• ১ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতি ১৮ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

IC

রাশিফল

ব্যবসায় লাভ, টাকা ফেরত মিলতে পারে, সোমবারের রাশিফল

১০ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার, আপনার রাশিচক্র অনুযায়ী দিনটি কেমন কাটবে তা জানতে নিচে প্রতিটি রাশির জন্য সংক্ষিপ্ত রাশিফল দেওয়া হলো:🐏 মেষ (Aries): নতুন কাজের যোগ। অর্থ লাভ। 🐂 বৃষ (Taurus): পরিবারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ধৈর্য দরকার।👥 মিথুন (Gemini): ভ্রমণ বা নতুন যোগাযোগ।🦀 কর্কট (Cancer): খরচ বাড়বে, স্বাস্থ্য সতর্ক।🦁 সিংহ (Leo): সম্মান ও প্রশংসা।🌾 কন্যা (Virgo): অফিসের চাপ, ফল ইতিবাচক। ⚖️ তুলা (Libra): বন্ধুর সহায়তায় কাজ এগোবে।🦂 বৃশ্চিক (Scorpio): ব্যবসায় লাভ, টাকা ফেরত মিলতে পারে।🏹 ধনু (Sagittarius): পারিবারিক খুশি। 🐐 মকর (Capricorn): নতুন দায়িত্ব।🌊 কুম্ভ (Aquarius): প্রেমে শুভ সময়।🐟 মীন (Pisces): কাগজপত্রে সতর্কতা দরকার।

নভেম্বর ১২, ২০২৫
বিদেশ

দিল্লির কায়দায় ইসলামাবাদের আদলতের সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ১২ জনের

দিল্লির ভয়াবহ বিস্ফোরণের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই একই কায়দায় বিস্ফোরণ এবার ইসলামাবাদে। মঙ্গলবার দুপুরে পাকিস্তানের রাজধানীর একটি আদালতের বাইরে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১২ জনের। আহতের সংখ্যা বহু। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, এটি আত্মঘাতী হামলাও হতে পারে।মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ ইসলামাবাদের আদালত চত্বরের পার্কিং এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে আচমকা বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। ভয়াবহ আওয়াজে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ ছয় কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা যায়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি। ঘটনার সময় আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন বহু আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ।বিস্ফোরণের পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ, দমকল এবং উদ্ধারকারী দল। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি এবং করাচি-সহ পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলিতে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। গোটা এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।প্রাথমিক অনুমান, গাড়ির মধ্যে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে নাশকতার দিকটিও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, এর মধ্যে মানবসৃষ্ট উপাদানও থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিম কাজ শুরু করেছে।উল্লেখযোগ্যভাবে, এর ঠিক একদিন আগে সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল অন্তত ১৩ জনের। তদন্তে উঠে এসেছে, বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়েছিল গাড়ির ভিতর থেকে। একই ধাঁচে মঙ্গলবার ইসলামাবাদেও বিস্ফোরণ হওয়ায় জঙ্গি নেটওয়ার্ক জুড়ে আশঙ্কা ছড়িয়েছে।দিল্লি ও ইসলামাবাদে টানা দুই দিনে ঘটে যাওয়া এই দুই বিস্ফোরণ এখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা মহলও ঘটনাটির দিকে নজর রাখছে বলে সূত্রের খবর।

নভেম্বর ১১, ২০২৫
বিদেশ

ভরসন্ধ্যায় কেঁপে উঠল দিল্লি! জোড়া গাড়িতে বিস্ফোরণ, মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে

ভরসন্ধ্যায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দিল্লি। রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা দুটি গাড়িতে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি গাড়ি, অটো, রিক্সা ও বাইকে। মিনিটের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখায় ভস্মীভূত হয়ে যায় গোটা এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশপাশের দোকান, গাড়ি এমনকি ঘরবাড়িও কেঁপে ওঠে।শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরে এলাকা জুড়ে দেহাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার সময় ঘটনাস্থলে প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল বলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছেন দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। স্পেশাল সেল, এনআইএ ও এনএসজি-র টিম তদন্তে নেমেছে। স্নিফার ডগ নিয়ে তল্লাশি চলছে এলাকায়। বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় কয়েকজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর ভারত চালায় অপারেশন সিঁদুর। তার মাত্র কয়েক মাস পর রাজধানীতে ফের বিস্ফোরণ নিরাপত্তা মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্ন বড় শহরে ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট।

নভেম্বর ১০, ২০২৫
রাজ্য

৩০ বছর ধরে দেশে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় আতঙ্কিত বৃদ্ধের মৃত্যু— নদিয়া তহেরপুরে চুপচাপ পরিবার

নদিয়া জেলার তহেরপুর গ্রামে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ষাটের কোঠায় পড়া প্রবীণ শ্যামলকুমার সাহার। ৩০ বছরেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে একান্তভাবে চলে এসেছিলেন শ্যামলকুমার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তহেরপুরে বসবাস করছিলেন, ভোটারের আধার কার্ডও ছিল। কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অনুপস্থিত ছিল।পরিবারের অভিযোগ, তখন থেকেই ব্যক্তিগতভাবে হয়রানির ভীতি ও নাগরিকত্ব-ভিত্তিমূলক উদ্বেগে মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন তিনি। বাড়িতে এসে তাদের এনুমারেশন ফর্ম হাতে তুলে দিয়েছিলেন স্থানীয় ব্লকএলঅফিসার (বিএলও)। সেই দিন থেকেই শ্যামলকুমার খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেন। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, ঠিক মতো খাওয়ার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেন তিনি।শেষ সোমবার সকালে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রাণ হারান। মৃতের স্ত্রী বলেন, আমরা তহেরপুরে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আছি। ওর ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সব ছিল। তারপর ওই এনুমারেশন ফর্ম আনার পর থেকেই ওর মাথায় চিন্তার দানা বাঁধতে থাকে। আমি কিছু বললে বলত অত আমার কানের সামনে বকবক করো না তো। আসলে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না ওর। তাই ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করছিল।পড়শি এক যুবক জানান, আসলে সরকার বা Citizenship Amendment Act (CAA)-কথায় নাগরিকত্ব পাবে বলেছে না কোনো অধিকারিক; একটি রাজনৈতিক দল বলেছিল। তাহলে আর সেই কথায় কীভাবে ভরসা রাখবে? বলেই বৃদ্ধের পরিবার দাপিয়ে চলছিল ভয় আর সংশয়ের মধ্যে।পরিবারের দাবি, আজও কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিক অথবা প্রশাসনের কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। কেউ আদালতে বা সরকারী স্তরে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। পরিবারের চোখে আজ 누র আবস্থান, কান্নায় ভেঙে পড়েছে তারা।নদিয়ার তহেরপুর গ্রামে এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছেনাগরিকত্ব-বিহীন পরিবেশ, ভোটার তালিকা-হরচর, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এই গল্পে উঠে এসেছে। এই দুর্ঘটনায় সরকারি-নির্বাহী ব্যবস্থার দুচোখ বন্ধ থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

নভেম্বর ১০, ২০২৫
রাজ্য

ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয়ে মৃত্যু? ধনেখালিতে মর্মান্তিক ঘটনা ঘিরে তোলপাড় রাজনীতি

ফের এসআইআর আতঙ্কে কাঁপল হুগলি। ধনেখালির সোমসপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কানা নদী এলাকায় নিজের শিশুকন্যাকে বিষ খাইয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক ২৭ বছর বয়সি গৃহবধূ। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় আট বছর আগে হরিপালের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় ওই তরুণীর। কিন্তু পারিবারিক বিবাদের কারণে গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে তিনি বাপের বাড়িতেই থাকছিলেন। সেখানেই শুক্রবার সকালে ঘটে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা। প্রথমে তাঁদের ধনেখালি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মা-মেয়েকে পাঠানো হয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।পরিবারের দাবি, কয়েকদিন আগে তাঁদের বাড়ির সকলেই এসআইআর ফর্ম পেয়েছিলেন, কিন্তু ওই গৃহবধূ পাননি। সেই থেকেই তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন, বারবার বলছিলেন আমার ফর্ম কেন আসেনি? পরিবারের সদস্যরা বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলেও উদ্বেগ কাটেনি তাঁর। শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্কও ছিল একেবারে ছিন্ন। ফলে আরও একাকী হয়ে পড়েছিলেন তিনি।পরিবারের এক সদস্য বলেন, ও খুব চিন্তায় ছিল। ভয় করছিল, ফর্ম না পেলে যদি নাম বাদ যায়, যদি কোনও সমস্যা হয়! সকালে সেই ভয়ই যেন পেয়ে বসে তাঁকে। নিজের শিশুকন্যাকে কীটনাশক খাইয়ে নিজেও তা পান করেন।ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য। ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি নেতারা যে ভাষায় হুমকি দিচ্ছেন ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে তাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হচ্ছেন। ডানকুনিতে যেমন ঘটনা ঘটেছিল, এবার তা ধনেখালিতে। মেয়েটি ফর্ম না পেয়ে ভয় পেয়ে গিয়েছিল। এসব রাজনীতির ভয়াবহ পরিণতি।অন্যদিকে, গৃহবধূর ভাইয়ের দাবি, ও ফর্ম পায়নি বলেই ভয় পেয়েছিল। শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না। হয়তো ভেবেছিল আমি ফর্ম পাব না, তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি এখনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, তৃণমূলের দাবি বিজেপির ভয় দেখানো রাজনীতি-র জেরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।ধনেখালির এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক আতঙ্কের জেরে আর কত প্রাণ যাবে? ভোটের আগে কি আরও বাড়বে এই মানসিক চাপ?

নভেম্বর ০৯, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

ইডেনে সোনার মেয়েকে বঙ্গভূষণ! রিচা ঘোষ পেলেন সোনার ব্যাট, ৩৪ লক্ষ টাকা ও ডিএসপি পদ

ইডেনের আকাশে আজ শুধু ক্রিকেট নয়, ছিল গর্ব, ভালোবাসা আর উচ্ছ্বাসের আবহ। বিশ্বজয়ী রিচা ঘোষকে সংবর্ধনা জানাতে এদিন রীতিমতো চাঁদের হাট বসেছিল কলকাতার ক্রিকেটের নন্দনকাননে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থেকে বঙ্গকন্যার হাতে তুললেন সোনার ব্যাট, বল, ও রাজ্যের অন্যতম সেরা নাগরিক সম্মান বঙ্গভূষণ। একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিএসপি পদে নিয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।ইডেনের গ্যালারি এদিন পরিণত হয় উৎসবের মঞ্চে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি, সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাক্তন তারকা ঝুলন গোস্বামী সহ একঝাঁক ক্রিকেট মহারথী। মাঠ জুড়ে করতালি, শঙ্খধ্বনি আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত গোটা ইডেন।সংবর্ধনা মঞ্চে রিচাকে প্রথমে ফুল, মিষ্টি ও উত্তরীয় তুলে দেওয়া হয়। তারপর সিএবির পক্ষ থেকে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় সোনার ব্যাট ও বল, যা প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। এরপরই আসে সেই গোল্ডেন মোমেন্ট মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকেই রিচা পেলেন রাজ্যের অন্যতম সেরা সম্মান বঙ্গভূষণ। সঙ্গে উত্তরীয় ও সোনার চেন।এখানেই শেষ নয়, রাজ্য সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয় রিচা ঘোষকে রাজ্য পুলিশের সম্মানিক ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) পদে নিয়োগ করা হচ্ছে। আনন্দে অভিভূত রিচা জানালেন, এত ভালোবাসা, এত সম্মান আমি কখনও ভুলব না। বাংলার মেয়েদের জন্য এ এক অনুপ্রেরণা।এদিনের আসরে আরও ছিল এক অনন্য মুহূর্ত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ফ্রিডম ট্রফির রেপ্লিকা তুলে দেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এরপর মুখ্যমন্ত্রী সেই ফ্রিডম ট্রফির প্রতিরূপ উপহার হিসেবে রিচাকে তুলে দেন। মমতা বলেন, রিচা শুধু বাংলার নয়, ভারতের গর্ব। ওদের মতো প্রতিভারাই আমাদের ভবিষ্যৎ।সিএবির তরফে রিচাকে ৩৪ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। এদিনের ইডেন শুধু এক সংবর্ধনা নয়, হয়ে উঠল এক অনুপ্রেরণার প্রতীক যেখানে এক তরুণীর ঘাম, লড়াই, আর সাফল্যের গল্প ছুঁয়ে গেল লক্ষ মানুষের হৃদয়।

নভেম্বর ০৮, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

‘আমার শহর, আমার জয়’— রেড কার্পেটে নায়িকার মতো প্রত্যাবর্তন রিচার, মাতোয়ারা শিলিগুড়ি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। অবশেষে ঘরে ফিরলেন বাংলার গর্ব, বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার রিচা ঘোষ। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামতেই শিলিগুড়ি যেন উৎসবে ফেটে পড়ল। ফুলে ভরা খোলা জিপে শহর চষে বেড়ালেন তিনি। রাস্তাজুড়ে উচ্ছ্বাস, উল্লাস, আর রিচা, রিচা ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল গোটা শহর।নিজের শহরে ফিরে আবেগাপ্লুত রিচা বলেন, নিজের শহরে, নিজের মানুষদের ভালোবাসা পেয়ে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। তাঁর এই কথায় যেন আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় শিলিগুড়িতে।বাঘাযতীন পার্কে আজ বিকেলে তাঁর জন্য নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও ক্রীড়া সংগঠনগুলি। উপস্থিত থাকবেন শহরের নামী ক্লাব, স্কুল, এবং মহিলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরাও। রিচার জন্য থাকবে গার্ড অফ অনার ও রেড কার্পেট সংবর্ধনা।শহরের সুভাষপল্লিতে তাঁর বাড়িতে এখন উৎসবের আবহ। আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে গোটা পাড়া। প্রতিবেশীরা বলছেন, আমাদের মেয়েই আজ গোটা দেশের গর্ব। রিচার মা স্বপ্না ঘোষ মেয়ের পছন্দের খাবার ফ্রায়েড রাইস, পনির আর মিক্সড ভেজ নিজ হাতে রান্না করেছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে বাড়িতে নজরদারি কড়া করা হয়েছে, যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয়।ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রিচাকে। রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে পুলিশে চাকরির প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। বাংলার এই মেয়ে ভারতের প্রথম মহিলা ক্রিকেটার যিনি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হয়েছেন ৫২ বছর পর ভারতীয় মহিলা দল এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে।২২ বছর বয়সি রিচা ঘোষ এই বিশ্বকাপে করেছেন মোট ২৩৫ রান, যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঝোড়ো ৯৪ রানের ইনিংস। ফাইনালে তাঁর ২৪ বলে ৩৪ রান ভারতকে জয় এনে দেয়। গোটা টুর্নামেন্টে ১২টি ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছেন তিনি।আজ শিলিগুড়ির প্রতিটি রাস্তায়, প্রতিটি ঘরে রিচার নামেই গর্ব। তাঁর সাফল্যে উজ্জ্বল বাংলা, গর্বিত দেশ।

নভেম্বর ০৭, ২০২৫
কলকাতা

সোনারপুর কাণ্ডে পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য হাই কোর্টের, এফআইআরে ‘বেআইনি’ অভিযোগ!

সোনারপুরে শুল্ক আধিকারিককে মারধরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, অভিযোগ পাওয়ার পর FIR দায়েরের ক্ষেত্রে পুলিশ একটিও আইন মানেনি। বিচারপতির প্রশ্ন, অভিযোগ পেয়েই FIR দায়ের? প্রাথমিক অনুসন্ধান করলেন না কেন? সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন সম্পর্কে জানেন না?বিচারপতি আরও জানতে চান, ৩৫(৩) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শুল্ক আধিকারিককে নোটিস পাঠানো হয়েছিল কি না। সরকারি আইনজীবী এই প্রশ্নের কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। ফলে হাই কোর্টের তীব্র প্রতিক্রিয়া আইনের চোখে সবাই সমান, পুলিশ যদি নিয়ম ভাঙে, আদালত চুপ করে থাকতে পারে না।প্রসঙ্গত, গত মাসে সোনারপুরে এক শুল্ক আধিকারিকের গাড়িতে অটো ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বচসা বাঁধে স্থানীয় অটোচালকদের সঙ্গে। সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামলালেও কিছুক্ষণ পর প্রায় ৫০-৬০ জন দুষ্কৃতী আধিকারিকের আবাসনে ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। ওই শুল্ক আধিকারিককে বেধড়ক মারধর করা হয়, মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীকেও হেনস্তা করা হয়। পরে তাঁকে কল্যাণী এইমসে ভর্তি করা হয়।পুলিশ তদন্তে নামে এবং পরদিনই তিন অটোচালক আজাদ আলি মণ্ডল, সুরজ আলি মণ্ডল ও অলোক মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। পরে আরও আটজন গ্রেপ্তার হয়, কিন্তু তাঁরা এফআইআরে নাম না থাকায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান। এই নিয়েই পুলিশের তদন্তে বেআইনি তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ বলেন, আইন অনুযায়ী প্রাথমিক অনুসন্ধান ছাড়া সরাসরি FIR দায়ের করা যায় না। পুলিশের এই আচরণ স্পষ্টতই বেআইনি। হাই কোর্টের নির্দেশ, আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ওই শুল্ক আধিকারিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR-এর ভিত্তিতে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ।এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আদালতের মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, পুলিশের কাজের ধরন নিয়ে আদালত আর চোখ বন্ধ করে থাকবে না। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আইন ভাঙলে সে সাধারণ মানুষ হোক বা পুলিশ কাউকেই ছাড়া হবে না।

নভেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

ভোটার তালিকার আতঙ্কে মৃত্যু! ধূপগুড়ি থেকে কুলপি কাঁপছে বাংলা

ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন নিয়ে রাজ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। একদিকে উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়ি, অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি দুই প্রান্তে একই ছবি। আতঙ্ক, অসুস্থতা, আর শেষ পর্যন্ত মৃত্যু। আর দুই ক্ষেত্রেই অভিযোগের তির উঠছে এসআইআরের (Special Intensive Revision) কাজের দিকে।ধূপগুড়ির বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর দক্ষিণ ডাঙ্গাপাড়ার বাসিন্দা লালু রাম বর্মন (বয়স প্রায় ৭২)। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। ভোটার কার্ডও পাননি তিনি। সম্প্রতি এলাকায় যখন ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন শুরু হয়েছে, সেই খবর পেয়েই নাকি আতঙ্কে ছিলেন বৃদ্ধ।বৃহস্পতিবার বিএলও (Booth Level Officer) ফর্ম দিতে গেলে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের দাবি, আতঙ্কেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন লালু রাম বর্মন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের পুত্রবধূ মতি মালা বর্মন বলেন, শ্বশুরমশাই সারাদিন চিন্তায় ছিলেন। বারবার বলছিলেন, আমার নাম যদি না থাকে তাহলে কী হবে? বিএলও ফর্ম দিতে আসতেই তিনি ভয় পেয়ে যান। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সব শেষ।অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও সুমিত দাস জানিয়েছেন, ওঁদের বাড়িতে পাঁচজন সদস্য। চারজনের হাতে ফর্ম তুলে দিয়েছিলাম। পাশের বাড়িতে যেতেই শুনি বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।ঠিক একইভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি বিধানসভার কালীচরণপুরেও ঘটল আরেক মর্মান্তিক ঘটনা। সেখানকার কিশোরপুর হাই মাদ্রাসার শিক্ষক শাহাবুদ্দিন পাইক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শনিবার সকালে ক্লাস চলাকালীন। হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পাঁচদিন পর মৃত্যু হয় তাঁর। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, সেরিব্রাল অ্যাটাক-এ মৃত্যু।তবে পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকা নিয়ে আতঙ্কেই মানসিক চাপে ভুগছিলেন শাহাবুদ্দিন। ২০০২ সালের সংশোধিত তালিকায় তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নাম না থাকায় তিনি দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বহুদিন ধরে। সেই মানসিক চাপই নাকি মৃত্যুর কারণ।এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার ও কুলপির বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদার। বাপি হালদার বলেন, মানুষ আতঙ্কিত। বিজেপি ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে কেউ রোহিঙ্গা, কেউ অনুপ্রবেশকারী বলে দেগে দিচ্ছে। এই মানসিক চাপে মানুষ অসুস্থ হচ্ছেন। আমরা আশ্বস্ত করছি, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না।অন্যদিকে মথুরাপুরের বিজেপি নেতারা অভিযোগ তুলেছেন, এসবই তৃণমূলের রাজনৈতিক নাটক। নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধীদের দিকে আঙুল তুলছে।উত্তর থেকে দক্ষিণ দুই প্রান্তেই ভোটার তালিকার আতঙ্ক এখন রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

নভেম্বর ০৭, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

রিচা ঘোষকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেবে সিএবি, সৌরভের ভূমিকায় আলোকপাত ঝুলনের

আগামী শনিবার, ৮ নভেম্বর, ইডেন গার্ডেন্সে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজকীয় সংবর্ধনা পেতে চলেছেন শিলিগুড়ির মেয়ে, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের তারকা ক্রিকেটার রিচা ঘোষ। তাঁর অনন্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা সিএবি (Cricket Association of Bengal) তাঁকে সোনার ব্যাট ও বল উপহার দেবে। তাতে স্বাক্ষর থাকবে দুই কিংবদন্তি, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং ঝুলন গোস্বামীর।সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এক বিবৃতিতে বলেন,রিচা ঘোষ বিশ্বমঞ্চে অসাধারণ প্রতিভা, ধৈর্য এবং লড়াইয়ের মনোভাব দেখিয়েছেন। এই স্বর্ণখচিত ব্যাট ও বল দিয়ে তাঁকে সম্মানিত করা ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর ব্যতিক্রমী অবদানের প্রতি আমাদের সামান্য স্বীকৃতি। রিচা বাংলা তথা সারা দেশের তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা।সংস্থার পক্ষ থেকে আশা করা হয়েছে, এই সম্মাননা বাংলার ও দেশের তরুণী ক্রিকেটারদের আরও উৎসাহ দেবে ক্রিকেটে আসার জন্য।অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রিচার বাবা-মা, তাঁর কোচসহ যাঁরা তাঁর ক্রিকেট জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাশাপাশি বাংলার প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটাররাও থাকবেন সেখানে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।এদিকে, রিচার উত্থানপথের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উন্মোচন করেছেন প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামী। তাঁর কথায়, রিচার আন্তর্জাতিক দলে জায়গা পাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের।ঝুলন জানান,২০২০ সালে যখন রিচার ভারতীয় দলে অভিষেকের কথা উঠছে, তখন নির্বাচকরা শুধুমাত্র বয়সের কারণে তাঁকে নিতে দ্বিধায় ছিলেন। কিন্তু অধিনায়ক ও হেড কোচ তাঁকে চাইছিলেন। সেই সময় সৌরভ, যিনি তখন বিসিসিআই সভাপতি, স্পষ্টভাবে বলেন অধিনায়ক ও কোচের মতামতকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। রিচাকে দলে রাখা উচিত। এরপরই ইতিহাস তৈরি হয়।মাত্র ২২ বছর বয়সেই রিচা আজ দেশের অন্যতম সেরা হার্ড হিটার ব্যাটার। এখন পর্যন্ত ২টি টেস্ট, ৫১টি একদিনের আন্তর্জাতিক ও ৬৭টি টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে তিনি মারেন সর্বাধিক ছয়, যা তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে।রিচার এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে ইডেন গার্ডেন্সে পরিণত করবে এক স্মরণীয় মুহূর্তে যেখানে সম্মানিত হবেন এক নতুন প্রজন্মের প্রতীক, যাঁর সাফল্যে গর্বিত গোটা বাংলা।

নভেম্বর ০৫, ২০২৫
রাজ্য

"আমার কাগজ নেই, আমাকে বার করে দেবে"— ভাঙড়ে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

এসআইআরএর পরিবেশ ঘিরে আরও এক মৃত্যুর ঘটনা। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আত্মহত্যার খবরের পর এবার ভাঙড়। শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম সফিকুল গাজি। তাঁর পরিবারের দাবি, কাগজপত্র নিয়ে আতঙ্কে ভুগেই আত্মঘাতী সফিকুল। বুধবার সকালে ঘর থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ছুটে যান ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা।পরিবার জানাচ্ছে, গত কয়েক দিন ধরেই এক অদ্ভুত ভয় গ্রাস করেছিল সফিকুলকে। কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন না। খাওয়াদাওয়াও প্রায় বন্ধ। মাঝেমধ্যে কাগজপত্র নিয়ে বসতেন, আর বারবার একটাই কথা আমার সব কাগজ নেই আমাকে এখান থেকে বার করে দেবে। স্ত্রী জানিয়েছেন, টানা দুই দিন ধরে স্বামী এমন কথাই বলে যাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে স্বাভাবিক মতোই খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। বুধবার সকালে স্ত্রী ও ছেলে কাজে বেরিয়ে যান। ফিরে এসে দেখেন ঘরের ভিতর ঝুলছে তাঁর দেহ। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।ভাঙড়েই শ্বশুরবাড়ি ছিল সফিকুলের, সেখানেই থাকতেন। আসল বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনায়। বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেন, শুনেছি ওর বাবা-মায়ের বৈধ কাগজপত্র ছিল। কিন্তু ওর নিজের নামে কিছুই নেই। সেই হতাশাই ওকে শেষ করে দিল। এটা শুধু মৃত্যু নয়, আতঙ্কের একটা ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। সেই সঙ্গে তিনি বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছেন গতকাল সাত জন, আজ আট! বিজেপিকে জবাব দিতে হবে। এই মৃত্যু মিছিলের দায় তাঁদের।বিজেপির রাহুল সিনহা তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে তৃণমূলই। এখন আবার মৃতদেহের রাজনীতি করছে। কে কোথায় মরছে, সেটাই নজর রাখছে ওরা। এসআইআরএর আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্বেগ আর সেই সঙ্গেই প্রশ্ন, এই আতঙ্ক থামবে কবে?

নভেম্বর ০৫, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ হাতে হরমন, কিন্তু ক্যাপ্টেন হিসেবে ব্যর্থ? বিস্ফোরক মন্তব্য শান্তার

বিশ্বজয়ের রাতের উত্তেজনা তখনও থামেনি। দেশজুড়ে উল্লাস, গর্ব, অভিনন্দনবার্তাসবকিছুর মাঝেই হঠাৎই সামনে এল বিস্ফোরক মন্তব্য। মহিলা ক্রিকেটে ভারতের প্রথম অধিনায়ক শান্তা রঙ্গস্বামী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেনহরমনপ্রীত কৌরের আর অধিনায়ক থাকা উচিত নয়! বিশ্বকাপ জয়ের মাত্র পরের দিনই এমন মন্তব্যে রীতিমতো আলোড়ন ক্রিকেটমহলে। শান্তার মতে, ভারতীয় ক্রিকেটের স্বার্থেই এখন নেতৃত্বে নতুন মুখ প্রয়োজন, আর তাঁর পছন্দস্মৃতি মান্ধানা।হরমনপ্রীতের নেতৃত্বে প্রথমবার মহিলাদের বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। গোটা দেশ যখন ক্যাপ্টেন হরমনের নেতৃত্বগুণের প্রশংসা করছে, তখনই শান্তার বক্তব্য আরও চর্চায় এনে দিল বিষয়টি। তিনি বলেন, হরমনপ্রীত ব্যাটার হিসেবে দুর্দান্ত, ফিল্ডিংয়েও তার জুড়ি নেই। কিন্তু অধিনায়ক হিসাবে তাঁর ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচে বারবার চাপ তৈরি করে। তাই নেতৃত্বের ভার নামলে হরমন আরও ভালো খেলবেন, এমনটাই মনে করেন ভারতের প্রথম মহিলা অধিনায়ক।শান্তার ভাষায়, বিশ্বকাপ জয়ের পর কথা বলায় অনেকেই হয়তো ভালোভাবে নেবেন না। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ দেখলে এখনই পরিবর্তন দরকার। হরমনের সামনে এখনও তিন-চার বছর ক্রিকেট বাকি আছে। অধিনায়কত্ব ছাড়লে সেরাটা দিতে পারবে।আগামী বছরে মহিলাদের টি-২০ বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে। আর ২০২৯ সালে ওয়ানডে মেগা ইভেন্ট। সেই বিষয়টিই মাথায় রেখে নতুন নেতৃত্ব চান শান্তা। তাঁর মতে, যেমন পুরুষদের দলে ভবিষ্যৎ ভেবে রোহিতের বদলে শুভমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনি মহিলাদের দলে দ্রুত স্মৃতি মান্ধানাকে অধিনায়কত্ব দেওয়া উচিত।তবে বিশ্বকাপ জেতা সত্ত্বেও ভারতের খেলায় এখনও ঘাটতি দেখছেন শান্তা। তাঁর মত, বোলিং ও ফিল্ডিংদুই ক্ষেত্রেই আরও উন্নতি করা প্রয়োজন। তবু জেমাইমা রডরিগেজ, শেফালি ভার্মাদের এই জয় যে দেশের মহিলা ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা করবে, তা নিয়ে আশাবাদী কিংবদন্তি ক্রিকেটার।দেশ এখন দুই ভাগএকদিকে আবেগ, অন্যদিকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। কিন্তু প্রশ্নটা স্পষ্টবিশ্বজয়ের নায়িকার হাত থেকে কি তবে সত্যিই ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে হাল ধরার দায়িত্ব? সময়ই দেবে উত্তর।

নভেম্বর ০৪, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

ক্রিকেটের নন্দনকানন সেজেছে হরমনপ্রীত কৌর অ্যান্ড কোং-র বিশ্বজয়ের কাটআউটে

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় উদযাপন সিএবির। ক্রিকেটের নন্দনকাননের সামনে হরমনপ্রীত কৌর অ্যান্ড কোং-কে অভিনন্দন জানিয়ে বিশাল কাটআউট লাগানো হয়েছে। সাজানো হয়েছে জার্সির রংয়ের নীল আলো দিয়ে।সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় লন্ডনে থাকাকালীনই একাধিক পরিকল্পনা করেছেন। তিনি গর্বিত, তৃপ্ত। কারণ, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের অগ্রগতি, বিকাশের নেপথ্যে তো রয়েছে তাঁরই দূরদৃষ্টি।ম্যাচ গড়াপেটা কেলেঙ্কারিতে যখন ভারতীয় ক্রিকেটে টালমাটাল পরিস্থিতি, ক্রিকেটপ্রেমীরা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন, সেই পরিস্থিতি থেকে দলকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছিলেন সৌরভ। গড়েছিলেন টিম ইন্ডিয়া। বিদেশে জেতা যায়, এই বিশ্বাস এনে দিয়েছিলেন। প্রশাসক হিসেবেও তাঁর রয়েছে একাধিক উল্লেখযোগ্য অবদান। যার অন্যতম দেশের মহিলা ক্রিকেটের বিকাশ। সৌরভ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মেয়েদের ক্রিকেট অনেক এগিয়ে গিয়েছে। আমি যখন ২০১৯ সালে বিসিসিআইয়ের সভাপতি হই তখন মেয়েদের ক্রিকেটকে সিরিয়াসলি দেখা হতো না। খুব ভালো জায়গায় ছিল না। এখন শেফালি ভার্মা, স্মৃতি মান্ধানা, হরমনপ্রীত কৌর, রেণুকা সিং, রিচা ঘোষদের দেখে খুব ভালো লাগে এই কারণে যে, আমরা যে কাজ করেছি তা সদর্থকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। ডব্লিউপিএল একটা বড় স্টেপিং স্টোন, যা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের উন্নতি ঘটিয়ে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। সৌরভের কথায়, বিভাগ আলাদা হলেও মহিলা ক্রিকেটাররা পুরুষদের সম-বেতন পাচ্ছেন। তাঁরা এর যোগ্য। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতছে ভারত। ছটি বিশ্বকাপ জেতা মেগ ল্যানিং-সহ অস্ট্রেলিয়া দলে তাবড় ক্রিকেটাররা রয়েছেন। তবে ভারত পিছিয়ে নেই খুব একটা। কমনওয়েলথ গেমস ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ভারত হারানোর পরিস্থিতিও তৈরি করে ফেলেছিল। তিন বছর আগেও কেউ ভাবতো না ভারতের মেয়েরা ইংল্যান্ডে গিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতবেন। খুব ভালো লাগে যখন ডাগ আউটে বসে দেখি শেফালি ভার্মা অবলীলায় ছয় মেরে বল গ্যালারিতে পাঠাচ্ছেন। সৌরভ মনে করেন, এ দেশে পুরুষদের চেয়ে মহিলা ক্রিকেটের অগ্রগতি অনেক দ্রুত হয়েছে। আর তার অন্যতম প্রধান ফ্যাক্টর ডব্লিউপিএল চালু করা। সিএবির এক বিবৃতিতে সৌরভ বলেছেন, আজ থেকে কুড়ি বছর আগে যখন পরিকাঠামোর অভাবে মেয়েদের ক্রিকেট লড়াই চালাচ্ছিল, তখন এর ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি লোক আশাবাদী ছিলেন না। সৌরভের কথায়, ক্রিকেটকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে সকল মহিলা কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের সকলকে আমরা সাধুবাদ জানাই। যখন আমি বিসিসিআই সভাপতি হয়েছিলাম, তখন মেয়েদের ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত হই এবং এর ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জয় কেবল শুরু, এখান থেকে মেয়েদের ক্রিকেট আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।সৌরভ বিসিসিআইয়ের সভাপতি হয়েছিলেন ২০১৯ সালে। তার কয়েক মাস পরেই করোনার ধাক্কায় স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা বিশ্ব। তাতেও মহিলা ক্রিকেট নিয়ে ভাবনা জারি রেখেছিলেন সৌরভ। আইপিএলের ধাঁচে মহিলাদের ক্রিকেট লিগ করার প্রক্রিয়াও এগোচ্ছিল। ডব্লিউপিএল আসার আগে মহিলাদের টি২০ চ্যালেঞ্জ টুর্নামেন্ট করতো বিসিসিআই। সৌরভই বোর্ড সভাপতি হয়ে জানিয়েছেন, বছর চারেকের মধ্যে ডব্লিউপিএল শুরু হবে। করোনা প্রতিবন্ধকতা না হলে সৌরভ বোর্ড সভাপতি থাকাকালীনই ডব্লিউপিএল শুরু হয়ে যেত। তা হয় জয় শাহ বোর্ড সচিব ও রজার বিনি বিসিসিআই সভাপতি থাকাকালীন। কোনও কিছু রাতারাতি হয় না। আইপিএলের ধাঁচে মেয়েদের ক্রিকেট করতে গেলে যত ভালো মানের ক্রিকেটার দরকার তা ২০১৯ সালে ভারতে ছিল না। সেজন্য দরকার ছিল পরিকাঠামো। তবে ডব্লিউপিএল প্রথমদিকে সাতটি দল নিয়ে করার কথা থাকলেও পাঁচটি দল নিয়ে শুরু হয়। ২০১৮ সালে মেয়েদের টি২০ চ্যালেঞ্জ হয়েছিল প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে। ২০১৯ সালে তা তিন দলের টুর্নামেন্ট হয়। আন্তর্জাতিক স্তরে যাতে ঘরোয়া ক্রিকেটাররা সাফল্য পান সে কারণে মূল দলের বিদেশ সফরের আগে মেয়েদের ভারতীয় এ দল পাঠানোর সিদ্ধান্তও সৌরভেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। শুধু তাই নয়, বিসিসিআই সভাপতি থাকাকালীন সৌরভ জোর দেন যাতে বিভিন্ন রাজ্য সংস্থাও প্রচুর পরিমাণে মহিলা ক্রিকেটারদের পুল তৈরি করতে পারে। সেটা সম্ভব হওয়াতেই ডব্লিউপিএলে বিভিন্ন রাজ্যের ক্রিকেটাররা বিদেশিদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করছেন, নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরতে পারছেন। বিদেশের লিগেও তাঁরা খেলছেন। সারা দেশে মেয়েদের টুর্নামেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে।বাংলার ঝুলন গোস্বামীর কথা বাদ দিন, হরমনপ্রীত কৌর এক সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছেন তাঁর কেরিয়ারে সৌরভের কতটা অবদান। ডিরেক্টর অব ক্রিকেট হিসেবে সৌরভ নিজে দিল্লি ক্যাপিটালস দলের সঙ্গে যুক্ত। সেই দলেরই জেমাইমা রডরিগেজ, শেফালি ভার্মারা ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগর। বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা হয়েছেন দীপ্তি শর্মা। উত্তরপ্রদেশের দীপ্তির ক্রিকেট কেরিয়ারের উত্থান কিন্তু বাংলা থেকেই। সেই সঙ্গে প্রথম বাঙালি হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেলেন রিচা ঘোষ। রিচার বাড়ি শিলিগুড়িতে।সৌরভ বা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় জোর দিয়েছেন বাংলার মেয়েদের ক্রিকেটেও। পরিকাঠামো থেকে শুরু করে সবরকম সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছেন। ইডেনে ক্রিকেটারদের থাকারও বন্দোবস্ত করেছেন তাঁরা। সর্বভারতীয় স্তরের টুর্নামেন্টে বাংলার মেয়েদের দল সাফল্যও পেয়েছে। স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় সভাপতি থাকাকালীন মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্টেও জোর দিয়েছেন। জেলা থেকে প্রতিভা অন্বেষণ করে এনে মেয়েদের জন্য ভিশন প্রজেক্টও চালু করেছে সিএবি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সিএবি সভাপতি হয়ে প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটারদের আরও বেশি সংগঠিত করে মেয়েদের ক্রিকেটে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।সচিন তেন্ডুলকর একটা সময় বলেছিলেন, কপিল দেবের নেতৃত্বে তিরাশির বিশ্বকাপ জিততে দেখে তিনি দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন তাড়া করতে শুরু করেন। পরবর্তীকালে সচিন, সৌরভ হতে চেয়ে সারা দেশে কিটব্যাগ কাঁধে বাবা-মায়ের হাত ধরে প্রচুর প্রতিভাকে মাঠমুখী হতে দেখা গিয়েছিল। বাণিজ্যিক সংস্থা আগ্রহী হতে থাকে। যার ফলশ্রুতি, আকাশচুম্বী উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে ভারতের পুরুষদের ক্রিকেট। হরমনপ্রীতদের এই বিশ্বকাপ জয় নিশ্চিতভাবেই অনুপ্রাণিত করবে এখনকার ছোট ছোট মেয়েদের বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। তবে এত সাফল্যের মধ্যেও মনে রাখতে হবে দেশের মহিলা ক্রিকেটের অগ্রগতির ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকী আইসিসির ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও বিশ্বজুড়ে মহিলাদের ক্রিকেটের অগ্রগতি, জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে যাঁর অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে। মনে পড়ে সেই কথা, বাংলাই কিন্তু পথ দেখায়।

নভেম্বর ০৪, ২০২৫
রাজ্য

বাড়ি-বাড়ি ফর্ম, রাস্তায় আতঙ্ক—হাসপাতালে তৃণমূল কাউন্সিলর

এখন বাংলায় এসআইআর ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে ফর্ম বিলি, বাড়ি-বাড়ি যাবেন বিএলওরা। আর সেই গরম রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রিষড়া পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী সাকির আলি। তৃণমূল বলছে, মানুষের আতঙ্ক সামলাতে গিয়েই অসুস্থ তিনি। বিজেপি-র ভাষায়এ সবই নাটক।রবিবার আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন সাকির আলি। ভর্তি করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। শয্যায় শুয়েই তিনি দাবি করেছেন, তাঁর ওয়ার্ডে একটি বড় বস্তি এলাকা আছে। এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই সেখানে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দিনভর বহু মানুষ তাঁর কাছে ছুটে এসেছেনতাঁদের নাম বাদ যাবে না তো? কাগজপত্র ঠিক আছে তো? কী করতে হবে? কারও হাতে পাকা নথি নেই, কারও তথ্য মেলে না। সেই আতঙ্ক সামলাতে সামলাতেই ধকল যায় তাঁর, দাবি কাউন্সিলরের। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এমনটাই বলছে তৃণমূল শিবির।অন্যদিকে বিজেপি একেবারে পাল্টা সুরে। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন পাল বলেন, পুরোটাই নাটক! তাঁর অভিযোগ, দেশের ১২টি রাজ্যে এসআইআর চলছে, কোথাও এমন কেউ অসুস্থ হচ্ছে না। কিন্তু বাংলায় তৃণমূলের কাউন্সিলরই কেবল অসুস্থ হচ্ছেন! অভিযোগ আরও এগিয়ে গিয়ে বলেন, রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাকির আলির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাই প্রচারের আলোয় আসতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে।এদিকে এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক যে বাস্তব, তা স্পষ্ট রাজ্যের নানা প্রান্তে। ইতিমধ্যেই একাধিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে আতঙ্ককে দায়ী করা হচ্ছে। হুগলির ডানকুনিতে রবিবার সন্ধ্যায় মারা গিয়েছেন ষাট বছর বয়সি হাসিনা বেগম। স্থানীয়দের দাবি, এসআইআর নিয়ে আতঙ্কেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। মানুষ এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না, কী কী নথি লাগবে, কীভাবে নাম নথিভুক্ত হবে। তার মধ্যেই আতঙ্ক যেন ছায়ার মতো তাড়া করছে সাধারণ মানুষকে।রাজ্যজুড়ে প্রশ্ন একটাইএসআইআর কার্যকর করতে গিয়ে প্রশাসন কি ন্যায়সঙ্গতভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে? নাকি আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে? মানুষের ঘরে ঘরে অস্থিরতা বাড়ছে, রাজনৈতিক পালটা-যুদ্ধ আরও উত্তপ্ত হচ্ছে। আর এই সবকিছুর মধ্যেই হাসপাতালে শুয়ে আছেন সাকির আলিতাঁর দাবি, মানুষ বাঁচাতে গিয়ে তাঁর নিজের শরীরই হার মানল। বিজেপি বলছে, সবটাই সাজানো দৃশ্য। সত্যি কোনটা? উত্তর চাইছে রাজ্যবাসী।

নভেম্বর ০৩, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

‘জেন্টলম্যানস গেম’ শব্দটি কেটে দিলেন হরমন! বিশ্বজয়ের পর বার্তা—ক্রিকেট সবার

কিছু স্বপ্ন থাকে সারা দেশের। শুধু পুরুষ বা মহিলার নয়, কোটি মানুষের। ভারত বিশ্বকাপ জিতেছেএটাই মূল কথা। এখানে মহিলা ভারত নয়, টিম ইন্ডিয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। চ্যাম্পিয়নদের অভিধান কখনও লিঙ্গের ভাগে ভাগ করা যায় না।ক্রিকেটকে এত দিন বলা হতজেন্টলম্যানস গেম। কিন্তু নতুন ইতিহাসের রাতে সেই শব্দটাই পাল্টে দিলেন হরমনপ্রীত কৌর। বিশ্বজয়ের পর সকালে ট্রফি বুকে জড়িয়ে শুয়ে থাকা একটি ছবি পোস্ট করলেন ভারতের অধিনায়িকা। তাঁর টি-শার্টে লাইনে লেখাGentlemans শব্দটি কেটে দিয়ে পাশে বড় অক্ষরেCricket is Everyones Game। বার্তাটা স্পষ্টক্রিকেট শুধু পুরুষের নয়, সবার খেলা।হরমনের সঙ্গে স্বপ্নে ভেসেছেন স্মৃতি, জেমাইমা, শেফালিরাও। রাতভর ছিল উন্মাদনা, আনন্দ, নাচ, হাসি। গোটা দেশ দেখলনতুন ইতিহাস লেখা যাচ্ছে। ক্রিকেটাররা জানালেন, এই স্বপ্ন কোটি ভারতবাসীর। হরমনের ক্যাপশনে তাই লেখাকিছু স্বপ্ন কোটি কোটি মানুষের।এই জয়ের পেছনে আছে ত্যাগ, কষ্ট, বাধা আর লড়াই। গ্রামের মাঠে শেফালিকে শুনতে হয়েছেমেয়েদের আবার ক্রিকেট! তাই তিনি চুল কেটে ছেলে সেজে খেলেছেন ছেলেদের টুর্নামেন্টে। হরমন নিজে ওড়না বেঁধে খেলেছেন ছেলেদের সঙ্গে, ভেঙেছেন রীতি, জেদের সঙ্গে।এই দল জানে সংগ্রাম বলতে কী বোঝায়। বড় ম্যাচের চাপ, সামনে ইতিহাসতবু নিজেরা ভেঙে পড়েননি। এত দিন ধরেই মেয়েদের ক্রিকেট আলাদা দৃষ্টিতে দেখা হত। কিন্তু বিশ্বজয় বলছেএ দেশ এখন বলছে, আমাদের হরমন, আমাদের শেফালি, আমাদের টিম ইন্ডিয়া।২০০৫ সালে স্বপ্ন ভেঙেছিল। ২০১৭-য় আবার heartbreak, তবু মনে রইল হরমনের ১৭১ রানের ইতিহাস। এবার আর হার নয়। এবার ট্রফি ঘরে। এই ট্রফি শুধু আজকের মেয়েদের নয়, ঝুলন-মিতালির মতো কিংবদন্তিদেরও। ভবিষ্যতের প্রতিটি ছোট মেয়ের কাছে বার্তাস্বপ্ন সত্যিই হয়, যদি লড়াই করো।এখন থেকে ভারতীয় ঘরে ঘরে বাবা-মা হয়তো বলবেনহরমনপ্রীতের মতো খেলো। আর ভারতীয় ক্রিকেটের ঘরে ঝুলবে নতুন নামজনগণমন অধিনায়িকা হরমনপ্রীত।

নভেম্বর ০৩, ২০২৫
কলকাতা

হাঁটতে বেরিয়ে হঠাৎ গুলি! প্রতিবেশী প্রেমিকের নাম বলেই লুটিয়ে পড়লেন মহিলা

হরিদেবপুরে সোমবার ভোরের শুটআউট ঘিরে চাঞ্চল্য। সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ গুলিবিদ্ধ হলেন এক মহিলা। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত প্রেমিক বাবলু ঘোষকে পাকড়াও করল কলকাতা পুলিশ। ধরা পড়লেন পিটিএসের কাছে একটি গাড়ি থেকে। পুলিশের নজরে এ ঘটনাকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছেকারণ ঘটনার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার অভিযুক্ত।পুলিশ সূত্রের খবর, ৫০ বছর বয়সি মৌসুমী হালদার প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। হঠাৎই মোটরবাইকে করে দুই যুবক আসে। লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি লাগে মৌসুমীর পিঠে। লুটিয়ে পড়েই তিনি আততায়ীর নাম বলে দেনবাবলু। এলাকাবাসীও জানতেন, প্রতিবেশী বাবলু ঘোষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল মৌসুমীর।জানা গিয়েছে, বাবলুর মুরগির ব্যবসা ছিল। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই মৌসুমীর সঙ্গে তাঁর প্রেম। এমনকি চুপিসারে বিয়েও করেছেন তারাএমনটাই ছড়িয়েছিল এলাকায়। বাবলুর মেয়ের বিয়েও হয়ে গেছে। অভিযোগ, কিছুদিন ধরে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন মৌসুমী। কিন্তু তাতে রাজি ছিল না বাবলু। ওই মহিলাকে সংসার ছেড়ে তাঁর সঙ্গে থাকতে জোরাজুরি করত। শেষমেশ প্রেমের জটিলতাই রক্তাক্ত পরিণতি নিল।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, বাবলু কোনও গ্রাহকের কাছ থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করে সোমবার সকালে গুলি চালায়। এরপর নিজের বাড়ির তালা বন্ধ করে জিনিসপত্র তুলে পালানোর চেষ্টা করে ভাড়ার গাড়িতে। প্রতিবেশীরা গাড়ির নম্বর দেখে রাখেন। সেই সূত্রেই শুরু হয় পুলিশের অভিযান।হরিদেবপুর থানার ওসি প্রসূন দে সরকার ও অতিরিক্ত ওসি সুদীপ্ত দেবঘরিয়ার নেতৃত্বে শুরু হয় অপারেশন। গাড়ির মালিককে ফোন করে খদ্দের সেজে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জানা যায়, গাড়িটি হাওড়ার পাঁচলায় আছে। পুলিশ গাড়ির নম্বর ট্র্যাক করে, আরেক দল পাঁচলার পথে রওনা দেয়।কিন্তু গাড়িটি মাঝপথেই ধরা পড়ে। পিটিএসের কাছে নম্বর মিলিয়ে পুলিশ গাড়ি থামায় এবং ভিতরেই বাবলুকে দেখা যায়। পাঁচলায় পালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি পুলিশের। তার আগেই হাতকড়া পড়ল তার হাতে। আজ তাকে আদালতে তোলা হবে।দ্রুত পদক্ষেপে এই গ্রেফতারকলকাতা পুলিশের তদন্ত এবং তৎপরতার বড় নিদর্শন হয়ে রইল বলে মত অনেকের।

নভেম্বর ০৩, ২০২৫
রাজ্য

'চা হাতে হাঁটছিলেন, হঠাৎ পড়ে গেলেন'—এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু কি সত্যিই? রহস্য বাড়ছে

এসআইআর নিয়ে রাজ্যে ফের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য। আগরপাড়া, ইলামবাজার ও পূর্ব বর্ধমানের পর এবার ডানকুনিএকই আতঙ্কের ছবি উঠে এল। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন, অর্থাৎ এসআইআরএর ভয়েই হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। যদিও বিজেপি পুরো অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে, বলেছেশাসকদলের রাজনৈতিক নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়।মৃতের নাম হাসিনা বেগম, বয়স ৬০। হুগলির ডানকুনি পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও বয়সের কারণে মেয়ের বাড়িতে থাকতেন, ডানকুনিরই ২০ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন ধরেই এসআইআর নিয়ে প্রচণ্ড আতঙ্কে ছিলেন তিনি। তিন দিন আগে এলাকায় এ নিয়ে সচেতনতা বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকেও গিয়েছিলেন হাসিনা। কিন্তু বৈঠকের পরেও উদ্বেগ যেন কমেনি, বরং বাড়তেই থাকে।রবিবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। চা হাতে নিয়ে হাঁটছিলেন, এমন সময় মাঝরাস্তায় মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। আশপাশের লোকজন তাকে ধরে বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু তখনই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।সোমবার সকালে মৃতার বাড়িতে পৌঁছন ডানকুনি পুরসভার চেয়ারপার্সন হাসিনা শবনম। তাঁর দাবি, হাসিনার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় না থাকায় ভয় আরও বাড়ে। সেই আতঙ্কই শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ। তিনি বলেন, মানুষের মনে ভয় ঢুকে যাচ্ছে। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু আর কত প্রাণ যাবে? পাশের বাড়ির এক মহিলাও নাকি একই আতঙ্কে হৃৎরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ, এমনটাই দাবি শবনমের।তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও বলেন, চাপ নিতে না পেরে মৃত্যু। তালিকায় নাম না থাকা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন। বারবার অসুস্থ হচ্ছিলেন, শেষে হার্ট অ্যাটাক।অন্যদিকে বিজেপি নেতাদের দাবি, এসব নিছক রাজনৈতিক চক্রান্ত। বিরোধী নেতা দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে তৃণমূল। ২০০২ সালে মমতা নিজেই এ প্রকল্পকে সমর্থন করেছিলেন। এখন রাজনীতি করছেন।এসআইআর নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়ছে। সরকারি তালিকা নিয়ে মানুষের ভয় বাড়ছে না কি রাজনৈতিক লাভের হিসেবএই প্রশ্ন এখন ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণের মধ্যেও।

নভেম্বর ০৩, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

১৪০ কোটির স্বপ্ন পূরণ!চোখে জল নিয়ে বিশ্বজয় ভারতীয় মেয়েদের

একসময় বলা হতমেয়েদের ক্রিকেটে বিশ্বজয়? স্বপ্ন! ২০০৫-এ হয়নি, ২০১৭-তেও নয়। চোখে জল, বুক ভাঙা, একদিন তো হবেইএই বিশ্বাস নিয়েই চলতে হয়েছে। সেই সমস্ত অসম্পূর্ণ দিনের জ্বালা, সেই সমস্ত ভাঙা আশার ধোঁয়া যেন জমে ছিল ভারতীয় নারীদের মুঠোয়। আর শেষমেশ নবি মুম্বইয়ের আকাশে লেখা হল নতুন ইতিহাস। ৫২ বছরের প্রতীক্ষা শেষ। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হল ভারতের মেয়েরা।হরমনপ্রীত, স্মৃতি, শেফালির চোখের জল যেন পুরো দেশের স্বপ্নভেজা কান্না। এই দিনটিই তো ছিল ভারতের!মুম্বইযে শহর স্বপ্ন দেয়, ভাঙেও। ২০১১-র ওয়াংখেড়ে তাই এখনকার ডি ওয়াই পাটিলের সঙ্গে মিলেমিশে গেল। ২০২৩-এর দুঃস্বপ্ন নিভে গেল আলোয়। ইতিহাস বলবে১৯ নভেম্বরের যন্ত্রণার জবাব এসেছে এক নতুন নভেম্বরে, ২ নভেম্বরের দুপুরে।টসে জিতে প্রোটিয়া অধিনায়ক লরা উলফার্ট ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান। বৃষ্টিভেজা আউটফিল্ড, মন্থর শুরু। কিন্তু স্মৃতি মন্ধানা আর শেফালি বর্মার চোখে তখন অন্য গল্প। ১৮ ওভারে শতরানের জুটি। স্মৃতি ফেরেন ৪৫-তে, কিন্তু শেফালি? হরিয়ানার সেই আগুনমেয়ে! হ্যামস্ট্রিং টেনে ধরে গিয়েছে অদম্য লড়াই। ৭৮ বলে আগুন ঝরানো ৮৭! সেঞ্চুরি হলো নাকিন্তু দেশের জন্য মন দিয়ে খেলা কি কম সেঞ্চুরি?জেমাইমা (২৪) ব্যর্থ, অধিনায়ক হরমনপ্রীতও (২০) বড় রান পেলেন না। তবু থামেননি রিচা ঘোষ। ২৪ বলে ৩৪, ঝড় তুলে দিলেন। দীপ্তি শর্মা নো-রিস্ক ক্রিকেটে করলেন অমূল্য হাফসেঞ্চুরি। শেষে ২৯৮আরও ২৫-৩০ হতে পারত, সত্যি, কিন্তু ওই রানই আজ দেশের মুকুট।কিন্তু জানেন, বিশ্বকাপ জেতা কখনোই শুধু রান তোলার গল্প নয়।দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে প্রথম আঘাত আসে রানআউট থেকে। তাজমিন ব্রিটস (২৩) গেলেন। তারপর বশকেও ফিরিয়ে দিলেন শ্রী চরণী। কিন্তু ভয়? ভয়টার নাম লরা উলফার্ট। টুর্নামেন্টের সেরা ফর্ম, ফাইনালে ঝকঝকে সেঞ্চুরি। সুনে লুস সঙ্গে, ম্যাচ তখন সাউথ আফ্রিকার দিকে হেলে। আর তখনই হারমি ডাকলেন সেই মেয়েটিকেশেফালি। ব্যাট হাতে আগুন, এবার বলে জাদু! দুটো ভয়ঙ্কর উইকেটলুস আর ক্যাপ। ময়দানে তখন শিরদাঁড়া সোজা ভারতের।তবু ভয় কাটেনি। রাধার ওভারে ১৭ রান, ডের্কসেন ঝড় তুলেছেন। উলফার্ট সেঞ্চুরি। ১৪০ কোটির নিঃশ্বাস থমকে। আর তখনদীপ্তির বল, আকাশে তুলে উলফার্ট (১০১)। বল নামল অমনজ্যোতের দিকে। প্রথমবার মিস দ্বিতীয়বারও আর তৃতীয়বার এক হাতে বল আঁকড়ে ধরলেন তিনি! যেন এক হাতে ধরে ফেললেন ১৪০ কোটি হৃদয়ের ধকধক। স্টেডিয়ামে তখন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ!এরপর আর কেউ বাধা দিতে পারেনি। দীপ্তির ৫ উইকেট, মেয়েদের অদম্য আত্মবিশ্বাস, আর এক সমুদ্র ভারতবাসীর শক্তিসব মিলে ইতিহাস। ভারত, তুমি আজ সত্যিই নবজাগরণের নাম।এটা শুধু জয় নয়এক যুগের মুক্তি। আমরা দেখলাম মেয়েরা কাঁধে তুলল দেশের সপাট গর্ব। এখন থেকে লেখা হবে১৯৮৩, ২০১১, ২০২৫।

নভেম্বর ০৩, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

মান্ধানার রেকর্ডে কাঁপল বিশ্ব! ফাইনালে কি লেখা হবে নতুন ইতিহাস?

মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়াম যেন অপেক্ষা করছে ইতিহাসের জন্মের সাক্ষী হওয়ার। গ্যালারিতে ঢেউ তুলছে নীল সাগর। কোটি ভারতবাসীর নিশ্বাস যেন একসঙ্গে আটকে। কারণ, মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে জয়ের লক্ষ্য ২৯৯ রান ছুঁড়ে দিয়েছে ভারত। ৩০০-এর দোরগোড়াহাতের নাগালেই ছিল। কিন্তু যেই দুই ব্যাটারকে দেখার অপেক্ষায় ছিল সমর্থকেরা, সেই স্মৃতি মান্ধানা আর হরমনপ্রীতের ব্যাট আজ বড় কিছু লিখতে পারল না।সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৮৯ রানের ইনিংসে আগুন ঝরিয়েছিলেন নকআউট কুইন হরমনপ্রীত। আজ ফাইনালে এসে থেমে গেলেন ২০ রানে। দুইটি বাউন্ডারি মারলেও নিজের সেরাটুকু দেখাতে পারলেন না অধিনায়ক। ফ্যানদের আশাহতাশার মিশেল রয়ে গেল মাঠ জুড়ে।তবু ভারতীয় ক্রিকেটের অন্য নক্ষত্র জ্বলল উজ্জ্বল আলোয়। স্মৃতি মান্ধানা ফাইনালে করলেন ৫৮ বলে ৪৫ রানহ্যাঁ, হাফসেঞ্চুরি হাতছাড়া। কিন্তু সেই সঙ্গেই গড়লেন এক বিশাল রেকর্ড। মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক সংস্করণে সর্বাধিক রান করার নজির ভাঙলেন তিনি। মিতালি রাজের ২০১৭ সালের ৪০৯ রানকে টপকে স্মৃতির সংগ্রহ এখন ৪৩৪।মান্ধানাশেফালি জুটি দারুণ ছন্দে এগোচ্ছিল। ১৭তম ওভারেই এল ভাঙন। ক্লোয়ি ট্রায়নের বল তুলে দিয়ে ক্যাচ ফিরিয়ে দিলেন ভারতীয় ওপেনার। আর ৩৮তম ওভারে ফিরে যান হরমনপ্রীত। দুজনই যদি আর কিছুক্ষণ উইকেটে দাঁড়াতে পারতেনস্টেডিয়ামের স্কোরবোর্ড হয়তো অন্য গল্প বলত।কিন্তু এখনও সব শেষ নয়। ভারতীয় স্পিন, দর্শকদের গর্জন, আর মাঠজুড়ে নীল আকাশএই তিন শক্তি কি এনে দেবে প্রথম নারী বিশ্বকাপ? চোখ রাখল ভারত।আজ রাতেই উত্তর।

নভেম্বর ০২, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

নীলে রাঙা দেশ! বিশ্বকাপফাইনালে শেফালি–ঝড়, ২৯৮ রান তুলে ইতিহাসের দোরগোড়ায় ভারত

ভারতের আকাশ আজ নীলের উৎসবে ঢেকে। নবি মুম্বইয়ের ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের মহারণে নামতেই যেন বৃষ্টির ফোঁটা হয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আবেগ। সেই বৃষ্টি ধুয়ে দিল শুধু মাটি নয়, যেন দেশের কোটি স্বপ্নকে। কারণ, আজ ইতিহাস লেখা সম্ভব উইমেন ইন ব্লু-র। হরমনপ্রীত কৌরদের কাঁধে ভারতীয় ক্রিকেটের অপূর্ণতা মুছার দায়িত্ব। আর ব্যাট হাতে সেই পথে বড় পদক্ষেপই রাখল ভারত।প্রথমে ব্যাট করে ভারত থামল ২৯৮ রানে। ৭ উইকেট হারিয়ে তোলা এই রানকে কি বিশ্বজয়ের রান বলা যায়? দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটারদের সাহসী ইনিংস, দর্শকদের গর্জন, আর মাঠজুড়ে নীল আবেগসব মিলিয়ে দিনটা ইতিহাসের পাতায় ওঠার অপেক্ষায়।ইনিংসের শুরুতেই স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মার ব্যাটে নজর কাড়া সূচনা। বৃষ্টিভেজা উইকেটে সতর্ক শুরু হলেও শিগগিরই বদলে গেল রঙ। বড় শট, নির্ভয়ে রান রোটেশনদুটিতেই সামনে শেফালি। এক সময় সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে পড়লেও শেষে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ৮৭ রানে। কী দারুণ ইনিংস! তিন বছর ধরে ওয়ানডেতে হাফসেঞ্চুরি নেইএ কথা ভুলিয়ে দিলেন বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে। বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও প্রথমে জায়গা ছিল নাএকেবারে সিনেমার চিত্রনাট্য।স্মৃতি মন্ধানা ৪৫ রানে আউট হন। জেমাইমা রদ্রিগেসের ২৪ রান, অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের ২০যেখানে সবাই শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, সেখানে দুই ভারতীয় ভরসা দীপ্তি শর্মা ও রিচা ঘোষ সামলালেন ইনিংস। দীপ্তির অর্ধশতরান, আর রিচার দাপুটে ২৪ বলে ৩৪ রানে ভারত ৩০০ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। কয়েকটা শট আর সাহসে হয়তো ২৫-৩০ রান আরও বাড়ানো যেতসেটা নিয়েই এখন আলোচনা।এখন প্রশ্ন একটাইএই রান কি যথেষ্ট? স্পিন বোলিং আর দর্শকদের গর্জন কি দেশকে এনে দেবে প্রথম নারী বিশ্বকাপ? দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক বলেই দিয়েছিলেন, এই পিচে রান তাড়া সহজ। তাই ম্যাচ এখন পুরোপুরি বোলারদের হাতে।স্টেডিয়ামের শব্দঅর্কেস্ট্রা, নীল পতাকার ঢেউ এবং লক্ষ মুখে একটাই ডাকচলো মেয়েরা! রোহিতবিরাটদের অসম্পূর্ণ গল্প কি এবার মেয়েরাই পূর্ণ করবেন?

নভেম্বর ০২, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • 17
  • ...
  • 139
  • 140
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

একের পর এক মামলার চাপে অভিষেক! এবার কি আরও বড় আইনি সংকট সামনে?

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রদেশে দায়ের হওয়া একটি মানহানি মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক সভায় দেওয়া বক্তব্যে এক বিজেপি নেতাকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। মামলার শুনানির জন্য একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও তিনি আদালতে হাজির হননি বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর আদালতের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তিনি অন্তর্বর্তী স্বস্তি পেয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক আদালতি সিদ্ধান্তকে ঘিরে আবারও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।এদিকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দলের অন্দরে নেতৃত্ব ও সংগঠন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, দলীয় স্তরেও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও মতভেদ দেখা দিয়েছে।শুধু তাই নয়, গত কয়েক মাসে একাধিক মামলার তদন্তে বিভিন্ন সংস্থার তলবের মুখোমুখি হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি মামলায় তিনি তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ পেয়েছেন এবং সেই অনুযায়ী তদন্তকারী সংস্থার দপ্তরে হাজিরাও দিয়েছেন। অন্য কয়েকটি মামলাতেও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।এছাড়াও বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে তাঁর নাম উঠে এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও সামনে আসেনি।নতুন আদালতি পরিস্থিতির ফলে আগামী দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। একই সঙ্গে এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

জুন ১৭, ২০২৬
দেশ

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ! কেন হঠাৎ টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান কেন্দ্রের?

প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই আবহে টেলিগ্রামের একাধিক চ্যানেলের কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, কিছু চ্যানেল পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করছিল এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছিল।সরকারি সূত্রের দাবি, শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সক্রিয় একাধিক প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, এটি কোনও মতপ্রকাশ বা কণ্ঠরোধের বিষয় নয়। বরং পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। তাদের দাবি, কয়েকজন দুষ্কৃতীর কর্মকাণ্ডের জন্য বিপুল সংখ্যক সাধারণ ব্যবহারকারী সমস্যার মুখে পড়ছেন। সংস্থার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের উপর প্রভাব পড়ছে।এদিকে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার দাবি, গত কয়েক মাস ধরে একাধিক সন্দেহভাজন চ্যানেলের উপর নজর রাখা হচ্ছিল। তদন্তে দেখা যায়, কিছু চ্যানেল প্রকাশ্যে প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করছিল।তবে পরীক্ষা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং প্রতারণামূলক। পরীক্ষার্থীদের কোনওভাবেই এমন প্রলোভনে পা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনও বার্তা বা চ্যানেলের তথ্য প্রশাসনকে জানানোর আবেদনও করা হয়েছে।পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রশ্নে এখন নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা মহলের।

জুন ১৭, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলের পর এবার সমাজবাদী পার্টি? বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় উত্তরপ্রদেশ রাজনীতি

দেশের রাজনীতিতে আবারও দলভাঙার জল্পনা ঘনীভূত হচ্ছে। তৃণমূল এবং শিবসেনাকে ঘিরে বিতর্কের পর এবার সমাজবাদী পার্টিকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের এক মন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক মহল।সূত্রের দাবি, আগামী দিনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন সংসদে আনার প্রস্তুতি চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং তাদের সাংসদদের অবস্থান নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আবহেই সমাজবাদী পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনা সামনে এসেছে।এক মন্ত্রীর দাবি, সমাজবাদী পার্টির ভিতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং দল ভাঙার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাংসদ নাকি অন্য রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার বিষয়ে ভাবছেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একটি কথিত তালিকাকে ঘিরে। দাবি করা হয়েছে, কয়েকজন সাংসদের নাম নিয়ে একটি তালিকা তৈরি হয়েছে এবং তা দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে। যদিও এই দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।এদিকে সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতারা এই সমস্ত জল্পনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, দলের মধ্যে কোনও ভাঙনের পরিস্থিতি নেই এবং বিরোধীদের পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।দলের এক প্রবীণ নেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কোনও তালিকা কারও হাতে দেননি এবং দল ভাঙার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর দাবি, সমাজবাদী পার্টি আগের মতোই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের নানা ঘটনাকে সামনে রেখে এই ধরনের জল্পনা আরও বাড়তে পারে। কারণ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে দলবদল ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছে।ফলে সমাজবাদী পার্টিকে ঘিরে ওঠা এই নতুন বিতর্ক আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে নজর রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। আপাতত দাবি ও পাল্টা দাবির মধ্যেই উত্তপ্ত উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন।

জুন ১৭, ২০২৬
কলকাতা

বুলডোজারে আপাতত ব্রেক! হকার উচ্ছেদে বড় রায়, স্বস্তির নিঃশ্বাস হাজার হাজার পরিবারের

হকার উচ্ছেদ নিয়ে চলা বিতর্কে বড় স্বস্তির খবর। কলকাতা হাই কোর্ট আপাতত একাধিক এলাকায় হকার উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। ফলে বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গনগর, মথুরাপুর, যাদবপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় আগের উচ্ছেদ নোটিস এখনই কার্যকর করা যাবে না।আদালতে মামলাকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যেভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে, তাতে বহু মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, জীবিকার অধিকার এবং বেঁচে থাকার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত অধিকার। হাজার হাজার পরিবার ছোট দোকান, ঠেলাগাড়ি বা অস্থায়ী ব্যবসার উপর নির্ভর করে সংসার চালায়। হঠাৎ করে উচ্ছেদ করে দিলে তাদের জীবন ও জীবিকা সংকটে পড়বে।মামলাকারীদের আইনজীবীর বক্তব্য, রাষ্ট্রের দায়িত্ব দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাঁদের শত্রুর মতো আচরণ করা নয়। অথচ বহু জায়গায় আচমকা বুলডোজার নিয়ে গিয়ে দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয় আদালতে। এমন পরিস্থিতিতে বহু মানুষ রাত জেগে নিজেদের দোকান ও জীবিকা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করা হয়।আদালতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কোনও জায়গায় মানুষ বসবাস বা ব্যবসা করে এলে সেই বিষয়টি বিবেচনা না করে হঠাৎ উচ্ছেদ করা উচিত নয়। অতীতে সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের কথাও তুলে ধরা হয়।অন্যদিকে রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট জমি বহু বছর আগে আইনসম্মতভাবে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সেই জমি ব্যবহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নোটিসও দেওয়া হয়েছিল। তাই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া আইন মেনেই করা হচ্ছে বলে দাবি করে রেল।শুনানির সময় আদালত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে যাঁদের বৈধ অনুমতি বা লাইসেন্স ছিল, তাঁদেরও উচ্ছেদ করা হয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আপাতত উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ জারি করেছে। ফলে বহু হকার ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই বিতর্কের উপর নজর থাকবে প্রশাসন, আদালত এবং সাধারণ মানুষের।

জুন ১৭, ২০২৬
কলকাতা

একসময় ছিল দেশের ভরসা, আজ বিস্মৃত ইতিহাস! ফের আলোচনায় ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস

একসময় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস। দুই বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে সীমান্ত রক্ষা এবং জঙ্গি দমনএকাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে এই বাহিনী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই গৌরব অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও গুরুত্বহীনতার কারণে বাহিনীটি প্রায় বিস্মৃতির আড়ালে চলে গিয়েছে।সম্প্রতি এই বাহিনীকে ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা শুরু হয়েছে। দার্জিলিং সফরে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসকে আবারও শক্তিশালী করা হবে। তাঁর বক্তব্য, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এক হাজার যুবক-যুবতীকে এই বাহিনীতে নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে মহিলাদের জন্যও উল্লেখযোগ্য সংরক্ষণের কথা জানানো হয়েছে।ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনীতে মূলত পাহাড়ি অঞ্চলের যোদ্ধাদের নিয়োগ করা হত। দেশভাগের আগে বিভিন্ন যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তারা। স্বাধীনতার পরও সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় এই বাহিনীর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।পরবর্তীকালে বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিবর্তনের ফলে বাহিনীর গুরুত্ব কমতে শুরু করে। একসময় জঙ্গি দমন অভিযানে নিয়মিত ব্যবহৃত হলেও পরিস্থিতি বদলের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভূমিকা সীমিত হয়ে যায়। ধীরে ধীরে নিয়োগ, পরিকাঠামো এবং আধুনিকীকরণেও গতি কমে আসে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই বাহিনীর উন্নয়ন নিয়ে কার্যকর উদ্যোগের অভাব ছিল। ফলে বহু দক্ষ ও ঐতিহ্যবাহী সদস্য থাকা সত্ত্বেও বাহিনীটি তার পুরনো অবস্থান হারায়।এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে এই বাহিনীকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।এছাড়াও ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এই বাহিনীকে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা যাচ্ছে।একসময় যে বাহিনী দেশের নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ ছিল, তাকে আবারও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

জুন ১৭, ২০২৬
দেশ

ফের ভাঙনের মুখে উদ্ধব শিবির! হঠাৎ উধাও একাধিক সাংসদ, দিল্লিতে বড় রাজনৈতিক নাটক

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড় অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলছে। একসময় শিবসেনা ভেঙে আলাদা শিবির গড়েছিলেন একনাথ শিন্ডে। সেই ঘটনার পর নতুন করে ধাক্কার মুখে পড়তে চলেছে উদ্ধব ঠাকরের দল। সূত্রের খবর, দলের একাধিক সাংসদ আচমকাই যোগাযোগের বাইরে চলে গিয়েছেন। তাঁদের ফোন বন্ধ থাকায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, অন্তত ছয় থেকে সাতজন সাংসদ শিবির বদলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন দিল্লিতে গিয়ে একনাথ শিন্ডের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলেও খবর। এই সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই দলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়ছিল। সেই অসন্তোষই এবার প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যাঁদের নাম সামনে এসেছে, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। ফলে তাঁদের সম্ভাব্য বিদ্রোহ উদ্ধব শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।দল ভাঙার এই সম্ভাব্য প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন একটি নামও ঘুরছে। সূত্রের দাবি, পুরো পরিকল্পনাকে ঘিরে বিশেষ কৌশল নেওয়া হয়েছে এবং সেই কারণেই সাংসদদের আচমকা অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নিয়ে এত আলোচনা শুরু হয়েছে।অন্যদিকে উদ্ধব ঠাকরে নিজে এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।এদিকে একনাথ শিন্ডেও বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আগামী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ সম্ভাব্য বৈঠকের পর বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন।শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরের আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের জন্য দলের দরজা খোলা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন শিন্ডে শিবিরের এক শীর্ষ নেতা। সেই মন্তব্যের পর থেকেই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।একসময় যে দল মহারাষ্ট্র রাজনীতির অন্যতম শক্তিশালী মুখ ছিল, সেই দলের ভবিষ্যৎ এখন নতুন করে প্রশ্নের মুখে। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বে থাকা শিবির কি এই ধাক্কা সামলাতে পারবে, নাকি আবারও বড় ভাঙনের সাক্ষী হবে মহারাষ্ট্রসেই উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।

জুন ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মাত্র ২৮ বছরেই ইতিহাসের দরজায় এমবাপে! আর মাত্র তিন গোল, তারপরই বিশ্ব ফুটবলে মহারেকর্ড

বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস লেখার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপে। সেনেগালের বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্সে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে ৩-১ ব্যবধানে জিতিয়ে রেকর্ডের খাতায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তুললেন এই তারকা ফুটবলার।আট বছর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে এক কিশোরকে দেখে বিস্মিত হয়েছিল ফুটবল বিশ্ব। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার ক্ষমতা নজর কেড়েছিল সকলের। সেই কিশোরই আজ বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। বয়স এখনও মাত্র ২৮, অথচ ইতিমধ্যেই তিনি পৌঁছে গিয়েছেন একের পর এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের সামনে।সেনেগালের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথমার্ধে ফ্রান্স বেশ কয়েকবার আক্রমণ গড়লেও গোলের দেখা পায়নি। এমবাপেকে কড়া নজরে রেখেছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ। ফলে তাঁকে খুব বেশি জায়গা দেওয়া হয়নি।দ্বিতীয়ার্ধে ফরাসি কোচ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন করেন। এমবাপেকে মাঝের জায়গা থেকে সরিয়ে প্রান্তে খেলানো শুরু হয়। আর সেই পরিবর্তনের ফল মিলতে সময় লাগেনি। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে সতীর্থের পাস থেকে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে।এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আবারও জ্বলে ওঠেন তিনি। অতিরিক্ত সময়ে দুরন্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় ফ্রান্সের জয়।তবে শুধু ম্যাচ জেতানো নয়, এই দিনটি এমবাপের জন্য বিশেষ হয়ে থাকল আরও একটি কারণে। ফ্রান্সের জার্সিতে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে গেল ৫৮-তে। এর ফলে তিনি ছাড়িয়ে গেলেন দেশের প্রাক্তন কিংবদন্তি অলিভিয়ের জিরুকে এবং ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এলেন।একই সঙ্গে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৪। প্রথম বিশ্বকাপে চার গোল, পরের আসরে আট গোল এবং এবার শুরুতেই দুই গোল করে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন এই মাইলফলকে। এর ফলে তিনি ছাড়িয়ে গিয়েছেন ফরাসি কিংবদন্তি জুল ফন্টেকেও।এখন বিশ্ব ফুটবলের নজর একটাই প্রশ্নে। আর মাত্র তিন গোল করলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করবেন এমবাপে। বয়স, ফর্ম এবং ধারাবাহিকতা বিচার করলে সেই রেকর্ড ভাঙা সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও প্রমাণ হল, কিলিয়ান এমবাপে শুধু বর্তমানের তারকা নন, তিনি ভবিষ্যতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। আর সেই কিংবদন্তির নতুন অধ্যায় দেখার অপেক্ষায় এখন গোটা ফুটবল বিশ্ব।

জুন ১৭, ২০২৬
কলকাতা

মেসিকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ! কলকাতা পুলিশকে চিঠি, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

মেসিকে ঘিরে বিতর্কে ফের নতুন মোড়। এবার কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠালেন আর্জেন্টিনার মহাতারকার ম্যানেজমেন্ট টিমের প্রতিনিধিরা। সেই চিঠিতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, মেসির মাঠে উপস্থিতির সময় নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা বিধি আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের ভেতরে কোনও বিশেষ অতিথি বা ভিআইপির থাকার অনুমতি ছিল না। শুধুমাত্র কয়েকজন অনুমোদিত ক্যামেরা কর্মী উপস্থিত থাকতে পারতেন। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ।ম্যানেজমেন্ট টিমের দাবি, নির্ধারিত তালিকার বাইরে একাধিক ব্যক্তি মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। এমনকি অনেক অননুমোদিত ফটোগ্রাফার ও ক্যামেরা কর্মীকেও সেখানে দেখা যায়। এর ফলে মাঠের পরিবেশ বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু ব্যক্তি বারবার মেসির খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তাঁর ব্যক্তিগত পরিসর ও স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে পরিকল্পিত কিছু কর্মসূচি বাতিল করে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন মেসি এবং তাঁর দলের সদস্যরা।এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। তাঁর দাবি, মেসির সফরের পরামর্শদাতা ও প্রতিনিধি পুলিশকে পাঠানো ইমেলে স্পষ্টভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, মাঠে বহু অননুমোদিত ব্যক্তি প্রবেশ করেছিলেন এবং সেই কারণেই সফরের কিছু অংশ বাতিল করতে হয়েছিল।শতদ্রু দত্ত আরও দাবি করেছেন, এতদিন যেসব অভিযোগ সামনে আনা হয়েছিল, সেই চিঠি নাকি তারই সমর্থন করছে। তাঁর মতে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী এই অভিযোগগুলির কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।এদিকে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে হ্যাটট্রিক করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মেসি। সেই আবহের মধ্যেই এই চিঠি সামনে আসায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। ফুটবল মহল থেকে রাজনৈতিক মহলসব জায়গাতেই এখন আলোচনা একটাই, যুবভারতীতে সেদিন আসলে কী ঘটেছিল?চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আসার পর গোটা ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে তদন্ত ও আলোচনার দাবি উঠেছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।

জুন ১৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal