• ৫ চৈত্র ১৪৩২, বৃহস্পতি ১৯ মার্চ ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Kojagari Lakshmi Puja

নিবন্ধ

স্নেহময়ীর সংসার (ছোট গল্প)

সীমা আজ তুই বুটিক যাবি না তো? কি যে বলো মা! কাল লক্ষ্মী পূজো আজ কয়েকজন বড় কাস্টমার আসবে; আমি না থাকলে চলে?তাহলে পূজোর বাজার কখন হবে? ঠাকুর আনতে হবে।সব হবে জননী, এই সীমা যতক্ষণ আছে তোমার সব হবে। নো চিন্তা। মোটামুটি দুপুর ১টার মধ্যে সব কাজ গুটিয়ে ফেলব। তুমি ততক্ষণ রীনাদিকে নিয়ে আর দুচার জন মেয়ে কে নিয়ে পূজোর জায়গাটা ঠিক করে নাও। সাজানোর জিনিসপত্র তো আমাদের ঘরেই আছে। আর যেসব লাগবে সেসব কেনা আছে।তুমি ঠাকুরমশায়ের কাছ থেকে যে ফর্দ করে ছিলে সেটা সঙ্গে নিতে ভুলো না যেনো।হ্যাঁ রে হ্যাঁ মনে করে নিয়ে নেব ঠিক।কিন্তু নাড়ু, মুড়কি এইসব আমি বাড়িতে বানাবো বলে রাখলাম। কিন্তু কখন করবো? ভাত খেয়ে তো ওসব করা যাবে না।কালকেই হবে ওসব। দুদিন উপোস করার তো কোন প্রয়োজন নেই। কাল সবাই মিলে করে নেবো। তুমি শুধু বলে দেবে কিভাবে কি করতে হয়।তাই হবে; তুমি যখন বলে দিয়েছ তার তো অন্যথা হবার জো নেই। বলে হাসেন স্নেহময়ী দেবী। সীমাকে বলেন যা রেডি হয়ে নে, রীনা কে বলি তোর জলখাবার দিতে।ওকে! বলে সীমা বাথরুমে ঢুকল আর স্নেহময়ী দেবী ঢুকলেন রান্না ঘরে।এই বাড়িতে সীমারা তিনজন থাকে, সীমা, স্নেহময়ী দেবী, আর রীনা। বছর পাঁচ আগে সীমা রীনা কে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।ওরা তখন অন্য জায়গায় থাকতো। মা, মেয়ে মিলে হাতে তৈরি নানারকম ঘরসজ্জার জিনিস, শাড়ির কাজ, বিভিন্ন অলংকার বানিয়ে বিক্রি করত, সীমার কিছু চেনা মানুষ জনের মাধ্যমে। সেই সময় একদিন রাতে সীমা বাড়ি ফেরার পথে দেখে একজন মহিলা বসে কাঁদছে; রাস্তায় লোকজন খুব বেশি নেই, যারা আছে তারা না দেখে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। সবাই ঝামেলার ভয় পায়। সীমার মনে হলো মহিলা এই এলাকার নয়, তাই এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইল কি হয়েছে। মহিলা যা বলল তার অর্থ তার দাদা তাকে ওখানে বসিয়ে রেখে আসছি বলে চলে গেছে।সীমা আরও কিছু কথা বলে জানতে পারে কি ঘটেছে।মহিলা স্বামী পরিত্যক্তা,নিঃসন্তান দাদার সংসারে থাকে। সুন্দর বনের দিকে একটা গ্রামে বাড়ি। দাদা বোনকে ভালোবাসলেও বৌদি একদম সহ্য করতে পারে না। বৌদির ভয়ে কিছু বলতেও পারে না বোনের হয়ে। এই কদিনে অশান্তি আরও বেড়েছে; কারণ মহিলা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে সংসারের কাজ কিছু করতে পারছিল না। আজ একটু সুস্থ হয়েছে তাই দাদা ডাক্তার দেখানোর কথা বলে শহরে নিয়ে এসেছে।এসব কথা শুনে সীমা পাশে চায়ের দোকানে জিজ্ঞাসা করে মহিলা কতক্ষণ ওখানে বসে আছে?দোকানদার বলে সেই বিকেল থেকে বসে আছে। সীমা তখন তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। তখন থেকেই ওই মহিলা মানে রীনাদি ওদের সবসময়ের সঙ্গী।সীমার কাছে হাতের কাজ শিখে রীনা ও ওদের সাথে যোগ দিয়েছে। সীমাকে নিজের ছোট বোনের মত ভালোবাসে রীনা।সীমা বাথরুম থেকে বেরতেই রীনা বলল দিদি নাও তোমার খাবার রেডি তুমি খেয়ে নাও।হ্যাঁ খাচ্ছি বলে সীমা রেডি হতে ঘরে গেল।খেতে খেতে সীমা রীনাকে বলে দিল দুপুরে ও ফোন করলে রীনা যেন মা কে নিয়ে দোকানে চলে যায়।তুমি দুপুরে কিছু খাবে না? জিজ্ঞাসা করে রীনা।সে দেখা যাবে। তোমরা দুপুরে বারোটার মধ্যে খেয়ে নিও। একটু বিশ্রাম না নিলে মা বেড়োতে পারবে না।-----o-----ঠিক দুপুরে কাজের মাঝেই সীমা ফোন করে মনে করিয়ে দেয় একটার সময় আসতে হবে। সীমা কাজের মধ্যে ডুবে যায়। একবছর হলো এখানে বড়ো করে দোকানটা খুলেছে। এর আগে বাড়িতে বাড়িতে গিয়েই অর্ডার নিয়ে কাজ করতো। শহরের মহিলাদের মধ্যে যারা হাতে তৈরি জিনিস পছন্দ করে তাদের খুব পছন্দের এই স্নেহময়ীর সংসার। হ্যাঁ এটাই নাম দিয়েছে সীমা। হাতে তৈরি বিভিন্ন রকম গয়না, নানারকম কাজ করা পোষাক; ঘর সাজানোর বিভিন্ন রকম সামগ্রী এখানে পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন রকম আচার, বড়ি, মা ঠাকুমার সময়কার নানাবিধ খাবারও এখানে পাওয়া যায়। লক্ষ্মী পূজো উপলক্ষে অনেক নাম করা বাড়ি থেকে নাড়ু, মোয়া মুড়ি ইত্যাদি ঘর সাজানোর জিনিসপত্র, শাড়ির অর্ডার এসেছে। সেই সব কারখানা থেকে দোকানে এনে আজ কাস্টমারদের দেবে বলে সীমার দোকানে আসা।সীমা একজনকে অর্ডারের মাল বুঝিয়ে দিচ্ছে এমন সময় একজন বয়স্ক মহিলা আর সঙ্গে একজন অল্পবয়সী বৌদ্ধ দোকানে এটা ওটা দেখতে থাকেন। দেখতে দেখতে মহিলা হঠাৎ সীমার কাছে এসে বলেন...আরে তুমি সীমা না? সান্যাল বাড়ির বৌ! তুমি বুঝি এখানে কাজ করো? শুনেছিলাম......বলে কিছু একটা বলতে যাবেন এমন সময় দোকানের অন্য একজন সীমাকে ডাকে দরকার আছে বলে।যাই, বলে চলে গিয়ে সীমা ওই মহিলার হাত থেকে রেহাই পায়।মহিলা তখন ঠোঁট উল্টে বলেন কি জানি বাবা? ঠিক চিনলাম তো!সীমার মনটা হঠাৎ বিষন্ন হয়ে গেল। ওর ও চেনা লাগে ভদ্রমহিলাকে কিন্তু ঠিক মনে করতে পারে না, এমন সময় ফোন বেজে ওঠে... মা, তুমি এসে গেছো? একটু ভিতরে এসে বসো আমি ১৫ মিনিটের মধ্যে বেরোচ্ছিকাজ সেরে বাজারে বেরোয় ওরা। যেখান থেকে ওদের বাড়ির ঠাকুর নিত সেখানে আসে। জায়গাটা দেখে মা কেমন বিহ্বল হয়ে পড়ে খেয়াল করে সীমা। মায়ের চোখ যেন ছলছল করে ওঠে। সেটা খেয়াল করে সীমা বলে ওঠে দেখো, কোন দোকান থেকে কি নেবে; নিজের মনের মতো করে বাজার করো।ঠাকুর কোথা থেকে নেবে? বলে সীমা স্নেহময়ী র দিকে তাকাতেই ওনার পিছনদিকে একটু দূরে যাকে দেখলো তাকে দেখবে এখানে আশা করেনি সীমা। এই ক বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে তার চেহারায় তবুও চিনতে অসুবিধা হচ্ছে না। একটু যেন মনের কোথাও টনটন করে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে ওখান থেকে সরে গেল মাকে নিয়ে।-----o-----রাত প্রায় বারোটা, সীমা ঘরের লাগোয়া বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। আকাশে চতুর্দশীর চাঁদ, চারিদিক জ্যোৎস্নার আলোয় ভেসে যাচ্ছে । সীমার খুব পছন্দের এই সময় কিন্তু আজ পারছে না জ্যোৎস্নার স্রোতে গা ভাসাতে। এত আলোতেও ওর মনের আকাশ আজ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। ও ভাবছে কেন মানুষের জীবনের এত পরিবর্তন হয়! যদি এমন কিছু থাকত যার সাহায্যে আবার ফিরে পাওয়া যেত ছোটোবেলার দিনগুলো।মা, বাবা আর দাদার আদরের দুলালী সীমানা সেনগুপ্ত আজ তাহলে এত কষ্ট পেত না। খুব আদরের ছিল ও। ওরা দুই ভাইবোন - সীমান্ত আর সীমানা। সীমান্ত অত্যন্ত মেধাবী ছিল আর সীমানা ছিল মধ্য মেধার মেয়ে। তবে সীমানা মানে সীমার বিশেষ গুন ছিল ও খুব ভালো আঁকতে পারত। ছোটবেলা থেকেই সখ ছিল ড্রেস আর জুয়েলারী ডিজাইন করবে।দাদার আদরের ছোটো বোন ছিল। কিন্তু সেই দাদাকে হঠাৎ একটি অ্যাক্সিডেন্টে হারিয়ে ফেলে। আর তারপর থেকেই বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ে। সীমা তখন কলেজে পড়ে।এরপর থেকেই যেন জীবনের আনন্দের দিন গুলি শেষ হতে শুরু করে। জীবন উল্টো স্রোতে বইতে থাকে। যে বাবা মা চাইত সীমা নিজের পায়ে দাঁড়াবে তারাই বিয়ের জন্য উঠে পরে লাগলো। ওর তখন ফাইনাল ইয়ার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের নেমন্তন্নে গিয়েছিল, সেখানে ওকে দেখে পছন্দ হয় ওই এলাকার নামকরা ব্যবসায়ী অসীম রায়চৌধুরীর। তার একমাত্র ছেলের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব আসে।সীমার বাবা মা প্রস্তাবটা আনন্দের সঙ্গে ও আগ্রহের সঙ্গে গ্রহন করেন। আর করবে নাই বা কেন; প্রত্যেক মা বাবা যেটা চায় মেয়ের জন্য ভালো ঘর ও সুদর্শন বর সেদিক থেকে এ যেন মেঘ না চাইতেই জল।বিশাল হার্ডওয়্যারের ও বিল্ডিং মেটেরিয়ালের ব্যবসা। দেখতেও সুন্দর অরিন। হ্যাঁ ওটাই পাত্রের নাম।যাইহোক সীমা সব স্বপ্ন বুকে চেপে এক গোধূলি লগ্নে অরিন রায়চৌধুরীর সাথে নিজের জীবন শুরু করেছিল। শ্বশুর বাড়িতে এসে প্রথমদিনেই বুঝতে পেরেছিল শাশুড়ি নামক মানুষটির কোনো গুরুত্ব নেই এই বাড়িতে। এ বাড়িতে সব চলে শ্বশুর মশায় ও তার বোন অনীতা অর্থাৎ পিসি শাশুড়ির কথায়। যদিও তিনি বিবাহিত তবুও দাদার উপর তার প্রভাব বড্ড বেশি। আর আছে সীমার ঠাকুমা শাশুড়ি, যে প্রায় অথর্ব কিছুই পারে না ছেলের বউ ছাড়া তবুও তাকে ভৎর্সনা করতেও ছাড়ে না। সীমার এসব খুব খারাপ লাগে কিন্তু কিছু বলত পারে না। যতই হোক নতুন বউ। আর ও সবকিছু না ঠিক মত জেনে বুঝে কিছু যে করতে নেই সেটা খুব ভালো করে জানে ও। তাই ও চুপচাপ থাকে। ওকে কেউ কিছু বলেনা। শুধু পিসি শাশুড়ি আসলে একটু সমস্যা হয় উনি সব বিষয়ে মতামত প্রকাশ না করে পারেন না। আর ঠেস দিয়ে কথা শোনানো যেন ওনার সহজাত। তবু ও কিছু বলেনা ওর রুচিতে বাধে।শ্বশুর বাড়িতে বেশ কয়েকমাস কেটে গেছে। সীমা এর মধ্যে একদিন অরিনকে ওর স্বপ্নের কথা বলে ছিল। অরিন শুনে হেসে বলেছিল ওসব ভুলে যাও। এখন তুমি আমাদের বাড়ির বৌ। আমাদের বাড়ির বৌ রা বাইরে গিয়ে কাজ করেনা। সীমা খুব অবাক হয়ে ছিল অরিনের মুখে এরকম কথা শুনে। এই যুগের ছেলে হয়েও কিভাবে এই ধরনের চিন্তা ভাবনা পোষণ করে!অরিন আরও বলে আমাকে যা বলেছ বলেছ আর যেন কাউকে কিছু বলতে যেওনা।না, সীমা আর কাউকে কখনো বলেনি। তবে আঁকা ও ছাড়তে পারেননি। আঁকতে ও শুধু ভালোই বাসে তা নয়, ওর আঁকা দিয়েই নিজের পরিচয় তৈরি করতে চায়। ওর বাবার কথা মত ও বিশ্বাস করে মনের ইচ্ছা প্রবল হলে সেটা পূরণ হয়।এইভাবে ওর জীবন বইতে থাকে শ্বশুর বাড়িতে। ও চেষ্টা চালায় সব রকম ভাবে মানিয়ে চলতে। রান্না ঘরে কাজ করতে গিয়ে শাশুড়ি মায়ের কাছে স্নেহের পরশ পায়। আর বোঝে কিভাবে মুখ বুজে সবার সুখ সুবিধার খেয়াল রাখেন মানুষটি। অথচ পরিবর্তে কারও কাছে প্রাপ্য সম্মান টুকুও পান না। পান থেকে চুন খসলেই শুধু গঞ্জনা জোটে। ধীরে ধীরে এর কারণ বুঝতে পারে। ওনার শ্বশুর মশায় গরীব বন্ধুর মেয়েকে পছন্দ করে এনেছিলেন ওনার গুণ দেখে। দেখতে অতি সাধারণ, লেখাপড়াও বেশী দুর করেননি। তাই ওনার তথাকথিত শিক্ষিত স্বামী কোনো দিন ওনাকে সঠিক মর্যাদা দিতে পারেন নি।সীমার শ্রদ্ধা হয় না দেখা দাদা শ্বশুরের প্রতি। উনি বুঝে ছিলেন কিভাবে সংসার ধরে রাখতে হয় সেটা মা পারবেন। তাই উনি বড়ছেলের বৌ করে এনেছিলেন শাশুড়ি মাকে।সীমার সঙ্গে শাশুড়ি মায়ের কথা খুব বেশি হয়না। তবুও বোঝে মানুষটা কতটা মমতাময়ী। একদিন দুপুরে সীমা নিজের ঘরে বসে একটা হারের ডিজাইন করছে, বাড়ি তখন মোটামুটি ফাঁকা। শাশুড়ি মা আসেন...সীমা কী করছো মা? বলেন দরজার বাইরে থেকে।সীমা তাড়াতাড়ি খাতা গুটিয়ে মা ভেতরে আসুন বলে বিছানা থেকে নামতে যাবে......না না তোমাকে নামতে হবে না। তুমি শুয়ে থাকো। সকাল বেলা বললে শরীরটা ভালো নেই তাই দেখতে এলাম।এখন ঠিক আছি। সকাল বেলা একটু গা ম্যাজম্যাজ করছিল। আপনি বসুন না।তুমি কি কিছু লিখছিলে? খাতার দিকে তাকিয়ে জানতে চান।না মানে লিখছিলাম না, আঁকছিলাম।তুমি আঁকতে জানো? কই দেখি যদি তোমার আপত্তি না থাকে কি আঁকছিলে দেখি।না না আপত্তি থাকবে কেন? এইতো দেখুন না বলে এগিয়ে দেয় খাতাটা।বাঃ... চমৎকার ডিজাইন করোতো তুমি। এমনিই আঁকলে? আচ্ছা তোমার বিয়ের গয়না গুলো কি তুমি নিজে ডিজাইন করেছ?মাথা নিচু করে থাকায় সত্যি টা বোঝেন উনি। বলেন এই গুণ কোনো কাজে লাগাতে পারবে না। বলে মুখটা কালো করেন।সীমা তখন বলে আসলে মা আমার দাদার মাধ্যমে এই ডিজাইনগুলো দু এক জন জুয়েলারের কাছে এগুলো পাঠাই।খুব সাবধান এসব যেন কেউ না জানে। এ বাড়িতে এসব জানতে পারলে কুরুক্ষেত্র বেধে যাবে। বলে উনি উদাস হয়ে যান। মনে হয় যেন কোনো কষ্ট চেপে রাখছেন।এইভাবে শাশুড়ি আর বৌমার মধ্যে সখ্যতা শুরু। দুপুর গুলো গল্প করে এঁকে কাটে। যদিও শাশুড়ি মা বেশীক্ষন বসতে পারেন না তার শাশুড়ির যন্ত্রনায়।এইভাবে দুবছর কেটে যায়। সীমার পিসি শাশুড়ি আর ঠাকুমা শাশুড়ি বাচ্চার জন্য পাগল করতে থাকে। কিন্তু শাশুড়ি মা কখনো কিছু বলেন না। এরমধ্যে সীমা আবিষ্কার করে ওর শাশুড়ি মায়ের গুনাবলী। খুব ভালো গান জানে, ভালো কবিতা লেখেন, আর দারুণ সেলাই জানেন।সীমার সঙ্গে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয় ওর শাশুড়ি মায়ের। চলতে থাকে দিন।ঠিক বছর দশ আগে লক্ষ্মী পূজার দুবার দিন আগে দুপুর বেলা ওর শাশুড়ি মা কে বলে বেরোয় ওর দাদার বন্ধু অমিতের সাথে দেখা করতে ওদের বাড়িতে। অমিত আর সুনন্দা দুজনেই সীমাকে খুব ভালোবাসে। ওদের বাড়িতে সীমা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাড়িতে খবর দিতে পারে না।সন্ধ্যাবেলা দোকান থেকে বাড়ি ফিরে সীমার শ্বশুর আর অরিন যখন সীমার খোঁজ করে তখন সীমার শাশুড়ি মা বলেন ও বাপের বাড়ি গেছে ওর মায়ের শরীর খারাপ শুনে।অরিন ফোন করে সীমাকে কিন্তু পায় না। রাত বাড়তে থাকে তখন ওর বাপের বাড়িতে ফোন করে জানতে পারে সীমা যায়নি ওখানে। ঠিক সেই সময় অমিতের সঙ্গে সীমা বাড়িতে ঢোকে।ব্যস শুরু হয় শ্বশুর, স্বামী, ঠাকুমা শাশুড়ির অকথ্য ভাষা। যা ও কখনো ভাবতেও পারেনি। ওকে কিছু বলার সুযোগ দেয় না উপরন্তু অমিতকে অপমান করে ওর স্বামী। ওর শ্বশুর আর অরিন দুজনেই ওকে তো নানা কথা শোনায় ওর শাশুড়ির গায়ে হাত তোলেন। অরিন দাঁড়িয়ে দেখে অথচ কোনো প্রতিবাদ করে না। সীমা সেটা মেনে নিতে পারে না।না আর সহ্য করতে পারে নি সীমা। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে থাকতে পারেননি ওর শাশুড়িও...... সেদিন জীবনে প্রথম রুখে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়ে বেরিয়ে আসেন সীমার হাত ধরে।সেদিন থেকেই সীমার যুদ্ধ শুরু। ওর এই যুদ্ধে পাশে পেয়েছে ওর মা বাবাকে আর অমিতদা সুনন্দা বৌদিকে। আর সীমার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন সীমার শাশুড়ি মা স্নেহময়ী দেবী। অমিত তো সীমার ডিজাইন বিক্রির ব্যবস্থা করেছিল সেটা আরও বাড়িয়ে দেয়। তার সাথে ওরা নিজেরা নানারকম জুয়েলারী তৈরি করতে লাগল। সীমার বেশ কিছু টাকা আগে থেকেই জমেছিল অমিতের সাহায্যে ব্যাঙ্ক থেকে কিছু লোন নিয়ে ছোটো করে একটা বুটিক খুললো। সুনন্দা যে স্কুলে পড়ায় সেখানে ওদের কাজ নিয়ে গিয়ে দেখায়। দিদিমনিদের খুব পছন্দ হয়। এইভাবে একটু একটু করে পরিচিত হতে থাকে ওদের কাজ। এরপর ওরা নিজেরাই দুঃস্থ মেয়েদের শেখাতে শুরু করে, ওদের আশ্রয় দেয়। ওর বাপের বাড়িতে ই শুরু করেছিল। আজ সীমার বাবা মা কেউ নেই। ওই বাড়িতেই ও গড়ে তুলেছে ওর ওয়ার্কশপ আর মেয়েদের থাকার জায়গা। আজ সীমার নিজের পায়ে দাঁড়াবার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আজ এই স্নেহময়ীর সংসারে সদস্য সংখ্যা চল্লিশ। সব সামলায় সীমা। আর ওয়ার্কশপে কিভাবে কাজ হবে কি হবে তার তদারকি করেন স্নেহময়ী দেবী। সীমা আজ সফল মহিলা।কিন্তু মনের কোনে একটা ঘরের স্বপ্ন সবমেয়েরই থাকে। সেটা সীমারও ছিল। আর অরিনকে ভালোবেসে ফেলেছিল। তাই আজ হঠাৎ অরিনকে দেখে বুকের ভেতর গোপন ব্যথাটা জেগে ওঠে।মনে হয় মানুষটা যদি একটু স্বাবলম্বী হতো বাবার হাতের পুতুল না হয়ে তাহলে হয়তো স্নেহময়ীর আসল সংসারটা সুন্দর হতো আর এই পরিচয়টা ওখান থেকেই গড়ে উঠত।সীমার চোখের জল যেন আজ বাঁধ মানছে না। এরমধ্যে কখন স্নেহময়ী দেবী এসে দাঁড়িয়েছেন সীমা বুঝতে পারে নি।ওর মাথায় হাত রাখেন... আমার ছেলেটাও ওর বাবার মত ঠুনকো আভিজাত্যের অহংকার নিয়েই রইলো। তোকে চিনতে পারলোনা। আমিই মনে হয় তোদের জীবনটা সাজাতে দিলাম না।মা একদম এসব কথা বলবে না। তুমি কেন নিজেকে দায়ী করছো! তোমার ছেলের মেরুদণ্ডটাই তৈরি হয়নি।সব বুঝলাম, কিন্তু তোর চোখে জল কেন? আজ বাবুকে দেখে কষ্ট হচ্ছে? আজও ভুলতে পারিসনি ওকে?অবাক চোখে তাকায় সীমা ওনার দিকে। আজ আবার নতুন করে চিনলো মাকে।সীমা জড়িয়ে ধরে ওর মাকে। আজ ওরা আর শাশুড়ি বৌমা নয়। সত্যি মা মেয়ে।স্নেহময়ী দেবী বলেন, আজ আমার সত্যি করে সংসার গড়ে উঠেছে। আমি আজ কতজনের মা। সব তোর জন্য সম্ভব হয়েছে। আজ আমরা কোন দুঃখ করবো না। আজ আমার লক্ষ্মী পূজো সার্থক।শ্রীমতি রাখি রায়

এপ্রিল ০৩, ২০২২

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

নির্বাচনের টিকিট পেতেই প্রাণভয়ের আশঙ্কা! বিস্ফোরক অভিযোগ প্রাক্তন আইপিএসের

একসময়ের দুঁদে পুলিশ কর্তা, এখন তৃণমূলের প্রার্থী। সেই হুমায়ুন কবীর এবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন ডোমকল কেন্দ্র থেকে। কিন্তু টিকিট পাওয়ার পরই তিনি প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জেলার একাধিক অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে তাঁকে এখন হুমকি দেওয়া হচ্ছে।মুর্শিদাবাদে পৌঁছে তিনি নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন। তাঁর কথায়, পুলিশে চাকরি করার সময় তিনি একাধিক খুনের চক্র ভেঙেছিলেন। সেই সব অপরাধ চক্রের মাথারা এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং তাঁকে লক্ষ্য করে হুমকি দিচ্ছে। এই কারণেই তাঁর জীবনের উপর ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।হুমায়ুন কবীর দীর্ঘদিন মুর্শিদাবাদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কান্দিতে দায়িত্বে ছিলেন এবং পরে জেলা পুলিশ সুপার হিসেবেও কাজ করেছেন। ফলে এই জেলার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি ভালোভাবেই জানেন। কোথায় কোন অপরাধ চক্র সক্রিয়, কারা এর সঙ্গে জড়িত, সেই সব বিষয় তাঁর জানা।তিনি বলেন, দলের নেতৃত্ব তাঁকে এমন একটি জায়গায় প্রার্থী করেছে, যা তাঁর খুব পরিচিত। এই সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বানও জানিয়েছেন।ডোমকল এলাকা বরাবরই স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত। অতীতে এই এলাকায় নির্বাচন ঘিরে হিংসার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। আগের নির্বাচনে এখানেই সবচেয়ে বেশি হিংসার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা যায়। তবে তিনি দাবি করেন, যখন তিনি পুলিশ সুপার ছিলেন, তখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল।এই অবস্থায় এবার নির্বাচনের আগে তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভোটের আগে ডোমকলের পরিস্থিতি নিয়ে এখন বাড়ছে নজর।

মার্চ ১৮, ২০২৬
রাজ্য

একসঙ্গে দু’টি আসনে লড়াই! হুমায়ুন কবীরের বড় চমক

বিধানসভা নির্বাচনের আগে একের পর এক দল তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছে। সেই তালিকায় এবার নাম যোগ করল হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন। প্রথম দফায় মোট একশো বিরাশি টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ এবং মালদহ জেলার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে হুমায়ুন কবীরের নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে। তিনি এবার ভরতপুর কেন্দ্র থেকে লড়বেন না। পরিবর্তে তিনি দুটি আসন থেকে ভোটে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একটি রেজিনগর এবং অন্যটি নওদা। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, তিনি কাকে হারাতে চাইছেন, না কি নিজের জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতেই এই কৌশল নিচ্ছেন।সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীর জানান, তাঁদের দল একশো বিরাশি টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে। বাকি প্রার্থীদের তালিকা শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। কিছু আসনে অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতার কথাও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।এদিকে প্রার্থী তালিকায় একাধিক নতুন নামও রয়েছে। বিভিন্ন জেলার একাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। কান্দি, বেলডাঙা, রতুয়া, মালতীপুর, বৈষ্ণবনগর, মানিকচক, সুজাপুর, ফরাক্কা, হরিহরপাড়া-সহ একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে এই দল। ভরতপুরেও নতুন প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে নতুন এই দল কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হুমায়ুন কবীরের দুটি আসনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল আরও বেড়েছে।

মার্চ ১৮, ২০২৬
দেশ

‘সময় নষ্টের চেষ্টা’! আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে তীব্র তর্কে জড়াল রাজ্য ও কেন্দ্র

আইপ্যাক মামলাকে ঘিরে আবারও সুপ্রিম কোর্টে সময় চাইল রাজ্য সরকার। বুধবার বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী কপিল সিব্বল আরও সময়ের আবেদন জানান। তিনি জানান, তাঁরা নিজেদের বক্তব্য জমা দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় চান।এই আবেদনের বিরোধিতা করে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা বলেন, এটি সময় নষ্ট করার চেষ্টা। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং এতদিন পরেও সময় চাওয়া অস্বাভাবিক। বিচারপতিরাও মনে করিয়ে দেন, এর আগেই রাজ্যকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল।রাজ্যের আইনজীবীরা বলেন, তাঁরা এখনও সম্পূর্ণভাবে নিজেদের বক্তব্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাননি। তবে আদালত স্পষ্ট জানায়, বারবার সময় চাওয়া ঠিক নয়।এই মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে রাজ্য। রাজ্যের দাবি, এই সংস্থা সরাসরি এই ধরনের মামলা করতে পারে না। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, এই অধিকার শুধুমাত্র ব্যক্তি বা কোনও বৈধ সংস্থার থাকতে পারে। তাই এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।অন্যদিকে, আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, তল্লাশির সময় সংঘর্ষ এড়াতেই তাদের কাজ থামাতে হয়েছিল। অভিযোগ করা হয়েছে, তল্লাশির সময় বাইরের লোকজন ঢুকে পড়ায় তদন্তে সমস্যা তৈরি হয়।বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনও মুখ্যমন্ত্রীর এইভাবে তদন্ত চলাকালীন ঢুকে পড়া মোটেই ভালো দৃষ্টান্ত নয়। ভবিষ্যতে অন্যরাও একই কাজ করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।এর আগে আদালত রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল, ওই ঘটনার সমস্ত ভিডিও এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করতে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্যও সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফের সময় চাওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।এই মামলার সূত্রপাত হয় কলকাতায় একটি সংস্থার কর্তার বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি নিয়ে। সেই তল্লাশিকে ঘিরেই এই আইনি লড়াই শুরু হয়। কেন্দ্রের অভিযোগ, তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের দাবি, নির্বাচনের আগে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছিল।এই পরিস্থিতিতে আইপ্যাক মামলাকে ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর সবার।

মার্চ ১৮, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে বড় ঝাঁকুনি! একসঙ্গে ১১ জেলাশাসক বদলি, চাঞ্চল্য

ভোটের মুখে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের একাধিক জেলার জেলাশাসক এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের একযোগে বদলি করা হয়েছে। বুধবার সকালে প্রথমে কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা হয়। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১১টি জেলার জেলাশাসক বদলের নির্দেশ জারি করে কমিশন।যে জেলাগুলিতে এই বদল করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ার। এই সব জেলার জেলাশাসকেরা একই সঙ্গে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবেও কাজ করছিলেন।কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী নতুন করে বিভিন্ন জেলায় নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতা পুরসভার কমিশনার এবং দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিককেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জায়গায় নতুন আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের সরানো হয়েছে, তাঁদের ভোট সংক্রান্ত কোনও কাজে যুক্ত না থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতদিন না নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে।এই বড় রদবদলের মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও ডাকা হয়েছে। সেখানে শীর্ষ পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।ভোটের আগে হঠাৎ এত বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনে রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নির্বাচনে কতটা পড়বে, তা নিয়ে এখন জোর আলোচনা চলছে।

মার্চ ১৮, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে বড় চাঞ্চল্য! বীরভূমে ট্রাক্টর ভরা বিস্ফোরক উদ্ধার

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই রাজ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। এর মধ্যেই বীরভূমে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নলহাটি থানার কাদাসির গ্রামে গ্রামবাসীরাই একটি সন্দেহজনক ট্রাক্টর আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ট্রাক্টর থেকে প্রায় দশ হাজার জিলেটিন স্টিক এবং তিনশো ষাটটি ডিটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মঙ্গলবার রাতে গ্রামের রাস্তা দিয়ে একটি ট্রাক্টর যাচ্ছিল। সেটি দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। এরপর তাঁরা ট্রাক্টরটি আটকালে চালক পালিয়ে যায়। পরে দেখা যায়, ট্রাক্টরটি বিস্ফোরকে ভর্তি।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নলহাটি থানার পুলিশ ট্রাক্টর এবং বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত করে। কে বা কারা এই বিস্ফোরক কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।ভোটের আগে এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হোক এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা দ্রুত সামনে আনা হোক।

মার্চ ১৮, ২০২৬
রাজ্য

কল্যাণের পর এবার ছেলে! উত্তরপাড়ায় ভোটের লড়াইয়ে মীনাক্ষীর বিপরীতে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে

বাবা একজন নামজাদা আইনজীবী এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। দীর্ঘদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজনীতির ময়দানে লড়াই করে আসছেন। এবার সেই পথেই পা রাখলেন তাঁর ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে তাঁকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।শীর্ষণ্য পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি সরকারের পক্ষে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা লড়েছেন। বিভিন্ন বড় আইনি লড়াইয়ে তিনি অংশ নিয়েছেন। কলেজে নির্বাচন বন্ধ হওয়া নিয়ে হওয়া মামলাতেও তিনি আদালতে লড়েছিলেন। এছাড়াও একশো দিনের কাজ এবং নিয়োগ সংক্রান্ত মামলাতেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন।এবার সেই আইনজীবীই সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নেমেছেন। উত্তরপাড়ায় তাঁর প্রতিপক্ষ সিপিএমের মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ফলে এই কেন্দ্রের লড়াই এবার বেশ জমজমাট হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।শীর্ষণ্য জানিয়েছেন, রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নতুন নয়। বহু বছর আগে থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ছাত্রজীবনে তিনি কলেজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন এবং সেই সময় থেকেই রাজনীতির অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালের পর রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তাঁর লড়াই মূলত আদালতকেন্দ্রিক হয়ে যায়। তবে এবার সরাসরি ভোটের ময়দানে নামতে পেরে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন।শীর্ষণ্য জানান, তাঁকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি দলের নেতৃত্বের কাছে কৃতজ্ঞ। এর আগে তিনি দলের অন্য প্রার্থীর হয়ে ভোট চেয়েছেন, কিন্তু এবার প্রথমবার নিজের জন্য মানুষের কাছে সমর্থন চাইবেন। উত্তরপাড়ার মানুষের আশীর্বাদই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মার্চ ১৮, ২০২৬
রাজ্য

শুক্রবার না শনিবার? অবশেষে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়ে বড় আপডেট

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলি জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছে। কিন্তু রাজ্যের প্রায় ষাট লক্ষ ভোটার এখনও জানেন না, তাঁরা এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না। তাঁদের নাম এখনও বিবেচনাধীন তালিকায় ঝুলে রয়েছে।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গত আটাশ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় প্রায় ষাট লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। এরপর দুই সপ্তাহের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা সেই সব নাম খতিয়ে দেখে নিষ্পত্তি করছেন।এখনও পর্যন্ত প্রায় একুশ লক্ষ ভোটারের নামের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, এই সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম সম্পূরক তালিকা প্রকাশ হতে পারে। তাঁর কথায়, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা খুব শীঘ্রই নিষ্পত্তি হওয়া নামগুলি কমিশনের হাতে তুলে দেবেন। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, শুক্রবার বা শনিবার এই তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।তবে বড় প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে বাকি প্রায় উনচল্লিশ লক্ষ ভোটারকে নিয়ে। ভোটের আগে এত অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের নামের নিষ্পত্তি করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ রাজ্যে এবার দুই দফায় ভোট হবে তেইশ ও উনত্রিশ এপ্রিল।এছাড়াও যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁদের ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে এবং কবে শেষ হবে, তা নিয়েও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টির দায় হাইকোর্টের উপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। বিচারব্যবস্থার উপর তাঁদের আস্থা থাকলেও কমিশন কীভাবে আদালতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে, তা স্পষ্ট নয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁরা কবে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবেন এবং সেই প্রক্রিয়ার জন্য কত সময় দেওয়া হবে, সে বিষয়েও কোনও স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না বলেই দাবি তাঁর।এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। ভোটের আগে এত বড় সংখ্যক ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকায় উদ্বেগও বাড়ছে।

মার্চ ১৮, ২০২৬
দেশ

দুই বছরের মেয়েকে নিয়ে ২৩ তলা থেকে ঝাঁপ! গুরগাঁওয়ের ঘটনায় শিউরে উঠছে দেশবাসী

গুরগাঁওয়ে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, এক ব্যক্তি তাঁর দুই বছরের কন্যাকে নিয়ে বহুতলের তেইশ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনায় দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে।মৃত ব্যক্তির নাম রাহুল। তাঁর বয়স আটত্রিশ বছর। তিনি দিল্লির বাসিন্দা ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে গুরগাঁওয়ের একটি আবাসনে ভাড়া থাকতেন। মঙ্গলবার সকালে একটি আবাসনের ভিতরে এই ঘটনা ঘটে।পুলিশ জানিয়েছে, রাহুল তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে একটি ছোট স্কুল চালাতেন, যেখানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হতো। কিছুদিন ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন এবং চিকিৎসাও চলছিল।পুলিশের এক আধিকারিক জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে মানসিক অবসাদ থেকেই তিনি এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। যদিও ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে।জানা গিয়েছে, তিনি যে টাওয়ারে থাকতেন, সেখান থেকে নয়, অন্য একটি টাওয়ারের তেইশ তলা থেকে ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি।দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় এবং পরে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই উচ্চ ভবনে বসবাসকারী পরিবারগুলির মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মার্চ ১৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal