• ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার ০৫ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

India

রাজ্য

সত্যি কি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমান করা হয়েছে? কী বলছে নিয়ম

ভোটের আগে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য ও কেন্দ্রের সম্পর্ক। রাজ্য বনাম রাজ্যপাল, রাজ্য বনাম নির্বাচন কমিশনের সংঘাতের পর এবার সামনে এল রাজ্য ও রাষ্ট্রপতির টানাপোড়েন। শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেই সফর ঘিরেই রাজ্যের বিরুদ্ধে একাধিক বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এই ঘটনার পরেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র।সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্যের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন চিঠি লিখে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন বলে জানা গেছে।সাধারণত কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি গেলে তাঁকে স্বাগত জানাতে সেই রাজ্যের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকেন। অনেকেই বলছেন, এ বিষয়ে লিখিত নিয়ম না থাকলেও দীর্ঘদিনের একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে। যদি মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত না থাকেন, তাহলে সাধারণত প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত থাকেন। সেখানে মুখ্যসচিব বা পুলিশের সর্বোচ্চ কর্তার উপস্থিতি দেখা যায়।কিন্তু শনিবার শিলিগুড়িতে সেই ছবি দেখা যায়নি বলেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের কোনও মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি মুখ্যসচিব বা পুলিশের শীর্ষ কর্তারও দেখা মেলেনি।এদিকে কয়েকদিন আগেই রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর জায়গায় নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন আর এন রবি। তিনি আগামী বারো মার্চ শপথ নেবেন বলে জানা গেছে। ফলে এই সফরে তাঁর উপস্থিত থাকার প্রশ্নই ছিল না।এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি যদিও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, কিন্তু বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্য নন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এ প্রসঙ্গে বলেন, তিনি যখন কোনও রাজ্যে সফরে যান, তখন সাধারণত মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য তাঁকে স্বাগত জানান।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, রাজ্যের পক্ষ থেকে তিনিই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র তথা বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, রাষ্ট্রপতি বাঙালি না অবাঙালি বা কোন সরকারের আমলে নির্বাচিত হয়েছেন, সেটি বড় বিষয় নয়। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতির পদ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ এবং সেই পদকে সম্মান জানানো সব সরকারেরই দায়িত্ব।এই ইস্যুতে বিজেপিও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, রাষ্ট্রপতি কী বলেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী কী বলেছেন, দুটো বিষয় পাশাপাশি রাখলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাঁর দাবি, তাতেই বোঝা যাবে কে সংবিধানের সীমার মধ্যে কথা বলেছেন আর কে তার বাইরে গিয়েছেন।আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশও এই বিষয় নিয়ে মত প্রকাশ করেছেন। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বলেন, রাজ্যের আগের রাজ্যপাল পদত্যাগ করার ফলে একটি প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর মতে, এই ধরনের অনুষ্ঠানে প্রোটোকল অনুযায়ী কোনও মন্ত্রীর উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। কারণ রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে রয়েছেন এবং সেই পদকে সম্মান জানানো প্রথার অংশ।

মার্চ ০৮, ২০২৬
রাজ্য

রাষ্ট্রপতিকে সামনে পেয়েই বড় দাবি! বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের ডাক বিজেপি সাংসদের

শনিবার আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে শিলিগুড়িতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁকে স্বাগত জানানোর সময় প্রোটোকল ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে বিজেপি। যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়, কোনও প্রোটোকল ভঙ্গ করা হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি ভবন এবং নবান্নের মধ্যে নজিরবিহীন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।এর মধ্যেই সুযোগ নিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে আক্রমণ করেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, বাংলার পরিস্থিতি খুবই খারাপ। তাঁর দাবি, এই অবস্থায় একমাত্র রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে তার অধীনে নির্বাচন করলেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব। দ্রুত বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার দাবি জানান তিনি।এর কিছুক্ষণ পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনিই শনিবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠান শেষ করে দিল্লি পৌঁছানোর আগেই বিজেপি সাংসদ রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুলছেন। তাঁর প্রশ্ন, রাষ্ট্রপতিকে দেখেই কি এই কথা মনে পড়ল? তাঁর দাবি, দলের বড় নেতারা যা বলেন, রাজু বিস্তাও সেটাই বলছেন।গৌতম দেব আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে বিজেপি সাংসদের চিন্তা করার কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্য, যদি তৃণমূল ভোটে কারচুপি করত, তাহলে রাজু বিস্তা কীভাবে জিতলেন? তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাংসদ নিজের কেন্দ্রে খুব একটা থাকেন না, অথচ ভোটের আগে বড় বড় কথা বলছেন।উল্লেখ্য, বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ বলে অভিযোগ তুলে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব আগেও একাধিকবার রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুলেছে। বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই দাবি বারবার করেছেন। তবে সেই দাবি এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। তাই রাজু বিস্তার এই দাবিকেও গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব।

মার্চ ০৮, ২০২৬
দেশ

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর শিলিগুড়ি সফরে প্রোটোকল বিতর্ক, কেন্দ্র রাজ্যকে রিপোর্ট তলব

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে রবিবার সকালে এই নির্দেশ পাঠানো হয়। বিকেল পাঁচটার মধ্যে লিখিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।শনিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে স্বাগত জানাতে যাননি মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোটবোনের মতো। আমি বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা হয়তো রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি বা কোনও মন্ত্রী আসেননি। তবে এটা বড় বিষয় নয়।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবারই প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, ওঁর (দ্রৌপদী মুর্মু) অনুষ্ঠানের কথা আমি জানতাম না। এটি কোনও সরকারি অনুষ্ঠান নয়, সম্পূর্ণ বেসরকারি। আমরা এখানে কী করব? আমি এখন ধরনায় আছি, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছি। আপনারা বিজেপির অগ্রাধিকার হতে পারেন, আমার কাছে আমার জনতাই সব। তিনি আরও যোগ করেন, রাষ্ট্রপতি একজন সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি, আমরা তাঁকে সম্মান করি। কিন্তু বিজেপি তাঁকে রাজনীতি করতে পাঠিয়েছে।রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছিল, ঘটনা শান্ত হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই রিপোর্ট তলব করেছেন। মুখ্যসচিবকে জানতে চাওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রপতির সফরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল।

মার্চ ০৮, ২০২৬
রাজ্য

বাংলায় এসে বিস্ফোরক মন্তব্য রাষ্ট্রপতির! ‘মমতা হয়তো আমার উপর রাগ করেছেন’

ভোটের আগে বাংলায় রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সভাস্থল নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর অভিযোগ, অনুষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার অনুমতি দেয়নি। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত অন্য জায়গায় সভা করতে হয়েছে।শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে তিনি মঞ্চে ওঠার পর দেখা যায় দর্শকাসনে অনেক চেয়ারই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। বিষয়টি নজরে আসতেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত চেয়ার ফাঁকা কেন। তাঁর সন্দেহ, কেউ হয়তো বাধা দিয়েছে।উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রথমে ঠিক হয়েছিল এই সম্মেলন হবে বিধাননগরে। কিন্তু পরে একাধিকবার সভাস্থল বদল করতে হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে সভা করার অনুমতি দেয় প্রশাসন। তবে আয়োজকদের অভিযোগ, অনেক আমন্ত্রিত অতিথি নিরাপত্তা পাশ না পাওয়ায় অনুষ্ঠানে ঢুকতে পারেননি। পুলিশ তাদের আটকে দেয় বলে অভিযোগ।সভা শেষে রাষ্ট্রপতি সেখানেই থেমে থাকেননি। তিনি শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগরে যান, যেখানে প্রথমে সভা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে গিয়ে গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন এবং বলেন, তিনি আসলে এখানেই সভা করতে চেয়েছিলেন। জায়গাও যথেষ্ট ছিল। তবে কেন রাজ্য সরকার অনুমতি দিল না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি তাঁর ছোট বোনের মতো। তবে হয়তো কোনও কারণে তিনি তাঁর উপর রাগ করেছেন, সেই কারণেই সভা করতে দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। এ নিয়েও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সাধারণত রাষ্ট্রপতি কোনও রাজ্যে গেলে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কেউ তাঁকে স্বাগত জানান। সেটাই নিয়ম এবং প্রোটোকল।শেষ পর্যন্ত বিধাননগরে পূর্ব নির্ধারিত জায়গায় একটি শালগাছ লাগিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন রাষ্ট্রপতি।অন্যদিকে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব জানান, রাজ্যের পক্ষ থেকে তিনিই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। জেলা শাসক এবং পুলিশ কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর কথায়, এর আগেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায় যখন এসেছিলেন, তখনও তিনি তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সভাস্থল নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা মূলত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণেই হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মার্চ ০৭, ২০২৬
দেশ

তেল সংকটের আশঙ্কার মাঝেই বড় স্বস্তি! রাশিয়া থেকে তেল কিনতে ভারতের পথে আর বাধা নেই

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতে তেল সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে সাময়িক ছাড় দিল আমেরিকা। এর ফলে আপাতত বড় স্বস্তি পেল নয়া দিল্লি।কিছু দিন আগেই কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, দেশে প্রায় পঁচিশ দিনের পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে তেল সরবরাহে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়া আগেই জানিয়ে দিয়েছিল যে ভারতের প্রয়োজন হলে তারা তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত। কিন্তু আগে রাশিয়ার থেকে তেল না কেনার শর্তে ভারতের উপর শুল্ক কমিয়েছিল আমেরিকা। সেই কারণে ভারত আদৌ রাশিয়ার তেল কিনতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল।অবশেষে সেই জট কাটল। আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য সাময়িক ছাড়পত্র দিয়েছে। জানা গিয়েছে, এই অনুমতি ত্রিশ দিনের জন্য দেওয়া হয়েছে। পাঁচ মার্চ থেকে এই সময়সীমা কার্যকর হয়েছে এবং তিন এপ্রিল পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে পারবে।আমেরিকার ট্রেজারি সচিব স্কট বেনেট সমাজমাধ্যমে একটি বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমেরিকার জ্বালানি কর্মসূচির ফলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন অনেক বেড়েছে। বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে ত্রিশ দিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে তিনি ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভবিষ্যতে ভারত আমেরিকার কাছ থেকেও তেল কেনা বাড়াবে বলে তারা আশা করছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইরান। তবে রাশিয়া ও চিনের তেলবাহী জাহাজকে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গিয়েছে।খবরে জানা যাচ্ছে, ভারতীয় জলসীমার কাছাকাছি এলাকায় রাশিয়ার প্রায় পঁচানব্বই লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে। রাশিয়া আগেই জানিয়েছিল, প্রয়োজন হলে ভারত এই তেল ব্যবহার করতে পারে।এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘাচির সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই আলোচনার পর থেকেই মনে করা হচ্ছিল, এই সংকটের প্রভাব ভারতে খুব বেশি পড়বে না।তারই মধ্যে আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে আপাতত তেল সরবরাহ নিয়ে বড় স্বস্তি পেল ভারত। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি কত দিন চলবে এবং বিশ্ব বাজারে তেলের দামে তার কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েই এখন নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

মার্চ ০৬, ২০২৬
দেশ

আকাশ ছুঁয়ে ধেয়ে এল মৃত্যু! যে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রে খামেনির শেষ, সেই প্রযুক্তিই আনছে ভারত

অপারেশন এপিক ফিউরি চলাকালীন একটি অত্যাধুনিক ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ব্লু স্প্যারো। এটি একটি বিশেষ ধরনের বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। একই ধরনের প্রযুক্তি এখন ভারতও নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর জন্য পরীক্ষা ও সংযোজন করছে বলে খবর।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের সময় প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পরে তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ডে গিয়ে আঘাত হানে সেটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ এবং আক্রমণের ধরন এতটাই জটিল যে সাধারণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এটিকে আটকানো প্রায় অসম্ভব।ব্লু স্প্যারো ক্ষেপণাস্ত্রকে অনেক সময় মহাকাশ থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র বলা হয়। কারণ এটি প্রথমে একটি বুস্টার রকেটের সাহায্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রায় প্রান্তসীমা পর্যন্ত উঠে যায়। তারপর সেখান থেকে অত্যন্ত উচ্চ গতিতে আবার নিচে নেমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। এই সময়ে ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি হয়ে যায়। ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে এটিকে শনাক্ত করা বা ধ্বংস করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।এই ক্ষেপণাস্ত্রে জিপিএস ও ইনর্শিয়াল নেভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। ফলে এটি হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। এমনকি একটি ভবনের নির্দিষ্ট ঘরকেও লক্ষ্য করে আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়।ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থা রাফায়েল এই স্প্যারো পরিবারের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছিল মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অনুকরণে পরীক্ষা চালানোর জন্য। পরে সেই প্রযুক্তিকেই আরও উন্নত করে আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।এই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই ভারত নিজেদের বায়ুসেনার শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে রকস ও গোল্ডেন হরাইজন নামে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।রকস ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত ব্লু স্প্যারো প্রযুক্তির একটি উন্নত সংস্করণ। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভারতীয় বায়ুসেনা সুখোই সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়। প্রায় তিনশো কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। জিপিএস না থাকলেও এটি নিজস্ব সেন্সর ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে।এ ছাড়াও গোল্ডেন হরাইজন নামে একটি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই প্রযুক্তি যুক্ত হলে ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্ত না পেরিয়েও শত্রু দেশের অনেক গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।ভারত ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার ব্যবহার শুরু করেছে। ২০২৫ সালে অপারেশন সিন্দুর চলাকালীনও ইসরায়েলি প্রযুক্তির বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহারের কথা সামনে আসে।সেই সময় নির্ভুল লক্ষ্যভেদের জন্য স্পাইস কিট ব্যবহার করা হয়। এগুলির সাহায্যে সাধারণ বোমাকেও অত্যন্ত নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্রে পরিণত করা যায়। এছাড়া হারপি ও হারপ ড্রোন ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয় বলে জানা যায়।ভারত ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে তৈরি বারাক-৮ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও সেই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই ব্যবস্থাটি আকাশপথে আসা শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা তৈরি করতে সাহায্য করে।এ ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় ও ইসরায়েলি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি স্কাইস্ট্রাইকার ড্রোন এবং র্যাম্পেজ ক্ষেপণাস্ত্রও বিভিন্ন গভীর আঘাত হানার অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার গভীর আঘাত হানার ক্ষমতা আরও অনেক গুণ বাড়বে। ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও ইসরায়েলের সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ০৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

আর এক ধাপ ফাইনাল! ওয়াংখেড়েতে ইংল্যান্ডকে হারালেই বিশ্বকাপের স্বপ্নপূরণ ভারতের

আর মাত্র এক ধাপ। বৃহস্পতিবার রাতে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম-এ ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই আরও একবার বিশ্বকাপ ফাইনালে জায়গা করে নেবে ভারত। কিন্তু কাজটা সহজ নয়। টি-২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বরাবরই কঠিন প্রতিপক্ষ।দুই দলের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে এগিয়ে ভারত। মোট ঊনত্রিশ ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে সতেরোটি, ইংল্যান্ড বারোটি। তবে বিশ্বকাপে লড়াই অনেকটাই সমানে সমানে। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে ভারত এগিয়ে তিন-দুই ব্যবধানে। এর মধ্যে দুবার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। দুদলই জিতেছে একটি করে ম্যাচ। আর দুবারই ফল হয়েছে একপেশে।দুই হাজার বাইশ সালের সেমিফাইনাল এখনও ভোলেননি সমর্থকেরা। সেবার ভারতকে দশ উইকেটে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করে ভারত তুলেছিল একশো আটষট্টি রান। কিন্তু কোনও উইকেট না হারিয়েই সেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। জস বাটলার করেছিলেন আশি রান, অ্যালেক্স হেলস ছিয়াশি। সেই হার ভারতীয় ক্রিকেটে বড় ধাক্কা দিয়েছিল।অধিনায়ক রোহিত শর্মা বুঝেছিলেন, ব্যাটিং মানসিকতায় বদল আনতেই হবে। এরপর থেকে ভারত আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে শুরু করে। তার ফলও মিলেছে। দুই হাজার চব্বিশ সালের সেমিফাইনালে আবার ইংল্যান্ডকে একপেশেভাবে হারায় ভারত। সেবার ইংল্যান্ড হেরেছিল আটষট্টি রানে।তবে বিশ্বকাপে ভারত-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত নিঃসন্দেহে যুবরাজ সিং-এর ছয় ছক্কা। দুই হাজার সাত সালে তাঁর সেই বিধ্বংসী ইনিংস দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল ভারত।এবার আবার সেই ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে টিম ইন্ডিয়া। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে টপকাতে পারলে আরও একবার শিরোপার হাতছানি। সমর্থকদের প্রশ্ন, এবার কোন ক্রিকেটার হবেন নায়ক? বৃহস্পতিবার রাতের ম্যাচেই মিলবে তার উত্তর।

মার্চ ০৫, ২০২৬
বিদেশ

উপসাগর সংকটে তেল সরবরাহ বন্ধ? ভারতের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত রাশিয়া!

উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। একটি রুশ সূত্রের দাবি, উপসাগরীয় সংকটের কারণে যদি বিশ্ববাজারে তেলের প্রবাহ ব্যাহত হয়, তবে রাশিয়া ভারতকে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করতে প্রস্তুত।পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হুমকির জেরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলে জানা গিয়েছে। বিমা সংস্থাগুলিও কিছু ক্ষেত্রে কভার প্রত্যাহার করায় ট্যাঙ্কার চলাচল প্রভাবিত হচ্ছে।এদিকে ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশের কাছে আপাতত পর্যাপ্ত তেল ও জ্বালানির মজুত রয়েছে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, পেট্রল, ডিজেল-সহ প্রয়োজনীয় জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ছয় থেকে আট সপ্তাহের মতো মজুত রয়েছে। মোট হিসাবে প্রায় পঞ্চাশ দিনের জ্বালানি মজুত আছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় পঁচিশ দিনের অপরিশোধিত তেল এবং আরও পঁচিশ দিনের পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে।ভারতের প্রায় অর্ধেক অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস আমদানি হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। ফলে ওই অঞ্চলে অশান্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রভাব পড়তে পারে। তবে সরকার বিকল্প দেশ থেকে তেল, তরল গ্যাস ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির পথও খতিয়ে দেখছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, স্বল্পমেয়াদি কোনও সরবরাহ ব্যাঘাত সামলাতে ভারত প্রস্তুত।বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। একই সঙ্গে পরিশোধন ক্ষমতায় চতুর্থ এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিতে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত তেল কেনার উৎস বাড়িয়েছে, যাতে একক অঞ্চলের উপর নির্ভরশীলতা কমে।পরিস্থিতি নজরে রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার চব্বিশ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষও চালু করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানির মজুত ও সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকার বর্তমান পরিস্থিতিকে যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক বলেই বর্ণনা করেছে।এই আবহে রাশিয়ার প্রস্তাব বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রয়োজনে রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। যদিও আগে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতার ভিত্তিতে রুশ তেল কেনা ধীরে ধীরে কমানোর কথা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহে তৎক্ষণাৎ ঘাটতির সম্ভাবনা কম হলেও বড় প্রভাব পড়তে পারে দামের উপর। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি আশি ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে, যা ইরান সংকটের পর প্রায় দশ শতাংশ বৃদ্ধি। এতে ভারতের আমদানি ব্যয় ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ছে। গত অর্থবর্ষে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে ভারত।এদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল ক্ষেত্রেও সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলিকে আগামী সাত দিনের জ্বালানি মজুত ও প্রয়োজনের হিসাব দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে দেশে তেত্রিশটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। পরিস্থিতি অস্থির থাকায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল এবং প্রায় কুড়ি শতাংশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তবে আপাতত ভারত পরিস্থিতির উপর নজর রেখে বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেই এগোচ্ছে।

মার্চ ০৪, ২০২৬
দেশ

মাঝ আকাশে মৃত্যুভয়! ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের বিভীষিকা শুনে শিউরে উঠছেন ফিরতি ভারতীয়রা

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আগুনে জ্বলতে থাকা মধ্যপ্রাচ্য থেকে অবশেষে দেশে ফিরেছেন বহু ভারতীয়। কিন্তু স্বদেশে পা রাখার পরও তাঁদের চোখে-মুখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ। সাইরেনের শব্দ, আকাশে মিসাইলের ঝলক, মোবাইলে একের পর এক সতর্কবার্তা সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনের অভিজ্ঞতা এখনও তাড়া করে ফিরছে তাঁদের।মঙ্গলবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে অনেকেই জানালেন, মাঝ আকাশেও তাঁরা ভয়ে সিঁটিয়ে ছিলেন। কেউ বললেন, এখন দেশে ফিরেও আতঙ্ক কাটছে না। তবে নিজের দেশে ফেরার স্বস্তির সঙ্গে কোনও কিছুর তুলনা হয় না বলেও জানান তাঁরা।শনিবার থেকে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু হয়। নিরাপত্তার কারণে আশপাশের একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ কার্যত আকাশপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একের পর এক বিমান সংস্থা উড়ান বাতিল করে। বেড়াতে বা কাজে গিয়ে আটকে পড়েন বহু ভারতীয়। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে অজানা আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় তাঁদের। সেলেব্রিটি থেকে সাধারণ মানুষ, হঠাৎ যুদ্ধের মুখে সবাই এক সারির পথিক হয়ে যান।পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই মঙ্গলবার সকাল থেকে আংশিকভাবে উড়ান পরিষেবা চালু করে এয়ার ইন্ডিয়া। দুবাই থেকে একটি বিমানে অন্তত দেড়শো যাত্রী দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু ও অভিনেত্রী ইশা গুপ্তাও।দুবাই থেকে ফেরা কয়েকজন যাত্রী জানান, ফোনে বারবার সতর্কবার্তা আসছিল। মাঝেমধ্যে সাইরেন বেজে উঠত। তখনই বোঝা যেত কোথাও মিসাইল ছোড়া হয়েছে। চারপাশে অনিশ্চয়তা আর ভয়। কেউ বলেন, পকেটে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকাও কঠিন। দেশে ফিরেও সেই দুঃস্বপ্নের রেশ কাটাতে সময় লাগবে বলে জানান অনেকে।মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি যে শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই, তার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন দেশে ফেরা ভারতীয়রা।

মার্চ ০৪, ২০২৬
দেশ

ইরানে ক্ষমতার পালাবদল আসন্ন? ভারতের সামনে কি ভেঙে পড়ছে চাবাহার সমীকরণ!

আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। আরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন। ইজরায়েলও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। কিন্তু এই ঘটনাকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নয়াদিল্লিতে। কারণ খামেনেইয়ের মৃত্যু ভারতের কূটনীতি ও অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলের একাংশের।ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাতে ভারত এতদিন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। শুধু শান্তির বার্তা দেওয়া ছাড়া কোনও পক্ষেই সরাসরি সমর্থন জানায়নি কেন্দ্র সরকার। কারণ ইজরায়েল ও ইরান দুই দেশই ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কৌশলগত সঙ্গী। কাশ্মীর ইস্যুতেও অতীতে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে ইরান। শুধু রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়, সাংস্কৃতিক যোগাযোগও রয়েছে দুই দেশের মধ্যে।ইরানের সিস্তান বালুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই বন্দরই ভারতের প্রধান ভরসা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানি ও রপ্তানির জন্য এটি একটি বড় ট্রানজিট কেন্দ্র। ইরানের শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা করেই ভারত এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। গত বছর পর্যন্তও নিয়মিত বিনিয়োগ চলেছে। মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বাড়াতে এবং চিনের কৌশলের মোকাবিলায় ভারত এই বন্দরকে কেন্দ্র করে নিজস্ব করিডর গড়ে তুলতে চেয়েছিল।কিন্তু খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর যদি ইরানে শাসন পরিবর্তন হয় এবং সেখানে আমেরিকা ঘনিষ্ঠ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ধাক্কা খেতে পারে। মুসলিম বিশ্বে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে ইরানকে দেখত নয়াদিল্লি। নতুন সরকার যদি পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে কাশ্মীর-সহ ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে ইরানের অবস্থান বদলে যেতে পারে। এতে ভারতের কূটনৈতিক সমীকরণ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।চাবাহার বন্দরের ভবিষ্যৎও তখন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এই পথ বন্ধ হলে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের মতো দেশের সঙ্গে বাণিজ্যেও প্রভাব পড়বে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানি আমদানির পথ সংকুচিত হতে পারে। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের একটি বড় অংশ ইরানের পথেই সম্পন্ন হয়। সেখানে পরিবর্তন এলে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে আমেরিকার উপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে, যা কূটনৈতিক দিক থেকে সবসময় সুবিধাজনক নয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে অস্থিরতা বাড়লে পাকিস্তান সুযোগ নিতে পারে। আমেরিকা যদি ইরান পরিস্থিতি সামলাতে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে, তাহলে ইসলামাবাদ কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। এতে পাকিস্তানে আমেরিকার আর্থিক ও সামরিক সহায়তা বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে ইরানের এই অস্থিরতা ভারতের সামনে এক কঠিন সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন নয়াদিল্লি কীভাবে পরিস্থিতি সামলায়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।মেটা বিবরণ: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবরে বদলে যেতে পারে ভারতের কূটনৈতিক সমীকরণ। চাবাহার বন্দর, রাশিয়া সম্পর্ক ও পাকিস্তান ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ।

মার্চ ০১, ২০২৬
দেশ

নেতানিয়াহুর ডাকে চমক, ইজরায়েলে পৌঁছেই মোদিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক জল্পনা

দুদিনের ইজরায়েল সফরে বুধবার রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত ও ইজরায়েল-এর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, কৃষি এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে খবর। তবে এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন কূটনৈতিক জটিলতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।প্রধানমন্ত্রী ইজরায়েলে পৌঁছনোর আগেই সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি নতুন ষড়ভূজ জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। পশ্চিম এশিয়ায় চরমপন্থী সংগঠনগুলির মোকাবিলাই এই জোটের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের সম্ভাব্য ইসলামিক সামরিক জোটের পালটা হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নেতানিয়াহু এই জোটে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখতে চাইছেন। পাশাপাশি গ্রিস ও সাইপ্রাসকেও যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। তবে ভারত এই জোটে যোগ দিলে পশ্চিম এশিয়ার একাংশের অসন্তোষ বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে এই সফর ভারত ও ইরান-এর সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। ইজরায়েল ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র বৈরিতার মধ্যে রয়েছে। একই সময়ে ইরান ও আমেরিকা-র মধ্যে চলমান উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইজরায়েল ও আমেরিকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এই সফর তেহরানের সঙ্গে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনীতির সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখাই এই সফরে ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
বিদেশ

যুদ্ধ না থামালে বাঁচতেন না পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের

আবার অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করার পর এবার তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন যা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাত যদি তিনি থামাতে উদ্যোগী না হতেন, তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বেঁচে থাকতেন না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তান অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল।ওয়াশিংটনে মার্কিন ক্যাপিটলে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর কথায়, তিনি মধ্যস্থতা না করলে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটতে পারত। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প সংখ্যার উল্লেখে বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন। আসলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ না হলে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারত।অপারেশন সিঁদুর নিয়ে এর আগেও একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এক সময় ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে তাঁর মন্তব্যে পাকিস্তানপন্থী সুর শোনা গিয়েছিল বলে সমালোচনা হয়। তবে ভারত নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়ে দেয়, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামাতে তৃতীয় কোনও দেশের ভূমিকা ছিল না এবং পাকিস্তানের অনুরোধেই সংঘর্ষ থেমেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের উন্নতি ঘটার পর ট্রাম্পের বক্তব্যে আবার পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, যা নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
দেশ

দেশজুড়ে আবহাওয়ার বড়সড় বদল, কোথাও ঝড়বৃষ্টি তো কোথাও বাড়ছে তাপমাত্রা, কেমন থাকবে বাংলার আবহাওয়া

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যেতে পারে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চলে। আগামী কয়েক দিন সেখানে ঝড়বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একাধিক রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা-তে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে মধ্যপ্রদেশ, বিদর্ভ ও ছত্তিশগড় অঞ্চলেও। এছাড়া অসম, মেঘালয়, সিকিম এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি ও হালকা ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।হিমাচল প্রদেশে বৃষ্টির সঙ্গে তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড-এও বৃষ্টি ও তুষারপাত হতে পারে। আগামী তিন দিনে উত্তর-পশ্চিম ভারতের সমতলে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও বিদর্ভে আগামী দুদিন তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও পরে আবার বাড়তে পারে। মহারাষ্ট্র-এ আগামী পাঁচ দিনে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে গুজরাত-এ বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপ বুধবার ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হয়ে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যদিও ধীরে ধীরে সেটি দুর্বল হতে পারে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন ওড়িশা এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। কর্ণাটক থেকে মারাঠাওয়াড়া হয়ে উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তর গুজরাত পর্যন্ত আরেকটি অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের কাছাকাছি এলাকায় উপক্রান্তীয় পশ্চিমী জেট প্রবাহ সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তরাখণ্ড ও পশ্চিম অসম সংলগ্ন এলাকাতেও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগর ও কেরল উপকূল সংলগ্ন এলাকায় উপরিস্তরের ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার নতুন করে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা প্রবেশ করতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
বিদেশ

বাংলাদেশে নতুন সরকার, ভারত ঘনিষ্ঠতা বাড়তেই সক্রিয় চিনের দূত

দীর্ঘ সতেরো মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অবশেষে বাংলাদেশ-এ নতুন স্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। শপথ গ্রহণের দিনই ভারতের পক্ষ থেকে বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করে নরেন্দ্র মোদী-র আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন বলে সূত্রের খবর। চিঠিতে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।এই ঘটনার পরই ঢাকায় নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছেন। জানা গিয়েছে, তিনি পৃথক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের আবেদন জানান। দ্রুত এই বৈঠক আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রককে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধও করেছেন তিনি।অন্যদিকে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার বর্মা-ও নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছেন। তিনি বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় চান। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে।শপথ অনুষ্ঠানের পর ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রী-সহ দূতাবাসের অন্যান্য আধিকারিকরা। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। হাসিনা পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং তা আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী চিন ও পাকিস্তান-এর উদ্বেগ বাড়ছে বলেও কূটনৈতিক মহলের ধারণা। নতুন সরকারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য চিনা রাষ্ট্রদূতের চিঠিকে তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এর আগেও চৌদ্দ ফেব্রুয়ারি চিন আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষাতের অনুরোধ করেছিল, কিন্তু শপথ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস তেরোটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ভারত-সহ একাধিক দেশের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সেই অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক মহলেও যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লি ও ঢাকার নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপে না খেলার আক্ষেপ, এবার ভারতের দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তে বড় মূল্য চুকাতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। নিজেদের অনড় অবস্থানের জেরে বিশ্বমঞ্চে খেলাই হয়নি তাদের। সেই সময় বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মন্তব্য করেছিলেন, নতুন সরকার এলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হতে পারে। নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার আমিনুল হক। দায়িত্ব নিয়েই তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা দিলেন।মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল বাংলাদেশ। International Cricket Council একাধিকবার আলোচনা করার চেষ্টা করলেও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত বদলায়নি। অনেকেই মনে করেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ভারতবিরোধী অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল দায়িত্ব নেওয়ার পর জানান, শপথের দিনই তিনি সংসদ ভবনে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। আমিনুল বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চান তিনি। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বাংলাদেশ। শুধু খেলাধুলা নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও সুসম্পর্ক গড়তে চায় নতুন সরকার।আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে ভারতের ক্রিকেট সফর হওয়ার কথা ছিল, যা এখন স্থগিত রয়েছে। ভারত সফর না হলে বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তা জানে বাংলাদেশ ক্রিকেট মহল। নির্বাচনের আগে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও এখন নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।আমিনুল আগের সরকারকে দায়ী করে বলেন, কূটনৈতিক জটিলতার কারণেই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। সময়মতো আলোচনা হলে হয়তো দল বিশ্বকাপে খেলতে পারত। সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ বয়কটের পর নতুন করে ভারত-বাংলাদেশ ক্রীড়া সম্পর্ক কোন পথে যায়, সেটাই এখন দেখার।

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
দেশ

ফ্রান্সের সঙ্গে ২০টি বড় চুক্তি ভারতের! প্রতিরক্ষা থেকে প্রযুক্তি—কী থাকছে এই ঐতিহাসিক সমঝোতায়?

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির পর আরও একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল ভারত। মঙ্গলবার ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য-সহ মোট ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চুক্তি করল ভারত। মুম্বইয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক ভাবে এই চুক্তির ঘোষণা করা হয়।তিন দিনের সফরে ভারতে এসেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সোমবার গভীর রাতে মুম্বইয়ে পৌঁছন তিনি। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গে বৈঠকে বসেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় দেশই সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছে।এর আগে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক এআই সামিটে অংশ নেন ম্যাক্রোঁ। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহার নিয়ে ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। মুম্বইয়ে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, বিশ্ব বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব বিশ্বে স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি আরও বলেন, ফ্রান্স ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং এই বন্ধুত্বই দুই দেশের সম্পর্কের শক্তি।অন্যদিকে ম্যাক্রোঁ বলেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। রাফালে যুদ্ধবিমান থেকে সাবমেরিনসব ক্ষেত্রেই যৌথ কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, ফ্রান্সের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অংশীদারদের মধ্যে ভারত অন্যতম।দুই দেশের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ২০টি বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। তবে চুক্তিগুলির বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই চুক্তি ভবিষ্যতে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

অবাধ্য থেকে অবিশ্বাস্য! পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৭৭ রানে জ্বলে উঠলেন ঈশান

একসময় তাঁকে নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছিল। অবাধ্য, উচ্ছৃঙ্খলএমন অনেক বিশেষণই জুড়ে দেওয়া হয়েছিল ঈশান কিষানের নামের সঙ্গে। জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়তে হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করে আবার নিজের জায়গা ফিরে পেয়েছেন। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুযোগ পেয়েই যেন আগুন ঝরালেন।ভারতের ইনিংসের শুরুটা ভালো ছিল না। দ্রুত অভিষেক শর্মার উইকেট পড়ে যায়। কিন্তু সেখান থেকেই দায়িত্ব তুলে নেন ঈশান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন। পাকিস্তানের বোলারদের উপর এক মুহূর্তের জন্যও চাপ কমতে দেননি। মাত্র ২৭ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। শাদাব খান হোক বা শাহিন আফ্রিদি, কাউকেই রেয়াত করেননি।মাঠের চারদিকে শট খেলেছেন ঈশান। দর্শকেরা অপেক্ষা করছিলেন, পরের বলটি কোন দিকে পাঠাবেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ বলে ৭৭ রান করে ফেরেন। সাইম আয়ুবের বলে আউট হওয়ার সময় ভারতের ইনিংস শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে গেছে। তাঁর এই ইনিংসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।ম্যাচ শেষে ঈশান বলেন, এই ম্যাচ সব সময় আলাদা। এই জয় শুধু দলের জন্য নয়, দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, পাকিস্তানের দলে কয়েকজন ভালো স্পিনার রয়েছে, তাই এই জয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। পাশাপাশি জশপ্রীত বুমরাহ ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার প্রশংসাও করেন তিনি। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও বলেন, এই জয় দেশের জন্য।ঈশানের কাছে এই ইনিংস ব্যক্তিগতভাবেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালে ডবল সেঞ্চুরি করার পর অনেকেই ভেবেছিলেন তাঁর জায়গা স্থায়ী হয়ে গেছে। কিন্তু পরবর্তীতে দল থেকে বাদ পড়েন। সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন লড়াই। এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রয়েছে ভগবদ্গীতার প্রেরণা। বাবার কাছ থেকে গীতার শ্লোকের অর্থ জেনে তিনি ধীরে ধীরে সেই দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হন। ব্যাট ও গ্লাভসের পাশাপাশি গীতা হয়ে ওঠে তাঁর নিত্যসঙ্গী। কঠিন সময়েও সেই শিক্ষাই তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৭৭ রানের এই ইনিংস শুধু একটি ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ব্যাটে। আর প্রমাণ করেছেন, সুযোগ পেলে বড় মঞ্চেই তিনি নিজের সেরাটা দিতে পারেন।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘নো হ্যান্ডশেক’ নিয়ম ভেঙে আক্রমের সঙ্গে করমর্দন! রোহিতকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এখন তলানিতে। ক্রিকেট মাঠেও তার প্রভাব স্পষ্ট। দুই দেশের ম্যাচে এখন আর অধিনায়কদের করমর্দন দেখা যায় না। বোর্ডের অঘোষিত নির্দেশ মেনে অনেক ক্রিকেটারই দূরত্ব বজায় রাখছেন। সেই আবহেই ওয়াসিম আক্রমের সঙ্গে রোহিত শর্মার করমর্দন ও হাসিমুখে গল্পের ছবি নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর রোহিত শর্মা। তাঁর হাত ধরেই শেষ টি-২০ বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। এবারের আসরে ট্রফি মাঠে আনার দায়িত্বও ছিল তাঁর উপর। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াসিম আক্রম। সেখানেই দেখা যায়, দুজন বেশ কিছুক্ষণ কথা বলছেন, করমর্দন করছেন, হাসিমুখে খোশগল্প করছেন। মুহূর্তেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে নেটমাধ্যমে।অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যখন ভারত-পাক ম্যাচে নো হ্যান্ডশেক প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে, তখন রোহিতের এই আচরণ কতটা সমীচীন? এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে করমর্দন এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা গিয়েছে। টি-২০ বিশ্বকাপেও কলম্বোয় টসের সময় দুই অধিনায়ককে গম্ভীর মুখে দেখা যায়। করমর্দন হয়নি। বয়কটের আবহে ম্যাচের গুরুত্বও ছিল অনেক বেশি।এই পরিস্থিতিতে রোহিত ও আক্রমের খোলামেলা আলাপ অনেকের চোখে বেমানান লেগেছে। তবে অন্য দিকও রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে রোহিত ভারতীয় দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তি ও টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা হিসেবে আরেক কিংবদন্তির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করায় দোষের কিছু আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।ওয়াসিম আক্রম শুধু পাকিস্তানের নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার হিসেবে স্বীকৃত। ক্রিকেটের ময়দানে তাঁর অবদান সীমান্তের গণ্ডি ছাপিয়ে গেছে। সেই জায়গা থেকে দেখলে দুই প্রজন্মের দুই তারকার সাক্ষাৎ ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে স্বাভাবিক বলেই মনে হতে পারে।তবু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই এখন অতিরিক্ত আবেগ, উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক ছায়া। তাই ছোট একটি মুহূর্তও বড় বিতর্কে রূপ নিচ্ছে। রোহিতের এই করমর্দন কি শুধুই সৌজন্য, না কি অঘোষিত নিয়ম ভাঙার বার্তাসেটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

“বয়কটই ভালো ছিল?” ভারতের কাছে ফের চূর্ণ পাকিস্তান, প্রশ্নে নেটদুনিয়া

গত বছর এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে টানা তিন ম্যাচে হারানোর পর ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেছিলেন, এখন আর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সেই আগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, খেলা একপেশে হয়ে যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সেই কথাই যেন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সাম্প্রতিক ম্যাচেও পাকিস্তানের পারফরম্যান্স দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এভাবে হারতে হলে বয়কটই কি ভালো ছিল না?পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘার একাধিক সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এত বড় ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। শুরুতে স্পিনাররা ভালো বল করলেও দলের অন্যতম ভরসা উসমান তারিককে দেরিতে আনা হয়। যখন তিনি বোলিংয়ে এলেন, তখন ভারতের স্কোর প্রায় একশোর কাছাকাছি। ততক্ষণে ঈশান কিষান ঝড় তুলে ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছেন।শেষ দিকেও প্রশ্ন উঠেছে অধিনায়কের সিদ্ধান্ত নিয়ে। স্পিনারদের ওভার বাকি থাকা সত্ত্বেও শেষ ওভারে শাহিন আফ্রিদিকে বল দেওয়া হয়। সেই ওভারেই ১৬ রান তুলে নেয় ভারত। ম্যাচের শেষভাগে এই রানই বড় ব্যবধান তৈরি করে দেয়। ১৭৬ রানের লক্ষ্য অজেয় ছিল না, কিন্তু পাকিস্তানের ব্যাটিং শুরু থেকেই ভেঙে পড়ে।প্রথম কয়েক ওভারেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। দেখে মনে হচ্ছিল, দলটি যেন আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের রেকর্ডও তাদের পক্ষে কথা বলে না। আট ম্যাচের মধ্যে একবার ছাড়া প্রতিবারই হারতে হয়েছে। কখনও বোল আউটে নাটকীয় পরাজয়, কখনও ফাইনালে মিসবা উল হকের ভুল শট, কখনও মেলবোর্নে বিরাট কোহলির ঐতিহাসিক ইনিংসপ্রতিবারই ভারতের বিরুদ্ধে হারের আলাদা গল্প রয়েছে পাকিস্তানের।২০২১ সালে একমাত্র জয়টি পাওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেটে বড় পরিবর্তন আসে। নেতৃত্বে বদল হয়, নতুন পরিকল্পনা আসে, এবং পরবর্তীতে আইসিসি ট্রফিও জেতে ভারত। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেটে সেই ধারাবাহিক উন্নতি চোখে পড়ে না। বরং বড় ম্যাচে বারবার একই ভুল, একই ভাঙন দেখা যাচ্ছে।একসময় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ছিল টানটান উত্তেজনা, শেষ বল পর্যন্ত অনিশ্চয়তা। এখন সেই রোমাঞ্চ অনেকটাই কমে গিয়েছে। মাঠের লড়াই একপেশে হয়ে গেলে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ম্লান হয়ে যায়। প্রশ্ন উঠছে, যদি এমন পারফরম্যান্সই চলতে থাকে, তবে এই মহারণের মান কোথায় দাঁড়াবে? পাকিস্তানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের নতুন করে গড়ে তোলা। না হলে ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের সেই পুরনো মর্যাদা আর ফিরবে কি?

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বয়কটের হুঙ্কার, শেষে ৬১ রানে ধ্বংস! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে উড়িয়ে সুপার এইটে ভারত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় ভারতের। শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে ৬১ রানে হারিয়ে সুপার এইটে জায়গা করে নিল টিম ইন্ডিয়া। এই নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে আটবার হারাল ভারত। বড় ম্যাচে সূর্যকুমার যাদবদের জয়ের পরিসংখ্যান বদলাল না।টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। শুরুতেই অভিষেক শর্মার উইকেট হারালেও চাপে পড়েনি ভারত। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত নিজেদের হাতে নিয়ে নেন ঈশান কিষান। মাত্র ২৭ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। পাকিস্তানের বোলারদের একের পর এক বাউন্ডারি মেরে চাপে ফেলে দেন। শাদাব খান ও শাহিন আফ্রিদির বলেও সমান আক্রমণাত্মক ছিলেন ঈশান। ১০টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ বলে ৭৭ রান করে ভারতের ইনিংসের শক্ত ভিত গড়ে দেন তিনি।মাঝে তিলক বর্মা ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার দ্রুত আউটে কিছুটা চাপে পড়ে ভারত। সূর্যকুমার যাদব চেষ্টা করলেও বড় রান করতে পারেননি। ৩২ রানে আউট হন তিনি। উসমান তারিকের স্পিন কিছুটা সমস্যায় ফেলেছিল ভারতীয় ব্যাটারদের। তবে শেষ দিকে রিঙ্কু সিং ও শিবম দুবের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শেষ ওভারে ১৬ রান ওঠে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারতের রান দাঁড়ায় ১৭৫।১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান হার্দিক পাণ্ডিয়া। পরের ওভারে জশপ্রীত বুমরাহ জোড়া আঘাত করেন। সাইম আয়ুব ও সলমন আলি আঘা দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরেন। সেখান থেকেই ম্যাচ কার্যত ভারতের দিকে ঝুঁকে যায়।বাবর আজম কিছুটা সময় ক্রিজে থাকলেও রানের গতি বাড়াতে পারেননি। অক্ষর প্যাটেলের বলে আউট হয়ে ফেরেন তিনি। উসমান খান লড়াইয়ের চেষ্টা করেন, কিন্তু অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকে। শাদাব খান, মহম্মদ নওয়াজ কেউই বড় রান করতে পারেননি। কুলদীপ যাদব ও তিলক বর্মাও উইকেট নেন। অক্ষর প্যাটেলের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে আউট হন উসমানও। শেষ দিকে শাহিন আফ্রিদি ১৯ বলে ২৩ রান করে ব্যবধান কিছুটা কমান।শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। হার্দিক, বুমরাহ, অক্ষর ও বরুণপ্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। ৬১ রানের বড় ব্যবধানে জিতে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করে ভারত। আর বিশ্বকাপে আবারও ভারতের সামনে থমকে দাঁড়াল পাকিস্তান।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 33
  • 34
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

উইপোকা ধরা টাকার পর বড় পদক্ষেপ! সুরেন্দ্রনাথ কলেজ কাণ্ডে গ্রেপ্তার পরিতোষ দত্ত

সুরেন্দ্রনাথ কলেজে উদ্ধার হওয়া টাকার বান্ডিল এবং বিতর্কিত কক্ষকে ঘিরে তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। এই ঘটনায় দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পরিতোষ দত্তকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা। বর্ধমান থেকে তাঁকে আটক করে কলকাতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।ঘটনার জেরে নড়েচড়ে বসেছে উচ্চশিক্ষা দফতরও। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কীভাবে কলেজের ইউনিয়ন কক্ষের আলমারি থেকে ব্যাগভর্তি টাকা উদ্ধার হল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।গত মঙ্গলবার কলেজের ইউনিয়ন কক্ষ থেকে উইপোকা ধরা টাকার বান্ডিল উদ্ধার হওয়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তদন্তে উঠে আসে আরও একাধিক তথ্য। কলেজের পাঁচতলায় তথাকথিত অতিথি কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা কয়েকটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে বিছানা, গদি, বালিশ, আলমারি এবং আরও কিছু সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ।দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই ঘরগুলি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হত। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কলেজের একটি কক্ষে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংশ্লিষ্টদের ছবিও দেখা গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এদিকে উচ্চশিক্ষা দফতর জানতে চেয়েছে, ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে। কলেজের ভিতরে ওই কক্ষগুলি তৈরির অনুমতি ছিল কি না, কারা সেগুলি ব্যবহার করতেন এবং কীভাবে এত টাকা কলেজে এল, তারও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন এমন ব্যক্তিদের নাম-সহ একটি তালিকাও জমা দিতে বলা হয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষকে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং শিক্ষা দফতর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।প্রায় একশো চল্লিশ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম জড়িয়ে এমন ঘটনা সামনে আসায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ থেকে সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই কলেজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই কলেজে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা চলছে।কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।

জুন ০৪, ২০২৬
দেশ

ভোরের ঘুম ভাঙল আগুনে! হাসপাতালের আইসিইউতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত অন্তত ৪

দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিহারের একটি হাসপাতালে আগুন লেগে মৃত্যু হল অন্তত চার জনের। ভয়াবহ এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় চারটে নাগাদ মুজফ্ফরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে আচমকা আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন এবং ঘন কালো ধোঁয়া পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী, চিকিৎসক এবং কর্মীদের মধ্যে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের ছতলায় থাকা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ধোঁয়ায় ভরে যায় পুরো তলা। দমকলকর্মীরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রায় পনেরো থেকে কুড়ি জন রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।তবে সব রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের অনেকেই গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় অন্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে সঠিক কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।মুজফ্ফরপুর দমকল বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। বহু রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে বের করে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে ধোঁয়া এবং আগুনের তীব্রতার কারণে কয়েকজনকে আর বাঁচানো যায়নি।এই মর্মান্তিক ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে আগুন লাগল এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

জুন ০৪, ২০২৬
কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে গোপন বৈঠক কর্ণ আদানির! বাংলায় আসছে কি হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ?

রাজ্যের শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শিল্পপতি গৌতম আদানির পুত্র কর্ণ আদানি। বুধবার নবান্নে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়। এই বৈঠক ঘিরে রাজ্যের শিল্পমহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।সূত্রের খবর, সৌজন্য সাক্ষাতের আড়ালেই শিল্প, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আদানি গোষ্ঠী রাজ্যে নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প, বন্দর, লজিস্টিক কেন্দ্র, রাস্তা নির্মাণ এবং তথ্যভাণ্ডার কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।রাজ্য সরকার শুরু থেকেই শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। সেই লক্ষ্যেই বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে রাজ্যে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। বৈঠকে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।জানা গিয়েছে, রাজ্যে বৃহৎ লজিস্টিক কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে আদানি গোষ্ঠীর। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্দর উন্নয়ন এবং আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এদিন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে ভবিষ্যতে আরও একাধিক দফায় বৈঠক হতে পারে বলে খবর।আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক নতুন নয়। অতীতেও রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন সরকারের আমলে এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন শিল্পমহলের একাংশ। তাঁদের মতে, এই আলোচনা সফল হলে রাজ্যে বড় বিনিয়োগের পথ খুলতে পারে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।এখন নজর পরবর্তী বৈঠকের দিকে। শিল্প ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত কী ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করে, সেটাই দেখার।

জুন ০৪, ২০২৬
কলকাতা

মমতার মন্তব্য ঘিরে বড় বিতর্ক! সাইবার থানায় নতুন অভিযোগ, চাঞ্চল্য রাজ্যজুড়ে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করেছেন আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়। গত দুই জুন ধর্মতলায় ধর্না কর্মসূচির মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের নাগরিক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই অভিযোগ করা হয়েছে। এর আগেও গত সপ্তাহে একই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ওই আইনজীবী।অভিযোগকারীর দাবি, প্রকাশ্য সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা দেশের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক গোপনীয়তা সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলে দিতে পারে। বিশেষ করে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে ঘিরে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই আপত্তি জানানো হয়েছে।আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ওসমান হাদি নামে এক ব্যক্তির খুনের ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছিল বলে অভিযোগ। রাজ্যের বিশেষ টাস্ক ফোর্স তাদের গ্রেপ্তার করে। দুই জুন ধর্মতলার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ওই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন এবং ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা এক অভিযুক্তকে রাজ্যের বিশেষ টাস্ক ফোর্স গ্রেপ্তার করেছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে প্রতিবাদও হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্তরা মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিল এবং পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রসঙ্গও উঠে আসে।অভিযোগপত্রে একাধিক ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, উত্তেজনা সৃষ্টি, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা এবং ভয় প্রদর্শনের মতো বিষয় উঠে এসেছে। যদিও অভিযোগের সত্যতা বা আইনি ভিত্তি নিয়ে এখনও প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী সংস্থা কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

জুন ০৪, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

পাপিয়ার ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টালিগঞ্জে বিস্ফোরণ! ইট-ডিমের লড়াইয়ে রণক্ষেত্র স্টুডিওপাড়া

টলিপাড়ার সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ঘোষণার মাত্র একদিনের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও চত্বর। বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ইট, পাটকেল এবং ডিম ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।বুধবার বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও প্রাঙ্গণ থেকে দীর্ঘদিনের ফেডারেশন ভেঙে নতুন সংগঠন গঠনের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, পুরনো কাঠামোর পরিবর্তে নতুন কনফেডারেশন তৈরি করা হবে এবং সংগঠনের কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আনা হবে। একই সঙ্গে টলিউডে যোগ্য ও বৈধ কর্মীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। অবৈধভাবে বা নিয়ম না মেনে কাজ পাওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান।এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সকালে স্টুডিও প্রাঙ্গণে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় স্টুডিওর ভিতরে বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। পরে কাছাকাছি একটি মাঠে জটলা তৈরি হয় এবং সেখানেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা শুরু হয়।এক পক্ষের অভিযোগ, সংগঠনের পদ এবং প্রভাব ধরে রাখার জন্য কিছু নেতা বহিরাগতদের নিয়ে এসে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে পাল্টা স্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানায় অপর পক্ষ। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল এবং ডিম ছুড়তে শুরু করে।ঘটনায় স্টুডিওপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের জেরে কিছুক্ষণ কাজকর্মও ব্যাহত হয় বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার পর টেকনিশিয়ানদের একাংশ বিদায়ী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, সংগঠনের আর্থিক বিষয় এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত। পাশাপাশি টলিপাড়ার চলমান অস্থিরতা দূর করতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিও তুলেছেন অনেকেই।নতুন সংগঠন গঠনের ঘোষণার পরই যে ভাবে টালিগঞ্জে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তাতে আগামী দিনে টলিপাড়ার সাংগঠনিক লড়াই আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

জুন ০৪, ২০২৬
রাজ্য

এনআইএ হানার আগেই উধাও শওকত! ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় তোলপাড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা

কোথায় শওকত মোল্লা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক মহলে। ভাঙড়ের বামুনিয়া বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়ি, দলীয় কার্যালয় এবং একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চললেও শওকতের খোঁজ মেলেনি।তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে এনআইএ-র একাধিক দল ভাঙড় ও সংলগ্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে। শওকত মোল্লার বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে না পাওয়ায় তদন্তকারীদের বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযানের খবর পাওয়ার আগেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।এদিকে, তল্লাশি চলাকালীন শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। তদন্তকারীরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। শুধু বাড়িতেই নয়, ইমরানের মালিকানাধীন ক্যাফে অরণ্যের কূলে-তেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। ওই ক্যাফে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ, নদীর জমি ভরাট করে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে এই ক্যাফে।ভাঙড়ের বামুনিয়া এলাকায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন আরও কয়েকজন। সেই মামলার তদন্তেই সম্প্রতি গতি এনেছে এনআইএ। কয়েকদিন আগে এই মামলায় তৃণমূল নেতা আহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার বামুনিয়া এলাকার একাধিক বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে এনআইএ। পাশাপাশি ধৃত আহিদুল ইসলামের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্তকারীরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে সূত্রের দাবি।অন্যদিকে, শওকত মোল্লার খোঁজে তাঁর ভাই আবু জাফরের বাড়িতেও এনআইএ-র একটি দল পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাক্তন বিধায়কের অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। তিনি কি তদন্ত এড়াতেই আড়ালে রয়েছেন, নাকি অন্য কোনও কারণে এলাকায় নেইসেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।

জুন ০৪, ২০২৬
কলকাতা

গ্রেপ্তারের আশঙ্কা? থানায় ডাকার পরই আচমকা অসুস্থ প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস

মেসি ইভেন্ট বিতর্কে নতুন মোড়। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চাইলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি আগামী দুসপ্তাহ সময় চেয়েছেন। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেসি ইভেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত।গত সতেরো মে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শতদ্রু দত্ত। অভিযোগে টিকিট কালোবাজারি, প্রতারণা, ভয় দেখানো এবং অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির মতো একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, মেসির অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় বাইশ হাজার টিকিট কালোবাজারি করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রভাব খাটিয়ে অরূপ বিশ্বাস মেসির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এই অভিযোগের ভিত্তিতে অরূপ বিশ্বাসকে চার জুন থানায় হাজিরার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তবে তার আগের রাতেই তিনি থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, তিনি অসুস্থ এবং এই মুহূর্তে হাজিরা দিতে পারবেন না। সূত্রের খবর, অন্তত দুসপ্তাহ সময় চেয়েছেন তিনি। পরে নিজের অবস্থান জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, এই মামলায় গ্রেপ্তারি এড়াতে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলে বর্তমানে তাঁর হাতে কোনও আইনি সুরক্ষা নেই বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। তদন্তের প্রয়োজন হলে পুলিশ যে কোনও সময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারে।অন্যদিকে অরূপের অসুস্থতার খবর সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন শতদ্রু দত্ত। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, সমন পাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁর দাবি, চিকিৎসার নথি দেখিয়ে সময় পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া এড়ানো যায় না। এতদিন সব স্বাভাবিক ছিল, অথচ সমন আসার পরই অসুস্থতার খবর সামনে এল বলে কটাক্ষ করেন তিনি।মেসি ইভেন্ট ঘিরে এই বিতর্কে রাজনৈতিক মহলও নজর রাখছে। এখন দেখার, অরূপ বিশ্বাস কবে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হন এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়।

জুন ০৪, ২০২৬
রাজ্য

পুলিশ যেতেই খাটের তলায় লুকিয়ে তৃণমূল নেতা! কাটমানি মামলায় গ্রেপ্তার হতেই বিক্ষোভ

আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন মাথাভাঙার জোরপাটকি এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শহিদুল মিঞা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পলাতক ছিলেন। বুধবার বিকেলে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে খাটের তলা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযুক্তকে বাড়ি থেকে বের করার সময় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহিদুল মিঞার স্ত্রী জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। অন্যদিকে শহিদুল নিজেও মাথাভাঙা থানার সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব থাকায় তিনি নিজেকে তৃণমূল নেতা হিসেবেই পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ।গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে উপভোক্তাদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার, দশ হাজার থেকে শুরু করে কুড়ি হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর গত পঁচিশ মে এলাকাবাসীরা তাঁর গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। তারপর থেকেই তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের।কাটমানির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তাঁকে সিভিক ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। কিন্তু এতদিন তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার গোপনে নিজের বাড়িতে ফিরেছিলেন শহিদুল। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ পৌঁছনোর খবর পেয়েই তিনি বাড়ির খাটের তলায় লুকিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে বের করে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখিয়ে দাবি করেন, যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের সমস্ত টাকা দ্রুত ফেরত দিতে হবে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জুন ০৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal