• ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩, সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Delhi

খেলার দুনিয়া

ওয়ার্নার ও মার্শের দাপটে প্লে অফের লড়াইয়ে রইল দিল্লি ক্যাপিটালস

রাজস্থান রয়্যালসকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে উড়িয়ে প্লে অফের লড়াইয়ে দারুণভাবে ঢুকে পড়ল দিল্লি ক্যাপিটালস। দিল্লির জয়ের নায়ক দুই অস্ট্রেলিয়ান তারকা মিচেল মার্শ ও ডেভিড ওয়ার্নার। এই দুই ব্যাটারের সামনে উড়ে গেলেন রাজস্থানের বোলাররা।ব্যাটারদের ব্যর্থতার জন্য দিল্লি ক্যাপিটালসের সামনে এদিন জয়ের জন্য খুব বড় রানের টার্গেট দিতে পারেনি রাজস্থান রয়্যালস। প্রথমে ব্যাট করে তুলেছিল ১৬০/৬। দিল্লির যা ব্যাটিং শক্তি তাতে ১৬১ রান তোলা খুব একটা কঠিন ছিল না। দ্বিতীয় বলে শিকর ভরতের উইকেট হারালেও সমস্যায় পড়তে হয়নি দিল্লিকে। শুরুর ধাক্কা দারুণভাবে সামাল দেন মার্শ ও ওয়ার্নার। পৃথ্বী শর না থাকাটা যে কতটা ক্ষতি, বুঝতে পারছে দিল্লি টিম ম্যানেজমেন্ট। শিকর ভরত আর যাইহোক পৃথ্বীর বিকল্প হতে পারেন না। পরপর দুম্যাচে ব্যর্থ ভরত। এদিন তো কোনও রান না করেই ইনিংসের প্রথম ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের বলে উইকেটের পেছনে সঞ্জু স্যামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। প্রথম ওভারে উইকেট হারালেও চাপে পড়েনি দিল্লি। ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শের সৌজন্যে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। রাজস্থানের কোনও বোলারই দিল্লির এই দুই ব্যাটারকে সমস্যায় ফেলতে পারেননি। ওয়ার্নারের থেকেও এদিন বেশি বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন মিচেল মার্শ। সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন। চাহালকে গ্যালারিতে পাঠাতে গিয়ে কুলদীপ সেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মার্শ। ৬২ বলে ৮৯ রান করেন তিনি। মার্শের ইনিংসে রয়েছে ৫টি চার ও ৭টি ছয়। এরপর ডেভিড ওয়ার্নার দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। ৪১ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ১১ বল বাকি থাকতে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দিল্লি। এদিন টস জিতে রাজস্থানকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। ইনিংসের শুরুতেই চেতন সাকারিয়ার বলে ১১ বলে মাত্র ৭ রান করে বাটলার শার্দূল ঠাকুরের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। আর এক ওপেনার যশস্বী জয়সোয়ালও দলকে নির্ভরতা দিতে পারেননি। ১৯ বলে ১৯ রান করে তিনি মিচেল মার্শের বলে ললিত যাদবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ডাগ আউটে ফেরেন। শুরুতে বাটলার আউট হওয়ায় মনে হচ্ছিল খুব বড় রানে পৌঁছতে পারবে না রাজস্থান। কিন্তু রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও দেবদত্ত পাড়িক্কলের ব্যাটে ভর করে ঘুরে দাঁড়ায় রাজস্থান। জুটিতে ওঠে ৫৩। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে তিনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কাজে লেগে গেল। ৩৮ বলে ৫০ রান করে অশ্বিন মিচেল মার্শের বলে ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন (৬), রিয়ান পরাগরা (৯) ব্যর্থ হলেও দলকে টেনে নিয়ে যান পাড়িক্কল। ৩০ বলে ৪৮ রান করে তিনি আনরিচ নর্টিয়ের বলে কমলেশ নাগরকোটির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। রাসি ভ্যান ডার ডুসেন ১০ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন।

মে ১১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

শুরুতে বাটলারকে হারিয়েও লড়াই করার মতো রান রাজস্থান রয়্যালসের

বুধবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে জিতলেই প্লে অফ কার্যত নিশ্চিত। এইরকম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুতে জস বাটলারের মতো ব্যাটারকে হারিয়েও লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছল রাজস্থান রয়্যালস। রাজস্থানের মান বাঁচল রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও দেবদত্ত পাড়িক্কলের সৌজন্যে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬০ রান তুলল রাজস্থান।এদিন রাজস্থান রয়্যালস একটি পরিবর্তন করে মাঠে নামে। শিমরন হেটমায়ার সন্তানের জন্মের জন্য গায়ানা ফিরে গেছেন। তাঁর পরিবর্তে প্রথম একাদশে আসেন রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুটি পরিবর্তন করে দিল্লি ক্যাপিটালস। রিপাল প্যাটেলের পরিবর্তে প্রথম একাদশে ফেরানো হয় ললিত যাদবকে। আর খলিল আমেদের জায়গায় প্রথম একাদশে ঢোকেন চেতন সাকারিয়া। তাঁকে প্রথম একাদশে সুযোগ দিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট যে কোনও ভুল করেনি, শুরুতেই জস বাটলারকে তুলে নিয়ে প্রমাণ করে দেন সাকারিয়া। দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে থাকলে ঝড় তুলে রাজস্থানকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়এ যেতেন বাটলার। ইংল্যান্ডের এই ওপেনারকে সেই সুযোগ দেননি সাকারিয়া।টস জিতে রাজস্থানকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। ইনিংসের শুরু থেকেই চেতন সাকারিয়ার বোলিংয়ের সামনে অস্বস্তিতে ছিলেন বাটলার। শেষ পর্যন্ত সাকারিয়াকেই উইকেট উপহার দেন বাটলার। ১১ বলে মাত্র ৭ রান করে তিনি শার্দূল ঠাকুরের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। আর এক ওপেনার যশস্বী জয়সোয়ালও দলকে নির্ভরতা দিতে পারেননি। ১৯ বলে ১৯ রান করে তিনি মিচেল মার্শের বলে ললিত যাদবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ডাগ আউটে ফেরেন। ৫৪ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও দেবদত্ত পাড়িক্কলের ব্যাটে ভর কর রুখে দাঁড়ায় রাজস্থান। জুটিতে ওঠে ৫৩। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে তিনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কাজে লেগে গেল। ৩৮ বলে ৫০ রান করে অশ্বিন মিচেল মার্শের বলে ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন (৬), রিয়ান পরাগরা (৯) ব্যর্থ হলেও দলকে টেনে নিয়ে যান পাড়িক্কল। ৩০ বলে ৪৮ রান করে তিনি আনরিচ নর্টিয়ের বলে কমলেশ নাগরকোটির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। রাসি ভ্যান ডার ডুসেন ১০ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন।

মে ১১, ২০২২
দেশ

রাষ্ট্রদ্রোহ আইন নিয়ে সুপ্রিম রায়, তোলপাড় রাজনৈতিক মহল

রাষ্ট্রদ্রোহ আইন নিয়ে অন্তর্বর্তী রায় দিয়ছে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের শুনানিতে বলেছে, কেন্দ্র পুনর্বিবেচনা না করা পর্যন্ত এই আইনে নতুন কোনও মামলা নয়। কেন্দ্রীয় সরকার যত দিন না ১২৪ এ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহ আইন পুনর্বিবেচনা করছে ততদিন পর্যন্ত এই ধারায় কোনও মামলা করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। একদিকে বিজেপি রাষ্ট্রদ্রোহ আইন থাকা নিয়ে গলা ফাটাচ্ছে অন্যদিকে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি ওই আইন তুলে দেওয়া নিয়ে জোরালো দাবি তুলেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি তো এই আইন পুরোপুরি তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।এদিন রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের শুনানি ছিল। সেই শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলিকে এই ধারায় কোনও এফআইআর, তদন্ত বা কড়া পদক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছে। আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি টুইটে বলেছেন, সত্যি কথা বলা সব সময় দেশভক্তির পরিচয় দেয়। আর সত্যি কথা শোনার ক্ষমতা রাখা কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। সত্যকে অস্বীকার করা ঔদ্ধত্যের লক্ষ্মণ। কাজেই এই নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, সত্যের জয় হবেই। এর পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুখেন্দুশেখর রায় এদিন বলেছেন, রাষ্ট্রদ্রোহ আইন তুলে দেওয়া উচিত।এদিনের রায়ে চাপে পড়ে গিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা কিরণ রিজিজু বলেছেন, একটা বিষয় আমাকে অবশ্যই বলতে হবে, আমরা আদালত এবং আদালতের স্বাধীনতাকে সম্মান করি, তবে তার একটি লক্ষ্মণ রেখা রয়েছে। উষ্মা প্রকাশ করেছেন রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য।এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলি বহুকাল থেকেই এই আইন তুলে দেওয়ার পক্ষে আন্দোলন করে চলেছে। তারাও আপাতকালীন এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁরা চাইছেন সম্পূর্ণভাবে যেন এই আইন তুলে দেওয়া হয়। ব্রিটিশরা নেই অথচ তাঁদের আইন বইছে দেশ। খোদ ইংল্যান্ডে এই আইন তুলে দেওয়া হয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত বেশিরভাগ দেশ এই আইন তুলে দিয়েছে।

মে ১১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

হারের হ্যাটট্রিক হায়দরাবাদের, জিতে প্লে অফের লড়াই জমিয়ে দিল দিল্লি

জয়ের সরণিতে ফেরা হল না সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। এই নিয়ে টানা ৩ ম্যাচে হার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। অন্যদিকে, জিতে প্লে অফের লড়াই জমিয়ে দিল দিল্লি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে হারল ২১ রানে। দিল্লির ২০৭/৩ রানের জবাবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তোলে ১৮৬/৮।বড় রানের লক্ষ্য নিয়ে জিততে গেলে শুরুটা ভাল হওয়া জরুরি। এদিন সেটাই করতে পারেনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দ্বিতীয় ওভারেই ফর্মে থাকা অভিষেক শর্মাকে তুলে নিয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে প্রথম ধাক্কা দেন খলিল আহমেদ। ৬ বলে মাত্র ৭ রান করে আউট হন অভিষেক। ২ ওভার পর আবার ধাক্কা সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। এবার আনরিখ নরটিয়ের শিকার সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ১১ বলে ৫ রান করে তিনি উইকেটের পেছনে ঋষভ পন্থের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। চাপ কাটানোর চেষ্টা করেন রাহুল ত্রিপাঠি ও এইডেন মার্করাম। আগের ম্যাচে রান পাননি রাহুল ত্রিপাঠি। এদিনও দলকে টানতে ব্যর্থ হন। ১৮ বলে ২২ রান করে মিচেল মার্শের বলে আউট হন। ৭ ওভারের মধ্যে ৩৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।Undefeated at Brabourne, and the 𝒋𝒐𝒔𝒉 continues to be 𝒉𝒊𝒈𝒉 🙌#YehHaiNayiDilli | #IPL2022 | #DCvSRH#TATAIPL | #IPL | #DelhiCapitals pic.twitter.com/ZPPO8NlHEt Delhi Capitals (@DelhiCapitals) May 5, 2022এরপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন মার্করাম। কুলদীপ যাদবের ওপর বেশি নির্দয় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে ৪২ রান করে তিনি খলিল আহমেদের বলে আউট হন। নিকোলাস পুরান আউট হতেই জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। ৩৪ বলে ৬২ রান করেন পুরান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৮৬/৮ তোলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ৩০ রানে ৩ উইকেট নেন খলিল আহমেদ।এদিন টস জিতে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ব্যাট করতে পাঠান সানরাইজার্স অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। শুরুটা ভাল হয়নি দিল্লির। বোর্ডে কোনও রান যোগ হওয়ার আগেই সাজঘরে ফিরে যান এদিন প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া মনদীপ সিং। মাত্র ৫ বল খেলে তিনি কোনও রান না করে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে আউট হন। মিচেল মার্শও (১০) ব্যর্থ। ক্রিজে নেমে ঝড় তুলেছিলেন ঋষভ পন্থ। ১টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে ১৬ বলে ২৬ রান করে তিনি শ্রেয়স গোপালের বলে বোল্ড হন।এরপর বাইশ গজে দাপট ডেভিড ওয়ার্নার ও রভম্যান পাওয়েলের। উমরান মালিকরা গতি দিয়ে কাবু করতে পারেননি এই দিল্লির এই দুই ব্যাটারকে। এই দুজনের সামনে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েন উমরান মালিক, কার্তিক ত্যাগীরা। ওয়ার্নার ও পাওয়েল জুটিতে ওঠে ১২২ রান। ৫৮ বলে ৯২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে ওয়ার্নার অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১২টি চার ও ৩টি ছয়। রভম্যান পাওয়েল। ৩৫ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। পাওয়েল মারেন ৩টি চার ও ৬ টি ছয়। এদিন ৪ ওভারে ৫২ রান দেন উমরান মালিক। ঝুলিতে কোনও উইকেট ভরতে পারেননি।

মে ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দুরন্ত ওয়ার্নার-পাওয়েল, বড় রান তুলে হায়দরাবাদকে চ্যালেঞ্জ দিল্লির

এদিন আইপিএলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও দিল্লি ক্যাপিটালস। দুই দলের কাছেই ছিল জয়ের সরণিতে ফেরার লড়াই। ডেভিড ওয়ার্নার ও রভম্যান পাওয়েলের দাপটে বড় রান তুলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল দিল্লি ক্যাপিটালস। নির্ধারিত ২০ ওভারে তুলল ২০৭/৩।দুই দলই এদিন প্রথম একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করে মাঠে নেমেছিল। দিল্লি ক্যাপিটালস দলে আজ ৪ পরিবর্তন। পৃথ্বী শ, অক্ষর প্যাটেল, চেতন সাকারিয়া ও মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় মনদীপ সিং, খলিল আহমেদ, রিপল প্যাটেল ও আনরিখ নরকিয়া। অন্যদিকে, সানরাইজার্স হায়দরাবাদে তিনটি পরিবর্তন। মার্কো জানসেন, ওয়াশিংটন সুন্দর ও টি নটরাজনের পরিবর্তে খেলছেন কার্তিক ত্যাগী, শন অ্যাবট ও শ্রেয়স গোপাল।এদিন টস জিতে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ব্যাট করতে পাঠান সানরাইজার্স অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। পৃথ্বী শ-র জায়গায় ওপেন করতে নেমে নিজেকে মেলে ধরতে পারলেন না মনদীপ সিং। মাত্র ৫ বল খেলে তিনি কোনও রান না করে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে আউট হন। মিচেল মার্শও (১০) দলকে নির্ভরতা দিতে পারেননি। শন আবটের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দেন মার্শ। ক্রিজে নেমে ঝড় তুলেছিলেন দিল্লি অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। কিন্তু তাঁর ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে ১৬ বলে ২৬ রান করে তিনি শ্রেয়স গোপালের বলে বোল্ড হন। একের পর এক উইকেট পড়লেও রানের গতি কমেনি দিল্লি ক্যাপিটালসের। আর সেটা ডেভিড ওয়ার্নার ও রভম্যান পাওয়েলের দাপটে। আগের ম্যাচের ব্যর্থতা পুষিয়ে দেওয়ার জন্যই যেন এদিন মাঠে নেমেছিলেন ওয়ার্নার। শন আবট, উমরান মালিকরা গতি দিয়ে কাবু করতে পারেননি এই অসি ওপেনারকে। রভম্যান পাওয়েলও অন্যপ্রান্তে ঝড় তোলেন। দিল্লির এই দুই ব্যাটারের সামনে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েন উমরান মালিক, কার্তিক ত্যাগীরা। ওয়ার্নার ও পাওয়েল জুটিই দিল্লিকে বড় রানে পৌঁছে দেয়। এই জুটিতে ওঠে ১২২ রান। মাত্র ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি পেলেন না ওয়ার্নার। ৫৮ বলে ৯২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে তিনি অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১২টি চার ও ৩টি ছয়। অন্যদিকে, ওয়ার্নারের থেকে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন রভম্যান পাওয়েল। ৩৫ বলে ৬৭ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। পাওয়েল মারেন ৩টি চার ও ৬ টি ছয়। এদিন ৪ ওভারে ৫২ রান দেন উমরান মালিক। ঝুলিতে কোনও উইকেট ভরতে পারেননি। ১টি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার ও শ্রেয়স গোপাল।

মে ০৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

নাইট রাইডার্সকে ভেন্টিলেশনে ঠেলে দিলেন প্রাক্তনী কুলদীপ

গত বছর আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্লে অফের ছাড়পত্র জোগাড় করে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এ মরশুমে সেই সম্ভাবনা যথেষ্ট ক্ষীণ। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে এদিন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারল ৪ উইকেটে। টানা ৫ ম্যাচ হেরে প্লে অফের রাস্তা যথেষ্ট কঠিন করে ফেলল নাইটরা। নাইটদের ভেন্টিলেশনে ঠেলে দিলেন কুলদীপ যাদব। দুরন্ত বোলিং করে নাইটদের ব্যাটিংকে তছনছ করে দেন।দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে এদিন শুরুটা ভাল হয়নি নাইট রাইডার্সের। নাইট শিবির থেকেও প্রত্যাঘাত এসেছিল দারুণভাবেই। ১৪৬ রান হাতে নিয়ে ম্যাচ জিততে গেলে বোলারদের জ্বলে ওঠাটা জরুরি। প্রথম বলেই পৃথ্বী শকে (০) তুলে নিয়ে দিল্লি ক্যাপিটালস শিবিরে চ্যালেঞ্জটা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন উমেশ যাদব। নিজের বলেই তিনি পৃথ্বীর ক্যাচ নেন। পরের বলেই আরও একটা উইকেট পেতে পারতেন উমেশ। তাঁর বল মিচেল মার্শের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটকিপার বাবা ইন্দ্রজিতের সামনে পড়ে বেরিয়ে যায়। প্রথম ওভারেই ওঠে ১১। দ্বিতীয় ওভারে আবার ধাক্কা খায় দিল্লি ক্যাপিটালস। নাইট রাইডার্সের জার্সি গায়ে আইপিএলের অভিষেক ম্যাচেই দলকে দারুণ ব্রেক থ্রু এনে দেন ২০ বছর বয়সী তরুণ জোরে বোলার হর্ষিত রানা। তুলে নেন মিচেল মার্শকে। ফ্লিক করতে গিয়ে ডিফ স্কোয়ার লেগে ভেঙ্কটেশ আয়ারের হাতে সহজ ক্যাচ দেন মার্শ (৭ বলে ১৩)। ১৭ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। পরিস্থিতি দারুণভাবে সামাল দেন ললিত যাদব ও ডেভিড ওয়ার্নার। গতবছর সানরাইজার্স হায়দরাবাদ জার্সি গায়ে নিজেকে একেবারেই মেলে ধরতে পারেননি ডেভিড ওয়ার্নার। এবছর নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালস তাঁকে তুলে নেয়। দিল্লির জার্সি গায়ে প্রথম ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তারপর থেকেই দারুণ ছন্দে এই অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার। নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে এদিনও দারুণ চাপ সামলালেন। ললিত যাদবকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। দ্বিতীয় স্পেলে বল করতে এসে উমেশ যাদব বল করতে এসে ওয়ার্নার (২৬ বলে ৪২) ও ঋষভ পন্থকে (২) তুলে নেন। অন্যদিকে ললিত যাদবকে (২২) ফেরান সুনীল নারাইন। পরপর ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দিল্লি। চাপ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দেন অক্ষর প্যাটেল (১৭ বলে ২৪) ও রভম্যান পাওয়েল (১৬ বলে অপরাজিত ৩৩)। ১ ওভার বাকি থাকতে ১৫০/৬ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় দিল্লি। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে কুলদীপ যাদবের ঘূর্ণির সামনে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের ব্যাটাররা। যদিও নাইট শিবিরে প্রথম ধাক্কা দেন চেতন সাকারিয়া। দ্বিতীয় ওভারে তিনি অ্যারন ফিঞ্চের (৩) স্টাম্প ছিটকে দেন। এদিন লোয়ার অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে তুলে নিয়ে আসা হয়েছিল ভেঙ্কটেশ আয়ারকে (৬)। তিনিও দলকে নির্ভরতা দিতে ব্যর্থ। অষ্টম ওভারে পরপর দুবলে বাবা ইন্দ্রজিৎ (৬) ও সুনীল নারাইনকে (০) তুলে নিয়ে নাইটদের মিডল অর্ডারে ভাঙন ধরান কুলদীপ যাদব। জ্বলে ওঠার মুখে অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারকেও (৩৭ বলে ৪২)। তুলে নেন। পরের বলেই ফেরান রাসেলকে (০)। নীতিশ রানা (৩৪ বলে ৫৭) ও রিঙ্কু সিংয়ের (১৬ বলে ২৩) সৌজন্যে ১৪৬/৯ রানে পৌঁছয় নাইট রাইডার্স। ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন কুলদীপ।

এপ্রিল ২৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

প্রাক্তন সৈনিক কুলদীপের ঘূর্ণিতেই বেহাল দশা নাইট রাইডার্সের

বৃহস্পতিবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। শ্রেয়স আয়ারদের কাছে ম্যাচটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্লে অফের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে গেলে জিততেই হত নাইট রাইডার্সকে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ। প্রাক্তন সৈনিক কুলদীপ যাদবের স্পিনেই বেসামাল নাইটরা। তাঁর ঘূর্ণিতে ভেঙে পড়ল নাইটদের মিডল অর্ডার। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ১৪৬ তুলল নাইট রাইডার্স। ১৪ রানে ৪ উইকেট নিলেন কুলদীপ। গত বছর আইপিএলে প্রথম পর্বে ৭ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টিতে জয় পেয়েছিল। শেষ ৭ ম্যাচের মধ্যে ৫টিতে জিতে প্লে অফের টিকিট জোগাড় করে নিয়েছিল নাইটরা। কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা অতীতে রয়েছে নাইট রাইডার্সের। এদিন দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারল না। টানা ৪ ম্যাচে হারের ধাক্কা সামলে জয়ে ফেরার লক্ষ্যে এদিন প্রথম একাদশে তিনটি পরিবর্তন করে মাঠে নেমেছিল নাইট রাইডাস। প্রথম একাদশে ফেরানো হয় অ্যারন ফিঞ্চ। এছাড়া এদিন প্রথম সুযোগ দেওয়া হয় বাবা ইন্দ্রজিৎ ও হর্ষিত রানাকে। প্রথম একাদশে ফেরার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ফিঞ্চ। একবার জীবন পেয়েও মাত্র ৩ রান করে আউট হন। টস জিতে এদিন নাইট রাইডার্সকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি ক্যাপিটালস অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। দ্বিতীয় ওভারে চেতন সাকারিয়ার দ্বিতীয় বলে অ্যারন ফিঞ্চের ক্যাচ তালুবন্দী করতে পারেননি রভম্যান পাওয়েল। পরের বলেই অবশ্য ফিঞ্চের (৩) স্টাম্প ছিটকে দেন সাকারিয়া। প্রথম একাদশে ফিরেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। এদিন ওপেনিংয়ে ফেরানো হয়েছিল ভেঙ্কটেশ আয়ারকে (৬)। তিনিও দলকে নির্ভরতা দিতে ব্যর্থ। অষ্টম ওভারে পরপর দুবলে বাবা ইন্দ্রজিৎ (৬) ও সুনীল নারাইনকে (০) তুলে নিয়ে নাইটদের মিডল অর্ডারে ভাঙন ধরান কুলদীপ যাদব। এরপর নীতিশ রানাকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দাঁড়ান অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার (৩৭ বলে ৪২)। পরপর দুবলে শ্রেয়স ও আন্দ্রে রাসেলকে (০) তুলে নিয়ে আবার নাইটদের চাপে ফেলে দেন কুলদীপ। শেষ পর্যন্ত নীতিশ রানা (৩৪ বলে ৫৭) ও রিঙ্কু সিংয়ের (১৬ বলে ২৩) সৌজন্যে ১৪৬/৯ রানে পৌঁছয় নাইট রাইডার্স। দুরন্ত বোলিং করে ৩ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন কুলদীপ। ১৮ রানে ৩ উইকেট মুস্তাফিজুরের।

এপ্রিল ২৮, ২০২২
দেশ

দিল্লির জাহাঙ্গিপুরী এলাকার হিংসার ঘটনায় বাংলা থেকে গ্রেফতার

দিল্লি হিংসার ঘটনায় তমলুক থেকে গ্রেফতার হল। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থেকে গ্রেফতার করল ফরিদ ওরফে নীতু ওরফে আরিফ। জানা গিয়েছে, দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরী এলাকার হিংসার ঘটনায় ফরিদের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ রয়েছে। গোপনসূত্রে খবর পেয়ে এদিন কলকাতা থেকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। এর আগে দিল্লি হিংসার ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল এরাজ্যের। হলদিয়ার কুমারগ্রামের আনসারের খোঁজে এসেছিল দিল্লি পুলিশ। তারপর স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের ছবি নিয়ে বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ উঠেছিল। পরক্ষণেই বিজেপির মিছিলে আনসারের ছবি প্রকাশ্যে এনে তৃণমূল নেতৃত্ব টুইট করতে থাকেন। দুদলই বিপাকে পড়ে। ফরিদের গ্রেফতারের ফল এবার দিল্লি হিংসার সঙ্গে বাংলার নাম এসেই গেল। তমলুক থেকে গ্রেফতার হল দিল্লি হিংসার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী।

এপ্রিল ২৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আবার সেঞ্চুরি!‌ স্বপ্নের ফর্মে বাটলার, উড়ে গেলেন কুলদীপরা

আবার ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন জস বাটলার। এদিন ওয়াংখেড়েতে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে পেলেন চলতি আইপিএলের তৃতীয় শতরান। সেই সঙ্গে আইপিএলে তাঁর মোট শতরানের সংখ্যা দাঁড়াল ৪। বাটলার স্পর্শ করলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও শেন ওয়াটসনকে। নিজের শেষ ৮ আইপিএল ইনিংসের চারটিতেই শতরান হাঁকালেন বাটলার।রাজস্থান রয়্যালস ও দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচে লড়াইটা ছিল মূলত রাজস্থানের ব্যাটারদের সঙ্গে দিল্লির বোলারদের লড়াই। কুলদীপ যাদব, মুম্তাফিজুর রহমান, অক্ষর প্যাটেলদের নক আউট করে দিয়ে রীতিমতো দাপট দেখিয়ে গেলেন বাটলারদেবদত্ত পাড়িক্কলরা। এই দুই ওপেনারের সৌজন্যেই দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে বড় রান রাজস্থান রয়্যালসের। এদিন টস জিতে রাজস্থান রয়্যালসকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। ভেবেছিলেন ১৫০১৬০ রানের মধ্যে রাজস্থান রয়্যালসকে আটকে রাখতে পারবেন। ভরসা করেছিলেন দলের সেরা লেগ স্পিনার কুলদীপ যাদবের ওপর। কিন্তু দিল্লি বোলারদের কোনও রকম সুযোগ দেননি রাজস্থানের দুই ওপেনার জস বাটলার ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। চলতি আইপিএলে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন বাটলার। এদিন ললিত যাদবের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ইংল্যান্ডের এই ওপেনার। দেবদত্ত পাড়িক্কলও নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেন। তাঁর হাফ সেঞ্চুরি আসে ৫০ বলে। রাজস্থানের বাটলার ও দেবদত্তর এই দুই ওপেনার সবথেকে বেশি নির্দয় ছিলেন কুলদীপ যাদবের ওপর। শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ৫৪ রান করে খলিল আমেদের বলে এলবিডব্লুউ হন দেবদত্ত পাড়িক্কল।প্রথম দিকে বাটলার খুব বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন না। হাফ সেঞ্চুরি করার পর রীতিমতো ঝড় তোলেন। পরের ৫০ আসে ২২ বলে। অর্থাৎ ৫৭ বলে সেঞ্চুরি। আইপিলে মোট ৪ সেঞ্চুরির মালিক হলেন বাটলার। চলতি মরশুমে ৩টি। শেষ পর্যন্ত ৬৫ বলে ১১৬ রান করে তিনি মুস্তাফিজুরের বলে ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। সঞ্জু স্যামসনও ক্রিজে নেমে ঝড় তোলেন। ১৯ বলে ৪৬ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ২২২ রান তোলে রাজস্থান রয়্যালস।

এপ্রিল ২২, ২০২২
রাজ্য

দিল্লিতে বাঙালিকে বাংলাদেশি চিহ্নিত করে অত্যাচার, প্রতিবাদের ঝড় বাংলা পক্ষর

দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরী এলাকায় বাঙালিদের ঘরবাড়ি, দোকান ভাঙার ও বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি তকমা দেওয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার হাজরা মোড় থেকে রবীন্দ্র সদন পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করে বাংলা পক্ষ। মিছিলের নেতৃত্ব দেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি, অমিত সেন, ও চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস। উপস্থিত ছিলেন কলকাতা জেলা সম্পাদক অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, উত্তর ২৪ পরগনা গ্রামীণের সম্পাদক দেবাশিস মজুমদার, উত্তর ২৪ পরগনা শিল্পাঞ্চলের সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ, হাওড়ার সম্পাদক জয়দীপ দে। এছাড়াও এই মহামিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষের বিভিন্ন জেলার সহযোদ্ধারা।এই মিছিল থেকে দিল্লির সরকারের বাঙ্গালিদের উপরে আক্রমণ, দোকানপাট, ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এই ঘটনা ন্যাক্কারজনক। দিকে দিকে বাঙালিদের উপর আক্রমণ এবং বাংলা ভাষায় কথা বললেই তাকে বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হচ্ছে। বাংলা পক্ষ এই ঘটনার প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছে।শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি বলেন, কলকাতা সহ প্রতিটি জেলায় বাংলা পক্ষ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিবাদে নামছে। শুধু দিল্লি না, এই কলকাতায়, এরাজ্যের নানা জায়গায় বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাঙালিকে বাংলাদেশি বলে প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার হতে হয়। আগামিতে বহিরাগতরা যাতে বাঙালিকে বাংলাদেশি বলার সাহস না পায়, তার জন্য বাংলা পক্ষর প্রতিরোধ তীব্র হবে। চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, বাঙালিকে বাংলাদেশি বলা ধিক্কারজনক ঘটনা।এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামিদিনে বাংলাপক্ষ আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। বাংলা পক্ষ দলমত ও ধর্ম নির্বিশেষে ভারতের আপামর বাঙালিকে প্রতিবাদে মুখর হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

এপ্রিল ২২, ২০২২
দেশ

দিল্লিতে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে পুলিশি বাধা, কটাক্ষ বিজেপির

দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীতে তৃণমূলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির মহিলা সদস্যরা পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের ওই এলাকায় পুলিশ ঢুকতে দেয়নি বলে অভিযোগ। যদিও তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি, এত বাঁধা সত্বেও তাঁরা পিছনের দিক থেকে ঢুকে অত্যাচারিতদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের কটাক্ষ, নিজের এলাকায় গণধর্ষণ, গণহত্যা ঘটলেও সেখানে যান না তৃণমূল সাংসদ। আর ছুটেছেন দিল্লি!বীরভূমের রামপুরহাটের বগটুইয়ের গণহত্যার ঘটনায় দিল্লি বিজেপি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছিল। তাঁরা ঘটনাস্থল ঘুরে দিল্লি ফিরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কাছে রিপোর্ট দাখিল করেন। তারপর হাঁসখালির গণধর্ষণে নাবালিকার মৃত্যুর অভিযোগ খতিয়ে দেখতেও জেপি নাড্ডার নির্দেশে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বাংলার মানুষ ৩৫৫ ও ৩৫৬ ধারার প্রয়োগ চাইছেন বলে দাবি করেছেন বিজেপির মহিলা প্রতিনিধি দল। এবার দিল্লির দাঙ্গাস্থল পরিদর্শনে তৃণমূল কংগ্রেসের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। এদিন ওই দলে ছিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অপরূপা পোদ্দার ও অর্পিতা ঘোষ।কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, জায়গাটা পুলিশ ঘিরে ব্যারিকেড করে রেখেছে। পুলিশ মানুষকে মানুষ মনে করছে না। তবু বাচ্ছা ও মহিলাদের সঙ্গে নিয়ে পিছনের দিক থেকে ঢুকেছি। সেদিনের অত্য়াচারের কাহিনী শুনেছি। বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে, জল নেই, খুবই কষ্টে রয়েছে। তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধীদের জন্য জায়গা ছেড়ে রাখতে হয়। জাহাঙ্গিরপুরীতে আমাদের প্রতিনিধিদের ঢুকতে দেওয়া উচিত ছিল। গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারছে না বিজেপি।এদিকে দিল্লিতে তৃণমূলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি যাওয়ায় কটাক্ষ করেছেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, নিজেরে এলাকায় গণধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও সেখানে যাননি সাংসদ। গণহত্যার এলাকাও পরিদর্শনে দেখা যায়নি তৃণমূল সাংসদকে। আগে নিজের এলাকা সামলাও তারপর দিল্লি যাবে।

এপ্রিল ২২, ২০২২
দেশ

দিল্লি দাঙ্গার মাষ্টারমাইন্ড আনসার বিজেপি না তৃণমূলের? বিতর্ক বাড়ছে

দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসায় নাম জড়িয়েছে বাংলারও। উত্তর-পশ্চিম দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীর দাঙ্গায় মূল অভিযুক্ত আনসারের বাড়ি হলদিয়ার কুমারপুর গ্রামে। এরইমধ্যে দিল্লি পুলিশের একটি দল ওই গ্রামে ঘুরে গিয়েছে। এদিকে আনসারের সঙ্গে হলদিয়ার তৃণমূল কাউন্সিলরের একটি ছবি প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক বেড়েছে। এবার বিতর্কে যুক্ত হল বিজেপিও। জাহাঙ্গিরপুরীর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মূল অভিযুক্ত আনসারের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের গুচ্ছ-গুচ্ছ ছবি প্রকাশ্যে এনে গেরুয়া শিবিরকে বিঁধলেন তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা। আনসারের সঙ্গে তৃণমূল না বিজেপির যোগ, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।আনসারের সঙ্গে কোন দলের সম্পর্ক তা নিয়ে একে অপরকে অভিযুক্ত করছে তৃণমূল ও বিজেপি। দিল্লি দাঙ্গার মূল অভিযুক্ত আনসারের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের ছবি এনে শুক্রবার একসঙ্গে টুইট করলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যের দুই মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, সুজিত বসু, আইএনটিটিউসির রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ররা। তৃণমূল নেতৃত্ব একযোগে দাবি করেছে, দিল্লির দাঙ্গায় মূল অভিযুক্ত আনসার বিজেপিরই কর্মী।I truly believe that our priority should be ensuring justice! The perpetrators must be adequately punished!Here, we see how Ansar has been closely associated with @BJP4India. Lets not have a one-track mind! pic.twitter.com/1hu8JEl6Vb Partha Chatterjee (@itspcofficial) April 22, 2022এর আগে হলদিয়ার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৃণমূল নেতা আজিজুল রহমানের কাঁধে হাত দিয়ে বসে রয়েছেন আনসার। এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলকে আক্রমণ করে বিজেপি। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় তৃণমূলের যোগ নিয়ে সোচ্চার হয় ঘাসফুল শিবির। অস্বস্তি বাড়তে থাকে তৃণমূলেও। আজিজুল রহমান জানিয়ে দেয়, ওই ছবিটা ২০১৯ সালের মে মাসের ছবি। জামা মসজিদের কাছের ছবি। আনসারের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। কিন্তু আনসারের কোনও অনৈতিক কাজের সঙ্গে আমি যুক্ত নই। বদনাম করার জন্য এই অভিযোগ আনছে বিজেপি। শুক্রবার তৃণমূল নেতারা বিজেপির সঙ্গে আনসারের ছবি টুইট করে পাল্টা তোপ দেগেছ বিজেপির বিরুদ্ধে। অভিজ্ঞ মহলের বক্তব্য, আনসার বিজেপি না তৃণমূলের এই বিতর্ক চলতে পারে। কিন্তু সন্ত্রাসের মদতদাতাকে আইন মোতাবেক শাস্তি দিক পুলিশ প্রশাসন।

এপ্রিল ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দিল্লির বিরুদ্ধে জয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের, তবু দাবি উঠল কোহলি হঠাও

বিরাট কোহলিকে তাহলে আর অপরিহার্য বলা যাবে না। তিনি রান না পেলেও যে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর যে জেতে, প্রমাণ হয়ে গেল। শুধু দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধেই নয়, চলতি আইপিএলে আগেও কোহলির ব্যর্থতার দিনে জিতেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। কোহলিপ্রেমীরা এতটাই হতাশ যে, কয়েকটা ম্যাচ বিশ্রাম নেওয়ার দাবিও তুলেছেন নেট নাগরিকরা। কেউ কেউ আবার দাবি তুলেছেন, কোহলি হঠাও।কোহলি রান না পেলেও বড় ইনিংস গড়তে সমস্যা হয়নি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের। এদিন দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ১৮৯/৫ রান তোলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। ১৭৩/৭ রানে থেমে যায় দিল্লি। দিল্লির পরাজয় ১৬ রানে।এদিন, আইপিএলে মাইলস্টোনের ছড়াছড়ি। প্রথম লখনউ সুপার জায়ান্টস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচে আইপিএলে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন লোকেশ রাহুল। তেমনই দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে শততম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। মহম্মদ সিরাজের কাছে আবার আইপিএলের পঞ্চাশতম ম্যাচ। লোকেশ রাহুলের মতো শততম ম্যাচ স্মরণীয় করতে রাখতে পারলেন না গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তবে তাঁর ব্যাটেই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর। আর শেষদিকে ঝড় তুলে দলকে বড় রানে পৌঁছে দেড় দীনেশ কার্তিক।Some well deserved awards after a memorable game. 🔝👏🏻👏🏻#PlayBold #WeAreChallengers #IPL2022 #Mission2022 #RCB #ನಮ್ಮRCB #DCvRCB pic.twitter.com/XeuhdE1cCm Royal Challengers Bangalore (@RCBTweets) April 16, 2022টস জিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি ক্যাপিটালস অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। প্রথম একাদশে দুটি দলই একটা করে পরিবর্তন করে মাঠে নামে। সরফরাজ খানের জায়গায় দিল্লির প্রথম একাদশে ঢোকেন মিচেল মার্শ। অন্যদিকে, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সে আকাশ দীপের জায়গায় হর্ষাল প্যাটেল। বোনের মৃত্যুর জন্য জৈব সুরক্ষা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন হর্ষাল। ফিরে এসে আবার জৈব সুরক্ষা বলয়ে যোগ দেন ১১ এপ্রিল। তিন দিনের কোয়ারেন্টিন পর্ব মিটিয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে মাঠে নামেন।ব্যাট করতে নেমে শুরুটা এদিন ভাল হয়নি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের। দ্বিতীয় ওভারে ফর্মে থাকা অনূজ রাওয়াতকে (০) তুলে নেন শার্দূল ঠাকুর। পরের ওভারেই অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসিকে ফেরান খলিল আমেদ। ১১ বলে ৮ রান করে ডু্প্লেসি অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স সবথেকে বড় ধাক্কা খায় সপ্তম ওভারে। ললিত যাদবের দুরন্ত থ্রোতে রান আউট হন বিরাট কোহলি। ১৪ বলে তিনি করেন ১২।এরপরই রুখে দাঁড়ান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। রীতিমতো তিনি ঝড় তোলেন কুলদীপ যাদবের এক ওভারে নেন ২৩। কুলদীপের বলেই অবশ্য তাঁকে ফিরতে হয়। ৩৪ বলে ৫৫ রান করে তিনি ললিত যাদবের হাতে ক্যাচ দেন। অক্ষর প্যাটেলের বলে আউট হন সুয়াস প্রভুদেশাই (৬)। এরপর বাইশ গজে তান্ডবলীলা চালান দীনেশ কার্তিক। মুস্তাফিজুর রহমানের এক ওভারে চারটি ৪ ও দুটি ছক্কাসহ নেন ২৮। ২৬ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন দীনেশ কার্তিক। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ৬৬ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে তিনি অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৫টি করে ৬ ও ৪। শাহবাজ আমেদ ২১ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন।জয়ের জন্য ১৯০ রানের লক্ষ্য খুব একটা সহজ ছিল না দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে। দারুণ শুরু করেছিসলেন দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও পৃথ্বী শ। ওপেনিং জুটিতে ৪.৩ ওভারে ৫০ রান পূর্ণ হয়। এরপরই মহম্মদ সিরাজের ধাক্কা। তুলে নেন পৃথ্বীকে (১৩ বলে ১৬)। ওয়ার্নারের ঝড় অবশ্য থামানো যায়নি। ২৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলেও পরপর দুই ম্যাচে দিল্লিকে নির্ভরতা দিলেন ওয়ার্নার। দলকে ভালোই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন এই অসি ওপেনার। হাসারাঙ্গার বলে এলবিডব্লু হতেই সমস্যায় পড়ে দিল্লি। ৪টি চার ও ৬টি ছয়ের সাহায্যে ৩৮ বলে ৬৬ রান করে আউট হন ওয়ার্নার। দিল্লির হয়ে অভিষেক ম্যাচও স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না মিচেল মার্শ (২৪ বলে ১৪)। হাসারাঙ্গার দুরন্ত থ্রোতে রান আউট। রভম্যান পাওয়েল (০), ললিত যাদবরা (১) দ্রুত ফেরায় চাপে পড়ে যায় দিল্লি। অধিনায়ক ঋষভ পন্থ (১৭ বলে ৩৪) ঝড় তোলার চেষ্টা করেও সফল হননি। শার্দূল ঠাকুর করেন ১৭। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ২৯ রানে ৩ উইকেট নেন জস হ্যাজেলউড। ৩১ রানে ২ উইকেট সিরাজের।

এপ্রিল ১৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বঞ্চনার মোক্ষম জবাব, নাইট রাইডার্সকে তছনছ করে দিলেন এই স্পিনার

যাবতীয় বঞ্চনার জবাব। পুরনো দলের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠলেন কুলদীপ যাদব। তাঁর দাপটেই টানা ২ ম্যাচ হারের পর জয়ে ফিরল দিল্লি ক্যাপিটালস। নাইট রাইডার্সকে হারাল ৪৪ রানে। ৩৪ রানে ৪ উইকেট তুলে নিলেন কুলদীপ। টস জিতে দিল্লি ক্যাপিটালসকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। শুরু থেকেই ঝড় তুলে উমেশ যাদব, রসিক সালাম দার, প্যাট কামিন্সদের ছন্দ নষ্ট করে দেন দিল্লির দুই ওপেনার। ৪ ওভারেই ৫০ রান পূর্ণ হয়ে যায় দিল্লির। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ওঠে ৬৮। চলতি আইপিএলে এটা তৃতীয় সর্বোচ্চ। সবথেকে বেশি তুলেছে চেন্নাই সুপার কিংস (৭৩/১) লখনউর বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঞ্জাব কিংসের (৭২/২)। পাঞ্জাব তুলেছিল চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে। সবকটিই মুম্বইয়ের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে। ওয়ার্নারের তুলনায় পৃথ্বী শ বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। ২৭ বলে তিনি হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন পৃথ্বী। নাইটদের বিরদ্ধে আগের ৫ ইনিংসে তাঁর রান ৮২,৬৬,১৪,৯৯,৬২।নাইট রাইডার্সকে ব্রেক থ্রু এনে দেন বরুণ চক্রবর্তী। নবম ওভারের চতুর্থ বলে তাঁর গুগলিতে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হন পৃথ্বী (২৯ বলে ৫১)। পৃথ্বীর ইনিংসে রয়েছে ৭টা ৪ এবং ২টি ৬। ৯.৫ ওভারে ১০০ রান পূর্ণ হয় দিল্লির। এদিন ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে তিন নম্বরে উঠিয়ে নিয়ে এসেছিলেন ঋষভ পন্থ। দারুণ শুরুও করেছিলেন। ১৪ বলে ২৭ রান করে আন্দ্রে রাসেলের বলে উমেশ যাদবের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ঋষভ আউট হওয়ার পরের বলেই ফেরেন ললিত যাদব (১)। তিনি সুনীল নারাইনের বলে এলবিডব্লু হন। নারাইনকে তুলে মারতে গিয়ে পরিবর্ত ফিল্ডার রিঙ্কু সিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রভম্যান পাওয়েল (৮)। ৪৫ বলে ৬১ রান করে উমেশ যাদবের বলে ফিরে যান ওয়ার্নার। পরপর ৪ উইকেট হারিয়ে রান তোলার গতি অনেকটাই কমে যায় দিল্লি ক্যাপিটালসের।পরের দিকে ঝড় তোলেন অক্ষর প্যাটেল (১৪ বলে অপরাজিত ২২) ও শার্দুল ঠাকুর (১১ বলে অপরাজিত ২৯)। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ২১৫/৫ তোলে দিল্লি। সুনীল নারাইন ২১ রানে ২ উইকেট নেন। উমেশ যাদব ৪ ওভারে দেন ৫৮। তুলে নেন ১ উইকেট। জয়ের জন্য ২১৬ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি কলকাতা নাইট রাইডার্সের। ৩৮ রানের মধ্যে ফিরে যান দুই ওপেনার ভেঙ্কটেশ আয়ার ও অজিঙ্কা রাহানে। এদিন শুরুটা ভাল করেছিলেন ভেঙ্কটেশ। ৮ বলে ১৮ রান করে তিনি খলিল আহমেদের বলে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।এদিনও ব্যর্থ রাহানে। ১৪ বলে মাত্র ৮ রান করে খলিল আহমেদের বলে শার্দুল ঠাকুরের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। আনরিখ নোখিয়ার পরিবর্তে এদিন খলিল আহমেদকে খেলায় দিল্লি টিম ম্যানেজমেন্ট। সুযোগের দারুন সদব্যবহার করেন খলিল। ৩৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর নাইট রাইডার্সকে টেনে নিয়ে যান নীতিশ রানা ও অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। জুটিতে ওঠে ৬৯ রান। নীতিশকে (২০ বলে ৩০) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন ললিত যাদব।পুরনো দলের বিরুদ্ধে নাইট রাইডার্সকে দারুন টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন শ্রেয়স। এগিয়ে এসে কুলদীপকে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হন তিনি। ৩৩ বলে ৫৪ করেন শ্রেয়স। শ্রেয়স আয়ার আউট হওয়ার পরপরই ধস নামে নাইট রাইডার্স ইনিংসে। পরপর ফিরে যান সাম বিলিংস (১৫), প্যাট কামিন্স (৪), সুনীল নারাইন (৪), উমেশ যাদব (০)। দলের ষষ্ঠদশ ও নিজের চতুর্থ ওভারে কামিন্স, নারাইন ও উমেশকে ফেরান কুলদীপ। ৪ ওভারে ৩৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে নাইট রাইডার্সের মেরুদন্ড ভেঙে দেন। আন্দ্রে রাসেল ২১ বলে করেন ২৪। ১৯.৪ ওভারে ১৭১ রানে গুটিয়ে যায় নাইট রাইডার্সের ইনিংস।

এপ্রিল ১০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ব্যর্থওয়ার্নার, লখনউকে জেতালেন দিল্লিরই এক প্রাক্তন

গত বছর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যর্থ ছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। মেগা নিলামের আগে তাঁকে ছেড়ে দেয় সানরাইজার্স। নিলাম থেকে তাঁকে ৬.২৫ কোটি টাকায় কেনে দিল্লি ক্যাপিটালস। ২০১২ সালে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে খেলেছিলেন ওয়ার্নার। ৯ বছর পর পুরনো দলে ফিরেও নিজেকে মেলে ধরতে পারলেন না। ওয়ার্নারের ব্যর্থতার দিনে জয়ে ফেরা হল না দিল্লি ক্যাপিটালসের। এবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে হার ৬ উইকেটে। দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রাক্তনী কুইন্টন ডিককের দুরন্ত ব্যাটিংই জেতাল লখনউ সুপার জায়ান্টকে। এদিন শুরুটা ভাল করেও বড় রান করতে ব্যর্থ দিল্লি ক্যাপিটালস। মূলত পৃথ্বী শ, ঋষভ পন্থ ও সরফরাজ খানের সৌজন্যে ১৪৯/৩ তোলে। জয়ের জন্য ১৫০ রানের লক্ষ্য খুব একটা কঠিন ছিল না লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে। শুরুটাও দুর্দান্ত হয়েছিল। ওপেনিং জুটিতে ৭৩ তুলে ফেলে লখনউ সুপার জায়ান্টস। কুইন্টন ডিকক আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করতে থাকায় অ্যাঙ্করের ভুমিকা পালন করেন লোকেশ রাহুল। দশম ওভারের চতুর্থ বলে জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব। তাঁকে তুলে মারতে গিয়ে লং অফে পৃথ্বী শর হাতে ক্যাচ দেন লোকেশ রাহুল। ২৫ বলে তিনি করেন ২৪। দু ওভার পরেই এভিন লুইসকে (৫) তুলে নেন ললিত যাদব। ১২.৩ ওভারে লখনউর রান দাঁড়ায় ৮৬/২।এরপর লখনউকে টেনে নিয়ে যান কুইন্টন ডিকক। ৫২ বলে ৮০ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে তিনি কুলদীপ যাদবের বলে সরফরাজ খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ৯টি ৪ ও ২টি ৬ মারেন ডিকক। শেষ ওভারে লখনউর জয়ের জন্য দরকার ছিল ৫ রান। প্রথম বলেই দীপক হুডাকে (১৩ বলে ১১) তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন শার্দূল ঠাকুর। কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারেননি। দ্বিতীয় বলে আয়ুষ বাদোনি কোন রান করতে না পারলেও তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে স্কোর সমান সমান করেন। চতুর্থ বলে ৬ মেরে দলকে জয় এনে দেন আয়ুষ বাদোনি (৩ বলে অপরাজিত ১০)। ১৪ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ক্রূণাল পান্ডিয়া।জয়ের সরণিতে ফিরতে রোমারিও শেফার্ডের পরিবর্তে ডেভিড ওয়ার্নারের ওপর ভরসা করেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। দিল্লির জার্সি গায়ে প্রথম ম্যাচেই ব্যর্থ এই অসি তারকা। প্রতিটা ম্যাচেই রাতের দিকে শিশির সমস্যায় ফেলছে। সেকথা মাথায় রেখে টস জিতে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন লখনউ সুপার জায়ান্টস অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। পৃথ্বী শর সৌজন্যে দারুণ শুরু করেছিল দিল্লি। পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারে দিল্লি ক্যাপিটালস তোলে ৫২/০।অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে ধাক্কা খায় দিল্লি ক্যাপিটালস। নিজের দ্বিতীয় ওভারে পৃথ্বী শকে তুলে নেন কৃষ্ণাপ্পা গৌতম। ওভারের প্রথম দুটি বলে ৬ ও ৪ মেরেছিলেন পৃথ্বী। পরের বলে কাট করতে গিয়ে বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে কুইন্টন ডিককের হাতে জমা দেন। ৯টি চার ও ২টি ছক্কার ৩৪ বলে ৬১ রান করে আউট হন পৃথ্বী। গতমরশুমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সি গায়ে নিজেকে একেবারেই মেলে ধরতে পারেননি ডেভিড ওয়ার্নার। দিল্লি ক্যাপিটালসের জার্সি গায়ে মরশুমের প্রথম ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না। লখনৌ সুপার জায়ান্টের বোলারদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন। রবি বিষ্ণোইয়ের অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরের বল কাট করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে আয়ুষ বাদোনির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ১২ বলে মাত্র ৪ রান করেন ওয়ার্নার। দুই স্পিনার রবি বিষ্ণোই ও কৃষ্ণাপ্পা গৌতমের আঁটোসাটো বোলিং চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল। রান তোলার গতি মন্থর হয়ে গিয়েছিল। ডট বলের সংখ্যাও বাড়ছিল। চাপ কাটাতে গিয়েই আউট রভম্যান পাওয়েল। হতাশ হতে তিনি স্লগ সুইপে বিষ্ণোইকে গ্যালারিতে পাঠাতে গিয়ে বোল্ড হন। ১০ বলে মাত্র ৩ রান করেন পাওয়েল। ১১ ওভারের মধ্যেই ৭৪ রানে ৩ উইকেট হারায় দিল্লি। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক ঋষভ পন্থ ও সরফরাজ খান। জুটি ওঠে ৭৩। এই জুটিই দিল্লিকে ১৪৯/৩ রানে পৌঁছে দেয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে তোলে দিল্লি। ৩৬ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ঋষভ। ২৮ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন সরফরাজ। রবি বিষ্ণোই ২২ রানে ২ উইকেট নেন।

এপ্রিল ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দিল্লির হয়ে প্রত্যাবর্তন ম্যাচে এ কী হাল ডেভিড ওয়ার্নারের!‌

আইপিএলের দিল্লির জার্সি গায়ে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না ডেভিড ওয়ার্নার। গত মরশুমের মতো এবছরের শুরুতেও আইপিএলে রানের জন্য সেই লড়াই এই অসি তারকার। বৃহস্পতিবার লখনউ সুপার জায়ান্টাসের বিরুদ্ধে ১০ বলে মাত্র ৪ রান করে আউট হলেন। গত বছর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যর্থ ছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। মেগা নিলামের আগে তাঁকে ছেড়ে দেয় সানরাইজার্স। নিলাম থেকে তাঁকে ৬.২৫ কোটি টাকায় কেনে দিল্লি ক্যাপিটালস। ২০১২ সালে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে খেলেছিলেন ওয়ার্নার। ৯ বছর পর পুরনো দলে ফিরেও নিজেকে মেলে ধরতে পারলেন না। জয়ের সরণিতে ফিরতে রোমারিও শেফার্ডের পরিবর্তে ডেভিড ওয়ার্নারের ওপর ভরসা করেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। দিল্লির জার্সি গায়ে প্রথম ম্যাচেই ব্যর্থ এই অসি তারকা। পৃথ্বী শ, সরফরাজ খান ও অধিনায়ক ঋষভ পন্থের সৌজন্যে লখনউ সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে মান বাঁচাল দিল্লি ক্যাপিটালস। মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে তুলল ১৪৯/৩। প্রতিটা ম্যাচেই রাতের দিকে শিশির সমস্যায় ফেলছে। সেকথা মাথায় রেখে টস জিতে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন লখনউ সুপার জায়ান্টস অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। পৃথ্বী শর সৌজন্যে দারুণ শুরু করেছিল দিল্লি। পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারে দিল্লি ক্যাপিটালস তোলে ৫২/০। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন আবেশ খান। ম্যাচের সেরাও ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে প্রথম ওভারে দেন ১৩। জেসন হোল্ডারও ভাল শুরু করতে পারেননি। ৩০ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন পৃথ্বী শ। পাওয়ার প্লের ফিল্ডিং নিষেধাজ্ঞার সুযোগ দারুণ কাজে লাগান। পৃথ্বী ঝড় তোলায় শুরুর দিকে আক্রমণের রাস্তায় যাননি ৯ বছর পর দিল্লির জার্সি গায়ে আবার খেলতে নামা ডেভিড ওয়ার্নার। অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে ধাক্কা খায় দিল্লি ক্যাপিটালস। নিজের দ্বিতীয় ওভারে পৃথ্বী শকে তুলে নেন কৃষ্ণাপ্পা গৌতম। ওভারের প্রথম দুটি বলে ৬ ও ৪ মেরেছিলেন পৃথ্বী। পরের বলে কাট করতে গিয়ে বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে কুইন্টন ডিককের হাতে জমা দেন। ৯টি চার ও ২টি ছক্কার ৩৪ বলে ৬১ রান করে আউট হন পৃথ্বী। গতমরশুমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সি গায়ে নিজেকে একেবারেই মেলে ধরতে পারেননি ডেভিড ওয়ার্নার। দিল্লি ক্যাপিটালসের জার্সি গায়ে মরশুমের প্রথম ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না। লখনৌ সুপার জায়ান্টের বোলারদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন। রবি বিষ্ণোইয়ের অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরের বল কাট করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে আয়ুষ বাদোনির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ১২ বলে মাত্র ৪ রান করেন ওয়ার্নার। দুই স্পিনার রবি বিষ্ণোই ও কৃষ্ণাপ্পা গৌতমের আঁটোসাটো বোলিং চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল। রান তোলার গতি মন্থর হয়ে গিয়েছিল। ডট বলের সংখ্যাও বাড়ছিল। চাপ কাটাতে গিয়েই আউট রভম্যান পাওয়েল। হতাশ হতে তিনি স্লগ সুইপে বিষ্ণোইকে গ্যালারিতে পাঠাতে গিয়ে বোল্ড হন। ১০ বলে মাত্র ৩ রান করেন পাওয়েল। ১১ ওভারের মধ্যেই ৭৪ রানে ৩ উইকেট হারায় দিল্লি। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক ঋষভ পন্থ ও সরফরাজ খান। জুটি ওঠে ৭৩। এই জুটিই দিল্লিকে ১৪৯/৩ রানে পৌঁছে দেয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে তোলে দিল্লি। ৩৬ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ঋষভ। ২৮ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন সরফরাজ। রবি বিষ্ণোই ২২ রানে ২ উইকেট নেন।

এপ্রিল ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

হার্দিকের মস্তিষ্ক, ফার্গুসনের দাপটে দারুণ জয় গুজরাট টাইটান্সের

দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন দিল্লি ক্যাপিটালস অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। এমন সময়ই লকি ফার্গুসনকে আক্রমণে নিয়ে এসে মোক্ষম চাল গুজরাট টাইটান্স অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার। ঋষভকে ফার্গুসন তুলে নিতেই জয়ের আশা শেষ দিল্লির। ফার্গুসনের দুরন্ত বোলিং দ্বিতীয় জয় এনে দিল গুজরাট টাইটান্সকে। দিল্লির বিরুদ্ধে জিতল ১৪ রানে।পরপর দুম্যাচে ব্যর্থ বিজয় শঙ্কর। এর পরেও ডাগ আউটে বসে থাকতে হবে ঋদ্ধিমান সাহাকে? শনিবার গুজরাট টাইটান্স ও দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচে প্রশ্নটা উঠেই গেল। চলতি আইপিএলে বাংলার আকাশদীপ, মহম্মদ সামি, শাহবাজ আমেদরা যেখানে নিজেদের মেলে ধরছেন, সেখানে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগই পাচ্ছেন না ঋদ্ধিমান সাহা। এদিন দিল্লি ক্যাপিটালসের গুজরাট টাইটান্স বড় রান তুলল। সৌজন্যে প্রাক্তন নাইট রাইডার্স তারকা শুভমান গিল।চলতি আইপিএলে দ্বিতীয় জয়ের খোঁজে এদিন টস জিতে পুনেতে মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের স্টেডিয়ামে টস জিতে গুজরাট টাইটান্সকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি ক্যাপিটালস অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। ম্যাচেই তৃতীয় বলেই ধাক্কা খায় গুজরাট টাইটান্স। ম্যাথু ওয়েডকে (১) তুলে নেন মুস্তাফিজুর রহমান। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরের বলেই ফেরেন বিজয় শঙ্কর। ২০ বলে মাত্র ১৩ রান করে কুলদীপ যাদবের বলে বোল্ড হন। বিজয় শঙ্করকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন টেস্ট খেলতে নেমেছেন। এরপর শুভমানের সঙ্গে জুটি বেঁধে গুজরাটকে এগিয়ে নিয়ে যান অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। চতুর্দশ ওভারের শেষ বলে হার্দিককে ফেরান খলিল আমেদ। ২৭ বলে ৩১ রান করে আউট হন হার্দিক।একের পর এক উইকেট পড়লেও অন্যপ্রান্তে শুভমানের ঝড় অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে ৮৪ রান করে তিনি খলিল আমেদের বলে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। শুভমানের ইনিংসে রয়েছে ৬টি ৪ এবং ৪টি ৬। রাহুল তেওয়াটিয়া ৮ বলে করেন ১৪। ১৫ বলে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন ডেভিড মিলার। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭১ তোলে গুজরাট টাইটান্স। ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৩৪ রানে ২ উইকেট খলিল আমেদের।জয়ের জন্য ১৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালসের শুরুটাও ভাল হয়নি। দ্বিতীয় ম্যাচেও ছন্দ খুঁজে পেলেন না পৃথ্বী শ। ৭ বলে ১০ রান করে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে লকি ফার্গুসনের বলে আউট হন পৃথ্বী। একই ওভারে মনদীপ সিংকে (১৬ বলে ১৮) তুলে নেন ফার্গুসন। ঋষভ পন্থ ও ললিত যাদব দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অধিনায়কের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে ললিত (২২ বলে ২৫) রান আউট।পঞ্চদশ ওভারে লকি ফার্গুসনকে আবার আক্রমণে নিয়ে আসেন হার্দিক পান্ডিয়া। তাঁর এই সিদ্ধান্ত একেবারে মাস্টারস্ট্রোক। ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ঋষভকে তুলে নিয়ে গুজরাটকে ম্যাচে ফেরান ফার্গুসন। ৭টি চারের সাহায্যে ২৯ বলে ৪৩ রান করে আউট হন ঋষভ। একই ওভারে অক্ষর প্যাটেলকে (৮) তুলে নিয়ে দিল্লিকে ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দেন লকি ফার্গুসন। বাকি কাজটা সারেন মহম্মদ সামি ও রশিদ খান। পরপর দুবলে রভম্যান পাওয়েল (১২ বলে ২০) ও খলিল আমেদকে (০) তুলে নেন সামি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৫৭/৯ তোলে দিল্লি। ২৮ রানে ৪ উইকেট নেন লকি ফার্গুসন। ৩০ রানে ২ উইকেট সামির।

এপ্রিল ০২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, কুলদীপের সঙ্গে চাকরের মতো ব্যবহার করত নাইট রাইডার্স টিম ম্যানেজমেন্ট!‌

গত বছর আইপিএল চলাকালীনই একসময় কলকাতা নাইট রাইডার্স টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন কুলদীপ যাদব। দিনের পর দিন রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। নাইট কর্তাদের কাছে রিলিজও চেয়েছিলেন। কিন্তু পাননি। তাঁর সঙ্গে নাকি চাকরের মতো ব্যবহার করতেন নাইট কর্তারা। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন কুলদীপ যাদবের কোচ কপিল পাণ্ডে। এমনকি নাইট কর্তাদের জন্য এবছর আইপিএলের মেগা নিলামে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন কুলদীপ, মনে করছেন তিনি। বেশ কয়েক মরশুম ধরে কলকাতা নাইট রাইডার্সে ব্রাত্য কুলদীপ যাদবকে এবছর আইপিএলের মেগা নিলামে তুলে নিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ করে দিয়েছেন, দলকে জেতানোর মতো দক্ষতা এখনও তাঁর রয়েছে। নাইট রাইডার্সে কুলদীপকে চাকরের মতো রাখা হত বলে জানিয়েছেন কপিল পাণ্ডে। তিনি বলেন, কুলদীপের সঙ্গে নাইট রাইডার্স চাকরের মতো ব্যবহার করত। না খেলিয়ে দিনের পর দিন ওকে বসিয়ে রাখত। ওর মধ্যে হতাশা এসে গিয়েছিল। আমাকে বলত, স্যর আমাকে কেন খেলার সুযোগ দিচ্ছে না, বুঝতে পারছি না। আমাকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কোথায় সমস্যা জানি না। ওকে যেদিন ছেড়ে দিয়েছিল, খুব খুশি হয়েছিলাম। নাইট রাইডার্সের জন্য কুলদীপ যে আর্থিকভাবে ক্ষতি হয়েছেন, সেকথাও জানিয়েছেন কপিল পাণ্ডে। তিনি বলেন, দুবছর ধরে খেলার সুযোগ না পেয়ে ওর দর অনেক কমে গিয়েছে। ওর যা কোয়ালিটি ৯১০ কোটি টাকা পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু মাত্র ২ কোটি টাকা দর উঠেছিল এবারের নিলামে। নাইট রাইডার্সের জন্যই ওর এতটা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে ওকে বলেছি, ক্ষতি নিয়ে না ভাবতে। দেশের হয়ে খেলার জন্য মনোযোগ দাও। একসময় কুলদীপ যাদবকে বাড়ি ফিরে গিয়ে ঘরে বসে থাকার কথাও নাকি বলেছিলেন দীনেশ কার্তিক, ইওয়িন মর্গানরা। এমনই দাবি করেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ। তিনি বলেন, কুলদীপ যাদবের ম্যাচ জেতানোর মতো ট্র্যাক রেকর্ড আছে। ও একটু আবেগপ্রবন। যদি দলকে না জেতাতে পারে, কিংবা খারাপ বোলিং করে কিংবা দল থেকে বাদ পড়ে তাহলে খুব ভেঙে পড়ে। কার্তিক ও মর্গান অধিনায়ক থাকার সময় কুলদীপকে তো বলা হয়েছিল বাড়ি গিয়ে বসে থাকতে।

মার্চ ২৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌দুরন্ত কুলদীপ, অক্ষর–ললিতের দাপটে দুরন্ত জয় দিল্লি ক্যাপিটালসের

গত দুই মরশুম কলকাতা নাইট রাইডার্সের ডাগ আউটে বসে থাকতে হয়েছিল। ঢাকা পড়েছিলেন সুনীল নারাইন ও বরুণ চক্রবর্তীর ছায়ায়। কুলদীপ যাদবের দিকে ফিরেও তাকায়নি নাইট রাইডার্স টিম ম্যানেজমেন্ট। মাঠে নামার সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। এবছর আইপিএলের মেগা নিলামে তাঁর ওপর ভরসা রেখেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস কর্তারা। প্রথম ম্যাচেই আস্থার মর্যাদা দিলেন কুলদীপ যাদব। দিল্লিতে পেলেন নতুন জীবন। এই চাইনাম্যানের দাপটেই জ্বলে উঠতে পারলেন না রোহিত শর্মা, কিয়েরন পোলার্ডের মতো ব্যাটাররা। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে এবারের আইপিএল অভিযান শুরু করল দিল্লি ক্যাপিটালস।কুলদীপ যাদব দুরন্ত বোলিং করলেও দিল্লি ক্যাপিটালসের জয়ের নায়ক অবশ্য অক্ষর প্যাটেল ও ললিত যাদব। যেভাবে হারা ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন, তাঁদের লড়াইকে কুর্নিশ করতেই হবে। এদিন মুম্বইয়ের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে টস জিতে মুম্বইকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। ওপেনিং জুটিতে মুম্বই তোলে ৬৭। এরপরই রোহিত শর্মাকে (৩২ বলে ৪১) তুলে নিয়ে দলকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন কুলদীপ। ১ ওভার পরেই আনমোলপ্রীত সিংকেও (৮) তুলে নেন কুলদীপ। ৮৩ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় মুম্বই। তিলক ভার্মাকে (২২) তুলে নেন খলিল আহমেদ। তবে মুম্বইয়ের মিডল অর্ডারে বড় ধাক্কা দেন সেই কুলদীপ। মোক্ষম সময়ে তুলে নেন পোলার্ডকে (৩)। একের পর এক উইকেট পড়লেও দুরন্ত ব্যাটিং করে যান ঈশান কিশান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৭ রান তোলে মুম্বই। ঈশান কিশান ৪৮ বলে ৮১ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৪ ওভারে ১৮ রানে ৩ উইকেট নেন কুলদীপ যাদব। ২৭ রানে ২ উইরকেট পান খলিল আমেদ।জয়ের জন্য ১৭৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ভাল শুরু করেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৩০। এরপর একই ওভারে টিম সেইফার্ট (২১) ও মনদীপ সিংকে (০) তুলে নিয়ে দিল্লিকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন মুরুগান অশ্বিন। অধিনায়ক ঋষভ পন্থ (১) দ্রুত ডাগ আউটে ফেরায় আরও চাপে পড়ে যায় দিল্লি। একসময় ৭২ রানে ৫ উইকেট হারায়। একসময় মনে হচ্ছিল দিল্লির পক্ষে জেতা সম্ভব হবে না। এরপরই জ্বলে ওঠেন দিল্লির লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা। বল হাত ব্যর্থ হলেও ১১ বলে ২২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে ম্যাচে ফেরার শার্দূল ঠাকুর। তিনি আউট হওয়ার সময় দিল্লির রান ছিল ১৩.২ ওভারে ১০৪/৪। এরপরই জ্বলে ওঠেন অক্ষর প্যাটেল ও ললিত যাদব। তাঁদের ৩০ বলে ৭৫ রানের জুটি দিল্লিকে জয়ের পথে নিয়ে যায়। ৩৮ বলে ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন ললিত। ১৭ বলে অপরাজিত ৩৮ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন অক্ষর প্যাটেল। ৮ বল বাকি থাকতে ১৭৯/৬ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় দিল্লি। ৩৫ রানে ৩ উইকেট নেন বাসিল থাম্পি। ১৪ রানে ২ উইকেট মুরুগান অশ্বিনের।

মার্চ ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌রবিবার হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে কেন চিন্তায় রোহিত–ঋষভ?‌

কলকাতা নাইট রাইডার্স ও চেন্নাই সুপার কিংসের ম্যাচ দিয়ে শনিবার হল পঞ্চদশ আইপিএলের বোধন। রবিবার আরও একটা মেগা ম্যাচ। বলতে গেলে উত্তরপশ্চিম ডার্বি। মুখোমুখি হবে রোহিত শর্মার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও ঋষভ পন্থের দিল্লি ক্যাপিটালস। প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে অবশ্য দুই দলই স্বস্তিতে নেই। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স যেমন পাচ্ছে না সূর্যকুমার যাদবকে। তেমনি দিল্লি ক্যাপিটালস পাবে না ডেভিড ওয়ার্নারকে। তবে শক্তির বিচারে দেখতে গেলে দিল্লি ক্যাপিটালসের থেকে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।এবারে মেগা নিলামের আগে রোহিত শর্মা, যশপ্রীত বুমরা, ঈশান কিশান ও কিয়েরণ পোলার্ডকে রেখে দিয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এছাড়া নিলাম থেকে তুলে নিয়েছিল সূর্যকুমার যাদবকে। এই পাঁচজনই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের মূল ভরসা। এছাড়া নিলাম থেকে তুলে নিয়েছে তিলক ভার্মা, টিম ডেভিড, ডিওয়াল্ড ব্রেভিসের মতো বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারকে। রয়েছেন জয়দেব উনাদকাত, জোফ্রা আর্চার, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, টাইমল মিলসের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা। ডিওয়াল্ড ব্রেভিসকে তো ইতিমধ্যেই তুলনা করে হচ্ছে এবি ডিভিলিয়ার্সের সঙ্গে। ব্রেভিস নাকি ডিভিলিয়ার্সের মতো ৩৬০ ডিগ্রি শট খেলতে পারেন। দক্ষিণ আফ্রিকার এই তারকা এবারের আইপিএলে মুম্বইয়ের তুরুপের তাস হতে পারেন। দিল্লির বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে মুম্বই পাবে না সূর্যকুমার যাদবকে। এখনও তিনি পুরোপুরি ফিট নন। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে তাঁর রিহ্যাব চলছে। কবে যোগ দেবেন, এখনও নিশ্চিত নয়। তাঁর পরিবর্তে হয়তো তরুণ তিলক ভার্মাকে খেলাতে পারে মুম্বই টিম ম্যানেজমেন্ট। ক্যারিবিয়ান তারকা ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে খেলাতে পারে। বোলিং আক্রমণ সামলানোর দায়িত্ব যশপ্রীত বুমরা, জয়দেব উনাদকাত, মুরুগান অশ্বিন, মায়াঙ্ক মার্কান্ডেদের ওপর। অন্যদিকে দিল্লি ক্যাপিটালসও বেশ কয়েকটা ম্যাচে পাবে না ডেভিড ওয়ার্নার ও আনরিখ নর্টিয়েকে। লুঙ্গি এনগিডি, মুস্তাফিজুর রহমানও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচে নেই। শক্তির নিরিখে প্রতিপক্ষের চেয়ে একটু দু্র্বল হওয়া সত্ত্বেও পঞ্চদশ আইপিএল ভালভাবে শুরু করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী দিল্লি ক্যাপিটালসের হেড কোচ রিকি পন্টিং। দিল্লি ক্যাপিটালসের কাল দুই বড় বিদেশি অস্ত্র রভম্যান পাওয়েল ও টিম সেইফার্ট। বিশেষ করে পাওয়েলকে নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত দিল্লি অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। তিনি বলেছেন, চার কিংবা পাঁচ নম্বরে ব্যাট করানো হবে পাওয়ারফুল পাওয়েলকে। নীচের দিকে একজন আক্রমণাত্মক ব্যাটার আমরা খুঁজছিলাম। আশা করি, পাওয়েল সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারবেন। পাশাপাশি ডেভিড ওয়ার্নার এলেও দল যে শক্তিশালী হবে তা স্বীকার করেছেন পন্থ। প্রথম ম্যাচে তাঁর সঙ্গে ওপেন করবেন পৃথ্বী শ।

মার্চ ২৬, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

গল টেস্টে ভয়াবহ মুহূর্ত! রাহুলের শটে হেলমেটে বল, হাসপাতালে শ্রীলঙ্কার ওপেনার

ভারত-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই গলে তৈরি হল উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কেএল রাহুলের জোরালো সুইপ শটের বল সরাসরি গিয়ে আঘাত করল শ্রীলঙ্কার ওপেনার নিশান মধুশকার হেলমেটে। শর্ট লেগে ফিল্ডিং করার সময় এই আঘাত পান তিনি। ঘটনার পর দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও। কনকাশন পরীক্ষা করার পর মধুশকাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়।ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দশম ওভারে। প্রভাত জয়াসূর্যের করা ওভারের পঞ্চম বলটি রাহুল সুইপ করেন। বলটি ব্যাটের মাঝখান থেকে প্রচণ্ড গতিতে শর্ট লেগ অঞ্চলের দিকে ছুটে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মধুশকা বিপদ বুঝে দ্রুত মাথা নিচু করার চেষ্টা করলেও বলের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই বলটি তাঁর হেলমেটের মাঝামাঝি অংশে সজোরে আঘাত করে।আঘাতের পর বলটি ফাইন লেগের দিকে চলে যায়। ফলে রান নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভারতের ব্যাটাররা রান সম্পূর্ণ করেন। রাহুল অবশ্য প্রথমে রান নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা যশস্বী জয়সওয়াল ইতিমধ্যেই দৌড় শুরু করে দেওয়ায় রানটি সম্পূর্ণ করতে হয়। রান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধুশকার দিকে ছুটে যান রাহুল। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।এরপর দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও এবং চিকিৎসাকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে মধুশকার কনকাশন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর তাঁকে আর মাঠে রাখা হয়নি। ফিজিওর সঙ্গে মাঠের বাইরে চলে যান তিনি। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর চোটের প্রকৃতি বা গুরুতরতা এবং তিনি পরবর্তীতে এই টেস্টে ব্যাট করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।মধুশকার চোটের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শ্রীলঙ্কা শিবিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাথায় সরাসরি বল লাগার ঘটনায় ক্রিকেটে কনকাশন প্রোটোকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।অন্যদিকে, প্রথম দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট হাতে দারুণ দাপট দেখিয়েছে ভারত। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরুতেই যশস্বী জয়সওয়াল ও কেএল রাহুলের ব্যাটে ভালো সূচনা পায় দল। প্রথম উইকেটে দুজনে ৬৬ বলে ৪৭ রান যোগ করেন।তবে ১১তম ওভারের শেষ বলে ছন্দপতন ঘটে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন জয়সওয়াল। ৩৭ বলে ৩২ রানের ইনিংসে তিনি মারেন পাঁচটি চার।জয়সওয়াল ফিরে যাওয়ার পর ভারতের ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন রাহুল ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। দুজনেই ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। পাড়িক্কল আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করার পাশাপাশি রাহুলও নিজের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। ফলে প্রথম সেশনেই ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।লাঞ্চের সময় ২৭ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১০১ রান। একদিকে ভারতীয় ব্যাটারদের দাপট, অন্যদিকে মধুশকার চোটপ্রথম দিনের প্রথম সেশন তাই দুই দলের জন্য দুই ভিন্ন ছবি তুলে ধরল। এখন সকলের নজর নিশান মধুশকার শারীরিক অবস্থার পরবর্তী আপডেটের দিকে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের ঐতিহ্যে দেশপ্রেমের আবহ, দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের আবহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকারই হোক স্বাধীনতা দিবসের মূল বার্তাএমনই আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, বিবিধের মাঝে মিলন মহানএই আদর্শকে সামনে রেখে দেশভাগ ও পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর উদয়পল্লীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের বাণী, দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পাঠের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডলের পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় অঙ্কন, প্রবন্ধরচনা, কুইজ, নৃত্য ও সঙ্গীত-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। শিক্ষিকা সুনীতা সাহার ব্যবস্থাপনা এবং দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় প্রতিযোগিতাগুলিতে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা। কুইজে প্রথম স্থানাধিকারী দলের সদস্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ভট্টাচার্য জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকায় বিদ্যালয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।এদিন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা স্পন্দন-এর বিশেষ রঙিন সংখ্যা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সায়ন্তিকা কর্মকারের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও সহকারীরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। সবুজ ভলেন্টিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ইকো ক্লাবের উদ্যোগে জাম গাছ রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।শেষপর্বে শিক্ষাকর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের দায়িত্বে এবং তরুণ দাসের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে লুচি, মিষ্টি-সহ নানা খাবার বিতরণ করা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা শুধু একটি দিন নয়, বারবার ফিরে আসে—জয়ের পতাকায়, গৌরবের মুহূর্তে

স্বাধীনতাশব্দটি উচ্চারণ করলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭-এর সেই ঐতিহাসিক সকাল। দীর্ঘ পরাধীনতার অন্ধকার পেরিয়ে ভারতবর্ষ সেদিন পেয়েছিল নিজের আকাশ, নিজের পতাকা, নিজের পরিচয়। কিন্তু স্বাধীনতা কি কেবল একটি তারিখ? কেবল একটি দিনের উদ্যাপন? কেবল লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভেসে আসা ভাষণ, জাতীয় পতাকার উত্তোলন আর জাতীয় সঙ্গীতের গর্বিত সুর?না।স্বাধীনতা আসলে ফিরে ফিরে আসে।কখনও তা আসে একটি ক্রিকেট মাঠে, কখনও অলিম্পিকের ট্র্যাকের ওপর, কখনও হকির সবুজ ঘাসে, কখনও কোনও বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে, কোনও সুরকারের সুরে। কখনও আবার আসে এমন এক ভারতীয়ের চোখের জলে, যে নিজের দেশের পতাকাকে বিশ্বের মঞ্চে উঠতে দেখে বুকের ভিতর অদৃশ্য এক ঢেউ অনুভব করে।১৯৮৩ সাল। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ভারতীয় ক্রিকেটের সামনে তখন দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কপিল দেবের নেতৃত্বে একদল তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলা সেই মুহূর্তটি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের জয় ছিল না। তা ছিল আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ। সেদিন যেন ভারত বুঝেছিলআমরাও পারি। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরাও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প লিখতে পারি। ১৯৪৭-এ যে জাতি রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছিল, ১৯৮৩-তে তার আত্মবিশ্বাস যেন আরও একবার স্বাধীনতার স্বাদ পেল।তারও বহু আগে, ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের হকিতে ভারত প্রথম সোনা জিতেছিল। ধ্যানচাঁদের জাদুকাঠিতে ভারতীয় হকি তখন বিশ্বকে দেখিয়েছিল এক অন্যরকম শিল্প। পরপর বহু অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতীয় হকি দলের সাফল্য দেশের ক্রীড়া-পরিচয়ের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। তেরঙ্গা যখন বিদেশের মাটিতে উঠত, তখন মনে হতোএই তো স্বাধীনতা! বন্দুকের গর্জন নয়, স্টিক আর বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণেও একটি জাতি তার অস্তিত্বের ঘোষণা করতে পারে।তারপর আসে অ্যাথলেটিক্সের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতের অলিম্পিক সাফল্যের ইতিহাসে নীরজ চোপড়ার সোনার পদক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। টোকিও অলিম্পিকের সেই রাতএকজন ভারতীয় যখন জ্যাভলিন ছুড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ঘরে ঘরে যেন আবার স্বাধীনতার পতাকা উড়ল। মাঠে একজন, কিন্তু গর্বে ছিল ১৪০ কোটিরও বেশি হৃদয়।ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের আর এক অমর নাম পি. টি. উষা। আশির দশকে এশিয়ান গেমসের ট্র্যাকে তাঁর দৌড় ভারতীয় মেয়েদের স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছিল। ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার-সহ একাধিক পদক জিতে তিনি প্রমাণ করেছিলেনভারতের মেয়েরাও বিশ্বের দ্রুততম ট্র্যাকের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। তাঁর পায়ের শব্দ শুধু একটি দৌড়ের শব্দ ছিল না; তা ছিল সামাজিক বাধা, সংশয় আর প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে এক তরুণীর স্বাধীনতার ঘোষণা।এরপর এল ক্রিকেটের আর একটি নতুন অধ্যায়। ২০০৭ এ প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দল যখন ট্রফি হাতে তুলল, তখন ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার স্বাদ যেন আরও একবার নতুন করে ধরা দিল। আর ২০১১ সালে ঘরের মাঠে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ধোনির সেই ছক্কাআজও ভারতীয় ক্রীড়া-স্মৃতির অন্যতম আবেগঘন ছবি। একজন অধিনায়ক ট্রফি তুলেছিলেন, কিন্তু আসলে যেন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের স্বপ্নকে তুলে ধরেছিল।স্বাধীনতার এই গল্প শুধু খেলাধুলায় থেমে নেই।ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বজয়ের কথাও তো একইভাবে বলতে হয়। সত্যজিৎ রায়ের Pather Panchali কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছিল। ১৯৯২ এ বিশ্ব চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান ও অনন্য সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সত্যজিৎ রায়কে সম্মানসূচক অনারারি অস্কার প্রদান করে অ্যাকাডেমি। এই পুরস্কার কোনো একটি নির্দিষ্ট ছবির জন্য নয়, বরং তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্র জীবন, শিল্পসত্তা এবং বিশ্বসিনেমায় তাঁর গভীর ও স্থায়ী প্রভাবের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। অসুস্থ সত্যজিতের বিছানায় শুয়ে অস্কার হাতে নিয়ে যে বক্তব্য দেন তা আজও আপামোর চলচিত্রপ্রেমীর কানে বাজে। পরে ২০০৯ সালে এ. আর. রহমান Slumdog Millionaire চলচ্চিত্রের জন্য দুটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সুরের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেন। অস্কারের মঞ্চে তাঁর সুরের প্রতিধ্বনি যখন বিশ্ব শুনেছিল, তখন সেটিও ছিল এক ধরনের স্বাধীনতানিজের মাটির সুরকে পৃথিবীর কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার স্বাধীনতা।বিজ্ঞানেও এমন অসংখ্য মুহূর্ত এসেছে। মহাকাশে ভারতের সাফল্য, চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফল অবতরণ, মঙ্গলযানের অসাধারণ অভিযানপ্রতিটি সাফল্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে থাকে সেই একই অনুভূতি। একসময় যে দেশ নিজের মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতির চিন্তায় সংগ্রাম করছিল, সেই দেশই একদিন মহাকাশের অজানা প্রান্তে নিজের পতাকা পৌঁছে দেয়। এই অগ্রযাত্রাও স্বাধীনতারই আর এক ভাষা।কারণ স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা নয়। স্বাধীনতা মানে নিজের সম্ভাবনাকে চিনতে শেখা।স্বাধীনতা মানেআমি পারব বলার সাহস।স্বাধীনতা মানেব্যর্থতার পরেও আবার উঠে দাঁড়ানো।স্বাধীনতা মানেবিশ্বের চোখে চোখ রেখে নিজের পরিচয় ঘোষণা করা।তাই ১৫ই আগস্ট এলেই আমরা শুধু ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করব কেন? আমরা মনে করব সেই সব দিনকে, যেদিন ভারত নতুন করে জিতেছিল। কোনও খেলোয়াড়ের হাতে যখন পদক উঠেছে, কোনও বিজ্ঞানীর অভিযানে যখন ভারতীয় পতাকা মহাকাশ ছুঁয়েছে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে যখন ভারত বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, কোনও তরুণ-তরুণী যখন অসম্ভবকে সম্ভব করেছেসেই প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীনতা নতুন করে জন্ম নিয়েছে।স্বাধীনতার বয়স আজ ৭৯ বছর। কিন্তু স্বাধীনতা বৃদ্ধ হয়নি। বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে তার বয়স কমে আসে। কোনও শিশুর হাতে ক্রিকেট ব্যাটে, কোনও কিশোরীর দৌড়ের জুতোয়, কোনও তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর তুলিতে, কোনও সুরকারের যন্ত্রেস্বাধীনতা প্রতিদিন নতুন হয়ে ওঠে।১৫ই আগস্ট তাই শুধু অতীতের স্মৃতির দিন নয়। এটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিনও।যে তেরঙ্গা ১৯৪৭ সালে পরাধীনতার আকাশে স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে উঠেছিল, সেই তেরঙ্গাই আজও ওঠেলর্ডসের মাঠে, অলিম্পিকের মঞ্চে, বিশ্বকাপের আসরে, অস্কারের মঞ্চে, মহাকাশযানের অভিযানে, কিংবা কোনও অচেনা ভারতীয়ের ছোট্ট সাফল্যের মুহূর্তে।সেখানেই স্বাধীনতার আসল সৌন্দর্য।স্বাধীনতা একবার অর্জন করা কোনও স্মারক নয়স্বাধীনতা এমন এক অনুভূতি, যা প্রতিটি প্রজন্ম নিজের সাফল্য দিয়ে নতুন করে অর্জন করে।তাই ১৫ই আগস্ট শুধু একটি দিন নয়।স্বাধীনতা বারবার ফিরে আসে।জয়ের পতাকায়, অশ্রুসিক্ত চোখে, করতালির শব্দে, স্বপ্নপূরণের হাসিতেআর কোটি কোটি ভারতীয়ের বুকের ভিতর নিঃশব্দে উচ্চারিত একটি শব্দেভারত।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ক্ষুদিরামের ফাঁসির মঞ্চ থেকে মাতঙ্গিনীর রক্তাক্ত পতাকা, বাঙালির হৃদয়ে অমর এই পাঁচ স্বাধীনতা সংগ্রামী

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বাংলার অবদান অনস্বীকার্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলার মাটি যেমন জন্ম দিয়েছে ক্ষুদিরাম বসুর মতো কিশোর বিপ্লবীকে, তেমনই তাম্রলিপ্তের মাটিতে উঠে এসেছে মাতঙ্গিনী হাজরা, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো সংগ্রামী নেতৃত্ব। তাঁদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সাংগঠনিক দক্ষতা স্বাধীনতার লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসির মঞ্চে উঠে ইতিহাসে অমর হয়ে যান ক্ষুদিরাম বসু। ১৯০৮ সালে মুজফ্ফরপুরে ব্রিটিশ বিচারক ডগলাস কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে প্রফুল্ল চাকীর সঙ্গে বোমা হামলার ঘটনায় তিনি গ্রেফতার হন। ১১ আগস্ট ১৯০৮ তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মৃত্যুর মুখেও তাঁর নির্ভীকতা ও হাসিমুখ বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে।অন্যদিকে, ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে পূর্ব মেদিনীপুরের মাতঙ্গিনী হাজরা হয়ে ওঠেন সাহসের প্রতীক। গান্ধীবুড়ি নামে পরিচিত এই বৃদ্ধা ২৯ সেপ্টেম্বর তমলুক থানার দিকে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়েই তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর আত্মবলিদান বাংলার নারীশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুশীল ধারা-র। ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেন। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের যুদ্ধ ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে বিদ্যুৎ বাহিনী, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।সতীশচন্দ্র সামন্ত ছিলেন তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রথম সর্বাধিনায়ক। ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর গঠিত এই সমান্তরাল সরকার তমলুক ও কাঁথি মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ত্রাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী সংগঠন, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সরকারের কার্যক্রম ছিল উল্লেখযোগ্য।এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের নেতৃত্বে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্বাধীনতার পরও তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেমে থাকেনি। পরবর্তীকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান থেকে মাতঙ্গিনীর পতাকা হাতে মৃত্যুবরণ, আর তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের সংগঠিত প্রতিরোধ, এই সমস্ত অধ্যায় প্রমাণ করে, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু কয়েকজন বিপ্লবীর কাহিনি নয়। এটি ছিল অসংখ্য মানুষের সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানের মাটিতে জন্ম বীর বিপ্লবীর, রাসবিহারী বসুর কর্মকাণ্ডে কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ শাসন

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাসবিহারী বসু এক অনন্য নাম। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সংগঠক এই বিপ্লবীর জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-২ ব্লকের সুবলদহ গ্রামে। ১৮৮৬ সালের ২৫ মে বিনোদবিহারী বসু ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম তাঁর।সুবলদহেই কেটেছে রাসবিহারী বসুর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়। গ্রামের পাঠশালায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার শুরু। ঠাকুরদা কালীচরণ বসুর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনার পাশাপাশি লাঠিখেলা, সাঁতার ও নৌকা চালনার মতো শারীরিক কসরতেও দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে দানা বাঁধে দেশপ্রেম ও ব্রিটিশবিরোধী চেতনা। পরবর্তী সময়ে চন্দননগরে পড়াশোনা করার সময় বিপ্লবী চিন্তাধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয়।কর্মজীবনে দেরাদুনের ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্কের কাজ করলেও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা। বাংলার পাশাপাশি উত্তর ভারত ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি। ১৯১২ সালে দিল্লিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের উপর বোমা হামলার ষড়যন্ত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এরপর ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি জাপানে পালিয়ে যান।জাপানে গিয়েও থেমে থাকেননি রাসবিহারী। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগঠিত করতে তিনি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগ গড়ে তোলেন। ১৯৪২ সালে ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে সেই সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি টোকিওতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সুবলদহের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবীর দেশমুক্তির স্বপ্ন ও সংগ্রাম আজও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
শিক্ষা

সাহিত্য, বিজ্ঞানচিন্তা ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা ‘INSPIRE 2026’

সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে বর্ধমান শহরে সূচনা হল বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক প্রদর্শনী INSPIRE - 2026। নতুনকে জানার কৌতূহল, অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্নসব মিলিয়ে প্রথম দিনেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠল এক টুকরো জীবন্ত বিজ্ঞানভুবন।বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে এবং Oriental Association for Education and Research (OAER)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ১৪ আগস্ট ২০২৬ ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ ই আগস্ট পর্যন্ত।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও OAER এবং বর্ধমান মডেল স্কুলের পরিচালক ও আধিকারিকবৃন্দ। তবে অনুষ্ঠানের প্রকৃত প্রাণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের খুদে ও তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কল্পনা, অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ছড়িয়ে ছিল প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রান্তে। কোথাও বিজ্ঞানের জটিল সূত্র পেয়েছে সহজবোধ্য মডেলের রূপ, কোথাও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলেমিশে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ছবি। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাট্যচর্চার নানা আয়োজন প্রদর্শনীকে দিয়েছে আরও বহুমাত্রিক রূপ।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র INSPIRE - 2026 -এর উদ্দেশ্য এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তিনদিনের এই প্রদর্শনীর নামকরণই যেন তার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করেINSPIRE - 2026। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যায়, আগামী প্রজন্মের প্রতিভা কতটা বিস্ময়কর। শিক্ষকদের সহযোগিতা থাকলেও ভাবনার মূল উৎস যে শিক্ষার্থীরাই, তাঁদের তৈরি মডেল, তাঁদের ব্যাখ্যা এবং দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তার প্রমাণ।শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তাঁর উপলব্ধিআজকের প্রজন্মের কাছ থেকে শেখার মতো এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাঁর কথায়, একসময় ছিল আমাদের প্রজন্ম, তারপর এল কম্পিউটারের যুগ, আর এখন আমরা প্রবেশ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নতুন প্রজন্মকে শেখানো নয়, তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে এই নতুন প্রজন্মই।সাংবাদিকদের রিয়েল জেন জি প্রসঙ্গেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যৎতারা সতেজ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময়। বাংলা তথা ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যেই। তাই তাদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করাই প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের কথা শোনা এবং তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, কী চায়তা জানা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তাঁর পরবর্তী উদ্যোগআড্ডা উইথ জেন জি।মন্ত্রী বর্ধমান মডেল স্কুলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং INSPIRE - 2026 -এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল-এর বক্তব্যেও উঠে আসে সময়ের সঙ্গে পথ চলার অপরিহার্যতার কথা। তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি, সময়ের সঙ্গে তাল না মেলাতে পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের আধুনিকতম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ধমান মডেল স্কুল কখনও পিছিয়ে থাকেনি, ভবিষ্যতেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমী সকলকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার উন্মেষ প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান তিনি।OAER-এর অন্যতম সদস্য সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী সিং ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট আয়োজিত INSPIRE-এ অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া এই আয়োজন কখনও সার্থক হয়ে উঠত না।তবে INSPIRE 2026 কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং এটি যেন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার এক বর্ণময় ক্যানভাস। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাট্য ও আবৃত্তির আয়োজনও রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।নাট্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য জানান, এবারের পরিবেশনায় থাকছে প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক নরক গুলজার। ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বাস্তবতার অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সেই নাটক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসও INSPIRE - 2026 -এর সাংস্কৃতিক পরিসরকে করেছে আরও অর্থবহ।বর্ধমান মডেল স্কুলের নৃত্য বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা প্রখ্যাত ওডিশি নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জানান, এবারের তাঁদের থিম The Rhythm of Togetherness এটি Dance ও Sociology বিভাগের এক অনন্য যৌথ উপস্থাপনা, যেখানে নৃত্য ও সমাজবিজ্ঞানের নিজস্ব ভাবনাগুলি সুন্দরভাবে একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতি, খাদ্য, পোশাক ,সংস্কৃতি ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন হলেও আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়আমরা ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব।বিভিন্ন মডেল ও চার্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।নৃত্যের ছন্দ এবং সমাজবিজ্ঞানের ভাবনাদুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে The Rhythm of Togetherness আমাদের মনে করিয়ে দেয় বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়, ঐক্য আমাদের শক্তি।সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই Inspiring Thoughts, Creating Futureএই মূলমন্ত্র যেন বাস্তব রূপ পেল INSPIRE - 2026-এর প্রাঙ্গণে। এখানে বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়, প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আর সৃজনশীলতা কেবল কল্পনার জগতে বন্দি নয়। বরং তিনটির সম্মিলিত শক্তিতে শিক্ষার্থীরা আঁকছে আগামী দিনের ছবি।নতুন ভাবনার অঙ্কুর, উদ্ভাবনের সাহস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্নকে সামনে রেখে বর্ধমান মডেল স্কুলের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বার্ষিক প্রদর্শনী নয়এ যেন আগামী দিনের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের এক উজ্জ্বল মঞ্চ।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
কলকাতা

নির্মলকে ঘিরে থানা চত্বরে তুমুল উত্তেজনা, ডিম-জুতোর মালা! অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দিতে কী উঠে এল?

ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই থানার বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্মলকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ থানার সামনে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে এবং গান বাজিয়ে নাচতেও দেখা যায়।বারাকপুর মহকুমা আদালতে নির্মল ঘোষকে পেশ করার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিল পুলিশ। সেই কারণে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে থানা থেকে বের করা হয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। থানার বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক জন নির্মলকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। তাঁর দিকে জুতোর মালাও ছোড়া হয়। এমনকি তাঁকে চড় এবং লাথি মারার অভিযোগও উঠেছে।অন্যদিকে, শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ওই রাতের ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখছেন।গত ৯ অগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর পর শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের পরই অভয়ার বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগ দায়েরের মাত্র দুদিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হন নির্মল ঘোষ। পুলিশ সূত্রে খবর, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে মোবাইলের টাওয়ারের অবস্থান খতিয়ে দেখে তাঁর সন্ধান পায় রাজ্য পুলিশ। সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে ওই হোটেলে পৌঁছে নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়।এরপর তাঁকে ওড়িশার আদালতে পেশ করা হয়। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে নির্মল ঘোষকে খড়দহে নিয়ে আসা হয়। শ্মশানঘাটের ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ। শুক্রবার নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভয়ার মা। সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে নির্মল ঘোষের গ্রেফতারের পর অভয়ার বাবা ও মায়ের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। শ্মশানঘাটে সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী ছিল, তদন্তের পরেই তা স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
দেশ

বেরনোর সুযোগও পেলেন না! চামোলির সুড়ঙ্গে আচমকা জলস্রোত, মৃত্যু ৭ শ্রমিকের, আটকে আরও ২

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আচমকা তীব্র জলস্রোত ঢুকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও দুই শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে জোরদার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ চামোলির পিপলকোটির মায়াপুরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শিফট বদলের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবল জলস্রোত ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে জল ও ধ্বংসাবশেষে ভরে যায় সুড়ঙ্গের একটি অংশ।ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ২২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রাতেই বেশ কয়েক জন শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত হয়েছে।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সেনার উদ্ধারকারী দল। সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল বের করতে পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।আহত শ্রমিকদের স্থানীয় গোপেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা গুরুতর, তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।উদ্ধারকারী দল আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভিতরে তল্লাশি চালাচ্ছে। জলস্তর কমিয়ে আটকে থাকা দুই শ্রমিককে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসাই এখন প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই তাঁদের পরিবারের উৎকণ্ঠা বাড়ছে।ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা প্রত্যেক শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনার জন্য সমস্ত রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং ঠিক কী ভাবে এত বিপুল জল সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal