• ৪ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Burdwan

শিক্ষা

সাহিত্য, বিজ্ঞানচিন্তা ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা ‘INSPIRE 2026’

সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে বর্ধমান শহরে সূচনা হল বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক প্রদর্শনী INSPIRE - 2026। নতুনকে জানার কৌতূহল, অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্নসব মিলিয়ে প্রথম দিনেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠল এক টুকরো জীবন্ত বিজ্ঞানভুবন।বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে এবং Oriental Association for Education and Research (OAER)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ১৪ আগস্ট ২০২৬ ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ ই আগস্ট পর্যন্ত।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও OAER এবং বর্ধমান মডেল স্কুলের পরিচালক ও আধিকারিকবৃন্দ। তবে অনুষ্ঠানের প্রকৃত প্রাণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের খুদে ও তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কল্পনা, অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ছড়িয়ে ছিল প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রান্তে। কোথাও বিজ্ঞানের জটিল সূত্র পেয়েছে সহজবোধ্য মডেলের রূপ, কোথাও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলেমিশে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ছবি। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাট্যচর্চার নানা আয়োজন প্রদর্শনীকে দিয়েছে আরও বহুমাত্রিক রূপ।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র INSPIRE - 2026 -এর উদ্দেশ্য এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তিনদিনের এই প্রদর্শনীর নামকরণই যেন তার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করেINSPIRE - 2026। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যায়, আগামী প্রজন্মের প্রতিভা কতটা বিস্ময়কর। শিক্ষকদের সহযোগিতা থাকলেও ভাবনার মূল উৎস যে শিক্ষার্থীরাই, তাঁদের তৈরি মডেল, তাঁদের ব্যাখ্যা এবং দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তার প্রমাণ।শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তাঁর উপলব্ধিআজকের প্রজন্মের কাছ থেকে শেখার মতো এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাঁর কথায়, একসময় ছিল আমাদের প্রজন্ম, তারপর এল কম্পিউটারের যুগ, আর এখন আমরা প্রবেশ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নতুন প্রজন্মকে শেখানো নয়, তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে এই নতুন প্রজন্মই।সাংবাদিকদের রিয়েল জেন জি প্রসঙ্গেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যৎতারা সতেজ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময়। বাংলা তথা ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যেই। তাই তাদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করাই প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের কথা শোনা এবং তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, কী চায়তা জানা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তাঁর পরবর্তী উদ্যোগআড্ডা উইথ জেন জি।মন্ত্রী বর্ধমান মডেল স্কুলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং INSPIRE - 2026 -এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল-এর বক্তব্যেও উঠে আসে সময়ের সঙ্গে পথ চলার অপরিহার্যতার কথা। তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি, সময়ের সঙ্গে তাল না মেলাতে পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের আধুনিকতম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ধমান মডেল স্কুল কখনও পিছিয়ে থাকেনি, ভবিষ্যতেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমী সকলকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার উন্মেষ প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান তিনি।OAER-এর অন্যতম সদস্য সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী সিং ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট আয়োজিত INSPIRE-এ অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া এই আয়োজন কখনও সার্থক হয়ে উঠত না।তবে INSPIRE 2026 কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং এটি যেন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার এক বর্ণময় ক্যানভাস। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাট্য ও আবৃত্তির আয়োজনও রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।নাট্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য জানান, এবারের পরিবেশনায় থাকছে প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক নরক গুলজার। ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বাস্তবতার অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সেই নাটক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসও INSPIRE - 2026 -এর সাংস্কৃতিক পরিসরকে করেছে আরও অর্থবহ।বর্ধমান মডেল স্কুলের নৃত্য বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা প্রখ্যাত ওডিশি নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জানান, এবারের তাঁদের থিম The Rhythm of Togetherness এটি Dance ও Sociology বিভাগের এক অনন্য যৌথ উপস্থাপনা, যেখানে নৃত্য ও সমাজবিজ্ঞানের নিজস্ব ভাবনাগুলি সুন্দরভাবে একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতি, খাদ্য, পোশাক ,সংস্কৃতি ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন হলেও আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়আমরা ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব।বিভিন্ন মডেল ও চার্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।নৃত্যের ছন্দ এবং সমাজবিজ্ঞানের ভাবনাদুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে The Rhythm of Togetherness আমাদের মনে করিয়ে দেয় বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়, ঐক্য আমাদের শক্তি।সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই Inspiring Thoughts, Creating Futureএই মূলমন্ত্র যেন বাস্তব রূপ পেল INSPIRE - 2026-এর প্রাঙ্গণে। এখানে বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়, প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আর সৃজনশীলতা কেবল কল্পনার জগতে বন্দি নয়। বরং তিনটির সম্মিলিত শক্তিতে শিক্ষার্থীরা আঁকছে আগামী দিনের ছবি।নতুন ভাবনার অঙ্কুর, উদ্ভাবনের সাহস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্নকে সামনে রেখে বর্ধমান মডেল স্কুলের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বার্ষিক প্রদর্শনী নয়এ যেন আগামী দিনের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের এক উজ্জ্বল মঞ্চ।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
ভ্রমণ

একদিনেই ঘুরে নিন বর্ধমান, সীতাভোগ-মিহিদানার শহরের কোনায় কোনায় ইতিহাসের হাতছানি, মুঘল আমল থেকে রাজকাহিনী, মন্দির

রাজ্যের অন্যতম বর্ধিষ্ণু জেলা বর্ধমান। বর্ধমান প্রকৃতই ক্রম-বর্ধমান। একদিনের ভ্রমণে বর্ধমান শহরকে বেছে নিলে জানতে পারবেন অনেক অজানা ইতিহাস। বঙ্গের অন্য়তম প্রাচীন জনপদ বর্ধমান। দূরে ভ্রমণের আগে একবার বর্ধমান শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরলে আপনি সমৃদ্ধ হবেনই। এমনকী আপনার ভ্রমণ কাহিনীতে জুড়ে যাবে বিরাট রসদের ভান্ডার। তাই আর দেরি না করে বর্ধমান শহরে ইতিহাসকে জেনে নিন এক ঝলকে। রাজ্যের যে কোনও স্থান থেকে বর্ধমান শহরের যোগাযোগও খুব সহজ।বর্ধমানের নাম নিয়ে নানা মতবাদ আছে। বর্ধমান শব্দটি সংস্কৃত বর্ধ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো বৃদ্ধি পাওয়া, উন্নতি হওয়া বা সমৃদ্ধি লাভ করা। প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল কৃষি, বাণিজ্য ও জনবসতির দিক থেকে সমৃদ্ধ ছিল। তাই এলাকাটির নাম বর্ধমান হয়েছে বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। জৈন ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসারে, ২৪তম তীর্থঙ্কর ভগবান মহাবীরের অপর নাম ছিল বর্ধমান। বলা হয়, তাঁর জন্মের পর রাজ্য ও পরিবারের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছিল, তাই তাঁর নাম রাখা হয় বর্ধমান। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান অঞ্চলে মহাবীরের আগমন ও ধর্মপ্রচারের স্মৃতি নিয়ে বিভিন্ন জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। এই কারণে অনেকের মতে জেলার নাম বর্ধমান মহাবীর বর্ধমানের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, জেলার নামের মূল উৎস হলো এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমৃদ্ধির ধারণা, যদিও জৈন ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রভাবও স্থানীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। শহরের মধ্যস্থলে রাজবাড়ি যাওয়ার পথেই দেখা মিলবে বিখ্যাত কার্জন গেটের যা এখন বিজয় তোরণ নামেই পরিচিত। বর্ধমান রাজবাড়ি এখন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস।সর্বমঙ্গলা মন্দিরবর্ধমানের অধিষ্ঠার্থী দেবি মা সর্বমঙ্গলা। বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় শক্তিপীঠসদৃশ তীর্থস্থান। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী সর্বমঙ্গলা অত্যন্ত জাগ্রত, অর্থাৎ তিনি ভক্তদের প্রার্থনা শোনেন এবং তাঁদের মনোবাসনা পূরণ করেন। বহু মানুষ তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মানত পূরণ এবং অলৌকিক ঘটনার কাহিনি এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। ইতিহাসবিদদের মতে, সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মাহাত্ম্য মূলত বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা, দেবীর অলৌকিক কাহিনি এবং দীর্ঘকালীন লোকবিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। কথিত আছে, এক জেলের জালে দেবীর মূর্তি উঠে আসে। পরে বর্ধমানের রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই দেবী সর্বমঙ্গলার পূজা শুরু হয় এবং মন্দিরটি বিশেষ খ্যাতি লাভ করে।গড়গড়াঘাটের গুরুদোয়ারাপ্রচলিত ঐতিহাসিক ও শিখ ধর্মীয় সূত্র অনুযায়ী, **গুরু নানক দেব জি প্রায় ১৫০৫-১৫০৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর পূর্ব ভারত ভ্রমণের সময় বর্ধমানে এসেছিলেন। তিনি এখানে কিছুদিন অবস্থান করেন এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে মানবতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও এক ঈশ্বরের বাণী প্রচার করেন। এই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই পরে বর্ধমানে সর্বমঙ্গলা পাড়ার পাশেই গড়গড়া ঘাটে গুরুদোয়ারা বড়া সঙ্গত প্রতিষ্ঠিত হয়। শিখ সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। বলা হয়, গুরু নানক এখানে ধর্মীয় আলোচনা ও কীর্তন করেছিলেন এবং তাঁর পদধূলিতে স্থানটি পবিত্র বলে বিবেচিত হয়।কমলাকান্তের কালীবাড়িবর্ধমান শহরের কোটালহাটে অবস্থিত কমলাকান্তের কালীবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রসিদ্ধ কালীমন্দির। এই মন্দিরটি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য এর সাধনাক্ষেত্র হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য (প্রায় ১৭৬৯১৮২১) ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাক্ত কবি, শ্যামাসংগীত রচয়িতা ও তন্ত্রসাধক। তাঁর জন্ম পূর্ব বর্ধমানের অম্বিকা কালনায়। তিনি ছোটবেলা থেকেই মা কালীর উপাসনায় আকৃষ্ট হন এবং পরে তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন বলে ভক্তদের মধ্যে বিশ্বাস প্রচলিত। বর্ধমানের মহারাজা তেজচন্দ্র তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি ও পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে রাজগুরু ও সভাসদ হিসেবে সম্মানিত করেন। মহারাজা তেজচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বর্ধমানের কোটালহাটে মা কালীর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে সাধক কমলাকান্ত পঞ্চমুণ্ডির আসনে সাধনা করতেন। বর্তমানে এই মন্দিরই কমলাকান্তের কালীবাড়ি নামে বিখ্যাত। কথিত আছে, মহারাজা তেজচন্দ্র একবার তাঁর অলৌকিক শক্তি পরীক্ষা করতে চাইলে কমলাকান্ত অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন। বর্ধমানের মানুষের মুখে মুখে একথা প্রচলিত। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব প্রায়ই কমলাকান্তের শ্যামাসংগীত গাইতেন এবং তাঁর ভক্তিভাবের অত্যন্ত প্রশংসা করতেন। ফলে কমলাকান্তের গান ও সাধনা সমগ্র বাংলায় আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।শের আফগানের সমাধিবর্ধমান শহরের শের আফগানের সমাধি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুঘল যুগের ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। এটি বিখ্যাত মূলত শের আফগান ও মেহেরুন্নিসা (পরবর্তীকালে সম্রাজ্ঞী নূরজাহান)-এর ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে। শের আফগানের প্রকৃত নাম ছিল আলি কুলি ইস্তাজলু। তিনি ছিলেন একজন পারস্য বংশোদ্ভূত মুঘল সেনাপতি। সম্রাট আকবর তাঁর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে শের আফগান(বাঘ-বধকারী) উপাধি দেন। শের আফগানের স্ত্রী ছিলেন মেহেরুন্নিসা, যিনি পরে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী এবং বিখ্যাত সম্রাজ্ঞী নূরজাহান নামে পরিচিত হন। এই কারণে শের আফগানের জীবন ও মৃত্যু ভারতীয় ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমানের ফৌজদার কুতুবউদ্দিন খান কোকা সম্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে শের আফগানের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সংঘর্ষের সময় শের আফগান কুতুবউদ্দিনকে হত্যা করেন, কিন্তু তিনিও গুরুতর আহত হয়ে নিহত হন। পরে তাঁকে বর্ধমানে সমাহিত করা হয়। দুজনকে পাশাপাশি সমাধিস্ত করা হয়। ইতিহাস বলছে, মেহেরুন্নিসাকে নিয়ে যেতেই কুতুবুদ্দিনকে পাঠিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। শের আফগানের মৃত্যুর পর মেহেরুন্নিসাকে মুঘল দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক বছর পরে তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরকে বিবাহ করেন এবং নূরজাহান নামে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নারী হয়ে ওঠেন। তাই বর্ধমানের এই সমাধি শুধু একটি কবরস্থান নয়, বরং মুঘল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক।শুলি পুকুরবর্ধমান শহরের শুলি পুকুর একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বর্ধমান রাজাদের আমলে গুরুতর অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এই এলাকার কাছে শুলি (ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ডের এক প্রকার ব্যবস্থা) কার্যকর করা হতো। সেই কারণেই পুকুরটির নাম হয় শুলি পুকুর। বর্ধমান রাজবাড়ির গেটের উল্টোদিকের রাস্তার বাদিকেই এই শুলি পুকুরের অবস্থান। বর্ধমান রাজবংশের শাসনামলের সঙ্গে এই স্থানের নাম জড়িত।সীতাভোগ ও মিহিদানাবর্ধমানে ভ্রমণ করবেন আর মিষ্টি খাওয়া হবে না তা হয় নাকি! বর্ধমানে নানা স্বাদের মিষ্টি পাওয়া যায়। কিন্তু মূল আকর্ষণ সীতাভোগ ও মিহিদানায়। সীতাভোগ ও মিহিদানা বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্ববিখ্যাত মিষ্টি। এই দুই মিষ্টি বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হয় এবং আজও বর্ধমানের পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। মিহিদানা কী? মিহিদানা দেখতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বোঁদের মতো। বেসনের পরিবর্তে বিশেষ ধরনের চালের গুঁড়ো ও অন্যান্য উপাদান দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম দানার আকারে এটি তৈরি করা হয়। এর দানাগুলি খুবই ছোট ও নরম হওয়ায় এর নাম হয়েছে মিহি (সূক্ষ্ম) + দানা। সীতাভোগ কী? সীতাভোগ দেখতে অনেকটা সাদা ভাতের মতো। চালের গুঁড়ো, ছানা ও চিনি দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ছোট ছোট মিষ্টি দানাও মেশানো থাকে। দেখতে ভাতের মতো হলেও এটি একটি সুস্বাদু মিষ্টান্ন। জনশ্রুতি রয়েছে, ১৯০৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর-জেনারেল লর্ড কার্জন বর্ধমান সফরে এলে রাজা বিজয়চাঁদ মহতাবের উদ্যোগে ময়রা ভৈরবচন্দ্র নাগ এই দুই মিষ্টি পরিবেশন করেন। লর্ড কার্জন এর স্বাদে মুগ্ধ হন। এরপর থেকেই সীতাভোগ ও মিহিদানা সারা দেশে খ্যাতি লাভ করে।বর্ধমানের ১০৮ শিবমন্দিরবর্ধমান শহরের নবাবহাটে অবস্থিত ১০৮ শিবমন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিখ্যাত শৈব তীর্থস্থান। এটি শুধু ধর্মীয় গুরুত্বের জন্য নয়, এর অনন্য স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও প্রসিদ্ধ। ১৮শ শতাব্দীর শেষ দিকে বর্ধমান রাজবংশের মহারাণী বিষ্ণুকুমারী দেবী (কিছু সূত্রে মহারাজ তেজচন্দ্রের মাতৃকা) এই ১০৮টি শিবমন্দির নির্মাণ করান। মন্দিরগুলি প্রায় ১৭৮৮-১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়। হিন্দুধর্মে ১০৮ সংখ্যাটি অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য হয়। জপমালায় ১০৮টি দানা থাকে এবং শিবের ১০৮টি নামও প্রচলিত। সেই কারণেই এখানে ১০৮টি পৃথক শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্ধমান শহর লাগোয়া নবাবহাটে আয়তাকারে ১০৮টি শিব মন্দির আছে। এই মন্দিরগুলির বাইরে আরেকটি শিব মন্দির আছে। অন্যদিকে কালনায় আরেকটি ১০৮ শিব মন্দির আছে। এখানে বিশেষত্ব হল মন্দিরগুলি দুটি বৃত্তাকার সারিতে নির্মিত। বাইরের বৃত্তে ৭৪টি এবং ভিতরের বৃত্তে ৩৪টি মন্দির রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে একটি করে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত। কালো ও সাদা রঙের শিবলিঙ্গ পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। শ্রাবণ মাসে হাজার ভক্ত এই দুই ১০৮ শিব মন্দিরে পুজো দেন। একই জেলায় দুটি জায়গায় একই স্থানে ১০৮টা শিব মন্দির বিরল।বীরহাটা বড়মা কালীবর্ধমান শহরের অন্যতম প্রাচীন ও শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় স্থান হল বীরহাটা বড়মা কালীমন্দির। এই মন্দিরটি বর্ধমান রাজপরিবারের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। জনশ্রুতি অনুসারে, বর্ধমানের মহারাজারা তাঁদের কুলদেবী হিসেবে মা কালীর আরাধনা করতেন এবং সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বীরহাটা অঞ্চলে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবীকে অনেকে জাগ্রত মা কালী বলে মনে করেন। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে মা কালী মনোবাসনা পূরণ করেন। তাই সারা বছরই এখানে ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে, বিশেষ করে কালীপূজা, দীপাবলি ও অমাবস্যা তিথিতে। বীরহাটা একসময় বর্ধমান রাজবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিল। ফলে মন্দিরটি শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বর্ধমানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু বছর ধরে এখানে নিয়মিত পূজা, হোম-যজ্ঞ ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।কঙ্কালেশ্বরীশহরের কাঞ্চননগরে অবস্থিত কঙ্কালেশ্বরী কালীমন্দির জেলার অন্যতম প্রাচীন ও রহস্যময় তীর্থস্থান। ধারণা করা হয়, মন্দিরটির ইতিহাস কয়েকশো বছরের পুরোনো। কাঞ্চননগর একসময় গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ছিল এবং এখানেই দেবী কঙ্কালেশ্বরীর পূজা প্রতিষ্ঠিত হয়। দেবীর মূর্তি সাধারণ কালীমূর্তির মতো নয়; তাঁর রূপে কঙ্কালসদৃশ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যা তন্ত্রসাধনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।সোনার কালীবাড়িবর্ধমান শহরের মিঠাপুকুর এলাকায় অবস্থিত সোনার কালীবাড়ি (ভুবনেশ্বরী মন্দির) বর্ধমান রাজপরিবারের ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৮৯৯ সালে বর্ধমানের রাজা মহতাব চাঁদ এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন বলে প্রচলিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রী রানি নারায়ণী দেবী স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর ভুবনেশ্বরী মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথমে এখানে সোনার তৈরি দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেই কারণেই মন্দিরটি সোনার কালীবাড়ি নামে পরিচিত হয়। ১৯৭০-এর দশকে সোনার মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়। পরে সেখানে অষ্টধাতুর ভুবনেশ্বরী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়, কিন্তু সোনার কালীবাড়ি নামটি আজও রয়ে গেছে। এখানে দেবীর জিভ বাইরে বেরিয়ে নেই। দেবীর পদতলে শিব নেই, যা সাধারণ কালীমূর্তির থেকে আলাদা। প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পূজা হয়।বর্ধমান ও জৈন ধর্মের ঐতিহাসিক সম্পর্কবর্ধমান শহরের নামকরণ নিয়ে একটি সুপ্রচলিত মত হলো, এটি ২৪তম জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর বর্ধমানের নামানুসারে হয়েছে। জৈন ঐতিহ্য অনুযায়ী, তিনি এই অঞ্চলে কিছু সময় অবস্থান করেছিলেন। তাই প্রাচীনকাল থেকেই বর্ধমানে জৈন সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ছিল। সোনার কালীবাড়িতে জৈনদের ডান্ডিয়া করার কারণ ধর্মীয় নয় বরং বর্ধমানের গুজরাটি-জৈন সমাজের নবরাত্রি উদ্যাপনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় সম্প্রীতির প্রকাশ। এমনকী বর্ধমান রাজ পরিবারের কুলদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরেও ডান্ডিয়া উৎসবের প্রচলন আছে। নানা ধর্মীয় উৎসবে এই মন্দিরে হাজির হন রাজ পরিবারের সদস্যরা।বর্ধমান ভ্রমণে এলে গোলাপবাগ চত্বরে যেতে ভুলবেন না। সেখানে কৃষ্ণসায়র পার্ক, সায়েন্স সেন্টার, রমনাবাগান মিনি জু, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম ক্যাম্পাস, তারা মন্ডল নানা কিছু রয়েছে পর্যটকদের জন্য। এমন গাছগাছালির প্রাকৃতিক পরিবেশে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। তাহলে আর দেরি কেন? বর্ধমান শহরের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ুন।

আগস্ট ০১, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানে ধৃত সন্দেহভাজন জঙ্গি, তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি

বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে হামিদ মন্ডল নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ এবং বর্ধমান পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃত ব্যক্তি পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নথি, ডিজিটাল তথ্য এবং যোগাযোগের সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনও অনেক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।তদন্তকারী সূত্রে দাবি, ধৃত ব্যক্তির কাছে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি, নিরাপত্তা এবং ভিআইপি চলাচল সংক্রান্ত কিছু তথ্য মিলেছে। এই তথ্য কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কোনও হামলার পরিকল্পনার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনও সরকারি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃত হামিদ পূর্ব ভারতে সংগঠনের নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজে যুক্ত থাকতে পারে। নতুন সদস্য সংগ্রহ, যোগাযোগ রক্ষা এবং সংগঠনের কার্যকলাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।এদিকে অসমেও একই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। সেখান থেকে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, পরিচয়পত্র, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাগুলির মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা তথ্য যাচাই করছে।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই নেটওয়ার্ক অনলাইনের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ, উগ্রবাদে প্রভাবিত করা, গোপন তথ্য সংগ্রহ, লজিস্টিক সহায়তা এবং স্লিপার সেল তৈরির মতো কার্যকলাপে জড়িত থাকতে পারে। পাশাপাশি এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ ও গোয়েন্দাদের মতে, ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এবং ডিজিটাল নথির ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী তদন্তের দিশা নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মামলার সব দিকই খোলা রাখা হয়েছে।

জুলাই ৩১, ২০২৬
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করার ছক? বর্ধমানে ধৃত সন্দেহভাজনের কাছ থেকে মিলল চাঞ্চল্যকর নথি, তদন্তে বড় দাবি

বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিদ মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তদন্তে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে সে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছিল। ধৃতের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু নথি এবং ভিআইপি চলাচল সম্পর্কিত তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই তথ্য সামনে আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই নথিগুলি কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানায়নি তদন্তকারী সংস্থা।গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতের কাছ থেকে এমন কিছু নথি ও তথ্য মিলেছে, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখনই সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি। উদ্ধার হওয়া তথ্যের সঙ্গে কোনও হামলার পরিকল্পনার যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গাড়ির রুট এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই তথ্য কীভাবে তার হাতে এল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।পুলিশ সূত্রে দাবি, শুক্রবার সকালে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, সে আগে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় থাকত এবং একটি গেঞ্জির কারখানায় কাজ করত। কয়েক মাস আগে সে বর্ধমানে ভাড়া বাড়িতে ওঠে। গোয়েন্দাদের দাবি, তার বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ধৃত ব্যক্তি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ওই আবাসনে ভাড়া থাকতেন। তাঁকে খুব একটা বাইরে দেখা যেত না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল।এই ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডার দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্য পুলিশের কাজের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, জঙ্গি সংগঠনের স্থানীয় সমর্থন ভাঙতে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে এই বিষয়ে তদন্ত এখনও চলছে এবং সরকারি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিদ মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তদন্তে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে সে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছিল। ধৃতের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু নথি এবং ভিআইপি চলাচল সম্পর্কিত তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই তথ্য সামনে আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই নথিগুলি কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানায়নি তদন্তকারী সংস্থা।গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতের কাছ থেকে এমন কিছু নথি ও তথ্য মিলেছে, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখনই সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি। উদ্ধার হওয়া তথ্যের সঙ্গে কোনও হামলার পরিকল্পনার যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গাড়ির রুট এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই তথ্য কীভাবে তার হাতে এল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।পুলিশ সূত্রে দাবি, শুক্রবার সকালে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, সে আগে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় থাকত এবং একটি গেঞ্জির কারখানায় কাজ করত। কয়েক মাস আগে সে বর্ধমানে ভাড়া বাড়িতে ওঠে। গোয়েন্দাদের দাবি, তার বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ধৃত ব্যক্তি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ওই আবাসনে ভাড়া থাকতেন। তাঁকে খুব একটা বাইরে দেখা যেত না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল।এই ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডার দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্য পুলিশের কাজের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, জঙ্গি সংগঠনের স্থানীয় সমর্থন ভাঙতে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে এই বিষয়ে তদন্ত এখনও চলছে এবং সরকারি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুলাই ৩১, ২০২৬
রাজ্য

প্লাস্টিকের ভিড়ে কাঠের রথের কদর অটুট, বর্ধমানের গোলাপবাগে কচিকাঁচাদের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কাষ্ঠশিল্পী

রথযাত্রা মানেই ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে বসিয়ে টানার আনন্দে মেতে ওঠা ছোট-বড় সকলের উৎসব। আধুনিক সময়ে প্লাস্টিক, ফাইবার কিংবা বিভিন্ন কৃত্রিম উপকরণে তৈরি রথের ব্যবহার বেড়েছে ঠিকই, তবুও ঐতিহ্যবাহী কাঠের রথের আবেদন আজও অমলিন।রথযাত্রাকে সামনে রেখে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন রথ নির্মাণে যুক্ত শিল্পীরা। ছোটদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নানান আকারের কাঠের রথ তৈরি করতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন তাঁরা। রঙের ছোঁয়া, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জায় ব্যস্ত শিল্পীদের কর্মশালাগুলি যেন উৎসবের আগাম বার্তা বহন করছে।ঠিক তেমনই এক ছবি ধরা পড়ল পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরের গোলাপবাগ চত্বরে। একটি আবাসনের কচিকাঁচাদের জন্য ঐতিহ্যবাহী কাঠের রথ নির্মাণে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত এক কাষ্ঠশিল্পী। নিষ্ঠার সঙ্গে রথের প্রতিটি অংশে শেষবারের মতো হাতের ছোঁয়া দিচ্ছেন তিনি, যাতে রথযাত্রার দিন খুদেদের আনন্দে কোনও খামতি না থাকে।স্থানীয়দের মতে, প্রযুক্তি ও আধুনিকতার যুগেও কাঠের রথের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কমেনি। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার সংস্কৃতি ও আবেগকে বাঁচিয়ে রাখতেই অনেক আবাসন ও পরিবার এখনও কাঠের রথ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।রথযাত্রার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তাই গোলাপবাগের এই কাষ্ঠশিল্পীর কর্মব্যস্ততা যেন বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্য, শিল্পকলা এবং উৎসবের আবহকেই নতুন করে তুলে ধরছে।

জুলাই ১৩, ২০২৬
রাজ্য

শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে পক্ষব্যাপী স্মৃতিচারণ, বর্ধমানের বিদ্যালয়ে নানা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

পক্ষব্যাপী স্মৃতিপক্ষ পালন শেষে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করল বর্ধমান শহরের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়। বক্তৃতা, বিতর্ক, কুইজ, যোগব্যায়াম, অঙ্কন, সঙ্গীত ও নৃত্য-সহ একাধিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা স্মরণ করল বাংলার এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিন্তক ও রাজনীতিককে।অনুষ্ঠানে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মূল বিষয় ছিল ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্ম, স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, দেশভাগ, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পশ্চিমবঙ্গের গঠন এবং বাংলা ও বাঙালির গৌরবময় ঐতিহ্য। শিক্ষিকা অনন্যা ঘোষের পরিচালনায় বাংলার লোকগানের সঙ্গে নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন করে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।৬ জুলাই আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শিক্ষিকা দেবলীনা ঘোষ ও ছাত্রছাত্রীদের সমবেত উদ্বোধনী সঙ্গীতের মাধ্যমে। শিক্ষিকা কৃষ্ণা ঘোষ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের রূপায়ণে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তৎকালীন সাম্প্রদায়িক সংকটের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থরক্ষায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন।বর্ধমানের বিশিষ্ট নাগরিক সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। মাতৃপ্রেরণায় তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হন। অল্প বয়সেই উচ্চশিক্ষায় সাফল্যের পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গেও রাজনৈতিক মতবিনিময় করেছিলেন। স্বাধীনতার পর কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দেশের শিল্পোন্নয়নে তাঁর অবদানও তিনি স্মরণ করেন।বিশিষ্ট পরিবেশবিদ অর্ণব দাস বলেন, ভারত তথা বাংলার ইতিহাসে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর জীবন ও কর্মের পুনর্মূল্যায়নের এখনই উপযুক্ত সময়।বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ড. শ্যামাপ্রসাদ উদ্ভাবন, দক্ষতা ও যুগোপযোগী শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বর্তমান জাতীয় শিক্ষানীতিতেও সেই ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, এক সংকটময় সময়ে বাংলার মর্যাদা রক্ষায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর বহুমাত্রিক কর্মজীবন ভবিষ্যতেও গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে। তিনি তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৌমেন লাহা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, আগামী প্রজন্মের কাছে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, আদর্শ ও কর্মকে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

জুলাই ০৬, ২০২৬
রাজ্য

যোগের মহাযজ্ঞে দেশের শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ, এক নম্বরে পূর্ব বর্ধমান — গণঅংশগ্রহণে গড়ল ঐতিহাসিক নজির

স্বাস্থ্যচর্চা যখন জনআন্দোলনের রূপ নেয়, তখন সৃষ্টি হয় ইতিহাস। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে সারা দেশে অনুষ্ঠিত যোগাভ্যাস কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের নিরিখে সেই ইতিহাসই গড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের ১ কোটি ৭৪ লক্ষ ৯৪ হাজার ৮২২ জন মানুষ একযোগে যোগাভ্যাসে অংশ নিয়ে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। শুধু তাই নয়, ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫২৯টি সংগঠনের নিবন্ধনের মাধ্যমে সংগঠনভিত্তিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও দেশের শীর্ষে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ।এই নজিরবিহীন সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা। জেলার ১৮ লক্ষ ২১ হাজার ৭৬০ জন মানুষের অংশগ্রহণ গোটা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। ফলে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের গণঅংশগ্রহণের নিরিখে দেশের এক নম্বর জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে পূর্ব বর্ধমান। স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই জেলা।সরকারি তালিকা অনুযায়ী, দেশের অংশগ্রহণকারী শীর্ষ ১০ জেলার তালিকায় প্রথম দশটি স্থানই দখল করেছে পশ্চিমবঙ্গ। পূর্ব বর্ধমানের পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা (১৩,৮০,৫৬১), মালদা (১৩,০৭,২১৬), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (১১,৪৪,৫৯৩), মুর্শিদাবাদ (১১,৪০,৩৩১), নদিয়া (১০,৬১,৭৭৬), বাঁকুড়া (৯,৩৪,১৭২), পূর্ব মেদিনীপুর (৭,৬৯,০০৫), পুরুলিয়া (৭,৬৫,৮৬২) এবং হুগলি (৭,৩৮,০৩০)। অর্থাৎ, যোগচর্চাকে গণআন্দোলনে পরিণত করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।রাজ্যভিত্তিক অংশগ্রহণের নিরিখেও পশ্চিমবঙ্গ অনেকটাই এগিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের পরে রয়েছে রাজস্থান (৬৭,৬৭,৬১৩), মধ্যপ্রদেশ (৭,২০,৫৬২), অসম (৭,১০,৭৫৩), গুজরাট (৬,০৩,৫৫১), উত্তরপ্রদেশ (৫,৩২,৫০৭), মহারাষ্ট্র (৪,২৫,৮৫৩) এবং ওডিশা (৪,১০,৫১২)।সংগঠনভিত্তিক নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গের সাফল্য সমানভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজ্যের ৩,৪৫,৫২৯টি সংগঠনের পরে রয়েছে রাজস্থান (১,৬৭,২৯৫), মধ্যপ্রদেশ (৩৫,৭৪২), অসম (২৫,২৮৫), উত্তরপ্রদেশ (২২,২৮৫), মহারাষ্ট্র (২২,১৮৮) এবং অন্ধ্রপ্রদেশ (২০,০০৪)। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরেও যোগচর্চা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে জেলার একাধিক ঐতিহ্যবাহী ও দর্শনীয় স্থানে আয়োজন করা হয় বিশেষ যোগ কর্মসূচি। বর্ধমান শহরের বিজয় তোরণ, কৃষ্ণসায়র পার্ক, নবাবহাটের ১০৮ শিবমন্দির প্রাঙ্গণ, কালনা শহরের গঙ্গাবক্ষে এবং ঐতিহাসিক ১০৮ শিবমন্দির চত্বরে ভোরের নির্মল পরিবেশে শত শত মানুষ একসঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নেন। এছাড়াও জেলার সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ক্লাব, পঞ্চায়েত এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উদ্যোগেও নানা প্রান্তে যোগ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সর্বত্রই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।প্রশাসনিক সূত্রের খবর, গ্রাম থেকে শহরসমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনগুলির সম্মিলিত উদ্যোগই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমানে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, সুসংগঠিত প্রস্তুতি এবং ব্যাপক জনসচেতনতার ফলেই জেলা দেশের সর্বাধিক অংশগ্রহণকারী জেলার মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র সহ এই কর্মকান্ডে জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ আধিকারিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল, অতিরিক্ত জেলাশাসক রোহণ লক্ষ্মীকান্ত যোশী, প্রতীক সিং, প্রসেনজিৎ দাস ও মহকুমা শাসক বুদ্ধদেব পান, সুপ্রভাত চ্যাট্টার্জী ও মালবিকা খাটুয়া, অনির্বান রায় প্রমুখ।আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই অভূতপূর্ব সাফল্য কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি পশ্চিমবঙ্গের জনসম্পৃক্ততা, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের এক উজ্জ্বল দলিল। যোগের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপনের যে বার্তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, সেই বার্তাকে বাস্তবের মাটিতে রূপ দিয়েছে পূর্ব বর্ধমান। দেশের মানচিত্রে এই জেলার নাম আজ শুধু অংশগ্রহণের সংখ্যায় নয়, জনআন্দোলনের শক্তি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

জুন ২৬, ২০২৬
রাজ্য

কয়লার ভ্যান টানা থেকে উল্কার গতিতে উত্থান, আধুনা 'বর্ধমানের মহারাজ' পুলিসের জালে!

বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর ট্রানজিট রিমান্ডে বর্ধমানে নিয়ে আসায় পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকেলে তাঁকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বর্ধমান থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে দাবি, খোকন দাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে তোলাবাজি, হুমকি প্রদান, বেআইনি জলাজমি ও পুকুর ভরাট, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণে মদত এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।খোকন দাসের রাজনৈতিক উত্থানও দীর্ঘদিন ধরে বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়লা ও বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকে ধীরে ধীরে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন। বামফ্রন্ট আমলে বর্ধমান পুরসভার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালেও কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর পুরসভার টাউন প্ল্যানিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় তাঁর প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ।২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধায়ক হন খোকন দাস। তবে সেই সময় থেকেই ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিরোধীদের উপর হামলা এবং এলাকায় সন্ত্রাসের আবহ তৈরির অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিবেদনে তাঁর নাম উল্লেখ করে কঠোর পর্যবেক্ষণও করা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।চলতি বিধানসভা নির্বাচনে পুনরায় প্রার্থী হলেও বড় ব্যবধানে পরাজিত হন খোকন দাস। এরপর রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। তদন্তকারী সংস্থার নজরও ক্রমশ তাঁর দিকে ঘুরে যায়। অভিযোগ রয়েছে, পরাজয়ের পরেও বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোনে হুমকি দেওয়া এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সংক্রান্ত কিছু অডিও ক্লিপও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।রবিবার উত্তরপ্রদেশের দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় আদালতে পেশ করার পর ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর হয় এবং এরপর তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বাইরে অবস্থান করলেও শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীদের জাল এড়াতে পারেননি বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।খোকন দাসের গ্রেফতারের খবর সামনে আসতেই বর্ধমানে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। শাসকদল বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একাংশকে তাঁর কাঞ্চননগরের বাড়ির সামনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, একজন সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে কীভাবে বিপুল সম্পত্তির মালিকানা গড়ে উঠল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।এদিন বর্ধমানে এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, যারা ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং গুন্ডামির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব পথে কাজ করছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী নেতাদের নিশানা করে গ্রেফতার করা হচ্ছে।এখন আদালতে খোকন দাসকে পেশ করার পর তদন্তকারী সংস্থা কী ধরনের হেফাজতের আবেদন জানায় এবং আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের। বর্ধমানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তারকারী এই নেতার গ্রেফতারি আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

জুন ০২, ২০২৬
রাজ্য

সানডে সাস্পেন্স! পূর্ব বর্ধমানে পুলিশি ঝড়! গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস সহ তৃণমূলের আরও দুই প্রভাবশালী নেতা

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার পূর্ব বর্ধমান জেলায় কার্যত সুপার সানডে অভিযান চালিয়ে তিন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে আইনের জালে আনল পুলিশ। প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস ও তপন চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির পাশাপাশি আটক করা হয়েছে কাটোয়ার প্রভাবশালী নেতা দিগন্ত পালকেও। জেলাজুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে পূর্বস্থলীতে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার সকালে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হানা দেয় পূর্বস্থলী থানার পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য বরাদ্দ বহু ত্রিপল এবং সরকারি ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিতরণের উদ্দেশ্যে পাঠানো ফুটবল।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখার অভিযোগে তপন চট্টোপাধ্যায়কে আটক করে পরে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের পরিবর্তে এই সামগ্রিগুলি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মজুত রাখা হয়েছিল। এমনকি সেগুলি কালোবাজারে বিক্রির পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এলাকার মানুষ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রাক্তন বিধায়কের মালিকানাধীন একাধিক গুদামেও তল্লাশি চালিয়েছে।তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে স্লোগান দিতে থাকেন। উদ্ধার হওয়া সরকারি সামগ্রীর উৎস, সংরক্ষণের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।অন্যদিকে, বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা জেলার অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক মুখ খোকন দাসকে রবিবার সকালে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ এর হান্ডিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একটি পুরনো মারধরের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। ২০২১ এ নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসে অভিযুক্ত ছিলেন খোকন দাস। সিবিআই তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, স্থানীয় আদালতে তাঁকে পেশ করে ট্রানসিট রিমান্ডের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজ্যের বাইরে ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।জেলার রাজনৈতিক অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে একই দিনে গ্রেফতার করা হয়েছে কাটোয়ার প্রভাবশালী নেতা তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দিগন্ত পালকে। আর্থিক তছরুপ ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগে শনিবার গভীর রাতে কাটোয়া স্টেশন বাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে কাটোয়া থানার পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়।সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাক্তন তৃণমূল নেতাদের বাড়ি, দলীয় কার্যালয় এবং ব্যক্তিগত গুদাম থেকে সরকারি ত্রাণসামগ্রী, আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র-সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধারের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে প্রশাসনিক সম্পদের অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।একদিনে জেলার তিন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপে পূর্ব বর্ধমানের রাজনৈতিক মহল কার্যত সরগরম। তদন্ত যত এগোবে, ততই আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ফলে এই ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনে জেলার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

মে ৩১, ২০২৬
রাজ্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়াই মাঠের তালা খোলা! বর্ধমানে বিজেপি বিধায়ককে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বহুদিন বন্ধ থাকা মোহনবাগান মাঠের তালা খোলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তির উঠেছে বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়াই তিনি সাধারণের ব্যবহারের জন্য মাঠ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক মহল যেমন প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফেও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান মাঠটি সাধারণের জন্য বন্ধ ছিল। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পরিদর্শনে এসে মাঠটি তালাবন্ধ অবস্থায় দেখতে পান বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। এরপর তিনি তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মীদের তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঠ খুলে দেওয়া হয় এবং স্থানীয়দের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিরোধীরা। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, বিধায়ক এখনও বুঝে উঠতে পারেননি কোন বিষয় তাঁর প্রশাসনিক এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে আর কোনটা পড়ে না। তিনি ব্যঙ্গের সুরে বলেন, নতুন বই হাতে পাওয়া বাচ্চারা যেমন আগ্রহ নিয়ে পাতা উল্টে দেখে, ঠিক তেমনই নতুন বিধায়ক গলায় মালা পরে সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে প্রতিদিন ছুটে বেড়াচ্ছেন।যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেছেন বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। তাঁর বক্তব্য, এত বড় একটি মাঠ বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে থাকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন, এই মাঠ এলাকার মানুষের সম্পদ। শিশু থেকে প্রবীণ সকলে এখানে এসে খেলাধুলা করতে পারবেন, হাঁটাচলা করতে পারবেন। মানুষের স্বার্থেই মাঠ খুলে দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্কর কুমার নাথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠ খোলার বিষয়ে তাঁকে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে না জানিয়েই মাঠ খুলে দেওয়া হয়েছে, যা সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এই মাঠে সকাল-বিকেল স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ চলে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীরাও এখানে নিয়মিত অনুশীলন করেন। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষক এক অধ্যাপক বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁকে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়েছে।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অধিকার ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার সীমা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন দেখার, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ করে কি না এবং বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।

মে ২৪, ২০২৬
রাজ্য

ভোটে হারের পর ডিগবাজি? ভাইরাল অডিওতে ‘বিজেপি নেতা’ খোকন দাস, বর্ধমানে তোলপাড়

বর্ধমান দক্ষিণের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে একটি ভাইরাল অডিওকে কেন্দ্র করে। সেই অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, আমিও এখন বিজেপি নেতা। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই জেলা রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে।বিজেপির দাবি, কাঞ্চননগরের একটি দুর্গামন্দির নির্মাণের কাজ করেও এক রাজমিস্ত্রি প্রাপ্য টাকা পাননি। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই ফোনে তাঁকে ধমক দেন খোকন দাস। ভাইরাল হওয়া অডিওতে শোনা যায়, মন্দিরের হিসেব, ট্রাস্টের টাকা এবং ভোটে হারের প্রসঙ্গ তুলে কথা বলছেন তিনি। কথোপকথনের এক পর্যায়ে খোকন দাসকে বলতে শোনা যায়, তুই এখন সুযোগ নিয়ে লোককে ভয় দেখাচ্ছিস। আমরাও এখানে আছি। আর শুনে রাখ, আমিও এখন বিজেপি নেতা।যদিও এই অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি জনতার কথা। তবে বিজেপি নেতাদের দাবি, ওই কথোপকথনে স্পষ্টভাবে প্রাক্তন বিধায়কের হুমকির সুর ধরা পড়েছে। জেলা বিজেপির মুখপাত্র কল্যাণ মাজি অভিযোগ করেন, ক্ষমতা হারিয়েও খোকন দাস এখনও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। তাই কখনও এফআইআরের ভয় দেখাচ্ছেন, আবার কখনও নিজেকে বিজেপি নেতা বলছেন।অন্যদিকে খোকন দাস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অডিও নিয়ে বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কোনও ব্যক্তিকে ভয় দেখানো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং মন্দির ও ট্রাস্টের নামে অপপ্রচার রোখার জন্যই পুলিশে জানানোর কথা বলেছিলেন। তাঁর আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট রাজমিস্ত্রি হিসেব না দেওয়ায় ট্রাস্টের পক্ষ থেকে টাকা আটকে রাখা হয়েছে।তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, যদি অডিওর প্রথম অংশে নিজের কণ্ঠস্বর স্বীকার করে নেওয়া হয়, তাহলে একই অডিওতে থাকা আমিও বিজেপি নেতা মন্তব্যকে অস্বীকার করা হচ্ছে কেন? এই নিয়েই নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে জেলা রাজনীতিতে।

মে ১২, ২০২৬
রাজনীতি

একদা কমিউনিষ্ট ঘাঁটিতে টানা তিনবার জিতেও নিশ্চিন্ত নয় তৃণমূল! বর্ধমান দক্ষিণে এবার কি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই?

দক্ষিণ বর্ধমান বরাবর কমিউনিস্টদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই কেন্দ্র থেকে প্রথম দুটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী। তখন তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন অবিভক্ত কমিউনিষ্ট পার্টি তথা সিপিআই থেকে। তারপর এই আসন থেকে কংগ্রেস প্রার্থী বর্ধমানের মহারানী রাধারাণী মহতাব জয়ী হয়েছিলেন। তার আগের নির্বাচনে বিনয় চৌধুরী পরাজিত করেছিলেন বর্ধমানের মহারাজাকে। সেই সম্মান পুনরুদ্ধার করতে কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছিলেন মহারাণী। তার পরে শুধু ১৯৬৭ ও ১৯৭২ সালে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস জয় পেয়েছিল। এখানে থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য। তাছাড়া ২০০৬ পর্যন্ত সিপিএম এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছে। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের ভোটে তৃণমূল প্রার্থী রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ব্যাপক ভোটের ব্য়বধানে পরাজিত করেন রাজ্যের তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেনকে। প্রায় ৩৭ হাজার ভোটে পরাজিত হন নিরুপম সেন। ২০১৬-তেও জয় পায় তৃণমূল। তখনও এই কেন্দ্রে প্রধান বিরোধী দল ছিল সিপিএম। রবিবঞ্জন চট্টোপাধ্যায় প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্য়বধানে সিপিএম প্রার্থী আইনুল হককে পরাজিত করেন। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ নন্দীকে পরাজিত করেন তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস। তবে জয়ের ব্যবধান অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি প্রায় অর্ধেক ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে থাকে তৃণমূলের থেকে। এই নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী পৃথা তা প্রায় ২৩ হাজারের ওপর ভোট পেয়েছিল।বর্ধমান পুরসভা এলাকা নিয়েই বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র। তবে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে কি হতে চলেছে তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই শহরজুড়ে। প্রথমত বিধায়ক খোকন দাসই টিকিট পাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। বিধায়ক অনুগামীরা জোরের সঙ্গে বলছেন টিকিট খোকন দাসই পাচ্ছেন। শহরে এক যুব নেতার নাম ভাসিয়ে দেওয়া হলেও বর্ধমান দক্ষিণে আদৌ সে টিকিট পাবেন কিনা তা নিয়ে কম জল্পনা নেই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ক্রীড়া অনুষ্ঠান সবেই জোরদার প্রতিযোগিতা চলছে তৃণমূলের দুই তরফ থেকেই। অনেকের আবার বক্তব্য, নেপোয় দই মেরে দেবে না তো!তৃণমূল যাকেই প্রার্থী করুক এবার জোরদার লড়াই হবে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে। এদিকে তৃণমূলের একটা সূত্রের দাবি, শহরে দলে ঘরের মধ্যে ঘর তৈরি হয়েছে। সেই ঘরও যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই সেই অংশের দাবি। তাঁদের ভূমিকা জয়-পরাজয়ে অনেকটা নির্ভর করবে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। পাশাপাশি যে ভাবে পর পর নির্বাচনে ওয়ার্ডগুলিতে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল তাতে সংশয় বেড়েছে। মোদ্দা কথা, পর পর তিনবার জয় পেলেও এবার বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে নেক-টু-নেক ফাইট হবার সম্ভাবনা প্রবল। একতরফা জয়ের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মার্চ ১০, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানে চেম্বারের মধ্যেই হাতুড়ে ডাক্তারকে কুপিয়ে খুন, থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ অভিযুক্তের

বর্ধমান শহরে নৃশংস খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। শহরের বাদামতলা এলাকায় নিজের চেম্বারের মধ্যেই এক হাতুড়ে ডাক্তারকে কাটারি দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করায় এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের নাম রাজা ভৌমিক (৪৫)। তিনি বর্ধমান শহরের বাবুরবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং গত দুবছর ধরে বাদামতলা এলাকায় একটি চেম্বার চালিয়ে চিকিৎসা করতেন। এই ঘটনায় শক্তিগড়ের আমড়া গ্রামের বাসিন্দা জীবন রুইদাস নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ প্রতিদিনের মতোই চেম্বার খোলেন রাজা ভৌমিক। কিছুক্ষণ পরেই চেম্বারে ঢোকে জীবন রুইদাস। অভিযোগ, তার সঙ্গে থাকা ব্যাগের মধ্যেই ছিল একটি ধারালো কাটারি। চেম্বারের ভেতরে ঢুকেই আচমকা রাজা ভৌমিকের উপর হামলা চালায় অভিযুক্ত। মাথায় একের পর এক কোপ মারলে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন রাজা ভৌমিক।এই নৃশংস কাণ্ড ঘটানোর পর অভিযুক্ত সরাসরি বর্ধমান থানায় গিয়ে হাজির হয় এবং পুলিশের কাছে খুনের কথা স্বীকার করে। এরপর পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে বাদামতলার চেম্বারে যায়। সেখান থেকে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকরা রাজা ভৌমিককে মৃত বলে ঘোষণা করেন।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্তের ঠাকুমা প্রায় এক মাস আগে মারা যান। অভিযুক্তের দাবি, রাজা ভৌমিকের চিকিৎসার কারণেই তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পনা করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক ব্যানার্জী জানান, অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। খুনের কারণ, পূর্বপরিকল্পনা এবং অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদামতলা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। খুনের ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে বর্ধমান থানার পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
রাজ্য

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মজয়ন্তী পালনে ঠাকুরপল্লী স্বামীজি সংঘ, সংবর্ধনা শিক্ষক সমাজকে

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মবার্ষিকী ধুমধাম করে পালন করল ঠাকুরপল্লী স্বামীজি সংঘ। এদিন সকালে প্রভাতফেরিতে অংশ নেয় কয়েক শো মানুষ। বিশেষ সজ্জিত ট্যাবলো প্রভাতফেরিকে আকর্ষণীয় করে তোলে। স্বামীজির গলায় মাল্যদান করেন ক্লাবের কর্মকর্তারা। ক্লাবের পতাকা উত্তোলন করেন সংগঠনের সভাপতি অরুন নন্দী।এদিন বিকেলে ক্লাব প্রাঙ্গনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। পাশাপাশি এলাকার ১২জন কৃতী ছাত্র-ছাত্রী ও ৯ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সোমবার সন্ধ্যায় ক্লাব প্রাঙ্গনে আবৃত্তি, সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রানবন্ত হয়ে ওঠে। আয়োজক ক্লাবের পক্ষে কোষাধ্যক্ষ সুখরঞ্জন সাহা, সহ সম্পাদক আশুতোষ দে বলন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা স্বামী বিবেকানন্দকে স্মরণ করেছি নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।এছাড়া সারাবছর নানা সমাজসেবা মূলক কাজ করে আমাদের ক্লাব। রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য শিবির, চক্ষু পরীক্ষা শিবির নিয়মিত ভাবে আয়োজন করে ক্লাব। স্বামীজি সংঘের কার্যকর্তা অনুপম গাইন, সঞ্জু সাহা, খোকন সরকার, কালাচাঁদ দে সহ অন্যদের সক্রিয় ভূমিকায় দিনভর অনুষ্ঠান সার্বিক সফলতা পেয়েছে।

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
রাজ্য

গ্রাম বাংলার অনবদ্য হস্তশিল্পের সৃষ্টি সম্ভার দেখতে বর্ধমানে 'সৃষ্টিশ্রী মেলা'য় মানুষের ঢল

লোকশিল্প, হস্তশিল্প ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পণ্যের বৈচিত্র্যে রীতিমতো উৎসবের চেহারা নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানে আয়োজিত ৫ম জেলা সৃষ্টিশ্রী মেলা (২০২৫২০২৬)। বর্ধমান শহরের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ময়দানে গত ২রা জানুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা চলবে ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত। মেলার প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে দিয়েছে, সৃষ্টিশ্রী মেলা শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়এ এক প্রাণবন্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলার বহু দর্শনার্থী প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন এই মেলায়। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও শিশুদের নিয়ে মেলায় এসে কেনাকাটার পাশাপাশি গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির স্বাদ নিচ্ছেন তাঁরা। দিনভর মেলা প্রাঙ্গণে মানুষের চলাচল, হাসি-আড্ডা ও ব্যস্ততা এক কথায় উৎসবের আবহ তৈরি করেছে।এবছরের সৃষ্টিশ্রী মেলার শুভ উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং সমবায় বিভাগের মন্ত্রী প্রদীপ কুমার মজুমদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, জেলার দুই সাংসদ কীর্তি ঝা আজাদ ও ডাঃ শর্মিলা সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসক আয়েষা রানী এ., জেলার বিধায়কগণ এবং বর্ধমান পৌরসভার পৌরপ্রধান পরেশ চন্দ্র সরকার সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা।এদিন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রায় ১৩ লক্ষ পরিবার বসবাস করেন। তার মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৭ লক্ষেরও বেশি পরিবার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আওতাভুক্ত হয়েছে। জেলায় বর্তমানে মোট স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। তিনি বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। স্বপন দেবনাথের কথায়, স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারই কার্যত গ্যারান্টারের ভূমিকা পালন করছে।তিনি আরও জানান, পূর্ব বর্ধমানে ব্যাঙ্ক ঋণ প্রাপ্তি যেমন সহজ হয়েছে, তেমনই ঋণ পরিশোধের হারও অত্যন্ত সন্তোষজনক। এই মেলায় শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা অংশ নিয়ে নিজেদের পণ্যের স্টল সাজিয়েছেন। এবছর মোট ৯০টি স্টল বসেছে মেলায়।অন্যদিকে জেলাশাসক আয়েষা রানী জানান, গত বছর সৃষ্টিশ্রী মেলায় প্রায় ২৭ কোটি টাকার বিপণন হয়েছিল। চলতি বছর সেই অঙ্ক আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই আশাবাদী জেলা প্রশাসন।পূর্ব বর্ধমান জেলা মিশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট, আনন্দধারা-র উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় স্থান পেয়েছে জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠী, হস্তশিল্পী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তৈরি বাহারি পণ্যের সম্ভার। মাটির কাজ, শোলা শিল্প, কাঠের কারুকাজ, কাঁথা সেলাই, বাটিক, হাতে বোনা শাড়ি, জুটের তৈরি সামগ্রী থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর নানান নান্দনিক উপকরণসব মিলিয়ে মেলাটি যেন বাংলার লোকশিল্পের এক জীবন্ত প্রদর্শনী। এবছর মেলায় প্রায় ৮০টি স্টল বসেছে, যেখানে গ্রামীণ শিল্পীদের শ্রম, সৃজনশীলতা ও ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।মেলায় আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে নারী ও তরুণদের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। অনেক তরুণ-তরুণী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি পণ্যের প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে স্বদেশি শিল্পকে সমর্থন করছেন। শিশুদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন, যা মেলার আকর্ষণ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।মেলায় অংশগ্রহণকারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের সরকারি উদ্যোগ তাঁদের জীবনে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাওয়ায় পণ্যের বিক্রি যেমন বাড়ছে, তেমনই নিজেদের উপর আত্মবিশ্বাসও অনেক গুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি সহায়তায় এই ধরনের মেলার আয়োজনকে তাঁরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।সন্ধ্যা নামলেই মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে উঠছে আরও রঙিন ও প্রাণবন্ত। লোকগান, লোকনৃত্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের মন জয় করছে শিল্পীরা। পুরো মেলা জুড়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে বলে জানান পূর্ব বর্ধমান জেলা গ্রামোন্নয়ন শাখার প্রকল্প অধিকর্তা রাখী বিশ্বাস। তিনি জানান, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীদের থাকার ও খাওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। পাশাপাশি মেলা চলাকালীন পর্যাপ্ত আলো, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্বাস্থ্য পরিষেবার দিকেও কড়া নজর রাখা হয়েছে।সব মিলিয়ে পূর্ব বর্ধমানের সৃষ্টিশ্রী মেলা আজ আর শুধুমাত্র একটি প্রদর্শনী বা বিক্রয় মেলা নয়এ গ্রামীণ শিল্প, লোকসংস্কৃতি ও স্বনির্ভরতার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উৎসাহে এই মেলা ইতিমধ্যেই জেলার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এক বিশেষ ও গৌরবজনক স্থান করে নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
রাজ্য

শোভনদেবকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে চাওয়ায় ফের আলোচনায় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

কখনও তৃণমূলের মন্ত্রীকে পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম আবার কখনও প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য....। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্করকুমার নাথকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির আয়োজিত রক্তদান শিবিরেও ফের বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন তিনি। অনুষ্ঠানের মঞ্চে রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি প্রণাম জানানোর প্রসঙ্গ তুলতেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক।মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্কে শুনে আসছেন, কিন্তু কখনও কাছ থেকে সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি। সেই আবেগ থেকেই তিনি প্রকাশ্যে মন্ত্রীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিতে চান বলে জানান। বক্তব্য থামিয়ে তিনি এগিয়ে যেতেই মুহূর্তে পরিস্থিতি ঘুরে যায়।উপাচার্যের সৌজন্যমূলক উদ্যোগের জবাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নিজেই এগিয়ে এসে তাঁর হাত ধরে ফেলেন। মন্ত্রী বলেন, তাঁর পরিবারে বহু শিক্ষক রয়েছেনস্ত্রী, পুত্রবধূ থেকে শুরু করে প্রয়াত বাবাও শিক্ষক ছিলেন। সেই কারণে তিনি শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাশীল। পায়ে হাত না দিয়ে হাতজোড় করেই প্রণাম জানানো যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রীর কথাতেই উপাচার্য হাতজোড় করে প্রণাম করেন এবং শোভনদেবও একইভাবে সৌজন্য প্রদর্শন করেন।তবে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ এর আগেও একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন উপাচার্য শঙ্করকুমার নাথ। এক অনুষ্ঠানে ক্রিকেট আইকন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে করা মন্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। সেই সময় সৌরভ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর জীবনে মা, স্ত্রী ও কন্যার ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।এছাড়াও তাঁর কার্যকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফর্মে ধর্মের উল্লেখ, সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্য, রাজ্য সরকারের মনোনীত রেজিস্ট্রারকে অপসারণ, শাসকদলের বিধায়কের প্রশংসা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গণেশ পুজোর আয়োজনপ্রতিটি বিষয়ই কমবেশি বিতর্ক তৈরি করেছে।সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের এই প্রণাম-প্রসঙ্গ নতুন করে উপাচার্যের ভূমিকা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিতর্কের তালিকায় আরও একটি অধ্যায় যোগ হলো বলেই মনে করছেন অনেকে। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, বর্ধমান পৌরসভার পৌরপতি পরেশ চন্দ্র সরকার সহ তৃণমূলের বিশেষ পদাধিকারিকেরা।

ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫
রাজ্য

বর্ধমানের জেলাশাসককে বেনজির হুঁশিয়ারি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর

মেমারির এক জনসভা থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরসারি আক্রমণ শানালেন বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েষা রানীর বিরুদ্ধে। নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, বর্ধমানের জেলাশাসক এখানে আছেন বেআইনি ভাবে। ইলেকশন কমিশনের গাইড লাইন অনুযায়ী ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার হওয়ার যোগ্য়তা তাঁর নেই। বর্ধমানের জেলাশাসক তৃণমূলের বিধায়ক, নেতাদের ডেকে ডেকে বলছেন বিজেপি ভালো ভোটার লিস্ট করছেন আপনারা করছেন না কেন? এটা আয়েষা রানীর কাজ? তবে এখানেই থামেননি শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে বর্ধমানের দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাসের বিরুদ্ধেও মারাত্মক অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু বলেন, কয়েকদিন আগে তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের ৫টাকার খাওয়ার উদ্ধোধন করতে গিয়েছিলেন জেলাশাসক। আমি জেলাশাসকের কাছ থেকে জানতে চাই খোকন দাসের সোর্স কি। এই ৫টাকার খাবার দিচ্ছে ব্যক্তিগত ভাবে, তার সোর্স কি? বালির টাকা না তোলার টাকা? সোর্স না জেনে ডিএম চলে যেতে পারেন? ইনকাম ট্যাক্স দফতর জানতে চাইলে দেখাতে পারবেন তো? ডিএম এখানে অবৈধ কাজের সঙ্গ যুক্ত। তিনি বলেন, আমি জেলাশাসকের কাছে জানতে চাই সোর্স না জেনে তিনি কি যেতে পারেন? ডিএম কবে অবৈধ কাজের জন্য় যুক্ত হলেন? এদিন পূর্ব বর্ধমান ছাড়া হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএমদের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এই জেলাশাসকরা কিছু বিএলও কে ডেকেছেন ওটিপি দেওয়ার জন্য়। এটা হ্যান্ডওভার করার জিনিস নয়। ওটিপির নম্বর আই প্যাকের কাছে দিয়ে দিচ্ছে। বিএলওরা আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। বিএলওর নাম দিয়ে আজ ইলেকশন কমিশিনের কাছে জেলাশাসকের নামে অভিযোগ করেছি। মাননীয়া আয়েষা রানী এসব কাজ করবেন না। আপনাকে আগে থেকে চিনি। এসব করলে বিপেদে পড়বেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু।

নভেম্বর ২২, ২০২৫
উৎসব

প্রাক শীতে বর্ধমান রাঙিয়ে দিল এক অন্য 'পলাশ', মহাসমারোহে শিশুদিবস পালিত বর্ধমান মডেল স্কুলে

মহাসমারোহে ও আনন্দঘন পরিবেশে আজ বর্ধমান মডেল স্কুলে পালিত হল চাচা নেহেরুর জন্মদিন যা ভারতবর্ষে শিশুদিবস হিসাবে পালিত হয়। সকাল থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণে ছিল কচিকাঁচাদের হাসি, গান, নাচ এবং নানা আয়োজনের রঙিন ছটা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কথা বলা পুতুল (ভেন্ট্রিলোকুইজম), যাদু প্রদর্শনী ও শিক্ষক/শিক্ষাকর্মী বনাম ছাত্রদের ক্রিকেট ম্যাচে জমে ওঠে দিনভর উৎসবমুখরতা।দিনের মূল আকর্ষণ ছিলেন জি বাংলার মীরাক্কেল খ্যাত পলাশ অধিকারী। তাঁর অসাধারণ ভেন্ট্রিলোকুইজম পরিবেশনা শিশুদের মুগ্ধ করে দেয়। নানান মজার চরিত্র, ছাত্রদের সাথে চমৎকার কথোপকথন ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় তিনি শিক্ষার্থী ও দর্শকদের মন জয় করেন। তাঁর সাথে তালে তাল মিলিয়ে ইন্দ্রজাল (যাদু) পরিবেশন করেন অম্বরীশ দাস।অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ পর্ব ছিল শিক্ষক/শিক্ষাকর্মী বনাম ছাত্রদের প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। হাসি-মজা ও উচ্ছ্বাসে ভরা এই খেলায় ছাত্ররা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয়।সংস্থার কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল শিশুদিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, যতদিন শিশু থাকা যায় ততদিনই মঙ্গল। বড় হলেই যত সমস্যা। তিনি আরও যোগ করেন, শিশুদের নিষ্পাপ মন ও সরলতা বজায় রেখেই তারা যেন বড় হয়ে ওঠে।তিনি বিখ্যাত কবিতার পংক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে। ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা সবাই একদিন বড় হবে, তখন তোমাদের বাবা-মায়ের মতোই দায়িত্ব নিতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের সকল শিশুর প্রতি স্নেহ, ভালোবাসা ও আশীর্বাদ জানিয়ে তিনি কামনা করেন, তারা যেন এই পৃথিবীর নতুন বাণীর অগ্রদূত হয়ে উঠতে পারে।এই বিশেষ দিন উপলক্ষে সকল ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য মিষ্টিমুখের আয়োজন করা হয়। বর্ধমান মডেল স্কুলে দিনটি শেষ হয় শিশুদের হাসিখুশি মুখ, আনন্দময় মুহূর্ত এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যা নিশ্চিতভাবেই তাদের আগামী দিনের বড় হয়ে ওঠার পথে সুন্দর এক স্মৃতি হয়ে থাকবে।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
রাজ্য

‘চাপ সামলাতে পারেননি’— ফর্ম বিলির চাপে ব্রেন স্ট্রোক, মৃত্যু মহিলা বিএলও-র! হইচই মেমারিতে

এসআইআর আতঙ্কে কাঁপছে রাজ্য। কোথাও ফর্ম না পেয়ে কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন, আবার কোথাও কাজের চাপে প্রাণ যাচ্ছে সরকারি কর্মীর। এবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে ফর্ম বিলির চাপ সামলাতে না পেরে মৃত্যু হল এক মহিলা বিএলও-র। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক মহলে।মৃতার নাম নমিতা হাঁসদা (৩৮)। তিনি পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ছিলেন এবং মেমারি চক বলরামপুরের ২৭৮ নম্বর বুথের বিএলও দায়িত্বে ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর ফর্ম বিলির কাজে তাঁকে অমানবিক চাপের মধ্যে ফেলা হয়েছিল। দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল বারবার। প্রতিদিনই ফোন আসত বিডিও অফিস থেকে কত ফর্ম বিলি হয়েছে? টার্গেট পূর্ণ হল কি?স্বামী মাধব হাঁসদা বলেন, ওকে খুব চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আমরা বারবার বলেছি, এতটা মানসিক চাপ নিও না। কিন্তু ওর দায়িত্ববোধটা খুব বেশি ছিল। সব সময় চিন্তা করত কাজ শেষ হয়নি। শনিবার সন্ধ্যায় ফর্ম বিলি করে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন নমিতা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, শেষরক্ষা হয়নি।পরিবারের দাবি, এসআইআর ফর্ম নিয়ে এই অতি তৎপরতার চাপে ওর মৃত্যু। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছিল। খাওয়া-দাওয়াও ঠিক মতো করত না।এই ঘটনার পর এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকাও নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। মৃতার স্বামী অভিযোগ করেন, ওকে এত কাজ দেওয়া হয়েছিল যে, শরীরটাই ভেঙে গিয়েছিল।বর্ধমানের জেলা শাসক আয়েশা রানি জানিয়েছেন, ঘটনাটা আমরা দেখছি। তদন্ত করে দেখা হবে আসল কারণ কী।অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা কাউকে কোনও চাপ দিইনি। যারা কাজের ওপর চাপ দিচ্ছে, তারা প্রশাসনের লোকজন। সাধারণ মানুষের সামনে এই নাটক তৈরি করা হচ্ছে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যে চলমান এসআইআর বিতর্ককে আরও উসকে দেবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এবার সরকারি কর্মীর মৃত্যু সেই আতঙ্ককে নতুন মাত্রা দিল।মেমারির এই ট্র্যাজেডি এখন প্রশ্ন তুলছে এসআইআর ফর্ম বিলির নামে কি রাজ্যে প্রশাসনিক অমানবিকতার চিত্রই ফুটে উঠছে?

নভেম্বর ০৯, ২০২৫
রাজ্য

আত্মার অনুজ্ঞা: ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হল বর্ধমানের বিদ্যালয়ে

আজকের দিনটি ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায় স্মরণ করাল। ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বরএক শতাব্দী ও অর্ধকাল আগে, ৩৭ বছর বয়সী এক সাহিত্যিক তাঁর অন্তরের অনুজ্ঞায় লিখে ফেলেছিলেন একটি গানবন্দে মাতরম, সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাং। নৈহাটির সেই নীরব প্রেরণা থেকেই জন্ম নিয়েছিল এমন এক স্তব, যা শতবর্ষ পেরিয়েও অনুরণিত আজও ভারতবাসীর হৃদয়ে।সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, এই গানটিকে সাত বছর পরে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস আনন্দমঠ-এ অন্তর্ভুক্ত করেন, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে ভারতীয়দের একত্রিত করেছিল এক মহৎ আহ্বানেদেশমাতৃকার বন্দনায়। ভারত সরকার পরবর্তীতে একে জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা প্রদান করে।আজ, বর্ধমানের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে সাড়ম্বরে পালিত হল এই ঐতিহাসিক রচনার ১৫০ বছর পূর্তি।বিদ্যালয়ের প্রাত্যহিক সম্মেলনে শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায় স্মরণ করালেন,কোন জাতি দেশকে মা রূপে, কোন জাতি পিতা রূপে সম্বোধন করে। বন্দে মাতরম-এর এই দুই শব্দে যে ভারতমাতার বন্দনা করা হয়েছে, তাঁর স্নেহচ্ছায়ায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল আসমুদ্রহিমাচল ভারতবাসী। প্রথম স্তবকটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হওয়ায় এটি সর্বজনগ্রাহ্য ও সর্বজনাদৃত হতে পেরেছে।বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক, রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন,বন্দে মাতরম এমন এক উচ্চারণ যা আমাদের ছোটবেলাকে দেশপ্রেমে উষ্ণ করেছিল। আজও এই উচ্চারণ আমাদের অনুপ্রাণিত করে সেই মহত্তম দেশনায়কদের দেখানো পথে এগিয়ে যেতে।উৎসব উপলক্ষে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশপ্রেমমূলক কবিতা আবৃত্তি ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সঙ্গীত অনুষ্ঠান। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিধ্বনিত হয় সেই অমর আহ্বানবন্দে মাতরম।

নভেম্বর ০৭, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 17
  • 18
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

সেবাশ্রয় দুর্নীতি মামলায় বড় স্বস্তি অভিষেকের, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপে হাইকোর্টের নিষেধ

সেবাশ্রয় দুর্নীতি-সহ তিনটি মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর মামলাগুলির পরবর্তী শুনানি হবে।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। সেই এফআইআরগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। এর আগে পাঁচটি মামলায় রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। এবার আরও তিনটি মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেলেন তিনি। ফলে এখনও পর্যন্ত মোট আটটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে আদালতের সুরক্ষা রয়েছে।নতুন করে যে তিনটি মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে দুটি বিষ্ণুপুর থানায় এবং একটি রবীন্দ্রনগর থানায় দায়ের হয়েছিল। জমি সংক্রান্ত দুর্নীতি এবং সেবাশ্রয় দুর্নীতির অভিযোগে ওই মামলাগুলি করা হয়েছিল। সেই মামলাতেই আপাতত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।শুক্রবার শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাজ্যের তরফে অভিষেককে রক্ষাকবচ দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়। রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, মামলার নথি খতিয়ে না দেখে এই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া উচিত নয়।এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জানান, অভিষেকের বিষয়ে শুধু এই এজলাসেই নয়, হাইকোর্টের অন্য এজলাসেও বিভিন্ন নির্দেশ হয়েছে। এমনকি বিদেশে যাওয়ার অনুমতিও তাঁকে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, গত মে মাস থেকে অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি শুনতে গিয়ে অন্য মামলার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হল।এর আগে সই জাল সংক্রান্ত মামলাতেও অভিষেকের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সুরক্ষা আগামী নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। পাশাপাশি আমতলায় অভিষেকের দলীয় কার্যালয় ভাঙার ক্ষেত্রেও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি নিয়েও অভিষেককে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু তার পরেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়। সেই বিষয়েও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন অভিষেক।ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল হাইকোর্ট। অনলাইনে কেওয়াইসি করা সম্ভব হলে অভিষেককে কেন সশরীরে ব্যাঙ্কে যেতে হবে, সেই প্রশ্ন করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। পরে বাড়িতে গিয়ে কেওয়াইসি আপডেট করার নির্দেশও দেওয়া হয়।সব মিলিয়ে একের পর এক মামলায় আদালতের রক্ষাকবচ পাওয়ায় আপাতত স্বস্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বাকি মামলাগুলির আইনি লড়াই এখনও জারি রয়েছে।

আগস্ট ২১, ২০২৬
দেশ

ছররা গুলির ঘটনায় এফআইআর চেয়ে থানার সামনে রাহুল, কয়েক ঘণ্টার নাটকীয়তার পর বড় মোড়

রাজধানী দিল্লিতে ছররা গুলি চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হল। আহত এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হাজির হন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি ছিল, গত ২০ জুলাই ছাত্রদের সংসদ চলো অভিযানের সময় র্যাফের ছররা গুলি চালানোর ঘটনায় এফআইআর দায়ের করতে হবে।শুক্রবার সকালে আহত যুবক সাহিল লোচাবকে সঙ্গে নিয়ে থানায় পৌঁছন রাহুল। আচমকা তাঁকে থানায় দেখে আধিকারিকদের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। রাহুলের অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলনের সময় ছররা গুলি চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় কার নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল, তা তদন্ত করে প্রকাশ্যে আনার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছেন তিনি।থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করার দাবি জানান রাহুল। অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ এফআইআর দায়ের করতে রাজি হয়নি। এর পর থানার বাইরে আহত যুবককে সঙ্গে নিয়ে ধর্নায় বসে পড়েন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর বক্তব্য ছিল, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের না হওয়া পর্যন্ত তিনি ধর্না চালিয়ে যাবেন।এই ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে। ওই দিন সংসদ অভিযানের সময় র্যাফের ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। প্রথমে দিল্লি পুলিশ ছররা গুলি চালানোর ঘটনা অস্বীকার করেছিল বলে অভিযোগ। পরে কেন্দ্রীয় রিজ়ার্ভ পুলিশ বাহিনীর তদন্তে ছররা গুলি ব্যবহারের তথ্য উঠে আসে বলে দাবি করা হয়েছে।এর পর থেকেই রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলছিলেন, আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপর ছররা গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল। তাঁর দাবি, এই ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসা প্রয়োজন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।এ দিন পুলিশ রাহুলকে জানায়, বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু তাতেও নিজের দাবিতে অনড় থাকেন রাহুল। তিনি জানান, ছাত্রদের পাশে তাঁরা রয়েছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি থেকে পিছিয়ে যাবেন না।দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা থানার সামনে ধর্না চলার পর অবশেষে সাহিল লোচাবের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়। ফলে ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ নিয়ে দিল্লিতে তৈরি হওয়া টানাপড়েনে আপাতত নতুন মোড় এল।

আগস্ট ২১, ২০২৬
কলকাতা

ক্লাস নাকি জনগণনা? শিক্ষকদের নিয়ে বড় নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের, কী বললেন বিচারপতি

শিক্ষকদের জনগণনার কাজে ব্যবহার নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়। স্কুলের পঠনপাঠন এবং জনগণনার কাজদুইয়ের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা হবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, জনগণনার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়, দিন ও জায়গা জানিয়ে দিতে হবে। একই সময়ে স্কুলের পঠনপাঠন যাতে ব্যাহত না হয়, তার ব্যবস্থাও করতে হবে।শিক্ষকদের জনগণনার কাজে দায়িত্ব দেওয়া হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই কাজই তাঁদের কর্তব্য হিসেবে গণ্য হবে। সেই সময়ে তাঁদের শিক্ষকতার কাজ করতে হবে না। তবে জনগণনার দায়িত্ব পাওয়া শিক্ষকরা সেই কাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারবেন না।এর আগে রাজ্য সরকারের একটি নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, স্কুলের পঠনপাঠন যাতে কোনও ভাবেই ব্যাহত না হয়, সেজন্য স্কুলের সময়ের পরে অথবা সপ্তাহান্তে শিক্ষকদের দিয়ে জনগণনার কাজ করানো যেতে পারে। সেই নির্দেশিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। আদালতের প্রশ্ন ছিল, স্কুল ছুটির পর অন্য জায়গায় গিয়ে জনগণনার কাজ করতে হলে শিক্ষকদের বাড়ি ফিরতে কত রাত হবে?এই পরিস্থিতিতে পুরনো নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্কুল শিক্ষা দফতর। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জনগণনার কাজকেও শিক্ষকদের সরকারি দায়িত্ব বা কর্তব্যের অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফেও আগে জানানো হয়েছিল, শিক্ষকদের এমন ভাবে কাজে লাগাতে হবে যাতে স্কুলের পঠনপাঠন কোনও ভাবেই ব্যাহত না হয়।শুক্রবারের রায়ে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট করে দেন, জনগণনার কাজে শিক্ষকদের ব্যবহার করতে হলে আগে থেকেই তাঁদের নির্দিষ্ট সময়, দিন এবং কাজের জায়গা জানাতে হবে। সেই অনুযায়ী স্কুল কর্তৃপক্ষকে পঠনপাঠন চালু রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ জনগণনার কাজের জন্য শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হলেও স্কুলের স্বাভাবিক পড়াশোনা বন্ধ রাখা যাবে না।জনগণনার দায়িত্ব পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের দায়িত্বকেই তাঁদের কর্তব্য হিসেবে গণ্য করা হবে। সেই সময় তাঁদের জনগণনার কাজই করতে হবে। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর কোনও শিক্ষক তা অস্বীকার করতে পারবেন না। ফলে শিক্ষকদের জনগণনার কাজে ব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতায় হাই কোর্টের এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

আগস্ট ২১, ২০২৬
কলকাতা

৩৭ ঘণ্টা পর যাদবপুরে এফআইআর! বুধবার রাতের ঘটনায় ঠিক কী অভিযোগ জানাল বিশ্ববিদ্যালয়?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় অবশেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করল কর্তৃপক্ষ। বুধবার রাতের ঘটনার প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে যাদবপুর থানায় এফআইআর করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবারের অশান্তির ঘটনায় তদন্তের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। সেই মতো শুক্রবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তিন সদস্যই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, বাবা সাহেব আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং আরও এক আধিকারিক।যাদবপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১২টার পর কয়েক জন বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকেছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের সিসিটিভি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। এরপর অরবিন্দ ভবনের কোলাপসেবল গেটের সামনে আগুন ধরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এফআইআরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া নাকি বহিরাগত, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।অন্য দিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতীকী ফলক নিয়ে কর্মবিরতিতে বসেছেন অধ্যাপকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঠিক তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এফআইআর দায়েরের সিদ্ধান্তকে তাঁরা প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।তাঁর দাবি, ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও পড়ুয়া ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার বহিরাগতরা জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।ফলক ভাঙার ঘটনাতেও পৃথক তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার দাবিও জানিয়েছেন অধ্যাপকদের একাংশ। ফলে এফআইআর দায়ের এবং তদন্ত কমিটি গঠনের পর যাদবপুরের অশান্তির ঘটনায় এবার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ২১, ২০২৬
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে নিয়ে অমিত শাহের মুখে এমন কথা! কী বদলেছে বাংলায়, মঞ্চে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এই আবহেই উত্তরবঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য জমি দেওয়াএকাধিক বিষয় তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সমন্বয়ের কথা জানান শাহ।মঞ্চে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বলেন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা পাওয়া সহজ হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রয়োজন হলে ফোন করলেই অনুমতি পাওয়া যায়, চিঠি পরে যায়। এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।শাহ আরও জানান, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফ এবং এসএসবির জন্য ১১২৯ একর জমি দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এই জমি ২০১৪ সাল থেকেই চাওয়া হচ্ছিল। আরও ২৯ একর জমি দেওয়ার বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব রয়েছে। বাংলার উন্নয়ন এবং রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, অনুপ্রবেশ বন্ধ না হলে বাংলা বা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সেই কারণে সীমান্তে কাঁটাতারের প্রয়োজন রয়েছে।এই প্রসঙ্গেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময়ের কথাও টেনে আনেন শাহ। তাঁর দাবি, বিএসএফের জন্য জমি দেওয়ার বিষয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বারবার আবেদন করা হয়েছিল। এমনকি তিনি নিজে তাঁর দফতরেও গিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মতি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত জমি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহ।শাহের কথায়, এসএসবি বা বিএসএফ কোনও রাজনৈতিক দল নয়। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই দল-মত নির্বিশেষে জওয়ানদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর ১০০ দিনের সময়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরে অমিত শাহের এই বক্তব্য রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য জমি দেওয়ার প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে।

আগস্ট ২১, ২০২৬
রাজ্য

রাতে আচমকা বর্ধমানের দুই হাসপাতালে হানা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, কি বললেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়?

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে জোর দিয়ে এবার রাতে সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে নামলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাতে আচমকাই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে যান তিনি। তার আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্ধমানের বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। দুই হাসপাতালেই চিকিৎসা পরিষেবা, পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং কর্মীদের কাজের পরিবেশ খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।রাত ৯টা নাগাদ বর্ধমান ২ নম্বর ব্লকের বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। আচমকা মন্ত্রীর আগমনে হাসপাতাল চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি মেডিসিন বিভাগে গিয়ে রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। চিকিৎসা পরিষেবা ও তাঁদের সমস্যার বিষয়ে খোঁজ নেন। তবে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি তিনি। সাফাইকর্মীকে ডেকে নিয়মিত এবং আরও মন দিয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন।এরপর রাত ১০টা নাগাদ আচমকাই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জরুরি বিভাগ-সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন তিনি। রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না জানতে চান। জুনিয়র ডাক্তার, নার্সিং স্টাফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তাঁদের প্রয়োজন, অসুবিধা এবং কাজের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেন।পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে নেতিবাচক কোনও অভিযোগ তিনি পাননি। অধিকাংশ রোগীই পরিষেবা নিয়ে সন্তুষ্ট বলে দাবি তাঁর। তবে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ঘাটতি এবং মহিলা চিকিৎসকদের রেস্ট রুমের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানান। হাসপাতালের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।নার্সিং স্টাফের ঘাটতি, বিশেষত জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত নার্সের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। চিকিৎসক ও নার্সদের বসার জায়গা, লেখালেখির প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বিশ্রামের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, চিকিৎসক-নার্সরা ভালোভাবে কাজ করতে না পারলে রোগী পরিষেবাও ব্যাহত হবে। তাই তাঁদের অভাবের পাশাপাশি আবদারও শুনতে হবে।বর্ধমান মেডিকেল কলেজের সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়েও মুখ খোলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কয়েকজন ছাত্রের নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে একজনকে আপাতত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তদন্ত এখনও চলছে বলেও জানান। থ্রেট কালচার প্রসঙ্গে তাঁর বার্তা, ভয় আউট, ভরসা ইন।অভীক দে-কে ঘিরে অনাময় হাসপাতালকে গ্রামীণ হাসপাতাল হিসেবে দেখিয়ে স্নাতকোত্তরে সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ এবং হাজিরা খাতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে এবং প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত। যোগ্য পড়ুয়াদের বঞ্চিত করে কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আগস্ট ২১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের প্রস্তুতি কতটা? কলকাতার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখল ব্রাজিল

কলকাতায় ব্রাজিল ফুটবল দলের সম্ভাব্য সফর ঘিরে প্রস্তুতি আরও জোরদার। অক্টোবরের শুরুতে ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ম্যাচের আগে বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসে বিভিন্ন পরিকাঠামো সরেজমিনে খতিয়ে দেখল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকে অনুশীলনের মাঠ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে ফুটবলারদের থাকার সম্ভাব্য হোটেলসবকিছুই পরিদর্শন করেন তাঁরা।বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিট নাগাদ সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পৌঁছয় ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত, প্রাক্তন ভারতীয় গোলকিপার সুব্রত পাল এবং রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। প্রথমে অনুশীলনের মাঠ ঘুরে দেখেন প্রতিনিধিরা। এরপর তাঁরা মূল স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যাচ আয়োজনের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন।স্টেডিয়াম পরিদর্শনের সময় একাধিক বিষয়ে বিশেষ নজর দেন ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা। প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড, ড্রেসিংরুম, বাথরুম, গোলপোস্ট এবং মাঠের ঘাসের মান পরীক্ষা করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খুঁটিয়ে দেখা হয়। অর্থাৎ শুধু ম্যাচ আয়োজনের মাঠ নয়, গোটা পরিকাঠামোই তাঁদের পরিদর্শনের আওতায় ছিল।এর আগে নিউটাউনে ফেডারেশনের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সেও যান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সেখানে সম্ভাব্য অনুশীলন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন তাঁরা। এরপর যুবভারতী সংলগ্ন একটি পাঁচতারা হোটেলও পরিদর্শন করা হয়। সেখানে ব্রাজিল দলের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়।ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাতীয় দলের জেনারেল সুপারভাইজার Srgio Dimas de Oliveira, প্রশাসনিক আধিকারিক Vinicius Barrozo Costa, মার্কেটিং ও অপারেশন ম্যানেজার Jos Vitor Senatore de Paula Lima, ফিজিওলজিস্ট Guilherme Passos Ramos এবং নিরাপত্তা বিভাগের প্রতিনিধি Bruno Mazzei Reis। কলকাতার বিভিন্ন ব্যবস্থা পরিদর্শনের পর তাঁরা ব্রাজিলে ফিরে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন।সূত্রের খবর, ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের আগে ৩০ সেপ্টেম্বরের আশপাশে ব্যক্তিগত বিমানে কলকাতায় আসতে পারে ব্রাজিল দল। অক্টোবরের শুরুতেই যুবভারতীতে টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নে সবরকম ব্যবস্থা করা হবে। দর্শকদের বিশ্বকাপ স্তরের ম্যাচের অভিজ্ঞতা দেওয়াই লক্ষ্য। ফলে ব্রাজিলের সম্ভাব্য সফর ঘিরে কলকাতার ফুটবলমহলে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ।

আগস্ট ২১, ২০২৬
রাজ্য

রেললাইনের পাশে মাঠে পড়ে যুবকের দেহ, রহস্য ঘিরে বিরাট চাঞ্চল্য

রঘুনাথগঞ্জের গদাইপুর এলাকায় রেললাইনের ধারের একটি মাঠ থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই এলাকায় যুবকের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতের নাম ছোটু রবিদাস (২৯)। তাঁর বাড়ি রঘুনাথগঞ্জের বালিঘাটা এলাকায়।স্থানীয়দের নজরে বিষয়টি আসার পর দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে বহু মানুষ জড়ো হন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।তবে রেললাইনের ধারের ওই মাঠে ছোটু রবিদাস কীভাবে পৌঁছলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়েও তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। যুবকের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হয়েছে, নাকি ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। মৃত যুবকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা। ছোটু রবিদাস কখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন এবং কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছেছিলেন, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।পুলিশের তরফে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।এদিকে, রেললাইনের ধারের মাঠে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গদাইপুর এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ২৯ বছরের যুবকের মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা জানতে তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আগস্ট ২১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal