• ১১ আশ্বিন ১৪৩৩, বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Malda,

রাজ্য

১৮ অগাষ্ট বাংলার এই জেলায় পালিত হল স্বাধীনতা দিবস, কেন ১৫ অগাস্ট নয়?

একই দেশ। কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের দিন ভিন্ন। গত মঙ্গলবার ১৫ অগাস্ট দেশ জুড়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়েছে। কিন্তু মালদায় স্বাধীনতা দিবস পালিত হয় ১৫ নয়, ১৮ অগাস্ট। এই দিনে স্বাধীনতা পেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা। আর সেই পুরনো স্মৃতিকে সামনে রেখেই শুক্রবার মালদায় পালিত হলো স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালে ভারত যখন স্বাধীন হয়েছিল। ইংরেজরা দেশ ছেড়েছিল। ঠিক সেই সময় মালদা জেলা পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) অধীনে চলে গিয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন সর্বত্র ছিল আলোর রোশনাই তখন মালদা ডুবেছিল গাঢ় অন্ধকারে। সেই সময়কার স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং ব্যারিস্টারদের হস্তক্ষেপেই তিনদিন পর স্বাধীনতা পায় আমের জন্য খ্যাত মালদা জেলা। মালদার কালেক্টরের ভবনে পূর্ব পাকিস্তানের ঝান্ডা নামিয়ে উড়ানো হয় ভারতীয় তিরঙ্গা। আর সেই পুরনো স্মৃতিকে বজায় রেখেই আজও মালদায় ১৮ আগস্টে সাড়ম্বরে পালিত হয়ে আসছে স্বাধীনতা দিবস।শুক্রবার মালদা শহরের গ্রন্থাগারের বই বাগানে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। উত্তরবঙ্গ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের সদস্য প্রসেনজিৎ দাসের উদ্যোগে এবং মালদার বিশিষ্ট শিল্পীরা হাজির ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। অন্যদিকে ইংরেজবাজার পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়া এলাকায় স্থানীয় কাউন্সিলর অম্লান ভাদুড়ীর নেতৃত্বে ১৮ আগস্ট উপলক্ষে মালদার স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। এদিন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রবীণ মানুষদের উপস্থিতিতে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। উত্তরবঙ্গ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের সদস্য প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট যখন ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়। তখন গোটা দেশ এই স্বাধীনতার উৎসবে মেতে উঠেছিল। সেই সময় মালদা ছিল পরাধীন। পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) অধীনে চলে গিয়েছিল মালদা জেলার দশটি থানা। এই নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। মালদার কালেক্টারে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উড়েছিল। কিন্তু সেই সময় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ব্যারিস্টারদের হস্তক্ষেপেই শুরু হয় সীমানা নির্ধারণের লড়াই। এরপর ১৮ আগস্ট মালদা জেলা ভারতের অংশ বলেই ঘোষণা করা হয়। আর সেই ১৮ আগস্ট থেকেই শুরু হয় মালদার স্বাধীনতা দিবস। পূর্ব স্মৃতি ও অতীত বিজড়িত অনেক কাহিনী মালদার এই স্বাধীনতাকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে। দুটি জায়গাতেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। কচিকাঁচা থেকে বড়রা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

আগস্ট ১৮, ২০২৩
রাজ্য

আপাতত মুক্তি মিলল মালদার দুই নির্যাতিতার, সংবর্ধনা সমাজসেবী সংস্থার

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মালদার দুই নির্যাতিতা মহিলাকে সংবর্ধনা জানানো হল। মঙ্গলবার মালদা শহরের রথবাড়ি এলাকায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁদের সম্বর্ধনা জানানো হয়। নতুন শাড়ি, ফুলের মালা এবং কিছু খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়ে মালদার দুই নির্যাতিতা মহিলাকে সংবর্ধনা জানানো হয় এদিন। উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী মধুময় সরকার। উল্লেখ্য, মালদার পাকুয়াহাট এলাকায় চোর সন্দেহে দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে মারধর করার ঘটনার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। এই ঘটনার পর পাল্টা দোষীদের গ্রেপ্তার না করে ওই দুই নির্যাতিতা মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশ দুই মহিলাকে মারধরের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পরে। এদিকে পাকুয়া পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগ দিয়ে জেলে পাঠানো হয় দুই মহিলাকে বলে জানা যায়। ঘটনার প্রতিবাদে ঝড় উঠে গোটা জেলা জুড়ে। অবশেষে সোমবার মালদা জেলা আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করে। মঙ্গলবার মালদা জেলা সংশোধনাগার থেকে ছাড়া পান তাঁরা। জানা গিয়েছে, এরপর মালদা শহরের রথবাড়ি এলাকায় নির্যাতিতা এই দুই মহিলাকে সংবর্ধনা জানানো হয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে।

জুলাই ২৫, ২০২৩
রাজ্য

নির্যাতিতা দুই মহিলার জামিন মঞ্জুর, অভিযোগ মানবাধিকার কমিশনেও

মালদার নারী নির্যাতনের ঘটনায় তোলপাড়। শেষমেশ নির্যাতিতা দুই মহিলার জামিন মঞ্জুর করলো মালদা আদালত। সোমবার মালদা আদালতে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন নির্যাতিতা দুই মহিলার পক্ষের আইনজীবী অমিতাভ মৈত্র। তিনি বলেন, যে দুই মহিলাকে চুরির অভিযোগে বিবস্ত্র করে মারধোর করা হয়েছিল, সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। কিন্তু পুলিশ এই দুই নির্যাতিতার মহিলাকেই চুরির অভিযোগে এনে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যাদেরকে মারধর করা হলো তাঁরা কোনভাবেই চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না। তা প্রমাণ হয়নি। এমনকি অভিযোগপত্রে পুলিশের খাতায় ওই দুই মহিলার নাম ছিল না। অথচ তাদেরকে অন্যায় ভাবে জেল খাটতে হলো। এর খেসারত কে দিবে? এমন প্রশ্ন তুলেও বিচারকের সামনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সোচ্চার হন আইনজীবী অমিতাভ মৈত্র।সোমবার অমিতাভ মৈত্র বলেন, ওই দুই মহিলা যাদেরকে মারধর করা হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে চুরিসহ সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার কোনো প্রমাণই দিতে পারেনি পুলিশ। ফলে মহামান্য আদালত বিষয়টি এর বিচারক বিবেচনা করেই ওই দুই মহিলার জামিন মঞ্জুর করে দিয়েছেন। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে মালদা আদালতে মামলা রুজু পাশাপাশি মানবাধিকার কমিশনেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে মঙ্গলবার টাকা চুরির সন্দেহ করে দুই মহিলাকে বিবস্ত্র অবস্থায় মারধর করা হয়। এরপর গত শুক্রবার বিজেপির পক্ষ থেকে ওই দুই মহিলার প্রতি নির্যাতনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হয়।। আর তারপর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায় প্রাথমিক ভাবে তদন্ত শুরু করে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ তিন মহিলা সহ দুইজনকে গ্রেফতার করে। এবং এখনো পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

জুলাই ২৪, ২০২৩
রাজ্য

দুই আদিবাসী মহিলাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন! বর্ণনা শোনালেন নির্যাতিতার মেয়ে

শনিবার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তোলপাড় বাংলা। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মালদায় দুই আদিবাসী মহিলাকে বিবস্ত্র করে মারধর করা হচ্ছে। ঘটনায় সরব হয়েছে বিজেপি। তুলনা টানছেন মনিপুরের ঘটনার সঙ্গে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, মনিপুরের ঘটনা আড়াল করতে চাইছে বিজেপি।মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী থাকল বাংলা। জানা গিয়েছে, উল্টে বর্তমানে দুই নির্যাতিতাই গারদে! পুলিশ তাঁদেরই গ্রেফতার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় এই ধরণের নক্কারজনক ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বার করতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল বিজেপি। কেন দুই আদাবিসী মহিলাকে মারধর করা হল? কারা করলেন? শিউরে ওঠা ঘটনার বর্ণনা করেছেন নির্যাতিতা এক আদিবাসী মহিলার মেয়ে।ঘটনা গত মঙ্গলবারের। নির্যাতিতার মেয়ের কথায়, লেবু বিক্রি করতে গত মঙ্গলবার হাটে গিয়েছিলেন আমার মা ও এক কাকিমা। সেখানেই এক মিষ্টি বিক্রেতা তাদের চোর বলে সন্দেহ করে। সঙ্গে সঙ্গে চোর সন্দেহে মা ও কাকিমাকে মারধর করে হাটের লোকজন। কাপড় খুলে মেরেছে। মা ও কাকিমা বিভিন্ন হাটে লেবু বিক্রি করতে যায়।শুধু সন্দেহের কারণেই মারধর? নির্যাতিতার মেয়ে বলেন, কেবল সন্দেহ করেই ওরা মারধর করল। অন্যায় থাকলে মারত তাহলেও ঠিক ছিল, কিন্তু ওদের অন্যায়ভাবে মেরেছে। জুতো পেটা করেছে। দুই নির্যাতিতাই এখন জেলে রয়েছে বলে দাবি নির্যাতিতার মেয়ের।কীভাবে জানলেন হাটে এই অকথ্য অত্যাচার চলেছে? মেয়ে বলেন, থানা থেকে এক সিভিক পুলিশ এসে আমাদের মা, কাকিমার ছবি দেখাল। বলল ঘটনা। তারপর থানায় যেতে ওখানে সব বললো। ওরা জেলে রয়েছে। পুলিশ বললো পরের সোমবার ছাড়া হবে।মালদা জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র আশিস কুন্ডু বলেন, দোষ করলে শাস্তি হবে, যে করেছে তাদেরই শাস্তি দিক পুলিশ। নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। আশা করছি দোষীদের শাস্তি হবে দ্রত।মণিপুরের ঘটনা নিয়ে সরব তৃণমূল। পাল্টা মালদায় দুই আধিবাসী মহিলার উপর অত্যাচারের ঘটনায় সোচ্চার বিজেপি। এই ঘটনায় কেন নীরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ইন্ডিয়া জোটের কোনও শরিক কেন কিছু বলছে না তাও জানতে চেয়েছেন বালুরঘাটের সাংসদ।

জুলাই ২২, ২০২৩
রাজ্য

পঞ্চায়েত নির্বাচনের ১০ দিনের মাথায় গণনা কেন্দ্রে মিলল ব্যালট বাক্স, গাজোলে বিক্ষোভ বিজেপির

ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পুরো ১০ দিনের মাথায়ও ব্যালট বাক্সের গ্যাঁড়াকল কাটছে না। মঙ্গলবার মালদার গাজোলের একটি স্কুল তালাবন্দি শ্রেণিকক্ষে উদ্ধার হল তিনটি প্রশাসনের শীল করা ব্যালট বাক্স। এদিন সকালে এই ঘটনা জানাজানি হতেই তুমুল রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গাজোল ব্লক এলাকায়। বিজেপি নেতৃত্ব পুলিশ ও প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছে। এরপরই এদিন সকাল থেকেই গাজোলে উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ, পথ অবরোধ শুরু হয়। প্রায় আধ ঘন্টা ধরে চলে বিজেপির কর্মসূচি। এই ঘটনায় সাংসদ খগেন মুর্মু গাজোল থানার আইসি এবং সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।একইসঙ্গে বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কারচুপি করে গাজোলের ওই ৮৩ নম্বর বুথে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের মালদা জেলা পরিষদের গাজোল এলাকার নির্বাচিত প্রার্থী দীনেশ টুডুর অভিযোগ, বিজেপি হতাশায় ভুগে উল্টোপাল্টা বকছে। বিজেপি ব্যালট বাক্স লুঠ করার পর ওই স্কুলের ক্লাসরুমে রেখে দিয়ে গেছে। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগকে ঘিরে সরগরম গাজোল।জানা গিয়েছে, গাজোল ব্লকের হাজীনাকু মহম্মদিয়া হাইস্কুলে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের স্ট্রং রুম এবং গণনা কেন্দ্র করা হয়েছিল। এদিন ওই স্কুলের একটি ক্লাস রুম থেকেই শীল প্যাক ওই তিনটি ব্যালট বাক্স উদ্ধার হয়েছে। যদিও ওই স্কুলের ৮৩ নম্বর বুথে ব্যালট বাক্স লুঠ হওয়ার অভিযোগে ৯ জুলাই পুনঃনির্বাচন হয়েছিল। আর এই ঘটনার পরের এদিন মঙ্গলবারে তিনটি ব্যালট বাক্স উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গাজোল থানার পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। গাজোল হাজিনাকু মহম্মদীয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ননীগোপাল বর্মন জানিয়েছেন, নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর ব্লক প্রশাসনের নির্বাচনী এজেন্সির লোকেরা গত কয়েকদিন ধরে স্কুলের তদারকি চালাচ্ছিল। তাদের কোনো খুঁটিনাটি জিনিস পড়ে আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। এরপরেই ব্লক প্রশাসনের অফিস থেকে আসা কর্মীরাই দেখতে পান একটি ক্লাস রুমের ঘরে তালা বন্দি রয়েছে। যদিও সেই ঘরের চাবি আমাদের কাছে ছিল না। সেই ব্লক প্রশাসনের কর্তারা ঘরের তালা ভাঙতেই এই তিনটি ব্যালাট বাক্স নজরে আসে। গাজোলের বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মন জানিয়েছেন, তৃণমূলীরা কিভাবে এবারের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে কারচুপি করেছে, সন্ত্রাস চালিয়েছে তা এদিনের ব্যালট বাক্স উদ্ধারের ঘটনায় প্রমাণ। এই ৮৩ নম্বর বুথে ভোটের দিন ব্যালট বাক্স পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে ৮ জুলাই পঞ্চায়েত নির্বাচন হওয়ার পরের দিন ৯ জুলাই আবার পুনর্নির্বাচন হয়। সেখানে বিজেপি পরাজিত হয়েছে। তৃণমূল এইভাবে কারচুপি করেই জয়ী হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনকে দায়ী করছি। গাজোল ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, আপাতত ওই তিনটি ব্যালট বাক্স বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জুলাই ১৮, ২০২৩
রাজনীতি

ব্যালট বক্স বাইকে করে সোজা থানায় নিয়ে গেল তৃণমূল কর্মীরা

ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে মালদার চাঁচল মহকুমায় তৃণমূল এবং বিরোধীদল বিজেপি ও কংগ্রেস, সিপিএমের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে অনেক বুথ থেকে নিরাপত্তার অভাব বোধ করে সরে গিয়েছেন অফিসার থেকে ভোট কর্মীরা। কিন্তু মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের যে ব্যালট বাক্স তা লুঠ হতে দেননি চাঁচল থানার খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালপুর ও দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও তৃণমূল কর্মীরা। শনিবার সংশ্লিষ্ট গ্রামের ১৯৬ বুথের ভোটদান পর্ব দুপুরের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। আর তারপরেই সেখানে শাসক-বিরোধী গোলমালের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। জানা গিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ব্যালট বাক্স যাতে লুঠ না হয়, তারজন্য স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরাই সেই ভোট সম্পন্ন হওয়া ব্যালট বাক্স বাইকে করে সটাং থানায় নিয়ে এনে জমা দিলেন কর্তব্যরত চাঁচল থানার পুলিশ অফিসারদের কাছে।স্থানীয় তৃণমূলের একাংশ কর্মীদের বক্তব্য, খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালপুর দুর্গাপুর গ্রামের ১৯৬ নম্বর বুথের ভোটদান পর্ব দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তারপরে সেখানে গোলমাল শুরু করে কংগ্রেস, সিপিএমের জোট আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। তাদের সঙ্গে এই গোলমালে সামিল হয় বিজেপির স্থানীয় কর্মীরা বলেও অভিযোগ। নিরাপত্তার অভাব বোধ করে ভোট কর্মীরা বুথ থেকে সরে পড়েন । সেই পরিস্থিতিতে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা গোলমাল থামানোর চেষ্টা করে। তখনই ফাঁকা হয়ে যায় ওই নির্বাচন কেন্দ্রটি। সেই সময় ব্যালট বাক্স লুঠের চেষ্টা চালিয়েছিল হামলাকারীরা। তখনই তিনটি ব্যালট বাক্স উদ্ধার করে চাঁচল থানায় নিয়ে এনে জমা দেওয়া হয়েছে।জেলা কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ইশাখান চৌধুরী। তিনি বলেন, এসব তৃণমূলের বানানো গল্প। ওরাই ওই বুথ থেকে ব্যালট লুঠ করে ছাপ্পা দেওয়ার পর পুলিশের কাছে জমা দিয়েছে।

জুলাই ০৮, ২০২৩
রাজ্য

বিদেশের বাজারে মালদার আমসত্ত্বের বিরাট চাহিদা, ভিডিওতে দেখুন কিভাবে তৈরি হয়

বিদেশের বাজারে রপ্তানি করা হচ্ছে মালদায় তৈরি আমসত্ত্ব। প্রায় ২০০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। তার পাশাপাশি আমসত্ত্বের সঠিকভাবে বাজারজাত করার জন্য রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে মালদা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। রবিবার মালদা শহরের এনএস রোড এলাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন মালদা ম্যাংগো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা।জানা গেছে মালদার ইংলিশবাজার ব্লকের কোতুয়ালি অঞ্চলের কল্যাণপুর গ্রামে ৬০ থেকে ৭০ টি পরিবারের বসবাস। যারা প্রত্যেকেই আমসত্ত্ব পেশার সঙ্গে যুক্ত। গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া মূলত এই তিনটি প্রজাতির আমের আমসত্ত্ব স্বাদে অতুলনীয়। পড়ে যাওয়া পাকা আম অথবা পাকা আম গাছ থেকে পেড়ে বোটা ছাড়িয়ে প্রায় আধঘন্টা জলে ভিজিয়ে রাখতে হয়। তারপর আমের খোসা ছাড়িয়ে আবার আমগুলিকে প্রায় ১৫ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখার পর থেঁতো করা হয়।তারপর সেই আমের পেস্ট একের পর এক প্রলেপ দিয়ে রোদে শুকাতে হয়। এইভাবে সাত দিন রোদে শুকানোর পর কাটিং করে তৈরি হাওয়া আমসত্ত্ব বাজারে বিক্রি করা হয়। এবছর ভিন রাজ্যের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও জেলার জগৎ বিখ্যাত বিভিন্ন প্রজাতির আম দিয়ে তৈরি আমসত্ত্বের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই ইতিমধ্যে ভিন রাজ্যের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি শুরু হয়েছে আমসত্ত্ব। এই বিষয়ে মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা জানান, ইতিমধ্যে আমসত্ত্ব বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। তার পাশাপাশি সরকারিভাবে আমসত্ত্ব তৈরির একটা উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তারই সঙ্গে আমসত্ত্বের সঠিকভাবে বাজারজাত করার জন্য রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় মালদা জেলা প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর ফলে মালদা জেলার আম চাষি আম ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি যারা এই পেশার সাথে যুক্ত তারাও লাভবান হবেন।

জুন ২৫, ২০২৩
রাজ্য

মালদায় গোষ্ঠীকলহ মেটাতে কড়া বার্তা অভিষেকের, বৈঠক জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে

দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে রীতিমতো ক্লাস নিয়ে কোন্দল মেটানোর পরামর্শ দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দুপুরে মালদা সফর শেষ করে মুর্শিদাবাদে যাওয়ার আগে ইংরেজবাজার ব্লকের সুস্থানি মোড় এলাকায় দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বেশ কয়েকজন নেতা মন্ত্রীকেও ধমক দিয়েছেন তিনি । দলে যাতে কোনোরকম গোষ্ঠী কোন্দল না থাকে এবং যারা সক্রিয় দলীয় নেতা, তারা যাতে হাত গুটিয়ে বসে না থাকে তাদেরকে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুর ১২ টা থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠকটি চলে প্রায় দুই ঘন্টা। বৈঠক শেষেই কনভয় নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে , এদিনের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের দুই রাষ্ট্রমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ও তাজমুল হোসেন। এছাড়াও ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসুম নূর, তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী। ছিলেন অন্যান্য বিধায়ক চন্দনা সরকার, সাবিত্রী মিত্র, মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি রফিকুল হোসেন, ইংরেজবাজার এবং পুরাতন মালদা পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু, চৌধুরী কার্তিক ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠক চলাকালীন এদিন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রী তাজমুল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে কে প্রার্থী হবে, সেটা ঠিক করবে রাজ্য নেতৃত্ব। আপনার কোনও অনুগামী যাকে, তাকে প্রার্থী করার কথা বলছে। এটা কিন্তু ঠিক নয়, বিষয়টা দেখুন। দলের জেলা সভাপতি রহিম বক্সীকে বলেন রতুয়া মালতিপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় ফজলুল হকের মত বেশ কিছু নেতারা বসে রয়েছেন কেন। তাঁদেরকে দলে গুরুত্ব দিচ্ছেন না কেন। তাঁদেরকে কাজে লাগান। বিষয়টি দেখুন। বিধায়ক নিহার ঘোষের উদ্দেশ্যে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চাচলে একটি ব্লকে দুইজন সভাপতি কেন। বিষয়টি বসে মিটিয়ে ফেলুন।এদিন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সাংসদকে নাকি অভিযোগ করেছিলেন সুজাপুরের বিধানসভার অন্তর্গত কালিয়াচক ১ ব্লক কমিটি ঠিকভাবে গঠন হয়নি। অনেক আজেবাজে মানুষকে নেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, দলীয় কমিটিতে কোনরকম দুর্নীতি পরায়ন লোককে রাখা যাবে না। জেলা সভাপতি ও মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনসহ অন্যান্য নেতৃত্বরা বসে এই সমস্যার সমাধান করবেন। হবিবপুরের ব্লক সভাপতি প্রদীপ বাস্কেকে উদ্দেশ্য করে সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, আপনাকে তো দেখা যায় না। কোথায় থাকেন আপনি। দলের জন্য ঠিকমতো কাজ করুন । মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়ান। ইংরেজবাজার ব্লকের সভানেত্রী প্রতিভা সিংহকে সাংসদ অভিষেক বলেন, কৃষ্ণেন্দু সাথে আপনার এত বিবাদ কেন। পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা প্রতিভা সিংহ কৃষ্ণেন্দুকে এজন্য দায়ী করেছেন। এরকম ভাবেই যেদিন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা ও ব্লকের দায়িত্ব থাকা বেশ কিছু নেতা-নেত্রীদের কোন দল মেটানোর বিষয়ক রীতিমতো ধমক দিয়েছেন। সবমিলিয়ে দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে এক প্রকার ক্লাস নিয়ে সমস্ত সমস্যা এবং কোন্দল মেটানোর পরামর্শ দিয়ে গিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে উপস্থিত মালদা জেলার সমস্ত নেতা-নেত্রীদের আগামী সাতদিনের মধ্যে যেসব এলাকায় বিক্ষোভ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে সেগুলি মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চাঁচোল, হরিশ্চন্দ্রপুর, ইংরেজবাজার সহ একাধিক ব্লকে দলীয় নেতৃত্বের কাজকর্ম নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও বৈঠক শেষে এসব প্রসঙ্গ নিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী বলেন , সকলকে একসঙ্গে চলার বার্তা দিয়েছেন আমাদের প্রিয় নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন কোথাও কোনওরকম দলের সমস্যা থাকলে তার দ্রুত সমাধান করতে হবে। তবে গোষ্ঠী কোন্দল আমাদের নেই । কিছু বহিরাগত মানুষ লোকজনের সাথে মিশে নানান ধরনের ভুলভাল বার্তা দিয়েছে, সেটাও আমরা জানিয়েছি। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীশূন্য করাটাই আমাদের এখন লক্ষ্য । যা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলে গিয়েছেন । আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের তৃণমূলের ফল খুবই ভালো হবে সে ব্যাপারেও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে

মে ০৬, ২০২৩
রাজ্য

চোখের পলকেই বন্ধুকবাজ হাতের মুঠোয়, পুলিশকর্তাই নায়ক

কালিয়াগঞ্জে গতকাল, মঙ্গলবারই বিক্ষোভকারীদের কাছে প্রায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে বিক্ষোভকারীরা বেধরক মারধোর করছে পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের। এর আগেও পুলিশকে ফাইলের তলায় লুকোতে দেখা গিয়েছে। এবার বঙ্গ পুলিশের মুখ উজ্জ্বল করলেন মালদার ডিএসপি (ডিএনটি) আজহারউদ্দিন খান। জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে ৭০ জন ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণ রক্ষা করে এই পুলিশ আধিকারিকের নাম এখন মালদার ঘরে। কুর্নিশ জানাতে ভোলেনি সারা বাংলার সাধারণ মানুষও।পুরাতন মালদার মুচিয়া চন্দ্রমোহন হাইস্কুলে এদিন মার্কিন কায়দায় এক বন্দুকবাজ হাজির হয়ে যান। তবে এটাই রক্ষে মুখে হুঙ্কার ছাড়লেও ট্রিগার টেপেননি ওই বন্দুকবাজ। ক্লাসে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ব্যক্তি এই খবর জানতে পেরেই প্রথম থেকেই ঘটনার তদারকি করতে থাকেন মালদার ডিএসপি (ডিএনটি) আজারুদ্দিন খান। তখন রীতিমতো পুলিশের অন্য কর্তাদের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। একেবারে সাধারণ আকাশি রং এর একটা গেঞ্জি আর জিন্সের প্যান্ট পড়েই এক লম্ফে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বন্দুকবাজের ওপর। বন্দুকবাজকে কোলপাঁজা করে ধরে ফেললেন পুলিশকর্ত। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের গণপিটুনির রোষ থেকেও ওই ব্যক্তিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন আজারুদ্দিন খান। ডিএসপির ভূমিকায় এখন গ্রামবাসীদের মুখে সাধু সাধু রব। আর এই পুলিশকর্তাই এখন মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের কাছে রীতিমতো নায়কের সম্মানে ভূষিত। বুধবার দুপুর পৌনে বারোটা নাগাদ পুরাতন মালদা থানার মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্দ্রমোহন হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ক্লাসরুমে বন্দুক বোমা নিয়ে ঢুকে পড়ে এক আততায়ী। তার দাবি পূরণ না হলে ওই ক্লাসে পাঠরত প্রায় ৭০ জন ছাত্রছাত্রী এবং ক্লাস টিচারকেও প্রাণে মারার হুমকি দেয়। নিজেকে মানব বোমা বলে হুঙ্কার দিতেও ছাড়েনি সে।স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ পেয়েই প্রথম থেকেই বন্দুকবাজকে ধরার জন্যই সদর্শক ভূমিকা গ্রহণ করে মালদা ডিএসপি (ডিএনটি) আজহারউদ্দিন খান। যদিও তার সঙ্গে অন্যান্য পুলিশ অফিসার কর্মীরাও ছিলেন। কিন্তু সাদা পোশাকে জেলার ওই পদস্থ পুলিশ কর্তাকে বহু গ্রামবাসীরা চিনতে পারেননি। অনেকে তো দূর দূর করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ওই পুলিশকর্তাকে। কিন্তু সত্যি যে তিনি হিরো, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনি। প্রথম থেকেই বন্দুকবাজের ওপরেই ঈগলের মতো চোখ রেখে নজরদারি চালিয়েছিলেন ডিএসপি (ডিএনটি)। আর পলক ঝপটের মধ্যেই ক্লাসরুমের ভেতরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই বন্দুকবাজ আততায়ীকে কোলপাঁজা করে, হাত মুচরিয়ে ধরে ফেলেন পুলিশকর্তা।যদিও আজহারউদ্দিন খানের বক্তব্য, এটা আমার কর্তব্য। জীবনের পরোয়া না করে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বাঁচানোটাই বড় কাজ। প্রথম থেকেই ওই দুর্বৃত্তের ওপর নজর রেখেছিলাম। সুযোগ বুঝেই কোপ মারি। ঝাঁপিয়ে ধরে ফেলেছি। নিজের জীবন দিয়ে দিব, কিন্তু আমি ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষতি হতে দেব না, সেটা প্রথম থেকেই ভেবে নিয়েছিলাম। এখন ওই বন্দুকবাজের এই তান্ডব চালানোর ঘটনার পিছনে কি রহস্য হয়েছে রয়েছে তা তদন্ত করবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তবে আপাতত তাকে গ্রেফতার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন আদালতে জানানো হবে। গ্রামবাসীরা আজহারউদ্দিন খানের ভূমিকায় আপ্লুত।

এপ্রিল ২৬, ২০২৩
রাজ্য

তীব্র দাবদহ থেকে মুক্তি পেতে মালদার মানুষ ইন্দ্রদেবের শরণাপন্ন

তীব্র দাবদহে ছারখার বঙ্গভূমি। অবশেষে প্রকৃতির বিরূপ আচরণ থেকে মুক্তি পেতে দেবরাজ ইন্দ্র দেবের শরণাপন্ন হলেন মালদার মানিকচকের ধনরাজ গ্রামের বাসিন্দারা। একটু বর্ষার আশায় ধুমধাম করে ইন্দ্রদেবের পুজো দেন গ্রামবাসীরা। এই পুজোকে কেন্দ্র মেলারও আয়োজন করা হয়। যজ্ঞও করা হয়। ইন্দ্রদেবের কাছে বৃষ্টির কামনা করেন ভক্তরা। পুজোতে হাজির ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা।একটা সময় মৎস্যজীবী এবং কৃষক সম্প্রদায় ধনরাজ গ্রামে মূর্তি তুলে ইন্দ্র দেবের পুজোর সূচনা করেছিলেন। তীব্র গরমেও নদী যাতে কখনোই শুকিয়ে না যায় যাতে জমিতে জলের অভাব না থাকে। মূলত এই কারণেই এখানে ইন্দ্রদেবের পুজো শুরু হয়। সেই নিয়ম মেনে আজও মানিকচকের ধনরাজ গ্রামে পুজিত হন ইন্দ্রদেব। গরমের জন্য় সারা রাজ্যের সঙ্গে মালদার মানুষের অবস্থাও দফারফা। নাজেহাল অবস্থা জেলাবাসীর। ধনরাজ গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতিবছরই ধুমধাম করে আমরা পুজো দিয়ে থাকি। কিন্তু এবারের পুজোর গুরুত্ব যেন আরও বেশি। এপ্রিল থেকেই কোনও বৃষ্টি নেই, সকলেই চাইছি এই দাবদহ থেকে রেহাই পেতে। দয়া করে বৃষ্টির ব্যবস্থা করুক ইন্দ্রদেব, এটাই আমাদের একান্ত প্রার্থনা।

এপ্রিল ১৮, ২০২৩
রাজ্য

তৃণমূল নেতার পরিবারের একসঙ্গে ৩ জন স্কুলের চাকরি খোয়ালেন, ব্যাপক শোরগোল এলাকায়

হাইকোর্টের নির্দেশে শিক্ষা দফতরের ৮৪২ জনের চাকরি খোয়াতেই রাজ্যজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। বিধায়কপুত্র, কন্য়া থেকে তৃণমূল নেতাদের পরিবারের সদস্যদের একের পর এক চাকরি চলে যাওয়ার খবর আসছে। বাতিলের তালিকায় মালদহের তৃণমূল নেতার দুই মেয়ে ও জামাইয়ের নাম রয়েছে। বিষয়টা প্রকাশ্যে আসতেই স্কুলের চাকরি দুর্নীতিতে তৃণমূল নেতৃত্বই জড়িত বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল চেয়ারম্যান প্রকাশ দাসের দুই মেয়ে মাম্পি দাস, শম্পা দাস এবং জামাই বিপ্লব দাসের চাকরি গিয়েছে হাইকোর্টের রায়ে। প্রকাশের বাড়ি উত্তর রামপুর গ্রামে। মাম্পি দাস হরিশ্চন্দ্রপুর হাই স্কুল, শম্পা দাস হরিশ্চন্দ্রপুর কিরণবালা বালিকা বিদ্যালয় এবং বিপ্লব দাস কনুয়া ভবানীপুর হাইস্কুলে ক্লার্ক পদে কর্মরত ছিলেন। তৃণমূল নেতার পরিবারের ৩ জনের চাকরি চলে গিয়েছে এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়।বিরোধীদের দাবি, মোটা টাকার বিনিময়ে তৃণমূল নেতার দুই মেয়ে ও জামাইয়ের স্কুলে চাকরি হয়েছিল। এই কারণেই প্রকৃত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা চাকরি পাচ্ছে না। তবে প্রকাশ দাসের বক্তব্য, আমার মেয়েরা নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে। আমি তৃণমূলের কুশিদা অঞ্চল চেয়ারম্যান ছিলাম। সেই সময় চেয়ারম্যানের কি ক্ষমতা ছিল? অন্যদিকে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, কোর্টের নির্দেশে এগুলো হচ্ছে। বেআইনী নিয়োগ হলে ব্যবস্থা হবে। দল পাশে থাকবে না।

মার্চ ১২, ২০২৩
রাজ্য

বিনা অস্ত্রপচারে গলা থেকে কয়েন বার করে নজির গড়লো মালদহ মেডিক্যাল কলেজ

বাতাসা ভেবে কয়েন খেয়ে নিয়েছিল শিশু। গলা থেকে কয়েন বের করে নজির গড়লো মালদহ মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকেরা। বিনা অপারেশনেই শিশু কন্যার গলায় আটকে থাকা পয়সার কয়েন বার করে সাফল্য মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। বিশেষ চিকিৎসা যন্ত্রের সাহায্যে ফরেন বডি গলার ভেতর থেকে বার করা হয়। বর্তমানে সুস্থ রয়েছে শিশুকন্যা। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ধরণের চিকিৎসা এখন প্রায় হচ্ছে মালদা মেডিকেল কলেজে। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকলেও ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকেরা ঝুঁকি নিয়ে এই পরিষেবা দিয়ে থাকেন। এমন সফল ভাবে সাফল্য মিলছে।কালি মন্দিরে বাতাসা প্রসাদ ভেবে পাঁচ টাকার কয়েন খেয়ে নিয়েছিল আট বছরের মানালি সাহা। বাড়ির পাশে কালি মন্দিরে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটে। শিশুকন্যার বাড়ি মালদার হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচন্ডী হাসপাতাল মোড় সংলগ্ন এলাকায়। কয়েন খাওয়ার পর পরিবারের লোকেদের কিছুই জানায় নি। রাতে গলা ব্যাথা করলে পরিবারের লোকেরা বিষয়টি জানতে পারে। তড়িঘড়ি স্থানীয় বুলবুলচন্ডী গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকেরা মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। মেডিকেল কলেজে ভর্তির পরে চিকিৎসা শুরু করেন ই এন টি বিভাগের চিকিৎসকেরা। গলার এক্সরে করে চিকিৎসা করে জানতে পারেন খাদ্যনালীতে কিছু একটা আটকে রয়েছে। তারপরে ইথোফস্কোপ পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে খাদ্যনালী থেকে বার করা হয় পাঁচ টাকার কয়েন।মালদহ মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপ্যল পার্থ প্রতিম মুখার্জী জানান,আমাদের ই এন টি চিকিৎসকেরা এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা করেছে। শিশুটি আপাতত সুস্থ রয়েছে।

নভেম্বর ০২, ২০২২
রাজ্য

মাছ ব্যবসায়ী বাড়িতে সিআইডি হানা প্রসঙ্গে বিস্ফোরক অভিযোগ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যর

মাছ ব্যবসায়ী বাড়িতে সিআইডি হানা প্রসঙ্গে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, সিআইডির কাছে খবর ছিল আগে থেকেই সিবিআই যাবে তাই তথ্য গোপন করবার চেষ্টা তাই তৎপরতার সাথে সিআইডি পৌঁছে গিয়েছেন তবে কোন লাভ হয়নি এত টাকা।আমার মতে সিআইডিকে উচিত সমস্ত তথ্য সিবিআই এর হাতে তুলে দেওয়া উচিত।তৃণমূল নেতা তাপস রায় মন্তব্যে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন,আমি বলব যত তাড়াতাড়ি তৃণমূলের সাথে সম্পর্ক ছেদ করবেন ততই একজন ব্যক্তির পক্ষে সুবিধা।সিপিআইএমের পৌর কর্মচারীদের নিয়ে নবম সম্মেলন অশোকনগরে অনুষ্ঠানে যোগদান করে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একাধিক বিষয়ে মন্তব্য করেন বাম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২২
রাজ্য

মালদায় গঙ্গার ভাঙনে সাধারনের মধ্যে আতঙ্ক

গঙ্গা নদীতে ব্যাপক ভাঙন, এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক। মালদার মানিকচকের ভূতনি চড়ের কেশোরপুর কালুটন টোলা এলাকায় নদীপাড়ে ব্যাপক ভাঙ্গন। গঙ্গার তীব্র ভাঙ্গনে মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে ভযাচ্ছে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে। এভাবেই ভাঙ্গন চলতে থাকলে গোটা এলাকা তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যে নদী তীরবর্তী এলাকায় থাকা বড় বড় গাছ তলিয়ে যাচ্ছে গঙ্গা গর্ভে।

আগস্ট ২৯, ২০২২
রাজ্য

পুলিসকর্তার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে তোলাবাজির অভিযোগ

পুলিসের পদস্থ কর্তার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে তোলাবাজির অভিযোগের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদাতে। পুরো বিষয়টি জানতে পেরে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী প্রতারকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মালদার পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব।জেলার পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব বলেন, পুলিশের নামে ভুয়ো প্রোফাইল তৈরির ঘটনা দেখা যাচ্ছে। দুষ্কৃতীরা প্রোফাইলে নজরদারি চালিয়ে প্রোফাইল তৈরি করে নিচ্ছে। এরপরে ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা মানুষদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে তাদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে প্রতারকেরা। এবিষয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় মালদার কয়েকজন পুলিশ অফিসারের নামে ভুয়ো একাউন্ট তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারক চক্র এই কাজ করছে বলে অভিযোগ। এবং সেই প্রতারকের দল পুলিশ অফিসারের পরিচয় দিয়ে নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করছে। তারপরে নানা অছিলায় টাকার দাবি করা হচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই ভুয়ো একাউন্টের বিষয়টি জানতে পেরেই এখন নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসন।

আগস্ট ২৮, ২০২২
রাজ্য

ভাঙণ প্রতিরোধের কাজের বরাতের অর্থ নিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলের কোন্দলে দুই নেত্রীর ভিন্নমত

ভাঙণ প্রতিরোধের কাজের বরাতের অর্থ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দুই নেত্রীর ভিন্নমত। মালদার মানিকচক বিধানসভার বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রের দাবী এলাকার ভাঙণ প্রতিরোধের জন্য ৪২কোটি টাকা মঞ্জুর করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন জানান ৪২কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানা নেই।তিনি বলেন ভাঙণ প্রতিরোধের জন্য ৭কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে এই সময় ভাঙণ প্রতিরোধের কাজ করলে বরাদ্দ অর্থ জলে যাবে। তাই ভাঙণের প্রবনতা কমলে কাজ হবে। ভাঙণ প্রতিরোধের কাজের নিয়ে মন্ত্রী ও বিধায়কের মুখে বরাদ্দ অর্থের পরিমান নিয়ে ভিন্ন মত হওয়ায় জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিজেপির দাবী ভোট রাজনীতির জন্য ভাঙণ প্রতিরোধ কাজের বরাদ্দ অর্থের কথা বলছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। আসলে কোন অর্থই বরাদ্দ হয় নি। শুধু তাই নয় অর্থ তছরূপের জন্যও মন্ত্রী বরাদ্দ অর্থের পরিমান কম বলেছেন এমনই অভিযোগ করছেন বিরোধীরা।

আগস্ট ০৯, ২০২২
রাজ্য

মালদায় রোড শোয়ের ভিড়ে আপ্লুত নাড্ডা

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার রোড শোয়ের ভিড় দেখে অবাক হয়েছেন দলের রাজ্য এবং জেলা নেতৃত্ব । শনিবার দুপুরে র্যালিতে দলীয় কর্মী সমর্থকদের ভিড় দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। হুডখোলা গাড়ি থেকেই দুই হাত তুলে কখনও প্রণাম জানিয়ে, আবার কখনও গাঁদা ফুল জনতার উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে অভিবাদন জানান তিনি। এদিন মালদা শহর থেকে রবীন্দ্র এভেনিউ এলাকা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার বিজেপির রোড শো হয়। র্যালিতে জেপি নাড্ডার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সাংসদ খগেন মুর্মু, দলের জেলা সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।এদিন আর নয় অন্যায় এই কর্মসূচিকে ঘিরে শহরের ফোয়ারা মোড় থেকে শুরু করে আশেপাশে এলাকায় দলীয় কর্মী সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। মাত্র এক ঘণ্টার এই র্যালি দেখতে রাস্তার ধারে হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে দীর্ঘ ক্ষণ ধরে অপেক্ষা করেন। এমনকি শহরের যে রাস্তা দিয়ে বিজেপির র্যালি গিয়েছে, সেইসব এলাকার রাস্তার ধারে বাড়ির ছাদগুলিতে ছিল সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বিজেপি জেলা নেতৃত্বের তরফ দাবি করা হয়েছে যে এদিনের এই র্যালিতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল। বিজেপি কর্মী, সমর্থকদের সামলাতে গিয়ে রীতীমতো কালঘাম ছুটে যায় পুলিশ কর্তাদের।এদিনের হুড খোলা জিপে করে রোড শো রবীন্দ্র মূর্তির পাদদেশে গিয়ে সমাপ্তি হয়। সেখানে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেন, জানুয়ারি মাস থেকে কৃষক সহায়ক সুরক্ষা অভিযান শুরু করেছিলাম। প্রায় ৪০ হাজার গ্রামে এই কর্মসূচি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩৫ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পে জুড়েছে। বছরে তিনবার করে কেন্দ্রের মোদি সরকারের কৃষক সম্মান নিধির মাধ্যমে টাকা পাচ্ছেন কৃষকেরা। কিন্তু মমতা দিদির সরকার কৃষকদের জন্য কিছুই করতে পারেনি।বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা আরও বলেন, মালদায রেশম থেকে আম চাষের জন্য বিখ্যাত । কিন্তু এখানে এসে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম যে বাংলায় তৃণমূল সরকার রেশম চাষের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো উন্নতি করতে পারেনি। এরকম শুনে সত্যিই খুব খারাপ লাগলো। তাই তো আমরা বলছি আর নয় অন্যায়। এবারে চাষীরা তাদের নিজেদের অধিকার পাবেন। কারণ , এবারের বিজেপি বাংলায় সরকার গড়বে। প্রথমে চাষীদের জন্য বিস্তর সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। যা কেন্দ্রের মোদি সরকার একটার পর একটা প্রকল্পে করে দিচ্ছে।বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেন, আজকে যারা তৃণমূল ছাড়ছেন তারাই বলছেন ওই দলটা হচ্ছে দুর্নীতি এবং কাটমানির দল। গরু পাচার হোক অথবা কয়লা কান্ড সবই এখন ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে । আসলে ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়েছে। তাই আর নয় অন্যায়। এবারে বিজেপি ২০০র বেশি আসন নিয়ে বাংলায় সরকার গড়বে।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২১
রাজনীতি

"ইতনা গুসসা কিউ হ্যায়", মমতাকে কেন বললেন নাড্ডা?

জয় শ্রীরাম ধ্বনি নিয়ে এবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন। শনিবার মালদার সাহাপুর কৃষকদের আয়োজিত এক সভায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা বলেন, আমি যখন হেলিপ্যাডে নেমে গাড়িতে করে আসছি। তখন রাস্তার দুধারে অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁরা আমাকে জয় শ্রীরাম বলে অভিবাদন জানান। এই জয় শ্রীরাম ধ্বনি শুনে রেগে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপকা ইতনা গুসসা কিঁউ হ্যায়। পরিবর্তন যাত্রার সফরে প্রথম জনসভায় এভাবেই তৃণমূল নেত্রীর প্রতি আক্রমণ শোনালেন জেপি নাড্ডা।এই জনসভায় তিনি কৃষকদের কেন্দ্রীয় সাহায্য না পাওয়ার জন্য দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। নাড্ডা বলেন, বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকরা কেন্দ্রীয় সাহায্য পাচ্ছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেদের জন্য এরাজ্যে কৃষকরা সেই সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এরপর সাহাপুরে কৃষকদের সঙ্গে দুপুরের ভোজন সারেন জেপি নাড্ডা। এদিন মালদায় র্যালি করেন তিনি।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২১
রাজ্য

বিস্ফোরণস্থলে বিজেপির প্রতিনিধিদলকে ঢুকতে বাধা পুলিশের

সুজাপুরে প্লাস্টিক কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় এবার তদন্তে নামল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। তাঁরা নমুনা সংগ্রহ করেন, ঘটনাস্থলের ছবি তোলেন। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের যাওয়ার কথা থাকলেও, এদিন যাননি তাঁরা। এনআইএ এখনও সেখানে যাবে কি না, তা স্থির হয়নি। এ বিষয়ে মালদহের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়ার বক্তব্য, কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তা স্পষ্ট হলে তবেই নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হবে। অন্যদিকে , শুক্রবার বেলায় সেখানে হাজির হয় কংগ্রেসের এক প্রতিনিধিদল। দলে ছিলেন কংগ্রেসের ছয় বিধায়ক। তাঁরা প্রত্যেক মৃতের পরিবারের কাছে যান। দলের তরফে প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে আহতদের পরিবারপিছু ১০ হাজার টাকা ঘোষণা করা হয়।কংগ্রেসের তরফে বিজেপি ও রাজ্যপালের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। আরও পড়ুন ঃ নাম না করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শুভেন্দুর এদিকে , মালদহের সুজাপুরে প্লাস্টিক কারখানার বিস্ফোরণস্থলে বিজেপি প্রতিনিধিদল যেতে বাধা দেওয়া হয়। তদন্তের স্বার্থে এলাকাটি দ্বিস্তরীয় বলয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ফলে সেই ব্যারিকেড পেরতে বাধা দিয়েছে পুলিশও। আর তাতেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ওখানে বিজেপিকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তার কারণ, বিজেপি প্রতিনিধিরা গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথাবার্তা বলে আসল সত্যটা জানত, তা চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে এখন। বিজেপি রাজ্য সভাপতি এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃ্ত্বে ছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেত্রী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরি। বিজেপি প্রতিনিধিরা কারও সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পাড়ারই কয়েকজন যুবক তাঁদের ঘিরে ধরে জিজ্ঞেস করেন, এমন অসময়ে কেন এসেছেন তাঁরা? কার সঙ্গেই বা কথা বলবেন? কথা না বলতে পারলে আসল ঘটনা জানবেনই বা কীভাবে? এসব প্রশ্নে জর্জরিত করে বিজেপি প্রতিনিধিদলকে কার্যত এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। তিনি এনআইএ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।

নভেম্বর ২০, ২০২০
রাজ্য

মালদার কালিয়াচকে প্লাস্টিক কারখানায় বিস্ফোরণে মৃত্যু ৫ জনের , ক্ষতিপূরণ ঘোষণা রাজ্যের

কালিয়াচকের সুজাপুরে প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে মৃত্যু হল ৫ জনের। বিস্ফোরণের ঘটনায় ্পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। সুজাপুরের ঘটনার খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা স্থানীয় নেতা কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরি। ইতিমধ্যেই মৃ্তদের পরিবারকে দু লক্ষ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন , বিস্ফোরণের ঘটনায় নবান্নে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রশাসনিক কর্তারা।গোটা ঘটনার উপরে নজর রাখা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার ক্ষতিপূরণের চেক পরিবারের হাতে তুলে দিতে মালদা যাচ্ছেন ফিরহাদ হাকিম। আরও পড়ুন ঃ ভাটপাড়ায় খুন তৃণমূল কর্মী জানা গিয়েছে , বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ মালদার কালিয়াচক থানা এলাকার স্কুলপাড়ায় এক প্লাস্টিক কারখানায় ক্রাশার বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই পাঁচজন মারা যায়। আহতদের উদ্ধা্র করে ভরতি করা হয়েছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। মালদার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান, ওই কারখানায় প্লাস্টিক, লোহা ও পেতল পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার জন্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ হত। স্থানীয় সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে যে, কারখানার ভিতরে কোনও যন্ত্র বিকল হওয়ার ফলেই বিস্ফোরণ ঘটে। ওই প্লাস্টিক কারখানায় ৫০ জন শ্রমিক কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ওই কারখানার মালিক।

নভেম্বর ১৯, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

পুজোর পাসে ৬০ কোটির অভিযোগ! রাত ১১টা পর্যন্ত ইন্দ্রনীলের বাড়িতে ইডি, এরপর কী?

প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়িতে মঙ্গলবার দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রায় সাড়ে ১৫ ঘণ্টা পর রাত ১১টা নাগাদ তদন্তকারীরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর বুধবার সকাল ১০টায় ইডির দপ্তরে ইন্দ্রনীল সেনকে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্দ্রনীল (Indranil Sen) । অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।ইডি সূত্রে অভিযোগ, কলকাতার দুর্গাপুজোর পুজো পরিক্রমা বা প্রিভিউ শো-এর নামে ইউনেস্কোর নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে প্রবেশপত্র বিক্রি করা হয়েছিল। সেই প্রবেশপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নামও উঠে এসেছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে (Indranil Sen) ।চলতি বছরের জুন মাসে এই সংক্রান্ত অভিযোগ বউবাজার থানায় দায়ের হয়েছিল। অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে পরে আর্থিক তছরূপের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা শুরু হয়। সেই মামলার সূত্র ধরেই মঙ্গলবার ইডি কলকাতার একাধিক জায়গায় একসঙ্গে তল্লাশি চালায়।ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়ি ছাড়াও কলকাতার আরও কয়েকটি ঠিকানায় তদন্তকারীরা পৌঁছন। হিন্দুস্তান পার্ক এবং হাইল্যান্ড পার্কের ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইভেন্ট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কয়েক জনের বাড়িতেও অভিযান চলে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়িতেও তদন্তকারীরা গিয়েছিলেন বলে খবর।প্রতিটি ঠিকানায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ছিল। একাধিক দলে ভাগ হয়ে ইডির আধিকারিকেরা এই অভিযান চালান। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল অভিযোগে উঠে আসা আর্থিক লেনদেন এবং পুজোর প্রবেশপত্র বিক্রির সঙ্গে যুক্ত নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখা।এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মাস আর্ট নামে একটি সংগঠন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর ওই সংগঠনটি তৈরি হয়। সংগঠনটির তরফে নিজেদের ইউনেস্কোর সঙ্গে যুক্ত বা অনুমোদিত উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই পরিচয় ব্যবহার করে পুজো পরিক্রমার জন্য চড়া দামে প্রবেশপত্র বিক্রি করা হত বলেও তদন্তকারীদের দাবি।ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) স্ত্রী মধুছন্দা সেন ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, পাস বিক্রি এবং ওই সংস্থার আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত নয়।প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, পুজোর প্রিভিউ শো বা পুজো পরিক্রমার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে এই পাস বিক্রির অনুমতি আদৌ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাসের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগ্রহের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে।ইন্দ্রনীল সেন অবশ্য শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার দীর্ঘ তল্লাশির পরও তিনি অভিযোগ মানেননি বলে জানা গিয়েছে। বরং প্রয়োজন হলে আইনি পথে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।এখন বুধবার সকাল ১০টায় ইডির দপ্তরে হাজির হওয়ার পর ইন্দ্রনীল সেনকে কী কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। পুজোর প্রবেশপত্র বিক্রি, সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং অভিযোগে উঠে আসা টাকার অঙ্কসবই তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ইডির মঙ্গলবারের তল্লাশিতে কী কী নথি বা তথ্য পাওয়া গেল, তা এখনও প্রকাশ্যে বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়নি। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর মুখে চাকরি নিয়ে বড় আশ্বাস! বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান তুলে নিলেন ৩৭১৯ কম্পিউটার শিক্ষক

পুজোর মুখে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেছিলেন রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া সেই অবস্থান ও বিক্ষোভ মঙ্গলবার পর্যন্ত চলে। পরে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠকের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষকদের সংগঠন আইসিটি ঐক্য মঞ্চ।বৈঠকে শিক্ষকদের একাধিক দাবি বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। আপাতত যাতে চাকরিতে কোনও ছেদ না পড়ে, সেই ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। টেন্ডারে নির্বাচিত সংস্থার অধীনেই ৩৭১৯ জন শিক্ষক কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানা গিয়েছে।শিক্ষকদের দাবি পূরণের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ছমাস সময় চেয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন এবং অন্যান্য বিষয় শ্রম আইন মেনে কী ভাবে করা যায়, তা নিয়ে চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।সোমবার থেকেই একাধিক দাবি নিয়ে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানে বসেছিলেন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। রাতভর সেখানে বিক্ষোভ চলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকার পর শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেই বৈঠকের পরেই আপাতত আন্দোলন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।শিক্ষক রাহুল দাসের দাবি, প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যায়ে নিযুক্ত প্রায় পাঁচ হাজার কম্পিউটার প্রশিক্ষকের সঙ্গে সরকারের যে ভাবে সরাসরি চুক্তি রয়েছে, একই ধরনের ব্যবস্থা তাঁদের ক্ষেত্রেও করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর তরফে এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।এই সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে চুক্তি নিয়ে জটিলতা। ২০২২ সাল বা তার আশপাশের সময়ে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ৩৭১৯ জন কম্পিউটার শিক্ষককে পাঁচ বছরের চুক্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অনেকের চুক্তির মেয়াদ আরও কিছুদিন থাকার কথা থাকলেও, হঠাৎ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চুক্তি শেষ করার নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, আগের কয়েকটি পর্যায়ে নিযুক্ত কম্পিউটার প্রশিক্ষকদের দীর্ঘমেয়াদি কাজের সুযোগ দেওয়া হলেও ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের বেতন কমানোর অভিযোগও উঠেছে।চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শুধু শিক্ষক ও তাঁদের পরিবার নয়, স্কুল কর্তৃপক্ষও সমস্যায় পড়তে পারেন বলে শিক্ষক সংগঠনের দাবি। কারণ সরকারি বিভিন্ন ডিজিটাল শিক্ষা প্রকল্পে এই কম্পিউটার শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ-এর সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, কম্পিউটার শিক্ষকদের নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করা কঠিন এবং স্কুলের কাজে এই শিক্ষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।আপাতত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহার হলেও তাঁদের মূল দাবি পূরণ কতটা দ্রুত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি সরকারি চুক্তি, বেতন কাঠামো এবং চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে আগামী ছমাসে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

যশোভূমিতে ফিজিওথেরাপির মহামিলন: ১০ হাজারের মঞ্চে বাংলার গর্ব, সম্মানে IAP Bengal

২,০০০ কিলোমিটারের Physio Baton যাত্রা থেকে দিল্লির বর্ণাঢ্য মহাযাত্রাআন্তর্জাতিক সম্মেলনে উজ্জ্বল বাংলার উপস্থিতিনয়াদিল্লি: ফিজিওথেরাপির জগতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল নয়াদিল্লির যশোভূমি কনভেনশন সেন্টার। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত World Physiotherapy Asia Western Pacific (AWP) Regional Conference 2026-এ দেশ-বিদেশের ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক, ছাত্রছাত্রী ও পেশাজীবীদের মিলন ঘটল এক বিশাল আন্তর্জাতিক মঞ্চে। Fitness for Allএই বার্তাকে সামনে রেখে আয়োজিত সম্মেলনে ফিজিওথেরাপির ভবিষ্যৎ, আধুনিক চিকিৎসা-পদ্ধতি, গবেষণা, জনস্বাস্থ্য এবং পেশাগত বিকাশ নিয়ে হয় একাধিক আলোচনা।সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ১০ হাজারেরও বেশি ফিজিওথেরাপিস্টের একসঙ্গে উপস্থিতি। এই বিপুল অংশগ্রহণকে World Record হিসেবে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। ফলে সম্মেলনটি শুধু একটি পেশাগত অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আন্তর্জাতিক ফিজিওথেরাপি জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়।বিশেষ সম্মান IAP Bengal Branch-এরএই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের জন্য আসে আরও একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি। IAP Bengal Branch-কে দেশের সেরা শাখা হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, পেশাগত উন্নয়ন এবং ফিজিওথেরাপি সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মানকে দেখা হচ্ছে।দিল্লির আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিদের হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। পশ্চিমবঙ্গের ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের কাছে এটি নিঃসন্দেহে এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে ওঠে।বর্ধমান থেকে শুরু Physio Baton-এর ঐতিহাসিক যাত্রাসম্মেলনের আগে বাংলার সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের যোগসূত্র আরও দৃঢ় করে Physio Baton বা মশাল যাত্রা। ২২ সেপ্টেম্বর বর্ধমানের ঐতিহাসিক কার্জন গেট হয়ে সেই মশাল যাত্রার সূচনা হয়।কার্জন গেটে Physio Baton-কে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭০ জন ফিজিওথেরাপিস্ট। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডাঃ সত্যেন ভট্টাচার্য, ডাঃ শুভেন্দু দ্বিবেদী (PT), ডাঃ আদিত্য পাল ডাঃ অতনু রায়, ডাঃ অনিন্দ দে (PT), ডাঃ শুকদেব মুখার্জী (PT)-সহ আরও অনেকে। উপস্থিত ছিলেন গোলাপবাগ ফিজিওথেরাপি কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ এম. এস. আনোয়ার (PT)।ঐতিহাসিক বর্ধমানের মাটি থেকে শুরু হয়ে প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার সড়কপথ পেরিয়ে Physio Baton পৌঁছে যায় দিল্লিতে। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যের ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, মতবিনিময় এবং পেশাগত সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়।বাংলার ঐতিহ্য ধরা পড়ল দিল্লির মহাযাত্রায়দিল্লিতে পৌঁছনোর পর Physio Baton-কে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য মহাযাত্রা। সেখানে বাংলার প্রতিনিধিরা নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে তুলে ধরেন।পুরুষ প্রতিনিধিদের অনেকেই ধুতি-পাঞ্জাবি এবং মহিলা প্রতিনিধিরা শাড়ি পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলাদা মাত্রা যোগ করে।বর্ধমান থেকে শুরু হওয়া মশাল যাত্রার সেই ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় World Physiotherapy-এর সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের মঞ্চে।ডাঃ রুচি ভার্শনে (PT) (Dr. Ruchi Varshney) এবং ডাঃ সঞ্জীব ঝা (PT) (Dr. Sanjeev Jha)-এর হাত ধরে Physio Baton তুলে দেওয়া হয় World Physiotherapy-এর President-এর হাতে। মুহূর্তটি উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে বিশেষ আবেগ ও গর্বের সৃষ্টি করে।যাত্রার নেতৃত্বে ডাঃ কৌশিক মল্লিক (PT)এই দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ যাত্রার পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ডাঃ কৌশিক মল্লিক (PT), Vice President, IAP West Bengal Branch।প্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের এই সড়কযাত্রা শুধুমাত্র একটি মশাল বহনের কর্মসূচি ছিল না। পথে বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যের ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও এই যাত্রার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে ওঠে।ফলে Physio Baton-এর যাত্রা কার্যত বাংলার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের মধ্যে একটি সংযোগের সেতু তৈরি করে।১৩টি হলে একসঙ্গে বৈজ্ঞানিক কর্মসূচি২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর যশোভূমি কনভেনশন সেন্টারের বিশাল পরিসরে সম্মেলনের বিভিন্ন পর্ব পরিচালিত হয় ১৩টি হলে। একই সঙ্গে চলে একাধিক বৈজ্ঞানিক ও পেশাগত অধিবেশন।পেপার ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন, বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা, ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ফিজিওথেরাপিস্টদের অংশগ্রহণে সম্মেলন কার্যত পরিণত হয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক বিশাল প্ল্যাটফর্মে।এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বর্ধমানের ফিজিওথেরাপিস্ট ডাঃ সত্যেন ভট্টাচার্য (PT) ও বক্তা হিসেবে অংশ নেন। বাংলার একটি জেলা শহর থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে বক্তব্য রাখার বিষয়টিও স্থানীয় পেশাজীবীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।শুধু চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রেই নয়, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব উপলব্ধি করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, পডকাস্টার এবং ডিজিটাল মিডিয়ার জন্যও বিশেষ পরিসর রাখা হয় সম্মেলনে।ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীসম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তাঁর বক্তব্যে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপির গুরুত্বের বিষয়টি উঠে আসে।এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তা এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও ভিডিও বার্তা সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এর ফলে ফিজিওথেরাপি যে শুধুমাত্র পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসার একটি অংশ নয়, বরং বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গএই বার্তাটিও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।বাংলার জন্য একাধিক গর্বের মুহূর্তএকদিকে ১০ হাজারেরও বেশি ফিজিওথেরাপিস্টের ঐতিহাসিক উপস্থিতি, অন্যদিকে IAP Bengal Branch-এর বিশেষ সম্মাননা। তার সঙ্গে বর্ধমানের কার্জন গেট থেকে শুরু হওয়া Physio Baton-এর প্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের যাত্রা এবং দিল্লির মহাযাত্রায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাকে প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণসব মিলিয়ে সম্মেলনে বাংলার উপস্থিতি হয়ে ওঠে বিশেষভাবে স্মরণীয়।এই যাত্রা দেখিয়ে দিল, ফিজিওথেরাপি এখন আর শুধুমাত্র চিকিৎসাক্ষেত্রের একটি নির্দিষ্ট শাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গবেষণা, জনস্বাস্থ্য, ফিটনেস, পুনর্বাসন, প্রযুক্তি এবং সামাজিক সচেতনতার বৃহত্তর পরিসরে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।যশোভূমির আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন দেখা গেল। আর সেই মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিত্ব, IAP Bengal Branch-এর স্বীকৃতি এবং বর্ধমান থেকে শুরু হওয়া Physio Baton-এর ঐতিহাসিক যাত্রা পশ্চিমবঙ্গের ফিজিওথেরাপি মহলের জন্য তৈরি করল এক স্মরণীয় অধ্যায়।বর্ধমানের কার্জন গেট থেকে দিল্লির যশোভূমিপ্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের সেই যাত্রা তাই কেবল একটি মশাল বহনের গল্প নয়; এটি বাংলার ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের ঐক্য, উদ্যোগ, পেশাগত সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার এক অনন্য কাহিনি।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
কলকাতা

রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা কবে ফিরবে? হাই কোর্টের নির্দেশে সামনে এল নির্দিষ্ট সময়

রোজভ্যালি চিটফান্ড মামলায় আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরানোর কাজ চললেও তার গতি যথেষ্ট নয় বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। এবার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতির হিসাব আদালতে জমা দিতে হবে।বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ এবং বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করাই সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটির মূল দায়িত্ব। এর বাইরে কমিটির কোনও অতিরিক্ত আইনি ক্ষমতা নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকা সহযোগী সংস্থা তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে হোটেল পরিচালনার যে চুক্তি করেছিল, তার অনুমোদনের ক্ষমতা কমিটির ছিল না। ফলে ওই ধরনের অনুমোদনহীন চুক্তিগুলিকে শুরু থেকেই বাতিল বলে ঘোষণা করেছে আদালত।আমানতকারীদের পক্ষের আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে কমিটির হাতে বিপুল সম্পত্তি থাকলেও সেই তুলনায় টাকা ফেরানোর কাজ খুব ধীর গতিতে হয়েছে। আদালতে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তাতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৫৫ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে দাবি। গত ১১ বছরে মাত্র ১০টি সম্পত্তির নিলাম এবং ৮০টি সম্পত্তির মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়।অন্যদিকে, রোজভ্যালি সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত একাধিক দফায় এক লক্ষেরও বেশি দাবিদারকে টাকা দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৩২ লক্ষ দাবি নথিভুক্ত হয়েছিল। ফলে আগের বছরগুলিতে কাজের গতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়াটিও আদালতের নজরে রয়েছে।হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা মুলতুবি থাকা দাবিগুলির ভিত্তিতে যোগ্য আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। আদালতের নির্দেশে ৩২ লক্ষ ৪৩ হাজার ২২০টি মুলতুবি দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি সম্পত্তি বিক্রি এবং সেই অর্থ আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুধু সময়সীমা বেঁধে দিয়েই থামেনি আদালত। প্রতি মাসে সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটিকে আদালতে কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অর্থাৎ কতগুলি সম্পত্তি বিক্রি হল, কত টাকা বণ্টন করা হল এবং কতগুলি দাবি এখনও বাকি রয়েছে, সেই সংক্রান্ত অগ্রগতির হিসাব আদালতের নজরে থাকবে।আদালত আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার পরেও যদি কাজ বাকি থাকে, তা হলে অবশিষ্ট সম্পত্তি, অর্থ এবং অন্যান্য অসম্পূর্ণ বিষয় বিচারপতি এস পি তালুকদারের নেতৃত্বাধীন এক সদস্যের কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।রোজভ্যালি মামলায় জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও যুক্ত রয়েছে। এবার বাজেয়াপ্ত না হওয়া বাকি সম্পত্তি চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইডিকে নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তে চিহ্নিত নতুন সম্পত্তির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।এ ছাড়া সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফরেনসিক অডিট শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এর ফলে রোজভ্যালির সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়ায় আরও নজরদারি বাড়তে চলেছে।রোজভ্যালি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বহু আমানতকারী। আদালতের এই নির্দেশে এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শেষ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে সম্পত্তি বিক্রি, দাবির যাচাই এবং টাকা বণ্টনের কাজ কতটা দ্রুত এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

হাসপাতাল থেকে সরাসরি এশিয়ান গেমস! বৃষ্টির মধ্যেই সোনা জিতে ইতিহাস নীরুর

এই কাহিনী শুনলে যে কারও মন ভালো হতে বাধ্য। লক্ষ্য যদি অবিচল থাকে তাহলে যে কোনও কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেন, কেউ তাঁকে হারাতে পারবে না। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার মাত্র ১০ দিন আগেও তাঁর কেরিয়ার নিয়ে তৈরি হয়েছিল বড় অনিশ্চয়তা। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ভারতীয় ট্র্যাপ শুটার নীরু ধান্ডা। সংক্রমণের কারণে শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, জাপানের নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসে আদৌ অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই অসুস্থতাকেই পিছনে ফেলে মঙ্গলবার ইতিহাস গড়লেন ২৬ বছরের এই ভারতীয় শুটার।জাপানের গ্রামীণ টয়োটার উরেনোচো শুটিং রেঞ্জে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই ট্র্যাপ শুটিংয়ের ফাইনালে ৩০টির মধ্যে ২৮টি লক্ষ্যভেদ করেন নীরু। এর ফলে এশিয়ান গেমসের নতুন রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন তিনি। চিনের সুন ইউনং ২৬টি লক্ষ্যভেদ করে রুপো পান। এশিয়ান গেমসে এটিই ভারতের পঞ্চম সোনা। তবে নীরুর সাফল্যের গুরুত্ব শুধু পদকের হিসাবেই নয়। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও ভারতীয় মহিলা ট্র্যাপ শুটিংয়ে ব্যক্তিগত সোনা জিতলেন। একইসঙ্গে ১৯৭৮ সালের পর এই ইভেন্টে কোনও ভারতীয় শুটারের ব্যক্তিগত সোনার অপেক্ষাও শেষ হল। ১৯৭৮ সালে রণধীর সিং ট্র্যাপ শুটিংয়ে সোনা জিতেছিলেন।এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল কঠিন এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। নয়াদিল্লিতে জাতীয় শিবিরে প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহ অনুশীলন করতে পারেননি নীরু। অসুস্থতার সময় টানা পাঁচ দিন খাবারও খাননি, শুধু জল খেয়ে ছিলেন। হাসপাতালেও তিন দিন কাটাতে হয় তাঁকে। এই কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন তাঁর কোচ অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত মনশের সিং। প্রতিদিন ফোন করে নীরুকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতেন তিনি। নীরুর কথায়, কোচ তাঁকে বলতেন কয়েক দিন অনুশীলন না করলেও কিছু যায় আসে না, তিনি প্রতিভাবান এবং তারকা হয়েই থাকবেন। প্রাক্তন সাংসদ তথা ক্রীড়ামন্ত্রী যশোধরা রাজের কাছ থেকেও সমর্থনের বার্তা পেয়েছিলেন নীরু।ভারতের ট্র্যাপ শুটিং কোচ পিটার উইলসন জানান, হাসপাতালে থাকার মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই নীরু প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সাড়ে তিন সপ্তাহ অনুশীলন না করেও জাপানে মাত্র দুদিন শুটিং করে ফাইনালে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। নীরুর শুটিংয়ে আসার গল্পও বেশ চমকপ্রদ। ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে তাঁর খুড়তুতো ভাই লক্ষ্য শেওরান ট্র্যাপ শুটিংয়ে রুপো জেতার পর এই খেলায় আগ্রহী হন তিনি। পরে ভোপালের মধ্যপ্রদেশ স্টেট শুটিং অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ শুরু করেন।গত বছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা এবং চলতি বছরের জুলাইয়ে ISSF বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত ট্র্যাপ সোনা জেতার পর এবার এশিয়ান গেমসেও সাফল্য পেলেন নীরু। তার উপর মঙ্গলবার ছিল প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টির জল শুটারদের হাতে পড়ছিল, মনোযোগও নষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু নিজেকে বারবার প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে এনে লক্ষ্যভেদ করেন নীরু। হাসপাতালের বিছানা থেকে এশিয়ান গেমসের মঞ্চ, এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের শেষে তাঁর হাতেই উঠল ঐতিহাসিক সোনা।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
রাজ্য

জেএমবি-যোগের সন্দেহে মঙ্গলকোটের মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার এনআইএ-র, বাজেয়াপ্ত ডায়েরি ও মোবাইল

পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সন্দেহেই পালিশ গ্রামের পূর্বপাড়ার মসজিদের ইমাম পিয়ার মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে মঙ্গলকোট থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে অভিযান চালায় এনআইএ। সেখান থেকেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিয়ার মোহাম্মদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার কুলুট গ্রামে। গত প্রায় তিন-চার বছর ধরে তিনি মঙ্গলকোটের পালিশ গ্রামের পূর্বপাড়ার মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তদন্তকারীরা তাঁর পাসপোর্ট পরীক্ষা করে জানতে পেরেছেন, একাধিকবার বাংলাদেশে গিয়েছেন তিনি।এনআইএ সূত্রে খবর, মসজিদে ইমাম থাকার জন্য যে ঘরটি পিয়ার মোহামদ ব্যবহার করতেন, সেখান থেকে একটি ডায়েরি এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই ডায়েরিতে বাংলাদেশের কয়েকজনের ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে বলেও তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই যোগাযোগগুলির সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।চলতি বছরের জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতকেন্দ্রিক কথিত সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই পিয়ার মোহাম্মদের নাম তদন্তকারীদের নজরে আসে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তাবলিগ জামাতের কাজে বৈধভাবে প্রায় ৪০ দিন বাংলাদেশে ছিলেন পিয়ার মোহাম্মদ। তবে সেই সফরের সময়ে তিনি জেএমবির কোনও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, কোনও বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন কি না, কিংবা বাংলাদেশের কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর আদৌ কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, এই সব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।পিয়ার মোহাম্মদের সঙ্গে আরও কারও যোগাযোগ ছিল কি না, তাঁর মাধ্যমে কোনও বৃহত্তর জঙ্গি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায় কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ ও স্থানীয় পুলিশ।ইমামকে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পালিশ গ্রামে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, পিয়ার মোহাম্মদকে তাঁরা বরাবরই শান্ত এবং সাধারণ স্বভাবের মানুষ হিসেবেই জানতেন। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারের খবর তাঁদের বিস্মিত করেছে।এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ধৃত ইমামকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয় এনআইএ। তাঁকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।পিয়ার মোহাম্মদের আইনজীবী কাজি সাহাবাব জামান জানিয়েছেন, টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে বার্তালাপের অভিযোগে তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর মক্কেল নির্দোষ বলে দাবি করেছেন আইনজীবী।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

২৭০০ থেকে ২৭ হাজার! ক্যানসারের ওষুধে দশ গুণ দাম দেখে সুপ্রিম কোর্টে তোলপাড়

ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় ওষুধের খরচ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। একটি ক্যানসারের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা খুচরো বিক্রেতাকে যে দামে ওষুধ দিচ্ছে, তার তুলনায় সর্বোচ্চ খুচরো দামের ব্যবধান দশ গুণ পর্যন্ত হতে পারেএমন তথ্য শুনানিতে উঠে আসে। উদাহরণ হিসেবে আদালত জানতে পারে, ২৭০০ টাকায় খুচরো বিক্রেতার কাছে পৌঁছনো একটি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো দাম ২৭ হাজার টাকা। এই বিপুল ব্যবধান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত।বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ, জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের দাম সংক্রান্ত মামলার শুনানি করছিল। সেখানেই ক্যানসারের ওষুধের দামে খুচরো বিক্রেতার জন্য নির্ধারিত দাম এবং রোগীর জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরো দামের মধ্যে এত বড় ফারাক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আদালত জানতে চায়, ২৭০০ টাকায় যে ওষুধ বিক্রেতার কাছে যাচ্ছে, সেটির সর্বোচ্চ খুচরো দাম কেন ২৭ হাজার টাকা হবে।আদালতের প্রশ্ন ছিল, এই অতিরিক্ত টাকার বড় অংশ কোথায় যাচ্ছে এবং এর ফলে কারা লাভবান হচ্ছে। বিচারপতিরা এমন দামের ব্যবধানকে রোগীদের উপর গুরুতর আর্থিক চাপ হিসেবে দেখেছেন। বিশেষ করে ক্যানসারের মতো রোগে চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় ওষুধের দাম বেড়ে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে রোগী এবং পরিবারের উপর।শীর্ষ আদালত বেসরকারি হাসপাতালের ওষুধ বিক্রির ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেছে। শুনানিতে এমন অভিযোগের প্রসঙ্গ ওঠে যে, কিছু কর্পোরেট হাসপাতাল রোগীদের নিজেদের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করে। বাইরে থেকে একই ওষুধ কিনে আনলে চিকিৎসা নিয়ে সমস্যার আশঙ্কাও রোগীদের সামনে থাকে বলে আদালতে বিষয়টি উঠে আসে।সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ওষুধের বাড়তি দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। কারণ কোনও সরকারি প্রকল্পে চিকিৎসা বা ওষুধের খরচ বেশি হলে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের একটা অংশ সরকারি অর্থ থেকে মেটানো হয়। ফলে এর আর্থিক প্রভাব সাধারণ মানুষের উপরও পড়তে পারে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে।শুনানিতে ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় এবং অনত্যাবশ্যকীয়এই ভাগ করে আলাদা নিয়ম রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতিরা জানতে চান, সব ধরনের ওষুধের ক্ষেত্রেই কি নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশের সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না। আদালতের তরফে ১৬ শতাংশ লভ্যাংশের সীমার কথাও আলোচনায় আসে।কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের অবস্থান আদালতকে জানানো হবে। কেন্দ্র আরও সময় চেয়েছে বলেও সাম্প্রতিক শুনানির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর হওয়ার কথা।তবে ১৬ শতাংশ লভ্যাংশের সীমা এখনই কার্যকর কোনও নতুন নিয়ম নয়। এটি শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব বা প্রশ্ন। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ক্যানসারের ওষুধের দাম নিয়ে এই শুনানি তাই রোগীদের চিকিৎসার খরচ, ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালের ওষুধ বিক্রির পদ্ধতিতিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেই সামনে এনেছে। এখন কেন্দ্রের বক্তব্য এবং পরবর্তী শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থানের দিকে নজর রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি! কাঠুয়ায় সিআইএসএফ শিবিরে ভয়াবহ ঘটনায় মৃত্যু ৪ জওয়ানের

জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় সিআইএসএফের একটি শিবিরে ভয়াবহ গুলিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ডিউটি পরিবর্তনের সময় বচসার পর এক সহকর্মী কয়েকজন জওয়ানকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় চার সিআইএসএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সিআইএসএফ সূত্রে খবর, বিকেলে ডিউটি পরিবর্তনের সময় হেড কনস্টেবল অবধেশ সিংয়ের সঙ্গে কয়েকজন জওয়ানের বচসা হয়। প্রথমে বিষয়টি কথা কাটাকাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে সেই বচসা বড় আকার নেয়।অভিযোগ, এক পর্যায়ে অবধেশ সিং নিজের রাইফেল তুলে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। গুলিতে চার জওয়ান গুরুতর আহত হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনেরই মৃত্যু হয়।নিহত জওয়ানদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পাণ্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং, কনস্টেবল সঞ্জীব কুমার এবং কনস্টেবল মহম্মদ রফিক।ঘটনার পর কাঠুয়া সিআইএসএফ শিবিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। কী কারণে ডিউটি পরিবর্তনের সময় বচসা শুরু হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিআইএসএফ সদর দপ্তরের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি সিআইএসএফের মহাপরিচালক গোটা পরিস্থিতি এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেফতার করার পর তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। চার সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় কাঠুয়া সিআইএসএফ শিবিরে এখন তদন্তের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal