• ১১ আশ্বিন ১৪৩৩, বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bardhaman

রাজ্য

মন্ত্রীর ধমকানির তোয়াক্কা না করে কালনা পুরসভায় চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোটাভুটি, তবু হল না বোর্ড গঠন

রাজ্যের মন্ত্রীর সামনেই তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন পুর ভোটে নির্বাচিত তৃণমূলেরই কাউন্সিলাররা। আর তার কারণেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের কালনা পুরসভার চেয়ারম্যান হতে পারলেন না দলের মনোনিত কাউন্সিলার আনন্দ দত্ত। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ রুখে দাঁড়িয়েও বাগে আনতে পারেননি দলের বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের। ভোটাভুটিতে ১৭ জন কাউন্সিলারের মধ্যে দলের বিক্ষুব্ধ ১২ জন কাউন্সিলার আনন্দ দত্তকে হারিয়ে দিয়ে তপন পোড়েলকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। যদিও পরে কালনার বোর্ড গঠন প্রক্রিয়াই বাতিল করে দেওয়া হয়।এইসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বিবাদে সরাটা দিন উত্তপ্ত হয়ে থাকে কালনা পুরসভা অফিস চত্ত্বর। একইরকম ভাবে এদিন ক্ষোভের আঁচ ছড়ায় বর্ধমান পুরসভাতেও। ক্ষোভে শপথ গ্রহণেই অংশ নিলেন না দলের কাউন্সিলার অরুপ দাস।পুরভোটের পর পুরসভার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হওয়া নিয়ে তৃণমূলের এমন নজিরবিহীন। গোষ্ঠীদ্বন্দ প্রকাশ্যে চলে আসায় উৎফুল্ল বিরোধী শিবির।কালনা পুরসভা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানরাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের নিজের গড় হিসাবেই পরিচিত কালনা পুরসভা। সেখানকার একটা বড় অংশের দলীয় কাউন্সিলার দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় বেজায় চটেছেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। এদিন তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কালনা পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচনে যাঁরা দলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় ভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের সাসপেন্ড করা হবে বলেও স্বপনবাবু এদিন জানিয়ে দিয়েছেন। রাজ্যের পুর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এদিন কলকাতায় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই ঘটনা নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি যে যে পুরসভায় দলের মনোনীত কাউন্সিলারকে চেয়ারম্যান হতে না দিয়ে অন্যকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে সেই সব পুরসভায় অনাস্থা আনা হবে। শেষ পর্যন্ত দল কালনা পুরসভার বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্বের তরফে মঙ্গলবার বর্ধমান ও কালনা পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের নাম জানিয়ে দেওয়া হয়। বর্ধমান পৌরসভার চেয়ারম্যান করা হয় পরেশ চন্দ্র সরকারকে। আর ভাইস চেয়ারম্যান করা হয় মৌসুমি দাসকে। অন্যদিকে দল কলনা পুরসভায় আনন্দ দত্তকে চেয়ারম্যান ও তপন পোড়েলকে। ভাইস চেয়ারম্যান মনোনিত করে। এই দুই পুরসভার নব নির্বাচিত কাউন্সিলারদের এদিন ছিল শপথ গ্রহন। কালনা পুরসভার কাউন্সিলারদের জন্য কালনার একটি হলে শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তৃণমূলের ১৭ জন কাউন্সিলার ও একজন বাম কাউন্সিলার সেখানে উপস্থিত হন। তবে শপথ গ্রহণের আগে থেকেই সেখানে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়ায়। এক পক্ষ দলের মনোনিত কাউন্সিলারকে চেয়ারম্যান মনোনীত করার দাবি তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। অপর পক্ষ দলের ঘোষিত চেয়ারম্যানের বিরোধিতায় সোচ্চার হয়। এই খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌছান রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি তথা কলনা পুরসভা ভেটে দলীয় পর্যবেক্ষক ও বিধায়ক অলোক মাঝি।কালনা পুরসভা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিক্ষোভঅনেক বুঝিয়েও এই দুই তৃণমূল নেতার কেউ-ই বিক্ষুব্ধদের বাগে আনতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হলের বাইরে দলের কর্মীদের নিয়ে ধর্ণায় বসে পড়েন কালনা পুরসভা ভোটের তৃণমূল পর্যবেক্ষ অলোক মাঝি । সময় গড়ানোর সাথে সাথে উত্তেজনা আরও চরমে ওঠে। কালনার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে উত্তেজনা সামাল দেয়। এরই মধ্যে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের সঙ্গে ব্যাপক বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে যায় কালনা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলার অনিল বসুর। বাকবিতণ্ডা চলার সময়েই তিনি আবার স্বপন দেবনাথের সামনেই ওই হলের দোতলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ মারাতে উদ্যত হন । মন্ত্রীর চরম বিরোধীতা সত্ত্বেও শপথ গ্রহনের পর বিক্ষুব্ধ ১২ জন কাউন্সিলার চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোটাভুটির দাবি তোলেন। ভোটা ভুটিতে তাঁরা দলের মনোনিত চেয়ারম্যান আনন্দ দত্তকে হারিয়ে দিয়ে তপন পোড়েলকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন।তবে বিক্ষুব্ধদের দলের সিদ্ধান্তকে এই ভাবে চ্যালেঞ্জ ছোড়াটা বরদাস্ত করেননি তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষ তথা মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস এদিন সন্ধ্যায় জানিয়ে দেন, বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া তপন পোড়েলকে কালনা শহর সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। একই সঙ্গে তাঁকে দল থেকেও বহিস্কার করা হল বলে অরুপ বিশ্বাস জানিয়ে দেন।এদিন বর্ধমান পৌরসভার কাউন্সিলারদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও ক্ষোভ বিক্ষোভের আঁচ প্রকাশ্যে চলে আসে। ভেটে জিতে কাউন্সিলার হয়েও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির হননি অরুপ বিশ্বাস ও বসির আহমেদ (বাদশা)। একটি ফৌজদারি মামলায় জামিন না পাওয়ার জন্য বসির আহমেদ শপথ নিতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। তবে বর্ধমান শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা নব নির্বাচিত কাউন্সিলার অরূপ দাস চেয়ারম্যান হতে না পারার ক্ষেভে এদিন শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে হননি বলে খবর। মঙ্গলবারই অরূপ দাস সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েদেন, দলের সিদ্ধান্তে তিনি অপমানিত হয়েছেন। তাই তিনি শহর তৃণমূল সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নেবেন। কাউন্সিলার পদ থেকে অব্যাহতি নিতে পারেন। যদিও দলীয় নেতৃত্ব অরুপ দাসের এই সব বক্তব্যকে কোন আমল দিতে চাননি।

মার্চ ১৬, ২০২২
রাজ্য

মিড ডে মিলের চাল ওজনে কম সরবরাহ নিয়ে বিডিওকে অভিযোগ শিক্ষকদের, শোরগোল পূর্ব বর্ধমানে

এতদিন স্কুলের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে আসছিলেন অভিভাবকরা। এবার ঘটলো এর ঠিক উল্টোটাই। প্রাইমারি স্কুলে মিড ডে মিলের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে সোচ্চার হলেন খোদ শিক্ষকরাই। বৃহস্পতিবার এমন নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে। মিড ডে মিলের চাল কম দেওয়া নিয়ে এদিন সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে ভাতারের বিডিওর কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এমন ঘটনা শেরগোল ফেলে দিয়েছে ভাতারের প্রশাসনিক মহল ও স্কুল পড়ুয়াদের অভিভাবক মহলে।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মিড ডে মিলের চাল কম দেওয়া হচ্ছে বলে এদিন অভিযোগ তোলেন ভাতারের বরগুনা ও ভাতার অঞ্চলের বেশকিছু প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। বিডিওকে লিখিত অভিযোগে তাঁরা জানিয়েছেন, ভাতার সমবায় সমিতি থেকে প্রাথমিক স্কুল গুলি মিড ডে মিলের চাল আসে। প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি করে চাল থাকার কথা। কিন্তু সরবরাহকারী সংস্থা মিড ডে মিলের চালের যে সব বস্তা স্কুলে দিয়ে গেছে তাতে ৪ থেকে ১০ কেজি কম চাল কম রয়েছে এদিন পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের জন্য চাল দিতে গিয়ে বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে বলে শিক্ষকা অভিযোগ করেছেন। তার পরেই তাঁরা মিড ডে মিলের চাল স্কুলে কম দেওয়ার বিষয়টি বিডিওর গোচরে আনার সিদ্ধান্ত নেন। দুপুরে বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে শিক্ষকরা ঘটনার তদন্ত করে সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আর্জি জানান।ভাতার ব্লকে ৮৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ওই সব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, বেশ কয়েকমাস যাবৎ সরবরাহকারী সংস্থা কম ওজনের মিড ডে মিলের চালের বস্তা স্কুলে স্কুলে সরবরাহ করেছে। প্রথমে বিষয়টি সবাই বুঝে উঠতে পারেন নি। অতিমারির প্রভাব কমে যাওয়ায় স্কুল পুরোপুরি চালু হতেই বস্তায় চাল কম থাকার বিষয়টি সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে পরিস্কার হয়ে যায়। বলগোনা দক্ষিণপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক উজ্জ্বল নন্দী ও প্রতাপ দত্ত বলেন, আমরা চাই ব্লক প্রশাসন এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে চাল সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা নিক। নয়তো মিড ডে মিলের চাল কম হওয়ার জন্য অভিভাবকরা শিক্ষকদের ভুল বুঝবেন।বিডিও অরুণ কুমার বিশ্বাস জনিয়েছেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাতার সমবায় সমিতির তরফে কেউ-ই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে কোন প্রতিক্রিয়া দিতে অস্বীকার করেন।

মার্চ ১৫, ২০২২
রাজ্য

স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে নজিরবিহীন জালিয়াতি বর্ধমানে, গ্রেফতার জালিয়াত শাশুড়ি ও জামাই

সাধারণ মানুষ নিখরচায় যাতে চিকিৎসা পরিষেবা পান তার জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেই চলেছে। এবার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা ঘটলো পূর্ব বর্ধমানে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা পরিবারের কারও অসুস্থ হয়ে পড়া বা অস্ত্রপচারের ঘটনা না ঘটলেও তাঁদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে মোটা টাকা।এমনই জালিয়াতি চক্রের পাণ্ডা সালেহার বিবি ও তাঁর সহযোগী মুন্সি নূর আলমকে সোমবার গ্রেফতার করেছে কাটোয়া থানার পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে নিয়েই পুলিশ এদিন বিকালে শহর বর্ধমানের খোসবাগানের একটি বেসরকারী নার্সিংহোমে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে সেখান থেকেই উদ্ধার হয় বেশ কিছু উপভোক্তার নামে থাকা স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড। এই ঘটনা জেলা প্রশাসনিক মহলেও শোরগোল ফেলে দিয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত সালেহার বিবির বাড়ি কাটোয়া ১ ব্লকের আলমপুর পঞ্চায়েতের গাঁফুলিয়া গ্রামে। আপর ধৃত মুন্সি নূর আলম সম্পর্কে সালেহারের জামাই। পুলিশ বর্ধমানের ওই নার্সিংহোম থেকে নূর আলমকে এদিন গ্রেফতার করে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীন) ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, গাঁফুলিয়া গ্রামের বেশ কিছু গরিব পরিবারের মহিলার কাছ থেকে তাঁদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড সালেহার নিজের কাছে নিয়ে রাখেন। পরে সালেহার ও তাঁর সহযোগী মিলে জালিয়াতি করে ওইসব মহিলাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে অনুদানের মোটা টাকা তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। পুলিশ তদন্তে নামার পর অভিযোগের সত্যতা ধরা পড়লে সালেহার বিবিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় এই জালিয়াতি কাণ্ডে জড়িত সালেহারের জামাইকেও। জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন জানিয়েছেন, এটা বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা। এর তথ্য প্রমাণ আসার পর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড়া হবে না।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাঁফুলিয়া গ্রামে থাকা সালেহার বিবির বাড়ি এদিন ঘেরাও করেন এলাকার বেশ কিছু বাসিন্দা । তা নিয়ে উত্তেজনা চরমে ওঠে। খবর পেয়ে কাটোয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। সেখানে থাকা বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে জানায়,গত দেড়মাস ধরে সালেহার বিবি এলাকার মহিলা ও পুরুষের বলে চলেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড তাঁকে জমা দিয়ে বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে গিয়ে চেকআপ করালেই মিলবে ১০ হাজার টাকা। ১০ হাজার টাকার লোভে পড়ে গাঁফুলিয়ার বেশকিছু মহিলা তাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড সালেহারকে জমা দেন। মেনকা বিবি নামে এক গ্রামবাসী বলেন, সালেহার বিবি বলেছিলেন তাঁর জামাই বর্ধমানের খোসবাগানের একটি নার্সিংহোমে কাজ করে। সেখানে একবার গেলেই হবে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে ১২ হাজার উঠবে। তা থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে যাঁর নামে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড তাঁকে।এই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধেই অভিযোগসালেহারের কথা মতো মেনকা বিবি সপ্তাহ দুয়েক আগে বর্ধমানের ওই নার্সিংহোমে যান। পরে মেনকা বিবি জানতে পারেন তার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে ৬১,৬০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে রিজিয়া বিবি নামে এলাকার অপর মহিলা জানতে পারেন তাঁর স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে ৭৫,৬০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি মেনকা বিবি ও রিজিয়া স্থানীয় পঞ্চায়েতে গিয়ে জানান। পঞ্চায়েতের এক কর্মী ওই দুই মহিলার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা করে তিনিও নিশ্চিত হন সত্যি সত্যি ওই মহিলাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে মোটা অঙ্কের সরকারি অনুদানের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত কর্মী এমনটা জানিয়ে দেওয়ার পর এদিন এলাকার লোকজন টাকা ফেরতের দাবিতে সালেহার বিবির বাড়িতে চড়াও হন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ১০ হাজার টাকার টোপ দিয়ে সালেহার বিবি ও তাঁর জামাই নূর আলম ৩৫ - ৪০ জনের কাছ থেকে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা জালিয়াতি করেছে।জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা বলেন, আমরাও প্রশাসনিক ভাবে এই ঘটনা বিষয়ে তদন্ত করবো। অন্যদিকে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) প্রণব রায় বলেন ,ঘটনার কথা শুনেছি। এই বিষয়ে সবিস্তার খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

মার্চ ১৪, ২০২২
রাজ্য

স্বামীর নিদান মানেনি, স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তানকে হত্যার অভিযোগ

গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে নিদান দিয়েছিল স্বামী। সেই নিদান স্ত্রী না মানায় পেটে লাথি পেরে তাঁর গর্ভে থাকা সন্তানকে হত্যা করার অভিযোগ উঠলো স্বামীর বিরুদ্ধে। পৈশাচিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনার ধর্মডাঙ্গা মোড় এলাকায়। যে ঘটনার কথা জেনে স্তম্ভিত বধূর পরিজন ও প্রতিবেশীরাও। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বধূ চায়না বিবি। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবার পরেই রবিবার রাতে তিনি কালনা থানার দ্বারস্থ হন। গর্ভের সন্তানকে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা কারার জন্য তিনি তাঁর স্বামীকামালউদ্দিন মন্ডল সহ শ্বশুর বাড়ির আরও দুই সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।ইতিমধ্যেই গা ঢাকা দিয়েছে বধূর স্বামী সহ অপর অভিযুক্তরা।পুলিশ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে হুগলীর বলাগড় থানার আইদা গ্রাম নিবাসী তরুণী চায়নার সঙ্গে বিয়ে হয় কালনার ধর্মডাঙ্গার যুবক কামালউদ্দিন মণ্ডলের। বধূ চায়না বিবি অভিযোগে জানিয়েছেন,বিয়ের পরেই তাঁর স্বামী তাঁকে এক আশ্চর্য ফতোয়ার কথা জানিয়ে দেন। চায়না জানান, তাঁর স্বামীর ফতোয়া ছিল স্বামীর সাথে সংসার করলেও নেওয়া যাবে না সন্তান। কিন্তু স্বামী সহবাস করা বন্ধ না করায় বিয়ের পর ছয় মাসের মধ্যে চায়না বিবি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। আর তাতেই চটে যান কামালউদ্দিন। গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করে দিতে হবে বলে তিনি তাঁর স্ত্রী চায়না বিবিকে নিদান দেন। চায়না বিবি এমন নিদান না মানায় স্বামী কামালউদ্দিন সহ শ্বশুর বাড়ির অন্য দুই সদস্য তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো শুরু করেদেন।নির্যাতন বাড়লেও চায়না তাঁর গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করতে চাননি। তার কারণে কামালউদ্দিন গত ৮ মার্চ তাঁর স্ত্রী চায়না বিবির পেটে সজোরে লাথি মেরে তাঁর গর্ভে থাকা ৪ মাসের সন্তানকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ ।স্বামীর এমন নির্মম অত্যাচারের জেরে চায়নার পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হওয়ার পাশাপাশি রক্তক্ষরণও শুরু হয়।চায়না জ্ঞান হারিয়ে শ্বশুর বাড়ির ঘরে লুটিয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এরপর কামালউদ্দিন ও তাঁর বাড়ির অন্য সদস্যরা বধূ চায়না বিবিকে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েই পালিয়ে যান। এই খবর পেয়ে বধূর বাবার বাড়ির লোকজন দ্রুত কালনা হাসপাতাল ছুটে আসেন।বধূর ভাই শেখ বাপি বলেন ,হাসপাতালের চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা চালিয়ে আমার বোনের গর্ভে থাকা মৃত চার মাসের সন্তানকে গর্ভ থেকে বেরকরে দিয়ে বোনকে কোনভাবে প্রণে বাঁচান। চায়না বিবি জানান, স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের এমন নিষ্ঠুরতা তিনি মেনে নিতে পরেননি। তাই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবার পরেই রবিবার রাতে তিনি থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবীও করেছেন চায়না বিবি। পুলিশ জানিয়েছে,অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের সন্ধান চালানো হচ্ছে।

মার্চ ১৪, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানের তৃণমূল সমর্থক কলেজ ছাত্রী তুহিনার মৃত‍্যুর ঘটনার ১১ দিন পরে তদন্তে এল ফরেন্সিক দল

পুর ভোটের ফল প্রকাশের দিন তৃণমূল সমর্থক কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সদ্য জয়ী তৃণমূল কাউন্সিলার ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। বর্ধমান পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ নতুনপল্লী এলাকার কলেজ ছাত্রী তুহিনা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনার পর পেরিয়ে গিয়েছে ১১ টা দিন। এতদিন বাদ রবিবার তুহিনা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে বর্ধমানে এল দুই সদস্যের ফরেন্সিক দল। যার নেতৃত্বে ছিলেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ চিত্রাক্ষ সরকার।পুলিশের ডিএসপি অতনু ঘোষালের সঙ্গে ফরেন্সিক দলের সদস্যরা এদিন তুহিনা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। পাশাপাশি বেশ কিছু নমুনাও সংগ্রহ করেন। তুহিনা খাতুনের ব্যবহৃত একটি ডায়েরিও এদিন সংগ্রহ করে নিয়ে যায় ফরেন্সিক টিম। তদন্তের বিষয়ে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা এদিন সংবাদ মাধ্যমকে যদিও কিছু বলতে চাননি।তৃণমূল সমর্থক পরিবারের সদস্য তুহিনার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তাঁর দিদি সদ্য জয়ী ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সেখ বশির আহমেদ ও তাঁর ১৪ জন অনুগামীর বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ দুদফায় চারজনকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত কাউন্সিলার এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ মৃতার পরিবার। বশির আহমেদ ঘটনার দায় অস্বীকার করলেও মৃতার পরিবার বশিরের গ্রেফতারের দাবিতে এখনও সোচ্চার রয়েছে।এদিকের তুহিনা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনা আনিস কাণ্ডের মতোই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। চলতি মাসের সাত তারিখ বর্ধমানে আসেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি তুহিনা বাড়িতে যান। পরিফারের পাশে থাকারও আশ্বাস দিয়ে যান অধীরবাবু। এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই নেতৃত্বও তুহিনার মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে। ষম্প্রতি মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর সদস্যরাও তুহিনার বাড়িতে যান। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। পুর ভোটের প্রাক্কালে তুহিনাদের বাড়ি লাগোয়া একটি দেওয়ালে আঁকা হয় বিভৎস দেওয়াল চিত্র। পুরভোটের ফল প্রকাশের পর তুহিনাদের তিন বোনকে গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে ঝুলে মরতে হবে এমন হুমকি ওই দেওয়াল চিত্রের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এপিডিআর-এর সদস্যরা ওই দেওয়াল চিত্রের ছবি তুলে নিয়ে যান। এখনও এলাকার দেওয়ালে ওই ছবি থাকা নিয়ে বিভিন্ন মহল নিন্দায় সরব হয়েছেন।

মার্চ ১৩, ২০২২
রাজ্য

বিকট শব্দ বর্ধমানে করে উলটে গেলো যাত্রী বোঝাই বাস

প্রবল গতিতে আসা যাত্রীবোঝাই বাস উল্টে গেল রাজ্য সড়কের উপরে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের রায়নার মীরেপোতা বাজার এলাকায়। দুর্ঘটনায় জখম ২০ জন বাসযাত্রী। যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে বাসটি দ্রুতগতিতে থাকা অবস্থায় বিকট শব্দ করে উল্টে যায় স্থানীয় সুত্র জানা গেছে। এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। চলছে উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়েছে পুলিশ। প্রচুর স্থানীয় মানুষজন তারাও উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসাকেন্দ্রে।বারবার দুর্ঘটনার জেরে আতঙ্কিত বর্ধমান আরামবাগ রুটের যাত্রীরা। জানা গেছে, আরামবাগ থেকে বর্ধমান অভিমুখে আসছিলো যাত্রীবোঝাই বাসটি। প্রচন্ড গতিতে বাসটি আসছিলো বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন। হঠাৎ করেই বিকট শব্দ করে রাজ্য সড়কের উপরে উল্টে যায় বাসটি। শুরু হয় চিৎকার চেঁচামেচি। একটি পন্য বোঝাই পিক আপ ভ্যানকেও ধাক্কা মারে বাসটি। চলন্ত অবস্থায় বাসের পাতি ভেঙে এই ভয়াবহ বিপত্তি বলে প্রাথমিক পর্বে জানা গেছে। বর্ধমান আরামবাগ রাস্তায় বন্ধ যানবাহন চলাচল। দ্রুত রাস্তা থেকে উল্টে যাওয়া বাসটিকে সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।

মার্চ ১৩, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে আম আদমি পার্টির পোস্টার, শহরজুড়ে আলোড়ন

দিল্লিতে ক্ষমতাসীন ছিল আম আদমি পার্টি তথা আপ। দলের সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে পাঞ্জাবে ক্ষমতাসীন হয়েছে আপ। বেশ কিছুকাল থেকেই আপ এর পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হচ্ছিল সদস্য হওয়ার জন্য। শহর বর্ধমান রাজনৈতিক সচেতন বলে সকলের ধারণা। সদ্য পৌরসভা নির্বাচনে ৩৫টি ওয়ার্ডেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এরপর শহরের বিভিন্ন জায়গায় আপের পোস্টার পড়লো। তাতে যোগাযোগের জন্য ফোন নাম্বার সহ আপের সুপ্রিমো কেজরিওয়ালের ছবিও রয়েছে। নতুন করে এই পোস্টর রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ছড়িয়েছে।তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র আছে। যেকোনও রাজনৈতিক দল পোস্টার লাগাতে পারে। এতে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব দেখা দেবে না। এখন দেখার আম আদমি পার্টি বা আপ আগামী দিনে শহরে কতটা প্রভাব ফেলে। উল্লেখ্য, মালদা শহরে আপের সদস্যপদ সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে।

মার্চ ১২, ২০২২
রাজ্য

ইণ্ডিয়ান অয়েলের পাইপলাইন বসানোর কাজ বন্ধ করে দিল পূর্ব বর্ধমানের চাষিরা

ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে ইন্ডিয়ান অয়েলের পাইপ লাইন বসানোর কাজ বন্ধ করে দিল চাষিরা।আন্দোলনকারী ওই চাষিরা সকলেই পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের কৈয়র পঞ্চায়েতের গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের আন্দোলনের জেরে এখন থমকে রয়েছে বাঁকুড়া-মসাগ্রাম রেল পথের কৈয়র স্টেশন লাগোয়া লেবেল ক্রশিং এলাকায় মাটির নিচ দিয়ে তেলের পাইপ লাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কর্তারা চাষিদের সঙ্গে বৈঠক করার পরেও উদ্ভুত সমস্যার সমাধানের রাস্তা বের না হওয়ায় বিপাকে পড়ে গিয়েছেন ইন্ডিয়াল অয়েল কর্তৃপক্ষ।প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ কয়েক বছর আগে মাটির তলা দিয়ে তেলের পাইপলাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করে। সেই পাইপ মারফত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বারাবনি থেকে পৌছাবে হলদিয়ায়। সেই কাজের জন্য ২০২০ সালে খণ্ডঘোষ ব্লকের কৈয়ড় ও গোপালপুর মৌজায় জমি চিহ্নিত করে ইণ্ডিয়াল অয়েল কর্তৃপক্ষ। তার পর চাষের জমি দিয়ে তেলের পাইপ লাইন বসানোর কাজও শুরু হয়। তখনকার মত সব কিছু ঠিকঠাক চললেও পরবর্তী সময়ে ক্ষতিপূরণ নিয়ে চাষিদের সঙ্গে ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষের বিরোধ বাধে। যে বিরোধ এখন চরমে পৌছেছে। চাষ জমির মালিকদের আন্দোলনের জেরে এখন বাঁকুড়া-মসাগ্রাম রেল পথের কৈয়র স্টেশন লাগোয়া লেবেল ক্রশিং এলাকায় মাটির নিচ দিয়ে তেলের পাইপ লাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ থমকে রয়েছে।আন্দোলনকারী গোপলপুর এলাকার চাষি এমদাদুল হক মণ্ডল জানান, তেলের পাইপ লাইন চাষের জমির মাটি খুঁড়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ কৈয়ড় ও গোপালপুর মৌজায় শুরু হয়। কিন্তু ওই কাজের জন্য সঠিক কি ক্ষতিপূরণ চাষিদের প্রাপ্য সে সন্মন্ধে চাষিদের পরিস্কার কিছু জানায়নি ইণ্ডিয়াল অয়েল কর্তৃপক্ষ বা তাঁদের অধীনস্ত লোকজন। কোনও ক্ষতিপূরণ বা নগদ টাকা প্রদান কোন কিছু না করেই কাজ শুরু হয় যায়। গভীর ভাবে মাটি খুঁড়ে গোটা চাষ জমি লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে তেলের পাইপ লাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ হলেও জমি চাষের উপযুক্ত করে দেওয়ার কোন ব্যবস্থাও তেল সংস্থার লোকজন করে দেয়নি। এর কারণে ওইসব জমিতে চাষও মার খায়। এলাকার অপর চাষি লাল্টু শেখ জানান, এর পর ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ দিতীয় পর্যায়ে পাইপ লাইন বসানোর কাজ শুরু করলে শুধুমাত্র একটি ফসলের জন্য যৎসামান্য ক্ষতিপূণের ব্যবস্থা করে। একই ভাবে এই কাজের পরেও ইণ্ডায়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ কোন চাষির চাষ জমি-ই পুনরায় চাষের উপযুক্ত করে দেয়নি। তার জন্য আবারও চাষিরা তাঁদের জমিতে চাষ করতে না পারায় চাষ মার খায়। লাল্টু শেখ বলেন, চাষের উপর নির্ভর করেই কৈয়র, গোপালপুর সহ আশপাশ এলাকার মানুষজনের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হয়। ইণ্ডায়ান অয়েল কর্তৃপক্ষের এমন কাজ কারবারের জন্য এলাকার বহু চাষি এখন মহাসংকটে পড়ে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সঠিক ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে চাষিরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত এলাকায় তেলের পাইপ লাইন বসানোর কাজ করতে দিতেও নারাজ চাষিরা।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে চাষিরা এমন অনড় মনোভাব দেখিয়ে চলায় সম্প্রতি ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ ও চাষিদের নিয়ে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়। সেই বৈঠকে ইণ্ডিয়ান অয়েলের(আই ও সি এল) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুব্রত দুবে ,খণ্ডঘোষ ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক ও পুলিশ কর্তারাও উপস্থিত থাকেন। কিন্তু সঠিক ক্ষতিপূরণ মূল্য বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন সিদ্ধান্তে পৌছানো না যাওযায় অচলাবস্থা কাটে না। এই বিষয়ে সুব্রত দুবে যদিও সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু বলতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, বিষয়টি অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ লেবেল দেখছে। তবে ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক ও খণ্ডঘোষের জেলাপরিষদ সদস্য অপার্থিব ইসলাম উদ্ভুত সমস্যার জন্য ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেছেন। এনারা বলেন, চাষিরা নেজ্যক্ষতিপূরণের যে দাবি তুলেছেন সেটা যুক্তি সঙ্গত। ক্ষতিপূরণ মূল্য নির্ধারণ নিয়ে ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ ভুলভাল কাজ করেছে । তার জন্যই সঠিক ক্ষতিপূরণ মূল্য আশলে তা নিয়ে গ্রামবাসিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। এই দ্বন্দ্ব দ্রুত মেটানো না গেলে জুলাই ২০২২ সালের মধ্যে তেলের পাইপ লাইন আদৌ হলদিয়া পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যাবে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন বলে অপার্থিব ইসলাম মন্তব্য করেছে।এরপর ইণ্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ জানুয়ারি মাস নাগাদ খণ্ডঘোষ ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকাতেও শুরু করে। পাইপলাইন বাসানোর জন্য চাষের যে ক্ষতি হবে তার ক্ষতিপূরণ মিলবে বলে চাষিরা ইণ্ডিয়াল অয়েল কর্তৃপক্ষর কাছ থেকে আশ্বাস পায়। সেই কারণে চাষিরা তাঁদের জমির মাটি খুঁড়ে তেলের পাইপ লাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ নিয়ে কোন ওজর আপত্তি তোলেনি।

মার্চ ১০, ২০২২
রাজ্য

রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া মেমারিতে, দিদির পচাগলা মৃতদেহের সঙ্গে পাঁচ দিন কাটালেন বোন

ঠিক যেন কলকাতার রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডেরই পুনরাবৃত্তি। সেই রকমই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে। ঘরের মধ্যে মৃত দিদি সুপ্তিকণা কোলের পচাগলা দেহের সাথেই শুয়ে-বসে পাঁচটা দিন কাটায়ে দিলেন বোন মুক্তিকণা কোলে। সেই ঘর থেকে বৃহস্পতিবার সকালে মাত্রাছাড়া দুর্গন্ধ ছড়ালে এলাকার লোকজন বিষয়টি মেমারি থানায় জানায়। দুপুরে মেমারি থানার পুলিশ শহরের কৃষ্ণ বাজার এলাকায় থাকা মুক্তিকণা কোলেদের বাড়ি থেকে পচা গলা মৃতদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য এদিনই মৃতদেহটি পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। কী কারণে মহিলার মৃত্যু হল তার তদন্ত পুলিশ শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ৫৩ বয়সী সুপ্তিকণা কোলের সঙ্গেই একই বাড়িতে থাকতেন তাঁর ছোট বোন মুক্তিকণা। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মুক্তিকণারা চার বোন ও এক ভাই। কয়েক বছর আগে মেমারি শহরে একটি পথ দুর্ঘটনায় তাঁদের ভাই অসিত কোলে মারা যান। সুপ্তিকণা ও মুক্তিকণা এই দুই বোনই অবিবাহিত ছিলেন। তাঁরা এক সঙ্গে একটি ঘরেই থাকতেন। মেমারি শহর নিবাসী মৃতার আত্মীয় প্রদীপ বসু বলেন, ওরা ওঁদের বাবার ভুল সিদ্ধান্তের জন্যেই সমাজজীবন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছিল। মানসিকভাবেও ওরা বিধ্বস্ত ছিল। খাওয়া-দাওয়াও ঠিকমতো করতো না। দুই বোনের মনের ভিতরেও অনেক ক্ষোভ জমা হয়েছিল। প্রদীপ বাবু দাবি করেন, সম্ভবত অপুষ্টির জন্যেই সুপ্তিকণার মৃত্যু হয়েছে। তারপর দিদির মৃতদেহ কিভাবে সৎকার করবেন তার কিছু বুঝে উঠতে না পেরেই মুক্তিকণা দেহ আগলে পড়েছিল বলেই তাঁরা মনে করছেন। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, এই ঘটনা তাঁদের ২০১৫ সালের জুন মাসে কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের ঘটনাকেই মনে করিয়ে দিয়েছে। মেমারি পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চিরঞ্জীব ঘোষ বলেন, ঘরের দরজায় তালা দিয়ে এ দিন সাতসকালে মুক্তিকণা বাইরে বেরিয়ে পড়ে। ওনাদের বাড়ির ভিতর থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এলাকার লোকজন আমাকে জানায়। বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানান দুপুরে মুক্তিকণা বাড়ি ফিরলে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে। মুক্তিকণা কোলে এদিন বলেন, আমার দিদি মারা গিয়েছে তা আমি বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু কী করবো সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। তাই দিদির দেহের পাশেই শুয়ে-বসে কাটিয়েছি । এলাকার বাসিন্দারা জানান, মুক্তিকণাদের দোতলা বাড়ির প্রতিটি ঘরের জানলা ৩৬৫টি দিনই বন্ধ থাকত। কারও সঙ্গে ওনারা মেলামেশা করতেন না। মাঝে মধ্যে কখনও কখনও জল নিতে নীচে নামতেন। বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগও কেটে দিয়েছিলেন। বছরের পর বছর ধরে মোমবাতির আলো জ্বেলেই দুই বোন থাকতেন। ওনাদের বাবা তাঁর প্রচুর সম্পত্তি সম্পত্তি টাকা পয়সা মেমারিরই একটি আশ্রমে দান করে দেয়েছেন। ছেলে মেয়ের ভবিষ্যৎ কি হবে তা তিনি ভাবেননি। এলাকার সবাই চাইছেন, চিকিৎসার মাধ্যমে মুক্তিকণাকে সুস্থ করে তোলার জন্যে সরকার বা প্রশাসন কিছু একটা করুক।

মার্চ ১০, ২০২২
রাজ্য

অ্যাডমিট কার্ড পেয়েও পূর্ব বর্ধমানে হাজারের বেশী পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পা রাখলো না

করোনা অতিমারির কারণে প্রায় দুবছর বন্ধ ছিল স্কুল। অতিমারির প্রভাব শিথিল হবার পর স্কুল খুললে দেখা যায় অনেক পড়ুয়া আর স্কুলমুখী হচ্ছে না। এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সেই একই চিত্র উঠে এল পূর্ব বর্ধমান জেলায়। অ্যাডমিট কার্ড পেয়েও এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পা-ই রাখলো না জেলার ১০৩১ জন পরীক্ষার্থী। তার মধ্যে রয়েছে মেমারির রসিকলাল স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের ১৪ পরীক্ষার্থী ,বর্ধমানের তেজগঞ্জ হাইস্কুলে ৮ জন পরীক্ষার্থী ও কাটোয়ার একটি স্কুলের ১১ জন পরীক্ষার্থী।মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের এই ভাবে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি হতবাক করেছে জেলার শিক্ষক মহলকেও। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় কেন এত সংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলো তার তথ্য অনুসন্ধান ভীষণ জরুরী বলেই মনে করছেন শিক্ষকরা।জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দফতরের দেওয়া তথা অনুযায়ী এই বছর খাতায় কলমে জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৪৪৯ জন। তার মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ২৪ হাজার ১৩৮ জন ও ছাত্রী সংখ্যা ৩১ হাজার ৩১৫ জন। এই পরিসংখ্যায়ন থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে যে এবছর ছাত্রের তুলনায় ৭ হাজার বেশী ছাত্রীর নাভ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে।সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা।কিন্তু পরীকার প্রথ দিন থেকে ছাত্র ও ছাত্রী মিলিয়ে ১০৩১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পা-ই রাখলো না। পরীক্ষায় না বসার ক্ষেত্রে অবশ্য ছাত্রীর তুলনায় ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছে।শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, করোনা অতিমারির কারণে অনেক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাজ চলে গিয়েছে। অভিভাবকরা রেজগারহীন হয়ে পড়েছেন। সংসার টানতে ওইসব পরিবারের পড়ুয়াদেরও কাজে যেতে হয়েছে। আবার অনেক পড়ুয়া স্কুল বন্ধ থাকায় সংসারের আর্থিক দুরাবস্থা কাটাতে নানা জায়গায় কাজে চলে যায়। অনেক নাবালিকা ছাত্রীর আবার বিয়েও হয়ে গিয়েছে।এছাড়াও অনেকে ভেবে ছিল এই বছরও হয়তো পরীক্ষার পরিবর্তে আভ্যন্তরীণ মূল্যায়ণে পাশ করার সুযোগ মিলবে। কিন্তু তা না হওয়ায় পরীক্ষারফর্ম পূরণের পরে অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্র মুখো হয়নি।এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধীপতি দেবু টুডু বলেন,রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের নানাবিধ সহায়তা পবার ব্যবস্থা করেছে।তার পরেও একাংশ পরীক্ষার্থীর এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় না বসার কি কারণ থাকতে পারে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

মার্চ ১০, ২০২২
রাজ্য

ধারালো ব্লেড দিয়ে মূক ও বধির যুবকের যৌনাঙ্গ কেটে দেওয়ায় অভিযোগে গ্রেফতার নিষ্ঠুর প্রতিবেশী

মুখ টিপে ধরে ধারালো ব্লেড দিয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যুবকের যৌনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হল নিষ্ঠুর প্রতিবেশী। ধৃতের নাম সমীর সাঁতরা। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার গোতান গ্রামে। মাধবডিহি থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে গোতান বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের বাড়ির পিছন থেকে উদ্ধার হয় ব্লেডটি। পুলিল সেটি বাজেয়াপ্ত করেছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ বুধবার ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। বিচারক ধৃতকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।পুলিশ জানিয়েছে, গোতান গ্রামেই বাড়ি মূক ও বধির ওই যুবকের। গত শনিবার বিকেল ৪টে নাগাদ প্রতিবেশী সমীর তাঁকে মোবাইলের লোভ দেখিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর মুখ টিপে ধরে সমীর মূক ও বধির ওই যুবকের পুরুষাঙ্গটি ব্লেড দিয়ে কেটে দেয়। গ্রামের অপর বাসিন্দারা তাঁকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তাঁর পুরুষাঙ্গে বেশ কয়েকটি সেলাই হয়। প্রথমে কে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। সুস্থ হওয়ার পর পরিবারের লোকজনকে সমীরের বাড়ির সামনে নিয়ে গিয়ে মূক ও বধির যুবক আকারে-ইঙ্গিতে জানিয়ে দেয় সে-ই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এরপরই মূক ও বধির যুবকের মা সমীরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

মার্চ ১০, ২০২২
রাজ্য

রাজ্যপালের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকারের আচরণও অত্যন্ত অশোভনীয়, বললেন সুকান্ত

এই রাজ্যের সরকার বিরোধীদের কণ্ঠশ্বরকে হত্যা করতে চাইছে। তাই সাসপেণ্ড করা হয়েছে দুই বিজেপি বিধায়ককে। আমরা তো ভোবেছিলাম বিজেপির সব বিধায়ককেই বরখাস্ত করবে। বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে স্পিকারের দুই বিজেপি বিধায়ককে সাসপেণ্ড করা নিয়ে বুধবার বর্ধমানে এসে এই ভাবেই ক্ষোভ ব্যক্ত করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।এমনকি বর্ধমানের জেলা বিজেপি কার্যালয়ে বসে সুকান্ত বাবু রাজ্য সরকার ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও এদিন তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।তিনি বলেন,শুধু স্পীকার নয়, রাজ্যপালের প্রতি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আচরণও অত্যন্ত অশোভনীয়।রাজ্যপালের তলব পেয়েও বিধানসভার স্পিকারের তাঁর কাছে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও এদিন সরব হন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।সুকান্ত বাবু এই প্রসঙ্গে বলেন, রাজ্যপালের তলব পেয়েও স্পিকারের না যাওয়াটা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত অশোভনীয়। এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।শুধু স্পীকার নয়, রাজ্যপালের প্রতি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আচরণও অত্যন্ত অশোভনীয় বলে অভিযোগ করেন সুকান্ত মজুমদার। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন উনি (মুখ্যমন্ত্রী) বাংলার সংস্কৃতিকে অপমান করছেন।এর আগে পশ্চিমবঙ্গের কোনও মুখ্যমন্ত্রী মহামান্য রাজ্যপালের সাথে এই ধরনের আচরণ করেননি।রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে সুকান্ত মজুমদার এও বলেন, রাজ্য সরকার চলছে কেন্দ্রের টাকায়।অথচ মুখ্যমন্ত্রী বলছেন কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুই মিথ্যা কথা বলেন।জয়প্রকাশ মজুমদার তৃণমূলে যোগদান সম্পর্কে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, আমরা ওনাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলাম। তৃণমূল তাঁকেই সেই পদেই বহাল করেছে। এর থেকেই বোঝা যায় এই রাজ্যে বিজেপির ভাল দম আছে। তাই বিজেপির রিজেক্টেড নেতারাও তৃণমূলে গিয়ে একই পদ পাচ্ছেন। পাশাপাশি সুকান্ত বাবু দাবি করেন, বিজেপি কর্মীরাই বিজেপির সম্পদ। কারণ তাঁরা নরেন্দ্র মোদীকে দেখে দল করেন। বিজেপি বিধায়ক হিরনের বিভীষণ প্রসঙ্গ উত্থাপন সম্পর্কে সুকান্ত বাবু বলেন, আমার সঙ্গে হিরনের কথা হয়েছে। যা বলার ওকে পার্টির ভিতরে বলতে বলেছি। অন্য দল থেকে ভাঙিয়ে দল ভারি করার কথা বিজেপি ভাবছে না বলেও সুকান্ত বাবু এদিন জানান। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন ,কেউ বিজেপি দলে এলে তাঁকে বিজেপির মতাদর্শ মেনে নিয়েই আসতে হবে।

মার্চ ০৯, ২০২২
রাজ্য

নাবালিকা ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করিয়ে তাঁকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে নিয়ে গেল পুলিশ

বিনাপণে বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগের রাতে নাবালিকা মেয়েকে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দিয়েছিল বাবা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার খবর পেয়েই পূর্ব পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশ দ্রুত বেরোয়া গ্রামে পৌছে নাবালিকা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বিয়ে রেখে দেয়। তার কারণে নিরুপায় হয়ে বউ ছাড়াই টোপর হাতে নিয়ে ওই রাতেই নিজের বাড়ি ফিরে যেতে হয় বর বাবাজীবনকে। আর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্বশুরবাড়ি যেতে না হওয়ায় সোমবার মহানন্দেই মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিল ভাতারের মাহাতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী।ছাত্রীটি এদিন জানিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার জন্য সে রবিবার রাতে পড়াশুনা করছিল। পরীক্ষা না দিয়ে ছাদনাতলায় বিয়ের পিঁড়িতে বসার কোনও চিন্তাভাবনা তার মাথাতেই ছিল না। একপ্রকার জোর করেই ওই দিন তাঁকে বিয়ের পিঁড়িতে বসার জন্য বাধ্য করা হচ্ছিল। তবে অবশ্য ভাতার থানার ওসি সৈকত মণ্ডলের জন্য তা আর কেউ করতে পারেনি। তাই এদিন ভালোভাবেই মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষা দিতে পেরেছি বলে ছাত্রী জানিয়েছে। নাবালিকা ওই ছাত্রী আরও জানিয়েছে,পড়াশুনা ছেড়েদিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসার স্বপ্ন সে দেখেনা। লেখাপড়া শিখে নিজেকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করারই তাঁর এখন একমাত্র লক্ষ্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাতারের বেরোয়া গ্রামেরওই ছাত্রীরা দুই বোন। সে ছোট। তাঁর দিদির বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের বাবা জনমজুরির কাজ করেন ৷ মা গৃহবধু। মাহাতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে ছাত্রীটি । তাঁর সিট পড়েছে এরুয়ার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। যে যুবক রবিবার তাঁকে বিয়ে করতে টোপর মাথায় দিয়ে হাজির হয়েছিল তার বাড়ি বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার তালিত গ্রামে। ছাত্রীর মা এদিন বলেন, আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বড় মেয়ের বিয়েতে অনেক ধারদেনা হয়ে গেছে। ছোট মেয়ের বিয়ে নিয়ে চিন্তায় ছিলাম।তালিতের পাত্রটিও খারাপ ছিলনা । তার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর যখন আমাদের ছোট মেয়েকে বিনাপণে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় আমরা রাজি হয়ে যাই । তবুও আমরা অনুরোধ করেছিলাম মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য। কিন্তু পাত্রপক্ষ শর্ত রেখেছিল রবিবার রাতেই বিয়ে দিতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা মাধ্যমিক পরীক্ষার আগের দিন রাতে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ।তবে মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়ার পুলিশ রাতে আমার বাড়িতে পৌছে বিয়ে বন্ধ করিয়ে দেয় । ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দিতে পারবোনা বলে পুলিশের কাছে মুচলেখাও লিখে দিয়েছেন বলে ছাত্রীর অভিভাবকরা জানিয়েছেন। এই ঘটনার কথা জেনে ওই ছাত্রী সহপাঠীরা ভাতার থানার পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানের কলেজ ছাত্রী তুহিনার মৃত্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বেনজির আক্রমন শানালেন অধীর

গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে তিন বোনকে ঝুলে মরতে হবে এমন ছবি পুর ভোটের সময়ে যাঁরা দেওয়ালে এঁকেছিল তাঁরা কি মুখ্যমন্ত্রীর দলেরই লোক? যদি তা হয় তবে সেটা বাংলার লজ্জা। পুর ভোটের ফলপ্রকাশের দিন বর্ধমানের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সমর্থক তরুণী তুহিনা খাতুনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার এই ভাষাতেই তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারকে বিঁধলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী।শহর বর্ধমানে আঁকা ওই দেওয়াল চিত্র নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অধীরবাবু এও বলেন, আপনার বাড়ির সামনে দেওয়ালে ছবি এঁকে দিয়ে কেউ যদি বলে, আপনার গলায় দড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। তাহলে আপনি কি সেটা মানবেন? এদিন মৃত তুহিনা খাতুনের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে এসে অধীর চৌধুরি এলাকায় আঁকা ওই দেওয়াল চিত্র চাক্ষুষ করে স্তম্ভিত হয়ে যান। পরে তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘু পরিবারের উপর এমন অত্যাচার কার্যত নজিরবিহীন। যে অত্যাচারের হাত থেকে হাওড়ার আমতার আনিস খান রেহাই পায়নি। বর্ধমানের তুহিনা খাতুনও পেল না। যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা সেখানে এমন ঘটনা খুবই লজ্জার। এই ঘটনা নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জানিয়ে দেন।বর্ধমান পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগের নতুনপল্লী এলাকায় বাড়ি তুহিনা খাতুনের (১৮)। ২ মার্চ পুর ভোটের ফল ঘোষণার পর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ওই তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। সে বর্ধমান রাজ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। বোনের মৃত্যুর জন্য ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত তৃণমূল কাউন্সিার কাউন্সিলর বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের দায়ী করে বর্ধমান থানার অভিযোগ দায়ের করেন দিদি কুহেলী বিবি। অভিযোগের পরিপেক্ষিতে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত কাউন্সিলর বসির আহমেদ এখনও বহাল তবিয়তেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। তা নিয়ে অধীর চৌধুরীর কাছে ক্ষোভ উগরে দেন মৃতার পরিবার। এই প্রসঙ্গে অধীরবাবু বলেন, বাংলায় এখন এমন জঙ্গলরাজই চলছে। সরকার, প্রশাসন ও তৃণমূলের মদত রয়েছে বলেই তুহিনার মৃত্যুর ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারছে ।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

বিয়ে বাড়ির আরোহী বাহী চারচাকা গাড়িতে লরির ধাক্কা -মৃত ২ জখম ৩

বেপরোয়া ভাবে চলা লরির ধাক্কায় মৃত্যু হল চারচাকা গাড়ির দুই আরোহীর। জখম হয়েছে আরও তিন জন। সোমবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার তক্তিপুরে মেমারি মালডাঙা সড়ক পথে।পুলিশ জানিয়েছে ,মৃতরা হল প্রকাশ বাগ (৩০) ও তার ভাই তাপস বাগ (২৬)। জখম রূপচাঁদ মান্ডি ,শিবু টুডু ও দীপঙ্কর কুন্ডুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। মৃত ও জখমরা সকলেই মেমারির কালিবেলে এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ঘাতক লরির খোঁজ শুরু করেছে।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চারচাকা গাড়ির পাঁচ আরোহী রবিবার জামালপুর থানার পাঁচড়ার ভেরিলি গ্রামে বিয়েবাড়ি গিয়েছিলেন। সেখান থেকে এদিন সকালে তাঁরা চারচাকা গাড়িতে চড়ে মেমারির কালিবেলে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন।পথে তক্তিপুর এলাকায় মেমারি গামি দ্রুত গতীর একটি লরি চারচাকা গাড়িটিতে সজোরে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়।এই দুর্ঘটনায় চারচাকা গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চারচাকা গাড়ির চালক প্রকাশ বাগের। বাকি আরোহী তাপস বাগ, রূপচাঁদ মান্ডি শিবু টুডু ও দীপঙ্কর কুন্ডুকে উদ্ধার করে মেমারি গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রকাশ বাগের ভাই তাপস কে মৃত ঘোষণা করেন।জখদের শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

'বর্জ্য ই সম্পদ', একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় হুমকি 'বর্জ্য' নিয়ে জোড় প্রচারাভিযান গুসকরা তে

মানব সভ্যতা উন্নয়নের সাথে সাথে মানবজাতির যত উপকার সাধন হয়েছে বিভিন্ন ধরনের সমস্যাও ততটাই প্রকট হয়ে উঠেছে। আজকের পৃথিবীতে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃতিকে জীবের বসবাস যোগ্য রাখা। বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বর্জ্যের পরিমাণও মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে চলেছে।বর্জ্য, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড়ো হুমকি (Threats)। বর্জ্য অপসারণ একটি বিশ্বব্যাপী ভয়ানক সমস্যা। উন্নত দেশগুলি এব্যাপারে অধিক সচেতন হলেও, অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশ গুলি এখনও সেভাবে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ। ভারতবর্ষে কিছু কিছু রাজ্য সফলভাবে এই কাজটি মোকাবিলা করলেও, অনেক রাজ্য এর পরিণতি অনুধাবন করতে পারেনি।বিভিন্ন ধরণের বর্জ্য বা আবর্জনা আছে, এবং সেগুলি ধ্বংশ করার প্রক্রিয়াও বৈচিত্র্যময়ঃ জ্বলন, দাফন, সঞ্চয় এবং আরও নানারকম ভাবে এটি ধ্বংস করা হয়। বর্জ্য নিষ্পত্তি করার পদ্ধতিটি নির্বাচন করতে গেলে অবশ্যই বর্জ্যটিকে সঠিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ করতে হবে।এই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুসকরা পৌরসভার সাথে কাজ শুরু করেছে রাজ্য নগর উন্নয়ন দপ্তরের নিয়োগ করা সংস্থা দিগম্বরপুর অঙ্গিকার। আধুনিক উপায়ে বর্জ্য অপসারণের সুবিধার জন্য প্রতিটি বাড়িতে নীল-সবুজ বালতি বিলি করেছে গুসকরা পৌরসভা। যাতে পচনশীল (সবুজ বালতি তে) এবং অপচনশীল আবর্জনা (নীল বালতি তে) আলাদা করে রাখেন নাগরিকরা। প্রতিটি পৌরসভার দুটি ওয়ার্ড কে মডেল করে এই কাজের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সরকার। গুসকরা পৌরসভা তে ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ড মডেল ওয়ার্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু নাগরিকদের বড় অংশের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে যথেষ্ট।গুসকরা পৌরসভার প্রোজেক্ট কোয়ার্ডিনেটার অভিষেক দলুই,জনতার কথা কে জানান, আমারা পৌরসভার জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের সাথে বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচার চালাছি। কোভিড ভ্যাকসিন সেন্টার ও দুয়ারে সরকার প্রকল্প যেখানে একসাথে অনেক মানুষের সমাগম হয় সেখানে ও আমার ক্যাম্প করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি।পৌরসভার সাধারণ মানুষ যখন কোনো প্রকল্পের সুবিধার জন্য দুয়ারে সরকার -এ আসছেন আমার বর্জ্য পৃথকীকরণের সুফল তাদের কে বোঝাচ্ছি। বর্জ্য ই সম্পদ (Waste is Wealth) এবং কোন বর্জ্য কিভাবে কাজে লাগিয়ে শহর-কে পরিস্কার রাখা যায় তা ও জানানো হচ্ছে। একটি করে প্রচার পুস্তিকা তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য। স্টেট আরবান ডেভলপমেন্ট এজেন্সি ১২৭টি পুরসভার দ্বায়িত্ব কয়েকটি সংস্থা কে দিয়েছেন। পুর্ব-বর্ধমান জেলায় গুসকরা তে দিগম্বরপুর অঙ্গিকার এই সচেতনতা অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়াও কালনা, দাঁইহাট, কাটোয়া তেও একই সংস্থা প্রচারাভিযান চালাচ্ছে।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

এ এক মন ভালো করা কাহিনী, ক্যানসারকে দূরে সরিয়ে কঠিন লড়াই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সামিনার

শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ব্যাধি ক্যানসার। তা বলে জীবনযুদ্ধে হার মানতে চায়না ছাত্রী সামিনা খাতুন। তাঁর একটাই লক্ষ্য, মারণ ব্যাধির সব জ্বালা যন্ত্রণা সব সহ্য করে নিয়েও সাফল্যের সাফল্যের সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য মনের জেদকে সম্বল করেই কিশোরী সামিনা সোমবার বসতে চলেছে মাধ্যমিক পরীক্ষায়। লেখাপড়া শেখার জন্য ছাত্রী সামিনার এমন জীবন সংগ্রামের সাথী হয়েছেন তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে সামিনার যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেই ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এই বছর পূর্ব বর্ধমান জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ৫৫ হাজার ৪৪৯ জন। তার মধ্যে ছাত্র রয়েছে ২৪,১৩৮ জন । আর ছাত্রী রয়েছে ৩১,৩১৫ জন। এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিয়েছে এই বছর জেলায় ছাত্রদের থেকে ৭ হাজার বেশী ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। সেই ছাত্রীদের মধ্যেই একজন জেলার জামালপুর ব্লকের রামনাথপুর গ্রাম নিবাসী ছাত্রী সামিনা খাতুন। রামনাথপুরের শেখ পাড়ার এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সামিনা। ছোট্ট দুকুঠুরি ঘরে পরিবারের সকলে বসবাস করেন। সামিনার বাবা শেখ আলম খেতমজুরির কাজ করেন। মা নূরজাহান বেগম সাধারণ গৃহবধূ। সামিনার দিদি আসলিমা বিবাহিতা।ছোট বয়স থেকেই লেখাপড়া শেখার বিষয়ে সামিনার আগ্রহ তৈরি হয়। তাঁর বাবা তাঁকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ সম্পূর্ণ করে সামিনা ভর্তি হয় স্থানীয় বনবিবিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। একের পর এক ক্লাসের পরীক্ষায় পাশ করে সামিনা অষ্টম শ্রেণীতে উত্তির্ণ হয়।এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও সামিনার জীবনে ছন্দপতন ঘটে যায় এরপরেই। অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত কালেই ছাত্রী সামিনার শারীরিক অসুস্থতা শুরু হয়। তাঁর বাবা মা তাঁকে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান।পরিবারের সকলে তখন মনে করেছিলেন জামালপুর হাসপাতালের ডাক্তারবাবুদের চিকিৎসাতেই সামিনা সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু তা হয় না। বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে ধরা পড়ে সামিনার শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ব্যাধি। তারপর থেকে টানা দুবছর ধরে তাঁর ক্যানসার রোগের চিকিৎসা চলছে।এখন নিয়ম করে সামিনাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপি নিতে যেতে হয়। এর জন্য মাথার চুল সব উঠে যাওয়ায় সামিনা প্রথমে একটু মুষড়ে পড়েছিল ঠিকই। তবে এখন তা নিয়ে সামিনা আর মাথা ঘামাতে চায় না। এখন তাঁর একটাই স্বপ্ন সফল ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। সমিনা জানিয়েছে, তাঁর দুই কানের নিচে গলার অংশে ক্যানসার বাসা বেঁধেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসা চলছে ঠিকই তবে এখনও খাওয়া দাওয়া সে ভালভাবে করতে পারে না। গলায় খুব ব্যাথা থাকায় ভাত গিলে খেতে পারে না। শুধু পাতলা সুজি কোন রকমে খেয়ে দিনের পরদিন তাঁকে পেট ভরাতে হচ্ছে। তবে কষ্ট যাই থাক লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে সে বিছানায় শুয়ে থেকে দিন কাটাতে চায় না।সামিনা জানায়, তাঁকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল ভাবে উত্তীর্ণ হতে হবেই। তাই মারণ ব্যাধির সব জ্বালাযন্ত্রনা সহ্য করে নিয়ে সোমবার থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবার জন্য মনোনিবেশ করেছে বলে আত্মবিশ্বাসী সামিনা এদিন জানিয়েছে।ছাত্রী সামিনার বাবা শেখ আলম বলেন, আমি খেতমজুরির কাজ করে যে টুকু রোজগার করি তা দিয়েই পরিবারের সকলের দিন গুজরান হয়। দুবছর ধরে আমার ছোট মেয়ে সামিনার ক্যানসার রোগের চিকিৎসা চলছে। মেয়ে এতবড় কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাবে তাঁকে পুষ্টিকর খাবারদাবার কিছুই দিতে পারি না।মেয়ের স্কুলের শিক্ষক মহাশয়গণ ছাড়াও জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খাঁন, কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক, স্কুলের পরিচালন কমিটির সদস্য শেখ জিয়ারুল রহমান সহ আরও কয়েকজন শুভানু্ধ্যায়ী আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপির জন্য মেয়েকে নিয়মিত বর্ধমান হাপাতালে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা ও ওষুধের খরচ জোগাড় করতে পারছি। আলম বাবু আরও বলেন, কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও তাঁর মেয়ে দমে যায়নি। সফল ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করার জন্য সে এতদিন পুরোদমে পড়াশুনা চালিয়ে গিয়েছে । সামিনার মা নূরজাহান বেগম বলেন, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাপাতালেই তাঁর মেয়ের চিকিৎসা চলছে। কোন সহৃদয় মানুষ যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তবে মেয়েকে ভিন রাজ্যের বড় কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতে পারেন।বনবিবিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল রায় বলেন, সামিনা খাতুন আমাদের বিদ্যালয়ের এ- বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। দুবছর আগে ওর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। তারপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে ওর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার জন্য বিদ্যালয়ের তরফে যতটা সম্ভব সামিনাকে সাহায্য করা হয়েছে। সামিনা মাধ্যমিক পরীক্ষায় স-সন্মানে যাতে উত্তীর্ণ হতে পারে তার জন্য বিদ্যালয়ের তরফে সমস্তরকম সহযোগিতা ওর জন্য থাকছে। শ্যামল বাবু এও বলেন, সামিনা আমাদের চোখে জীবন সংগ্রামের যোদ্ধা। জীবন যুদ্ধেও সামিনা যাতে জয়ী হতে পারে সেই লড়াইয়েও সামিনার পাশে রয়েছেন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষিকারা। মাধ্যমিক পরীক্ষার সেন্টার কমিটির বৈঠকের সময়ে সামিনার অসুস্থতার বিষয়টি বিদ্যালয়ের তরফে লিখিত ভাবে জানিয়ে রাখা হয়েছে।পরিক্ষার দিনগুলিতেও সামিনাকে যাতে কোন অসুবিধায় পড়তে না হয় সেই বিষয়েও বিদ্যালয় নজর রাখবে বলে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন। জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার জানিয়েছেন,ব্লক প্রশাসনও মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে অসুস্থ ছাত্রী সামিনার পাশে থাকবে। ওর যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হবে তা নেওয়া হবে।

মার্চ ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সি কে নায়ডু ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে বাংলার হয়ে দিল্লীতে খেলতে গেল বর্ধমানের প্রত্যন্ত গ্রামের যুবক 'সুমন'

ভারতে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট টুর্নামেন্ট গুলির অন্যতম সি কে নায়ডু ট্রফি। এইবছর অনুর্ধ্ব ২৫ সি কে নায়ডু টুর্নামেন্ট আগামী ১৭ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে দিল্লীতে। সেই টুর্নামেন্টে এবার বাংলা দলের হয়ে খেলার জন্য নির্বাচিত হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের যুবক সুমন দাস। এক অজ পাড়া গাঁয়ের যুবক সুমন বাংলা দলের হয়ে দিল্লীর ক্রিকেট ময়দান মাতাবে জেনে খুশি তাঁর কোচ, বাবা মা ও প্রতিবেশীরা।জামালপুর ব্লকের চকদিঘী পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রাম গুড়েঘর। সেই গ্রামের এক প্রান্তে বাড়ি বছর ২২ বয়সী যুবক সুমন দাসের। তাঁর বাবা বিপিনকৃষ্ণ দাহ হুগলীর দশঘরায় ছোটখাট একটি গহনার দোকান চালান। মা সুমিতা দাস সাধারণ গৃহবধূ। সুমনের লেখাপড়া জীবন শুরু হয় হরিপাল পানিশ্যাওলা ইন্দিরা স্মৃতি বিদ্যালয় থেকে। পরবর্তী সময়ে সিবিএসসি বোর্ডের অধীন উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে। সুমনের থেকে চার বছরের বড় দাদা শান্তনু এখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে।ছোট বয়স থেকেই ক্রিকেট খেলার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় সুমনের। তখন থেকেই তাঁর জীবনের আইকন হয়ে ওঠে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও বর্তমান বোর্ড সভাপতি সৌরভ গাঙ্গোপাধ্যায়। বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সুমন অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত কালেই পৌছে যায় জামালপুর নিবাসী ইস্টার্ন রেলের প্রাক্তন দক্ষ ক্রিকেট খেলোয়াড় অমল দাসের কাছে। অমল দাসের হাত ধরেই সে জামালপুরের সেলিমাবাদের মাঠে ক্রিকেটের অনুশীলন নেওয়া শুরু করে।সিএবি টিম লিস্টকিছুদিন কোচিং দেওয়ার পরেই অমল দাস বুঝে যান তাঁর ছাত্র সুমন যথেষ্টই প্রতিভা সম্পন্ন। উপযুক্ত তালিম পেলে সুমন যে ক্রিকেটের ময়দান দাপিয়ে বেড়াতে পারবে তা বুঝতে ভুল করেন নি অমল বাবু। তিনি তাঁর ছাত্র সুমনকে একজন দক্ষ ডান হাতি পেস বোলার হিসাবে গড়ে তোলার যাবতীয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। অমল দাসের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েই জেলা ও রাজ্য স্তরের বিভিন্ন ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ভালো পারফরমেন্স করতে শুরু করে সুমন। এবার সেই সুমনই বাংলা দলের সদস্য খেলোয়াড় হয়ে হয়ে দিল্লীর ময়দানে সি কে নায়ডু টুর্ণামেন্টে তাঁর ক্রীড়া দক্ষতা প্রকাশ ঘটাতে চলেছে বলে অমল দাস জানিয়েছেন।আত্মপ্রত্যয়ী সুমন এদিন সন্ধ্যাতেই দিল্লীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার আগে রবিবার দুপুরে জনতার কথাকে তিনি বলেন, আমার স্বপ্ন বড় ক্রিকেটার হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণের অন্যতম কাণ্ডারী আমার কোচ অমল দাস মহাশয়। উনি আমায় হাতে ধরে সফল পেস বোলার হওয়ার অনেক টিপস শিখিয়েছেন। অমল বাবুর সহযোগীতাতেই পাকাপাকি ভাবে বর্ধমানের নামজাদা ক্লাব শিবাজী সংঘের হয়ে খেলার সূযোগ পাই। মাঝে কিছু দিন প্রশিক্ষণের মাঠ নিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়ায় অমলবাবুর পরামর্শে কোচিং নিতে যাই ইস্টার্ন রেলের প্রাক্তন কোচ প্রদীপ মণ্ডলের চন্দননগরে ক্রিকেট এ্যাকাডেমিতে। প্রদীপ বাবুও তাঁর সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে আমায় বোলিং ও ব্যাটিংয়ের নানা দিক গুলি হাতে ধরে শিখিয়েছেন। কিছুদিন আগে সিএবি লিগের খেলায় কাস্টমসের হয়ে মহামেডান স্পোর্টিং এর বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ৩৪ রান দিয়ে ৬ উইকেট পাই। তার পরেই শনিবার জানতে পারি আমি বাংলা ক্রিকেট দলের (সিএবি) হয়ে সি কে নায়ডু টুর্নামেন্টে খেলার জন্য বিবেচিত হয়েছি। সেখানে ১ মে পর্যন্ত টুর্নামেন্ট চলবে। সুমন আরো জানিয়েছে, আগামী দিনে রঞ্জী ট্রফি ও ভারতীয় ক্রিকেট দলে খেলার স্বপ্ন তার রয়েছে। সুমনের বামা ও মা জানিয়েছেন, বড় ক্রিকেটার হয়ে তাঁদের ছেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করুক এটা তাঁরাও চান। ঈশ্বরের কাছেও সেই প্রার্থনাই রাখছেন।

মার্চ ০৬, ২০২২
রাজ্য

স্ত্রীর ঘাড়ে বটির কোপ বসিয়ে গা ঢাকা দিল স্বামী, চাঞ্চল্য গুসকরায়

অশান্তি চলাকালীন স্ত্রীর ঘাড়ে ধারালো বটির কোপ বসিয়ে দিয়ে গা ঢাকা দিলেন মদ্যপ স্বামী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গৃহবধূ গায়েত্রী মাজি এখন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি শনিবার দুপুরে ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেটেপাড়ায়।তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী চাঁদু মাজির খোঁজ শুরু করেছেপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদু মাজি পেশায় জনমজুর।প্রায় ১৫ বছর আগে গায়ত্রীদেবীর সঙ্গে চাঁদুর বিয়ে হয়।দম্পতির দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন,গায়ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্বামীর বনিবনা হত না। সম্প্রতি তাঁদের অশান্তি বাড়ে । তার জন্য গায়ত্রীদেবী প্রায় ৭ দিন আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে তিনি শ্বশুরবাড়ি ফেরেন।বাড়ি ফেরার পর থেকে চাঁদুর সঙ্গে তার স্ত্রীর ফের অশান্তি শুরু হয়। কোথায় এতদিন থাকা হয়েছিল সেই কৈফিয়ত চাঁদু তার স্ত্রীর কাছে চায়। সেইসব নিয়ে শুক্রবার রাত থেকে দুজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়াঝাটি চলছিল। শনিবার বিকেলে চাঁদু মদ্যপবস্থায় বাড়িতে ফেরে। তারপর আচমকা একটি ধারালো বটি দিয়ে গায়ত্রীদেবীর ঘারে কোপ মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় গায়ত্রী লুটিয়ে পড়ে আর্ত চিৎকার শুরু করে দেয়। তা শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে চাঁদু পালিয়ে যায়।রক্তাত অবস্থায় প্রতিবেশীরা গায়ত্রীকে উদ্ধার করে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় এদিনই ওই গৃহবধূকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তের খোঁজ চালানো হচ্ছে।

মার্চ ০৫, ২০২২
রাজ্য

আতঙ্কে আন্ডারগ্রাউণ্ড ও বাংকারে দিন কাটানো, তারপর টানা হাঁটা, বর্ধমানের বাড়িতে ফিরলো দুই পড়ুয়া

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণে আন্ডারগ্রাউণ্ডের মধ্যে শ্বাসকষ্ট সহ্য করেই দিন কাটছিল ডাক্তারি পড়ুয়া ছেলের। সেই কথা জানতে পারার পর থেকে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর শেখ আকিব মহম্মদের বাবা মায়ের। অবশেষে অবসান হল উৎকণ্ঠার। রাশিয়ান সেনাদের হামলায় তছনছ হয়ে যাওয়া ইউক্রেনের খারকিভ থেকে শনিবার সকালেই বাড়ি ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে শেখ আকিব। ছেলে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণ থেকে বাড়ি ফিরে আসতে পারায় স্বস্তি ফিরেছে আকিবের বাবা মায়ের। খুশি প্রতিবেশীরাও। স্থানীয় বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় এদিনই আকিবের বাড়িতে পৌছে তাঁর হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পূর্বস্থলীর চুপি কালিতলা এলাকায় বাড়ি শেখ আকিব মহম্মদের। সে ২০১৮ সালে ইউক্রেণের খারকিভ ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ার জন্য যায়। দিন দশেক আগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণের খারকিভে আটকে পড়ে ডাক্তারি পড়ুয়া এই বাঙালি যুবক। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিন আকিব সহ প্রায় পাঁচ শতাধীক ভারতীয় ছাত্রছাত্রীর ঠাঁই হয় সেখানকার আন্ডারগ্রাউন্ডে। আকিব জানিয়েছে,চেহারা মোটাসোটা হওয়ায় আন্ডারগ্রাউন্ডে তাঁর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।এটিএম পরিষেবা বন্ধ থাকায় খাবারদাবার কিনে খাওয়াও সেখানে দুরহ হয়ে পড়ে। সামান্য কিছু শুকনো খাবার খেয়ে আতঙ্ক বুকে নিয়েই আন্ডারগ্রাউণ্ডে তাঁকে দিন কাটাতে হয়। গত ১ মার্চ সকালে তাঁরা আন্ডারগ্রাউণ্ড থেকে বেরিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে যান। সেখান থেকে ট্রেন ধরে তাঁরা পোলান্ড বর্ডারে পৌছান। ইন্ডিয়ান এম্বাসি পোলাণ্ড বর্ডার থেকে তাঁদেরকে দিল্লিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। ৪ মার্চ দিল্লিতে পৌছান। শনিবার সকালে দিল্লী থেকে পূর্বস্থলীর চুপির বাড়িতে ফেরেন। আকিবের বাবা শেখ আমজাদ বলেন, আমার ছেলে বাড়ি ফিরতে পারলেও এখনও অনেক ভারতীয় ছাত্রছাত্রী দেশে ফিরতে পারেনি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ওইসব ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক ভারত সরকার। আকিমের মতোই এদিন ইউক্রেণ থেকে বর্ধমানের নারান দিঘীর বাড়িতে ফিরেছে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ুয়া ছাত্র রোহিত ভগত। বাংকারে কয়েকদিন কাটিয়ে তার পর সাত কিমি পথ হেঁটে পোল্যান্ড বর্ডারে পৌছায় রোহিত। সেখান থেকে ভারতীয় এম্বাসির ব্যবস্থাপনায় অনেক কষ্টে বাড়ি ফিরে আসতে পারলেও স্বস্তিতে নেই রোহিত। কোর্সের ফাইনাল ইয়ার শেষ হতে তাঁর আর তিন মাস বাকি ছিল। এই অবস্থায় শিক্ষাগত ডিগ্রীর ভবিষ্যৎ কি হবে সেটা ভেবেই রোহিতের দুশ্চিন্তা এখন বহুগুন বেড়ে গিয়েছে। রোহিত জানিয়েছে, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য তিনি ২০১৮ সালে ইউক্রেণে যান। বাকি ছিল ফোর্থ ইয়ারের আর তিন মাসের কোর্স। সামনের জুন মাসেই ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ করে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া গোলা বারুদের আঘাত হানা শুরু করেদেয়। তার করণে সমগ্র ইউক্রেণ জুড়ে তৈরি হয়েযায় যুদ্ধ পরিস্থিতি। এই অবস্থায় প্রাণ বাঁচানোর জন্য তাঁদের কয়েক দিন বাংকারের মধ্যে কাটাতে হয়। কোনওক্রমে সেখান থেকে তাঁরা লিভিয়া পৌছান। পরে সাত কিলোমিটার হেঁটে সেখান থেকে পোলান্ড বর্ডারের নতুন চেকপোস্টে হাজির হন। যেটা খুলেছিল ভারতীয় এম্বাসি, সেই চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় এম্বাসি থেকে তাঁদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয় পোল্যান্ডের ইন্ডিয়ান এম্বাসির ভাড়া করা হোটেলে। সেটিকেও ক্যাম্প বলা যেতে পারে। ওই ক্যাম্পে ছশোর উপর ভারতীয় ছাত্র ছাত্রী ছিল। দেশে ফেরার জন্য সেখান থেকেই সমস্ত ব্যবস্থা করে দেয় ইন্ডিয়া এম্বাসি।শেষপর্যন্থ শনিবায় সকালে বর্ধমানের বাড়িতে ফিরে আসতে পেরেছেন বলে রোহিত জানান। ছেলে বাড়ি ফিরে আসায় খুশি রোহিতের পরিবার। তবে ছেলের লেখাপড়া ভবিষ্যৎ নিয়ে তারাও যথেষ্ট চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন।

মার্চ ০৫, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 23
  • 24
  • 25
  • 26
  • 27
  • 28
  • 29
  • ...
  • 42
  • 43
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

পুজোর পাসে ৬০ কোটির অভিযোগ! রাত ১১টা পর্যন্ত ইন্দ্রনীলের বাড়িতে ইডি, এরপর কী?

প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়িতে মঙ্গলবার দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রায় সাড়ে ১৫ ঘণ্টা পর রাত ১১টা নাগাদ তদন্তকারীরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর বুধবার সকাল ১০টায় ইডির দপ্তরে ইন্দ্রনীল সেনকে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্দ্রনীল (Indranil Sen) । অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।ইডি সূত্রে অভিযোগ, কলকাতার দুর্গাপুজোর পুজো পরিক্রমা বা প্রিভিউ শো-এর নামে ইউনেস্কোর নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে প্রবেশপত্র বিক্রি করা হয়েছিল। সেই প্রবেশপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নামও উঠে এসেছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে (Indranil Sen) ।চলতি বছরের জুন মাসে এই সংক্রান্ত অভিযোগ বউবাজার থানায় দায়ের হয়েছিল। অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে পরে আর্থিক তছরূপের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা শুরু হয়। সেই মামলার সূত্র ধরেই মঙ্গলবার ইডি কলকাতার একাধিক জায়গায় একসঙ্গে তল্লাশি চালায়।ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়ি ছাড়াও কলকাতার আরও কয়েকটি ঠিকানায় তদন্তকারীরা পৌঁছন। হিন্দুস্তান পার্ক এবং হাইল্যান্ড পার্কের ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইভেন্ট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কয়েক জনের বাড়িতেও অভিযান চলে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়িতেও তদন্তকারীরা গিয়েছিলেন বলে খবর।প্রতিটি ঠিকানায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ছিল। একাধিক দলে ভাগ হয়ে ইডির আধিকারিকেরা এই অভিযান চালান। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল অভিযোগে উঠে আসা আর্থিক লেনদেন এবং পুজোর প্রবেশপত্র বিক্রির সঙ্গে যুক্ত নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখা।এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মাস আর্ট নামে একটি সংগঠন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর ওই সংগঠনটি তৈরি হয়। সংগঠনটির তরফে নিজেদের ইউনেস্কোর সঙ্গে যুক্ত বা অনুমোদিত উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই পরিচয় ব্যবহার করে পুজো পরিক্রমার জন্য চড়া দামে প্রবেশপত্র বিক্রি করা হত বলেও তদন্তকারীদের দাবি।ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) স্ত্রী মধুছন্দা সেন ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, পাস বিক্রি এবং ওই সংস্থার আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত নয়।প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, পুজোর প্রিভিউ শো বা পুজো পরিক্রমার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে এই পাস বিক্রির অনুমতি আদৌ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাসের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগ্রহের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে।ইন্দ্রনীল সেন অবশ্য শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার দীর্ঘ তল্লাশির পরও তিনি অভিযোগ মানেননি বলে জানা গিয়েছে। বরং প্রয়োজন হলে আইনি পথে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।এখন বুধবার সকাল ১০টায় ইডির দপ্তরে হাজির হওয়ার পর ইন্দ্রনীল সেনকে কী কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। পুজোর প্রবেশপত্র বিক্রি, সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং অভিযোগে উঠে আসা টাকার অঙ্কসবই তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ইডির মঙ্গলবারের তল্লাশিতে কী কী নথি বা তথ্য পাওয়া গেল, তা এখনও প্রকাশ্যে বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়নি। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর মুখে চাকরি নিয়ে বড় আশ্বাস! বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান তুলে নিলেন ৩৭১৯ কম্পিউটার শিক্ষক

পুজোর মুখে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেছিলেন রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া সেই অবস্থান ও বিক্ষোভ মঙ্গলবার পর্যন্ত চলে। পরে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠকের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষকদের সংগঠন আইসিটি ঐক্য মঞ্চ।বৈঠকে শিক্ষকদের একাধিক দাবি বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। আপাতত যাতে চাকরিতে কোনও ছেদ না পড়ে, সেই ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। টেন্ডারে নির্বাচিত সংস্থার অধীনেই ৩৭১৯ জন শিক্ষক কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানা গিয়েছে।শিক্ষকদের দাবি পূরণের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ছমাস সময় চেয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন এবং অন্যান্য বিষয় শ্রম আইন মেনে কী ভাবে করা যায়, তা নিয়ে চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।সোমবার থেকেই একাধিক দাবি নিয়ে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানে বসেছিলেন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। রাতভর সেখানে বিক্ষোভ চলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকার পর শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেই বৈঠকের পরেই আপাতত আন্দোলন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।শিক্ষক রাহুল দাসের দাবি, প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যায়ে নিযুক্ত প্রায় পাঁচ হাজার কম্পিউটার প্রশিক্ষকের সঙ্গে সরকারের যে ভাবে সরাসরি চুক্তি রয়েছে, একই ধরনের ব্যবস্থা তাঁদের ক্ষেত্রেও করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর তরফে এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।এই সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে চুক্তি নিয়ে জটিলতা। ২০২২ সাল বা তার আশপাশের সময়ে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ৩৭১৯ জন কম্পিউটার শিক্ষককে পাঁচ বছরের চুক্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অনেকের চুক্তির মেয়াদ আরও কিছুদিন থাকার কথা থাকলেও, হঠাৎ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চুক্তি শেষ করার নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, আগের কয়েকটি পর্যায়ে নিযুক্ত কম্পিউটার প্রশিক্ষকদের দীর্ঘমেয়াদি কাজের সুযোগ দেওয়া হলেও ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের বেতন কমানোর অভিযোগও উঠেছে।চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শুধু শিক্ষক ও তাঁদের পরিবার নয়, স্কুল কর্তৃপক্ষও সমস্যায় পড়তে পারেন বলে শিক্ষক সংগঠনের দাবি। কারণ সরকারি বিভিন্ন ডিজিটাল শিক্ষা প্রকল্পে এই কম্পিউটার শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ-এর সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, কম্পিউটার শিক্ষকদের নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করা কঠিন এবং স্কুলের কাজে এই শিক্ষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।আপাতত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহার হলেও তাঁদের মূল দাবি পূরণ কতটা দ্রুত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি সরকারি চুক্তি, বেতন কাঠামো এবং চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে আগামী ছমাসে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

যশোভূমিতে ফিজিওথেরাপির মহামিলন: ১০ হাজারের মঞ্চে বাংলার গর্ব, সম্মানে IAP Bengal

২,০০০ কিলোমিটারের Physio Baton যাত্রা থেকে দিল্লির বর্ণাঢ্য মহাযাত্রাআন্তর্জাতিক সম্মেলনে উজ্জ্বল বাংলার উপস্থিতিনয়াদিল্লি: ফিজিওথেরাপির জগতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল নয়াদিল্লির যশোভূমি কনভেনশন সেন্টার। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত World Physiotherapy Asia Western Pacific (AWP) Regional Conference 2026-এ দেশ-বিদেশের ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক, ছাত্রছাত্রী ও পেশাজীবীদের মিলন ঘটল এক বিশাল আন্তর্জাতিক মঞ্চে। Fitness for Allএই বার্তাকে সামনে রেখে আয়োজিত সম্মেলনে ফিজিওথেরাপির ভবিষ্যৎ, আধুনিক চিকিৎসা-পদ্ধতি, গবেষণা, জনস্বাস্থ্য এবং পেশাগত বিকাশ নিয়ে হয় একাধিক আলোচনা।সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ১০ হাজারেরও বেশি ফিজিওথেরাপিস্টের একসঙ্গে উপস্থিতি। এই বিপুল অংশগ্রহণকে World Record হিসেবে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। ফলে সম্মেলনটি শুধু একটি পেশাগত অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আন্তর্জাতিক ফিজিওথেরাপি জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়।বিশেষ সম্মান IAP Bengal Branch-এরএই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের জন্য আসে আরও একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি। IAP Bengal Branch-কে দেশের সেরা শাখা হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, পেশাগত উন্নয়ন এবং ফিজিওথেরাপি সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মানকে দেখা হচ্ছে।দিল্লির আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিদের হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। পশ্চিমবঙ্গের ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের কাছে এটি নিঃসন্দেহে এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে ওঠে।বর্ধমান থেকে শুরু Physio Baton-এর ঐতিহাসিক যাত্রাসম্মেলনের আগে বাংলার সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের যোগসূত্র আরও দৃঢ় করে Physio Baton বা মশাল যাত্রা। ২২ সেপ্টেম্বর বর্ধমানের ঐতিহাসিক কার্জন গেট হয়ে সেই মশাল যাত্রার সূচনা হয়।কার্জন গেটে Physio Baton-কে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭০ জন ফিজিওথেরাপিস্ট। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডাঃ সত্যেন ভট্টাচার্য, ডাঃ শুভেন্দু দ্বিবেদী (PT), ডাঃ আদিত্য পাল ডাঃ অতনু রায়, ডাঃ অনিন্দ দে (PT), ডাঃ শুকদেব মুখার্জী (PT)-সহ আরও অনেকে। উপস্থিত ছিলেন গোলাপবাগ ফিজিওথেরাপি কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ এম. এস. আনোয়ার (PT)।ঐতিহাসিক বর্ধমানের মাটি থেকে শুরু হয়ে প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার সড়কপথ পেরিয়ে Physio Baton পৌঁছে যায় দিল্লিতে। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যের ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, মতবিনিময় এবং পেশাগত সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়।বাংলার ঐতিহ্য ধরা পড়ল দিল্লির মহাযাত্রায়দিল্লিতে পৌঁছনোর পর Physio Baton-কে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য মহাযাত্রা। সেখানে বাংলার প্রতিনিধিরা নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে তুলে ধরেন।পুরুষ প্রতিনিধিদের অনেকেই ধুতি-পাঞ্জাবি এবং মহিলা প্রতিনিধিরা শাড়ি পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলাদা মাত্রা যোগ করে।বর্ধমান থেকে শুরু হওয়া মশাল যাত্রার সেই ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় World Physiotherapy-এর সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের মঞ্চে।ডাঃ রুচি ভার্শনে (PT) (Dr. Ruchi Varshney) এবং ডাঃ সঞ্জীব ঝা (PT) (Dr. Sanjeev Jha)-এর হাত ধরে Physio Baton তুলে দেওয়া হয় World Physiotherapy-এর President-এর হাতে। মুহূর্তটি উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে বিশেষ আবেগ ও গর্বের সৃষ্টি করে।যাত্রার নেতৃত্বে ডাঃ কৌশিক মল্লিক (PT)এই দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ যাত্রার পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ডাঃ কৌশিক মল্লিক (PT), Vice President, IAP West Bengal Branch।প্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের এই সড়কযাত্রা শুধুমাত্র একটি মশাল বহনের কর্মসূচি ছিল না। পথে বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যের ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও এই যাত্রার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে ওঠে।ফলে Physio Baton-এর যাত্রা কার্যত বাংলার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের মধ্যে একটি সংযোগের সেতু তৈরি করে।১৩টি হলে একসঙ্গে বৈজ্ঞানিক কর্মসূচি২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর যশোভূমি কনভেনশন সেন্টারের বিশাল পরিসরে সম্মেলনের বিভিন্ন পর্ব পরিচালিত হয় ১৩টি হলে। একই সঙ্গে চলে একাধিক বৈজ্ঞানিক ও পেশাগত অধিবেশন।পেপার ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন, বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা, ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ফিজিওথেরাপিস্টদের অংশগ্রহণে সম্মেলন কার্যত পরিণত হয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক বিশাল প্ল্যাটফর্মে।এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বর্ধমানের ফিজিওথেরাপিস্ট ডাঃ সত্যেন ভট্টাচার্য (PT) ও বক্তা হিসেবে অংশ নেন। বাংলার একটি জেলা শহর থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে বক্তব্য রাখার বিষয়টিও স্থানীয় পেশাজীবীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।শুধু চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রেই নয়, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব উপলব্ধি করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, পডকাস্টার এবং ডিজিটাল মিডিয়ার জন্যও বিশেষ পরিসর রাখা হয় সম্মেলনে।ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীসম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তাঁর বক্তব্যে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপির গুরুত্বের বিষয়টি উঠে আসে।এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তা এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও ভিডিও বার্তা সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এর ফলে ফিজিওথেরাপি যে শুধুমাত্র পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসার একটি অংশ নয়, বরং বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গএই বার্তাটিও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।বাংলার জন্য একাধিক গর্বের মুহূর্তএকদিকে ১০ হাজারেরও বেশি ফিজিওথেরাপিস্টের ঐতিহাসিক উপস্থিতি, অন্যদিকে IAP Bengal Branch-এর বিশেষ সম্মাননা। তার সঙ্গে বর্ধমানের কার্জন গেট থেকে শুরু হওয়া Physio Baton-এর প্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের যাত্রা এবং দিল্লির মহাযাত্রায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাকে প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণসব মিলিয়ে সম্মেলনে বাংলার উপস্থিতি হয়ে ওঠে বিশেষভাবে স্মরণীয়।এই যাত্রা দেখিয়ে দিল, ফিজিওথেরাপি এখন আর শুধুমাত্র চিকিৎসাক্ষেত্রের একটি নির্দিষ্ট শাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গবেষণা, জনস্বাস্থ্য, ফিটনেস, পুনর্বাসন, প্রযুক্তি এবং সামাজিক সচেতনতার বৃহত্তর পরিসরে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।যশোভূমির আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন দেখা গেল। আর সেই মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিত্ব, IAP Bengal Branch-এর স্বীকৃতি এবং বর্ধমান থেকে শুরু হওয়া Physio Baton-এর ঐতিহাসিক যাত্রা পশ্চিমবঙ্গের ফিজিওথেরাপি মহলের জন্য তৈরি করল এক স্মরণীয় অধ্যায়।বর্ধমানের কার্জন গেট থেকে দিল্লির যশোভূমিপ্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের সেই যাত্রা তাই কেবল একটি মশাল বহনের গল্প নয়; এটি বাংলার ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের ঐক্য, উদ্যোগ, পেশাগত সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার এক অনন্য কাহিনি।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
কলকাতা

রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা কবে ফিরবে? হাই কোর্টের নির্দেশে সামনে এল নির্দিষ্ট সময়

রোজভ্যালি চিটফান্ড মামলায় আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরানোর কাজ চললেও তার গতি যথেষ্ট নয় বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। এবার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতির হিসাব আদালতে জমা দিতে হবে।বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ এবং বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করাই সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটির মূল দায়িত্ব। এর বাইরে কমিটির কোনও অতিরিক্ত আইনি ক্ষমতা নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকা সহযোগী সংস্থা তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে হোটেল পরিচালনার যে চুক্তি করেছিল, তার অনুমোদনের ক্ষমতা কমিটির ছিল না। ফলে ওই ধরনের অনুমোদনহীন চুক্তিগুলিকে শুরু থেকেই বাতিল বলে ঘোষণা করেছে আদালত।আমানতকারীদের পক্ষের আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে কমিটির হাতে বিপুল সম্পত্তি থাকলেও সেই তুলনায় টাকা ফেরানোর কাজ খুব ধীর গতিতে হয়েছে। আদালতে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তাতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৫৫ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে দাবি। গত ১১ বছরে মাত্র ১০টি সম্পত্তির নিলাম এবং ৮০টি সম্পত্তির মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়।অন্যদিকে, রোজভ্যালি সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত একাধিক দফায় এক লক্ষেরও বেশি দাবিদারকে টাকা দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৩২ লক্ষ দাবি নথিভুক্ত হয়েছিল। ফলে আগের বছরগুলিতে কাজের গতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়াটিও আদালতের নজরে রয়েছে।হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা মুলতুবি থাকা দাবিগুলির ভিত্তিতে যোগ্য আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। আদালতের নির্দেশে ৩২ লক্ষ ৪৩ হাজার ২২০টি মুলতুবি দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি সম্পত্তি বিক্রি এবং সেই অর্থ আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুধু সময়সীমা বেঁধে দিয়েই থামেনি আদালত। প্রতি মাসে সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটিকে আদালতে কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অর্থাৎ কতগুলি সম্পত্তি বিক্রি হল, কত টাকা বণ্টন করা হল এবং কতগুলি দাবি এখনও বাকি রয়েছে, সেই সংক্রান্ত অগ্রগতির হিসাব আদালতের নজরে থাকবে।আদালত আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার পরেও যদি কাজ বাকি থাকে, তা হলে অবশিষ্ট সম্পত্তি, অর্থ এবং অন্যান্য অসম্পূর্ণ বিষয় বিচারপতি এস পি তালুকদারের নেতৃত্বাধীন এক সদস্যের কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।রোজভ্যালি মামলায় জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও যুক্ত রয়েছে। এবার বাজেয়াপ্ত না হওয়া বাকি সম্পত্তি চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইডিকে নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তে চিহ্নিত নতুন সম্পত্তির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।এ ছাড়া সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফরেনসিক অডিট শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এর ফলে রোজভ্যালির সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়ায় আরও নজরদারি বাড়তে চলেছে।রোজভ্যালি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বহু আমানতকারী। আদালতের এই নির্দেশে এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শেষ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে সম্পত্তি বিক্রি, দাবির যাচাই এবং টাকা বণ্টনের কাজ কতটা দ্রুত এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

হাসপাতাল থেকে সরাসরি এশিয়ান গেমস! বৃষ্টির মধ্যেই সোনা জিতে ইতিহাস নীরুর

এই কাহিনী শুনলে যে কারও মন ভালো হতে বাধ্য। লক্ষ্য যদি অবিচল থাকে তাহলে যে কোনও কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেন, কেউ তাঁকে হারাতে পারবে না। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার মাত্র ১০ দিন আগেও তাঁর কেরিয়ার নিয়ে তৈরি হয়েছিল বড় অনিশ্চয়তা। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ভারতীয় ট্র্যাপ শুটার নীরু ধান্ডা। সংক্রমণের কারণে শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, জাপানের নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসে আদৌ অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই অসুস্থতাকেই পিছনে ফেলে মঙ্গলবার ইতিহাস গড়লেন ২৬ বছরের এই ভারতীয় শুটার।জাপানের গ্রামীণ টয়োটার উরেনোচো শুটিং রেঞ্জে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই ট্র্যাপ শুটিংয়ের ফাইনালে ৩০টির মধ্যে ২৮টি লক্ষ্যভেদ করেন নীরু। এর ফলে এশিয়ান গেমসের নতুন রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন তিনি। চিনের সুন ইউনং ২৬টি লক্ষ্যভেদ করে রুপো পান। এশিয়ান গেমসে এটিই ভারতের পঞ্চম সোনা। তবে নীরুর সাফল্যের গুরুত্ব শুধু পদকের হিসাবেই নয়। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও ভারতীয় মহিলা ট্র্যাপ শুটিংয়ে ব্যক্তিগত সোনা জিতলেন। একইসঙ্গে ১৯৭৮ সালের পর এই ইভেন্টে কোনও ভারতীয় শুটারের ব্যক্তিগত সোনার অপেক্ষাও শেষ হল। ১৯৭৮ সালে রণধীর সিং ট্র্যাপ শুটিংয়ে সোনা জিতেছিলেন।এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল কঠিন এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। নয়াদিল্লিতে জাতীয় শিবিরে প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহ অনুশীলন করতে পারেননি নীরু। অসুস্থতার সময় টানা পাঁচ দিন খাবারও খাননি, শুধু জল খেয়ে ছিলেন। হাসপাতালেও তিন দিন কাটাতে হয় তাঁকে। এই কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন তাঁর কোচ অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত মনশের সিং। প্রতিদিন ফোন করে নীরুকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতেন তিনি। নীরুর কথায়, কোচ তাঁকে বলতেন কয়েক দিন অনুশীলন না করলেও কিছু যায় আসে না, তিনি প্রতিভাবান এবং তারকা হয়েই থাকবেন। প্রাক্তন সাংসদ তথা ক্রীড়ামন্ত্রী যশোধরা রাজের কাছ থেকেও সমর্থনের বার্তা পেয়েছিলেন নীরু।ভারতের ট্র্যাপ শুটিং কোচ পিটার উইলসন জানান, হাসপাতালে থাকার মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই নীরু প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সাড়ে তিন সপ্তাহ অনুশীলন না করেও জাপানে মাত্র দুদিন শুটিং করে ফাইনালে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। নীরুর শুটিংয়ে আসার গল্পও বেশ চমকপ্রদ। ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে তাঁর খুড়তুতো ভাই লক্ষ্য শেওরান ট্র্যাপ শুটিংয়ে রুপো জেতার পর এই খেলায় আগ্রহী হন তিনি। পরে ভোপালের মধ্যপ্রদেশ স্টেট শুটিং অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ শুরু করেন।গত বছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা এবং চলতি বছরের জুলাইয়ে ISSF বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত ট্র্যাপ সোনা জেতার পর এবার এশিয়ান গেমসেও সাফল্য পেলেন নীরু। তার উপর মঙ্গলবার ছিল প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টির জল শুটারদের হাতে পড়ছিল, মনোযোগও নষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু নিজেকে বারবার প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে এনে লক্ষ্যভেদ করেন নীরু। হাসপাতালের বিছানা থেকে এশিয়ান গেমসের মঞ্চ, এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের শেষে তাঁর হাতেই উঠল ঐতিহাসিক সোনা।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
রাজ্য

জেএমবি-যোগের সন্দেহে মঙ্গলকোটের মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার এনআইএ-র, বাজেয়াপ্ত ডায়েরি ও মোবাইল

পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সন্দেহেই পালিশ গ্রামের পূর্বপাড়ার মসজিদের ইমাম পিয়ার মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে মঙ্গলকোট থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে অভিযান চালায় এনআইএ। সেখান থেকেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিয়ার মোহাম্মদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার কুলুট গ্রামে। গত প্রায় তিন-চার বছর ধরে তিনি মঙ্গলকোটের পালিশ গ্রামের পূর্বপাড়ার মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তদন্তকারীরা তাঁর পাসপোর্ট পরীক্ষা করে জানতে পেরেছেন, একাধিকবার বাংলাদেশে গিয়েছেন তিনি।এনআইএ সূত্রে খবর, মসজিদে ইমাম থাকার জন্য যে ঘরটি পিয়ার মোহামদ ব্যবহার করতেন, সেখান থেকে একটি ডায়েরি এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই ডায়েরিতে বাংলাদেশের কয়েকজনের ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে বলেও তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই যোগাযোগগুলির সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।চলতি বছরের জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতকেন্দ্রিক কথিত সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই পিয়ার মোহাম্মদের নাম তদন্তকারীদের নজরে আসে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তাবলিগ জামাতের কাজে বৈধভাবে প্রায় ৪০ দিন বাংলাদেশে ছিলেন পিয়ার মোহাম্মদ। তবে সেই সফরের সময়ে তিনি জেএমবির কোনও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, কোনও বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন কি না, কিংবা বাংলাদেশের কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর আদৌ কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, এই সব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।পিয়ার মোহাম্মদের সঙ্গে আরও কারও যোগাযোগ ছিল কি না, তাঁর মাধ্যমে কোনও বৃহত্তর জঙ্গি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায় কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ ও স্থানীয় পুলিশ।ইমামকে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পালিশ গ্রামে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, পিয়ার মোহাম্মদকে তাঁরা বরাবরই শান্ত এবং সাধারণ স্বভাবের মানুষ হিসেবেই জানতেন। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারের খবর তাঁদের বিস্মিত করেছে।এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ধৃত ইমামকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয় এনআইএ। তাঁকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।পিয়ার মোহাম্মদের আইনজীবী কাজি সাহাবাব জামান জানিয়েছেন, টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে বার্তালাপের অভিযোগে তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর মক্কেল নির্দোষ বলে দাবি করেছেন আইনজীবী।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

২৭০০ থেকে ২৭ হাজার! ক্যানসারের ওষুধে দশ গুণ দাম দেখে সুপ্রিম কোর্টে তোলপাড়

ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় ওষুধের খরচ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। একটি ক্যানসারের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা খুচরো বিক্রেতাকে যে দামে ওষুধ দিচ্ছে, তার তুলনায় সর্বোচ্চ খুচরো দামের ব্যবধান দশ গুণ পর্যন্ত হতে পারেএমন তথ্য শুনানিতে উঠে আসে। উদাহরণ হিসেবে আদালত জানতে পারে, ২৭০০ টাকায় খুচরো বিক্রেতার কাছে পৌঁছনো একটি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো দাম ২৭ হাজার টাকা। এই বিপুল ব্যবধান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত।বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ, জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের দাম সংক্রান্ত মামলার শুনানি করছিল। সেখানেই ক্যানসারের ওষুধের দামে খুচরো বিক্রেতার জন্য নির্ধারিত দাম এবং রোগীর জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরো দামের মধ্যে এত বড় ফারাক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আদালত জানতে চায়, ২৭০০ টাকায় যে ওষুধ বিক্রেতার কাছে যাচ্ছে, সেটির সর্বোচ্চ খুচরো দাম কেন ২৭ হাজার টাকা হবে।আদালতের প্রশ্ন ছিল, এই অতিরিক্ত টাকার বড় অংশ কোথায় যাচ্ছে এবং এর ফলে কারা লাভবান হচ্ছে। বিচারপতিরা এমন দামের ব্যবধানকে রোগীদের উপর গুরুতর আর্থিক চাপ হিসেবে দেখেছেন। বিশেষ করে ক্যানসারের মতো রোগে চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় ওষুধের দাম বেড়ে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে রোগী এবং পরিবারের উপর।শীর্ষ আদালত বেসরকারি হাসপাতালের ওষুধ বিক্রির ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেছে। শুনানিতে এমন অভিযোগের প্রসঙ্গ ওঠে যে, কিছু কর্পোরেট হাসপাতাল রোগীদের নিজেদের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করে। বাইরে থেকে একই ওষুধ কিনে আনলে চিকিৎসা নিয়ে সমস্যার আশঙ্কাও রোগীদের সামনে থাকে বলে আদালতে বিষয়টি উঠে আসে।সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ওষুধের বাড়তি দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। কারণ কোনও সরকারি প্রকল্পে চিকিৎসা বা ওষুধের খরচ বেশি হলে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের একটা অংশ সরকারি অর্থ থেকে মেটানো হয়। ফলে এর আর্থিক প্রভাব সাধারণ মানুষের উপরও পড়তে পারে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে।শুনানিতে ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় এবং অনত্যাবশ্যকীয়এই ভাগ করে আলাদা নিয়ম রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতিরা জানতে চান, সব ধরনের ওষুধের ক্ষেত্রেই কি নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশের সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না। আদালতের তরফে ১৬ শতাংশ লভ্যাংশের সীমার কথাও আলোচনায় আসে।কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের অবস্থান আদালতকে জানানো হবে। কেন্দ্র আরও সময় চেয়েছে বলেও সাম্প্রতিক শুনানির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর হওয়ার কথা।তবে ১৬ শতাংশ লভ্যাংশের সীমা এখনই কার্যকর কোনও নতুন নিয়ম নয়। এটি শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব বা প্রশ্ন। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ক্যানসারের ওষুধের দাম নিয়ে এই শুনানি তাই রোগীদের চিকিৎসার খরচ, ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালের ওষুধ বিক্রির পদ্ধতিতিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেই সামনে এনেছে। এখন কেন্দ্রের বক্তব্য এবং পরবর্তী শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থানের দিকে নজর রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি! কাঠুয়ায় সিআইএসএফ শিবিরে ভয়াবহ ঘটনায় মৃত্যু ৪ জওয়ানের

জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় সিআইএসএফের একটি শিবিরে ভয়াবহ গুলিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ডিউটি পরিবর্তনের সময় বচসার পর এক সহকর্মী কয়েকজন জওয়ানকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় চার সিআইএসএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সিআইএসএফ সূত্রে খবর, বিকেলে ডিউটি পরিবর্তনের সময় হেড কনস্টেবল অবধেশ সিংয়ের সঙ্গে কয়েকজন জওয়ানের বচসা হয়। প্রথমে বিষয়টি কথা কাটাকাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে সেই বচসা বড় আকার নেয়।অভিযোগ, এক পর্যায়ে অবধেশ সিং নিজের রাইফেল তুলে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। গুলিতে চার জওয়ান গুরুতর আহত হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনেরই মৃত্যু হয়।নিহত জওয়ানদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পাণ্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং, কনস্টেবল সঞ্জীব কুমার এবং কনস্টেবল মহম্মদ রফিক।ঘটনার পর কাঠুয়া সিআইএসএফ শিবিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। কী কারণে ডিউটি পরিবর্তনের সময় বচসা শুরু হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিআইএসএফ সদর দপ্তরের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি সিআইএসএফের মহাপরিচালক গোটা পরিস্থিতি এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেফতার করার পর তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। চার সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় কাঠুয়া সিআইএসএফ শিবিরে এখন তদন্তের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal