• ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতি ১৬ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Durgapur

রাজ্য

অসুস্থ যাত্রীর পাশে ভারতীয় রেল, মানবিক উদ্যোগে মুগ্ধ পরিবার

যাত্রী পরিষেবার পাশাপাশি মানবিকতার অনন্য নজির গড়ল ভারতীয় রেল। পরিবারের বিশেষ আবেদনে সাড়া দিয়ে দিল্লি-হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেসে যাত্রারত এক গুরুতর অসুস্থ যাত্রীর নিরাপদ অবতরণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করল রেল কর্তৃপক্ষ।জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলার বাসিন্দা সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি নয়াদিল্লির এইমস (AIIMS) হাসপাতালে মেরুদণ্ডের জটিল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর চলাফেরা সম্পূর্ণভাবে সীমিত ছিল এবং তাঁকে শুয়ে থেকেই যাত্রা করতে হয়। তিনি ১২৩১৪ শিয়ালদহ রাজধানী এক্সপ্রেসে নয়াদিল্লি থেকে দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ২জুন ২০২৬।গুরুতর অসুস্থ যাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর দাদা স্নেহাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় আগাম রেল মদত (Railmadad) হেল্প লাইনে দূর্গাপুর স্টেশনে দুই মিনিটের অতিরিক্ত সময় থামার জন্য আবেদন জানান। সেই মোতাবেক দুর্গাপুর স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজারের কাছে স্ট্রেচার ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয় রেল মদত। নির্দেশ পাওয়ার পরই পূর্ব রেলের দুর্গাপুর স্টেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন। ট্রেনটি দুর্গাপুর স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই প্ল্যাটফর্মে স্ট্রেচার, রেলকর্মী এবং রেল পুলিশকে প্রস্তুত রাখা হয়।বুধবার সকালে রাজধানী এক্সপ্রেস দুর্গাপুর স্টেশনে পৌঁছালে মাত্র দুই মিনিটের নির্ধারিত স্টপেজের মধ্যেই রেলকর্মী ও রেল পুলিশের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অসুস্থ যাত্রী সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্রেন থেকে নামানো হয়। এরপর তাঁকে স্ট্রেচারের সাহায্যে নিরাপদে স্টেশন থেকে বের করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দুর্গাপুর রেল স্টেশনের ডেপুটি স্টেশন মাস্টার শ্রী অর্ণব ব্যানার্জি এবং আরপিএফ পোস্ট, দুর্গাপুরের এএসআই টি কে লাহা স্বয়ং উপস্থিত থেকে অসুস্থ যাত্রী সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়কে শিয়ালদহ রাজধানী এক্সপ্রেস থেকে অত্যন্ত দ্রুততা, দক্ষতা ও সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে নিরাপদে নামানোর ব্যবস্থা করেন।অসুস্থ যাত্রী সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়-র দাদা স্নেহাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁদের মানবিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, তৎপরতা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব বিশেষভাবে প্রশংসার দাবিদার। যাত্রীর নিরাপত্তা ও সুস্থতার প্রতি তাঁদের আন্তরিক দায়িত্ববোধ উপস্থিত দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং ভারতীয় রেলের সেবামূলক মানসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেস্নেহাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে ভারতীয় রেলের এই দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, স্টেশন কর্তৃপক্ষ, রেল পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আন্তরিক সহযোগিতা না পেলে এত স্বল্প সময়ে রোগীকে নিরাপদে নামানো সম্ভব হত না। ভারতীয় রেলের মানবিক মুখ আমাদের সত্যিই মুগ্ধ করেছে।যাত্রীসেবার পাশাপাশি মানবিক দায়বদ্ধতার এই দৃষ্টান্ত আবারও প্রমাণ করল, বিপদের সময় যাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে ভারতীয় রেল সর্বদাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে রেলের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় করবে বলেই মনে করছেন যাত্রী মহলের একাংশ।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সরকারি গাড়ি ছেড়ে বাসে চড়লেন জেলাশাসক! মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যেতে পুরুলিয়ার অভিনব সিদ্ধান্ত

জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা মেনে এবার অভিনব উদ্যোগ নিল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে সরকারি গাড়ির বদলে বাসে চড়ে দুর্গাপুর রওনা দিলেন জেলার আমলা ও পুলিশ কর্তারা। বৃহস্পতিবার সকালে এই ছবি ঘিরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন, যতটা সম্ভব জ্বালানি বাঁচাতে হবে এবং যাতায়াতে গণপরিবহনকে গুরুত্ব দিতে হবে। তারই মধ্যে চলতি মাসের ১৮ তারিখ রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালও সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মেনেই এবার একসঙ্গে বাসে চড়ে দুর্গাপুরে রওনা দিল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন।বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে দশটা নাগাদ জেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে দুটি বাসে করে রওনা দেন জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক এবং বিডিওরা। একইভাবে পুলিশের আধিকারিকরাও গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে বৈঠকে যোগ দিতে যান।পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা অনুযায়ী জ্বালানির খরচ কমাতে হবে। পাশাপাশি রাজ্যের তরফেও সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমানোর নির্দেশ রয়েছে। আমরা সেই নির্দেশ মেনেই বাসে করে দুর্গাপুর যাচ্ছি।তিনি আরও বলেন, এটা শুধু সরকারি নির্দেশ পালন নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা। কম খরচে এবং কম জ্বালানিতে কীভাবে কাজ করা যায়, সেটাই দেখাতে চাইছি।দুপুর দুটো নাগাদ দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ জেলা পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। বিডিওদের পাশাপাশি থাকবেন ওসি, আইসি, বিধায়ক এবং সাংসদরাও।প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই বৈঠক থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব প্রশাসনিক খরচ কমানো নিয়ে সাত দফা নির্দেশ জারি করেছেন। সেই অনুযায়ী প্রতিটি জেলা প্রশাসন এবং সরকারি দফতরকে আগামী অর্থবর্ষের জন্য তাৎক্ষণিক, মধ্যবর্তী এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের মধ্যে সেই রিপোর্ট মুখ্যসচিবের দপ্তরে জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতি মাসে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ রয়েছে।

মে ২১, ২০২৬
রাজ্য

দেওয়াল মুছতেই হামলা! ভোটের আগে দুর্গাপুরে কমিশনের কর্মীদের উপর চড়াও অভিযোগ

ভোটের আগে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেই দুর্গাপুরে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মীকে মারধরের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়াল। সরকারি দেওয়ালে লেখা রাজনৈতিক প্রচার মুছতে গিয়ে আক্রান্ত হন তাঁরা।নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সরকারি কোনও দেওয়াল বা জায়গায় রাজনৈতিক প্রচার করা যাবে না। সেই নির্দেশ মেনেই এসডিও দপ্তরের নির্দেশে কমিশনের কর্মীরা এলাকায় পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। দুর্গাপুরের কলোনিপাড়ায় পোস্ট অফিসের দেওয়ালে লেখা প্রার্থীর নাম মুছতে যান তাঁরা। অভিযোগ, সেই কাজ শেষ করে গাড়িতে ওঠার পর আচমকাই তাঁদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।আক্রান্ত এক কর্মীর দাবি, তাঁরা সরকারি নির্দেশ মেনেই কাজ করছিলেন। নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁদের কথা শোনা হয়নি। স্থানীয় কিছু মানুষ নিজেদের শাসকদলের সমর্থক বলে দাবি করে তাঁদের উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ।যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, মারধরের ঘটনা ঘটেনি। বরং বিরোধী দলের কর্মীরাই বাইরে থেকে লোক এনে নিজেরাই দেওয়াল মুছছিল এবং উত্তেজনা তৈরি করছিল।ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মার্চ ২২, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুরের মেডিক্যাল কলেজে ফের চাঞ্চল্যকর ঘটনা, একই কলেজে ছাত্রের রহস্যমৃত্যু

দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ফের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। হস্টেলের বাথরুম থেকে উদ্ধার হল দ্বিতীয় বর্ষের এক চিকিৎসক পড়ুয়ার দেহ। মৃতের নাম লাবণ্য প্রতাপ, বয়স ২২। তিনি বিহারের পাটনার বাসিন্দা। শনিবার রাতে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতের বাবা জানিয়েছেন, তাঁদের কেউ আগে কিছু জানায়নি। দরজা খুলে তিনি দেখেন, তাঁর ছেলে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। এরপরই প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে।মৃতের পরিবারের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাবা বলেন, অভিভাবকেরা টাকা দেন পড়াশোনার জন্য, কিন্তু ছাত্রদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কলেজেরই।সম্প্রতি কলেজে পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। সেই ফল ভাল না হওয়ায় মানসিক চাপে এই ঘটনা কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর এই একই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে মেডিক্যাল কলেজের বাইরে জঙ্গলে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন স্থানীয় যুবক এবং একজন সহপাঠী। বর্তমানে তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই কলেজে ছাত্রের মৃত্যু ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
রাজ্য

সাতসকালেই পশ্চিম বর্ধমানে ইডির হানা, বালি-কয়লা পাচারে বড় নাম উঠে আসছে?

রাজ্যে ফের অ্যাকশন মোডে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার সাতসকালেই পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইডি। বালি ও কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে এই অভিযান বলে জানা গিয়েছে। নবগ্রাম, দুর্গাপুর ও পাণ্ডবেশ্বর-সহ জেলার একাধিক এলাকায় একসঙ্গে হানা দেন ইডির আধিকারিকরা।৩ ফেব্রুয়ারি সকালেই প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পশ্চিম বর্ধমানে পৌঁছয় ইডির দল। তদন্তকারীরা ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের কয়লা বেআইনিভাবে উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন বলে সূত্রের খবর। নবগ্রামে প্রথম তল্লাশি শুরু হয়, পরে দুর্গাপুর ও পাণ্ডবেশ্বরেও অভিযান ছড়িয়ে পড়ে।দুর্গাপুরে বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত প্রবীর দত্তের বাড়িতে পৌঁছন ইডির আধিকারিকরা। দীর্ঘদিন ধরেই বালির ব্যবসার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। আগে তিনি পানাগড়ে থাকতেন। প্রায় দুই বছর আগে দুর্গাপুরে একটি বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করে সেখানে থাকতে শুরু করেন। সম্প্রতি তাঁর দুবাই সফরের খবরও সামনে এসেছে।ভোরের দিকে ইডির তিন সদস্যের একটি দল ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তল্লাশি চালাতে গেলে প্রথমে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় ইডি আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন। বালি পাচারের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, এই চক্র কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে। প্রবীর দত্তের ভাইয়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।এর আগে কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। তার পর এবার দুর্গাপুরে এই অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুর থেকে তৃণমূলে আক্রমণ নিতিন নবীনের, ‘এবার বাংলার পালা’

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর ভোটের রাজ্য বাংলায় এসে পৌঁছলেন বিজেপি নেতা নিতিন নবীন। মঙ্গলবার দুর্গাপুরে আসেন তিনি। বুধবার সেখান থেকেই জনসভা করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানান বিজেপির নতুন সভাপতি। সভামঞ্চ থেকে রাজ্যের দুর্নীতি, ধর্মীয় ইস্যু, প্রশাসনের ভূমিকা ও অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে একের পর এক কড়া মন্তব্য করেন তিনি।নিতিন নবীন বলেন, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে তৃণমূলের একাধিক নেতা জেলে রয়েছেন, আবার অনেকে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যাঁরা এখনও বাইরে আছেন, তাঁরাও জেলে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর দাবি, দুর্নীতির সঙ্গে যাঁরাই যুক্ত, কাউকেই ছাড়া হবে না।দুর্গাপুজো প্রসঙ্গে নিতিন নবীন বলেন, শক্তির আরাধনা দুর্গাপুজো থেকেই শুরু হয় এবং বাংলা থেকেই তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ এই রাজ্যেই মায়ের পুজোয় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আজান চলার সময় কোনও সমস্যা হয় না, কিন্তু দুর্গার আরাধনায় বাধা তৈরি করা হয়। বিজেপি নেতা বলেন, কোনও হিন্দুই এই পরিস্থিতি মেনে নেবে না এবং পরম্পরা রক্ষায় বিজেপি সব রকম ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক চরিত্র বদলের চেষ্টা চলছে। তামিলনাড়ুতে দীপম উৎসবে পুজো করতে বাধা দেওয়া হয়েছে আজানের কারণে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই রাজ্যের সরকার ইন্ডি জোটে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নিতিন নবীন। আদালত পুজোর অনুমতি দেওয়ার পর বিচারপতিকে সরাতে ইমপিচমেন্টের চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, সনাতনী সংস্কৃতি বাঁচানোর লড়াই শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের।প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে নিতিন নবীন বলেন, এটি চার দিনের সরকার। তৃণমূলের কথায় নাচবেন না। কাঠের পুতুল হয়ে থাকবেন না। প্রশাসনের কাজ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঘরে ঘরে গিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতির কথা মানুষকে জানাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, রাজ্যে যে অরাজকতা তৈরি হয়েছে, তার উল্টো গোনা শুরু করে দিয়েছে বাংলার মানুষ। খুব শিগগিরই বিজেপি বাংলার বিকাশের দায়িত্ব নেবে বলে দাবি করেন তিনি।এসআইআর ইস্যুতেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেন নিতিন নবীন। তাঁর বক্তব্য, দিল্লিতে গিয়ে কান্নাকাটি করা হবে, অথচ রাজ্যে এসপি ও ডিএমদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, কমিশন অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে চাইছে। যাঁদের জন্ম বাংলায়, যাঁরা এই মাটির মানুষ, তাঁরাই বাংলার অধিকার পাবেন। বাংলাদেশ থেকে আসা কোনও অনুপ্রবেশকারীকে বাংলায় থাকার অধিকার দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন বিজেপি সভাপতি।তৃণমূলের বিধায়ক ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুলে নিতিন নবীন বলেন, একসময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু এখন তার থেকেও বড় দুর্নীতির কারখানা তৈরি হয়েছে। বিজেপি আগেও উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো রাজ্যে তথাকথিত জঙ্গলরাজ শেষ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, এবার বাংলার পালা। বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই, প্রত্যেক কর্মীর পিছনে পুরো বিজেপি পরিবার রয়েছে। লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুরে ডাক্তারি ছাত্রী গণ.ধর্ষণ কাণ্ডে মুখ খুললেন পুলিশ কমিশনার, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রীর উপর গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। সোমবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী বলেন, পুলিশ নির্যাতিতার পরিবারের পাশে আছে। প্রথম দিন থেকেই আমরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তাঁরা যেন নিরাপদে থাকেন, তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।কমিশনার আরও বলেন, পুলিশ এই মামলায় নির্যাতিতার পরিবারের সদস্য হিসেবেই কাজ করছে। তাঁরা যেন ন্যায়বিচার পান, সেই লক্ষ্যে দ্রুত তদন্ত চলছে। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই একাধিক দল গঠন করে অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান শুরু করা হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলের পুনর্নির্মাণ (crime scene reconstruction) করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ব্যবহৃত জামাকাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, তদন্তের প্রতিটি ধাপে নির্যাতিতার পরিবারকে অবহিত করা হচ্ছে।তবে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে কমিশনার বলেন, মেডিক্যাল রিপোর্ট ও প্রাথমিক ফরেনসিক বিশ্লেষণে জানা যাচ্ছে, ধর্ষণের ঘটনায় মূলত একজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। বাকিদের ভূমিকা এখনও তদন্তাধীন। ফলে গণধর্ষণ অভিযোগের পরিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কমিশনার স্পষ্ট জানান, যে দোষী হবে, তাকে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। আইনের পথে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই ঘটনার পর দুর্গাপুর জুড়ে উত্তেজনা ছড়ালেও পুলিশ কমিশনার সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনাকে কেউ রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করলে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিন পুলিশ কমিশনার ব্যক্তিগতভাবে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তাঁর কথায়, মেয়েটির সাহসকে আমরা স্যালুট জানাই। এমন অপরাধ যেন আর কেউ করার সাহস না পায়, তার জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে।

অক্টোবর ১৪, ২০২৫
রাজ্য

দুর্গাপুরে ডাক্তারি ছাত্রীর ‘গণধর্ষণ’, তিন অভিযুক্ত গ্রেফতার — সহপাঠীর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে

দুর্গাপুরে কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে তিন অভিযুক্তকে। তাঁদের রবিবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।ঘটনাস্থল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মাত্র ৭০০ মিটার দূরে, ঘন ঝোপঝাড়ে ঘেরা এলাকায়। পুলিশ জানায়, সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই বসে নেশার ঠেকমদ ও গাঁজা বিক্রির আড্ডা। শনিবার রাতে ওই ঠেকেই ছিলেন তিন অভিযুক্ত। তখনই তাঁরা কলেজের ডাক্তারি ছাত্রী এবং তাঁর এক সহপাঠীকে রাস্তায় হাঁটতে দেখে প্রথমে তরুণীকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন। এর পর তাঁকে জোর করে টেনে নিয়ে গিয়ে জঙ্গলে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাকালীন তরুণীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। পরে তদন্তে ধৃতদের কাছ থেকেই তরুণীর ফোন উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, তিন জনের বিরুদ্ধেই প্রত্যক্ষ প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, সহপাঠীকে পালিয়ে যেতে দেখে তরুণী কলেজের বন্ধুদের ফোন করেছিলেন। পরে তাঁর বন্ধুরাই ওই সহপাঠীকে ঘটনাস্থলে ফের যেতে বলেন। এই সময়েই নির্যাতিতাকে ধর্ষণ করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পুলিশের।ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই পুলিশ ওই সহপাঠীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তাঁর বয়ানেই পুরো ঘটনার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে বলে সূত্রের খবর। তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট রঞ্জনা রায়।কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, রাত ৭টা ৫৮ মিনিটে সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়েছিলেন তরুণী। ৮টা ৪২ মিনিটে সহপাঠী একা ফিরে আসেন, গেটের কাছে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে ফের বাইরে যান। পরে রাত ৯টা ২৯ মিনিটে দুজন একসঙ্গে কলেজে ফেরেন। ৯টা ৩১ মিনিটে তরুণী নিজের হস্টেলে ফিরে যান।অভিযোগ, তরুণীর বাবার দাবি অনুযায়ী, তাঁর মেয়েকে বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন সেই সহপাঠীই, এবং ধৃত তিন জন ওই ছাত্রেরই বন্ধু। তাঁর কথায়, রাত ১০টার দিকে ওর বন্ধু ফোন করে জানায়, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওর এক বন্ধু ওকে খেতে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যখন দু-তিন জন মেয়েকে ঘিরে ধরে, তখন ওর বন্ধুটি পালিয়ে যায়।এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পুলিশ মনে করছে, ঘটনায় আরও কয়েক জন যুক্ত থাকতে পারে। তাঁদের খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান

অক্টোবর ১২, ২০২৫
দেশ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্গাপুরে ৫০০০ কোটির বেশি মূল্যের প্রকল্পের সূচনা করবেন

আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্গাপুরে তেল ও গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়ক ও রেল খাতে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস, উদ্বোধন ও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন।১৯৫০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বরাদ্দে তেল ও গ্যাস পরিকাঠামোয় প্রধানমন্ত্রী বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL)-এর সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঘরোয়া, বাণিজ্যিক ও শিল্পগ্রাহকদের PNG সংযোগ প্রদান করা হবে, রিটেল আউটলেটে CNG উপলব্ধ থাকবে এবং এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপুর-হলদিয়া প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের দুর্গাপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত ১৩২ কিমি দীর্ঘ অংশটিও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন, যা প্রধানমন্ত্রী উর্জা গঙ্গা (PMUG) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত জগদীশপুর-হলদিয়া ও বোকারো-ধামরা পাইপলাইন প্রকল্পের অংশ। আনুমানিক ১,১৯০ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও নদিয়া জেলার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। স্থানীয়দের জন্য এই পাইপলাইন নির্মাণকালে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং এখন লক্ষাধিক পরিবারকে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে সহায়তা করবে।পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপুর স্টিল থার্মাল পাওয়ার স্টেশন এবং রঘুনাথপুর থার্মাল পাওয়ার স্টেশনে ফ্লু গ্যাস ডিজালফারাইজেশন (FGD) সিস্টেম সংযোজনের প্রকল্পটিও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন, যার আনুমানিক ব্যয় ₹ ১,৪৫৭ কোটি টাকা। এটি এলাকার পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।রেল পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী পুরুলিয়া জেলার পুরুলিয়া-কোটশিলা রেললাইন দ্বিগুণ করার ৩৬ কিমি দীর্ঘ প্রকল্পটিও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন, যার ব্যয় প্রায় ৩৯০ কোটি। এই প্রকল্পটি জামশেদপুর, বোকারো ও ধানবাদের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে রাঁচি ও কলকাতার সংযোগ উন্নত করবে, পণ্য পরিবহনের গতি বাড়াবে এবং শিল্প ও ব্যবসার ক্ষেত্রে লজিস্টিক্স সুবিধা উন্নত করবে।সেতু ভারতম প্রকল্পের অধীনে পশ্চিম বর্ধমানের তোপসি ও পাণ্ডবেশ্বরে নির্মিত দুটি রোড ওভার ব্রিজ (ROBs)-এর উদ্বোধনও প্রধানমন্ত্রী করবেন, যার মোট ব্যয় প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা। এই সেতুগুলি রেল লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা রোধ এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্গাপুরে তেল ও গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়ক ও রেল খাতে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস, উদ্বোধন ও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন

জুলাই ১৭, ২০২৫
রাজ্য

জলমগ্ন একাধিক গ্রাম, জল ছাড়ছে ডিভিসি, দুর্গাপুর ব্য়ারেজ পরিদর্শন সেচমন্ত্রীর

দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে মঙ্গলবার থেকে ভারি বৃষ্টিপাত চলছে। পাঞ্চেত, মাইথন থেকে জল ছাড়ার পরে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকেও যথারীতি জল ছাড়া শুরু হয়েছে। আজ, শুক্রবার ৪৬ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে বলে সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জানিয়েছেন। সেচমন্ত্রী মানস ভুইয়া দুর্গাপুর ব্যারাজের সংস্কারের কাজের পর চালু ব্যারাজ রাস্তা পরিদর্শনে আসেন। সেচমন্ত্রী বলেন, ৪৫ দিনের মধ্যেই কাজ শেষ করা হয়েছে। বর্ষা এসে গিয়েছে। ফলে বাকি যেসব কাজ রয়েছে তা বর্ষার পরেই শুরু হবে।দুর্গাপুর ব্যারাজের পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেচমন্ত্রী বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছাকৃত বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। সেচমন্ত্রী বারবার বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের যে দায়িত্ব রয়েছে তা পালন করছে না এবং রাজ্যের হকের টাকা কেন্দ্র দিচ্ছে না। তাই ড্রেজিং করা সম্ভব হচ্ছে না। রাজ্য ও ডিভিসির মধ্যে বারবার জল ছাড়া নিয়ে যে বিতর্ক দেখা দেয় তা নিয়ে কোন মন্তব্য না করে সেচমন্ত্রী বলেন, এই মুহুর্তে এই বিতর্কে যাব না। ৪৫ দিনের মধ্যেই কাজ শেষ করা হয়েছে। মাঝে ছয় দিন প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছিল বলে কাজে কিছু অসুবিধা দেখা দিয়েছিল। তবু কাজ ৪৫ দিনের মধ্যেই শেষ করা গিয়েছে। হায়দ্রাবাদ থেকে রাবার সিল আসছে তা দিয়ে কাজ করা হবে।সেচমন্ত্রী বলেন, দেড় মাস দুর্গাপুর ব্যারাজে জল ধরে রাখা হয়। এরপরে দুর্গাপুর, মাইথন ও পাঞ্চেত নিয়ে একটি সেল গঠন করা হয়েছে এবং মনিটরিং করা হচ্ছে জল ছাড়া নিয়ে যেন মানুষের ক্ষতি না হয়। সেচমন্ত্রী বলেন, প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে এবং বিভিন্ন জেলা এবং ঝাড়খণ্ডের জল নামছে ফলে সমস্ত বিষয়ের উপরে নজর রাখা হয়েছে।তেনুঘাট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেচমন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী, সেচ দপ্তরের কর্তারা এবং আমি নিজে বারবার কথা বলেছি। তেনুঘাটকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অপারেট করা যায়।সেচমন্ত্রী একাধিকবার বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং সেচ দপ্তর মাইথন, পাঞ্চেত এবং দুর্গাপুর ব্যারাজের জল ছাড়া নিয়ে নজর রেখেছেন । আজ ৪১ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। বন্যার যন্ত্রণা যাতে পেতে না হয় তার প্রতি সজাগ রয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা এবং আজ বাঁকুড়ায় আসছেন পরিস্থিতি নিয়ে আলচনা করতে। রাস্তার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, পি ডাব্লু ডিকে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বৃষ্টি কমলেই।সেচমন্ত্রী ব্যারাজগুলির গভীরতা কমে যাওয়ার জন্য কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা না দেওয়ার কথা তুলে ধরেন। সেচমন্ত্রী বলেন, ১২ বছর ধরে কেন্দ্রের জলসম্পদ দপ্তর, প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার দেখছি দেখছি করে পার করে দিচ্ছে কিন্তু রাজ্যের হকের টাকা দিচ্ছে না। সেচমন্ত্রী বিজেপি সরকারের বাংলাকে বঞ্চনা করার কথা তুলে ধরেন। বন্যার প্রসঙ্গে সেচমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রার্থনা করছি যেন বন্যার মুখে পড়তে না হয় কিন্তু দেড় মাস জল ধরে রাখা হয় আর তারপরে রয়েছে প্রচন্ড বৃষ্টি, ফলে জলের চাপ বাড়ছে, সেদিকেই নজর রাখতে হচ্ছে।দুর্গাপুর ব্যারাজের এক নম্বর গেটে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে । সাংবাদিকেরা এ নিয়ে সেচমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে সেচমন্ত্রী বলেন, সব দিক নজরে রাখা হয়েছে, সংস্কার হবে। তিনি এরপরে আবার বলেন, কেন্দ্রিয় সরকারের কাছ হতে এক কানা কড়ির সাহায্য পাইনি। মুখ্যমন্ত্রী নিজের রাজ্যের কোষাগার থেকেই খরচ করে কাজ করছেন। তিনি এরপরেই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন কিভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সীমিত আর্থিক ক্ষমতায় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার পরেও কাজ করে চলেছেন। সেচমন্ত্রী জোড়ের সাথে বলেন, একটা নয়া পয়সা কেন্দ্রের সরকার দেয় নি। তবু একের পর এক কাজ হচ্ছে এবং এটাও করা হবে।

জুন ২০, ২০২৫
রাজ্য

বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে চলল গুলি, মৃত যুবক

বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে এসে বর পক্ষের সাথে কনে পক্ষের হাতাহাতি, ভাঙচুর বিয়ে বাড়িতে। খুনের অভিযোগ কনে পক্ষের একজনকে।কনে পক্ষের দাবি খুন করা হয়েছে আশিষ বেদ নামে বছর ২০ র এক যুবককে, গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে এলাকাবাসীর দাবি। ঘটনাকে ঘিরে দুর্গাপুরের অমরাবতী সংলগ্ন ভ্যামবে কলোনি হরি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। পুলিশ ঘিরে রেখেছে ঘটনাস্থল। গতকাল এই এলাকায় একটি বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান ছিল, বিয়ে বাড়িতে আসানসোল থেকে বর পক্ষের লোকজন আসার কিছুক্ষন পর বিয়ে বাড়ির ডান্স প্লাটফর্ম এ গান চেঞ্জ করাকে কেন্দ্র করে অশান্তির শুরু, গান চেঞ্জ করতে রাজি হয়নি কনেবাড়ির লোকজন, এরপরই শুরু হয় দু পক্ষের হাতাহাতি, ঠিক এইসময় কনে বাড়ির আত্মীয় আর্টিস্ট বেদকে টেনে হিচড়ে নিয়ে এসে খুনের অভিযোগ কনে বাড়ির লোকজনদের, গুলি করে খুনের অভিযোগও আনছে এলাকার মানুষ। তবে ঠিক কি কারণে এই মৃত্যু তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়না তদন্তর জন্য আর্টিস্ট বেদের মৃতদেহ দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠায় নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ। গোটা ঘটনার জেরে টানটান উত্তেজনা দুর্গাপুরে ভ্যাঁমবে কলোনি এলাকায়।নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ অক্ষয় বেদ, নামে একজনকে আটক করেছে, আরো কয়েকজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

মার্চ ১০, ২০২৫
রাজ্য

গাড়ি উল্টে তরুণীর মৃত্যু, শেষমেশ গ্রেফতার বাবলু যাদব, বাকিরা অধরা

রবিবার গভীর রাত্রে পানাগড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় হুগলির চন্দননগরের সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের(২৭)। এই মৃত্যুর ঘটনায় পানাগড়ের কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে কটুক্তির অভিযোগ ওঠে। যে সাদা রংয়ের গাড়িতে করে ওই যুবতীকে কটুক্তি করার অভিযোগ ওঠে সেই গাড়ির মধ্যে ছিলেন গাড়ির মালিক বাবলু যাদব। রবিবার দুর্ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছাড়া বাবলু ও গাড়িতে থাকা বাকিরা। কাঁকসা থানার পুলিশ বাবলু যাদব সহ বাকিদের সন্ধানে মঙ্গলবার বাবলু যাদবের বাড়িতে যায় এসিপি সুমন কুমার জয়সওয়াল। ঘটনার চার দিনের মাথায় বাবলু যাদবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।অভিযুক্ত বাবলু যাদবকে গ্রেফতার করলেও বাকিরা এখনও অধরা। পুলিশের বিশেষ দল তাকে গ্রেফতার করেছে। আসানসোলের নিঘা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, ওই ঘটনায় প্রথমে ইভটিজিংয়ের দাবি করেছিল পরিবার। যদিও পুলিশ ইভটিজিংয়ের তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছে। বরং পুলিশ দাবি করা হয়েছে, দুটি গাড়ির রেষারেষির জেরেই ঘটে দুর্ঘটনা। সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের মা এদিন বলেছেন, যদিও গ্রেফতার হয়েছে একজন। বাকিদেরও গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করুক। আমি চাই সেদিনের ঘটনায় যাঁরা ছিলেন সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। পুলিশ কি আগে সেভাবেব তৎপরল হয়নি। ওই গাড়ির একজনকে গ্রেফতার করল। আমি সন্তানহারা হয়েছি। আমি চাই ছেলে বা মেয়ে হোক নির্বিশেষে সুরক্ষা থাকে। নিজের খুশি মত বাইরে বের হতে পারে। কেউ অসুস্থ হলে বাইরে ওষুধ আনতে কেউ যেতে পারবে না। সমাজে নিরাপত্তা পাওয়া তো অধিকার। কেন এই নিরাপত্তা পাব না। প্রত্যেককে নিরাপত্তা দেওয়া হোক।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
রাজ্য

পানাগড়ে তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাবলু যাদব কে? তদন্তে সিআইডি

রবিবার গভীর রাত্রে পানাগড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় হুগলির চন্দননগরের সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের(২৭)। এই মৃত্যুর ঘটনায় পানাগড়ের কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে কটুক্তির অভিযোগ ওঠে। যে সাদা রংয়ের গাড়িতে করে ওই যুবতীকে কটুক্তি করার অভিযোগ ওঠে সেই গাড়ির মধ্যে ছিলেন গাড়ির মালিক বাবলু যাদব। রবিবার দুর্ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছাড়া বাবলু ও গাড়িতে থাকা বাকিরা। কাঁকসা থানার পুলিশ বাবলু যাদব সহ বাকিদের সন্ধানে মঙ্গলবার বাবলু যাদবের বাড়িতে যায় এসিপি সুমন কুমার জয়সওয়াল। ঘটনার দুদিন কেটে গেলেও এখনও বাবলু যাদবকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকার বাসিন্দাদের। কেন এই বাবলু যাদব কে এখনও পর্যন্ত পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারছে না? সেই নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।কে এই বাবলু যাদব ?স্থানীয় সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রায় দশ বছর আগে পানাগড়ে আসে বাবলু যাদব। পানাগড় বাজারের কাওয়ারি মার্কেটে এক ব্যক্তির দোকানে কাজ শুরু করে। সেখান থেকে পরে লোহার যন্ত্রাংশ অল্প পরিমাণে কেনা বেচার ব্যবসা শুরু করে। মূলত ছোট এবং বড় গাড়ির স্প্রিং পাতির ব্যবসা করতো বাবলু। পরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এক বাংলাদেশের ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পানাগড়ে কাওয়ারি মার্কেটে মূলত পুরনো গাড়ির স্পেয়ার পার্টস কেনা বেচার বিরাট এলাকা জুড়ে ব্যবসা চলে। অবৈধ গাড়ির কেনা বেচা হয় সমস্তটাই পুলিশের নজর এড়িয়ে। মূলত এখানে ভিন রাজ্য থেকে বড় এবং ছোট গাড়ি কিনে এনে সেগুলিকে কাটাই করে তার সমস্ত যন্ত্রাংশ আলাদা করার পর লোহার কেজি দরে বিক্রি করা হয়। সেখান থেকেই গাড়ির স্প্রিং পাতি কিনে সেগুলি অবৈধভাবে বাংলাদেশ পাচার করত বাংলাদেশী এক ব্যবসায়ীর হাত ধরে। এই ব্যবসা শুরু করার পর মাত্র দু বছরের মধ্যে রীতিমত ফুলে ফেঁপে ওঠে এই বাবলু যাদব। কাওয়ারি মার্কেটের মধ্যে একজন বড় ব্যবসায়ী হিসেবে তার পরিচিতি বাড়ে। স্প্রিং পাতির ব্যবসার সাথে চোরাই গাড়ি ও পুরনো গাড়ি কিনে সেগুলি বেআইনিভাবে কাটাই করে শুরু হয় আরো একটি ব্যবসা। পুলিশের নজর এড়িয়ে রমরমিয়ে চলতো তার ব্যবসা। গত এক বছর আগে ভিন রাজ্য থেকে একটি লরি কিনে এনে পানাগড় বাইপাসের ধারে একটি ফাঁকা জায়গায় লরিটি কাটাই করার সময় বুদবুদ থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে ধরে। বাবলু যাদবের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। বুদবুদ থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় বাবলু যাদব ও তার সঙ্গী সাথীরা। বাজেয়াপ্ত হয় ভিন রাজ্যের একটি গাড়ির বিভিন্ন পার্টস ও লরির যন্ত্রাংশ।আদালতে পেশ করার পর তারা পরে জামিনে মুক্তি পায়। রবিবার গভীর রাত্রে সেই বাবলু যাদব গাড়ির মধ্যে ছিলেন বলে দাবি করেছেন এসিপি সুমন কুমার জয়সওয়াল। যদিও এসিপি জানিয়েছেন তারা বাবলু যাদবকে শীঘ্রই গ্রেফতার করবে। অন্যদিকে মঙ্গলবার কাঁকসা থানার ঘটনার তদন্তে নামে সিআইডি আধিকারিকরা। এদিন কাঁকসা থানায় আটক হওয়া দুর্ঘটনাগ্রস্থ দুটি গাড়ি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি গাড়ি দুটির ছবি ও নমুনা সংগ্রহ করেন সিআইডি আধিকারিকরা। পাশাপাশি পানাগড়ের রাইস মিল মোরে দুর্ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখেন তারা। এদিন কাঁকসা থানার পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গোটা এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেয়। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় দুই সিভিক ভলেন্টিয়ারকে। যদিও এদিন পুলিশের পক্ষ থেকে সিআইডির হাতে অফিসিয়ালি কোনও তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়নি বলে তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে মঙ্গলবার বিকেলে কাঁকসা থানায় আসেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি ইস্ট অভিষেক গুপ্তা। এদিন তিনি দুর্ঘটনা গ্রস্থ গাড়ি দুটি খতিয়ে দেখেন। এদিন সাংবাদিকরা ডিসিপি-কে ঘটনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে গেলে। সাংবাদিকদের উপর ক্ষুব্ধ হন ডিসিপি অভিষেক গুপ্তা।এদিন তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি শুধুমাত্র মিডিয়া সন্ত্রাসের কারণে। মিডিয়ায় খবর দেখে সকলে গা ঢাকা দিয়েছে। তার দাবি, সংবাদ মাধ্যমে সোমবার সকাল থেকে যে খবর দেখানো হয়েছে তা সত্য নয়। সোমবার আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি দাবি করেন কোনরকম ইভটিজিংয়ের মতো ঘটনা ঘটেনি। রেষারেষির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। সেই কথা মঙ্গলবার বিকেলে কাঁকসা থানায় এসে ফের দাবি করেন ডিসিপি।পুলিশ জানিয়েছে, ১০৫ ও ৩০৪ ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।গত রবিবার গভীর রাত্রে হুগলির চন্দননগর থেকে সুতন্দ্রা চ্যাটার্জি একটি ছোট গাড়িতে করে চালকসহ পিছনে তিনজনকে সাথে নিয়ে বিহারের গয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। সেখানে তাদের একটি নাচের অনুষ্ঠান ছিল। বুদবুদের আগে জাতীয় সড়কের ধারে একটি পেট্রোল পাম্পে তারা গাড়িতে তেল ভরার পর। জাতীয় সড়ক ধরে আসানসোলের দিকে যাওয়ার সময় একটি সাদা রঙের ছোট গাড়ি থেকে ৫ জন যুবক তাদের কটুক্তি করে বলে অভিযোগ ওঠে। দুটি গাড়ির মধ্যে কয়েকবার সংঘর্ষ হয়। এরপরই সাদা গাড়িতে থাকা পানাগড়ের বাসিন্দাদের গাড়ি ধাওয়া করে সুতন্দ্রার চার চাকাটি। পানাগড় বাজারের রাইস মিল রোডে সাদা গাড়িটি রাইস মিল রোডে ঢোকার মুখে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সেখানে দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যায় সুতন্দ্রা।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৫
রাজ্য

মদ্যপ যুবকদের গাড়ির তাড়াতে দুর্ঘটনায় মৃত্য যুবতীর, পুলিশের পাল্টা দাবি!

নারী সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখে রাজ্য। এবার জাতীয় সড়কে তরুণীর গাড়ি লক্ষ্য করে ধাওয়া মদ্যপ যুবকদের। পালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় তরুণীদের গাড়িটি। গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় হুগলির চন্দননগরের বাসিন্দা ওই তরুণীর। যদিও আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের দাবি, দুটি গাড়ি রেষারেষি করছিল। কটূক্তি বা তাড়া করার বিষয়টি মানতে চায়নি পুলিশ।চন্দননগরের বাসিন্দা সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়। পেশায় একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কর্মী সুতন্দ্রা। রবিবার মাঝ রাতে তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে একটি গাড়ি করে চন্দননগর থেকে গয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন সুতন্দ্রা। সুতন্দ্রাদের গাড়ি চালকের দাবি, পূর্ব বর্ধমানের বুদবুদে পৌঁছে তেল ভরার জন্য তাঁরা একটি পেট্রোল পাম্পে গিয়েছিলেন। পেট্রোল পাম্প থেকে তেল ভরার পরেই তাঁদের গাড়িকে ধাওয়া করে অন্য একটি গাড়ি।সেই গাড়িতে ছিল পাঁচ যুবক। ওই যুবকরা প্রত্যেকে মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ। সুতন্দ্রাকে তারা কটুক্তি করতে থাকে, এরপরই সুতন্দ্রাদের গাড়ি ধাওয়া করতে শুরু করে যুবকদের গাড়িটি। কোনওক্রমে গাড়ি নিয়ে পালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি রাস্তার পাশের দোকানে ধাক্কা মারে সুতন্দ্রাদের গাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি উল্টে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় এবার সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সুতন্দ্রাদের গাড়িতে থাকা প্রত্যেকেই চোট পেয়েছেন।পরবর্তী সময়ে ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যায় পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাঁকসা থানার পুলিশ। তবে অভিযুক্তরা এখনও অধরা রয়েছে। জাতীয় সড়কের CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নারী সুরক্ষা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।পেট্রোল পাম্প থেকেই বারে বারে সাদা গাড়িটি আমাদের গাড়িটিকে ওভারটেক করে। যখন তেল ভরে পেট্রোল পাম্প থেকে গাড়ি নিয়ে বেরোতে যায় তখনই আমাদের গাড়িটিকে বাঁ দিকে চেপে দেয় কিছু দূর গিয়ে আচমকা ব্রেক কষে। তরুণী মৃত্যুতে বিস্ফোরক বয়ান গাড়ির চালকের। দুর্ঘটনার পর ওই গাড়ি চালক দাবি করেন, পেট্রোল পাম্প থেকে বেরোনোর পরেই ওদের গাড়িটা আমাদের গাড়িতে এসে ধাক্কা দেয়। ম্যাডামের দিকে হাত নেড়ে অশ্লীল ইঙ্গিত করছিল ওরা। আমি গাড়ি থামালে ওরা ম্যাডামকে নামিয়ে তুলে নিয়ে চলে যেতে পারত। এদিকে গোটা ঘটনায় অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি করেছে মৃতার মা। মাত্র ৮ মাস আগেই স্বামীকে হারিয়েছেন। এবার পথদুর্ঘটনায় মেয়ের মৃত্যুতে স্বাভাবিক ভাবেই বাকরুদ্ধ। হুগলির চন্দননগরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নাড়ুয়া রায়পাড়ার পুরোনো দোতলা বাড়িতে আজ শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরু একচিলতে গলির ধারে বাড়িটির বাইরে এলাকার মানুষজন এবং মিডিয়ার ভিড়। নিজস্ব ট্রুপ নিয়ে প্রোগ্রাম করতে বেরিয়েছিলেন ওই বাড়ির মেয়ে বছর ২৭ এর সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়। গন্তব্য ছিল গয়া। গতকাল রাতেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৫
রাজ্য

দুর্গাপুরে কোটি টাকা ছিনতাইয়ে যুক্ত দুই পুলিশ কর্তা! অভিযোগে গ্রেফতার মোট ৬

দিল্লির এক ব্যবসায়ীর এক এজেন্টের কাছ থেকে জাতীয় সড়কে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ছিনতাই করা হয় এক কোটি এক লক্ষ টাকা। আর এই ছিনতাই কাণ্ডে জড়িয়ে গেল দুই পুলিশ কর্তা। ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুর্গাপুর পুলিশের কর্তা ও সিআইডি দুর্গাপুরের এক কর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রেফতার হয় পুলিশের কাজ থেকে বরখাস্ত এক কর্মী। মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান অভিষেক গুপ্তা। শনিবার তাদেরকে আদালতে তোলা হবে। ডিসি জানান এখন তদন্ত চলছে, পুলিশ বলে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন আইনের পথেই চলবে। এই ঘটনা নিয়ে সকাল থেকেই দুর্গাপুর উত্তাল ছিল। ডিসিপি অভিষেক গুপ্তা বলেন, দিল্লীর এক ব্যবসায়ী এক কোটি এক লক্ষ টাকা নিয়ে সড়কপথে কলকাতা যাচ্ছিল। সেই সময় ডিভিসি মোড়ের কাছে টাকা লুঠ করে দুস্কৃতীরা। যার মধ্যে ছিলেন দুই পুলিশ কর্তা। ডিসিপি বলেন, দিল্লীর ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ ছিল যাদের তারাও ছিল এর মধ্যে। কোন টাকা উদ্ধার হয়নি। তদন্ত চলছে তবে ব্যবসায়ীর পরিচিত লোকেরা যুক্ত রয়েছে। আইন আইনের পথেই চলবে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৪
উৎসব

ডিহিপাড়ার 'বানেশ্বরের' গাজনের এক অজানা লোমহর্শক কাহিনী

বাঁকুড়া জেলার ডিহিপাড়া গ্রামে মধুকেশ্বর শিবের মূর্তি স্থাপন ও পুজারম্ভ শুরু হয় বাংলার ১২৩০ এ। জানা যায় গাজন ও চড়ক উৎসব তাঁর অনেক আগে থেকেই চালু ছিল এই এলাকায়। এই ব্যাপারে ডিহিপাড়া গ্রামে আদি বাসিন্দা রাখহরি চট্টোপাধ্যায় জনতার কথা কে বলেন, জনশ্রুতি, এখন যে জায়গায় মন্দিরটি অবস্থিত সেখানে আগে ঘন জঙ্গল ছিল। দামোদরের পারে আবস্থিত ডিহিপাড়া গ্রামের সেই জঙ্গলে দামোদরের অপরদিক থেকে একটি গাভীকে প্রায়-ই দামোদর নদ সাঁতরে এপারে জঙ্গলে আসতে দেখা যেত। এবং গাভীটি দামোদর পেরিয়ে এসে ওই ঘন জঙ্গলে প্রবেশ করত।তিনি জানান, স্থানীয়রা বেশ কিছুদিন যাবৎ ওই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখে, কৌতুহলবশত একদিন ওই জঙ্গলে প্রবেশ করে দেখেন, গাভীটি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে এবং তাঁর বাঁট থেকে দুধ ঝড়ে পড়ছে একটি নির্দিষ্ট স্থানে। স্থানীয় মানুষজন আরো কৌতুহলে গাভীটিকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে যায়গাটা পরিষ্কার করতেই তারা যে দৃশ্য দেখেন, তা দেখে তারা নির্বাক হয়ে যান। তাঁরা দেখেন, যে যায়গাটিতে ওই গাভীর বাঁট থেকে আঝোর ধারায় দুধ ঝড়ে পড়ছিল, সেখানে একটি প্রস্তরের শিব লিঙ্গ। সেই থেকেই মধুকেশ্বর শিবের পুজা আরম্ভ হয়।রাখহরি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ডিহিপাড়া-র গাজন উৎসব চার দিন ধরে হয়, যার সমাপ্তি ঘটে চৈত্র সংক্রান্তিতে। তার আগে ৮ দিন ধরে বাবা মধুকেশ্বরকে পরমান্ন দেওয়া হয়, এবং সেই প্রসাদ সারা গ্রামেই বিতরণ করা হয়। মধুকেশ্বরের গাজনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন ভক্ত (সন্যাস) হয়। গাজন শুরুর আগেরদিন স্নান করে শুদ্ধ বসনে বাবা মধুকেশ্বরের আটচালায় প্রবেশ করেন ভক্তেরা। তাঁর পরেরদিন বাবা বানেশ্বর কে স্নান করিয়ে পুজাপাঠ করা হয়। কথিত আছে শিব উপাসক বান রাজা দ্বারকাধীশ শ্রীকৃষ্ণ-র সহিত যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মহাদেবের প্রীতি উৎপাদন করে অমরত্ত্ব লাভের আকাঙ্খায় নিজ গাত্র লোহিত দ্বারা মহাদেবকে তুষ্ট করে অভীষ্ট সিদ্ধ করে, সেই কারনে মহাদেব বা শিব কে বানেশ্বর-ও বলা হয়ে থাকে।রাখহরি চট্টোপাধ্যায় জানান এটি (বানেস্বর) সিঁদুর মোচিত লম্বা এক কাঠের পাটা বিশেষ। বংশ পরম্পরায় কর্মকার (কামার) সম্প্রদায়ের একজন একটি লৌহ শলাকা পুজার আগে ওই কাঠের পাটাতনে পোথিত করে দিয়ে যায়। এরপর বানেশ্বরকে সমগ্র গ্রাম ও দেবত্ত স্থানে ঘোরানো হয়। সন্ধ্যা বেলায় সেটিকে একটি প্রতিষ্টিত পুকুরে স্নান ও পুজার্চনা করিয়ে মন্দিরে আনা হয়। এই পুজা অনুষ্ঠানে ভক্ত সন্যাসীদের বিভিন্ন দৈহিক যন্ত্রণা ধর্মের অঙ্গ হিসাবে বিবেচিত হয়।অনেক ভক্তকেই একটি কাঠের দন্ড থেকে ওপরে পা বেঁধে নিচের দিকে মাথা করে ঝুলতে দেখা যায় এবং তাঁকে অন্যরা দুলতে সাহায্য করেন। এবং নিচের দিকে আগুন জ্বলতেও দেখা যায়। এই অনুষ্ঠানের পর ভক্তরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে স্বপাক হোবৃশী ও ফলাহার করেন। তাঁদের ভোজনের সময় পুরো এলাকা নিস্তব্দ থাকে। খাওয়ার সময় কোনও শ্বব্দ হলে ভক্তদের খাওয়ায় বাধা পরে যাবে এবং তারা সেই খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না।গাজনের দ্বিতীয় দিনটিকে দিন গাজন বলা হয়ে থাকে। সেই দিন বানেস্বরকে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুজার্চনা করা হয়ে থাকে। সন্ধ্যাবেলা পুর্বদিনের মতই পুকুরে স্নান করিয়ে আগুন জ্বেলে ভক্তরা কাঠের পাটাতনে ঝুলতে থাকেন। এবং রাতে প্রতিষ্টিত পুকুরে চার প্রহরে চারবার পুজা করা হয়। এই পুজার্চনাকে স্থানীয় ভাবে ঘাটজাগানো বলা হয়ে থাকে। এবং ভোর রাতে মা কামাক্ষা কে ঘাটে আনার জন্য ঘাটে বিশেষ পূজার্চনা করে কপোত বলিদান করা হয়ে থাকে।কামাক্ষা দেবীকে মন্দিরে আনাটা ডিহিপাড়া গাজনের একটি বিশেষ আকর্শন। হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমায় এই দৃশ্য দেখার জন্য। পাট ভক্তগন (সন্ন্যাসী) দেবীকে বহন করে মন্দিরে আনেন। ঢাকের ছন্দে নাচতে নাচতে মা আসেন মন্দিরে। একটি মাটির কলসিকে জলে নামিয়ে আড়াই বার ঢেউ দিয়ে যতটা ভরবে সেই ঘটটিকে মাথায় গামছা বেঁধে নিয়ে আসা হয়। গ্রামের আদি বাসিন্দা রাখহরি চট্টোপাধ্যায় জানান, মায়ের এমন-ই কৃপা, নাচলেও একফোঁটা জল ওই মাটির কলসি থেকে বেরিয়ে আসে না। এবং সেই কলসি ভর্তী করার সময় কোনোরূপ ঢাক বাজবে না। জানা যায় ঢাকের ছন্দে ভুল থাকলে মায়ের গতি রুদ্ধ হয়ে যায়। এবং সেই সময় মা কে সামনের দিকে আগিয়ে নিয়ে আসা যায় না। একটা নির্দিষ্ট জায়গায় এসে ভক্তিমূলক গান বাজিয়ে মাকে তুষ্ট করা হয়। তারপরই পাট ভক্তেরা প্রবল বেগে দৌড়ে মাকে নিয়ে মন্দিরে দিকে নিয়ে চলে আসেন।গাজনের তৃতীয় দিন বানেস্বর বা পাট নিয়ে নদীতে স্নান করতে যাওয়া হয়। সেখানে স্নান করে, পাশের একটি গ্রাম রাঙামাটি তে বিশ্রামালয়ে বিশ্রাম নিয়ে পুজার্চনা হয়। বানেশ্বরের আগমনে সেই যায়গাটিতে ছোট একটি মেলা বসে। রাত বাড়লে পাট মন্দিরে আসে। এবং সেই সময় আতশবাজি প্রদর্শন হয়। মন্দিরে আসার পর দেবতার উদ্দশ্যে হোমাহুতি ও যজ্ঞ করা হয়। হমের প্রথম তিলক মধুকেশ্বর ও দ্বিতীয় তিলক বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের তদানীন্তন মহারাজা গোপাল সিংহ কে উৎস্বর্গ করা হয়। এই গোপাল সিংহ-ই ছিলেন মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। ওই রাতে চার প্রহর মধুকেশ্বর ও মা কামাক্ষা দেবীকে জাগিয়ে রাখার জন্য তাঁদের নামে বারংবার জয়ধ্বনী দেওয়া হয়।গাজনের চতুর্থ দিন চড়ক অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তির দিনের শেষে পাট ভক্তরা পুকুরে স্নান করে মন্দির প্রাঙ্গণে নৃত্য করেন। চড়ক তলায় পুজা উপলক্ষে মনোহারি দ্রব্য, জিলাবি ও নানাবিধ খাওয়ার দোকানের পসরা নিয়ে মেলা বসে। পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষে গ্রামের বাসিন্দা ও গ্রামবাসীদের আত্মীয় স্বজন নিয়ে আন্নুকুটে অংশগ্রহন করেন। প্রায় ৪ হাজারের আশপাশ মানুষ এই অন্নকূটে আসেন। রাতে গাজনের শেষে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য মেনেই রাতে যাত্রাপালা, লোকগান, হরিনাম সংকীর্তন-র আয়োজন করা হয়। প্রত্যেক বছরই বহু মানুষের সমাগম হয় এই পুজতে। দূর দুরান্ত থেকে মানুষের অনেকেরই ধারনা স্বয়ম্ভু বানেশ্বরের পুজা অর্চনা করলে সংসারের মঙ্গল সাধন হবে।

এপ্রিল ১৩, ২০২৪
রাজ্য

রামমন্দিরকে কেন্দ্র করে এ কি কান্ড করলেন দুর্গাপুরের যুবক! চারদিকে শোরগোল

অযোধ্যায় মন্দিরের উদ্বোধন আগামী সোমবার। রামলালার জন্য বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসে পৌঁছচ্ছে বিভিন্ন রকমের উপহার। আগামী ২২ জানুয়ারি প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে রামলালার। তার আগে গোটা দেশ রামমন্দির নিয়ে নানা কান্ড চলছে। এদিকে দুর্গাপুরের এক যুবকের কান্ড রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।দুর্গাপুরের যুবক ছোটন ঘোষ মনু। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রজেক্ট তৈরি করে তিনি শহরবাসীকে অবাক করেছেন। চন্দ্রযান সফল অভিযানের পর তিনি বানিয়েছিলেন চন্দ্রযানের রেপ্লিকা। উড়িয়েছিলেন দুর্গাপুরের আকাশে। আবার দশ সিটের বাইক বানিয়ে তিনি চমকে দিয়েছিলেন সকলকে। আর এবার তিনি বানিয়েছেন রাম মন্দিরের রেপ্লিকা। অযোধ্যার রাম মন্দির তিনি কার্যত তুলে এনেছেন দুর্গাপুরের বুকে। অযোধ্যায় রাম মন্দির দেখার আগে শহরে বসেই রাম মন্দির দর্শনের সুযোগ হচ্ছে শহরবাসীর।ছোটন ঘোষ বলছেন, বিস্কুট দিয়ে তিনি এই রাম মন্দিরের রেপ্লিকা তৈরি করেছেন। রাম মন্দিরের এই রেপ্লিকাটি তৈরি করতে তিনি ব্যবহার করেছেন কুড়ি কেজি বিস্কুট। ৪ ফুট বাই ৪ ফুটের এই রাম মন্দিরের রেপ্লিকা তৈরি করতে তার সময় লেগেছে পাঁচ দিন। তিনি এবং তার সহযোগীরা সকলের মিলে এই রেপ্লিকারটি তৈরি করেছেন। বিস্কুট ছাড়াও এই মডেলটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে থার্মোকল, প্লাইউড, গ্লু-গান ইত্যাদি।শহরের যুবকের এমন কাণ্ড দেখে সকলেই রীতিমত অবাক হয়ে গিয়েছেন। একইসঙ্গে তার এই প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন প্রতিবেশী সহ শহরবাসী। তারা বলছেন, ছোটন ঘোষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজের প্রচেষ্টা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। শহরের নামকে তিনি আরও উজ্জ্বল করছেন। রাম মন্দির নিয়ে মানুষ যখন খুব উৎসাহী, তখনই তিনি রাম মন্দির তৈরি করে চমকে দিয়েছেন। তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন অযোধ্যার অনুকরণে রাম মন্দিরকে দুর্গাপুরের বুকে তুলে ধরার।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৪
রাজ্য

একই পরিবারের চার জনের রহস্য মৃত্যু দুর্গাপুরে, ভয়ঙ্কর কাণ্ডের পিছনে কি?

একই পরিবারের চারজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল দুর্গাপুরে। দুর্গাপুরের কুড়ুলিয়াডাঙার মিলনপল্লি এলাকার এই ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে। রবিবার ভোরে মিলনপল্লির বাসিন্দা অমিত মন্ডলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ঘর থেকে। তার স্ত্রী, ১০ বছরের এক ছেলে ও এক বছরের একটি মেয়ের দেহ ঘরের মধ্যে পড়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে। কিন্তু এলাকাবাসীরা মৃতদেহ উদ্ধার করতে পুলিশকে বাধা দেয়। এলাকাবাসীদের অভিযোগ , অমিত মন্ডল ও তার পরিবারকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু কেন এই অভিযোগ?মৃত অমিত মন্ডলের মাসতুতো বোন সুদীপ্তা ঘোষের অভিযোগ, এই ঘটনার পেছনে মদত রয়েছে মৃত অমিত ওরফে বুবাই মন্ডলের মা বুলারানী মন্ডল ও মামাতো ভাই সুশান্ত নায়েক ওরফে নান্টু। অভিযোগ, মৃত অমিত জানতে পেরে যায় মামার বাড়ির পরিবারের বেশ কিছুজনের ২০১২ সালে টেট পাস না করেও চাকরি হয়েছিল। এমনই কথা অমিত তাঁর বোন সুদীপ্তাকে হোয়াটস এ্যাপ মারফত লিখে জানায়। তারপরই এদিন ভোরে এই ঘটনা ! মৃত অমিত মন্ডল পেশায় একজন জমি ব্যবসায়ী। অন্যদিকে মামাতো ভাই সুশান্ত নায়েক ও প্রশান্ত নায়েকও জমি ব্যবসায়ী বলে ওই হোয়াটস এ্যাপ মেসেজে লিখেছে অমিত। সেখানে অমিত অভিযোগ করেছে, বিভিন্ন সময়ে সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে বে-আইনী ভাবে জমির লেনদেন করে বিপুল সম্পত্তি করেছে। এছাড়াও সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে সুশান্ত নায়েক, এমনই বিষ্ফোরক অভিযোগ এনেছে অমিত, দাবী সুদীপ্তার। ওই মেসেজে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সহ সিবিআই ও পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলপন মৃত অমিত। সুদীপ্তা দেবীর আরও অভিযোগ, অমিতের হাত পেছমোড়া করে বাঁধা রয়েছে ও বাড়ীর সিসিটিভি কালো পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, গতকাল রাতে মা বুলারানী মন্ডল এই বাড়ীতেই ছিলেন। যিনি আবার নিজের ছেলে ও তার পরিবারকে কখনও ভাল চোখে দেখতেন না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।গোটা ঘটনায় পরতে পরতে দানা বেধেছে রহস্য। বিশেষ করে মৃত অমিতের বোনকে করা হোয়াটস এ্যাপ মেসেজ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে কমব্যাট ফোর্স সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছেছে।

মার্চ ১৯, ২০২৩
রাজ্য

দুর্গাপুরের যৌনপল্লীর স্যাঁত স্যাঁতে গলির ঘরে ঘরে চলছে লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ

দুর্গাপুজো শেষ হলেও পুজোর রেশ চলতেই থাকে। পরিবার নিয়ে শ্বশুর বাড়ি ফিরে গেলেও প্রথম পুজো হয় মা লক্ষ্মীর। এই সময় কোজাগরী লক্ষ্মীর পুজো হয় বাংলায়।সাধারণ ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন চলছে। রবিবার এই পুজোর আয়োজন করেছিল দুর্গাপুরের কাদারোডের পতিতালয়ের যৌনকর্মীরাও। পরিবারের শান্তি কামনায় দুর্গাপুরের এই যৌনপল্লীতেও পূজিত হচ্ছেন মহালক্ষ্মী। ফল কাটা থেকে আলপনা সবই করেন যৌনকর্মীরা নিজেরাই। এতদিন যাদের অচ্ছুত বলে সামাজিক উৎসব থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল, এবারে সেই যৌনপল্লীর মেয়েরা নিজেরাই পুজোয় ফল কাটেন৷ নিজেরাই ভোগ রান্না করেন, নিজেদের ইচ্ছামত পুজো করেন আবার পুষ্পাঞ্জলি দেন।স্বভাবতই নিষিদ্ধ পল্লী এলাকায় দুর্গাপুজোর পর আবারও ধুমধাম করে ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে লক্ষ্মীপুজো। আলোকবিহীন স্যাঁত স্যাঁত গলির আনাচে কানাচে তাই এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ। আলোর ঝলকানি। তাঁরা জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়লে মনে শান্তি পান। তাঁদের পাঁচালী পড়তে ভালো লাগে।

অক্টোবর ০৯, ২০২২
রাজ্য

মেমারিতে দুঃস্থ ও অসহায় থ‍্যালাসেমিয়া রোগীদের সাহায্যার্থে রক্তদান শিবির

মেমারি ১ ব্লকের দুর্গাপুর গ্রামের বারোয়ারি তলায় গুরু গোবিন্দ বসু সংঘ ক্লাবের উদ্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সাহায্যার্থে রক্তদান শিবির আয়োজন কগরা হয়। শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের সহযোগিতায় ৫০ ইউনিট লক্ষ্যমাত্রা রেখে রক্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করে। এদিন একইসঙ্গে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ছেলেমেয়েদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করা হয়। দুর্গাপুর গ্রামের আধুনিকতার রূপকার গুরু গোবিন্দ বসুর ছবিতে মাল্যদান করে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। তাঁর স্মৃতিতে গুরু গোবিন্দ বসু সংঘ সহ গ্রামবাসীরা উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক কাজে এগিয়ে আসেন।আজকের অনুষ্ঠানে মহিলাদের রক্তদানে বেশি উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়। বর্ধিষ্ণু গ্রাম দুর্গাপুরে এই কর্মসূচিকে ঘিরে প্রতিবারের মত উদ্দীপনা ছিল দিনভর।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

অবৈধভাবে ভারতে ঢোকার মাশুল! দুই বাংলাদেশি মহিলার বিরুদ্ধে আদালতের বড় রায়

অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ এবং বৈধ নথি ছাড়া দেশে বসবাসের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি মহিলাকে দুবছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল মহারাষ্ট্রের একটি আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুই মহিলার নাম শাহানাজ বিলাল সদ্দার এবং হাসিনা জব্বর খান। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত তিন ডিসেম্বর দুই হাজার চব্বিশ সালে মহারাষ্ট্রের থানে জেলার মিরা রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে পুলিশের মানব পাচার বিরোধী শাখা। এরপর থেকেই তাঁরা হেফাজতে ছিলেন।তদন্তে উঠে আসে, দুই মহিলা বৈধ নথি ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং মহারাষ্ট্রে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।আদালতে দুই মহিলার আইনজীবী জানান, তাঁরা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য। দুজনই বিবাহিত এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁদের বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধের অভিযোগও ছিল না। পাশাপাশি আদালতের কাছে দাখিল করা আবেদনে দুই মহিলা নিজেদের দোষ স্বীকার করার ইচ্ছার কথাও জানান।সমস্ত দিক বিবেচনা করে আদালত বিদেশি আইন এবং পাসপোর্ট আইনের অধীনে দুই মহিলাকে দোষী সাব্যস্ত করে। তবে গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁরা যে সময় হেফাজতে কাটিয়েছেন, সেই সময় মূল কারাদণ্ডের মেয়াদের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক।এই রায়ের পর অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বৈধ নথি ছাড়া ভারতে বসবাসের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জুলাই ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে বড় আতঙ্ক! দুর্গে পরিণত আটলান্টা, কেন এত কড়া নিরাপত্তা?

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ঘিরে এখন শুধু ফুটবল নয়, নিরাপত্তাও বড় আলোচনার বিষয়। দুই হাজার দুই সালের পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে ইতিহাস, আবেগ এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন করে সামনে এসেছে। সেই কারণেই আটলান্টার স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।মার্কিন প্রশাসনের মতে, চলতি বিশ্বকাপে এটাই সবচেয়ে স্পর্শকাতর ম্যাচগুলির একটি। সেই কারণে স্থানীয় পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি একাধিক বৈঠক করে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।স্টেডিয়ামে বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সমর্থকদের নিরাপদে প্রবেশ নিশ্চিত করতে দুই দলের দর্শকদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট কিছু ব্যানার বা রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী সামগ্রী স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহু পুরনো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের একাধিক ম্যাচ বিতর্ক, উত্তেজনা এবং নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী। সেই কারণেই এই লড়াইকে ঘিরে সমর্থকদের আবেগও সব সময় তুঙ্গে থাকে।শুধু অতীতের ইতিহাস নয়, সাম্প্রতিক ঘটনাও প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের জয়য়ের পর দুই দলের কিছু সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে আসে। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্ক হয়েছে প্রশাসন।সব মিলিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা চরমে। একদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে হ্যারি কেনের ইংল্যান্ড। তবে খেলার পাশাপাশি এবার নজর থাকবে মাঠের বাইরের পরিস্থিতির দিকেও। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি থেকেই স্পষ্ট, কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় আয়োজকরা।

জুলাই ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগেই মেসিদের ঘিরে বিস্ফোরক দাবি! বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের ডাক কেন?

বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দুই হাজার দুই সালের পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই ফুটবল শক্তির লড়াই ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে লিওনেল মেসির দল।সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সেই আবহেই সামাজিক মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে একটি অনলাইন আবেদন ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। ওই আবেদনের সমর্থকেরা অভিযোগ করেছেন, রেফারির সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ ওই অনলাইন আবেদনে সমর্থন জানিয়েছেন। আবেদনকারীদের বক্তব্য, বিশ্বকাপে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত। তবে এই দাবির বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।এই বিতর্কের মাঝেই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই দুই দলের লড়াই বহু স্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী। দিয়েগো মারাদোনার বিতর্কিত গোল থেকে শুরু করে একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ এখনও ফুটবলপ্রেমীদের মনে রয়েছে। তাই এবারও এই ম্যাচ ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেশি।ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনও ম্যাচের আগে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনা খুব অভিজ্ঞ দল। তারা জানে কীভাবে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হয়। তাই এই ম্যাচ সহজ হবে না বলেই মনে করছেন তিনি।অন্যদিকে গোলদাতাদের তালিকাতেও নজর রয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। লিওনেল মেসি আটটি গোল করে শীর্ষে রয়েছেন। কিলিয়ান এমবাপেও আট গোল করেছিলেন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনের ঝুলিতে রয়েছে ছয় গোল। ফলে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই ম্যাচে মেসি যেমন দলকে জেতানোর লক্ষ্য নিয়ে নামবেন, তেমনই গোলদাতাদের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগও থাকবে তাঁর সামনে।সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের এই মহারণ শুধু দুই দলের লড়াই নয়, মাঠের বাইরের বিতর্কও এই ম্যাচকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে।

জুলাই ১৫, ২০২৬
কলকাতা

‘বেইমানদের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী’! বিস্ফোরক বার্তায় নতুন লড়াইয়ের ডাক মমতার

তৃণমূলের অন্দরে একের পর এক নেতা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের ভিতরে অস্বস্তি বাড়লেও লড়াই থেকে এক ইঞ্চিও পিছিয়ে যেতে রাজি নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আবারও শূন্য থেকে দল গড়ে তুলতে প্রস্তুত তিনি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষ দলের প্রতীক দেখে ভোট দিয়েছেন। তাই যাঁরা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁদের বেইমান বলেও কড়া আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, দুই হাজার সাতানব্বই সালে একা লড়াই শুরু করেছিলেন। তখনও সফল হয়েছিলেন। তাই দুই হাজার ছাব্বিশ সালেও নতুন করে লড়াই শুরু করার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে মদন মিত্র-সহ একাধিক নেতা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, অভিষেককে অকারণে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, অভিষেক নিজের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আগামী বহু বছর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন।মদন মিত্রের দলত্যাগ প্রসঙ্গেও পরোক্ষে প্রতিক্রিয়া দেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ দেখিয়ে অনেককে দল ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নোটিস পাঠিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা দল ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁদের অনেকের পরিস্থিতি আগেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন।এরপর তৃণমূলের শুরুর দিনের কথা মনে করিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে দল গড়ে নির্বাচন লড়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছিল। পরে কঠিন সময় এলেও লড়াই থামেনি। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকেও তিনি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন।একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ নিয়েও বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ মেনে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভা হবে। প্রতি বছরের মতো সমাবেশের আগের দিন তিনি নিজে গিয়ে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।মমতা আরও বলেন, কোনও বাধা এলেও সভা বন্ধ হবে না। প্রয়োজন হলে মাইক্রোফোন ছাড়াই কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ নির্ধারিত সময়েই হবে এবং দল লড়াই চালিয়ে যাবে।

জুলাই ১৫, ২০২৬
কলকাতা

শেষ মুহূর্তে বড় স্বস্তি! আদালতের রায়ে একুশে জুলাইয়ের সভাস্থল পেল কালীঘাট তৃণমূল

একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশ কোথায় হবে, তা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই চলছিল জোর রাজনৈতিক টানাপোড়েন। শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কে ইতি টানল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ কালীঘাট তৃণমূলকে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভা করার অনুমতি দিয়েছে। তবে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে।আদালতে প্রথমে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে হাজরায় সভা করার প্রস্তাব মানা হয়নি। পরে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেও সভা করার আবেদন জানানো হলেও আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। এরপর আদালত রাজ্যের কাছে বিকল্প জায়গার বিষয়ে মত জানতে চায়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ওয়েলিংটনের সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের সভা করা সম্ভব বলেও জানানো হয়।কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, তাঁদের আবেদন অনেক আগে করা হলেও অনুমতি দেওয়া হয়নি। অথচ পরে আবেদন করা অন্য সংগঠনকে সভার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম কেন প্রযোজ্য হবে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর পাওয়া যায়নি।আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহিদ মিনারে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি রয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সীমিত সংখ্যক সমর্থক নিয়ে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভা করার প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, এই জায়গাটি দুই কর্মসূচির মধ্যে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখবে। তবে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সমর্থকের সংখ্যা সীমিত রাখতে হবে।প্রথমে তিন হাজার মানুষের অনুমতির কথা উঠলেও রাজ্য আপত্তি জানায়। পরে আদালত আড়াই হাজার সমর্থক নিয়ে সভা করার অনুমতি দেয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, সভা বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যে শেষ করতে হবে।শুনানির সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এই দিনের সঙ্গে তাঁদের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। আগের দিনের বিক্ষোভে কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও আদালতের সামনে তোলা হয়।সব দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে শর্তসাপেক্ষে একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের অনুমতি দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটলেও, রাজনৈতিক উত্তাপ যে এখানেই থামছে না, তা স্পষ্ট।

জুলাই ১৫, ২০২৬
কলকাতা

মদনের পদত্যাগেই জোর জল্পনা! এবার কি বড় ঝড়ের মুখে তৃণমূল?

তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণ কি দ্রুত বদলে যাচ্ছে? সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে ঘিরে সেই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে। একের পর এক নেতার অবস্থান বদল এবং নতুন শিবিরে যোগ দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে জল্পনা।ভাই স্বরূপ বিশ্বাস জেলে রয়েছেন। অরূপ বিশ্বাসকে নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা জল্পনা চলছিল। সেই পরিস্থিতিতে অনেকেই ভেবেছিলেন দলের ভিতরে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অরূপ বিশ্বাসকে দেখা যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। এরপরই শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক চর্চা।এর মধ্যেই আরও বড় চমক দেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত মদন দলীয় সব পদ ছেড়ে ঋতব্রতের শিবিরে যোগ দেন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, এটি কি শুধুই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি দলের অন্দরে জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ?ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এটি কোনও ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়। তাঁর কথায়, ব্যক্তিপূজার পরিবর্তে সম্মিলিত নেতৃত্বের পক্ষে যারা বিশ্বাস করেন, তাঁদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির নেপথ্যে আরও বড় রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে।এদিকে পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। আগামী বাইশ ও তেইশ জুলাই তাঁদের হাজির হতে বলা হয়েছে। এই ঘটনার পরই মদনের নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আরও জোরালো হয়েছে জল্পনা।অন্যদিকে অনুব্রত মণ্ডলও নতুন আইনি সমস্যায় পড়েছেন। দুই হাজার একুশ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, হামলা চালিয়ে বিপুল সংখ্যক ইট লুট করা হয়েছিল এবং ভয় দেখানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি বিজেপি। বিজেপি নেতা তাপস রায় দাবি করেছেন, তৃণমূলের অন্দরে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দলের ভিতরে এখন অস্থিরতা স্পষ্ট।সব মিলিয়ে একের পর এক রাজনৈতিক ঘটনা ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। আগামী দিনে এই ঘটনাগুলি রাজ্যের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুলাই ১৫, ২০২৬
কলকাতা

হাইকোর্টের চাপে শেষ পর্যন্ত কণ্ঠের নমুনা দিলেন অভিষেক! এবার কি বড় বিপদ?

হাইকোর্টের নির্দেশের পর শেষ পর্যন্ত কণ্ঠের নমুনা দিতে হল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিধাননগর আদালতে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে তাঁর কণ্ঠস্বর রেকর্ড করা হয়েছে। এবার সেই নমুনা যাবে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য। এই রিপোর্টকে ঘিরেই রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি পাতার লেখা দুবার পড়তে বলা হয়। একবার স্বাভাবিক গলায় এবং আর একবার ধীরে। সেই রেকর্ডিং একটি মেমোরি কার্ডে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরে সেটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, মামলার সঙ্গে যুক্ত অডিয়োর কণ্ঠস্বরের সঙ্গে এই নমুনার মিল রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা।জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে কোনও নির্দিষ্ট বক্তৃতা হুবহু পড়ানো হয়নি। অভিযোগে উল্লিখিত কিছু শব্দ ব্যবহার করে একটি নতুন লেখা তৈরি করা হয়েছিল। সেই লেখাই পড়ে শোনান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়েছে। আদালতে পৌঁছনো থেকে শুরু করে কণ্ঠের নমুনা দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ক্যামেরাবন্দি করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া নিয়ে যাতে কোনও প্রশ্ন না ওঠে, সেই কারণেই সমস্ত কিছু নথিভুক্ত করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহের পর প্রয়োজনীয় নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেকর্ডিং এবং ভিডিওর বিশেষ ডিজিটাল পরিচিতিও তৈরি করা হয়েছে, যাতে ফরেন্সিক পরীক্ষার সময় তথ্যের অখণ্ডতা বজায় থাকে।এই মামলার অভিযোগকারী রাজীব সরকারের দাবি, তদন্তের কাজ সঠিক দিকেই এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, মামলার সঙ্গে যুক্ত একটি তালিকা এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি জনসভায় জেলা, ব্লক এবং ওয়ার্ডভিত্তিক একটি তালিকার কথা বলেছিলেন। সেই তালিকাতেই বহু মানুষের নাম ছিল বলে অভিযোগকারীর দাবি। তদন্তে সেই তালিকারও খোঁজ চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।এখন সকলের নজর ফরেন্সিক রিপোর্টের দিকে। কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার ফল এই মামলার তদন্তে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

জুলাই ১৫, ২০২৬
কলকাতা

একুশের পোস্টার থেকে হঠাৎ উধাও অভিষেক! তৃণমূলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?

একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের নতুন পোস্টার প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। পোস্টারে রয়েছেন শুধু তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নেই। এই নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।কলকাতা হাইকোর্ট একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের জন্য বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভার অনুমতি দেওয়ার পর নতুন পোস্টার প্রকাশ করেন কুণাল ঘোষ। পরে সেই একই পোস্টার নিজের সামাজিক মাধ্যমেও ভাগ করে নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পোস্টারে তাঁর ছবি না থাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নানা মহলে।এর আগে প্রকাশিত প্রথম পোস্টারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল। তখন সমাবেশের নির্দিষ্ট স্থান ঠিক না হওয়ায় শুধু কলকাতায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু নতুন পোস্টারে শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রাখা হয়েছে।এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন দলের অন্দরে একের পর এক রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক জন নেতা ও বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সর্বশেষ সেই তালিকায় যোগ হয়েছে মদন মিত্রের নাম। ফলে পোস্টারে অভিষেকের ছবি না থাকাকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এই ঘটনাকে নতুন করে দেখার প্রয়োজন নেই। কারণ গত বছরও একুশে জুলাইয়ের প্রচারের পোস্টারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল না। সেই সময় দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এই সমাবেশের পোস্টারে শুধুমাত্র দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিই রাখা হবে। একই ধরনের ঘটনা দুই হাজার তেইশ সালেও দেখা গিয়েছিল।ফলে নতুন পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা যতই বাড়ুক, এটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নাকি তার পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একুশে জুলাইয়ের আগে এই পোস্টার যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

জুলাই ১৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal