• ১ কার্তিক ১৪৩৩, বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

SI

দেশ

ইসলাম গ্রহণ ও পাকিস্তানে বিয়ে? নিখোঁজ সরবজিৎকে নিয়ে নতুন বিস্ফোরক দাবি

পাকিস্তান সফর শেষে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া শিখ তীর্থযাত্রী সরবজিৎ কৌরের ঘটনা ঘিরে সামনে এল চাঞ্চল্যকর দাবি। প্রকাশ্যে এসেছে একটি নিকাহনামা এবং তাঁর নামে এক পাসপোর্টের প্রতিলিপি, যেখানে বলা হয়েছেতিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং শেখুপুরার নয়া আবাদি এলাকার বাসিন্দা নাসির হুসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এই নথিগুলি ভাইরাল হতে না হতেই দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তৎপরতা দেখা দিয়েছে।১৩ নভেম্বর ভারতীয় জঠা পাকিস্তান থেকে ফিরলেও সরবজিৎকে আর পাওয়া যায়নি। ৪ নভেম্বর গুরু নানক দেবজির প্রকাশ উৎসব উপলক্ষে মোট ১,৯২৩ জন শিখ তীর্থযাত্রী পাকিস্তানে যান। দশ দিনের সফরে তাঁরা একাধিক গুরুদ্বারায় গমন করেন। সফর শেষে ফেরার সময়ই দেখা যায়সরবজিৎ কৌরের নাম নেই পাকিস্তানের এক্সিট লিস্টে, নেই ভারতের রি-এন্ট্রি রেকর্ডেও। তখনই শুরু হয় বড়সড় উদ্বেগ।এরপর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাঁর সন্ধানে নেমেছে। দুদেশের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে ভারতীয় হাই কমিশন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যাচ্ছেন এবং উঠেই আসছে সেই নথিগুলির সত্যতা যাচাইয়ের প্রশ্ন। ঠিক কবে, কোথায়, কীভাবে সরবজিৎ জঠা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেনএটিও তদন্তের মূল দিক হয়ে উঠেছে।এদিকে SGPC তাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংস্থার দাবি, তীর্থযাত্রায় যাওয়ার ভিসা অনুমোদনে তাদের কোনও ভূমিকা নেই। সবটাই সরকারি নিয়ম মেনে হয়। SGPC জানিয়েছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পরই তারা সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেয়। এরপর আবেদনকারীরা পাসপোর্ট জমা দেন, যা SGPC সরকারকে পাঠিয়ে দেয় মাত্র। বাকি সব যাচাই করে ভারত সরকারই ভিসা পাকিস্তান হাই কমিশনে পাঠায়।SGPC আরও জানায়, অতীতেও বহু হিন্দুশিখ তীর্থযাত্রীকে ভিসা পর্যায়ে আটকে দেওয়া হয়েছে এবং এটি পুরোপুরি সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। কোনও ভিসা তারা অনুমোদন করে না, শুধু আবেদনগুলি পৌঁছে দেয়। সরবজিতের নিখোঁজ হওয়া এবং নিকাহনামা বিতর্ক নিয়ে SGPC বলেছেধর্মীয় সফরকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সাধন করা নিন্দনীয় এবং এতে সংস্থার উপর সন্দেহ তৈরি হয়। এই ঘটনা সম্পর্কে তারাও প্রথমে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পেরেছে।সমগ্র ঘটনার তদন্ত এখন দুই দেশের গোয়েন্দাদের হাতে। নথিগুলি সত্যি নাকি সাজানোতা সামনে এলেই স্পষ্ট হবে সরবজিৎ কৌর কি সত্যিই পাকিস্তানে স্বেচ্ছায় থাকতে চেয়েছেন, নাকি আরও কোনও বড় রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পিছনে।

নভেম্বর ১৫, ২০২৫
রাজ্য

চার বছর ধরে ভুয়ো আধারে ভারতবাস! বাংলাদেশে ফিরতে গিয়ে গ্রেফতার যুবক

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যে বহু বাংলাদেশি বছরের পর বছর ধরে ভুয়ো পরিচয়ে বসবাস করছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR শুরু হতেই বাড়ছে আতঙ্ক, আর এই আতঙ্কেই চোরাপথে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়লেন এক যুবক। তাঁর নাম দুর্জয় রায়, বয়স আঠাশ। কোচবিহারের হলদিবাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।শুক্রবার দুপুরে সিঞ্জারহাট এলাকায় ঘুরতে থাকা সন্দেহজনক ওই যুবককে প্রথমে লক্ষ্য করেন স্থানীয়রা। তাঁর গতিবিধি দেখে সন্দেহ হলে খবর দেওয়া হয় দেওয়ানগঞ্জ আউট পোস্টে। পুলিশ এসে প্রশ্ন করতেই দুর্জয় স্বীকার করেন, তাঁর বাড়ি বাংলাদেশে। এরপরই তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।হলদিবাড়ি থানার তদন্তে সামনে আসে আরও তথ্য। দুর্জয়ের বাড়ি বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার মর্দিয়া গ্রামে। চার বছর আগে চোরাপথে ভারতে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় হোটেলে ও চা বাগানে কাজ করতেন। ভারতে ঢোকার পর তিনি আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টসবই তৈরি করে ফেলেছিলেন। তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন, আধার-প্যান, ব্যাঙ্কের এটিএম কার্ড, কিছু টাকা উদ্ধার হয়েছে।তদন্তে জানা গেছে, SIR শুরু হতেই তাঁর উপর চাপ বাড়তে থাকে। আশঙ্কা হয়, ধরা পড়ে যাবেন। তাই দালালের মাধ্যমে কাঁটাতার পার করে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। সেই মতো তিনি হলদিবাড়ি পৌঁছলেও শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়ে যান।গ্রেফতার হওয়ার পর দুর্জয় বলেন, বছর চারেক আগে এখানে ঘুরতে এসেছিলাম। তারপর কাজ করতাম হোটেল, চা বাগানে। পুলিশের দাবি, SIR শুরুর পর চোরাপথে বাংলাদেশে পালাতে গিয়ে এর আগেও বেশ কয়েকজনকে ধরা হয়েছে। দুর্জয়ের গ্রেফতার এই তালিকায় নতুন সংযোজন।এই ঘটনার পর আবারও সামনে এল রাজ্যের সীমান্তনিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশের প্রশ্ন। অভিযোগ, চোরাপথ ব্যবহার করে বহু অনুপ্রবেশকারী এখনও এপারে-ওপারে যাতায়াত করছে, আর তাঁদের অনেকেই আর্থিক দালাল ও নেটওয়ার্কের মারফত ভুয়ো নথি তৈরি করেও ফেলছে সহজেই।

নভেম্বর ১৫, ২০২৫
কলকাতা

SIR-এ ঝড়! বিহারের ভোটে হাওয়া বদলে দিল তিন অক্ষরের শব্দ—বাংলায় কি নিশ্চিত ভূমিকম্প?

বিহারের ভোটে সবচেয়ে বেশি যেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা হল SIRস্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন। তিন অক্ষরের এই শব্দই সাম্প্রতিক রাজনীতিতে ঝড় তুলেছিল। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিল, সরকার নাকি ভোটার তালিকা কাটাছাঁট করে বিরোধী ভোট সাফ করার চেষ্টা করছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে দেশের রাজনীতিতে এত বিতর্ক প্রায় কখনও হয়নি। আজ যখন বিহারের রায় স্পষ্টনীতীশ কুমার ও NDA-র জয়জয়কারস্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই SIR ইস্যু ভোটে কতটা প্রভাব ফেলল?এই প্রশ্ন গুরুত্ব পাচ্ছে আরও একটি কারণে২০২৬ সালে বাংলার ভোট। বাংলাতেও চলছে SIR প্রক্রিয়া। ফলে বিহারের ফলাফলের পর SIR ঘিরে নতুন করে আলোচনা জোরদার হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানে Popular Sovereignty, অর্থাৎ শেষ কথা বলছেন জনতাই। বিরোধীরা যতই ন্যারেটিভ তৈরি করুক, জনতার মন যে কোন দিকে ঘুরে গিয়েছে, সেটা ঠিকমতো বুঝতে পারেনি তারা। SIR ইস্যুকেই তারা রাজনৈতিক Bandwagon Effect হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষমেষ হাওয়া যেন উলটেই গেল।বিগত ২৪ জুন নির্বাচন কমিশন SIR-এর নোটিফিকেশন জারি করে। মৃত, ভুয়ো এবং অনুপস্থিত ভোটার বাদ দেওয়াই ছিল লক্ষ্য। ২৫ জুন থেকে শুরু হয় ফর্ম ফিলআপ। ১ অগাস্ট বেরোয় খসড়া তালিকা। এরপর দাবি-আপত্তির শুনানি। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত ভোটার লিস্ট। কিন্তু এই প্রক্রিয়া ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীরা তেড়ে আসে। আরজেডি, কংগ্রেস, বামসবাই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বিরোধীরা সরাসরি বিজেপির দালাল বলে কটাক্ষ করে।সবচেয়ে জোরালো ছিলেন তেজস্বী যাদব। তাঁর দাবি, SIR করে বিরোধীদের ভোট কেটে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এমনকি তিনি অভিযোগ করেনখসড়া ভোটার তালিকায় নাকি তাঁর নিজের নামই নেই। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই সুরে সুর মিলিয়ে বলেনSIR হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক ভোটচুরি এবং নির্বাচন কমিশন নাকি বিজেপির হয়ে কাজ করছে।কিন্তু এই সব অভিযোগকে পাত্তা দেয়নি বিজেপি বা নীতীশ কুমারের দল। তাদের বক্তব্য, SIR চলছে বহু বছর ধরে, ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়ার এটাই সঠিক উপায়। বিজেপির প্রেম শুক্লা কটাক্ষ করে বলেন, SIR নিয়ে কংগ্রেস যত কথা বলেছে, তার ফলেই তারা এখন ১টা সিটে এসে দাঁড়িয়েছে।শেষ পর্যন্ত দেখাই গেলবিহারের ভোটাররা বিরোধীদের অভিযোগ মানল না। তারা SIR নিয়ে শঙ্কা উড়িয়ে NDA-র সঙ্গেই দাঁড়াল। NDA ২০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে গেল। SIR ইস্যু নিয়ে যে রাজনীতি হয়েছিল, তার প্রভাব ভোটে খুব একটা টের পাওয়া গেল না।বাংলাতেও এখন SIR নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তর্ক। BLO-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিচ্ছেন, ভোটার যাচাই করছেন। কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছেএই প্রক্রিয়ায় নাকি অসংখ্য সাধারণ মানুষের নাম বাদ যাবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থী, মতুয়া, রাজবংশীএই ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে বিজেপি নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাম কেটে দেবে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি আক্রমণ করেন নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারকে। বিজেপিকেও এক হাত নেন। তাঁর দাবি, SIR হচ্ছে বিজেপির সুবিধা করার অপারেশন, যেখানে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন। অখিলেশ যাদবও মমতার সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, বিহারে যে খেলা SIR নিয়ে হয়েছে, তা বাংলায় বা উত্তরপ্রদেশে চলবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেনএবার আমরাও খেলব।অন্যদিকে বিজেপি দাবি করছেSIR-এ ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আগেও হয়েছে। ভুয়ো, মৃত বা অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া ভোটারদের নাম কাটলেই স্বাভাবিক তালিকা তৈরি হবে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবিবাংলায় প্রায় ১ কোটি ভুয়ো/অবৈধ ভোট রয়েছে। এগুলো বাদ পড়লে তৃণমূলের ভোট মার্জিন কমবে। এমনকি বিজেপির দাবিSIR শুরু হওয়ার পরই অনেক অবৈধ ভোটার নাকি এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে।তাহলে বিহারের মতো বাংলাতেও কি SIR-এ বদলে যাবে সমীকরণ? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত কিন্তু বিভক্ত। একাংশ বলছেবিহারের সঙ্গে বাংলার পরিস্থিতি এক নয়, তৃণমূলের সংগঠনের শক্তি বিশাল। আবার অন্য পক্ষের মতেবিজেপি ও তৃণমূলের ভোটের তফাৎ মাত্র ৪-৫ শতাংশ। SIR-এর কারণে ভোটার তালিকা পরিষ্কার হলে গেরুয়া শিবিরই লাভবান হতে পারে।শেষ পর্যন্ত কোন ভবিষ্যৎ ঘটবে তা জানতে হলে ২০২৬ পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া পথ নেই। তবে বিহারের ছবিটা স্পষ্টমহাগঠবন্ধনকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে নীতীশ কুমার ও NDA-ই এগিয়ে ২০৮টি আসনে, আর বিরোধীরা মাত্র ২৮টিতে। বিশাল ব্যবধানে NDA-র রিটার্ন।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
রাজ্য

উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী শঙ্খধ্বনি! শিলিগুড়িতে শুভেন্দু-সুনীল বনসালের বৈঠক ঘিরে গরম রাজনীতি

উত্তরবঙ্গের রাজনীতি এখন কার্যত গরম হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে মুখোমুখি শুভেন্দু অধিকারী ও সুনীল বনসাল বিজেপির ভোট কৌশল নির্ধারণে এই বৈঠককে ঘিরে কার্যত রাজনৈতিক হাওয়া বদলেছে। উত্তরবঙ্গের আসন্ন ভোটকে সামনে রেখেই আজ নির্বাচনী প্রস্তুতি বৈঠকে বসছে বিজেপি। বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন উত্তরবঙ্গের সাংসদ, বিধায়ক, জেলা সভাপতিরা।বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক আবহে যেন অন্যরকম উত্তাপ। SIR ক্যাম্পে সকাল থেকেই হাজির সাংসদ রাজু বিস্তা, প্রাক্তন ত্রিপুরা মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। শুধু ক্যাম্পে উপস্থিতিই নয়, রাজু বিস্তা নিজ হাতে ভোটারের ফর্ম ফিলআপ করে দিচ্ছেন ছবি ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিজেপির দাবি, মানুষের সঙ্গে মাটিতে থেকে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।দলের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তরবঙ্গের সব জেলা নিয়ে এই বৈঠক হবে নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে। শুক্রবার থেকে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, আজকের বৈঠক থেকেই আমরা লক্ষ্য স্থির করছি উত্তরবঙ্গে আসন বাড়ানোই প্রধান লক্ষ্য। বহু মানুষ ফর্ম ফিলআপ করতে পারছেন না। আমরা কমিশনকে জানাব, প্রতিটি এলাকায় হেল্প ডেস্ক চালু করা হোক।এদিন আশ্রমপাড়ায় হেল্প ডেস্কে উপস্থিত হয়ে নিজে ফর্ম পূরণ করে দেন রাজু বিস্তা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে মানুষ তৃণমূলের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বুঝে গিয়েছেন। এবার তাদের স্বপ্নভঙ্গ হবেই।বিজেপি এবার নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নতুন কৌশল নিয়েছে। কর্পোরেট স্টাইলের এস আই আর কমপ্লেন সেল অ্যান্ড মনিটরিং সেল খুলেছে মেদিনীপুর সংগঠনিক জেলা বিজেপি কার্যালয়ে। সূত্রের খবর, এই কল সেন্টার থেকেই বিএলএ-২ দের সহায়তা ও বিএলও দের কাজের উপর নজরদারি চালানো হবে। দলের তরফে জানানো হয়েছে, এটি শুধুমাত্র প্রযুক্তি নির্ভর নয়, এটি আমাদের মাঠপর্যায়ের ফিডব্যাক সিস্টেমও।রাজ্য বিজেপি সূত্রের দাবি, উত্তরবঙ্গে দলের সংগঠন আগের তুলনায় আরও মজবুত। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগেই জমা পড়া সাংগঠনিক রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০২১ সালের তুলনায় এবার অন্তত ৪৪ থেকে ৪৮টি আসনে তৃণমূলকে হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মোট বিধানসভা আসন ৫৪টি। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, ছাব্বিশের ভোটে উত্তরের দুর্গ হবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।এই বৈঠক তাই শুধু সাংগঠনিক আলোচনা নয়, উত্তরবঙ্গের বিজেপি ঘাঁটিতে মনোবল চাঙ্গার প্রচেষ্টাও। রাজনৈতিক মহল বলছে, শুভেন্দুবনসালের এই বৈঠক থেকে উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী যুদ্ধের প্রথম সুরই বেজে গেল।

নভেম্বর ১৩, ২০২৫
দেশ

গোপনে পরমাণু বিস্ফোরণ? পাকিস্তানকে ঘিরে ফের ছায়াযুদ্ধের গন্ধ, এবার বিস্ফোরক বার্তা দিলেন রাজনাথ সিং

অপারেশন সিঁদুরের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চে চাপের মুখে পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি ইসলামাবাদ গোপনে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে! ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক তোলপাড়। আর সেই দাবিকে ঘিরে রবিবার পাকিস্তানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজনাথ সিং বলেন, ওরা যদি সত্যিই পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা করে, তাহলে করুক। ওদের থামানো যাবে না। তবে ভারতও যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রশ্ন ওঠে, পাকিস্তান যদি সত্যিই পরমাণু বিস্ফোরণ চালায়, ভারতও কি পাল্টা পরীক্ষা করবে? রাজনাথের জবাব, আগে ওরা করুক, তারপর দেখা যাবে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান, রাশিয়া, চিন এবং উত্তর কোরিয়া এই চার দেশ গোপনে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে একাধিক ভূমিকম্প আসলে গোপন পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফল। বিশেষ করে এপ্রিল-মে মাসে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে যে ৪.০ থেকে ৪.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, তা ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের চাগাই-১ ও চাগাই-২ বিস্ফোরণের তীব্রতার সঙ্গে মিলে যায়।এই দাবির পরই আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তরফে তদন্তের দাবি উঠেছে। ইসলামাবাদ যদিও এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে মুখ খোলেনি। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিক্রিয়া এসেছে বেশ কড়া ভাষায়। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের গোপন ও বেআইনি পারমাণবিক কর্মকাণ্ড কোনও নতুন বিষয় নয়। দশকের পর দশক ধরে ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক রপ্তানি আইন ভেঙে, চোরাপথে চুক্তি করেছে। ভারত বরাবরই সেই তথ্য আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরেছে।ট্রাম্পের দাবি ও রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা। দক্ষিণ এশিয়ায় ফের বাড়ছে পারমাণবিক তাপমাত্রা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পাকিস্তানের গোপন পরীক্ষা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং ভবিষ্যতের একটি বড় সংঘাতের ইঙ্গিতও বটে।ভারতীয় কূটনীতিক মহলের দাবি, ইসলামাবাদকে ঘিরে এখন আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়বে। আর নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান যতই গোপনে ষড়যন্ত্র পাকাক, ভারত প্রস্তুত আছে প্রত্যেক পরিস্থিতির জন্য।

নভেম্বর ০৯, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

‘আমার শহর, আমার জয়’— রেড কার্পেটে নায়িকার মতো প্রত্যাবর্তন রিচার, মাতোয়ারা শিলিগুড়ি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। অবশেষে ঘরে ফিরলেন বাংলার গর্ব, বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার রিচা ঘোষ। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামতেই শিলিগুড়ি যেন উৎসবে ফেটে পড়ল। ফুলে ভরা খোলা জিপে শহর চষে বেড়ালেন তিনি। রাস্তাজুড়ে উচ্ছ্বাস, উল্লাস, আর রিচা, রিচা ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল গোটা শহর।নিজের শহরে ফিরে আবেগাপ্লুত রিচা বলেন, নিজের শহরে, নিজের মানুষদের ভালোবাসা পেয়ে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। তাঁর এই কথায় যেন আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় শিলিগুড়িতে।বাঘাযতীন পার্কে আজ বিকেলে তাঁর জন্য নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও ক্রীড়া সংগঠনগুলি। উপস্থিত থাকবেন শহরের নামী ক্লাব, স্কুল, এবং মহিলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরাও। রিচার জন্য থাকবে গার্ড অফ অনার ও রেড কার্পেট সংবর্ধনা।শহরের সুভাষপল্লিতে তাঁর বাড়িতে এখন উৎসবের আবহ। আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে গোটা পাড়া। প্রতিবেশীরা বলছেন, আমাদের মেয়েই আজ গোটা দেশের গর্ব। রিচার মা স্বপ্না ঘোষ মেয়ের পছন্দের খাবার ফ্রায়েড রাইস, পনির আর মিক্সড ভেজ নিজ হাতে রান্না করেছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে বাড়িতে নজরদারি কড়া করা হয়েছে, যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয়।ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রিচাকে। রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে পুলিশে চাকরির প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। বাংলার এই মেয়ে ভারতের প্রথম মহিলা ক্রিকেটার যিনি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হয়েছেন ৫২ বছর পর ভারতীয় মহিলা দল এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে।২২ বছর বয়সি রিচা ঘোষ এই বিশ্বকাপে করেছেন মোট ২৩৫ রান, যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঝোড়ো ৯৪ রানের ইনিংস। ফাইনালে তাঁর ২৪ বলে ৩৪ রান ভারতকে জয় এনে দেয়। গোটা টুর্নামেন্টে ১২টি ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছেন তিনি।আজ শিলিগুড়ির প্রতিটি রাস্তায়, প্রতিটি ঘরে রিচার নামেই গর্ব। তাঁর সাফল্যে উজ্জ্বল বাংলা, গর্বিত দেশ।

নভেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

তৃণমূলের দাপট না প্রশাসনিক ব্যর্থতা? বিজেপির বিএলএকে পরানো হল জুতোর মালা

এসআইআর (SIR) ঘিরে উত্তেজনায় ফুটছে রাজ্য। এবার কোচবিহারের মাথাভাঙার ছাট খাটেরবাড়ি এলাকায় ঘটল রীতিমতো রোমহর্ষক ঘটনা। অভিযোগ, বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্টকে (BLA-2) প্রকাশ্যে জুতোর মালা পরিয়ে অপমান করা হয়েছে। মুহূর্তে সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়, ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে বিজেপির বিএলএ ২ ওই এলাকায় যান এসআইআরের কাজ পর্যালোচনা করতে। ঠিক সেই সময় সেখানেই উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বিএলএ ২। অভিযোগ, বিজেপির প্রতিনিধি পৌঁছনোমাত্রই শুরু হয় বচসা, আর তারপরই তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। হঠাৎই কিছু মানুষ তাঁকে ঘিরে ধরে, এবং পরে জুতোর মালা পরিয়ে অপমান করা হয় বলে অভিযোগ বিজেপির।এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি মুহূর্তেই ক্যামেরাবন্দি হয় এবং ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় রাজনৈতিক ঝড়। মাথাভাঙা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, বিজেপি ও তৃণমূলের সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় দোষারোপের পালা।বিজেপির মাথাভাঙা বিধায়ক সুশীল বর্মন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, বাংলার মানুষ এবার বিজেপিকেই জেতাবে, তাই ভয় পাচ্ছে তৃণমূল। বিজেপির নেতানেত্রীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি সাধারণ কর্মীদেরও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এটা স্পষ্ট রাজনৈতিক সন্ত্রাস। তাঁর দাবি, এসআইআরের নামে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে বিজেপি কর্মীরা মাঠে নামতে না পারে। কিন্তু বাংলার মানুষ এর জবাব ভোটেই দেবে।অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন জানান, আমরা বিষয়টি শুনেছি, কিন্তু দলের কোনও সম্পর্ক নেই। এটা প্রশাসনিক বিষয়। কে, কেন করেছে, সেটা প্রশাসন তদন্ত করবে। দলীয়ভাবে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, ঘটনার ভিডিও হাতে পেয়েই তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকায় শান্তি ফেরাতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।এদিকে রাজ্য জুড়ে চলছে ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনার (SIR) কাজ। আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে ফর্ম ফিলআপ। এরপর ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া তালিকা। অভিযোগ জানানো যাবে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি, এরপরই শুরু হবে বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন।কোচবিহারের এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন এসআইআর কি ভোটার তালিকা সংশোধন, নাকি রাজনীতির নতুন যুদ্ধক্ষেত্র?

নভেম্বর ০৬, ২০২৫
কলকাতা

মমতা ফর্ম নিলেন না—তাহলে কারা ছড়াল ভুয়ো খবর? প্রশ্নে তোলপাড় রাজ্যরাজনীতি

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই শুরু হয় প্রবল জল্পনা। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, মুখ্যমন্ত্রী নিজে হাতে এনুমারেশন ফর্ম নিয়েছেন ব্লক লেভেল অফিসারের (BLO) কাছ থেকে। এই খবর ছড়াতেই রাজনৈতিক মহলে হুলস্থুল পড়ে যায়। ঠিক চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নিজেই সমস্ত গুজব উড়িয়ে দিলেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান।সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সরকারি অ্যাকাউন্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, গতকাল দায়িত্বপ্রাপ্ত BLO আমাদের পাড়ায় এসেছিলেন তাঁদের নির্দিষ্ট কাজ করতে। তিনি কর্মসূত্রে আমার রেসিডেন্স অফিসে এসে রেসিডেন্সের কয়েকজন ভোটারের নাম জেনেছেন এবং ফর্ম দিয়ে গিয়েছেন। আমি নিজে কোনও ফর্ম পূরণ করিনি। যতক্ষণ না বাংলার প্রতিটি মানুষ ফর্ম পূরণ করছেন, ততক্ষণ আমি ফর্ম পূরণ করব না।এর পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমগুলির উদ্দেশে কড়া ভাষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যে সমস্ত মিডিয়া জানিয়েছে আমি নিজে হাতে BLO-র কাছ থেকে এনুমারেশন ফর্ম গ্রহণ করেছি, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।প্রসঙ্গত, বুধবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে পৌঁছন এক BLO। নিরাপত্তারক্ষীদের যাচাই প্রক্রিয়া শেষে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য মোট ১৭টি এনুমারেশন ফর্ম তিনি জমা রেখে যান। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ফর্মগুলি পূরণ করে পরে জমা দেওয়া হবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফর্ম পূরণ করেননি এবং সেই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।রাজ্যে মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়েছে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলির কাজ। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে চালু হওয়া এই ফর্ম বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রতিটি বৈধ ভোটারের নাম হালনাগাদ করার কাজ চলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আগেই দাবি করা হয়েছিল, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি মৃত্যু এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারের কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করে।এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী নিজে পথে নেমে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি করেন এবং বলেন, অযথা আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। এসআইআর নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমরা চাই, রাজ্যের প্রতিটি মানুষ ফর্ম পূরণ করুন, কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না।রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ফর্ম বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধীদের একাংশ রাজ্য প্রশাসনকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছেএই খবর কেবলই মিথ্যাচার, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।বর্তমানে BLO ফর্ম বিতর্ক রাজ্য রাজনীতির নতুন সংবেদন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্পষ্ট। প্রশাসনিক মহল মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে ভোটারদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি অনেকটাই কেটে যাবে।

নভেম্বর ০৬, ২০২৫
রাজ্য

"আমার কাগজ নেই, আমাকে বার করে দেবে"— ভাঙড়ে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

এসআইআরএর পরিবেশ ঘিরে আরও এক মৃত্যুর ঘটনা। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আত্মহত্যার খবরের পর এবার ভাঙড়। শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম সফিকুল গাজি। তাঁর পরিবারের দাবি, কাগজপত্র নিয়ে আতঙ্কে ভুগেই আত্মঘাতী সফিকুল। বুধবার সকালে ঘর থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ছুটে যান ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা।পরিবার জানাচ্ছে, গত কয়েক দিন ধরেই এক অদ্ভুত ভয় গ্রাস করেছিল সফিকুলকে। কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন না। খাওয়াদাওয়াও প্রায় বন্ধ। মাঝেমধ্যে কাগজপত্র নিয়ে বসতেন, আর বারবার একটাই কথা আমার সব কাগজ নেই আমাকে এখান থেকে বার করে দেবে। স্ত্রী জানিয়েছেন, টানা দুই দিন ধরে স্বামী এমন কথাই বলে যাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে স্বাভাবিক মতোই খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। বুধবার সকালে স্ত্রী ও ছেলে কাজে বেরিয়ে যান। ফিরে এসে দেখেন ঘরের ভিতর ঝুলছে তাঁর দেহ। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।ভাঙড়েই শ্বশুরবাড়ি ছিল সফিকুলের, সেখানেই থাকতেন। আসল বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনায়। বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেন, শুনেছি ওর বাবা-মায়ের বৈধ কাগজপত্র ছিল। কিন্তু ওর নিজের নামে কিছুই নেই। সেই হতাশাই ওকে শেষ করে দিল। এটা শুধু মৃত্যু নয়, আতঙ্কের একটা ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। সেই সঙ্গে তিনি বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছেন গতকাল সাত জন, আজ আট! বিজেপিকে জবাব দিতে হবে। এই মৃত্যু মিছিলের দায় তাঁদের।বিজেপির রাহুল সিনহা তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে তৃণমূলই। এখন আবার মৃতদেহের রাজনীতি করছে। কে কোথায় মরছে, সেটাই নজর রাখছে ওরা। এসআইআরএর আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্বেগ আর সেই সঙ্গেই প্রশ্ন, এই আতঙ্ক থামবে কবে?

নভেম্বর ০৫, ২০২৫
রাজ্য

বাড়ি-বাড়ি ফর্ম, রাস্তায় আতঙ্ক—হাসপাতালে তৃণমূল কাউন্সিলর

এখন বাংলায় এসআইআর ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে ফর্ম বিলি, বাড়ি-বাড়ি যাবেন বিএলওরা। আর সেই গরম রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রিষড়া পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী সাকির আলি। তৃণমূল বলছে, মানুষের আতঙ্ক সামলাতে গিয়েই অসুস্থ তিনি। বিজেপি-র ভাষায়এ সবই নাটক।রবিবার আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন সাকির আলি। ভর্তি করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। শয্যায় শুয়েই তিনি দাবি করেছেন, তাঁর ওয়ার্ডে একটি বড় বস্তি এলাকা আছে। এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই সেখানে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দিনভর বহু মানুষ তাঁর কাছে ছুটে এসেছেনতাঁদের নাম বাদ যাবে না তো? কাগজপত্র ঠিক আছে তো? কী করতে হবে? কারও হাতে পাকা নথি নেই, কারও তথ্য মেলে না। সেই আতঙ্ক সামলাতে সামলাতেই ধকল যায় তাঁর, দাবি কাউন্সিলরের। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এমনটাই বলছে তৃণমূল শিবির।অন্যদিকে বিজেপি একেবারে পাল্টা সুরে। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন পাল বলেন, পুরোটাই নাটক! তাঁর অভিযোগ, দেশের ১২টি রাজ্যে এসআইআর চলছে, কোথাও এমন কেউ অসুস্থ হচ্ছে না। কিন্তু বাংলায় তৃণমূলের কাউন্সিলরই কেবল অসুস্থ হচ্ছেন! অভিযোগ আরও এগিয়ে গিয়ে বলেন, রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাকির আলির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাই প্রচারের আলোয় আসতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে।এদিকে এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক যে বাস্তব, তা স্পষ্ট রাজ্যের নানা প্রান্তে। ইতিমধ্যেই একাধিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে আতঙ্ককে দায়ী করা হচ্ছে। হুগলির ডানকুনিতে রবিবার সন্ধ্যায় মারা গিয়েছেন ষাট বছর বয়সি হাসিনা বেগম। স্থানীয়দের দাবি, এসআইআর নিয়ে আতঙ্কেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। মানুষ এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না, কী কী নথি লাগবে, কীভাবে নাম নথিভুক্ত হবে। তার মধ্যেই আতঙ্ক যেন ছায়ার মতো তাড়া করছে সাধারণ মানুষকে।রাজ্যজুড়ে প্রশ্ন একটাইএসআইআর কার্যকর করতে গিয়ে প্রশাসন কি ন্যায়সঙ্গতভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে? নাকি আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে? মানুষের ঘরে ঘরে অস্থিরতা বাড়ছে, রাজনৈতিক পালটা-যুদ্ধ আরও উত্তপ্ত হচ্ছে। আর এই সবকিছুর মধ্যেই হাসপাতালে শুয়ে আছেন সাকির আলিতাঁর দাবি, মানুষ বাঁচাতে গিয়ে তাঁর নিজের শরীরই হার মানল। বিজেপি বলছে, সবটাই সাজানো দৃশ্য। সত্যি কোনটা? উত্তর চাইছে রাজ্যবাসী।

নভেম্বর ০৩, ২০২৫
বিদেশ

গাজা শান্তি সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি কীর্তি বর্ধন সিং

মিশরের শর্ম-এল-শেখে সোমবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে গাজা শান্তি সম্মেলন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ দূত হিসেবে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করবেন কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ জানান। তবে মোদি নিজে অংশ না নিয়ে প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রীকে।এই সম্মেলনে অংশ নেবেন আরও বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমমানুয়েল মাক্রোঁ, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদরো স্যাঞ্চেজ এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।কূটনৈতিক মহল মনে করছে, গাজা উপত্যকার সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে এই বৈঠকে আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা তৈরি হতে পারে। উল্লেখ্য গাজায় আপাতত যুদ্ধবিরতি চলছে।

অক্টোবর ১২, ২০২৫
কলকাতা

মহানগরে 'মহাবৃষ্টি' - টানা বৃষ্টিতে অচল কলকাতা, কোমর সমান জলে বিপর্যস্ত জনজীবন

গতকাল রাত থেকে টানা মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে কলকাতা শহর। রাতের অঝোর বর্ষণ সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় শহরের একাধিক রাস্তায় জল জমে যায়। অফিস যাতায়াতের সময়ে তীব্র ভোগান্তির মুখে পড়েন সাধারণ মানুষ।সবচেয়ে বেশি জল জমেছে পার্ক সার্কাস, টালিগঞ্জ, কাঁকুড়গাছি, বাদামতলা, রাজাবাজার এবং বেলেঘাটা এলাকায়। উত্তর কলকাতার হাতিবাগান, শ্যামবাজার এবং দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া, যাদবপুরেও সকাল থেকে কোমর সমান জলে হাঁটতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।মেট্রো, বাস ও ট্যাক্সি পরিষেবা ভোগান্তির মুখে পড়ে। বহু জায়গায় গাড়ি বিকল হয়ে মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে যায়। এসএসকেএম, এনআরএস-সহ বিভিন্ন হাসপাতালের বাইরেও জল জমে রোগী ও চিকিৎসকদের যাতায়াত ব্যাহত হয়।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমি অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের উপর সক্রিয় থাকায় নিম্নচাপের প্রভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।কলকাতা পুরসভা জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলার পাশাপাশি পাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে দ্রুত জল নামানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে সতর্ক রাখা হয়েছে।বৃষ্টির দাপটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ বলছেন, প্রতি বছরই সামান্য বৃষ্টিতেই একই ছবি। নর্দমা ও ড্রেনেজ সংস্কার না হলে পরিস্থিতির বদল হবে না।শহরের মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন কলকাতার বৃষ্টি মানেই কি জলযন্ত্রণা?

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫
দেশ

গায়ক জুবিন গর্গের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সঙ্গীত জগৎ, লক্ষ লক্ষ স্রোতার হৃদয় ভেঙে চুরমার

ভারতের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গ আর নেই। মাত্র ৫২ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে গেছে সঙ্গীত জগৎ। সিঙ্গাপুরে সাংস্কৃতিক উৎসবে যোগ দেওয়ার আগে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন।গানের জগতে জুবিন গর্গ ছিলেন এক বহুমুখী প্রতিভা। অসমিয়া সংগীতকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করার পাশাপাশি তিনি হিন্দি, বাংলা, নেপালি ও আরও অনেক ভাষায় গান গেয়েছেন। বলিউডে তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় গান গ্যাংস্টার ছবির ইয়া আলি, যা তাঁকে রাতারাতি সারা দেশে পরিচিতি দেয়। অসমে বুকু দুরু দুরু-সহ অসংখ্য গান মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।শুধু কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই নয়, সুরকার, অভিনেতা এবং সমাজকর্মী হিসেবেও জুবিনের ভূমিকা প্রশংসনীয়। সংগীতের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের লোকজ ধারা ও সংস্কৃতিকে তিনি সর্বভারতীয় মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন। বহু তরুণ শিল্পীর অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন জুবিন।তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং বিরোধী নেতারাও টুইটারে শোকবার্তা জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ভরে উঠেছে অসংখ্য পোস্ট।অসমের মানুষ তাঁকে ডাকতেন গণগায়ক নামে। কারণ, তাঁর গান ছিল আবেগের, প্রতিবাদের এবং ভালোবাসার প্রতীক। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে গেছেন। জুবিন গর্গের অকাল প্রয়াণ শুধু একটি সংগীতমুখর জীবনকেই শেষ করেনি, ভেঙে দিয়েছে লক্ষ লক্ষ শ্রোতার হৃদয়। তবে তাঁর কণ্ঠের সুর ও সৃষ্টিগুলো আগামী প্রজন্মের মনেও সমানভাবে বেঁচে থাকবে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫
রাজ্য

স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু বিখ্যাত গায়কের

জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা জুবীন গর্গ আজ স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন। ঘটনাটি ঘটেছে আজ দুপুরে, সিঙ্গাপুরে সমুদ্রসৈকতের কাছে পর্যটনকেন্দ্রে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ডাইভিংয়ের নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জলের নিচে শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন। সমুদ্র থেকে গায়ককে উদ্ধার করে সিঙ্গাপুর পুলিশ। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টা নাগাদ ঘটেছে দুর্ঘটনা।সংগীতজগতে এক বহুমুখী প্রতিভা ছিলেন জুবীন গর্গ। আসামিয়া, হিন্দি ও বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় তাঁর গান বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। অভিনেতা হিসেবেও তিনি সমানভাবে প্রশংসিত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে ভক্তমহল ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভক্তরা শোকবার্তা জানাচ্ছেন। সংগীত মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জুবীন গর্গের মৃত্যু শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতের নয়, গোটা দেশের সংগীতভুবনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫
রাজ্য

এবার পুজোয় বাসেই সিকিম, দার্জিলিং কিংবা ডুয়ার্স, তাকলাগানো প্যাকেজ NBSTC-র!

আসন্ন দুর্গাপুজোয় উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এনবিএসটিসি) পর্যটকদের জন্য নিয়ে আসছে নতুন চমক। সবুজের পথে হাতছানি নামে একাধিক ভ্রমণ প্যাকেজ চালু করতে চলেছে সংস্থা। ফলে সিকিম, দার্জিলিং, কালিম্পং কিংবা ডুয়ার্স ঘোরার সুযোগ মিলবে অনেক কম খরচে। খাওয়াদাওয়া মিলিয়ে ভ্রমণের ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র ৭০০ টাকা থেকে সর্বাধিক ২৫০০ টাকার মধ্যে। বৃহস্পতিবার ময়নাগুড়িতে এমনটাই ঘোষণা করেছেন নিগমের চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায়।তিনি জানান, এক দিনের ট্যুর থেকে শুরু করে দুদিন-এক রাত কিংবা তিন দিন-দু রাতের মতো নানা রকমের প্যাকেজ সাজানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। অনলাইন ও অফলাইন দুই পদ্ধতিতেই টিকিট বুকিংয়ের সুবিধা রাখা হবে। পাশাপাশি পর্যটক আকর্ষণে রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডে মাইকিং, লিফলেট বিলি এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার থেকে এই বিশেষ প্যাকেজ পরিষেবা চালানো হবে। প্রতিটি জায়গায় দুটি করে বাস থাকছে ১৬ সিট ও ২৬ সিটের। চাহিদা বাড়লে গাড়ির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে।পর্যটন মানচিত্রে সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক ছাড়াও থাকছে দার্জিলিং, কালিম্পং, লাভা, লোলেগাঁও, ঝালং, বিন্দু, লাটাগুড়ি, মূর্তি, গোরুমারা, জলদাপাড়া, রাজাভাতখাওয়া ও জয়ন্তী। নিগমের চেয়ারম্যানের বক্তব্য, আমাদের লক্ষ্য একটাই স্বল্প খরচে বেশি জায়গা ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া। পুজোর সময় উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলায় দুর্গাপুজো ঘোরার বিশেষ ব্যবস্থাও থাকবে।এই উদ্যোগে খুশি পর্যটন ব্যবসায়ীরাও। লাটাগুড়ি হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, খুবই ইতিবাচক পদক্ষেপ। জলপাইগুড়ি বা লাটাগুড়ি থেকে সরাসরি দার্জিলিং বা গ্যাংটক গেলে বহু পর্যটক প্রথমে ডুয়ার্স ঘুরে পাহাড়ে যেতে চাইবেন। এতে খরচ কমবে এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও বাড়বে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বিহার থেকে ডুয়ার্সের সরাসরি সরকারি বাস চালু হলে আরও পর্যটক টানতে সুবিধা হবে। নিগম কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।এছাড়া মহালয়ার পরদিন থেকে চতুর্থী পর্যন্ত প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ পুজো পরিক্রমা চালানোর পরিকল্পনাও করছে এনবিএসটিসি। একইসঙ্গে পুজোর সময় কলকাতা-উত্তরবঙ্গ রুটে অতিরিক্ত বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যে ১১টি বাস প্রতিদিন চলছে, তার সঙ্গে আরও দশটি যোগ করার চেষ্টা চলছে। দীঘা রুটেও সপ্তাহে দুদিনের বদলে চার দিন বাস চালানো হবে।সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, পুজোর মরসুমে উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে নতুন গতি দিতে একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে এনবিএসটিসি।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৫
দেশ

নতুন রূপে জিএসটি ঘোষণা, দাম কমতে চলেছে একাধিক পণ্য - পারিষেবার

নতুন জিএসটি স্ল্যাব ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। পুজোর আগে প্রায় জিনিসপত্রের দাম কমতে চলেছে। স্বাস্থ্যবিমা এবং জীবনবিমায় জিএসটি থাকল না, ১৮% থেকে একেবারে ০। ৩৩ টি প্রয়োজনীয় ওষুধের GST শূন্য করায় দাম কমল।বেশিরভাগ খাবারের দাম কমবে। ছানা, রুটি, পনির, ঘি, বাটার, দুধের জিএসটি প্রায় থাকছেই না।তেল, সাবান, শ্যাম্পু, ব্রাশ, শেভিং ক্রিম সব কিছুরই দাম কমছে, ১৮ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশ জিএসটি।নুডলস, চানাচুর, নিমকি, ভুজিয়া টাইপ খাবারের দামও কমছে।বাচ্চাদের ন্যাপকিন, ডায়াপারের দাম কমছে।খাতা, পেন, পেনসিল, গ্লোব, ম্যাপ, রাবার - ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার প্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম কমছে।জুতো, জামাকাপড়ের দামও কমবে। চাষবাসের জিনিসপত্র, কীটনাশকের দাম কমছে, ফলে সার্বিক ভাবে শাক সবজি ও কৃষিজাত পণ্যের দাম কমার কথা।বাসনপত্র, স্কুটার, বাইক, গাড়ির জিএসটি ২৮ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশ, ফলে দাম কমবে।টিভি, এসি, ওয়াশিং মেশিনের মতো জিনিসের দামও কমছে।মোদ্দা কথা মধ্যবিত্তদের রোজকারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কিছুটা হলেও কমতে পারে। কারণ কোন কায়দায় কোন জিনিসের দাম বাড়বে বলা মুশকিল। পুজোর আগে এর থেকে ভাল উপহার আর কিছু হতে পারে না বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৫
রাজ্য

এসআইআর থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই কি তৎপর কেন্দ্রীয় সরকার? সংবিধান সংশোধন বিল পেশ নিয়ে তুলকালাম

এসআইআর নিয়ে বিরোধীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সারা দেশ তোলপাড়। এরই মাঝে সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ হল লোকসভায়। তৃণমূল কংগ্রেসে এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে। এসআইআর ইস্যু থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতেই এই বিল আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপরাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে। এটা আসলে কেবলমাত্র একটা ভেল্কিবাজি। আমরা আগে থেকেই সতর্ক করেছিলাম, যখন বিজেপি প্রচার চালাচ্ছিলঅবকি বার, ৪০০ পারতখনই বলেছিলাম ওদের উদ্দেশ্য- সংবিধান বদলে দেওয়া। আর আজ, মাত্র ২৪০ সাংসদ নিয়ে ওরা ১৩০তম সংবিধান সংশোধন নিয়ে এসেছে। ভাবুন তো, যদি ৪০০ সাংসদ থাকত, তাহলে কী করত!ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের দাবি, SIR ইস্যু থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য এই বিল পেশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সাংবাদিক বৈঠকের পরই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, উত্তর দেওয়ার বদলে ওরা কেবল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। মাত্র দুদিন আগে ৮টি রাজনৈতিক দল যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছিল। কিন্তু এই বিলের উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, মুদ্রাস্ফীতি, কৃষক-শ্রমিকদের দুঃখকষ্ট, বা শিল্প গড়ে তোলাএসবের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য শক্তি, টাকা, আর নিয়ন্ত্রণ দখল করা। দেশের সীমান্ত রক্ষা, জঙ্গিদের আটকানো, সার্বভৌমত্ব রক্ষাএসব নিয়ে সরকারের কোনও আগ্রহ নেই।নতুন আইনে বলা হয়েছে যদি কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় বা রাজ্যের মন্ত্রী, বা মন্ত্রিসভার সদস্য কোনও তদন্তকারী সংস্থার দ্বারা ৩০ দিনের বেশি আটক থাকে, তবে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এর মানে আপনি নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগই পাবেন না। তাহলে বিচারব্যবস্থার দরকার কী? এটা পুরো বিচারব্যবস্থা ও বিচারপ্রক্রিয়ার ভিতটাই দুর্বল করে দেয়। প্রধানমন্ত্রীর নিজের বিরুদ্ধেও মামলা ঝুলছে। বিজেপি বলবে তৃণমূল ভয় পেয়েছে। যদি আমরা ভয় পেতাম, তবে ঘরে বসে থাকতাম। কিন্তু আমরা তো রাস্তায় নেমে লড়াই করছি।অভিষেকের দাবি, এই বিলের একমাত্র উদ্দেশ্য হল বিরোধী নেতাদের, কর্মী-সমর্থকদের এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দমন করা। তথ্যই তা প্রমাণ করছেঅর্থমন্ত্রক নিজেই সংসদীয় প্রশ্নের জবাবে বলেছে, গত ১০ বছরে ইডি ৫,৮৯২টি মামলার তদন্ত করেছে, কিন্তু দোষী সাব্যস্ত হয়েছে মাত্র ৮টিতে। মানে ০.১৩%। অর্থাৎ, ৯৯.৯% মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অথচ প্রধানমন্ত্রী মোদীর তৃতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভায় ২৮ জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ১৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, ধর্ষণ এবং মহিলাদের উপর নৃশংস অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এই বিল পাশ হলে ওদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে?বারে বারেই অভিযোগ উঠেছে সিবিআই, ইডি সহ সমস্ত কেন্দ্রীয় এজেন্সি বিজেপির কথা মতো কাজ করে। নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের পিছনে ইডি, সিবিআই লেলিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাজা হয় না বলে খবর। অভিষেক বলেছেন, ২০১৪ থেকে এখন পর্যন্ত ২৫ জন বিরোধী নেতা, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলছিল তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে ২৩ জনের সব মামলা থেকে রেহাই মিলেছে। তাহলে বিজেপির উদ্দেশ্য দুর্নীতি বিরোধী লড়াই, না বিরোধীদের হয়রানি? যদি ওদের উদ্দেশ্য সৎ হত, তবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, অজিত পওয়ার, শুভেন্দু অধিকারীরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুক্তি পেতেন না। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে ওদের বিরুদ্ধে একটাও সমন জারি হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, গত ১০ বছরে কতজন বিজেপি নেতা গ্রেফতার হয়েছে?

আগস্ট ২১, ২০২৫
দেশ

রক্ত ও জল একসঙ্গে নয়, স্বাধীনতা দিবসে ফের মোদীর আগুনে হুঙ্কার

আজ দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে রাজধানী দিল্লির লালকেল্লা থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে তেরঙ্গা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীতের পর তিনি ভাষণ শুরু করেন। এদিন তিনি স্পষ্ট বার্তা দেনভারত আর কোনওভাবেই পারমাণবিক হুমকি বা ব্ল্যাকমেলিং সহ্য করবে না।অপারেশন সিঁদুরে অংশ নেওয়া সেনাদের স্যালুট জানিয়ে মোদী বলেন, সাহসী জওয়ানরা শত্রুকে কল্পনার বাইরে শাস্তি দিয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লিজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে; ১০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী ও ৩ হাজার ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন হয়েছে।জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে মোদী বলেন, প্রতিটি ঘরে তেরঙ্গা উড়ছেহোক তা মরুভূমি, হিমালয়, সমুদ্রতট বা শহর। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে কুর্নিশ জানান এবং ১৪০ কোটি মানুষের সম্মিলিত সংকল্পকে দেশের গর্ব বলে উল্লেখ করেন।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও স্বাধীনতা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেন।

আগস্ট ১৫, ২০২৫
রাজ্য

পদ্মশ্রী জয়ী সাঁতারুর বাড়িতে ভয়াবহ চুরি, উধাও ১২০ টির বেশি মেডেল

হুগলির হিন্দমোটর দোবাই পুকুরে প্রাক্তন সাঁতারু ও পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত বুলা চৌধুরীর পৈতৃক বাড়িতে চুরির ঘটনা। দীর্ঘদিন ফাঁকা থাকা বাড়ি থেকে সোনা, রুপো, ব্রোঞ্জের শতাধিক মেডেল, পদ্মশ্রী ও রাষ্ট্রপতি পুরস্কারের রেপ্লিকা, বিদেশি পদক ও দামি সামগ্রী খোয়া যায়। ঘটনাস্থলে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ ও চন্দননগর কমিশনারেটের আধিকারিকরা তদন্তে নেমেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে একই বাড়িতে দুবার চুরি হলেও আজও তার কিনারা হয়নি।ঘটনার পর পদ্মশ্রী পুরস্কার জয়ী বিখ্যাত সাঁতারু বলেন, আমি মানসিক ভাবে খুব বিপর্যস্ত। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যখন কেন্দ্রীয় ক্রীড়া দফতরের মন্ত্রী ছিলেন তখন আমি বিদেশে সাঁতার প্রতিযোগিতায় যাওয়ার সময় উনি আমায় বলেছিলেন বুলা দেশের জন্য সোনা আনবে, আমি ৬ টি সোনার মেডেল এনে ওনার কথা রেখেছিলাম। এখন উনি মুখ্যমন্ত্রী। এবার আমার আবেদন তাঁর কাছে, দয়া করে প্রশাসনকে জোর দিন যাতে আমার সমস্ত মেডেল গুলো উদ্ধার হয়। বুলার অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

আগস্ট ১৫, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

ওভালে ইতিহাস! 'নেভার গিভ আপ' আর 'বিলিভ' মন্ত্রেই শুভমান-সিরাজদের বাজিমাত

ওভালে ইতিহাস গড়ল ভারত। ৬ রানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে। যা টেস্টে গত একশো বছরে দেখেনি ওভাল। টেস্টে রানের নিরিখে এটিই ভারতের সবচেয়ে কম ব্যবধানে জয়। যার ফলে অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফির পাঁচ টেস্টের সিরিজ ২-২। প্রতিটি টেস্ট পঞ্চম দিন অবধি গড়িয়েছে, যা টেস্ট ফরম্যাটের সেরা বিজ্ঞাপন।আজ শেষদিন টেস্ট জিততে ভারতের দরকার ছিল চার উইকেট, ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৩৫ রান। জেমি স্মিথ আর জেমি ওভার্টনকে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ সিরাজ। জশ টং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর শিকার। এরপর এক হাতে ব্যাট করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামেন ক্রিস ওকস। কাঁধের হাড় সরেছে ফিল্ডিং করতে গিয়ে। দৌড়ে রান নেওয়ার সময় যন্ত্রণা ধরা পড়ছিল তাঁর অভিব্যক্তিতে। তবে ব্যাট করতে হয়নি। গাস অ্যাটকিনসন মরণপণ চেষ্টা করছিলেন। যদিও মহম্মদ সিরাজের পারফেক্ট ইয়র্কার ভারতকে উপহার দিল স্মরণীয় জয়। হ্যারি ব্রুক ও জো রুটের ১৯৫ রানের পার্টনারশিপ ইংল্যান্ডের সিরিজ জেতার সম্ভাবনা জোরালো করেছিল। যদিও ৬৬ রানের মধ্যে শেষ সাত উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড থামল ৩৬৭ রানে। শেষ ৬ উইকেটের পতন ৩৫ রানের মধ্যে।মহম্মদ সিরাজ পাঁচটি টেস্টেই খেলেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন। সিরিজে সর্বাধিক উইকেটশিকারী। সিরাজ বললেন, গতকাল যদি ব্রুকের ক্যাচটা নিতে পারতাম তাহলে খেলা আজ অবধি গড়াত না। ওই ক্যাচ পড়ার পর ব্রুক টি২০ মেজাজে খেলতে থাকেন। ফলে ওটা ম্যাচ চেঞ্জিং মোমেন্ট হতে পারতো। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের প্রতি বিশ্বাস ছিল যে আমিই জেতাতে পারব। বিলিভ লেখা ইমেজ গুগল থেকে নামিয়ে ওয়ালপেপারে রেখেছিলাম দলকে জেতানোর অঙ্গীকার করে।লর্ডস টেস্টে ভারত হেরেছিল। মহম্মদ সিরাজ রক্ষণাত্মকভাবে খেলার পরেও বল গড়িয়ে উইকেটে লেগে বেল পড়েছিল, জেতে ইংল্যান্ড। আজ সেই সিরাজ শেষ উইকেট পেলেন অ্যাটকিনসনকে বোল্ড করে। সিরাজের কথায়, সেদিন রবীন্দ্র জাদেজা বলেছিলেন ঠিকঠাক ডিফেন্স করতে আর প্রয়াত বাবার কথা মাথায় রাখতে, যাঁর জন্যে এই অবধি পৌঁছেছি। কিন্তু সেদিন পারিনি জেতাতে। আজ জিততে পেরে ভালো লাগছে। রবি শাস্ত্রী তো বলেই দিলেন, সিরাজ হায়দরাবাদে ফিরলে তাঁকে প্রোমোশন দেওয়া উচিত। আর ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ যথেষ্ট নয়!ভারত অধিনায়ক শুভমান গিলকে জড়িয়ে ধরতে দেখা গেল হেড কোচ গৌতম গম্ভীরকে। দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে আর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে টেস্ট সিরিজ হারের পর এই প্রথম গম্ভীরের প্রশিক্ষণাধীন ভারত টেস্ট সিরিজ ড্র করল। ভারতীয় শিবির ওভালে রুদ্ধশ্বাস টেস্ট জেতাকে সিরিজ জয় হিসেবেই ভাবছে। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সিরিজেই সিরিজ সেরা হলেন সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী গিল, ইংল্যান্ডের তরফে ব্রুক। শুভমান বলেন, দলে কৃষ্ণ, সিরাজের মতো বোলার থাকলে অধিনায়কের কাজ সহজ হয়ে যায়। উই নেভার গিভ আপ। অর্থাৎ শেষ অবধি নাছোড় লড়াই চালানোই যে তাঁদের মূল মন্ত্র সেটাও জানাতে ভুললেন না দল নিয়ে গর্বিত গিল। গিল যথার্থই বললেন, এই সিরিজে সব টেস্টের শেষদিনের শুরুতেও কেউ নিশ্চিত হতে পারেনি কে জিতবে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস চোটের কারণে ওভালে খেলতে পারেননি। তিনি গিলের সঙ্গে সহমত যে, দুই দল যেভাবে এই সিরিজ খেলল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা-সহ, তার যথার্থ প্রতিফলন ২-২ ফল হওয়া।

আগস্ট ০৪, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • ...
  • 27
  • 28
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

চোরবাগানে দুর্গাপুজোর ভিড়ে মর্মান্তিক বিপর্যয়! পদপিষ্টের আশঙ্কা, একাধিক মৃত্যুর দাবি সূত্রের, হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল আতঙ্কে। প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে ঢোকার হুড়োহুড়ি, তার সঙ্গে বিপুল দর্শনার্থীর চাপসব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে তৈরি হল ভয়াবহ পরিস্থিতি। মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আনন্দবাজার সুত্রে জানা যায় এই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর এই সংখ্যা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তাদের থানায় ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। বন্ধ করে দেওয়া হয় মণ্ডপের আলো এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথ।প্রবল বৃষ্টির জেরেই কি বিপত্তি?সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পুজো মণ্ডপগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। সেই সময় কয়েক জন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁদের পিছনে থাকা ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, মণ্ডপের ভিতরের একটি বৃত্তাকার পথে এই বিপত্তি ঘটে। ওই পথে দর্শনার্থীদের ঘুরে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একসঙ্গে বহু মানুষের জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কাঠামোর কোনও অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।হাসপাতালে আহতদের ভিড়, চলছে চিকিৎসাঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কলকাতা পুলিশের সূত্রে প্রথমে ৩৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, পরে মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্রে দাবি করা হয়, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, কয়েক জনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে আহতদের চিকিৎসা চলছে। কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও।হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মহিলা, তিন জন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এই মৃত্যুসংখ্যা বা মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।উদ্ধারকাজে জোর, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নদুর্ঘটনার পর মণ্ডপ চত্বরে উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে উদ্ধারকাজে অসুবিধা না হয়।অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি যখন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন পর্যাপ্ত পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী সময়মতো সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সাহায্যের আবেদন জানিয়েও তাঁরা সাড়া পাননি বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ততা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। আপাতত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পদপিষ্ট হয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।৩৬০ ডিগ্রির মণ্ডপে কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের পুজোর ভাবনা অরব, যার ইংরেজি ব্যাখ্যা বিয়ন্ড সাউন্ড। শব্দের পরিচিত সীমা ছাড়িয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল মণ্ডপ। সৃজনশীল পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ দেখার ব্যবস্থা। সেরা পুজোর তালিকায়ও এই পুজো তৃতীয় স্থান পেয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য তৈরি বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর ঘিরেই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক সূত্রের খবর। ওই পথে একসঙ্গে কত জনের চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, ভিড়ের সময় প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা হচ্ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বেরোনোর পথ ছিল কি নাএই প্রশ্নগুলি এখন গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী, যিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। তবে দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ হবে।হেল্পলাইন চালু রাজ্য সরকারেরঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নম্বরটি হল ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। দুর্ঘটনায় আহতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে বা সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য এই নম্বর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আবহে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় ফের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। তবে কত জনের মৃত্যু হয়েছে, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি নাতার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে সরকারি বিবৃতি ও তদন্তের পরেই।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
উৎসব

দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের উন্মাদনা! ফুটবলের টানে মাঠে ফিরুক কচিকাঁচারা, অভিনব থিম পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির

পূর্ব বর্ধমান: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এ বার ফুটবল বিশ্বকাপের আবহ। কোথাও বিশ্বজয়ী স্পেনের উল্লাস, কোথাও ভারতীয় ফুটবলের ছবি, আবার কোথাও লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে পুজোর মণ্ডপেই যেন তৈরি হচ্ছে এক টুকরো বিশ্বকাপের আসর। বাঙালির চিরন্তন ফুটবলপ্রেমকে উদ্যাপন এবং নতুন প্রজন্মকে মোবাইলের পর্দা থেকে মাঠে ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব।পুজোর থিম মানেই এখন শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ সচেতনতা কিংবা নানা অভিনব ভাবনার মেলবন্ধন। সেই ধারাতেই এ বার ফুটবলকে সঙ্গী করেছে পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি। ক্লাবের ২৯তম বর্ষের পুজোয় তাদের থিম ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড। অর্থাৎ, ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ফুটবল যে গোটা বিশ্বকে একই সুতোয় বেঁধে রাখতে পারে, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে।মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ার আয়োজন। সামনে রাখা হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের সরকারি বল ট্রিয়োন্ডা। বলটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের আবহ। মণ্ডপের এক দিকে রয়েছে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি, অন্য দিকে স্থান পেয়েছে ভারতীয় ফুটবল দলের ছবি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গৌরবের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।এই থিমের অন্যতম আকর্ষণ ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। তাঁদের ফুটবলজীবনের স্মৃতি ও জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ। পাশাপাশি থাকছে আরও কয়েক জন তারকা ফুটবলারের প্রতিকৃতি। বিশ্বকাপের নানা স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে মাঠের উত্তেজনা, গোলের উল্লাস এবং সমর্থকদের আবেগে ভরা সেই সব মুহূর্তে।মণ্ডপের অন্দরসজ্জাতেও থাকছে চমক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া ৭০টি উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের ছবি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে সেখানে। ভারতীয় ফুটবলের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ জায়গা। দেশের ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। ফলে এই মণ্ডপ শুধু পুজো দেখার জায়গা নয়, ফুটবলের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনাকেও বিশেষ ভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। মণ্ডপের এক পাশে গ্যালারির আদলে তৈরি অংশে থাকবে ফাইনালের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। দুর্গাপ্রতিমার পাশেও স্থান পাচ্ছে ফাইনালের স্মরণীয় দৃশ্য এবং ফুটবল তারকাদের ছবি। মণ্ডপের একেবারে উপরের দিকে থাকবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের পতাকা। আলোর কারুকার্যে সেই সব পতাকার রং ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে দর্শকদের সামনে ফুটবল বিশ্বকাপের একটি দৃশ্যমান আবহ তৈরি করাই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য।এখানেই শেষ নয়। মণ্ডপে থাকবে একটি বড় পর্দা, যেখানে দেখানো হবে বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচের হাইলাইটস। ফলে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীরা ফিরে দেখতে পারবেন মাঠের সেরা মুহূর্তগুলি। গোল, সেভ, দুরন্ত পাস কিংবা ট্রফি জয়ের উল্লাসবিশ্বকাপের নানা স্মৃতি মণ্ডপের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।তবে এই আয়োজনের পিছনে শুধুই দর্শকদের আকর্ষণ করার ভাবনা নেই। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য, ছোটদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের মাঠমুখী করে তোলা। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি শিশু-কিশোরদের আকর্ষণ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে খেলাধুলার আনন্দ, দলগত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খলা এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফুটবলকে মাধ্যম করেছে ক্লাব।ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে জয়ের আনন্দের পাশাপাশি থাকে পরাজয় মেনে নেওয়া, সতীর্থের পাশে দাঁড়ানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা। ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড থিমের মাধ্যমে সেই সামাজিক ও মানবিক বার্তাও দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি।দুর্গাপুজোর উৎসবের সঙ্গে ফুটবলের আবেগকে মিলিয়ে এই উদ্যোগ কতটা দর্শকপ্রিয় হয়, তা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে বিশ্বকাপের স্মৃতি, আন্তর্জাতিক তারকা থেকে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসসব কিছুকে এক ছাতার তলায় এনে পুজোর আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছে ক্লাব। উদ্যোক্তাদের আশা, মণ্ডপে এসে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে ওঠার পাশাপাশি ছোটদের মনে জাগবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের টানেই হয়তো এক দিন তারা মোবাইল সরিয়ে রেখে আবার ছুটবে গ্রামের মাঠে, পায়ে বল নিয়ে।দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের আবহ, আর সেই আবহ থেকেই মাঠে ফেরার ডাকপূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির এ বারের পুজোর ভাবনায় ফুটবল তাই শুধু খেলা নয়, নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলারও এক বার্তা।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বড় চমক! কবে নিজের গর্ভগৃহে ফিরবেন তারাপীঠের মা তারা?

মহালয়ার আগেই তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে মা তারাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ষষ্ঠীর দিনও তাঁকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী। ওই দিন রাজরাজেশ্বরী রূপে তাঁর বিশেষ পুজো হবে।তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। দেবীর আসনের বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। এই সংস্কারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে বিশেষ রেলিং তৈরি করানো হচ্ছে। তবে দিল্লি হয়ে সেই রেলিং তারাপীঠে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় সংস্কারের কাজও পিছিয়ে যায়। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সব ধর্মীয় আচার মেনে মা তারাকে নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে।মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শন চলবে। সন্ধ্যারতির পর দেবীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মূল গর্ভগৃহে। নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে পুজো করা হবে।সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে রাখা হলেও তাঁর নিত্যপুজো ও দর্শন বন্ধ হয়নি। সেখানেই নিয়মিত পুজো চলছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার দুদিন পর সংস্কারের কাজের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরানো হয়েছিল। মহালয়া অমাবস্যার ঠিক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকটি সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ষষ্ঠীর দিন তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সংস্কারের কাজ বাকি থাকায় সেই পরিকল্পনাও কার্যকর করা যায়নি।পুলক চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চতুর্দশীর দিন ভোরে মা তারাকে শিবমন্দির থেকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। ২৫ অক্টোবর সারাদিন সেখানেই থাকবেন দেবী। সন্ধ্যারতির পর তাঁকে আবার নিজের মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মা তারার এই বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে এখন প্রস্তুতি চলছে তারাপীঠ মন্দিরে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দু সরকারের বিচারে কলকাতার সেরা পুজো কোনটি? প্রথম স্থান পেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার!

রাজ্যে পালাবদলের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। তার মধ্যেই কলকাতার সেরা পুজোগুলির নাম ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ২৩টি পুজো কমিটিকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মান জানানো হয়েছে। সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সমাজ সচেতনতার মতো বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।সরকারের বিচারে এ বারের সেরার সেরা হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো সমিতি। তৃতীয় হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম হয়েছে মুদিয়ালি ক্লাব। দ্বিতীয় স্থানে টালা বারোয়ারি, তৃতীয় স্থানে বেহালা অরুণোদয় সমিতি এবং চতুর্থ স্থানে আহিরীটোলা সর্বজনীন। অন্য দিকে, সেরা মণ্ডপের পুরস্কার পেয়েছে খিদিরপুর ২৫ পল্লি। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে আমরা কজন কল্যাণ সমিতি।আলোকসজ্জার বিভাগেও ঘোষণা করা হয়েছে পুরস্কারজয়ীদের নাম। এই বিভাগে প্রথম হয়েছে সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তৃতীয় হয়েছে শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব।পরিবেশবান্ধব পুজোর বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে নলিন সরকার স্ট্রিট। দ্বিতীয় হয়েছে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের পুজো। তৃতীয় স্থান পেয়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।সমাজ সচেতনতার বিভাগে প্রথম হয়েছে কাশীবোস লেন। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। তৃতীয় হয়েছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে অজেয় সংহতি।এ ছাড়াও চারটি পুজো কমিটিকে বিশেষ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বি জি লাইন্স আবাসিক দুর্গাপুজো কমিটি, শ্যাম স্কোয়্যার, ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক এবং সমাজসেবী সংঘ।সব মিলিয়ে, দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এ কলকাতার একাধিক পরিচিত পুজো কমিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। সেরার সেরা হিসেবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম উঠে আসার পাশাপাশি প্রতিমা, মণ্ডপ, আলো, পরিবেশ এবং সমাজ সচেতনতার বিভাগেও আলাদা করে সেরাদের বেছে নিয়েছে সরকার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

হাই কোর্টে ধাক্কা, এ বার সুপ্রিম কোর্টে সুজিত বসু! পুজোর আগে কি মিলবে স্বস্তি?

কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে এখনই এই মামলার শুনানি হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে জামিন মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলবন্দি তৃণমূলের এই নেতা।গত ১২ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তার পর থেকে তিনি জেলে রয়েছেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েও স্বস্তি পাননি প্রাক্তন মন্ত্রী। এ বার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন তিনি।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। পুরসভায় নিয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগের মতো একাধিক মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। সেই তদন্তের সূত্রেই সুজিতের বিরুদ্ধে পুর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। গত ১২ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তের সময় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ছেলের রেস্তরাঁকে ঘিরেও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সব অভিযোগের তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হওয়ায় সুজিতের আইনি লড়াই আরও জটিল হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আবেদন কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। পুজোর আগে শীর্ষ আদালতে শুনানি না হলে আপাতত জেলেই থাকতে হতে পারে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দেশ

এক সপ্তাহে দু’বার আটক অভিজিৎ দীপকে! দিল্লিতে তিরঙ্গা মিছিলের আগেই কেন কড়া পদক্ষেপ পুলিশের?

ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে দলের তিরঙ্গা মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই মিছিলে বড় জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবারই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ১১ জনের একটি দলকে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর পর শুক্রবার সকালে মিছিল শুরুর ঠিক আগে অভিজিৎ দীপকের দিল্লির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁকে কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে একটি নোটিস দেওয়া হয়। তার পরেই তাঁকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আটক হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি এসেছিলেন অভিজিৎ। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরেই তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। এ বার জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা মিছিল শুরুর আগেই ফের তাঁকে আটক করা হল।বৃহস্পতিবারই সিজেপিকে মিছিলের অনুমতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। জানানো হয়েছিল, ১১ জনের একটি দল জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারে। শুক্রবার সকালে মিছিলের আগে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে নোটিস দেয় পুলিশ। কনট প্লেসে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয় তাঁকে।তবে অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অভিজিৎ। সেই সময় তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ। তার আগে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিতের দাবি, তিনি কোনও আইন ভাঙেননি।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

টেবিল-ছাতা পেতেও মিলল না ছাড়! সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে কড়া নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে নতুন করে জট তৈরি হল কলকাতা হাই কোর্টে। একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার সেই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের রায় খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আগামী ২১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে জানতে চান, বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল কি না। তাঁর প্রশ্ন, আবেদন করেও অনুমতি না পেলে পুলিশ কী করবে? সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, অনুমতি চেয়ে গণপূর্ত দফতর এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ইমেল করা হয়েছিল। পুলিশকেও আবেদনের কথা জানানো হয়েছিল বলে জানান মামলাকারীর আইনজীবী।এর পরেই রাস্তার ধারে থাকা স্টলগুলি নিয়ে কড়া অবস্থান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, অনুমতি না থাকলে কোনও স্টলই রাখা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সিপিএমের বুকস্টল কোথায় রয়েছে, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে শামিম আহমেদ জানান, বুকস্টলটি দলের কার্যালয়ের সামনে। রাস্তার ধারে অন্য স্টলগুলির সঙ্গে একই লাইনে রয়েছে কি না, নাকি রাস্তার উপরে এগিয়ে এসেছে, সেই প্রশ্নও করেন প্রধান বিচারপতি। সিপিএমের আইনজীবী দাবি করেন, বুকস্টলটি অন্য স্টলগুলির মতো একই লাইনে রয়েছে।রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, অন্য স্টলগুলির অনুমতি রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এর পর প্রধান বিচারপতি বলেন, অনুমতি না থাকলে সব স্টলই সরিয়ে দিতে হবে। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন।সিপিএমের আইনজীবী জানান, একক বেঞ্চও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছিল। অন্য দিকে, অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, অনুমতি ছাড়া কী ভাবে বুকস্টল চালানো সম্ভব? সিপিএমের তরফে পাল্টা জানানো হয়, দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতে আর তিন-চার দিন রয়েছে। তাই মাইক বা মাইক্রোফোন ব্যবহার না করে বুকস্টল চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।শেষ পর্যন্ত আরও একটি প্রস্তাব দেন সিপিএমের আইনজীবী। তিনি জানান, দলের কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ফুট লম্বা একটি টেবিল পেতে, কোনও ছাউনি ছাড়াই শুধু ছাতা ব্যবহার করে বুকস্টল চালাতে চান তাঁরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও রাজি হয়নি আদালত। পাল্টা সওয়ালে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, বনগাঁ থানার আইসি আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। এর পরেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

পঞ্চমীর পর ষষ্ঠীতেও কলকাতার মেট্রোয় জনপ্লাবন! দরজা বন্ধ করতেই হিমশিম কর্মীরা

পঞ্চমী থেকেই ভিড়ে ঠাসা কলকাতা। মেট্রো স্টেশনে পা রাখার জায়গা নেই। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে অনেক সময় বন্ধ করা যাচ্ছে না মেট্রোর দরজা। ফলে একের পর এক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে ট্রেন। ষষ্ঠীতেও পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি। মেট্রোর পাশাপাশি লোকাল ট্রেনেও যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোর পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা। ভিড়ের কথা মাথায় রেখেও অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন প্রতিমা দর্শনে। এখন তো তৃতীয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় ঠাকুর দেখা। ফলে পঞ্চমী আসতেই শহরের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পঞ্চমীর রাতে চাঁদনি চক, এসপ্ল্যানেড-সহ একাধিক স্টেশনে কার্যত জনস্রোত দেখা যায়। বিকেল থেকেই মেট্রোয় ঠাসাঠাসি ভিড় ছিল।তার উপর একাধিক মেট্রো বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে দরজা বন্ধ করতে সমস্যা হয়। কোথাও কোথাও ভিড় সামলাতে পুলিশকর্মীদের যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয় বলেও জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পঞ্চমীর রাতেই মেট্রোয় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।ষষ্ঠীতেও ছবিটা প্রায় একই। সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস, ট্রেন এবং মেট্রোয় যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়ে। মেট্রোর তরফে বারবার একই ট্রেনে ওঠার জন্য তাড়াহুড়ো না করতে বলা হলেও তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। পুজোর ভিড়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে চাইছেন সকলেই। কারণ, যাতায়াতে সময় কম লাগলে আরও বেশি প্রতিমা দেখার সুযোগ মিলবে।শিয়ালদহমুখী লোকাল ট্রেনেও ভিড়ের ছবিটা আলাদা নয়। ট্রেনের ভিতরে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড় থাকায় সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। পুজোর সময়ে শহর ও শহরতলির যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। আগামীকাল, অর্থাৎ সপ্তমী থেকে অতিরিক্ত ট্রেন চললে ভিড় কিছুটা সামলানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুজোর বাকি দিনগুলিতে মেট্রো ও লোকাল ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal