• ২৯ চৈত্র ১৪৩৩, মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Anandapur

কলকাতা

২৭ জনের মৃত্যু! এখনও নিখোঁজ বহু! এক সপ্তাহ পরে সিট গঠন, প্রশ্ন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে

আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। শুক্রবার রাতের দিকে ঘটনাস্থল থেকে আরও দুজনের দেহাংশ উদ্ধার করেছে দমকল ও পুলিশের যৌথ দল। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭-এ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অবশেষে ওই কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করল বারুইপুর জেলা পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের এক সপ্তাহ পরে সিট গঠন হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন পরে কেন তদন্তে এই তৎপরতা।গত রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকার ওই কারখানায় আগুন লাগে। রাত প্রায় ৩টে নাগাদ কারখানার গুদাম অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর টানা প্রায় ৩২ ঘণ্টা ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলে। ১২টি ইঞ্জিন নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় দমকলকে। আগুনের তীব্রতায় কারখানার ভিতরেই আটকে পড়েন বহু শ্রমিক। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে তাঁদের আর্তনাদ শোনার কোনও সুযোগই পাননি কেউ।ভয়াবহ এই ঘটনার এক সপ্তাহ পরে অবশেষে সিট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বারুইপুর জেলা পুলিশ। আগুনে পুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া ওই কারখানাতেই এবার তদন্ত চালাবে বিশেষ দল। পাঁচ সদস্যের এই সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের সুপার শুভেন্দু কুমার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিএসপি (ক্রাইম), ডিইবি-র এক ইন্সপেক্টর এবং আরও এক জন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরেন্সিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখা, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, কারখানায় কী ধরনের নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল এবং কীভাবে আগুন এত দ্রুত ছড়ালসব দিকই খতিয়ে দেখবে সিট। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই নামজাদা একটি মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। জলাভূমি বুজিয়ে কারখানা তৈরির অভিযোগও সামনে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই সংস্থার ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। তদন্ত আরও গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
রাজ্য

আনন্দপুর আগুন দুর্ঘটনা নয়! ব্যারাকপুর থেকে বিস্ফোরক দাবি অমিত শাহের

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন মোমো কোম্পানির আধিকারিক। কিন্তু ঘটনার এতদিন পরেও মোমো কোম্পানির মালিককে গ্রেফতার না করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রশ্ন তুলে প্রথমে সরব হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই সুরেই কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।শনিবার ব্যারাকপুরের আনন্দপুরী মাঠে বিজেপির কর্মিসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন অমিত শাহ। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে জড়িত সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে।সভায় বক্তব্যের শুরুতেই অমিত শাহ বলেন, আনন্দপুরের মোমো কারখানার গুদামে অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এরপরই তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা কোনও দুর্ঘটনা নয়। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দুর্নীতির ফলেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।তৃণমূলকে আক্রমণ করে শাহ বলেন, এই ঘটনায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৭ জন এখনও নিখোঁজ। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মোমো কোম্পানিতে কারা টাকা ঢেলেছে, মালিক কার সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছেন এবং কেন এখনও পর্যন্ত ওই মালিককে গ্রেফতার করা হয়নি, তার জবাব রাজ্য সরকারকে দিতে হবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, মৃতরা বাংলার নাগরিক। তা হলে এখানে কেন ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করা হচ্ছে। তাঁর আরও প্রশ্ন, যদি এরা অনুপ্রবেশকারী হতেন, তা হলে কি সরকারের প্রতিক্রিয়া একই রকম হত।অগ্নিকাণ্ডে জড়িতদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে অমিত শাহ বলেন, এই ঘটনায় যাঁরা যুক্ত, তাঁদের সকলের জেলে যাওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, মন্ত্রীরা ৩২ ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং জলাজমির উপর বেআইনি ভাবে গুদাম তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই ঘটনা ঢাকার চেষ্টা করুন, এপ্রিলের পর বিজেপি ক্ষমতায় এলে একে একে সকল অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, ২০২৬ সালই হবে তৃণমূলকে বিদায় জানানোর বছর।অমিত শাহের এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল। দলের নেতা তন্ময় ঘোষ বলেন, বিজেপির প্রতিবাদের ধরনই তাদের সংস্কৃতি প্রকাশ করে। তাঁর কটাক্ষ, শুভেন্দু অধিকারী যখন প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে ডিজে বাজছিল, যা দেখে মনে হচ্ছিল বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান চলছে। তন্ময় ঘোষ আরও বলেন, অমিত শাহ যখন বাংলায় এসে এই ধরনের মন্তব্য করছেন, তখন মধ্যপ্রদেশে দূষিত জল খেয়ে মানুষের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, বিজেপির বাংলা দখলের স্বপ্ন কোনও দিনই বাস্তব হবে না।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

আনন্দপুর ট্র্যাজেডিতে বড় ঘোষণা, মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে এই ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। মৃতদের পরিবারগুলির প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের একটি গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনার চার দিন পর পর্যন্ত মোট ২৫ জনের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগুন লাগার দুদিন পর ডেকরেটিং গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ওই গুদামের সঙ্গে যুক্ত মোমো কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ওই মোমো কোম্পানির দুই আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার আনন্দপুরে মিছিল করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ, সরকারি চাকরির দাবি তোলেন। পাশাপাশি মোমো কোম্পানির মালিককে গ্রেফতার না করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।এদিকে, আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন। এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের আনন্দপুরে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। এরপর তিনি জানান, মৃতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে এবং আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে।এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মৃতদের পরিবারগুলির জন্য সাহায্যের ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানান, প্রত্যেক মৃতের পরিবারের একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হবে।প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সামাজিক মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এই আর্থিক সাহায্য শোকস্তব্ধ পরিবারগুলিকে কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি জোগাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করল যে সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পাশে রয়েছেন।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দুকে আটকাতেই কি ১৬৩ ধারা? আনন্দপুর কাণ্ডে তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর

আনন্দপুরের জতুগৃহ কাণ্ড ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ঘটনাস্থলে যেতে চান রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই উদ্দেশ্যে গড়িয়া শীতল মন্দির থেকে আনন্দপুরের ঘটনাস্থল পর্যন্ত মিছিল করার অনুমতি চেয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলার শুনানির অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।তবে পুলিশের তরফে শুভেন্দু অধিকারীর মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নরেন্দ্রপুর থানার পক্ষ থেকে একটি ইমেলে জানানো হয়েছে, যে রুটে মিছিল করার আবেদন করা হয়েছে, সেখানে একাধিক হাসপাতাল ও স্কুল রয়েছে। মিছিল হলে বড়সড় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকাজে যুক্ত জরুরি পরিষেবার গাড়ি ও কর্মীদের যাতায়াতও ওই রুট দিয়েই চলছে। সেই কারণে মিছিল করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে দাবি করে পুলিশ অনুমতি খারিজ করেছে।ঘটনাস্থলের গুদামের চারপাশে ১০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই এলাকায় মিছিল ও জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশের নোটিসে বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং প্রমাণ লোপাট বা উদ্ধারকাজে কোনও রকম বাধা যাতে না আসে, সেই কারণেই এই ধারা জারি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগুন লাগার চার দিন পর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিজেপির তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঘটনাস্থলে যাবেন বলেই কি ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছে।এদিকে, ঘটনার চার দিনের মাথায় স্পষ্ট হয়েছে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ। দমকল ও ফরেন্সিক বিভাগের প্রাথমিক রিপোর্ট ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে আগুন লাগে ডেকরেটর্সের গুদামে, মোমোর গুদামে নয়। ডেকরেটর্সের গুদামের পশ্চিম দিকে থাকা তিনতলা একটি ভবনের অংশ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন গ্রাস করে নেয় ডেকরেটর্সের গুদাম এবং পাশের মোমো গুদামটিকেও।

জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
রাজ্য

আনন্দপুর কাণ্ডে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ, দমকলমন্ত্রীর পদত্যাগ চান শুভেন্দু

আনন্দপুরের ভয়াবহ কারখানা দুর্ঘটনার পর ক্রমশ বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। থানায় জমা পড়ছে একের পর এক নিখোঁজ ডায়েরি। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও এলাকায় যাননি দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। প্রায় ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় পরে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছন। এখনও পর্যন্ত এলাকায় যাননি রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও আগেই কেন তিনি যাননি, সেই ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। বুধবার ফের সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী গোটা ঘটনার জন্য রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে চরম দুর্নীতি। শুভেন্দুর দাবি, স্থানীয় বিধায়ক, থানা, পৌরসভা এবং অবৈধ কারখানার মালিকের যোগসাজশে জলাজমি ভরাট করে সম্পূর্ণ বেআইনি পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, গত কয়েক বছরে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও রাজ্য সরকার ও দমকল দফতর কোনও শিক্ষা নেয়নি।এই প্রসঙ্গেই সরাসরি দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগ দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু বলেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, কর্পোরেশন, নরেন্দ্রপুর থানা, স্থানীয় কাউন্সিলর, এলাকার তৃণমূল বিধায়ক এবং শাসকদলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন।এ দিনের বৈঠক থেকেই আগামী দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে ২০ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে যাবে। কেন এতদিন পরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করে শুভেন্দু বলেন, দগ্ধ হয়ে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের দেহ উদ্ধারের কাজ যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, সেই কারণেই তারা অপেক্ষা করেছেন। উদ্ধারকাজে যাতে দমকল, ফরেন্সিক দল, পুলিশ বা উদ্ধারকারীদের কোনও রকম বাধা না আসে, সেই কারণেই বড় দল নিয়ে আগে যাননি বলে জানান তিনি।শুভেন্দু আরও বলেন, এই কদিন শুধুমাত্র অশোক দিন্দা-সহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বরা এলাকায় সহযোগিতার কাজ করেছেন। বৃহস্পতিবার পরিদর্শনের পরে একটি প্রতিবাদ মিছিল করা হবে এবং নরেন্দ্রপুর থানার দিকে যাওয়া হবে। তাতেও যদি প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা না নেয়, তবে নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবে বিজেপি। প্রয়োজন হলে সচিবালয়ের সামনে গিয়ে ধর্না অবস্থানেও বসা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বিরোধী দলনেতা।

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
কলকাতা

গোডাউন আগুনে ছাই শ্রমিকদের জীবন, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে এ বার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সিঙ্গুরের এক সভা থেকে তিনি মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে রাজ্য সরকার।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রবিবার রাতে প্রাইভেট সংস্থায় কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই তিনি মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ঘটনাস্থলে পাঠান। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোমো সংস্থা ও ডেকোরেটর সংস্থা আলাদা করে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে। এ ছাড়াও মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।এদিকে, আনন্দপুরের দগ্ধ গোডাউন থেকে উদ্ধার কাজ এখনও চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত তিনটি পোড়া কঙ্কাল-সহ মোট ১৬টি দগ্ধ দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের খাতায় নিখোঁজের সংখ্যা এখনও ২৩ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলির পরিচয় জানতে ছাই থেকে ডিএনএ পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে।এই ঘটনায় মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে। অভিযোগ, ওই গোডাউনে কোনও রকম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। রবিবার রাত প্রায় ১টা নাগাদ আগুন লাগে। ঘটনার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু পৌঁছন প্রায় ৩২ ঘণ্টা পরে। ওই গোডাউন ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। জলাশয় বুজিয়ে কীভাবে গোডাউন তৈরি হল, কেন সেখানে ফায়ার অডিট হয়নি, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষতিপূরণ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, আনন্দপুরের ঘটনায় মৃত্যু নয়, খুন হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গরিব মানুষের জীবনের মূল্য ৫ লক্ষ বা ১০ লক্ষ টাকায় মাপা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ক্ষতিপূরণ নয়, দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। কীভাবে এত বড় বেআইনি কারবার চলছিল এবং কার অনুমতিতে, তার জবাব চেয়েছেন তিনি। অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবিও তুলেছেন অধীর চৌধুরী। অন্য দিকে, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার দায় নিয়ে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
কলকাতা

চামড়া পোড়া গন্ধে ঢেকে আনন্দপুর! উদ্ধার ৩ কঙ্কাল-সহ ৮ দগ্ধ দেহাংশ

আনন্দপুরের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরে গোটা এলাকা জুড়ে এখন শুধু পোড়া চামড়ার গন্ধ। পুড়ে যাওয়া গোডাউনের ভিতর থেকে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে তিনটি পোড়া কঙ্কাল-সহ মোট আটটি ঝলসে যাওয়া দেহাংশ। ঘটনাস্থলের ভয়াবহ ছবি কার্যত কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা শহরকে। তদন্তে নেমেছে ফরেনসিক দল। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এবং দমকলের ডিজি।প্রাথমিক তদন্তে দমকল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ওই গোডাউনে কোনও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। সেই কারণেই আগুন লাগার পর প্রথম পর্যায়ে কর্মীরা আগুন নেভানোর কোনও চেষ্টাই করতে পারেননি। সোমবার থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, এত বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়, যেখানে একের পর এক কর্মীর ঝলসে যাওয়া দেহ উদ্ধার হচ্ছে, সেই গোডাউনের মালিক কোথায়?স্থানীয় এক যুবক কথা বলতে গিয়ে জানান, বহু বছর আগে এলাকারই এক প্রবীণ ব্যক্তি গঙ্গাধর দাস এই গোডাউনটি তৈরি করেছিলেন। তবে নিয়মকানুন মানা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর এড়িয়ে যান। দমকল আধিকারিকরা সোমবারই স্পষ্ট করে জানান, গোডাউনে আগুন নেভানোর মতো কোনও ব্যবস্থা ছিল না। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দমকলমন্ত্রীও সেই কথাই স্বীকার করেন। তবে তখনও গোডাউনের মালিকের দেখা মেলেনি।পরে জানা যায়, আনন্দপুরের ওই গোডাউনটি একটি নামী মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার। গোডাউনটি ভর্তি ছিল নরম পানীয় এবং শুকনো খাবারের প্যাকেটে। তবে গোডাউনের মালিকের দাবি, সেখানে অগ্নি নির্বাপণের সমস্ত ব্যবস্থা ছিল। তাঁর বক্তব্য, চার থেকে পাঁচ কোটি টাকার জিনিস পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, ফায়ার এক্সটিংগুইশার ছিল, এখনও সেগুলি সেখানে পড়ে রয়েছে। কিন্তু রাত দুটোর সময় আগুন লাগায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। তাই কেউ ব্যবহার করার সুযোগ পাননি।যদিও দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এ বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দমকলের ডিজির সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন যে ওই গোডাউনে অগ্নি নির্বাপণের মতো কোনও ব্যবস্থা ছিল না। ফরেনসিক তদন্ত হবে, এফআইআর দায়ের করা হবে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলবে বলেও জানান তিনি।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

আনন্দপুরে আগুনে মৃত্যু: সত্যিই কি বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করা হয়েছিল? প্রকাশ্যে পুলিশের রিপোর্ট

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, বাইরে থেকে কি গুদামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? নিখোঁজ কর্মীদের পরিবারের একাংশ প্রথম দিকে সরাসরি গুদামের মালিকের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই আটকে পড়ে প্রাণ হারান কর্মীরা। কিন্তু সত্যিই কি তাই? নাকি ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ?প্রায় ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দাউদাউ করে জ্বলেছিল আনন্দপুরের ওই কারখানা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারখানার ভিতরে দুটি আলাদা গুদাম ছিল। একটি ছিল একটি নামী মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার, অন্যটি একটি ডেকরেটর্স সংস্থার। দুটি গুদামেই ছিল প্রচুর শুকনো খাদ্যদ্রব্য ও দাহ্য সামগ্রী। এর মধ্যেই মজুত ছিল পাম তেল। আগুন লাগার পর এই দাহ্য বস্তুগুলিই আগুনকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জন কর্মীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। তবে প্রশাসনের ধারণা, এখনও অন্তত ২৫ জন কর্মী নিখোঁজ। সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া ওই কারখানায় আদৌ কেউ জীবিত রয়েছেন কি না, তা নিয়েই গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একটি প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছে পুলিশ। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, বাইরে থেকে কেউ গুদামের দরজায় তালা লাগাননি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আগুন লাগার সময় গুদামের টিনের চাল ভেঙে পড়ে। তার জেরেই ভিতরে আটকে পড়েন কর্মীরা এবং কারখানাটি কার্যত মৃত্যুকূপে পরিণত হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডেকরেটর্স সংস্থার গুদামে ঢোকা ও বেরনোর জন্য দুটি গেট ছিল। আগুন লাগার সময় ওই দুই গেটের সামনেই থাকা টিনের চাল ভেঙে পড়ে। ফলে গেট দুটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। কর্মীরা প্রাণপণে গেট খোলার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। বিকল্প কোনও বেরনোর পথ খুঁজে পাননি তাঁরা।শেষ পর্যন্ত আটকে পড়া কর্মীরা টিনের চাল ভেঙে বেরনোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই সময়ই সেখানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আরও ভয়াবহ আকার নেয়। সেখানেই পুড়ে মৃত্যু হয় একাধিক কর্মীর।মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার গুদামেও প্রায় একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই গুদামের মূল গেটের সামনেই দাউদাউ করে জ্বলছিল আগুন। ফলে গেটের চাবি নিজেদের কাছে থাকলেও তিন কর্মী আগুনের তাপে গেটের কাছে পৌঁছতে পারেননি। ওই গুদামেও প্রচুর পাম তেল মজুত ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানেও আগুন ধরে যায়।প্রাণ বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে তাঁরা গেটের পাশেই থাকা একটি অফিস ঘরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই পরিবারের সঙ্গে শেষবার কথা বলেছিলেন তাঁরা। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই ঘরেও ছড়িয়ে পড়ে আগুন। শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা হয়নি। সেখানেই মৃত্যু হয় তিন কর্মীর।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

মোমো নয়, ডেকরেটর্স কারখানাও জ্বলছে! নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে উদ্বেগ

প্রায় বারো ঘণ্টা পেরিয়ে গেল, এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। রবিবার গভীর রাত থেকে জ্বলছে একটি নামজাদা মোমো কারখানা। তার পাশেই রয়েছে একটি ডেকরেটর্স সংস্থার কারখানা। সেই দুই কারখানায় কাজ করা বহু কর্মীর এখনও কোনও খোঁজ নেই। ফোন বন্ধ, কোনও যোগাযোগ নেই। উদ্বেগে, আতঙ্কে ভেঙে পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৩ জন নিখোঁজের একটি তালিকা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে তিন জন মোমো কারখানার কর্মী এবং দশ জন ডেকরেটর্স সংস্থার শ্রমিক। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন গুরুপদ সাউ। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। তিনি মোমো কারখানার পাশের ডেকরেটর্সের গুদামে ফুলের কাজ করতেন। রবিবার রাতেও পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল গুরুপদের। তিনি জানিয়েছিলেন, গুদামের ভিতরে কাজ করছেন। কিন্তু সোমবার ভোরে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ। এরপর থেকেই উৎকণ্ঠা বাড়ছে পরিবারের।ঘটনাস্থলে হাজির গুরুপদের এক আত্মীয় জানান, গুরুপদ রাতে গুদামেই ছিলেন বলে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয়। সকাল থেকে তাঁকে ফোন করা হলেও কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু গুরুপদ নন, তাঁর সঙ্গে কাজ করা আরও অনেক শ্রমিকেরও খোঁজ নেই। তাঁদের অনেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা বলে জানা যাচ্ছে।প্রথমে মনে করা হয়েছিল, মোমো কারখানার নাইট শিফ্টে থাকা তিন জন কর্মী নিখোঁজ। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা বেড়েছে। পরে জানা যায়, শুধু মোমো কারখানাই নয়, পাশাপাশি থাকা ডেকরেটর্সের গুদাম থেকেও একাধিক কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। সব মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।এখনও আগুন পুরোপুরি নেভেনি। ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালানো সম্ভব হয়নি। দমকল ও পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তে বাড়ছে উদ্বেগ। প্রিয়জনদের কোনও খবর না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা।

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
কলকাতা

নাইট শিফটে ঢুকেছিলেন, আর বেরোননি! আনন্দপুর কাণ্ডে বাড়ছে নিখোঁজের সংখ্যা

নয় ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরে একটি নামজাদা মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার কারখানায় আগুন লাগে। পরে জানা যায়, ওই একই গোডাউনে একটি ডেকরেটর সংস্থার কর্মীরাও কাজ করতেন। ফলে আগুনের ভয়াবহতা আরও বেড়ে যায়। কার্যত জতুগৃহে পরিণত হয়েছে শহর কলকাতার একাংশ।গত কয়েক দিনে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত শহরবাসী। তবে সবকটিকে ছাপিয়ে গিয়েছে আনন্দপুরের এই ঘটনা। রাত থেকে জ্বলছে গোটা কারখানা। সামনের দিকের আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও ভিতরের অংশে এখনও দমকল পৌঁছতে পারেনি। ১২টি ইঞ্জিন নামানো হলেও আগুনের উৎসস্থল পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব হয়নি দমকলকর্মীদের।প্রথমে জানা গিয়েছিল, রাতের নাইট শিফটে মোমো সংস্থার তিনজন কর্মী কারখানার ভিতরে ছিলেন। আগুন লাগার সময় তাঁরা গোডাউনেই আটকে পড়েন। এক কর্মীর পরিবারের অভিযোগ, শেষবার ফোনে তিনি জানিয়েছিলেন কারখানার গেট বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুরুতে নিখোঁজের সংখ্যা তিনজন বলা হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডে ১৩ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন এবং তিনজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে তিনজন ওই মোমো সংস্থার কর্মী এবং বাকি দশজন ডেকরেটর সংস্থার বলে জানা গিয়েছে। তবে পুলিশ এখনও এই সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাইট শিফটে থাকা কর্মীদের মধ্যে একজন ছিলেন পঙ্কজ হালদার। সোমবার সকালে জ্বলন্ত কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর দাদা। মুখে চরম আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা। তিনি জানান, এখনও ভাইয়ের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। দমকল বা পুলিশের কাছ থেকেও কোনও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতার বুকে ভয়াবহ আগুন, নামী মোমো কারখানায় নিখোঁজ ৬ কর্মী

১২টি ইঞ্জিন নামানো হয়েছে আগুন নেভাতে। তবু নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে দমকল। শহর কলকাতার বুকে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কার্যত নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন অনেকেই। গভীর রাত থেকে জ্বলছে আনন্দপুর এলাকার একটি নামী মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার কারখানা। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে আতঙ্ক।রাতে নাইট শিফটে কারখানার ভিতরে থাকা কর্মীদের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রথমে তিন জন কর্মী নিখোঁজ বলে মনে করা হলেও, পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ছজনে পৌঁছেছে। পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠা ক্রমশ চরমে উঠছে। অনেকের মনেই দানা বাঁধছে প্রাণহানির আশঙ্কা।এখনও পুরোপুরি নেভেনি আগুন। দমকলের উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। ভস্মীভূত কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে অসহায় পরিবারের চোখে মুখে শুধু উৎকণ্ঠা। মাঝেমধ্যেই কারখানার এক একটি অংশ ভেঙে পড়ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন, তাঁর জামাই ভিতরে আটকে রয়েছেন। শেষবার রাত তিনটে নাগাদ ফোন করেছিলেন। জানিয়েছিলেন শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, গেট বন্ধ থাকায় বাইরে বেরোতে পারছেন না।এই অভিযোগ শুধু একজনের নয়। কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক কর্মীর পরিবার একই অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, কারখানার গেট বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। এর মধ্যেই কারখানার এক পাশের পাঁচিল ভেঙে পড়ে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে। দমকল আগুনের উৎস খোঁজার চেষ্টা করছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, গোডাউনে প্রচুর পরিমাণে পাম অয়েল মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার নেয়।দমকলের এক আধিকারিক জানান, কারখানার পিছনের দিকে একটি আবাসিক এলাকা রয়েছে, যেখানে প্রায় ১০০ জন মানুষ থাকতেন। তাঁদের সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে গোডাউনের ভিতরে থাকা কর্মীদের এখনও উদ্ধার করা যায়নি। তাঁদের ফোনও বন্ধ।এই ঘটনার খবর পৌঁছেছে রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর কাছেও। তিনি জানান, ভোর তিনটে নাগাদ খবর পেয়ে দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ওই এলাকায় দুটি গোডাউন রয়েছে, একটি নামী মোমো সংস্থার, অন্যটি একটি ক্যাটারিং সংস্থার। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
রাজ্য

২৬৩ বছরের পুরানো কালনার ভবানন্দপুরে বিচারক হরিনারায়ণ মুখোপাধ্যায়'র "মুখার্জী বাড়ি"র পুজো

কালনা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম ভবনন্দাপুর। সেই সময়ে শহর থেকে দূরে এই প্রত্যন্ত গ্রামে দুর্গা পুজো করা দূর অস্ত, ভাবনাটাই ছিলো কঠিন। বর্তমানে মুখোপাধ্যায় পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য অশোক মুখোপাধ্যায় জানালেন, সতেরশো খীষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কালনা মহুকুমার অন্তর্গত ভবানন্দপুর গ্রামে জমিদারী লাভ করেন। এই অঞ্চলে দুর্গা পুজোর অধিক্য সেভাবে না থাকায় তিনি দুর্গা পুজোর উদ্যোগ নেন। বহুকাল অবধি এই মুখোপাধ্যায় পরিবারের পুজো-ই গ্রামের একমাত্র পুজো ছিলো। গ্রামবাসীরা চারদিন ধরে এই মন্ডপেই আনন্দ করতেন।শারদ সন্মান নিয়ে ক্ষুদে সদস্যদের উল্লাসভবানন্দপুরে গ্রামে এই দুর্গা পুজোর প্রবর্তক ছিলেন হরিনারায়ন মুখোপাধ্যায়। তারই উদ্যোগে এই পুজোর সূত্রপাত। পরিবারের সুত্রে জানা যায়, হরিনারায়ণ মুখোপাধ্যায় ১৭৫৯ এ (ইংরাজী) এই পুজো শুরু করেন। সাবেকি ঘরানার প্রতিমা, প্রথা মেনে মহালয়ার ভোরে দেবীর চক্ষূদান করা হয়। দেবীর গায়ে মাটি দেওয়া হয় জন্মাষ্টমীর পরেরদিন। মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য অশোক মুখোপাধ্যায় জনতার কথা কে জানান, অতীতে এই পুজোতে ছাগল বলিদান দেওয়া হত। উত্তরসুরীদের কাছে শোনা কথা, কোনও এক সাধক একবার এই পুজোতে আসেন, তাঁর আদেশেই ছাগল বলি দেওয়া বন্ধ হয়। বর্তমানে এই পুজোতে ছাঁচি কুমড়ো, কলা ও আখ বলি দেওয়া হয়। নবমীর দিন কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়।মুখার্জী বাড়ির কুমারী পুজোঅশোক মুখোপাধ্যায় আরও জানান, গ্রামের সকলে এসে মায়ের ভোগ প্রসাদ গ্রহণ করেন। আনুমানিক ১৫০০ থেকে ১৬০০ মানুষ মায়ের ভোগ প্রসাদ এখানে বসে খেয়ে যান। গ্রামের মানুষজনই সোৎসাহে এই ভোগ প্রসাদ বিতরণ করেন। জনতার কথার প্রতিনিধীর, দ্রব্য মুল্য বৃদ্ধিতে পুজোর আচার বা মানুষজন কে নিমন্ত্রনে কোনও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কিনা প্রশ্নের উত্তরে অশোক মুখোপাধ্যায় জানান, দ্রব্য মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সেভাবে আমারা কোনও কিছু ত্রুটি রাখিনি, কিভাবে মায়ের পুজোর যোগার হয়ে যাচ্ছে সেটা আমরাও বুঝতে পারিনা, পরিবারের প্রত্যকেই তাঁর অর্থনৈতিক ক্ষমতা মত এগিয়ে আসেন তাই এই পুজো করতে আমাদের সেভাবে এখনও কোনও অসুবিধার মধ্যে প্ররতে হয়নি।পরিবারের আরও এক সদস্য তাপস মুখোপাধ্যায় জানান ১৭৭৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট কোলকাতা ফোর্ট উইলিয়ামে চালু হয়। হরিনারায়ণ মুখোপাধ্যায় সেই সময়ে সেই কোর্টে কলকাতায় বিচারক ছিলেন তাঁরই উদ্যোগে এই পুজোর শুরু। তাঁর কথায় এই পুজোর খরচ মায়-ই যোগার করে নেন। তিনি আরও বলেন পরিবারের সকলে এবং গ্রামবাসীদের নিয়ে এই পাঁচদিন আমরা মাতোয়ারা থাকি। তাঁর বিশ্বাস খুবই জাগ্রত এই পুজো।পরিবারের কনিষ্ট সদস্য কুনাল মুখোপাধ্যায় জানান, বংশ পরম্পরায় একটা লিগাসি আমরা ক্যারী করে চলেছি খুব আনন্দ সহকারে, আমরা কোনও সময়েই মনে করিনা আমরা খাওয়াচ্ছি। এই যে গ্রামবাসীদের ভোগ বিতরণ, এটা মা দুর্গা নিজেই করিয়ে নেন, এতে আমাদের কোনও ভুমিকা নেই। তিনি ও পরিবারের বাকি সদস্যরা প্যানোরামা ও জনতার কথার শারদ সন্মান সেরা বনেদী বাড়ির পুজো পুরস্কার পেয়ে খুবই আনন্দিত বলে জানান। পুরস্কার পাওয়ার মোমেন্টো নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঢাক বাজিয়ে নৃত্য করতেও দেখা যায়।

অক্টোবর ০৪, ২০২২

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ভোটের আগে নাগরিকত্ব! উত্তরবঙ্গে ৪০ জনকে শংসাপত্র ঘিরে তোলপাড়

উত্তরবঙ্গে ভোটের আগে নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে বসবাস করা অন্তত ৪০ জন মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার মহকুমা এলাকায় ঘটেছে। নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পেয়ে স্বস্তি ও খুশি প্রকাশ করেছেন ওই পরিবারগুলি।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার পর এই নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করলেও যাঁরা আইনি স্বীকৃতি পাননি, তাঁদের এই শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁদের কাছে এটি একটি বড় স্বস্তির বিষয়।গত কয়েক মাস ধরে আবেদন যাচাই, শুনানি এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ক্রান্তি ব্লক থেকে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। ভোজারি পাড়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পরিবার ইতিমধ্যেই এই সুবিধা পেয়েছে। এছাড়াও ময়নাগুড়ি, রাজগঞ্জ এবং জলপাইগুড়ির অন্যান্য এলাকা থেকেও বেশ কিছু মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন।এই নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের আগে এই পদক্ষেপকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে। একই সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নাম বাদ পড়ার অভিযোগও সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।সব মিলিয়ে নাগরিকত্ব প্রদান এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের এই দুই ইস্যু উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এপ্রিল ১৩, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগেই ফল ঘোষণা? আসনসংখ্যা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

সিউড়ির জনসভা থেকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বড় দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এ বার তৃণমূল অন্তত ২২৬টির বেশি আসন পাবে। এর আগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ২০২১ সালের থেকে অন্তত একটি আসন বেশি জিতবে তৃণমূল। তবে এ দিন প্রথমবার নিজেই নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ করে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২১৩টি আসনে জয় পেয়েছিল।সভা থেকে ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কোথাও ভোটযন্ত্রে সমস্যা হলে সেই যন্ত্রে ভোট না দিতে। গণনার সময় ধীরে ধীরে ফল প্রকাশ করা হতে পারে এবং আগে থেকেই কোনও পক্ষ জয়ের দাবি ছড়াতে পারে, সেইসব কথায় গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, আর একদিন ধৈর্য ধরলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, তাঁর বিশ্বাস, আগামী নির্বাচনে তৃণমূল ২২৬টির বেশি আসন পাবে। তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে বাহিনী এনে বা নানা প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাকে দখল করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, হামলার জবাব মানুষই দেবে ভোটের মাধ্যমে।এ দিন তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও চ্যালেঞ্জ জানান। মমতা বলেন, বাংলায় তৃণমূল সরকার চাইলে তিনি নিজেকে সবকটি আসনের প্রার্থী হিসেবেই মনে করেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী যদি সব আসনের প্রার্থী হওয়ার কথা বলেন, তবে তাঁকে ঠিক করতে হবে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন নাকি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতে চান। সেই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানাতেও তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।এই মন্তব্য ঘিরে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এপ্রিল ১৩, ২০২৬
দেশ

‘স্যান্ডউইচ’ হয়ে যাচ্ছে ভোটার! আদালতে কমিশনকে কড়া প্রশ্ন

ভোটার তালিকা ফ্রিজ করার সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হলেও তাতে সাড়া দিল না শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই বিষয়ে ট্রাইবুনালের কাছেই যেতে হবে। একইসঙ্গে তারা জানায়, ট্রাইবুনালের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত।তবে শুনানির সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, বিহারে যে পদ্ধতিতে বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া হয়েছে, বাংলায় সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। তাঁর কথায়, একজন সাধারণ ভোটার দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে পড়ে কার্যত সমস্যায় পড়ছেন।তিনি আরও বলেন, বাংলার ক্ষেত্রে যে ধরনের যুক্তিগত অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে, তা অন্য কোনও রাজ্যে হয়নি। এদিন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডুকে এই বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তিনি কমিশনের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং জানান, বিভিন্ন কারণে নিয়মের কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে।এই প্রসঙ্গে বিচারপতি বাগচী বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে যাঁরা ইতিমধ্যেই ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাঁদের আবার নতুন করে ফর্ম পূরণের জন্য বলা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।২০০২ সালের ভোটার তালিকার প্রসঙ্গও উঠে আসে শুনানিতে। বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, আগে যদি বলা হয়ে থাকে যে ওই তালিকায় নাম থাকলেই চলবে, তাহলে এখন নতুন করে নথি চাওয়ার প্রয়োজন কেন। এর উত্তরে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, নাম পরিবর্তন বা পরিচয় যাচাইয়ের জন্যই এই নথি প্রয়োজন।বিচারপতি বাগচী তখন মন্তব্য করেন, এতে মনে হচ্ছে কমিশন তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যায্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।অন্যদিকে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সুযোগ ছিল। তাঁদের দাবি, প্রায় অর্ধেক আবেদন বাতিল হয়েছে নিয়ম মেনে।তবে বিচারপতি আবারও স্পষ্ট করেন, এটি দোষারোপের বিষয় নয়, বরং একজন সাধারণ ভোটার যেন সমস্যার মধ্যে না পড়েন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবশেষে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, এই পর্যায়ে তারা ট্রাইবুনালের কাজে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।

এপ্রিল ১৩, ২০২৬
বিদেশ

যুদ্ধের আশঙ্কা ফিরতেই তেলের দামে আগুন! ভারতে কি বাড়বে পেট্রোল-ডিজেল?

টানা চলা সংঘর্ষের পর ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধবিরতি বিশ্বজুড়ে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল। সেই সময় তেলের দাম কমতেও শুরু করেছিল। কিন্তু পরিস্থিতি আবার বদলাতে শুরু করেছে। ফের বেড়ে গেল অপরিশোধিত তেলের দাম এবং তা আবার ১০০ ডলারের গণ্ডি পার করেছে। ফলে ভারতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।জানা গিয়েছে, ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষ মেটাতে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই আলোচনা সফল হয়নি। এর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে আবার উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। সোমবার সকালে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৪ ডলার ছাড়িয়েছে। একইভাবে ব্রেন্ট তেলের দামও ১০০ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির মূল কারণ ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজারে দাম বাড়ছে। বিনিয়োগকারীরাও সতর্ক হয়ে পড়েছেন। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমেরিকার তরফে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বের তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে এবং সঙ্কট আরও গভীর হতে পারে।কয়েক দিন আগেও ছবিটা অন্যরকম ছিল। এপ্রিলের শুরুতে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এরপর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হতেই তা কমে প্রায় ৯১ ডলারে নেমে আসে। কিন্তু নতুন করে আলোচনা ভেস্তে যাওয়া এবং উত্তেজনা বাড়ার কারণে আবার দাম বাড়তে শুরু করেছে।এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েন সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণ মানুষের জীবনে। তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়বে পরিবহণ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামে।এদিকে আমেরিকার তরফে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত মিলতেই ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাগের গালিবাফ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং তার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

এপ্রিল ১৩, ২০২৬
দেশ

ভোটের আগে বড় ধোঁয়াশা! বিচারাধীন ভোটাররা কি ভোট দিতে পারবেন? স্পষ্ট জানাল আদালত

পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হল। রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে এবং যাঁদের আবেদন এখনও বিচারাধীন, তাঁদের যেন ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে, আপাতত বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি জানান, মোট ৬০ লক্ষ ৪ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। এখনও প্রায় ১৮২৩টি মামলা প্রযুক্তিগত কারণে মুলতুবি রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।বিচারপতি বাগচী জানান, প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। যাঁদের নাম ৬, ৭ এবং ৮ এপ্রিল বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে, তাঁরা ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন।রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, কিছু এলাকায় প্রকাশিত তালিকায় থাকা সব ভোটারই এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। অথচ এমন ধারণা তৈরি করা হচ্ছে যেন সব মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। তিনি জানান, প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদন এখনও বিচারাধীন এবং তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।এর উত্তরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, এই প্রশ্ন ওঠেই না। তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের উপর কোনওরকম চাপ সৃষ্টি করা আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়।এরপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আদালতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে এবং তারা তাদের ভোটাধিকার চায়। এই সময় অন্য পক্ষের আইনজীবী জনসংখ্যার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তোলেন। পাল্টা জবাবে কল্যাণ বলেন, বাংলাকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করা উচিত নয়।মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী আদালতে আইনের বিভিন্ন ধারা তুলে ধরে বলেন, যাঁদের ভোটাধিকার হারিয়েছে বা যাঁরা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই দাবি খারিজ করা হয়।সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি বাগচী জানান, বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য আদালতের কিছু সময় প্রয়োজন। দুই পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এপ্রিল ১৩, ২০২৬
রাজ্য

পাঁচ ডিগ্রি বাড়বে তাপমাত্রা! সামনে কঠিন সপ্তাহের সতর্কতা

টানা কয়েক দিনের ঝড়বৃষ্টির পর রাজ্যে ফের বাড়ছে গরমের দাপট। রবিবার সকাল থেকেই রোদের তেজ চোখে পড়ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী সপ্তাহে রাজ্যজুড়ে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া আরও বাড়বে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। চৌদ্দ থেকে সতেরো এপ্রিল পশ্চিমের জেলাগুলিতে তীব্র গরমের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম। দক্ষিণবঙ্গে চৌদ্দ ও পনেরো এপ্রিল দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিমের কিছু জেলা এবং উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়বে এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে অস্বস্তিও বাড়বে। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার থাকবে, ফলে তাপমাত্রা আরও বাড়বে। মঙ্গলবার থেকে গরমের তীব্রতা বাড়বে এবং শুক্রবার পর্যন্ত অস্বস্তিকর আবহাওয়া চলবে। কোথাও কোথাও বজ্রগর্ভ মেঘের কারণে সামান্য ঝড়বৃষ্টি হতে পারে, বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলায়।মঙ্গলবার ও বুধবার এই জেলাগুলিতে গরমের সঙ্গে অস্বস্তিও বাড়বে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা। আবহাওয়া দফতর সতর্ক থাকতে বলেছে।উত্তরবঙ্গে রবিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পং-সহ উপরের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ কিলোমিটার গতিতে দমকা হাওয়া বইতে পারে। তবে সোমবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে এবং তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে। পার্বত্য এলাকায় বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টি চললেও বাকি জেলাগুলিতে শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে।কলকাতাতেও তাপমাত্রা বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। রবিবার সকাল থেকেই আকাশ পরিষ্কার, দিনের দিকে আংশিক মেঘলা হতে পারে। আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আগামী সপ্তাহে গরম ও অস্বস্তি বাড়বে শহরেও। রবিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ছাব্বিশ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে সামান্য বেশি। দিনের তাপমাত্রা তেত্রিশ দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ছিল। আগামী চব্বিশ ঘণ্টায় তাপমাত্রা চব্বিশ থেকে পঁয়ত্রিশ ডিগ্রির মধ্যে থাকতে পারে।

এপ্রিল ১২, ২০২৬
বিদেশ

কুষ্টিয়ায় পিটিয়ে খুন পীর, ধর্মীয় বিতর্কে তোলপাড় বাংলাদেশ

কবি জীবনানন্দ দাশ-এর লেখা অদ্ভুত আঁধার যেন আবারও বাস্তবের সঙ্গে মিলে গেল। বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় এক পীরকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী এই এলাকায় ধর্মীয় বিতর্ক ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তারই জেরে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।জানা গিয়েছে, পীর শামিম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে শনিবার বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেল চারটের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযোগ, এরপর তাঁর আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শামিম রেজা দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ভিন্নভাবে ধর্মীয় পরিচয় দিতেন এবং নানা বিতর্কিত বক্তব্য রাখতেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ডে এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছিল। সম্প্রতি তাঁর কিছু বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, তিনি প্রচলিত ধর্মীয় আচার মানতেন না এবং অনুসারীদেরও অন্যভাবে চলার কথা বলতেন।ঘটনার দিন সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই ক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।জানা গিয়েছে, শামিম রেজা উচ্চশিক্ষিত ছিলেন এবং এক সময় শিক্ষকতা করতেন। পরবর্তীতে নিজ এলাকায় ফিরে এসে একটি ধর্মীয় আস্তানা গড়ে তোলেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল বলে জানা যায়।এই ঘটনায় সোশ্যাল মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি এটিকে ধর্মীয় হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন সহিংসতার বিরুদ্ধে।এই ঘটনায় নতুন করে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এপ্রিল ১২, ২০২৬
বিদেশ

হরমুজ নিয়ে চরম টানাপোড়েন, চুক্তি ছাড়াই ফিরল আমেরিকা

দীর্ঘ একুশ ঘণ্টার বৈঠক, তবু মেলেনি কোনও সমাধান। ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ম্যারাথন আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। বৈঠক শেষে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানান, তাদের পক্ষ থেকে সব চেষ্টা করা হলেও ইরান শর্ত মানতে রাজি হয়নি। ফলে কোনও চুক্তি ছাড়াই ফিরতে হয়েছে তাঁদের।এই মন্তব্যের পরই পাল্টা সুর চড়ায় ইরান। তেহরানের দাবি, আমেরিকার শর্তগুলো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ছিল এবং সেই কারণেই আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি। ইরানের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই তারা দীর্ঘ সময় আলোচনা চালিয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও রফাসূত্র মেলেনি।এই বৈঠকে অন্যতম বড় জট ছিল হরমুজ প্রণালী নিয়ে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের উপর তাদের অবস্থান বদলাবে না। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, হরমুজ খুলতেই হবে এবং সেই লক্ষ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।প্রায় এক মাসের উত্তেজনার পর দুই দেশের এই বৈঠকের দিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। বৈঠকের পরে ভান্স জানান, আমেরিকা তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেকোন বিষয়ে আপস সম্ভব এবং কোথায় নয়। যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে, তবুও চুক্তি না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিলই রয়ে গেছে।সূত্রের খবর, আবারও নতুন করে আলোচনায় বসতে পারে দুই দেশ। ইসলামাবাদের তরফে বৈঠক বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হতে পারে। তবে সেই বৈঠক আদৌ হবে কি না এবং হলেও কোনও সমাধান মিলবে কি না, তা নিয়েই বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

এপ্রিল ১২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal