• ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩, রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Burdwan

রাজ্য

শিশুমৃত্যুর পর তোলপাড় বর্ধমানে! হঠাৎ বন্ধ নার্সিংহোম, তদন্তে উঠে এল ভুয়ো চিকিৎসকের নাম

পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরের নবাবহাট এলাকার একটি নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচারের পর চার বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে কড়া পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য দফতর। রোগীর নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা পরিষেবায় গুরুতর ত্রুটি ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার পর ওই নার্সিংহোমের সমস্ত পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম এই নির্দেশ জারি করেছেন।গত ২ সেপ্টেম্বর ফাইমোসিসের অস্ত্রোপচারের জন্য ওই শিশুকে নবাবহাটের নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ ছিল, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই এই মৃত্যু। ঘটনার পর চিকিৎসক, অবেদন চিকিৎসক এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।ঘটনার পর শিশুটির বাবা-মা ও পরিজনেরা বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরের সামনে অবস্থানও করেন। এরপর স্বাস্থ্য দফতরের তরফে তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তেই নার্সিংহোমের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসে। তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই নার্সিংহোমের সমস্ত পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।তদন্তের মধ্যেই আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। শিশুটির অস্ত্রোপচার করেছিলেন শেখ সাইদুল হক নামে এক ব্যক্তি। তাঁর চিকিৎসক পরিচয় এবং শংসাপত্র নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। সাম্প্রতিক তদন্তে সাইদুলের নথি ভুয়ো বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের তরফে এমন অভিযোগে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানা গিয়েছে।শুধু শিশুটির অস্ত্রোপচার করা সাইদুলই নন, রাজ্যের আরও কয়েক জনের বিরুদ্ধে ভুয়ো চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁদের চিকিৎসা সংক্রান্ত যোগ্যতা এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় চিকিৎসকদের শংসাপত্র এবং চিকিৎসা করার অনুমতি কী ভাবে যাচাই করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, সাইদুল পূর্ব বর্ধমানের তালিত এলাকার বাসিন্দা। প্রায় দুই দশক আগে তিনি বাড়ি ছেড়ে বিহারে গিয়েছিলেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, তিনি ডাক্তারি পড়তে যাচ্ছেন। পরে বর্ধমানে ফিরে চিকিৎসা করছিলেন বলে পরিবার জানতে পারে।সাইদুলের বাবা শেখ আক্তার আলির দাবি, ছেলে কোথায় এবং কী ভাবে ডাক্তারি পড়েছিল, সে বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত কিছু জানতেন না। পরে বর্ধমানে ছেলে চিকিৎসা করছে বলে জানতে পারেন। এখন তাঁর শংসাপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন তিনি।এদিকে, সাইদুল বর্ধমানের একটি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসাবেও যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর সেই পদে তিনি কী ভাবে কাজ করছিলেন, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অন্য দিকে, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসার পর সাইদুল অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। নবাবহাট এলাকার যে আবাসনে তিনি থাকতেন, সেখানেও তালা ঝুলছে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনায় রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভুয়ো নথির ভিত্তিতে কী ভাবে চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন পাওয়া গেল, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। ইতিমধ্যে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের এবং তাঁদের নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।একটি শিশুর মৃত্যুর তদন্ত থেকে বর্ধমানে ভুয়ো চিকিৎসক চক্রের অভিযোগ সামনে আসায় গোটা ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। নার্সিংহোমে চিকিৎসার সময় কী কী নিয়ম মানা হয়েছিল, শিশুটির চিকিৎসায় কোথায় গাফিলতি হয়েছিল এবং অভিযুক্ত চিকিৎসকের যোগ্যতা যাচাই না করেই কী ভাবে তাঁকে অস্ত্রোপচারের দায়িত্ব দেওয়া হল, এখন সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

বিশ্বকর্মা পুজো ঘিরে রণক্ষেত্র ইউআইটি, বর্ধমানের ইউআইটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ক্লাস

বিশ্বকর্মা পুজোকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রগোষ্ঠীর বিবাদ চরমে উঠল বর্ধমানের ইউআইটিতে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজের সমস্ত ক্লাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইউআইটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনীল কারফর্মার। একই সঙ্গে কলেজের ভিতরে থাকা দুটি ছাত্রাবাসও খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে তিন নির্দিষ্ট ছাত্রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন অধ্যক্ষ। ঘটনায় জখম ছাত্ররাও পৃথক অভিযোগ করেছেন। দুটি অভিযোগ একত্র করে তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ চত্বরে চলছে পুলিশি টহল।ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবি, ইউআইটিতে সরকারি ভাবে কোনও ছাত্র সংসদ নেই। তবে যে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘাত, উভয় পক্ষই নিজেদের এবিভিপি-র সঙ্গে যুক্ত বলে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজো আয়োজনের জন্য দুই পক্ষই পৃথক ভাবে আবেদন করেছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষ দুটি আবেদনই মঞ্জুর করে।অধ্যক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় এক পক্ষ তাঁকে ঘেরাও করে দাবি করে, তাদের পুজোটিই একমাত্র পুজো হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশকে খবর দেন। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কলেজ চত্বরে দুই গোষ্ঠীর শতাধিক করে সদস্য মুখোমুখি হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নিরাপত্তারক্ষীদের পক্ষে সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।এরপরই অধ্যক্ষের ঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং আক্রান্ত ছাত্রদের দাবি, দুই পক্ষের সঙ্গেই এবিভিপির যোগ রয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সংগঠনের সাংগঠনিক পদেও রয়েছেন। অভিযোগ, বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে পিস্তল, বাঁশ ও লাঠি হাতে হামলা চালানো হয়। অধ্যক্ষের ঘরের পিছনের দরজা ভেঙে ঢোকারও অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্তদের দাবি, পিস্তলের বাঁট এবং পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরিস্থিতির চাপে কয়েকজন শৌচাগারের ভিতর আশ্রয় নেন বলেও দাবি করা হয়েছে।অন্যদিকে, আক্রান্ত ছাত্রদের একাংশের দাবি, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের তরফে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করতে চাওয়া হলেও তাঁদের পুজো স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল। সেই বিষয়টি জানতে তাঁরা অধ্যক্ষের কাছে গিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, সেই সময় সপ্তম সিমেস্টারের এক সক্রিয় এবিভিপি সদস্য অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকে তাঁকে মারধরের অভিযোগ করেন। তবে মারধরের কোনও চিহ্ন দেখাতে না পারায় অধ্যক্ষ তাঁর অভিযোগকে গুরুত্ব দেননি বলে দাবি আক্রান্তদের।যদিও গোটা ঘটনায় এবিভিপির যোগ অস্বীকার করেছেন সংগঠনের বর্ধমান মহানগরের সম্পাদক সুশোভন চৌধুরী। তাঁর দাবি, ইউআইটিতে এবিভিপির কোনও সংগঠনই নেই। যে প্যাড ব্যবহার করে পুজোর অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, তার সঙ্গেও এবিভিপির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, প্যাড যে কেউ বানাতে পারে। ওই প্যাড আদৌ এবিভিপির অনুমোদিত কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন তিনি।ঘটনার জেরে ইউআইটির পঠনপাঠন আপাতত বন্ধ। কলেজ চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
স্বাস্থ্য

বর্ধমানে বি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালন

২৫ বছর পূর্তিতে দিনভর নানা কর্মসূচি, ফ্রি কনসালটেশন ক্যাম্প ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার; কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ও স্ট্রোক নিয়ে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালন।ফিজিওথেরাপির প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে বর্ধমান শহরের বি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজে পালিত হল বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। মঙ্গলবার কলেজ প্রাঙ্গণে দিনভর নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ছিল বিশেষজ্ঞদের আলোচনা, বৈজ্ঞানিক সেশন, লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন এবং রোগীদের জন্য বিনামূল্যে কনসালটেশন ক্যাম্প।অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বর্ধমান শহরের বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জেন ড. শাশ্বত দত্ত। উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান মেডিকেল কলেজের উইংস অনাময় হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্ট ড. শিলাদিত্য দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বি আই এম এল এস কলেজের এথিকাল কমিটির চেয়ারম্যান ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. অভিষেক মিশ্র এবং বেঙ্গল ফেত হাসপাতালের বিশিষ্ট ফিজিওথেরাপিস্ট ড. অরোদীপ দাশগুপ্ত -সহ অন্যান্যরা।অনুষ্ঠানে বক্তারা দৈনন্দিন জীবনে ফিজিওথেরাপির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে উঠে আসে, ফিজিওথেরাপি শুধু চোট বা অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসনের জন্য নয়; দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অস্থিসন্ধির সমস্যা, পেশির দুর্বলতা, স্নায়বিক সমস্যা, চলাফেরার অসুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।এছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন বি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ড. এম এস আনোয়ার, সহকারি অধ্যাপক ড. সত্যেন ভট্টাচার্য্য, সহকারি অধ্যাপক ড. অমর্ত্য মল্লিক, সহকারি অধ্যাপক ড.তনিমা ভট্টাচার্য্য, সহকারি অধ্যাপক ড. প্রিয়াঙ্কা দাস ও সহকারি অধ্যাপক ড. রজনী মিশ্র দাসগুপ্ত।২৫ বছর পূর্তিতে রোগী পরিষেবায় বিশেষ উদ্যোগবি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এম এস আনোয়ার জানান, বি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের ওপিডি পরিষেবার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপি পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে ওপিডিতে আয়োজন করা হয় ফ্রি কনসালটেশন ক্যাম্প। তিনি জানান দিনভর এই ক্যাম্পে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি আয়োজিত হয় বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনার।কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ও স্ট্রোক নিয়ে বিশেষ সেশনবি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজের বিশিষ্ট ফিজিওথেরাপি ডাক্তার ড. সত্যেন ভট্টাচার্য্য জানান, এবারে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে বিশেষ থিম ছিল কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ও স্ট্রোক। এদিনের বৈজ্ঞানিক সেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ এবং স্ট্রোক। স্ট্রোকের পর রোগীর স্বাভাবিক চলাফেরা, পেশিশক্তি, ভারসাম্য এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। তিনি জানান, সেমিনারের পাশাপাশি বিভিন্ন থেরাপিউটিক পদ্ধতি নিয়ে লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনও দেখানো হয়।রোগীদের সাফল্যের গল্পে উঠে এল ফিজিওথেরাপির গুরুত্বসহকারি অধ্যাপক ড. অমর্ত্য মল্লিক জনতার কথাকে জানান, আজকের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে উপকৃত হওয়া রোগীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা। বিশেষ করে ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন ধরনের ডিফর্মিটি বা ডিসঅ্যাবিলিটি নিয়ে বেড়ে ওঠা কয়েকজন রোগী কীভাবে চিকিৎসা ও নিয়মিত ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে এসেছেন, সেই অভিজ্ঞতা তাঁরা তুলে ধরেন।তাঁদের এই অভিজ্ঞতা উপস্থিতদের কাছে শুধু অনুপ্রেরণার নয়, বরং পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপির গুরুত্বের একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও উঠে আসে।কলেজের অধ্যক্ষ ড. এম এস আনোয়ার বলেন মানুষ কে জানতে হবে ফিজিওথেরাপি কেন গুরুত্বপূর্ণ?ফিজিওথেরাপির অন্যতম লক্ষ্য হল শরীরের নড়াচড়া ও কার্যক্ষমতা উন্নত করা, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা এবং রোগীকে যতটা সম্ভব স্বনির্ভর করে তোলা।স্ট্রোক-পরবর্তী পুনর্বাসন, অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা, কোমর-ঘাড়-কাঁধ বা হাঁটুর ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, স্পোর্টস ইনজুরি, শিশুদের শারীরিক বিকাশজনিত সমস্যা এবং বয়স্কদের চলাফেরার সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।তবে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও রোগের ধরন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপির পদ্ধতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন এবং প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী থেরাপি নেওয়া উচিত।বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে বি আই এম এল এস ফিজিওথেরাপি কলেজের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে উঠে এল একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাফিজিওথেরাপি শুধু ব্যথা কমানোর পদ্ধতি নয়, বরং একজন মানুষকে সুস্থ, সচল ও স্বনির্ভর জীবনে ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাবে বিরাট টানাপোড়েন, কনভেনশনে ঘোষণা নয়া কমিটি, বর্তমান এক কার্যকর্তার পদত্যাগ, সরগরম সংবাদমহল

বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাব (বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব) -এর সদস্যদের এক বড় অংশের উদ্যোগে রবিবার কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছিল পারবীরহাটায় একটি হোটেলের সভাগৃহে। এই সংগঠনের বর্তমান কার্যকর্তাদের কার্যাবলী নিয়ে এই কনভেনশনে নানা প্রশ্ন ওঠে। বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব থেকে অন্যায় ভাবে ১৭ জন সদস্যকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এদিকে কনভেনশনে ২০২৬২০২৮ মেয়াদের পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। এদিকে জানা গিয়েছে, বর্তমান প্রেস ক্লাবের অন্যতম এক কার্যকর্তা কার্যকরী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। কার্যকরী কমিটির হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ থেকে লেফ্ট হয়ে গিয়েছেন সোমবার রাতে। অবশ্য এর আগেও তিনি বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। এদিনের কনভেনশন নিয়ে বিরাট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমান জেলার সংবাদ মাধ্যমে।বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা প্রেস ক্লাবের নয়া ভবন নির্মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক পার্থ চৌধুরী, জগন্নাথ ভৌমিক। ওই ভবন নির্মান করার জমি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকী জনৈক সদস্য ১০০ বস্তা সিমেন্ট দিয়েছিল, তাও সাধারণ সদস্যদের জানানো হয়নি বলে জোরালো অভিযোগ করা হয়েছে। এদিনের কনভেনশন থেকে বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব-এর ২০২৬২০২৮ মেয়াদের পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কার্যকরী কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন সদস্য মিথিলেশ রায় ও স্বরূপ মুখার্জী। প্রস্তাব সমর্থন করেন আব্দুস সবুর এবং উত্তম দাস। সভায় এই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী অভিজিৎ তা, বিধায়ক সুভাষ পাত্র এবং সৌমেন কার্ফা। ছিলেন চিকিৎসক এস আর ব্যানার্জি, সমাজসেবী পূরব সাম, দেবজ্যোতি সিংহরায়, গৌরব সমাদ্দার, বিশ্বেশ্বর চৌধুরী, আইনজীবী রমেশ সিং। নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন পার্থ চৌধুরী। কার্যকরী সভাপতি হয়েছেন সোমনাথ ভট্টাচার্য এবং সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সন্দীপ ঘোষ চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন প্রসেনজিৎ সামন্ত। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সুজাতা মেহারা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ঋষিগোপাল মণ্ডল, সহ-সম্পাদক পদে সন্তোষ দাস, ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রসূন সামন্ত, কোষাধ্যক্ষ পদে আমিনুর রহমান এবং অফিস সম্পাদক পদে কৌশিক সিনহা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও কমিটির স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তারকনাথ রায়, শ্যামল মুখার্জী ও জগন্নাথ ভৌমিক। কার্যকরী কমিটির সদস্যরা হলেন বিশ্বনাথ পাল, অরূপ লাহা, বিজন ঘোষ, রাম নারায়ণ কুণ্ডু, সুজিত দত্ত, অভিজিৎ সাহা, সুদিন মণ্ডল, সুমিত ভগত, সুমনা সামন্ত, মানস দাস, বিশ্বজিৎ হাজরা, নয়ন রায়, মনোতোষ পোদ্দার, শেখ শাহজাহান, রঞ্জিত পণ্ডিত, তনুশ্রী ব্যানার্জী, উদিত সিংহ, ধীমান রায়, রাধামাধব মণ্ডল, অসিত রাউত, অতনু হাজরা। তবে সুজাতা মেহেরা সোশাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছেন তিনি কোনও পদে থাকতে চান না।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টামণ্ডলীতে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, মন্ত্রী কলিতা মাঝি, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং বিধায়ক মানব গুহ, অরুণ হালদার, সুভাষ পাত্র, রাজু পাত্র, সৌমেন কার্ফা, অনাদি ঘোষ, শিবাশিস ঘোষ, কৃষ্ণ ঘোষ, গোপাল চট্টোপাধ্যায়, সৈকত পাঁজা, সিদ্ধার্থ মজুমদার ও প্রাণকৃষ্ণ তফাদার। এছাড়াও উপদেষ্টা মণ্ডলীতে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসাবে রয়েছেন সমাজসেবী অভিজিৎ তা, ড. এসআর ব্যানার্জী, পূরব শাম ও দেবজ্যোতি সিংহ রায়, পিপি সদন তা, এপিপি রমেশ কুমার সিং এবং শিক্ষাবিদ জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও সুদত্তা ব্যানার্জী। জেলার সব কটি মহকুমা থেকেই ১১৫ জন সাংবাদিক এই কনভেনশনে অংশ নেন। তবে নতুন কমিটি ঘোষণার পর অন্য কমিটি থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজ্য

শিক্ষক-ছাত্রের বন্ধনে উদ্‌যাপিত শিক্ষক দিবস কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে

যথাযথ মর্যাদা, আবেগ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ শিক্ষক দিবস পালিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলএকাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের সক্রিয় পরিচালনায় শিক্ষক দিবসের সম্পূর্ণ আয়োজন।দিনের শুরুতেই সমবেত প্রার্থনাসভার ঘণ্টা বাজানো থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রথম পিরিয়ডের পাঠদানসব দায়িত্বই দক্ষতার সঙ্গে সামলান পড়ুয়ারা। শিক্ষকতার দায়িত্ব এক দিনের জন্য নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে তাঁরা উপলব্ধি করেন শিক্ষকতার ভূমিকা ও দায়িত্বের গভীরতা।এরপর সরকারি নির্দেশিত কেমন হবে আমার বিদ্যালয় শীর্ষক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চম থেকে নবম এবং নবম থেকে দ্বাদশএই দুই বিভাগে প্রতিযোগিতা হয়। প্রতিটি বিভাগে সেরা প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।পরবর্তী পর্বে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সায়ন্তিকা, হেমা, শ্রেয়া, জয়ন্তিকাদের নৃত্য, সঙ্গীত ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানে ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জীবন ও কর্ম নিয়ে বক্তব্য রাখে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সুরজ কুরি।বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক কমল সাহা তাঁর বক্তব্যে শিক্ষকতার সঙ্গে জীবনের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষকতা আমাদের জীবনেরই অঙ্গ। ছাত্রজীবন থেকেই আমাদের পথচলা শুরু হয়, আর শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে জীবনের সৌরভ অনুভব করা যায়। একসময় উপলব্ধি হয়, ছাত্র থাকা আসলে চিরকালেরকারণ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই আমাদের কিছু না কিছু শিখতে হয়। বক্তব্যের পর তাঁর কণ্ঠে রানার গানটি অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডল শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে আজকের দিনে আমাদের নিজেদের মানসিকতাকে আরও একবার ফিরে দেখা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, মন আসলে একটি কল্পতরু। মনের কাছে যা চাইবে, তাই পাবে। তাই তোমাদের ঠিকভাবে চাইতে শেখা দরকার।এরপর দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী মৌসুমি ও বর্ষা বিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আবেগঘন করে তোলে অনুষ্ঠানের পরিবেশ।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। তিনি বলেন, অন্য কোনও প্রাণী প্রজাতির মধ্যে শিক্ষক দেখা যায় নাএই বৈশিষ্ট্য একমাত্র মানুষের মধ্যেই রয়েছে। একদিকে এই বৈশিষ্ট্য সভ্যতার অগ্রগতিতে মানুষের মুখ্য ভূমিকা নির্ধারণ করে, অন্যদিকে মানুষের উপর এক বিরাট দায়িত্বও অর্পণ করে।তিনি আরও বলেন, আমরা বর্তমানে যা কিছু করি, তার প্রতিটিই ভবিষ্যৎ সময়ের ভিত্তি তৈরি করে। তাই আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম জীবনের সঠিক পথ চিনতে পারে এবং সেই পথ ধরে এগিয়ে যেতে পারে।শিক্ষক দিবসের এই আয়োজন তাই শুধুমাত্র শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; শিক্ষক ও ছাত্রের পারস্পরিক ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং আগামী দিনের স্বপ্নকে একসূত্রে বেঁধে দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানে খাদ্য দফতরের হানা, কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা?

মিষ্টির জন্য বিখ্যাত বর্ধমান। এই শহরের সীতাভোগ ও মিহিদানার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। শক্তিগড়ের ল্যাংচারও যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা? খাদ্য দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানের কঙ্কালসার চেহারা। একের পর এক দোকান মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্যসামগ্রী রাখছে। এই তালিকায় নামীদামী দোকানও আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও মিষ্টির দোকান, হোটেল ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর বর্ধমানে একাধিক নামী মিষ্টির দোকানে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির উদ্ধারের পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া আইসক্রিম ও নরম পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি।সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত বর্ধমান শহরে এদিনের অভিযান শুরু হয় বর্ধমান পুরসভার সামনের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনিরের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ওই পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পনির বিক্রি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।এরপর বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারই নয়, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ একাধিক সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। একটি দোকান থেকে ঘির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বর্ধমান শহরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চলছে এই নজরদারি। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব এবং সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বুধবারও পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আমড়া এলাকার একাধিক হোটেলে পরিদর্শন করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।আমড়ার একটি হোটেল পরিদর্শনের পর ফুড সেফটি অফিসার প্রদীপ্ত মণ্ডল জানান, সেখানে কোনও অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। তবে হোটেলের ভিতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানায় দফতর। হোটেল মালিককে নোটিশ দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং খাবারের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
শিক্ষা

সাহিত্য, বিজ্ঞানচিন্তা ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা ‘INSPIRE 2026’

সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে বর্ধমান শহরে সূচনা হল বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক প্রদর্শনী INSPIRE - 2026। নতুনকে জানার কৌতূহল, অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্নসব মিলিয়ে প্রথম দিনেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠল এক টুকরো জীবন্ত বিজ্ঞানভুবন।বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে এবং Oriental Association for Education and Research (OAER)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ১৪ আগস্ট ২০২৬ ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ ই আগস্ট পর্যন্ত।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও OAER এবং বর্ধমান মডেল স্কুলের পরিচালক ও আধিকারিকবৃন্দ। তবে অনুষ্ঠানের প্রকৃত প্রাণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের খুদে ও তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কল্পনা, অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ছড়িয়ে ছিল প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রান্তে। কোথাও বিজ্ঞানের জটিল সূত্র পেয়েছে সহজবোধ্য মডেলের রূপ, কোথাও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলেমিশে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ছবি। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাট্যচর্চার নানা আয়োজন প্রদর্শনীকে দিয়েছে আরও বহুমাত্রিক রূপ।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র INSPIRE - 2026 -এর উদ্দেশ্য এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তিনদিনের এই প্রদর্শনীর নামকরণই যেন তার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করেINSPIRE - 2026। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যায়, আগামী প্রজন্মের প্রতিভা কতটা বিস্ময়কর। শিক্ষকদের সহযোগিতা থাকলেও ভাবনার মূল উৎস যে শিক্ষার্থীরাই, তাঁদের তৈরি মডেল, তাঁদের ব্যাখ্যা এবং দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তার প্রমাণ।শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তাঁর উপলব্ধিআজকের প্রজন্মের কাছ থেকে শেখার মতো এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাঁর কথায়, একসময় ছিল আমাদের প্রজন্ম, তারপর এল কম্পিউটারের যুগ, আর এখন আমরা প্রবেশ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নতুন প্রজন্মকে শেখানো নয়, তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে এই নতুন প্রজন্মই।সাংবাদিকদের রিয়েল জেন জি প্রসঙ্গেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যৎতারা সতেজ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময়। বাংলা তথা ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যেই। তাই তাদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করাই প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের কথা শোনা এবং তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, কী চায়তা জানা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তাঁর পরবর্তী উদ্যোগআড্ডা উইথ জেন জি।মন্ত্রী বর্ধমান মডেল স্কুলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং INSPIRE - 2026 -এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল-এর বক্তব্যেও উঠে আসে সময়ের সঙ্গে পথ চলার অপরিহার্যতার কথা। তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি, সময়ের সঙ্গে তাল না মেলাতে পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের আধুনিকতম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ধমান মডেল স্কুল কখনও পিছিয়ে থাকেনি, ভবিষ্যতেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমী সকলকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার উন্মেষ প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান তিনি।OAER-এর অন্যতম সদস্য সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী সিং ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট আয়োজিত INSPIRE-এ অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া এই আয়োজন কখনও সার্থক হয়ে উঠত না।তবে INSPIRE 2026 কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং এটি যেন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার এক বর্ণময় ক্যানভাস। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাট্য ও আবৃত্তির আয়োজনও রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।নাট্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য জানান, এবারের পরিবেশনায় থাকছে প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক নরক গুলজার। ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বাস্তবতার অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সেই নাটক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসও INSPIRE - 2026 -এর সাংস্কৃতিক পরিসরকে করেছে আরও অর্থবহ।বর্ধমান মডেল স্কুলের নৃত্য বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা প্রখ্যাত ওডিশি নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জানান, এবারের তাঁদের থিম The Rhythm of Togetherness এটি Dance ও Sociology বিভাগের এক অনন্য যৌথ উপস্থাপনা, যেখানে নৃত্য ও সমাজবিজ্ঞানের নিজস্ব ভাবনাগুলি সুন্দরভাবে একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতি, খাদ্য, পোশাক ,সংস্কৃতি ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন হলেও আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়আমরা ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব।বিভিন্ন মডেল ও চার্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।নৃত্যের ছন্দ এবং সমাজবিজ্ঞানের ভাবনাদুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে The Rhythm of Togetherness আমাদের মনে করিয়ে দেয় বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়, ঐক্য আমাদের শক্তি।সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই Inspiring Thoughts, Creating Futureএই মূলমন্ত্র যেন বাস্তব রূপ পেল INSPIRE - 2026-এর প্রাঙ্গণে। এখানে বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়, প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আর সৃজনশীলতা কেবল কল্পনার জগতে বন্দি নয়। বরং তিনটির সম্মিলিত শক্তিতে শিক্ষার্থীরা আঁকছে আগামী দিনের ছবি।নতুন ভাবনার অঙ্কুর, উদ্ভাবনের সাহস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্নকে সামনে রেখে বর্ধমান মডেল স্কুলের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বার্ষিক প্রদর্শনী নয়এ যেন আগামী দিনের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের এক উজ্জ্বল মঞ্চ।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
ভ্রমণ

একদিনেই ঘুরে নিন বর্ধমান, সীতাভোগ-মিহিদানার শহরের কোনায় কোনায় ইতিহাসের হাতছানি, মুঘল আমল থেকে রাজকাহিনী, মন্দির

রাজ্যের অন্যতম বর্ধিষ্ণু জেলা বর্ধমান। বর্ধমান প্রকৃতই ক্রম-বর্ধমান। একদিনের ভ্রমণে বর্ধমান শহরকে বেছে নিলে জানতে পারবেন অনেক অজানা ইতিহাস। বঙ্গের অন্য়তম প্রাচীন জনপদ বর্ধমান। দূরে ভ্রমণের আগে একবার বর্ধমান শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরলে আপনি সমৃদ্ধ হবেনই। এমনকী আপনার ভ্রমণ কাহিনীতে জুড়ে যাবে বিরাট রসদের ভান্ডার। তাই আর দেরি না করে বর্ধমান শহরে ইতিহাসকে জেনে নিন এক ঝলকে। রাজ্যের যে কোনও স্থান থেকে বর্ধমান শহরের যোগাযোগও খুব সহজ।বর্ধমানের নাম নিয়ে নানা মতবাদ আছে। বর্ধমান শব্দটি সংস্কৃত বর্ধ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো বৃদ্ধি পাওয়া, উন্নতি হওয়া বা সমৃদ্ধি লাভ করা। প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল কৃষি, বাণিজ্য ও জনবসতির দিক থেকে সমৃদ্ধ ছিল। তাই এলাকাটির নাম বর্ধমান হয়েছে বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। জৈন ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসারে, ২৪তম তীর্থঙ্কর ভগবান মহাবীরের অপর নাম ছিল বর্ধমান। বলা হয়, তাঁর জন্মের পর রাজ্য ও পরিবারের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছিল, তাই তাঁর নাম রাখা হয় বর্ধমান। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান অঞ্চলে মহাবীরের আগমন ও ধর্মপ্রচারের স্মৃতি নিয়ে বিভিন্ন জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। এই কারণে অনেকের মতে জেলার নাম বর্ধমান মহাবীর বর্ধমানের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, জেলার নামের মূল উৎস হলো এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমৃদ্ধির ধারণা, যদিও জৈন ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রভাবও স্থানীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। শহরের মধ্যস্থলে রাজবাড়ি যাওয়ার পথেই দেখা মিলবে বিখ্যাত কার্জন গেটের যা এখন বিজয় তোরণ নামেই পরিচিত। বর্ধমান রাজবাড়ি এখন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস।সর্বমঙ্গলা মন্দিরবর্ধমানের অধিষ্ঠার্থী দেবি মা সর্বমঙ্গলা। বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় শক্তিপীঠসদৃশ তীর্থস্থান। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী সর্বমঙ্গলা অত্যন্ত জাগ্রত, অর্থাৎ তিনি ভক্তদের প্রার্থনা শোনেন এবং তাঁদের মনোবাসনা পূরণ করেন। বহু মানুষ তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মানত পূরণ এবং অলৌকিক ঘটনার কাহিনি এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। ইতিহাসবিদদের মতে, সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মাহাত্ম্য মূলত বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা, দেবীর অলৌকিক কাহিনি এবং দীর্ঘকালীন লোকবিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। কথিত আছে, এক জেলের জালে দেবীর মূর্তি উঠে আসে। পরে বর্ধমানের রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই দেবী সর্বমঙ্গলার পূজা শুরু হয় এবং মন্দিরটি বিশেষ খ্যাতি লাভ করে।গড়গড়াঘাটের গুরুদোয়ারাপ্রচলিত ঐতিহাসিক ও শিখ ধর্মীয় সূত্র অনুযায়ী, **গুরু নানক দেব জি প্রায় ১৫০৫-১৫০৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর পূর্ব ভারত ভ্রমণের সময় বর্ধমানে এসেছিলেন। তিনি এখানে কিছুদিন অবস্থান করেন এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে মানবতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও এক ঈশ্বরের বাণী প্রচার করেন। এই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই পরে বর্ধমানে সর্বমঙ্গলা পাড়ার পাশেই গড়গড়া ঘাটে গুরুদোয়ারা বড়া সঙ্গত প্রতিষ্ঠিত হয়। শিখ সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। বলা হয়, গুরু নানক এখানে ধর্মীয় আলোচনা ও কীর্তন করেছিলেন এবং তাঁর পদধূলিতে স্থানটি পবিত্র বলে বিবেচিত হয়।কমলাকান্তের কালীবাড়িবর্ধমান শহরের কোটালহাটে অবস্থিত কমলাকান্তের কালীবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রসিদ্ধ কালীমন্দির। এই মন্দিরটি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য এর সাধনাক্ষেত্র হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য (প্রায় ১৭৬৯১৮২১) ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাক্ত কবি, শ্যামাসংগীত রচয়িতা ও তন্ত্রসাধক। তাঁর জন্ম পূর্ব বর্ধমানের অম্বিকা কালনায়। তিনি ছোটবেলা থেকেই মা কালীর উপাসনায় আকৃষ্ট হন এবং পরে তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন বলে ভক্তদের মধ্যে বিশ্বাস প্রচলিত। বর্ধমানের মহারাজা তেজচন্দ্র তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি ও পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে রাজগুরু ও সভাসদ হিসেবে সম্মানিত করেন। মহারাজা তেজচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বর্ধমানের কোটালহাটে মা কালীর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে সাধক কমলাকান্ত পঞ্চমুণ্ডির আসনে সাধনা করতেন। বর্তমানে এই মন্দিরই কমলাকান্তের কালীবাড়ি নামে বিখ্যাত। কথিত আছে, মহারাজা তেজচন্দ্র একবার তাঁর অলৌকিক শক্তি পরীক্ষা করতে চাইলে কমলাকান্ত অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন। বর্ধমানের মানুষের মুখে মুখে একথা প্রচলিত। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব প্রায়ই কমলাকান্তের শ্যামাসংগীত গাইতেন এবং তাঁর ভক্তিভাবের অত্যন্ত প্রশংসা করতেন। ফলে কমলাকান্তের গান ও সাধনা সমগ্র বাংলায় আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।শের আফগানের সমাধিবর্ধমান শহরের শের আফগানের সমাধি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুঘল যুগের ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। এটি বিখ্যাত মূলত শের আফগান ও মেহেরুন্নিসা (পরবর্তীকালে সম্রাজ্ঞী নূরজাহান)-এর ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে। শের আফগানের প্রকৃত নাম ছিল আলি কুলি ইস্তাজলু। তিনি ছিলেন একজন পারস্য বংশোদ্ভূত মুঘল সেনাপতি। সম্রাট আকবর তাঁর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে শের আফগান(বাঘ-বধকারী) উপাধি দেন। শের আফগানের স্ত্রী ছিলেন মেহেরুন্নিসা, যিনি পরে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী এবং বিখ্যাত সম্রাজ্ঞী নূরজাহান নামে পরিচিত হন। এই কারণে শের আফগানের জীবন ও মৃত্যু ভারতীয় ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমানের ফৌজদার কুতুবউদ্দিন খান কোকা সম্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে শের আফগানের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সংঘর্ষের সময় শের আফগান কুতুবউদ্দিনকে হত্যা করেন, কিন্তু তিনিও গুরুতর আহত হয়ে নিহত হন। পরে তাঁকে বর্ধমানে সমাহিত করা হয়। দুজনকে পাশাপাশি সমাধিস্ত করা হয়। ইতিহাস বলছে, মেহেরুন্নিসাকে নিয়ে যেতেই কুতুবুদ্দিনকে পাঠিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। শের আফগানের মৃত্যুর পর মেহেরুন্নিসাকে মুঘল দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক বছর পরে তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরকে বিবাহ করেন এবং নূরজাহান নামে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নারী হয়ে ওঠেন। তাই বর্ধমানের এই সমাধি শুধু একটি কবরস্থান নয়, বরং মুঘল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক।শুলি পুকুরবর্ধমান শহরের শুলি পুকুর একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বর্ধমান রাজাদের আমলে গুরুতর অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এই এলাকার কাছে শুলি (ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ডের এক প্রকার ব্যবস্থা) কার্যকর করা হতো। সেই কারণেই পুকুরটির নাম হয় শুলি পুকুর। বর্ধমান রাজবাড়ির গেটের উল্টোদিকের রাস্তার বাদিকেই এই শুলি পুকুরের অবস্থান। বর্ধমান রাজবংশের শাসনামলের সঙ্গে এই স্থানের নাম জড়িত।সীতাভোগ ও মিহিদানাবর্ধমানে ভ্রমণ করবেন আর মিষ্টি খাওয়া হবে না তা হয় নাকি! বর্ধমানে নানা স্বাদের মিষ্টি পাওয়া যায়। কিন্তু মূল আকর্ষণ সীতাভোগ ও মিহিদানায়। সীতাভোগ ও মিহিদানা বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্ববিখ্যাত মিষ্টি। এই দুই মিষ্টি বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হয় এবং আজও বর্ধমানের পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। মিহিদানা কী? মিহিদানা দেখতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বোঁদের মতো। বেসনের পরিবর্তে বিশেষ ধরনের চালের গুঁড়ো ও অন্যান্য উপাদান দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম দানার আকারে এটি তৈরি করা হয়। এর দানাগুলি খুবই ছোট ও নরম হওয়ায় এর নাম হয়েছে মিহি (সূক্ষ্ম) + দানা। সীতাভোগ কী? সীতাভোগ দেখতে অনেকটা সাদা ভাতের মতো। চালের গুঁড়ো, ছানা ও চিনি দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ছোট ছোট মিষ্টি দানাও মেশানো থাকে। দেখতে ভাতের মতো হলেও এটি একটি সুস্বাদু মিষ্টান্ন। জনশ্রুতি রয়েছে, ১৯০৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর-জেনারেল লর্ড কার্জন বর্ধমান সফরে এলে রাজা বিজয়চাঁদ মহতাবের উদ্যোগে ময়রা ভৈরবচন্দ্র নাগ এই দুই মিষ্টি পরিবেশন করেন। লর্ড কার্জন এর স্বাদে মুগ্ধ হন। এরপর থেকেই সীতাভোগ ও মিহিদানা সারা দেশে খ্যাতি লাভ করে।বর্ধমানের ১০৮ শিবমন্দিরবর্ধমান শহরের নবাবহাটে অবস্থিত ১০৮ শিবমন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিখ্যাত শৈব তীর্থস্থান। এটি শুধু ধর্মীয় গুরুত্বের জন্য নয়, এর অনন্য স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও প্রসিদ্ধ। ১৮শ শতাব্দীর শেষ দিকে বর্ধমান রাজবংশের মহারাণী বিষ্ণুকুমারী দেবী (কিছু সূত্রে মহারাজ তেজচন্দ্রের মাতৃকা) এই ১০৮টি শিবমন্দির নির্মাণ করান। মন্দিরগুলি প্রায় ১৭৮৮-১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়। হিন্দুধর্মে ১০৮ সংখ্যাটি অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য হয়। জপমালায় ১০৮টি দানা থাকে এবং শিবের ১০৮টি নামও প্রচলিত। সেই কারণেই এখানে ১০৮টি পৃথক শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্ধমান শহর লাগোয়া নবাবহাটে আয়তাকারে ১০৮টি শিব মন্দির আছে। এই মন্দিরগুলির বাইরে আরেকটি শিব মন্দির আছে। অন্যদিকে কালনায় আরেকটি ১০৮ শিব মন্দির আছে। এখানে বিশেষত্ব হল মন্দিরগুলি দুটি বৃত্তাকার সারিতে নির্মিত। বাইরের বৃত্তে ৭৪টি এবং ভিতরের বৃত্তে ৩৪টি মন্দির রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে একটি করে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত। কালো ও সাদা রঙের শিবলিঙ্গ পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। শ্রাবণ মাসে হাজার ভক্ত এই দুই ১০৮ শিব মন্দিরে পুজো দেন। একই জেলায় দুটি জায়গায় একই স্থানে ১০৮টা শিব মন্দির বিরল।বীরহাটা বড়মা কালীবর্ধমান শহরের অন্যতম প্রাচীন ও শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় স্থান হল বীরহাটা বড়মা কালীমন্দির। এই মন্দিরটি বর্ধমান রাজপরিবারের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। জনশ্রুতি অনুসারে, বর্ধমানের মহারাজারা তাঁদের কুলদেবী হিসেবে মা কালীর আরাধনা করতেন এবং সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বীরহাটা অঞ্চলে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবীকে অনেকে জাগ্রত মা কালী বলে মনে করেন। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে মা কালী মনোবাসনা পূরণ করেন। তাই সারা বছরই এখানে ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে, বিশেষ করে কালীপূজা, দীপাবলি ও অমাবস্যা তিথিতে। বীরহাটা একসময় বর্ধমান রাজবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিল। ফলে মন্দিরটি শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বর্ধমানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু বছর ধরে এখানে নিয়মিত পূজা, হোম-যজ্ঞ ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।কঙ্কালেশ্বরীশহরের কাঞ্চননগরে অবস্থিত কঙ্কালেশ্বরী কালীমন্দির জেলার অন্যতম প্রাচীন ও রহস্যময় তীর্থস্থান। ধারণা করা হয়, মন্দিরটির ইতিহাস কয়েকশো বছরের পুরোনো। কাঞ্চননগর একসময় গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ছিল এবং এখানেই দেবী কঙ্কালেশ্বরীর পূজা প্রতিষ্ঠিত হয়। দেবীর মূর্তি সাধারণ কালীমূর্তির মতো নয়; তাঁর রূপে কঙ্কালসদৃশ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যা তন্ত্রসাধনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।সোনার কালীবাড়িবর্ধমান শহরের মিঠাপুকুর এলাকায় অবস্থিত সোনার কালীবাড়ি (ভুবনেশ্বরী মন্দির) বর্ধমান রাজপরিবারের ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৮৯৯ সালে বর্ধমানের রাজা মহতাব চাঁদ এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন বলে প্রচলিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রী রানি নারায়ণী দেবী স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর ভুবনেশ্বরী মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথমে এখানে সোনার তৈরি দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেই কারণেই মন্দিরটি সোনার কালীবাড়ি নামে পরিচিত হয়। ১৯৭০-এর দশকে সোনার মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়। পরে সেখানে অষ্টধাতুর ভুবনেশ্বরী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়, কিন্তু সোনার কালীবাড়ি নামটি আজও রয়ে গেছে। এখানে দেবীর জিভ বাইরে বেরিয়ে নেই। দেবীর পদতলে শিব নেই, যা সাধারণ কালীমূর্তির থেকে আলাদা। প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পূজা হয়।বর্ধমান ও জৈন ধর্মের ঐতিহাসিক সম্পর্কবর্ধমান শহরের নামকরণ নিয়ে একটি সুপ্রচলিত মত হলো, এটি ২৪তম জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর বর্ধমানের নামানুসারে হয়েছে। জৈন ঐতিহ্য অনুযায়ী, তিনি এই অঞ্চলে কিছু সময় অবস্থান করেছিলেন। তাই প্রাচীনকাল থেকেই বর্ধমানে জৈন সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ছিল। সোনার কালীবাড়িতে জৈনদের ডান্ডিয়া করার কারণ ধর্মীয় নয় বরং বর্ধমানের গুজরাটি-জৈন সমাজের নবরাত্রি উদ্যাপনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় সম্প্রীতির প্রকাশ। এমনকী বর্ধমান রাজ পরিবারের কুলদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরেও ডান্ডিয়া উৎসবের প্রচলন আছে। নানা ধর্মীয় উৎসবে এই মন্দিরে হাজির হন রাজ পরিবারের সদস্যরা।বর্ধমান ভ্রমণে এলে গোলাপবাগ চত্বরে যেতে ভুলবেন না। সেখানে কৃষ্ণসায়র পার্ক, সায়েন্স সেন্টার, রমনাবাগান মিনি জু, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম ক্যাম্পাস, তারা মন্ডল নানা কিছু রয়েছে পর্যটকদের জন্য। এমন গাছগাছালির প্রাকৃতিক পরিবেশে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। তাহলে আর দেরি কেন? বর্ধমান শহরের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ুন।

আগস্ট ০১, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানে ধৃত সন্দেহভাজন জঙ্গি, তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি

বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে হামিদ মন্ডল নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ এবং বর্ধমান পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃত ব্যক্তি পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নথি, ডিজিটাল তথ্য এবং যোগাযোগের সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনও অনেক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।তদন্তকারী সূত্রে দাবি, ধৃত ব্যক্তির কাছে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি, নিরাপত্তা এবং ভিআইপি চলাচল সংক্রান্ত কিছু তথ্য মিলেছে। এই তথ্য কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কোনও হামলার পরিকল্পনার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনও সরকারি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃত হামিদ পূর্ব ভারতে সংগঠনের নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজে যুক্ত থাকতে পারে। নতুন সদস্য সংগ্রহ, যোগাযোগ রক্ষা এবং সংগঠনের কার্যকলাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।এদিকে অসমেও একই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। সেখান থেকে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, পরিচয়পত্র, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাগুলির মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা তথ্য যাচাই করছে।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই নেটওয়ার্ক অনলাইনের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ, উগ্রবাদে প্রভাবিত করা, গোপন তথ্য সংগ্রহ, লজিস্টিক সহায়তা এবং স্লিপার সেল তৈরির মতো কার্যকলাপে জড়িত থাকতে পারে। পাশাপাশি এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ ও গোয়েন্দাদের মতে, ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এবং ডিজিটাল নথির ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী তদন্তের দিশা নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মামলার সব দিকই খোলা রাখা হয়েছে।

জুলাই ৩১, ২০২৬
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করার ছক? বর্ধমানে ধৃত সন্দেহভাজনের কাছ থেকে মিলল চাঞ্চল্যকর নথি, তদন্তে বড় দাবি

বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিদ মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তদন্তে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে সে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছিল। ধৃতের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু নথি এবং ভিআইপি চলাচল সম্পর্কিত তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই তথ্য সামনে আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই নথিগুলি কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানায়নি তদন্তকারী সংস্থা।গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতের কাছ থেকে এমন কিছু নথি ও তথ্য মিলেছে, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখনই সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি। উদ্ধার হওয়া তথ্যের সঙ্গে কোনও হামলার পরিকল্পনার যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গাড়ির রুট এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই তথ্য কীভাবে তার হাতে এল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।পুলিশ সূত্রে দাবি, শুক্রবার সকালে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, সে আগে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় থাকত এবং একটি গেঞ্জির কারখানায় কাজ করত। কয়েক মাস আগে সে বর্ধমানে ভাড়া বাড়িতে ওঠে। গোয়েন্দাদের দাবি, তার বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ধৃত ব্যক্তি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ওই আবাসনে ভাড়া থাকতেন। তাঁকে খুব একটা বাইরে দেখা যেত না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল।এই ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডার দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্য পুলিশের কাজের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, জঙ্গি সংগঠনের স্থানীয় সমর্থন ভাঙতে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে এই বিষয়ে তদন্ত এখনও চলছে এবং সরকারি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিদ মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তদন্তে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে সে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছিল। ধৃতের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু নথি এবং ভিআইপি চলাচল সম্পর্কিত তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই তথ্য সামনে আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই নথিগুলি কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানায়নি তদন্তকারী সংস্থা।গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতের কাছ থেকে এমন কিছু নথি ও তথ্য মিলেছে, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখনই সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি। উদ্ধার হওয়া তথ্যের সঙ্গে কোনও হামলার পরিকল্পনার যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গাড়ির রুট এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই তথ্য কীভাবে তার হাতে এল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।পুলিশ সূত্রে দাবি, শুক্রবার সকালে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, সে আগে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় থাকত এবং একটি গেঞ্জির কারখানায় কাজ করত। কয়েক মাস আগে সে বর্ধমানে ভাড়া বাড়িতে ওঠে। গোয়েন্দাদের দাবি, তার বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ধৃত ব্যক্তি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ওই আবাসনে ভাড়া থাকতেন। তাঁকে খুব একটা বাইরে দেখা যেত না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল।এই ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডার দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্য পুলিশের কাজের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, জঙ্গি সংগঠনের স্থানীয় সমর্থন ভাঙতে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে এই বিষয়ে তদন্ত এখনও চলছে এবং সরকারি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুলাই ৩১, ২০২৬
রাজ্য

প্লাস্টিকের ভিড়ে কাঠের রথের কদর অটুট, বর্ধমানের গোলাপবাগে কচিকাঁচাদের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কাষ্ঠশিল্পী

রথযাত্রা মানেই ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে বসিয়ে টানার আনন্দে মেতে ওঠা ছোট-বড় সকলের উৎসব। আধুনিক সময়ে প্লাস্টিক, ফাইবার কিংবা বিভিন্ন কৃত্রিম উপকরণে তৈরি রথের ব্যবহার বেড়েছে ঠিকই, তবুও ঐতিহ্যবাহী কাঠের রথের আবেদন আজও অমলিন।রথযাত্রাকে সামনে রেখে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন রথ নির্মাণে যুক্ত শিল্পীরা। ছোটদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নানান আকারের কাঠের রথ তৈরি করতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন তাঁরা। রঙের ছোঁয়া, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জায় ব্যস্ত শিল্পীদের কর্মশালাগুলি যেন উৎসবের আগাম বার্তা বহন করছে।ঠিক তেমনই এক ছবি ধরা পড়ল পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরের গোলাপবাগ চত্বরে। একটি আবাসনের কচিকাঁচাদের জন্য ঐতিহ্যবাহী কাঠের রথ নির্মাণে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত এক কাষ্ঠশিল্পী। নিষ্ঠার সঙ্গে রথের প্রতিটি অংশে শেষবারের মতো হাতের ছোঁয়া দিচ্ছেন তিনি, যাতে রথযাত্রার দিন খুদেদের আনন্দে কোনও খামতি না থাকে।স্থানীয়দের মতে, প্রযুক্তি ও আধুনিকতার যুগেও কাঠের রথের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কমেনি। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার সংস্কৃতি ও আবেগকে বাঁচিয়ে রাখতেই অনেক আবাসন ও পরিবার এখনও কাঠের রথ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।রথযাত্রার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তাই গোলাপবাগের এই কাষ্ঠশিল্পীর কর্মব্যস্ততা যেন বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্য, শিল্পকলা এবং উৎসবের আবহকেই নতুন করে তুলে ধরছে।

জুলাই ১৩, ২০২৬
রাজ্য

শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে পক্ষব্যাপী স্মৃতিচারণ, বর্ধমানের বিদ্যালয়ে নানা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

পক্ষব্যাপী স্মৃতিপক্ষ পালন শেষে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করল বর্ধমান শহরের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়। বক্তৃতা, বিতর্ক, কুইজ, যোগব্যায়াম, অঙ্কন, সঙ্গীত ও নৃত্য-সহ একাধিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা স্মরণ করল বাংলার এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিন্তক ও রাজনীতিককে।অনুষ্ঠানে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মূল বিষয় ছিল ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্ম, স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, দেশভাগ, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পশ্চিমবঙ্গের গঠন এবং বাংলা ও বাঙালির গৌরবময় ঐতিহ্য। শিক্ষিকা অনন্যা ঘোষের পরিচালনায় বাংলার লোকগানের সঙ্গে নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন করে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।৬ জুলাই আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শিক্ষিকা দেবলীনা ঘোষ ও ছাত্রছাত্রীদের সমবেত উদ্বোধনী সঙ্গীতের মাধ্যমে। শিক্ষিকা কৃষ্ণা ঘোষ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের রূপায়ণে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তৎকালীন সাম্প্রদায়িক সংকটের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থরক্ষায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন।বর্ধমানের বিশিষ্ট নাগরিক সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। মাতৃপ্রেরণায় তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হন। অল্প বয়সেই উচ্চশিক্ষায় সাফল্যের পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গেও রাজনৈতিক মতবিনিময় করেছিলেন। স্বাধীনতার পর কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দেশের শিল্পোন্নয়নে তাঁর অবদানও তিনি স্মরণ করেন।বিশিষ্ট পরিবেশবিদ অর্ণব দাস বলেন, ভারত তথা বাংলার ইতিহাসে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর জীবন ও কর্মের পুনর্মূল্যায়নের এখনই উপযুক্ত সময়।বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ড. শ্যামাপ্রসাদ উদ্ভাবন, দক্ষতা ও যুগোপযোগী শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বর্তমান জাতীয় শিক্ষানীতিতেও সেই ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, এক সংকটময় সময়ে বাংলার মর্যাদা রক্ষায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর বহুমাত্রিক কর্মজীবন ভবিষ্যতেও গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে। তিনি তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৌমেন লাহা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, আগামী প্রজন্মের কাছে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, আদর্শ ও কর্মকে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

জুলাই ০৬, ২০২৬
রাজ্য

যোগের মহাযজ্ঞে দেশের শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ, এক নম্বরে পূর্ব বর্ধমান — গণঅংশগ্রহণে গড়ল ঐতিহাসিক নজির

স্বাস্থ্যচর্চা যখন জনআন্দোলনের রূপ নেয়, তখন সৃষ্টি হয় ইতিহাস। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে সারা দেশে অনুষ্ঠিত যোগাভ্যাস কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের নিরিখে সেই ইতিহাসই গড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের ১ কোটি ৭৪ লক্ষ ৯৪ হাজার ৮২২ জন মানুষ একযোগে যোগাভ্যাসে অংশ নিয়ে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। শুধু তাই নয়, ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫২৯টি সংগঠনের নিবন্ধনের মাধ্যমে সংগঠনভিত্তিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও দেশের শীর্ষে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ।এই নজিরবিহীন সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা। জেলার ১৮ লক্ষ ২১ হাজার ৭৬০ জন মানুষের অংশগ্রহণ গোটা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। ফলে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের গণঅংশগ্রহণের নিরিখে দেশের এক নম্বর জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে পূর্ব বর্ধমান। স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই জেলা।সরকারি তালিকা অনুযায়ী, দেশের অংশগ্রহণকারী শীর্ষ ১০ জেলার তালিকায় প্রথম দশটি স্থানই দখল করেছে পশ্চিমবঙ্গ। পূর্ব বর্ধমানের পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা (১৩,৮০,৫৬১), মালদা (১৩,০৭,২১৬), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (১১,৪৪,৫৯৩), মুর্শিদাবাদ (১১,৪০,৩৩১), নদিয়া (১০,৬১,৭৭৬), বাঁকুড়া (৯,৩৪,১৭২), পূর্ব মেদিনীপুর (৭,৬৯,০০৫), পুরুলিয়া (৭,৬৫,৮৬২) এবং হুগলি (৭,৩৮,০৩০)। অর্থাৎ, যোগচর্চাকে গণআন্দোলনে পরিণত করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।রাজ্যভিত্তিক অংশগ্রহণের নিরিখেও পশ্চিমবঙ্গ অনেকটাই এগিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের পরে রয়েছে রাজস্থান (৬৭,৬৭,৬১৩), মধ্যপ্রদেশ (৭,২০,৫৬২), অসম (৭,১০,৭৫৩), গুজরাট (৬,০৩,৫৫১), উত্তরপ্রদেশ (৫,৩২,৫০৭), মহারাষ্ট্র (৪,২৫,৮৫৩) এবং ওডিশা (৪,১০,৫১২)।সংগঠনভিত্তিক নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গের সাফল্য সমানভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজ্যের ৩,৪৫,৫২৯টি সংগঠনের পরে রয়েছে রাজস্থান (১,৬৭,২৯৫), মধ্যপ্রদেশ (৩৫,৭৪২), অসম (২৫,২৮৫), উত্তরপ্রদেশ (২২,২৮৫), মহারাষ্ট্র (২২,১৮৮) এবং অন্ধ্রপ্রদেশ (২০,০০৪)। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরেও যোগচর্চা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে জেলার একাধিক ঐতিহ্যবাহী ও দর্শনীয় স্থানে আয়োজন করা হয় বিশেষ যোগ কর্মসূচি। বর্ধমান শহরের বিজয় তোরণ, কৃষ্ণসায়র পার্ক, নবাবহাটের ১০৮ শিবমন্দির প্রাঙ্গণ, কালনা শহরের গঙ্গাবক্ষে এবং ঐতিহাসিক ১০৮ শিবমন্দির চত্বরে ভোরের নির্মল পরিবেশে শত শত মানুষ একসঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নেন। এছাড়াও জেলার সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ক্লাব, পঞ্চায়েত এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উদ্যোগেও নানা প্রান্তে যোগ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সর্বত্রই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।প্রশাসনিক সূত্রের খবর, গ্রাম থেকে শহরসমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনগুলির সম্মিলিত উদ্যোগই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমানে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, সুসংগঠিত প্রস্তুতি এবং ব্যাপক জনসচেতনতার ফলেই জেলা দেশের সর্বাধিক অংশগ্রহণকারী জেলার মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র সহ এই কর্মকান্ডে জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ আধিকারিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল, অতিরিক্ত জেলাশাসক রোহণ লক্ষ্মীকান্ত যোশী, প্রতীক সিং, প্রসেনজিৎ দাস ও মহকুমা শাসক বুদ্ধদেব পান, সুপ্রভাত চ্যাট্টার্জী ও মালবিকা খাটুয়া, অনির্বান রায় প্রমুখ।আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই অভূতপূর্ব সাফল্য কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি পশ্চিমবঙ্গের জনসম্পৃক্ততা, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের এক উজ্জ্বল দলিল। যোগের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপনের যে বার্তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, সেই বার্তাকে বাস্তবের মাটিতে রূপ দিয়েছে পূর্ব বর্ধমান। দেশের মানচিত্রে এই জেলার নাম আজ শুধু অংশগ্রহণের সংখ্যায় নয়, জনআন্দোলনের শক্তি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

জুন ২৬, ২০২৬
রাজ্য

কয়লার ভ্যান টানা থেকে উল্কার গতিতে উত্থান, আধুনা 'বর্ধমানের মহারাজ' পুলিসের জালে!

বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর ট্রানজিট রিমান্ডে বর্ধমানে নিয়ে আসায় পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকেলে তাঁকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বর্ধমান থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে দাবি, খোকন দাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে তোলাবাজি, হুমকি প্রদান, বেআইনি জলাজমি ও পুকুর ভরাট, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণে মদত এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।খোকন দাসের রাজনৈতিক উত্থানও দীর্ঘদিন ধরে বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়লা ও বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকে ধীরে ধীরে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন। বামফ্রন্ট আমলে বর্ধমান পুরসভার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালেও কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর পুরসভার টাউন প্ল্যানিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় তাঁর প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ।২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধায়ক হন খোকন দাস। তবে সেই সময় থেকেই ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিরোধীদের উপর হামলা এবং এলাকায় সন্ত্রাসের আবহ তৈরির অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিবেদনে তাঁর নাম উল্লেখ করে কঠোর পর্যবেক্ষণও করা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।চলতি বিধানসভা নির্বাচনে পুনরায় প্রার্থী হলেও বড় ব্যবধানে পরাজিত হন খোকন দাস। এরপর রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। তদন্তকারী সংস্থার নজরও ক্রমশ তাঁর দিকে ঘুরে যায়। অভিযোগ রয়েছে, পরাজয়ের পরেও বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোনে হুমকি দেওয়া এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সংক্রান্ত কিছু অডিও ক্লিপও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।রবিবার উত্তরপ্রদেশের দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় আদালতে পেশ করার পর ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর হয় এবং এরপর তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বাইরে অবস্থান করলেও শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীদের জাল এড়াতে পারেননি বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।খোকন দাসের গ্রেফতারের খবর সামনে আসতেই বর্ধমানে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। শাসকদল বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একাংশকে তাঁর কাঞ্চননগরের বাড়ির সামনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, একজন সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে কীভাবে বিপুল সম্পত্তির মালিকানা গড়ে উঠল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।এদিন বর্ধমানে এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, যারা ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং গুন্ডামির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব পথে কাজ করছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী নেতাদের নিশানা করে গ্রেফতার করা হচ্ছে।এখন আদালতে খোকন দাসকে পেশ করার পর তদন্তকারী সংস্থা কী ধরনের হেফাজতের আবেদন জানায় এবং আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের। বর্ধমানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তারকারী এই নেতার গ্রেফতারি আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

জুন ০২, ২০২৬
রাজ্য

সানডে সাস্পেন্স! পূর্ব বর্ধমানে পুলিশি ঝড়! গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস সহ তৃণমূলের আরও দুই প্রভাবশালী নেতা

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার পূর্ব বর্ধমান জেলায় কার্যত সুপার সানডে অভিযান চালিয়ে তিন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে আইনের জালে আনল পুলিশ। প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস ও তপন চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির পাশাপাশি আটক করা হয়েছে কাটোয়ার প্রভাবশালী নেতা দিগন্ত পালকেও। জেলাজুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে পূর্বস্থলীতে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার সকালে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হানা দেয় পূর্বস্থলী থানার পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য বরাদ্দ বহু ত্রিপল এবং সরকারি ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিতরণের উদ্দেশ্যে পাঠানো ফুটবল।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখার অভিযোগে তপন চট্টোপাধ্যায়কে আটক করে পরে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের পরিবর্তে এই সামগ্রিগুলি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মজুত রাখা হয়েছিল। এমনকি সেগুলি কালোবাজারে বিক্রির পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এলাকার মানুষ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রাক্তন বিধায়কের মালিকানাধীন একাধিক গুদামেও তল্লাশি চালিয়েছে।তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে স্লোগান দিতে থাকেন। উদ্ধার হওয়া সরকারি সামগ্রীর উৎস, সংরক্ষণের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।অন্যদিকে, বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা জেলার অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক মুখ খোকন দাসকে রবিবার সকালে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ এর হান্ডিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একটি পুরনো মারধরের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। ২০২১ এ নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসে অভিযুক্ত ছিলেন খোকন দাস। সিবিআই তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, স্থানীয় আদালতে তাঁকে পেশ করে ট্রানসিট রিমান্ডের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজ্যের বাইরে ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।জেলার রাজনৈতিক অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে একই দিনে গ্রেফতার করা হয়েছে কাটোয়ার প্রভাবশালী নেতা তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দিগন্ত পালকে। আর্থিক তছরুপ ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগে শনিবার গভীর রাতে কাটোয়া স্টেশন বাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে কাটোয়া থানার পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়।সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাক্তন তৃণমূল নেতাদের বাড়ি, দলীয় কার্যালয় এবং ব্যক্তিগত গুদাম থেকে সরকারি ত্রাণসামগ্রী, আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র-সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধারের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে প্রশাসনিক সম্পদের অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।একদিনে জেলার তিন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপে পূর্ব বর্ধমানের রাজনৈতিক মহল কার্যত সরগরম। তদন্ত যত এগোবে, ততই আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ফলে এই ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনে জেলার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

মে ৩১, ২০২৬
রাজ্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়াই মাঠের তালা খোলা! বর্ধমানে বিজেপি বিধায়ককে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বহুদিন বন্ধ থাকা মোহনবাগান মাঠের তালা খোলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তির উঠেছে বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়াই তিনি সাধারণের ব্যবহারের জন্য মাঠ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক মহল যেমন প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফেও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান মাঠটি সাধারণের জন্য বন্ধ ছিল। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পরিদর্শনে এসে মাঠটি তালাবন্ধ অবস্থায় দেখতে পান বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। এরপর তিনি তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মীদের তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঠ খুলে দেওয়া হয় এবং স্থানীয়দের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিরোধীরা। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, বিধায়ক এখনও বুঝে উঠতে পারেননি কোন বিষয় তাঁর প্রশাসনিক এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে আর কোনটা পড়ে না। তিনি ব্যঙ্গের সুরে বলেন, নতুন বই হাতে পাওয়া বাচ্চারা যেমন আগ্রহ নিয়ে পাতা উল্টে দেখে, ঠিক তেমনই নতুন বিধায়ক গলায় মালা পরে সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে প্রতিদিন ছুটে বেড়াচ্ছেন।যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেছেন বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। তাঁর বক্তব্য, এত বড় একটি মাঠ বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে থাকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন, এই মাঠ এলাকার মানুষের সম্পদ। শিশু থেকে প্রবীণ সকলে এখানে এসে খেলাধুলা করতে পারবেন, হাঁটাচলা করতে পারবেন। মানুষের স্বার্থেই মাঠ খুলে দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্কর কুমার নাথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠ খোলার বিষয়ে তাঁকে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে না জানিয়েই মাঠ খুলে দেওয়া হয়েছে, যা সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এই মাঠে সকাল-বিকেল স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ চলে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীরাও এখানে নিয়মিত অনুশীলন করেন। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষক এক অধ্যাপক বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁকে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়েছে।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অধিকার ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার সীমা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন দেখার, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ করে কি না এবং বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।

মে ২৪, ২০২৬
রাজ্য

ভোটে হারের পর ডিগবাজি? ভাইরাল অডিওতে ‘বিজেপি নেতা’ খোকন দাস, বর্ধমানে তোলপাড়

বর্ধমান দক্ষিণের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে একটি ভাইরাল অডিওকে কেন্দ্র করে। সেই অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, আমিও এখন বিজেপি নেতা। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই জেলা রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে।বিজেপির দাবি, কাঞ্চননগরের একটি দুর্গামন্দির নির্মাণের কাজ করেও এক রাজমিস্ত্রি প্রাপ্য টাকা পাননি। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই ফোনে তাঁকে ধমক দেন খোকন দাস। ভাইরাল হওয়া অডিওতে শোনা যায়, মন্দিরের হিসেব, ট্রাস্টের টাকা এবং ভোটে হারের প্রসঙ্গ তুলে কথা বলছেন তিনি। কথোপকথনের এক পর্যায়ে খোকন দাসকে বলতে শোনা যায়, তুই এখন সুযোগ নিয়ে লোককে ভয় দেখাচ্ছিস। আমরাও এখানে আছি। আর শুনে রাখ, আমিও এখন বিজেপি নেতা।যদিও এই অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি জনতার কথা। তবে বিজেপি নেতাদের দাবি, ওই কথোপকথনে স্পষ্টভাবে প্রাক্তন বিধায়কের হুমকির সুর ধরা পড়েছে। জেলা বিজেপির মুখপাত্র কল্যাণ মাজি অভিযোগ করেন, ক্ষমতা হারিয়েও খোকন দাস এখনও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। তাই কখনও এফআইআরের ভয় দেখাচ্ছেন, আবার কখনও নিজেকে বিজেপি নেতা বলছেন।অন্যদিকে খোকন দাস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অডিও নিয়ে বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কোনও ব্যক্তিকে ভয় দেখানো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং মন্দির ও ট্রাস্টের নামে অপপ্রচার রোখার জন্যই পুলিশে জানানোর কথা বলেছিলেন। তাঁর আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট রাজমিস্ত্রি হিসেব না দেওয়ায় ট্রাস্টের পক্ষ থেকে টাকা আটকে রাখা হয়েছে।তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, যদি অডিওর প্রথম অংশে নিজের কণ্ঠস্বর স্বীকার করে নেওয়া হয়, তাহলে একই অডিওতে থাকা আমিও বিজেপি নেতা মন্তব্যকে অস্বীকার করা হচ্ছে কেন? এই নিয়েই নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে জেলা রাজনীতিতে।

মে ১২, ২০২৬
রাজনীতি

একদা কমিউনিষ্ট ঘাঁটিতে টানা তিনবার জিতেও নিশ্চিন্ত নয় তৃণমূল! বর্ধমান দক্ষিণে এবার কি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই?

দক্ষিণ বর্ধমান বরাবর কমিউনিস্টদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই কেন্দ্র থেকে প্রথম দুটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী। তখন তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন অবিভক্ত কমিউনিষ্ট পার্টি তথা সিপিআই থেকে। তারপর এই আসন থেকে কংগ্রেস প্রার্থী বর্ধমানের মহারানী রাধারাণী মহতাব জয়ী হয়েছিলেন। তার আগের নির্বাচনে বিনয় চৌধুরী পরাজিত করেছিলেন বর্ধমানের মহারাজাকে। সেই সম্মান পুনরুদ্ধার করতে কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছিলেন মহারাণী। তার পরে শুধু ১৯৬৭ ও ১৯৭২ সালে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস জয় পেয়েছিল। এখানে থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য। তাছাড়া ২০০৬ পর্যন্ত সিপিএম এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছে। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের ভোটে তৃণমূল প্রার্থী রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ব্যাপক ভোটের ব্য়বধানে পরাজিত করেন রাজ্যের তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেনকে। প্রায় ৩৭ হাজার ভোটে পরাজিত হন নিরুপম সেন। ২০১৬-তেও জয় পায় তৃণমূল। তখনও এই কেন্দ্রে প্রধান বিরোধী দল ছিল সিপিএম। রবিবঞ্জন চট্টোপাধ্যায় প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্য়বধানে সিপিএম প্রার্থী আইনুল হককে পরাজিত করেন। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ নন্দীকে পরাজিত করেন তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস। তবে জয়ের ব্যবধান অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি প্রায় অর্ধেক ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে থাকে তৃণমূলের থেকে। এই নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী পৃথা তা প্রায় ২৩ হাজারের ওপর ভোট পেয়েছিল।বর্ধমান পুরসভা এলাকা নিয়েই বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র। তবে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে কি হতে চলেছে তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই শহরজুড়ে। প্রথমত বিধায়ক খোকন দাসই টিকিট পাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। বিধায়ক অনুগামীরা জোরের সঙ্গে বলছেন টিকিট খোকন দাসই পাচ্ছেন। শহরে এক যুব নেতার নাম ভাসিয়ে দেওয়া হলেও বর্ধমান দক্ষিণে আদৌ সে টিকিট পাবেন কিনা তা নিয়ে কম জল্পনা নেই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ক্রীড়া অনুষ্ঠান সবেই জোরদার প্রতিযোগিতা চলছে তৃণমূলের দুই তরফ থেকেই। অনেকের আবার বক্তব্য, নেপোয় দই মেরে দেবে না তো!তৃণমূল যাকেই প্রার্থী করুক এবার জোরদার লড়াই হবে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে। এদিকে তৃণমূলের একটা সূত্রের দাবি, শহরে দলে ঘরের মধ্যে ঘর তৈরি হয়েছে। সেই ঘরও যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই সেই অংশের দাবি। তাঁদের ভূমিকা জয়-পরাজয়ে অনেকটা নির্ভর করবে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। পাশাপাশি যে ভাবে পর পর নির্বাচনে ওয়ার্ডগুলিতে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল তাতে সংশয় বেড়েছে। মোদ্দা কথা, পর পর তিনবার জয় পেলেও এবার বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে নেক-টু-নেক ফাইট হবার সম্ভাবনা প্রবল। একতরফা জয়ের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মার্চ ১০, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানে চেম্বারের মধ্যেই হাতুড়ে ডাক্তারকে কুপিয়ে খুন, থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ অভিযুক্তের

বর্ধমান শহরে নৃশংস খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। শহরের বাদামতলা এলাকায় নিজের চেম্বারের মধ্যেই এক হাতুড়ে ডাক্তারকে কাটারি দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করায় এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের নাম রাজা ভৌমিক (৪৫)। তিনি বর্ধমান শহরের বাবুরবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং গত দুবছর ধরে বাদামতলা এলাকায় একটি চেম্বার চালিয়ে চিকিৎসা করতেন। এই ঘটনায় শক্তিগড়ের আমড়া গ্রামের বাসিন্দা জীবন রুইদাস নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ প্রতিদিনের মতোই চেম্বার খোলেন রাজা ভৌমিক। কিছুক্ষণ পরেই চেম্বারে ঢোকে জীবন রুইদাস। অভিযোগ, তার সঙ্গে থাকা ব্যাগের মধ্যেই ছিল একটি ধারালো কাটারি। চেম্বারের ভেতরে ঢুকেই আচমকা রাজা ভৌমিকের উপর হামলা চালায় অভিযুক্ত। মাথায় একের পর এক কোপ মারলে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন রাজা ভৌমিক।এই নৃশংস কাণ্ড ঘটানোর পর অভিযুক্ত সরাসরি বর্ধমান থানায় গিয়ে হাজির হয় এবং পুলিশের কাছে খুনের কথা স্বীকার করে। এরপর পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে বাদামতলার চেম্বারে যায়। সেখান থেকে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকরা রাজা ভৌমিককে মৃত বলে ঘোষণা করেন।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্তের ঠাকুমা প্রায় এক মাস আগে মারা যান। অভিযুক্তের দাবি, রাজা ভৌমিকের চিকিৎসার কারণেই তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পনা করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক ব্যানার্জী জানান, অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। খুনের কারণ, পূর্বপরিকল্পনা এবং অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদামতলা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। খুনের ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে বর্ধমান থানার পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
রাজ্য

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মজয়ন্তী পালনে ঠাকুরপল্লী স্বামীজি সংঘ, সংবর্ধনা শিক্ষক সমাজকে

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মবার্ষিকী ধুমধাম করে পালন করল ঠাকুরপল্লী স্বামীজি সংঘ। এদিন সকালে প্রভাতফেরিতে অংশ নেয় কয়েক শো মানুষ। বিশেষ সজ্জিত ট্যাবলো প্রভাতফেরিকে আকর্ষণীয় করে তোলে। স্বামীজির গলায় মাল্যদান করেন ক্লাবের কর্মকর্তারা। ক্লাবের পতাকা উত্তোলন করেন সংগঠনের সভাপতি অরুন নন্দী।এদিন বিকেলে ক্লাব প্রাঙ্গনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। পাশাপাশি এলাকার ১২জন কৃতী ছাত্র-ছাত্রী ও ৯ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সোমবার সন্ধ্যায় ক্লাব প্রাঙ্গনে আবৃত্তি, সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রানবন্ত হয়ে ওঠে। আয়োজক ক্লাবের পক্ষে কোষাধ্যক্ষ সুখরঞ্জন সাহা, সহ সম্পাদক আশুতোষ দে বলন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা স্বামী বিবেকানন্দকে স্মরণ করেছি নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।এছাড়া সারাবছর নানা সমাজসেবা মূলক কাজ করে আমাদের ক্লাব। রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য শিবির, চক্ষু পরীক্ষা শিবির নিয়মিত ভাবে আয়োজন করে ক্লাব। স্বামীজি সংঘের কার্যকর্তা অনুপম গাইন, সঞ্জু সাহা, খোকন সরকার, কালাচাঁদ দে সহ অন্যদের সক্রিয় ভূমিকায় দিনভর অনুষ্ঠান সার্বিক সফলতা পেয়েছে।

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 18
  • 19
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ভুতনির বন্যা দেখতে নদীপথে মন্ত্রীদল! বানভাসিদের জন্য কী পরিকল্পনা রাজ্যের?

মালদহের ভুতনিতে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আজ এলাকায় পৌঁছেছে রাজ্য সরকারের মন্ত্রীদল। ইতিমধ্যেই মালদহে পৌঁছেছেন একাধিক মন্ত্রী। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন জেলার সাংসদ, বিধায়ক এবং প্রশাসনের আধিকারিকেরা। জলমগ্ন দুর্গম এলাকাগুলি নদীপথে ঘুরে দেখার কথা রয়েছে মন্ত্রীদের।মন্ত্রীদলের মধ্যে রয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের মন্ত্রী অজয় পোদ্দার, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এবং দমকল ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। প্রথমে মন্ত্রীরা রতুয়ায় যাবেন। সেখান থেকে যাওয়ার কথা রয়েছে ভুতনিতে। দুপুরে বন্যাত্রাণ শিবিরও পরিদর্শন করবেন তাঁরা।এর পাশাপাশি ব্লক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মন্ত্রীরা। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি, ত্রাণের ব্যবস্থা এবং মানুষের প্রয়োজন নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হবে। এই সফরের পর ভুতনির জলবন্দি এলাকাগুলিতে পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা তৈরি করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।ভুতনির পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও রিপোর্ট দেবেন মন্ত্রীরা। অর্থাৎ শুধু বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন নয়, বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর এলাকায় কী ভাবে কাজ শুরু করা হবে, সেই বিষয়টিও এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং বহু মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নের কাজ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।শঙ্কর ঘোষ আরও জানিয়েছেন, মালদহে নদীভাঙন এবং বন্যা দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা। এই সমস্যা মোকাবিলায় বড় পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডকে একসঙ্গে পরিকল্পনা করে কাজ করতে হবে।এদিকে ভুতনিতে গঙ্গার জলস্তর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জলস্তর ১৭ সেন্টিমিটার কমেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। চলতি মরশুমে এক দিনে জলস্তর কমার ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ পতন বলে দাবি করা হচ্ছে।তবে জল কমলেও এখনও স্বস্তি ফেরেনি ভুতনিতে। মানিকচকে গঙ্গার জলস্তর ২৫.৩৪ মিটারে নেমে এসেছে বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যা চরম বিপদসীমার থেকে এখনও চার সেন্টিমিটার বেশি। ফলে নদীর জলস্তর কমলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি।ভুতনির বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন। কোথাও তাকালেই চোখে পড়ছে জল। টানা বহু দিন ধরে জলবন্দি থাকার কারণে একাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। দুর্গম এলাকায় অসুস্থদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।চরম বিপদসীমার উপরে থাকা গঙ্গা পেরিয়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। নৌকায় করে জল পেরিয়ে অসুস্থ মানুষকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাঁদেরও ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। অন্যের প্রাণ বাঁচাতে নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবেই তাঁরা কাজ করছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।জলস্তর কমার ফলে পরিস্থিতিতে সামান্য স্বস্তির ইঙ্গিত মিললেও ভুতনির বহু এলাকায় এখনও জল রয়েছে। তাই এখন নজর শুধু গঙ্গার জলস্তরের দিকে নয়, জলবন্দি মানুষের চিকিৎসা, ত্রাণ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের দিকেও। মন্ত্রীদের এই সফরের পর ভুতনির পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

২৪৯ বছরের ঐতিহাসিক মহাকরণে ফিরছে সচিবালয়! ১৩ বছর পর বদলাতে চলেছে বাংলার প্রশাসনিক ঠিকানা

দীর্ঘ ১৩ বছরের ব্যবধানের পর ফের ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং থেকে প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরু করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার আবহে পুরনো মহাকরণে ফিরতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন। পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্যের ছয় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দফতরের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।বর্তমানে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয় নবান্ন থেকে। তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সচিবালয় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। সেই মতোই চলছে সংস্কারের কাজ।১৩ বছর আগে নবান্নে সরেছিল সচিবালয়প্রায় ২৪৯ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং একসময় ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক কেন্দ্র। ১৩ বছর আগে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সচিবালয় স্থানান্তরিত হয় নবান্নে। এরপর থেকে সেখান থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয়ে আসছে।তবে পুরনো ভবনের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ না হওয়ায় এতদিন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে পুরোপুরি ফেরা সম্ভব হয়নি। এবার সেই কাজ দ্রুত শেষ করে ঐতিহাসিক মহাকরণ থেকেই প্রশাসনিক কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।সংস্কারকাজ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকরাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কারকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। পূজা উৎসবের আগেই কাজ শেষ করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।রিপোর্ট অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ প্রায় শেষের পথে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের দফতরও দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রীর দফতর তৈরির প্রস্তুতিরাইটার্স বিল্ডিংয়ে যাঁদের দফতর চালু করার প্রস্তুতি চলছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেনশুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীদিলীপ ঘোষ পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীঅগ্নিমিত্রা পাল পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীশঙ্কর ঘোষ পর্যটন মন্ত্রীশারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীঅজয় পোদ্দার পূর্তমন্ত্রীসব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে রাজ্য প্রশাসনের প্রত্যাবর্তন ঘিরে প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ সম্পূর্ণ করে ঠিক কবে থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু হবে, তা সরকারি ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন বাংলার ৫ অফবিট ডেস্টিনেশনে, পাহাড়-জঙ্গল-সমুদ্রের হাতছানি

দুর্গাপুজো মানেই বাংলার পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পুজোর ছুটিতে দিঘা, মন্দারমণি, দার্জিলিং কিংবা ডুয়ার্সের পরিচিত জায়গাগুলিতে ভিড় জমে। ফলে নিরিবিলিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান যাঁরা, তাঁদের অনেক সময়ই সমস্যায় পড়তে হয়। তবে ভিড় এড়িয়ে একটু অন্যরকম পরিবেশে ছুটি কাটাতে চাইলে বেছে নিতে পারেন বাংলার কয়েকটি অফবিট ডেস্টিনেশন।পাহাড়ি গ্রাম থেকে গভীর জঙ্গল, নির্জন সমুদ্রসৈকত থেকে ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু জায়গা, যেখানে মিলতে পারে শান্ত পরিবেশ ও প্রকৃতির সান্নিধ্য। পুজোর পর্যটন ভিড় শুরু হওয়ার আগেই ঘুরে আসতে পারেন এই পাঁচটি জায়গায়।১. টোডে ও টাংতাকালিম্পংয়ের কাছে ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছে অবস্থিত টোডে ও টাংতা। প্রায় ৪,৩০০ ফুট উচ্চতায় ন্যোরাভ্যালি জাতীয় উদ্যানের প্রান্তে থাকা এই দুই পাহাড়ি গ্রাম এখনও অনেকটাই পর্যটকদের ভিড়ের বাইরে। মেঘে ঢাকা পাহাড়, নির্জন পথ এবং সবুজে ঘেরা পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করতে পারে।এখানে ঘুরে দেখতে পারেন এলাচের বাগান, মেমোরিয়াল চার্চ এবং পুরনো বৌদ্ধ মঠ। ভারত-ভুটান সীমান্তের দৃশ্যও এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ। থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন হোমস্টে ও ফার্মস্টে।২. লেপচাখাহালকা ট্রেকিংয়ের পাশাপাশি পাহাড় ও জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আলিপুরদুয়ারের লেপচাখা হতে পারে পছন্দের গন্তব্য। বক্সা জঙ্গলের মাঝে পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই গ্রাম থেকে পরিষ্কার আকাশে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ সমতলভূমি ও নদীগুলির মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।লেপচাখায় বসবাসকারী ড্রুকপা সম্প্রদায়ের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও রয়েছে। রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা মিলতে পারে তারাভরা আকাশের। পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারেন লেপচাখা ভিউপয়েন্ট, বক্সা ফোর্ট, ড্রুকপা গ্রাম এবং হিমালয়ান বার্ডিং ট্রেল।৩. বাঁকিপুটদিঘা কিংবা মন্দারমণির ভিড় এড়িয়ে সমুদ্রের ধারে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চাইলে পূর্ব মেদিনীপুরের বাঁকিপুট ঘুরে আসতে পারেন। ঘন ঝাউবন ঘেরা এই সমুদ্রতট তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত।নির্জন সৈকতে হাঁটাহাঁটি, বালির উপর লাল কাঁকড়ার আনাগোনা দেখা কিংবা স্থানীয় সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়াসব মিলিয়ে ছুটি কাটানোর জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয় হতে পারে। বাঁকিপুট সি বিচের পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন দারিয়াপুর লাইটহাউস এবং পেটুয়াঘাট ফিশিং পোর্ট।৪. দুয়ারসিনিপুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত দুয়ারসিনি প্রকৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধনের জন্য পরিচিত। চারপাশের পাহাড়, শাল-সেগুন-পিয়ালের জঙ্গল এবং পলাশের সৌন্দর্য এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ।পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাথুরে সাতগুরাং নদী জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যের পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতি, নাচ-গান ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সুযোগও রয়েছে। দুয়ারসিনি ফরেস্ট এবং বুড়ুডি ড্যাম এখানকার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। থাকার জন্য রয়েছে পর্যটন দফতরের কটেজ ও বিভিন্ন ইকোট্যুরিজম ব্যবস্থা।৫. আমাদপুরঅল্প সময়ের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাদ পেতে চাইলে পূর্ব বর্ধমানের আমাদপুর ঘুরে আসতে পারেন। গ্রামবাংলার শান্ত পরিবেশের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে রাজবাড়ি, পুরনো পুকুর, মন্দির এবং জমিদারি আমলের বিভিন্ন স্থাপত্যের নিদর্শন।আমাদপুর রাজবাড়ি, টেরাকোটা মন্দির, দোলমঞ্চ এবং বাঘবাড়ি এখানকার উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ। গ্রামের অলিগলি ধরে হাঁটলে বাংলার পুরনো দিনের গ্রামীণ জীবনের এক অন্যরকম ছবি চোখে পড়বে।পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র কিংবা ইতিহাস পুজোর ছুটিতে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে বাংলার এই পাঁচটি অফবিট গন্তব্যে ঘুরে আসার পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে যাওয়ার আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা, থাকার জায়গা এবং স্থানীয় পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন বাংলার ৫ অফবিট ডেস্টিনেশনে, পাহাড়-জঙ্গল-সমুদ্রের হাতছানি

দুর্গাপুজো মানেই বাংলার পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পুজোর ছুটিতে দিঘা, মন্দারমণি, দার্জিলিং কিংবা ডুয়ার্সের পরিচিত জায়গাগুলিতে ভিড় জমে। ফলে নিরিবিলিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান যাঁরা, তাঁদের অনেক সময়ই সমস্যায় পড়তে হয়। তবে ভিড় এড়িয়ে একটু অন্যরকম পরিবেশে ছুটি কাটাতে চাইলে বেছে নিতে পারেন বাংলার কয়েকটি অফবিট ডেস্টিনেশন।পাহাড়ি গ্রাম থেকে গভীর জঙ্গল, নির্জন সমুদ্রসৈকত থেকে ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু জায়গা, যেখানে মিলতে পারে শান্ত পরিবেশ ও প্রকৃতির সান্নিধ্য। পুজোর পর্যটন ভিড় শুরু হওয়ার আগেই ঘুরে আসতে পারেন এই পাঁচটি জায়গায়।১. টোডে ও টাংতাকালিম্পংয়ের কাছে ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছে অবস্থিত টোডে ও টাংতা। প্রায় ৪,৩০০ ফুট উচ্চতায় ন্যোরাভ্যালি জাতীয় উদ্যানের প্রান্তে থাকা এই দুই পাহাড়ি গ্রাম এখনও অনেকটাই পর্যটকদের ভিড়ের বাইরে। মেঘে ঢাকা পাহাড়, নির্জন পথ এবং সবুজে ঘেরা পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করতে পারে।এখানে ঘুরে দেখতে পারেন এলাচের বাগান, মেমোরিয়াল চার্চ এবং পুরনো বৌদ্ধ মঠ। ভারত-ভুটান সীমান্তের দৃশ্যও এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ। থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন হোমস্টে ও ফার্মস্টে।২. লেপচাখাহালকা ট্রেকিংয়ের পাশাপাশি পাহাড় ও জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আলিপুরদুয়ারের লেপচাখা হতে পারে পছন্দের গন্তব্য। বক্সা জঙ্গলের মাঝে পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই গ্রাম থেকে পরিষ্কার আকাশে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ সমতলভূমি ও নদীগুলির মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।লেপচাখায় বসবাসকারী ড্রুকপা সম্প্রদায়ের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও রয়েছে। রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা মিলতে পারে তারাভরা আকাশের। পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারেন লেপচাখা ভিউপয়েন্ট, বক্সা ফোর্ট, ড্রুকপা গ্রাম এবং হিমালয়ান বার্ডিং ট্রেল।৩. বাঁকিপুটদিঘা কিংবা মন্দারমণির ভিড় এড়িয়ে সমুদ্রের ধারে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চাইলে পূর্ব মেদিনীপুরের বাঁকিপুট ঘুরে আসতে পারেন। ঘন ঝাউবন ঘেরা এই সমুদ্রতট তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত।নির্জন সৈকতে হাঁটাহাঁটি, বালির উপর লাল কাঁকড়ার আনাগোনা দেখা কিংবা স্থানীয় সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়াসব মিলিয়ে ছুটি কাটানোর জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয় হতে পারে। বাঁকিপুট সি বিচের পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন দারিয়াপুর লাইটহাউস এবং পেটুয়াঘাট ফিশিং পোর্ট।৪. দুয়ারসিনিপুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত দুয়ারসিনি প্রকৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধনের জন্য পরিচিত। চারপাশের পাহাড়, শাল-সেগুন-পিয়ালের জঙ্গল এবং পলাশের সৌন্দর্য এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ।পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাথুরে সাতগুরাং নদী জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যের পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতি, নাচ-গান ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সুযোগও রয়েছে। দুয়ারসিনি ফরেস্ট এবং বুড়ুডি ড্যাম এখানকার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। থাকার জন্য রয়েছে পর্যটন দফতরের কটেজ ও বিভিন্ন ইকোট্যুরিজম ব্যবস্থা।৫. আমাদপুরঅল্প সময়ের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাদ পেতে চাইলে পূর্ব বর্ধমানের আমাদপুর ঘুরে আসতে পারেন। গ্রামবাংলার শান্ত পরিবেশের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে রাজবাড়ি, পুরনো পুকুর, মন্দির এবং জমিদারি আমলের বিভিন্ন স্থাপত্যের নিদর্শন।আমাদপুর রাজবাড়ি, টেরাকোটা মন্দির, দোলমঞ্চ এবং বাঘবাড়ি এখানকার উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ। গ্রামের অলিগলি ধরে হাঁটলে বাংলার পুরনো দিনের গ্রামীণ জীবনের এক অন্যরকম ছবি চোখে পড়বে।পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র কিংবা ইতিহাস পুজোর ছুটিতে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে বাংলার এই পাঁচটি অফবিট গন্তব্যে ঘুরে আসার পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে যাওয়ার আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা, থাকার জায়গা এবং স্থানীয় পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

‘কিছু প্রত্যাহার করব না’, হলদিয়া আদালতে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা মিলন প্রধানের! নন্দীগ্রামে নতুন মোড়

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার হলদিয়া আদালতে তোলা হল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। আদালত চত্বরে তাঁকে ঘিরে ছিলেন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। কংগ্রেসের নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি প্রার্থী পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন? জবাবে মিলন বলেন, শাসক দল ভয় পেয়েছে, কিছু প্রত্যাহার করব না।শুক্রবার চণ্ডীপুর থানা এলাকার একটি মামলায় মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, ২০০৭ সালের চারটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, প্রমাণ লোপাট এবং অস্ত্র-সহ অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে মামলা রয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানা কার্যকর করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।মিলনকে গ্রেফতার করার পর থেকেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্য দিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, পুলিশের কাজ পুলিশ করেছে এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই বলে তারা দাবি করেছে।কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও এই গ্রেফতারি নিয়ে সরব হয়েছে। রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, মিলন প্রধানের গ্রেফতারি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয় এবং তিনি এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নির্বাচনী লড়াইয়ের বদলে বিরোধীদের সরিয়ে দিতে চাইছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় তারা পিছিয়ে যাবে না।তবে পুলিশের বক্তব্য আলাদা। তাদের দাবি, পুরনো মামলায় আদালতের জারি করা পরোয়ানা কার্যকর করতেই মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে গ্রেফতারির আইনি কারণ নিয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগদুই দিকই সামনে এসেছে।এর মধ্যেই শনিবার আদালতে দাঁড়িয়ে মিলন প্রধান জানিয়ে দিলেন, তিনি প্রার্থী পদ থেকে কিছু প্রত্যাহার করবেন না। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তাঁর নিজের বক্তব্যে তার জবাব মিলেছে।নন্দীগ্রাম এমনিতেই রাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমি আন্দোলনের পর থেকেই এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সেই নন্দীগ্রামেই এ বার উপনির্বাচনের আগে প্রার্থী প্রত্যাহার, নতুন সমর্থন এবং কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেফতারি ঘিরে একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। ফলে ভোটের আগে এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই আরও সরগরম হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও বিরাট নাটক! ভোটে না লড়ার ঘোষণার পর তড়িঘড়ি কেন অবস্থান বদল মমতা ঘনিষ্ঠ রবিউল আলমের?

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও কি প্রার্থীহীন হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির? শনিবার সকাল থেকে এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয় জল্পনা। প্রথমে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদল করলেন রেজিনগরে মমতা গোষ্ঠীর তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।শনিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রবিউল জানান, অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচনী প্রতীক ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান। তাঁর অভিযোগ, কর্মীদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না। নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।রবিউলের কথায়, নতুন নির্বাচনী প্রতীক অল্প সময়ের মধ্যে ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যে আমার সিদ্ধান্তের কথা নেত্রীকে জানিয়েছি। কর্মীদের মাঠে-ময়দানে নামানো যাচ্ছে না। সিম্বল একটা বড় ফ্যাক্টর।বেলডাঙা থানায় যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত বদলতবে বেলা বাড়তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। রবিউল জানান, একাধিক তৃণমূল নেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এরপর তিনি বেলডাঙা থানায় যান। সেখানে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর ফের নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।রবিউলের বক্তব্য, পাশে মাত্র ১০ জন কর্মী থাকলেও তিনি ভোটের লড়াই চালিয়ে যাবেন। নির্বাচনী প্রচারেও নামবেন বলে জানিয়েছেন রেজিনগরের এই প্রার্থী। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে রেজিনগরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নাটকীয় পরিস্থিতি।নন্দীগ্রামে সঞ্চিতার মনোনয়ন প্রত্যাহার, গ্রেফতার মিলন প্রধানএর আগে শুক্রবার নন্দীগ্রামে মমতা গোষ্ঠীর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। পরে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপরই ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতার হন মিলন প্রধান। তাঁর গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।নতুন নাম ও প্রতীক ঘিরে বদলেছে সমীকরণতৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রতীক অল্প সময়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সমস্যা নিয়ে রবিউলের মন্তব্যও সেই প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এখন রবিউল আলম চৌধুরী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ময়দানে থাকেন কি না, এবং প্রচারে দলের কর্মীরা কতটা সক্রিয় হন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উপনির্বাচনের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়েও চলছে জল্পনা।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

গুগল ম্যাপ দেখেই বাইক চালাচ্ছিলেন! হঠাৎ রাস্তা শেষ, বাইক-সমেত খাদের নীচে যুবক

মোবাইলে গুগল ম্যাপ খুলে সেই পথ দেখেই বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন যুবক। কিন্তু যে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেটি যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এবং পরিত্যক্ত খনি এলাকার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তা বুঝতে পারেননি তিনি। আচমকাই রাস্তার একটি ভাঙা অংশের কাছে গিয়ে বাইক-সহ গভীর খাদে পড়ে যান। দীর্ঘ সময় পর গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। দুর্গাপুরের পাণ্ডবেশ্বরের ভাঁটমুড়া মহালক্ষ্মী এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।আহত যুবকের নাম প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পেশায় কেবল অপারেটর। কাঁকসার বনকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙাল এলাকার বাসিন্দা প্রসূন শুক্রবার রাতে বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। অচেনা পথে সুবিধার জন্য মোবাইলে গুগল ম্যাপ চালু করেছিলেন তিনি। ম্যাপে যে রাস্তা দেখানো হচ্ছিল, সেই পথ ধরেই বাইক চালাচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।পাণ্ডবেশ্বরের ভাঁটমুড়া মহালক্ষ্মী এলাকায় পৌঁছনোর পর বিপদ ঘটে। ওই এলাকা পরিত্যক্ত খনি এলাকার মধ্যে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে গিয়ে সেখানে গভীর খাদ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ম্যাপে সেই বিপজ্জনক অংশের কোনও ইঙ্গিত ছিল না বলে জানা গিয়েছে।অন্ধকারে ফাঁকা রাস্তা দিয়ে বাইক চালানোর সময় প্রসূন সেই খাদের কাছে পৌঁছে যান। বাইকের গতি বেশি থাকায় পরিস্থিতি সামলানোর সুযোগ পাননি বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। বাইক-সহ তিনি খাদের নীচে পড়ে গুরুতর জখম হন।এ দিকে রাতে অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও প্রসূন বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁরা। এরপর তাঁর মোবাইলের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। মোবাইলের অবস্থান পাণ্ডবেশ্বরের ওই খনি এলাকার আশপাশে দেখাচ্ছিল।এর পরেই পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। শুক্রবার রাতের পর শনিবার সকালে এলাকায় গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, খাদের মধ্যে পড়ে রয়েছে প্রসূনের বাইক। কিছুটা দূরে গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি।পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। শেষ পর্যন্ত প্রসূনকে খাদের নীচ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে দ্রুত দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। খনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ। তা হলে প্রসূন কী ভাবে সেই পথে পৌঁছলেন, সেটিই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি কি শুধুমাত্র গুগল ম্যাপে দেখানো পথ অনুসরণ করেই ওই এলাকায় পৌঁছেছিলেন, নাকি অন্য কোনও কারণে সেই রাস্তা ব্যবহার করেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।দুর্ঘটনার সময় বাইকের গতি কত ছিল, রাস্তার পরিস্থিতি কেমন ছিল এবং ঠিক কোন জায়গায় বাইকটি খাদে পড়ে যায়, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গুগল ম্যাপে ওই রাস্তা কেন দেখাচ্ছিল এবং বিপজ্জনক অংশটি কেন চিহ্নিত ছিল না, সেই প্রশ্নও উঠছে।তবে আপাতত পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি আহত প্রসূনের চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুর্ঘটনার কারণ পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। তদন্ত শেষ হলেই জানা যাবে, ঠিক কী ভাবে গুগল ম্যাপের পথ ধরে চলতে গিয়ে পরিত্যক্ত খনি এলাকার গভীর খাদে বাইক-সহ পড়ে গেলেন ওই যুবক।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

সকালে বললেন মনোনয়ন তুলবেন, দুপুরে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন! রবিউলকে ঘিরে রেজিনগরে নাটক

রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে সকাল থেকেই তৈরি হয়েছিল টানটান উত্তেজনা। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, রেজিনগরেও কি একই পথে হাঁটবেন মমতা শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী? শনিবার সকালে সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। রবিউল নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন না।শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রবিউল জানিয়েছিলেন, তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে পারেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের উপর চাপ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অনেক কর্মী সরে যাচ্ছেন বলেও জানান রবিউল। ফলে কর্মীদের ছাড়া কী ভাবে ভোটের লড়াই করবেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তিনি।রবিউলের কথায়, কর্মীরাই যদি না থাকেন, তা হলে একা ঘুরে ভোট করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। সেই কারণেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।কিন্তু বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি বদলে যায়। সাড়ে ১২টা নাগাদ রবিউল জানান, তিনি আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পরই তাঁর এই মতবদল বলে জানান তিনি। রবিউলের বক্তব্য অনুযায়ী, মমতার নির্দেশ মেনে তিনি ভোটের লড়াইয়ে থাকবেন।রবিউল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথামতো তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের যে চিন্তাভাবনা করেছিলেন, তা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নতুন পরিস্থিতিতে ভোটের প্রচারে নামার কথাও জানান তিনি। অর্থাৎ, সকালের সিদ্ধান্তের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনগরে মমতা শিবিরের প্রার্থীর অবস্থান বদলে যায়।রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর মমতা শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীকে লড়তে হচ্ছে। দুই কেন্দ্রেই আগে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে কমিশনের সিদ্ধান্তের জেরে পরিস্থিতি বদলে যায়।নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল।সেই জল্পনার মধ্যেই প্রথমে রবিউলের মনোনয়ন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত এবং পরে মমতার সঙ্গে কথা বলে লড়াইয়ে থাকার ঘোষণা নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা তৈরি করে। তবে পরবর্তী আপডেটে জানা যায়, শেষ পর্যন্ত রবিউল আলম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। ফলে সকালের সিদ্ধান্ত, দুপুরের মতবদল এবং পরে ফের মনোনয়ন প্রত্যাহারসব মিলিয়ে রেজিনগর উপনির্বাচনে রবিউলকে ঘিরে তৈরি হয় একাধিক নাটকীয় মোড়।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal