• ২১ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Lionel Messi

খেলার দুনিয়া

২০ বছরের মহাকাব্যের শেষ! হঠাৎই জাতীয় দলকে বিদায় মেসির, স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব

কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। দেশের জার্সিতে প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ যাত্রার পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি।মেসির অবসর নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ফুটবল থেকেও তাঁর মন কিছুটা সরে গিয়েছিল বলে আলোচনা শুরু হয়। যদিও তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে অবসরের কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র কয়েক দিন আগেই চারটি গোল করেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে তাঁর দল সাত-শূন্য ব্যবধানে জয় পায়।তার পরেও আচমকাই এল বড় ঘোষণা। মেসি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ফাইনালের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তাভাবনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজের সবটুকু দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন বলেও জানিয়েছেন এই তারকা।মেসির এই সিদ্ধান্ত মানে আর্জেন্টিনার ফুটবলের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের জার্সিতে একের পর এক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তিনি। কখনও সাফল্য এসেছে, কখনও এসেছে হতাশা। একাধিকবার বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ হলেও শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে সেই অধরা ট্রফি নিজের হাতে তুলেছিলেন মেসি।আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ অগস্ট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কেরিয়ারে দেশের হয়ে শতাধিক গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে ছবার অংশ নিয়েছেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছেন।বিশ্বকাপের মঞ্চেও মেসির একাধিক নজির রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর দখলে। বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে গোল ও সহায়তার মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। টানা নয়টি বিশ্বকাপের ম্যাচে গোল করার নজিরও রয়েছে তাঁর নামে।মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে শুধু সাফল্য নয়, রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসও। একসময় কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরপর ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তিনি।এবার সেই জাতীয় দলকেই বিদায় জানালেন মেসি। তাঁর সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার ফুটবলে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে দেশের জার্সিতে তাঁর অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে এখনও তাঁকে মাঠে দেখা যেতে পারে। ফলে মেসির ফুটবলযাত্রা পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না, শেষ হচ্ছে শুধু আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর মহাকাব্যিক অধ্যায়।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘মেসি’ হয়ে ওঠার নেপথ্যের মানুষ আর নেই, প্রয়াত জর্জ মেসি

৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন লিওনেল মেসির বাবা জর্জ মেসি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। শুক্রবার রাতে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মেসির পরিবারের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফুটবল মহলেজর্জ মেসি শুধু লিওনেল মেসির বাবা ছিলেন না, ছেলের দীর্ঘদিনের এজেন্ট ও পরামর্শদাতাও ছিলেন। মেসির ফুটবলজীবনের শুরু থেকে তাঁর পাশে ছিলেন জর্জ। ছেলের প্রতিভার উপর আস্থা রেখে ছোটবেলা থেকেই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।রোজারিওতেই ছোটবেলায় ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছিল মেসির। নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজের যুব দলে খেলার সময় তাঁর প্রতিভা নজর কাড়ে। শারীরিক বৃদ্ধির জন্য হরমোনের চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল মেসির। সেই পরিস্থিতিতে ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে জর্জই তাঁকে নিয়ে স্পেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বার্সেলোনায় মেসির ফুটবলজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।ছেলের সঙ্গে বার্সেলোনায় থেকেছেন জর্জ। মেসির পেশাদার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গেও জড়িয়ে ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সাঁ জাঁ এবং ইন্টার মায়ামিমেসির ক্লাবজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বাবার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।শুধু ফুটবল নয়, মেসির ব্যক্তিগত জীবনেও বাবার প্রভাব ছিল গভীর। কঠিন সময়েও জর্জ ছেলের পাশে থেকেছেন। তাই মেসির জীবনে জর্জ ছিলেন একইসঙ্গে বাবা, অভিভাবক, পরামর্শদাতা এবং দীর্ঘদিনের পেশাদার প্রতিনিধি।চলতি বছর বিশ্বকাপের সময় থেকেই জর্জের অসুস্থতার খবর সামনে আসতে শুরু করেছিল। মেসিও একসময় জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত জীবনের নানা কারণে তিনি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। পরে দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষ হল জর্জ মেসির।মেসির ফুটবলজীবনের উত্থানের সঙ্গে জর্জের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ছেলের প্রতিভায় বিশ্বাস রেখে যে মানুষটি তাঁর পথচলার শুরু থেকে পাশে ছিলেন, তাঁর প্রয়াণে মেসির জীবনে তৈরি হল এক গভীর শূন্যতা। ফুটবল দুনিয়াতেও নেমে এসেছে শোকের আবহ।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
দেশ

‘ধন্যবাদ, ভারত!’ বিশ্বকাপ হারলেও ভারতীয় সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে স্পেনের কাছে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পরও ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউচিনো। সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ এক আবেগঘন বার্তায় তিনি ভারতীয় সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, আর্জেন্টিনা দলের প্রতি এই বিশ্বকাপ জুড়ে ভারতীয় মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আবারও ধন্যবাদ, ভারত!বিশ্বকাপে শিরোপাধারী হিসেবে অভিযান শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে স্পেনের কাছে পরাজিত হয় লিওনেল মেসির দল।ম্যাচের একমাত্র এবং জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস, অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে। এই জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জেতে স্পেন।পুরো ম্যাচে বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে বহুবার রক্ষা করেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, যিনি একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন।Deeply grateful to the Indian People for the endless displays of support for the Argentine team during this latest World Cup. Thank you, India, once again! pic.twitter.com/kd9hmTBnON Mariano Caucino (@CaucinoMariano) July 20, 2026তবে ম্যাচের শেষদিকে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ, ফলে অতিরিক্ত সময়ে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় মেসিদের।অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে নিকো উইলিয়ামস গোল করলেও ফাউলের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই উইলিয়ামসের পাস থেকে ফেরান তোরেস জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে বিশ্বকাপ এনে দেন।এই জয়ের ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের অপরাজিত থাকার রেকর্ড বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ ম্যাচে, যা ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে নতুন নজির। একইসঙ্গে ৬৪ বছর পর বিশ্বকাপ শিরোপা সফলভাবে ধরে রাখার আর্জেন্টিনার স্বপ্নও ভেঙে যায়।তবুও গোটা টুর্নামেন্টে ভারতীয় সমর্থকদের বিপুল ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে ঘিরে ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ বরাবরের মতোই নজর কেড়েছে। সেই ভালোবাসার স্বীকৃতি দিতেই বিশ্বকাপ শেষ হতেই ভারতীয় সমর্থকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতার বার্তা দেন রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউচিনো।বিশ্বকাপ জয় হাতছাড়া হলেও, ভারত ও আর্জেন্টিনার ফুটবল-সম্পর্ক যে আরও গভীর হয়েছে, রাষ্ট্রদূতের এই বার্তাই যেন তারই প্রমাণ।

জুলাই ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন মেসি, আর্জেন্টিনার আবেগঘন পোস্টে কি লুকিয়ে অবসরের ইঙ্গিত?

ফাইনালে আর্জেন্টিনার হার শুধু সমর্থকদেরই হতাশ করেনি, কাঁদিয়েছে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও। একপেশে ম্যাচে পরাজয়ের পর মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেখা যায় সম্পূর্ণ নীরব অবস্থায়। তাঁর চোখে জল ছিল স্পষ্ট, কিন্তু মুখে কোনও কথা ছিল না। সাংবাদিক সম্মেলনেও তিনি হাজির হননি। এরপর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটাই কি মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ?এই জল্পনায় নতুন করে আগুন জ্বালিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন -এর একটি আবেগঘন পোস্ট। সেখানে দেখা যায়, গলায় রানার্স-আপের পদক ঝুলিয়ে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন মেসি। তাঁর চোখে জল স্পষ্ট ধরা পড়েছে। সেই ছবির সঙ্গে সংস্থাটি লিখেছে, অধিনায়ক, তোমার কান্না আমাদেরও কাঁদায়। তুমি আমাদের জীবনের সেরা আনন্দ দিয়েছ। দেশের জন্য তোমার নিষ্ঠা, জাদু এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইকে সেলাম। তোমাকে সারা জীবন ভালোবাসব, লিও। সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ।এই বার্তাকে ঘিরেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, সংস্থার এই পোস্টে যেন মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ইতি টানার ইঙ্গিত রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত মেসি নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেননি।এদিকে আরেকটি সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, আর্জেন্টিনার মাটিতে একটি বিশেষ প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হতে পারে। সেই ম্যাচেই দেশের সমর্থকদের সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে পারেন মেসি। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।ফাইনালের পর মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ। তিনি বলেন, এখন ওর বয়স উনচল্লিশ। অবিশ্বাস্য। ওর থেকে নতুন কিছু বার করার নেই। আগেও বলেছি, আজও বলছি, মেসি যত দিন চাইবে তত দিন খেলতে পারে। সমর্থক, সতীর্থ, সবাই ওর পাশে থাকবে। ও যা অর্জন করেছে, তাতে নিঃসন্দেহে সে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন।এখন ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে, মেসি অবসর নিয়ে মুখ খোলেন কি না। আর যদি সত্যিই দেশের মাটিতে বিদায়ী প্রীতি ম্যাচ হয়, তবে সেটিই হতে পারে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

জুলাই ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মেসিকে নিয়ে বড় রহস্য! কোচের দুই শব্দে তোলপাড় ফুটবল দুনিয়া

বিশ্বকাপের আগে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে (Fifa World Cup)। কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেসি শুধু খেলেনই না, নিজের নেতৃত্বে আর্জেন্টিনাকে আরও একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে আনেন। এবার নতুন প্রশ্ন, স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনাল কি দেশের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ?ফাইনালের আগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির কাছে এই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। তবে তিনি সরাসরি কোনও উত্তর দেননি। শুধু বলেন, লিওকে জিজ্ঞাসা করুন। এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে ফুটবল মহলে (Fifa World Cup)।এরপর অবশ্য মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেন স্কালোনি। তাঁর কথায়, মেসি এখন শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি ফুটবল ইতিহাসের অংশ। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব। স্কালোনি বলেন, যতদিন মেসি মাঠে আছেন, ততদিন তাঁর খেলা উপভোগ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এই দলের সঙ্গে মেসি যা অর্জন করেছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে (Fifa World Cup)।ফাইনালের আগে প্রতিযোগিতার সূচি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। তাঁর অভিযোগ, নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর পর পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না দিয়েই দুপুরের গরমে অনুশীলনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দলের প্রস্তুতিতে সমস্যা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। স্কালোনির মতে, টুর্নামেন্টের শেষ দিকে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলেও বাস্তবে উল্টো পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে।এদিকে, ব্রাজিলের কাফুর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামছেন মেসি। ফাইনালের আগে চাপ অনুভব করছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আগের বিশ্বকাপ ফাইনাল এখন অতীত। সেই স্মৃতি নিয়ে আর ভাবছেন না তিনি। বরং দলকে নিয়ে নতুন লড়াইয়ের দিকেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন। মেসির বিশ্বাস, ফুটবল সবসময় উপভোগ করার খেলা। ছোটবেলার মতো আজও সেই আনন্দ নিয়েই তিনি মাঠে নামতে চান।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ফাইনালে যাচ্ছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, সামনে এল চমকপ্রদ কারণ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে রবিবার স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই মহারণে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতি প্রত্যাশিত। তবে সবার নজর কেড়েছে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-এর সিদ্ধান্ত।ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তিনি বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না।কুসংস্কারই সিদ্ধান্তের মূল কারণআর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মিলেই বিশ্বাস করেন যে তিনি যেভাবে পুরো বিশ্বকাপ চলাকালীন বুয়েনস আইরেসের সরকারি বাসভবন থেকেই প্রতিটি ম্যাচ দেখেছেন, সেই রীতি ভাঙলে দলের ভাগ্যে প্রভাব পড়তে পারে।তিনি নিজের এই ম্যাচ-ডে রুটিনকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন। এমনকি একটি নির্দিষ্ট জ্যাকেটও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পরেন, যা তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী আর্জেন্টিনার জন্য শুভ। তাই ফাইনালের মতো ঐতিহাসিক ম্যাচের আগে সেই অভ্যাস বদলাতে নারাজ তিনি।আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে কাবালাআর্জেন্টিনায় ফুটবলকে ঘিরে কাবালা (Cbala) বা সৌভাগ্যের কুসংস্কার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। সমর্থক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করেন।আরও পড়ুনঃ ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম! বিশ্বকাপজয়ী দলকে ট্রফির সঙ্গে দেওয়া হবে বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং, ফিফার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তবিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট মিলেইও সেই সংস্কৃতিরই অংশ। তাঁর বিশ্বাস, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলবেন, ততক্ষণ আর্জেন্টিনার সৌভাগ্য অটুট থাকবে।ঐতিহাসিক ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্বরবিবারের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একদিকে লামিনে ইয়ামালদের স্পেন, অন্যদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টিনা।বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন এই মহারণের দিকে। আর সেই সময় দেশের প্রেসিডেন্ট মাঠে না থাকলেও, নিজের লাকি রুটিন বজায় রেখে টেলিভিশনের সামনে থেকেই দলের জন্য শুভকামনা জানাবেন হাভিয়ের মিলেই।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ইংল্যান্ডকে হারিয়েই মাঠে যুদ্ধের বার্তা! আর্জেন্টিনার কাণ্ডে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়, শাস্তির মুখে মেসির দল?

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচ শেষের পর ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে মাঠের এক বিতর্কিত ঘটনাকে ঘিরে। জয়ের আনন্দে আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে একটি ব্যানার হাতে মাঠে উদযাপন করেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী মাঠে রাজনৈতিক বার্তা বা ব্যানার প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তাই এই ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। কিছুক্ষণ দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও চলে। সেই সময়ই আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার একটি ব্যানার হাতে মাঠে নামেন। সেখানে লেখা ছিল, মালভিনাস আমাদেরই। আর্জেন্টিনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে মালভিনাস নামে ডাকা হয়। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতেও একই স্লোগান ও ব্যানার দেখা গিয়েছিল।ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা বহু বছর ধরে সেটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। এই বিরোধ থেকেই উনিশশো বিরাশিতে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। দীর্ঘ যুদ্ধের শেষে আর্জেন্টিনা পরাজিত হয় এবং দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ ব্রিটেনের হাতেই থেকে যায়। সেই যুদ্ধে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি ফুটবল ইতিহাসেও জড়িয়ে রয়েছে। যুদ্ধের কয়েক বছর পর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। সেই আবেগ এখনও আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে গভীরভাবে রয়ে গেছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।তবে এবার মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনা সমস্যায় পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী খেলার মাঠে কোনও রাজনৈতিক বা ভূখণ্ড সংক্রান্ত বার্তা প্রকাশ করা যায় না। তাই ফিফা এই ঘটনার তদন্ত করে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

জুলাই ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসিকে আটকে রেখেও রক্ষা পেল না ইংল্যান্ড! স্কালোনির মাস্টারস্ট্রোকে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা, টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশলেই ভাঙল স্বপ্ন

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। গোল না করেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি। স্কালোনির আক্রমণাত্মক পরিবর্তন ও টমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশলই গড়ে দিল ম্যাচের ভাগ্য।বিশ্বকাপের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, লিওনেল মেসিকে আটকে দিতে পারলেই আর্জেন্টিনাকে থামানো সম্ভবএই ধারণা অনেক দলেরই ছিল। কিন্তু বর্তমান আর্জেন্টিনা সেই ধারণাকে একেবারে ভুল প্রমাণ করে দিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মেসিকে কার্যত গোলশূন্য রেখেও ২-১ ব্যবধানে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল লিওনেল স্কালোনির দল।এই ম্যাচ শুধু একটি জয় নয়, বরং আর্জেন্টিনার দলগত শক্তি, কৌশলগত পরিপক্বতা এবং মানসিক দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।মেসিকে আটকে রাখার পরিকল্পনা সফল, তবুও হার ইংল্যান্ডেরম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল স্পষ্টমেসিকে যতটা সম্ভব খেলার বাইরে রাখা। মাঝমাঠে জায়গা না দিয়ে একাধিক ফুটবলারকে তাঁর উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে গোটা ম্যাচে খুব কমবারই ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সে ঢুকতে পেরেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।তবে মেসি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরি করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ডান প্রান্তে সরে গিয়ে আক্রমণের নতুন রাস্তা খুলে দেন। গোল করতে না পারলেও ম্যাচের দুই গোলের সূচনায় তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মেসি নয়, দলই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তিএই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আর্জেন্টিনার মানসিকতায়। আগে দলের প্রায় সব আক্রমণ মেসিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও এখন দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজদের মতো ফুটবলাররা।৮৪ মিনিটে এঞ্জো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরে। সেই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় আর্জেন্টিনার হাতে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই মেসির নিখুঁত ক্রসে অসাধারণ হেড করে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।খাতায়-কলমে দুটি অ্যাসিস্ট মেসির হলেও গোল দুটির কৃতিত্ব সমানভাবে প্রাপ্য গোলদাতাদের। এই সমষ্টিগত শক্তিই বর্তমান আর্জেন্টিনাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।স্কালোনির সাহসী সিদ্ধান্ত বদলে দিল ম্যাচপ্রথম এক ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যাচে আধিপত্য ছিল ইংল্যান্ডের। দ্রুতগতির আক্রমণ এবং সংগঠিত ফুটবলে বারবার সমস্যায় পড়ছিল আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ।কিন্তু গোল হজম করার পরেও স্কালোনি ভয় পাননি। বরং আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। রক্ষণভাগ থেকে একজন ফুটবলার তুলে অতিরিক্ত স্ট্রাইকার নামিয়ে দেন। ফলে ইংল্যান্ডের বক্সে ক্রমাগত চাপ তৈরি হতে থাকে।স্কালোনির এই সাহসী সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।টুখেলের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক মানসিকতাই কাল হলোইংল্যান্ডের হারের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে কোচ টমাস টুখেলের কৌশলগত ভুল।গোল করার পর আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি দলকে প্রায় পুরোপুরি নিজেদের অর্ধে নামিয়ে আনেন। অতিরিক্ত ডিফেন্ডার নামিয়ে ৫-৪-১ ফরমেশনে চলে যান। এমনকি হ্যারি কেনকেও রক্ষণ সামলাতে দেখা যায়।এই সিদ্ধান্তের ফলে ইংল্যান্ডের আক্রমণ পুরোপুরি থেমে যায়। বলের দখল, ম্যাচের গতি এবং আত্মবিশ্বাসসবকিছুই ধীরে ধীরে আর্জেন্টিনার দিকে চলে যেতে থাকে।আধুনিক ফুটবলে এক গোলের ব্যবধান কখনও নিরাপদ নয়। অথচ দ্বিতীয় গোলের খোঁজে না গিয়ে শুধুমাত্র লিড ধরে রাখার চেষ্টা করেই বড় মূল্য চুকাতে হলো টুখেলকে।ফাইনালের আগে বড় বার্তা দিল আর্জেন্টিনাম্যাচ শেষে সেন্টার সার্কেলে হাঁটু গেড়ে বসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন লিওনেল মেসি। সতীর্থরা তাঁকে ঘিরে উদযাপনে মেতে ওঠেন। সেই দৃশ্য যেন একটি বার্তাই দেয়এই দল শুধু একজন সুপারস্টারের নয়, বরং ১১ জনের সম্মিলিত লড়াইয়ের প্রতীক।মেসি গোল না করলেও আর্জেন্টিনা জিততে পারেএই বিশ্বাস এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। নকআউট পর্বে একের পর এক ম্যাচে বিভিন্ন ফুটবলার দায়িত্ব নিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। সেমিফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়, বরং প্রতিপক্ষের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তামেসিকে আটকালেই আর্জেন্টিনাকে থামানো যাবে, সেই ধারণার দিন শেষ।

জুলাই ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

১৩ মিনিটে মহাকাব্য! মৃত্যুকূপ থেকে আর্জেন্টিনাকে টেনে তুললেন মেসি, ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আলবিসেলেস্তেরা

এভাবেও ফিরে আসা যায়?প্রথমার্ধেই পেনাল্টি নষ্ট। তারপর যেন কিছুই ঠিক হচ্ছিল না। আক্রমণে ছন্দ নেই, মাঝমাঠে সংযোগ নেই, রক্ষণে একের পর এক ভুল। আর সেই সুযোগে পিরামিডের মতো অটল রক্ষণ গড়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর। সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই বাড়ছিল হতাশা। মাঠে যেন দিশেহারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, নির্বাক লিওনেল মেসি।কিন্তু মহান দলগুলোর পরিচয়ই হলতারা শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত হারে না।খেলা শেষ হতে আর মাত্র ১৩ মিনিট বাকি। ঠিক সেই মুহূর্তেই যেন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ! বদলে গেল ম্যাচের গতি, বদলে গেল ইতিহাসের খাতা। মেসির নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে ভেঙে পড়ল মিশরের অদম্য রক্ষণ। মাত্র ১৩ মিনিটে তিন গোল! ২-০ পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন আর্জেন্টিনার।যে ম্যাচে ৭৭ মিনিট পর্যন্ত লেখা হচ্ছিল পরাজয়ের কাহিনি, শেষ ১৩ মিনিটে সেটাই হয়ে উঠল প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য। পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ, ২ গোলের পিছিয়ে পড়া, ছন্দহীন ফুটবলসবকিছু ঢেকে দিল এক দুর্দান্ত জয়।ফুটবল আবারও মনে করিয়ে দিলশেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কোনও ম্যাচ শেষ হয় না। আর মাঠে যখন মেসি থাকেন, তখন অসম্ভবও কখনও কখনও ইতিহাস হয়ে ওঠে।বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন প্রত্যাবর্তন খুব বেশি দেখা যায় না। একসময় মনে হচ্ছিল, লিয়োনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হতে চলেছে। ০-২ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা ছিল কার্যত বিদায়ের দোরগোড়ায়। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে যাঁদের নাম কিংবদন্তির অক্ষরে লেখা থাকে, তাঁরা সংকটের মুহূর্তেই নিজেদের প্রকৃত পরিচয় দেন। সেই কাজটাই করলেন লিয়োনেল মেসি। মাত্র ১৩ মিনিটের বিস্ফোরক ফুটবলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে ৩-২ ব্যবধানে লড়াকু মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা।তবে এই জয় যতটা আনন্দের, ততটাই সতর্কবার্তাও। কারণ স্কোরলাইন জয় দেখালেও পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল ছিল উদ্বেগজনক। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর মিশরের বিপক্ষেও আক্রমণ, মাঝমাঠ ও রক্ষণতিন বিভাগেই একের পর এক ভুল ধরা পড়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই ফুটবল ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।প্রথমার্ধ থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে মিশর। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক এবং মোহাম্মদ সালাহদের তীক্ষ্ণ পাসিংয়ে বারবার বিপাকে পড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণ। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দল। এমনকি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) হস্তক্ষেপ না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।অন্যদিকে মাঝমাঠেও দেখা যায় অদ্ভুত নিষ্প্রভতা। রদ্রিগো ডি পল কিংবা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো ফুটবলাররা প্রত্যাশামতো খেলতে পারেননি। সামনের দিকে সৃজনশীল পাসের বদলে নিরাপদ ব্যাকপাস বা স্কোয়ার পাসেই সীমাবদ্ধ ছিলেন তাঁরা। ফলে বল তৈরি করার দায়িত্বও এসে পড়ে মেসির কাঁধে। মাঝমাঠ থেকে নেমে বল সংগ্রহ করে আবার আক্রমণে উঠতে হচ্ছিল তাঁকেই।এর মধ্যেই সহজ একটি পেনাল্টি নষ্ট করেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। কিছুক্ষণ পর একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৭০ মিনিট পর্যন্ত তিনজন ডিফেন্ডারের কড়া নজরে প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিলেন তিনি। মনে হচ্ছিল, এ দিন হয়তো মেসির জাদুও কাজ করবে না।কিন্তু ৭৩ মিনিটে বদলে যায় পুরো ছবিটা। মাঝখান ছেড়ে ডান প্রান্তে সরে যান মেসি। সেই কৌশলগত পরিবর্তনই যেন ভেঙে দেয় মিশরের রক্ষণভাগ।৭৯ মিনিটে ডান দিক থেকে তাঁর নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর আবার মেসির পা থেকেই আসে সমতা ফেরানোর গোল। নিজের তৈরি করা আক্রমণ শেষ করেন নিজেই, ফিরতি বলে জোরালো শটে জালে বল জড়িয়ে।ম্যাচ তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে আবারও ডান প্রান্ত থেকে আক্রমণ গড়ে ওঠে। লাউতারো মার্টিনেজের দুর্দান্ত ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোল করেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ। মাত্র ১৩ মিনিটে তিনটি গোল করে অসম্ভবকে সম্ভব করে আর্জেন্টিনা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেঙে পড়েন মেসি। চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি তিনি। সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেন, আর তাঁরাও অধিনায়ককে কাঁধে তুলে উদ্যাপনে মেতে ওঠেন। সেই দৃশ্যই বুঝিয়ে দেয়, এই জয় শুধুমাত্র একটি ম্যাচ জেতা নয়এটি ছিল বিশ্বকাপে বেঁচে থাকার লড়াই।পরিসংখ্যানও বলছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনও ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে জয় পায়নি আর্জেন্টিনা। এমনকি ড্রও করতে পারেনি। সেই ইতিহাস বদলে দিলেন মেসি ও তাঁর দল। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি আলবিসেলেস্তেদের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন হিসেবে জায়গা করে নিল।তবে এই নাটকীয় জয় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট এনে দিলেও সব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। বরং নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে আর্জেন্টিনার দুর্বলতাগুলো। রক্ষণে সমন্বয়ের অভাব, মাঝমাঠে সৃজনশীলতার সংকট এবং আক্রমণে অতিরিক্ত মেসি-নির্ভরতাএসব সমস্যা দ্রুত মেটাতে না পারলে ফ্রান্স, স্পেন বা অন্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিপদ আরও বাড়বে।মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। কিন্তু বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু একজন মেসি নয়, প্রয়োজন গোটা দলের সমান লড়াই। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সেই কঠিন পরীক্ষার মুখেই দাঁড়িয়ে লিয়োনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা।

জুলাই ০৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মারাদোনার রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের শিখরে মেসি! গোলেও একের পর এক নজির

বয়স যত বাড়ছে, ততই যেন নতুন নতুন ইতিহাস লিখে চলেছেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের দুরন্ত ফর্ম অব্যাহত। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুধু দলকে জেতাতেই বড় ভূমিকা নেননি, একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন একটি রেকর্ড গড়েছেন, যা এতদিন ছিল আর্জেন্টিনার আর এক কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার দখলে।ম্যাচে একটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে নিজের মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড় করালেন ৯-এ। এর ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের মালিক এখন এককভাবে লিওনেল মেসি। এতদিন ৮টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এই রেকর্ডটি ছিল দিয়েগো মারাদোনার নামে। সেই নজির ভেঙে আরও একবার নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে ফেললেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।গোল করাতেও অতুলনীয় মেসিফুটবল বিশ্বে মেসিকে সাধারণত অসাধারণ গোলদাতা হিসেবেই বেশি চেনা হয়। তবে তাঁর খেলার অন্যতম বড় শক্তি হল সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। নিখুঁত পাস, অসাধারণ ভিশন এবং ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষমতা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্লেমেকারেও পরিণত করেছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেই দক্ষতারই আরও একটি উজ্জ্বল প্রমাণ মিলল।বিশ্বকাপে ৯টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড শুধু তাঁর ব্যক্তিগত কৃতিত্বই নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরও প্রতীক।গোলেও নতুন মাইলফলকঅ্যাসিস্টের পাশাপাশি গোল করেও ইতিহাস গড়েছেন মেসি। ম্যাচের ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বাড়ানো বল থেকে দুরন্ত ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। এটি ছিল বিশ্বকাপে তাঁর ২০তম গোল।এই গোলের সুবাদে আরও একটি অনন্য নজির গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা আটটি ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। শুধু তাই নয়, দুটি পৃথক বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নিজের নাম লেখান মেসি।গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই সাতটি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন মেসি। তবে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপে ছয় গোল করে খুব কাছেই রয়েছেন। ফলে টুর্নামেন্ট যত এগোবে, ততই জমে উঠবে সর্বোচ্চ গোলদাতার প্রতিযোগিতা।নাটকীয় লড়াইয়ের শেষে আর্জেন্টিনার জয়কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দলই ২-২ গোলে সমতায় ছিল। অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমান।শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় এক আত্মঘাতী গোলে। অতিরিক্ত সময়ে মেসির নেওয়া একটি শট বিপদমুক্ত করতে গিয়ে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনে বোরজেস নিজের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন। সেই আত্মঘাতী গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।এই জয়ের সুবাদে লিওনেল স্কালোনির দল নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট। আর ব্যক্তিগতভাবে লিওনেল মেসি আরও একবার প্রমাণ করলেন, তিনি শুধু গোল করার জন্যই নন, দলের আক্রমণ গড়ে তোলা এবং ইতিহাস সৃষ্টিদুই ক্ষেত্রেই অনন্য। প্রতিটি ম্যাচে নতুন রেকর্ড গড়ে তিনি যেন নিজের কিংবদন্তিকে আরও সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

জুলাই ০৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

'কোথায় গেল ঘানার সেই তান্ত্রিক?' আর্জেন্টিনার জয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের বন্যা, ভবিষ্যদ্বাণী উল্টে দিল লা অ্যালবিসেলেস্তে

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই চমক, নাটকীয়তা আর নানান ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী। কখনও অক্টোপাসের ভবিষ্যদ্বাণী, কখনও আবার কার্টুন সিরিজ The Simpsons-এর কাকতালীয় মিলপ্রতিটি বিশ্বকাপেই এমন নানা ঘটনা ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তবে এবার সবকিছুকে ছাপিয়ে ভাইরাল হয়ে ওঠেন ঘানার এক স্বঘোষিত তান্ত্রিক।বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে তিনি দাবি করেছিলেন, লিওনেল মেসিদের দল নাকি কেপ ভার্দের কাছেই আটকে যাবে এবং প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছতে পারবে না। তাঁর এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। কেউ সেটিকে নিছক বিনোদন হিসেবে নিলেও, অনেকেই আবার ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হবে বলেই ধরে নিয়েছিলেন।কিন্তু মাঠে নেমে সব হিসেবই বদলে দেয় আর্জেন্টিনা। ১২০ মিনিট ধরে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬-তে জায়গা নিশ্চিত করে লা অ্যালবিসেলেস্তে। কঠিন লড়াইয়ের পর পাওয়া এই জয় শুধু আর্জেন্টিনার সমর্থকদেরই উচ্ছ্বসিত করেনি, একইসঙ্গে ঘানার সেই তান্ত্রিকের দাবিকেও সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে।আর্জেন্টিনার জয়ের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে হাস্যরসের ঝড়। ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রামসব জায়গাতেই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কোথায় গেল ঘানার সেই তান্ত্রিক? কেউ লিখছেন, ধরে আন ব্যাটাকে! আবার কেউ মিম বানিয়ে দেখাচ্ছেন, ভবিষ্যদ্বাণী ব্যর্থ হতেই তিনি নাকি গায়েব হয়ে গিয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মিম এবং ট্রোল ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়।ঘটনার মজার দিক আরও একটি। যে ঘানার তান্ত্রিক আর্জেন্টিনার বিদায়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেই ঘানার দলই শেষ পর্যন্ত কলম্বিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। ফলে সমর্থকদের একাংশ কটাক্ষ করে বলছেন, অন্যের ভাগ্য গণনা করতে গিয়ে নিজের দলের ভবিষ্যৎই দেখতে পেলেন না!ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনও ফলাফল মেনে নেয় না, আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচ যেন তারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ। কুসংস্কার, অলৌকিক দাবি কিংবা ভাইরাল ভবিষ্যদ্বাণীর চেয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াই, কৌশল এবং ফুটবল দক্ষতাই যে আসল কথাতা আরও একবার প্রমাণ করলেন মেসিরা।এখন শেষ ১৬-র লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সামনে মিশর। তবে এই মুহূর্তে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় একটাইঘানার সেই তান্ত্রিক এখন

জুলাই ০৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির জন্য শতবর্ষী বৃদ্ধার উন্মাদনা! গ্যালারিতে যা করলেন, মুহূর্তে ভাইরাল

লিওনেল মেসির ভক্তের সংখ্যা যে কতটা বিশাল, তার নতুন প্রমাণ মিলল বিশ্বকাপের মঞ্চে। বয়স যেখানে অনেকের কাছে সীমাবদ্ধতা, সেখানে একশো বছর বয়সেও প্রিয় ফুটবলারের খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে হাজির হয়ে সকলকে চমকে দিলেন এক বৃদ্ধা। ডালাসের গ্যালারিতে তাঁর উপস্থিতিই এখন সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে বসেছিলেন একশো বছর বয়সি পউলিনে কানা। ধবধবে সাদা চুল, গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি আর হাতে একটি প্ল্যাকার্ড। সেখানে লেখা ছিল, তিনি একশো বছর বয়সি মেসি-ভক্ত। সেই ছবি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।তবে পউলিনে শুধু মেসির ভক্ত হিসেবেই পরিচিত নন। সামাজিক মাধ্যমেও তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। নাতির সঙ্গে মজার ভিডিও বানিয়ে তিনি কোটি কোটি মানুষের কাছে পরিচিত মুখ। বহু বছর ধরেই তিনি অনলাইনে জনপ্রিয়। তাঁর নাম রয়েছে বিশ্বরেকর্ডের তালিকাতেও। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মেসির প্রতি তাঁর ভালোবাসাই তাঁকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।এর আগেও মেসির খেলা দেখতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন তিনি। তখন একটি পোস্টারে মজার ছলে লিখেছিলেন, মেসি, তুমি কি আমায় বিয়ে করবে? সেই ছবিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। এবারও ব্যতিক্রম হল না। বিশ্বরেকর্ডের ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।অন্যদিকে মাঠেও ছিল মেসি-ম্যাজিক। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করলেও পরে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। প্রথম গোলটি আসে দুর্দান্ত ফিনিশে, যা গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়। দ্বিতীয় গোলটি আসে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে, যা আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করে।এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতার নতুন রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। ফলে একদিকে মাঠে ইতিহাস, অন্যদিকে গ্যালারিতে একশো বছর বয়সি ভক্তের আবেগ সব মিলিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকল এই ম্যাচ।ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই বলছেন, মেসির আসল সাফল্য শুধু গোল বা ট্রফিতে নয়, বরং এমন প্রজন্ম পেরোনো ভালোবাসায়। কারণ একশো বছরের এক বৃদ্ধা থেকে শুরু করে কোলে থাকা শিশুও যখন একই ফুটবলারের জন্য গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে, তখন বোঝা যায় তাঁর জনপ্রিয়তার বিস্তার কতটা।

জুন ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির বিশ্বরেকর্ডের ম্যাচেই বিস্ফোরক অভিযোগ! গোলটা কি আদৌ বৈধ ছিল?

বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনাকেও তুলে দিয়েছেন নকআউট পর্বে। কিন্তু ম্যাচ শেষের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর গোল নয়, বরং সেই গোলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। ফুটবল মহলের একাংশের প্রশ্ন, অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মেসির প্রথম গোলটি কি আদৌ বৈধ ছিল?ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে পরে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেন। ম্যাচের আটত্রিশ মিনিটে দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। কিন্তু গোল হওয়ার আগে মাঝমাঠে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।অভিযোগ, গোল হওয়ার ঠিক আগে অস্ট্রিয়ার এক ফুটবলারের উপর ট্যাকল করেছিলেন আর্জেন্টিনার এক মিডফিল্ডার। সেই ঘটনায় রেফারি খেলা থামাননি। পরে সেই আক্রমণ থেকেই গোল আসে। ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, গোলের আগে আক্রমণ তৈরির পর্যায়ে যদি ফাউল হয়ে থাকে, তাহলে প্রযুক্তিনির্ভর পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত ছিল।এই বিতর্কে সরব হয়েছেন ডেনমার্কের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেলও। তাঁর মতে, গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল। তিনি দাবি করেন, অস্ট্রিয়ার ফুটবলারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ফাউল হয়েছিল এবং সেই কারণে আক্রমণ শুরুই হওয়া উচিত ছিল না। প্রযুক্তিনির্ভর পর্যালোচনা ব্যবস্থাও এই বিষয়টি দেখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ফুটবল মহলের একাংশের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই ধরনের সিদ্ধান্ত আরও বেশি বিতর্ক তৈরি করে। বিশেষ করে যখন সেই গোলের মাধ্যমেই ইতিহাস গড়েন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার।এটাই অবশ্য প্রথম নয়। এর আগেও আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে মেসিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষের অধিনায়কের বিরুদ্ধে একটি চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছিল রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে। সেই ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় আপত্তি জানিয়েছিল আলজেরিয়া।অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে মেসি আবারও নিজের অসাধারণ প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। তবে রেকর্ড গড়ার রাতেও বিতর্ক যে তাঁর পিছু ছাড়ল না, তা বলাই যায়। এখন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, গোলটি কি নিয়ম মেনেই হয়েছিল, নাকি রেফারির একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারত ম্যাচের গল্প?

জুন ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

এক ম্যাচেই রেকর্ড, জোড়া গোল, নকআউট! আবারও বিশ্বজয়ীর ছন্দে আর্জেন্টিনা

পেনাল্টি মিস দিয়ে শুরু। কিন্তু ম্যাচ শেষ হল ইতিহাস গড়ে। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। একইসঙ্গে ২-০ ব্যবধানে জিতে নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গাও নিশ্চিত করে ফেলল আর্জেন্টিনা।প্রথম ম্যাচে দুরন্ত জয় পাওয়ার পর অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন মেসি, লাউতারো মার্টিনেজরা। খুব দ্রুতই গোলের সুযোগ তৈরি হয়। এক সময় পেনাল্টিও পায় আর্জেন্টিনা।সেই পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। গোটা স্টেডিয়াম অপেক্ষা করছিল আরেকটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্য। কিন্তু সবাইকে অবাক করে বল লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় সমর্থকেরা।তবে মেসির গল্প কখনও এত সহজে শেষ হয় না। পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে দুরন্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ডান প্রান্ত থেকে আসা বল নিখুঁত দক্ষতায় জালে জড়িয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তোলেন মেসি। সেই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে শীর্ষস্থানে উঠে আসেন।দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়া লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেছিল। কয়েকবার আক্রমণও শানায় তারা। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বড় কোনও সমস্যায় ফেলতে পারেনি। উল্টে পাল্টা আক্রমণে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা।ম্যাচের একেবারে শেষদিকে আবারও নিজের জাদু দেখান মেসি। প্রতিপক্ষ যখন সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টায় ব্যস্ত, তখন দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। সেই গোলেই ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়ে যায়।জোড়া গোলের সৌজন্যে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ালেন মেসি। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা।বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এই দিনেই চার দশক আগে দিয়েগো মারাদোনার এক ঐতিহাসিক ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে। সেই স্মরণীয় দিনে মেসির নতুন বিশ্বরেকর্ড যেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের গৌরবকে আরও একবার উজ্জ্বল করে তুলল।তবে জয়ের মাঝেও কিছুটা চিন্তা রয়েছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। মেসির ব্যক্তিগত উজ্জ্বলতা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিলেও দলের সামগ্রিক খেলায় এখনও উন্নতির জায়গা রয়েছে। নকআউট পর্বের কঠিন লড়াইয়ের আগে সেই দিকেই নজর থাকবে কোচ এবং সমর্থকদের।

জুন ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

গোলের পর হঠাৎ কেঁদে ফেললেন মেসি! হ্যাটট্রিকের রাতেও কেন চোখে জল আর্জেন্টিনা অধিনায়কের?

ফুটবল মাঠে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। একদিকে দুরন্ত হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে চোখে জল। আর সেই মানুষটি যখন লিওনেল মেসি, তখন স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে ঘটনাটি।আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ম্যাচের মাত্র সতেরো মিনিটে নিজের পরিচিত ভঙ্গিতে গোল করেন তিনি। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে দেন মেসি। গোলরক্ষক বল ছুঁয়েও তা আটকাতে পারেননি।গোলটি ছিল ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বহুবার দেখা মেসি-জাদুর আরেকটি উদাহরণ। কিন্তু গোলের পর যা দেখা গেল, তা আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উদযাপনের সময় মেসির চোখে জল ধরা পড়ে। সেই মুহূর্তে সমর্থকদের মনে প্রশ্ন জাগে, এত আনন্দের মধ্যেও কেন কাঁদছেন তিনি?ম্যাচ শেষে নিজেই সেই প্রশ্নের উত্তর দেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তিনি জানান, এই কান্নার সঙ্গে ফুটবলের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। গত কয়েকটি দিন তাঁর জীবনে কঠিন সময়ের মধ্যে কেটেছে। সেই সময় সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং দলের সদস্যরা সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাই আবেগের রূপ নিয়েছিল।মেসি আরও বলেন, জীবনে তিনি যা পেয়েছেন, তার জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। ফুটবল এখনও তাঁকে আনন্দ দেয় এবং প্রতিটি মুহূর্ত তিনি উপভোগ করছেন। দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর আবার ছন্দে ফিরতে পারা তাঁর কাছে বিশেষ অনুভূতির।এই হ্যাটট্রিকের পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও মুগ্ধ। তাঁর কথায়, মেসিকে বর্ণনা করার মতো শব্দ খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রতি ম্যাচেই তিনি নতুন কিছু করে দেখান।মেসির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্বের অন্য তারকারাও। নরওয়ের তারকা আর্লিং হালান্ড সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, মেসি যেন অন্য গ্রহের ফুটবলার।বয়স প্রায় ঊনচল্লিশের দোরগোড়ায়। তবুও মাঠে তাঁর দাপট, গোল করার ক্ষুধা এবং আবেগ এখনও একই রকম। তাই আবারও প্রমাণ হল, ফুটবলের অভিধানে জাদুর আরেক নাম লিওনেল মেসি।

জুন ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির জাদুতে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দুড়ন্ত সূচনা! হ্যাটট্রিক করে ছুঁলেন ক্লোজেকে, ইতিহাসের আরও কাছে লিও

বিশ্বকাপের মঞ্চে বয়স যেন শুধুই একটি সংখ্যা। ৩৯ ছুঁইছুঁই লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করে দিলেন, বড় ম্যাচের নায়ক হওয়ার ক্ষমতা এখনও অটুট। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ ব্যবধানে জয় এনে দিলেন অধিনায়ক। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের পাশে নিজের নামও তুলে দিলেন তিনি।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে প্রথম দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল আলজেরিয়া। নবম মিনিটে ফারেস চাইবির শট জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়ে যায়। সেখান থেকেই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।এরপর নিজের চেনা ছন্দে দেখা যায় মেসিকে। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে প্রথম গোলটি করেন তিনি। সেই শট ঠেকানোর সুযোগই পাননি আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান, যিনি ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের পুত্র।প্রথমার্ধে এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৬০ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জোরালো শট গোলকিপারের হাতে প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বলে সহজেই জালে বল জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি।তবে আসল জাদু দেখা যায় ৭৬ মিনিটে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৬-তে, যা তাঁকে মিরোস্লাভ ক্লোজের সমতুল্য স্থানে পৌঁছে দেয়।হ্যাটট্রিকের তিন মিনিট পর কোচ তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেন। স্টেডিয়াম জুড়ে তখন দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন সমর্থকেরা। যদিও মেসির মুখে কিছুটা হতাশার ছাপও ধরা পড়ে, কারণ তিনি আরও কিছুক্ষণ মাঠে থাকতে চেয়েছিলেন বলেই মনে হচ্ছিল। তবে আগামী ম্যাচগুলোর কথা মাথায় রেখেই তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা।এই ম্যাচটি ছিল মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ২০০তম ম্যাচ। ২০০৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন শুধুমাত্র পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং কুয়েতের বাদার আল-মুতাওয়া।বিশ্বকাপের আগে চোট নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও মাঠে তার কোনও প্রভাব দেখা যায়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মৌসুমের শেষ দিকে হ্যামস্ট্রিংয়ে সামান্য চোট পেয়েছিলেন মেসি। তবে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে গোল করে তিনি আগেই নিজের ফিটনেসের বার্তা দিয়েছিলেন।এদিকে মেসির হ্যাটট্রিক কিছুটা আড়াল করে দিয়েছে বিশ্বফুটবলের আরও দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের পারফরম্যান্সকেও। ফ্রান্সের হয়ে এমবাপে জোড়া গোল করেছেন সেনেগালের বিরুদ্ধে, অন্যদিকে নরওয়ের হয়ে ইরাকের বিরুদ্ধে দুই গোল করেছেন হালান্ড।বিশ্বকাপ অভিযান জয়ে শুরু করলেও আর্জেন্টিনার সামনে এখন আরও কঠিন পরীক্ষা। পরবর্তী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। তবে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির এই পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে এখনও অন্যতম বড় দাবিদার আর্জেন্টিনা।

জুন ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসি-আয়োজন বিতর্কে বড় মোড়, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর; ‘সত্যের জয়’ দাবি উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের

লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে বিতর্কের জেরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। অভিযোগকারী তথা অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত নিজেই সমাজমাধ্যমে এফআইআরের কপি প্রকাশ করে বিষয়টি সামনে আনেন।ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে শতদ্রু লেখেন, সত্যের জয় হয়েছে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ধন্যবাদও জানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার পাঁচটি পৃথক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ, তোলাবাজি, প্রতারণা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগ।শতদ্রুর অভিযোগ, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত মেসি-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের আগে তাঁর উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল সংখ্যক টিকিট দাবি করেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। সেই দাবি পূরণ না করলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, প্রায় ২২ হাজার কমপ্লিমেন্টারি টিকিট নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন শতদ্রু। পরে ওই টিকিটের একটি বড় অংশ কালোবাজারে বিক্রি করা হয় বলেও তাঁর অভিযোগ।মেসির কলকাতা সফর ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন মাঠে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অভিযোগ, আমন্ত্রিত অতিথি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মন্ত্রী, আমলা এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, একসময় মাঠের ভিতরে ধাক্কাধাক্কির পরিবেশ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে মেসির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।ঘটনার সময় মেসির সঙ্গে থাকা উরুগুয়ের তারকা ফুটবলার লুইস সুয়ারেজ এবং আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডিপলও বিশৃঙ্খলার শিকার হন বলে অভিযোগ। নিরাপত্তার স্বার্থে শেষ পর্যন্ত মেসিকে দ্রুত মাঠের ওই অংশ থেকে সরিয়ে নিয়ে যান তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা।মাঠের বিশৃঙ্খলার রেশ পরে ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতেও। ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ মাঠে নেমে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সামনে আসে। এই ঘটনার জেরে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছিল। প্রথম মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল অভিযোগকারী শতদ্রু দত্তকেই। অন্য মামলায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৯ মে শতদ্রু দত্ত অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাস, আইএএস আধিকারিক শান্তনু বসু, তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, প্রভাবশালী কয়েকজনের হস্তক্ষেপ এবং নিয়মবহির্ভূত প্রবেশের কারণেই বহু প্রতীক্ষিত অনুষ্ঠানটি কার্যত ভেস্তে যায়।মেসি-কাণ্ড নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠার পরেই অরূপ বিশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি অতীতে সরাসরি দায় স্বীকার করেননি।তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক মানের একটি অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এত বড় গাফিলতি কীভাবে ঘটল এবং তার দায় শেষ পর্যন্ত কার কাঁধে বর্তাবে। আপাতত সেই উত্তর খুঁজতেই তদন্তকারীদের নজর মেসি-সফর সংক্রান্ত গোটা ঘটনাপ্রবাহের দিকে।

মে ৩১, ২০২৬
কলকাতা

হাওয়ায় দুলছে মেসির বিশাল মূর্তি! আতঙ্কে লেকটাউন, রাতেই ভাঙার সিদ্ধান্ত?

লেকটাউনে তৈরি হওয়া বিশাল লিওনেল মেসির মূর্তি ঘিরে এবার আতঙ্ক ছড়াল স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ, হাওয়ায় প্রবলভাবে দুলছে মূর্তিটি। যে কোনও সময় সেটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সোমবার ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি আধিকারিক এবং লেকটাউন থানার পুলিশ।স্থানীয়দের অভিযোগ, মূর্তিটির নীচের অংশের মাটি বসে গিয়েছে। চারপাশে পাথর ও মাটি বেরিয়ে এসেছে। ফলে গোটা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। হাওয়ায় মূর্তিটি দুলতে থাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।মূর্তিটির ঠিক নীচেই রয়েছে একটি জায়ান্ট স্ক্রিন। সন্ধ্যার সময় সেখানে ভিড় করেন বহু মানুষ। আইপিএলের ম্যাচ দেখার জন্য প্রতিদিনই জমায়েত হয় স্থানীয়দের বড় অংশ। সেই সময় যদি মূর্তিটি ভেঙে পড়ে, তাহলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। জানা গিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিচার করে সোমবার রাতেই মূর্তিটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এই বিশাল মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছিল। আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী ফুটবলার লিওনেল মেসি কলকাতা সফরে এলে ভার্চুয়ালি এই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। মূলত তাঁর উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানেই তৈরি হয়েছিল মূর্তিটি।

মে ২৫, ২০২৬
কলকাতা

মেসি-কাণ্ডে মানহানির অভিযোগ, লালবাজারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের এফআইআর

লিওনেল মেসিকে ঘিরে কলকাতার সাম্প্রতিক বিতর্কে এবার আইনি মোড়। প্রকাশ্যে মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে এফআইআর দায়ের করলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অভিযোগের আঙুল উঠেছে কলকাতার আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের প্রধান তথা মেসি-ভক্ত উত্তম সাহার দিকে।সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আইনজীবীর তরফে জানানো হয়েছে, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে ঘিরে যে বিতর্কিত ঘটনার সূত্রপাত, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সৌরভের ভূমিকা সম্পর্কে একাধিক ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এই মন্তব্যগুলিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর বলেই দাবি করা হয়েছে অভিযোগে।সৌরভের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে তিনি শুধুমাত্র একজন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবেই উপস্থিত ছিলেন। ইভেন্টের আয়োজন বা পরিচালনার সঙ্গে তাঁর কোনও রকম সাংগঠনিক যোগ ছিল না। অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ছিলেন শতদ্রু দত্ত। একই অনুষ্ঠানে অভিনেতা শাহরুখ খান-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উত্তম সাহা প্রকাশ্যে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে চিটিংবাজ বলে কটাক্ষ করেন, যা প্রাক্তন অধিনায়কের সামাজিক সম্মান ও দীর্ঘদিনের ভাবমূর্তিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই কারণেই মানহানির নোটিস পাঠানোর পাশাপাশি লালবাজারে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।উল্লেখ্য, মেসিকে দেখার আশায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হাজার হাজার দর্শক মোটা অঙ্কের টিকিট কেটেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস পদত্যাগ করেন। পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। একজন ডিসিপি সাসপেন্ড হয়েছে। এই আবহেই দেওয়া উত্তম সাহার মন্তব্যকে ঘিরে এবার আইনি পথে হাঁটলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫
কলকাতা

মেসি বিতর্কে নীরবতা ভাঙলেন শুভশ্রী, সন্তানদের হুমকির পর ভিডিও বার্তা

লিওনেল মেসিকে দেখতে না পেয়ে শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার রেশ গিয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়ও। ঠিক সেই সময় মেসির সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করায় তীব্র ট্রোলের মুখে পড়েন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। টানা দুদিন এই বিষয়ে চুপ থাকলেও, সন্তানদের উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্য ও হুমকি আসতে শুরু করায় শেষ পর্যন্ত ভিডিও বার্তায় মুখ খুললেন তিনি।ভিডিওতে শুভশ্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, যুবভারতীতে মেসিকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা দিতেই তিনি কথা বলছেন। তিনি বলেন, গোটা অনুষ্ঠানে তিনি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবেই হাজির ছিলেন। সিনে ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি হিসেবে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনিও হায়াত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে দেশের নানা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছিল, মেসি সকলের সঙ্গে দেখা করবেন এবং ছবি তুলবেন।শুভশ্রী জানান, সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে আটটা নাগাদ তিনি হায়াতে পৌঁছন এবং রাত দশটা পনেরো মিনিটের মধ্যে মেসির সঙ্গে তাঁর দেখা হয় ও ছবি তোলা হয়। সেখান থেকে বেরোনোর সময় আয়োজকদের পিআর টিম তাঁকে অনুরোধ করে যুবভারতীতে যাওয়ার জন্য, কারণ সেখানে নানা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন ছিল। কেন তাঁরই নাম বেছে নেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর পিআর টিমই দিতে পারবে বলে মন্তব্য করেন অভিনেত্রী। সম্মতি দেওয়ার পর তিনি যুবভারতীতে যান এবং একটি নির্দিষ্ট তাঁবুতে বসে মেসির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।এই সময়েই তাঁর পিআর টিমের তরফে সামাজিক মাধ্যমে ছবিগুলি পোস্ট করা হয়। তবে শুভশ্রীর দাবি, পোস্টটি তাৎক্ষণিকভাবে হয়নি, কারণ ওই এলাকায় জ্যামার বসানো ছিল। রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ মেসি ক্রীড়াঙ্গনে ঢোকেন এবং তখনই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শুভশ্রী বলেন, তিনি নিজেও মেসিকে স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাননি। উদ্যোক্তাদের গাফিলতির কারণেই একটি সুন্দর অনুষ্ঠান বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এরপর শুটিংয়ের তাড়া থাকায় তিনি দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যান। বেরোনোর সময় ফোনে ব্যস্ত থাকায় ছবিগুলি পোস্ট হয়েছে কি না, তা খেয়ালও করেননি। অনেক পরে জানতে পারেন, যুবভারতীর ঘটনা বড় আকার নিয়েছে এবং কোনও না কোনও ভাবে তাঁর নামও সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। পরে ইনস্টাগ্রামে গিয়ে তিনি দেখেন, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তাঁর ছবিগুলি দেরিতে পোস্ট হলেও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।এরপরই শুরু হয় ট্রোলিং। শুভশ্রী জানান, তাঁকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করা হয়, এমনকি কেউ কেউ দাবি করেন, তাঁর কারণেই নাকি দর্শকরা মেসিকে দেখতে পাননি। এত কটূক্তির পরেও তিনি ছবিগুলি সরাননি। তিনি বলেন, মানুষ টাকা দিয়েও প্রিয় খেলোয়াড়কে দেখতে না পেরে কষ্ট পেয়েছেন, সেই যন্ত্রণা তিনি বোঝেন। তাই তাঁকে গালাগালি করে যদি কারও রাগ হালকা হয়, তিনি তা মেনে নিতে রাজি ছিলেন।কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় যখন তাঁর দুই সন্তানকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু হয়। শুভশ্রী বলেন, বাচ্চাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একজন মা হিসেবে এই বিষয়টি তিনি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেন না। সেই কারণেই তিনি বাধ্য হয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

সোনার দামে ভূমিকম্প! কৌশিকী অমাবস্যার দিনে হলুদ ধাতুর দরে বাজারে সুনামি

Gold Price Today: ফের বাড়ল সোনা-রুপোর দাম। ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৫৪২ টাকা বেড়ে প্রায় ১.৫৪ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। একইসঙ্গে এক কেজি রুপোর দামও বেড়েছে ৩,৩০৭ টাকা। ফলে প্রতি কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৩৯ লক্ষ টাকা।চলতি বছরে সোনা ও রুপোর দামে একাধিকবার ওঠানামা দেখা গিয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল প্রায় ১.৩৩ লক্ষ টাকা। সেখান থেকে বর্তমানে দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ১.৫৪ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ বছরের শুরু থেকে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ২১ হাজার টাকা বেড়েছে।অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রতি কেজি রুপোর দাম ছিল প্রায় ২.৩০ লক্ষ টাকা। বর্তমানে সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৩৯ লক্ষ টাকা।জানুয়ারিতে তৈরি হয়েছিল রেকর্ডএর আগে ২৯ জানুয়ারি সোনা ও রুপোর দামে সর্বকালীন রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৭৬ লক্ষ টাকা এবং প্রতি কেজি রুপোর দাম প্রায় ৩.৮৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। পরে অবশ্য দুই মূল্যবান ধাতুর দাম কিছুটা কমে যায়।বাজার বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৭০ লক্ষ টাকা এবং প্রতি কেজি রুপোর দাম প্রায় ৩ লক্ষ টাকায় পৌঁছতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদার মতো একাধিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে সোনা ও রুপোর প্রকৃত দাম পরিবর্তিত হতে পারে।আজ শহরভেদে ২৪ ক্যারেট সোনার দামগুডরিটার্নসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ দেশের বিভিন্ন শহরে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দামে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।দিল্লি ও লখনউয়ে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৪,৪৫০ টাকা। ভোপাল ও আহমেদাবাদে একই পরিমাণ সোনার দাম ১,৫৪,৩৫০ টাকা। কলকাতা, মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং রায়পুরে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৪,৩০০ টাকা।২২ ক্যারেট সোনার দাম২২ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রেও শহরভেদে সামান্য ফারাক রয়েছে। দিল্লি ও লখনউয়ে ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪১,৫৯০ টাকা। ভোপাল ও আহমেদাবাদে দাম ১,৪১,৪৯০ টাকা।অন্যদিকে, কলকাতা, মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং রায়পুরে ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪১,৪৪০ টাকা।১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত?১৮ ক্যারেট সোনার দামেও শহরভেদে পার্থক্য রয়েছে। দিল্লি ও লখনউয়ে ১০ গ্রাম ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১,১৫,৮৭০ টাকা। ভোপাল ও আহমেদাবাদে দাম ১,১৫,৭৭০ টাকা।মুম্বই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং রায়পুরে ১০ গ্রাম ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১,১৫,৭২০ টাকা। তবে চেন্নাইয়ে ১৮ ক্যারেট সোনার দাম তুলনামূলক বেশি, ১,১৯,১৪০ টাকা।অর্থাৎ, ২৪ ও ২২ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রে আজ দিল্লি ও লখনউয়ে দাম সবচেয়ে বেশি। আর ১৮ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রে চেন্নাইয়ে দাম সর্বোচ্চ।গয়না কেনার আগে কী কী দেখবেন?সোনার গয়না কেনার সময় প্রথমেই তার বিশুদ্ধতা যাচাই করা জরুরি। BIS বা ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের হলমার্কযুক্ত সোনা কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়। হলমার্কের মাধ্যমে সোনার বিশুদ্ধতা ও ক্যারেট সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।গয়না কেনার আগে একাধিক উৎস থেকে সেই দিনের সোনার দাম যাচাই করে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ২৪, ২২ এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম আলাদা হওয়ায় কোন ক্যারেটের গয়না কিনছেন, তা নিশ্চিত করুন। পাশাপাশি গয়নার ওজনও ভালোভাবে যাচাই করে নিন।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে মেকিং চার্জ। সোনাকে গয়নায় রূপান্তরের জন্য নেওয়া এই অতিরিক্ত চার্জ দোকানভেদে আলাদা হতে পারে। তাই গয়না কেনার আগে মেকিং চার্জ কত, তা জেনে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে দরদাম করে নেওয়া ভালো।এছাড়া সোনার দামের সঙ্গে GST, মেকিং চার্জ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ যোগ হতে পারে। ফলে দোকানে গিয়ে গয়নার চূড়ান্ত দাম অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচ ঘিরে হঠাৎ অনিশ্চয়তা! কেন সূচি বদলের আবেদন দিল্লি পুলিশের?

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলন হওয়ার কথা। সেই সম্মেলনের মধ্যেই ১৩ সেপ্টেম্বর অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারত ও আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে ম্যাচটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।ব্রিকস সম্মেলনে বিদেশি প্রতিনিধি এবং ভিভিআইপি-দের যাতায়াত থাকবে। তাঁদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য দিল্লিতে বিশেষ ট্র্যাফিক ব্যবস্থা করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে একই দিনে কয়েক হাজার দর্শককে নিয়ে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ।এই কারণেই ম্যাচের দিন বদলের জন্য দিল্লি ক্রিকেট সংস্থাকে অনুরোধ করেছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ। শুক্রবার কেন্দ্রীয় রেঞ্জের উপ-পুলিশ কমিশনার ডিডিসিএ-কে একটি চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থা থাকবে।পুলিশের আশঙ্কা, ১৩ সেপ্টেম্বরের ম্যাচ দেখতে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ হাজার দর্শক অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আসতে পারেন। ফলে বিদেশি প্রতিনিধি এবং ভিভিআইপি-দের যাতায়াতের সঙ্গে সাধারণ দর্শকদের বিপুল ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম এবং তার আশপাশের এলাকাতেও এমনিতেই যানবাহন ও পথচারীদের চাপ থাকে। ম্যাচের সময় অতিরিক্ত গাড়ি চলাচল এবং বিভিন্ন জায়গায় পার্কিংয়ের চাপ বাড়লে রাস্তার জায়গা আরও কমে যেতে পারে। ফলে যানজটের আশঙ্কাও বাড়বে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বিশেষ করে বিএসজেড মার্গ, মাতা সুন্দরী কলেজ, রাজঘাট এবং বাল ভবনের আশপাশে অতিরিক্ত পার্কিং হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। পাশাপাশি অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, ডিডিইউ মার্গ, মিন্টো রোড, কমলা মার্কেট এবং সংলগ্ন এলাকাতেও যান চলাচলের উপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।শুধু যানজট নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পুলিশের কাছে বড় চিন্তার বিষয়। ব্রিকস সম্মেলনের কারণে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের বহু কর্মীকে বিদেশি প্রতিনিধি এবং ভিভিআইপি-দের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা পরিষ্কার রাখা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন জায়গায় পথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা সামলাতে হবে। তার মধ্যে হাজার হাজার দর্শকের ক্রিকেট ম্যাচ হলে বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছে পুলিশ।এই পরিস্থিতিতে ডিডিসিএ-কে ১৩ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ব্রিকস সম্মেলন শেষ হওয়ার পর সুবিধামতো অন্য কোনও দিনে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, ম্যাচের সূচি বদলানো হলে সীমিত সংখ্যক কর্মী দিয়েই নিরাপত্তা ও যান চলাচল আরও ভালো ভাবে সামলানো সম্ভব হবে।এখন ডিডিসিএ এই অনুরোধে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর ক্রিকেটমহলের। ম্যাচের দিন বদলাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ব্রিকস সম্মেলনের কারণে ১৩ সেপ্টেম্বরের ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচ ঘিরে যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

স্ত্রীর উৎকণ্ঠায় আকুল মুকুল পুত্র, ভ্রমণ সংস্থার ভূমিকা নিয়েও এবার সরব শুভ্রাংশু

নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে এখনও বহু পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। সেই নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা তথা প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার আশায় দুই সন্তানকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। এই পরিস্থিতিতে নেপালে নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধান এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে ভ্রমণ সংস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে শুভ্রাংশু রায় দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায় চলো যাই নামে একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে নেপালে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নেপালে পৌঁছনোর পর পর্যটকদের দায়িত্ব নেয় সম্রাট ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস। এরপর তিব্বত সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বে ছিল লাসা নামে একটি চিনা ভ্রমণ সংস্থা।ভ্রমণ সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নশুভ্রাংশুর অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যম এবং ভ্রমণ সংস্থা নিখোঁজ পর্যটকদের জীবিত না থাকার বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছে। যদিও এই দাবি সত্যি ধরে নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।বিশেষ করে সম্রাট ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস এবং লাসা সংস্থার মধ্যে শেষ কী কথোপকথন হয়েছিল, তা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন শুভ্রাংশু। পাশাপাশি যে বাসে নিখোঁজ পর্যটকদের থাকার কথা বলা হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়োর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বাসে থাকা প্রত্যেক পর্যটকের পাসপোর্ট ও ছবি প্রকাশ করে তাঁদের পরিচয় যাচাই করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিনিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে ভারত সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের আবেদন করেছেন শুভ্রাংশু রায়। তাঁর দাবি, চিন-তিব্বত সীমান্তে ওই দিন কতজন ভারতীয় পর্যটক ইমিগ্রেশন করেছিলেন, সেই তথ্য প্রকাশ করা হোক। এ বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।শুভ্রাংশুর আশঙ্কা, ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় ঘটনাটিকে হয়তো যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দুর্গাপুজোর মরশুম সামনে রেখে পর্যটন ব্যবসার ক্ষতি এড়াতে যাতে ঘটনার প্রকৃত তথ্য কোনওভাবে চাপা না পড়ে, সেই বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।ডিএনএ পরীক্ষা নিয়েও উদ্বেগনিখোঁজ পর্যটকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে তা নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবিও তুলেছেন শুভ্রাংশু। তাঁর বক্তব্য, পরীক্ষা হলে তা অন্তত দুবার এবং ভারত সরকারের উদ্যোগে করা উচিত। চিন ও নেপালের ব্যবস্থাপনায় ডিএনএ পরীক্ষা হলে প্রক্রিয়াটি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।এর পাশাপাশি, বিপর্যয়ের সঠিক সময় নিয়েও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন শুভ্রাংশু। ভারত, নেপাল না কি তিব্বত সীমান্ত কোন সময় ও কোথায় মূল ঘটনা ঘটেছিল, তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। চিনে ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার সীমিত থাকায় সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সামনে আনারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।৩২ জনই সুস্থ আছেন, আশাবাদী শুভ্রাংশুসমস্ত অনিশ্চয়তার মধ্যেও স্ত্রী-সহ নিখোঁজ ৩২ জন পর্যটককে নিয়ে আশাবাদী শুভ্রাংশু রায়। তাঁর বিশ্বাস, নিখোঁজ ৩২ জনই হয়তো চীন-তিব্বত সীমান্তের কোনও অজানা এলাকায় নিরাপদে রয়েছেন।নিজের পরিবারের পাশাপাশি নিখোঁজ বাকি পরিবারগুলির কথাও উল্লেখ করে সকলের কাছে তাঁদের জন্য প্রার্থনা করার আবেদন জানিয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
কলকাতা

শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় যাত্রী পরিষেবায় রেলের বিরাট উদ্যোগ, একাধিক স্টেশনে সম্পূর্ণ নয়া কাজ

দৈনন্দিন যাত্রীদের যাত্রা আরও আরামদায়ক, সুবিধাজনক ও ঝঞ্ঝাটমুক্ত করতে শিয়ালদহ ডিভিশন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন যাত্রী পরিষেবার উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। এরই অংশ হিসেবে শিয়ালদহ দক্ষিণ সেকশনের বিভিন্ন স্টেশনে সম্প্রতি একাধিক যাত্রীবান্ধব উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।বাঘাযতীন স্টেশনে বুকিং অফিসের সামনে একটি নতুন যাত্রী শেড স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে টিকিটের জন্য লাইনে অপেক্ষারত যাত্রীরা বিশেষ করে বৃষ্টি ও প্রবল রোদের সময় যথেষ্ট স্বস্তি পাবেন। এছাড়াও, প্ল্যাটফর্ম নং ১ ও ২-এ স্পষ্ট ও সুদৃশ্য প্ল্যাটফর্মের নামের বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে যাত্রীরা সহজেই তাঁদের নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম চিহ্নিত করতে পারবেন।সুভাষগ্রাম স্টেশনে ফুট ওভার ব্রিজ (FOB)-এর শেড নির্মাণের কাজও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে আরও ভালো সুরক্ষা পাবেন এবং দৈনন্দিন যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে।এই সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ স্টেশনগুলিতে যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে শিয়ালদহ ডিভিশনের নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রতিফলন। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নত আশ্রয়, সহজ পথনির্দেশ এবং আরও সুবিধাজনক যাত্রার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবরকম প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

বিশ্বকর্মা পুজো ঘিরে রণক্ষেত্র ইউআইটি, বর্ধমানের ইউআইটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ক্লাস

বিশ্বকর্মা পুজোকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রগোষ্ঠীর বিবাদ চরমে উঠল বর্ধমানের ইউআইটিতে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজের সমস্ত ক্লাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইউআইটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনীল কারফর্মার। একই সঙ্গে কলেজের ভিতরে থাকা দুটি ছাত্রাবাসও খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে তিন নির্দিষ্ট ছাত্রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন অধ্যক্ষ। ঘটনায় জখম ছাত্ররাও পৃথক অভিযোগ করেছেন। দুটি অভিযোগ একত্র করে তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ চত্বরে চলছে পুলিশি টহল।ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবি, ইউআইটিতে সরকারি ভাবে কোনও ছাত্র সংসদ নেই। তবে যে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘাত, উভয় পক্ষই নিজেদের এবিভিপি-র সঙ্গে যুক্ত বলে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজো আয়োজনের জন্য দুই পক্ষই পৃথক ভাবে আবেদন করেছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষ দুটি আবেদনই মঞ্জুর করে।অধ্যক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় এক পক্ষ তাঁকে ঘেরাও করে দাবি করে, তাদের পুজোটিই একমাত্র পুজো হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশকে খবর দেন। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কলেজ চত্বরে দুই গোষ্ঠীর শতাধিক করে সদস্য মুখোমুখি হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নিরাপত্তারক্ষীদের পক্ষে সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।এরপরই অধ্যক্ষের ঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং আক্রান্ত ছাত্রদের দাবি, দুই পক্ষের সঙ্গেই এবিভিপির যোগ রয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সংগঠনের সাংগঠনিক পদেও রয়েছেন। অভিযোগ, বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে পিস্তল, বাঁশ ও লাঠি হাতে হামলা চালানো হয়। অধ্যক্ষের ঘরের পিছনের দরজা ভেঙে ঢোকারও অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্তদের দাবি, পিস্তলের বাঁট এবং পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরিস্থিতির চাপে কয়েকজন শৌচাগারের ভিতর আশ্রয় নেন বলেও দাবি করা হয়েছে।অন্যদিকে, আক্রান্ত ছাত্রদের একাংশের দাবি, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের তরফে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করতে চাওয়া হলেও তাঁদের পুজো স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল। সেই বিষয়টি জানতে তাঁরা অধ্যক্ষের কাছে গিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, সেই সময় সপ্তম সিমেস্টারের এক সক্রিয় এবিভিপি সদস্য অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকে তাঁকে মারধরের অভিযোগ করেন। তবে মারধরের কোনও চিহ্ন দেখাতে না পারায় অধ্যক্ষ তাঁর অভিযোগকে গুরুত্ব দেননি বলে দাবি আক্রান্তদের।যদিও গোটা ঘটনায় এবিভিপির যোগ অস্বীকার করেছেন সংগঠনের বর্ধমান মহানগরের সম্পাদক সুশোভন চৌধুরী। তাঁর দাবি, ইউআইটিতে এবিভিপির কোনও সংগঠনই নেই। যে প্যাড ব্যবহার করে পুজোর অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, তার সঙ্গেও এবিভিপির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, প্যাড যে কেউ বানাতে পারে। ওই প্যাড আদৌ এবিভিপির অনুমোদিত কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন তিনি।ঘটনার জেরে ইউআইটির পঠনপাঠন আপাতত বন্ধ। কলেজ চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

শেষ বার কথা হয়েছিল ২৫ আগস্ট রাতে, তারপরই নিখোঁজ! শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে বড় দাবি শুভ্রাংশুর

নেপালের বিপর্যয়ের পর প্রায় পনেরো দিন কেটে গেলেও এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি মুকুল রায়ের পুত্রবধূ এবং শুভ্রাংশুর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের। তাঁকে নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। তবে শুভ্রাংশুর দাবি, শর্মিষ্ঠা সুস্থই রয়েছেন। তাঁর অনুমান, চিন-তিব্বত সীমান্তের কোনও এলাকায় হয়তো রয়েছেন তাঁর স্ত্রী। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় নিখোঁজদের পরিবারগুলির মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।গত ২১ আগস্ট হাওড়া থেকে একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। নেপালে পৌঁছনোর পর কয়েক বার স্বামীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ আগস্ট রাতে শেষ বার শুভ্রাংশুর সঙ্গে কথা হয়েছিল শর্মিষ্ঠার। তার পরের দিন, ২৬ আগস্ট সকাল থেকেই হড়পা বানের কারণে নেপালের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। খবর পাওয়ার পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন শুভ্রাংশু। কিন্তু আর কোনও ভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শর্মিষ্ঠার খোঁজে পরিবারের তরফে থানায় যোগাযোগ করা হয়। ভবানী ভবন, বিদেশ মন্ত্রক এবং দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালানো হলেও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। এর মধ্যেই শর্মিষ্ঠার ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফলে পরিবারের মধ্যে আরও বড় দুশ্চিন্তা তৈরি হয়।এর মধ্যেই গত সোমবার রাতে শুভ্রাংশুর ফেসবুকের ডিসপ্লে ছবি ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। দেখা যায়, স্ত্রী শর্মিষ্ঠার সঙ্গে নিজের একটি ছবি ব্যবহার করেছেন তিনি। তবে ছবিটি ছিল সাদা-কালো। নিখোঁজ শর্মিষ্ঠার কোনও খবর না পাওয়ার মধ্যে এমন ছবি কেন ব্যবহার করা হল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেকে এটিকে অশুভ ইঙ্গিত বলেও মনে করতে থাকেন।এই বিষয়ে শুভ্রাংশুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস বলেন, এখনও শর্মিষ্ঠার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। কেন শুভ্রাংশু ওই ছবি দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না বলেও জানান।এর পর অবশ্য শুভ্রাংশু আবার তাঁর ডিসপ্লে ছবি বদলে দেন। ফলে শর্মিষ্ঠাকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা আরও বেড়ে যায়। যদিও পরিবারের তরফে এখনও কোনও দুঃসংবাদের কথা নিশ্চিত করা হয়নি।শুভ্রাংশুর বক্তব্য অনুযায়ী, শর্মিষ্ঠা সুস্থ রয়েছেন এবং চিন-তিব্বত সীমান্তের কোনও এলাকায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর দাবি, নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার কারণেই নিখোঁজদের পরিবারগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তাই দিয়েছেন তিনি। শর্মিষ্ঠার প্রকৃত অবস্থান কোথায়, তিনি নিরাপদে রয়েছেন কি না এবং কবে তাঁর সন্ধান মিলবে, এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে পরিবার।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
দেশ

ফের পাহাড় ভাঙল সিকিমে! রিম্বি-ইউকসম সড়কে নামল বিশাল ধস, ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে আতঙ্ক

সিকিমের পাহাড়ে যেন বিপদ কাটতেই চাইছে না। রবিবার সকালে উত্তর সিকিমে ভূমিধসের জেরে চ্যাকুং চু এবং তিস্তা নদীর গতিপথ আটকে গিয়ে হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই আতঙ্ক পুরোপুরি কাটার আগেই পশ্চিম সিকিমের রিম্বিতে ফের বড়সড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটল। রিম্বি-ইউকসম প্রধান সড়কের উপর পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ায় ওই পথে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যেই শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। ফলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউকসম-তাশিডিং এলাকার রিম্বি গ্রামে বিশাল ভূমিধস নেমেছে। পাহাড় থেকে মাটি ও পাথর নেমে এসে রিম্বির সঙ্গে ইউকসম এবং খেচুপরিকে যুক্ত করা প্রধান সড়কটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। রাস্তার উপর দিয়ে কাদার স্রোতও বয়ে যায়। বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর এবং ধ্বংসস্তূপে রাস্তার একটি বড় অংশ ঢেকে গিয়েছে।ভূমিধসের জেরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে ওই এলাকা দিয়ে হেঁটেও যাতায়াত করা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের পাদদেশ এবং আশপাশের কয়েকটি বাড়িও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৃষ্টি আরও বাড়লে নতুন করে ভূমিধস হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।রিম্বি-ইউকসম সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, ধস নামার পরও পাহাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত ঢাল পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। তাই রাস্তার কাছাকাছি থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢাল পরীক্ষা করা হোক এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই এই এলাকায় একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই শুধু ধসের মাটি-পাথর সরিয়ে রাস্তা খুলে দিলেই স্থায়ী সমাধান হবে না।স্থানীয়দের মতে, ভবিষ্যতে ভূমিধসের ঝুঁকি কমাতে পাহাড়ের ঢাল সুরক্ষিত করা, পাহাড় সংরক্ষণ এবং স্থায়ী নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। প্রশাসন বর্তমানে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের ঢাল নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত ওই এলাকায় যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ থাকতে পারে।অন্যদিকে রবিবার সকালে চ্যাকুং চু-তে ভূমিধসের কারণে তিস্তা নদীর গতিপথ যে অংশে আটকে গিয়েছিল, সেটি পরে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে তাতেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। আরও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার ওই এলাকা পরিদর্শন করে প্রশাসনের একটি দল।চুংথাংয়ের মহকুমা শাসক অরুণ ছেত্রীর নেতৃত্বে ওই দলটি এলাকা ঘুরে দেখে। পরিদর্শনের সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সীমান্ত সড়ক সংস্থার আধিকারিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রবিশ অত্রি, ক্যাপ্টেন সুরজ এবং রাজস্ব বিভাগের কর্মীরা। দলটি ভূমিধসের উৎসস্থল এবং ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের ঢাল পরীক্ষা করে। পাশাপাশি ওই এলাকায় আরও ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে কি না এবং টুং-পারটেম সড়ক নির্মাণের কাজে এর প্রভাব পড়তে পারে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।ফলে উত্তর সিকিমে তিস্তার গতিপথ আটকে যাওয়ার আতঙ্কের পর পশ্চিম সিকিমে রিম্বির ভূমিধস নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তার উপর চলছে ভারী বৃষ্টি। ফলে পাহাড়ের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আরও ধস নামার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
বিদেশ

গালওয়ানের ক্ষত এখনও তাজা, তার মধ্যেই দিল্লিতে শি! মোদির সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে চর্চা

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শির ভারত সফরের কথা নিশ্চিত করেছে বেজিং।ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে পৌঁছনোর কথা রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্টের। ফলে সাত বছর পর ফের ভারতে আসছেন শি জিনপিং। তাঁর এই সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এটাই হতে চলেছে শির প্রথম ভারত সফর।সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দিকে। যদিও এমন বৈঠক হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক দূরত্ব এবং অর্থনৈতিক টানাপড়েনের পর দুই দেশই সম্পর্কের উন্নতির রাস্তা খুঁজতে পারে।ভারত ও চিনের সম্পর্কে অবিশ্বাসের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন রয়েছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ সেই সম্পর্কে আরও বড় ধাক্কা দেয়। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিনও তাদের বাহিনীর চার জনের মৃত্যুর কথা সরকারি ভাবে স্বীকার করেছিল।গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের সম্পর্কে দ্রুত অবনতি ঘটে। সীমান্তে সেনা মোতায়েন, অরুণাচল প্রদেশ সংলগ্ন এলাকা নিয়ে টানাপড়েন এবং একাধিক কূটনৈতিক বিরোধ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এখন প্রশ্ন, ব্রিকসের মঞ্চে কি মোদি এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে? যদি বৈঠক হয়, তবে সীমান্ত সমস্যা, সামরিক উত্তেজনা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তবে বৈঠকের বিষয়বস্তু বা তার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।এর আগে কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছিল মোদি এবং শি জিনপিংকে। সেখানে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে করমর্দন হয়েছিল। তবে তাঁদের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি।এবার দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে পরিস্থিতি কতটা বদলায়, সেদিকেই নজর থাকবে। গালওয়ানের পর প্রথম বার ভারতে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি এবং তাঁর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠক ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনও বার্তা দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal