• ১২ কার্তিক ১৪৩৩, শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Death,

দেশ

বিদেশে পড়াশোনার কথা জানতেন মা-বাবা, পুনের ফ্ল্য়াটের খাটের তলা থেকে মিলল মেয়ের দেহ

এমবিএ পড়তে লন্ডনে গিয়েছিলেন মেয়ে। অন্তত তেমনটাই জানতেন তাঁর মা-বাবা। কিন্তু তাঁদের অজান্তেই গত অগস্টে দেশে ফিরে এসেছিলেন তিনি। পুণের একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। কয়েক দিন ধরে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মা-বাবা। শেষ পর্যন্ত বন্ধ ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে উদ্ধার হল ওই যুবতীর দেহ। খাটের তলায় পড়েছিল তাঁর নিথর শরীর। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।মৃত যুবতীর নাম মুগ্ধা অবিনাশ দেশমুখ। গত বছরের জুলাই মাসে এমবিএ পড়তে ব্রিটেনে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চলতি বছরের অগস্টে কাউকে কিছু না জানিয়ে ভারতে ফিরে আসেন। এর পর পুণের একটি ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেন। তবে মেয়ের সঙ্গে ফোনে নিয়মিত কথা হত বলেই দাবি তাঁর মা-বাবার। তাই তিনি যে দেশে ফিরে এসেছেন, সে কথা তাঁরা বুঝতে পারেননি।গত ২৪ অক্টোবরের পর থেকে মুগ্ধার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। ফোনও বন্ধ ছিল। মেয়ের কোনও খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। এর পর মুগ্ধার এক বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই বান্ধবী লন্ডন পুলিশের কাছে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানাতে গেলে জানতে পারেন, মুগ্ধা ব্রিটেন থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন।এর পর লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পাশাপাশি মুগ্ধার অনলাইনে কেনাকাটা ও বিক্রির তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। সেই সূত্র ধরেই শম্ভাজিনগরের একটি ঠিকানা জানতে পারে পুলিশ। সেখানে পৌঁছে বন্ধ অ্যাপার্টমেন্টের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন তদন্তকারীরা। ঘরের ভিতরে খাটের তলায় মুগ্ধার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুগ্ধার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। আরও পরীক্ষার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা তদন্তকারীদের।কেন মুগ্ধা লন্ডন থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে ভারতে ফিরে এসেছিলেন, পুণের ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন কি না, তাঁর মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
কলকাতা

চোরবাগান কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের! আতঙ্কের মাইকিংয়ে গ্রেফতার আরও এক ঘোষক, ধৃতের সংখ্যা ২

সপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণার অভিযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে দুই ঘোষকের নাম। কেন এমন ঘোষণা, নেপথ্যে কারও নির্দেশ ছিল কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজোর বিপর্যয় ঘিরে তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল পুলিশ। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো ঘোষণার ঘটনায় দ্বিতীয় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম কুশল মজুমদার। তাঁকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে এই ঘটনায় চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফলে মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই।পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে যখন দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রবল ঠেলাঠেলি ও হুড়োহুড়ি চলছিল, তখন মাইকে ঘোষণা করা হয়, মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে। অভিযোগ, এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। আতঙ্কিত দর্শনার্থীরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তাতেই বিশৃঙ্খলা আরও বেড়ে যায় বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। যদিও ওই ঘোষণার উদ্দেশ্য এবং তার সঙ্গে বিপর্যয়ের সম্পর্ক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।সিসিটিভি ফুটেজে দুই সন্দেহভাজনের খোঁজঘটনার পরই মণ্ডপে মাইক থেকে কে বা কারা ওই ঘোষণা করেছিলেন, তা জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছিল। অবশেষে দ্বিতীয় সন্দেহভাজন কুশল মজুমদারকেও পাকড়াও করা হল।পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুর খোঁজ মিলছিল না। তাঁর বাড়িতে গিয়েও পুলিশ তাঁকে পায়নি। তদন্তকারীদের দাবি, বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে অন্য নম্বর ব্যবহার করে পরিবার ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সূত্র ধরে সন্দেহভাজন আটটি মোবাইল নম্বরের উপর নজরদারি চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে সেন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।আতঙ্কের ঘোষণা ঘিরে বাড়ছে প্রশ্নচোরবাগান কাণ্ডের পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে চরম বিশৃঙ্খলার ছবি দেখা যায়। একটি ভিডিয়োতে গ্রিল দিয়ে ঘেরা ঘোরানো উড়ালপথের উপর কয়েক জন দর্শনার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়। অন্য একটি ভিডিয়োতে মণ্ডপ থেকে বেরোনোর গেটের ভিতরে কয়েক মিটার দূরেই ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কয়েক জনকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়। আতঙ্কিত দর্শনার্থীদের চিৎকারের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায় এক পুলিশকর্মীকে।এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই মাইক থেকে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘোষণার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় এবং অনেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি। তদন্তের স্বার্থে ভিডিয়োগুলির সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করা জরুরি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজেও ওই ঘোষণার বিষয়টি তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে।নির্দেশ দিয়েছিল কে? খতিয়ে দেখছে পুলিশতদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। মণ্ডপে যখন ভিড়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তখন ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই ঘোষণা করা হয়? ঘোষকরা কি নিজেরাই এমন কথা বলেছিলেন, নাকি তাঁদের পিছনে অন্য কারও নির্দেশ ছিল? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা হলেও তা কীভাবে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সঞ্জীব রাহা ও কুশল মজুমদারদুজনেরই বাড়ি অমর বসু সরণিতে, চোরবাগানের পুজোমণ্ডপ থেকে প্রায় ৫০ মিটারের মধ্যে। বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়া সঞ্জীবকে শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করানোর কথা ছিল বলে জানা গিয়েছিল। দ্বিতীয় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে পুলিশের।চোরবাগানের বিপর্যয় ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। তার মধ্যে মাইকে করা ওই ঘোষণা কেন এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। দুই সন্দেহভাজন ঘোষককে গ্রেফতারের পর এবার এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত কতদূর এগোয়, সেদিকেই নজর কলকাতার।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
রাজ্য

লজেন্স কুড়োতে গিয়ে বিপত্তি! রেজিনগরে প্রচার গাড়ির সামনে পড়ে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

রেজিনগরে বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচার চলাকালীন ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত শিশুটির নাম জাসমিনা খাতুন। পরিবারের অভিযোগ, রবিবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার চলার সময় প্রচার গাড়ি থেকে ছোড়া লজেন্স কুড়োতে গিয়ে মাটিতে পড়ে গুরুতর জখম হয় জাসমিনা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।পরিবারের দাবি, প্রচারের গাড়ি এলাকায় আসার পর বাজনার শব্দ শুনে অন্যদের সঙ্গে জাসমিনাও সেখানে ছুটে গিয়েছিল। সেই সময় গাড়ি থেকে শিশুদের জন্য লজেন্স ছোড়া হচ্ছিল। লজেন্স কুড়োতে গিয়ে জাসমিনা পড়ে যায় এবং মাথায় আঘাত লাগে বলে পরিবারের অভিযোগ।আহত অবস্থায় প্রথমে জাসমিনাকে বেলডাঙা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার জানিয়েছে।মৃত শিশুটির আত্মীয় ইউসুফ শেখের দাবি, প্রচার চলাকালীন বাজনার আওয়াজ শুনে শিশুরা সেখানে গিয়েছিল। প্রচার গাড়ি থেকে ছোড়া লজেন্স কুড়োতে গিয়ে জাসমিনা পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পায়। এরপর তাকে একাধিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।ঘটনাকে ঘিরে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখের বক্তব্যও সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, শিশুদের জন্যই লজেন্স ছোড়া হয়েছিল। তবে ঠিক কী ভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাঁদের জানা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার কথাও বলেছেন প্রার্থী।অন্য দিকে, এই ঘটনায় গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। তাঁর বক্তব্য, ঘটনা ঘটার পরেই সংশ্লিষ্ট নেতাদের শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। একই সঙ্গে মৃত শিশুটির পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।রেজিনগরে উপনির্বাচনের প্রচার ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ রয়েছে। বিভিন্ন দল নিজেদের প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার চালাচ্ছে। তার মধ্যেই প্রচার চলাকালীন ছয় বছরের শিশুর জখম হওয়া এবং পরে মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।তবে জাসমিনার মৃত্যুর সঠিক কারণ, কী ভাবে সে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছিল এবং ঘটনার সঙ্গে প্রচার গাড়ির কার্যকলাপের সরাসরি সম্পর্ক কতটাতা তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই স্পষ্ট হবে। পরিবারের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

‘মিঠু মুখোপাধ্যায় ছিলেন সময়ের থেকে এগিয়ে’—প্রয়াণে আবেগঘন শ্রীলেখা মিত্র

দুষ্টু-মিষ্টি নায়িকার মধ্যে ছিল আধুনিকতা, স্মার্টনেস আর এক আলাদা ফ্রেশনেসমিঠুকে স্মরণ করে লিখলেন শ্রীলেখাবর্ধমান: সত্তর-আশির দশকের বাংলা ছবির পরিচিত মুখ মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলা চলচ্চিত্রমহল। ৭১ বছর বয়সে দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রবিবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী। প্রায় এক বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি।মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর অভিনয়, সৌন্দর্য এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করছেন চলচ্চিত্রজগতের বহু মানুষ। সেই তালিকায় রয়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিঠুকে স্মরণ করে তাঁর লেখা দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টে উঠে এসেছে এক দর্শকের ব্যক্তিগত মুগ্ধতাযে মুগ্ধতা শুধু অভিনয়ে নয়, মিঠুর পর্দার উপস্থিতি এবং নিজস্ব ব্যক্তিত্বকে ঘিরেও।শ্রীলেখার কথায়, মিঠু মুখোপাধ্যায় ছিলেন সময় থেকে এগিয়ে থাকা এক অভিনেত্রী। তাঁর চোখে মিঠুর আকর্ষণ ছিল এমন এক স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বে, যা পর্দায় আলাদা করে নজর কাড়ত। শ্রীলেখা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সত্তরের দশক থেকে আশি এবং নব্বইয়ের গোড়ার দিক পর্যন্ত মিঠু একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। মৌচাক, মর্জিনা আবদুল্লাহ, স্বয়ংসিদ্ধার মতো ছবিতে তাঁর উপস্থিতি আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।মিঠুর সৌন্দর্য নিয়েও অকপট শ্রীলেখা। বড় বড় চোখ, সেই চোখের অভিব্যক্তি, শিফন শাড়িতে তাঁর পর্দার উপস্থিতিসব মিলিয়ে মিঠুর মধ্যে তিনি খুঁজে পেয়েছেন এক দুষ্টু-মিষ্টি নায়িকার পরিচিত ছাঁচের বাইরে থাকা এক আধুনিক মুখ। শ্রীলেখার মতে, সেই সময়ের অনেক অভিনেত্রী যেখানে নির্দিষ্ট একটি ইমেজ-এর মধ্যে নিজেদের আটকে রাখতেন, সেখানে মিঠু ছিলেন অনেকটাই অন্যরকম।তাঁর ভাষায়, মিঠু যেন সেই সময়ের পর্দায় এক ঝলক fresh airআধুনিক, স্মার্ট, চুলবুলি এবং নিজের মতো করে থাকা এক অভিনেত্রী।শুধু সৌন্দর্য নয়, মিঠুর স্বাভাবিক আকর্ষণকেও বিশেষভাবে মনে করেছেন শ্রীলেখা। তাঁর সঙ্গে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নীতু সিংয়েরও কোথাও একটা মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি। দুজনের মধ্যেই ছিল এমন এক effortless charm, যা কৃত্রিমভাবে তৈরি করার প্রয়োজন পড়ত নাস্বাভাবিকভাবেই যা দর্শকের চোখে ধরা দিত।১৯৭২ সালে চিত্ত বসুর শেষ পর্ব ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। এরপর মর্জিনা আবদুল্লাহ, নিশিকন্যা, মৌচাক, স্বয়ংসিদ্ধা, হোটেল স্নো ফক্স-সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করে নিজের জায়গা তৈরি করেন বাংলা ছবিতে। উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিকের মতো অভিনেতাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন মিঠু।তবে জীবনের পরের পর্বে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রজগতের আলো থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মিঠু। মুম্বইয়ে অনেকটাই অন্তরালে কাটছিল তাঁর জীবন। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অসুস্থতার পর থেমে গেল সেই জীবনযাত্রা।শ্রীলেখার পোস্টের শেষটুকু তাই হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার্ঘ্য। প্রিয় অভিনেত্রীকে বিদায় জানিয়ে তাঁর লেখামিঠু মুখোপাধ্যায় তাঁর খুব পছন্দের একজন অভিনেত্রী ছিলেন। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন শ্রীলেখা, পাশাপাশি সমবেদনা জানিয়েছেন মিঠুর পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি।পর্দার আলো নিভে গিয়েছে। কিন্তু বড় বড় চোখ, স্বতঃস্ফূর্ত হাসি আর সেই স্বতন্ত্র freshnessস্মৃতির পর্দায় হয়তো আরও অনেকদিন জ্বলজ্বল করবেন মিঠু মুখোপাধ্যায়।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
দেশ

সারা ঘরে বেলুন দিয়ে সাজানো, ফ্রিজে মেয়ের দেহ, পাশে চকলেট! ঘরে উদ্ধার বাবার ঝুলন্ত দেহ

গুজরাটের আমরেলি জেলায় এক পাঁচ বছরের শিশুকন্যার মৃত্যু এবং তার বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ৪০ বছরের কিশোর ধনক তাঁর পাঁচ বছরের মেয়ে হিংমাশীকে হত্যা করার পর নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘরের ভিতর থেকে তিনটি চিরকুট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি মেয়েকে কেন হত্যা করেছিলেন, তারও ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।ঘটনাটি আমরেলি জেলার সাভরকুণ্ডলা এলাকার হাদিদা গ্রামের। কিশোর ধনক নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী মঞ্জুবেন বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে স্বামীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফোন বন্ধ থাকায় তিনি তাঁর ভাইকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে দরজা খুলে ঘরে ঢুকতেই কিশোরের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়।এর পর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ ফ্রিজের ভিতর হিংমাশীর দেহ উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি, শিশুটিকে হত্যা করার পর তার দেহ ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। ঘটনার পর দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কী ভাবে তার মৃত্যু হয়েছিল, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর আরও স্পষ্ট হবে।ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি তদন্তকারীদের আরও ভাবিয়ে তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘরটি বেলুন ও মোমবাতি দিয়ে সাজানো ছিল। শিশুটির জন্য চকোলেটও রাখা হয়েছিল। এমনকি ফ্রিজের উপরে শুভ জন্মদিন হিংমাশী লেখা একটি কাগজ পাওয়া যায়। অথচ সেদিন হিংমাশীর জন্মদিন ছিল না। শিশুটিকে সাদা পোশাক পরানো হয়েছিল এবং মাথায় ওড়নাও দেওয়া ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফ্রিজের ভিতর কুশন রাখা ছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি।ঘরে পুজোর আয়োজনও করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই সমস্ত বিষয় দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, মেয়ের জন্য শেষবারের মতো জন্মদিন পালনের মতো একটি আয়োজন করেছিলেন কিশোর। তবে কেন এমন আয়োজন করা হয়েছিল, কেনই বা মেয়েটিকে হত্যা করা হল, তা এখনও তদন্তের বিষয়। পুলিশের তরফে ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি চিরকুট তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি চিরকুটে কিশোর তাঁর আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে নির্মাণকাজে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলে সেখানে লেখা ছিল। তাঁর দাবি ছিল, ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছ থেকে প্রায় সাত লক্ষ টাকার বেশি পাওনা ছিল। কিন্তু সেই টাকা না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন।অন্য একটি চিরকুটে মেয়েকে হত্যা করার কারণ হিসেবে কিশোর এমন কথা লিখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর পরে মেয়েকে যেন কোনও সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়, সেই কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর একটি চিরকুটে নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে চিরকুটে লেখা কথাগুলি তদন্তের অংশ হিসেবেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরের স্ত্রী কয়েক দিন আগে বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছন। সেখান থেকেই প্রথমে কিশোরের দেহ এবং পরে ফ্রিজের ভিতর শিশুকন্যার দেহের সন্ধান মেলে। ঘটনার পর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।আর্থিক সমস্যাই এই ঘটনার মূল কারণ কি না, শিশুকন্যাকে হত্যার আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং ঘরটি কেন জন্মদিনের মতো করে সাজানো হয়েছিলএই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, চিরকুট এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য মিলিয়ে গোটা ঘটনার ছবি স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

শিশুমৃত্যুর পর তোলপাড় বর্ধমানে! হঠাৎ বন্ধ নার্সিংহোম, তদন্তে উঠে এল ভুয়ো চিকিৎসকের নাম

পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরের নবাবহাট এলাকার একটি নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচারের পর চার বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে কড়া পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য দফতর। রোগীর নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা পরিষেবায় গুরুতর ত্রুটি ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার পর ওই নার্সিংহোমের সমস্ত পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম এই নির্দেশ জারি করেছেন।গত ২ সেপ্টেম্বর ফাইমোসিসের অস্ত্রোপচারের জন্য ওই শিশুকে নবাবহাটের নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ ছিল, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই এই মৃত্যু। ঘটনার পর চিকিৎসক, অবেদন চিকিৎসক এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।ঘটনার পর শিশুটির বাবা-মা ও পরিজনেরা বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরের সামনে অবস্থানও করেন। এরপর স্বাস্থ্য দফতরের তরফে তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তেই নার্সিংহোমের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসে। তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই নার্সিংহোমের সমস্ত পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।তদন্তের মধ্যেই আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। শিশুটির অস্ত্রোপচার করেছিলেন শেখ সাইদুল হক নামে এক ব্যক্তি। তাঁর চিকিৎসক পরিচয় এবং শংসাপত্র নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। সাম্প্রতিক তদন্তে সাইদুলের নথি ভুয়ো বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের তরফে এমন অভিযোগে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানা গিয়েছে।শুধু শিশুটির অস্ত্রোপচার করা সাইদুলই নন, রাজ্যের আরও কয়েক জনের বিরুদ্ধে ভুয়ো চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁদের চিকিৎসা সংক্রান্ত যোগ্যতা এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় চিকিৎসকদের শংসাপত্র এবং চিকিৎসা করার অনুমতি কী ভাবে যাচাই করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, সাইদুল পূর্ব বর্ধমানের তালিত এলাকার বাসিন্দা। প্রায় দুই দশক আগে তিনি বাড়ি ছেড়ে বিহারে গিয়েছিলেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, তিনি ডাক্তারি পড়তে যাচ্ছেন। পরে বর্ধমানে ফিরে চিকিৎসা করছিলেন বলে পরিবার জানতে পারে।সাইদুলের বাবা শেখ আক্তার আলির দাবি, ছেলে কোথায় এবং কী ভাবে ডাক্তারি পড়েছিল, সে বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত কিছু জানতেন না। পরে বর্ধমানে ছেলে চিকিৎসা করছে বলে জানতে পারেন। এখন তাঁর শংসাপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন তিনি।এদিকে, সাইদুল বর্ধমানের একটি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসাবেও যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর সেই পদে তিনি কী ভাবে কাজ করছিলেন, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অন্য দিকে, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসার পর সাইদুল অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। নবাবহাট এলাকার যে আবাসনে তিনি থাকতেন, সেখানেও তালা ঝুলছে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনায় রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভুয়ো নথির ভিত্তিতে কী ভাবে চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন পাওয়া গেল, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। ইতিমধ্যে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের এবং তাঁদের নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।একটি শিশুর মৃত্যুর তদন্ত থেকে বর্ধমানে ভুয়ো চিকিৎসক চক্রের অভিযোগ সামনে আসায় গোটা ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। নার্সিংহোমে চিকিৎসার সময় কী কী নিয়ম মানা হয়েছিল, শিশুটির চিকিৎসায় কোথায় গাফিলতি হয়েছিল এবং অভিযুক্ত চিকিৎসকের যোগ্যতা যাচাই না করেই কী ভাবে তাঁকে অস্ত্রোপচারের দায়িত্ব দেওয়া হল, এখন সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
দেশ

মুম্বইয়ে মালদার দুই শ্রমিকের করুণ পরিণতি, ৫০ ফুট উচ্চতায় কাজ, আচমকাই নীচে পড়ে সব শেষ

সংসারের হাল ফেরাতে ভিন্রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন দুই বন্ধু। মুম্বইয়ে মেট্রোরেলের নির্মাণকাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় প্রায় ৫০ ফুট উপর থেকে পড়ে মৃত্যু হল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের দুই যুবকের। রবিবার বিকেলের এই দুর্ঘটনার খবর গ্রামে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই যুবকের নাম নাহিদ আখতার (৩০) এবং মুহম্মদ সাকিব (৩০)। দুজনেরই বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর থানার মালিওর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের টেটিয়াপাড়া এলাকায়। প্রায় তিন মাস আগে চাঁচলের একটি ঠিকাদার সংস্থার মাধ্যমে মুম্বইয়ে যান তাঁরা। সেখানে মেট্রোরেলের নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন দুই বন্ধু।রবিবার বিকেলে মেট্রোরেলের একটি স্তম্ভে কাজ করার সময় আচমকাই দুজন বেসামাল হয়ে প্রায় ৫০ ফুট নীচে পড়ে যান। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। মুম্বইতেই ময়নাতদন্তের পর সোমবার ভোরে স্থানীয় একটি ঠিকাদারি সংস্থার উদ্যোগে বিমানে করে তাঁদের মৃতদেহ কলকাতায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। মৃতদেহ ফিরিয়ে আনতে সোমবার কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের সদস্যরা।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নাহিদ ও সাকিব দুজনেই পরিবারের একমাত্র ছেলে। তাঁদের প্রত্যেকেরই স্ত্রী এবং দুটি করে নাবালক সন্তান রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মাও। তিন মাসের উপার্জনের টাকা নিয়ে চলতি সপ্তাহেই বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁদের। সেই টাকা দিয়ে ঘরের বাকি কাজ শেষ করার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু তার আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল দুই বন্ধুর প্রাণ।নাহিদের স্ত্রী তানজিনা খাতুন এবং সাকিবের দাদা বেলাল শেখ জানান, দুই পরিবারই এখন কার্যত অসহায় অবস্থায় পড়েছে। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।চাঁচল মহকুমা প্রশাসনের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মৃত দুই শ্রমিকের পরিবার যাতে সরকারি সহায়তা পায়, তার জন্য প্রশাসনের তরফে সবরকম সহযোগিতা করা হবে।স্থানীয় তৃণমূল নির্বাচিত সদস্য মিনারুল হকও পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর কথায়, অভাবের সংসার হওয়ায় দুই বন্ধুই ভিন্রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করে বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকেও যতটা সম্ভব সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ফের পুলিশ হেফাজতে বন্দির রহস্যমৃত্যুর অভিযোগ, চূড়ান্ত চাঞ্চল্যে হুলস্থূল কান্ড

ফের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুরে। চন্দ্রকোনা থানায় চুরির মামলায় গ্রেফতার হওয়া ২০ বছরের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, থানার শৌচাগারে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ওই যুবক। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। যদিও মৃতের পরিবারের অভিযোগ, থানার ভিতরেই তাঁকে খুন করা হয়েছে।মৃত যুবকের নাম রাহুল রুইদাস। তিনি চন্দ্রকোনা থানার অন্তর্গত বগেশ্বরপুরের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার দিন আগে চুরির অভিযোগে রাহুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ঘাটাল মহকুমা আদালত তাঁকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।পুলিশের দাবি, রবিবার থানার শৌচাগার থেকে কিছু শব্দ শুনতে পান কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। সেখানে গিয়ে রাহুলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাহুল মাদকাসক্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরাও তাঁর মাদকাসক্তির কথা স্বীকার করেছেন। তবে একইসঙ্গে তাঁদের অভিযোগ, থানার ভিতরেই রাহুলকে খুন করা হয়েছে। যদিও পরিবারের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।এক মাসের ব্যবধানে ফের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগচন্দ্রকোনার এই ঘটনার আগে গত মাসে উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর থানাতেও পুলিশ হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মৃত ব্যক্তি ছিলেন কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বিরজু কেওট।তোলাবাজি-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে বিরজুকে গ্রেফতার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ। পরে আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। মৃতের স্ত্রী জেনি শর্মার অভিযোগ ছিল, তিনি থানার বাইরে চলে যাওয়ার পর লকআপের ভিতরে তাঁর স্বামীকে পুলিশকর্মীরা বেধড়ক মারধর করেন।যদিও পুলিশের দাবি, লকআপের ভিতরে বিরজুকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে কল্যাণীর একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।এই ঘটনার পর পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। ১০ আগস্ট মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের ঘোষণা করেন। পাশাপাশি মৃতের স্ত্রীকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং সরকারি চাকরি দেওয়ার কথাও জানান।এর এক দিন আগে, ৯ আগস্ট, মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কাঁচরাপাড়ায় গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা সেন। অভিযোগ, বিজপুর রোডের কাছে মমতার কনভয়কে লক্ষ্য করে স্থানীয়দের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। তাঁর গাড়িতে কাদা ও চটি ছোড়ার পাশাপাশি চোর, চোর স্লোগানও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়।চন্দ্রকোনার সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে ফের পুলিশ হেফাজতে নিরাপত্তা, বন্দিদের সুরক্ষা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
রাজ্য

এক রেজিস্ট্রেশন নম্বর, দুই চিকিৎসক! শিশুমৃত্যুর তদন্তে ‘ভুয়ো ডাক্তারি’ নথির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

বর্ধমানের বেসরকারি নার্সিংহোমে চার বছরের শিশুর অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে সামনে এল চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন ও শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর একাধিক চিকিৎসকের নামে ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে আরও বিস্তৃত অনুসন্ধান।বর্ধমানের নবাবহাটের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চার বছরের এক শিশুর অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হতেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। শিশুটির অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক সইদুল হকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসক হিসেবে তাঁর রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে আসে বেশ কিছু অসঙ্গতি। এরপরই বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।তদন্ত সূত্রে জানা যায়, সইদুল হক চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার জন্য বিহারের একটি মেডিক্যাল কলেজের নথি পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলে জমা করেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই নথির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। মূলত ওই নথি সত্যিই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কি না, তিনি আদৌ ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পাশ করেছিলেন কি নাসেই বিষয়টিই যাচাই করার চেষ্টা শুরু হয়।কিন্তু বিহারের ওই মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের জবাব আসতেই তদন্তে তৈরি হয় নতুন মোড়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সইদুল হক নামে কোনও ব্যক্তি তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পাশ করেননি। ফলে তাঁর জমা দেওয়া শিক্ষাগত নথির সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।এরই মধ্যে আরও একটি বিষয় তদন্তকারীদের নজরে আসে। অভিযোগ, একই চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন নম্বর অন্য এক চিকিৎসকের নামেও ব্যবহৃত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার এক চিকিৎসকের নথি যাচাই করতে গিয়ে একই রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অস্তিত্ব সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়।একজন চিকিৎসকের নামে বরাদ্দ রেজিস্ট্রেশন নম্বর কীভাবে অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে, তা নিয়েই এখন মূল প্রশ্ন। কারণ, চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইন্টার্নশিপ এবং সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই যাচাই প্রক্রিয়া পেরিয়েও যদি কোনও ব্যক্তি চিকিৎসা করার সুযোগ পেয়ে থাকেন, তা হলে গোটা ব্যবস্থার নজরদারি ও যাচাই-বাছাই নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।তদন্তকারীদের আশঙ্কা, ঘটনাটি হয়তো শুধুমাত্র একটি নার্সিংহোম বা একজন চিকিৎসকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম কিংবা অন্যান্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের ভুয়ো বা জাল নথি ব্যবহার করে কেউ চিকিৎসা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।বিশেষ করে একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর একাধিক ব্যক্তির নামে ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনও ব্যক্তি যদি ভুয়ো শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি দেখিয়ে চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে থাকেন, তা হলে তিনি কোন কোন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা করেছেন, কতদিন ধরে চিকিৎসা করেছেন এবং তাঁর চিকিৎসার সঙ্গে আরও কোনও রোগীর ক্ষতি বা অনিয়মের যোগ রয়েছে কি নাসেই প্রশ্নগুলিও এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে।এই ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। কোনও চিকিৎসককে হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার আগে তাঁর ডিগ্রি, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করার কথা। সেই প্রক্রিয়ায় কোনও ফাঁক থেকে থাকলে, তা কীভাবে তৈরি হল এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।চার বছরের শিশুর মৃত্যুর মতো একটি মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তাই এখন সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্নরাজ্যে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রেজিস্ট্রেশন কতটা নির্ভুলভাবে যাচাই করা হয়?তদন্ত যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হতে পারে সইদুল হকের জমা দেওয়া নথির প্রকৃত সত্যতা, একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহারের নেপথ্যে কী রয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগ আছে কি না। আপাতত গোটা ঘটনায় তদন্তকারীদের নজর রয়েছে নথিপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার দিকে।তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। তদন্তের ফলেই স্পষ্ট হবে, এই ঘটনায় আদৌ কোনও জালিয়াতির চক্র কাজ করেছে কি না এবং থাকলে তার পরিধি কতটা।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
কলকাতা

এনআরএসে নয়, অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্ত! নার্সের মৃত্যু ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত, কী জানাল স্বাস্থ্যদপ্তর?

এনআরএস হাসপাতালের শৌচালয় থেকে নার্সের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়। মৃত নার্সের স্বামী ও পরিবারের দাবি মেনে এনআরএস হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে না। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, মৃতার স্বামী রাহুল দাস এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্তের আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদন মেনে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত হবে।নার্সের কীভাবে মৃত্যু হল, তা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না স্বাস্থ্যদপ্তর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও অনুমান করা ঠিক হবে না। তাঁর কথায়, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অনুমানের জায়গা নেই। রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।ঘটনার তদন্তে আলাদা অভ্যন্তরীণ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এনআরএস হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যদপ্তরের উদ্যোগে তৈরি এই কমিটিতে হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান, এমএসভিপি, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রতিনিধি-সহ একাধিক বিভাগের প্রধানদের রাখা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে ওই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।বুধবার রাতে এনআরএস হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিভাগের এইচডিইউতে কর্মরত ওই নার্সের দেহ বিভাগেরই শৌচালয় থেকে উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে, রাত আটটা নাগাদ তিনি কাজে যোগ দিয়েছিলেন। রাত নটা নাগাদ এক রোগীকে পরিষেবা দেওয়ার পর শৌচালয়ে যান। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়।এক জন জুনিয়র চিকিৎসক তাঁর খোঁজ শুরু করেন। শৌচালয়ের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে গ্রুপ ডি কর্মীদের ডেকে দরজা ভাঙা হয়। ভিতর থেকে নার্সকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।এরপর থেকেই নার্সের মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, শৌচালয়ের ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর আগে তাঁর শারীরিক বা মানসিক অবস্থার কী পরিস্থিতি ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শৌচালয় থেকে কিছু জিনিস উদ্ধার হয়েছে। সেগুলিও তদন্তের আওতায় থাকবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অভ্যন্তরীণ কমিটির রিপোর্ট সামনে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
রাজ্য

দুর্নীতির অভিযোগ, ঋণের চাপ, তারপর মৃত্যু! কী ঘটল তৃণমূল প্রধানের জীবনে?

উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুড়িয়ায় তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত প্রধানের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নিজের বাড়ি থেকেই ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের দেহ। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই জাহিদুল হক বৈদ্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছিল। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ ছিল, স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে পাওয়া একটি ব্যাটারিচালিত ময়লা সংগ্রহের গাড়ি বিক্রি করে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।গত একত্রিশ মে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকার বহু মানুষ তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁকে গ্রেফতার করার দাবি তোলেন বাসিন্দারা। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তের দাবিও ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল। তবে সেই সময় তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে।মঙ্গলবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, জাহিদুল হক বৈদ্যের উপর বিপুল ঋণের চাপ ছিল। বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে নেওয়া টাকা তিনি ফেরত দিতে পারছিলেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণেই তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জুন ০২, ২০২৬
দেশ

শিশুমৃত্যুর পর জ্বলছে মণিপুর! রাস্তায় হাজার মানুষ, পাঁচ দিনের বন্‌ধে অচল রাজ্য

চলতি মাসের শুরুতে এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে রকেট হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে মণিপুর। ওই হামলায় এক শিশুকন্যা এবং পাঁচ বছরের এক বালকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নাগরিক সমাজ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং পাঁচ দিনের বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে।রবিবার মণিপুরের নানা প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ পথে নামেন। ইম্ফলে রাতে মশাল হাতে মিছিল করেন বহু মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অভিযোগ, এই বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করেছে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে আসে।প্রতিবাদকারীদের দাবি, এই হামলার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। বন্ধের জেরে বাজার, স্কুল-কলেজ এবং সরকারি অফিস বন্ধ ছিল। পরিবহন ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা কিছু এলাকায় চালু রাখা হয়।অন্যদিকে মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিবাদের নামে কিছু সমাজবিরোধী কাজকর্ম চলছে। যারা হিংসা ছড়াচ্ছে বা অন্যদের উসকানি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের দাবি, কিছু মানুষ বিক্ষোভকারীদের হাতে পেট্রোল বোমা, লোহার গোলা লাগানো গুলতি এবং পাথর তুলে দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।উল্লেখযোগ্য, গত ছয় এপ্রিল রাতে বিষ্ণুপুর জেলার মোইরাং ট্রোংলাওবি এলাকায় এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, একাধিক জঙ্গি ওই বাড়ি লক্ষ্য করে রকেট ছোড়ে। তখন বাড়ির সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। এই হামলায় ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয় পাঁচ মাসের এক শিশুকন্যা এবং পাঁচ বছরের এক বালকের। গুরুতর জখম হন তাদের মা। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ মানুষ পরে নিকটবর্তী একটি সুরক্ষা শিবিরেও হামলা চালায়। তারপর থেকেই পরিস্থিতি অস্থির হয়ে রয়েছে।

এপ্রিল ২০, ২০২৬
রাজ্য

ফের চাঞ্চল্য আইআইটি খড়গপুরে! ছাত্রের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, রহস্য ঘনীভূত

আইআইটি খড়গপুরে ফের এক পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত পড়ুয়ার নাম জয়বীর সিং দোড়িয়া। একুশ বছর বয়সী এই ছাত্র মেনুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং-এর তৃতীয় বর্ষে পড়তেন। তিনি আইআইটি খড়গপুরের নেহেরু হলে থাকতেন।শনিবার সকালে নেহেরু হলের নীচ থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, হলের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। তাঁর বাড়ি গুজরাতের আহমেদাবাদে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনায় গোটা ক্যাম্পাসে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত ষোলো মাসে এই নিয়ে আটজন পড়ুয়া ও গবেষকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটল আইআইটি খড়গপুরে। এর মধ্যে সাতটি ঘটনাই ঘটেছে ক্যাম্পাসের ভেতরে। পাঁচজনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল।সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে এক পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হয়েছিল রেললাইনের ধারে। সেই ঘটনাও ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল।এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। নেহেরু হল থেকে তিনি কীভাবে অন্য একটি হলের ছাদে পৌঁছলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কখন তিনি বেরিয়েছিলেন, তা জানতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।একাধিক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার পর ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

গোড়ালি জলে শুটিং, তবু মৃত্যু! রাহুল কাণ্ডে নতুন রহস্য, মুখ খুললেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়

একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। শুটিং চলাকালীন আকস্মিক দুর্ঘটনায় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু এখনও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। তালসারির সমুদ্র সৈকতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বয়ান সামনে আসছে। এর মধ্যেই লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য নতুন করে রহস্য বাড়িয়েছে।তিনি জানিয়েছেন, যে দৃশ্যের শুটিং হচ্ছিল, তাতে গভীর জলে যাওয়ার কোনও প্রয়োজনই ছিল না। শুধু গোড়ালি পর্যন্ত জলে হাঁটার একটি দৃশ্য ছিল। সেই জায়গা থেকে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কেন রাহুল সমুদ্রের দিকে আরও এগিয়ে গেলেন।একই কথা বলেছেন ধারাবাহিকের কার্যনির্বাহী প্রযোজক শান্তনু নন্দীও। তিনি যদিও দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না, তবে ইউনিটের কাছ থেকে যা জেনেছেন, তা তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, মূল শুটিং প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। শুধু একটি ড্রোনে তোলা দৃশ্য বাকি ছিল। সেই দৃশ্যও খুব অল্প জলে হওয়ার কথা ছিল।তিনি জানান, শুটিংয়ের সময় রাহুল এবং তাঁর সহ-অভিনেত্রী একটু একটু করে সামনে এগোচ্ছিলেন। ইউনিটের তরফ থেকে তাঁদের বারবার বলা হচ্ছিল, আর এগোতে না। ঠিক সেই সময় হঠাৎ একটি বড় ঢেউ এসে পড়ে। ভারসাম্য হারিয়ে দুজনেই জলে পড়ে যান।এরপরই ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। শ্বেতাকে দ্রুত টেনে তোলা হলেও রাহুল কিছুটা বেশি দূরে চলে গিয়েছিলেন। পরে নিরাপত্তা নৌকায় থাকা কয়েকজন জলে নেমে দড়ির সাহায্যে তাঁকে উদ্ধার করেন।তাঁর কথায়, পাড়ে তোলার পর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শরীর থেকে জল বের করার চেষ্টা করা হয় এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় পর্যন্ত নাকি রাহুলের জ্ঞান ছিল এবং তিনি কথা বলছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি আর বেঁচে নেই।এই সব ভিন্ন ভিন্ন বয়ান মিলিয়ে পুরো ঘটনাকে ঘিরে ধোঁয়াশা আরও ঘন হচ্ছে। এখন সকলের একটাই প্রশ্ন, কীভাবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল।

মার্চ ৩০, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

তালসারির শান্ত সমুদ্রে কীভাবে ডুবে মৃত্যু রাহুলের? অনুমতি ছাড়াই শুটিং, উঠছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন

রবিবার, ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল অভিনেতা রাহুলের। একটি ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়েই এই বিপর্যয় ঘটে। সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।জানা গিয়েছে, ভোলে বাবা পার করবে ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল তালসারিতে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই শুটিংয়ের জন্য আগে থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। এমনকি সমুদ্রে নেমে শুটিং করারও কোনও অনুমোদন ছিল না। পুলিশের দাবি, প্রোডাকশন টিম এই বিষয়ে প্রশাসনকে কিছুই জানায়নি।পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনাটি বিকেল প্রায় পাঁচটা তিরিশ মিনিট নাগাদ ঘটে। শুটিং চলাকালীন রাহুল ও তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র হাঁটু সমান জলে নাচছিলেন। হঠাৎই তারা একটি গভীর গর্তে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করে দিঘার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রাহুলকে বাঁচানো যায়নি।এই ঘটনার পর একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে। ইউনিটের দাবি, খুব অল্প জলে শুটিং হচ্ছিল। কিন্তু সেই অবস্থায় কীভাবে এমন বিপদ হল, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, তালসারি সৈকতে চোরাবালির মতো বিপজ্জনক অংশ রয়েছে। অনেকের অনুমান, সেই কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা জানিয়েছেন, তিনিও জলে পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কোনওভাবে তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হন। অন্যদিকে, রাহুল ভেসে যান। কেন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করা গেল না, সেই প্রশ্নও উঠছে।ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনাও সামনে এসেছে। শুটিংয়ের ম্যানেজার দাবি করেছেন, কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরিচালক জানিয়েছেন, তখনও কিছু দৃশ্যের শুটিং বাকি ছিল। এই পরিস্থিতিতে রাহুল কীভাবে সমুদ্রে এগিয়ে গেলেন, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এত বড় শুটিং ইউনিট থাকা সত্ত্বেও কেন যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। লাইফগার্ড বা জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা ছাড়াই কীভাবে সমুদ্রের ধারে শুটিং চলছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।আজ তমলুক মেডিক্যাল কলেজে রাহুলের দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। এরপর তাঁর দেহ কলকাতায় আনা হবে। এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ এবং পুরো বিষয়টি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

মার্চ ৩০, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

মুহূর্তে নিভে গেল উজ্জ্বল নক্ষত্র! শুটিং শেষে জলে নেমেই আর ফিরলেন না রাহুল

রবিবার ছুটির দিনে আচমকা এক দুঃসংবাদে স্তব্ধ হয়ে গেল স্টুডিও পাড়া। বাংলা সিনেমা ও ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই। শুটিং করতে গিয়ে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা বিনোদন জগতে।পরিচালক সৌরভ পালোধি এই মৃত্যুর খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোলে বাবা পার করেগা ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। শুটিংয়ের পর রাহুল সমুদ্রে নামেন। সেই সময় হঠাৎ জোয়ার চলে আসে। এরপরই তিনি জলে তলিয়ে যান বলে জানা যাচ্ছে।সঙ্গে থাকা টেকনিশিয়ানরা তাঁকে উদ্ধার করেন। দ্রুত দিঘার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জলে ডুবে মৃত্যুর কথাই জানা যাচ্ছে, যদিও পুরো ঘটনা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।ভোলে বাবা পার করেগা ধারাবাহিকে রাহুলের অভিনয় দর্শকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ঠিক এই সময়েই তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ টলিপাড়া। তাঁর চলে যাওয়া বাংলা বিনোদন জগতের জন্য এক বড় ক্ষতি।রাহুল বড়পর্দা, ছোটপর্দা এবং থিয়েটারসব ক্ষেত্রেই সমানভাবে সফল ছিলেন। দুই হাজার সালে চাকা ছবির মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু হয়। এরপর চিরদিনই তুমি যে আমার ছবির মাধ্যমে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা পান। আবার আসব ফিরে, জ্যাকপট, জুলফিকার সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। বিদায় ব্যোমকেশ ও ব্যোমকেশ গোত্র ছবিতে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি লেখাতেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন।অভিনয়ের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা, সমাজ ও নানা বিষয়ে সরব উপস্থিতিসব মিলিয়ে তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন একজন দায়িত্বশীল বাবা। ছেলে সহজের জন্যই স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে আবার নতুন করে সংসার শুরু করেছিলেন। নিজের সন্তানের নামেই শুরু করেছিলেন পডকাস্ট সহজ কথা।রাহুলের এই আকস্মিক প্রয়াণে তাঁর সহকর্মী, বন্ধু এবং অনুরাগীরা বাকরুদ্ধ। এখনও অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না, এত তাড়াতাড়ি এভাবে সব শেষ হয়ে যেতে পারে।

মার্চ ৩০, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

টলিপাড়ায় গভীর শোকের ছায়া! শুটিঙের মধ্যেই দীঘার সমুদ্রে তলিয়ে গেলেন অভিনেতা!

টলিপাড়ায় নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। অকালপ্রয়াণ হল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর। মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে বাংলা বিনোদন জগৎ।দিঘার শুটিংয়ে কী ঘটেছিল?জানা গিয়েছে, রবিবার দিঘা-র তালসারি এলাকায় একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। ভোলে বাবা পার করেগা নামের ওই ধারাবাহিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছিলেন রাহুল। শুটিংয়ের মাঝেই তিনি সমুদ্রের জলে নামেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আচমকাই তিনি জলে তলিয়ে যান।সঙ্গে থাকা টেকনিশিয়ানরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। এরপর তাঁকে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল সূত্রে খবর, সেখানে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, জলে ডুবে যাওয়ার ফলেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।সহ-অভিনেতার বক্তব্যধারাবাহিকে রাহুলের জেঠুর চরিত্রে অভিনয় করছিলেন ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, শুটিং প্রায় শেষের দিকেই ছিল এবং প্যাক-আপের পর এই দুর্ঘটনা ঘটে।ভাস্করের কথায়,আমরা সবাই শুটিং সেরে মধ্যাহ্নভোজ করতে গিয়েছিলাম। রাহুল বলেছিল, আরও কয়েকটা শট দিয়ে আসবে। তারপর হঠাৎই এই খবর পাই। বিশ্বাসই করতে পারছি নাএকজন সুস্থ, প্রাণবন্ত মানুষ এভাবে চলে যেতে পারেন!কী নিয়ে ধোঁয়াশা?ঘটনার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সমুদ্রের স্রোত, অসতর্কতা, নাকি অন্য কোনও কারণসবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুটিং ইউনিট এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।শোকস্তব্ধ টলিপাড়ারাহুল অরুণোদয়ের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউডে। সহকর্মী থেকে অনুরাগীসকলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করছেন। একজন প্রতিভাবান অভিনেতার এই আকস্মিক বিদায়ে বাংলা ধারাবাহিক জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল।এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলে দিলসমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় শুটিংয়ের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা জরুরি। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই হয়তো স্পষ্ট হবে, ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল।

মার্চ ২৯, ২০২৬
দেশ

ইরানে ক্ষমতার পালাবদল আসন্ন? ভারতের সামনে কি ভেঙে পড়ছে চাবাহার সমীকরণ!

আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। আরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন। ইজরায়েলও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। কিন্তু এই ঘটনাকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নয়াদিল্লিতে। কারণ খামেনেইয়ের মৃত্যু ভারতের কূটনীতি ও অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলের একাংশের।ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাতে ভারত এতদিন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। শুধু শান্তির বার্তা দেওয়া ছাড়া কোনও পক্ষেই সরাসরি সমর্থন জানায়নি কেন্দ্র সরকার। কারণ ইজরায়েল ও ইরান দুই দেশই ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কৌশলগত সঙ্গী। কাশ্মীর ইস্যুতেও অতীতে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে ইরান। শুধু রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়, সাংস্কৃতিক যোগাযোগও রয়েছে দুই দেশের মধ্যে।ইরানের সিস্তান বালুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই বন্দরই ভারতের প্রধান ভরসা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানি ও রপ্তানির জন্য এটি একটি বড় ট্রানজিট কেন্দ্র। ইরানের শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা করেই ভারত এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। গত বছর পর্যন্তও নিয়মিত বিনিয়োগ চলেছে। মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বাড়াতে এবং চিনের কৌশলের মোকাবিলায় ভারত এই বন্দরকে কেন্দ্র করে নিজস্ব করিডর গড়ে তুলতে চেয়েছিল।কিন্তু খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর যদি ইরানে শাসন পরিবর্তন হয় এবং সেখানে আমেরিকা ঘনিষ্ঠ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ধাক্কা খেতে পারে। মুসলিম বিশ্বে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে ইরানকে দেখত নয়াদিল্লি। নতুন সরকার যদি পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে কাশ্মীর-সহ ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে ইরানের অবস্থান বদলে যেতে পারে। এতে ভারতের কূটনৈতিক সমীকরণ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।চাবাহার বন্দরের ভবিষ্যৎও তখন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এই পথ বন্ধ হলে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের মতো দেশের সঙ্গে বাণিজ্যেও প্রভাব পড়বে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানি আমদানির পথ সংকুচিত হতে পারে। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের একটি বড় অংশ ইরানের পথেই সম্পন্ন হয়। সেখানে পরিবর্তন এলে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে আমেরিকার উপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে, যা কূটনৈতিক দিক থেকে সবসময় সুবিধাজনক নয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে অস্থিরতা বাড়লে পাকিস্তান সুযোগ নিতে পারে। আমেরিকা যদি ইরান পরিস্থিতি সামলাতে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে, তাহলে ইসলামাবাদ কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। এতে পাকিস্তানে আমেরিকার আর্থিক ও সামরিক সহায়তা বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে ইরানের এই অস্থিরতা ভারতের সামনে এক কঠিন সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন নয়াদিল্লি কীভাবে পরিস্থিতি সামলায়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।মেটা বিবরণ: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবরে বদলে যেতে পারে ভারতের কূটনৈতিক সমীকরণ। চাবাহার বন্দর, রাশিয়া সম্পর্ক ও পাকিস্তান ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ।

মার্চ ০১, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুরের মেডিক্যাল কলেজে ফের চাঞ্চল্যকর ঘটনা, একই কলেজে ছাত্রের রহস্যমৃত্যু

দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ফের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। হস্টেলের বাথরুম থেকে উদ্ধার হল দ্বিতীয় বর্ষের এক চিকিৎসক পড়ুয়ার দেহ। মৃতের নাম লাবণ্য প্রতাপ, বয়স ২২। তিনি বিহারের পাটনার বাসিন্দা। শনিবার রাতে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতের বাবা জানিয়েছেন, তাঁদের কেউ আগে কিছু জানায়নি। দরজা খুলে তিনি দেখেন, তাঁর ছেলে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। এরপরই প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে।মৃতের পরিবারের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাবা বলেন, অভিভাবকেরা টাকা দেন পড়াশোনার জন্য, কিন্তু ছাত্রদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কলেজেরই।সম্প্রতি কলেজে পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। সেই ফল ভাল না হওয়ায় মানসিক চাপে এই ঘটনা কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর এই একই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে মেডিক্যাল কলেজের বাইরে জঙ্গলে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন স্থানীয় যুবক এবং একজন সহপাঠী। বর্তমানে তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই কলেজে ছাত্রের মৃত্যু ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
দেশ

পুণেতে খুন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক! বজরং দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ, বিজেপিকে বয়কট পরিবারের

বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের পুণেতে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বজরং দলের সদস্যরা তাঁদের ছেলেকে খুন করেছে। সেই কারণে বিজেপির কোনও নেতা বা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের বরাবাজারের তুমড়াশোলের বাঁধডি গ্রামের বাসিন্দা সুখেন মাহাতো পুণেতে কাজ করতেন। বুধবার রাতে তাঁর খুনের ঘটনা সামনে আসে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের প্রতিনিধি দল নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। সমবেদনা জানানো হয় পরিবারের সদস্যদের।বৃহস্পতিবার বিজেপির পক্ষ থেকেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা নিহতের বাড়িতে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু সেই খবর পেতেই পরিবার বিজেপিকে কার্যত বয়কট করার ঘোষণা করে। কুড়মি জনজাতির ওই পরিবার জানিয়ে দেয়, তারা বিজেপির কোনও নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে না।এই ঘটনায় জঙ্গলমহলের বিভিন্ন কুড়মি সংগঠন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নিহতের কাকা দীনেশচন্দ্র মাহাতো অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে বজরং দলের সদস্যরা তাঁদের ছেলেকে নির্মমভাবে খুন করেছে। তাঁর দাবি, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সুবিচার চান।নিহতের বাবা ধীরেন মাহাতো বলেন, পেটের দায়ে ছেলে মহারাষ্ট্রে কাজ করতে গিয়েছিল। অর্থের অভাবে ছেলেদের বেশি পড়াশোনা শেখাতে পারেননি। মারাঠি ভাষা জানত না। হয়তো বাংলা ভাষায় কথা বলেছিল, সেটাই কারও অপছন্দ হয়েছিল। সেই কারণেই ছেলেকে খুন করা হয়েছে বলে তাঁর সন্দেহ।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন, তিনি ওই পরিবারের পাশে রয়েছেন। অন্যদিকে পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, যে কোনও মৃত্যু দুঃখজনক। তিনি স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, জঙ্গলমহল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজের জন্য ভিনরাজ্যে যাচ্ছেন, তাহলে উন্নয়ন কোথায় হয়েছে?পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো অভিযোগ করেন, বাংলা ভাষায় কথা বলায় বাংলাদেশি সন্দেহে প্রান্তিক কুড়মি সম্প্রদায়ের ওই যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনা জঙ্গলমহল মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।পুণে হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

‘আমার খুব আনন্দ হচ্ছে’, ইন্দ্রনীল সেন জেলে যেতেই বিস্ফোরক বুদ্ধদেব-পুত্র সুচেতন!

পুজোর পাস নিয়ে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এ বার মুখ খুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সন্তান সুচেতন ভট্টাচার্য। ইন্দ্রনীলের সঙ্গীত সংস্থায় কাজ করার সময় তাঁর কী কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তা সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন সুচেতন। তাঁর অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের আচরণ ছিল অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ। প্রাক্তন মন্ত্রীর জেলবন্দি হওয়ার খবর তাঁকে খুশি করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।কলেজ পাশ করার পর ২০০৫ সালে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গীত সংস্থায় চাকরি শুরু করেন সুচেতন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত সেখানে কাজ করেছিলেন তিনি। সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এর পর ইন্দ্রনীলের সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে বলে দাবি সুচেতনের। সেই পরিস্থিতিতে সংস্থার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।সুচেতনের অভিযোগ, ২০১৩ সালে তিনি ইস্তফাপত্র পাঠালেও ইন্দ্রনীল তা গ্রহণ করেননি। ইস্তফাপত্রের কপি দেওয়ার কথা বলে তাঁকে অফিসে ডেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। সুচেতনের কথায়, তাঁর ঔদ্ধত্য এতটাই ছিল যে আমার ইস্তফাপত্র গ্রহণ পর্যন্ত করেননি। সেটা রিসিভ করে আমাকে কপি দেবেন বলে ডেকে পাঠিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসে অপেক্ষা করিয়েছেন। নিজে কথা বলেননি, বাকি কর্মীদের দিয়ে বলে পাঠাচ্ছিলেন, অপেক্ষা করতে হবে। ভাবুন কী অপমানজনক! একটা ইস্তফাপত্র সই করতে এতখানি ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন।ইন্দ্রনীলের সংস্থায় কাজ করা রেকর্ডিস্ট এবং অন্য সঙ্গীতশিল্পীদের পারিশ্রমিক পাওয়া নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন সুচেতন। তাঁর দাবি, অনেক সময় কাজ করানোর পরেও শিল্পীদের ঠিকমতো টাকা দেওয়া হত না। এক সময়ে নিজের টাকা থেকে কয়েক জন শিল্পীর পারিশ্রমিক মিটিয়ে দিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।সুচেতনের আরও দাবি, ইন্দ্রনীলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এতটাই খারাপ হয়েছিল যে বাবার অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে যেন তিনি তাঁদের বাড়ির আশপাশে না আসেন, সে কথা দলকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণের সময়েও তৎকালীন মন্ত্রীকে পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে ঢুকতে দিতে চাননি বলে জানিয়েছেন সুচেতন।ইন্দ্রনীল সেনের জেলবন্দি হওয়ার প্রসঙ্গে সুচেতন বলেন, পাপ ও কৃতকর্মের ফল ভোগ করছেন। আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। তাঁর আরও বক্তব্য, আমার মনে হয়, শুধু আমি নই, যাঁরা ওঁর দুর্নীতির পরিচয় পেয়েছেন, তাঁরা সকলে আজ খুশি।ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে আর্থিক দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে সুচেতনের বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগের ভিত্তিতে করা। অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
রাজ্য

‘বড় চোর জেলে যাবেই’, বারুইপুরের সভা থেকে কাকে নিশানা করলেন শুভেন্দু?

বড় চোর জেলে যাবেই, চিন্তা করবেন না। ধৈর্য রাখুন। শুক্রবার বারুইপুরের সভা থেকে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কারও নাম না করেই তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন তিনি।শুভেন্দু বলেন, আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে, বড় চোর কবে যাবে? বড় চোর যাবে। আমার রাজনীতিতে সহ্য, ধৈর্য ধরি। সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক নেতার গ্রেফতারির প্রসঙ্গেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি সেই তালিকায় ইন্দ্রনীল সেন ও অজিত মাহাতোর নামও উঠে এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দুর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।এ দিনের সভা থেকে তৃণমূল ও সিপিএমের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সিপিএম ও তৃণমূল এখন একসঙ্গে কাজ করছে। দুই পক্ষকে নিশানা করে তিনি বলেন, বেবি আর আন্টি এখন একসঙ্গে চা খাচ্ছেন। তাঁর এই মন্তব্যের লক্ষ্য ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, সাহস থাকলে আপনি লড়ুন। আবার হারাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একই সঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, ওঁরা কলকাতায় না থেকে দিল্লি যাচ্ছেন। আপনি দিল্লি যান। পশ্চিমবঙ্গে আপনার আর কিছু হবে না।উল্লেখ্য, দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এবং পরবর্তী কিছু প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএমের একাংশের অবস্থানে মিল দেখা গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যের আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে দিল্লিতে কেরলের সিপিএম নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের সংসদীয় নেতৃত্বের একাংশের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই এম এ বেবির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চা খাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, হেরেই পঞ্চত্বপ্রাপ্তি একটা দলের।এ দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নাম না করে নিশানা করেন শুভেন্দু। ডিজে প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গোটা জেলায় গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দিয়েছ। ২০১৪ সালের পর থেকে একটাও ভোট করতে দাওনি। ৭ লক্ষ ভোটে জিতেছেন উনি। কিন্তু ৬ মাস কোথায়? সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন। রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন তিনি। তারই জবাবে এ দিনের সভা থেকে নাম না করে পাল্টা আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু। তবে বড় চোর বলতে কাকে বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
দেশ

দীপাবলির আগে কলকাতা-দিল্লি বিমানের ভাড়া ৮০ হাজার! টিকিটের দাম দেখে মাথায় হাত যাত্রীদের

উৎসবের মরশুমে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করছেন? তা হলে বিমান টিকিট কাটার আগে এক বার ভাড়া দেখে নেওয়া জরুরি। দুর্গাপুজোয় যাঁরা ছুটি পাননি, তাঁদের অনেকেই দীপাবলির ছুটিতে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু উৎসবের আগে বিমান ভাড়া যে ভাবে বাড়ছে, তাতে যাত্রীদের পকেটে বড়সড় টান পড়তে পারে। কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার বিমানের টিকিটের দাম বেড়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে যে টিকিটের দাম ১০ থেকে ১১ হাজার টাকার মধ্যে থাকে, তার দাম এতটা বেড়ে যাওয়ায় অবাক যাত্রীরা।জানা গিয়েছে, ৬ নভেম্বর কলকাতা-দিল্লি রুটে বিমানের টিকিটের দাম এক ধাক্কায় ১১ হাজার ৬৬৯ টাকা থেকে বেড়ে ৭৮ হাজার ৬৯৮ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ, এই রুটে টিকিটের দাম প্রায় সাত গুণ বেড়েছে। উৎসবের মরশুমে বাড়ি ফেরার জন্য যাঁরা শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটতে চাইছেন, তাঁদের অনেককেই এখন বেশি টাকা খরচ করার কথা ভাবতে হচ্ছে।শুধু কলকাতা-দিল্লি রুটেই নয়, দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটেও বিমান ভাড়া বেড়েছে। মুম্বই থেকে দিল্লি যাওয়ার বিমানের টিকিটের দাম ১১ হাজার ৫৩১ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ হাজার ৫৭৭ টাকা হয়েছে। দিল্লি থেকে আহমেদাবাদ যাওয়ার ভাড়া ৬ হাজার ১২১ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৪১৩ টাকা হয়েছে। দিল্লি-হায়দরাবাদ রুটে টিকিটের দাম ৮ হাজার ৯৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ২৭ হাজার ৮৯৫ টাকা হয়েছে। অন্য দিকে, বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি যাওয়ার বিমানের ভাড়া ১৫ হাজার ৯০১ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ হাজার ৫০৬ টাকা হয়েছে।উৎসবের সময়ে যাত্রীদের চাহিদা বাড়লে বিমান টিকিটের দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিভিন্ন বিমান সংস্থার দাবি, কোন ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটা হচ্ছে, কোন ধরনের আসন পাওয়া যাচ্ছে এবং কতগুলি আসন বাকি রয়েছে, তার উপরেও ভাড়ার পার্থক্য নির্ভর করে। তাই একই রুটে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে টিকিটের দাম আলাদা হতে পারে।দুর্গাপুজোয় বাড়ি ফিরতে না পারা অনেকেই দীপাবলির ছুটিতে পরিবারের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিমান টিকিটের এত বেশি দাম তাঁদের পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই উৎসবের মরশুমে বিমানযাত্রার পরিকল্পনা থাকলে টিকিটের দাম বিভিন্ন সংস্থার ওয়েবসাইটে মিলিয়ে দেখে নেওয়াই ভাল।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বিদেশ

হ্রদ ভেঙে ভাসল ভুটান, তবু প্রাণহানি শূন্য! কীভাবে বিপর্যয় সামলাল পড়শি দেশ?

হ্রদ ভেঙে বিপুল পরিমাণ জল নেমে এসে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে রাস্তা, বাড়িঘর, গাছপালা এবং গবাদি পশু। তবু এখনও পর্যন্ত ভুটানে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির খবর মেলেনি। এর পিছনে রয়েছে বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদগুলির উপর নিয়মিত নজরদারি এবং আগাম সতর্কবার্তার ব্যবস্থা। নেপালের বিপর্যয়ের পর পাহাড়ি হ্রদগুলির বিপদ সম্পর্কে আরও সতর্ক হয়েছিল ভুটান। সেই প্রস্তুতিই এ বার কাজে এসেছে বলে মনে করছেন ভূ-বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তবে বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি এখনও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর ভুটানের গাসা জেলার ওয়াকিলা পাহাড়ের নীচে থাকা সিনতাপু হ্রদ থেকে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘন মিটার জল নেমে আসে মো চু নদীতে। প্রবল জলস্রোতের সঙ্গে পাথর, মাটি ও গাছপালা ভেসে যায়। গাসা ও পুনাখা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর। বেশ কিছু জায়গায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় উত্তর ভুটানের একাধিক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বহু গবাদি পশুও জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ভুটান প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিপজ্জনক হ্রদগুলির উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়। হ্রদের জলস্তরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে যাতে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়া যায়, তার জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র বসানো হয়েছে। হ্রদের জল বিপজ্জনক হয়ে ওঠার সঙ্কেত পাওয়ার পর সাইরেন বাজিয়ে নদীর ধারের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। জল নেমে আসার আগেই তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই কারণেই এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি বলে মনে করা হচ্ছে।ভুটানের এই বিপর্যয়ের খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের প্রশাসনকেও সতর্ক করা হয়। কারণ, ভুটানের মো চু নদী পুনাখায় ফো চু নদীর সঙ্গে মিশে পুনাৎসাংচু নদী তৈরি করেছে। এই নদী ভারতে ঢোকার পর সঙ্কোশ নামে পরিচিত। ফলে ভুটানে জল বাড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের নদী সংলগ্ন এলাকায়।বন্যার আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গের ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। কুমারগ্রাম, বানারহাট ও ময়নাগুড়ি এলাকায় প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে শুরু করে। আলিপুরদুয়ার জেলার নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ১২ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে খবর। সঙ্কোশ ও জলঢাকা নদীর ধারের বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হয়। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ওই দুই নদীর জলস্তর স্বাভাবিক থাকলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছে প্রশাসন।ভুটানে আরও একটি বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিনতাপু হ্রদ থেকে নেমে আসা কাঠ, পাথর ও মাটি লুনানা এবং গাংচেন তাগ নদীর মিলনস্থলে তাকতসেমাথাং এলাকায় জমে একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি করেছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়ে থাকলে তা ভেঙে আচমকা জল নেমে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে হড়পা বানের আশঙ্কা রয়েছে। তাই নদী উপত্যকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।ভুটানের ১৭টি বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের মধ্যে সিনতাপু অন্যতম। ২০২৩ সালের মে ও জুন মাসে এই হ্রদ নিয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। নেপালে হড়পা বানের বিপর্যয়ের পর থেকেই ভুটানের বিপজ্জনক হ্রদগুলির উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, হ্রদের জলস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পরীক্ষামূলক ভাবে বিশেষ পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে।চোপড়া কলেজের অধ্যক্ষ তথা ভূ-বিশেষজ্ঞ মধুসূদন কর্মকার জানিয়েছেন, বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমাতে ভুটান বিভিন্ন পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখছে। লুনানার থোরথোরমি হ্রদে সাইফন পদ্ধতি ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিত ভাবে জলস্তর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে হ্রদের জল ধীরে ধীরে বের করে জলস্তর কমানোর চেষ্টা করা হয়। তাঁর মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বড় বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করতে পারে।তবে আগাম সতর্কবার্তা ও নজরদারি থাকলেও ভুটানের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়নি। রাস্তা, ঘরবাড়ি এবং গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে খবর। কৃত্রিম হ্রদে জমে থাকা জল নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই আপাতত ভুটান ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকার প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। বিপর্যয়ের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
কলকাতা

স্বাস্থ্যসাথীর ৩০ লক্ষ উপভোক্তার খোঁজ নেই! ২৫ হাজার কোটি টাকা খরচ নিয়ে বড় প্রশ্ন

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার খোঁজ মিলছে না বলে দাবি উঠেছে। নতুন করে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে এই গরমিল ধরা পড়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। রাজ্য সরকারের দাবি, স্বাস্থ্যসাথীর উপভোক্তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই কাজের জন্য তথ্য যাচাই করতে গিয়েই পুরনো তালিকায় থাকা বহু নামের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।নবান্ন সূত্রে খবর, বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করার সময় দেখা যাচ্ছে, অনেকের নামে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড থাকলেও তাঁদের অস্তিত্বের খোঁজ মিলছে না। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০ লক্ষ এমন উপভোক্তার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনায় রাজ্যের কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ খরচ হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা। সেই অঙ্ক ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে এই অর্থের পরিমাণ এবং উপভোক্তাদের তালিকায় গরমিলের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট দফতরকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপভোক্তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিমা যোজনার আওতায় আনার কথা আগেই ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সেই অনুযায়ী, উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করে ধাপে ধাপে তাঁদের নাম আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে।এই যাচাইয়ের সময়েই স্বাস্থ্যসাথীর পুরনো তালিকায় থাকা বহু নাম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। আধিকারিকদের বক্তব্য, যাঁদের নামে কার্ড রয়েছে, তাঁদের প্রকৃত পরিচয় এবং অস্তিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। সেই সঙ্গে প্রকল্পের সুবিধা দিতে গিয়ে সরকারি অর্থের কোনও অপচয় হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।শুধু স্বাস্থ্যসাথী নয়, আগের সরকারের আমলে চালু হওয়া অন্যান্য প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকাতেও একই ধরনের গরমিল থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। তবে সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। স্বাস্থ্যসাথীর উপভোক্তা তালিকা যাচাইয়ের কাজ শেষ হলে প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বিদেশ

সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই! ইজরায়েলে ফের ক্ষমতায় ফিরবেন নেতানিয়াহু?

প্রায় দুদিন ধরে ভোটগণনার পর ইজরায়েলে নির্বাচনের ফলের ছবি স্পষ্ট হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ। কিন্তু সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অনেকটাই দূরে তাঁর জোট। ফলে ইজরায়েলে পরবর্তী সরকার কারা গড়বে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।ইজরায়েলের সংসদ কেনেসেটের মোট আসন ১২০। সরকার গড়তে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। কিন্তু নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। বিরোধী জোটের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। অন্য দিকে, রাম এবং জয়েন্ট লিস্ট-সহ আরব দলগুলি পেয়েছে মোট ১৯টি আসন। ফলে কোনও জোটই একক ভাবে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল আগামী ৪ নভেম্বর ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজোগের হাতে তুলে দেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির। তার পরে ১০ নভেম্বর নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন কে জোগাড় করতে পারবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এই পরিস্থিতিতে ফের ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা শুরু করেছেন নেতানিয়াহু। ইহুদি ভোটারদের আবেগকে সামনে রেখে তিনি আরব দলগুলির সঙ্গে জোট না করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতা দখলের জন্য আরব দলগুলির সঙ্গে হাত মেলালে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। পাশাপাশি, সরকার গঠনের সমর্থন জোগাড় করতে বিভিন্ন ইহুদি দলের সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছেন তিনি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী শিবিরের কিছু দল নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়ালে তাঁর সরকার গড়ার পথ সহজ হতে পারে। বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোটের শিবির থেকে কয়েকটি দল সরে এলে সংখ্যার অঙ্কে বদল আসতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা কতটা বাস্তব, তা এখনও পরিষ্কার নয়।অন্য দিকে, একসময় মনে করা হচ্ছিল, সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে আরব দলগুলি। এই দলগুলি ইজরায়েলে বসবাসকারী প্যালেস্তিনীয় জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু আইজেনকোট আরব দলগুলির সঙ্গে জোটে যেতে রাজি নন বলে জানা গিয়েছে। যদিও জোটের বাইরে থেকে তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।ফলে ইজরায়েলের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত কারা সরকার গড়বে। নেতানিয়াহুর দল সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাঁকে অন্য দলের সমর্থন জোগাড় করতে হবে। আগামী কয়েক দিনেই সেই রাজনৈতিক অঙ্ক অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
রাজ্য

বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির নামে ব্যাঙ্ক থেকে ২৯০ কোটি টাকা ঋণ! এ বার ইডির নজরে দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগে শুক্রবার সকালে কলকাতা ও উত্তরপাড়ার একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। ঝাড়খণ্ডের একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া টাকা কলকাতায় পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ভুয়ো সংস্থা তৈরি করে বিপুল অঙ্কের টাকা সরানোর অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট।শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে উত্তরপাড়ার শিবতলা স্ট্রিটে সুদীপ্ত ঘোষের বাড়িতে পৌঁছন ইডির আধিকারিকেরা। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সুদীপ্তর বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।সুদীপ্ত জানিয়েছেন, ইডি তদন্ত করছে। তবে এই দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। তদন্তকারীরা প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই এসেছেন বলেও জানিয়েছেন সুদীপ্ত। তদন্তে তিনি সহযোগিতা করছেন বলে তাঁর বক্তব্য।অন্য দিকে, লেকটাউনের অভিজাত অবনী অক্সফোর্ড আবাসনের প্রথম পর্যায়ে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অশোক সারথির বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডির আধিকারিকেরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় সেখানে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির জন্য ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া প্রায় ২৯০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তদন্তের সঙ্গে জড়িত বেসরকারি সংস্থাটির নাম কোহিনূর পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড। অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির কথা বলে ব্যাঙ্কের একাধিক সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল।তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রকল্প তৈরির জন্য নেওয়া ওই বিপুল অঙ্কের টাকা নির্ধারিত কাজে ব্যবহার না করে ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে অন্যত্র সরানো হয়ে থাকতে পারে। এই আর্থিক লেনদেনে অশোক সারথির ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তের বিষয়।তল্লাশির সময় বিভিন্ন নথি, ব্যাঙ্কের লেনদেনের তথ্য এবং ডিজিটাল নথি খতিয়ে দেখছেন ইডির আধিকারিকেরা। এই মামলায় আরও কী তথ্য সামনে আসে, এখন সে দিকেই নজর রয়েছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
রাজ্য

বন দফতরে সরকারি চাকরির টোপ, ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা!

বন দফতরে স্থায়ী সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করেছে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছু দিন আগে। ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবা এলাকার বাসিন্দা সজল দাস অজিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলে বন দফতরে স্থায়ী চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন অজিত।অভিযোগ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে চার দফায় অজিতকে মোট ১০ লক্ষ টাকা দেন সজল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি পাননি তিনি। এর পর টাকা ফেরত চাইলেও তা পাননি বলে অভিযোগ।সজলের আরও দাবি, টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি, আরও ২ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। একই ভাবে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরও কয়েক জন বেকার যুবকের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে অজিতের নিজের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।তবে অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশি তদন্তের পরেই এই ঘটনায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal