• ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩, সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Virat Kohli

খেলার দুনিয়া

হাসারাঙ্গার দুরন্ত বোলিংয়ে প্লে অফের পথে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স

সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৬৭ রানে উড়িয়ে প্লে অফের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ফাফ ডুপ্লেসির দল। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের জয়ের নায়ক ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। ১৮ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে সানরাইজার্সের ইনিংসে ভাঙন ধরান তিনি। বিরাট কোহলির ব্যর্থতার দিনে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সকে বড় রানে পৌংছে দিয়েছিলেন ফাফ ডুপ্লেসি ও দীনেশ কার্তিক।রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে এদিন সানরাইজার্স অধিনায়ক উইলিয়ামসন নতুন বল তুলে শ্রীলঙ্কান স্পিনার জগদীশা সুচিথের হাতে। সুচিথ প্রথম বলটাই রেখেছিলেন লেগস্টাম্পে। কেন উইলিয়ামসনের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন বিরাট কোহলি। আবার গোল্ডেন ডাকের শিকার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের প্রাক্তন অধিনায়ক। চলতি আইপিএলে এই নিয়ে তিনবার।কোহলি শূন্যরানে আউট হলেও বড় রান থেকে আটকানো যায়নি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে। শুরুর ধাক্কা দারুণভাবে সামলে দেন অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসি ও রজত পতিদার। ১০৫ রানের জুটি বড় রানের ভিত গড়ে দেয় রয়্যাল ক্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের। ১২.২ ওভারে সেই জগদীশা সুচিথের হাত ধরেই ব্রেক থ্রু পায় সানরাইজার্স হায়করাবাদ। রজত পতিদারকে তুলে নেন সুচিথ। ৩৮ বলে ৪৮ রান করে আউট হন পতিদার। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান ডুপ্লেসি ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ২৪ বলে ৩৩ রান করে কার্তিক ত্যাগীর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ম্যাক্সওয়েল।ম্যাক্সওয়েল আইট হওয়ার পর ক্রিজে নেমে ঝন তোলেন দীনেশ কার্তিক। আগের কয়েকটা ম্যাচে তিনি রান পাননি। এদিন সব সুদেআসলে মিটিয়ে নিলেন। ৮ বলে ৩০ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে পৌঁছে দেন ১৯২/৩ রানে। ডুপ্লেসি ৫০ বলে ৭৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে জগদীশা সুচিথ ৩০ রানে ২ উইকেট নেন।বড় রানের লক্ষ্য নিয়ে জিততে গেলে শুরুটা ভাল হওয়া দরকার। সেটাই এদিন করতে পারেনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। প্রথম ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। বিরাট কোহলির মতো সানরাইজার্স অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও গোল্ডেন ডাকের শিকার। তিনি অবশ্য শাহবাজ আমেদের দুরন্ত থ্রোতে রান আউট হন। ওভারের পঞ্চম বলে অভিষেক শর্মাকে (০) তুলে নেন ম্যাক্সওয়েল। উইলিয়ামসনের মতো ডুপ্লেসিও শুরুতে স্পিন আক্রমণ নিয়ে এসেছিলেন। তাতেই বাজিমাত। ১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সানরাইজার্স। সেই চাপ থেকে আর বার হতে পারেনি।Our bowlers have been brilliant again through the middle overs. 💪🏻Lets bag those ✌🏻 points now. 👊🏻#PlayBold #WeAreChallengers #IPL2022 #Mission2022 #RCB #ನಮ್ಮRCB #GoGreen #ForPlanetEarth #SRHvRCB pic.twitter.com/4D7hzmvEem Royal Challengers Bangalore (@RCBTweets) May 8, 2022১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর রাহুল ত্রিপাঠী কিছুটা লড়াই করেন। অন্যপ্রান্তে একের পর এক উইকেট থাকলেও তিনি দলকে টেনে নিয়ে যান। এইডেন মার্করাম (২৭ বলে ২১), নিকোলাস পুরানরা (১৪ বলে ১৯) কিছুটা সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৫৮ রান করে হ্যাজেলউডের বলে আউট হন ত্রিপাঠী। সানরাইজার্সের বাকি আর কোনও ব্যাটার দুঅঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি। দুরন্ত বোলিং করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মিডল অর্ডারে ভাঙন ধরান ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। ৪ ওভারে ১টা মেডেন সহ ১৮ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। ১৭ রানে ২ উইকেট পান হ্যাজেলউড। ১৯.২ ওভারে ১২৫ রানে গুটিয়ে যায় সানরাইজার্সের ইনিংস।

মে ০৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ছক্কার রেকর্ড!‌ ক্রিস গেইলদের তালিকায় ঢুকে গেলেন রোহিত

শুক্রবার গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ছিল সম্মান রক্ষার লড়াই। সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি একটা কৃতিত্বের অধিকারী হলেন রোহিত শর্মা। আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ২০০ ছক্কার মাইলস্টোনে পৌঁছে গেলেন। পুল শটের ব্যাপারে রোহিত শর্মার সমকক্ষ বিশ্বের খুব কম ব্যাটারই রয়েছেন। তিনি যখন ছন্দে থাকেন, তাঁর পুল শট দেখাটা সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার। একেবারে নয়নাভিরাম শট। রোহিত শুক্রবার মুম্বইয়ের ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধে তাঁর ট্রেডমার্ক পুল শট মেরে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন। চলতি আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধেই তিনি সর্বোচ রান করেন। ২৮ বলে ৪৩ রান করে তিনি রশিদ খানের বলে এলবিডব্লু হন। এদিন ম্যাচের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে আলজেরি জোসেফের বলে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে পুল শটে ছক্কা মেরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে সর্বোচ্চ ২০০টি ছক্কা মারার রেকর্ড করেন রোহিত। কায়রন পোলার্ডের পরে রোহিত শর্মাই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। কায়রন পোলার্ড মেরেছেন ২৫৭টি ছক্কা। এদিন মহম্মদ সামির বলেও ল্যাপ শটে আর একটি ছক্কা মারেন রোহিত। এদিন ২০০ ছক্কার মাইলস্টোনে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে আইপিএলে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কার অভিজাত তালিকায় নিজের নাম তুলেছেন। একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে সবথেকে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ড রয়েছে ক্রিস গেইলের। ক্রিস গেইল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে ২৬৩টি ছক্কা মেরেছেন। তাঁর পরেই রয়েছেন কায়রন পোলার্ড। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে এবি ডিভিলিয়ার্স। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে তিনি মেরেছেন ২৪০টি ছক্কা। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন বিরাট কোহলি। তিনি মেরেছেন ২২৮টি ছক্কা।এছাড়া আইপিএলে ২০০ ছক্কার ক্লাবে রয়েছেন চেন্নাই সুপার কিংসের সুরেশ রায়না। তিনি মেরেছেন ২২০ ছক্কা। মহেন্দ্র সিং ধোনি মেরেছেন ২১৮ ছক্কা। আইপিএলে সবচেয়ে বেশি রান করার তালিকায় ডেভিড ওয়ার্নারকেও ছাড়িয়ে গেলেন রোহিত। ৬৪৯৯ রান করে বিরাট কোহলি তালিকার শীর্ষে। শিখর ধাওয়ানস করেছেন ৬১৫৩। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে রোহিত।

মে ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

টি২০ সুলভ ব্যাটিং কেন করতে পারলেন না বিরাট কোহলি?‌

চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ভাল শুরু করেও আবার আটকে গেলেন বিরাট কোহলি। টি২০ সুলভ ব্যাটিং পাওয়া গেল না তাঁর কাছ থেকে। তবুও চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে তুলল ১৭৩। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বড় রান তুলল মহীপাল লোমরোর, দীনেশ কার্তিকদের সৌজন্যে।প্লে অফের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে গেলে জেতা ছাড়া রাস্তা ছিল না চেন্নাই সুপার কিংসের সামনে। ৯ ম্যাচে চেন্নাইয়ের পয়েন্ট ৬। আর একটা হার মানেই প্লে অফের স্বপ্ন শেষ। অন্যদিকে, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে চেন্নাই সুপার কিংসের মুখোমুখি হয়েছিল। ধোনিদের কাছে হারলেই প্লে অফের লড়াই থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। এইরকম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান চেন্নাই অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। আগের ম্যাচে তাঁর নেতৃত্বেই জয়ের সরণিতে ফিরেছে চেন্নাই। এদিনও ধোনির নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে ছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু চেন্নাইয়ের বোলারদের কোনও সুযোগ না দিয়ে ভাল শুরু করেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের দুই ওপেনার বিরাট কোহলি ও ফাফ ডুপ্লেসি। ওপেনিজ জুটিতে ওঠে ৬২। এরপরই মইন আলির আঘাত। এদিন মিচেল স্যান্টনারের জায়গায় তাঁকে প্রথম একাদশে সুযোগ দেয় চেন্নাই টিম ম্যানেজমেন্ট। আস্থার মর্যাদা দিলেন মইন। মইনের হাত ধরেই প্রথম ব্রেক থ্রু আসে। প্রথমে তুলে নেন ছন্দে ফেরা ফাফ ডুপ্লেসিকে। ২২ বলে ৩৮ রান করে তিনি আউট হন। পরের ওভারেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৩) রান আউট। ৫ বল পরেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সকে সবথেকে বড় ধাক্কা দেন মইন। তুলে নেন বিরাট কোহলিকে। মইনের অফ স্টাম্পের ওপরে পড়া বল কোহলির ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক দিয়ে উইকেট ভেঙে দেয়। ৩৩ বলে ৩০ রান করে আউট হন কোহলি। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে উঠে আসা মহীপাল লোমরোর ও রজত পতিদার। ১৫ বলে ২১ রান করে আউট হন রজত। ২৭ বলে ৪২ রান করেন মহীপাল লোমরোর। মহীপাল ও হাসারাঙ্গাকে (০) পরপর ২ বলে তুলে নেন মহেশ থিকসানা।একই ওভারের শেষ বলে ফেরান শাহবাজকে (১)। দীনেশ কার্তিক ১৭ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২৭ রানে ৩ উইকেট নেন মহেশ থিকসানা। ২৮ রানে ২ উইকেট মইনের।

মে ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

কোহলির রানে ফেরার দিনে প্লে অফ নিশ্চিত করে ফেলল গুজরাট টাইটান্স

দুঃসময় কাটিয়ে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে রানে ফিরলেন বিরাট কোহলি। কোহলি রানে ফিরলেও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর অবশ্য খারাপ সময় কাটিয়ে উঠতে পারল না। আবার হারতে হল গুজরাট টাইটান্সের কাছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্লে অফ কার্যত নিশ্চিত করে ফেলল গুজরাট টাইটান্স। ৯ ম্যাচে হার্দিক পান্ডিয়ার দলের পয়েন্ট ১৬।এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসি। দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় রয়্যাল চ্যালঞ্জার্স। ৪ বছর পর আইপিএলের মঞ্চে ফেরা প্রদীপ সাঙ্গোয়ানের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ডুপ্লেসি (০)। এদিনও খারাপ সময় কাটিয়ে উঠতে পারলেন না তিনি। অধিনায়কের ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলেও কোহলি অবশ্য রানে ফিরলেন। রজত পতিদারকে সঙ্গে নিয়ে দলকে টেনে নিয়ে যান। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে ওঠে ৯৯। অবশেষে দ্বিতীয় স্পেলে বল করতে এসে জুটি ভাঙেন প্রদীপ সাঙ্গোয়ান। তুলে নেন রতজ পতিদারকে। ৩২ বলে ৫২ রান করেন তিনি। অন্যদিকে, কোহলিকে এদিন খুব বেশি আক্রমণাত্মক হতে দেখা যায়নি। ৪৫ বলে তিনি হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এটা তাঁর আইপিএলে ৪৩ তম হাফ সেঞ্চুরি। এদিনও তিনি ওপেন করতে নেমেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৫৩ বলে ৫৮ রান করে তিনি মহম্মদ সামির বলে বোল্ড হন। কোহলির ইনিংসে রয়েছে ৬টি চার ও ১টি ছয়। দীনেশ কার্তিক (২) এদিনও ব্যর্থ। শেষ দিকে ঝড় তোলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তিনটি ৪ ও দুটি ছক্কার সাহায্যে ১৮ বলে ৩৩ রান করেন। ৮ বলে ১৬ রান করেন মহীপাল লোমরোর। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ তোলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। ৪ বছর পর আইপিএলের মঞ্চে ফিরে দুরন্ত বোলিং করেন প্রদীপ সাঙ্গোয়ান। ১৯ ওভারে তুলে নেন ২ উইকেট। প্রথমে ব্যাটিং করে খুব একটা খারাপ রান করেনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। গুজরাট টাইটান্সও জবাব দেওয়ার কাজটা ভালোই শুরু করেছিল। ওপেনিং জুটিতে ঋদ্ধিমান সাহা (২২ বলে ২৯) ও শুভমান গিল (২৮ বলে ৩১) তোলেন ৫১। মাঝে সাই সুদর্শন (১৪ বলে ২০), হার্দিক পান্ডিয়ার (৩) উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল গুজরাট টাইটান্স। ডেভিড মিলার ও রাহুল তেওয়াটিয়া জুটি দারুণভাবে চাপ সামলে দেন। এই জুটিই গুজরাটকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। শেষ ১২ বলে জেতার জন্য গুজরাট টাইটান্সের দরকার ছিল ১৯। ১৯ তম ওভারে হর্ষাল প্যাটেলের শেষ বলে ৬ মেরে কাজ অনেকটাই সহজ করে দেন রাহুল তেওয়াটিয়। ওই ওভারে ওঠে ১২। শেষ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ৭ রান। জয়ের জন্য কোনও বেগ পেতে হয়নি গুজরাট টাইটান্সকে। চাপের মুখে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দলকে সহজ জয় এনে দেন ডেভিড মিলার ও রাহুল তেওয়াটিয়া।২৪ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ডেভিড মিলার। ২৫ বলে ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন রাহুল তেওয়াটিয়া। ৩ বলে বাকি থাকতে ১৭৪/৪ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় গুজরাট। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন শাহবাজ আমেদ ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।

এপ্রিল ৩০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আবার গোল্ডেন ডাকের হাত থেকে বেঁচেও বড় রান করতে ব্যর্থ কোহলি

ট্রেন্ট বোল্টের তৃতীয় বল কোহলির ব্যাট ছুঁয়ে মিচেলের হাতে। বল মিচেলের হাতে যাওয়ার আগে মাটি স্পর্শ করায় সে যাত্রায় বেঁচে যান কোহলি। তবে শেষরক্ষা হয়নি। পরের ওভারেই প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার শর্ট বল হুক করতে গিয়ে রিয়ান রিয়ান পরাগের হাতে সহজ ক্যাচ। আবার ব্যর্থ কোহলি। ব্যাটিং অর্ডার বদলে ওপেন করতে নেমেও রান পেলেন না। আবার হারের মুখ দেখতে হল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে। এবার রাজস্থান রয়্যালসের কাছে হার ২৯ রানে। জয়ের জন্য ১৪৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে ফিরে যান কোহলি। ১০ বলে তিনি করেন মাত্র ৯ রান। ফাফ ডুপ্লেসি (২১ বলে ২৩) দলকে টানার চেষ্টা করছিলেন। সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাঁকে তুলে নেন কুলদীপ সেন। পরের বলেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে (০) ফিরিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সকে একেবারে কোণঠাসা করে দেন। পরপর ২ উইকেট হারিয়ে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তখনই শেষ হয়ে যায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের। রজত পতিদার (১৬ বলে ১৬), প্রভুদেশাইরাও (২) নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। ১২ ওভারের মধ্যেই ৬৭ রানে ৫ উইকেট হারায় চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর।দীনেশ কার্তিকের ওপর টিম ম্যানেজমেন্ট প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু এদিনও তিনি প্রত্যাশাপূরণে ব্যর্থ। মাত্র ৬ রান করে তিনি রান আউট হন। হাসারাঙ্গা করেন ১৮। ১৯.৩ ওভারে ১১৫ রানে গুটিয়ে যায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। ২০ রানে ৪ উইকেট নেন কুলদীপ সেন। ১৭ রানে ৩ উইকেট অশ্বিনের।এদিন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসি টস জিতে রাজস্থান রয়্যালসকে ব্যাট করতে পাঠান। দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় রাজস্থান। চতুর্থ বলে দেবদত্ত পাড়িক্কলকে (৭) তুলে নেন মহম্মদ সিরাজ। এদিন পিঞ্চ হিটার হিসেবে তিন নম্বরে নামানো হয়েছিল রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। ভালোই শুরু করেছিলেন এই বর্ষীয়ান অফ স্পিনার। কিন্তু চতুর্থ ওভারে সিরাজের শেষ বলে তাঁরই হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৯ বলে ১৭ রান করে আউট হন অশ্বিন। পরের ওভারেই হ্যাজেলউড বাটলারকে তুলে নিয়ে রাজস্থানকে সবথেকে বড় ধাক্কা দেন।এরপর মনে হচ্ছিল অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসনের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াবে রাজস্থান। ভাল শুরুও করেছিলেন সঞ্জু। শাহবাজ আমেদের বলে পরপর দুটি ছক্কাও হাঁকান। কিন্তু ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন। ১টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ২১ বলে ২৭ রান করেন সঞ্জু। এরপরই রানের গতি কমে যায় রাজস্থানের। ড্যারেল মিচেল নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ২৪ বলে মাত্র ১৬ রান করে আউট হন। শিমরন হেটমায়ারও এদিন ব্যর্থ। ৭ বলে মাত্র ৩ রান করে হাসারাঙ্গার বলে তিনি আউট হন।একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় বড় রানের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যায় রাজস্থানের। একা লড়াই করেন রিয়ান পরাগ। এই তরুণ ব্যাটারের দাপটেই মান বাঁচায় রাজস্থান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে তোলে ১৪৪/৮। ৩১ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন রিয়ান পরাগ। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে দুরন্ত বোলিং করেন জস হ্যাজেলউড ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১ মেডেন সহ ১৯ রানে ২ উইকেট তুলে নেন তিনি।

এপ্রিল ২৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

খোলা চিঠি, বিরাট কোহলিকে এ কী পরামর্শ দিলেন এক ভক্ত!

চলতি আইপিএলে ব্যাটে রান নেই বিরাট কোহলির। হতাশ কোহলিভক্তরা। চারিদিকে সমালোচনার ঝড়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই কোহলিকে নিয়ে মিম ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ আবার লিখেছেন, এক বলের খদ্দের। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভক্ত আবার কোহলিকে উদ্দেশ্য করে খোলা চিঠি লিখেছেন।কোহলির উদ্দেশ্যে ওই ভক্ত লিখেছেন, বিরাট ভাই, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের তাড়াহুড়ো এবং মুম্বাইয়ের প্রচণ্ড উত্তাপ একটানা ম্যাচ খেলতে অনেক সমস্যা তৈরি করছে। এই সবের মাঝে, করোনার কারণে দলগুলির জন্য তৈরি বায়ো বাবলটিও একটি কঠিন বিষয়, যেখানে আপনি আপনার পরিবার এবং কাছের মানুষদের থেকে দূরে রয়েছেন। করোনার মাঝামাঝি সময়ে অনেকেই এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও আপনি একটানা ক্রিকেট খেলছেন, যেটা একটা দারুণ ব্যাপার।কিন্তু আইপিএলের এই মরশুমে ব্যাট নিয়ে যা হয়েছে তা দেখার মতো নয়। টানা দুই ম্যাচে গোল্ডেন ডাকে আউট হওয়া কোনও ব্যাটারের জন্য সাধারণ ব্যাপার নয়। আমরা ক্রিকেট ভক্ত, আমরা সমালোচক, আমরা দুঃখ বোধ করি, কিন্তু আমরা জানি আপনি নিশ্চয়ই এর থেকেও বেশি কষ্ট, কষ্ট ও যন্ত্রণা ভোগ করছেন।এই ঘটনা শুধু চলতি আইপিএলের কথা নয়। এটা ২০১৯ সাল থেকে চলছে। যখন আপনি আপনার শেষ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেছিলেন। আপনার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবন যখন শুরু হয়েছিল, তখন থেকেই সেঞ্চুরির ঝাপটা ছিল। তখন সবাই বলত এই ছেলেটা একদিন শচীন তেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙবে। তখন আমরা বিশ্বাস করিনি। কিন্তু আপনি আমাদের সকলকে ভুল প্রমাণ করেছেন।পরপর দুই ম্যাচে প্রথম ম্যাচেই গোল্ডেন ডাকে আউট হওয়া কোনও ব্যাটারের জন্য সাধারণ ব্যাপার নয়। বিশেষ করে আপনার মতো ব্যাটারের জন্য তো নয়ই। ২০১৯ এবং ২০২২ এর মধ্যে যা কিছু ঘটেছে তা সেই বিশ্বাসের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সবকিছু সবসময় এক রকম থাকে না, সকাল হলে সন্ধ্যাও হবে। ব্যাটার ভালো ফর্মে থাকলে খারাপ সময়ও আসবে। যা আপনার প্রিয়জনরা অনুভব করছেন।আপনাকে আর আগের মতো মাঠের মধ্যে আবেগে ভাসতে দেখা যায় না। আপনার অধিনায়কত্ব চলে যাওয়ার পর এটি আরও দৃশ্যমান হয়েছে। সেই রকম উৎসাহ, সেই রকম আবেগ মাঝে মাঝে মাঠে দেখা যায়। কিন্তু রানের জন্য ক্ষুধার্ত বিরাটকে আর প্রতিপক্ষ দলে দেখা যাচ্ছে না। খারাপ ফর্মের চেয়েও, এটি একজন ভক্তের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ, আমরা যে রাজা কোহলিকে চিনি তা হারিয়ে গেছে।টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে আপনার সাথে কাজ করেছেন এবং আরও অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটার বলেছেন যে আপনার বিরতি নেওয়া উচিত। লম্বা বিরতি. বর্তমান যুগে যে সমস্ত ক্রিকেট হচ্ছে তার মাঝে আপনি ঘন ঘন বিরতি নিচ্ছেন। তবে এটা একটা সিরিজ, কয়েকটা ম্যাচ, তার মধ্যেও আপনি একটা অ্যাড ফিল্মের শুটিংয়ে ব্যস্ত। এই পর্বটি শেষ করতে, আপনার রবি শাস্ত্রী এবং অন্য সবার কথা শোনা উচিত, সম্ভবত এটি আরও ভাল প্রমাণিত হবে।আপনাকে অবশ্যই বিজ্ঞাপন ফিল্মের জগৎ থেকে বিরতি নিতে হবে, ক্রিকেট মাঠ থেকে দূরে। যেখানে শুধু আপনি, আপনার স্ত্রী, কন্যা এবং পরিবারের সদস্যরা আছেন। জনগণের তাড়াহুড়ো বা আমাদের মতো ভক্তরাও নয় যারা আপনার প্রতিটি কাজের উপর নজর রাখছে। এই বিরতি সম্ভবত আপনার ফর্ম, আপনার মনোবল এবং ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য একটি লাইফলাইন হবে। যাই হোক, একটা কথা প্রচলিত আছে যে সিংহ যখন দুই পা পিছিয়ে যায় তার মানে এই নয় যে সে হেরে যাচ্ছে, বরং সে তার লক্ষ্যের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।এই আইপিএলে এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচে ১১৯ রান করেছেন। আমরা যদি সমস্ত ইনিংসের দিকে তাকাই, আপনার স্কোর হল ৪১, ১২, ৫, ৪৮, ১, ১২, ০, ০। প্রথম ম্যাচে আপনাকে রান করতে দেখে আশা জাগে এবং মনে হয়েছিল এই আইপিএলে ইতিহাস তৈরি হবে। কিন্তু ইতিহাসের ভাষা বদলে গেছে। এটা একজন আন্তর্জাতিক স্তরের ব্যাটারের সঙ্গে ঘটে। কিন্তু আপনি আলাদা এবং আপনি যেভাবে আউট হন এবার সেটা একেবারেই আলাদা। আপনি রানে ফিরবেন আমরা নিশ্চিত। আমাদের থেকে আপনি নিজের ওপর বেশি বিশ্বাস রাখুন।

এপ্রিল ২৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আবার ব্যর্থ কোহলি, ৯ উইকেটে লজ্জার হার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের

খুব খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন বিরাট কোহলি। আবার প্রথম বলে আউট। শুধু কোহলিই নন, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বোলারদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই পারলেন না রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের ব্যাটাররা। গুটিয়ে গেল মাত্র ৬৮ রানে। ৮ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে সহজ জয় সানরাইজার্সের। ৯ উইকেটে হেরে লিগ টেবিলে চার নম্বরে নেমে এল ফাফ ডুপ্লেসির দল। এদিন, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধেও প্রথম বলে আউট হলেন বিরাট কোহলি। পরপর দুই ম্যাচে। আর আইপিএলের ইতিহাসে এই নিয়ে পঞ্চমবার। এদিন আউট হওয়ার পরপরই সোশষ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে নানা রকম কটাক্ষ। কেউ হাঁসের সঙ্গে ছবি দিয়ে লিখেছেন, এক বলের কাস্টমার। এদিন টস জিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে ব্যাট করতে পাঠান সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ইনিংসে। দ্বিতীয় বলেই অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসির অফ স্টাম্প ছিটকে দেন মার্কো জানসেন। ৭ বলে তিনি করেন মাত্র ৫ রান। এরপর ক্রিজে আসেন বিরাট কোহলি। জানসেনের ১৪০ কিমি গতিতে ধেয়ে আসা বল অফ স্টাম্পে পড়ে হালকা সিম করে কোহলির ব্যাটের কানা ছঁুয়ে জমা হয় দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা এইডেন মার্করামের হাতে। আবার শূন্য রানে আউট বিরাট কোহলি। এই নিয়ে পঞ্চম বার গোল্ডেন ডাকএর শিকার কোহলি। ২০০৮ সালে প্রথম আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে আশিস নেহরার বলে আউট হয়েছিলেন। ২০১৭ আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ইডেনে প্রথম বলেই আউট হয়েছিলেন কোহলি। সেই দিনটাও ছিল ২৩ এপ্রিল। আজও ২৩ এপ্রিল গোল্ডেন ডাকএর শিকার কোহলি। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে আবার ধাক্কা খায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। এবার অনুজ রাওয়াতকে (০) তুলে নেন জানসেন। দ্বিতীয় ওভারে ৩ উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলাতে পারেনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। পঞ্চম ওভারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে তুলে নেন নটরাজন। মিড অফে দুরন্ত ক্যাচ ধরেন কেন উইলিয়ামসন। ১১ বলে ১২ রান করেন ম্যাক্সওয়েল। এরপর মিছিল শুরু হয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সে। শাহবাজ আমেদ (৭) থেকে শুরু করে দীনেশ কার্তিক (০), হর্ষাল প্যাটেল (৪), ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (৮), সবাই ব্যর্থ। সর্বোচ্চ রান করেন সু্য়াস প্রভুদেশাই। ২০ বলে তিনি করেন ১৫। ম্যাক্সওয়েল ও তিনি ছাড়া রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের আর কোনও ব্যাটার দুঅঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে দুরন্ত বোলিং করেন মার্কো জানসেন, টি নটরাজন। ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন জানসেন, আর ১০ রানে ৩ উইকেট নেন নটরাজন। জয়ের জন্য ৬৯ রানের লক্ষ্য মোটেই কঠিন ছিল না সানরাইজার্সের কাছে। শুধু এটাই দেখার ছিল, কত দ্রুত জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। অভিষেক শর্মা ও কেন উইলিয়ামসন কোনও সুযোগই দেননি মহম্মদ সিরাজ, জস হ্যাজেলউডদের। ওপেনিং জুটিতে অভিষেক ও উইলিয়ামসন তুলে ফেলেন ৬৪। হর্ষাল প্যাটেলের বলে অভিষেক আউট হন। ২৮ বলে তিনি করেন ৪৭। উইলিয়ামসন ১৭ বলে ১৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৮ ওভারে ৭২/১ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় সানরাইজার্স।

এপ্রিল ২৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

কোহলির অন্ধ ভক্ত ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার হ্যারি কেন!‌ কেন জানেন?‌

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন বিরাট কোহলির অন্ধ ভক্ত! হ্যাঁ, অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটাই বাস্তব। আর বিরাট কোহলির জন্যই তিনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের সমর্থক হয়ে পড়ছেন। বিরাট কোহলির সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখাও হয়েছে হ্যারি কেনের। কথাও হয়েছে। কোহলির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করছেন হ্যারি কেন।গত বছর রয়্যাল চ্যালেঞ্জাস ব্যাঙ্গালোরের ব্যর্থতায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন হ্যারি কেন। এবছর ফাফ ডুপ্লেসির দল যেভাবে এগোচ্ছে, হ্যারি কেনের বিশ্বাস চলতি আইপিএলে ভাল কিছু করবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। নিয়মিত আইপিএলে খোঁজ খবর রাখেন টটেনহাম হটস্পারের এই তারকা ফরোয়ার্ড। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের খেলা থাকলে তো কোনও কথাই নেই। সময় পেলেই বসে যান টিভির সামনে। স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইপিএলে তাঁর প্রিয় দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর সম্পর্কে হ্যারি কেন বলেন, আমি বিরাট কোহলির দারুণ ভক্ত। তাই আমার দল আরসিবি। বিরাট কোহলির সাথে কয়েকবার দেখা করার এবং তার সাথে কথা বলার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর এবছর বেশ কয়েকজন ভাল ক্রিকেটারকে দলে নিয়েছে। গত বছরটা ওদের কাছে দুর্ভাগ্যজনক ছিল। কিন্তু এই বছর তারা সঠিক ভাবে এগোচ্ছে। ভাল শুরু করেছে। এবছর আইপিএলে বেশ কয়েকটা দারুণ কিছু দল আছে। আমি তাদের সবার খেলা দেখতে পছন্দ করি। তবে আশা করি আরসিবি এববছর ভাল ফল করবে। বিরাট কোহলির ব্যাটিং নিয়েও কথা বলেছেন হ্যারি কেন। কোহলির ব্যাটিংয়ের যে তিনি দারুণ অনুরাগী, সেকথাও উল্লেখ করেছেন। হ্যারি কেন বলেন, আমরা ক্রিকেট খেলাটা দারুণ উপভোগ করি। এখন আইপিএলের খেলা উপভোগ করছি। বিরাটের ব্যাটিং অবিশ্বাস্য। মানুষ হিসেবেও দারুণ। একজন সত্যিকারের মাটির মানুষ। যখন ওর ব্যাটিং দেখি, যেভাবে আবেগে জ্বলে ওঠে যা দেখতে দারুণ লাগে। হ্যারি কেন যতই বিরাট কোহলিকে নিয়ে আবেগে ভেসে যান না কেন, চলতি আইপিএলে ব্যর্থতা চলছেই। শনিবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে আবার গোল্ডেন ডাক কোহলির।

এপ্রিল ২৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

১৪ বার শূন্য!‌ আইপিএলে এক কী লজ্জার রেকর্ড রোহিত শর্মার!‌

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে ৮ বছর নেতৃত্ব দিয়ে ট্রফি জেতাতে পারেননি বিরাট কোহলি। আইপিএলের ইতিহাসে একজন অধিনায়কের কাছে সত্যিই চরম লজ্জার ব্যাপার। তবে তাঁকেও ছাপিয়ে আরও লজ্জার রেকর্ড গড়লেন রোহিত শর্মা। আইপিএলের ইতিহাসে সবথেকে বেশিবার শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ড করলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক। এদিন চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে শূন্য রানে আউট হন রোহিত শর্মা। আইপিএলে এই নিয়ে তিনি ১৪ বার শূণ্য রানে আউট হলেন। এর আগে কোনও ক্রিকেটার ১৪ বার শূন্য রানে আউট হননি। ১৩ বার করে শূন্য রানে আউট হয়েছেন ৬ জন ক্রিকেটার। এই ৬ ক্রিকেটার হলেন হরভজন সিং, পার্থিব প্যাটেল, পীযূষ চাওলা, মনদীপ সিং, অজিঙ্কা রাহানে ও অম্বাতি রায়ুডু। গৌতম গম্ভীর, দীনেশ কার্তিক ও মণীশ পান্ডে ১২ বার করে শূন্য রানে আউট হয়েছেন। ১১ বার শূন্য করেছেন মাত্র একজনই ক্রিকেটার। তিনি হলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ১০ বার করে শূন্য রানে আউট হয়েছেন ৩ ক্রিকেটার। এরা হলেন অমিত মিশ্র, সুনীল নারাইন ও শিখর ধাওয়ান। বৃহস্পতিবার চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ৬ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। একটাও জয় পায়নি। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ রোহিত শর্মা। তাঁর ব্যাটে রান নেই। চলতি আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচ ধরে ৭ ম্যাচে রোহিতের সংগ্রহ ১১৪ রান। একটাও হাফ সেঞ্চুরি নেই। সর্বোচ্চ ৪১। গড় ১৬.২৮। স্ট্রাইক রেট ১২৯.৫৪। বিরাট কোহলির অবস্থাও রোহিত শর্মার মতো। ৭ ম্যাচে ১১৯। গড় ১৯.৮৩। রোহিতের মতো কোহলিরও একটাও হাফ সেঞ্চুরি নেই। সর্বোচ্চ ৪৮। স্ট্রাইক রেন ১২৩.৯৫। ভারতীয় দলের বর্তমান ও প্রাক্তন অধিনায়কের আইপিএলে ব্যর্থতায় সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম ছড়িয়ে পড়ছে। নেট নাগরিকরা দুজনকেই আইপিএল থেকে সাময়িক বিশ্রাম নিতে বলেছেন। শুধু নেট নাগরিকরাই নন, ভারতীয় দলের প্রাক্তন হেড স্যার রবি শাস্ত্রীও বিরাট কোহলিকে দীর্ঘ বিশ্রামে যাওয়ার কথা বলেছেন। এখন দেখার এই দুই ব্যাটার ফর্ম ফেরাতে বিশ্রামে যান কিনা।

এপ্রিল ২১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

লখনউকে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স

লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ১৮ রানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। জয়ের জন্য ১৮২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান তোলে লোকেশ রাহুলের দল।টস জিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোরকে ব্যাট করতে পাঠান লখনউ অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। প্রথম ওভারেই ধাক্কা। দীর্ঘদিন ব্যাটে বড় রান নেই। বিরাট কোহলির দিকে তাকিয়ে ছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স সমর্থকরা। ভেবেছিলেন লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে বড় রান আসবে প্রাক্তন অধিনায়কের ব্যাট থেকে। সমর্থকদের হতাশ করলেন কোহলি (০)। ক্রিজে নেমেই দুষ্মন্ত চামিরার বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দীপক হুডার হাতে যেন ক্যাচ প্র্যাকটিস দিলেন। গোল্ডেন ডাক বিরাট কোহলির। ৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স।অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসির সঙ্গে চাপ কাটানোর চেষ্টা করছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ক্রিজে নেমেই আক্রমণ শানিয়ে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বোলারদের ওপর পাল্টা চাপ শানানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁর ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্রূণাল পান্ডিয়ার বলে দুরন্ত ক্যাচ ধরে ম্যাক্সওয়েলকে (১১ বলে ২৩) ডাগ আউটে পাঠান জেসন হোল্ডার। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেটে ৪৭ তোলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর।এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসি। তাঁকে সাহায্য করেন শাহবাজ আমেদ। ২২ বলে ২৬ রান করে রান আউট হন শাহবাজ। সুয়াশ প্রভুদেশাই ৯ বলে ১০ রান করে আউট হন। নিশ্চিত সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন ডুপ্লেসি। ইনিংসের শেষ ওভারে জেসন হোল্ডারের পঞ্চম বলে ৬ মারতে গিয়ে মার্কাস স্টয়নিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ডুপ্লেসি। ৬৪ বলে ৯৬ রান করেন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮১ রান তোলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর। দীনেশ কার্তিক ৮ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। লখনউর হয়ে ২৫ রানে ২ উইকেট নেন জেসন হোল্ডার। ৩১ রানে ২ উইকেট নেন দুষ্মন্ত চামিরা। জয়ের জন্য ১৮২ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টসেরও শূরুটা ভাল হয়নি। ৮ ওভারের মধ্যেই ৬৪ রানে ৩ উইকেট হারায়। তৃতীয় ওভারে জস হ্যাজেলউডের বলে ফিরে যান কুইন্টন ডিকক। মাত্র ৩ রান করেন তিনি। এক ওভার পরেই মনীশ পাণ্ডেকেও (৬) তুলে নেন হ্যাজেলউড। এরপর দলকে টানছিলেন অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। কিন্তু অষ্টম ওভারের শেষ বলে তাঁকে তুলে নিয়ে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে বড় ধাক্কা দেন হর্ষল প্যাটেল। ২৪ বলে ৩০ রান করেন লখনউ সুপার জায়ান্টস অধিনায়ক। ১২.৩ ওভারের মাথায় চতুর্থ উইকেট পড়ে লখনউ সুপার জায়ান্টসের। দীপক হুডাকে ফেরান মহম্মদ সিরাজ। ১৪ বলে ১৩ রান করে প্রভুদেশাইয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন হুডা। পরের ওভারেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকে ক্রুনাল পান্ডিয়াকে (২৮ বলে ৪২) তুলে নিয়ে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে চাপে ফেলে দেন ম্যাক্সওয়েল। আয়ুশ বাদনি (১৩), মার্কস স্টয়নিস (২৪), জেসন হোল্ডাররা (১৬) সেই চাপ থেকে দলকে বার করে নিয়ে আসতে পারেননি। ১৬৩/৮ রানে থেমে যায় লখনউ সুপার জায়ান্টস। দুরন্ত বল করে ২৫ রানে ৪ উইকেট নেন হ্যাজেলউড।

এপ্রিল ২০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

কোহলির ব্যাটে রান নেই, মিমের বন্যা

দীর্ঘদিন ব্যাটে বড় রান নেই। বিরাট কোহলির দিকে তাকিয়ে ছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স সমর্থকরা। ভেবেছিলেন লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে বড় রান আসবে প্রাক্তন অধিনায়কের ব্যাট থেকে। সমর্থকদের হতাশ করলেন কোহলি (০)। ক্রিজে নেমেই দুষ্মন্ত চামিরার বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দীপক হুডার হাতে যেন ক্যাচ প্র্যাকটিস দিলেন। গোল্ডেন ডাক বিরাট কোহলির।আইপিএলে এই নিয়ে চতুর্থবার গোল্ডেন ডাক কোহলির নামের পাশে। ২০০৮ আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে প্রথম বলে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে আবার গোল্ডেন ডাক। এরপর ২০১৭ আইপিএলে ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে আরসিবি গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ৪৯ রানে। পাঁচ বছর পর আবার গোল্ডেন ডাক কোহলির। কোহলি আউট হওয়ার আগের বলেই অনুজ রাওয়াতকে (৪) তুলে নিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সকে প্রথম ধাক্কা দিয়েছিলেন দুষ্মন্ত চামিরা। প্রথম ওভারেই ৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর।৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট করে নিয়ে এদিন মাঠে নেমেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর ও লখনউ সুপার জায়ান্টস। দুই দলেরই সামনে ছিল লিগ টেবিলের শীর্ষে ওঠার হাতছানি। টস জিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোরকে ব্যাট করতে পাঠান লখনউ অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। ওভারেই ধাক্কা। অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসির সঙ্গে চাপ কাটানোর চেষ্টা করছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ক্রিজে নেমেই আক্রমণ শানিয়ে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বোলারদের ওপর পাল্টা চাপ শানানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁর ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্রূণাল পান্ডিয়ার বলে দুরন্ত ক্যাচ ধরে ম্যাক্সওয়েলকে (১১ বলে ২৩) ডাগ আউটে পাঠান জেসন হোল্ডার। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেটে ৪৭ তোলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর।এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসি। তাঁকে সাহায্য করেন শাহবাজ আমেদ। ২২ বলে ২৬ রান করে রান আউট হন শাহবাজ। সুয়াশ প্রভুদেশাই ৯ বলে ১০ রান করে আউট হন। নিশ্চিত সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন ডুপ্লেসি। ইনিংসের শেষ ওভারে জেসন হোল্ডারের পঞ্চম বলে ৬ মারতে গিয়ে মার্কাস স্টয়নিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ডুপ্লেসি। ৬৪ বলে ৯৬ রান করেন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮১ রান তোলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর। দীনেশ কার্তিক ৮ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। লখনউর হয়ে ২৫ রানে ২ উইকেট নেন জেসন হোল্ডার। ৩১ রানে ২ উইকেট নেন দুষ্মন্ত চামিরা।

এপ্রিল ১৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দিল্লির বিরুদ্ধে জয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের, তবু দাবি উঠল কোহলি হঠাও

বিরাট কোহলিকে তাহলে আর অপরিহার্য বলা যাবে না। তিনি রান না পেলেও যে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর যে জেতে, প্রমাণ হয়ে গেল। শুধু দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধেই নয়, চলতি আইপিএলে আগেও কোহলির ব্যর্থতার দিনে জিতেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। কোহলিপ্রেমীরা এতটাই হতাশ যে, কয়েকটা ম্যাচ বিশ্রাম নেওয়ার দাবিও তুলেছেন নেট নাগরিকরা। কেউ কেউ আবার দাবি তুলেছেন, কোহলি হঠাও।কোহলি রান না পেলেও বড় ইনিংস গড়তে সমস্যা হয়নি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের। এদিন দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ১৮৯/৫ রান তোলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। ১৭৩/৭ রানে থেমে যায় দিল্লি। দিল্লির পরাজয় ১৬ রানে।এদিন, আইপিএলে মাইলস্টোনের ছড়াছড়ি। প্রথম লখনউ সুপার জায়ান্টস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচে আইপিএলে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন লোকেশ রাহুল। তেমনই দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে শততম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। মহম্মদ সিরাজের কাছে আবার আইপিএলের পঞ্চাশতম ম্যাচ। লোকেশ রাহুলের মতো শততম ম্যাচ স্মরণীয় করতে রাখতে পারলেন না গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তবে তাঁর ব্যাটেই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর। আর শেষদিকে ঝড় তুলে দলকে বড় রানে পৌঁছে দেড় দীনেশ কার্তিক।Some well deserved awards after a memorable game. 🔝👏🏻👏🏻#PlayBold #WeAreChallengers #IPL2022 #Mission2022 #RCB #ನಮ್ಮRCB #DCvRCB pic.twitter.com/XeuhdE1cCm Royal Challengers Bangalore (@RCBTweets) April 16, 2022টস জিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি ক্যাপিটালস অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। প্রথম একাদশে দুটি দলই একটা করে পরিবর্তন করে মাঠে নামে। সরফরাজ খানের জায়গায় দিল্লির প্রথম একাদশে ঢোকেন মিচেল মার্শ। অন্যদিকে, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সে আকাশ দীপের জায়গায় হর্ষাল প্যাটেল। বোনের মৃত্যুর জন্য জৈব সুরক্ষা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন হর্ষাল। ফিরে এসে আবার জৈব সুরক্ষা বলয়ে যোগ দেন ১১ এপ্রিল। তিন দিনের কোয়ারেন্টিন পর্ব মিটিয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে মাঠে নামেন।ব্যাট করতে নেমে শুরুটা এদিন ভাল হয়নি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের। দ্বিতীয় ওভারে ফর্মে থাকা অনূজ রাওয়াতকে (০) তুলে নেন শার্দূল ঠাকুর। পরের ওভারেই অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসিকে ফেরান খলিল আমেদ। ১১ বলে ৮ রান করে ডু্প্লেসি অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স সবথেকে বড় ধাক্কা খায় সপ্তম ওভারে। ললিত যাদবের দুরন্ত থ্রোতে রান আউট হন বিরাট কোহলি। ১৪ বলে তিনি করেন ১২।এরপরই রুখে দাঁড়ান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। রীতিমতো তিনি ঝড় তোলেন কুলদীপ যাদবের এক ওভারে নেন ২৩। কুলদীপের বলেই অবশ্য তাঁকে ফিরতে হয়। ৩৪ বলে ৫৫ রান করে তিনি ললিত যাদবের হাতে ক্যাচ দেন। অক্ষর প্যাটেলের বলে আউট হন সুয়াস প্রভুদেশাই (৬)। এরপর বাইশ গজে তান্ডবলীলা চালান দীনেশ কার্তিক। মুস্তাফিজুর রহমানের এক ওভারে চারটি ৪ ও দুটি ছক্কাসহ নেন ২৮। ২৬ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন দীনেশ কার্তিক। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ৬৬ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে তিনি অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৫টি করে ৬ ও ৪। শাহবাজ আমেদ ২১ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন।জয়ের জন্য ১৯০ রানের লক্ষ্য খুব একটা সহজ ছিল না দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে। দারুণ শুরু করেছিসলেন দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও পৃথ্বী শ। ওপেনিং জুটিতে ৪.৩ ওভারে ৫০ রান পূর্ণ হয়। এরপরই মহম্মদ সিরাজের ধাক্কা। তুলে নেন পৃথ্বীকে (১৩ বলে ১৬)। ওয়ার্নারের ঝড় অবশ্য থামানো যায়নি। ২৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলেও পরপর দুই ম্যাচে দিল্লিকে নির্ভরতা দিলেন ওয়ার্নার। দলকে ভালোই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন এই অসি ওপেনার। হাসারাঙ্গার বলে এলবিডব্লু হতেই সমস্যায় পড়ে দিল্লি। ৪টি চার ও ৬টি ছয়ের সাহায্যে ৩৮ বলে ৬৬ রান করে আউট হন ওয়ার্নার। দিল্লির হয়ে অভিষেক ম্যাচও স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না মিচেল মার্শ (২৪ বলে ১৪)। হাসারাঙ্গার দুরন্ত থ্রোতে রান আউট। রভম্যান পাওয়েল (০), ললিত যাদবরা (১) দ্রুত ফেরায় চাপে পড়ে যায় দিল্লি। অধিনায়ক ঋষভ পন্থ (১৭ বলে ৩৪) ঝড় তোলার চেষ্টা করেও সফল হননি। শার্দূল ঠাকুর করেন ১৭। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ২৯ রানে ৩ উইকেট নেন জস হ্যাজেলউড। ৩১ রানে ২ উইকেট সিরাজের।

এপ্রিল ১৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

কোহলিদের বিরুদ্ধে নামার আগে কেন আত্মবিশ্বাসী চেন্নাই সুপার কিংস?‌

আইপিএলের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সবথেকে বেশি সাফল্য পেয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। অথচ এই দুটি দলই এই মরশুমে এখনও একটা ম্যাচেও জয় পায়নি। টানা ৪ ম্যাচে হার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংসের। মঙ্গলবার রয়াল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের মুখোমুখি হচ্ছে রবীন্দ্র জাদেজার দল। প্রথম জয়ের দিকে তাকিয়ে চেন্নাই টিম ম্যানেজমেন্ট। যদিও কাজটা যথেষ্ট কঠিন। কারণ এই মুহূর্তে দারুণ ছন্দে রয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে চেন্নাই টিম ম্যানেজমেন্ট অবশ্য আশাবাদী। চেন্নাই শিবিরকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে তাদের পরিসংখ্যান। আইপিএল এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে চেন্নাই সুপার কিংস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের ২৯ বার মুখোমুখি হয়েছে। এরমধ্যে ১৯টি ম্যাচে জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস। আর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর জিতেছে ৯ টি ম্যাচে। একটা ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। ২০১৯ ও ২০২০ আইপিএলে দুটি দলই একটা করে ম্যাচ জিতেছিল। গতবছর অবশ্য দুটি সাক্ষাৎকারেই জিতেছিল চেন্নাই সুপার কিংস। পরিসংখ্যান চেন্নাই সুপার কিংসের দিকে থাকলেও মঙ্গলবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরই ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামবে। কারণ চলতি আইপিএলে টানা ৩ ম্যাচ জিতে দারুণ ছন্দে রয়েছে ফাফ ডুপ্লেসির দল। বলতে গেলে মঙ্গলবার একপ্রকার মরণবাঁচন ম্যাচ খেলতে নামছে চেন্নাই সুপার কিংস। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে হারলেই প্লে অফে ওঠার কাজ কঠিন হয়ে যাবে রবীন্দ্র জাদেজাদের কাছে। এর আগেও যে চেন্নাই টানা ৪ ম্যাচে হারেনি, এমন নয়। ২০১০ আইপিএলেও টানা ৪ ম্যাচ হেরেছিল ধোনি ব্রিগেড। তবে সেবার প্রথম ৪ ম্যাচে হারতে হয়নি। এবছর টানা ৪ ম্যাচ হেরে দলের আত্মবিশ্বাস যে তলানিতে পৌঁছেছে, মেনে নিয়েছেন চেন্নাই সুপার কিংসের হেড কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং। তিনি মনে করছেন, ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, কোনও বিভাগেই ক্রিকেটাররা পরিকল্পনার সঠিক প্রয়োগ ঘটাতে পারেননি। চেন্নাই সুপার কিংসের সবথেকে বড় সমস্যা অধিনায়ক রবীন্দ্র জাদেজা সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ। ব্যাটাররাও সেভাবে জ্বলে উঠতে পারছেন না। বোলিংয়ে দীপক চাহারের অভাব প্রতিটা ম্যাচেই ফুটে উঠেছে। ক্রিস জর্ডন, অ্যাডাম মিলনে, শিবম দুবে, স্যান্টনাররা দলকে ভরসা দিতে পারেননি। ব্যাটিংয়েও ধারাবাহিকতার অভাব। সবথেকে বড় চিন্ত ওপেনার ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের ফর্ম। অন্যদিকে, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের ব্যাটিং গভীরতা অনেক বেশি। ম্যাক্সওয়েল যোগ দেওয়ায় শক্তি আরও বেড়েছে। বোলাররাও দারুণ ছন্দে রয়েছেন। ফলে চেন্নাইয়ের কাছে জয় তুলে নেওয়া সম্ভব হবে না।

এপ্রিল ১১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আবার ব্যর্থ বিরাট কোহলি, ভারতের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টেও জয়ের পথে ভারত। ভারতের ২৫২ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১০৯ রানে। প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩০৩ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করে ভারত। জয়ের জন্য ৪৪৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিনের শেষে শ্রীলঙ্কা তুলেছে ২৮/১।আগের দিনের ৬ উইকেটে ৮৬ রান হাতে নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে শ্রীলঙ্কা। তাদের ইনিংস যে দীর্ঘস্থায়ী হবে না, প্রথম দিনেই বোঝা গিয়েছিল। দিনের তৃতীয় ওভারে বুমরার বলে ঋষভ পন্থের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন লসিথ এম্বুলডেনিয়া। ৯৫ রানের মাথায় শ্রীলঙ্কার সপ্তম উইকেটের পতন হয়। অষ্টম ও নবম উইকেট পড়ে ১০০ রানে। ৩৪তম ওভারে অশ্বিনের বলে সুরঙ্গা লাকমল (৯) বোল্ড হন। পরের ওভারেই ডিকওয়েলাকে (২১) তুলে নেন যশপ্রীত বুমরা। ৮ রান করে অশ্বিনের বলে স্টাম্পড হন বিশ্ব ফার্নান্দো। মাত্র ৩৫.৫ ওভারে ১০৯ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস। যশপ্রীত বুমরা ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন। দেশের মাটিতে এক ইনিংসে এই প্রথম ৫ উইকেট পেলেন বুমরা। অশ্বিন ও সামি ২টি করে উইকেট নেন।১৪৩ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ভাল শুরু করেছিল ভারত। ওপেনিং জুটিতে ১০ ওভারে ওঠে ৪২। এরপরই ধাক্কা খায় ভারত। এম্বুলডেনিয়ার বলে আউট হন মায়াঙ্ক আগরওয়াল (২২)। অর্ধশতরানের আগে ফেরেন রোহিত শর্মা (৪৬)। ধনঞ্জয় ডিসিলভার বলে তিনি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের হাতে ক্যাচ দেন। ১১৬ রানের মাথায় আউট হন হনুমা বিহারী (৩৫)। জয়বিক্রমাকে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। বিরাট কোহলি আবার ব্যর্থ। ১৬ বলে মাত্র ১৩ রান করে তিনি জয়বিক্রমার নীচু হয়ে যাওয়া বলে এলবিডব্লু হন।কোহলি ফিরে যাওয়ার পর ভারতের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন ঋষভ পন্থ ও শ্রেয়স আয়ার। এই জুটিই ভারতকে ৩০০ রানের লিড এনে দেন। ৩১ বলে ৫০ রান করে আউট হন ঋষভ। ৮৭ বলে ৬৭ রান করেন শ্রেয়স। জাদেজা করেন ২২। অশ্বিন ১৩। ৯ উইকেটে ৩০৩ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করে ভারত। শ্রীলঙ্কার হয়ে জয়বিক্রমা ৭৮ রানে ৪টি ও এম্বুলডেনিয়া ৮৭ রানে ৩ উইকেট নেন।জয়ের জন্য ৪৪৭ রানে লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই লাহিরু থিরিমানেকে (০) তুলে নেন যশপ্রীত বুমরা। দ্বিতীয় দিনের শেষে শ্রীলঙ্কা তুলেছে ১ উইকেটে ২৮। হার বাঁচাতে শ্রীলঙ্কার এখনও চাই ৪১৯। যা অসম্ভব এই শ্রীলঙ্কা দলের পক্ষে।

মার্চ ১৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌শততম টেস্টের মাইলস্টোনের সামনে দাঁড়িয়ে এ কী কথা বললেন কোহলি!‌

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেই খেলা হয়ে যেত জীবনের শততম টেস্ট। চোটের জন্য সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ানোয় মাইলস্টোনে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি বিরাট কোহলির। অবশেষে শুক্রবার মোহালিতে আসছে সেই স্মরণীয় মুহূর্ত। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলতে নামছেন জীবনের শততম টেস্ট। ক্রিকেটজীবনের এই মাইলস্টোনের সামনে এসে দাঁড়িয়ে আপ্লুত কোহলি। অপেক্ষায় রয়েছেন কখন আসবে সেই সোনালী মুহূর্ত।জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর দিনও কোহলি ভাবেননি দেশের হয়ে ১০০ টেস্ট খেলতে পারবেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ওয়েবসাইটে এক সাক্ষাৎকারে কোহলি বলেন, দেশের হয়ে খেলাটাই আমার কাছে স্বপ্ন ছিল। ভাবিনি কোনও দিন ১০০ টেস্ট খেলতে পারব। ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকায় খেলতে পারছি। শততম টেস্ট যে শেষ পর্যন্ত খেলতে পারছি, তার জন্য আমি আপ্লুত। নিজের ফিটনেসের ওপর জোর দিয়েছি। এটা আমার পরিবার, কোচের কাছে গর্বের মুহূর্ত। প্রত্যেকে আমার জন্য খুশি এবং গর্বিত। কোহলি আরও বলেন, কী পাব, কী পাব না, তা নিয়ে কখনও ভাবিনি। সামনে যে সুযোগ এসেছে, সেটাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। বরাবরই লক্ষ্য থাকত বড় রান করার। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার আগে জুনিয়র ক্রিকেটে আমার ৭৮টা প্রচুর দ্বিশতরান ছিল। কখনও ছোট ইনিংস খেলার কথা ভাবিনি, যত বেশি সময় সম্ভব ব্যাট করতে চাইতাম। টেস্ট ক্রিকেটকেই আসল ক্রিকেট মনে করেন কোহলি। তাঁর মতে, ক্রিকেটারের দক্ষতা, প্রতিভার বিচার হয় টেস্ট ক্রিকেটেই। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরির কথা আজও চোখের সামনে ভাসছে কোহলির। তাঁর কথায়, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওদের মাটিতেই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলাম। ওই দিনটারস কথা আমার কাছে সারাজীবন মনে থাকবে। আমার মতো একজন তরুণ ক্রিকেটারকে ওই সেঞ্চুরি অনেকটাই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। ওই টেস্টের পর থেকেই আমি খেলায় আরও উন্নতি করতে শুরু করি। আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। টেস্ট ক্রিকেট খেলার জন্য অনেক পরিশ্রমও করতে হয়েছে বলে দাবি করেন কোহলি। তাঁর কথায়, হঠাৎ করে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে শুরু করিনি। এরজন্য আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট বাঁচিয়ে খেলাটাকে উপভোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেছি বরাবর। টেস্ট ক্রিকেটের জন্য নিজের আত্মা এবং হৃদয় সমর্পণ করেছি।

মার্চ ০৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌বাবার মৃত্যু সংবাদ শুনেও লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যাননি কোহলি

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মোহালিতে শততম টেস্ট খেলতে নামছেন বিরাট কোহলি। তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই দীর্ঘ পথে বরাবরই দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছেন। যা রনজি খেলার সময়ও দেখা গিয়েছিল। দিল্লি রনজি দলের সতীর্থ পুনিত বিস্তের মুখে শোনা গেছে সেই দায়বদ্ধতার গল্প। বাবার মৃত্যু সংবাদ শুনেও লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যাননি। বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন দলের জন্য। প্রত্যয়ী মানসিকতা নিয়ে। ২০০৬ সালের দিল্লি বনাম কর্ণাটক রনজির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ চলছিল। সবে তখন ১৭ বছর বয়স বিরাট কোহলির। ততদিনে জায়গা করে নিয়েছেন দিল্লি রনজি দলে। কর্ণাটক ম্যাচ চলাকালীন দ্বিতীয় দিন রাতে মারা গিয়েছিলেন কোহলির বাবা প্রেম। তৃতীয় দিন সকালে দিল্লি ড্রেসিংরুমে সকলেই শোকে বিহ্বল। থমথমে পরিবেশ। কোচ চেতন চৌহান থেকে শুরু করে অধিনায়ক মিঠুন মানহাস, সকলেই কোহলিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য। কারও কথা শোনেননি কোহলি। ব্যাট করতে যাওয়ার জন্য ড্রেসিংরুমের এককোণে দাঁড়িয়ে তৈরি হচ্ছিলেন। দলের প্রতি কোহলির সেই দায়বদ্ধতার কথা আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে পুনিত বিস্তের। কোহলির শততম টেস্ট খেলতে নামার প্রাক্কালে সেদিনের ঘটনার কথা স্মরণ করে পুনিত বলেন, তৃতীয় দিন সকালে আমার ও কোহলির ব্যাট করতে নামার কথা। আগের দিন রাতে কোহলির পিতৃবিয়োগ হয়েছে। কোচ চেতন চৌহান, অধিনায়ক মিঠুন মানহাস, দলের বাকিরা কোহলিকে বারবার বুঝিয়েছিল বাড়ি ফিরে গিয়ে এই শোকের পরিবেশে পরিবারের পাশে থাকার জন্য। কিন্তু কোহলি কারও কথা শোনেনি। ওর পরিকল্পনা ছিল অন্য। কোহলি চায়নি একজন ব্যাটারকে হারিয়ে দল বিপদে পড়ুক। আমার সঙ্গে ব্যাট করতে নেমেছিল। এখনও ভাবলে অবাক হই, কতটা মনের জোর থাকলে ওইরকম পরিস্থিতিতে মাঠে নামা যায়। ব্যাট করতে নেমে পুনিতের সঙ্গে জুটিতে ১৫২ রান তুলেছিলেন কোহলি। মাত্র ১০ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছিলেন তিনি। আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছিলেন কোহলি। পুনিত বিস্ত সেই ইনিংসে করেছিলেন ১৫৬। পুনিতের মতে কোহলির ওই ইনিংস চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ওই রকম মানসিক পরিস্থিতিতে কোহলিকে ব্যাট করতে পাঠানো ঠিক হবে কিনা, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু মাঠে নেমে দাপটের সঙ্গে ব্যাট করেছিল কোহলি। শোককে পেছনে ফেলে প্রত্যয়ী হয়ে উঠেছিল। আমি ওকে সান্তনা দেব কী, কোহলিই আমাকে বারবার বলছিল, আউট হওয়া চলবে না, লম্বা ইনিংস খেলতে হবে।

মার্চ ০১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌কোহলির ওপর চাপ বাড়ালেন শ্রেয়স, শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইট ওয়াশ ভারতের

বিরাট কোহলির ওপর কি চাপ বাড়িয়ে দিলেন নাইট রাইডার্সের নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার? টি২০ ক্রিকেট থেকে দিন দশেকের বিশ্রাম নিয়েছেন বিরাট কোহলি। তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়েই জ্বলে উঠলেন শ্রেয়স আয়ার। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিনটি ম্যাচেই অর্ধশতরান। তাঁর দাপটেই সিরিজের তৃতীয় টি২০ ম্যাচেও জিতল ভারত। ৬ উইকেটে হারাল শ্রীলঙ্কাকে। নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর শ্রীলঙ্কাকেও টি২০ সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ ভারতের। একই সঙ্গে টানা ১২টি টি২০ ম্যাচ জিতে আফগানিস্তান ও রোমানিয়ার বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করল ভারত। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শনকা। আবেশ খান ও মহম্মদ সিরাজের দাপটে শুরুতেই বেসামাল হয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার। প্রথম ওভারেই মহম্মদ সিরাজ তুলে নেন দানুষ্কা গুণতিলকাকে (০)। পরের ওভারেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ১০ বলে ১ রান করে আবেশ খানের বলে ভেঙ্কটেশ আয়ারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন পাথুম নিসাঙ্কা। চতুর্থ ওভারে তৃতীয় উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কায চরিথ আসালঙ্কাকে (৪) তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে বেকায়দায় ফেলে দেন আবেশ খান। ২৯ রানে শ্রীলঙ্কার চতুর্থ উইকেটের পতন। নবম ওভারে জানিথ লিয়ানাগেকে (৯) তুলে নেন রবি বিষ্ণোই। ১২.১ ওভারে দীনেশ চান্দিমল (২৭ বলে ২২) আউট হলে শ্রীলঙ্কার স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৬০। এরপর শ্রীলঙ্কাকে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক দাসুন শনাকা। ২৯ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৭৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। মারেন ৯টি চার ও ২টি ছয়। করুণারত্নে ১৯ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ১৪৬/৫। ভারতের যা ব্যাটিং শক্তি, এই রান তুলতে সমস্যা হওয়ার কথা ছিল না। শুরুতে রোহিত শর্মা ফিরে গেলেও সমস্যায় পড়তে হয়নি। ৯ বলে মাত্র ৫ রান করে দুষ্মন্ত চামিরার বলে আউট হন রোহিত। এই নিয়ে ৬ বার চামিরার শিকার হলেন ভারতীয় অধিনায়ক। ঈশান কিশান চোটের জন্য ছিটকে যাওয়ায় রোহিতের সঙ্গে এদিন ওপেন করতে নেমেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। সঞ্জুও (১২ বলে ১৮) বড় রান করতে পারেননি। দীপক হুডা ১৬ বলে ২১ রান করে আউট হন। ভেঙ্কটেশ আয়ারও (৫) ব্যর্থ। এরপর ভারতকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন শ্রেয়স আয়ার ও রবীন্দ্র জাদেজা। ৪৫ বলে ৭৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে চলতি সিরিজে তিনি ২০৪ রান করলেন। তিন ম্যাচের টি২০ আন্তর্জাতিক সিরিজে বিরাট কোহলির সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এদিন ভেঙে দিলেন শ্রেয়স। তিনটি চারের সাহায্যে ১৫ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন রবীন্দ্র জাদেজা। ১৬.৫ ওভারে ১৪৮/৪ তুলে ম্যাচ জিতে যায় ভারত।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আত্মবিশ্বাসের অভাব কোহলির?‌ রোহিত কী উত্তর দিল দেখুন

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে চূড়ান্ত ব্যর্থ বিরাট কোহলি। তিম ম্যাচে সংগ্রহ ২৬। প্রথম ম্যাচে করেছিলেন ৮ রান, দ্বিতীয় ম্যাচে ১৮। আর তৃতীয় ম্যাচে কোনও রান করতে পারেননি। নেতৃত্ব হারানোর পর থেকে কি আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দিয়েছে কোহলির? ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে ব্যর্থতার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্নটা সপাটে বাউন্ডারির বাইরে পাঠালেন ভারতীয় দলের নতুন অধিনায়ক রোহিত শর্মা।একদিনের সিরিজে ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইট ওয়াশ করার পর ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে রোহিতের কাছে প্রশ্ন উড়ে এসেছিল, কোহলির কি আত্মবিশ্বাস বাড়ানো জরুরি? প্রশ্নটা হেসে উড়িয়ে দেন রোহিত। বলেন, বিরাট কোহলির আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর প্রয়োজন? কী কথা বলছেন? দীর্ঘদিন সেঞ্চুরি পায়নি, এটা ঠিক কথা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজেই তো দুটি হাফসেঞ্চুরি করেছে। আমার মনে হয় না কোথাও ভুল আছে। ওর আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কোনও প্রয়োজন নেই। কোহলির ফর্ম নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টও চিন্তিত নয়। সুনীল গাভাসকারও মনে করছেন, কোহলির টেকনিকে কিংবা আত্মবিশ্বাসে কোনও অভাব রয়েছে। আসলে ভাগ্যের সহায়তা পাচ্ছেন না প্রাক্তন অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে টপ অর্ডার চূড়ান্ত ব্যর্থ। টপ অর্ডারের ব্যর্থতা দারুণভাবে সামলে দিয়েছে মিডল অর্ডার। দলের মিডল অর্ডারের ব্যাটিংয়ে খুশি অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তাঁর দাবি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সবকিছুই পরিকল্পনামাফিক হয়েছে। রোহিত বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে মিডল অর্ডার সেভাবে রান পায়নি। মাঝের ওভারগুলো কীভাবে সামাল দেওয়া যাবে, এই নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট যথেষ্ট চিন্তায় ছিল। কিন্তু ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে সিরিজে মিডল অর্ডার দারুণ খেলেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাট করেছে। এটা দলের কাছে ইতিবাচক দিক। রোহিত আরও বলেন, টপ অর্ডার রান পাওয়ায় মিডল অর্ডার ব্যাট করার সুযোগ পাচ্ছিল না। এই সিরিজে টপ অর্ডার ব্যর্থ। মিডল অর্ডার দারুণ চাপ সামলেছে।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌রোহিতের কৃতিত্বের দিনে লজ্জার রেকর্ড কোহলির

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে একদিনের সিরিজে হোয়াট ওয়াশের পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আগেই সিরিজ জিতে নিয়েছিল রোহিত শর্মার দল। তৃতীয় একদিনের ম্যাচে ৯৬ রানে জিতে ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইট ওয়াশ ভারতের। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম একদিনের সিরিজেই দারুণ কৃতিত্ব রোহিতের। আর রোহিতের কৃতিত্বের দিনে লজ্জার রেকর্ড বিরাট কোহলির। দীর্ঘদিন ব্যাটে বড় রান নেই বিরাট কোহলির। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাকিয়েছিলেন কোহলির ব্যাটের দিকে। দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে যদি সেঞ্চুরি আসে। সেঞ্চুরি তো দুরের কথা, লজ্জার রেকর্ডের সামিল হতে হতে হল প্রাক্তন অধিনায়ককে। প্রথম ম্যাচে ৮ রান করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে আউট হয়েছিলেন ১৮ রানে। আর তৃতীয় একদিনের ম্যাচে নামের পাশে শূন্য। এই নিয়ে দেশের মাঠে ৮ বার শূন্য রানে আউট হলেন কোহলি। স্পর্শ করলেন হরভজন সিং ও সুরেশ রায়নার রেকর্ড। এই দুজনও ৮ বার করে শূন্য রানে আউট হয়েছেন। তৃতীয় একদিনের ম্যাচে চারটি পরিবর্তন করে মাঠে নামে ভারত। লোকেশ রাহুল, দীপক হুডা, শার্দূল ঠাকুর, যুজবেন্দ্র চাহালের জায়গায় শিখর ধাওয়ান, শ্রেয়স আয়ার, দীপক চাহাল ও কুলদীপ যাদব। টস জিতে এদিন ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে ধাক্কা খায় ভারত। ১৫ বলে ১৩ রান করে আউট হন রোহিত। ২ বল পরেই আউট হন কোহলি। দুজনকেই তুলে নেন আলজেরি জোসেফ। শিখর ধাওয়ানও (১০) ব্যর্থ। ৪২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। শ্রেয়স আয়ার ও ঋষভ পন্থের পার্টনারশিপ চাপ থেকে উদ্ধার করে ভারতকে। ৫৪ বলে ৫৬ রান করে আউট হন ঋষভ। সূর্যকুমারও (৬) ব্যর্থ। ১১১ বলে ৮০ রান করে আউট হন শ্রেয়স। ওয়াশিংটন সুন্দর (৩৩) ও দীপক চাহার (৩৮) ভারতকে ২৬৫ রানে পৌঁছে দেয়। ভারতের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের কাছে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই আতঙ্ক থেকে এদিনও বেরিয়ে আসতে পারেনি। তবে ভারতীয় বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, দীপক চাহার, মহম্মদ সিরাজদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সামনে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা। একসময় ৮২ রানে ৭ উইকেট পড়ে যায়। সেখান থেকে ম্যাচে ফেরা সম্ভব হয়নি। মিডল অর্ডারে কিছুটা লড়াই করেন নিকোলাস পুরান (৩৪)। লোয়ার অর্ডারে আলজেরি জোসেফ (২৯) ও ওডিয়েন স্মিথ (৩৬) রুখে দাঁড়ালেও তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৩৭.১ ওভারে ১৬৯ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস। ভারতের হয়ে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ২৭ রানে, মহম্মদ সিরাজ ২৯ রানে ৩টি করে উইকেট নেন। দীপক চাহার ও কুলদীপ যাদব নেন ২টি করে উইকেট।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌'ক্রিকেট ছেড়ে বাবার সঙ্গে অটো চালাও', কেন মহম্মদ সিরাজকে একথা বলা হয়েছিল?

জাতীয় দলের হয়ে এই মুহূর্তে রীতিমতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মহম্মদ সিরাজ। তিন ধরনের ফরম্যাটেই ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। অথচ এই সিরাজকেই এক সময় শুনতে হয়েছিল, যাও, ক্রিকেট ছেড়ে বাবার সঙ্গে অটো চালাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় এইভাবে ট্রোল হয়েও ভেঙে পড়েননি। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। জায়গা করে নিয়েছিলেন জাতীয় দলে। বাকিটা ইতিহাস।২০১৯ সালের ঘটনা। সেই মরশুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের জার্সি গায়ে আইপিএল খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন মহম্মদ সিরাজ। কিন্তু ওই বছরটা খুব খারাপ কেটেছিল তাঁর কাছে। ৯টা ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। উইকেট পেয়েছিলেন মাত্র ৭টি। ইকনমি রেট ছিল ১০-এর কাছাকাছি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের মরশুমও ভাল যায়নি। ওই বছরই কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে ২.২ ওভারে ৩৬ রান দিয়েছিলেন মহম্মদ সিরাজ। পাঁচপাঁচটি ছক্কাও হজম করতে হয়েছিল তাঁকে। একই ওভারে পরপর দুটি বিমার দেওয়ায় বিরাট কোহলি বাধ্য হয়ে মহম্মদ সিরাজকে বোলিং থেকে সরিয়ে নেন। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে ট্রোল করেন নেট নাগরিকরা। সেই দুঃসময়ের কথা তুলে ধরে মহম্মদ সিরাজ বলেন, কেকেআরের বিরুদ্ধে পরপর দুটি বিমার দিয়েছিলাম। ওই ম্যাচের পর অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার সমালোচনা করে বলেছিল, ক্রিকেট ছেড়ে ফিরে যাও, বাবার সঙ্গে অটো চালাও। আমি অবশ্য সমালোচনায় কান দিইনি। ওই সময় ধোনিভাইয়ের কথা মাথায় রেখেছিলাম। ধোনিভাই একবার আমাকে বলেছিল, লোকে কে কী বলল, সেটা মাথায় না রাখতে। ভাল খেললে সবাই প্রশংসা করবে, খারাপ খেললে সমালোচনায় ভরিয়ে দেবে। সমালোচনায় কান দিও না। ধোনিভাইয়ের এই কথাগুলো মাথায় রেখেছিলাম। একসময় যারা আমাকে ট্রোল করেছিল, পরেই তারা আমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিল।২০২০ আইপিএলে দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ভারতীয় টেস্ট দলে সুযোগ পান সিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেক হয় সিরাজের। আসন্ন আইপিএলের মেগা নিলামের আগে যে তিন জন ক্রিকেটারকে ধরে রেখেছে আরসিবি তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহম্মদ সিরাজ। সাত কোটি টাকায় তাঁকে ধরে রেখেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

গল টেস্টে ভয়াবহ মুহূর্ত! রাহুলের শটে হেলমেটে বল, হাসপাতালে শ্রীলঙ্কার ওপেনার

ভারত-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই গলে তৈরি হল উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কেএল রাহুলের জোরালো সুইপ শটের বল সরাসরি গিয়ে আঘাত করল শ্রীলঙ্কার ওপেনার নিশান মধুশকার হেলমেটে। শর্ট লেগে ফিল্ডিং করার সময় এই আঘাত পান তিনি। ঘটনার পর দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও। কনকাশন পরীক্ষা করার পর মধুশকাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়।ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দশম ওভারে। প্রভাত জয়াসূর্যের করা ওভারের পঞ্চম বলটি রাহুল সুইপ করেন। বলটি ব্যাটের মাঝখান থেকে প্রচণ্ড গতিতে শর্ট লেগ অঞ্চলের দিকে ছুটে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মধুশকা বিপদ বুঝে দ্রুত মাথা নিচু করার চেষ্টা করলেও বলের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই বলটি তাঁর হেলমেটের মাঝামাঝি অংশে সজোরে আঘাত করে।আঘাতের পর বলটি ফাইন লেগের দিকে চলে যায়। ফলে রান নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভারতের ব্যাটাররা রান সম্পূর্ণ করেন। রাহুল অবশ্য প্রথমে রান নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা যশস্বী জয়সওয়াল ইতিমধ্যেই দৌড় শুরু করে দেওয়ায় রানটি সম্পূর্ণ করতে হয়। রান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধুশকার দিকে ছুটে যান রাহুল। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।এরপর দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও এবং চিকিৎসাকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে মধুশকার কনকাশন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর তাঁকে আর মাঠে রাখা হয়নি। ফিজিওর সঙ্গে মাঠের বাইরে চলে যান তিনি। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর চোটের প্রকৃতি বা গুরুতরতা এবং তিনি পরবর্তীতে এই টেস্টে ব্যাট করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।মধুশকার চোটের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শ্রীলঙ্কা শিবিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাথায় সরাসরি বল লাগার ঘটনায় ক্রিকেটে কনকাশন প্রোটোকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।অন্যদিকে, প্রথম দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট হাতে দারুণ দাপট দেখিয়েছে ভারত। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরুতেই যশস্বী জয়সওয়াল ও কেএল রাহুলের ব্যাটে ভালো সূচনা পায় দল। প্রথম উইকেটে দুজনে ৬৬ বলে ৪৭ রান যোগ করেন।তবে ১১তম ওভারের শেষ বলে ছন্দপতন ঘটে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন জয়সওয়াল। ৩৭ বলে ৩২ রানের ইনিংসে তিনি মারেন পাঁচটি চার।জয়সওয়াল ফিরে যাওয়ার পর ভারতের ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন রাহুল ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। দুজনেই ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। পাড়িক্কল আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করার পাশাপাশি রাহুলও নিজের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। ফলে প্রথম সেশনেই ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।লাঞ্চের সময় ২৭ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১০১ রান। একদিকে ভারতীয় ব্যাটারদের দাপট, অন্যদিকে মধুশকার চোটপ্রথম দিনের প্রথম সেশন তাই দুই দলের জন্য দুই ভিন্ন ছবি তুলে ধরল। এখন সকলের নজর নিশান মধুশকার শারীরিক অবস্থার পরবর্তী আপডেটের দিকে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের ঐতিহ্যে দেশপ্রেমের আবহ, দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের আবহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকারই হোক স্বাধীনতা দিবসের মূল বার্তাএমনই আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, বিবিধের মাঝে মিলন মহানএই আদর্শকে সামনে রেখে দেশভাগ ও পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর উদয়পল্লীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের বাণী, দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পাঠের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডলের পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় অঙ্কন, প্রবন্ধরচনা, কুইজ, নৃত্য ও সঙ্গীত-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। শিক্ষিকা সুনীতা সাহার ব্যবস্থাপনা এবং দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় প্রতিযোগিতাগুলিতে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা। কুইজে প্রথম স্থানাধিকারী দলের সদস্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ভট্টাচার্য জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকায় বিদ্যালয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।এদিন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা স্পন্দন-এর বিশেষ রঙিন সংখ্যা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সায়ন্তিকা কর্মকারের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও সহকারীরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। সবুজ ভলেন্টিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ইকো ক্লাবের উদ্যোগে জাম গাছ রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।শেষপর্বে শিক্ষাকর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের দায়িত্বে এবং তরুণ দাসের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে লুচি, মিষ্টি-সহ নানা খাবার বিতরণ করা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা শুধু একটি দিন নয়, বারবার ফিরে আসে—জয়ের পতাকায়, গৌরবের মুহূর্তে

স্বাধীনতাশব্দটি উচ্চারণ করলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭-এর সেই ঐতিহাসিক সকাল। দীর্ঘ পরাধীনতার অন্ধকার পেরিয়ে ভারতবর্ষ সেদিন পেয়েছিল নিজের আকাশ, নিজের পতাকা, নিজের পরিচয়। কিন্তু স্বাধীনতা কি কেবল একটি তারিখ? কেবল একটি দিনের উদ্যাপন? কেবল লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভেসে আসা ভাষণ, জাতীয় পতাকার উত্তোলন আর জাতীয় সঙ্গীতের গর্বিত সুর?না।স্বাধীনতা আসলে ফিরে ফিরে আসে।কখনও তা আসে একটি ক্রিকেট মাঠে, কখনও অলিম্পিকের ট্র্যাকের ওপর, কখনও হকির সবুজ ঘাসে, কখনও কোনও বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে, কোনও সুরকারের সুরে। কখনও আবার আসে এমন এক ভারতীয়ের চোখের জলে, যে নিজের দেশের পতাকাকে বিশ্বের মঞ্চে উঠতে দেখে বুকের ভিতর অদৃশ্য এক ঢেউ অনুভব করে।১৯৮৩ সাল। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ভারতীয় ক্রিকেটের সামনে তখন দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কপিল দেবের নেতৃত্বে একদল তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলা সেই মুহূর্তটি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের জয় ছিল না। তা ছিল আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ। সেদিন যেন ভারত বুঝেছিলআমরাও পারি। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরাও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প লিখতে পারি। ১৯৪৭-এ যে জাতি রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছিল, ১৯৮৩-তে তার আত্মবিশ্বাস যেন আরও একবার স্বাধীনতার স্বাদ পেল।তারও বহু আগে, ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের হকিতে ভারত প্রথম সোনা জিতেছিল। ধ্যানচাঁদের জাদুকাঠিতে ভারতীয় হকি তখন বিশ্বকে দেখিয়েছিল এক অন্যরকম শিল্প। পরপর বহু অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতীয় হকি দলের সাফল্য দেশের ক্রীড়া-পরিচয়ের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। তেরঙ্গা যখন বিদেশের মাটিতে উঠত, তখন মনে হতোএই তো স্বাধীনতা! বন্দুকের গর্জন নয়, স্টিক আর বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণেও একটি জাতি তার অস্তিত্বের ঘোষণা করতে পারে।তারপর আসে অ্যাথলেটিক্সের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতের অলিম্পিক সাফল্যের ইতিহাসে নীরজ চোপড়ার সোনার পদক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। টোকিও অলিম্পিকের সেই রাতএকজন ভারতীয় যখন জ্যাভলিন ছুড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ঘরে ঘরে যেন আবার স্বাধীনতার পতাকা উড়ল। মাঠে একজন, কিন্তু গর্বে ছিল ১৪০ কোটিরও বেশি হৃদয়।ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের আর এক অমর নাম পি. টি. উষা। আশির দশকে এশিয়ান গেমসের ট্র্যাকে তাঁর দৌড় ভারতীয় মেয়েদের স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছিল। ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার-সহ একাধিক পদক জিতে তিনি প্রমাণ করেছিলেনভারতের মেয়েরাও বিশ্বের দ্রুততম ট্র্যাকের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। তাঁর পায়ের শব্দ শুধু একটি দৌড়ের শব্দ ছিল না; তা ছিল সামাজিক বাধা, সংশয় আর প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে এক তরুণীর স্বাধীনতার ঘোষণা।এরপর এল ক্রিকেটের আর একটি নতুন অধ্যায়। ২০০৭ এ প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দল যখন ট্রফি হাতে তুলল, তখন ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার স্বাদ যেন আরও একবার নতুন করে ধরা দিল। আর ২০১১ সালে ঘরের মাঠে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ধোনির সেই ছক্কাআজও ভারতীয় ক্রীড়া-স্মৃতির অন্যতম আবেগঘন ছবি। একজন অধিনায়ক ট্রফি তুলেছিলেন, কিন্তু আসলে যেন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের স্বপ্নকে তুলে ধরেছিল।স্বাধীনতার এই গল্প শুধু খেলাধুলায় থেমে নেই।ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বজয়ের কথাও তো একইভাবে বলতে হয়। সত্যজিৎ রায়ের Pather Panchali কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছিল। ১৯৯২ এ বিশ্ব চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান ও অনন্য সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সত্যজিৎ রায়কে সম্মানসূচক অনারারি অস্কার প্রদান করে অ্যাকাডেমি। এই পুরস্কার কোনো একটি নির্দিষ্ট ছবির জন্য নয়, বরং তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্র জীবন, শিল্পসত্তা এবং বিশ্বসিনেমায় তাঁর গভীর ও স্থায়ী প্রভাবের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। অসুস্থ সত্যজিতের বিছানায় শুয়ে অস্কার হাতে নিয়ে যে বক্তব্য দেন তা আজও আপামোর চলচিত্রপ্রেমীর কানে বাজে। পরে ২০০৯ সালে এ. আর. রহমান Slumdog Millionaire চলচ্চিত্রের জন্য দুটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সুরের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেন। অস্কারের মঞ্চে তাঁর সুরের প্রতিধ্বনি যখন বিশ্ব শুনেছিল, তখন সেটিও ছিল এক ধরনের স্বাধীনতানিজের মাটির সুরকে পৃথিবীর কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার স্বাধীনতা।বিজ্ঞানেও এমন অসংখ্য মুহূর্ত এসেছে। মহাকাশে ভারতের সাফল্য, চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফল অবতরণ, মঙ্গলযানের অসাধারণ অভিযানপ্রতিটি সাফল্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে থাকে সেই একই অনুভূতি। একসময় যে দেশ নিজের মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতির চিন্তায় সংগ্রাম করছিল, সেই দেশই একদিন মহাকাশের অজানা প্রান্তে নিজের পতাকা পৌঁছে দেয়। এই অগ্রযাত্রাও স্বাধীনতারই আর এক ভাষা।কারণ স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা নয়। স্বাধীনতা মানে নিজের সম্ভাবনাকে চিনতে শেখা।স্বাধীনতা মানেআমি পারব বলার সাহস।স্বাধীনতা মানেব্যর্থতার পরেও আবার উঠে দাঁড়ানো।স্বাধীনতা মানেবিশ্বের চোখে চোখ রেখে নিজের পরিচয় ঘোষণা করা।তাই ১৫ই আগস্ট এলেই আমরা শুধু ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করব কেন? আমরা মনে করব সেই সব দিনকে, যেদিন ভারত নতুন করে জিতেছিল। কোনও খেলোয়াড়ের হাতে যখন পদক উঠেছে, কোনও বিজ্ঞানীর অভিযানে যখন ভারতীয় পতাকা মহাকাশ ছুঁয়েছে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে যখন ভারত বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, কোনও তরুণ-তরুণী যখন অসম্ভবকে সম্ভব করেছেসেই প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীনতা নতুন করে জন্ম নিয়েছে।স্বাধীনতার বয়স আজ ৭৯ বছর। কিন্তু স্বাধীনতা বৃদ্ধ হয়নি। বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে তার বয়স কমে আসে। কোনও শিশুর হাতে ক্রিকেট ব্যাটে, কোনও কিশোরীর দৌড়ের জুতোয়, কোনও তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর তুলিতে, কোনও সুরকারের যন্ত্রেস্বাধীনতা প্রতিদিন নতুন হয়ে ওঠে।১৫ই আগস্ট তাই শুধু অতীতের স্মৃতির দিন নয়। এটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিনও।যে তেরঙ্গা ১৯৪৭ সালে পরাধীনতার আকাশে স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে উঠেছিল, সেই তেরঙ্গাই আজও ওঠেলর্ডসের মাঠে, অলিম্পিকের মঞ্চে, বিশ্বকাপের আসরে, অস্কারের মঞ্চে, মহাকাশযানের অভিযানে, কিংবা কোনও অচেনা ভারতীয়ের ছোট্ট সাফল্যের মুহূর্তে।সেখানেই স্বাধীনতার আসল সৌন্দর্য।স্বাধীনতা একবার অর্জন করা কোনও স্মারক নয়স্বাধীনতা এমন এক অনুভূতি, যা প্রতিটি প্রজন্ম নিজের সাফল্য দিয়ে নতুন করে অর্জন করে।তাই ১৫ই আগস্ট শুধু একটি দিন নয়।স্বাধীনতা বারবার ফিরে আসে।জয়ের পতাকায়, অশ্রুসিক্ত চোখে, করতালির শব্দে, স্বপ্নপূরণের হাসিতেআর কোটি কোটি ভারতীয়ের বুকের ভিতর নিঃশব্দে উচ্চারিত একটি শব্দেভারত।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ক্ষুদিরামের ফাঁসির মঞ্চ থেকে মাতঙ্গিনীর রক্তাক্ত পতাকা, বাঙালির হৃদয়ে অমর এই পাঁচ স্বাধীনতা সংগ্রামী

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বাংলার অবদান অনস্বীকার্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলার মাটি যেমন জন্ম দিয়েছে ক্ষুদিরাম বসুর মতো কিশোর বিপ্লবীকে, তেমনই তাম্রলিপ্তের মাটিতে উঠে এসেছে মাতঙ্গিনী হাজরা, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো সংগ্রামী নেতৃত্ব। তাঁদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সাংগঠনিক দক্ষতা স্বাধীনতার লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসির মঞ্চে উঠে ইতিহাসে অমর হয়ে যান ক্ষুদিরাম বসু। ১৯০৮ সালে মুজফ্ফরপুরে ব্রিটিশ বিচারক ডগলাস কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে প্রফুল্ল চাকীর সঙ্গে বোমা হামলার ঘটনায় তিনি গ্রেফতার হন। ১১ আগস্ট ১৯০৮ তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মৃত্যুর মুখেও তাঁর নির্ভীকতা ও হাসিমুখ বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে।অন্যদিকে, ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে পূর্ব মেদিনীপুরের মাতঙ্গিনী হাজরা হয়ে ওঠেন সাহসের প্রতীক। গান্ধীবুড়ি নামে পরিচিত এই বৃদ্ধা ২৯ সেপ্টেম্বর তমলুক থানার দিকে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়েই তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর আত্মবলিদান বাংলার নারীশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুশীল ধারা-র। ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেন। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের যুদ্ধ ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে বিদ্যুৎ বাহিনী, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।সতীশচন্দ্র সামন্ত ছিলেন তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রথম সর্বাধিনায়ক। ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর গঠিত এই সমান্তরাল সরকার তমলুক ও কাঁথি মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ত্রাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী সংগঠন, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সরকারের কার্যক্রম ছিল উল্লেখযোগ্য।এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের নেতৃত্বে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্বাধীনতার পরও তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেমে থাকেনি। পরবর্তীকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান থেকে মাতঙ্গিনীর পতাকা হাতে মৃত্যুবরণ, আর তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের সংগঠিত প্রতিরোধ, এই সমস্ত অধ্যায় প্রমাণ করে, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু কয়েকজন বিপ্লবীর কাহিনি নয়। এটি ছিল অসংখ্য মানুষের সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানের মাটিতে জন্ম বীর বিপ্লবীর, রাসবিহারী বসুর কর্মকাণ্ডে কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ শাসন

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাসবিহারী বসু এক অনন্য নাম। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সংগঠক এই বিপ্লবীর জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-২ ব্লকের সুবলদহ গ্রামে। ১৮৮৬ সালের ২৫ মে বিনোদবিহারী বসু ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম তাঁর।সুবলদহেই কেটেছে রাসবিহারী বসুর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়। গ্রামের পাঠশালায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার শুরু। ঠাকুরদা কালীচরণ বসুর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনার পাশাপাশি লাঠিখেলা, সাঁতার ও নৌকা চালনার মতো শারীরিক কসরতেও দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে দানা বাঁধে দেশপ্রেম ও ব্রিটিশবিরোধী চেতনা। পরবর্তী সময়ে চন্দননগরে পড়াশোনা করার সময় বিপ্লবী চিন্তাধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয়।কর্মজীবনে দেরাদুনের ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্কের কাজ করলেও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা। বাংলার পাশাপাশি উত্তর ভারত ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি। ১৯১২ সালে দিল্লিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের উপর বোমা হামলার ষড়যন্ত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এরপর ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি জাপানে পালিয়ে যান।জাপানে গিয়েও থেমে থাকেননি রাসবিহারী। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগঠিত করতে তিনি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগ গড়ে তোলেন। ১৯৪২ সালে ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে সেই সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি টোকিওতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সুবলদহের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবীর দেশমুক্তির স্বপ্ন ও সংগ্রাম আজও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
শিক্ষা

সাহিত্য, বিজ্ঞানচিন্তা ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা ‘INSPIRE 2026’

সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে বর্ধমান শহরে সূচনা হল বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক প্রদর্শনী INSPIRE - 2026। নতুনকে জানার কৌতূহল, অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্নসব মিলিয়ে প্রথম দিনেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠল এক টুকরো জীবন্ত বিজ্ঞানভুবন।বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে এবং Oriental Association for Education and Research (OAER)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ১৪ আগস্ট ২০২৬ ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ ই আগস্ট পর্যন্ত।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও OAER এবং বর্ধমান মডেল স্কুলের পরিচালক ও আধিকারিকবৃন্দ। তবে অনুষ্ঠানের প্রকৃত প্রাণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের খুদে ও তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কল্পনা, অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ছড়িয়ে ছিল প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রান্তে। কোথাও বিজ্ঞানের জটিল সূত্র পেয়েছে সহজবোধ্য মডেলের রূপ, কোথাও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলেমিশে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ছবি। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাট্যচর্চার নানা আয়োজন প্রদর্শনীকে দিয়েছে আরও বহুমাত্রিক রূপ।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র INSPIRE - 2026 -এর উদ্দেশ্য এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তিনদিনের এই প্রদর্শনীর নামকরণই যেন তার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করেINSPIRE - 2026। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যায়, আগামী প্রজন্মের প্রতিভা কতটা বিস্ময়কর। শিক্ষকদের সহযোগিতা থাকলেও ভাবনার মূল উৎস যে শিক্ষার্থীরাই, তাঁদের তৈরি মডেল, তাঁদের ব্যাখ্যা এবং দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তার প্রমাণ।শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তাঁর উপলব্ধিআজকের প্রজন্মের কাছ থেকে শেখার মতো এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাঁর কথায়, একসময় ছিল আমাদের প্রজন্ম, তারপর এল কম্পিউটারের যুগ, আর এখন আমরা প্রবেশ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নতুন প্রজন্মকে শেখানো নয়, তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে এই নতুন প্রজন্মই।সাংবাদিকদের রিয়েল জেন জি প্রসঙ্গেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যৎতারা সতেজ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময়। বাংলা তথা ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যেই। তাই তাদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করাই প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের কথা শোনা এবং তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, কী চায়তা জানা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তাঁর পরবর্তী উদ্যোগআড্ডা উইথ জেন জি।মন্ত্রী বর্ধমান মডেল স্কুলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং INSPIRE - 2026 -এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল-এর বক্তব্যেও উঠে আসে সময়ের সঙ্গে পথ চলার অপরিহার্যতার কথা। তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি, সময়ের সঙ্গে তাল না মেলাতে পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের আধুনিকতম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ধমান মডেল স্কুল কখনও পিছিয়ে থাকেনি, ভবিষ্যতেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমী সকলকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার উন্মেষ প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান তিনি।OAER-এর অন্যতম সদস্য সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী সিং ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট আয়োজিত INSPIRE-এ অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া এই আয়োজন কখনও সার্থক হয়ে উঠত না।তবে INSPIRE 2026 কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং এটি যেন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার এক বর্ণময় ক্যানভাস। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাট্য ও আবৃত্তির আয়োজনও রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।নাট্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য জানান, এবারের পরিবেশনায় থাকছে প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক নরক গুলজার। ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বাস্তবতার অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সেই নাটক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসও INSPIRE - 2026 -এর সাংস্কৃতিক পরিসরকে করেছে আরও অর্থবহ।বর্ধমান মডেল স্কুলের নৃত্য বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা প্রখ্যাত ওডিশি নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জানান, এবারের তাঁদের থিম The Rhythm of Togetherness এটি Dance ও Sociology বিভাগের এক অনন্য যৌথ উপস্থাপনা, যেখানে নৃত্য ও সমাজবিজ্ঞানের নিজস্ব ভাবনাগুলি সুন্দরভাবে একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতি, খাদ্য, পোশাক ,সংস্কৃতি ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন হলেও আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়আমরা ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব।বিভিন্ন মডেল ও চার্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।নৃত্যের ছন্দ এবং সমাজবিজ্ঞানের ভাবনাদুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে The Rhythm of Togetherness আমাদের মনে করিয়ে দেয় বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়, ঐক্য আমাদের শক্তি।সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই Inspiring Thoughts, Creating Futureএই মূলমন্ত্র যেন বাস্তব রূপ পেল INSPIRE - 2026-এর প্রাঙ্গণে। এখানে বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়, প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আর সৃজনশীলতা কেবল কল্পনার জগতে বন্দি নয়। বরং তিনটির সম্মিলিত শক্তিতে শিক্ষার্থীরা আঁকছে আগামী দিনের ছবি।নতুন ভাবনার অঙ্কুর, উদ্ভাবনের সাহস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্নকে সামনে রেখে বর্ধমান মডেল স্কুলের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বার্ষিক প্রদর্শনী নয়এ যেন আগামী দিনের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের এক উজ্জ্বল মঞ্চ।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
কলকাতা

নির্মলকে ঘিরে থানা চত্বরে তুমুল উত্তেজনা, ডিম-জুতোর মালা! অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দিতে কী উঠে এল?

ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই থানার বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্মলকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ থানার সামনে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে এবং গান বাজিয়ে নাচতেও দেখা যায়।বারাকপুর মহকুমা আদালতে নির্মল ঘোষকে পেশ করার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিল পুলিশ। সেই কারণে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে থানা থেকে বের করা হয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। থানার বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক জন নির্মলকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। তাঁর দিকে জুতোর মালাও ছোড়া হয়। এমনকি তাঁকে চড় এবং লাথি মারার অভিযোগও উঠেছে।অন্যদিকে, শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ওই রাতের ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখছেন।গত ৯ অগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর পর শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের পরই অভয়ার বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগ দায়েরের মাত্র দুদিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হন নির্মল ঘোষ। পুলিশ সূত্রে খবর, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে মোবাইলের টাওয়ারের অবস্থান খতিয়ে দেখে তাঁর সন্ধান পায় রাজ্য পুলিশ। সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে ওই হোটেলে পৌঁছে নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়।এরপর তাঁকে ওড়িশার আদালতে পেশ করা হয়। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে নির্মল ঘোষকে খড়দহে নিয়ে আসা হয়। শ্মশানঘাটের ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ। শুক্রবার নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভয়ার মা। সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে নির্মল ঘোষের গ্রেফতারের পর অভয়ার বাবা ও মায়ের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। শ্মশানঘাটে সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী ছিল, তদন্তের পরেই তা স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
দেশ

বেরনোর সুযোগও পেলেন না! চামোলির সুড়ঙ্গে আচমকা জলস্রোত, মৃত্যু ৭ শ্রমিকের, আটকে আরও ২

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আচমকা তীব্র জলস্রোত ঢুকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও দুই শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে জোরদার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ চামোলির পিপলকোটির মায়াপুরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শিফট বদলের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবল জলস্রোত ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে জল ও ধ্বংসাবশেষে ভরে যায় সুড়ঙ্গের একটি অংশ।ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ২২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রাতেই বেশ কয়েক জন শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত হয়েছে।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সেনার উদ্ধারকারী দল। সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল বের করতে পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।আহত শ্রমিকদের স্থানীয় গোপেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা গুরুতর, তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।উদ্ধারকারী দল আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভিতরে তল্লাশি চালাচ্ছে। জলস্তর কমিয়ে আটকে থাকা দুই শ্রমিককে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসাই এখন প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই তাঁদের পরিবারের উৎকণ্ঠা বাড়ছে।ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা প্রত্যেক শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনার জন্য সমস্ত রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং ঠিক কী ভাবে এত বিপুল জল সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal