পঞ্চায়েত ভোটের জেরে এখনও রাজ্যজুড়ে খুনের পালা চলছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য়। তারই মাঝে রবিবার খাস কলকাতায় মদের দোকানে পিটিয়ে খুন করা হল এক ব্যক্তিকে। দোকানের সিসি টিভি ফুটেজে সেই রোমহর্ষক দৃশ্য ধরা পড়েছে। মৃত ব্য়ক্তির নাম সুশান্ত মন্ডল। পেশায় গাড়িচালক। ঢাকুরিয়ার পঞ্চানন তলার বাসিন্দা। এই ঘটনার পর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। দোকান ভাঙচুর চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। এদিকে এই খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণপুর থানা এলাকায় শুটআউট কাণ্ডে মূল পাডাসহ দুজন গ্রেফতার হয়েছে। ধৃতের নাম সুজয় দাস (নারায়ণ পুর ) ও বিক্রম মাহাত (ইছাপুর )। আজ দুপুরে নারায়ণ পুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আগামীকাল তাঁদের ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হবে।গতকাল সন্ধ্যায় দেবজ্যোতি ঘোষ (টাক বাবাই ) প্যারোলে ছাড়া পেয়ে নারায়ণপুর থানায় হাজিরা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় নারায়ণপুর ফায়ার ব্রিগেড মোড়ের কাছে দুটি বাইকে করে চারজন যুবক এসে গাড়ি দাঁড় করিয়ে এলোপাথারি গুলি চালায়। সেই গুলিতে মৃত্যু হয় দেবজ্যোতি ঘোষ (টাক বাবাই)-এর। এরপরই পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। শুরু হয় দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় দেবজ্যোতি ঘোষের গাড়ির চালোককে। এরপরই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সুজয় দাস ও বিক্রম মাহাতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে খুনের কথা।জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে এই সুজয় এক সময় দেবজ্যোতির ঘনিষ্ট সাকরেদ ছিল। বিভিন্ন অসামাজিক কাজের টাকা পয়সা নিয়ে ঝামেলার কারণে আলাদা হয়ে যায়। তীব্র ক্ষোভ ছিল দেবজ্যোতির ওপর। দীর্ঘদিন ধরে খুন করার ছক কষছিল। নির্জন জায়গা খুঁজছিলো। সেই মত তারা দেবজ্যোতির ওপর নজর রাখছিল। তারা জানতে পারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে বেলায় নারায়ণপুর থানায় হাজিরা দিতে যাবে দেবজ্যোতি। এবং থানার কাছেই একটি নির্জন অন্ধকার জায়গা রয়েছে। সেই মত সেখানে গাড়ি পৌঁছতেই গাড়ি আটকায় সুজয়, বিক্রম ও সঙ্গে থাকা আরও দুজন। গাড়ি দাঁড়াতেই এলোপাথারি গুলি চালানো হয়।বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সূত্রের খবর, গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে সুজয়ের নাম জানতে পারে। এর পরই নারায়ণপুর থানা এলাকা থেকে সুজয় ও বিক্রমকে আজ দুপুরে গ্রেফতার করা হয়। বাকি দুজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
চিকিৎসক এবং লেখিকা প্রজ্ঞাদীপা হালদারের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় লিভ-ইন সঙ্গী কৌশিক সর্বাধিকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, প্রজ্ঞাদীপার উপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন কৌশিক। তিনি আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছেন বলে অভিযোগ। পুলিশের অনুমান, প্রজ্ঞাদীপার মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখেই অসুস্থতার নাটক করেছিলেন সেনা চিকিৎসক কৌশিক।ডিভোর্সের পর ভারতীয় সেনা ডাক্তারের সাথে মেয়ে লিভ টুগেদার থাকতো ব্যারাকপুরে, সেখানেই মৃত্যু। বলা হচ্ছে আত্মহত্যা, কিন্তু মা এর অভিযোগ তার মেয়েকে খুন করা হয়েছে ।প্রজ্ঞাদীপা হালদারের প্রথম ২০১৩ সালে বিয়ে হয়। কিন্তু সেই বিয়ে বেশিদিন টেকে না, ডিভোর্স হয়ে যায় । এর পর ব্যারাকপুরে সেনা হাসপাতালে কর্মারত কৌশিক সর্বাধিকারীর সাথে সম্পর্ক হয়। প্রজ্ঞাদীপা ও পেশায় একজন চিকিৎসক। বারাসত ব্লক ১ এর অন্তর্গত ছোট জাগুলিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তিনি কর্মরত ছিলেন। কোশিক বাবুর সাথে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর ২০২০ সাল থেকে ব্যারাকপুরেই থাকতো। মধ্যরাতে প্রজ্ঞাদিপার মায়ের কাছে ফোন আসে মেয়ে সেনা হাসপাতালে রয়েছে।সূত্রের খবর, শরীরে এবং মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রজ্ঞা দীপা যেখানে থাকতো, সেখানে সিলিং ফ্যানের সাথে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। দেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে রিপোর্ট এলেই পরিস্কার হবে। মা ঝর্ণা দেবী গোটা ঘটনাটি ব্যারাকপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের তদন্তকারী পুলিশ কৌশিক সর্বাধিকারী কে গ্রেফতার করেছে। আজ তাকে বারাকপুর আদালতে তোলা হয়েছে দশদিনের পুলিশ হেফাজত চেয়ে।
পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমার শেষ দিনেও অশান্তি চরমে। গুলিতে প্রাণ ঝরল। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় গুলিতে মৃত্যু হয়েছে এক সিপিএম প্রার্থীর। বৃহস্পতিবার মিছিল করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাচ্ছিলেন বাম ও কংগ্রেসের প্রার্থী ও কর্মীরা। জানা গিয়েছে, বিডিও অফিসে ঢোকার বেশ কিছুটা আগেই মিছিল লক্ষ্য করে গুলি চলে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাম ও কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন প্রার্থী ও কর্মী। তাঁদের মধ্যেই এক সিপিএম প্রার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে গুলিচালনার অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও কোনও মন্তব্য করেনি।গত কয়েক দিন ধরেই মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছে ভাঙড়, ক্যানিং। বোমার ফুলঝুড়ি দেখেছে রাজ্যবাসী। চোপড়াতেও আশঙ্কা ছিলই। এদিন পঞ্চায়েত ভোটের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এদিন একসঙ্গে মিছিল করে চোপড়া বিডিও অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন বাম ও কংগ্রেসের প্রার্থী এবং কর্মীরা। রাস্তা দিয়ে বেশ কিছুটা যাওয়ার পর বিডিও অফিসের বেশ কিছুটা আগে ঘটে যায় ভয়ঙ্কর কাণ্ড। অতর্কিতে ছুটে আসা গুলিতে মৃত্যু হয় একজনের, বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চলেছে। রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কয়েকজন। চিৎকার-চেঁচামেচিতে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। ঘটনার সময় কোনও পুলিশ ছিল না। এই পরিস্থিতিতেও মনোনয়ন জমা দিতে বদ্ধপরিকর বাম-কংগ্রেস।
এদিন সকাল থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না থানার বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির ডাকা বনধ শুরু হয়ে হয়েছে। চলে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ, বিক্ষোভ, অধিকাংশ দোকানপাট এদিন বনধ আছে। অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বনধ সমর্থকদের বচসা বাধে। দোকান খোলা নিয়ে বেশ কিছু বাজারে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিজেপির বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়াকে অপহরণ করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃ্তীরা খুন করেছে বলে অভিযোগ করা হয় গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে। সোমবার রাতে ঘটনার পর থেকে থেকে দফায়-দফায় উত্তেজনা ছড়ায় ময়নায়। রাতভর থানায় বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তারপর মঙ্গলবারও সারা দিন টায়ার জ্বালিয়ে চলে পথ অবরোধ-বিক্ষোভ পূর্ব মেদিনীপুরের নানা স্থানে। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার ময়না এলাকায় বনধের ডাক দেয় বিজেপি।এদিকে সোমবার শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দেন, বুধবার ১২ ঘণ্টার বনধ। পাঁশকুড়া থেকে দিঘা পর্যন্ত ১০০ জায়গায় অবরোধ হবে। ৪ মে ময়নায় প্রতিবাদ মিছিল হবে। নিহতের পরিবারের দায়িত্ব নিচ্ছি। সিবিআই তদন্তের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাব।এদিন ময়না থানা এলাকার বিভিন্ন বাজার এলাকায় বনধের চিত্র দেখা যায়। অন্নপূর্ণা বাজারে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এদিনও দফায় দফায় টায়ার জ্বালিয়ে, রাস্তায় বেঞ্চ পেতে, পাতাকা টাঙিয়ে অবরোধ-বিক্ষোভ করে বিজেপি। বিজেপির দাবি, সোমবার রাতে দলের বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়াকে অপহরণ করে খুন করেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল।
গুলিতে ঝাঁঝরা কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া। পরে অবশ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় শক্তিগড়ে দুনম্বর জাতীয় সড়কের ধারে থাকা ল্যাংচার দোকানের সামনে এই শুট আউটে মৃত্যু হয় রাজু ঝায়ের। সাদা রংয়ের ফরচুনা গাড়িতে ছিলেন রাজু ঝা। নীল রঙের অন্য একটি চারচাকা গাড়িতে চড়ে আসা দুষ্কৃতীরা এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। গুরুতর জখম রাজুর এক সঙ্গীকে উদ্ধার করে বর্ধমানের অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর সন্ধ্যায় এই গুলি চালনার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে জাতীয় সড়কের ধারে থাকা ব্যবসায়ী মহলে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিষ সেন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যান সিংহ সহ অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্তারা। ঘটনাস্থল ব্যারিকেড করে রেখেছে পুলিশ।বর্ধমান শহর থেকে একটু দূরে আমরায় জাতীয় সড়কের দুধারে রয়েছে ল্যাংচার একাধিক দোকান। সন্ধ্যার পর দূরদূরান্তে যাতায়াত করা গাড়ির আরোহীরা ওইসব ল্যাংচার দোকানে দাঁড়িয়ে খাওয়া দাওয়া সারেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতা মুখি রোডে শক্তিগড়ের একটি ল্যাংচা দোকানের সামনে দাঁড়ায় সাদা রংয়ের একটি ফরচুনা গাড়ি। ওই গাড়ির আরোহীরা, গাড়ি থেকে নামতে না নামতেই নীলচে রঙের একটি চারচাকা গাড়ি সেখানে এসে দাঁড়ায়। নীলচে রঙের গাড়ি থেকে কয়েকজন নেমেই দাঁড়িয়ে থাকা ওই ফরচূনা গাড়ির আরোহীদের লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায়। গুলি চালিয়ে নীলচে রঙের গাড়িতে চেপেই দুষ্কৃতীরা দ্রুত কলকাতা মুখি রোড ধরে পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কমপক্ষে ছয় রাউণ্ড গুলি চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। গুলিতে ফরচুনা গাড়ির চালকের পাশের সিটে বসে থাকা একজন আরোহী এবং পেছনের শিটে বসে থাকা রাজু ঝা গুলিবিদ্ধ হন। বরাত জোরে রেহাই পেয়ে যান ফরচুনা গাড়ি চালক। তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা রাজু ঝাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপরজনের হাতে গুলি লাগায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি গ্যাং ওয়ারের ঘটনা হতে পারে। রাজু ঝা কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া হিসেবেই দুর্গাপুরে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন থানায় তার নামে অভিযোগ রয়েছে। সিআইডি ইতিপূর্বে তাকে গ্রেফতার করেছিল। ২০২১ শের বিধানসভা ভোটের আগে রাজু বিজেপিতে যোগ দেয়। বাম আমলে কয়লা পাচারে রাজু ঝায়ের হাতে খড়ি হয়। কয়লা পাচার নিয়ে এখন যে তদন্ত চালাচ্ছে তার স্ক্যানারেও রাজু ঝা ছিল বলে খবর। এমনই এক সময় রাজু ঝাকে কারা খুন করল তা নিয়ে রহস্য দানা বেড়েছে। তদন্ত নেমে পুলিশ শক্তিগড়ের ঘটনাস্থল এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করার পাশাপাশি জাতীয় সড়ক ও সংলগ্ন সড়ক পথ গুলিতে নাকা চেকিং শুরু করেছে। পালসিট টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশ ক্ষতিয়ে দেখা শুরু করেছে। ফরচুনা গাড়িটি বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আব্দুল লতিফের গাড়ি বলে জানা গিয়েছে। এদিন গাড়িটিতে যে চালক ছিল সে আব্দুল লতিফের নিয়োগ করা বলেই সূত্রের খবর। কয়লা মাফিয়া রাজু ঝায়ের সঙ্গে আব্দুল লতিফের ও এনামুলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে খবর মিলেছে। গরু ও কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিবিআই এর ডাক পাওয়ার পর আব্দুল লতিফ গা-ঢাকা দেন।
একই পরিবারের চারজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল দুর্গাপুরে। দুর্গাপুরের কুড়ুলিয়াডাঙার মিলনপল্লি এলাকার এই ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে। রবিবার ভোরে মিলনপল্লির বাসিন্দা অমিত মন্ডলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ঘর থেকে। তার স্ত্রী, ১০ বছরের এক ছেলে ও এক বছরের একটি মেয়ের দেহ ঘরের মধ্যে পড়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে। কিন্তু এলাকাবাসীরা মৃতদেহ উদ্ধার করতে পুলিশকে বাধা দেয়। এলাকাবাসীদের অভিযোগ , অমিত মন্ডল ও তার পরিবারকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু কেন এই অভিযোগ?মৃত অমিত মন্ডলের মাসতুতো বোন সুদীপ্তা ঘোষের অভিযোগ, এই ঘটনার পেছনে মদত রয়েছে মৃত অমিত ওরফে বুবাই মন্ডলের মা বুলারানী মন্ডল ও মামাতো ভাই সুশান্ত নায়েক ওরফে নান্টু। অভিযোগ, মৃত অমিত জানতে পেরে যায় মামার বাড়ির পরিবারের বেশ কিছুজনের ২০১২ সালে টেট পাস না করেও চাকরি হয়েছিল। এমনই কথা অমিত তাঁর বোন সুদীপ্তাকে হোয়াটস এ্যাপ মারফত লিখে জানায়। তারপরই এদিন ভোরে এই ঘটনা ! মৃত অমিত মন্ডল পেশায় একজন জমি ব্যবসায়ী। অন্যদিকে মামাতো ভাই সুশান্ত নায়েক ও প্রশান্ত নায়েকও জমি ব্যবসায়ী বলে ওই হোয়াটস এ্যাপ মেসেজে লিখেছে অমিত। সেখানে অমিত অভিযোগ করেছে, বিভিন্ন সময়ে সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে বে-আইনী ভাবে জমির লেনদেন করে বিপুল সম্পত্তি করেছে। এছাড়াও সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে সুশান্ত নায়েক, এমনই বিষ্ফোরক অভিযোগ এনেছে অমিত, দাবী সুদীপ্তার। ওই মেসেজে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সহ সিবিআই ও পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলপন মৃত অমিত। সুদীপ্তা দেবীর আরও অভিযোগ, অমিতের হাত পেছমোড়া করে বাঁধা রয়েছে ও বাড়ীর সিসিটিভি কালো পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, গতকাল রাতে মা বুলারানী মন্ডল এই বাড়ীতেই ছিলেন। যিনি আবার নিজের ছেলে ও তার পরিবারকে কখনও ভাল চোখে দেখতেন না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।গোটা ঘটনায় পরতে পরতে দানা বেধেছে রহস্য। বিশেষ করে মৃত অমিতের বোনকে করা হোয়াটস এ্যাপ মেসেজ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে কমব্যাট ফোর্স সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছেছে।
পরিত্যক্ত হ্যাচারী চত্বর থেকে উদ্ধার হল অজ্ঞাত পরিচিয় ব্যক্তির পচাগলা দেহ। মৃতদেহের পেটে ও হাতে আঘাতের চিহ্ন আছে বলে দাবী স্থানীয় মানুষজনের। এমনকি দেহের পাশে মদের বোতলও পরে ছিলো বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।বৃহস্পতিবার বিকেলে বর্ধমানের ৫ নম্বর ইছলাবাদ এলাকার একটি পরিত্যক্ত হ্যাচারী থেকে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে দেহটি ১০ থেকে ১৫ দিন আগের। তবে মৃত ব্যক্তির কোনো পরিচয় এখনও পর্যন্ত জানা যায় নি। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিভাবে মৃত্যু? খতিয়ে দেখছে বর্ধমান থানার পুলিশ।
অগ্নিদ্বগ্ধ যুবকের মৃতদেহ ঘিরে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটল বিধাননগর পৌরনিগমের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়ারা সরদার পাড়ায়। দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।ভাঙচুর করা হয় মৃতের শ্বশুরবাড়ি এবং তার স্ত্রীর প্রেমিক সঞ্জীব সরদারের বাড়ি। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। চলে ভাঙচুর। সামাল দিতে ইকো পার্ক থানা এবং বাগুহাটি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী আসে ঘটনাস্থলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। পুলিশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেয় এলাকার বাসিন্দারা।শনিবার বিধানগর পৌরনিগমের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়ারা সরদার পাড়ায় শ্বশুরবাড়ির সামনে থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হয় এক যুবক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় আরজিকর হাসপাতালে। রবিবার রাতে আরজিকর হাসপাতালে যুবকের মৃত্যু হয়। মৃত যুবকের নাম সমীর মুখার্জি। যুবক শ্বশুর বাড়িতেই থাকতো। সমীর মুখার্জির সঙ্গে ১১ বছর আগে হাতিয়ারা সরদার পাড়ার ঝুম্পা মুখার্জির সাথে বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। এরপর ঝুম্পার সঙ্গে সমীরের অশান্তি শুরু হয় সঞ্জীবকে নিয়ে। সঞ্জীব ও ঝুম্পার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক জানার পর প্রায় প্রতিদিনই সমীর আর ঝুম্পার মধ্যে ঝামেলা হতো, এমনটাই জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগ, যুবকের স্ত্রী ঝুম্পা ও তার প্রেমিক সঞ্জীব সরদারের বিরুদ্ধে। পুলিশের বিরুদ্ধেও তাঁরা ক্ষোভ উগরে দেয়।
মেমারি দুনম্বর ব্লকের বিজুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বিজুর গ্রামের বাসিন্দা, বর্তমানে কন্দপপুর গ্রামে ভাড়া থাকতেন সেখানে নিজ কাজে ইলেকট্রিক তার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় এবং মাটিতে পড়ে যান।তড়িঘড়ি বাড়ির লোকেরা এবং স্থানীয় ব্যক্তিরা পাড়ারহাটি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন, কর্তব্যরত চিকিৎসক দেখে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত ব্যক্তির নাম নীলরতন মুখার্জী, বয়স আনুমানিক 40 বছর।আজ আনুমানিক সকাল(৯) নটা নাগাদ এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে পরিবার সূত্রে। মৃত ব্যক্তি নীলরতন মুখার্জি পারহাটি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। মেমারি থানার সাতগেছিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ বডি উদ্ধার করে নিয়ে পোস্টমর্টেমের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠান।
জেলা রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের ২৪ তম ন্যাশনাল রাইস প্রো-টেক এক্সপোর মেলার মাঠেই ক্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। বর্ধমানের কল্পতরু মাঠের ঘটনা। মৃতের নাম ফাল্গুনী চ্যাটার্জী (৩২)। বাড়ি গুসকরায়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,বর্ধমানের কল্পতরু মাঠে ন্যাশনাল রাইস প্রো- টেক এক্সপো ২০২২ মেলা শেষ হয়েছে গতকালই, আজ সকাল থেকেই মেলায় আসা বিভিন্ন টেক কোম্পানি তাঁদের স্টল খালি করছিলেন। তাঁদের বিভিন্ন ভারি মালপত্র ক্রেনের সাহায্যে গাড়িতে লোড এর কাজ চলছিল সেই সময় মাঠে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলেন মেলাতে কৃষিজ যন্ত্রাংশ তৈরী সংস্থার কর্মচারী ফাল্গুনি চ্যাটার্জী। সেই সময় ক্রেনটি তাকে ধাক্কা মারে ঘটনাস্থলেই ক্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। পুলিশ দেহটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে বর্ধমান হাসপাতালে।ফাল্গুনী চ্যাটার্জী-র দূর্ঘটনার প্রতক্ষদর্শী তার বন্ধু বিকাশ পট্টনায়েক অভিযোগ করেন, হাইড্রার ড্রাইভারের অন্যমনস্কতার জন্যই এই দূর্ঘটনা। তিনি জানান ফাল্গুনী কর ব্রাদার্স নামে এক ইলেকট্রিক কোম্পানিতে কাজ করতেন।
সেলফি তুলতে ঝলসে গেল যুবক। শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া ওই যুবককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বীরভূমে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির ছাদের ওপর চেপে সেলফি তুলছিল যুবক টুয়েল খান(১৯)।মঙ্গলবার দুপুরে বীরভূমের রাজগ্রাম স্টেশনে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই স্টেশনের ৩ নম্বর প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল একটি মালগাড়ি। সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনেও ওই দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির ওপর চাপে টুয়েল। সেলফি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে নীচে ছিটকে পড়ে যায় সে। তাঁর পোষাক পুড়ে যায়। শরীর ঝলসে গিয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে ওই যুবকের। মারত্মক জখম অবস্থায় তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ওই যুবকের বন্ধু সাম্বু শেখ জানিয়েছে, তাঁরা এদিন দুপুরে দুজনে ওই স্টেশনে বেড়াতে গিয়েছিল। হঠাৎই টুয়েল মালগাড়ির উপরে উঠে সেলফি তুললে শুরু করে। তখনই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে। বিদ্যুতের তার ওর গায়ে লেগে নীচে পড়ে যায় টুয়েল।
হার কাকে বলে? পিছিয়ে যাওয়াকে, সত্যি টা মেনে না নেওয়া কে? বোধহয় তাই।কিন্তু ও তো পিছিয়ে যায়নি। বার বার সামনে এসে হাসি মুখে দেখিয়ে গেছে, দেখিয়েছে ওর এগিয়ে যাওয়া।ও তো মিথ্যের আশ্রয় নেয় নি। বার বার সবাই কে গলা চিরে চিৎকার করে বলেছে ওর সত্যিটা। বলেছে ও ভালো থাকতে চায় আমাদেরই মত।ক্যামেরার ঝলসানিতে থেমে যায়নি তো ওর পদক্ষেপ, চোখ একবার ও বন্ধ হয়ে যায়নি। একবার ও দুঃখ কে মুখের সামনে আসতে দেয়নি যাতে আমরা ভালোবাসতে ভয় না পাই। শিখিয়ে দিতে চেয়েছে চরৈবেতি মন্ত্র।ও আসলে জিতে গেছে, সবাই কে দেখিয়ে গেছে কষ্ট ,মৃত্যু, কিছুই ভালোবাসার কাছে হার মানে না। ভালোবাসার জোরে ঐন্দ্রিলারা বার বার জন্ম নিতে চায়, বার বার সত্যি কে মেনে নিতে আপস করে না। বার বার ঐন্দ্রিলারা বেঁচে থাকতে চায় সব্যসাচী দের জন্য।
মালদহের গাজলের মৃতের বাড়িতে এসে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। এসসি কমিশনের চেয়ারম্যানের হুসিয়ারী ডিএম এম এসপিকে তলব করা হবে ব্যবস্তা নেওয়া হবে।গাজোলে মৃত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে এলেন জাতীয় এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারপারসন অরুন হালদার। বুধবার রহস্য মৃত্যু হয় গাজরের বহিরগাছি এলাকার বাসিন্দা ধনঞ্জয় সরকারের। এই ঘটনায় বহিরগাছি দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয় বিজেপি কর্মীর পরিবারের তরফে। আজ সকালে ওই বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আসেন জাতীয় এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারপারসন অরুণ হালদার। কথা বলেন পরিবারের সাথে। এরপর গাজল বিডিও অফিসে বিডিও এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সাথে বৈঠক করেন তিনি। যদিও পরিবারের দাবি প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা সিবিআই তদন্তের দাবি করছি।ধনঞ্জয় সরকারের বাড়িতে গিয়ে অরুন হালদার তাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষন কথা বলেন। তাদের অভিযোগের পর কেন এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপর তিনি সেখান থেকে গাজলের বিডিও অফিসে আসেন। সেখানে ডিএম, এসপি-কে তলব করলেও তাঁরা আসেন নি। তিনি বলেন, তাঁরা না আসায় চরম অপমানিত হয়েছি। আমাকে বিডিও সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তাঁরা কেন পরিবারের সাথে কথা বলেনি সোজন্য সাক্ষাৎ করেছি।এসসি কমিশনের ভাইস ভাইস চেয়ারপারসন অরুণ হালদার সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ওই পরিবার বিচার পাবে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি। কিন্তু মালদায় এসে চূড়ান্ত অসৌজন্যমূলক ব্যবহার পেলাম। ডিএম এসপি দেখা পর্যন্ত করতে আসলেন না। ডিএম এসপিকে তলব করব। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি সেদিন পরিষ্কার ভাষায় বলেন, রাজনীতি করতে আমি এখানে আসিনি।
গুজরাটে ব্রিজ ভেঙে মৃত পূর্বস্থলীর যুবকের নিথর দেহ ফিরল মঙ্গলবার ২টা ৩০ মিনিট নাগাদ মৃত ওই যুবকের কেশববাটি বাড়িতে। মৃত দেহ বাড়িতে ফিরতে কান্নার রোল পড়ে যায় গোটা গ্রাম জুড়ে। উল্লেখ্য কেশববাটির গ্রামের ওই যুবক গুজরাটে কাকার কাছে সোনার কাজ শিখতে গিয়েছিলো। গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ গুজরাটের সেও ব্রিজের ওপর আর পাঁচজনের সাথে সেও উঠেছিল, আচমকাই ব্রিজ ভেঙে জলে পড়তেই ঘটে বিপত্তি, সোমবার গভীর রাতে পূর্বস্থলীর কেশববাটী গ্রামের বাড়িতে খবর পৌঁছায় মারা গেছে হাবিবুল সেখ নামের বছর সতেরোর ওই যুবক। এরপরই এ দিন মঙ্গলবার রাত ২টা ৩০ নাগাদ তাঁর নিথর দেহ গুজরাট থেকে ফেরে পূর্বস্থলীর কেশববাটির বাড়িতে। ওই রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, পূর্বস্থলী ২ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি বদরুল আলম মণ্ডল সহ বিশিষ্টজনেরা। মন্ত্রী স্বপনবাবু এদিন বলেন গুজরাট মডেল চোখের সামনেই দেখাই যাচ্ছে,নবান্ন থেকে হোম সেক্রেটারি এবং জেলাশাসকের ফোনের পরই তাঁর বাড়িতে হাজির হয়েছি, পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছি, মৃত ওই যুবকের মায়ের হার্টের অসুখ রয়েছে তার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে কিনা সেটিও আমরা দেখছি। রাজ্য সরকার সর্বতোভাবে এই পরিবারের পাশে রয়েছে।
গুজরাটে ব্রিজ ভেঙে মৃত পূর্বস্থলী দু নম্বর ব্লকের মুকসিমপাড়া পঞ্চায়েত কেশববাটি এলাকার এক কিশোর। রবিবার গভীর রাতে সেই খবর পূর্বস্থলীর কেশববাটির বাড়িতে পৌঁছাতে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ দিন সোমবার সকাল থেকেই মৃত ওই যুবকের বাড়ির সামনে বহু লোক ভিড় করেন। মৃত ঐ কিশোরের নাম হাবিবুল শেখ। মাস দশেক আগে তার এক কাকার কাছে সে সোনার গহনার কাজের জন্য গিয়েছিল।গতকাল বিকালে সে ওই ব্রিজের উপর বেড়াতে যাওয়ার জন্য যায়। তখনই ঘটে বিপত্তি। বেশ কিছুক্ষণ নিখোঁজ থাকার পর গতকাল রাতেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এ দিন সোমবার সকালে মৃতের বাবা মহিবুল শেখ জানান ছেলে সোনার কাজের জন্য গিয়েছিল। সেখানেই থাকত, গতকাল গভীর রাতে এই মর্মান্তিক খবর পাই, ঘটনার পর এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া।
বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু হল এক কৃষকের। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে বর্ধমানের জামালপুরে। জামালপুর থানার কানঘোষা গ্রামে শুক্রবার এক সরোজ মালিক (৩৩) নামে এক ব্যক্তি চাষের জমিতে যাওয়ার পথে বিদ্যুতের ছেঁড়া তাঁরে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যান বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। মৃতদেহ বাড়ির সামনে রেখে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় এলাকার মানুষজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় জামালপুর থানার পুলিশ। তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।স্থানীয়দের অভিযোগ একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো স্বত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এলাকাবাসী জানায়, এর আগে তড়িদাহত হয়ে গবাদি পশু মারা গেছে বেশ কিছু দিন আগে। তারপরেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলে।
একটি শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যু হল পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের তুলসী ডাঙ্গাপাড়ায়। মৃতের নাম ভাস্কর পাল (৯)। সতুলসী ডাঙ্গাপাড়ার বাসিন্দা ভাস্কর পাল বৃহস্পতিবার ভাইফোঁটা নেওয়ার পর বাড়ির আশেপাশে খেলার করছিল। খেলা করতে করতে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যায়। মুখ দিয়ে লালা বের হতে পরিবারের লোকদের সন্দেহ হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ভাতার গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের সন্দেহ বিষধর সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ভাতার থানায় নিয়ে যায়। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহটি শুক্রবার ময়না তদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার জেরে শোকোস্তব্ধ গোটা এলাকা।
শখ করে ছোট নৌকায় দিঘির মাঝে ঘুরতে চলে যান যুবক। কিন্তু দিঘির মাঝখানে হাত থেকে হালটি ফস্কে যায়। সেটি জলে নেমে তুলতে গিয়ে দিঘির জলে তলিয়ে গেলেন পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের আলেফনগর গ্রামের বরকত আলি মল্লিক(৩১) নামে এক যুবক। সোমবার দুপুরের দুর্ঘটনাটি ঘটে। এখনও ওই যুবকের হদিশ মেলেনি। খবর দেওয়া হয়েছে ডুবুরির দলকে।জানা যায় পেশায় রাজমিস্ত্রি বরকত আলি মল্লিক কেরলে থাকতেন।পাঁচদিন আগে বাড়ি আসেন। গ্রামের পাশে দিঘির পাড়ে ঘাস কাটতে গিয়ে দিঘিতে থাকা ছোট নৌকাটি নিয়ে জলে নেমে পড়েন।দিঘিতে মাছচাষ করেন যিনি তিনি ওই নৌকাটি করে মাছের খাবার ছড়ান। তার নজর এড়িয়ে নৌকা নিয়ে দিঘির মাঝে চলে যান ওই যুবক।এরপর গ্রামের লোকজন খবর পান। যুবকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
বর্ধমান শহরের বেড়মোড়ে বালি বোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল এক স্কুল ছাত্রের। দুর্ঘনায় জখম হয় ছাত্রের বাবা।পূর্ব-বর্ধমানের খণ্ডঘোষের কেশবপুর থেকে বাবার সঙ্গে মোটরবাইকে করে বর্ধমানের গোলাহাটে যাওয়ার পথে বেড়মোড় এলাকায় একটি বালি বোঝাই ট্রাক্টর বাইকটিকে ধাক্কা মারলে মন্তাসীর সেখ (১১) রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। জখম বাবা আজমগীর সেখ ও বর্ধমান মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।মন্তাসীর সেখ বর্ধমানের দেওয়ানদীঘি এলাকায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল-র চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। পুলিশ ঘাতক ট্রাক্টরটি ও চালককে আটক করেছে।