• ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতি ০৪ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Rohit

খেলার দুনিয়া

‘নো হ্যান্ডশেক’ নিয়ম ভেঙে আক্রমের সঙ্গে করমর্দন! রোহিতকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এখন তলানিতে। ক্রিকেট মাঠেও তার প্রভাব স্পষ্ট। দুই দেশের ম্যাচে এখন আর অধিনায়কদের করমর্দন দেখা যায় না। বোর্ডের অঘোষিত নির্দেশ মেনে অনেক ক্রিকেটারই দূরত্ব বজায় রাখছেন। সেই আবহেই ওয়াসিম আক্রমের সঙ্গে রোহিত শর্মার করমর্দন ও হাসিমুখে গল্পের ছবি নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর রোহিত শর্মা। তাঁর হাত ধরেই শেষ টি-২০ বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। এবারের আসরে ট্রফি মাঠে আনার দায়িত্বও ছিল তাঁর উপর। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াসিম আক্রম। সেখানেই দেখা যায়, দুজন বেশ কিছুক্ষণ কথা বলছেন, করমর্দন করছেন, হাসিমুখে খোশগল্প করছেন। মুহূর্তেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে নেটমাধ্যমে।অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যখন ভারত-পাক ম্যাচে নো হ্যান্ডশেক প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে, তখন রোহিতের এই আচরণ কতটা সমীচীন? এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে করমর্দন এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা গিয়েছে। টি-২০ বিশ্বকাপেও কলম্বোয় টসের সময় দুই অধিনায়ককে গম্ভীর মুখে দেখা যায়। করমর্দন হয়নি। বয়কটের আবহে ম্যাচের গুরুত্বও ছিল অনেক বেশি।এই পরিস্থিতিতে রোহিত ও আক্রমের খোলামেলা আলাপ অনেকের চোখে বেমানান লেগেছে। তবে অন্য দিকও রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে রোহিত ভারতীয় দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তি ও টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা হিসেবে আরেক কিংবদন্তির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করায় দোষের কিছু আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।ওয়াসিম আক্রম শুধু পাকিস্তানের নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার হিসেবে স্বীকৃত। ক্রিকেটের ময়দানে তাঁর অবদান সীমান্তের গণ্ডি ছাপিয়ে গেছে। সেই জায়গা থেকে দেখলে দুই প্রজন্মের দুই তারকার সাক্ষাৎ ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে স্বাভাবিক বলেই মনে হতে পারে।তবু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই এখন অতিরিক্ত আবেগ, উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক ছায়া। তাই ছোট একটি মুহূর্তও বড় বিতর্কে রূপ নিচ্ছে। রোহিতের এই করমর্দন কি শুধুই সৌজন্য, না কি অঘোষিত নিয়ম ভাঙার বার্তাসেটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

বলিউডের নিরাপত্তা ঘিরে নতুন প্রশ্ন: গভীর রাতে রোহিত শেট্টীর বাড়ির সামনে গুলির শব্দে কেঁপে উঠল জুহু

শনিবার গভীর রাত। ঘুমের চাদরে ঢাকা মুম্বইয়ের জুহু এলাকা। আচমকাই নিস্তব্ধতা ভেঙে চার রাউন্ড গুলির শব্দ। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। লক্ষ্য বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক রোহিত শেট্টীর বাড়ির সামনের এলাকা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যরাত পেরোনোর কিছু পরেই রোহিত শেট্টীর বাড়ির বাইরে একের পর এক গুলির শব্দ শোনা যায়। কোনও হতাহতের খবর না মিললেও, ঘটনায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুম্বই পুলিশ ও ফরেনসিক দল। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তদন্ত।এক প্রত্যক্ষদর্শীর মোবাইলে ধরা পড়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের তৎপরতা টহল গাড়ি, তদন্তকারী অফিসার ও নিরাপত্তা কর্মীদের ব্যস্ততা। যদিও এখনও পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় বা হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়।মুম্বই পুলিশ কমিশনার জানান, রোহিত শেট্টীর বাড়ির সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা, ভীতি প্রদর্শন না কি অন্য কোনও উদ্দেশ্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফের সামনে এসেছে বলিউডের নিরাপত্তা প্রশ্ন। কারণ, অতীত খুব দূরের নয়। ২০২৪ সালে বান্দ্রায় সলমন খানের বাড়ির সামনেও একই ধরনের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। সেবার সমাজমাধ্যমে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্ণোইয়ের গ্যাং হামলার দায় স্বীকার করেছিল।রোহিত শেট্টীর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ দায় স্বীকার করেনি। তবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, আগের ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে পরিচালকের নিরাপত্তাও।একাধিক ধারাবাহিক ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে তারকাদের ঘিরে কি নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে অপরাধচক্র? নাকি এটা নিছক ভীতি প্রদর্শনের কৌশল? উত্তর খুঁজছে পুলিশ। আর আতঙ্কের ছায়ায় আপাতত নিদ্রাহীন বলিউড।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

৫০-র লড়াইয়ে ফিরছেন শুভমন-শ্রেয়স, পিচ নিয়ে সংশয়ে ভারতীয় থিঙ্ক-ট্যঙ্ক

দক্ষিণ আফ্রিকা অধ্যায় শেষ। এবার ঘরের মাঠে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাদা বলের নতুন পরীক্ষা ভারতের। রবিবার শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ়, যেখানে একাদশে একাধিক বদল প্রায় নিশ্চিত। চোট কাটিয়ে ফিরছেন অধিনায়ক শুভমন গিল ও সহ-অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। অন্য দিকে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে এই সিরিজ়ে বিশ্রামে রাখা হয়েছে জসপ্রীত বুমরাহ ও হার্দিক পাণ্ড্যকে। ফলে নতুন কম্বিনেশনেই নামতে চলেছে ভারত।ওপেনিংয়ে বদলের ইঙ্গিত নেই। যশস্বী জয়সওয়াল ও রোহিত শর্মার বাঁহাতি-ডানহাতি জুটি এক দিনের ক্রিকেটে এখনও দলের সবচেয়ে ভরসার জায়গা। তিন নম্বরে বিরাট কোহলি অবধারিত। সাম্প্রতিক ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাঁর ব্যাট যে কতটা ছন্দে, তা চোখে পড়ার মতো। চার নম্বরে ব্যাট করবেন শুভমন গিল। অধিনায়ক হিসেবে চাপ থাকলেও, এক দিনের ফরম্যাটে তাঁর ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। পাঁচ নম্বরে ফিরছেন শ্রেয়স আয়ার। অস্ট্রেলিয়া সফরের চোট কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন তাঁর। প্রস্তুতির অভাব নেই, তা বিজয় হজারে ট্রফিতেই বোঝা গেছে।মিডল অর্ডারে ছনম্বরে থাকবেন লোকেশ রাহুল। শেষ ম্যাচে খেলা রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও তিলক বর্মার জায়গায় এই ম্যাচে অভিজ্ঞতাকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে। সাত নম্বরে অলরাউন্ডারের ভূমিকায় রবীন্দ্র জাডেজানিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে যাঁর কার্যকারিতা নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই টিম ম্যানেজমেন্টের।বোলিং আক্রমণে থাকবে চার বিশেষজ্ঞ। স্পিনে কুলদীপ যাদব, পেসে মহম্মদ সিরাজের জায়গা প্রায় পাকা। তাঁদের সঙ্গে দেখা যেতে পারে হর্ষিত রানা ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণকে। শেষ এক দিনের দলে থাকা অর্শদীপ সিংয়ের বদলে এই ম্যাচে সিরাজকে ফেরানো হচ্ছে বলেই ইঙ্গিত।প্রতিপক্ষকে হালকা করে দেখছে না ভারত। কিউয়ি শিবিরে ডেভন কনওয়ে, ড্যারেল মিচেল, গ্লেন ফিলিপস বা কাইল জেমিসনের মতো ম্যাচ-ঘোরানো ক্রিকেটার রয়েছেন। তার উপর ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ় হারের স্মৃতি এখনও তাজা।আর একটি বড় প্রশ্ন বডোদরার নতুন কোটাম্বি স্টেডিয়ামের পিচ। এই মাঠে প্রথম এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। পিচের আচরণ এখনও অজানা। শিশিরের প্রভাবও থাকতে পারে। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই অনিশ্চয়তার কথাই তুলে ধরেছেন শুভমন। সব মিলিয়ে টসের ভূমিকা বড় হয়ে উঠতে পারে। নতুন মাঠ, নতুন কম্বিনেশনরবিবারের ম্যাচে তাই চ্যালেঞ্জ যেমন আছে, তেমনই নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের সুযোগও ভারতের সামনে।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিরাট রহিতের পর কি শামি? জোর জল্পনা ক্রিকেট মহলে

গত ছয় মাস ধরে রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর, ভারতীয় দল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে একটি বিশাল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা মহম্মদ শামি এবং রবীন্দ্র জাদেজার মতো দলের অন্যান্য সিনিয়র খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়েও রহস্য় তৈরি করছে।ভারত ২০ জুন থেকে হেডিংলিতে শুরু হওয়া পাঁচটি টেস্ট খেলতে প্রস্তুত। ভারত ২০২৫-২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) চক্রে তাদের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট খেলবে একজন নতুন অধিনায়কের সাথে, যা নতুন অধিনায়কের সাথে ঘোষণা করা হতে পারে।মহম্মদ শামি কি অবসর নিচ্ছেন?ফিটনেস নিয়ে বড় উদ্বেগের পর শামি ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক হুমকির সম্মুখীন। এই তারকা পেসার দুই বছর ধরে ভারতের হয়ে কোনও টেস্ট ম্যাচ খেলেননি। ২০২৩ সালের জুনে ২০২৩ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।২০২৩ বিশ্বকাপের পর চোটের কারণে শামি প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে ছিলেন। রঞ্জি ট্রফিতে প্রত্যাবর্তন করলেও, প্রত্যাবর্তনের পর থেকে তিনি মাত্র একটি লাল বলের খেলা খেলেছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় ভারতের ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন কিন্তু চলমান ২০২৫ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) তিনি তার সেরা পারফর্মেন্স থেকে অনেক দূরে রয়েছেন, যা ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য তার দলে নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।সম্ভাব্য অবসরের গুজবের প্রতিক্রিয়ায় শামি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং একই বিষয়ে একটি মিডিয়া প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। খুব ভালো করেছেন, মহারাজ। আপনা কে দিন ভি গিন লু কিতনা বিদায় হ্যায়। বদমে দেখ লে হামারা আপ জাইসে নে সত্যিয়ানাশ কর দিয়া ভবিষ্যৎ কা। কখনও তো বল লিয়া করে। আজ কি সবসে খারাপ গল্প দুঃখিত (শাবাশ মহারাজ। তোমার চাকরির বাকি দিনগুলোও গণনা করো। ভবিষ্যতে দেখো, তোমরা আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করো। আজকের সবচেয়ে খারাপ গল্প), ইনস্টাগ্রামে শামি লিখেছেন।আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে ভারতের সেরা পেসারদের মধ্যে শামি অন্যতম, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪৬২টি ফর্ম্যাটে ৪৬২টি উইকেট নিয়েছেন। টেস্ট এবং ওয়ানডে উভয় ক্রিকেটেই তার ২০০ টিরও বেশি উইকেট রয়েছে।

মে ১৪, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

রোহিতের পর বিরাটেরও টেস্ট থেকে অবসর? ঠেকাতে তৎপর বিসিসিআই

ইংল্যান্ড সফরের জন্য ভারতের দল ঘোষণা হতে পারে ২৩ মে। সেদিন নতুন টেস্ট অধিনায়কের সঙ্গে পরিচয় করাতে সাংবাদিক বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনাও আছে বিসিসিআইয়ের। শুভমান গিল দায়িত্ব পেতে পারেন। অধিনায়ক করা হতে পারে জসপ্রীত বুমরাকেও। কিন্তু তার আগে বড় চিন্তা বিরাট কোহলিকে নিয়ে।রোহিত শর্মার পথে হেঁটে টেস্ট থেকে অবসর নিতে চান। বিরাট কোহলি এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন বিসিসিআইকে। আর তাতেই শোরগোল। রোহিত, বিরাট না থাকলে ইংল্যান্ডে ভরাডুবি হতে পারে ভারতীয় দলের। যে সিরিজ দিয়ে আবার শুরু হচ্ছে ভারতের পরবর্তী আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অভিযান।সূত্রের খবর, বিসিসিআইয়ের প্রভাবশালী এক শীর্ষকর্তা বিরাটের কাছে তাঁর এমন সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইবেন। চেষ্টা করবেন মত বদলানোর। টেস্ট দল নির্বাচনের আগেই সেই বৈঠকের সম্ভাবনা। উল্লেখ্য, রোহিতের সঙ্গে বিরাট বিসিসিআইয়ের বার্ষিক কেন্দ্রীয় চুক্তিতে এ প্লাস ক্যাটাগরিতে রয়েছেন।দুজনেই টি২০ আন্তর্জাতিক থেকে অবসর নেন গত বছর টি২০ বিশ্বকাপের পর। বিরাট অনড় থাকলে দুজনেই স্রেফ ওডিআই খেলবেন দেশের হয়ে। কতদিন? সেটাই বড় প্রশ্ন।কোহলি টেস্ট থেকে অবসর নিলে অক্ষত থাকবে সচিন তেন্ডুলকরের ১০০টি আন্তর্জাতিক শতরানের রেকর্ড।বিরাট ১৪ বছরে ১২৩টি টেস্ট খেলেছেন। অধিনায়ক হিসেবে ৬৮টি।টেস্টে বিরাট ৯২৩০ রান করেছেন। গড় ৪৬.৮৫। পারথ টেস্টে গত নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অপরাজিত ১০০ করেছিলেন। তবে তারপর ছন্দে ছিলেন না। ওই সফরের বাকি টেস্টগুলিতে তাঁর রান ছিল যথাক্রমে ৭, ১১, ৩, ৩৬, ৫, ১৭, ৬। ২০১৪ থেকে ২০২৩ অবধি বিরাট ইংল্যান্ডে ১৭টি টেস্টে ৩৩ ইনিংসে ১০৯৬ রান করেছেন। ২টি শতরান ও ৫টি অর্ধশতরান রয়েছে।

মে ১০, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

কেন অবসর নেবে রোহিত শর্মা? বললেন সৌরভ, জানালেন, শনিবার ইন্ডিয়া ফেবারিট

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের দোরগোড়ায় ভারতীয় ক্রিকেট দল। এই প্রতিযোগিতায় এখনও পর্যন্ত কোনও ম্যাচে পরাজিত হয়নি রোহিত, বিরাটরা। শনিবার নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। শনিবার মধ্যমগ্রামে এমএলএ কাপের ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বলেন, আমাদের দলের সকলে ভালো খেলছে। ভালো খেলা হবে। ভারত ফেবারিট। এই টুর্নামেন্টে ভারত এখনও অপরাজেয়। ইন্ডিয়া দারুণ ফর্মে আছে। তাই ভারতের জেতার সম্ভাবনা বেশি। সবাই ভালো ফর্মে আছে। শনিবার মাঠে এসে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন সৌরভ। তিনি বলেন, এত ভালো মাঠে ফুটবল খেলা হচ্ছে, এত দর্শক খুব ভালো লাগছে। রবিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ভারতের জয় নিয়ে আশাবাদী সৌরভ বলেন, ভারতীয় দলের জয় অব্যাহত আছে ফলে দলের প্লেয়ারদের পরিবর্তনের কোনও দরকার নেই। রোহিত শর্মার ভালো ফর্ম নেই তার অবসর নেওয়ার সময় এসেছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে সৌরভ রহিতের পাশে দাঁড়ান। তিনি বলেন, রোহিত ভালো ফর্মে আছে। এইতো ছয় মাস আগে ওয়ার্ল্ড কাপ জিতলো। ক্যাপটেন হিসেবেও সফল হচ্ছে। বিগত দিনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, রোহিতের অবসরের কোন কারণই নেই। কেন অবসর নেবে? বাংলার ক্রিকেট নিয়ে তিনি তেমন কোন মন্তব্য করতে চাননি। এই প্রসঙ্গে সৌরভের মন্তব্য, বাংলার কোচ লক্ষ্মী রতন শুক্লা দেখছে। লক্ষ্মী ভালো কোচ। বায়োপিকের কাজ চলছে, ডিসেম্বরে রিলিজ হবে বলে জানালেন সৌরভ।

মার্চ ০৮, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

প্রাক্তন পাক অধিনায়ক গম্ভীরের মতে মত দিয়ে কোন দুজনকে টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে নিতে বললেন?

২০-২০ র বিশ্বকাপে ভারতীয় পুরুশদের ক্রিকেট দলে রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মিডিয়া থেকে শুরু করে হাটে-বাজারে জোড় জল্পনার ক্সুর নেই। তাঁদের ভবিষ্যত নিয়ে আম জনতার জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ও বাঁহাতি দ্রুত গতির বোলার ওয়াসিম আক্রম ভিন্ন মত পোষণ করলেন। তাঁর মতে ভারতকে অবশ্যই ২০২৪-র আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে তাদের দলের দুই মহারথী ব্যাটারকে দলে নিতে হবে। এখানে উল্লেখ্য, ২০২২ এর নভেম্বর টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শেষবারের জন্য বিরাট ও রোহিত ভারতীয় দলের প্রথম একাদশে খেলেন। তারপর থেকে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফর্ম্যাটে রোহিত এবং বিরাটের অনুপস্থিতি পাকিস্তানের এই জোরে বোলার কে খুব-ই আশ্চার্যান্বিত করেছে। ২০২৩-র টি ২০ বিশ্বকাপে রোহিত শর্মা অনুপস্থিত থাকায়, হার্দিক পান্ডিয়া ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেন।কিছুদিন আগে এই বছরের প্রথম দিকে ভারতের বর্তমান অধিনায়ক ও প্রারম্ভিক ব্যাটার রোহিত শর্মা আমেরিকায় ক্রিককিংডম একাডেমির উদ্বোধনের সময় ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপ নিয়ে খুব উৎসাহিত হয়ে তাঁর মতামত প্রকাশ করেছিলেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের অনুমান এর থেকে হয়ত তাঁর আগামী টি-২০ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের ব্যাপারে কিছুটা আন্দাজ করা যেতে পারে।পাকিস্তানের জোরে বোলার ও প্রাক্তন অধিনায়ক বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। আমি ভারতের টিম বাছলে, ওই দুজনকেই দলে নেব। তারাই হবে ভারতের মূল খেলোয়াড়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ-এ একটু অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। আপনি শুধুমাত্র তরুণের উপর নির্ভর করতে পাড়েন না। স্পোর্টসকিডা-তে আক্রম আরও বলেন, রোহিত ১৪৮ টি ম্যাচে ৩৮৫৩ রান করেছেন। ওই ফর্মাটে তাঁর স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৪০-র কাছাকাছি। রোহিত সেখানে চারটি (৪) শতরান এবং ২৯ টি অর্ধ-শতরান রয়েছে। ভারতের ওপর এক কিংবদন্তী ব্যাটার ক্রিকেটের এই ছোট ফর্মাটে ১১৫ টি ম্যাচ খেলে ৪০০৮ রান করেছেন, একটি সেঞ্চুরি এবং ৩৭টি অর্ধশতরান সহ এই মুহুর্তে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারি। এইমুহুর্তে ভারতের শুভমান গিল, যশস্বী জয়সওয়াল, ইশান কিষাণ, এবং রুতুরাজ গায়কওয়াড় সহ একগুচ্ছ তরুণ খেলোয়াড় আছে যারা আইপিএল-এর মত টুর্নামেন্টে তাঁদের প্রতিভার যথেষ্ট ছাপ রেখেছেন। যদি তরুণ প্রতিভারা পারফর্ম করতে না পারে সেক্ষেত্রে নির্বাচকরা বা বিসিসিআই রোহিতকে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করতেই পারে।রোহিত কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের ভারতের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। তিনি ১৪৮ টি ম্যাচ খেলেছেন যা ভারতের কোন ক্রিকেটারের সর্ব্বচ্চ, যেখানে কোহলি ভারতের হয়ে দ্বিতীয়- সর্বচ্চ স্থানে রয়েছেন, তিনি খেলেছেন ১১৫টি ম্যাচ। পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপের আট বারই রোহিতের ধারাবাহিক পারফরমেন্স বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। উল্লেখযোগ্যভাবে ২০০৭-র চাম্পিয়ান দলেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য ।ভারতের প্রাক্তন ওপেনার গৌতম গম্ভীর আবার মনে করেন শুধুমাত্র একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে নয়, অধিনায়ক হিসেবেই রোহিতের বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে কথা বলেন। তাদের (রোহিত এবং কোহলি) উভয়কেই আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে বাছাই করা দরকার, উভয়কেই বাছাই করা উচিত এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ, আমি রোহিত শর্মাকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসাবে দেখতে চাই, গম্ভীর বলেন।

নভেম্বর ২৫, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বিরাট, রোহিত-দের পরামর্শদাতা বদল? কি বললেন নতুন পরামর্শদাতা?

ঠিক চূড়ান্ত খেলার আগের দিন পরামর্শদাতার ভূমিকায় নতুন মুখ ভারতীয় দলে! বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ভারতীয় কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের পরিবর্তে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিদের অন্য কাউকে পরামর্শ দিতে দেখা গেল। সেই ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ বলতে দেখা গেল ভরতিয় ক্রিকেটারদের বলছেন,তাঁরা যেন বিশ্বকাপ জিতে ফেরে। সেই বিশেষ ব্যক্তি এই বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দলের একজন নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার। তিনি চোট পাওয়ার আগে চার চারটি ম্যাচ খেলেওছেন। ব্যক্তিটি হলেন হার্দিক পান্ডিয়া।বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিরিদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন পায়ে চোট পেয়ে ছিটকে যান হার্দিক। নিজের বলে বাংলাদেশের ব্যাটার লিটন দাশের স্টেট ড্রাইভ পা দিয়ে আটকাতে গিয়ে গোড়ালিতে ভয়ঙ্কর চোট পান। সেটি ছিল বাংলাদেশের নবম ওভার। নবম ওভারের তিন নম্বর বল করতে গিয়েই ঘটনাটি ঘটে। উল্লেখযোগ্য, ওই খেলাই তার বাকি তিনটে বল করতে ডাকা হয় বিরাট কোহলিকে। এটি বিরটের এই বিশ্বকাপে প্রথম বল করা। বিরাট এর পর নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে বল করে বিশ্বকাপে প্রথবার উইকেট লাভ করেন।ম্যাচের আগের দিন ভারতীয় দলকে সাপোর্ট একটি ভিডিয়ো বার্তা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন হার্দিক। ভারতীয় দলের জাতীয় জার্সি পড়ে হার্দিক বলেন, আমি এই দলের জন্য আমি ভীষনভাবে গর্বিত। এখনও পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে আমরা যা খেলছি তা আমাদের দীর্ঘ দিনের কঠিন পরিশ্রমের ফসল। আমরা বিশ্বজয়ের থেকে মাত্র এক কদম দূরে। আমরা ছোটবেলা থেকে যে স্বপ্ন দেখে এসেছি, সেটাই সফল করে তুলতে হবে। বিশ্বকাপটা হাতে তুলতে হবে শুধুমাত্র আমাদের জন্য নয়, দেশের কোটি কোটি মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমাড় হৃদয় সব সময় তোমাদের পাশে। ভালো কিছুর আশায় রইলাম। চোট পেয়ে দল থেকে ছিটকে গিয়েও হার্দিকের আবেগ ঘন বার্তা সকলের মন ছুঁয়ে গেছে। দলে না থেকেও, এখনও যে মানসিক ভাবে তিনি দলের সঙ্গেই রয়েছেন সেই বার্তা-ই দিয়েছেন হার্দিক। ভারতীয় ক্রিকেট দলকে তিনি যে কতটা ভালবাসেন তা বোঝা গিয়েছে হার্দিকের কথা থেকেই। তাঁকে বলতে দেখা যায়, সব সময় আমি দলের সঙ্গে আছি। আমার মন সব সময় তোমাদের পাশে রয়েছে। রবিবারটা তোমাদের সেরাটা আরেকবার দাও। তা হলেই আমদের আসা পুরন হবে। আমরা সফল হব। এটাই সেরা সময় কাপটা দেশে রাখার। জয় হিন্দ।বেশ কয়েক বছর ধরেই ৫০ ও ২০ ওভারের খেলায় ভারতীয় দলের এক নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় উঠেছেন হার্দিক। এই মুহুর্তে বিশ্ব ক্রিকেটের হাতে গোনা কয়েকজন অলরাউন্ডারের মধ্যে হার্দিক অন্যতম। এই বিশ্বকাপেও ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন হার্দিক। অধিনায়ক রোহিত শর্মার অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার ছিলেন তিনি। ব্যাট-বলে তাঁর উপর অগাধ আস্থা ছিল টিম ইন্ডিয়ায়। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলায় চোট সব কিছুতে জল ঢেলে দিল। যেভাবে শুভমান ডেঙ্গি হয়েও দলে ফিরে এলেন এবং দারুন প্রত্যাবর্তন করলেন। ঠিক সেইরকমই মনে করা হয়েছিল যে, সেমিফাইনালের আগেই হয়ত সুস্থ হয়ে দলে ফিরবেন হার্দিক। কিন্তু বিধি বাম। আগামী তিন-চার মাস তাঁকে মাঠের বাইরেই থাকতে হবে। একজন প্রথম একাদশের খেলোয়ারের মাঠের বাইরে থাকার কি যন্ত্রণা তা আজকের বার্তা থেকেই বোঝা যাচ্ছে। খেলতে না পারলেও হার্দিক যে মানসিক ভাবে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গেই রয়েছেন সে কথা তিনি বুঝিয়ে দিতে পেরেছেন।

নভেম্বর ১৮, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

টানা ১০ ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছালেও, কেন চিন্তার ভাঁজ রোহিতের কপালে?

বুধবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ৭০ রানে ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছালেও বেশ কিছু প্রশ্ন রেখে গেল। ভারতের পাহাড় প্রমান রান তাঁরা করতে গিয়ে প্রথম দিকে দুটো উইকেট হারালেও কনওয়ে-মিচেল জুটি একটা সময় ভারতের শিরদাঁরায় ঠাণ্ডা স্রোত এনে দিয়েছিল। ৩৯৭ রানও সেই সময় সুরক্ষিত দেখাচ্ছিল না। চাপের মুখে একাধিক মিসফিল্ড, ওভারথ্রো, ক্যাচ মিস সেসময় ভারতের দুর্ভেদ্য রক্ষণকে বেশ নড়বড়ে দেখাচ্ছিল।২০২৩ বিশ্বকাপে এই প্রথমবার ভারতের ফিল্ডিং নিয়ে প্রশ্ন উঠল। এটাও ঠিক টানা ৯টি ম্যাচ হেলায় জিতে ভারত তাদের বিশ্বকাপ অভিযানে প্রথমবারের মতো বিপক্ষের কড়া প্রতিরোধের মুখোমুখি হল। ম্যাচের একটা সময় ভারতীয় টিম সহ সাপোর্ট স্টাফ সকলকেই যথেষ্টই আতঙ্কিত লাগছিল।নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের ২৩ তম ওভার, ২০১৯ এর ফাইনালিস্টরা তাঁদের দুই প্রারম্ভিক ব্যাটার ডেভন কনওয়ে এবং রাচিন রবীন্দ্রকে হারিয়ে, সবে ড্যারিল মিচেল এবং কেন উইলিয়ামসন বিপক্ষের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ১০০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তুলেছেন। ইন্ডিয়া টিমের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করেছে। বল হাতে রবীন্দ্র জাদেজা, জাদেজার ২৩ তম ওভারের শেষ বল, জোরের ওপর আর্মার করেন কেন উইলিয়ামসন স্টেপ আউট করে মারতে গিয়ে বল সোজা চলে যায় জাদেজার হাতে। জাদেজা বল ধরে সজা ব্যাটিং প্রান্তের উইকেট থ্রো করেন, বল উইকেটরক্ষক রাহুলের নাগাল এড়িয়ে সজা মাঠের বাইরে চলে যায়।যখন এক এক রান অতি গুরুত্বপূর্ণ সে সময় ৪ রান উপহার দেওয়াই অধিনায়ক রোহিত শর্মা তাঁর প্রিয় অলরাউন্ডারের প্রতি যথেষ্টই ঊষ্মা প্রকাশ করেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের কেউই ঐ হতচকিত থ্রোয়ের কোন ব্যাখা পাননি। টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বল উইকেটে লাগলেও কেন উইলিমসন যথেষ্ট সুরক্ষিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের আরও প্রশ্ন, যখন উইকেটরক্ষকের ব্যাকআপে কোনও ফিল্ডার নেই, তখন এই ভাবে হতচকিত থ্রো করা কোনও বিশ্বমানের ফিল্ডারকে মানায় না।২০২৩ বিশ্বকাপে ভারত পুরো লিগ পর্বে তাঁদের ফিল্ডিংয়ের একটি উচ্চ মান বজায় রেখেছে, তাঁরা ৯টি ম্যাচের মধ্যে ৯টি জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। সেমিফাইনালে তাঁদের ফিল্ডিং খুবই ঢিলেঢালা হয়েছে। তাঁরা তাঁদের নিজেদের তৈরি করা মানদণ্ড কোনও ভাবেই ছুঁতে পারেনি বুধবার। শামি, বুমরা, সুর্যকুমার, জাদেজা, কুলদীপ, সিরাজ এদের প্রত্যেককেই সে সময় খুব দিশেহারা লাগছিল। জাদেজার মিসফিল্ডের কয়েক ওভার পরের মহম্মদ শামি মিড-অনে জসপ্রীত বুমরার বলে কেন উইলিয়ামসনের লোপ্পা ক্যাচ ফেলে দেন। জুটি ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে দেওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন বোলার জাসপ্রিত বুমরাহ। এর আগে এই বুমরা-ই পয়েন্ট অঞ্চলে পায়ের ফাঁক দিয়ে একটি সহজ ড্রাইভ গলিয়ে দিয়ে বাউন্ডারি উপহার দেয় ব্ল্যাকক্যাপদের।সেই সময় এক-দুজন ছাড়া বাকি প্রায় সকলকেই ফিন্ডিং করার সময় দিশেহারা লাগছিল। উইলিয়ামসনের সহজ ক্যাচ মিস করা শামি-ই উইলিয়ামসনকে আউট করে প্রায়শ্চিত্ত করে ভারতকে ম্যাচে ফেরান, ডিপ স্কোয়ার লেগে অনবদ্য ক্যাচ নেন সুর্যকুমার যাদব। শামির এক মহাকাব্যিক বোলিং স্পেল ১২ বছর পর ফের টিম ইন্ডিয়াকে ফের ফাইনালে তোলে। ভারতের দুই প্রধান ব্যাটার শুভমান গিল ও বিরাটের পায়ের মাসল ক্র্যাম্প-ও রোহিতের কপালে চিন্তার ভাঁজের অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা টিমের ফিজিও ও ফিল্ডিং কোচ দিলিপের সামনের দুদিন খুব কঠিন যাবে। কারণ, এই ছোট খাটো ভুলত্রুটি শুধরেই ফাইনালের মহারণে ভারতকে নামতে হবে।

নভেম্বর ১৬, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপে ভারতের দাপট অব্যহত, ফলাফল ৮-০! ভারতের কাছে আত্মসমর্পন বাবরদের

১৯৯২ এ যে দাপট সিডনি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে যে শুরু হয়েছিল, ২০২৩-এও তা অব্যহত। ২০২৩-র বিশ্বকাপ ক্রিকেটের তৃতীয় ম্যচে বিশ্বক্রিকেটের ডার্বিতে পাকিস্তান কে হেলায় হারিয়ে ভারত লিগ টেবিলের শীর্ষ স্থানে চলে গেল। টানটান উত্তেজনায় ভরা এই ম্যাচে ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন।ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারের রেকর্ড অব্যহত থাকল আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেও। শনিবারের ম্যাচে ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল বাবর-ইমাম-রিজওয়ান দের ব্যাট। এককথায় আত্মসমর্পন করলো পাকিস্তান।১৯৯২-এ মেলবোর্নে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তানের প্রথম সাক্ষাতের ভারত অধিনায়ক ছিল মহম্মদ আজহারউদ্দিন। মাঝে সচিন-সৌরভ-ধোনি হয়ে ২০২৩ ব্যটম এখন রোহিতের হাতে। ব্যট্ম পালটালেও ফলের কোনও হেরফের হয়না। ২০২৩-এ ১৪ অক্টোবর দিনটা ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাঅক্ষরে লেখা থাকবে রোহিত শর্মার ভারতের বিশ্ব-ক্রিকেটে অষ্টম জয়ের অধ্যায়। আবারও একটা বিশ্বকাপ এবং আরও এক বার পাকিস্তান বধ।M. O. O. D! ☺️ 🇮🇳Scorecard ▶️ https://t.co/H8cOEm3quc#CWC23 | #TeamIndia | #INDvPAK | #MeninBlue pic.twitter.com/18bdPJKDnh BCCI (@BCCI) October 14, 2023টসে জিতে শুরুটা খারাপ করেনি পাকিস্তান। পাকিস্তানের দুই প্রারম্ভিক ব্যাটার আবদুল্লাহ শফিক ও ইমাম-উল-হক ৭.৩ ওভারেই ৪১ রান তুলে ভারতকে যথেষ্ট-ই উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। সিরাজের বলে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর ভারত প্রবল ভাবে খেলায় ফিরে আসে। ভারতীয় বোলিং-এর দাপটে হুরমুড়িয়ে তাসের ঘরের মত শেষ হয়ে গেলো পাকিস্তানের ইনিংস। ভারতের প্রথম পাঁচ বোলার-ই ২টি করে উইকেট ভাগ করে নেন। পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হয় ১৯১ রানে। জবাবে মাত্র ৩০.৩ ওভারে ভারত ৩ উইকেটে ১৯২ রান তুলে ব্যবধান ৮-০ করে নিল। মেন ইন ব্লু ম্যচ জিতল ৭ উইকেটে।গুজরাটের এই আন্তঃর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম-এ খেলায় পাকিস্তানের ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং দক্ষতা কোনও বিভাগেই আন্তঃর্জাতিক মাত্রা ছুঁতে পারেনি। তাঁদের ব্যাটাররা ভারতীয় বোলারদের সামনে আত্মসমর্পন করে গেলেন। ইমাম, বাবর ও রিজওয়ান সামান্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাকিরা আয়ারাম-গয়ারাম। জসপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজ, হার্দিক পাণ্ডিয়া ও রবীন্দ্র জাদেজা মিলেমিশে সমান ভাগ করে নিলেন পাকিস্তানের ১০টি উইকেট। ভারতের একমাত্র বোলার শার্দুল ২ ওভার বল করলেও কোন উইকেট জোটেনি তাঁর কপালে। ব্যাটিং সহায়ক পিচে নিখুঁত লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে যে বোলিং পারফরম্যান্স ভারতীয় বোলারেরা এদিন তুলে ধরলেন তার জন্য কোনও প্রশংশাই যথেষ্ট নয়।পাকিস্তান দল টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে ভারতের জয়ের জন্য ১৯২ রানের লক্ষ্যমাত্রা রাখেন। ভারতের ব্যাটাররা জয়ের জন্য সহজ লক্ষ্য পেয়ে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে শুরু করেন। ভারতের ইনিংসের শুরুতেই শাহিন শাহ আফ্রিদিকে প্রথম বলেই বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে চার মেরে রোহিত বুঝিয়ে দেন দিনটা আজ তাঁদের। সদ্য ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরা বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া শুভমন গিলও উৎসাহিত হয়ে ওঠেন রহিতকে দেখে। খুব বেশী রান না করতে পারলেও গিলের ১১ বলে ১৬ রানের ইনিংস পাকিস্তানের দিকে চ্যলেঞ্জ ছূরে দেওয়ার জন্য যঠেষত ছিল।শাহিন আফ্রিদি-র বলে বলে ফিরে যান গিল। গিলের দ্রুত বিদায়ে সেরকম কিছু সুবিধা করতে পারেনি পাকিস্তান। উইকেটের এক দিকে রোহিত শর্মা লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। আফগানিস্তান ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন রোহিত যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন আজ। আফগানিস্তানকে হারায়ে রোহিত বলেছিলেন, তাঁর কাছে বিশ্বকাপের আসরে আফগানিস্তান যা, পাকিস্তানও তা। রোহিতের মাত্র ৬৩ বলে ৮৬ রানের অনবদ্য ইনিংস পাকিস্তানের আশায় এক ঘটি জল ঢেলে দিল। পাক বোলারদের হেলায় হারিয়ে মারলেন ৬টি চার এবং ৬টি ছয়। বিরাট ব্যর্থ হলেও তাঁর রোহিতের ৫০রানের জুটি ভারতকে ম্যচে চালকের আসনে বসিয়ে দেয়।Congratulations to Team India on their remarkable performance in the #CWC2023! With three consecutive wins, they have set the tournament on fire, demonstrating their prowess on the field. Our bowlers displayed clinical precision by limiting Pakistan to just 191 runs on what pic.twitter.com/wRloJRorEj Jay Shah (@JayShah) October 14, 2023চার নম্বরে নেমে শ্রেয়স আয়ার বুঝিয়ে দিলেন কেন ভারত অধিনায়ক সূর্য কুমারের থেকে তাঁকে বেশী ভরসা করেন। বুক চিতিয়ে লড়াই করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক। শ্রেয়সের ৬২ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত অনবদ্য ইনিংস অনেক শতরানের থেকেও মূল্যবান ইয়ে থাকল। শ্রেয়স ৫৩ রান করতে ৩টি চার এবং ২টি ছয় মারলেন । লোকেশ রাহুলকে সঙ্গে নিয়ে ম্যচ শেষ করে বীরদর্পে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন। রাহুল অপরাজিত থাকলেন ১৮ রান করে।ভারতের হয়ে দূর্দান্ত বল করলেন দ্রুত গতির বোলার যশপ্রীত বুমরা, তিনি ৭ ওভার বল করে ১৯ রানে ২ উইকেট নিলেন। ভাল বল করলেন কুলদীপ যাদব, সিরাজ, হার্দিক পান্ডিয়া, জাদেজা ও। এরা প্রত্যেকে ২ করে উইকেট ভাগ করে নিলেন। রোহিত শর্মার আজকের ম্যচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক হন। কারন, আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপে যে-কটি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হয়েছে, তাতে যে অধিনায়ক-ই টসে জিতেছেন, তিনি প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু রোহিত আজকের ম্যাচে টস জিতে সকলকে অবাক করে দিয়ে প্রথমে ব্যাটিং না নিয়ে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। এই ধরনের হাইভোল্টেজ ম্যচে কোনও দলই রান চেজ করার ঝুঁকি নিতে চায় না। কিন্তু রোহিত সেই ব্যতিক্রমি রাস্তাতেই হাঁটলেন।আজ আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম খেলার শুরু থেকেই নানা অনুষ্ঠানে জমে উঠেছিল। ২২ গজের খেলা শুরুর আগেই সার্বিকভাবে জমে উঠেছিল ভারত-পাক লড়াই। এই মুহুর্তে ভারতের এক নম্বর কণ্ঠ সঙ্গীত শিল্পী অরিজিৎ সিং-এর বন্দেমাতরম সহ আরও একগুচ্ছ দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে টিম ইন্ডিয়াকে উদ্বুদ্ধ করলেন। এ ছাড়াও সুনিধি চৌহান, সুখবিন্দর সিং এবং শংকর মহাদেবনের মত মহান সঙ্গীত শিল্পীর দুর্দন্ত জমজমাট পারফরম্যান্সে ১ লাখ ৩০ হাজার আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়াম দুলে ওঠে। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ দের ধারণা বিশ্ব ক্রিকেটের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মারমার কাটকাট লড়াইয়ের আগে এই রকম জমজমাট সঙ্গীতানুষ্ঠান ফলে দুই দলের দর্শকদের মধ্যে প্রতিহিংসা অনেকটা নমনীয় হবে। এবং সঙ্গীতের রেশ রেখে হালকা ফুরফুরে মেজাজেই পাওয়া গেলো দুই দলের দর্শক সহ ক্রিকেটারদের।

অক্টোবর ১৪, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, টেস্টে নেই রোহিত!‌ নেতৃত্ব দেবেন বুমরা

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অসমাপ্ত সিরিজের পঞ্চম টেস্টে মাঠে নামার আগে জোর ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে। সিরিজ নির্ণায়ক এই টেস্টে খেলতে পারবেন না অধিনায়ক রোহিত শর্মা। কোভিড থেকে সেরে উঠলেও এখনও খেলার মতো জায়গায় আসেননি রোহিত। তাঁর পরিবর্তে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন যশপ্রীত বুমরা। যদিও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে বুধবার সন্ধে পর্যন্ত রোহিতের না খেলার কথা সরকারিভাবে জানানো হয়নি। লেস্টারশায়ারের বিরুদ্ধে প্রস্ততি ম্যাচ খেলার সময়ই করোনায় আক্রান্ত হন রোহিত শর্মা। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার পর তাঁর অ্যান্টিজেন টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। প্রথম ইনিংসে ২৫ রান করেছিলেন রোহিত। করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ব্যাটিং করতে নামেননি। হোটেলেই কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। লেস্টারশায়ারের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর ভারতীয় দল এজবাস্টনে চলে আসে। বুধবারের অনুশীলনে রোহিতকে দেখা যায়নি। শুক্রবার থেকে টেস্ট শুরু। অনুশীলনে না আসায় রোহিতকে নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়।ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক শীর্ষকর্তা সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, রোহিতের আরটিপিসিআর টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ও এখন কোয়ারেন্টিনে রয়েছে। টেস্ট ম্যাচে খেলতে পারবে না। লোকেশ রাহুল না থাকায় দলকে নেতৃত্ব দেবে যশপ্রীত বুমরা। তবে সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রোহিতের আরও একবার আরটিপিসিআর পরীক্ষা হবে। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলে টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে রোহিতকে খেলানো হবে কিনা। গতবছর জুলাইতে এই টেস্ট সিরিজ শুরু হয়েছিল। ৫ ম্যাচের সিরিজে ভারত ২১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। পঞ্চম টেস্টের আগে দুই শিবিরে করোনা হানা দেওয়ায় সিরিজ স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। দুই দেশের বোর্ড এই বছর অসমাপ্ত সিরিজ সম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারত যদি শেষ টেস্ট ড্র রাখতে পারে, তাহলে সিরিজ জিতে যাবে। টেস্টের পরেই বাটলারদের বিরুদ্ধে টি২০ ও একদিনের সিরিজ খেলবে ভারত।

জুন ২৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ডিআরএসের ব্যাপারে ঋষভ পন্থ কি পারবেন রোহিতের ভরসা হতে?‌‌

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে হেরে প্লে অফের স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালসের। দিল্লি ক্যাপিটালসের প্লে অফে উঠতে না পারার পেছনে অনেকেই অধিনায়ক ঋষভ পন্থকে দায়ি করেছেন। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁর ভুলের মাশুল দিতে হয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালসকে। প্রথমে শার্দূল ঠাকুরের বলে তিনি ডিওয়াল্ড ব্রেভিসের ক্যাচ ফেলেছিলেন। পরের বলেই টিম ডেভিভের ক্যাচ তালুবন্দী করেন। আম্পায়ার ডেভিসকে আউট দেননি। কিন্তু ডিআরএস নেননি ঋষভ। যার মাশুল দিতে হয়েছিল দিল্লিকে। দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ১১ বলে ৩৪ রান করে মুম্বইকে জয় এনে দিয়েছিলেন ডেভিস।দলের চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ঋষভ পন্থ। তাঁর ইনিংসের সৌজন্যে লড়াই করার অক্সিজেন পেয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। কিন্তু ঋষভের নেতৃত্বের ভুলেই ম্যাচ থেকে ছিকটে যেতে হয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালসকে। টিম ডেভিসের ক্যাচের সময় ঋষভ ডিআরএস নিলে হয়তো প্লে অফ থেকে ছিটকে যেতে হত না দিল্লিকে।ডিআরএসের ব্যাপারে ঋষভকে আরও পরিনত হতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে ভারতীয় দলকে সমস্যায় পড়তে হবে। ভারতীয় দলে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির মতো ঋষভকেই ডিআরএসের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে তিনিই সবথেকে ভাল পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। ঋষভ যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেন, তার মাশুল দিতে হবে ভারতীয় দলকে।ঋষভকে নিয়ে ডিআরএস প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন স্পিনার ব্র্যাড হগ বলেছেন, ডিআরএস নেওয়ার ক্ষেত্রে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মতো ভারতীয় শিবিরের পন্থই একমাত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। পন্থ বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার কাছে গিয়ে বলতে পারবে না, ও আউট হয়েছে, ডিআরএসের সিদ্ধান্ত তোমরা নাও। রিভিউ নেওয়ার দায়িত্ব শুধুমাত্র ঋষভ পন্তের। এই বলে দায়িত্বও এড়িয়ে যেতে পারবে না। রিভিউ নেওয়ার দায়িত্ব কেবলমাত্র ঋষভ পন্থের ওপর নির্ভর করবে।হগ আরও বলেছেন, টিম ডেভিডের ক্যাচ ধরে ঋষভ পন্থ ও শার্দূল ঠাকুর দারুণ প্রভাবিত হয়েছিল। কিন্তু আম্পায়ার আউট দেয়নি। ঋষভের উচিত ছিল ডিআরএস নেওয়া। ডেভিড ওঅসময় আউট হলে মুম্বইয়ের পক্ষে জেতা সম্ভব হত না। টিম ডেভিড দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে দিল্লি ক্যাপিটালসকে প্লে অফের লড়াই থেকে বাদ দিয়েছিলেন। কেন তিনি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য যাননি? এই প্রসঙ্গে ঋষভ বলেন, বৃত্তের ভিতরে বেশিরভাগ সতীর্থর মনে হয়নি বল ডেভিডের ব্যাটে লেগেছিল।

মে ২৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দুরন্ত বোলিং উমরান–ভুবির, প্লে অফের ক্ষীণ আশা বেঁচে রইল হায়দরাবাদের

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে হারলেই প্লে অফের ক্ষীণ আশাও শেষ হয়ে যেত। মরণবাঁচন ম্যাচে জ্বলে উঠল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ব্যাট হাতে দাপট রাহুল ত্রিপাঠির। বল হাতে উমরান মালিক ও ভুবনেশ্বর কুমারের। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ৩ রানে হারিয়ে আইপিএলের প্লে অফের দৌড়ে টিকে রইল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। প্রথমে ব্যাট করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য রেখেছিল ১৯৪। অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও ঈশান কিশানের দাপটে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে তুলে ফেলে ৫১/০। ১০.৩ ওভারের মধ্যেই ৯৫ রানে পৌঁছে যায় মুম্বই। এরপরই ধাক্কা খায় মুম্বই। ওয়াশিংটন সুন্দরের বল পুল শটে গ্যালারিতে পাঠাতে গিয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগ বাউন্ডারির ধারে পরিবর্ত ফিল্ডার সুচিথের হাতে ধরা পড়েন রোহিত। ৩৬ বলে ৪৮ রান করে তিনি আউট হন।পরের ওভারেই ঈশান কিশানকে তুলে নেন উমরান মালিক। ৩৪ বলে ৪৩ রান করে তিনি প্রিয়ম গর্গের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ৫টি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে তিনি ওই রান করেন। দলের ১০১ রানের মাথায় ফেরেন কিশান। ১৫তম ওভারের প্রথম ও শেষ বলে তিলক ভার্মা ও ড্যানিয়েস স্যামসকে আউট করেন উমরাম মালিক। ৮ রান করেন তিলক, অন্যদিকে ১১ বলে ১৫ রান করেন ড্যানিয়েল স্যামস। ১৫ ওভারের শেষে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১২৭। ১৮তম ওভারে ম্যাচ জমিয়ে দেন টিম ডেভিড। টি নটরাজনের প্রথম পাঁচটি বলে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ২৬ রান তুলে ফেলেন। যদিও শেষ বলে তিনি রান আউট হয়ে যান। এই অবস্থায় মুম্বইয়ের দরকার ছিল ১২ বলে ১৯ রান। ১৯তম ওভারে প্রথম বলে কোনও রান দেননি ভুবনেশ্বর কুমার। দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে আউট হন সঞ্জয় যাদব। ভুবনেশ্বরের একের পর এক বিষাক্ত ইয়র্কারের দাপটে বাকি চার বলে কোনও রান করতে পারেননি যশপ্রীত বুমরা। ভুবনেশ্বরের এই উইকেট মেডেন ওভারই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯০ রান তোলে মুম্বই।এদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান তুলেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ৯টি চার ও তিনটি ছের সাহায্যে ৪৪ বলে সর্বাধিক ৭৬ রান করেন রাহুল ত্রিপাঠী। প্রিয়ম গর্গ ওপেন করতে নেমে ২৬ বলে ৪২ রান করেন। ২২ বলে ৩৮ রান করেন নিকোলাস পুরান।

মে ১৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌ব্যর্থতার দিক দিয়ে কোহলিকে টেক্কা রোহিতের, চিন্তিত নন সৌরভ

চলতি আইপিএল বেশ কয়েকজন নতুন তারকার জন্ম দিয়েছে। উঠে এসেছেন উমরান মালিক, মহসীন খান, কুলদীপ সেনের মতো জোরে বোলাররা। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে সবথেকে চিন্তার বিষয় দুই মহাতারকার ফর্ম। এবছর একেবারেই ফর্মে নেই বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। এই দুই মহাতারকার অফফর্ম চিন্তা বাড়াচ্ছে ভারতীয় দলকে।অনেকেই কোহলির ব্যর্থতা বড় করে দেখছেন। কিন্তু চলতি আইপিএলে তাঁকেও ছাপিয়ে গেছেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ১৩ ম্যাচে ২৩৬ রান করেছেন বিরাট কোহলি। গড় ১৯.৬৭, স্ট্রাইক রেট ১১৩.৪৬। একটা মাত্র হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস খেলেছেন। সর্বোচ্চ রান গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে ৫৮। তিনতিনবার গোল্ডেন ডাকের শিকার হয়েছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এর আগে তাঁর সবথেকে খারাপ পারফরমেন্স ছিল প্রথম আইপিএলে। ২০০৮ আইপিএলে ১৩ ম্যাচে ১৬৫ রান করেছিলেন কোহলি। গড় ছিল ১৫, স্ট্রাইক রেট ১০৫.০৯। ১৪ বছর পর আবার খারাপ পারফরমেন্স কোহলির। তাঁর থেকে খারাপ অবস্থা রোহিত শর্মার। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক ১২ ম্যাচে করেছেন ২১৮ রান। গড় ১৮.৪৩। স্ট্রাইক রেট ১২৫.২৮। সর্বোচ্চ রান ৪৩।আইপিএলের পরই দেশের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৫ ম্যাচের টি২০ সিরিজ খেলবে ভারতীয় দল। এই সিরিজে ফর্মে ফেরার সুযোগ ছিল কোহলি ও রোহিতের কাছে। কিন্তু জুলাই মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজের কথা মাথায় রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে দলের এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। কারণ ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে ঠাসা ক্রীড়াসূচি ভারতের।দুই মহাতারকার সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে অবশ্য চিন্তিত নন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, রোহিত বা বিরাটের ফর্ম নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই। দুজনেই বড় ক্রিকেটার। টি২০ বিশ্বকাপ অনেক দুরে রয়েছে। আশা করছি বিশ্বকাপের আগেই দুজনে ফর্মে ফিরবে। চলতি আইপিএলে যে কজন তারকার জন্ম হয়েছে, তাদের মধ্যে উমরান মালিক, কুলদীপ সেনকে যথেষ্ট মনে ধরেছে সৌরভের। তিনি বলেন, চলতি আইপিএলে জোরে বোলাররা যেভাবে আধিপত্য দেখাচ্ছে, দেখে ভাল লাগছে। মুম্বই ও পুনের উইকেট খুবই ভাল। জোরে বোলাররা উইকেট থেকে ভাল বাউন্স আদায় করে নিচ্ছে। উমরানকে জাতীয় দলে নেওয়া হলে অবাক হব না। ওকে সাবধানে ব্যবহার করতে হবে। কুলদীপের কথাও বলব। ডেথ ওভারে যথেষ্ট বৈচিত্র নিয়ে বল করছে।

মে ১৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সম্মান রক্ষার ম্যাচে মুম্বইয়ের কাছে লজ্জার হার ধোনিদের

সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে চূড়ান্ত অসম্মানিত ধোনি ব্রিগেড। আইপিএলের প্রায় গুরুত্বহীন ম্যাচে রোহিত শর্মার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে হারতে হল ৫ উইকেটে। অঙ্কের বিচারে প্লে অফের যাওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা ছিল চেন্নাইয়ের। স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে গেলে জিততেই হত চেন্নাইকে। কিন্তু জ্বলে উঠতে পারলেন না ধোনিরা। চূড়ান্ত ব্যাটিং বিপর্যয় পরাজয়ের দিকে ঠেলে দিল চেন্নাইকে। ড্যানিয়েল স্যামস, যশপ্রীত বুমরা, রিলে মেরেডিথদের বোলিংয়ের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেন না ডেভন কনওয়ে, ঋতুরাজ গায়কোয়াররা।টস জিতে এদিন চেন্নাইকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। দ্বিতীয় বলেই ধাক্কা চেন্নাই সুপার কিংসের। ড্যানিয়েল স্যামসের বল কনওয়ের প্যাডে লাগে। উইকেটে পড়ে লেগ স্টাম্পের বাইরে যাচ্ছিল। তা সত্ত্বেও আম্পায়ার চিরা রবিকান্তরেড্ডি কনওয়েকে লেগ বিফোর আউট দেন। ওই সময় স্টেডিয়ামে বিদ্যুৎ ছিল না। তাই ডিআরএসের সুবিধা নিতে পারেননি কনওয়ে (০)। ওই ওভারের চতুর্থ বলে মইন আলিকেও (০) তুলে নেন স্যামস। পরের ওভারে আবার দুর্ভাগ্যের শিকার চেন্নাই সুপার কিংস। এবার বুমরার শিকার রবিন উথাপ্পা (১)। তাঁকে এলবিডব্লু আউট দেন ক্রিস গাফানি। সেই বিদ্যাউৎ বিভ্রাটের জন্য উথাপ্পাও ডিআরএস নিতে পারেননি।পঞ্চম ওভারের প্রথম বলেই ফর্মে থাকা ঋতুরাজ গায়কোয়াড়কে (৭) তুলে নেন ড্যানিয়েল স্যামস। ১৭ রানে ৪ উইকটে হারিয়ে চূড়ান্ত ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে চেন্নাই। সেখান থেকে আর ম্যাচে ফিরতে পারেননি। অম্বাতি রায়ুডু (১০) ও শিবম দুবেকে (১) তুলে নিয়ে চেন্নাইয়ের মিডল অর্ডারে ধস নামান রিলে মেরেডিথ। ডোয়েন ব্র্যাভো (১২) ও সিমরনজিৎ সিংকে (২) তুলে নেন কুমার কার্তিকেয়া। মহেশ থিকসানাকে (০) ফেরান রমনদীপ সিং। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকলেও লড়াই চালিয়ে যান মহেন্দ্র সিং ধোনি। যদিও দলকে ১০০ রানের গন্ডি পার করে দিতে পারেননি। ১৬ ওভারে ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় চেন্নাই। ৩৩ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন ধোনি। ১৬ রানে ৩ উইকেট নেন ড্যানিয়েল স্যামস। জয়ের জন্য ৯৮ রানের লক্ষ্য মোটেই কঠিন ছিল না মুম্বইয়ের কাছে। কম রানের পুঁজি নিয়েও দারুণ লড়াই শুরু করেন চেন্নাই বোলাররা। প্রথম ওভারেই ঈশান কিশনকে (৬) তুলে নেন মুকেশ চৌধুরী। ২ ওভার পরেই রোহিত শর্মাকে (১৮) ফেরান সিমরনজিত সিং। পঞ্চম ওভারে এক বলের ব্যবধানে ড্যানিয়েল স্যামস (১) ও ট্রিস্টান স্টুবাসকে (০) তুলে নিয়ে মুম্বইকে চাপে ফেলে দেন মুকেশ চৌধুরী। ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারায় মুম্বই। এরপর মুম্বইকে টানেন ঋত্বিক সোকেন ও তিলক ভার্মা। ঋত্বিক (১৮) আউট হওয়ার পর মুম্বইকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন তিলক (অপরাজিত ৩৪) ও টিম ডেভিড (অপরাজিত ১৬)। ১৪.৫ ওভারে ১০৩/৫ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় মুম্বই।

মে ১২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সম্মানরক্ষার লড়াইয়ে রোহিতদের থেকে কেন এগিয়ে ধোনিরা?‌

প্লে অফের লড়াই থেকে আগেই ছিটকে গেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। অঙ্কের বিচারে চেন্নাই সুপার কিংসের আশা টিকে থাকলেও প্লে অফের স্বপ্ন দেখেন না অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তাই দুই দলেই সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে। রবীন্দ্র জাদেজার হাত থেকে আবার নেতৃত্বের ব্যাটন তুলে নেওয়ার পর দলকে জয়ের রাস্তায় ফিরিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। তাঁর নেতৃত্বেই শেষ তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জয় পেয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধেও জয় তুলে নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। রোহিত শর্মা দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে একদিকে যেমন স্বস্তি রয়েছে, তেমনই রয়েছ অস্বস্তিও। স্বস্তির খবর হল আগের ম্যাচে ডেভন কনওয়ের দুরন্ত ব্যাটিং। ফর্মে রয়েছেন আর এক ওপেনার ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ও। আর অস্বস্তির খবর হল চলতি আইপিএল থেকে রবীন্দ্র জাদেজার ছিটকে যাওয়া। চোটের জন্য আগের ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধেও খেলতে পারবেন না। বাকি ম্যাচগুলোও তাঁর পক্ষে মাঠে নামা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন চেন্নাই সুপার কিংসের সিইও কাশী বিশ্বনাথন। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে চেন্নাই সুপার কিংসকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে সাম্প্রতিক ফর্ম। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ৯১ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল চেন্নাই। ওই ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন ডেভন কনওয়ে ও ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। এই দুই ব্যাটার ধারাবাহিকতা দেখাতে পারলে সমস্যায় পড়বে মুম্বই। দলের ব্যাটারদের মতো চেন্নাইকে ভরসা দিয়েছে বোলাররাও। দুই তরুণ জোরে বোলার মুকেশ চৌধুরি, সিমরনজিৎ সিং দুর্দান্ত বোলিং করছেন। মইন আলি, মহেশ থিকসানাও স্পিন বিভাগকে দারুণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে চেন্নাই। প্রথম দল হিসেবে এবারের আইপিএলের প্লে অফের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। তাঁদের কাছে এখন শুধু সম্মানরক্ষার লড়াই। গুরুত্বহীন এই ম্যাচ হলেও রোহিত, ঈশান কিষানদের কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেকটাই। একদিকে যেমন রোহিত শর্মার কাছে ফর্মে ফেরা, অন্যদিকে নিলামে চড়া দামে বিক্রি হওয়া ঈশান কিষানের নিজেকে প্রমাণ করার। চলতি মরশুমে ১১ ম্যাচে ৩২১ রান করেছেন ঈশান। তাঁর ও রোহিত শর্মার ওপর বেশি নির্ভর করেই এবছর দল গড়েছিল মুম্বই টিম ম্যানেজমেন্ট। অথচ এই দুই ব্যাটারই দলকে নির্ভরতা দিতে পারেননি। মূলত ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্যই এবছর ডুবতে হয়েছে আইপিএলে সবথেকে বেশি সাফল্য পাওয়া দলকে। বুমরাও শুরুর দিকে তেমন ছন্দে ছিলেন না। আগের ম্যাচে দুরন্ত বোলিং করেছেন। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে নিজেকে প্রমাণ করাটা বুমরার কাছেও চ্যালেঞ্জ।

মে ১২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ছক্কার রেকর্ড!‌ ক্রিস গেইলদের তালিকায় ঢুকে গেলেন রোহিত

শুক্রবার গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ছিল সম্মান রক্ষার লড়াই। সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি একটা কৃতিত্বের অধিকারী হলেন রোহিত শর্মা। আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ২০০ ছক্কার মাইলস্টোনে পৌঁছে গেলেন। পুল শটের ব্যাপারে রোহিত শর্মার সমকক্ষ বিশ্বের খুব কম ব্যাটারই রয়েছেন। তিনি যখন ছন্দে থাকেন, তাঁর পুল শট দেখাটা সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার। একেবারে নয়নাভিরাম শট। রোহিত শুক্রবার মুম্বইয়ের ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধে তাঁর ট্রেডমার্ক পুল শট মেরে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন। চলতি আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধেই তিনি সর্বোচ রান করেন। ২৮ বলে ৪৩ রান করে তিনি রশিদ খানের বলে এলবিডব্লু হন। এদিন ম্যাচের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে আলজেরি জোসেফের বলে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে পুল শটে ছক্কা মেরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে সর্বোচ্চ ২০০টি ছক্কা মারার রেকর্ড করেন রোহিত। কায়রন পোলার্ডের পরে রোহিত শর্মাই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। কায়রন পোলার্ড মেরেছেন ২৫৭টি ছক্কা। এদিন মহম্মদ সামির বলেও ল্যাপ শটে আর একটি ছক্কা মারেন রোহিত। এদিন ২০০ ছক্কার মাইলস্টোনে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে আইপিএলে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কার অভিজাত তালিকায় নিজের নাম তুলেছেন। একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে সবথেকে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ড রয়েছে ক্রিস গেইলের। ক্রিস গেইল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে ২৬৩টি ছক্কা মেরেছেন। তাঁর পরেই রয়েছেন কায়রন পোলার্ড। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে এবি ডিভিলিয়ার্স। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে তিনি মেরেছেন ২৪০টি ছক্কা। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন বিরাট কোহলি। তিনি মেরেছেন ২২৮টি ছক্কা।এছাড়া আইপিএলে ২০০ ছক্কার ক্লাবে রয়েছেন চেন্নাই সুপার কিংসের সুরেশ রায়না। তিনি মেরেছেন ২২০ ছক্কা। মহেন্দ্র সিং ধোনি মেরেছেন ২১৮ ছক্কা। আইপিএলে সবচেয়ে বেশি রান করার তালিকায় ডেভিড ওয়ার্নারকেও ছাড়িয়ে গেলেন রোহিত। ৬৪৯৯ রান করে বিরাট কোহলি তালিকার শীর্ষে। শিখর ধাওয়ানস করেছেন ৬১৫৩। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে রোহিত।

মে ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

এভাবেও ফিরে আসা যায়!‌ সম্মানের লড়াইয়ে শেষ ওভারে নাটকীয় জয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের

এভাবেও ফিরে আসা যায়! মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। নিশ্চিত হারা ম্যাচ জিতল রোহিত শর্মার দল। নাটকীয় ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সকে হারাল ৫ রানে। শেষ ওভারে নাটক জমে ওঠে। ৬ বলে গুজরাটের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৯। ড্যানিয়েল স্যামসের প্রথম বলে ওঠে ১ রান। দ্বিতীয় বলে কোনও রান হয়নি। তৃতীয় বলে ২ রান নিতে গিয়ে রান আউট রাহুল তেওয়াটিয়া (৩)। চতুর্থ বলে ১ রান। পঞ্চম বলে কোনও রান হয়নি। শেষ বলেও কোনও রান নিতে পারেননি ডেভিড মিলার (১৪ বলে অপরাজিত ১৯)। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারালেই প্লে অফ নিশ্চিত হয়ে যেত। নাটকীয় ম্যাচে ৫ রানে হেরে প্লে অফের ছাড়পত্র ঝুলিয়ে রাখল। জয়ের জন্য ১৭৮ রান তাড়া করতে নেমে ১৭২/৬ রানে থেমে গেল গুজরাট টাইটান্স। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে শেষ ওভারে নাটকীয় জয় এনে দেন ড্যানিয়েল স্যামস।এদিন গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে বড় রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল রোহিত শর্মার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। প্রথমে ব্যাট করে তুলেছিল ১৭৭। মনে হচ্ছিল আগের ম্যাচে চলতি আইপিএলে প্রথম জয় পাওয়া মুম্বই ইন্ডিয়ান্স গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। ব্যাটারদের লড়াই একসময় মূল্যহীন হয়ে যাচ্ছিল বোলারদের ব্যর্থতায়। শেষ মুহূর্তে দারুণ প্রত্যাবর্তন। শুরুতে গুজরাট টাইটান্সের দুই ওপেনার ঋদ্ধিমান সাহা ও শুভমান গিলের সামনে তেমন কোনও প্রভাব ফেলতে পারেননি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বোলাররা। ওপেনিং জুটিতে ১২ ওভারে দুজনে তোলেন ১০৬। মুরুগান অশ্বিন গুজরাটকে প্রথম ধাক্কা দেন। ১৩তম ওভারের প্রথম বলে তুলে নেন শুভমান গিলকে। ৩৬ বলে ৫২ রান করে আউট হন শুভমান। একই ওভারের শেষ বলে ঋদ্ধিমানকেও ফেরান অশ্বিন। ৪০ বলে ৫৫ রান করেন ঋদ্ধি।একই ওভারে পরপর ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় গুজরাট। চাপ আরও বেড়ে যায় সাই সুদর্শন (১১ বলে ১৪) ও হার্দিক পান্ডিয়া (১৪ বলে ২৪) ১০ বলের ব্যবধানে আউট হওয়ায়। জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে ২০ রান দরকার ছিল গুজরাটের। ১৯তম ওভারে যশপ্রীত বুমরার বলে ওঠে ১১।টস জিতে এদিন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন গুজরাট টাইটান্সের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে প্রথম ধাক্কা খায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। রশিদ খানের বলে এলবিডব্লু হন রোহিত। প্রথমে অন ফিল্ড আম্পায়ার রোহিতকে আউট দেননি। রশিদ ডিআরএসের আশ্রয় নেন। টিভি আম্পায়র রিপ্লে দেখে রোহিতকে আউট দেওয়ার কথা বলেন অন ফিল্ড আম্পায়ারকে। ৫টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ২৮ বলে ৪৩ রান করেন রোহিত। তিনি আউট হওয়ার ২ ওভার পরেই সূর্যকুমার যাদবকে তুলে নেন প্রদীপ সাঙ্গোয়ান। ১১ বলে ১৩ রান করেন সূর্যকুমার। দ্বাদশ ওভারের শেষ বলে ঈশান কিষানকে তুলে নেন আলজেরি জোশেফ। ২৯ বলে ৪৫ রান করেন ঈশান। ঈশান আউট হওয়ার পর রান তোলার গতি কমে যায় মুম্বইয়ের। কায়রন পোলার্ড চলতি আইপিএলে একেবারেই ছন্দে নেই। এদিন ১৪ বলে মাত্র ৪ রান করে রশিদ খানের গুগলিতে পরাস্ত হয়। তিলক ভার্মা ১৬ বলে করেন ২১ রান। শেষদিকে টিম ডেভিড ঝড় তুলে মুম্বইকে ১৭৭/৬ রানে পৌঁছে দেন। ২১ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন টিম ডেভিড। এদিন দারুণ বোলিং করে ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ২টি উইকেট তুলে নেন রশিদ খান।

মে ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

লিগ টেবিলে সম্মানজনক জায়গায় শেষ করাই এখন লক্ষ্য রোহিত শর্মার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের

টানা ৮ ম্যাচ হেরে প্লে অফের স্বপ্ন আগেই শেষ করে ফেলেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। বাকি ম্যাচ জিতলেও প্লে অফে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। লিগ টেবিলে সম্মানজনক জায়গায় শেষ করাই এখন লক্ষ্য রোহিত শর্মার দলের। সেই লক্ষ্যে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে বড় রান তুলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে তুলল ১৭৭।টস জিতে এদিন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন গুজরাট টাইটান্সের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। আগের ম্যাচে প্রথম জয় পাওয়া মুম্বই ইন্ডিয়ান্স একটা পরিবর্তন করে মাঠে নামে। ঋত্ত্বিক সোকেনের জায়গায় মুরুগান অশ্বিন প্রথম একাদশে ঢোকেন। ব্যাট করতে নেমে এদিন দারুণ শুরু করেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। দুই ওপেনার ঈশান কিষান ও অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে দেখে মনে হচ্ছিল ভাল ছন্দে রয়েছেন। ওপেনিং জুটিতে দুজনে তোলেন ৭৪। সেই সময় মুম্বইয়ের রান তোলার গড় ছিল ওভার প্রতি ১০এর ওপরে। অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে প্রথম ধাক্কা খায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। রশিদ খানের বলে এলবিডব্লু হন রোহিত। প্রথমে অন ফিল্ড আম্পায়ার রোহিতকে আউট দেননি। রশিদ ডিআরএসের আশ্রয় নেন। টিভি আম্পায়র রিপ্লে দেখে রোহিতকে আউট দেওয়ার কথা বলেন অন ফিল্ড আম্পায়ারকে। ৫টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ২৮ বলে ৪৩ রান করেন রোহিত। তিনি আউট হওয়ার ২ ওভার পরেই সূর্যকুমার যাদবকে তুলে নেন প্রদীপ সাঙ্গোয়ান। ১১ বলে ১৩ রান করেন সূর্যকুমার। দ্বাদশ ওভারের শেষ বলে ঈশান কিষানকে তুলে নেন আলজেরি জোশেফ। ২৯ বলে ৪৫ রান করেন ঈশান। ঈশান আউট হওয়ার পর রান তোলার গতি কমে যায় মুম্বইয়ের। কায়রন পোলার্ড চলতি আইপিএলে একেবারেই ছন্দে নেই। এদিন ১৪ বলে মাত্র ৪ রান করে রশিদ খানের গুগলিতে পরাস্ত হয়। তিলক ভার্মা ১৬ বলে করেন ২১ রান। শেষদিকে টিম ডেভিড ঝড় তুলে মুম্বইকে ১৭৭/৬ রানে পৌঁছে দেন। ২১ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন টিম ডেভিড। এদিন দারুণ বোলিং করে ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ২টি উইকেট তুলে নেন রশিদ খান।

মে ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আবার ব্যর্থ রোহিত, তবে দুঃসময় কাটিয়ে প্রথম জয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের

বিরাট কোহলি রান পেলেও খারাপ সময় কাটিয়ে উঠতে পারলেন না রোহিত শর্মা। ক্যাপ্টেন ব্যর্থ হলেও ৮ ম্যাচ পর অবশেষে চলতি আইপিএলে প্রথম জয়ের মুখ দেখল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এদিন রাজস্থান রয়্যালসকে হারাল ৫ উইকেটে। এদিন বড় রান তুলতে পারেনি রাজস্থান রয়্যালস। তাদের ২০ ওভারে ১৫৮/৬ রানে বেঁধে রেখেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। জয়ের জন্য ১৫৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় মুম্বই। তৃতীয় ওভারেই রোহিত শর্মাকে (২) তুলে নেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ঈশান কিশানের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল এদিন বড় রান পেতে চলেছেন। ভাল শুরুও করেছিলেন। শেষপর্যন্ত ট্রেন্ট বোল্টের বলে উইকেটের পেছনে সঞ্জু স্যামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারের মধ্যেই ৪১ রানে ২ উইকেট হারায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান সূর্যকুমার যাদব ও তিলক ভার্মা। এই দুই ব্যাটারই মুম্বইয়ের মিডল অর্ডারে বড় ভরসা। দুজনের জুটিতে ওঠে ৮১ রান। পঞ্চদশ ওভারের শেষ বলে সূর্যকুমারকে তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন যুজবেন্দ্র চাহাল। ৩৯ বলে ৫১ রান করে আউট হন সূর্য। পরের ওভারেই তিলক ভার্মাকে তুলে নেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। ৩০ বলে ৩৫ রান করে আউট হন তিলক ভার্মা। ৪ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান তুলে জয়ের খরা কাটায় মুম্বই। ৯ বলে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন টিম ডেভিড। পোলার্ড করেন ১০।এদিকে, আইপিএলের অভিষেক ম্যাচেই নজর কাড়লেন কুমার কার্তিকেয়া। জস বাটলারের মতো বিধ্বংসী ব্যাটারকেও আটকে রাখলেন। কার্তিকেয়ার আঁটোসাঁটো বোলিংয়ের জন্যই নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৮/৬ রানের বেশি তুলতে পারেনি রাজস্থান রয়্যালস। এদিন অবশ্য রাজস্থানকে প্রথম ধাক্কা দেন ঋত্ত্বিক সোকেন। তাঁর বলে কায়রন পোলার্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন পাড়িক্কল। ১৫ বলে তিনি করেন ১৫। সঞ্জু স্যামসন এসে আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেন। দুটি ছক্কা মেরে ৭ বলে ১৬ রান করে তিনি কুমার কার্তিকেয়ার বলে টিম ডেভিডের হাতে ধরা পড়েন। আইপিএলের অভিষেক ম্যাচেই দুরন্ত বোলিং করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১৯ রান খরচ করে ১ উইকেট তুলে নেন। এদিনও রাজস্থান রয়্যালসের ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান। ৫২ বলে ৬৭ রান করে তিনি। ড্যারেল মিচেল ২০ বলে করেন ১৭, রিয়ান পরাগও (৩) এদিন ব্যর্থ। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৯ বলে করেন ২১।

এপ্রিল ৩০, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

চেয়ার নিয়ে বিধানসভায় নাটক! মমতার আসনে বসতে রাজি নন ঋতব্রত, কেন?

বিধানসভায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে বুধবার বিরোধী দলনেতার ঘর ঘিরে তৈরি হল এক অন্যরকম পরিস্থিতি। বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে বিরোধী দলনেতার ঘরে প্রবেশ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার সচিবালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর তাঁকে ঘরের দায়িত্বও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে ঘরে ঢোকার পর একটি ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।ঘরে থাকা একটি চেয়ারে বসতে গেলে তাঁকে জানানো হয়, সেটি একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত চেয়ার। সেই কথা শুনেই ওই আসনে বসতে অস্বীকার করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিতদের কাছে তিনি অন্য একটি চেয়ার আনার অনুরোধ জানান। পরে তাঁর জন্য বিকল্প আসনের ব্যবস্থা করা হয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কারণেই তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকাবুধবারের সাংবাদিক বৈঠকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন ঋতব্রত। তিনি জানান, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং বর্তমান পরিষদীয় লড়াইয়ের লক্ষ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করা নয়। বরং দলের ভবিষ্যৎ পথচলায় তিনি চাইলে পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন।ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বিধানসভায় যে নতুন পরিষদীয় গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে কিছু নেতার মতপার্থক্য থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁদের সম্মান অটুট রয়েছে। তিনি আরও জানান, দলের ভবিষ্যৎ দিশা নিয়ে মমতার সঙ্গে আলোচনা করার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁদের।উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়। একাধিক বিধায়কের অবস্থান বদল এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণকে কেন্দ্র করে শুরু হয় জোর জল্পনা। সেই আবহেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।আরও পড়ুনঃ সই জাল বিতর্কে চাপ বাড়ছে অভিষেকের! গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টে ছুটলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতাবুধবার সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁদের রাজনৈতিক যাত্রা এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের মূল শিবিরের নেতারা দাবি করেছেন, দল এবং দলের নেতৃত্বের পাশে এখনও বিপুল সংখ্যক সমর্থক রয়েছেন।সব মিলিয়ে বিরোধী দলনেতার ঘরে একটি চেয়ারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনাই এখন রাজনৈতিক মহলের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সই জাল বিতর্কে চাপ বাড়ছে অভিষেকের! গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টে ছুটলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিধানসভার তথাকথিত সই জাল কাণ্ড। এই ঘটনায় এবার সরাসরি আইনি চাপে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তের মুখে পড়ে গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং একই সঙ্গে সিআইডি-র তদন্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তা আইনসম্মত নয়। বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের বেঞ্চ তাঁর আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি শুনানির অনুমতি দিয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবার এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে পারে।সমস্ত বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের একটি চিঠিকে ঘিরে। ওই চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেপুটি লিডার এবং ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। চিঠিটি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়ার পর তা যাচাই করতে গিয়ে একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে।তদন্তে উঠে আসে, তালিকাভুক্ত ৭০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ১৪ জনের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরের জায়গায় শুধুমাত্র বড় হাতের অক্ষরে নাম লেখা রয়েছে। আরও কয়েকজন বিধায়কের সই নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, তাঁদের অনুমতি বা উপস্থিতি ছাড়াই স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।আরও পড়ুনঃ মূল উপড়ে তৃণ ভূপতিত! পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ঋতব্রতঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকার তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেয়। তদন্ত শুরু হওয়ার পর গত শনিবার সিআইডি-র একটি বিশেষ দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেয়। সেই নোটিশে নির্দিষ্ট দিনে ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে হাজিরা না দিয়ে অভিষেক তদন্তকারী সংস্থার কাছে অতিরিক্ত সময় চান। এরপরই তিনি আইনি পথে এগিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।এই মামলার রাজনৈতিক দিকটিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাই প্রথম এই জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ তুলে বিধানসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরপরই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ওই দুই বিধায়ককে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকারাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক বিতর্ক নয়; বরং এটি রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবং নেতৃত্বের প্রশ্নকেও সামনে এনে দিয়েছে। একদিকে তদন্তের জাল ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে, অন্যদিকে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত আইনি লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন।এখন সকলের নজর আগামী শুক্রবারের হাইকোর্ট শুনানির দিকে। আদালত সিআইডি-র তদন্তে হস্তক্ষেপ করে কি না, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পান কি না, এবং এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত কতদূর গড়ায়তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজ্য

'হেভিওয়েট'-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের 'কাকা'

বর্ধমানের রাজনীতিতে একসময় যাঁর নাম উচ্চারণ করতেই বিরোধী শিবিরে চাপা উত্তেজনা তৈরি হতো, সেই খোকন দাসের বর্তমান পরিস্থিতি যেন একেবারেই ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে। তোলাবাজি, হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মঙ্গলবার বর্ধমান আদালতে তাঁকে এমন এক অবস্থায় দেখা গেল, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। জনরোষের আশঙ্কায় মাথায় হেলমেট পরে, পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আদালতে হাজির হতে হল বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে।একসময় বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় খোকন দাসের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাঁকে তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী মুখ হিসেবে ধরা হতো। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে শুরু করে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।গত ২৯ মে বর্ধমান থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো, মোটা অঙ্কের টাকা তোলা দাবি করা, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর ঘটনাতেও খোকন দাসের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি আত্মগোপন করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।তদন্তে নেমে বর্ধমান থানার পুলিশ উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে তাঁর অবস্থানের খোঁজ পায়। এরপর গত ৩১ মে সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ট্রানজিট রিমান্ডে সোমবার রাতে তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়, যাতে অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা যায়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগটি ২০২৫ সালের ৮ জুনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, বর্ধমানের কাঞ্চননগর এলাকায় একটি বাড়িতে বিজেপি কর্মীরা বৈঠক করছিলেন। সেই সময় খোকন দাসের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি সেখানে গিয়ে হামলা চালায় এবং কয়েকজন কর্মীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে পরবর্তী ঘটনাকে ঘিরে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরা চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানেও তাঁদের উপর পুনরায় হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। শুধু মারধরই নয়, ১০ লক্ষ টাকা তোলা দাবি এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভয় দেখাতে আগ্নেয়াস্ত্রও প্রদর্শন করা হয়েছিল।এই সমস্ত অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারীদের মতে, অভিযোগগুলির গুরুত্ব বিচার করে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অন্যদিকে, খোকন দাসের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে আদালতে এখনও চূড়ান্ত রায় হয়নি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান।মঙ্গলবার আদালতে তাঁকে পেশ করা ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য আদালত চত্বর ও বর্ধমান থানা এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। আদালত চত্বরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো।সব মিলিয়ে, যে নেতা একসময় এলাকায় নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন, আজ তাঁকেই জনরোষের আশঙ্কায় মাথায় হেলমেট পরে আদালতে যেতে হওয়ায় বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর সকলের।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

পুরসভা, সিআইডির পর এবার অভিষেকের বাড়িতে ইডি! নতুন করে চাঞ্চল্য রাজ্য রাজনীতিতে

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। বাড়ির নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন তদন্তসব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে তাঁকে নিয়ে জোর চর্চা চলছে। এর মধ্যেই বুধবার বিকেলে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।সূত্রের খবর, বিকেল নাগাদ দুই ইডি আধিকারিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। তাঁদের হাতে একটি সমন সংক্রান্ত নথি ছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, চলমান তদন্তের অংশ হিসেবেই এই নোটিস পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।প্রথমে তদন্তকারী আধিকারিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্য একটি ঠিকানায় যান। পরে জানতে পারেন তিনি সেখানে থাকেন না। এরপর তাঁরা কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় নথি পৌঁছে দেন বলে সূত্রের দাবি।তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন তদন্তের প্রয়োজনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অতীতে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্তে তাঁদের নাম উঠে এসেছিল বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তেও অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় তাঁর সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিভিন্ন নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়।অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁরা আইন মেনেই সমস্ত তদন্তে সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।বুধবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং সমনের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজনীতি

'মূল' উপড়ে 'তৃণ' ভূপতিত! পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ঋতব্রত

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বুধবারের দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল। দীর্ঘ টানাপোড়েন, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং বিধানসভার সই-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ কার্যত বিদ্রোহী শিবিরের হাতে চলে গেল। বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর তাঁর জন্য নির্ধারিত কক্ষও খুলে দেওয়া হয়। স্পিকার রথীন্দ্র বসু আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ঘরের চাবি তুলে দেন ঋতব্রতের হাতে।বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে ঋতব্রত দাবি করেন, তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬০ জন তাঁর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বর্তমানে ৫৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থন তাঁদের হাতে রয়েছে বলেও তিনি জানান। আরও দুই বিধায়ক রাজ্যের বাইরে থাকলেও তাঁদের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সেই হিসেবে তৃণমূল পরিষদীয় দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যই এখন বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে রয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্য।নতুন বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করেন যে, বিধানসভায় মুখ্যসচেতকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানকে। পাশাপাশি ডেপুটি লিডার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা। এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও সমর্থনের চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।তবে রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও ঋতব্রত এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, তাঁদের লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে। সেই কারণেই তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের পরামর্শদাতা হওয়ার আহ্বান জানাবেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দূরত্ব এখন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।ঋতব্রতের বক্তব্যে উঠে আসে বিরোধী রাজনীতির নতুন রূপরেখাও। তিনি বলেন, সরকারের ভুলের সমালোচনা যেমন করা হবে, তেমনই জনস্বার্থে গৃহীত ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করা হবে। তাঁর কথায়, মানুষ আমাদের বিরোধী আসনে বসিয়েছে। সেই দায়িত্ব পালন করাই আমাদের কাজ। আমরা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করব।এই নাটকীয় পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছিল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের তরফে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার জন্য যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, তা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে আসে এবং পরবর্তীতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে।ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় কারণ, এই বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে নতুন করে আবেদন জানিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পিকার ঋতব্রত শিবিরের দাবি মেনে নেওয়ায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নতুন মাত্রা পেল।অন্যদিকে, যখন বিধানসভায় ঋতব্রত নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা করছেন, ঠিক সেই সময় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। ফলে রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পরিষদীয় দলের নেতৃত্ব হারানো শুধু সাংগঠনিক ধাক্কাই নয়, বরং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করল। এখন নজর থাকবে কালীঘাট শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি কতটা স্থায়ীভাবে ধরে রাখা যায়, তার উপর।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

অভিষেকের বাড়ি নিয়ে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের! সাত দিনের মধ্যে দিতে হবে সব তথ্য

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি নিয়ে চলা বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সম্পত্তির কোন কোন অংশ নিয়ে আপত্তি রয়েছে এবং কোথায় নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুরনিগমকে।বুধবার বিচারপতি স্মিতা দাস দে নির্দেশ দেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে পুরনিগমকে এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য আদালতে জানাতে হবে। সম্পত্তির কোন অংশে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে, কতটা এলাকা সেই অভিযোগের আওতায় পড়ছে এবং কী ধরনের আপত্তি রয়েছে, তার পূর্ণ বিবরণ জমা দিতে হবে।আদালত আরও জানিয়েছে, পুরনিগমের রিপোর্ট জমা পড়ার পর সম্পত্তির মালিকপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে। এরপর চার সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।জানা গিয়েছে, এই মামলায় শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন নয়, তাঁর মায়ের নামে থাকা কালীঘাটের একটি সম্পত্তিও আলোচনায় এসেছে। পুরনিগমের দাবি, ওই সম্পত্তির কিছু অংশে নির্মাণ সংক্রান্ত অনিয়ম থাকতে পারে। সেই কারণেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধভাবে নির্মিত। তাঁদের বক্তব্য, কোনও বেআইনি নির্মাণ হয়নি। তা সত্ত্বেও পুরনিগম নোটিস পাঠিয়েছে। সেই কারণেই নোটিস বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।আদালত স্পষ্ট করেছে, মামলার শুনানি চলাকালীন বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে পুরনিগম। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সমস্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হবে।এই নির্দেশের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংক্রান্ত মামলাটি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুরনিগমের রিপোর্টে কী তথ্য সামনে আসে এবং আদালত পরবর্তী শুনানিতে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

বড় ধাক্কা তৃণমূলে! মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ, কালীঘাটে কী হল ভিতরে ভিতরে?

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন দ্রুত বদলাচ্ছে, ঠিক সেই সময় কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। বুধবার তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরে সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়।দিনভর রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার আগে তিনি নবান্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন। এরপর কালীঘাটে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানান।দলীয় সূত্রের দাবি, গত কিছুদিন ধরেই মেয়র হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনে নানা সমস্যার মুখে পড়ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং পুরসভার বিভিন্ন কাজকর্ম পরিচালনা নিয়ে তাঁর অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলেও আলোচনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। সেই কারণেই তিনি একাধিকবার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়।মঙ্গলবারই কলকাতা পুরসভার এক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর ইস্তফার পর রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়ে যায়। সেই সময় ফিরহাদ হাকিমের একটি মন্তব্যও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। তিনি বলেছিলেন, তাঁরা একটি দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও একসঙ্গেই নেন। এরপর থেকেই তাঁর ইস্তফা নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।বুধবার শেষ পর্যন্ত কালীঘাটে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ইচ্ছা জানান তিনি। প্রথমে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হলেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন ফিরহাদ। পরে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় বলে দলীয় সূত্রে খবর।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকাতৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, মেয়র হিসেবে কাজ করতে নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সেই কারণেই তিনি সম্মানের সঙ্গে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলীয় নেতৃত্বও তাঁর সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দিয়েছে।ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের ফলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব আপাতত পুর কমিশনারের হাতে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।এদিকে চলতি বছরের শেষের দিকে পুরভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

‘মমতা আমাদের পরামর্শদাতা হোন’! বিধানসভা কাঁপানো মন্তব্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের

দাবি করা একদল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় উপস্থিত হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে দেখতে চান। তাঁর কথায়, মমতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং পরামর্শ তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তিনি জানান, গঠনমূলক বিরোধী রাজনীতি করতে গেলে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পরামর্শ প্রয়োজন এবং সেই জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমান বিধানসভার কার্যক্রমের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই বলে তাঁদের মত। ঋতব্রতের দাবি, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত বহু বিধায়কের সমর্থন তাঁদের সঙ্গে রয়েছে এবং সেই কারণেই তাঁরা নিজেদের প্রকৃত পরিষদীয় প্রতিনিধিত্বকারী গোষ্ঠী বলে মনে করছেন।সাংবাদিক বৈঠকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কথা বলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তাঁরা বিধানসভার ভিতরে গঠনমূলক বিরোধিতার পথেই হাঁটবেন। কোনও বিল বা প্রস্তাবের সঙ্গে মতভেদ থাকলে তাঁরা তার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন, তবে শুধুমাত্র প্রতিবাদের জন্য সভা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথে হাঁটবেন না।ঋতব্রতের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করতে চান তাঁরা। মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সরকারের সমালোচনা যেমন করবেন, তেমনই ভালো উদ্যোগকে সমর্থনও জানাবেন।এই মন্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হিসেবে চাওয়ার বার্তা এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন রূপরেখা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

জুন ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal