মেষ/ ARIES: আর্থিক অনটনে ভুগতে হতে পারে আজ।বৃষ/ TAURUS: পরিবারের জন্য আজকের দিনটি বেশ শুভ।মিথুন/ GEMINI : আজকের দিনে আপনার কোনও পুরস্কারপ্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে।কর্কট/ CANCER : নতুন কোনও কাজের জন্য আজ প্রচেষ্টা শুরু করতে পারেন।সিংহ/ LEO: দীর্ঘ দিনের কোনও শত্রুতার ফলে ক্ষতি হতে পারে। কন্যা/ VIRGO: কোনও রমণীর প্রতি আজ হঠাৎ প্রীতি জন্মাতে পারে।তুলা/ LIBRA: আজকের দিনে আপনার পদমর্যাদা বৃদ্ধি পেতে পারে।বৃশ্চিক/ Scorpio: কোনও বিপদ হঠাৎ করে চলে আসতে পারে। ধনু/ SAGITTARIUS: কোনও সৎ বন্ধু লাভ হতে পারে আজ।মকর/ CAPRICORN: চিকিৎসার ফলে আজকের দিনে আরোগ্য লাভ করতে পারেন আপনি।কুম্ভ/ AQUARIUS: কোনও কারণে অনেক অর্থব্যয় হয়ে যেতে পারে আজ।মীন/ PISCES : পদোন্নতিতে বিলম্ব হতে পারে আজকের দিনে।
ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল বিষয়ক বিখ্যাত ভোগ পত্রিকার জুন সংখ্যার প্রচ্ছদে এবার নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তালিবানদের গুলিবিদ্ধ হয়েও হার না মানা অপরাজেয় মালালা ইতিমধ্যেই গোটা বিশ্বের সম্ভ্রম আদায় করে নিয়েছেন। এবার তাঁকেই প্রচ্ছদে জায়গা দিল বিশ্বখ্যাত এই পত্রিকা। মালালার একটি অন্তরঙ্গ সাক্ষাৎকারও প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যায়। স্বাভাবিক ভাবেই যা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে নেট দুনিয়ায়। বিশেষ করে বিয়ে প্রসঙ্গে মালালা যা বলেছেন, তা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এমনকী, কেউ কেউ সেই মতকে ইসলাম-বিরোধী বলেও আক্রমণ শানিয়েছেন।২৩ বছরের তরুণী বিয়ে প্রসঙ্গে একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমি একটা ব্যাপার বুঝতে পারি না, কেন সবাই বিয়ে করে। জীবনসাথীকে বেছে নিতে হলে কাগজে সই করার কী দরকার? এটা একটা পার্টনারশিপও তো হতে পারে। মালালার এহেন মন্তব্যে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। একদিকে অনেকে এই মতটির সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি বিয়ের মতো একটি সামাজিক প্রথাকে নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করার জন্য মালালার প্রশংসাও করেছেন অনেকে।আরও অনেক বিষয় নিয়েই খোলা মনে নিজের মনের কথা জানিয়েছেন মালালা। তার মধ্যে রয়েছে হিজাব পরার প্রসঙ্গও। যে বিষয়ে মালালার সাফ কথা, এটা আমাদের সাংস্কৃতিক প্রতীক। এই পোশাক বুঝিয়ে দেয় আমি কোথা থেকে এসেছি। আমরা মুসলিম মেয়েরা, পাকিস্তানি মেয়েরা কিংবা পাখতুনের মেয়েরা এটাকে আমাদের পরম্পরা বলেই মানি।
মেষ/ ARIES: যে কোনও কারণেই হোক আজ আপনার অপযশ হবে।বৃষ/ TAURUS: অনেক দিনের কোনও মনোবাঞ্ছা আজ পূর্ণ হতে চলেছে আপনার।মিথুন/ GEMINI : আর্থিক উন্নতির ক্ষেত্রে আজ সাফল্যের মুখ দেখতে পারেন।কর্কট/ CANCER : নতুন কোনও বন্ধু পেতে পারেন আজ।সিংহ/ LEO: কোথাও পড়ে গিয়ে আঘাত লাগতে পারে আজ। সাবধানে চলাফেরা করুন।কন্যা/ VIRGO: আজকে দাম্পত্যসুখ প্রাপ্তি হতে পারে।তুলা/ LIBRA: আটকে থাকা কোনও কাজের ক্ষেত্রে আজ অগ্রগতি হতেপারে।বৃশ্চিক/ Scorpio: কোনও কারণে আজ অনুতপ্ত হতে পারেন আপনি।ধনু/ SAGITTARIUS: পারিবারিক ক্ষেত্রে আজ সুখলাভ করতে পারেন।মকর/ CAPRICORN: বাড়িতে কোনও কারণে অশান্তির সৃষ্টি হতে পারে।কুম্ভ/ AQUARIUS: পেটে ব্যথা হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।মীন/ PISCES : মনে নতুন উচ্চাশার সৃষ্টি হতে পারে আজ।
অতিমারির জেরে দীর্ঘদিন বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনলাইনেই চলছে লেখাপড়া। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নতুন করে অনিশ্চয়তার ফাঁদে পড়েছে। কবে পড়ুয়াদের জন্য খুলবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজা, তা বলা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে এই মারণ ভাইরাসের দাপট রুখতে পড়ুয়াদের জন্য প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। শুক্রবার কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, পড়ুয়া, গবেষক-সহ ৪৫ বছরের নিচে সমস্ত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং আধিকারিকদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ দ্রুত শুরু হবে।সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কলকাতাই প্রথম পড়ুয়াদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় এখবর নিশ্চিত করে জানান, যত দ্রুত সম্ভব, পড়ুয়া, গবেষক থেকে ৪৫ বছরের কমবয়সি শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত সকলকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৫-এর ঊর্ধ্বে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের টিকাকরণের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্যপূরণ সফলভাবেই পূরণ করা গিয়েছে। এবার পড়ুয়াদের করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষাই উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন উদ্যোগে স্বাভাবিকভাবেই খুশি পড়ুয়ারা।
মেষ/ ARIES: উদাসীনতার কারণে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।বৃষ/ TAURUS: কোনও কারণে আজ ব্যয়বৃদ্ধি হতে পারে।মিথুন/ GEMINI : যৌথভাবে ব্যবসায় বিনিয়োগ করে থাকলে তা থেকে ক্ষতি হতে পারে।কর্কট/ CANCER : মাথায় ব্যথায় আজ কষ্ট দিতে পারে।সিংহ/ LEO: রাস্তায় বেরোলে বিপদ হতে পারে।সাবধানে চলাফেরা করবেন।কন্যা/ VIRGO: আজ বুদ্ধিভ্রম হতে পারে আপনার।তুলা/ LIBRA: আজ আপনার মেধার বিকাশ ঘটতে পারে। বৃশ্চিক/ Scorpio: কোনও প্রিয়জনের সঙ্গ পেতে পারেন আপনি।ধনু/ SAGITTARIUS: আজকের দিনে আপনার আর্থিক উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।মকর/ CAPRICORN: আজকের দিনে স্বাস্থ্যহানী ঘটতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।কুম্ভ/ AQUARIUS: প্রণয়ঘটিত বিষয়ে আজ আসক্তি দেখা দিতে পারে।মীন/ PISCES : বিদ্যালাভের ক্ষেত্রে আজ সাফল্যের মুখ দেখতে পারেন।
মেষ/ ARIES: আজ কোনও কারণে আঘাত পেতে পারেন। সাবধানে থাকবেন।বৃষ/ TAURUS: আজকের দিনে আপনার বদনাম হতে পারে।মিথুন/ GEMINI : জনসেবামূলক কাজে ব্যস্ত থাকতে পারেন আজ।কর্কট/ CANCER : জীবাণু সংক্রমণের ভয় রয়েছে। সাবধানে থাকবেন। সিংহ/ LEO: একাধিক উপায়ে আজ অর্থলাভ করতে পারেন।কন্যা/ VIRGO: আজ নির্যাতনের শিকার হতে পারেন।তুলা/ LIBRA: কারুর কাছ থেকে পাওয়া গোপন পরামর্শে লাভবান হতে পারেন।বৃশ্চিক/ Scorpio: ভালো কোনও কাজের জন্য ব্যয় হতে পারে।ধনু/ SAGITTARIUS: আজ দাম্পত্যে সুখের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।মকর/ CAPRICORN: কোনও কারণে আজ আপনা মধ্যে চঞ্চলতা বৃদ্ধি পেতে পারে।কুম্ভ/ AQUARIUS: কোনও পরীক্ষা দিয়ে থাকলে তা থেকে সফলতা পেতে পারেন।মীন/ PISCES : যে কাজই করবেন, আজ তা থেকে সফলতা পাবেন।
এক মহামারির সংকটে জেরবরা দেশবাসী। তারউপর দোসর ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাক সংক্রমণের মতো আরেক মহামারি। দুয়ের চোখরাঙানিতে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপরও চাপ বাড়ছে। এই অবস্থায় তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রের জিএসটি পরিষদ। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধের উপর জিএসটি বা পণ্য ও পরিষেবা কর প্রত্যাহার করে নেওয়া হল। শুক্রবার দিল্লিতে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এতে স্বস্তিতে চিকিৎসক, রোগী সকলেই।কোভিড পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন পর ২৮ তারিখ, শুক্রবার জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে এই প্রথম জিএসটি পরিষদের বৈঠক হল ভারচুয়ালি। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজ্যের অর্থমন্ত্রীরা। তাতে মহামারি সংকট মোকাবিলা সংক্রান্ত আলোচনায় ঠিক হয়, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসও ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ অ্যামফোটেরিসিন বি-কে জিএসটি তালিকার বাইরে রাখা হোক। অর্থাৎ এই অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ থেকে পণ্য ও পরিষেবা কর তুলে নেওয়া হচ্ছে। যার জেরে ওষুধের দাম আরও কমে সকলের জন্য তা সহজলভ্য হবে। এতে রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসকদেরও সুবিধা হবে।এছাড়াও বৈঠকে করোনা ভ্যাকসিন এবং এই চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের উপর থেকে কর তুলে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে জিএসটি কাউন্সিলে। তবে তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশেষত ভ্যাকসিনের উপর থেকে জিএসটি প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে বিভিন্ন রাজ্যের তরফে। এছাড়া অক্সিজেন, রেমডেসিভিরের মতো ওষুধও জিএসটি তালিকার বাইরে রাখার পক্ষে সওয়াল করেছেন অনেকে। এখনও তা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জানা গিয়েছে, জিএসটি কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠক ৮ জুন। ওই দিন গুরুত্বপূ্র্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। পুরোপুরি কর প্রত্যাহার না হলেও, এসব প্রয়োজনীয় ওষুধের উপর করের হার কমানো হতে পারে বলে সম্ভাবনা। তা হলে করোনা চিকিৎসার ব্যয়ভার আরও খানিকটা কমবে বলে আশা সকলের। এখন ৮ জুনের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত জানান নির্মলা, সেদিকে তাকিয়ে সব মহল।
আম্ফানের পর তিনি রাজ্যে এসেছিলেন। এ বার যশ পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেও রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার ওডিশার বালেশ্বর এবং ভদ্রক পরিদর্শনের পর এ রাজ্যে আসার কথা তাঁর। এমনটাই জানা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় (পিএমও) সূত্রে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কলাইকুণ্ডায় তাঁর নামার কথা। যশ-এর দাপটে রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা।যশ-এর জেরে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে কেন্দ্র। সেই সঙ্গে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আসছেন মোদিও। পিএমও সূত্রে খবর, ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত ওডিশা এবং পশ্চিমবঙ্গ, দুই রাজ্যেই যাবেন মোদি। শুক্রবার দিল্লি থেকে প্রথমে যাবেন ভুবনেশ্বর। সেখানে ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে বৈঠক করার কথা প্রধানমন্ত্রীর। সেখান থেকে কপ্টারে বালেশ্বর এবং ভদ্রক পরিদর্শন করার কথা মোদির। এ রাজ্যে এসে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের ঝড়ে বিধ্বস্ত স্থানগুলোও পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর সফরের খবর পেয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিকেলে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোভিড পরীক্ষা করানো শুরু হয়েছে পুলিশের কর্মীদের।ইতিমধ্যেই যশ মোকাবিলায় রাজ্যকে ৪০০ কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওডিশাকেও ৬০০ কোটি করে দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মমতা। মনে করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরে বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে আরও কিছু বরাদ্দ করা হতে পারে।পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী হিঙ্গলগঞ্জ, সাগর এবং দিঘার দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা। বুধবারই নবান্নের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আচমকাই রাজ্য সফরে চলে আসায় সেই কর্মসূচিতে খানিক বদল আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষ করে দিঘায় যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার রাতে দিঘা থেকে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইবেন। সে ক্ষেত্রে শনিবার সকালে দিঘার পর্যুদস্ত এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারেন মমতা।প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের আমপান ঘূর্ণিঝড়ের পরেও রাজ্যের পরিস্থিতি দেখতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সে বার বসিরহাটে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। বৈঠকের পর এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও করেছিলেন। সে বার প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও। তবে এ বার তিনি থাকছেন কি না তা জানা যায়নি।
রাজ্যে কার্যত লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি পেল ১৫ জুন পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত সব বিধিনিষেধ জারি থাকবে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যে যে বিধিনিষেধ জারি ছিল, সেগুলিই জারি থাকবে। বিধিনিষেধের ফলে রাজ্যে সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। তাই এই সিদ্ধান্ত।আরও পড়ুন: নিউ বারাকপুরে গেঞ্জি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডএর আগে ১৫ মে থেকে রাজ্যে কার্যত লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তার আগের দিন, অর্থাৎ ১৪ মে রাজ্যে সংক্রমণ ছিল সবচেয়ে বেশি। আক্রান্ত হয়েছিলেন ২০ হাজার ৮৪৬ জন। ১৫ মে আক্রান্ত হন ১৯ হাজার ৫১১ জন। কিন্তু লকডাউন ঘোষণার পর থেকে সংক্রমণ কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ২২৫ জন। সেই কারণেই আরও ১৬ দিন লকডাউন বাড়ানো হল বলেই প্রশাসন সূত্রে খবর। বৃহস্পতিবার মমতা বলেন, আমরা একে লকডাউন বলছি না। আমরা বলছি বিধিনিষেধ। এর আগে যা যা বিধিনিষেধ ছিল, সেগুলিই বজায় থাকবে। রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কেউ বাইরে বেরোবেন না। বাজার, মিষ্টির দোকান, শাড়ি, গয়নার দোকান যে রকম নিয়ম মেনে খুলছিল সে রকমই খুলবে। শুধু জুটমিলে কর্মীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্মাণ কাজে যুক্ত শ্রমিকদের টিকা নেওয়া হয়ে গেলে তাঁরা কাজ করতে পারবেন।
ঘূর্ণিঝড় যশ এখনও এসে পৌঁছয়নি। ল্যান্ডফলে এখনও বাকি ১২ ঘণ্টার বেশি। তবে তার আগেই প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ছোটখাটো ঘূর্ণিঝড়ের জেরে দক্ষিণবঙ্গের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে বলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে জানান মমতা। ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান মমতা। তবে তাঁকে এও বলতে শোনা যায়, প্রকৃতিকে আমরা গেস করতে পারি, কিন্তু ফেস করতে গেলে প্রকৃতি কখন কোন দুর্যোগ ঘটিয়ে দেবে তা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে।মমতা বলেন, হালিশহরে একটা দেড় মিনিটের টর্নেডো হয়ে গিয়েছে। হালিশহরে ৪০ টা বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বীজপুরেও ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত বিষয়টি দেখছে। চুঁচুড়াতেও টর্নেডো হওয়ায় ৪০ টির মতো বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাণ্ডুয়াতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজন মারা গিয়েছে।অন্যদিকে, যশের গতিপথ ক্রমশ ওডিশার দিকে ঘুরে যেতে থাকলেও এ দিন আরেক আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন মমতা। তাঁকে বলতে শোনা যায়, আমরা সবাই নিশ্চই প্রার্থনা করব যাতে বেশি কিছু না হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও শোনা যাচ্ছে যে সাগর দ্বীপেও এটা ধাক্কা মারতে পারে। যদিও আমরা সবাই তৈরি আছি। প্রায় ১১ লক্ষ মানুষকে আমরা উদ্ধার করে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে এসেছি। চিন্তা করার বা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। রাতটা একটু সামলে থাকতে হবে।কীভাবে রাজ্যবাসী এই পরিস্থিতি সামাল দেবেন তা নিয়ে পরামর্শ দিতে শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, বিদ্যুতের ব্যবহার যতটা কম করা যায় ততটাই ভাল। ঝড়টা চলে যেতে দিন। চেষ্টা করুন যাতে বাড়ির বাইরে না বের হতে হয়। সম্ভব হলে ফোনে কাজ সারুন। আজ গোটা রাতটাই তিনি নবান্নেই কাটাবেন বলে জানান মমতা।
শক্তি বাড়িয়ে ক্রমশ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে নিম্নচাপ। আবহাওয়াবিদদের হিসেব কাঁটায় কাঁটায় মিলে গেলে বুধবার ভোরেই ঘণ্টায় দেড়শো কিলোমিটারের বেশি গতিবেগ নিয়ে দিঘা-বালাশোরের মধ্যে আছড়ে পড়বে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় যশ। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে দিঘা থেকে ৪৫০ কিলোমিটার এবং ওডিশার বালাসোর থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে নিম্নচাপ। দুপুরের মধ্যে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেবে। সন্ধের পরই তা অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় -এ পরিণত হবে। ইতিমধ্যে যদিও তার প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে দিঘায়। উপকূলে চলছে জলোচ্ছ্বাস।মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সামান্য রোদের ঝিলিক দেখা গেলেও ঝড়ের পূর্বাভাস টের পাওয়া গিয়েছে স্পষ্ট। প্রবল বেগে হাওয়া দিচ্ছে। যদিও যশ-এর প্রভাব কলকাতায় খুব বেশি পড়বে না বলেই পূর্বাভাস আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। দিঘা বরাবর উপকূলবর্তী পাশের এলাকাগুলিতে তাণ্ডবলীলা চালাতে পারে যশ। সমতলে আছড়ে পড়ার পর এর গতিপথ হতে চলেছে ঝাড়খণ্ডের দিকে। তবে তার আগেই উপকূলীয় জেলাগুলিতে প্রভাব রেখে যাবে ঘূর্ণিঝড়টি। এর আগে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্ফানেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে তাই এবার দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম অনেকটা প্রস্তুতি সেরে রেখেছে জেলা প্রশাসন। যশ-এর প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টি চলবে দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতে। লাল সতর্কতা জারি হয়েছে এই জেলাগুলিতে।
আম্ফানের চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে ঘূর্ণিঝড় যশ। আশঙ্কা প্রকাশ করেই রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্রমেই শক্তি বৃদ্ধি করে বাংলার দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়টি। আর এরই মধ্যে অপেক্ষারত দুই দোসর পূর্ণিমা ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। এই দুই কারণে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার জেরে উপকূল এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।পূর্ণিমার প্রভাবে বুধবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ শুরু হবে জোয়ার। যা নিজের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছবে সকাল ১০টা ৪৮ নাগাদ। এরপর থেকে জলের উচ্চতা ধীরে ধীরে নামতে থাকবে। সন্ধে ৬টার খানিক পরই ভাটার জেরে জলতল একেবারে নিচে নেমে যাবে। এরপর আবারও শুরু হবে জোয়ারের প্রভাব। যা সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছতে ঘড়ির কাঁটায় বাজবে রাত ১১টা ৪। সেই দিনই অন্যদিকে বেলা ৩:১৫ মিনিট থেকে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী থাকবে বিশ্ব। যা চলবে সন্ধে ৬টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত। এটিই চলতি বছরের প্রথম ও শেষ ব্লাড মুন। ঘূর্ণিঝড় যশ যখন স্থলভাগে আছড়ে পড়বে, সেই সময়ের যদি সামান্য হেরফের হয়, তাহলেই চিন্তা বাড়বে। কারণ সকাল অথবা একটু রাতের দিকে আছড়ে যদি সুপার সাইক্লোনটি স্থলভাগ স্পর্শ করে তাহলে তার প্রভাব অনেক বেশি আক্রমণাত্মক হবে বলেই মনে করছে হাওয়া অফিস।ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগের দিকে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এর গতিবেগ আরও বাড়বে। ঘণ্টায় ১১৮-১৮৫ কিলোমিটার গতিতে আছড়ে পড়ার কথা যশের। তাই যে আনুমানিক সময়ে তা স্থলভাগে পড়ার কথা তার আগেই ধাক্কা মারতে পারে। আর সেক্ষেত্রেই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে পারে উপকূলের এলাকাগুলি। কারণ তাহলে এই ঘূর্ণিঝড় আরও শক্তিশালী হবে বলেই আশঙ্কা করছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। ৭২ ঘণ্টা দুর্যোগ থাকবে বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সব মিলিয়ে তাই উদ্বেগের প্রহর গুনছেন বঙ্গবাসী।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে জেরবার বাংলা। এবার আবার নয়া বিপদ। ঘূর্ণিঝড় যশ ক্রমশই তার থাবা চওড়া করছে। ঠিক বছরখানেক আগে আমফান তছনছ করে দিয়েছিল বাংলার বিভিন্ন। তার থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে সংঘাত ভুলে রাজ্য ও কেন্দ্রকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজের বার্তা দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।সোমবার সকালে একাধিক টুইট করেন রাজ্যপাল। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে ট্যাগ করা টুইটে প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকারকে ঘূর্ণিঝড় যশ মোকাবিলায় একযোগে কাজের কথা বলেছেন। উল্লেখ্য, আম্ফানের পরই রাজ্যে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিপর্যস্ত এলাকা আকাশপথে পরিদর্শন করেছিলেন তিনি। ১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছিলেন অনুদান। তবে ক্ষতির নিরিখে তা যথেষ্ট ছিল না বলেই অভিযোগ উঠেছিল।প্রসঙ্গত, রবিবারই বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হয়। সোমবার সকালে তা ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নেয়। বর্তমানে পোর্টব্লেয়ার থেকে ৬০০ কিলোমিটার, পারাদ্বীপ থেকে ৫৪০ কিলোমিটার, ওডিশা থেকে ৬৫০ এবং দিঘা থেকে ৬৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান ঘূর্ণিঝড়ের। বুধবারই তা বাংলায় আছড়ে পড়তে পারে। উপকূলীয় অঞ্চলে হতে পারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। ঘূর্ণিঝড় ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি করে, তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ চওড়া হচ্ছে সকলেরই। যদিও রাজ্য প্রশাসন যশ মোকাবিলায় কোমর বেঁধে লেগেছে। উপান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম। নবান্নেও করা হয়েছে ব্যবস্থা। কন্ট্রোল রুমে থাকবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়ি বসে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবেন ফিরহাদ হাকিম। এছাড়া বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেদিকেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে বিপর্যস্ত গোটা দেশ। কার্যত লকডাউনের পথে হেঁটে রোগ মোকাবিলার পথে হেঁটেছে রাজ্য প্রশাসন। প্রায় প্রতিদিনই উঠছে হাসপাতালে বেড এবং অক্সিজেনের আকালের অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে করোনা আক্রান্তদের ভাল রাখার উদ্যোগ অভিনেত্রী তথা সাংসদ নুসরত জাহানের। ভ্যাবলা পলিটেকনিক কলেজে সেফ হোম এবং কমিউনিটি কিচেন খুললেন তিনি।বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদের এহেন উদ্যোগকে নেটদুনিয়ায় কুর্নিশ জানিয়েছেন অনেকেই। করোনা কালে এই সেফ হোম এবং কমিউনিটি কিচেন খোলার ভাবনা সত্যিই যথেষ্ট ভাল বলেই জানিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। তবে অনেকেই আবার তাঁর এই কাজের সমালোচনাতেও মুখর। সাংসদ হিসাবে নুসরত সাধারণ মানুষের জন্য তেমন কিছু করে উঠতে পারেননি বলেই দাবি তাঁদের। তবে এই প্রথমবার নয়। এর আগেও একাধিকবার নেটদুনিয়ায় সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। মুসলমান পরিবারের সন্তান হয়ে শাঁখা, পলা পরা হোক কিংবা সাহসী পোশাকে ফটোশুট বারবার নেটিজেনদের তীর্যক মন্তব্যের শিকার হন বসিরহাটের সাংসদ। প্রতিবারের মতো এবারও সমালোচনায় কান দিতে নারাজ নুসরত। পরিবর্তে বসিরহাট বিধানসভার প্রতিটি কেন্দ্রে সেফ হোম তৈরির কথা ভাবছেন তিনি। স্থানীয় নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ করা সম্ভব হত না বলেও জানিয়েছেন নুসরত। বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে সকলকে কোভিডবিধি মেনে চলারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
করোনার সংক্রমণের মাঝেই গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের দাপট। ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রবেশ করেছে এই কালো ছত্রাক। এই সংক্রমণে কলকাতার শম্ভুনাথ হাসপাতালে প্রাণও হারিয়েছেন ৩২ বছরের যুবতী। আর এবার এই সংক্রমণ ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার। বঙ্গবাসীকে সতর্ক করতে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে জারি করা হল নতুন গাইডলাইন।জানানো হয়েছে, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ এড়াতে মাস্কের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যে সমস্ত এলাকা কিংবা নির্মাণস্থলে বেশি ধুলোবালি রয়েছে, সেসব জায়গায় বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। মাস্ক ছাড়া সেখানে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। আবার বাগানে বা মাটি নিয়ে কাজ করলে, জুতো, লম্বা ঝুলের ট্রাউজার, ফুলহাতা শার্ট এবং গ্লাভস পরা জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ও ডায়াবেটিক রোগীদের শরীরেই কালো ছত্রাক বেশি করে হানা দিচ্ছে। তাই তাঁদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার দিকে নজর রাখতে হবে। স্টেরয়েড, অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহারেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অতিমারি আবহেই দেশের একাধিক রাজ্যে কালো ছত্রাকের হানায় বেড়েছে উদ্বেগ। প্রথম ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারি বলে ঘোষণা করেছিল রাজস্থান সরকার। পরে একই পথে হাঁটে তেলঙ্গানাও। তারপরই দেখা যায়, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকও রাজ্যগুলিকে এই সংক্রমণকে মহামারির আওতায় ফেলারই নির্দেশিকা দেয়। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে শুক্রবার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে মারা গিয়েছেন হরিদেবপুরের শম্পা চক্রবর্তী (৩২)। রাজ্যে এই প্রথমবার কেউ এই সংক্রমণে প্রাণ হারালেন। যা করোনা আবহে নতুন করে চিন্তা বাড়াচ্ছে রাজ্যবাসীর।
এবার সিআইডির নজরে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। আর্থিক জালিয়াতি এবং প্রতারণার অভিযোগে বিজেপি সাংসদকে তলব করল তদন্তকারী সংস্থা। যদিও অর্জুনের দাবি, তিনি কোনওরকম প্রতারণাতে জড়িত নন। তৃণমূল প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে।ভাটপাড়া পুরসভা এবং ভাটপাড়া কো-অপারেটিভ ব্যাংকের টাকা তছরুপের অভিযোগে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদের পাশাপাশি তাঁর ভাইপো সৌরভ সিংকেও হাজিরার নোটিস দিয়েছে রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। সব মিলিয়ে অর্জুনের বিরুদ্ধে সাড়ে ৪ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে রয়েছে। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত নটা নাগাদ সিআইডির একটি প্রতিনিধিদল পৌঁছয় জগদ্দলের মেঘনা মোড়ে অর্জুন সিংয়ের বাড়ি মজদুর ভবনে। সেসময় বাড়িতে ছিলেন না ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ। বাড়ির বাইরে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেন সিআইডি কর্তারা। কিন্তু তখনও অর্জুন না ফেরায় ভবানী ভবনের তরফে মজদুর ভবনের দেওয়ালে নোটিস সেঁটে দিয়ে আসা হয় সিআইডি তরফে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর আর্থিক তছরুপের দায়ে দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিআইডি। আগামী ২৫ মে সকাল ১১টার মধ্যে তাঁকে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মূলত ভাটপাড়া কো-অপারেটিভ ব্যাংকের অর্থ তছরুপের অভিযোগ রয়েছে অর্জুনের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে ভাটপাড়া পুরসভার টেন্ডার বেআইনিভাবে পাইয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে। যে মামলায় আবার ইতিমধ্যেই পুরসভার এক কর্মী এবং এক ঠিকাদার গ্রেপ্তার হয়েছেন। যদিও এখনই অর্জুনের গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা নেই। তাঁর দাবি, এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ নেওয়া আছে তাঁর। বিজেপি সাংসদের সাফ কথা, সুপ্রিম কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ নেওয়া আছে আমার। আমাকে ডাকতে পারে, কিন্তু গ্রেপ্তার করতে পারবে না। পাশাপাশি রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগও তুলেছেন বিজেপি নেতা।
অতিমারিকে উপেক্ষা করে মদের দোকানের সামনে উপচে পড়ে ভিড়! পুলিশের লাঠি খেয়েও নিজেদের স্টকে মজুত করে নানান রকমের মদ। এ ছবি অবশ্য নতুন নয়। গতবার লকডাউনের সময়ও লম্বা লাইন পড়েছিল মদের দোকানে। কেউ কেউ তো আবার মদের জ্বালা ভুলতে অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার খেয়ে বেঘোরে প্রাণও দিয়েছেন। শনিবারই সাংবাদিক বৈঠক করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানিয়েছেন, ১৬ মে সকাল ৬ থেকে রাজ্যে প্রায় লকডাউন। জরুরি পরিষেবা ছাড়া প্রায় সবকিছুতেই তালা ঝুলিয়েছে প্রশাসন। বাদ পড়েনি মদের দোকানও। আর তার পরই সুরাপ্রেমীদের মাথায় হাত। কীভাবে গলা ভেজাবেন তাঁরা? কোথা থেকে আসবে নেশার দ্রব্যের জোগান? দোকানে তালা ঝুলতে আর মোটে কয়েক ঘণ্টা। তাই ঘোষণা হওয়ার পর আর দেরি করতে চাননি সুরাপ্রেমীরা। অতিমারিকে উপেক্ষা করে মুখে মাস্ক আর পকেটে স্যানিটাইজার নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মদের দোকানে। বাবুঘাট থেকে বাগুইআটি, মানিকতলা থেকে মন্দিরবাজার-রাজ্যের সর্বত্রই ছবিটা প্রায় এক। খাস কলকাতায় চাঁদনি চকের সামনের দোকানে ভিড় সামাল দিতে তো রীতিমতো পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। যাতে লাইনে শারীরিক দূরত্ববিধি মানা হয়। কিন্তু কোথায় কী? পুলিশের চোখ এড়িয়ে লাইনের সাইড থেকে দোকানে ঢোকার চেষ্টা চালান কেউ কেউ। উদ্দেশ্য একটাই, দুটো অতিরিক্ত বোতল যদি পাওয়া যায়। নেশার রসদ না জুটলেও দোকানের নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশের লাঠির ঘা জুটেছে অবশ্যই।
শরীরের জন্য ফলের থেকে বেশি উপকারী আর কোনও খাবার হতে পারে কী! শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অসুখের মোকাবিলা করতেও সাহায্য করে বিভিন্ন ফল। এর মধ্যে পেঁপের কথা না বললেই নয়! কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসাবে আর পাকা অবস্থায় ফল হিসাবে পেঁপে আমাদের নানা উপকারে লাগে। জন্ডিস থেকে ডেঙ্গি এমনকী, ক্যানসারের মতো মারণ রোগের ক্ষেত্রেও পেঁপে অত্যন্ত উপকারী!হজমের সমস্যার সমাধানে পেঁপে অত্যন্ত কার্যকরী। ত্বকের জন্যেও পেঁপে কতটা উপকারী তা আমরা অনেকেই জানি। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে পেঁপে অত্যন্ত কার্যকরী। ভিটামিন সি আর ভিটামিন ই সমৃদ্ধ পেঁপে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে খুবই কার্যকরী। শুধু পেঁপেই নয়, পেঁপের বীজও খুবই উপকারী আর পুষ্টিগুণে ভরপুর! তাই পেঁপের বীজ ফেলে দেওয়ার আগে একবার দেখে নিন তার অজানা আশ্চর্য সব গুণ...১) শরীরের মধ্যে প্রোটিন ফাইবারকে ভেঙে বিপাক প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে পেঁপের বীজ।২) ডেঙ্গি প্রতিরোধে পেঁপের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য! ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলেই শরীরের প্লেটলেটের সংখ্যা কমতে শুরু করে। এই সময় নিয়মিত পেঁপে বীজ এবং পেঁপে পাতা খেতে পারলে প্লেটলেট কাউন্ট ফের স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।৩) যকৃত বা লিভারের সমস্যায় পেঁপের বীজ খেতে পারলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য জল আর দইয়ের সঙ্গে পেঁপে বীজ মিশিয়ে নিয়মিত খেতে পারলে যকৃতের স্বাস্থ্য ভাল থাকে।৪) ঋতুস্রাবের সময় অসহ্য যন্ত্রণার সম্পূর্ণ উপশমের জন্য পেঁপের বীজ অত্যন্ত কার্যকরী! পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব চলাকালীন পেঁপে বীজের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খান ১ চামচ করে খেতে পারলে ব্যথা অনেক কম বোধ হবে।৬) পেঁপে বীজে রয়েছে প্রোটিওলাইটিক নামের উৎসেচক যা আমাদের শরীরে বাসা বাধা নানা ক্ষতিকর জীবাণুকে মেরে ফেলে। এছাড়া শরীরে প্রোটিনের বিপাকে সাহায্য করে।
গঙ্গা-যমুনা দিয়ে বয়ে চলেছে সার সার লাশ। কোথাও আবার নদীর ধারে জমা হচ্ছে মৃতদেহ। এবার নদীর ধারে বালিতে পুঁতে মৃতদেহ ফেলার খবর মিলল উত্তরপ্রদেশ থেকে। ঘটনাস্থল উন্নাও।স্থানীয় সূত্রে খবর, রাজধানী লখনউ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে যমুনা নদীর পাড়ে মিলেছে প্রচুর দেহ। যেগুলি বালিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। তবে এগুলি কোভিড আক্রান্তদের দেহ কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, উন্নাওয়ের অন্তত দুটি এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে বালি চাপা দেওয়া লাশের সারি। একসঙ্গে বহু লাশ এভাবে সমাধিস্থ করা হয়েছে। যা দেখে অনেকে মনে করছেন, হাসপাতালগুলি কোভিড মৃত্যু লুকোতে গণকবরের রাস্তা বেছে নিয়েছে। মৃতদের পরিবার পরিজনকে না জানিয়েই দেহ এভাবে লোপাট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন অনেকে।এই ঘটনায় উন্নাওয়ের জেলাশাসক রবীন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, অনেকে দেহ দাহ করেন না। তাঁরা নদীর ধারে দেহ সমাধিস্থ করে চলে যান। এটা সেরকমই কোনও ঘটনা কিনা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। খবর পাওয়া মাত্র আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে আসল সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। কোভিড রোগীদের দেহ কি এভাবে চাপা দিয়ে ফেলে রাখা হচ্ছে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে জেলাশাসক জানান, এগুলি কোভিড রোগীদের দেহ, এমন কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি। তবে সরকারি আধিকারিকরা যাই বলুন না কেন, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় এভাবে সার সার দেহ উদ্ধার হওয়ায় ব্যাপক চাপে যোগী সরকার।উল্লেখ্য, দিন কয়েক ধরেই বিহার, উত্তরপ্রদেশের পর এবার মধ্যপ্রদেশের নদীতে ভাসতে দেখা গেল মৃতদেহ। পান্না জেলার রুঞ্জ নদীর তীরে ভেসে ওঠে দুটি মৃতদেহ। কোভিড পরিস্থিতিতে যা ফের আতঙ্ক সৃষ্টি করল। যদিও প্রশাসনের দাবি, মৃতদের সঙ্গে করোনা ভাইরাসের কোনও সম্পর্ক নেই। দুজনেরই মৃত্যুর কারণ ভিন্ন।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে থাকলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তবে পরীক্ষা স্থগিত হবে, না বাতিল, সে ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নেবে বলে জানিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্যদ।আগামী ১ জুন থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় মঙ্গলবার বলেন, আপাতত মাধ্যমিক পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হচ্ছে না। পিছিয়ে যাবে না বাতিল হবে, সে সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নেবে।পর্ষদ জানিয়েছে, ১ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ। গণপরিবহণ ব্যবস্থাও অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্র পাঠানো নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে ইতিমধ্যেই একপ্রস্থ আলোচনা হয়েছে পর্ষদের। পরীক্ষা না নিয়ে নম্বর দেওয়া যায় কি না, সে ক্ষেত্রে কিসের ভিত্তিতে নম্বর নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে পর্ষদের কাছে জানতে চেয়েছে বলেও সূত্রের খবর।