• ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, রবিবার ২৬ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Nandigram

কলকাতা

নন্দীগ্রাম বিতর্কে থাকা অফিসারও এবার সিএমও-তে! শুভেন্দুর প্রশাসনিক দলে বড় বদল

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনে বড় রদবদল শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরকে আরও শক্তিশালী করতে একের পর এক নতুন আমলাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হচ্ছে। এবার মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে যুগ্ম সচিব পদে নিয়োগ করা হল দুই তরুণ আইএএস অফিসারকে। পাশাপাশি সাত জন ডব্লিউবিসিএস অফিসারকেও মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।নতুন দায়িত্ব পাওয়া আইএএস অফিসারদের মধ্যে রয়েছেন ২০১৯ ব্যাচের পি প্রমোথ। এতদিন তিনি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প এবং বস্ত্র দফতরের যুগ্ম সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া ২০২০ ব্যাচের আইএএস অফিসার নবনীত মিত্তলকেও মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের যুগ্ম সচিব করা হয়েছে। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।একইসঙ্গে সাত জন ডব্লিউবিসিএস অফিসারকে সিএমও-তে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম সুরজিৎ রায়। ভোটের সময় তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার ছিলেন। এর আগে নন্দীগ্রামের বিডিও থাকাকালীন তাঁকে শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। এবার সেই সুরজিৎকেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হল। এছাড়া ডায়মন্ড হারবারের এসডিও অয়ন দত্তগুপ্ত এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি রাজর্ষি নাথকেও সিএমও-তে নিয়োগ করা হয়েছে।শুধু প্রশাসনিক পদেই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু। শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইএএফ অফিসার সুব্রত গুপ্তকে। ভোটের সময় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বাংলায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে সেই সময় বিস্তর আলোচনা হয়েছিল।অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৭ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার শান্তনু বালাকে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, শপথ নেওয়ার পর থেকেই নিজের দফতর গুছিয়ে দ্রুত কাজে নামতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট করছে।

মে ১১, ২০২৬
কলকাতা

২০২০-র সেই সিদ্ধান্তই বদলে দিল বাংলার রাজনীতি, আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর, শনিবার। মেদিনীপুরের কলেজ মাঠে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই দিনটি রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক তৈরি করেছিল। ঠিক সাড়ে পাঁচ বছর পর আবারও এক শনিবার বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকল। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।দুই শনিবারের এই রাজনৈতিক যাত্রা এখন শুভেন্দুর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই তাঁর লক্ষ্য ছিল বাংলায় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে হাতে খুব বেশি সময় পাননি তিনি। সেই নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসনে জয় পেলেও পরে একাধিক বিধায়ক দলবদল করেন। তৃণমূলে ফিরে যান মুকুল রায়ও।কিন্তু তারপরও থেমে থাকেননি শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতা হিসেবে বিধানসভার ভিতরে এবং বাইরে লাগাতার তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে গিয়েছেন। বিজেপি কর্মীদের মনোবল বাড়াতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছুটে গিয়েছেন তিনি।শুভেন্দু বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, নন্দীগ্রামে তিনি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগেও ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু বুঝেছিলেন, ভবানীপুরে তৃণমূল নেত্রীকে চাপে রাখতে পারলে তার প্রভাব গোটা রাজ্যে পড়বে।শেষ পর্যন্ত সেই কৌশলই সফল হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পরপর দুবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচনে হারিয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। আর সেই সাফল্যের পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদে তাঁর নামই সবচেয়ে জোরালো হয়ে ওঠে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠন শক্তিশালী করা থেকে শুরু করে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ককে ধরে রাখাসব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই শেষ পর্যন্ত বাংলার মসনদে তাঁর বসা অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল।

মে ০৯, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রামে জনস্রোত! বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে নজর কাড়লেন শুভেন্দু

নন্দীগ্রামে জনসমাগমে ভেসে গেল সভাস্থল। শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁর নামে জয়ধ্বনি উঠল চারদিকে। এলাকার মানুষও নতুন আশায় বুক বাঁধছেন।এই সভা থেকেই ক্ষমতায় এলে কী কী কাজ করা হবে, তা স্পষ্ট করে জানালেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, দলের ঘোষিত সংকল্পপত্র সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। রাজ্যের সীমান্ত আরও সুরক্ষিত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ জোর দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, মহিলারা যখন খুশি বাড়ির বাইরে বেরোতে পারবেন, রাতেও বেরোতে ভয় পাবেন না। আগের মতো কোনও বাধা বা ভয় থাকবে না বলেও দাবি করেন তিনি।শুভেন্দু আরও জানান, সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। যতদিন না স্থায়ী কর্মসংস্থান হচ্ছে, ততদিন উপযুক্ত ভাতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন।তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই রাজ্যের মানুষ প্রকৃত পরিবর্তন দেখতে পাবেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি সময়মতো পূরণ করা হবে বলেও জানান।দল আগেই জানিয়েছে, অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা গড়া, সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা এবং তোলাবাজি বন্ধ করা তাদের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি শুভেন্দু কর্মী-সমর্থকদেরও সতর্ক করে দেন, কেউ যেন কোনও প্ররোচনায় পা না দেন এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেন।

মে ০৬, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের দিনেই বিস্ফোরক মন্তব্য! গুণ্ডামির অভিযোগে সরব শুভেন্দু

নন্দীগ্রামে ভোট দিয়ে বেরিয়েই সুর চড়ালেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নিজের বুথে ভোট দিয়ে তিনি দাবি করেন, বাংলায় পরিবর্তন হবেই। তাঁর কথায়, এবার যদি পরিবর্তন না হয়, তাহলে বাংলায় সনাতনবাদ বিপদের মুখে পড়বে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কাজকে ভালো বললেও কিছু জায়গায় গুণ্ডামির অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁদের পোলিং এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন ধরেই নন্দীগ্রামের ভোটার। প্রতি নির্বাচনের মতো এবারও তিনি নিজের বুথে গিয়ে ভোট দেন। এদিন সকালে ব্রজমোহন তিওয়ারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বুথে গিয়ে ভোট দেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে এসে বুথ স্তরের এক কর্মীর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে এসেছেন।পরে তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু হিন্দু ভোটারকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর কেন্দ্র। প্রতি নির্বাচনে এখানে উত্তেজনা দেখা যায়।এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মূল লড়াই তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে। একদিকে শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে তাঁর প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ পবিত্র কর তৃণমূলের প্রার্থী। এই দুই প্রার্থীর লড়াই ঘিরে আগেই উত্তাপ বেড়েছিল। ভোটের দিন সকালে নিজেই ভোট দিয়ে পরে দলীয় কার্যালয়ের দিকে রওনা দেন শুভেন্দু।

এপ্রিল ২৩, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রামে তুমুল সংঘাত! শুভেন্দুকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে তোপ দাগলেন পবিত্র কর

ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সেই আবহে নন্দীগ্রাম আবারও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তাঁরই একসময়ের সতীর্থ এবং বর্তমানে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর।ঘটনার সূত্রপাত একটি এফআইআরকে কেন্দ্র করে। নন্দীগ্রাম থানায় বিজেপির এক বুথ সভাপতির পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পবিত্র কর তাঁর অনুগামীদের নিয়ে ওই বিজেপি কর্মীর উপর হামলা চালিয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পবিত্র করের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের হয়।এই ঘটনার পরই শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি আক্রমণ করেন পবিত্র কর। তিনি দাবি করেন, নন্দীগ্রামে যত মামলা রয়েছে, তার সবকিছুর পেছনেই শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে এবং চাপে রাখতে এই সব মামলা করা হচ্ছে।পবিত্র কর কটাক্ষ করে বলেন, শুভেন্দু চাইলে সব কিছুই সম্ভব। তাঁর কথায়, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মামলা করানোই যেন এক বিশেষ দক্ষতা। তিনি আরও বলেন, সব কিছু জেনেই তিনি শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন।উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আবারও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ভবানীপুরের মতোই এই কেন্দ্রকে ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। তৃণমূল এবং বিজেপি দুই দলই জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ চলছে।এদিকে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের দাবিতে ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পবিত্র কর। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক লড়াই তীব্র হচ্ছে। গুরু-শিষ্যের এই দ্বন্দ্ব এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

এপ্রিল ১১, ২০২৬
কলকাতা

নন্দীগ্রামে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের যাওয়া নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ! কী বললেন কুণাল ঘোষ

অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া নামের প্রায় সম্পূর্ণ তালিকা। তালিকা প্রকাশের পরই রাজ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, কমিশন বিজেপির সঙ্গে মিলেই কাজ করছে।তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে বিজেপির প্রভাবের মধ্যে কাজ করছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির সংগঠন দুর্বল হওয়ায় কমিশনের কিছু অংশ নাকি সেই দায়িত্ব নিজেরাই তুলে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নন্দীগ্রাম সফর নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কুণালের দাবি, সেখানে বিজেপির স্থানীয় এক নেতার সঙ্গে তাঁকে দেখা গিয়েছে। অতীতেও নন্দীগ্রামের এক প্রশাসনিক আধিকারিককে নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।এই বিষয়ে তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বিরোধী শিবিরের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দেখা যাওয়া কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে।একই সঙ্গে তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে। কুণাল ঘোষের দাবি, অন্য রাজ্যের ভোটারদের নাম কপি করে বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির ঘনিষ্ঠদের ঢোকানো হচ্ছে, যা ভোটে কারচুপির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।কুণাল ঘোষ দাবি করেন, তৃণমূল আদালত ও আন্দোলনের মাধ্যমে লড়াই না করলে আরও অনেক বেশি নাম বাদ পড়ত। তাঁর মতে, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল কেন নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে তা স্পষ্ট করতে, কিন্তু সেই ব্যাখ্যা এখনও দেওয়া হয়নি।তবে এই সমস্ত বিতর্কের মধ্যেও নিজেদের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল নেতৃত্ব। কুণাল ঘোষ বলেন, বিজেপির কোনও কৌশলই কাজে আসবে না। তাঁর দাবি, আগামী নির্বাচনে বিপুল আসন নিয়ে ফের সরকার গড়বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল।

এপ্রিল ০৭, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রামে বড় লড়াই! শুভেন্দুর ঘাঁটিতে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, ‘ডি জে বাজবে’ বার্তায় তোলপাড়

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে নজরকাড়া কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম নন্দীগ্রাম। এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। শুভেন্দু অধিকারীর এই কেন্দ্রে এবার তাঁরই প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ পবিত্র করকে সামনে রেখে লড়াই করছে তৃণমূল। শুভেন্দু নিজের ঘাঁটি ধরে রাখতে পারবেন, নাকি পুরনো সঙ্গীর কাছে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন, সেই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে।বুধবার নন্দীগ্রামে গিয়ে দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পবিত্র করকে পাশে নিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২৫ দিনের দায়িত্ব কর্মীদের নিতে হবে এবং তারপরের পাঁচ বছরের দায়িত্ব তিনি নিজে নেবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমনভাবে লড়াই করতে হবে যাতে একটি বুথ থেকেও বিজেপি মাথা তুলতে না পারে।অভিষেক জানান, নন্দীগ্রামে প্রায় উনিশ হাজারের বেশি যুবসাথীর আবেদন জমা পড়েছে এবং সকলেই সেই সুবিধা পাবেন। তিনি আশ্বাস দেন, প্রয়োজন হলে তিনি বারবার নন্দীগ্রামে আসবেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, কেউ ভয় দেখালে বা চাপ সৃষ্টি করলে মানুষকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে হবে এবং যে ভাষায় বোঝে, তাকে সেই ভাষাতেই জবাব দিতে হবে।তিনি আরও বলেন, চার তারিখের পর নন্দীগ্রামে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হবে এবং রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গে ডি জে বাজানো হবে। মানুষের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।শুভেন্দু অধিকারীকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, নন্দীগ্রাম তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ছিল এবং এখনও আছে। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার বর্তমান বিধায়ক মানুষের জন্য কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করেননি। কেন্দ্রের সহায়তায় কী প্রকল্প আনা হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি নিয়ে কাজ না করে শুধু ধর্মের রাজনীতি করা হচ্ছে।দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মধ্যে নন্দীগ্রামকে সেরা করতে হবে। পবিত্র কর জিতলে প্রতিটি বুথে সেবাশ্রয় প্রকল্প চালু করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জানান, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা যেমন চলবে, তেমনই স্থানীয় স্তরেও উন্নয়ন হবে।সব মিলিয়ে স্পষ্ট, নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে এবারের নির্বাচন আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে এবং এই কেন্দ্রের দিকে সবার নজর থাকবে।

মার্চ ২৫, ২০২৬
রাজ্য

শুভেন্দুর গড়ে চ্যালেঞ্জ! নন্দীগ্রামে অভিষেকের টানা সভা ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে

রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নন্দীগ্রামকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এই কেন্দ্রকে সামনে রেখে এবার জোর প্রচারে নামতে চলেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।শুভেন্দু অধিকারীর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামে এবার তৃণমূল প্রার্থী করা হয়েছে পবিত্র করকে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গতবারের পরাজয়ের পর এবার এই কেন্দ্র দখলে মরিয়া তৃণমূল।জানা গিয়েছে, আগামী পঁচিশে মার্চ নন্দীগ্রামে একটি কর্মীসভার মাধ্যমে প্রচার শুরু করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। এরপর সাতাশে মার্চ পাঁশকুড়া পূর্বে একটি জনসভা করার কথা রয়েছে তাঁর। ত্রিশে মার্চ কাঁথি এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করবেন তিনি।এই সফরকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ বাড়ছে। দলের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। সেই লড়াইয়ে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার আবার সেই কেন্দ্র ঘিরেই তৃণমূল নতুন করে কৌশল সাজাচ্ছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পবিত্র করকে প্রার্থী করে তৃণমূল একটি কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ হওয়ায় তিনি ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। আর তাঁর পাশে থেকে প্রচার জোরদার করতে মাঠে নামছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে নন্দীগ্রামের লড়াই এবার আরও জমে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ২২, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রামে আবার বড় লড়াই, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কি নতুন চমক দেবে তৃণমূল

বাংলার রাজনীতিতে নন্দীগ্রাম বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কলকাতা থেকে প্রায় একশো তিরিশ কিলোমিটার দূরের এই কেন্দ্র আবারও নির্বাচনের আগে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দুই হাজার একুশ সালের নির্বাচনের মতো এবারও নন্দীগ্রাম ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বিদায়ী বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি এই কেন্দ্র ছাড়বেন না। সোমবার বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, দল তার সেই সিদ্ধান্তকেই সমর্থন করেছে। তিনি একসঙ্গে দুটি কেন্দ্র থেকে লড়ছেন।তবে এবার বড় প্রশ্ন, নন্দীগ্রামে তার প্রতিপক্ষ কে হবেন। আগের নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে লড়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন তিনি। তাই এবার তৃণমূল প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে নানা নাম ঘুরে বেড়ালেও এখনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।সূত্রের খবর, তৃণমূল এবার স্থানীয় কোনও মুখের উপরেই ভরসা রাখতে পারে। এমনই এক নাম সামনে এসেছে, যাকে ঘিরে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। শোনা যাচ্ছে, নন্দীগ্রাম দুই নম্বর ব্লকের এক বিজেপি নেতা খুব শীঘ্রই তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। তিনি আগে তৃণমূলেই ছিলেন এবং পরে বিজেপিতে যোগ দেন। এলাকায় তার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।এই নেতার নাম প্রার্থী তালিকায় থাকতে পারে বলেই জল্পনা। তিনি এলাকায় খুব বেশি প্রচারে থাকেন না, কিন্তু চুপচাপ কাজ করে গেছেন দীর্ঘদিন। অনেকেই তাকে এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী বলে মনে করেন। ফলে যদি তাকে প্রার্থী করা হয়, তাহলে নন্দীগ্রামে লড়াই আরও জমে উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি দুইটি ব্লক নিয়ে গঠিত এবং তার মধ্যে একটি ব্লকে বিজেপির প্রভাব বেশি। সেই ব্লকেরই বাসিন্দা এই সম্ভাব্য প্রার্থী। তাই তাকে সামনে আনা হলে লড়াই আরও কঠিন হতে পারে।সব মিলিয়ে নন্দীগ্রাম এবারও রাজ্যের রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কে হবেন শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিপক্ষ, তা জানার জন্য এখন সকলের নজর রয়েছে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিকে। মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ১৭, ২০২৬
রাজ্য

‘১৪ মার্চ ভুলিনি’—নন্দীগ্রামে শহিদ বেদিতে শুভেন্দু, একই দিনে শ্রদ্ধা মমতারও

ভোটের আবহে আবারও আলোচনায় উঠে এল নন্দীগ্রাম। দুই হাজার সাত সালের চৌদ্দ মার্চের ঘটনাকে স্মরণ করে শনিবার নন্দীগ্রামে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে একই দিনে নন্দীগ্রাম দিবস উপলক্ষে শহিদদের স্মরণ করে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।শনিবার সকালেই নন্দীগ্রামের মালোপাড়ায় শহিদ বেদিতে মাল্যদান করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতারা এবং বিজেপির একাধিক পদাধিকারী। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, দুই হাজার সাত সালের চৌদ্দ মার্চের সেই দিনটি ভোলা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, জমি ও বাড়ি রক্ষার জন্য নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের যে লড়াই ছিল, সেই ঐতিহাসিক দিনের স্মৃতি আজও মানুষের মনে রয়েছে।অন্যদিকে নন্দীগ্রাম দিবস উপলক্ষে সকালে সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, নন্দীগ্রাম দিবসে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর ও নেতাই সহ সমস্ত শহিদদের প্রতি তিনি বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাচ্ছেন।প্রতি নির্বাচনের আগেই নন্দীগ্রামের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আসন্ন নির্বাচনের আগে আবারও নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে।সূত্রের খবর, পরে অধিকারী পাড়ার শহিদ বেদিতেও শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার কথা রয়েছে শাসকদলের নেতাদের। সেখানে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী এবং ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে যুক্ত নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীরা প্রথমে অধিকারী পাড়ায় কর্মসূচি পালন করছেন। তারপর সোনাচূড়া শহিদ মিনারে গিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে তাঁদের।অন্যদিকে বেলা এগারোটার দিকে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকেও আলাদা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রথমে ভাঙাবেড়া এলাকায় শহিদদের স্মরণ করা হবে। এরপর অধিকারী পাড়া এবং মালোপাড়ায় কর্মসূচি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

মার্চ ১৪, ২০২৬
রাজ্য

মমতা কি ফের নন্দীগ্রামে লড়বেন? শুভেন্দুর মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা

নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ফের একবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হন, তা হলে তাঁকে ২০ হাজার ভোটে হারাবেন।শুভেন্দু বলেন, তিনি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার নন্দীগ্রাম থেকেই ভোটে দাঁড়ান। তাঁর কথায়, আগে যেমন হিন্দু ভোট পেয়েছিলেন, এখন সেই সঙ্গে মুসলিমদের মধ্যেও সমর্থন বাড়ছে। গরিব মুসলমানদের একাংশও বিজেপিকে ভোট দেবে বলে তাঁর দাবি। এই মন্তব্যের পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কেও কি এবার থাবা বসাতে চাইছে বিজেপি।রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রাম-সহ গোটা রাজ্যের রাজনীতিতে ধীরে ধীরে সমীকরণ বদলাচ্ছে। এক সময় বিজেপি মূলত হিন্দুত্বের রাজনীতির উপর ভর করেই রাজ্যে শক্তি বাড়িয়েছিল। ২০২১ সালের আগে পর্যন্ত সেই কৌশলে সাফল্যও এসেছিল। তবে তার পর বিজেপির রাজনীতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। অনেকের মতে, তখন বিজেপি শুধু হিন্দুত্বের কথা বলেই থেমে থাকেনি, বরং মুসলিম বিরোধী অবস্থানও নিয়েছিল।এর আগে শুভেন্দু অধিকারীকেই বলতে শোনা গিয়েছিল, যারা বিজেপির সঙ্গে নেই, বিজেপিও তাদের সঙ্গে নেই। তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, বিজেপির হাতে ৩৯ শতাংশ ভোট রয়েছে এবং আরও ৫-৬ শতাংশ হিন্দু ভোট একজোট হলেই ক্ষমতায় আসা সম্ভব। সেই সময় বিজেপির রাজনীতিতে মুসলিম ভোটের প্রয়োজন নেই বলেই ইঙ্গিত মিলেছিল।তবে রাজ্য বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব শমীক ভট্টাচার্যের হাতে যাওয়ার পর থেকেই দলের সুরে বদলের আভাস মিলতে শুরু করে। সংখ্যালঘুদের কাছে পৌঁছনোর বার্তাও শোনা যায়। সেই সঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্যেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন আগেই তিনি বলেন, তিনি কখনও বলেননি যে মুসলিমদের ভোট চান না, তিনি শুধু বলেছেন যে বিজেপি সেই ভোট পায় না। তাঁর দাবি, ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৪এই তিনটি বড় নির্বাচনে বিজেপি এক শতাংশেরও কম মুসলিম ভোট পেয়েছে।শুভেন্দুর নন্দীগ্রামের বক্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ও জল্পনা শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
রাজ্য

অপারেশন সূর্যোদয় থেকে রাজনৈতিক সূর্যাস্ত? নন্দীগ্রামে ফের মুখোমুখি তৃণমূল ও বিজেপি

নন্দীগ্রামের সকালটা সোমবার ফের রাজনীতিতে গরম হয়ে উঠল। একই মাঠে পাশাপাশি দুটি মঞ্চ একদিকে তৃণমূল, অন্যদিকে বিজেপি। দুটির দূরত্ব কয়েক হাত মাত্র। যেন রাজনৈতিক সৌজন্যের আড়ালে তীব্র এক নীরব যুদ্ধ। স্থানীয়রা বলছেন, ২০২০ সাল থেকে এ দৃশ্য নতুন নয়। প্রতি বছরই দেখি তৃণমূল আর বিজেপির শহিদ দিবস-এর টানাপোড়েন।বাম আমলে ১০ নভেম্বর ছিল অপারেশন সূর্যোদয়-এর দিন। আজ তা নন্দীগ্রামের শহিদদের স্মরণে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কে আগে শহিদ বেদীতে পুষ্পার্পণ করবে, তৃণমূল না বিজেপি এই নিয়েই এখন বছরের পর বছর চলেছে রাজনৈতিক তরজা। শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও প্রকট।পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, তাই প্রশাসন প্রতি বছরই দুই দলের কর্মসূচির জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়। এ বছর সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সময় বরাদ্দ ছিল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জন্য। এরপরই শুরু হবে তৃণমূলের অনুষ্ঠান, যেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী।নির্দিষ্ট সময় মেনেই সকাল সকাল শহিদ বেদীতে পৌঁছে যান শুভেন্দু। তাঁর হাতে ছিল না দলীয় পতাকা, বরং কালো পতাকা অপারেশন সূর্যোদয়-এর বিরোধিতার প্রতীক হিসেবে। শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে মঞ্চে উঠে তিনি স্মরণ করান, নন্দীগ্রাম আন্দোলনে বিজেপি ছিল। লালকৃষ্ণ আডবাণীর অবদান ভোলার মতো নয়। তিনিই তো অবরোধ তুলেছিলেন।তবে শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে শুভেন্দু সময়ও মেনে চলেন। বলেন, এটা নাগরিক কর্তব্য, রাজনীতি নয়। এবং নির্দিষ্ট সময়েই মঞ্চ থেকে নেমে যান।কিন্তু শহিদ দিবসের দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভও লুকোলেন না। বক্তব্যে শুভেন্দু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের, আজও হয়নি। আপনাকে উদ্বোধনে ডাকিনি বলে রেগে গিয়েছিলেন। কিন্তু আপনাকে কেন ডাকব? ফিরোজা বিবি আর রাধারাণী আড়িকে দিয়েছি তাঁরা তো শহিদ পরিবার।তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, শহিদ পরিবারের কয়েকজন আজও মৃত্যুসনদ পাননি। চারজন পরিবার এখনো ক্ষতিপূরণ পায়নি, কারণ তারা বিজেপিতে এসেছে। কিন্তু আমি তাঁদের টাকা দিয়েছি। আপনি সবার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি। আসল পরিবর্তন ২০১১-তে হয়নি আমরা জনগণকে নিয়েই আসল পরিবর্তন আনব।শুভেন্দুর এমন মন্তব্যে ফের নন্দীগ্রামের রাজনীতি উথাল-পাথাল। একদিকে তৃণমূলের অনুষ্ঠান, অন্যদিকে বিজেপির জবাবি কর্মসূচি এক মাঠে দুই রঙের মঞ্চ যেন ফের মনে করিয়ে দিল নন্দীগ্রামের পুরনো দিনগুলো। স্থানীয়দের মতে, আজ সৌজন্য আছে বটে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে যুদ্ধের আগুন এখনও জ্বলছে।

নভেম্বর ১০, ২০২৫
রাজ্য

'২৬-এর নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম থেকেই লড়বেন মমতা? BJP নেতার দাবি জোর চর্চায়!

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ২০২৬-এর বিধানসভা ভোট। নন্দীগ্রামের রাজনীতি আবারও সরগরম। গতবছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর কঠিন লড়াইয়ে নন্দীগ্রাম হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দান। যদিও এবার ভোটে কিছুই নিশ্চিত নয়, কিন্তু সময় পেরোতেই মঞ্চ সাজাতে শুরু করেছেন দুই পক্ষের অনুগামীরা।গত নির্বাচনের পর তৃণমূলের অভিযোগলোডশেডিং করে ভোট কারচুপিএখনও বিচারাধীন। সেই মামলার ফলাফল না এলেও, নতুন লড়াইয়ের প্রস্তুতি আগেই শুরু হয়েছে। প্রশ্ন জাগেকি এবারও মমতা নন্দীগ্রাম থেকেই নামবেন?তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কৌশলের বাইরেতমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রলয় পাল দাবি করেছেন, ২০২৬-তেও মমতা নন্দীগ্রাম থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সেই সঙ্গে তিনি BJPর জয়ী হওয়ার চ্যালেঞ্জ দিয়ে রেখেছেন।বিপরীতে, নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের TMC সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গ দাবি করেছেন, দলের মনোনয়ন বিষয়ে শুধু দলই জানে। তবে তিনি নিশ্চিতশুভেন্দু অধিকারী এবার নন্দীগ্রাম থেকে আসন ছাড়বেন। তার যুক্তি, শুভেন্দুর নিজের বুথ তালিতায় তৃণমূল জিতেছে, লোকসভা ক্ষেত্রেও তিনি তৃণমূলকে ৪১২ ভোটে এগিয়ে রেখেছেন, আর পঞ্চায়েত সমিতিতেও প্রায় ২৫০০ ভোটের লিড দিয়েছেনএসব তথ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন, শুভেন্দুর এখন নন্দীগ্রামে যা শক্তি সেটা তৃণমূলের পক্ষেই যাবে।

আগস্ট ২৯, ২০২৫
রাজনীতি

বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় দিনভর উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম, থানায় পুলিশকে ধমক শুভেন্দুর

নন্দীগ্রামে বিজেপি কর্মী মহিলাকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় দিনভর উত্তপ্ত ছিল। বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামে পৌঁছে সরাসরি পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম কাণ্ডে খুনিদের সঙ্গে বৈঠক করার অভিযোগ তোলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। তাও আবার নন্দীগ্রাম থানার ভিতরে দাঁড়িয়ে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও ধমক দিলেন।বুধবার রাতপাহারা দিতে গিয়ে গোলমালের মাঝে পড়ে নিহত হয়েছে বিজেপি কর্মী রথিবালা আড়ির। গুরুতর আহত তাঁর ছেলে সঞ্জয়। এদিন বিকেলে নন্দীগ্রামে আসেন শুভেন্দু। তার পরেই আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। শুভেন্দু নন্দীগ্রাম থানায় ঢোকার আগে সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন কয়েক জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। প্রথমে তাঁদের ধমক দেন শুভেন্দু।এর পর শুভেন্দু থানার ভিতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে এক কর্তব্যরত পুলিশকর্মীকে তিনি বলেন, খুনিরা থানায় এসেছিল। যারা খুন করেছে, মাকে খুন করেছে। রথীবালা আড়ি সঞ্জয় আড়ির মা নন, তিনি আমার মা। খুনিদের সঙ্গে এখনই মিটিং করেছেন। আমি জানতে চাই, খুনির সঙ্গে এখনই মিটিং করেছেন কেন? মজা দেখাব আইসিকে!দলের এক মহিলা কর্মী খুনে হিংসার আগুন জ্বলতে থাকে নন্দীগ্রামে। পরপর চলতে থাকে দোকানে ভাঙচুর-আগুন। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপর্যুপরি লাঠিচার্জ করে পুলিশ। নন্দীগ্রাম থানার সামনে তুমুল বিক্ষোভ গেরুয়া দলের। দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাসে শেষমেশ বিক্ষোভ ওঠে। নির্বাচনের দুদিন দিন আগে এই নৃশংস খুনে নন্দীগ্রাম বেশ উত্তপ্ত।প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া মনসাবাজারে গতকাল রাতে তৃণমূল-BJP-র মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। সেই সংঘর্ষে ৯ জন গুরুতর জখম হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই জখম রথিবালা আড়ি নামে এক মহিলা BJP কর্মীর মৃত্যু হয়। অন্য আর একজনের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত বাকিরা নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন।এদিকে, নন্দীগ্রামের এই খুন নিয়ে মুখ খুলেছেন বিরোধী দলনেতা তথা স্থানীয় বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এদিন বলেন, মমতা ব্যানার্জির ভাইপোর উসকানিতে খুন হয়েছে। উনি গতকাল বলে গিয়েছিলেন সোনাচূড়া, গোকুলনগরের ৮০টি বুথে অনেকে ধমকাচ্ছেন, আমি তাদের সতর্ক করতে এসেছি, ফল ভালো হবে না। FIR-এ ওঁর পরিবার ওঁর নাম বলেছে।তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গ বলেন, যে এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে তৃণমূলের সংগঠনই নেই। BJP-র আদি ও নব্যের মধ্যে ঝামেলা। তারই জেরে এই ঘটনা। এর সঙ্গে তৃণমূল জড়িত নেই। রাজনৈতিকভাবে আমাদের দলকে কালিমালিপ্ত করতে BJP এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এলাকায়-এলাকায় বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, তৃণমূলের কর্মীদের মারধর করছে।

মে ২৩, ২০২৪
রাজনীতি

দ্বিতীয় নন্দীগ্রাম সন্দেশখালী? বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দু অধিকারীর

আজ দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। যাওয়ার আগে বিমান বন্দরে সন্দেশখালি নিয়ে একাধিক মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী। ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও অধরা শেখ শাহজাহান এই বিষয়ে বলেন, ধরবে না। ভোট আসবে আর কালীঘাটে টাকা সাপ্লাই করবে।রাজীব কুমার সন্দেশখালিতে রাতে থাকা প্রসঙ্গে বলেন, চোর ধরতে যায়নি। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে গিয়েছিল। জমি ফেরত তো আমি করেছি। নিজের জমি নিজে নেবে এতে পুলিশ কি করবে। আর জেলিয়াখালিতে গিয়েছিলেন শিবু হাজরার ম্যানেজার হিসাবে। উনি বলেছেন শাহজাহান ইডি সিবিআইয়ের মামলা পুলিশ নট ইন্টারেস্টেড। উনি গিয়েছিলেন ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে কারণ উনি তো এখন তৃণমূলের প্রেসিডেন্ট। সুব্রত বক্সী নামেই প্রেসিডেন্টের কাজটা রাজীব কুমারকে সুব্রত বক্সী দিয়েছেন।সন্দেশখালি কি দ্বিতীয় নন্দীগ্রাম হতে চলেছে? প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু বলেন, হ্যাঁ, বশ্যতা বিরোধী সংগ্রাম। নন্দীগ্রাম শুরু হয়েছিল জমি অধিগ্রন দিয়ে। এটা শুরু হয়েছে মেয়েদের উপর অত্যাচার দিয়ে। তার সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ তো রয়েছে। তবে যেটা নন্দীগ্রামে ছিল না সেটা এখানে রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে আসার পরে ২০১৩ সাল থেকে কেউ ভোট দিতে পারেননি। তিনটে বড় ইস্যু নিয়ে এই সংগ্রাম।আমি ওই সম্প্রদায়কে প্রণাম জানাই। যদি কোনো ছবি দেখান যা বলবেন স্বীকার করে নেবো। ওটা ম্যানুফ্যাকচার্ড পিকচার ভয়েস ওটার সঙ্গে আমাদের দলের বা আমার কোনো সম্পর্ক নেই। শিখ পুলিশ কর্মীকে খালিস্তানি বলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানান শুভেন্দু অধিকারী।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪
রাজ্য

ইকোপার্কে প্রাতর্ভ্রমণে গিয়ে সন্দেশখালি সহ নানা প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দিলীপ ঘোষের

সন্দেশখালি কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে?ওই জায়গা কোনওদিন কন্ট্রোলে ছিলই না। আজ পুলিশ আধিকারিক এবং তৃণমূলের নেতারা যাচ্ছেন। বছরের পর বছর ওখানে অত্যাচার হয়েছে। কেউ খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন? আজ মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। রাজীব কুমার গিয়ে বলছেন ৮ দিনে ঠিক করে দেব। এরকম কত ৮ দিন চলে গিয়েছে। ঠিক করেন নি কেন? কোথায় ছিলেন? দিনের পর দিন ধর্ষণ অত্যাচার হয়েছে। থানায় গিয়ে ফিরে এসেছেন। অভিযোগ নেওয়া হয়নি। পঞ্চায়েতে ভোট লুঠ হয়েছে। ভেরি দখল হয়েছে। পুলিশ অভিযোগকারীদের থানা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। রাজ্যে সন্দেশখালির মতো এরকম বহু জায়গা আছে। এটা কি দ্বিতীয় নন্দীগ্রাম?নন্দীগ্রাম একটা গেম চেঞ্জার ছিল। এটা দেখেও বহু মানুষ প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পাবেন। নন্দীগ্রামের মতো পরিস্থিতি অনেক জায়গায় তৈরি হবে। সাধারণ মানুষ নিজের হাতে ঝাণ্ডা তুলে প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে নিচ্ছেন। তারা এখন কোনও পার্টিকেও খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। মানুষকে নিজের রাস্তা নিজেই খুঁজে নিতে হচ্ছে। বিজেপির সব নেতা সন্দেশখালি যেতে মরিয়া কেন?রাজ্যে এরকম বহু এলাকা আছে যেখানে একেকজন মুসলিম গুন্ডাকে নেতা বানানো হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম শেখ শাহাজাহান। দক্ষিণ এবং উত্তর ২৪ পরগনা। নদিয়া। মালদা। মুর্শিদাবাদ। যারা মাফিয়া ছিল তারা নেতা হয়ে গেছে। তারা হাতেখড়ি করেছে সিপিএম আমলে। পরে তৃণমূলের হাত ধরেছে। পঞ্চায়েতের সমস্ত সিট ওদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। স্মাগলার, যারা গরু, কয়লা, ফেনসিডিল, সোনা এগুলো পাচার করে। একটা লোক এমন নয় যে ঠিকঠাক আছে। তারাই তৃণমূলের কিং পিন। তারাই টাকা দেয়। তারাই ভোট করায়। তৃণমূল দলটা এদের ওপরেই দাঁড়িয়ে আছে। তাদের গায়ে হাত পড়ে না। এমন সব জায়গা যেখানে ইডি, সিবিআই চট করে গিয়ে কিছু করতেও পারবে না। মানুষ বুঝেছে তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি, মান-সম্মান রক্ষা করতে গেলে তাদেরকেই রাস্তায় নামতে হবে। ডিজি রাজিব কুমারের সেদিনের রহস্যে ঢাকা মধ্যরাতের লঞ্চ সফরলোকেট করতে গেছিল? নাকি শাহজাহানের সঙ্গে দেখা করতে গেছিল? উনি নিজে কীভাবে কোর্ট এবং সিবিআই এর হাত থেকে লুকিয়ে ছিলেন সেই ট্রেনিং দিতে গেছিলেন। শাহজাহানের গায়ে কেউ হাত দেবে না। বলেছে ভরসা রাখুন? কোন পুলিশের ওপর মানুষ ভরসা রাখবে? জমি কেড়ে নিয়ে নোনা জল ঢুকিয়ে ভেরি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। সেই পুলিশের ওপর কে ভরসা রাখবে? মার্চে রাজ্যে মোদীগত নির্বাচনে ওরা ৪২ টা পাওয়ার দাবি করেছিল। ২২ এ নেমেছিলেন। এবার আগে ঘর সামলান। অন্য দিকে তৃণমূলকে তাকাতে হবে না। যা শুরু হয়েছে এমনিতেই ওরা খালি হয়ে যাবে। ২২ টা রাখতে পারবেন? কেউ বলছে ১৯, কেউ ১৫। আমার তো মনে হয় আরও এক ডজন সিট কমে যাবে। বিজেপি মহিলা মোর্চা ভোজেরহাটে রুদ্ধ। আটক লকেট।তৃণমূল ভয় পেয়েছে। পুলিশ ভয় পেয়েছে। কারণ, ভিতরে সাধারণ মানুষ আন্দোলন শুরু করেছে। তাদের সাহস বেড়েছে। তারা পুলিশকে ঢুকতে দিচ্ছে না। পুলিশ হাত জোর করছে। চোখ রাঙাচ্ছে। ফল হচ্ছে না। বাকি যারা তাদের পাশে দাঁড়াতে ওখানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের আটকানোর চেষ্টা চলছে। বিজেপি শুরু করেছিল। তারপর বাকি বিরোধীরা যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সমস্ত কমিশন গেছে। কিছু একটা লুকোনোর চেষ্টা চলছে। মহিলার পায়ের ওপর দিয়ে পুলিশের গাড়িপুলিশ কি স্বীকার বা অস্বীকার করল তাতে এখন আর কিছু যায় আসে না। পুলিশকে এখন ওখানে কেউ পাত্তা দিচ্ছে না। চাকরি বাঁচাতে পুলিশকে ওখানে যেতে হচ্ছে। ওখানে পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের যাওয়া উচিৎ। উনি ৫০০ টাকা দিয়ে সমর্থন কিনে নিয়েছেন। তাহলে তো ওখানে যাওয়া উচিৎ ওনার। উনি গিয়ে বলুন, আমি আছি চিন্তা নেই। কিন্তু ওনার যাওয়ার হিম্মত নেই। অভিষেক যাবেন ১০ তারিখওকে কে পাত্তা দেয়। দুধের ছেলেকে কেউ পাত্তা দেয়। দুধের বোতল নিয়ে রাজনীতি করছেন। উনি তৃণমূলের জন্য বড় নেতা হতে পারেন। যারা তৃণমূলের মাধ্যমে করে খায় তাদের জন্য উনি বড় নেতা। কিন্তু বাকি পশ্চিমবঙ্গের কে পোছে ওনাকে? কি অবদান ওনার? কি যায় আসে? রাজ্যের বকেয়া মেটাক কেন্দ্র : কুনাল ঘোষএকটা বাচ্চাকেও বাড়ির বাজার করতে দিয়ে আমরা হিসেব চাই। এটা বোঝে না তৃণমূল? চুরি করতে করতে এই বুদ্ধিও লোপ পেয়ে গেছে? আগে হিসেব দিন। অন্য রাজ্যকে নিয়ে তো সমস্যা হয় না। এখানে সব ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত চোর। আগে তো টাকার হিসেব দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের দুর্ভাগ্য, তারা চোরদের চয়ন করেছেন।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪
রাজ্য

নন্দীগ্রামের ছায়া! গাছের গুঁড়ি ফেল বিক্ষোভ অগ্নিগর্ভ সন্দেশখালিতে

সন্দেশখালি কি নন্দীগ্রামে স্মৃতি ফেরাচ্ছে? শুক্রবার সকালের পর দুপুরেও অগ্নিগর্ভ সন্দেশখালির বেড়মজুর। রীতিমতো রণক্ষেত্র এলাকা। গ্রামের পুরুষদের পুলিশি ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে পুলিশি ভ্যানের সামনে গাছের গুড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখান গ্রামের মহিলারা। রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন এক মহিলা। এক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার নাতিটা পরীক্ষা দিয়ে আসছিল। হঠাৎ করেই তাকে তুলে নিয়ে গেল। কী বলবেন আপনি! ওরা পুলিশ? গ্রামের বাঁশের ভাঙা সাঁকোর এক প্রান্ত পুলিশ, আরেক প্রান্ত মহিলারা। পুলিশ যাতে গ্রামে ঢুকতে না পারে তার জন্যই এই অবস্থা। শাহজাহান, তাঁর চ্যালাদের না গ্রেফতার করে, কেন পুলিশ গ্রামবাসীদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে সেই প্রশ্নই করতে থাকেন স্থানীয় মহিলারা।একটা সময়ে গোটা গ্রাম এসে দাঁড়ায় পুলিশের সামনে। সাঁকোর এক প্রান্তে পুলিশ, অপর প্রান্তে পথ আটকে দাঁড়িয়ে থাকেন গ্রামের মহিলারা। তাঁদের বাড়ির ছেলেদের না ছাড়া হলে যাবেন না, স্পষ্ট জানিয়ে দেন তাঁরা।শুক্রবার সকালে বেড়মজুর এলাকা তপ্ত হয়ে ওঠে। জমি ফেরতের দাবিতে লাঠি, বাঁশ, ঝাঁটা হাতে মেঠো রাস্তায় নামেন গ্রামের মহিলারা। শিবু হাজরা, অজিত মাইতি, তোয়েব মোল্লাদের বিরুদ্ধে জনরোষ আছড়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি মাছের ভেড়ি জ্বলতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতীম সরকার। গ্রামের মানুষদের বুঝিতে ফেরত পাঠান। জারি হয় ১৪৪ ধারা। গ্রামে একদিকে যখন এই পরিস্থিতি তখন অন্যদিকে, শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভাঙচুর চলে, স্ত্রী-মেয়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। এলাকা ঘুরে দেখেন ডিজি রাজীব কুমারও।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪
রাজ্য

নন্দীগ্রামে সমবায় সমিতির ভোটে বিজেপি ধরাশায়ী, বিপুল জয়লাভ তৃনমূলের

রবিবার ছিল নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের বিরুলিয়া গ্রাম-পঞ্চায়েতের হানুভুঁইয়া কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির নির্বাচন। মোট ৫২ টি আসনের মধ্যে মনোনয়ন পর্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১টি আসনে জিতেছিলেন তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থী। বাকি ৫১টি আসনের ভোটে তৃণমূল সমর্থিত ৫১ জন প্রার্থী ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বিজেপি সমর্থিত ৪০ জন এবং সিপিএম সমর্থিত ২৯ জন প্রার্থী।নির্বাচনে ২৫০০ সদস্য ভোটারের মধ্যে ৯০ শতাংশ ভোটাধিকার প্র্যোগ করেন। নির্বাচনকে ঘিরে সকাল থেকেই ছিল রীতিমত টানটান উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ। ভোট শেষ হলে গণনায় দেখা যায় ৫০ টি আসনে তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। আর একটি আসনে জয়ী বাম সমর্থিত প্রার্থী।নন্দীগ্রাম ২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মহাদেব বাগ বলেছেন, বিধানসভা নির্বাচনে বিরুলিয়া অঞ্চলে ১০ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। বিজেপির হাত ধরার অভিজ্ঞতা হয়েছে মানুষের। তাই সমবায়ের উন্নয়নের জন্য তৃণমূলেই আস্থা রেখেছেন এলাকার মানুষজন। তাঁরা স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে ভোট দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে।বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে কেন এই ছবি, তার উত্তর খুঁজতে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে বিজেপি-র অন্দরেই। যদিও ব্যর্থতা আড়ালে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তপন ব্যানার্জির দাবি, চাপা সন্ত্রাসের মুখে ভোট দিয়েছেন মানুষ তাই এই ফল।

আগস্ট ২২, ২০২২
রাজনীতি

নন্দীগ্রামে হেরেছি বলেছিলেন শুভেন্দু, বিস্ফোরক দাবি রাজীব-জয়প্রকাশের

নন্দীগ্রাম নিয়ে ফের তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এবার নন্দীগ্রামের ভোট নিয়ে বোমা ফাটালেন ঘর ওয়াপসি করা তৃণমূল নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামের ভোট স্বচ্ছ হয়নি। এমনটাই দাবি রাজীবের। শুভেন্দু অধিকারী নাকি তাঁকে গণনার দিন বিকেলেই জানিয়েছিলেন, তিনি হেরে গিয়েছেন । তাঁর বক্তব্য, কারচুপি করে জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী।শনিবার বিকেলে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি আজ দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি। নন্দীগ্রামের কথা উনি (শুভেন্দু অধিকারী) বার বার বলেন। আমিও সেই সময় ভারতীয় জনতা পার্টিতে ছিলাম। বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, নন্দীগ্রামের ভোট কতটা স্বচ্ছ হয়েছে! বাংলার মানুষ জানে, নন্দীগ্রামের ভোট কীভাবে হয়েছে। নন্দীগ্রামের ভোট স্বচ্ছ হয়নি। যেদিন ফলাফল ঘোষণা হয়, তিনি নিজে আমায় বিকেলে ফোন করে বলেছিলেন, নন্দীগ্রামে হেরে গিয়েছেন। তারপর কোন জাদুবলে আবার নন্দীগ্রামে তিনি জিতলেন? হাইকোর্টে যে মামলা হয়েছে, আমরা চাই এর বিচার হোক, যাতে হয় পুনরায় নির্বাচন নাহলে পুনরায় ভোট গণনা হোক। তাহলেই কী আছে তা পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে যাবে।উল্লেখ্য, এই অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এর আগেও তৃণমূল এমন অভিযোগ তুলেছিল এবং সেই জল আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে। এখন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দল বদলের পর সেই প্রসঙ্গকে ফের একবার উস্কে দিলেন। নন্দীগ্রামের ফলাফল প্রকাশ্যে আসার প্রথম দিন থেকেই নন্দীগ্রামের ভোট নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। এরপর শনিবার বিকেলে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সদ্য জার্সি বদল করা জয়প্রকাশ মজুমদার, উভয়েই দাবি করেন তাঁদের কাছে খবর ছিল শুভেন্দু অধিকারী হেরে গিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী নিজে নাকি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলেন যে তিনি হেরে গিয়েছেন।

মার্চ ১২, ২০২২
কলকাতা

Nandigram-High Court: ফের পিছল নন্দীগ্রাম মামলা

আজ সোমবার হাইকোর্টে শুনানি ছিল। এর আগেও এই মামলা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এবার ফের একবার পিছিয়ে গেল মামলা। এ দিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলা চলছে, তাই হাইকোর্টে শুনানি পিছিয়ে দিতে হবে।সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পরই ফের শোনা হবে মামলা। আজ এমনটাই জানানো হয়েছে আদালতের তরফে।অন্যদিকে মামলা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দিয়ে লিখিত বয়ান আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শুভেন্দুর আইনজীবীকে। আগামী ১ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তার আগে জমা দিতে হবে বয়ান। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা চলছে বলেই হাইকোর্টে মামলাটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।এই আর্জি শুনে ক্ষুব্ধ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী গোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এটি একটি নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা, তাই এই মামলা ফেলে রাখা যায় না। তাঁর বক্তব্য, অগস্টে মামলার শুনানি ছিল। এরপরও যদি শোনা না হয় তাহলে কবে শোনা হবে? এভাবে নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা ফেলে রাখা যায় না। অযথা এই মামলা ফেলে রাখা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। মামলা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দিয়ে লিখিত বয়ান কেন জমা দেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এরপরই বিচারপতি জানান, সুপ্রিম কোর্টের মামলার শুনানির আগে লিখিত আবেদন দিতে হবে শুভেন্দুর আইনজীবীকে। ২৯ নভেম্বর শুভেন্দু অধিকারীকে লিখিত বয়ান দিতে হবে হাইকোর্টে।

নভেম্বর ১৫, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • ›

ট্রেন্ডিং

ভ্রমণ

কম খরচে কেরালা ভ্রমণ: ব্যাকওয়াটার থেকে পাহাড়, সবই হাতের নাগালে স্বর্গীয় সৌন্দর্য

ভারতের মানচিত্রে কেরালাকে বলা হয় Gods Own Country। আর এই উপাধির সবচেয়ে বড় কারণ তার অনন্য ব্যাকওয়াটার, সবুজ নারকেল বন, শান্ত গ্রাম আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। অনেকেই মনে করেন কেরালা ভ্রমণ মানেই প্রচুর খরচ, বিলাসবহুল হাউসবোট আর দামি রিসর্ট। কিন্তু একটু পরিকল্পনা করলেই খুব কম খরচেও উপভোগ করা যায় কেরালার মনোমুগ্ধকর ব্যাকওয়াটার এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।ভোরবেলা আলাপ্পুঝা (Alappuzha) বা আলেপ্পির ঘাটে দাঁড়িয়ে মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই একটি জলরঙের ছবি এঁকেছে। চারদিকে শান্ত জলরাশি, তার মাঝে ভেসে চলেছে ছোট ছোট নৌকা। দূরে দেখা যাচ্ছে নারকেল গাছের সারি, মাঝে মাঝে গ্রামের মানুষ নৌকায় করে বাজারে যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখার জন্য লাখ লাখ পর্যটক কেরালায় আসেন। অনেকেই হাউসবোট ভাড়া করেন, যার খরচ বেশ বেশি। কিন্তু কম খরচে ব্যাকওয়াটার উপভোগ করতে চাইলে সরকারি ফেরি বা স্থানীয় নৌকায় চড়া সবচেয়ে ভালো উপায়। মাত্র কয়েকশো টাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাকওয়াটারের বুক চিরে ভ্রমণ করা যায়। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গল্প করতে করতে প্রকৃত কেরালাকে কাছ থেকে দেখা যায়।নৌকা যখন ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে, তখন দুপাশে চোখে পড়ে সবুজ ধানক্ষেত, ছোট্ট চার্চ, মন্দির এবং নদীর ধারে গড়ে ওঠা গ্রাম। কোথাও জেলেরা মাছ ধরছেন, কোথাও আবার শিশুরা জলে খেলছে। শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে এই শান্ত পরিবেশ মনকে এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। কেরালার প্রকৃতির সৌন্দর্য শুধু ব্যাকওয়াটারেই সীমাবদ্ধ নয়। মুন্নারের পাহাড়ি অঞ্চলে গেলে দেখা যায় অসীম বিস্তৃত চা-বাগান। পাহাড়ের গায়ে সবুজের কারুকাজ যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা। সকালের কুয়াশা আর ঠান্ডা হাওয়া মুহূর্তেই মন জয় করে নেয়। কম খরচে থাকার জন্য এখানে অনেক হোমস্টে ও বাজেট হোটেল পাওয়া যায়।এছাড়া ভরকালা ও কোভালামের সমুদ্রসৈকতও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সূর্যাস্তের সময় আরব সাগরের বুকে লাল আভা ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য জীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়ে থাকতে পারে। সৈকতে বসে শুধু প্রকৃতিকে উপভোগ করলেও কোনও অতিরিক্ত খরচ হয় না। কেরালার স্থানীয় খাবারও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। কলাপাতায় পরিবেশিত ভাত, সাম্বর, থোরান, মাছের কারি কিংবা আপ্পাম ও স্ট্যু স্বাদে যেমন অনন্য, তেমনি দামেও সাধ্যের মধ্যে। স্থানীয় রেস্তোরাঁয় খেলে খাবারের খরচ অনেকটাই কমে যায়।কম খরচে কেরালা ভ্রমণের জন্য ট্রেন সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। কোচি বা আলাপ্পুঝা পর্যন্ত ট্রেনে পৌঁছে স্থানীয় বাস ও ফেরি ব্যবহার করলে যাতায়াতের খরচ অনেক কম হয়। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টি ভ্রমণের জন্য আদর্শ, কারণ তখন আবহাওয়া মনোরম থাকে।কেরালার ব্যাকওয়াটারে সূর্যাস্তের সময় যখন আকাশের রং জলের ওপর প্রতিফলিত হয়, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন নিজের সেরা রূপটি মেলে ধরেছে। শান্ত জল, নারকেল গাছের ছায়া, পাখির ডাক আর গ্রামের সরল জীবনসব মিলিয়ে কেরালা শুধু একটি পর্যটনস্থল নয়, বরং এক অনুভূতির নাম। তাই যদি কম খরচে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কয়েকটি স্মরণীয় দিন কাটাতে চান, তাহলে কেরালার ব্যাকওয়াটার আপনার জন্য এক অসাধারণ গন্তব্য। একবার ঘুরে এলে মন বারবার ফিরে যেতে চাইবে সেই শান্ত, সবুজ আর জলময় স্বর্গরাজ্যে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
দেশ

‘ককরোচ’-এর আন্দোলনে বড় ধাক্কা কেন্দ্রের! তৃতীয় বৈঠকের আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, নতিস্বীকার কি সরকারের?

নিজস্ব সংবাদদাতা: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পালাবদলের ইঙ্গিত। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র লাগাতার আন্দোলন এবং দেশজুড়ে তৈরি হওয়া প্রতিবাদের আবহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে প্রথম থেকেই সরব ছিল সিজেপি। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিলশিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনও সমঝোতাই সম্ভব নয়।এই পরিস্থিতিতে শনিবার কেন্দ্রের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর সামনে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এল কেন্দ্র?ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজেই সমাজমাধ্যমে তাঁর পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। জানা গিয়েছে, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয় এবং রাষ্ট্রপতি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে সূত্রের খবর।নিট পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি সামনে এনেছিল সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের দাবি, পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে এর জন্য রাজনৈতিক দায় স্বীকার করতে হবে।এই দাবিকে কেন্দ্র করেই গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সিজেপির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে মোট তিনটি প্রধান দাবি রাখা হয়েছিল। প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা এবং নিটের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।সরকারের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের ইতিমধ্যে দুদফা বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবির বিষয়ে সরকারের তরফে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে কোনও সমঝোতা হচ্ছিল না। বরং কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ ফের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রের তরফে আলোচনায় থাকার কথা ছিল জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের। কিন্তু বৈঠকের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা হয়ে যায়। এর ফলে আন্দোলনকারীদের প্রথম এবং মূল দাবিই কার্যত পূরণ হয়ে গেল।শনিবার সকালেই সিজেপির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে কেন্দ্র যদি কোনও সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে তৃতীয় দফার বৈঠকেরও কোনও অর্থ নেই। এমনকি আন্দোলনকারীদের তরফে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষোভের পরিধি আরও বাড়তে পারে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলতে পারে।এই আবহেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তাঁর নিজের বক্তব্যে পদত্যাগকে সরাসরি আন্দোলনের চাপের ফল হিসেবে তুলে ধরা হয়নি। বরং তিনি গত কয়েকদিনের পরিস্থিতির জন্য দুঃখপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তাঁর দাবি, কোনও মেধাবী পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নষ্ট হোক, তা তিনি কখনও চাননি।পদত্যাগের ঘোষণা করে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত ৩ মে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই তিনি বিষয়টির দায় নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কখনও তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মেধাবী পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা এবং কোনও শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্যায় না হওয়া।গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাঁকে ব্যথিত করেছে বলেও জানিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ যাতে কোনও দেশবিরোধী শক্তি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যাতে অটুট থাকে এবং আন্দোলনে যুক্ত কোনও পড়ুয়া যাতে আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়েএই বিষয়গুলিও তিনি বিবেচনায় রেখেছেন।ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশার প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তাঁর মতে, তরুণদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, গোটা সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থারও।তাঁর পদত্যাগের ঘোষণার পর এখন নজর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আন্দোলনকারীরা কি এই সিদ্ধান্তকে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পথ হিসেবে দেখবেন, নাকি তাঁদের বাকি দাবিগুলি নিয়ে আন্দোলন আরও জোরদার হবেতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।তবে একটি বিষয় স্পষ্টনিট পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন আর শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আস্থা পুনরুদ্ধার, পরীক্ষার নিরাপত্তা, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সেই বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালেও, বৃহত্তর প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও বাকি। আগামী দিনে কেন্দ্র কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং শিক্ষাব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

জুলাই ২৫, ২০২৬
স্বাস্থ্য

ঋতুস্রাবের দিনগুলিতে মন খারাপ কেন? শরীরের যন্ত্রণার পাশে থাকুক মন ও পরিবারও

নিজস্ব প্রতিবেদন: মাসের কয়েকটি দিন। ক্যালেন্ডারের পাতায় হয়তো নিছক কয়েকটি তারিখ, কিন্তু একজন নারীর শরীর ও মনের কাছে এই দিনগুলির অর্থ অনেক গভীর। কখনও তলপেটের অসহ্য ব্যথা, কখনও কোমর ও পিঠে টান, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমি বমি ভাবতার সঙ্গে অকারণ মন খারাপ, বিরক্তি, কান্না পেতে থাকা, একা হয়ে যাওয়ার ইচ্ছে কিংবা অদ্ভুত এক মানসিক অবসাদ। ঋতুস্রাবের সময় অনেক নারীর কাছেই শরীর যেন নিজের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে ফেলে। আর সেই শারীরিক অস্বস্তির সঙ্গে যখন মিশে যায় মানসিক চাপ, তখন কয়েকটি দিন হয়ে ওঠে এক দীর্ঘ, ক্লান্তিকর পথচলা।এই সময়টিকে তাই শুধু মেয়েদের মাসিকের সমস্যা বলে হালকা করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। কারণ ঋতুস্রাব কেবল একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নয়; হরমোনের ওঠানামা, ব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত, কর্মক্ষেত্রের চাপ, সামাজিক অস্বস্তি এবং নিজের শরীর নিয়ে নানা সংকোচসব মিলিয়ে এটি অনেকের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।কখনও মনে হয়, পৃথিবীটা যেন একটু বেশি শব্দ করছে। সামান্য কথাতেও বিরক্তি আসে। যে মানুষটি প্রতিদিন হাসিমুখে সংসার সামলান, অফিস করেন, সন্তানকে স্কুলে পাঠান কিংবা জীবনের নানা দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন, তিনিই হয়তো সেই কয়েকটি দিনে নিঃশব্দে নিজের ভিতরের ক্লান্তির সঙ্গে লড়াই করেন।এই লড়াইকে বুঝতে হবে। বিচার নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা।কেন ঋতুস্রাবের সময় মন খারাপ হয়?ঋতুচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মতো হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন ঘটে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মেজাজের ওঠানামা, উদ্বেগ, বিরক্তি, মনোযোগে ঘাটতি কিংবা বিষণ্ণতার অনুভূতি দেখা দিতে পারে। এর পাশাপাশি ঋতুস্রাবের সময় ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা পরোক্ষভাবে মানসিক ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।কারও ক্ষেত্রে উপসর্গগুলি তুলনামূলক হালকা। আবার কারও ক্ষেত্রে তা এতটাই তীব্র হতে পারে যে দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা, চাকরি কিংবা সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়ে। ঋতুস্রাবের আগে ও আশপাশের সময়ে যদি প্রতি মাসেই তীব্র মানসিক পরিবর্তনযেমন গভীর বিষণ্ণতা, প্রচণ্ড খিটখিটে মেজাজ, উদ্বেগ বা আবেগের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো সমস্যা দেখা দেয় এবং তা জীবনযাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত করে, তবে প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (PMS) বা আরও গুরুতর ক্ষেত্রে প্রিমেনস্ট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিসঅর্ডার (PMDD)-এর সম্ভাবনা বিবেচনা করা প্রয়োজন।তবে প্রতিটি মন খারাপই যে PMS বা PMDD, তা নয়। আবার প্রতিটি শারীরিক কষ্টকেও স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়াও ঠিক নয়।শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে মানসিক অবসাদের যোগসূত্রঋতুস্রাবের সময় তলপেটের ব্যথা বা ক্র্যাম্প অনেক নারীর দৈনন্দিন জীবনকে থামিয়ে দিতে পারে। কারও ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে বিছানা ছেড়ে ওঠাও কঠিন হয়ে পড়ে। মাথাব্যথা, দুর্বলতা, পেটের সমস্যা কিংবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণও শারীরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।এই শারীরিক অস্বস্তির সঙ্গে যখন কর্মক্ষেত্র বা পরিবারের প্রত্যাশা একই থাকে, তখন মানসিক চাপ আরও বাড়তে পারে।আজ শরীরটা ভালো নেইএই কথাটি বলার অধিকার একজন নারীর আছে।শরীর যখন বিশ্রাম চায়, তখন বিশ্রাম নেওয়া দুর্বলতা নয়। বরং নিজের শরীরের সংকেতকে সম্মান করা সুস্থ থাকারই একটি অংশ।মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করবেন নামানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতুস্রাবের সময় মেজাজের পরিবর্তন হলে প্রথমেই নিজের অনুভূতিকে অযৌক্তিক বা নাটক বলে দমন না করে তা স্বীকার করা জরুরি। যদি প্রতি মাসে একই ধরনের সমস্যা ফিরে আসে, তাহলে অন্তত দুই-তিনটি ঋতুচক্র ধরে নিজের উপসর্গের একটি ডায়েরি রাখা যেতে পারে।কোন দিনে মন খারাপ হচ্ছে, কতটা ব্যথা হচ্ছে, ঘুম কেমন হচ্ছে, ক্ষুধার পরিবর্তন হচ্ছে কি না, কাজকর্মে কতটা সমস্যা হচ্ছেএসব লিখে রাখলে সমস্যার ধরন বোঝা সহজ হয়। প্রয়োজন হলে গাইনোকলজিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করেও উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়া যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং স্ট্রেস কমানোর অভ্যাস অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে উপসর্গ গুরুতর হলে শুধু মন শক্ত করুন বলা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অনুসারে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং বা ওষুধের সাহায্যও লাগতে পারে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথানিজে থেকে কোনও ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা উচিত নয়।কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন এই কঠিন সময়?১. শরীরকে বিশ্রাম দিনঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে নিজের উপর অযথা চাপ দেবেন না। কাজের মধ্যে ছোট বিরতি নিন। পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করুন। শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া মানে দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়; বরং পরবর্তী দিনগুলির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।২. হালকা শরীরচর্চা করুনশরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটা, স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম অনেকের ক্ষেত্রে মুড ভালো করতে এবং অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে তীব্র ব্যথা বা অসুস্থতা থাকলে জোর করে ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই।ঋতুস্রাবের দিনগুলিতে মন খারাপ কেন? শরীরের যন্ত্রণার পাশে থাকুক মনও, পরিবারওঋতুস্রাবের দিনগুলিতে মন খারাপ কেন? শরীরের যন্ত্রণার পাশে থাকুক মনও, পরিবারওসুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান। পর্যাপ্ত জল পান করুন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন, লবণ বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তবে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।৪. নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুনবই পড়া, গান শোনা, প্রিয় সিনেমা দেখা, ছবি আঁকা, বাগান করা কিংবা কোনও বন্ধুর সঙ্গে কথা বলাযে কাজটি মনকে শান্ত করে, সেটি করার চেষ্টা করুন। মনকে ভালো রাখার জন্য সবসময় বড় কোনও আয়োজন প্রয়োজন হয় না। কখনও এক কাপ গরম চা আর জানালার পাশে কয়েক মিনিট নীরবতাও যথেষ্ট হতে পারে।৫. অনুভূতি প্রকাশ করুনআমি ভালো নেইএই কথাটি বলতে ভয় পাবেন না। মন খারাপ হলে বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। নিজের কষ্টকে গোপন করে রাখলে অনেক সময় মানসিক চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।পরিবার ও বন্ধুরা কী করবেন?একজন নারীর ঋতুস্রাবের সময় তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সবচেয়ে বড় উপায় সবসময় কোনও বড় সমাধান নয়অনেক সময় শুধু তাঁকে বোঝার চেষ্টা করাটাই যথেষ্ট।পরিবারের সদস্যরা যদি বলেন, তোমার শরীর খারাপ? তুমি একটু বিশ্রাম নাও, আজকের কাজটা আমি করে দিচ্ছিতাহলে সেই কথাটিই হয়তো একজন ক্লান্ত নারীর কাছে হয়ে উঠতে পারে এক মুঠো স্বস্তি।তাঁর মেজাজ খারাপকে উপহাস করবেন না। এগুলো সব মাসিকের অজুহাতএই ধরনের মন্তব্য এড়িয়ে চলুন। তাঁর কথা শুনুন। প্রয়োজন হলে ঘরের কাজ ভাগ করে নিন। তাঁকে একা থাকতে চাইলে সেই ব্যক্তিগত পরিসরটুকু দিন, আবার তিনি কথা বলতে চাইলে মন দিয়ে শুনুন।বন্ধুরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। বন্ধুর মন খারাপ বুঝলে জোর করে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা না করে পাশে থাকা, ফোন করা, একটু গল্প করা কিংবা প্রয়োজন হলে শুধু নীরবে শুনে যাওয়াএসবই অনেক সময় কার্যকর সহায়তা হয়ে ওঠে।মনে রাখতে হবে, মানসিক অবসাদ কোনও মেয়েলি দুর্বলতা নয়। এটি মানুষের অনুভূতিরই একটি অংশ। আর অনুভূতির যত্ন নেওয়া যেমন ব্যক্তিগত দায়িত্ব, তেমনই সামাজিক দায়িত্বও।কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?যদি প্রতি মাসে ঋতুস্রাবের আগে বা সময়ে তীব্র বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, রাগ, হতাশা বা আবেগের পরিবর্তন দেখা দেয় এবং তা কাজ, পড়াশোনা, সম্পর্ক বা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অসহ্য ব্যথা, বারবার মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ কিংবা এমন শারীরিক সমস্যা যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে থামিয়ে দেয়এসবকেও অবহেলা করা উচিত নয়।আর যদি কখনও গভীর হতাশা, নিজেকে আঘাত করার চিন্তা বা বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলার মতো অনুভূতি তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি জরুরি হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।নারীর শরীরকে বোঝার পাশাপাশি নারীর মনকেও বুঝতে হবেঋতুস্রাব কোনও লজ্জার বিষয় নয়। এটি জীবনের স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। অথচ এখনও সমাজের বহু স্তরে এই বিষয়টি নিয়ে সংকোচ, কুসংস্কার ও নীরবতা রয়েছে। সেই নীরবতাই অনেক সময় নারীর শারীরিক ও মানসিক কষ্টকে আরও একা করে দেয়।প্রখ্যাত লেখিকা ভার্জিনিয়া উলফ লিখেছিলেন, I would venture to guess that Anon, who wrote so many poems without signing them, was often a woman.নারীর অদৃশ্য কণ্ঠস্বরের প্রসঙ্গে তাঁর এই কথাটি যেন আজও প্রাসঙ্গিক। কারণ বহু নারী এখনও নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ না করে নীরবে সহ্য করে যান।ঋতুস্রাবের দিনগুলিতে তাই প্রয়োজন একটু বেশি মানবিকতা। প্রয়োজন প্রশ্নের বদলে বোঝাপড়া, উপহাসের বদলে সহানুভূতি, নির্দেশের বদলে পাশে থাকা।একজন নারী সেই কয়েকটি দিনে যদি বলেন, আজ আমার একটু বিশ্রাম দরকারতবে তাঁর পাশে দাঁড়ানো মানে তাঁকে দুর্বল করে দেওয়া নয়। বরং তাঁর শক্তিকে সম্মান করা।কারণ প্রতিটি মাসে শরীরের ভিতর দিয়ে যে পরিবর্তনের স্রোত বয়ে যায়, তার সঙ্গে লড়াই করে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন অসংখ্য নারী। তাঁদের এই নীরব লড়াইকে স্বীকৃতি দেওয়া, তাঁদের কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোএটাই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে মানবিক দায়িত্ব।ঋতুস্রাবের দিনগুলি হয়তো মাসের কয়েকটি দিন। কিন্তু সেই কয়েকটি দিনে একজন নারীর পাশে থাকাতাঁর কাছে হয়ে উঠতে পারে সারা জীবনের এক গভীর আশ্বাস।

জুলাই ২৫, ২০২৬
দেশ

'ককরোচ'দের চাপেরই জের! অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী

অবশেষে ককরোচদের প্রধান দাবি মেনে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আগেই ককরোচ জনতা পার্টির বেশিরভাগ দাবি মেনে নিয়েছিল কেন্দ্র। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিজেপির কাছ থেকে কেন্দ্র সময় নিয়ে নেয়। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি মেনে অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় করা দীর্ঘ পোস্টে নিজের পদত্যাগের কারণ জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ইতিমধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত সেই পদত্যাগ গৃহীত হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীকে নিজের ইস্তফা পাঠানোর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজের দায়িত্ব থেকে কোনও সময় মুখ ফিরিয়ে নিইনি। প্রথম দিন থেকে নিটে প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়েছি, কোনওসময় মুখ লুকোয়নি। তাঁর দাবি, ছাত্র আন্দোলনের নামে কিছু দেশবিরোধী কুচক্রী ষড়যন্ত্র করছে। সেই কুচক্রীরা যাতে কোনওভাবেই পরিস্থিতির সুবিধা তুলতে না পারে, সেজন্যই আমার ইস্তফা। আমার এই পদত্যাগপত্র দেশের জন্য।যন্তর মন্তরে একাধিক দাবি নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন শুরু করে। তারমধ্যে প্রধান দাবি ছিল, নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র লিকের জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। প্রথম দিকে শুধু মাত্র ককরোচ জনতা পার্টি সেই আন্দোলন করে। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র সংগঠন সেই আন্দোলনে যুক্ত হয়। দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সেই আন্দোলনে যুক্ত হতে থাকে। সেলিব্রেটি, খেলোয়াররাও আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। কার্যত চাপে পড়েই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন বলেই বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
রাজ্য

সেবাশ্রয় ঘিরে নতুন বিস্ফোরণ! কোটি টাকার নয়, এবার সামনে এল লক্ষ লক্ষ টাকার বকেয়ার অভিযোগ

প্রায় দুই বছর আগে সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্প খরচে চিকিৎসার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল সেবাশ্রয় শিবির। সেই উদ্যোগকে ঘিরে তখন ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রকল্প নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। এবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের হয়েছে নতুন অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি রিসর্ট ভাড়া নেওয়া এবং লক্ষ লক্ষ টাকার বকেয়া বিল।অভিযোগকারী রিসর্ট মালিক জানিয়েছেন, সেবাশ্রয় শিবিরের কাজ পরিচালনার জন্য এক সময় তাঁর রিসর্ট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রায় দেড়শো জন কর্মী থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে দাবি তাঁর। অভিযোগ, দীর্ঘদিন কেটে গেলেও প্রায় তিরিশ লক্ষ টাকার বিল এখনও পরিশোধ করা হয়নি।রিসর্ট মালিকের দাবি, সেই সময় বারবার টাকা চাওয়া হলেও কোনও অর্থ দেওয়া হয়নি। বরং তাঁকে জানানো হয়েছিল, ব্যবসা করতে হলে এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে। তাঁর আরও অভিযোগ, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি তখন থানায় অভিযোগ করার সাহস পাননি। বর্তমানে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, রিসর্টে সেবাশ্রয়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা থাকতেন। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, সেই সময় এই ব্যবস্থার সঙ্গে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীদের নামও জড়িত ছিল বলে তাঁর দাবি। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।শনিবার বিধানসভায় সেবাশ্রয় নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও প্রকল্পটি নিয়ে একাধিক অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সেবাশ্রয় সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গোটা বিষয়টি অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
রাজ্য

নলহাটিতে হানা দিতেই চক্ষু চড়কগাছ! একসঙ্গে উদ্ধার বিপুল বিস্ফোরক, বড় রহস্যের গন্ধ

বীরভূমের নলহাটিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। উদ্ধার হয়েছে বিশ বস্তা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং প্রচুর ডিটোনেটর। ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিপুল বিস্ফোরক কী উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। কলকাতা থেকে তদন্তকারী দল নলহাটিতে পৌঁছে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ তল্লাশির পর একটি জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকেই এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক কী কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল, তা এখন তদন্তের মূল বিষয়। কোনও নাশকতার ছক ছিল কি না, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও ডিটোনেটর পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হতে পারে বলেও তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, এই বিস্ফোরক কোনও বৈধ শিল্পকারখানা বা খনির কাজে ব্যবহার করার জন্য রাখা হয়েছিল কি না। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তাঁদের খোঁজেও তল্লাশি শুরু হতে পারে। গোটা ঘটনায় তদন্ত চলেছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বাবা বিক্রি করতেন সবজি, ছেলে জিতল দেশের প্রথম পদক! ঝন্ডুর লড়াই জানলে চোখে জল আসবে

কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক অভিযান শুরু হল দারুণ সাফল্যের মধ্য দিয়ে। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ার লিফটিং বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের ঝুলিতে প্রথম পদক তুলে দিলেন বিহারের ঝন্ডু কুমার। তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত গোটা দেশ।ঝন্ডু কুমারের জীবন সংগ্রামের গল্প অনুপ্রেরণার। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে পোলিও আক্রান্ত হন তিনি। ছোটবেলা থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি আর্থিক সমস্যার সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে। তাঁর বাবা রাস্তার ধারে সবজি বিক্রি করেন। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ঝন্ডুও একসময় ই-রিকশা চালিয়েছেন। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিও তাঁর স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন এবং দেশের হয়ে খেলার লক্ষ্য থেকে কখনও সরে যাননি।পরবর্তীতে তাঁর প্রতিভা নজরে আসে জাতীয় কোচ রাজিন্দর সিং রাহেলুর। তাঁর উদ্যোগেই ঝন্ডু জাতীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুশীলনের সুযোগ পান। সেই সুযোগই বদলে দেয় তাঁর জীবন। এরপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য পেতে শুরু করেন তিনি।কমনওয়েলথ গেমসে ঝন্ডু মোট একশো নব্বই কেজি ওজন তুলে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন। শেষ প্রচেষ্টায় আরও বেশি ওজন তোলার চেষ্টা করলেও সফল হননি। তবুও তাঁর পারফরম্যান্সই ভারতের প্রথম পদক এনে দেয়।পদক জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ঝন্ডু বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে তিনি যেন আকাশে উড়ছেন। এই পদক শুধু তাঁর নয়, যাঁরা কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং অনুশীলনের সুযোগ করে দিয়েছেন, তাঁদের সকলেরও। ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য আনার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চান তিনি।এর আগেও জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন ঝন্ডু। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও একাধিক পদক জিতেছেন। এবার কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক জিতে তিনি প্রমাণ করে দিলেন, কঠোর পরিশ্রম, ইচ্ছাশক্তি এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনও বাধাই সাফল্যের পথে শেষ কথা হতে পারে না।

জুলাই ২৫, ২০২৬
কলকাতা

মিছিলে ঢুকেছিল বহিরাগত? সত্তর জন চিহ্নিত, কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

ধর্মতলায় সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে বিধানসভায় বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের নামে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন হিসেবে ঘোষণা করা হলেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, আন্দোলনে এমন বহু ব্যক্তি যোগ দিয়েছিলেন, যাঁদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলন বা নিট ইস্যুর কোনও সরাসরি সম্পর্ক ছিল না। বিভিন্ন এলাকা থেকে বহিরাগতদের আনা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় পুলিশ ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল, জুতো এবং অন্যান্য বস্তু ছোড়া হয়। তাঁর দাবি, উদ্দেশ্য ছিল পুলিশকে উসকে দিয়ে বড় সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করা। তবে পুলিশ সংযম দেখিয়েছে বলেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়নি।তিনি আরও জানান, ঘটনায় আহত হয়েছেন একাধিক সাংবাদিক। ইতিমধ্যেই সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তে এখনও পর্যন্ত প্রায় সত্তর জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কয়েকজনের নামও বিধানসভায় উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।প্রশাসনের দাবি, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্মতলার অশান্তির প্রকৃত কারণ এবং কারা এর নেপথ্যে ছিল, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জুলাই ২৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal