• ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Tollywood

বিনোদুনিয়া

মিষ্টি সম্পর্কের গল্প বলবে 'মিনি'

ভিন্নস্বাদের নারীকেন্দ্রিক ছবির গল্প বলছেন পরিচালক মৈনাক ভৌমিক। চিনির পর তাঁর নতুন ছবি মিনি। এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন মিমি চক্রবর্তী এবং অয়না চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার মুক্তি পেল ছবির ট্রেলার। মাসি-বোনঝির মিষ্টি রসায়নকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক। এই ছবির হাত ধরে প্রযোজক হিসাবে অভিষেক হল অভিনেত্রী সম্পূর্ণা লাহিড়ীর। ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে স্মল টক আইডিয়াস এর ব্যানারে। তিতলির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মিমি চক্রবর্তী। তিনি এখানে মিনির মাসির ভূমিকায়। তবে যে এই সিনেমা শুধু মিষ্টি সম্পর্কের গল্প বলে এমনটাই নয়। পারিবারিক দায়দায়িত্ব, তিক্ততা, বিচ্ছেদ সবকিছুই মিনি তে খুঁজে পাবেন দর্শকরা। ছবির প্রসঙ্গে মিমি চক্রবর্তী জানিয়েছেন, মৈনাক ভৌমিকের সঙ্গে এটা তার প্রথম কাজ। প্রথমবার স্ক্রিপ্টটা পড়েই তার ভালো লাগে। তিনি জানিয়েছেন এমন একটা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন সেখানে তার কথা ভেবেই চিত্রনাট্য লেখা। এই ছবিতে অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিঠু চক্রবর্তী, সপ্তর্ষি মৌলিক, কমলিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রূদ্রজিৎ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

এপ্রিল ১০, ২০২২
বিনোদুনিয়া

'অন্তঃসত্ত্বা' এবং 'জবা'-র পর ঋকের নতুন ছবি 'ক্লাউন'

আসতে চলেছে নতুন বাংলা ছবি ক্লাউন। পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন পরিচালক ঋক চ্যাটার্জী। অন্তঃসত্ত্বা এবং জবার পর এটি ঋকের তৃতীয় পরিচালনা। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন ওম সাহানি,দেবলীনা কুমার ও ইন্দ্রনীল চৌধুরী। ছবির অন্য একটি মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন বি.ডি.মুখোপাধ্যায়। এটি হতে চলেছে একটি ক্রাইম থ্রিলার। তবে ছবিতে পরতে পরতে রয়েছে রহস্য। যা দর্শকদের মনে কৌতূহল তৈরি করবে। এছাড়া ও ছবিটি তৈরি হয়েছে সামাজিক প্রেক্ষাপটে। ন্যায়, প্রতিবাদ, প্রতিরোধই সুষ্ঠু সমাজ গঠনের প্রধান মাপকাঠি। প্রতিটি মানুষের দুটি দিক আছে। আলো এবং ছায়া। প্রত্যেকেই চায় তাদের জীবনে কেবল আলো থাকুক। তাই তারা তাদের প্রতি নিত্যদিনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না। একদিন অত্যাচারে তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে তাদের ছায়া বেরিয়ে আসে। আর আমাদের গল্পটা এমনই একটা ছায়ার গল্প।একটি সাধারণ ছেলে, যার জীবনে সর্বদা অন্যায় হয়েছে। তার সামনেই তার বোনকে ধর্ষণ করা হয়। মায়ের সাথে অবিচার করা হয়েছে। আজ তার একমাত্র পরিচয় একজন বাস্টার্ড। যখন তার পিঠ দেয়ালের সাথে থাকে, তার কালো দিকটি তার থেকে বেরিয়ে আসে। জোকার... এই জোকার শুধু তার বিচারই করেনি, সমাজে তার নিজের মত করে প্রতিবাদের ঝড় তোলে, যা প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে। সমাজ পরিবর্তনের প্রবণতা। কিন্তু পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই সময় ও আইনের নিয়ম অনুযায়ী একদিন জোকার শেষ হয়। কিন্তু জোকার কি সত্যিই শেষ?তা জানতে হলে আরও কয়েকটি দিন অপেক্ষা করতেই হবে। ছবিটি মুক্তি পাবে সিনেরিও ফিল্মসের ব্যানারে ড: ইন্দ্রনীল চৌধুরীর প্রযোজনাতে।

এপ্রিল ০৮, ২০২২
বিনোদুনিয়া

ভালোবাসার টানাপোড়েনের গল্প বলবে চরকি

মা ও তার সন্তানের ভালোবাসার টানাপোড়নের গল্প বলতে আসছে চরকি। হাওয়া বয় চরকির পাখায়,হাওয়া বয় জীবন শাখায়। জীবনের গল্প তুলে ধরা হবে চরকি-র মাধ্যমে।স্বভূমী এন্টারটেনমেন্টের ব্যানারে ডঃ প্রবীর ভৌমিকের প্রযোজনায় তুহিন সিনহার পরিচালনায় তৈরি হয়েছে চরকি ওয়েব সিরিজটি। হাসির রাজা খরাজ মুখার্জীকে এখানে এক অন্য রকম চরিত্রে দেখতে পাবেন দর্শকরা। রিমির চরিত্রে অভিনয় করছেন শ্রেয়াসা ঘোষ,অনন্তর চরিত্রে অভিনয় করছেন ডঃ প্রবীর ভৌমিক ও চরকি চরিত্রে অভিনয় করেছে দেবকন্যা হাজরা।এছাড়াও তপন রায়,কাজু হালদার,বনশ্রী রায়,অনুসূয়া পাত্র,ইতি দাস,শতাব্দী দাস,অরিত্র আরও অনেকে এই ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন। চিত্রগ্রহণ করেছেন পার্থ রক্ষিত। চরকি ওয়েব সিরিজটি শীঘ্রই মুক্তি পাবে এক জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে।

এপ্রিল ০৪, ২০২২
বিনোদুনিয়া

শারীরিক অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে, দায়িত্ব পালনের এক নিদর্শন রাখলেন- প্রিয়াঙ্কা

শারীরিক অসুস্থতা যে কোনও বাধা হতে পারে না, কঠিন সময়ের মধ্যেও মনের জোর আর ভালো অভিনয়ের খিদে একজন অভিনেত্রীকে সময় প্রতিকূলতা কাটিয়ে লড়াই করার রসদ জোগায় সেটা দেখিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য অর্থাৎ আমাদের প্রিয় বাবলি।কয়েকদিন আগে প্রিয়াঙ্কার ব্রেনস্ট্রোক হয়। চিকিৎসক তাকে সম্পূর্ণ বেড রেস্টের পরামর্শ দেন। কিন্তু কাজ শেষ করে তবেই বিশ্রামের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা।সম্প্রতি জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক অপরাজিতা অপু তে নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন প্রিয়াঙ্কা। সেই ধারাবাহিকের শুটিং শেষ হল। কিন্তু যখন শুটিং চলছিল তখন কাজের চাপে প্রিয়াঙ্কার ব্রেনস্টোক ধরা পড়ে। চিকিৎসক বেডরেস্টের পরামর্শ দেন। কিন্তু তার জন্য যাতে শুটিং বন্ধ না থাকে তাই নার্ভের ওষুধ খেয়েও হাসিমুখে শুটিং করে গেছেন। বাবার কাছ থেকেই তার দায়িত্ব পালনের অভ্যাস তৈরি হয়েছে উল্লেখ করেছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।শুটিং এর মাঝে উত্তেজনার কারণে চোখে রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবারো নিজের চরিত্রে ফিরে আসেন বাবলি।আপাতত ধারাবাহিক শেষ হওয়ায় বেশ কয়েকদিন বিশ্রাম নেবেন তারপর আবার লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন। জনতার কথা কে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, এখন আগের থেকে ভালো আছি। কয়েকমাস ছোটপর্দায় কাজ করলাম। এবার ছবির কাজ শুরু হবে।সত্যিই যাদের কাছে অভিনয়টাই নিজের ট্যালেন্টকে প্রমাণ করার জায়গা তারা বোধহয় শত ঝড়ঝাপ্টা সামলে এভাবেই নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকেন। জনতার কথা পরিবারের পক্ষ থেকে প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্যর জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা। আপনার আগামী দিন অনেক ভালো কাটুক।

মার্চ ২৭, ২০২২
বিনোদুনিয়া

দুঃস্থদের জন্য ২২ গজে টলি তারকারা

অংশু বাচ এবং শিভা ক্রিয়েশন এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল কলকাতা সুপার ৫০ এর ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। মোট ৮ টা টিম, তার মধ্যে একটা টিমের সদস্যরা বাংলা টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র জগতের মানুষদের নিয়ে তৈরি৷ এছাড়া বাকি দলগুলিতে শিক্ষা, ক্রীড়া, রাজনীতি, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কলকাতা সুপার ৫০ তে অংশগ্রহণ করেছেন বনি সেনগুপ্ত, জয়দীপ মুখার্জি, অংশু, রাজীব, জয়ী, সেলিব্রিটি ফটোগ্রাফার সুদীপ্ত চন্দ্র, সায়ন মুখার্জি, লিগাল কারিকুলাম এর প্রতিষ্ঠাতা প্রান্তিক চক্রবর্তী সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিশেষ কারণ এই টুর্নামেন্টে একইসঙ্গে খেলেন ছেলেরা এবং মেয়েরা৷ মহিলা টিমের নেতৃত্বে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা রায়, যিনি ভারতের হয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছেন। ৫০ বলের টুর্নামেন্টে ওভার হয় ৫ বলের। পেশাদার মহিলা টিম নেওয়া হয়েছিল। সিসিএল এর বেঙ্গল টিমের কোচ সুশীল স্যার কলকাতা সুপার ৫০ এর অন্যতম সদস্য৷ এই টুর্নামেন্টের বিষয়ে আয়োজক অংশু জানালেন, মজা করে একটা ভালো খেলা হবে বলেই টুর্নামেন্টটা করা। টলিউড সেলিব্রিটিদের নিয়ে একটা টিম তো রয়েছেই এছাড়া প্রত্যেকটা টিমে একজন করে সেলিব্রিটি আছেন। তবে এই টুর্নামেন্টের সবথেকে বড় কথা দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ানো। ক্রিকেট টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ দেওয়া হল দুঃস্থ শিশুদের কল্যাণে এবং পথকুকুরদের দেখভালের জন্য৷

মার্চ ১৪, ২০২২
বিনোদুনিয়া

দুঃস্থ শিশু ও পথ কুকুরদের কল্যাণে ২২ গজে টলি তারকারা

অংশু বাচ এবং শিভা ক্রিয়েশন এর উদ্যোগে ১৩ মার্চ হতে চলেছে কলকাতা সুপার ৫০ এর ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। মোট ৮টি টিম এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে একটা টিমের সদস্যরা বাংলা টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র জগতের মানুষদের নিয়ে তৈরি৷ এছাড়া বাকি দলগুলিতে শিক্ষা, ক্রীড়া, রাজনীতি, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা থাকবেন। কলকাতা সুপার ৫০ তে অংশগ্রহণ করেছেন বনি সেনগুপ্ত, জয়দীপ মুখার্জি, অংশু, রাজীব, জয়ী, সেলিব্রিটি ফটোগ্রাফার সুদীপ্ত চন্দ্র, সায়ন মুখার্জি, লিগাল কারিকুলাম এর প্রতিষ্ঠাতা প্রান্তিক চক্রবর্তী সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিশেষ কারণ এই টুর্নামেন্টে একইসঙ্গে খেলবেন ছেলেরা এবং মেয়েরা৷ মহিলা টিমের নেতৃত্বে প্রিয়াঙ্কা রায়, যিনি আন্তর্জাতিক স্তরে বিশ্বকাপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।এটা ৫০ বলের টুর্নামেন্ট। সাধারণত ক্রিকেট খেলায় একটি ওভারে ৬ টি বল হয়। কিন্তু এই খেলায় ৫ বলের ওভার হবে। পেশাদার মহিলা টিম নেওয়া হয়েছে। সিসিএল এর বেঙ্গল টিমের কোচ সুশীল স্যার কলকাতা সুপার ৫০ এর অন্যতম সদস্য। বিভিন্ন নামী সংস্থা এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টের এর স্পনসর। ওয়াও মোমো, ওয়াও চায়না, আশা অডিও, ফিভার এফ এম এদের মধ্যে অন্যতম। আয়োজক অংশু জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর দাদা শিবা প্রত্যেক বছরই এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করেন। বছরের শুরুতেই টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা থাকলেও কোভিডের কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয়। বহুদিন পরে সকলে একসঙ্গে খেলতে খেলতে কিছু আনন্দ উদযাপনের সুযোগ হবে। ক্রিকেট টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ দেওয়া হবে দুঃস্থ শিশুদের কল্যাণে এবং পথকুকুরদের দেখভালের জন্য।

মার্চ ১২, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মহিলাদের সঠিক বিচারে নির্মিত '১০ নং ঝোপড়পট্টি'

এস সি প্রোডাকশনের ব্যানারে নিবেদিত স্বাতী চট্টোপাধ্যায়ের প্রযোজিত ছবি ১০ নম্বর ঝোপড়পট্টি। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন স্বাতী চট্টোপাধ্য্যায়, কন্যাশ্রী চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, তনিমা সেন, দিয়া মুখোপাধ্যায়, ছন্দা চট্টোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে। এই ছবিরই প্রিমিয়ার হয়ে গেল ছবিঘর সিনেমাহলে। ১৯৭১ সালে ওপার বাংলার স্বাধীনতার উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। দলে দলে মানুষ মিলিটারির তাড়া খেয়ে রাতের অন্ধকারে কাঁটাতারের বর্ডার পেরিয়ে ভারতে পা রেখেছে। সর্বস্ব খুইয়ে তারা দিশেহারা। এই দিশেহারা, বিভ্রান্ত ও সর্বস্বান্ত চারটি পরিবার মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে কলকাতায় চলে আসেন। এই চারটি পরিবারের দৈনন্দিন সুখ ও দুর্দশার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে ১০ নম্বর ঝোপড়পট্টি তে। এই ছবিতে ঝোপড়পট্টির এক অন্তঃসত্ত্বা বধুকে দুরাচারিদের শিকারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। জলের কলসী হাতে পালাতে গিয়ে মাটিতে পড়ে তার পেটের বাচ্চাটাই নষ্ট গেছে। অন্যদিকে আর একটি মেয়েকে গণধর্ষিত হয়ে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যেতে হয়েছে। যুগের হাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই গল্পটি লিখেছেন স্বাতী চট্টোপাধ্যায়।

মার্চ ০৬, ২০২২
বিনোদুনিয়া

সাতপাকে বাঁধা পড়লেন অভিনেত্রী মেঘনা ও শুভজিৎ

সাত পাকে বাঁধা পরলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেঘনা মুখার্জি। বিয়ে করলেন শুভ্রজিৎ ব্যানার্জি কে। বিয়ের আসর বসেছিল গোলপার্কের ঘোষবাড়িতে। বিশেষ দিনে হাজির হন ছোটপর্দার অনেক তারকা। টলিউডের জনপ্রিয় জুটি নীল-তৃণা থেকে উপস্থিত হন জীবন সাথী ত্রিশূল ধারাবাহিকের অনেকেই। যমুনার ঢাকী খ্যাত অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্যও বিয়েবাড়ি আলোকিত করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিথিদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।জীবন সাথী ধারাবাহিকের সকলে জানালেন, ওদের বিবাহিত জীবন যেন সুখের হয়। খুব আনন্দ করে কাটাক। লাভ ইউ বোথ। গড ব্লেস ইউ বোথ।বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ মেঘনা - শুভ্রজিৎমেঘনার বর্তমান ধারাবাহিক ত্রিশূলের অভিনেত্রীরা জানান, আমরা এতদিন ধরে খুব এক্সাইটেড ছিলাম। মেঘনাকে ও শুভজিৎ কে অনেক অনেক শুভকামনা। খুব ভালো থাকুক ওরা। ওদেরকে দেখেই যেন আমরা ভালো থাকতে পারি।তারকার বিয়ে। তাই এলাহি আয়োজন ছিল। স্টার্টারে গন্ধরাজ চিকেন ফ্রাই থেকে শুরু করে ছিল দইবড়া, ড্রাই চিলি, ফিস, দইবড়া, বেবিকরণ, কোল্ডড্রিঙ্কস, কফি ছাড়াও আরও আইটেম। ডিনারে ছিল ভেটকি পাতুঋ, পোলাও, মটন কষার মটন সুস্বাদু সব ডিশ। সবমিলিয়ে মেঘনার বিয়ের একটা আলাদাই পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আর এই পরিবেশে সবাই মেঘনার মধুর মিলনের সাক্ষী থাকল।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২
বিনোদুনিয়া

১১ মার্চ মুক্তি পাচ্ছে রোহন সেনের "অপরাজিতা"

আমাদের জীবনে কত না বলা কথা আমরা বলতে পারিনা। জমে থাকে স্তূপাকৃত একরাশ অভিমান। বেড়ে ওঠেনা সময়মত সম্পর্কের বাকরুদ্ধ পরিসর। সেই অব্যক্ত নিঃশব্দে আমরা হারিয়ে ফেলি কত প্রিয়জন কে। আর সেটা যদি বাবা মেয়ের মত সম্পর্ক হয়... তাহলে? এরকম এক কঠিন বাস্তবকে আবর্তিত হতে দেখবো আমরা রুপোলি পর্দায়। রোহন সেন এর এই ছবি টি আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে রীতিমতো আয়না তুলে ধরার একটি হৃদয়স্পর্শী কাহিনী। অপরাজিতা মুক্তি পাচ্ছে আগামী ১১ই মার্চ নিকটবর্তী প্রেক্ষাগৃহে। বাবা মেয়ের এক কথা না হওয়া জটিল, তাও মধুর সম্পর্ক কীভাবে একটি ডায়েরির মাধ্যমে পাতার পর পাতা আবহমান হতে থাকে, সেটাই ভেসে উঠবে জীবনের বড় পর্দায়। পরিচালক রোহন সেনের ছবি অপরাজিতা। অপরাজিতা একটি মেয়ে এবং তার বাবার সঙ্গে টানাপোড়েন এর সম্পর্কের গল্প। যেখানে মেয়ে বা তার বাবা কেউ কারোর সাথে কথা বলে না এক বাড়িতে থাকা সত্ত্বেও। কোথাও না কোথাও তাদের দুজনের মধ্যেই ইগো কাজ করে, এবং তার পেছনে যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। শুধুমাত্র একটি ডায়েরির মাধ্যমে তাদের দুজনের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। অপরাজিতা একজন স্বাধীন মহিলা যে একটি কর্পোরেট কোম্পানিতে কাজ করে। তার একজন বয়ফ্রেন্ড আছে, সাহেব। সাহেবের কাছে সে তার রাগ, দুঃখ, অভিমান ব্যক্ত করতে পারে । অপরাজিতার বড়ো দিদি USA তে থাকেন। সাহেব বা তার দিদি কেউই অপরাজিতার সঙ্গে তার বাবার সম্পর্ক ঠিক করতে পারেনা। তাদের পারিবারিক ডাক্তারও এই প্রজন্মের সামাজিক আর পারস্পরিক দূরত্বের বিষয় টি তুলে ধরেন। গল্প যত এগোয় বাবা-মেয়ের সম্পর্ক তত জটিল হয়ে উঠতে থাকে। শেষমেশ এই সম্পর্কের পরিণতি কি হয় তাই নিয়েই এই ছবি। সাধারণ ঘটনা গুচ্ছগুলি অনেকেই হয়তো চারপাশে বা নিজস্ব জীবনে অনুভব করে থাকবেন। উল্লেখ্য চরিত্রর মধ্যে অপরাজিতার চরিত্রে রয়েছেন তুহিনা দাস। তাঁর বাবার চরিত্রে শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়। বয়ফ্রেন্ডের চরিত্রে দেবতনু। পরিবারের ঘনিষ্ঠ ডাক্তার রানা বসু ঠাকুর। অমৃতা দে কে এই ছবিতে দেখা যাবে দিদি, প্রযোজক ও গায়িকার ভুমিকায়।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২২
বিনোদুনিয়া

‘জনতার কথা’-র মুখোমুখি অভিনেত্রী ‘নন্দিনী সোনালী’

অভিনেত্রী নন্দিনী সোনালী। বেশ কয়েকবছর ধরে তিনি থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত। রমাপ্রসাদ বণিকের কাছে তাঁর থিয়েটারের প্রশিক্ষণ হয়। বর্তমানে তিনি শর্ট ফিল্ম ও ওয়েব সিরিজে কাজ করছেন। ব্যস্ত সময়ের মধ্যেই কিছুটা সময় বের করে জনতার কথা-র মুখোমুখি হলেন নন্দিনী। জনতার কথাঃ তোমার থিয়েটারের জার্নিটা কিভাবে শুরু হয়? নন্দিনীঃ বেসিক্যালি আমি মফঃস্বলের মেয়ে। থিয়েটারের জার্নি যদি বলা হয় পাড়ার নাটক। সেখান থেকে রমা স্যারের কাছে আসি একটা ওয়ার্কশপের জন্য। এরকম পরপর দুটো ওয়ার্কশপ করি। তারপরে স্যার যখন আমাকে প্রোডাকশনের জন্য ডাকেন আমি বলি প্রোডাকশন করবো। তারপর স্যার মারা যান। তাঁর সঙ্গে কোনও প্রোডাকশন করা হয়ে ওঠেনি।এরপর আমার বাবা মারা যান। আমি চার বছর থিয়েটারের সঙ্গে ছিলাম না। তারপরে আমি আবার থিয়েটারে ব্যাক করি।জনতার কথাঃ শর্ট ফিল্ম, ওয়েব সিরিজের কাজ কবে থেকে শুরু হয়?নন্দিনীঃ ২০১৭-র ১লা বৈশাখ আমার কাছে একটা হটাত কল আসে। একটা মিউজিক ভিডিও হবে। সেটার জন্য আমাকে ডাকা হয়েছে। আমি যাই দেখা করতে। সেটা কিউ এর একটা মিউজিক ভিডিও ছিল। সেদিন রাত্রিবেলা শুট। আমি যাই। হোল নাইট আমরা শুট করি। সেই থেকে আমার ক্যামেরার সামনে কাজ করা শুরু।জনতার কথাঃ কিউ এর তারানাথ তান্ত্রিক-এ কাজ করেছো। সেটা হইচই-তে দেখানো হয়েছে। সেই এক্সপিরিয়েন্সটা কেমন ছিল?নন্দিনীঃ তারানাথ তান্ত্রিক-এর জার্নিটা ভীষণ অদ্ভুত। আমার কাছে যখন প্রথম কল আসে তখন আমি নর্থ বেঙ্গলে একটা শুটে ছিলাম। কিউ ফোন করে বলে একটা অডিশনের জন্য আমাকে আসতে হবে। আমি বললাম আমি তো কলকাতায় নেই নর্থ বেঙ্গল। কিউ তারপরে আর কিছু বলেনি। আমি আর কলকাতায় ফিরতে পারিনি আমার শুট ছিল বলে। হটাত করে কিউ আমায় ফোন করে বলে যে একটা ছোট চরিত্র আছে করে দে। আমি বললাম ওকে, ঠিক আছে। সেই থেকে আমার তারানাথ তান্ত্রিক এর জার্নি। আমাদের শুট হয় ডানকুনি তে। ভোরবেলায় কল টাইম। যেখানে শুট হয় সেটা রাজবাড়ি গোছের কিন্তু রাজবাড়ি নয়। সেটা আমাদের ইউনিটেরই কারোর বাড়ি ছিল। সেটাও একটা অদ্ভুত এক্সপিরিয়েন্স।জনতার কথাঃ তোমার কারেন্ট প্রোজেক্ট রেড ক্যানভ্যাস। সেখানে তাজু দার সঙ্গে কাজ করেছো। তাজুদার ব্যাপারে তো সবাই জানে উনি কতটা ভালো মানুষ। তাছাড়া এখানে রুক্মা রয়েছে। অলিভয়া রয়েছে। রণজয় আছে। এছাড়া আরও অনেকে আছে। রেড ক্যানভ্যাসের জার্নিটা নিয়ে সংক্ষেপে কিছু বলো।নন্দিনীঃ তাজুদার সঙ্গে আমি লাস্ট ইয়ার একটা ফিল্মে কাজ করি। সেটা এডিট চলছে। সেটাই আমার তাজুদার সঙ্গে প্রথম কাজ। তারপর এই ডিসেম্বরে তাজুদা হটাত আমাকে ফোন করে বলে আমি একটা ওয়েব করছি। সেটায় একটা চরিত্র আছে তোকে করতে হবে। আমি বলললাম ওকে। যেহেতু আমার চুল ছোট আর আমার চরিত্রের জন্য চুলটা বড় থাকলে বেশ ভালো হত। এরকম একটা ব্যাপার। তখন তাজুদা বলে তুই চুল কাটবি না। তারপরেই আমার পুরুলিয়ার একটা প্রোজেক্ট ছিল। ডকু ফিচার। ট্রাইবাল ডকু ফিচারের ওপর। সেটা করতে যাই। সেখানে চুলগুলো ছোট ছোট বিনুনি করা। যখন আমি ফিরবো আমি জানি তার পরের দিন থেকেই এই ওয়েবের শুট। যখন ফিরি চুলটা খোলা, নরম্যাল একটা চুলে ফেরত আনা, তারপর একটা বড় চুল আড অন করা সব মিলিয়ে দারুণ এক্সপিরিয়েন্স।জনতার কথাঃ বাকিদের নিয়ে কি বলবে?নন্দিনীঃ আমার কখনও মনে হয়নি আমি স্টার কাস্টদের সঙ্গে কাজ করছি। আমার কখনও মনে হয়নি যে দে আর স্টার। দে আর আওয়ার ইউনিট। সেই ফিলটাই কেউ আমাকে করায়নি। খুব ভালোভাবে কটা দিন গেছে। জনতার কথাঃ আপকামিং আর কি কি কাজ আসছে?নন্দিনীঃ একটা ফিচার এর এডিটিং এর কাজ চলছে। একটা শর্ট ফিল্ম এর এডিটিং চলছে। আমার একটা সাইলেন্ট শর্ট ফিল্ম হোয়াইট নয়েস এর রেজাল্ট বেরোনোর কথা আছে। বিদেশে বেস্ট আকট্রেসের নমিনেশনে আছে। তাছাড়া একটা সিনেমার কথা চলছে। ওয়েবের কথা চলছে।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২
বিনোদুনিয়া

ভালোবাসার দিনে দর্শকদের 'আদর' উপহার পরিচালক সায়নের

বায়োস্কোপ টকিজ প্রেজেন্টস পরিচালক সায়ন বসু চৌধুরীর নতুন ছবি আদর। ক্লিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে এই ছবিটি। এই ছবির সাংবাদিক সম্মেলন হয়ে গেল। ছবিতে অভিনয় করেছেন ডোনা সাহা, সুকন্যা বসু, পার্থ দত্ত প্রমুখ।আদর হল শোভন বলে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত একটি ছেলের গল্প। এই ছেলের জীবনে তার পুরনো এক বান্ধবীর (অর্পিতা) হটাত আবির্ভাব হয়। তার সৌজন্যে পুরনো সব স্মৃতি ধীরে ধীরে তার কাছে ফিরে আসে। এই ছবির বিষয়ে পরিচালক জনতার কথা কে জানিয়েছেন আদর ২০ মিনিটের একটা শর্ট ফিল্ম। পুরো শুটিংটাই কলকাতায় করেছি আমরা। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে ক্লিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আদর মুক্তি পেয়েছে। আমাদের পুরো টিম খুব ভালো।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২২
বিনোদুনিয়া

এবার সম্মানিত হবেন ক্যামেরার পিছনের মানুষরাও, আয়োজনে কলাকৃতী অ্যাওয়ার্ড

অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কলাকৃতী অ্যাওয়ার্ড ২০২২। যেখানে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পাশাপাশি ক্যামেরার পিছনে থাকা মানুষদের সম্মান জানানো হবে। এরকম একটা সুন্দর ভাবনা যেটা সচরাচর অ্যাওয়ার্ড শো তে দেখা যায় না। এই ভাবনাকে সকলের সামনে তুলে ধরতে তার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন টলিউড অভিনেত্রী সায়ন্তনী গুহঠাকুরতা, সুদীপ্তা ব্যানার্জি, প্রীতি বিশ্বাস সহ আরও অনেকে। এই অ্যাওয়ার্ডের মূল উদ্যোক্তা রিঙ্কি জানালেন, কোনও অ্যাওয়ার্ড শো বা ইভেন্ট করতে গেলে আগে স্টাডি করতে হয়। স্টাডি না করলে সেটা করা সম্ভব হয় না। যারা ক্যামেরার পিছনে থাকেন তাদের সংবর্ধিত করলে কাজের উৎসাহটা আরও বেড়ে যাবে। তাই এরকম অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান করার ভাবনা নিয়েছি।টলিউড ও বাংলাদেশ দুটোকে অ্যাটাচ করা হয়েছে। ক্যামেরার পিছনের মানুষদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এরকম একটা অ্যাওয়ার্ড পেলে কাজের ইচ্ছে শতগুণ বেড়ে যায়। অ্যাওয়ার্ড সেরিমনি মানেই একটা স্পেশাল ফিল করায়।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২২
বিনোদুনিয়া

বিয়ের ১০ বছর কাটালেন পায়েল-দ্বৈপায়ন

বিয়ের পর ১০টা বছর একসঙ্গে কাটিয়ে দিলেন অভিনেতা দ্বৈপায়ন দাস ও অভিনেত্রী পায়েল দে। সেই আনন্দ সোশ্যাল মিডিয়ায় সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন পায়েল। দ্বৈপায়নের সঙ্গে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, শুভ ১০ ..শুভ হোক প্রতিদিন ...আসো আমরা একসঙ্গে এইভাবে সময়টা যেন কাটাতে পারি। ...হাসতে থাকো..অনেক ভালোবাসি তোমাকে... খুব শুভ বিবাহ বার্ষিকী . এই পোস্টে অনেকেই ভালোবাসার কমেন্টে ভরিয়ে দিয়েছেন। সঙ্গীতশিল্পী মনস্বিতা ঠাকুর কমেন্ট করে লিখেছেন, দুজনকেই শুভ বিবাহবার্ষিকী। অভিনেতা দেব চ্যাটারজি লিখেছেন, শুভ বিবাহবার্ষিকী , খুব খুব ভালো থেকো তোমরা আজীবন। অনেক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা। এছাড়া বিশেষ দিনে তিনি আরও অনেক ভালোবাসা পেয়েছেন। চৈতালি দাশগুপ্ত কমেন্টে লিখেছেন, অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালবাসা নিস্পায়ল-গোগোল।বর্তমানে কালারস বাংলায় সোনা রোদের গান ধারাবাহিকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন পায়েল। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন সৌম্য ব্যানারজি। প্রতিদিন রাত ৮টায় এই ধারাবাহিকটি টেলিকাস্ট করা হয়।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

নতুন রিয়্যালিটি শো এর বিচারক জিৎ?

করোনার ফলে অভিনয় জগতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বেশ কয়েকমাস সিনেমা হল বন্ধ থাকায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব অনেকটা বেড়েছে। পাশাপাশি ছোটপর্দা সিরিয়াল থেকে রিয়্যালিটি শো এর বাজারও এখন বেশ ভালো। টলিউডে দেব, জিৎ, আবীর চট্টোপাধ্যায়ের মতো তারকাদের রিয়্যালিটি শো এর বিচারক হিসাবে দেখা গেছে। এবার নতুন একটি রিয়্যালিটি শো এর বিচারক হিসাবে দেখা যাবে জিৎ কে। কদিন আগে ড্যান্স বাংলা ড্যান্স এর বিচারক ছিলেন তিনি। এবার যে নন-ফিকশন শো-টি করতে চলেছেন সেটি রোম্যান্স কেন্দ্রিক এবং সম্পূর্ণ অন্য ধরনের বলেই শোনা যাচ্ছে। শো টা স্টার জলসা তে দেখানো হবে বলে জানা গেছে। তবে এই বিষয়ে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এখনও কিছু জানায়নি। এদিকে অভিনেতা জিৎ-র শেষ সিনেমা বাজি মুক্তি পেয়েছিল গত বছর পুজোতে। আগামী ঈদে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর অভিনীত ছবি রাবণ। এছাড়া জিৎ-র প্রযোজনা সংস্থা থেকে প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ছবি আয় খুকু আয়আয় খুকু আয় মুক্তি পাবে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২২
বিনোদুনিয়া

গাঁটছড়া বাঁধলেন মৌনী-সূরজ

শহর জুড়ে যেন প্রেমেরই মরশুম। অনুপম রায়ের এই গানের লাইনটা বর্তমান সময়ের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যাচ্ছে। তবে এখন প্রেমের মরশুমের পরিবর্তে বলা চলে শহর জুড়ে যেন বিয়ের মরশুম। টলিউড থেকে বলিউড অনেক তারকারই চার হাত এক হচ্ছে। সেই তালিকায় জুড়ল এবার বলিউড অভিনেত্রী মৌনী রায়ের নাম। পাত্র সূরজ নাম্বিয়ার। বরের পরিবারের নিয়ম মেনে মালয়ালী রীতিতে বিয়ে করলেন বাঙালি কন্যা। গোয়ায় সাতপাক ঘুরলেন দুজনে। সাদা চাদোয়া এবং সাদা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল বিয়ের মণ্ডপ। লাল এবং সাদা শাড়িতে সেজেছেন মৌনী। দক্ষিণী রীতিতে বিয়ে হলেও বেনারসি পরেছেন কোচবিহারের মেয়ে। মাথায়, গলায়, হাতে সোনার গয়নায় উজ্জ্বল মৌনী। ঘিয়ে রঙা শেরওয়ানি এবং সাদা মুন্ডতে দেখা গেল সূরজকে। মালাবদল করার পরে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন নবদম্পতি। দুজনের হলদি আর মেহেন্দির অনুষ্ঠান হয়েছিল বুধবার। মালয়ালী মতে বিয়ে হলেও আজ সন্ধ্যের লগ্নে বাঙালি মতে বিয়ে হওয়ার কথা রয়েছে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মুক্তি পেল 'বাবা বেবি ও'-র ট্রেলার

ব্রহ্মা জানে গোপ্ন কম্মটি তে পরিচালক হিসাবে অভিষেক হয়েছিল অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের। এবার নতুন একটি গল্প বাবা বেবি ও সিনেমার মাধ্যমে দর্শকদের উপহার দিতে চলেছেন তিনি।চল্লিশোর্ধ সিঙ্গেল ফাদার মেঘ রোদ্দুরের গল্প বলবেন পরিচালক। সারোগেসির মাধ্যমে যমজ সন্তানের বাবা হওয়া মেঘ রোদ্দুরের জীবন বদলে দেয় বৃষ্টি।এই ছবিতে মেঘ রোদ্দুরের ভূমিকায় রয়েছেন যিশু সেনগুপ্ত আর বৃষ্টির ভূমিকায় দেখা যাবে শোলাঙ্কি রায় কে। শিবপ্রসাদ-নন্দিতা প্রযোজিত এই ছবির মাধ্যমে টলিপাড়া পেতে চলেছে আরও এক নতুন জুটি। তাদের মিষ্টি মধুর প্রেমের উপাখ্যানের ঝলক মুগ্ধ করেছে দর্শক।রবিবার মুক্তি পেল বাবা বেবি ও-র ট্রেলার। সেখানে দেখা যাচ্ছে সারোগেসির মাধ্যমে মেঘ রোদ্দুর বাবা হলেও জীবনে ঝক্কি কম নয়। ঠিক এই সময়েই তাঁর জীবনে বৃষ্টির আগমন হয়। এরকম একটা মুহূর্তে মেঘের বন্ধু সৌভিকের আগমন। যে চরিত্রে অভিনয় করছেন গৌরব চট্টোপাধ্যায়। বৃষ্টি জানায় বাচ্চার কান্নার আওয়াজ তাঁর মাথা ধরিয়ে দেয়। এইভাবেই এগিয়েছে গল্পটা।ট্রেলারে এরকমই দেখানো হয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিল হলে এই পারিবারিক বিনোদনমূলক ছবিটি দর্শকরা দেখতে পাবেন। এই ছবিতে অন্যান্য অভিনেতাদের মধ্যে রয়েছেন মৈনাক ব্যানার্জী, বিদীপ্তা চক্রবর্তী, রজত গাঙ্গুলি, রেশমি সেন প্রমুখ।

জানুয়ারি ২৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

১ লা এপ্রিল বড়পর্দায় 'আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা'

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। এই বছর ১ এপ্রিল বড়পর্দায় দর্শকরা আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাবেন। রাজর্ষি দের পরিচালনায় এই ছবিতে অভিনয় করেছেন গৌরব চক্রবর্তী, তনুশ্রী চক্রবর্তী, রূপঙ্কর বাগচী, কৌশিক সেন, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় সহ আরো অনেক তারকা। সত্যজিৎ রায়ের কাঞ্চনজঙ্ঘার স্মরণে এই ছবি। তবে এটি কোনো সিক্যুয়াল নয়।যৌথ পরিবারের মামা-মামী, দাদু-দিদা, ভাই-বোনদের নিয়ে ভরা সংসার। অ্যাডভোকেট নিশীথ দেবের বড় ছেলে ত্রিদিব, তিন ভাই সুদেব, দেবেশ, রোহিত ও বোন সেমন্তী তাঁদের দার্জিলিং-এর পৈতৃক বাড়ি অভিলাষে ছুটি কাটাতে আসে। এই বাড়ি দেখাশোনার দায়িত্ব রয়েছেন জগদীশ তামাং ও তাঁর মেয়ে সুরিটা। একটা পরিবারের ভাই-বোনেদের রিইউনিয়ন। সবাই মিলে তাঁরা বেড়াতে গিয়েছেন দার্জিলিঙে। বেড়াতে গিয়েই সম্পর্কের জট খুলবে। সম্পর্কের ঘূর্ণিপাকে তরতরিয়ে এগোবে ছবির গল্প। একটা বড়দিনের ছুটি কী মেটাতে পারবে সব পারিবারিক সমস্যা? আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা সব সমস্যার উত্তর দেবে।এই ছবির চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন রাজর্ষি দে। চিত্রনাট্য ও সংলাপ পদ্মনাভ দাশগুপ্তর। প্রযোজনা করেছেন শিল্পী এ পাণ্ডে ও আকর্ষণ কে পাণ্ডে।

জানুয়ারি ২২, ২০২২
বিনোদুনিয়া

Kasturi Chakraborty : সাত পাকে বাঁধা পড়ছেন অভিনেত্রী কস্তুরী চক্রবর্তী

বিয়েটা সেরে ফেলছেন টলিউড অভিনেত্রী কস্তুরী চক্রবর্তী। পাঠভবনের তার দীর্ঘদিনের বন্ধু সৌভিক সান্যালের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধলেন কস্তুরী। রবিবার ২ জানুয়ারি ছিল কস্তুরীর জন্মদিন। বিশেষ দিনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সুখবরটা ভাগ করে নেন তিনি।এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনটি ছবি পোস্ট করেন কস্তুরী। ক্যাপশনে লেখেন,বিষয়টা সংক্ষিপ্ত, স্বপ্নটা বিস্তীর্ণ......আমরা বিয়ে করছি। জন্মদিনের থেকে বেশী আনন্দের দিন আর পেলাম না খবরটা পোস্টাবার... শুভেচ্ছা আর ভালবাসাগুলো বহুগুনে বর্ষিত হোক। পোস্টের শেষে একটা ভালোবাসার চিহ্ন রেখে গেছেন।বলিউডের মতো টলিউডেও বিয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি বিয়ে করেছেন মেখলা দাশগুপ্ত ও তৃষা চ্যাটার্জি। এবার সুখবর জানালেন অভিনেত্রী কস্তুরী চক্রবর্তী।

জানুয়ারি ০৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

Ambarish : নতুন ধারাবাহিকে অম্বরিশ

খড়কুটো ধারাবাহিকে পটকা-র চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের পছন্দের অভিনেতা হয়ে উঠেছেন অম্বরীশ ভট্টাচার্য।ছোটপর্দার পাশাপাশি সিনেমাতেও সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি।তবে ছোটপর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেতাকে খুব তাড়াতাড়ি ছোটপর্দার আরও একটি প্রোজেক্টে দেখতে পাবেন দর্শকরা।স্টার জলসায় শুরু হতে চলেছে ম্যাজিক মোমেন্টস প্রযোজিত নতুন ধারাবাহিক আলতা-ফড়িং। কাহিনী ও চিত্রনাট্যের দায়িত্বে রয়েছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর চিত্রনাট্যে রচিত ধারাবাহিক শ্রীময়ী-তে শ্রীময়ীর ভাইয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন অম্বরীশ। খড়কুটো-র পটকাও লীনার সৃষ্টি। এবার আলতা-ফড়িং-এ লীনারই সৃষ্ট আরও একটি চরিত্রে অভিনয় করতে চলেছেন অম্বরীশ। চলতি বছরের আট থেকে দশ জানুয়ারির মধ্যেই শুরু হবে শুটিং। আলতা-ফড়িং পরিচালনা করছেন শৈবাল গঙ্গোপাধ্যায়। শোনা যাচ্ছে, এই ধারাবাহিকে একদম নতুন ধরনের চরিত্রে দেখা যেতে চলেছে অম্বরীশকে। তবে চরিত্রটি সম্পর্কে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি।

জানুয়ারি ০২, ২০২২
বিনোদুনিয়া

Good Bye 2001: শেষ বেলার চিঠি, ২০২১ কে হাসি কান্নায় বিদায় জানালেন শ্রীলেখা

সময় ও স্রোত কারুর জন্য অপেক্ষা করে থাকেনা। বয়ে চলে নিজের ছন্দে। ছন্দপতন হওয়ার কোনও সুযোগ-ই তারা দেয়না। বর্তমান শব্দটা খুব আপেক্ষিক, টাইম-ফ্রেম-এ কোনোভাবেই-ই তাকে ধরা যায় না। মুহুর্তে সে অতীত হয়ে যায়। করোনা-র চোখ-রাঙ্গানী দিয়ে শুরু হয়ে ২০২১-র আজ শেষ দিন। বর্তমান-এর অস্বিত্ত্ব খুঁজতে খুঁজতেই ৩৬৪টা দিন শেষ! আমাদের প্রত্যেক-র জীবন থেকেই গোটা একটা বছর ডিলিট হয়ে গেলো। পিছন ফিরে সেই চলে যাওয়া ২০২১ কে সুখ-দুঃখের অনুভুতি মেশানো পত্র দিয়ে বিদায় জানালেন টলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)। বছরের শেষ দিনের আগেই তা পোস্ট করলেন সামাজিক মাধ্যমে।চিঠিতে অভিনেত্রী লিখেছেনঃপ্রিয় ২০২১,আপনার চলে যাবার একদিন আগেই আপনাকে বিদায় জানাচ্ছি কারণ... কাল-এর কথা কাল-ই জানে। তুমি আমার বাবাকে তাঁর রাজকুমারীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে অনাথ করেছ, হ্যাঁ তাই, ক্ষমা-তো তোমাকে আমি করতেই পারবো না! তুমি ক্ষমার পাত্র-ও নও। আবার সেই তুমি-ই আমার শিল্পসত্তা কে যে জায়গায় প্রতিষ্টিত করেছ, ভাবিনি কোনওদিন আমি নিজেকে সেখানে দেখতে পাবো! তুমি আমাকে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছো, হ্যাঁ, অবশ্যই ভেনিস চলচিত্র উৎসবের কথাই বলছি। যখন আমার আশেপাশের লোকজন আমার খামতি খুঁজে বেরিয়েছে (দেখুন আমি কিন্তু কিচ্ছু ভুলিনি)।তাই আজ আমার চোখে অশ্রু, অবয়বে এক বিষণ্ণতার ভাঁজ (কেউ কেউ বলে নাকি যে এটাই আমার সেরা অভিব্যাক্তি)। আমি বলি কে সেরা সেরা...... সোচনা কেয়া জো ভি হোগা দেখা যায়েগা এইটুকুই থাক.....চিঠিটা এখানেই শেষ করেছেন শ্রীলেখা। অনেক কিছুই ফিরিয়ে দেওয়ার আছে, এই ইঙ্গিত-ই কি দিলেন শ্রীলেখা? জীবন থেমে থাকেনা, সে তার নিজের গতিতেই বয়ে চলে, আমাদের শুধু মরুতীর্থ হিংলাজ যাত্রার মত পথের ক্লান্তি ভুলে স্নেহ ভরা কোলে তব- মাগো, বলো কবে শীতল হবো-কত দূর আর কত দূর বল মা গেয়ে যেতে হবে। কোভিড-১৯, ডেল্টা, ওমিক্রন আরও কত চোখরাঙ্গানী দেখতে হবে। তারই ফাঁক দিয়ে জীবন নামক বল টাকে গোলের দিকে নিয়ে যেতে হবে। কেউ পৌছাবে কেউ থেমে যাবে......সামাজিক মাধ্যমে অসম্ভব জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী সদাসর্বদা তাঁর সুখ-দুঃখ সকলের সাথে ভাগ করে নেন। ছায়াছবি-র মানুষ-জন যে শুধুই ছায়া বা ভিন গ্রহের এই ধারনা তিনি অনেকটাই ভেঙ্গে দিয়েছেন। তারাও আনন্দে হাসেন, দুঃখে কাঁদেন, ক্ষিদে পেলে খান। তার এই খোলা চিঠি এই বার্তা-ই দেই যে, কোন পরিস্থিতিতে-ই ভেঙ্গে পোড়না, ভালো সময় তোমাই দেখছে। কবির ভাষায় মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয় / আড়ালে তার সূর্য হাসে।প্রখ্যাত অভিনেতা সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় শ্রীলেখা-র এই সামাজিক মাধ্যমে-র পোস্ট এ লিখেছেন দেখা হবে নতুন গানের ভোরে, খুব-ই প্রাসঙ্গিক। কেটে যাক এই আস্থিরতা, নতুন বছরে এক নতুন সুর্য উঠুক।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

উত্তমের ‘অমৃতকাল’ ফেরানোর অঙ্গীকার, বাংলা ছবির জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা

একটা সময় ছিল, বাংলা সিনেমা শুধু বাংলার দর্শকের বিনোদন ছিল নাসারা দেশের চলচ্চিত্র মানচিত্রে তার ছিল আলাদা এক মর্যাদা। অভিনয়, গল্প, সঙ্গীত, নির্মাণসব মিলিয়ে বাংলা ছবির দিকে তাকিয়ে থাকত গোটা দেশ। আর সেই সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর পর্দার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বাভাবিকতা এবং বাঙালির আবেগের সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত সংযোগ বাংলা চলচ্চিত্রকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতা।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে সেই হারানো গৌরবের কথাই যেন নতুন করে সামনে এল। নন্দনের একতারা মুক্তমঞ্চে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল বাংলা সিনেমাকে ফের দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, প্রয়োজন হলে পরিকাঠামো, বাজেট এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিল রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একসময় গোটা ভারতকে নেতৃত্ব দিত বাংলা সিনেমা। বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল টলিউডের। সেই জায়গায় আবার ফিরতে হবে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের এই সন্ধ্যাকে তাই তিনি শুধু উদ্যাপনের মুহূর্ত হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন নতুন করে সংকল্প নেওয়ার সময় হিসেবেও। তাঁর বার্তাচলচ্চিত্রশিল্পের কী প্রয়োজন, কোথায় পরিকাঠামোর ঘাটতি, কী ধরনের সরকারি সহযোগিতা দরকার, এমনকি প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দ বা আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও সরকার তা বিবেচনা করবে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই যেন প্রতিধ্বনিত হল উত্তমকুমারের সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের সেই আত্মবিশ্বাস। যে সময়ে বাংলা ছবির অভিনেতা, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছত, সেই পরিবেশই ফেরানোর ডাক উঠল জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে।অনুষ্ঠানের আবহও ছিল সেই স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার মতো। দর্শকে পরিপূর্ণ নন্দন চত্বর। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে মিঠুন চক্রবর্তী, জিৎ। সঙ্গে সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের পরিচিত মুখ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মুহূর্তে বিশাল পর্দায় ফুটে উঠল উত্তমকুমারের অভিনীত বিভিন্ন চরিত্র। নেপথ্যে ভেসে এল সন্ন্যাসী রাজার হরি ওম ধ্বনি। পর্দায় দেখা গেল মহানায়কের অবিস্মরণীয় দৃশ্য এবং সংলাপ। যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য সময় পিছিয়ে গেলফিরে এল উত্তমের সেই পর্দার জাদু।জন্মশতবর্ষের এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে আগেই আলোচনা করেছিলেন। শিল্পীদের সম্মিলিত উপস্থিতির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর মতে, উত্তমকুমার এমন এক নাম, যিনি প্রজন্মের বিভাজন মুছে সবাইকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে পারেন। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে এই মুহূর্তে একটাই পরিচয়উত্তমকুমারের উত্তরাধিকার বহন করা বাংলা চলচ্চিত্র।আর সেই জায়গাতেই অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবদার ছিল স্পষ্টদেশের অন্য রাজ্য থেকে যদি কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা চলচ্চিত্র নির্মাতা কলকাতা কিংবা বাংলায় শুটিং করতে আসেন, তাঁদের উৎসাহ দিতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।মিঠুনের প্রস্তাব ছিল, বাইরে থেকে আসা ছবির ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হোক। তবে সরাসরি নগদ অর্থ নয়, করছাড় বা এই ধরনের সরকারি সুবিধার মাধ্যমে সেই সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতির ইঙ্গিত পেয়ে মিঠুন জানান, তাঁর আবদার মেনে নেওয়া হয়েছে।এই প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এল বাংলাকে চলচ্চিত্রের শুটিং গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা। শুধু বাংলা ভাষার ছবি নয়, দেশের অন্যান্য ভাষার বড় বাজেটের ছবিও যদি বাংলায় শুটিং করতে আসে, তাহলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ, স্টুডিয়ো, লোকেশন, পরিবহণ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পসব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের আর একটি বড় আকর্ষণ ছিল পদযাত্রা। নন্দন থেকে শুরু হওয়া সেই শোভাযাত্রায় সামনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। নন্দন চত্বর ঘুরে পদযাত্রা পৌঁছয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, জওহরলাল নেহরু রোড হয়ে রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশনের পাশ দিয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়।সেই পদযাত্রায়ও যেন একসঙ্গে হাঁটল বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্ম। একটি ভিন্টেজ গাড়িতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, চিরঞ্জিত, মমতাশঙ্কর, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক ও হরনাথ চক্রবর্তী। তাঁদের পিছনে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, শুভশ্রী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী-সহ আরও অনেকে। শেষ সারিতে ছিলেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও কলাকুশলীরাহাতে উত্তমকুমারের ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড।জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তেও ছিল নানা আয়োজন। আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, ভবানীপুরের বিজলী প্রেক্ষাগৃহ থেকে কলকাতা জিপিওবিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধা জানানো হয় মহানায়ককে। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে উত্তমকুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ভবানীপুরে উদ্বোধন করা হয় তাঁর ২০ ফুটের পূর্ণাবয়ব কাটআউট। জিপিও-তে ভারতীয় ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয় উত্তম-স্মরণে বিশেষ কভার।শুধু সরকারি অনুষ্ঠানেই থেমে থাকেনি স্মরণ। শিল্পীদের একাংশ উত্তমকুমারের বাড়িতেও পৌঁছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। বাড়ির তরফে শিল্পীদের আপ্যায়নে ছিল লুচি, আলুর তরকারি এবং পায়েসযেন মহানায়কের জন্মদিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির চিরপরিচিত ঘরোয়া আবেগেরই পুনরাবৃত্তি।জন্মশতবর্ষের পরবর্তী কর্মসূচিতেও থাকছে উত্তমকুমারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ফিরে দেখার আয়োজন। রাজারহাটের নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নন্দনে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক দিয়ে শুরু হবে উত্তমকুমারের ছবির বিশেষ উৎসব। শিশির মঞ্চে হবে নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার এবং অ্যাক্টিং অফ উত্তমকুমার শীর্ষক আলোচনা। রবীন্দ্রসদনে নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাঙ্গীতিক শ্রদ্ধার্ঘ।তবে এই জন্মশতবর্ষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনও একটি অনুষ্ঠান নয়। বরং উত্তমকুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হওয়া। কারণ মহানায়ককে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর ছবি দেখানো নয়তাঁর সময়ের বাংলা সিনেমার সৃষ্টিশীল সাহস, উৎকর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনা।একদিন যে বাংলা সিনেমা গোটা দেশের চলচ্চিত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল, সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। প্রয়োজন ভালো গল্প, দক্ষ নির্মাতা, নতুন মুখ, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথাএকটি সুস্থ চলচ্চিত্র-পরিবেশ। সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একজন মহান অভিনেতার শতবর্ষ উদ্যাপন হয়ে থাকল না। তাঁর নামকে সামনে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো দিনগুলিকে ফিরে পাওয়ার একটি নতুন স্বপ্নও উচ্চারিত হল নন্দনের মঞ্চে।মহানায়ক হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের সেই সময়, বাংলা সিনেমার সেই গৌরবসেটুকু কি নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অঙ্গীকারই শোনা গেল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

“তাঁকে দেখার পথ যে শেষ হয় না”—জন্মশতবর্ষের শুরুতেই স্মৃতির পর্দায় চিরউজ্জ্বল উত্তমকুমার

তাঁকে দেখার পথ যেন কোনওদিন শেষ হওয়ার নয়। তাঁর অভিনয় দেখেও যেন কোনওদিন আশ মেটে না। সময়ের স্রোত বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি ও প্রযুক্তিতবু বাঙালির হৃদয়ের পর্দায় এক নায়ক আজও একইরকম উজ্জ্বল। তিনি অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়বাঙালির চিরপরিচিত উত্তমকুমার। সম্ভবত বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম এবং শেষ ম্যাটিনি আইডল, যাঁকে ঘিরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনা চলতেই থাকবে।আজ থেকে শুরু হল সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষের পথচলা। আগামী এক বছর জুড়ে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা, প্রদর্শনী ও শ্রদ্ধার্ঘ্যে ফিরে ফিরে আসবেন উত্তমকুমার। তবে তাঁকে স্মরণ করার জন্য কোনও বিশেষ দিন বা শতবর্ষের প্রয়োজন হয় না। কারণ উত্তমকুমার বাঙালির কাছে শুধু একজন অভিনেতার নাম নন, তিনি এক বিস্ময়কর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাএকটি সময়ের নাম, একটি আবেগের নাম।এই আবেগেরই অন্যরকম প্রকাশ দেখা গেল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। জন্মশতবর্ষের সূচনালগ্নে প্রাত্যহিক সমবেত সভায় ছাত্রছাত্রীদের সামনে উত্তমকুমারের শিল্পীসত্তা ও অভিনয়জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়।তিনি মনে করিয়ে দেন, উত্তমকুমারকে শুধুমাত্র প্রেমিক নায়ক হিসেবে দেখলে তাঁর অভিনয়-প্রতিভার বিশালতাকে ছোট করে দেখা হয়। রোম্যান্টিক নায়কের পরিচিত ছকের বাইরে গিয়ে ভৃত্য, দেশপ্রেমিক, খলনায়কবিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও কোমল, কখনও কঠিন, কখনও সংবেদনশীল, কখনও তীব্রঅভিনয়ের প্রতিটি পরিসরেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের কথায় উঠে আসে ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত অভিনয়ের চারটি ধারার প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ভরত মুনির কথিত অভিনয়ের বিভিন্ন রীতিকে যেন স্বতঃস্ফূর্ত ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভায় নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর অভিনয় শুধু চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত না, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালির আত্মবিশ্বাসকেও আরও দৃঢ় করেছিল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছবির নায়ক হয়ে উঠেছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, একসময় দশকের পর দশক ধরে সিনেমার পর্দায় ছড়িয়ে থাকা উত্তমকুমারের নাক্ষত্রিক ব্যক্তিত্বই দর্শককে টেনে নিয়ে যেত সিনেমা হলের অন্ধকারে। সেই সময় সিনেমা দেখা মানেই ছিল উৎসব, আর উত্তমকুমার ছিলেন সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।আজ সেই সময় অনেকটাই ইতিহাস। যে শহর ও মফস্সলের অলিগলিতে একসময় একের পর এক সিনেমা হল ছিল, তার অধিকাংশই আজ হারিয়ে গিয়েছে। হারিয়েছে সেই পোস্টার, হারিয়েছে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হারিয়েছে প্রজেক্টরের আলোয় পর্দা জুড়ে মহানায়কের আবির্ভাবের সেই সম্মিলিত উচ্ছ্বাস। কিন্তু হারায়নি উত্তমকুমার।বরং সিনেমা হলের অস্তিত্ব ফিকে হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছেন বাঙালির স্মৃতিতে। এই পথ যদি না শেষ হয়শুধু একটি গানের দৃশ্য নয়, তা হয়ে উঠেছে বাঙালির রোম্যান্টিক কল্পনার এক চিরন্তন প্রতীক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য দৃশ্য, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর চলনআজও অজান্তেই ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির পর্দায়।প্রযুক্তির বদল এসেছে। সিনেমা এখন মোবাইলের পর্দায়, অ্যানিমেশন ও রিলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অ্যানিমেশন, রিল এবং বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে শিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার নানা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে উত্তমকুমারের মতো সাংস্কৃতিক আইকনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও আজ আরও বিস্তৃত।তবে মাধ্যম বদলালেও উত্তমকুমারের আবেদন বদলায়নি। কারণ তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তি কোনও প্রযুক্তি নয়, কোনও নির্দিষ্ট সময়ও নয়তা মানুষের আবেগে নির্মিত।তাই জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা মানে শুধু একজন অভিনেতাকে স্মরণ করা নয়। ফিরে দেখা বাঙালির এক হারিয়ে যাওয়া সময়কে, সিনেমা হলের সেই অন্ধকারে জ্বলে ওঠা আলোকে, পর্দায় মহানায়কের আবির্ভাবে দর্শকের উচ্ছ্বাসকে এবং ভালোবাসার সেই ভাষাকে, যা প্রজন্ম পেরিয়েও পুরনো হয় না।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই নিছক এক শতবর্ষ উদ্যাপন নয়। এটি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক দীর্ঘ যাত্রা।যে যাত্রার পথ আজও শেষ হয়নি।হয়তো কোনওদিন শেষও হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদা স্টেশনে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক, বাতিল কিছু লোকাল ট্রেন, আগে পড়ুন এই খবর

শিয়ালদা স্টেশনে অত্যাবশ্যকীয় ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্য শিয়ালদা ডিভিশনে শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর এবং রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী রাতে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক থাকবে।এই ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০০:০০ ঘণ্টা থেকে ০৭:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদা স্টেশনে DN/Main লাইনের KM 0/17L থেকে KM 0/19M-এর মধ্যে পয়েন্ট নং 208A/209B-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। এর অধীনে বিদ্যমান ৫২ কেজি DSS-কে ৬০ কেজি DSS-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিং-এর ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে।যাত্রীদের অসুবিধা যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সপ্তাহান্তের গভীর রাত ও ভোরের সময় এই কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট দলগুলি সাইটে মোতায়েন থাকবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।ট্রাফিক ব্লকের সময় কিছু সিগন্যালিং ও ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্র্যাক সার্কিটে পরিবর্তন করা হবে এবং ব্লকের সময় লাইন নং ৬ ও লাইন নং ১১-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট প্রভাবিত থাকবে।পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ন্যূনতম সংখ্যক শহরতলির ট্রেন পরিষেবা বাতিল থাকবে এবং কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে শর্ট-টার্মিনেট করা হবে।*বাতিল হওয়া ট্রেন পরিষেবাগুলি হল:* শিয়ালদহাবরা: 33651, 33653 UP / 33652, 33654 DN শিয়ালদাকল্যাণী সীমান্ত: 31311 UP, 31313 UP / 31312, 31314 DN শিয়ালদাডানকুনি: 32213 UP, 32215, 32217 UP / 32214, 32216, 32218 DN শিয়ালদারানাঘাট: 31615 UP / 31620 DN শিয়ালদাহাবরা: 31213 UP / 31214 DN শিয়ালদাবারাসাত: 33431 UP / 33432 DN শিয়ালদাদত্তপুকুর: 33613 UP / 33618 DNএছাড়াও, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 53172 DN (লালগোলাসিয়ালদহ) ট্রেনটি দমদম জংশন (DDJ)-এ শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। পরবর্তীতে ট্রেনটির খালি রেক উপযুক্তভাবে শিয়ালদায় নিয়ে আসা হবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানান, কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের সংশ্লিষ্ট দলগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের পরিবর্তিত ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিয়ালদা স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পয়েন্ট কনভার্সনের এই কাজটি ট্র্যাক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। এর ফলে কিছু ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস না করে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।যাত্রীদের ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যাত্রার আগে নিজেদের যাত্রা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার এবং সর্বশেষ ট্রেন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু ট্রেন চলাচলের বৃহত্তর স্বার্থে এই কাজ করা হচ্ছে। সাময়িক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য সিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানে খাদ্য দফতরের হানা, কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা?

মিষ্টির জন্য বিখ্যাত বর্ধমান। এই শহরের সীতাভোগ ও মিহিদানার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। শক্তিগড়ের ল্যাংচারও যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা? খাদ্য দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানের কঙ্কালসার চেহারা। একের পর এক দোকান মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্যসামগ্রী রাখছে। এই তালিকায় নামীদামী দোকানও আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও মিষ্টির দোকান, হোটেল ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর বর্ধমানে একাধিক নামী মিষ্টির দোকানে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির উদ্ধারের পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া আইসক্রিম ও নরম পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি।সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত বর্ধমান শহরে এদিনের অভিযান শুরু হয় বর্ধমান পুরসভার সামনের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনিরের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ওই পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পনির বিক্রি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।এরপর বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারই নয়, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ একাধিক সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। একটি দোকান থেকে ঘির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বর্ধমান শহরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চলছে এই নজরদারি। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব এবং সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বুধবারও পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আমড়া এলাকার একাধিক হোটেলে পরিদর্শন করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।আমড়ার একটি হোটেল পরিদর্শনের পর ফুড সেফটি অফিসার প্রদীপ্ত মণ্ডল জানান, সেখানে কোনও অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। তবে হোটেলের ভিতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানায় দফতর। হোটেল মালিককে নোটিশ দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং খাবারের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

উত্তমের ঠোঁটে হেমন্তের কণ্ঠ—সুর আর অভিনয়ের সেই অলৌকিক রসায়ন

আজ ৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়। এই দিনেই জন্মেছিলেন সেই মানুষটি, যাঁকে বাঙালি আজও ভালোবেসে মহানায়ক বলে ডাকেউত্তমকুমার।রূপোলি পর্দায় তাঁর হাসি, চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি কিংবা নিছক নীরব উপস্থিতিসবকিছুই একসময় বাঙালির আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু উত্তমকুমারের সেই পর্দার জাদুকে আরও কয়েক গুণ গভীর করে তুলেছিল একটি কণ্ঠ।সে কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের।উত্তমকুমারের ঠোঁটে হেমন্তের গানবাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেখানে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগত না, কে গান গাইছেন? বরং মনে হতোউত্তমই যেন গানটি গাইছেন।এটাই ছিল উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক। একজন ছিলেন অভিনয়ের সম্রাট, অন্যজন কণ্ঠ ও সুরের জাদুকর। অথচ তাঁদের দুজনের কণ্ঠস্বরের মডুলেশন, উচ্চারণ, আবেগ এবং শব্দের ভেতরের নাটকীয়তার এমন আশ্চর্য মিল ছিল যে, পর্দায় হেমন্তের কণ্ঠ হয়ে উঠত উত্তমেরই আরেকটি পরিচয়।উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন হেমন্তবাংলা সিনেমায় প্লেব্যাক গান শুধু গান নয়। পর্দার অভিনেতার চরিত্র, আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গায়ককে একাত্ম হতে হয়। উত্তমকুমারের ক্ষেত্রে এই কাজটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এমনভাবে করেছিলেন যে, পরবর্তীকালে তাঁদের যুগলবন্দি বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব এক ঘরানা হয়ে দাঁড়ায়।শাপমোচন-এর গান থেকে শুরু করে হারানো সুর, ইন্দ্রাণী, মরুতীর্থ হিংলাজএকাধিক ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠ উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, গান শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে থেকে যেত উত্তমের মুখ আর হেমন্তের কণ্ঠদুটো আলাদা করে ভাবা যেত না।সুরের আকাশে তুমি যে গো শুকতারা, ঝড় উঠেছে বাউল বাতাসএই গানগুলির জনপ্রিয়তার পেছনে সুর বা কথা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল উত্তমের অভিনয় এবং হেমন্তের কণ্ঠের সেই অসাধারণ সামঞ্জস্য।হেমন্তের গলায় ছিল এক ধরনের গভীরতা, বিষণ্ণতা এবং সংযত আবেগ। উত্তমের অভিনয়ের মধ্যেও ছিল ঠিক সেই সংযত আবেগের প্রকাশ। তিনি কখনও অতিরিক্ত অভিনয় করতেন না; চোখের দৃষ্টি, ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়া কিংবা মুখের অভিব্যক্তিতেই অনেক কথা বলে দিতেন।ফলে হেমন্ত যখন গাইতেন, তাঁর কণ্ঠের আবেগকে উত্তম পর্দায় এমনভাবে ধারণ করতেন যে গানটি আর শুধু প্লেব্যাক থাকত নাতা হয়ে উঠত উত্তমের চরিত্রের অন্তরের ভাষা।প্রথম পরিচয় কি শাপমোচন-এ?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পরিচয় নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি আকর্ষণীয় বিতর্ক রয়েছে।সাধারণভাবে বলা হয়, ১৯৫৫ সালে শাপমোচন ছবির সময় থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্কের সূত্রপাত। কিন্তু গবেষক সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই ১৯৫১ সালের সহযাত্রী ছবিতে হেমন্ত নাকি উত্তমের জন্য গান গেয়েছিলেন। তর্কের খাতিরে ১৯৫৫ সালে শাপমোচন কেই মেনে নেওয়া যায়, তাহলে সেই সিনেমার ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস গানে যে ঝড় বাংলা সিনেমার আকাশে উঠেছে আজও তার রেশ রয়ে গেছে।সমস্যা হল, সহযাত্রী-র সমস্ত প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায় না। ফলে সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। তাই ইতিহাসের নিশ্চিত দলিল হিসেবে শাপমোচন-কেই তাঁদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ধরা হয়। আর সেই সূচনা যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তা পরবর্তী কয়েক দশকের বাংলা সিনেমাই প্রমাণ করেছে।সলিল-হেমন্ত এবং উত্তমএকই সময়ের তিন উত্থানএই গল্পের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একদিকে সলিল চৌধুরী গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের গান লিখছেন, সুর করছেন। অন্যদিকে তরুণ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের কণ্ঠের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন।১৯৪৭ সালে সলিলের লেখা ও সুর করা গাঁয়ের বধূ হেমন্তের কণ্ঠে এক ঐতিহাসিক সৃষ্টি হয়ে ওঠে।অন্যদিকে একই সময় চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য সংগ্রাম করছেন অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁকে কেউ কেউ ফ্লপ মাস্টার বলেও ঠাট্টা করছেন।কিন্তু ভাগ্য তখন অন্য গল্প লিখছিল।বসু পরিবার, সাড়ে চুয়াত্তর এবং অগ্নিপরীক্ষাপরপর তিনটি ছবির সাফল্যের পর অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন উত্তমকুমার।অর্থাৎ, বাংলা সংস্কৃতির এক অসাধারণ যুগে প্রায় একই সময়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমার।শাপমোচন: যে ছবিতে তৈরি হল ইতিহাসশাপমোচন-এর সঙ্গীত পরিচালনার জন্য প্রথমে সুধীর মুখোপাধ্যায়ের পছন্দ ছিলেন শচীন দেববর্মণ। কিন্তু তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তখন হেমন্ত ছিলেন বম্বেতে। কলকাতায় ফেরার একটি সুযোগও তিনি খুঁজছিলেন। ফলে শাপমোচন শুধু একটি চলচ্চিত্রের কাজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল হেমন্তের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আর সেই ছবিতেই তৈরি হল উত্তম-হেমন্তের সেই সুরেলা রসায়ন, যা পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত স্বাক্ষর হয়ে দাঁড়ায়। হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্ব যেন নতুন মাত্রা পেল।আশ্চর্য মিল শুধু গানে নয়, কথার কণ্ঠেও!উত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের সবচেয়ে চমকপ্রদ অজানা তথ্যগুলির একটি লুকিয়ে রয়েছে হারানো সুর ছবিতে। সাধারণত আমরা ভাবি, একজন অভিনেতার মুখের সঙ্গে গায়কের গলা মেলানোই প্লেব্যাকের সাফল্য। কিন্তু উত্তম ও হেমন্তের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। হারানো সুর-এর একটি দৃশ্যে উত্তমের চরিত্রকে সুচিত্রা সেনের চরিত্রকে নাম ধরে ডাকতে হয়। ডাবিংয়ের সময় কোনও কারণে উত্তমকুমার উপস্থিত ছিলেন না। সেই সংলাপটি দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়!ফল?দর্শকের কাছে তা আলাদা করে বোঝাই যায়নি। হেমন্তের কথা বলার গলার সঙ্গে উত্তমের কণ্ঠের এমন মিল ছিল যে, সেই সংলাপ ছবির অন্যান্য সংলাপের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়। এ যেন প্রমাণ করেশুধু গানেই নয়, কথার মডুলেশনেও হেমন্ত ছিলেন উত্তমের এক অদ্ভুত ভয়েস ডাবল।তারে বলে দিওএক যুগের শেষের ইঙ্গিত?১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া দুই ভাই ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠে তারে বলে দিও শ্রোতাদের কাছে আজও স্মরণীয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে উত্তমকুমারের প্লেব্যাকে হেমন্তের ব্যবহার কমতে শুরু করে। হেমন্ত অবশ্য উত্তমের ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন। কিন্তু উত্তমের ঠোঁটে তাঁর কণ্ঠের সেই আগের অবাধ উপস্থিতি আর থাকল না। ক্রমশ উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠলেন অন্যরাওশ্যামল মিত্র, মান্না দে প্রমুখ।তবুও উত্তমের সঙ্গে হেমন্তের কণ্ঠের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, তা এতটাই গভীর ছিল যে, অন্য গায়কের কণ্ঠ শুনলে দর্শকের একটা অংশের মনে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা চলে আসত।সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদসুরের অন্য অধ্যায়উত্তম-হেমন্ত সম্পর্ককে শুধুমাত্র প্লেব্যাকের মধ্যে আটকে রাখলে ভুল হবে। সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদ, সাথীহারা সহ উত্তমকুমারের একাধিক ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, হেমন্ত কখনও উত্তমের কণ্ঠ হয়ে গান গেয়েছেন, কখনও তাঁর ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ফলে তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক ছিল বহুমাত্রিক। একজন অভিনেতা হিসেবে উত্তম যেমন হেমন্তের কণ্ঠের শক্তিকে বুঝতেন, তেমনই একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে হেমন্তও বুঝতেন উত্তমের অভিনয়-ব্যক্তিত্বকে। এই বোঝাপড়াটিই তাঁদের কাজকে এত স্বাভাবিক করে তুলেছিল।মহিষাসুরমর্দিনীর বিকল্প অনুষ্ঠানেও হেমন্তের ভূমিকাউত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের আরও একটি কম-আলোচিত ঘটনা জড়িয়ে আছে মহালয়ার সঙ্গে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী বাঙালির মহালয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একসময় আকাশবাণী সেই অনুষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে দেবী দুর্গতিহারিণী আয়োজন করেছিল। জানা যায়, উত্তমকুমার সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে প্রথমে রাজি ছিলেন না। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনুরোধ ও আশ্বাস না দিলে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হতেন না। পেশাগত সহযোগিতার বাইরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থাও তৈরি হয়েছিল।তবে সব সম্পর্কেই কি শুধু মধুরতা থাকে?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তী সময়ে নানা গল্প ছড়িয়েছে। কোনও কোনও সূত্রে তাঁদের মধ্যে অভিমান, মনোমালিন্য কিংবা বচসার কথা বলা হয়েছে। একটি কাহিনিতে উত্তম ও গৌরী দেবীর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উঠে আসে। আবার আরও একটি বহুল প্রচলিত গল্পে অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তম ও হেমন্ত পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা বলা হয়।তবে এই কাহিনিগুলির নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে এগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। বরং তাঁদের সম্পর্কের যে অংশটি নথিবদ্ধ এবং শিল্পের ইতিহাসে অমোচনীয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান মুছে যায়নি।উত্তমের প্রয়াণহেমন্তের নীরবতার রহস্য১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তমকুমারের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বাংলা যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয় অনেকের নজরে পড়েছিলহেমন্ত মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন উত্তমের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ মন্তব্য করেননি।কেন?তার উত্তর হয়তো তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। পরবর্তী জীবনে এক সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বলেছিলেন, উত্তম তাঁর সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিজের অন্তরের একটি বিরাট অংশ। একটি সম্পর্কের গভীরতা বোঝার জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে?একই আকাশের দুই নক্ষত্রউত্তমকুমার চলে গেলেন ১৯৮০ সালে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।দুজনের জীবনের শেষ অধ্যায় আলাদা হলেও বাংলা সংস্কৃতির স্মৃতিতে তাঁরা আজও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন।উত্তমের মুখে হেমন্তের গান শুনলে আজও মনে হয় গানটি যেন হেমন্ত গাইছেন না, উত্তম নিজেই গাইছেন।আসলে এখানেই তাঁদের সম্পর্কের সাফল্য।একজনের কণ্ঠ অন্যজনের অভিনয়ের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল যে, দর্শক গায়ককে ভুলে গিয়ে চরিত্রের অনুভূতিটাকেই অনুভব করতেন।হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের প্রেম, বিরহ, অভিমান, আনন্দ কিংবা বিষণ্ণতাসবই যেন আরও সত্যি হয়ে উঠত।জন্মদিনে মহানায়ককে ফিরে দেখাআজ উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করার অসংখ্য পথ রয়েছে। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী ছবি আছে, আছে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর অমর জুটি, আছে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার ইতিহাস।কিন্তু উত্তমকে নতুন করে অনুভব করার একটি সহজ পথ এখনও আছেচোখ বন্ধ করে তাঁর ঠোঁটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনুন।তখন হয়তো বোঝা যাবে, কেন কয়েক দশক পরেও উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দি বাঙালির স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।কারণ সেটি নিছক একজন অভিনেতার জন্য একজন গায়কের গান ছিল না।সেটি ছিলঅভিনয় ও সুরের মিলন।মুখ ও কণ্ঠের মিলন।তারকা ও গায়কের মিলন।আর শেষ পর্যন্তদুই মহান শিল্পীর এক আত্মিক সংলাপ।উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মনে পড়ে যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই কণ্ঠও।যে কণ্ঠ একসময় উত্তমের ঠোঁটে প্রাণ পেয়েছিল।আর সেই কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও একটি কথা সত্যি হয়ে আছেউত্তমের মুখে হেমন্তের গানএ যেন উত্তমকুমারেরই আর-একটি কণ্ঠ।জীবন খাতার প্রতি পাতায়যতই লেখো হিসাব নিকাশকিছুই রবে নালুকোচুরির এই যে খেলায়প্রাণের যত দেয়া নেয়াপূর্ণ হবে না।পাতার পর পাতা ফুরিয়ে যায়, শব্দের পর শব্দ নিঃশেষ হয়ে আসেতবু উত্তম-হেমন্তের সেই অনন্য রসায়নকে সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করা বোধহয় অসম্ভব।কারণ তাঁদের সম্পর্ক শুধু পর্দায় গাওয়া কিছু গানের সমীকরণ ছিল না; ছিল কণ্ঠ আর অভিনয়ের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। উত্তম কুমারের ঠোঁটে যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ ভেসে উঠত, মনে হতোএকজন অভিনয় করছেন, আর অন্যজন তাঁর মনের কথাগুলো গেয়ে চলেছেন। যেন দুটি মানুষ নন, একই অনুভূতির দুই ভিন্ন প্রকাশ।তাঁদের গান লেখা যায়, গান গাওয়ার ইতিহাস বলা যায়, সিনেমার দৃশ্যের কথা বলা যায়কিন্তু সেই অনুভূতিটুকু ভাষায় ধরা যায় না।উত্তম-হেমন্তকে তাই ব্যাখ্যা করা যায় নাশুধু অনুভব করা যায়।কোনও এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় পুরনো রেকর্ডে - এই পথ যদি না শেষ হয়..., আর চোখের সামনে ভেসে উঠলে উত্তমকুমারের সেই চিরচেনা মুখতখনই বোঝা যায়, কিছু রসায়ন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না।তারা থেকে যায় মানুষের হৃদয়েসুরে, স্মৃতিতে, আর এক অমলিন ভালোবাসায়। উত্তম-হেমন্তের পথ শেষ হইয়াও শেষ হয় না।।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

ডিভিসির জল ছাড়ায় বাড়ছে বিপদ! ৫০ হাজার কিউসেক পেরিয়ে জল, এবার কি প্লাবনের আশঙ্কা?

টানা বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। তার জেরে দ্রুত বাড়ছে ডিভিসির বিভিন্ন জলাধারের জলস্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইথন এবং পাঞ্চেত ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ফলে দামোদর সংলগ্ন নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ড্যামের জলস্তর বর্তমানে ৪৮৪.২৫ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জলাধার থেকে গড়ে প্রায় ৬৪২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর রয়েছে ৪১৪.১১ ফুট। সেখান থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে।দুই ড্যাম মিলিয়ে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ৭৯৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে দামোদর নদেও জলস্তর বাড়ছে। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে দফায় দফায় ছাড়া জল পৌঁছচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজে।বুধবার সকাল পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে প্রায় ৯৭ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে খবর। সে ক্ষেত্রে নিম্ন দামোদর এলাকার একাধিক জায়গায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।ইতিমধ্যেই টানা বৃষ্টিতে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও কোথাও জল জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। জাতীয় সড়কেও তার প্রভাব পড়েছে।এর মধ্যেই দুর্যোগের আরও একটি ছবি ধরা পড়েছে খনি অঞ্চলে। টানা বৃষ্টির জেরে পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুরের ৭ এবং ৯ নম্বর পিট এলাকায় আচমকা ধস নামে। লোকালয়ের একেবারে কাছে মাটি বসে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খনি আবাসনের কাছেই ধস নামায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই ওই এলাকায় লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরেই আচমকা মাটি বসে ধস নেমেছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ধসের জায়গায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই এলাকায় এর আগেও ধস নেমেছিল। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৮ সালেও একই জায়গায় ধস হয়েছিল। সেই সময় ধসের জায়গাটি খনি কর্তৃপক্ষের তরফে যথাযথ ভাবে মেরামত করা হয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার যাদবের অভিযোগ, খনি কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। দ্রুত ধসের জায়গা মেরামত করার পাশাপাশি গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।একদিকে ড্যাম থেকে বাড়ছে জল ছাড়ার পরিমাণ, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে খনি এলাকায় ধসের ঘটনা। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় দুর্যোগের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

টোল দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতায় ইডির হানা! শেক্সপিয়র সরণির আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে সকালেই তল্লাশি

জাতীয় সড়কের টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বুধবার সকালে কলকাতায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শেক্সপিয়র সরণির একটি আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সাত রাজ্যের মোট ১৪টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে খবর।বুধবার সকালেই ছয় সদস্যের ইডির একটি দল শেক্সপিয়র সরণির ওই আবাসনে পৌঁছয়। যে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়, সেখানে ব্যবসায়ীর অফিসও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আবাসনটি ঘিরে রাখেন। আচমকা এই তল্লাশি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কে টোল আদায় নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই দেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর।অভিযোগ, বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে জাতীয় সড়কে নিয়মের বাইরে টোল আদায় করা হত। অনুমোদিত নয় এমন টোলের রসিদ তৈরি করে গাড়িচালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। পরে সেই টাকা বিভিন্ন কৌশলে সরিয়ে ফেলা হত বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ।অভিযোগ আরও, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হত। ফলে সরকারি নথিতে সেই লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্য ধরা পড়ত না। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।এই অভিযোগের তদন্তে নেমে ডিজিটাল নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। টোল থেকে আদায় করা বেআইনি টাকা কোথায় গিয়েছে, কারা সেই টাকার সঙ্গে যুক্ত এবং পুরো ব্যবস্থার নেপথ্যে আর কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান-সহ সাতটি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।তবে কলকাতার ব্যবসায়ীর সঙ্গে টোল দুর্নীতির অভিযোগের যোগসূত্র ঠিক কোথায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শেক্সপিয়র সরণির ওই ফ্ল্যাট থেকে কী ধরনের নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্তকারীরা এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি। ফলে কলকাতায় এই তল্লাশির নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে ফের ছুটল ভারত! ৫.৫ টন ওষুধ আর ১১ উদ্ধারকারী নিয়ে উড়ল বায়ুসেনার বিমান

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ চার হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও বড় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। ৫.৫ টন প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১ জনের উদ্ধারকারী দল নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার পঞ্চম বিমান।ভারতের তরফে আগে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী ইতিমধ্যেই নেপালের বিপর্যয়কবলিত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। রসুয়ার শিবিরে সেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পর নেপাল সেনার হাতে তা তুলে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকাজেও সহযোগিতা করছে ভারত।ইন্দো-নেপাল সীমান্তে উদ্ধারকাজে তৎপরতার সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র সীমা বলের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইন্দো-নেপাল এবং ইন্দো-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এই বাহিনী। বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার ও সহযোগিতার কাজেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।২৬ অগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালের হড়পা বানে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০০৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও চার হাজারেরও বেশি মানুষের কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে আরও কোনও ভারতীয় রয়েছেন কি না, সেই তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।বিপর্যয়ের পর মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং কোনও মৃত ব্যক্তি ভারতীয় হলে তাঁর দেহ কী ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। স্বজনেরা কী ভাবে মৃতদেহ শনাক্ত করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে কী ভাবে দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জানানো হয়েছে।নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, উষ্ণায়নের কারণে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহের ভয়াবহ হড়পা বান সেই আশঙ্কারই নতুন করে বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জও সতর্ক করেছে।এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে ভারতের একের পর এক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার তৎপরতায় বিপর্যস্ত নেপালের মানুষকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal