• ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার ০৫ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Burdwan

রাজ্য

কয়লার ভ্যান টানা থেকে উল্কার গতিতে উত্থান, আধুনা 'বর্ধমানের মহারাজ' পুলিসের জালে!

বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর ট্রানজিট রিমান্ডে বর্ধমানে নিয়ে আসায় পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকেলে তাঁকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বর্ধমান থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে দাবি, খোকন দাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে তোলাবাজি, হুমকি প্রদান, বেআইনি জলাজমি ও পুকুর ভরাট, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণে মদত এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।খোকন দাসের রাজনৈতিক উত্থানও দীর্ঘদিন ধরে বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়লা ও বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকে ধীরে ধীরে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন। বামফ্রন্ট আমলে বর্ধমান পুরসভার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালেও কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর পুরসভার টাউন প্ল্যানিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় তাঁর প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ।২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধায়ক হন খোকন দাস। তবে সেই সময় থেকেই ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিরোধীদের উপর হামলা এবং এলাকায় সন্ত্রাসের আবহ তৈরির অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিবেদনে তাঁর নাম উল্লেখ করে কঠোর পর্যবেক্ষণও করা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।চলতি বিধানসভা নির্বাচনে পুনরায় প্রার্থী হলেও বড় ব্যবধানে পরাজিত হন খোকন দাস। এরপর রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। তদন্তকারী সংস্থার নজরও ক্রমশ তাঁর দিকে ঘুরে যায়। অভিযোগ রয়েছে, পরাজয়ের পরেও বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোনে হুমকি দেওয়া এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সংক্রান্ত কিছু অডিও ক্লিপও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।রবিবার উত্তরপ্রদেশের দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় আদালতে পেশ করার পর ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর হয় এবং এরপর তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বাইরে অবস্থান করলেও শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীদের জাল এড়াতে পারেননি বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।খোকন দাসের গ্রেফতারের খবর সামনে আসতেই বর্ধমানে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। শাসকদল বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একাংশকে তাঁর কাঞ্চননগরের বাড়ির সামনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, একজন সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে কীভাবে বিপুল সম্পত্তির মালিকানা গড়ে উঠল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।এদিন বর্ধমানে এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, যারা ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং গুন্ডামির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব পথে কাজ করছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী নেতাদের নিশানা করে গ্রেফতার করা হচ্ছে।এখন আদালতে খোকন দাসকে পেশ করার পর তদন্তকারী সংস্থা কী ধরনের হেফাজতের আবেদন জানায় এবং আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের। বর্ধমানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তারকারী এই নেতার গ্রেফতারি আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

জুন ০২, ২০২৬
রাজ্য

সানডে সাস্পেন্স! পূর্ব বর্ধমানে পুলিশি ঝড়! গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস সহ তৃণমূলের আরও দুই প্রভাবশালী নেতা

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার পূর্ব বর্ধমান জেলায় কার্যত সুপার সানডে অভিযান চালিয়ে তিন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে আইনের জালে আনল পুলিশ। প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস ও তপন চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির পাশাপাশি আটক করা হয়েছে কাটোয়ার প্রভাবশালী নেতা দিগন্ত পালকেও। জেলাজুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে পূর্বস্থলীতে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার সকালে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হানা দেয় পূর্বস্থলী থানার পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য বরাদ্দ বহু ত্রিপল এবং সরকারি ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিতরণের উদ্দেশ্যে পাঠানো ফুটবল।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখার অভিযোগে তপন চট্টোপাধ্যায়কে আটক করে পরে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের পরিবর্তে এই সামগ্রিগুলি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মজুত রাখা হয়েছিল। এমনকি সেগুলি কালোবাজারে বিক্রির পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এলাকার মানুষ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রাক্তন বিধায়কের মালিকানাধীন একাধিক গুদামেও তল্লাশি চালিয়েছে।তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে স্লোগান দিতে থাকেন। উদ্ধার হওয়া সরকারি সামগ্রীর উৎস, সংরক্ষণের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।অন্যদিকে, বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা জেলার অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক মুখ খোকন দাসকে রবিবার সকালে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ এর হান্ডিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একটি পুরনো মারধরের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। ২০২১ এ নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসে অভিযুক্ত ছিলেন খোকন দাস। সিবিআই তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, স্থানীয় আদালতে তাঁকে পেশ করে ট্রানসিট রিমান্ডের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজ্যের বাইরে ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।জেলার রাজনৈতিক অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে একই দিনে গ্রেফতার করা হয়েছে কাটোয়ার প্রভাবশালী নেতা তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দিগন্ত পালকে। আর্থিক তছরুপ ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগে শনিবার গভীর রাতে কাটোয়া স্টেশন বাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে কাটোয়া থানার পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়।সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাক্তন তৃণমূল নেতাদের বাড়ি, দলীয় কার্যালয় এবং ব্যক্তিগত গুদাম থেকে সরকারি ত্রাণসামগ্রী, আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র-সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধারের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে প্রশাসনিক সম্পদের অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।একদিনে জেলার তিন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপে পূর্ব বর্ধমানের রাজনৈতিক মহল কার্যত সরগরম। তদন্ত যত এগোবে, ততই আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ফলে এই ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনে জেলার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

মে ৩১, ২০২৬
রাজ্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়াই মাঠের তালা খোলা! বর্ধমানে বিজেপি বিধায়ককে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বহুদিন বন্ধ থাকা মোহনবাগান মাঠের তালা খোলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তির উঠেছে বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়াই তিনি সাধারণের ব্যবহারের জন্য মাঠ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক মহল যেমন প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফেও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান মাঠটি সাধারণের জন্য বন্ধ ছিল। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পরিদর্শনে এসে মাঠটি তালাবন্ধ অবস্থায় দেখতে পান বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। এরপর তিনি তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মীদের তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঠ খুলে দেওয়া হয় এবং স্থানীয়দের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিরোধীরা। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, বিধায়ক এখনও বুঝে উঠতে পারেননি কোন বিষয় তাঁর প্রশাসনিক এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে আর কোনটা পড়ে না। তিনি ব্যঙ্গের সুরে বলেন, নতুন বই হাতে পাওয়া বাচ্চারা যেমন আগ্রহ নিয়ে পাতা উল্টে দেখে, ঠিক তেমনই নতুন বিধায়ক গলায় মালা পরে সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে প্রতিদিন ছুটে বেড়াচ্ছেন।যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেছেন বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। তাঁর বক্তব্য, এত বড় একটি মাঠ বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে থাকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন, এই মাঠ এলাকার মানুষের সম্পদ। শিশু থেকে প্রবীণ সকলে এখানে এসে খেলাধুলা করতে পারবেন, হাঁটাচলা করতে পারবেন। মানুষের স্বার্থেই মাঠ খুলে দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্কর কুমার নাথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠ খোলার বিষয়ে তাঁকে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে না জানিয়েই মাঠ খুলে দেওয়া হয়েছে, যা সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এই মাঠে সকাল-বিকেল স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ চলে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীরাও এখানে নিয়মিত অনুশীলন করেন। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষক এক অধ্যাপক বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁকে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়েছে।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অধিকার ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার সীমা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন দেখার, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ করে কি না এবং বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।

মে ২৪, ২০২৬
রাজ্য

ভোটে হারের পর ডিগবাজি? ভাইরাল অডিওতে ‘বিজেপি নেতা’ খোকন দাস, বর্ধমানে তোলপাড়

বর্ধমান দক্ষিণের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে একটি ভাইরাল অডিওকে কেন্দ্র করে। সেই অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, আমিও এখন বিজেপি নেতা। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই জেলা রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে।বিজেপির দাবি, কাঞ্চননগরের একটি দুর্গামন্দির নির্মাণের কাজ করেও এক রাজমিস্ত্রি প্রাপ্য টাকা পাননি। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই ফোনে তাঁকে ধমক দেন খোকন দাস। ভাইরাল হওয়া অডিওতে শোনা যায়, মন্দিরের হিসেব, ট্রাস্টের টাকা এবং ভোটে হারের প্রসঙ্গ তুলে কথা বলছেন তিনি। কথোপকথনের এক পর্যায়ে খোকন দাসকে বলতে শোনা যায়, তুই এখন সুযোগ নিয়ে লোককে ভয় দেখাচ্ছিস। আমরাও এখানে আছি। আর শুনে রাখ, আমিও এখন বিজেপি নেতা।যদিও এই অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি জনতার কথা। তবে বিজেপি নেতাদের দাবি, ওই কথোপকথনে স্পষ্টভাবে প্রাক্তন বিধায়কের হুমকির সুর ধরা পড়েছে। জেলা বিজেপির মুখপাত্র কল্যাণ মাজি অভিযোগ করেন, ক্ষমতা হারিয়েও খোকন দাস এখনও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। তাই কখনও এফআইআরের ভয় দেখাচ্ছেন, আবার কখনও নিজেকে বিজেপি নেতা বলছেন।অন্যদিকে খোকন দাস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অডিও নিয়ে বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কোনও ব্যক্তিকে ভয় দেখানো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং মন্দির ও ট্রাস্টের নামে অপপ্রচার রোখার জন্যই পুলিশে জানানোর কথা বলেছিলেন। তাঁর আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট রাজমিস্ত্রি হিসেব না দেওয়ায় ট্রাস্টের পক্ষ থেকে টাকা আটকে রাখা হয়েছে।তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, যদি অডিওর প্রথম অংশে নিজের কণ্ঠস্বর স্বীকার করে নেওয়া হয়, তাহলে একই অডিওতে থাকা আমিও বিজেপি নেতা মন্তব্যকে অস্বীকার করা হচ্ছে কেন? এই নিয়েই নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে জেলা রাজনীতিতে।

মে ১২, ২০২৬
রাজনীতি

একদা কমিউনিষ্ট ঘাঁটিতে টানা তিনবার জিতেও নিশ্চিন্ত নয় তৃণমূল! বর্ধমান দক্ষিণে এবার কি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই?

দক্ষিণ বর্ধমান বরাবর কমিউনিস্টদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই কেন্দ্র থেকে প্রথম দুটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী। তখন তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন অবিভক্ত কমিউনিষ্ট পার্টি তথা সিপিআই থেকে। তারপর এই আসন থেকে কংগ্রেস প্রার্থী বর্ধমানের মহারানী রাধারাণী মহতাব জয়ী হয়েছিলেন। তার আগের নির্বাচনে বিনয় চৌধুরী পরাজিত করেছিলেন বর্ধমানের মহারাজাকে। সেই সম্মান পুনরুদ্ধার করতে কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছিলেন মহারাণী। তার পরে শুধু ১৯৬৭ ও ১৯৭২ সালে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস জয় পেয়েছিল। এখানে থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য। তাছাড়া ২০০৬ পর্যন্ত সিপিএম এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছে। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের ভোটে তৃণমূল প্রার্থী রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ব্যাপক ভোটের ব্য়বধানে পরাজিত করেন রাজ্যের তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেনকে। প্রায় ৩৭ হাজার ভোটে পরাজিত হন নিরুপম সেন। ২০১৬-তেও জয় পায় তৃণমূল। তখনও এই কেন্দ্রে প্রধান বিরোধী দল ছিল সিপিএম। রবিবঞ্জন চট্টোপাধ্যায় প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্য়বধানে সিপিএম প্রার্থী আইনুল হককে পরাজিত করেন। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ নন্দীকে পরাজিত করেন তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস। তবে জয়ের ব্যবধান অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি প্রায় অর্ধেক ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে থাকে তৃণমূলের থেকে। এই নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী পৃথা তা প্রায় ২৩ হাজারের ওপর ভোট পেয়েছিল।বর্ধমান পুরসভা এলাকা নিয়েই বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র। তবে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে কি হতে চলেছে তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই শহরজুড়ে। প্রথমত বিধায়ক খোকন দাসই টিকিট পাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। বিধায়ক অনুগামীরা জোরের সঙ্গে বলছেন টিকিট খোকন দাসই পাচ্ছেন। শহরে এক যুব নেতার নাম ভাসিয়ে দেওয়া হলেও বর্ধমান দক্ষিণে আদৌ সে টিকিট পাবেন কিনা তা নিয়ে কম জল্পনা নেই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ক্রীড়া অনুষ্ঠান সবেই জোরদার প্রতিযোগিতা চলছে তৃণমূলের দুই তরফ থেকেই। অনেকের আবার বক্তব্য, নেপোয় দই মেরে দেবে না তো!তৃণমূল যাকেই প্রার্থী করুক এবার জোরদার লড়াই হবে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে। এদিকে তৃণমূলের একটা সূত্রের দাবি, শহরে দলে ঘরের মধ্যে ঘর তৈরি হয়েছে। সেই ঘরও যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই সেই অংশের দাবি। তাঁদের ভূমিকা জয়-পরাজয়ে অনেকটা নির্ভর করবে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। পাশাপাশি যে ভাবে পর পর নির্বাচনে ওয়ার্ডগুলিতে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল তাতে সংশয় বেড়েছে। মোদ্দা কথা, পর পর তিনবার জয় পেলেও এবার বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে নেক-টু-নেক ফাইট হবার সম্ভাবনা প্রবল। একতরফা জয়ের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মার্চ ১০, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানে চেম্বারের মধ্যেই হাতুড়ে ডাক্তারকে কুপিয়ে খুন, থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ অভিযুক্তের

বর্ধমান শহরে নৃশংস খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। শহরের বাদামতলা এলাকায় নিজের চেম্বারের মধ্যেই এক হাতুড়ে ডাক্তারকে কাটারি দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করায় এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের নাম রাজা ভৌমিক (৪৫)। তিনি বর্ধমান শহরের বাবুরবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং গত দুবছর ধরে বাদামতলা এলাকায় একটি চেম্বার চালিয়ে চিকিৎসা করতেন। এই ঘটনায় শক্তিগড়ের আমড়া গ্রামের বাসিন্দা জীবন রুইদাস নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ প্রতিদিনের মতোই চেম্বার খোলেন রাজা ভৌমিক। কিছুক্ষণ পরেই চেম্বারে ঢোকে জীবন রুইদাস। অভিযোগ, তার সঙ্গে থাকা ব্যাগের মধ্যেই ছিল একটি ধারালো কাটারি। চেম্বারের ভেতরে ঢুকেই আচমকা রাজা ভৌমিকের উপর হামলা চালায় অভিযুক্ত। মাথায় একের পর এক কোপ মারলে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন রাজা ভৌমিক।এই নৃশংস কাণ্ড ঘটানোর পর অভিযুক্ত সরাসরি বর্ধমান থানায় গিয়ে হাজির হয় এবং পুলিশের কাছে খুনের কথা স্বীকার করে। এরপর পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে বাদামতলার চেম্বারে যায়। সেখান থেকে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকরা রাজা ভৌমিককে মৃত বলে ঘোষণা করেন।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্তের ঠাকুমা প্রায় এক মাস আগে মারা যান। অভিযুক্তের দাবি, রাজা ভৌমিকের চিকিৎসার কারণেই তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পনা করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক ব্যানার্জী জানান, অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। খুনের কারণ, পূর্বপরিকল্পনা এবং অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদামতলা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। খুনের ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে বর্ধমান থানার পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
রাজ্য

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মজয়ন্তী পালনে ঠাকুরপল্লী স্বামীজি সংঘ, সংবর্ধনা শিক্ষক সমাজকে

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মবার্ষিকী ধুমধাম করে পালন করল ঠাকুরপল্লী স্বামীজি সংঘ। এদিন সকালে প্রভাতফেরিতে অংশ নেয় কয়েক শো মানুষ। বিশেষ সজ্জিত ট্যাবলো প্রভাতফেরিকে আকর্ষণীয় করে তোলে। স্বামীজির গলায় মাল্যদান করেন ক্লাবের কর্মকর্তারা। ক্লাবের পতাকা উত্তোলন করেন সংগঠনের সভাপতি অরুন নন্দী।এদিন বিকেলে ক্লাব প্রাঙ্গনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। পাশাপাশি এলাকার ১২জন কৃতী ছাত্র-ছাত্রী ও ৯ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সোমবার সন্ধ্যায় ক্লাব প্রাঙ্গনে আবৃত্তি, সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রানবন্ত হয়ে ওঠে। আয়োজক ক্লাবের পক্ষে কোষাধ্যক্ষ সুখরঞ্জন সাহা, সহ সম্পাদক আশুতোষ দে বলন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা স্বামী বিবেকানন্দকে স্মরণ করেছি নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।এছাড়া সারাবছর নানা সমাজসেবা মূলক কাজ করে আমাদের ক্লাব। রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য শিবির, চক্ষু পরীক্ষা শিবির নিয়মিত ভাবে আয়োজন করে ক্লাব। স্বামীজি সংঘের কার্যকর্তা অনুপম গাইন, সঞ্জু সাহা, খোকন সরকার, কালাচাঁদ দে সহ অন্যদের সক্রিয় ভূমিকায় দিনভর অনুষ্ঠান সার্বিক সফলতা পেয়েছে।

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
রাজ্য

গ্রাম বাংলার অনবদ্য হস্তশিল্পের সৃষ্টি সম্ভার দেখতে বর্ধমানে 'সৃষ্টিশ্রী মেলা'য় মানুষের ঢল

লোকশিল্প, হস্তশিল্প ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পণ্যের বৈচিত্র্যে রীতিমতো উৎসবের চেহারা নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানে আয়োজিত ৫ম জেলা সৃষ্টিশ্রী মেলা (২০২৫২০২৬)। বর্ধমান শহরের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ময়দানে গত ২রা জানুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা চলবে ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত। মেলার প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে দিয়েছে, সৃষ্টিশ্রী মেলা শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়এ এক প্রাণবন্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলার বহু দর্শনার্থী প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন এই মেলায়। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও শিশুদের নিয়ে মেলায় এসে কেনাকাটার পাশাপাশি গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির স্বাদ নিচ্ছেন তাঁরা। দিনভর মেলা প্রাঙ্গণে মানুষের চলাচল, হাসি-আড্ডা ও ব্যস্ততা এক কথায় উৎসবের আবহ তৈরি করেছে।এবছরের সৃষ্টিশ্রী মেলার শুভ উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং সমবায় বিভাগের মন্ত্রী প্রদীপ কুমার মজুমদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, জেলার দুই সাংসদ কীর্তি ঝা আজাদ ও ডাঃ শর্মিলা সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসক আয়েষা রানী এ., জেলার বিধায়কগণ এবং বর্ধমান পৌরসভার পৌরপ্রধান পরেশ চন্দ্র সরকার সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা।এদিন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রায় ১৩ লক্ষ পরিবার বসবাস করেন। তার মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৭ লক্ষেরও বেশি পরিবার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আওতাভুক্ত হয়েছে। জেলায় বর্তমানে মোট স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। তিনি বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। স্বপন দেবনাথের কথায়, স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারই কার্যত গ্যারান্টারের ভূমিকা পালন করছে।তিনি আরও জানান, পূর্ব বর্ধমানে ব্যাঙ্ক ঋণ প্রাপ্তি যেমন সহজ হয়েছে, তেমনই ঋণ পরিশোধের হারও অত্যন্ত সন্তোষজনক। এই মেলায় শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা অংশ নিয়ে নিজেদের পণ্যের স্টল সাজিয়েছেন। এবছর মোট ৯০টি স্টল বসেছে মেলায়।অন্যদিকে জেলাশাসক আয়েষা রানী জানান, গত বছর সৃষ্টিশ্রী মেলায় প্রায় ২৭ কোটি টাকার বিপণন হয়েছিল। চলতি বছর সেই অঙ্ক আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই আশাবাদী জেলা প্রশাসন।পূর্ব বর্ধমান জেলা মিশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট, আনন্দধারা-র উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় স্থান পেয়েছে জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠী, হস্তশিল্পী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তৈরি বাহারি পণ্যের সম্ভার। মাটির কাজ, শোলা শিল্প, কাঠের কারুকাজ, কাঁথা সেলাই, বাটিক, হাতে বোনা শাড়ি, জুটের তৈরি সামগ্রী থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর নানান নান্দনিক উপকরণসব মিলিয়ে মেলাটি যেন বাংলার লোকশিল্পের এক জীবন্ত প্রদর্শনী। এবছর মেলায় প্রায় ৮০টি স্টল বসেছে, যেখানে গ্রামীণ শিল্পীদের শ্রম, সৃজনশীলতা ও ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।মেলায় আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে নারী ও তরুণদের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। অনেক তরুণ-তরুণী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি পণ্যের প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে স্বদেশি শিল্পকে সমর্থন করছেন। শিশুদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন, যা মেলার আকর্ষণ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।মেলায় অংশগ্রহণকারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের সরকারি উদ্যোগ তাঁদের জীবনে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাওয়ায় পণ্যের বিক্রি যেমন বাড়ছে, তেমনই নিজেদের উপর আত্মবিশ্বাসও অনেক গুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি সহায়তায় এই ধরনের মেলার আয়োজনকে তাঁরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।সন্ধ্যা নামলেই মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে উঠছে আরও রঙিন ও প্রাণবন্ত। লোকগান, লোকনৃত্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের মন জয় করছে শিল্পীরা। পুরো মেলা জুড়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে বলে জানান পূর্ব বর্ধমান জেলা গ্রামোন্নয়ন শাখার প্রকল্প অধিকর্তা রাখী বিশ্বাস। তিনি জানান, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীদের থাকার ও খাওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। পাশাপাশি মেলা চলাকালীন পর্যাপ্ত আলো, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্বাস্থ্য পরিষেবার দিকেও কড়া নজর রাখা হয়েছে।সব মিলিয়ে পূর্ব বর্ধমানের সৃষ্টিশ্রী মেলা আজ আর শুধুমাত্র একটি প্রদর্শনী বা বিক্রয় মেলা নয়এ গ্রামীণ শিল্প, লোকসংস্কৃতি ও স্বনির্ভরতার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উৎসাহে এই মেলা ইতিমধ্যেই জেলার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এক বিশেষ ও গৌরবজনক স্থান করে নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
রাজ্য

শোভনদেবকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে চাওয়ায় ফের আলোচনায় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

কখনও তৃণমূলের মন্ত্রীকে পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম আবার কখনও প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য....। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্করকুমার নাথকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির আয়োজিত রক্তদান শিবিরেও ফের বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন তিনি। অনুষ্ঠানের মঞ্চে রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি প্রণাম জানানোর প্রসঙ্গ তুলতেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক।মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্কে শুনে আসছেন, কিন্তু কখনও কাছ থেকে সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি। সেই আবেগ থেকেই তিনি প্রকাশ্যে মন্ত্রীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিতে চান বলে জানান। বক্তব্য থামিয়ে তিনি এগিয়ে যেতেই মুহূর্তে পরিস্থিতি ঘুরে যায়।উপাচার্যের সৌজন্যমূলক উদ্যোগের জবাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নিজেই এগিয়ে এসে তাঁর হাত ধরে ফেলেন। মন্ত্রী বলেন, তাঁর পরিবারে বহু শিক্ষক রয়েছেনস্ত্রী, পুত্রবধূ থেকে শুরু করে প্রয়াত বাবাও শিক্ষক ছিলেন। সেই কারণে তিনি শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাশীল। পায়ে হাত না দিয়ে হাতজোড় করেই প্রণাম জানানো যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রীর কথাতেই উপাচার্য হাতজোড় করে প্রণাম করেন এবং শোভনদেবও একইভাবে সৌজন্য প্রদর্শন করেন।তবে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ এর আগেও একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন উপাচার্য শঙ্করকুমার নাথ। এক অনুষ্ঠানে ক্রিকেট আইকন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে করা মন্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। সেই সময় সৌরভ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর জীবনে মা, স্ত্রী ও কন্যার ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।এছাড়াও তাঁর কার্যকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফর্মে ধর্মের উল্লেখ, সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্য, রাজ্য সরকারের মনোনীত রেজিস্ট্রারকে অপসারণ, শাসকদলের বিধায়কের প্রশংসা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গণেশ পুজোর আয়োজনপ্রতিটি বিষয়ই কমবেশি বিতর্ক তৈরি করেছে।সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের এই প্রণাম-প্রসঙ্গ নতুন করে উপাচার্যের ভূমিকা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিতর্কের তালিকায় আরও একটি অধ্যায় যোগ হলো বলেই মনে করছেন অনেকে। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, বর্ধমান পৌরসভার পৌরপতি পরেশ চন্দ্র সরকার সহ তৃণমূলের বিশেষ পদাধিকারিকেরা।

ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫
রাজ্য

বর্ধমানের জেলাশাসককে বেনজির হুঁশিয়ারি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর

মেমারির এক জনসভা থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরসারি আক্রমণ শানালেন বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েষা রানীর বিরুদ্ধে। নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, বর্ধমানের জেলাশাসক এখানে আছেন বেআইনি ভাবে। ইলেকশন কমিশনের গাইড লাইন অনুযায়ী ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার হওয়ার যোগ্য়তা তাঁর নেই। বর্ধমানের জেলাশাসক তৃণমূলের বিধায়ক, নেতাদের ডেকে ডেকে বলছেন বিজেপি ভালো ভোটার লিস্ট করছেন আপনারা করছেন না কেন? এটা আয়েষা রানীর কাজ? তবে এখানেই থামেননি শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে বর্ধমানের দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাসের বিরুদ্ধেও মারাত্মক অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু বলেন, কয়েকদিন আগে তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের ৫টাকার খাওয়ার উদ্ধোধন করতে গিয়েছিলেন জেলাশাসক। আমি জেলাশাসকের কাছ থেকে জানতে চাই খোকন দাসের সোর্স কি। এই ৫টাকার খাবার দিচ্ছে ব্যক্তিগত ভাবে, তার সোর্স কি? বালির টাকা না তোলার টাকা? সোর্স না জেনে ডিএম চলে যেতে পারেন? ইনকাম ট্যাক্স দফতর জানতে চাইলে দেখাতে পারবেন তো? ডিএম এখানে অবৈধ কাজের সঙ্গ যুক্ত। তিনি বলেন, আমি জেলাশাসকের কাছে জানতে চাই সোর্স না জেনে তিনি কি যেতে পারেন? ডিএম কবে অবৈধ কাজের জন্য় যুক্ত হলেন? এদিন পূর্ব বর্ধমান ছাড়া হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএমদের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এই জেলাশাসকরা কিছু বিএলও কে ডেকেছেন ওটিপি দেওয়ার জন্য়। এটা হ্যান্ডওভার করার জিনিস নয়। ওটিপির নম্বর আই প্যাকের কাছে দিয়ে দিচ্ছে। বিএলওরা আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। বিএলওর নাম দিয়ে আজ ইলেকশন কমিশিনের কাছে জেলাশাসকের নামে অভিযোগ করেছি। মাননীয়া আয়েষা রানী এসব কাজ করবেন না। আপনাকে আগে থেকে চিনি। এসব করলে বিপেদে পড়বেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু।

নভেম্বর ২২, ২০২৫
উৎসব

প্রাক শীতে বর্ধমান রাঙিয়ে দিল এক অন্য 'পলাশ', মহাসমারোহে শিশুদিবস পালিত বর্ধমান মডেল স্কুলে

মহাসমারোহে ও আনন্দঘন পরিবেশে আজ বর্ধমান মডেল স্কুলে পালিত হল চাচা নেহেরুর জন্মদিন যা ভারতবর্ষে শিশুদিবস হিসাবে পালিত হয়। সকাল থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণে ছিল কচিকাঁচাদের হাসি, গান, নাচ এবং নানা আয়োজনের রঙিন ছটা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কথা বলা পুতুল (ভেন্ট্রিলোকুইজম), যাদু প্রদর্শনী ও শিক্ষক/শিক্ষাকর্মী বনাম ছাত্রদের ক্রিকেট ম্যাচে জমে ওঠে দিনভর উৎসবমুখরতা।দিনের মূল আকর্ষণ ছিলেন জি বাংলার মীরাক্কেল খ্যাত পলাশ অধিকারী। তাঁর অসাধারণ ভেন্ট্রিলোকুইজম পরিবেশনা শিশুদের মুগ্ধ করে দেয়। নানান মজার চরিত্র, ছাত্রদের সাথে চমৎকার কথোপকথন ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় তিনি শিক্ষার্থী ও দর্শকদের মন জয় করেন। তাঁর সাথে তালে তাল মিলিয়ে ইন্দ্রজাল (যাদু) পরিবেশন করেন অম্বরীশ দাস।অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ পর্ব ছিল শিক্ষক/শিক্ষাকর্মী বনাম ছাত্রদের প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। হাসি-মজা ও উচ্ছ্বাসে ভরা এই খেলায় ছাত্ররা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয়।সংস্থার কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল শিশুদিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, যতদিন শিশু থাকা যায় ততদিনই মঙ্গল। বড় হলেই যত সমস্যা। তিনি আরও যোগ করেন, শিশুদের নিষ্পাপ মন ও সরলতা বজায় রেখেই তারা যেন বড় হয়ে ওঠে।তিনি বিখ্যাত কবিতার পংক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে। ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা সবাই একদিন বড় হবে, তখন তোমাদের বাবা-মায়ের মতোই দায়িত্ব নিতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের সকল শিশুর প্রতি স্নেহ, ভালোবাসা ও আশীর্বাদ জানিয়ে তিনি কামনা করেন, তারা যেন এই পৃথিবীর নতুন বাণীর অগ্রদূত হয়ে উঠতে পারে।এই বিশেষ দিন উপলক্ষে সকল ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য মিষ্টিমুখের আয়োজন করা হয়। বর্ধমান মডেল স্কুলে দিনটি শেষ হয় শিশুদের হাসিখুশি মুখ, আনন্দময় মুহূর্ত এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যা নিশ্চিতভাবেই তাদের আগামী দিনের বড় হয়ে ওঠার পথে সুন্দর এক স্মৃতি হয়ে থাকবে।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
রাজ্য

‘চাপ সামলাতে পারেননি’— ফর্ম বিলির চাপে ব্রেন স্ট্রোক, মৃত্যু মহিলা বিএলও-র! হইচই মেমারিতে

এসআইআর আতঙ্কে কাঁপছে রাজ্য। কোথাও ফর্ম না পেয়ে কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন, আবার কোথাও কাজের চাপে প্রাণ যাচ্ছে সরকারি কর্মীর। এবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে ফর্ম বিলির চাপ সামলাতে না পেরে মৃত্যু হল এক মহিলা বিএলও-র। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক মহলে।মৃতার নাম নমিতা হাঁসদা (৩৮)। তিনি পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ছিলেন এবং মেমারি চক বলরামপুরের ২৭৮ নম্বর বুথের বিএলও দায়িত্বে ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর ফর্ম বিলির কাজে তাঁকে অমানবিক চাপের মধ্যে ফেলা হয়েছিল। দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল বারবার। প্রতিদিনই ফোন আসত বিডিও অফিস থেকে কত ফর্ম বিলি হয়েছে? টার্গেট পূর্ণ হল কি?স্বামী মাধব হাঁসদা বলেন, ওকে খুব চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আমরা বারবার বলেছি, এতটা মানসিক চাপ নিও না। কিন্তু ওর দায়িত্ববোধটা খুব বেশি ছিল। সব সময় চিন্তা করত কাজ শেষ হয়নি। শনিবার সন্ধ্যায় ফর্ম বিলি করে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন নমিতা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, শেষরক্ষা হয়নি।পরিবারের দাবি, এসআইআর ফর্ম নিয়ে এই অতি তৎপরতার চাপে ওর মৃত্যু। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছিল। খাওয়া-দাওয়াও ঠিক মতো করত না।এই ঘটনার পর এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকাও নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। মৃতার স্বামী অভিযোগ করেন, ওকে এত কাজ দেওয়া হয়েছিল যে, শরীরটাই ভেঙে গিয়েছিল।বর্ধমানের জেলা শাসক আয়েশা রানি জানিয়েছেন, ঘটনাটা আমরা দেখছি। তদন্ত করে দেখা হবে আসল কারণ কী।অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা কাউকে কোনও চাপ দিইনি। যারা কাজের ওপর চাপ দিচ্ছে, তারা প্রশাসনের লোকজন। সাধারণ মানুষের সামনে এই নাটক তৈরি করা হচ্ছে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যে চলমান এসআইআর বিতর্ককে আরও উসকে দেবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এবার সরকারি কর্মীর মৃত্যু সেই আতঙ্ককে নতুন মাত্রা দিল।মেমারির এই ট্র্যাজেডি এখন প্রশ্ন তুলছে এসআইআর ফর্ম বিলির নামে কি রাজ্যে প্রশাসনিক অমানবিকতার চিত্রই ফুটে উঠছে?

নভেম্বর ০৯, ২০২৫
রাজ্য

আত্মার অনুজ্ঞা: ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হল বর্ধমানের বিদ্যালয়ে

আজকের দিনটি ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায় স্মরণ করাল। ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বরএক শতাব্দী ও অর্ধকাল আগে, ৩৭ বছর বয়সী এক সাহিত্যিক তাঁর অন্তরের অনুজ্ঞায় লিখে ফেলেছিলেন একটি গানবন্দে মাতরম, সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাং। নৈহাটির সেই নীরব প্রেরণা থেকেই জন্ম নিয়েছিল এমন এক স্তব, যা শতবর্ষ পেরিয়েও অনুরণিত আজও ভারতবাসীর হৃদয়ে।সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, এই গানটিকে সাত বছর পরে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস আনন্দমঠ-এ অন্তর্ভুক্ত করেন, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে ভারতীয়দের একত্রিত করেছিল এক মহৎ আহ্বানেদেশমাতৃকার বন্দনায়। ভারত সরকার পরবর্তীতে একে জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা প্রদান করে।আজ, বর্ধমানের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে সাড়ম্বরে পালিত হল এই ঐতিহাসিক রচনার ১৫০ বছর পূর্তি।বিদ্যালয়ের প্রাত্যহিক সম্মেলনে শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায় স্মরণ করালেন,কোন জাতি দেশকে মা রূপে, কোন জাতি পিতা রূপে সম্বোধন করে। বন্দে মাতরম-এর এই দুই শব্দে যে ভারতমাতার বন্দনা করা হয়েছে, তাঁর স্নেহচ্ছায়ায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল আসমুদ্রহিমাচল ভারতবাসী। প্রথম স্তবকটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হওয়ায় এটি সর্বজনগ্রাহ্য ও সর্বজনাদৃত হতে পেরেছে।বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক, রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন,বন্দে মাতরম এমন এক উচ্চারণ যা আমাদের ছোটবেলাকে দেশপ্রেমে উষ্ণ করেছিল। আজও এই উচ্চারণ আমাদের অনুপ্রাণিত করে সেই মহত্তম দেশনায়কদের দেখানো পথে এগিয়ে যেতে।উৎসব উপলক্ষে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশপ্রেমমূলক কবিতা আবৃত্তি ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সঙ্গীত অনুষ্ঠান। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিধ্বনিত হয় সেই অমর আহ্বানবন্দে মাতরম।

নভেম্বর ০৭, ২০২৫
উৎসব

চোটখন্ড উন্নয়নী সংঘ দুর্গোৎসব ঘিরে চার দিনের আয়োজনে আনন্দমুখর পরিবেশ

চোটখন্ড উন্নয়নী সঙ্ঘের আয়োজিত দুর্গোৎসব এ বছরও যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো। টানা চারদিন ধরে শিষ্টাচার মেনে পূজা-পার্বণ, বিবিধ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাতৃ আরাধনায় সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা।প্রথামত ষষ্টী-তে দেবীর বোধনের মাধ্যমে পুজারম্ভ হয়। সপ্তমী তিথিতে নবপত্রিকার স্নান, অষ্টমী তিথিতে সন্ধিপূজা ও বলিদান, ও নবমী তিথিতে হোম যজ্ঞ-র আয়োজন কর হয়। দশমী তিথিতে দেবী অপরাজিতার পুজার মাধ্যমে সাঙ্গ হয় এবছরের আরাধনা, অপেক্ষা আরেকটি বছরের।দশমী তিথিতে দেবী দুর্গার পূজা-পর্ব শেষে আয়োজিত হয় সান্ধ্যকালীন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এলাকার কচিকাঁচা থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ কৃতী শিল্পীরাও এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। এর পাশাপাশি চারদিন ধরে চলতে থাকা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ক্লাবের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয় স্মারক পুরস্কার।একাদশীর দিনে প্রথা অনুযায়ী দিনের বেলা ঢাক-ঢোল বাদ্যি সহযোগে এলাকার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা দেবী প্রতিমা নিরঞ্জনে অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যার পর চোটখন্ড উন্নয়নী সঙ্ঘের পক্ষ থেকে প্রায় ২০০০ জন ভক্তের মাঝে চোটখন্ড বারোয়ারী তলায় খিচুড়ি ভোগ বিতরণ করা হয়। ভোগ প্রাপ্তির আনন্দে চারিদিক মুখরিত হয়ে ওঠে।চোটখন্ড উন্নয়নী সঙ্ঘের সম্পাদক সান্তনু চট্টোপাধ্যায় জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও সকলে মিলেমিশে দুর্গোৎসব পালন করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। স্থানীয় মানুষজনের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে ওঠে। ক্লাবের অপর এক সদস্য চঞ্চল মোহন্ত জনতার কথাকে জানান, সারাবছরই আমরা প্রত্যেকেই নানাবিধ কাজে ব্যস্ত থাকি। এই চারটে দিন পজোর ব্যস্ততায় বারোয়ারী তলায় কি ভাবে কেটে যায় বুঝতেই পারিনা। পাড়ার মা, বোন ও ছোটছোট ছেলেমেয়েরা প্রচুর আনন্দ করে/করেন। তিনি জানান, আবার আরেকটি বছরের অপেক্ষা, তিনি আরও বলেন তাঁরা সামনের বছর আরও ভালো কিছু করার পরিকল্পনা করবেন। সকলে মিলে বসেই সেই পরিকল্পনা করবেন বলে জানান।

অক্টোবর ০৩, ২০২৫
রাজ্য

বর্ধমানে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা, মৃত্যুমিছিল, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাহাকার

বর্ধমানের নবাবহাটের কাছে ফাগুপুরে জাতীয় সড়ক বড়সড় দুর্ঘটনা। পুণ্যার্থী বোঝাই বাস দূর্ঘটনা দুর্ঘটনার কবলে। এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারে বাসটি। আহত হয়েছে ৩৫ জন। জখমদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাসটি তারকেশ্বর থেকে দেওঘরের বাবাধাম যাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। এঁরা সকলেই বিহারের বাসিন্দা।চোখের সামনে এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসের সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অন্তত ৮ জনের, পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় আরও কয়েকজনের। মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে বলে আশঙ্কা।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ভাতার থানার পুলিশ ও দমকল। উদ্ধারকাজ চালাতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়। হাসপাতালের করিডরে শোকাহত পরিজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে দুই গাড়ির চালককেই আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত গতি ও অবহেলাই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ।স্থানীয় প্রশাসন জানায়, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। মৃতদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ১৫, ২০২৫
রাজ্য

আইজেএ এর উদ্যোগে সাংবাদিকতা কর্মশালা বর্ধমানে

প্রতি বছরের মতো এবারও সাংবাদিক সংগঠন ইন্ডিয়ান জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ব বর্ধমান জেলা শাখার উদ্যোগে হয়ে গেল সাংবাদিকতা বিষয়ে কর্মশালা। রবিবার বর্ধমান বিবেকানন্দ মহাবিদ্যালয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বর্ধমান জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং বিবেকানন্দ কলেজের সহযোগিতায় এই কর্মশালায় পঞ্চাশ জন অংশ নেন।কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক রামশংকর মন্ডল । ছিলেন এভারেস্ট বিজয়ী সৌমেন সরকার, কাউন্সিলার ও সমাজসেবী রাসবিহারী হালদার, বিবেকানন্দ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ডঃ অনিমেষ দেবনাথ, ওই কলেজের গণ জ্ঞাপন বিভাগের প্রধান বিনয় হাজরা, আইজেএ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তারকনাথ রায় প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইজেএর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অরূপ লাহা। সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার সভাপতি স্বপন মুখার্জি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জগন্নাথ ভৌমিক। কর্মশালায় ৫১ জন ছাত্র ছাত্রী অংশ নেয়। ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, ডিজিটাল এবং প্রিন্ট মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এই কর্মশালায়। প্রশিক্ষণ দেন তন্ময় প্রামাণিক, জয়প্রকাশ দাস, পার্থ চৌধুরী ও শুভেন্দু সাঁই। এদিন বৃক্ষবন্ধু সমন্বয় দলের পক্ষ থেকে অতিথিদের হাতে একটি করে গাছের চারা উপহার হিসাবে দেওয়া হয়।

জুলাই ২৮, ২০২৫
রাজ্য

জাতীয় সড়কে উড়ালপুলের দাবিতে রোড অবরোধ, নবানহাটে জনজোয়ার

আজ সকাল ৮টা থেকে পূর্ব বর্ধমানের মেটেল, নবাবহাট এলাকায় জাতীয় সড়কের উপর ব্যাপক রোড অবরোধ শুরু হয়েছে। মূল দাবিঅতি দ্রুত উড়ালপুল নির্মাণ। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলের যানজট ও দুর্ঘটনার সমস্যা চরমে পৌঁছেছে। অথচ প্রশাসনের তরফে কোনো স্থায়ী সমাধান এখনও গৃহীত হয়নি।সকাল থেকেই প্রায় ৩,০০০-র বেশি মানুষ জাতীয় সড়কের উপর জড়ো হয়ে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন। উড়ালপুল চাই, জীবনের নিরাপত্তা চাইএই দাবিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন স্কুল, অফিস যেতে গিয়ে আমরা দুর্ভোগে পড়ি। বহুবার দুর্ঘটনা ঘটেছে এই রাস্তায়। উড়ালপুল না হলে ভবিষ্যতে আর বড় ক্ষতি হবে। এই অবরোধে প্রচুর ছাত্র ছাত্রী যগদান করেছে, জাতীয় সড়কের দুই প্রান্তেই হাজার হাজার লড়ি বাস প্রাইভেট কার আটকে আছে। দূর্ভোগের চূড়ান্ত অবস্থা।অবরোধের কারণে জাতীয় সড়কের দুদিকেই শতাধিক গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং শীঘ্রই একটি সমাধানে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হবে।

জুলাই ২২, ২০২৫
রাজ্য

'অরুণিমা'র ছটায় স্কুল ড্রপআউট, বাল্যবিবাহ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মাতৃত্বের সংকট থেকে অন্ধকার দূরীকরণ লড়াই

পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এবং বেশ কিছু শহরতলি অঞ্চলে এক নতুন সামাজিক সংকট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে - স্কুলছুট মেয়েদের সংখ্যা বাড়ছে, যা পরোক্ষভাবে বাল্যবিবাহ এবং অল্পবয়সে সন্তান ধারণের হারকেও উদ্বুদ্ধ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তিনটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং রাজ্যের নারী-স্বাস্থ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক উন্নয়নকেও প্রতিকূলভাবে প্রভাবিত করছে।রাজ্যের কিছু জেলার ৮ম শ্রেণি বা ১০ম শ্রেণির পর মেয়েদের স্কুলছুট হয়ে পড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। আর্থিক অনটন, পরিবারের পুরাতন সামাজিক ধারণা, এবং বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব, এই সবই এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেল্থ সার্ভে (NFHS-5) অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অঞ্চলে এখনও প্রতি তিনটি মেয়ের মধ্যে একটি মেয়ে ১৮ বছরের আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার স্কুলছুট মেয়েদের দায় মনে করে, এবং যত দ্রুত সম্ভব তাদের বিবাহ দিয়ে দিতে চায়।এই বাল্যবিবাহের পরিণতি হিসেবে ১৬-১৮ বছরের বহু কিশোরী মা হয়ে উঠছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত না থাকা অবস্থায় মাতৃত্ব গ্রহণের ফলে বাড়ছে মাতৃমৃত্যুর হার, অপুষ্ট শিশু জন্ম এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য জটিলতা। সমাজতাত্ত্বিক ও শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, স্কুলশিক্ষার অকাল সমাপ্তি মানে শুধু পড়াশোনার শেষ নয়এটা একসময়ে সেই কিশোরীর আত্মবিশ্বাস, স্বাস্থ্য, স্বপ্ন, এমনকি জীবনের নিরাপত্তার পরিণতিও নির্ধারণ করে দেয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন কন্যাশ্রী ও সবলা মতো সামাজিক প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার চালু করেছে, অনেক ক্ষেত্রেই এই প্রকল্পগুলি তথ্যের অভাবে সর্বস্তরে পৌঁছায় না। বিদ্যালয়স্তরে মনোবিদ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ঠিক সেই সমস্যার গভীরে গিয়ে তার গুরুত্ব বুঝে জেলার সদর শহর থেকে ২৫ কিমি দুরে এক প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের এক শিক্ষিকার লড়াইকে সম্বর্ধিত করল স্থানীয় প্রশাসন।১৭ জুলাই, বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি-২ ব্লকের পাহাড়হাটী বাবুরাম গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অরুণিমা মুখোপাধ্যায়কে মেমারি-২ ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাল্যবিবাহ-রোধ, স্কুলছুট মেয়েদের আবার পড়াশোনার আবহে ফিরিয়ে আনা ও স্কুলের মেয়েদের বিভিন্ন ভাবে প্রশিক্ষিত করা এবং সার্বিক শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সম্বর্ধিত করা হয়। অরুণিমা নিজে একজন প্রথিতযশা নৃত্য শিল্পী। কত্থক নৃত্যে রাজ্যস্তরে বহু গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে সুনিপুণ নৃত্যকলা পরিবেশন করেছেন। বর্তমানে তাঁর স্কুল বাবুরাম গার্লস হাই স্কুলে-ই তাঁর ধ্যানজ্ঞান শিক্ষিকা অরুণিমা মুখোপাধ্যায় জনতার কথাকে বলেন, আমি পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি দুই নম্বর ব্লকের অন্তর্গত পাহাড়হাটি বাবুরাম গার্লস হাইস্কুলের একজন শিক্ষিকা। গত আট বছর ধরেই আমি স্কুল ছুট এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করে চলেছি সক্রিয়ভাবে। তিনি আরও বলেন, পাহাড়হাটি বাবুরাম গার্লস হাইস্কুলে একটি কন্যাশ্রী আনন্দ ক্লাব গঠন করেছি। তার সদস্যরা আমাদেরই ছাত্রী। তাদেরকে নিয়ে নিরলসভাবে এই কাজটি করে চলেছি। অরুণিমা বলেন, প্রান্তিক পরিবার এবং গরিব পরিবারের মেয়েরা যেহেতু বাল্যবিবাহে বেশি জড়িয়ে পড়ছে, তাই তাদেরকে স্কুল শ্রেণীকক্ষে ফিরিয়ে আনা আমার মূল লক্ষ্য এবং পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলে আমি সচেতন করার চেষ্টা করে চলেছি। চাইল্ড ম্যারেজ এবং চাইল্ড প্রেগনেন্সির ক্ষেত্রে তাদের মেয়ের জীবনটা কতখানি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে পরবর্তীকালে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করছি। অনেকজনকেই ফিরিয়ে আনতে পেরেছি ক্লাসরুমে। তিনি জানান, মেমারি-২ ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সম্বর্ধনা পেয়েছি এতে আমি খুবই আনন্দিত এবং আপ্লুত। এই পুরস্কার আমাদের লড়াইকে আরও জোড়ালো করতে সাহায্য করবে। অরুণিমা জানান, এই কাজে আমি সবসময়ই মেমারি-২ নম্বর ব্লক প্রশাসন, এসআই অফিস, বিজুর-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতকে পাশে পাচ্ছি। সর্বোপরি আমার পাহাড়হাটি বাবুরাম গার্লস হাইস্কুলের সহকর্মী ও বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সকল সদস্যদের পাশে পাচ্ছি। অরুণিমা বলেন, আমাদের এই লড়াই যাঁদের সাহায্য ছাড়া সম্ভব হত না সেই ছাত্রীদের সাহায্য সবচেয়ে বেশী পাচ্ছি। তারা নিজেদের মধ্যেই সচতেনতা প্রসার করছে সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওনা এবং খুবই আনন্দের বিষয়। তিনি জানান, একজন শিক্ষিকা ও বিদ্যালয়ের প্রধান হিসাবে এটা আমার প্রাথমিক দায়িত্ব। তিনি অঙ্গীকার করেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন ও শিক্ষা ও সচতেনতা বাড়ানোর এই প্রয়াস তাঁর অব্যহত থাকবে।

জুলাই ১৯, ২০২৫
রাজ্য

বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থায় চেয়ারপারর্সন ও দুজন ভাইস চেয়ারপারর্সনের নাম ঘোষণা

বর্ধমান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির নতুন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এবার ২জন ভাই চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। চেয়ারম্যান হয়েছেন উজ্জ্বল প্রামানিক। জামালপুরের বিধায়ক ছিলেন। ভাইস চেয়রাম্যান দুজন হলেন কাকলি তা গুপ্তা ও আইনুল হক। এর আগে বিডিএর চেয়ারপার্সন ছিলেন কাকলি তা গুপ্তা ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন আইনুল হক। চেয়ারপার্সন থেকে ভাইস চেয়ারপার্সন হয়ে গেলেন কাকলি তা গুপ্তা। আগের পদে রইলেন আইনুল হক। বর্ধমান পুরসভার দীর্ঘ দিনের চেয়ারম্যান ছিলেন আইনুল হক।

জুলাই ১৫, ২০২৫
রাজ্য

বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি ও বিধায়কের প্রাণনাশের আশঙ্কায় তোলপাড়, বোমায় উড়েছে বাড়ি, মৃত্যু একজনের

পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা বাঁধার সময় বিরাট বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছে একাধিক বাড়ি। জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে বোমা বাঁধতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক দুস্কৃতীর। জখম হয়েছে আরও তিন সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার রাজৌর গ্রামে। এই বিষ্ফোরণের পর প্রাণনাশের আশঙ্কায় আতঙ্কিত খোদ পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। জেলা তৃণমূলের শীর্ষনেতার আশঙ্কায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, আমার ওপর হামলা হতে পারে। আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা হতে পারে। তার জন্য়ই বোমা বাঁধা হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা তুফান চৌধুরী বোমা বাঁধছিল। তুফানের মাথার ওপর হাত ছিল জঙ্গল শেখের। বোমা ফেটে বাড়ি উড়ে যায় কাটায়োরার রাজৌর গ্রামে। জঙ্গল শেখের পরিকল্পানা ছিল পার্টি অফিসে আক্রমণ করা। পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯ টা নাগাদ রাজৌর গ্রামে ভয়ঙ্কর বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফেরণে মৃত্যু হয় বরকত শেখের(২৮)। এই দুষ্কৃতীর বাড়ি বীরভূমের নানুর থানার সিয়ালা গ্রামে। জখমরা হল সেখ তুফান চৌধুরী, ইব্রাহিম সেখ ও সফিক মণ্ডল। জখম তিন জনই রাজৌর গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ রাতেই চিকিৎসার জখম তিনজনকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তুফানকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ তুফান চৌধুরীকে করেছে। এই তুফানই বোমা বাঁধার মূল পান্ডা। জানা গিয়েছে, তারা লম্বু শেখের বাড়িতে বোমা বাঁধছিল। গোটা ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বালি খাদানে দখলদারি করার উদ্দেশ্যেই এই বোমা বাঁধা হচ্ছিল। এতে নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জঙ্গল শেখের। তার নির্দেশে তুফানরা বোমা বাঁধছিল বলে অভিযোগ। বোমা বেশ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বলে মনে করা হচ্ছে। জঙ্গল শেখের নেতৃত্বে বোমা বাঁধা হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। ২০১৫ সালে কাটোয়া পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের কাউন্সিলর হয়েছিলেন জঙ্গল শেখ। এমনকী পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। তখন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। জঙ্গল শেখ দীর্ঘ দিন জেলে ছিলেন। এখন জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।

জুলাই ০৫, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 17
  • 18
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

উইপোকা ধরা টাকার পর বড় পদক্ষেপ! সুরেন্দ্রনাথ কলেজ কাণ্ডে গ্রেপ্তার পরিতোষ দত্ত

সুরেন্দ্রনাথ কলেজে উদ্ধার হওয়া টাকার বান্ডিল এবং বিতর্কিত কক্ষকে ঘিরে তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। এই ঘটনায় দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পরিতোষ দত্তকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা। বর্ধমান থেকে তাঁকে আটক করে কলকাতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।ঘটনার জেরে নড়েচড়ে বসেছে উচ্চশিক্ষা দফতরও। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কীভাবে কলেজের ইউনিয়ন কক্ষের আলমারি থেকে ব্যাগভর্তি টাকা উদ্ধার হল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।গত মঙ্গলবার কলেজের ইউনিয়ন কক্ষ থেকে উইপোকা ধরা টাকার বান্ডিল উদ্ধার হওয়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তদন্তে উঠে আসে আরও একাধিক তথ্য। কলেজের পাঁচতলায় তথাকথিত অতিথি কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা কয়েকটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে বিছানা, গদি, বালিশ, আলমারি এবং আরও কিছু সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ।দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই ঘরগুলি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হত। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কলেজের একটি কক্ষে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংশ্লিষ্টদের ছবিও দেখা গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এদিকে উচ্চশিক্ষা দফতর জানতে চেয়েছে, ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে। কলেজের ভিতরে ওই কক্ষগুলি তৈরির অনুমতি ছিল কি না, কারা সেগুলি ব্যবহার করতেন এবং কীভাবে এত টাকা কলেজে এল, তারও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন এমন ব্যক্তিদের নাম-সহ একটি তালিকাও জমা দিতে বলা হয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষকে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং শিক্ষা দফতর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।প্রায় একশো চল্লিশ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম জড়িয়ে এমন ঘটনা সামনে আসায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ থেকে সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই কলেজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই কলেজে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা চলছে।কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।

জুন ০৪, ২০২৬
দেশ

ভোরের ঘুম ভাঙল আগুনে! হাসপাতালের আইসিইউতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত অন্তত ৪

দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিহারের একটি হাসপাতালে আগুন লেগে মৃত্যু হল অন্তত চার জনের। ভয়াবহ এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় চারটে নাগাদ মুজফ্ফরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে আচমকা আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন এবং ঘন কালো ধোঁয়া পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী, চিকিৎসক এবং কর্মীদের মধ্যে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের ছতলায় থাকা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ধোঁয়ায় ভরে যায় পুরো তলা। দমকলকর্মীরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রায় পনেরো থেকে কুড়ি জন রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।তবে সব রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের অনেকেই গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় অন্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে সঠিক কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।মুজফ্ফরপুর দমকল বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। বহু রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে বের করে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে ধোঁয়া এবং আগুনের তীব্রতার কারণে কয়েকজনকে আর বাঁচানো যায়নি।এই মর্মান্তিক ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে আগুন লাগল এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

জুন ০৪, ২০২৬
কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে গোপন বৈঠক কর্ণ আদানির! বাংলায় আসছে কি হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ?

রাজ্যের শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শিল্পপতি গৌতম আদানির পুত্র কর্ণ আদানি। বুধবার নবান্নে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়। এই বৈঠক ঘিরে রাজ্যের শিল্পমহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।সূত্রের খবর, সৌজন্য সাক্ষাতের আড়ালেই শিল্প, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আদানি গোষ্ঠী রাজ্যে নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প, বন্দর, লজিস্টিক কেন্দ্র, রাস্তা নির্মাণ এবং তথ্যভাণ্ডার কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।রাজ্য সরকার শুরু থেকেই শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। সেই লক্ষ্যেই বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে রাজ্যে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। বৈঠকে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।জানা গিয়েছে, রাজ্যে বৃহৎ লজিস্টিক কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে আদানি গোষ্ঠীর। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্দর উন্নয়ন এবং আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এদিন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে ভবিষ্যতে আরও একাধিক দফায় বৈঠক হতে পারে বলে খবর।আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক নতুন নয়। অতীতেও রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন সরকারের আমলে এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন শিল্পমহলের একাংশ। তাঁদের মতে, এই আলোচনা সফল হলে রাজ্যে বড় বিনিয়োগের পথ খুলতে পারে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।এখন নজর পরবর্তী বৈঠকের দিকে। শিল্প ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত কী ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করে, সেটাই দেখার।

জুন ০৪, ২০২৬
কলকাতা

মমতার মন্তব্য ঘিরে বড় বিতর্ক! সাইবার থানায় নতুন অভিযোগ, চাঞ্চল্য রাজ্যজুড়ে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করেছেন আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়। গত দুই জুন ধর্মতলায় ধর্না কর্মসূচির মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের নাগরিক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই অভিযোগ করা হয়েছে। এর আগেও গত সপ্তাহে একই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ওই আইনজীবী।অভিযোগকারীর দাবি, প্রকাশ্য সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা দেশের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক গোপনীয়তা সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলে দিতে পারে। বিশেষ করে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে ঘিরে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই আপত্তি জানানো হয়েছে।আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ওসমান হাদি নামে এক ব্যক্তির খুনের ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছিল বলে অভিযোগ। রাজ্যের বিশেষ টাস্ক ফোর্স তাদের গ্রেপ্তার করে। দুই জুন ধর্মতলার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ওই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন এবং ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা এক অভিযুক্তকে রাজ্যের বিশেষ টাস্ক ফোর্স গ্রেপ্তার করেছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে প্রতিবাদও হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্তরা মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিল এবং পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রসঙ্গও উঠে আসে।অভিযোগপত্রে একাধিক ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, উত্তেজনা সৃষ্টি, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা এবং ভয় প্রদর্শনের মতো বিষয় উঠে এসেছে। যদিও অভিযোগের সত্যতা বা আইনি ভিত্তি নিয়ে এখনও প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী সংস্থা কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

জুন ০৪, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

পাপিয়ার ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টালিগঞ্জে বিস্ফোরণ! ইট-ডিমের লড়াইয়ে রণক্ষেত্র স্টুডিওপাড়া

টলিপাড়ার সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ঘোষণার মাত্র একদিনের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও চত্বর। বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ইট, পাটকেল এবং ডিম ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।বুধবার বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও প্রাঙ্গণ থেকে দীর্ঘদিনের ফেডারেশন ভেঙে নতুন সংগঠন গঠনের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, পুরনো কাঠামোর পরিবর্তে নতুন কনফেডারেশন তৈরি করা হবে এবং সংগঠনের কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আনা হবে। একই সঙ্গে টলিউডে যোগ্য ও বৈধ কর্মীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। অবৈধভাবে বা নিয়ম না মেনে কাজ পাওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান।এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সকালে স্টুডিও প্রাঙ্গণে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় স্টুডিওর ভিতরে বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। পরে কাছাকাছি একটি মাঠে জটলা তৈরি হয় এবং সেখানেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা শুরু হয়।এক পক্ষের অভিযোগ, সংগঠনের পদ এবং প্রভাব ধরে রাখার জন্য কিছু নেতা বহিরাগতদের নিয়ে এসে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে পাল্টা স্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানায় অপর পক্ষ। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল এবং ডিম ছুড়তে শুরু করে।ঘটনায় স্টুডিওপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের জেরে কিছুক্ষণ কাজকর্মও ব্যাহত হয় বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার পর টেকনিশিয়ানদের একাংশ বিদায়ী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, সংগঠনের আর্থিক বিষয় এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত। পাশাপাশি টলিপাড়ার চলমান অস্থিরতা দূর করতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিও তুলেছেন অনেকেই।নতুন সংগঠন গঠনের ঘোষণার পরই যে ভাবে টালিগঞ্জে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তাতে আগামী দিনে টলিপাড়ার সাংগঠনিক লড়াই আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

জুন ০৪, ২০২৬
রাজ্য

এনআইএ হানার আগেই উধাও শওকত! ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় তোলপাড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা

কোথায় শওকত মোল্লা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক মহলে। ভাঙড়ের বামুনিয়া বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়ি, দলীয় কার্যালয় এবং একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চললেও শওকতের খোঁজ মেলেনি।তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে এনআইএ-র একাধিক দল ভাঙড় ও সংলগ্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে। শওকত মোল্লার বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে না পাওয়ায় তদন্তকারীদের বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযানের খবর পাওয়ার আগেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।এদিকে, তল্লাশি চলাকালীন শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। তদন্তকারীরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। শুধু বাড়িতেই নয়, ইমরানের মালিকানাধীন ক্যাফে অরণ্যের কূলে-তেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। ওই ক্যাফে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ, নদীর জমি ভরাট করে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে এই ক্যাফে।ভাঙড়ের বামুনিয়া এলাকায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন আরও কয়েকজন। সেই মামলার তদন্তেই সম্প্রতি গতি এনেছে এনআইএ। কয়েকদিন আগে এই মামলায় তৃণমূল নেতা আহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার বামুনিয়া এলাকার একাধিক বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে এনআইএ। পাশাপাশি ধৃত আহিদুল ইসলামের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্তকারীরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে সূত্রের দাবি।অন্যদিকে, শওকত মোল্লার খোঁজে তাঁর ভাই আবু জাফরের বাড়িতেও এনআইএ-র একটি দল পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাক্তন বিধায়কের অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। তিনি কি তদন্ত এড়াতেই আড়ালে রয়েছেন, নাকি অন্য কোনও কারণে এলাকায় নেইসেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।

জুন ০৪, ২০২৬
কলকাতা

গ্রেপ্তারের আশঙ্কা? থানায় ডাকার পরই আচমকা অসুস্থ প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস

মেসি ইভেন্ট বিতর্কে নতুন মোড়। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চাইলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি আগামী দুসপ্তাহ সময় চেয়েছেন। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেসি ইভেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত।গত সতেরো মে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শতদ্রু দত্ত। অভিযোগে টিকিট কালোবাজারি, প্রতারণা, ভয় দেখানো এবং অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির মতো একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, মেসির অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় বাইশ হাজার টিকিট কালোবাজারি করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রভাব খাটিয়ে অরূপ বিশ্বাস মেসির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এই অভিযোগের ভিত্তিতে অরূপ বিশ্বাসকে চার জুন থানায় হাজিরার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তবে তার আগের রাতেই তিনি থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, তিনি অসুস্থ এবং এই মুহূর্তে হাজিরা দিতে পারবেন না। সূত্রের খবর, অন্তত দুসপ্তাহ সময় চেয়েছেন তিনি। পরে নিজের অবস্থান জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, এই মামলায় গ্রেপ্তারি এড়াতে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলে বর্তমানে তাঁর হাতে কোনও আইনি সুরক্ষা নেই বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। তদন্তের প্রয়োজন হলে পুলিশ যে কোনও সময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারে।অন্যদিকে অরূপের অসুস্থতার খবর সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন শতদ্রু দত্ত। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, সমন পাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁর দাবি, চিকিৎসার নথি দেখিয়ে সময় পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া এড়ানো যায় না। এতদিন সব স্বাভাবিক ছিল, অথচ সমন আসার পরই অসুস্থতার খবর সামনে এল বলে কটাক্ষ করেন তিনি।মেসি ইভেন্ট ঘিরে এই বিতর্কে রাজনৈতিক মহলও নজর রাখছে। এখন দেখার, অরূপ বিশ্বাস কবে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হন এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়।

জুন ০৪, ২০২৬
রাজ্য

পুলিশ যেতেই খাটের তলায় লুকিয়ে তৃণমূল নেতা! কাটমানি মামলায় গ্রেপ্তার হতেই বিক্ষোভ

আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন মাথাভাঙার জোরপাটকি এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শহিদুল মিঞা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পলাতক ছিলেন। বুধবার বিকেলে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে খাটের তলা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযুক্তকে বাড়ি থেকে বের করার সময় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহিদুল মিঞার স্ত্রী জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। অন্যদিকে শহিদুল নিজেও মাথাভাঙা থানার সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব থাকায় তিনি নিজেকে তৃণমূল নেতা হিসেবেই পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ।গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে উপভোক্তাদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার, দশ হাজার থেকে শুরু করে কুড়ি হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর গত পঁচিশ মে এলাকাবাসীরা তাঁর গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। তারপর থেকেই তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের।কাটমানির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তাঁকে সিভিক ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। কিন্তু এতদিন তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার গোপনে নিজের বাড়িতে ফিরেছিলেন শহিদুল। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ পৌঁছনোর খবর পেয়েই তিনি বাড়ির খাটের তলায় লুকিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে বের করে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখিয়ে দাবি করেন, যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের সমস্ত টাকা দ্রুত ফেরত দিতে হবে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জুন ০৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal