• ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Abhishek Banerjee

রাজ্য

ভোটের আগেই ঝাঁপাচ্ছেন অভিষেক! এক মাসে গোটা বাংলা চষে ফেলবেন তৃণমূলের সেনাপতি

শুক্রবার থেকেই রাজনীতির ময়দানে নেমে পড়ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবারই বারুইপুরে সভা রয়েছে তাঁর। এরপর দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ মিলিয়ে গোটা রাজ্য জুড়ে টানা সফরের পরিকল্পনা করেছেন তিনি। আগামী ৩ জানুয়ারি আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে সভা করবেন অভিষেক। ৬ জানুয়ারি তাঁর সভা রয়েছে বীরভূমে। ৭ জানুয়ারি উত্তর দিনাজপুর, ৮ জানুয়ারি মালদহে সভা করবেন তিনি। ৯ জানুয়ারি রানাঘাট, কৃষ্ণনগর ও বনগাঁয় জনসভা রয়েছে। ১০ জানুয়ারি পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুরে যাবেন অভিষেক। এরপর ১২ জানুয়ারি কলকাতা, ১৩ জানুয়ারি কোচবিহার, ১৫ জানুয়ারি তমলুক, ১৬ জানুয়ারি মেদিনীপুর এবং ১৭ জানুয়ারি জঙ্গিপুর ও বহরমপুরে সভা করার কথা রয়েছে তাঁর।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার রাজনীতিতে যে সমস্ত এলাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, অর্থাৎ যেখানকার ফল রাজ্য রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে, সেগুলিই বেছে বেছে সফরের তালিকায় রেখেছেন অভিষেক। এক মাস ধরে চলা এই কর্মসূচি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা।এর আগে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও ৯ জন সাংসদ। এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক বিষয় তিনি চিফ ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সামনে তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, বহু প্রশ্নেরই স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। আলোচনার এক পর্যায়ে কমিশনের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলেও দাবি করেন অভিষেক।দিল্লি থেকে শুরু করে বাংলার বিভিন্ন জেলায় অভিষেকের সক্রিয়তা এখন চোখে পড়ার মতো। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ভোটের বছরে পা দিয়েছে রাজ্য। দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেচ্ছা বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কোনও অপশক্তির কাছে মাথা নত করা হবে না, সমস্ত বাধা উপেক্ষা করেই মানুষের জন্য লড়াই চলবে। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান, নতুন উদ্যমে আগামীর লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে।

জানুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

রোহিঙ্গা তালিকা কোথায়? এসআইআর নিয়ে কমিশনকে একের পর এক প্রশ্ন অভিষেকের

বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ১০ জন সাংসদ এবং রাজ্য সরকারের একাধিক সিনিয়র ক্যাবিনেট মন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই বৈঠক মোটেও ফলপ্রসূ হয়নি।অভিষেক বলেন, আগেও ২৮ নভেম্বর তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন সঠিক কোনও উত্তর দেয়নি। এবারও তাঁরা ১০ থেকে ১১টি প্রশ্ন নিয়ে বৈঠকে গিয়েছিলেন। কিন্তু দু-তিনটি প্রশ্ন ছাড়া বাকি কোনও বিষয়েই স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন করতেই কমিশন নাগরিকত্বের প্রসঙ্গ টেনে কথা ঘুরিয়ে দেয়।অভিষেক জানান, মোট ১ কোটি ৩৬ লক্ষ কেস রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ-ছটি আলাদা ক্যাটাগরি আছে। কোথাও বাবা ও ছেলের বয়সের ফারাক ১৫ বছর, কোথাও নাম, পদবি বা ঠিকানায় ভুল। কিন্তু সেই সম্পূর্ণ তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। কিছু কেস AERO-দের লগিংয়ে আপলোড করা হয়েছে। যে অ্যাপ দিয়ে এই তথ্য আপলোড করা হচ্ছে, সেটিতেও একাধিক সমস্যা রয়েছে বলে কমিশনকে জানানো হয়েছে।তাঁর অভিযোগ, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি ক্যাটাগরিতে গেলেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে শুনানির নোটিস চলে যাচ্ছে। সব তথ্য ঠিক থাকলেও মানুষকে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে। এর ফলে বহু বয়স্ক মানুষ, যাঁদের সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হয়, তাঁদেরও আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তৃণমূলের প্রশ্ন, যখন বয়স্কদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, তখন শুনানির ক্ষেত্রেও কেন বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে না।অভিষেক জানান, কমিশন জানিয়েছে ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্কদের শুনানিতে ডাকা হবে না। তৃণমূলের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক, শারীরিকভাবে অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের যেন অযথা শুনানিতে ডেকে হেনস্থা না করা হয়। কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি তারা আলোচনা করবে।রোহিঙ্গা ইস্যুতেও নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বাংলাকে টার্গেট করে বদনাম করছে এবং বলছে রাজ্যে নাকি ১ কোটি রোহিঙ্গা রয়েছে। তিনি কমিশনের কাছে জানতে চান, খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম নেই সেই ৫৮ লক্ষ মানুষের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা, তার তালিকা প্রকাশ করা হোক। এই প্রশ্নেরও কোনও উত্তর কমিশন দিতে পারেনি বলে দাবি তাঁর।অভিষেক আরও বলেন, দেশের একাধিক রাজ্যে এসআইআর চলছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি রিভিশনের শতাংশ এসেছে বাংলায়, তা ৫.৭৯ শতাংশ। অথচ এখানেই সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে। তা সত্ত্বেও শুধু বাংলায় কেন বেছে বেছে মাইক্রো অবজারভার এবং জেলা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত অফিসার নেই। তৃণমূল পাল্টা জানায়, অনেক AERO বসে রয়েছেন, তাঁদের কাজে লাগানো হচ্ছে না।এছাড়াও ERO-দের না জানিয়ে কীভাবে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, কোনও সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফর্ম ৭ ছাড়াই কীভাবে ব্যাকএন্ড থেকে ভোটার তালিকা বদলানো হচ্ছে, তা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। তবে এই বিষয়েও কোনও স্পষ্ট জবাব মেলেনি বলে অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
রাজ্য

ঠাকুরবাড়িতে অভিষেক যাবেনই? শান্তনুর হুঁশিয়ারিতে উত্তাল মতুয়া রাজনীতি

মতুয়াদের পাশে দাঁড়াতে আগামী ৯ জানুয়ারি ঠাকুরবাড়ি যাওয়ার কথা রয়েছে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাহেরপুরে সভা শেষে তিনি হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন বলেই দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে এই সফর ঘিরেই তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর প্রকাশ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুজো দিতে দেওয়া হবে না।শান্তনু ঠাকুরের অভিযোগ, ভোটের রাজনীতি করতেই অভিষেক ঠাকুরনগরে আসছেন। তিনি বলেন, কত পুলিশ নিয়ে অভিষেক আসতে পারেন, সেটাও তিনি দেখবেন। ওই দিন হাজার হাজার মতুয়া মানুষ জড়ো হবে এবং ধিক্কার মিছিল বেরোবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষমতা থাকলে কেউ আটকাক। জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ওই দিন দুপুর দুটো নাগাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠাকুরবাড়িতে যাবেন। তাঁর বক্তব্য, যে কোনও তীর্থস্থানে যাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে।যদিও শান্তনু ঠাকুর ফের দাবি করেন, ঠাকুরবাড়িতে যে কেউ আসতে পারে, তাতে তাঁর আপত্তি নেই। কিন্তু অভিষেক যদি পুলিশ বাহিনী নিয়ে শক্তি প্রদর্শন করতে আসেন, তা হলে তাঁকে পুজো দিতে দেওয়া হবে না। ভোটের আগে কেন তিনি সেখানে যেতে চাইছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন শান্তনু।এই নিয়ে শান্তনু ঠাকুরকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ নিয়ে নয়, মানুষের ভালোবাসা নিয়ে ঠাকুরবাড়িতে যাবেন। তাঁর প্রশ্ন, ঠাকুরবাড়ি কি শান্তনু ঠাকুরের ব্যক্তিগত সম্পত্তি? হরিচাঁদ ঠাকুর কখনও বিভেদ বা সংঘর্ষের কথা বলেননি, তিনি মানুষের মিলন আর ভক্তির কথা বলেছেন। শান্তনু ঠাকুর এই মন্তব্য করে নিজের বংশের জন্যই কলঙ্কজনক অধ্যায় তৈরি করছেন বলে কটাক্ষ করেন তিনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর ঘিরে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
রাজ্য

বাংলায় কথা বলতেই ‘বাংলাদেশি’ তকমা! ৭ মাস জেল, শেষে অভিষেকের চেষ্টায় ঘরে ফিরলেন দুই যুবক

মঙ্গলবার বিমানবন্দর থেকে দিল্লি যাওয়ার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বাংলায় কথা বলার জেরে মহারাষ্ট্রে জেলবন্দি হওয়া দক্ষিণ দিনাজপুরের দুই পরিযায়ী শ্রমিক অবশেষে ঘরে ফিরেছেন তাঁর উদ্যোগেই। তিনি জানান, ওই দুই যুবকের নাম অসিত সরকার এবং গৌতম বর্মণ। একজন তপনের বাসিন্দা, অন্যজন কুমারগঞ্জের। অভিষেক বলেন, অসিত সরকার নিজেকে বিজেপির বুথ সভাপতি বলে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মুম্বইয়ে কাজ করছেন। কিন্তু হঠাৎ মহারাষ্ট্র পুলিশের অভিযানে তাঁকে ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি স্ত্রীকে বলেছিলেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। অভিযোগ, স্ত্রী কেঁদে অনুরোধ করলেও সাংসদের তরফে কোনও সাহায্য মেলেনি।বালুরঘাট ব্লকের পতিরাম গ্রামপঞ্চায়েতের লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা অসিত সরকার একটি গোডাউনে কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, তিনি ভালোভাবে হিন্দি বলতে পারেন না। মুম্বইয়ে পুলিশের জেরার সময় বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে তিনি কোনওরকমে বাঙাল শব্দটি বলেন। এরপরেই তাঁর গায়ে বাংলাদেশি হওয়ার তকমা সাঁটা হয়। অভিযোগ, এই সন্দেহেই প্রায় সাত মাস তাঁকে মুম্বইয়ের জেলে থাকতে হয়। পরিবার নানা নথিপত্র নিয়ে বিজেপি সাংসদের দ্বারস্থ হলেও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবি।গঙ্গারামপুর ব্লকের বাসিন্দা গৌতম বর্মণও একই পরিস্থিতির শিকার হন। তৃণমূলের দাবি, তিনিও বিজেপির বুথ সভাপতি ছিলেন। তবু বিজেপির তরফে কোনও সাহায্য মেলেনি। বিষয়টি জানার পর তৃণমূল নেতৃত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরেই তিনি উদ্যোগ নিয়ে দুই পরিযায়ী শ্রমিককে ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করেন।সোমবার জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি অম্বরিশ সরকার নিজে উদ্যোগ নিয়ে দুই যুবককে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। দীর্ঘদিন পরে ছেলে বাড়ি ফেরায় খুশিতে চোখে জল পরিবারের সদস্যদের। অসিত সরকার বলেন, এতদিন পরে বাড়িতে ফিরতে পেরে তিনি খুবই স্বস্তিতে আছেন। অম্বরিশ সরকারের দাবি, বিজেপির বুথ সভাপতি হয়েও অসিত এবং গৌতম কেউই দলের তরফে সাহায্য পাননি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁদের ঘরে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।যদিও এই অভিযোগ নিয়ে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, ওই যুবকেরা আদৌ বুথ সভাপতি ছিলেন কি না, তা তিনি জানেন না। তাঁর দাবি, গোটা বিষয়টি তৃণমূলের অপপ্রচার। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন রাজ্যে কাজ নেই বলেই মানুষ ভিনরাজ্যে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
কলকাতা

“এখন যুদ্ধের সময়”—এসআইআর আবহে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলকে চাঙ্গা করলেন অভিষেক

এসআইআর-এর শুনানি শুরুর আগেই তৃণমূলের অন্দরে কার্যত নির্বাচনী সুর বেঁধে দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দলের নেতৃত্বের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, এখন পরিস্থিতি যুদ্ধের মতো। বৈঠকে তিনি বারবার যুদ্ধ শব্দটি ব্যবহার করেন এবং বিপক্ষ হিসেবে বিজেপিকেই চিহ্নিত করেন।অভিষেক বলেন, আগে মানুষ ঠিক করত কে সরকার গড়বে, আর এখন সরকার ঠিক করতে চাইছে কারা ভোট দেবেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাথা নত করলে কেবল মায়ের কাছেই নত করব, আর কারও কাছে নয়।২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট আর খুব দূরে নয়। এসআইআর ঘিরে তৈরি হওয়া আবহেই কার্যত ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেই প্রেক্ষিতেই ২০২১ সালের নির্বাচনের মডেলকেই সামনে আনতে চাইছেন অভিষেক। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঠাসা কর্মসূচি, একেবারে বুথ স্তরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগএই কৌশলের উপর জোর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারি মাসের ১ তারিখ থেকেই শুরু হচ্ছে তৃণমূলের উন্নয়নের সংলাপ কর্মসূচি। প্রায় ৮০ হাজার বুথে ঘুরে ঘুরে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরবেন দলের কর্মীরা। বুথ স্তরে জনসংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মকর্তাদের বাড়িতে গিয়ে কথাবার্তা বলার মতো কর্মসূচির কথাও উঠে এসেছে বৈঠকে।একদিকে যখন এই কর্মসূচি চলবে, অন্যদিকে সমান্তরালভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলকে চাঙ্গা রাখতে এবং ভোটের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করতেই এই দ্বিমুখী কৌশল বলে মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।বৈঠকে অভিষেক আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিরোধীরা হারছে এবং বিজেপি জিতছে। এই পরিস্থিতিতে এক মুহূর্তও শিথিলতা দেখালে বিপক্ষ সুযোগ নেবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এখন বিশ্রামের সময় নয়, এখন লড়াইয়ের সময়। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের মনোবল বাড়াতেই এই কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।

ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫
কলকাতা

রোহিঙ্গা ভোটার নিয়ে বিজেপির দাবি ভুয়ো? কমিশনের নাম করে পাল্টা অভিষেক

অনুপ্রবেশকারী ভোটার ইস্যুতে ফের বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, বিজেপির তোলা অভিযোগ নির্বাচন কমিশন নিজেই খারিজ করে দিয়েছে। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ভোটার তালিকার সামারি রিভিশন বা এসএসআর প্রক্রিয়ায় সাধারণত দেড় থেকে দুই শতাংশ মৃত ভোটারের নাম বাদ যায়, এটা নতুন কিছু নয়।অভিষেকের বক্তব্য, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ক্লেম অ্যান্ড অবজেকশন পর্ব শেষ হওয়ার পরে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। তখনই স্পষ্ট হবে কার নাম থাকছে আর কার নাম বাদ যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি যে এক কোটি বা দেড় কোটি রোহিঙ্গা ভোটারের গল্প ছড়াচ্ছে, তা নির্বাচন কমিশনই নাকচ করে দিয়েছে।তিনি আরও বলেন, যদি সত্যিই কোথাও অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা ভোটার থাকে, বিজেপি সেই তালিকা প্রকাশ করুক। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব যাঁর হাতে, সেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তাঁর অধীনে থাকা বিএসএফ ও সিআরপিএফ তখন কী করছিল? সীমান্তে নজরদারি যদি ঠিকমতো হয়, তা হলে এত অনুপ্রবেশ ঘটছে কীভাবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।অনুপ্রবেশ ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই সরব। বিজেপির দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করা হবে। সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকায় এমন ছবি সামনে এসেছে, যেখানে একাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে বাক্স-প্যাটরা নিয়ে সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। তাঁরা বিএসএফ-এর অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।এই আবহেই এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সেই তালিকা থেকে প্রায় ৫৪ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫
রাজ্য

নির্বাচনের মুখে স্বাস্থ্য-ঝড় ডায়মন্ড হারবারে, মহেশতলা থেকে বড় ঘোষণা অভিষেকের

নির্বাচনের ঠিক আগে নিজের সংসদীয় এলাকায় ফের বড় উদ্যোগ শুরু করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার থেকে মহেশতলা বিধানসভা এলাকায় শুরু হল সেবাশ্রয় ২ স্বাস্থ্যশিবির। এই শিবিরের উদ্বোধন করেন তিনি নিজেই। ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়ে যে তিনি আত্মবিশ্বাসী, সেটাও স্পষ্ট করে দেন এই মঞ্চ থেকেই।এদিন তিনি জানান, মহেশতলায় আপাতত দুটি বড় স্বাস্থ্যশিবির করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ চিকিৎসার জন্য আসছেন। কাউকে ফেরানো হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অন্যান্য বিধানসভাতেও সাত দিনের করে একাধিক স্বাস্থ্যশিবির করা হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।তার দাবি, ইতিমধ্যেই সেবাশ্রয় ২-এর মাধ্যমে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। শুধু পরীক্ষা নয়, রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাঁদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে বলেই জানান তিনি।সোমবার থেকেই ভোটার তালিকার বিশেষ পরিমার্জন বা এসআইআর নিয়ে সরব হন তিনি। শীতকালীন অধিবেশন শুরুর দিন প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছিলেন, সংসদ ড্রামা করার জায়গা নয়। এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে মহেশতলার মঞ্চ থেকেই পাল্টা আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর জেরে বাংলায় প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁরা এসআইআর-এর বিরোধী নন, কিন্তু অপরিকল্পিত ভাবে এই কাজ চালানোর বিরোধিতা করছেন। ঠিকমতো প্রশিক্ষণ না দিয়ে বিএলওদের মাঠে নামানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।শুধু এসআইআর নয়, বঞ্চনার অভিযোগও ফের তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, হাইকোর্ট একশো দিনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিলেও এখনও তা মানেনি কেন্দ্র সরকার। রাজ্যের প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র এক টাকাও দেয়নি।এদিন তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, গত সাত বছরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর বাবদ বাংলার কাছ থেকে কেন্দ্র প্রায় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার ১২৫ কোটি টাকা আদায় করেছে। অথচ রাজ্যের পাওনা প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা এখনও মেটানো হয়নি। এই প্রসঙ্গে তিনি বছরে বছরে কেন্দ্রকে দেওয়া টাকার হিসেবও তুলে ধরেন।এই সমস্ত অভিযোগ ও রাজনৈতিক বার্তার মধ্যেই সেবাশ্রয় ২ ঘিরে মহেশতলা ও ডায়মন্ড হারবার এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ডিসেম্বর ০১, ২০২৫
কলকাতা

৯ দিনের মিশন! ব্যাগ গুছিয়ে মাঠে নামার নির্দেশ অভিষেকের—তৃণমূলের ভিতরে কি চাপা উত্তেজনা?

ব্যাগ গুছিয়ে ৯ দিনের জন্য বেরিয়ে পড়ুন, এই কদিন আর বাড়ি ফেরা চলবে নাসোমবারের বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত এমনই কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন দলের নেতাদের। SIR-এর কাজ প্রায় শেষের দিকে, তবুও জেলার কাজের গতিপ্রকৃতি এবং দিদির দূত অ্যাপে তথ্য আপলোডে নিয়মিত ঢিলেমি নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সেই কারণেই নতুন করে ১৩ জনের একটি বিশেষ টিম তৈরি করে দিলেন অভিষেক। এই সদস্যরা আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটানা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে দেখবেন SIR প্রকল্প ঠিকমতো হচ্ছে কি না, বিএলএ২রা কাজ কীভাবে সামলাচ্ছেন এবং অ্যাপে যেসব তথ্য তোলা দরকার, তা আদৌ ঠিকভাবে আপলোড হচ্ছে কি না।পার্টির তরফে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে, যে সব নেতা বিএলএ২ হিসেবে কাজ করছেন, তাঁদের অ্যাপে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, তথ্য ঠিকমতো তুলছেন না তাঁরা। অভিষেক এদিন বৈঠকে সেই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরই ১৩ জন নেতাকে পৃথক পৃথক জেলায় পাঠানো হয়। তাঁদের বলা হয়েছে কোঅর্ডিনেটর। কাজ সম্পূর্ণ না হলে কেউ ফিরতে পারবেন না। জেলায় জেলায় তৃণমূলের তৈরি ওয়ার রুমেও যেতে হবে তাঁদের।এই তালিকায় রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, মানস ভুঁইয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বেচারাম মান্না, দিলীপ মণ্ডল, সুজিত বসু, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, উদয়ন গুহ, সামিরুল ইসলাম-সহ আরও কয়েকজন। তাঁদের মূল দায়িত্বমাঠ পর্যায়ে SIR কাজ গতি পাওয়া, অভিযোগ শুনে সমাধান করা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে প্রতিদিন রিপোর্ট দেওয়া।এদিকে বিজেপি মনে করছে, তৃণমূলের এই জরুরি মোতায়েন আতঙ্কেরই প্রমাণ। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা মন্তব্য করেছেন, যখন শিয়রে যম থাকে তখন এমনই উত্কণ্ঠা দেখা দেয়। তৃণমূলের মধ্যেও সেই একই অবস্থা। এখন অবিশ্বাস আর হতাশা বাড়বে। এটা গৃহযুদ্ধের আগের পর্ব। এভাবেই তৃণমূল শেষ হয়ে যাবে।cরাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে অভিষেকের এই কড়া শৃঙ্খলাবিধান এবং সংগঠনকে আবার মাঠে নামানোর উদ্যোগদলের ভিতরে চাপা অস্থিরতারই প্রতিফলন। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব বলছে, এটি কেবলই সংগঠনের কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করার রুটিন ব্যবস্থা।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
কলকাতা

ভালোবাসার গল্পে রাজনীতির ছোঁয়া— সুন্দরবনের রিয়া ও রাখির সঙ্গে দেখা করবেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড

সুন্দরবনের অন্তঃস্থল থেকে উঠে এসেছে এক অনন্য ভালোবাসার গল্প। সমাজের বাঁধা, কুসংস্কার, এবং অগণিত বাধা পেরিয়ে একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন রিয়া সর্দার ও রাখি নস্কর। তাঁদের সাহসিকতা, আত্মবিশ্বাস, এবং সত্যিকারের ভালোবাসা গোটা বাংলাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল আবেগে। এবার সেই দুই তরুণীর সঙ্গেই দেখা করতে যাচ্ছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এর আগেও রিয়া ও রাখির সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেছিলেন, এই দুই কন্যা বাংলা ও বাঙালির গর্ব। তাঁদের জন্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় ফোন মারফত বার্তা পাঠিয়ে অভিষেক জানিয়েছিলেন, আমার খুবই ভাল লেগেছে সুন্দরবনের মাটিতে এমন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। রিয়া ও রাখি দেখিয়ে দিয়েছে, ভালোবাসা কোনও সীমারেখায় আটকে থাকে না না ধর্মে, না বর্ণে, না লিঙ্গে।অভিষেকের বার্তায় আরও বলা হয়, দুজনেই জানত, সমাজের চোখ রাঙানি আসবেই, বাধা আসবেই। তবুও তাঁরা পিছিয়ে যায়নি। একসঙ্গে থাকার জন্য লড়াই চালিয়ে গেছে। তাঁদের এই সাহসিকতার জন্য আমি তাঁদের কুর্নিশ জানাই। সেই সঙ্গে গ্রামবাসীকেও ধন্যবাদ জানাই তাঁরা রিয়া ও রাখির পাশে দাঁড়িয়ে ভালোবাসার জয়ে নিজেদের মানুষত্ব প্রমাণ করেছেন।অভিষেক আরও যোগ করেন, রিয়া ও রাখি শুধু একে অপরের ভালোবাসার প্রতীক নয়, তাঁরা মানবতার প্রতীক। এটা কেবল দুটি মানুষের বিয়ে নয় এটা বাংলার গর্ব, ভারতের গর্ব। আমি তাঁদের শুভেচ্ছা জানাই এবং তাঁদের গ্রামের মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা এই ভালোবাসাকে হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করেছেন।রাজনৈতিক নেতা হয়েও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন বার্তা এখন ভাইরাল হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এমন মানবিক ও সাহসিকতার পাশে দাঁড়ানোর পদক্ষেপকে অনেকে বাংলার প্রগতিশীলতার প্রতীক বলে আখ্যা দিয়েছেন।এখন সকলের নজর অভিষেকের আসন্ন সফরের দিকে কবে তিনি পৌঁছবেন সুন্দরবনের সেই গ্রামে, যেখানে দুই তরুণী তাঁদের ভালোবাসা দিয়ে সমাজের গোঁড়ামিকে হার মানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই অভিষেক তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং সরাসরি শুভেচ্ছা জানাবেন।

নভেম্বর ১০, ২০২৫
রাজ্য

রঙ্গোলিতে রঙের জাদু! অভিষেকের জন্মদিনে বিশ্বরেকর্ডের পথে তৃণমূল

আজ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। আর এই দিনটিকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে যেন উৎসবের আবহ। কিন্তু এবারের জন্মদিনে যুব তৃণমূলের আয়োজন এমন এক অনন্য নজির গড়েছে, যা সরাসরি বিশ্বরেকর্ডের দৌড়ে।জানা গেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে তৈরি করা হয়েছে ২০ হাজার স্কোয়ার ফিটের এক বিশাল থ্রিডি রঙ্গোলি। রঙে-তুলিতে তৈরি এই রঙ্গোলিটি যেন এক শিল্পমহাকাব্য যেখানে ফুটে উঠেছে অভিষেকের হাসিমুখ, দলের প্রতীক এবং তৃণমূলের অগ্রযাত্রার বার্তা। এই রঙ্গোলি এতটাই বিশাল যে, আকাশ থেকে তাকালেও পুরোটা একসঙ্গে দেখা যায় না।এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় রঙ্গোলি তৈরি হয়েছিল মধ্যপ্রদেশে যার আয়তন ছিল ১৮ হাজার স্কোয়ার ফিট। সেই রেকর্ড এবার ভেঙে দিয়েছে যুব তৃণমূলের এই ২০ হাজার স্কোয়ার ফিটের সৃষ্টিকর্ম। ইতিমধ্যেই এই রঙ্গোলির সমস্ত তথ্য পাঠানো হয়েছে লিমকা বুক অব রেকর্ডস এবং গোল্ডেন বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এর কাছে। স্বীকৃতির অপেক্ষায় এখন পুরো যুব তৃণমূল।প্রতি বছরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো হয়। শহর-শহরতলি থেকে জেলা, প্রত্যেক জায়গায় দিনভর চলে নানা সামাজিক কর্মসূচি কোথাও কেক কাটা, কোথাও বিশেষ পুজো, কোথাও রক্তদান শিবির। এবারও তার অন্যথা হয়নি। হাজার হাজার অনুরাগী ও কর্মী কলকাতায় এসে জড়ো হয়েছেন প্রিয় অভিষেকদা-কে শুভেচ্ছা জানাতে।দলের এক নেতা বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের প্রেরণা। তাঁর জন্মদিন মানে আমাদের কাছে উদযাপনের দিন, আশার দিন।রঙ্গোলির ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। নেটিজেনদের দাবি, এই সৃষ্টিই এবার বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেবে। কেউ লিখেছেন এই রঙেই মিশে আছে তৃণমূলের লড়াই, অভিষেকের হাসি।

নভেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

এসআইআর থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই কি তৎপর কেন্দ্রীয় সরকার? সংবিধান সংশোধন বিল পেশ নিয়ে তুলকালাম

এসআইআর নিয়ে বিরোধীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সারা দেশ তোলপাড়। এরই মাঝে সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ হল লোকসভায়। তৃণমূল কংগ্রেসে এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে। এসআইআর ইস্যু থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতেই এই বিল আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপরাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে। এটা আসলে কেবলমাত্র একটা ভেল্কিবাজি। আমরা আগে থেকেই সতর্ক করেছিলাম, যখন বিজেপি প্রচার চালাচ্ছিলঅবকি বার, ৪০০ পারতখনই বলেছিলাম ওদের উদ্দেশ্য- সংবিধান বদলে দেওয়া। আর আজ, মাত্র ২৪০ সাংসদ নিয়ে ওরা ১৩০তম সংবিধান সংশোধন নিয়ে এসেছে। ভাবুন তো, যদি ৪০০ সাংসদ থাকত, তাহলে কী করত!ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের দাবি, SIR ইস্যু থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য এই বিল পেশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সাংবাদিক বৈঠকের পরই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, উত্তর দেওয়ার বদলে ওরা কেবল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। মাত্র দুদিন আগে ৮টি রাজনৈতিক দল যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছিল। কিন্তু এই বিলের উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, মুদ্রাস্ফীতি, কৃষক-শ্রমিকদের দুঃখকষ্ট, বা শিল্প গড়ে তোলাএসবের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য শক্তি, টাকা, আর নিয়ন্ত্রণ দখল করা। দেশের সীমান্ত রক্ষা, জঙ্গিদের আটকানো, সার্বভৌমত্ব রক্ষাএসব নিয়ে সরকারের কোনও আগ্রহ নেই।নতুন আইনে বলা হয়েছে যদি কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় বা রাজ্যের মন্ত্রী, বা মন্ত্রিসভার সদস্য কোনও তদন্তকারী সংস্থার দ্বারা ৩০ দিনের বেশি আটক থাকে, তবে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এর মানে আপনি নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগই পাবেন না। তাহলে বিচারব্যবস্থার দরকার কী? এটা পুরো বিচারব্যবস্থা ও বিচারপ্রক্রিয়ার ভিতটাই দুর্বল করে দেয়। প্রধানমন্ত্রীর নিজের বিরুদ্ধেও মামলা ঝুলছে। বিজেপি বলবে তৃণমূল ভয় পেয়েছে। যদি আমরা ভয় পেতাম, তবে ঘরে বসে থাকতাম। কিন্তু আমরা তো রাস্তায় নেমে লড়াই করছি।অভিষেকের দাবি, এই বিলের একমাত্র উদ্দেশ্য হল বিরোধী নেতাদের, কর্মী-সমর্থকদের এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দমন করা। তথ্যই তা প্রমাণ করছেঅর্থমন্ত্রক নিজেই সংসদীয় প্রশ্নের জবাবে বলেছে, গত ১০ বছরে ইডি ৫,৮৯২টি মামলার তদন্ত করেছে, কিন্তু দোষী সাব্যস্ত হয়েছে মাত্র ৮টিতে। মানে ০.১৩%। অর্থাৎ, ৯৯.৯% মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অথচ প্রধানমন্ত্রী মোদীর তৃতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভায় ২৮ জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ১৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, ধর্ষণ এবং মহিলাদের উপর নৃশংস অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এই বিল পাশ হলে ওদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে?বারে বারেই অভিযোগ উঠেছে সিবিআই, ইডি সহ সমস্ত কেন্দ্রীয় এজেন্সি বিজেপির কথা মতো কাজ করে। নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের পিছনে ইডি, সিবিআই লেলিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাজা হয় না বলে খবর। অভিষেক বলেছেন, ২০১৪ থেকে এখন পর্যন্ত ২৫ জন বিরোধী নেতা, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলছিল তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে ২৩ জনের সব মামলা থেকে রেহাই মিলেছে। তাহলে বিজেপির উদ্দেশ্য দুর্নীতি বিরোধী লড়াই, না বিরোধীদের হয়রানি? যদি ওদের উদ্দেশ্য সৎ হত, তবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, অজিত পওয়ার, শুভেন্দু অধিকারীরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুক্তি পেতেন না। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে ওদের বিরুদ্ধে একটাও সমন জারি হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, গত ১০ বছরে কতজন বিজেপি নেতা গ্রেফতার হয়েছে?

আগস্ট ২১, ২০২৫
রাজনীতি

২১ জুলাইয়ের পোস্টারে ছবি কার? কি সিদ্ধান্ত দলের?

২১ জুলাই শহীদ দিবস। ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের ২১ শে জুলাইকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। সভা সফল করতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। শনিবার ভবানীপুরের দলীয় কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে তৃণমূল। সেই বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে দলীয় সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এবার ২১ জুলাইয়ের পোস্টারে থাকবে শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকবে না। এটা অভিষেক নিজেই চেয়েছেন। উল্লেখ্য, অভিষেক ২০১১ সালে তৃণমূলে যোগ দেন এবং দলের যুব সংগঠনের সভাপতি হন। এরপর থেকে তিনি দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে উঠে আসেন। কিন্তু তাঁর ছবি পোস্টার থেকে বাদ যাওয়ার বিষয়টিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনার শেষ নেই। গত বছর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের সমাবেশে অভিষেকের ছবি না-থাকায় তৃণমূলের ভিতরেই বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। কুণাল ঘোষের মতো নেতারা সেই নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন। এবার যাতে তেমন কোন বিতর্ক না হয় তা নিয়ে আগে ভাগেই সতর্ক অবস্থান নিল দল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সুদীপবাবু বলেন, ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর থেকে যেসব পোস্টার পাঠানো হয়েছে, তাতে শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিই রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, অভিষেক নিজেই বলেছেন, যেহেতু তিনি ২১ জুলাইয়ের ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না, তাই তাঁর ছবি পোস্টারে না থাকাই যুক্তিযুক্ত।রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বারবার দলীয় সভায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, সরকার যেমন তাঁর হাতেই, সংগঠনেও তিনিও শেষ কথা। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই, বাম সরকারের আমলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ১৩ জন তৃণমূল কর্মী। সেই শহিদদের স্মৃতিতে প্রতিবছর এই দিনটি পালন করে তৃণমূল। যেহেতু সেই সময় অভিষেক রাজনীতিতে ছিলেন না, তাই এবার তিনি নিজেই সরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন এমনটাই দাবি সুদীপের-ফিরহাদদের।তবে এই ছবি বিতর্ক নতুন কোন ইস্যু নয়। ২০২৩ সালে নেতাজি ইন্ডোরের এক সভাতেও শুধু মমতার ছবি ছিল, অভিষেকের ছবি না-থাকায় কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছিলেন। আবার ২০২৫-এর শুরুতে অভিষেকের দফতর থেকে প্রকাশিত ক্যালেন্ডারে তাঁর বিরাট ছবি ঘিরেও শুরু হয়েছিল বিতর্ক। পরে সেটি বদলে দেয় রাজ্য নেতৃত্ব। এরপর ফের ফেব্রুয়ারিতে নেতাজি ইন্ডোরের দলীয় সভায় দেখা যায় শুধুই মমতার ছবি। সব মিলিয়ে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে ঘিরে যে রাজনৈতিক রূপরেখা তৈরি হচ্ছে, তাতে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক নেতৃত্বকেই সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। আর অভিষেকের ছবি না-থাকা সেই বার্তাকেই আরও সুদৃঢ় করল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের ।

জুন ১৫, ২০২৫
দেশ

"জাপানে রাসবিহারী বসুর স্মৃতিস্তম্ভ জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে", পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের দাবি অভিষেকের

সম্প্রতি অপারেশন সিন্দুরের সাফল্য ও পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বিশ্ববাসীকে জানাতে ভারতের প্রতিনিধি দল বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেরাচ্ছে। জাপানে ভারতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংসদ অভিষেক সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেখানে রাসবিহারী বসুর স্মৃতি সৌধ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন অভিষেক। এদিন এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক লিখেছেন, ভারতের অন্যতম প্রধান বিপ্লবী এবং বাংলার গর্বিত সন্তান রাসবিহারী বসুর জন্মবার্ষিকীতে আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। ভারতের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গকারী একজন দূরদর্শী, তিনি দুটি মহান জাতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন। টোকিওর স্মৃতিস্তম্ভটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে, আমাদের জাতির ইতিহাসে তাঁর বিশাল অবদানের প্রতি একটি গুরুতর অবিচার।তিনি জাপানে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। অভিষেক বলছেন, আমি রাষ্ট্রদূত @AmbSibiGeorge এবং @IndianEmbTokyo-এর সাথে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছি। স্থানটিকে যথাযথ মর্যাদার সাথে পুনরুদ্ধার এবং সংরক্ষণের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। আসুন আমরা রাসবিহারী বসুর আত্মত্যাগকে কখনও ভুলে না যাই এবং তাঁর স্মৃতি আগামী প্রজন্মের জন্য উজ্জ্বল থাকে তা নিশ্চিত করে তাকে সম্মান জানাই।

মে ২৫, ২০২৫
রাজ্য

ছোট্ট অস্মিকাকে সাহায্যের আশ্বাস অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের, আশায় একরত্তি শিশুর পরিবার

ছোট্ট অস্মিকাকে সাহায্যের হাত বাড়ালেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে লাখ লাখ মানুষ তাঁর লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। অস্মিকার বাবা-মাকে কি আশ্বাস দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক? বাবা-মায়ের আদুরে এই এক রত্তি শিশু কন্যা পাঁচটা শিশুর থেকে অনেকটাই আলাদা। স্বাভাবিক ভাবে হাত-পা নড়া চড়া, উঠে বসা, কোন কিছুই সে নিজে নিজে পারে না। ছোট্ট মেয়েটাকে সুস্থ করে তোলার শেষ ভরসায় আজ সেবাশ্রয় শিবিরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ রানাঘাটের অস্মিকার পরিবার। জানা গিয়েছে, অস্মিকার চিকিৎসার বিষয়ে যাবতীয় খোঁজ-খবর নেন তিনি। পাশাপাশি অভিষেক বন্দোপাধ্যায় অস্মিকার বাবার নাম ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করেছেন। আশ্বাস দিয়েছেন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগেরও। এতেই আশাবাদী পরিবার। কিছুটা হলেও মিলবে চিকিৎসার সাহায্য, আশায় বুক বাঁধছে রানাঘাট। স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (SMA) টাইপ ওয়ান বিরল রোগে আক্রান্ত অস্মিকা। কলকাতা থেকে চেন্নাই হয়ে ব্যাঙ্গালুরু সব জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছে বাবা-মা, তাদের রাজকন্যাকে সুস্থ করে তুলতে। তবে শেষমেষ ফিরতে হয়েছে খালি হাতেই। জানানো হয়েছে, কঠিন রোগ সারতে লাগবে ১৬ কোটির ইঞ্জেকশন। কিন্তু বিপুল পরিমাণ টাকার জোগাড় করা মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে অলীক কল্পনা ছাড়া আর কীই বা হতে পারে? অবশেষে ভরসা ক্রাউড ফান্ডিং। দেশ-বিদেশের সাড়ে তিন লক্ষের বেশি মানুষ ইতিমধ্যে ছোট্ট অস্মিকাকে সুস্থ করে তুলতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। জোগাড় হয়েছে ৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এখনো বাকি রয়েছে প্রায় ৮ কোটি। হাতে সময় কম। আদৌ কী মেয়ে কোনদিনও সুস্থ হবে? পারবে আর পাঁচটা শিশুর মত হেঁটে চলে বেড়াতে এই প্রশ্নে রাতের ঘুম উড়েছে অস্মিকার বাবা-মায়ের। তিন মাস বয়স পর্যন্ত বাকি বাচ্চাদের মতোই সবকিছুই স্বাভাবিক চলছিল। পা তুলত, হাত নাড়াত। সাড়ে তিন মাস বয়স যখন হল, তখনই হঠাৎ একদিন দেখলাম পা-টা আর তুলছে না। তিন-চার মাসের বাচ্চাদের ঘাড় শক্ত হয়ে যায় সাধারণত। উবুড় হয়ে যায়। কিন্তু ও কিছুই করতে পারছিল না। এমনটাই জানিয়েছেন অস্মিকার মা লক্ষ্মী সরকার দাস।

মার্চ ০৫, ২০২৫
রাজনীতি

মমতা-অভিষেকের দাবি, ২০২৬-এ দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায়, খেলা শুরু ভোটার তালিকা থেকেই

ফের খেলা হবে, বললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্ব স্তরের কর্মী সম্মেলন বক্তব্য় রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আসল খেলা ভোটার লিস্ট থেক শুরু, খেলা নম্বর ওয়ান ভোটার লিস্ট। খেলা নম্বর ২ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, খেলা নম্বর ৩ সংগঠনকে শক্তিশালী করা। এলাকায় এলাকায় আসছে তাদের ওপর নজর রাখা। খেলা নম্বর ৪ বিজেপির হবে হার। বিরোধীরা এই খেলা হবে স্লোগানের মধ্যে এর আগেও রহস্য দেখেছে। বিশেষত ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন থেকে গণনা কেন্দ্রের খেলা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। এবার একেবারে ভোটার লিস্ট থেকে খেলা শুরুর কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূল নেত্রী। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ২০২৬-এ ২১৫-এর বেশি আসনে জেতার তাগিদ নিয়ে নামবো। চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। বাংলাকে ছোট করার পরিকল্পনা করে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি। গতবারের থেকে এবার আসন বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকুক। বিজেপি গোহারা হেরেছে। ২০২৬-এর ভোটে ২১৫-এর বেশি আসন পাওয়াই লক্ষ্য। দলকে ভালবাসলে শৃঙ্খলার বাইরে যাবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃচ্ছা সাধনেই বট বৃক্ষ তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের বক্তব্যের সুর ধরে বলেন, এখন আমাদের ২২০-২১ বিধায়ক আছে। আমরা ২১৫ পার করবো। এবার বিজেপি যে সিট পেয়েছে সেটা পেতে দিলে চলবে না। অভিষেক ঠিকই বলেছে আমরা ২০২৬-এ দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে জিতবো। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীদের চিহ্নিত করার কাজটা আমি করেছিলাম। আগামিদিনেও যদি কেউ দলের সঙ্গে বেইমানি করে তাদেরও চিহ্নিত করে ল্যাজেগোবরে করে প্যাকেট করে বাংলা ছাড়ার দায়িত্বটা আমার কাঁধে তুলে নিলাম। অভিষেকের এই মন্তব্যে দলের মধ্যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তাহলে কি কেউ এমন রয়েছে? তিনি আরও বলেন দলের মুখপাত্র, সাংসদ, বিধায়ক, টাউন সভাপতি নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে কোনও দলকে ছোট করছেন। বাজারে রটিয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যাবে। আমার গলা কেটে দিলেও কাটা গলা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ বেরবে। আমি বেইমান নই। বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে নতুন দল আসছে। বিজেপির হাতে কল্কে আর তামাক খেয়ে কয়েকটা সংবাদ মাধ্যম ও দুচারটে সাংবাদিক এই কাজটা করছে।এদিন ভোটার লিস্ট নজর রাখার জন্য় শক্তিশালী কমিটি ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলায় জেলায় কোর কমিটি করা হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তবে এদিন জেলা স্তরের অনেকেই আশা করেছিলেন নতুন কমিটি হবে, তেমন কোনও ঘোষণা শেষমেশ হয়নি। সেক্ষেত্রে কেউ কেউ হতাশও হয়েছেন।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
রাজনীতি

তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড শান্তনু সেন ও আরাবুল ইসলাম, কেন এই সিদ্ধান্ত?

তৃণমূল কংগ্রেস সাসপেন্ড করল ভাঙরের আরাবুল ইসলাম ও ডা. শান্তনু সেনকে। এই সাসপেনশন নিয়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। আরজি কর কাণ্ডে শান্তনু সেনের অবস্থানকে কেন্দ্র করে মূলত বিতর্কের সূত্রপাত হয়। তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার জানিয়ে দেন, তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরাবুল ইসলাম ও শান্তনু সেনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দলবিরোধী কাজের জন্য এই দুই নেতাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। শান্তনু দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট বলেই খবর। সাসপেন্ড হওয়ার পর শান্তনু সেন বলেছেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সেনাপতি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের রাজ্য সভাপতি যখন যা দায়িত্ব দিয়েছে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। আজও বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছি। তার ৩ ঘন্টার মধ্যে সাসপেন্ড হয়েছি। আমি নাকি আন্দোলনটাকে উসকে দিয়েছি। এখানে থামেননি প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ। তিনি বলেছেন, আমি বুঝেই উঠতে পারছি না, দলের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করলাম! সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দলের কথা ভেবেছি। পেশার কাজের বাইরে কেবল তৃণমূলের কাজ করেছি। তার পরেও কেন এই পদক্ষেপ, বুঝতে পারছি না।এদিকে জামিন পাওয়ার পরও ভাঙড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েন আরাবুল ইসলাম। গত ১ জানুয়ারি দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে তৃণমূলের দলীয় পতাকা উত্তোলনের সময় গোষ্ঠীসংঘর্ষে জড়ান আরাবুল। প্রাক্তন বিধায়ককে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন তৃণমূলের অপর গোষ্ঠীর কর্মীরা। বিধায়ক শওকত মোল্লার ভাঙড় দখল করে দাদাগিরি করতে চাইছে বলে দাবি করেন আরাবুল ইসলাম। আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডা. সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন শান্তনু সেন। আরজি কর কাণ্ডে শান্তনু সেনের অবস্থানের পর তাঁকে তৃণমূলসের মুখপাত্র পদ থেকে সরানো হয়, তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডক্টর সামিটের মূল হোতা ছিলেন শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকেই সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। শান্তনুর বক্তব্য, বারবার দল পাল্টাইনি। আমি কখন দলবিরোধী কাজ করলাম? আমার নেতৃত্ব সেটা বলে দিলে ভালো লাগতো। আমার বিরুদ্ধে ভুল বোঝানো হয়েছে। এদিন কংগ্রেস থেকে ভায়া বিজেপি হয়ে দলে যোগ দেওয়া জয়প্রকাশ মজুমদার এই সাসপেন্ড ঘোষণা করায় কটাক্ষ করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।

জানুয়ারি ১০, ২০২৫
রাজনীতি

অভিষেকের নাম করে তোলাবাজি, নিউটাউনের তৃণমূল নেতা ধৃত!

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাইটিং প্যাড ব্যবহার করে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার নিউটাউনের তৃণমূল নেতা কৌশিক সরকার। তাকে গ্রেফতার করেছে শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, চার কোটি টাকার তোলাবাজি অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া স্থানীয় স্তরে জমি সংক্রান্ত অন্য অভিযোগ আছে। তাঁর গ্রেফতারের পর হাত ধুয়ে ফেলেছে তৃণমূল। যদিও বিরোধীরা এই গ্রেফতার নিয়ে রেরে করে উঠেছে। কৌশিক সরকার নিউ টাউন এলাকার তৃণমূল নেতা হিসাবে পরিচিত। তাঁর ফেসবুকেও রাজনৈতিক পোস্ট আছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই কৌশিক সরকারের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। একাধিক নেতাদের নাম করে সে তোলাবাজি করত। কখনও কখনও সে নিজেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করত। গতকাল রাতে শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ চিনার পার্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া নিউ টাউনের জমি সংক্রান্ত বিসয়েও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ।তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, কৌশিক সরকার দলের কেউ নয়। অনেকেই দলের নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে ঘনিষ্ঠতা দেখানোর চেষ্টা করে। তারপর অপকর্ম করে। যদিও বিজেপি ও সিপিএমের বক্তব্য, এই সব তোলাবাজে ভর্তি তৃণমূল।

আগস্ট ৩০, ২০২৪
রাজনীতি

সকালে ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে, বিকেলে বাড়ি ফিরলেন অভিষেক

রবিবার সকালে বাইপাশের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, তাঁর শরীরে ছোট্ট একটি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। দিনভর হাসপাতালে থাকার পর এদিন বিকেলেই তাঁকে ছুটি দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিন তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট হয়নি। সেক্ষেত্রে শারীরিক কিছু পরীক্ষাও হতে পারে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের।লোকসভা নির্বাচন পর্ব মেটার পরপরই এবার হাসপাতালে ভর্তি হলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। দিন কয়েক আগেই এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি জানিয়েছিলেন, চিকিৎসাজনিত কারণে তিনি সংগঠন থেকে ছোট্ট বিরতি নিচ্ছেন।এর আগে বার কয়েক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের অস্ত্রোপচার হয়েছিল। দেশে তো বটেই এমনকী বিদেশে গিয়েও চোখের চিকিৎসা করিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২২ সালে আমেরিকায় চোখের অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।তবে এবার আর চোখের চিকিৎসা নয়, সূত্রের খবর সম্ভবত পেটের ছোট্ট অস্ত্রোপচারের জন্য কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে বিকেলেই হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। আপাতত দিন কয়েক বাড়িতেই বিশ্রামে থাকবেন তিনি।

জুন ১৬, ২০২৪
রাজনীতি

এসএসসির চাকরি বাতিলে সুপ্রিম রায়, কি বললেন মমতা- অভিষেক

২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ার ২৫৭৫৩ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশে আপাতত স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি জানান, এখনই চাকরি বাতিল হচ্ছে না। তবে এখানেই এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে না। ১৬ জুলাই এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি। এসএসসি আদালতকে জানিয়েছে এরমধ্যে ১৯,০০০ চাকরি বৈধ। সুপ্রিম নির্দেশের পরই এবার আসরে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লিখলেন সত্যের জয় হল।তিনি এদিন লিখেছেন, বাংলার ভাবমূর্তি নষ্টে বিজেপির বিস্ফোরণ সুপ্রিম কোর্টে নিষ্ক্রিয়। সব প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। মানুষের পাশে থেকে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চলবে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চলবে।🙏I am really very happy and mentally relaxed on receipt of justice at the highest Court of the land. Congratulations to the entire teaching fraternity and my humble regards to the Honble Supreme Court of India.🙏সুপ্রিম কোর্টে ন্যায় প্রাপ্তির পর আমি বাস্তবিকই খুব খুশী এবং Mamata Banerjee (@MamataOfficial) May 7, 2024এদিকে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে তাতে বেজায় খুশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জন্য শিক্ষক সমাজকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মমতা। আর শীর্ষ আদালতকে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়প্রাপ্তির পর আমি বাস্তবিকই খুব খুশি এবং মানসিক ভাবে তৃপ্ত। সামগ্রিক ভাবে শিক্ষক সমাজকে জানাই আমার অভিনন্দন এবং মাননীয় সুপ্রিম কোর্টকে জানাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা।মঙ্গলবার ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ার ২৫৭৫৩ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশে আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এদিন জানান, এখনই কারও চাকরি বাতিল হচ্ছে না। যদি যোগ্য-অযোগ্য আলাদা করা সম্ভব হয়, তাহলে গোটা প্যানেল বাতিল করা ন্যায্য হবে না। তবে এখানেই এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে না। ১৬ জুলাই এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি। তবে এই রায়কে নিজেদের জয় হিসাবে দেখছে রাজ্যের শাসকদল। পাল্টা বিজেপির দাবি, সিবিআই তদন্ত চলবে। আর চূড়ান্ত শুনানি হবে ১৬ জুলাই। সুতরাং এখনই নিষ্পত্তি নয় এই মামলার।The Honorable Supreme Court has DEFUSED the BJPs EXPLOSIVE hurled last week to malign Bengals image and destabilize WB government.TRUTH HAS TRIUMPHED!We will continue to defy all odds and stand shoulder to shoulder with the people until our last breath.জয় বাংলা 💪🏻 Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) May 7, 2024

মে ০৭, ২০২৪
রাজনীতি

বিজেপির নারদ আদলে তৃণমূল ভবনে সন্দেশখালির ভাইরাল ভিডিও প্রদর্শন, ভয়ঙ্কর আক্রমণ অভিষেকের

নারদ-কাণ্ডে বিজেপি দফতরে ভিডিও ফুটেজ তুলে ধরে তৃণমূলকে নিশানা করেছিলেন গেরুয়া নেতারা। তখনও এরাজ্যে নির্বাচনী আবহ ছিল। এবার সন্দেশখালির ভাইরাল ভিডিও তোলপাড় ফেলতেই একই কায়দায় এবার বিজেপিকে পাল্টা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পদ্ম বাহিনীকে কার্যত তুলোধনা করলেন তিনি। অভিষেকের সাফ কথা, নির্লজ্জতার সমস্ত নজির ভেঙে দিয়েছে। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বলছেন সাজানো ঘটনা। যাঁকে নির্যাতিত বলে দেখানো হচ্ছে। তিনি বলছেন, তাঁর সঙ্গে কিছু হয়নি। বাংলার সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। বিজেপির নেতারা বলতেন, সন্দেশখালি করবে তৃণমূলের চেয়ার খালি। আর আজকের ভিডিও বুঝিয়ে দিয়েছে বিজেপি দলটাই জালি।সন্দেশখালির ভাইরাল ভিডিও ঘিরে শনিবার রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পরে যায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকের বিজেপি সভাপতি গঙ্গাধর কয়াল স্বীকার করছেন, মহিলাদের ধর্ষণের ঘটনা পুরোটাই সাজানো। সে জন্য তাঁদের টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।এরপরই এক্স বার্তায় সরব হয়েছিলেন অভিষেক। পরে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। অভিষেক বলেন, নির্লজ্জতার সমস্ত নজির ভেঙে দিয়েছে। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বলছেন সাজানো ঘটনা। যাঁকে নির্যাতিত বলে দেখানো হচ্ছে। তিনি বলছেন, তাঁর সঙ্গে কিছু হয়নি। ভিডিয়োতে উনি বলেছেন, তাবড় তাবড় মালকে গ্রেফতার করানোর কথা। গঙ্গাধর বলেছেন, শুভেন্দু তাঁদের বলেছেন, তাবড় তাবড় মাল গ্রেফতার না করালে তোমাদের কিছু হবে না। খবর যাচাই না করেই বাংলার নামে খবর প্রকাশ করেছে জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলি। তাতে বাংলার সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। এঁদের প্রত্যেকের উচিত বাংলায় এসে ক্ষমা চেয়ে যাওয়া।পরিকল্পনা করে সন্দেশখালিতে রোবটও নামিয়ে দিল ওরা। যেন মনে হচ্ছিল চাঁদে চন্দ্রযানের প্রজ্ঞান নামছে। এই সব কিছুই দেখানোর জন্য। সব পরিকল্পিত।গঙ্গাধর বলেছে ২০০০টাকা দিয়ে অভিযোগ দায়ের করিয়েছে বাংলায়। রেখা পাত্র যিনি ওই এলাকার লোকসভা ভোটের প্রার্থী তিনিও ওই ২০০০ টাকার বিনিময়েই অভিযোগ করেছিলেন। পিঠে পাটিসাপটা বানানো নিয়ে কত কথা বলেছিল সংবাদ মাধ্যম। কী ভাবে খবর প্রকাশ হয়েছিল! আর এখন এরা বলছে ধর্ষণই হয়নি। উল্টে ধর্ষণ নিয়ে যাতে কোনও পরীক্ষা দিতে না হয়, সে জন্য ৭ মাস আগের অভিযোগ দায়ের করেছে।বাংলাকে কলুষিত করার জন্য বিজেপির পাশাপাশি বিচারমাধ্যমের একাংশও দায়ী বলে মনে করি আমি। এ কথা বলার জন্য যদি আমি আদালত অবমাননার দায়ে পড়ি, তবে পড়ব, কিন্তু সত্যি কথা বলা থেকে আমাকে আটকানো যাবে না। বলেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, যারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে মহিলাদের সম্ভ্রম ২০০০ টাকায় বিক্রি করেন, সেই দলকে ভোট দেওয়ার আগে দশবার ভাববেন।আমি চ্যালেঞ্জ করছি গঙ্গাধর কয়ালকে বিজেপি সাসপেন্ড করুক। এ ব্যাপারে সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যও মিলছে না। বিজেপির নেতারা আলাদা আলাদা কথা বলছেন। ওদের আসল চেহারা, ওদের নগ্নরূপ বেরিয়ে গেছে।বিজেপির নেতারা বলতেন, সন্দেশখালি করবে তৃণমূলের চেয়ার খালি। আর আজকের ভিডিয়ো বুঝিয়ে দিয়েছে বিজেপি দলটাই জালি।বাংলায় ওরা থাকছে, খাচ্ছে আর বাংলার নাম কলুষিত করছে। আসলে বাংলাকে কলুষিত করে দখল করার পরিকল্পনা ছিল বিজেপির। যেভাবে, রাজস্থান, কর্ণাটক দখল করেছে সে ভাবেই বাংলাও দখল করবে। কিন্তু বাংলার দখল নেওয়া অত সহজ নয়। খালি কয়েকটা ভোটের জন্য যা নয় তাই করা হচ্ছে। সমস্যা আদৌ হয়েছে কি না যাচাই না করেই সিবিআই হয়ে যাচ্ছে। সংবিধান মেনে পুলিশকে সুযোগও দেওযা হচ্ছে না। তদন্ত করার সুযোগই দেওয়া হচ্ছে না।ওর (শুভেন্দু অধিকারী) সিবিআইকে বলুন, যদি ক্ষমতা থাকে আমাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে। ওর সিবিআই দেখিয়ে রাজনীতি অন্য জায়গায় করতে বলবেন। সিবিআইয়ের তল্পিবাহকতা করার জন্য বাংলার মানুষ বেঁচে আছে। ওর যদি ক্ষমতা থাকে, তা হলে ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? ওই বেইমানটাকে বলবেন, আমি ওকে বেইমান বলছি, গদ্দার বলছি, ঘুষখোর বলছি। কী করবে করে নিক।

মে ০৪, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

বিশ্বকর্মা পুজোয় আজও ধূপ-ধুনোয় সেজে ওঠে ‘স্টিম সাহেব’, জলপাইগুড়ির বুকে ব্রিটিশ আমলের জীবন্ত স্মৃতি

জলপাইগুড়ি শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নস্টালজিয়ার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে এক ব্যতিক্রমী নাম, স্টিম সাহেব। ব্রিটিশ আমলের কয়লা চালিত এই স্টিম রোলারকে ঘিরে এখনও আবেগ রয়েছে বহু মানুষের। প্রতি বছর বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে জলপাইগুড়ি পূর্ত দপ্তরের সাব ডিভিশনাল অফিস চত্বরে পরম যত্নে পুজো করা হয় ঐতিহাসিক এই যন্ত্রটিকে।স্বাধীনতার বহু আগে সুদূর লন্ডন থেকে জলপাইগুড়িতে আনা হয়েছিল কয়লা চালিত এই স্টিম রোলার। ব্রিটিশ সাহেবদের হাত ধরে শহরে আসার কারণেই স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে এর নাম হয়ে যায় স্টিম সাহেব। একসময় জলপাইগুড়ি থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশের রংপুর পর্যন্ত রাস্তা তৈরি ও মেরামতির কাজে নিয়মিত ব্যবহার করা হত এই রোলার।সেই সময়ের যান্ত্রিক প্রযুক্তির অন্যতম নিদর্শন ছিল এটি। রোলারের বয়লারে কয়লা দেওয়া থেকে শুরু করে স্টিয়ারিং ঘোরানোপুরো ব্যবস্থাটিই ছিল যান্ত্রিক পদ্ধতিনির্ভর। দেশভাগের পরেও দীর্ঘদিন নিজের দায়িত্ব পালন করেছে স্টিম সাহেব। তবে সময়ের সঙ্গে ডিজেল চালিত রোলারের ব্যবহার বাড়ায় ধীরে ধীরে গুরুত্ব কমতে থাকে এই পুরনো যন্ত্রটির। একসময় পূর্ত দপ্তরের এক কোণে অবহেলায় পড়ে ছিল এটি।১৯৬৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় রোলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটিকে উদ্ধার করে মেরামত করা হয়। সরকারি উদ্যোগে এরপর পূর্ত দপ্তরের সাব ডিভিশনাল অফিস চত্বরেই স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় ঐতিহাসিক এই স্টিম রোলারকে। জানা যায়, কয়েক বছর আগে যে লন্ডন-ভিত্তিক সংস্থা এটি তৈরি করেছিল, তাদের পক্ষ থেকে রোলারটি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে রাজ্য সরকারের তরফে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।তাই আজও জলপাইগুড়ির মাটিতেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্টিম সাহেব। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন বর্তমান কর্মীদের পাশাপাশি বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মীও নস্টালজিয়ার টানে ছুটে আসেন পূর্ত দপ্তরে।অবসরপ্রাপ্ত কর্মী পার্থপ্রতিম সেনের কথায়, স্টিম সাহেব এখনও তাঁদের কাছে এক জীবন্ত নস্টালজিয়া। বর্তমান কর্মী গৌতম দীক্ষিত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মধু সরকারও মনে করেন, এই ঐতিহ্য ও পরম্পরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও একইভাবে টিকে থাকুক। তাঁদের কাছে স্টিম সাহেব শুধু একটি পুরনো যন্ত্র নয়, বরং জলপাইগুড়ির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

‘ঝরা পাতা তৃণমূলে নয়’, কংগ্রেসের ‘বটগাছের’ ছায়ায় আসার ডাক অধীরের

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটে নামতে হয়েছে। মমতা শিবিরের জন্য ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য খাম প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জোড়াফুল প্রতীক ও দলের পুরনো নামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রক্রিয়াধীন।এই পরিস্থিতির মধ্যেই নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানান। রেজিনগর নিয়ে অবশ্য মমতার শিবিরের অবস্থান তখনও স্পষ্ট ছিল না।নন্দীগ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূল বা তৃণমূলের অন্য কোনও শিবিরের পরিবর্তে কংগ্রেসের পাশে আসা উচিত বিরোধীদের।অধীর বলেন, কংগ্রেস একটি বটগাছের মতো এবং তৃণমূল সেই বটগাছের ঝরা পাতা। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির বিরুদ্ধে যারা লড়াই করতে চান, তাঁদের কংগ্রেসের ছায়ায় আসা উচিত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপি-বিরোধী ভোটার ও রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে কংগ্রেসের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।তৃণমূলের নতুন প্রতীক নিয়েও কটাক্ষ করেন অধীর। তাঁর কথায়, মমতার শিবির ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক পেয়েছে এবং অন্য শিবির পেয়েছে খাম। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘটনাকেও তিনি তৃণমূলের জন্য রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে তুলে ধরেন। রেজিনগর নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।তবে সঞ্চিতা প্রধান দে কেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন, সেই বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ওই সাক্ষাৎ এবং তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি।এর পর নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়। মমতা জানিয়েছেন, উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন করে বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও সরব হয়েছেন অধীর। তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেন এবং কমিশনকে বিজেপির প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করেন। তবে এটি অধীররঞ্জন চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযোগ; নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী নিজেদের বৈধ প্রতিনিধি দাবি করায় উপনির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহার, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং মমতা শিবিরের কংগ্রেসকে সমর্থনএই তিনটি ঘটনা ঘিরে উপনির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রেজিনগরেও শেষ পর্যন্ত কী ছবি দেখা যাবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কলকাতা

খাম নিয়ে নতুন সংঘাত, ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে আইনি পথে আইএসএফ? কী বললেন নওশাদ

ঘাসফুল আপাতত বাইরে। নতুন নাম গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস, আর প্রতীক খাম। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরেই নতুন বিতর্কে জড়াল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। কারণ, খাম প্রতীকটি আগে থেকেই ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই ভোটে লড়ার দাবি করেছে আইএসএফ। এবার সেই প্রতীকই ঋতব্রত শিবিরকে দেওয়া হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি পথে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবার নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দুই শিবিরের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নাম হয়েছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছে খাম। অন্য দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পেয়েছে আলাদা নাম ও প্রতীক। পুরনো তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ব্যবহার করা যাবে না।কিন্তু ঋতব্রত শিবিরের নতুন প্রতীক সামনে আসার পরেই আপত্তি তোলে আইএসএফ। নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি, ২০২১ সাল থেকেই তাঁদের দল খাম প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে লড়ছে। চলতি বছরেও ওই প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, সেই পরিস্থিতিতে একই প্রতীক অন্য একটি দলকে কী ভাবে দেওয়া হল?শুক্রবার ফুরফুরা শরিফে দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নওশাদ। সেখানে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য গত ১০ মার্চ আইএসএফের খাম প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাই ঋতব্রত শিবিরকে একই প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন।নওশাদ জানিয়েছেন, প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, আইএসএফকে দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এই অভিযোগ নওশাদ সিদ্দিকীর রাজনৈতিক বক্তব্য; নির্বাচন কমিশনের তরফে এমন কোনও ষড়যন্ত্রের কথা জানানো হয়নি।অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবির অবশ্য নতুন প্রতীক নিয়ে সন্তুষ্ট। নন্দীগ্রামের ওই শিবিরের প্রার্থী এহতেশামুল হক জানিয়েছেন, তাঁরা খাম প্রতীক পেয়েছেন এবং সেই প্রতীক নিয়েই প্রচারে নামবেন। ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে একই প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন, আইএসএফের দাবি নির্বাচন কমিশন কী ভাবে বিবেচনা করবে এবং নন্দীগ্রামের ভোটে শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী কোন প্রতীকে লড়বেন। ঋতব্রত শিবিরকে খাম প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে কমিশন। এখন নওশাদ সিদ্দিকীর আপত্তির পর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে রোহিতের ভবিষ্যৎ কী? দলবদলের জল্পনার মধ্যেই মিলল তাঁর নিজের বার্তা

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রিকেটমহলে নানা জল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে হার্দিক পাণ্ডিয়াকে ঘিরে দলের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, রোহিত কি ফের মুম্বইয়ের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে পারেন? পাশাপাশি তাঁর অন্য কোনও আইপিএল দলে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। সেই আলোচনাতেই নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ব্যাটিং কোচ এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের হেড কোচ অভিষেক নায়ার।তবে এই জল্পনার সূত্রপাত কোনও ক্রিকেট ম্যাচে নয়, রোহিত শর্মার নতুন একটি রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে। শনিবার থেকে শুরু হতে চলা সেই অনুষ্ঠানের টিজারে রোহিত এবং অভিষেক নায়ারের কথোপকথনের একটি অংশ প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে রোহিতের পোশাকের রং নিয়েই মজার ছলে শুরু হয় দলবদলের প্রসঙ্গ।টিজারে দেখা যায়, রোহিতের পরনে হলুদ পোশাক। সেই রং দেখে অভিষেক নায়ার মজা করে চেন্নাইয়ের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানতে চান, রোহিত কি তবে দল বদলানোর কথা ভাবছেন? কারণ হলুদ রং চেন্নাইয়ের সঙ্গে জড়িত। প্রশ্ন শুনে রোহিতও মজার ছলে পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, তাঁর পোশাকের রং সরষের মতো হলুদ।এর পরেই কথোপকথনে উঠে আসে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রসঙ্গ। অভিষেক নায়ার বলেন, সোনালি এবং হলুদ রঙের সঙ্গে কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজিরও যোগ রয়েছে। ফলে রোহিত কি এবার কলকাতার দলে যোগ দেবেন, সেই ইঙ্গিতও মজার ছলে দেওয়া হয়।অভিষেকের প্রশ্নের মধ্যেই দর্শকদের একাংশ মুম্বইয়ের নামে স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেই সময় রোহিত মৃদু হেসে বলেন, চিরকাল। তাঁর এই এক শব্দের উত্তর থেকেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুম্বইয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে অনেকেই এই বক্তব্যকে দলবদলের জল্পনার প্রেক্ষিতে দেখছেন। তবে টিজারের এই কথোপকথন থেকে রোহিতের আইপিএল ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে রোহিতের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। তাঁর নেতৃত্বে দলটি আইপিএলে পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসাবেও রোহিতের সাফল্য রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে এবং এক দিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে।এ বার ক্রিকেটের মাঠের পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দাতেও নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে রোহিতকে। তাঁর নতুন অনুষ্ঠানের প্রথম টিজার প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টিজারে অভিষেক নায়ারের সঙ্গে রোহিতের কথোপকথনও সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।রোহিত সত্যিই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ছাড়বেন কি না, কিংবা অন্য কোনও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে আপাতত কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই। তবে নতুন অনুষ্ঠানের টিজারে মুম্বই নিয়ে রোহিতের চিরকাল মন্তব্য দলবদলের জল্পনার মধ্যে বিশেষ নজর কেড়েছে। এখন দেখার, টেলিভিশনের মঞ্চে রোহিতের এই নতুন ইনিংস দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

সারা ঘরে বেলুন দিয়ে সাজানো, ফ্রিজে মেয়ের দেহ, পাশে চকলেট! ঘরে উদ্ধার বাবার ঝুলন্ত দেহ

গুজরাটের আমরেলি জেলায় এক পাঁচ বছরের শিশুকন্যার মৃত্যু এবং তার বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ৪০ বছরের কিশোর ধনক তাঁর পাঁচ বছরের মেয়ে হিংমাশীকে হত্যা করার পর নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘরের ভিতর থেকে তিনটি চিরকুট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি মেয়েকে কেন হত্যা করেছিলেন, তারও ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।ঘটনাটি আমরেলি জেলার সাভরকুণ্ডলা এলাকার হাদিদা গ্রামের। কিশোর ধনক নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী মঞ্জুবেন বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে স্বামীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফোন বন্ধ থাকায় তিনি তাঁর ভাইকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে দরজা খুলে ঘরে ঢুকতেই কিশোরের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়।এর পর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ ফ্রিজের ভিতর হিংমাশীর দেহ উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি, শিশুটিকে হত্যা করার পর তার দেহ ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। ঘটনার পর দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কী ভাবে তার মৃত্যু হয়েছিল, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর আরও স্পষ্ট হবে।ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি তদন্তকারীদের আরও ভাবিয়ে তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘরটি বেলুন ও মোমবাতি দিয়ে সাজানো ছিল। শিশুটির জন্য চকোলেটও রাখা হয়েছিল। এমনকি ফ্রিজের উপরে শুভ জন্মদিন হিংমাশী লেখা একটি কাগজ পাওয়া যায়। অথচ সেদিন হিংমাশীর জন্মদিন ছিল না। শিশুটিকে সাদা পোশাক পরানো হয়েছিল এবং মাথায় ওড়নাও দেওয়া ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফ্রিজের ভিতর কুশন রাখা ছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি।ঘরে পুজোর আয়োজনও করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই সমস্ত বিষয় দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, মেয়ের জন্য শেষবারের মতো জন্মদিন পালনের মতো একটি আয়োজন করেছিলেন কিশোর। তবে কেন এমন আয়োজন করা হয়েছিল, কেনই বা মেয়েটিকে হত্যা করা হল, তা এখনও তদন্তের বিষয়। পুলিশের তরফে ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি চিরকুট তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি চিরকুটে কিশোর তাঁর আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে নির্মাণকাজে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলে সেখানে লেখা ছিল। তাঁর দাবি ছিল, ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছ থেকে প্রায় সাত লক্ষ টাকার বেশি পাওনা ছিল। কিন্তু সেই টাকা না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন।অন্য একটি চিরকুটে মেয়েকে হত্যা করার কারণ হিসেবে কিশোর এমন কথা লিখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর পরে মেয়েকে যেন কোনও সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়, সেই কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর একটি চিরকুটে নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে চিরকুটে লেখা কথাগুলি তদন্তের অংশ হিসেবেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরের স্ত্রী কয়েক দিন আগে বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছন। সেখান থেকেই প্রথমে কিশোরের দেহ এবং পরে ফ্রিজের ভিতর শিশুকন্যার দেহের সন্ধান মেলে। ঘটনার পর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।আর্থিক সমস্যাই এই ঘটনার মূল কারণ কি না, শিশুকন্যাকে হত্যার আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং ঘরটি কেন জন্মদিনের মতো করে সাজানো হয়েছিলএই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, চিরকুট এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য মিলিয়ে গোটা ঘটনার ছবি স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

মমতা পাশে দাঁড়াতেই বড় ধাক্কা! পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হলেন মিলন। শুক্রবার তাঁকে একটি পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি খুনের মামলায় তিনি অভিযুক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বড় রাজনৈতিক ঘোষণাকে ঘিরে। তাঁর দলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তার পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা জানান, নন্দীগ্রামে তাঁর দল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে। দেশের কথা এবং বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।মমতার সেই ঘোষণার পরেই মিলন প্রধানের গ্রেফতারির খবর সামনে আসে। শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের একটি পুরনো খুনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল এবং সেই মামলায় পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। ফলে গ্রেফতারির সঙ্গে পুরনো মামলার যোগ রয়েছে বলেই প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে।কংগ্রেস অবশ্য এই গ্রেফতারিকে স্বাভাবিক ভাবে দেখছে না। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করার অর্থ বিজেপি কংগ্রেস প্রার্থীকে ভয় পাচ্ছে। তবে এটি অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযোগ; বিজেপির তরফে এমন অভিযোগের সমর্থনে কোনও বক্তব্য এই ঘটনায় সামনে আসেনি।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের ঠিক আগে মিলন প্রধান সকাল থেকেই প্রচারে ছিলেন। তার পর তাঁকে হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় থানাগুলির কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।শুভঙ্কর জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের কাছেও লিখিত ভাবে জানতে চাওয়া হবে, কেন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হল এবং বর্তমানে তিনি কোথায় রয়েছেন। কংগ্রেসের বক্তব্য, ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি কমিশনের নজরেও থাকা উচিত।অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র এই গ্রেফতারিকে প্রশাসনের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেউ প্রার্থী হলেই তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না, এমন কোনও নিয়ম নেই। প্রশাসনের কাছে প্রয়োজন মনে হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি নন্দীগ্রামে মমতার কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েও মন্তব্য করেন।এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। এক দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত, অন্য দিকে সেই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের পুরনো মামলায় গ্রেফতারিদুই ঘটনাই একই দিনে সামনে এসেছে। ফলে গ্রেফতারির সময় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠলেও, পুলিশ জানিয়েছে পুরনো মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে মিলন প্রধানের গ্রেফতারির ঘটনায় কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের পর এই ঘটনায় নন্দীগ্রামের ভোটের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব পড়ে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

পুজোর আগে সিকিমে বড় বিপদ! পাহাড় থেকে নামছে কাদা-পাথরের স্রোত, বন্ধ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা

একটানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হিমালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক ভূমিধসের খবর মিলছে। কোথাও জাতীয় সড়ক বন্ধ, কোথাও হাইওয়ে অবরুদ্ধ। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকেরাও। পুজোর মরসুম সামনে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহলেও।উত্তর সিকিমে বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টি চলছে। শুক্রবার ভোরে সিকিম-শিলিগুড়ি যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বারডাংয়ের ২০ মাইল এলাকায় ধস নামে। রাস্তার উপর দিয়ে কাদা ও পাথরের স্রোত নামায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ যাত্রী থেকে পর্যটক, সকলেই সমস্যায় পড়েন।গ্যাংটক জেলাতেও একাধিক জায়গায় ভূমিধস ও কাদাধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। ধসের কারণে বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও বাড়ি ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার কবি-টিংদা কেন্দ্রের বিধায়ক শেরিং টি ভুটিয়ার নেতৃত্বে একটি যৌথ দল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে।বোজোগহারি সংলগ্ন লুয়িং-রাঙ্কা সড়ক, লোয়ার বোজোগহারি, লিংডিং, হাইকোর্ট রোড, টিএনএ গেট, ভিআইপি কলোনি, আপার জেড-বোজোগহারি, পাংথাং-লিংডক সড়ক, পামরো গাঁও, লিং পারবিং, আপার ও মিডল লুয়িং, ফেনজং, রাঙ্কা, রকডং তিনটেক, দারাগাঁও, আপার বুরতুক, সিচে এবং আরিথাং-সহ একাধিক এলাকায় ধসের প্রভাব পড়েছে।বহু জায়গায় এখনও রাস্তা পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কিছু বহুতলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। সিচের নিকাশি জল পরিশোধন কেন্দ্র এবং এনচে স্কুলের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কাছেও ধ্বংসস্তূপ জমে রয়েছে। ফলে ওই এলাকাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।উত্তর সিকিমেও ব্যাপক ধসের খবর এসেছে। ফেনসং, কবি এবং লিংচুম-টিংদা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রাস্তা ফের চালু করার কাজ চলছে। ধসপ্রবণ এলাকায় বৃষ্টির জল যাতে মাটির গভীরে ঢুকে পরিস্থিতি আরও খারাপ না করে, সে জন্য ত্রিপল বিছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ধসপ্রবণ এলাকা দিয়ে যাতায়াত না করার জন্য বলা হয়েছে। বিশেষ করে রাতে আরও বেশি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ৩২ মাইলের কাছে রাডাং এলাকাতেও ধসের কারণে রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ার খবর মিলেছে।পূর্ব সিকিমের দুগা এলাকাতেও রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যাত্রীরা নিজেরাই রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন। এই পথটি গ্যাংটকের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রাস্তা। ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের সমস্যাও বেড়েছে।শুধু সিকিম নয়, নেপালেও ভারী বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। জামিরেঘাটে ভূমিধসের কারণে পৃথ্বী হাইওয়ে অবরুদ্ধ হয়েছে। রাস্তার উপরের দিক থেকে বড় ধস নেমে কাঠমান্ডুগামী দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ধাদিংয়ের ট্রাফিক পুলিশ প্রধান শিশির থাপা জানিয়েছেন, ধসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় রাস্তা পরিষ্কার করতে সময় লাগতে পারে। কৃষ্ণভির এলাকাতেও ধসের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।ভুটানেও কয়েকটি পাহাড়ি রাস্তায় বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। দোচুলা-ওয়াংদুয়ে সড়কের পেনজালুম দ্রুবচু এলাকায় একমুখী যান চলাচল শুরু হলেও পর্যটকদের সতর্ক হয়ে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পানবাং-মাথাংগুড়ি সংযোগ সড়কের কিছু অংশও অবরুদ্ধ হয়েছে।সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পথে ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পুজোর আগে পর্যটন শিল্প নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সময় পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। ফলে আগামী দিনে বৃষ্টি ও ধসের পরিস্থিতি কীভাবে বদলায়, তার দিকে নজর রাখছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

‘নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে’, তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ নিয়ে সরব শুভঙ্কর সরকার

নিজস্ব সংবাদদাতা: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ফুল-ঘাস ফ্রিজ করে দেওয়ার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করলেন, কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে টালবাহানা করে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।উল্লেখ্য, ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও সংরক্ষিত ফুল-ঘাস প্রতীক আপাতত ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুটি গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।এই পরিস্থিতিতে শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই বিতর্কের সমাধান করা। কিন্তু মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর, স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়ে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ থাকে।কংগ্রেস সভাপতির মতে, ভারতের সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রই দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি। তাঁর কথায়, এই বহুদলীয় ব্যবস্থাই ভারতের বহুত্ববাদের প্রতিফলন। কংগ্রেস বরাবরই এই বহুত্ববাদে বিশ্বাসী।শুভঙ্কর সরকার মহারাষ্ট্রে শিবসেনার দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, একই ধরনের পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গেও তৈরি করা হচ্ছে।তবে তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জায়গাটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, মতাদর্শগত লড়াই থাকবেসংসদীয় গণতন্ত্রে এটাই কাম্য। কাউকে পরাজিত করতে হলে আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই করব। কাউকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে হলে, সেটা বাংলার মানুষ তাঁদের ভোটের রায়ের মাধ্যমে করবেন।এরপরই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, আজ আমরা দেখছি নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে। তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার খেলায় নেমেছে। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক ইঙ্গিত।একইসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াই চলেছে এবং চলবে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কর্মীদের উপর হামলা, দলীয় কার্যালয় দখল এবং রাজ্যে অপশাসনের অভিযোগও তোলেন তিনি।তবে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী পরিচয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কংগ্রেস মেনে নেবে না বলেই জানিয়েছেন শুভঙ্কর সরকার।শেষে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচন কমিশনের এই দলদাসসুলভ আচরণ গণতন্ত্রের ভিতকে দুর্বল করছে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal