• ৯ মাঘ ১৪৩২, রবিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Madhyamik

রাজ্য

১৯৬৭ সালের অ্যাডমিট কার্ড হাতে শুনানিতে হাজির ৭৫ বছরের বৃদ্ধা, চমকে গেল এসআইআর কেন্দ্র

শুরু হয়ে গিয়েছে এসআইআর-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। প্রতিটি বিধানসভা ক্ষেত্র পিছু একাধিক জায়গায় চলছে শুনানি। স্কুল ও সরকারি অফিসে তৈরি করা হয়েছে শুনানি কেন্দ্র। প্রথম পর্যায়ে মূলত আনম্যাপড ভোটারদেরই শুনানিতে ডাকা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।এই শুনানির মাঝেই নজর কাড়লেন শ্রীরাম মন্দির লেনের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী ভারতী দে। ফর্মে নামের ক্ষেত্রে সামান্য ভুল থাকায় তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানিতে এসে নিজের সঙ্গে নিয়ে আসেন ১৯৬৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড এবং রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট। এত পুরনো নথি, তাও আবার এত ভালো অবস্থায় দেখে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত অনেকে।নির্বাচন কমিশনের এসআইআর যাচাই প্রক্রিয়ায় দশটিরও বেশি নথি দেখানোর সুযোগ রয়েছে। মাধ্যমিক সংক্রান্ত নথির পাশাপাশি আরও একাধিক পরিচয়পত্র গ্রহণ করা হয়। সেই প্রেক্ষিতেই এত বছরের পুরনো অ্যাডমিট কার্ড এবং শংসাপত্র অক্ষত অবস্থায় দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন অনেকে। তবে ভারতী দেবীর কথায়, পড়াশোনার সব কাগজপত্র তিনি সযত্নে রেখে দিতে ভালোবাসেন। কিন্তু সেগুলি যে একদিন এত কাজে লাগবে, তা তিনি ভাবেননি।কেন তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে ভারতী দেবী বলেন, নামের ক্ষেত্রে হয়তো কোনও ভুল ছিল। তাই শুনানির নোটিস এসেছিল। তবে সেখানে পৌঁছনোর পর তাঁকে জানানো হয়, বাড়িতেই নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা যাচাই করতে আসবেন। তিনি আরও জানান, বিগত প্রতিটি নির্বাচনেই তিনি ভোট দিয়েছেন এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল।বয়সের ভারে শরীর এখন দুর্বল। শারীরিক অসুস্থতা থাকলেও এদিন পায়ে হেঁটেই শুনানি কেন্দ্রে সময়মতো পৌঁছন তিনি। গণভবন থেকে বেরিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেন ওই বৃদ্ধা।অন্যদিকে, চেতলা গার্লস স্কুলে নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি শুনানি কেন্দ্র করা হয়েছে। তার কাছেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি সহায়তা ক্যাম্প বসানো হয়। সেখানে সাধারণ মানুষ এসে নিজেদের সমস্যা ও প্রশ্ন জানাচ্ছেন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাকার কাউন্সিলর ও কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ওই ক্যাম্পে যান এবং দীর্ঘক্ষণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজ্য

সর্বভারতীয় জেইই-তে রাজ্যেও প্রথম পূর্ব বর্ধমানের দেবদত্তা, মাধ্যমিকেও ছিল শীর্ষে

সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন (জেইই) মেন পরীক্ষায় নজর কাড়া ফল করেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের বাসিন্দা দেবদত্তা মাঝি। এই দেবদত্তা মাঝি ২০২৩ সালের মাধ্যমিকেও প্রথম স্থান অর্জন করেছিল। এবার সর্বভারতীয় স্তরে রেজাল্ট করে নিজের মান রাখলেন। দেবদত্তা মাঝি কাটোয়া শহরের দুর্গাদাসী চৌধুরী গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী। মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৭০০ নম্বরের মধ্যে দেবদত্তা পেয়েছিল ৬৯৭ নম্বর। ৯৯.৫৭ শতাংশ। আর এই সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন (জেইই) মেন পরীক্ষায় দেবদত্তার প্রাপ্ত নম্বর ৩০০ এর মধ্যে ২৭৫।দেবদত্তার মা দুর্গাদাসী চৌধুরী গার্লস হাই স্কুলেরই শিক্ষিকা এবং বাবা আসানসোলের একটি কলেজের অধ্যাপক। দেবদত্তার মা জানিয়েছেন, দেবদত্তা মাধ্যমিক দিয়েছে যে স্কুল থেকে, সেই স্কুল থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক দেবে। দেবদত্তা প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সে পড়াশোনা করে। দেবদত্তার ইচ্ছা আইআইটি বা ব্যাঙ্গালোরে আইআইএসসি তে পড়াশোনা করার।উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্বের জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজ়ামিনেশন (জেইই) মেন- এর ফল প্রকাশ করল জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা বা এনটিএ। পরীক্ষা শেষের ১২ দিনের মাথায় প্রকাশিত হল ফলাফল। এ বছর জেইই মেন-এর জানুয়ারি পর্ব বা প্রথম পর্বের পরীক্ষা হয়েছিল ২২ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ লক্ষ।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫
শিক্ষা

দেখে নিন এক ঝলকে ২০২৪ মাধ্যমিকের মেধা তালিকা

প্রকাশিত হল ২০২৪ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। এবারের রাজ্য মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় প্রথম দশে রয়েছেন মোট ৫৭ জন কৃতী ছাত্র-ছাত্রী। মেধাতালিকায় ছেলেদের সংখ্যা ৪৫ জন এবং মেয়েদের সংখ্যা ১২ জন। যদিও পাশের হারে মেয়েরা এবার ছেলেদের থেকে বেশী পাশ করেছে। মাধ্যমিক ২০২৪-এ প্রথম দশের সম্পূর্ণ মেধাতালিকা জেনে নিন। মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৮০ দিনের মাথায় ফলাফল বেরোলো। পাশের হারে শীর্ষে রয়েছে কালিম্পং জেলা। অন্য জেলাগুলির সফলতাও এবারে নজরকাড়া। কোন জেলার কোন পড়ুয়া সেরা দশে? রইল তার সবিস্তার তালিকা।প্রথম:চন্দ্রচূড় সেন। কোচবিহারের রামভোলা হাইস্কুলের এই কৃতী ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩ (৯৯%)।দ্বিতীয়:সাম্যপ্রিয় গুরু পুরুলিয়া জেলা স্কুলের ছাত্র। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯২ (৯৮.৯৬%)।তৃতীয়:এবারের মাধ্যমিকে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ৩ জন পরীক্ষার্থী। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট হাইস্কুলের ছাত্র উদয়ন প্রসাদ, বীরভূমের ইলামবাজারের নিউ ইন্টিগ্রেটেড গভর্নমেন্ট হাইস্কুলের পুষ্পিতা বাঁশুরি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র নৈঋতরঞ্জন পাল তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। এদের প্রত্যেকের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১।চতুর্থ:এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় চতুর্থ হয়েছেন হুগলির কামারপুকুর রামকৃষ্ণ হাইস্কলের ছাত্র তপজ্যোতি মণ্ডল। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯০ (৯৮.৫৭%)।পঞ্চম:পূর্ব বর্ধমানের অর্ঘ্যদীপ বসাক ৬৮৯ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন। অর্ঘ্যদীপ পারুলডাঙা নসরতপুর হাইস্কুলের পড়ুয়া।ষষ্ঠ:মাধ্যমিকে ষষ্ঠ স্থানে ৬৮৮ নম্বর পেয়ে রয়েছেন মোট ৪ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট হাইস্কুলের কৃষাণু সাহা, পশ্চিম মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র কৌস্তভ সাহু। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র অলিভ গায়েন এবং মালদহের মোহামপুর এইচএসএসবি হাইস্কুলের ছাত্র মহম্মদ সাহারুদ্দিন।সপ্তম:৬৮৭ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে সপ্তম স্থানে রয়েছেন মোট ৯ জন। তাঁরা হলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী আবৃত্তি ঘটক, কোচবিহারের মাথাভাঙা হাইস্কুলের আসিফ কামাল। বালুরঘাট গার্লস হাইস্কুলের অর্পিতা ঘোষ, বালুরঘাট হাইস্কুলের সাত্যদা দে, পূর্ব মেদিনীপুরের জ্ঞানদীপ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের সুপমকুমার রায়, বীরভূমের সরোজিনী দেবী শিশু মন্দিরের আরত্রিক শ, পূর্ব মেদিনীপুরের বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম শিক্ষায়তনের কৌস্তভ মল, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণমিশনের আলেখ্য মাইতি।অষ্টম:৬৮৬ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে অষ্টম স্থানে রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর মিশন গার্লস স্কুলের ছাত্রী তনুকা পাল, পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান বিদ্যার্থী ভবনের ছাত্রী ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী, নদিয়ার কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের ঋদ্ধি মল্লিক ও বর্ধমান মিউনিসিপাল হাইস্কুলের ছাত্র দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য।নবম:মাধ্যমিকে ৬৮৫ নম্বর পেয়ে নবম স্থানে দক্ষিণ দিনাজপুরের বাউল পরমেশ্বর হাইস্কুলের অস্মিতা চক্রবর্তী, এই জেলারই রৌণক ঘোষ, মালদহের মোহামপুর এইচএসএসবি হাইস্কুলের বিশালচন্দ্র মণ্ডল, এই স্কুলেরই আমিনুল ইসলাম। বীরভূমের সাইঁথিয়া টাউন স্কুলের চন্দ্রদীপ দাস, বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাইস্কুলের অরুণিমা চট্টোপাধ্যায়, মেদিনীপুরের কলেজিয়েট স্কুলের ধৃতিমান পাল। ঝাড়গ্রামের রানি বিনোদমঞ্জরী গার্লস হাইস্কুলের অণ্বেষা ঘোষ, রামকৃষ্ণ শিক্ষা মন্দিরের সায়ক শাসমল ও সাগর জানা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ঋতব্রত নাথ, ঋত্বিক দত্ত। নদিয়ার চাকদহের রামলাল অ্যাকাডেমির ছাত্র জিষ্ণু দাস, বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম শিক্ষায়তনের সাগ্নিক ঘটক, শ্যামপুর হাইস্কুলের অরণ্যদেব বর্মন, সারজোনী বিদ্যাপীঠের সায়নদীপ মান্না।দশম:২০২৪ র মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় দশম স্থানে রয়েছেন মোট ১৫ জন। এদের প্রত্যেকেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৪। তারা হলেনঃ১। পূর্ব মেদিনীপুরের কন্টই মডেল ইন্সটিউশনের সম্পাদ পারিয়া, ঋতম দাস। ২। পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান বিদ্যার্থী ভবন গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী সম্পূর্ণা নাথ, ৩। হুগলির ইএলআইটি কো-এডুকেশন স্কুলের ছাত্র নীলাঙ্কন মণ্ডল, ৪। বাঁকড়ার তালডাংরা ফুলমতী হাইস্কুলের সৌমিক খান। ৫। পূর্ব বর্ধমানের পারুলডাঙা নসরতপুকর হাইস্কুলের অর্ণব বিশ্বাস, ৬। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া কাশীরাম দাস ইন্সটিটিউশনের অনীশ কোনার।৭। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী ভূমি সরকার, ৮। মালদহের মোজামপুর হাইস্কুলের বিশাল মণ্ডল, ৯। বাঁকুড়া জেলা স্কুলের সৌভিক দত্ত, গড় রায়পুর হাইস্কুলের ছাত্র সৌম্যদীপ মণ্ডল। ১০। পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাবভনের ছাত্র অগ্নিভ পাত্র, ১১। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র শুভ্রকান্তি জানা, ১২। সারদী বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের ইশান বিশ্বাস।

মে ০২, ২০২৪
শিক্ষা

মাধ্যমিকে প্রথম কাটোয়ার দেবদত্তা ও দ্বিতীয় বর্ধমানের শুভমের সাফল্যের পিছনে কারণ কি?

এবার মাধ্য়মিক পরীক্ষায় জয়জয়কার বর্ধমান জেলার। বিশেষত কাটোয়া ও বর্ধমান শহরের নাম জ্বল জ্বল করছে। সারা রাজ্যে মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছে দেবদত্তা মাঝি। ৬৯৭ নম্বর পেয়ে প্রথম কাটোয়ার দুর্গাদাসী চৌধুরানী হাইস্কুলের ছাত্রী। মাধ্য়মিকে প্রথম স্থানাধিকারী ছাত্রীর উচ্ছ্বসে ভেসে গিয়েছেন। দেবদত্তা জানিয়েছে, এই ফল উৎসর্গ করেছে মাকে। এই সাফল্য এসেছে স্কুলের ও গৃহশিক্ষদের জন্য। ফলপ্রকাশের পর থেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হয়েছেন পাড়া প্রতিবেশি থেকে আত্মীয়স্বজনেরা। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তে চান তিনি।দেবদত্তা মাঝি প্রাইভেট টিউশন যেমন পড়ত, তেমনই বাড়িতেও নিজের পড়াশোনার দিকে খেয়াল রাখত। দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়ত এবারের মাধ্যমিকের একমাত্র প্রথম স্থানাধিকারী। সাদামাটা পরিবারে বড় হয়েছে দেবদত্তা। সেলফ-স্টাডি করতেই বেশি পছন্দ করে।এদিকে বর্ধমান শহরের শুভম পাল মাধ্যমিকে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৫। এবারে তাঁর রেজাল্ট আকাশছোঁয়া, খবর পেতেই বাড়িতে উৎসবের আমেজ। যেন নিজেই বিশ্বাস করতে পারছেন না শুভম। শহরের ঐতিহ্য়বাহী বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুলের ছাত্র শুভম। শুভমের কথায়, ভীষণ ভাল লাগছে। এই দিনটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। তবে এতটা ভাল ফল হবে আশা করতে পারিনি।প্রত্যেকটা বিষয়ে একজন করে প্রাইভেট টিউটর ছিল শুভমের। মা বাংলার শিক্ষিকা। মায়ের কাছেই বাংলা পড়তাম। শুভম বলেন, মা সব থেকে সাহায্য করেছেন। স্কুলের শিক্ষকরাও পাশে ছিল। সে জানিয়েছে, সারাদিন নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা করতাম না। যখন ইচ্ছে হত তখনই পড়তাম। বাঁধাধরা ছিল না কিছুই। পাঠ্য বই ভাল করে পড়তে হবে। প্রতিটা লাইন খুঁটিয়ে পড়েই সাফল্য এসেছে। শুভমের পড়াশোনা ছাড়া গান, আবৃত্তিতে বেশ ঝোঁক রয়েছে।

মে ১৯, ২০২৩
রাজ্য

মালদার হাসপাতালে বসে মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পরীক্ষা দিলেন দুই মা

পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়ে মুখ ভাল করে দেখার আগেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসলেন পরীক্ষার্থী। মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেডে বসেই পরীক্ষা দেন প্রসূতি। তাঁকে দেখাভালের জন্য তাঁর পাশেই ছিলেন চিকিতসক ও নার্স। এমনকী একজন সিভিক ভলেন্টিয়ারও ছিলেন। পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়ে মালদা মেডিকেল কলেজের বেডে বসেই পরীক্ষা দিলেন প্রসূতি ওই মহিলা। মালদা মেডিকেল কলেজে মাধ্যমিক ওই পরীক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ। ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সুস্থ অবস্থায় পরীক্ষা দিতে পারছেন কিনা তার তদারকি করেন মেডিকেল কলেজের কর্মাধ্যক্ষ পার্থপ্রতীম মুখোপাধ্যায়। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর পাশেই পরীক্ষার সময়টুকু একটানা বসেছিলেন একজন চিকিৎসক, কর্তব্যরত নার্স। ছিলেন সিভিক ভলেন্টিয়ারও।মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদার বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভিরা গ্রামের বাসিন্দা সিরিন বিবি। বছর দেড়েক আগে গ্রামের সরিফ মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। গত শনিবার মালদা মেডিক্যাল কলেজে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হয় সিরিন। বুধবার মধ্যরাতে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয় সে। এমন পরিস্থিতিতেও মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার মনোবল তুঙ্গে ছিল সিরিনের।এদিকে চিকিৎসকদের নজরদারি ও নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মালদা মেডিক্যালে পরীক্ষা দিয়েছে সিরিন বিবি। তবে শুধু সিরিন নয় মাদ্রাসা পরীক্ষা দিচ্ছে কোলের শিশুকে নিয়ে সাহারাবানু খাতুম। সে মানিকচকের বালুটোলার বাসিন্দা। যদিও সাহারাবানুর পুত্রসন্তান হয়েছে প্রায় চার মাস আগে। কিন্তু সম্প্রতি শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে যাওয়ায় তাঁকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই জায়গায় অন্য বেডে সিরিনের সাথেই মাদ্রাসার পরীক্ষা দিচ্ছে সাহারাবানু।

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৩
রাজ্য

মাধ্যমিকে প্রথম স্থানাধিকারী রৌনককে সম্বর্ধনা পুর্ব-বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা-র

বর্ধমান শহরের সিএমএস স্কুলের ছাত্র রৌনক মণ্ডল। ২০২২র মাধ্যমিক পরীক্ষায় যুগ্ম প্রথম স্থানাধিকারী। রামহরিপুর রামকৃষ্ণ মিশন হাই স্কুল (বাঁকুড়া) অর্ণব ঘড়াই রৌনক -এর সাথে যুগ্ম ভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এ বছর ৭ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ অবধি মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়েছিল। করোনা অতিমারির কারণে ২০২১ এ মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়নি। ২০২২ এ মোট মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১১ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৬৩। ছাত্রের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৫৯ জন। এবং ছাত্রী ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ৮০৪। সারা রাজ্যে ৪ হাজার ১৫৪ টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সম্পুর্ণ আদর্শ করোনা বিধি মেনে।পুর্ব-বর্ধমান জেলার জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা মাধ্যমিকে প্রথম স্থানাধিকারী রৌনক মণ্ডল-কে তাঁর জেলাশাসক কার্যালয়ে শুক্রবার সম্বর্ধনা দেন। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা রৌনক-কে একটি ল্যাপটপ উপহার দেন। ভবিষ্যতে কি হতে চাই সে কথা জানতে চাইলে, রৌনক প্রিয়াঙ্কা সিংলা কে জানান আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই। প্রিয়াঙ্কা সিংলা তার সাফল্য কামনা করে শুভকামনা জানান, যাতে সে তার লক্ষ্যে অবিচল থেকে লক্ষ্য পুরণ করতে পারে।রৌনক জানান, সে মাধ্যমিকে প্রথম হবে সেটা আশা করেননি। তার ধারনা ছিল সে এক থেকে দশের মধ্যে থাকবে। রৌনক কতক্ষণ পড়ত জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা এ কথা জানতে চাইলে, তাঁর মা জেলাশাসক-কে জানান, রৌনক দিনে গড়ে আট ঘণ্টা পড়ত। তিনি আরও জানান, রৌনক খুব বেশী রাত জেগে পড়েনি।শুক্রবার মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর প্রথম স্থানাধিকারী পূর্ব বর্ধমানের রৌনক মণ্ডল জানতে পারেন তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩। সে জানাই, তার প্রিয় বিষয় জীবনবিজ্ঞান এবং অঙ্ক। যেহেতু আমার লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া তাই, নিট পরীক্ষার প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছি।রৌনকের প্রিয় চরিত্র ফেলুদা, সত্যজিত রায়ের অমর সৃষ্টি পড়েই অবসর সময় অতিবাহিত করে সে। অবসর সময়ে ভলিবল খেলত বলে জানাই রৌনক। রবীন্দ্রসঙ্গীতের অনুরাগী, সময় পেলেই রবীন্দ্রনাথের গান গুনগুনিয়ে ওঠে। জেলাশাসকের কাছ থেকে ল্যাপটপ উপহার পেয়ে খুবই খুশি মাধ্যমিকে প্রথম রৌনক। সে জানাই এই ল্যাপটপ আমার পড়াশোনার জন্য খুব-ই কাজে লাগবে।

জুন ০৩, ২০২২
রাজ্য

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, অভিযোগের আঙুল উঠলো বন্ধুর দিকে

বিয়ে বাড়িতে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমানে। মৃত ছাত্রের নাম শেখ জিৎ (১৬)। বর্ধমানের সড়াইটিকর মন্সিপাড়ার এই ছাত্র এবছর বর্ধমান হাই মাদ্রাসা থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে।শনিবার সকালে এলাকার একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্তায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। যদিও হাঁটু ভাঁজ করা অবস্তায় ছাত্রের পা মাটিতে ঠেঁকেছিল। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ছাত্র জিৎ আত্নহত্যা করেছে বলে মানতে চাননি তাঁর পরিবার। জিৎকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। ছাত্রেয় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কি তার তদন্ত পুলিশ শুরু করেছে।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্র শেখ জিৎ শুক্রবার তাঁদের পাড়ারই একটি বিয়ে বাড়িতে যায়।সেখানে সবার সঙ্গে সে নাচ-গান করে। বন্ধু শেখ শরিফের বাড়িতে রাতে ঘুমাতে যচ্ছে বলে বলে জিৎ তাঁর বাড়ির লোকজনকে জানায়। জিতের বাবা শেখ আল্লারাখা এদিন পুলিশকে অভিযোগে জানান, তাঁর ছেলে শুক্রবার পাড়ার একটি বিয়ে বাড়িতে যাবার সময় বলে যায় বাড়িতে আনন্দ করবো। রাতে বাড়িতে ফিরবো না। বন্ধু শেখ শরিফের বাড়িতে ঘুমাবো বলেও সে জানিয়ে যায়। এরপরই এদিন সকালে বাড়ির অদূরেএকটি গাছে ঝুলে থাকা অবস্থায় ছেলের দেহ উদ্ধার হয়৷ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা দেখেন ছেলের দেহ গাছে ঝুললেও হাঁটু ভাঁজ করা অবস্তায় তাঁর পা মাটিতে ঠেকে আছে।শেখ আল্লারাখা বলেন, পুলিশ ঘটনা বিষয়ে শরিফকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় রাত বারোটার সময় সে জিৎকে ঘর থেকে বার করে দিয়েছে। ঘর থেকে বের করে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে শরিফ জানায়, তাঁর ঘুম পেলেই জিৎ উঠে পালিয়ে যাচ্ছিল। তাই সে জিৎকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার কথা জিতের বাড়িতে জানালে যদি বকাবকি করে তাই কাউকে কিছু জানায় নি বলে শরিফ বলে। ছেলের বন্ধুর এমন বক্তব্য রহস্যজনক ঠেকায় শেখ আল্লারাখা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার যথোপযুক্ত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।তদন্তে নেমে পুলিশ ছাত্রের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

মার্চ ২৬, ২০২২
রাজ্য

রং খেলতে বেরিয়ে খুন ঝাড়গ্রামের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী

বাড়ি থেকে দোল খেলতে বেরিয়ে মৃত্যু হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। মৃতের নাম দীপ সাহা (১৬)। কিশোরের বাড়ি ঝাড়গ্রাম শহরের সুভাষপল্লি এলাকায়। শহরের বাণীতীর্থ হাই স্কুলের ছাত্র ছিল সে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ আইটিআই সংলগ্ন শীতলাডিহি এলাকা থেকে ওই কিশোরের অচেতন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।স্থানীয় সূত্রে খবর, এ দিন ঘোড়াধরায় বসন্ত উৎসবে বন্ধুদের সঙ্গে এসেছিল দীপ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নাবালককে ঘোড়ধরা পার্কের বাইরে থাকা কিছু যুবক ধাওয়া করেছিল। ছুটতে ছুটতে সে পড়ে যায়। জানা গিয়েছে, পুরনো বিবাদের জেরে সুভাষপল্লি এলাকার ছেলেদের মারধর করার জন্য পিছু ধাওয়া করছিল শহরের স্টেশন পাড়ার কয়েক জন যুবক। এ দিন সন্ধ্যায় ঝাড়গ্রাম থানায় কৌশিক দাস, অনুরাগ তিওয়ারি ও আয়ুষ যাদব, এই তিন জনের নামে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ওই কিশোরের শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।মৃতের বাবা দিলীপ সাহা বলেন, আমার ছেলে কোনও দিন ঝামেলা গন্ডগোলে থাকে না। পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।

মার্চ ১৯, ২০২২
রাজ্য

টুকলি নিয়ে মারপিট বচসা, পরীক্ষাকেন্দ্রে জখম মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী

পরীক্ষা কেন্দ্রে টুকলি করা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিরোধ। তার জেরেই পরীক্ষাকেন্দ্র চত্বরে অন্য পরীক্ষার্থীদের মারধোরে জখম হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তাঁর নাম শুভম ঘোষ। মঙ্গলবার ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষা শেষে এই ঘটনাটি ঘটে পূ্ব বর্ধমানের কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ ইউনিয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। মাথায় আঘাত লাগায় চিকিৎসার জন্য পরীক্ষার্থী শুভম ঘোষ কে উদ্ধার করে এদিন নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পরেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হন অভিভাবকরা।অভিভাবকরা জানিয়েছেন, কাটোয়া মহকুমার মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্র মধ্যে একটি হল অগ্রদ্বীপ ইউনিয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই পরীক্ষা সেন্টারে অগ্রদ্বীপ সুবোধ চৌধুরী শিক্ষানিকেতন, মাখালতোড় উচ্চবিদ্যালয় সহ আসপাশের কয়েকটি স্কুল মিলে মোট ২৭৬ জন পড়ুয়া মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। মাখালতোড় উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র শুভম ঘোষ অগ্রদ্বীপের পলাশির বাসিন্দা। শুভম জানিয়েছে,পরীক্ষা শেষে হবার পর সে বাইরে বের হয়। তখনই সে দেখে সুবোধ চৌধুরী শিক্ষানিকেতন স্কুলের বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী তার এক বন্ধুকে ঘিরে ধরে ব্যাপক মারধর করছে। তা দেখে সে বন্ধুকে বাঁচাতে যাই। তখন মারধোরে জড়িতরা তাঁর বন্ধুকে ছেড়ে দিয়ে তাঁর উপর চড়াও হয়ে মারধর করতে শুরু করে। তাকে মাটিতে ফেলে এলোপাথাড়ি পেটাতে শুরু করে। পরীক্ষাকেন্দ্র চত্ত্বরে থাকা সিভিক ভলান্টিয়াররা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।মারধোরের কারণ প্রসঙ্গে শুভম জানায়,পরীক্ষাকেন্দ্রে টুকলি করা নিয়ে কয়েকদিন ধরে সুবোধ চৌধুরী শিক্ষানিকেতনের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর ওই বন্ধুর ঝামেলা ঝামেলা চলছিল। আর টুকলি বিবাদ তৈরি হওয়ায় সুবোধ চৌধুরী শিক্ষানিকেতনের পরীক্ষার্থীরা এদিন পরীক্ষা শেষে হামলা মারধোর শুরু করে দেয়। আক্রান্ত শুভমের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা এদিনের ঘটনা বিষয়ে অগ্রদ্বীপ পুলিস ফাঁড়িতে অভিযোগ জানিয়েছেন। কাটোয়া মহকুমা শিক্ষাদপ্তরের এ-আই শেখর মণ্ডল বলেন,ঘটনাটি নিয়ে ওই স্কুলের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মার্চ ১৫, ২০২২
রাজ্য

অ্যাডমিট কার্ড পেয়েও পূর্ব বর্ধমানে হাজারের বেশী পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পা রাখলো না

করোনা অতিমারির কারণে প্রায় দুবছর বন্ধ ছিল স্কুল। অতিমারির প্রভাব শিথিল হবার পর স্কুল খুললে দেখা যায় অনেক পড়ুয়া আর স্কুলমুখী হচ্ছে না। এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সেই একই চিত্র উঠে এল পূর্ব বর্ধমান জেলায়। অ্যাডমিট কার্ড পেয়েও এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পা-ই রাখলো না জেলার ১০৩১ জন পরীক্ষার্থী। তার মধ্যে রয়েছে মেমারির রসিকলাল স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের ১৪ পরীক্ষার্থী ,বর্ধমানের তেজগঞ্জ হাইস্কুলে ৮ জন পরীক্ষার্থী ও কাটোয়ার একটি স্কুলের ১১ জন পরীক্ষার্থী।মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের এই ভাবে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি হতবাক করেছে জেলার শিক্ষক মহলকেও। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় কেন এত সংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলো তার তথ্য অনুসন্ধান ভীষণ জরুরী বলেই মনে করছেন শিক্ষকরা।জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দফতরের দেওয়া তথা অনুযায়ী এই বছর খাতায় কলমে জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৪৪৯ জন। তার মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ২৪ হাজার ১৩৮ জন ও ছাত্রী সংখ্যা ৩১ হাজার ৩১৫ জন। এই পরিসংখ্যায়ন থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে যে এবছর ছাত্রের তুলনায় ৭ হাজার বেশী ছাত্রীর নাভ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে।সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা।কিন্তু পরীকার প্রথ দিন থেকে ছাত্র ও ছাত্রী মিলিয়ে ১০৩১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পা-ই রাখলো না। পরীক্ষায় না বসার ক্ষেত্রে অবশ্য ছাত্রীর তুলনায় ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছে।শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, করোনা অতিমারির কারণে অনেক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাজ চলে গিয়েছে। অভিভাবকরা রেজগারহীন হয়ে পড়েছেন। সংসার টানতে ওইসব পরিবারের পড়ুয়াদেরও কাজে যেতে হয়েছে। আবার অনেক পড়ুয়া স্কুল বন্ধ থাকায় সংসারের আর্থিক দুরাবস্থা কাটাতে নানা জায়গায় কাজে চলে যায়। অনেক নাবালিকা ছাত্রীর আবার বিয়েও হয়ে গিয়েছে।এছাড়াও অনেকে ভেবে ছিল এই বছরও হয়তো পরীক্ষার পরিবর্তে আভ্যন্তরীণ মূল্যায়ণে পাশ করার সুযোগ মিলবে। কিন্তু তা না হওয়ায় পরীক্ষারফর্ম পূরণের পরে অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্র মুখো হয়নি।এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধীপতি দেবু টুডু বলেন,রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের নানাবিধ সহায়তা পবার ব্যবস্থা করেছে।তার পরেও একাংশ পরীক্ষার্থীর এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় না বসার কি কারণ থাকতে পারে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

মার্চ ১০, ২০২২
রাজ্য

নাবালিকা ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করিয়ে তাঁকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে নিয়ে গেল পুলিশ

বিনাপণে বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগের রাতে নাবালিকা মেয়েকে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দিয়েছিল বাবা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার খবর পেয়েই পূর্ব পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশ দ্রুত বেরোয়া গ্রামে পৌছে নাবালিকা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বিয়ে রেখে দেয়। তার কারণে নিরুপায় হয়ে বউ ছাড়াই টোপর হাতে নিয়ে ওই রাতেই নিজের বাড়ি ফিরে যেতে হয় বর বাবাজীবনকে। আর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্বশুরবাড়ি যেতে না হওয়ায় সোমবার মহানন্দেই মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিল ভাতারের মাহাতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী।ছাত্রীটি এদিন জানিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার জন্য সে রবিবার রাতে পড়াশুনা করছিল। পরীক্ষা না দিয়ে ছাদনাতলায় বিয়ের পিঁড়িতে বসার কোনও চিন্তাভাবনা তার মাথাতেই ছিল না। একপ্রকার জোর করেই ওই দিন তাঁকে বিয়ের পিঁড়িতে বসার জন্য বাধ্য করা হচ্ছিল। তবে অবশ্য ভাতার থানার ওসি সৈকত মণ্ডলের জন্য তা আর কেউ করতে পারেনি। তাই এদিন ভালোভাবেই মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষা দিতে পেরেছি বলে ছাত্রী জানিয়েছে। নাবালিকা ওই ছাত্রী আরও জানিয়েছে,পড়াশুনা ছেড়েদিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসার স্বপ্ন সে দেখেনা। লেখাপড়া শিখে নিজেকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করারই তাঁর এখন একমাত্র লক্ষ্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাতারের বেরোয়া গ্রামেরওই ছাত্রীরা দুই বোন। সে ছোট। তাঁর দিদির বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের বাবা জনমজুরির কাজ করেন ৷ মা গৃহবধু। মাহাতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে ছাত্রীটি । তাঁর সিট পড়েছে এরুয়ার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। যে যুবক রবিবার তাঁকে বিয়ে করতে টোপর মাথায় দিয়ে হাজির হয়েছিল তার বাড়ি বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার তালিত গ্রামে। ছাত্রীর মা এদিন বলেন, আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বড় মেয়ের বিয়েতে অনেক ধারদেনা হয়ে গেছে। ছোট মেয়ের বিয়ে নিয়ে চিন্তায় ছিলাম।তালিতের পাত্রটিও খারাপ ছিলনা । তার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর যখন আমাদের ছোট মেয়েকে বিনাপণে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় আমরা রাজি হয়ে যাই । তবুও আমরা অনুরোধ করেছিলাম মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য। কিন্তু পাত্রপক্ষ শর্ত রেখেছিল রবিবার রাতেই বিয়ে দিতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা মাধ্যমিক পরীক্ষার আগের দিন রাতে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ।তবে মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়ার পুলিশ রাতে আমার বাড়িতে পৌছে বিয়ে বন্ধ করিয়ে দেয় । ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দিতে পারবোনা বলে পুলিশের কাছে মুচলেখাও লিখে দিয়েছেন বলে ছাত্রীর অভিভাবকরা জানিয়েছেন। এই ঘটনার কথা জেনে ওই ছাত্রী সহপাঠীরা ভাতার থানার পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

করোনা-কাল কাটিয়ে আজ শুরু মাধ্যমিক পরীক্ষা

আজ থেকে শুরু হচ্ছে এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা। করোনা অতিমারির কাল সময়কে পেরিয়ে এবার পরীক্ষা হবে ফের অফলাইনে। মাধ্যমিকের পরীক্ষা পর্ব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সবরকমের ব্যবস্থা করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ রাজ্য সরকার। পরীক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি কোভিড বিধি নিষেধ মেনে যাতে পরীক্ষা হয় সেদিকেও কঠোর দৃষ্টি রাখছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যের পড়ুয়ারা যাতে নির্বিঘ্নে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা দিতে পারে তার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আপামর রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক সংক্রান্ত কন্ট্রোলরুম চালু হয়েছে। ০৩৩ ২৩২১৩৮২৭-সহ বেশ কয়েকটি নম্বর পর্ষদের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত হেল্পলাইন চালু থাকবে বলে জানিয়েছে পর্ষদ। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াত করতে পারেন সে জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে গণপরিবহণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। ইন্টারনেটেও নজরদারি চালানো হবে।পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।এবছর মাধ্যমিকে বসছে ১১ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৬৩ জন পরীক্ষার্থী। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্য়া এবছর বেশি। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ৮০৪। আর ছাত্রদের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৫৯।পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মলনে বলেন, এবছর ৫০ হাজারের মতো পরীক্ষার্থী বেড়েছে। পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। পরীক্ষার সেন্টার বা মূল পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা এবছর ১৪৩৫। এছাড়া সাব-ভেন্যু থাকছে ২ হাজার ৭৫৯টি। সব মিলিয়ে মোট পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা চার হাজার ১৫৪টি।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

এ এক মন ভালো করা কাহিনী, ক্যানসারকে দূরে সরিয়ে কঠিন লড়াই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সামিনার

শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ব্যাধি ক্যানসার। তা বলে জীবনযুদ্ধে হার মানতে চায়না ছাত্রী সামিনা খাতুন। তাঁর একটাই লক্ষ্য, মারণ ব্যাধির সব জ্বালা যন্ত্রণা সব সহ্য করে নিয়েও সাফল্যের সাফল্যের সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য মনের জেদকে সম্বল করেই কিশোরী সামিনা সোমবার বসতে চলেছে মাধ্যমিক পরীক্ষায়। লেখাপড়া শেখার জন্য ছাত্রী সামিনার এমন জীবন সংগ্রামের সাথী হয়েছেন তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে সামিনার যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেই ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এই বছর পূর্ব বর্ধমান জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ৫৫ হাজার ৪৪৯ জন। তার মধ্যে ছাত্র রয়েছে ২৪,১৩৮ জন । আর ছাত্রী রয়েছে ৩১,৩১৫ জন। এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিয়েছে এই বছর জেলায় ছাত্রদের থেকে ৭ হাজার বেশী ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। সেই ছাত্রীদের মধ্যেই একজন জেলার জামালপুর ব্লকের রামনাথপুর গ্রাম নিবাসী ছাত্রী সামিনা খাতুন। রামনাথপুরের শেখ পাড়ার এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সামিনা। ছোট্ট দুকুঠুরি ঘরে পরিবারের সকলে বসবাস করেন। সামিনার বাবা শেখ আলম খেতমজুরির কাজ করেন। মা নূরজাহান বেগম সাধারণ গৃহবধূ। সামিনার দিদি আসলিমা বিবাহিতা।ছোট বয়স থেকেই লেখাপড়া শেখার বিষয়ে সামিনার আগ্রহ তৈরি হয়। তাঁর বাবা তাঁকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ সম্পূর্ণ করে সামিনা ভর্তি হয় স্থানীয় বনবিবিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। একের পর এক ক্লাসের পরীক্ষায় পাশ করে সামিনা অষ্টম শ্রেণীতে উত্তির্ণ হয়।এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও সামিনার জীবনে ছন্দপতন ঘটে যায় এরপরেই। অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত কালেই ছাত্রী সামিনার শারীরিক অসুস্থতা শুরু হয়। তাঁর বাবা মা তাঁকে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান।পরিবারের সকলে তখন মনে করেছিলেন জামালপুর হাসপাতালের ডাক্তারবাবুদের চিকিৎসাতেই সামিনা সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু তা হয় না। বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে ধরা পড়ে সামিনার শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ব্যাধি। তারপর থেকে টানা দুবছর ধরে তাঁর ক্যানসার রোগের চিকিৎসা চলছে।এখন নিয়ম করে সামিনাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপি নিতে যেতে হয়। এর জন্য মাথার চুল সব উঠে যাওয়ায় সামিনা প্রথমে একটু মুষড়ে পড়েছিল ঠিকই। তবে এখন তা নিয়ে সামিনা আর মাথা ঘামাতে চায় না। এখন তাঁর একটাই স্বপ্ন সফল ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। সমিনা জানিয়েছে, তাঁর দুই কানের নিচে গলার অংশে ক্যানসার বাসা বেঁধেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসা চলছে ঠিকই তবে এখনও খাওয়া দাওয়া সে ভালভাবে করতে পারে না। গলায় খুব ব্যাথা থাকায় ভাত গিলে খেতে পারে না। শুধু পাতলা সুজি কোন রকমে খেয়ে দিনের পরদিন তাঁকে পেট ভরাতে হচ্ছে। তবে কষ্ট যাই থাক লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে সে বিছানায় শুয়ে থেকে দিন কাটাতে চায় না।সামিনা জানায়, তাঁকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল ভাবে উত্তীর্ণ হতে হবেই। তাই মারণ ব্যাধির সব জ্বালাযন্ত্রনা সহ্য করে নিয়ে সোমবার থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবার জন্য মনোনিবেশ করেছে বলে আত্মবিশ্বাসী সামিনা এদিন জানিয়েছে।ছাত্রী সামিনার বাবা শেখ আলম বলেন, আমি খেতমজুরির কাজ করে যে টুকু রোজগার করি তা দিয়েই পরিবারের সকলের দিন গুজরান হয়। দুবছর ধরে আমার ছোট মেয়ে সামিনার ক্যানসার রোগের চিকিৎসা চলছে। মেয়ে এতবড় কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাবে তাঁকে পুষ্টিকর খাবারদাবার কিছুই দিতে পারি না।মেয়ের স্কুলের শিক্ষক মহাশয়গণ ছাড়াও জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খাঁন, কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক, স্কুলের পরিচালন কমিটির সদস্য শেখ জিয়ারুল রহমান সহ আরও কয়েকজন শুভানু্ধ্যায়ী আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপির জন্য মেয়েকে নিয়মিত বর্ধমান হাপাতালে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা ও ওষুধের খরচ জোগাড় করতে পারছি। আলম বাবু আরও বলেন, কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও তাঁর মেয়ে দমে যায়নি। সফল ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করার জন্য সে এতদিন পুরোদমে পড়াশুনা চালিয়ে গিয়েছে । সামিনার মা নূরজাহান বেগম বলেন, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাপাতালেই তাঁর মেয়ের চিকিৎসা চলছে। কোন সহৃদয় মানুষ যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তবে মেয়েকে ভিন রাজ্যের বড় কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতে পারেন।বনবিবিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল রায় বলেন, সামিনা খাতুন আমাদের বিদ্যালয়ের এ- বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। দুবছর আগে ওর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। তারপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে ওর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার জন্য বিদ্যালয়ের তরফে যতটা সম্ভব সামিনাকে সাহায্য করা হয়েছে। সামিনা মাধ্যমিক পরীক্ষায় স-সন্মানে যাতে উত্তীর্ণ হতে পারে তার জন্য বিদ্যালয়ের তরফে সমস্তরকম সহযোগিতা ওর জন্য থাকছে। শ্যামল বাবু এও বলেন, সামিনা আমাদের চোখে জীবন সংগ্রামের যোদ্ধা। জীবন যুদ্ধেও সামিনা যাতে জয়ী হতে পারে সেই লড়াইয়েও সামিনার পাশে রয়েছেন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষিকারা। মাধ্যমিক পরীক্ষার সেন্টার কমিটির বৈঠকের সময়ে সামিনার অসুস্থতার বিষয়টি বিদ্যালয়ের তরফে লিখিত ভাবে জানিয়ে রাখা হয়েছে।পরিক্ষার দিনগুলিতেও সামিনাকে যাতে কোন অসুবিধায় পড়তে না হয় সেই বিষয়েও বিদ্যালয় নজর রাখবে বলে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন। জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার জানিয়েছেন,ব্লক প্রশাসনও মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে অসুস্থ ছাত্রী সামিনার পাশে থাকবে। ওর যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হবে তা নেওয়া হবে।

মার্চ ০৬, ২০২২
রাজ্য

মাধ্যমিকের আগের দিন আত্মঘাতী কাটোয়ার পরীক্ষার্থী, ইতিহাস পরীক্ষার দুশ্চিন্তাই কী কাল হল?

ইতিহাস পরীক্ষা দিতে গিয়ে হয়তো সব ভুলে যাবে। এমন দুঃশ্চিন্তার জেরে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর আগের দিনেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হল এক পরীক্ষার্থী। মৃতর নাম বিশাল চৌধুরী(১৬)। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার আউড়িয়া গ্রামে। আউড়িয়া গ্রামে মামার বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতো আউড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র বিশাল। এদিন বেলায় মামার বাড়ির একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় ছাত্রের ঝুলন্ত মৃতদেহ। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃতের মামা রাহুলদেব দাঁ বলেন, ছোট থেকেই বিশাল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। মাধ্যমিকের টেষ্ট পরীক্ষাতেও ৬৮৫ নম্বর পায়। টেষ্টে ইতিহাস বিষয়ে ৮৫ নম্বর পেয়েছিল। কিন্তু ভুলে যাওয়া স্বভাবের কারনে বিশালের মনে আশঙ্কা তৈরি হয় ষে হয়তো ইতিহাস পরীক্ষা দিতে গিয়ে সব ভুলে যাবে। আর তার কারণেই পরীক্ষার ফল খারাপ হয়ে যাবে ধরে নিয়ে কিছুদিন যাবৎ বিশাল খুব টেনশন করতে শুরু করে। রাহুলবাবু বলেন, অহেতুক টেনশন না করার জন্য বিশালকে আমরা বোঝাতাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ও যে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়ে ফেলবে তা আমরা কেউ স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বামী তন্ময় চৌধুরীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় চন্দ্রিকাদেবী তাঁর একমাত্র সন্তান বিশালকে নিয়ে অউড়িয়া গ্রামে বাপের বাড়িতে থাকা শুরু করেন। চন্দ্রিকাদেবী অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। তন্ময় বাবু কাটোয়াতে থাকলেও স্ত্রী ও একমাত্র ছেলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখতেন না। সেই সব বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে বিশাল পড়াশুনাতেই বেশী মনোনিবেশ করে থাকতো। বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে বেশী মেলামেশায় না মেতে থেকে সে পড়াশোনা নিয়েই সারাটা দিন নিজেকে ব্যস্ত রাখতো। ইতিহাস পরীক্ষা দিতে গিয়ে সব ভুলে যাবে এমন আশঙ্কা সে কিছু দিন যাবৎ প্রকাশ করতে শুরু করে। মাধ্যমিক পরীক্ষার দিন যত ঘনিয়ে আসতে থাকে ততই বিশালের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চা বিস্কুট খেয়ে সে দোতলায় নিজের ঘরে পড়তে চলে যায়। তখন একতলার গৃহস্থালীর কাজকর্ম করছিলেন চন্দ্রিকাদেবী। হঠাৎ দুতলা থেকে একটা আওয়াজ পেয়ে তিনি উপরে ছুটে যান। দেখেন ছেলের ঘরের দরজা বন্ধ। তারপর তিনি দোতলার ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে দেখেন ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ছেলের দেহ ঝুলছে। চন্দ্রিকাদেবী চিৎকার শুরু করলে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে যায়। তারা দরজা ভেঙে বিশালকে উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মার্চ ০৬, ২০২২
রাজ্য

সোমবার শুরু মাধ্যমিক, একগুচ্ছ ব্যবস্থা রাজ্যের

চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা আগামী সোমবার শুরু হচ্ছে। পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা এড়াতে এবং নির্বিঘ্নে পরীক্ষার পর্ব সম্পন্ন করতে রাজ্য সরকার একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে। পরীক্ষার দিনগুলোতে ইন্টারনেটে প্রশ্ন ফাঁস বা অন্য সমস্যা রুখতে যে সমস্ত এলাকায় নেট সার্ভারে অনিয়ম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে সেই এলাকাগুলোতেই বিশেষভাবে নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।পরীক্ষার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নবান্নে একপ্রস্থ বৈঠক সেরেছেন পুলিশ কর্তারা। প্রথমে ঠিক হয়েছিল পরীক্ষার দিনগুলোতে প্রশ্ন ফাঁস আটকাতে হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ রাখা হবে। তবে পরে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।আগামী ৭,৯,১১,১২ ও ১৪ তারিখ মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনগুলোতে সকাল ১১টা থেকে দুপুর সওয়া ৩টে অবধি ইন্টারনেটে সাইবার বিশেষজ্ঞ দলের বিশেষ নজরদারি থাকবে বলে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে।এছাড়া প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরারও ব্যবস্থা থাকছে। পুলিশকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় এবার অফলাইনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা হচ্ছে।তবে করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবার হোম সেন্টারেই হবে পরীক্ষা।পরীক্ষা চলাকালীন কঠোরভাবে কোভিড বিধি নিষেধ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে পরীক্ষার্থীদের শারীরিক দূরত্ব বিধি মেনে বসাতে বলা হয়েছে। মাস্ক ও স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য কোনও পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে পেন, পেন্সিল, স্কেল ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গাঙ্গুলী শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, সব মিলিয়ে চার হাজার ১৫৪টি কেন্দ্রে ১১ লাখ ২৬ হাজার ৮৬৩ জন পরীক্ষার্থী এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। যেটা একটা রেকর্ড। এর মধ্যে ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ৮০৪ জন ছাত্রী রয়েছে। সকাল পৌনে বারোটায় পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র পড়ার জন্য পনেরো মিনিট সময় পাবেন। বেলা তিনটে পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। প্রশ্ন ফাঁস এড়াতে পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পনেরো মিনিটের আগে ছাত্রছাত্রীরা কক্ষের বাইরে বের হতে পারবেন না।করোনার বাড়বাড়ন্তের কারণে গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল। এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা হচ্ছে অফলাইনে।৭ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ অবধি চলবে পরীক্ষা। ইতিমধ্যেই অ্যাডমিট কার্ড হাতে পেয়ে গেছেন পড়ুয়ারা। এর আগে হোয়াটসঅ্যাপে মাধ্যমিকের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই কথা মাথায় রেখেই এবার বিশেষভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে মাধ্যমিক পরীক্ষায়।

মার্চ ০৫, ২০২২
রাজ্য

Student's Struggle: শরীরে বাসা বেঁধেছে মারন রোগ, তবুও মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য এক ছাত্রীর সংগ্রামের কাহিনী

শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ব্যাধি ক্যানসার। তা বলে জীবনযুদ্ধে হার মানতে চায় না ছাত্রী সামিনা খাতুন।তাঁর এখন একটাই লক্ষ্য, মারণ ব্যাধির জ্বালা যন্ত্রণা সব সহ্য করে নিয়েও পড়াশুনা চালিয়ে গিয়ে সাফল্যের সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।মনের জেদকে সম্বল করেই কিশোরী সামিনা সেই লক্ষ্য পূরণের পথে এখন এগিয়ে চলেছে। শুধুমাত্র লেখাপড়া শেখার জন্য এক ক্যানসার আক্রান্ত ছাত্রীর এমন কঠিন লড়াইয়ে ব্রতি হওয়া কার্যতই নজিরবিহীন বলে মনে করছেন শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীরা।পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম রামনাথপুর। এই গ্রামের শেখ পাড়ার এক দিন দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সামিনা খাতুন। ছোট্ট দুকুঠুরি ঘরে পরিবারের সকলে বসবাস করেন । সামিনার বাবা শেখ আলম খেতমজুরির কাজ করেন। মা নূরজাহান বেগম সাধারণ গৃহবধূ।সামিনার দিদি আসলিমা বিবাহিতা। ছোট বয়স থেকেই লেখাপড়া শেখার বিষয়ে সামিনার আগ্রহ তৈরি হয়। তাঁর বাবা তাঁকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ সম্পূর্ণ করে সামিনা ভর্তি হয় স্থানীয় বনবিবিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। একের পর এক ক্লাসের পরীক্ষায় পাশ করে সামিনা অষ্টম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়। এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও সামিনার জীবনে ছন্দপতন ঘটে যায় এরপরেই।আরও পড়ুনঃ ফের আংশিক লকডাউনের সম্ভাবনা রাজ্যে, আপাতত বাতিল দুয়ারে সরকার কর্মসূচিঅষ্টম শ্রেণিতে পাঠরত কালেই ছাত্রী সামিনার শারীরিক অসুস্থতা শুরু হয়। তাঁর বাবা মা তাঁকে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান। পরিবারের সকলে তখন মনে করেছিলেন জামালপুর হাসপাতালের ডাক্তারবাবুদের চিকিৎসাতেই সামিনা সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু তা হয় না। বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে ধরা পড়ে সামিনার শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ব্যাধি। তার পর থেকে টানা দুবছর ধরে তাঁর ক্যানসার রোগের চিকিৎসা চলছে। এখন নিয়ম করে সামিনাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপি-র জন্য নিয়ে যেতে হয়। এর জন্য মাথার চুল সব উঠে যাওয়ায় সামিনা প্রথমে একটু মুষড়ে পড়েছিল ঠিকই। তবে এখন তা নিয়ে সামিনা আর মাথা ঘামাতে চায় না। তাঁর মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন সে সফল ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তির্ণ হওয়ার জন্য শুধুই পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে।সমিনা জানিয়েছে, তাঁর দুই কানের নিচে গলার অংশে ক্যানসার বাসা বেঁধেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসা চলছে ঠিকই তবে এখনও খাওয়া দাওয়া সে ভালভাবে করতে পারছে না। গলায় খুব ব্যাথা থাকায় ভাত গিলে খেতে পারছে না। শুধু পাতলা সুজি কোনওরকমে খেয়ে দিনের পর দিন তাঁকে পেট ভরাতে হচ্ছে। তবে কষ্ট যাই থাক লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে সে বিছানায় শুয়ে থেকে দিন কাটাতে চায় না। সামনেই তাঁর মাধ্যমিক পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় সফল ভাবে তাঁকে উত্তীর্ণ হতেই হবে। তাই মারণ ব্যাধির জ্বালা যন্ত্রণা সব সহ্য করে নিয়ে সে এখন শুধু পড়াশুনাতেই মনোনিবেশ করেছে বলে আত্মবিশ্বাসী সামিনা জানিয়েছে।আরও পড়ুনঃ বাহার কী স্বাদ ঘর মে- চিকেন রেশমি কাবাবছাত্রী সামিনার বাবা শেখ আলম বলেন , আমি খেতমজুরির কাজ করে যে টুকু রোজগার করি তা দিয়েই পরিবারের সকলের দিন গুজরান হয়। দুবছর ধরে আমার ছোট মেয়ে সামিনার ক্যানসার রোগের চিকিৎসা চলছে। মেয়ে এতবড় কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাবে তাঁকে পুষ্টিকর খাবারদাবার কিছুই দিতে পারছি না। মেয়ের স্কুলের শিক্ষক মহাশয়গণ ছাড়াও জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খাঁন, কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক, স্কুলের পরিচালন কমিটির সদস্য শেখ জিয়ারুল রহমান সহ আরও কয়েকজন শুভানু্ধ্যায়ী আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপির জন্য মেয়েকে নিয়মিত বর্ধমান হাপাতালে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা ও ওষুধের খরচ জোগাড় করতে পারছি।আলম বাবু আরও বলেন, কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও তাঁর মেয়ে দমে যায়নি। সফল ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করার জন্য সে এখন পুরোদমে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে। সামিনার মা নূরজাহান বেগম বলেন, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাপাতালেই তাঁর মেয়ের চিকিৎসা চলছে। কোন সহৃদয় মানুষ যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তবে মেয়েকে ভিন রাজ্যের বড় কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতে পারেন। অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার জন্য নূরজাহান বেগম সকলের কাছে সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন।আরও পড়ুনঃ প্রায় ৩ লক্ষ কিশোর-কিশোরীকে করোনার টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু পূর্ব বর্ধমানেবনবিবিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল রায় বলেন, সামিনা খাতুন আমাদের বিদ্যালয়ের এ- বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। দু,বছর আগে ওর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। তারপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে ওর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার জন্য বিদ্যালয়ের তরফে যতটা সম্ভব সামিনাকে সাহায্য করা হয়েছে। সামিনা মাধ্যমিক পরীক্ষায় স-সন্মানে যাতে উত্তীর্ণ হতে পারে তার জন্য বিদ্যালয়ের তরফে সমস্তরকম সহযোগিতা থাকছে। শ্যামলবাবু এও বলেন, সামিনা আমাদের চোখে জীবন সংগ্রামের যোদ্ধা । জীবন যুদ্ধেও সামিনা যাতে জয়ী হতে পারে সেই লড়াইয়েও সামিনার পাশে রয়েছেন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকারা। মাধ্যমিক পরীক্ষার সেন্টার কমিটির বৈঠকের সময়ে সামিনার অসুস্থতার বিষয়টি বিদ্যালয়ের তরফে লিখিত ভাবে জানিয়ে রাখা হবে। পরীক্ষার দিনগুলিতেও সামিনাকে যাতে কোন অসুবিধায় পড়তে না হয় সেই বিষয়েও বিদ্যালয় নজর রাখবে বলে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন। জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার জানিয়েছেন, ব্লক প্রশাসনও মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে অসুস্থ ছাত্রী সামিনার পাশে থাকবে। ওর যাতে কোনও অসুবিধা না হয় সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার তা নেওয়া হবে।

জানুয়ারি ০১, ২০২২
রাজ্য

Examination Schedule: মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক নির্ঘণ্ট ঘোষণা, পরীক্ষার সূচি জানুন

আগামী বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার নির্ঘণ্ট প্রকাশ করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। ৭ মার্চ থেকে শুরু হবে ২০২২ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষা চলবে ১৬ মার্চ পর্যন্ত। অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিক শুরু হবে ২ এপ্রিল থেকে। চলবে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। উচ্চ মাধ্যমিক হবে হোম সেন্টারে। অর্থাৎ স্কুলেই হবে পরীক্ষাগ্রহণ।২০২২ সালের মাধ্যমিকের সূচি-৭ মার্চ বাংলা৮ মার্চ ইংরেজি৯ মার্চ ভূগোল১১ মার্চ ইতিহাস১২ মার্চ জীবনবিজ্ঞান১৪ মার্চ অঙ্ক১৫ মার্চ ভৌত বিজ্ঞান১৬ মার্চ ঐচ্ছিক বিষয়পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় জানান, মাধ্যমিক শুরু হবে সকাল ১১টা ৪৫ থেকে। চলবে বেলা ৩টে পর্যন্ত। প্রথম ১৫ মিনিট প্রশ্নপত্র পড়ুয়ারা পড়বে। পরের তিন ঘণ্টা থাকবে লেখার জন্য। এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন ৯ হাজার ৯৯১ টি স্কুলের পড়ুয়ারা। আমাদের হোম সেন্টার হবে না। কোভিড বিধি মেনে যতখানি পারব পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়াব। সেই হিসাবে পরীক্ষা হবে। এখনও অবধি সিদ্ধান্ত টেস্ট আমরা নেব। তবে সবটাই নির্ভর করবে কোভিড পরিস্থিতির উপরে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে স্কুলগুলিতে টেস্ট পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যাবে বলে আশাবাদী পর্ষদ সভাপতি।অন্যদিকে ২ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। মোট ৫৬ টা বিষয়ের উপর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে। একাদশে রয়েছে ৬০টি বিষয়ে পরীক্ষা। কারণ এ বছর একাদশে আরও চারটি ভোকেশনাল কোর্স বেড়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশের পরীক্ষা হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা ১৫ পর্যন্ত। একই দিনে একাদশের পরীক্ষা হবে বেলা ২টো থেকে বিকেল ৫টা ১৫ পর্যন্ত। উচ্চমাধ্যমিকের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ। প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষাগুলো স্কুলগুলিই পরিচালনা করবে।

নভেম্বর ০১, ২০২১
শিক্ষা

Madhyamik Result 2021: মাধ্যমিকে নজিরবিহীন ফল, পাশ ১০০ শতাংশ, ৬৯৭ নম্বর পেল ৭৯ জন

Madhyamik Exam 2021: মাধ্যমিকে পাশের হার এবার অতীতের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেল। করোনা আবহে ১০০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রীকেই পাশ ঘোষণা করেছে মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ। তবে এবার কোনও মেধাতালিকা প্রকাশিত হচ্ছে না। মঙ্গলবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে ২০২১ মাধ্যমিকের ফল ঘোষণা করেন। পর্ষদের ৪৯টি ক্যাম্প থেকে মার্কশিট, অ্যাডমিট কার্ড এবং সার্টিফিকেট বিতরণ হবে। ৭৯ জন পরীক্ষার্থীর সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৭।এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১০ লক্ষ ৭৯ হাজার ৭৫০ জন। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যাও ছিল বেশি। মাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তি ছিল নবম শ্রেণির ফল ও দশম শ্রেণির ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট। দুই পরীক্ষা থেকেই ৫০ শতাংশ নম্বর নেওয়া হয়েছে। এদিনই করোনাবিধি মেনে স্কুলগুলি থেকে মাধ্যমিকের মার্কশিটের সঙ্গে অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা।ফল জানা যাবে নীচের ওয়েবসাইটগুলি থেকেঃ-www.wbbse.wb.gov.inhttps://wbresults.nic.inwww.exametc.comMadhyamik Result 2021- এই অ্যাপ ডাউনলোড করেও জানা যাবে পরীক্ষার ফল।করোনা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা না হওয়ায় বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে এবারের মাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হল। এবার পাশ করেছে সকলেই অর্থাৎ নজিরবিহীন ভাবেই এবার পাশের হার ১০০ শতাংশ। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা। মাধ্যমিকে পাশের হার গতবছর ছিল ৮৬.৩৪ শতাংশ।

জুলাই ২০, ২০২১
রাজ্য

Madhyamik Result: মাধ্যমিকের ফলপ্রকাশ এ মাসেই

আগামি ২০ জুলাই ফলপ্রকাশ হতে চলেছে এবছরের মাধ্যমিকের। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে শুক্রবার একথা ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ফল প্রকাশ করবে পর্ষদ। বেলা ১০ টা থেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ও বোর্ডের অ্যাপে এই ফল জানতে পারা যাবে। করোনা পরিস্থিতির জন্য এবার দশম শ্রেণির পরীক্ষা হয়নি। ফলে পড়ুয়ারা অ্যাডমিট কার্ডও পায়নি। তাই এবার পড়ুয়াদের ফল জানতে হবে রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং জন্মতারিখ ব্যবহার করে। স্কুল থেকে মার্কশিট নিয়েও ব্যবহৃত হবে রেজিস্ট্রেশন নম্বর। যে যে ওয়েবসাইটে ফল জানা যাবে, তা নিম্নরূপ:www.wbbse.wb.gov.inhttps://wbresults.nic.inwww.exametic.com

জুলাই ১৬, ২০২১
রাজ্য

Madhyamik and Higher Secondery Examination: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের মূল্যায়ন পদ্ধতির ঘোষণা করল বোর্ড

করোনা (Coronavirus) পরিস্থিতিতে স্থগিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক। বিকল্প পদ্ধতিতে কীভাবে মূল্যায়ন হবে, যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে ফর্মুলা জানালেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক সংসদের সভাপতি। কোনও পড়ুয়া চাইলে বসতে পারে দশমের পরীক্ষায়। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে ফলপ্রকাশের সম্ভাবনা। বিকল্প পরীক্ষা পদ্ধতি জানতে পেরে স্বস্তিতে পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকরা।মধ্যশিক্ষা (Madhyamik) পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় জানান, মাধ্যমিকের বিকল্প হিসাবে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফল এবং দশম শ্রেণির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফলপ্রকাশ করা হবে। ওই নম্বরে কেউ সন্তুষ্ট না হলে আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে নেওয়া হবে পরীক্ষা। ওই পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে দেওয়া হবে মার্কশিট। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি ডঃ মহুয়া দাস জানান, উচ্চমাধ্যমিকের বিকল্প হিসাবে ২০১৯ সালের মাধ্যমিকের চারটি বিষয়ের সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তি করে ৪০ শতাংশ নম্বরের ওয়েটেজ, ২০২০ সালের একাদশের বার্ষিক পরীক্ষার ভিত্তিতে ৬০ শতাংশ ওয়েটেজ এবং দ্বাদশের প্র্যাকটিকাল প্রজেক্টের ভিত্তিতে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ফলপ্রকাশ করা হবে। করোনা আবহে বারবার পিছিয়েছে মাধ্যমিক (Madhyamik Exam) এবং উচ্চমাধ্যমিক (Higher Secondery Exam)। বিধানসভা নির্বাচনের পর বোর্ডের দুই পরীক্ষা নেওয়া হবে বলেই প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে স্কুলপড়ুয়াদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রেখে কীভাবে তা নেওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে দফায় দফায় আলোচনা হয়। করোনা আবহে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে জনমতও জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জনমত পাওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী চলতি বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বিকল্প পদ্ধতিতে কীভাবে পড়ুয়াদের নম্বর দেওয়া হবে, তা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চমাধ্যমিক সংসদ স্থির করবে বলেও জানান তিনি।

জুন ১৮, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

ঈশান কোনে সূর্যোদয়! ব্যাটের তাপপ্রভাবে ঝলসে গেল কিউই স্বপ্ন, ২০৯ তাড়া করে ইতিহাস গড়ল ভারত

রায়পুরে এমন এক রাত দেখল ভারতীয় ক্রিকেট, যেখানে হার মানল সব সংশয়, উড়ে গেল প্রতিপক্ষের আত্মবিশ্বাস। শুরুটা ছিল ভয় ধরানোসাত বলের মধ্যেই দুই ওপেনারের বিদায়। স্টেডিয়াম তখন নিস্তব্ধ। ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্যাট হাতে আগুন ধরালেন ঈশান কিশন ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।২০৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন ঈশান। বোলার, ফিল্ডারকাউকেই রেয়াত করেননি তিনি। মাত্র ২১ বলে অর্ধশতরান করে বুঝিয়ে দেন, বিশ্বকাপের দলে তাঁর থাকা অকারণ নয়। ৩২ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা। শতরান হাতছাড়া হলেও ম্যাচের রাশ তখন ভারতের দখলেই।এক প্রান্তে ঝড় তুললেও অন্য প্রান্তে ঠান্ডা মাথায় ইনিংস গড়ছিলেন সূর্যকুমার যাদব। ঈশান আউট হওয়ার পর পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক। ১৪ মাস পর অর্ধশতরান করে মাঠ ছুঁয়ে প্রণামসে দৃশ্যই বলে দিচ্ছিল, পুরনো সূর্য ফিরে এসেছেন। ৩৭ বলে ৮২ রানের ইনিংসে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় নিউ জ়িল্যান্ডের বোলিং ভেঙে পড়ে।শেষের কাজটা আরও সহজ করে দেন শিবম দুবে। সূর্যের সঙ্গে তাঁর অর্ধশতরানের জুটি দেখে মনে হচ্ছিল, কে আগে ম্যাচ শেষ করবেন তার প্রতিযোগিতা চলছে। মাত্র ১৫.২ ওভারে ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে সিরিজে ২-০ এগিয়ে যায় ভারত। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে ২০০-র বেশি রান তাড়া করে এত বল বাকি থাকতে জয়ের নজির খুব কমই আছে।এর আগে ব্যাট করতে নেমে কিউইরা ২০ ওভারে ২০৮ রান করলেও তা যথেষ্ট হয়নি। রাচিন রবীন্দ্র ও মিচেল স্যান্টনার লড়াই চালালেও ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দাপটে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়। কুলদীপ যাদব বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নেন।এই জয় শুধু সিরিজের লিড নয়, বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসের বড় বার্তা। দেশের মাটিতে এই ভারতকে হারানো যে কতটা কঠিন, রায়পুরে আবারও তা বুঝে গেল প্রতিপক্ষ।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
বিদেশ

অবসর নয়, প্রত্যাবর্তনের ডাক! দিল্লি থেকে ইউনুসকে আক্রমণ শেখ হাসিনার

রাজনৈতিক অবসর নিয়ে চলা সব জল্পনায় কার্যত ইতি টেনে ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার বার্তা দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অডিও বার্তায় তিনি বর্তমান উপদেষ্টা সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান। ইউনুসকে সুদখোর, ফ্যাসিস্ট, খুনি ও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে আক্রমণ করার পাশাপাশি গোটা দেশে আন্দোলনের ডাক দেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে তাঁর এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।দিল্লিতে সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ শীর্ষক একটি আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত প্রাক্তন মন্ত্রী, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা। সেখানেই অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় যে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার লড়াই শুরু হয়েছিল, সেই একই চেতনায় আবারও গোটা দেশকে জেগে ওঠার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।বর্তমান প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র কার্যত নির্বাসনে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, মানবাধিকার পদদলিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, দেশে সর্বত্র খুন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও তোলাবাজি চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আবার জেগে উঠতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করতে হবে। তাঁর কথায়, মাতৃভূমির আত্মাকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। আওয়ামি লিগের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে একজোট হতে হবে। আওয়ামি লিগ একটি পুরনো দল এবং দেশকে উদ্ধার করতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।শান্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য একাধিক জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বর্তমান প্রশাসন অপসারণ, অবাধ ও ভয়মুক্ত ভোটের পরিবেশ, অবিলম্বে হিংসা বন্ধ, সংখ্যালঘু ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাংবাদিক ও বিরোধী নেতাদের ভয় দেখানো বন্ধ করা এবং বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা ফেরানোর দাবি। পাশাপাশি গত বছরের ঘটনাবলীর নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে আবেদন জানানোর কথাও বলেন তিনি।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
কলকাতা

নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে বিস্ফোরক বার্তা, মমতাকে জাতীয় নেতৃত্বের ডাক

রাজনীতিতে সম্পর্ক ও অবস্থান যে সময়ের সঙ্গে বদলায়, তা আবারও স্পষ্ট হল শুক্রবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে। এক সময় যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিলেন, সেই চন্দ্র বসুকেই এ দিন দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে। শুধু তাই নয়, নেতাজির পরিবারের সদস্য চন্দ্র বসু প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেশের নেত্রী হিসেবে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানালেন।রেড রোডে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চন্দ্র বসু বলেন, তিনি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই না থেকে দেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব নিন। তাঁর কথায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শই একমাত্র দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন চন্দ্র বসু।এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভোটের সময় সামনে এলে এ রকম অনেক পরিবর্তন দেখা যায়। তাঁর মতে, কিছু নেতার অবস্থান ও গতিবিধি লক্ষ্য করলেই সব বোঝা যায়।এ দিন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজির অবদান স্মরণ করে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আজ নেতাজি বেঁচে থাকলে তাকেও কি শুনানিতে ডাকা হত? পাশাপাশি নেতাজির জন্মদিনকে এখনও কেন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজও নেতাজির জন্মদিন জাতীয় ছুটির তালিকায় নেই। একই সঙ্গে নেতাজির মৃত্যুদিন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।নেতাজির ঐতিহাসিক আহ্বান তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব প্রসঙ্গে মমতা বলেন, তিনি কারও কাছে রক্ত চাইছেন না। তাঁর আবেদন, মানুষ যেন নিজেদের প্রাণ বাঁচায়। ছাত্রছাত্রী, খেলোয়াড় ও শিল্পীদের এগিয়ে আসার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোই আজ সবচেয়ে জরুরি।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
কলকাতা

বন্দ্যোপাধ্যায় না ব্যানার্জি? বানানেই বিপত্তি, শুনানিতে ডাক কেন—ব্যাখ্যা কমিশনের

ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বারবার হয়রান হতে হচ্ছে, এমন অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন জায়গা থেকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যার কারণ হিসেবে সামনে আসছে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। নামের বানান, বাবা বা মায়ের নামের সঙ্গে মিল না থাকা কিংবা বয়সের ফারাকের মতো বিষয় নিয়ে ভোটারদের শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।এই বিষয়টি নিয়েই শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, বাবার পদবি ব্যানার্জি আর ছেলের পদবি বন্দ্যোপাধ্যায় হলে সেটাকে কেন সমস্যা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এবার সেই প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিলেন নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত বাংলার বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।সুব্রত গুপ্ত জানান, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির সংখ্যা খুব বেশি হওয়ায় কমিশনের কাজের চাপ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বানানগত ভুলের কারণেই শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তবে এই সমস্যার মূল কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি।তাঁর কথায়, বন্দ্যোপাধ্যায় ও ব্যানার্জি একই পদবি হলেও বানানের পার্থক্যের কারণে কম্পিউটার সিস্টেমে তা আলাদা হিসেবে ধরা পড়ছে। একই ভাবে, কোথাও দেখা যাচ্ছে পদবি দে হলেও কেউ লিখছেন Dey, কেউ লিখছেন De। উত্তরবঙ্গে গিয়ে তিনি দেখেছেন, অনেক পদবিরই পাঁচ-ছয় রকম বানান রয়েছে। ফলে কম্পিউটারের পক্ষে তা মিলিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই একাধিক ক্ষেত্রে ভোটারদের বারবার শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে।তবে গোটা প্রক্রিয়াটি আরও বেশি সময় নিয়ে করা গেলে ভালো হত বলেও মনে করছেন সুব্রত গুপ্ত। তিনি বলেন, একটু বেশি সময় পেলে আরও ভেবে কাজ করা যেত। কিন্তু এপ্রিলের মধ্যেই ভোট হওয়ার কথা থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সব পরিকল্পনা করে কাজ করতে হয়েছে। তাঁর দাবি, সময় কম থাকলেও তথ্য অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
দেশ

সাইরেন বাজতেই নিভে গেল আলো, উত্তরপ্রদেশে হঠাৎ ব্ল্যাকআউট ঘিরে আতঙ্ক

সময় তখন সন্ধ্যা ৬টা। হঠাৎ সাইরেনের তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা উত্তরপ্রদেশ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অন্ধকারে ডুবে যায় রাজ্যের সবকটি জেলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যোগীরাজ্যে। প্রথমে বড়সড় কোনও হামলার আশঙ্কা তৈরি হলেও পরে জানা যায়, জঙ্গি হামলা বা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিতে গোটা রাজ্য জুড়ে একটি মক ড্রিল চালানো হচ্ছিল।প্রশাসন সূত্রে খবর, সাইরেন বাজতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসন। বরেলি, মিরাট, লখনউ, কানপুর-সহ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের সংবেদনশীল এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। এই মক ড্রিলে অংশ নেয় সিভিল ডিফেন্স, এডিআরএফ, এনডিআরএফ, দমকল এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরাও। সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, সে কারণে আগেই এই মহড়ার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, গোটা রাজ্যে ব্ল্যাকআউট করা হলেও জরুরি পরিষেবা যেমন হাসপাতাল, রেল স্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলিকে এর বাইরে রাখা হয়। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানেই এই মহড়া চালানো হয়। নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে সমস্ত জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। সরকারের দাবি, এই মক ড্রিল সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।প্রশাসন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি বা বিমান ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য ব্ল্যাকআউট ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শহরের সমস্ত আলো বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে শত্রুপক্ষ সহজে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে না পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ঘরের ভিতরেই থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
রাজ্য

ডেডলাইন পেরোল, তবু এফআইআর নেই! কমিশনকে উল্টে হুঁশিয়ারি তৃণমূল বিধায়কের

নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে গেলেও ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখনও কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বহাল তবিয়তেই রয়েছেন তিনি। উল্টে প্রকাশ্য সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই এফআইআর করার হুঁশিয়ারি দিতে শোনা গিয়েছে তাঁকে।মনিরুল ইসলামের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার জেরে বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। তাই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই গণ এফআইআর হওয়া উচিত বলে তিনি দাবি করেন। মঞ্চ থেকে কমিশনকে কার্যত চোখরাঙান ফরাক্কার বিধায়ক।তবে প্রকাশ্যে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেও চিঠিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন মনিরুল ইসলাম। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথা উঠতেই তিনি নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা ইআরও-কে একটি চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে তিনি লেখেন, তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সংবিধান মেনেই কাজ করেন।উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি ফরাক্কার বিডিও অফিসে ব্যাপক অশান্তি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেই সময় মঞ্চ থেকে মনিরুল ইসলাম বলেন, তাঁকে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ নেই। আদালত সকলের জন্যই খোলা আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গণহারে এফআইআর করার ডাকও দেন বিধায়ক।ফরাক্কার ঘটনা ঘিরেই রাজ্যে এসআইআর সংক্রান্ত অশান্তির সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর চাকুলিয়া, সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লক, ইটাহার সহ একাধিক জায়গায় বিডিও অফিস ও শুনানি কেন্দ্রে ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে। ধীরে ধীরে এই অশান্তি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে।ফরাক্কার ঘটনার পর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে সরাসরি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরেই নড়েচড়ে বসেন তৃণমূল বিধায়ক। চিঠিতে তিনি জানান, তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য কমিশনকে আঘাত করা নয়। বরং সাধারণ মানুষ যাতে তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে সমস্যায় না পড়েন, সেই বিষয়টি বোঝাতেই তিনি কথা বলেছেন। নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশও করেছেন তিনি। এই চিঠি ইতিমধ্যেই জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছে পাঠানো হয়েছে।এদিকে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে ভয় দেখানো, ভাঙচুর ও অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র এফআইআর করার নির্দেশ দিলেই চলবে না। নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক স্তরে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
রাজ্য

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানলেন না ‘দাবাং’ বিডিও, এ বার কী করবে পুলিশ?

দাবাং বিডিও হিসেবেই এলাকায় পরিচিত প্রশান্ত বর্মণ। কিন্তু এ বার তাঁর বিরুদ্ধে আরও বড় অভিযোগ উঠল। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি আত্মসমর্পণ করলেন না। শুক্রবারের মধ্যে বিধাননগর মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এ দিন আদালতে হাজির হননি প্রশান্ত বর্মণ। এর পরেই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কী পদক্ষেপ করবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।সল্টলেকের দত্তাবাদের বাসিন্দা স্বপন কামিল্যা নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় প্রশান্ত বর্মণের নাম জড়িয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছির একটি খাল থেকে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হয়। এই খুনের ঘটনায় একাধিক অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও এখনও অধরা প্রশান্ত বর্মণ। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তিনিই এই খুনের মূল অভিযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার।এই মামলায় বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মণ। সেই আগাম জামিনের বিরোধিতা করে বিধাননগর পুলিশ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। হাইকোর্ট আগাম জামিন বাতিল করে ২২ ডিসেম্বরের নির্দেশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও আদালতে হাজির হননি প্রশান্ত। এর পর তাঁকে ফেরার ঘোষণা করে বিধাননগর আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।ফেরার অবস্থাতেই সুপ্রিম কোর্টে যান প্রশান্ত বর্মণ। গত ১৯ জানুয়ারি সেখানেও স্বস্তি পাননি তিনি। বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ তাঁকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে স্থানীয় আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। জানানো হয়, যে আদালতে মামলা বিচারাধীন, সেখানেই তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।এর মধ্যেই প্রশাসন রাজগঞ্জে নতুন বিডিও নিয়োগ করেছে। রাজগঞ্জের জয়েন্ট বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডলকে বিডিওর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও ২৩ জানুয়ারি, আত্মসমর্পণের শেষ দিনেও আদালতে হাজির হননি প্রশান্ত বর্মণ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এ বার পুলিশ কি কড়া পদক্ষেপ করবে? প্রশান্ত বর্মণই বা পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিয়েও চলছে জোর চর্চা।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
কলকাতা

ভোটার তালিকা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! অশান্তি হলেই বন্ধ শুনানি, সময়সীমা বাড়াতে পারে কমিশন

এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। ১৪ ফেব্রুয়ারির বদলে অন্তত আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের জেলাশাসকদের উদ্দেশে এক বিশেষ ও কড়া নির্দেশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্দেশে বলা হয়েছে, শুনানি কেন্দ্রে অশান্তি তৈরি হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিতে হবে শুনানি।সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া ও ইটাহার, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি চলাকালীন চরম বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে এসেছে। কোথাও বচসা, কোথাও ধাক্কাধাক্কি, আবার কোথাও শুনানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এই সমস্ত ঘটনার রিপোর্ট ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে তলব করা হয়েছে। এমনকি উত্তর দিনাজপুরের বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।এই আবহেই নিরাপত্তা নিয়ে আরও কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, যদি শুনানি কেন্দ্রের পরিবেশ উত্তপ্ত হয় বা ভোটাররা ভয় পেয়ে সেখানে যেতে না পারেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে শুনানি বন্ধ করে দিতে হবে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনওভাবেই শুনানি পুনরায় শুরু করা যাবে না।কমিশন সূত্রে খবর, সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকায় এখন শুনানি শেষ করার ক্ষেত্রে অতটা তাড়াহুড়ো নেই। তার বদলে ভোটারদের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই আপাতত কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।উল্লেখ্য, তৃণমূলের দাবিকে মান্যতা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল যে পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিসেই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি করতে হবে। সেই নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরেই নিরাপত্তা ইস্যুতে রাজ্য সরকারের উপর চাপ বাড়াল কমিশন।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী শনিবার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি-র তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। সেই সময় যাতে কোনও রকম অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়, তার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, শুনানি বন্ধ হলে ভোট পিছিয়ে যেতে পারে। সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সেটাই চাইছে। পাল্টা তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের ভয় দেখিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal