• ২০ আশ্বিন ১৪৩৩, শনিবার ১০ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Farmer

রাজ্য

বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে তরিদাহত হয়ে মৃত্যু হল এক কৃষকের

বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু হল এক কৃষকের। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে বর্ধমানের জামালপুরে। জামালপুর থানার কানঘোষা গ্রামে শুক্রবার এক সরোজ মালিক (৩৩) নামে এক ব্যক্তি চাষের জমিতে যাওয়ার পথে বিদ্যুতের ছেঁড়া তাঁরে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যান বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। মৃতদেহ বাড়ির সামনে রেখে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় এলাকার মানুষজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় জামালপুর থানার পুলিশ। তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।স্থানীয়দের অভিযোগ একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো স্বত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এলাকাবাসী জানায়, এর আগে তড়িদাহত হয়ে গবাদি পশু মারা গেছে বেশ কিছু দিন আগে। তারপরেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলে।

অক্টোবর ২৮, ২০২২
রাজ্য

অবলুপ্ত প্রায় প্রাণী ও পতঙ্গের মৃতদেহ সংরক্ষণ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে পুরস্কৃত ভাগ চাষি ছেলে

প্রকৃতির অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্যে সর্বাগ্রে দরকার প্রাণী ও উদ্ভিদকুলের সঙ্গে মানুষের বন্ধন। কিন্তু নগরায়ন, অরণ্য বিনাশ, প্ল্যাস্টিকের ব্যবহার ও মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের জন্যে অবলুপ্তি ঘটেছে সেই বন্ধনের। তার কারণে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী,পতঙ্গ ও উদ্ভিদ। এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে কয়েক বছর ধরে এক অনবদ্য কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞান নিয়ে পড়ুশানা করা বাঙালি ছাত্র তরুণ পাল। তিনি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সহায়তা নিয়ে সংরক্ষণ করে রাখছেন বিলুপ্ত হতেবসা বভিন্ন প্রাণী ও পতঙ্গের মৃত দেহ। আর এই কাজেরই স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি পেয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের নানা পুরস্কার ও মানপত্র। যা নিয়ে গর্বিত ছাত্র তরুণের পরিবার পরিজন ও এলাকাবাসী।দার্জিলিং হিল ইউনিভার্সিটি থেকে গণিত বষয়ে এম-এসসি পাঠরত ছাত্র তরুণ পালের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের বোঁয়াইচণ্ডী গ্রামে। তাঁর বাবা নিত্যানন্দ পাল পেশায় ভাগ চাষি। মা ঝর্ণাদেবী সাধারণ গৃহবধূ।বোন মনীষা পাল পড়াশুনা করছে স্নাতক স্তরে। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা কালেই বিভিন্ন প্রাণী,পতঙ্গ ও উদ্ভিদের বিষয়ে জানার আগ্রহ বাড়তে শুরু করে ছাত্র তরুণের। সেই সময় থেকেই তিনি বিভিন্ন প্রাণী,পতঙ্গ ও উদ্ভিদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে হাই স্কুলে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা কালে তরুণ জানতে পারেন শুধু ডাইনোসর, নয়, আরো অনেক প্রাণী ও পতঙ্গ এই পৃথিবী থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তিনি শিক্ষকদের কাছথেকে ও বই পড়ে এও জানতে পারেন, এই বিলুপ্তির কারণ মূলত নগরায়ন, অরণ্য বিনাশ, প্ল্যাস্টিকের ব্যবহার ও মানুষের নানা কর্মকাণ্ড। এরপর উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পাঠরত কাল থেকেই ছাত্র তরুণ পাল বিভিন্ন প্রাণী ও কীটপতঙ্গের মৃতদেহ সংরক্ষণ করে রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন। এর কারণ প্রসঙ্গে তরুণের বক্তব্য, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পরেও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁর সংরক্ষণে থাকা প্রাণী ও পতঙ্গের দেহ গুলি দেখে তাদের বিষয়ে জানতে পারবে।তরুণ পাল জানান, নগরায়নের জাঁতাকলে পড়ে গ্রামে গঞ্জেও বনাঞ্চল কমছে। এছাড়াও দূষণ যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে প্লাস্টিক ও কিটনাসকের ব্যবহার। এইসবের কারণে বিভিন্ন প্রাণী ও কীটপতঙ্গ অবলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তা অনুধাবন করেই তিনি প্রথম সংরক্ষণ করেন একটি মৃত খরগোশের দেহ। এই কাজটি করার জন্যে তিনি স্কুল জীবনে ল্যাবরেটরিতে ছুরি, কাঁচির ব্যবহার বিষয়ে যে শিক্ষা পেয়েছিলেন সেটাকেই কাজে লাগান।তরুণ পাল বলেন, প্রথমে ছুরি ও কাঁচির সাহায্যে মৃত খরগোসের দেহ থেকে নাড়িভুঁড়ি ও অন্যান অংশ কেটে বের করে দেন। তারপর নিজস্ব পদ্ধতিতে তৈরি ফরমালিন মেশানো লবন সিক্ত জলে ওই খরগোশের দেহ ৭-৮ ঘন্টা চুবিয়ে রাখার পর সেটিকে শুকিয়ে নেন। এরপর খরগোশের ওই গোটা দেহাংশ অক্সিজেন বিহীন কাঁচের জারে ভরে শিল করে দেন। ৫-৬ বছর হয়ে গেল ওই কাঁচের জারেই অক্ষত রয়েছে খরগোশের দেহাংশ। কোন পচনও ধরে নি। একই পদ্ধতি অনুসরণ করে ফিতাকৃমি, বেঙাচি, সাপের বাচ্চা, বেজি, গিরগিটি,তেঁতুলে বিছা, মথ, রাত পাখি, ইঁদুরের ভ্রুণ এবং শিবলিঙ্গ ফুল সংরক্ষণ করে বাড়িতে রেখেছেন বলে ছাত্র তরুণ পাল জানিয়েছেন।জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহল থকে পুরস্কৃত ভাগ চাষি ছেলেঅভিনব ভাবনার এই কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ভাগ চাষীর ছেলে তরুন পাল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহল থেকেও নানা পুরস্কার এবং মানপত্র পেয়েছেন। হোপ ইন্টারন্যাশানাল, ইন্ডিয়ান,স্টেট ও স্টার বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এর স্বীকৃতি পত্র ও পুরস্কার তরুণ পালের ঘরে তো সাজানো রয়েইছে। এছাড়াও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রেকর্ড, ডিসকভার ওয়ার্ল্ড রেকর্ড, ওয়ার্ল্ড গ্রেটেস্ট রেকর্ড, ইন্ডিয়াস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সহ ১৭ টি সংস্থার স্বীকৃতি ও পুরস্কার ইতিমধ্যেই ছাত্র তরুণ লাভ করেছেন।ছেলের এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে গর্বিত তাঁর বাবা নিত্যানন্দ পাল ও মা ঝর্ণাদেবী। নিত্যানন্দ বাবু বলেন,ছেলে মরা প্রাণী ও পতঙ্গ নিয়ে আসলে কি করতে ছাইছে তার কিছুই প্রথমে তিনি বুঝতে পারিনি। পরে ধীরে ধীরে বুঝতে পারি আমার ছেলে তরুণের ভাবনার গভীরতা অনেক। এই টুকু বুঝেছি, একটা দিন হয়তো এমন আসবে যখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা অবলুপ্ত হয়ে যাওয়া অনেক প্রাণী ও পতঙ্গের বিষয়ে জানতে আমার বাড়িতেই আসবে। মা ঝর্ণাদেবী বলেন, আমার ছেলে তরুণ শুধু মাত্র বিলুপ্ত হতে বসা প্রাণী ও পতঙ্গের দেহ সংরক্ষণ করে রাখার কাজের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে নি। বাবা ও মায়েরা তাঁদের শিশুকে কিভাবে মানুষ করলে ও শিক্ষা দিলে ওই শিশুর মধ্যে সু-ভাবনা চিন্তা সম্পন্ন মানসিকতা গড়ে উঠবে এবং বড় হয়ে সে সকলের জন্য ভাববে এই বিষয়টি নিয়ে তরুণ গবেষণা মূলক একটি বইও লিখছে। পাশাপাশি অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষজনের ভালোর জন্যে কিছু কাজ করার ব্যাপারেও উদ্যোগ নিচ্ছে ছেলে তরুণ। মানব কল্যাণমূলক কাজে ছেলের সাথী হতে চান বলে ঝর্ণাদেবী জানিয়েছেন। খণ্ডঘোষের জেলাপরিষদ সদস্য অপার্থিব ইসলাম ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অসিত কুমার বাগদি বলেন, তরুণ পালের ভবনা চিন্তা ও কর্মকাণ্ড এক কথায় অনবদ্য। উনি গোটা খণ্ডঘোষ বাসীকে গর্বিত করেছেন। যে কোন প্রয়োজনে উনার পাশে আমরা থাকবো।

মে ২২, ২০২২
রাজ্য

ইণ্ডিয়ান অয়েলের পাইপলাইন বসানোর কাজ বন্ধ করে দিল পূর্ব বর্ধমানের চাষিরা

ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে ইন্ডিয়ান অয়েলের পাইপ লাইন বসানোর কাজ বন্ধ করে দিল চাষিরা।আন্দোলনকারী ওই চাষিরা সকলেই পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের কৈয়র পঞ্চায়েতের গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের আন্দোলনের জেরে এখন থমকে রয়েছে বাঁকুড়া-মসাগ্রাম রেল পথের কৈয়র স্টেশন লাগোয়া লেবেল ক্রশিং এলাকায় মাটির নিচ দিয়ে তেলের পাইপ লাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কর্তারা চাষিদের সঙ্গে বৈঠক করার পরেও উদ্ভুত সমস্যার সমাধানের রাস্তা বের না হওয়ায় বিপাকে পড়ে গিয়েছেন ইন্ডিয়াল অয়েল কর্তৃপক্ষ।প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ কয়েক বছর আগে মাটির তলা দিয়ে তেলের পাইপলাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করে। সেই পাইপ মারফত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বারাবনি থেকে পৌছাবে হলদিয়ায়। সেই কাজের জন্য ২০২০ সালে খণ্ডঘোষ ব্লকের কৈয়ড় ও গোপালপুর মৌজায় জমি চিহ্নিত করে ইণ্ডিয়াল অয়েল কর্তৃপক্ষ। তার পর চাষের জমি দিয়ে তেলের পাইপ লাইন বসানোর কাজও শুরু হয়। তখনকার মত সব কিছু ঠিকঠাক চললেও পরবর্তী সময়ে ক্ষতিপূরণ নিয়ে চাষিদের সঙ্গে ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষের বিরোধ বাধে। যে বিরোধ এখন চরমে পৌছেছে। চাষ জমির মালিকদের আন্দোলনের জেরে এখন বাঁকুড়া-মসাগ্রাম রেল পথের কৈয়র স্টেশন লাগোয়া লেবেল ক্রশিং এলাকায় মাটির নিচ দিয়ে তেলের পাইপ লাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ থমকে রয়েছে।আন্দোলনকারী গোপলপুর এলাকার চাষি এমদাদুল হক মণ্ডল জানান, তেলের পাইপ লাইন চাষের জমির মাটি খুঁড়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ কৈয়ড় ও গোপালপুর মৌজায় শুরু হয়। কিন্তু ওই কাজের জন্য সঠিক কি ক্ষতিপূরণ চাষিদের প্রাপ্য সে সন্মন্ধে চাষিদের পরিস্কার কিছু জানায়নি ইণ্ডিয়াল অয়েল কর্তৃপক্ষ বা তাঁদের অধীনস্ত লোকজন। কোনও ক্ষতিপূরণ বা নগদ টাকা প্রদান কোন কিছু না করেই কাজ শুরু হয় যায়। গভীর ভাবে মাটি খুঁড়ে গোটা চাষ জমি লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে তেলের পাইপ লাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ হলেও জমি চাষের উপযুক্ত করে দেওয়ার কোন ব্যবস্থাও তেল সংস্থার লোকজন করে দেয়নি। এর কারণে ওইসব জমিতে চাষও মার খায়। এলাকার অপর চাষি লাল্টু শেখ জানান, এর পর ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ দিতীয় পর্যায়ে পাইপ লাইন বসানোর কাজ শুরু করলে শুধুমাত্র একটি ফসলের জন্য যৎসামান্য ক্ষতিপূণের ব্যবস্থা করে। একই ভাবে এই কাজের পরেও ইণ্ডায়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ কোন চাষির চাষ জমি-ই পুনরায় চাষের উপযুক্ত করে দেয়নি। তার জন্য আবারও চাষিরা তাঁদের জমিতে চাষ করতে না পারায় চাষ মার খায়। লাল্টু শেখ বলেন, চাষের উপর নির্ভর করেই কৈয়র, গোপালপুর সহ আশপাশ এলাকার মানুষজনের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হয়। ইণ্ডায়ান অয়েল কর্তৃপক্ষের এমন কাজ কারবারের জন্য এলাকার বহু চাষি এখন মহাসংকটে পড়ে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সঠিক ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে চাষিরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত এলাকায় তেলের পাইপ লাইন বসানোর কাজ করতে দিতেও নারাজ চাষিরা।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে চাষিরা এমন অনড় মনোভাব দেখিয়ে চলায় সম্প্রতি ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ ও চাষিদের নিয়ে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়। সেই বৈঠকে ইণ্ডিয়ান অয়েলের(আই ও সি এল) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুব্রত দুবে ,খণ্ডঘোষ ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক ও পুলিশ কর্তারাও উপস্থিত থাকেন। কিন্তু সঠিক ক্ষতিপূরণ মূল্য বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন সিদ্ধান্তে পৌছানো না যাওযায় অচলাবস্থা কাটে না। এই বিষয়ে সুব্রত দুবে যদিও সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু বলতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, বিষয়টি অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ লেবেল দেখছে। তবে ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক ও খণ্ডঘোষের জেলাপরিষদ সদস্য অপার্থিব ইসলাম উদ্ভুত সমস্যার জন্য ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেছেন। এনারা বলেন, চাষিরা নেজ্যক্ষতিপূরণের যে দাবি তুলেছেন সেটা যুক্তি সঙ্গত। ক্ষতিপূরণ মূল্য নির্ধারণ নিয়ে ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ ভুলভাল কাজ করেছে । তার জন্যই সঠিক ক্ষতিপূরণ মূল্য আশলে তা নিয়ে গ্রামবাসিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। এই দ্বন্দ্ব দ্রুত মেটানো না গেলে জুলাই ২০২২ সালের মধ্যে তেলের পাইপ লাইন আদৌ হলদিয়া পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যাবে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন বলে অপার্থিব ইসলাম মন্তব্য করেছে।এরপর ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ জানুয়ারি মাস নাগাদ খণ্ডঘোষ ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকাতেও শুরু করে। পাইপলাইন বাসানোর জন্য চাষের যে ক্ষতি হবে তার ক্ষতিপূরণ মিলবে বলে চাষিরা ইণ্ডিয়াল অয়েল কর্তৃপক্ষর কাছ থেকে আশ্বাস পায়। সেই কারণে চাষিরা তাঁদের জমির মাটি খুঁড়ে তেলের পাইপ লাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ নিয়ে কোন ওজর আপত্তি তোলেনি।

মার্চ ১০, ২০২২
রাজ্য

জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণে নয়ানজুলি বোজানোয় ডিভিসির জলে ডুবলো আলু জমি, অবরোধ ক্ষুব্ধ চাষীদের

জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ কাজের জন্য নয়ানজুলি বুজে থাকায় ভিভিসি (Damodar Valley Corporation) জল ছাড়তেই জলে ডুবলো আলু চাষের জমি। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে ২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন ক্ষুব্ধ চাষীরা। ঘন্টা খানেকের অবরোধ বিক্ষোভের জেরে এদিন সকালের দিকে জাতীয় সড়কে যানবাহন চলাচল একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে যায়। দূর পাল্লার বাস সহ বিভিন্ন যানবাহন জাতীয় সড়কে যানজটে আটকে পড়ে। খবর পেয়ে শক্তিগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাষিদের সঙ্গে কথা বলে । পরে প্রশাসন ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন চাষিরা।প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে শক্তিগড় এলাকায় জোরকদমে চলছে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণের কাজ। সেই কাজ করতে গিয়ে চাষের জমিতে সেচের জল যাবার জন্য জাতীয় সড়কের ধারে থাকা নয়ানজুলি বুজিয়ে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে বোরোধান চাষের জন্য ডিভিসির সেচ খালে জল ছাড়া হয়। নয়ানজুলি বুজে থাকার জন্য সেই জল প্রবাহিত হতে না পেরে বদ্ধ নয়ানজুলি থেকে উপচে গিয়ে সোমবার রাতে অসপাশের ফলন্ত আলু জমিতে ঢুকে পড়ে। তার কারণে শক্তিগড়, আমড়া ও বড়শুল এলাকার বিঘের পর বিঘে আলুর জমি জলে ডুবে যায়। মঙ্গলবার সকালে ফলন্ত আলু জমি জলে ঢুবে থাকতে দেখে কার্যত মাথায় হাত পড়ে যায় আলুচাষীদের। ফসলের এই ক্ষতি মেনে নিতে না পেরে ক্ষিপ্ত চাষিরা এর পরেই ২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে দেন।ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষী সেখ নজরুল ইসলামআমড়া এলাকার বাসিন্দা আলুচাষী সেখ নজরুল ইসলাম বলেন, প্রথমে জমিতে আলুচাষ করার পর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে চাষীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রবল বর্ষণে আলুর জমি ডুবে যায়। পচে যায় আলুগাছ। তারপর ফের তারা জমি তৈরি করে আলু চাষ করেন। আর এখন নয়ানজুলি বুজে থাকার জন্য ডিভিসির সেচখালে ছাড়া জল আলুর জমিতে ঢুকে গিয়ে পাকা আলু জমির অপূরণীর ক্ষতির করে দিল। তিনি দাবী করেন আমড়া, শক্তিগড় ও বড়শুল নিয়ে কম করে একশো বিঘে আলু জমিতে জল ঢুকেছে। সমস্ত আলু জমি এরজন্য ক্ষতিগ্রস্ত হল।এলাকার অপর আলুচাষী বাবুল মণ্ডল বলেন, এখন সবেমাত্র জমি থেকে আলু তোলার মরশুম শুরু হয়েছে। আলু জমি জলে ঢুবে যাওয়ায় এখন চাষীরা চরম সংকটে পড়লেন। এবছর আলুর দামও এমনিতে উর্দ্ধমুখী। বর্তমানে একবস্তা (৫০ কেজি) আলুর দাম ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। এই অবস্থায় জমিতে জল দাঁড়িয়ে গেলে পাকা আলু পচে যাবে। চাষীরা এবছর এমনিতেই সমস্যায় জেরবার। শীতে বারে বারে অকাল বর্ষণে দুবার করে আলু চাষ করতে হয়েছে। তাতে বাজারে ও মহাজনী ধারদেনা হয়েছে। প্রশাসন ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না করলে চাষীরা মহা সংকটে পড়বে।জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া বলেন, চাষীদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ভাবতে হবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে। আমরা এই বিষয়ে ওদের সঙ্গে আলোচনা করছি। চাষীদের ক্ষতি মেনে নেওয়া যাবে না।

মার্চ ০১, ২০২২
দেশ

কৃষিক্ষেত্রে নয়া অধ্যায়, ১০০ টি কিষাণ ড্রোনের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষকদের সুবিধার্থে, শনিবার দেশের বিভিন্ন শহর ও টাউনে ১০০টি কিষাণ ড্রোনের সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই কিষাণ ড্রোনের সাহায্যে জমিতে কীটনাশক স্প্রে করতে সুবিধা হবে কৃষকদের। এই কিষাণ ড্রোনের সূচনাকে আধুনিক কৃষি সুবিধার ক্ষেত্রে নয়া অধ্যায় বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীতে আধুনিক কৃষি সুবিধার লক্ষ্যে একটি নতুন অধ্যায়। আমি নিশ্চিত এই সূচনা শুধুমাত্র ড্রোন সেক্টরের উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে প্রমাণিত হবে না, বরং সীমাহীন সম্ভাবনার পরিধিও খুলে দেবে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, আমাকে বলা হয়েছে, গরুড়া অ্যারোস্পেস আগামী ২ বছরে ১ লক্ষ মেড ইন ইন্ডিয়া ড্রোন তৈরির লক্ষ্য স্থির করেছে। এর ফলে যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থান এবং নতুন সুযোগ তৈরি হবে। প্রসঙ্গত, এদিন ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে রিমোটের বোতাম টিপে কিষাণ ড্রোন যাত্রার সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পঞ্জাব, গোয়া, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, অসম, রাজস্থান ও তেলঙ্গানায় ড্রোন যাত্রা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।মোদির মতে, ড্রোন শব্দটি শুনলেই অনেকে মনে করেন এটির সঙ্গে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোনও না কোনও যোগ রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কেবল ওই ক্ষেত্রেই আবদ্ধ নেই ড্রোনের ব্যবহার। একবিংশ শতাব্দীতে ড্রোনের ব্যবহার কৃষি ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করেছে বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সরকার ড্রোন সেক্টরে নতুন দিগন্ত খুলতে সময় নষ্ট করেনি। বরং দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বাস করে এক নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে ফেলতে তাঁরা এগিয়ে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, আমার সরকার বাজেট ও নীতিগত পদক্ষেপে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।মোদি জানান, আগামী দুবছরের মধ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে এক লক্ষ ড্রোন তৈরি করতে চাইছে ভারত। পাশাপাশি স্বামীত্ব যোজনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। গ্রামের চাষিদের মধ্যে জমির মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং ওষুধ, টিকা ও পণ্য পরিবহণের লক্ষ্যে চালকহীন যান ব্যবহারের লক্ষ্য সম্পর্কে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, এবারের বাজেটে কৃষিক্ষেত্রের আধুনিকীকরণের উপরে জোর দিয়েছে কেন্দ্র। এবার ড্রোনের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী।

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২২
রাজ্য

সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়ল বর্ধমানের চাষিরা, পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও

জমিতে উৎপাদিত ধান সরকারি সহায়ক মূল্যে বিক্রি করতে না পেরে পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন চাষিরা। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসি-১ ব্লকের লোয়া রামগোপালপুর পঞ্চায়েতে। কয়েকশো চাষি পঞ্চায়েত অফিসের গেট আটকে অবস্থান বিক্ষোভ করেন। প্রধান ও অফিস কর্মীদের অফিসে ঢুকতে না দিয়ে চাষিরা তাদের পথ আটকে দিয়ে বিক্ষোভও দেখান। চাষিদের এমন আন্দোলন ঘিরে এদিন লোয়া রামগোপালপুর পঞ্চায়েত অফিসের সামনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাষিরা এদিন অভিযোগ করেন, তাঁরা অনেক কষ্ট করে নিজ নিজ জমিতে ধান উৎপাদন করেছেন। সরকার চাষিদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কেনার ব্যবস্থাও করেছে। গলসির প্রায় সব পঞ্চায়েত সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান কেনা শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু গলসির লোয়া রামগোপালপুর পঞ্চায়েত চাষিদের কাছ থেকে সরকারু সহায়ক মূল্যে ধান কেনা শুরুর কোনও ব্যবস্থাই করতে পারেনি। প্রতিবাদী চাষিরা এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁদের জমিতে উৎপাদিত ধান অবিলম্বে পঞ্চায়েত ও প্রশাসন সরকারি সহায়ক মূল্যে কেনার ব্যবস্থা করুক। তা না হলে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করবেন। চাষি কেষ্ট ঘোষ, চন্দন মুখোপাধ্যায় বলেন,গলসির সব পঞ্চায়েত চাষিদের সরকারি সহায়ক মুল্যে ধান বিক্রি করার জন্য টোকেন দেওয়া শুরু করে দিয়েছে। অথচ তাঁদের এলাকার চাষিরা টোকেন প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত রয়ে আছেন। চাষের জন্য বহু চাষির দেনায় পরে আছে। কেউ মহাজনী ঋন নিয়ে আবার কেউ সোনা-গহনা বন্ধক রেখে চাষ করেছেন। তিন বছর ধরে চাষিরা ফলনে মার খাচ্ছে। এবার আবার ধান বিক্রির টোকেন মিলছে না। এমন চললে তাদের মরন ছাড়া পথ নেই। চন্দন মুখোপাধ্যায় জানান, তিনি ত্রিশ বিঘা জমি চাষ করেছেন। সেই ধান এখনও পযন্ত বিক্রি করতে পারেননি। সব জেনেও পঞ্চায়েত উদাসীনতা দেখিয়ে চলেছে। চাষিদের অভিযোগ প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধান পম্পা রুইদাস বলেন,তিন মাস ধরে বিডিওর সাথে চাষিদের ধান বিক্রি কথা চলেছে। শেষে সমবায় ছাড়া ডিপিসি-র মাধ্যমে ধান নেওয়া হবে না বলে তাঁকে গলসি ১ ব্লকের ব্লকের বিডিও দেবলীনা দাস জানিয়ে দিয়েছেন। সেই কারণেই তাঁদের অঞ্চলের চোদ্দোশো চাষির ধান বিক্রি হয়নি। প্রধান বলেন, এদিন চাষিদের আন্দোলনে নামা দেখে তিনি বিডিওকে ফোন করেছিলেন । কিন্তু কোন সদুত্তর পাননি। যদিও গলসি ১ ব্লকের বিডিও দেবলীনা দাস জানিয়েছেন, লোয়া রামগোপালপুর পঞ্চায়েত এর সব চাষির ধান নেওয়া হবে। তার একটা পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ওই দিন পঞ্চায়েত প্রধান গোটা বৈঠকে না থাকায় তিনি বিষয়টি জানতে পারেননি। তাই তিনি ম্যাসেজটি চাষিদের জানতে পারেননি। বুদবুদ সমবায় সমিতি ও পোতনা এলাকায় চলা ডিপিসি মাধ্যমে ৪ জানুয়ারী থেকে চাষিদের কাছ থেকে সরকারি সহায়ক মুল্যে ধান কেনা শুরু হবে।

জানুয়ারি ৩১, ২০২২
রাজ্য

পূর্ব বর্ধমানে কৃষি ঋণ নিতে গিয়ে প্রতারিত চাষি পুলিশের দ্বারস্থ

ব্যাঙ্ক থেকে কৃষি ঋণ নিতে গিয়ে প্রতারিত হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন এক চাষি। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। প্রতারিত চাষি সুশান্ত সাহানা প্রতারণার ঘটনার সবিস্তার উল্লেখ করে জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়ে চাষ করা জামালপুরের কৃষক মহলের। চাষি সুশান্ত সাহানা জামালপুর থানার হরগোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। লিখিত অভিযোগে পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, তিনি জামালপুরের শুড়েকালনা স্টেট ব্যাঙ্কের একজন গ্রাহক। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও আলু চাষের স্বার্থে কৃষি ঋণ পাওয়ার জন্য তিনি নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে ব্যাঙ্কে আবেদন করেন। ব্যাঙ্ক ম্যানেজার বিভিন্ন কাগজপত্রে তাঁকে দিয়ে সই করিয়ে নেওয়ার পর কয়েকদিন বাদে লোনের টাকা তুলে নেওয়ার কথা বলেন। ৮৩ হাজার টাকা লোন স্যাংশন হয়েছে বলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন। সেই মতো আবেদন করার কিছুদিন বাদে সুশান্ত বাবু লোনের টাকা ব্যাঙ্কে তুলতে যান। তখন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার তাঁকে বলেন, লোনের টাকা আপনি তুলেনিয়ে গিয়েছেন। আবার কিসের লোন পাবেন।ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের মুখ থেকে এমন কথা শুনে মাথায় হাত পড়ে যায় চাষি সুশান্ত সাহানার। ফের পরেরদিন ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের কাছে গিয়ে তিনি বলেন, ব্যাঙ্ক লোনের টাকা তিনি তোলেননি। তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে দেখার জন্য সুশান্ত বাবু ওইদিন ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে পুনরায় অনুরোধও করেন। কিন্তু ব্যাঙ্ক ম্যানেজার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে বসিয়ে রেখে জানিয়ে দেন পরের সপ্তাহে এসে খোঁজ নিতে। অভিযোগ, ব্যাঙ্ক ম্যানেজার এই ভাবে সুশান্ত বাবুকে দুমাস ধরে ঘোরায়।সুশান্তবাবু জানিয়েছেন, এরপর ফের একদিন লোনের টাকা না পাওয়ার কথা জানাতে তিনি ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের কাছে যান। তখন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার পুলিশ দিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে হুমকি দিয়ে তাঁকে ব্যাঙ্ক থেকে একপ্রকার তাড়িয়ে দেয়। সুশান্তবাবু দাবি করেন, ব্যাঙ্ক থেকে কৃষি ঋণ নিতে গিয়ে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পরে রবিবার জামালপুর থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।এই বিষয়ে জামালপুর থানার এক পুলিশ কর্তা বলেন, অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রকৃত কি ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। স্টেট ব্যাঙ্ক শুড়েকালনা শাখার ম্যানেজার মৃত্যুঞ্জয় কুমারকে এদিন ফোন করা হলে তিনি যদিও নিশ্চিৎ ভাবে বলতে পারেননি সুশান্ত সহানা কেসিসি লোনের টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তুলে নিয়েছেন, না তোলেননি। তবে তিনি বলেন , সুশান্তবাবু ব্যাঙ্কে এসেছিলেন। ওনাকে আমি সময় দিতে পারিনি। ব্যাঙ্কের সিসিটিভি টেকনিশিয়ান কোভিড পরিস্থিতির জন্য আসতে পারেনি বলে সিসিটিভি ফুটেজ এখনও দেখা হয়ে ওঠেনি। নথি সহ সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখতে হবে। সঠিক কি হয়ে আছে তা খতিয়ে দেখে ওই গ্রাহককে ডেকে পাঠাবেন বলে ম্যানেজার জানিয়েছেন। ছবি প্রতারিত চাষি ও ব্যাঙ্ক ।

জানুয়ারি ২৩, ২০২২
রাজ্য

Crop Damage: ফসলের ক্ষতি! হতাশায় ফের শস্যগোলায় আত্মঘাতী চাষি

জাওয়াদের প্রভাবে হওয়া বৃষ্টিপাতের জেরে ফসলের ক্ষতি হয়ে যাওয়ার হতাশায় ফের শস্যগোলায় আত্মঘাতী হল এক চাষি। এবার আত্মঘাতী হলেন পূর্ব বর্ধমানের কালনা ২ ব্লকের বৈদ্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ওসমানপুর গ্রামের এক চাষির। মৃত চাষির নাম পান্নালাল মুদিরায়(৫৬)।বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির গোয়ালঘর থেকে উদ্ধার হয় এই চাষির ঝুলন্ত মৃত দেহ। এদিনই কালনা মহকুমা হাসপাতাল মর্গে চাষির মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়। কী কারণে চাষির মৃত্যু হল তার তদন্ত পুলিশ শুরু করেছে। জাওয়াদের দুর্যোগ কাটার পর থেকে এই নিয়ে শস্যগোলায় আত্মহননের পথ বেছে নিলেন চারজন চাষি।পরিবার সদস্যা জানিয়েছেন, পান্নালাল মুদিরায় নিজের কিছু জমিতে আলু চাষ করার পাশাপাশি ভাগে কিছু জমি নিয়ে এবছর আলুর চাষ করেছিলেন। জাওয়াদের প্রভাবে কয়েকদিন আগে হয়ে বৃষ্টির জলে পান্নালালের আলু চাষের জমি জলে ঢুবে যায়। চাষের এই ক্ষতি দেখে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন পান্নালাল বাবু। তাঁর ভাই মোহনলাল মুদিরায় জানান, তাঁর দাদা নিজের ও ভাগে নেওয়া জমি মিলিয়ে দশ বিঘা জমির আলুর চাষ নষ্ট হয়ে যায় অসময়ের বৃষ্টির কারণে। তাঁর দাদা সবসময় মনমরা হয়ে থাকতো। বৃহস্পতিবার সকালে গোয়ালঘরে দাদাকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলতে দেখা যায়।মোহনলালবাবু দাবি করেন, চাষের ক্ষতির কারণে মানসিক অবসাদে তাঁর দাদা আত্মঘাতী হয়েছেন।জেলাপরিষদের সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু জানিয়েছেন, চাষিদের ফসলের ক্ষতি হলে তার হাত থেকে চাষিদের বাঁচাতে বিমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিমার প্রিমিয়াম সরকারই দিয়ে দিচ্ছে। বিমা করানোর জন্য সরকারিভাবে বারবার প্রচার চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় ক্যাম্পও করা হচ্ছে।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২১
দেশ

Farmer Protest Withdrawn: অবশেষে জয়! সিঙ্ঘু সীমান্তে প্রত্যাহার কৃষক আন্দোলন

দিল্লি সীমানায় ১৫ মাস ধরে চলা কৃষক আন্দোলনে আপতত ইতি টানলেন কৃষকরা। শনিবার সিঙ্ঘু সীমানা থেকে তাঁবু সরিয়ে নেওয়া শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন সংযক্ত কৃষক মোর্চা নেতারা। তাঁদের প্রধান দাবি মেনে নরেন্দ্র মোদি সরকার তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের পরেও কৃষক সংগঠনগুলি ছদফা দাবি তুলেছিল। সেই সব দাবি মানতে রাজি হলেও, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনিকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তারির দাবি মানছে না সরকার। বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রের কাছে থেকে চিঠি এসে পৌঁছয় কৃষকদের কাছে। এর পরই কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরকে পাশে নিয়ে আন্দোলন তোলার সিদ্ধান্ত নেন।কেন্দ্র চিঠিতে জানিয়েছে, আন্দোলনের সময় কৃষকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারে বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, হিমাচলপ্রদেশ। কেন্দ্রীয় সংস্থাও সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে। অন্য রাজ্যগুলিকে এ নিয়ে অনুরোধ জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুৎ আইন সংশোধনী বিল প্রসঙ্গে কৃষকদের আপত্তির বিষয়গুলি নিয়ে সকলের সঙ্গে আলোচনা হবে। তার আগে ওই বিল সংসদে পেশ হবে না। খড় পোড়ানো বন্ধ করার আইনে কৃষকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের ধারা আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।চিঠিতে কেন্দ্র নিজে আন্দোলনে মৃত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস না দিলেও জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা আগেই ক্ষতিপূরণে সম্মতি জানিয়েছে।আন্দোলন প্রত্যাহার করার ঘোষণার পাশাপাশি শনিবার সকাল ৯টায় সিঙ্ঘু ও টিকরি সীমানায় একটি বিজয় মিছিল বার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কৃষকরা।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২১
রাজনীতি

Farm Law: কৃষি আইন প্রত্যাহারের পর কৃষকদের অভিনন্দন মমতার

কৃষকদের প্রায় এক বছরের আন্দোলনের পর প্রত্যাহার করা হল ২০২০ সালে পাশ হওয়া বিতর্কিত তিন কৃষি আইন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির উদ্দেশে ভাষণে কৃষি আইন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে টুইট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দেশের কৃষকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লিখেছেন, এই জয় তাঁদেরই। অনড় মনোভাব দেখানোর পরও কেন্দ্রের শাসকের এই পিছু হঠায় আন্দোলনের জয়ই দেখছেন বিরোধীরা। গণতন্ত্রের জয়ের কথা বলে রাজ্যের শাসকদলের নেতারা খোঁচা দিতে ছাড়েনি কেন্দ্রের শাসকদলকে।My heartfelt congratulations to every single farmer who fought relentlessly and were not fazed by the cruelty with which @BJP4India treated you. This is YOUR VICTORY!My deepest condolences to everyone who lost their loved ones in this fight.#FarmLaws Mamata Banerjee (@MamataOfficial) November 19, 2021শুক্রবার সকালে করা টুইটে মমতা লিখেছেন, বিজেপি কৃষকদের প্রতি নৃশংস। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে সমস্ত কৃষক নিরন্তর লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন তাঁদের প্রত্যেককে আমার হার্দিক অভিনন্দন। এটা আপনাদের জয়। এই লড়াইয়ে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা।More power to all our FARMERS!Their long and arduous struggle, their grit and determination against all adversities has shown @BJP4India their true place.This is the real POWER OF DISSENT in a Democracy and I salute each and every farmer for their courage. #MyIndia Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) November 19, 2021মোদির ঘোষণার পরই কৃষি আইন প্রত্যাহার নিয়েই একাধিক টুইট করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন। প্রথম টুইটেই তিনি খোঁচা দিয়েছেন তিনি লিখেছেন, অহংকারের হার। অহংকারের হার, অতিরিক্ত গর্ব থেকে ভূপতিত। তবে শুধু খোঁচা দিয়েই ক্ষান্ত হননি ডেরেক। তৃণমূলের সাংসদেরা বিভিন্ন সময় এই তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। তৃণমূল সাংসদদের ধরনার একটি ছবি বৃহস্পতিবার টুইট করে সে কথা মনে করিয়েছেন ডেরেক।We convey our congratulations to the SKM,AIKSCC and all the participants and supporters of the historic Kisan movement for their magnificent victory. We demand that the CM,WB must declare that similar anti farmer provisions in the Amended WB state act shall be repealed. pic.twitter.com/yPY542LiTg Surjya Kanta Mishra (@mishra_surjya) November 19, 2021কৃষকদের অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছে সূর্যকান্ত মিশ্র। ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

নভেম্বর ১৯, ২০২১
রাজ্য

Electric Shock: চাষের জমিতে ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত কৃষক

ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তার দশদিন ধরে পড়েছিল চাষের জমিতে। সেই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শুক্রবার মারা গেলেন এক প্রান্তিক চাষি। মৃতর নাম সুকান্ত বাগ (৫৮)। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার নবস্তা ১ পঞ্চায়েতের বেগুট গ্রামে। চাষির এমন অকাল মৃত্যুর জন্য বিদ্যুৎ দফতরের গাফিলতিকে দায়ি করে এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসী।বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা ১১ হাজার ভোল্টেজ লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে সন্ধ্যার মুখে চাষির মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ময়নাতদন্তের জন্য এদিনই চাষির মৃতদেহ পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পুলিশ চাষির মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাষি সুকান্ত বাগ এদিন সকালে চাষের জমিতে যান। তখনই তিনি মাঠে ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হন। মৃতর ছেলে উত্তম বাগ জানিয়েছেন, দশ দিন আগে ১১ হাজার ভোল্টেজ লাইনের বিদ্যুতের তার গ্রামের চাষ জমি এলাকায় ছিঁড়ে পড়ে। সেই ঘটনার কথা গ্রামবাসীরা বহুবার বিদ্যুৎ দফতরে জানায়। কিন্তু বিদ্যুৎ দফতর কোনও হেলদোল দেখায়নি। উত্তম বাগ বলেন, এদিন সকালে তাঁর বাবা ধান জমিতে কীটনাশক ছড়াতে যান। ছিঁড়ে পড়ে থাকা ওই বিদ্যুতের তার তখন কোনওভাবে তাঁর বাবার শরীর ঠেকে যায়। উত্তম বাগ দাবি করেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জমিতেই পড়ে থাকেন তাঁর মৃত বাবা। সেই কথা কেউ জানতেও পারেননি। অনেকটা দুপুর পর্যন্ত সুকান্তবাবু বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাঁর খোঁজ শুরু করেন। তখন জমিতে গিয়ে তাঁরা দেখেন সেখানেই তাঁর বাবা মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। এই ঘটনার কথা তিনি গ্রামবাসীদের জানালে গ্রামবাসীরা তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ দফতরে খবর দেয়। বিদ্যুৎ দফতরকে খবর দেওয়ার পর প্রায় তিন ঘন্টা বাদ বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছায়। তারা ১১ হাজার ভোল্টেজ লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর সন্ধ্যার মুখে সুকান্ত বাবুর মৃতদেহ জমি থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় বলে ছেলে উত্তম বাগ জানিয়েছেন। এলাকার অপর চাষি ধীরেন বাস্কে ও অনুজ হাজরা বলেন, বিদ্যুৎ দফতরের গাফিলতির জন্যই তাঁদের এলাকার এক চাষিকে অকালে প্রাণ খোয়াতে হল। তার ছিঁড়ে যাবার পর বিদ্যুৎ দফতর যদি দ্রুত ব্যবস্থা নিত তাহলে সুকান্ত বাগকে এইভাবে প্রাণ খোয়াতে হত না।এদিনের ঘটনার পর নবস্তার বিদ্যুৎ দফতরের অফিসে যোগাযোগ করা হলে কেউ সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। তবে এলাকার বিধায়ক নিশীথ মালিক এদিন স্পষ্ট জানান, বিদ্যুৎ দফতরের গাফিলতিতেই ওই চাষির মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎ দফতরের অফিসাররা তাঁর কাছে এই গাফিলতির কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ দফতর ওই চাষি পরিবাকে সহায়তা প্রদানের আশ্বাসও তাঁকে দিয়েছে। ব্লক প্রশাসনও চাষি পরিবারকে সরকারি অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে বলে নিশীথ মালিক জানিয়েছেন।

অক্টোবর ০৮, ২০২১
রাজ্য

Lightning: পূর্ব বর্ধমানে বজ্রপাতে মৃত ৩, জখম ৭

বজ্রপাতে একই দিনে পূর্ব বর্ধমানে মৃত্যু হল তিন খেত মজুরের। জখম হয়েছেন আরও সাত জন। মৃতরা হলেন বনমালি ধারা (৬০) ও শুকুরমনি সরেন (২২) ও কালিরাম হাঁসদা (৩৫)। শনিবার বজ্রপাতে এই মৃত্যুর ঘটনাগুলি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের বিল্বগ্রামে, রায়না ২ ব্লকে দিঘুরা ও মেমারির কাশিয়াড়া গ্রামে। মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসনের কর্তারা।আরও পড়ুনঃ টোকিওতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন পোস্টার বয় নীরজ চোপড়াপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রামের বিল্বগ্রাম নিবাসী বনমালি ধারা সহ রবি বাগদি, মমতা বাগদি, মঞ্জু বাগদি, জ্যোৎস্না বাগদি, শেফালি বাগদি প্রমুখরা একসঙ্গে স্থানীয় মাঠে ধান বোনার কাজ করছিলেন। ওই সময়ে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। মাঠে বাজ পড়লে সেখানেই বনমালি ধারার মৃত্যু হয়। জখম হন বাকি পাঁচ খেত মজুর ।জখমদের সকলকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।আরও পড়ুনঃ বাবাকে দেওয়া কথা রেখে ব্রোঞ্জ জিতলেন বজরং পুনিয়াবজ্রপাতে অপর মৃত শুকুরমনি সরেনের বাড়ি বর্ধমান ২ ব্লকের বড়শুলে। জেলার জামালপুর ব্লকের শম্ভুপুর গ্রামে শুকুরমনির বাপের বাড়ি। খেত মজুরির কাজ করার জন্য তিনি রায়না ২ ব্লকে আরুই পঞ্চায়েতের নিলুট গ্রামে দিদির বাড়ি গিয়েছিলেন। এদিন দুপুরে শুকুরমনিসহ ওই এলাকার বাসিন্দা মণিকা মাণ্ডি, মানসী হেমব্রম স্থানীয় দিঘুরা গ্রামের মাঠে কাজ করছিলেন। এলাকার যুবক শেখ নজু জানান, দুপুরে হঠাৎই বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে মাঠেই মারা যান শুকুরমনি সরেন। জখম হন মণিকা মাণ্ডি, মানসী হেমব্রম। তাঁদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে মেমারির সাহানগর গ্রাম নিবাসী কালিরাম হাঁসদা মেমারির কাশিয়াড়া গ্রামে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করার সময়ে বজ্রপাতে মারা যান।

আগস্ট ০৭, ২০২১
দেশ

Kashmir-IES: সন্ত্রাসের আবহেও কাশ্মীরের কৃষক-পুত্রের বড় সাফল্য

সন্ত্রাস, মহামারি, অভাব...কোনও কিছুই বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি স্বপ্নপুরণে। বাবা কৃষক। ছেলে ইন্ডিয়ান ইকনমিক সার্ভিস বা আইইএস পরীক্ষায় দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করলেন। পরীক্ষার ফল ঘোষিত হয়েছে শনিবার। তাতে গোটা দেশে দ্বিতীয় হয়েছেন কাশ্মীরের তানভির আহমেদ খান। তাঁর সাফল্যের খবর টুইটারে জানিয়েছেন কুলগামের ডেপুটি কমিশনার। তানভিরের সঙ্গে কলকাতারও যোগসূত্র রয়েছে। বাবা কৃষক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীও তিনিই। তানভির তাঁর গ্রাম কুণ্ডেরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরে ২০১৬ সালে অনন্তনাগের কলেজ থেকে কলা বিভাগে স্নাতক হন। জানিয়েছেন, পড়াশোনার সময় নিয়ে কখনও আপস করেননি তিনি। প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছেন। তারই ফল পেয়েছেন।আরও পড়ুনঃ দিল্লি দরবারে যেতে চান রাজ্য বিজেপি নেতারাশুরু থেকেই মেধাবী ছাত্র। এমএ পাশ করার পরই জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ (জেআরএফ) পান তানভির। এর পর কলকাতার ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ থেকে এমফিল করেছেন। শ্রীনগর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে কুলগামের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম নিগিনপুরা কুণ্ডের বাড়ি তানভিরের। কুলগাম কাশ্মীরের সীমান্ত লাগোয়া জেলা। সন্ত্রাস উপদ্রুতও। তার ওপর গত কয়ক বছরে করোনা পরিস্থিতি এবং ৩৭০ ধারা নিয়ে নানারকম ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে কাশ্মীর। তানভির অবশ্য জানিয়েছেন, কোনও পরিস্থিতিকেই নিজের উপর প্রভাব ফেলতে দেননি তিনি। কৃতী ছাত্রের কথায়, চার দেওয়ালের মধ্যে নিজেকে বন্দি করে নিয়েছিলাম। এমফিল করার পাশাপাশি আইইএসের প্রস্তুতি নিয়েছি। দ্বিতীয় সুযোগের কথা ভাবিইনি। আমার কাছে প্রথম চেষ্টাই শেষ চেষ্টা ছিল।

আগস্ট ০১, ২০২১
রাজ্য

জামালপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট চাষির মৃতদেহ উদ্ধার

চাষের জমি থেকে উদ্ধার হল এক প্রৌঢ় চাষির মৃতদেহ। মৃতর নাম উমাপদ পাত্র (৬৭)। তার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার জামালপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত অধীন শুড়েকালনা গ্রামের পাত্রপাড়ায়। বৃহস্পতিবার সকালে শুড়েকালনা এলাকার শ্মশানের কাছের জমিতেই পড়ে থাকতে দেখা যায়, উমাপদ পাত্রর মৃতদেহ। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। প্রৌঢ় চাষির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য বিদ্যুৎ দপ্তর ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন মৃতর পরিজন ও এলাকাবাসী। পুলিশ মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।আরও পড়ুনঃ জন্মদিন কেমন কাটল বং গাই এর?মৃতর নাতি সৌরভ বড়াল জানিয়েছেন, শুড়েকালনার পাত্রপাড়ার অদূরে দামোদরের গা ঘেঁষে রয়েছে তাঁর দাদু উমাপদ পাত্রর চাষের জমি। সেই জমির খানিকটা দূরেই রয়েছে শ্মশান। সেখানকার ইলেকট্রিক পোস্ট থেকে শ্মশানে তার টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইলেকট্রিক পোলটি কিছুদিন ধরেই কারেন্ট হয়ে আছে।এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে সেই বিষয়ে এলাকার লোকজন জানিয়ে আসলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সৌরভ জানান, অন্যান্য দিনের মতো এদিনও তাঁর দাদু নিজের চাষের জমির কাজে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ে জমিতে জমে থাকা জল কারেন্ট হয়ে ছিল। ওই জলে পা পড়তেই উমাপদ পাত্র বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান বলে সৌরভ বড়াল দাবি করেছেন। শুড়েকালনা নিবাসী জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য প্রদীপ পাল বলেন, যে পোল থেকে ইলেকট্রিক তার শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেই পোলটি তড়িদাহত হয়ে থাকার বিষয়টি পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কেন সেটি মেরামত হয়নি তা পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ দপ্তর জানাতে পারবে বলে প্রদীপ পাল মন্তব্য করেন। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে দায় এড়ালেও জামালপুর বিদ্যুৎ দপ্তরের স্টেশন ম্যানেজার বিদ্যুৎ সাহা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ দপ্তরকে অন্ধকারে রেখে শ্মশানে বিদ্যুৎ লাইন টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।যে ব্যক্তি মারা গিয়েছেন তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মারা গিয়েছেন কি না তা এখনও পরিষ্কার নয় । এই বিষয়ে সবিস্তার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুলাই ১৫, ২০২১
দেশ

Farmer: ২২ জুলাই থেকে দিল্লির সংসদ ভবনের সামনে ধর্ণায় বাংলার কৃষকও

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়পেট্রোপণ্যের লাগামছাড়া মূল্য বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীয় কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় পথে নেমে প্রতিবাদে সরব হল সারা ভারত কৃষক সভা। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ডাকে এদিন কৃষক সভার সদস্যদের কেউ লাল ঝান্ডা কাঁধে নিয়ে আবার কেউ প্ল্যাকার্ড বুকে নিয়েআরও পড়ুনঃ ছোট্ট ছুটির ঠিকানা সিঙ্গিরায়না, খণ্ডঘোষ, মেমারি, ভাতার এলাকার বিভিন্ন সড়কপথের ধারে দাঁড়িয়ে পড়েন। শ্লোগান ও পথ সভার মাধ্যমে তাঁরা পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানান। রায়না ও খণ্ডঘোষের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন কৃষক সভার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক আমল হালদার। এছাড়াও সংগঠনের জেলা নেতা উদয় সরকার, দেশবন্ধু হালদার, বিনোদ ঘোষ।আরও পড়ুনঃ চাম্পিয়ানশিপের লক্ষ্যে আর এক ম্যাচ, প্রতিপক্ষ কে আর্জেন্টিনা না কলম্বিয়া?কৃষক সভার নেতৃত্ব এদিন জানিয়ে দেন, পেট্রোপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আগামী ২২ জুলাই থেকে দিল্লিতে সংসদ ভবনের সামনে প্রতিদিন ২০০ জন করে কৃষক অবস্থান-বিক্ষোভ করবেন। সেই প্রতিবাদ বিক্ষোভে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরাও অংশগ্রহন করবেন।আরও পড়ুনঃ বিধানসভায় দিলীপ-মদনের রঙিন রসিকতাসারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক অমল হালদার এদিন দাবি করেন, কেন্দ্র এবং রাজ্যে উভয়কেই পেট্রপণ্যের উপর নির্ধারিত শুল্ক ছাড় দিতে হবে। পাশাপাশি কৃষক স্বার্থে কেন্ধ্রীয় সরকারের লাগু করা তিন-তিনটি কৃষি আইন বাতিল করতে হবে। অমল বাবু জানান, তাঁরা মনে করেন পেট্রোল ডিজেলের উপর থেকে যদি শুল্ক বাদ দেওয়া হয় তবেই পট্রোপণ্যের মূল্যে হ্রাস হতে পারে। কিন্তু এই ব্যাপারে কেন্দ্র বা রাজ্য কোনও সরকারের পক্ষ থেকে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। পেট্রোপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চাষের খরচও বেড়ে যাচ্ছে। অথচ চাষি ফসলের যথাযথ দাম পাচ্ছে না। তার কারণে প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকেরা। এরই প্রতিবাদে আন্দোলন চলবে বলে অমল হালদার জানিয়ে দেন।

জুলাই ০৮, ২০২১
দেশ

কিষাণ সম্মান নিধির প্রথম কিস্তির টাকা পেলেন রাজ্যের ৭ লক্ষের বেশি কৃষক

রাজ্যের কৃষকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।দীর্ঘ প্রতিক্ষার ও টালবাহানার শেষে রাজ্যের কৃষকরা বুধবার প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন। রাজ্যের বিধানসবা নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন ভোটের পরেই রাজ্যের কৃষকেরা ওই প্রকল্পের সুযোগ পাবেন। ভোটে বিজেপির জয় হয়নি। কিন্তু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেননি মোদি।তাই এদিন এরাজ্যের সাত লক্ষের বেশি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রকল্পের টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।রাজ্য সরকার প্রকল্পে সামিল না হওয়ায় যারা এতদিন ওই প্রকল্পের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সারাদেশে প্রায় ৯ কোটি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ সাহায্য প্রদান করেন। যার মধ্যে এরাজ্যে সাত লক্ষর বেশি কৃষক সুবিধা পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে ছোট ও মাঝারি কৃষকরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। রাজ্য সরকারের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী আগামী দিনে আরো বেশি সংখ্যক কৃষককে এই যোজনার আওতায় আনা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই এই প্রকল্পের সুযোগ বাংলার কৃষকদের কাছে পৌঁছল বলে দাবি করেছে রাজ্য সরকার। তাঁর প্রচেষ্টা এবং হস্তক্ষেপেই রাজ্যের সাত লক্ষের বেশি কৃষক কিষান সম্মান নিধি প্রকল্প প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে এদিন এবিষয়ে টুইট করা হয়। যেখানে দাবি করা হয়েছে, রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওই টাকা পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকার আগামী দিনেও কৃষকদের স্বার্থে লড়াই করে যাবে । যদিও প্রধানমন্ত্রীর কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের সুবিধা প্রদান অনুষ্ঠানে রাজ্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।২০১৮ সালে প্রথম চালু হয়েছিল পিএম-কিষাণ প্রকল্পটি। দেশের কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যেই এই প্রকল্প চালু করেছিল মোদি সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীরা প্রতি বছর ৬০০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পান। ৪ মাস বাদে বাদে ২০০০ টাকা করে করে তিনটি কিস্তিতে এই অর্থ প্রদান করা হয়। এই প্রকল্পটি মূলত গরিব কৃষকদের জন্যই করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এই প্রকল্পের আওতায় এখনও পর্যন্ত ১.১৫ লক্ষ কোটি টাকা কৃষক পরিবারগুলির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।

মে ১৪, ২০২১
দেশ

সুর নরম কৃষকদের

কৃষি আইন নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় রাজি কৃষকরাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাবের পরই সুর নরম করল কৃষক সংগঠনের সংযুক্ত মোর্চা। শনিবার ৪০টি কৃষক সংঠনের যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কৃষকরা এতদূর থেকে দিল্লিতে সরকারের দ্বারে এসেছে শুধু নিজেদের নির্বাচিত সরকারকে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে। সুতরাং কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা না করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। যদিও, কৃষক সংগঠনগুলো আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে, কৃষি আইন বাতিল ছাড়া কোনওভাবেই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।শনিবার সর্বদল বৈঠকে কৃষি আইন ইস্যু নিয়ে বিরোধীদের আশ্বস্ত করার সবরকম প্রচেষ্টা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানিয়ে দিয়েছেন, কৃষকরা চাইলে এখনও তাঁর সরকার এই বিতর্কিত আইন সাময়িকভাবে স্থগিত করে রাখতে রাজি আছে। বিরোধী সাংসদদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষকদের এই আইন স্থগিত রাখার যে প্রস্তাব দিয়েছিলাম তা এখনও আছে। আমার সরকার এখনও ১৮ মাসের জন্য এই আইন প্রত্যাহারে প্রস্তুত। এদিকে সরকারের সঙ্গে আলোচনার বার্তা দিলেও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছে কৃষক সংগঠনগুলো। তাঁদের দাবি, দিল্লি পুলিশ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আক্রমণে উস্কানি দিচ্ছে। স্থানীয়দের নামে বিজেপি সমর্থকরা হামলা চালাচ্ছে নিরীহ বিক্ষোভকারীদের উপর।

জানুয়ারি ৩১, ২০২১
দেশ

সরকারের 'জবরদস্তিতে' পুনরুজ্জীবিত কৃষকরা

সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে অশান্তির পর এমনিতেই শক্তি হারাচ্ছিল কৃষক আন্দোলন। সিঙ্ঘু, গাজিপুর ও রাজধানী দিল্লির অন্যান্য সীমান্ত থেকে ধীরে ধীরে ঘরে ফেরার পথে পা বাড়াচ্ছিলেন হতাশ আন্দোলনকারীরা। সরকারিভাবে গোটা দুই কৃষক সংঠন আন্দোলন প্রত্যাহারও করে নিয়েছিল। কৃষকদের যে সংঠনটি সবচেয়ে প্রভাবশালী সেই ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নও আন্দোলন প্রত্যাহার করা নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছিল। কিন্তু রাতারাতি সবকিছু বদলে গেল উত্তরপ্রদেশ সরকারের একটা ভুল পদক্ষেপে।গাজিপুর সীমান্তে বিক্ষোভকারীদের একপ্রকার জোর করে তুলে দেওয়ার ছক কষেছিল উত্তরপ্রদেশের প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে গাজিপুরে কৃষকদের বিক্ষোভস্থল খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় যোগী সরকার। সেখানে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। বিক্ষোভস্থল কার্যত ছেয়ে ফেলা হয় নিরাপত্তারক্ষীতে। এমনকী, ৪ কোম্পানি র্যা ফও মোতায়েন করা হয়। জানা গিয়েছে,গাজিপুর সীমান্তের বিক্ষোভস্থলে বিদ্যুৎ এবং জলের সরবরাহ আগে থেকেই অনিয়মিত করে দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে যান ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকাইত।টিকাইত ঘটনাস্থলে যেতেই বদলে যায় পরিস্থিতি। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ষড়যন্ত্র করে বিক্ষোভ বন্ধ করে দিতে চাইছে। চোখের জলে ঘোষণা করেন, কৃষি আইন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এক পাও নড়ব না। প্রয়োজনে গুলি খাব। প্রয়োজনে অনশন করব। নিজের গ্রাম থেকে এনে জল খাব। রাকেশ টিকাইত আত্মহত্যা করবে, তবু বিক্ষোভ স্থল ছাড়বে না।আরও পড়ুন: গাজিপুর সীমানা খালি করার নির্দেশতাঁর এমন ভাষণে পুনরায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন কৃষকরা। রাতারাতি হাজারো কৃষক নতুন করে গাজিপুরের বিক্ষোভস্থলে হাজির হন। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান এবং হরিয়ানার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার কৃষক ট্র্যাভক্টরে চেপে গাজিপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। গতকাল সারারাত কৃষক নেতারা গাজিপুরের বিক্ষোভস্থলে জয় জওয়ান-জয় কিষাণ স্লোগান দেন। সেই সঙ্গে উড়তে দেখা যায় জাতীয় পতাকা। আপাতত কৃষী আইন প্রত্যাহার না-হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এখানেই থাকবেন বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সরকার ষড়যন্ত্র করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

জানুয়ারি ২৯, ২০২১
দেশ

লালকেল্লার তাণ্ডবে ষড়যন্ত্র দেখছেন কৃষকরা

সাধারণতন্ত্র দিবসে লালকেল্লায় কৃষকদের তাণ্ডবের নেপথ্যে এবার এক বিজেপিপন্থী অভিনেতার হাত রয়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারী কৃষকদের। তাঁদের দাবি, পঞ্জাবি গায়ক ও অভিনেতা দীপ সিধুর উস্কানিতেই দিল্লিতে যাবতীয় অশান্তি ঘটেছে। এর পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কাজ করছে বলেও দাবি করছেন ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন নামের এক কৃষক সংঠনের নেতা।বিকেইউ নেতা রাকেশ টিকাইত দাবি করেছেন, আমরা লালকেল্লায় যেতে চাইনি। অশান্তি যারা ছড়িয়েছে তাঁরা রাজনৈতিক দলের সদস্য। আমরা তাঁদের শনাক্ত করতে পেরেছি। কৃষকদের আন্দোলনকে কলুষিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরই ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের হরিয়ানা ইউনিটের প্রধান গুরনাম সিং চাড়ুনি দাবি করেছেন,পঞ্জাবি গায়ক দীপ সিধুর নেতৃত্বেই কৃষকদের একটি দল লালকেল্লায় গিয়েছিল। ওই হিংসায় উস্কানি দিয়েছে। কৃষকদের দাবি, দীপ সিধুর বিক্ষোভে যোগ দেওয়া নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি ছিল তাঁদের। দীপ আসলে বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেতা সানি দেওলের ঘনিষ্ঠ। গত লোকসভা ভোটে বিজেপির হয়ে প্রচারও করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ আছে বলে দাবি কৃষকদের।

জানুয়ারি ২৭, ২০২১
দেশ

লালকেল্লায় উড়ল কৃষক আন্দোলনের পতাকা

লালকেল্লায় উড়ল কৃষক আন্দোলনের পতাকা। সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস, লাঠি চার্জ। কিছু দিয়েই পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারল না প্রতিবাদী কৃষকদের। তিন সীমানায় সব ব্যারিকেড ভেঙে চুরমার হল মঙ্গলবার। পুলিশের ঘোষিত পথে গেল না হাজার হাজার ট্র্যাক্টর। পথ পাল্টে লালকেল্লায় গিয়ে কৃষকদের মধ্যে থেকে আওয়াজ উঠল অকুপাই দিল্লিDelhi: Flags installed by protestors continue to fly at Red Fort. #FarmLaws #RepublicDay pic.twitter.com/U0SZnTw4Wn ANI (@ANI) January 26, 2021পুলিশ জানিয়েছিল, মঙ্গলবার সকাল ১২ টা নাগাদ কৃষকদের মিছিল নির্দিষ্ট তিনটি রুটে গিয়ে আবার উৎসস্থলে ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটল উল্টো। সকাল ৮টা থেকে লাগামছাড়া গতিতে দিল্লির দিকে ধেয়ে আসতে থাকে মিছিল। পুলিশের বাধা কেউ মানেননি। আর তাই নিয়ে উত্তপ্ত হয়েছে দিল্লির নয়ডা মোড়, আইটিও মোড়েও একাধিক ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাচ্ছে পুলিশ। চলছে লাঠি। পাল্টা কৃপাণ হাতেও কৃষকদের দেখা গিয়েছে। সকাল ১০টায় নয়ডা মোড়ের চিত্রটা ছিল এমনই। পুলিশ লাঠি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। মূলত দিল্লির সীমানা এলাকায় বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকার কারণে দিল্লির অন্দরে পুলিশের আঁটুনি দূর্বল হয়ে পড়েছিল। সেই কারণে বিনা বাধায় এগিয়ে যেতে থাকেন কৃষকরা।दिल्ली: नांगलोई इलाके में प्रदर्शनकारी किसानों पर पुलिस ने आंसू गैस के गोले इस्तेमाल किए। pic.twitter.com/RP81oJVJYJ ANI_HindiNews (@AHindinews) January 26, 2021#WATCH A protestor hoists a flag from the ramparts of the Red Fort in Delhi#FarmLaws #RepublicDay pic.twitter.com/Mn6oeGLrxJ ANI (@ANI) January 26, 2021

জানুয়ারি ২৬, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

মহালয়ায় কখন করবেন পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ? জেনে নিন শুভ সময় ও বিশেষ নিয়ম

শিউলি ফুলের গন্ধ আর শরতের ভোরের বাতাসে ঢাকের মিঠে বোল এই তো আমাদের দুর্গোৎসবের প্রথম বার্তা! বছর ঘুরে আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত দিনটি দোরগোড়ায়। ২০২৬ সালের ১০ই অক্টোবর, শনিবার (২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) শুভ মহালয়া। ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জলদগম্ভীর কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর সুর ভেসে আসার সঙ্গেই যেন বাঙালিয়া এক অদ্ভুত আবেগ আর নস্টালজিয়ায় ভেসে যায়। পিতৃপক্ষের সমাপনী আর দেবীপক্ষের এই নতুন সকালে চরাচর যেন এক স্বর্গীয় সুরের আহ্বানে জেগে ওঠে।মহালয়া শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি অনুভূতির নাম। পুরাণ মতে, এদিনই দেবী দুর্গা মর্ত্যে তাঁর পিতৃগৃহে পা রাখেন, শুরু হয় দেবীপক্ষ। এর পাশাপাশি এটি আমাদের শিকড়কে স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ সময়। এদিন ভোরে গঙ্গার ঘাটে ঘাটে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার জন্য হাজারো মানুষের মিলনমেলা বসে। শাস্ত্রানুসারে অমাবস্যা তিথিটি শুরু হচ্ছে ৯ই অক্টোবর রাত ৯:৩৫ মিনিটে এবং থাকবে ১০ই অক্টোবর রাত ৯:১৯ মিনিট পর্যন্ত। পিতৃপুরুষকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ১০ই অক্টোবর সকাল ১১:২৪ মিনিট থেকে দুপুর ১:৫৬ মিনিট পর্যন্ত সময়টিকে সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হচ্ছে।তবে মহালয়া কিন্তু কেবল অতীতের স্মৃতি তর্পণ বা শাস্ত্রমতে তর্পণের আচারটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে আগমনীর গভীর আনন্দ। এই বিশেষ দিনে প্রতিমার চোখে তুলি ছোঁয়ানো অর্থাৎ চক্ষুদান রীতির মধ্য দিয়েই মৃন্ময়ী রূপ যেন চিন্ময়ীতে পরিণত হতে শুরু করে। ১০ই অক্টোবরের এই অলৌকিক ভোরে মহালয়া শেষ হতেই, পরের দিন ১১ই অক্টোবর থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে সূচনা হবে দেবীপক্ষের। চারপাশের কাশবনের দোল আর নীল আকাশের শুভ্র মেঘেরা তখন যেন চুপিচুপি জানান দেবে মা আসছেন। উৎসবের এই পবিত্র সূচনাকে সুন্দর ও মঙ্গলাময় রাখতে কিছু চিরন্তন রীতির প্রতি শ্রদ্ধা রাখা জরুরি। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পুণ্যলগ্নে নিরামিষ আহার গ্রহণ করা ও যেকোনো প্রকার নতুন কেনাকাটা বা চুল-নখ কাটা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। পিতৃপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা আর মাতৃরূপী মহাশক্তির আবাহনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আসুন আমরাও হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে নিজেদের মনকে নির্মল করে তুলি। অপেক্ষা শুধু আর কটা দিনের শরতের এই আলো-আঁধারির খেলায় মহালয়ার ভোর যেন প্রতিটা বাঙালির অন্তরে পৌঁছে দেয় এক অনাবিল আনন্দের পরশ।

অক্টোবর ০৯, ২০২৬
রাজ্য

বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে হামলার নিন্দায় মমতা, তদন্তের মাঝেই ‘হিন্দুত্ববাদী’ মন্তব্যে অ্যাকশনের হুঙ্কার শুভেন্দুর

বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার ভোর প্রায় ৪টে ৫ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া সাহা কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বাপ্পা গুছাইতকে গ্রেফতার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁর বাইকটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতকে এদিন আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে।কীভাবে ঘটেছিল হামলা?অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব যাদবপুরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ি লক্ষ্য করে কাচের মদের বোতল ছোড়ে একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী। বোতলের আঘাতে বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে যায়। সেই সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় অল্পের জন্য রক্ষা পান বাড়ির এক গৃহসহায়িকা।বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দাবি, ভোর প্রায় পাঁচটা নাগাদ মুখ কাপড়ে ঢাকা এক ব্যক্তি বাইকে চেপে এসে ব্যাগ থেকে কাচের বোতল বের করে তাঁর বাড়ির জানলার দিকে ছুড়তে থাকে। পিছনে আরও কয়েকজন ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে বাইকে আসা এক ব্যক্তিকে বোতল ছুড়তে দেখা গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফুটেজের অডিয়োয় আমাদের সঙ্গে লাগতে এসো না, আমরা দেশভক্ত এই ধরনের হুমকির কথাও শোনা যায় বলে দাবি।ঘটনার পর পুলিশ বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এবং তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বাপ্পা গুছাইতকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার কারণ, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং এর পিছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।হিন্দুত্ববাদীরা হামলা করেছে, অভিযোগ বিকাশরঞ্জনেরহামলার ঘটনার পর বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, এই ঘটনার পিছনে রয়েছে হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা। তাঁর বক্তব্য, গরিব মানুষের অধিকারের পক্ষে যাঁরা লড়াই করছেন, তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হামলাকারীরা এভাবে তাঁকে শিক্ষা দিতে চেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।বিকাশরঞ্জনের এই মন্তব্যকে ঘিরে পাল্টা সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, হামলার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে এবং তাঁর নির্দেশেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার দায় সরাসরি হিন্দুত্ববাদীদের উপর চাপানোর বিরোধিতা করেছেন তিনি।শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী শব্দটি প্রত্যাহার না করা হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ করা হবে। ওই পোস্ট মুছে ফেলার উদ্যোগও পুলিশের তরফে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে গোটা হিন্দু সমাজকে অপমান করা হয়েছে। গেরুয়া, সনাতন, হিন্দুত্ব ও রাষ্ট্রবাদকে নিশানা করা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়াবিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ ভয় দেখানো বা জঙ্গলরাজের সংস্কৃতি মেনে নেবে না। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে আইনজীবীদের নির্ভয়ে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।অন্যদিকে, যাদবপুরের বিধায়িকা শর্বরী মুখোপাধ্যায় এই ঘটনায় বিজেপির যোগ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন, বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের নজরে আনা হবে।একদিকে বাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেফতারি, অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী মন্তব্য ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা আইনি হুঁশিয়ারি সব মিলিয়ে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং এর পিছনে আর কেউ জড়িত কি না, তা পুলিশের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

অক্টোবর ০৯, ২০২৬
রাজ্য

১৯৭৬ সালে মহিষাসুরমর্দিনীতে উত্তমকুমার, ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন বাঙালিরা! কেন ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রকে?

প্রবাসে থাকা ছেলে মেয়েরা যেভাবে বছরের ৪ দিন তাদের ভিটেমাটির টানে ফিরে আসে, সেভাবে নস্টালজিক বাঙালিকে যিনি বেতারের সামনে শিকড়ের টানে টেনে আনেন তিনি আর কেউ নন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। মহালয়া (Mahalaya 2026) ,মহিষাসুরমর্দিণী (Mahisashurmardini) আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র (Birendra Krishna Bhadra) তিনটে নামই উচ্চারিত হয় এক স্বরে। মহালয়ার ভোরে এই চণ্ডীপাঠের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যিনি গোটা বিশ্বে নিজের কণ্ঠকে অমর করে রেখে গিয়েছেন, সেই বাঙালি মধ্যবিত্ত সাদামাটা ধুতি পাঞ্জাবি পরা কণ্ঠশিল্পীই বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। যাঁর হাত ধরে বাঙালির পুজোর (Durga Puja) ঢাকে কাঠি পড়ে। আজ ২০২৬ সালের মহালয়ার অপেক্ষায় রাত জাগছে বাঙালি, সেই পরিচিত কণ্ঠে মহিষাসুর মর্দিণী শুনবে বলেই। ১৯০৫ সালের এই দিনটিতেই উত্তর কলকাতার আহিরীটোলায় জন্মগ্রহণ করেন প্রবাদপ্রতিম বেতার ব্যক্তিত্ব বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। বাবা রায়বাহাদুর কালীকৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন একজন ভাষাতত্ত্ববিদ, মা ছিলেন সরলা দেবী। ছোটবেলায় ঠাকুরমা যোগমায়া দেবীর কাছে সংস্কৃত শিক্ষার হাতেখড়ি হওয়া বীরেন্দ্রকৃষ্ণ মাত্র আট বছর বয়সে প্রখর স্মৃতিশক্তির জোরে নির্ভুল চণ্ডীপাঠ করে সবাইকে চমকে দিতেন। ১৯২৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়েতে কর্মজীবন শুরু করলেও তাঁর মন পড়ে থাকত ১ নম্বর গার্স্টিন প্লেসের অল ইন্ডিয়া রেডিওর দফতরে। অফিস শেষের আড্ডা থেকেই ধীরে ধীরে বেতারে নাটকের সুযোগ পান। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে পাকাপাকিভাবে আকাশবাণীতে যোগ দেন।আকাশবাণীতে যোগ দেওয়ার পর বাণীকুমার ভট্টাচার্যের রচনা এবং রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিকের সুর পরিচালনায় শুরু হয় মহালয়ার কালজয়ী অনুষ্ঠান মহিষাসুরমর্দিনী। লাইভ সম্প্রচারের সেই যুগে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ আগের রাত থেকেই স্টেশনে থেকে ভোরবেলায় স্নান সেরে, গরদের ধুতি-পাঞ্জাবি পরে চণ্ডীপাঠে বসতেন। একদিন স্টুডিওতে রসিকতা করে বাংলা ভাষ্যটিও স্তোত্রের ঢঙে সুর করে পড়তে গিয়ে জন্ম নেয় তাঁর সেই অবিস্মরণীয় অবদান, যা ১৯৬৬ সালে বাণীকুমারের পরামর্শে রেকর্ড করা হয়। আজও প্রতি মহালয়ার ভোরে প্রতিটি বাঙালির ঘরে ঘরে শোনা যায় এই স্মরণীয় কন্ঠস্বরে চণ্ডীপাঠ, যেন মা দুর্গা প্রথম অঞ্জলি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের থেকেই নেন।কেবল রেডিওর জাদুকরী কণ্ঠই নয়, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ছিলেন একজন চমৎকার নাট্যকার, সমৃদ্ধ লেখক এবং পরিচালক। তিনি পেশাদারি মঞ্চে সাহেব বিবি গোলাম-এর মতো সফল নাটক পরিচালনা করার পাশাপাশি নিষিদ্ধ ফল-এর মতো চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যও লিখেছিলেন। অনেক গুণী ব্যক্তি রেডিওর জন্যই একসময় নিজেকে উৎসর্গ করে দেন। গোটা বিশ্বে যখন তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে তখন হঠাৎই ১৯৭৬ সালে আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ প্রথা ভেঙে তাঁর জায়গায় মহানায়ক উত্তমকুমারকে দিয়ে চণ্ডীপাঠ করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বাঙালির আবেগে ঘা পড়তেই, বহু বাঙালি ভক্ত রেডিও অফিসের ওপর চড়াও হয়। কেউই ভালোভাবে গ্রহণ করেনি সেই দিনের চণ্ডীপাঠ। স্বাভাবিক ভাবেই সে বছর পুণরায় ষষ্ঠীর দিন বীরেন্দ্রকৃষ্ণের মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গোটা ঘটনাতে তিনি ছিলেন নির্বিকার স্থির, বোধহয় তিনি মন থেকে জানতেন কিছু স্থান অপরিবর্তনশীল। ১৯৯১ সালের ৩ নভেম্বর মহাপ্রয়াণ ঘটলেও বাঙালি সংস্কৃতির আকাশে তিনি অমর হয়ে রয়েছেন। শরতের ভোরে শিউলি ঝরা হাওয়ায় তাঁর সেই বজ্রনির্ঘোষ অথচ সুরময় কণ্ঠে আশ্বিনের শারদপ্রাতে শুনলেই আজও মনে হয় পুজোর বাদ্যি বেজেছে। এভাবেই কিংবদন্তি বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র মহালয়ায় মহিষাসুরমর্দিণীর মাধ্যমে চিরকাল বেঁচে থাকবেন কোটি কোটি বাঙালির মনে।

অক্টোবর ০৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

জেলকোভিচের গোলেই বধ ইস্টবেঙ্গল, আইএফএ শিল্ড মোহনবাগানের

সেমিফাইনালে বিপক্ষকে ৭ গোল দিয়ে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় পৌঁছেছিল ইস্টবেঙ্গল। বৃহস্পতিবার প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে জেলকোভিচের গোলেই বধ ইস্টবেঙ্গল। ২২ তম আইএফএ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান। এদিন বেশ গুছিয়ে ফুটবল খেলেছে মেরিনার্সরা। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ শুরু হওয়ার আগে ইস্টবেঙ্গলের এই হার দলের মনোবলে কতটা আঘাত করবে সেটাও দেখার। গত সিজনের আইএসএল কাপ ইস্টবেঙ্গলের ঘরে ছিল। শুরুতেই ইস্টবেঙ্গল একটি সুযোগ পেয়েও কাডে লাগাতে পারেনি। বিরতির শেষ মুহূর্তে লীড নিয়ে নেয় মোহনবাগান। তখন বেশ চাপে ছিল ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানের একের পর আক্রমণে তখন দিশেহাপা ইস্টবেঙ্গল। জেলকোভিচের গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। বৃহস্পতিবার আইএফএ শিল্ডের (IFA Shield 2026) ফাইনালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan Super Giant) ও ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) মুখোমুখি হওয়ায় ফের ফুলবল জ্বরে ভুগতে শুরু করে কলকাতা। সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দুই দলের সমর্থকরা তখন নিজের দলের সমর্থনে চিৎকারে গলা ফাটাচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও আর গোল পায়নি ইস্টবেঙ্গল জেলকোভিচের গোলই ম্যাচের পার্থক্য় গড়ে দেয়। ম্যাচের শেষের দিকে দুটো কর্ণার কিক পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল।

অক্টোবর ০৯, ২০২৬
রাজনীতি

পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উদ্ধার, আরও সম্পদের সন্ধানে তদন্তে পুলিশ

সরকার বদলের পর থেকে নানা অভিযোগে একের পর এক হেভিওয়েট নেতা, মন্ত্রী গ্রেফতার হয়েছেন। এখনও তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি অব্যাহত। এবার কাটোয়ায় গ্রেফতার হওয়া নেতার বাড়ি থেকে রাশি রাশি টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, সম্পত্তির হদিশও মিলেছে। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার দুই তৃণমূল নেতা সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত চক্রবর্তী কিভাবে বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এদের সঙ্গে জড়িত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।জানা গিয়েছে, সামন্য বেতনে বেসরকারী একটি মোবাইল সংস্থায় কর্মরত ছিলেন ওই দুই নেতা। পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দিয়েই কাটোয়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর সর্বসময়ের সঙ্গী দীগন্ত পালের সঙ্গে বিশেষ সখ্য়তা স্থাপন করে ফেলেন। এরপর সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত চক্রবর্তীর ধনসম্পত্তি বাড়তে বিদ্যুৎ গতিতে। ইতিমধ্যে সরকার পরিবর্তন হতেই আর্থিক দুর্নীতির মামলায় রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ দীগন্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সূত্রের খবর, এরপরই গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেরাচ্ছিল সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত চক্রবর্তী। তবে শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়ে দুজনই। এখন তাঁদের বেআইনি ধনসম্পদ নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সুপ্রিয়র বাড়ি থেকে ৯ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে তাঁরা সোনা রেখে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই সোনা কোথা থেকে এসেছে তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদের কাছে দামি চারচাকাও রয়েছে।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬
কলকাতা

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা, সিপিএম নেতার অভিযোগ ওড়ালেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়

সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা করা অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব যাদবপুরে তাঁর বাড়ির জানালার কাঁচ ভাঙা হয়েছে। তিনি স্থানীয় থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ করেছে। এই হামলায় বিজেপির মদত আছে বলে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন। তবে যাবদপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় ওই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, জয়শ্রীরাম বলে অন্যায় করলেই কি সে বিজেপি হয়ে যায়। তা হতে পারে না। আজ ভোরে তার বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ি লক্ষ্য করে কাচের বোতল ছোড়া হয়। বিকাশরঞ্জন বলেন, মদের বোতন ছড়িয়ে আছে। শক্ত কাচ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছে বাইকে এল, ছবি তুললো। তারপর বলতে থাকল, আমরা মায়ের সন্তান। আমাদের পিছনে লেগেছিস। ওই ব্যক্তির মুখ ঢাকা ছিল। মোটর বাইকের নম্বরও ঢাকা ছিল। একেবারে পরিকল্পনা করে এসেছিল। আমি অনবরত হিন্দু মৌলবাদের বিরুদ্ধে বলছি তাই এই হামলা। এর পিছনে সর্বরীদেবীর পার্টিদের মদত আছে। বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলেছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের এটা কাজ নয়। কোনও দুষ্কৃতীকারীর কাজ। মুখে স্লোগান দিয়ে এই কাজ করে সরকার ও বিজেপির বদনাম করছে। জয়শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে, কোনও অন্যায় কাজ করল তাঁকে বিজেপি বলা যায় না।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে ইতি, প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর

প্রয়াত হলেন প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর। হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার অন্যতম স্বতন্ত্র অভিনেতা হিসেবে পরিচিত নানা পাটেকর বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে মালহার পাটেকর। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে তিনি জানান, খবরটি সত্যি। তিনি সেই সময় পুনেতে ছিলেন এবং গোয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। পরিবারের তরফে পরে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে ভারতীয় সিনেমায় নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছিলেন নানা পাটেকর। থিয়েটার দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করার পর ১৯৭৮ সালে গমন ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর পরিন্দা, ক্রান্তিবীর, অগ্নিসাক্ষী, খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল, আব তক ছাপ্পান, অপরাধ, রাজনীতি থেকে ওয়েলকামএকাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।পরিন্দা ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পান নানা পাটেকর। ক্রান্তিবীর-এর জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি। অন্যদিকে, ২০০৭ সালের জনপ্রিয় ছবি ওয়েলকাম-এ গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে তাঁর অভিনয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিচয় তৈরি করে। চরিত্রটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে পরবর্তী সময়ে ওয়েলকাম ব্যাক ছবিতেও সেই ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে।মারাঠি সিনেমাতেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সালের নটসম্রাট ছবিতে অবসরপ্রাপ্ত এক মঞ্চ অভিনেতার চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়। ড. প্রকাশ বাবা আমটেদ্য রিয়েল হিরো ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পান।শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, পরিচালক ও লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন নানা পাটেকর। ১৯৯১ সালে প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক ছবিটি পরিচালনা করার পাশাপাশি ছবিতে অভিনয় ও লেখার কাজও করেন তিনি। অভিনয় ও চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ২০১৩ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে মোট তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন নানা পাটেকর। নাম ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিভিন্ন কাজ করেছেন তিনি।নানা পাটেকরের প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান হল। প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তাঁর অভিনীত একাধিক চরিত্র দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুজোর মুখে শিয়ালদহ ডিভিশনে বাড়ল ট্রেন ও এসি লোকালের স্টপেজ, যাত্রীস্বার্থে একাধিক উদ্যোগ রেলের

দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে যাত্রী পরিষেবাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে শিয়ালদহ ডিভিশন একাধিক যাত্রীকেন্দ্রিক পরিচালনামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দৈনন্দিন শহরতলির যাতায়াতকে আরও দ্রুত, সুবিধাজনক ও আরামদায়ক করে তুলতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে অতিরিক্ত পরিষেবা এবং নতুন স্টপেজ। এর ফলে শহরতলির বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ হবে।শান্তিপুরকৃষ্ণনগর সিটি জংশন সেকশনে পরিষেবার সংখ্যা বৃদ্ধি:দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক যাতায়াতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দিগনগর হল্ট হয়ে শান্তিপুর (STB) ও কৃষ্ণনগর সিটি জংশনের মধ্যে দৈনিক ট্রেন পরিষেবা ১ জোড়া থেকে বাড়িয়ে ২ জোড়া করা হয়েছে। সকালের UP ট্রেনটি শান্তিপুর থেকে ০৯:৩৪ ঘণ্টায় ছেড়ে ১০:০৭ ঘণ্টায় কৃষ্ণনগর সিটি জংশনে পৌঁছাবে। ফেরার DN ট্রেনটি কৃষ্ণনগর থেকে ১০:১৭ ঘণ্টায় ছেড়ে ১০:৪৩ ঘণ্টায় শান্তিপুরে পৌঁছাবে। এর ফলে অফিসযাত্রী, পড়ুয়া এবং স্থানীয় যাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।শিয়ালদহবজবজের মধ্যে গভীর রাতে ইএমইউ পরিষেবা:দেরিতে কর্মস্থল থেকে ফেরা কর্মীদের সুবিধার্থে শিয়ালদহ ডিভিশন পরীক্ষামূলকভাবে শিয়ালদহ (SEALDAH) ও কমাগাটা মারু বজবজ (KBGB)-এর মধ্যে গভীর রাতে একটি শহরতলির পরিষেবা চালু করেছে। DN ট্রেনটি শিয়ালদহ থেকে ২২:৫৫ ঘণ্টায় ছেড়ে ২৩:৪৩ ঘণ্টায় বজবজ পৌঁছাবে। ফেরার UP ট্রেনটি বজবজ থেকে ২৩:৫৪ ঘণ্টায় ছেড়ে ০০:৪৮ ঘণ্টায় শিয়ালদহে পৌঁছাবে। এর ফলে রাতের শেষভাগেও যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য শহরতলির রেল যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।বদকুল্লায় নতুন এসি ইএমইউ স্টপেজ:শহরতলির যাত্রীদের আরও আরামদায়ক যাত্রার সুযোগ করে দিতে শিয়ালদহকৃষ্ণনগর সিটি জংশন সেকশনের বদকুল্লা স্টেশনে চারটি এসি ইএমইউ লোকালের পরীক্ষামূলক স্টপেজ দেওয়া হয়েছে।দৈনিক পরিষেবা (রবিবার ব্যতীত): ট্রেন নং ৩১৮৪৫ UP (শিয়ালদহকৃষ্ণনগর সিটি জংশন) বদকুল্লায় ১১:৫৩/১১:৫৪ ঘণ্টায় এবং ট্রেন নং ৩১৮৪৬ DN (কৃষ্ণনগর সিটি জংশনশিয়ালদহ) ১৩:৪০/১৩:৪১ ঘণ্টায় থামবে।রবিবারের বিশেষ সময়সূচি: ট্রেন নং ৩১৮৪৭ UP (শিয়ালদহকৃষ্ণনগর সিটি জংশন) বদকুল্লায় ১৩:৫৯/১৪:০০ ঘণ্টায় এবং ট্রেন নং ৩১৮৪৮ DN (কৃষ্ণনগর সিটি জংশনশিয়ালদহ) ১৬:১৫/১৬:১৬ ঘণ্টায় থামবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদহের DRM শ্রী রাজীব সাক্সেনা বলেন, পরিষেবার এই সংযোজনগুলি শহরতলির ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, বজবজ সেকশনে নির্দিষ্ট গভীর রাতের যোগাযোগ এবং বদকুল্লায় নতুন এসি ইএমইউ স্টপেজ, দৈনন্দিন যাত্রীদের পরিবর্তিত চাহিদার কথা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। সকলের জন্য রেলযাত্রাকে আরও সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক করে তুলতে শিয়ালদহ ডিভিশন দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal