অনন্য নজির রেল পুলিসের। শুক্রবার বর্ধমান জিআরপি থানায় এক ছোট্ট অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২৩ জন প্রাপকের হাতে তাদের মোবাইল ফিরিয়ে দেওয়া হল। এই অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল ফিরে পাওয়া।অনুষ্ঠানে জি আর পি; ও.সি চিন্তাহরণ সিনহা সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। হারিয়ে পাওয়া মোবাইল পেয়ে প্রাপকেরা জানান; তারা খুব খুশি। বারবার রেল পুলিশকে ধন্যবাদ জানান তারা।
পাল্লা রোড স্টেশনের পর এবার বর্ধমান হাওড়া কর্ড শাখার জৌগ্রাম স্টেশনে উচ্ছেদের নোটিশ পড়লো। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে জৌগ্রাম এলাকায়। দিন তিনেক আগে রেলের পক্ষ থেকে উচ্ছেদের নোটিশ এলাকায় টাঙানো হয়। ২৮ নভেম্বরের মধ্যে তাদের জায়গা খালি করার সময় সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে রেলের তরফে।এই জায়গার মধ্যেই আছে একটি আইসিডিএস সেন্টার। সেটিও ভাঙা ফেলা হবে রেলের পক্ষ থেকে। স্থানীয় বাসিন্দা বাসন্তী তুরী জানান, তারা ৪০ বছর ধরে এখানে বাস করছেন। এখন হঠাৎ করে উচ্ছেদের নোটিশ দিলে তারা বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে কোথায় যাবে। এখানে ৪০ টি পরিবার বাস করে। তারা রেলের উচ্ছেদ নোটিশে কার্যত অথৈজলে পড়েছে।আইসিডিএস সেন্টারে ৬২ টি ছেলে পড়াশোনা করে ও পাঁচজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এখানে খাবার নেন। এখন রেলের পক্ষ থেকে আইসিডিএস সেন্টারটি ভেঙে দেওয়া হলে বাচ্চাদের পড়াশোনা ও খাওয়া সবই বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানান এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য মৃদুলকান্তি মণ্ডল।স্থানীয় বাসিন্দা সুষমা রায় বলেন, মাস দুয়েক আগে একবার এলাকায় মাইকিং করে বলা হয়, জায়গা ছাড়ার জন্য।তারপর হঠাৎই নোটিশ দেওয়া হয় নভেম্বর মাসের ১৯ তারিখে। স্থানীয় বাসিন্দারা চাইছেন তাদের সময় দেওয়া হোক। মাস চারেক সময় দিলে তাদের সুবিধা হয়।এই বিষয়ে পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তীর যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কি করে রেলের জায়গায় আইসিডিএস সেন্টার তৈরী হল বুঝতে পারছি না।তবে যদি বাসিন্দারা রেলের কাছে লিখিত ভাবে জানান যে তারা দুমাসের মধ্যে উঠে যাবেন তাহলে রেল সেটা ভেবে দেখবে।
আবার রেল যন্ত্রণা! পূর্ব রেলের মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তি সেই বার্তাই দিচ্ছে। হাওড়া-বর্ধমান শাখার যাত্রীদের কপালে আবার দূর্ভোগের আশঙ্কা। রেল ট্রাক ও বেশ কিছু রেলসেতুতে মেরামতি-র জন্য হাওড়া-বর্ধমান শাখায় বেশ কিছু লোকাল ট্রেন ১০ দিন বাতিল থাকবে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ই নভেম্বর শুক্রবার থেকে ২৭ নভেম্বর রবিবার অবধি হাওড়া-বর্ধমান শাখার লোকাল ট্রেনের সাথে কিছু মেল এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট-ও বদলে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে ওই সময় ট্রাফিক এবং পাওয়ার ব্লকের সাথে সাথে বারুইপাড়া-চন্দনপুর শাখায় চতুর্থ লাইনের কাজও চলবে।১৮ই নভেম্বর শুক্রবার থেকে ২৭ নভেম্বর রবিবার অবধি হাওড়া থেকে ছেড়ে আসা ১৭টি লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। শিয়ালদহ থেকে বাতিল ২টি, বর্ধমান থেকে ৭টি, মশাগ্রাম ও চন্দনপুর থেকে বাতিল করা হয়েছে মোট ৪টি করে লোকাল ট্রেন। এর সাথে সাথে বাতিল করা হয়েছে গুড়াপ থেকে ১টি ট্রেন ও বারুইপুর থেকে ৩টি ট্রেন।এর আগেও দীর্ঘ এক মাস ধরে পাওয়ার ব্লকের কাজের জন্য বর্ধমান-হাওড়া মেন শাখায় কয়েকটি লোকাল ট্রেনের পরিষেবা ব্যাহত হয়েছিল।
ডাউন হাওড়া লোকাল আগের ষ্টেশন থেকে ছেড়েছে, এদিকে এক টোটো চালক অন্তঃস্বত্তা মহিলাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে রেলগেট পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ রেললাইনে টোটো-র একটি চাকা ফেঁসে গেল। কিছুতেই সেখান থেকে টোটোটিকে তুলে আনতে পারছিলেন না। পথচলতি মানুষ সেদিকে তাকিয়েও না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছিলেন নিজের কাজে। এক ব্যক্তি মটরবাইকে চেপে রেলগেট পার হতে গিয়ে থমকে দাঁড়ালেন। মটরবাইকটিকে রেলগেট পার করে রেখে নিজে হাত লাগালেন টোটোটিকে সেখান থেকে উদ্ধার করার জন্য। একসময় তিনি উপলব্ধি করলেন একাজ একার দ্বারা সম্ভব নয়, ডাকলেন এক পথচলতি মানুষকে, ততক্ষণে ট্রেন ও শিয়ড়ে! দুজনের প্রচেষ্টায় টোটো রেল লাইনের মৃত্যু ফাঁদ থেকে মুক্ত হয়।ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের মেমারি শহরের। টোটো চালক মেমারি গ্রামীন হাসপাতাল থেকে অন্তঃস্বত্তা মহিলাকে নুদিপুর অভিমুখে নিয়ে যাচ্ছিলেন। যে ব্যক্তি টোটোটিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করলেন তিনি মেমারি পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন বিষয়ী। যখন রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক নেতাদের আচার ব্যবহার নিয়ে মানুষ ব্যথিত, ক্ষূব্ধ, মর্মাহত! সেই সময় তাঁর এই মানবিক ব্যবহার জনমানসে এক অন্য ভাবমুর্তির প্রচার পাচ্ছে। যদিও তিনি নিজে এটাকে খুব সাধারণ ঘটনা বলেই আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, মেমারি শহরের পূর্ব দিকের ইলামপুর গেটে এই ঘটনাটি ঘটে। স্বপন বিষয়ী জানান, প্রতিনিয়তই এই ধরনের ঘটনা মেমারি শহরে ঘটে থাকে। রেল গেটের রাস্তার অবস্থা খুবই বেহাল। তিনি আরও জানান, মেমারি শহরের ওপর তিনটি রেলগেট (ইলামপুর, মালগুদাম, পুরসভা) প্রায় সবকটিরই অবস্থা উনিশ-বিশ একই। রেল কর্তৃপক্ষ উদাসীন এই ব্যাপারে। যেকোনও দিন বড় ধরনের কোনও দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিনি আবেদন করেন এই ধরনের কোনও বিপদে যদি কেউ পড়েন একজন সহনাগরিক হিসাবে তাঁর পাশে থাকুন।টোটোচালক বলেন, অন্তঃস্বত্তা মহিলাকে নিয়ে যেভাবে বিপদে পরেছিলাম চেয়ারম্যান স্যার না থাকলে আজ কি হত ভাবতেই গা শিউরে উঠছে। চাকাটা লাইনের ফাঁকে আটকে যাওয়ার পর অনেকেই পাশ কাটিয়ে চলে গেল, কেউ ফিরেও তাকালো না। এক ভদ্রলোক লাইন পেরিয়ে তাঁর মটরবাইকটিকে রেখে ফিরে এসে আমার সাথে হাত লাগিয়ে টোটোটাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করলেন। সেই ভদ্রলোক আর কেউ নন আমাদের মেমারি পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন বিষয়ী।
করোনা আবহ পেরিয়ে এবার দুর্গাপুজোয় মহানগর ভিড়ে ঠাসা। রেকর্ড ভিড় মেট্রোতেও। শহরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত যাওয়ার ক্ষেত্রে মেট্রোকেই ভরসা যাত্রীদের। তাই রোজই নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে মেট্রো। চতুর্থী থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত কলকাতা মেট্রো কোটি কোটি টাকার ওপর আয় করেছে। গড় যাত্রী সংখ্যা নিত্য দিন প্রায় ৭ লক্ষ। দিনভর পরিষেবা দিচ্ছে মেট্রো। যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় টিকিট কাউন্টারের সংখ্যাও বাড়িয়েছে কতৃপক্ষ। মেট্রো রেল জানিয়েছে, ষষ্ঠীতে সাড়ে ৭ লক্ষেরও বেশি যাত্রী মেট্রোতে চড়েছেন। গতকাল অর্থাৎ ১ অক্টোবর মেট্রো রেলের মোট যাত্রী সংখ্যা ছিল ৭ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩৯০ জন। ষষ্ঠীতে মোট ২৮৮টি ট্রেন চালিয়েছে কলকাতা মেট্রোরেল। এই দিন টোকেন, স্মার্ট কার্ড বিক্রি এবং স্মার্ট কার্ড রিচার্জে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের মোট আয় হয়েছে ১ কোটি ২৮ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৩০ টাকা।ষষ্ঠীতেও সর্বাধিক যাত্রী চড়ার রেকর্ড দমদম স্টেশনের। দমদমে ১ অক্টোবর ৮৭ হাজার ৩৬৪ জন যাত্রী মেট্রোয় চেপেছেন। কালীঘাট স্টেশন থেকে ৬০ হাজার ৯৮৮ জন, এসপ্ল্যানেড থেকে ৪৫ হাজার ৩০১ জন এবং রবীন্দ্র সদন থেকে ৩৭ হাজার ১৪ জন যাত্রী ষষ্ঠীতে মেট্রোয় চেপেছেন। গতকাল ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোয় ৩৬ হাজার ২৭৫ জন যাত্রী মেট্রোয় চেপেছেন।
বাংলার দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কো হেরিটেজ তকম দিয়েছে। তা নিয়ে মাতোয়াড়া বাংলা। এদিকে কলকাতার প্রতিমা দর্শনে সাধারণের সুবিধা করতে প্রতিবারের মতো এবারও এগিয়ে এসেছে পূর্ব রেল। দুর্গা-পুজোয় ঠাকুর ও প্যান্ডেল দেখার জন্য একগুচ্ছ অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত পূর্ব রেলের। পুজোতে রাতভর ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত কথা জানালো রেল। পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনে ২০টি স্পেশাল ট্রেন দুর্গাপুজোর পঞ্চমী থেকে দশমী অবধি চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। এই বাড়তি ট্রেন গুলি শিয়ালদহনৈহাটি, শিয়ালদহরানাঘাট, শিয়ালদহবনগাঁ, শিয়ালদহ-ডানকুনি ও দক্ষিণ শাখায় স্পেশাল বজবজ এবং বারুইপুর লোকাল চালানো হবে বলে সুত্রে জানা গেছে।কোন ষ্টেশন থেকে কোন সময় স্পেশাল ট্রেনগুলি ছাড়বে জেনে নিনঃ* শিয়ালদহ থেকে রানাঘাট যাবার শেষ ট্রেন শিয়ালদহ ষ্টেশন ছাড়বে রাত ১২ টা ৪০ মিনিটে। রানাঘাট থেকে শিয়ালদহ আসার লোকাল ট্রেন রানাঘাট ছাড়বে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে।* দুটি স্পেশাল শিয়ালদহ-নৈহাটি লোকাল চালানো হবে রাতে। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে একটি ট্রেন শিয়ালদহ থেকে ছাড়বে, অপরটি ২টা ৩০ মিনিটে। ওই একই শাখায় নৈহাটি থেকে শিয়ালদহের উদ্দেশে শেষ দুটি ট্রেন ছাড়বে যথাক্রমে রাত ১২টা ২৫মিনিট ও রাত ২টা ৫৫ মিনিটে।* শিয়ালদহ - বনগাঁর লাইনের শেষ ট্রেন শিয়ালদহ ষ্টেশন ছাড়বে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে। অন্যদিকে বনগাঁ থেকে শেষ শিয়ালদহ আসার শেষ লোকাল ছাড়বে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে।* শিয়ালদহ-ডানকুনি শেষ লোকাল ট্রেন শিয়ালদহ ছাড়বে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে। আবার ডানকুনি থেকে শিয়ালদহের উদ্দেশে শেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে।* এছাড়া অতিরিক্ত ভিড় ও ঠাকুর দেখার জন্য পুজোর সময় এক জোড়া রানাঘাট-বনগাঁ লোকাল ট্রেন চলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল দপ্তর। রানাঘাট থেকে বনগাঁ যাওয়ার শেষ লোকাল ট্রেনটি ছাড়বে রাত ১০টায়। অপরদিকে, রানাঘাট আসার শেষ ট্রেন বনগাঁ ষ্টেশন ছাড়বে ৯ টা ৫৮ মিনিটে।* শিয়ালদহ-বারুইপুর শাখায় তিন জোড়া লোকাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। শিয়ালদহ থেকে সেই তিনটি ট্রেন ছাড়বে যথাক্রমে- দুপুর ৩টা ২০ মিনিট, রাত ১২টা ৩০ এবং ২টা ২০ মিনিটে।* বারুইপুর থেকে শিয়ালদহ আসারও ট্রেন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ওই শাখায় তিনটি লোকাল ট্রেন দেওয়া হয়েছে। একটি বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটে, বাকি দুটি রাত ১টা ২৫ মিনিটে ও ভোর ৩টা ১০ মিনিটে।* শিয়ালদহ-বজবজ শাখায়, বজবজ স্টেশন থেকে শিয়ালদহ আসার শেষ লোকাল ট্রেন ছাড়বে রাত ১২টা ৩০ মিনিটে। অপরদিকে শিয়ালদহ থেকে বজবজের উদ্দশ্যে শেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে।
কুড়মি সমাজের স্পষ্ট দাবি, তপসিলি জনজাতিভুক্ত করতে হবে। রেল ও সড়ক অবরোধের ১০০ ঘন্টা পেরিয়ে গিয়েছে। তবু মেলেনি রফাসূত্র। রাজ্য সরকার ফের চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। এই চিঠি আদৌ কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান আন্দোলনকারীরা। রেল ও সড়ক পথ বন্ধ থাকায় স্বভাবতই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে।পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়ায় অব্যাহত কুড়মি সমাজের লাগাতার বিক্ষোভ-অবরোধ কর্মসূচি। গত মঙ্গলবার থেকে বিক্ষোভ-অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে কুড়মিরা। শনিবার তাঁদের লাগাতার এই আন্দোলন পাঁচ দিনে পড়ল। ১০০ ঘন্টা পার করেছে।পশ্চিম মেদিনীপুরের খেমাশুলি ও পুরুলিয়ার কুস্তাউর স্টেশনে গত পাঁচ দিন ধরে রেললাইনের উপর বসে-শুয়ে, মঞ্চ বেধে গান গেয়ে আন্দোলন চালাচ্ছেন কুড়মিরা। একটানা রেল রোকো কর্মসূচিতে প্রতি দিন দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে বহু ট্রেন বাতিল করছে। বহু ট্রেনের গতিপথ বদল করতে বাধ্য হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেললাইনের পাশাপাশি একটানা অবরোধ চলছে জাতীয় সড়কেও। পশ্চিম মেদিনীপুরের খেমাশুলিতে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন কুড়মিরা।জাতীয় সড়কে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে গত মঙ্গলবার থেকে গাড়ির লাইন পড়ে গিয়েছে। চরম হয়রনির শিকার হচ্ছেন গাড়িচালক-খালাসি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। খাবারের ভান্ডারে টান পড়েছে গাড়িচালক-খালাসিদের। রেল অবরোধের জেরে দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ে আড়াইশোর বেশি ট্রেন ইতিমধ্যেই বাতিল করেছে। বহু ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। দাবি না মেটা পর্যন্ত আন্দোলন তুলবে না কুড়মিরা। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছে, প্রশাসন বলপ্রয়োগ করুক বা গুলি করুক এক পা-ও পিছবে না।
সপ্তাহের শুরুতে পরপর দুদিন অবরোধের জেরে নাকাল নিত্যযাত্রীরা। সোমবারের পর মঙ্গলবারও সকাল থেকেই খন্যান রেলস্টেশনে রেল অবরোধ করেন নিত্যযাত্রীরা। ফলে আপ ও ডাউন ট্রেন চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যহত হয় হাওড়া-বর্ধমান মেনলাইনে। জানা যায়, সকাল সাতটায় প্রথম হওড়াগামী আপ লোকালকে খন্যান স্টেশনে আটকে দেন নিত্যযাত্রীরা। রেল লাইনের ওপর সিমেন্টের স্লিপার, লোহার কাটা লাইন পেতে লাইনের ওপর বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পূর্ব রেলের হাওড়া থেকে বর্ধমান যাওয়ার মেন লাইনে শক্তিগড় ষ্টেশন থেকে রসুলপুর ষ্টেশন পর্যন্ত থার্ড লাইনের কাজ চলছে। সেই কারণে সেপ্টম্বরের ৩ থেকে ১৩ অবধি অনেক লোকাল ও দুরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। নিত্য-যাত্রীদের অভিযোগ, খুব স্বল্প সংখ্যক লোকাল ট্রেন চলার ফলে যে ট্রেনগুলি চলছে তাতে তিলধারণের জায়গা থাকছে না। সোমবার পান্ডুয়া, খন্যান ও তালান্ডু স্টেশনে রেল অবরোধ করেছিলেন বিক্ষুব্ধ রেলযাত্রীরা।প্রাথমিক ভাবে যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল রেলের পক্ষ থেকে যাত্রী বিক্ষোভের পর তাঁরা জানায়, অফিস টাইমে আরও কিছু লোকাল ট্রেন বাড়ানো হবে। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও, নিত্য যাত্রীরা কোনওরকম ট্রেন বাড়ানোর নতুন নির্দেশিকা না আসায় মঙ্গলবার সকাল সাতটা থেকে আবার অবরোধ শুরু হয়। ফলস্বরূপ বিভিন্ন স্টেশনে দুরপাল্লা সহ লোকাল ট্রেন দাঁড়িয়ে রয়েছে। সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনেও চরম ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলার শিকার নিত্যযাত্রীরা।পূর্ব রেলের প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সেপ্টম্বরের ৩ থেকে ১৩ অবধি হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইনে শক্তিগড় এবং রসুলপুল স্টেশনের মধ্যে তৃতীয় রেললাইন বসানোর কাজ চলার জন্য একাধিক লোকাল এবং দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছিল। সেই নির্দেশিকা ভাল রেখে আরও তিনদিন বাড়ানো হয়েছে, ফলে সাধারণ ও নিত্য যত্রিদের ভোগান্তি চলবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সোমবার পূর্ব রেলের তরফে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই কথা জানানো হয়েছে।পুজর মুখে এই ভোগান্তি ছোট ব্যবসায়ীরা খুব বিড়ম্বনায় পরেছেন। বর্ধামান শহরের নবকুমার দাস জনতার কথাকে জানান, আমরা নিত্যদিন সকাল থেকে ২টা অবধি দোকান খুলে, তারপর কোলকাতার বড়বাজার থেকে মাল কিনে সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে আসি। এখন যা অবস্থা ৯ টার পর কোনও ট্রেন-ই নেই। যাবো কিভাবে? যদিও বা কয়েকটা ট্রেন চলছে তাতে এত ভিড়। যাতায়াত করা খুবই সমস্যা। আরেক নিত্যযাত্রী অভীক মজুমদার জনতার কথা কে জানান, এতদিন ধরে কাজ চললে সাধারণ মানুষের খুবই অসুবিধা, আমরা আগে দেখতাম রেল রাতের বেলা কাজ করত, তাতে এক সাথে এত মানুষের ভোগান্তি হতনা। এই ভাবে যাত্রীদের অসুবিধার জন্য আগাম দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
শক্তিগড় রেলস্টেশনে জোরদার আন্দোলনে রেল হকাররা। তাদের দাবি আরপিএফ স্বেচ্ছাচারিতা করছে। দমন পীড়ন চালিয়ে টাকা আদায় করছে। এর বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।বঙ্গীয় হকার সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক নাদিম হোসেন মল্লিক জানান, এক মাস আগে রসুলপুর থেকে এক হকারকে তুলে আনা হয়। তার কাছে নিয়মিতভাবে আরপিএফকে টাকা দেবার দাবি করা হয়। অস্বীকার করলে ডাকাতি ও মহিলা কামরায় ওঠা সহ নানা কেস দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে তারা ডেপুটেশন দিতে এলে একটা মীমাংসা হয় জিআরপির উপস্থিতিতে। কিন্তু তারপরও নাদিমবাবুর নামে একটি শমন জারি করা হয়। রেল পুলিসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই বিক্ষোভ বলে তাঁরা জানান।তারা দাবী, রাষ্ট্র আমাদের স্থায়ী কাজ দিতে পারেনি। চুরি, আসৎ উপায় অবলম্বন না করে ট্রেনে ট্রেনে ফেরি করি। এই কাজে বাধা দিতে গেলে জোর লড়াই হবে বলে তাঁরা হুঙ্কার ছাড়েন।
বৃহস্পতিবার সকালে বর্ধমান থেকে আসানসোলে কর্মস্থানে যাওয়ার পথে বর্ধমান স্টেশনের ১ নম্বর প্লাটফর্মে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে পড়ে যান পূর্বরেলের আসানসোল ডিভিশনের কর্মী ও আসানসোল রেল স্কুলের শিক্ষক অলোক কুমার ভট্টাচার্য(৫৬)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। অলোক কুমার ভট্টাচার্যের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মেড়াল গ্রামে।অন্যদিকে এদিনই সকালে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে মেমারী স্টেশনের ১ নম্বরবপ্লাটফর্মে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় সেখ শুকুর(৭০) নামে এ ব্যক্তির।দুদিন আগে বীরভূমের মাড়গ্রামের বাসিন্দা সেখ শুকুর মেমারী শহরে তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। মেমারী থেকে বীরভূম ফেরার পথেই মেমারী স্টেশনে ঘটে দুর্ঘটনা। রেল পুলিশের পক্ষ থেকে ২ টি দেহই ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজের পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়।
মদ্যপ অবস্থায় জগদ্দল স্টেশনের চার নম্বর প্ল্যাটফর্মের চার নম্বর লাইনে বোমা মারার অভিযোগ উঠল এক মদ্যপ যুবকের বিরুদ্ধে । শুক্রবার রাতের ঘটনা এক মদ্দপ যুবক জগদ্দল রেল স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলে বমাবাজি করে বলে পুলিস সুত্র খবর। প্রাথমিক আতঙ্ক কেটে গেলে রেলপাড়ের বস্তি এলাকার মানুষজন চারদিক থেকে ওই যুবককে ঘিরে রাখে । খবর পেয়ে নৈহাটি জিআরপি থানা এবং জগদ্দল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ওই যুবকের পকেট থেকে পুলিশ আরও তিনটি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক জেরায় ধৃত যুবক জানিয়েছে, তার নাম পিন্টু নন্দী। সূত্রের খবর, ধৃতের বাড়ি জগদ্দলের গুপ্তার বাগান এলাকায়। কি কারনে ওই যুবক বোমা মারলো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তৃণমূলের শহিদ দিবসে ২১ জুলাই কলকাতা মহানগর যেন ভেঙে পড়েছিল। যাত্রী সংখ্যাতে রেকর্ড করেছে মেট্রো রেল। সম্প্রতি শিয়ালদা থেকে সেক্টর ফাইভ অর্থাৎ ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো চালু হয়েছে। এছাড়া কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত যাত্রী পরিষেবা আগে থেকেই চালু রয়েছে।মেট্রো রেল সূত্রে খবর, ২১ জুলাই নর্থ-সাউথ মেট্রোতে যাত্রী সংখ্যা ছিল ৫, ০২, ০৩0 জন। অন্যদিকে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোতে ছিল ৪১,৯৫৬। মোদ্দা কথা এদিন মেট্রো রেলেই ভিড় ছিল ঠাসাঠাসি। ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে এদিন হাজার মানুষ শহরে এসেছে। তাছাড়া সড়ক পথে যানজট থাকায় অনেকেই মেট্রোতে যাতায়াত করেছেন। বৃহস্পতিবার একমাত্র যাতায়াতের পথ বলতে ছিল মেট্রো। সেই কারণে মেট্রোতে ভিড় অনেকটা বেশি ছিল।
মুদ্রাস্ফীতিতে নাজেহাল দেশবাসী, ভোজ্য তেল,জ্বালানি তেল, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ সব কিছুরই দাম আকাশছোঁয়া। তার মধ্যেই এবার ভারতীয় রেল তাদের ট্রেনের পরিবেশিত খাদ্য দ্রব্যের মুল্য বৃদ্ধি করলো। যাঁরা রাজধানী, শতাব্দী, তেজস, বন্দেভারত এবং দুরন্তের এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনে ভ্রমণ করেন তাঁদের যেনে রাখা দরকার কিসের কিসের দাম বাড়লো। সম্প্রতি ট্রেন যাত্রাকালীন চায়ের দামের চেয়ে বেশি সার্ভিস চার্জ নেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। সেই চায়ের বিলের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সেখানে অনেকেই ভারতীয় রেলের কড়া সমালোচনা করেন। এরকম অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে ভারতীয় রেলের খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা আইআরসিটিসি খাদ্যদ্রব্যের মুল্য তালিকা প্রকাশ করেছে। আইআরসিটিসি জানিয়েছে এখন থেকে ট্রেনে ভ্রমনকালীন সময়ে কোনও খাবারের অর্ডার করলে অন-বোর্ডিং চার্জ দিতে হবে।ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC) দ্বারা চালিত ট্রেনের ভিতরে খাবারের অর্ডারের সংশোধিত মুল্য তালিকা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক। নতুন সংশোধিত মুল্য তালিকা অনুযায়ী, রেলওয়ে প্রিমিয়াম ট্রেনে প্রি-অর্ডার করা নয় এমন সমস্ত খাবার এবং পানীয়ের অন-বোর্ড পরিষেবা চার্জ সরিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে স্ন্যাকস, লাঞ্চ এবং ডিনারের দামের সাথে অতিরিক্ত ৫০ টাকা যোগ করা হয়েছে।খাবার-পানীয় আরও মহার্ঘ হয়ে গেল!চায়ের দাম এর মত ঘটনা যাতে আবার না ঘটে তার জন্য আইআরসিটিসি (IRCTC) রাজধানী, শতাব্দী, তেজস, বন্দে ভারত এবং দুরন্তর মতো ট্রেনগুলিতে অনবোর্ড ক্যাটারিং পরিষেবাগুলির জন্য একটি নতুন মুল্য তালিকা প্রকাশ করেছে। রেলওয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, যে সমস্ত যাত্রীরা টিকিট বুকিংয়ের সময় ক্যাটারিং পরিষেবার বিষয়টি নির্বাচন করেন না এবং ট্রেনে ওঠার পর খাবার ও পানীয় অর্ডার করেন, তাদের অনবোর্ড চার্জ দিতে হবে। এ কারণে খাদ্য সামগ্রীর দাম বেড়েছে।রাজধানী সহ ওই পাঁচটি ট্রেনে, যে সমস্ত যাত্রী টিকিট কাটার সময় সকালের প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজন বা রাতের খাবারের জন্য টাকা পেমেন্ট করে রাখেন তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু তাঁরা যদি টিকিটের কাটবার সময় সেই অর্থ প্রদান না করেন সেক্ষেত্রে তাঁরা যদি বোর্ডে অর্থাৎ ট্রেনের মধ্যেই অর্ডার করেন তাঁদের এই অতিরিক্ত গাঁটের কড়ি খরচ করতে হবে।খাদ্য ও পানীয় তালিকা এবং চার্জ ইনরাজধানী, দুরন্ত এবং শতাব্দী এক্সপ্রেসের প্রথম শ্রেণি এবং ইকনমি ক্লাসে প্রিপেইড এবং অন-বোর্ড দুই ক্ষেত্রেই সকালের চায়ের দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেনী এবং তৃতীয় শ্রেনী এসি এবং চেয়ার কারে চায়ের দাম ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।একইভাবে, রাজধানী, দুরন্ত এবং শতাব্দী এক্সপ্রেসের প্রথম শ্রেনী এসি-তে প্রিপেইড-এ সকালের প্রাতরাশ (ব্রেকফাস্ট) খেতে ১৪০ টাকা দিতে হবে। অন-বোর্ড যাত্রীদের ক্ষেত্রে ব্রেকফাস্টের দাম ১৯০ টাকা। প্রিপেড ব্রেকফাস্ট দ্বিতীয় শ্রেনী এবং তৃতীয় শ্রেনী এসি-তে অন-বোর্ড ১৫৫ টাকায় পাওয়া যাবে।ওই ট্রেনগুলির প্রথমশ্রেনী এসি এবং ইকোনমি ক্লাসে প্রিপেইড লাঞ্চ-ডিনারের মুল্য ২৪৫ টাকা। আপনি যদি অন বোর্ডে অর্ডার করেন, আপনাকে এর জন্য ২৯৫ টাকা দিতে হবে। দ্বিতীয় শ্রেনী এসি, থার্ড এসি এবং চেয়ার কারে আপনাকে প্রিপেইডের জন্য ১৮৫ টাকা এবং অন বোর্ডে ২৩৫ টাকা দিতে হবে।প্রথমশ্রেনী এসি এবং ইকোনমি ক্লাসে সন্ধ্যার চা এবং স্ন্যাকসের জন্য মুল্য ১৪০ টাকা। যারা অন বোর্ডে অর্ডার করবেন তাদের ১৯০ টাকা দিতে হবে। দ্বিতীয়শ্রেনী এসি, তৃতীয় শ্রেনী এসি এবং চেয়ার কারের জন্য প্রিপেইড হিসাবে ৯০ টাকা এবং অন বোর্ডে ১৪০ টাকা গুনতে হবে।দুরন্ত এক্সপ্রেসের স্লিপার কোচে সকালের চায়ের প্রিপেইড এবং অন-বোর্ড মূল্য হল ১৫ টাকা। প্রাতঃরাশের জন্য প্রিপেইডে ৬৫ টাকা এবং অন-বোর্ড যাত্রীদের জন্য ১১৫ টাকা খরচ হবে। লাঞ্চ এবং ডিনারের জন্য, আপনাকে প্রিপেইডে ১২০ টাকা এবং অন বোর্ডে ১৭০ টাকা দিতে হবে।আপনি যদি তেজস ট্রেনের প্রথম শ্রেনী এসি এবং ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করেন, তাহলে আপনাকে সকালের প্রাতঃরাশের জন্য ১৫৫ টাকা (প্রিপেইড) দিতে হবে। একই সময়ে, অন বোর্ডে অর্ডার করলে, এর দাম পড়বে ২০৫ টাকা। সে রকম, দ্বিতীয় শ্রেনীএসি, তৃতীয় শ্রেনী এসি এবং চেয়ার কারের জন্য আপনাকে ১২২ টাকা (প্রিপেইডের জন্য) এবং অন-বোর্ড অর্ডারের জন্য ১৭২ টাকা দিতে হবে।বন্দেভারত ট্রেনের যাত্রীদের জন্য খাবার ও পানীয়ের মুল্য তালিকাঃবন্দেভারতএ সকালের চায়ের জন্য ১৫ টাকা দিতে হবে। প্রাতঃরাশের জন্য আপনাকে প্রিপেইডে ১৫৫ টাকা এবং অন বোর্ডে ২০৫ টাকা দিতে হবে। লাঞ্চ এবং ডিনারের জন্য আপনাকে প্রিপেইডে ২৪৪ টাকা এবং অন বোর্ড অর্ডার করলে ২৭২ টাকা দিতে হবে। সন্ধ্যার চা এবং জলখাবারের জন্য, প্রথমশ্রেনী এসি এবং ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীদের প্রিপেইড হিসাবে ১০৫ টাকা দিতে হবে। আর যদি অন বোর্ডে অর্ডার করেন, তাহলে এই দাম বেড়ে ১৫৫ টাকা হবে।ট্রেন নির্ধারিত সময়ের না চললেঃরাজধানী, দুরন্ত, শতাব্দী, তেজস এবং বন্দেভারত এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনগুলি যদি নির্ধারিত সময়ে না চলে দেরিতে চলে, সেই পরিস্থিতিতে চা ও কফির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ টাকা এবং সকালের নাস্তা ও সন্ধ্যার চা পাওয়া যাবে ৩০ টাকায়।
বাংলা পক্ষ -এর তরফে দীঘা-সাঁতরাগাছি লোকাল ট্রেন এবং দীঘা-হাওড়া এক্সপ্রেস ট্রেনের অপ্রতুলতা এবং এই রেল পথের ট্রেন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার দাবিতে দীঘা স্টেশন ম্যানেজারের কাছে রবিবার ১৭ জুলাই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হল। এই রেলপথ হাওড়া এবং কলকাতার সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন বাণিজ্যিক, চিকিৎসা, শিক্ষার প্রয়োজনে, পেশাগত, পরীক্ষার জন্য ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে বহু মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। ট্রেনের অপ্রতুলতার ফলস্বরূপ স্থানীয় মানুষদের কর্মস্থলে পৌঁছানো এবং ফিরবার ক্ষেত্রে ব্যাপক হায়রানির শিকার হতে হয়। বাংলা পক্ষের দাবি, এই সমস্যা সমাধানের জন্য লোকাল এবং এক্সপ্রেস ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। যাতে বাংলার রাজধানীর সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের রেলপথ যোগাযোগের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে, নিত্যদিনের সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার না হতে হয় এবং সৈকত শহর দীঘায় পর্যটকদের আসা-যাওয়া অত্যন্ত সুগম এবং সুলভ হয়। বাংলা পক্ষ মনে করে, দীঘা বাংলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে রেলের সংখ্যা বৃদ্ধি করলে রাজ্যের অর্থনীতির উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্টেশন ম্যানেজারের তরফে ইতিবাচক প্রচেষ্টার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছে। আশা করা যায়, আগামী দিনে হাওড়া থেকে দীঘা এবং জেলার মধ্যে চলাচলের জন্য লোকাল ট্রেন বৃদ্ধি পাবে।
বাংলার ছেলেমেয়েদের রেলের চাকরির পরীক্ষা কেন্দ্র বাংলার বাইরে দেওয়া যাবে না। এতে ছেলেমেয়েদের খুব সমস্যা হয়। তাই যাতে পরীক্ষা কেন্দ্র বাংলার মধ্যেই পড়ে, এর প্রতিবাদে রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিল বাংলা পক্ষ।বাংলার কর্ম প্রার্থীদের রেলের চাকরির পরীক্ষাকেন্দ্র বাংলার বাইরে নির্ধারণ করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং এই সমস্যা দূর করার দাবি করে ইউনিয়ন রেল মন্ত্রীকে বাংলা পক্ষ-এর তরফে একটি প্রতিবাদ পত্র পাঠানো হলো। এই প্রতিবাদ পত্রে রেলের পরীক্ষায় বাংলার কর্ম প্রার্থীদের রাজ্যের বাইরে পরীক্ষা কেন্দ্র জনিত সমস্যাগুলিকে তুলে ধরে রাজ্যের মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ করার দাবি জানানো হয়েছে।রাজ্যের বাইরে পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ার ফলে বাংলার কর্ম প্রার্থীদের উক্ত রাজ্যে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য নির্ধারিত দিনের আগেই সেখানে হোটেল বা মেস ব্যবস্থা করে চলে যেতে হত। সেক্ষেত্রে তাদের থাকা খাওয়ার জন্য অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। কর্ম পার্থীদের বেশীর ভাগই নিম্নবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত আর্থিক পরিকাঠামোই বসবাস করেন। কেউ কেউ টিউশন করে দিন গুজরান করেন, দূর দূরান্তে যাতায়াতের ফলে তাঁদের সময় ও মুল্য দুটোয় অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়।এছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই কর্ম প্রার্থীদের তাদের পরিবারের কোন অভিভাবককে সঙ্গে নিয়ে অন্য রাজ্যের পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যেতে হয়। মহিলা কর্ম প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রায় সকলেই তাদের অভিভাবককে সঙ্গে নিয়ে তবেই ভিন রাজ্যের পরীক্ষা কেন্দ্র যেতে বাধ্য হন। এর ফলে যেমন পরিবারের উপর আর্থিক বোঝা চাপে তেমন ভাবেই অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যার জন্য যোগ্য প্রার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারেন না।বাংলার ছেলেমেয়েদের রেলের চাকরির পরীক্ষা কেন্দ্র বাংলার বাইরে দেওয়া যাবে না। এতে ছেলেমেয়েদের খুব সমস্যা হয়। তাই যাতে পরীক্ষা কেন্দ্র বাংলার মধ্যেই পড়ে, তাই রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিল বাংলা পক্ষ।জয় বাংলা pic.twitter.com/tSkGULWvMG বাংলা পক্ষ Bangla Pokkho (@BanglaPokkho) May 6, 2022তাছাড়া দূর পাল্লার রেলযাত্রার জন্য কমপক্ষে তৃতীয় শ্রেনী-র শয়ন যানের (স্লিপার ক্লাস) রিজার্ভেশন না করতে পারলে যাতায়াত অসম্ভব হয়ে ওঠে। এত কম সময়ের মধ্যে রেলের টিকিট রিজার্ভেশন এককথায় অবাস্তব। তাই অনেকেই পরীক্ষা দিতে যেতে পারেন না। যদিও তৎকালে ব্যবস্থায় টিকিট কাটার চেষ্টা করা হয় তাঁর মূল্যও সেই বেকার ছেলে-মেয়েদের কাছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। শুধু মাত্র তপশীলি ও উপ-জাতিদের জন্য রেলের তরফ থেকে টিকিটের মুল্য পাওয়া যায়। সাধরণ ক্যাটাগরি প্রাথীরা রেল কর্ত্তিপক্ষর কাছ থেকে যাতায়াত বাবদ কোনওরকম সাহায্য পান না। বর্ধমান শহরের এক চাকরি পার্থীর পরীক্ষা কেন্দ্র পড়েছে দেশের একদম দক্ষিণের রাজ্যের তিরুচেরাপল্লী তে। হাওড়া থেকে রেল যাত্রা শুরু করলে যেখানে পৌঁছতে কমপক্ষে ৪২ ঘণ্টা সময় লাগে। যাত্রাপথ ও টিকিটের মুল্যের কথা ভেবে তিনি পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। এছাড়াও উত্তরাখন্ড, বারানসি, গোরক্ষপুর সহ দূরদূরান্তের বিভিন্ন যায়গায় বাংলার ছেলে মেয়েদের পরীক্ষা কেন্দ্র পড়েছে।মুর্শিদাবাদ জেলার ছেলে রাধাবল্লব পাল, চাকরীর পড়াশোনার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য থাকেন বর্ধমান শহরে। তিন বছর আগের আবেদন করা রেলের গ্রুপ-বি (অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টেশন মাস্টার) চাকরির পরীক্ষার সেন্টার পড়েছে ওড়িশা রাজ্যের ভুবনেশ্বর শহরে। টিউশনের পয়সায় রেলের টিকিট কেটে আগের দিন থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রের আসে পাশের হোটলে রাত কাটাতে হবে। কানপাতলে বাংলার ঘরে ঘরে এরকম বহু উদাহরণ পাওয়া যাবে।এছাড়াও বিগত দিনের বিভিন্ন ঘটনা পরম্পরায় দেখা গেছে বাংলার কর্ম প্রার্থীদের ভিন রাজ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে নানা ভাবে শারীরিক হেনস্থা এবং আক্রমণের স্বীকার হয়েছেন।ইতিমধ্যেই কর্ম প্রার্থীদের তরফে রেল দপ্তরের কাছে এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এই দাবি মানা না হলে আগামী দিনে বাংলা পক্ষ সংগঠনের তরফে আন্দোলন আরও জোরদার হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন কলকাতা ময়দানে খেলার। সে সুযোগ এসে যাওয়ার পর স্বপ্নের পরিধি আরও বেড়ে যায়। লালহলুদ জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। স্বপ্ন পূরণের শেষ ধাপে পৌঁছেও আর লালহলুদ জার্সি গায়ে তোলা হল না উদীয়মান ফুটবলার দেবজ্যোতি ঘোষের। মাঠে খেলতে খেলতেই অকালে প্রাণ হারালেন ২৫ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার। এই মরশুমে কলকাতা ফুটবল লিগে রেলওয়ে এফসির জার্সি গায়ে চমক দেখিয়েছিলেন দেবজ্যোতি। দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়ে দলকে কলকাতা লিগের ফাইনালে তুলেছিলেন। কিন্তু দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেননি। তা সত্ত্বেও তাঁর খেলা মনে ধরেছিল মহমেডান থেকে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের। সামনের মরশুমের জন্য লালহলুদ কর্তারা তাঁকে সই করানোর ব্যাপারে মনস্থির করেছিলেন। দেবজ্যোতির সঙ্গে কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল লালহলুদ কর্তাদের। কিন্তু আর লালহলুদ জার্সি গায়ে তোলা হল না দেবজ্যোতির। নদীয়ার কৃষ্ণনগরের চৌরাস্তায় বাড়ি দেবজ্যোতির। পরিবারের একমাত্র সন্তান। ফুটবল খেলে যে টাকা রোজগার করতেন, তাতেই সংসার চলত। শনিবার ধুবুলিয়ায় বেলপুকুর পোলতা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত ৮ দলীয় নক আউট ফুটবল প্রতিযোগিতায় স্বরূপগঞ্জ সেবক সমিতি ও কৃষ্ণনগর সেন্ট্রাল ক্লাবের মধ্যে সেমিফাইনাল ম্যাচ চলছিল। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে বিপক্ষ গোলকিপারের একটা শট দেবজ্যোতির বুকে লাগে। মাঠেই পড়ে যান তিনি। বমি করতে থাকেন। মাঠে নাকি কোনও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা ছিল না। একটা গাড়িতে করে তাঁকে ধুবুলিয়া গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় কৃষ্ণনগর শক্তিনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। শক্তিনগর হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুতে ফুটবলমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রেল পুলিশের তৎপরতায় ফের পাচারের আগেই উদ্ধার হল বেশকিছু টিয়া পাখি গ্রেফতার করা হয়েছে পাচারকারীকে। মঙ্গলবার সকালে বর্ধমান স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ফুট ওভারব্রিজে টহলদারি চালাচ্ছিল রেল পুলিশ। ওই সময়ে তারা এক যুবককে একটি বড় ব্যাগে ভরে কিছু নিয়ে যেতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় রেল পুলিশ মহম্মদ শরিফ নামে বর্ধমানের দুবরাজদিঘী হরেরডাঙ্গা এলাকা নিবাসী ওই যুবকের পথ আটাকায়। রেল পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর শিলেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, যুবকের সঙ্গে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় খাঁচা বন্দি অবস্থায় থাকা সাতটি টিয়া পাখি। পাচারের উদ্দেশ্যে খাঁচায় ভরে টিয়া পাখিগুলি নিয়ে যাওয়া যাচ্ছিল বলে জেরায় যুবক স্বীকার করার পরেই তাঁকে ধরে আরপিএফ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি খবর দেওয়া হয় বর্ধমানের বনবিভাগে। এদিনই বন বিভাগের কর্মী ও অফিসাররা বর্ধমান আর পি এফ অফিসে হাজির হয়ে টিয়া পাখিগুলি ও ধৃত যুবককে নিজেদের হেফাজতে নেয়। বর্ধমান বন বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে মামালা রুজু করে মহম্মদ শরিফ নামে ওই ব্যক্তিকে এদিনই বর্ধমান আদালতে পাঠানো হয়েছে। বন বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন,কিছুদিন আগে বর্ধমান স্টেশনে থাকা রেল পুলিশ ডাউন দানাপুর এক্সপ্রেসের কামরায় তল্লাশি চালিয়ে শতাধিক টিয়াপাখি উদ্ধার করেছিল। সেবারও টিয়া পাচারের অভিযোগে রেল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বর্ধমানের দুবরাজদিঘীরই এক ব্যক্তি। ওই ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে রেল পুলিশ জানতে পারে পাচারের উদ্দেশ্যে সে বিহারের পাটনা থেকে শতাধিক টিয়াপাখি বর্ধমানে আনিয়েছে। পরে সে টিয়াপাখিগুলি বর্ধমান থেকে অন্যত্র পাচার করা হত।যদিও রেল পুলিশের তৎপরতায় পাচারের আগেই ওইদিন শতাধিক টিয়াপাখি সহ পাচারকারী ধরা পড়েযায়। রেল পুলিশ তৎপর থাকায় এদিনও বর্ধমান স্টেশনে বেশ কিছু টিয়া পাখি সহ পাচারকারী ধরা পড়লো বলে বন দফতরের কর্মীরা জানিয়েছেন।
রেলগেটের কাছে চলন্ত ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হল এক মহিলার। শনিবার দুপুরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া-বর্ধমান মেইন শাখায় পূর্ব বর্ধমানের মেমারির দেবীপুর স্টেশন সংলগ্ন রেল গেটে। দুর্ঘটনার জেরে মহিলার দেহ কার্যত ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তা নিয়ে দেবীপুর রেলগেট পারপারকারী মানুষজনের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রেল পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়।মহিলার নাম পরিচয় এখনও উদ্ধার হয়নি।মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানোর পাশাপাশি রেল পুলিশ মহিলার পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জানিয়েছেন, বর্ধমান হাওড়া ডাউন লাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে মহিলা। তাঁর দেহ এতটাই ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় যে দেবীপুরের বাসিন্দাদের কেউ তাকে চিনতে পারেনি।
ধানবাদ-গয়া শাখার রেললাইনে বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের জেরে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রুট বদল করতে হয়েছে রাজধানী-সহ বহু ট্রেনের। বুধবার রাত দেড়টা নাগাদ ধানবাদ-গয়া ডিভিশনে এই বিস্ফোরণটি ঘটে। ধানবাদ ডিভিশনের কারামাবাদ ও চিচাকি স্টেশনের মাঝামাঝি এই বিস্ফোরণটি ঘটেছে বলেও জানা গিয়েছে। কিন্তু কোনও প্রাণহানি হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে মিলেছে মাওবাদীদের একাধিক পোস্টার। বড় নাশকতার ছকও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ড-বিহার বনধে্র ডাক দেওয়ার পর থেকেই মাওবাদীরা রেলকে টার্গেট করেছে। ২৭ জানুয়ারি ঝাড়খণ্ড-বিহারে বনধে্র ডাক দিয়েছিল মাওবাদীরা। সিপিআই পলিটব্যুরোর সদস্য প্রশান্ত বোস এবং তাঁর স্ত্রী শীলা মারান্ডিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এই বনধ্ ডাকা হয়েছিল।Jharkhand | Suspected Naxals blow up a portion of railway tracks on the Howrah-New Delhi line between Chichaki and Chaudharybandh railway stations in Giridih; details awaited pic.twitter.com/9cx7GE14NK ANI (@ANI) January 27, 2022আবার নাশকতার আশঙ্কা থাকায় গতি নিয়ন্ত্রণ করে ট্রেন চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ সতর্কতাও। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রেলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ট্র্যাক মেরামতের কাজ চলছে। বিস্ফোরণের খবর পাওয়া মাত্রই ওই রুটে বহু ট্রেন বাতিল করা হয়। রাজধানী-সহ অনেক ট্রেনের রুট পরিবর্তনও করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে, হাওড়া-দিল্লি রেল রুটের গোমো-গয়া (জিসি) রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ধানবাদ-দেহরি এক্সপ্রেস। একই সঙ্গে গয়া-আসানসোল প্যাসেঞ্জার এবং আসানসোল-বারাণসী প্যাসেঞ্জারও বাতিল করা হয়েছে।
রেল পুলিশের তৎপরতায় পাচারের আগেই বর্ধমান স্টেশন থেকে উদ্ধার হল দুই শতাধিক টিয়া পাখি। টিয়া পাখি পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রেল পুলিশ একবাল খাঁন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। তার বাড়ি শহর বর্ধমানের আলুডাঙা এলাকায়। ধৃতকে সোমবার পেশ করা হয়েছে বর্ধমান আদালতে। রেল পুলিশ এদিন ২২৭টি টিয়া পাখি তুলে দিয়েছে বর্ধমান বন দফতরের হাতে। রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টিয়া পাখিগুলিকে ব্যাগ বন্দি করে ডাউন দানাপুর এক্সপ্রেসের জেনারেল কামরায় চাপিয়ে বর্ধমানে আনা হচ্ছিল। সোমবার সকালে ট্রেনটি বর্ধমান স্টেশনে দাঁড়াতেই রেল পুলিশ ট্রেনের কামরায় চেকিং চালায়। ওই সময়ে একটি কামরায় চটের ব্যাগে বন্দি অবস্থায় কিছু রয়েছে দেখে রেল পুলিশের সন্দেশ হয়। রেল পুলিশ ব্যাগ খুলে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় ২২৭ টি টিয়া পাখি। টিয়া পাখি পাচারের অভিযোগে কামরা থেকেই রেল পুলিশ একবাল খাঁনকে গ্রেফতার করে। বর্ধমান রেঞ্জের বন আধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, আরপিএফ ২২৭ টি টিয়া পাখি উদ্ধার করেছে। টিয়া পাচারের অভিযোগে ধৃতকে এদিন আদালতে পেশ করা হয়েছে। আদালতে নির্দেশ পেলে উদ্ধার হওয়া টিয়া পাখিগুলি ছেড়ে দেওয়া হবে।