হয়ে পড়ে তারা। অসুস্তদের একটি গাড়ি ও একটি বাসে করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয়। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনকে আনা হয়েছে। তারা বর্ধমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এই ঘটনায় স্থানীয় নবস্থা পঞ্চায়েত অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় এলাকার মানুষজন। রাস্তায় গাছ ফেলে চলে বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় মেমারী থানার পুলিশ। নবস্থা পঞ্চায়েতে থাকা একটি এ্যাম্বুলেন্সে ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, শেষমেশ বিক্ষোভকারীদের হঠাতপতে লাঠি চার্জ করে পুলিশ। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অসুস্থ ছাত্রছাত্রীদের দেখতে বর্ধমান হাসপাতালে পৌঁছায় বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি দেবু টুডু, বিধায়ক অলোক মাঝি প্রমুখ।

জুলাই ২২, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে বিষমদকাণ্ডে মৃত্যু বেড়ে ৮

বর্ধমানে বিষমদকাণ্ডে ফের দুজনের মৃত্য হল। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮। এর আগে ৬জনের মৃত্য়ু হয়েছিল। গতকাল মৃত্যু হয়েছিল শম্ভু শর্মা ও ভবানীপ্রসাদ সাঁইয়ের। তাঁর আগে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল ভাতের হোটেলে মদ খেয়ে। তাঁরা হলেন, শেখ সুবরতি (৩৪), শেখ হালিম (৪০), চিন্ময় দে (৩৮), গৌতম দে (৪২)। রবিবার বর্ধমানের খাগড়াগড় পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা মীর মেহবুব(২৬) ওরফে বাপ্পা এবং বাপন শেখ(২৮)-এর মৃত্যু হয়েছে। এদের পরিবারের দাবি, এরা দুজনেই বর্ধমানের কলেজমোড় এলাকার তারামা হোটেল থেকে মদ খেয়েছিল। এরা মাঝে-মধ্যেই কলেজ মোড়ের এই হোটেল থেকে মদ খেত বলে জানিয়েছে তাঁদের পরিবার।তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তারামা হোটেল থেকে মদ খাওয়ার পরেই তাঁরা অসুস্থতা বোধ করে। ক্রমাগত বমি ও পেটে যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। মীর মেহবুবকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাপন শেখ স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা চলাকালীনই মৃত্যু হয় দুজনের। পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাগড়াগড়ের বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন, ভাতের হোটেলে কিভাবে মদ বিক্রি হয়? দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন তাঁরা।

জুলাই ১০, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে রহস্যজনক মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬, বন্ধ মদের দোকান, হানা চোলাইয়ের ঠেকে

হোটেলের খাবার (মদ?) খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় ফের বর্ধমান শহরে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন শম্ভু শর্মা ও ভবানীপ্রসাদ সাঁই। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মদ খেয়ে অসুস্থ হয়েছিল। এদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। ভাতের হোটেলে মদকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে দুটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের বক্তব্য, মদ নয় তাঁরা শারীরিক ভাবে অসুস্থ ছিল।মদ খেয়ে অসুস্থ না খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু? সেই রহস্য রয়েই গিয়েছে। শনিবার বর্ধমান শহরের সমস্ত মদের দোকান বন্ধ ছিল। কেন মদের দোকান বন্ধ তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি আবগারি দফতর। তবে মদে খেয়ে অসুস্থ হওয়ার পর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক থাকলেও শহরের অভিযুক্ত হোটেলগুলি থেকে সরকারি মদ ক্যাপটেন উদ্ধার হয়েছে। সেই ক্যাপটেন আদৌ সরকারি কাউন্টার থেকে এসেছে না এর পিছনে অন্য রহস্য আছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে।এদিকে এদিন বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় চোলাইয়ের ঠেকে হানা দেয় পুলিশ ও আবগারি দফতর। বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এদিকে উদ্ধার হওয়ার মদের নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অন্য ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সহজে প্রকাশ্যে এলেও এক্ষেত্রে রহস্যজনক ভাবে মৃতদের পোস্টমর্টেমের প্রাথমিক রিপোর্টে কী উল্লেখ আছে তা জানায়নি পুলিশ। তবে ভাতের হোটেলে মদের অবৈধ কারবারের রমরমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বর্ধমানবাসী।

জুলাই ০৯, ২০২২
রাজ্য

ভাতের হোটেলে বেআইনি মদ খেয়ে বর্ধমানে রহস্যমৃত্যু ৪ জনের, গাফিলতি কার?

ভাতের হোটেলে মদ। অভিযোগ, সেই অবৈধ ভাবে বিক্রি হওয়া মদ খেয়ে মৃত্যু হল চার জনের। মৃতরা হলেন শেখ হালিম (৪০), শেখ সুবরতি (৩৪), চিন্ময় দে (৩৮) ও গৌতম দে (৪২)। মৃতদের বাড়ি বর্ধমান শহরে। বাহিরসর্বমঙ্গলা পাড়ায় বাড়ি হালিম ও সুবরতির। ময়ুরমহলে বাড়ি চিন্ময় ও গৌতমের। অসুস্থরা ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে। তাঁদের খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। তবে শহরের নানা ভাতের হোটেলে বেআইনি ভাবে মদ বিক্রী নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার পর পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা শহরজুড়ে তল্লাশি শুরু করে। নড়ে-চড়ে বসেছে আবগারি দফতরেও।জানা গিয়েছে, যে হোটেলে মৃতরা মদ খেয়েছিল সেখান থেকে আবগারি দফতরের অনুমোদিত দেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। তা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছে আবগারি দফতর। ওই মদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখবে তারা। মদ প্রস্তুতকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে আবগারি দফতর।রহস্যজনক ভাবে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় বর্ধমান শহরে। শুক্রবার সকাল থেকে এডিজি ওয়েস্টার্ন জোন সঞ্জয় সিং ও জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিষ সেনের নেতৃত্বে বর্ধমান শহরের বিভিন্ন হোটেল ও ধাবায় হানা দেয় পুলিশ। এদিকে মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্ত হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত রিপোর্টেই প্রাথমিকভাবে বোঝা যাবে মৃত্যুর কারণ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের লক্ষ্মীপুরে জিটি রোডের ধারে মৃত ও অসুস্থরা বৃহস্পতিবার রাতে ওই হোটেল থেকে মদ কিনে খেয়েছিল। তবে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁরা সবাই কি আলাদা আলাদা হোটেল থেকে মদ কিনে খেয়েছিল? এক মৃতের স্ত্রীর বক্তব্য, তাঁর স্বামী আরও চারজনের সঙ্গে মদ খেতে বসেছিল। মদ খাওয়ার পরেই তাঁর স্বামীর খিঁচুনি শুরু হয়। মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বের হতে শরু করে। স্বামীকে বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।বর্ধমান শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাত খাওয়ার হোটেলে অবৈধ ভাবে মদ বিক্রী নতুন কোন ঘটনা নয়। তাঁদের বক্তব্য, শহর লাগোয়া ও জাতীয় সড়কের পাশের খাওয়ার হোটেলগুলিতে বেআইনি ভাবে মদ বিক্রি হয়। কোনও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ও আবগারি দফতর এই বেআইনি কারবার বন্ধ করতে কখনও উদ্যোগী হয়নি বলে অভিযোগ। স্বভাতই বেআইনি কারবার ক্রমশ বেড়েছে। চিন্ময় ও গৌতমের পরিবারের সদস্যরা অবশ্য় মদ খেয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেনি।জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিষ সেন এদিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে মদ খেয়ে দুজন মারা গেছে বলে আমরা বর্ধমান হাসপাতাল থেকে খবর পাই। এদিন আরও দুজন মারা যাওয়ার খবর আসে। তবে এই মৃতদের পরিবার মদ খাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মদ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে বর্ধমানের কোনও হাসপাতালে কেউ ভর্তি হয়েছে কিনা সেই ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আবগারি দফতর মদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠিয়েছে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তার রিপোর্ট চলে আসবে।

জুলাই ০৮, ২০২২
রাজ্য

"ক্লিক করার আগে ভাবুন" পুর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ও ইউ.আই.টি.-র উদ্যোগে এক অভিনব সাইবার সচেতনতার বার্তা

পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের উদ্যোগে ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়র ইউ আই টি সহায়তায় বুধবার বর্ধমান শহরের এক বেসরকারি স্কুলে সাইবার সুরক্ষা ও সচেতনতা কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কোভিড উত্তর বর্তমান প্রজন্ম অনলাইন ব্যবস্থার সাথে এতটাই ওতোপ্রত ভাবে যুক্ত তাতে করে এই ব্যবস্থাটাকে কোনও ভাবেই এড়িয়ে চলতে পারা যাবে না। এই সুবিধা ভোগ করেও কি ভাবে আরও বেশী সুরক্ষিত থাকা যায় তাঁর জন্যই সাইবার সুরক্ষা ও সচেতনতা সমন্ধে সম্যক ধারনা থাকা দরকার।বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়র ইউ আই টি র কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক প্রধান ডঃ শিবকালি গুপ্ত জনতার কথা কে জানান, ছাত্রদের পড়াশোনা ছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে ঔষধ, টাকা পাঠানো থেকে অফিসিয়াল ডকুমেন্ট এমনকি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় উপস্থিতি-ও বর্তমানে ডিজিটালি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের এই ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যাওয়া কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, সেই উদ্দেশ্যেই পূর্ব-বর্ধমান জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় আমরা এই সচেতনতা প্রোগ্রাম করছি। তিনি জানান, তাদের এই প্রোগ্রামটির নাম ক্লিক করার আগে ভাবুন (Think Before You CLICK)।ওইদিন ডঃ গুপ্ত ক্লিক করার আগে কি করা উচিত মুলত সেই বিষয়ের ওপরই বেশী প্রাধান্য দেন। তিনি বলেন, এই প্রোগ্রামের জন্য আমদের মুলত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদেরই বেছে নেওয়ার কারন, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বাবা-মায়েরা ছেলে মেয়েদের ওপর-ই মোবাইল বা নেট সংক্রান্ত বিষয়ে বেশী নির্ভর থাকে। সেক্ষত্রে ছেলে-মেয়েদের এবিষয়ে সম্যক জ্ঞ্যান থাকলে তাঁরা তাঁদের বাবা-মাকে আগে ভাগেই সতর্ক করে দিতে পারবে।সাইবার ক্রাইম সচেতনতা সভাডঃ শিবকালি গুপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কিছু সতর্কবার্তা দেন, কোনওভাবেই কেউ যেন কোনও অপরিচিত লিঙ্ক-এ ক্লিক না করেন, অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলে যেন ওটিপি বা ব্যাক্তিগত তথ্য না দেওয়া হয়। হোয়াটসঅ্যাপ বা এস.এম.এস.-এ কোনও ফ্রী গিফট বা লোভনীয় লিঙ্ক নিজে যেমন ক্লিক করবেন না, ঠিক তেমনই কাউকে শেয়ারও করবেন না। এই ধরনের লিঙ্ক দেখলেই সরাসরি ডিলিট করে দেবেন।পুর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান সাইবার ক্রাইম থানা-র সাব ইন্সপেক্টর সাহাবুদ্দিন আহমেদ। ভুল করে ফাঁদে পা দিয়ে ক্লিক বা কোনও ব্যক্তিগত তথ্য বলে দিলে তাঁর পর কি করনীয় সে বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন। তাঁর বিষয় ছিল কি ঘটতে পারে যখন আপনি ক্লিক করে ফেলেছেন (What Happens When You Click)। ইন্সপেক্টর সাহাবুদ্দিন ছাত্র ছাত্রীদের জানান যখন কেউ প্রতারিত হয়েছেন তাঁরা যেন সরাসরি পুলিস প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এছাড়াও তিনি প্রতারিত হলে আইনি ভাবে কি কি করতে হবে সে সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ আলোকপাত করেন।বর্ধমান শহরের বেসরকারি বিদ্যালয় বর্ধমান মডেল স্কুল-র কর্নধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জনতার কথা কে জানান, এই ধরনের প্রোগ্রাম যত বেশি হবে তত সাধরন মানুষ উপকৃত হবেন। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা আজকের এই অনুষ্ঠানের ফলে সমৃদ্ধ হল। আজকের সতর্ক বানী তারা তাদের পরিবারকে বলে আরও কিছু মানুষকে প্রতারণা হওয়া থেকে আটকাতে পারবে। অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল পূর্ব-বর্ধমান পুলিস ও ডঃ শিবকালি গুপ্ত কে বিশেশভাবে ধন্যবাদ জানান সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত একটি বাস্তব সমস্যা নিয়ে সচেতনতা সভা বর্ধমান মডেল স্কুল-এ আয়োজন করার জন্য।

জুলাই ০৮, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে টাঙি, তীর-ধনুক, তরোয়াল, কাটারি-সহ ধারাল অস্ত্র নিয়ে পথ অবরোধ আদিবাসীদের

ফেক এসটি সার্টিফিকেটে সর্বত্র ছেয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ আদিবাসী সংগঠনের। তাঁদের অভিযোগ, একইসঙ্গে চালাকি করে উচ্চবর্গের লোকেরা সরকারি চাকরি আত্মসাৎ করছে। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের কার্জনগেট চত্বরে নানা দাবি-দাওয়ার ভিত্তিতে দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে ভারত জাকাত মাজি পরগনা মহলের সদস্যরা। টানা অবরোধের জেরে শহর অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। যানবাহণ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা টাঙি, তীর-ধনুক, তরোয়াল, কাটারি-সহ ধারাল অস্ত্রসহ অবরোধে অংশ নেয়।এদিন আট দফা দাবি নিয়ে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দিতে আসে ভারত জাকাত মাজি পরগনা মহলের সদস্যরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জেলাশাসক তাঁদের সঙ্গে দেখা করেনি। স্মারকলিপিও নেননি। অবশেষে অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) সানা আকতার বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। ভারত জাকাত মাজি পরগনা মহলের সদস্যরা জানান, তাঁদের দাবি না মানলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে পা বাড়াবেন।

জুলাই ০৭, ২০২২
রাজ্য

কিডনি বেচে অভাবের সংসার চালাতে ফেসবুকে পোস্ট বর্ধমানের যুবকের, শোরগোল শহরজুড়ে

করোনা শুধু জীবন কাড়েনি, বেঁচে থাকলেও তার রসদ ছিনিয়ে নিয়েছে। করোনা আবহে লকডাউনের কারণে বহু মানুষের পেশা, কাজ হারিয়ে গিয়েছে। অভাব-অনটন বেড়েছে লাখো লাখো সংসাসারে। এবার বেঁচে থাকার তাগিদে সোশাল মিডিয়ায় কিডন বিক্রি করার আবেদন জানালেন বর্ধমান শহরের প্রতিবন্ধী যুবক। তাঁর এই পোস্টে শোরগোল পড়ে গিয়েছে বর্ধমানে। বর্ধিষ্ণু শহরের হলটা কী! শেষমেশ কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন একেবারে প্রকাশ্য়ে। তবে জেলা প্রশাসন তাঁর পাশে দাঁড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছে।নিজের কিডনি বিক্রি করবে বলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বর্ধমানের টিকরহাটের ভাড়া বাড়িতে থাকা প্রতিবন্ধী যুবক সম্রাট গোস্বামী। যুবকের পরিবারের রয়েছে স্ত্রী ও এক সন্তান। বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন সম্রাট। পরে কম্পিউটারে কোর্স করে সম্রাট একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডেটা অপারেটরের কাজে যোগ দেন। লকডাউনের সময়ে সেই কাজ চলে গিয়েছে। সেই থেকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সম্রাটের পরিবার। এমনকী অন্নসংস্থানের জন্য লোকের বাড়িতে পরিচারিকারকাজ শুরু করেছেন সম্রাটের স্ত্রী মণীষাদেবী। মণীষা জানিয়েছেন, তিনি দুটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে পান মাত্র ২৪০০ টাকা। অথচ বাড়ি ভাড়া মেটাতে হয় তিন হাজার টাকা। এরপর রয়েছে খাওয়া ও অন্যান্য খরচ।সম্রাট এদিন বলেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে অনেক চেষ্টা করেও রোজগারের পথ খুঁজে পাইনি। তা নিরুপায় হয়ে নিজের কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। আশা একাটাই, ক্রেতা মিলে গেলে মোটা টাকা পাওয়া যাবে। তা দিয়ে রুটি রুজি জোগাড়ের একটা পথ তৈরি হবে। মণীষার আবেদন, সরকার বা কোনও সহৃয় ব্যক্তি তাঁর স্বামীর একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিলে সংসারটা বেঁচে যাবে।সম্রাটের বোন বনশ্রীও কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানালেন। তিনি বলেন, লকডাউনে আমাদেরও কাজ চলে গিয়েছে। ভাড়া বাড়িতে থআকি{ শুনেছি কিডনি বিক্রি করলে মোটা টাকা পাওয়া যায়। তাই আমার স্বামী ও আমি দুজনেই কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তার প্রক্রিয়া বেশ খানিকটা এগিয়ে গেলে বুঝতে পারি আমরা প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়েছি। তাই আর কিডনি বিক্রি করা হয়নি। আমাদের পরিবারও বহু কষ্টে আছে। ভাই সোশাল মিডিয়ায় কিডনি বিক্রির পোস্ট করেছে। কিন্তু চাইলেই তো আর কিডনি বিক্রি করা হবে না, ক্রেতাও তো পেতে হবে। তাছাড়া ভাই মানসিক ও শারীরিক দিক দিয়ে অসুস্থ। সেদিকটাও মাথায় রাখতে হবে।সম্রাট ও বনশ্রীর বাবা মুর্শিদাবাদ জেলায় পুরসভার কর্মী ছিলেন। সঙ্কটে সেই পুরসভাও পাশে দাঁড়ায়নি। অভিযোগ, এক হাজার টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা এই অগ্নিমূল্যের বাজারে সামান্যই। তাই ছেলে বউয়ের মুখ চেয়ে এখন সোস্যাল মিডিয়ায় কিডনির ক্রেতা খুঁজছেন সম্রাট। বিষয়টি জানার পর ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমা শাসক তীর্থাঙ্কর বিশ্বাস জানিয়েছেন,আইন মেনে পরিবারটিকে সমস্ত রকম সাহায্য করা হবে।

জুন ১৯, ২০২২
রাজ্য

আজব ঘটনা! পেটের ভিতরে ২৫০টি পেরেক সঙ্গে ৩৫টি কয়েন, বর্ধমান হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে সুস্থ মইনুদ্দিন

এক আধটা নয় পেটের মধ্য়ে ছিল ২৫০টি পেরেক। শুধু পেরেক খেয়ে সন্তুষ্ট ছিল না ওই ব্যক্তি। পেরেকের সঙ্গে মিলল ৩৫টি কয়েনও। এই নিয়ে দিব্বি চলাফেরা করছিলেন মইনুদ্দিন। তাঁর অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় খুশি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা। অপারেশনের পর সুস্থ রয়েছেন মঙ্গলকোটের কৃষ্ণবাটি গ্রামের বাসিন্দা সেখ মইনুদ্দিন(৩৮)।জানা গিয়েছে, সেখ মইনুদ্দিন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগে নিয়মিত চিকিৎসা করান। শনিবার সকাল থেকে খাবারে কোনও রুচি আসছিল না মইনুদ্দিনের। ফলে কোনও কিছুই খাচ্ছিলেন না মইনুদ্দিন। পরিবারের লোকজন চিন্তায় পরে যান। মঙ্গলবার বর্ধমান শহর সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের এক চিকিৎসকের কাছে মইনুদ্দিনকে নিয়ে আসে পরিবারের সদস্যরা। ওই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো বুধবার সকালে বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তাঁকে। চিকিৎসকরা এক্স-রে করে তাঁকে ভর্তি করেন।বুধবার রাতে অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিতসকরা। বুধবার রাতে অপারেশন করে তাঁর পেট থেকে এক এক করে ২৫০ টি পেরেক বেরিয়ে আসে। সঙ্গে ৩৫ টি কয়েন ও বেশ কিছু পাথর-কুচি বের হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর আপাতত তিনি সুস্থ আছেন। এই অপারেশন বর্ধমান হাসপাতালের এক অভুতপূর্ব সাফল্য বলে দাবি করেছেন হাসপাতালের সুপার ডা. তাপস ঘোষ।

জুন ১৬, ২০২২
রাজ্য

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও ১০০ দিনের কাজের প্রাপ্য টাকার দাবিতে বর্ধমানে মহামিছিল

রাজ্যে যখন বিজেপি-র সর্ব-ভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা দলকে অক্সিজেন যোগান দিতে এসেছেন, ঠিক সেই সময় সারা রাজ্য জুড়ে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামল তৃণমূল কংগ্রেস। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প-র বকেয়া প্রদান ও পেট্রোপণ্য সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার বর্ধমান শহরে এক প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেন তৃণমূল কংগ্রেস। মিছিলটি শুরু হয় বংশগোপাল টাউন হল থেকে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, উত্তরফটক-এ গিয়ে এক পথসভা করে মিছিলের পরিসমাপ্তি হয়।বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস জানান বর্ধমান পুরসভার ৩৪টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ পুরপিতা এই মহা মিছিলে অংশ নেন। তিনি আরও জানান আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার তৃণমূল সমর্থক পা মেলান এই প্রতিবাদ মিছিলে। বিধায়ক খোকন দাস জানান, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যেভাবে পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন ও রান্না গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে তাতে করে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।বর্ধমান শহরে তৃনমুলের মহামিছিলবর্ধমান শহর আর এক তৃণমূল নেতৃত্ব সুজিত কুমার ঘোষ জনতার কথা কে জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বিচারিতা ও বৈমাতৃক সুলভ আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাই, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বারংবার বিভিন্ন সভায় জানিয়েছেন ৯৪ হাজার কোটি টাকা জিএসটি থেকে প্রাপ্য রাজ্যের পাওনা কেন্দ্রের এই অমানবিক সরকার আটকে রেখেছে। আমরা জানি দেশের অন্য বিজেপি শাষিত রাজ্যের এই পরিস্থিতি নেই।সুজিত ঘোষ আরও জানান, পেট্রোপণ্যের আস্বাভাবিক মুল্যবৃদ্ধির প্রত্যক্ষ প্রভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় দাম আজ আকাশ ছোঁয়া। সাধারণ মানুষ দেখছে, এর উত্তর ২০২৪ লোকসভা তে তাঁরা দেবে। বাংলার দিদি ভারতের দিদি হতে কিছু সময়ের অপেক্ষা। আজকের মিছিলে অগণিত মানুষের উপস্থিতি সেই বার্তা-ই দিচ্ছে। বিধায়ক খোকন দাস ছাড়া এই মিছিলে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি, বর্ধমান পুরসভার উপ-পৌরপতি মৌসুমি দাস, ৪ নং ওয়ার্ডের পুরপিতা নুরুল আলম, উজ্জ্বল প্রামাণিক, সুজিত কুমার ঘোষ, আব্দুল রব, শিবশঙ্কর ঘোষ, ইন্তেকাব আলম সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

জুন ০৭, ২০২২
রাজ্য

রাজ্যের 'নিঁখোজ' মন্ত্রীর খোঁজে রাস্তায় এসএফআই, ছাত্র বিক্ষোভে ধুন্ধুমার মিন্টো পার্কে

শিয়ালদায় ট্রেন নেমেছে ১৩ ঘন্টা হয়ে গিয়েছে, এখনও দেখা মেলেনি রাজ্যের শিক্ষাদফতরের প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর। তাঁর খোঁজে মন্ত্রীর ছবি নিয়ে কলকাতার রাস্তায় নেমেছে এসএফআই। একইসঙ্গে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় এসএফআই। মিন্টো পার্ক থেকে নিজাম প্যালেসে মিছিলের ডাক দেয় এসএফআই। কিন্তু মিছিল শুরুর আগেই বাধা দেয় পুলিশ। গ্রেফতার করে আন্দোলনকারীদের।এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতিতে দোষী তৃণমূলী নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে চোর ধরো জেলে ভরো বলে মিছিল করতে গিয়েছিলাম আমরা। পুলিশ ভয়ানক মারধোর করে আটক করেছে। আমরা ছাড়ব না এ লড়াই। আগামীকাল রাজ্যজুড়ে ছাত্রযুব থানা ঘেরাও, বিক্ষোভ, মিসিং ডায়রি করা হবে। দুর্নীতিতে যুক্ত মন্ত্রীদের পুলিশ পাহারা দিচ্ছে আর আমাদের মিছিল করতে দিচ্ছে না পুলিশ। তার আগেই গ্রেফতার করছে।নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে তখন জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীসহ এসএসসির পাঁচ উপাদেষ্টার। তখন এসএফআইয়ের মিছিল শুরু হতেই আটকে দেয় পুলিশ। সৃজন ভট্টাচার্য-সহ অন্য নেতাদের গ্রেফতার করে প্রিজন ভ্যানে তুলে দেয় পুলিশ। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের শারীরিক নিগ্রহ করেছে বলেএসএফআই নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে। কিন্তু রাত অবধি পরেশ অধিকারী কোথায় রয়েছেন তা খোলসা করেননি। সিসিটিভি ফুটেজে বর্ধমানে ভোট ৪টে ৫২ মিনিটে তাঁকে প্লাটফর্মে কন্য়ার সঙ্গে দেখা গিয়েছে।

মে ১৮, ২০২২
রাজ্য

অনলাইনে পরীক্ষার দাবীতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে হাজির হাজার খানেক কলেজ পড়ুয়া

এ যেন একেবারেই উলোট পূরাণ। কোভিড অতিমারির প্রভাব কেটে গেলেও অফলাইনে পরীক্ষা দিতে নারাজ কলেজ পড়ুয়ারা। তাঁরা সরব হয়েছে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার দাবীতে। এমনকি দাবি আদায়ের জন্যে হাজার খানেক কলেজ পড়ুয়া মঙ্গলবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে জমায়েত করে বিক্ষোভও দেখায়। যদিও পড়ুয়াদের এই দাবির বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছেন তা তাঁদের কথাতেই পরিস্কার হয়ে গিয়েছে।বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যে সমস্ত কলেজ আছে সেইসব কলেজের ছাত্রছাত্রীরাই এদিন অনলাইনে পরীক্ষার দাবীতে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কাটোয়া কলেজের ছাত্র কিরণময় ভট্টাচার্য বলেন, কোভিড কাল থেকে এতদিন অনলাইনে ক্লাস হয়েছে। প্র্যাকটিক্যাল ঠিকমতন হয়নি। এই সময় যদি ইউনিভার্সিটি বলে যে সমস্ত পরীক্ষা অফলাইন হবে তাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে তা দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই তাঁরা অফলাইনের পরিবর্তে অনলাইন পরীক্ষা নেওয়ার দাবী করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ না পর্যন্ত এই দাবী মেনে নিচ্ছে ততক্ষণ বিক্ষোভ চলবে বলে জানান ছাত্র-ছাত্রীরা। গুসকরা মহাবিদ্যালয়ের পড়ুয়া চৈতালী দত্ত বলেন, এখন অফলাইনে পরীক্ষা নিলে তাঁরা সমস্যায় পড়বেন। তাই তাঁরা চাইছেন ক্লাস যেহেতু অনলাইনে হয়েছে, সেই কারণে পরীক্ষাও হোক অনলাইনে। একই দাবীতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকেও ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।অন লাইন পরীক্ষার দাবীতে বিক্ষোভযদিও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিমাই চন্দ্র সাহা স্পষ্ট জানিয়েদেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়ে দিয়েছে। এখনো ওই সিদ্ধান্ত বহাল আছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ৬৩ টি কলেজে ৩৫ হাজার পড়ুয়া আছে বলেও উপাচার্য নিমাই চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন।

মে ১৭, ২০২২
নিবন্ধ

অলংকরণ কর্মশালার মাধ্যমে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী পালন

রাজার ঘরে যে ধন আছে টুনির ঘরেও সে ধন আছে - আমাদের অনেকের শৈশবের গল্পের বই পড়ার শুরু এখানেই। বরেণ্য শিশু সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী ছিল ১২ই মে। শিশু কিশোর আকাদেমি এবং তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার-এর যৌথ উদ্যোগে একদিনের একটি অলংকরণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল পুর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ে, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, পূর্ব বর্ধমান-এর সহযোগিতায়।উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী পালনকর্মশালা পরিচালনা করতে এসেছিলেন শিল্পী শ্রী আলয় ঘোষাল। সঙ্গে ছিলেন আরেক শিল্পী শ্রী বিভূতি চক্রবর্তী। সারাদিন একশ বিশ কচি-কাঁচা কে নিয়ে চলল গুপী-বাঘা, ভুতের রাজা, বাঁশ বনের টেক্সচার, গাধার উচ্চতা, রাজা মশাই এর পাগড়ির শেপ ইত্যাদি নিয়ে রঙ্গিন আলোচনা। আলয় ঘোষাল মহাশয়ের কথায় কথায় আসছিল ক্যামেরার চোখে কম্পোজিশন দেখার কথা। আঁকা আর অলংকরণের পার্থক্য। বার বার বলছিলেন ছোটদের বই পড়ার কথা। গল্প পড়ে তাঁর চিত্রকল্প তৈরী করার অভ্যেস। এক সময় আভিবাবকদের ঘরে ডেকে এনে বললেন ছোটদের মনোযোগ মোবাইল আর টেলিভিশন থেকে সরাতে তাদের হাতে বই তুলে দিতে। এক ফাঁকে ওনার সাথে কথা বলছিলাম ইলাস্ট্রেসন আর ফটোগ্রাফি নিয়ে।উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী পালনউনি বলছিলেন ওনার ছবি তোলার মজার মজার অভিজ্ঞতা। খুব ইচ্ছে করছিল ওনার হাতের কয়েকটা লাইন সংগ্রহে রাখতে। কথাটা বলতেই আমার হাতের নোট বইটা টেনে নিলেন, কয়েকটা পেনের আঁচড় দিয়ে বললেন আমায় একটু জল রঙ এনে দাও। একজনের রঙ ধার করে দিলাম। শেষে হাতে পেলাম একপাতা আনন্দ। কত বড় মাপের মানুষ কিন্তু কত কাছের। আনন্দ আর কৃতজ্ঞতায় মন ভরে গেল। অনুষ্ঠানে আরও যোগ দেন শিশু কিশোর আকাদেমির প্রকাশনা বিভাগের প্রধান ড. শর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মশালা শেষে সকলের হাতে শংসাপত্র আর বই উপহার তুলে দেওয়া হয়। সব শেষে আমার সারপ্রাইজ গিফট। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক মশাই এর কাছ থেকে আর এক খুব প্রিয় মানুষ শ্রীমতী জয়া মিত্রের বই। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক ও তাঁর দপ্তরের প্রত্যেক কর্মীকে আনেক ধন্যবাদ। শেষ কথা-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মদিনে একগুচ্ছ কচি প্রাণের সঙ্গে সারাটা দিন কাটানোর থেকে ভাল উদ্যাপন আর কিছু হয় না।

মে ১৪, ২০২২
রাজ্য

টাওয়ার বসানোর নামে বড়সড় প্রতারণাচক্র পুলিশের জালে, বর্ধমানে উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা

টাওয়ার বসানোর বড়সড় প্রতারণচক্রের পান্ডাকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমান সাইবার থানা। একইসঙ্গে ওই ঘটনায় ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে অভিযোগকারীর হাতে তুলে দিয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ।মাঝে-মধ্যেই মোবাইলের টাওয়ার বসানো নিয়ে কোনও কোনও না চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারপর সেই ফাঁদে পা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার শিকার হয় সাধারণ মানুষ। তখন আর হা-হুতাশ করা ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। এবার পরিত্রাতার ভূমিকায় পুলিশ। এবার পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের তৎপরতায় সাইবার ক্রাইম থানার প্রচেষ্টায় উদ্ধার হয়েছে প্রতারণার পুরো ২০ লক্ষ ২৮ হাজার ৬২০ টাকা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান উল্লাসের বাসিন্দা ডঃ দেবব্রত ব্যানার্জীর কাছে তাঁর হাসপাতালের ছাদে রিলায়েন্স জিও ইনফোকম টাওয়ার বসানোর প্রস্তাব আসে। একইসঙ্গে মোটা অংকের রিটার্নের প্রলোভন দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন চার্জ, ফিজ, ফিক্সড ডিপোজিট-এর নাম করে ২০ লক্ষের ওপর টাকা ওনার কাছ থেকে নেওয়া হয়। উনি পরে প্রতরণার শিকার হন বুঝতে পেরে গত গতবছর ৮ নভেম্বর এই বিষয়ে ডঃ দেবব্রত ব্যানার্জী পূর্ব বর্ধমান সাইবার থানায় কেস করেন। সাইবার থানা ঘটনার তদন্তে নেমে গতকাল এই কেসের আসামিকে গ্রেফতার করে। প্রতারিত হওয়া পুরো ২০ লক্ষ ২৮ হাজার ৬২০ টাকা উদ্ধার করে অভিযোগকারীকে ফিরিয়ে দেয়।

মে ১৩, ২০২২
রাজ্য

অজস্র ডিম সমেত একাধিক বিষধর সাপ উদ্ধার করে আগলে রেখেছেন বন কর্মীরা

বর্ষা নামতেই বনকর্মীদের তৎপরতায় একের পর এক জায়গা থেকে উদ্ধার হচ্ছে ডিম সমেত বিষধর সাপ। এখন বর্ধমানের রমনাবাগান অভয়ারণ্যে বনদফতরের কর্মীদের রক্ষণাবেক্ষনে ও পরিচর্যার মধ্যে ডিম আগলে রয়েছে বিষধর সাপ গুলি। ডিম ফুটে কবে সাপের বাচ্চা বের হয় তারই অপেক্ষায় এখন অপেক্ষমান বন কর্মীরা।বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক দিনের মধ্যে শহর বর্ধমান সহ জেলার অন্য কয়েকটি জায়গা থেকে ১০টি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে ৬টি গোখরো ও ৪ টি চন্দ্রবোড়া রয়েছে। বর্ধমান শহরের সরাইটিকর ভাসাপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে পাঁচটি ডিম সমেত প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা একটি মা গোখরো সাপ উদ্ধার করা হয়। রমনা বাগান অভয়ারণ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। মা সাপটিকে ডিম থেকে সরিয়ে উদ্ধার করতে হিমসিম খেতে হয়। ডিম সমেত সাপটিকে রমনা বাগান অভয়ারণ্যে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়। সেখানেই পরে আরো ১১টি ডিম পাড়ে ওই সাপটি। এরপর ফের গত মঙ্গলবার রায়না থানার বাঁকুড়া মোড় এলাকার একটি রাইস মিলের ভিতর থেকে ২৭টি ডিম সহ প্রায় চার ফুট লম্বা একটি মা গোখরো সাপ উদ্ধার করে বন কর্মীরা। এই সাপটি ও তাঁর ডিম গুলিও রমনা বাগান অভয়ারণ্যে নিয়ে এসে রাখা হয়েছে।রমনাবাগানে কর্মরত বন দফতরের এক আধিকারিক অনিয়েছেন, ডিম সমেত মা সাপ গুলিকে প্রথমে কয়েকদিন একসঙ্গে রাখা হয়। কারণ সেই সময়ে সাপ ক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকে। ফোঁসফোঁস আওয়াজ করে। ডিমগুলি ছেড়ে যেতে চায় না। ঝুঁকি নিয়ে তাদের সরানো হয়। আধিকারিকের কথায় আরও জানা গিয়েছে, প্রথমে ডিম গুলি দুটি পৃথক বাক্সে রাখা হয়। ডিম ফোটানোর জন্য বিশেষ পদ্ধতি নেওয়া হয়। যাতে বাক্সের মধ্যে তাপমাত্রা ঠিক থাকে।সেই মত ব্যবস্থাও নেওয়া হয় যাতে ২৬ থেকে ২৮দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে আসে। বাচ্চা বেরিয়ে আসার পর প্রথম কিছুদিন তাদের পিঁপড়ে খাওয়ানো হবে। পরে মাংস দেওয়া হবে। একটু বড় হয়ে গেলে সেগুলিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। জেলার বন আধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, বর্ষা শুরুর প্রাক্কালে সাপের উপদ্রব বাড়তে শুরূ করায় মানুষজনকে সতর্ক ও সচেতন করার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে বন দফতর।

মে ১১, ২০২২
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রী বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পাওয়ায় আকাদেমী পুরস্কার ফেরালেন বাংলার লেখিকা

বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।আর তা জানার পরেই প্রতিবাদ স্বরুপ অন্নদাশঙ্কর সম্মামনা ত্যাগ করলেন বর্ধমানের খাগড়াগড় নিবাসী লেখিকা ও গবেষক রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায়।পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমিকে চিঠি পাঠিয়ে লেখিকা তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েও দিয়েছেন ।পাশাপাশি ২০১৯ সালে পাওয়া অন্নদাশঙ্কর সম্মামনা তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। লেখিকার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি কবি ও সাহিত্যিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। যদিও লেখিকা রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায় তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।এই বছরই প্রথম বাংলা আকাদেমির নামাঙ্কিত রিট্রিভার্সিপ পুরস্কার দেওয়া চালু হয়। সমাজের অন্যান ক্ষেত্রে কাজের পাশাপাশি যাঁরা নিরলস সাহিত্য সাধনা করে চলেছেন তাঁদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা আকাদেমি।তারা বাংলার বেশ কাছু পথিতযশা সাহিত্যিকের মতামত নিয়ে কবিতা বিতান কাব্যগ্রন্থের জন্যে প্রথম বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রিট্রিভার্সিপ পুরস্কার দেওয়ায় জন্য মনোনিত করেন। সোমবার ২৫ শে বৈশাখ উপলক্ষে রাজ্য সরকার আয়োজিত কবি প্রণাম অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর বাংলা আকাদেমি রিট্রিভার্সিপ পুরস্কার পাওয়ার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দবতরের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পাওয়ার বিষটি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি লেখিকা ও গবেষক রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায়।তিনি ২০০৯ সালে ও ২০১৯ সালে আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন। মুসলিম বিয়ের গান সহ নানা বিষয়ে গবেষণা রয়েছে। অজস্র প্রবন্ধ ও গল্প লেখিকা রত্নাদেবীর ঝুলিতে রয়েছে ৩০ টি পুরস্কার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পাওয়া নিয়ে মঙ্গলবার তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছেও ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি বলেন, যেভাবে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে তার একটা প্রতিবাদ দরকার। পাশাপাশি রত্নাদেবী এও বলেন, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের লেখাগুলিকে তিনি সাহিত্য পদবাচ্য বলেই মনে করেন না। যাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা কীভাবে এই সিদ্ধান্ত নিলেনে তা নিয়েও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।এরপরেই তিনি জানিয়ে দেন ,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আকাদেমি পুরস্কার দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে ২০১৯ সালে পাওয়া আকাডমি পুরস্কারটি তিনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে লেখিকা রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায় দাবী করেন, সোমবার মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়কে আকাদেমি পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। কারণ এতে পুরস্কারের গরিমা রক্ষিত হয়নি। তিনি মনে করেন, সাহিত্য সাধনার বিষয়। সেই সাহিত্য বিষয়ে কাউকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্তের বিষয়টি কোনওভাবেই রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে না।

মে ১০, ২০২২
রাজ্য

রাজ্য জুড়ে মহাসমারোহে পালিত বিশ্বকবির ১৬১ তম জন্মজয়ন্তী

সোমবার সারা রাজ্যে মহা সমারোহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মদিন পালিত হল। কবিগুরু বাংলা ও বাঙালির আবেগ। মানুষের সুখ দুঃখ হতাশা সহ যেকোনও অনুভূতিতেই তাঁর গান আমাদের প্রেরণা। আমাদের চলার পথের পাথেয়। তাঁর কবিতা / গানের ছন্দে ছন্দে বেঁচে থাকার অপার অনুপ্রেরণা। কবির কথায়ঃ- আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে॥পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে ক্যাথিড্রাল রো তে কবি প্রনামের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নাট্যকার ও মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, কবি জয় গোস্বামী, সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, আবুল বাসার, কবি সুবোধ সরকার, গায়ক ইন্দ্রনীল সেন সহ অন্যান্য বিশিষ্ঠ জনেরা। বাংলার জেলায় জেলায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে রবীন্দ্রজয়ন্তী-র আয়োজন করা হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার এক বেসরকারি স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল এবছর একটু ব্যাতিক্রমী ভাবে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালন করল। প্রতিবছর এই বিদ্যালয় সহ রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়েই প্রাতঃকালীন কবি প্রনামের আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রচন্ড দাবদাহের জন্য সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী অকাল গৃষ্মের ছুটি পরে যাওয়াতে তাঁরা কবি প্রনাম আয়োজন করেন সুর্যাস্তের পর।কবি বরণ অনুষ্ঠানসংস্থার প্রানপুরুষ তথা সভাপতি অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জনতার কথা কে জানান, দাবদাহের জন্য, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় হটাৎ করে গরমের ছুটি পড়ে যাওয়াতে আমরা প্রথমে খুব স্বাভাবিক ভাবেই হতাশ হয়ে পড়ি কচি-কাঁচাদের কথা ভেবে। বিগত দু-বছর তাঁরা করোনার চোখরাঙ্গানীতে গৃহবন্দি ছিল। তাই আমরা বিদ্যালয়ের সকলে বসে ঠিক করি, সুর্যাস্তের পর যদি আমরা অনুষ্ঠানটা করি তাহলে বাচ্চাদের আর গরমে কোনও সমস্যা হবে না।তিনি জনতার কথা কে আরও জানান, ছাত্রদের-ই জন্য বিদ্যালয়, তারা সেখানে উপস্থিত না থাকতে পারলে এ আনন্দে-র কোনও মুল্যই থাকে না। বিদ্যালয় তাঁদের পদধ্বনির অপেক্ষায় থাকে। আজকের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে জ্ঞিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, কোনও একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের কথা বলবো না। ছাত্রদের সকলের অনুষ্ঠান-ই ছিলো মনমুগ্ধকর। কবি প্রনাম আদপে গঙ্গা জলেই গঙ্গা পূজা, কবির কথাতেই বলিঃ-শিশু হবার ভরসা আবারজাগুক আমার প্রাণে,লাগুক হাওয়া নির্ভাবনার পালে,ভবিষ্যতের মুখোশখানাখসাব একটানে,দেখব তারেই বর্তমানের কালে।নৃত্য, সঙ্গীত ও নটকে সাজানো বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান ছিলো জমজমাট। এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তী-তে তাদের থিম ছিল তবু মনে রেখো...। বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্যের তত্ত্বাবধানে ছাত্রছাত্রী দের নিয়ে বিশ্বকবির অমর সৃষ্টি ডাকঘর নাটক অবলম্বনে একটি ছোট্ট উপস্থাপনা মন ছুঁয়ে যায়। অমলের ঘর থেকে বাইরে আসার আকুল আর্তি মন ছুঁয়ে যায় উপস্থিত দর্শকদের। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমন নাগ জনতার কথা কে জানান, ডাকঘর নাটকে কবিগুরুর সৃষ্ট এক অমর চরিত্র অমল। অসুস্থ অমলের গৃহবন্দী দশা-য় যে মনকষ্টে ভুগেছে, তা বিশ্ববাসী বিগত দুই বছরে মরমে মরমে বুঝতে পেরেছে। তিনি এক যুগোত্তীর্ণ কবি সাহিত্যিক, সর্বকালে তাঁর রচনা প্রাসঙ্গিক, তিনি শতবর্ষ পুর্বে লিখে গেছেনঃ- আজি হতে শতবর্ষ পরেকে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানিকৌতূহলভরে--আজি হতে শতবর্ষ পরে।

মে ১০, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • ...
  • 17
  • 18
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

‘আগুনে পুড়েও আরও শক্তিশালী হয়েছি’! আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শেখ হাসিনার

বাংলাদেশে ক্ষমতা হারানোর পর দেশ ছেড়ে যেতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এত কিছুর পরেও দলকে শেষ হয়ে গেছে বলে মানতে নারাজ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগকে কোনও নিষেধাজ্ঞা বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দিয়ে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।শেখ হাসিনার কথায়, আওয়ামী লীগ কোনও কাগজে লেখা সংগঠনের নাম নয়। এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, মানুষের আবেগ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি শক্তি। গত সাতাত্তর বছরের ইতিহাসে বহুবার হামলা, নিষেধাজ্ঞা এবং দমন-পীড়নের মুখে পড়েও দল বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাঁর দাবি, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কোনও সরকারের সদিচ্ছা বা বিরোধীদের ব্যর্থতার ওপর নির্ভর করে না। মানুষের সমর্থনই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই সমর্থনের জোরেই অতীতে সরকারে থেকে উন্নয়নের কাজ করা সম্ভব হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয় থেকে দলকে সরানো যায়নি।বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে এবং উগ্রপন্থার বিস্তার ঘটছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, দেশের মানুষ অতীত ও বর্তমানের তুলনা করতে পারছেন। তাঁদের উপলব্ধি হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। সেই কারণেই ভবিষ্যতেও জনগণের সমর্থন নিয়ে দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে তাঁর বিশ্বাস।দলের সাংগঠনিক শক্তির প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকা এবং মানুষের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এই দলের ভূমিকা রয়েছে। সেই ঐতিহ্যই আগামী দিনের লড়াইয়ের মূল শক্তি হবে বলে তিনি মনে করেন।তিনি আরও বলেন, যত বেশি দমন-পীড়ন হবে, আওয়ামী লীগ ততই শক্তিশালী হবে। আগুনে যেমন সোনা আরও বিশুদ্ধ হয়, তেমনই প্রতিকূল পরিস্থিতি দলকে আরও দৃঢ় করে তুলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রাম, মহল্লা, ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নে মানুষের পাশে থাকতে হবে। সংখ্যালঘু, নারী, শিশু, শ্রমজীবী এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস না করারও বার্তা দেন তিনি।শেষে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেন, আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান কোনও সরকারের দয়া বা অনুমতির ওপর নির্ভর করে না। জনগণের সমর্থনই দলের আসল শক্তি। নিষেধাজ্ঞা, মামলা কিংবা রাজনৈতিক বাধা যতই আসুক, মানুষের বিশ্বাস থাকলে আওয়ামী লীগ আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে ফিরে আসবে বলেই তাঁর দাবি।

জুন ২৮, ২০২৬
কলকাতা

কল্যাণকে সরাসরি আক্রমণ রচনার! মহুয়াকেও ছাড়লেন না, বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি

দলবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়েছেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি নিশানা করলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্রকে। এক সাক্ষাৎকারে তাঁদের আচরণ এবং ভাষা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, একজন শিক্ষিত জনপ্রতিনিধির ভাষা এবং আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে উদাহরণ হওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি মহুয়া মৈত্রকেও কটাক্ষ করেন এবং অতীতের কিছু বিতর্কের উল্লেখ করেন।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে রচনা বলেন, একজন প্রবীণ সাংসদের কাছ থেকে এমন ভাষা আশা করা যায় না। তাঁর দাবি, সংসদের ভিতরে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে, তা রাজনৈতিক শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। সেই আচরণে দলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।রচনা আরও বলেন, একসময় যাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তীব্র আক্রমণ করতেন, এখন তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, যারা অতীতে একে অপরের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ করেছিলেন, তাঁদের বর্তমান অবস্থান সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি করছে।উল্লেখ্য, এক সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্রর মধ্যে প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং আইনি পদক্ষেপের ঘটনাও সামনে এসেছিল। বর্তমানে তাঁদের সম্পর্কের পরিবর্তিত সমীকরণ নিয়েই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।

জুন ২৮, ২০২৬
কলকাতা

আচমকা বড় সিদ্ধান্ত! ইসকন থেকে সরিয়ে দেওয়া হল রাধারমণ দাসকে, নিজেই জানালেন নেপথ্যের কারণ

কলকাতা ইসকনের সহ সভাপতির পদ থেকে আচমকাই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাধারমণ দাসকে। শনিবার রাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এরপর সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তায় তিনি জানান, কোন কোন ঘটনার জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।রাধারমণ দাস জানান, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে সম্মান করছেন। তবে নিজের বক্তব্যে তিনি কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, গোরক্ষা সংক্রান্ত একটি বিতর্কে মানেকা গান্ধীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সেই ঘটনাকে তিনি অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হওয়াও এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।সমাজমাধ্যমে করা নিজের পোস্টে তিনি আরও কয়েকটি বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। একটি বিতর্কিত মন্তব্যের বিরোধিতা, কট্টরপন্থী সনাতনী গোষ্ঠী নিয়ে প্রকাশ্য অবস্থান এবং বিভিন্ন সাম্প্রতিক মন্তব্যও তাঁর মতে বিতর্কের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া একটি সাক্ষাৎকার দেওয়াকেও ইসকনের নীতির পরিপন্থী আচরণ হিসেবে দেখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।রাধারমণ দাস আরও জানান, এখন থেকে তিনি আর ইসকনের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করবেন না। কারণ বর্তমানে তাঁর সঙ্গে সংগঠনের কোনও প্রশাসনিক সম্পর্ক নেই। তবে পদ হারালেও ইসকনের উন্নতি, অগ্রগতি এবং সাফল্য কামনা করেছেন তিনি।এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ইসকনের তরফে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। ফলে রাধারমণ দাসের বক্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

জুন ২৮, ২০২৬
দেশ

হেফাজতে থেকেও মদ চাই! সিয়া গোয়েলকে নিয়ে পুলিশের দাবি ঘিরে তুমুল শোরগোল

পুণের লোহাগড় দুর্গে হবু স্বামী কেতন আগরওয়ালকে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিয়া গোয়েলকে ঘিরে তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, হেফাজতে থাকাকালীনও বারবার মদ্যপানের অনুমতি চেয়েছেন সিয়া। একই সময়ে তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে একটি পুরনো ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।তদন্তকারী সূত্রের দাবি, দ্বাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকেই সিয়া মদ্যপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। পাশাপাশি তাঁর একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও তিনি একাধিকবার মদ্যপানের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বলে তদন্তকারী মহলের দাবি।এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে পাশাপাশি বসে রয়েছেন সিয়া এবং চেতন। ভিডিওতে তাঁদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তও ধরা পড়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সিয়ার দাদা সাহিলের মাধ্যমে চেতনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। পরে সেই পরিচয়ই প্রেমের সম্পর্কে বদলে যায়।এই হত্যাকাণ্ডে ইতিমধ্যেই সিয়া গোয়েল এবং চেতন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, আগামী নভেম্বরে কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে সিয়ার বিয়ের কথা ছিল। প্রথমে রাজি থাকলেও পরে বিয়ে করতে চাননি সিয়া। কিন্তু পারিবারিক চাপে সেই সিদ্ধান্ত জানাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত খুনের পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের দাবি।রবিবার তদন্তকারীরা সিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থল লোহাগড় দুর্গে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তাঁর বাবা-মাকেও। তদন্তে তাঁরা সহযোগিতা করেছেন বলেই জানা গিয়েছে। এদিকে তদন্তে আরও নানা দাবি সামনে এসেছে। কখনও উঠে এসেছে বিয়ে নিয়ে চাপের অভিযোগ, আবার কখনও প্রেমিকের প্ররোচনার প্রসঙ্গ। প্রথমদিকে একে অপরের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করলেও পরে দুজনেই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। এই বহুল আলোচিত মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার আদালতে শুনানির প্রস্তুতি চলছে।

জুন ২৮, ২০২৬
কলকাতা

অনুমতি মেলেনি, তবু শুরু মাপজোক! একুশে জুলাই ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে নতুন সংঘাত

একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সভার সরকারি অনুমতি এখনও মেলেনি। তার আগেই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে পৌঁছে মাপজোক শুরু করলেন কুণাল ঘোষ এবং তাঁর অনুগামীরা। ছুটির সকালের এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কুণাল ঘোষের সঙ্গে দলের আরও কয়েকজন নেতা এবং সাজসজ্জার কাজে যুক্ত কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ফিতে দিয়ে সভাস্থলের বিভিন্ন অংশ মাপতে শুরু করেন। সাধারণত প্রশাসনিক অনুমতি পাওয়ার পরই এই ধরনের প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু এবার অনুমতির আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, একই জায়গায় একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি করার জন্য দলের অন্য শিবিরও প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারাও ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি চেয়ে আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে একই স্থানকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, একুশে জুলাই শহিদদের স্মরণে দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচি হয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই তাঁরা নিয়ম মেনে আবেদন করেছেন এবং অনুমতি পাবেন বলেই আশাবাদী।অন্যদিকে দলের অন্য নেতারাও জানিয়েছেন, অনুমতি যেখানে মিলবে, সেখানেই একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি পালন করা হবে। এদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একই কর্মসূচি ঘিরে একাধিক দাবিদারের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কাকে অনুমতি দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

জুন ২৮, ২০২৬
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় সাফল্য! বিজেপি কর্মী খুনে গ্রেপ্তার আরও এক অভিযুক্ত

বাগনানে বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে খুনের ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল তদন্তকারী দল। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাওড়া জেলা পুলিশ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের যৌথ অভিযানে শ্যামপুর এলাকা থেকে শেখ সৈফুদ্দিন নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই খুনের ঘটনায় মোট একান্ন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এর আগে দশ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও আরও বহু অভিযুক্ত এখনও পলাতক। সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া শেখ সৈফুদ্দিনের নাম অভিযোগপত্রে ছিল। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে।শনিবার নিহত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি জানান, খুনের ঘটনায় কাউকে ছাড়া হবে না। প্রয়োজন হলে লুকিয়ে থাকা অভিযুক্তদেরও খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।গত সতেরো জুন রাতে বাগনানের বাঁটুল গ্রামের বাসিন্দা এবং বিজেপির বুথ স্তরের এক পদাধিকারী প্রশান্ত দে খুন হন। বিজেপির অভিযোগ, একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের দাবি, ফোনে তাঁদের জানানো হয়েছিল যে প্রশান্তকে খুন করা হয়েছে এবং কেউ সেখানে গেলে তাকেও ছাড়া হবে না।এই ঘটনায় স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এখনও অধরা বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সমস্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর দ্রুত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে এবং আদালতে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হবে। তাঁর বক্তব্য, দোষীদের এমন শাস্তি হওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস না পায়।

জুন ২৮, ২০২৬
কলকাতা

রাতারাতি বদলে গেল পার্ক সার্কাস স্টেশন! একের পর এক দোকান গুঁড়িয়ে বড় অভিযান

সোমবার গভীর রাতে পার্ক সার্কাস রেল স্টেশনে বড় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হল। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন চত্বর এবং রেলের জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী কাঠামো ভেঙে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযান ঘিরে গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, রেল পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিলেন যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।জানা গিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতেই স্টেশন চত্বরে থাকা ব্যবসায়ী ও হকারদের জায়গা খালি করার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সোমবার রাত সাড়ে দশটার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। এরপর রেলের পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং করে দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিছুটা সময়ও দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও অধিকাংশ দোকান সরানো না হওয়ায় বুলডোজার নামানো হয়। একের পর এক দোকান, গুমটি এবং অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।পার্ক সার্কাস স্টেশন দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ দোকান ও দখলের সমস্যায় ভুগছিল বলে অভিযোগ। যাত্রীদের চলাচলেও বারবার অসুবিধা তৈরি হতো। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযান চলাকালীন স্টেশনের ভিতরে ও বাইরে কড়া নজরদারি ছিল। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে এই উচ্ছেদ অভিযান।এর আগে হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম, হাবরা এবং যাদবপুর-সহ রাজ্যের একাধিক রেল স্টেশন এলাকায় একই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। রেলের জমি দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলছে বলে জানা গিয়েছে।তবে এই অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু দোকানদার। তাঁদের অভিযোগ, পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা না করেই জীবিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি পুনর্বাসনের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

জুন ২৮, ২০২৬
কলকাতা

আর মাত্র ৭ দিন! কলকাতার দুই বড় সেতুর নিচে যা হতে চলেছে, জানতেই চমকে উঠবেন

কলকাতায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে পুরসভা। এবার নজরে এসেছে শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতু এবং সুকান্ত সেতুর নিচের বেআইনি দখল। শনিবার কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে এই দুই জায়গায় নোটিস টাঙিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে সমস্ত বেআইনি দোকান ও দখল সরিয়ে ফেলতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দেশ না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুরসভার নোটিসে জানানো হয়েছে, যাদবপুর ও সন্তোষপুরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী সুকান্ত সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরে বাজার ও হকারদের দোকান বসে আসছে। একইভাবে শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতুর নিচেও বহু দোকান ও বড় বাজার গড়ে উঠেছে। অভিযোগ, এই সবই অনুমতি ছাড়া দখল করে তৈরি হয়েছে। তাই এবার ওই সমস্ত জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে তপসিয়া, কসবা, পার্ক সার্কাস-সহ শহরের একাধিক এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম-সহ বিভিন্ন রেল স্টেশনের আশপাশের অবৈধ দোকানও উচ্ছেদ করা হয়েছে। এবার সেই অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে, গত সপ্তাহেই ঢাকুরিয়া থেকে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন বস্তি এলাকাও খালি করার নোটিস দিয়েছে পুরসভা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দখল করে গড়ে ওঠা ওই এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস। শুধু অস্থায়ী ঘর নয়, বহু পাকা ও দোতলা বাড়িও তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুরসভা ইতিমধ্যেই সেই এলাকাও খালি করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ফলে শহরে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জুন ২৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal