পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার ভারতে পড়তে শুরু করেছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রান্নার গ্যাস বা এলপিজি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এবং সব রাজনৈতিক দলকে জানাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করল কেন্দ্রীয় সরকার।
বুধবার এই বৈঠকে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। সেখানে স্পষ্ট করে জানানো হয়, ভারত কোনওভাবেই যুদ্ধ চায় না এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বার্তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, আপাতত দেশে জ্বালানির কোনও সঙ্কট নেই। তেল এবং রান্নার গ্যাস পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী থেকে আরও কয়েকটি জাহাজ খুব শীঘ্রই ভারতে পৌঁছবে। ইতিমধ্যেই একাধিক জাহাজ রওনা দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়া ছাড়াও অন্যান্য দেশ থেকেও তেল ও গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে, যাতে সরবরাহে কোনও সমস্যা না হয়।
এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং তার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বক্তব্য রাখেন। বিদেশমন্ত্রী ও বিদেশ সচিব পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, যে পরিস্থিতিই তৈরি হোক না কেন, ভারতের স্বার্থই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।
এছাড়াও জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কয়েক লক্ষ ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রের বার্তা, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। বিরোধী দলগুলিও যে কোনও সময় তথ্য জানতে পারবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সংসদে খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
- More Stories On :
- West Asia
- India
- LPG Crisis

