• ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Resignation

দেশ

‘ককরোচ’-এর আন্দোলনে বড় ধাক্কা কেন্দ্রের! তৃতীয় বৈঠকের আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, নতিস্বীকার কি সরকারের?

নিজস্ব সংবাদদাতা: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পালাবদলের ইঙ্গিত। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র লাগাতার আন্দোলন এবং দেশজুড়ে তৈরি হওয়া প্রতিবাদের আবহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে প্রথম থেকেই সরব ছিল সিজেপি। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিলশিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনও সমঝোতাই সম্ভব নয়।এই পরিস্থিতিতে শনিবার কেন্দ্রের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর সামনে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এল কেন্দ্র?ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজেই সমাজমাধ্যমে তাঁর পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। জানা গিয়েছে, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয় এবং রাষ্ট্রপতি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে সূত্রের খবর।নিট পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি সামনে এনেছিল সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের দাবি, পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে এর জন্য রাজনৈতিক দায় স্বীকার করতে হবে।এই দাবিকে কেন্দ্র করেই গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সিজেপির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে মোট তিনটি প্রধান দাবি রাখা হয়েছিল। প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা এবং নিটের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।সরকারের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের ইতিমধ্যে দুদফা বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবির বিষয়ে সরকারের তরফে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে কোনও সমঝোতা হচ্ছিল না। বরং কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ ফের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রের তরফে আলোচনায় থাকার কথা ছিল জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের। কিন্তু বৈঠকের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা হয়ে যায়। এর ফলে আন্দোলনকারীদের প্রথম এবং মূল দাবিই কার্যত পূরণ হয়ে গেল।শনিবার সকালেই সিজেপির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে কেন্দ্র যদি কোনও সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে তৃতীয় দফার বৈঠকেরও কোনও অর্থ নেই। এমনকি আন্দোলনকারীদের তরফে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষোভের পরিধি আরও বাড়তে পারে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলতে পারে।এই আবহেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তাঁর নিজের বক্তব্যে পদত্যাগকে সরাসরি আন্দোলনের চাপের ফল হিসেবে তুলে ধরা হয়নি। বরং তিনি গত কয়েকদিনের পরিস্থিতির জন্য দুঃখপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তাঁর দাবি, কোনও মেধাবী পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নষ্ট হোক, তা তিনি কখনও চাননি।পদত্যাগের ঘোষণা করে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত ৩ মে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই তিনি বিষয়টির দায় নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কখনও তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মেধাবী পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা এবং কোনও শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্যায় না হওয়া।গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাঁকে ব্যথিত করেছে বলেও জানিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ যাতে কোনও দেশবিরোধী শক্তি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যাতে অটুট থাকে এবং আন্দোলনে যুক্ত কোনও পড়ুয়া যাতে আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়েএই বিষয়গুলিও তিনি বিবেচনায় রেখেছেন।ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশার প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তাঁর মতে, তরুণদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, গোটা সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থারও।তাঁর পদত্যাগের ঘোষণার পর এখন নজর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আন্দোলনকারীরা কি এই সিদ্ধান্তকে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পথ হিসেবে দেখবেন, নাকি তাঁদের বাকি দাবিগুলি নিয়ে আন্দোলন আরও জোরদার হবেতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।তবে একটি বিষয় স্পষ্টনিট পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন আর শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আস্থা পুনরুদ্ধার, পরীক্ষার নিরাপত্তা, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সেই বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালেও, বৃহত্তর প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও বাকি। আগামী দিনে কেন্দ্র কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং শিক্ষাব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

জুলাই ২৫, ২০২৬
রাজ্য

‘আনুগত্যের পুরস্কার’ থেকে ইস্তফা— তৃণমূলে বিস্ফোরণ, মমতাকে বার্তা: ভুঁইফোঁড়দের নয়, ফিরুন পুরনো সৈনিকদের কাছে

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিলেন বারাসতের সাংসদ তথা দলের প্রবীণ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। দলের বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি কার্যত শাসকদলের বর্তমান সাংগঠনিক রণকৌশল নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন। শুধু পদত্যাগ করেই থেমে থাকেননি কাকলি, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র উদ্দেশে সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন নতুন ভুঁইফোঁড় সংস্থা বা বাহ্যিক পরামর্শদাতাদের উপর নির্ভর না করে, দলের পুরনো নিষ্ঠাবান কর্মীদের উপরেই আস্থা রাখা হোক।এই পদক্ষেপ ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, কয়েক দিন আগেই দলের সংসদীয় মুখ্যসচেতকের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কাকলিকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ( Kalyan Banerjee)-কে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনায় কালীঘাটে হওয়া বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল।পদচ্যুত হওয়ার ঠিক পরের দিন সমাজমাধ্যমে কাকলির একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছিল ব্যাপক আলোচনা। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ১৯৭৬ থেকে পরিচয়, ১৯৮৪-তে পথচলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম। এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছিল তাঁর ক্ষোভ ও অভিমান।তার পর নয় দিন কাটতে না কাটতেই রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী (Subrata Bakshi)-র কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ালেন তিনি।চিঠিতে কাকলি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন,নেত্রী যদি আগের মতো পুরনো, পরীক্ষিত ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের নিয়ে দল চালান, তবে দলের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। ভুঁইফোঁড় সংস্থার উপর ভরসা করে কঠিন রাজনৈতিক লড়াই জেতা সম্ভব নয়।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যে পরোক্ষে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে যুক্ত পেশাদার সংস্থাগুলির ভূমিকাকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। বিশেষ করে নির্বাচনকেন্দ্রিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই প্যাক (Indian Political Action Committee)-এর ভূমিকা নিয়ে ভোট-পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের একাংশের অসন্তোষের ইঙ্গিত আগেও সামনে এসেছিল। কাকলির বক্তব্য সেই ক্ষোভকেই আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল বলে মনে করা হচ্ছে।ইস্তফাপত্রে তিনি রাজ্যের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে হলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, জবাবদিহি এবং মূল্যবোধকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।নিজের সাংগঠনিক ব্যর্থতার দায়ও এড়িয়ে যাননি কাকলি। বিধানসভা ভোটে তাঁর সাংগঠনিক এলাকায় দল প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। সেই নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিয়েই জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, কাকলির এই পদত্যাগ শুধুই ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরে জমতে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচনী ধাক্কার পর দল যখন আত্মসমালোচনার পর্যায়ে, তখন এক প্রবীণ সাংসদের এমন প্রকাশ্য বার্তা নিঃসন্দেহে দলীয় নেতৃত্বের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ সতর্কবার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।

মে ২৫, ২০২৬
কলকাতা

বিএলও-র ইস্তফা ঝড়! এসআইআর প্রক্রিয়া বিপর্যয়ের পথে? নির্বাচনী কমিশনের পদক্ষেপ প্রশ্নের মুখে

শেষ পর্যায়ে এসআইআর প্রক্রিয়া। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিএলও-দের অসন্তোষ ক্রমশ বেড়েছে। অতিরিক্ত কাজের চাপের অভিযোগ আগেই তুলেছিলেন বিএলও-রা। এবার অনেকেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে ইস্তফা দিতে শুরু করেছেন।রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিএলও-রা গণইস্তফা দিচ্ছেন। শনিবারই উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা ব্লকে প্রায় ২০০ জন বিএলও অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, একের পর এক নির্দেশিকা ও ম Thomson-এ কাজ করতে গিয়ে তাঁরা হয়রানি ও হেনস্থার মুখে পড়ছেন। বিডিও দফতরের সামনে গেট আটকে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে।বিএলও-দের অসন্তোষ জেলায় জেলায় বাড়ছে। স্বরূপনগরে গতকাল ৫৩ জন বিএলও একসঙ্গে ইস্তফা দিয়েছেন। সূত্রের খবর, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি বিএলও ইস্তফার আবেদন জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন কি পদক্ষেপ নেবে, তা এখনই প্রশ্নের মুখে। রাজনৈতিক কারণে কি এই ইস্তফার ঘটনা ঘটছে, তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে।এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলও-দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ৪ নভেম্বর থেকে তারা এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু করেছিলেন। কাজের চাপ এবং দীর্ঘ দায়িত্বের কারণে একাধিক বিএলও মৃত্যু বা আত্মহত্যার অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের পদক্ষেপই এখন সবার নজর কেড়েছে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজনীতি

একেই হুমায়ুন কবীরে অস্থির! এবার দুর্নীতির অভিযোগ জেলা পরিষদের সদস্যপদে ইস্তফা দাপুটে তৃণমূলনেত্রীর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। দলের হেভিওয়েট নেত্রী ও জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি শাহনাজ বেগম জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। শুধু পদত্যাগই নয়, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে নিজের দলের পরিচালিত জেলা পরিষদ বোর্ডকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।১৭ ডিসেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠান শাহনাজ বেগম। তার প্রতিলিপি জমা পড়েছে জেলা শাসকের কাছেও। তবে প্রশাসনিক চিঠির থেকেও বেশি আলোড়ন তৈরি করেছে তাঁর ফেসবুক পোস্ট। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, চোর জেলা পরিষদের একজন অংশীদার হয়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই এক লাইনের মন্তব্যেই জেলা তৃণমূল রাজনীতিতে তীব্র অস্বস্তি ছড়িয়েছে।শাহনাজ বেগম দাবি করেছেন, তিনি কখনও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভই যে এবার প্রকাশ্যে এসেছে, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে দলের অন্দরে এমন প্রকাশ্য বিদ্রোহ তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা।মুর্শিদাবাদ জেলা রাজনীতিতে শাহনাজ বেগম অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম। একসময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে জেলা পরিষদে তৃণমূলের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। ২০১৩ সাল থেকে সোমপাড়া, রামপাড়া ও রামনগর বাছড়া এলাকা থেকে টানা তিনবার নির্বাচিত হন তিনি। কর্মাধ্যক্ষ থেকে সহকারী সভাধিপতি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন শাহনাজ।যদিও আপাতত অন্য কোনও দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দেননি তিনি। তবে পদ ছাড়লেও এলাকার মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। এই বিস্ফোরক ইস্তফা মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫
রাজ্য

রাজ্যপালের পদত্যাগ দাবি মুখ্যমন্ত্রীর, রাজভবনে যাবেন না মমতা

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছিলেন রাজভবনেরই এক অস্থায়ী মহিলা কর্মী। যা ঘিরে আজ ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশানা করলেন সিভি আনন্দ বোসকে। রাজ্যপালের পদত্যাগ দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে এবার থেকে কোনও কাজে আর রাজভবনে যাবেন না বলেও সাফ জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তবে রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হলে কোথায় তিনি যাবেন তাও এদিন স্পষ্ট করেছেন তৃণমূলনেত্রী।মাননীয় রাজ্যপাল! আমার কী দোষ আপনি বলুন। আমি তো জানিই না ঘটনা পুরো। রাজ্যপালের তো পদত্যাগ করা উচিত। মহিলাদের উপর নির্যাতন করার আপনি কে? প্রেসকে ডেকে এডিট করে কিছু ভিডিও দেখিয়েছে। পুরোটা কি দেখিয়েছে? কপিটা আমার কাছে আছে। এখনও তো সব বেরোয়নি। আর একটা পেনড্রাইভ পেয়েছি। আরও কেলেঙ্কারি। বাবারে! আমাকে এখন রাজভবনে ডাকলে আমি আর যাব না। আমাকে রাস্তায় ডাকলে যাব। রাজ্যপালের কথা বলতে হলে আমাকে রাস্তায় ডাকবেন। রাস্তায় গিয়ে কথা বলে আসব। রাজভবনে আর যাব না। যা কীর্তি-কেলেঙ্কারি শুনছি তাতে আপনার পাশে বসাটাও পাপ।উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে। রাজভবনেরই এক অস্থায়ী কর্মী রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছেন। দুবার রাজভবনের পিস রুমে তাঁর শ্লীলতাহানি করেছেন সিভি আনন্দ বোস, এমনই অভিযোগে হেয়ার স্ট্রিট থানায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েছেন ওই মহিলা। যদিও রাজ্যপাল নিজে অবশ্য। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে পাল্টা সোচ্চার হয়েছেন রাজ্যপাল। রাজভবনের তরফে বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সেই ভিডিও নিয়েও তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এডিট করে ওই ভিডিও প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।

মে ১১, ২০২৪
রাজনীতি

সিপিএম বা কংগ্রেস নয়, কেন বিজেপিতে? ব্যাখ্যা দিলেন সদ্য প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব জল্পনার অবসান। শেষমেশ বিজেপিতেই যোগদান করছেন বলে মঙ্গলবার ঘোষণা করলেন সদ্য ইস্তফা দেওয়া বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বেশ কয়েকমাস ধরেই চর্চায় ছিল অভিজিৎবাবুর রাজনীতিতে যোগদানের বিষয়টি। এক সাক্ষাৎকারে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি আইনজীবী তথা বাম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে গুরু হিসাবে মানেন। তারপরই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি কখনও রাজনীতিতে এলে সিপিআইএমে যোগ দেবেন তিনি। সেই সম্ভাবনা আর নেই। কেন সিপিআইএম বা কংগ্রেসে যোগ দিলেন না বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়? এদিন নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে যুক্তি দিয়ে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সদ্য ইস্তফা দেওয়া এই বিচারপতি।অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিজেপিই একমাত্র দল, যারা তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তাই এই দলেই যোগদান করলাম। তাঁর কথায়, শেষ সাত দিন বিজেপির সঙ্গে কথা হয়েছে। দুপক্ষের সহমতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওই দিনগুলিতে বিচারের কাজ করিনি। ছুটিতে ছিলাম।এরপরই বিস্ফোরক অভিজিৎ বলেন, তৃণমূল একটি দুষ্কৃতীদের দল বলে মনে করি। তৃণমূলকে আমি রাজনৈতিক দল বলেই মনে করি না। তৃণমূল হল একটি আদ্যোপান্ত যাত্রাদল। ওদের যাত্রাপালার নাম হল মা-মাটি-মানুষ। স্পষ্ট বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকৃত রাজনীতিবিদ বলে আমি মনে করি। তবে অন্য যাঁর কথা বলছেন, তাকে আমি তালপাতার সেপাই বলে মনে করি।কে এই তালপাতার সেপাই? জবাবে অভিজিৎ বলেন, যাঁকে আপনারা সেনাপতি বলছেন। আমি কারও নাম করছি না। আমি তো এখানে কোনও কুকথা বলছি না। তাঁর নামটাকে আমি কুকথা বলে মনে করি। তালপাতার সেপাই বলেছে, বিচারব্যবস্থা ওর গ্রেফতারি আটকেছিল। তালপাতার সেপাই বিচার ব্যবস্থার কিছু জানেন না। ওঁর পেটে বোমা মারলেও কিছু বেরোবে না। তাঁর বিরুদ্ধে আদালত কিছু ব্যবস্থা নেয়নি, ওঁর ভাগ্য ভাল।অভিজিৎবাবুর ভবিষ্যদ্বাণী, তৃণমূল ভিতর ভিতর ভেঙে পড়ছে। এই দল বেশি দিন আর নেই। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে তৃণমূলের সেই অবস্থা হবে, যা ২০০৯ সালে সিপিএমের হয়েছিল। আর ২০২৬ সাল পর্যন্ত দলটাই থাকবে না। শুধু কয়েকটা গ্রেফতারির প্রয়োজন। তবে কাদের গ্রেফতারি প্রয়োজন তা এদিন স্পষ্ট করেননি তিনি।এরপরই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, সিপিএমে যোগ দেব না কারণ আমি ঈশ্বর বিশ্বাসী। ধর্মে বিশ্বাস করি। তাদের সঙ্গে আমার মিল হবে না। আর কংগ্রেস হল পারিবারিক জমিদারির একটা দল। এখানে জয়রাম রমেশের মতো শিক্ষিত মানুষেরা থাকেন। কিন্তু তাঁরা পদ পান না। রাহুল গান্ধীর মতো নেতাদের পিছনে থেকে যেতে হয়। তাই এ দলে যাওয়ার কোনও প্রস্নই নেই।

মার্চ ০৫, ২০২৪
রাজনীতি

জেলবন্দি অনুব্রত মন্ডলের বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সহসভাপতির পদত্যাগ, কেন?

গরুপাচার কাণ্ডে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি জেলবন্দি। এই সময়ে দল ছাড়লেন তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি বিপ্লব ওঝা। সেই সঙ্গে বীরভূমের জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করলেন তিনি। মঙ্গলবার ঘট করে সাংবাদিক সম্মেলনে দলত্যাগ ও পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন বিপ্লববাবু।একসময় বিপ্লব ওঝা বীরভূম জেলা কংগ্রেসের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০০৭-এ তিনি নলহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান হন। ২০০৯ বীরভূম লোকসভায় তৃণমূলের টিকিটে সংসদ শতাব্দী রায় জয়ী হন। তারপরই প্রথম সমস্ত কাউন্সিলর নিয়ে তৃণমূল যোগদান করেন বিপ্লববাবু। সে সময় নলহাটি পুরসভা রাজ্যে তৃণমূলের প্রথম দখলে আসে। পরবর্তী সময়ে তিনি নলহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান হন। নলহাটি বিধানসভার উপনির্বাচনে তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন। জিততে পারেননি। বামফ্রন্টের কাছে পরাজিত হন।পরবর্তীকালে তিনি তৃণমূলের টিকিটে জেলা পরিষদের সদস্য হন। কিন্তু তাঁকে কোন পদে রাখা হয়নি। কিন্তু বছরখানেক ধরে দলে ব্রাত্য করে রাখা হয় বিপ্লববাবুকে। সেই আক্ষেপেই তিনি দলত্যাগ করলেন বলে দাবি বিপ্লববাবুর। তবে এখনও কোন দলে যোগদান করছেন সে কথা না জানাননি। তবে আজই নলহাটিতে আসছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ওই মঞ্চেই বিপ্লববাবুর বিজেপিতে যোগদান করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। তিনি যে রাজনীতি থেকে সরে যাবেন না তা স্পষ্ট।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে সমবায় সমিতির ১০ জন সদস্যের ৮ জন গন-পদত্যাগ! পিছনে কি তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল?

পঞ্চায়েত নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল ও সংঘর্ষ। পূর্ব বর্ধমানের জামার সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে এই মূহুর্তে পরিচালন সমিতির সদস্য সংখ্যা দশ। এর মধ্যে একসাথে আটজনের পদত্যাগের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকে। পদত্যাগকারীদের অভিযোগ, যুব তৃণমূল কংগ্রেসের একটা গোষ্ঠী তাদের নানান ভাবে অপমান ও হেনস্থা করছে। যার কারণে সমবায়ে সম্মানের সাথে কাজ করা যাচ্ছে না।তাঁরা জানান, এবিষয়ে একাধিকবার উচ্চ নেতৃত্বকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। সেকারণেই পদত্যাগ বলে জানাচ্ছেন পদত্যাগীরা। এই সমবায় সমিতির সভাপতি সঞ্জয় কোনার বর্তমানে রায়ান ২ নম্বর পঞ্চায়েতের সদস্য। তিনি এর আগে তৃণমূলের ব্লক সহ সভাপতি ও পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও ছিলেন। এরকম একজন উচ্চনেতৃত্ব সহ আট জন একসাথে পদত্যাগ করায় যথেষ্ট বিড়ম্বনায় পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সঞ্জয় বাবু জানান, আমরা যে কজন সমিতির পরিচালনার দায়িত্বে আছি তারা সকলেই প্রবীণ, সম্মানের সাথে দল করে এসেছি। সঞ্জয় বাবু আরও বলেন, যুব তৃণমূলের কিছু দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা পদে পদে অপমানজনক কথাবার্তা বলে। এমনকি পঞ্চায়েতে গেলেও সেখানে অপদস্থ হতে হয়, তাই এই পদত্যাগ বলে জানান সঞ্জয় কোনার।অপর এক পদত্যাগী এই সমিতির সহ সভাপতি সেখ আপসিয়া জানান, আমরা সবাই তৃণমূল কংগ্রেস করি। কিন্তু তৃণমূলের যুব গোষ্ঠীর অত্যাচারে আমরা বাধ্য হই পদত্যাগ করতে। অপরদিকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই যুব নেতা অরূপ গুপ্ত ও শেখর গাঙ্গুলিরা জানান, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনো হিসাব দিতেন না। আমরা হিসাব চাইতে গেলে আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করতেন। কেন সারের দাম বাড়লো গ্রামের মানুষ সেটা জানতে গিয়েছিল মাত্র। উল্টে এই যুব নেতারা অভিযোগ করেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য হলেও গ্রামের উন্নয়নের জন্য কিছু করেন নি।বিষয়টি নিয়ে বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কাকলি গুপ্ত তা জানান, কিছুদিন আগেই ব্লকের সিআই এর কাছে এলাকার চাষীরা অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি জানান, জামার সমবায় সমিতির সবচেয়ে বড় সমস্যা এদের বোর্ড চাষিদের কাছে হিসাব দিতে অনীহা। তিনি বলেন, যদি সব কিছু পরিষ্কার থাকে তাহলে হিসাব দিতে আপ্ততি কেন? কাকলি তা জানান, যখন পরিচালন সমিতি গঠন হয় তখন সঞ্জয় কোনার ও তার পেটুয়া লোকেদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছিলেন। চাষীরা হিসাব চেয়ে পাচ্ছিলেন না, যারা গ্রাম চালাচ্ছে তাদের কাছে চাষীরা অভিযোগ করেছে।জামার সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের ম্যানেজার পাপাই কোনার জানালেন, একসাথে আটজনের পদত্যাগে সমবায়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশাকরি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

নভেম্বর ০৫, ২০২২
রাজ্য

অভিষেকের নির্দেশে সরতে হচ্ছে অভিযুক্ত দাঁইহাটের পুরপ্রধান শিশির মন্ডলকে

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। একেই নানা দুর্নীতির অভিযোগে জেরবার মমতা-অভিষেকের দল। তরুণীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরেই পূর্ব বর্ধমানের দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান শিশির মণ্ডলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে তৃণমূল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য শিশির মণ্ডলকে জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন।পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার শীর্ষ নেতৃত্বের এই নির্দেশের কথা প্রকাশ্যে আনেন। শিশির মণ্ডল তরুণীর অভিযোগ অস্বীকার করলেও ঘরে ও বাইরে তাঁকে নিয়ে নিন্দার ঝড় বাইছে। বিরোধীরা এই অভিরযোগকে হাতিয়ার করেশাসক দলের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছে। দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান শিশির মণ্ডলের সঙ্গে এক তরুণীর টেলিফোনে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড মঙ্গলবার দুপুর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন,শিশির মণ্ডলকে চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন। দলের সেই নির্দেশ এদিন শিশির মন্ডলকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। দলের নির্দেশ মতো পদত্যাগ করবো বলে জানিয়ে দিয়েছেন শিশিরবাবু।

নভেম্বর ০৪, ২০২২
রাজনীতি

দলের দুর্নীতি ও গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ পঞ্চায়েত প্রধানের

পঞ্চায়েত প্রধানের পদত্যাগ। দুর্নীতির অভিযোগ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ করলেন বীরভূমের দক্ষিণগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শিউলে দে। প্রধানের অভিযোগ, অর্থ তছরুপে বাধা দেওয়ায় তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। যদিও প্রধানকেই দুর্নীতিগ্রস্থ বলে অভিযোগ করেছেন দলের অন্য গোষ্ঠী।জানা গিয়েছে, বুধবার ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও-র কাছে নিজের পদত্যাগ পত্র জমা দেন দক্ষিণগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শিউলি দে। দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে দলের চাপে পড়ে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে জানান শিউলি দে। তিনি বলেন, দলের নেতারা দুর্নীতিতে যুক্ত। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত দলের অঞ্চল সভাপতি প্রণব ঘোষাল ও ব্লক সভাপতি তথা ময়ূরেশ্বরের বিধায়ক অভিজিৎ রায়। প্রতিবছর পুজোর আগে অঞ্চল সভাপতির মাধ্যমে আড়াই লক্ষ টাকা নিত ব্লক নেতৃত্ব। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় মোটা অঙ্কের টাকা বাড়ি প্রাপকদের কাছ থেকে কাটমানি নিত। এমনকি রুপশ্রী ও কন্যাশ্রীর টাকাও তুলত। সমস্ত উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাটমানি নিত অঞ্চল সভাপতি। আমি এই দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছিলাম। তাতেই আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিজিৎ রায়কে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। কারণ তার কাছেও কাটমানির টাকা যেত। আমাকে অসুস্থ বলা হলেও আমি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছি।প্রধানের স্বামী জয়দেব দে বলেন, সমস্ত পঞ্চায়েত সদস্য আমাদের সঙ্গে ছিল। কিন্তু অঞ্চল কমিটি পঞ্চায়েত সদস্যদের কাজ করতে দিত না। নিজেরাই কাজ করত। তারা টিউবওয়েলের জিনিসপত্র নিয়ে এসেছে নিম্নমানের। ফলে কোন সদস্য ওই জিনিসপত্র নিতে চাইছে না। সেগুলি পঞ্চায়েতেই পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।অঞ্চল সভাপতি প্রণব ঘোষাল বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। উনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই পদত্যাগ করেছেন। ব্লক সভাপতি তথা বিধায়ক অভিজিৎ রায় বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রধানের সঙ্গে কোন সদস্যর হচ্ছিল না। তাই জেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে উনাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল।তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওনাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। এরপর উনি কি বললেন সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। ওনার সঙ্গে সদস্যদের হচ্ছিল না। তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে দলকে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌সরে যাচ্ছেন?‌ পদত্যাগের জল্পনার রহস্য ফাঁস করলেন সৌরভ গাঙ্গুলি

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন সৌরভ গাঙ্গুলি? তাঁর পোস্ট করা একটা টুইট থেকে ছড়িয়ে পড়ে জল্পনা। মুহূর্তেই মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় তাঁর সেই পোস্ট। আলোড়ন ফেলে গোটা দেশে। ক্রিকেটপ্রেমীরা অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। অবশেষে সন্ধেয় জল্পনার ইতি টানেন সৌরভ নিজেই। পরিস্কার জানিয়ে দেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্টের পথ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনও পরিকল্পনা এই মুহূর্তে তাঁর নেই। আসলে তিনি একটা শিক্ষামূলক অ্যাপ বাজারে নিয়ে আসছেন, তার জন্যই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন।সোশ্যাল মিডিয়ায় এদিন সৌরভ গাঙ্গুলি লেখেন, ১৯৯২ সালে ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর ৩০ বছর ক্রিকেটে কাটিয়েছি। ক্রিকেট আমাকে অনেককিছু দিয়েছে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমাকে সবাই সাপোর্ট করেছে। আমার এই পথ চলার সময় যারা পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করেছেন, সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এবার আমি এমন একটা পরিকল্পনা করছি, যাদে অনেক মানুষের উপকার হবে। আশা করছি আমার জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে সবাই পাশে দাঁড়াবেন।সৌরভের এই টুইট দেখে সবাই ভাবতে শুরু করেন, তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে চলেছেন। সৌরভকে ফোনে ধরতে না পেরে অনেকেই ভারতীয় বোর্ডের সচিব জয় শাহর শরণাপন্ন হন। বোর্ড সচিব জয় শাহ সংবাদ সংস্থাকে জানান, সৌরভ গাঙ্গুলি বিসিসিআইয়ের পদ ছা়ড়েননি। তেমন কোনও পরিকল্পনার কথাও তাঁর জানা নেই। সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বাধীন বিসিসিআই এখন আইপিএলের মিডিয়া ও সম্প্রচার স্বত্ত্বাধিকারী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। সেখানে সৌরভ সরে যাবেন এমনটা বোর্ডের কেউ বিশ্বাসই করতে পারেননি। তবে বোর্ডের আধিকারিকদের মধ্যেও টেলিফোনে যোগাযোগ শুরু হয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। কেন না, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আইসিসির পরবর্তী চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে ফেভারিট বলে মনে করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সৌরভদের মেয়াদ শেষের কারণে বোর্ড থেকে সরতে হলে অন্য কথা। নাহলে সৌরভ-জয় শাহরাই এগিয়ে নিয়ে যাবেন ভারতীয় ক্রিকেটকে।pic.twitter.com/JrHOVvH3Vi Sourav Ganguly (@SGanguly99) June 1, 2022সন্ধেয় সব জল্পনার অবসান ঘটান সৌরভ নিজেই। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এই মুহূর্তে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড থেকে পদত্যাগের প্রশ্নই নেই। এমন একটি সাধারণ পোস্ট কীভাবে ভাইরাল হল তাতে আমি নিজেও অবাক। শীঘ্রই একটি এডুকেশনাল বা শিক্ষামূলক অ্যাপ বিশ্বজুড়ে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। এটা আমার নিজস্ব ভেঞ্চার। খুব শীঘ্রি এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে নিয়ে আসা হবে। এই টুইটের সঙ্গে স্কুল তৈরির কোনও যোগ নেই।

জুন ০১, ২০২২
রাজ্য

শিক্ষামন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের মাঝেই হঠাৎ ইস্তফা এসএসসি চেয়ারম্যানের, শোরগোল

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের খবরে যখন রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় ঠিক তখনই ইস্তফা দিলেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্ধার্থ মজুমদার। জানা গিয়েছে, তিনি শিক্ষা দফতরের সচিব মণীশ জৈনের কাছে ইস্তফা পত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। মাত্র চার মাসের মধ্য়ে তিনি ইস্তফা দিলেন। এসএসসি চেয়ারম্যানের হঠাৎ এই ইস্তফায় ফের শোরগোল পড়ে গিয়েছে। চলতি বছর জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়েছিলেন সিটি কলেজের বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক সিদ্ধার্থ মজুমদার।সূত্রের খবর, এসএসসির চেয়ারম্যান পদে আইএএসকে নিয়োগ করতে চাইছে সরকার। এসএসসি নিয়ে ক্রমাগত দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় শিক্ষা দফতরের ভাবমূর্তি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আদালতের নির্দেশে শুধু পার্থ চট্টোপাধ্যায় নয়, এসএসসির উপাদেষ্টা সহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিবিআই। সেক্ষেত্রে এসএসসি চেয়ারম্যান পদটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে আনতে চাইছে সরকার। তাই এই পদত্যাগের নির্দেশ বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, তাছাড়া শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী সংক্রান্ত তথ্য গতকাল ভার্চুয়াল শুনানিতে আদালতে জানিয়েছেন সিদ্ধার্থ মজুমদার। এর আগে এসএসসির চেয়ারম্যান ছিলেন শুভঙ্কর সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

মে ১৮, ২০২২
রাজ্য

বঙ্গ বিজেপিতে একাধিক শীর্ষ নেতার পদত্যাগ, রহস্য খুঁজছেন কেন্দ্রীয় সম্পাদক

বঙ্গবিজেপি থেকে একাধিক শীর্ষ পদাধিকারী পদত্যাগ করায় রহস্য খুঁজছেন দলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা। মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশংকর ঘোষ রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। জেলা সভাপতি সম্পর্কে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন গৌরিশংকর ও বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র। এই প্রসঙ্গে ফেসবুক পোস্টে প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা লিখেছেন যাঁরা মাটি কামড়ে পড়ে রইল তাঁরা পদত্যাগ করছেন। অন্যদিকে যাঁদের এতদিন গুরুত্ব দেওয়া হল তাঁরা দল ছেড়ে চলে গেলেন। তাঁর কথায়, রাজ্য থেকে দূরে গিয়ে সংগঠনের কাজ করতে চাইছেন অনেকেই।গৌরীশংকর ঘোষ জেলায় মন্ডল সভাপতি নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, জেলা পদাধিকারী, বিধানসভার প্রার্থী, দুই বিধায়ক, জেলা অবজার্ভার, জোন অবজার্ভারের উপস্থিতিতে ৫১টি মন্ডলে সর্বসম্মত মন্ডল সভাপতি স্থির হয়েছিল। পরে দেখা ১৮ জন মন্ডল সভাপতিকে নিজের ইচ্ছেমত পরিবর্তন করেছেন জেলা সভাপতি। পুরো বিষয়টা সংগঠনের রাজ্য সংগঠন মন্ত্রী ও জেলা সভাপতিকে লিখিত ও মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু বিষয়টিকে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই আমার মনে হয়েছে রাজ্য সম্পাদক পদে থাকার কোনও যৌক্তিকতা আমার নেই। গৌরীশঙ্করবাবু রাজ্য সভাপতিকে এই মর্মে লিখে পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। যদিও রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।গৌরীশঙ্কর ঘোষের মতো রাজ্য কর্মসমিতির সদস্য বাণী গঙ্গোপাধ্যায়, দীপঙ্কর চৌধুরীও দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলে রাজ্য সভাপতির কাছে পদত্যাগের ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। একসঙ্গে একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব পদত্যাগ করায় তোলপাড় রাজ্য বিজেপি। আসানসোল লোকসভা ও বালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের পর রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্বের অকর্মন্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এদিন পদত্যাগ প্রসঙ্গে রাজ্য নেতৃত্বকে ব্যাঙ্গ করলেন অনুপম হাজরা।ফেসবুকে অনুপম লিখেছেন...আসল রহস্যটা কিকেন এতগুলো ইস্তফা একসঙ্গে, সেটা রাজ্য বিজেপির খুব গুরুত্ব সহকারে বিচার-বিশ্লেষণ করা উচিত !!!আমি যতদূর জানি গৌরীশংকর বাবু একজন ভালো সংগঠক !!! যাদেরকে এতদিন গুরুত্ব দেয়া হলো তারা সব দল ছেড়ে চলে গেছে, আর যারা এতদিন মাটি কামড়ে পড়ে ছিলো, তারা ইস্তফা দিচ্ছেন !!!আর এক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা আমার মতো, যারা বঙ্গ-বিজেপির অসময়ে -----...মানে যখন পশ্চিমবঙ্গে মানুষ বিজেপিতে যোগ দিতে ভয় পেত অর্থাৎ বঙ্গ-বিজেপির সুসময়ে যোগ দেওয়া রাজিব-সব্যসাচী এবং কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মত জামাই আদর খাওয়া মানুষদের বিজেপিতে আসার অনেক আগে....------ বিজেপিতে যোগদান করে, রাস্তায় নেমে যথেষ্ট পরিমাণে আন্দোলনও করেছিলো যখন অন্যদের মাঠে নেমে আন্দোলন করতে দেখা যেত না, তৃণমূলের কাছ থেকে যথেষ্ট পরিমাণে পুলিশ কেসও খেয়েছে আর এখন প্রতিনিয়ত দাদা মাঠে নামুন, আপনাদের আর আন্দোলনে দেখা যায় না কেন? শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতে লেকচার দিলে হবে ?? - এই ধরনেরপ্রশ্নের সম্মুখীন হন.......কিন্তু তবুও রাজ্য বিজেপি থেকে দূরে, দিল্লিতে বা অন্য রাজ্যে পার্টির কাজ করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে !!!....আসল রহস্যটা কি ???!!!

এপ্রিল ১৭, ২০২২
রাজনীতি

মতুয়া, জঙ্গলমহল ছাড়িয়ে এবার পূর্ব বর্ধমানের বিজেপি শিবিরে বিদ্রোহ, সভাপতি পদ ছাড়লেন যুব নেতা

রাজ্য ছাড়িয়ে এবার পূর্ব বর্ধমানের বিজেপি শিবিরেও ছড়িয়ে পড়ল বিদ্রোহের আগুন। বিজেপির জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দলের যুব সভাপতির পদ ছাড়লেন শুভম নিয়োগী। পদত্যাগ করেই তিনি জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ ও একনায়কতন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ সামনে এনে সোচ্চার হয়েছেন। সামনেই বর্ধমান সহ গোটা জেলার পাঁচটি পৌরসভার নির্বাচন। তার প্রাক্কালে জেলা বিজেপি শিবিরে বিদ্রোহ শুরু হওয়ায় উৎফুল্ল তৃণমূল শিবির। শুভম নিয়োগী এদিন বলেন, তাঁর বয়স যখন ১৭ তখন থেকে তিনি বিজেপি পার্টি করছেন। শুধুমাত্র বিজেপি পার্টি করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ১৪ টি মামলা হয়েছে। দুবারে ২৮ দিন জেল খেটেছেন। ২০ বছর বয়সে জেলা যুব সভাপতির দায়িত্ব পান। বর্তমান জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ তা দলের হয়ে তেমন কোনও আন্দোলনই সংঘটিত করতে পারেননি। তিনি ভয়ে নিজের বাড়িতে বা ফ্লাটেও থাকেন না। অথচ জেলা সভাপতি হয়ে তিনি নিজের ইচ্ছেমত জেলা কমিটি বানিয়ে ফেলেছেন। যে কমিটিতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতারা কেউ স্থান পাননি। শুভববাবু বলেন, এই সব ঘটনার তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু জেলা সভাপতি নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকেন। সেই কারণেই জেলা যুব সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে শুভম নিয়োগী জানিয়েছেন। এদের এনিষ্ঠ কর্মী হয়েই এবার জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে পথে নেবে প্রতিবাদ আন্দোলন সংঘটিত করবেন বলে শুভম নিয়োগী এদিন হুঁশিয়ারী দিয়েছেন। জেলা বিজেপি সভাপতির বিরুদ্ধে শুধু শুভম নিয়োগী বিদ্রোহ ঘোষনা করেছেন এমনটা নয়। তলে তলে জেলা বিজেপির অনেক নেতা ও কর্যকর্তা বিদ্রোহ শুরু করে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, সামনেই বর্ধমান সহ জেলার পাঁচ পৌরসভার নির্বাচন। তার আগে তৃণমূলের নানা দুর্নীতির খবর মিডিয়াতে উঠে আসছে। কিন্তু সেইসব বিষয় নিয়ে জেলা বিজেপি সভাপতি আন্দোলন নামার কোন আগ্রহই দেখাচ্ছেন না। এমনকি অন্যান্য রাজ্যনৈতিক দলগুলি দেওয়াল লিখন শুরু করলেও জেলা বিজেপি এখনও সেই কর্মসূচি শুরুই করতে পারেনি। বিদ্রোহীদের আরও অভিযোগ, পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রচুর ভোটার রয়েছেন। সেই মতুয়া সম্প্রদায়ের কাউকেই নতুন জেলা কমিটিতে রাখেননি নতুন জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ তা। এইসব বিষয়গুলি রাজ্য নেতৃত্বকে অভিযোগ আকারে জানিয়েছেন শুভম নিয়োগী সহ অন্য বিদ্রোহীরা।বিদ্রোহীদের এইসব অভিযোগ বিষয়ে জেলা সভাপতি অভিজিৎ যদিও কোন প্রতিক্রিয়া দিতে অস্বীকার করেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপত্র তথা পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সহ- সভাধিপতি দেবু টুডু বিজেপি শিবিরের এই বিদ্রোহ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন ,রাজ্য থেকে জেলা সর্বত্রই বিজেপি শিবিরে বিদ্রোহ চরম পর্যায়ে পৌছেছে। গোটা বিজেপি দলটাই পচে গিয়েছে। রাজ্যের মানুষও ওদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আর কিছুদিন বাদ এই রাজ্যে বিজেপি দলটাই সাইনবোর্ডে পরিণত হয়ে যাবে ।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২২
রাজনীতি

PAC-Suvendu: পিএসি নিয়ে 'রাজনীতিকরণ'-্এর বিরুদ্ধে রাজভবনে শুভেন্দু, প্রচার চলবে গোটা দেশেও

পিএসির চেয়ারম্যান পদে মুকুল রায়কে মনোনিত করাকে তৃণমূলের অষ্টম আশ্চর্য বলে আখ্যা দিয়ে রাজ্যপালের কাছে ফের একবার দরবার করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী, এই ঘটনায় স্পিকারকেও সরাসরি আক্রমণ করলেন তিনি। এদিকে, মঙ্গলবার বিধানসভার ৮ কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে গণইস্তফা দেন বিজেপি বিধায়করা। এরপর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়করা যান রাজভবনে। রাজ্যপালের হাতে তুলে দেন স্মারকলিপি। সেখান থেকে বেরিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, বিজেপির পরিষদীয় দলের মতামত না নিয়ে ৮টি স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদে বিজেপি বিধায়কদের বসিয়েছিলেন স্পিকার। পিএসি চেয়ারম্যান নিয়ে রাজনীতিকরণের জন্য তা প্রত্যাখ্যান করেছি। এর পাশাপাশি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংসদীয় ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগে গোটা দেশে বিজেপি প্রচার চালাতে চলেছে বলেও জানান শুভেন্দু। আরও পড়ুনঃ মারা গেলেন ১৯৮৩ বিশ্বকাপের নায়ক, শোকস্তব্ধ গোটা দেশবিধানসভার নিয়ম কানুন এবং রীতি-নীতির রক্ষক রাজ্যপাল। মুকুল রায়কে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান বেছে নিয়ে তা জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। রাজ্যপালের সঙ্গে প্রায় আধঘণ্টার সাক্ষাৎ করেন। বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পিকারের উদ্দেশে তোপ দেগে বলেন, যেই ব্যক্তি সর্বসমক্ষে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। টুইটারে নিজেকে তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। তাঁকে বিজেপি বিধায়ক হিসেবে উল্লেখ করে পিএসি-র চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করছেন অধ্যক্ষ। তৃণমূল যেটা করেছে এটা পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য।এই বিষয়ে যাতে গোটা দেশ জানতে পারে তা নিশ্চিত করতে যে স্মারকলিপি রাজ্যপালের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, তা রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং দেশের অন্যান্য রাজ্যেও পাঠানো হবে বলে জানান শুভেন্দু। বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল সশরীরে গিয়েই রাষ্ট্রপতিকে বিষয়টি জানাবে বলেও তিনি উল্রেখ করেন।

জুলাই ১৩, ২০২১
রাজনীতি

Resignation: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্প্রসারণঃ যুব মোর্চার সভাপতি পদ ছাড়লেন সৌমিত্র

রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি পদ ছাড়লেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। ফেসবুক ও টুইটার পোস্টে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার পদ থেকে সরে দাঁড়ালাম, কিন্তু বিজেপির সঙ্গেই থাকছি। এদিকে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে হতে চলেছে কেন্দ্রে। সেই মন্ত্রিসভায় রাজ্য থেকে নতুন চারজন সাংসদ জায়গা পেতে চলেছেন বলে খবর।বিজেপিতে ছিলাম,বিজেপিতে থাকবো,বিজেপি জিন্দাবাদ। নরেন্দ্র মোদী জিন্দাবাদ। pic.twitter.com/TLnNFQK8Zd Saumitra khan (@KhanSaumitra) July 7, 2021একদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এরাজ্যের যুব সাংসদরা যখন শপথ নিতে চলেছেন, ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগে সভাপতি পদ ছাড়লেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দুটি ঘটনার মধ্যে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বেশ কিছু দিন ধরেই জঙ্গলমহল-রাঢ়বঙ্গ নিয়ে পৃথক রাজ্যোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন সৌমিত্র। উল্লেখ্য, সৌমিত্রর স্ত্রী সুজাতা খাঁ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগ দেন। আরামবাগ কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থীও হয়েছিলেন।আরও পড়ুনঃ শিব- পার্বতীর বিবাহ স্থলেকেন্দ্রীয় মন্ত্রী হতে পারেন শান্তনু ঠাকুর, নিশীথ প্রামাণিক, জন বার্লা ও সুভাষ সরকার। এই মন্ত্রীসভাশ জায়গা না পেয়েই সম্ভবত গোঁসা হয়েছে সৌমিত্রর। এমনই ধারনা রাজনৈতিক মহলের।

জুলাই ০৭, ২০২১
কলকাতা

মুখ্য প্রশাসক পদে ইস্তফা ফিরহাদের

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পরই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত। পদ থেকে সরানোর আগেই কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সংকেত নিয়ে শনিবার গভীর রাতে পুরসচিব খলিল আহমেদের কাছে ইস্তফাপত্র তিনি পাঠিয়ে দিয়েছেন। পুর প্রশাসক পদে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রাখা চলবে না। শনিবারই রাতেই এই নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন । আজ, রবিবার সকালেই অতীন ঘোষ, দেবাশিস কুমাররাও পদত্যাগ করেছেন। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও একইভাবে অন্যান্য পুরসভার প্রশাসকরাও ইস্তফা দেবেন বলে খবর। বিজেপির অভিযোগের জেরে শনিবার রাতে নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, ২ মে পর্যন্ত কোনও পুরসভায় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা প্রশাসক থাকতে পারবেন না। সোমবার সকাল ১১টার মধ্যে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন পুর প্রশাসকরা।করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যের বহু পুরসভা এবং পুরনিগমের নির্বাচন সময়মতো করানো যায়নি। যার ফলে মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে প্রাক্তন পুরবোর্ডের সদস্যদের। কিন্তু নাগরিক পরিষেবা যাতে ব্যহত না হয় তা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে পুরসভার কাজ পরিচালনা করার জন্য প্রশাসকমণ্ডলী তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। বিদায়ী মেয়র বা পুরপ্রধানদেরই সেই প্রশাসকমণ্ডলীর মাথায় বসানো হয়। বিদায়ী কাউন্সিলরদের ওই প্রশাসক বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে কলকাতা পুরনিগমের পুরপ্রশাসক পদে এতদিন অস্থায়ীভাবে নিযুক্ত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। একইভাবে শিলিগুড়ি পুরনিগমের পুরপ্রশাসক পদে বসানো হয়েছিল অশোক ভট্টাচার্যকে। কিন্তু ভোটের বাজারে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা চলবে না বলে জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।

মার্চ ২১, ২০২১
কলকাতা

নিয়ম মেনে করা হয়নি, অধ্যক্ষের দাবি গৃহীত হয়নি শুভেন্দুর পদত্যাগ

মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর গতকাল বিধানসভা ভবন এসে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকায় তার সচিবের হাতে ইস্তফা পত্র জমা দেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী নিজের তরফ থেকে তৃণমূলের সঙ্গে এত বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করলেও তাঁর পদত্যাগপত্র নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেল। কারণ গতকালই অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছিলেন, শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগপত্র বিধিসম্মত নয়, সুতরাং সেটি গ্রহণ করা যায়নি। এদিনও সংবাদ মাধ্যমের সামনে একই কথা আরো একবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন তিনি। আরও পড়ুন ঃ অগণতান্ত্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর পরিপন্থী, আইপিএস পোস্টিং নিয়ে তোপ মমতার এদিন বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর ইস্তফাপত্র বিধিসম্মত নয়। আজ তিনি সচিবের থেকে সেই ইস্তফাপত্র হাতে পেয়েছেন, সেটি পরীক্ষা করে দেখার ব্যাপার আছে। পরীক্ষা করার পর তিনি সেই প্রেক্ষিতে একটি অর্ডার দেবেন। যতক্ষণ না সেই অর্ডার দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত বলা যায়না শুভেন্দু অধিকারীর ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়েছে বা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অর্ডার এর পরেই সম্পূর্ণ বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্ষেত্রে তিনি এও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত পদত্যাগপত্র গৃহীত বা প্রত্যাখ্যান না করা হলেও পরবর্তী ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা যেতেই পারে। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে সেই পদত্যাগপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার উপর এবং অর্ডারের ওপর। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী খাতায়-কলমে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক পদেই রয়েছেন। একইসঙ্গে ইস্তফাপত্র একই ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে তার ব্যাপারে কিছুই বলতে চাননি বিধানসভার অধ্যক্ষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যে অর্ডার বেরোবে সেটা দেখলেই বোঝা যাবে আসল ব্যাপার কি। তবে তিনি ইস্তফা পত্র গ্রহণ করবেন কি করবেন না সে ব্যাপারে এখন থেকেই ইঙ্গিত দিতে চাইলেন না বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, গতকাল বিকেল চারটে নাগাদ বিধানসভা ভবনে পৌঁছে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইস্তফা দিতে যান শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সেই সময় সেখানে ছিলেন না তিনি। অতঃপর স্পিকারের সচিবের কাছে সেই পদত্যাগপত্র পেশ করেন তিনি। গতকালই বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, আগে বিধানভবনে গিয়ে তিনি ইস্তফাপত্র দেখবেন, তারপর আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন। তার আগে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নয়। বিমানের কথায়, শুভেন্দু অধিকারীর যেভাবে সচিবের হাতে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন সেটা বৈধ নয়, এইভাবে পদত্যাগপত্র সচিবের হাতে দিয়ে পদত্যাগ করা যায় না।

ডিসেম্বর ১৭, ২০২০
কলকাতা

শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া তিনটি দফতর নিজের হাতেই রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী

শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া তিন দফতরের দায়িত্ব নিজের হাতে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, সেচ, পরিবহণ, জলসম্পদ দফতরের দায়িত্ব ছিল শুভেন্দু অধিকারীর হাতে। পরিবহণ দপ্তরের দায়িত্ব পেতে পারেন ফিরহাদ হাকিম বা অরূপ বিশ্বাস, এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেচদপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে, এই গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সম্ভাবনা পালটে যায়। ফিরহাদের কাঁধে আপাতত পুর, নগরোয়ন্নয়ন দপ্তরের ভার। অরূপ বিশ্বাসের হাতে দুটি দপ্তরের ভার ক্রীড়া, যুবকল্যাণ। এই সবকটি দপ্তরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া তাঁদের সংগঠনেরও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আছে। আরও পড়ুন ঃ আমি দলেই আছিঃ রাজীব শুক্রবার বিকেলে শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পরই জরুরি বৈঠকে দলের শীর্ষনেতাদের নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সভাপতি সুব্রত বক্সি, দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, ছিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেখানে প্রায় ঘণ্টা দুই ধরে বৈঠকের পর ঠিক হয় দপ্তর বণ্টনের বিষয়টি।

নভেম্বর ২৭, ২০২০
নিবন্ধ

হরসিমরতের ইস্তফার নেপথ্যে

কয়েকদিন আগেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন কৃষিনীতির সমর্থন করেছিলেন। এমন কী হলো হঠাৎ সুর বদলে কৃষিনীতিরই বিরোধিতা করে ইস্তফা দিলেন হরসিমরত কউর বাদল? এ নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে জল্পনা। মোদী মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফার কারণ হিসেবে প্রধানত তিনটি বিষয়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন কউর। কৃষি পরিষেবা ও কৃষিপণ্যের মূল্য নিশ্চয়তার বিষয় যেমন আছে, তেমনই আছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়টিও। একই সঙ্গে পদত্যাগী মন্ত্রী বিরোধিতা করেছেন কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সংক্রান্ত অধ্যাদেশও। এই তিনটি বিষয় কউর পদত্যাগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অধ্যাদেশে কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, কৃষকরা নিজেদের এলাকা ছাড়াও অন্যত্র উৎপাদিত পণ্য বিপণনের সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ বাংলার কৃষক তাঁর পণ্য যেমন অন্য রাজ্যে বিপণন করতে পারবেন, তেমন উল্টোটাও সত্য। তবে চাল, গম-সহ বেশ কিছু পণ্য নোটিফায়েড এলাকার বাইরে বিক্রি করতে পারবেন না। এ ছাড়া বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চাষিরা চুক্তি করে কৃষিপণ্যের উৎপাদনের সংস্থানের বিষয় রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে। কিন্তু গোল বেঁধেছে অন্যত্র। যদি অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয় সেক্ষেত্রে কৃষকরা কী করবেন? অন্যত্র বিপণনের সুযোগ তো থাকছেই না, সেই সঙ্গে সরকারের যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য তা থেকে বঞ্চিত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই-ই নয়, বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করলে সেক্ষেত্রেও কৃষক তাঁর জমি তথা ফসলের অধিকার হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হতে পারেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা। যদিও অধ্যাদেশ নিয়ে সাফাই দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। সরকারি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার অধ্যাদেশ উড়িয়ে দিয়ে আশ্বস্ত করেছেন কৃষকদের। সেই সঙ্গে সমর্থন করেছেন বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তির বিষয়টিও। এতে কৃষি ও কৃষিপণ্যের আধুনিকীকরণ সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তোমর। একই সঙ্গে চুক্তির সুফল হিসেবে একদিকে যেমন কৃষিপণ্যের বেশি দাম পড়বে, তেমনই উন্নতমানের বীজ ও সার মিলবে বলে জানিয়েছেন তোমর। শেষ পর্যন্ত অধ্যাদেশ অর্ডিন্যান্সে পরিণত হলে ফোঁড়েরা সবচেয়ে অসুবিধায় পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তেমনই এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেকেরই কাজ হারানোর আশঙ্কা। যদিও নতুন কৃষিনীতি নিয়ে বসে নেই সরকারও। পাঞ্জাব, হরিয়ানায় নতুন কৃষিনীতির বিরোধিতা করে শুরু হয়েছে আন্দোলন। এক্ষেত্রে বিরোধীরা আন্দোলনকে উস্কানি দিচ্ছে বলে রেকর্ড বাজাচ্ছে। তবে নয়া নীতির পক্ষে যতই সওয়াল করা হোক না কেন, হরসিমরতের ইস্তফা চাপে ফেলেছে মোদী সরকারকে। সামনে বিহার নির্বাচন। কৃষিনীতি জনদরদী হলে, কেন প্রথমে সমর্থন করে পরে সরে দাঁড়ালেন হরসিমরত, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

মাদ্রাসা নিয়ে বাংলায় বড়সড় ‘অ্যাকশন’! ২৫২টি বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০—সরকারি সমীক্ষায় চাঞ্চল্য

অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের, জেলায় জেলায় নথি যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত।মাদ্রাসা নিয়ে বাংলায় এবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। রাজ্যজুড়ে মাদ্রাসাগুলির উপর চালানো সমীক্ষার পর প্রথম দফায় ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে শোকজ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কলকাতা-সহ রাজ্যের ২২টি জেলায় মাদ্রাসাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই যাচাই-পর্বে শুধু অনুমোদন রয়েছে কি না, তা-ই নয়পরিচালন ব্যবস্থা, পড়ুয়ার সংখ্যা, শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতি, অর্থের উৎস, নথিপত্র, রেজিস্ট্রেশন এবং পরিকাঠামো-সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে।সমীক্ষার রিপোর্ট সামনে আসতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যে বিপুল সংখ্যক মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন বা নির্দিষ্ট স্বীকৃতি ছাড়াই চলছে বলে প্রশাসনের তরফে দাবি। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২,৩৯৬। এর মধ্যেই প্রথম ধাপে ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি বন্ধের নোটিস জারি করেছে সরকার।খারিজি মাদ্রাসাই কি নিশানায়?সরকারি পদক্ষেপের আওতায় আসা ২৫২টি মাদ্রাসার বড় অংশই খারিজি বা বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত মাদ্রাসা বলে খবর। এই প্রতিষ্ঠানগুলির বৈধতা, পরিচালন পদ্ধতি এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েই মূলত প্রশাসনের নজরদারি।তবে সরকারের অবস্থানও স্পষ্টকোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি স্বীকৃতির বাইরে থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চলতে পারে না। যে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই কিংবা ন্যূনতম পরিকাঠামো ও নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ, তাদের বিরুদ্ধে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শুধু বন্ধ নয়, শোকজ-এর পরেও কড়া বার্তাপ্রথম দফায় ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দেওয়া হলেও প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে আপাতত দেওয়া হয়েছে শোকজ নোটিস। অর্থাৎ, তাদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।প্রশাসনের প্রশ্নকোন আইনি অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান চলছে? কতজন পড়ুয়া রয়েছে? শিক্ষক কারা? অর্থ আসছে কোথা থেকে? পর্যাপ্ত ভবন ও শিক্ষার পরিকাঠামো রয়েছে কি না? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।জানা যাচ্ছে, সন্তোষজনক উত্তর বা প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে শোকজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও পরবর্তী ধাপে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে।২২ জেলায় নথি যাচাইতারপরই সিদ্ধান্তমাদ্রাসা নিয়ে এই অভিযান হঠাৎ করে নয়। রাজ্য সরকারের নির্দেশেই জেলায় জেলায় শুরু হয়েছিল সমীক্ষা। কলকাতা-সহ ২২টি জেলার মাদ্রাসাগুলির নথি সংগ্রহ করে যাচাই করা হয়।সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের তরফে দাবি, অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলি নিয়ম মেনেই চলছে। কিন্তু অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে সরকার আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না।মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর বক্তব্য, মাদ্রাসাগুলির যাবতীয় নথি সংগ্রহ করে যাচাই করা হয়েছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলি চালু রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।সরকারের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, প্রশ্ন তুললেন ত্বহা সিদ্দিকীতবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে পাল্টা প্রশ্নও উঠছে। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেনকেন কোনও মাদ্রাসাকে শোকজ করা হচ্ছে, কেনই বা বন্ধ করা হচ্ছে, তা আগে সাধারণ মানুষকে জানানো হোক।তাঁর বক্তব্য, বহু মাদ্রাসা সাধারণ মানুষের অনুদান ও সাহায্যের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। মাদ্রাসায় শুধু ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় না, সরকারি পাঠ্যক্রমও পড়ানো হয় বলে দাবি তাঁর।ফলে সরকারের প্রশাসনিক যুক্তির বিপরীতে উঠে আসছে অন্য প্রশ্নঅনুমোদনের মাপকাঠি কী? কোন প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূত এবং কোনটি নয়? আর বহু বছর ধরে চলা প্রতিষ্ঠানগুলির ভবিষ্যৎই বা কী?রাজনীতির ময়দানেও বাড়ছে উত্তাপমাদ্রাসা ইস্যুতে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, সংখ্যালঘু শিক্ষা এবং সরকারি অনুমোদনের প্রশ্নের সঙ্গে এবার সরাসরি যুক্ত হচ্ছে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বনাম দীর্ঘদিনের সামাজিক উদ্যোগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা।একদিকে সরকারের যুক্তিআইন ও নিয়মের বাইরে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে দেওয়া যায় না। অন্যদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের একাংশের বক্তব্যশুধু সরকারি অনুমোদনের অভাবকে কেন্দ্র করে কোনও প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।ফলে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ এখন শুধু প্রশাসনিক ফাইলের বিষয় নয়; তা ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনীতি ও সংখ্যালঘু শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।উত্তরাখণ্ডের পর বাংলাতেও কড়া পদক্ষেপঅনুমোদনহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের নজির অন্য রাজ্যেও রয়েছে। উত্তরাখণ্ডে ইতিমধ্যেই একাধিক অননুমোদিত মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলার এই পদক্ষেপকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।এখন মূল নজর শোকজ পাওয়া প্রায় ১০০টি মাদ্রাসার জবাবের দিকে। তারা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিকাঠামোর প্রমাণ দিতে পারে কি না, তার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।তবে একটি বিষয় ইতিমধ্যেই স্পষ্টমাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আর নজরদারির বাইরে রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথম দফার এই অ্যাকশন আগামী দিনে আরও বড় প্রশাসনিক অভিযানের ইঙ্গিত কি না, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
বিদেশ

পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলা! ইউক্রেন যুদ্ধ কি এবার ন্যাটোর দরজায়?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার পশ্চিম ইউক্রেনে ঘটনাটি ঘটে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। হামলায় ট্রেনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ২০৬ জন যাত্রীর কেউ আহত হননি বলে দাবি করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, পোল্যান্ডের একটি রেল সংস্থার পরিচালিত ওই ট্রেনটি কিয়েভ থেকে ওয়ারশের দিকে যাচ্ছিল। পথে আচমকাই ট্রেনটির উপর একের পর এক রুশ ড্রোন হামলা হয় বলে অভিযোগ। হামলার জেরে ট্রেনে আগুন ধরে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে।তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পর প্রায় ছঘণ্টা ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটল, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে গোটা ইউরোপেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।পোল্যান্ডের কাছে এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বেশি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ পোল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য দেশ। ন্যাটোর চুক্তি অনুযায়ী, কোনও সদস্য দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য সদস্যদেশগুলির সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে পারে।তবে রবিবারের ঘটনাটিকে সরাসরি পোল্যান্ডের উপর রুশ হামলা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাঁদের একাংশের মতে, পোল্যান্ড সীমান্তের এত কাছে এমন ঘটনা ন্যাটোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। রাশিয়ার উদ্দেশ্য ন্যাটোর প্রস্তুতি ও ঐক্য পরীক্ষা করা কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি ভবিষ্যতে পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালায়, তার প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। কারণ পোল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য। সে ক্ষেত্রে গোটা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেই বড় পরিবর্তন আসতে পারে।তবে রবিবারের হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে এই হামলার অভিযোগ নতুন করে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাইরাশিয়া যদি সত্যিই পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালায়, তখন ন্যাটো কী পদক্ষেপ করবে?

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
দেশ

একের পর এক ভূমিধসে বসে যাচ্ছে আস্ত পাহাড়! সিকিমে হড়পা বানের আতঙ্ক, সরানো হল ৩৮ পরিবার

পশ্চিম সিকিমের গিয়ালশিং জেলার সিঙ্গলিথাম গ্রাম এবং সংলগ্ন রিম্বি এলাকায় একের পর এক ভূমিধসে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রবিবার সকাল থেকে ভূমিধসের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পাহাড়ের ঢাল থেকে কাদা, পাথর ও গাছের ধ্বংসাবশেষ নেমে আসছে। এর জেরে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় সিকিম প্রশাসনের তরফে রিম্বির ৩০টি এবং সিঙ্গলিথামের ৮টি পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাহাড়ের ঢাল নরম হয়ে যাওয়ায় সিঙ্গলিথামের বেশ কয়েকটি বাড়িও ইতিমধ্যে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সিঙ্গলিথামের পাহাড়ের ঢাল থেকে ক্রমাগত কাদা, বড় পাথর এবং গাছ নেমে এসে স্থানীয় ঝোরার গতিপথ আটকে দিচ্ছে। ফলে রিম্বির নিচের দিকে আচমকা হড়পা বান নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। প্রশাসনের নজরদারিতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, রিম্বির ঠিক উপরে সিঙ্গলিথাম গ্রামের কাছে একটি টিলা ধীরে ধীরে বসে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল নরম হয়ে যাওয়ায় মাটি, কাদা এবং পাথর ক্রমাগত নিচের দিকে নেমে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, গত অগস্ট মাস থেকেই ওই এলাকায় ভূমিধস শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধস গ্রামের দিকে এগিয়ে আসছে।ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপে রিম্বি-ইউকসম এবং রিম্বি-খেচুপেরি সড়কের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ইউকসম-তাশিডিং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসনের তরফে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এবং যাত্রীদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিপদের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে শুরু করেছেন।প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। পাহাড়ের ঢাল আরও নরম হলে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে ঝোরা অবরুদ্ধ হলে নিচের এলাকায় হড়পা বান তৈরি হতে পারে কি না, সেই দিকেই এখন নজর স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে বড় চমক মমতার, আসন্ন উপনির্বাচনে ২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা তৃণমূলের

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার দলের তরফে জানানো হয়েছে, নন্দীগ্রামে প্রার্থী হচ্ছেন সঞ্চিতা প্রধান (দে)। পাশাপাশি, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য রাবিউল আলম চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জল্পনার অবসান হল।দলের এই ঘোষণা এমন সময়ে এল, যখন শনিবারই তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির জানিয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তারা ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে না। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তরফে মমতাকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করে বিধানসভায় ফেরার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।১৫ বছর পর বিধানসভার বাইরে মমতা?২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামেও শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি।২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন মমতা। ২০১৬ সালে ফের ভবানীপুর থেকে জয় পান তিনি। ২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর উপনির্বাচনে জিতে আবারও বিধানসভায় জায়গা করে নেন। তৃণমূল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা করায় এবার দীর্ঘ ১৫ বছর পর তাঁকে বিধানসভার বাইরে থাকতে হতে পারে।কেন নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন?২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরদুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম থেকে ইস্তফা দেন। সেই কারণেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। ভোটের গণনা ৯ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর।তৃণমূলে গোষ্ঠীকোন্দল অব্যাহতপ্রার্থী ঘোষণার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবাদ আরও জটিল হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীদুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। উভয় শিবিরই দলের নিয়ন্ত্রণ, নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের স্বীকৃতি দাবি করেছে।১২ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের বক্তব্য শোনে নির্বাচন কমিশন। বিদ্রোহী শিবিরের কাছে আরও কিছু নথি চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমার আগে দলের প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদের নিষ্পত্তি হয়নি।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

স্ত্রীর পুরনো হাসি ভুলতে পারেননি! ৮৮ বছর বয়সে নিজের হাতেই বানিয়ে ফেললেন তাঁর মুখ

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা ৮৮ বছরের ভূপতিরঞ্জন দেবনাথ। দীর্ঘ কর্মজীবনে মধ্যমগ্রাম হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। প্রায় তিন দশক আগে অবসর নিয়েছেন। এখন পেনশনের টাকাতেই চলে তাঁর সংসার। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংসারে একের পর এক কঠিন সময় এসেছে তাঁর জীবনে।ভূপতির স্ত্রী অঞ্জলির বয়স সত্তরের কোঠায়। তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। দুই মেয়েরই মধ্যমগ্রামে বিয়ে হয়েছে। বাড়িতে রয়েছেন পুত্রবধূ এবং নাতিও। তবে করোনা অতিমারির সময় একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছেন ভূপতি ও অঞ্জলি। ছেলের পরিবারকেও এরপর নিজেদের দায়িত্বে আগলে রেখেছেন তাঁরা।এরই মধ্যে গত ছমাস ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী অঞ্জলি। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে, এখন হাতে কলম নিয়ে সই করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব হয় না। একসময় যে স্ত্রী সংসারের নানা কঠিন পরিস্থিতিতেও হাসিমুখে সব সামলে নিতেন, আজ সেই মুখেই অসুস্থতার ছাপ স্পষ্ট।কিন্তু স্ত্রীর সেই পুরনো হাসি এখনও ভুলতে পারেননি ভূপতি। বরং সেই হাসিই তাঁর মনে আজও একই রকম উজ্জ্বল। তাই স্ত্রীর মুখের সেই পুরনো অবয়ব এবং হাসিকে ধরে রাখতে নিজের হাতেই তৈরি করেছেন একটি প্রতিকৃতি।শিক্ষকতার পাশাপাশি হাতের কাজেও যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন ভূপতি। কর্মজীবনে বিভিন্ন সময়ে মাটি, নারকেলের খোল, গাছের ডাল-সহ নানা সাধারণ উপকরণ দিয়ে নানা জিনিস তৈরি করেছেন তিনি। ফেলে দেওয়া জিনিস তাঁর হাতে নতুন রূপ পেয়েছে। সেইসব কাজ এখনও তাঁর বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় যত্ন করে রাখা রয়েছে।এ বার সেই দক্ষতাকেই কাজে লাগিয়েছেন নিজের জীবনসঙ্গীর স্মৃতি ধরে রাখতে। প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে তৈরি করেছেন অঞ্জলির হাসিমুখের একটি প্রতিকৃতি। বাড়ির একটি শোকেসে রাখা রয়েছে সেই মূর্তি। স্ত্রীর পাশে বসে থাকার সময় কখনও অসুস্থ অঞ্জলির দিকে তাকান, কখনও আবার চোখ চলে যায় সেই হাসিমুখের প্রতিকৃতির দিকে।ভূপতির কথায়, তাঁদের দাম্পত্য জীবন প্রায় ৫৯ বছরের। অঞ্জলি বরাবরই হাসিখুশি থাকতে ভালোবাসতেন। সংসারে যত সমস্যাই আসুক, তিনি কখনও তা প্রকাশ করতেন না। হাসিমুখেই কঠিন সময় পার করেছেন। সেই হাসিই ছিল ভূপতির কাছে বড় ভরসা।আজ অঞ্জলি অসুস্থ। বিছানা থেকে ওঠার শক্তিও নেই। মুখের সেই পুরনো হাসিও আর দেখা যায় না। কিন্তু ভূপতির স্মৃতিতে অঞ্জলির হাসি এখনও একই রকম জীবন্ত। সেই হাসিকে অমলিন রাখতেই স্ত্রীর মুখের আদলে তৈরি করেছেন এই প্রতিকৃতি।পুরনো দিন আর ফিরে আসবে না, তা জানেন ৮৮ বছরের ভূপতি। তবু তাঁর একটাই আশা, স্ত্রী আবার শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে উঠে একটু হাঁটাচলা করতে পারবেন, আগের মতো তাঁর পাশে বসতে পারবেন। আর সেই আশার সঙ্গেই ঘরের শোকেসে হাসিমুখে থেকে গিয়েছে অঞ্জলির সেই পুরনো মুখ।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

কেমন হওয়া উচিত গণেশের মূর্তি? কেনার আগে মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি, সঠিক নিয়মে পুজোয় পাবেন হাতে নাতে ফল

ভগবান গণেশকে উৎসর্গ করে পালিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব গণেশ চতুর্থী। বিঘ্নহর্তা, জ্ঞানদাতা এবং শুভ সূচনার দেবতা হিসেবে গণেশের আরাধনা করেন ভক্তরা। ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন থেকেই শুরু হবে দশ দিনব্যাপী গণেশ উৎসব।প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থীর দিন বাড়িতে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস, এই সময় বাপ্পাকে বাড়িতে স্বাগত জানালে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং সুখ-সমৃদ্ধি আসে। তবে মূর্তি কেনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সৌন্দর্য বা সাজসজ্জা দেখলেই হবে না। ধর্মীয় বিশ্বাস ও বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, মূর্তির উচ্চতা, ভঙ্গি, রং, শুঁড়ের দিক এবং বাহনের উপস্থিতিরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করা হয়।কেমন হওয়া উচিত গণেশের মূর্তি?বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত মত অনুযায়ী, বাড়িতে পুজোর জন্য গণেশের মূর্তি খুব বড় হওয়া উচিত নয়। সাধারণত ৯ থেকে ১১ ইঞ্চি উচ্চতার মূর্তিকে গৃহস্থের পুজোর জন্য উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। এর তুলনায় বড় মূর্তি রাখলে পুজো ও বিসর্জনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সমস্যা হতে পারে বলেও মত রয়েছে।মূর্তির ভঙ্গির দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলা হয়। বাড়িতে পুজোর জন্য উপবিষ্ট গণেশের মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই ভঙ্গি শান্তি, স্থায়িত্ব ও সুখের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, চার হাতের গণেশ মূর্তির ক্ষেত্রে উপরের বাম হাতে পাশ, ডান হাতে অঙ্কুশ, নীচের বাম হাতে মোদক এবং নীচের ডান হাত অভয় মুদ্রায় থাকা শুভ বলে মনে করা হয়।গণেশের শুঁড় কোন দিকে থাকবে?গণেশের মূর্তি কেনার সময় শুঁড়ের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাম দিকে বাঁকানো শুঁড়যুক্ত গণেশের মূর্তি বাড়িতে স্থাপনের জন্য শুভ। এই ধরনের গণেশকে বামামুখী গণেশ বলা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রূপ শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক।অন্যদিকে, ডান দিকে বাঁকানো শুঁড়ের গণেশকে সিদ্ধিবিনায়ক বলা হয়। এই রূপকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বলে মনে করা হয় এবং তাঁর পুজোয় বিশেষ নিয়মকানুন মেনে চলার প্রচলন রয়েছে। তাই বাড়ির পুজোর জন্য মূর্তি কেনার সময় শুঁড়ের দিকটি খেয়াল করার পরামর্শ দেওয়া হয়।গণেশের বাহন ইঁদুর থাকা কি জরুরি?ভগবান গণেশের বাহন ইঁদুর। তাই মূর্তি কেনার সময় গণেশের পায়ের কাছে তাঁর বাহন ইঁদুরের মূর্তি রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়ার কথা বলা হয়।প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশের মূর্তির সঙ্গে তাঁর বাহন ইঁদুরের উপস্থিতির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তাই সম্পূর্ণ মূর্তি কেনার সময় এই বিষয়টিও নজরে রাখা হয়।কোন দিকে মুখ করে থাকবে গণেশের মূর্তি?বাড়িতে গণেশের মূর্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে দিকেরও গুরুত্ব রয়েছে বলে বাস্তুশাস্ত্রে প্রচলিত মত রয়েছে। সেই অনুযায়ী, গণেশের মুখ পূর্ব বা উত্তর দিকে রেখে মূর্তি স্থাপন করা শুভ বলে মনে করা হয়। পুজোর সময়ও গণেশের মুখ যেন পূর্ব অথবা উত্তর দিকে থাকে, সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।তবে গণেশের মূর্তির আকার, ভঙ্গি, শুঁড়ের দিক কিংবা মূর্তি স্থাপনের দিক নিয়ে প্রচলিত এই ধারণাগুলি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও বাস্তুশাস্ত্রভিত্তিক মত। ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পারিবারিক রীতি এবং স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী গণেশ পুজোর নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

১৪ নাকি ১৫ সেপ্টম্বর, কবে পালিত হবে গণেশ চতুর্থী? জানুন ঠিক কোন সময়ে পুজোয় মিলবে দ্বিগুণ আর্শীবাদ?

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব গণেশ চতুর্থী। গণেশোৎসব নামেও পরিচিত এই উৎসব ভগবান গণেশের জন্মতিথি হিসেবে পালিত হয়। জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবতা গণেশের আরাধনা করে ভক্তরা সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতেই ভগবান গণেশের জন্ম হয়েছিল। সাধারণত ১০ দিন ধরে চলে এই উৎসব। অনন্ত চতুর্দশীর দিন গণেশ বিসর্জনের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি হয়।গণেশ চতুর্থী ২০২৬ কবে?দ্রিক পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর। গণেশ বিসর্জন হবে শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর। উৎসবের শুরুতে বাড়ি ও বিভিন্ন মণ্ডপে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর প্রাণপ্রতিষ্ঠা, পুজো, প্রার্থনা ও আরতির মাধ্যমে চলে বাপ্পার আরাধনা। ফুল, ধূপ, প্রদীপ, ফল, মিষ্টি এবং বিশেষ করে মোদক নিবেদন করা হয় গণেশকে।গণেশ চতুর্থী ২০২৬-এর পুজোর শুভ মুহূর্তগণেশ পুজোর ক্ষেত্রে মধ্যাহ্নকালকে বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়েই ভগবান গণেশের জন্ম হয়েছিল।১৪ সেপ্টেম্বর গণেশ পুজোর শুভ সময়:সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত।গণেশ চতুর্থীর তিথি শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে।শহরভেদে গণেশ পুজোর শুভ সময়বিভিন্ন শহরে স্থানীয় সময় অনুযায়ী গণেশ পুজোর শুভক্ষণে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।পুনে: সকাল ১১টা ১৬ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৪ মিনিটনয়াদিল্লি: সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিটচেন্নাই: সকাল ১০টা ৫১ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ১৮ মিনিটজয়পুর: সকাল ১১টা ৮ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটহায়দরাবাদ: সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটগুরগাঁও: সকাল ১১টা ৩ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিটচণ্ডীগড়: সকাল ১১টা ৪ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটকলকাতা: সকাল ১০টা ১৮ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটমুম্বই: সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটবেঙ্গালুরু: সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ২৮ মিনিটআহমেদাবাদ: সকাল ১১টা ২১ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৯ মিনিটনয়ডা: সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটকীভাবে পালিত হয় গণেশ চতুর্থী?গণেশ চতুর্থীর উৎসব শুরু হয় বাড়ি বা মণ্ডপে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এরপর প্রাণপ্রতিষ্ঠা, পুজো ও আরতি করা হয়। ভক্তরা বাপ্পাকে ফুল, ফল, দূর্বা, ধূপ এবং বিভিন্ন মিষ্টি নিবেদন করেন। এর মধ্যে গণেশের প্রিয় মিষ্টি হিসেবে মোদকের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।অনেক পরিবারে গণেশের মূর্তি বাড়িতে এনে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েক দিন ধরে পুজো করা হয়। অন্যদিকে, বিভিন্ন শহর ও এলাকায় বড় বড় মণ্ডপ তৈরি করে গণেশোৎসবের আয়োজন করা হয়। পুজোর পাশাপাশি সেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, সঙ্গীতানুষ্ঠান, খাবারের আয়োজন এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগও দেখা যায়।উৎসবের শেষ দিনে গণেশের মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জলাশয়ে বাপ্পার বিসর্জনের মাধ্যমে গণেশোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

রাশি অনুযায়ী বেছে নিন গণপতি বাপ্পার মূর্তির রং, কোন রাশির জন্য কোন রং শুভ?

গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে বাড়িতে গণপতি বাপ্পার মূর্তি স্থাপনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন ভক্তরা। মূর্তি কেনার সময় সাধারণত আকার, রূপ, ভঙ্গি এবং পুজোর নিয়মের দিকে নজর দেওয়া হয়। তবে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশের মূর্তির রঙেরও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বিভিন্ন রঙের সঙ্গে বিভিন্ন গ্রহ এবং তাদের বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। সেই বিশ্বাস অনুযায়ী, নিজের রাশি অনুসারে গণেশের মূর্তির রং বেছে নিলে শুভ ফল পাওয়া যেতে পারে।২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। প্রচলিত জ্যোতিষীয় মতে, ওই সময় চন্দ্র তুলা রাশিতে অবস্থান করবে। এবার দেখে নেওয়া যাক, কোন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য কোন রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়।মেষ ও বৃষ রাশির জন্য লাল ও হালকা গোলাপিমেষ রাশির অধিপতি গ্রহ মঙ্গল। জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গলের সঙ্গে লাল রঙের সম্পর্ক রয়েছে। তাই মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য লাল রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং সাহস, কর্মশক্তি ও সংকল্পের প্রতীক। জীবনের বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে লাল গণপতির আরাধনা ফলদায়ক হতে পারে বলে বিশ্বাস।বৃষ রাশির অধিপতি শুক্র। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ক্রিম বা হালকা গোলাপি রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং সৌন্দর্য, আরাম, সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।মিথুন ও কর্কটের জন্য সবুজ ও সাদামিথুন রাশির অধিপতি বুধ। তাই মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য সবুজ রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সবুজ রং বুদ্ধি, যোগাযোগ, শিক্ষা ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত।কর্কট রাশির অধিপতি চন্দ্র। তাই এই রাশির জন্য সাদা রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। সাদা রং শান্তি, পবিত্রতা, মানসিক স্থিরতা এবং পারিবারিক সম্প্রীতির প্রতীক বলে বিশ্বাস করা হয়।সিংহ ও কন্যার জন্য কমলা ও সবুজসিংহ রাশির অধিপতি সূর্য। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য কমলা, জাফরান বা হালকা সোনালি রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং আত্মবিশ্বাস, প্রাণশক্তি, নেতৃত্ব এবং অভ্যন্তরীণ শক্তির প্রতীক।কন্যা রাশির অধিপতিও বুধ। তাই কন্যা রাশির জন্য সবুজ রঙের গণেশ মূর্তি উপযুক্ত বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে মনে করা হয়। সবুজ রং বুদ্ধি, দক্ষতা ও যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।তুলা ও বৃশ্চিকের জন্য গোলাপি ও মেরুনতুলা রাশির অধিপতি শুক্র। তাই এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য গোলাপি এবং হালকা নীল রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং সৌন্দর্য, সম্পর্কের ভারসাম্য, সম্প্রীতি ও শান্তির প্রতীক।বিশেষ করে ২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থীর সময় চন্দ্র তুলা রাশিতে অবস্থান করার বিষয়টিকেও জ্যোতিষীয় দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য গাঢ় লাল বা মেরুন রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং শক্তি, মানসিক সাহস এবং নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।ধনু ও মীনের জন্য হলুদধনু রাশির অধিপতি বৃহস্পতি। তাই ধনু রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য হলুদ রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। হলুদ রং শিক্ষা, সমৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়।মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্যও হলুদ রঙের গণেশ মূর্তি অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বৃহস্পতির সঙ্গে হলুদ রঙের সম্পর্ক থাকায় এই রঙকে জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।মকর ও কুম্ভের জন্য মাটির রং ও নীলমকর রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ধূসর, পাথুরে বা মাটির মতো বাদামি রঙের গণেশ মূর্তি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই রং শনির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও ধীরস্থির অগ্রগতির প্রতীক বলে মনে করা হয়।অন্যদিকে, কুম্ভ রাশির জন্য নীল রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে জ্যোতিষীয় বিশ্বাস রয়েছে। নীল রং স্থিরতা, গভীরতা ও মানসিক দৃঢ়তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।তবে রাশি অনুযায়ী গণেশ মূর্তির রং বেছে নেওয়ার এই ধারণাগুলি মূলত জ্যোতিষশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে প্রচলিত। ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পারিবারিক রীতি এবং স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী গণেশ পুজোর নিয়ম ও পছন্দ ভিন্ন হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal