• ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩, সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

India,

খেলার দুনিয়া

Sourav Ganguly : ‌কোহলিকে কেন সরানো হয়েছে?‌ ব্যাখা দিলেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি

বিরাট কোহলিকে সরিয়ে একদিনের ক্রিকেটে রোহিত শর্মাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বুধবার দল নির্বাচনের পরেই সমালোচনার মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সোশ্যাল মিডিয়ার সরব হয়েছেন নেট নাগরিকরা। কেউ কেউ আবার আবার চ্যাপেল জমানার কথা তুলে ধরে কাঠগড়ায় তুলেছেন সৌরভ গাঙ্গুলি, জয় শাহদের। কেন বিরাট কোহলিকে সরানো হয়েছে, তার ব্যাখা দিয়েছেন ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি।কেন একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে বিরাট কোহলিকে সরানো হয়েছে, সে প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, কোহলিকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল, যাতে টি২০ ক্রিকেটের নেতৃত্ব না ছাড়ে। কোহলি বোর্ডের অনুরোধ রাখেনি। ও নেতৃত্বে থাকতে চায়নি। অন্যদিকে, নির্বাচকরা চায়নি সাদা বলের ক্রিকেটে দুই ফরম্যাটে আলাদা আলাদা অধিনায়ক রাখতে। তাই টি২০র পাশাপাশি একদিনের দলের নেতৃত্বও কোহলির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কোহলি টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেবে। এই ব্যাপারে আমি কোহলির সঙ্গে কথা বলেছি।রোহিত শর্মার ওপর আস্থা রয়েছে বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলির। তিনি বলেন, কোহলি টেস্টের নেতৃত্বে রয়েছে। রোহিত টি২০ ও একদিনের ক্রিকেটে। ভারতীয় ক্রিকেটের দায়িত্ব যোগ্য ব্যক্তিদের হাতেই রয়েছে। রোহিতের নেতৃত্বের ওপর বোর্ডের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আশা করছি হতাশ করবে না। অধিনায়ক হিসেবে সাদা বলের ক্রিকেটে কোহলি প্রচুর অবদান রেখেছে। তারজন্য ওকে ধন্যবাদ। অন্যদিকে বিরাট প্রসঙ্গে রোহিত বলেছেন, বিরাটের মতো ব্যাটারের প্রয়োজনীয়তা দলে সবসময় রয়েছে। অনেক কঠিন পরিস্থিতিতে দারুণ দক্ষতায় দলের পরিত্রাতা হয়ে উঠেছে।কীভাবে দলকে পরিচালনা করতে চান, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন রোহিত। তিনি বলেন, দলের ভেতরেই আমার কাজ বেশি। সকলের সঙ্গে কথা বলে দায়িত্ব ভাগ করে দেব। রোহিতের সহকারীর দায়িত্ব দেওয়া হবে লোকেশ রাহুলকে। সরকারীভাবে ঘোষণা না করলেও ইতিমধ্যে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২১
বিনোদুনিয়া

Yeh Mera India : দুঃস্থ শিশুদের পাশে 'ইয়ে মেরি ইন্ডিয়া'

দুঃস্থ শিশুদের পাশে দাঁড়ালো ইয়ে মেরি ইন্ডিয়া। কলকাতার আমতলায় তারা ২৫০ জন অসহায় শিশুদের জন্য পরিকাঠামো নির্মাণে সহায়তা করছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ধ্বংসযজ্ঞের পর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায় এবং ভৌত অবকাঠামো, সেইসাথে স্কুলের সরবরাহ যেমন ডেস্ক এবং চেয়ার এবং শিক্ষকতা কর্মীদের অভাবের কারণে, স্কুলটি পুনরায় খোলা যাচ্ছিল না। তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কঠিন করে তুলেছিল। কোভিডের জন্য অনলাইন ক্লাস হলেও তারা সেই ক্লাস করতে পারছিল না কারণ অনলাইন ক্লাস করার জন্য তাদের হাতে মোবাইল ছিল না।তবে আবার যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলেছে তাই ওয়াইএমআই এই স্কুলের জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে যাতে এই শিশুরা তাদের স্কুলে ফিরে আসতে পারে। তাহলে আবার তারা নতুন তৈরি করা ক্লাসে পড়াশুনা করতে পারবে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎকেও সুরক্ষিত করতে পারবে।ইয়ে মেরার প্রতিষ্ঠাতা স্মিতা আগরওয়াল জানালেন,আমরা একা একা কাজ করলে লক্ষ্যপূরণ অল্প করতে পারবো কিন্তু একসঙ্গে কাজ করলে লক্ষ্যপূরণ অনেক বেশি হবে। আমাদের লক্ষ্য রয়েছে ২০ লক্ষ টাকার ফান্ড তোলার যার মধ্যে আমরা ৮ লক্ষ টাকার ফান্ড তুলতে সমর্থ হয়েছি। আমরা আশাবাদী খুব তাড়াতাড়ি বাকি ফান্ডটাও তুলতে সক্ষম হব। অকেকেই এগিয়ে এসে আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এইভাবে এগোলে পড়ুয়ারা আবার তাদের স্কুলে যেতে পারবে।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Virat Kohli : বিরাট’‌ পতন ভারতের একদিনের ক্রিকেটে, নেতৃত্ব কেড়ে নেওয়া হল কোহলির

ভারতীয় ক্রিকেটে বিরাট পতন। অনেক আগেই টি২০ ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন বিরাট কোহলি। এবার তাঁকে একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকেও সরিয়ে দিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এখন শুধু তিনি টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেবেন। বুধবার এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বিরাট কোহলিকে যে একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকেও সরানো হবে, সেই ইঙ্গিতটা অনেক আগেই পাওয়া গিয়েছিল ভারতীয় বোর্ড কর্তাদের কথায়। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে দল নির্বাচনের সময় সেই সেই পথেই হাঁটল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বিরাট কোহলির জায়গায় একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হল রোহিত শর্মার হাতে। টি২০ ক্রিকেটের পাশাপাশি তিনি একদিনের ম্যাচেও ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন।দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য বুধবার দল নির্বাচন করতে বসেছিলেন নির্বাচকরা। শুধুমাত্র টেস্ট সিরিজের জন্য দল বেছে নেওয়া হল। বিরাট কোহলিকেই নেতৃত্বে রেখে দেওয়া হয়েছে। তবে অজিঙ্ক রাহানের হাত থেকে সহ অধিনায়কের দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ঘোষিত ১৮ জনের দলে সুযোগ পেয়েছেন: বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা (সহ অধিনায়ক), লোকেশ রাহুল, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, চেতেশ্বর পুজারা, অজিঙ্ক রাহানে, শ্রেয়স আয়ার, হনুমা বিহারী, ঋষভ পন্থ (উইকেটকিপার), ঋদ্ধিমান সাহা (উইকেটকিপার), রবিচন্দ্রন অশ্বিন, জয়ন্ত যাদব, ইশান্ত শর্মা, মহম্মদ সামি, উমেশ যাদব, যশপ্রীত বুমরা, শার্দুল ঠাকুর, মহম্মদ সিরাজ। স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে: নভদীপ সাইনি, সৌরভ কুমার, দীপক চাহার, আর্জান নাগেশওয়ালা। চোটের জন্য রবীন্দ্র জাদেজা, শুভমান গিল, অক্ষর প্যাটেল, রাহুল চাহারদের নাম বিবেচনা করেননি নির্বাচকরা।দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাটে রান নেই অজিঙ্ক রাহানে, চেতেশ্বর পুজারার। চারিদিক থেকে এই দুই ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছিল। কিন্ত নির্বাচকরা চাননি এই দুই ক্রিকেটারকে এখনই দল থেকে ছেঁটে ফেলতে। ভারতীয় দলের হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়ও চাননি রাহানে, পুজারাদের এখনই দল থেকে বাদ দিতে। কোনও ক্রিকেটারের মনে সংশয় রেখে তাঁকে দল থেকে ছেঁটে ফেলার পক্ষপাতি নন দ্রাবিড়। অধিনায়ক বিরাট কোহলিও কয়েকদিন আগে রাহানের পাশে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন। রাহানের হাত থেকে সহকারী অধিনায়কের দায়িত্ব কেড়ে নিয়ে তাঁকে বার্তা দেওয়া হল যে তিনি দলে অপরিহার্য নন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজে সুযোগ না পাওয়া হনুমা বিহারীকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সুযোগ দিয়ে ভুল শুধরে নিলেন নির্বাচকরা।টেস্ট দল বেছে নেওয়া হলেও একদিনের সিরিজের দল পরে বেছে নেওয়া হবে। ১৯ জানুয়ারি একদিনের সিরিজ শুরু। বিজয় হাজারে ট্রফির পারফরমেন্স দেখে একদিনের সিরিজের জন্য দল বেছে নেওয়া হবে। চোটের জন্য হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজাকে পাওয়া যাবে না। হার্দিকের বিকল্প হিসেবে একদিনের সিরিজে বেঙ্কটেশ আয়ারকে সুযোগ দিতে পারেন নির্বাচকরা।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২১
দেশ

Inequality: ভারত এখন এক ‘চরম অসাম্যের দেশ, জানাল বিশ্ব রিপোর্ট

ভারতের নীচের সারির অর্ধেক মানুষের হাতে দেশের সম্পদের প্রায় কিছুই নেই। অথচ ধনীরা অত্যন্ত ধনী।দরিদ্র তো বটেই। ভারত এখন এক চরম অসাম্যের দেশও। আজ বিশ্ব অসাম্য রিপোর্ট জানাল, ২০২১-এ দেশের মোট আয়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগই গিয়েছে দেশের উপরের সারির এক শতাংশ মানুষের হাতে। অথচ নিচু তলার ৫০ শতাংশ মানুষকে দেশের মোট আয়ের মাত্র ১৩ শতাংশ নিয়েই দিন গুজরান করতে হয়েছে।ভারতের সম্পর্কে অসাম্য রিপোর্টে বলা হয়েছে, ক্রয়ক্ষমতার তুলনার নিরিখে ভারতের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় বছরে ২ লক্ষ ৪ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু আয়ের দিক থেকে নীচের সারির অর্ধেক মানুষের গড় আয় মাত্র ৫৩ হাজার ৬১০ টাকা। উপরের সারির ১০ শতাংশ মানুষের আয় তার প্রায় ২০ গুণ। ১১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫২০ টাকা।প্যারিস স্কুল অব ইকনমিকসএ অবস্থিত ওয়র্ল্ড ইনইক্যুয়ালিটি ল্যাব-এর এই রিপোর্ট তৈরিতে সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন ফ্রান্সের অর্থনীতিবিদ টমাস পিকেটি। রিপোর্টের মুখবন্ধে নোবেলজয়ী দুই অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও এস্থার ডুফলো লিখেছেন, বিশ্বের যে সব দেশে অসাম্য চরমে, ভারত এখন তার মধ্যে পড়ছে।শুধু ভারতে অসাম্যের ছবি তুলে ধরা নয়, সেই অসাম্য কতটা গভীরে, তা বুঝতে নরেন্দ্র মোদি জমানায় সরকারি পরিসংখ্যানের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদেরা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে অসাম্য নিয়ে সরকার যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তার গুণগত মান গুরুতর ভাবে খারাপ হয়েছে। ফলে অসাম্যের ছবিটা সম্প্রতি কতটা বদলেছে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।অর্থনীতিবিদেরা রিপোর্টে বলছেন, কোভিড-সংকটে গোটা বিশ্ব জুড়েই বিলিয়নেয়ার বা কোটিপতিদের সম্পদের পরিমাণ আরও বেড়েছে। বিশ্বের মাত্র ২,৭৫০ জন বিলিয়নেয়ারের হাতে এখন পৃথিবীর ৩.৫ শতাংশ সম্পদ। ১৯৯৫ সালে এঁদের হাতে বিশ্বের ১ শতাংশ সম্পদ ছিল। কোভিডের সময়ই ধনীরা আরও ফুলেফেঁপে উঠেছেন। নীচের সারির অর্ধেক মানুষের কাছে এই ধনীদের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ সম্পদ রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইনইক্যুয়ালিটি ল্যাব-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে লিঙ্গ বৈষম্যও চরমে। মোট আয়ে মহিলা শ্রমিক-কর্মীদের ভাগ মাত্র ১৮ শতাংশ। এই হার গোটা বিশ্বের মধ্যেই নিম্নতম। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতেই মহিলাদের আয়ের ভাগ ১৫ শতাংশ। চিন বাদ দিয়ে এশিয়ার দেশগুলিতে এর হার ২১ শতাংশ।রিপোর্টে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ জমানায় ভারতে আয়ের অসাম্য চরমে ছিল। ১০ শতাংশ ধনীতম মানুষের ঝোলায় দেশের মোট আয়ের অর্ধেক চলে যেত। স্বাধীনতার পরে সমাজতন্ত্রের অনুপ্রেরণায় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ফলে অসাম্য কমে। ধনীতম ১০ শতাংশ মানুষের আয় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে আসে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া, উদারীকরণ শুরুর পরে বিশ্বের মধ্যে ভারতে আয়-সম্পদের অসাম্য প্রবল ভাবে বেড়েছে। উপরের সারির ১ শতাংশ মানুষ আর্থিক সংস্কারের ফায়দা পেয়েছেন। কিন্তু কম ও মাঝারি আয়ের মানুষের আয় ততটা বাড়েনি। দারিদ্র বজায় থেকেছে।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India vs New Zealand : ‌‌জোরে বোলার থেকে স্পিনার, আজাজকে দারুণ উপহার ভারতীয় দলের

ভারতের বিরুদ্ধে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে জীবনের সেরা বোলিং করেছেন নিউজিল্যান্ডের আজাজ প্যাটেল। প্রথম ইনিংসে তুলে নিয়েছিলেন ১০ উইকেট। কিংবদন্তী স্পিনার জিম লেকার, অনিল কুম্বলের সঙ্গে এক আসনে বসিয়েছেন নিজেকে। নিউজিল্যান্ডের এই স্পিনারের কৃতিত্বকে কুর্ণিশ জানাল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সোমবার ম্যাচের শেষে ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের সই করা জার্সি উপহার দেওয়া হয় আজাজ প্যাটেলকে। বিসিসিআই টিভির পক্ষ থেকে ভারতীয় দলের স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন আজাজের সাক্ষাৎকারও নেন।টেস্টের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ শনিবার ভারতীয় ইনিংস শেষে যখন আজাজ প্যাটেলকে সামনে রেখে সাজঘরে ফিরছিল নিউজিল্যান্ড দল, গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছিল আজাজকে। আর এদিন ম্যাচ শেষে রবিচন্দ্রন অশ্বিন ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে সতীর্থদের সই করা জার্সি আজাজের হাতে তুলে দেন। ভারতীয় দলের কাছ থেকে এইরকম উপহার পেয়ে আপ্লুত আজাজ। ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা শুধু আমার কাছে নয়, আমার স্ত্রী, আমার মাবাবা, পরিবারের কাছে বিশেষ মুহূর্ত। আমার কাছে অন্যতম স্মরণীয় দিন। এইরকম কৃতিত্ব স্থাপন করতে পারাটা আমার ক্রিকেটজীবনে দারুণ ব্যাপার। আমি সত্যিই ভাগ্যবান যে এইরকম কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরেছি।You just cannot miss this 🗣️ 🎥@ashwinravi99 @AjazP in one frame 👍 👍Stay tuned for this folks ⌛Interview coming up soon on https://t.co/Z3MPyesSeZ#TeamIndia #INDvNZ @Paytm pic.twitter.com/mCzzMuQ7aZ BCCI (@BCCI) December 6, 2021মুম্বইয়েই জন্ম আজাজ প্যাটেলের। মুম্বইয়ের ক্রিকেট ময়দান তাঁর কাছে পরিচিত। ৭ বছর বয়সে বাবামার হাত ধরে নিউজিল্যান্ড পাড়ি দেন। স্বপ্ন দেখতেন ওয়াংখেড়েতে টেস্ট খেলার। অবশেষে সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় আজাজ প্যাটেল বলেন, এই ভারত সফরটা আমার কাছে অন্যরকম ছিল। একসময় স্বপ্ন দেখতাম ভারতে এসে ওয়াংখেড়েতে টেস্ট খেলব। সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আর সবথেকে বড় পাওনা এই ওয়াংখেড়েতেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো। আজাজ আরও বলেন, আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করব। ইশ্বরকে ধন্যবাদ দেব এইরকম কৃতিত্ব অর্জন করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। দীর্ঘসময় ধরে এক জায়গায় বল রাখার পুরস্কার পেয়েছি। জোরে বোলার হিসেবে ক্রিকেটজীবন শুরু করেছিলেন আজাজ প্যাটেল। মাত্র ২ বছর আগে স্পিন করার দিকে মনোযোগ দেন। আর সেই স্পিন বোলিংই তাঁকে ইতিহাসে ঢুকিয়ে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে আজাজ প্যাটেল বলেন, নিউজিল্যান্ডের পরিবেশে সবাই জোরে বোলার হওয়ার চেষ্টা করে। আমি পেস বোলিং করতাম। কিন্তু ভাল জোরে বোলার হওয়ার জন্য যে উচ্চতা প্রয়োজন, তা আমার নেই। তাই মাত্র ২ বছর আগে স্পিন বোলিং করতে শুরু করি। দুবছরে কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছি।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

IND vs NZ Test : ‌স্পিনে বেসামাল কিউয়িরা, চারদিনেই টেস্ট জয়ের পথে ভারত

আজাজ প্যাটেলের দুরন্ত বোলিং সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের পথে ভারত। চারদিনেই দ্বিতীয় টেস্ট জিততে চলেছেন বিরাট কোহলিরা। জয়ের জন্য ৫৪০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে নিউজিল্যান্ড তুলেছে ১৪০/৫। অর্থাৎ হার বাঁচাতে কিউয়িদের এখনও প্রয়োজন ৪০০ রান। যা তোলা প্রায় অসম্ভব।প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রানে এগিয়ে ছিল ভারত। দ্বিতীয় দিনের শেষে ভারতের রান ছিল ৬৯/০। তৃতীয় দিন ভাল শুরু করেছিলেন ভারতের দুই ব্যাটসম্যান মায়াঙ্ক আগরওয়াল ও চেতেশ্বর পুজারা। ৩২তম ওভারে আজাজ প্যাটেলকে গ্যালারিতে পাঠাতে গিয়ে উইল ইয়ংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মায়াঙ্ক। ৯টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ১০৮ বলে ৬২ রান করেন তিনি। ভারতের রান তখন ১০৭। চেতেশ্বর পুজারা ৯৭ বলে ৪৭ রান করে আজাজের বলেই স্লিপে রস টেলরের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। তার আগেই তিনি একবার জীবন পেয়েছিলেন। ৭৫ বলে ৪৭ রান করে রাচিন রবীন্দ্রর বলে লাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন শুভমান গিল। দ্বিতীয় ইনিংসেও বড় রান পেলেন না বিরাট কোহলি। তিনিও রাচিন রবীন্দ্রর শিকার। ৮৪ বলে ৩৬ রান করে কোহলি বোল্ড হন। এরপর দ্রুত রান তোলার দিকে মন দেয় ভারত। শ্রেয়শ আয়ার ৮ বলে ১৪ রান করে। তাঁকে ফেরান আজাজ প্যাটেল। ১২ বলে ১৩ রান করে ঋদ্ধিমান সাহা। জয়ন্ত যাদব ৬ রান করে আজাজের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দেন। ৭ উইকেটে ২৭৬ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করে ভারত। অক্ষর প্যাটেল ২৬ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন। আজাজ প্যাটেল ১০৬ রানে ৪ উইকেট নেন। ম্যাচে ১৪ উইকেট তাঁর।জয়ের জন্য ৫৪০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। দলের ১৩ রানের মাথায় টম লাথাম (৬) রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে লেগ বিফোর হন। উইল ইয়ংও (২০) বড় রান পাননি। তিনিও অশ্বিনের শিকার। রস টেলরকেও (৬) তুলে নেন অশ্বিন। ড্যারিল মিচেল (৬০) কিছুটা লড়াই করেন। তৃতীয় দিনের শেষে নিউজিল্যান্ড তুলেছে ১৪০/৫। হেনরি নিকোলস ৩৬ রানে ক্রিজে রয়েছেন। অশ্বিন ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২১
দেশ

Omicron: উদ্বেগ বাড়িয়ে ভারতে ঢুকে পড়ল ওমিক্রন, কর্নাটকে আক্রান্ত ২ জন

ভারতে ঢুকে পড়ল কোভিডের নতুন রূপ ওমিক্রন। কর্নাটকে দুজনের দেহে করোনার নয়া রূপের হদিশ মিলেছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। আক্রান্তদের মধ্যে এক জন পুরুষ এবং এক জন মহিলা। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ৬৬ এবং ৪৬ বলে জানিয়েছে মন্ত্রক। আক্রান্তদের কনট্যাক্ট ট্রেসিং-ও করা হয়েছে বলে মন্ত্রক সূত্রে খবর।বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৯টি দেশে ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীর হদিশ মিলেছে। গোটা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত ৩৭৩ জন কোভিডের এই নতুন রূপে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। মন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল টুইট করে জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ওমিক্রনের যে সব রোগীর হদিশ মিলেছে, সকলেরই মৃদু উপসর্গ ধরা পড়েছে। এর সংক্রমণে মারাত্মক কোনও উপসর্গের কথা এখনও পর্যন্ত শোনা যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও কোভিডের এই নতুন রূপের প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করছে।কোভিড-এর এই নতুন রূপকে নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারত-সহ একাধিক দেশ আন্তর্জাতিক বিমানে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন-সহ অনেক দেশ সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া শুরু করেছে।সম্প্রতি করোনাভাইরাসের নতুন বি.১.১.৫২৯ রূপকে উদ্বেগজনক বা ভেরিয়েন্ট অব কনসার্ন হিসেবে চিহ্নিত করে সেটিকে ওমিক্রন নাম দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। নতুন এই রূপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের।যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, ওমিক্রন নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। গবেষণা চলছে। ফলে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে সচেতনতা জরুরি।

ডিসেম্বর ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Test Team : ‌চমক ভারতীয় টেস্ট দলে, টেস্ট ডাকা হল এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যনকে

টি২০ বিশ্বকাপে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজেও ব্যর্থ। তা সত্ত্বেও আবার ভারতীয় টেস্ট দলে ফেরানো হচ্ছে সূর্যকুমার যাদবকে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজে তাঁকে দলে নেওয়া হচ্ছে। কলকাতায় ইডেনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজ খেলে তিনি দলের সঙ্গেই কানপুর উড়ে গেছেন টেস্টের জন্য জাতীয় শিবিরে যোগ দিতে। সেখানেই হবে প্রথম টেস্ট।নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২টি টেস্টের জন্য আগেই ভারতীয় দল ঘোষণা করা হয়েছে। সেই দলে প্রথমে সুযোগ পাননি সূর্যকুমার যাদব। পরে তাঁকে ডেকে নেওয়া হল। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে রোহিত শর্মা খেলবেন না। তবে টি২০ সিরিজ থেকে বিশ্রাম নেওয়া বিরাট কোহলি টেস্ট সিরিজে ফিরবেন। তবে তিনি দ্বিতীয় টেস্ট থেকে খেলবেন। প্রথম টেস্টে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্কা রাহানে। মহম্মদ সামি, যশপ্রীত বুমরারাও বিশ্রাম কাটিয়ে টেস্ট সিরিজে ফিরবেন।ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, সূরকুমার যাদবকে আবার টেস্ট দলে ফেরানো হচ্ছে। কলকাতা থেকে সরাসরি তিনি কানপুরে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। সূর্যকুমার যাদব এই প্রথম টেস্ট দলে সুযোগ পাচ্ছেন না। এর আগে ঘরের মাঠে ইংল্যানন্ড সিরিজে তাঁকে ব্যাক আপ হিসেবে দলে রাখাআ হয়েছিল। তবে একটা ম্যাচেও খেলার সুযোগ পাননি। এবার প্রথম একাদশে সুযোগ পান কিনা, সেটাই দেখার। ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই রানের মধ্যে রয়েছেন সূর্যকুমার। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৭৭ ম্যাচে রান করেছেন ৫৩৫৬। গড় ৪৪ এর কাছাকাছি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৪টি সেঞ্চুরি রয়েছে মুম্বইয়ের এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের। করেছেন ২৬টি অর্ধ শতরান। তবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে আর লাল বলের ক্রিকেটে খেলেননি সূর্যকুমার।নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই টেস্ট সিরিজ ২০২১২০২৩ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। ইতিমধ্যেই ভারত ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটা সিরিজ খেলে ফেলেছে। কোহলিরা দ্বিতীয় সিরিজ খেলতে নামবেন। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সংস্করণে এই প্রথমবার সিরিজ খেলতে নামবে নিউজিল্যান্ড। টেস্টের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সংস্করণে এই নিউজিল্যান্ডের কাছে ফাইলানে হারতে হয়েছিল ভারতকে। কোহলিরা যদি ঘরের মাঠে সিরিজ জিততে পারেন, তাহলে ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দিতে পারবেন। নিউজিল্যান্ড খেলাব ধরে রাখার জন্য শুরু থেকেই মরিয়া হবে। তার ওপর ভারতের কাছে টি২০ সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার ক্ষত তো রয়েছেই।

নভেম্বর ২২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Sourav Ganguly : ‌সামনের বছর ভারতেই আইপিএল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি সৌরভের

রবিবার ইডেনে ভারতনিউজিল্যান্ড টি২০ সিরিজের তৃতীয় তথা শেষ ম্যাচ। উত্তেজনার পারদে কাঁপছে গোটা শহর। শুরু হয়েছে টিকিটের হাহাকার। ম্যাচ ঘিরে ইডেনে ব্যস্ততা তুঙ্গে। কর্তাদের নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। যেন বিয়ে বাড়ির ব্যস্ততা। কখনও পরিদর্শনে আসছে দমকল বিভাগ, কখনও আবার পূর্ত বিভাগ। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকেও শুক্রবার ইডেনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হল। এর মধ্যেই সন্ধেয় ইডেনে হাজির ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি। দুবাই থেকে শুক্রবার সকালেই কলকাতা ফিরেছেন ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ। নিজের শহরে ভারতনিউজিল্যান্ড টি২০ সিরিজের শেষ ম্যাচ। সুতরাং বাড়িতে যে বসে থাকবেন সে উপায় নেই। তাই ম্যাচের চূড়ান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সন্ধেয় ইডেনে চলে আসেন। ইডেন ঢুকে সোজা মাঠে চলে যান। তখন মাঠ কর্মীদের নিয়ে পিচ পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত ছিলেন সিএবির কিউরেটর সুজন মুখার্জি। বেশ কিছুক্ষণ ধরে বাইশ গজ পরিদর্শন করেন। তারপর ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখার্জি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের হেড কিউরেটর আশিষ ভৌমিকের সঙ্গে কথা বলেন। দীর্ঘদিন পর আবার ইডেনে ক্রিকেট ফিরছে। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে পারবেন দর্শকরা। খুশি ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি। ইডেনের ম্যাচ প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, দীর্ঘদিন পর ইডেনে ম্যাচ হচ্ছে। দর্শকরা মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবে। এটা দারুণ ইতিবাচক দিক। রাতের ম্যাচে শিশির একটা বড় ফ্যাক্টর। জয়পুরে প্রথম টি২০ ম্যাচ ও রাঁচিতে দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচেও শিশিরের প্রভাব দেখা গেছে। ইডেনেও শিশির বড় ফ্যাক্টর হবে বলে মনে করছেন সৌরভ। যদিও সিএবি চেষ্টা করছে প্রে করে শিশিরের প্রভাব কমাতে। করোনার জন্য পরপর দুবছর আইপিএল সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও এবছর ভারতে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল। কয়েকজন ক্রিকেটার করোনায় আক্রান্ত হতেই আইপিএল স্থগিত হয়ে যায়। পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অনুষ্ঠিত হয়। সামনের বছর ভারতেই আইপিএল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান সৌরভ। তিনি বলেন, সামনের বছর আইপিএল ভারতের মাটিতেই হবে। অধিনায়ক হিসেবে রোহিত শর্মা ও কোচ হিসেবে রাহুল দ্রাবিড় প্রথম দুটি ম্যাচেই সফল। রোরা জুটির সাফল্যে অবাক নন সৌরভ গাঙ্গুলি। তিনি বলেন, জানতাম ভাল করবে। আশা করছি ভবিষ্যতেও সাফল্য পাবে। কয়েকদিন আগেই বাড়তি দায়িত্ব ঘাড়ে চেপেছে সৌরভ গাঙ্গুলির। তাঁকে ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান করেছে আইসিসি। নতুন দায়িত্ব চাপের হলেও ভালভাবে সামাল দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী সৌরভ।

নভেম্বর ১৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Dravid-Rohit : ‌ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে এল ২০০৭ সালের স্মৃতি। কী বললেন দ্রাবিড়–রোহিত?‌

বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে ভারত। স্টপগ্যাপ হিসেবে দেশকে নেতৃত্ব দিলেও এই প্রথম স্থায়ী অধিনায়কের আর্ম ব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন রোহিত শর্মা। অন্যদিকে, সিনিয়র দলের কোচ হিসেবে অভিষেক হতে চলেছে রাহুল দ্রাবিড়। দ্রাবিড়ের নেতৃত্বেই ২০০৭ সালে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে দেশের হয়ে অভিষেক হয়েছিল রোহিত শর্মার। এবার কোচ দ্রাবিড়ের অধীনেই অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হতে চলেছে রোহিতের। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে অতীতের কথা উঠে এল দুজনের মুখে। ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে রোহিত শর্মাকে পাশে নিয়ে দ্রাবিড় বলেন, সোমবারই রোহিতের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের ওই ম্যাচের কথা আলোচনা করছিলাম। তার আগে চেন্নাইয়ে রোহিতের সঙ্গে চ্যালেঞ্জার ট্রফি খেলেছিলাম। চ্যালেঞ্জার খেলার সময়ই ওর দক্ষতা দেখে বুঝেছিলাম প্রতিভা আছে। অধিনায়ক হিসেবে রোহিত নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। রোহিত দারুণ দক্ষতার সঙ্গে মুম্বই ক্রিকেটের ঐতিহ্য বহন করে নিয়ে চলেছে। আশা করছি অধিনায়ক হিসেবে দলকে সাফল্য এনে দেবে।২০০৭এর অভিষেক ম্যাচের কথা তুলে ধরে রোহিত বলেন, বেঙ্গালুরুতে জাতীয় শিবির চলাকালীন প্রথম দ্রাবিড়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। যথেষ্ট নার্ভাস ছিলাম। আয়ারল্যান্ডের ওই ম্যাচের আগে দ্রাবিড় যখন প্রথম একাদশে থাকার কথা বলেছিল, মনে হয়েছিল যেন হাতে চাঁদ পেয়েছি। ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুম শেয়ার করতে পেরে স্বপ্নপূরণ হয়েছিল। ভারতীয় দল, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত আমার হৃদয়ে আছে। আরও অনেক স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হতে চাই। জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন রাহুল দ্রাবিড়। তিনি বলেন, সব ম্যাচ জেতার যেমন লক্ষ্য থাকবে, তেমনই ক্রিকেটারদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে সব ফরম্যাটকে গুরুত্ব দেব। সবার কোচিংয়ের বেশকিছু বিষয় এক থাকে। তবে ধরণ আলাদাআ হয়। চ্যালেঞ্জ বুঝে রণকৌশল সাজাতে হয়। তিন ধরণের ফরম্যাটের জন্য তিনি আলাদা আলাদা দল রাখার পক্ষপাতি নন, সেকথা পরিস্কার করে দিয়েছেন দ্রাবিড়। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের দিকেও নজর দিতে চান তিনি। দ্রাবিড়ের কাছে প্রথম চ্যালেঞ্জ ক্রিকেটারদের ক্লান্তির মাঝেও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে দলকে সাফল্য এনে দেওয়া।

নভেম্বর ১৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Hardik Pandya : ‘‌১০ টাকার ম্যাগি খাওয়া ক্রিকেটার ৫ কোটি টাকার ঘড়ি পরছেন!‌’‌

শেষ কবে বাইশ গজে ভাল পারফরমেন্স করে সংবাদের শিরোনামে এসেছেন হার্দিক পান্ডিয়া? তথ্যটা জানতে গেলে পরিসংখ্যানবিদদের সাহায্য নিতে হবে। মাঠের মধ্যে পারফরমেন্স না থাকলেও বাইরে কিন্তু দারুণ খেলছেন হার্দিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় সবসময় দারুণ জনপ্রিয়। টি২০ বিশ্বকাপ চলাকালীনও খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন হার্দিক। তবে পারফরমেন্স করে নয়। তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন ভারতীয় দলের এই অলরাউন্ডার। তবে মাঠে পারফরমেন্স করে নয়, দুবাই থেকে বহুমূল্যের ঘড়ি কিনে দেশে ফিরে। মুম্বই বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগের কর্তারা নাকি তাঁর ৫ কোটি টাকা মূল্যের ঘড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। হার্দিক অবশ্য এই ঘটনাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এমনিতেই হার্দিকের দামী ঘড়ির প্রতি আলাদা নেশা রয়েছে। বহুমূল্যের ঘড়ি দেখলেই সংগ্রহে রাখার ইচ্ছে জন্মায়। তাঁর সংগ্রহে প্রচুর ঘড়ি রয়েছে। যার ছবি বহুবার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন হার্দিক। দুবাইতে গিয়ে দামী ঘড়ির লোভ সামলাতে পারেননি। কিন্তু তাঁর কাছে ঘড়ির ইনভয়েস না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে। টি২০ বিশ্বকাপ খেলে সোমবার সকালে মুম্বই বিমানবন্দরে ফেরেন হার্দিক পান্ডিয়া। বিমানবন্দরে ফেরার পর শুল্ক বিভাগ তাঁর ৫ কোটি টাকা মূল্যের ঘড়ি বাজেয়াপ্ত করে বলে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হার্দিক। তাঁর দাবি, তিনি নিজেই শুল্ক বিভাগের কর্তাদের কাছে দুবাই থেকে কেনা জিনিসপত্র জমা দিয়েছেন সেগুলির শুল্ক নির্ধারণের জন্য। টুইট করে হার্দিক পান্ডিয়া জানিয়েছেন, ১৫ নভেম্বর সোমবার সকালে মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর ল্যাগেজ সংগ্রহ করি। তারপর নিজেই বিমানবন্দরে কাস্টমস কাউন্টারে গিয়েছিলাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দুবাই থেকে আমি কোন কোন জিনিস কিনেছি, তার বিস্তারিত বিবরণ কাস্টমস অফিসারদের দিয়েছি। বলেছি, এই জিনিসগুলির যতটা পরিমান শুল্ক হবে, তা দিতে আমি তৈরি। আর ঘড়িটার দাম ৫ কোটি টাকা নয়, দেড় কোটি টাকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর জানানোর পরো রীতিমতো ট্রোলড হচ্ছেন হার্দিক। কেউ কেউ লিখেছেন, ১০ টাকার ম্যাগি খেয়ে বড় হওয়া হার্দিক এখন ৫ কোটি টাকার ঘড়ি পরছেন। এটা না করে ফিটনেসে নজর দিলে দেশের লাভ হত।

নভেম্বর ১৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Cricket : রাহুল দ্রাবিড়ের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ

রাহুল দ্রাবিড়ের পরিবর্ত হিসেবে জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ডিরেক্টরের দায়িত্ব কার হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা। ভিভিএস লক্ষ্মণকে এই পদে চেয়েছিলেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি। প্রাথমিকভাবে রাজি ছিলেন না ভিভিএস লক্ষ্মণ। অবশেষে তিনি রাজি হয়েছেন। রাহুল দ্রাবিড়ের স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন তিনি। ৪ ডিসেম্বর কলকাতায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বাৎসরিক সাধারণ সভায় সরকারিভাবে লক্ষ্মণের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি শিলমোহর পড়বে।একসময় রাহুল দ্রাবিড় ভারতীয় সিনিয়র দলের হেড কোচ হতে রাজি ছিলেন না। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির প্রধানের দায়িত্বে থাকতেই আগ্রহী ছিলেন। পরে সৌরভ গাঙ্গুলির অনুরোধে তিনি রবি শাস্ত্রীর পরিবর্তে বিরাট কোহলিদের দায়িত্ব নিতে রাজি হন। দ্রাবিড় ভারতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচের দায়িত্ব নেওয়ায় জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ডিরেক্টরের পদ খালি হয়েছিল। ভারতীয় বোর্ড কর্তারা প্রথম থেকেই চেয়েছিলেন ভিভিএস লক্ষ্মণকে এই পদে বসাতে। কিন্ত তিনি রাজি ছিলেন না। আসলে তিনি হায়দরাবাদ ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে আসতে ইচ্ছুক ছিলেন না। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দায়িত্ব নিলে বছরে প্রায় ২০০ দিন বেঙ্গালুরুতে তাঁকে থাকতে হবে। তাছাড়া অন্যান্য দায়িত্বও ছাড়তে হবে। যেমন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মেন্টরের পদ, টিভি কমেন্ট্রি, সংবাদপত্রে কলাম লেখা ইত্যাদি দায়িত্ব।এরপর লক্ষ্মণকে রাজি করাতে আসরে নামেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি। তিনি বারবার লক্ষ্মণের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁকে শেষ পর্যন্ত রাজি করাতে সক্ষম হয়েছেন। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দায়িত্ব নেবেন বলে ইতিমধ্যেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মেন্টরের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। টিভি চ্যানেলের সঙ্গে তাঁর ধারাভাষ্য দেওয়ার যে চুক্তি ছিল, সেই চুক্তিও ছিন্ন করেছেন। বাংলার ব্যাটিং পরামর্শদাতার দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি নিয়েছেন। শুধু জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দায়িত্ব সামলানোই নয়,। ভারতীয় এ দলের এবং ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলের দায়িত্বও সামলাতে হবে ভিভিএল লক্ষ্মণকে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা চেয়েছিলেন দেশের দুই কিংবদন্তীকে ক্রিকেটের সেরা দুটি জায়গাতে বসাতে। সেই লক্ষ্যে তাঁরা সফল।

নভেম্বর ১৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Virat Kohli : একদিনের ম্যাচে কবে নেতৃত্ব ছাড়ছেন বিরাট কোহলি?‌ বড় ইঙ্গিত দিলেন রবি শাস্ত্রী

আগেই ঘোষণা করেছিলেন বিশ্বকাপের পরই টি২০ ক্রিকেটে দেশকে আর নেতৃত্ব দেবেন না। সেই মতো রোহিত শর্মার হাতে টি২০ দলের নেতৃত্ব তুলে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। একদিনের ম্যাচেও বিরাট কোহলির হাতে নেতৃত্ব থাকবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার আগেই সসম্মানে একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বিরাট কোহলি। এমনই জানিয়েছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন হেড কোচ রবি শাস্ত্রী। পাশাপাশি টি২০ বিশ্বকাপে দেশের ব্যর্থতার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে আবার কাঠগড়ায় তুলেছেন রবি শাস্ত্রী। সংবাদ মাদ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাস্ত্রী বলেছেন, দীর্ঘদিন জৈব সুরক্ষা থাকার ফলে ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে ক্লান্ত ছিল। এটাই ব্যর্থতার মূল কারণ। ঠাসা ক্রীড়াসূচির কারণে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার টানা ৬ মাস বাড়ির বাইরে। এমন অনেক ক্রিকেটার রয়েছে, যারা তিন ধরণের ফরম্যাটেই নিয়মিত খেলেছে। ফলে সব মিলিয়ে বছরে ২৫ দিনের বেশি বাড়িতে কাটানোর সময় পায়নি। মানসিক ক্লান্তি নিয়ে সেরাটা দেওয়া যায় না। যেটা হয়েছিল পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচে। সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডের উচিত, ক্রিকেটারদের মানসিক ক্লান্তির কথা মাথায় রেখে ক্রীড়াসূচি তৈরি করা। বিশ্বকাপে ভারতের ব্যর্থতার পর কপিলদেবও ঠাসা ক্রীড়াসূচি, সঠিক সূচি নির্ধারণের কথা বলেছিলেন। কপিলদেবের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন রবি শাস্ত্রী। শুধু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সমালোচনা করেই থেমে থাকেননি রবি শাস্ত্রী। বিরাট কোহলির নেতৃত্ব নিয়েও বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিরাট কোহলি খুব তাড়াতাড়িই একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছেড়ে দেবে। কোহলি টেস্ট ক্রিকেটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের কেরিয়ার আরও দীর্ঘায়িত করতে চায়। তাই টেস্ট ক্রিকেটে আরও ভালভাবে মনোনিবেশ করার জন্য একদিনের ক্রিকেটেও নেতৃত্ব ছেড়ে দেবে। তবে কবে কোহলি একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছেড়ে দেবেন, সে বিষয়ে খোলসা করে কিছু বলেননি রবি শাস্ত্রী। সামনের বছর জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ খেলবে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ খেলে নেতৃত্ব ছাড়তে পারেন কোহলি।

নভেম্বর ১২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Test Team : সাফল্য না থাকা সত্ত্বেও ৪ বছর পর টেস্ট দলে প্রত্যাবর্তন এই ক্রিকেটারের !‌ উঠছে প্রশ্ন

ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের জন্য বেছে নেওয়া হল ভারতীয় ক্রিকেট দল। প্রত্যাশামতোই নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে অজিঙ্কা রাহানের হাতে। সহঅধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে চেতেশ্বর পুজারাকে। তবে ভারতীয় দলে সবথেকে বড় চমক জয়ন্ত যাদব। প্রায় ৪ বছর পর টেস্ট দলে ফেরানো হলে এই অফস্পিনারকে।ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন: অজিঙ্কা রাহানে (অধিনায়ক), চেতেশ্বর পুজারা (সহঅধিনায়ক), লোকেশ রাহুল, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, শুভমান গিল, শ্রেয়স আয়ার, ঋদ্ধিমান সাহা, শিখর ভরত, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, অক্ষর প্যাটেল, ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব, মহম্মদ সিরাজ এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি টেস্ট খেললেও শুধুমাত্র প্রথম টেস্টের জন্য দল বেছে নেওয়া হয়েছে। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, যশপ্রীত বুমরা, মহম্মদ সামি, শার্দুল ঠাকুর, ঋষভ পন্থদের আগেই বিশ্রাম দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তাই তাঁদের কথা বিবেচনা করা হয়নি। পরের টেস্টেও রোহিতকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। তবে বিরাট কোহলি দ্বিতীয় টেস্টে দলে ফিরবেন।এদিকে, ৪ বছর পর জয়ন্ত যাদবের আবার টেস্ট দলে ফেরাটা নিঃসন্দেহে বড় চমক। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক ঘটে জয়ন্ত যাদবের। অভিষেক ম্যাচেই তুলে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে করেছিলেন ৩৫ ও ২৭ রান। পরের ম্যাচেও ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। সঙ্গে ৫৫ রান। ওই সিরিজেই ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১০৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। পরের বছর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজেও দলে ছিলেন। একটা বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। সেই টেস্টে মাত্র দুটি উইকেট নিয়েছিলেন। কোনও রান করতে পারেননি। ব্যর্থতার জন্য তাঁকে সিরিজের বাকি টেস্টে আর ভাবা হয়নি।হঠাৎ করে কেন আস্তাকুঁড় থেকে তুলে নিয়ে আসা হল জয়ন্ত যাদবকে, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। আইপিএলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পান না। সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতাতেও তেমন সাফল্য নেই। গত বচর রনজি ট্রফি হয়নি। তার আগের বছর রনজিতে হরিয়ানার হয়ে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন। তা সত্ত্বেও দলে ফেরানো হয়েছে জয়ন্ত যাদবকে। জয়ন্ত যাদবের সুযোগ পাওয়াটা যেমন বিষ্ময়ের, তেমনই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সাফল্য পাওয়া হনুমা বিহারীর সুযোগ না পাওয়াটাও অবাক করার বিষয়।

নভেম্বর ১২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Cricket : রাহুল দ্রাবিড়ের সাহায্যকারী বেছে নিল বোর্ড, কারা পেলেন দায়িত্ব?‌

কিছুদিন আগেই ভারতীয় দলের হেড কোচ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে রাহুল দ্রাবিড়কে। এবার বিরাট কোহলিদের ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং কোচও বেছে নিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ব্যাটিং কোচ হিসেবে রেখে দেওয়া হল বিক্রম রাঠোরকে। বোলিং কোচ ভরত অরুণের জায়গায় এলেন বিক্রম রাঠোর এবং ফিল্ডিং কোচ আর শ্রীধরের স্থলাভিষিক্ত হলেন টি দিলীপ। এই তিনজনই রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে কাজ করবেন। চলতি টি২০ বিশ্বকাপের পরপপরই শেষ ভারতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান সপোর্ট স্টাফদের কার্যকালের মেয়াদ। হেড কোচসহ অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফ নিয়োগের জন্য মাসখানেক আগে আবেদনপত্র আহ্বান করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। হেড কোচ পদের জন্য রাহুল দ্রাবিড়কে আগেই বেছে নিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পরামর্শদাতা কমিটি। বৃহস্পতিবার ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং কোচের জন্য ইন্টারভিউয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে বিক্রম রাঠোর, পরশ মামরে এবং টি দিলীপকে বেছে নেওয়া হয়েছে। রবি শাস্ত্রীর সঙ্গেই ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন বিক্রম রাঠোর। তাঁর কাজে যথেষ্ট খুশি ছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা। ক্রিকেটাররাও বিক্রম রাঠোরকে নিয়ে সন্তুষ্ট। তাই তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে কোনও সন্দেহ ছিল না। রাহুল দ্রাবিড় চেয়েছিলেন বোলিং কোচ হিসেবে পরশ মামরেকে। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে তিনি পরশ মামরের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। মামরেও আবেদন করেছিলেন বোলিং কোচ হওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত তাঁকেই বোলিং কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি। ফিল্ডিং কোচ হিসেবে বিরাট কোহলিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন আর শ্রীধর। তাঁর জমানায় ভারতীয় দলের ফিল্ডিংয়ে খুব একটা উন্নতি হয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারাও শ্রীধরের ওপর তেমন খুশি ছিলেন না। টি দিলীপ আগেও রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে কাজ করেছেন। জুলাইয়ে ভারতীয় দলের শ্রীলঙ্কা সফরে তিনি ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব সামলেছিলেন। আর শ্রী ধরের মতো তিনিও হায়দরাবাদের। প্রত্যেকেই জয়পুরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে হাজির হবেন।

নভেম্বর ১১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Cricket : কোহলির পরিবর্তে টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দিতে চলেছেন এই তারকা

গতবছর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর হাত ধরেই সিরিজে জয় এসেছিল। আবার সেই অজিঙ্কা রাহানের হাতেই উঠতে চলেছে ভারতীয় টেস্ট দলের নেতৃত্ব। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে কানপুরে প্রথম টেস্টে রাহানেকে অধিনায়ক করার কথা ভেবে রেখেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তবে স্থায়ীভাবে তাঁর হাতে নেতৃত্ব উঠছে না। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের বিশ্রামের জন্য তাঁকে ক্যাপ্টেন করা হচ্ছে।একটানা ক্রিকেট খেলে শারীরিকভাবে ক্লান্ত বিরাট কোহলি। দীর্ঘদিন জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকে মানসিকভাবেও ক্লান্ত। তাই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজ থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। কানপুরে প্রথম টেস্টেও খেলবেন না। এই ব্যাপারে তিনি নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলে নিয়েছেন। কোহলি আগেই ঘোষণা করেছিলেন, টি২০ বিশ্বকাপের পর তিনি আর এই ফরম্যাটে দলকে নেতৃত্ব দেবেন না। সেইমতো রোহিত শর্মাকে টি২০ ক্রিকেটের জন্য অধিনায়ক করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে রোহিত শর্মাকেও বিশ্রাম দেওয়ার কথা ভাবছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। টি২০ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জন্য বারবার উঠে এসেছে জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকার ক্লান্তির কথা। দীর্ঘদিন জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকে মানসিকভাবে ক্লান্ত ক্রিকেটাররা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও ক্রিকেটারদের ক্লান্তির দিকটা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে চাইছে। তাই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের কথা মাথায় রেখে টি২০ সিরিজ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে মহম্মদ সামি, যশপ্রীত বুমরাদের। কয়েকদিন আগেই টি২০ সিরিজের দল নির্বাচন করা হয়েছে। টি২০ দলে অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে। সামি, বুমরাদের পাশাপাশি শার্দূল ঠাকুর, ঋষভ পন্থদেরও টি২০ সিরিজ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। টেস্ট সিরিজেও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিশ্রাম দেওয়া হবে। কোহলিকে আগেই বিশ্রামের সিদ্ধান্ত হওয়ায় অজিঙ্কা রাহানে প্রথম টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেবেন। রোহিত শর্মাকেও প্রথম টেস্টে বিশ্রাম দেওয়ার কথা ভেবে রেখেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। প্রথমে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড পরিকল্পনা করেছিল টি২০ সিরিজ খেলার পর রোহিত শর্মাকে পুরো টেস্ট সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হবে। কিন্তু পরে পরিকল্পনা বদলেছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে খারাপ ফল হলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট কমে যাবে। তাই রোহিতকে একটা টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হবে। কানপুরে প্রথম টেস্টে না খেললেও ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়েতে দ্বিতীয় টেস্টে আবার রোহিতকে দেখা যাবে।

নভেম্বর ১১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : ‌কোহলি–শাস্ত্রী জুটির পরিসমাপ্তি, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক পরিসংখ্যান

টি২০ ক্রিকেটে ভারতীয় দলের আর্ম ব্যান্ড হাতে আর মাঠে নেতৃত্ব দিতে দেখা যাবে না বিরাট কোহলিকে। বিশ্বকাপে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ক্যাপ্টেন হিসেবে কোহলির ছিল শেষ ম্যাচ। কোচ হিসেবে রবি শাস্ত্রীরও এটাই ছিল শেষ ম্যাচ। শাস্ত্রীকোহলি জুটির সেরা সাফল্য ইংল্যান্ডের মাটিতে ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাটেতে দুদুবার টেস্ট সিরিজে হারিয়েছে ভারত। তবে আসল জায়গায় ব্যর্থ। আইসিসির কোনও প্রতিযোগিতায় দেশকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেনি এই জুটি। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলি ও কোচ রবি শাস্ত্রীর পরিসংখ্যান। ২০১৭ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির হাত থেকে টি২০ ক্রিকেটে দেশের দায়িত্ব তুলে নেন বিরাট কোহলি। তারপর থেকে তিনি দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৫০টি টি২০ ম্যাচে। সোমবার বিশ্বকাপে নামিবিয়ার বিরুদ্ধেই কোহলির ছিল অধিনায়ক হিসেবে ৫০ তম ম্যাচ। ৫০ তম ম্যাচে দলকে জয় এনে দিলেও বিশ্বকাপে ব্যর্থতার তকমা গায়ে সেঁটেই নেতৃত্ব থেকে সরে যেতে হল কোহলিকে। দেশকে ৫০টি টি২০ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৩০টিতে জয় এনে দিয়েছেন কোহলি। হেরেছেন ১৬টিতে। ২টি ম্যাচ টাই হয়েছে। আর ২টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। কোহলির পূর্বসূরী মহেন্দ্র সিং ধোনি দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৭২ ম্যাচে। জিতেছিলেন ৪১টি ম্যাচ। ২৮টি ম্যাচে হারতে হয়েছিল। ১ট ম্যাচ টাই, ২টি ম্যাচে কোনও ফলাফল হয়নি। অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলি ৫০টি টি২০ ম্যাচে রান করেছেন ১৫৭০। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে অধিনায়ক হিসেবে জীবনের শেষ টি২০ ম্যাচে ব্যাট হাতে মাঠে নামেননি কোহলি। টি২০ ক্রিকেটে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী অধিনায়কদের মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন তিনি। তবে অধিনায়ক হিসেবে দ্রুততম ১ হাজার টি২০ রানের মালিক বিরাট কোহলি। মাত্র ৩০টি ইনিংসে তিনি এই মাইলস্টোনে পৌঁছেছিলেন। অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক হাফ সেঞ্চুরির মালিক ছিলেন কোহলি। এই বিশ্বকাপে তাঁকে টপকে গেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম, অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও নিউজিল্যানন্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। পাকিস্তান, বাংলাদেশ বাদে সব টেস্ট খেলিয়ে দেশের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজ জেতারও নজির রয়েছে বিরাট কোহলির। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর জুটি হিসেবে দেখা যাবে না অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও কোচ রবি শাস্ত্রীকে। কোচ হিসেবে শাস্ত্রীর জমানায় ভারত ৪৩টি টেস্ট খেলেছে। জিতেছে ২৫টি এবং হেরেছে ১৩টিতে। একদিনের ক্রিকেটে ৭৬টি ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে ৫১টিতে, হেরেছে ২২টি। টি২০ ক্রিকেটে ৬৪টি ম্যাচে ভারতকে কোচিং করিয়েছেন শাস্ত্রী। জয় এসেছে ৪২টিতে এবং হার ১৮টিতে।

নভেম্বর ০৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : ‌‌পরের বছর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের জন্য কী পরামর্শ দিলেন ভিভিএস লক্ষ্মণ?‌

এবছর টি২০ বিশ্বকাপে ষষ্ঠ বোলারের অভাবে ভারতকে যথেষ্ট ভুগতে হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম দুটি ম্যাচে। পাকিস্তান ম্যাচে তো একটা উইকেটও তুলতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। নিউজিল্যান্ড ম্যাচে মাত্র ২টি উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হয়েছিল। যদি দলে ষষ্ঠ বোলার থাকত, হয়তো তাঁর হাত ধরেই ব্রেক থ্রু আসতে পারত। পরের বছর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে যাতে ষষ্ঠ বোলারের অভাবে ভারতকে ভুগতে না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন ভিভিএস লক্ষ্ণণ। পাশাপাশি ষষ্ঠ বোলারের অভাব কীভাবে মেটানো যায়, সে পরামর্শও দিয়েছেন ভারতীয় দলের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার। স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভিভিএস লক্ষ্মণ বলেছেন, ২০২২ টি২০ বিশ্বকাপে ভারতকে সাফল্য পেতে গেলে এমন কয়েকজন ব্যাটারকে দলে নিতে হবে, যারা বল করতে পারে। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ভারতকে ষষ্ঠ বোলারের অভাবে ভুগতে হয়েছে। হার্দিক পান্ডিয়ার ফিটনেস নিয়ে সমস্যা রয়েছে। ষষ্ঠ কিংবা সপ্তম বোলার হাতে থাকলে অধিনায়কের ওপর চাপ অনেক কমে যায়। দলে এমন ব্যাটার নিতে হবে যে অস্ট্রেলিয়ায় টি২০ বিশ্বকাপে ২ ওভার বল করতে পারবে। অস্ট্রেলিয়ায় পরের বছর টি২০ বিশ্বকাপে এই বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে।সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশে পেসাররা বেশি সাহায্য পাবে। বল বেশি সুইং না করলেও উইকেটে গতি ও বাউন্স থাকবে। তাই ভারতকে এমন কয়েকজন পেসার দলে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লক্ষ্ণণ, যাদের বলে গতি আছে। ভারতীয় দলের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় বল খুব বেশি সুইং করবে কিনা সে ব্যাপারে আমি ততটা নিশ্চিত নই। তাই দলে এমন জোরে বোলার রাখতে হবে, যাদের বলে গতি আছে। যে উইকেট থেকে গতি ও বাউন্স আদায় করে নিতে পারবে। লক্ষ্ণণ মনে করছেন যার বলে বৈচিত্র্য রয়েছে, সেই জোরে বোলার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাফল্য পাবে। পাশাপাশি ঈশান কিষানের মধ্যে ভারতের টি২০ দলের ওপেনার হওয়ার দক্ষতা আছে বলে মনে করছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে ঈশান কিষানকে তিনি ওপেনার হিসেবে দেখতে চান। লক্ষ্মণ বলেন,ঈশান যেরকম খেলে, তাতে পাওয়ার প্লের ফিল্ডিংয়ের সুবিধা নিতে পারবে। ওর মধ্যে দারুণ প্রতিভা রয়েছে। সাহসী শট খেলার ব্যাপারে যথেষ্ট দক্ষ। ভয়ডরহীন ভাবে শট খেলতে পারে। বড় ওপেনার হওয়ার সব গুন ওর মধ্যে রয়েছে। যদিও ভারতীয় দলে এই মুহূর্তে ওপেনার হিসেবে রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল রয়েছে, তবে ঈশানকে টিম ম্যানেজমেন্ট কীভাবে ব্যবহার করবে, যেটা ওদের ব্যাপার।

নভেম্বর ০৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

t20 World Cup : দেশের খেলার চেয়ে আইপিএলকে বেশি প্রাধান্য কোহলিদের?‌ গর্জে উঠলেন প্রাক্তন ক্রিকেট মহাতারকা

টি২০ বিশ্বকাপে ভারত সেমিফাইনালে উঠতে না পারায় ফুঁসছে গোটা দেশ। ক্রিকেটপ্রেমীরা থেকে শুরু করে প্রাক্তন ক্রিকেটার, প্রত্যেকেই হতাশ। ভারতের বিপর্যয় নিয়ে তর্কবিতর্ক চলছে। শুরু হয়েছে সমালোচনা। বিরাট কোহলিদের বিদায়ে গর্জে উঠেছেন প্রাক্তন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক কপিলদেব। তাঁর মতে, দেশের হয়ে খেলার চেয়েও ক্রিকেটাররা আইপিএলকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কপিলদেব বলেছেন, ক্রিকেটাররা যদি দেশের হয়ে খেলার চেয়ে আইপিএলকে বেশি প্রাধান্য দেয়, তখন আমরা কী বলত পারি? ক্রিকেটারদের তাদের দেশের হয়ে খেলার জন্য অবশ্যই গর্বিত হওয়া উচিত। আমি ক্রিকেটারদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে জানি না তাই বেশি কিছু বলতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি প্রথমে দেশের হয়ে খেলাটাই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। তারপর ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়ে খেলা। আমি বলছি না যে ক্রিকেটাররা আইপিএলে খেলবে না। বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার দেশের হয়ে খেলাটাকে বেশি গুরুত্ব দেয় না, আইপিএলে খেলাটাকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে বিষয়টি দেখতে হবে। এখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব আরও ভালভাবে পরিকল্পনা করে দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই টি২০ বিশ্বকাপে আমরা যে ভুল করেছি তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেটাই হবে আমাদের কাছে বড় শিক্ষা। পরের বছরই আবার বসবে টি২০ বিশ্বকাপের আআসর। কপিলদেব মনে করেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও ভারতীয় ক্রিকেট দলের উচিত পরের বিশ্বকাপের জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করা। প্রাক্তন এই বিশ্বজয়ী অধিনায়ক বলেন, এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর সময়। এখন থেকেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা শুরু করা উচিত। এমন নয় যে বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে মানেই ভারতীয় দলের ক্রিকেটও শেষ হয়ে গেছে। বসে না থেকে এখন থেকেই পরিকল্পনা করুক। আইপিএলের পরপরই বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে। ক্রিকেটাররা একেবারেই বিশ্রাম পায়নি। এই বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডেরও সমালোচনা করতে দ্বিধা করেননি কপিলদেব। তিনি বলেন, আমি মনে করি আইপিএল এবং টি২০ বিশ্বকাপের মধ্যে কিছুটা ব্যবধান থাকা উচিত ছিল। যাতে ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পেত। তবে আমাদের দেশের ক্রিকেটারদের প্রচুর এক্সপোজার রয়েছে। ক্রিকেটাররা তার সঠিক প্রয়োগ করতে পারেনি। প্রত্যেক ক্রিকেটারের উচিত এই ব্যর্থতার দায় নেওয়া। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২০১২ সালের পর এই প্রথম আইসিসির কোনও প্রতিযোগিতা থেকে ভারত এত তাড়াতাড়ি বিদায় নিয়েছে।

নভেম্বর ০৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : হঠাৎ কেন অভিমানী রোহিত শর্মা?‌ জানতে পড়ুন

টি২০ বিশ্বকাপের পর সীমিত ওভারের ক্রিকেটের নেতৃত্ব পাকাপাকিভাবে যে তাঁর হাতেই আসছে, বুঝে গেছেন রোহিত শর্মা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে তেমন ইঙ্গিতও পেয়েছেন। দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি মানসিকভাবে তৈরি। এখন শুধু সরকারিভাবে দায়িত্ব পাওয়ার অপেক্ষায়।পরপর দুটি ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ভারতের কাছে। আগের ম্যাচে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিলেও অনিশ্চয়তা দূর হয়নি। ভারতীয় দলের পারফরমেন্স নিয়ে চারিদিকে সমালোচনার ঝড়। সমালোচনা হওয়ায় যথেষ্ট অভিমানী রোহিত। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের পর তিনি বলেন, করোনার জন্য এখন আমাদের জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তার মধ্যেই টানা ক্রিকেট খেলতে হচ্ছে। কঠিন পরিস্থিতিতে পড়াটা স্বাভাবিক। মাঠে নেমে লড়াই করতে গেলে মানসিকভাবে তরতাজা থাকতে হয়। মানসিকভাবে তরতাজা না থাকলে কখনও কখনও সিদ্ধান্ত নিতে ভুল হয়ে যায়। বিশ্বকাপে প্রথম দুটি ম্যাচে আমরা ফোকাস ঠিক রাখতে পারিনি। এর অর্থ এই নয় যে আমরা খারাপ ক্রিকেটার। দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ভাল ক্রিকেট উপহার দিয়ে এসেছি। দুটি ম্যাচে ভুল করেছিলাম। সেই ভুল শুধরে আফগানিস্তানে ঘুরে দাঁড়িয়েছি।রোহিত আরও বলেন, বিরাট কোহলি, লোকেশ রাহুল, ঋষভ পন্থ, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, আমি দীর্ঘদিন ধরে দেশের হয়ে খেলছি। আমাদের কাজ কী, আমরা জানি। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে কে কেমন খেলল, সেটা নিয়ে ভাবতে চাই না। দেশের হয়ে কোন ক্রিকেটার কেমন খেলতে সেটাই দেখতে হবে। আফগানিস্তান ম্যাচ জিতলেও ফাইনালের কথা এখন মাথাতেই রাখতে চাইছেন না রোহিত। তিনি বলেন, ফাইনালের কথা ভাবছিই না। আফগানিস্তাননিউজিল্যান্ড ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে আমাদের ভাগ্য। ওই ম্যাচটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।আফগানিস্তানে বিরুদ্ধে ম্যাচের পরই জানতে পেরেছিলেন রাহুল দ্রাবিড় হেড কোচের দায়িত্ব নিচ্ছেন। নতুন কোচকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রোহিত বলেন, দ্রাবিড় ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তী। এবার অন্য ভুমিকায় ফিরছেন। স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা দ্রাবিড়ের কোচিংয়ে খেলার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।

নভেম্বর ০৪, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • ...
  • 19
  • 20
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

গল টেস্টে ভয়াবহ মুহূর্ত! রাহুলের শটে হেলমেটে বল, হাসপাতালে শ্রীলঙ্কার ওপেনার

ভারত-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই গলে তৈরি হল উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কেএল রাহুলের জোরালো সুইপ শটের বল সরাসরি গিয়ে আঘাত করল শ্রীলঙ্কার ওপেনার নিশান মধুশকার হেলমেটে। শর্ট লেগে ফিল্ডিং করার সময় এই আঘাত পান তিনি। ঘটনার পর দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও। কনকাশন পরীক্ষা করার পর মধুশকাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়।ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দশম ওভারে। প্রভাত জয়াসূর্যের করা ওভারের পঞ্চম বলটি রাহুল সুইপ করেন। বলটি ব্যাটের মাঝখান থেকে প্রচণ্ড গতিতে শর্ট লেগ অঞ্চলের দিকে ছুটে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মধুশকা বিপদ বুঝে দ্রুত মাথা নিচু করার চেষ্টা করলেও বলের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই বলটি তাঁর হেলমেটের মাঝামাঝি অংশে সজোরে আঘাত করে।আঘাতের পর বলটি ফাইন লেগের দিকে চলে যায়। ফলে রান নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভারতের ব্যাটাররা রান সম্পূর্ণ করেন। রাহুল অবশ্য প্রথমে রান নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা যশস্বী জয়সওয়াল ইতিমধ্যেই দৌড় শুরু করে দেওয়ায় রানটি সম্পূর্ণ করতে হয়। রান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধুশকার দিকে ছুটে যান রাহুল। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।এরপর দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও এবং চিকিৎসাকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে মধুশকার কনকাশন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর তাঁকে আর মাঠে রাখা হয়নি। ফিজিওর সঙ্গে মাঠের বাইরে চলে যান তিনি। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর চোটের প্রকৃতি বা গুরুতরতা এবং তিনি পরবর্তীতে এই টেস্টে ব্যাট করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।মধুশকার চোটের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শ্রীলঙ্কা শিবিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাথায় সরাসরি বল লাগার ঘটনায় ক্রিকেটে কনকাশন প্রোটোকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।অন্যদিকে, প্রথম দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট হাতে দারুণ দাপট দেখিয়েছে ভারত। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরুতেই যশস্বী জয়সওয়াল ও কেএল রাহুলের ব্যাটে ভালো সূচনা পায় দল। প্রথম উইকেটে দুজনে ৬৬ বলে ৪৭ রান যোগ করেন।তবে ১১তম ওভারের শেষ বলে ছন্দপতন ঘটে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন জয়সওয়াল। ৩৭ বলে ৩২ রানের ইনিংসে তিনি মারেন পাঁচটি চার।জয়সওয়াল ফিরে যাওয়ার পর ভারতের ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন রাহুল ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। দুজনেই ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। পাড়িক্কল আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করার পাশাপাশি রাহুলও নিজের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। ফলে প্রথম সেশনেই ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।লাঞ্চের সময় ২৭ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১০১ রান। একদিকে ভারতীয় ব্যাটারদের দাপট, অন্যদিকে মধুশকার চোটপ্রথম দিনের প্রথম সেশন তাই দুই দলের জন্য দুই ভিন্ন ছবি তুলে ধরল। এখন সকলের নজর নিশান মধুশকার শারীরিক অবস্থার পরবর্তী আপডেটের দিকে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের ঐতিহ্যে দেশপ্রেমের আবহ, দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের আবহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকারই হোক স্বাধীনতা দিবসের মূল বার্তাএমনই আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, বিবিধের মাঝে মিলন মহানএই আদর্শকে সামনে রেখে দেশভাগ ও পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর উদয়পল্লীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের বাণী, দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পাঠের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডলের পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় অঙ্কন, প্রবন্ধরচনা, কুইজ, নৃত্য ও সঙ্গীত-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। শিক্ষিকা সুনীতা সাহার ব্যবস্থাপনা এবং দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় প্রতিযোগিতাগুলিতে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা। কুইজে প্রথম স্থানাধিকারী দলের সদস্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ভট্টাচার্য জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকায় বিদ্যালয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।এদিন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা স্পন্দন-এর বিশেষ রঙিন সংখ্যা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সায়ন্তিকা কর্মকারের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও সহকারীরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। সবুজ ভলেন্টিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ইকো ক্লাবের উদ্যোগে জাম গাছ রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।শেষপর্বে শিক্ষাকর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের দায়িত্বে এবং তরুণ দাসের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে লুচি, মিষ্টি-সহ নানা খাবার বিতরণ করা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা শুধু একটি দিন নয়, বারবার ফিরে আসে—জয়ের পতাকায়, গৌরবের মুহূর্তে

স্বাধীনতাশব্দটি উচ্চারণ করলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭-এর সেই ঐতিহাসিক সকাল। দীর্ঘ পরাধীনতার অন্ধকার পেরিয়ে ভারতবর্ষ সেদিন পেয়েছিল নিজের আকাশ, নিজের পতাকা, নিজের পরিচয়। কিন্তু স্বাধীনতা কি কেবল একটি তারিখ? কেবল একটি দিনের উদ্যাপন? কেবল লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভেসে আসা ভাষণ, জাতীয় পতাকার উত্তোলন আর জাতীয় সঙ্গীতের গর্বিত সুর?না।স্বাধীনতা আসলে ফিরে ফিরে আসে।কখনও তা আসে একটি ক্রিকেট মাঠে, কখনও অলিম্পিকের ট্র্যাকের ওপর, কখনও হকির সবুজ ঘাসে, কখনও কোনও বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে, কোনও সুরকারের সুরে। কখনও আবার আসে এমন এক ভারতীয়ের চোখের জলে, যে নিজের দেশের পতাকাকে বিশ্বের মঞ্চে উঠতে দেখে বুকের ভিতর অদৃশ্য এক ঢেউ অনুভব করে।১৯৮৩ সাল। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ভারতীয় ক্রিকেটের সামনে তখন দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কপিল দেবের নেতৃত্বে একদল তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলা সেই মুহূর্তটি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের জয় ছিল না। তা ছিল আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ। সেদিন যেন ভারত বুঝেছিলআমরাও পারি। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরাও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প লিখতে পারি। ১৯৪৭-এ যে জাতি রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছিল, ১৯৮৩-তে তার আত্মবিশ্বাস যেন আরও একবার স্বাধীনতার স্বাদ পেল।তারও বহু আগে, ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের হকিতে ভারত প্রথম সোনা জিতেছিল। ধ্যানচাঁদের জাদুকাঠিতে ভারতীয় হকি তখন বিশ্বকে দেখিয়েছিল এক অন্যরকম শিল্প। পরপর বহু অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতীয় হকি দলের সাফল্য দেশের ক্রীড়া-পরিচয়ের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। তেরঙ্গা যখন বিদেশের মাটিতে উঠত, তখন মনে হতোএই তো স্বাধীনতা! বন্দুকের গর্জন নয়, স্টিক আর বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণেও একটি জাতি তার অস্তিত্বের ঘোষণা করতে পারে।তারপর আসে অ্যাথলেটিক্সের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতের অলিম্পিক সাফল্যের ইতিহাসে নীরজ চোপড়ার সোনার পদক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। টোকিও অলিম্পিকের সেই রাতএকজন ভারতীয় যখন জ্যাভলিন ছুড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ঘরে ঘরে যেন আবার স্বাধীনতার পতাকা উড়ল। মাঠে একজন, কিন্তু গর্বে ছিল ১৪০ কোটিরও বেশি হৃদয়।ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের আর এক অমর নাম পি. টি. উষা। আশির দশকে এশিয়ান গেমসের ট্র্যাকে তাঁর দৌড় ভারতীয় মেয়েদের স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছিল। ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার-সহ একাধিক পদক জিতে তিনি প্রমাণ করেছিলেনভারতের মেয়েরাও বিশ্বের দ্রুততম ট্র্যাকের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। তাঁর পায়ের শব্দ শুধু একটি দৌড়ের শব্দ ছিল না; তা ছিল সামাজিক বাধা, সংশয় আর প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে এক তরুণীর স্বাধীনতার ঘোষণা।এরপর এল ক্রিকেটের আর একটি নতুন অধ্যায়। ২০০৭ এ প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দল যখন ট্রফি হাতে তুলল, তখন ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার স্বাদ যেন আরও একবার নতুন করে ধরা দিল। আর ২০১১ সালে ঘরের মাঠে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ধোনির সেই ছক্কাআজও ভারতীয় ক্রীড়া-স্মৃতির অন্যতম আবেগঘন ছবি। একজন অধিনায়ক ট্রফি তুলেছিলেন, কিন্তু আসলে যেন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের স্বপ্নকে তুলে ধরেছিল।স্বাধীনতার এই গল্প শুধু খেলাধুলায় থেমে নেই।ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বজয়ের কথাও তো একইভাবে বলতে হয়। সত্যজিৎ রায়ের Pather Panchali কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছিল। ১৯৯২ এ বিশ্ব চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান ও অনন্য সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সত্যজিৎ রায়কে সম্মানসূচক অনারারি অস্কার প্রদান করে অ্যাকাডেমি। এই পুরস্কার কোনো একটি নির্দিষ্ট ছবির জন্য নয়, বরং তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্র জীবন, শিল্পসত্তা এবং বিশ্বসিনেমায় তাঁর গভীর ও স্থায়ী প্রভাবের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। অসুস্থ সত্যজিতের বিছানায় শুয়ে অস্কার হাতে নিয়ে যে বক্তব্য দেন তা আজও আপামোর চলচিত্রপ্রেমীর কানে বাজে। পরে ২০০৯ সালে এ. আর. রহমান Slumdog Millionaire চলচ্চিত্রের জন্য দুটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সুরের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেন। অস্কারের মঞ্চে তাঁর সুরের প্রতিধ্বনি যখন বিশ্ব শুনেছিল, তখন সেটিও ছিল এক ধরনের স্বাধীনতানিজের মাটির সুরকে পৃথিবীর কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার স্বাধীনতা।বিজ্ঞানেও এমন অসংখ্য মুহূর্ত এসেছে। মহাকাশে ভারতের সাফল্য, চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফল অবতরণ, মঙ্গলযানের অসাধারণ অভিযানপ্রতিটি সাফল্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে থাকে সেই একই অনুভূতি। একসময় যে দেশ নিজের মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতির চিন্তায় সংগ্রাম করছিল, সেই দেশই একদিন মহাকাশের অজানা প্রান্তে নিজের পতাকা পৌঁছে দেয়। এই অগ্রযাত্রাও স্বাধীনতারই আর এক ভাষা।কারণ স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা নয়। স্বাধীনতা মানে নিজের সম্ভাবনাকে চিনতে শেখা।স্বাধীনতা মানেআমি পারব বলার সাহস।স্বাধীনতা মানেব্যর্থতার পরেও আবার উঠে দাঁড়ানো।স্বাধীনতা মানেবিশ্বের চোখে চোখ রেখে নিজের পরিচয় ঘোষণা করা।তাই ১৫ই আগস্ট এলেই আমরা শুধু ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করব কেন? আমরা মনে করব সেই সব দিনকে, যেদিন ভারত নতুন করে জিতেছিল। কোনও খেলোয়াড়ের হাতে যখন পদক উঠেছে, কোনও বিজ্ঞানীর অভিযানে যখন ভারতীয় পতাকা মহাকাশ ছুঁয়েছে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে যখন ভারত বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, কোনও তরুণ-তরুণী যখন অসম্ভবকে সম্ভব করেছেসেই প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীনতা নতুন করে জন্ম নিয়েছে।স্বাধীনতার বয়স আজ ৭৯ বছর। কিন্তু স্বাধীনতা বৃদ্ধ হয়নি। বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে তার বয়স কমে আসে। কোনও শিশুর হাতে ক্রিকেট ব্যাটে, কোনও কিশোরীর দৌড়ের জুতোয়, কোনও তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর তুলিতে, কোনও সুরকারের যন্ত্রেস্বাধীনতা প্রতিদিন নতুন হয়ে ওঠে।১৫ই আগস্ট তাই শুধু অতীতের স্মৃতির দিন নয়। এটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিনও।যে তেরঙ্গা ১৯৪৭ সালে পরাধীনতার আকাশে স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে উঠেছিল, সেই তেরঙ্গাই আজও ওঠেলর্ডসের মাঠে, অলিম্পিকের মঞ্চে, বিশ্বকাপের আসরে, অস্কারের মঞ্চে, মহাকাশযানের অভিযানে, কিংবা কোনও অচেনা ভারতীয়ের ছোট্ট সাফল্যের মুহূর্তে।সেখানেই স্বাধীনতার আসল সৌন্দর্য।স্বাধীনতা একবার অর্জন করা কোনও স্মারক নয়স্বাধীনতা এমন এক অনুভূতি, যা প্রতিটি প্রজন্ম নিজের সাফল্য দিয়ে নতুন করে অর্জন করে।তাই ১৫ই আগস্ট শুধু একটি দিন নয়।স্বাধীনতা বারবার ফিরে আসে।জয়ের পতাকায়, অশ্রুসিক্ত চোখে, করতালির শব্দে, স্বপ্নপূরণের হাসিতেআর কোটি কোটি ভারতীয়ের বুকের ভিতর নিঃশব্দে উচ্চারিত একটি শব্দেভারত।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ক্ষুদিরামের ফাঁসির মঞ্চ থেকে মাতঙ্গিনীর রক্তাক্ত পতাকা, বাঙালির হৃদয়ে অমর এই পাঁচ স্বাধীনতা সংগ্রামী

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বাংলার অবদান অনস্বীকার্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলার মাটি যেমন জন্ম দিয়েছে ক্ষুদিরাম বসুর মতো কিশোর বিপ্লবীকে, তেমনই তাম্রলিপ্তের মাটিতে উঠে এসেছে মাতঙ্গিনী হাজরা, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো সংগ্রামী নেতৃত্ব। তাঁদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সাংগঠনিক দক্ষতা স্বাধীনতার লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসির মঞ্চে উঠে ইতিহাসে অমর হয়ে যান ক্ষুদিরাম বসু। ১৯০৮ সালে মুজফ্ফরপুরে ব্রিটিশ বিচারক ডগলাস কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে প্রফুল্ল চাকীর সঙ্গে বোমা হামলার ঘটনায় তিনি গ্রেফতার হন। ১১ আগস্ট ১৯০৮ তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মৃত্যুর মুখেও তাঁর নির্ভীকতা ও হাসিমুখ বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে।অন্যদিকে, ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে পূর্ব মেদিনীপুরের মাতঙ্গিনী হাজরা হয়ে ওঠেন সাহসের প্রতীক। গান্ধীবুড়ি নামে পরিচিত এই বৃদ্ধা ২৯ সেপ্টেম্বর তমলুক থানার দিকে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়েই তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর আত্মবলিদান বাংলার নারীশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুশীল ধারা-র। ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেন। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের যুদ্ধ ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে বিদ্যুৎ বাহিনী, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।সতীশচন্দ্র সামন্ত ছিলেন তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রথম সর্বাধিনায়ক। ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর গঠিত এই সমান্তরাল সরকার তমলুক ও কাঁথি মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ত্রাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী সংগঠন, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সরকারের কার্যক্রম ছিল উল্লেখযোগ্য।এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের নেতৃত্বে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্বাধীনতার পরও তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেমে থাকেনি। পরবর্তীকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান থেকে মাতঙ্গিনীর পতাকা হাতে মৃত্যুবরণ, আর তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের সংগঠিত প্রতিরোধ, এই সমস্ত অধ্যায় প্রমাণ করে, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু কয়েকজন বিপ্লবীর কাহিনি নয়। এটি ছিল অসংখ্য মানুষের সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানের মাটিতে জন্ম বীর বিপ্লবীর, রাসবিহারী বসুর কর্মকাণ্ডে কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ শাসন

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাসবিহারী বসু এক অনন্য নাম। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সংগঠক এই বিপ্লবীর জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-২ ব্লকের সুবলদহ গ্রামে। ১৮৮৬ সালের ২৫ মে বিনোদবিহারী বসু ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম তাঁর।সুবলদহেই কেটেছে রাসবিহারী বসুর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়। গ্রামের পাঠশালায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার শুরু। ঠাকুরদা কালীচরণ বসুর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনার পাশাপাশি লাঠিখেলা, সাঁতার ও নৌকা চালনার মতো শারীরিক কসরতেও দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে দানা বাঁধে দেশপ্রেম ও ব্রিটিশবিরোধী চেতনা। পরবর্তী সময়ে চন্দননগরে পড়াশোনা করার সময় বিপ্লবী চিন্তাধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয়।কর্মজীবনে দেরাদুনের ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্কের কাজ করলেও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা। বাংলার পাশাপাশি উত্তর ভারত ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি। ১৯১২ সালে দিল্লিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের উপর বোমা হামলার ষড়যন্ত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এরপর ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি জাপানে পালিয়ে যান।জাপানে গিয়েও থেমে থাকেননি রাসবিহারী। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগঠিত করতে তিনি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগ গড়ে তোলেন। ১৯৪২ সালে ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে সেই সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি টোকিওতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সুবলদহের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবীর দেশমুক্তির স্বপ্ন ও সংগ্রাম আজও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
শিক্ষা

সাহিত্য, বিজ্ঞানচিন্তা ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা ‘INSPIRE 2026’

সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে বর্ধমান শহরে সূচনা হল বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক প্রদর্শনী INSPIRE - 2026। নতুনকে জানার কৌতূহল, অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্নসব মিলিয়ে প্রথম দিনেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠল এক টুকরো জীবন্ত বিজ্ঞানভুবন।বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে এবং Oriental Association for Education and Research (OAER)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ১৪ আগস্ট ২০২৬ ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ ই আগস্ট পর্যন্ত।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও OAER এবং বর্ধমান মডেল স্কুলের পরিচালক ও আধিকারিকবৃন্দ। তবে অনুষ্ঠানের প্রকৃত প্রাণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের খুদে ও তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কল্পনা, অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ছড়িয়ে ছিল প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রান্তে। কোথাও বিজ্ঞানের জটিল সূত্র পেয়েছে সহজবোধ্য মডেলের রূপ, কোথাও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলেমিশে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ছবি। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাট্যচর্চার নানা আয়োজন প্রদর্শনীকে দিয়েছে আরও বহুমাত্রিক রূপ।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র INSPIRE - 2026 -এর উদ্দেশ্য এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তিনদিনের এই প্রদর্শনীর নামকরণই যেন তার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করেINSPIRE - 2026। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যায়, আগামী প্রজন্মের প্রতিভা কতটা বিস্ময়কর। শিক্ষকদের সহযোগিতা থাকলেও ভাবনার মূল উৎস যে শিক্ষার্থীরাই, তাঁদের তৈরি মডেল, তাঁদের ব্যাখ্যা এবং দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তার প্রমাণ।শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তাঁর উপলব্ধিআজকের প্রজন্মের কাছ থেকে শেখার মতো এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাঁর কথায়, একসময় ছিল আমাদের প্রজন্ম, তারপর এল কম্পিউটারের যুগ, আর এখন আমরা প্রবেশ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নতুন প্রজন্মকে শেখানো নয়, তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে এই নতুন প্রজন্মই।সাংবাদিকদের রিয়েল জেন জি প্রসঙ্গেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যৎতারা সতেজ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময়। বাংলা তথা ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যেই। তাই তাদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করাই প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের কথা শোনা এবং তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, কী চায়তা জানা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তাঁর পরবর্তী উদ্যোগআড্ডা উইথ জেন জি।মন্ত্রী বর্ধমান মডেল স্কুলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং INSPIRE - 2026 -এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল-এর বক্তব্যেও উঠে আসে সময়ের সঙ্গে পথ চলার অপরিহার্যতার কথা। তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি, সময়ের সঙ্গে তাল না মেলাতে পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের আধুনিকতম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ধমান মডেল স্কুল কখনও পিছিয়ে থাকেনি, ভবিষ্যতেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমী সকলকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার উন্মেষ প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান তিনি।OAER-এর অন্যতম সদস্য সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী সিং ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট আয়োজিত INSPIRE-এ অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া এই আয়োজন কখনও সার্থক হয়ে উঠত না।তবে INSPIRE 2026 কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং এটি যেন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার এক বর্ণময় ক্যানভাস। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাট্য ও আবৃত্তির আয়োজনও রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।নাট্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য জানান, এবারের পরিবেশনায় থাকছে প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক নরক গুলজার। ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বাস্তবতার অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সেই নাটক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসও INSPIRE - 2026 -এর সাংস্কৃতিক পরিসরকে করেছে আরও অর্থবহ।বর্ধমান মডেল স্কুলের নৃত্য বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা প্রখ্যাত ওডিশি নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জানান, এবারের তাঁদের থিম The Rhythm of Togetherness এটি Dance ও Sociology বিভাগের এক অনন্য যৌথ উপস্থাপনা, যেখানে নৃত্য ও সমাজবিজ্ঞানের নিজস্ব ভাবনাগুলি সুন্দরভাবে একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতি, খাদ্য, পোশাক ,সংস্কৃতি ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন হলেও আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়আমরা ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব।বিভিন্ন মডেল ও চার্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।নৃত্যের ছন্দ এবং সমাজবিজ্ঞানের ভাবনাদুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে The Rhythm of Togetherness আমাদের মনে করিয়ে দেয় বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়, ঐক্য আমাদের শক্তি।সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই Inspiring Thoughts, Creating Futureএই মূলমন্ত্র যেন বাস্তব রূপ পেল INSPIRE - 2026-এর প্রাঙ্গণে। এখানে বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়, প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আর সৃজনশীলতা কেবল কল্পনার জগতে বন্দি নয়। বরং তিনটির সম্মিলিত শক্তিতে শিক্ষার্থীরা আঁকছে আগামী দিনের ছবি।নতুন ভাবনার অঙ্কুর, উদ্ভাবনের সাহস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্নকে সামনে রেখে বর্ধমান মডেল স্কুলের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বার্ষিক প্রদর্শনী নয়এ যেন আগামী দিনের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের এক উজ্জ্বল মঞ্চ।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
কলকাতা

নির্মলকে ঘিরে থানা চত্বরে তুমুল উত্তেজনা, ডিম-জুতোর মালা! অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দিতে কী উঠে এল?

ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই থানার বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্মলকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ থানার সামনে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে এবং গান বাজিয়ে নাচতেও দেখা যায়।বারাকপুর মহকুমা আদালতে নির্মল ঘোষকে পেশ করার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিল পুলিশ। সেই কারণে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে থানা থেকে বের করা হয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। থানার বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক জন নির্মলকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। তাঁর দিকে জুতোর মালাও ছোড়া হয়। এমনকি তাঁকে চড় এবং লাথি মারার অভিযোগও উঠেছে।অন্যদিকে, শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ওই রাতের ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখছেন।গত ৯ অগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর পর শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের পরই অভয়ার বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগ দায়েরের মাত্র দুদিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হন নির্মল ঘোষ। পুলিশ সূত্রে খবর, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে মোবাইলের টাওয়ারের অবস্থান খতিয়ে দেখে তাঁর সন্ধান পায় রাজ্য পুলিশ। সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে ওই হোটেলে পৌঁছে নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়।এরপর তাঁকে ওড়িশার আদালতে পেশ করা হয়। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে নির্মল ঘোষকে খড়দহে নিয়ে আসা হয়। শ্মশানঘাটের ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ। শুক্রবার নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভয়ার মা। সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে নির্মল ঘোষের গ্রেফতারের পর অভয়ার বাবা ও মায়ের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। শ্মশানঘাটে সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী ছিল, তদন্তের পরেই তা স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
দেশ

বেরনোর সুযোগও পেলেন না! চামোলির সুড়ঙ্গে আচমকা জলস্রোত, মৃত্যু ৭ শ্রমিকের, আটকে আরও ২

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আচমকা তীব্র জলস্রোত ঢুকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও দুই শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে জোরদার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ চামোলির পিপলকোটির মায়াপুরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শিফট বদলের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবল জলস্রোত ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে জল ও ধ্বংসাবশেষে ভরে যায় সুড়ঙ্গের একটি অংশ।ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ২২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রাতেই বেশ কয়েক জন শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত হয়েছে।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সেনার উদ্ধারকারী দল। সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল বের করতে পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।আহত শ্রমিকদের স্থানীয় গোপেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা গুরুতর, তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।উদ্ধারকারী দল আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভিতরে তল্লাশি চালাচ্ছে। জলস্তর কমিয়ে আটকে থাকা দুই শ্রমিককে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসাই এখন প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই তাঁদের পরিবারের উৎকণ্ঠা বাড়ছে।ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা প্রত্যেক শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনার জন্য সমস্ত রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং ঠিক কী ভাবে এত বিপুল জল সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal